Sunday, November 7, 2010

প্রিমিয়ারের দলবদল আজ থেকে

দলবদল নিয়ে উত্তেজনা খুব একটা অবশিষ্ট নেই। কাগজে-কলমে ঢাকা মেট্রোপলিটন ক্রিকেটের দলবদল শুরু হওয়ার আগেই বড় দলগুলো ঘর প্রায় গুছিয়ে ফেলেছে। বড় তারকারাও প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছেন দল। তার পরও প্রিমিয়ার লিগের কোন দল কেমন হলো, তা নিয়ে আগ্রহ যেটুকু আছে, তা মেটানোর পালা আজ থেকে।
আজ ও আগামীকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সিসিডিএম কার্যালয়ে চলবে প্রিমিয়ার লিগের দলবদল। এবার অবশ্য সকাল-সন্ধ্যা দলবদল কার্যক্রম চলছে না। জাতীয় দলের অনুশীলনের জন্যই বিশেষত, এবার দলবদল দুপুর ২টা থেকে চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত।

একসঙ্গে দুই ভেন্যুতে হ্যান্ডবল

মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর ও পল্টন হ্যান্ডবল স্টেডিয়াম—একই সঙ্গে দুটি ভেন্যুতে আজ শুরু হচ্ছে এক্সিম ব্যাংক পুরুষ হ্যান্ডবল। আটটি গ্রুপে অংশ নিচ্ছে মোট ২৮টি দল। বাংলাদেশ রাইফেলস, বাংলাদেশ পুলিশ, চট্টগ্রাম মহানগরী ও চট্টগ্রাম জেলা—গত বছরের সেরা চারটি দল খেলবে সরাসরি দ্বিতীয় রাউন্ডে।
পল্টন হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে মাগুরা ও কুষ্টিয়া। মিরপুরের উদ্বোধনী ম্যাচে ময়মনসিংহর প্রতিপক্ষ সাতক্ষীরা। দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে সবগুলো ম্যাচই হবে পল্টনে। আগামী ১০ নভেম্বরের ফাইনাল খেলা সরাসরি সম্প্রচার করবে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলা। টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা করছে এক্সিম ব্যাংক। কাল সংবাদ সম্মেলনে তথ্যগুলো জানান হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সভাপতি নুরুল ফজল (বুলবুল)।

মিডিয়ায় মুণ্ডপাত অস্ট্রেলিয়ার

পরাজয়ের বৃত্তে দল, নির্বাচকদের মধ্যে কোন্দল, অধিনায়কত্ব নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিতর্ক এবং সংবাদমাধ্যমে খেলোয়াড়দের মুণ্ডপাত; কোন ক্রিকেট দলের কথা বলা হচ্ছে বলুন তো? যে অস্ট্রেলিয়া একসময় বহু দলের এমন পরিণতির জন্য ‘দায়ী’ ছিল। যাদের কাছে টানা হেরে বাকিদের নাভিশ্বাস উঠত, তারাই এখন এই পরিস্থিতির শিকার।
সেই বিশ্বজয়ী অপরাজেয় অস্ট্রেলিয়া এখন জয়ের গন্ধ নিতেও ভুলে গেছে। টেস্ট, টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে—তিন ধরনের ক্রিকেটেই টানা হারতে থাকা রিকি পন্টিং, মাইকেল ক্লার্কদের এখন যাচ্ছেতাই অবস্থা। ওদিকে মোটামুটি ভালো ফর্ম নিয়ে আশির দশকের পর প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে পৌঁছে গেছে ইংল্যান্ড।
এমন পরিস্থিতিতে দারুণ চটেছে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম। সংবাদমাধ্যম জরুরি অবস্থা ঘোষণার ভঙ্গিতে জানিয়ে দিয়েছে, ‘অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট ইস ইন ক্রাইসিস’! ডেইলি টেলিগ্রাফ লিখেছে, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট তার জাদু হারিয়ে ফেলেছে।
পত্রিকাটি ‘অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট কেন সংকটে’ এই শিরোনামে একটি বিশ্লেষণ ছেপেছে। সেখানে দেশের সিনিয়র ক্রিকেট লেখক রবার্ট ক্রাডক বলছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ছাড়াই এখন অনেক ক্রিকেটার জাতীয় দলে চলে আসছেন। ‘কিছু না করে’ মিলিয়ন ডলার কামানো এসব ক্রিকেটারকেই তিনি সর্বনাশের কারণ বলছেন।
কারণ যা-ই হোক, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট যে ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে তাতে সন্দেহ নেই। এখন কথা হচ্ছে, এই ক্রান্তিকালে বোঝা কে টানবেন? স্টিভ ওয়াহর স্বর্ণযুগ থেকে এই সর্বনাশা যুগে অস্ট্রেলিয়া এসেছে পন্টিংয়ের হাত ধরে। পন্টিং যে বুড়িয়ে যাচ্ছেন, সেটাও সত্যি। এখন কে দায়িত্ব নেবেন?
‘অটোমেটিক চয়েস’ হওয়ার কথা সহ-অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের। কিন্তু সে বেচারাও ক্রমাগত হারের স্বাদ পাচ্ছেন। অনেকে বলছেন, পন্টিংয়ের পর অধিনায়কত্ব দেওয়া উচিত মার্কাস নর্থকে।
নর্থ নিজে এসব কথা উড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু কথা ওড়ার জিনিস নয়। এবার অস্ট্রেলিয়ার সাবেকেরাও মুখ খুলেছেন। তাঁরাও বলছেন, এখনই নর্থকে নিয়ে হইচই করার কিছু নেই, ক্লার্ককেই দায়িত্ব দিতে হবে।
সাবেক অধিনায়ক ও বর্ষীয়ান ধারাভাষ্যকার রিচি বেনো বলছেন, ‘আমি তো পন্টিংয়ের পর ক্লার্কের অধিনায়কত্ব না করার কোনো কারণ দেখছি না।’ ক্লার্কের পক্ষে দাঁড়িয়ে সাবেক অলরাউন্ডার অ্যালান ডেভিডসন বলছেন, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে হারের দায় ক্লার্কের নয়, কারণ বোলাররা একেবারে বাজে খেলেছে ওই দিন।’
এ রকম যুক্তি খুঁজে পাওয়া যাবে, কিন্তু সমস্যার সমাধান কোথায়?

প্রশিক্ষণ নেই, তবু সম্ভাবনা

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে কোনো কিছুই পরিকল্পনা অনুযায়ী হয় না। গেমস এলে বিরাট বহর নিয়ে ‘ভ্রমণের’ জন্য সরকারের তহবিল থেকে অনুদান মেলে অনেক টাকা। সেই টাকায় দলের বাইরে ২০-৩০ জনের বিদেশ ভ্রমণের বন্দোবস্ত হয়ে যায়। কিন্তু আদতে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ হয় না ঠিকমতো!
এর পরও বাংলাদেশের জন্য আশার খবর, আসন্ন এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো আসতে পারে একাধিক পদক! এই প্রথম এশিয়াডে অন্তর্ভুক্ত পুরুষ-মহিলা ক্রিকেটের দুই বিভাগেরই সম্ভাবনা আছে। গেমসে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল বলেছেন, ‘আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’ চ্যাম্পিয়ন হওয়া মানে এশিয়াডে প্রথম সোনা! পুরুষ ক্রিকেটে ভারত নেই। পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা থাকায় আশাটা এত দূর বিস্তৃত হতে পারছে না। তবে পদকের আশা বাড়াবাড়ি নয়।
নেপাল, হংকং, জাপানের গ্রুপসঙ্গী বাংলাদেশের সহজে সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ আছে মহিলা ক্রিকেটে। চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও পাকিস্তান আছে অন্য গ্রুপে। এই ৮ দলের মধ্যে পাকিস্তানের পরের বড় নামটিই বাংলাদেশ। পদকের সুযোগ তাই থাকছেই।
গলফেও সুযোগ আছে। ১২-২৭ নভেম্বর গুয়াংজুতে অনুষ্ঠেয় ১৬তম এশিয়ান গেমসের গলফ অপেশাদার। পেশাদার হলে সিদ্দিকুর রহমানকে পাওয়া যেত। তবে অপেশাদার গলফেও ভালো কিছুর আশা করছে গলফ অঙ্গন। শ্যুটিংয়ের পক্ষে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টেকা কঠিন। তবে বরাবরের মতো হাতের পাঁচ হয়ে থাকা পুরুষ কাবাডি অন্তত খালি হাতে না ফেরার নির্ভরতা দিচ্ছে। প্রথম যুক্ত হওয়া মহিলা কাবাডিও পদকের লড়াই দিতে পারে।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব কুতুবউদ্দিন আহমেদ তাই আশায় আছেন ‘ভালো’ কিছু দেখার, ‘ক্রিকেট-গলফ-কাবাডির ওপর নজর রাখছি। আমার বিশ্বাস, এই খেলাগুলোয় ভালো করার সুযোগ আছে।’
গত দক্ষিণ এশীয় (এসএ) গেমসের আগে টানা এক বছর অনুশীলন করে বাংলাদেশ দল তিন থেকে এক লাফে ১৮টি সোনা জিতেছে। ওই সাফল্যের পর সারা বছরই খেলোয়াড়দের অনুশীলনে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ক্রীড়াবিষয়ক সব অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলে আসছেন—সারা বছর অনুশীলন অব্যাহত রাখা চাই। কিন্তু ক্রীড়া প্রশাসন সেই প্রতিফলন দেখাতে পারছে না।
কুতুবউদ্দিন জানাচ্ছেন কারণটা, ‘ফেডারেশন তাকিয়ে থাকে বিওএর দিকে, কিন্তু বিওএর কী করার আছে? বিওএ তো একটা ‘পোস্ট অফিস’। তবু বিওএর টাকা দিয়ে কিছুদিন অনুশীলন চালিয়েছি আমরা। তবে সারা বছরই অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে আমাদের। এর কোনো বিকল্প নেই।’
কমনওয়েলথ গেমসের শেষ সময়ে টাকা দিয়েছিল সরকার। এশিয়ান গেমসের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। বিওএর প্রশিক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের কণ্ঠে তাই হতাশা, ‘এশিয়ান গেমসের জন্য আমরা টাকা পেয়েছি গত বুধবার। এসএ গেমসের মতো পরিকল্পিত অনুশীলন করতে পারলে এবারের এশিয়াডে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো করা যেত।’
সরকার টাকা দিলে তবেই ফেডারেশন নড়েচড়ে বসে। দু-একটি বাদে বাকি ফেডারেশনগুলোর নিজস্ব উদ্যোগ নেই। কেন? হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জান কোহিনূরের পাল্টা প্রশ্ন, ‘প্রশিক্ষণের জন্য স্পনসর পাওয়া যায় না। ফেডারেশন কী করবে?’
সরকারের দেওয়া অনুদান চা-নাশতা, অফিস খরচ আর কর্মীদের বেতন বাবদই নাকি চলে যায়। ফেডারেশনগুলো হয়ে আছে ঠুঁটো জগন্নাথ। তারই ফল—সদ্য শেষ হওয়া দিল্লি কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল তলানিতে।
কমনওয়েলথে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ পেয়েছে দুটি সোনা, একটি করে রুপা ও ব্রোঞ্জ। সব পদকই দিয়েছে শ্যুটিং। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সাকল্যে প্রাপ্তি তিনটি করে রুপা ও ব্রোঞ্জ। ১৯৮৮ সালে বক্সার মোশাররফ হোসেন এনেছেন একটি ব্রোঞ্জ। বাকি সব পদকই কাবাডি দলের সৌজন্যে।
সেই কাবাডির অবস্থাও এখন রুগ্ণ। প্রশিক্ষণ-প্রস্তুতি কোনো কিছুই ঠিকভাবে চলছে না!

কিউইদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

কাল ছিল দীপাবলি। এই উৎসবের সঙ্গে আরেকটা বড় উৎসবে মেতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল পুরো ভারত। শচীন টেন্ডুলকারের ৫০তম টেস্ট সেঞ্চুরি! কিন্তু পারলেন না টেন্ডুলকার, প্রথম দিনের মতো দাপুটে দিন কাটাতে পারল না ভারতও। তবে প্রথম দিনটাই দুদলের মাঝে এতটা ব্যবধান গড়ে দিয়েছে যে কাল সমান তালে লড়ার পরও দুদিন শেষে এগিয়ে রাখতে হচ্ছে ভারতকেই।
ভারতের শক্তিশালী মিডল অর্ডারকে মন্থর ও নিচু বাউন্সের উইকেটে পাখা মেলতে দেননি কিউই স্পিনাররা। কিন্তু মুড়ে দিতে পারেননি ভারতের লেজটা। হরভজন সিংয়ের ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ইনিংস ভারতকে নিয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত পাঁচ শর কাছাকাছি। দ্রুত দুটি উইকেট হারালেও ম্যাককালাম-টেলর দিনের শেষ ঘণ্টাটা নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেওয়ায় স্বস্তি পেয়েছে নিউজিল্যান্ডও।
প্রথম দিন শেবাগ ছাড়া রানের জন্য বাকি সবার সংগ্রামই বলে দিচ্ছিল এই উইকেটে শট খেলা কতটা কঠিন। কাল প্রমাণ হলো আরেকবার, আর শেবাগের ইনিংসটার মাহাত্ম্য এতে বেড়ে গেল আরও। টেন্ডুলকার-লক্ষ্মণের মতো দুজন ব্যাটসম্যানও কাল রীতিমতো খাবি খেলেন টাইমিং করতে! আগের দিন দ্রাবিড় প্রথম ১০০ বলে ১৭ রান করায় মনে হচ্ছিল ফর্মে ফেরার সংগ্রাম। কিন্তু কাল বল খেলার সেঞ্চুরির ছোঁয়ার সময় টেন্ডুলকারের রান ছিল ২৬! এতে একটা বড় অবদান ভেট্টোরির, লাঞ্চের আগে টানা ১৪ ওভার বোলিং করে রান দিয়েছেন মাত্র ১৩।
এক প্রান্তে ভেট্টোরির এই চেপে ধরার সুফল পেলেন জিতান প্যাটেল। উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে এই অফ স্পিনারকে ক্যাচিং প্র্যাকটিস করিয়েছেন টেন্ডুলকার। লাঞ্চের আগের ওভারে রায়নাকে প্রথম টেস্ট শিকার বানিয়েছেন উইলিয়ামসন, লক্ষ্মণকে এলবিডব্লু করে লাঞ্চে যান প্যাটেল। লাঞ্চের পর তৃতীয় ওভারে আউট পথের শেষ কাঁটা মহেন্দ্র সিং ধোনিও। দারুণ এক আর্মারে ভেট্টোরি যখন জহিরকে বোল্ড করে দেন, ভারতের রান ৮ উইকেটে ৪১২। তবে কাঁটা হয়ে গেলেন হরভজন। পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে নবম উইকেটে ওঝার সঙ্গে যোগ করেছেন ৬৬ রান। এতে ওঝার অবদান মাত্র ১১। ৫৮ বলে ক্যারিয়ারের অষ্টম ফিফটির পর হরভজন ছাড়িয়ে গেছেন টেস্টে আগের সর্বোচ্চ ৬৬ রানকেও। তবে এর পরই আউট হয়ে যাওয়ায় পাঁচ শ হয়নি ভারতের।
জহিরের নিচু হয়ে যাওয়া বাউন্সারে শুরুতেই ম্যাকিন্টশকে হারায় নিউজিল্যান্ড। ভারতের মাটিতে স্পিনের মুখোমুখি প্রথম বলেই আউট ওয়াটলিং। তবে উইকেট কিপিং ছেড়ে শুধুই ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে নামা ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও টেলর দাঁড়িয়ে যাওয়ায় স্বস্তির সঙ্গেই দিন শেষ করেছে কিউইরা।

বেকহাম চিরদিনই ব্রিটিশ

কয়েক দিন ধরেই খবর, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন ডেভিড বেকহাম। তাঁকে উদ্ধৃত করে খবর বেরোলেও সেটিকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে ইংলিশ তারকা বলছেন, সেটা হলে হয়তো সুন্দরই হতো, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নেওয়ার কোনো ইচ্ছাই তাঁর নেই। ‘ইংলিশ, এই পরিচয়’টাই আঁকড়ে রাখতে চান আজীবন। স্ত্রী ভিক্টোরিয়া ও তিন ছেলে ব্রুকলিন (১১), রোমিও (৮) ও ক্রুজকে (৫) নিয়ে ২০০৭ থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে বাস করছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক। চাইলে অনায়াসেই পেতে পারেন মার্কিন নাগরিকত্ব। কিন্তু ৩৫ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বলছেন, ‘আমাকে উদ্ধৃত করে কিছু খবর আপনারা দেখে থাকবেন। আমি পরিষ্কার করতে চাই—আমি আমেরিকায় বাস করে খুশি, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নেওয়ার কোনো ইচ্ছাই আমার নেই। আমি ইংলিশ—এই পরিচয়েই আমি গর্বিত। এটা কখনো বদলাবে না।

এখনই ‘এল ক্লাসিকো’র উত্তাপ

চলতি মাসটি স্প্যানিশ ফুটবলে ঠিক আর দশটা মাসের মতো হবে না। অন্যরকম একটা উত্তাপ ছড়াবে। ছড়াবে কী, এরই মধ্যে আঁচ তো পাওয়াই যাচ্ছে। এ মাসেই যে ‘এল ক্লাসিকো’। মহারণে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনা। যে দুটি দল মুখোমুখি হলে ফুটবল শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতার গণ্ডিতে আটকে থাকে না।
‘এল ক্লাসিকো’র দেরি আছে অবশ্য। সেই ২৮ নভেম্বর ন্যু ক্যাম্পে রিয়ালকে আতিথ্য দেবে বার্সা। তবে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। হোসে মরিনহো তো রিয়ালের কোচ হওয়ার পরদিন থেকেই বার্সাকে তাক করে কথার কামান দাগছেন।
তবে বার্সা শিবির থেকে পাল্টা জবাব আসছে না বলেই ঠিক জমাতে পারছেন না ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’। এই তো সেদিন লিওনেল মেসির মতো ‘পুঁচকে ছোড়া’ বলে দিলেন, এসবই মরিনহোর পাতানো ফাঁদ। সেটায় পা দিলে মুশকিল। চ্যাম্পিয়নস লিগের পর্ব শেষে দুই দল যখনই লিগে ফিরছে, অমনি আবার বার্সাকে লক্ষ্য করে মরিনহোর কথার বাণ। কিন্তু মুখে কুলুপ এঁটে রাখার প্রতিজ্ঞায় বার্সা অটল আছে বলেই জানালেন জেরার্ড পিকে। তিনি নাকি এল ক্লাসিকো নিয়ে মাথাই ঘামাচ্ছেন না!
‘এমন তো নয়, ওই সপ্তাহেই শিরোপা নির্ধারণ হয়ে যাবে। আমি তাই এখন শুধু গেটাফে আর সিউতার সঙ্গে আমাদের ফিরতি ম্যাচ নিয়েই ভাবছি। এভাবেই আসলে প্রতিটি সপ্তাহে এক একটি ম্যাচ ধরে ধরে আমাদের এগোতে হবে’—মনোযোগ না হারানোর পরামর্শই সতীর্থদের দিলেন পিকে।
সর্বশেষ চারটি এল ক্লাসিকো বার্সেলোনাই জিতেছে। এর মধ্যে আছে রিয়ালকে তাদেরই মাঠে ২-৬ গোলের লজ্জা দেওয়াও। কিন্তু বার্সার মাঠে এমনই কিছু একটা করে সেটার প্রতিশোধ নিতে চায় রিয়াল। বার্সা শিবিরের জন্য দুশ্চিন্তার হলো, তারা এক ম্যাচ ভালো খেলে তো পরের ম্যাচে হারিয়ে খুঁজে ফেরে ছন্দ। এবার সুরটা ঠিক মিলছে না প্রতি ম্যাচে।
পিকে অবশ্য জানান, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় তাঁরা নেই। একটু রক্ষণাত্মক কৌশল আঁটলেই বার্সার ছন্দ নষ্ট হয়ে যায় বলে যে সমালোচনা উঠেছে, সেটাও ঠিক মানতে পারছেন না এই ডিফেন্ডার, ‘আমরা মৃত্যু পর্যন্ত এভাবেই খেলে যাব। আর অন্য কীভাবে খেলতে হয় আমি সেটা জানি না। এভাবেই তো সাফল্য পাচ্ছি। ডিফেন্স ধীরে ধীরে আরও সুদৃঢ় হচ্ছে, আক্রমণভাগও গোল পাচ্ছে। আমরা ধীরে ধীরে উন্নতি করছি। মাদ্রিদের সঙ্গে ম্যাচের সময় শতভাগ ছন্দ চলে আসবে।’
শেষ কথাটায় কিন্তু একটা প্রচ্ছন্ন চ্যালেঞ্জই ছুড়ে দিলেন পিকে।

তাঁর ভাবনায় চীনও

শত বছরের চেষ্টাতেও কোনো বিদেশি শক্তি চীন জয় করতে পারেনি। মহাপ্রাচীরের সুরক্ষা চীনকে করে রেখেছে অজেয়। কিন্তু তিনি, মাত্র দুই দিনেই জিতে নিলেন চীন। যেখানেই যাচ্ছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা, পাচ্ছেন উষ্ণ সংবর্ধনা। জাতীয় দৈনিকগুলোয় ম্যারাডোনাকে দেওয়া হচ্ছে ‘ফুটবলের রাজা’ বিশেষণও। অসহায়দের প্রতি ভালোবাসা বিলাতেই চীনা রেডক্রসের আমন্ত্রণে এসেছেন। কিন্তু ম্যারাডোনা নিজেও কুড়িয়ে নিচ্ছেন শতকোটি মানুষের দেশটির নিখাদ ভালোবাসা।
মূলত দাতব্য কাজেই আসা। কিন্তু ফুটবল তো আর বিচ্ছিন্ন করে রাখা যায় না ম্যারাডোনার কাছ থেকে। স্বাভাবিকভাবেই ম্যারাডোনার কোচিং ক্যারিয়ার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চীনের কোনো একটা ক্লাব নাকি তাঁকে কোচ হিসেবে পেতে আগ্রহী। সে খবর হাওয়ায় মিলিয়ে যেতেই শোনা যাচ্ছে, ম্যারাডোনা কোচ হচ্ছে চীন জাতীয় দলেরই।
ম্যারাডোনা অবশ্য এটিকে নেহাত গুঞ্জন বলেই উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে চীনের কোচ কোনো কালেই হবেন না, এ কথাও জোর দিয়ে বলেননি, ‘চীনের কোচ হব এটা আমার ভাবনায় নেই। তবে হ্যাঁ, যদি কখনো ব্যাপারটি ওঠে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারি। চীনা ফুটবলের জন্য কিছু করতে পারলে আমি খুশিই হব।’
চীনের ফুটবলের রোগটাও যেন এরই মধ্যে কিছুটা ধরতে পেরেছেন আর্জেন্টিনার সাবেক কোচ, ‘বিশ্ব ফুটবলের সঙ্গে চীনের ফুটবলের একটা বিশাল দূরত্ব। সেটাকে বিশ্বমানের করতে হলে অনেক কিছু করতে হবে। ১৩০ কোটি মানুষের দেশ থেকে ১১ জন ভালো ফুটবলার বের হবে না কেন—এ আমি বুঝতেই পারি না। জাতি হিসেবে চীন তো অবশ্যই বিশ্বের অন্যতম শক্তি। আরও অনেক জায়গায় তারা পৃথিবীর সেরা। কেবল পিছিয়ে আছে ফুটবলেই!

১৫ মিনিটে জেরার্ডের হ্যাটট্রিক

বেঞ্চে বসে নাপোলির বিপক্ষে দলকে ১-০ গোলে পিছিয়ে যেতে দেখলেন। উসখুস করতে থাকলেন। মাঠে নামার সুযোগ কি মিলবে? কোচ রয় হজসন তাঁকে সুযোগ দিলেন দ্বিতীয়ার্ধে। দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে এজেকুয়েল লাভেজ্জির ২৮ মিনিটের গোলে পিছিয়ে পড়া লিভারপুলকে ৩-১ গোলে জেতালেন জেরার্ড।
সর্বার্থেই জেরার্ডের ফেরা। লিভারপুলের ক্ষেত্রেও। একটা স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপে গিয়েছিলেন। ’৬৬-এর পর ইংল্যান্ডকে আরেকটা বিশ্বকাপ জেতানোর স্বপ্ন তো পূরণ হয়ইনি, উল্টো এটি হয়ে থাকল বিস্মরণযোগ্য অধ্যায়।
বিশ্বকাপ থেকে ফিরেও সময়টা ভালো যাচ্ছিল না ইংলিশ মিডফিল্ডারের। পরশু ইউরোপা কাপে নাপোলি ম্যাচের আগে এ মৌসুমে ১১ ম্যাচ খেলে ৪টি মাত্র গোল জেরার্ডের। লিভারপুলের দিন যাচ্ছিল আরও খারাপ। দুই ম্যাচ আগেও প্রিমিয়ার লিগের অবনমন এলাকায় ছিল ‘অল রেড’রা। এই ম্যাচের আগে ইউরোপা লিগেও পরপর দুই ম্যাচে ড্র করেছে।
তবে নাপোলির বিপক্ষে এই ম্যাচ দিয়ে নিজেকে আবার ফিরে পেলেন জেরার্ড। ফেরালেন লিভারপুলকেও। এই জয়ের পর কোচ হজসন তাই প্রিমিয়ার লিগ প্রতিপক্ষদের হুমকি দিতে পারলেন—নিজেদের ফিরে পাওয়া লিভারপুলকে ভয় পেতে শুরু করুন!
পরশু অবশ্য ম্যাচের ৭৫ মিনিট ০-১ গোলে পিছিয়ে থেকে ভয়েই ছিল লিভারপুল। এর পরই শুরু জেরার্ড-জাদুর। পরের মিনিটেই গোলটি শোধ করে দেন। ৮৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে করেন দ্বিতীয় গোল। আর হ্যাটট্রিক গোলটি তিনি করেন পরের মিনিটে দারুণ এক ফ্লিকে।
হজসন জেরার্ড-প্রশংসায় পঞ্চমুখ, ‘অসাধারণ এক খেলোয়াড় সে।’ তাহলে প্রথমার্ধে জেরার্ডকে কেন বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন? এ ব্যাপারে তেমন কিছু না বলে আর পশলা প্রশংসা করেছেন হজসন, ‘প্রথমার্ধ শেষে আমার মনে হলো, জেরার্ডকে মাঠে নামানোতেই আমাদের জয়ের সুযোগ লুকিয়ে আছে।’
লিভারপুল জিতলেও এদিন হারতে হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটিকে। পোল্যান্ডের লেচ পোজনানের কাছে তাদের হার ৩-১ গোলে। ম্যান সিটি কোচ রবার্তো মানচিনি আর কী বলবেন! ফুটবলের অনিশ্চিত চরিত্রকেই তিনি ঢাল বানিয়েছেন, ‘এটাই ফুটবল। আমার তো মনে হয় এই ম্যাচটা আরও ১০০ বার যদি আমরা খেলি তাহলে ৯০ বারই জিতব।’

গল্পিতিহাস- 'বালিয়াটি জমিদারবাড়ির রূপগল্প' by আসাদুজ্জামান

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার বালিয়াটি জমিদারবাড়ি সেই সময়কার ব্যয়বহুল নিদর্শনগুলোর অন্যতম। কালের সমুদ্রে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জমিদার শ্রেণীর ভোগ-বিলাসের নিদর্শন, যা ধ্বংসস্তূপের মাঝেও আজও টিকে আছে।
মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার ভূমি অধিকর্তা ছিল বালিয়াটির রায় বাহাদুর পরিবার। তিন পুরুষ ধরে প্রবল দাপটের সঙ্গে জমিদারি চালানোর পর ভারত বিভাগের সময় তাদের পতন হয়। বালিয়াটিতে জমিদার হিসেবে জমিদাীি করেছেন হরেন্দ্র কুমার রায় বাহাদুর, জ্ঞানেন্দ্র কুমার রায় বাহাদুর এবং ঈশ্বরচন্দ্র রায় বাহাদুর। আঠারো শতকের সময় অগাধ বিত্তের অধিকারী এসব জমিদার গড়ে তোলেন তাদের প্রাসাদোপম আবাসিক ভবন। লন্ডন ও কলকাতা থেকে আনা নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে গড়ে তোলা হয় তিন তলাবিশিষ্ট বেশ কয়েকটি অট্টালিকা।

ফিচার- ‘কাপ্তাই লেক:ক্রমেই পতিত হচ্ছে মৃত্যুমুখে' by আজিজুর রহমান

দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর পর শেষ পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দূষণ আর ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ রাঙ্গামাটির কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদটি নিশ্চিহ্ন হতে চলেছিল।

যুগ যুগ ধরে কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা আর মানুষের নির্বিচার বিরামমীন অত্যাচারই কাপ্তাই হ্রদের অস্তিত্ব সংকটে পড়ার মূল কারণ। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা ছিল, কাপ্তাই হ্রদটি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলে স্থানীয় প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশ মারাত্দক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। বহু বছর ধরেই তারা অতীতের সরকারগুলোর কাছে দাবি করে আসছিলেন, হ্রদটিকে রক্ষা করার জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা ও যথাযথ উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'ছাত্ররাজনীতি:লেজুড়বৃত্তির অবসান আজ জরুরি' by বদিউল আলম মজুমদার

সারাদেশে ছাত্র নামধারী একদল লোক আজ অনেক অপকর্মে লিপ্ত। তারা সরকারি দলের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের সদস্য বলে নিজেদের দাবি করছে।

তাদের অনেকে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি করছে। অন্যের জায়গা-জমি দখল করছে। ছিনতাই করছে। নারীর সম্ভ্রমহানি করছে। মানুষকে জিম্মি করছে। মারামারি, এমনকি খুনখারাবিও করছে। এসব অপকর্মের কারণে তারা প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে। সরকারের উচ্চপর্যায়, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবাণী উচ্চারণ করা সত্ত্বেও তারা তাদের অপকর্ম থেকে বিরত থাকছে না।

কৃষি আলোচনা- 'কৃষিজমি রক্ষার দায় সবার' by আফতাব চৌধুরী

মানুষ উঠে দাঁড়াতে জানে, মানুষ উঠে দাঁড়ায়ও। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, দুর্ভিক্ষ, খরা, দাঙ্গা, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, মহামারী ইত্যাদিতে বারবার মানুষ ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে।

কিন্তু এরপরও মানুষ নিজের প্রাণশক্তিতে শুভবুদ্ধির প্রেরণায় সব ক্ষয়ক্ষতি, গ্লানি, দুঃখ-কষ্ট ঝেড়ে ফেলে আবার উঠে দাঁড়িয়েছে। নতুন প্রভাতে নতুন সূর্যের দিকে তাকিয়ে আবার জীবনে এনেছে নবীন ছন্দ।
বর্তমানের সন্ত্রাসবাদ নির্মূল, হিংসার প্রশমন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ইত্যাদির অবসান ঘটানোর পাশাপাশি আমাদের অন্য সমস্যাগুলোর দিকে সমান মনোযোগ দিতে হবে।