Sunday, March 13, 2011

কাল ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের চারটি শূন্য পদে নির্বাচন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের চারটি শূন্য পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কাল রোববার। সকাল ১০টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। এরই মধ্যে এ-সংক্রান্ত যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে ডিএসই সূত্রে জানা গেছে।
১৬ মার্চ হোটেল ওয়েস্টিনে ডিএসইর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় পরিচালকদের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন।
এ দিকে চারটি পদের জন্য মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন ফিনিক্স সিকিউরিটিজের এ কাদের চৌধুরী, বুলবুল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহুদুল হক বুলবুল, রশিদ ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেসের লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ রশীদ, ধানমন্ডি সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান খান, মনা ফাইন্যান্সিয়াল কনসালটেন্সি অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান আহসানুল ইসলাম, গ্লোব সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুর রহমান এবং এম অ্যান্ড জেড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুর উদ্দিন আহমেদ।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, সংস্থার পরিচালনা পর্ষদে মোট ২৪ জন সদস্য থাকে। এর মধ্যে ১২ জন নির্বাচনের মাধ্যমে এবং ১২ জন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ক্ষমতাবলে নির্বাচিত হন। প্রতিবছরই চারজন পরিচালক অবসরে যান। এ চারটি শূন্য পদের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এ বছর নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এ কে এম রফিকুল ইসলাম, এম এ হোসেন এবং এম কামাল উদ্দিন।

দুদক আইন নিয়ে কিছু নাগরিক ভাবনা by মাহবুবুর রহমান

বাংলাদেশের দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র আমাকে সাংঘাতিকভাবে উদ্বিগ্ন করে, উৎকণ্ঠিত রাখে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আজ দুর্নীতি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) বাংলাদেশকে মাত্র কয়েক বছর আগে পৌনঃপুনিকভাবে পাঁচবার বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। হালেও সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়নি, বরং এর ভয়াবহতা শাখা-প্রশাখায় বিস্তারিত হয়েছে।
ভাবলে অবাক হই, এই জাতিই অস্ত্র হাতে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিল, রক্ত ঝরিয়েছিল। কঠিন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এক সাগর রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। এত ত্যাগ, এত বিসর্জনের বাংলাদেশ মাত্র ৪০ বছরে এ কী দশা! কী শোনার ছিল, কী শুনছি? কী দেখার ছিল, কী দেখছি? মুক্তিযুদ্ধের মহান গৌরব ধুলায় লুণ্ঠিত।
কিন্তু এ বাংলাদেশের কৃষক, শ্রমিক, জেলে, তাঁতি সব পেশাজীবী-শ্রমজীবী মানুষ, আপামর জনগণ দুর্নীতির সঙ্গে কতটুকু জড়িত? তারা তো মাথার ঘাম পায়ে ফেলছে। উদয়াস্ত পরিশ্রম করছে। তাদের প্রশ্ন, হিমালয়প্রমাণ এত বড় দুর্নীতির, কলঙ্কের তারা কেন অংশীদার হবে? তারা কেন সহ্য করবে, এত বড় জাতীয় গ্লানি, এত বড় অপমান। তারা তো দুনম্বরি করে না। তারা অস্ত্র ব্যবসা করে না। নারী ও শিশু রপ্তানি করে না। মানি লন্ডারিং করে না। শেয়ারবাজারে ধস নামিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে না। লাইসেন্স জাল করে না। দেশের সম্পদ পাচার করে না। বহুজাতিক কোম্পানিদের সঙ্গে অসম চুক্তি করে মহামূল্যবান তেল, গ্যাস, কয়লা বিদেশিদের হাতে তুলে দেয় না।
দারিদ্র্যই এ মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় সমস্যা। এটি জাতীয় সংকট, মহামানবিক দুর্যোগ। তাই দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধায় অন্ন জোগাড়, রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থাই জাতির জন্য আজ সবচেয়ে বড় কাজ। বেকার কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করাই এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। মানুষের মৌলিক পাঁচটি চাহিদার (অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা ও বাসস্থান) একটিরও ন্যূনতম সমাধান দিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে, স্বাবলম্বী ও উন্নয়নশীল হতে আমাদের চলার পথে বাধার বিন্ধ্যাচল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দুর্নীতি। এটি একটি মারাত্মক ব্যাধি, সমাজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে জাতীয় জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে সংক্রামক রোগের মতো বিস্তারিত। দারিদ্র্য বিমোচন ও জাতীয় উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে সুশাসন। আর সুশাসন তখনই সম্ভব, যখন শাসনযন্ত্রে বিশ্বস্ততা ও সততা সম্বন্ধে জনগণ আস্থাবান হবে, শ্রদ্ধাশীল হবে। গণতন্ত্রের দুই প্রধান নিয়ামক শক্তি স্বচ্ছতা আর জবাবদিহি। দুর্নীতির অবাধ বিস্তার সমাজের স্বচ্ছতা আর জবাবদিহির দৈন্যই নগ্নভাবে প্রকাশ করে। প্রকাশ করে, আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর, আমাদের শাসনযন্ত্রের অসারতা ও দীনতা। ব্যক্তিগত সুবিধা লাভের জন্য সরকারি অবস্থানের অপব্যবহারই দুর্নীতি। দুর্নীতির মধ্যে স্বভাবতই জড়িত শাসনযন্ত্রের উঁচু মহলের নীতিনির্ধারকেরা। জড়িত জ্যেষ্ঠ আমলা, বড় বড় মুনাফাখোর, অসাধু ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি, কর প্রতারক ও ব্যাংক ঋণ খেলাফিরা। সমাজের যে যত বিত্তবান, তার বিত্তের সঙ্গে সঙ্গে তত বেশি অপরাধ জড়িয়ে আছে। ধনাঢ্য ব্যক্তির কাপবোর্ডেই মানুষের কঙ্কাল লুকানো থাকে। দুর্নীতি অন্যায়-অপরাধ-অনৈতিকতারই অপর নাম। মাছের পচন যেমন শুরু হয় মাথা থেকে, দুর্নীতির বাসও তেমনি অতি উঁচু মহলে। পানি যেমন ওপর থেকে নিচে গড়ায়, দুর্নীতিও তেমনি সব সময় অধোগামী।
জাতীয় সংসদ একটি মহান প্রতিষ্ঠান। জাতির সবচেয়ে পবিত্র স্থান, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাদপীঠ। জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, জাতির সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। জাতির কল্যাণে নীতিমালা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই জাতীয় সংসদের দায়িত্ব। যাঁরা জনপ্রতিনিধি, তাঁদের স্কন্ধেই এই মহান দায়িত্ব বর্তায়। কিন্তু এই দায়িত্ব পালনে আমরা কতটুকু আন্তরিক প্রয়াস নিয়েছি, সংসদকে কার্যকর করার জন্য কতটুকু একনিষ্ঠ থেকেছি? গণতন্ত্রকে সত্যিকার প্রতিষ্ঠানিক রূপ দিতে, তার শেকড়কে গভীরে প্রোথিত করতে কতটুকু সফল হয়েছি? জাতীয় জীবনে ও প্রশাসনে কতটুকু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পেরেছি? আমরা কখনো আমলাদের দিকে, কখনো বা অসাধু ব্যবসায়ীদের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করছি। কিন্তু কখনো ভালো করে দেখিনি যে এক অঙ্গুলি দ্বারা অন্যকে যখন নির্দেশ করছি, তখন আমার হাতেরই অপর অঙ্গুলিগুলো আমার নিজের দিকেই নির্দেশ করছে। আমরা সংসদেরা নির্বাচন-পরবর্তীকালে প্রথম যে কাজটি করি তা হলো, এক মিথ্যা স্বাক্ষরিত পত্রে নির্বাচনী ব্যয়ের ঘোষণা দেওয়া। আমাদের যানবাহনের সুবিধার্থে সরকারপ্রদত্ত শুল্কমুক্ত মোটরগাড়ির পারমিট লোভের বশবর্তী হয়ে কিছু টাকার বিনিময়ে সরকারের লক্ষ-কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে হস্তান্তর করি।
ওয়ান-ইলেভেনের পর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নতুন অধ্যাদেশ জারি করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সারা দেশে কঠোর অভিযান পরিচালনা করে। এই নিয়ে কিছু ভুলভ্রান্তি থাকলেও সাঁড়াশি অভিযানে জড়সড় হয়ে পড়েছিল মহাপরাক্রান্ত বড় দুর্নীতিবাজেরা। সারা দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক জাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের জারি করা অধ্যাদেশটি স্বীকৃতি না দিয়ে তা বাতিল করে দেয়। এর পর থেকে মন্থর হয়ে পড়ে, স্থিমিত হয়ে যায় দুর্নীতিবিরোধী অভিযান। কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এতে অত্যন্ত হতাশ হয়ে পড়েন। ওই সময় কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান সরকারের এহেন কর্মকাণ্ডের প্রকাশ্য সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘দুদক এখন দন্তহীন এক ব্যাঘ্র। এর থাবার নখরগুলো ছেঁটে ক্রমান্বয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও দুর্বল ও ক্ষমতাহীন করার চেষ্টা হচ্ছে।’ টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হাফিজউদ্দিন খান বলেন, ‘দুর্নীতি প্রতিরোধের নামে কমিশনকে শক্তিশালী করার কথা বলা হলেও নতুন নতুন আইন পাস করে এর ক্ষমতা আরও খর্ব করা হচ্ছে।’ হালে আইন করা হচ্ছে, সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া দুর্নীতির অভিযোগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না। এ ছাড়া দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা নিজেদের পদমর্যাদার চেয়ে উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের অভিযোগ অনুসন্ধানের সময় জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন না। নতুন আইনে আরও সংযোজিত থাকছে, মিথ্যা অভিযোগের জন্য অভিযোগকারীকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান। পাশাপাশি কমিশনের যেকোনো কাজের জবাবদিহি থাকছে রাষ্ট্রপতির কাছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচিত সরকারের দুই বছরেও দুর্নীতি মোটেই কমেনি। অভিযান জোরদার হওয়ার পরিবর্তে দুর্নীতির তদন্ত কার্যক্রম আশঙ্কাজনকভাবে ঝিমিয়ে পড়েছে। দুর্নীতি-অভিযোগসংক্রান্ত মামলার সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে। দুর্নীতির দায়ে দায়ের করা মামলাগুলো সবই রাজনৈতিক মামলা বলে (শুধু সরকারি দলের) খারিজ করা হচ্ছে। মামলাগুলো ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচারালয়ে নিষ্পত্তির প্রয়োজন ছিল। আইনি বিষয়কে আইনি-প্রক্রিয়ায় চলতে দেওয়া উচিত ছিল। বিচার বিভাগকে এভাবে রাজনৈতিকীকরণ, দলীয়করণ নিশ্চয়ই বিচারের নামে প্রহসন। এটা অনৈতিক, এটা অন্যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঠিকই বলেছিলেন, ‘বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে’। পরিতাপের বিষয়, সরকারের প্রাক-নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ ছিল, দেশ থেকে সম্পূর্ণভাবে দুর্নীতি উচ্ছেদ করা হবে। প্রস্তাবিত আইন তাঁর পরিপন্থী। দুর্নীতি রোধে আমাদের নির্দিষ্ট প্রস্তাব হচ্ছে:
১. দুর্নীতি দমন কমিশনকে সত্যিকারভাবে শক্তিশালী ও কার্যকর হতে হবে। গজদন্তের পরিবর্তে আমরা ব্যাঘ্র দন্ত চাই। চাই ব্যাঘ্রের শক্তিশালী থাবা। দুর্নীতি দমন কমিশনকে আমরা দেখতে চাই স্বয়ংসম্পূর্ণ, সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান হিসেবে। দেখতে চাই, এটি হবে প্রশাসনিকভাবে সুসংগঠিত, পেশাগতভাবে সুদক্ষ, নেতৃত্বের মাপকাঠিতে অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ, সুদৃঢ় এবং সুকঠোর।
২. সব মন্ত্রী, সাংসদ, নির্বাচন প্রাক ও নির্বাচনোত্তর এবং প্রতিবছর তাঁদের স্থাবর ও অস্থাবর সব সম্পদের পূর্ণ বিবরণ দাখিল করবেন এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় উপস্থাপন করবেন। এ বিষয়টি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক মনিটরিংয়ের আওতায় থাকবে।
৩. প্রশাসনে জড়িত সব সিনিয়র আমলার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের হিসাব দিতে হবে এবং তা প্রতিবছর বাধ্যতামূলকভাবে হালনাগাদ করতে হবে। বিষয়টি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক মনিটরিংয়ের আওতায় থাকবে।
৪. ব্যাংক ঋণখেলাপি, কর প্রতারকদের শক্ত হাতে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে। ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় তাদের নামের তালিকা নিয়মিত পৌনঃপুনিকভাবে প্রকাশ করতে হবে। জনগণের কাছে তাদের নগ্নভাবে উন্মোচিত করতে হবে।
৫. এনজিও ও সুশীল সমাজের সংগঠনগুলোকেও সরকারের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত ও স্বাধীন রাখতে হবে।
৭. তথ্যের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কাছে তথ্যপ্রাপ্তি আবশ্যকীয়ভাবে জটিলতামুক্ত, অবাধ ও সহজলভ্য করতে হবে।
৮. সংবিধান বর্ণিত ন্যায়পালের শূন্যপদে একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয়, প্রশ্নাতীতভাবে সৎ, নির্ভীক ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে অতিসত্বর নিয়োগ দিতে হবে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহবুবুর রহমান (অব.): সাবেক সেনাপ্রধান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা।

মে মাসের প্রথম সপ্তাহে থাইল্যান্ডের পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হবে

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়া গতকাল শুক্রবার বলেছেন, মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হবে। ২০০৮ সালের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী ভেজ্জাজিওয়ার জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই নির্বাচন হবে তাঁর সরকারের জনপ্রিয়তার প্রথম পরীক্ষা।
সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে যেকোনো রোববার নির্বাচন হতে হবে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হলে জুনের ১৯, ২৬ অথবা জুলাইয়ের ৩ তারিখে ভোট গ্রহণ হবে।
অনুমোদনের জন্য পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাবিত তারিখ রাজার কাছে উপস্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী ভেজ্জাজিওয়া।

মুগাবের ঐকমত্যের সরকার ছাড়তে চান চেঙ্গারাই

জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের জাতীয় ঐকমত্যের সরকার থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মরগান চেঙ্গারাই। একজন মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার এবং নিজ দলের চেয়ারম্যানকে সুপ্রিম কোর্ট পার্লামেন্টের স্পিকার হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার পর গত বৃহস্পতিবার চেঙ্গারাই এ ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বৃহস্পতিবার চেঙ্গারাইয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জ্বালানিমন্ত্রী এলটন ম্যাঙ্গোমাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপরই এক সংবাদ সম্মেলনে চেঙ্গারাই বলেন, ‘আমরা এমন একটা পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি, যেখানে আমাদের আর একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। আমাদের ঐকমত্য নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।’
চেঙ্গারাই বলেন, একজন দম্পতির জীবনে যখন নানা ধরনের মতৈক্য ও বিভেদ চরম পর্যায়ে পৌঁছে, তখন তারা বিবাহ বিচ্ছেদের ব্যাপারে একমত হয়। একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে আমাদের জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের।

এলটিটিইর প্রশিক্ষণ শিবির থাকার অভিযোগ অস্বীকার ভারতের

ভারতে তামিল গেরিলাদের প্রশিক্ষণ শিবির থাকার অভিযোগ গত বৃহস্পতিবার জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে নয়াদিল্লি। অনুমাননির্ভর ও অসমর্থিত সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযোগ আনা থেকে বিরত থাকতে শ্রীলঙ্কার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত।
শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ডি এম জয়ারত্নে গত বুধবার অভিযোগ করেন, দেশে ফিরে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে তামিল গেরিলারা ভারতের তামিলনাড়ু প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। সেখানে লিবারেশন টাইগার অব তামিল ইলমের (এলটিটিই) অজ্ঞাতসংখ্যক গেরিলা অবস্থান করছে। কিন্তু ভারতের সরকারি মুখপাত্র বিষ্ণু প্রকাশ এ ধরনের অভিযোগ নাকচ করে বলেন, ‘আমাদের দেশের মাটিতে এ ধরনের কোনো শিবির নেই।

সৌদি আরবে আন্দোলন জোরদার, পুলিশের গুলিতে আহত ৩

সৌদি আরবে গতকাল শুক্রবার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ আরও জোরদার হয়েছে। ফেসবুক ও টুইটার ব্যবহার করে আন্দোলনকারীরা দিনটিকে ‘বিক্ষোভ দিবস’ এবং ‘সৌদি মার্চ ১১ বিপ্লব’ নামে আখ্যায়িত করেছেন। এর আগের দিন গত বৃহস্পতিবার পুলিশের গুলিতে তিন বিক্ষোভকারী আহত হয়।
গতকাল জুমার নামাজের পর অনলাইন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক ও টুইটার ব্যবহার করে আন্দোলনকারীরা দেশবাসীর প্রতি তাদের সঙ্গে শামিল হতে আহ্বান জানায়।
গত বৃহস্পতিবার আল-কাতিফ শহরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি ছুড়লে তিনজন আহত হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী এ তথ্য জানান। বিক্ষোভে কয়েক শ মানুষ অংশ নিয়েছিল।
সৌদি সরকারের হাতে আটক দেশটির শিয়া ধর্মীয় নেতা শেখ তৌফিক আল-আমিরসহ অন্যদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ হয়। সৌদি সরকার দেশটিতে সব ধরনের বিক্ষোভ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

কংগ্রেস-তৃণমূলের যৌথ ঘোষণা হতে পারে আজ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন নিয়ে এখনো সমঝোতা হয়নি। এ ব্যাপারে দুই দলের নেতারা আলোচনা করছেন। তাঁদের সমঝোতার ব্যাপারে আজ শনিবার যৌথ ঘোষণা হতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস দাবি করেছে ৯৮টি আসন। কিন্তু তৃণমূল দিতে চাইছে ৬০টি আসন। তবে তারা শেষ পর্যন্ত আরও পাঁচটি আসন দিতে রাজি হতে পারে।
আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতা করতে আজ কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায় কলকাতা যাচ্ছেন। একই সঙ্গে যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি শাকিল আহমেদ। জানা গেছে, এই দুই নেতা আজ আসন নিয়ে সমঝোতার ব্যাপারে চূড়ান্ত বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মিলিত হচ্ছেন।
১০৬ প্রার্থীর নাম ঘোষণা বিজেপির: পশ্চিমবঙ্গে সর্বপ্রথম প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। গত বৃহস্পতিবার বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ১০৬ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। বিজেপি সব আসনেই প্রার্থী দিচ্ছে। ১৮ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত ছয় পর্বে ভোট গ্রহণ চলবে। ১৩ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

আফগানিস্তান নিয়ে ৫০ দেশের মন্ত্রীর বৈঠক

আফগানিস্তান পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার জন্য বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে গতকাল শুক্রবার বৈঠকে করেছেন বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীরা। আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর অধীনে নিজেদের সেনা মোতায়েন আছে এমন প্রায় ৫০ দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা এতে যোগ দেন।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার আত্মঘাতী হামলায় আফগানিস্তানের এক প্রাদেশিক পুলিশ-প্রধান ও ন্যাটো বাহিনীর হাতে হামিদ কারজাইয়ের এক অত্মীয় নিহত হয়েছেন।
ন্যাটো সদর দপ্তরে মন্ত্রীদের ওই বৈঠকে একটি ন্যাটো-আফগান যৌথ বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। এই বোর্ড আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব বিদেশি বাহিনীর কাছ থেকে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সুপারিশ করবে। আফগানিস্তান থেকে ধীরে ধীরে নিজেদের ভূমিকা গুটিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই নিরাপত্তা দায়িত্ব হস্তান্তরই পশ্চিমাদের প্রধান পদক্ষেপ।
বিদেশি ও আফগান কর্তকর্তারা আশা করছেন, আগামী ২০১৪ সালের শেষ নাগাদ আফগান বাহিনী নিজেদের দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে। ইতিমধ্যে তারা অনেক এলাকার দায়িত্ব নিয়েছে।
পুলিশ-প্রধান নিহত: এদিকে, আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় কন্দুজ প্রদেশে আত্মঘাতী বোমা হামালায় প্রাদেশিক পুলিশের প্রধানসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। কন্দুজ শহরে গত বৃহস্পতিবার ওই হামলা হয়।
হামিদ কারজাইয়ের আত্মীয় নিহত: কান্দাহারে ন্যাটো বাহিনীর হামলায় প্রেসিডেন্ট কারজাইয়ের এক আত্মীয় নিহত হয়েছেন। কান্দাহারের দান্দ জেলায় বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালায় ন্যাটো বাহিনী। কারজাইয়ের আত্মীয় ইয়ার মোহাম্মদ খান তাঁর বাড়িতে গুলিতে নিহত হন। ন্যাটো বলেছে, দুর্ঘটনাক্রমে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

আইভরি কোস্টে আবার সংঘর্ষ ওয়াতারাকে এইউর স্বীকৃতি

আইভরি কোস্টে গত বৃহস্পতিবার নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ) দেশটির বিরোধী নেতা আলাসেন ওয়াতারাকে নির্বাচিত বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসিবে স্বীকৃতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।
আইভরি কোস্টের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট লরা বাগবো এইউর এই সিদ্ধান্তে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জাতিসংঘ ও ফ্রান্সের বিমান তাঁর দেশের ওপর দিয়ে যাওয়া বা অবতরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
বিদ্রোহীদের ও সরকার-নিয়ন্ত্রিত এলাকার মাঝামাঝি অবস্থিত তাইবিসউ শহর ও ইয়ামোসোকরোর কাছে বৃহস্পতিবার ভারী অস্ত্রের গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
ওই এলাকার এক বাসিন্দা সাংবাদিকদের বলেন, রাত আটটার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলিবিনিময় শুরু হয়। রাতভর তা চলে। অপর একজন জানান, কালাশনিকভ রাইফেল থেকে গুলি ছোড়া হচ্ছে।
এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে এইউ ঘোষণা করে, গত নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওয়াতারাই বৈধভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আদ্দিস আবাবা থেকে ওয়াতারা বলেন, এ ঘোষণা বাগবোকে মানতেই হবে। শিগগিরই তাঁকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।
ওয়াতারা বলেন, এইউ তাঁকে সরকার গঠন করতে বলেছে এবং একই সঙ্গে বাগবোকে সম্মানজনক অপসারণের সুযোগ দিতে বলেছে। তিনি বলেন, ‘শান্তির স্বার্থে আমি তাঁদের কথা মেনে নিয়েছি।’
বাগবোর সরকার এইউর এই ঘোষণা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আবিদজান থেকে বাগবোর মুখপাত্র আহোয়া ডন মেল্লো বলেন, যেখানে ক্ষমতা ভাগাভাগির কথা হচ্ছে, সেখানে এই ঘোষণা মেনে নেওয়া যায় না।
আদ্দিস আবাবায় এইউর বৈঠক শেষে ওয়াতারা গতকাল শুক্রবার নাইজেরিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সেখানে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট গুডলাক জোনাথনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
জাতিসংঘ ও ফ্রান্সের বিমানের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আবিদজান থেকে বিবিসির সাংবাদিক জন জেমস জানান, ওয়াতারার দেশে ফেরার পথ বন্ধ করতে সম্ভবত এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বাগবো। গত নভেম্বরের নির্বাচনের পর থেকে ওয়াতারা আবিদজানের গলফ হোটেলে ছিলেন। সেখানে তাঁর নিরাপত্তা দিচ্ছে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীরা।

পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষ মাওবাদী নেতা শশধর নিহত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জঙ্গলমহলের শীর্ষ মাওবাদী নেতা শশধর মাহাত গত বৃহস্পতিবার যৌথ বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঝাড়গ্রাম মহকুমার জামবনী থানার চনসরো গ্রামের জঙ্গলে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন। শশধরের কাছ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অপর এক মাওবাদী নেতা আহত হন। তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শশধরের স্ত্রী ও মাওবাদী মহিলা স্কোয়াডের শীর্ষস্থানীয় নেত্রী সূচিত্রা মাহাত সহযোগীদের নিয়ে পালিয়ে যান।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে যৌথ বাহিনীর একটি দল চনসরো গ্রামের জঙ্গল ঘিরে ফেলে। সহযোগীদের নিয়ে শশধর তখন ওই জঙ্গলে অবস্থান করছিলেন। মাওবাদীরা যৌথ বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তারা পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই পক্ষের এই বন্দুকযুদ্ধ চলে। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে শশধর নিহত হন।
শশধর মাহাতকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকার ভারতীয় মুদ্রায় দুই লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। শালবনীতে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের গাড়িবহরে মাইন বিস্ফোরণ, পুলিশ ক্যাম্পে হামলা ও জ্ঞানেশ্বরী ট্রেনে বিস্ফোরণ ঘটানোর পেছনে শশধরের হাত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

মিস ইউনিভার্সে ব্রিটেনের প্রথম মুসলিম নারী!

শানা বুখারি নামের এক মুসলিম তরুণী আগামী মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় গ্রেট ব্রিটেনের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি অংশ নিলে এটিই হবে এই সুন্দরী প্রতিযোগিতায় গ্রেট ব্রিটেনের কোনো মুসলিম নারীর প্রথম অংশগ্রহণ।
ম্যানচেস্টারের বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সী শানা বলেন, ‘আমি চাই, আরও মুসলিম নারী প্রতিযোগিতাটিতে অংশ নিক। কারণ, এখানে শারীরিক সৌন্দর্য ছাড়াও আরও অনেক দিক বিবেচনা করা হয়।’ ১ মে অনুষ্ঠেয় মিস ইউনিভার্স গ্রেট ব্রিটেনের বিজয়ীসেপ্টেম্বরে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য মিস ইউনিভার্সেপ্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

মুসলমানদের পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরে কাঁদলেন কিথ

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জীবন উৎসর্গ করেও মুসলমানরা অপবাদের শিকার হচ্ছে।’ মার্কিন কংগ্রেসে গত বৃহস্পতিবার ‘মুসলমান ও জঙ্গিবাদ’ শীর্ষক শুনানিতে এ কথা বলেন কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম মুসলমান প্রতিনিধি কিথ এলিসন
তীব্র প্রতিবাদ উপেক্ষা করে মার্কিন কংগ্রেসে এই শুনানি হয়েছে। জঙ্গিবাদকে জড়িয়ে মুসলমানদের নিয়ে এ ধরনের শুনানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন শুরু করেছে। নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই শুনানির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার প্রথম দফার শুনানিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কিথ এলিসন কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, গুটিকয়েক মানুষের কর্মকাণ্ডের দায়ভার গোটা মুসলিম সমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
রিপাবলিকান দল কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর এই শুনানি ছিল রক্ষণশীলদের জন্য বড় রাজনৈতিক ঘটনা। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির প্রধান ও নিউইয়র্ক থেকে নির্বাচিত কংগ্রেসম্যান পিটার কিং এই শুনানির উদ্যোগ নেন। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো জঙ্গিবাদ দমনে মুসলমানদের পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছে না। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে। এ কারণে জঙ্গিবাদ ও মুসলমানদের নিয়ে কংগ্রেসে খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত।
গত সপ্তাহে নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে শতাধিক নাগরিক অধিকার সংগঠন এই শুনানির প্রতিবাদে সমাবেশ করে। ডেমোক্র্যাট দলের প্রভাবশালী আইন প্রণেতারাও এর বিপক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন।
শুনানিতে কিথ এলিসন ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ঘটনায় মুসলমান প্যারামেডিক সুলেমান হামদানির আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে উচ্চ স্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ধসে পড়া টুইন টাওয়ারে অন্যের জীবন বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন সুলেমান। অথচ শুধু মুসলমান হওয়ার কারণেই তাঁকে হামলাকারীর একজন হিসেবে অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। শুনানিকক্ষে উপস্থিত সুলেমান হামদানির মা-ও এ সময় কাঁদতে শুরু করেন। ওই দৃশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে গুরুত্বের সঙ্গে সম্প্রচার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলমানদের মনের কথা তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে বলে সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করা হয়।
মিশিগান থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জন ভিনগেল তাঁর বক্তব্যে বলেন, মুসলমানরাও আমেরিকার সম্মানজনক নাগরিক। মিসিসিপি থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান বেনি থমসন বলেন, কংগ্রেসে এ ধরনের শুনানির পরিণাম হবে ভয়াবহ। এতে বহির্বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা বেড়ে যাবে।
কাউন্সিল অব ইসলামিক রিলেশনের নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ বলেন, পিটার কিং ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির প্রধান হওয়ার যোগ্যতা পিটার কিংয়ের নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এসব বিরোধিতা উপেক্ষা করে শুনানি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন পিটার কিং। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে শুনানি গ্রহণ থেকে পেছানোর কোনো অবকাশ নেই।

পোলার্ড-স্মিথের দিন

ডেভন স্মিথের কি মন খারাপ? সেঞ্চুরি করেছেন। দলও জিতেছে ৪৪ রানে। মন খারাপের প্রশ্ন আসছে কেন?
প্রশ্নটা আসছে তাঁর সেঞ্চুরিতে দল জিতেছে বলেই। ৩৬তম ম্যাচে এসে স্মিথ পেলেন ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ উন্মাদনায় বিষ ছিটিয়ে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজও কোয়ার্টার ফাইনালের পথে এগিয়ে গেল আরেক ধাপ। কিন্তু ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারটি স্মিথের হাতে উঠল না। এই আফসোস? মোটেই না। আফসোস থাকবে কেন? ম্যাচসেরার পুরস্কারটি তো অন্য কেউ নন, পেয়েছেন সতীর্থ কাইরন পোলার্ড।
আর স্মিথ নিজে বিচারক থাকলেও কি ম্যাচসেরার পুরস্কারটি সন্তুষ্ট মনে সতীর্থ পোলার্ডের হাতেই তুলে দিতেন না? সকালে আভাস-ইঙ্গিত দিয়েও যে কাল মোহালিতে আরেকটি আইরিশ রূপকথা হলো না, তার প্রধানতম কারণ তো পোলার্ডই।
কাল সকালেই একটা দুঃসংবাদ সঙ্গী হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। তলপেটের সমস্যার কারণে খেলতে পারলেন না ওপেনার ক্রিস গেইল। গেইলের অনুপস্থিতিতে ডেভন স্মিথের সঙ্গে ওপেন করতে নামেন শিবনারায়ণ চন্দরপল। গেইলকে হারানোর ভয় হোক কিংবা আয়ারল্যান্ডের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং, ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার শুরুটা করেন খুবই ধীরগতিতে। প্রথম ১০ ওভারে রান মাত্র ২৮! আরেকটি আইরিশ রূপকথা রচনার আভাস।
এই আভাস পোলার্ড মাঠে নামার আগ পর্যন্তই ছিল। স্মিথ-চন্দরপলের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ৮৯ রানে গিয়ে। ৬২ বলে ৩৫ চন্দরপলকে দিয়ে এই জুটি ভাঙেন কেভিন ও’ব্রায়েন। তিন বল পর লারার ‘ক্লোন’ ড্যারেন ব্রাভোও আউট (০)। সারওয়ানও ফিরে যান দ্রুতই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩২ ওভারে ১৩০/৩! কত দূর আর যেতে পারত ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বড়জোর ২২০-২৩০!
এরপরই পোলার্ড-ঝড়। আর তাতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেল ২৭৫ রানের পুঁজি। ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ল আয়ারল্যান্ড! ব্যাটিং-অর্ডারে প্রমোশন পেয়ে পাঁচে নামা পোলার্ড হাফ সেঞ্চুরি করেন ৩৫ বলে। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৫৫ বলে ৯৪। ৫ ছক্কা, ৮ চার।
পোলার্ড-প্রতাপে শুরুতে ঝিমানো স্মিথের ব্যাটও দুরন্ত হয়ে ওঠে। চতুর্থ উইকেটে তাঁরা মাত্র ১০.৩ ওভারে গড়েন ৮৮ রানের জুটি। এর ৫৪-ই পোলার্ডের।
১০৭ রান করা স্মিথের আফসোস না থাকতে পারে, পোলার্ডের নিশ্চয়ই আছে। আর একটা ছক্কা হলে তো জয় ও ম্যাচসেরার পুরস্কারের সঙ্গে পেতেন ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির তৃপ্তিও।
২৭৬ রানের চ্যালেঞ্জের পথেও অবশ্য ভালোই লড়ে যাচ্ছিল আয়ারল্যান্ড। ৮৬ রানে ৩ উইকেট হারানোর পরও তাদের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল এড জয়েস ও উইলসন জুটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি তাঁরা। পারেনি আয়ারল্যান্ড। আটকে যায় ২৩১ রানে। ২০০৭ বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা জয়েস ৮৪ আর উইলসন করেন ৬১ রান।

স্ট্রাউসের কাঠগড়ায় উইকেট

শফিউল ইসলামের বীরত্ব, নবম উইকেটে মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে তাঁর অসমাপ্ত ৫৮ রানের দুর্দান্ত জুটি, বাংলাদেশের সুশৃঙ্খল বোলিং—এর কোনো মূল্য নেই? কাল বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচে যা ঘটেছে, তার সব দায় জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেটের?
ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ইংল্যান্ড অধিনায়কের কথার একটা অংশ শুনলে অনেকেরই মনে হতে পারে এ রকম। ‘বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট দিয়ে কোনো মাঠের দিবা-রাত্রির ম্যাচের যাত্রা শুরুটা একটু আশ্চর্যজনকই’—অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস কি পরাজয়ের দায় চাপাতে চাইলেন না জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেটের ওপর?
শুধু উইকেটই তো নয়, কাল প্রকৃতিকেও দুষতে চাইলেন স্ট্রাউস। পরাজয়ের ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়ে ইংল্যান্ড অধিনায়ক টেনে আনলেন শিশির-তত্ত্বকেও, ‘আমরা যখন বোলিং করেছি, তখন প্রথম ২০ ওভার পর্যন্ত অবস্থা খুবই বাজে ছিল। গ্রায়েম (গ্রায়েম সোয়ান) তো বলই গ্রিপ করতে পারছিল না। স্পিন যেখানে এত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সেখানে একজন স্পিনারের বল গ্রিপ করতে না পারাটা একটু কেমনই যেন।’
কিন্তু মাঠ আর প্রকৃতির ওপর দায় চাপিয়ে দিলেই তো আর হয় না। কিছু দোষ নিজেদের ঘাড়েও নিতে হয়। ম্যাচের পরের অংশে নাহয় শিশিরের সমস্যা ছিল, কিন্তু ইংল্যান্ডের ব্যাটিংটা এত খারাপ হলো কেন? অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস বললেন, ‘এই উইকেটে প্রথমে ব্যাট করা খুব কঠিন। স্লো ও লো উইকেট এটা। তবু আমি ভেবেছিলাম, ২২০ রানই যথেষ্ট। তবে এটা ঠিক যে আমরা এর চেয়েও বেশি রান করতে পারতাম।’
শেষ পর্যন্ত অবশ্য স্ট্রাউস স্বীকার করেছেন, ব্যাটিংয়ের মতো বোলিংটাও ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের, ‘নতুন বলে যতটা ভালো করা উচিত ছিল, ততটা ভালো আমরা করতে পারিনি। অনেক বেশি ওয়াইড দিয়ে ফেলেছি। ম্যাচটা জেতার মতো দারুণ জায়গায় গিয়েও আমরা জিততে পারিনি।’
এ জায়গাতে এসেই ইংল্যান্ড অধিনায়ককে বলতে হলো শফিউল আর মাহমুদউল্লাহর কথা। এ দুজনই ইংল্যান্ডের প্রায় জিতে যাওয়া ম্যাচটি ছিনিয়ে নিয়েছেন। স্ট্রাউস তাই নিজের বোলারদের ব্যর্থতার কথা বলতে গিয়ে পরোক্ষে প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশের জয়ের এই দুই নায়ককে, ‘বাংলাদেশের শেষ দুই ব্যাটসম্যান খুব ভালো খেলেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচটিতে তারাই বাংলাদেশকে পৌঁছে দিয়েছে কাঙ্ক্ষিত জায়গায়। আর এটাই ওয়ানডে ক্রিকেট।’
ওয়ানডে ক্রিকেট যেমন অনিশ্চিত, তেমনি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ইংল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন। স্ট্রাউসরা কি পারবেন স্বপ্নের দৌড়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে? ইংলিশদের চিরকালীন একটি আক্ষেপ ঘুচিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের বাসনা নিয়েই তো উপমহাদেশে এসেছে স্ট্রাউসের দল। সেই আকাঙ্ক্ষা কি পূরণ হবে? তবে হাল ছাড়ছেন না স্ট্রাউস, ‘আমরা এখনো বিশ্বকাপ জিততে পারি।’
এখান থেকে বিশ্বকাপ জিততে হলে কী করতে হবে, স্ট্রাউসের তা বিলক্ষণ জানা। তাই বললেন, ‘আমাদের বাতিল করে দেওয়া যাবে না। সমস্যা হচ্ছে, আমরা ধারাবাহিক নই। আর ব্যাটিং ও বোলিংয়ে এখনো একসঙ্গে জ্বলে উঠতে পারিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচে আমাদের সেটাই করতে হবে।’

এ কী আচরণ সোয়ানের !

বাংলাদেশের কাছে হেরে নানারকম অজুহাত খুঁজছেন ইংলিশ খেলোয়াড়েরা। অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস গতকালই ম্যাচ উত্তর সংবাদ সম্মেলনে বারবারই সন্ধ্যার শিশিরের প্রসঙ্গ টেনে আনছিলেন। যেন শিশিরই সব নষ্টের মূলে। এই ‘শিশির’ ‘শিশির’ রবটা অবশ্য কাল প্রথম তুলেছেন ইংলিশ অফ-স্পিনার গ্রায়েম সোয়ান। টেলিভিশনে যাঁরা খেলাটি দেখেছেন, তাঁরা বেশ ভালো ভাবেই ‘উপভোগ’ করেছেন গ্রায়েম সোয়ানের হতাশাটি। এক পর্যায়ে বল পরিবর্তন নিয়ে তো অস্ট্রেলীয় আম্পায়ার ড্যারেল হার্পারের সঙ্গে রীতিমতো বচসায় চলে গেলেন তিনি। বল পরিবর্তনে হার্পারকে বাধ্য করতে না পেরে মুখ দিয়ে ‘খিস্তি’ বর্ষণই করে ফেললেন। টেলিভিশন সম্প্রচার ও পিচ মাইক্রোফোনের কল্যাণে সোয়ানের সেই খিস্তি কানে চলে গেল বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লাখ লাখ দর্শকের কানে। সবাই স্তম্ভিত হয়ে গেলেন, বিস্ময়ে বিমূঢ় হলেন ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেটের ‘ভদ্রলোকেদের’ আচরণে।
ব্রিটিশ টেলিভিশন ধারাভাষ্যকার ডেভিড লয়েড নিখাঁদ ভালো মানুষ। আর তাই, সোয়ানের আচরণ তাঁকে লজ্জা দিয়েছে। টেলিভিশন ধারাভাষ্যের মাধ্যমে সব দর্শকদের কাছে তিনি সোয়ানের হয়ে ক্ষমা চাইলেন।
ম্যাচ শেষে ইংলিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে, তিনি এটাকে সোয়ানের ‘হতাশা’ বলে এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন। তবে, তিনি স্বীকার করেছেন যে আম্পায়ার হার্পারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার সময় তিনি সোয়ানকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সোয়ান রাগান্বিত হয়ে কি শব্দ উচ্চারণ করেছেন, তা তিনি শোনেন নি বলেই জানিয়েছেন।
আইসিসির আচরণবিধিতে এমন আচরণ শাস্তিযোগ্য অপরাধের পর্যায়েই পড়ে। কোনো খেলোয়াড় আম্পায়ারের সঙ্গে বচসায় গিয়েছেন-এমন দৃশ্য অনেকদিনই ক্রিকেটে কেউ দেখেনি। তবে, বিশ্বকাপের মঞ্চে কাল চট্টগ্রামের মাটিতে অনেকদিন পরই ক্রিকেট দেখল, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া দলের খেলোয়াড়দের অভব্যতা।

শচীন, শেবাগের কাছে ধোনির দাবি

একটি করে সেঞ্চুরি করেছেন দুজনেই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শচীন টেন্ডুলকার করেন ১২০ রান। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বীরেন্দর শেবাগ খেলেন ১৭৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। তার পরও মহেন্দ্র সিং ধোনির আক্ষেপ কমছে না। একই ম্যাচে জ্বলে উঠে এখনো যে বড় কোনো জুটি গড়তে পারেননি বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর এ দুই ব্যাটসম্যান!
প্রথম চার ম্যাচে শচীন-শেবাগের উদ্বোধনী জুটির সংগ্রহ যথাক্রমে ৬৯, ৪৬, ৯ ও ৬৯। মোটেও খুশি হওয়ার মতো নয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আজকের ‘বড়’ ম্যাচে তাই বড় উদ্বোধনী জুটির দাবি ধোনির, ‘যদি আমাদের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানরা আরও দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাট করতে পারে, এটি আমাদের জন্য ভালো হবে। কারণ, আমরা দেখেছি, শচীন ও বীরু একবার শুরু করলে তাঁদেরকে থামানো কঠিন।