Friday, July 23, 2010

পোশাকশ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি

সরকারিভাবে পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণই হলো বর্তমান সময়ের অন্যতম জ্বলন্ত প্রশ্ন। শ্রমিকদের বাঁচার মতো মজুরি দেওয়ার পক্ষে দেশব্যাপী জনমতও তৈরি হয়েছে। ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে এই মজুরি ঠিক করা নিয়ে ইতিমধ্যে সরকারিভাবে গঠিত মালিক-শ্রমিক-সরকারের ত্রিপক্ষীয় কমিটি নবমবারের মতো সভায় বসেছে। সরকারকে এ অবস্থায় যেমন মানবিক, যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত দিতে হবে, তেমনি মালিকপক্ষকেও শিল্পের স্বার্থেই অনড় অবস্থান ত্যাগ করতে হবে। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সংসদে বলেছেন, ‘পোশাক শ্রমিকদের যে বেতন দেওয়া হয় তা শুধু অপ্রতুলই নয়, অমানবিক।’ আশা করি, মজুরি কমিশনের রোয়েদাদে তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিফলন ঘটবে।
দেশের সবচেয়ে ব্যবসাসফল রপ্তানিমুখী শিল্প খাতে লাভ ছাড়া আর সব কিছুই কম। পোশাকশ্রমিকদের মজুরি কম, লাভজনক অরপ্তানিমুখী শিল্পের থেকেও কম, এমনকি দিনমজুরদের থেকেও কম! বর্তমানে মাসিক এক হাজার ৬২২ টাকার নিম্নতম মজুরি বিশ্বের মধ্যেও নিম্নতম। এমনকি নেপালের পোশাককর্মীরাও এর থেকে বেশি বেতন পান। কাজের পরিবেশ ও শ্রমিকের মর্যাদাও এখানে অসন্তোষজনক। এরই প্রতিফলন ঘটে শ্রমিকদের লাগাতার অসন্তোষের মধ্যে। এখন পোশাকশিল্পের বিদেশি ক্রেতা ও অধিকার সংস্থাগুলোও অসন্তোষ জানাচ্ছে। বুধবারের প্রথম আলো বলছে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বৃহত্তম ক্রেতা ওয়াল-মার্টসহ বিদেশি ক্রেতা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও শ্রমিকদের দুরবস্থা নিয়ে সচেতন হচ্ছে। অন্যতম ক্রেতাদেশ নেদারল্যান্ডের ঢাকার দূতাবাস থেকেও এ ব্যাপারে সরকারের মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি বাঁচার মতো অবস্থায় না এলে ভবিষ্যতে তাই একদিকে শ্রমিক আরও বিমুখ হবে, অন্যদিকে নিম্ন ভাবমূর্তির কারণে বাজার হারানোর আশঙ্কাও প্রবল।
গত বছরের তুলনায় এ বছর এই খাতের রপ্তানি ও আয় বেড়েছে। এ ছাড়া কম সুদের ঋণ-সুবিধা, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে কোটা-সুবিধাসহ বহুবিধ ছোট-বড় সুবিধা এ খাতের উদ্যোক্তারা পেয়ে থাকেন। এত কিছুর পরও কী কারণে এর সামান্য সুফল শ্রমিকেরা পাবেন না, তা বোধগম্য নয়। নিশ্চয়ই অর্থনীতিতে অবদান রাখার জন্য উদ্যোক্তারা অভিনন্দন পাবেন। কিন্তু শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপন তাঁদের কৃতিত্বকে যে ম্লান করে দিচ্ছে, তা বোঝার সময় এখন ঘনিয়ে এসেছে।
১৯৯৪ সালে পোশাকশিল্পের জন্য ন্যূনতম মজুরি ঠিক করা হয়েছিল ৯৩০ টাকা, ১২ বছর পর তা হয় এক হাজার ৬২২ টাকা। এই টাকায় বর্তমানে একজনের পক্ষেও বাঁচা কঠিন, সেখানে পরিবার নিয়ে বাঁচা কীভাবে সম্ভব? সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুসারে, মালিকপক্ষ সর্বোচ্চ দুই হাজার ২০০ টাকার বেশি দিতে চান না। অথচ অর্থনীতিবিদ ও পুষ্টিবিজ্ঞানীদের ভাষ্য হচ্ছে, আজকের বাজারে একজন শ্রমিককে প্রাণ ধারণ করতে হলে কমপক্ষে সাত থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা প্রয়োজন। তার পরও শ্রমিক প্রতিনিধিরা নিম্নতম মজুরি হিসেবে মাসিক পাঁচ হাজার টাকার বেশি চাওয়ার সাহস করেননি। এখন মালিক-শ্রমিক উভয়ের মঙ্গলের স্বার্থেই পোশাক খাতের নিম্নতম মজুরি হিসেবে এই অঙ্ককে সাব্যস্ত করাই ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান।
এই সমাধানের দায়িত্ব প্রধানত সরকারের। সরকারই এ ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী। সরকারের উচিত, পোশাকশিল্পের ভবিষ্যতের স্বার্থে এই শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বর্তমান বাজারদরে জীবনধারণের প্রয়োজন মেটানোর মতো করে ঠিক করা।

সৌরবিদ্যুৎ কি আমরা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে চাই by আসাদউল্লাহ খান

শিল্প বিপ্লবোত্তরকালের প্রধান ঘটনা বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির বিকাশ, কলকারখানা স্থাপন, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং নগর-বন্দর গড়ে ওঠা। ফলে মানুষের আরাম-আয়েশ বাড়লেও আরেকটি ক্ষতিকর দিক মানুষের কাছে প্রকট হয়ে উঠেছে। তা হচ্ছে ক্ষতিকর গ্রিন হাউস গ্যাস অর্থাৎ ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, মিথেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত নিঃসরণ। এর কারণে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি বদলে যাচ্ছে, খরাসহ বৃষ্টিপাতের ধরন পালটে যাচ্ছে, মানুষ নতুন নতুন রোগের শিকার হচ্ছে এবং বিশ্বব্যাপী পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিজ্ঞানীদের সতর্কবাণী, মাত্রাতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ পৃথিবীর জন্য অশনিসংকেত। রাষ্ট্রের কর্ণধার, বিজ্ঞানী ও শিল্পোদ্যোক্তারা এখন আগের চেয়ে অনেক জোরেশোরে শক্তি উৎপাদনের বিকল্প জ্বালানি তথা নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস উৎস খুঁজছেন।
বাংলাদেশে এই নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসগুলো যেভাবে হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগোচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে এই শক্তির উৎসগুলো কতটা মানুষের চাহিদা মেটাতে পারবে, তা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আছে। বিদ্যুৎ আজ মানুষের জীবনব্যবস্থার পরিবর্তন এবং দিনবদলে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এখন পর্যন্ত মানুষের জীবনব্যবস্থায় যে বিপ্লবাত্মক পরিবর্তন এসেছে, বিশ্বব্যাপী মানুষের চিন্তাচেতনায় প্রযুক্তির বিকাশ যেভাবে জড়িয়ে পড়েছে, কেবল অফুরন্ত বিদ্যুৎশক্তির উৎস সে দাবি পূরণ করতে পারে। তবে এ কথা সত্যি, বড় বড় শক্তি উৎপাদন কোম্পানি আজ আর বসে নেই। অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের কারণে পরিবেশ যে আজ দূষণের শিকার, এ বার্তা তাদের কাছে পৌঁছে গেছে, কার্বন-দূষণ যে দুঃসংবাদ ক্রমাগত মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে, তাতে শিল্পোদ্যোক্তারা বিদ্যুৎশক্তির উৎস হিসেবে তেল, কয়লা ও গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ প্লান্ট থেকে আস্তে আস্তে সরে আসছেন। নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসগুলো থেকে শক্তি উৎপাদনে তাঁরা আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী, অনেক বেশি তৎপর। বিশ্বের বৃহৎ শিল্প-কারখানার মালিকেরা জীবাশ্ম অর্থাৎ তেল, গ্যাস ও কয়লা থেকে শক্তি উৎপাদনের চেয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস যথা সূর্যরশ্মি ও বাতাস থেকে শক্তি উৎপাদনের ব্যাপারে ব্যাপক কর্মোদ্যোগ নিয়েছেন। বর্তমান বিশ্বে ধনী দেশগুলোতে শক্তি উৎপাদন নিয়ে যাঁরা কাজ করছেন তাঁদের ধারণা, ২০৫০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎসগুলো থেকে বিশ্বের মোট চাহিদার অর্ধেক শক্তি পাওয়া যাবে। আমেরিকায় সূর্যরশ্মি থেকে এক-দুই গিগাওয়াট (এক গিগাওয়াট = এক বিলিয়ন ওয়াট) বিদ্যুৎশক্তি পাওয়ার কাজ ২০০৯ সালের শেষার্ধে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে নেভাদায় সূর্যরশ্মি থেকে ৩৫৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। ইউরোপের স্পেন ও জার্মানিতে সৌররশ্মি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্লান্ট স্থাপনের কাজ খুব জোরেশোরে চলছে। স্পেনে আন্ডাসল-১ ও আন্ডাসল-২ নামের দুটো প্রকল্পের আওতায় ৫০ মেগাওয়াটের দুটি বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ। আমেরিকায় ২০১০ সালের মধ্যে ২২টি প্রকল্পের অধীনে পাঁচ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ অনলাইনে আসবে। আরও আশাপ্রদ ব্যাপার হলো, ফটোভোল্টেইক স্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ গ্রাহকের নাগালে আসছে। এ লাইনে যাঁরা কাজ করছেন তাঁদের ধারণা, ইতিমধ্যে ২১ হাজার মেগাওয়াট গ্রাহকের নাগালের মধ্যে এসে গেছে। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার অদূরে টোপাজ সৌর ফটোভোল্টেইক বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মিত হচ্ছে এক বিলিয়ন ডলার খরচে এবং এটা থেকে দৈনিক ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
আমাদের দেশে একটা প্রচলিত ধারণা আছে, সৌররশ্মি থেকে দেশের চাহিদার নিরিখে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎশক্তি কোনো দিন পাওয়া যাবে না। কিন্তু উল্লিখিত দেশগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি আমরা দেখছি, তাতে আমাদের এতটা নৈরাশ্যবাদী হওয়ার কোনো কারণ আছে বলে মনে হয় না। এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অর্থাৎ শিল্প-কারখানা স্থাপন, কৃষি উন্নয়ন এবং দৈনন্দিন কাজে বিদ্যুতের ভীষণ ঘাটতি উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করে ফেলেছে। রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্প আজ হুমকির মুখে। বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে তিন হাজার ৮০০ থেকে চার হাজার মেগাওয়াট এবং এই বিদ্যুতের প্রায় ৯০ শতাংশ উৎপাদিত হয় গ্যাস থেকে। এখনো পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ৭০ শতাংশ বিদ্যুতের চাহিদা গ্যাসের মাধ্যমে মেটানো হয়। কিন্তু গ্যাসের ঘাটতি এক মারাত্মক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। এখনো পর্যন্ত দেশে গ্যাসের মজুদ ১৪ টিসিএফ বলে জানা গেছে, যার মধ্যে ৮ দশমিক ৫ টিসিএফ (প্রমাণিত) এবং ৫ দশমিক ৫ টিসিএফ (সম্ভাব্য) মজুদ। এই পর্যায়ে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এবং সম্ভাব্যতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সরকার ২০১৩ সালের মধ্যে আট হাজার ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে চলতি বছর অর্থাৎ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৩৯০ মেগাওয়াটের সঙ্গে কুইক রেন্টালসহ মোট এক হাজার ১৮২ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা। এরপর আগামী বছর অর্থাৎ ২০১১ সালে নতুন বিদ্যুৎ যুক্ত হবে এক হাজার ৭৭৭ মেগাওয়াট।
এ সবই রূপকল্প, অনেকটা কল্পনার কথা। বাস্তব কথা হলো দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে এ ধরনের অনেক লক্ষ্যমাত্রা অতীতে অর্জিত হয়নি বলে মানুষ এখনো আশায় বুক বাঁধতে পারছে না। আসল ব্যাপারটি হলো, শুধু প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা থাকলেই তো কাজ হবে না, মাঠপর্যায়ে যাঁরা কাজ করছেন—প্রকৌশলী থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ প্লান্টের ঠিকাদার, যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা, সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির মান এবং জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা—সব সময়মতো এবং সঠিকভাবে হলেই বাতি ঠিকভাবে জ্বলবে এবং কলকারখানা চলবে। অতীত অভিজ্ঞতার নিরিখে বলা যায়, এ দেশে কোনো সময়ই চুক্তিপত্রের বিধিমালার সঙ্গে মিলিয়ে কাজ হয়নি এবং চুক্তিপত্রের বিধিমালা বরখেলাপের কারণে ঠিকাদার কিংবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অথবা সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও এ পর্যন্ত কাউকে জবাবদিহি করতে হয়েছে বলে শোনা যায়নি। এরপর এই ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় বহন করার যে চাপ পড়বে, তা চিন্তা করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে হবে। তাই দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থায় দূষণমুক্ত বিকল্প শক্তির উৎস সন্ধানে আমাদের যেতেই হবে।
রাজনৈতিক সদিচ্ছা অর্থাৎ সরকারের আগ্রহ এবং একই সঙ্গে প্রচার ও জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে এ দেশে সৌরবিদ্যুৎশক্তির সংকট মোচনে এক অভাবনীয় ভূমিকা রাখতে পারে। বিদ্যুতের ব্যবহার যত বাড়বে, ইউনিটপ্রতি খরচ যত কমবে, মানুষের জীবন তত আলোকিত হবে, জীবনমান তত উন্নত হবে এবং দেশ সমৃদ্ধ হবে। কিন্তু এই বিদ্যুৎ মানুষের কাছে সহজলভ্য করাটাই এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত প্রতি বর্গমিটারে প্রায় ৬ দশমিক ৫ কিলোওয়াট আওয়ার রেডিয়েশন পাওয়া যায়। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ২০ লাখ ঘরে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানোর সাফল্য নিয়ে আমাদের আত্মপ্রসাদ লাভ করার কোনো কারণ নেই। আমাদের দেশের প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তাদের সৌরবিদ্যুৎ কর্মকাণ্ডের তীর্থভূমি বা পীঠস্থান স্পেন ও জার্মানিতে পাঠাতে হবে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ এবং প্রশিক্ষণের জন্য। স্পেনে এখন ২২টি প্রকল্পের অধীন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এ বছরের শেষার্ধে এক হাজার ৩৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। পর্তুগালও পিছিয়ে নেই। এ বছরই পর্তুগালের মৌরা পিভি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। জার্মানি, স্পেন ও পর্তুগাল কী ধরনের প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি এবং কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে এ সাফল্য লাভ করেছে, তা আমাদের অবশ্যই জানতে হবে।
আমাদের দেশে বছরের তিন-চার মাস বাদে সূর্যতাপের কোনো ঘাটতি নেই এবং দেশে খাদ্যদ্রব্য, এমনকি সারে যেমন ভেজাল ঢুকে গেছে, সূর্যরশ্মিতে সেটা এখনো ঘটেনি। এখন প্রয়োজন শুধু সরকারের উদ্যোগ, বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বমানের যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তি দেশবাসীর কাছে সহজলভ্য করার প্রচেষ্টা।
আসাদউল্লাহ খান: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।
aukhanbd@gmail.com

আমিরিকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করবে ইরান

শাহরাম আমিরি
ইরানের পরমাণুু বিজ্ঞানী শাহরাম আমিরিকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করবে সে দেশের একটি চলচ্চিত্র নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান। সিমা ফিল্ম নামক ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আমির হুসেইন আস্তিনিপুর জানান, চলচ্চিত্রে গ্র্যাজুয়েট করা একদল তরুণকে চলচ্চিত্রের জন্য কাহিনি লেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত জানাননি। এক বছর নিখোঁজ থাকার পর ইরানের পরমাণুু বিজ্ঞানী আমিরিকে গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে দেখা যায়। গত বৃহস্পতিবার তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরানে ফিরে আসেন। তেহরানে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমিরি দাবি করেন, গত বছর সৌদি আরবে হজ পালনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইয়ের সদস্যরা তাঁকে অপহরণ করে। তারা তাঁকে শারীরিক   ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
আমিরি বলেন, নিজেকে গুপ্তচর হিসেবে স্বীকার করে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, আমিরি নিজের ইচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। সিআইয়ের পক্ষে কাজ করার জন্য তিনি ৫০ লাখ ডলার নিয়েছেন। আমিরিসহ আরও বেশ কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তা বিভিন্ন গোপন তথ্য সিআইয়ের কাছে পাচার করেছেন। পরবর্তীকালে তাঁরা সবাই যুক্তরাষ্ট্রে বসতি স্থাপন করেন।

ডিএনএ পরীক্ষার জন্য চসেস্কু দম্পতির দেহাবশেষ উত্তোলন

নিকোলাই চসেস্কু ও তাঁর স্ত্রী এলেনা
ডিএনএ পরীক্ষার জন্য গতকাল বুধবার রোমানিয়ার একনায়ক নিকোলাই চসেস্কু ও তাঁর স্ত্রী এলেনার দেহাবশেষ তোলা হয়েছে। রোমানিয়ার কর্মকর্তারা জানান, আসলেই তাঁদের সেখানে সমাহিত করা হয়েছিলো কি না সে রহস্যের মীমাংসা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এখন এই ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে তা স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, চসেস্কুর পরিবারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে অনুরোধ জানানো হয়।১৯৬৫ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত রোমানিয়া শাসন করেন এই চসেস্কু। ১৯৮৯ সালের এক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি। এর মধ্যে দিয়ে দেশটিতে কমিউনিস্ট শাসনের অবসান হয়। ওই বছরই এক বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে ওই দম্পতির তিন সন্তান বরাবরই সন্দেহ করে আসছিলেন, তাঁদের মা-বাবাকে আসলেই রাজধানী বুখারেস্টের ঘেনচিয়া সমাধিক্ষেত্রে সমাহিত করা হয়েছিল কি না। সন্তানদের মধ্যে এখন শুধু ছেলে ভ্যালেন্তিন বেঁচে আছেন।দেহাবশেষ কবর থেকে তোলা হয়েছে নিশ্চিত করে চসেস্কুর প্রয়াত মেয়ে জোইয়ার স্বামী মার্সিয়া অপরেন বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে চাই, এই দেহাবশেষ আমার প্রয়াত শ্বশুর-শাশুড়ির। কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষা না করা পর্যন্ত এ ব্যাপারে আমি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারছি না।’মৃতদেহ তোলার পর অপরেন সাংবাদিকদের বলেন, ফাঁসিতে ঝোলানোর সময় শ্বশুর যে কোটটি পরে ছিলেন সেটি চিনতে পেরেছেন তিনি। স্থানীয় এক টেলিভিশনকে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার জন্য নমুনা নিয়ে দেহাবশেষের বাকি অংশ আবার কবরে রেখে দেওয়া হবে। এই কবরে চসেস্কু দম্পতি ছিলেন না এমন তথ্য উদ্ঘাটিত হলে কী হবে তা আমি জানি না। সম্ভবত আমরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করব।’এর আগেও চসেস্কুর সন্তানেরা তাঁদের মা-বাবার দেহাবশেষ পরীক্ষার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু দুবার তাঁদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়। কিন্তু ২০০৮ সালের জুনে রোমানিয়ার একটি আপিল আদালত বিষয়টি পরীক্ষা করার জন্য দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়।

শর্ত সাপেক্ষে অস্ত্র সমর্পণ করবে পিকেকে

কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) বলেছে, তুরস্ক কিছু শর্ত মেনে নিলে তারা অস্ত্র সমর্পণ করতে রাজি আছে। শর্ত সাপেক্ষে অস্ত্র সমর্পণের প্রস্তাব দিয়েছে তুরস্ককে। এ সংগঠনের নেতা মুরাত কারাইলান গতকাল বুধবার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তুরস্ক যুদ্ধ বিরতিতে রাজি হলে এবং তাঁর কিছু শর্ত মেনে নিলে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তিনি তাঁর যোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণের নির্দেশ দেবেন।
ইরাকি কুর্দিস্তানে পর্বতঘেরা একটি ক্যাম্পে বসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কারাইলান বলেন, গণতান্ত্রিক উপায়ে এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কুর্দি সমস্যার সমাধান হলে তাঁরা অস্ত্র সমর্পণ করবেন। আর অস্ত্র বহন করবেন না। তাঁর শর্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, বেসামরিক কুর্দিদের ওপর হামলা বন্ধ করা এবং আটক কুর্দি নেতাদের ছেড়ে দেওয়া।
কুর্দি অধ্যুষিত তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বে স্বশাসনের দাবিতে পিকেকে যোদ্ধারা ১৯৮৪ সাল থেকে তুর্কি সৈন্যদের সঙ্গে লড়াই করে আসছে। এ লড়াইয়ে ইতিমধ্যে ৪৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। পিকেকে ও তুরস্ক সরকারের মধ্যে যদি শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতা হয় তাহলে এটি হবে দেশটির ইতিহাসে একটি বড় ঘটনা।

লুইজিয়ানায় এক লাখ লোকের চাকরিচ্যুতির আশঙ্কা

মেক্সিকো উপসাগরে বিপির তেলক্ষেত্রে দুর্ঘটনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে দেশটির লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে এক লাখ কর্মী চাকরিচ্যুত হতে পারেন বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, লুইজিয়ানায় বেকারত্বের হার বাড়ছে এবং আশঙ্কা রয়েছে, এক লাখ কর্মী চাকরি হারাবেন।
মার্কিন শ্রম দপ্তর জানিয়েছে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে বেকারত্বের হার বেড়েছে। এর মধ্যে অন্যতম লুইজিয়ানা। সেখানে বেকারত্বের হার দশমিক দুই শতাংশ থেকে বেড়ে সাত শতাংশে পৌঁছেছে। তেলক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লুইজিয়ানা।
আর্থিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান মুডির বিশ্লেষকেরা বলেছেন, তেলক্ষেত্র দুর্ঘটনার কারণে ওই অঞ্চলটি কয়েক শ কোটি ডলারের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, দুর্ঘটনার কারণে প্রায় ১২০ কোটি ডলার ক্ষতি হতে পারে এবং ১৭ হাজার কর্মী চাকরিচ্যুত হতে পারেন। আর তেলক্ষেত্র থেকে তেল বেরিয়ে আসা ডিসেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে চাকরিচ্যুতির সংখ্যা এক লাখ ছাড়াবে এবং ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৭৪০ কোটি ডলার।
গত এপ্রিল মাসে তেলক্ষেত্র দুর্ঘটনায় প্রচুর পরিমাণে তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই দুর্ঘটনাকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবেশ বিপর্যয় হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সম্প্রতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি) দাবি করেছে, তারা তেলক্ষেত্রের ক্ষতিগ্রস্ত পাইপে নতুন ছিপি আটকে তেল বেরিয়ে আসা পুরোপুরি বন্ধ করতে পেরেছে। এই দুর্ঘটনার কারণে লুইজিয়ানার পর্যটন ও মৎস্যশিল্প খাত বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে

বিহারের বিধানসভা থেকে ৬৭ বিধায়ককে সাময়িক বহিষ্কার

জুতা, চেয়ার, ফুলের টব ছুড়ে বিক্ষোভ করায় ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারের বিধানসভার ৬৭ জন সদস্যকে গতকাল বুধবার সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। বিধানসভার বিরোধীদলীয় বিধায়কেরা কয়েক দিন ধরেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাঁর পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার ক্ষমতাসীন ও বিরোধী পক্ষের বিধায়কেরা মারমুখী হয়ে ওঠেন এবং এক পক্ষ অন্য পক্ষের দিকে জুতা, চেয়ার ছুড়ে মারেন। গতকালও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। বিরোধীদলীয় এক সদস্য স্পিকারকে চপ্পল দেখিয়ে হুমকি দেন। বেশির ভাগই প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিরোধী এক নারী বিধায়ক একটি ফুলের টব তুলে নিরাপত্তাকর্মীদের দিকে ছুড়ে মারেন। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়েযান।
এ ঘটনার পর বিধানসভার স্পিকার উদয় নারায়ণ চৌধুরী বিরোধী দলের ৬৭ জন বিধায়ককে চলতি অধিবেশনের বাকি সময় পর্যন্ত বহিষ্কার করেন। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত এই অধিবেশন চলার কথা।

রাশিয়ায় জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে জঙ্গি হামলায় নিহত ২

রাশিয়ার উত্তর ককেশাসের কবরদিনো-বলকারিয়া প্রজাতন্ত্রের একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে গতকাল বুধবার ভোরে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই জরুরি সভা ডেকেছেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন।
রুশ বার্তা সংস্থা রিয়া নভস্তি জানায়, স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটা ২০ মিনিটে ইসলামেই জেলার একটি গ্রামের বিদ্যুৎকেন্দ্রে অজ্ঞাত হামলাকারীরা দুটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে তারা দুজন নিরাপত্তারক্ষীকে গুলি করে পালিয়ে যায়। হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি টারবাইন নষ্ট হয়ে গেছে। তবে হামলার দায়দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি।

চীনে এ বছর বন্যায় ৭০০ জনের প্রাণহানি

চীনে এ বছর ভয়াবহ বন্যায় ৭০০ জনের বেশি লোক প্রাণ হারিয়েছে। নিখোঁজ হয়েছে ৩৪৭ জন। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। একজন কর্মকর্তা গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছেন। এদিকে ঘূর্ণিঝড় কনসনের ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই চীনের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে এবার ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় চ্যানথু। এটি আজ বৃহস্পতিবার নাগাদ গুয়ানদং ও হাইনান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।
চীনের বন্যানিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রধান লিউ নিং গতকাল সাংবাদিকদের জানান, চীনে এ বছর যে বন্যা হয়েছে, তা এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। বন্যায় এ পর্যন্ত ৭০১ জন নিহত ও ৩৪৭ নিখোঁজ হয়েছে। আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত বর্ষাকাল চলবে। ফলে আরও বৃষ্টি হবে এবং বন্যা পরিস্থিতিও খারাপের দিকে মোড় নেবে। তিনি জানান, আবহাওয়াবিদেরা আশঙ্কা করছেন, ভারী বর্ষণ দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এবং এর ফলে হুয়াই, পীত ও সংহু নদীর তীরবর্তী এলাকায়ও বন্যা হতে পারে।
লিউ জানান, ‘এসব নদীতে বহু বছর ধরে বড় ধরনের বন্যা হয়নি। তবে সামনে হতে যাচ্ছে। কাজেই আমাদের জন্য সামনে আরও বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।’ তিনি আরও বলেন, দেশের ২৩০টি নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। দুই ডজনের বেশি নদী ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বন্যা ও ভূমিধসে লাখ লাখ বাড়িঘরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। বন্যায় সরাসরি ক্ষতির পরিমাণ দুই হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার।
চীনের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ১৯৮৮ সালে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়। ওই বন্যায় চার হাজারের বেশি লোক প্রাণ হারায়। লিউ জানান, ওই বন্যার পর থেকে চীন বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বাঁধ নির্মাণসহ কমপক্ষে ২৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর কারণে এবার ভয়াবহ বন্যা সত্ত্বেও প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি তুলনামূলকভাবে অনেক কম হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ চীন সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় চ্যানথু উপকূলের দিকে ধেয়ে আসায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। লোকজনকে বাড়িতে না থেকে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

কিউবার ভিন্নমতাবলম্বীদের শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

কিউবায় বন্দিদশা থেকে মুক্ত রাজনৈতিক ভিন্ন মতাবলম্বী ও তাঁদের পরিবারকে শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মঙ্গলবার কিউবার রাজধানী হাভানায় যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারেস্ট সেকশনের (ইউএসআইএনটি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর লেডিস ইন হোয়াইটের নেতারা এ কথা জানান।
লেডিস ইন হোয়াইটের নেতা বার্থা সোলার ইউএসআইএনটির বরাত দিয়ে জানান, বন্দিদশা থেকে মুক্ত ভিন্নমতাবলম্বীরা শরণার্থী কর্মসূচিতে নাম নিবন্ধন করতে পারেন। কারণ, তাঁদের অনেকেই স্পেনে যেতে চান না। বার্থা সোলারের স্বামী অ্যাঙ্গেল মোয়া ৭ জুলাই মুক্তি পেয়েছেন। কিউবার রাজনৈতিক বন্দীদের স্ত্রী ও নারী স্বজনদের নিয়েই লেডিস ইন হোয়াইট নামের সংগঠনটি গঠিত হয়েছে।
সম্প্রতি রোমান ক্যাথলিক চার্চের সঙ্গে হাভানার চুক্তির আওতায় কিউবা ৫২ জন রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁদের মধ্যে ১২ জন ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়ে পরিবারসহ স্পেনে গেছেন। চলতি সপ্তাহে আরও আটজনের স্পেনে যাওয়ার কথা রয়েছে। বন্দীদের ১৫ থেকে ২০ জন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য দেশে যেতে রাজি নন। ২০০৩ সালে ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ইউএসআইএনটির এক মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রে গমনেচ্ছুক ব্যক্তিদের অভিবাসন প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। এদিকে কিউবার পার্লামেন্টের নেতা রিকার্ডো অ্যালার্কন গত মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বলেন, কিউবা আরও কিছু রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন অবরোধ আরোপ করা হবে

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, অস্ত্র কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে উত্তর কোরিয়ার ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
পীতসাগরে গত মার্চে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজ চেওনান ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থানকে সমর্থন জানাতে সিউল সফরে গেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি বলেন, পিয়ংইয়ংকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মজুদের কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতেই এ অবরোধ আরোপ করা হবে। তিনি বলেন, অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ ও বিক্রি করা এবং বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কার্যক্রম ঠেকাতেই দেশটির বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করতেও যুক্তরাষ্ট্র চাপ দেবে বলে জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পর নিরাপত্তা পরিষদ উত্তর কোরিয়ার ওপর এই অবরোধ আরোপ করে। হিলারি জানান, উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচিতে সহায়তা করে—এমন সম্পদ চিহ্নিত করে তা জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই অবরোধ উত্তর কোরিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে নয়। সরকারের কারণেই দেশটির জনগণ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।’
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে হিলারি বলেন, ‘আমরা দুই দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করছি।’ সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউ মিয়ং হন উত্তর কোরিয়াকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, ‘যেকোনো ধরনের হামলার চিন্তাভাবনা থেকে বিরত থাকুন। না হলে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

কাহিনির জন্য আড়াই লাখ ডলার হেঁকেছেন রুশ গুপ্তচর অ্যানা

রুশ গুপ্তচর অ্যানা চ্যাপম্যান আড়াই লাখ ডলারের বিনিময়ে তাঁর গুপ্তচরবৃত্তির কাহিনি বিক্রি করতে চেয়েছেন। গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে মার্কিন পত্রিকা নিউইয়র্ক পোস্ট। গত মাসে আরও নয় সঙ্গীসহ যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গুপ্তচর বিনিময় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাশিয়ায় ফেরেন অ্যানা। গুপ্তচরবৃত্তির কাহিনি বিক্রি করে মুনাফা করার ক্ষেত্রে অ্যানার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, কীভাবে মার্কিন সমাজে অনুপ্রবেশ করলেন, সেই কাহিনি বিক্রি করতে আগ্রহী অ্যানা। এ জন্য লন্ডনভিত্তিক এক বন্ধুর সাহায্য নিতে যাচ্ছেন তিনি। অ্যানা তাঁর ওই বন্ধুকে কৌশলে এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর অনুরোধ করেছেন।
ওই সূত্রকে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়, ‘ধরা পড়ার পর অ্যানার আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর আবাসন-ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে হয়েছে। রুশ সরকারও এখন তাঁকে অর্থ দেবে না। অ্যানা জানেন, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে চুক্তি করাই এখন তাঁর জন্য অর্থ উপার্জনের সবচেয়ে ভালো উপায়। এ থেকে একটি বই লেখার এবং চলচ্চিত্র কাহিনি হিসেবে সেটি বিক্রি করার ব্যাপারেও চুক্তি করার আশা করছেন তিনি। কিন্তু অ্যানা এটাও জানেন, এ ক্ষেত্রে সরাসরি তাঁর পক্ষে অর্থ নেওয়া সম্ভব নয়। তাই ওই বন্ধুর সুইস ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে চাইছেন তিনি।’
সম্প্রতি অ্যানার আইনজীবী রবার্ট বাউম মার্কিন সাময়িকী নিউজউইককে বলেছেন, অ্যানা বুঝতে পারছেন গল্প বিক্রি করা ছাড়া আয়ের অন্য কোনো পথ তাঁর সামনে খোলা নেই। কিন্তু মার্কিন কর্তৃপক্ষকে দেওয়া অঙ্গীকারনামায় অ্যানাকে প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে তিনি গুপ্তচরবৃত্তির গল্প বিক্রি করে কোনো অর্থ উপার্জন করতে পারবেন না। এর বিনিময়ে তিনি কোনো অর্থ নিলে তা মার্কিন সরকার জব্দ করবে। কিন্তু এখন যেহেতু অ্যানা রাশিয়ায়, তাই ওই বাধ্যবাধকতা কতখানি কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

রেল দুর্ঘটনার জন্য সিপিএমকে দায়ী করলেন মমতা

ভারতের ক্ষমতাসীন জোটের শরিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ও কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজনৈতিকভাবে সিপিএমকে উৎখাত না করা পর্যন্ত আমাদের বিজয় হবে না।’ রেল দুর্ঘটনার জন্য সিপিএমকে দায়ী করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদীদের দমনে যৌথ বাহিনীর অভিযান বন্ধেরও দাবি জানান রেলমন্ত্রী।
গতকাল বুধবার পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া পার্কে শহীদ দিবস উপলক্ষে তৃণমূল কংগ্রেসের বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল বিপুল জয় নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শাসন ক্ষমতায় আসবে। কলকাতা করপোরেশনের নির্বাচনে তাঁরা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁর দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। মমতা জানান, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেই বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল অংশ নেবে।
তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী বলেন, সিপিএম রেলকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে মেতেছে। গত পৌরসভার নির্বাচনের আগে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে দুর্ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এবার শহীদ দিবসের আগে বনাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনা ঘটানো হলো। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রীর পদ থেকে আমি কেন পদত্যাগ করব? বরং সিপিএমের উচিত রাজ্যের ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া।’
পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী দমনে যৌথ বাহিনীর অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়ে মমতা অভিযোগ করেন, যৌথ বাহিনীর ছত্রচ্ছায়ায় সিপিএম এই অভিযান চালাচ্ছে। এই অভিযান বন্ধে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করবেন বলে উল্লেখ করেন। আগামী ৮ আগস্ট তিনি লালগড়ে সভা করবেন বলে জানান।
মমতা বলেন, ৩৪ বছরের সিপিএমের শাসনে এই রাজ্যে ৬০ হাজার মানুষকে খুন করা হয়েছে। এই খুনের বিচার হবে। আগস্ট থেকে রাজ্যব্যাপী লাগাতার কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিতে যুব কংগ্রেসের ১৩ কর্মী নিহত হয়। ওই সময় রাজ্য যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী ছিলেন মমতা। এর পর থেকে মমতার নেতৃত্বে ২১ জুলাইকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।
ট্রেন দুর্ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব পেল সিআইডি
পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার সাঁইথিয়া স্টেশনে ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাজ্যের সচিবালয় মহাকরণে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এ কথা জানান। এদিকে এবারের দুর্ঘটনার পর ভারতের গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।
ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আগের রেলমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবের পাঁচ বছরের চেয়ে বর্তমান মন্ত্রী মমতার প্রায় ১৪ মাসেই বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। দ্য ট্রিবিউন, দ্য হিন্দু, মেইল টুডে, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইকোনমিক টাইমস ও ডেকান হেরাল্ড-এর সম্পাদকীয়তে রেল মন্ত্রণালয় এবং রেলমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করা হয়।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস তাদের সম্পাদকীয়তে বলেছে, মমতার চলে যাওয়া উচিত। ট্রিবিউন বলেছে, রেলমন্ত্রীর উচিত কলকাতার চেয়ে দিল্লিতে বেশি সময় কাটানো। এদিকে গত মঙ্গলবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও রেলের সুরক্ষার গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

রোনালদিনহো চিরকাল মিলানের

এসি মিলানের নতুন মৌসুমের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে পরশু।
প্রথম দিনের অনুশীলনের ফাঁকে কথা বলছেন
দুই ব্রাজিলিয়ান রোনালদিনহো-পাতো
রোনালদিনহো বিক্রির জন্য নয়—এসি মিলান এই রেকর্ড বাজিয়ে যাচ্ছে বারবার। গত পরশু ইতালির প্রধানমন্ত্রী ও এসি মিলানের মালিক সিলভিও বার্লুসকোনি এর সঙ্গে আরও কয়েকটি শব্দ যোগ করে বললেন, ‘রোনালদিনহোকে এসি মিলান কোনো দিনই বিক্রি করবে না।’
রোনালদিনহো এসি মিলানে যোগ দিয়েছেন ২০০৮ সালে। ফর্মের পড়ন্ত বেলা তখন তাঁর। বার্সেলোনায় দুর্দান্ত খেলে ২০০৫ সালে ইউরোপের বর্ষসেরা ফুটবলারের খেতাব জিতেছেন। পরের বছর ‘অন্য গ্রহের’ ফুটবল খেলে বার্সাকে জিতিয়েছেন স্প্যানিশ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ। পরে জার্মানি গেলেন ২০০৬ বিশ্বকাপটা নিজের করে নিতে। কিন্তু পারলেন না। আর সেই থেকেই তাঁর ফর্মটা পড়তির দিকে।
২০০৭ ও ২০০৮—এ দুটি বছর তো রোনালদিনহোর ফর্ম একেবারে তলানিতেই চলে যায়। সেই অবস্থায় তাঁকে পায় এসি মিলান। মিলানে প্রথম মৌসুমটা যেনতেনভাবে কাটিয়েছেন রোনালদিনহো। তবে গত মৌসুমের শুরুর দিকে মাঝেমধ্যেই দেখা গেছে রোনালদিনহোর পুরোনো ঝলক। তবে তা এসি মিলানকে শিরোপা জেতানোর জন্য মোটেই যথেষ্ট ছিল না।
তবে বার্লুসকোনির মনে রোনালদিনহোর এসব ছবি নেই। তাঁর মনে রোনালদিনহোর যে ছবিটি রাখা, সেটি সেই সুসময়ের। তাই তিনি রোনালদিনহোকে বিক্রি না করার যুক্তি দেন এই বলে, ‘আমি তাকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় মনে করি।’ এরপর বলেন, ‘রোনালদিনহো ট্রান্সফারের জন্য নয়। মিলানে আমরা সবাই একমত হয়েছি, সে যত দিন খেলা চালিয়ে যেতে চায়, এখানেই খেলবে।’
মিলানে সবাই রোনালদিনহোকে বিক্রি না করার ব্যাপারে একমত হলেও রোনালদিনহো কি বার্লুসকোনিদের সঙ্গে একমত? তিনি যে কেবলই ‘যাই যাই’ করছেন। ব্রাজিলের ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গো তাঁকে ডাকছে। নিজের দেশে ফিরে যেতে মনও টানছে রোনালদিনহোর। একে পাত্তা না দিয়েই বার্লুসকোনি বলেছেন, ‘সম্প্রতি ওর সঙ্গে আমার কথা হয়নি। তবে এটা নিশ্চিত, রোনালদিনহোর সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করছি আমরা।’
পরশু মিলানের অনুশীলন মাঠে হওয়া সংবাদ সম্মেলনে বার্লুসকোনির কাছে পাত্তা পায়নি আসলে কেউই। নতুন মৌসুমে ক্লাবের পরিকল্পনা কী? নতুন কোচের অধীন ক্লাব নতুন কৌশলে খেলবে কি না—সাংবাদিকদের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন হেলিকপ্টারে করে সংবাদ সম্মেলনে আসা ৭৩ বছর বয়সী বার্লুসকোনিই। নতুন কোচ মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রিসহ অন্য কেউ কথা বলার সুযোগই পাননি।
গত মৌসুমে লিওনার্দোর কৌশল ভালো লাগেনি বলে সান সিরোতে নাকি খেলা দেখতেই যাননি। এরপর জানিয়েছেন, এ মৌসুমে অ্যালেগ্রির কাছ থেকে কী চান, ‘আমরা শুধু একজন স্ট্রাইকার দেখতে চাই না। জিততে হলে গোল করতে হবে। আর গোল করতে হলে আপনার স্ট্রাইকারকে গোলের সামনে থাকতে হবে।’

১২৬১৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ- নতুন কৃষিঋণ নীতিমালা ঘোষণা

চলতি অর্থবছর ঋণ বিতরণে অতিরিক্ত কিছু ক্ষেত্র ও খাত চিহ্নিত করে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন কৃষিঋণ নীতিমালা ঘোষণা করেছে।
২০১০-১১ অর্থবছরে কৃষি খাতে ১২ হাজার ৬১৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে হিসাব নিয়ে এই নতুন লক্ষ্যমাত্রা তৈরি করা হয়েছে।
চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে গত বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি, যা জাতীয় বাজেটের প্রায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
গত বছর অর্থাৎ ২০০৯-১০ বছর কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সে বছর লক্ষ্যমাত্রার ৯৭ শতাংশ অর্থাৎ ১১ হাজার ১১৭ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান গতকাল বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নীতিমালা ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গতকাল সকালে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ব্যাংকার্স কমিটির সভায় নতুন নীতিমালা তুলে ধরে।
সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি গভর্নর মুরশিদ কুলী খান, নির্বাহী পরিচালক সুধীর চন্দ্র দাস, কৃষিঋণ ও স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এস এম মনিরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নীতিমালা অনুসারে কৃষিঋণ বিতরণের নতুন ক্ষেত্র ও খাতগুলো হলো কমলা, আগর, স্ট্রবেরি, পান, মধু চাষ ইত্যাদি। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে টিস্যু কালচার, উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষিঋণ বিতরণের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আতিউর রহমান বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ তেমন আক্রান্ত হয়নি। তার অন্যতম কারণ ভালো কৃষি উৎপাদন।
তিনি বলেন, কৃষি খাত দুই ভাবে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করে। খাদ্য সরবরাহ ঠিক রাখা এবং এর ফলে মানুষের আয় বৃদ্ধি পাওয়া।
গভর্নর বলেন, ‘বিশ্বমন্দা পরিস্থিতিতে এখন বিভিন্ন দেশ অভ্যন্তরীণ চাহিদা সৃষ্টির বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে। আর আমরা আগেভাগেই কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে গুরুত্ব দিয়েছি অভ্যন্তরীণ চাহিদা তৈরি করতে। এসব ক্ষেত্রে আমাদের এখন অনেকেই অনুসরণ করছে।’
প্রণীত কৃষিঋণ নীতিমালায় পাট চাষের ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি পাটের জীবনরহস্য আবিষ্কার করেছে, যা পাট চাষের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। পাট চাষের ক্ষেত্রে এই যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তাতে প্রণোদনা দেওয়ার জন্য সরকারও চেষ্টা করছে।
নীতিমালায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পাম চাষের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মতে, ২৭টি জেলা/এলাকায় পাম চাষ করা সম্ভব। ইতিমধ্যে কোনো কোনো এলাকায় পামগাছ রোপণ করা হয়েছে।
গভর্নর বলেন, ‘আমি জেনেছি, পাম তেলের থেকে বায়ো-ডিজেল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। ফলে আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে কৃষকদের বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পাম চাষে আগ্রহী করার জন্য নীতিমালায় এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
আতিউর রহমান জানান, তিনি কয়েক দিন আগে দেশের উপকূলীয় জেলা বরগুনায় গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি কৃষি কাজে সৌরচালিত সেচব্যবস্থা উদ্বোধন ও কয়েকটি ব্যাংকের ক্ষুদ্র কৃষিঋণ কর্মসূচি (এনজিওর মতো গ্রুপ গঠন করে কৃষিঋণ বিতরণ কর্মকাণ্ড) অংশ নেন।
গভর্নর বলেন, ‘বরগুনায় সৌরশক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এক ফসলি জমিকে তিন ফসলিতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
গভর্নর বলেন, সৌরশক্তির মাধ্যমে সেচ প্রদানের ব্যবস্থা একদিকে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাহিদা চাপ লাঘব করবে এবং সৌরশক্তিনির্ভর সেচকাজে ভূ-উপরিস্থ পানি (সারফেস ওয়াটার) ব্যবহার করা হবে, যা পরিবেশের ভারসাম্যকে বজায় রাখবে। কৃষিঋণ নীতিমালায় সৌরশক্তিচালিত সেচযন্ত্র ক্রয়ে ঋণ প্রদানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সৌরশক্তিচালিত সেচযন্ত্র প্রায় ২০ বছর ব্যবহার করা যায়। ফলে প্রাথমিক ব্যয় কিছুটা বেশি হলেও প্রকৃত অর্থে তা ব্যয় সাশ্রয়ী বলে মন্তব্য করেন গভর্নর।
আতিউর রহমান বলেন, ‘বিশেষ করে দক্ষিণ বাংলায় এখনো এক ফসলি জমিই বেশি। এই সেচপদ্ধতি অনেকটাই প্রাসঙ্গিক বলে আমাদের বিশ্বাস।’
মুরশিদ কুলী খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক অনেক দিন ধরেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে অধিক সংখ্যক মানুষকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা চালাচ্ছে। এখন বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও এ বিষয়ে মনোযোগী ও উদ্যোগী হয়েছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেসব উদ্যোগ ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে তাতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
এ প্রসঙ্গে আতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে ১০ টাকায় ৮৮ লাখ কৃষকের জন্য ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
তিনি জানান, ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি সম্প্রতি বলেছেন, সে দেশে কৃষকের জন্য সহজে ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়া উচিত হবে।
কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রায় এবার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক পাঁচ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক (বিআরডিবির কিছু অংশসহ) দুই হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা, বেসরকারি ব্যাংক তিন হাজার ৪৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, বিদেশি ব্যাংক ৫৮২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং বিআরডিবি ও বিএসবিএল মিলে ৭৭১ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, বিদেশি ব্যাংকগুলো নিজেরা কৃষিঋণ বিতরণ করছে না। তারা ক্ষুদ্র ঋণদান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারির ভিত্তিতে এই ঋণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। চলতি বছর থেকে তাদের এই ঋণ তদারকি করতে বলা হয়েছে।

বিশ্ব শুল্ক সংস্থার সহায়তা পেতে এ মাসেই ইচ্ছেপত্রে স্বাক্ষর হবে

বাংলাদেশের শুল্ক বিভাগের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্ব শুল্ক সংস্থার (ডব্লিউসিও) সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আগামী সপ্তাহে একটি ইচ্ছাপত্রে স্বাক্ষর করবে। ইচ্ছেপত্রে সই করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সহযোগিতা নেওয়া হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন পক্ষ উপকৃত হবে।
গতকাল বুধবার ঢাকায় আয়োজিত ‘শুল্ক ও বাণিজ্য: অংশীদারির মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এসব কথা জানান। এ সময় তিনি বলেন, উন্নত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে শুল্ক বিভাগকে সুষমকরণ, যুগোপযোগী ও দ্রুত সেবা প্রদান করতেই এই ইচ্ছেপত্রে সই করা হবে। খবর ইউএনবির।
রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে এনবিআরের চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি এ কে আজাদ বিশেষ অতিথি ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন শুল্ক বিভাগের উপকমিশনার জহিরুল কাইয়ুম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনবিআরের সদস্য (শুল্ক) হুসাইন আহমেদ। অনুষ্ঠানে ডব্লিউসিওর মহাসচিব কুনিও মিকুরিয়াও বক্তব্য দেন।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এনবিআর প্রায় ৩০ বছর আগে ব্রাসেলসে একটি অফিস স্থাপন করেছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে বাংলাদেশ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের শুল্ক বিভাগের আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে ডব্লিউসিও সহায়তা দিতে আগ্রহী। আমরা তাদের সহযোগিতা গ্রহণ করতে আগ্রহী।’ তিনি বলেন, যদিও বাংলাদেশ ডব্লিউসিওর সদস্য, কিন্তু ইচ্ছেপত্রে সই না করায় এখনো সহায়তা পাওয়া যায়নি।
ডব্লিউসিওর মহাসচিব কুনিও মিকুরিয়া বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের শুল্ক বিভাগের দক্ষতা বাড়াতে বিশ্ব শুল্ক সংস্থা সহায়তা দেবে। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়িক নেতাদের বাণিজ্য-সহায়কের ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, শুল্ক বিভাগ ও ব্যবসায়ীরা একে অপরের সহায়তার মাধ্যমে উভয়ই উপকৃত হবেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনবিআরের চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ বলেন, বেশির ভাগ দেশ ডব্লিউসিওর সঙ্গে ইচ্ছাপত্রে সই করেছে। বাংলাদেশ এই ইচ্ছেপত্রে সই করার পর ডব্লিউসিওর একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের শুল্ক বিভাগের সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ খুঁজে বের করার কাজ শুরু করবে।
এনবিআরের চেয়ারম্যান জানান, প্রতিনিধিদল ঢাকা, চট্টগ্রাম, বেনাপোল ও মংলা শুল্ক ভবনের ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে বিশেষজ্ঞ দল পাঠাবে। উন্নয়ন-সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করবে। বিশেষজ্ঞরা শুল্ক বিভাগের ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেবেন। এ জন্য তাঁরা অর্থায়ন ও বিনিয়োগে উন্নয়ন-সহযোগীদের সঙ্গে কথা বলবেন।
নাসিরউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, স্বয়ংক্রিয় যান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে শুল্ক ভবনগুলোকে যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।

মেরিনার্সের জয়

প্রিমিয়ার হকি লিগে কাল অ্যাজাক্সকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে মেরিনার ইয়াংস। সোহানুর, মাইনুল ও তাহেরের স্টিক থেকে আসা তিনটি গোলই ফিল্ড গোল। মোহামেডান ও আবাহনীর কাছে হারের পর সুপার ফাইভে মেরিনারের এটি প্রথম জয়।

বর্ষসেরা আমলা

ব্যাট হাতে গত এক বছর দারুণ খেলেছেন হাশিম আমলা। ৯টি টেস্টে চারটি সেঞ্চুরিসহ ৬৫.৯২ গড়ে করেছেন ৯২৩ রান। এই সাফল্যের স্বীকৃতি তিনি পেলেন ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার (সিএসএ) বার্ষিক পুরস্কার রজনীতে। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পাশাপাশি বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটারের পুরস্কার পেয়েছেন হাশিম হামলা। এ ছাড়া সতীর্থদের ভোটে বছরের ‘প্লেয়ার্স প্লেয়ার’ এবং সমর্থকদের ভোটে ‘সিএসএ ফ্যানস ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছেন। গত বছর ভারতের বিপক্ষে নাগপুরে তাঁর ২৫৩ রানের ম্যাচ বিজয়ী অপরাজিত ইনিংসটি বছরের সেরা ইনিংস নির্বাচিত হয়েছে। ওয়েবসাইট।
ওয়ানডের বর্ষসেরা হয়েছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স, টি-টোয়েন্টির চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্ট। বছরের সেরা নবাগত রায়ান ম্যাকলারেন।

সিদ্ধান্ত ম্যারাডোনার হাতেই

এত দিন জানা ছিল কোচ দুই রকম—এক, বরখাস্ত হয়েছেন ও দুই, বরখাস্ত হতে যাচ্ছেন। এবার তৃতীয় ধরনের কোচের কথাও জেনে নিন। ডিয়েগো ম্যারাডোনা যে দলে পড়েন এবং দল নিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পরও যার ঘাড়ে খাঁড়ার কোপ পড়ে না। বরং তাঁর নিজের সিদ্ধান্তটা জানার অপেক্ষায় থাকেন দেশের রাষ্ট্রপতি, ফেডারেশন সভাপতি থেকে শুরু করে দুনিয়ার কোটি কোটি মানুষ!
কোনো নতুন সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি। তবে আর্জেন্টিনার সরকারি সংবাদ সংস্থা তেলাম এবং সে দেশের অন্যতম প্রধান দৈনিক লা ন্যাসিওন জানাচ্ছে, আগামী সপ্তাহে ম্যারাডোনা তাঁর সিদ্ধান্তটা জানাবেন। ফেডারেশনের বরাত দিয়ে লা ন্যাসিওন বলেছে, ফেডারেশনের সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠকে ম্যারাডোনা না থাকলেও পরবর্তী বৈঠকে থাকবেন। আর্জেন্টাইন এই দুটি সংবাদমাধ্যমেরই ভাষ্য, সভায় ম্যারাডোনার কোচ হিসেবে থেকে যাওয়ার পক্ষেই সিদ্ধান্ত আসবে। তবে ম্যারাডোনা কী করবেন, সেটা জানতে অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হওয়ার পর থেকেই এই অপেক্ষাটা চলছে। জার্মানির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে বড় ব্যবধানে হেরে বিদায় নেওয়ার পরই ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘আমার সময় শেষ।’ তারপর একেবারেই ডুব দিলেন। আর কোনো কথা নেই, শুধু গুজব।
রোজই শোনা যায়—ম্যারাডোনা থাকছেন না, ম্যারাডোনা থাকছেন, চুক্তি বাড়ছে, চুক্তি বাড়ছে না কিংবা অমুক দিন ফেডারেশনের সঙ্গে বসবেন! সর্বশেষ চলতি সপ্তাহেই ফেডারেশনের সঙ্গে নাকি বসার কথা ছিল ম্যারাডোনার।
তার পরও বসা হলো না। তেলাম-এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট হুলিও গ্রন্ডোনা বলেছেন, ‘এটা সত্যি, আমি ডিয়েগোর সঙ্গে সোমবার একটা বৈঠকে বসার চেষ্টা করছিলাম।’ সেই বৈঠক ছেড়ে ম্যারাডোনা নাকি চলে গেছেন ভেনেজুয়েলায়। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট বন্ধু হুগো শাভেজের আমন্ত্রণে সেখানে গেছেন।
এখন শোনা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহে বৈঠকটা হবে। এবার আবার ইভো মোরালেস বা ফিদেল কাস্ত্রো ডেকে পাঠাবেন না তো ম্যারাডোনাকে!

কাউন্টি অভিষেকেই সাকিবের ৯০

ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে দুর্দান্ত অভিষেক হলো সাকিব আল হাসানের। কাল কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ডিভিশন টু এর খেলায় উস্টারশায়ারের হয়ে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচের প্রথম দিনেই নিজেকে চেনালেন বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক। সাকিবের ৯০ রানের সৌজন্যে প্রথম ইনিংসে উস্টার অলআউট হওয়ার আগে ২৭৯ রান করতে পারল।
ডার্বিশায়ার কাউন্টি মাঠে শুরুতে হোঁচটই খেয়েছিল উস্টার। ৬৬ রানে পড়ে গিয়েছিল তাদের প্রথম ৪ উইকেট। সাকিবের নায়ক হয়ে ওঠা এর পরই। ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে নিজের ব্যাটিংটাই করেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ৪৯ বলে করেছেন ফিফটি। ১২১ মিনিট উইকেটে থেকে ৮২ বলে ১৬টি বাউন্ডারিসহ করেছেন ৯০ রান। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান এটাই। পঞ্চম উইকেটে ডেভিড হুইলডনের সঙ্গে ৪০ ও ষষ্ঠ উইকেটে জেমস ক্যামেরনের সঙ্গে ১০১ রানের জুটি গড়ে উস্টারশায়ারের বিপর্যয় সামলানোর কাজটাও করেছেন সাকিবই। তবে দক্ষিণ আফ্রিকান মিডিয়াম পেসার গ্রেগ স্মিথের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে কাউন্টি অভিষেকটা সেঞ্চুরি দিয়ে উদ্যাপন করতে পারেননি মাত্র ১০ রানের জন্য। উস্টারের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ক্যামেরন করেছেন ৮৯ রান। দিনশেষে ডার্বিশায়ার বিনা উইকেটে ৪৩ রান তুলেছে।

ফিরছেন ফ্লিনটফ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফকে ভুলে যাওয়ার জোগাড় হয়েছে। সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০০৯ সালের এপ্রিলে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। সর্বশেষ, আসলে শেষ টেস্ট খেলেছেন ওই বছরই আগস্ট মাসে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ওভালে গত অ্যাশেজের শেষ টেস্টে খেলে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারেরও শেষ ঘোষণা করে দিয়েছেন এই ইংলিশ অলরাউন্ডার।
তারপর আরেকটা অ্যাশেজের সময় চলে এল, এক বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেল। কিন্তু ক্রিকেটে আর দেখা যায়নি তাঁকে। কারণ এই সময়ে দু-দুবার হাঁটুর অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে ফ্লিনটফকে। অবশেষে ফ্লিনটফ জানালেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে ক্রিকেটে ফিরতে যাচ্ছেন তিনি।
চোট থেকে সেরে ওঠার পর এখন কাউন্টি দলের নেটে ব্যাট করতে পারছেন বলে স্কাই স্পোর্টস নিউজকে জানিয়েছেন ফ্লিনটফ, ‘সুড়ঙ্গের শেষে শেষ পর্যন্ত আলো দেখতে পাচ্ছি। সেই (গত বছর) থেকে লম্বা সময় ধরে পুনর্বাসন-প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে গেলাম। আশা করছি, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আবার খেলতে নামতে পারব। ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে নেট করছি, নেটে ব্যাট করতে পারি; এটাই তো খুব উৎসাহব্যঞ্জক ব্যাপার।’
আপাতত অলরাউন্ডারের চেহারায় নয়, ফ্লিনটফ শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেই ফিরছেন। তিনি আশাবাদী, শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেই নিজেকে প্রমাণ করতে পারবেন, ‘প্রথমে আমাকে এখানকার দ্বিতীয় দলে খেলে প্রথম দলে জায়গা করে নিতে হবে। আমি যেভাবে ব্যাট করছি, তাতে আশাবাদী, ব্যাট দিয়েই প্রাথমিক কাজটা করতে পারব। তারপর বোলিং করব।

রুনিতে আস্থা ফার্গুসনের

দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে চরম ব্যর্থ ওয়েইন রুনি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তাঁর দল ইংল্যান্ড ফিরে এসেছে হতাশায় মাথা নিচু করে। তবে রুনির ক্লাবগুরু ফার্গুসনের দৃঢ়প্রত্যাশা, রুনি তাঁর সেরা ফর্মে ফিরবেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ওয়েইন রুনি এবং ইংল্যান্ড দল কেন ব্যর্থ হলো? ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসনের দাবি—এই ব্যর্থতার কারণ ক্লান্তি। টানা খেলে যাওয়ার কারণে ফুটবলাররা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। ক্লান্ত-শ্লিষ্ট শরীর নিয়ে কি আর বিশ্বকাপের মতো আসরে সাফল্য পাওয়া যায়?
শীত মৌসুমে অন্যান্য দেশের ঘরোয়া ফুটবল সূচিতে ‘শীতকালীন’ ছুটি থাকলেও এফএর (ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) ফুটবল বর্ষপুঞ্জিতে কোনো বিরতি নেই। ফার্গির দাবি, বিশ্বকাপে রুনি ও তাঁর সতীর্থরা ‘প্রতিবন্ধী’ হয়ে পড়েছিল এ কারণেই। ফার্গুসনকে উদ্ধৃত করে দ্য টেলিগ্রাফ লিখেছে, ‘আমাদের খেলার ধরন এবং প্রতি সপ্তাহে টেলিভিশনে একটা অনুষ্ঠানের প্রয়োজনেই এটা দরকার। ৩০ বছর আগে স্কটল্যান্ডে আমিই প্রথম শীতকালীন ছুটির কথা বলি। ইংল্যান্ডে আসার পরও অনেকবার বলেছি। কিন্তু কিছুই করা হয়নি।

‘অঘটন’ নয়

জেমি সিডন্স কি আর জানতেন তাঁর বলা কথাটা বুমেরাং হয়ে বিঁধবে তাঁকেই? ব্রিস্টলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জেতার পর বাংলাদেশ কোচ বলেছিলেন, ‘ক্রিকেটারদের মধ্যে এখন এই বিশ্বাস জন্মাবে যে তারা যেকোনো দলকে হারাতে পারে।’ কিন্তু পাঁচ দিনের ব্যবধানে আইসিসির দুটি সহযোগী সদস্যদেশের কাছে হারার পর বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এখন এই বিশ্বাসও ছড়িয়ে পড়েছে যে বাংলাদেশ যেকোনো দলের কাছে হারতেও পারে!
তা খেলাধুলায় হারজিত আছেই। বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলে আয়ারল্যান্ড বা হল্যান্ড কেন হারাতে পারবে না বাংলাদেশকে? অবশ্যই পারবে। বাংলাদেশের কাছে ইংল্যান্ডের হারটা বরং অঘটন, ডাচ-আইরিশদের কাছে বাংলাদেশের হার কোনো অঘটন বা দুর্ঘটনা নয়। এই দলটা যে মাঝেমধ্যে বড় দলের বিপক্ষে জয় পেয়ে যায়, সেটাই বরং বোনাস। হ্যাঁ, হল্যান্ড আইসিসির সহযোগী সদস্য, এর আগে আর কোনো টেস্ট দলকে হারানোর অভিজ্ঞতা তাদের নেই, এই দলের ক্রিকেটাররা কেউ পেশাদার নন—সবকিছু জেনেই বলা হচ্ছে কথাটা। আসলে বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন যেভাবে চলছে, তাতে এ রকম পরাজয়ই বেশি থাকা উচিত ‘প্রাপ্তির’ থলেয়। এ নিয়ে দুঃখিত হওয়ার কিছু নেই। তবে হ্যাঁ, লজ্জা পেতেই পারেন।
মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে আয়ারল্যান্ড ও হল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি পরাজয়ে মর্মাহত দেশের ক্রিকেট-প্রিয় মানুষ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্মকর্তারাও (বিসিবি) নিশ্চয়ই দুঃখের সাগরে ভাসছেন। ক্ষোভে ফুঁসছেন। আজ দল ঢাকা ফেরার পর দেশকে লজ্জায় ডোবানোর ব্যাখ্যা নিশ্চয়ই চাওয়া হবে খেলোয়াড়দের কাছে। দেশের ক্রিকেটের মানসম্মান ধুলোয় মেশানোর ‘অপরাধে’ বোর্ড কর্মকর্তারা তাদের কচুকাটা করবেন, তাতেও কোনো সন্দেহ নেই। এটাই হয়ে আসছে, আরও বহুদিন হয়তো হবে। দল এক-দুটি ম্যাচ জিতলে মিষ্টি খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। আর পরাজয়ে পারলে শূলে চড়ানো হয় ক্রিকেটারদের। সাফল্যে উৎসব-রেণু ছড়িয়ে দিতে হবে সবার মধ্যে, ব্যর্থতায় তীরবিদ্ধ হবেন শুধু খেলোয়াড়েরা—এটাই রীতি এখানে।
প্রশ্নটাও এখানেই—ব্যর্থতার দায় শুধু ক্রিকেটারদের কেন? মাঠের পারফরম্যান্সের জন্য তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। কিন্তু আচরণবিধির কণ্টকজাল ডিঙিয়ে এই দলটারই কোনো খেলোয়াড় যদি ঘাড় বাঁকা করে বলে ওঠেন, ‘ব্যর্থ তো শুধু আমরা নই! এর দায় তোমাদেরও, যারা আমাদের চালাও’, কী জবাব দেবেন বিসিবি কর্তারা? এ দেশের ক্রিকেট, ক্রিকেট বোর্ড আর ক্রিকেট দল যেভাবে চলছে তাতে জোর গলায় সাফল্য চাওয়ার অধিকার কারওই নেই। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয় থেকে পরিচালিত দেশের সার্বিক ক্রিকেটেরই প্রতিচ্ছবি মাঠের অননুমেয় পারফরম্যান্স।
পাকিস্তানের ‘ক্রিকেট কমেডি’ নিয়ে মানুষ হাসাহাসি করে। বাংলাদেশ একটু পেছনের সারিতে বলে সবার চোখে হয়তো ব্যাপারগুলো ধরা পড়ে না, নইলে এ দেশের ক্রিকেটেও ‘কমেডি’ কম হয় না, ‘কমেডিয়ান’ও অনেক। দল নির্বাচন বা টিম ম্যানেজমেন্ট ঠিক করা থেকে শুরু করে বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, একাডেমি পরিচালনা—কোন কাজটা ঠিকভাবে করতে পারছে আ হ ম মোস্তফা কামালের বোর্ড? নির্বাচকদের তৈরি করা দলে কাটাছেঁড়া আর পরিবর্তন এখন এতটাই নিয়মিত যে, বিসিবিতে কোনো নির্বাচক কমিটি না থাকলেও বোধ হয় চলে। বোর্ড সভাপতি আর দু-চারজন পরিচালক মিলেই তৈরি করে ফেলতে পারেন দল। তা ছাড়া দল নির্বাচন বাংলাদেশে এখন সহজ কাজগুলোর মধ্যে একটি। হাতে তো পর্যাপ্ত খেলোয়াড়ই নেই যে আপনি মাথা খাটিয়ে বাছাবাছি করবেন! বাজে ফর্মের কারণে বাদ পড়া মোহাম্মদ আশরাফুলকে তাই ইংল্যান্ডের বিমানে চাপতে কোথাও ভালো খেলতে হয়নি, একজনের ইনজুরিতেই ফেরার রাস্তা পরিষ্কার।
টিম ম্যানেজমেন্টের অবস্থাও একই। কোচকে না জানিয়েই বদলে যায় কোচিং স্টাফের চেহারা! গত ছয়-সাত মাসে দলে কতজন কোচিং স্টাফ এলেন-গেলেন সেটা সম্ভবত ঠিকভাবে মনে করতে পারবেন না অদল-বদলের কাজটা যাঁরা করেন তাঁরাও। ভাবলে বিস্মিত হতে হয়, নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপের মাত্র সাত মাস আগেও দলের সঙ্গে স্থায়ী কোনো বোলিং বা ফিল্ডিং কোচ নেই! বোর্ডের কর্মচারী-কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়েও চলছে যথেচ্ছাচার। এক প্রধান নির্বাহী খুঁজে পেতেই লেগে গেছে আড়াই বছর। যোগ্যতা থাকুক আর না থাকুক, কারও ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফার বা কারও বাবুর্চির ভাই হওয়ার সুবাদেও নাকি বিসিবিতে চাকরি পাচ্ছেন অনেকে! আর একাডেমি তো এখনো সুরম্য দালান। তাতে ক্রিকেটের পদধূলি সেভাবে না পড়লেও ঢাকার বাইরের অনেক বোর্ড পরিচালকের মনে ইচ্ছা জাগে বিসিবির সভায় যোগ দিতে এসে রাতটা বিলাসী ভবনেই কাটিয়ে যাওয়ার! আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা এখনো প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ, ঘরোয়া ক্রিকেট চলছে প্রস্তর যুগের কাঠামোতে। বর্তমান বোর্ড সভাপতি বিসিবির দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের ক্রিকেটকে সাফল্যের ভেলায় ভাসানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। বাস্তবতা হলো, তাঁর সময়ে সাফল্যের আনন্দে হাসার চেয়ে বিদ্রূপের হাসিই মানুষ হেসেছে বেশি। ক্রিকেটকে তিনি ভাসাতে পেরেছেন কিনা কে জানে, ডোবার লক্ষণটা পরিষ্কার। আয়ারল্যান্ড আর হল্যান্ডের কাছে দুটি হারই দিচ্ছে সেই ইঙ্গিত।
বহির্বিশ্বের ক্রিকেটের কাছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভেতরের চিত্রগুলো তুলে ধরেই দেখুন, কেমন হাসিতে লুটোপুটি খায় মানুষ। ‘কমেডি’ বলে কথা! সমস্যা হলো, বাইরের মানুষের কাছে যেটা ‘কমেডি’, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য সেটাই হয়ে দাঁড়াচ্ছে ‘ট্র্যাজেডি’। ‘কমেডি’র নায়ক হয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ‘ট্র্যাজেডি’তে পরিণত করার দায় বোর্ড সভাপতিকেই নিতে হবে। পার্শ্বচরিত্র হিসেবে পরিচালনা পর্ষদ সদস্যরা তো থাকছেনই।