Friday, August 5, 2011

এবার ইতালিতে বোরকা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে

ইতালি এবার নারীদের জনসমক্ষে বোরকা, নেকাবসহ মুখ ঢাকে এমন পোশাক পরা নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি খসড়া আইন গত মঙ্গলবার অনুমোদন করেছে সে দেশের পার্লামেন্টের একটি কমিটি।
ওই খসড়া আইন পাসের জন্য গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শেষে পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হবে। আইন পাসের পর কোনো নারী তা ভঙ্গ করলে তাঁকে ৩০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। কোনো নারীকে জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখতে অর্থাৎ নেকাব পরতে বাধ্য করলে শাস্তি হিসেবে ৩০ হাজার ইউরো জরিমানা ও এক বছরের কারাভোগ করতে হতে পারে।
এর আগে ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে বোরকা নিষিদ্ধ করা হয়।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইতালিতে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার নারী তাঁদের মুখ নেকাবে ঢেকে রাখেন। পাঁচ বছর আগেও দেশটিতে এ ধরনের চর্চা দেখা যায়নি।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দল এ আইনে সমর্থন জানালেও বিরোধী দল এর বিরোধিতা করে আসছে।

জাপান নতুন পরমাণু তদারকি সংস্থা গঠন করবে

জাপান নতুন পরমাণুবিষয়ক তদারকি সংস্থা গঠন করছে। আগামীকাল শুক্রবার পরমাণুবিষয়ক নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করা হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে পরমাণুবিষয়ক প্রকল্পের নিরাপত্তার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হবে।
পরমাণুবিষয়ক প্রকল্পে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় প্রতিরোধে বর্তমান পরমাণুবিষয়ক তদারকি সংস্থা ব্যর্থ হওয়ায় সরকার এ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
গণমাধ্যমের এক খবরে বলা হয়েছে, পরমাণুবিষয়ক সংকট মোকাবিলায় নিউক্লিয়ার অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি এজেন্সি (এনআইএসএ) ও সরকারের আরেকটি উপদেষ্টা কমিটিকে যৌথভাবে পরিবেশ সংস্থার নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।
ধারণা করা হচ্ছে, নতুন পরিকল্পগুনায় পরমাণুবিষয়ক প্রকল্পের নিরাপত্তা বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হবে। তবে বিশ্লেষকেরা হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, শুধু নিরাপত্তার ওপর কড়াকড়ি আরোপের মাধ্যমে পরমাণুবিষয়ক সংকট মোকাবিলা করা দুরূহ হবে। ক্রমে জনপ্রিয়তা হারাতে থাকা জাপানের পরমাণুবিষয়ক শিল্পের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব না-ও হতে পারে।
গত মার্চে ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে জাপানের ফুকুশিমার দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে। এতে পরমাণুবিষয়ক প্রকল্পের দুর্বল পরিকল্পনা ও নিরাপত্তাহীনতার ব্যাপারে জনগণ আস্থাহীনতায় ভুগছে।

হাইতিতে প্রেসিডেন্টের মনোনীত প্রধানমন্ত্রীকে সিনেটের ‘না’

হাইতির প্রেসিডেন্ট মিশেল মারটেলির মনোনীত নতুন প্রধানমন্ত্রীর মনোনয়ন নাকচ করে দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেট। এ নিয়ে গত দুই মাসে মারটেলির মনোনীত দুজন প্রধানমন্ত্রীকে মনোনয়ন দিতে অস্বীকৃতি জানাল সিনেট।
প্রেসিডেন্ট মারটেলি বিতর্কিত আইনজীবী ও সাবেক বিচারমন্ত্রী বার্নাড গুজকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দেন। এ মনোনয়ন নিয়ে গত মঙ্গলবার সিনেটে ভোটাভুটি হয়। এতে আইনপ্রণেতারা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বার্নাড গুজের মনোনয়ন নাকচ করে দেন।
সিনেটে নতুন প্রধানমন্ত্রীর মনোনয়ন অনুমোদন না হওয়ায় প্রেসিডেন্ট মারটেলির সরকার গঠনের প্রচেষ্টা আবারও ব্যর্থ হলো।

টাটার প্রধান ঘুষ দিয়েছেন এ রাজাকে!

ভারতের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও টাটা শিল্পগোষ্ঠীর প্রধান রতন টাটা দেশটির সাবেক টেলিকমমন্ত্রী এ রাজার অনুরোধে তামিলনাড়ুতে তাঁর পরিচালিত একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ২০ কোটি রুপি অনুদান দিয়েছেন। দ্বিতীয় প্রজন্মের টেলিকম লাইসেন্স (টু-জি স্পেকট্রাম) বরাদ্দসংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার শুনানিতে সাওয়ান টেলিকমের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ উসমান বালওয়া গত মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছেন।
শহীদ উসমান বালওয়ার আইনজীবী মাজেদ মেমন জানিয়েছেন, সাবেক টেলিকমমন্ত্রী এ রাজার অনুরোধে রতন টাটা তামিলনাড়ু রাজ্যের পারামবালুর একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ২০ কোটি রুপি অনুদান দিয়েছেন।
দ্বিতীয় প্রজন্মের টেলিকম লাইসেন্স বরাদ্দসংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং টাটা গোষ্ঠীকে জিজ্ঞাসাবাদ না করায় ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বালওয়া।
বালওয়ার আইনজীবী মাজেদ মেমন জানিয়েছেন, ২০০৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রতন টাটা এ রাজার কাছে তাঁর পাঠানো চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার করেছেন। প্রাপ্তিস্বীকার করে পাঠানো চিঠিতে রতন টাটা উল্লেখ করেন, বাইরের লোককে টাটা কখনো এত বড় অঙ্কের অনুদান দেয় না। তবে বিশেষ কারণে হাসপাতালের জন্য ২০ কোটি রুপি অনুদান দেওয়া হয়েছে।
মাজেদ মেমন বলেছেন, বিশেষ কারণটা কী, সেটাই এখন প্রশ্ন। তিনি বলেন, যদি বালওয়া অবৈধ সুবিধা পেতে এ রাজাকে ঘুষ দেন, তবে রতন টাটাও তা করতে পারেন।

থাই পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন শুক্রবার

থাইল্যান্ডের আইনপ্রণেতারা আগামীকাল শুক্রবার দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য ভোট দেবেন। গতকাল বুধবার পার্লামেন্টের একজন কর্মকর্তা এ কথা জানান।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রা দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হতে চলেছেন। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচনে ইংলাকের পুয়ে থাই পার্টি ও মিত্ররা তিন-পঞ্চমাংশ আসন পেয়েছে।
রাজনীতিতে নতুন ইংলাককে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। সামরিক অভ্যুত্থানে থাকসিন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পাঁচ বছর ধরে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলে আসছে।
পার্লামেন্টের শুক্রবারের নির্বাচনকে আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ গত ৩ জুলাইয়ের নির্বাচনে ইংলাকের দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এ ছাড়া তাঁর দল বেশ কয়েকটি ছোট দলকে জোটে ভিড়িয়েছে।
পার্লামেন্টে ভোটাভুটির পর আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা নিতে রাজার অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ইংলাককে।
ইংলাক থাইল্যান্ডের ২৮তম প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। তিনি বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী আপিসিত ভেজ্জাজিওয়ার স্থলাভিষিক্ত হবেন।

সিরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান

সিরিয়ার জ্বালানি খাতের সঙ্গে ব্যবসা করে, এমন বিদেশি কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন তিন সিনেটর।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ‘সব মনুষ্যত্ব’ হারিয়েছেন। এদিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর সিরিয়া সরকারের নিষ্ঠুর দমন-পীড়নের ব্যাপারে গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হয়েছে।
সিরিয়ার ক্রমাবনতিশীল সহিংসতার ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিতে চাপের মধ্যে রয়েছে ১৫ জাতির জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।
যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার সঙ্গে বেশির ভাগ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য নিষিদ্ধ করেছে। তবে বিদেশি কোম্পানির ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়নি।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস্টেন গিলিব্রান্ড, রিপাবলিকান সিনেটর মার্ক কিরক ও স্বতন্ত্র সিনেটর জোসেফ লিবারম্যান সিরিয়া ও এর জ্বালানি খাতের সঙ্গে ব্যবসা করে, এমন কোম্পানির ওপর নতুন কিছু নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করেছেন। তাঁরা বলেন, যেসব কোম্পানি সিরিয়ার জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ করেছে, দেশটি থেকে তেল কিনে ও সিরিয়ার কাছে গাড়ির তেল বিক্রি করে, সেসব কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।
মার্কিন এই তিন সিনেটরের বিবৃতিতে বলা হয়, সিরিয়ায় গণতান্ত্রিক উত্তরণ, সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থন বন্ধ করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্রের বাণিজ্য বন্ধ না করা পর্যন্ত সিরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত; যে ধরনের অবরোধ আরোপ করা হয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে।
গিলিব্র্যান্ড বলেন, যত দিন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার ‘জনগণের গণতান্ত্রিক আহ্বানের প্রতি সাড়া’ না দেবে, তত দিন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সিরিয়ার কোনো ধরনের প্রবেশাধিকার থাকা উচিত নয়। সিরিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করে, এ ধরনের যেকোনো কোম্পানিরও এ অধিকার থাকা উচিত নয়।
সিনেটর কিরক বলেন, আসাদের সেনাবাহিনীর হাতে বেসামরিক লোকজনের হত্যাকাণ্ডের জবাবে সিরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ আরোপ করা উচিত। অন্যদিকে সিনেটর লিবারম্যান বলেন, সিরিয়ায় বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে কড়া ও দ্রুত জবাব দেওয়া উচিত।
লিবারম্যানসহ অপর দুই শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন ও লিন্ডসে গ্রাহাম গত সোমবার বলেন, সিরিয়ার বিভিন্ন শহরে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর রমজানের আগে এসব হামলায় তাঁরা ক্ষুব্ধ।

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় এইচআইভি ছড়িয়ে পড়ছে

মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার সমকামী ও উভকামী পুরুষদের মধ্যে মহামারি আকারে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়ছে। এ ছাড়া উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ এ অঞ্চলে এইডস ছড়িয়ে দিতে পারে বলেও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণার ফলাফলে এ কথা বলা হয়।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় প্রথমবারের মতো এ ধরনের কোনো গবেষণা চালানো হলো। কাতারের ওয়েল করনেল মেডিকেল কলেজের গবেষকেরা এ গবেষণা চালান। গবেষণায় দেখা গেছে, মিসর, সুদান, পাকিস্তান ও তিউনিসিয়ার মতো কয়েকটি দেশে কিছু কিছু জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের বেশি।
গবেষকেরা জানান, পাকিস্তানের একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ ২৮ শতাংশে পৌঁছে গেছে। পাবলিক লাইব্রেরি অব সায়েন্স (পিএলওএস) মেডিসিন সাময়িকীতে গবেষণার এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
ঝুঁকির মধ্যে থাকা দেশগুলোয় অতিসত্বর এইচআইভির ব্যাপারে নজরদারি বৃদ্ধি ও এইচআইভি পরীক্ষার সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন গবেষকেরা। এ ছাড়া এইচআইভি আরও ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে সমকামী পুরুষদের চিকিৎসাসেবা দ্রুত বৃদ্ধি করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে বিশ্বজুড়ে এইডস রোগের জন্য দায়ী এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় তিন কোটি ৩৩ লাখ। আর তাদের মধ্যে দুই কোটি ২৫ লাখের বাস আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলে।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় এইচআইভির বিস্তার সম্পর্কে এর আগে খুব সামান্য তথ্যই প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী ঘিনা মুমতাজ বলেন, কম তথ্য প্রকাশিত হওয়ায় এ ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে এ ক্ষেত্রে মোটেও নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য নেই।
কিন্তু গবেষকেরা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পান, এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে। এর আগে কয়েকটি গ্রুপ তথ্য জড়ো করলেও তা প্রকাশ করা হয়নি।
গবেষকেরা বলেন, গবেষণায় পাওয়া তথ্য উদ্বেগজনক, তবে বিস্ময়কর নয়। বিশ্ব জুড়েই এখন সমকামীদের মধ্যে এইচআইভির সংক্রমণ বাড়ছে। আফ্রিকাও এর বাইরে নয়।

আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন কেট

অপহরণ এড়াতে যুক্তরাজ্যের ডাচেস অব কেমব্রিজ কেট মিডলটনকে বিখ্যাত স্পেশাল এয়ার সার্ভিস (এসএএস) বাহিনীর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্বামী ডিউক অব কেমব্রিজ প্রিন্স উইলিয়ামকেও একই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
প্রিন্স উইলিয়ামকে বিয়ে করার মাধ্যমে মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে ক্যাথেরিন মিডলটন ওরফে কেট রাজপরিবারের একজন হয়েছেন। উইলিয়ামের দীর্ঘদিনের প্রেমিকা হিসেবে তিনি অনেক দিন আগেই সেলিব্রেটিতে পরিণত হন। এসব কারণে তাঁর নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়েছে। রাজপরিবারে সম্প্রতি এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে যে কেটকে অপহরণ করা হতে পারে। এ কারণেই তাঁকে এই আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য হওয়ার পর কেটের মর্যাদা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে তাঁর ভক্তের সংখ্যাও। কর্মকর্তারা বলছেন, এ কারণেই সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী ও অপহরণকারীদের নজরে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে তাঁর।
কেট যে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তা শারীরিক ও মানসিকভাবে খুবই কঠিন। এই প্রশিক্ষণের আওতায় আত্মরক্ষার মৌলিক কৌশলগুলো শেখানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে চিরচেনা পরিবেশে ‘অস্বাভাবিক’ কিছু ঘটলে তা বুঝতে পারা, হামলার শিকার হলে তা প্রতিরোধ করা এবং অপহরণকারীদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের কৌশল। তা ছাড়া চাপের মুখে গাড়ি চালানো এবং উদ্ধারকারী দলের জন্য সাংকেতিক বার্তা তৈরি ও তা পাঠানোর কৌশলও শেখানো হয়। মানসিক প্রস্তুতির প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে, হঠাৎ অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটলে যেমন শোবার ঘরে কেউ ঢুকে পড়লে কী রকম আচরণ করতে হবে, তা। তবে কেট কোথায় এসব প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি।
স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড, এমআই-ফাইভ ও এসএএসের সদস্যরা কেটকে এসব প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। কেট ও উইলিয়াম ছাড়াও রাজপরিবারের অন্য অনেক সদস্য এবং যুক্তরাজ্যের প্রথম সারির রাজনীতিকেরা এ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এঁদের মধ্যে আছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, প্রিন্স চার্লস, ক্যামিলা পার্কার, প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানা এবং বিশ্বের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে কর্মরত ব্রিটিশ কর্মকর্তারা।
কেট সম্প্রতি এ প্রশিক্ষণ নিলেও প্রিন্স উইলিয়াম নিয়েছেন সেই ১৬ বছর বয়সে, ১৯৯৮ সালে। ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর সদস্য হিসেবে বিমান ও হেলিকপ্টার চালানোর প্রশিক্ষণও উইলিয়ামের আছে।

আয়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী শারাপোভা

শেষ গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন সেই ২০০৮ সালে। গত তিন বছরে সর্বোচ্চ সাফল্য এবারের উইম্বলডনের ফাইনাল খেলা। নেই ডব্লুটিএ র‌্যাঙ্কিংয়ের সেরা চারেও। তবু উপার্জনের দিক দিয়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী মারিয়া শারাপোভা। এবারসহ টানা সাত বছর ফোর্বস ম্যাগাজিনের সবচেয়ে বেশি টাকা উপার্জনকারী মহিলা খেলোয়াড়দের তালিকার শীর্ষে এই রুশ।
শারাপোভার বার্ষিক আয় আনুমানিক প্রায় আড়াই কোটি ডলার, যা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিশ্বের ১ নম্বর খেলোয়াড় ক্যারোলিন ওজনিয়াকির (এক কোটি ২৫ লাখ) আয়ের দ্বিগুণ। এর বেশির ভাগই এসেছে টেনিস কোর্টের বাইরে থেকে।
তৃতীয় স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের রেসিং ড্রাইভার ড্যানিকা প্যাট্রিক। তাঁর আয় এক কোটি ২০ লাখ ডলার। এরপর ভেনাস উইলিয়ামস, কিম ক্লাইস্টার্স ও সেরেনা উইলিয়ামসের নাম। শীর্ষ দশের সাতজনই টেনিসের। এর মধ্যে আছেন ফ্রেঞ্চ ওপেনজয়ী চীনের লি নাও। প্রথম এশিয়ান হিসেবে গ্র্যান্ড স্লামের একক শিরোপাজয়ী লি না ৮০ লাখ ডলার আয় করে আছেন আটে।

উদ্ধত রোনালদোয় নাখোশ চীন

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো একটু উদ্ধত, অহংকারী। পুরোনো এই কথাটাই নতুন করে উপলব্ধি করল চীনারা। প্রাক-মৌসুম সফরের অংশ হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদ এখন চীনে। উদ্দেশ্য জনসংখ্যায় বৃহত্তম আর অর্থনীতির দিক দিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম এই দেশে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়ানো। কিন্তু সেখানে পরশু সংবাদ সম্মেলনে রোনালদো যে আচরণটা করেছেন, তাতে রোনালদোর জনপ্রিয়তা চীনে অন্তত কিছুদিনের জন্য হলেও কমতির দিকেই থাকবে।
দক্ষিণের প্রধান শহর গুয়াংজুর সংবাদ সম্মেলনে প্রায় সব প্রশ্নেরই নাকি ছাঁচাছোলা উত্তর দিয়েছেন রোনালদো। তাঁকে একটু খিটখিটেও দেখাচ্ছিল। তাঁর আচরণে ক্ষুব্ধ সাংবাদিকেরা। চীনের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া প্রকাশনা টাইটান মিডিয়ার উপপ্রধান ইয়ান কুইয়াং বিপৎসংকেতই দিলেন, ‘তিনি সব সময়ই এমন স্বার্থপর আর উদ্ধত। যে আচরণটা করছেন, তাতে চীন সফরের উদ্দেশ্য সফল হবে না।’ সংবাদ সম্মেলনে রোনালদো কেমন ছিলেন, সেই ছবিটার টুকরো একটা অংশ তুলে ধরেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। ইনজুরি-জর্জর কাকার অবস্থা কেমন? এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, ‘পারফেক্টো।’
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী চীনে রোনালদো প্রথম দর্শনে মানুষের মন জয় করতে পারেননি। ওয়াংজিহি নামের একজন দেশটির জনপ্রিয় ক্রীড়া ওয়েবসাইট ‘নেটইজ’-এ মন্তব্য করেছেন, ‘রোনালদো সংবাদ সম্মেলনে যে আচরণ করেছেন, তার দায় তাঁকে নিতেই হবে।’

হরভজন-যুবরাজের সিরিজ শেষ

টিম ম্যানেজমেন্টের কাজটা সহজ করে দিলেন হরভজন সিং ও যুবরাজ সিং। প্রথম দুই টেস্টে বাজে পারফরম্যান্সের পর সমালোচনার কেন্দ্রে ছিলেন হরভজন। তৃতীয় টেস্টে তাঁকে খেলানো নিয়ে এমনিতেই সংশয় ছিল। দ্বিতীয় টেস্টে পাওয়া পাকস্থলীর চোট টেস্ট সিরিজের বাইরেই ছিটকে দিয়েছে হরভজনকে। এক বছর পর টেস্ট একাদশে ফিরে ভালোই করেছিলেন যুবরাজ, কিন্তু চোট কাটিয়ে গৌতম গম্ভীর ফেরায় এমনিতেও জায়গা নিয়ে সংশয় ছিল তাঁরও। ট্রেন্টব্রিজে বাঁহাতের তর্জনীতে পাওয়া পাওয়া চোট দর্শক বানিয়ে দিয়েছে তাঁকেও। দুজনের বদলী বিরাট কোহলী ও প্রজ্ঞান ওঝা।
লর্ডসে ২১৮ রান দিয়ে ১ উইকেট পেয়েছিলেন হরভজন, ট্রেন্টব্রিজে পাকস্থলীর সমস্যার কারণেই ১৩.৪ ওভারের বেশি বোলিং করতে পারেননি। তবে ওতেই দিয়েছিলেন ৬৯ রান। অন্তত সপ্তাহ তিনেক বিশ্রামে থাকতে হবে হরভজনকে। অর্থাৎ, শততম টেস্ট খেলার জন্য অপেক্ষা বাড়ছে বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির। ৯৮ টেস্টে এখন ৪০৬ উইকেট ‘ভাজ্জির’।
কাউন্টি ক্লাব সারের হয়ে খেলতে ইংল্যান্ডে যাওয়ার অপেক্ষাতেই ছিলেন ওঝা, এখন তো ডাক পেয়ে গেলেন জাতীয় দলেই। হরভজনের জায়গাটা নিয়ে এই বাঁহাতি স্পিনারের লড়াই হবে লেগ স্পিনার অমিত মিশ্রর সঙ্গে। অবশ্য ভারত যদি না ‘অল পেস অ্যাটাক’ নিয়ে নামার সিদ্ধান্ত নেয়। চার পেসার খেলানোর সম্ভাবনা কিছুটা আছে, তবে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির ওভাররেট সংক্রান্ত সমস্যার বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত ভারতের ওপথে না যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। জহির খান ফিট হয়ে হয়ে না উঠলে অবশ্য চার পেসার খেলানোর চিন্তাও করবে না তারা।
যুবরাজ চোট পেয়েছিলেন টিম ব্রেসনানের বাউন্সারে। ডার্বিতে স্ক্যান করানোর পর লন্ডনে হস্ত বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয় তাঁকে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শেই এখন সপ্তাহ চারেক বাইরে থাকতে হবে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে। কনুইয়ের চোট কাটিয়ে গম্ভীরের ফেরা অবশ্য মোটামুটি নিশ্চিত। গম্ভীরের উদ্বোধনী জুটির সঙ্গী বীরেন্দর শেবাগের লন্ডন পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল গতকালই। কাঁধের দীর্ঘ চোট কাটিয়ে টেস্টে ফেরার আগে নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন নর্দাম্পটনশায়ারের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে। দুই দিনের ম্যাচটি হবে ৫ ও ৬ আগস্ট।
এদিকে প্রথম দুই টেস্টেই ভারতীয় দলের সমালোচনা চলছে। কেউ দায় দিচ্ছেন ধোনির অধিনায়কত্বকে, কেউ ব্যাটসম্যানদের, কেউ লড়াকু মনোভাবের অভাবকে। ফারুখ ইঞ্জিনিয়ার আবার একটু ব্যতিক্রম। দীর্ঘদিন ইংলিশ কাউন্টি ল্যাঙ্কাশায়ারে খেলা উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যানের প্রশ্ন দলের কোচিং স্টাফ নিয়ে, ‘উচ্চ বেতন পাওয়া এসব কোচ করছেটা কী? ফলাফল তো কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। ফ্লেচার কী করছে? পূর্বসূরি গ্যারি কারস্টেন তার সুপারিশ করেছে, এত বড় দায়িত্ব পাওয়ার জন্য কি এটাই যথেষ্ট?’

শ্রীলঙ্কায় সতর্ক অস্ট্রেলিয়া

উপমহাদেশে আরও একবার পরীক্ষার মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়ানরা। পরীক্ষাটা এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ক্যান্ডিতে আগামী পরশু শুরু হতে যাওয়া সিরিজের আগে অস্ট্রেলিয়ার মাইক হাসি সতর্কবার্তা শোনালেন সতীর্থদের—মন্থর উইকেট আর স্পিন আক্রমণের জন্য প্রস্তুত থাকো।
দুটি টি-টোয়েন্টির পর পাঁচ ওয়ানডে। এরপর তিনটি টেস্ট। তবে সীমিত ওভারের ম্যাচগুলোই যেহেতু আগে, হাসির চিন্তা আপাতত টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডে ঘিরেই। কলম্বোয় তিনি বলেছেন, ‘উইকেট নিশ্চয়ই স্বাগতিকদের পক্ষে থাকবে। স্পিন আক্রমণও থাকবে যথেষ্ট। আমি মনে করি, ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে খেলার জন্য ওদের প্রস্তুত থাকতে হবে। টানা অনেক স্পিন ওভার খেলা, রানের জন্য অপেক্ষা করা—আমার মনে হয়, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এসবের মধ্যেই লুকিয়ে থাকবে সাফল্য।’
অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটা সুখবর, এই সিরিজে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দুটিতে খেলছেন না টেস্ট থেকে অবসর নেওয়া শ্রীলঙ্কান পেসার লাসিথ মালিঙ্গা। না খেলার সম্ভাবনা আছে ওয়ানডে সিরিজেও। শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক তিলকরত্নে দিলশান অবশ্য বলছেন, তরুণ পেসারদের সঙ্গে স্পিনারদের সঠিক ব্যবহারে মালিঙ্গার অভাব পূরণ করা যাবে। ‘যেকোনো ক্রিকেটারের বেলাতেই এটা হতে পারে। তবে এটা তরুণদের জন্য দারুণ একটা সুযোগ’—বলেছেন দিলশান।
ট্রেভর বেলিস যাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন কোচ স্টুয়ার্ট ল-ও বাংলাদেশের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় দেশি কোচ রুমেশ রত্নায়েকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে শ্রীলঙ্কা দলের দায়িত্ব। নতুন কোচের সামর্থ্যে যথেষ্টই আস্থা দিলশানের, ‘স্বল্প সময়ের জন্য এলেও রুমেশের প্রভাবটা ভালোই পড়েছে দলে। তরুণ খেলোয়াড়েরা কোচের সঙ্গে কথা বলতে এখন অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে, তাদের সমস্যা নিয়ে আলাপ করছে। আশা করি, আমরা ভালোই করব।’