Thursday, April 17, 2014

মুনমুনের জন্য রাস্তা ধুয়ে সাফ

দুই মেয়েকে নিয়ে বাঁকুড়ায় প্রচারণায় মুনমুন
সেন ছবি: হিন্দুস্তান টাইমসের সৌজন্যে
দুই মেয়েকে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া নির্বাচনী আসনে আসছেন কলকাতার একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মুনমুন সেন। প্রচারণা চালানোর সময় তিনি ও তাঁর সন্তানদের গায়ে যাতে ধুলাবালু না লাগে, তাঁরা যাতে ধুলাবালুতে কষ্ট না পান, সেদিকে বেশ নজর ছিল স্থানীয় পঞ্চায়েতের। তাই তিন কিলোমিটার পাকা রাস্তা পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করেছে তারা। বাঁকুড়ার শ্যামাপুর গ্রামের মানুষ জীবনে কখনো এমন দৃশ্য দেখেননি। মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের মেয়ে মুনমুন সেন লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া আসনে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সম্প্রতি তিনি দুই মেয়ে বলিউড অভিনেত্রী রিয়া সেন ও রাইমা সেনকে নিয়ে মেঝিয়া বাঁকুড়ায় এক সমাবেশে যোগ দেন। মুনমুন ও তাঁর মেয়েদের প্রচারণার স্বার্থে সড়ক ধোয়া নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বাঁকুড়ার শ্যামপুরে এই গরমে এমনিতে সুপেয় পানির প্রচণ্ড সংকট থাকে।
মানুষ রাস্তার পাশে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা পানি সংগ্রহ করে। মুনমুন ও তাঁর মেয়েদের ধুলাবালু থেকে বাঁচাতে পানি দিয়ে রাস্তা ধোয়া মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় লোকজন। বাঁকুড়ার নয়বারের নির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্য বাসুদেব আচারিয়া তৃণমূল প্রার্থী মুনমুনের জন্য রাস্তা ধুয়ে দেওয়ার সমালোচনা করে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রতিদিন কাজ শেষে বাড়িতে ফেরার সময় ধুলায় ভরে যায় তাঁর শরীর ও জামাকাপড়। তিনি এটিকে গ্রহণ করে নিয়েছেন। পঞ্চায়েতের রাস্তা ধুয়ে দিয়েও ধুলা থেকে মুনমুন সেনের মেয়েদের রক্ষা করা যায়নি। প্রচারণার একপর্যায়ে রিয়া সেনকে ধুলায় আক্রান্ত হয়ে চোখ ডলতে দেখা যায়। হিন্দুস্তান টাইমস।

রাজনাথের মাথায় টুপি মুখে বাজপেয়ির ছায়া

দরগায় টুপি মাথায় রাজনাথ সিং ছবি: এনডিটিভির সৌজন্যে
ভারতে নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে সাম্প্রদায়িক কার্ড নিয়ে খেলার বিতর্কটা বেশ জমে উঠেছে। দিল্লির শাহি ইমামের সঙ্গে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বৈঠক নিয়ে দুই শিবিরের পাল্টাপাল্টি আক্রমণের মধ্যে এবার কয়েকজন মুসলিম নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সভাপতি রাজনাথ সিং। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার লক্ষেৗতে মুসলিম ধর্মীয় নেতা কালবি সাদিক, খালিদ রশিদ ও কালবি জাওয়াদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজনাথ সিং। আর এর পরদিনই প্রকাশিত হয়েছে লম্বা ঐতিহ্যবাহী টুপি মাথায় রাজনাথের একটি ছবি। চলতি মাসের শুরুর দিকে লক্ষেৗতে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বাবা মীর কাশিমের দরগায় গিয়েছিলেন রাজনাথ। মাথায় টুপি পরা ছবিটি ওই সময় তোলা। ৫ এপ্রিল কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী দিল্লি জামে মসজিদের শাহি ইমাম সৈয়দ আহমেদ বুখারির সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিজেপির নেতা রবিশংকর প্রসাদ অভিযোগ করেছিলেন, ‘সোনিয়া ও রাহুল ধর্মের ভিত্তিতে ভোটারদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।’
এখন মুসলিম নেতাদের সঙ্গে রাজনাথের সাক্ষাৎ নিয়ে সমালোচনা করছে কংগ্রেস। তবে রাজনাথ বলেন, তাঁর এই সাক্ষাৎকে সোনিয়ার বৈঠকের সঙ্গে তুলনা করা ঠিক হবে না। কেননা ভোটারদের মধ্যে ধর্মীয় আবেদন সৃষ্টির মতো কোনো কথা তিনি বলেননি। তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও বাইরের সমালোচকদের পাশাপাশি এ নিয়ে কথা হচ্ছে বিজেপির মধ্যেও। অনেকে বলছেন, রাজনাথ নিজেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি মতো উদারপন্থী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। লক্ষেৗতে মুসলিম ভোট আছে প্রায় সাড়ে চার লাখ বা মোট ভোটারের ২৫ শতাংশ। এখান থেকে পাঁচবার নির্বাচিত হন বিজেপির নেতা বাজপেয়ি। অন্যদিকে হিন্দুত্ববাদী আদর্শের দল বিজেপির মধ্যে মোটামুটি উদারপন্থী হিসেবে পরিচিত রাজনাথ সিং। স্থানীয় দৈনিক লক্ষেৗ অবজারভার-এর সম্পাদক মেহরু জাফর বলেন, ‘রাজনাথ সিং এবং বাজপেয়ি দুই প্রজাতির মানুষ।’ আর লক্ষেৗয়ের সাবেক নবাব জাফর মির আবদুল্লাহ বলেন, ‘বাজপেয়ি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির একজন মানুষ। তিনি আমাদের সবার ভালোবাসার পাত্র। লক্ষেৗতে বাজপেয়ি ছাড়া অন্য কারও এতটা জনপ্রিয়তা নেই, তো তিনি যে-ই হোন না কেন।’ এনডিটিভি।

বামঘাঁটি জয় করতে পারবেন দেব?

মমতার সঙ্গে মঞ্চে দেব ছবি: প্রথম আলো
যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, জনজোয়ার। কখনো কাঁধে তুলে নিয়ে নাচছেন ভক্তরা, কখনো ভক্তদের পুষ্পবৃষ্টিতে পুষ্পস্নান করছেন। তিনি দেব। কলকাতার চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় অভিনেতা। আসল নাম দীপক অধিকারী। বয়স ৩১। এই দেবকে এবার রাজনীতিতে নামিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল আসনে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন পেয়েই ময়দানে নেমে পড়েছেন তিনি। ঘুরছেন ঘাটাল আসনের অলিগলি। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা নির্বাচনে অন্তত ১০ জন তারকা প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দেব মমতার অত্যন্ত আস্থাভাজন তারকা। এর আগে মমতার ডাকে তাঁর বড় বড় জনসভায় হাজির হয়েছেন দেব। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় আছে লোকসভার তিনটি আসন। ঘাটাল, ঝাড়গ্রাম ও মেদিনীপুর। এই পশ্চিম মেদিনীপুর আবার বাম অধ্যুষিত জেলা। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনেই জিতেছিল বামফ্রন্টের প্রার্থীরা। ঘাটালে বামফ্রন্টের শরিক সিপিআইয়ের নেতা গুরুদাস দাশগুপ্ত জিতলেও এবার তিনি নির্বাচনে নেই। এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সিপিআইয়ের আরেক নেতা সন্তোষ কুমারকে। গুরুদাস জিতেছিলেন এক লাখ ৪৭ হাজার ১৮৪ ভোটের ব্যবধানে।
বিজেপির প্রার্থী মতিলাল খাটুয়া পেয়েছিলেন ৩৫ হাজার চার ভোট। এবার এই আসনে কে জিতবে, তা নিয়ে তৃণমূল আর বাম শিবিরে চলছে হিসাব-নিকাশ। বামদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এই আসনটি এবার দখল করতে চান মমতা। তাই প্রার্থী করেছেন এ সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা দেবকে। দেবের পাশাপাশি জেলার মেদিনীপুর আসনে প্রার্থী করিয়েছেন আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায়কে। দেব ও সন্ধ্যা রায়কে জয়ী করতে মাঠে নেমেছেন মমতাও। সভা করেছেন দেব ও সন্ধ্যাকে নিয়ে। তবে সিপিআই বলছে, বাম দলের নির্দিষ্ট ভোট আছে। গত নির্বাচনে তারা এক লাখের বেশি ভোটে তৃণমূল প্রার্থীকে হারিয়েছিল। এবার দেবকে হারিয়ে তাদের প্রার্থীই জিতবেন। এই আসনে জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থীও একেবারে ফেলনা নন। মানস ভুইয়া রাজ্য কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি ও বিধানসভার মন্ত্রী ছিলেন। তিনিও বেশ ভোট টানবেন। আর বিজেপির প্রার্থী মহম্মদ আলম। স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, মমতার তারকা প্রার্থীদের মধ্যে দেব জিতবেন। এই প্রজন্মের নতুন ভোটাররা দেবকে বিমুখ করবেন না। দেব রাজনীতিতে নতুন এলেও পা দিচ্ছেন বুঝেশুনে। প্রথম প্রচারণায় নেমেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী বাম প্রার্থী সন্তোষের বড়িতে গিয়ে চা খেয়ে আসেন। এতে দেবের ভক্তরা উল্লসিত। তবুও রাজনীতিতে শেষকথা বলতে কিছু নেই। তৃণমূল যদি এবার বামঘাঁটিতে আঘাত করতে না পারে, সে ক্ষেত্রে কংগ্রেস ও বিজেপির ভোট ভাগাভাগিতে ভাগ্য খুলে যেতে পারে বাম প্রার্থীর।

দ.কোরিয়ায় ফেরিডুবি, নিখোঁজ ২৯৩

দক্ষিণ কোরিয়ার জিন্দো উপকূলের কাছে গতকাল ডুবন্ত ফেরি
থেকে যাত্রীদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার পাঠানো হয় ছবি: রয়টার্স
৪৫৯ জন যাত্রী ও নাবিক নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার উপকূলে গতকাল বুধবার একটি ফেরি ডুবে গেছে। এতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। যাত্রীদের বেশির ভাগই ছিল স্কুলশিক্ষার্থী। অনেককে উদ্ধার করা হলেও এখনো ২৯৩ জন নিখোঁজ রয়েছে। ফেরিডুবিতে নিহতদের একজন স্কুলছাত্র। অন্যজন ফেরির একজন নারী কর্মী। ডুবে যাওয়া জাহাজটি দক্ষিণ কোরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইনচিয়ন বন্দর থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় অবকাশযাপন কেন্দ্র জেজু দ্বীপের উদ্দেশে গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার পর রওনা হয়। ফেরির মোট ৪২৯ জন যাত্রীর মধ্যে ৩০০-এরও বেশি স্কুলছাত্র। তারা রাজধানী সিউলের দক্ষিণের একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষক। কয়েক ডজন জাহাজ ও হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা প্রথমে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ৩৬৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাঁরা গণনায় সমস্যা ছিল উল্লেখ করে জানান, ১৬৪ জনকে উদ্ধার করেছেন তাঁরা। রাজধানী সিউলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নিরাপত্তা ও জনপ্রশাসনবিষয়ক উপমন্ত্রী লি গিয়ং-ওগ বলেন, ‘বাকি ২৯৩ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।’ ছয় হাজার ৮২৫ টন ওজনের ফেরিটি গতকাল স্থানীয় সময় সকাল নয়টায় (গ্রিনিচ মান সময় ০০টা) বিপৎসংকেত পাঠায়। এর দুই ঘণ্টার মধ্যে সেটি সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে যায়। ঘটনার সময় ফেরিটি দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ বাইয়াংপুং থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে ছিল। তাৎক্ষণিক দুর্ঘটনার কোনো কারণ জানা যায়নি। অবশ্য উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা বলেছে, হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক শব্দ করে জাহাজটি কেঁপে ওঠে। এরপর সেটি থেমে যায়। ফেরিটির নিচের অংশ মাটি বা এজাতীয় শক্ত কোনো কিছুর সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রতিদিনই অসংখ্য জাহাজ উপকূল থেকে দূরে দ্বীপগুলো পর্যন্ত চলাচল করলেও সেখানে দুর্ঘটনার নজির খুব কম। এএফপি ও বিবিসি।

মায়ের ক্ষমায় বাঁচল ছেলের খুনির প্রাণ

চোখ বেঁধে তাঁকে দাঁড় করানো হয়েছে ফাঁসির বেদিতে, গলায় গলানো হয়েছে ফাঁসির দড়ি। ‘মা’ আর সইতে পারলেন না, দ্রুত গিয়ে ‘ছেলেকে’ চড় মেরে ভেঙে পড়লেন কান্নায়, ‘বাবা’ খুলে দিলেন ফাঁসির দড়ি। প্রাণে বেঁচে গেলেন ২৭ বছরের বেলাল। সামনে অপেক্ষমাণ জনতার মধ্যে যেন ছড়িয়ে গেল মায়ের বুকে জমে থাকা বোবাকান্নার ঢেউ। এক মা এভাবেই বাঁচালেন তাঁর নিজের ছেলের খুনিকে। দেশের আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে ফাঁসি কার্যকরের সময় সম্প্রতি বিরল এই ক্ষমাশীলতার ঘটনা ঘটেছে ইরানে। দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।

ধুরুং স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার‘র নির্মাণ কাজ অর্থাভাবে বন্ধ

কুতুবদিয়ায় অর্থের অভাবে ধুরুং স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার‘র নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে আছে। এক কোটি ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জেলা শিক্ষ প্রকৌশল অধিদপ্তর এটি বাস্তবায়ন করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।ধুরুং হাই স্কুল সুত্র জানায়,ধুরুং হাই স্কুল ষ্টেডিয়াম সংলগ্ন স্থানে গত বছরের(২০১৩) অক্টোবরে স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টারের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। নির্মাণ কাজের প্রায় ৬৫ ভাগ শেষ হলেও গত দেড় মাস যাবৎ নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।যে কারণে নির্দিষ্ট সময়ে স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টারটি নির্মাণ শেষ হবে কিনা সংশয় প্রকাশ করছেন অনেকে। ধুরুং হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোর্শেদুল আলম বলেন,শেল্টার নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে প্রায় দু‘মাস ধরে।বিদ্যালয়ে বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কক্ষের সংকুলান হচ্ছেনা। স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টারটি দ্রুত নির্মাণ হলে এ সমস্যা দূর হতো।উর্ধতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে প্রযোজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তিনি।

শেল্টারটি নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খোরর্শেদ আলম‘র স্বত্বাধিকারি খোরশেদ আলম বলেন,ধুরুং স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার নির্মার্ণ কাজ প্রায় ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে। ৭৬ লক্ষ টাকা তিনি ইতিমধ্যে খরচ করেছেন। বিল পেয়েছেন মাত্র ১২ লক্ষ টাকা। আর্থিক সমস্যায় কাজ আপাতত: বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে জুনের আগেই আবার তিনি কাজ শুরু করবেন বলে জানান।

জেলা নির্বাহি প্রকৌশলী(শিক্ষা) সমীর কুমার রজক দাস ধুরুং স্কুল কাম সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন,ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের অগ্রগতি হিসেবে প্রয়োজনীয় অর্থ পাননি এটা ঠিক। ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার বিল বকেয়া হয়েছে। ঠিকাদারের বকেয়ার পরিমাণ প্রায় অর্ধ কোটি-এটা ঠিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে আগামী জুনের আগেই বরাদ্ধ পাবেন বলে আশা করছেন। যত দ্রুত সম্ভব নির্মাণ কাজ শুরু করে নিদিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে জানান।

দ্বিখণ্ডিত শাহবাগ, দ্বিখণ্ডিত বাংলাদেশ!

দ্বিখণ্ডিত শাহবাগ, দ্বিখণ্ডিত বাংলাদেশ!
দ্বিখণ্ডিত বাংলাদেশের চেয়ে দ্বিখণ্ডিত শাহবাগ অনেক বেশি শঙ্কার, অনেক বেশি উদ্বেগের। দ্বিখণ্ডিত বাংলাদেশের একটি ব্যাখ্যা বিভিন্ন মহল থেকে দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বাংলাদেশ আর মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের বাংলাদেশ। ধর্মনিরপেক্ষ নীতির বাংলাদেশ আর ধর্মনিরপেক্ষ নীতির বিপক্ষের বাংলাদেশ। বাঙালি জাতীয়তাবাদের বাংলাদেশ আর বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিপক্ষের বাংলাদেশ। যুদ্ধাপরাধের বিচারের পক্ষের বাংলাদেশ আর যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিপক্ষের বাংলাদেশ।
জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে এই যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে ২০১৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। তরুণ প্রজন্ম তা মানতে পারেনি। তারা ছুটে এসেছিল শাহবাগে। প্রতিষ্ঠা করেছিল গণজাগরণ মঞ্চ। এই আন্দোলনে কোনো নেতা ছিলেন না, কোনো একক সংগঠন এর উদ্যোগ নেয়নি। এই আন্দোলনে যেমন তরুণ ব্লগাররা ছিলেন, তেমনি ছিলেন প্রগতিশীল সব ছাত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মীরা। তার চেয়েও বেশি ছিলেন সাধারণ মানুষ, ছাত্র-তরুণেরাও এসেছিল। সেদিন সবার কণ্ঠে একটি দাবি উচ্চারিত হয়েছিল—যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। এর পর আমরা দেখলাম শাহবাগের সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ল দেশময়, প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে গড়ে উঠল গণজাগরণ মঞ্চ। কয়েকটি স্থানে প্রতিপক্ষ হামলাও চালাল। কিন্তু গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা ছিলেন অকুতোভয়। এমনকি দেশের বাইরে যেখানে বাংলাদেশের মানুষ আছেন, তাঁদের মধ্যেও এই আন্দোলন সাড়া জাগায়। অন্য সব রাজনৈতিক ও পেশাজীবী আন্দোলন থেকে এর চরিত্র ছিল ভিন্ন। রাজনৈতিক আন্দোলনের উদ্দেশ্য থাকে ক্ষমতায় যাওয়া। পেশাজীবীদের আন্দোলনের লক্ষ্য থাকে দাবিদাওয়া পূরণ। কিন্তু শাহবাগের আন্দোলনের মধ্যে মানুষ কেবল দাবি পূরণ নয়, তার স্বপ্ন ও ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছিল। একে তারা আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত করেছিল।
শাহবাগ হয়ে উঠেছিল মুক্তচিন্তার মানুষের ঠিকানা ও আশ্রয়। এই আন্দোলনে কেবল প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন, সংস্কৃতিসেবীরাই অংশ নেননি; অসংখ্য শিশুর পাশাপাশি এর সঙ্গে লাখ লাখ সাধারণ নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ, তরুণেরা সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। যাঁরা কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, এমনকি নিজেদের প্রথাগত সংস্কৃতিসেবীও মনে করতেন না, তাঁরাও ছুটে এসেছিলেন শাহবাগের পিচঢালা চত্বরে। জামায়াতের নেতা আবদুল কাদের মোল্লার বিচারের বিষয়টি সামনে ছিল ঠিকই কিন্তু তাঁরা চেয়েছিলেন আরও বেশি কিছু। তাঁরা চেয়েছিলেন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে একাত্তরের চেতনায়, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে। আমাদের দেশের প্রচলিত আন্দোলনগুলো গড়ে ওঠে নেতাদের নির্দেশে, দলের উদ্যোগে। এখানে ছাত্র ও শিক্ষকেরা এসেছেন শ্রেণীকক্ষ থেকে, পেশাজীবীরা এসেছেন নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে। একাত্তরের মার্চের সেই অবিস্মরণীয় আন্দোলনের পর এ রকম স্বতঃস্ফূর্ত গণবিস্ফোরণ আর ঘটেনি। এই আন্দোলন প্রচলিত রাজনৈতিক ধ্যান-ধারণাকে ভেঙে দিয়ে নতুন চেতনা সঞ্চারিত করেছিল মানুষের মনে; যে চেতনা দলীয় ও গোষ্ঠীগত বৃত্তের বাইরে। এই আন্দোলন পরিচালনার ক্ষেত্রে যেমন সমস্যা হয়, নানা জটিলতা দেখা দেয়, এখানেও তার ব্যতিক্রম ছিল না। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে মানুষের অন্তরের ঠিকানা হয়ে উঠেছিল শাহবাগ। আজ মাত্র ১৪ মাসের ব্যবধানে সেই গণজাগরণ মঞ্চের বিভক্তি এবং মারামারি দেখে আমরা ব্যথিত ও লজ্জিত হই।
শঙ্কিত হই। আশাহত হই। শাহবাগকে যখন বিভক্ত ও দ্বিখণ্ডিত হতে দেখি, যখন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের আহত ও রক্তাক্ত হতে দেখি, তখন আমরা এর মধ্যে নিছক একটি সংগঠনের মৃত্যু দেখি না, দেখি মানুষের স্বপ্নের মৃত্যু। ভালোবাসার মৃত্যু। এতে তারাই আশকারা পাবে, যারা এক বছর আগে শাহবাগকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করত, যারা নাস্তিক বলে গালমন্দ করত। বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে অপপ্রচার চালাত। এতে তাদের হাতই শক্তিশালী হবে, যারা সেদিন লাখো কণ্ঠের বজ্রনিনাদে ভীত-শঙ্কিত ছিল। গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি গণজাগরণ মঞ্চ গড়ে ওঠার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তিনি সংসদে থাকলেও তাঁর মন ছুটে যেতে চায় শাহবাগে। আজ প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের জিজ্ঞাসা—এখন কি তাঁর মন শাহবাগে ছুটে যেতে চায় না? আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও নেতাদের কাছেও প্রশ্ন রাখতে চাই—যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে গণজাগরণ মঞ্চ গঠিত হয়েছিল, তার সবটাই কি পূরণ হয়েছে? যদি না হয়ে থাকে, তাহলে কেন এক পক্ষ গণজাগরণ মঞ্চের যবনিকা টানতে চাইছেন? কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে গণজাগরণ মঞ্চ শাহবাগে সমবেত হলেও পরবর্তীকালে এই আন্দোলন আরও ব্যাপ্তি পায়। যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি গণজাগরণ মঞ্চ জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, বাহাত্তরের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের দাবি সামনে নিয়ে আসে। এসব দাবি কি পূরণ হয়ে গেছে? না, হয়নি। তাহলে কেন গণজাগরণ মঞ্চ ভেঙে দেওয়ার জন্য মহলবিশেষ মরিয়া হয়ে উঠল? এ কথা মনে রাখা দরকার, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মতো গণজাগরণ মঞ্চ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর নয়। এই মঞ্চ ছিল বাংলাদেশের প্রগতিশীল চিন্তাচেতনার সব মানুষের। সব তরুণের।
জামায়াত-শিবির ও হেফাজতিদের আক্রমণের মুখেও যে গণজাগরণ মঞ্চ অসীম ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়েছে, মাসের পর মাস শান্তিপূর্ণ ও অহিংস কর্মসূচি পালন করে গেছে, সেই জাগরণ মঞ্চের কর্মীরা নিজেরা মারামারিতে লিপ্ত হচ্ছেন, এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কী হতে পারে? ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ইমরান এইচ সরকারকে এই আন্দোলনের মুখপাত্র করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে মঞ্চের অধিকাংশ নেতা-কর্মীর আপত্তি থাকলে সবার মতামতের ভিত্তিতে অন্য একজনকে মুখপাত্র করা যেত। কিন্তু গণজাগরণ মঞ্চটি বন্ধ করে দেওয়ার যুক্তি দেখি না। ক্ষমতাসীনেরা নিশ্চয়ই জানেন, শাহবাগ দুর্বল হওয়া বা দ্বিখণ্ডিত হওয়ার অর্থ স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি, অর্থাৎ শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ এত দিন যাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে, তারা শক্তিশালী হবে। একদিকে শাহবাগে বিভক্তি এবং হেফাজতে ইসলামের আমিরের কণ্ঠে সরকারের প্রতি মৈত্রীর আহ্বান আমাদের শঙ্কা ও উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। প্রথম আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে নবজাগরণ মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা কামাল পাশা চৌধুরী দাবি করেছেন, গণজাগরণ মঞ্চের বিভক্তির মূল কারণ আদর্শিক। তিনি কোন আদর্শের কথা বলছেন, তা পরিষ্কার নয়। আমরা যতটা জানি, গণজাগরণ মঞ্চের সবাই যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে সমবেত হয়েছিলেন। সেই দাবি থেকে কেউ বিচ্যুত হয়েছেন, তা আমাদের জানা নেই। কামাল পাশা চৌধুরী আরও বলেছেন, যেদিন জাতীয় সংসদে আপিলের সমান সুযোগ পেল, ট্রাইব্যুনালের আইন সংশোধন করা হলো,
সেদিনই উচিত ছিল সমাবেশটা ধীরে ধীরে গুটিয়ে ফেলা। সেদিন তাঁরা কেন সিদ্ধান্ত নিলেন না? তিনি এও বলেছিলেন যে তাঁদের সন্দেহ ইমরান এইচ সরকার আদর্শ থেকে সরে গিয়ে ওটাকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটা মহল চেষ্টা করছে। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে নিয়ে যাওয়া বলতে তিনি কী বোঝাচ্ছেন? ইমরান এইচ সরকার কি যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরোধিতা করছেন? একদিকে কামাল পাশা বলছেন, সংসদে আইন পাসের পরই আন্দোলন গুটিয়ে ফেলা উচিত ছিল, আরেক দিকে বলছেন, আন্দোলনটাকে এগিয়ে নিতে নেতৃত্বের পরিবর্তন প্রয়োজন। জনগণ কোনটি বিশ্বাস করবে? অন্যদিকে ইমরান এইচ সরকার গণজাগরণ মঞ্চকে এখনো এক রাখতে চান। তিনি বলেছেন, ‘আমি এটিকে বিভক্তি হিসেবে দেখছি না। বলতে পারেন মতপার্থক্য।’ দেখা গেছে, কর্মসূচি নেওয়ার পর যে কঠোর কর্মসূচি চেয়েছে, তারও পছন্দ হয়নি, যে শিথিল কর্মসূচি চেয়েছে, তারও পছন্দ হয়নি। তাঁর মতে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ-প্রক্রিয়া জটিল ছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ বা কৌশলের সঙ্গে সাধারণ মানুষ বা সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পার্থক্য তৈরি হয়। যেকোনো সংগঠনে মতভেদ থাকবে। নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো, সেসব আমলে নিয়ে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে মারামারি, লাঠালাঠি হবে কেন? কেন এক পক্ষ অরেক পক্ষের ওপর চড়াও হবে? এটি তো কোনো আদর্শিক সংগঠনের কাজ হতে পারে না। গত সেপ্টেম্বরে দিল্লির জওহরলাল ইউনিভার্সিটিতে সমাজবিজ্ঞানের এক অধ্যাপকের সঙ্গে আলাপ হতেই শাহবাগের গণজাগরণ সম্পর্কে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, তোমরা কীভাবে এ রকম একটি গণজাগরণ সৃষ্টি করলে? উপমহাদেশের এ ধরনের আন্দোলনের নজির নেই।
মিসরের তাহরির স্কয়ার কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে যে আন্দোলন হয়েছে, তার চেয়ে বাংলাদেশের আন্দোলন অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। আগের দুটোই রাজনৈতিক আন্দোলন। আর বাংলাদেশে যে আন্দোলন হয়েছে, সেটি আত্মজাগরণ ও আত্মমুক্তির আন্দোলন। তিনি বাংলাভাষী নন। বাংলাদেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন, তা-ও নয়। সেই অধ্যাপকের সঙ্গে যদি এখন দেখা হয়, তাঁর কাছে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে বলব, মহাত্মন, আপনি যেভাবে বলেছেন, আমরাও সেভাবে ভেবেছিলাম। কিন্তু আমাদের ক্ষমতালিপ্সু রাজনীতি সেটিকে নষ্ট করে দিচ্ছে। এখানে সম্ভবত আর কোনো জাগরণ সম্ভব নয়। না আত্মশুদ্ধির, না আত্মশক্তির। যেমন রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন: আমরা আরম্ভ করি, শেষ করি না; আড়ম্বর করি, কাজ করি না; যাহা অনুষ্ঠান করি তাহা বিশ্বাস করি না; যাহা বিশ্বাস করি তা পালন করি না; ভূরিপরিমাণ বাক্যরচনা করিতে পারি; তিলপরিমাণ আত্মত্যাগ করিতে পারি না; আমরা অহংকার দেখাইয়া পরিতৃপ্ত থাকি, যোগ্যতালাভের চেষ্টা করি না;... পরের চক্ষে ধূলিনিক্ষেপ করিয়া আমাদের পলিটিকস্, এবং নিজের বাক্চাতুর্যে নিজের প্রতি ভক্তিবিহ্বল হইয়া উঠাই আমাদের জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য। [সূত্র: চারিত্রপূজা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর] মনে হয় শত বছর আগে কবি বর্তমান বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশেই এ বাক্যটি লিখে গিয়েছিলেন। গণজাগরণ মঞ্চ যাঁরা ভেঙে দিতে চান, তাঁদের একবার আয়নায় নিজের মুখ দেখতে বলব। এক বছর আগে কী বলেছিলেন, মনে করে দেখুন।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

শান্তি ও উন্নয়নের এক রূপকার

শওকত হোসেন হিরন
গত শুক্রবার দুপুর ১২টা। সবাই হাঁটছেন বিভিন্ন সড়ক ধরে। বেলা একটায় সদর রোড, বাংলাবাজার, জীবনানন্দ দাশ সড়ক, পুলিশ লাইন, বান্দ রোডসহ আশপাশের সব সড়কে মানুষের ঢল। লক্ষ্য, বঙ্গবন্ধু উদ্যান। না, কোনো জনসভা নয়। বদলে দেওয়া বরিশালের রূপকার শওকত হোসেন হিরনের জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য। মানুষকে ভালোবেসে হিরন যেন হিরণ্ময় জ্যোতি ছড়িয়েছেন বরিশাল নগরজুড়ে। মানুষের জন্য ভালোবাসার প্রতিদান এমন হতে পারে, চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কষ্ট। যে যেমন পেরেছেন ছুটে এসেছেন। দোকানদার, ব্যবসায়ী, রিকশাশ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী, রাজনৈতিক নেতা—সবাই এসেছেন প্রিয় মানুষ হিরনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। কেন এই মানুষের ঢল?
কেন এই জনসমুদ্র? কী ছিলেন হিরন, কী কাজ করেছেন বরিশাল নগরের জন্য? কিসের প্রতিদান দিতে চৈত্রের রোদ উপেক্ষা করে মানুষের স্রোত বঙ্গবন্ধু উদ্যানে। মাত্র তো সাড়ে চার বছর বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। এর আগে তো অনেকে পৌর চেয়ারম্যান থেকে মেয়র পর্যন্ত হয়েছেন। এখনো নির্বাচিত আছেন। তাঁদের ত্রুটি কোথায়? এমন সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বরিশালের সাধারণ মানুষ। ৯ এপ্রিল হিরনের মরদেহ তখন বরিশালে পৌঁছেছে। তাঁকে দেখতে হাজার হাজার মানুষ ছুটছেন তাঁর বাসভবনের দিকে। রাস্তায় এক ব্যক্তি বলে উঠলেন, মেয়রের বাড়ি এদিক থেকেও যাওয়া যায়। হিরন বর্তমানে মেয়র নন—এই সত্য বরিশালের বাসিন্দারা জানেন, তবে মানেন না। তাই তো আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা অন্য যেকোনো দলের কর্মী ও সাধারণ মানুষের মুখে হিরন হয়ে ওঠেন মেয়র হিরন। সেই নামেই পরিচিতি ঘটে তাঁর। নগরের যেখানেই চোখ যায়, হিরনের কাজের ছাপ। বর্তমানে বরিশাল নগরে সবুজ বৃক্ষও অর্ধেকের বেশি হিরনের লাগানো। স্বপ্ন ছিল সবুজের নগর তৈরির। রাস্তায় টিস্যু, থুতু ফেলতে নিষেধ করতেন হিরন। সবাইকে নিজের আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখার তাগিদ দিতেন। সূর্য ওঠার আগে নগরের আবর্জনা সরিয়ে নিয়েছেন তিনি।
৩০ ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি থেকে বাঁশি বাজিয়ে ময়লা অপসারণের উদ্যোগও তাঁর। নগরে বালুর গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং রাত জেগে তার তদারক করেছেন হিরন। নগরের সড়ক প্রশস্তকরণ, আলোর নগরে পরিণত করা, ফুটপাত নির্মাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, বিনোদনকেন্দ্র, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা—সর্বত্র অবদান ছিল হিরনের। তাই তো হিরন সবার কাছে এত প্রিয় হয়ে ওঠেন। ছয় বছর আগে যাঁরা বরিশালে এসেছেন, তাঁরা দেখেছেন, একটি দুর্গন্ধ জঞ্জালের নগর ছিল বরিশাল। সেই সব জঞ্জাল সরিয়ে বরিশাল নগরকে নান্দনিক সৌন্দর্য দিয়েছেন হিরন। দলমত-নির্বিশেষে কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টিতে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন তিনি। ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সম্মেলন উপলক্ষে নগরে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনাসহ দলের নেতা-কর্মীদের বিলবোর্ডে ছেয়ে যায়। দুই দিন পর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বরিশালে আসেন জনসভা করার জন্য। শওকত হোসেন হিরন ওই জনসভা সফল করার জন্য দলের সব বিলবোর্ড সরিয়ে ফেলেন। সেই সব স্থানে মুহূর্তের মধ্যে খালেদা জিয়াসহ দলের নেতাদের ছবি, বিলবোর্ড স্থান পায়। ওই জনসভা যাতে সফল হয়, সে জন্য আগের দিন বঙ্গবন্ধু উদ্যানে বিএনপির জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন। বরিশালের ইতিহাসে কোনো ধরনের হামলা ও সহিংসতা ছাড়া বিএনপির ওই জনসভা সফল হয়।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বরিশালে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাস, অন্য দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের সব ঘটনা বন্ধ হয়ে যায় হিরন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর। পাশাপাশি অবস্থান করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও অন্যান্য দল রাজনীতি করেছে। হামলা-মামলার ঘটনা এখন শূন্যে দাঁড়িয়েছে হিরনের কল্যাণে। বর্তমানে বরিশাল নগর শান্তির নগর হিসেবে পরিচিত। শুক্রবার জানাজা শেষে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, সন্ত্রাসের বরিশাল শান্তির বরিশালে রূপান্তর করেছেন হিরন। আওয়ামী লীগ সম্পর্কে ক্ষোভ-বিক্ষোভ থাকলেও হিরন ছিলেন নগরবাসীর প্রাণের মানুষ। জানাজায় যাওয়া এক ব্যবসায়ী বলেন, আজ তো চকে কোনো মানুষ নেই। দোকান বন্ধ করে সবাই এসেছে হিরনের জানাজায়। বঙ্গবন্ধু উদ্যানের দক্ষিণ প্রান্তে কয়েক যুবক রোদে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন, বরিশালে এত খারাপ মানুষ থাকতেও হিরন ভাই চলে গেল? তাহলে বরিশালের কী হবে? কে করবে উন্নয়নকাজ? পূর্ব পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন এক বয়স্ক লোক। তিনি বিলাপ করে বলছিলেন, ‘আমরা কি অভাগাই থাকব? ৫০ বছরেও বরিশালের কোনো উন্নয়ন হলো না। যে মানুষটা মাত্র কয়েক বছরে নগরের রূপ বদলে দিল, সেই মানুষটা আমাদের মাঝে নেই। এটা কেমন বিচার বিধাতার।’ সেদিন এমন কান্নার শব্দ ছিল বঙ্গবন্ধু উদ্যানসহ পুরো নগরে।
সাইফুর রহমান: সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী।

তারেকের ফাঁদে আওয়ামী লীগের পা by এ কে এম জাকারিয়া

রাজনীতিতে অবস্থা ও পরিস্থিতির বদল খুবই স্বাভাবিক। তা বিবেচনায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কৌশল নেয়, প্রয়োজনে পাল্টায়। গত ৫ জানুয়ারির বৈধ, কিন্তু একতরফা বা বিতর্কিত নির্বাচনের পর সে নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেওয়া উচিত ছিল কি না বা অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কি না—এসব নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলে অনেক আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। দলের মধ্যেও এ বিষয়ে নানা মতের কথা শোনা গেছে। তবে এসব নিয়ে আমরা শুধু আঁচ-অনুমানই করতে পারব, কারণ দলের পক্ষ থেকে একটি পরিষ্কার চিত্র বা মূল্যায়ন হয়তো কখনোই পাওয়া যাবে না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয় হচ্ছে, সরকার যেভাবে সবকিছুর ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং একটি ‘স্বস্তির ভাব’ জনগণকে দিতে পেরেছে, সে অবস্থায় বিএনপির মতো দল কী কৌশল নিতে পারে?

আকাশ দখলে কেন মুখোমুখি গুগল-ফেসবুক?

মাটি থেকে ১২ মাইল উচ্চতা। সবকিছুই নীরব, শান্ত। বাণিজ্যিক বিমানগুলোও নিরাপদ যাত্রাপথ হিসেব করে এত উঁচুতে ওড়ে না।  তাপমাত্রাও অনেকটা স্থির। তবে আছে প্রখর সূর্যকিরণ। স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের এই অঞ্চলটির দখল নিয়েই যেন যুদ্ধ বাঁধতে যাচ্ছে। এ যুদ্ধের দুটি পক্ষ বিশ্বের দুটি বড় প্রতিষ্ঠান গুগল ও ফেসবুক। ড্রোন নিয়ে মুখোমুখি তারা।

হোম সার্ভিসে ভিআইপি যৌন ব্যবসা @সরেজমিন বার্তা

রাজধানীর হোটেলে পুলিশের হয়রানি। ফ্ল্যাট বাড়িতে স্থানীয় হোমরা চোমরা ও মাস্তানদের উৎপাত। তাদের বখরা না দিয়ে নিস্তার মেলে না। তাই বাধ্য হয়েই হোম সার্ভিসে জড়িয়ে গেছি। খদ্দেরের কল পেলে বাসায় যাই। একথা রাজধানীর এক যৌনকর্মীর। এক আবাসিক হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তার। কিন্তু সেখানে কমিশন দিয়েও রেহাই ছিল না, তাদের অন্যান্য চাহিদায় সাড়া দিতে হতো।