Tuesday, August 30, 2011

রুমীর চলে যাওয়া by আবুল বারক আলভী

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা শাফী ইমাম (রুমী)। এই রুমী এবং একাত্তরের স্মৃতি নিয়েই তাঁর জননী জাহানারা ইমামের বিখ্যাত গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি। রুমীর পিতা ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার শরীফ ইমাম। সিভিল ইঞ্জিনিয়ার পিতার পথ অনুসরণ করেই রুমী আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুল, ঢাকা কলেজ হয়ে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য ভর্তি হয়েছিল। সেই সময়ে মুক্তিযুদ্ধের শুরু। ঘরে মন টিকছিল না। মে মাসের প্রথমদিকেই একবার চেষ্টা করেছিল মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য চলে যেতে। কিন্তু পথ বিপৎসংকুল হওয়ায়, আর্মি ক্যাম্প হওয়ায়, অন্য পথের খবর না পাওয়ায় ফিরে আসতে হয়েছিল। পরে জুনের মাঝামাঝি সময় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ২ নম্বর সেক্টরের মেলাঘর ক্যাম্পে পৌঁছায়। এরপর শুরু হয় ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে গেরিলা অপারেশনে সরাসরি অংশগ্রহণ।
রুমীর সঙ্গে আমার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে। সুন্দর চেহারার উচ্ছল ও প্রাণবন্ত তরুণ রুমী ছিল বয়সে আমার চেয়ে কয়েক বছরের ছোট। যত দূর মনে পড়ে—আলম, হ্যারিস, কাজী, বদি, স্বপন—এদের সঙ্গেই বেশির ভাগ সময় দেখতাম। ঢাকায় বিভিন্ন অপারেশনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করত। দেখা হলে এসব দুঃসাহসী অপারেশনের কথা শুনতাম। খুব ভালো লাগত। আগস্ট মাসের দিকে ঢাকায় অপারেশনগুলো আরও জোরদার হলো। মেলাঘর ২ নম্বর সেক্টর থেকে বিভিন্ন গ্রুপে মুক্তিযোদ্ধারা অনেক অস্ত্রশস্ত্রসহ বড় ধরনের অপারেশনের লক্ষ্যে ঢাকায় ঢুকেছিল। আমাদের গ্রুপে চারজন—আমি, ফাতেহ আলী, বাকের ও কমল একই সময় অনেক অস্ত্র-গোলা নিয়ে ঢুকি। প্রতিদিনই ঢাকায় কোথাও না কোথাও অপারেশন চলছিল। খবরও পাচ্ছি। এভাবে আগস্টের দিনগুলো যাচ্ছিল বেশ উত্তেজনার মধ্য দিয়ে।
৩০ আগস্ট ভোরবেলা দেশবরেণ্য সুরকার আলতাফ মাহমুদের বাসা পাকিস্তানি সেনারা ঘিরে ফেলে। আমি রাতে ওই বাসায় ছিলাম। আলতাফ মাহমুদ ও অন্যদের সঙ্গে আমাকেও ধরে নিয়ে যায়। নিয়ে যাওয়া হয় মার্শাল কোর্টে। সেই সময়ের সংসদ ভবনসংলগ্ন এমপি হোস্টেলে। ওখানে দেখলাম, আমাদের অনেকেই ধরা পড়েছে। মুক্তিযোদ্ধা, তাদের আত্মীয়স্বজন, পরিচিত অনেকেই রয়েছে এর মধ্যে। সেই পরিচিত মুখগুলোর মধ্যে ছিল রুমী, জুয়েল, বদি, হাফিজ, চুলু ভাই, বেলায়েত ভাই (ফাতেহ আলীর দুলাভাই), উলফাতের বাবা, আলমের ফুফাসহ আরও অনেকে। রুমীকে শুধু এক দিনই দেখেছি। রুমীর পিতা শরীফ ইমাম ও তাঁর কনিষ্ঠ ছেলে জামীকেও দেখেছি। রুমীকে বেশ বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, প্রচণ্ড টর্চার করা হয়েছে। দুপুরের পরে ওকে নিয়ে গেল। তারপর আর দেখা হয়নি। আমাকে ও আমার সহযোদ্ধা অন্য গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন কথা বের করার জন্য অনেক টর্চার করা হয়েছে। রক্তাক্ত হয়েছে দেহ, আঙুলগুলো ভেঙে গেছে; হাত, পিঠ ফেটে রক্ত বেরিয়েছে। থেঁতলে দিয়েছে সারা শরীর। অতএব আমিও জানি, রুমীর কাছ থেকেও কথা বের করতে এই নির্দয় পাকিস্তানি সেনারা কী কী করতে পারেন। রুমীর সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। এখনো তার চেহারাটা চোখের সামনে ভাসে।
রুমীর মা জাহানারা ইমাম ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখিকা, সমাজকর্মী। স্বামী, সন্তান রুমী ও জামী আর আত্মীয়স্বজন নিয়ে ছিল তাঁর একটি সাজানো সুন্দর, আনন্দময়, সচ্ছল সংসার। একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধে তিনি হারিয়েছেন সবকিছু। শুধু জামীকে বুকে নিয়ে স্বাধীন দেশটা পেলেন। কিন্তু উনি যেমন দেশটার কথা ভেবেছিলেন, তেমনটা হলো না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শত্রুরা আবার নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করল, দিন দিন শক্তি সঞ্চয় করল, যার জন্য তিনি নামলেন দেশের শত্রু, স্বাধীনতা-যুদ্ধের ঘাতক-দালালদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রুমীর স্মৃতি বুকে নিয়ে এই আন্দোলন করে গেছেন তিনি।
আবুল বারক আলভী
মুক্তিযোদ্ধা, সেক্টর-২, বর্তমানে অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, প্রিন্টমেকিং বিভাগ, চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
শহীদ শাফী ইমাম রুমী স্মারকগ্রন্থ থেকে সংকলিত

গ্রামবৈরী চিকিৎসক

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্যাথলজি বিশেষজ্ঞের পদে পদায়ন করা হয়েছে একজন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞকে। পাশাপাশি সেখানে অন্য জায়গায় অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত তিনজন চিকিৎসককে বদলি করে আনা হয়েছে, যাঁদের গ্রামে সেবা দেওয়ার কথা। মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন দায় দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের একজন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকা বিভাগের পরিচালক ‘নানা চাপের মুখে নীতিমালা উপেক্ষা করেই প্রেষণে বদলি করতে বাধ্য’ হয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। স্পষ্টতই এই অনিয়মে ‘ওপরের হাত’ জড়িত এবং সেটা কত ওপরের তা বের করা দরকারি প্রশ্ন।
নীতিমালা অনুযায়ী অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের বাধ্যতামূলকভাবে কমপক্ষে দুই বছর গ্রামে সেবা দেওয়ার কথা। এরপরই তাঁরা শহরমুখী হতে পারেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ‘চাপের মুখে’ দুজন চিকিৎসককে গ্রাম থেকে শহরের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁদের কাছে এটা ‘উন্নতি’র সিঁড়িতে এক ধাপ ওপরে ওঠা বটে, কিন্তু যাঁদের তাঁরা ছেড়ে এসেছেন, সেই গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা কি অবনতির সিঁড়ি দিয়ে কিছুটা নেমে গেল না? সুতরাং এখানে শুধু অনিয়মই হয়নি, জনগণের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকারকে স্পষ্টতই উপেক্ষা করা হয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থের কাছে পরাজিত হয়েছে জনগণের স্বার্থ। এর দায়দায়িত্ব অবশ্যই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের।
দুর্নীতি ও অনিয়ম যেখানেই হোক, যারাই তা করুক, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের’ অনুমোদন ছাড়া, ক্ষমতাবান নেতাদের চাপ ছাড়া তা ঘটতে পারার কথা নয়। এসব ক্ষেত্রে বিচার যদিবা হয়, সেসব ওপরওয়ালা আইনের আওতার বাইরেই থেকে যান। তার ওপর ভুল পদে ভুল লোককে নিয়োগ দিলে সেই লোকের সুবিধা যা-ই হোক, রোগীদের স্বাস্থ্যনিরাপত্তা এতে ঝুঁকিতে পড়ে। ভুল চিকিৎসায় অপমৃত্যুর কারণগুলোর মধ্যে এটিও একটি।
অন্য সব সেবার মতো চিকিৎসাসেবার অবস্থাও ভালো নয় দেশে। বিশেষত গ্রামের দিকে পরিস্থিতি যথেষ্টই শোচনীয়। বাংলাদেশে এমনিতেই প্রয়োজনের চেয়ে চিকিৎসক কম। সারা দেশে ইউনিয়ন, থানা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের হাল ভালো নয়। গ্রামের চিকিৎসকদের শহরে এবং শহরের চিকিৎসকদের ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতাও যথেষ্ট বেড়েছে। গ্রামকে তাঁরা বসবাসের বা পেশাগত দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত মনে করেন না। কিন্তু গ্রামে কি মানুষ থাকে না, তাদের করের টাকাতেই কি সরকারি চিকিৎসকদের বেতন হয় না? নিয়ম পালনের বাধ্যবাধকতা কায়েম করা হোক, অনিয়মের বিহিত হোক। পাশাপাশি চিকিৎসকদের গ্রাম-মফস্বলে থাকতে উৎসাহিত করায় বিশেষ সুবিধাদানের বিষয়টিও ভেবে দেখা যেতে পারে।

রোজার ক্ষতিপূরণ ‘সাদাকাতুল ফিতর’ by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

দ্বিতীয় হিজরিতে মাহে রমজানের রোজা উম্মতে মুহাম্মদীর ওপর ফরজ করার সঙ্গে নবী করিম (সা.) মুসলমানদের ‘সাদাকাতুল ফিতর’ আদায় করার নির্দেশ দেন। একে সাধারণত ‘ফিতরা’ বলা হয়। এটা মূলত মাহে রমজানেরই নির্ধারিত সাদকা বা দান। রমজান মাস শেষে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপন উপলক্ষে মাথাপিছু যে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সাহায্য গরিব-মিসকিনদের দান করা হয়, একে ‘সাদাকাতুল ফিতর’ বলে। ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলোতে ইহকাল-পরকাল, নৈতিকতা-বৈষয়িকতা, ব্যক্তি-সমাজ, দেহ-আত্মা প্রভৃতি বিভিন্ন দিকের প্রতি ভারসাম্য বজায় রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। মাহে রমজানে ‘সাদাকাতুল ফিতর’ বা ‘ফিতরা’ এরই একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
রোজাদার ব্যক্তি আল্লাহর ফরজ ইবাদতগুলো যথাসাধ্যভাবে আদায় করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনেক সময় ভুলভ্রান্তি হয়ে যায়, মাহে রমজানের রোজা পালনে অত্যন্ত সতর্কতা সত্ত্বেও যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়, তার প্রতিকার বা ক্ষতিপূরণের জন্য শরিয়তে রমজান মাসের শেষে সাদাকাতুল ফিতরকে ওয়াজিব করে দেওয়া হয়েছে।
সাদাকাতুল ফিতরের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য ঈদের খুশিতে গরিব শ্রেণীর লোকদেরও শামিল করে নেওয়া। সাদাকাতুল ফিতর দ্বারা রোজার মধ্যে ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষতিপূরণও হবে এবং গরিব-দুঃখী মুসলমান নিশ্চিন্ত মনে খাওয়া-পরার জিনিসপত্র সংগ্রহ করে অন্যান্য মুসলমানের সঙ্গে ঈদের জামাতে শরিক হতে পারবেন। এর মাধ্যমে ধনী-গরিবের মধ্যে অর্থনৈতিক ব্যবধান কমে আসে এবং সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে ওঠে। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘সাদাকাতুল ফিতর দ্বারা রোজা পালনের সব দোষত্রুটি দূরীভূত হয়, গরিবের পানাহারের ব্যবস্থা হয়।’ (আবু দাউদ)
মাহে রমজানে সব ইবাদতের সওয়াব যেমন অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়, নফল ইবাদতে ফরজের সমান এবং একটা ফরজে ৭০টি ফরজের সমান সওয়াব পাওয়া যায়, তেমনিভাবে এ মাসে দান-খয়রাত বা সাদকা করলেও অধিক সওয়াব বা পুণ্য লাভ করা যায়। একবার নবী করিম (সা.)-কে সর্বোত্তম দান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘দাতার কাছে যা সর্বোৎকৃষ্ট এবং যার মূল্যমান বেশি।’ (বুখারি) রমজান মাসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দান করার ব্যাপারে উৎসাহ-উদ্দীপনা বেড়ে যেত। তিনি মাহে রমজানকে সহানুভূতির মাস বলে আখ্যায়িত করেছেন। নবী করিম (সা.) সাদাকাতুল ফিতর এ জন্য নির্ধারিত করেছেন, যাতে ভুলক্রমে অনর্থক কথাবার্তা ও গুনাহ থেকে রোজা পবিত্র হয় এবং মিসকিনদের খাওয়া-পরার ব্যবস্থা হয়।
রমজান মাস শেষ দশক আসার সঙ্গে সঙ্গে রোজাদারের অপরিহার্য কর্তব্য হলো নির্ধারিত পরিমাণে সাদাকাতুল ফিতর বা ফিতরা আদায় করা। খেজুর, কিশমিশ, মুনাক্কা এবং যব দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা হলে এক সা অর্থাৎ তিন কেজি ৩০০ গ্রাম অথবা এর মূল্য আদায় করতে হবে। আটা বা গম দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা হলে অর্ধ সা অর্থাৎ এক কেজি ৬৫০ গ্রাম বা এর সমান মূল্য আদায় করতে হবে। মাথাপিছু এক কেজি ৬৫০ গ্রাম গম বা আটা অথবা এর স্থানীয় বাজারমূল্যের সমান ফিতরা দিতে হয়। (উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এবারের ফিতরা জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৫৩ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছে।)
সামর্থ্যবান পিতার ওপর তাঁর নাবালক ছেলেমেয়েদের পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। মহিলাদের কেবল নিজের পক্ষে ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব। অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের নিজের সম্পদ থাকলে তা থেকেই ফিতরা দেওয়া হবে। আর প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা মুস্তাহাব। গৃহকর্তা এবং তাঁর পোষ্যদের সংখ্যা হিসাব করে প্রতিজনের বিপরীতে নির্ধারিত অর্থমূল্যে ফিতরা আদায় করা বাঞ্ছনীয়। ফিতরা সেসব গরিব-মিসকিনই পাবেন, যাঁরা জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই সাদকা বা জাকাত দরিদ্র, মিসকিন, জাকাত আদায়কারী কর্মচারী, ইসলামের প্রতি যাদের মন আকৃষ্ট করা প্রয়োজন, বন্দী, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর রাস্তায় নিয়োজিত বিপদগ্রস্ত পথিকের জন্য (ব্যয়িত হবে), এটি আল্লাহর নির্ধারিত বিধান, আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’ (সূরা-আত-তওবা, আয়াত-৬০)
ফিতরা ঈদের দুই-তিন দিন আগে আদায় করলে অধিক সওয়াব পাওয়া যায়। ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে ফিতরা আদায় করা সুন্নত। তবে তা সম্ভব না হলে ঈদের নামাজের পর অবশ্যই আদায় করতে হবে। হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সাদাকায়ে ফিতরের ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তা লোকেরা সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগেই আদায় করে। নবী করিম (সা.) নিজেও ঈদের দু-এক দিন আগে ফিতরা আদায় করে দিতেন।’ (আবু দাউদ)
হাদিসে উল্লেখ আছে যে ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রোজাদার ব্যক্তির অসৎ কাজকর্ম থেকে সিয়ামকে পবিত্র করার জন্য এবং অভাবীদের ঘরে খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য সাদাকাতুল ফিতরের বিধান দিয়েছেন। যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের আগে এ ফিতরা আদায় করবে, তা জাকাত হিসেবে কবুল হবে আর নামাজের শেষে আদায় করা হলে তখন তা সাদকা হিসেবে কবুল হবে।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজা)
সাদকা-ফিতরা যাদের দেওয়া হবে, তাদের এ কথা জানানোর প্রয়োজন নেই যে তোমাকে ফিতরা দিচ্ছি অথবা এটা জাকাতের টাকা প্রভৃতি। বরং গরিব আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশীকে সাদকা, ফিতরা বা জাকাত দেওয়ার সময় তা কিসের বাবদ দেওয়া হচ্ছে, তা আলোচনা না করাই শ্রেয়। দাতার কথাবার্তা বা কার্যকলাপ দ্বারা যেন এ কথা প্রকাশ না পায় যে সে গ্রহীতাকে সাহায্য করছে। এ সাদকা তো দাতার দান নয়, বরং সাদকা দিয়ে সে দায়মুক্ত হলো মাত্র। আর সওয়াব বা প্রতিদান তো আল্লাহরই কাছে পাবেন। উপরন্তু গ্রহীতা তা গ্রহণের ফলেই দাতা দায়িত্বমুক্ত হতে পেরেছেন। এ অর্থে বরং গ্রহীতাই দাতার উপকার করেছেন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

সাতক্ষীরায় এবার ঈদের বাজারে ক্রেতা নেই

সাতক্ষীরায় এবার ঈদের বাজার একেবারেই জমেনি। ফুটপাত কিংবা বড় বড় মার্কেট কোথাও ক্রেতাদের ভিড় নেই বললেই চলে। নেই গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটার ব্যস্ততা। দোকানিরা হরেক ডিজাইনের জামাকাপড় তুললেও তা বিক্রি নেই বললেই চলে। ঘূর্ণিঝড় আইলার পর ভয়াবহ বন্যায় সাতক্ষীরা জেলার মানুষের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে। যে কারণে ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটায় আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।
গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা শহরের বড়বাজার সড়কের ফুটপাতের দোকানগুলো ক্রেতা নেই বললে চলে। দোকানিরা হাত-পা গুটিয়ে বসে রয়েছে। শহরতলির তালতলা এলাকা মোমেনা খাতুন জানান, বন্যায় ভিটেছাড়া হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। ছেলেমেয়েদের কিছু কিনে দেওয়ার সমর্থ নেই। বৃদ্ধা বাবার জন্য শ চারেক টাকার মধ্যে একটি লুঙ্গি কেনার জন্য ফুটপাতের জামাত আলীর দোকানে ঢুকেছেন।
একইভাবে পানিবন্দী হয়ে আলীপুরের এক আশ্রয়শিবিরে থাকা সদর উপজেলার মামুদপুর গ্রামের শহর আলীর স্ত্রী মাজেদা খাতুন জানান, দাতভাঙ্গা বিলে পাঁচ বিঘার চিংড়ি ঘের ছিল তাঁদের। মাছ ছাড়ার পাশাপাশি জমিতে ধান লাগিয়েছিলেন। পানিতে ঘের তলিয়ে যাওয়ার মারা গেছে ধানগাছ। সবকিছু হারিয়ে এখন ভিখারি তিনি। এর পরও তিনজন ছেলেমেয়ের জন্য ৭৫০ টাকায় জামাকাপড় কিনতে ফুটপাতের দোকানই বেছে নিয়েছেন।
একদিকে বন্যায় সর্বস্বান্ত, অন্যদিকে গতবারের তুলনায় এবার কাপড়ের দাম দ্বিগুণ। ফলে অনেকেই জামাকাপড় কিনতে না পেরে চোখ মুছতে মুছতে ফিরে যাচ্ছেন।
সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট, আমিনিয়া মার্কেট, মেহেরুন প্লাজা, লন্ডন প্লাজা, মেহেদী সুপার মার্কেট, সাতক্ষীরা শপিং সেন্টারসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে অন্যবারের তুলনায় খরিদ্দারের সমাগম অনেক কম।
ফাল্গুনী বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী আব্বাস আলী জানান, শ্রমিকদের মজুরি ও সুতার দাম বেশি থাকায় গতবারের তুলনায় এবার কাপড়ের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তা ছাড়া জেলার ছয়টি উপজেলার ৬৬টি ইউনিয়নের মানুষজন পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে এবং যানবাহন চলাচল না করার জন্য দূরের কোনো খরিদ্দার শহরের দোকানগুলোতে আসছে না। অধিকাংশ খরিদ্দার সাতক্ষীরা সদর, শ্যামনগর ও কালীগঞ্জ এলাকার।
শহরের মেহেরুন প্লাজার বস্ত্র ব্যবসায়ী প্রিন্স বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী বদরুল ইসলাম জানান, বন্যার কারণে মানুষের মনে আনন্দ নেই। তাই বানভাসী মানুষ বড় দোকানের পরিবর্তে ফুটপাতের দোকানে ভিড় জমাচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার পেছনে ফুটপাতের বস্ত্র ব্যবসায়ী জামাত আলী, গতবারের তুলনায় এবার দাম বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। তবে শাড়ির মূল্য দ্বিগুণ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি নেমে এসেছ অর্ধেকে।
নিপ্পন শু হাউজের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান জানান, এবার ঈদ ও পূজা উপলক্ষে নতুন কোনো মডেলের জুতা বাজারে আসেনি বললেই চলে। তাতে জুতাবিশেষে ১০ থেকে ২০ শতাংশ দাম বেড়েছে।
বড়বাজার রোডের সিটি গোল্ডের স্বত্বাধিকারী আবু মুছা ও ঢাকা কসমেটিকস সেন্টারের স্বত্বাধিকারী রেজোয়ান আলী জানান, গতবারের তুলনায় বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। বিক্রি হচ্ছে, তবে তা আশানুরূপ নয়।

এবার বিশ্বজুড়ে কঠিনতম রোজা করছেন লাখো রোজাদার

খাদ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে পর্যাপ্ত খাবার কেনার সামর্থ্য না থাকায় বাংলাদেশসহ অনেক দেশের রোজাদাররা ইফতারে কম খেতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে অনেকের জন্যই এ বছরের রোজা হচ্ছে তাঁদের জীবনের কঠিনতম রোজার মাস।
বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, ফিলিস্তিন, পাকিস্তান, ইয়েমেন, আজারবাইজান, কেনিয়াসহ বিশ্বের সাতটি দেশের রোজাদারদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সফাম। সংস্থাটি মনে করে, এই চিত্র এ বছর বিশ্বের লাখো রোজাদারের জীবনের দৈনন্দিন চিত্র।
অক্সফামের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১০ সালের অক্টোবর-নভেম্বর থেকে বাংলাদেশে দ্বিতীয় দফায় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে চলেছে। এ বছরের জুলাই মাসেই এখানে খাদ্যের মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। আগস্টে রোজা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে চিনি, পেঁয়াজ, আলু, কাঁচা মরিচ, মুরগি, দুধ, ফলসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম ক্রমাগতভাবে বেড়ে যায়।
বাংলাদেশে অক্সফামের পলিসি অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার জিয়াউল হক বলেন, রোজার মাসে বাংলাদেশে কতিপয় ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট ধারাবাহিকভাবে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে বারবার খাদ্যপণ্যের দাম না বাড়ানোর অঙ্গীকার করেও তা ভঙ্গ করেছেন। ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কাছে রাষ্ট্রকে অসহায় মনে হচ্ছে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি অন্যান্য দেশেও খাদ্যপণ্য ব্যয়বহুল হওয়ায় ইফতারির তালিকায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছেন রোজদাররা। গত বছর রমজানের তুলনায় এবার পাকিস্তানে খাদ্যের দাম বেড়েছে ১৭ শতাংশ। এতে নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে কয়েক লাখ মানুষ। রমজানজুড়ে কম খেয়ে থাকতে হচ্ছে অনেককে।
ইয়েমেনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চিনি, চাল ও গমের দাম বাড়ায় পরিবারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ। আজারবাইজানে মাংসের দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে চাল ও তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
খাদ্যসংকট দূর করতে সরকারগুলোর হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করে অক্সফাম। তা না হলে খাদ্যসংকট আরও গভীর হবে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আগামী ২০ বছরে খাদ্যপণ্যের দাম দ্বিগুণ হবে; সে ক্ষেত্রে বেড়ে যাবে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা। অথচ বিশ্বে এখনই ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ৯২ কোটির বেশি।
অক্সফামের ইন্টারন্যাশনাল ডিরেক্টর পেনি লরেন্স বলেন, ‘রমজান হলো দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত মানুষের কথা স্মরণ করার মাস। আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সারা বছরই সব মানুষ পর্যাপ্ত খাবার পায়।’

পীরগাছায় ঈদের বাজার জমজমাট

রংপুরের পীরগাছায় শেষ মুহূর্তে এসে ঈদের বাজার জমে উঠেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা।
উপজেলা সদরের রাজা নিউমার্কেট, কলেজ রোড, সোনালী ব্যাংক রোড, বালিকা বিদ্যালয় রোড, রেলস্টেশন বন্দর গরিবের মার্কেট, চৌধুরাণী বাজারের আলম মার্কেট, মণ্ডল মার্কেট ও ইউপি সুপার মার্কেটসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ও জমজমাট বেচাকেনা দেখা গেছে। এ বছর কাপড়ের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ কেনাকাটা করতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে তারা কম দামের সামগ্রীর দোকানে গিয়ে তাদের কেনাকাটা সারছে।
প্রতিটি দোকানে দেশি-বিদেশি নামীদামি ব্র্যান্ডের শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, লুঙ্গি, শার্ট, প্যান্ট ও জুতার ক্রেতারা বেশি কিনছে। প্রসাধনীর দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়; তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বিক্রেতারা এবার বিভিন্ন জিনিসের দাম গতবারের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি নিচ্ছেন।
পীরগাছা বাজারের বিসমিল্লাহ ক্লথ স্টোরের মালিক নুরুল ইসলাম জানান, এবার ঈদে বিক্রি বেশ ভালোই হচ্ছে।
চৌধুরাণী বাজারের আলম মার্কেটের ব্যবসায়ী আবুল বাসার জানান, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা ও চাহিদা মেটাতে দেশি-বিদেশি শাড়ি, থ্রি-পিস ও বিভিন্ন ফ্যাশনের পোশাক সরবরাহ নিশ্চিত করেছেন তাঁরা

স্বর্ণের দর ভরিপ্রতি ২১০০ টাকা কমেছে

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশের বাজারেও বাড়ানো হয়। একবার দর বাড়লে সাধারণত আর কমানো হয় না। তবে এবার ব্যতিক্রম ঘটল।
চলতি আগস্ট মাসে দেশে স্বর্ণের দর পাঁচ দফা বাড়ানো হলেও গত শুক্রবার তা একবার কমানো হয়েছে। প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দুই হাজার ১০০ টাকা কমানো হয়েছে।
রাজধানীর স্বর্ণের বাজারে শুক্রবার থেকে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ ৫৭ হাজার ৭৯৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট ৫৫ হাজার ২২৯ টাকা ও ১৮ ক্যারেট ৪৮ হাজার ৪৬৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সনাতনী হিসেবে পরিচিত দেশি স্বর্ণের অলংকার ভরিপ্রতি ৩৬ হাজার ৭৪১ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে গত বৃহস্পতিবারও চলতি বছরের সবচেয়ে বেশি দামে স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে। এ দিন প্রতি ভরি ৫৯ হাজার ৮৯৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫৭ হাজার ২১২ টাকা ও ১৮ ক্যারেট ৪৯ হাজার ৮০৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া সনাতনী হিসেবে পরিচিত দেশি স্বর্ণের অলংকার ভরিপ্রতি ৩৭ হাজার ৫৫৮ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রতি ভরি স্বর্ণের গয়না কিনতে হলে ক্রেতাকে মজুরি হিসাবে চার হাজার টাকা এবং মূল্য সংযোজন কর হিসাবে সরকারকে সাড়ে ৪ শতাংশ দিতে হবে। সেই হিসাবে ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি স্বর্ণের গয়নার দর পড়বে প্রায় সাড়ে ৬৪ হাজার টাকা।
চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম দিকে ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ৪২ হাজার ১৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪০ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩৫ হাজার ৮৬৬ টাকা ও সনাতনী ২৭ হাজার ৫২৭ টাকা।
এই দর বিবেচনায় নিয়ে হিসাব করলে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দর সর্বমোট ১৫ হাজার ৬৩০ টাকা বেড়েছে।
আবার ২০১০ সালের আগস্ট মাসে ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ৩৭ হাজার ২০৮ টাকা, ২১ ক্যারেট ৩৫ হাজার ৫৭৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩১ হাজার ৬৬৮ টাকা ও সনাতনী ২৪ হাজার ৬১১ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রতি ভরি স্বর্ণের দর ২০ হাজার ৫০০ টাকার বেশি বেড়েছে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা ও দাম বাড়ায় দেশীয় বাজারেও বেড়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে দর বাড়া বা কমার ওপর দাম পরিবর্তন করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর কমায় দেশের বাজারে দাম কমানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে গত বুধবার সর্বকালের রেকর্ড ভেঙে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দর বেড়ে এক হাজার ৯১৭ ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে বৃহস্পতিবার প্রায় ১৫০ ডলার কমলেও শুক্রবার দর আবার কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৮২৯ ডলার ১০ সেন্টে।

ব্যাংকের মুনাফার ৩৫.২% পুঁজিবাজার থেকে

সীমিত বাজারে অধিক সংখ্যক ব্যাংক হওয়ায় প্রতিযোগিতার পরিবর্তে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। আর তীব্র এই প্রতিযোগিতায় পড়ে ব্যাংকগুলোর প্রধান আয় খাত ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে।
ফলে ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারের দিকে (অফ ব্যালেন্সশিট) ঝুঁকছে, যা আবার ব্যাংক খাতের সুষ্ঠু বিকাশের জন্য সহায়ক বলে মনে করছে না বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশে নতুন করে বেসরকারি ব্যাংকের নিবন্ধন বা লাইসেন্স দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারের কাছে দেওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
এদিকে ব্যাংকগুলোর মুনাফার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছর অর্থাৎ ২০১০ সালে ব্যাংকগুলোর আয়ের এক-তৃতীয়াংশের বেশি (৩৫ দশমিক ১৭ শতাংশ) এসেছে পুঁজিবাজার থেকে।
এ সময় ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফা ছিল আট হাজার ৩৫৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যার দুই হাজার ৯৩৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা আয় হয়েছে শেয়ারবাজার থেকে।
শেয়ারবাজার থেকে এই আয়ের মধ্যে বেসরকারি ব্যাংকগুলো আয় করেছে দুই হাজার ৫৫৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যা কিনা শেয়ারবাজার থেকে মোট আয়ের ৮৭ শতাংশ।
বাকি আয়ের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার বাণিজ্যিক ব্যাংক আয় করেছে ২৭২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া দুটি বিশেষায়িত ব্যাংক ১০৬ কোটি ৯৩ লাখ ও বিদেশি দুটি ব্যাংক ৪২ লাখ টাকা আয় করেছে।
ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজার থেকে এই আয়ের মধ্যে দৈনন্দিন ব্রোকারেজ সেবা দিয়ে আয় হয়েছে ২০২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। নিজস্ব তহবিল দিয়ে শেয়ার কেনাবেচা করে আয় করেছে দুই হাজার ৫০৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আর রক্ষিত শেয়ারের বিপরীতে লভ্যাংশ আয় করেছে ২৩২ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বেশি হওয়ায় গত বছর ব্যাংক খাত ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ (আইএমএফ) সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হয় সে সময়।
আবার এই বিনিয়োগ আইনি সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও সমালোচনার মধ্যে পড়তে হয়। রাজনৈতিক ও স্বার্থসংশ্লিষ্টদের চাপে বাংলাদেশ ব্যাংককে পিছু হটতে হয়। অবশ্য শেষ পর্যন্ত ব্যাংকগুলো লাভজনকভাবেই শেয়ারবাজার থেকে বের হতে পেরেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংক গত বছর শেয়ারবাজার থেকে সর্বাধিক আয় করেছে। ব্যাংকটির শেয়ারবাজার থেকে মোট আয় হয়েছে ৪৭৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। তার পরই রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। এই ব্যাংকটি আয় করেছে ৩৬৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। ২২৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা আয় নিয়ে সাউথইস্ট ব্যাংক রয়েছে তৃতীয় স্থানে।
প্রাপ্ত পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, শেয়ারবাজার থেকে পূবালী ব্যাংক আয় করেছে ১৫৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এ ছাড়া ইস্টার্ন ব্যাংক ১৩৩ কোটি ২০ লাখ, এক্সিম ব্যাংক ১৩০ কোটি ৮৪ লাখ, প্রিমিয়ার ব্যাংক ১২৭ কোটি ৭৩ লাখ, ওয়ান ব্যাংক ১২২ কোটি ৪৮ লাখ, দি সিটি ব্যাংক ১২২ কোটি ৪ লাখ ও ব্র্যাক ১০৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা আয় করেছে।
১০০ কোটি টাকার নিচে তবে ৫০ কোটি টাকার ওপরে আয় করেছে এমন ব্যাংকের মধ্যে ইউসিবিএল ৯৫ কোটি ৭৪ লাখ, শাহজালাল ব্যাংক ৬১ কোটি ৬৪ লাখ, প্রাইম ব্যাংক ৫৮ কোটি ৪৭ লাখ, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ৫৫ কোটি ৩০ লাখ এবং উত্তরা ব্যাংক ৫৩ কোটি টাকা আয় করেছে।
এ ছাড়া এনসিসি ব্যাংক ৪১ কোটি ৬৪ লাখ, প্রতিরক্ষা বাহিনীর দি ট্রাস্ট ব্যাংক ৪০ কোটি আট লাখ, আইএফআইসি ৩৬ কোটি ২২ লাখ, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ৩০ কোটি ৫৩ লাখ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ২৬ কোটি ৮৯ লাখ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক ২২ কোটি ১৪ লাখ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ২১ কোটি এক লাখ, ব্যাংক এশিয়া ১৮ কোটি ৩৯ লাখ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক আট কোটি ৭৯ লাখ, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক সাত কোটি ৯১ লাখ, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ছয় কোটি ২৭ লাখ, যমুনা ব্যাংক চার কোটি পাঁচ লাখ ও ঢাকা ব্যাংক এক কোটি ৬৪ লাখ টাকা আয় করেছে।
আইসিবি ইসলামী ব্যাংক বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম আয় করেছে শেয়ারবাজার থেকে। এই ব্যাংকটির শেয়ারবাজার থেকে মোট আয় ছিল এক লাখ টাকা।
আর ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারবাজারে কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। ব্যাংকটির এ ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা হচ্ছে, শরিয়াহ অনুসারে কোনো ইসলামি ব্যাংক শেয়ারবাজার থেকে কোনো আয় করতে পারে না। সুতরাং এ খাতে গত বছর তাদের কোনো আয় হওয়ারও সুযোগ আসেনি।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংক শেয়ারবাজার থেকে আয় করেছে ২৪৯ কোটি ২০ লাখ টাকা, জনতা ব্যাংক ১৪ কোটি ২৮ লাখ, রূপালী ব্যাংক চার কোটি ৯০ লাখ ও সোনালী ব্যাংক তিন কোটি ৭৯ লাখ টাকা আয় করেছে।
রাষ্ট্র খাতের বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বিডিবিএল ৮২ কোটি ২৬ লাখ ও বেসিক ব্যাংক ২৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা আয় করেছে। আর কৃষি ব্যাংক কেবল লভ্যাংশ খাতে আয় করেছে নয় লাখ টাকা।
বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ব্যাংক অব সিলন ১২ লাখ ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ১৮ লাখ টাকা লভ্যাংশ বাবদ আয় করেছে।

জুলাইয়ে আমদানি ঋণপত্র খোলার হার কমে গেছে

চলতি ২০১১-১২ অর্থবছরের প্রথম মাস অর্থাৎ জুলাই মাসে দেশে পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলার পরিমাণ কমে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, চলতি বছর জুলাই মাসে ব্যাংকগুলোয় পণ্য আমদানির জন্য প্রায় ২৭৭ কোটি ২২ লাখ ডলারের ঋণপত্র খোলা হয়েছিল। আর গত বছর জুলাই মাসে পণ্য আমদানির ঋণপত্র খোলার পরিমাণ ছিল ৩০০ কোটি ডলার।
অর্থাৎ, গত বছরের জুলাই মাসের তুলনায় চলতি বছর জুলাই মাসে পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলার হার সাড়ে সাত শতাংশ কমে গেছে।
অন্যদিকে জুলাই মাসে নিষ্পত্তিকৃত ঋণপত্রের পরিমাণ ছিল ২৬৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা এর আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি।
২০১০ সালের জুলাই মাসে পণ্য আমদানির জন্য খোলা ঋণপত্র থেকে ২০৯ কোটি ৬১ লাখ ডলারের ঋণপত্র নিষ্পত্তি হয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, এ বছর আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে পণ্য আমদানির জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ৪৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলারের ঋণপত্র খোলা হয়েছে। মূলত রমজান ও ঈদ সামনে রেখে বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলার প্রবণতা এই সময়ে বেড়েছে।

বাবুরাম নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী

মাওবাদী নেতা বাবুরাম ভট্টরাই গতকাল রোববার নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। পার্লামেন্টে
ভোটাভুটির মাধ্যমে তাঁকে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা
নিরসনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দেশটির রাজনৈতিক সংকট এড়াতে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠনের অংশ হিসেবে বাবুরাম ভট্টরাইকে নতুন
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তিনি বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ঝালানাথ খানালের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে সাত মাস প্রধানমন্ত্রীর পদটি শূন্য থাকার পর গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়েছিলেন
খানাল। দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং খসড়া সংবিধান প্রণয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে পৌঁছাতে
না পারার প্রতিবাদে ইউনিফায়েড মার্ক্সিস্ট লেনিনিস্ট (ইউএমএল) পার্টির প্রধান ঝালানাথ খানাল চলতি
মাসের গোড়ার দিকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

সিঙ্গাপুরের নতুন প্রেসিডেন্ট টনি

সিঙ্গাপুরের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী টনি তান দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। গত শনিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তান চ্যাং বককে তিনি অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
৭১ বছর বয়সী টনি তান ক্ষমতাসীন পিপলস অ্যাকশন পার্টির সদস্য ছিলেন। তাই এই নির্বাচনে তাঁকে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লি হাসেইন লুং সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্ট পদ অরাজনৈতিক হওয়ায় প্রার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়।
নির্বাচন বিভাগের প্রধান ইয়াম আ মি গতকাল রোববার জানান, প্রায় ২১ লাখ ভোটের মধ্যে টনি তান ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ভোট গণনায় দেখা যায়, টনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য তান চেং বকের চেয়ে মাত্র সাত হাজার ২৬৯ ভোট বেশি পেয়েছেন। অন্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী তান জি ২৫ শতাংশ এবং তান কিন লিয়ান পাঁচ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোটের ব্যবধান কম হওয়ায় আবার ভোট গণনা হয়। এ কারণে ফল প্রকাশে কয়েক ঘণ্টা দেরি হয়। দ্বিতীয়বারের গণনায়ও টনি তান বিজয়ী হন।
ফল ঘোষণার পর টনি তান বলেন, ‘সিঙ্গাপুরবাসীর প্রতি দায়িত্ব পালনে যথাসাধ্য কাজ করব।’
তিন মাস আগে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনে পিপলস অ্যাকশন পার্টি বিরোধীদের কাছে ছয়টি আসন হারায়। বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে সৃষ্ট ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটে ওই নির্বাচনে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে কাইয়েদা এগিয়ে

জাপানের ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জাপান (ডিপিজে) আজ সোমবার দলটির নতুন নেতা নির্বাচন করবে। নির্বাচিত নতুন নেতা প্রধানমন্ত্রী নাওতো কানের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
ডিপিজের প্রধান হওয়ার এই দৌড়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বানরি কাইয়েদা এগিয়ে আছেন। তবে গতকাল রোববার গণমাধ্যমের জরিপে দেখা যায়, ক্ষমতাসীন দলের নেতা নির্বাচনের ভোটাভুটি দ্বিতীয় দফায় গড়াতে পারে। প্রথম দফায় কাইয়েদার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান দলীয় প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করায় নতুন দলীয় প্রধানই হবেন দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী।
ডিপিজের প্রধান হওয়ার লড়াই এখন দলের প্রভাবশালী নেতা ইসিরো ওজাওয়ার সহযোগী ও তাঁর সমালোচকদের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। ৬৯ বছর বয়সী ওজাওয়া ডিপিজের বড় একটি অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন।
৬২ বছর বয়সী কাইয়েদা ওজাওয়ার সমর্থন লাভ করেছেন। মেইনিচি পত্রিকার জরিপে বলা হয়, দলের ১১৫ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন রয়েছে কাইয়েদার প্রতি। আজ সোমবার দলীয় নির্বাচনে ৩৯৮ জন আইনপ্রণেতা ভোট দেবেন।
মেইনিচিসহ জাপানের আরও কয়েকটি পত্রিকা জানায়, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেইজি মাহেরার পক্ষে ৪৯ জন, অর্থমন্ত্রী ইয়োশিহিকো নোদার পক্ষে ৫৪ জন, কৃষিমন্ত্রী মিচিহিকো কানোর পক্ষে ৬৯ জন ও সাবেক পরিবহনমন্ত্রী সুমিও মাবুচির পক্ষে ৫১ জন আইনপ্রণেতা ভোট দেবেন।

ইরানে ১০০ কারাবন্দীকে সাধারণ ক্ষমার নির্দেশ

ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত শনিবার ১০০ কারাবন্দীকে সাধারণ ক্ষমার নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষমা পাওয়া বন্দীদের মধ্যে কয়েকজন ২০০৯ সালের নির্বাচন-পরবর্তী বিক্ষোভে জড়িত ছিলেন। ওই নির্বাচনে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ দ্বিতীয় মেয়াদে ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা মেহের গতকাল রোববার জানায়, ধারণা করা হচ্ছে, পবিত্র রমজান মাসের শেষের দিনগুলোর পাশাপাশি ওই কারাবন্দীদের সাধারণ ক্ষমার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইরানে কখনো কখনো রমজান মাসে বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হয়ে থাকে।
ক্ষমা পাওয়া ১০০ বন্দীর মধ্যে শনিবার রাতেই তাৎক্ষণিকভাবে ৭০ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়। বাকিদের সাজা কমানো বা স্থগিত করা হতে পারে। তবে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

অক্টোপাসের খেলা

স্কুয়ার্ট নামের ছোট্ট অক্টোপাস একটি অ্যাকুরিয়ামে পানি ছিটাচ্ছে। ইংল্যান্ডের ডরসেটের ওয়েমাউথ সি লাইফ পার্কের ওই অক্টোপাসটি আশপাশের সবাইকে পানির ঝাপটা দিয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে।
পার্কের পরিচালক ডেরেক স্কেইলস বলেন, স্কুয়ার্ট একটি কৌতূহলোদ্দীপক চরিত্র। এক মাস ধরে সে এভাবে দর্শনার্থীদের ওপর পানি ছিটিয়ে সবাইকে আনন্দ দিচ্ছে।

ত্রিপোলি সচল করতে বিদ্রোহীদের কাজ শুরু

লিবিয়ায় বিদ্রোহীরা রাজধানী ত্রিপোলি সচল করতে কাজ শুরু করেছে।
বিদ্রোহীদের প্রধান আবদুল জলিল বেনগাজিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন সাহায্য সংস্থার প্রতি জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
আবদুল জলিল বলেন, ‘ত্রিপোলিতে এখন ওষুধ, প্রাথমিক চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম প্রয়োজন।’ তিনি ত্রিপোলিতে পানি ও বিদ্যুৎ-সংকটের জন্য গাদ্দাফির অনুগত বাহিনীর ষড়যন্ত্রকে দায়ী করে বলেন, ‘সংকট মোকাবিলায় আমরা কাজ শুরু করেছি।’
এনটিসির মুখপাত্র মাহমুদ শাম্মাম বলেন, বিদ্রোহীরা ৩০ হাজার টন পেট্রোল রাজধানীবাসীর মধ্যে বিতরণে দ্রুত কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীবাসীর মধ্যে রান্নার জন্য গ্যাস সরবরাহ করা হবে।
মাহমুদ শাম্মাম জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বেসরকারি এবং তেল খাতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজে ফিরতে শুরু করেছেন। তাঁরা জয়িহা তেল শোধনাগার পুনরায় চালু করার ব্যাপারে কাজ করছেন।
জনগণকে উদ্দেশ করে মাহমুদ শাম্মাম বলেন, ‘আমাদের কাছে অলৌকিক কিছু আশা করবেন না। আমরা শূন্য থেকে শুরু করেছি। তবে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে এই সংকটকাল যতটা সম্ভব কমানো যায়, তার জন্য আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব। তাঁরা এখনো গাদ্দাফি বাহিনীর প্রতিরোধের সম্মুখীন হচ্ছেন বলে তিনি স্বীকার করেন।

সিরিয়াকে দ্রুত রক্তপাত বন্ধ করতে বলেছে আরব লিগ

আরব লিগভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সিরিয়াকে বলেছেন, বেশি দেরি হওয়ার আগেই দেশটির মাসব্যাপী রক্তপাত বন্ধ করা উচিত। তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সিরিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির জন্য আরব লিগের মহাসচিব নাবিল আল আরাবিকে দামেস্কে পাঠানো হবে।
গতকাল রোববার মিসরের রাজধানী কায়রোয় আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আল আরাবি কবে সিরিয়া সফর করবেন, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। তবে রাশিয়া জানিয়েছে, আজ সোমবার ঊর্ধ্বতন এক দূতকে তারা দামেস্কে পাঠাচ্ছে। দেশটির ইতার তাস বার্তা সংস্থা এ সংবাদ জানিয়েছে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির সাধারণ নাগরিকেরা পাঁচ মাস ধরে বিক্ষোভ করছেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট আসাদ বিক্ষোভ দমনের জন্য ট্যাংক, ভারী অস্ত্রশস্ত্রসহ সেনাবাহিনী ব্যবহার করছেন। জাতিসংঘের মতে, সিরিয়ায় এ পর্যন্ত দুই হাজার ২০০ জন সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এ অবস্থায় সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক বৈঠক করল আরব লিগ।
সিরিয়া জানিয়েছে, সংস্কার কর্মসূচির জন্য তারা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সহিংসতার জন্য জঙ্গিরা দায়ী বলে দাবি করে তারা। সিরিয়ার সঙ্গে তুরস্ক, লেবানন, ইসরায়েল, জর্ডান ও ইরাকের সীমান্ত রয়েছে।
আরব লিগের বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও তা বাতিল করা হয়। পরে এক বিবৃতিতে আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জানান, সিরিয়ায় হাজার খানেক লোক হতাহত হয়েছে। সেখানকার বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে আরব লিগ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। সিরিয়ার অবস্থা এ অঞ্চলের পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আরব লিগ গুরুত্ব দিয়ে বলেছে যে সিরিয়ার স্থিতিশীলতা আরব বিশ্ব এবং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি।’ বিশ্লেষকদের মতে, দামেস্ককে শান্ত রাখতে আরব লিগ ওই কথা বলেছে।
এর আগে আরব লিগের বর্তমান চেয়ারম্যান ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ বিন আলাবি বলেন, সিরিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম পর্বে তিনি বলেন, ‘সিরিয়ার জনগণের জন্য স্থিতিশীলতা আনতে আমরা দর-কষাকষি করব।’
আরব লিগের সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ: এদিকে কায়রোতে আরব লিগের সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করেছেন সিরিয়া ও ইয়েমেনের গণতন্ত্র-সমর্থিত শতাধিক কর্মী। আরব দেশগুলোর মন্ত্রীদের আগমনের কিছুক্ষণ আগে তাঁরা বিক্ষোভ করে দুই দেশের নেতাদের পদত্যাগের দাবি জানান। ইয়েমেনে কয়েক মাস ধরে প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ হচ্ছে।
সিরিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর হামলা চলছে: সিরিয়ার আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, শনিবার দামেস্কের কফর সাসেহতে একটি মসজিদে নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় নিরাপত্তা বাহিনী একদল বিক্ষোভকারীর ওপর হামলা চালায়। এতে একজন নিহত এবং মসজিদের ইমামসহ ১০ জন আহত হন।
গণতন্ত্র-সমর্থিত একটি বিক্ষোভে গুলি চালানোর আদেশ প্রত্যাখ্যান করা সেনাদের সঙ্গে শনিবার রাতভর দামেস্কের উত্তর-পূর্ব উপকণ্ঠ হারাস্তায় বন্দুকযুদ্ধ করেছে প্রেসিডেন্ট আসাদের অনুগত সেনারা। স্থানীয় বাসিন্দারা গতকাল এ কথা জানিয়েছেন।

আল-কায়েদার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা পাকিস্তানে নিহত

আল-কায়েদার দ্বিতীয় শীর্ষস্থানীয় নেতা আতিয়াহ আবদ আল-রহমান পাকিস্তানে নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র এ দাবি করে বলেছে, ওসামা বিন লাদেন হত্যার পর আতিয়াহর মৃত্যু আল-কায়েদার ওপর আরেকটি বড় ধরনের আঘাত। খবর এএফপির।
নিউইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলার ১০ বছর পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আতিয়াহ আবদের মৃত্যুর খবর এল। হামলার ১০ বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা গত শনিবার বলেন, পাকিস্তানের উপজাতি-অধ্যুষিত উত্তর-পশ্চিম ওয়াজিরিস্তানে ২২ আগস্ট লিবীয় বংশোদ্ভূত আতিয়াহ নিহত হন। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা জানাননি ওই কর্মকর্তা।
তবে পাকিস্তানের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ২২ আগস্ট একটি গাড়ির ওপর চালকবিহীন মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত চার জঙ্গি নিহত হয়। তবে ওই ঘটনাই আল-কায়েদা নেতার মৃত্যুর কারণ কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আতিয়াহ আবদের মৃত্যুতে গভীর শূন্যতা অনুভব করবে আল-কায়েদা। কারণ, ওসামার মৃত্যুর পর থেকে তাঁর ওপর বিশেষভাবে নির্ভর করতেন সংগঠনের বর্তমান প্রধান আইমান আল-জাওয়াহিরি। তিনি আরও বলেন, আতিয়াহ আবদের মৃত্যুতে আল-কায়েদার বড় ধরনের ক্ষতি হলো। তিনি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন হবে।
আতিয়াহ আবদের মৃত্যুকে আল-কায়েদার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আরও একটি সাফল্য বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। সাপ্তাহিক বেতার ও ইন্টারনেট ভাষণে গত শনিবার ওবামা তাঁর দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে জাতীয় ঐক্য পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।
লিবিয়ার নাগরিক আতিয়াহ তরুণ বয়সে ১৯৮০-এর দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েতবিরোধী লড়াইয়ে ওসামার সঙ্গে যোগ দেন। তিনি ছিলেন বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ।

আইরিনে লন্ডভন্ড নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চল

নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে গেছে শক্তিশালী হারিকেন আইরিন। নর্থ
ক্যারোলাইনা, ফ্লোরিডা, ভার্জিনিয়া, নিউ জার্সি, কানেটিকাট, ফ্লোরিডা ও মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে আইরিনের
আঘাতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপকূলের জনজীবন।
আইরিনের তাণ্ডবে উপকূলের প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকার প্রায় ১৮ লাখ বাড়ি-ঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে
পড়েছে। প্রায় ২০ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে উপকূলীয় এলাকা থেকে।
শনিবার ভোররাতে নিউইয়র্কে আঘাত হানে আইরিন। তবে ততক্ষণে এর গতি অনেক কমে এক মাত্রার
হারিকেনের রূপ ধারণ করে। তার পরও যে গতি ছিল, তা ধ্বংসাত্মক। সঙ্গে ছিল ভারী বৃষ্টি। নিউইয়র্কে
ব্যাপক বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হারিকেনের কারণে নিউইয়র্ক শহর ফাঁকা হয়ে যায়। যে নগর কখনো ঘুমায় না, সেই নিউইয়র্কে শনিবার
রাতে পুলিশ ছাড়া সাধারণ মানুষের কোনো উপস্থিতি ছিল না। দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সব বন্ধ হয়ে
যায়।
শনিবার দুপুর থেকে নিউইয়র্কের পাতালরেল ও বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে সাধারণ
মানুষের পক্ষে ঘরের আশপাশ ছাড়া অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ ছিল না।
নিউইয়র্কের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ নগরে জরুরি অবস্থা জারি করেন। প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘরের বাইরে
বের না হতে নির্দেশ দেয় পুলিশ। তবে কর্তৃপক্ষের নিষেধ উপেক্ষা করে সমুদ্রসৈকতে গিয়ে জরিমানা গুনতে
হয়েছে বেশ কয়েকজনকে।
নিউইয়র্ক নগরের নিম্নাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ফর রকওয়ে ও কনি আইল্যান্ড এলাকা থেকে প্রায় তিন লাখ
৭৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-অধ্যুষিত জ্যামাইকা, পার্কচেস্টার, জ্যাকসন হাইটস, চার্চ ম্যাকডোনাল এলাকায়
বাংলাদেশিরা বাড়িঘরে থেকে যান। তবে নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক
বাংলাদেশি বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যান।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে
বোস্টনগামী নয় হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে শনিবারেই বাতিল করা হয় তিন হাজার ৬০০
ফ্লাইট।
নিউইয়র্কের বিখ্যাত জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও লাগোর্ডিয়া বিমানবন্দর শনিবার থেকে
বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে আটকে পড়ে লাখ লাখ যাত্রী। এ ছাড়া ওয়াশিংটন ডিসির রিগ্যান বিমান বন্দর ও
নিউ জার্সির লিবার্টি বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বাস সার্ভিস নেটওয়ার্ক গ্রেহাউন্ড নিউইয়র্ক
পূর্বাঞ্চল থেকে তাদের বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে।

ম্যাচ নিয়ে রোমাঞ্চিত এক নাইজেরিয়ান

সানডে সিজোবা, বুকোলা ওলালেকান, এমেকা ক্রিস্টিয়ান, ফ্রান্সিস, ড্যামি ইমানুয়েল—গত মৌসুমের ফুটবল শেষে একে একে সবাই ফিরে গেছেন নাইজেরিয়ায়। একমাত্র যে নাইজেরিয়ান ফুটবলারটি এখন ঢাকা আছেন, তিনি ওকোয়ে ওকে। ফেনী সকারের এই ডিফেন্ডার ঢাকায় রয়ে গেছেন একটাই কারণে। ৬ সেপ্টেম্বরের আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া প্রীতি ম্যাচ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বসে দেখা।
এই ম্যাচ দেখার সুযোগ হচ্ছে বলে ওকোয়ে রোমাঞ্চিত। ‘আমি খুবই রোমাঞ্চিত। এর আগে আমি দেশে নাইজেরিয়ার ম্যাচ দেখেছি। কিন্তু এমন বড় মাপের কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখিনি। শুধু এই একটি ম্যাচ দেখব বলেই এখনো ঢাকায় আছি’—কাল বললেন নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার। আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া সর্বশেষ সাক্ষাত্ হয় গত ১ জুন, নাইজেরিয়ার আবুজায়। তাতে নাইজেরিয়া ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয় মেসিবিহীন আর্জেন্টিনাকে। ঢাকায়ও নাইজেরিয়ার জয় চান ওকোয়ে মনেপ্রাণে। তবে এবার বাজি ধরেছেন আর্জেন্টিনার পক্ষে। কারণটাও ব্যাখ্যা করলেন, ‘আর্জেন্টিনা খুব বড় মাপের দল। এই দলে রয়েছে মেসিসহ বিশ্বমানের কিছু খেলোয়াড়—হিগুয়েইন, মাচেরানো, আগুয়েরো। তাই ওদের আমি সব সময়ই সমীহ করি। ঢাকায় আর্জেন্টিনার জেতার সম্ভাবনা বেশি।’ সর্বশেষ পাঁচটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে চারটিতে জয় নাইজেরিয়ার, তথ্যটা মনে করিয়ে দিতেই বললেন, ‘আমি জানি এটা। এখন নাইজেরিয়া আগের চেয়ে অনেক গোছানো একটি দলে পরিণত হয়েছে।’
নাইজেরিয়া জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য দূর আকাশের স্বপ্ন, ‘জানি না, কোনো দিন নাইজেরিয়ার জার্সি পরে খেলার সুযোগ পাব কি না।’ প্রিয় খেলোয়াড় চেলসির মিডফিল্ডার জন ওবি মিকেল। ঢাকায় এলে তাঁর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করবেন ওকোয়ে, ‘অনুশীলনের সময় চেষ্টা করব ওবি মিকেলের সঙ্গে কথা বলার। ওর খেলা আমার খুবই ভালো লাগে।’

বার্সার চেয়েও সিটি ভালো

লিওনেল মেসি, জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, ডেভিড ভিয়া, সেস ফ্যাব্রিগাস...বার্সোলোনার তারকা খেলোয়াড়ের তালিকাটা লম্বা। কম যায় না ম্যানচেস্টার সিটিও। আরব ধনকুবেরের হাতে ক্লাবের মালিকানা যাওয়ার পর থেকেই তারকাদের ভিড়। এই মৌসুমে সার্জিও আগুয়েরোর পর সামির নাসরিকেও দলে টেনেছে সিটি।
বার্সেলোনা আর সিটি—এই দুই দলের খেলোয়াড়দের ওজন মেপে হ্যারি রেডন্যাপ এই সিদ্ধান্তে এসেছেন, দলগত বিবেচনায় বার্সেলোনার চেয়ে সিটি অনেক ভালো! চেলসি মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের চাচার ফুটবল প্রজ্ঞা নিয়ে কারও প্রশ্ন নেই। অনেকে এমনও মনে করেন, ইংল্যান্ডের কোচ হওয়ার যোগ্যতাও তাঁর অনেকের চেয়ে বেশি। সুতরাং রেডন্যাপের মন্তব্যকে আপনি উড়িয়ে দিতে পারেন না। টটেনহাম হটস্পারের এই বর্ষীয়ান কোচের মন্তব্য, ‘আমি তো বলব, ওদের স্কোয়াড বার্সেলোনার চেয়েও শক্তিশালী। সত্যিই একটা অসাধারণ দল পেয়েছে তারা। আগুয়েরো, তেভেজ, জেকো বিস্ময়কর খেলোয়াড়। ওদের আক্রমণভাগের দিকে তাকান। নিজেদের দিনে ওদের যেকোনো একজন প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে পারে।’
এর পর খেলোয়াড় ধরে ধরে বিশ্লেষণ করে দিয়েছেন রেডন্যাপ, ‘ডেভিড সিলভা বিশ্বমানের, এখন বিশ্বের যেকোনো একাদশে খেলার যোগ্যতা আছে ওর। ও ছাড়াও ওদের দলটা ভালোমানের খেলোয়াড়ে ভরা। ডি ইয়ং, ইয়া তোরেরা আছে। জেমস মিলনার, অ্যাডাম জনসনের মতো খেলোয়াড়েরা একাদশে জায়গা পেতে লড়াই করছে।’
নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ছায়ায় আর ঢাকা পড়তে চায় না সিটি। গতবার মর্যাদার এফএ কাপ জিতেছে তারা ১৯৬৯ সালের পর প্রথম। গতবার লিগও শেষ করেছে তিনে থেকে। প্রথমবারের মতো উঠে গেছে চ্যাম্পিয়নস লিগে। রেডন্যাপ মনে করেন, এবার থেকে সবগুলো টুর্নামেন্টেই শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করবে সিটি, ‘সত্যিই অবিশ্বাস্য একটা দল ওরা। আমি মনে করি, ধীরে ধীরে ওরা সবগুলো শিরোপার জন্যই চ্যালেঞ্জ জানাবে। কারণ বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের কিনে আনার মতো টাকা ওদের আছে। যদি এই মালিক থেকে যান, আমি নিশ্চিত তিনি থাকবেন, এমন একসময় আসবে, প্রিমিয়ার লিগও জিতবে ওরা।’

ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট আগামী বছরই!

ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক শীতল সম্পর্কে বারবার উষ্ণতা এনেছে ক্রিকেট। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খারের সাম্প্রতিক ভারত সফরও আবার খুলে দিয়েছে সেই পথ। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে দুই দেশের একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছে দুই রাষ্ট্রই।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সভাপতি ইজাজ বাট গত সপ্তাহে ভারত সফর করেছেন। দিল্লিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনায় জেগে উঠেছে পাক-ভারত ক্রিকেট সিরিজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা। দেশে ফিরে লাহোর থেকে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বাট দিয়েছেন সে রকম আভাসই, ‘আমি এটুকু বলতেই পারি, ক্রিকেট সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভারত-পাকিস্তানকে এগিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপযুক্ত ফাঁকা সময়ের জন্যই এখন অপেক্ষা।’
তবে বিসিসিআই এখনো এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শেষে সেপ্টেম্বরজুড়েই ভারতীয় ক্রিকেটাররা ব্যস্ত থাকবেন চ্যাম্পিয়নস লিগ নিয়ে। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড আসবে ভারতে। এর ঠিক পরপরই ভারত যাবে অস্ট্রেলিয়ায়। এত ব্যস্ত সূচির মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে এফটিপির বাইরে সিরিজ খেলার সময় কোথায় ভারতের? বিসিসিআইর এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘অন্তত এ বছরে সময়টাই একটা সমস্যা। তবে ২০১২ সালের শুরুতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিরিজটা খেলা হবে।’
কিন্তু সিরিজটা হবে কোথায়? যত দূর জানা গেছে, নিরপেক্ষ ভেন্যুর সংক্ষিপ্ত তালিকায় এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড।

মধুর সমস্যায় ক্লার্ক

শন মার্শ, নাকি উসমান খাজা? ৩১ আগস্ট গল টেস্ট শুরুর আগে এই প্রশ্নটারই উত্তর খুঁজতে হচ্ছে মাইকেল ক্লার্ককে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার ছয় নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে ‘অটোমেটিক চয়েস’ ছিলেন মার্শ। যত ‘গোলমাল’ বাঁধাল কলম্বোর প্রস্তুতি ম্যাচে খাজার অপরাজিত ১০১ রানের ইনিংসটা। অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ককে এখন তাই ভাবতে হচ্ছে, মার্শ, না খাজা!
‘জানি না...আমি ঠিক নিশ্চিত নই। সুযোগ পেয়ে সেটা কাজে লাগিয়েছে খাজা। এটাই শুধু বলতে পারি এখন’—বলেছেন ক্লার্ক। খাজা এর আগে টেস্ট খেলেছেন একটাই, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিডনিতে। রিকি পন্টিংয়ের জায়গায় তিন নম্বরে ব্যাট করে রান করেছিলেন ৩৭ ও ২১। অন্যদিকে ৩৫টি ওয়ানডে আর ৫টি টি-টোয়েন্টি খেলা মার্শ এখনো টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায়। একটু মেরে খেলেন বলে ব্যাটিং-অর্ডারের ছয় নম্বর জায়াগা নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই তিন টেস্টের সিরিজেই অভিষেক হওয়ার কথা তাঁর। এই সম্ভাবনাকে ঝুলিয়ে দিল খাজার ওই ইনিংস।
অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়ে সম্প্রতি জিম্বাবুয়ে সফরে খাজার পারফরম্যান্স হতাশাজনক হলেও মার্শের চেয়ে খাজার এগিয়ে যাওয়ার আরেকটা কারণ স্পিন বোলিংয়ের সামনে তাঁর দক্ষতা। প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংস শুরু করতে নামলেও বল খেলেছেন ২০৯টি। তার মানে উইকেটটাকে দেখেছেন ভালোভাবেই, লম্বা সময় ধরে খেলেছেন স্পিনারদের। আর তাতে স্পিন সামলানোয় তাঁর দক্ষতাটাও ফুটে উঠেছে আরেকবার। ক্লার্ক তাই বলেছেন, ‘আমাকে সুযোগ দাও—এই দাবি জানানো আরও একজন সে।’ কিন্তু ছুড়ে ফেলতে পারছেন না মার্শের সম্ভাবনাও, ‘...এটাও ঠিক, এখানে এসে নিজের খেলা প্রথম ম্যাচটাতেই ভালো করেছে মার্শ, ৭০ রান করেছে। স্পিনারদেরও বেশ ভালো খেলেছে। ছয় নম্বরে কাকে খেলাব, সেটা নিয়ে তাই ভাবতে হবে।’
প্রশ্ন হতে পারে, প্রস্তুতি ম্যাচে ওপেনার হিসেবে সেঞ্চুরি করা একজন ছয় নম্বরে জায়গা পাওয়ার দাবি জানান কী করে? দাবি জানাচ্ছেন, কারণ এ ক্ষেত্রে ক্লার্কের দর্শনটা একটু অন্য রকমই, ‘কোথায় ব্যাট করলেন সেটা ব্যাপার না। ও (খাজা) একটা সুযোগ পেয়েছে, চেষ্টা করেছে এবং বড় একটা ইনিংস খেলেছে। সামনের কয়েকটা দিন মনে হচ্ছে খুব “ইন্টারেস্টিং” হবে।’
এমন মধুর সমস্যায় বোধহয় সব অধিনায়কই পড়তে চাইবেন।

যে নিয়মের বলি বোল্ট

একবার ফলস স্টার্ট করলেই সঙ্গে সঙ্গে বাদ, এই নিয়ম আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিকস সংস্থা (আইএএএফ) কার্যকর করেছে গত বছর জানুয়ারি থেকে। নিয়ম হলো, গুলি করার দশমিক ১০ সেকেন্ডের আগে কেউ দৌড় শুরু করতে পারবেন না। গবেষণায় দেখা গেছে, এই সময়টার আগ পর্যন্ত মস্তিষ্ক গুলির শব্দে সাড়া দেয় না। কাল বোল্ট সেই ‘অপরাধে’ই অপরাধী হয়ে গেলেন।
আগে একজন অ্যাথলেট দুবার ফলস স্টার্ট করলে বহিষ্কৃত হতেন। ২০০৩ সালে নিয়ম পাল্টে যায়। নতুন নিয়ম হয়—প্রথমবার কেউ ফলস স্টার্ট করলে সবাইকে সতর্ক করে দেওয়া হবে, এর পর কেউ ফলস স্টার্ট করলেই বাদ। কিন্তু ২০০৯ সালে আইএএএফ জানিয়ে দেয়, পরবর্তী জানুয়ারির শুরু থেকে কোনো ফলস স্টার্টই আর গ্রহণযোগ্য হবে না।
এর আগে ১৯৯৬ অলিম্পিকে ১০০ মিটারের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন লিনফোর্ড ক্রিস্টি দুবার ফলস স্টার্ট করে বহিষ্কৃত হন। বোল্টের বাদ পড়া ছাপিয়ে গেল সেটিকেও।

আর্সেনালের জালে ম্যানইউর ৮ গোল

রেকর্ড বইয়ে কোনো পরিবর্তন হয়নি, তবে ওল্ড ট্রাফোর্ডে কালকের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড-আর্সেনাল ম্যাচটি রেকর্ড বই খুলতে বাধ্য করেছে। ১০ জনের আর্সেনালকে ম্যানইউ ৮-২ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পরই শুরু হয় রেকর্ড খোঁজা। ১৯৮৬ সালের পর এটিই আর্সেনালের সবচেয়ে বাজে পরাজয়।
ম্যানইউর সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ডটি ১০-০ গোলে। ১৯৫৬ সালে এই জয় তারা পেয়েছিল ইউরোপিয়ান কাপে আন্ডারলেখটের বিপক্ষে। প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে বড় জয়টিও ম্যানইউর (ইপসউইপের বিপক্ষে, ৯-০)।
কাল নতুন কোনো রেকর্ড না হলেও প্রিমিয়ার লিগের বড় জয়ের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে রুনির হ্যাটট্রিকে পাওয়া জয়টি। জোড়া গোল করেছেন অ্যাশলি ইয়ং। একটি করে গোল ওয়েলবেক, নানি ও পার্কের। আর্সেনালের গোল দুটি রবিন ফন পার্সি ও ওয়ালকটের। এডিন জেকোর চার গোলে টটেনহামকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়েছে ম্যানচেস্টারের আরেক ক্লাব ম্যান সিটি।

বোল্টের আসনে ব্লেক

মরিস গ্রিনকে পাকা জ্যোতিষী এখন বলাই যায়। গত পরশুই চারটি অলিম্পিকজয়ী ও পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এই মার্কিন অ্যাথলেট করে বসেন চমক জাগানো এক ভবিষ্যদ্বাণী, বোল্ট নয়, দেগুতে চ্যাম্পিয়ন হবে ইয়োহান ব্লেক! তা যত বড় ট্র্যাজেডির জন্ম দিয়েই হোক, মরিস গ্রিনের পূর্বানুমান ফলে গেছে অক্ষরে অক্ষরে। ব্লেকই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন!
ফলস স্টার্ট করে ১০০ মিটারের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চ থেকে ছিটকে পড়েন অলিম্পিক ও বিশ্ব রেকর্ডের মালিক উসাইন বোল্ট। লাল কার্ড পাওয়া বোল্ট হতাশায় মাথা কুটেছেন ট্র্যাকের বাইরে গিয়ে। নতুন করে শুরু হওয়া দৌড়ে দেগু বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ তাই পেল নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। স্নায়ুকে নিয়ন্ত্রণে রেখে বিজয়মুকুট ছিনিয়ে নিয়েছেন বোল্টেরই স্বদেশি ইয়োহান ব্লেক। শুধু স্বদেশি বলাটাই যথেষ্ট নয়, ২১ বছর বয়সী ব্লেক বোল্টের অনুশীলন পার্টনারও। দেগু চ্যাম্পিয়নশিপে বিজয়মুকুট পরার আশায় অনুশীলন করেছেন তাঁরা একই সঙ্গে।
বোল্ট-পাওয়েল-মুলিংস হতাশার পরও দেগুতে উড়ল জ্যামাইকান পতাকাই। ২০০৯ বার্লিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে বোল্টের পরা মুকুটটা মাথায় তুলে নিলেন ব্লেক। বিশ্বের দ্রুততম মানব হতে ব্লেক সময় করেছেন ৯.৯২ সেকেন্ড। ১০.০৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে রুপা জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল্টার ডিক্স এবং ১০.০৯ সেকেন্ড সময় করে ব্রোঞ্জ জিতেছেন ২০০৩ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের কিম কলিন্স।
এই বছরে সেরা তিন সময় করা আসাফা পাওয়েল, যুক্তরাষ্ট্রের টাইসন গে এবং স্টিভ মুলিংস ছিলেন না। দুর্ভাগ্যে কাটা পড়ে বোল্টও বাদ পড়ায় ব্লেক আক্ষরিক অর্থেই ছিলেন ফেবারিট। এর মর্যাদা রেখেছেন এই বছরে নিজের সেরা সময় করে। যদিও নিজের ক্যারিয়ার-সেরা সময় (৯.৮৯ সেকেন্ড) ছুঁতে পারেননি। শুরুতে এগিয়ে ছিলেন ব্রোঞ্জজয়ী কলিন্সই। কিন্তু দ্বিতীয় ৫০ মিটারে দুর্দান্ত দৌড়ে ব্লেক ফিনিশিং লাইন ছোঁন সবার আগে। ক্যারিয়ারে প্রথম বড় শিরোপা জিততেই হাঁটু ভেঙে ট্র্যাকে বসে পড়েন এই তরুণ, দুহাত উঁচিয়ে জানিয়ে দেন, ‘আমিই নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।’
জ্যামাইকার জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে ব্লেক উপভোগ করতে থাকেন স্বপ্নময় মুহূর্তটা। ১৯৮৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর জ্যামাইকার সেন্ট জোন্সে জন্ম। জাতীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটারের রেকর্ডটা তাঁরই। ১০ সেকেন্ডের কমে দৌড়ানো ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ অ্যাথলেট তিনি (১৯ বছর ১৯৭ দিন বয়সে)। তবে বড় অনুপ্রেরণা ছিল বোল্টের সঙ্গে অনুশীলন করা।
অপ্রত্যাশিতভাবে বোল্টের বাদ পড়াটাই তাঁকে সাফল্যের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে গেছে। বোল্টের আসনে বসে ব্লেক বলেছেন, বোল্টের জন্যই জিততে চেয়েছেন, ‘আমার মনে হয়েছে, আমি বোল্টের জন্যই দৌড়টা জিততে পারি।’ বোল্ট-ট্র্যাজেডির হতাশা রুপাজয়ী ওয়াল্টারের কণ্ঠেও, ‘এটা ছিল স্নায়ুক্ষয়ী দৌড়। আমি আসলেই ভাবতে পারিনি তারা তাঁকে (বোল্টকে) বের করে দেবে।’ ব্রোঞ্জজয়ী কলিন্সও ছিলেন বিস্মিত, ‘আমি জানি না ফলস স্টার্টের নিয়মটা ঠিক কী।’

হায় বোল্ট!

দেখে মনে হলো, বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন। স্টার্টিংয়ে দাঁড়ানোর আগে হালকা গা গরম করে নিচ্ছিলেন ট্র্যাকে দাঁড়িয়ে। স্বভাবসুলভভাবে দুষ্টুমি করছিলেন দুই জ্যামাইকান সতীর্থ ইয়োহান ব্লেক আর নেস্তা কাস্টারের সঙ্গে। খোস মেজাজে ছিলেন স্টার্টিং ব্লকে দাঁড়িয়েও। একে একে সবার ওপর ক্যামেরা ধরা হচ্ছিল। তাঁর ওপর ক্যামেরা ধরতেই ছেলেমানুষি সব দুষ্টুুমি। ছেলেখেলা করেই দেগুতে বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের ১০০ মিটার জেতার কথা ছিল যাঁর, সেই বোল্ট ট্র্যাক ছাড়লেন এক বুক হতাশা নিয়ে!
কিছুদিন ধরে সময় ভালো যাচ্ছিল না। মাত্রই চোট সেরে ফিরে এসেছেন। মৌসুমে তাঁর ব্যক্তিগত সেরা ‘বোল্ট-সুলভ’ নয়। নিজেই বার বার বলছিলেন, এবার আর অতিমানবীয় কিছু সম্ভব নয়। রেকর্ড-টেকর্ডের ‘আবদার’ তিনি মেটাতে পারবেন না। তবে আত্মবিশ্বাসীও ছিলেন, বার্লিনে রেকর্ড গড়ে জেতা সোনাটা দখলে থাকবে তাঁরই। দুই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী টাইসন গে আর আসাফা পাওয়েলের অনুপস্থিতি কাজটা আরও সহজ করে দিয়েছিল।
পরশু অনেকটা হেলাফেলা করেই বাছাইপর্ব জিতে এসেছেন। ফলে কাল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আয়ুর দিক দিয়ে মাত্র ১০-১১ সেকেন্ড স্থায়ী, কিন্তু আগ্রহের দিক দিয়ে অনেক বিশাল এই ইভেন্টে চোখ ছিল সবার। চোখ ছিল বোল্টের ওপর। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত রেকর্ড একটা করেও বসতে পারেন।
দুম্ করে গুলির শব্দ। কিন্তু দৌড় শুরু করার পরপরই থেমে গেলেন বোল্ট। হতাশায় খুলে ফেললেন নিজের জার্সি, ছুড়ে ফেললেন ট্র্যাকে। কী হলো, কী হলো! সবার তখন একটাই প্রশ্ন। বোঝা গেল, কেউ একজন ফলস্ স্টার্ট করেছেন। কিন্তু ‘অপরাধী’ যে আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকা লোকটিই, অনেকেই তখনো বোঝেননি। যাঁরা বুঝে গিয়েছিলেন, তাঁরা হয়তো মনে মনে প্রার্থনা করছিলেন, বোল্টের এই হতাশা যেন হয় অন্য কারও ফলস্ স্টার্টের কারণেই। আবার নতুন করে মনোযোগ এনে নতুন প্রস্তুতি নিতে হবে বলে অন্য যে কারও ফলস্ স্টার্ট বিরক্তিকর তো বটেই।
কিন্তু দেখা গেল, আর কেউ নয়, পাঁচ নম্বর লেন ছাড়িয়ে বেরিয়ে গেলেন খোদ উসাইন বোল্ট! গতির রাজা। দুই বছর আগে এই বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপেই যিনি ৯.৫৮ সেকেন্ড টাইমিং গড়ে ভেঙে দিয়েছিলেন বেইজিং অলিম্পিকে নিজেরই ৯.৬৯ সেকেন্ডের রেকর্ড। পারফরম্যান্স দিয়ে নয়, আগামী কিছুদিন এই ফলস্ স্টার্টের কারণেই আলোচনায় থাকবেন বোল্ট, যিনি একটা সত্যি কথা মনে করিয়ে দিলেন—বোল্টও রক্তমাংসেরই মানুষ।

ভারত-শ্রীলঙ্কা লড়াইয়ের ‘শেষ’ আজ

শিরোপা যেই জিতুক, আজকের ফাইনাল শেষে একটা কথা ভেবে হয়তো স্বস্তি পাবে দুই দলই, সামনের অনেকগুলো দিন মুখোমুখি হতে হবে না একে অন্যের। এখন এত বেশি ক্রিকেট হয় যে, পরস্পরের সঙ্গে দলগুলোর দেখা নিয়মিতই হয়। কিন্তু সেটারও তো একটা সীমা আছে। আজকের ফাইনাল গত ২৫ মাসে ভারত-শ্রীলঙ্কার ৪৩তম ওয়ানডে, ভাবা যায়! দর্শকের অরুচি তো আছেই, দুই দলের ক্রিকেটারদেরও বিরক্ত হয়ে যাওয়ার কথা।
অবশ্য আজকের লড়াইটিকে ঘিরে তার পরও আগ্রহ থেকে যাচ্ছে সাম্প্রতিক বিতর্কের কারণে। সুরাজ রণদিভের ‘নো বল’-কাণ্ডের রেশ এখনো বেশ ভালোভাবেই আছে দুই দলে। অতীতে যেটা খুব বেশি দেখা যায়নি, সেই মাঠের বাইরে কথার লড়াইয়েও জড়িয়ে গেছে দুই দল। ‘প্রতিশোধ’ ব্যাপারটার বেশি কাজ করতে পারে ভারতের মধ্যেই। ‘নো বলে’ বীরেন্দর শেবাগের সেঞ্চুরি বঞ্চনা তো আছেই, তাদের ১০৩ রানে গুটিয়ে দেওয়ার লজ্জায় ডুবিয়েই ফাইনাল নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা।
প্রতিশোধের একটা ব্যাপার অবশ্য শ্রীলঙ্কারও আছে। এই ডাম্বুলায়ই গত জুনে এশিয়া কাপের ফাইনালে তাদের হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল ভারত। দলীয় শক্তি আর টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সের বিচারে আজ এগিয়ে শ্রীলঙ্কাই। ব্যাটিংয়ে পুরো শক্তি নিয়ে টুর্নামেন্টে খেলছে একমাত্র স্বাগতিকেরাই। মাঠের পারফরম্যান্সেও ছিল এর প্রতিফলন, টুর্নামেন্টে একমাত্র শ্রীলঙ্কাই ভয়াবহ কোনো ব্যাটিং ধসের শিকার হয়নি।
টুর্নামেন্টে ভারত যেভাবে খেলেছে, তাতে আজ শ্রীলঙ্কাকে পরিষ্কার ফেবারিটই বলা যেত। যাচ্ছে না শেবাগের জন্য। টুর্নামেন্টে ভারত যে দুটি ম্যাচ জিতেছে, বলতে গেলে একাই জিতিয়েছেন শেবাগ। আরেকটি ‘শেবাগ স্পেশাল’ আজও হয়ে দাঁড়াতে পারে ম্যাচের নিয়ামক। তা ছাড়া সেই সেঞ্চুরি-বঞ্চনার জ্বালা মেটানোর একটা ব্যাপারও তো আছেই!

এ কোন পুলিশ, এ কেমন পৈশাচিকতা!

নির্মম গণপিটুনির শিকার মিলন
‘মারি হালা। মারি হালা। পুলিশ কইছে মারি হালাইবার লাই। তোরা মারছ্ না কা? (মেরে ফেল। মেরে ফেল। পুলিশ বলেছে মেরে ফেলার জন্য। মারিস না কেন?)’
লোকজনের জটলা থেকে কেউ একজন এভাবে বলছেন, আর কিছু লোক কিশোর মিলনকে রাস্তার ওপর ফেলে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারছে। একজন লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি পেটাচ্ছে। একপর্যায়ে এক যুবক ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। মিলনের মৃত্যু নিশ্চিত হলে পুলিশ তার লাশ গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
গত ২৭ জুলাই সকালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ঘটে এই অকল্পনীয় ঘটনা। ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, ১৬ বছরের কিশোরটিকে পুলিশের গাড়ি থেকে একজন নামিয়ে জনতার হাতে ছেড়ে দিচ্ছে। তারপর শুরু হয় কথিত গণপিটুনি। অবিশ্বাস্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটে পুলিশের উপস্থিতিতে।
কোম্পানীগঞ্জে ওই দিন ডাকাত সন্দেহে পৃথক স্থানে ছয়জনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ দাবি করেছিল। এর মধ্যে টেকেরবাজার মোড়ে মারা হয় তিনজনকে। তাঁদেরই একজন এই কিশোর শামছুদ্দিন মিলন। মিলনকে মারা হয় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। আর বাকি দুজনকে মারা হয়েছিল ভোরবেলায়।
মিলনকে হত্যার অভিযোগ এনে তার মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় ‘দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে’ গত শনিবার রাতে কোম্পানীগঞ্জ থানার তিনজন পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন: উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আকরাম শেখ, কনস্টেবল আবদুর রহিম ও হেমারঞ্জন চাকমা।
মিলন কোম্পানীগঞ্জের চরফকিরা গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। সে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে, তবে এসএসসি দেয়নি। সে চট্টগ্রামে একটি কোম্পানিতে কাজ করে। কয়েক দিন আগে সে বাড়ি এসেছিল। চার ভাইয়ের মধ্যে মিলন সবার বড়। তার বাবা বিদেশে থাকেন।
মিলনকে পুলিশের গাড়ি থেকে নামানো, পিটিয়ে হত্যা এবং লাশ পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত পুরো ঘটনার ভিডিও চিত্র এখন কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্নজনের মুঠোফোনে পাওয়া যায়। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সময় গতকাল এর ভিডিও চিত্রের উল্লেখযোগ্য অংশ সম্পচারও করেছে।
ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, মারধরের একপর্যায়ে মিলন উঠে দৌড়ে পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু উপস্থিত কেউ তাকে বাঁচাতে ন্যূনতম চেষ্টাও করেনি। এ পর্যায়ে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা একজন ইট নিয়ে সজোরে আঘাত করেন মিলনের মাথায়। সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে মিলন। একই লোক ইট দিয়ে এর পরও মিলনের মাথায় একাধিকবার আঘাত করেন। সঙ্গে আরও কয়েকজন এলোপাতাড়ি লাথি মারতে থাকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মিলনের লাশ পুলিশ গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পুরো ঘটনার সময় পুলিশের সদস্যরা গাড়ি নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।
নির্মম গণপিটুনির শিকার মিলন
মিলনের মা কোহিনুর বেগম তাঁর ছেলেকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ এনে গত বুধবার আদালতে মামলা করেছেন। মামলার আরজিতে মিলনকে আটক করে মারধর এবং পুলিশের হাতে সোপর্দ করা পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান ওরফে মানিক ও চরকাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য জামাল উদ্দিন সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।
কোহিনুর বেগম উল্লেখ করেন, গত ২৭ জুলাই সকালে মিলন জমি নিবন্ধনের কাজের জন্য বাড়ি থেকে ১৪ হাজার টাকা নিয়ে উপজেলা সদরের দিকে যায়। পথে সে চরকাঁকড়া বেপারী উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ুয়া দূর-সম্পর্কের এক খালাতো বোনের সঙ্গে কথা বলতে বিদ্যালয়ের মসজিদের পুকুরঘাটে বসে অপেক্ষা করছিল। এ সময় মানিক নামের স্থানীয় একজন মিলনকে সেখানে বসে থাকার কারণ জানতে চান।
একপর্যায়ে সেখানে আসেন স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন। তিনিও মিলনকে সেখানে বসে থাকার কারণ জানতে চান। কারণ জানালে জামাল উদ্দিন ওই মেয়েটিকে বিদ্যালয় থেকে ডেকে এনে মিলনের পরিচয় নিশ্চিত হন। কিন্তু এরপর মানিক ও জামালসহ উপস্থিত লোকজন মিলনকে চড়-থাপড় দিয়ে তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় এবং মিলনকে পুলিশে সোপর্দ করে।
কোহিনুর বেগমের অভিযোগ, পুলিশ আহতাবস্থায় মিলনকে হাসপাতাল বা থানায় না নিয়ে টেকেরবাজার এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে নিয়ে যায়। সেখানে স্থানীয় লোকজন মিলনকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে পুলিশ সেখান থেকে মিলনের লাশ থানায় নিয়ে যায়।
যোগাযোগ করা হলে ইউপি সদস্য জামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘লোকজন ডাকাত সন্দেহে ছেলেটিকে মারধর শুরু করে। আমি তাকে উদ্ধার করে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। ওই ছেলে নিজেই হেঁটে পুলিশের গাড়িতে উঠেছে। এরপর শুনেছি, তিন রাস্তার মোড়ে লোকজন পুলিশের কাছ থেকে ছেলেটিকে নিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে জামাল বলেন, ‘আমরা তার কাছে যা কিছু পেয়েছি, তা দারোগা আকরামকে দিয়েছি। আমরা তো তাকে (মিলন) মেরে ফেলার জন্য পুলিশের হাতে তুলে দেইনি। পুলিশের কাজ তো কাউকে মেরে ফেলা না। কিন্তু তারা যদি কাউকে মৃত্যুর মুখে ফেলে দেয়, তাহলে কার কী করার আছে।’
নির্মম গণপিটুনির শিকার মিলন
পারিবারিক সূত্র জানায়, ওই সময় মিলন কিছু লোক তাকে আটক করেছে বলে মোবাইল ফোনে মাকে জানায়। তার মা মিলনের এক চাচাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে জানতে পারেন তাকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক উল্লাহ গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে জানান, মিলনকে ডাকাত সন্দেহেই লোকজন পিটিয়ে মেরেছে। তিনি বলেন, আদালতে করা তার মায়ের মামলার কপি এখনো থানায় আসেনি।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন-উর-রশিদ হাযারী গতকাল রোববার দুপুরে জানান, এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব রশীদকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসপি হারুন-উর-রশিদ হাযারী গতকাল মিলনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। চরফকিরায় মিলনের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্য এবং ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গেও কথা বলেন। পরে এসপি হারুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মিলন অপরাধী কি না, তা এই মুহূর্তে বলা যাবে না। আমরা সব বিষয় খতিয়ে দেখছি।’
স্থানীয় লোকজন জানান, গতকাল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় স্থানীয়ভাবে অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি মিলনকে নানাভাবে ডাকাত হিসেবে চিহ্নিত করতে তৎপর ছিল।