Friday, June 5, 2026

প্রত্যাহারের পরিবর্তে গাজায় ইসরাইলের ৪০টি সামরিক ঘাঁটি

অক্টোবরে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তি অনুযায়ী গাজা থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারের কথা ছিল ইসরাইলের। তার পরিবর্তে ইসরাইলি সেনারা নীরবে সেখানে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করছে। দখল করে নেয়া গাজার ভূখণ্ডে তারা সুরক্ষিত সামরিক পোস্ট নির্মাণ করেছে। স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে এ কথা বলেছে আল জাজিরা। আল জাজিরার ওপেন সোর্স ইউনিট পরিচালিত এক অনুসন্ধানে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে গাজা উপত্যকার ভেতরে ইসরাইলের ৪০টি পৃথক সামরিক ঘাঁটির অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিশ্লেষণে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে- ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এসব ঘাঁটির মধ্যে আটটি সম্পূর্ণ নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘাঁটির নির্মাণকাজ এখনো চলমান। এই সামরিক স্থাপনা নির্মাণ ইসরাইলের নেতৃত্বের ক্রমশ প্রকাশ্য হয়ে ওঠা ভূখণ্ডগত আকাক্সক্ষারই প্রতিফলন। সম্প্রতি এক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিশ্চিত করেন যে, তিনি গাজা উপত্যকার অধিকাংশ এলাকা (৭০ ভাগ) স্থায়ীভাবে দখলে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ইসরাইলি বাহিনী বর্তমানে তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ পর্যন্ত অবস্থান নিয়েছে। এই লাইন বলতে বাফার জোন ও সামরিক নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোকে বোঝানো হচ্ছে, যা গাজার মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৬০ শতাংশ জুড়ে বিস্তৃত। নেতানিয়াহু বলেন, আমরা বর্তমানে হামাসকে চেপে ধরছি; এখন আমরা ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছি। এরপর জনতার মধ্য থেকে কেউ পুরো গাজা সংযুক্ত করার দাবি জানালে তিনি বলেন, ধাপে ধাপে এগোই। প্রথমে ৭০ শতাংশ। সেখান থেকেই শুরু করা যাক।

কবরস্থানের ওপর ঘাঁটি
স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইসরাইল কেবল অস্থায়ী পর্যবেক্ষণ পোস্ট নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। নতুন স্থাপনাগুলো কৌশলগতভাবে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি উত্তর গাজায়, দুটি মধ্যাঞ্চলে, একটি নেতজারিম করিডোরের পূর্বে এবং তিনটি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে নির্মিত হয়েছে। এই ভূখণ্ড দখল নীতির সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণগুলোর একটি হলো খান ইউনিসের ইস্টার্ন সেমেট্রি (পূর্বে কবরস্থান)-এর ধ্বংসস্তূপের ওপর একটি নতুন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বরেই বুলডোজার দিয়ে সমতল করা কবরস্থানে প্রকৌশলগত কাজ শুরু হয়। ২০২৬ সালের ১৮ মে নাগাদ সেখানে সামরিক যানবাহন মোতায়েনের এলাকা এবং সারিবদ্ধ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হয়। সেগুলো সম্ভবত সেনাদের আবাসন ও সামরিক বৈঠকের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। উত্তর গাজাতেও একই ধরনের দ্রুত সামরিকীকরণের চিত্র দেখা গেছে। বেইত লাহিয়া এলাকায় ২০২৫ সালের অক্টোবরের ছবিতে যে স্থান সম্পূর্ণ খালি ছিল, সেখানে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই প্রকৌশলগত কাজ শুরু হতে দেখা যায়। ২০২৬ সালের মে মাস নাগাদ সেখানে অভ্যন্তরীণ সুবিধাসম্পন্ন একটি পূর্ণাঙ্গ বেষ্টনীঘেরা সামরিক স্থাপনা গড়ে ওঠে।

সামনের সারির অবস্থান আরও শক্তিশালী করা
নতুন ঘাঁটি নির্মাণের পাশাপাশি ‘ইয়েলো লাইন’-এর ভেতরে আগে থেকেই থাকা সামরিক অবস্থানগুলোও দ্রুত সম্প্রসারণ করছে ইসরাইলি বাহিনী। ‘ইয়েলো লাইন’ মূলত সেই অস্থায়ী সীমারেখা, যেখানে পূর্ণ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলি সেনাদের অবস্থানের অনুমতি ছিল। গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটির আয়তন ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সেখানে ব্যাপক অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন, সাঁজোয়া যান মোতায়েনের নতুন এলাকা এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। মধ্য গাজায় স্যাটেলাইট সেন্সর একটি বিদ্যমান সামরিক স্থাপনার চারপাশে গভীর প্রতিরক্ষামূলক পরিখা খননের তথ্য শনাক্ত করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অবস্থান ধরে রাখার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। এই অবকাঠামোর কৌশলগত উদ্দেশ্য সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায় নেতজারিম করিডোর এলাকায়। এটি এমন একটি পথ, যা ব্যবহার করে ইসরাইলি বাহিনী উত্তর ও দক্ষিণ গাজাকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। আল জাজিরার ওপেন সোর্স ইউনিট করিডোরটির পূর্বাঞ্চল ও আশপাশে তিনটি পৃথক সামরিক ঘাঁটি শনাক্ত করেছে, যা গাজার দুই অংশের মধ্যে চলাচলের ওপর ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সহায়তা করছে। এই করিডোরের ঠিক পূর্বদিকে জুহোর আদ-দিক এলাকায় খোলা জমি ২০২৬ সালের মার্চে ভূমি খননকাজ শুরু হওয়ার পর দ্রুত একটি নতুন সামরিক ঘাঁটিতে রূপ নিতে শুরু করে।

অবরুদ্ধ জনসংখ্যাকে ঘিরে ফেলা
এই ৪০টি সামরিক ঘাঁটির ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, এগুলো একটি পরিকল্পিত অবরোধ কৌশলের অংশ। মাটির বাঁধ, পরিখা ও অভ্যন্তরীণ সামরিক সড়কের মাধ্যমে সংযুক্ত ঘাঁটিগুলো বিভিন্ন দিক থেকে ফিলিস্তিনি জনবসতিকে ঘিরে রেখেছে। এই অবরোধমূলক কাঠামো বেসামরিক জনগণের চলাচল এবং নিজেদের জমিতে প্রবেশের ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে সীমিত করে ফেলেছে, বিশেষ করে ইসরাইলি মোতায়েন লাইনের সংলগ্ন এলাকাগুলোতে। এই ক্রমবর্ধমান দখলদারিত্ব ২০২৫ সালের অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চুক্তিটি ছিল প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ২১ দফা শান্তি পরিকল্পনার ভিত্তিতে গঠিত। ওই কাঠামোতে যুদ্ধ বন্ধ, অবিলম্বে মানবিক সহায়তা প্রবেশ, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়।

ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল্লাহ আক্রাবাউই বলেন, ৭ অক্টোবরের পর থেকে দখল, নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্ত আরও সামনে ঠেলে দেয়ার ধারণাই ইসরাইলের নিরাপত্তা মতবাদের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তার মতে, ইসরাইলের নতুন কৌশল এমন অঞ্চল নিশ্চিত করা, যেখান থেকে ফিলিস্তিনি জনসংখ্যা ও নগর অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আক্রাবাউই সতর্ক করে বলেন, নির্মাণকাজের ব্যাপকতা ইঙ্গিত দেয় যে এটি কোনো অস্থায়ী বাফার জোন রক্ষার পরিকল্পনা নয়। তিনি বলেন, এই নির্মাণ এবং জনবসতিগুলোকে অবরুদ্ধ করার মাধ্যমে তিনি (প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু) আবারও একটি নির্মূলমূলক যুদ্ধ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলছেন।

হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইসরাইলি হামলায় প্রায় ৭৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজার ৯১৯ জনের বেশি আহত হয়েছেন। হতাহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরও সহিংসতা থামেনি। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর গত সাত মাসে অন্তত ৯২৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও ২ হাজার ৮১১ জন আহত হয়েছেন।

কর্মক্ষেত্রে যে গুণটি না থাকার কারণে পিছিয়ে পড়তে পারেন by পৃথা পারমিতা নাগ

একটা সময় অফিসে ফাইল ঘেঁটে আর হিসাব–নিকাশ করেই কেটে যেত সারা দিন। কিন্তু আজকের দুনিয়ায় অনেক কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং ও অটোমেশন। এখন ক্যালেন্ডার ম্যানেজ করা, প্রজেক্টের অগ্রগতি দেখা, এমনকি মিটিং মিনিটস লিখতেও নেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তিগত সাহায্য।

তাই অনেকে ভাবতে পারেন, প্রযুক্তিগত দক্ষতাই আপনার ক্যারিয়ারে সাফল্য অর্জনের জন্য যথেষ্ট, কিন্তু মোটেও তা নয়। প্রযুক্তির ব্যাপারে আপনি অভিজ্ঞ হয়েও যদি মানবিক না হোন, প্রযুক্তি ও মানুষের সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে না পারেন, তবে তা শিখে নেওয়ার এখনই সময়। ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’য় এ ব্যাপারে সম্প্রতি কথা বলেছেন শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা। চলুন, দেখা যাক কী বলছেন তাঁরা।

যেসব স্কিল আপনাকে এগিয়ে রাখবে

প্রযুক্তি যত বেশি আমাদের দৈনন্দিন কাজ সহজ করছে, ততই জরুরি হয়ে উঠছে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক তৈরি ও টিকিয়ে রাখার গুণ। কারণ, চাকরি হোক আর ব্যবসা, ক্রেতাদের সঙ্গে আবেগপূর্ণ সহযোগিতার সম্পর্ক থাকতেই হবে। অন্যের অনুভূতি বোঝা, বিরোধ মেটানো, টিমের সদস্যদের অনুপ্রাণিত করা এবং গল্প বলার দক্ষতাই এখন সবচেয়ে মূল্যবান।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উদ্ভাবনের ফলে প্রায় সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ কোডিং, এআই ও ডিজিটাল স্কিল শেখার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। যুগের সঙ্গে এগিয়ে থাকার জন্য এসব প্রযুক্তি শেখা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আপনি যদি সবার চেয়ে এগিয়ে থাকতে চান, তবে শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতাই যথেষ্ট নয়; বরং আসল প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা লুকিয়ে আছে এমন স্কিলে, যা অ্যালগরিদম অনুকরণ করতে পারে না। এসব স্কিল হলো সহানুভূতি, সৃজনশীলতা ও আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা।

যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেডি স্কুল অব ডিজাইনের সহকারী অধ্যাপক কিরণ এল মিরাজকর বলেন, কোডিং কাঠামো তৈরি করে, কিন্তু সৃজনশীলতা নতুন জিনিস উদ্ভাবন করতে, ক্রেতাদের সঙ্গে মানবিক যোগাযোগ স্থাপন করতে ও ব্যবসার সামগ্রিক লাভে প্রভাব ফেলে।

৩০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে মিরাজকর দেখেছেন, প্রযুক্তি যত উন্নত হোক না কেন, সেটি শেষ পর্যন্ত মানুষের সমস্যা সমাধানেই ব্যবহৃত হয়। তাঁর ভাষায়, ‘নিখুঁতভাবে বানানো অ্যাপও ব্যর্থ হয়, যদি কেউ তা ব্যবহার করে আনন্দ না পায়। সৃজনশীলতা না থাকলে প্রযুক্তি কার্যকর হলেও তা প্রাণহীন থেকে যায়।’

কমিউনিকেশন টেকনোলজি ও ভয়েস ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কাজ করছে অরাট্রিক্স। এই প্রতিষ্ঠানের সিওও ও সহপ্রতিষ্ঠাতা আনাস শোয়েব বলেন, ‘টেকনিক্যাল দক্ষতা হয়তো আপনাকে দরজার ভেতরে ঢুকতে সাহায্য করবে, কিন্তু আপনি কত দূর যেতে পারবেন, সেটি নির্ভর করে যোগাযোগের দক্ষতা, সৃজনশীলতা, অভিযোজন ক্ষমতা ও আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার ওপর।’

গবেষণায় যা দেখা গেছে

ইউরোপিয়ান ইকোনমিক লেটারস (২০২৫)–এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআই যখন টেকনিক্যাল কাজের দায়িত্ব নিচ্ছে, তখন সফট স্কিল দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ারে ৬০ শতাংশের বেশি সাফল্য নির্ধারণ করছে। হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ (২০১৯)–এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, আইকিউ –সম্পন্ন নেতারা সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করে দলকে আরও কার্যকর করে তোলেন।

জার্নাল অব কমিউনিকেশন ইন সায়েন্টিফিক ইনকোয়ারি (মালয়েশিয়া, ২০২৩)–এর গবেষণায় দেখা যায়, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা নিজের কর্মদক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে একটি ‘মডারেটর’ হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ আপনি যদি আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ব্যক্তি হোন, তবে তা আপনার টেকনিক্যাল দক্ষতার সুবিধা আরও বাড়িয়ে তোলে।

নিজের ঘর থেকেই শুরু হোক দক্ষতার অনুশীলন

এডুকেশনাল সাইকোলজি জার্নাল (২০২৪)–এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, কিশোর বয়স থেকে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার প্রশিক্ষণ পেলে তাদের মধ্যে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে, পড়াশোনায় তাদের টিকে থাকার ক্ষমতা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

অ্যাপেক্স জার্নাল অব বিজনেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (২০২৫)–এর গবেষণায় দেখা যায়, যেসব শিক্ষার্থী আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষায় ভালো স্কোর করেছে, পড়ালেখা শেষ করার দুই বছরের মধ্যে তাদের ভালো চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ।

নিজের ঘর থেকেই তাই সন্তানদের শেখাতে হবে সহানুভূতি, সমস্যা সমাধান ও যোগাযোগের কৌশল। কারণ, ভবিষ্যতের কর্মজগতের এগুলোই সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন স্কিল।

প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলেই যে আপনি সাফল্য পাবেন, এখন কিন্তু তেমনটি নেই
প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলেই যে আপনি সাফল্য পাবেন, এখন কিন্তু তেমনটি নেই। মডেল: কোকো। ছবি: কবির হোসেন

খামারের মাছ-মাংস আর ফল-ফসলে স্বপ্নের মতো জীবন হান্নানের by আকমল হোসেন

গোলা ভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছের স্বপ্ন কতজনই না দেখেন! তবে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাহারমর্দ্দান গ্রামের মো. আবদুল হান্নানের মতো কয়জন সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন। অবসরপ্রাপ্ত এই ব্যাংক কর্মকর্তা নিজের জমিতে প্রয়োজনীয় প্রায় সব খাদ্যপণ্য উৎপাদন করেন। লবণ-চিনি ছাড়া বাজার থেকে তেমন কিছু কিনতে হয় না তাঁর। শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, ডিম ও মাংস—সবই আসে নিজের খেত, খামার, বাগান ও পুকুর থেকে।

আবদুল হান্নান ছিলেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। মাটির প্রতি টান ছিল শৈশব থেকেই। পড়াশোনার সময় ধান চাষে হাতেখড়ি। পরে ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংকের সিলেট অঞ্চলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৮ সালে অবসর নেন। অবসরজীবনে তিনি মাটির টানেই ফিরে গেছেন চাষাবাদে। শুরু করেন শাকসবজি, মসলা, দেশি-বিদেশি ফল, মাছ এবং দেশি জাতের মোরগ পালন। তাঁর বাগানে শোভা পাচ্ছে সৌদির খেজুর থেকে শুরু করে অ্যাভাকাডো, জলপাই, আতাসহ দেশি-বিদেশি নানা ফল।

সম্প্রতি এক দুপুরে বাহারমর্দ্দানে আবদুল হান্নানের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, একজন শ্রমিক নিয়ে তিনি নিজেই গাছের পরিচর্যা করছেন। বাগানে দেশি-বিদেশি অনেক জাতের গাছ লাগানো। কোনোটাতে ফল এসেছে। কোনোটা নতুন লাগানো। বাগানের চৌহদ্দির মধ্যে পুকুর। পুকুরেই চাষ হচ্ছে রুই-কাতলা, মৃগেল, কার্ফু, পাঙাশসহ বিভিন্ন জাতের মাছ। প্রয়োজন হলেই পুকুরে বড়শি ফেলেন তিনি।

এই সৌখিন খামারি বলেন, চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর চাষাবাদের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে নেন। প্রায় ৬০ শতাংশ জমিতে শাকসবজি ও মসলার চাষ শুরু করেন। ধান চাষ আগে থেকেই করতেন। পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, শর্ষে, দারুচিনি, মরিচ, ধনিয়া, তেজপাতা—সবই নিজে উৎপাদন করেন। শর্ষে থেকে পরিবারের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। এবার মাছের খাবারের চাহিদা মেটাতে ভুট্টা চাষও শুরু করবেন। ৬০ শতাংশ জমিতে দেশি-বিদেশি ফলের চাষ করেছেন। সৌদি খেজুরের একটি গাছে এবার এক থোকা খেজুর এসেছে। অনেক খেজুরগাছ নিজেই চারা তৈরি করে লাগিয়েছেন। বাড়ির আশপাশের ৬০ শতাংশ জমিতেও আছে নানা প্রজাতির গাছ। ১০০ থেকে ১৫০টি দেশি জাতের মোরগ–মুরগি পালেন। সেখান থেকেই ডিম ও মাংসের চাহিদা পূরণ হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা জুলফিকার আলী ভুট্টো প্রথম আলোকে বলেন, যখন যে মৌসুম, তখন সেই রকম সবজি চাষ করেন আবদুল হান্নান। ফসল, ফল আর মাছে ভরা সংসার তাঁর। তেমন কিছু তাঁকে কিনে খেতে হয় না।

আবদুল হান্নান প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুরুর সময় তেমন কিছু জানতাম না। ধীরে ধীরে শিখেছি, অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি। এখন অনেকে আমার কাছ থেকে চাষাবাদের পরামর্শ নিতে আসেন। আমি নিজের মতো করে মাছের খাবার বানাই, ওষুধ দিই, জৈব সার উৎপাদন করি। বাগান ও খামারের সব কাজ নিজেই তদারক করি।’

পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়ে উদ্বৃত্ত ফল ও পণ্য বাজারেও বিক্রি করেন আবদুল হান্নান। জানালেন, এখন পর্যন্ত পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এখন শুধু পরিচর্যার খরচ। বেশ তৃপ্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘লবণ-চিনি ছাড়া আর কিছু কিনি না। মাছ-মাংস, ফল-ফসল—সব নিজেরই উৎপাদন। চেষ্টাটাই আসল। খুব বেশি টাকা খরচ না করেও অনেক কিছু সম্ভব।’

আবদুল হান্নানের বাগানে আছে নানা জাতের দেশ–বিদেশি ফল
আবদুল হান্নানের বাগানে আছে নানা জাতের দেশ–বিদেশি ফল। ছবি: প্রথম আলো