Wednesday, April 16, 2014

গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় নির্বাচনের ভূমিকা by আলী ইদরিস

৫ই এপ্রিল ২০১৪ খ্রি. তারিখে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জনাব সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত তার ভাষণে একটি মূল্যবান উপলব্ধি ব্যক্ত করে বলেছেন ‘‘নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। গণতন্ত্রের অস্তিত্ব এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নির্বাচন কমিশনারের পদ একটি  মর্যাদাপূর্ণ ও সাংবিধানিক পদ।

এক অপূরণীয় শূন্যতা by রিয়াজউদ্দিন আহমেদ

প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা’র মৃত্যুতে সাংবাদিকতা পেশায় সৃষ্টি হয়েছে এক শূন্যতা। তাকে ছাড়া এ পেশা এখন অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি ছিলেন সত্যিকার পেশাদার সাংবাদিক। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন আত্ম-উৎসর্গীকৃত একজন শিক্ষকের মতো। জাতির কাছে তিনি ছিলেন একজন মুরব্বি। তার শক্তিশালী কলম ও জোরালো বক্তব্যে মহাক্ষমতাধররাও ভীত ছিল। যেসব ঘটনায় দেশবাসী ও দেশের ক্ষতি হয় এমন ইস্যুতে তিনি কখনও নীরব দর্শকের মতো থাকতেন না। দেশবাসী ও দেশের বিরুদ্ধে এমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি কড়া ভাষায় প্রতিবাদ করেছেন। তিনি জানতেন যে, প্রতিটি জাতিরই একটি সঙ্কটময় সময় থাকে। তখন নীরবতা হলো অপরাধ। তিনি এই অপরাধ কখনও করেন নি। সব অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি সব সময় তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। কথা বলেছেন গণতন্ত্রের পক্ষে, মানবাধিকারের পক্ষে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে ও সততার পক্ষে।

বিষাদাচ্ছন্ন সোমবার by কাজল ঘোষ

ক  ’মাস ধরেই ভেতরে শূন্যতা অনুভব করছিলাম। সেই শূন্যতা এত দ্রুতই প্রলম্বিত হবে ভাবিনি। কোটি মানুষের এই শহরে এত মানুষ তবু কি যেন নেই। তাঁকে নিয়ে হাজারো স্মৃতি। কর্মব্যস্ত নগরীতে রাত পোহালে যে ছোটাছুটির মধ্যেও এই মানুষটি আর কোনও দিন ফোনে জানতে চাইবেন না, টকশোতে আছি, না-নাই। এটা শেষ পাঁচ, ছ’ বছরের নিয়মিত ঘটনা।

ভুল সবই ভুল by শামীমুল হক

‘জাইগ্গা না করি রাও/বুঝি হগল কতার বাউ’- গ্রামবাংলার প্রচলিত একটি প্রবাদ। আসলে আমজনতা সর্বদাই জেগে থাকে। তাদের চোখ-কান সবসময় খোলা থাকে। কে কি বলছেন তারা সবই বোঝেন। কিন্তু তাদের মুখে কুলুপ আঁটা থাকে। তারা কোন কথা বলেন না। সময়মতো প্রতিশোধ নেন। মানে নিতেন। এখন এই প্রতিশোধ নেয়াতেও বাধা। অর্থাৎ তারা প্রতিশোধ নিতে পারবেন না।

সুশীল, সোনিয়া ও আমাদের মন্ত্রীরা by কাজল ঘোষ

গত ক’দিন ধরেই টেবিলে টেবিলে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলাম আমাদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সম্পদ নিয়ে। এই আলোচনা রাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষ কতটা নিঃস্ব হতে পারে এমন একটি খবর পত্রিকায় প্রকাশের পর থেকেই।

জাতীয় উন্নয়নে বহুতল ভবনের প্রভাব by ডি এম মওদুদ চৌধুরী

ছোট এই বাংলাদেশে ৫৬,০০০ বর্গমাইল এলাকায় প্রায় ১৬ কোটি  লোকের বাস। এই ঘনবসতিপূর্ণ  দেশে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার সকলের কাম্য। কৃষিপ্রধান এই দেশে সীমিত সম্পদের মধ্যে জমি সর্বপ্রথম বিবেচনায় আসে।

বীরভূমে ‘শতাব্দী এক্সপ্রেস’

সম্প্রতি বীরভূমে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতা
করেন শতাব্দী রায় ষ ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে এবারও তৃণমূল কংগ্রেস থেকে লড়াই করছেন কলকাতার অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম আসনে তাঁর বিপক্ষে লড়ছেন বামফ্রন্টের কামরে এলাহি, কংগ্রেসের সৈয়দ সিরাজ ও বিজেপির জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০৯ সালের নির্বাচনে এ আসনে ৬১ হাজার ৫১৯ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন শতাব্দী রায়। তিনি চার লাখ ৮৬ হাজার ৫৫৩ এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বামফ্রন্টের ব্রজ মুখার্জি পেয়েছিলেন চার লাখ ২৫ হাজার ৩৪ ভোট। এ ছাড়া বিজেপির প্রার্থী তাপস মুখার্জি পেয়েছিলেন ৪৭ হাজার ৬৮ ভোট। গত নির্বাচনে তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে জোট ছিল। এবার দুই দলই আলাদা লড়ছে। ফলে এবার নির্বাচনে লড়াই হচ্ছে চতুর্মুখী। কারণ, এবার বিজেপির হাওয়া এখানেও লেগেছে। ফলে দলটির প্রার্থী জয় বন্দ্যোপাধ্যায় এবার ভালো ভোট টানবেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। এসব দিক বিবেচনায় শতাব্দী রায় এবার আসনটি ধরে রাখতে পারবেন কি না, তাই নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর বিতর্ক চলছে। শতাব্দী সাংসদ হলেও এলাকায় তেমন যাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বীরভূমের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কও খুব ভালো যাচ্ছে না।
বিশেষ করে জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে তাঁর। এ নিয়ে দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গেও শতাব্দীর একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এর ওপর তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ সোমেন মিত্রের সঙ্গে কলকাতায় একটি রক্তদান শিবিরে যোগ দিয়ে মমতার বিরাগভাজন হন তিনি। রাজনৈতিক মহলে খবর রটে, শতাব্দী হয়তো এবার মনোনয়ন পাবেন না। পরে অবশ্য ক্ষমা চেয়ে রেহাই পান তিনি। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শতাব্দীকে মনোনয়ন দিলেও বীরভূমে দলের মধ্যে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। শতাব্দীর পক্ষে-বিপক্ষে দুটি পক্ষ তৈরি হয়। শতাব্দীর জয় ধরে রাখতে তাঁর সামনে দুটি পথ খোলা। সিপিএম প্রার্থীর ভোট কমাতে হবে এবং বিজেপির ভোট বাড়তে দেওয়া যাবে না। তৃণমূল কর্মীদের কাজে লাগিয়ে এ দুটি কাজ তিনি করতে পারলে আসনটি ধরে রাখতে পারেন তিনি। এর সঙ্গে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও তাঁকে মেটাতে হবে। আর তা না হলে বামফ্রন্ট প্রার্থীর কাছে হার মানতে হতে পারে তাঁকে। তবে তৃণমূলের নেতারা মনে করেন, এ আসন তৃণমূলেরই থাকবে। সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন শতাব্দী। প্রতিদিন তিনি বীরভূমের অলিগলিতে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বলছেন, তিনি সাংসদ না হলে মানুষের জন্য কাজ করতে পারতেন না। তাই বলতে হয়, আবার নতুন করে বীরভূমে ছুটছে শতাব্দী এক্সপ্রেস।

এটি কোনো পারিবারিক চায়ের আসর নয় আদর্শিক লড়াই

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী , বরুণ গান্ধী
কংগ্রেসের প্রধান সোনিয়া গান্ধীর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র তাঁর চাচাতো ভাই বরুণ গান্ধীর কঠোর সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, রক্তের সম্পর্কের হলেও কেউ যদি আদর্শিকভাবে বিপরীত মেরুতে চলে যায়, তবে তা পরিবারের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। গান্ধী পরিবারের সদস্য ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাধারণ সম্পাদক বরুণ গান্ধী উত্তর প্রদেশ রাজ্যের সুলতানপুর আসন থেকে লোকসভা নির্বাচনে গতকাল মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তিনি বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক পরিবেষ্টিত হয়ে জেলা প্রশাসন দপ্তরে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান। সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ থেকে স্থানীয় একটি আদালত বরুণকে খালাস দিয়েছেন। গত নির্বাচনের সময় তাঁর কিছু মন্তব্য ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে প্রিয়াঙ্কা বলেন, এ রকম মন্তব্য করলে তিনি নিজের সন্তানকেও ছাড় দিতেন না। গত সপ্তাহেও কংগ্রেসের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বরুণ সম্পর্কে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন প্রিয়াঙ্কা। ওই বৈঠকে তিনি বরুণ বিপথগামী হয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, তাঁকে সঠিক পথের নির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।
ওই বৈঠকের ভিডিওচিত্র ফাঁস হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে প্রিয়াঙ্কা গতকাল বলেন, এটা একটা আদর্শিক লড়াই, কোনো পারিবারিক চায়ের আসর নয়। নেহরু-গান্ধী পরিবারের দুর্গ হিসেবে পরিচিত রায়বেরেলি ও আমেথি আসনের পার্শ্ববর্তী সুলতানপুর আসনে ৩৪ বছর বয়সী বরুণের বিপক্ষে রয়েছেন কংগ্রেসের অমৃতা সিং, সমাজবাদী পার্টির (এসপি) শাকিল আহমেদ এবং বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) পবন পান্ডে। প্রিয়াঙ্কার মা সোনিয়া ও ভাই রাহুল গান্ধী যথাক্রমে রায়বেরেলি ও আমেথি আসন থেকে এবারের লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হন। তাঁদের প্রচার অভিযান ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছেন প্রিয়াঙ্কা। জনমত জরিপ অনুযায়ী, কংগ্রেস এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। ‘শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে গেছেন প্রিয়াঙ্কা’: গান্ধী পরিবারের বড় বোন প্রিয়াঙ্কার সমালোচনার জবাবে বরুণ গান্ধী বলেন, প্রিয়াঙ্কা শালীনতার সীমা (লক্ষ্মণরেখা) অতিক্রম করেছেন। তাঁর (বরুণ) শালীনতাকে দুর্বলতা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তিনি গত এক দশকে পরিবারের কোনো সদস্য বা কোনো রাজনৈতিক দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের ব্যাপারে বক্তব্যে কখনোই শালীনতার সীমা ছাড়াননি। পিটিআই ও এনডিটিভি।

‘এ ধরনের বই লেখা বিশ্বাস ভঙ্গের শামিল’

উপিন্দর সিং
নারায়ণ রাওয়ের মতো কনিষ্ঠ মন্ত্রীদের ওপরও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল সামান্য। তাঁর সাবেক সহযোগী সঞ্জয় বারুর পর এবার সাবেক কয়লাসচিব পি সি পারাখের লেখা বইয়েও একই ধরনের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ক্রুসেডার অর কনসপিরেটর?
কোলগেট অ্যান্ড আদার ট্রুথস নামে বইটি লেখেন পারাখ। সঞ্জয় বারু লেখেন দি অ্যাকসিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার- দ্য মেকিং অ্যান্ড আনমেকিং অব মনমোহন সিং। মনমোহনের মেয়ে উপিন্দর সিং তাঁর বাবাকে নিয়ে বারুর এ ধরনের বই প্রকাশের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, এটি বিশ্বাস ভঙ্গের শামিল। সরকারপ্রধানের কর্তৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে প্রকাশিত একাধিক বইয়ের সমালোচনার জবাব দিয়ে মনমোহনের বড় মেয়ে উপিন্দর সিং বলেন, সঞ্জয় বারুর বইয়ে যা লেখা হয়েছে, তা ‘পেছন থেকে ছুরিকাঘাত...বড় ধরনের বিশ্বাস ভঙ্গ...এবং একটি অপকর্ম, অনৈতিক চর্চা’ ছাড়া আর কিছুই নয়। পিটিআই, জি নিউজ।

‘মার্কেসের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়’

গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
কলম্বিয়ার নোবেলজয়ী ঔপন্যাসিক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। টানা আট দিন হাসপাতালে থেকে কয়েক দিন আগে তিনি বাড়িতে ফেরেন। তিনি দুর্বলতা কাটিয়ে উঠলেও বয়সের কারণে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। লেখকের পরিবারের সদস্যরা গত সোমবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। ৮৭ বছর বয়সী মার্কেস মেক্সিকোর সিটি হাসপাতাল থেকে ফেরার মাত্র এক সপ্তাহ পরই পরিবারের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে শারীরিক জটিলতার তথ্য জানানো হলো।
হাসপাতালে তাঁর ফুসফুস ও মূত্রনালির সংক্রমণের চিকিৎসা হয়। বিবৃতিতে মার্কেসের স্ত্রী মার্সেদেস এবং দুই ছেলে রডরিগো ও গনজালো জানান, মার্কেসের অবস্থা স্থিতিশীল। কিন্তু বার্ধক্যজনিত কারণে কিছু জটিলতা রয়েছে। কলম্বিয়ার নাগরিক হলেও দীর্ঘদিন ধরে মার্কেস মেক্সিকোর রাজধানীতে থাকেন। গত সপ্তাহে হাসপাতাল থেকে তাঁকে বাড়িতে নেওয়া হয়। এএফপি।

উপজেলা নির্বাচন ও ইসির প্রহসন

উপজেলা নির্বাচনে অনেক কেন্দ্রে সংঘর্ষ
ঘটলেও ইসি ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে
ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি ও সহিংসতার মধ্য দিয়ে পঞ্চম পর্বের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ফুটেজ ও সংবাদপত্রের শিরোনাম থেকে নির্বাচনী অপরাধের ব্যাপ্তি ও নির্বাচনব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা পাওয়া গেছে। উদাহরণস্বরূপ, নির্বাচনের পরের দিনের প্রথম আলোর হেডলাইন ছিল: ‘নির্বাচনব্যবস্থা তছনছ, প্রশ্নের মুখে আওয়ামী লীগ’ (২ এপ্রিল ২০১৪)। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান। কিন্তু এটি সুস্পষ্ট যে কমিশন তার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে প্রথম দিকে সাফাই গাইলেও কমিশন এখন আইনের দুর্বলতার কারণে নির্বাচনে কিছু অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করছে। ক্রমবর্ধমান অনিয়মের মুখে কমিশনের সদস্যরা বলছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবেদন না দিলে কমিশনের পক্ষ থেকে কিছুই করার থাকে না। অর্থাৎ, কমিশন সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর, যাঁরা উপজেলা নির্বাচনে রিটার্নিং ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন, সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। কমিশন বস্তুত ‘পোস্ট অফিস’-এর ভূমিকা পালন করে। তাই কমিশন এখন নির্বাচনী ফলাফল বাতিল করার ক্ষমতা চাইছে, যে ক্ষমতা বর্তমানে তাদের নেই বলে তারা দাবি করছে (আলোকিত বাংলাদেশ, ৬ এপ্রিল ২০১৪)। কমিশন নিজেদের ক্ষমতাহীনতার, বিশেষত তাদের ফলাফল বাতিলের ক্ষমতা নেই বলে যে দাবি করছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ ব্যাপারে আমাদের উচ্চ আদালতের একাধিক সুস্পষ্ট রায় রয়েছে।
তাই রিটার্নিং কর্মকর্তার অসহযোগিতার মুখে কমিশনের সদস্যদের পক্ষে কিছুই করার নেই—এই দাবির মাধ্যমে জনগণকে শুধু বিভ্রান্তই করছেন না, তাঁরা নিজেদের সততা, নিরপেক্ষতা ও যোগ্যতা সম্পর্কে জনমনে বিরাজমান ব্যাপক সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করছেন। এ কথা সত্য যে হালনাগাদকৃত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০১৩-এর ৩৯ ধারায় কতিপয় পরিস্থিতিতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে যেকোনো ভোটকেন্দ্রের নির্বাচন বন্ধ রাখবার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। ভোট গ্রহণ বন্ধ করা হলে অবশ্য প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবগত করবেন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা সেই ঘটনা অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করবেন। আর ওই ভোটকেন্দ্রের ওপর সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার সার্বিক ফলাফল নির্ধারণ নির্ভর করলে কমিশন ওই ভোটকেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। এ ছাড়া নির্বাচন বিধিমালার ৫৫ ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচনী বিরোধের ক্ষেত্রে নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে ‘নির্বাচনী দরখাস্ত দাখিল ব্যতীত, নির্বাচন সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না’। অর্থাৎ, নির্বাচন বিধিমালায় সুস্পষ্টভাবে কমিশনকে নির্বাচন স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। প্রসঙ্গত, উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮-এর ৬৩ ধারার ক্ষমতাবলে কমিশন নিজেই নির্বাচন বিধিমালা প্রণয়ন এবং তা সংশোধন করতে পারে। এর জন্য জাতীয় সংসদের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। তাই কমিশন ইচ্ছা করলেই যেকোনো দিন বিধি সংশোধন করে নির্বাচন বাতিল করার সুস্পষ্ট ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারে। উল্লেখ্য, ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের বহু কথিত অতুলনীয় ক্ষমতার ব্যাপারে জনশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা নেই। ফলে আমাদের কমিশন ভারতীয় কমিশন থেকে অনেক বেশি ‘ক্ষমতায়িত’। উপরন্তু, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন বাতিল করার ক্ষমতা সুস্পষ্টভাবে না দেওয়া থাকলেও আমাদের উচ্চ আদালতের মতে, নির্বাচন কমিশনের সেই ক্ষমতা রয়েছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায় রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আলতাফ হোসেন বনাম আবুল কাশেম মামলার [৪৫ডিএলআর (এডি)(১৯৯৩)] রায়ে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সর্বসম্মত রায়ে বলেন: ‘“তত্ত্বাবধান, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণে”র বিধানের অধীনে নির্বাচন কমিশনকে যে অন্তর্নিহিত ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে তার অর্থ হল যে, শুধুমাত্র সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে কমিশনের আইনি বিধিবিধানের সঙ্গে সংযোজনেরও ক্ষমতা রয়েছে।’ আইনি বিধিবিধান প্রণয়ন করার ক্ষমতা একমাত্র আইনসভার। কিন্তু সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের খাতিরে আমাদের সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে সেই ক্ষমতাও দিয়েছে। অর্থাৎ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিধিবিধানের সীমাবদ্ধতা ও অস্পষ্টতা দূর করার ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে। প্রসঙ্গত, অনিয়মের তদন্ত করা আইনি বিধিবিধানের সঙ্গে সংযোজন করার ক্ষমতার অংশ [আলতাফ হোসেন বনাম আবুল কাশেম]। উল্লিখিত রায়ে আরও সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: ‘নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং রিটার্নিং অফিসার বা প্রিসাইডিং অফিসার কর্তৃক কোনো গোলযোগের বা কারচুপির রিপোর্ট না দেওয়ার কারণে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ করার কোনো ক্ষমতা নেই বলে যে সাধারণ নিয়ম রয়েছে তা সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি ইস্যুকৃত ব্যালট পেপার থেকে বা নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা থেকে ভোট প্রদানের হার বেশি হয়, তাহলে কমিশন হস্তক্ষেপ করতে পারে, সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে বলে রিপোর্ট প্রদান সত্ত্বেও।’ নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী ফলাফল বাতিলের ক্ষমতা সম্পর্কে আমাদের উচ্চ আদালতে আরও রায় রয়েছে। নূর হোসেন বনাম মো. নজরুল ইসলাম মামলার [৪৫বিএলসি (এডি)(২০০০)] রায়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কমিশনের নির্বাচনী ফলাফল বাতিলের এবং নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে বলে সুস্পষ্ট রায় দেন।
ওই মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নূর হোসেন, মো. নজরুল ইসলামসহ ১৪ জন সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে মো. নজরুল ইসলাম জয়লাভ করেন। নির্বাচনের দিন নূর হোসেনের নির্বাচনী এজেন্ট প্রথমে কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট এবং পরবর্তী সময়ে দুটি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উত্থাপন করেন। একই দিন তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছেও অনুরূপ অভিযোগ করেন। ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা অভিযোগের প্রতি কোনোরূপ কর্ণপাত করেননি; বরং রিটার্নিং কর্মকর্তা সব কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফল একত্র করে মো. নজরুল ইসলামকে বিজয়ী ঘোষণা করেন এবং ফলাফল গেজেটে প্রকাশের জন্য কমিশনে প্রেরণ করেন। নূর হোসেনের নির্বাচনী এজেন্টের আরেকবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন একজন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার দিয়ে তদন্ত করে অভিযোগকৃত দুটি কেন্দ্রে গোলযোগের প্রমাণ পায়, যার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন কেন্দ্র দুটির নির্বাচন বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। পরবর্তী সময়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা কর্তৃক ঘোষিত নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামের একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ‘নির্বাচন-পরবর্তীকালে অভিযোগ’ উত্থাপনের অজুহাতে কমিশনের নির্বাচনী ফলাফল বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ বলে রায় দেন, যার বিরুদ্ধে নূর হোসেন আপিল বিভাগের শরণাপন্ন হন। প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ হাইকোর্টের রায় খারিজ করে দেন। বিচারপতি এবাদুল হকের লিখিত এবং ১৯৯৮ সালের ১৩ এপ্রিল ঘোষিত রায়ে বিচারপতিরা বলেন: ‘আমরা এ কথা পুনর্ব্যক্ত না করে পারি না যে, নির্বাচন চলাকালে গোলযোগের,
ব্যালট পেপার কারচুপির বা নির্বাচন সঠিক, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়নি বলে রিপোর্ট বা অভিযোগ উত্থাপিত হলে, উক্ত রিপোর্ট বা অভিযোগের সত্যতা যাচাইপূর্বক কমিশনের ফলাফল বাতিল ও পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক। কিন্তু নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচন-পরবর্তী অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচনী ফলাফল বাতিল করার কমিশনের সিদ্ধান্ত সঠিক হবে না।’ এ প্রসঙ্গে আদালত এ এফ এম শাহ আলম বনাম মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য [৪১ডিএলআর(এডি) (১৯৮৯)] মামলার রায় উদ্ধৃত করেন, যে রায়ে আগে আপিল বিভাগ বলেন: ‘নির্বাচন নেই অর্থাৎ গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র অব্যাহত রাখার জন্য নির্বাচন প্রয়োজন এবং বিকৃত অথবা ভোটারবিহীন নির্বাচন গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে।’ তাই বিধিতে প্রদত্ত কমিশনের রিভিউ করার ক্ষমতা সততা, সঠিক ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য আবশ্যক। প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিতর্কিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আমাদের উচ্চ আদালতের এ মতামত অত্যন্ত প্রণিধানযোগ্য। পরিশেষে শোনা যায় যে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি ও সহিংসতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন এলাকার রিটার্নিং ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের এসব অভিযোগের ব্যাপারে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে। আমরা জানি না, এর মাধ্যমে কমিশন কার চোখে ধুলা দেওয়ার চেষ্টা করছে! কারণ, অভিযোগ কিন্তু এসব কর্মকর্তার অনেকের বিরুদ্ধেই, যাঁরা হয় নিজেরাই বিভিন্ন ধরনের নির্বাচনী অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কিংবা তাঁরা এসব অপরাধের অভিযোগ আমলে নেননি। তাই আমরা মনে করি, কমিশনের এই উদ্যোগ আরেকটি প্রহসন বৈ কিছুই নয়!
ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক।

এই দিন দিন নয়, আরও দিন আছে...

৫ জানুয়ারির প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন এবং সম্প্রতি কয়েকটি ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচন নিয়ে গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের যথেষ্ট সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু তাতে কী? এসব প্রতিবেদন ও সমালোচনায় আওয়ামী লীগের কী এসে যায়! তারা তো কৌশল ও শক্তি প্রয়োগ করে তাদের লক্ষ্য অর্জন করে ফেলেছে। বাংলাদেশে মিডিয়া ও পর্যবেক্ষকদের সমালোচনায় রাজনৈতিক দলের বা সরকারের কিছু যায়-আসে না। দল ও সরকার জানে যে এসব সমালোচনা দুই বা তিন মাস থাকবে। তারপর নতুন ইস্যু আসবে। নতুন সমালোচনা শুরু হবে। ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে ‘নির্বাচিত’ এমপি বা মন্ত্রীদের কথা বলতে বা কাজ করতে কোনো সমস্যা হচ্ছে? ১৫৩ জন সাংসদ যে জনগণের ভোট পেয়ে আসেননি, তাতে জাতীয় সংসদে গলাবাজি করতে সংকোচ হচ্ছে তাঁদের? বর্তমান জাতীয় সংসদের কয়েকজন সাংসদ সংসদকক্ষকে আওয়ামী লীগের ‘সভাকক্ষ’ বানিয়ে ছেড়েছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশন তাঁদের কাছে বিরোধী দল ও নেতাদের বিরুদ্ধে খিস্তিখেউড়ের জায়গা। আইন প্রণয়নের জন্য বিতর্ক সভা নয়। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি ও নেতাদের উদ্দেশে শুধু একটা কথা বলি: প্রয়াত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের সেই কথাটি অফিসের টেবিলে লিখে রাখুন। ‘এই দিন দিন নয়, আরও দিন আছে।’ আমাদের ধারণা, বিএনপির কোনো টিম আওয়ামী লীগের সরকারের সব কাণ্ডকীর্তি লিপিবদ্ধ করছে। বিচারব্যবস্থা থেকে শুরু করে বালুভর্তি দুই ট্রাকের পাহারা, মামলা আর মামলা, পুলিশ দিয়ে অফিস ঘেরাও, জামিন নামঞ্জুর, কারা নির্যাতন, সম্ভব হলে সংবিধান সংশোধন ও আরও বহু কীর্তি। অনুমান করি, আওয়ামী লীগের সরকারের নির্দেশিত দমন-পীড়নের সব রকম পথই বিএনপি অনুসরণ করতে চেষ্টার ত্রুটি করবে না। অবশ্য যদি কোনো দিন বিএনপি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে, তবে বিএনপির সেই নেতৃত্ব যদি ক্ষমাশীল হয়, তাহলে ভিন্ন কথা। যদি প্রতিশোধপরায়ণ হয়, তাহলে সেই দিনের কথা কল্পনা করলে শিউরে উঠতে হয়।
আমরা প্রার্থনা করব, নির্বাচিত বিএনপির নেতৃত্ব যেন ক্ষমাশীল হয়। আওয়ামী লীগের সরকার যে এত দমন-নিপীড়ন করছে, তার পেছনে তাদের একটা প্রচণ্ড মনোবল রয়েছে। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগকে কেউ আর কোনো দিন নির্বাচনে পরাজিত করতে পারবে না।’ হয়তো নির্বাচনে জেতার সব কৌশল আওয়ামী লীগ রপ্ত করে ফেলেছে। এমনও হতে পারে, সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা দেখা দিলে দেশে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হতে পারে, যাতে বিজয়ী দল ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারবে না। সেই ব্যবস্থাও হয়তো আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব করে রেখেছেন। সে রকম কিছু আলামত মাঝেমধ্যে গণমাধ্যমে পাওয়া যায়। ইতিহাস ইতিহাসের মতোই এগোবে। এ ব্যাপারে বাধা সৃষ্টি করা আমাদের কারও পক্ষে সম্ভব নয়। শুধু এটুকু আবার বলব: ‘এই দিন দিন নয়, আরও দিন আছে।’ এই কথা যদি বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, তাহলে তাদের দমন-নিপীড়নের মাত্রা কমে আসতে পারে বলে মনে হয়। আওয়ামী লীগের কিছু নেতা হয়তো বিদেশে চলে যেতে পারবেন। সবাই তো আর পারবেন না। এত হম্বিতম্বি করে কী লাভ? আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সব দল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সহিষ্ণুতা ও পরস্পরের প্রতি আস্থার মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনা করলে সারা জীবন সবাই সম্মানের সঙ্গে রাজনীতি করতে পারবেন। সব দলই যেন মনে রাখে, সরকার পরিবর্তনশীল। বিদেশি শক্তির ওপর ভরসা করে টিকে থাকতে চাইলে তা সব সময় সম্ভব হয় না। বিএনপিও একদিন হাওয়া ভবনের দাপটে নিজেদের চিরস্থায়ী ভেবেছিল। বাস্তবে তা ঘটেনি। আজ দুই পুত্রকে নির্বাসিত জীবনযাপন করতে হচ্ছে। এ রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি যে হবে না তা কে বলতে পারে!
দুই বিএনপিসহ সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী অন্যান্য বিরোধী দল এখনো সরকারের কাছে সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সংসদ নির্বাচনের জন্য আলোচনার আহ্বান জানায়নি। আমার এই কলামে আগেও লিখেছিলাম, বিরোধী দলগুলোকে এ ব্যাপারে আলোচনার প্রস্তাব দিতে হবে। আমাদের ধারণা, সরকার এই আলোচনার প্রস্তাব দেবে না। দেশে একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক অবস্থা সৃষ্টির জন্য একটি গ্রহণযোগ্য সংসদ নির্বাচনের বিকল্প নেই। কাজেই বিরোধী দলগুলোকে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। সংবাদপত্র সূত্রে জানতে পেরেছি, ‘রোজার পর বিএনপি আন্দোলন গড়ে তুলতে চায়।’ বিএনপির উদ্দেশে আমরা আবার বলতে চাই: আপনারা নির্বাচনের ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিন। আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করুন। আলোচনা ব্যর্থ হলে আন্দোলনের কথা ভাববেন। আগে নয়।
তিন উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, সহিংসতা, ব্যালট বাক্স ছিনতাই ইত্যাদির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছে। উপজেলা নির্বাচনের ঘটনাবলি প্রমাণ করেছে, সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিয়ে খুব ভুল করেনি। তারা আগেই বুঝতে পেরেছিল আওয়ামী লীগের নীলনকশা। উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একটি আসনও না পেলে সরকার পরিচালনায় কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি হতো না। এ রকম উপজেলা নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ এমন ভোট কারচুপি করতে পারলে, সরকার বদলের জন্য সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তাদের নতজানু প্রশাসন কী কাণ্ড করত, তা এখন কিছুটা কল্পনা করা যায়। মনে হয়, সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে ১০টা আসনেও জিততে দেওয়া হতো না। ৫ জানুয়ারির আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই গর্ব করে বলতেন: ‘তাঁর শাসনামলে পাঁচ হাজার স্থানীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’ কথাটা সত্যি। কিন্তু সাম্প্রতিক উপজেলা নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী আর এ কথা বলতে পারবেন? এখন কি বিএনপির আগের অভিযোগটিই ঠিক প্রমাণিত হলো না? দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপির পক্ষে সংসদ নির্বাচনে যাওয়া কি আর সম্ভব? যাওয়া উচিত? আওয়ামী লীগ ও বর্তমান সরকার উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপি করে নিজেরাই সেই পথ বন্ধ করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে একেবারে প্রায় শূন্যের ঘরে নামিয়ে এনেছে ‘নির্বাচন কমিশনের’ বিশ্বাসযোগ্যতা। আওয়ামী লীগ ও সরকার বেশি চালাকি করতে গিয়ে নির্বাচন ব্যাপারটিই তামাশায় পরিণত করেছে। এর মূল্য নিশ্চয় আওয়ামী লীগকে একদিন দিতে হবে। ‘আজিজ মার্কা নির্বাচন’ করে বিএনপিকেও একদিন মূল্য দিতে হয়েছিল। ‘অতি চালাকের গলায় দড়ি’—কথাটির নিশ্চয় একটা অর্থ আছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ বা প্রশাসন উপজেলায় ভোট ডাকাতি করেনি। যা হয়েছে তা করেছে বিএনপি ও জামায়াত।’ অনুমান করি, প্রধানমন্ত্রী তাঁর কোনো বিশ্বস্ত এজেন্সি থেকে ‘সঠিক খবর’ পেয়ে এমন মন্তব্য করেছেন। এই উক্তির মধ্য দিয়ে তিনি পরোক্ষভাবে ‘একাত্তর টিভি’, ‘এটিএন নিউজ’, ‘সময় টিভি’, ‘ইনডিপেনডেন্ট টিভি, ‘এটিএন বাংলা’সহ প্রায় সব টিভি চ্যানেল এবং প্রায় সব সংবাদপত্রকে ভুল ও বিকৃত রিপোর্ট প্রচারের জন্য দায়ী করেছেন। ‘বিএনপি ও জামায়াত’ উপজেলায় ভোট ডাকাতি করেছে, গণমাধ্যমে কিন্তু এমন খবর প্রচারিত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সব গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষ কি তাদের ‘ভুল স্বীকার’ করতে প্রস্তুত রয়েছে? কোনটা ঠিক? গণমাধ্যমের রিপোর্ট ও ছবি? নাকি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য? এ ব্যাপারে আরও একটি কথা বলা যায়। উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত যদি সন্ত্রাস ও ভোট ডাকাতি করেই থাকে, তাহলে তাদের গ্রেপ্তার করা হলো না কেন? সেই সব ভোটকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়নি কেন? নির্বাচন কমিশন বা স্থানীয় প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল না কেন? বিএনপি ও জামায়াতের যেসব নেতা ভোট জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁদের আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। সেই সব কেন্দ্রে আবার ভোট হোক। আশা করি প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সহযোগিতা করবেন।
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর: উন্নয়ন ও মিডিয়াকর্মী।

প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর মানুষটি

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম
নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ ও বাঙালির সৃজনশীল মননজগতের একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। এ দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, সমাজ, পরিবেশ ও নগরায়ণ বিকাশের ক্ষেত্রে কাজ করে চলেছেন নিরন্তর। পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের সার্থক নিদর্শন। সততা ও নিষ্ঠার সাধক, শিল্প-সাহিত্যের অসামান্য বোদ্ধা, মানুষ গড়ার কারিগর—এ রকম কত অভিধায় তাঁকে ডাকা যায়। মেধা-মনন ও মানবকল্যাণে নিবেদিত নজরুল ইসলাম বহুমাত্রিক চরিত্রের একজন মানুষ। তাঁর নিত্যনতুন নানামুখী কার্যক্রম গড়ে উঠেছে বহমান জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে। দেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নজরুল ইসলামের সৃজনশীলতার কর্মক্ষেত্র বহুমুখী হয়েছে।
স্কুলজীবন থেকেই পাঠক্রমবহির্ভূত কর্মকাণ্ড—স্কাউটিং, বিতর্ক, ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, দেয়াল পত্রিকা এবং খেলার মাঠে ছিল তাঁর অবাধ বিচরণ ও অংশগ্রহণ। নজরুল ইসলাম প্রথমত একজন ভূগোলবিদ। ভূগোল শাস্ত্রে রেকর্ড নম্বরসহ অনার্স ও মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। তাঁর শিক্ষকতা জীবন দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য। জ্ঞানী ও পণ্ডিত মানুষটির পড়ানোর পদ্ধতি আকর্ষণীয়। পড়ানোর পদ্ধতি হলো গভীর বিষয়কে অত্যন্ত সহজ-সরলভাবে গল্প বলার ঢঙে শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্লেষণ করা। ক্লাসের গতানুগতিক পাঠক্রমের বাইরে এসে নিজস্ব স্টাইলে শৈল্পিক মননের সঙ্গে মেধাকে একত্র করে এমন এক শৈলীতে পাঠদান করেন, যা শিক্ষার্থীদের চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে রাখে। সংবেদনশীল শিক্ষক নজরুল ইসলাম শ্রেণীকক্ষে পাঠদান করেই কাজ সমাপ্ত করেননি। শিক্ষার্থীদের একান্ত ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখের ভাগীদার হয়েছেন। প্রয়োজনে সহায়তা করেছেন। সফল শিক্ষক নজরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে গবেষণা করেছেন। আশির দশকে ব্যাংককে আন্তর্জাতিক পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রতিষ্ঠান এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এআইটি) নগর উন্নয়ন বিষয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
১৯৭২ সালে নজরুল ইসলাম নগর গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে নগরের ভূমিব্যবস্থা, নগরের আবাসন, নগরের দরিদ্র, নগরের বস্তি সমস্যা, নগরের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নগর নান্দনিকতা, নগর পরিচালনা বা গভর্ন্যান্স, নগরায়ণ নীতিমালা ইত্যাদি বিষয়ে চার দশকের অধিক সময় তিনি গবেষণা, গবেষণা তত্ত্বাবধান, সেমিনার, প্রকাশনা, মনোগ্রাফ, জার্নাল, বুলেটিন ইত্যাদি নিয়ে নগরকে ঘিরে কাজ করছেন। এর মধ্যে তাঁর বহু প্রকাশনা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও জাতীয়ভাবে সমাদৃত হয়েছে। নগরবিশেষজ্ঞ ও গবেষক নজরুল ইসলামের ভালোবাসার শহর ঢাকা। শরীয়তপুর তাঁর গ্রামের বাড়ি হলেও ঢাকা শহরেই বেড়ে ওঠা। এ শহরেই শিক্ষাজীবন, চাকরিজীবন কাটিয়েছেন। দীর্ঘদিন বসবাসের কারণে ঢাকার বিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছেন, নিজের মধ্যে ধারণ করেছেন। ঢাকার ওপর গবেষণা করে একজন ঢাকাবিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। ঢাকা ক্রমে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, তা চিহ্নিত করেছেন। সমাধানের রূপরেখা দিয়েছেন। ঢাকাকে নানা দৃষ্টিতে পর্যালোচনা করে রচনা করেছেন অনবদ্য গ্রন্থ ঢাকা এখন ও আগামীতে। নজরুল ইসলামের চাচা প্রখ্যাত শিল্পী আবদুর রাজ্জাক। তাই কৈশোর থেকেই তাঁর মধ্যে শিল্পবোধের বীজ রোপিত হয়। পরবর্তী সময়ে আমরা দেখলাম, তিনি হয়ে উঠলেন একজন শিল্পরসিক, শিল্পবিশেষজ্ঞ, শিল্প সংগ্রাহক, শিল্প ও শিল্পীর পৃষ্ঠপোষক আর প্রথম শ্রেণীর শিল্প সমালোচক। রচনা করলেন শিল্প ও শিল্পী এবং কনটেম্পরারি আর্ট অ্যান্ড আর্টিস্টি: বাংলাদেশ অ্যান্ড বিয়ন্ড নামে দুটি অনবদ্য গ্রন্থ। নজরুল ইসলাম একজন প্রকৃতিপ্রেমী পরিবেশবিদ। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সহসভাপতি হিসেবে পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘদিন আন্দোলনের প্রথম সারিতে রয়েছেন। বৈশ্বিক পরিবেশ বিপর্যয়ের বাইরে দেশের নদী দখল, বৃক্ষনিধন, পাহাড় কাটা,
জলাশয় ভরাট করা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে জ্ঞানগর্ভ সেমিনার করেছেন। নজরুল ইসলাম একজন দক্ষ প্রশাসকও। নিজে যেমন কাজ করতে ভালোবাসেন; তাঁর সান্নিধ্যে যাঁরা থাকেন, তাঁদের দিয়েও কাজ করিয়ে নেন। ওয়াসার চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি শহরতলির মধ্যবিত্ত ও বস্তির নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং পয়ঃপ্রণালি উন্নয়নের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মজুরি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দেশের উচ্চশিক্ষা সুচারু ও সুশৃঙ্খল করতে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। মুক্তবুদ্ধির আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ নজরুল ইসলামের বাচনভঙ্গি সাবলীল। প্রাঞ্জল শব্দচয়ন, ভাষার ওপর ঈর্ষণীয় দখল আর বক্তব্যে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট হওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁর বক্তব্য শ্রোতাদের আকৃষ্ট করে রাখে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ। স্ত্রী, কন্যা, জামাতা, নাতি—সবাইকে নিয়ে থাকতে ভালোবাসেন। একই সঙ্গে রয়েছে বন্ধুবান্ধব, অনুজ, অগ্রজ গুণগ্রাহী। ষাটের দশকে ভূগোল বিভাগে পড়তে এসে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়। নানা কর্মক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করেছি। ছোট বোনের দাবি নিয়ে পেয়েছি তাঁর অপরিসীম স্নেহ, পরামর্শ ও পথনির্দেশনা। নজরুল ভাইয়ের ৭৫তম জন্মদিনে মনে হলো, এই বর্ণাঢ্য মানুষটিকে কত দিন থেকে চিনি। নজরুল ভাইয়ের সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখ মনে করিয়ে দেয় কোনো রকম ক্লেদ-গ্লানি তাঁকে স্পর্শ করেনি। প্রাণপ্রাচুর্যে ভরপুর উদার মানুষটি সব সময় বলছেন, ‘প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে মোরে আরো আরো দাও প্রাণ’। আমি তাঁর সুদীর্ঘ ও সৃজনশীল জীবন কামনা করি। জয়তু নজরুল ইসলাম।
কাজী মদিনা: অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক।

এই দিন দিন নয়, আরও দিন আছে... by মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর

৫ জানুয়ারির প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন এবং সম্প্রতি কয়েকটি ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচন নিয়ে গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের যথেষ্ট সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু তাতে কী? এসব প্রতিবেদন ও সমালোচনায় আওয়ামী লীগের কী এসে যায়! তারা তো কৌশল ও শক্তি প্রয়োগ করে তাদের লক্ষ্য অর্জন করে ফেলেছে। বাংলাদেশে মিডিয়া ও পর্যবেক্ষকদের সমালোচনায় রাজনৈতিক দলের বা সরকারের কিছু যায়-আসে না। দল ও সরকার জানে যে এসব সমালোচনা দুই বা তিন মাস থাকবে। তারপর নতুন ইস্যু আসবে। নতুন সমালোচনা শুরু হবে।

জিয়া-তারেকের কুৎসা রটনাকারীরা টিকবে না

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যারা কুৎসা রটাচ্ছেন তারা টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মিথ্যাচারে’র প্রতিবাদে ছাত্রদলের এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। তারেক রহমানকে কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে তুলনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ফিদেল কাস্ত্রো যখন সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন তখন তিনি আদালতে বলেছিলেন, আমাকে ফাঁসি দেন, ইতিহাস আমাকে ধারন করবে। ঠিক একইভাবে যারা জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন তারা টিকবে না। তারেক রহমানকে ইতিহাস ধারন করবে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদের উদ্দেশ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে যখন হত্যা করা হয় তখন তিনি কোথায় ছিলেন? তিনি তো রক্ষীবাহিনীর প্রধান ছিলেন। তখন আওয়ামী লীগের কোন নেতা এর প্রতিবাদ করেননি।
একমাত্র কাদের সিদ্দিকী সাহেব এর প্রতিবাদ করেছিলেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের দেয়া বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারেক রহমান ইতিহাসের সত্য বলেছেন। বিভিন্ন বই থেকে তিনি এ সত্য উদঘাটন করেছেন। তারেক রহমানের বক্তব্যে ভুল থাকলে প্রমাণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,  কিন্তু যে ভাষায় আওয়ামী লীগের নেতারা কথা বলছেন, তাতে প্রমাণ হয় যে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। বিএনপির মুখপাত্র বলেন, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক জিয়াকে নিয়ে মিথ্যাচার নতুন কোন ঘটনা নয়। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছে, তাদের নীলনকশার অংশ। তিনি বলেন, তারেক শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি সেই রাজনীতি ধারণ করেছেন, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার রাজনীতি। তাই তাঁকে হেয় করলে আধিপত্যবাদের নীলনকশা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। ছাত্রদলকে শক্তিশালী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন কঠিন সময়। এ সময় বেরিয়ে আসতে না পারলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব টিকবে না। এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে হবে।