Saturday, March 15, 2025
নেতৃত্বের কাড়াকাড়ি বা ব্যানারবাজি জুলাই আন্দোলনে ছিল না -বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম
আন্দোলনে ছাত্রলীগের (এখন নিষিদ্ধ সংগঠন) বিদ্রোহী একটা অংশেরও ভূমিকা ছিল বলে জানান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়কের দায়িত্ব নেওয়া নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘ছাত্রলীগ থেকে বের হয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়াদের আমরা বিদ্রোহী বা বিপ্লবী ছাত্রলীগ বলি। ছাত্রলীগের বিদ্রোহী অংশ বের না হলে আন্দোলনটা বড় হতো না।’
জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে লেখা একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা ছিলেন নাহিদ ইসলাম। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক বই ‘জুলাই: মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। বইটি প্রকাশ করেছে প্রথমা প্রকাশন।
জুলাই–আগস্টের উত্তাল দিনগুলোর কথা স্মরণ করে নাহিদ বলেন, আন্দোলনে সব ছাত্রসংগঠনের একটা বোঝাপড়া একদম শুরু থেকেই ছিল। তারা (ছাত্র সংগঠনগুলো) তাদের মতো করে লোকবল পাঠিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও একধরনের অলিখিত সমঝোতা ছিল। যদিও কখনো বসে পরিকল্পনা করা হয়নি।
অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে, আমরা যারা এই আন্দোলনে সামনের দিকে ছিলাম, আমার জায়গা থেকে, কথা বলার সময় এখনো আসেনি। সেই সময়টা আরও পরে আসবে, যখন সব কথা বলা যাবে। আবার এটাও সত্য যদি আমরা এখন কিছু কথা বলে না রাখি, তাহলে অনেক ঘটনার বিভিন্ন ইন্টারপ্রিটেশন (ব্যাখ্যা) হবে বা হচ্ছেও। সেই জায়গা আসিফ (উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ) এই কাজটা করেছেন। এটা সবার জন্যই সহায়ক হবে। আসিফের বইতে মোটামুটি একটা সংক্ষিপ্ত বর্ণনা আছে। এই আন্দোলনটা একটা পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে, আবার পরিকল্পনার বাইরে গিয়েও ঘটনাপ্রবাহ এগিয়েছে। মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কানেক্ট করতে হবে, এটাই ছিল এই আন্দোলনের মূল পরিকল্পনা। শুরুতেই আন্দোলনের নেতৃত্ব ও কৌশলের বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা ছিল।’
নাহিদ বলেন, গত ৭-৮ বছর ক্যাম্পাসে ছাত্রদের পক্ষের বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলের বাইরে গিয়ে একেবারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জায়গা থেকে বিভিন্ন সময়ে তাঁরা আন্দোলন করেছেন। তাঁদের একটা ছাত্রসংগঠন ছিল ছাত্রশক্তি। এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আখতার হোসেন (এখন এনসিপির সদস্যসচিব) ক্যাম্পাসে পরিচিত মুখ ছিলেন। কিন্তু আন্দোলনের শুরুতে বোঝাপড়া ছিল যে আখতার হোসেন সামনের দিকে থাকবেন না। এমনকি এমন ব্যাপারও ছিল যে তিনিও সামনের দিকে থাকবেন না।...আন্দোলনের পরিসর বিস্তৃত করার জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরিচয়টা নেওয়া হয়েছিল।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘একটা স্বতঃস্ফূর্ত গণ-অভ্যুত্থান এবং নানা মানুষের অংশগ্রহণ ও অবদান ছিল। আমরা নিজেরাও জানি না, কোথা থেকে কত সহযোগিতা তখন এসেছে। আমি বললে সেটা আমার গল্পই হবে আসলে। আসিফ যখন বইটা লিখছেন, তখন এটা আসিফেরই গল্প। আমাদের প্রত্যেকেরই এই অভ্যুত্থানে আলাদা আলাদা গল্প আছে। এই আলাদা আলাদা গল্পগুলো একটা কালেকটিভ স্টোরি (সামগ্রিক গল্প) তৈরি করবে। আমরা নিশ্চয়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক গল্প বলছি। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসাশিক্ষার্থীরাও নেমে এসেছিলেন। আমি তো এখনো জানি না কুমিল্লা, নরসিংদী বা ঢাকার বাইরে আন্দোলনটা কীভাবে সংগঠিত হয়েছে। তাঁদের গল্পগুলো আরও বেশি করে আসা দরকার।’
এক দফার সিদ্ধান্ত মানুষই নিয়েছে
নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ১৬ জুলাই তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন, আন্দোলনটা সরকারবিরোধী আন্দোলনের দিকে যাবে এবং নিয়ে যেতে হবে। কারণ, ওই সরকারের হাতে ইতিমধ্যেই রক্তের দাগ লেগে গিয়েছিল। এরপর তাঁদের যে ৯ দফা, তার মধ্যে এক দফার বার্তাটা ছিল। কিন্তু তাঁরা প্রথমেই এক দফার দিকে যাননি।
এর কারণ বলতে গিয়ে নাহিদ বলেন, এক দফা বা সরকার পতনের বিষয়টি জনগণের ভেতর থেকে আসতে হয়। মানুষ যখন চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবে, তখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক দফার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু তার আগেই মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিল। শহীদ মিনারে আসলে এক দফার বাইরে অন্য কিছু বলার ক্ষমতা কারও ছিল না। এ ছাড়া ৫ আগস্ট কিন্তু গণভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ছিল না। কর্মসূচিটা ছিল ‘লং মার্চ টু ঢাকা’, ঢাকায় আসতে হবে। ঢাকায় এসে কী করবে, সেই সিদ্ধান্ত মানুষই নেবে।
আন্দোলনের সময় গত বছরের ২৩ জুলাই ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) যে সংবাদ সম্মেলন হয়, সে প্রসঙ্গও তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ডিজিএফআই থেকে বলা হয়েছিল যেন আমরা বলি এটা বিএনপি–জামায়াতের আন্দোলন এবং সব অগ্নিসন্ত্রাস তারা করছে। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে থেকে আমি আরও বলি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিরোধীদলের নেতা–কর্মীদেরও নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আমরা এটার নিন্দা জানাচ্ছি। ফলে এখানে একধরনের মিথষ্ক্রিয়া ঘটেছে এবং এর মধ্য দিয়ে আন্দোলনটা পরিণতির দিকে গেছে।’
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও আবু বাকের মজুমদার (এখন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক) আন্দোলনে মাঠের কর্মসূচির বিষয়টি মূলত দেখতেন বলে জানান নাহিদ। তিনি বলেন, এই দুজনের সঙ্গে রিফাত রশিদ (এখন এনসিপির নেতা), হাসিব আল ইসলাম (এখন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতা) ও আবদুল কাদের (এখন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতা) সমন্বয় করতেন। পেছন থেকে সহযোগিতা করেছেন মাহফুজ আলম (বর্তমান তথ্য উপদেষ্টা) ও আখতার হোসেন। পরে এসে যুক্ত হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (এখন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক)।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আরেকটা ফ্যাসিবাদ তৈরি হবে না, এ রকম একটা রাষ্ট্রকাঠামো বা সমাজব্যবস্থা তৈরি করার জন্য কাজ করতে হবে। জুলাই থেকে আমরা শুরু করেছি, শিখেছি। এই গণতান্ত্রিক লড়াইটা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।’
![]() |
| গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক ‘জুলাই: মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে (ডান থেকে) আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, বইয়ের লেখক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব রিফাত রশিদ। জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা, ১৫ মার্চ। ছবি: তানভীর আহাম্মেদ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মোদি সরকারের জোড়া সমস্যা: উত্তর–দক্ষিণ বিভাজনের কী হবে by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
ভাষা নিয়ে ভাবাবেগ উসকে দেওয়ার পাশাপাশি তামিলনাড়ুর ডিএমকে মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন দ্বিতীয় মোক্ষম চালটি চেলেছেন সংসদের আসন বাড়ানোর বিরোধিতার মধ্য দিয়ে। আগামী বছর, ২০২৬ সালে কেন্দ্রীয় সরকার যদি বন্ধ থাকা জনগণনা শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই অনুযায়ী সংসদীয় কেন্দ্রের সীমানা পুনর্বিন্যাস ঘটিয়ে আসন বৃদ্ধি হয়, তাহলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে গোটা দাক্ষিণাত্য।
জনসংখ্যার অনুপাতে দক্ষিণের পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত পদুচেরির আসন বাড়বে সবচেয়ে কম। সবচেয়ে লাভবান হবে হিন্দি বলয়; এতটাই যে দক্ষিণের সমর্থন ছাড়া স্রেফ হিন্দি বলয়ের রায়ের ওপর নির্ভর করে যেকোনো সর্বভারতীয় দল সরকার গড়তে পারবে।
বিষয়টি চর্চায় আছে অনেক দিনই। কিন্তু ঠিক এই সময়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ত্রিভাষা নীতি রূপায়ণের বিরোধিতার পাশাপাশি সংসদের আসন বৃদ্ধিকে স্ট্যালিন সামনে টেনেছেন রাজনৈতিক কারণেই। আগামী বছর তামিলনাড়ুর পাশাপাশি কেরালা বিধানসভারও নির্বাচন। হিন্দি আগ্রাসন ও সংসদের আসন বৃদ্ধির বিরোধিতাকে তিনি নির্বাচনী ইস্যু করতে চাইছেন।
হিন্দি নিয়ে তামিলনাড়ুর মতো এত তীব্র স্পর্শকাতরতা দক্ষিণের অন্য রাজ্যগুলোয় না থাকলেও সংসদের বহর বৃদ্ধি নিয়ে সবাই শঙ্কিত। লড়াইটাকে স্ট্যালিন তাই উত্তর বনাম দক্ষিণের দ্বন্দ্ব করে তুলতে চাইছেন। ইতিমধ্যে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন। সেখানে গৃহীত সর্বসম্মত প্রস্তাবের সুপারিশ, আগামী ৩০ বছর সংসদের আসন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা হোক।
স্ট্যালিন এক সর্বদলীয় অ্যাকশন কমিটিও গঠন করেছেন, যার কাজ হবে ওই প্রস্তাবের পক্ষে অন্য রাজ্যগুলোর সমর্থন আদায়। সে জন্য ২২ মার্চ বৈঠক ডেকেছেন। দেশের সাত মুখ্যমন্ত্রী ও তিন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে (চন্দ্রশেখর রাও, জগনমোহন রেড্ডি ও নবীন পট্টনায়ক) সেই বৈঠকে যোগ দিতে আমন্ত্রণপত্রও পাঠিয়েছেন। তাঁর কাছে এটা এসপার–ওসপার লড়াই।
প্রাথমিকভাবে স্ট্যালিন সফল। কংগ্রেস–শাসিত কর্ণাটক ও তেলেঙ্গানা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে। কেরালাও আপত্তি করবে না। অন্ধ্র প্রদেশের ‘মোদি–মিত্র’ মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুকেও বাঁচতে হলে এই প্রবাহে গা ভাসাতে হবে। কারণ, অন্ধ্র প্রদেশের আসনসংখ্যাও বাড়বে নামমাত্র। সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব ও ওডিশার মুখ্যমন্ত্রীরা পাশে দাঁড়ালে বিষয়টা শুধু আর বিজেপি বনাম বিরোধীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
জনসংখ্যা, সংসদীয় আসন বৃদ্ধি ও জন্মনিয়ন্ত্রণ নীতি
ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় কোন রাজ্যের কত আসন থাকবে, তা নির্ধারিত হয়ে আসছে জনসংখ্যার নিরিখে। স্বাধীনতার পর ভারতের প্রথম জনগণনা হয়েছিল ১৯৫১ সালে। তখন জনসংখ্যা ছিল ৩৬ কোটি।
১৯৫২ সালে হয় লোকসভার প্রথম নির্বাচন। তখন আসন ছিল ৪৮৯টি। প্রতি ৭ লাখ ৩০ হাজার মানুষের জন্য একজন প্রতিনিধি। ১০ বছর পর দ্বিতীয় জণগননা ১৯৬১ সালে। জনসংখ্যা বেড়ে হয় ৪৪ কোটি। লোকসভার আসন বেড়ে হয় ৫২২। ৮ লাখ ৪০ হাজারের জন্য একজন প্রতিনিধি।
তৃতীয় জনগণনা ১৯৭১ সালে। জনসংখ্যা তখন ৫৪ কোটি ৮০ লাখ। প্রতি ১০ লাখে একজনের প্রতিনিধিত্ব। লোকসভার আসন বেড়ে হয় ৫৪৩, রাজ্যসভার ২৫০। সেটাই শেষ বৃদ্ধি।
তারপর নিয়মমতো প্রতি ১০ বছর অন্তর জনগণনা হয়েছে ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে। শেষ গণনায় জনসংখ্যা ১২১ কোটি ছুঁয়েছে। কিন্তু লোকসভার আসন ৫৪৩টিতেই আটকে আছে। ২০২১ সালে জনগণনা বন্ধ ছিল কোভিডের কারণে। সরকারি হিসাবে যদিও ভারত এখন ১৪০ কোটির দেশ।
১৯৮১ সালের পর ২০১১ পর্যন্ত চারবার জনগণনা সত্ত্বেও লোকসভার আসন না বাড়ার কারণ দেশের জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি। ১৯৭৬ সালে ইন্দিরা গান্ধীর সরকার সারা দেশে জননিয়ন্ত্রণের এক কর্মসূচি গ্রহণ করে। তিনি ভেবেছিলেন, ওই কর্মসূচি দেশের সর্বত্র জন্মহারে সামঞ্জস্য আনবে। জন্ম নিয়ন্ত্রণও হবে। ফলে সেই বছর সংবিধানের ৪২তম সংশোধন ঘটিয়ে বলা হয়, ১০ বছর অন্তর জনগণনা হবে কিন্তু লোকসভার আসনসংখ্যা আগামী ২৫ বছর বাড়বে না।
২০০১ সালে সংবিধানের ৮৪তম সংশোধন ঘটিয়ে সেই সময়সীমা আরও ২৫ বছর বাড়ানো হয়। অর্থাৎ ২০২৬ পর্যন্ত লোকসভার বহর অপরিবর্তিত থাকছে। তারপর জনগণনা ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ শেষে বাড়ানো হবে লোকসভা ও রাজ্যসভার আসন। তেমন ধরে নিয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তৈরি করেছেন নতুন সংসদ ভবন। সেই ভবনে লোকসভার আসনসংখ্যা ৮৮৮। রাজ্যসভায় বসতে পারবেন ৩৮৪ জন।
এই পরিস্থিতিতে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২১ সালের বন্ধ জনগণনা ২০৩১ সালে হলে সেই গণনার ভিত্তিতে লোকসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হবে। সেই অনুযায়ী সংসদের আসন বৃদ্ধি করা যাবে ২০৩৪ সালের লোকসভা ভোটের (যদি ধরে নেওয়া যায় সরকার পুরো ৫ বছর চলবে) সময়।
দ্বিতীয় সম্ভাবনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে (১২১ কোটি) সীমান্ত পুনর্নির্ধারণ করা হবে, যাতে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে লোকসভার আসন বাড়ানো যায়। গোটা দাক্ষিণাত্যের আপত্তি দুই ক্ষেত্রেই।
জনসংখ্যার অনুপাতে আসন বৃদ্ধিতে দক্ষিণের শঙ্কা
বছর ঘোরার আগেই স্ট্যালিন হিন্দির আগ্রাসন ও লোকসভার সম্ভাব্য আসন বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে কেন হইচই ফেলে দিয়েছেন, সেই ভোট–রাজনীতির ব্যাখ্যা আগেই করেছি। দ্রাবিড় জাত্যা ভিমান উসকে দিয়ে বিজেপির মোকাবিলা করে তিনি আরও একবার ক্ষমতাসীন হতে চান।
কিন্তু শুধু ভোটে জেতাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য নয়। জনসংখ্যার অনুপাতে লোকসভার আসন নির্ধারণ করা হলে (এযাবৎ যা হয়ে এসেছে) দক্ষিণের পাঁচ রাজ্যের বৃদ্ধি হবে নামমাত্র। তুলনায় অনেক বেশি বাড়বে হিন্দি বলয়ের আসনসংখ্যা। এতটাই বাড়বে যে বিজেপির মতো সর্বভারতীয় দলের পক্ষে দক্ষিণের সমর্থন ছাড়াই সরকার গড়া সম্ভবপর হবে। সেটা যেমন হবে সরকারি নীতি রূপায়ণে হিন্দি বলয়ের ব্যর্থতাকে পুরস্কৃত করা, তেমনি তা সাফল্যের জন্য দাক্ষিণাত্যের শাস্তি হিসেবে গণ্য হবে।
স্ট্যালিন এটাই বড় করে তুলে ধরে বলছেন, জননিয়ন্ত্রণ নীতি সাফল্যের সঙ্গে রূপায়িত হয়েছে বলে দাক্ষিণাত্য শাস্তি পেতে পারে না। উত্তরের রাজ্যগুলোতে হু হু করে জনসংখ্যা বেড়েছে; কারণ, জন্মনিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ। সেই ব্যর্থতার পুরস্কার তারা পাবে আসনসংখ্যা বাড়িয়ে। অথচ দক্ষিণ শাস্তি পাবে, এটা অন্যায় ও অসহনীয়। এর ফলে জাতীয় রাজনীতিতে গোটা দাক্ষিণাত্য অপ্রাসঙ্গিক ও এলেবেলে হয়ে পড়বে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুই দিক থেকে বঞ্চনার প্রতিবাদে গোটা দাক্ষিণাত্যের নেতৃত্ব নিতে স্ট্যালিন এগিয়ে এসেছেন। তামিল আবেগ উসকে দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যবাসীকে তাঁর পরামর্শ, যত পারুন সন্তান উৎপাদন করুন। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি, কর্ণাটকের সিদ্দারামাইয়া ও কেরালার পিনারাই বিজয়নের সমর্থন তিনি পাচ্ছেন। আবেগ ভাসিয়ে দিলে অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুও পিছিয়ে থাকবেন না। ‘পাউরুটির কোন দিকে মাখন লেগে আছে’, তা তিনি বিলক্ষণ বোঝেন।
বিষয়টি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে বুঝে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আশ্বস্ত করতে চেয়েছেন এই বলে যে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হলেও আনুপাতিক হারে দক্ষিণের আসন কমবে না। স্ট্যালিন পাল্টা জানতে চেয়েছেন, বাড়বে কি? বাড়লেও কতটা? উত্তরের মতো? সে জবাব কিন্তু আসেনি।
আনুপাতিক হারের অর্থ কী, জনসংখ্যা বৃদ্ধির আনুপাতিক হার নাকি লোকসভার মোট আসনের সঙ্গে রাজ্যের আসনের অনুপাত, সে ব্যাখ্যা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিন্তু দেননি। সংশয় বাড়িয়েছে তাঁর সেই নীরবতাও।
জনসংখ্যার নিরিখে লোকসভার সম্ভাব্য চিত্র
জনসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এত দিন লোকসভার বহর বৃদ্ধি যেভাবে ঘটানো হয়েছে, তা অপরিবর্তিত থাকলে এক রকম, না হলে অন্য রকম। প্রথমবার, ১৯৫১ সালের গণনার পর, প্রতি ৭ লাখ+ জনগণের প্রতিনিধি ছিলেন একজন সংসদ সদস্য। দ্বিতীয়বার তা বেড়ে হয় প্রতি ৮ লাখ+ জনগণের জন্য একজন প্রতিনিধি।
তৃতীয়বার ১৯৭১ সালে একজন সংসদ সদস্য প্রতিনিধিত্ব করেন ১০ লাখ+ মানুষের। চতুর্থবার কতজন মানুষপিছু একজন সংসদ সদস্য হবেন? কেউ এখনো তা জানে না। এটা হলো জনসংখ্যার অনুপাতে আসন বাড়ানোর ফর্মুলা। অন্য ফর্মুলা হতে পারে লোকসভার মোট আসনের সঙ্গে প্রতি রাজ্যের আসনের অনুপাত অনুযায়ী আসন বৃদ্ধি।
১৯৭১ সালের জনসংখ্যার হার ও রাজ্যওয়ারি আসন বণ্টনের যে হিসাব, সেটা যদি আনুপাতিক হার হয়, তাহলে জনসংখ্যা যা–ই হোক, রাজ্যের আসনপ্রাপ্তির আনুপাতিক হার একই থাকবে। যেমন এখন তামিলনাড়ুর ভাগে রয়েছে লোকসভার মোট আসনের ৭ শতাংশ।
দাক্ষিণাত্যের পাঁচ রাজ্যের রয়েছে ২৪ শতাংশ আসন।
ভবিষ্যতে সেই হার অপরিবর্তিত থাকবে কি? এখনো কেউ তা জানে না। কারণ, অর্ধশতাব্দী ধরে সেই প্রশ্ন ওঠেইনি। তা ছাড়া সরকার এখনো এ নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেনি।
তবে জনসংখ্যার হারের সঙ্গে মিলিয়ে আসন বাড়ানো হলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের একাংশ একেক ধরনের হিসাব দিয়েছেন। কারও মতে, এর ফলে তামিলনাড়ুর আসন ৩৯ থেকে বেড়ে হবে ৪১, কর্ণাটকের ২৮ থেকে বেড়ে হবে ৩৬, তেলেঙ্গানার ১৭ থেকে ২০, অন্ধ্র প্রদেশের ২৫ থেকে ২৮। কেরালা (২০) ও কেন্দ্রশাসিত পদুচেরির আসন (১) অপরিবর্তিত থাকবে। বাড়বেও না কমবেও না। মোট আসন ১৩০ থেকে বেড়ে হবে মাত্র ১৪৪।
তুলনায় উত্তর প্রদেশের আসন ৮০ বেড়ে হবে ১২৮, বিহারের ৪০ হবে ৭০, মধ্যপ্রদেশ ২৯ থেকে ৪৭, মহারাষ্ট্র ৪৮ থেকে ৬৮, রাজস্থানের আসন ২৫ থেকে বেড়ে হবে ৪৪। দিল্লির ৭ আসন বেড়ে হবে ১২, পশ্চিমবঙ্গের পাওনা ৪২ থেকে বেড়ে ৬০।
অন্য হিসাবে উত্তর প্রদেশের আসন বেড়ে হবে ১৪৩। উত্তর প্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান থেকেই লোকসভায় আসবেন ৩২৪ জন। লোকসভার মোট আসন দাঁড়াবে ৮৪৮।
যুক্তরাষ্ট্রের থিঙ্কট্যাংক ‘কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস’–এর ফর্মুলা অনুযায়ী লোকসভার আসন হবে ৮৪৬। দাক্ষিণাত্যের ভাগ ১৩০ থেকে বেড়ে হবে ১৬৫।
ফর্মুলা যা–ই হোক, মোদ্দাকথা, দক্ষিণের সাহায্য ছাড়াই উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম ভারতের দল হেসেখেলে সরকার গড়তে পারবে।
নরেন্দ্র মোদির বিজেপি আজ কিংবা আগামীকালের জন্য রাজনীতিটা করে না। তারা প্রতিটি পদক্ষেপ নেয় ক্যানভাসে সুদূর অতীতের ছবি এঁকে। ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহার, অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরি বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নের উদ্যোগের দিকে তাকালে তা স্পষ্ট হবে। তা না হলে কোভিডের সময় নতুন সংসদ ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত তারা নিত না।
উগ্র হিন্দুত্ববাদের ঢেউয়ে গা ভাসিয়ে ধর্মীয় মেরুকরণ চূড়ান্ত করে হিন্দি বলয়ে জাঁকিয়ে বসে আরও বহুকাল দেশ শাসনের পাকাপাকি বন্দোবস্তের এমন উত্তম সুযোগ হারানোর পাত্র আর যে–ই হোন, নরেন্দ্র মোদি নন। বিপদঘণ্টি অবশ্য বাজতে শুরু করেছে।
দক্ষিণকে অচ্ছুত করে উত্তরের শাসন কায়েম হয়তো সম্ভব, কিন্তু দেশটা কি তাহলে এক থাকবে? দক্ষিণকে অশান্ত রেখে উত্তর কি শান্তিতে থাকতে পারবে? বৈচিত্র্যপূর্ণ ঐক্যবদ্ধ ভারতের অস্তিত্ব রক্ষায় প্রশ্নটা বড়ই জটিল।
* সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম আলোর নয়াদিল্লি প্রতিনিধি

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গল্প- একদিন অরিত্র by কানাই কুণ্ডূ

এমন প্রায়ই ঘটে। কর্তৃপক্ষ পরের দিন পত্রিকা-টিভি মাধ্যমে খবর দেয় : কারো মরণঝাঁপ, অথবা থার্ড রেল বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন, কিংবা কোনো কামরায় ধোঁয়া দেখা গেছে।
ঝোলানো হাতল ধরে দাঁড়িয়েছিল অরিত্র। বসার জায়গা পাওয়া যায় না এই ব্যস্ত সময়ে। দাঁড়িয়েই যায় প্রতিদিন। এটাই তার কাজের সময়। কাজ বলতে বিকেল পাঁচটা থেকে রাত নটা – তিন খেপ টিউশনি। এই সময়ে বিকেলের রূপসী শহরকে হারাতে হয়। বন্ধুরা অফিস-ব্যবসা সেরে শাল সোয়েটার স্যুট চড়িয়ে মোড়ের আড্ডা গুলজার করে। শীতটাও এবার জাঁকিয়ে পড়েছে। সামনের রাস্তায় এখন প্রজাপতির পাখনা মেলা। ওদের বোধহয় শীতবোধ কম। হাতকাটা বস্নাউজ, লো কাট জিন্স, বাহারি কাজের কামিজ চড়িয়ে শিখর দশনা। কেউ বা শরীরী ঢেউ তুলে অপাঙ্গী। মোড়ের বন্ধুরা ভাগাভাগি করে, ওটা আমার। ওই ফ্ল্যাট হিলের হংসীর দিকে নজর দিও না।
কেউ আপত্তি তোলে, ও আবার তোর কবে হলো। আমার দিকে তাকিয়ে হেসেছে চারদিন। ওখানে নোলা বাড়িও না।
এভাবেই ওদের সান্ধ্য-বিতর্ক। নয়তো কোহলি ধোনি কুলদ্বীপ বা শাহরুখ কাজল দীপিকা, মমতা রাহুল মোদি শেষে রাতের হট কফিতে যখন চুমুক সেরে কাগজের গস্নাস ছুড়ে ফেলে অরিত্র ক্লান্তপায়ে শূন্য মনে ফেরে। তখনো দু-তিনজন দাঁড়িয়ে সিগারেটে টান দিয়ে বলে, এই যে মাস্টারমশাই, ছাত্রীকে অ্যানাটমি শেখানো হলো! শুধু টেবলের নিচে পায়ে পা ঠেকানো, নাকি জড়িয়ে ধরে চুমুচামার বিদায়!
কেউ আবার টিটকারি দেয়, ভালো আছিস মাইরি। প্রতি বছর নতুন মাল। চালিয়ে যা। ফেঁসে যাস না যেন!
উত্তর দেয় না অরিত্র। সে জানে তার সকাল-দুপুর ঠিক এদের বিপরীত। তখন তার অবসন্ন অবসর। হঠাৎ কারো বাড়ি গেলে তাড়া করে, একদম সময় নেই। সাড়ে নটা বাজে। এক কাপ চা খেয়ে কেটে পড়। মা-দিদির উদ্দেশে – অরুকে চা দাও, বলে গামছা তোয়ালে নিয়ে বাথরুমে ঢোকে।
অথবা কেউ বলে, এখন এলি? আমি যে আয়েশাকে নিয়ে মুভি দেখতে যাচ্ছি। ফোনে অ্যাডভান্স টিকিট বস্নক করেছি। কিছু মনে করিস না।
না, কিছু মনে করে না অরিত্র। চা খেতে খেতে বন্ধুদের বাড়িতে ইংরেজি কাগজ দেখে। যোগ্যতা অনুসারে দরখাস্ত পাঠায়। ইন্টারভিউ দেয়। আজো ওয়াক ইন ইন্টারভিউ দিতে মেট্রোয় উঠেছে। একটু সোর্স আছে। মোড়ের বন্ধু প্রসিতের অফিস। ভ্যাকেন্সি তিন। পার্সোনাল অফিসারকে তেলিয়ে কথা বলতে পারলে শিকে ছিঁড়তেও পারে। তবে তিনি নাকি ওভারস্মার্ট ক্যান্ডিডেট পছন্দ করেন না। ফিটফাট নয়, একটু ক্যাজুয়াল। কবিতা লেখার বাতিক আছে তো। শক্তি চাটুজ্জের ফ্যান। এইসব তথ্য অন্বয়ই দিয়েছে।
মোবাইলে সময় দেখে অরিত্র। বিকল মেট্রোর ঠুকঠাক চলছে। সেও হাতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে বেরিয়েছে। পরের স্টেশন পর্যন্ত চালানোর ব্যবস্থা হচ্ছে। সেখানে নেমে বাস ধরলেই হবে। ইন্টারভিউ তিনটে থেকে শুরু। এখন সবে একটা সাতচল্লিশ। সে আজ সকাল থেকে সাধ্যমতো জীবনানন্দ শক্তি সুনীল গিলেছে। পোশাকও ঢিলেঢালা। প্যান্টের ওপর পাঞ্জাবি। মাস্টারি গাম্ভীর্য ঝেড়ে মনে একটু তেল তেল ভাব নিয়ে থাকে। কিছুতে উত্তেজিত হয় না। মনে মনে কবিতার লাইন ভাঁজে। ঠিক ঠিক মনে আসে না। গুলিয়ে যায়। তবে শব্দগুলো তরতাজা …
ঘটাংঘট শব্দে মেট্রোয় চলা শুরু করে। এসি বন্ধ। তবে এটা তো শীতের সময়।
বাইরে বাস ধরতে গিয়ে তাড়াহুড়ো। দুটো পঁচিশ। পেছনে হইহই চিৎকার, সশব্দে ব্রেকচাপা চাকা ঘসটানোর আর্তনাদ। ড্রাইভারের গালাগাল, শালা মরণের ইচ্ছা তো, আমার চাকার নিচে কেন!
ততক্ষণে অরিত্র এদিকের ফুটপাতে। অনন্ত আশায় হাঁপায়। মরিনি যখন, চাকরিটা আমার হবেই।
পাশের পথিক বলে, আজ বড় ফাঁড়া গেল আপনার। আসন্ন মৃত্যুর সঙ্গে কোনো যোগ না থাকলেও তার বারবার মনে হয়, আজ বড় শুভ দিন। তার ভাগ্য বদলে গেল। তবে এই মুহূর্তে তার একটু জল খাওয়া দরকার। ফুটপাতে সারি-সারি দোকান। খদ্দেরের ভিড়। অরিত্র বলে, একটু জল পাওয়া যাবে ভাই।
জরুর। কী খাবেন, কোলা, থামসআপ, নাকি ইসপ্রাইট? ভুল জায়গায় এসেছে অরিত্র। এরা বোতলের পানীয় ছাড়া জল বোঝে না।
নিজাম প্যালেসের আগেই জটলা। রাস্তার দুই পাশে ক্ষুব্ধ জনতা। লাঠি ঢাল হেলমেটে নিষ্ঠুর পুলিশ। মাঝখানে থ্যাঁতলানো দেহ-রক্ত। কারো অসহায় বাবা অথবা স্বামী রাস্তায় নিথর। তবু বেঁচে থাকা। ইন্টারভিউ – প্রায় নিশ্চিত একটা চাকরি। ফুটপাতের কিনার ঘেঁষে এগোনো। পার্ক পস্নাজা। লিফটে লম্বা লাইন। সেভেন্থ ফ্লোর।
প্রসিত আগেই সতর্ক করেছিল, আমার সঙ্গে অফিসে কথা বলবি না। দেখাও নয়। ডিসকোয়ালিফায়েড হয়ে যাবি। আমি খবর পাব। প্রায় তিনশো অপেক্ষমাণ। বায়োডাটা নিয়ে যাচ্ছে চাপরাশি। সবাই টিপটপ। টাই ব্রিফকেসেও বেশ কয়েকজন। অরিত্রই কেবল ঢিলেঢালা। পায়ে চটি, ঢিলে প্যান্ট, গাঢ় গেরুয়া পাঞ্জাবি, কাঁধে ঝোলানো কাপড়ের ঝোলা। আড্ডায় না ইন্টারভিউতে নির্ণয় কঠিন। তবু আশার বুদ্বুদ। ক্যান্ডিডেটরা পরস্পর বলাবলি করে, ইন্টারভিউটা তো শো, ভেতরে ভেতরে লোক ঠিক করা, রাজনীতির দাদারা না থাকলে চাকরি হয় না। খুঁটি থাকা চাই … অরিত্র ভাবে, চিফ পার্সোনাল অফিসারের যে কাব্যরোগ, সেই হদিস এরা জানবে কী করে! অনেকেই সাক্ষাৎকার সেরে বাইরে আসছে। অপেক্ষমাণদের কৌতূহল, কী জিজ্ঞাসা করছে, আইকিউ, না রিটিন? কেউ আবার বেরিয়ে বলছে, সব আইওয়াশ। এতো পড়াশোনা করে এলাম, কিছুই জানতে চাইল না। দু-চার কথার পর থ্যাংক ইউ, বলে বিদায়। ফোনে নাকি খবর পাওয়া যাবে। অরিত্র জীবনানন্দ শক্তি শঙ্খ ঘোষ জয় গোস্বামী মনে মনে ভাবতে থাকে।
বেলা সাড়ে পাঁচ। এখনো হাঁপাতে হাঁপাতে কয়েকজন ভিড় বাড়ায়। ভেতরে যাওয়া-আসা চলতে থাকে। এ কী, আরো একজন ভেতর থেকে বেরিয়ে চলে যায় না। দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে! বাইরে তো মাত্র আঠারোটা মিউজিক্যাল চেয়ার। কিন্তু অরিত্রর চিমন্তা, তিনটে ভ্যাকেন্সির দুজন দেয়ালে লম্বমান। বাকি মাত্র এক। অরিত্রর ডাক আসার আগেই যদি … অরিত্র হালদার? ডাক পাওয়া মাত্র অরিত্র প্রায় লাফ দিয়ে ভেতরে ঢোকে। নমস্কারে দুই হাত তুলে বলে, শুভ সন্ধ্যা।
ও-প্রামেত্ম চার আক্রমণোদ্যত বাঘের একজন মুখে প্রসন্ন প্রশ্রয়, বসুন।
তিনিই বোধহয় কবিতাপ্রেমী চিফ। স্যুট-টাই, টাই-পিন – ফিটফাট। বাকি তিন বাঘের মধ্যে একজনের কাঁচাপাকা গোঁফ, কেউ ফ্রেঞ্চকাট, কেউ যত্নলালিত দাড়িতে যিশুখ্রিষ্ট। বায়োডাটায় নজর, কপি মেলানো, লাল পেনের দাগ টানার পর প্রশ্নের ঝড়। শেষে কবিতাপ্রেমীর নিরীহ আদেশ, প্লিজ ওয়েট আউটসাইড। ইউ মে বি কলড ব্যাক।
তাহলে এতো জীবনানন্দ সুনীল শক্তি … এত মুখস্থ … কবিতার বই হাতড়ানো বেকার! একটা লাইনও কেউ জানতে চাইল না। প্রসিত কি ভুল খবর দিলো! আজ টিউশনি কামাই হলো। হোক। আর সে পরোয়া করে না। ছুটি নেই, বন্ধ ধর্মঘট নেই, জলে-ডোবা কলকাতা অচল হলেও তার হাজিরা বাধ্যতামূলক। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বকর-বকর। তবু মা-বাপরা খুশি নয়। যদি আর একটু সময় বাড়াতে পারেন স্যার, … অথচ টাকার বেলায় দু-হাজার। আজকাল কাজের মেয়েদের মাইনে সাড়ে তিন-চার হাজার। তার ওপর পুজোয় বোনাস, নতুন শাড়ি-বস্নাউজ, বাড়তি কাজে বকশিস। তারপর তাদের ট্রেন বাস ফেল করা আছে, শরীর খারাপের ছুটি আছে। শুধু হোম টিউটরের কোনো বোনাস বকশিস ছুটি নেই। তারা যে বাড়ির ঝি-চাকরেরও অধম। আপত্তি তুললেই, অজুহাত। ছেলের তো আরো চারজন টিচার আছে। আপনার তো শুধু ম্যাথস।
যাও, এখন যাকে খুশি তাকে দিয়ে পড়াও। অরিত্র হালদার আর নেই। সে এখন সিলেকশনে থার্ডম্যান। পকেটভরা বেতন। গ্র্যাচুইটি, পিএফ, পেনশন … হিপ পকেট থেকে নোটঠাসা পার্স বের করে সেও মোড়ের আড্ডায় হাঁক দেবে, অ্যাই সহদেব, এক প্যাকেট বড় গোল্ডফ্লেক দে। কিন্তু এ কী, ওয়েটিংয়ের এক, আরো এক, তারপর আরো আরো … তাহলে অরিত্র!
এখন সাড়ে সাতটা। ইন্টারভিউ বোর্ড ছাড়া অফিস ফাঁকা। প্রসিতকেও দেখা যাচ্ছে না। কাচের দরজায় চোখ রেখেও সে খেয়াল রাখতে পারল না, প্রসিত কখন বেরোল! নাকি অন্য কোনো ঘরে। সে না থাকলে অরিত্র ইন্টারভিউর রেজাল্ট জানবে কেমন করে! অরিত্রর ডাক আসে। বেয়ারা অন্য ঘরে নিয়ে যায়। চিফ পার্সোনালের চেম্বার। অদূরে তাঁর তন্বী সিল্ক শাড়িতে সেজে থাকা পিএ। পদ্মডাঁটার মতো হিলহিলে। রঙেও পদ্মফুল। কিন্তু ওদিকে নজর অপরাধ হতে পারে। ঘরে ঢোকার আগে নেমপেস্নট দেখেছে অরিত্র। আই.বি সান্যাল। নজর তার দিকেই রেখে অরিত্র আবার নমস্কার জানায়। অবশ্য শুভরাত্রি বলা যায় না। তবে অবাক হয়ে দেখে, চিফের স্যুট থেকে টাইপিন এখনো একচুল নড়েনি। আবার তিনি সরল বাংলায় বলেন, বসুন। আপনার হবিতে লিখেছেন, কবিতা।
অরিত্র ছলকে ওঠে, একটু চর্চা করি।
প্রিয় কবি?
জীবনানন্দ দাশ।
কেন?
এমন শব্দ চয়ন, … চুল তার বিদিশার নিশা … মুখ শ্রাবসত্মীর কারুকার্য … পাখির নীড়ের মতো চোখ, কিংবা দূরতর দ্বীপ বিকেলের নক্ষত্রের কাছে … দারুচিনি দ্বীপ … ধানসিড়ি নদী …
শক্তি চট্টোপাধ্যায় পড়েন না?
তিনি তো আমাদের সময়ের কবি। কী তীক্ষন তির্যক ভাষা … আমাকে তুই আনলি কেন, ফিরিয়ে নে। এটাই তো আমাদের গহন বেদনার কথা!
ছায়া মারীচের বন?
হ্যাঁ। হৃদয়ে আমার গন্ধের মৃদু ভার, … আবার দেখুন হৃদয়পুরে জটিলতার চলিতেছিল খেলা, … কিংবা আঁখির আঠায় ভালোবাসার বাঘ জড়িয়ে যায় … কখনো দাপটে বলে, টাকা দাও, নাহলে ভাঙচুর হবে, ধ্বংস হবে মহাফেজখানা … অথচ সংসারে সন্ন্যাসী লোকটা … মদ্যপায়ী ভেতো … এবং আগুনে পুড়ে গেল লোকটা … কবি ও কাঙাল।
সুনীল গাঙ্গুলি?
এই দর্পিত আবির্ভাব আর কোথায়! ভারতবর্ষের মানচিত্রের ওপর পা রেখে দাঁড়ানো …
আপনি শিক্ষকতা করেন?
না। বেমালুম মিথ্যে বলে অরিত্র।
কবিতা লেখেন?
বললাম তো, চর্চা করি।
ছাপা হয়?
কখনো-সখনো।
কাব্যগ্রন্থ আছে?
না। কবিদের দুর্দশা তো জানেন। পকেট মানি বাঁচিয়ে … অনর্গল মিথ্যা বলে যায় অরিত্র। আরো বলে, আপনার ব্যস্ত সময়ের মাঝে আপনিও যে কবিতা অনুরাগী অনুমান করতে পারি …
সুন্দর কিছু সময় কাটল আপনার সঙ্গে। আরো কিছু শোনার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বাইরে আরো কয়েকজন …
হ্যাঁ হ্যাঁ। অবশ্যই। আমারও খুব ভালো লাগল আপনাকে। উঠি এখন। নমস্কার।
হাত তুলে নমস্কারের ভঙ্গিতে তিনি বলেন, চর্চাটা ছাড়বেন না।
বুকভরা আশা নিয়ে বেরিয়ে আসে অরিত্র। প্রসিতের খবর নেওয়া নিষিদ্ধ। চেষ্টাও করে না। প্রথম বাস পেতেই উঠে পড়ে। ঠাসা ভিড়। তবু অরিত্রর ভালো লাগছে। ঢেপসা, রংজ্বলা সোয়েটারে গা ঘেঁষে দাঁড়ানো মানুষটা নির্বিকার। উৎকট গন্ধ। তবু সরে আসছে না অরিত্র। এমনকি পা মাড়িয়ে যে পৃথুল মহিলা বাস থেকে নামল, ভালো লাগছে তাকেও। ঠান্ডা হাওয়ার ঝাপটে শীত লাগে। সিগন্যাল আটকে থাকাও বিরক্তিকর মনে হচ্ছে না। আপন পুলকে রড ধরে বাসের দুলুনিতে টাল খায়। নিজের স্টপে নামে। ক্যাজুয়াল পোশাকের পাঞ্জাবি ভেদ করে ঠান্ডা কাতর করে। কান ঢাকা টুপি পকেট থেকে বের করে কানের দিকে টান দেয়। সোজা মোড়ের আড্ডায়। আড্ডার আসর তখন ভাঙাহাট। নিতান্তই পাড়ার কয়েকজন। যেমন জয়ন্ত। সারাদিনে আড্ডা ছাড়া কাজ নেই। বাবা তিনতলা বাড়ি রেখে গেছে। তিনতলায় তিনখানা ঘর রেখে সব ভাড়া। সে ওঠে সবার শেষে। সকালেও বেলা দেড়টা পর্যন্ত মোড়ে। মাঝে মাঝে বউ-মেয়ে নিয়ে বেড়াতে যায়। অর্জুনও পাড়ার ছেলে। পোস্ট অফিসে চাকরি করে। বিকেলে নাকি মাথা ঝিমঝিম করে। আড্ডা তার টনিক। বিতোষ কম্পিউটার মেকানিক। তার রোজের রোজগার হাজার আড়াই। তবে কিপ্টে, টাকা জমায়।
অরিত্রকে দেখে তারা আগ্রহী হয়। প্রসিত তার ইন্টারভিউর ব্যাপার বন্ধুমহলে আগেই ছড়িয়েছে। বেঞ্চে বসার আগেই প্রশ্ন, কেমন হলো রে?
প্রসিত এলে জানতে পারব।
সে-ব্যাটা আজ এতো দেরি করছে কেন?
লোক নেবে তিনজন। প্রার্থী তিন হাজার।
ন-টা তো বাজে। আর কি সে এদিকে আসবে?
দেখি।
তারা আবার পুরনো চর্চায় ফিরে যায়। তেতো এবং জোলো। চটকাতে চটকাতে বিরক্তি ছড়ায়। অরিত্র বলে, তোদের অন্য বিষয় নেই! সাহিত্য শিল্প, দেশ সমাজ …
আমরা কি সমাজের মাস্টারমশাই, বলে হা-হা করে হাসে জয়ন্ত।
বাকি দুজনও সায় দেয়। অরিত্রর ঘেন্না লাগে। উঠে আসার ইচ্ছা হয়। পারে না। এরাই তো বন্ধু। সাহায্য করে। প্রয়োজনে টাকা ধার দেয়। বিপদে পাশে দাঁড়ায়। চাকরির হদিস দেয়। তার মঙ্গল কামনা করে।
কাঁপুনি বাড়ে। ঠান্ডার তীব্রতা বাড়ে। বিতোষ উঠে যায়। অর্জুন সিগারেট কিনে বাড়ির পথে। অরিত্রর আজ সিঞ্চিতার কাছে যাওয়া হলো না। বলেছিল, ফলাফল নিজে এসে জানিয়ে যাবে। সিঞ্চিতা অরিত্রর ঘোলাটে জীবনের টুকরো আকাশ। তার প্রিয় ছাত্রী। পাশ করার পরেও সম্পর্ক থেকে গেছে। দিনে দিনে সম্পর্কে রঙের রামধনু ছড়িয়েছে দুজনে। স্বপ্ন দেখে, দুজনের মধ্যে কারো একটা চাকরি হলেই তারা সংসার গড়বে।
জয়ন্ত তাড়া দেয়, কী রে উঠবি তো? প্রসিত হয়তো বাড়ি চলে গেছে। রাত্রে সে তো আবার জলচর।
তুই যা। আমি আর একটু বসি।
জয়ন্ত চলে গেলে অরিত্র মোবাইলে কন্ট্রাক্ট নাম্বার হাতড়ায়। ওদিকে রাগী উত্তর, তুই এতো কবিতা মারাতে গেলি কেন। যা করছিস কর। এক খাঁচায় দুটো সিংহ থাকে! লাইন কেটে যায়।
রাস্তা ফাঁকা। দুরন্ত বেগে গাড়ি ছুটে যায়। আলোর নিচে কুয়াশা জমাট। অরিত্র বসেই থাকে। এটা যেন তার দেশ নয়। মুখস্থ করা লাইনটা মনে আসে : পৃথিবীকে মায়াবীর নদীর পারের দেশ বলে মনে হয়।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রোহিঙ্গা গণহত্যার বর্ণনা শুনলেন গুতেরেস
শুক্রবার (১৪ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে সরাসরি উখিয়ার বর্ধিত ২০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান তারা।
বর্ধিত ক্যাম্প ২০-এর এইচ/২-এর ব্লক-৩-এর বাসিন্দা বদর আলম বলেন, ‘আমাদের মাঝিরা (রোহিঙ্গা নেতা) জাতিসংঘ মহাসচিবকে মিয়ানমারের অত্যাচারের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। কীভাবে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, চোখের সামনে স্বজনদের হত্যা করা হয়েছে, গণহত্যা চালানো হয়েছে- সবকিছু তুলে ধরা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের দেওয়া শর্তগুলো মেনে নিলে আমরা নিজ দেশে ফিরে যেতে রাজি। এই বিষয়টি জাতিসংঘ মহাসচিব ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতারা।’
লার্নিং সেন্টারের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, জাতিসংঘ মহাসচিব গভীর মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শোনেন এবং মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসার কারণ জানতে চান। মহাসচিব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আশ্বাস দেন।
এরপর তারা রোহিঙ্গা সাংস্কৃতিক স্মৃতি কেন্দ্র ও ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এরপর রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতার করেন। এ সফরকে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের জন্য নতুন বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান। এই জনগোষ্ঠীকে ফেরত পাঠাতে মিয়ানমারের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা হওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গুতেরেস বলেন, ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মানসম্মত জীবনযাপন প্রয়োজন। এটি নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে জাতিসংঘ। পাশাপাশি তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করার কথাও জানান তিনি।
![]() |
| মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যার মর্মস্পর্শী বর্ণনা শোনেন জাতিসংঘের মহাসচিব। ছবি : কালবেলা |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সুযোগ পেলেই আমরা ড. ইউনূসকে শূলে চড়াই : সারজিস
শুক্রবার (১৪ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
সারজিস আলম পোস্টে লিখেছেন, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সর্বশেষ ৬ মাসে দেশি-বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে ৬২ হাজার কোটি টাকা। দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে ১৮.৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যা গতবছরের এই সময়ের তুলনায় ৪ বিলিয়ন বেশি। দেশের রিজার্ভ বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ১৪০ কোটি ডলার।
তিনি লেখেন, এই রমজানে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কাকে আশ্চর্যজনকভাবে হ্যান্ডেল করেছে ইন্টেরিম সরকার। হাসিনা ও তার পরিবারের একাউন্ট থেকেই উদ্ধার করেছে ৬৩৫ কোটি টাকা। দেশের খাদ্যপণ্যে ভর্তুকি বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ। গত ২২ মাসের তুলনায় সর্বনিম্ন মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে এই ফেব্রুয়ারিতে। ধর্ষণের তদন্ত ১৫ দিন এবং বিচার ৯০ দিনের মধ্যে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আওয়ামী আমলে অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির কারণে বাফুফের ওপর ফিফা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল৷ বাফুফের ওপর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ফিফা। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ থেকে ৩২ করা হয়েছে।
সারজিস আলম লিখেছেন, স্কুলের বইগুলোতে হাসিনার উল্টাপাল্টা সিলেবাস আর পারিবারিক তোষামোদির গল্প বাদ দিয়ে সাজানো গোছানো সিলেবাস দেওয়া হচ্ছে। এখন থেকে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকেরা পাবেন দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা।
তিনি লেখেন, সর্বশেষ জাতিসংঘের মহাসচিব ৪ দিনের জন্য বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। গুতেরেসের সফর এই সরকারের ওয়ার্ল্ডওয়াইড রিকগনিশন বাড়াবে৷ তাছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব বলেছেন আগামী বছর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে সেখানে তাদের সঙ্গে ইফতার করতে চান! ভাবতে পারেন? অনেক কিছু বলা সহজ। গাইলানো সহজ৷ নির্বাচন দ্রুত চাওয়াও সহজ৷ হাসিনার রেখে যাওয়া ধ্বজভঙ্গ অর্থনীতিকে যে কারো জন্য এসে ঠিক করতে ঘাম ছুটে যেতো। পারতো কি না সেটা নিয়েও ঢের সন্দেহ আছে। উপরন্তু, অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য, মুদ্রাস্ফীতি ঠিক রাখতে না পারলে ক্ষমতায় আসলেও যে টিকতে মুশকিল হবে, এটা রাজনৈতিক দলগুলো ভালো করেই জানে।
তিনি আরও লেখেন, ইউনূস সাহেব হয়তো হিমশিম খাচ্ছে অনেক কিছু করতে। ধ্বজভঙ্গ একটা দেশ আর ব্যক্তি স্বার্থকেন্দ্রিক একটা জাতিকে ঠিক করতে। তারপরও অনেক কিছু করছে এবং করবে। প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে আপনি যদি সম্মত না হতেন তাহলে দ্বিতীয় অন্য কোনো ব্যক্তিকে আমরা সেই জায়গায় তখন চিন্তা করতে পারিনি। আপনার সঙ্গে তুলনা তো নয়ই। বাংলাদেশ অবশ্যই আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।
![]() |
| ড. ইউনূস ও সারজিস আলম। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: কীভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হতে পারে
মস্কো ও কিয়েভে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক অ্যাটাচে জন ফোরম্যান বলেন, ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি যদি ৩০ দিনের জন্য হয়, তাহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো তা মেনে চলা হচ্ছে কি না? এর আগে রাশিয়ার শান্তিচুক্তি বা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভাঙার রেকর্ড রয়েছে, তাই বর্তমানে এমন কোনো চুক্তি কার্যকরের জন্য শক্তিশালী একটি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ইতিহাসের কাছে চ্যালেঞ্জটি আরও জোরলো হয়েছে। ২০১৪ ও ২০১৫ সালের মিনস্ক চুক্তির অংশ হিসেবে অর্গানাইজেশন ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড কো–অপরেশন ইন ইউরোপের (ওএসসিই) একটি মিশনের আওতায় প্রায় এক হাজার জন কয়েকটি গাড়িতে করে ইউক্রেনে টহল দিতেন। তাঁদের দায়িত্ব ছিল ইউক্রেনের পূর্ব দনবাস অঞ্চলের দুই পক্ষের সহিংসতা বন্ধের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা।
ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও মধ্য এশিয়ার ৫৭টি দেশ নিয়ে ওএসসিই গঠিত। পূর্ব দনবাসে পর্যবক্ষণের জন্য এই সংস্থাকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। কারণ, রাশিয়া ও ইউক্রেন—দুই দেশই এর সদস্য। তবে দনবাসে উত্তেজনা কমাতে হিমশিম খেয়েছে ওএসসিই। ২০১৭ সালে সেখানে ৪৮৬ জন বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং ৪ লাখ বার যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করা হয়েছিল। ২০২১ সালে মৃত্যু কমে ৯১ জনে এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের সংখ্যা কমে ৯৩ হাজার ৯০২–এ দাঁড়িয়েছিল। এর মাত্র দুই মাস পর ইউক্রেনে পুরোদমে হামলা শুরু করে রাশিয়া।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক এবং ওএসসিইর ইউক্রেন মিশনের সাবেক পর্যবেক্ষক সামির পুরি বলেন, আগের তুলনায় বর্তমানে ওএসসিইর কাজ অনেক ব্যাপক। ২০১৫ সালে ওএসসিই মূলত দনবাসের তুলনামূলক ছোট যুদ্ধক্ষেত্রগুলো পর্যবেক্ষণ করত। সেখানে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়তে হতো ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে। যুদ্ধক্ষেত্র এখন অনেক বড় হয়েছে। দুই দেশের সামরিক বাহিনী উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অস্ত্র নিয়ে সেখানে মোতায়েন রয়েছে।
ড্রোন, উড়োজাহাজ ও স্যাটেলাইটের মতো আধুনিক প্রযুক্তিগুলোর কারণে ২০২৫ সালে এসে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করাটা আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। স্মৃতিচারণা করে সামির পুরি বলেন, এক দশক আগে এই কাজের জন্য ওএসসিই মিশনের কাছে মাত্র চারটি ড্রোন ছিল। রাশিয়া–সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা মাঝেমধ্যে ওই ড্রোনগুলোয় গুলি করে নিজেদের নিশানা পরীক্ষা করতেন। যদিও ওই ড্রোনগুলোর কারণে যুদ্ধক্ষেত্রে ওএসসিইর কম পর্যবেক্ষকের প্রয়োজন পড়ত, তবে যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করা হলে ড্রোনগুলো কোনো সাহায্য করতে পারত না।
বৃহস্পতিবার এই বিষয়ের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মস্কোয় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যুদ্ধের সম্মুখসারি যখন ২ হাজার কিলোমিটার, তখন এই যুদ্ধবিরতি কে নিয়ন্ত্রণ করবে? এর জন্য কয়েক হাজার পর্যবেক্ষকের প্রয়োজন পড়বে। একই সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ এবং যুদ্ধক্ষেত্র সংঘাতমুক্ত রাখার সক্ষমতা থাকতে হবে।
যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে ইউরোপের দেশগুলো একটি বাহিনী সৃষ্টির কথা বলেছে। দীর্ঘমেয়াদি শান্তির ক্ষেত্রে বাহিনীটি ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে এই বাহিনীর সংগঠকেরা বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে শান্তি বজায় রাখা এই বাহিনীর কাজ হবে না। এই সংগঠকদের একজন বলেন, তাঁরা শান্তিরক্ষী নন। বাহিনীটি শুধু ইউক্রেনের আকাশসীমা, সমুদ্র উপকূল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তায় কাজ করবে।
এর পরও দুই পক্ষকে সংযত করতে এবং তাদের মধ্যে আস্থা গড়ে তুলতে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন মস্কো ও কিয়েভে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক অ্যাটাচে জন ফোরম্যান। তিনি বলেন, সমস্যা হলো মিনস্ক চুক্তির পর যা ঘটেছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ নিয়ে ইউক্রেনের ধারণা ভালো নয়। আর দুর্বলভাবে কার্যকর করা যুদ্ধবিরতির কারণে লড়াই আবার নতুন করে শুরু হতে পারে।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে নতুন করে ওএসসিইর দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা কম। সংস্থাটি ২০১৪ সালে ইউক্রেনে যে মিশন শুরু করেছিল, তা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার হামলার মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে যায়। হামলার পরপরই ইউক্রেন থেকে ওএসসিই তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়।
ইউক্রেনে নতুন করে যুদ্ধবিরতি হলে তা পর্যবেক্ষণের জন্য জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে কেউ দায়িত্ব পেতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এ–সংক্রান্ত প্রস্তাবে রাশিয়ার সায় থাকতে হবে।
সামির পুরি মনে করেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকরে আরেকটি বাস্তবসম্মত উপায় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখসারির দুই পাশেই বেসামরিক অঞ্চল গড়ে তুলতে হবে। সেখানে ইউক্রেনের মতো রাশিয়ারও নিজস্ব বিশেষ বাহিনী থাকবে। ওই বাহিনী চীনের মতো মস্কোর বিভিন্ন মিত্রদেশের সেনাসদস্যদের নিয়ে গঠন করা হবে। তাদের ইউক্রেনের সঙ্গে যোগাযোগের সক্ষমতা থাকতে হবে।
শেষ পর্যন্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি তখনই সম্ভব হবে, যদি রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই পক্ষ হামলা চালিয়ে বা উসকানি দিয়ে যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘনের চেষ্টা না করে। কোরিয়া ও সাইপ্রাসের মতো কিছু যুদ্ধবিরতি টিকে গেছে; কারণ, এসব ক্ষেত্রে কোনো পক্ষই যুদ্ধ নতুন করে শুরু করতে চায়নি। তবে ইউক্রেনের প্রতি রাশিয়ার শত্রুতার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। আর অনেকে মনে করেন, প্রতিবেশী দেশে পুতিনের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্য অপরিবর্তিত থাকবে।
এমন পটভূমি সত্ত্বেও, এখন পর্যন্ত এটা পরিষ্কার নয় যে—যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির সময় সহিংসতা ঠেকানোর জন্য কীভাবে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। জন ফোরম্যান বলেন, ‘শান্তিতে পৌঁছানোর আগে অনেক অনেক বাধা আসবে। সেগুলো আমাদের সামলাতে হবে।’
| ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির জন্য তৎপর হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
টিউলিপের বিরুদ্ধে জাল সই ব্যবহার করে বোনের নামে ফ্ল্যাটের মালিকানা হস্তান্তরের অভিযোগ -ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন
শুক্রবার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য। তিনি দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘সিটি মিনিস্টার’–এর দায়িত্বে ছিলেন। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর গত জানুয়ারিতে সিটি মিনিস্টারের পদে ইস্তফা দেন তিনি।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুদকের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য পূর্বাচলের নিউ টাউন প্রকল্পের সরকারি প্লট বরাদ্দ নিয়েছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক। বৃহস্পতিবার দুদকের প্রকাশিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বোনের নামে আলাদা একটি ফ্ল্যাট হস্তান্তরের জন্য একটি জাল নোটারি ব্যবহার করেছিলেন তিনি।
দুর্নীতির অভিযোগে কাউকে বিচারের আওতায় আনা এবং দুর্নীতির ঘটনা তদন্তের এখতিয়ার রয়েছে দুদকের। সংস্থাটি জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ-সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বৃহত্তর তদন্তের অংশ হিসেবে টিউলিপ সিদ্দিকসহ শেখ হাসিনার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনছে তারা।
দুদকের দাবি, আইন লঙ্ঘন করে শেখ হাসিনা ও তাঁর স্বজনেরা সরকারি জমি বরাদ্দ নিয়েছিলেন। দুদকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘এটি হিমশৈলর চূড়ামাত্র। বর্তমানে দুদকে তদন্তাধীন আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে, যেগুলো ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরাট দুর্নীতি তুলে ধরবে।’
দুদক দাবি করেছে যে পূর্বাচলের নিউ টাউন প্রকল্পের ৬০ কাঠা (প্রায় এক একর) সরকারি জমি অবৈধভাবে শেখ হাসিনা, তাঁর সন্তান ও পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন, ঢাকায় টিউলিপের মালিকানায় আরেকটি সম্পত্তি থাকায় পূর্বাচলে জমি বরাদ্দের শর্ত অনুযায়ী, তিনি প্লট পাওয়ার যোগ্য নন। তবে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিয়ম লঙ্ঘন করে প্লট বরাদ্দ পান।
দুদকের অভিযোগ, বোন আজমিনা সিদ্দিকের নামে ঢাকার গুলশান এলাকায় একটি ফ্ল্যাটের মালিকানা হস্তান্তরের জন্য ভুয়া নোটারি নথি ব্যবহার করেছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক। দুদক বলেছে, ওই নথিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী সিরাজুল ইসলামের সিল রয়েছে। তবে এই আইনজীবী বলেছেন, ওই নোটারি তিনি করেননি। সিলটি তাঁর হলেও স্বাক্ষর তাঁর নয়। আর সিরাজুল ইসলাম তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, তিনি শুধু নিজের আইনি চেম্বারে বসে নথিপত্রে নোটারি করে থাকেন। টিউলিপ সিদ্দিক বা আজমিনা সিদ্দিকের সঙ্গে তাঁর কোনো পূর্বপরিচয় নেই।
ওই নথি একটি হেবা দলিল। কাউকে সম্পত্তি উপহার দেওয়ার ইসলামি আইনসম্মত দলিল এটি। ওই হেবা দলিল করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। তখন লেবার পার্টির এমপি ছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক, তবে মন্ত্রিত্ব পাননি। দুদক অভিযোগ করেছে যে ফ্ল্যাটের প্রকৃত মালিকানা গোপন রাখার চেষ্টার অংশ হিসেবে ওই ভুয়া নোটারি করা হয়েছিল।
দুদকের অভিযোগের বিষয়ে টিউলিপ সিদ্দিকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘এই অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এই বিষয়গুলো নিয়ে টিউলিপ সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি এবং তিনি এই দাবিগুলো পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।’
![]() |
| টিউলিপ সিদ্দিক। ছবি: সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ছিনতাইয়ের শিকার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বাসায় হাজির আসামির ছেলে, ভয়ে বাসাবদলের চিন্তা by আসাদুজ্জামান
ছিনতাইয়ের শিকার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বাসায় হাজির আসামির ছেলে, ভয়ে বাসাবদলের চিন্তা by আসাদুজ্জামান
গত ১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ শেষে বাসায় ফেরার জন্য তিনি শেরেবাংলা নগর থেকে একটি লোকাল বাসে ওঠেন। বসেন বাসের ডান দিকে, জানালার পাশে।
বাসটি শ্যামলী স্কয়ারে এসে যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য গতি খুব ধীর করে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের ডান হাতে একটি দামি মুঠোফোন ছিল। হঠাৎ বাসের বাইরের দিক থেকে তাঁর ডান হাত বরাবর চাপাতি দিয়ে এক যুবক আঘাত করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও এক যুবক। শিক্ষকের ডান হাতে থাকা মুঠোফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে দৌড় দেন তাঁরা।
চাপাতির আঘাত ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় শিক্ষক হতবিহ্বল-আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন। চালককে বাস থামাতে বলেন।
কিছুটা দূরে বাস থামলে তিনি হন্তদন্ত হয়ে নেমে পড়েন। ঠিক যে স্থান (শ্যামলী স্কয়ার) থেকে তাঁর মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, সেখানে ছুটে যান তিনি। মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া যুবকদের হদিস পাওয়ার চেষ্টা করেন।
প্রায় ৩০ মিনিট শ্যামলী স্কয়ারে অবস্থান করেন তিনি। যুবকদের খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে পরে রিকশায় বাসায় ফেরেন।
ছিনতাই হওয়া মুঠোফোনে দুটি অপারেটরের সিম ব্যবহার করছিলেন এই শিক্ষক। বাসায় ফিরেই তিনি তাঁর স্ত্রীর মুঠোফোন থেকে দুটি অপারেটরকে ফোন দেন। বলেন, তাঁর মুঠোফোন ছিনতাই হয়েছে। দ্রুত যেন তাঁর মুঠোফোন নম্বর বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নম্বর সচল আছে নাকি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তা বুঝতে ঘটনার দিন দিবাগত রাত ১২টার পর তিনি তাঁর স্ত্রীর মুঠোফোন থেকে ছিনতাই হওয়া মুঠোফোনে কল দেন। মুঠোফোনে কল ঢোকে, কিন্তু কেউ ধরেনি। এতে তিনি আরও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
পরদিন সকাল ৯টার পর তিনি তাঁর হিসাব (অ্যাকাউন্ট) থাকা ব্যাংকে যান। ব্যাংক হিসাবের বিবরণী তোলেন। বিবরণীতে দেখতে পান, তাঁর মুঠোফোনে থাকা অ্যাপস ব্যবহার করে ছিনতাইকারীরা হিসাব থেকে ৬০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছেন।
বিবরণীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেন, তাঁর ব্যাংক হিসাব থেকে দুটি মুঠোফোন নম্বরে এই টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।
ব্যাংক থেকে এই শিক্ষক সোজা চলে যান আদাবর থানায়। থানার পুলিশ তাঁকে বলে, ঘটনাস্থল শ্যামলী স্কয়ার। এলাকাটি মোহাম্মদপুর থানার মধ্যে পড়েছে। তাই তাঁকে মোহাম্মদপুর থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আদাবর থানা থেকে তিনি যান মোহাম্মদপুর থানায়। পরে তিনি এই থানায় দণ্ডবিধি (ছিনতাই) ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন।
ব্যাংক হিসাব থেকে যে দুটি মুঠোফোন নম্বরে টাকা স্থানান্তর হয়েছে, সেই তথ্যের ভিত্তিতে মামলায় আসামি হিসেবে কামাল হোসেন নামের এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া কয়েকজনকে করা হয় অজ্ঞাত আসামি।
মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে কামাল হোসেন (৫১) ও রাসেল মিয়া (২১) নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের তথ্য বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কামাল একটি বেসরকারি ব্যাংকে নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি তিনি একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দলের সদস্য। আর রাসেলের সুনির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। কামালের কাছ থেকে ছিনতাইকারী দলটির নেতা হিসেবে সম্রাটের নাম জানতে পারে পুলিশ। তবে এই সম্রাটকে এখনো পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
আসামির ছেলে বাসায় হাজির
কামাল ও রাসেল গ্রেপ্তার হওয়ার দিন কয়েক পরের ঘটনা। আদাবর এলাকার বাসায় অবস্থান করছিলেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক। হঠাৎ বাসার নিরাপত্তারক্ষী তাঁকে জানান, দুজন লোক তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান।
পরে তিনি দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন, দেখা করেন। দুই ব্যক্তির একজন নিজেকে গ্রেপ্তার হওয়া কামালের ছেলে বলে পরিচয় দেন।
কামালের ছেলে এই শিক্ষককে প্রস্তাব দেন, তিনি যেন মামলাটি তুলে নেন।
আসামির ছেলের মুখে এ কথা শুনে ভয় পেয়ে যান শিক্ষক। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মোবাইল ফোন ছিনতাই করল। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমার ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা নিয়ে নিল। আমি মামলা করলাম। যে দুজন আমার মোবাইল ফোন ছিনতাই করল, তাদের কাউকে পুলিশ ধরতে পারল না। এখন দেখছি, ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা আমার বাসাও চিনে ফেলেছে। মামলা উঠিয়ে নেওয়ার কথা বলছে। এখন আমার স্ত্রী-সন্তানেরা বলছে, বাসা পরিবর্তন করতে। আমিও বাসা পরিবর্তন করার চিন্তা করছি।’
জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাফিজুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ছিনতাইকারী দলের নেতাসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে।
দিন কাটছে আতঙ্কে
ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার পর থেকে আতঙ্কে দিন কাটছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সহযোগী অধ্যাপকের। তিনি জানান, এখন মুঠোফোন নিয়ে বাইরে চলাচল করতে ভয় পান। আরও ভয় পান এটিএম কার্ড নিয়ে বের হতে।
এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজন নাগরিক যদি রাত-বিরাতে চলাচল করতে ভয় পান, ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার আশঙ্কা যদি সারাক্ষণ তাঁর মধ্যে কাজ করে, তাহলে বিষয়টি ভীষণ উদ্বেগের। ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার পর আমি ট্রমাটাইজড (মানসিক আঘাতের ধকল) হয়ে পড়েছি। নতুন মোবাইল কিনেছি, কিন্তু সেটি নিয়ে চলতে আমার ভয় লাগে।’
একটি মুঠোফোনে একজন ব্যক্তির নানা রকম গুরুত্বপূর্ণ গোপনীয় তথ্য থাকে বলে উল্লেখ করেন এই শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘ছিনতাইকারীরা আমার মোবাইল ফোনে থাকা গোপন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ব্যাংকে যে হিসাবে আমার বেতন আসে, তার সঙ্গে আমার মোবাইল ফোন যুক্ত। তাই আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, ছিনতাইকারীরা আমার বেতনের টাকা তুলে নিয়ে যায় কি না। তারা বেতনের টাকা নিতে পারেনি। কিন্তু আমার ব্যাংক হিসাব থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়ে নিল। পরে আমি দুটি নম্বরই বন্ধ করে দিই। নতুন সিম নিই। কিন্তু মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে যদি ছিনতাইকারী কিংবা অন্য কেউ কোনো অপরাধ করে, তখন দায়ভার তো মূল ব্যবহারকারীর ঘাড়েই চলে আসবে।’
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, ‘প্রতিদিন কারও না কারও মোবাইল ফোন ছিনতাই হওয়ার খবর জানতে পারি। বেশির ভাগ মোবাইল ফোন উদ্ধার হয় না। যার মোবাইল যায়, সে জানে, কতটা ঝুঁকিতে সে পড়েছে।’

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অমুক ব্যবসায়ীর সঙ্গে অমুক রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক, কেন লেখেন না -ডিআরইউর ইফতার অনুষ্ঠানে মির্জা আব্বাস
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে শুক্রবার সন্ধ্যায় এ প্রশ্ন তোলেন মির্জা আব্বাস।
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সাংবাদিকদের দায়দায়িত্ব অনেক।...সাংবাদিক ছোট হতে পারেন, কিন্তু আপনার কলমের কালিটা কিন্তু অনেক দামি।’
অসির চেয়ে মসির জোর অনেক—সে কথা স্মরণ করিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আপনাদের লেখা, আপনাদের বলা, আপনাদের কথায় কিন্তু জাতির অনেক লাভ হবে।’
মির্জা আব্বাসের মতে, দেশের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা ভালো–মন্দের দায়দায়িত্বের ২৫ ভাগ রাজনীতিবিদেরা বহন করেন। আর ৫০ ভাগ বহন করেন বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকেরা।
সাংবাদিকেরা যদি কারও মাধ্যমে প্রভাবিত না হন এবং যদি সঠিক কথাটা বলেন, তাহলে দেশটা অনেক এগিয়ে যায়।
ঢাকা শহরের রাস্তা আগের চেয়ে পাঁচ ফুট উঁচু করার পরও ভারী বৃষ্টি হলে কেন জলাবদ্ধতা হয়, সে বিষয়ে গৃহায়ণ ও পূর্তমন্ত্রী থাকা অবস্থায় কী বলেছিলেন, সেটিও বক্তব্যে উল্লেখ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ‘দখলদারদের বিরুদ্ধে আমি কথা বলেছিলাম। আমি কথা বলেছিলাম বসুন্ধরার বিরুদ্ধে। আমি কথা বলেছিলাম যমুনার বিরুদ্ধে। আমি কথা বলেছিলাম অনেক ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে।’
মির্জা আব্বাস বলেন, অনেক সংবাদমাধ্যম বাস্তব চিত্র ঘুরিয়ে–পেঁচিয়ে লেখে। অনেক সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক, মালিক কিংবা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কারণে সঠিক সংবাদ লিখতে পারেন না। তিনি বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আছে, সাংবাদিকের নেই।
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ উল্লেখ করে ডিআরইউর ইফতার অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, সমালোচনাকে তাঁরা স্বাগত জানান। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেশের স্বার্থকে বিবেচনায় রাখতে হবে। তাহলে এই সমালোচনা সংশোধন ও পরিমার্জনে সহযোগিতা করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন। সঞ্চালক ছিলেন ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান।
![]() |
| বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ডিআরইউ আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। পাশে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। ঢাকা, ১৪ মার্চ। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুতেরাঁর একদিন: সংস্কারে বাংলাদেশের পাশে থাকবে জাতিসংঘ
বাংলাদেশের সংস্কার ও পরিবর্তন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন সফররত জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরাঁ। শুক্রবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর জাতিসংঘের এক বার্তায় বলা হয়, বৈঠকে সংস্থাটির মহাসচিব ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বাংলাদেশের চলমান পরিবর্তন ও সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন। মহাসচিব বাংলাদেশের সংস্কার ও পরিবর্তন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। অ্যান্তনিও গুতেরাঁ জাতিসংঘ ও বাংলাদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি বাংলাদেশের উদারতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় দৃঢ় প্রতিশ্রুতির জন্যও বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর একইস্থানে প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা ইস্যু ও অগ্রাধিকার বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
জাতিসংঘের বার্তায় বলা হয়েছে, মহাসচিব ও বিশেষ প্রতিনিধি (ড. খলিলুর রহমান) রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর আসন্ন উচ্চ-পর্যায়ের সম্মেলন নিয়ে আলোচনা করেন। পরে জাতিসংঘ মহাসচিব প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে আসেন গুতেরাঁ।
এদিন ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গুতেরাঁকে বহনকারী বিমানের চার্টার্ড ফ্লাইটটি দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটের দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান। জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরাঁ বিমানবন্দর থেকে সরাসরি উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান।
জাতিসংঘের মহাসচিব ক্যাম্প ১৮তে অবস্থিত রোহিঙ্গা সাংস্কৃতিক স্মৃতি কেন্দ্র (আরসিএমসি) পরিদর্শন করেন। এরপর লার্নিং সেন্টার পরিদর্শন শেষে তিনি আরসিএমসিতে গিয়ে রোহিঙ্গাদের ঐতিহ্য নিয়ে ধারণা নেন এবং আরসিএমসি ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে অ্যান্তনিও গুতেরাঁ বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে আমি দুটি স্পষ্ট বার্তা পেয়েছি। প্রথমত, আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই মিয়ানমারে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে হবে এবং রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করে কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার তারা যেন না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গারা আরও ভালো পরিবেশ চায় ক্যাম্পে। দুর্ভাগ্যবশত যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য অনেক দেশ সম্প্রতি নাটকীয়ভাবে মানবিক সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে। এই কারণে আমাদের মানবিক সহায়তার মধ্যে খাবারের রেশন কমাতে হয়েছে। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আমি আমার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। যত দেশে সম্ভব আমি কথা বলবো, যাতে করে ফান্ড পাওয়া যায় এবং এর থেকে আরও খারাপ পরিস্থিতি না আসে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ভুলে যাবে, এমনটি প্রত্যাশা করেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে জোরালো আওয়াজ তুলবো। কারণ সম্মানের সঙ্গে এখানে বসবাসের জন্য এই সম্প্রদায়ের মানবিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ বিশাল সহায়তা করেছে। তারা তাদের ভূমি, বন, সীমিত পানি এবং অপ্রচলিত সম্পদ ভাগ করে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখন সময় এসেছে সহায়তার। সময় নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। এর আগে ২০১৮ সালে আমি কক্সবাজারে এসেছিলাম। এই শিবিরগুলো জলবায়ু সংকটের সম্মুখীন। গ্রীষ্মে তাপমাত্রা অত্যন্ত গরম এবং আগুনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ঘূর্ণিঝড় এবং বর্ষা মৌসুমে বন্যা এবং বিপজ্জনক ভূমি স্লাইড ঘরবাড়ি এবং জীবন ধ্বংস করে দেয়। আবশ্যক খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি, এখানে মানুষের শিক্ষার, দক্ষতা উন্নয়ন প্রয়োজন। জাতিসংঘের সংস্থাগুলো যেমন মানবিক এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোও বিশাল বাজেট কাটছাঁটের মুখোমুখি। এটি মানুষের ওপর সরাসরি এবং মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। শরণার্থী জনগণ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন মহাসচিব। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা বদর আলম বলেন, আমরা মাঝিরা (রোহিঙ্গা নেতা) জাতিসংঘ মহাসচিবকে মিয়ানমারের অত্যাচারের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছি। কীভাবে বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, চোখের সামনে স্বজনদের হত্যা করা হয়েছে, গণহত্যা চালানো হয়েছে সবকিছু তুলে ধরেছি।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের দেয়া শর্তগুলো মেনে নিলে আমরা নিজ দেশে ফিরে যেতে রাজি। এই বিষয়টি জাতিসংঘ মহাসচিব ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা কমিউনিটির নেতারা।
বিকালে জাতিসংঘ মহাসচিব মাল্টিপারপাস সেন্টারে যান, যেখানে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের তৈরি করা পোশাক, ব্যাগ, বাঁশ ও পাটের পণ্য, কাঠের শিল্পকর্ম এবং অন্যান্য হস্তশিল্প দেখেন। এসব পণ্য দেখে প্রশংসা করেন এবং রোহিঙ্গাদের স্বনির্ভর হওয়ার প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করেন বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতা নুরুল আমিন। তিনি বলেন- মহাসচিব বলেছেন, এই উদ্যোগগুলো রোহিঙ্গাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের উন্নয়নে আরও ভূমিকা রাখতে পারে।
জমিলা নামের এক রোহিঙ্গা নারী হস্তশিল্পী বলেন, আমাদের তৈরি ব্যাগ ও কাপড়ের প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিবের আগ্রহ দেখে খুব ভালো লাগছে।
লার্নিং সেন্টারের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, জাতিসংঘ মহাসচিব গভীর মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শুনেছেন এবং মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসার কারণ জানতে চেয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।
এই সময়ে প্রধান উপদেষ্টা কক্সবাজার বিমানবন্দর ও খুরুশকুল পুনর্বাসন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির অগ্রগতির খোঁজ নেন তিনি। এ সময় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সেখানকার কাজের অগ্রগতি ও সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেছে। বেবিচক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আমিনুল হাসিব প্রধান উপদেষ্টাকে বিমানবন্দরের নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি জানান, বিমানবন্দরের নির্মাণকাজ ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিকালে প্রধান উপদেষ্টা জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য নির্মিত এই প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন এবং চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন। পরিদর্শনকালে প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিরাজুল ইসলাম প্রধান উপদেষ্টাকে প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১২৯টি ভবনে ৪ হাজার ২১৮ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
পরিদর্শন শেষে প্রধান উপদেষ্টা কক্সবাজারের পর্যটন ও উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, আঁরা হতা হৈবল্যা নু আইয়্যি, অনরাত্তু জাইনতো আইস্যিদে। (আমরা কথা বলার জন্য আসিনি, আপনাদের কাছ থেকে জানতে এসেছি)।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যথেষ্ট ভাগ্যবান। কারণ তাদের একটি সমুদ্র আছে, যা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ব্যবসা করতে উদ্বুদ্ধ করে। কক্সবাজারে বিআইএএম অডিটোরিয়ামে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি আরও বলেন, আমরা যথেষ্ট ভাগ্যবান, কারণ আমাদের একটি সমুদ্র আছে। ব্যবসার জন্য সমুদ্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামুদ্রিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের একটি দীর্ঘ সমুদ্রতীর রয়েছে এবং চট্টগ্রামের সমুদ্রতীরের যেকোনো স্থানে সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা সম্ভব। কক্সবাজারে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এটি কেবল একটি পর্যটন শহরই নয়, বরং অর্থনীতিরও কেন্দ্র।
নেপাল ও ভারতের সেভেন সিস্টার্সের কোনো সমুদ্র নেই উল্লেখ করে ড. ইউনূস পারস্পরিক সুবিধার্থে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, আমরা ব্যবসা করতে পারলে সকলের ভাগ্য বদলে যাবে। লবণ উৎপাদনকারীদের কাছে জানতে চান, বিদেশি আমদানিকারকরা বাংলাদেশ থেকে আমদানি করতে আগ্রহী কিনা। কেননা কক্সবাজারের কৃষকদের উৎপাদিত লবণ এখন রপ্তানি করার সক্ষমতা রয়েছে।
তিনি পাইলট ভিত্তিতে কক্সবাজারে বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বায়ুশক্তির (বায়ুপ্রবাহের শক্তি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন) সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজ নেন। স্থানীয় জনগণকে ভবিষ্যতে সুযোগগুলো কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কক্সবাজার অর্থনীতির একটি বৃহৎ শক্তি এবং এটি তথ্যপ্রযুক্তিরও একটি শহর হতে পারে। তিনি স্থানীয় জনগণের কাছে তাদের ওপর রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের প্রভাব সম্পর্কে জানতে চান। মতবিনিময় সভায় কক্সবাজারের উন্নয়নে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রধান উপদেষ্টার সামনে বিভিন্ন প্রস্তাব ও দাবি পেশ করেন।
বিকাল ৫টার দিকে সড়কপথে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান ড. ইউনূস। সেখানে মহাসচিব ও প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর লাখো রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতার করেন। ইফতার শেষে সড়কপথেই কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বোনকে ফ্ল্যাট পাইয়ে দিতে স্বাক্ষর জাল করেছিলেন টিউলিপ
বৃহস্পতিবার দুদক প্রকাশিত একটি ডকুমেন্টে বলা হয়েছে, বোন আজমিনা সিদ্দিককে পৃথক একটি ফ্ল্যাট পাইয়ে দিতে জাল নথিপত্র ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে অন্য ব্যক্তির স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগপত্রটি এখন আদালতে জমা দেয়া হবে। কেননা, মামলাটি বিচারের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আদালতের অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে। টিউলিপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হন টিউলিপ সিদ্দিক। তার খালা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দল আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির কাছ থেকে উপঢৌকন গ্রহণ করেছিলেন তিনি। যে খবর প্রকাশ হওয়ায় বিশ্ব জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অস্বীকার করলেও শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
বাংলাদেশে টিউলিপের বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্ত করছে দুদক। সংস্থাটি জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের বিস্তৃত তদন্তের অংশ হিসেবে টিউলিপসহ তার একাধিক আত্মীয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে তারা। সংস্থাটির দাবি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখল করেছেন হাসিনা এবং তার আত্মীয়রা। দুদকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, এটি তাদের দুর্নীতির সামান্য অংশ মাত্র। দুদকের তদন্তাধীন আরও বহু অভিযোগ রয়েছে, যাতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী এবং তার পরিবারের বিশাল দুর্নীতির খবর রয়েছে।
১৫ বছর ধরে স্বৈরাচারী কায়দায় বাংলাদেশকে শাসন করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার অবসান হয়েছে গত বছরের আগস্টে। রক্তক্ষয়ী এক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে হাসিনার ক্ষমতার অবসান হয়। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন কমিশনের তদন্তে হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধভাবে জমি দখল এবং অর্থ পাচারের মতো একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। দুদকের দাবি, হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য ঢাকার উপকণ্ঠে অবস্থিত পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পের ৬০ কাঠা জমি বেআইনিভাবে বরাদ্দ করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, অবৈধভাবে সম্পদ গ্রহণে ঢাকায় আরেকটি ফ্ল্যাট নিয়েছেন টিউলিপ। যেটা পাওয়ার জন্য তিনি অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা প্রধান রিয়েল এস্টেট প্রবেশাধিকার পেতে নিয়মকানুনের ধার ধারেনি। এক্ষেত্রে তারা সরকারি লটারি, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সরকারি কর্মচারীদের জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতার মানদণ্ড উপেক্ষা করেছেন।
বৃহদাকার এই তদন্তের অংশ হিসেবে দুদক অভিযোগ করেছে যে, ঢাকার গুলশান এরিয়াতে বোন আজমিনা সিদ্দিককে একটি ফ্ল্যাট পাইয়ে দিতে নথিপত্রে ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করেছিলেন টিউলিপ। তদন্তে দেখা যায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী সিরাজুল ইসলামের স্বাক্ষর জাল করে ব্যবহার করা হয়েছে। ওই আইনজীবী জানিয়েছেন নথিপত্রে তার যে স্বাক্ষর রয়েছে তা ভুয়া। যার একটিও তিনি দেননি। যদিও সিলটিতে তার স্বাক্ষর রয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, নিজের স্বাক্ষরের সঙ্গে নথিপত্রে উল্লিখিত স্বাক্ষরের মিল নেই। গাজী সিরাজুল ইসলাম তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, তিনি কেবল নিজ চেম্বারেই নথিপত্র নোটারি করেন। এক্ষেত্রে টিউলিপ বা আজমিনা সিদ্দিকের সঙ্গে তার পূর্ব পরিচয় ছিল না। বিতর্কিত দলিলটি একটি হেবা দলিল। সম্পদ উপহার দেয়ার জন্য এটি ইসলামী আইনের আশ্রয় নেয়া হয়েছে। দলিলটি ২০১৫ সালের। সে সময় টিউলিপ লেবার পার্টির এমপি ছিলেন। তবে তখনো তিনি কোনো মন্ত্রিত্ব পাননি। দুদকের অভিযোগ নোটারি জালিয়াতি করে সম্পদের আসল মালিকানা গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র টিউলিপ জানুয়ারিতে বলেছিলেন, মন্ত্রীর পদে থাকা সরকারের মনোযোগকে বিক্ষিপ্ত করতে পারে তাই তিনি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। এদিকে নতুন এই অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে এতে সাড়া দেননি টিউলিপ সিদ্দিক।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মহাব্যস্ত দর্জিবাড়ি by আফজাল হোসেন
বৃহসপতিবার সরজমিনে রাজধানীর কয়েকটি দর্জির দোকান ঘুরে দেখা যায়, একদিকে সেলাই মেশিনের খটখট আওয়াজ আর পাশেই চলছে মাপ অনুযায়ী কাপড় কাটা। ফরমায়েশ নেয়া হচ্ছে নতুন পোশাকের। ১২ রমজানের সময়ে এসে মহাব্যস্ত দর্জিবাড়ী। আর এ ব্যস্ততা চলবে চাঁদরাত পর্যন্ত। সেলাই করতে আসা নাগরিকরা বলছেন, তাড়াহুড়োতে কাপড় সেলাই অনেক সময় ভুল হয়। যা ঈদের আনন্দকে নষ্ট করতে পারে, সেই চিন্তা থেকেই অনেকে আগেভাগে বানিয়ে ফেলছেন তাদের পছন্দের জামা-কাপড়। শেষের দিকে কাজের অনেক চাপ থাকে কাপড়ের মধ্যে একটু ডিজাইন করতে চাইলে আগেই কাজ করানো ভালো। এবারে দর্জিরা শার্টের মজুরি নিচ্ছেন ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা। মেয়েদের থ্রি-পিস সেলাইয়ের মজুরি নিচ্ছেন মানভেদে ৩৫০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত।
শনির আখড়া এনেক্স টেইলার্সের জাফর বলেন, সবসময় শবেবরাতেই আমাদের অর্ডার নেয়া বন্ধ হয়ে যায়। তবে এ বছর রমজানের প্রথম দিকে আগের চেয়ে তুলনামূলক কাজের চাপ কম ছিল। ১০ রমজানের পর অর্ডার বেশি এসেছে। সবাই ঈদের শপিং ১০ রমজানের পর থেকে করেন। দোকানগুলোতে ঈদের কালেকশন ১০ রমজানের পর থেকেই আসে। এখন ১২ রমজান চলে আমাদের অর্ডার নেয়া প্রায় শেষ আর দুইদিন সর্বোচ্চ অর্ডার নিতে পারবো।
দুপুর বারোটা বিরতিহীনভাবে সেলাইয়ের কাজ করে যাচ্ছিলেন যাত্রাবাড়ীর বোগদাদিয়া টেইলার্সের উজ্জ্বল হোসেন। তিনি বলেন, ঈদের এ সময়টাতে অর্ডার বেশি আসে। রাত জেগে কাজ করতে হচ্ছে। কাজের চাপের কারণে খাওয়া ও ঘুমের সময় পাচ্ছি না। চাপ একেবার চাঁদরাত পর্যন্ত থাকবে। কোন মডলের কাজ বেশি আসছে সে সমপর্কে তিনি বলেন, এবার পাকিস্তানি থ্রি-পিসের কাজ বেশি আসছে। ১২ রমজান যাচ্ছে আমাদের অর্ডার নেয়া বন্ধ হয়ে গেছে। যে পরিমাণে কাজের চাপ সে তুলনায় দোকানে কারিগর কম। তিনি আরও বলেন, শার্ট সেলাইয়ে আমরা মজুরি ৩০০-৪৫০ টাকা, মেয়েদের থ্রি-পিস মানভেদে ৩৫০-১০০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছি। আমরা চাইলেই বেশি মজুরি নিতে পারি না। আমাদের এখানে যারা আসে তারা সবাই পরিচিত একই এলাকার বাসিন্দা তাই তাদের কাছ থেকে ঈদ উপলক্ষে ১০০-২০০ টাকা চেয়ে নেই।
নবাবগঞ্জ এর সানলাইট টেইলার্সের মালিক রাকিব বলেন, ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়েছে। অনেকেই রেডিমেট জামা পরতে পছন্দ করেন না। নিজের মনেরমতো কাপড় কিনে আমাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের এমব্রয়ডারি ও কারচুপি নক্শা করিয়ে নেন। এজন্য রমজানের শুরুতেই কাপড় কেনার তাগাদা থাকে অনেকের। আমাদের হাতে আসার পর একেকটা নক্শা করতে অনেক সময় দিতে হয়।
নিউমার্কেটের রাইসা ফ্যাশনের একজন কারিগর বলেন, একটা নির্দিষ্ট টার্গেট নিয়ে কাজ করি। যে আমাদের দৈনিক কয়টা কাজ করতে হবে। অর্ডার অনুযায়ী আমরা গুনবো যে, দিনে কয়টা করে করতে হবে। তার ওপর নির্ভর করবে যে আর কোনো অর্ডার নেয়া যাবে কি-না। মেয়েদের থ্রি-পিসের সেলাইয়ে মানভেদে ৩৫০-১০০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছি। আমাদের কাছে যেসব অর্ডার আসছে তার মধ্যে পাকিস্তানি থ্রি-পিস, কারিজমা থ্রি-পিস, আগানুর, সাদা বাহার বুটিক্স ও সাজনা থ্রি-পিসের সেলাইয়ের অর্ডার বেশি আসছে। ঈদের এ সময়টাতে কাজের চাপ বেশি থাকে তাই কারিগর ভাড়া করেছি। নিয়মিত কারিগর দিয়ে এ চাপ সামলানো মুশকিল।
দর্জির দোকানে সিরিয়াল পাওয়া যাবে না তাই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ধানমণ্ডিতে ঈদের পোশাক কেনা শেষে দোকানের বিল চুকিয়ে সরাসরি দর্জির দোকানে চলে এসেছেন শিক্ষিকা শারমিন আক্তার। শারমিন বলেন, রমজানের শেষের দিকে দর্জির দোকানগুলোতে ভিড় বেশি থাকে। পছন্দমতো ড্রেস বানাতে সেজন্য একটু আগেই কিনে রাখা ভালো। কাপড়ের মধ্যে একটু ডিজাইন করতে চাইলে আগেই কাজ করিয়ে নিতে হয়।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাদেক হোসেন তার স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন দর্জির দোকানে। তিনি বলেন, পছন্দমতো নক্শা ও ফিটিংসের পোশাক বানাতে সময় লাগে। তাছাড়া তড়াহুড়োতে কাপড় সেলাই করতে অনেক সময় ভুল হয় তাই একটু আগে থেকেই সেলাইয়ের অর্ডার দিতে এসেছেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
“ইউক্রেন হয়তো কুরস্কে আত্মসমর্পণ করবে, নয়তো মরবে”
সাংবাদিকদের পুতিন বলেছেন, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি সঠিক। আমরা এটিকে সমর্থন করি। তবে এখনো কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে যা আমাদের আলোচনা করা প্রয়োজন। পুতিন বলেন, যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তির দিকে ধাবিত হবে এবং এই সংকটের মূল কারণগুলো দূর করবে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, সম্ভবত আমি ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলবো। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ৩০ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়া ইউক্রেনের জন্য ভালোই হবে বলে মনে করেন পুতিন। বলেন, আমরাও এটির পক্ষে; তবে এখানে বেশ কয়েকটি বিষয় রয়েছে।
পুতিন বলেন, দ্বন্দ্বের একটি বিষয় হচ্ছে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কুরস্ক অঞ্চল। যেখানে ইউক্রেন গত আগস্টে সামরিক হামলা শুরু করে কিছু অঞ্চল দখলে নিয়েছে। তবে বর্তমানে সেগুলো পুনরুদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন পুতিন। সেখানে ইউক্রেনের সৈন্যরা এখন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এবং এ অঞ্চল আমাদের দখলে রয়েছে। আমরা পরিত্যক্ত অস্ত্র কব্জা করছি। এখানে মাত্র দুটি পথ খোলা রয়েছে। হয়তো ইউক্রেন কুরস্কে আত্মসমর্পণ করবে নয়তো তারা মরবে। এদিকে কুরস্ক ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ইউক্রেনের শীর্ষ কমান্ডার ওলেকসান্ডার সিরস্কি। একদিন আগে তিনি বলেছেন, যতক্ষণ সমীচীন হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ইউক্রেনীয় সেনারা কুরস্ক অঞ্চলে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান ধরে রাখবে। রুশ যোদ্ধাদের চাপ থাকলেও সেটা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে কীভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে সে বিষয়ে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন উত্থাপন করেন পুতিন। জিজ্ঞেস করেন, ৩০ দিন কীভাবে ব্যবহার করা হবে ইউক্রেনকে সংগঠিত করতে? তাদের সশস্ত্র করতে? তাদের লোকদের প্রশিক্ষণ দিতে? নাকি এর কোনোটি নয়। কীভাবে এই যুদ্ধবিরতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে তা নিয়েও প্রশ্ন করেছেন পুতিন। এখানেই তার প্রশ্ন শেষ নয়। তিনি আরও জানতে চান, কে এই যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দিবে? এর মূল্য? ২০০০ কিলোমিটার জুড়ে চলমান যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি কেউ ভঙ্গ করলে তা নির্ধারণ করবে কে? এসব প্রশ্ন মীমাংসা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন পুতিন। তার এই কথার পর অভিযোগ করে জেলেনস্কি বলেছেন, সরাসরি না বললেও বাস্তবে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পুতিন। জেলেনস্কি যোগ করেছেন, পুতিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কথা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সরাসরি বলতে ভয় পাচ্ছেন। তিনি ইউক্রেনের নাগরিকদের হত্যা করতে চান। রুশ প্রেসিডেন্ট এত শর্ত জুড়ে দিয়েছেন যে, এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মায়ের স্বপ্নপূরণে আমেরিকায় বাংলাদেশির মসজিদ নির্মাণ! by সিদ্দিকুর রহমান সুমন
তবে এই পথ চলা সহজ ছিলো না বলে জানান আরেক ভাই উদ্যোক্তা গোলাম রাব্বানী খান। তিনি বলেন, রিভারডেল এলাকাতে মুসলিম কমিউনিটির সংখ্যা বেশি না থাকায় অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হয়েছে। বাসা ভাড়া কিংবা বাসা ক্রয় করতে গেলে যখনই শুনেছে মসজিদের জন্য তখনই সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তবে মহান আল্লাহর পরিকল্পনা সেরা পরিকল্পনা।
তিনি চেয়েছিলেন, রিভারডেলে প্রথম মসজিদ হোক, তাই যে এলাকায় ১০ লাখ ডলারের নিচে বাসা নেই সেখানে মাত্র ৩ লাখ ডলারের মসজিদের জন্য বাসা ক্রয় করা হয়েছে।
গোলাম রাব্বানী খান জানান, মসজিদ ইতিমধ্যে স্থানীয় বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেয়েছে। উদ্বোধনের পর এখন কনস্ট্রাকশনের কাজ চলছে। আগামীতে মসজিদভিত্তিক একটি ইসলামিক সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এজন্য সবার সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
মায়ের ইচ্ছে পূরণে সন্তানদের মসজিদ প্রতিষ্ঠার আগ্রহ প্রশংসার দাবি রাখে। মুসলিম কমিউনিটির জন্য যেমন সুখবর তেমনি বাংলাদেশি হিসেবে আনন্দের সংবাদ বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের কমিউনিটি নেতা আমির উদ্দিন।
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বাংলাদেশিদের এই দৃষ্টান্ত একদিকে যেমন প্রেরণা দেবে মা-ভক্ত সন্তানদের, তেমনি মসজিদটি মুসলিম কমিউনিটিতে অবদান রাখবে যুগ যুগ ধরে-এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সবাই।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
টাইমের প্রতিবেদনে ২০২৫ সালে ভ্রমণযোগ্য বিশ্বের সেরা স্থান
যেসকল ভ্রমণপিপাসুরা বছরের পর বছর ধরে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ভ্রমণ করেন, তাদের কাছে ২০২৫ সাল যে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি জনপ্রিয় ১০০টি পর্যটন স্থান নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক-ভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিন। সেখানে এমন সব গন্তব্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে যা ভ্রমণপিপাসুদের নিজস্ব গল্প তৈরি তুলে ধরে। এল সালভেদর থেকে জিম্বাবুয়ের উল্লেখযোগ্য পর্যটন স্থানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। যার মাধ্যমে ভ্রমণপিপাসুরা রোমাঞ্চকর এক অভিজ্ঞতার স্বাদ পাবে। মনে করুন, নিউইয়র্কের ওয়ালডর্ফ অ্যাস্টোরিয়া। নতুন সংস্করণ নিয়ে আবারও খুলতে যাচ্ছে ৯৪ বছরের পুরোনো এই ঐতিহাসিক হোটেল। আর যাদের মনে সবার আগে এই অভিজ্ঞান আসে, তাদের জন্য হোটেলের ৩৫৭টি নতুন অতিথি স্যুট ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে ভিন্ন স্তরে পৌঁছে দেবে।
আপনাকে যদি প্রাচীন ইতিহাস এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আকর্ষণ করে, তাহলে জর্জিয়ার মেকনের ওকমুলগি মাউন্ডস এর ঐতিহাসিক পার্কে চলে যান। ২০১৯ সালে যেটি ঐতিহাসিক পার্ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আসন্ন বছরগুলোতে রাজ্যের প্রথম জাতীয় পার্ক হওয়ার পথে রয়েছে এটি। অথচ একসময় এখানে কাউকেই দেখা যেত না। তবে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। কেউ যদি অন্য রকম অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাহলে সেখানে চলে যেতে পারেন।

ক্যারিবিয়ানেও এখন রয়েছে নতুন আকর্ষণ। সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডিনসে স্যান্ডালস রিসোর্টের নতুন শাখা। শুধু সমুদ্রের সামনে বসে থাকাই নয়, এখানে রয়েছে ৩০০ ফুট দীর্ঘ সুইমিং পুল এবং এমন সব বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধা, যা আপনাকে সম্পূর্ণ নতুন এক দুনিয়ায় নিয়ে যাবে।
এদিকে, দক্ষিণ আমেরিকার কলম্বিয়ায় ম্যাগডালেনা নদী এখন নদীযাত্রার জন্য প্রস্তুত। আপনিও যদি সপরিবারে এক সপ্তাহব্যাপী এ নদীভ্রমণ চান, তাহলে এএমএ ওয়াটারওয়েজ ক্রুজে সাত দিনের বুকিং দিতে পারেন। এই যাত্রা আপনাকে কলম্বিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সংস্কৃতির অদ্বিতীয় পরিচয় দিতে সাহায্য করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

যেতে পারেন স্কটল্যান্ডে। যা আপনার জন্য একটি ঐতিহাসিক যাত্রা হতে পারে। পর্যটকদের জন্য পুনরায় খুলে দেয়া হয়েছে পোর্ট এলেন। চোখ ধাধানো সৌন্দর্যের এই স্থানটি প্রায় ৪০ বছর বন্ধ ছিল। তবে ভ্রমণেচ্ছুদের কথা ভেবে এটি গত বছর খুলে দেয়া হয়েছে। এখানে আপনি পেয়ে যাবেন এক কাপ মনভোলানো চা, যা আপনার মনটাকেই মায়ার আবেশে ভরে দেবে। এটি হবে অসাধারণ অভিজ্ঞতা, যেখানে ট্রাডিশন ও আধুনিকতা একসঙ্গে মিলেমিশে চলে।
প্যারিসের নটর ডেম ক্যাথেড্রাল, যেখানে ২০১৯ সালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়। স্থানটি আবারও তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পেতে চলেছে। এর নকশা এবং কাঠামো যতটা ঐতিহ্যগত, ততটাই আধুনিক, যা সেই ঐতিহাসিক স্মৃতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এছাড়া, ডেনমার্কের দক্ষিণ ইয়োতল্যান্ডের লডেনহোজ এবং স্কাররেভ সাইড রিসোর্টগুলো আপনার জন্য ভ্রমণের অন্যতম পছন্দের যায়গা হতে পারে। যেগুলি এখন নতুন ধরনের আধুনিক জীবনযাত্রার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এখানে সঙ্গে থাকতে পারে আপনার পরিবার।
এটি যেমন একটি ভ্রমণ অভিজ্ঞতার গল্প, তেমনি সেই পথ ধরে এগিয়ে যাওয়ার এক চমৎকার প্রস্তুতি। এখনই আপনার পরবর্তী সফরের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। ২০২৫ সালের এই গন্তব্যগুলো যে শুধুই প্রাকৃতিক বা ইতিহাসের স্মৃতিস্তম্ভ, তা কিন্তু না। এটি এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে, যা প্রতিটি ভ্রমণপিপাসুর হৃদয়ে অমলিন স্মৃতি তৈরি করবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নাসার সতর্কবার্তা: ২০২৪ সালে অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা
এতে বলা হয়, ন্যাশনাল আরোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা) তাদের ওয়েবসাইটে ব্যাখ্যা করেছে যে, মহাসাগরগুলোতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বরফ গলার পরিমাণ বেড়ে গেছে। ফলে সমুদ্রের উষ্ণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাওয়া চিত্র ব্যবহার করে পৃথিবীর জলস্তরের ওপর বিশ্লেষণ করেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। তারা দেখতে পেয়েছেন ২০২৪ সালে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে প্রায় শূন্য দশমিক ২ ইঞ্চি। বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাসের তুলনায় গত বছর পানির স্তর অনেকটাই উপরে উঠে এসেছে।
নাসার জেট প্রপালশন ল্যবরেটরির গবেষক জশ উইলিস বলেছেন, প্রতিবছরই অল্প অল্প করে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়, কিন্তু সমুদ্রের পানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিষয়টি ঘটছে অনেক দ্রুত, যা অস্বাভাবিক।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মানব-সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতিগুলোর মধ্যে একটি। কেননা পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখেই সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন পরিবর্তনের পেছেনে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকেই দায়ী করছেন বিজ্ঞানীরা।
নাসার বিজ্ঞানীদের মতে, ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোট তিন দশকে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতা বৃদ্ধির পরিমাণ চার ইঞ্চি। এর দুটি কারণের কথা উল্লেখ করেছেন তারা। এক- হিমবাহ এবং মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া। যখন হিমবাহ এবং মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যায় তখন সমুদ্রে প্রচুর পরিমাণে মিষ্টি পানি (ফ্রেশওয়াটার) প্রবাহিত হতে থাকে, যারফলে সমুদ্রের স্তর বৃদ্ধি পায়। দুই- তাপের কারণে সমুদ্রের পানি প্রসারণ হয়। অর্থাৎ, সমুদ্রের পানি তাপ পেলে তার আয়তন বাড়ে। এই প্রক্রিয়াকে বিজ্ঞানীরা তাপীয় প্রসারণ বলেন। এমন পরিস্থিতিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে থাকে।
নাসার মতে, আগের বছরগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ছিল হিমবাহ বা বরফ গলে যাওয়া। তবে ২০২৪ সালের ক্ষেত্রে সে চিত্র পুরোপুরি উল্টে গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বছরটিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির দুই-তৃতীয়াংশই হচ্ছে তাপীয় সম্প্রসারণের ফলে।
১৮৫০ সালে এ ধরনের রেকর্ড রক্ষণাবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৪ সাল ছিল সবচেয়ে উষ্ণতম বছর। পৃথিবী জুড়ে মানুষ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন অব্যাহত রাখলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আরও বৃদ্ধি পাবে। যা উপকূলীয় অঞ্চল এবং বিভিন্ন দ্বীপে বসবাসকারী বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য হুমকির কারণ হবে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনৈতিক আশ্রয় নিতেই কানাডায় পালিয়েছেন রাষ্ট্রদূত হারুন
গত বছরের ১১ ডিসেম্বর তাকে দেশে ফিরে ‘অনতিবিলম্বে’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি দেশে না ফিরে কৌশলে কানাডা চলে যান। শুক্রবার তার একটি ফেসবুক পোস্ট সবার নজরকাড়ে। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘ড. ইউনূসের অধীনে নৈরাজ্যের পথে ধাবিত বাংলাদেশ—বিশ্বের নীরবতা বেদনাদায়ক’।
‘৫ই আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈধ সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।’ এমনটিও দাবি করেছেন এই কূটনীতিক।
কূটনীতিক হারুনের ফেসবুক পোস্ট সামনে আসার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কূটনীতিক এবং তার পরিবারের সদস্যদের পাসপোর্ট বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মরক্কোতে বাংলাদেশের সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হারুন আল রশিদ তার ফেসবুক প্রোফাইলে একটি লেখা পোস্ট করেছেন, যেখানে তিনি পূর্ববর্তী নিপীড়ক ফ্যাসিবাদী সরকারের গুণকীর্তনের পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে গত ৫ আগস্ট–পরবর্তী বাংলাদেশে পরিস্থিতি ক্রমে নৈরাজ্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে চিত্রিত করার অপচেষ্টা করেছেন। পোস্টে হারুন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রচেষ্টাসহ বাংলাদেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করেছেন।
এতে বলা হয় , প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে বর্তমান বাংলাদেশে বিরাজমান পরিস্থিতি এবং বাস্তবতাকে সম্পূর্ণরূপে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ফেসবুকে এ ধরনের লেখা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং এর বিষয়বস্তু গভীরভাবে উদ্বেগজনক। এরূপ রচনা লেখকের গোপন উদ্দেশ্য বা অসৎ অভিসন্ধির ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করে মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পরিবর্তে তিনি কানাডায় চলে যান এবং সেখান থেকে ফেসবুকে লেখালেখি শুরু করেন। তিনি তার ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিজেকে ‘নির্যাতিত কূটনীতিক’, ‘নির্বাসিত ঔপন্যাসিক’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা মূলত বিদেশে সহানুভূতি অর্জনের অভিপ্রায়ে করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে তার এবং তার পরিবারের পাসপোর্টগুলো বাতিলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। মন্ত্রণালয় মোহাম্মদ হারুন আল রশিদের এমন কর্মকাণ্ডের জন্য প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলেছে, মন্ত্রণালয় তার কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারীর এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবে প্রশ্রয় দেয় না এবং ভবিষ্যতেও যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ওদিকে দেশে ফেরার নোটিশ দেয়ার পরও এই কূটনীতিক দেশে না ফেরায় তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কেনো এই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যে কারণে এ্যানিকে বিশ্ব সাঁতারে পাঠাচ্ছে ফেডারেশন
১৯৭৩ সাল থেকে হয়ে আসছে বিশ্ব সাঁতারের এই প্রতিযোগিতা। যেখানে বাংলাদেশের লক্ষ্যই থাকে সাঁতারুদের টাইমিংয়ের উন্নতি এবং নিজেকে পরখ করা। ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত যে কজন বাংলাদেশি সাঁতারু অংশ নিয়েছেন, এই টুর্নামেন্টে কেউই পদকের ধারেকাছে যেতে পারেননি। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শাাহিন বলেন, ‘আমাদের তো পদকের আশা নেই। তারা গিয়ে কিছুটা উন্নতি করল, টাইমিংও আগের চেয়ে ভালো হলো।’ সামিউল গত বছরও বিশ্ব সাঁতারে গিয়েছিলেন। তখন তাঁর সঙ্গে যান সোনিয়া খাতুন। কিন্তু এবারই প্রথম কুষ্টিয়ার আমলা থেকে উঠে আসা সাঁতারু এ্যানি যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সাঁতারে। গত বছর জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতারে ১২টি সোনার পদক পাওয়ার পথে ৬টি জাতীয় রেকর্ড গড়েছিলেন এ্যানি। প্রশ্ন উঠেছে, সিনিয়র সাঁতারুদের রেখে জুনিয়র এ্যানিকে কেন পাঠানো হচ্ছে? এর জবাবে শাহিন বলেন , ‘ফিনার কয়েকটি নিয়ম রয়েছে। যে কারণে অনেক সময় আমরা নিজেদের ইচ্ছামতো সাঁতারু পাঠাতে পারি না।’ যে নিয়মের মধ্যে রয়েছে বয়সের মাপকাঠি। ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব সাঁতারে যাঁরা খেলতে যাবেন, তাঁদের বয়স অবশ্যই ১৮ থেকে ২৬ হতে হবে। আরেকটি নিয়ম হলো, অংশ নেওয়া দুজনের মধ্যে ফিনার দেওয়া এক থেকে দুই বছরের বৃত্তি পাবেন একজন সাঁতারু। সেদিক বিবেচনায় রেখেই এ্যানিকে বাছাই করেছে ফেডারেশন। সিনিয়রদের মধ্যে যূথী আক্তার ও সোনিয়াই এ প্রতিযোগিতায় যাওয়ার দাবিদার ছিলেন। কিন্তু বয়সের কারণে তাদের পাঠাতে পারেনি ফেডারেশন। এ্যানিকে পাঠানোর কারণ জানিয়ে শাহিন বলেন, ‘এ্যানিকে পাঠানোর মূল কারণ, সে যদি বৃত্তি পায়, তাহলে থাইল্যান্ডে থেকে অনুশীলন করে নিজেকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারবে।’ গত আসরে অংশ নেয়া রাফি ফিনার বৃত্তিতে দুই বছর ধরে থাইল্যান্ডে উন্নত প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1402)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
March
(433)
-
▼
Mar 15
(18)
- নেতৃত্বের কাড়াকাড়ি বা ব্যানারবাজি জুলাই আন্দোলনে...
- মোদি সরকারের জোড়া সমস্যা: উত্তর–দক্ষিণ বিভাজনের কী...
- গল্প- একদিন অরিত্র by কানাই কুণ্ডূ
- রোহিঙ্গা গণহত্যার বর্ণনা শুনলেন গুতেরেস
- সুযোগ পেলেই আমরা ড. ইউনূসকে শূলে চড়াই : সারজিস
- রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: কীভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর কর...
- টিউলিপের বিরুদ্ধে জাল সই ব্যবহার করে বোনের নামে ফ্...
- ছিনতাইয়ের শিকার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বাসায় হাজির...
- অমুক ব্যবসায়ীর সঙ্গে অমুক রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক, ...
- রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুতেরাঁর একদিন: সংস্কারে বাংলাদে...
- বোনকে ফ্ল্যাট পাইয়ে দিতে স্বাক্ষর জাল করেছিলেন টিউলিপ
- মহাব্যস্ত দর্জিবাড়ি by আফজাল হোসেন
- “ইউক্রেন হয়তো কুরস্কে আত্মসমর্পণ করবে, নয়তো মরবে”
- মায়ের স্বপ্নপূরণে আমেরিকায় বাংলাদেশির মসজিদ নির্মা...
- টাইমের প্রতিবেদনে ২০২৫ সালে ভ্রমণযোগ্য বিশ্বের সের...
- নাসার সতর্কবার্তা: ২০২৪ সালে অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়েছ...
- রাজনৈতিক আশ্রয় নিতেই কানাডায় পালিয়েছেন রাষ্ট্রদূত ...
- যে কারণে এ্যানিকে বিশ্ব সাঁতারে পাঠাচ্ছে ফেডারেশন
-
▼
Mar 15
(18)
-
▼
March
(433)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...




