Showing posts with label নাইজেরিয়া. Show all posts
Showing posts with label নাইজেরিয়া. Show all posts

Wednesday, December 31, 2025

নাইজেরীয় শিল্পী হলেন জাতিসংঘের প্রথম বৈশ্বিক শান্তির দূত

জাতিসংঘের প্রথম বৈশ্বিক শান্তির দূত হলেন নাইজেরিয়ার স্পোকেন-ওয়ার্ড শিল্পী ও কবি মরিয়ম বুকার হাসান। সম্প্রতি জাতিসংঘের প্রথম গ্লোবাল অ্যাডভোকেট ফর পিস হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। জাতিসংঘের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এ খবর দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয় মরিয়ম বুকার হাসান লিখেছেন ‘শান্তি এমন কোনো নীরবতা নয়, যা মানুষের মুখে জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়’। তিনি ‘আলহান ইসলাম’ নামেও পরিচিত। তিনি আরও লিখেছেন, শান্তি ‘যুদ্ধের অনুপস্থিতি নয়, বরং বোঝাপড়ার বিষয়।’ এই ভাবনাই ফুটে উঠেছে তার সাম্প্রতিক কবিতা ‘পিস ইজ এ ভার্ব’-এ। উত্তর নাইজেরিয়ায় জন্ম নেয়া বুকারের শৈশব ছিল সশস্ত্র বিদ্রোহের করাল ছায়ায় গড়া।

বরনো ও কাদুনা অঙ্গরাজ্যের মধ্যে বারবার স্থান পরিবর্তনে বাধ্য হয়ে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে প্রত্যক্ষ করেছেন বোকো হারামের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর নৃশংস সহিংসতা। এই অঞ্চলেই এক দশকেরও বেশি আগে প্রায় ৩০০ স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছিল। এখনও তাদের  অনেকের কোনো খোঁজ নেই। মরিয়ম বুকার হাসান স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি প্রথম যে যুদ্ধ দেখেছি, তখন আমার বয়স ছিল মাত্র চার বছর। তিনি জানান, সশস্ত্র লোকেরা তাদের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তার ভাষায়, ‘তারা এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে যাচ্ছিল। যদি দেখত কেউ মুসলিম, তাকে টেনে বের করে এনে হত্যা করত।’ বুকার ব্যথাভরা কণ্ঠে বলেন, ‘চার বছর বয়সে কোনো শিশুর এমন কিছু মনে থাকার কথা নয়। তাদের মনে থাকার কথা হাসিখুশিতে সময় কাটানোর স্মৃতি। তারা প্রায় মারা যাচ্ছিল শুধু মুসলিম বা খ্রিস্টান হওয়ার কারণে এমন স্মৃতি তাদের ধারণ করার কথা নয়।’

বুকারের কবিতা কেবল তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার দলিল নয়; এটি একই সঙ্গে সংকট ও সংঘাতে টিকে থাকা মানুষের সংগ্রাম, টিকে থাকার শক্তি আর আশার কাহিনি। কবিতাটি মানুষকে শান্তির সুযোগ দিতে আহ্বান জানায়। তিনি বলেন, ‘আমি মানবমনের দৃঢ়তাকে ধরতে চেয়েছি। কেউ একদিন সকালে ঘুম ভেঙে হঠাৎ বোমা মারতে শুরু করে না। এর পেছনে থাকে ইতিহাস, বঞ্চনা, ক্ষোভ- থাকে হৃদয়ের ভেতরের যুদ্ধ।’

বুকারের কাছে শান্তিতে বিনিয়োগ মানে হলো সহিংসতা ও সংঘাতের মূল কারণগুলোকে চিহ্নিত ও সমাধান করা। তিনি কল্পনা করেন এমন এক পৃথিবীর, ‘যেখানে বিশ্বনেতারা সত্যিই আলোচনা করবেন- কীভাবে নাগরিকরা নিজেদের দেশে উন্নত হবে, নিরাপদ বোধ করবে এবং শেকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারবে।’

mzamin

Saturday, December 27, 2025

নাইজেরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ হামলা

নাইজেরিয়ার সরকারের অনুরোধে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন সামরিক বাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই অঞ্চলে আইএস সন্ত্রাসীরা মূলত খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে সহিংস হামলা চালাচ্ছিল। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, প্রধান সেনাপতি হিসেবে আমার নির্দেশে আজ রাতে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় আইএস সন্ত্রাসী দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। তারা নিরীহ খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছিল। যা বহু বছর, এমনকি শতাব্দীর মধ্যে দেখা যায়নি।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর আফ্রিকা কমান্ড জানিয়েছে, নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সকোতো রাজ্যে এই হামলা চালানো হয় এবং এতে একাধিক আইএস সন্ত্রসী নিহত হয়েছে।

নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ মাইতামা তুগ্গার বৃটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, এই হামলা একটি যৌথ অভিযান এবং এর লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসীরা। এর সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিষয় জড়িত নয়। আইএসের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, এই অভিযান অনেক দিন ধরেই পরিকল্পিত ছিল এবং এতে নাইজেরিয়ার দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও হামলা হতে পারে কি নাÑ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তা দুই দেশের নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

গত অক্টোবরের শেষ দিকে ট্রাম্প দাবি করেন, নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টান সম্প্রদায় অস্তিত্বগত হুমকির মুখে রয়েছে এবং সহিংসতা ঠেকাতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে সতর্ক করেন। এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নভেম্বরের শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র নাইজেরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বিমান উড়িয়েছে।

নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও কৌশলগত সমন্বয় রয়েছে। পেন্টাগনের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, পরিচিত আইএস ঘাঁটিতে থাকা একাধিক সন্ত্রাসীকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক্স বার্তায় নাইজেরিয়া সরকারকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, আরও আসছে।

নাইজেরিয়া সরকার বরাবরই বলে আসছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মুসলিম ও খ্রিস্টানÑ উভয় সম্প্রদায়কেই লক্ষ্য করে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কেবল খ্রিস্টান নিপীড়নের ওপর জোর দেওয়া দেশটির জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না। তবে সন্ত্রাসবিরোধী সক্ষমতা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে নাইজেরিয়া। দেশটির জনসংখ্যার একটি বড় অংশ উত্তরাঞ্চলে বসবাসরত মুসলিম এবং দক্ষিণাঞ্চলে খ্রিস্টান অধ্যুষিত।

এদিকে বৃহস্পতিবার নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও ৩৫ জন আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ওই অঞ্চলটিও দীর্ঘদিন ধরে ইসলামপন্থী বিদ্রোহীদের সহিংসতায় জর্জরিত।

ক্রিসমাস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু ধর্মীয় সম্প্রীতির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশেষ করে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শান্তি বজায় রাখা জরুরি। তিনি আরও বলেন, নাইজেরিয়ায় ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং খ্রিস্টান, মুসলিমসহ সব নাগরিককে সহিংসতা থেকে রক্ষা করতে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব। উল্লেখ্য, ক্রিসমাসের দিন ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো ক্লাবে অবস্থানকালে ট্রাম্প এই হামলা নিয়ে বক্তব্য দেন। একই সময়ে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াতেও আইএসের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে বড় পরিসরের হামলা চালায়।

mzamin

Thursday, November 20, 2025

নাইজেরিয়ায় যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বিপজ্জনক জুয়া by লিওন হাডার

আবার শুরু। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নাইজেরিয়ায় সামরিক শক্তি মোতায়েন করার সর্বশেষ হুমকি ওয়াশিংটনের চিরন্তন বিভ্রান্তির আরেকটি অধ্যায় উপস্থাপন করছে। সেটা হলো আমেরিকান শক্তি বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা একটি জটিল সমাজকেও পুনর্গঠন করতে পারে।

সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, মার্কিন স্বার্থ রক্ষা বা গণতন্ত্রের বিকাশ—যে যুক্তিই দেওয়া হোক না কেন, সেটি অতিপরিচিত চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তি মাত্র। আমরা সেটি ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া ও আফগানিস্তানে আগেও দেখেছি। এসব গল্পের মূল জমিনটা কখনোই বদলায় না। প্রথমে সামরিক সাফল্য, এরপর সেখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, অনিচ্ছাকৃত পরিণতি এবং শেষমেশ বিশৃঙ্খলভাবে মার্কিনদের পিছু হটা।

নাইজেরিয়ার জনসংখ্যা ২২ কোটি। এটি আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতি এবং সবচেয়ে জনবহুল দেশ। মুসলিম–অধ্যুষিত উত্তরাঞ্চল এবং খ্রিষ্টান–অধ্যুষিত দক্ষিণাঞ্চল জাতিগত উত্তেজনায় গভীরভাবে বিভক্ত। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইসলামপন্থী বিদ্রোহ, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দেশটিতে রয়েছে। সারা দেশে দুর্নীতি মহামারির রূপ নিয়েছে। এই জটিল ও অস্থিতিশীল একটি দেশে ট্রাম্প মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব করেছেন। তাঁর এ প্রস্তাব ঠিকঠাক বলেই মনে হচ্ছে?

বাস্তবসম্মত মূল্যায়নটা এখানে স্পষ্ট—নাইজেরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি কোনো হুমকি নয়। সন্ত্রাসবাদ, মানবাধিকার লঙ্ঘন বা শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতার মতো নাইজেরিয়ায় যেসব সমস্যা ওয়াশিংটন অনুভব করছে, তার কোনোটিই সামরিক হস্তক্ষেপকে যৌক্তিক করে না। বোকো হারাম বিদ্রোহ, যতই ট্র্যাজিক হোক না কেন, সেটা একটি আঞ্চলিক সমস্যা, মার্কিন সমস্যা নয়।

এ ছাড়া বাস্তব বাধাগুলোও অত্যন্ত জটিল। নাইজেরিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার ঘনত্ব ও রাজনৈতিক জটিলতা—সব মিলিয়ে দেশটি ইরাক বা আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার মতো আঞ্চলিক শক্তিও এই হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করবে। আফ্রিকান ইউনিয়নও নিন্দা করবে। তাহলে আর কোন কৌশলগত লাভটা এখানে থেকে থাকতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ যুক্তি হতে পারে, আমরা যদি না করি, তাহলে অন্য কেউ কেউ শূন্যস্থান পূরণ করবে। সম্ভবত চীন বা রাশিয়া। এই জিরো সাম চিন্তাপদ্ধতি এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে যে প্রতিটি বৈশ্বিক সমস্যায় মার্কিন সমাধান প্রয়োজন নয়। নাইজেরিয়ার চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করতে হবে আফ্রিকার আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সমর্থনে নাইজেরিয়ানদের নিজস্ব উপায়ে।

আমেরিকা যখন নিজস্ব আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন নাইজেরিয়ায় সামরিক শক্তি মোতায়েনের অর্থনৈতিক ব্যয়ও ভয়াবহ হবে। যুক্তরাষ্ট্র, নাইজেরিয়া—দুই দেশের মানবিক ক্ষয়ক্ষতিও হবে অসীম। আর রাজনৈতিক ব্যর্থতার কারণে আফ্রিকা ও বৈশ্বিক দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতা অনেকখানি ক্ষয় পাবে। কয়েক দশকের দ্বিচারিতার কারণে এমনিতেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ভাবমূর্তি এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ট্রাম্পের এই হুমকি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে দ্বিদলীয় অবাস্তব চিন্তার ধারাবাহিকতারই বহিঃপ্রকাশ। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—কেউই এটা বুঝতে, শিখতে সক্ষম নয় যে সামরিক শক্তি রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে পারে না। কোনো একটি দেশ নির্মাণের প্রকল্প কখনো কাজ করে না, যখন সেই দেশ নিজেই চায় না যে বিদেশিরা সেটা গড়ে তুলুক।

পরিহাসটা কিন্তু গভীর। একজন প্রেসিডেন্ট, যিনি ‘অনন্ত যুদ্ধ’ শেষ করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছিলেন, এখন তিনি পশ্চিম আফ্রিকায় নতুন যুদ্ধের কথা ভাবছেন। ট্রাম্পের এই হুমকির পেছনে নাইজেরিয়া যতটা তার চেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মঞ্চে শক্তি প্রদর্শন করা, দেশের সমস্যা থেকে জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরানো এবং সমর্থকগোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করা।

যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে নাইজেরিয়ার যা দরকার, সেটা সামরিক হস্তক্ষেপ নয়; বরং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও এমন কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা, যা দেশটির সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ওয়াশিংটনের উচিত আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করা, আফ্রিকানদের নেতৃত্বে পরিচালিত সমাধানগুলোকে সমর্থন দেওয়া এবং মার্কিন শক্তির সীমাবদ্ধতাকে স্বীকার করা।

ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে সেরা কাজটা হবে নাইজেরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি ব৵র্থ সামরিক অভিযানে যুক্ত করার প্রলোভন থেকে সরে আসা। কিন্তু এর জন্য দরকার প্রজ্ঞা, সংযম এবং মার্কিন স্বার্থ ও সামর্থ্যের বাস্তব মূল্যায়ন। এই গুণগুলো ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারকদের মধ্যে বরাবরই অনুপস্থিত।

বাস্তবসম্মত অবস্থান এখানে স্পষ্ট, সেটা হলো দূরে থাকুন। নাইজেরিয়ার সমস্যার সমাধান নাইজেরিয়ার নাগরিকদের করতে দিন। মার্কিন সম্পদকে প্রকৃত নিরাপত্তা-হুমকির মোকাবিলায় ব্যয় করুন। এই বিভ্রান্তি ত্যাগ করুন যে বিশ্বের প্রতিটি সংকটেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন।

● লিওন হাডার, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
- এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

Saturday, January 11, 2025

নাইজেরিয়ার লাগোস: পার্টি আর নির্ঘুম রাতের শহর

বাহারি পোশাকে আনন্দ–উল্লাস করছে তরুণ–তরুণীর দল। রাতভর চলছে তাঁদের উদ্‌যাপন। দিনে নয়; রাতেই বরং শহরটি বেশি প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে। সব শুনে মনে হতে পারে ইউরোপ অথবা আমেরিকার কোনো শহর হবে হয়তো। কিন্তু রাতভর পার্টি আর নির্ঘুম রাতের এই শহরের অবস্থান আফ্রিকায়। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার সবচেয়ে বড় এ শহরের নাম লাগোস।

শীতকালে বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় একটি স্থান হয়ে উঠছে লাগোস। উৎসব, সৈকতে পার্টির পাশাপাশি ফ্যাশন অনুষঙ্গ যুক্ত হয়ে দিন দিন লাগোস হয়ে উঠেছে উদ্‌যাপনের এক নগরী। বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির প্রথমার্ধে পর্যটকদের যেন ঢল নামে সেখানে। এ সময়কাল ‘ডেটি ডিসেম্বর’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

লাগোসে অনুষ্ঠান আর আয়োজন সব সময় লেগেই থাকে। এসব অনুষ্ঠানে আফ্রিকার প্রখ্যাত সংগীতশিল্পীদের পাশাপাশি হামেশাই বিভিন্ন দেশ থেকে শিল্পীরা যোগ দেন। শুধু বদ্ধ জায়গাতেই থেমে থাকে না এ উৎসব-উদ্‌যাপন। ডিসেম্বর এলেই দেখা যায়, শহরটির সড়কগুলোতে রঙিন পোশাকে গান ও নানা বাদ্যযন্ত্রের তালে হাজারো মানুষ আনন্দ–উল্লাস করছেন।

নাইজেরিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছেন সিনথিয়া এনিওলা। তবে ডিসেম্বর এলেই পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে মিলিত হতে তিনি ছুটে যান লাগোসে। সিনথিয়া বলেন, ‘জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়া আমার কাছে সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডিসেম্বরে। কারণ, এই সময়ে সেখানে প্রত্যেকেই নানা উৎসব আয়োজনে যোগ দেন। এমন কোনো মানুষ পাওয়া যায় না, যাঁরা উৎসবে যুক্ত হন না।’

শুধু পশ্চিমা দেশগুলোর পর্যটক বা প্রবাসী নাইজেরিয়ানরাই নন, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষের একটি অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠেছে লাগোস। জিনিসপত্রের দাম কম ও থাকা–খাওয়ার খরচ কম হওয়ায় লাগোসে যাওয়ার জন্য পর্যটকদের আগ্রহও বেশি।

ডেটি ডিসেম্বর এখন আর কোনো মামুলি উৎসবের মৌসুমে আটকে নেই। সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে দিনযাপনের সুযোগ করে দিয়েছে লাগোস।

লাগোসের উদ্‌যাপনের নগরী হয়ে ওঠার নেপথ্যে নাইজেরিয়ার জনমিতির বিষয়টিও আলোচনায় আসছে। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) দেওয়া হিসাবে, দেশটির মোট জনসংখ্যার ৩ ভাগের ২ ভাগের বয়স ২৫ বছরের কম। যেসব দেশে তরুণদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, তার একটি হলো নাইজেরিয়া।

লাগোসের ঐতিহ্যবাহী কালাবার উৎসব
লাগোসের ঐতিহ্যবাহী কালাবার উৎসব। ছবি : এএফপি

Tuesday, November 26, 2024

গর্ভধারণের নামে ভয়ঙ্কর প্রতারণার খেলা

‘অলৌকিক’ গর্ভধারণের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে নারী ও তাদের পরিবারের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে ভয়ঙ্কর প্রতারক চক্র। মূলত সন্তান ধারণে ব্যর্থ নারীদের অসহায়ত্বকে টার্গেট করে তারা। চিকিৎসকের বেশে তারা ভুয়া ওষুধ ও ইনজেকশন দিয়ে নারীদের মধ্যে গর্ভধারণের অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করে। এরপর দাবি করে, ভ্রূণটি জরায়ুর বাইরে বেড়ে উঠছে।

প্রতারক চক্রের ভুয়া চিকিৎসকরা নারীদের প্রতিশ্রুতি দেয় যে, তারা ‘অলৌকিক চিকিৎসার’ মাধ্যমে গর্ভধারণ করাতে সক্ষম। যেসব নারী তাদের প্রচারকে বিশ্বাস করে চিকিৎসা নিতে আসেন তাদের সঙ্গে খেলা হয় ভয়ঙ্কর প্রতারণার খেলা।

প্রথম পর্যায়ে নারীদের যৌনাঙ্গে ইনজেকশন ও ওষুধ দিয়ে শরীরে গর্ভবতী হওয়ার উপসর্গ তৈরি করা হয়। এ সময় পেট খানিকটা ফুলে ওঠে, যেন মনে হয় জরায়ুতে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে একটি শিশু। এ সময় তাদেরকে কোনো হাসপাতাল এবং চিকিৎসকের কাছে না যেতে নিষেধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এটাও বলে দেওয়া হয় যেন তারা আল্ট্রাসোনোগ্রাম না করান।

ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় নারীরা গর্ভধারণের অনুভূতি অনুভব করেন। প্রকৃতপক্ষে তাদের গর্ভে সন্তান নেই কিন্তু তাদের শরীরে কিছু মিথ্যা উপসর্গ তৈরি করা হয়েছে। প্রথমবার চিকিৎসার নেওয়ার সময় একটি বড় অঙ্কের ফি দিতে হয়। এরপর গর্ভধারণের প্রতিটি ধাপ দেখতে হলে নিয়মিত ফি দিয়ে তাদের কাছে যেতে হবে।

এভাবে কারো ক্ষেত্রে ১৫ মাস, আবার কারো ক্ষেত্রে দুই বছর গর্ভধারণের মিথ্যা অনুভূতি দিয়ে প্রতারণা চালিয়ে যাওয়া হয়। এর জন্য নিয়মিত নারীদের বিভিন্ন ওষুধও সেবন করানো হয় যাতে উপসর্গগুলো বজায় থাকে।

যখন প্রসবের সময় হয়, তখন বিশেষ ওষুধ দেওয়ার নামে আরও বেশি অর্থ দাবি করে প্রতারক চক্র। এই ভুয়া প্রসবের সময় নারীদের অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে অজ্ঞান করে সেখানে সংগৃহীত একটি নবজাতককে এনে দেওয়া হয়, যাকে ঐ নারীর গর্ভজাত সন্তান বলে বিশ্বাস করানো হয়।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির আফ্রিকা আই টিম এ ভয়ঙ্কর প্রতারণা নিয়ে তাদের অনুসন্ধান চালিয়েছে। বিবিসি বলছে, এমন সব ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটছে আফ্রিকা মহাদেশের নাইজেরিয়ার আনামব্রা রাজ্যে। দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ক্যারিবিয়ান অঞ্চল, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয় একই ধরনের বহু প্রতারক চক্র।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নাইজেরিয়ার আনামব্রা রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এমন একটি অবৈধ ক্লিনিকে অভিযান চালায়। সেখানে বেশ কয়েকজন গর্ভবতী নারীকে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয় এবং তাদের সদ্যজাত শিশুকে এই চক্র ওই সব নিঃসন্তান দম্পতির কাছে দিয়ে দেয়। প্রসবের সময় যখন গর্ভধারণের মিথ্যা অনুভূতি দেওয়া নারীদের অজ্ঞান করা হয় তখন এসব থেকেই একটি শিশুকে এনে ওই নারীর জন্ম দেওয়া সন্তান হিসেবে রাখা হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযানে উদ্ধারকৃত নারীদের মধ্যে অনেকে আর্থিক চাপে পড়ে বা ভয় পেয়ে এই চক্রে যুক্ত হন বলে জানান। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের প্রতি সামাজিক চাপ, বন্ধ্যাত্বের প্রতি কুসংস্কার এবং প্রজনন অধিকার নিয়ে সঠিক ধারণার অভাব এসব প্রতারণা চালিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।

এ ধরনের ঘটনা রোধে নারীদের সচেতনতা বাড়ানো এবং সমাজে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। তারা জানান, এ ধরনের প্রতারণা শুধু সামাজিক চাপে থাকা নারীদের দুঃখকেই বাড়িয়ে তোলে না, বরং মানব পাচারের মতো ভয়াবহ অপরাধের পথও বিস্তৃত করে।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত



Thursday, October 17, 2024

নাইজেরিয়ায় ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহত ৯৪

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে অন্তত ৮৪ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫০ জন।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ট্যাংকারটির বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

পুলিশের মুখপাত্র লাওয়ান শিসু অ্যাডাম এএফপিকে বলেন, মঙ্গলবার গভীর রাতে উত্তর জিগাওয়া রাজ্যে একটি জ্বালানি ট্যাংকার উল্টে যায়। এ সময় অনেকে ট্যাংকারটি থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই বিস্ফোরণ ঘটে।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৯৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া এ সময় আরও অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্যাংকারটি উল্টে যাওয়ায় অনেকে রাস্তায় জ্বালানি সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় সেখানে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটলে আগুনে অন্তত ৯৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। এমনকি বুধবার ভোর পর্যন্ত এ আগুন পুরোপুরি নিভানো সম্ভব হয়নি।

এর আগে গত মাসে নাইজেরিয়ায় একটি ট্যাংকারের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এ সনময় অন্তত ৪৮ জন নিহত হন। আফ্রিকার এ দেশটির বেশিরভাগ প্রধান সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ। বেপরোয়া গাড়ি চালনা, রাস্তার বেহাল দশা ও অতিরিক্ত যানবাহনকে এ দুর্ঘটনার জন্য বিশেষজ্ঞরা দায়ী করে থাকেন।

নাইজেরিয়ায় ট্যাংকার বিস্ফোরণ। ছবি : সংগৃহীত
নাইজেরিয়ায় ট্যাংকার বিস্ফোরণ। ছবি : সংগৃহীত



Tuesday, September 10, 2024

নাইজেরিয়ায় জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৫২

পশ্চিম আফ্রিকার নাইজেরিয়ায় জ্বালানিবাহী একটি ট্যাংকার বিস্ফোরিত হয়ে অন্তত ৫২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার নাইজেরিয়ার উত্তর-মধ্যাঞ্চলের নাইজার রাজ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে। একটি উদ্ধারকারী সংস্থার বরাত দিয়ে এ খবর নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

নাইজার স্টেট ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির মুখপাত্র ইব্রাহিম হুসেইনি এএফপিকে বলেন, রবিবারের দুর্ঘটনা ও বিস্ফোরণে নিহতদের গণ-অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

নাইজার রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, গবাদিপশুসহ সাধারণ মানুষ পরিবহন করা একটি ট্রাকের সঙ্গে ওই জ্বালানিভর্তি ট্যাংকার ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় ট্যাংকারটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর আশপাশে থাকা গাড়িতে আগুন ধরে যায়।

সংস্থাটির মহাপরিচালক আবদুল্লাহি বাবা-আরব প্রাথমিকভাবে ৩০টি লাশ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরে আরেকটি বিবৃতিতে তিনি জানান, বিস্ফোরণে পুড়ে মারা যাওয়া নিহতদের আরও ১৮টি মৃতদেহ রয়েছে। তিনি বলেন, নিহতদের গণদাফন করা হয়েছে। আরও কতজন আহত হয়েছেন তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।

নাইজার রাজ্যের গভর্নর মোহাম্মদ বাগো এক বিবৃতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রাস্তা ব্যবহারকারীদের ‘জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার জন্য সর্বদা সতর্ক থাকতে এবং সড়ক ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলতে’ বলেছেন।

পণ্যপরিবহনের জন্য একটি দক্ষ রেলওয়ে ব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে, আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশ নাইজেরিয়ার বেশিরভাগ প্রধান সড়কে প্রায়ই মারাত্মক দুর্ঘটনার খবর গণমাধ্যমে আসে।
নাইজেরিয়ায় জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহত ৫২। ছবি : সংগৃহীত

Saturday, June 15, 2024

মসজিদে নামাজ আদায়রত মুসল্লিদের তালাবন্দি করে আগুন, নিহত ১১

নাইজেরিয়ায় নৃশংস এক ঘটনা ঘটেছে। সেখানে একটি নামাজ আদায়রত মুসল্লিদের মসজিদে তালাবন্ধ করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এক ব্যক্তি। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১ জন মুসল্লি। আহত হয়েছেন কয়েক ডজন মুসল্লি। পুলিশ বলেছে, উত্তরের কানো রাজ্যের একটি  মসজিদে এক ব্যক্তি এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ওই ব্যক্তি মসজিদটির চারপাশে পেট্রোল ছিটিয়ে দিয়ে মসজিদের তালা আটকে দেয়। এরপর আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে আটকা পড়েন প্রায় ৪০ জন মুসল্লি। জমির উত্তরাধিকার নিয়ে একটি পরিবারের মধ্যে রেষারেষি থেকে এই হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে ৩৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, কানো রাজ্যে জেজাওয়া এলাকায় বুধবার ফজরের নামাজের সময় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন বলেছেন, আগুন ধরিয়ে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে আগুন। মসজিদের ভিতরে আটকা পড়ে আর্ত চিৎকার করতে থাকেন মুসল্লিরা। তারা বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাইরে থেকে তালা দেয়া থাকায় সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এক সময় প্রতিবেশীরা দৌড়ে ছুটে আসেন। তারা আটকে পড়া মুসল্লিদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন।

পুলিশ বলেছে, কানো শহর থেকে দ্রুত সেকানে বোমা বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মোতায়েন করা হয়েছে। পরে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, কোনো বোমা ব্যবহার করা হয়নি। ফায়ার সার্ভিস বলেছে, তাৎক্ষণিকভাবে তাদেরকে কল করা হয়নি। তবে জানার পর তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পরে পুলিশ বলেছে, উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধের কারণে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ঘটনার সময় একটি পরিবারের কিছু সদস্য মসজিদে নামাজ আদায় করছিলেন। এটাকে সুযোগ হিসেবে বেছে নেয় হামলাকারী। উদ্ধার করা ব্যক্তিদের কানো রাজ্যের মুরতালা মুহাম্মদ স্পেশালিস্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ইসলাম ধর্মীয় নেতা শেখ দাউদা সুলাইমান বলেছেন, নামাজ আদায়রত মানুষের ওপর এমন আচরণ সবচেয়ে বড় পাপ। এখন পুরো গ্রামবাসী শোকে স্তব্ধ।



Wednesday, April 21, 2021

নাইজেরিয়ার যেখানে টাকা দিয়ে বউ কেনা যায়

নাইজেরিয়ার একটি সম্প্রদায়ে দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারের শিশুদের বিয়ের নামে কিনে নেয় প্রভাবশালীরা।
অল্প বয়সী মেয়েদের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার মতো ভয়াবহ ঘটনা নাইজেরিয়ার একটি সম্প্রদায়ের জন্য নিত্যদিনের ব্যাপার।
নাইজেরিয়ার সর্বদক্ষিণের ক্রস রিভার রাজ্যের বেশেরে সম্প্রদায়ে মানি ম্যারেজ বা অর্থের বিনিময়ে অল্প বয়সী মেয়েদের বিয়ের নামে বিক্রি করে দেয়া একটি প্রচলিত প্রথা।
মূলত দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারের শিশুদের বিয়ের নামে মোটা অংকের বিনিময়ে কিনে নেয় প্রভাবশালীরা।
দেশটির আরও কয়েকটি সম্প্রদায়ের মধ্যে এখনও এ ধরণের বিতর্কিত প্রথার চল রয়েছে।
যেখানে বিক্রি হওয়া মেয়েটির না থাকে কোন স্বাধীনতা বা শিক্ষা/চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ।
স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা এই প্রথার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালালেও কোন লাভ হচ্ছেনা।
সেই সম্প্রদায়ের তরুণী ডরফি। তার বয়স এখন প্রায় বিশের কোটায় হলেও তাকে যখন বিয়ে দেয়া হয়েছিল তার বয়স ছিল মাত্র ১০ কি ১১ বছর।
ওই বয়সে তাকে এমন এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল যার বয়স কিনা তার নানা দাদার চাইতেও বেশি।
ডরফির আপন মা ও চাচা টাকার জন্য তাকে ওই বৃদ্ধের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল। বাধ্য করেছিল মানি ম্যারেজ করতে।
এখনও সেই দিনগুলোর কথা মনে করে ভয়ে শিউরে ওঠেন ডরফি। তিনি জানান,
"আমার লোকটি আমার সঙ্গে শুতে চাইলে আমি বলতাম, না, আমি এমনটা হতে দেব না, কারণ আপনি আমার বয়সের না। আপনার ছেলেমেয়েরাও আমার অনেক বড়। যখন আমি মানা করতাম, তখন সে আরও দুইজন লোক ডেকে আমার ওপর জবরদস্তি করতো।"
এভাবেই অমানুষিক নির্যাতনের এক পর্যায়ে অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়েন ডরফি। অথচ সন্তান ধারণ করার মতো বয়সও তখন তার হয়নি।
মানি ম্যারেজে কম বয়সী মেয়েদের বিক্রি করে দেয়ায় তারা তাদের স্বামীর পরিবারের সম্পত্তিতে পরিণত হয়।
মানি ওয়াইফ বা অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হওয়া বউ হওয়ায় ডরফির যেন সাহায্য চাওয়ারও কোন জায়গা ছিল না।
বেশেরে সম্প্রদায়ে মূলত দুই ধরণের বিয়ে রয়েছে। একটি হল লাভ ম্যারেজ বা ভালবাসার বিয়ে এবং অপরটি এই মানি ম্যারেজ।
লাভ ম্যারেজে স্ত্রীর জন্য কোন পণ দিতে হয়না। নববধূ স্বাধীনভাবে বাবার বাড়ি আসতে যেতে পারে এবং তার ঘরে যে সন্তান জন্ম নেবে সেটা মায়ের পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হয়।
কিন্তু মানি ম্যারেজে কম বয়সী মেয়েদের বিক্রি করে দেয়ায় তারা তাদের স্বামীর পরিবারের সম্পত্তিতে পরিণত হয়। এমনটাই জানান স্থানীয় মিশনারি ও শিশু অধিকার আন্দোলনকারী পস্তোর রিচার্ড। তিনি বলেন,
"একজন মানি ওম্যানের কোন সম্মান থাকেনা। তাদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি নেই, তাদেরকে ঠিকঠাক খেতেও দেয়া হয়না। সে সবার উচ্ছিষ্ট খায়। তারা শিশুশ্রম থেকে শুরু করে অমানবিক যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। অনেকে অন্ত:সত্ত্বা হলেও মায়ের বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পায়না।"
এই সম্প্রদায়েরই আরেকজন সদস্য মনিকা।
তিনি থাকেন গাছপালা বেষ্টিত একটি এলাকায় যার চারপাশ উঁচু পাহাড় আর সবুজের গালিচায় ছাওয়া।
তবে সেই সুন্দরের ছোঁয়া মনিকার পরিবারে নেই। তিনি তার দুই নাতনিকে খুব ছোট থাকতেই মানি ম্যারেজের জন্য বিক্রি করে দিয়েছেন।
এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পরিবারকে জুজু নামের অভিশাপ থেকে রক্ষা করতে মোটা অংকের অর্থ দরকার ছিল। আর এজন্যই তিনি নাতনিদের বিক্রি করে দিয়েছিলেন।
তবে এক বছর পর সেই সিদ্ধান্তের জন্য ভীষণ অপরাধবোধে ভুগছেন মনিকা।
তার নাতনি হ্যাপিনেসের এখন বয়স ১৫ বছর। গত বছর সে তার মানি ম্যারেজ থেকে পালিয়ে এসেছে। হ্যাপিনেস জানান,
"ওই লোকটার এতোই বয়স যে তার নাতি নাতনির ঘরেও সন্তান রয়েছে। লোকটা প্রায়ই আমাকে মারত আর বলতো, আমাকে যদি সে পিটিয়ে মেরেও ফেলে তাকে কেউ কিছু বলতে পারবেনা। আমাকে মেরেও ফেললেও তার কিছু হবে না। কারণ আমি তার মানি ওয়াইফ।"
ওই ঘটনার কারণে মনিকার সঙ্গে তার দুই মেয়ে ও দুই নাতনির সম্পর্ক আজও স্বাভাবিক হয়নি। এখনো দাদীর প্রতি তীব্র ক্ষোভের কথা জানান হ্যাপিনেস।
দুর্ভাগ্যবশত বেশেরের বেশিরভাগ গ্রাম প্রধানকেই মানি ওয়াইফ রাখতে দেখা যায়।
"আমি আমার দাদিকে একটা মেসেজ পাঠিয়েছি। সেখানে আমি লিখেছি যদি আমি মারা যাই এবং সে যদি আমার শেষকৃত্যে আসে, বাইকে করে। তাহলে একটা দুর্ঘটনায় তার হাত পা ভেঙ্গে যাবে।"
তিনি আরও বলেন, "যেদিন আমি স্বামীর বাড়ি ছেড়ে এলাম, সেদিন তাকে আমি বলেছি, কোনদিন আমি এতোটাই রেগে যাব যে আমি একটা ছুরি নিয়ে তাকে খুন করে ফেলতে পারি।"
তবে এই সম্প্রদায়ের প্রধান চিভসামদে চিলে জানান, এখন মানি ওয়াইফ প্রথার কোন অস্তিত্ব নেই।
যাদের বয়স ১৮ বছরের নীচে তাদের কাউকে মানি ওয়াইফ হিসেবে বিয়ে করা যায়না। তিনি বলেন,
"এখনও অনেক মানুষ মনে করে যে বেশেরে সম্প্রদায়ে এখনও মানি ম্যারিজ হয়ে থাকে। কিন্তু এখন আর এসব হয়না। এটা নব্বই দশকের শুরুর দিকেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। "
তবে বাস্তব চিত্র পুরোই উল্টো। দুর্ভাগ্যবশত বেশেরের বেশিরভাগ গ্রাম প্রধানকেই মানি ওয়াইফ রাখতে দেখা যায়।
পাস্তোর রিচার্ড বিদ্রূপের সুরে বলেন, "এই মানি ম্যারেজের ঘটনা আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও গ্রাম প্রধানরা বলবে, এই বিয়ে সবশেষ হয়েছিলো সেই ১৯৯৯ সালে। অথচ কয়েকদিন আগেই আমরা ১৭ বছর বয়সী একটি মেয়েকে উদ্ধার করেছি।"
২০০৯ সালেই নাইজেরিয়া থেকে মানি ম্যারেজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলেও দায়ীদের কাউকে শাস্তির আওতায় আনা হয়নি।
এ ধরণের প্রথাকে নিশ্চিহ্ন করতে পাস্তর রিচার্ডের মতো আরও অনেক আন্দোলনকারী কাজ করে যাচ্ছে।
তবে এখনও মানি ওয়াইফ রাখা সামাজিক মর্যাদার বিষয় হয়ে দাঁড়ানোয় আর এই প্রথা বিলুপ্তির কোন আভাস দেখা যাচ্ছেনা।
হ্যাপিনেসকে যখন বিয়ে দেয়া হয় তখন সে ছিল নিতান্তই শিশু।
দিনে দিনে দাদির প্রতি তার ক্ষোভ অনেকটাই হালকা হয়ে এসেছে। এখন তার দাদিকে দেখলেই করুণা হয়।
তিনি বলেন, "যখন আমি তাকে দেখি, অনেক খারাপ লাগে। আমি দোয়া করেছি যেন তার দোষ সব মাফ করে দেয়া হয়। কারণ সে সময় তিনি জানতেন না যে কি করছেন।"
মানি ওয়াইফ রাখা সামাজিক মর্যাদার বিষয় হয়ে দাঁড়ানোয় আর এই প্রথা বিলুপ্তির কোন আভাস দেখা যাচ্ছেনা।

Thursday, October 31, 2019

যে দেশে প্রেম-বিয়ে নির্ভর করে জিন পরীক্ষার ওপর

পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই মানুষ নিজের পছন্দ অনুযায়ী প্রেম কিংবা বিয়ের মতো সম্পর্কে আবদ্ধ হয়। কিন্তু নাইজেরিয়ায় বর্তমানে প্রেম কিংবা বিয়ে করার আগে বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষকে চিন্তা করতে হয় ভবিষ্যত প্রজন্মের বিষয়টি। জিন পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে বিয়ের মতো সম্পর্কের বিষয়ে ভাবতে হয়। কারণ দেশটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের শরীরে এমন কিছু জিন রয়েছে যেগুলো ভবিষ্যতে সিকল সেল ডিজেজের (এসসিডি) জন্য দায়ী হতে পারে।
নাইজেরিয়ার যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ডেমিলোলা ওগুনপেবি সম্প্রতি বিয়ে করেছেন। কিন্তু এই বিয়ে করার জন্য তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে দীর্ঘ এক পথ। বিয়ের উপযোগী পাত্রীর সন্ধানে তাকে অনেক অনুসন্ধান করতে হয়েছে। এমন অনেককে পছন্দ হলেও দুই জনের জিন পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল না আসায় বিয়ে করা হয়নি। ডেমিলোলা বলেন, আমি আমার বর্তমান সঙ্গীকে খুঁজে পাওয়ার আগে দীর্ঘদিন খোঁজখবর করেছি। উপযুক্ত জিনোটাইপের সমস্যা ছিল। যখনই কারো সঙ্গে ‘ডেটে’ যেতাম প্রথমেই আমাকে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতো—তোমার জিনোটাইপ কি? এইভাবে অনেকের সঙ্গে দেখা করলেও দুই জনের জিনোটাইপের সমন্বয় না হওয়ায় সেসব সম্পর্ক আর সামনে এগোয়নি। মূলত যাদের জিনে সিকল সেল ডিজেজের গুণাগুন থাকে তাদের সঙ্গে বিয়ের মতো সম্পর্ক তৈরিতে অনীহা প্রকাশ করে মানুষ।
সিকল সেল ডিজেজ মূলত উত্তরাধিকারী রক্তের ব্যাধি। অর্থাত্ বাবা-মায়ের রক্তের মাধ্যমে এটি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে যায়। এসসিডিতে আক্রান্তদের রক্তের কোষের গঠন সাধারণত সি আকারের হয়। সুস্থ রক্তের হিমোগ্লোবিন শরীরে অক্সিজেন পরিবহন করে। সুস্থ ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিন সাধারণত মসৃণ, গোলাকার এবং নমনীয় হয়। কিন্তু এসসিডিতে আক্রান্তদের রক্তের হিমোগ্লোবিনের আকার অস্বাভাবিক হয়। এই ধরনের রোগীদের শরীরে অ্যানিমিয়া, অসম্ভব ব্যথা এবং অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়। এই কারণে জিনোটাইপ পরীক্ষা না করে যখন এই ধরনের ব্যক্তিরা বিয়ে করে সন্তান জন্ম দেয় তখন ওইসব সন্তানের সিকল সেল ডিজেজে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। প্রতিবছর নাইজেরিয়াতে দেড় লাখের বেশি শিশু এসসিডি রোগ নিয়ে জন্ম হয় যা কি না বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০০৬ সালে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটিতে গড়ে ২৪ শতাংশ মানুষ সিকল সেল জিন বহন করে। আর প্রতি হাজারে অন্তত ২০টি শিশুর জন্ম হয় সিকল সেল নিয়ে। >>-সিএনএন

Sunday, August 18, 2019

ভারত থেকে ফেরার পর শেইখ জাকজাকি অজ্ঞাত স্থানে, তথ্য চেয়ে বিবৃতি

ভারত থেকে নাইজেরিয়ায় পৌঁছার পর দেশটির ইসলামিক মুভমেন্ট বা আইএমএন'র নেতা শেইখ ইব্রাহিম জাকজাকিকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভারতে চিকিৎসা করাতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়ে গতকাল নাইজেরিয়ায় ফিরে যান শেইখ জাকজাকি ও তার স্ত্রী।

নাইজেরীয় সরকারের ইঙ্গিতে ভারতে শেইখ জাকজাকির চিকিৎসায় বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে তার একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে। আইএমএন'র মুখপাত্র ইব্রাহিম মূসা এক বিবৃতিতে বলেছেন, "নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী শেইখ জাকজাকিকে পণবন্দী করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে। জাকজাকিকে কোথায় রাখা হয়েছে তা জনগণকে অবহিত করতে আমরা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।" 

১৪ আগস্ট সুচিকিৎসার ‌আশায় ভারতে যান শেইখ জাকজাকি ও তার স্ত্রী। কিন্তু সেখানে গিয়েই তিনি প্রতারণার শিকার হন। শেইখ জাকজাকির ঘনিষ্ঠরা ভারতে যাদের মাধ্যমে চিকিৎসা করানোর জন্য সব ধরণের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে চিকিৎসা নিতে দেওয়া হয়নি। 

শেইখ জাকজাকি নয়া দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছার পরপরই প্রতারণামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে তাকে ভিন্ন একদল চিকিৎসকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যাদের কাছে জাকজাকি ও তার স্ত্রীকে হস্তান্তর করা হয়েছিল তাদের সঙ্গে জাকজাকির ঘনিষ্টদের ঠিক করা চিকিৎসক টিমের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী ও তাদের অনুচররা ভারতে যাদের মাধ্যমে চিকিৎসা করাতে চেয়েছিল তাদের চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি জাকজাকি। এছাড়া বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল যা মেনে নিতে পারেননি তিনি। আদালতের এক রায়ের ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য শেইখ জাকজাকি ও তার স্ত্রীকে ভারতে পাঠিয়েছিল দেশটির সরকার।

নারী পুলিশের রগরগে যৌন সম্পর্ক, চাকরি হারানোর ঝুঁকি

বৃটিশ পুলিশের পোস্টার গার্ল বলে পরিচিত কাফি করিম (২৯)। তিনি তার বসদের নির্দেশ অমান্য করে অংশ নিয়েছেন নাইজেরিয়ার রগরগে শো বিগ ব্রাদার্সে। শুধু তাই নয়, তিনি ব্যবসায়ী আকপাতা গিদোনির (৩১) সঙ্গে তিন দফা যৌন সম্পর্কে মিলিত হয়েছেন। এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে এখন বরখাস্ত করা হতে পারে। এক সময় কৃষ্ণাঙ্গদের এবং নারীদের পুলিশে আকৃষ্ট করতে তিনি মেট্রোপলিটন কমিশনার ক্রেসিদা ডিকের পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন সদস্য সংগ্রহে। কিন্তু ২৯ বছর বয়সী এই যুবতী পুলিশ সদস্য বিনাবেতনে ছুটি নিয়েছেন এবং যোগ দিয়েছেন বিগ ব্রাদার্সে। সেখানে তিনি ওই যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হন। তাদের এই রোমান্স দর্শকদের দৃষ্টি কেড়েছে।
কিন্তু এখন মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিরেক্টরেট অব প্রোফেশনাল স্টান্ডার্ডসের তদন্তের মুখে রয়েছেন কাফি করিম।

তার একজন সহকর্মী বলেছেন, তিনি এখন বৃটিশ পুলিশের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে যা তিনি করেছেন তা বিরক্তিকর বিষয়। তিনি ওই শোতে অংশ নেয়ার জন্য অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু যখন তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, তিনি যেভাবেই হোক যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার অফিসিয়াল ইমেইলের কোনো উত্তর আসছে না। এ থেকে বোঝা যায় তিনি কাজ থেকে দূরে রয়েছেন। কর্মরত অন্য কর্মকর্তারা, যারা তার সঙ্গে কাজ করেন, তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন যে, তিনি নির্দেশ অমান্য করতে পারেন এবং উড়ে যেতে পারেন আফ্রিকায়। তারপর পুলিশ বাহিনীর সুনাম ক্ষুন্ন করতে পারেন।

কাফি করিম সাবেক একজন অভিনেত্রী ও দোকান সহকারী। তিনি চার বছর স্পেশাল কনস্টেবল হিসেবে পার্টটাইম কাজ করার পর ২০১৫ সালে ল্যাবেথ স্টেশনে মেট্রোপলিটন পুলিশ হিসেবে যোগ দেন। কাফি করিম বছরে আয় করেন ৩০ হাজার পাউন্ড। তাকে মিসেস ডিক ও অন্য নারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত নভেম্বরে মেট্রোপলিটন পুলিশে নারীদের শতবর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। তিনি ফরাসি, ইতালি ও নিজের ইউরুবা ভাষায় কথা বলতে পারেন। খৎনা দেয়া হয়েছে এমন নারীদের সন্ধানে বিমানবন্দরগুলোতে তিনি অনুবাদক ও অনুসন্ধানে কাজ করেছেন। কিন্তু সহকর্মীদের সঙ্গে বিবাদের ফলে সেখান থেকে তাকে সরিয়ে দেয়া হয়।

তাকে বিনাবেতনে ছুটি দেয়া হয়। এরপর তিনি নাইজেরিয়ায় বিগ ব্রাদার শোতে অংশ নেয়ার অনুমতি চান। কিন্তু সেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। তা সত্ত্বেও তাকে দেখা যায় ‘বিগ ব্রাদার নাইজা: পিপার ডেম’-এর ওয়েবসাইটের ছবিতে। তাতে তাকে দেখা যায় পুলিশের পোশাক পরা। সেখানে তাকে উল্লেখ করা হয় মেধাবী নৃত্যশিল্পী এবং গায়িকা হিসেবে। প্রচারণায় বলা হয়, পুলিশ কর্মকর্তা কাফি করিম বিশ্বাস করেন, যদি আপনি বিশ^াস করেন নিজের ওপর তাহলে যেকোনো কিছু করতে পারেন। তিনি শুধু প্রাইজ মানি জয়ের আশা করছেন তা নয়। তিনি বিগ ব্রাদার নাইজা হাউজে দেখাতে চান সমাজের জন্য তিনি ভাল কিছু করতে পারেন।

ওই শো শুরু হয়েছে ৩০ শে জুন। সেখানে ভক্তরা তার রগরগে সব দৃশ্যের দিকে উদগ্রিব হয়ে নজর রাখছে ভক্তরা। নাইজেরিয়ার সংবাদ বিষয়ক ওয়েবসাইটগুলোতে কাফি করিম ও আকপাতার মধ্যকার রগরগে যৌন সম্পর্কের ভিডিও প্রকাশ করেছে। তাতে তাদেরকে দেখা যাচ্ছে, বিছানায় অবাধ যৌনতায় মেতে উঠেছেন। একটি ওয়েবসাইটের খবরে বলা হয়েছে যে, এখন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে যে, কাফি করিম অন্তঃসত্ত্বা হয়ে বিগ ব্রাদার নাইজা হাউজ থেকে বেরুতে পারেন। কারণ, তিনি ও তার প্রেমিক গিদোনি অব্যাহতভাবে রগরগে যৌনতায় মেতেছেন। তাদের হাউজমেট যখন ঘুমের ঘোরে অচেতন, তখন তারা তৃতীয় রাতের মতো যৌনতায় মেতে উঠেছেন। আর তা ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। প্রথমে তাদেরকে এভাবে দেখা যায় ২০ শে জুলাই শনিবার। এরপর ২৩ শে জুলাই মঙ্গলবার। এই অনুষ্ঠানে হাউজমেটদের থাকতে হবে আরো প্রায় ৭০ দিন। ফলে এ সময় অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়তে পারেন কাফি করিম।

তার এমন কর্মকা- পুলিশের সম্মানহানী করেছে বলে সহকর্মীদের মধ্যে এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ফলে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেন তারা তার ব্যাপারে।

Sunday, July 28, 2019

টিকিটের টাকা নেই, তাই বিমানের ডানায় যুবক!

বলিউডের অক্ষয় কুমার বা হলিউডের টম ক্রুজকে রানওয়ে থেকে টেক অফের সময় বিমানের সামনে খলনায়কদের তাড়া করতে অনেকবারই দেখা গেছে। এবার বাস্তব জীবনে এমন ঘটনার সাক্ষী হলেন নাইজেরিয়ার কিছু যাত্রী।

তখন আকাশে ওড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিমানটি। ভিতরে থাকা যাত্রীরা সকলেই প্রায় বেঁধে নিয়েছেন সিট বেল্ট। আস্তে আস্তে নাইজেরিয়ার লাগোস বিমানবন্দরের রানওয়ে দিয়ে এগিয়ে চলতে শুরু করছে আজমান সংস্থার একটি বিমান। সেসময় আচমকা সেটির জানলার দিকে বাইরে তাকাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় যাত্রীদের। সিল্ট বেল্ট খুলে ফেলে চেঁচামেচি শুরু করেন তাঁরা।

শুনে ভিতরে থাকা বিমানকর্মীরা দেখেন চলন্ত বিমানের ডানায় চড়ে বসেছেন এক যুবক। খবরটি পাইলটের কানে যেতেই বিমানটি থামিয়ে দেন তিনি। গত ১৯ তারিখ অভূতপূর্ব এই ঘটনাটি ঘটেছে নাইজেরিয়ার লাগোসের মুর্তালা মোহাম্মদ বিমানবন্দরে।

বিমান সংস্থার তরফে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ওই যুবককে রানওয়ে পেরিয়ে এগিয়ে আসতে দেখে বিমানের গতি কমিয়ে দেন পাইলট। কিন্তু, তারপরও প্লেনের চারপাশে এলোমেলো ঘুরছিল সে। এরপর বিমানের ডানায় লাফিয়ে উঠে কেবিনের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে যুবক। তখনই ভিতরে থাকা যাত্রীরা বিমানকর্মীদের কাছে দরজা খুলে দেওয়ার আবেদন জানান।

পরে ওই যুবককে আটক করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। জেরায় জানা যায়, তার নাম ওসমান আমাদু। বহুদিন ধরেই বিমানে চেপে ঘানা যাওয়ার চেষ্টা করছিল সে। কিন্তু, টিকিটের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় সেই ইচ্ছাপূরণ হয়নি। বাধ্য হয়ে ১৯ তারিখ সকালে বিমানের ডানায় উঠে ককপিটের ঢোকার চেষ্টা করছিল। বিনা পয়সায় ঘানা যেতে চাইছিল।

Friday, July 26, 2019

২৬২ খ্রিস্টানকে বাঁচানো সেই ইমামকে যুক্তরাষ্ট্রের পুরস্কার

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ২৬২ খ্রিস্টানকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো সেই ইমাম আবদুল্লাহ আবু বকর যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন। খবর সিএনএনের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক প্রথম আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করলেন তিনি। এছাড়াও সুদান, ব্রাজিল, ইরাক ও সাইপ্রাসের চার ধর্মীয় নেতাকে এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানায়, গত বছরের ২৩ জুনে আফ্রিকার গৃহযুদ্ধের সময় নাইজেরিয়ার এই ইমাম নিজ বাড়ি ও মসজিদে ২৬২ খ্রিস্টানকে লুকিয়ে রেখে আশ্রয় দেন। ওই দিন প্লেটো রাজ্যের বারকিন লাদি অঞ্চলের ১০ গ্রামে উগ্রপন্থীরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছিল।

জানা যায়, ওই হামলার সময় নিজের জীবন বাজি রেখে এগিয়ে আসেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবদুল্লাহ আবু বকর। তিনি হামলাকারীদের তোপের মুখে খ্রিস্টান কৃষকদের নিরাপত্তা দেন। তবে বিষয়টি জেনে যায় হামলাকারীরা। তারা আবদুল্লাহ আবু বকরের বাড়িতে এলে তিনি ইসলামের দৃষ্টিতে তাদের ভুল ধরিয়ে দেন। এসব খ্রিস্টান কৃষকের জীবন রক্ষায় তাদের কাছে অনুরোধ করেন। একসময় তাদের জীবন রক্ষায় বিনিময়ের প্রস্তাবও করেন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ইমামের বাড়িতে আশ্রয় নেয়া ২৬২ খ্রিস্টানকে ছেড়ে চলে যায়।

সেদিন আবদুল্লাহি আবু বকরের মানবতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ইসলামের বাণীর কাছে মাথানত করেছিল উগ্রবাদীরা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সে অনন্য নজির গড়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য মসজিদের ইমাম আবদুল্লাহি আবু বকরকে সম্মাননা দিল।

এ স্বীকৃতি লাভ ও সম্মানার জন্য আবদুল্লাহি আবু বকরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ বুহারি।

তিনি বলেন, ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে দেশের সম্মান সুমহান করেছেন আবু বকর। তিনি বার্তা দিয়েছেন, প্রকৃত মুসলমান কখনও সন্ত্রাস ও হত্যাজজ্ঞ সমর্থন করে না।

Friday, June 21, 2019

স্কুলের বেতন পুরোনো প্লাস্টিক!

স্কুলটিতে বেতন দিয়েই পড়তে হয় শিশুদের। কিন্তু সেই বেতন হলো পুরোনো প্লাস্টিক বর্জ্য! অর্থের বিনিময়ে পুরোনো প্লাস্টিক বর্জ্য দিলেই মিটে যায় স্কুলের ফি। আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়াতে ঘটেছে এমন ঘটনা। সেখানকার একটি স্কুল অভিভাবকদের কাছ থেকে বেতন হিসেবে অর্থের পরিবর্তে প্লাস্টিক নিচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাইজেরিয়ার লাগোসে মরিট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এই অভিনব পদ্ধতিতে বেতন নিচ্ছে। ‘আফ্রিকান ক্লিন আপ ইনিশিয়েটিভ’ ও ‘উইসাইকলারস’ নামের দুটি সংগঠনের সহায়তায় এই পদ্ধতি চালু করেছে স্কুলটি। বেতন হিসেবে অর্থের পরিবর্তে প্লাস্টিক নেওয়ার কারণ হিসেবে দুটি সুবিধার কথা বলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর একটি হলো—পরিবারগুলো প্লাস্টিক পরিশোধের মাধ্যমে ব্যয় কমাতে পারবে এবং অন্যটি হলো, স্কুলের আশপাশের এলাকা প্লাস্টিক দূষণ থেকে রক্ষা পাবে।
এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা প্রথমে ব্যাগভর্তি প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ে স্কুলের নির্ধারিত জায়গায় যান। সেখানে তাদের প্লাস্টিক বর্জ্যের ওজন মাপা হবে। এরপর ওজন অনুসারে আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হবে। পরে ওই আর্থিক মূল্য স্কুলের বেতন হিসেবে কেটে রাখা হবে।
মরিট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের এক শিক্ষার্থীর বাবা বিবিসিকে বলেন, সন্তানের বেতন পরিশোধে আগে তাঁর আর্থিক টানাটানি হতো। অধিকাংশ সময় তাঁর কাছে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ থাকত না। তাই মাঝে মাঝে বেতনের অর্ধেক দিয়ে, বাকিটা অন্য সময়ে পরিশোধ করতেন। তবে প্লাস্টিক বর্জ্য নেওয়ার এই প্রকল্পের কারণে এখন স্কুলের বেতন দেওয়াটা তাঁর জন্য সহজ হয়ে গেছে।
প্লাস্টিক নেওয়ার বিষয়ে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক বলেন, এর মধ্য দিয়ে সব অভিভাবক চাপমুক্ত হয়েছেন। তাঁরা এখন স্কুলের বেতন দ্রুত দিতে পারছেন। এই প্রকল্পে সবাই লাভবান হয়েছেন। স্কুলের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও তাদের বাবা-মা’রও সুবিধা হয়েছে।
অন্যদিকে লাগোসের ‘মাই মডার্ন মেট’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান বলছে, প্লাস্টিক বর্জ্য নেওয়ার এই প্রকল্প শুধু ওই এলাকার পরিবেশ দূষণই রোধ করছে না, পাশাপাশি সবার জন্য শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশের সুযোগও নিশ্চিত করছে।

Monday, August 20, 2018

একা মানেই যৌনকর্মী

নাইজেরিয়ায় সিঙ্গেল মেয়েরা কষ্টে আছেন। তারা বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেনা। নাইজেরিয়ার অনেক বাড়ির মালিক সন্দেহ করেন একা মেয়ে মানেই যৌনকর্মী। যার ফলে একা থাকা মেয়েদের পক্ষে বাসা ভাড়া পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বিবিসি বাংলা এ রিপোর্ট দিয়েছে।  নুফানমিলোলার বয়স ৩০। পেশাজীবনে ইতোমধ্যে সফলতা পেয়েছেন তিনি। খুব সহজেই তিনি একটা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু পাঁচ মাস ধরে বাসা খুঁজে না পেয়ে অবশেষে ঠাঁই হয়েছে এক বান্ধবীর বাসার সোফা। ভালো একটা চাকরি পেয়ে সে লেগোস থেকে আবেওকুটা তে চলে আসে। আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়ার পরেও মধ্যবিত্ত বা একটু বিত্তবানদের এলাকাতে একটা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিতে পারেননি। কারণ একটাই তিনি একা থাকবেন ওই বাসাতে। অনুফানমিলোলা বলছিলেন প্রথম যে প্রশ্ন আমাকে শুনতে হয়- সেটা হল আমি কি বিবাহিত? আমি বলি না,তারপর প্রশ্ন করা হয় কেন আমি বিয়ে করিনি। আমি বিভ্রান্ত হই। একটা বাসা ভাড়া নেয়ার সাথে বিয়ের কী সম্পর্ক? উত্তর আসে আমরা ভদ্র লোককে বাসা ভাড়া দিতে চাই। অনুফানমিলোলা বলছিলেন, এই বৈষম্য ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। বিবিসিকে তিনি বলেন " ৯৯% বাড়ির মালিক যাদের সাথে আমি সাক্ষাত করেছি, তারা কেউ আমাকে বাসা ভাড়া দেয়নি। কারণ আমি একা নারী। অনেক মালিক এবং এজেন্ট আমাকে বলেছে তুমি কি তোমার পুরুষ-সঙ্গী বা স্বামীকে আনতে পারবে? এই ধরণের অ্যাপার্টমেন্টে আমরাই চাই না কোন পুরুষ আসুক, আমরা চাই একজন ভদ্র মানুষকে ভাড়া দিতে।
সিলভিয়া রিটেইল সেক্টরের একজন প্রডাক্ট ম্যানেজার। ৩১ বছরে তার বাগদান হয়। কিন্তু প্রতি বাড়িওয়ালা তাকে বলেন আগে তার হবু স্বামীকে আনতে হবে তারপর তারা অ্যপার্টমেন্ট দেখাবে। নাইজেরিয়াতে একটা কথা প্রচলিত আছে 'স্মল গার্ল, বিগ গড'। এই কথার অর্থ অনেকটা এমন, যারা সিঙ্গেল মেয়ে তাদের অর্থের যোগানদাতা বেশির ভাগই হয় বৃদ্ধ লোক। সিলভিয়া বলছিলেন, বাড়ির মালিকরা মনে করেন বেশির ভাগ তরুণী যারা একা থাকে তারা ওইরকম। কোলম্যান ওয়াফোর একটি বাড়ির মালিক এবং বেশ কিছু সম্পত্তির মালিক। তিনি বলছিলেন, তিনি এক্ষেত্রে বৈষম্য করেন না। কিন্তু তার বেশির ভাগ ভাড়াটিয়া এবং ক্রেতাই পুরুষ। কারণ তাদের তুলনামূলক বেশি অর্থ আছে। তিনি বিবিসিকে বলেন "বেশির ভাগ একা মেয়েরা হয় তাদের বাবা মা অথবা পুরুষসঙ্গীর ওপর  নির্ভরশীল। প্রতিটা বাড়িওয়ালা চান কোন ঝামেলা ছাড়া মাসের ভাড়া পাবে আর সময়মত কন্ট্রাক্ট নবায়ন করবে। তিনি বলছিলেন, বেশির ভাগ একলা মেয়ে কোন কাজ করে না। এখানে  মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের জন্য কাজের সুযোগ বেশি। এটাই এখানকার পরিস্থিতি।

Friday, October 16, 2015

নাইজেরিয়ায় মসজিদে বোমা হামলা : নিহত ৩০

নাইজেরিয়ার একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরাঞ্চলের বোর্নো রাজ্যের একটি মসজিদে নামাজ আদায়ের সময় দুটি আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। দেশটির জরুরি সংস্থার বরাতে এই খবর জানিয়েছে বিবিসি। প্রথম বিস্ফোরণটি হয় মসজিদের ভেতরে। আর দ্বিতীয়টি হয়েছে বাইরে। এ ব্যাপারে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে শুক্রবার জানানো হয়, নামাজের সময় আত্মঘাতী হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এখনো কোনো সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। যদিও নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লিষ্টরা এ জন্য সন্দেহ করছে সশন্ত্র সংগঠন বোকো হারামকে। কারণ গত কয়েক মাসে এই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে সংগঠনটি। এর আগে মঙ্গলবার মাইদুগুরিতে তিনটি বোমা বিস্ফোরণে অন্ততপক্ষে চারজন নিহত হন। গেল সেপ্টেম্বর মাসে একই শহরে তিনটি বিস্ফোরণে ডজনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়ে ছিলেন।