Monday, May 6, 2019

এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার ৮২.২০ শতাংশ

বাংলাদেশে ২০১৯ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। গতবারের থেকে এবার পাসের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এ বছর জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৯৪ জন। গত বছর এর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে শিক্ষামন্ত্রীর হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ তুলে দেন বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা। দুপুর ১২টা থেকে ফল পাওয়া যাবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনলাইনে যুক্ত হন। তিনি উত্তীর্ণদের অভিনন্দন জানান এবং অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধারণ করে আগামীবারের জন্য প্রস্তুতির আহ্বান জানান।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবার দাখিলে পাসের হার ৮৩ দশমিক ০৩ শতাংশ, গত বছর ছিল ৭০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। বেড়েছে ১২ দশকি ১৪ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ২৮৭ জন।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭২ দশকি ২৪ শতাংশ, গত বছর ছিল ৭১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৭৫১ জন, গতবছর ছিল ৪ হাজার ৪১৩ জন।
শিক্ষামন্ত্রী ফল ঘোষণা করে বলেন, এবার মোট পাস করেছে ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ জন। এবার পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর। এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক এবং বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানরা।

উইঘুর মুসলিমদের উগ্রবাদ থেকে দূরে রাখতে চীনের বিশেষ অ্যাপ

চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর মুসলিম জনগোষ্ঠীর লক্ষ লক্ষ লোকের উপাত্ত সংগ্রহ করার জন্য একটি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করছে চীনা পুলিশ। এমনটাই দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক রিপোর্টে তারা দাবি করেছে, তারা এই অ্যাপটির প্রযুক্তি পরীক্ষা করে বের করেছে কিভাবে গণ-নজরদারির এই ব্যবস্থা কাজ করে। যারা সরকারের অনুমতি না নিয়ে হজ করতে গেছে কিংবা লোকজনের সাথে বেশি মেলামেশা করে না এধরণের লোকদের ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি বাংলা।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, চীনে উইঘুর মুসলিমরা নিপীড়নের শিকার। জাতিসংঘ জানিয়েছে, তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট আছে যে প্রায় ১০ লাখ উইঘুরকে শিনজিয়াং বন্দীশিবিরে আটক রাখা হয়েছে। তবে চীন নিশ্চিত করেছে যে এগুলো 'পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্র'। দেশটি এসব কেন্দ্র পর্যবেক্ষনে বিদেশি সাংবাদিকদের আমন্ত্রণও জানিয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট অনুযায়ী, চীনা কর্মকর্তারা ৩৬ ধরণের লোকের ওপর নজর রাখে। তাদের তথ্য সংরক্ষণ করার জন্য অ্যাপটিকে কাজে লাগাচ্ছে।
রিপোর্টে কোন বিশেষ জাতিগোষ্ঠীর কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় নি। তবে, এই ৩৬ ধরণের লোকের মধ্যে যেসব ইমাম কট্টোর ওয়াহাবি ইসলাম অনুসরণ করে তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সংগ্রহ করা তথ্যগুলো শিনজিয়াং প্রদেশের গণ নজরদারির প্রধান ব্যবস্থা আই জে ও পি-তে পাঠানো হয়। তারা রাস্তার চেকপয়েন্ট, পেট্রোল পাম্প, স্কুল ইত্যাদি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এবং কোন রকম অস্বাভাবিক আচরণ দেখলে তার ওপর নজরদারি করে। শিনজিয়াং চীনের একটি অর্ধস্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল এবং এর অধিবাসীদের প্রায় ৪৫ শতাংশ উইঘুর মুসলিম।

লোকসভা নির্বাচন: মুসলিমদের কি একপেশে করে রাখা হচ্ছে!

বিশ্বে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক চর্চার অনুশীলন হচ্ছে ভারতে। সেখানে পার্লামেন্টের নিন্মকক্ষ লোকসভার নির্বাচন হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রান্তিক অবস্থানে রয়েছেন মুসলিমরা। তাই তাদের মধ্যে তেমন উল্লেস নেই। লোকসভায় আসন ৫৪৩। তার মধ্যে বিদায়ী লোকসভায় মুসলিম ছিলেন মাত্র ২২ জন। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠদের মধ্যে মুসলিমরা সংখ্যায় বেশি। তারা ১৩০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে শতকরা প্রায় ১৪ ভাগ।
কিন্তু লোকসভায় তাদের প্রতিনিধিত্ব আছে শতকরা মাত্র চার ভাগের। পাঁচ দশকের মধ্যে এটা হলো সেখানে সবচেয়ে কম মুসলিম প্রতিনিধিত্ব। এক দশক আগে তারা ছিলেন শতকরা ৬ ভাগেরও বেশি। আর ১৯৮০ সালে তাদের হার ছিল সবচেয়ে বেশি ৯.৬ ভাগ। এসব অবস্থা নিয়ে অনলাইন আল জাজিরা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে তরুণ-যুবক মুসলিম ও বিশ্লেষকরা  তাদের হতাশা ও আশার কথা শুনিয়েছেন।
নয়া দিল্লির জামিয়া নগর এলাকায় একটি ট্রাভেল এজেন্সি চালান মোহাম্মদ আদনান। তিনি বলেছেন, গত ৫ বছরে বিজেপি ভোটকে মেরুকরণ করেছে এতটাই যে, এখন রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম প্রার্থীদের নির্বাচনী টিকেট দিতে অনুউৎসাহী হয়ে পড়েছে। দলগুলো আশঙ্কা করছে, হিন্দু ভোটব্যাংককে আয়ত্তে আনতে তাদেরকে অনেকটা কাঠখড় পোড়াতে হবে।
২০১৪ সালের নির্বাচনে রেকর্ড ২৮২ আসনে বিজয়ী হয় বিজেপি। এর মধ্যে একজনও এমপি ছিলেন না মুসলিম সম্প্রদায়ের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনে গত পাঁচ বছরে বিধানসভাগুলোতেও মুসলিম প্রতিনিধিত্ব কমে গেছে। সমালোচকরা বলেছেন, বিজেপি মুসলিম বিরোধী যে বক্তব্য বিবৃতি দিয়েছে তার কারণে এমনটা হয়েছে। হরিয়ানাভিত্তিক অশোক ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গিলস ভার্নিয়েরস বলেন, সরকারি কর্মকা- থেকে মুসলিমদের দূরে রাখার চেষ্টা করেছে বিজেপি খুব সচেতনভাবে ও সুস্পষ্টভাবে। বিজেপি মুসলিমদেরকে নির্বাচনীয় কর্মকান্ডে একপেশে করে রাখার যে নীতি নিয়েছে তা হলো তার ভোটব্যাংকের কাছে একটি ইঙ্গিত। তা হলো, তারা হলো হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠদের দল।
ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য হলো উত্তর প্রদেশ। সেখানে চার কোটির ওপরে মুসলিম বসবাস করেন। সেই রাজ্য থেকেও একজন মুসলিমকে প্রার্থী করেন নি বিজেপি ২০১৭ সালে। মোদির নিজের রাজ্য গুজরাট। সেখানেও ২০১৭ সালের নির্বাচনে একজন মুসলিম প্রার্থীকে নির্বাচনের টিকেট দিতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। উভয় রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরেছে এই ডানপন্থি দলটি।
ধর্মের ভিত্তিতে কোনো একজন নাগরিকের বিরুদ্ধে বৈষম্য দেখানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বিজেপির মুখপাত্র নলিন কোহলি। তিনি বলেছেন, কোনো জাতি, ধর্ম, বর্ণ, অঞ্চল বা অন্য কোনো এজেন্ডার ভিত্তিতে বিজেপি ভারতীয় কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করে না বা তাদেরকে আলাদা করে দেখে না। সার্বিকভাবে সবার জন্য সমান অধিকারের যে নীতি আছে সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে তা অনুসরণ করে বিজেপি। কোনো নির্বাচনে প্রতিনিধি বা আসন দেয়া হয় প্রথমত বিজয়ী হতে পারবেন কিনা তার ভিত্তিতে। আমাদের দলে মুসলিম প্রার্থী ছিলেন। যদি বিজয়ী হতে পারবেন এমন প্রার্থী আমাদের দলে থাকেন তাহলে অবশ্যই তারা সুযোগ পাবেন।
ওদিকে ধর্মনিরপেক্ষ দল হিসেবে দেখা হয় ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসকে। এই দলটি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য গর্ব করে। তারাও সাম্প্রতিক দশকগুলোতে মুসলিমদের এড়িয়ে চলা শুরু করেছে।
গত বছর কংগ্রেসের সাবেক প্রধান সোনিয়া গান্ধী বলেছিলেন, বিজেপি জনগণকে আশ্বত্ব করতে পেরেছে যে, কংগ্রেস হলো একটি মুসলিম দল। এ ছাড়া তার ছেলে ও দলের বর্তমান সভাপতি রাহুল গান্ধী হিন্দু মন্দির সফর করেছেন। তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। এসব দিয়ে মোদির ওই ধারণার ওপর প্রলেপ দেয়ার চেষ্টা হয়েছে।
গিলস ভার্নিয়েরস বলেন, বিজেপির দুর্দান্ত উত্থানে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম প্রার্থীদের বিষয়ে খুব কম কথা বলে। বিশেষ করে বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসই তো নির্বাচনে উল্টো ফল আসবে এমন আশঙ্কায় মুসলিমদের নির্বাচনে টিকেট দেয়া কমিয়ে দিয়েছে।
উত্তর প্রদেশের আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের প্রফেসর মোহাম্মদ সাজ্জাদ। তিনি বলেন, হিন্দু আধিপত্যবাদের উদ্দেশ্যই যেন ভারতের নির্বাচনে মুসলিমদের অপ্রাসঙ্গিক  করে তোলা। মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণামুলক বক্তব্য ছড়িয়ে দিয়ে, মুসলিমদের মানহানি করার মাধ্যমে হিন্দুরা তাদের অবস্থান বড় করেছে।
নরেন্দ্র মোদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অধিক কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতির ইতি ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। কিন্তু তিনি যখন দ্বিতীয় দফায় লড়াই করছেন, তখন দেশটি ৪৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপভাবে কর্মসংস্থানের সংকট মোকাবিলা করছে।
গত পাঁচ বছরকে দেখা হয় মুসলিম ও অন্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক অপরাধ বৃদ্ধি হিসেবে। মানুষ, বিশেষ করে মুসলিমরা গরু রক্ষাকারী গ্রুপের হাতে প্রহৃত হয়েছেন। তাদেরকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। ফ্যাক্ট চেকার ডট ইন অনুযায়ী, ২০০৯ সালের পর থেকে ৭৯টি ভয়াবহ এমন ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত পাঁচ বছরে ঘটেছে ৭৬টি ঘটনা। অন্যদিকে ঘৃণামূলক এসব অপরাধে যারা জড়িত তাদেরকে ক্ষমতাসীন দলের সিনিয়র নেতারা সম্মানিত করেছেন।
গরু ব্যবসা করার কারণে একজন মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছিল। এ হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ৮ ব্যক্তি গত বছর যখন জামিনে মুক্তি পান তখন তাদের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দিয়ে বরণ করে নেন মোদির মন্ত্রীসভার সদস্য জয়ন্ত সিনহা। তা নিয়ে খুব বিতর্ক হয় তখন।
পুরনো দিল্লির একজন বাসিন্দা ইহতিশাম উদ্দিন বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুসলিমরা বসবাস করছেন এক আতঙ্কের পরিবেশে। সব সময়ই আমরা দেখছি, গরুর মাংস খাওয়া বা গরু সংক্রান্ত কোনো ঘটনায় মুসলিমদের ওপর হামলা হয়েছে।
তবে বিজেপি মুখপাত্র কোহলি বলেছেন, এমন কর্মকান্ডের নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে। ওই রকম অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এতে আমরা হস্তক্ষেপ করছি না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক শিব বিশ্বনাথান বলেন, বিজেপির প্রভাব যেমন বাড়ছে ততই তারা অধিক থেকে অধিক হারে স্বতন্ত্র বা এককসুলভ হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, বিজেপি চায় একীভূত বিশ্ব। কিন্তু তারা জানে না বহুত্ববাদ কিভাবে রক্ষা করতে হয়। বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্বাচনী রীতি সংখ্যালঘু রাজনীতিকদের প্রতি উদাসীনতা তৈরি করেছে। এমন পরিবেশে মুসলিম সংশ্লিষ্ট ইস্যু কেউই তুলছেন না। এই নির্বাচন পরিচিত হয়ে থাকবে ইস্যুর পরিবর্তে মুখবন্ধের হিসেবে।
ভার্নিয়েরস বলেন, বিজেপি বাদে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো, যারা নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করে, তারাও বিজেপির মুসলিম বিরোধী অবস্থানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, মুসলিমদের বাইরে রাখার যে রীতি বিজেপির তার মোকাবিলা করতে যেন কেউই আগ্রহী নয়। তারা যে এটা মুসলিমপন্থি হয়ে যাওয়ার ভয়ে করছেন না তা নয়। তারা এটা করছেন না হিন্দুবিরোধী হয়ে যাওয়ার ভয়ে।
ভারতের মুসলিমরা দেশটির সাংবিধানিক উচ্চ পদগুলো অলঙ্কৃত করেছিলেন। তার মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট, প্রধানবিচারপতি। বিশ্লেষকরা বলছেন, গণতান্ত্রিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ সম্প্রদায়টি অনেকটা নিচে রয়েছে।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় বহু মুসলিম ভারত ছেড়ে পাকিস্তানে যান নি। ১৯৫২ সালে প্রথম নির্বাচন হয় ভারতে। তখন মাত্র ১১ জন মুসলিম পার্লামেন্টে তাদের জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন।

বাগানে নগ্ন নরনারী!

ঘরে বসে আছেন। আপনার চোখ চলে গেল প্রতিবেশীর বাগানে। অকস্মাৎ সেখানে যদি দেখতে পান নগ্ন নর বা নারী তার বাগান পরিচর্যা করছেন, তাহলে তো চোখ চড়কগাছ হওয়ারই কথা। ঠিক এই ঘটনায় ঘটছে শনিবার। ৪ মে ‘ওয়ার্ল্ড ন্যাকেড গার্ডেনিং ডে’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। এ দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার নর বা নারী পুরোপুরি নগ্ন হয়ে বাগান পরিচর্যা করছেন।
উদ্ভট এমন দিন উদযাপন শুরু হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। বিশ্বের অন্য অনেক দেশে এমন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওইসব নগ্ন নরনারীর ছবি প্রকাশ হচ্ছে। বৃটেনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকা এ নিয়ে সচিত্র রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। মে মাসের প্রথম শনিবারকে এমন দিন হিসেবে পালন করা হয়। এটাকে আন্তর্জাতিক দিন হিসেবে পালন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, কিছুটা মজার মাধ্যমে প্রকৃতিকে আলিঙ্গন করতে মানুষকে উৎসাহিত করা।
দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ায় বেশ কয়েকজন নারী ও নরকে তাদের বাগানে গাছের পরিচর্যা করতে দেখা যায়। এ সময় তাদের পরনে কোনোই কাপড় ছিল না। কেউ লেবুর পাতা ছেঁটে দিচ্ছেন। একজন নারী তার বাগানে উপুর হয়ে নিজের হাতে ফুল স্পর্শ করছেন। নিউ সাউথ ওয়েলসে একটি বাগানে পুরো নগ্ন হয়ে হাজির এক মা ও তার মেয়ে। কোথাও একজন পুরুষকে দেখা যাচ্ছে তার বাগানে পানি দিচ্ছেন।

ইসরায়েলের হামলায় অন্তঃসত্ত্বা ফিলিস্তিনি নারী সন্তানসহ নিহত

ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহত লোকজনের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা এক নারী ও তাঁর ১৪ মাস বয়সী মেয়ে রয়েছেন।
ফিলিস্তিনের কর্মকর্তারা বলছেন, গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তিন ফিলিস্তিনি আহত হন। এরপরই ইসরায়েলে রকেট হামলা চালানো হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, গতকাল শনিবার সকালে ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে গাজা উপত্যকা থেকে প্রচুর রকেট ছোড়া হয়েছে। তাঁদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কারণে গাজা থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি রকেট আকাশেই ধ্বংস হয়। গাজার কাছেই ইসরায়েলের শহর আশকেলনে একটি বাড়িতে একটি রকেট আঘাত হানলেও কেউ হতাহত হয়নি। আরেকটি রকেট একটি খোলা মাঠে গিয়ে পড়ে। এরপরই ফিলিস্তিনে ১২০ সন্ত্রাসীকে লক্ষ্য করে ট্যাংক ও বিমান হামলা চালানো হয়।
ইসরায়েল বাহিনীর দাবি, তাদের বিমান হামলার আগে গাজা থেকে বিপুলসংখ্যক রকেট ছোড়া হয়।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক অন্তঃসত্ত্বা এক নারী তাঁর ১৪ মাস বয়সী মেয়েসহ নিহত হয়েছেন। ওই হামলায় ২২ ও ২৫ বছর বয়সের আরও ২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের হামলায় আহত হয়েছেন ১৭ জন। গাজা উপত্যকার সীমান্ত থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের শহর কিরইয়াট ঘাটে ইসরায়েলের হামলায় এক নারী গুরুতর আহত হন। তথ্যসূত্র: এএফপি

গাজায় ২৫ ফিলিস্তিনি শহীদ; তড়িৎ পদক্ষেপ নিতে ইরানের তাগিদ

গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইহুদিবাদী ইসরাইলের চলমান হামলা বন্ধে তড়িৎ পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। ইসরাইলের তিন দিনের হামলায় ১২ বছরের একটি শিশু এবং দুই জন অন্তসত্ত্বা নারীসহ ২৫ ফিলিস্তিনি শহীদ ও ১৫০ জন আহত হয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাইয়্যেদ আব্বাস মুসাভি আজ (রোববার) অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি বিমান ও কামান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, গাজার নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্মম ও বর্বরোচিত হামলা চালাচ্ছে দখলদার শক্তি। এই হামলা বন্ধে তড়িৎ পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ সময় তিনি ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে ন্যায়সঙ্গত সংগ্রাম ও প্রতিরোধ অব্যাহত রাখায় ফিলিস্তিনিদের প্রশংসা করেন। মুসাভি বলেন, দখলদার ইসরাইলের আগ্রাসনের মোকাবেলায় আত্মরক্ষার অধিকার ফিলিস্তিনিদেরও রয়েছে।
তিনি বলেন, ইসরাইলের প্রতি আমেরিকার অকুণ্ঠ সমর্থন এবং কোনো কোনো মুসলিম দেশের নির্লজ্জ নীরবতার কারণে দখলদাররা অব্যাহতভাবে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে।
ফিলিস্তিনিরা দখলদারদের হামলার জবাবে এ পর্যন্ত ইসরাইলে কয়েকশ' রকেট ছুড়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে।

মাটিদূষণও জলবায়ুকে ঝুঁকিতে ফেলছে

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে পুরো বিশ্বই এখন সচেতন। প্রকাশিতব্য এক গবেষণা প্রতিবেদনে এবার উঠে এসেছে আরেক তথ্য। মাটিদূষণও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে হলে মাটিদূষণ কমাতে হবে।
৬ মে প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে ইন্টার গভর্নমেন্টাল সায়েন্স-পলিসি প্ল্যাটফর্ম অন বায়োডাইভারসিটি অ্যান্ড ইকোসিস্টেম (আইপিবিইএস)। এর আগে প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা দিতে গিয়ে গবেষকেরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
গবেষণায় উঠে এসেছে, বায়ুমণ্ডলে যে পরিমাণ কার্বন রয়েছে, মাটিতে তার চেয়ে তিন গুণ বেশি কার্বনের উপস্থিতি রয়েছে। নির্বিচারে গাছ কাটা ও মাটির যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে পরিবেশ এবং জলবায়ু ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩২০ কোটি মানুষ মাটিদূষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন আইপিবিইএসের চেয়ারম্যান বব ওয়াটসন। তিনি বলেছেন, ‘পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুষ এই কারণে (মাটিদূষণ) ভুগছে। পুরো পৃথিবীর মাটিই যে আমরা দূষিত করে ফেলছি, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। মাটি থেকে জৈব কার্বন হারিয়ে ফেলছি আমরা, মাটির উৎপাদনক্ষমতা দিন দিন কমছে। এই মাটিদূষণ জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করছে। যতটুকু মাটি অবশিষ্ট আছে, সেই মাটিকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।’
যুক্তরাজ্যের ক্রেনফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জেন রিকসন বলেছেন, ‘পৃথিবীর উপরিভাগের মাত্র ৩ শতাংশ জায়গা আবাদযোগ্য। প্রতিবছর দূষণের কারণে ৭৫ বিলিয়ন টন উর্বর মাটি হারিয়ে ফেলছি আমরা।’ তিনি বলেন, প্রতি তিন শ বছরে এক সেন্টিমিটার হারে মাটি গঠিত হচ্ছে।
বিশ্বের কোন অঞ্চলে কী পরিমাণ মাটি দূষিত হচ্ছে, সেটির সঠিক হিসাব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে গবেষকদের ধারণা, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকার সাব–সাহারা অঞ্চল, ভারত ও চীনের মাটি বেশি মাত্রায় দূষিত হচ্ছে। এশিয়ার সবচেয়ে পরাক্রমশালী দুই দেশ চীন ও ভারত— উভয় দেশের বিজ্ঞানীরাই নিজেদের খাদ্য উৎপাদনক্ষমতা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।