Tuesday, September 16, 2014

বন্যাদুর্গত জনপদ- ‘হামাক কিছু দিয়া যাও’ by তুহিন ওয়াদুদ

পাঠক, কল্পনা করুন, আপনি সীমিত ত্রাণ দিতে গেছেন বন্যাদুর্গত এলাকায়। কারও বাড়িঘর নদীতে ভেঙে গেছে, কারও ফসল ডুবে গেছে, কারও থাকার মতো সরকারি কোনো ব্যবস্থা নেই, খাওয়ারও নিশ্চয়তা নেই। তাঁদের চোখের ভাষা পড়লেই বোঝা যায়  ক্ষুধা আর অনিশ্চয়তার তীব্রতা তাঁদের জীবনে কতখানি। সীমিত ত্রাণসামগ্রী কয়েক শ জনকে দেওয়া গেলেও এসেছিলেন কয়েক হাজার। অপেক্ষারত যাঁরা ত্রাণ পাননি, তাঁদের অনেকেই আপনার নৌকা ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, ‘হামাক কিছু দিয়া যাও।’
কোনো চরে কেউ বলছেন, ‘হামার বাড়িত দেখি আইসো, হামার কিচ্ছু নাই।’ এক প্রতিবন্ধীকে দেখিয়ে এক বৃদ্ধ নারী বলছেন, ‘নেংলিটাক কিছু দিলেন না।’ ছোট ছোট শিশু গালে হাত দিয়ে বৃষ্টিতে একাকার হয়ে বসে ছিল। নৌকাটি যখন তাদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করছে, তখনো ওই শিশুগুলো তাদের গাল থেকে হাত নামায়নি। তাদের ত্রাণ না পাওয়ার বেদনা নৌকার যাত্রীদেরও স্পর্শ করে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার এই মানুষগুলোর জন্য রাষ্ট্রের কি কোনো দায়িত্ব নেই? তাহলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাজ কী? এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর তো এসব এলাকায় এখন দিনরাত থাকার কথা। কিন্তু থাকেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যশোর অঞ্চলের এক মহানুভব ব্যক্তি তাঁর এক বন্ধু কারমাইকেল কলেজের শিক্ষক আবদুর রাজ্জাকের মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছেন বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ দেওয়ার জন্য। ত্রাণ দেওয়ার জন্য বেছে নেওয়া হয় কুড়িগ্রামের উলিপুর-চিলমারী-রাজীবপুর-রৌমারী উপজেলার প্রত্যন্ত বন্যাদুর্গত এলাকা। রৌমারী ও রাজীবপুরে দেওয়া হয় প্রায় এক হাজার ৮০০ পরিবারকে।
৮ সেপ্টেম্বর ব্রহ্মপুত্রতীরবর্তী কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর ও চিলমারীর বন্যাদুর্গত ছয়টি চরে কারমাইকেল কলেজের ওই শিক্ষকের সঙ্গে আমিও গিয়েছিলাম ত্রাণ বিতরণে। অষ্টমীর চর, মাইজদির চর, কড়াই বইশশাল, চিলমারীর চর, ফেইচকার চর, চরশাখাতি ও ডাটিয়াপাড়ায় মোট ৮২৩ জনকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ত্রাণ গ্রহণ করা এই ৮২৩ জনের মধ্যে ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময়ে জাল পরা বাসন্তীও আছেন। চার দশকে তাঁর ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি। বাসন্তীর পরনে জাল নেই ঠিকই, কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য ত্রাণটুকু প্রয়োজন।
অষ্টমীর চরে অনেকেই জানালেন, সেখানে চারটি গ্রামের মধ্যে তিনটি গ্রাম বিলীন হয়েছে। একবার শুধু চার-পাঁচ কেজি চাল পেয়েছেন। চাষাবাদের কোনো জমি না থাকায় তাঁরা এখন কাজহীন। কোনো উপার্জন নেই, জমানো টাকাও নেই। কড়াই বইশশালের এক বৃদ্ধ ত্রাণের বস্তা মাথায় নিয়ে যাওয়ার সময় বলছিলেন, ‘আল্লাহ আপনাদের ভালো করবে বাবা।’ চরশাখাতির একজন কৃষক বলছিলেন, ‘এই সাহায্য দিয়ে কিছু হবার নয়। এ বছর অভাব হইবে খুব। যে সময় ধান ডুবি গেল, আর ধান নাগার সময় নাই। এ বছর মঙ্গা অনেক দিন থাকপে।’ চিলমারীর ঘাটে বৃদ্ধ চাঁদ মিয়া বলছিলেন, তাঁর বাড়ি ভেঙেছে ১৪ বার।
১০ সেপ্টেম্বরের প্রথম আলো সূত্রে জানতে পারলাম, বন্যাদুর্গতদের সঠিক কোনো তথ্য নেই সরকারের কাছে। সেই তথ্যে গরমিল থাকলেও এ বছর যে চার-সাড়ে চার লাখ একর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে, ৩০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটা তো ঠিক। সরকার নদীভাঙা আর বানভাসি মানুষের জন্য এখনো প্রায় কিছুই করেনি। সরকার সারা বছর ত্রাণ দিতেই থাকুক, এটা আমরা চাই না। একসময় কুড়িগ্রামের মানুষ কাজে যেত না, ত্রাণের অপেক্ষায় থাকত। এরপর অনেক বিলবোর্ডে লেখা হয়েছিল, ‘রিলিফ চাই না, কাজ চাই’।
সত্যি সত্যি ত্রাণের পরিবর্তে অসহায় মানুষগুলোর কাজ প্রয়োজন। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরকার মানুষের পাশে আপৎকালীন সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়াবে না? তিনবার নদীভাঙনের শিকার কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ তোফায়েল হোসেন বললেন, ‘বানভাসি মানুষদের আশা-আকাঙ্ক্ষা-স্বপ্ন কিছুই নেই, তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত।’ চিলমারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস বললেন, ‘পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা নেই। সরকারিভাবে ইউনিয়নভিত্তিক যে এক-দুই টন চাল দেয়, তা ১০-১২ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ২০০ জনকেও দেওয়া যায় না।’
প্রতিবছর বন্যা হবে, লাখ লাখ একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হবে, মানচিত্র থেকে বিলীন হবে গ্রামের পর গ্রাম, ক্ষতিগ্রস্ত হবে লাখ লাখ মানুষ। আর সরকার শুধু এই পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করবে, এটা কাজের কথা নয়। এ বছর মোট ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন কী করে এই ক্ষতি বন্ধ করা যায়। আমাদের নদীশাসনের কোনো ব্যবস্থা নেই, কিন্তু নদী শোষণের ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশে শত শত বিষয়ে নীতি (পলিসি) থাকলেও আমাদের কোনো নদীনীতি নেই।
নেতা–সাংসদ-মন্ত্রীদের সম্পদ বাড়বে কয়েক শ গুণ, জনগণের করের পরিধি বাড়বে, রাষ্ট্রের বিলাস-ব্যসন বাড়বে, সেই সঙ্গে বাড়তে থাকবে বানভাসি মানুষের সংখ্যা, এটা হতে দেওয়া যায় না। সরকারি দল, বিরোধী দল কারও মধ্যেই বানভাসি-নদীভাঙা গৃহহীন মানুষের জন্য বেদনা বোধ নেই।
এই মুহূর্তে সরকারিভাবে কয়েকটি কাজ করা ভীষণ জরুরি। নদী ভেঙে যাঁরা গৃহহীন হয়েছেন, তাঁদের পুনর্বাসন করা। যাঁদের আবাদি ফসল নষ্ট হয়েছে, তাঁদের পরবর্তী চাষাবাদের জন্য স্বল্প সুদে অথবা বিনা সুদে ঋণ দেওয়া, যাতে তাঁরা আগাম রবিশস্য উৎপাদন করতে পারেন। যাঁরা ফসলের মাঠে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, ফসল না থাকার কারণে বেকার হয়ে পড়েছেন, তাঁদের জন্য ত্রাণের পাশাপাশি ভেঙে যাওয়া সড়ক ঠিক করার জন্য কর্মসূচি চালু করা। পানিবাহিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
মাইজদির চরের এক বৃদ্ধ নারী বলছিলেন, ‘হামার প্রধানমন্ত্রীক কনতো, হামাক যেন দেখি যায়।’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি আসতে পারবেন তাঁদের দেখতে?
তুহিন ওয়াদুদ: শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর
wadudtuhin@gmail.com

চীন মেরিটাইম সিল্ক রোড পুনরুদ্ধার করতে চায়

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
মালদ্বীপ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া সফর শুরু করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সফরের শুরুতে আবারও তিনি পরিষ্কার করে দিলেন, ‘মেরিটাইম সিল্ক রোড’ পুনরুদ্ধারের দিকে নজর দিচ্ছে বেইজিং। প্রাচীনকালে চীন থেকে সমুদ্রপথে দক্ষিণ এশিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার জনপ্রিয় বাণিজ্যপথ ছিল এই সিল্ক রোড। খবর এএফপির। ভারত মহাসাগরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত মালদ্বীপে গতকাল সোমবার পা রাখেন চীনা প্রেসিডেন্ট। ১৯৬৫ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীন হওয়ার পর জিনপিংই প্রথম চীনা প্রেসিডেন্ট, যিনি মালদ্বীপ গেলেন। আজ মঙ্গলবার তিনি যাবেন শ্রীলঙ্কা। সেখান থেকে তিনি কাল বুধবার যাবেন দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রভাবশালী দেশ ভারতে। মালদ্বীপ মূলত পর্যটনের জন্য বিখ্যাত হলেও দ্বীপরাষ্ট্রটির বুক চিরে জাহাজ চলাচলের যেসব পথ রয়েছে, সেগুলো আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে চীনা বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে বেইজিং ওই এলাকা হয়ে একটি বাণিজ্যপথ নিশ্চিত করতে চায়। সফরকে সামনে রেখে মালদ্বীপের সংবাদভিত্তিক ওয়েবপোর্টাল সান অনলাইনে একটি নিবন্ধ লিখেছেন জিনপিং। রোববার রাতে প্রকাশিত ওই নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ‘প্রাচীন মেরিটাইম সিল্ক রোডের একটা গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাবিরতি ছিল মালদ্বীপ। একবিংশ শতাব্দীর মেরিটাইম সিল্ক রোড গড়ে তুলতে মালদ্বীপ সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার যে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে, তাকে স্বাগত জানায় চীন।’
মেরিটাইম সিল্ক রোড যে বেইজিং পুনরুদ্ধার করতে চায়, সেটি গত বছর পরিষ্কার করেছিল চীন। চীনা প্রেসিডেন্ট গত বছর ইন্দোনেশিয়া সফরকালে বিষয়টি তুলেছিলেন। জিনপিংয়ের প্রস্তাবে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিন ‘পূর্ণ সম্মতি দিয়েছেন’ বলে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়। তবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। মালদ্বীপের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে তেমন কিছু বলা হয়নি। তবে মালেতে দুই নেতার বৈঠকের পর ইয়ামিনের দপ্তর বলেছে, নয়টি বিষয়ে দুই নেতা একমত হয়েছেন। মালদ্বীপকে নিজের প্রভাব-বলয়ের দেশ মনে করে থাকে ভারত। এই অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে ভারত এমনিতেই উদ্বিগ্ন। এই অবস্থায় ভারত চটতে পারে, এমন কিছু করতে মালদ্বীপ সরকার আগ্রহী নয়। ইয়ামিন সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, বৈঠকে নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। পারমাণবিক জ্বালানির ক্ষেত্রে মোড়ল হতে চায় চীন: পারমাণবিক জ্বালানির ক্ষেত্রে চীন ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বের নেতৃস্থানীয় দেশ হতে চায়। তাই জিনপিংয়ের ভারত সফরকালে পারমাণবিক সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। চীনের জাতীয় জ্বালানি প্রশাসনের পরিচালক উ জিনজিয়াংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে এই খবর প্রকাশ করেছে হংকংভিত্তিক পত্রিকা সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। খবর বলা হয়, চীন একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যা আগামী এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত হবে। পরিকল্পনায় লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে, চীন ২০২০ সালের মধ্য পারমাণবিক জ্বালানির ক্ষেত্রে বিশ্বনেতা হতে চায়।

ভবিষ্যৎ ভাবতে হবে খুব সাবধানে: রানি এলিজাবেথ

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ
স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা নিয়ে গণভোট প্রসঙ্গে এত দিন কোনো মন্তব্য করেননি ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তবে গত রোববার প্রথমবারের মতো তিনি এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন খুব কৌশলে। রাজপরিবারের চার্চ ক্রাথি কার্কয়ে প্রার্থনা শেষে ফেরার পথে এক শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রশ্নের জবাবে রানি প্রথম বললেন, ‘ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব সাবধানে ভাবতে হবে।’ খবর গার্ডিয়ানের। স্কটল্যান্ডের এবারডিনশায়ারের রানির বালমোরাল প্রাসাদের ওই চার্চ ত্যাগ করার সময় এক শুভার্থীর নির্বাচন নিয়ে করা প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে রানি বলেন, ‘আমি আশা করি, জনগণ তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব সাবধানে ভাববে।’
স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষে বা বিপক্ষের কোনো অংশই রানির এই মন্তব্যকে নিজেদের জন্য সহায়ক বলে মনে করছে না। তবে যাঁরা চান যুক্তরাজ্যের সঙ্গে স্কটল্যান্ড থাকুক, তাঁরা রানির এই কথায় বেশ উৎসাহিত হয়েছেন। ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় তাঁরা এই মন্তব্যকে স্বাগতও জানিয়েছেন। যদিও বাকিংহামের মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা ব্যক্তিগত আলাপচারিতা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমরা শুধু এটাই বলতে চাই যে রানি সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন। রানিও সব সময় এ কথাই বলে এসেছেন। তিনি এ কথাও সব সময় বলেছেন, সবকিছুই নির্ভর করে স্কটল্যান্ডের জনগণের সিদ্ধান্তের ওপর।’

আইএসবিরোধী জোটে ৪০ দেশ, থাকছে না ইরান

ইরাক ও সিরিয়ার জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) রুখতে এককাট্টা হয়েছে আরব বিশ্বের ১০টিসহ বিশ্বের প্রায় ৪০টি দেশ। আইএসবিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছে বা যোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশগুলো। ফ্রান্সের প্যারিসে বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন থেকে এ ঘোষণা এসেছে। তবে ইরান আইএসবিরোধী লড়াইয়ে যোগ দিচ্ছে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। খবর এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসির। প্যারিস সম্মেলনের যৌথ আয়োজক ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ও ইরাকি প্রেসিডেন্ট ফুয়াদ মাসুম সুন্নিপন্থী জঙ্গি সংগঠন আইএসের রাশ টেনে ধরতে ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্মেলন উদ্বোধনকালে ওলাঁদ বলেন, ‘নষ্ট করার মতো কোনো সময় হাতে নেই। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ইরাকের চলমান লড়াই আমাদেরও লড়াই।’ আইএসের বৈশ্বিক হুমকির বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বাগদাদকে ‘সুস্পষ্ট, বিশ্বস্ত ও দৃঢ়’ বৈশ্বিক সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। ইরাকের প্রেসিডেন্ট মাসুম আইএসকে রুখতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এখনই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কারণ, দেরি হলে... ডায়েশ (আইএসকে বোঝাতে এই নাম) অন্য এলাকাগুলোও দখল করে নিতে পারে। তাদের হুমকি আরও বড় হয়ে দাঁড়াতে পারে।’ সিরিয়ার এক-চতুর্থাংশ এবং ইরাকের ৪০ শতাংশ এলাকাই বর্তমানে আইএসের জিহাদিদের দখলে। মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি হয়ে ওঠা আইএসকে রুখতে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠন ত্বরান্বিত করতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গত সপ্তাহে বিভিন্ন এলাকায় ম্যারাথন সফর করেন। প্যারিস সম্মেলনে তিনি মার্কিন নেতৃত্বাধীন সেই জোটের কৌশল ঝালাই করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ইরান জোটে নেই: প্যারিসে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল ইউরোপের প্রধান দেশগুলো, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য, ইরাকের প্রতিবেশী দেশগুলো এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। কিন্তু ইরাকের প্রতিবেশী ইরানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে দেশটি বলেছে, আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগেই প্রস্তাব দিয়েছিল। তা ফিরিয়ে দেয় তেহরান। গতকাল সোমবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেন নিজের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই ইরাকে তার দূতাবাসের মাধ্যমে জানতে চেয়েছিল, আমরা সহায়তা করতে পারি কি না। আমি “না” বলেছি। কারণ, তাদের নোংরা হাত রয়েছে।’
ফরাসি নজরদারি শুরু: গতকাল থেকে ফরাসি আকাশযানের ইরাকের ওপরে নজরদারি শুরু করার কথা জানান ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী লঁরা ফ্যাবিয়াস। পরে ফরাসি একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, দুটি ফরাসি যুদ্ধবিমান ও একটি জ্বালানি ভরার বিমান ইরাকের উদ্দেশে উড্ডয়ন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ: তরুণদের জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসে যোগ দেওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা থামাতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে মার্কিন সরকার। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এর আওতায় দেশের তরুণসমাজকে মৌলবাদে উদ্বুদ্ধ করা ঠেকাতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করা হবে।
কাঠগড়ায় প্রথম আইএস জিহাদি: জার্মানিতে গতকাল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচার-প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্রেশনিক বারিশা (২০) নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সিরিয়ায় আইএসের পক্ষে লড়াই করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

টলিউডের ছবিতে মাহিয়া মাহি

টলিউডের ছবিতে বাংলাদেশের নায়ক-নায়িকাদের সম্পৃক্ততা বেড়েই চলেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন বাংলাদেশের এ সময়ের সবচেয়ে ব্যস্ত এবং চাহিদাসম্পন্ন নায়িকা মাহিয়া মাহি। যিনি ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে ৮টি ছবিতে অভিনয় করে ফেলেছেন। তার মধ্যে চারটি মুক্তি পেয়ে মাহির অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। আর চারটি এখন মুক্তির অপেক্ষায়। এস কে মুভিজের ব্যানারে নির্মাণ পরিকল্পিত ‘রোমিও ভার্সেস জুলিয়েট’ ছবিতে নায়ক অঙ্কুশের বিপরীতে মাহি অভিনয় করবেন জুলিয়েটের চরিত্রে। ছবির এ চরিত্রটি বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে জানিয়েছেন এর  নির্মাণ সংশ্লিষ্টরা। এ মাসেই লন্ডনে ছবির শুটিং শুরু হবে। টলিউডের ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ পেয়ে মাহি খুব খুশি। ছবিটি শেক্সপিয়রের রোমিও-জুলিয়েটের অনুপ্রেরণায় তৈরি হওয়ার কথা থাকলেও এখন চিত্রনাট্যে অনেক পরিবর্তন করা হয়েছে। ছবির নায়ক রোমিও নামে গ্রামের ছেলে। আর নায়িকা লন্ডনের মেয়ে। নাম জুলিয়েট। ছবির টাইটেল সংটা এ রকম- ‘ফেসবুকে ফটো দেখে প্রেমে পড়েছি/সাত সমুদ্দুর পার থেকে বলতে এসেছি/ ম্যঁয় তেরা রোমিও, তু মেরি জুলিয়েট’। এদিকে ছবিতে অভিনয়ের আগে প্রথমবারের মতো মাহি কলকাতায় আসছেন আজকালের মধ্যেই।

যেভাবে শিক্ষকের হাতে নির্যাতনের শিকার ঢাবি ছাত্রী

স্প্রাইট, কোকাকোলা খেতে রাজি না হলে তিনি একটি বাদামের টিন দেন এবং হঠাৎ আমার মুখে তুলে খাইয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। এরপর তিনি আমাকে হাত ধরে টেনে সোফা থেকে বিছানায় নেয়ার চেষ্টা করেন। আমি বাধা দিয়ে বলতে থাকি বাসায় যাবো। ২-৩ মিনিট চেষ্টা করে এক পর্যায়ে উনি আমাকে পরীক্ষার খাতাটা দেখিয়ে বলেন, তাহলে আমি এখানে কি নম্বর দেব? কত দেব আপনাকে, আপনিই বলেন। তখন আমি স্যারকে বলি ওনার যা ইচ্ছা তাই যেন দিয়ে দেন- এই কথা বলে কাঁদতে শুরু করলে উনি দরজা খুলে দেন।’ শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়ে ঢাবি ভিসির কাছে এভাবে লিখিত অভিযোগ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ছাত্রী। পরীক্ষার খাতা সংশোধন করার কথা বলে বাসায় ডেকে নিয়ে এই ছাত্রীকে এভাবে যৌন হয়রানি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই বিভাগের চেয়ারম্যান। ড. সাইফুল ইসলাম নামের ওই শিক্ষক বিভাগের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের এক ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। পুরো ঘটনার একটি রেকর্ড মানবজমিনের হাতে এসেছে। রেকর্ডে ওই ছাত্রী ও শিক্ষকের মধ্যে কথোপকথন বিস্তারিত শোনা যায়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভিসি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। গতকাল বিষয়টি বিভাগে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা দিনব্যাপী ওই শিক্ষককে প্রথমে ক্লাসরুমে পরে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। পদত্যাগ চেয়ে স্লোগান দিতে থাকে। এরপর বেলা দেড়টার দিকে ওই শিক্ষক চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এছাড়া, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন বাম সংগঠন অভিযুক্ত শিক্ষকের আজীবন বহিষ্কার এবং শাস্তি চেয়ে মিছিল করে। ভিসি বরাবর লিখিত আবেদন করে ওই ছাত্রী জানান, ২৮শে আগস্ট ৩৫২ নং কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষা হয়। ৮ই সেপ্টেম্বর বিভাগ থেকে ফোন করে জানানো হয়, বিভাগের চেয়ারম্যান স্যারের সঙ্গে দেখা করতে অথবা ফোন করার জন্য। কিছুক্ষণ পর ফোন দিলে স্যার জানান, আমি ব্যস্ত আছি তিনি পরে কথা বলবেন। ১০ই সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় ওই শিক্ষক আমাকে ফোন দিয়ে জানান আমার খাতার প্রশ্নের নম্বর কেটে দেয়া আছে। তিনি এও বলেন, আমি তোমার খাতায় শূন্য দিতে চাই না। তোমাকে একটা সুযোগ দিতে চাই। তিনি আমাকে রোববার রাতে ফোন করতে বলেন এবং বিষয়টি নিয়ে আমি যেন কাউকে কোন কিছু না বলি, বললে আমার অসুবিধা হবে। পুরো বিষয়টি আমি বিভাগের শিক্ষক ওয়াহিদা মল্লিক জলিকে জানাই। এরপর ১৪ই সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর ৩টা ৫৩ মিনিটে ওই স্যার আমাকে ফোন করে বলেন, আমি যেন এক্ষুণি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি। রেকর্ডের ওই শিক্ষক-ছাত্রীর কথোপকথনে শোনা যায়, সে বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা পর্যন্ত তিন বার ফোন বিনিময় হয় তাদের। ক্যাম্পাসে এসে ওই শিক্ষককে কল দিলে তিনি ফোনটি কেটে দেন। পরে কলব্যাক করে কোথায় আছি জানতে চান। ছাত্রী জানায়, সে কার্জন হলের সামনে আছে। ওই শিক্ষককে বলেন, আপনি ইন্টারন্যাশনাল হল চিনেন? ছাত্রী চেনে উত্তর দেয়। এরপর চারুকলার কাছ ঘেঁষে একটা বিল্ডিং রয়েছে চেনেন কিনা জানতে চাইলে ছাত্রী জানায়, সে চিনতে পারছে না। তখন বিকাল ৫টা ৪২ মিনিটে আমার অবস্থান জানিয়ে জলি ম্যামকে একটা এসএমএম করে রাখি। কিছুক্ষণ পর ইন্টারন্যাশনাল হলের সামনে এসে ওই ছাত্রী ফোন দিলে শিক্ষক বলেন, তুমি ফোন না কেটে চারুকলার দিকে যে রাস্তা গিয়েছে সেটি ধরে আগাতে থাকো। একটু সামনে এগুনোর পর শিক্ষক বলে উপরে তাকাও দেখ আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি। ওনাকে দেখার পর শিক্ষক বলেন, একটি সাদা গাড়ি দাঁড়ানো আছে এর পাশে যে গেইট আছে সেটা দিয়ে পাঁচ তলায় চলে আসো দরজা খোলা আছে। এরপর ওই ছাত্রী ফোন কেটে তার ফোনের রেকর্ড ওপেন করে। যেখানে সে সিঁড়ি দিয়ে ওঠার ঠক ঠক শব্দ শোনা যায়। কথোপকথনে শোনা যায়, ওই শিক্ষক ছাত্রীকে বলছেন, ‘আপনি আমাকে বলেছিলেন আপনার কি কি যেন প্রবলেম হয়, ছাত্রীর জবাব স্যার আমি এগুলো অনেকটাই ওভারকাম করেছি। আমার যেটা ছিলো ফ্রাস্টেশন। কিছু ডিপ্রেশন ছিলো। অনেকটা ওভারকাম করেছি। পরীক্ষার খাতা স্যার কি হয়েছে? উত্তরে স্যার বলেন, কি জানি বলছিলাম ডিপার্টমেন্টে বন্ধু কে? ভালো বন্ধু স্যার পলাশ, উজ্জ্বল ওদের সাথেই ভালো সম্পর্ক। শিক্ষকদের মধ্যে কার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক? কারো সঙ্গে ওই রকম বিশেষ ভালো সম্পর্ক নাই। ইয়াম স্যারের সঙ্গে কিছু বিষয় বা ৫ম সেমিস্টারে মইশান স্যার যখন ক্লাস নিয়েছিলেন তখন আমার কিছু প্রবলেম ছিলো তাই ওনার সঙ্গে কিছু শেয়ারিং হয়েছে এতটুকুই... এমনিতে কোন দলীয় ব্যাপার আছে। পলিটিক্স। না স্যার।  আপনার কোন কিছু ঘটলে বা জীবনের সব কথা কাকে বলেন? স্যার আমি জীবনের সব কথা কারো সাথে শেয়ার করি না। এটা যদি করতে পারেন তাহলে হলো... গোপনীয়তার সঙ্গে অনেক কিছু করে জীবনকে উপভোগ করা যায়। জীবনকে আনন্দে রাখা যায়। কি খাবেন বলেন। তাড়া নেই তো যাবার। স্যার একটু তাড়া আছে। মা’র সাথে মামার বাসায় যাবো তো। আপনি বলতেন আপনার অন্য কোনো জায়গায় দাওয়াত আছে। স্যার আমার তো সন্ধ্যার পরে দাওয়াত সেজন্য আমি কিছু বলি নাই। আধা ঘণ্টা থাকতে পারবেন না। জি স্যার। খাতা কি করবো। আমি তো স্যার খাতা কাটি নাই। আমি সে জন্যই এগুলোর কথা জিজ্ঞেস করছি যে ক্লাসে বন্ধু কারা অন্য কোন সমস্যা আছে কিনা। তখন করণীয় জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে প্রসঙ্গ অন্য দিকে নিয়ে গেলে আমি কি খাবো জানতে চান। স্প্রাইট, সেভেন আপ, কোক ইত্যাদি খাওয়ার জন্য বলতে থাকে। হাতে পাওয়া রেকর্ডের আরও দেড় মিনিট রুমের ভিতরে ঠক ঠক শব্দ  শোনা যায়। ঢাবি ভিসিকে ছাত্রীর লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, আমি খেতে রাজি না হলে তিনি একটি বাদামের টিন দেন এবং হঠাৎ আমার মুখে তুলে খাইয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। এরপর আমাকে গায়ে ধরার চেষ্টা করলে আমার রেকর্ডটি পড়ে গিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তিনি আমাকে হাত ধরে টেনে সোফা থেকে বিছানায় নেয়ার চেষ্টা করেন। আমি বাধা দিয়ে বলতে থাকি আমি বাসায় যাবো। ২-৩ মিনিট চেষ্টা করে এক পর্যায়ে উনি আমাকে পরীক্ষার খাতাটা দেখিয়ে বলেন, তাহলে আমি এখানে কি নম্বর দেব? কত দেব আপনাকে, আপনিই বলেন। তখন আমি স্যারকে বলি ওনার যা ইচ্ছা তাই যেন দিয়ে দেন এই কথা বলে কাঁদতে শুরু করলে উনি দরজা খুলে দেন। লিখিত অভিযোগে ছাত্রী বলছে, একজন শিক্ষক পরীক্ষার খাতা প্রসঙ্গে ডাকলে তখন আর আর কী করণীয় ছিল ঠিক বোধগম্য হচ্ছিল না। আর বিভাগ থেকে দাপ্তরিকভাবে জানানো হয়েছিল আমি ভাবতে পারেনি স্যার এই ধরনের আচরণ করতে পারেন। এই ঘটনায় অসহায় বোধের কথাও লিখিতভাবে ভিসিকে জানান।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক সাইফুল ইসলাম দাবি করেন তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তদন্তের স্বার্থে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

জানার মধ্যেই রয়ে গেল বাংলাদেশ

সফর ব্যক্তিগত। কিন্তু আলোচনা বিস্তর। চারদিনে ৯৬ ঘণ্টা। ছুটেছেন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম। বৈঠক সেরেছেন অনেকের সঙ্গেই। রুটিনের বাইরেও ছিলেন কেউ কেউ। বলছিলাম এম জে আকবরের কথা। কংগ্রেসকে ভূমিধস পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ভারতের নেতৃত্বে থাকা বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। রিপোর্টিং শুরু করেছিলেন টাইমস অব ইন্ডিয়ায়। তেইশ বছরেই সম্পাদক পদে রেকর্ড গড়েন। দ্য টেলিগ্রাফ, এশিয়ান এজ, ইন্ডিয়া টুডে, সানডে, গার্ডিয়ান, দ্য ডেকান ক্রনিকালে লিখেছেন। তাঁর লেখা ‘নেহেরু’ দুনিয়া কাঁপিয়েছে। ঘনিষ্ঠ ছিলেন গান্ধী পরিবারের সঙ্গেও। সময়ের ব্যবধানে এই মানুষটিই এখন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র। মিডিয়া সূত্রে বাংলাদেশের অনেকের সঙ্গেই রয়েছে সখ্য। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে-পরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা। দীর্ঘদিনের মিত্র কংগ্রেসের বিদায়ে বাংলাদেশের বিরোধী শিবিরে উৎসাহ আর সরকারের নীরবতায় এ আলোচনাকে আরও প্রলম্বিত করেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফর আর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর দিল্লি সফর এবং নিউ ইয়র্কে মোদি-হাসিনা বৈঠকের আগে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে এম জে আকবরের সফর নিয়ে। চার দিনের ঝটিকা এই সফরে তিনি বিএনপি নেতা ও শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল আওয়াল মিন্টুর বাসায় বৈঠক করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ও সাবেক মন্ত্রী ড. ওসমান ফারুকের সঙ্গে। এছাড়াও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমানের বাসায় দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। কথা বলেছেন অন্তত তিনজন সম্পাদকের সঙ্গে। ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজামের সঙ্গে। আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন দুটি টেলিভিশন, একটি পত্রিকাকে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আযম নাসিরের আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন। বৈঠকে  বসেছিলেন মাওলানা তৈয়বের নেতৃত্বে হেফাজতের একাংশের নেতাদের সঙ্গে। সফরের শেষ দিন একেবারে শেষ সময়ে বৈঠক সারেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গেও। একাধিক সাক্ষাৎকার এবং ঘরোয়া আলাপে এম জে আকবর বর্তমান পরিস্থিতি হলফ করার চেষ্টা করেছেন। বিএনপি নেতাদের কাছে অন্তত পাঁচ প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন। জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষত সীমান্ত এলাকায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কার্যক্রম, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আইএসআইয়ের কার্যক্রম বন্ধে অবস্থান কি হবে? জামায়াত-জঙ্গিবাদ ইস্যুতে বিএনপির নীতি কি? জানা গেছে, বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে বিজেপি মুখপাত্র জানতে চেয়েছেন বাংলাদেশকে। বুঝার চেষ্টা করেছেন ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী রাজনীতি; বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নীতিতে ভারতের ভূমিকা কি হবে তা নিয়ে। একাধিক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ভারতের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেছেন। ফরেন পলিসি ও ফরেন ডিপ্লোম্যাসি এই দু’প্রক্রিয়াতেই ভারত তাদের সম্পর্ক এগিয়ে যাবে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে এটাই মোদ্দাকথা। রাতারাতি পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তনের পক্ষে নন মোদি। আধুনিক ও উন্নত চিন্তার মানুষ মোদি শুধু বাংলাদেশ বা শুধু নেপাল বা শুধু ভুটান এভাবে চিন্তা করছেন না। তিনি পুরো উপমহাদেশকেই অর্থনৈতিক বলয়ের মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিতে চান। নেতৃত্ব দিতে চান। সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক চান। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ অব্যাহত আছে এবং থাকবে। আকবরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এমন একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশকে জানার মধ্য দিয়েই ফিরে গেছেন তিনি। অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে মোদি সরকার যে অস্বস্তিতে রয়েছে তার বেশকিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে আকবরের নানা মূল্যায়নে। যাই হোক বাংলাদেশের ঘূর্ণায়মান রাজনীতির পাল্‌স বুঝতে চেয়েছেন। অনেক প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না নিয়েই সফরের ইতি টেনেছেন।

কাঠগড়ায় মওদুদ-খন্দকার

দুটি বই নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে জাতীয় রাজনীতিতে। বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি প্রধান দুই দল- আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তোপের মুখে পড়েছেন এ দু’দলের সিনিয়র দুই নেতা। প্রায় দু’সপ্তাহের ব্যবধানে প্রকাশিত হয়েছে আলোচিত দুটি বই।

একটির সমালোচনা চলমান থাকতেই আরেকটির বিতর্ক শুরু। জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপন, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলাকালে এই বই দুটি পাঠকের হাতে পৌঁছে। একটি লিখেছেন কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি এ কে খন্দকার। অপরটির লেখক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। কাকতালীয়ভাবে এই দুই নেতার মধ্যে অদ্ভুত মিল পাওয়া যায়। দু’জনেই দেশের দুই প্রধান দলের সিনিয়র নেতা, দুজনের দু’দলের সাবেক মন্ত্রী, দুজনই মুক্তিযোদ্ধা। একজন লিখেছেন ৪০ বছর আগের ঘটনা নিয়ে। আরেক জন লিখেছেন নিকট অতীত ওয়ান ইলেভেনের প্রেক্ষাপট নিয়ে। স্মৃতিচারণমূলক বই দু’টি নিয়ে লেখকদ্বয় নিজ দল আদর্শ এবং মতের লোকের কাছেই হয়েছেন সমালোচিত। দলীয় লোকের দেয়া মামলায় ইতিমধ্যে আসামি হয়েছেন স্বাধীনতা যুদ্ধের সেকেণ্ড-ইন কমান্ড এ কে খন্দকার। জাতীয় সংসদে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। অপরদিকে তীর্যক কটাক্ষ এবং নিন্দার মুখে পড়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বই প্রকাশ যে কোন নাগরিকের মৌলিক এবং মত প্রকাশের অধিকার। এটা যাদের পছন্দ হবে না তারা সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু কারও কণ্ঠরোধ করতে পারে না। তিনি বলেন, প্রকাশিত বইয়ের অনেক বিষয়ে আমারও দ্বিমত আছে। তবে কারও মত প্রকাশের অধিকারে বাধা দান কিংবা কণ্ঠরোধে আমি বিশ্বাসী নই। উল্লেখ্য, ২রা সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির একটি মিলনায়তনে প্রকাশনা উৎসবের মাধ্যমে পাঠকের হাতে আসে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক বই ‘১৯৭১ ভেতরে বাইরে’। স্বাধীনতার ঘোষণা, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়কার নানা বিষয় স্থান পায় এ কে খন্দকারের বইয়ে। যার কিছু অংশ প্রকাশ হয়েছে গণমাধ্যমেও। এর পর ৪ঠা সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের নেতারা এ বইয়ের তীব্র সমালোচনা করে বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মুক্তিযুদ্ধের এ উপ-অধিনায়কের শাস্তিও দাবি করেন। সংসদে তুমুল আলোচনার পর দিন আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে বই নিয়ে দেখা গেছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। একই সঙ্গে বিএনপির নেতারাও এ নিয়ে কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগ নেতারা এ কে খন্দকারের বইয়ের তীব্র সমালোচনা করলেও দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বইটি নিষিদ্ধ না করে এ কে খন্দকারের বক্তব্যের তথ্যভিত্তিক জবাব দেয়ার পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ কে খন্দকার সত্য প্রকাশ করায় আওয়ামী লীগের গা জ্বালা শুরু হয়েছে। ওদিকে এ কে খন্দকারের বইয়ের প্রতিক্রিয়া পর্ব শেষ না হতেই দৃশ্যপটে আসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। প্রায় একই রকম সমালোচনার মুখে পড়েছেন বর্ষীয়ান এ নেতাও। শনিবার সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন মিলনায়তনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ লিখিত ‘বাংলাদেশ: ইমারজেন্সি অ্যান্ড দ্য আফটারম্যাথ’ শীর্ষক বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রকাশিত বইয়ে জঙ্গিবাদের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক, ছেলেদের প্রতি খালেদা জিয়ার প্রীতি এবং চারদলীয় জোট সরকারের দুর্নীতির প্রসঙ্গ আসায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মওদুদের বই নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া বিএনপিতে
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের লেখা ‘বাংলাদেশ: ইমার্জেন্সি অ্যান্ড দ্য আফটার ম্যাথ: ২০০৭-২০০৮’ বইটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে বিএনপিতে। বইটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সিনিয়র এ সদস্য। তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি তার প্রকাশ্য সমালোচনা করছেন কেন্দ্রীয় নেতারাও। অভিযোগ ওঠেছে, ‘সরকারের সন্তুষ্টি অর্জন এবং বাড়ি রক্ষার জন্য’ তিনি কিছু মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য সংযুক্ত করেছেন বইটিতে। গতকাল আলাদা দুইটি অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সমালোচনা করেন দলটির কেন্দ্রীয় দুই নেতা। তবে সে অভিযোগের জবাব দিয়েছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।  দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের লেখা বইয়ের কড়া সমালোচনা করেছেন দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। সকালে নয়াপল্টন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, উনি বইতে লিখেছেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও হাওয়া ভবনের দুর্নীতির কারণে নাকি জোট সরকারের বিদায় হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে আমি এ বিষয়ে কিছু বলবো না। তবে ব্যক্তিগতভাবে বলবো- ওই সময়তো তিনি একজন মন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তাহলে ওই সময়ে তিনি কেন পদত্যাগ করলেন না? রিজভী বলেন, নিজের ছেলেদের ছাড়ানোর ব্যাপারে যদি খালেদা জিয়া ব্যস্ত থাকতেন তাহলে তিনি আগেই ছেলেদের মুক্ত করে বিদেশে পাঠিয়ে দিতেন। কিন্তু খালেদা জিয়া ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সঙ্গে আপস করেননি। দেশের জনগণের কথা ভেবে তিনি দেশ ত্যাগ করেননি। তার ওপর অনেক চাপ ছিল বলেই তারেক রহমানের ওপর বন্দি অবস্থায় নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি এখনও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছেন। রিজভী বলেন, মওদুদ আহমদের মতো একজন জ্যেষ্ঠ নেতা কাদের খুশি করার জন্য এই বই লিখেছেন তা আমার জানা নেই। মনে হয়, নিজের বাড়ি রক্ষায় ক্ষমতাসীনদের সন্তুষ্টি করতেই মওদুদ আহমদ তার বইয়ে এসব কথা লিখেছেন। তিনি অনেক দিন ধরে রাজনীতি করেন, তবে যখনই নিজের স্বার্থ আসে তখনই রং বদলান। যারা ডিগবাজ, দলছুট, আদর্শছুট এবং নিজের প্রয়োজনে দল বদলান জনগণ তাদের চেনে। ভারতীয় এক প্রখ্যাত সাংবাদিকের এসব নেতাকে ফাস্টফুডের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। মওদুদ আহমদের প্রতি ইঙ্গিত করে রিজভী আহমেদ বলেন, কাক সাত সমুদ্র তের নদী  পেরিয়ে গেলেও কাকই থাকে। কোন আদর্শহীন ও দলছুট নেতার বইয়ে বিএনপির কিছুই আসে যায় না। দেশের মানুষ তার কথায় বিভ্রান্ত হবে না। নিজেদের স্বার্থে সময়ের প্রয়োজনে যারা রঙ বদলায় মানুষের কাছে তারা ধরা পড়ে যান। ওদিকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নাম উল্লেখ না করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেছেন, ‘গতকাল কে জানি বলেছেন, আমাদের ড. মাহবুব উল্লাহ স্বাধীনতার ঘোষক। তিনি নোয়াখালীর লোক। এটা কি? এটা কই পাইলেন তিনি?’ জাতীয় প্রেস ক্লাবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান মুক্তি পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মওদুদ আহমদের লেখা ‘বাংলাদেশ: ইমার্জেন্সি অ্যান্ড দ্য আফটার ম্যাথ’ বইয়ের সমালোচনা করে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যাননি। জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক।
রিজভী অনুতপ্ত হবে: মওদুদ
সদ্য প্রকাশিত বই নিয়ে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, আমি খুব দুঃখ পেলাম। কারণ রিজভীকে আমি আমার ছোট ভাইয়ের মতো মনে করি। তার অনেক লেখাপড়া আছে। সে যে মন্তব্য করেছে আমি এটা তার কাছ থেকে আশা করিনি। পুরো বই পড়লে সে অনুতপ্ত হবে। নিজের বাড়ি নিয়ে সমস্যা তৈরির অনেক আগেই এ বই লেখা হয়েছে বলেও দাবি করেন সাবেক এই আইনমন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্ট এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ওয়ান ইলেভেনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সদ্য প্রকাশিত গ্রন্থ ‘বাংলাদেশ: ইমারজেন্সি অ্যান্ড দ্য আফটারম্যাথ: ২০০৭-২০০৮’ নিয়ে এরইমধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সোমবারই এক সংবাদ সম্মেলনে এ বইয়ের জন্য মওদুদ আহমদের তীব্র সমালোচনা করেন। বাড়ি রক্ষা করতে সরকারকে সন্তুষ্ট করার জন্য মওদুদ আহমদ এ বই লিখেছেন কিনা সে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের আরও বলেন, বই লেখা এক জিনিস। এটা একটা কঠিন কাজ। বিশেষ করে সমসাময়িক রাজনীতির ওপর কোন বই লেখা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তিনি বলেন, আমি ভেবেছিলাম আমার দল বা দলের নেতা-কর্মীরা এপ্রিসিয়েট করবে এবং আমিতো ভেবেছিলাম রিজভী আমাকে অভিনন্দন জানাবে, ধন্যবাদ জানাবে এই ধরনের একটি বই লেখার জন্য। কারণ আমি যেটা ভয় করেছিলাম, বইটা বের হওয়ার পরে সরকার আমার উপর অসন্তুষ্ট হবে। হয়তো আমাকে আবার জেলখানায় যেতে হতে পারে। বইটি যদি পড়া হয় তাহলে দেখা যাবে ২০০৭-২০০৮ সালে মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকার কিভাবে রাজনীতিবিদদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করেছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে শেষ পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য বিএনপিকে দুর্বল করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছে। মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সহায়তায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তারই বিবরণ বইতে দেয়া আছে। এখন দেখছি, ফল উল্টো। আমার দল সম্পর্কে বা আমার দলের যে ব্যর্থতা বা আমরা  যে পরাজিত হলাম এর অনেকগুলো কারণ আমার বইতে দেয়া আছে। পত্রিকাগুলো তাদের পলিসি অনুযায়ী সংবাদ প্রকাশ করেছে। নির্বাচন যে হয়েছে ২০০৮ সালে সেখানে বলা আছে এটা কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। কিভাবে কারচুপি হয়েছে তা বলা আছে। এগুলোর বৃত্তান্ত দেয়া আছে। এটাই মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এ বইতে আমার যে অভিব্যক্তি দল সম্পর্কে সেটা আমার ব্যক্তিগত। এটার সঙ্গে দলের কোন সম্পর্ক  নেই। যখন আমি বই লিখি তখন দলীয় ব্যক্তি হিসেবে বই লিখি না। আমি একজন রাষ্ট্র বিজ্ঞানী হিসেবে বই লিখি। সব বইতে বস্তুনিষ্ঠ ভাবে দেশের ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করি। আমাদের ব্যর্থতার যে সব কারণগুলো চিহ্নিত হয়েছে সেগুলো যদি অনুসরণ করি এবং চেষ্টা করি সংশোধন করতে তাহলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আবার ক্ষমতায় আসবে। এটাই মূল বার্তা। তিনি বলেন, আমার বাড়ির ব্যাপারে বলবো। বইটা লিখেছি অনেক আগে। যেহেতু আমি রাজনীতি করি, আমি বিরোধী দলের নেতা এবং বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য আজকে আমাকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করার জন্য সরকার একটা প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ প্রক্রিয়া শুরু করেছে ২০১২ সালে। আর বইটা লেখা হয়েছে ৬/৭ বছর আগে। সুতরাং এটার সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। বাড়ি বা সরকারকে সন্তুষ্ট করার প্রশ্নই উঠে না। আমার বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা আছে। বাড়ির মামলা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। বইয়ের কোন মতামতের সঙ্গে সরকারের কোন সম্পর্ক নেই।

ভয়, রহস্য, উদাসীনতাঘেরা স্তব্ধতা by ড. মাহফুজ পারভেজ

নোবেলজয়ী তুর্কি লেখক ওরহান পামুক তাঁর এক উপন্যাসে এমন একটি সমাজের চিত্র এঁকেছেন, যেখানে সবকিছু তুষারের, বরফের আচ্ছাদনে ঝাঁপসা, রহস্যময় এবং কুশাসন আর আতঙ্কের বাতাবরণে ঢাকা। এমন দুঃসহ সমাজ ভাবুক, কবি বা লেখকের কল্পনাতেই শুধু নয়, বাস্তবেও দেখা যাচ্ছে। আক্ষরিক অর্থে না হলেও প্রতীকী অর্থে। হয়তো প্রাকৃতিক কারণে সত্যি সত্যিই বরফ ঝরছে না, তুষারে ছেয়ে যাচ্ছে না চারপাশ, তথাপি সবকিছু কেন যেন বড় বেশি রহস্যঘেরা। মনে হয়, অজানা, অদেখা, অদৃশ্য সুতোয় নাচছে সবকিছু। সবাই যেন বন্দি বা জিম্মি সেই ঘেরাটোপে। চোখের সামনে ঘটছে শত শত ঘটনা, দুর্ঘটনা, হত্যা, গুম, নির্যাতন, লুটপাট, অপরাধ; কিন্তু কারণ দেখা যাচ্ছে না। কার্য-কারণ চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। যাদের দায়িত্ব ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা, তারাই এমন সব রহস্যঘেরা কথা বলছেন যে, পুরো বিষয়টিই হয়ে যাচ্ছে অধিভৌতিক। যেন অবাস্তব কিছু আমাদের পেছনে ধাওয়া করছে। এমন কথা সাগর-রুনি হত্যা থেকে মাওলানা ফারুকীর হত্যা কিংবা ইলিয়াস আলীর গুম থেকে নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডার পর্যন্ত সকল ঘটনা বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সব ঘটনার পেছনেই ছড়ানো হচ্ছে ভয়-ভীতি, রহস্য-অতিকথন আর উদাসীনতা-গাফিলতির জাল। অথচ আমরা জানি যে, গণতান্ত্রিক সমাজ বা কার্যকর সুশাসন দাবি করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা। বিশেষত সরকারি বা রাষ্ট্রীয় কাজে সব কিছুই হতে হবে স্বচ্ছ বা ট্র্যান্সপারেন্ট। সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা থাকতে হবে কাজের সাফল্য বা ব্যর্থতার ক্ষেত্রে। সর্বোপরি বিভিন্ন পদে আসীনদের নিজ নিজ কর্তব্য-কর্মে দায়িত্বশীল থাকতে হবে। বাস্তবে হচ্ছে উল্টো। ঘটনার স্বচ্ছ বিবরণ যেমন নেই, তেমনি নেই ঘটনা সম্পর্কে জবাবদিহিতা এবং সে সম্পর্কে দায়িত্বশীল আচরণ। কোন চরম নাটকীয় বা বেদনাদায়ক ঘটনার পর পরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী থেকে নিম্নতর সংশ্লিষ্টদের কথা-বার্তা, বক্তব্য পর্যালোচনা করলেই টের পাওয়া যায় চরম উদাসীনতা। কেউ যেন আক্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্তদের দিতে পারছে না প্রকৃত আশ্বাস ও সাহসের বরাভয়। ফলে উপন্যাসের বরফ বা তুষারের  মতোই  চারদিকে বিরাজ করছে ভয়, রহস্য ও উদাসীনতাঘেরা স্তব্ধতা।
সামাজিক ও নাগরিক জীবন যদি ভয়, রহস্য ও উদাসীনতায় আক্রান্ত হয়, তাহলে গণতন্ত্র বা সুশাসনের দেখা পাওয়া যায় না। সাধারণ-স্বাভাবিক জীবন পর্যন্ত ব্যাহত হয়। ভয়ের বা রহস্যের ফলে নাগরিক সমাজে ও ব্যক্তি মানুষের মনে যে ট্রমা বা আঘাত বা ভীতির সঞ্চার হয়, সেটা জাতীয় উন্নয়নকেও স্থবির করে দেয়। মানুষ আতঙ্কে নীল হলে তার মেধা, মনন, যোগ্যতার পূর্ণ বিকাশ করতে পারে না। প্রায় প্রতিদিনই ঘরে-বাইরে খুন-হত্যা, গুমের পর মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতির দিকটিই সবচেয়ে বেশি হয়। শিশুদের বিকাশ, নারী ও পুরুষের সুস্থ-স্বাভাবিক মানসিক জীবন তখন হয়ে যায় সুদূরপরাহত। ইতিহাস থেকে আমরা দেখতে পাই, সোভিয়েত ইউনিয়নের স্ট্যালিন-শাসনের লৌহ যবনিকার অন্তরালে হাজার হাজার মানুষ ভয়ে-আতঙ্কে মানসিক রোগাগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিলেন। সুদূর সাইবেরিয়ায় তখন অ্যাসাইলাম বা পাগলা গারদ খুলতে হয়েছিল সরকারকে। ট্রেন-ভর্তি মানসিক রোগী বা পাগলরা সাইবেরিয়ার অ্যাসাইলামে যাচ্ছে, সেটা ছিল সে আমলের এক অতি চেনা চিত্র। অথচ শরীরবৃত্তীয়ভাবে এসব লোক পাগলামির বীজাণু বা পাগলের বংশচক্র বহন করেন নি। তারা পাগল বা মানসিক ভারসাম্য হয়েছিলেন কুশাসনের আতঙ্কে, সামাজিক ভীতিতে, সন্ত্রাস ও অপরাধের তীব্রতায়। কেস স্ট্যাডিতে দেখা গেছে, কারো স্বামী বা পিতা বা সন্তানকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর আর ফিরিয়ে দেয়া হয় নি। কাউকে কাউকে বিদেশী চর বলে সন্দেহের চোখে দেখা হতো। অনেককেই রাষ্ট্র বা সরকারবিরোধী আখ্যা দিয়ে প্রতিনিয়ত ভীতি দেখানোয় লোকগুলো আতঙ্কে নীল হয়ে গিয়েছিল। এক সময় তারা পাগল বা মানসিক সমস্যাগ্রস্ত, উন্মাদ বা হিস্টিরিয়াগ্রস্ত হয়ে যায়। অতএব সমাজের মানুষের স্বাস্থ্য সব সময়ই যে রোগ-জীবাণুর কারণে নষ্ট হয়, তা নয়। সমাজ ও রাষ্ট্রে বিরাজমান পরিবেশের কারণেও মানুষের মানসিক চাপ ও অসুখ সৃষ্টি হয়। বিশেষত প্রতিনিয়ত অপরাধ ও রক্তপাত দেখতে দেখতে মানুষের মনের কোণে ভীতির বীজ রোপিত হয়। অপরাধ ও অন্যায় প্রতিরোধের ব্যবস্থা না থাকলে মানুষের ভীতি ও আতঙ্ক বাড়তে বাড়তে মহীরুহে পরিণত হয়। এই সুপ্ত মানসিক ভীতি ও আতঙ্ক বিরাট মনোরোগের কারণ। এসবই সামাজিক মনস্তত্ত্ব বা সোস্যাল সাইকোলজি-এর তাত্ত্বিক কথা। উন্নত-গণতান্ত্রিক বিশ্ব এসব নিয়ে ভাবছে। তাদের নাগরিকদের নির্বিঘ্নে রাখার যাবতীয় রাষ্ট্রীয়-সামাজিক ব্যবস্থা নির্মাণ করছে। সেখানে সোস্যাল ও পারসোনাল সিকিউরিটির বিষয়টি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার মতোই গুরুত্ব পাচ্ছে। আর এখানে নিরাপত্তার সংজ্ঞাই যেন ভিন্ন। পথে-ঘাটে-বাড়িতে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও শান্তি  আছে কিনা, সেটাই দেখার প্রয়োজন বোধ করা হচ্ছে না। কে কাকে মারছে, ধরে নিয়ে যাচ্ছে, ধমকাচ্ছে, চোখ রাঙ্গাচ্ছে, তা নিয়ে কারোরই মাথাব্যথা নেই। শক্তি প্রদর্শন বা বলপ্রয়োগ আজ আর লুকিয়েও করতে হচ্ছে না। প্রকাশ্যেই দম্ভভরে নিজের অপকর্ম ও ক্ষমতা জাহির করাও সম্ভব হচ্ছে। যারা নিয়মিত পত্র-পত্রিকা পড়েন, তারা প্রতিদিনের খবরেই এমন শক্তিমত্তার উদাহরণ দেখছেন। এসবের প্রতিক্রিয়ায় আরো দেখছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার তীব্র অভাব। এর ফলে চারদিকে ভয়, রহস্য ও উদাসীনতার স্তব্ধ আতঙ্ক। এ থেকে সমাজ যেমন রক্ষা পাচ্ছে না, ক্ষতির কবল থেকে বাঁচতে পারছে না মানুষ এবং মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা। গভীরভাবে লক্ষ্য করলে টের পাওয়া যায়, কত নিম্নস্তরের সামাজিক ব্যবস্থা ও ভীতিপূর্ণ মানসিক অবস্থায় বসবাস করছে সাধারণ মানুষ। দুঃখ এটাই যে, কর্তা-পর্যায়ের যাদের এসব বিষয় লক্ষ্য করা ও প্রতিষেধকের ব্যবস্থা নেয়ার কথা, তারাই শুধু চরম উদাসীনতা ও গাফিলতির জন্য এসব বিরাট ও সুদূরপ্রসারী মানবিক ক্ষতি দেখতে পাচ্ছেন না। তারা শুধু দেখছেন নিজেদের। নিজেদের কৃতিত্ব, উন্নতি ও আত্মপ্রশংসা। সমষ্টির পতনে ব্যক্তি বা দলের উন্নতি যে তুচ্ছ, এ সত্যটিও উপলব্ধি করতে পারছেন না, এটাই চরম বেদনার দিক।