Tuesday, September 16, 2014
বন্যাদুর্গত জনপদ- ‘হামাক কিছু দিয়া যাও’ by তুহিন ওয়াদুদ
কোনো চরে কেউ বলছেন, ‘হামার বাড়িত দেখি আইসো, হামার কিচ্ছু নাই।’ এক প্রতিবন্ধীকে দেখিয়ে এক বৃদ্ধ নারী বলছেন, ‘নেংলিটাক কিছু দিলেন না।’ ছোট ছোট শিশু গালে হাত দিয়ে বৃষ্টিতে একাকার হয়ে বসে ছিল। নৌকাটি যখন তাদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করছে, তখনো ওই শিশুগুলো তাদের গাল থেকে হাত নামায়নি। তাদের ত্রাণ না পাওয়ার বেদনা নৌকার যাত্রীদেরও স্পর্শ করে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার এই মানুষগুলোর জন্য রাষ্ট্রের কি কোনো দায়িত্ব নেই? তাহলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাজ কী? এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর তো এসব এলাকায় এখন দিনরাত থাকার কথা। কিন্তু থাকেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যশোর অঞ্চলের এক মহানুভব ব্যক্তি তাঁর এক বন্ধু কারমাইকেল কলেজের শিক্ষক আবদুর রাজ্জাকের মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছেন বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ দেওয়ার জন্য। ত্রাণ দেওয়ার জন্য বেছে নেওয়া হয় কুড়িগ্রামের উলিপুর-চিলমারী-রাজীবপুর-রৌমারী উপজেলার প্রত্যন্ত বন্যাদুর্গত এলাকা। রৌমারী ও রাজীবপুরে দেওয়া হয় প্রায় এক হাজার ৮০০ পরিবারকে।
৮ সেপ্টেম্বর ব্রহ্মপুত্রতীরবর্তী কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর ও চিলমারীর বন্যাদুর্গত ছয়টি চরে কারমাইকেল কলেজের ওই শিক্ষকের সঙ্গে আমিও গিয়েছিলাম ত্রাণ বিতরণে। অষ্টমীর চর, মাইজদির চর, কড়াই বইশশাল, চিলমারীর চর, ফেইচকার চর, চরশাখাতি ও ডাটিয়াপাড়ায় মোট ৮২৩ জনকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ত্রাণ গ্রহণ করা এই ৮২৩ জনের মধ্যে ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময়ে জাল পরা বাসন্তীও আছেন। চার দশকে তাঁর ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি। বাসন্তীর পরনে জাল নেই ঠিকই, কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য ত্রাণটুকু প্রয়োজন।
অষ্টমীর চরে অনেকেই জানালেন, সেখানে চারটি গ্রামের মধ্যে তিনটি গ্রাম বিলীন হয়েছে। একবার শুধু চার-পাঁচ কেজি চাল পেয়েছেন। চাষাবাদের কোনো জমি না থাকায় তাঁরা এখন কাজহীন। কোনো উপার্জন নেই, জমানো টাকাও নেই। কড়াই বইশশালের এক বৃদ্ধ ত্রাণের বস্তা মাথায় নিয়ে যাওয়ার সময় বলছিলেন, ‘আল্লাহ আপনাদের ভালো করবে বাবা।’ চরশাখাতির একজন কৃষক বলছিলেন, ‘এই সাহায্য দিয়ে কিছু হবার নয়। এ বছর অভাব হইবে খুব। যে সময় ধান ডুবি গেল, আর ধান নাগার সময় নাই। এ বছর মঙ্গা অনেক দিন থাকপে।’ চিলমারীর ঘাটে বৃদ্ধ চাঁদ মিয়া বলছিলেন, তাঁর বাড়ি ভেঙেছে ১৪ বার।
১০ সেপ্টেম্বরের প্রথম আলো সূত্রে জানতে পারলাম, বন্যাদুর্গতদের সঠিক কোনো তথ্য নেই সরকারের কাছে। সেই তথ্যে গরমিল থাকলেও এ বছর যে চার-সাড়ে চার লাখ একর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে, ৩০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটা তো ঠিক। সরকার নদীভাঙা আর বানভাসি মানুষের জন্য এখনো প্রায় কিছুই করেনি। সরকার সারা বছর ত্রাণ দিতেই থাকুক, এটা আমরা চাই না। একসময় কুড়িগ্রামের মানুষ কাজে যেত না, ত্রাণের অপেক্ষায় থাকত। এরপর অনেক বিলবোর্ডে লেখা হয়েছিল, ‘রিলিফ চাই না, কাজ চাই’।
সত্যি সত্যি ত্রাণের পরিবর্তে অসহায় মানুষগুলোর কাজ প্রয়োজন। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরকার মানুষের পাশে আপৎকালীন সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়াবে না? তিনবার নদীভাঙনের শিকার কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ তোফায়েল হোসেন বললেন, ‘বানভাসি মানুষদের আশা-আকাঙ্ক্ষা-স্বপ্ন কিছুই নেই, তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত।’ চিলমারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস বললেন, ‘পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা নেই। সরকারিভাবে ইউনিয়নভিত্তিক যে এক-দুই টন চাল দেয়, তা ১০-১২ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ২০০ জনকেও দেওয়া যায় না।’
প্রতিবছর বন্যা হবে, লাখ লাখ একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হবে, মানচিত্র থেকে বিলীন হবে গ্রামের পর গ্রাম, ক্ষতিগ্রস্ত হবে লাখ লাখ মানুষ। আর সরকার শুধু এই পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করবে, এটা কাজের কথা নয়। এ বছর মোট ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন কী করে এই ক্ষতি বন্ধ করা যায়। আমাদের নদীশাসনের কোনো ব্যবস্থা নেই, কিন্তু নদী শোষণের ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশে শত শত বিষয়ে নীতি (পলিসি) থাকলেও আমাদের কোনো নদীনীতি নেই।
নেতা–সাংসদ-মন্ত্রীদের সম্পদ বাড়বে কয়েক শ গুণ, জনগণের করের পরিধি বাড়বে, রাষ্ট্রের বিলাস-ব্যসন বাড়বে, সেই সঙ্গে বাড়তে থাকবে বানভাসি মানুষের সংখ্যা, এটা হতে দেওয়া যায় না। সরকারি দল, বিরোধী দল কারও মধ্যেই বানভাসি-নদীভাঙা গৃহহীন মানুষের জন্য বেদনা বোধ নেই।
এই মুহূর্তে সরকারিভাবে কয়েকটি কাজ করা ভীষণ জরুরি। নদী ভেঙে যাঁরা গৃহহীন হয়েছেন, তাঁদের পুনর্বাসন করা। যাঁদের আবাদি ফসল নষ্ট হয়েছে, তাঁদের পরবর্তী চাষাবাদের জন্য স্বল্প সুদে অথবা বিনা সুদে ঋণ দেওয়া, যাতে তাঁরা আগাম রবিশস্য উৎপাদন করতে পারেন। যাঁরা ফসলের মাঠে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, ফসল না থাকার কারণে বেকার হয়ে পড়েছেন, তাঁদের জন্য ত্রাণের পাশাপাশি ভেঙে যাওয়া সড়ক ঠিক করার জন্য কর্মসূচি চালু করা। পানিবাহিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
মাইজদির চরের এক বৃদ্ধ নারী বলছিলেন, ‘হামার প্রধানমন্ত্রীক কনতো, হামাক যেন দেখি যায়।’ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি আসতে পারবেন তাঁদের দেখতে?
তুহিন ওয়াদুদ: শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর
wadudtuhin@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চীন মেরিটাইম সিল্ক রোড পুনরুদ্ধার করতে চায়
![]() |
| চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভবিষ্যৎ ভাবতে হবে খুব সাবধানে: রানি এলিজাবেথ
![]() |
| রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আইএসবিরোধী জোটে ৪০ দেশ, থাকছে না ইরান
ইরান জোটে নেই: প্যারিসে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল ইউরোপের প্রধান দেশগুলো, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য, ইরাকের প্রতিবেশী দেশগুলো এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। কিন্তু ইরাকের প্রতিবেশী ইরানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে দেশটি বলেছে, আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র অনেক আগেই প্রস্তাব দিয়েছিল। তা ফিরিয়ে দেয় তেহরান। গতকাল সোমবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেন নিজের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই ইরাকে তার দূতাবাসের মাধ্যমে জানতে চেয়েছিল, আমরা সহায়তা করতে পারি কি না। আমি “না” বলেছি। কারণ, তাদের নোংরা হাত রয়েছে।’
ফরাসি নজরদারি শুরু: গতকাল থেকে ফরাসি আকাশযানের ইরাকের ওপরে নজরদারি শুরু করার কথা জানান ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী লঁরা ফ্যাবিয়াস। পরে ফরাসি একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, দুটি ফরাসি যুদ্ধবিমান ও একটি জ্বালানি ভরার বিমান ইরাকের উদ্দেশে উড্ডয়ন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ: তরুণদের জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসে যোগ দেওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা থামাতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে মার্কিন সরকার। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এর আওতায় দেশের তরুণসমাজকে মৌলবাদে উদ্বুদ্ধ করা ঠেকাতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করা হবে।
কাঠগড়ায় প্রথম আইএস জিহাদি: জার্মানিতে গতকাল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচার-প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্রেশনিক বারিশা (২০) নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সিরিয়ায় আইএসের পক্ষে লড়াই করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
টলিউডের ছবিতে মাহিয়া মাহি

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যেভাবে শিক্ষকের হাতে নির্যাতনের শিকার ঢাবি ছাত্রী
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক সাইফুল ইসলাম দাবি করেন তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তদন্তের স্বার্থে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জানার মধ্যেই রয়ে গেল বাংলাদেশ

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাঠগড়ায় মওদুদ-খন্দকার

একটির সমালোচনা চলমান থাকতেই আরেকটির বিতর্ক শুরু। জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপন, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলাকালে এই বই দুটি পাঠকের হাতে পৌঁছে। একটি লিখেছেন কমান্ডার্স ফোরামের সভাপতি এ কে খন্দকার। অপরটির লেখক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। কাকতালীয়ভাবে এই দুই নেতার মধ্যে অদ্ভুত মিল পাওয়া যায়। দু’জনেই দেশের দুই প্রধান দলের সিনিয়র নেতা, দুজনের দু’দলের সাবেক মন্ত্রী, দুজনই মুক্তিযোদ্ধা। একজন লিখেছেন ৪০ বছর আগের ঘটনা নিয়ে। আরেক জন লিখেছেন নিকট অতীত ওয়ান ইলেভেনের প্রেক্ষাপট নিয়ে। স্মৃতিচারণমূলক বই দু’টি নিয়ে লেখকদ্বয় নিজ দল আদর্শ এবং মতের লোকের কাছেই হয়েছেন সমালোচিত। দলীয় লোকের দেয়া মামলায় ইতিমধ্যে আসামি হয়েছেন স্বাধীনতা যুদ্ধের সেকেণ্ড-ইন কমান্ড এ কে খন্দকার। জাতীয় সংসদে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। অপরদিকে তীর্যক কটাক্ষ এবং নিন্দার মুখে পড়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বই প্রকাশ যে কোন নাগরিকের মৌলিক এবং মত প্রকাশের অধিকার। এটা যাদের পছন্দ হবে না তারা সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু কারও কণ্ঠরোধ করতে পারে না। তিনি বলেন, প্রকাশিত বইয়ের অনেক বিষয়ে আমারও দ্বিমত আছে। তবে কারও মত প্রকাশের অধিকারে বাধা দান কিংবা কণ্ঠরোধে আমি বিশ্বাসী নই। উল্লেখ্য, ২রা সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির একটি মিলনায়তনে প্রকাশনা উৎসবের মাধ্যমে পাঠকের হাতে আসে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক বই ‘১৯৭১ ভেতরে বাইরে’। স্বাধীনতার ঘোষণা, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়কার নানা বিষয় স্থান পায় এ কে খন্দকারের বইয়ে। যার কিছু অংশ প্রকাশ হয়েছে গণমাধ্যমেও। এর পর ৪ঠা সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের নেতারা এ বইয়ের তীব্র সমালোচনা করে বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মুক্তিযুদ্ধের এ উপ-অধিনায়কের শাস্তিও দাবি করেন। সংসদে তুমুল আলোচনার পর দিন আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে বই নিয়ে দেখা গেছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। একই সঙ্গে বিএনপির নেতারাও এ নিয়ে কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগ নেতারা এ কে খন্দকারের বইয়ের তীব্র সমালোচনা করলেও দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বইটি নিষিদ্ধ না করে এ কে খন্দকারের বক্তব্যের তথ্যভিত্তিক জবাব দেয়ার পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ কে খন্দকার সত্য প্রকাশ করায় আওয়ামী লীগের গা জ্বালা শুরু হয়েছে। ওদিকে এ কে খন্দকারের বইয়ের প্রতিক্রিয়া পর্ব শেষ না হতেই দৃশ্যপটে আসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। প্রায় একই রকম সমালোচনার মুখে পড়েছেন বর্ষীয়ান এ নেতাও। শনিবার সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন মিলনায়তনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ লিখিত ‘বাংলাদেশ: ইমারজেন্সি অ্যান্ড দ্য আফটারম্যাথ’ শীর্ষক বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রকাশিত বইয়ে জঙ্গিবাদের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক, ছেলেদের প্রতি খালেদা জিয়ার প্রীতি এবং চারদলীয় জোট সরকারের দুর্নীতির প্রসঙ্গ আসায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মওদুদের বই নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া বিএনপিতে
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের লেখা ‘বাংলাদেশ: ইমার্জেন্সি অ্যান্ড দ্য আফটার ম্যাথ: ২০০৭-২০০৮’ বইটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে বিএনপিতে। বইটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সিনিয়র এ সদস্য। তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি তার প্রকাশ্য সমালোচনা করছেন কেন্দ্রীয় নেতারাও। অভিযোগ ওঠেছে, ‘সরকারের সন্তুষ্টি অর্জন এবং বাড়ি রক্ষার জন্য’ তিনি কিছু মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য সংযুক্ত করেছেন বইটিতে। গতকাল আলাদা দুইটি অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সমালোচনা করেন দলটির কেন্দ্রীয় দুই নেতা। তবে সে অভিযোগের জবাব দিয়েছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের লেখা বইয়ের কড়া সমালোচনা করেছেন দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। সকালে নয়াপল্টন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, উনি বইতে লিখেছেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও হাওয়া ভবনের দুর্নীতির কারণে নাকি জোট সরকারের বিদায় হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে আমি এ বিষয়ে কিছু বলবো না। তবে ব্যক্তিগতভাবে বলবো- ওই সময়তো তিনি একজন মন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তাহলে ওই সময়ে তিনি কেন পদত্যাগ করলেন না? রিজভী বলেন, নিজের ছেলেদের ছাড়ানোর ব্যাপারে যদি খালেদা জিয়া ব্যস্ত থাকতেন তাহলে তিনি আগেই ছেলেদের মুক্ত করে বিদেশে পাঠিয়ে দিতেন। কিন্তু খালেদা জিয়া ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সঙ্গে আপস করেননি। দেশের জনগণের কথা ভেবে তিনি দেশ ত্যাগ করেননি। তার ওপর অনেক চাপ ছিল বলেই তারেক রহমানের ওপর বন্দি অবস্থায় নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি এখনও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছেন। রিজভী বলেন, মওদুদ আহমদের মতো একজন জ্যেষ্ঠ নেতা কাদের খুশি করার জন্য এই বই লিখেছেন তা আমার জানা নেই। মনে হয়, নিজের বাড়ি রক্ষায় ক্ষমতাসীনদের সন্তুষ্টি করতেই মওদুদ আহমদ তার বইয়ে এসব কথা লিখেছেন। তিনি অনেক দিন ধরে রাজনীতি করেন, তবে যখনই নিজের স্বার্থ আসে তখনই রং বদলান। যারা ডিগবাজ, দলছুট, আদর্শছুট এবং নিজের প্রয়োজনে দল বদলান জনগণ তাদের চেনে। ভারতীয় এক প্রখ্যাত সাংবাদিকের এসব নেতাকে ফাস্টফুডের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। মওদুদ আহমদের প্রতি ইঙ্গিত করে রিজভী আহমেদ বলেন, কাক সাত সমুদ্র তের নদী পেরিয়ে গেলেও কাকই থাকে। কোন আদর্শহীন ও দলছুট নেতার বইয়ে বিএনপির কিছুই আসে যায় না। দেশের মানুষ তার কথায় বিভ্রান্ত হবে না। নিজেদের স্বার্থে সময়ের প্রয়োজনে যারা রঙ বদলায় মানুষের কাছে তারা ধরা পড়ে যান। ওদিকে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নাম উল্লেখ না করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেছেন, ‘গতকাল কে জানি বলেছেন, আমাদের ড. মাহবুব উল্লাহ স্বাধীনতার ঘোষক। তিনি নোয়াখালীর লোক। এটা কি? এটা কই পাইলেন তিনি?’ জাতীয় প্রেস ক্লাবে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান মুক্তি পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মওদুদ আহমদের লেখা ‘বাংলাদেশ: ইমার্জেন্সি অ্যান্ড দ্য আফটার ম্যাথ’ বইয়ের সমালোচনা করে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যাননি। জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক।
রিজভী অনুতপ্ত হবে: মওদুদ
সদ্য প্রকাশিত বই নিয়ে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, আমি খুব দুঃখ পেলাম। কারণ রিজভীকে আমি আমার ছোট ভাইয়ের মতো মনে করি। তার অনেক লেখাপড়া আছে। সে যে মন্তব্য করেছে আমি এটা তার কাছ থেকে আশা করিনি। পুরো বই পড়লে সে অনুতপ্ত হবে। নিজের বাড়ি নিয়ে সমস্যা তৈরির অনেক আগেই এ বই লেখা হয়েছে বলেও দাবি করেন সাবেক এই আইনমন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্ট এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। ওয়ান ইলেভেনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সদ্য প্রকাশিত গ্রন্থ ‘বাংলাদেশ: ইমারজেন্সি অ্যান্ড দ্য আফটারম্যাথ: ২০০৭-২০০৮’ নিয়ে এরইমধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সোমবারই এক সংবাদ সম্মেলনে এ বইয়ের জন্য মওদুদ আহমদের তীব্র সমালোচনা করেন। বাড়ি রক্ষা করতে সরকারকে সন্তুষ্ট করার জন্য মওদুদ আহমদ এ বই লিখেছেন কিনা সে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের আরও বলেন, বই লেখা এক জিনিস। এটা একটা কঠিন কাজ। বিশেষ করে সমসাময়িক রাজনীতির ওপর কোন বই লেখা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তিনি বলেন, আমি ভেবেছিলাম আমার দল বা দলের নেতা-কর্মীরা এপ্রিসিয়েট করবে এবং আমিতো ভেবেছিলাম রিজভী আমাকে অভিনন্দন জানাবে, ধন্যবাদ জানাবে এই ধরনের একটি বই লেখার জন্য। কারণ আমি যেটা ভয় করেছিলাম, বইটা বের হওয়ার পরে সরকার আমার উপর অসন্তুষ্ট হবে। হয়তো আমাকে আবার জেলখানায় যেতে হতে পারে। বইটি যদি পড়া হয় তাহলে দেখা যাবে ২০০৭-২০০৮ সালে মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকার কিভাবে রাজনীতিবিদদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করেছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে শেষ পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য বিএনপিকে দুর্বল করার জন্য ষড়যন্ত্র করেছে। মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সহায়তায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তারই বিবরণ বইতে দেয়া আছে। এখন দেখছি, ফল উল্টো। আমার দল সম্পর্কে বা আমার দলের যে ব্যর্থতা বা আমরা যে পরাজিত হলাম এর অনেকগুলো কারণ আমার বইতে দেয়া আছে। পত্রিকাগুলো তাদের পলিসি অনুযায়ী সংবাদ প্রকাশ করেছে। নির্বাচন যে হয়েছে ২০০৮ সালে সেখানে বলা আছে এটা কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। কিভাবে কারচুপি হয়েছে তা বলা আছে। এগুলোর বৃত্তান্ত দেয়া আছে। এটাই মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এ বইতে আমার যে অভিব্যক্তি দল সম্পর্কে সেটা আমার ব্যক্তিগত। এটার সঙ্গে দলের কোন সম্পর্ক নেই। যখন আমি বই লিখি তখন দলীয় ব্যক্তি হিসেবে বই লিখি না। আমি একজন রাষ্ট্র বিজ্ঞানী হিসেবে বই লিখি। সব বইতে বস্তুনিষ্ঠ ভাবে দেশের ইতিহাস তুলে ধরার চেষ্টা করি। আমাদের ব্যর্থতার যে সব কারণগুলো চিহ্নিত হয়েছে সেগুলো যদি অনুসরণ করি এবং চেষ্টা করি সংশোধন করতে তাহলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আবার ক্ষমতায় আসবে। এটাই মূল বার্তা। তিনি বলেন, আমার বাড়ির ব্যাপারে বলবো। বইটা লিখেছি অনেক আগে। যেহেতু আমি রাজনীতি করি, আমি বিরোধী দলের নেতা এবং বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য আজকে আমাকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করার জন্য সরকার একটা প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ প্রক্রিয়া শুরু করেছে ২০১২ সালে। আর বইটা লেখা হয়েছে ৬/৭ বছর আগে। সুতরাং এটার সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। বাড়ি বা সরকারকে সন্তুষ্ট করার প্রশ্নই উঠে না। আমার বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা আছে। বাড়ির মামলা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। বইয়ের কোন মতামতের সঙ্গে সরকারের কোন সম্পর্ক নেই।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভয়, রহস্য, উদাসীনতাঘেরা স্তব্ধতা by ড. মাহফুজ পারভেজ
সামাজিক ও নাগরিক জীবন যদি ভয়, রহস্য ও উদাসীনতায় আক্রান্ত হয়, তাহলে গণতন্ত্র বা সুশাসনের দেখা পাওয়া যায় না। সাধারণ-স্বাভাবিক জীবন পর্যন্ত ব্যাহত হয়। ভয়ের বা রহস্যের ফলে নাগরিক সমাজে ও ব্যক্তি মানুষের মনে যে ট্রমা বা আঘাত বা ভীতির সঞ্চার হয়, সেটা জাতীয় উন্নয়নকেও স্থবির করে দেয়। মানুষ আতঙ্কে নীল হলে তার মেধা, মনন, যোগ্যতার পূর্ণ বিকাশ করতে পারে না। প্রায় প্রতিদিনই ঘরে-বাইরে খুন-হত্যা, গুমের পর মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতির দিকটিই সবচেয়ে বেশি হয়। শিশুদের বিকাশ, নারী ও পুরুষের সুস্থ-স্বাভাবিক মানসিক জীবন তখন হয়ে যায় সুদূরপরাহত। ইতিহাস থেকে আমরা দেখতে পাই, সোভিয়েত ইউনিয়নের স্ট্যালিন-শাসনের লৌহ যবনিকার অন্তরালে হাজার হাজার মানুষ ভয়ে-আতঙ্কে মানসিক রোগাগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিলেন। সুদূর সাইবেরিয়ায় তখন অ্যাসাইলাম বা পাগলা গারদ খুলতে হয়েছিল সরকারকে। ট্রেন-ভর্তি মানসিক রোগী বা পাগলরা সাইবেরিয়ার অ্যাসাইলামে যাচ্ছে, সেটা ছিল সে আমলের এক অতি চেনা চিত্র। অথচ শরীরবৃত্তীয়ভাবে এসব লোক পাগলামির বীজাণু বা পাগলের বংশচক্র বহন করেন নি। তারা পাগল বা মানসিক ভারসাম্য হয়েছিলেন কুশাসনের আতঙ্কে, সামাজিক ভীতিতে, সন্ত্রাস ও অপরাধের তীব্রতায়। কেস স্ট্যাডিতে দেখা গেছে, কারো স্বামী বা পিতা বা সন্তানকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর আর ফিরিয়ে দেয়া হয় নি। কাউকে কাউকে বিদেশী চর বলে সন্দেহের চোখে দেখা হতো। অনেককেই রাষ্ট্র বা সরকারবিরোধী আখ্যা দিয়ে প্রতিনিয়ত ভীতি দেখানোয় লোকগুলো আতঙ্কে নীল হয়ে গিয়েছিল। এক সময় তারা পাগল বা মানসিক সমস্যাগ্রস্ত, উন্মাদ বা হিস্টিরিয়াগ্রস্ত হয়ে যায়। অতএব সমাজের মানুষের স্বাস্থ্য সব সময়ই যে রোগ-জীবাণুর কারণে নষ্ট হয়, তা নয়। সমাজ ও রাষ্ট্রে বিরাজমান পরিবেশের কারণেও মানুষের মানসিক চাপ ও অসুখ সৃষ্টি হয়। বিশেষত প্রতিনিয়ত অপরাধ ও রক্তপাত দেখতে দেখতে মানুষের মনের কোণে ভীতির বীজ রোপিত হয়। অপরাধ ও অন্যায় প্রতিরোধের ব্যবস্থা না থাকলে মানুষের ভীতি ও আতঙ্ক বাড়তে বাড়তে মহীরুহে পরিণত হয়। এই সুপ্ত মানসিক ভীতি ও আতঙ্ক বিরাট মনোরোগের কারণ। এসবই সামাজিক মনস্তত্ত্ব বা সোস্যাল সাইকোলজি-এর তাত্ত্বিক কথা। উন্নত-গণতান্ত্রিক বিশ্ব এসব নিয়ে ভাবছে। তাদের নাগরিকদের নির্বিঘ্নে রাখার যাবতীয় রাষ্ট্রীয়-সামাজিক ব্যবস্থা নির্মাণ করছে। সেখানে সোস্যাল ও পারসোনাল সিকিউরিটির বিষয়টি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার মতোই গুরুত্ব পাচ্ছে। আর এখানে নিরাপত্তার সংজ্ঞাই যেন ভিন্ন। পথে-ঘাটে-বাড়িতে সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও শান্তি আছে কিনা, সেটাই দেখার প্রয়োজন বোধ করা হচ্ছে না। কে কাকে মারছে, ধরে নিয়ে যাচ্ছে, ধমকাচ্ছে, চোখ রাঙ্গাচ্ছে, তা নিয়ে কারোরই মাথাব্যথা নেই। শক্তি প্রদর্শন বা বলপ্রয়োগ আজ আর লুকিয়েও করতে হচ্ছে না। প্রকাশ্যেই দম্ভভরে নিজের অপকর্ম ও ক্ষমতা জাহির করাও সম্ভব হচ্ছে। যারা নিয়মিত পত্র-পত্রিকা পড়েন, তারা প্রতিদিনের খবরেই এমন শক্তিমত্তার উদাহরণ দেখছেন। এসবের প্রতিক্রিয়ায় আরো দেখছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার তীব্র অভাব। এর ফলে চারদিকে ভয়, রহস্য ও উদাসীনতার স্তব্ধ আতঙ্ক। এ থেকে সমাজ যেমন রক্ষা পাচ্ছে না, ক্ষতির কবল থেকে বাঁচতে পারছে না মানুষ এবং মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা। গভীরভাবে লক্ষ্য করলে টের পাওয়া যায়, কত নিম্নস্তরের সামাজিক ব্যবস্থা ও ভীতিপূর্ণ মানসিক অবস্থায় বসবাস করছে সাধারণ মানুষ। দুঃখ এটাই যে, কর্তা-পর্যায়ের যাদের এসব বিষয় লক্ষ্য করা ও প্রতিষেধকের ব্যবস্থা নেয়ার কথা, তারাই শুধু চরম উদাসীনতা ও গাফিলতির জন্য এসব বিরাট ও সুদূরপ্রসারী মানবিক ক্ষতি দেখতে পাচ্ছেন না। তারা শুধু দেখছেন নিজেদের। নিজেদের কৃতিত্ব, উন্নতি ও আত্মপ্রশংসা। সমষ্টির পতনে ব্যক্তি বা দলের উন্নতি যে তুচ্ছ, এ সত্যটিও উপলব্ধি করতে পারছেন না, এটাই চরম বেদনার দিক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1432)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
-
▼
2014
(9799)
-
▼
September
(447)
-
▼
Sep 16
(9)
- বন্যাদুর্গত জনপদ- ‘হামাক কিছু দিয়া যাও’ by তুহিন ও...
- চীন মেরিটাইম সিল্ক রোড পুনরুদ্ধার করতে চায়
- ভবিষ্যৎ ভাবতে হবে খুব সাবধানে: রানি এলিজাবেথ
- আইএসবিরোধী জোটে ৪০ দেশ, থাকছে না ইরান
- টলিউডের ছবিতে মাহিয়া মাহি
- যেভাবে শিক্ষকের হাতে নির্যাতনের শিকার ঢাবি ছাত্রী
- জানার মধ্যেই রয়ে গেল বাংলাদেশ
- কাঠগড়ায় মওদুদ-খন্দকার
- ভয়, রহস্য, উদাসীনতাঘেরা স্তব্ধতা by ড. মাহফুজ পারভেজ
-
▼
Sep 16
(9)
-
▼
September
(447)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

