Wednesday, January 9, 2019

জনতার আদালত থেকে পালিয়ে গেছেন ৫৬ ইঞ্চি ছাতিওয়ালা ‘চৌকিদার’: রাহুল

রাজস্থানে রাহুল গান্ধী
ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করে বলেছেন, জনতার আদালত থেকে পালিয়ে গেছেন ৫৬ ইঞ্চি ছাতিওয়ালা ‘চৌকিদার’। তিনি আজ (বুধবার) রাজস্থানে কৃষকদের এক সমাবেশে ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন।
রাহুল বলেন, ‘চৌকিদার লোকসভার মধ্যে এক পাও রাখতে পারেননি। জনতার আদালত থেকে ৫৬ ইঞ্চি ছাতিওয়ালা (বুকের ছাতি) চৌকিদার পালিয়ে গেছেন এবং এক নারীকে বলেন, সীতারামনজী (প্রতিরক্ষামন্ত্রী) আপনি আমাকে রক্ষা করুন। আমি নিজেকে রক্ষা করতে পারব না। আপনি আমাকে রক্ষা করুন।’
রাহুল গান্ধী বলেন, ‘৫৬ ইঞ্চি ছাতিওয়ালা প্রধানমন্ত্রী রাফায়েল ইস্যুতে লোকসভায় এক মিনিটের জন্যও কথা বলতে পারেননি। প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে আড়াইঘণ্টা ভাষণ দিতে হয়েছিল।’
রাফায়েল যুদ্ধবিমান ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগে লোকসভায় তীব্র বিতর্কের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত না থাকায় এবং এ সংক্রান্ত জবাব প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দেয়ায় রাহুল আজ কটাক্ষ করে ওই মন্তব্য করেন।
রাহুল বলেন, ‘আমরা কৃষকদের ঋণ মওকুফ করে ন্যায়বিচার করেছি। আমরা দেখিয়ে দিয়েছি যে কাজ নরেন্দ্র মোদি বিগত সাড়ে চার বছরে করতে পারেননি, তা আমরা দু’দিনের মধ্যে করেছি। কিন্তু কেবল কৃষকদের ঋণ মওকুফে কাজ হবে না। নতুন সবুজ বিপ্লব প্রয়োজন। আমি কংগ্রেসের লোকেদের বলব যে, একটি নতুন সবুজ বিপ্লব শুরু করুন।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের প্রতিটি ঘরের ডাইনিং টেবিলে ভারতীয় কৃষকদের দখল থাকা উচিত। বিশ্বের প্রত্যেক প্রান্তে রাজস্থানের কৃষকদের সবজি, ফল, খাদ্যশস্য পৌঁছাক। এটা শুধুমাত্র কাগজে থেকে বা ভাষণ দিয়ে নয় বরং সত্যিই এটা আমরা করে দেখাবো।’ রাজস্থানে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট স্থাপন করা হবে বলেও রাহুল গান্ধী জানান।

ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক: সৌদির পথ অনুসরণ করবে না কুয়েত

মানসুর আইয়াদ আল-ওতাইবি
পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসি’র সদস্য হিসেবে অনেক নীতিতে একমত হলেও ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের নীতি অনুসরণ করবে না কুয়েত। 
আমেরিকা-ভিত্তিক আল-মনিটরের ওয়েবসাইটে এক মন্তব্য কলামে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইহুদিবাদী ইসরাইল সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কুয়েতের সরকারি কর্মকর্তারা পিজিসিসি’র অন্য সদস্য দেশের মতো পথ অনুসরণ করছেন না। এ মন্তব্য কলামে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কুয়েত গত ১৯ ডিসেম্বর লেবাননের প্রতি সমর্থন দিয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে কুয়েতের রাষ্ট্রদূত মানসুর আইয়াদ আল-ওতাইবি বলেছেন, হিজবুল্লাহর খোড়া সুড়ঙ্গ পথ বন্ধের নামে ইসরাইল যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে তাতে লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বহু বছর ধরে ইসরাইল লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে আসছে। ইসরাইলের এই পদক্ষেপের নিন্দা করে কুয়েতি রাষ্ট্রদূত জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইলের মোকাবেলায় হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ বৈধ; এটা সন্ত্রাসবাদ নয়। শুধু তাই নয়, গত বছর ফিলিস্তিনে একটি দূতাবাস খোলার চেষ্টা করেছিল কুয়েত যাতে অধিকৃত ভূখণ্ডের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা যায়।
সম্প্রতি কুয়েতের ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ আহমাদ ইউসেফ বলেছেন, ২০২২ সালে কাতারে যে ফুটবল বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে তাতে কুয়েত সহযোগী আয়োজক দেশ হবে না কারণ ফুটবলের নামে কুয়েত ইসরাইলের লোকজনকে ভিসা দেবে না। এছাড়া, গত কয়েক মাসে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ বহু কর্মকর্তা ও মন্ত্রী বেশ কয়েকটি আরব দেশ সফর করলেও কুয়েতে তাদেরকে স্বাগত জানানো হয় নি।

দুই শিশু হত্যা সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ

রাজধানীর কোনাপাড়ায় শিশু ফারিয়া আক্তার দোলা (৪) ও নুসরাত (৪)কে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত আসামি গা-ঢাকা দিয়ে থাকলেও যেকোনো সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, আমরা ধারণা করছি ওই দুই শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তদন্ত চলছে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো বলে আশা করছি। এদিকে গতকাল দুপুরে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড) ফারিয়া ও নুসরাতের ময়নাতদন্ত হয়েছে। পুলিশ সুরতহাল রিপোর্টে নুসরাতের কপালে ও বাম চোখের উপরে এবং নাকের উপরে কালো দাগের কথা উল্লেখ করেছে।
এ ছাড়া ফারিয়ার গলার ডান পাশের সামনের দিকে কালো দাগের কথা উল্লেখ করেছে। এর আগে সোমবার রাতে ডেমরার কোনাপাড়ার শাহজালাল রোডের নাসিমা ভিলার নিচতলার একটি কক্ষ থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মিয়ানমারের দাবির কড়া প্রতিবাদ ঢাকার- অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যায় বাংলাদেশকে জড়াবেন না

বাংলাদেশে আরাকান আর্মির দুটি ও আরসা’র (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি) তিনটি ঘাঁটির অস্তিত্ব রয়েছে মর্মে মিয়ানমারের দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘প্ররোচনামূলক’ উল্লেখ করে পাল্টা বিবৃতিতে এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গত ৭ই জানুয়ারি মিয়ানমার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্রের মন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি গণমাধ্যম প্রতিবেদন করেছে, যা নিয়ে বাংলাদেশ পুরোপুরি হতাশ ও ক্ষুব্ধ।’ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ ধরনের ভিত্তিহীন ও প্ররোচনামূলক অভিযোগের দৃঢ় প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমান সংঘর্ষ মিয়ানমারের নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামাজিক দ্বন্দ্বের ফল।’ ঢাকার বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘মিয়ানমারের অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া এবং ভিত্তিহীন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতির’ কারণে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী উচ্চ সতর্কতা এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। এজন্য বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে সন্ত্রাসী ঘাঁটি চালানো সম্ভব নয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি আরো বলা হয়Ñ মিয়ানমার সরকার যদি তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যার সঙ্গে বাংলাদেশকে জড়িত না করে তবে সেটি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রশংসিত হবে। বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে একটি প্রতিবেশী দেশের কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে এদেশের ভূমি ব্যবহার করতে দিবে না। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আন্তর্জাতিক কর্মকা-সহ সকল সম্ভাব্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, বাংলাদেশ নিশ্চিত যে এখানে কোনো বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অস্তিত্ব নেই এবং বাংলাদেশ তার মাটিতে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনকে আশ্রয় দিচ্ছে না। সীমান্তে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিবেশীদের মধ্যে বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে এমন যেকোনো ঘটনা প্রতিরোধে সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

অসম দুই নারীর প্রেম,অতঃপর...

তাদের বয়সের ব্যবধান ৩৭ বছর। একজন ইউটিউব স্টার জুলিয়া জেলগ (২৪)। অন্যজন ৬১ বছর বয়সী ইলিন ডি ফ্রিস্ট। তারা দু’জনেই নারী। কিন্তু এবার বড়দিনের ঠিক আগে তাদের মধ্যে জানাশোনা। শুধু জানাশোনা বললে ভুল হবে। তারা একে অন্যকে কাছে পেতে চান। ব্যস, মনে মনে মিলে গেল।
অমনি সিদ্ধান্ত নিলেন তারা বিয়ে করবেন। দুই নারীতে বিয়ে। সেই পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছেন তারা এখন। জুলিয়া ব্রাজিলের। আর ইলিন ডি ফ্রিস্ট যুক্তরাষ্ট্রের। তাদের এখনকার বসবাস লন্ডনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিন্ডার-এ তাদের পরিচয়। মূল ঘটনা ঘটে যায় অনেকটা আগে। কারণ, সেপ্টেম্বরে নিজের নতুন গার্লফ্রেন্ড সম্পর্কে ভক্তদের কাছে জানান দিয়েছিলেন জুলিয়া। তিনি টিন্ডার-এ লিখেছিলেন, আমি একজন নারীর সন্ধান পেয়েছি। তিনি ভীষণ রকম চমৎকার এক নারী। এর আগে আমি এমন পরিচ্ছন্ন মনের নারীকে দেখি নি। তিনিই হবেন আমার আদর্শ জীবনসঙ্গী। এর আগে আমি সিঙ্গেল জীবন কাটানোর পরিকল্পনা করছিলাম। ভাবছিলাম অনেক মজা করবো। কেউ কিছু বলতে পারবে না। স্বাধীন জীবন হবে আমার।
এমনই এক সময়ে তার সঙ্গে আমার সাক্ষাত, যোগাযোগ। তার প্রতি দুর্বল হয়ে যাই আমি।
সেই সেপ্টেম্বর মাসের পরেই তাদের রোমান্স আরো জোরালো হতে থাকে। দু’জনে এক হন। লন্ডনে একটি বাসা নিয়ে বসবাস সেখানে তাদের। সঙ্গী একটি পালক কুকুরছানা, যার নাম ব্রিটনি।
জুলিয়া ও ইলিনের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে দু’জনেই মুখ খুলেছেন। বলেছেন, খুব দ্রুততার সঙ্গে সব ঘটে গেছে। ‘আমাদের জীবনে নতুন এক সকাল এসেছে। আমরা একজন আরেকজনকে উপলব্ধি করছি। আমরা জীবনের সব বিষয় নিয়ে কথা বলছি। একসঙ্গে থাকার অনেক চমৎকার কারণ আছে। সে জন্য আমরা দু’জনেই খুব সুখি। জুলিয়া যখন হাঁটু গেঁড়ে বসে ইলিনকে প্রেম নিবেদন করেন তখন তাতে সায় দিয়েছিলেন ইলিন। তারপর তারা দু’জনে মিলে ফিরে গেছেন ব্রাজিলে। সেখানে বড়দিনে জুলিয়ার পিতামামার সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন দু’জনেই। জুলিয়ার মাকে ‘আমার ভবিষ্যত শাশুড়ি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন ইলিন। ফলে সব কিছু পাকাপোক্ত। দু’জনে এখন এ বছরের শেষের দিকে বিয়ে করতে চাইছেন। তারই প্রস্তুতি, পরিকল্পনা চলছে। তারা অন্য সব সমকামী যুগলের মতো হলেও অনেকে এমন সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনা করছেন। কারণ, তাদের বয়সের পার্থক্য অনেক বেশি, ৩৭ বছর।
এ সম্পর্কে ইলিন বলেন, হ্যাঁ, জুলিয়া আমার চেয়ে অনেক বেশি কম বয়সী তরুণী। কিন্তু আমি কাউকে তার পরিপক্বতা ও সততার ক্ষেত্রে বয়স দিয়ে পরিমাপ করি না। আমি তাকে পরিমাপ করি তার আবেগ দিয়ে। দেখুন, জুলিয়া আমার চেয়ে অনেক ছোট। আমিও তার চেয়ে অনেক বেশি বয়সী। সে আমাকে আটকে রাখে নি বা বাধ্য করে নি। সে আমার গার্লফ্রেন্ড। সে আমার অভিভাবকের মতো। সে এমন একজন, যাকে আমি ভালবাসি।
জুলিয়া বলেন, আমাদের বয়সের ব্যবধান বেশি হলে তাতে অন্য মানুষের সমস্যা কি। আমরা দু’জন নারী আমাদের মতো করে জীবন সাজাতে চলেছি। তাতে অন্যদের কি এসে যায়। এতে আমি কোনো অন্যায় দেখি না। অন্যদের মাথাব্যথার কারণও আমরা নই।

চক্ষু রোগীদের ভরসা ‘ননী ডাক্তার’ by সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়

অধ্যাপক ডা. মো. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক। আন্তর্জাতিক মানের চক্ষু বিশেষজ্ঞ। পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের। তিনি তার মেধা, যোগ্যতা ও অসাধারণ গুণাবলী দিয়ে ইতিমধ্যে সারা দেশের চিকিৎসকদের মধ্যে অন্যতমে পরিণত হয়েছেন। দেশব্যাপী চক্ষু রোগী ও চক্ষু বিশেষজ্ঞদের কাছে খুবই প্রিয় ও সুপরিচিত নাম অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক। চক্ষু চিকিৎসক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক সর্বোচ্চ সম্মাননা ডা. আলীম মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন এ চিকিৎসক। যিনি তাঁর জন্মস্থান কিশোরগঞ্জ এলাকার লোকজনের কাছে ‘ননী ডাক্তার’ নামেই বেশি পরিচিত।
অত্র অঞ্চলের সবাই তাকে ননী ডাক্তার হিসেবেই চেনে। চক্ষু বিভাগের নামিদামি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও সময়-সুযোগ পেলেই ছুটে যান নিজ এলাকায়। নিজ এলাকাসহ আশপাশের লোকজনকে চক্ষু ক্যাম্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা দিয়ে হাজার হাজার মানুষের চোখে আলো ফুটিয়েছেন। বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ব্যবহারের জন্য পাওয়ারি চশমা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করেন। এ ছাড়াও ছানি ও লেন্স অপারেশনযোগ্য রোগীদের বিনামূল্যে ঢাকায় নিয়ে নিজে ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে অপারেশন করে প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষের উপকার করে আসছেন। অন্ধত্ব নিবারণে শুধু নিজ এলাকা নয় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চক্ষু ক্যাম্পের মধ্য দিয়ে হাজার হাজার রোগীকে বিনামূল্যে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। অন্ধ রোগীর চোখের আলো ফিরিয়ে দেয়ার মধ্যেই সার্থকতা খুঁজে বেড়ান এ চিকিৎসক। গত দুই বছরে পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদী উপজেলায় বিনামূল্যে ১৫শ’ চক্ষু রোগীকে লেন্স সংযোজন করে চোখের অপারেশন করা হয়েছে। সম্প্রতি তার একক প্রচেষ্টায় পাকুন্দিয়া ও কটিয়াদী উপজেলাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পের মাধ্যমে গরিব ও অসহায় চক্ষু রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকদের মাধ্যমে ছানি ও লেন্স অপারেশনের জন্য কয়েক শ’ রোগীকে ঢাকায় নিয়ে অপারেশন করিয়েছেন। গরিব ও অসহায় রোগীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এসব সেবা পেয়েছেন। এ ছাড়াও গত কয়েক বছর ধরে প্রতি মাসে অর্ধ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন তিনি। ইতিমধ্যে দুই উপজেলার প্রায় ১০ হাজার রোগীকে বিনামূল্যে পাওয়ার চশমা বিতরণ করেন অধ্যাপক ডা. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক। এ ব্যাপারে অধ্যাপক ডা. মো. দীন মোহাম্মদ নূরুল হক মানবজমিনকে বলেন, অন্ধত্ব নিবারণ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী চক্ষু চিকিৎসা সেবার ক্যাম্প এর মাধ্যমে গরিব ও প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মানুষকে চক্ষু সেবা দেয়া হচ্ছে।
সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছে। সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে পেরে ও অন্ধত্ব নিবারণে ভূমিকা রাখতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি।

দক্ষিণ এশিয়ায় গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ (প্রথম পর্ব) by পল স্ট্যানিল্যান্ড

১৪ই নভেম্বর শ্রীলংকার পার্লামেন্টে সংঘাতময় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। স্পিকার যখন ভোট আহ্বান করার চেষ্টা করেন তখন একদল এমপি তার দিকে ধাবিত হতে থাকেন এবং দ্রুতগতিতে এগিয়ে যান। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপটি তাদের পিছনে ফেরানোর জন্য ধাক্কা দিতে থাকেন। এর মধ্যে ঘুষাঘুষি শুরু হয়। একজন একটি ছুরি নাচাতে থাকেন। একজন এমপি বিচ্ছিন্ন হয়ে স্পিকারের মাইক্রোফোন চুরি করার চেষ্টা করেন। ফল হিসেবে তার স্থান হয় হাসপাতালে।
অক্টোবরে সৃষ্ট সাংবিধানিক সংকটের ফল হলো এই বিশৃঙ্খলা।
ওই অক্টোবরে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহকে বরখাস্ত করেন এবং তার স্থলাভিষিক করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দ রাজাপাকসে-কে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন এমপি ও নাগরিকরা। উল্টো সিরিসেনা পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করেন। তবে তার এ উদ্যোগকে সুপ্রিম কোর্ট থেকে অসাংবিধানিক হিসেবে আখ্যায়িত না করা পর্যন্ত পার্লামেন্ট বিলুপ্তির নির্দেশ বহাল থাকে।
অন্যদিকে রাজাপাকসে-কে পার্লামেন্ট প্রত্যাখ্যান করে। তবে তিনি পদ থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানান। এই অচলাবস্থার অবসান হয় গত ডিসেম্বরে। এ সময়ে সিরিসেনা তার হাতে বরখাস্ত হওয়া প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহকে পুনর্বহাল করতে বাধ্য হন। বিচার বিভাগ ও পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠদের সমন্বিত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি তা করতে বাধ্য হন।
দক্ষিণ এশিয়ার পুরনো গণতন্ত্রের একটি দেশ শ্রীলংকা। অতি সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত কখনো এমন অস্থিতিশীল অবস্থা সেখানে দেখা যায়নি। দেশটি ছিল নিরাপদ। দেশটিতে রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের অবসান হয় ২০০৯ সালে। ২০১৫ সালে যে নির্বাচন হয় তাকে দেখা হয় উদারীকরণের এক নতুন বার্তা হিসেবে। কিন্তু গণতন্ত্রকে দেখে যতটা লাভবান বলে মনে হয়েছে তার চেয়ে কমই নিরাপদ থেকেছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীলংকা হলো দক্ষিণ এশিয়ার অন্যদের থেকে আলাদা। কিছু কিছু পরিমাপের দিক দিয়ে, কয়েক দশকে যেমনটা ছিল তার চেয়ে এ অঞ্চলটি অধিকতর স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক। সহিংসতা ও অসন্তোষ কমে এসেছে।
রাজপথ ত্যাগ করেছে সেনাবাহিনী। তারা ফিরে গেছে ব্যারাকে। বড় বড় বিদ্রোহকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আঞ্চলিকতা হিসেবে, প্রতি বছরে গড়ে শতকরা প্রায় ৭ ভাগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে দক্ষিণ এশিয়া। নিকট অতীতে কট্টরপন্থি সামরিক স্বৈরশাসকরা শাসন করেছে বর্তমানের বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও পাকিস্তানের মতো দেশকে। তারা এখন অন্তত আনুষ্ঠানিকভাবে গণতান্ত্রিক।
কিন্তু অশান্ত পরিস্থিতির বড় বড় সব উৎসের ওপর দৃশ্যত এই শান্ত পরিস্থিতি মুখোশ সৃষ্টি করেছে। জাতি ও ধর্মীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আক্রমণ করে ভোটে জয় পাওয়ার চেষ্টা করছেন রাজনীতিকরা।
অন্যদিকে পর্দার আড়ালে ওঁত পেতে আছে সেনাবাহিনী। দক্ষিণ এশিয়ার অভিজ্ঞতা বলে, এখানে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা মসৃণ নয় অথবা সমতার ভিত্তিতে অপসৃত হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাউকে কাউকে ক্ষমতায়ন করা হয় অন্যদের দমন করার মাধ্যমে। সংস্কার থেকে সৃষ্টি হয় নতুন সংঘাত। মুক্ত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা জনগণকে কথা বলার সুযোগ এনে দেয়। কিন্তু তাদের বক্তব্য হতে পারে গভীরভাবে অনুদার। ধারাবাহিকতার নির্বাচন রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করে না। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক গতিবিধি বলে দেয়, উদার গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সুযোগকে কুক্ষিগত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন তা নির্ধারণ করার আগে নিজেদের প্রকাশ করে এবং বড় ধরনের বিপদের মুখোমুখি পড়ে।
সংকটের উৎস
শ্রীলংকার সংকটের শিকড় নিহিত রয়েছে রাজাপাকসের প্রেসিডেন্সির ভিতরে। তার এই প্রেসিডেন্সি দ্বিতীয় মেয়াদে অংশত হয়ে উঠেছিল কর্তৃত্বপরায়ণ। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে স্বাধীনতাকামী লিবারেশন টাইগারস অব তামিল এলম-এর (যারা তামিল টাইগারস হিসেবে বেশি পরিচিত) সঙ্গে চলমান রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের ইতি ঘটান রাজাপাকসে ২০০৯ সালে। ২০১০ সালের নির্বাচনে তিনি ভূমিধস বিজয় নিয়ে নতুন করে বিজয়ী হন। পরিবার ও তার শ্রীলংকা ফ্রিডম পার্টি (এসএলএফপি) কে নিয়ে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে যান। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার বিস্তার ঘটান। ঘনিষ্ঠ হন চীনের। মিডিয়ার রিপোর্টে, রাজাপাকসে ও তার মিত্রদের দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পর্কযুক্ত করে।
সিরিসেনা ছিলেন এসএলএফপির সদস্য। কিন্তু ২০১৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে তিনি পক্ষ ত্যাগ করেন রাজাপাকসে-কে চ্যালেঞ্জ জানাতে। ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) ও অন্য বিরোধী দলগুলোর সমর্থনে সিরিসেনা বিস্ময়কর এক বিজয় অর্জন করেন। ওই বছরে পার্লামেন্ট নির্বাচনের পরে ইউএনপির নেতা রনিল বিক্রমাসিংহে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবির্ভূত হন। এর ফলে এমন একটি ক্ষেত্র সৃষ্টি হয় যেখানে সিরিসেনা ও বিক্রমাসিংহে মিলে উচ্চাকাক্সক্ষী সংস্কারমূলক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন। তাদের লক্ষ্য নির্বাহী ক্ষমতাকে কমিয়ে আনা এবং গৃহযুদ্ধের বিষয়গুলোতে দৃষ্টি দেয়া।
এসব এজেন্ডার কিছুটা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেছে সরকার। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাজাপাকসে ক্ষমতার যে বিস্তার ঘটিয়েছিলেন তাকে সীমিত করা হয়। কিন্তু সিরিসেনা ও বিক্রমাসিংহে নিজেদের একত্রিত একটি টিম হিসেবে প্রমাণ দিতে পারেননি। এতে সংস্কার স্থবির হয়ে পড়ে। গত বছরের শুরুতে যখন স্থানীয় নির্বাচন হয় শ্রীলংকায় তখন রাজাপাকসের দল নতুন করে যাত্রা শুরু করে শ্রীলঙ্কা পোদুজানা পেরামুনা নামে এবং নির্বাচনে তারা বিজয়ী হয়। রাজাপাকসের এই উত্থানে সিরিসেনা ও বিক্রমাসিংহের মধ্যকার সম্পর্কে অবনতি ঘটে। তারই ধারাবাহিকতায় ২৬শে অক্টোবর বিক্রমাসিংহকে বরখাস্ত করেন সিরিসেনা এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন মাহিন্দ রাজাপাকসে-কে।
সিরিসেনা একই সঙ্গে বিপুলপ্ত করেন পার্লামেন্ট। তিন সপ্তাহের মধ্যে তার সেই সিদ্ধান্তকে স্থগিত করেন সুপ্রিম কোর্ট। অপ্রতিরোধ্যভাবে সিরিসেনা ও রাজাপাকসে একত্রিত হয়ে জোট বাঁধেন। তাদের উদ্দেশ্য, পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজাপাকসে-কে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন করা। কিন্তু লোভনীয় প্রস্তাব ও পার্লামেন্টে নিজ পক্ষের এমপিদের পক্ষত্যাগের ফলে বিক্রমাসিংহের পক্ষে চলে আসেন বেশির ভাগ। বরখাস্ত হওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন রণিল বিক্রমাসিংহে। ওদিকে ক্ষমতাকে সিরিসেনা ও রাজাপাকসে কুক্ষিগত করার বিরুদ্ধে রনিল বিক্রমাসিংহের প্রতি রাজপথে জনতার সমর্থন বাড়তে থাকে। তার বাসভবনের বাইরে অবস্থান নিতে থাকে বিপুলসংখ্যক মানুষ।
দেশটিতে এই অচলাবস্থা অব্যাহত থাকে কমপক্ষে ৬ সপ্তাহ।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখাতে সক্ষম হননি রাজাপাকসে। ফলে বাধ্য হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখানোর জন্য ২০১৯ সালে নতুন নির্বাচন ঘোষণা দিয়ে বসেন সিরিসেনা। চূড়ান্ত পেরেকটি ১৩ই ডিসেম্বর ঠুকে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে দেয় সিরিসেনার বিরুদ্ধে। এর ফলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রনিল বিক্রমাসিংহেকে স্বীকৃতি দেন তিনি। যদিও সেখানে সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান হয়েছে, তবৃও শ্রীলংকার গণতন্ত্রের গভীর এক বিপন্নতা ফুটে উঠেছে, যা শিগগিরই দূরে যাবে বলে মনে হয় না।
জাতি ও জাতীয়তাবাদের বিপদ
শ্রীলংকা জাতিগত অস্থিরতার রাজনৈতিক সংকটের ভিতর নিমজ্জিত ছিল। এই অস্থিরতা দেশটিকে পঞ্চাশের দশক থেকে মহামারীর মতো জেঁকে ধরেছিল। রাজাপাকসে সিনহলিজ বৌদ্ধ জাতিদের জাতীয়তাবাদের পক্ষে শক্তিশালী অবস্থান নেন। এই গ্রুপটি জাতিগত সহিংসতার কেন্দ্রীয় চরিত্রে ভূমিকা রেখেছে। অতি সাম্প্রতিক সংকট নিয়ে যারা সমালোচনা করেন তাদের আক্রমণ করতে এই কার্ডটি ব্যবহার করেন রাজাপাকসে ও তার সমর্থকরা। তারা যুক্তি দেখান, বিক্রমাসিংহে বিদেশি (প্রধানত পশ্চিমাদের) প্রভাব ও বাইরের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করেন। এই রকম সমস্যা শ্রীলংকার বাইরে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। জাতি ও ধর্মীয় উত্তেজনা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য গণতন্ত্রেও এক আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
যদিও নির্বাচন হলো এখন এই উপমহাদেশজুড়ে এক নতুন রুটিন, প্রায়ই তা অবাধ ও সুষ্ঠু হয়। তবু রয়ে গেছে জাতিগত ও ধর্মীয় বিষয়গুলো প্রাধান্য বিস্তার করে আছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনীতি কখনো কখনো পরিচালিত হয় সংখ্যাগরিষ্ঠ-সংখ্যালঘিষ্ঠ জটিলতা দিয়ে: তাদের দেশে বিপুল পরিমাণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রতিনিধিত্ব করা সত্ত্বেও রাজনীতিক ও নেতাকর্মীরা যুক্তি দেখান, পালাবদলের ভয়ানক সব প্রভাব, দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যাতত্ত্বের পরিবর্তন, দুর্নীতি ও অভিজাত শ্রেণির অসাধুতা তাদের গ্রুপের ক্ষমতাকে খর্ব করছে। পশ্চিমা পপুলিস্ট বা জনপ্রিয়দের মতো, তারা দাবি করেন, এসব হুমকি বা বিপদ থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ গ্রুপগুলোকে তারা নিজেরাই সুরক্ষা দিতে পারেন, যখন এসব গ্রুপ এমনিতেই প্রাধান্য বিস্তার করে।
এই কৌশল একটি নির্বাচনী বিজয়ীর জন্য প্রমাণিত। ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি একটি রাজনৈতিক ‘মেশিন’ তৈরি করেছে, যেটা তাদের ২০১৪ সালের চূড়ান্ত বিজয় এনে দেয় নাটকীয়তার সঙ্গে। এতে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজ্যের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ রাজ্য নির্বাচনগুলোতে খুব দুর্বল পারফরমেন্স করলেও ২০১৯ সালে সেখানে জাতীয় নির্বাচনে এখনও বিজেপি জনপ্রিয় হিসেবে রয়েছে। ভারতের রাজনীতিতে শক্তিশালী বিষয় হয়ে আছে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতা। এখনও অনেক ভারতীয় আছেন, যারা এ ধারণার সঙ্গে নেই তবু সাম্প্রতিক সময়ে নাটকীয়তার সঙ্গে হিন্দুদের পক্ষে গেছে অনেক কিছু। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী কাঞ্চন চন্দ্র যেমনটা বলেছেন, হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রের মধ্যেই ভারতের ধারণাকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সংকটের আগে শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ ছিল তামিল টাইগারদের বিরুদ্ধে।
এর মূল নিহিত ছিল হলো সিনহলিজ বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদের উত্থান, যা রাজনীতিতে একটি উত্তেজনা সৃষ্টি করে। তা এখনো এই দ্বীপরাষ্ট্রের গভীরে প্রভাব রাখে। দেশটিতে সিংহলিজ দুটি প্রধান দল বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদকে প্রশংসিত করার মাধ্যমে একে অন্যকে অতিক্রম করার চেষ্টা করেছে। চেষ্টা করা হয়েছে, শ্রীলংকার তামিল ও মুসলিম সংখ্যালঘুদের থেকে শ্রীলংকার রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সীমিত করতে। ২০১৫ সালে শ্রীলংকায় যে নির্বাচন হয় তাতে এমন জাতিগত উত্তেজনা মিটিয়ে ফেলার একটি সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু সিংহলিজ জাতীয়তাবাদীরা এমন সুযোগকে অবজ্ঞা করেছে, এতে সংস্কারমূলক এজেন্ডা ক্রমাগত ধ্বংস হয়েছে।
সম্ভবত দক্ষিণ এশিয়ায় জাতি-জাতীয়তাবাদ নিয়ে সবচেয়ে নাটকীয় ঘটেছে তা মিয়ানমারের উদারীকরণকে পশ্চাতে ঠেলে দেয়া। রাখাইনে মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর তার দেশের সেনাবাহিনী যে নৃশংসতা চালিয়েছে তার নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে বহু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মিয়ানমারের মূল নেত্রী অং সান সুচির ওপর তিক্ত হতাশা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু সূচি যে অবস্থান নিেেছন তাতে জনগণের সেন্টিমেন্ট প্রতিফলিত হয়েছে। মিয়ানমারের বহু মানুষ, এমনকি তারাও, যারা আগে সেনাবাহিনীর বিরোধিতা করতেন তারাও রোহিঙ্গা বিরোধী কঠোর নীতিকে সমর্থন করছেন। মিয়ানমারে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন ২০২০ সালে।
সম্ভবত ওই নির্বাচনটি হবে অং সান সূচির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি এবং এর প্রধান বিরোধী দল, সেনাবাহিনীর সমর্থনপুষ্ট ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির মধ্যে। তারা সবাই বার্মার জাতি-জাতীয়তাবাদের মর্মমূলে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করছে। মিয়ানমারে নির্বাচনী যে গণতন্ত্রের উত্থান ঘটেছে তাতে মেজরিটারিয়ানিজমের সমর্থকদের সুযোগ দেয়া হয়েছে। এতে রয়েছে রাজনীতিবিদ থেকে বৌদ্ধ ভিক্ষু, সামাজিক যোগাযোগ মিডিয়ার ব্যবহারকারী। তারা রোহিঙ্গাদের দেখে থাকে বহিরাগত হিসেবে, যাদের দেশ থেকে নির্মূল করে দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করে তারা।
(পাকিস্তানের অনলাইন ডেইলি টাইমসে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)

সক্রিয় শতাধিক পাথরখেকো গ্রুপ: শারপিন টিলায় ফের মৃত্যুর মিছিল শুরু by ওয়েছ খছরু

সিলেটের শারপিন টিলায় মৌসুমের শুরুতেই মৃত্যুর মিছিল। ইতিমধ্যে এ টিলাকে ঘিরে শতাধিক পাথরখেকো সিন্ডিকেট ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সোমবার গর্তে পড়ে মারা গেছেন দুই পাথর শ্রমিক। গত দুই মাসে ৪ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত তিন বছরে শারপিন টিলায় অন্তত ৩৫ জন পাথর শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ করা হলেও পাথরখেকো চক্রের সদস্যরা সেই ঘোষণার কোনো তোয়াক্কা না করেই অবাধে লুটপাট চালাচ্ছে। টিলার লিজ গ্রহীতা দাবি করে স্থানীয় মোহাম্মদ আলী প্রতিদিনই লাখ লাখ টাকা আদায় করছেন। একই সঙ্গে আরো ৭ সিন্ডিকেট ৭ স্থান থেকেও চাঁদা আদায় করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শ্রমিক মারা গেলেই হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। এরপরও পাথরখেকোদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। আর অভিযান চালালে আগেই সটকে পড়ে তারা। ফলে শারপিন টিলায় কোনো ভাবেই পাথর লুটপাট বন্ধ করা যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের মতে গেল কয়েক বছরে শারপিন টিলা থেকে প্রায় হাজার কোটি টাকার পাথর লুটপাট করা হয়েছে। এর ফলে এখন আর সেটি টিলা নেই। আকৃতি পরিবর্তন হয়ে পুকুরে রূপ নিয়েছে। এরপরও পাথর লুটপাটকারীরা ৪০ থেকে ৫০ ফুট গর্ত খুঁজে পাথর উত্তোলন করছে। ব্যবহার করছে যন্ত্রদানব বোমা মেশিন। আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর গর্ত থেকে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে প্রতিনিয়তই মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছে কাজের সন্ধানে আসা শ্রমিকরা। সরকার এখান থেকে রয়্যালটি আদায় করলে অন্তত ২০০ কোটি টাকা আদায় করা যেতো বলে জানান স্থানীয়রা।
এক সময় বিশাল পাহাড় ছিল কোম্পানীগঞ্জের শারপিনটিলা। এই টিলায় একযুগ আগে দৃষ্টি পড়ে পাথরখেকোদের। তখন থেকেই শুরু হয় লুটপাট। পর্যটনকেন্দ্র শারপিন টিলায় শুরু হয় পাথর লুটপাটের মহোৎসব। স্থানীয় মোহাম্মদ আলী নামের এক ব্যক্তি ওই টিলা লিজ নিয়ে প্রথমে পাথর উত্তোলন শুরু করেন। পরে সেই টিলায় শুরু হয় জবরদখল। শতাধিক পাথরখেকো সিন্ডিকেট জোর করে টিলা দখলে নিয়ে পাথর লুটপাট চালায়। সব দলের রাজনৈতিক নেতাদের শেল্টার থাকায় অনেকটা নিরাপদেই চলে এ টিলায় পাথর লুটপাট। কিন্তু ২০১৬ ও ২০১৭ সালে এসে টিলায় মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়। ওই বছর শারপিন টিলায় অন্তত ২০ পাথর শ্রমিকের মৃত্যু হয়। কোনো কোনো গর্তে ৮ থেকে ১০ জনের মতো শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। আর শ্রমিকরা মারা গেলেই লাশ গুমের ঘটনাও ঘটে। ২০১৮ সালেও ওই টিলায় শ্রমিক মৃত্যুর কয়েকটি আলোচিত ঘটনা ঘটে। সব মিলিয়ে তিন বছরে টিলায় ৩৫ জনের মতো শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়। প্রায় সব সিন্ডিকেটই মামলায় আক্রান্ত হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে আলাদা মামলাও হয়। কিন্তু কোনোভাবেই ঠেকানো যায় না মৃত্যুর মিছিল।
গেল বছরের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন ইউএনও আবু লাইছ শ্রমিক মৃত্যুর মিছিল ঠেকাতে শারপিন টিলায় যাতায়াতের সব রাস্তা বন্ধ করে দেন। টানিয়ে দেন লাল ফ্ল্যাগ। পাশাপাশি অভিযানও জোরদার করেন। এরপরও বিকল্প রাস্তা তৈরি করে চলে পাথর লুটপাট। চলতি মৌসুম শুরু হতেই ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে শারপিন টিলার পাথরখেকোরা। এ কারণে সোমবার বিকালে ওই টিলার রহিমের গর্তে পাথর উত্তোলনকালে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত সেলিম মিয়ার স্ত্রী রাজিয়া বেগম বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। টিলায় নিহত হয় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার আনোয়ার হোসেনের ছেলে সেলিম মিয়া (২৫) ও ওয়াজিদ আলীর ছেলে নুরুল হক (৩০)। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহত ২ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত সেলিম মিয়ার স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেন। তিনি বলেন, শারপিন টিলা কিংবা কোম্পানীগঞ্জের যেকোনো জায়গায় শ্রমিক মারা গেলে সরাসরি গর্তের মালিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হচ্ছে। এতে কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। জানান, এত দিন গর্তের মালিকরা আইনের আওতায় আসতো না। এখন তদন্ত করে গর্তের মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এদিকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার ভোলাগঞ্জের লিলাইবাজারে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সোমবার রাতে কোম্পানীগঞ্জ ভূমি অফিস মামলা দায়ের করেছে। মামলায় ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে ও ৫ থেকে ৬ শ’ অজ্ঞাতনামা জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী কোম্পানীগঞ্জ ভূমি কর্মকর্তা মাসুদ রানা। ওসি জানান, ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে ও ৫ থেকে ৬ শ’ অজ্ঞাতনামা জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে শারপিন টিলার নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আলী এখন আর নিজে পাথর উত্তোলন করেন না। তবে শতাধিক পাথরখেকো সিন্ডিকেট পাথর লুটপাট করে তাকে চাঁদা দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন মোহাম্মদ আলী ওই টিলা থেকে লক্ষাধিক টাকা চাঁদা নিচ্ছেন।  মোহাম্মদ আলী নিজে পাথর উত্তোলনের জন্য শারপিন টিলায় একটি অংশ লিজ নিয়েছিলেন। পরে তার দেখাদেখি প্রভাবশালী পাথরখেকো সিন্ডিকেটরা ওই টিলা দখলে নেয়। গতকাল বিকালে মোহাম্মদ আলী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, তিনি আদালতের নির্দেশে এখানকার বৈধ ইজারাদার। তবে লিজের ৭ নম্বর শর্তে ছিল টিলাকাটা এবং যন্ত্র মেশিন ব্যবহার করা যাবে না। সেটি তিনি রক্ষা করতে পারেন নি। টিলা কেটে পুকুর হয়েছে। আর বোমা মেশিন লাগিয়ে এখন পুকুরে পরিণত করা হয়েছে। যারাই শারপিন টিলা থেকে পাথর নেয় তাদের কাছ থেকে ট্রাক্টরপ্রতি ৫০০ টাকা হারে টাকা নেন বলে জানান।
তিনি বলেন, শুধু তিনিই নেন না। ওই টিলা থেকে যারাই ট্রাক্টর নিয়ে যায় তারা ঘাটে ঘাটে আরো ৭টি স্থানে চাঁদা দেয়। প্রতিটি স্থানে একশ’ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। রুস্তমপুর, নোয়াগাঁও, বাবুল নগর, চিকাঢর, জালিয়ারপাড়, শারপিন বাজার ও নতুন জালিয়ার পাড় এলাকায় চাঁদাবাজি করা হয় বলে জানান তিনি। আর এসব সিন্ডিকেটের মধ্য রয়েছে আঞ্জু গ্রুপ, আনাই গ্রুপ, বশর গ্রুপ, জুয়েল গ্রুপ, কেফায়েত গ্রুপ, দোলা মেম্বার গ্রুপ ও ময়না গ্রুপ। প্রশাসন কোনো ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না শারপিন টিলার লুটপাট। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জি গতকাল জানিয়েছেন, শারপিন টিলা এখন ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশাসন রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। পাথরখেকোরা বিকল্প রাস্তা তৈরি করেছে। অভিযান চালানোর আগেই তারা সটকে যায়। বোমা মেশিন, শ্যালো মেশিন আটক করে জ্বালিয়ে দেয়ার পরও পাথরখেকোদের দমানো যাচ্ছে না। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলবেন। প্রয়োজন হলে প্রশাসন আরো কঠোর হবে বলে জানান তিনি।

আমার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি -মাহবুব তালুকদার

অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রশ্নে নিজের অবস্থান বদলাননি বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। গত ৩রা  জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের (ইসি) উদ্যোগে ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে নিজের দেয়া বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মাহবুব তালুকদার বলেছেন, ‘আমি যে বক্তব্য রেখেছি তাতে কিছু বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, অনেক সাংবাদিক আমাকে প্রশ্ন করেছেন। আমি আমার অবস্থান পরিবর্তন করেছি কি না? এ সম্পর্কে বিভ্রান্তির অবসান ঘটাতে বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। নিজের লিখিত বক্তব্যে গত ৩রা জানুয়ারির বক্তব্যের ব্যাখা দিতে গিয়ে বলেন, আমি বক্তব্যে বলেছি, ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিয়েছি।’ ইতিপূর্বে ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখের বক্তব্যে আমি বলেছিলাম, ‘সব দল অংশগ্রহণ করলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলা হয়।
সুষ্ঠু নির্বাচনের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়া একটা প্রাথমিক প্রাপ্তি। আসল কথা হচ্ছে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হচ্ছে কি না এবং বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে কি না? নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য না হলে অংশগ্রহণমূলক হলেও কোনো লাভ নেই।’ নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে কোনো কথা বলেননি বলেও দাবি করেন মাহবুব তালুকদার। তিনি আরো বলেন, কেমন নির্বাচন হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আমি পূর্বে বলেছি, ‘নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞাসা করুন, তাহলে এ প্রশ্নের জবাব পেয়ে যাবেন।’ এখনও আমি সে কথাই বলি। আমার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিগত ৩রা জানুয়ারির অনুষ্ঠানটিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠান উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, কাউকে প্রশংসাসূচক কথা বলে ধন্যবাদ জানাতে হয় এবং সেটাই সৌজন্যের প্রকাশ। তাঁর ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করা ঠিক হবে না।

এক বছরের মধ্যে চতুর্থবারের মতো চীন সফরে কিম

প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের আমন্ত্রণে চীন সফরে এসেছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ও সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। গত এক বছরের মধ্যে এটি তার চতুর্থবারের মতো চীন সফর। মঙ্গলবার কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ব্যক্তিগত ট্রেনে চড়ে চীন পৌঁছেছেন কিম জং উন। সোমবার স্ত্রী রি সোল জুকে সঙ্গে নিয়ে চীনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন তিনি। উত্তর কোরিয়ার প্রধান মিত্র ও বাণিজ্য সহযোগী রাষ্ট্র চীন।
গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে চীনের রাজধানী বেইজিং রেল স্টেশন থেকে একটি গাড়িবহর বেড়িয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা এলাকাটি ঘিরে রেখেছিল এবং কিম জং উনের জন্য রাস্তাটি ফাঁকা করে দেয়া হয়েছিল। এর এক ঘণ্টা পূর্বে কিম রাশিয়া সংলগ্ন চীনের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে চীনে প্রবেশ করেন। এখানে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে কিমের।
এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে উত্তর কোরিয়া জানিয়েছিল, অবরোধ না সরালে পরমাণু কার্যক্রম বাতিল না করে বিকল্প পথ বেছে নেয়া হবে। এরপরই, কিমের এ চীন সফরের খবর প্রকাশিত হলো। প্রত্যেকবারের মতো এবারো কিমের বিদেশ সফরের খবর প্রথমে গোপন রাখা হয়। গত বছর, ডনাল্ড ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের সঙ্গে বৈঠকের আগে তিনবার চীন সফরে এসেছিলেন কিম জং উন। গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্বে কিমের চীন সফর এখন রুটিনে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারো এরকমই বিশেষ কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে চলেছে উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির যেকোনো বিষয়ে অবশ্যই চীনের প্রভাব থাকবে সেটাকে প্রত্যাশিতই মনে করছেন তারা।
এশিয়ার কমিউনিস্ট এ দেশ দুটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক একদম তলানিতে অবস্থান করছে। তাই, চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক দেশটির জন্য একটি কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থান হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। একইসঙ্গে, চীনও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে মিত্রতাকে আরো এক ধাপ উপরে নিয়ে যেতে আগ্রহী। কিম জং উনের ৩৫তম জন্মদিন ছিল ৮ই জানুয়ারি। এদিনই তাকে চীনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শি জিন পিং। উত্তর কোরিয়ার গণমাধ্যম জানিয়েছে, চীনে নামার পর রেল স্টেশনে কিম জং উনকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা, সরকারি কর্মকর্তা ও সশস্ত্র বাহিনী।

জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ, ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছেন ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীরা

নির্বাচন ইস্যুতে জাতীয় সংলাপ করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এতে নাগরিক সমাজকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ নেয়া সব আসনের নির্বাচনের অনিয়মের বিষয় উপস্থাপন করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করবেন ফ্রন্টের প্রার্থীরা। গতকাল শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। নির্বাচনের দিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এমন নেতাকর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে। বিকালে ড. কামাল হোসেনের বেইলী রোডের বাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে ফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। বৈঠক সূত্র জানায়, জাতীয় সংলাপের দিনক্ষণ চূড়ান্ত না হলেও সংলাপে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। বাম গণতান্ত্রিক জোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ তালিকায় রয়েছে।
ফখরুল বলেন, পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে শিগগিরই জাতীয় সংলাপের আয়োজন করা হবে। নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে ও ভোটের দিন ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের এলাকায় সফর করবেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। বিশেষ করে সিলেটের বালাগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতায় ঐক্যফ্রন্টের এক কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে সেখানে সফর করবেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সফর শুরু হবে। লিখিত বক্তব্যে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের জনগণ দেশ স্বাধীন করেছে। গণতন্ত্রের মূল কথা হচ্ছে জনগণের মধ্যে জনগণের শাসন অর্থাৎ জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে, রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালনা করবে।
এর জন্য প্রয়োজন অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পদ্ধতি। সংবিধান অনুযায়ী নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষমতা ও দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু ৩০শে ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন দেশের মালিক জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনিক কর্মকর্তার অপব্যবহার করে সেনাবাহিনীর কার্যকর ভূমিকাকে নিষ্ক্রিয় করে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে। নীল নকশা অনুযায়ী ভোটের পূর্ব রাতে নির্বাচন কমিশন পুলিশসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মৌখিক নির্দেশ দিয়ে সরকারি সমর্থনপুষ্ট সন্ত্রাসী বাহিনীকে ব্যালট পেপারে নৌকা ও লাঙ্গল মার্কায় সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখতে সাহায্য করেছে। ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনে সরকারি মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী বাহিনীর কারণে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে জনগণ ভোট দিতে পারেনি।
ফলে জনগণ নিজেদের মতামত প্রকাশের অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার তথা সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে শুধু সাংবিধানিক অধিকার নয় বরং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের মানবাধিকারও কেড়ে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব বেআইনি কর্মকাণ্ড গুরুতর অপরাধ। নির্বাচন কমিশনের নিকট আমাদের জোর দাবি হচ্ছে অনতিবিলম্বে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের সঠিক অনুলিপি প্রদানের ব্যবস্থা করা হোক। যাতে জনগণ কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের অনুলিপি পাওয়ার পর তা আদালতে উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রমাণ করতে পারে ৩০শে ডিসেম্বর এ দেশে সংবিধান অনুযায়ী কোনো নির্বাচন হয়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ নির্দলীয় সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে পুনরায় একটি নির্বাচনের জোর দাবি জানাচ্ছে।
বৈঠকের পর ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা মিটিংয়ে একাদশ নির্বাচনের ঘটনাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। কারণ আমরা আশা করেছিলাম নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধি বাছাই করতে পারবে। কিন্তু সেটা হয়নি। নির্বাচনের পরিবর্তে কোনো একটা জিনিস হয়েছে। কিন্তু সেটাকে প্রচার করা হচ্ছে যে নির্বাচন হয়েছে। তার ফলাফলের ভিত্তিতে সরকার গঠন করা হয়েছে। 
বিকাল পৌনে পাঁচটায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী। বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বীর উত্তম, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এবার ঘোষণা দিয়ে রাখাইনে শুরু হচ্ছে সেনা অভিযান

এবার ঘোষণা দিয়ে রাখাইনে জাতিগত বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সোমবার সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, গত সপ্তাহে চারটি পুলিশ স্টেশনে হামলা চালায় জাতিগত রাখাইন বিদ্রোহীরা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলে রাখাইন  রাজ্যটি অবস্থিত। বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা এ রাজ্যে সহিংসতা দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি সেখানে নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের সঙ্গে আরাকান আর্মি’র (এএ) মধ্যে বেশ কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। আরাকানকে জাতিগত রাখাইন বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর জন্য অধিকতর স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন করছে আরাকান আর্মি।
মিয়ানমারের সবচেয়ে দরিদ্র ও অবহেলিত এলাকাগুলোর মধ্যে রাখাইন অন্যতম। এখানে জাতিগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষ চরম আকারে। ২০১৭ সালে আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি’র (আরসা) চালানো হামলায় নিহত হয়েছিলেন কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী। এর বদলা নিতে ওই বছরের ২৫শে আগস্ট রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নৃশংস নির্যাতন শুরু করে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধরা। এ নির্যাতনের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে সাত লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নেন বাংলাদেশে। সেনাবাহিনীর এ অভিযানকে জাতিনিধন, গণহত্যা বলে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো।
সর্বশেষ রাখাইনে সহিংসতা হয় সেখানকার স্বাধীনতা দিবসে গত শুক্রবার। ওইদিন ভোরের আগেই বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে বুথিডাং শহরে চারটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালায় জাতিগত রাখাইন বিদ্রোহীরা। কর্তৃপক্ষ বলছে, এ হামলায় অংশ নেয় কয়েকশ’ জঙ্গি। এতে ১৩ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। আহত হয়েছেন ৯ জন। পরে সেনাবাহিনী সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওদিকে আরাকান আর্মি তাদের তিনজন যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, পুলিশ স্টেশনকে ব্যবহার করে সেনাবাহিনী ভারি গোলা ছুড়েছে তাদের দিকে। সরকারের মুখপাত্র জাওয়া হতাই রাজধানী ন্যাপিডতে সাংবাদিকদের বলেছেন, এরই মধ্যে ওই বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান চালাতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছে প্রেসিডেন্টের অফিস। সোমবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক এজেন্সি বলেছে, গত কয়েক সপ্তাহের সহিংসতায় প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে রাখাইনে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মানুষজনকে দেখা গেছে বিভিন্ন মঠে ও অন্যান্য স্থানে অস্থায়ী তাঁবু পেতে অবস্থান করছে। ক্রসফায়ারের ফলে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে সদ্যজাত শিশু ও তল্পিতল্পা।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ভারত, চীন এবং রাশিয়ার সঙ্গে কাজ করছে ইরান: জারিফ

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, তার দেশের ওপর আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় তেহরান তার পুরনো অংশীদার বিশেষ করে চীন, রাশিয়া এবং ভারতের সঙ্গে কাজ করছে।
জারিফ মঙ্গলবার নয়াদিল্লীতে সাংবাদিকদের বলেন,  ইরানের সঙ্গে ইউরোপের ডলার বহির্ভূত অর্থনৈতিক লেনদেন বজায় রাখতে বিশেষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ‘এসপিভি চালু করার ব্যাপারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাঙ্খিত গতিতে এগুতো পারছে না। তিনি আরো বলেন, "আমরা ইউরোপীয়ানদের সঙ্গে বিশেষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে এখনো কাজ করছি। তবে আমরা তাদের জন্য বেশিদিন অপেক্ষা করব না। তিন দিনের সফরে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারিফ। জারিফ বলেন, "আমরা ভারত, চীন এবং রাশিয়ার মতো পুরনো অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছি যাতে আমরা আমাদের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে পারি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি গত বুধবার বলেন, ইরানের সঙ্গে ইউরোপের অর্থনৈতিক লেনদেনের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ‘এসপিভি চালু করার বিষয়ে ২০১৯ সালে জোর প্রচেষ্টা চালানো হবে।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণলয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি গত রোববার শেষ বেলায় বলেছেন, ইরানের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এসভিপি নামে যে পথ বের করতে চেয়েছিল তাতে মারাত্মক রকমের দেরি হয়েছে কিন্তু এখনো তা নির্ধারিত হয় নি। এই ব্যর্থতার জন্য ইরান অবশ্যই ইউরোপীয় ইউনিয়নকে দায়ী করে।

সুবর্ণচরে গণধর্ষণ: নির্যাতিতার ডিএনএ টেস্টের অনুমতি

গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১০ জনের মধ্যে ৭ জনের রিমান্ড চলছে। বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন এখনো মুখ খোলেনি। মুরাদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছে ডিবি পুলিশ। মামলার তদন্তকারী পরিদর্শক জাকির হোসেন মানবজমিনকে জানান, আগামী ১০ই জানুয়ারি ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন শুনানি ধার্য রয়েছে। নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামে ভোটের দিন রাতে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে- মধ্য বাগ্যা গ্রামের রুহুল আমিন (৪০), সোহেল (৩৫), হানিফ (৩০), স্বপন (৩৫), মুরাদ (২৫), বেচু (২৫), কুড়াইল্যা বাসু (৪০), আবুল (৪০), মোশাররফ (৩৫), সালাউদ্দিন টোকাই (৩৫)।
সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক জানান, সুবর্ণচরে পৈশাচিকতার দায় নিতে হবে রুহুল আমিনকে। জঘন্যতম এ ঘটনায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এমপি একরামুল করিম চৌধুরী এ বিষয়ে জিরো টলারেন্সে রয়েছেন।
তার চিকিৎসাসহ নিরাপত্তা দেয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। ৩০ ডিসেম্বর ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে সুবর্ণচরের চরবাগ্যায় গণধর্ষণের দ্রুত চার্জশিট দাখিল করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন নোয়াখালীতে ১১১ জন আইনজীবী।
রিমান্ডে ৭ আসামিকে ডিবি অফিসে আনার ৪৫ ঘণ্টা পরও মুখ খোলেনি। তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ডিএনএ টেস্ট করে প্রোফাইল সংরক্ষণ করার জন্য জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নবনিতা গুহ এর আদালত আদেশ দিয়েছেন। এ ঘটনায় দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দাখিল করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য নোয়াখালী আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফাজ উদ্দিন, সাবেক সভাপতি বি.ইউ.এম কামরুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম, সাবেক সহসভাপতি কাজী মির হোসেন, এনায়েত উল্যাসহ ১১১ জন আইনজীবী যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। নোয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাছের মাহমুদ জনির তত্ত্বাবধানে ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের কখনও মুখোমুখি কখনও এককভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে সূত্র জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তদন্তের কার্যাবলীর ব্যাপারে তদারকি ও দিকনির্দেশনা দিতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ফারুখ আহমেদ সোমবার সন্ধ্যায় পুনরায় নোয়াখালী আসেন এবং জেলার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দেন বলে ডিআইজি সোমবার রাত ৮টায় সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, সরকারের উচ্চ মহল ও নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে সব সময় খোঁজ খবর রাখছেন এবং অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। ডিআইজি আরো জানান, যত দ্রুততম সময়ে সম্ভব এ চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে এবং এ মামলাটি যেন দ্রুত বিচার আইনে বিচার হয় পুলিশের পক্ষ থেকে এ চেষ্টা করা হবে।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিলুর রহমান জানান, চার সদস্যের মেডিকেল টিম মঙ্গলবার দুপুরে রোগীকে দেখেছেন, রোগীর সঙ্গে কথা বলেছেন। পরীক্ষা নিরীক্ষার কাগজপত্র ও রিপোর্ট পর্যালোচনা করেছে এবং আরো কয়েকটি নতুন পরীক্ষা করানোর জন্য বলেছেন। এসব পরীক্ষার কিছু কিছু জেনারেল হাসপাতালে করা যাবে আর কিছু পরীক্ষা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল সড়কের অত্যাধুনিক প্রাইম হাসপাতালে করতে হবে। সব রিপোর্ট পাওয়ার পর মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে নির্যাতিতাকে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করতে হবে কিনা।

আগামীদিনে বিজেপির রাজনৈতিক অস্তিত্ব থাকবে না: অভিষেক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এমপি বলেছেন, আগামীদিনে বিজেপি’র কোনো রাজনৈতিক অস্তিত্ব থাকবে না। তিনি মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহারের রাসমেলা ময়দানে এক জনসভায় ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন।
অভিষেক বলেন, ‘আমরা সিপিএমের মতো নাস্তিক নই এবং বিজেপির মতো ধর্ম বিক্রি করে আমাদের রাজনীতি করতে হয় না। আমি মনে করি ঈশ্বর পূজনীয়, কোনোদিন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার্য নয়। ‘রাম’ ও ‘বজরংবলি’কে নিয়ে ওঁরা রাজনীতি করছে। মানুষকে ধর্ম গেলাচ্ছে, মানুষ তাদেরকেই আজ দুই গালে দুই থাপ্পড় মেরে বসিয়ে ওঁদের জামানত বাজেয়াপ্ত করেছে। আগামীদিনে আমি নিশ্চিত ওঁরা গোটা দেশে দেড়শ’ আসনও পাবে না।’
বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, যে ‘গরু’ তোমাদেরকে ২০১৪ সালে দুধ  দিয়েছিল, সেই ‘গরু’ই আগামীদিন তোমাদের ‘মুখে গোবর লেপে দেবে’। তোমাদের কোনো রাজনৈতিক অস্তিত্ব এই মাটিতে আর থাকবে না।’
তিনি বলেন, বিজেপি দিল্লিতে বারোশ’ কোটি টাকা খরচ করে ‘সেভেন স্টার’ পার্টি অফিস তৈরি করেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার আগে কোলকাতার বুকে যে পার্টি অফিস ছিল, তাঁর নাম ‘তৃণমূল ভবন’। যে অবস্থায় দশ বছর আগে ছিল আজও সেই একই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের প্রধান কার্যালয় রয়েছে। এতেই প্রমাণিত হয় যে, মানুষকে ভুল বুঝিয়ে, টাকা নয়-ছয় করে তৃণমূল রাজনীতি করে না।’
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী ১৯ জানুয়ারি কোলকাতার ব্রিগেড ময়দানে বিজেপি বিরোধী সর্বভারতীয় নেতাদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে ঐতিহাসিক সমাবেশ সফল করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।

নতুনদের মন্ত্রী বানিয়েছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করার জন্য -প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাদ পড়া মন্ত্রীরা ব্যর্থ নন। পুরনোরা সফল ছিল বলেই দেশ আজ অনেক দূর এগিয়েছে। নতুনদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করার জন্য। গতকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে নবনির্বাচিত মন্ত্রিসভা ও আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন মন্ত্রীদের সব কাজ বুঝে নিয়ে তারপর করতে হবে এবং পুরনোদের সফলতাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সবাইকে আমি কঠোর নজরদারিতে রাখবো। এ সময় নবনির্বাচিত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্র জানায়, নতুন মন্ত্রিসভার করণীয়, চ্যালেঞ্জ এবং সার্বিক বিষয় আলোচনা হয় বৈঠকে। এ ছাড়া সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন নেতারা।
স্মৃতিসৌধ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে নতুন মন্ত্রিসভার শ্রদ্ধা
জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভা। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। গতকাল সকালে প্রথমে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এই প্রথমবারের মন্ত্রীরা সরকারি গাড়ি ও আলাদা প্রটোকল ছাড়া একটি বাসে করে স্মৃতিসৌধে যান। আজ একইভাবে বাসে করেই গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন মন্ত্রীরা।
গতকাল সকাল ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদীতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের পর ’৭১-র আত্মোৎসর্গকারী দেশের সূর্য সন্তানদের প্রতি সম্মান জানানোর অংশ হিসেবে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা দলের নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদীতে আরেকবার শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সদস্যবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়েও স্বাক্ষর করেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তিনি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে আরেকবার শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো এবং টানা তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ এবং একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠন শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে আজ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা। মন্ত্রীরা সকালে বাসে রওয়ানা দেবেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, সকালে গণভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে হেলিকপ্টারযোগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কমপ্লেক্স মাঠে নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন। বেলা ১১টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে উপস্থিত হয়ে নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পরে তিনি বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফিরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নিবেন।

শ্রমিক বিক্ষোভ সংঘর্ষ, ভোগান্তি: পোশাক খাতের মজুরি পর্যালোচনায় কমিটি

নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন ও বেতন বৈষম্য রোধের দাবিতে গতকালও বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শিল্প শ্রমিকরা। রাজধানীর কালশি, উত্তরা, সাভার এবং গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সাভারে গুলিতে সুমন মিয়া নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে আন্দোলনকারীরা। মৃত্যুর বিষয়টি হাসপাতাল ও থানা পুলিশ নিশ্চিত করলেও কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
গতকাল উত্তরার আজমপুর ও সাভার এলাকায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে টিয়ারশেল ও জলকামান নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ সময় বিমানবন্দর সড়ক থেকে উত্তরার জসিমউদ্দিন মোড়, আজমপুর রেলক্রসিং এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে মিরপুরের পল্লবীর কালশিতে। এ সময় এসব এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে। পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে গতকাল বিকালে জরুরি বৈঠকে ডাকে সরকার। ওই বৈঠকের বিষয়টি শ্রমিকদের অবগত করার পর তারা রাস্তা থেকে সরে যায়। বৈঠক শেষে জানানো হয় মজুরি কাঠামো পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী এক মাসের মধ্যে সমস্যা সমাধান করারও আশ্বাস দেয়া হয়েছে সরকারের তরফ থেকে।
ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাক শ্রমিকরা সড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ  করছেন গত চার দিন ধরে। গতকালও একই দাবিতে বিমানবন্দর সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন শ্রমিকরা। ওই এলাকার নীপা গার্মেন্ট, চৈতি গার্মেন্ট, ফ্লোরা ফ্যাশন, অ্যাপারেলস গার্মেন্টসহ বেশ কয়েকটি গার্মেন্টের শ্রমিকরা এতে অংশ নেন।
সকাল সাড়ে ৮টা থেকে গার্মেন্টের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তারা বিমানবন্দর সড়কের দিকে এগিয়ে যায়। আগে থেকেই সেখানে বিপুল পুলিশ মোতায়েন ছিলো। এমনকি আশেপাশে ছিলো সাঁজোয়া যান। বিমানবন্দর সড়ক অবরোধকালে তাদের বাধা দেয় পুলিশ। পরে জসিম উদ্দিন মোড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা। শ্রমিকদের একাংশ জড়ো হয় আজমপুরে। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা। এ সময় সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। পুলিশ তাদের সরে যেতে অনুরোধ করলেও শ্রমিকরা অবস্থানে অটুট থাকে। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। দুপুরের পর আবারো তারা জড়ো হতে চাইলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে চেষ্টা করে।
ওদিকে মিরপুরের পল্লবীতে জড়ো হয়ে দাবি আদায়ের জন্য নানা স্লোগান দেন পোশাক শ্রমিকরা। সকাল ৯টার পর থেকে তারা কালশি সড়কে অবস্থান নেন।  এ সময় ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে চেষ্টা করে পুলিশ। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের বাকবিতণ্ডা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকে ২২ তলা গার্মেন্ট এলাকায় পোশাক শ্রমিকরা রাস্তায় অবস্থান নেন। তাদের অবস্থানের কারণে সড়কটিতে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে চেষ্টা করে। একপর্যায়ের শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে পুলিশ। পল্লবী থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) জানান, সকাল থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত শ্রমিকরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে। পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে চেষ্টা করেছে। তবে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।
সাভারে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, নিহত ১: সাভার-আশুলিয়ায় বেতন বৈষম্যের অভিযোগ এনে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে বেশ কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ তাদেরকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা  ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে সুমন মিয়া (২২) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মো. মকুল নামে আরো এক শ্রমিককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমজাদুল হক বলেন, পুলিশ এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনার আগেই সে মারা যায়। পরে সাভার মডেল থানার ওসি আবদুল আউয়াল স্বাক্ষর করে নিহতের মৃতদেহটি নিয়ে যায়। হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, মো. সুমন মিয়া এক শ্রমিককে তার সহকর্মী রিপন মিয়া ও পুলিশ বিকাল সোয়া ৪টার দিকে নিয়ে আসে। তার বুকের বাম পাশে গোল চিহ্ন রয়েছে তা গুলি কিনা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। এ ছাড়া মো. মকুল নামে আরো এক শ্রমিকের বাম উরুর পেছনে গুলি পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ গার্মেন্ট এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে এক শ্রমিক নিহতের খবর শুনেছি। তবে ওই কারখানায় আমাদের কোনো লোক না থাকায় বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারিনি। আশুলিয়া শিল্প পুলিশের পরিচালক সানা শামিনুর রহমান বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে এক শ্রমিক মারা যাওয়ার খবর শুনেছি। তবে আমাদের সঙ্গে ওই কারখানার শ্রমিকদের কোনো সংঘর্ষ কিংবা গুলির ঘটনা ঘটেনি।
সকালে সাভারের হেমায়েতপুরে পদ্মার মোড় বাগবাড়ি এলাকায় এই শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের এই সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সকাল ৮টা থেকে দুপুর  পর্যন্ত চলে। এ সময় ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় যানচলাচলসহ সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ থাকে। পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানায়, হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় বাগবাড়ি এলাকায় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের শামস স্টাইল ওয়্যারস লিমিটেডের শ্রমিকরা সকালে কারখানায় কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে পার্শবর্তী দীপ্ত অ্যাপারেলস কারখানাসহ আরো বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরাও আন্দোলনে যোগ দেন। পরে তারা হেমায়েতপুর-শ্যামপুর সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দিয়ে অবরোধ করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ধাওয়া দেয়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে এ সময় পুলিশসহ আহত হয় অর্ধশতাধিক। এ সময় পুলিশ শ্রমিকদের ওপর জলকামান ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে শ্রমিক পুলিশের মধ্যে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া। এ সময় পুরো এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বিভিন্ন শাখা সড়ক ও গলিতে অবস্থান নিয়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, জলকামান ও সাঁজোয়া যান নিয়ে শ্রমিকদের প্রতিহত করে। শ্রমিকরা জানায়, আমাদের ন্যূনতম বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন গত ডিসেম্বরে জারি হয়েছে।
কিন্তু সেখানে আমাদের সব দাবি-দাওয়া উত্থাপন হয়নি। অপারেটর ও হেলপারের বেতনের মধ্যে অনেক বৈষম্য ও ব্যবধান রয়েছে। আমরা এগুলো দূর করার কথা বলছি। কিন্তু মালিকপক্ষ আমাদের দাবিতে কোনো সাড়া দিচ্ছে না। অন্যদিকে সাভার পৌর এলাকার দক্ষিণ দরিয়াপুর মহল্লার জেকে গ্রুপের তনিমা নিট কম্পোজিট, উলাইল, আশুলিয়ার কাঠগড়া ও চারাবাগ এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা একই দাবিতে কর্মবিরতিসহ বিক্ষোভ করেছে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে চাইলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। শিল্প পুলিশ-১ এর পরিদর্শক মাহববুর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ছাড়া যেকোনো ঝামেলা এড়াতে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিকদের ন্যূূনতম মজুরি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ের জন্য গত তিনদিন ধরে বিক্ষোভ করছে শ্রমিকরা।
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর থেকে জানান, বেতন ভাতার বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে এবং মহাসড়ক অবরোধ করে। অবরোধ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া, পাল্টা-ধাওয়া ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ও শ্রমিকরা জানায়, বিকালে গাজীপুরের ভোগড়া এলাকার একটি গার্মেন্ট কারখানা শ্রমিকরা বেতন ভাতার বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। জবাবে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে কারখানায় ভাঙচুর চালিয়ে, কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর ও পুলিশের একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। একই দাবিতে সকালে চক্রবর্তী এলাকায় দুটি গার্মেন্টের শ্রমিকরা চন্দ্রা নবীনগর মহাসড়ক প্রায় আধা ঘণ্টা অবরোধ করে। পুলিশ কাঁদানি গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে তাদের সরিয়ে দেয়। অন্যদিকে বিকালে কোনাবাড়ি এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে।
মজুরি কাঠামো পর্যালোচনায় কমিটি: তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের টানা বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেড় মাস আগে ঘোষিত নতুন মজুরি কাঠামো পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল মতিঝিলের শ্রমভবনে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ নেতা আবদুুস সালাম মুর্শেদী, ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মালিক পক্ষের ৫ জন, শ্রমিক পক্ষের ৫ জন এবং সরকারের বাণিজ্য সচিব ও শ্রম সচিবকে নিয়ে মোট ১২ সদস্যের কমিটি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে মজুরির অসঙ্গতিগুলো খতিয়ে দেখবে এবং সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেবে।
তিনি বলেন, মজুরি নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনা করে এক মাসের মধ্যেই সমাধান করা হবে। এ সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের রাস্তায় বিশৃঙ্খলা না করে কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বানও জানান নতুন এ বাণিজ্যমন্ত্রী। ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে টানা তিন দিন ঢাকার রাস্তায় পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকে ডাকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
জানুয়ারি মাসে কোনো শ্রমিককে কম বেতন দেয়া হবে না। কোনো গ্রেডে কারও যদি বেতন কমে যায়, তবে সেটা হিসাব করে সমন্বয় করা হবে। বকেয়া আকারে শ্রমিকরা সেই বেতন পেয়ে যাবেন বলে জানান টিপু মুনশি।
বর্তমান শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে শিল্পের বাইরের লোকের ইন্ধন আছে বলেও নিজের সন্দেহের কথা জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। শ্রমিকরা যাতে কোনো রকম গুজব কিংবা উস্কানিতে পা না দেন আমরা সেই অনুরোধ করছি। এরপর থেকে ইন্ডাস্ট্রিবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যারা ধ্বংসাত্মক কাজ করেছে তারা শ্রমিক না। তারা এ ট্রেডের বন্ধু না। তাদের কঠোর হাতে দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মালিক ও শ্রমিক একটা বাইসাইকেলের দুই চাকা। তাদের একসঙ্গেই এগোতে হবে। কোথায় কোনো ইরেগুলারিটি থাকলে সেটা দেখা হবে। কিন্তু কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না।
তিনি বলেন, সাইবার ক্রাইম শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন রকম প্রচারপত্র লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে অনলাইনে। আমরা বরাবর দেখেছি, প্রত্যেক ঘটনার ক্ষেত্রে এ ধরনের অপকর্ম ঘটছে। এসব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত শ্রমিকবান্ধব। তিনি নিজেই সুপারিশ করে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর ব্যবস্থা করেছেন। এখন নতুন মজুরি কাঠামোর কোথাও কোনো অসুবিধা থাকলে আলোচনা করে তা ঠিক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই আর কোনো বিশৃঙ্খলা নয়। সবাইকে কাজে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করছি।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে একই কথা বলেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান ইসমাইল ও জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন।
এদিকে পোশাক শ্রমিকদের সব গ্রেডে সমান হারে মজুরি বাড়ানোর পাশাপাশি বকেয়া বেতন পরিশোধ, ছাঁটাই ও নির্যাতন বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি। গতকাল বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপতি তাসলিমা আখতার, সাধারণ সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবুর যুক্ত বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে তারা বলেন, পোশাক শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও সব গ্রেডে সমান হারে মজুরি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে উত্তরা, গাজীপুর নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক ছাঁটাই, টার্গেট চাপ বাড়ানো এবং শ্রমিক নির্যাতন বন্ধের দাবি জানানো হয়। তারা বলেন, সমপ্রতি শ্রমিক আন্দোলন বিভিন্ন গ্রেডে মজুরি সমান হারে বৃদ্ধি না পাওয়ারই কারণ। এ ছাড়া বেতন বকেয়া, ছাঁটাই-নির্যাতন, টার্গেট চাপ ইত্যাদির ক্ষোভ রয়েছে।
বিবৃতিতে সরকার ও মালিক পক্ষকে পোশাক কারখানার ৩য়, ৪র্থ, ৫ম গ্রেডের শ্রমিকদের মূল মজুরি অন্যান্য গ্রেডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বেতন বাড়িয়ে শিল্পের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, অপারেটররাই গার্মেন্ট শিল্পের প্রাণ, প্রধান চালিকা শক্তি, সংখ্যার দিক থেকেও এরাই বেশি। শ্রমিকদের এ অংশকে বঞ্চিত করে, অংকের মার-প্যাঁচে ফেলে বেসিক কমিয়ে দিলে শেষ পর্যন্ত শিল্পের মঙ্গল আসবে না এ কথা মালিকদের পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। পুলিশ ও মাস্তান দিয়ে নির্যাতন করে, মামলা ও গ্রেপ্তার করে এ আন্দোলন থামানো যাবে না। ষড়যন্ত্র ও ইন্ধনের গন্ধ খুঁজলে সমাধানের পথ পাওয়া যাবে না, বরং যে হারে ৭ম গ্রেডের মূল মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে একই হারে অন্যান্য গ্রেডের মূল মজুরি বৃদ্ধির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান করার আহ্বান জানানো হয়।

সৌদি যুবতীকে নিয়ে থাইল্যান্ডে তুলকালাম কান্ড

থাইল্যান্ডে আশ্রয় চাওয়া সৌদি আরবের যুবতী রাহাফ মোহাম্মদ আল কুনুনকে নিয়ে চলছে তুলকালাম কান্ড। তিনি জীবন বাঁচাতে আশ্রয় চেয়েছেন থাইল্যান্ডে। কিন্তু থাইল্যান্ড চায় তাকে ফেরত পাঠাতে। এ নিয়ে গলদঘর্ম থাইল্যান্ডের ইমিগ্রেশন বিভাগ। শেষ পর্যন্ত এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক এজেন্সি ইউএনএইচসিআর। তারা জানিয়েছে কুনুন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কয়েকদিন সময় লাগবে।
কুনুন কুয়েত থেকে বিমানযোগে থাইল্যান্ডে অবতরণ করেন এবং সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরের একটি হোটেলে অবস্থান করছেন। তার দাবি, পরিবার তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে।
এ জন্য তিনি থাইল্যান্ডে আশ্রয় চান। সোমবার তাকে কুয়েতগামী বিমানে ফেরত পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই তিনি হোটেলকক্ষে নিজেকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। বিপদে পড়ে থাই কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি আন্তর্জাতিক শিরোনামে পরিণত হয়। বাতিল হয়ে যায় কুনুনকে কুয়েতে ফেরত পাঠানো। এখন তাকে আশ্রয় দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক এজেন্সি মঙ্গলবার বলেছে, এমন আশ্রয়ের বিষয়টিতে সমাধানে আসতে কয়েকদিন সময় লেগে যেতে পারে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
রাহাফ মোহাম্মদ আল কুনুনের বয়স ১৮ বছর। তিনি বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ায় তার আশ্রয় চাওয়ার পরিকলনা ছিল। কারণ, তাকে যদি থাই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ফেরত পাঠায় তাহলে তাকে হত্যা করা হতে পারে। কিন্তু প্রথম দফায় থাই কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়ে দেয় তাকে সৌদি আরবে ফেরত পাঠানো হবে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্যুতবেগে ছড়িয়ে পড়ে। টুইটারে টুইট দেয়া হয়। বলা হয়, তিনি কিভাবে হোটেলকক্ষে নিজেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। এর ফলে থাই কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়। তারা জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনের (ইউএনএইচসিআর) অধীনে তাকে সোমবার বিমানবন্দর ত্যাগ করতে অনুমতি দেয়। এরপর থাই কর্তৃপক্ষ কুনুনকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেশে ফেরত পাঠায় নি বলে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ইউএনএইচসিআর। থাইল্যান্ডে ইউএনএইচসিআর এর প্রতিনিধি গসেপি ডি ভিসেনটিস বলেছেন, পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
উল্লেখ্য, শরণার্থীদের স্বাগত জানাতে বা তাদেরকে আশ্রয় দেয়ার জন্য জাতিসংঘের কোনো কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ নয় থাইল্যান্ড। তাই সেখানে যারা এমন আবেদন করেন তাদেরকে হয়তো তাদের নিজের দেশে ফেরত পাঠানো হয়, অথবা তাদেরকে তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসন করা হয়। তবে দ্বিতীয় ক্ষেত্রে বেশ কয়েক বছর সময় লেগে যায়।
ওদিকে ইউএনএইচসিআর মনে করে, কেউ আশ্রয় প্রার্থনা করলে তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার দেশে ফেরত পাঠানো উচিত নয়। এ বিষয়ে সৌদি আরবের দূতাবাস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করে নি। তবে টুইটারে তারা একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে। তাতে কুনুনের সঙ্গে সাক্ষাত করতে সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে কোনো কর্মকর্তাকে পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তারা। ওদিকে সৌদি আরব সরকারের মালিকানাধীন একটি টিভি চ্যানেলের এক কর্মকর্তা বলেছেন, কুনুনকে দেশে ফিরিয়ে নিতে দূতাবাসের সহায়তা চেয়ে যোগাযোগ করেছেন তার পিতা।
কুনুন বলেছেন, যদি তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয় তাহলে তাকে বন্দি করা হবে না হয় হত্যা করা হবে। কারণ, তিনি শুধু চুল কাটানোর কারণে ৬ মাস তাকে একটি রুমের মধ্যে একবার তালাবন্দি করে রেখেছিল তার পরিবার। ওদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ #সেভ রাহাফ সেনসেশনে পরিণত হয়েছে। সেখানে রাহাফ সরাসরি আপডেট দিচ্ছেন। ব্যাংকক বিমানবন্দরের ভিডিও আপডেট দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে তিনি ব্যবহার করছেন আরবি ও ইংরেজি দুই ভাষা। এরই মধ্যে তার এই হ্যাশট্যাগ অনুসরণ করছে ৮০ হাজারের বেশি মানুষ।
সোমবার তার টুইট একাউন্টে বলা হয়, ব্যাংকক পৌঁছেছেন তার পিতা। তবে এ খবরের সত্যতা নিরূপণ করা যায় নি।