Thursday, October 28, 2010

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করবে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে গত সোমবারই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এটি তৈরি করতে খরচ হবে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। আর এই কেন্দ্রে প্রতিদিন বিদ্যুৎ তৈরি হবে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট। এই বিদ্যুৎ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাড়ে সাত লাখ গ্রাহকের চাহিদা মেটানো যাবে। এতে কর্মসংস্থান হবে প্রায় ১০ হাজার লোকের।
মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যান সালাজার জানিয়েছেন, ব্লিথ সোলার পাওয়ার নামের ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা হবে মাহাভি মরুভূমিতে। ওই প্রকল্পের আওতায় সেখানে মোট চারটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। একেকটি কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা হবে ২৫০ মেগাওয়াট।

শরীরচর্চা কেন্দ্র চালু করছেন ম্যাডোনা

স্বাস্থ্যসচেতন মানুষদের শরীর ও মন চাঙ্গা রাখতে বেশ কয়েকটি শরীরচর্চা কেন্দ্র চালু করতে যাচ্ছেন পপ তারকা ম্যাডোনা। আগামী মাসে মেক্সিকো শহরে প্রথম কেন্দ্রটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে। নিউ ইভোলিউশন ভেঞ্চারস (এনইভি) নামে একটি সংস্থা ম্যাডোনার সঙ্গে অংশীদারির ভিত্তিতে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।
এনইভির চেয়ারম্যান মার্ক মাসত্রোভ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো একটি আদর্শ শরীরচর্চা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য ম্যাডোনার স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেওয়া। তাঁর সর্বশেষ অ্যালবাম ‘হার্ড ক্যান্ডি’র নামানুসারে এই কেন্দ্রের নামকরণ করা হবে।’

আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে অর্থসাহায্য দেওয়া হয়েছে: ইরান

আফগানিস্তানের পর এবার ইরান স্বীকার করেছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে তারা কাবুলকে নগদ অর্থসাহায্য দিয়েছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা আনার জন্য তারা এ সাহায্য করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রামিন মেহমানপারাস্ত গতকাল মঙ্গলবার এ কথা বলেছেন।
এর আগের দিন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ইরানের কাছ থেকে তাঁর চিফ অব স্টাফের অর্থ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এর মধ্যে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য নেই। বন্ধুপ্রতিম একটি দেশের কাছ থেকে সাহায্য হিসেবে এ অর্থ নেওয়া হয়েছে।
রামিন মেহমানপারাস্ত বলেন, আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ইরান উদ্বিগ্ন। দেশটির পুনর্গঠনে অর্থসাহায্য দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের পুনর্গঠন ও দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইরান তার দিক থেকে ভূমিকা পালন করেছে, ভবিষ্যতেও করবে। তবে সাহায্যের ধরন কেমন হবে, সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি।
হামিদ কারজাইয়ের স্বীকারোক্তির পর হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, অর্থ দিয়ে আফগানিস্তানের ব্যাপারে ন্যক্কারজনক হস্তক্ষেপ করছে ইরান।
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি মুখপাত্র বিল বার্টন বলেছেন, ‘আমি মনে করি, আফগানিস্তানে ইরানের ঘৃণ্য প্রভাবের ব্যাপারে মার্কিন জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ইরান সরকারের উচিত ছিল আফগানিস্তানের ব্যাপারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা। সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে আফগানিস্তানের মাটিকে ব্যবহার করা যাবে না—এটাই নিশ্চিত করা উচিত ছিল তেহরানের।
নিউইয়র্ক টাইমস গত শনিবার বলেছে, আফগান প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ উমর দাউদজাই ইরানের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নিয়ে আসছেন। এর মাধ্যমে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে তেহরান।

খাটো স্কার্ট পরলে জরিমানা

ইতালির সৈকতসংলগ্ন ক্যাসেলামেয়ার ডি স্টাবিয়া শহরে মেয়েদের অতিরিক্ত খাটো স্কার্ট পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গকারীদের জরিমানা করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার রক্ষণশীল মেয়র লুইগি বোবিওর উত্থাপিত এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব সিটি কাউন্সিলে অনুমোদিত হয়।
ইতালির সংবাদ সংস্থা এএনএসএ জানিয়েছে, সিটি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা শহরে ঢালাওভাবে মিনি স্কার্ট পরার ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেনি। তবে যেসব স্কার্ট পরলে মেয়েদের অন্তর্বাস সহজে নজরে আসে, সেসব মিনি স্কার্ট পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সিটি কাউন্সিলে পাস হওয়া আইনে বলা হয়েছে, কোনো নারী আইন ভেঙে এ-জাতীয় স্কার্ট পরে বের হলে তাকে ৪৪৫ পাউন্ড জরিমানা দিতে হবে।
মেয়র বোবিও বলেছেন, কতটুকু পরিমাণ খাটো স্কার্ট পরা শাস্তিযোগ্য হবে, তা বোঝার জন্য স্কার্ট মেপে দেখার দরকার হবে না। এটা বিচারের জন্য একঝলক দৃষ্টি বোলানোই যথেষ্ট হবে।
অতিরিক্ত খাটো স্কার্ট পরা ছাড়াও মেয়র বোবিও সরকারি পার্কে ফুটবল খেলা ও মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে, এমন কথা প্রকাশ্যে উচ্চারণ করার বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

উ. কোরিয়ার নেতা কিম ও তাঁর ছেলের গোপন পুলিশ সংস্থা পরিদর্শন

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-ইল এবং তাঁর ছেলে ও ক্ষমতার সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী কিম জং-উন সে দেশের গোপন পুলিশ সংস্থা পরিদর্শন করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার সে দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থায় এ খবর জানানো হয়।
ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে বাবা ও ছেলে কোরিয়ান পিপলস আর্মির ১০২১৫ নম্বর ইউনিট পরিদর্শন করেন। এই শাখা উত্তর কোরিয়ার গোপন পুলিশ সংস্থা হিসেবে কাজ করে। বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়, পরিদর্শনে ওই সংস্থার সদস্যদের প্রশংসা করেন কিম জং-ইল।
গত মাসেই দেশটির ক্ষমতাসীন দলের সম্মেলনে মাত্র ২৭ বছর বয়সী উনকে খুবই উঁচু পদ দেওয়া হয়। বার্তা সংস্থার খবরে উনের নাম বাবা কি জং-ইল ও সামরিক বাহিনীর প্রধান রি ইয়ং-হোর পরই লেখা হয়েছে।
এর আগে সোমবার বাবার সঙ্গে একটি জনসমাবেশে যোগ দেন উন। চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ৬০ বছরের সামরিক সহযোগিতার সম্মানে ওই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

নাপোলিকে হারিয়ে দুইয়ে মিলান

নাপোলি। এককালে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সৌজন্যে বিশ্বখ্যাতি পেলেও এখন আর বড় কোনো নাম নয়। তাতে অবশ্য এসি মিলানের জয়ের মাহাত্ম্য এতটুকু কমছে না। বরং পরশু ২-১ গোলের জয় বিভিন্ন কারণে মিলান শিবিরে ছড়িয়েছে আনন্দ। নাপোলির সান পাওলো স্টেডিয়ামে ১৩ বছর পর পাওয়া এই জয়ে ইন্টার মিলানকে টপকে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে গেল মিলান। গোল করেছেন রবিনহো, ও জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। তবে নায়ক অবশ্যই মাসিমো ওদো। সেরা একাদশে জায়গা এখনো পাকা করতে না পারা এই ৩৪ বছর বয়সী রাইট ব্যাক পরশু অপ্রত্যাশিতভাবে ১২ মিনিটেই বদলি হিসেবে নামেন। মিলানের দুটি গোলেই তাঁর বানিয়ে দেওয়া।

অ্যাশেজ এবার ইংল্যান্ডের ঘরেই যাবে: ল্যাম্ব

শুরু হয়ে গেছে কথার লড়াই। বোঝাই যাচ্ছে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ দ্বৈরথ অত্যাসন্ন। প্রতিবারের মতো মূল লড়াই শুরু হওয়ার আগেই কথার যুদ্ধে একে অন্যকে কুপোকাত করার চেষ্টায় রয়েছেন ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা। এ যেমন—সাবেক অসি পেসম্যান ডেনিস লিলির একটা মন্তব্যকে উড়িয়ে দিয়েছেন সাবেক ইংলিশ টেস্ট ব্যাটসম্যান অ্যালান ল্যাম্ব।
ডেনিস লিলি আসন্ন অ্যাশেজ সিরিজকে অস্ট্রেলিয়ার ঘরে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে ঘোষণার মতো করেই বলেছিলেন, ইংল্যান্ডের বোলিং শক্তিই তাঁদের অ্যাশেজ জিততে দেবে না। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার ২০টি উইকেট ফেলার মতো ক্ষমতা ইংলিশ বোলিংয়ের নেই।
লিলির এ মন্তব্যকে প্রত্যাখ্যানই করেছেন ল্যাম্ব। তিনি বলেছেন, ‘লিলি নিশ্চয়ই কড়া কিছু পান করেছে। তাই সে আবোল-তাবোল বকছে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘কাগজে-কলমে এবারের অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ইংল্যান্ড অনেক ভালো দল। দলটি সবদিক দিয়েই ব্যালেন্সড। আমার তো মনে হয়, এবারের অ্যাশেজে ইংল্যান্ড ৩-১ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে হারাবে।’
১৯৮৭ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাঠে অ্যাশেজ জয়ের সুবাতাস ইতিমধ্যেই পেতে শুরু করেছে ইংল্যান্ড। নিজেদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, আর ভারতের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার নাস্তানাবুদ হওয়া আশাবাদী করে তুলেছে তাঁদের। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে, ২০০৯ সালে নিজ মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে অ্যাশেজ জয়ের অনুপ্রেরণা।
এদিকে ডেনিস লিলি অস্ট্রেলিয়ার বোলিংকে ইংল্যান্ডের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রেখেছেন। তাঁর মতে, ‘ওয়ার্ন-ম্যাকগ্রার মতো বোলার হয়তো এ মুহূর্তে অসি দলে নেই। কিন্তু তার পরও অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ ইংল্যান্ডের চেয়ে ভালো। ইংল্যান্ডের অস্ট্রেলিয়া দলকে দুবার অল আউট করার ক্ষমতা নেই।’
তবে ১৯৮৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাঠ থেকে অ্যাশেজ জিতে আসা ইংল্যান্ড দলের অন্যতম সদস্য অ্যালান ল্যাম্ব মনে করেন, ডেনিস লিলির এ মন্তব্যের ভিত্তি খুব দুর্বল। লিলি বাস্তবতা বিচার না করেই এসব মন্তব্য করছেন। জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড, স্টিভেন ফিন ও ক্রিস ট্রেম্পলেটের সমন্বয়ে গড়া ইংলিশ বোলিং আক্রমণ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে কড়া।
আগামী ২৫ নভেম্বর ব্রিসবেনে মাঠে গড়াবে অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্ট।