Friday, August 30, 2019

আইটেম কন্যা ইয়ানা এখন ধর্মে-কর্মে মনোযোগী!

‘বাবুজি জেরা ধীরে চালো’- শীর্ষক আইটেম গানে খুল্লাম খুল্লা দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে রাতারাতি আলোচনায় চলে এসেছিলেন ইয়ানা গুপ্তা। একটি গানই তার জীবন বদলে দিয়েছিলো। হয়ে উঠেছিলেন বলিউডের শীর্ষ আইটেম কন্যা। ২০০৩ সালের ‘দাম’ ছবির এ গানটির পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একে একে অনেক আইটেম গানে দেখা গেছে তাকে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে মডেলিংয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ইউরোপিয়ান- ইন্ডিয়ান বংশদ্ভুত ইয়ানা। এরপর বলিউডে এন্ট্রি হয় তার। আইটেম গানের বাইরে বেশ কিছু ছবিতে অভিনয়ও করেছেন তিনি।
বলিউড ছাড়াও তামিল ও তেলেগু ছবিতেও কাজ করেছেন তিনি। সর্বশেষ ২০১১‘মার্ডার-২’ ছবির আইটেম গান ‘আ জারা’ তে দেখা গিয়েছিলো তাকে। এ গানটিতেও ইয়ানার পারফরমেন্স তুমুল আলোচিত হয়। কিন্তু এরপর আর বলিউড ছবিতে পাওয়া যায়নি তাকে। মধ্যে যদিও ছোট পর্দার রিয়্যালিটি শোতে দেখা মিলেছিলো তার। এদিকে কাজের বাইরেও বিভিন্ন কা- ঘটিয়েও আলোচিত ছিলেন ইয়ানা। বিশেষ করে একটি পার্টিতে অন্তর্বাস ছাড়াই শুধুমাত্র মিনি স্কার্টে হাজির হন। কিন্তু তিনি বসামাত্রই তার গোপনঅঙ্গ ক্যামেরাবন্দী হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন ইয়ানা। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে তোমন একটা খোাঁজ নেই ইয়ানার। কেমন আছেন, কোথায় আছেন তিনি? উত্তরটা সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে জানিয়েছেন তিনি খোদ। এক সময়কার দুর্দান্ত আইটেম কন্যা ইয়ানা এখন নিভৃতে জীবন যাপন করছেন। আড়ালে থাকতেই পছন্দ করছেন। তিনি ভারত ও আমেরিকা মিলিয়ে বসবাস করছেন। ইয়োগা ও মেডিটেনেই বেশিরভাগ সময় কাটে তার। শুধু তাই নয়, ধর্ম-কর্মেও মনোযোগী হয়েছেন তিনি। অনেকটা সময় তিনি ধর্ম পালনেও কাটান। ক্যামেরার সামনে এখন আর আসতে চান না বলেও জানিয়েছেন ইয়ানা।

আসামের এনআরসি থেকে বাদ পড়া ৮৯% মানুষ মানসিক নির্যাতনের শিকার, জরিপের তথ্য

আসামের ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন্স (এনআরসি) থেকে যে ৪১ লাখের বেশি মানুষ বাদ পড়েছে, এদের মধ্যে ৮৯% মানুষ মারাত্মক মানসিক নির্যাতনের মধ্যে রয়েছে, কারণ তারা বিদেশী ঘোষিত হওয়া এর পরবর্তী পরিণতি নিয়ে শঙ্কিত। ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন এগেন্সট টর্চার (এনসিএটি) তাদের এক জরিপে এ তথ্য জানতে পেরেছে।

১৬ থেকে ২০ জুলাই বাকসা, গোয়ালপাড়া এবং কামরুপ জেলাগুলোতে এনআরসি থেকে বাদ পড়াদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে একটা জরিপ চালায় এনসিএটি। এরপর শুক্রবার তারা জরিপের রিপোর্ট প্রকাশ করে, যেটার শিরোনাম হলো: “আসাম’স এনআরসি: ফোর মিলিযন টেলস অব মেন্টাল টর্চার, ট্রমা অ্যান্ড হিউমিলিয়েশান”।

যে ৯১ জনকের সাক্ষাতকার নেয়া হয়েছে, এদের মধ্যে ৮১ জন বলেছে যে, তারা চরম উদ্বেগ এবং ফেরত পাঠানোর ও পরিবারের সদস্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তাছাড়া ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল বা গোয়াহাটি হাই কোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের সামনে হাজির হওয়ার মতো আর্থিক সামর্থও তাদের নেই। বাকিদের মধ্যে নয়জন একই কারণে মাঝারি পর্যায়ের উদ্বেগ ও একজন স্বল্প পর্যায়ের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

এটার হিসেবে দেখা যাচ্ছে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৮৯% চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে, ১০% মাঝারি ধরণের এবং ১% স্বল্পমাত্রার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই উদ্বেগের কারণে ঘুমে সমস্যা হচ্ছে, ক্ষুধামন্দা দেখা দিয়েছে, তাদের কাজের প্রক্রিয়ায় সমস্যা হচ্ছে, এবং সামাজিকভাবে একটা লজ্জা ও বিচ্ছিন্নতার মধ্যে তারা অবস্থান করছে।

এনসিএটি কোঅর্ডিনেটর সুহাস চাকমা বলেন, “এনআরসি থেকে এখন যদি ৪১,১০,১৬৯ জন মানুষ বাদ পড়ে, তাহলে জরিপের অনুপাত অনুযায়ী ৩৬,৯৯,১৫২ জন ব্যক্তি চরম উদ্বেগের মধ্যে এবং ৪,১১,০১৭ জন মাঝারি ধরণের উদ্বেগের মধ্যে বাস করছে”।

‘নিষ্ঠুর কর্মসূচি’

জরিপে অংশগ্রহণকারী ৯১ ব্যক্তির সবাই বলেছেন খসড়া এনআরসি থেকে বাদ পড়ে তারা অপমানিত ও লজ্জিত বোধ করেছেন। এদের মধ্যে ৮৮ জনের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, ৮১ জন ফেরত পাঠানোর আতঙ্কে আছেন, আর ৫৫ জন বলেছেন তারা মানসিক ট্রমা ও ডিপ্রেশানে ভুগছেন।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭৭ জন বলেছেন, উদ্বেগের কারণে তাদের ঘুমের সমস্যা হচ্ছে, ৩৭ জন জানিয়েছেন এটা তাদের খাদ্যাভ্যাসের উপর প্রভাব ফেলছে এবং খাবারে অনীহা আসছে, ২২ জন বলেছেন এটা তাদের চিন্তার প্রক্রিয়া ব্যাহত করছে এবং ২৪ জন বলেছেন এটা তাদের কাজের ক্ষতি করছে।

এনসিএটি রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে চরম মানসিক নির্যাতনের কারণে ২০১৫ সালের জুলাই থেকে অন্তত ৩১ জন আত্মহত্যা করেছে।

কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ

ভারতশাসিত অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বেসামরিকদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠেছে নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা বলছেন, তাদের লাঠি দিয়ে পেটানো হচ্ছে, ইলেকট্রিক শক দেয়া হচ্ছে। বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এমন তথ্য ওঠে এসেছে। বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা তাদের শরীরে মারধরের চিহ্ন দেখিয়েছে বিবিসির প্রতিবেদককে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছে গ্রামবাসীদের এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন ও অপ্রমাণিত বলে আখ্যায়িত করেছে।

আগস্টের প্রথম সপ্তাহে সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদ করে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকার। সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ সেনা। পুরো অঞ্চলটি অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আটক করে রাখা হয়েছে। অনেককে রাজ্যের বাইরেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, সেখানে আইন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়।

বিবিসির প্রতিবেদক সামির হাশমী কাশ্মীরের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রায় ছয়টি গ্রাম ঘুরে দেখেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সেখানে ভারত-বিরোধী জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানকার বাসিন্দারা হাশমীকে জানান, প্রায়ই সেখানে গভীর রাতে অভিযান চালায় সেনারা। স্থানীয়দের মারধর ও নির্যাতন করে। মারধরে অসুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চান না স্থানীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। তবে গ্রামবাসীরা বিবিসিকে তাদের ক্ষত দেখিয়েছেন। জানিয়েছেন, নিরাপত্তাবাহিনীরা মারধর করে আহত করেছেন তাদের।

একটি গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সেনারা তাদের প্রত্যেকটি ঘরে ঢুকে তল্লাশি চালিয়েছে। সেখানকার এক পরিবারের দুই ভাই বলেন, সেনারা তাদের ঘুম থেকে তুলে বাইরে নিয়ে যায়। সেখানে আগ থেকে আরো প্রায় এক ডজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিল। নিজেদের নাম না প্রকাশের শর্তে ওই দুই ভাই বলেন, তারা আমাদের মেরেছে। আমরা বারবার জিজ্ঞেস করছিলাম যে, আমরা কী করেছি? কিন্তু তারা আমাদের কোনো কথা শোনেনি। তারা কেবল আমাদের মারতে ব্যস্ত ছিল।
দুই ভাইয়ের একজন বলেন, তারা আমার শরীরের সবখানে মেরেছে। তারা আমাদের লাথি মেরেছে, লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে, আমাদের ইলেকট্রিক শক দিয়েছে। আমাদের পায়ের পেছন দিকে লাঠি দিয়ে মেরেছে। আমরা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম। তখন আমাদের ইলেকট্রিক শক দিয়েছে। লাঠি দিয়ে পেটানোর সময় আমরা চিৎকার করায়, আমাদের মুখে কাঁদা ভরে দিয়েছে।

এক ভাই বলেন, আমরা তাদের বলেছিলাম আমরা নির্দোষ। আমরা জিজ্ঞেস করেছিলাম, তারা এসব কেন করছে? কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনেনি। আমি তাদের আমাদের মারতে মানা করেছিলাম। বলেছিলাম, আমাদের সরাসরি গুলি করে মেরু ফেলুন। আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে আমাকে তুলে নেয়ার প্রার্থনা করছিলাম। কেননা, ওই নির্যাতন অসহ্য ছিল।
অপর এক তরুণ গ্রামবাসী জানান, নিরাপত্তাবাহিনী বারবার থাকে জিজ্ঞেস করছিল, কারা পাথর ছুড়েছে তাদের নাম বলতে। উল্লেখ্য, ঘোষণার পরপরই কাশ্মীরে বিক্ষোভের দেখা দেয় ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর ছুড়ে বিক্ষোভকারীরা। ওই তরুণ সেনাদের বলেছিল, তিনি পাথর নিক্ষেপকারী স¤পর্কে কিছু জানেন না। তখন সেনারা তাকে তার চশমা, কাপড় ও জুতা খুলে ফেলার নির্দেশ দেন।
নাম না প্রকাশের শর্তে ওই তরুণ বলেন, আমি কাপড় খোলার পর তারা আমাকে রড ও লাঠি দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে নির্দয়ভাবে মেরেছে। মার খেয়ে আমি যখন অজ্ঞান হয়ে পড়েছি, তখন আমায় ইলেকট্রিক শক দিয়েছে। তারা যদি ফের আমার ওপর এমন নির্যাতন চালায়, তাহলে সব করতে রাজি আছি। আমি অস্ত্র হাতে তুলে নেবো। আমি প্রতিদিন এসব সহ্য করতে পারবো না।

ওই তরুণ বলেন, সেনারা তাকে সতর্ক করেছিল যে, গ্রামের কেউ যদি বিক্ষোভে অংশ নেয় তাহলে তাদেরও একই অবস্থা হবে। একথা যেন পুরো গ্রামকে জানিয়ে দেয়া হয়। বিবিসির প্রতিবেদক ওই গ্রামের বাকি যাদের সাথেই কথা বলেছেন তাদের সবাই বলেছে যে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গ্রামবাসীদের এমনভাবে ভয় দেখাতো যে কারোই বিক্ষোভ করার সাহস ছিল না।
এদিকে, বিবিসিকে দেয়া এক বিবৃতিতে গ্রামবাসীদের সকল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল আমান আনন্দ বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের নজরে পড়েনি। এই অভিযোগগুলো সম্ভবত ক্ষতিকর উদ্দেশ্য নিয়ে করা হচ্ছে। বেসামরিকদের প্রতিরক্ষা করতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপে কেউ হতাহত হয়নি।

কোম্পানীগঞ্জের বালু সিন্ডিকেট বেপরোয়া: মামলা নিয়ে উত্তেজনা, জেলে থাকা ইয়াকুবও আসামি by ওয়েছ খছরু

মাদক মামলায় পরোয়ানা ছিল আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে। তার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ ছিল পরিবার। শেষ পর্যন্ত ৩০শে জুন আইয়ুব আলীকে পুলিশে সোপর্দ করে পরিবারের সদস্যরা। সেই থেকে কারান্তরীণ আইয়ুব আলী। কিন্তু কারাগারে থেকেও বুধবার কোম্পানীগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলার আসামি হলেন তিনি। এ মামলার পর  থেকে কোম্পানীগঞ্জে তোলপাড় চলছে। একই সঙ্গে নদীতে নৌকায় চাঁদাবাজি নিয়ে উত্তেজনাও চলছে। মামলা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।
আর এই আলোচনায় পুলিশ হচ্ছে বিতর্কিত। প্রায় তিন মাস আগে কোম্পানীগঞ্জের ভাটরাই মৌজা মাত্র ১৬ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আপ্তাব আলী কালা মিয়া। এরপর থেকে শুধু ভাটরাই নয়, পার্শ্ববর্তী কালাইরাগ, কালাসাদেক মৌজার সব জায়গায় বালু লুটপাট শুরু হয়। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমদের দাবি- মাত্র ১৬ লাখ টাকা লিজ নিয়ে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ কোটি টাকার বালু লুটপাট করা হয়েছে। বালু সম্পর্কে তিনি নিজেও বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছেন। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে পরিবেশের ক্ষতি করে বালু উত্তোলন বন্ধের তাগিদ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন কারো নির্দেশ পালন করেনি। স্থানীয় নৌকা শ্রমিকদের নেতা ফয়জুল বারী জানিয়েছেন- ভাটরাই মৌজায় এখন আর বালু নেই। কালাইরাগ ও কালা সাদেক মৌজা লুটপাট করা হয়েছে। এখন বালু সিন্ডিকেট নজর দিয়েছে রেলওয়ের সংরক্ষিত ‘বাঙ্কার’ এলাকায়। বাঙ্কারে বালু উত্তোলনে প্রতিবাদ করেছে এলাকার মানুষ। বুধবার এলাকার কিছুসংখ্যক মানুষ গিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানায়। এ সময় বালু লুটপাটকারী চাঁদাবাজরা হামলা চালায়। পরে তারা থানায় চাঁদাবাজির মামলা করে। আর এ মামলায় তারা পাড়ুয়া মাঝপাড়া গ্রামের ছমছু মিয়া চৌধুরীর ছেলে আইয়ুব আলীকে আসামি করেছে। আইয়ুবের ভাই জানিয়েছেন- চাঁদাবাজরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা টাকা দিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ মামলা করেছে। শ্রমিকরা জানিয়েছেন- প্রশাসন বারবার অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে। সম্প্রতি ‘বাঙ্কার’ এলাকায় আঘাত করেছে বালুখেকো সিন্ডিকেটরা। এ নিয়ে কোম্পানীগঞ্জে উত্তেজনা দেখা দেয়। আর ধলাই ব্রিজের নিচে বালু নৌকা থেকে অবাধে চাঁদাবাজি করা হচ্ছিল। ওখানে নৌকা থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছিল। স্থানীয় কয়েক যুবক বুধবার এই চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করলে চাঁদাবাজির মূল হোতা রোমান আহমদ ও তার লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে কোম্পানীগঞ্জ গ্রামের রোমান আহমদ বাদী হয়ে ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার আসামিদের মধ্যে পাড়ুয়া উজানপাড়া গ্রামের সুজন মিয়াকে থানায় ডেকে এনে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামি অন্যরা হচ্ছে- মিন্টু মিয়া, হুমায়ুন আহমদ, আরিফ মিয়া, নাসিরুল, আইয়ুব আলী, মনির হোসেন ও লায়েক আহমদ। মামলার আসামি লায়েক আহমদ ঘটনার দিন ছাতকের গোবিন্দগঞ্জের মাহবুব কমিউনিটি সেন্টারে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলেন। লায়েক জানান- তিনি ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। অথচ তাকে আসামি করা হয়েছে। ভলগেট নৌকা ইঞ্জিন মালিক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন- ধলাই নদীতে ৭-৮টি স্থানে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। এই চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রায় সময়ই হামলার শিকার হচ্ছে নৌকার মালিক ও শ্রমিকরা। এ ব্যাপারে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাননি। গত মঙ্গলবার তাদের এক শ্রমিকের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করা হয়েছে দাবি করেন তিনি। বারকি শ্রমিক ফয়জুল বারী অভিযোগ করেছেন- রিপন ও আজিমের নেতৃত্বে রুমান, শাহীন, আবিরসহ কয়েকজন ধলাই নদীতে চাঁদাবাজি করছে। প্রতিদিন তারা প্রায় ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করছে বলে জানান তিনি। এদিকে- মামলার বাদী রুমান আহমদ মানবজমিনকে জানিয়েছেন- ইয়াকুব ঘটনাস্থলে ছিল বলে মামলার সাক্ষী আল আমিন তাকে নিশ্চিত করেছে। এ কারণে তিনি ইয়াকুবকে মামলার আসামি করেছেন। প্রয়োজনে তিনি এ ব্যাপারে আদালতে লিখিত দরখাস্ত দেবেন বলে জানান। তার নৌকায় জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- মামলায় কারান্তরীণ কেউ আসামি হলে তাকে অভিযুক্তদের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে। তদন্ত করে বিষয়টি দেখা হবে বলে জানান তিনি।

বৃটেনে পার্লামেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্তে: ক্ষোভ, পদত্যাগ, আইনি চ্যালেঞ্জ

পার্লামেন্ট স্থগিত করার সিদ্ধান্তে বৃটেনে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এমপিদের মধ্যে এবং চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট সম্পাদনের বিরোধীদের মধ্যে। বিক্ষোভ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এ বিষয়ক একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ। আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন ব্যবসায়ী গিনা মিলার। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন স্কটল্যান্ডে তার দল কনজার্ভেটিভ নেতা মিসেস রুথ ডেভিডসন। পার্লামেন্ট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত জনসন ঘোষণা দেয়ার কযেক ঘন্টা পরেই তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একে বরিস জনসনের জন্য প্রচ- এক আঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছে অনলাইন স্কাই নিউজ।
বলা হচ্ছে, এ কারণে জনসনকে স্কটল্যান্ডের জাতীয় নির্বাচনে ডজনখানেক আসন হারাতে হতে পারে।

অনলাইন বিবিসির খবরে বলা হচ্ছে, সরকারের দাবি সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ৫ সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিত থাকলেও ব্রেক্সিট সম্পাদনের বিতর্কের জন্য সময় থাকবে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট যাতে এমপিরা আটকে দিতে না পারেন, তা থামাতে সরকারের এটি একটি অগণতান্ত্রিক প্রচেষ্টা। মন্ত্রীপরিষদের সদস্য মাইকেল গভ বিবিসিকে বলেছেন, বুধবার রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ পার্লামেন্ট স্থগিত করার আবেদন অনুমোদন দিয়েছেন। এটা অবশ্যই বিরোধীদের সামনে বাধা সৃষ্টির জন্য কোনো রাজনৈতিক উদ্যোগ নয়। তিনি বলেন, ৩১ শে অক্টোবর ব্রেক্সিট সম্পাদনের শেষ সময়সীমা। ফলে ব্রেক্সিট নিয়ে আলোচনার জন্য ‘প্রচুর সময়’ থাকবে।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, পার্লামেন্টের স্থগিতাদেশের পর আগামী ১৪ই অক্টোবর বক্তব্য রাখবেন রাণী। তাতে তিনি তার ‘অতি চমৎকার এজেন্ডা’ তুলে ধরবেন। রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে বৈঠকের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন হাউজ অব কমন্সের নেতা জ্যাকব রিজ-মগ। তিনি বলেছেন, ৪০০ বছরের মধ্যে এই পার্লামেন্ট সেশন দীর্ঘস্থায়ীর দিক থেকে অন্যতম। তাই এটা স্থগিত করা ও নতুন করে সেশন শুরু করার অধিকার আছে। তিনি ডেইলি টেলিগ্রাফে একটি নিবন্ধে বলেছেন, যারা ২০১৬ সালের গণভোটের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে শুধু তাদের কারণেই এক্ষেত্রে সাংবিধানিক সংকট দেখা দিচ্ছে।

ওদিকে বিরোধী দল লেবার নেতা জেরেমি করবিন সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকার আমাদের গণতন্ত্রকে কেড়ে নিচ্ছে। এর উদ্দেশ্য পার্লামেন্টে আইন পাস করার জন্য এমপিদের যথেষ্ট সময় না দিয়ে একটি চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট সম্পাদন করা। তিনি এই স্থগিতাদেশ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সিদ্ধান্তে আদালতে জুডিশিয়াল রিভিউ আবেদন করেছেন ব্রেক্সিট বিরোধী প্রচারক গিনা মিলার। তিনি এর আগে অনুচ্ছেদ ৫০ নিয়ে আইনি লড়াইয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। তার ওই আইনি লড়াইয়ের ফলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ব্রেক্সিট ইস্যুতে পার্লামেন্টে ভোট দিতে বাধ্য হন। 

রাজনীতিকদের প্রতিক্রিয়া কি?
হাউজ অব কমন্সের স্পিকার জন বারকাউ এমন অবস্থাকে একটি ‘সাংবিধানিক ক্ষোভ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উল্লেখ্য, তিনি সাধারণত রাজনৈতিক বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেন না। অন্যদিকে কনজার্ভেটিভ দলের সাবেক চ্যান্সেলর ফিলিপ হ্যামন্ড সরকারের এ উদ্যোগকে বড় ধরণের একটি অগণতান্ত্রিক কাজ বলে উল্লেখ করেছেন। লিবারেল ডেমোক্রেটিক দলের নেতা জো সুইনসন বিবিসিকে বলেছেন, চুক্তিবিহীন একটি ব্রেক্সিট সম্পাদনের জন্য পার্লামেন্টে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কণ্ঠকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য প্রস্তুত প্রধানমন্ত্রী। স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জন বলেছেন, সরকারের পরিকল্পনা থামাতে আগামী সপ্তাহে অবশ্যই একত্রিত হতে হবে এমপিদের। অথবা এটা হবে বৃটেনের গণতন্ত্রের ইতিহাসের একটি অন্ধকার অধ্যায়। ওদিকে বুধবার সন্ধ্যায়ই ওয়েস্টমিনস্টারে বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় পার্লামেন্ট স্থগিতকরণকে অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যায়িত করে স্লোগান দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে- ‘অভ্যুত্থান থামাও’। এ সময় লোকজনের হাতে ছিল ব্রেক্সিট বিরোধী প্লাকার্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা। এই বিক্ষোভ পার্লামেন্টের বাইরে শুরু হয়ে তা ডাউনিং স্ট্রিটের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকে বিবিসির সাংবাদিক রিচার্ড গালপিন পরিস্থিতিকে শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।

নিশ্চিত গন্তব্যে এগিয়ে যাচ্ছে আফগান দাবার বোর্ড by সালমান রাফি শেখ

যদিও কিছু মূলধারার পশ্চিমা মিডিয়া এবং কিছু নেতৃস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানদের মধ্যকার প্রায় চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে এখনও সন্দেহ পোষণ করে যাচ্ছেন, তবে দোহা-৯ আলোচনা এখনও চলছে এবং এখান থেকে কিছু অসামান্য গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলের আশা করা হচ্ছে, যেটা শুধু মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নয়, বরং আফগানিস্তানের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন পক্ষ এরই মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেটা আরও স্পষ্ট হয়েছে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের সাম্প্রতিক হামলার পর। হামলায় কয়েক ডজন মানুষ মারা গেলেও সেটা আলোচনার উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি, যদিও পরে ‘ইসলামিক স্টেট কর্তৃক’ দেশের কর্তৃত্ব নেয়ার বিষয়ে আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে।

চুক্তিটা যে এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০ আগস্ট হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে সেটা জানিয়েছেন। ট্রাম্প যেভাবে আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছেন যে আফগানিস্তানে সব কিছু সঠিকভাবেই চলছে, তাতে বোঝা গেছে যে তিনি আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বেশ কিছুকাল ধরেই উদ্দেশ্যটা স্পষ্ট হলেও, আরও কিছু বিষয় স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প, তাতে একটা ধারণা পাওয়া গেছে যে ভবিষ্যতের চেহারাটা কেমন হতে পারে।

এ সবের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই ধারণা যে, এতদিন যে ‘আফগান নেতৃত্বাধীন ও আফগান কর্তৃত্বাধীন’ সংলাপের কথা বলা হয়েছে, সে ধারণা এখন মৃত। তালেবানরা অব্যাহতভাবে আফগান সরকারের সাথে আলোচনার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যাদেরকে তারা অবৈধ মনে করে এবং যতটুকু বা বৈধতা ছিল অব্যাহতভাবে নির্বাচন স্থগিত করার কারণে সেটাও তারা হারিয়েছে।

ট্রাম্প বলেছেন, “তালেবানরা আফগান সরকারকে শ্রদ্ধা করে না। আফগান সরকারের জন্য তাদের কোন শ্রদ্ধা নেই। আমি সেটা বুঝি এবং আমি সেটা জানি। এবং তারা দীর্ঘ সময় ধরে ঠিক সেভাবে একসাথে থাকতে পারেনি”।

এমনকি তিনি যদিও তালেবান এবং আফগান সরকারের মধ্যে যোগাযোগ না থাকার কথা বলেছেন, তবে তিনি কোনভাবেই উল্লেখ করেননি যে, তারা বা অন্য কোন দেশ – পাকিস্তান ও কাতার – কোনভাবে তালেবানদের চাপ দিচ্ছে বা চাপ দেয়ার ইচ্ছে রয়েছে যাতে তারা আফগান সরকারের সাথে আলোচনায় অংশ নেয়। এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে ‘যথেষ্ট’ সময় পার করেছে এবং তালেবানরা যদি আফগানিস্তানের রাজনীতিতে প্রাধান্য বিস্তার করে – যেটা তারা করবে – সে অবস্থাতেই তালেবানদের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তাদের সাথে বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোন সমস্যা নেই।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই আত্মবিশ্বাস জন্মেছে যে, তালেবানরা তাদের লড়াই অব্যাহত রাখবে না এবং তারা বরং এটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে যাতে আফগানিস্তান প্রাক ৯/১১ পরিস্থিতিতে ফিরে না যায়। ট্রাম্প বলেছেন, “আর তালেবানরা যদি সত্যিই সঠিক হয় – যেটা তারা বলছে, তাহলে তারা সেটা ঘটতে দেবে না। কারণ তারা সহজেই সেটা করতে পারবে”।

এটা শুনতে অদ্ভুত শোনালেও এই সম্ভাবনাটা বাড়ছে যে, ইসলামিক স্টেট যাতে নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে, সেটা ঠেকানোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র তালেবানকে সহযোগিতাও করতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যদিও সরাসরি সে রকম কোন ইঙ্গিত দেননি, তবে সেনা প্রত্যাহার পরবর্তীকালে আফগানিস্তানে শক্তিশালী গোয়েন্দা উপস্থিতি রাখার কথা তিনি বলেছেন, যারা তালেবানদের উপর নজরদারীর সাথে সাথে ইসলামিক স্টেটের শক্তিবৃদ্ধির উপরও নজর রাখবে। আর যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে যে তালেবানরা এই আইএসকে প্রতিহত করতে পারবে।

একটা পর্যায়ে এবং একটা জায়গাতে সে কারণে একটা অভিন্ন শত্রু আইএসের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই একটা যৌথ প্রচেষ্টায় রূপ নিতে পারে, যেখানে মার্কিন গোয়েন্দারা তালেবানদের সহযোগিতা করবে, যারা মূলত অধিকাংশ যুদ্ধ পরিচালনা করবে।

অন্যভাবে বললে, তালেবানদের দেয়ার মাধ্যমে এবং ঘানি প্রশাসনকে অবজ্ঞা করার মাধ্যমে একটা চুক্তি তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে, যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে সহায়তা দেয়ার এবং দেশে তাদেরকে নতুন মিত্র বানানোর আশা করছে, যদিও এই মিত্রতার মধ্যে গভীর সমন্বয়ের অভাব থেকেই যাবে।

সেনা প্রত্যাহার-পরবর্তীকালেও যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানদের মধ্যে একটা সহযোগিতার সম্পর্ক থাকার অর্থ হলো দুই পক্ষের মধ্যে এই সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকাও এখানে সক্রিয় থাকবে, যে দুই পক্ষ দুই দশক ধরে একে অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। এর আরেকটি অর্থ হলো আফগানিস্তান নীতির ক্ষেত্রে পাকিস্তানের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতাও জারি থাকবে। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্টের প্রথম দুই বছরে শীতল সম্পর্কের পর তাদের এ উপলব্ধি হয়েছে যে, পাকিস্তানের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্র যে হঠাৎ করে পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক উষ্ণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা নিজেরই একটা পরিষ্কার ইঙ্গিত যে, পরবর্তী মার্কিন নির্বাচনের আগে যুদ্ধ শেষ করার ব্যাপারে হোয়াইট হাউজ এবার অনেক সিরিয়াস।

সে কারণেই এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিদ্যমান সকল উপায় ও পন্থা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। এর মধ্যে তালেবানদের সাথে বন্ধুত্ব এবং ঘানি সরকারকে পরিবর্তিত স্বার্থের বেদিতে উৎসর্গ করাটাও রয়েছে, যেমন, দীর্ঘতম যুদ্ধ লড়ার পর এখন সেটা শেষ করার জন্য যাদের সাথে তারা চুক্তি করছে, গতকাল তারা ছিল ‘সন্ত্রাসী, আজ তারা ‘গেরিলা’ আর আগামীকাল তারা ‘মিত্র’ হতে চলেছে।

প্রত্যাবাসন নিয়ে কীভাবে এগুতে চায় বাংলাদেশ: -ব্রিফিংয়ে কূটনীতিকদের জিজ্ঞাসা

দ্বিতীয় দফায় প্রত্যাবাসন চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বাংলাদেশ এখন কিভাবে এগিয়ে যেতে চায়? মোটাদাগে সেটাই জানতে চেয়েছেন ঢাকাস্থ বিদেশি কূটনীতিকরা। গতকাল বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের ব্রিফিংয়ে তারা এটা জানতে চান। মিয়ানমারের অস্পষ্টতা এবং বর্মী বর্বরতায় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মাঝে আস্থা পূণঃপ্রতিষ্ঠায় নেপি’ডর ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশের পূর্ণ প্রস্তুতি সত্ত্বেও প্রত্যাবাসান হয়নি বলে দুনিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথা সরকার ওই কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেছিল। ব্রিফিংয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং আঞ্চলিক সংগঠনের প্রতিনিধি আমন্ত্রিত ছিলেন। মন্ত্রী মোমেনের সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. শহীদুল হক, সচিব মাহবুব-উজ-জামান সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছিলেন। ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো, বৃটেনের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার খানবার হোসেইন বরসহ বিভিন্ন দেশের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকরা ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। তবে সেখানে মিয়ানমারের কোন প্রতিনিধি ছিলেন না।

কূটনীতিকদের বিদায়ের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. মোমেন গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে অবহিত করেন।
দেশি-বিদেশি অন্য কূটনীতিকরাও এ বিষয়ে আনানুষ্ঠানিভাবে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সূত্র মতে, বৈঠকে মন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। জবাবে কূটনীতিকরা ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার জন্য বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যে উজ্জ্বল হয়েছে সেটি পূনরুল্লেখ করে সরকার এবং জনগনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত ছিল সেটি ব্যাখ্যা করেন, আমরা যা করেছি তা দুনিয়া দেখেছে। আমাদের সব কিছু অত্যন্ত স্বচ্ছ ছিল। মাঠ পর্যায়ে প্রত্যাবাসনের জন্য লজিস্টিক থেকে শুরু করে যেসব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল- তা চীন এবং মিয়ানমারের প্রতিনিধি সরজমিনে প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের জানান মন্ত্রী। তিনি এ-ও বলেন, প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের লজিস্টিক সাপোর্ট দেয়া ছাড়া অন্য কিছু করার নেই।

প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গাদের রাজী করানো, রাখাইনে প্রত্যাবাসনের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি, মিয়ানমার সরকারের কার্যক্রমে বাস্তুচ্যুতদের মাঝে যে আস্থা সঙ্কট তৈরি হয়েছে- সেটি দূর করা একান্তভাবেই মিয়ানমারের দায়িত্ব। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ কী করতে পারে? মন্ত্রী এ নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ, আলোচনা এবং পরবর্তী সংলাপ চলবে জানিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি সঙ্কট উত্তরণে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক এবং মানবিক সাপোর্ট অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে এই সঙ্কট যারা সৃষ্টি করেছে সেই মিয়ানমার যেন তার দায়বদ্ধতা এবং অঙ্গীকারের বাস্তবায়নে বাধ্য হয় অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং অধিকারের সঙ্গে তাদের স্ব-ভূমে (রাখাইনে) ফেরত নেয় সেই চাপ অব্যাহত রাখতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। সূত্র মতে, উপস্থিত কূটনীতিকরা মন্ত্রীর দীর্ঘ এবং খোলামেলা বক্তব্য অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। অন্যান্য ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন বা মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া সময় ভিন্নমত এলেও গতকাল ছিল ব্যতিক্রম। সেখানে মন্ত্রীর বক্তব্যের পর বৃটেন, ইতালী, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা কথা বলেছেন। তারা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াই দিয়েছেন। একই সঙ্গে এ ইস্যুতে বাংলাদেশের পরবর্তী পদক্ষেপ আরও স্পষ্টভাবে জানার আগ্রহ ছিল তাদের। মন্ত্রী সেটি স্পষ্ট করার যথা সম্ভব চেষ্টা করেছেন বলে আনুষ্ঠানিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দাবি করেছেন।

মিয়ানমার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রমাণ দিক: এদিকে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী  ড. মোমেন বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নতুন কিছু বলিনি। আমরা বলেছি, মিয়ানমার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাখাইনে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করবে, তাদের লোকদের বুঝিয়ে ফেরত নেবে, তাদের মুক্তভাবে চলাফেরার ব্যবস্থা করবে সেটা যাতে তারা দুনিয়াকে দেখায়। মোমেনের ভাষায়- বিদেশি বন্ধুদের আমরা বলেছি, মিয়ানমার বলছে, তারা প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। কিন্তু রোহিঙ্গারা সেটা বিশ্বাস করেনা। ফলে তারা যেতে রাজী না। তারা তাদের সরকারের কথায় বিশ্বাস করাতে পারছে না। আমরা মিয়ানমারকে বলছি- তোমরা নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যম কিংবা জাতিসংঘের সংস্থা কিংবা অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের রাখাইন ঘুরিয়ে নিয়ে আসো। তোমরা রোহিঙ্গাদের জন্য যে ব্যবস্থা নিয়েছো, তা তারা দেখুক। রোহিঙ্গা নেতাদেরও রাখাইন থেকে ঘুরিয়ে আনার প্রস্তাব আমরা দিয়েছি। কারণ, এক সময় তারা নিপীড়িত হয়েছিল, তাদের লোকদের হত্যা করা হয়েছে। এজন্য রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা চায়। সেখানে মুক্তভাবে চলাফেরার স্বাধীনতা চায়। এসব বিষয় নিশ্চিত করবে বলে মিয়ানমার বারবার আমাদের আশ্বস্ত করেছে। তাই যদি হয় তাহলে একটা দলকে নিয়ে তারা দেখায় না কেন? পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা এখনও প্রস্তুত। সব সময় ফেরত পাঠাতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, বিদেশি কূটনীতিকদের বলেছি, রোহিঙ্গাদের জন্য আমাদের যা যা করার আমরা তা করে যাব, করছি। কিন্তু বিশ্ব নেতাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। বিশ্ব সমপ্রদায়কে আমরা অনুরোধ জানিয়েছি, এই সমস্যা মোকাবিলায় তারা যেন আরও উদ্যোগী হয়। কারণ, এই সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, সকলের। রোহিঙ্গাদের ফেরতে নিতে মিয়ানমার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা পালন করতে যেন  দেশটিকে বাধ্য করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের ওপর বিশ্বাস রাখছে বাংলাদেশ। কারণ, বিশ্ববাসী আমাদের সাহায্য করছে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত তৈরি হয়েছে। পুরো বিশ্ব আমাদের সমর্থন করছে-এটা স্বীকার করতেই হবে। আমাদের অবস্থান অত্যন্ত তুঙ্গে। বিশ্ব জনমত আমাদের প্রতি আছে বলেই মিয়ানমার সমাধানের জন্য বারবার আমাদের কাছে আসছে। ড. মোমেন আরও বলেন, প্রশ্ন থেকে যায়, দুনিয়া যদি বাংলাদেশের সঙ্গেই থাকে তাহলে একজন রোহিঙ্গাকেও দু’বছরে ফেরত পাঠানো গেলো না কেন? নিজেই ফের বলেন, সময় লাগছে। দুনিয়া কাউকে জোর করে সীমান্তের ওপরে ঠেলে দিতে পারে না। বাংলাদেশও তা করবে না। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করে যাব। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। সময় লাগছে তবে আমরা আশাবাদী। আগেও এ সমস্যার সমাধান হয়েছে। তখন স্বল্প সংখ্যা, আড়াই লাখ ছিল। এখন ১২ লাখ। তবে আমাদের বিশ্বাস, আমরা এই সমস্যার সমাধানে সফলকাম হবো। অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করা এনজিওরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করলে অর্থাৎ ভিন্ন কিছু করার প্রমাণ পেলে বাংলাদেশ অবশ্যই কঠোর হবে। সে যেই হোক না কেন।

চীনের মধ্যস্থতায় আবারও বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার: এদিকে অপর প্রশ্নে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, চীন নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তারা ফের মধ্যস্থায় উদ্যোগী হয়েছে। চীনের প্রস্তাব হচ্ছে- তাদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ মিয়ানমার আলোচনা-বৈঠক। ড. মোমেন বলেন, বৈঠকের দিন-তারিখ এখনও ঠিক হয়নি। চীনের রাষ্ট্রদূত আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। এ নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমরা রাজী। এখন চীন মিয়ানমারের সঙ্গে সঙ্গে আলাপ করে আমাদের জানাবেন। কোথায় বৈঠকটি হচ্ছে নিউইয়র্ক না ঢাকায়? মানবজমিনের এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, তা এখনও ঠিক হয়নি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষ্যে আগামী মাসে নিউইয়র্কে যাচ্ছে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি হওয়ার আলোচনা রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, চীন বলেছে, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে বাংলাদেশের পাশে আছে। মিয়ানমার এবং বাংলাদেশ উভয় দেশই তাদের বন্ধু। এ সমস্যা দূর করতে একযোগে কাজ করব তারা। চীনের রাষ্ট্রদূত লি দিনের শুরুতে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। উল্লেখ্য, চীনের মধ্যস্থতায় তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর উপস্থিতিতে গত দ’বছরে অন্তত ৩ দফা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

চীনের নতুন দূত যা বললেন- এদিকে কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে অংশ নেয়ার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের বৈঠক হয় চীনের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের সঙ্গে। এটি ছিল মন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ। মন্ত্রীর দপ্তরে বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার পথে রাষ্ট্রদূত বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই সমাধানের পথ খোঁজাসহ ‘বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে’ তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে তারা গঠনমূলক ভূমিকা রাখবেন বলেও জানান রাষ্ট্রদূত। চীনের মধ্যস্থতায় গত ২২ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় প্রত্যবাসন চেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার পর ফের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক প্রস্তাব করেছে চীন। উল্লেখ্য, বর্তমানে ১১ লাখেরও বেশি মিয়ানমারের নাগরিক বাংলাদেশে অস্থায়ী আশ্রয়ে রয়েছেণ। শুরুতে মানবিক কারণে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিলেও অধিক জনসংখ্যার ছোট এই দেশে তাদের দীর্ঘসময় ধরে আশ্রয় দেয়া সম্ভব নয় বলে দুনিয়াকে সাফ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বরিস জনসন বনাম পার্লামেন্ট

বৃটেনের রাজনীতি নাটকীয় মোড় নিয়েছে। বুধবার প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পার্লামেন্ট স্থগিতের কার্যক্রম শুরু করেছেন। যা শেষ অবদি কার্যকর হলে, ব্রেক্সিট অর্থাৎ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বৃটেনের প্রস্থান বিষয়ে বিতর্কের জন্য অনেক কম সময় পাবেন এমপিরা। আইনানুযায়ী ৩১শে অক্টোবর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইইউ থেকে বের হয়ে যাবে বৃটেন। তার আগ পর্যন্ত মোট ৫ সপ্তাহের জন্য স্থগিত থাকবে পার্লামেন্ট। অর্থাৎ পার্লামেন্ট কার্যকর থাকবে মাত্র ৪ সপ্তাহ। রাজনীতিকদের মধ্যে যারা চান বৃটেন ইইউতে থেকে যাক, তারা এই পদক্ষেপকে ‘অভ্যুত্থান’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এমনকি ব্রেক্সিটের পক্ষের কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর ওই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন।
এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

খবরে বলা হয়, সদ্য প্রধানমন্ত্রী পদে আসা জনসন ১৪ই অক্টোবর থেকে নতুন পার্লামেন্টারি অধিবেশন শুরু করতে চান। ফলে ৩ সপ্তাহব্যাপী শরত বিরতির পর পার্লামেন্ট পুনরায় চালু হওয়ার কথা থাকলেও, জনসনের সিদ্ধান্তের কারণে ১০ই সেপ্টেম্বরেই পার্লামেন্ট স্থগিত হবে। ফলে এত অল্প সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে বেগ পেতে হবে এমপিদের। বিশেষ করে, এমপিদের অধিকাংশই চান কোনো অবস্থাতেই যেন চুক্তিব্যতিত ইইউ থেকে প্রস্থান না করে বৃটেন। তারা চান এ বিষয়টি নিশ্চিত করে আইন পাস করতে। কিন্তু এত অল্প সময়ের মধ্যে তেমন কিছু করা কঠিন।
বিবিসির খবরে বলা হয়, শরতের সময় পার্লামেন্ট এমনিতেই কয়েক সপ্তাহের বিরতিতে চলে যায়। কিন্তু এখন এটি ভিন্ন বিষয়। ইতিহাসের খুবই গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে দাঁড়িয়ে আছে বৃটেন। ঠিক তখনই বরিস জনসন বর্তমান অধিবেশনের মেয়াদ কমানোর ব্যবস্থা করলেন।
এর আগে ২৯শে মার্চ ইইউ থেকে প্রস্থানের কথা ছিল বৃটেনের। তবে ইইউর সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে যে চুক্তিতে সম্মত হয়েছিলেন, তা তিনবার প্রত্যাখ্যান করে পার্লামেন্ট। অগত্যা, প্রস্থানের ডেডলাইন ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত নিয়ে যেতে বাধ্য হন মে। কিন্তু প্রস্থান প্রচারাভিযানের অন্যতম শীর্ষ নেতা বরিস জনসন আর সময়সীমা বাড়াতে চান না। তিনি বলছেন, ইইউর সঙ্গে চুক্তি শেষ অবদি চূড়ান্ত হোক আর না হোক, তিনি ৩১শে অক্টোবরের মধ্যেই বৃটেনকে ইইউ থেকে বের করিয়ে আনবেন।
তবে পার্লামেন্টের বেশিরভাগ বিরোধী দলীয় সদস্য ও শাসক দল কনজারভেটিভ পার্টিরও অনেক সদস্য চান না, কোনো চুক্তি করা ব্যতিত ইইউ থেকে বের হয়ে যাক বৃটেন। তাদের বক্তব্য, চুক্তিব্যতিত ইইউ থেকে প্রস্থান করলে বৃটেনের অর্থনীতিতে ধস নামবে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। পাশাপাশি, যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার ইইউতে প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে যাবে। ফলে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হুমকিতে পড়বে। মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে।
এই এমপিরা বলছেন, চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট যেন না হয় সেজন্য সকলে মিলে আইন পাস করবেন তারা। তা সম্ভব না হলে, অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে জনসন সরকারের পতন ঘটাবেন তারা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনসন পার্লামেন্ট অধিবেশনের মেয়াদ কমানোর ওই পদক্ষেপ নিলেন। কিন্তু তার পক্ষের ব্যক্তিরা বলছেন, পার্লামেন্ট স্থগিতের এই পদক্ষেপ অস্বাভাবিক কিছু নয়; বরং প্রত্যেক নতুন প্রধানমন্ত্রীই প্রথানুযায়ী তা করে থাকেন।
কিন্তু পার্লামেন্ট স্থগিত করা কি বৈধ? বিবিসি বলছে, হ্যাঁ। সাধারণত, কোনো অধিবেশনের শেষ ও পরবর্তী অধিবেশনের শুরু নাগাদ পার্লামেন্ট স্থগিত থাকে। কিন্তু বিদ্যমান যে পরিস্থিতিতে পার্লামেন্ট স্থগিত করা হলো, তা অস্বাভাবিক। তা সত্ত্বেও, প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত, কেননা সরকার কোনো আইন লঙ্ঘন করছে না। বরং, পার্লামেন্টারি রীতিনীতি অনুসরণ করেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন জনসন।
এমপিরা এখন যা করতে পারেন তা হলো, তারা স্থগিতাদেশ মেনে নিতে পারেন। ফলশ্রুতিতে, চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট হয়ে যাবে। অথবা, তারা অনাস্থা ভোট এনে এই সরকারের পতন ঘটিয়ে নতুন নির্বাচনের ডাক দিতে পারেন।
অবশ্য, খোদ হাউজ অব কমন্সের স্পিকার জন বারকো, যিনি নিজে কনজারভেটিভ দলের সদস্য, বলেছেন, এই মুহূর্তে পার্লামেন্ট স্থগিত করা সাংবিধানিক অবমাননা।

রাণীর কি কিছু করণীয় আছে?
সংসদ স্থগিতের ক্ষেত্রে রানীর অনুমতি নেওয়ার বিধান আছে। তার এক্ষেত্রে কিছু এখতিয়ারও আছে, যদিও তা সীমিত। কাগজে কলমে, সরকার এক্ষেত্রে রানীর কাছে অনুমতি চেয়েছে। কিন্তু এটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র, কেননা রানী নিজেকে রাজনীতির বাইরে রাখেন। তিনি অসম্মতি জ্ঞাপন করেনওনি। যদি করতেন, তাহলে তা নজিরবিহীন হতো।

তাহলে এরপরে কী হবে?
৩রা সেপ্টেম্বর পার্লামেন্ট অধিবেশন বসবে। এরপরই পার্লামেন্ট বিরতিতে চলে যাবে। ব্যতিক্রম কিছু না ঘটলে, স্থগিতকাল শেষে ১৪ই অক্টোবর পার্লামেন্ট অধিবেশন ফের শুরু হবে। ততদিনে ইইউ থেকে প্রস্থানের জন্য কেবল আড়াই সপ্তাহ সময় বাকি থাকবে। তবে এমপিরা যদি ১০ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনাস্থা ভোট পাস করতে পারেন, তাহলে অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচন হবে।
নির্বাচন হলেও কি ব্রেক্সিট হবে? এ প্রশ্নের সহজ কোনো উত্তর নেই। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভরা জিতলে, হ্যাঁ। ব্রেক্সিট হবে। বর্তমান জনমত জরিপে তারা এগিয়ে আছে। বরিস জনসন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গত সপ্তাহে তাদের সমর্থন ছিল ৩১ শতাংশ। ১০-১২ পয়েন্ট পিছিয়ে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির অবস্থান ২১ শতাংশে। লেবার পার্টির ভোটাররা ব্রেক্সিট ইস্যুতে বিভাজিত। দলটির শ্রমজীবী সমর্থকদের মধ্যে ব্রেক্সিট সমর্থনের প্রবণতা আছে। আবার বিভিন্ন শহুরে ভোটাররা ইইউতে থাকার পক্ষে। কিন্তু কনজারভেটিভরা যে জিতবেই, তার নিশ্চয়তা নেই। লিবারেল ডেমোক্রেট ও স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টিরও সমর্থন ফেলনা নয়। এই দল দু’টি যেকোনো মূল্যে ব্রেক্সিটের বিরোধী। আবার আছে ব্রেক্সিট আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা নাইজেল ফ্যারাজের ব্রেক্সিট পার্টি।
এমন ঘোলাটে পরিস্থিতিতে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, বা আদৌ পাবে কিনা, তার নিশ্চয়তা নেই।
এ কারণে নির্বাচনের পূর্বাভাষ করা কঠিন। তেরেসা মের চেয়ে এটি আর ভালো কেউ বোঝেন না। তিনি যখন ডেভিড ক্যামেরনের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেন তখন তার দলের ভালোই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। কিন্তু নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে তিনিও মধ্যবর্তী নির্বাচনের ডাক দেন। পরে দেখা গেলো উলটো তার দলের আসন সংখ্যা কমেছে। অন্য দলের সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার গঠন করতে হয়েছে।
আর তাতেই সব ঝামেলা বেধেছে। তিনি ইইউর সঙ্গে এমন চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছেন, যাতে ইইউর কিছু নিয়মনীতি পরবর্তীতেও যুক্তরাজ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে। কিন্তু অনেক ব্রেক্সিট সমর্থক আবার সেটি মানতে রাজি নন। এর ফলে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি, তারই ফল এখন পাচ্ছে বৃটেন।

বৃটেনে সাংবিধানিক সংকট, বিক্ষোভ

সাংবিধানিক সংকটে বৃটেন। সংকটের মূলে রয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বৃটেনের বিচ্ছেদ বা ব্রেক্সিট। ব্রেক্সিট নিয়ে দেশটিতে নাটকীয়তার মাত্রা বেড়েই চলেছে। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দল তুমুল সমালোচনার মুখে এখন। ইতিমধ্যে দলটিতে ব্যাপক পরিসরে উত্থান-পতন দেখা গেছে। পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন দলটির সাবেক দুই প্রধান- ডেভিড ক্যামেরন ও তার উত্তরসূরি তেরেসা মে। দু’জনেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মে’র পর দলনেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন।
সমপ্রতি পাঁচ সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্ট মুলতবি রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে রানীর কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন । রানী তার আবেদন গ্রহণ করেছেন। ব্রেক্সিট কার্যকরের সময় যখন ঘনিয়ে আসছে তখনই এমন সিদ্ধান্ত নিলেন জনসন। এ নিয়ে বিরোধীসহ নিজদলে থেকেও সমালোচিত হচ্ছেন তিনি। তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে, পদত্যাগ করেছেন তার দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী রুথ ডেভিডসন ও সরকারের হুইপ জর্জ ইয়ং। আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বিরোধীরা।

আগামী ৩১শে অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। জনসনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী মাসের শুরুর দিকে পার্লামেন্ট বন্ধ করে দেয়া হবে। তা খোলা হবে ১৪ই অক্টোবর। ঘোষণাটি কার্যকর হলে, ব্রেক্সিট নিয়ে বিতর্ক করার জন্য দুই সপ্তাহ সময় পাবেন সংসদ সদস্যরা। জনসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের জন্যই এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। তবে তিনি দাবি করেছেন, এই স্থগিতাবস্থা প্রয়োজনীয়। ১৪ই অক্টোবর চমৎকার একটি এজেন্ডা প্রকাশ করবে তার সরকার। তাছাড়া, এমপিরা বিতর্ক করার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও পাবেন। তবে তার বক্তব্যে সমর্থন না দিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে পার্লামেন্ট বন্ধ করার বিরুদ্ধে।

বিক্ষোভ
দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, বুধবার রাতে পার্লামেন্ট বন্ধের ঘোষণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয় হাজার হাজার ব্রেক্সিট-বিরোধী। পাশাপাশি লন্ডনের অন্যান্য জায়গায়ও বিক্ষোভ করে শ’ শ’ মানুষ। টেমস নদীর কিনারে জড়ো হয়ে ইইউ’র পতাকা উড়িয়ে বিক্ষোভ করেন অনেকে। প্রধানমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে স্লোগান দেয়া হয়- আপনার ওপর লজ্জা ও এই অভ্যুত্থান বন্ধ করুন। বিক্ষোভে যোগ দেন সাংবাদিক থেকে শুরু করে সর্বস্তরের ব্রেক্সিট বিরোধীরা।

বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন পার্লামেন্ট বন্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, সরকার আমাদের গণতন্ত্রকে কেড়ে নিচ্ছে। এর উদ্দেশ্য পার্লামেন্টে আইন পাস করার জন্য এমপিদের যথেষ্ট সময় না দিয়ে একটি চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট সম্পাদন করা। তিনি এই স্থগিতাদেশ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিবিসিকে জানান, আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্ট খোলার পরপর বিরোধীদের প্রধান কাজ হবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে রুখতে একটি বিল পাস করা। পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে একটি অনাস্থা ভোটের প্রস্তাবও তোলা হবে বলে জানিয়েছেন এই বিরোধী নেতা।

সরকারের সমালোচনা করেছেন পার্লামেন্টের সিপকার জন বারকোও। সাধারণত রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য করে থাকেন না স্পিকার। তাই তার বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বারকো বলেন, যেভাবেই উপস্থাপন করা হোক না কেন, এটা স্পষ্ট যে, ব্রেক্সিট নিয়ে পার্লামেন্টে বিতর্ক বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে জনসন সরকার। এটা জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি। পার্লামেন্ট উন্মুক্ত থাকা আবশ্যিক।

আইনি চ্যালেঞ্জ
এদিকে, সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বিরোধীরা। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির মন্ত্রীদের পক্ষে স্কটল্যান্ডের একটি আদালতে পার্লামেন্ট বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে আবেদন জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তবে আবেদন নিয়ে শুনানিতে বসেনি আদালত। ২৪ ঘণ্টার জন্য আবেদনটির কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টের ওয়েবসাইটে একটি পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। সেখানে স্বাক্ষর করেছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। তাদের পক্ষে ইংল্যান্ডের এক দায়রা আদালতে সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে আবেদন করেছে আইনজীবীদের একটি সংগঠন। সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুসারে, বেলফাস্টের একটি আদালতেও সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবেদন হয়েছে। সেখানে জরুরি বৈঠকে বসেছেন উচ্চ আদালতের বিচারকরা। 

পদত্যাগ
পার্লামেন্ট স্থগিত করার ঘোষণার বিরোধিতা ক্ষমতাসীনদের মধ্যেও দেখা গেছে। জনসনের সমালোচনা করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির অনেক নেতা। ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করেন স্কটিশ কনজারভেটিভ নেত্রী ডেভিডসন। এছাড়া আরো পদত্যাগ করেন সরকারের হুইপ জর্র্জ ইয়ং। ডেভিডসনের পদত্যাগ জনসনের জন্য প্রচণ্ড এক আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্কাই নিউজ বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বলেছে, এ কারণে স্কটল্যান্ডের জাতীয় নির্বাচনে ডজনখানেক আসন হারাতে হতে পারে কনজারভেটিভ দলকে। ডেভিডসন তার পদত্যাগপত্রে লিখেন, ব্রেক্সিট ও পরিবার নিয়ে সবসময় দ্বিধায় ভুগেছেন তিনি। তা সত্ত্বেও নিজ দলের জন্য কাজ করে গেছেন এতদিন। সমপ্রতি প্রথম সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি। তাই পরিবারকে সময় দিতে স্কটিশ কনজারভেটিভের দলপ্রধান হিসেবে পদত্যাগ করছেন তিনি। ওদিকে ইয়ং জানান, সরকারের সিদ্ধান্তের অত্যন্ত অখুশী তিনি। তাই হুইপ হিসেবে পদত্যাগ করছেন।

এদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস স্বীকার করেছেন, এই অবস্থায় ব্রেক্সিট নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন তিনি। হেলসিনকিতে আয়োজিত এক সভায় তিনি বলেন, আমি জানি না এখন কী হবে। আচমকা দেখছি আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও জোট হারিয়ে ফেলেছি। এটা আমাদের ব্যবস্থার জন্য সহজ বিষয় নয়।
এদিকে, কনজারভেটিভ আইনপ্রণেতা কেন ক্লার্ক রয়টার্সকে  বলেছেন, জনসন নিশ্চিতভাবেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি একটি জনগণ বনাম বিদেশি এবং জনগণ বনাম পার্লামেন্ট নির্বাচন দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর এসবের মধ্যে তিনি ডনাল্ড ট্রামেপর মতো, দেশকে বিশ্বের সবচেয়ে মহান দেশ বানানো, দেশপ্রেম ইত্যাদি বুলি ছুড়ছেন।

এমতাবস্থায়, আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্ট খুললে জরুরি বিতর্কের আয়োজন করবে লেবার পার্টি। দলটির বাণিজ্য বিষয়ক মুখপাত্র ব্যারি গার্ডিনার রয়টার্সকে জানান, তারা চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে একটি আইন পাসের পরিকল্পনা করছেন।

আমেরিকা থেকে অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান কিনতে চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এএইচ-৬৪ই অ্যপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং সি-১৩০এইচ পরিবহন কেনার চেষ্টা করছে। দুই দেশের সরকারের পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে এই ক্রয় করা হবে।

চলতি বছরের শেষ দিকে দুই দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে এটা নিয়ে দর কষাকষি হবে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে এআইএম-৯এক্স শর্ট-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলসহ এফ-১৬সি/ডি ব্লক ৫০/৫২ প্লাস জঙ্গি বিমান কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র প্যাকেজ বাদে বিমান কেনার ব্যাপারে রাজি হয়নি, কারণ বিমানকে পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহারের জন্য এই অস্ত্রাদি প্রয়োজন।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এখন প্রাথমিকভাবে আটটি উচ্চ সক্ষমতার অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কেনার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তুরস্কের টি-১২৯ এবং রাশিয়ান এমআই-৩৫এম হেলিকপ্টারও বিবেচনায় ছিল কিন্তু দরের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে গেছে।

সেই সাথে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে তারা আপগ্রেডেড সি-১৩০জে দিতে পারবে না, ফলে এখন অন্তত সি-১৩০এইচ কেনার চেষ্টা করছে তারা। ফলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের কাছ থেকে পাঁচটি আপগ্রেডেড সি-১৩০জে এমকে৫ পরিবহন বিমান কিনতে বাধ্য হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র যদি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে অন্তত দুটি সি-১৩০এইচ পরিবহন বিমান দিতে না পারে, তাহলে ব্রিটেনের কাছ থেকে আরও অতিরিক্ত ইউনিট বিমান কেনা হবে।

এদিকে, মার্শাল অ্যারোস্পেস অ্যান্ড ডিফেন্স গ্রুপের আপগ্রেডকৃত প্রথম সি-১৩০জে বিমানটি ২৪ আগস্ট বাংলাদেশে আসার কথা।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পশ্চিমা দেশগুলো থেকে আধুনিক পরিবহন বিমান ক্রয়ের মাধ্যমে তাদের পরিবহন বিমানগুলোকে নতুন করে তুলেছে। আগামী বছরগুলোতে আরও পশ্চিমা জঙ্গি বিমান ও হেলিকপ্টার বহরে যুক্ত করে পুরনো পুরো বহরকে বদলে ফেলতে চায় তারা।

মার্কিন সরকার বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আমেরিকান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে বলেছে। দাম গ্রহণযোগ্য হলে এবং কেনার জন্য কোন শর্ত না থাকলে সেগুলো কিনতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রাখছে যাতে পারস্পরিক স্বার্থ সংরক্ষিত হয়।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ব বিমান এয়ারলাইন্স চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সদ্য কেনা বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার যাত্রীবাহী বিমান বহরে যুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ১০টি বিমান কেনার চুক্তির অংশ হিসেবে এটি বহরে যুক্ত করলো বিমান। ২০০৮ সালের চুক্তির অধীনে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, দুটো ৭৩৭-৮০০ এবং তিনটি ৭৮৭-৮ এরই মধ্যে বাংলাদেশকে হস্তান্তর করা হয়েছে। আগামী মাসে চতুর্থ আরেকটি বোয়িং ৮৭৮-৮ বিমানের বহরে যুক্ত হবে।

এ্যাপাচি হেলিকপ্টার

প্রথমে এর নাম ছিলো এএইচ-৬৪ডি ব্লক-থ্রি। ২০১২ সালে এর সামর্থ্য বৃদ্ধির পর একে এএইচ-৬৪ই গার্ডিয়ান নামে রেজিস্ট্রি করা হয়। এর ডিজিটাল কানেকটিভিটি ও জয়েন্ট ট্যাকটিক্যাল ইনফরমেশন ডিসট্রিবিউশন সিস্টেম উন্নত করা হয়। এতে আরো শক্তিশালী টি৭০০-জিই-৭০১ডি ইঞ্জিন যুক্ত করা হয়। আরো শক্তি জড় করার জন্য ফেস গিয়ার ট্রান্সমিশন আপগ্রেড করা হয়। এর ড্রোন নিয়ন্ত্রণ সামর্থ্য রয়েছে। এটি পূরোপুরি আইএফআর ক্যাপাবল। এর ল্যান্ডিং গিয়ারও উন্নত।

এর নতুন কম্পোজিট রোটর ব্লেডের কারণে গতি, উপরে ওঠা এবং ভার বহনের সামর্থ্য বেড়ে গেছে। ২০১১ সাল থেকে এটি সরবরাহ শুরু হয়। পুরোদস্তুর উৎপাদনের অনুমোদন দেয়া হয় ২০১২ সালের অক্টোবরে। এর আরো উন্নত সংস্করণ এএইচ-৬৪ই এবং ২০১৯/২০ সালে এ ধরনের ৫৬টি চপার তৈরি হবে। এর আপডেট লংবো রাডারের ওভারসি ক্যাপাবিলিটি রয়েছে। ই মডেলটি সমুদ্রক্ষেত্রে অপারেশন চালানো উপযোগী। পাল্লা ও দীর্ঘ সময় ওড়ার ক্ষমতা বাড়াতে এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ ফুয়েল ট্যাংক সংযোজনের কথা ভাবা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন মিলিটারি সেলস কর্মসূচির আওতায় ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম ইন্দোনেশিয়া ৮টি এ্যাপাচি এএইচ-৬৪ই গার্ডিয়ান কেনে।

ট্যাকটিক্যাল স্পেসিফিকেশন:

ক্রু: ২ (পাইলট, ও কো-পাইলট/গানার)

লম্বা: ৫৮.১৭ ফুট

রোটরের ব্যাস: ৪৮ ফুট

উচ্চতা: ১২.৭ ফুট

ডিস্ক এরিয়া: ১,৮০৯ বর্গফুট

খালি অবস্থায় ওজন: ৫,১৬৫ কেজি

ভর্তি অবস্থায় ওজন: ৮,০০০ কেজি

সর্বোচ্চ টেকঅফ ওজন: ১০,৪৩৩ কেজি

ফিউজিলাজ লম্বায়: ৪৯.৫ ফুট

রোটর সিস্টেম: চার ব্লেডের মেইন রোটর, চার ব্লেডের টেইল রোটর

সর্বোচ্চ গতি: ২৯৩ কি.মি/ঘন্টা

ক্রুজ স্পিড: ২৬৫ কি.মি/ঘন্টা

পাল্লা: লংবো রাডার মাস্টসহ ৪৭৬ কি.মি.

কমব্যাট রেডিয়াস: ৪৮০ কি.মি.

ফেরি রেঞ্জ: ১,৯০০ কি.মি.

আর্মামেন্ট গান: ১টি ৩০ মি.মি. এম২৩০ চেইন গান, ১,২০০ রাউন্ড, যা এরিয়া উইপন সাবসিস্টেমের অংশ।

হাইকোর্টে মিন্নির জামিন

রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় নিহতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। জামিনকালীন সময়ে তাকে তার বাবা মোজাম্মেল হকের জিম্মায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে গণমাধ্যমে কোনো ধরনের কথা না বলতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে মিন্নিকে। গতকাল বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলটি যথাযথ ঘোষণা করে এই আদেশ দেন। আদালতে মিন্নির পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সরোয়ার হোসাইন। এছাড়া, কোনো মামলার তদন্ত চলাকালে তার অগ্রগতি বা গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিষয়ে গণমাধ্যমে কতটুকু বলা যাবে এবং কতটুকু প্রচার বা প্রকাশ করা যাবে সে বিষয়ে একটি নীতিমালা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

মিন্নির জামিনের পর সংশ্লিষ্ট কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি  জেনারেল মো. সরোয়ার  হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, মিন্নির জামিনে আমরা মর্মাহত। এই জামিনের রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করার সিন্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি বলেন, যেহেতু মিন্নি মহিলা এবং তার বাবার জিম্মায় থাকবেন। জামিনের শর্ত অপব্যবহার করলে বিচারিক আদালত তার জামিন বাতিল করতে পারবেন। মিন্নির বিরুদ্ধে অনেকগুলো অভিযোগ ছিলো। সেগুলো আদালতে উপস্থাপন করেছি। নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নি ঘটনার আগে ৭ বার ও পরে ৫ বার ফোনালাপও হয়েছে। তবে জামিন আবেদনে খুশি মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না। তিনি বলেন, আদালত আমাদের যুক্তি যথাযথ মনে করে মিন্নিকে জামিন দিয়েছে। জামিনে থাকাবস্থায় তিনি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না।

এদিকে, মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর রায়ে সন্তোষ হলেও হতাশা ব্যক্ত করেছেন নিহত রিফাত শরীফের পিতা দুলাল শরীফ। রায়ের পর মিন্নির বাবা বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমি খুব খুশি। ন্যায়বিচার যে দেশে আছে, এটার প্রমাণ আজকে পাওয়া গেল। তিনি মিডিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দুস্কৃতকারীরা যেগুলো করছে এগুলো সব জনসমক্ষে প্রচার  পেয়েছে। এজন্য আমি গর্বিত। আমি সুন্দর একটা রায় পেয়েছি। এটি আমার বিজয়। অপরদিকে, রিফাত শরিফের পিতা দুলাল শরিফ সাংবাদিকদের বলেন, মিন্নি এই মামলার মাস্টার মাইন্ড। আদালত যে কাউকেই জামিন দিতে পারেন। তবে তার  জামিনে আমি হতাশ। কারণ, মিন্নি আমার ছেলে হত্যার সঙ্গে জড়িত। তার কারণে আমার ছেলে খুন হয়েছে। আমার ছেলের সঙ্গে বিয়ের আগে ওই মেয়ের সঙ্গে নয়ন বন্ডের বিয়ে হয়েছিল। মিন্নি যদি রিফাত হত্যার মাস্টার মাইন্ড হয়ে থাকে, তাহলে ঘটনার পর পরই কেন তার বিরুদ্ধে মামলা করলেন না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পুরো নিশ্চিত না হয়েতো হুট করে কারো বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। ভিডিও দেখে, কাজীর সঙ্গে কথা বলে এবং নয়ন বন্ডের মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, আমার ছেলের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার আগে নয়নের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। ওই বিয়ে গোপন করে মিন্নি আমার ছেলেকে বিয়ে করেছে। 

এর আগে হাইকোর্ট দুপুরে কোনো পক্ষের কোনো বক্তব্য না থাকায় বিচারক জামিনের রায়ের অংশ পাঠ করেন। রায়ে আদালত বলেন, এজাহারে আসামির নাম উল্লেখ না থাকা, গ্রেপ্তার পূর্বে দীর্ঘ সময়ে স্থানীয় পুলিশ লাইনসে আটক ও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া, আদালতে হাজির করে রিমান্ড শুনানির সময়ে আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ না পাওয়া, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির দোষ স্বাীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক লিপিবদ্ধ করার পূর্বেই আসামির দোষ স্বীকার সম্পর্কিত জেলা পুলিশ সুপারের বক্তব্য, তদন্তকারী কর্মকর্তার মতে মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। সুতরাং আসামি কর্তৃক তদন্ত প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ না থাকায় সর্বোপরি ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮, ৯৭ ধারার ব্যতিক্রম অর্থাৎ আসামি একজন মহিলা। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করে আমরা তাকে জামিন দেয়া ন্যায়সঙ্গত মনে করছি এবং জারি করা রুলটি আমরা যথাযথ ঘোষণা করলাম। সে তার বাবার জিম্মায় থাকবে এবং মিডিয়ার সামনে কোনো কথা বলতে পারবে না।

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, বর্তমান আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি রিমান্ডে থাকা অবস্থায় বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন গণমাধ্যমের সম্মুখিন হন। মিন্নি দোষ স্বীকার করেছেন মর্মে তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা শুধু অযাচিত, অনাকাঙ্খিত নয় বরং ন্যায়-নীতি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পরিপন্থী। পরিস্থিতি ও বাস্তবতা যাই হোক না কেন, পুলিশ সুপারের মত দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যেমন জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে তেমনি তিনি তার দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, যা দুঃখজনক ও হতাশাজনক। উচ্চ পর্যায়ের একজন পুলিশ কর্মকর্তার নিকট হতে এ ধরনের কার্য প্রত্যাশিত ও কাম্য নয়। ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনে আরও সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেবেন আদালতের এটাই কাম্য। মামলাটি তদন্ত কার্য যেহেতু এখনও চলমান সে কারণে এই মুহূর্তে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে আদালত বিরত থাকছে। তবে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক সময়মত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ করা সঙ্গত হবে যে, ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সংগঠিত আলোচিত ঘটনার তদন্তকালীন সময়ে পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলাবাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্তদের বিষয়ে এবং তদন্ত সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিং করা হয়ে থাকে। গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজন বা অভিযুক্তদের কোনো নিয়মনীতি ছাড়াই গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা হয়, যা অনেক প্রশ্নের উদ্রেক করে। যদিওবা এ বিষয়ে অত্র আদালতের একটি রায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। তারপরও অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্ত বিষয়ে অতি উৎসাহ নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিতে দেখা যায়। একথা আমাদের সকলকেই মনে রাখতে হবে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত না হচ্ছে, ততক্ষণ বলা যাবে না সে অপরাধী বা অপরাধ করেছে। তদন্ত বা বিচার পর্যায়ে এমনভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করা উচিৎ নয় যে মনে হয় অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধী। সে কারণে মামলার তদন্ত পর্যায়ে তদন্তের অগ্রগতি বা গ্রেপ্তারকৃতদের বিষয়ে গণমাধ্যমে কতটুকু বলা যাবে এমন নীতিমালা করা বাঞ্চনীয়। একইসঙ্গে মিডিয়া কতটুকু প্রচার বা প্রকাশ করবে সে বিষয়েও একটি নীতিমালা করা বাঞ্ছনীয়। এই নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রচারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ প্রদান করা হলো।

গত ২০শে আগস্ট, বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা নিহতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে কেন জামিন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। সরকারের সংশ্লিষ্টদেরকে সাতদিনের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়। একইসঙ্গে ২৮শে আগস্ট আদালত রুলের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেন। এছাড়া, আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত্র) মো. হুমায়ুন কবিরকে যাবতীয় নথিপত্রসহ আদালতে হাজির থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়।  এবং বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ  হোসেনকে সংবাদ সম্মেলনে রিফাতের স্ত্রীর  দোষ স্বীকারের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করতে বলা হয়। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী ২৮শে আগস্ট মিন্নির মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির যাবতীয় নথিপত্রসহ আদালতে হাজির হন। একইসঙ্গে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে রিফাতের স্ত্রীর দোষ স্বীকারের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেন। ওই দিন   আদালতে মিন্নির আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন শুনানিতে আদালতকে বলেন, যেভাবে মিন্নির স্বীকাররোক্তিমূলক জবানবন্দি ১৬৪ করা হয়েছে। এটা কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষেও এতটা সাজিয়ে গুছিয়ে বলা সম্ভব না। কেননা তিনি যখন জবানবন্দি দেন, তখন সে অসুস্থ ছিল। একজন স্ত্রী স্বামী খুন হওয়ার পর, এমন জবানবন্দি হতে পারে কিভাবে? তবে আমরা আজ ট্রায়ালের বিষয়ে কথা বলার জন্য আসিনি। আমরা এসেছি শুধুমাত্র মেয়েটার জামিনের জন্য। সে পালাতে পারবে না। মামলায় প্রভাব ফেলতে পারবে না।  সে তার বাবার হওলায় থাকবে। এছাড়া আদালতের যেকোনো শর্তে আমরা মিন্নির জামিন চাই।  এর বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সারোয়ার হোসাইন বাপ্পী শুনানিতে বলেন,  গ্রেপ্তারকৃত ১৫ জনের মধ্যে চারজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। চারজনের জবানবন্দিতেই এ হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। সে এই হত্যাকাণ্ডের মূল নকশাকারী এবং ষড়যন্ত্রকারী। এটা খুবই আলোচিত মামলা। পুলিশের উচ্চ পর্যায় থেকে মামলার তদারক করা হচ্ছে। এ মামলায় তাকে জামিন দেয়া যায় না।

উল্লেখ্য, গত ২৬শে জুন রিফাতকে বরগুনার রাস্তায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকে। পরে মিন্নির শ্বশুর তার ছেলেকে হত্যায় পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলে ঘটনা নতুন দিকে মোড় নেয়। ১৬ জুলাই বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মিন্নিকে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর এ মামলায় তাকে  গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে মিন্নি কারাগারে ছিলেন।

মানুষ নামের কলঙ্ক!

দিন দিন কিছু মানুষ পশুর চেয়েও নিচে নেমে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে কোনো মানবিকতা নেই। বোধশক্তিহীন এসব মানুষ, মানুষ নামের কলঙ্ক। এমনই এক ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে ভারতের ছত্তিশগড়ে। সেখানকার খারসিয়াতে বসবাসকারী এমন এক কলঙ্কের নাম সীতারাম উরাওন (৩২)। সে তার মায়ের কাছে মদ কেনার অর্থ দাবি করেছিল। কিন্তু মা তা দিতে না চাইলে মধ্যপ সীতারাম তাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এখানেই থেমে যায় নি।
মায়ের দেহের কর্তিত অংশ নিয়ে ফ্রাই করছিল সে। একজন আত্মীয় তাদের বাড়িতে গিয়ে তাকে এমন অবস্থায় দেখতে পায়। তিনি দেখতে পান, সীতারামের মা মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। তার দেহের অংশ বিশেষ একটি কড়াইতে নিয়ে ফ্রাই করছে সীমারাম। এ ঘটনার পর সে পালিয়ে যায়। কিন্তু বুধবার তাকে সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সে মানসিকভাবে সুস্থ কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় পুলিশ। তবে সীতারাম বেশির ভাগ দিন বাড়িতে ফিরতো মদ্যপ অবস্থায়। মা ফুলবাঈয়ের (৫০) কাঠে আরো মদ কেনার জন্য টাকা দাবি করতো।

তিউনিশিয়ায় আটকা বাংলাদেশিদের হুমকি মরবো তবু ফিরবো না আইওএম-এর বিরুদ্ধে জবরদস্তির অভিযোগ by মিজানুর রহমান

তিউনিশিয়ার বিভিন্ন উপকূলে আটক এবং উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানো নিয়ে ঢাকার  অস্বস্তি বাড়ছে। অনেকে ‘স্বেচ্ছায়’ ফিরলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি এখনও দেশটিতে রয়ে গেছেন। তারা কোন অবস্থাতেই দেশে ফিরতে চাইছেন না বরং ফের ইউরোপে পাড়ি দেয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত। বিষয়টি ধড়া পড়ায় বিব্রত বাংলাদেশ। তিউনিশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ সিকান্দার আলীও বাংলাদেশিদের ফেরানো সংক্রান্ত জটিলতার কথা স্বীকার করেন। বলেন, ১১ জন বাংলাদেশি ‘স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনে’ অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। এর মধ্যে দু’জন পালিয়ে গেছেন। তারা লিবিয়ায় ধরা পড়েছেন।
ফিরতে না চাওয়া ওই ব্যক্তিরা ‘আত্মহত্যা’র হুমকি দিচ্ছেন জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, তারা বলছেন, ‘মরবো, তবু ফিরবো না।’

ওই সব বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানোর জন্য আইওএম জোর-দবরদস্তি করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জেনেভাস্থ আইওএম হেডকোয়ার্টারে নালিশ দাখিল করা হয়েছে। বাংলাদেশি অভিবাসীদের বিষয়ে বৃটিশ সংবাদ মাধ্যম গার্ডিয়ান প্রকাশিত এক রিপোর্টে অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে সংবাদ মাধ্যমটি এ-ও জানিয়েছে- দেশে ফিরতে রাজী না হওয়া ৪ বাংলাদেশিকে গত সপ্তাহে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর ‘শরণার্থী’র মর্যাদা দিয়েছে এবং তাদের গ্রহণ করেছে। যদিও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গার্ডিয়ানের রিপোর্টের ‘সবটুকু সত্য নয়’ বলে দাবি করেছেন। রাষ্ট্রদূত পাল্টা অভিযোগ করেন, কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠি যারা মানবপাচারে কোন না কোনভাবে যুক্ত তারা ‘অসত্য’ তথ্য সরবরাহ করে গার্ডিয়ানকে বিভ্রান্ত করেছে। তবে ওই রিপোর্টের বিষয়ে ঢাকা এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করেনি।

তিউনিশিয়াসহ ইউরোপ যাওয়ার পথে ট্রানজিট রুটগুলোতে আটকা এবং উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের ফেরানোর বিষয়ে গত ৫ই আগস্ট সেগুনবাগিচায় একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়। পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় তিউনিশিয়া থেকে ‘স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনে’ অস্বীকৃতি জানানো ১১ বাংলাদেশিকে সরকারি খরচে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত হয়। সভা সূত্র জানায়, ওই বাংলাদেশিদের ফেরাতে আইওএম অর্থায়ন না করার কথা জানিয়ে দিয়েছে। ফলে তাদের ফেরানো সংক্রান্ত ফান্ড জটিলতা পড়ে লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। রাষ্ট্রদূতের অনুরোধের প্রেক্ষিতে দূতবাসকে এ খাতে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে তাদের বুঝিয়ে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরাতে দূতাবাসকে নির্দেশনা দেয়ার বিষয়ে সভা ঐকমত্যে পৌঁছায়।

রাষ্ট্রদূত শেখ সিকান্দার আলীর ভাষ্য মতে, সাগর পথে ইউরোপে পাড়ি দেয়ার সময় জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়া এবং বিকল অবস্থায় সাগরে ভাসতে থাকা একটি নৌকা থেকে ৬৪ বাংলাদেশিসহ ৭৫জন অভিবাসী উদ্ধার হয়েছিল মে মাসে। উদ্ধারকারী জাহাজেই তারা সাগরে প্রায় ৩ সপ্তাহ আটকা ছিলেন। ইউরোপের কোন দেশ তাদের গ্রহণ করছিলো না, আবার তিউনিশিয়ার সরকারও জাহাজ থেকে নামার অনুমতি দিচ্ছেলো না। রাষ্ট্রদূত ঘটনাস্থলে গিয়ে এবং তিউনিশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের গভর্ণরকে অনুরোধ করে ওই বাংলাদেশিদের ‘দেশে ফেরৎ পাঠানোর শর্তে’ উপকূলে নামিয়ে আনার অনুমতি আদায় করেছিল। কিন্তু এর মধ্যে ৫৩ জন স্বেচ্ছায় দেশে ফিরলেও ১১জন গো ধরে আছেন, তারা দেশে ফিরতে রাজী হচ্ছেন না। রাষ্ট্রদূত বলেন, ওই ১১ জনের দেশে ফেরানোর যাবতীয় ব্যয় নির্বাহে ঢাকা নির্দেশনা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দও দূতাবাসের অনুকূলে পৌঁছেছে। কিন্তু এখনও তাদের রাজী করানো যায়নি।

রাষ্ট্রদূত মানবজমিনকে বলেন, এটা আমার কমিটমেন্ট, বাংলাদেশের কমিটমেন্ট। গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের জাহাজ থেকে নামাতে পেরেছি। কিন্তু এখন তারা দেশে ফিরতে চাইছে না। রাষ্ট্রদূত বলেন, শুধু ওই ১১ জনই নয়, দেশটির বিভিন্ন উপকূলে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের বড় অংশ দেশে ফিরলেও অনেকে এখনও রয়ে গেছেন। তাদের দেশে ফেরানো না গেলে এবং দূতাবাসের কমিটমেন্ট রক্ষা না হলে পরবর্তীতে কোন দুঃখজনক ঘটনা ঘটলে তিউনিস কতৃপক্ষ ভুক্তভোগীদের উপকূলেই ফেরাতে রাজী হবে না। তিনি বলেন, কোথাও কোন বাংলাদেশি বিপদে পড়েলে তাকে সর্বতোভাবে সহায়তা করতে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সে অনুয়ায়ী রাষ্ট্রদূত এবং অন্যরা ঘটনাস্থলে যান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করেন। কিন্তু কিছু মানুষের জন্য বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং দেশগুলোর সহায়তা পাওয়ার পথও বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

কী বলেছে গার্ডিয়ান: দুনিয়া জুড়ে খ্যাতি পাওয়া বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবর মতে, তিউনিশিয়ায় থাকা শিশুসহ বাংলাদেশি অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠাতে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা রীতিমত চাপ দিচ্ছে। বাংলাদেশি অভিবাসীদের বরাতে সংস্থাটির বিরুদ্ধে জোর জবরদস্তির ‘গুরুতর’ ওই অভিযোগ আসার পর তিউনিশিয়াভিত্তিক এনজিও ফোরাম তিউনিশিয়েন পৌর লেস ড্রয়েটস ইকোনমিক্স এট সোসিয়াক্স (এফটিডিইএস) আগস্ট মাসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। অভিবাসীরা অভিযোগ করে আসছেন, সাগর থেকে উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই আইওএম কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা তাদের দেশে ফিরতে বাধ্য করছেন। তারা ফিরতে চান না, কিন্তু আইওএম তাদের ‘স্বেচ্ছায় দেশে ফেরা’ সংক্রান্ত একটি নথিতে সই নেয়ার চেষ্টা করছে। ওই সই না দিলে তাদের গ্রেপ্তারসহ নানাভাবে হয়রানি ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে তারা।

অভিবাসীরা এ-ও বলছে, বাংলাদেশ দূতাবাসের কূটনীতিকরাও তাদের সতর্ক করে বলেছেন যে, যদি তারা ‘স্বেচ্ছায়’ ফিরে যাওয়ার নথিতে স্বাক্ষর না করেন তাহলে তারা অঙ্গপাচারের শিকার হতে পারেন! অভিযোগে বলা হয়, অভিবাসীদের প্রতি আইওএম তিউনিশিয়ার আচরণের কারণে তাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এফটিডিইএস অভিযোগটি দায়ের করেছে। অভিবাসীদের সবাই প্রায় অভিন্ন সুরে কথা বলেছেন। তাদের সাক্ষ্যে সামঞ্জস্য ছিল। সবাই আইওএমের বিরুদ্ধে অসদাচরণের কথা বলেছেন।

গত মে মাসে ম্যারিডাইব-৬০১ নামের একটি জাহাজ থেকে এই অভিবাসীদের উদ্ধার করা হয়। কোনও ইউরোপীয় দেশ তাদের গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে সাগরেই তারা প্রায় তিন সপ্তাহ আটকা ছিলেন। এফটিডিইএস’এর বরাতে গার্ডিয়ান জানায়, আইওএম কর্মীরা তাদের বাংলাদেশে স্বেচ্ছায় ফেরত যাওয়ার বিষয়ে সাক্ষাৎকারে প্রচণ্ড মানসিক চাপ দিয়েছে। যখন তারা নথিতে স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানায় তখন ওই চাপ আরও বাড়ানো হয়। তবে ওই রিপোর্টেই বলা হয়েছে, বাংলাদেশি অভিবাসীদের ‘চাপ’ দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইওএম কতৃপক্ষ। সংস্থাটি দাবি করেছে, তারা শুধু অভিবাসীদের নথিপত্রগুলো বুঝিয়ে দিয়েছেন। তিউনিশিয়ায় থাকা এবং আশ্রয় চাওয়া সংক্রান্ত অধিকারসসহ সব ধরনের বিকল্পের বিষয়ে তাদের সচেতন করেছে মাত্র।
৯ জন বাংলাদেশি দ্য গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তারা মনে করেন আইওএম সব বাংলাদেশিকে নৌকায় থাকার সময় ও পরে নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার জন্য মানসিক চাপ দিয়েছে।

এক অভিবাসী বলেন, আইওএম আমাদের একটি কাগজ দেয়। এতে বলা হয়, কেউ আমাদের ফেরত যাওয়ার জন্য জোর করতে পারবে না। তারা আমাদের বলেছে তিউনিশিয়া পুলিশ আমাদের গ্রেপ্তার করবে এবং তারা জানে না কখন মুক্তি দেয়া হবে। বাংলাদেশ ও তিউনিশিয়া সরকার কোনও সহযোগিতা করছে না জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এখানে থাকতে চাই। আরেক অভিবাসী বলেন, প্রতিদিন তারা আমাদের জিজ্ঞেস করে আমরা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছি? তারা জানে আমরা ফেরত যেতে চাই না। তবুও তারা আমাদের বিরক্ত করেই যাচ্ছে। গার্ডিয়ান তিউনিশিয়ার দায়িত্বে থাকা ত্রিপোলির বাংলাদেশ দূতাবাসের এক মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। তবে ওই মুখপাত্র এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।

বাংলাদেশে ফেরত যাওয়া এড়াতে তিউনিশিয়ার একটি অভ্যর্থনা কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যাওয়া এক কিশোর পুনরায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করেছেন জানিয়ে গার্ডিয়ানের রিপোর্টে বলা হয়- তাকে বহনকারী নৌকা আটকে দেয়ায় তার সেই স্বপ্ন পুরণ হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে ওই কিশোর এখন লিবিয়ার কোনও আটক কেন্দ্রে রয়েছেন।

আইওএম-র মুখপাত্র লিওনার্দ ডোয়েলকে উদ্বৃত করে রিপোর্টে বলা হয়- মুখপাত্র তাদের বিরুদ্ধে জোর-জবরদস্তির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, যারা নিজ নিজ দেশে ফিরতে চেয়েছে তাদের পরামর্শ ও নথিপত্র বুঝিয়ে দিয়েছে আইওএম। তাদের আশ্রয়সহ সব ধরনের বিকল্পের বিষয়েও অবিহিত করা হয়েছে। তিউনিশিয়ায় যারা আশ্রয়ের আবেদনে আগ্রহী নয় তাদের বসবাসের অনুমতির প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়েছে। লিওনার্দ বলেন, তিউনিসিয়ায় থাকতে হলে পাসপোর্ট থাকা জরুরি। আইওএম কর্মীরা অভিবাসীদের এসব বিষয়ও বুঝিয়েছেন। তাদের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিবাসীদের সব ধরনের তথ্য জানায় আইওএম, যাতে তারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারত কিছুই শেখেনি, কিছুই ভোলেনি by এম কে ভদ্রকুমার

সম্প্রতি মিডিয়ায় রিপোর্ট দেখা গেছে যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আবারও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল সফরের পরিকল্পনা করছেন – সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন সফর করবেন তিনি। যদিও সফরটা এমন একটা সময়ে হচ্ছে যখন হরমুজ প্রণালীর পানি উত্তাল হয়ে আছে এবং বিশ্বের নেতারা এ অঞ্চল থেকে দূরে আছেন, তবে আশা করা যায় যে মোদির সফর যথেষ্ট শানদারই হবে।

বিগত পাঁচ বছরে এটা হবে আরব আমিরাতে মোদির তৃতীয় সফর। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো বাহরাইন যাচ্ছেন তিনি।

সরকার প্রধান হিসেবে মোদি ঘন ঘন বিদেশ সফর করে থাকেন। এমনকি পশ্চিমা দেশগুলোর সরকার প্রধানরাও হয়তো তার রেকর্ড ছুঁতে পারেননি যারা ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলের উপর কর্তৃত্ব করে এসেছেন, যেমন ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স বা জার্মানি। ২০১৫ সাল থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ছয়টি ‘দ্বিপাক্ষিক’ সফর করেছেন মোদি।

এ অঞ্চলে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে। কিন্তু সেটার জন্য এতটা মনোযোগ দেয়ার দরকার পড়ে না। একটা কারণ হতে পারে যে মোদি এখনও তার প্রচারণার মানসিকতায় রয়েছেন এবং এই অঞ্চলকে তিনি হাতে রাখতে চাচ্ছেন। বাহরাইনে ভারতীয় জনতা পার্টির একজন স্থানীয় প্রতিনিধির কাছ থেকে প্রথম আমরা তার সফরের ব্যাপারে জানতে পারি।

এই সূত্র মতে, মোদি ‘সিনিয়র প্রতিনিধি’ দল নিয়ে সফরে যাবেন এবং মানামার কৃষ্ণ মন্দিরের ২০০ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে অংশ নিবেন।

মন্দির সফর এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স কর্তৃক মোদিকে সম্মানজনক অর্ডার অব জায়েদ দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ায় এটা নিঃসন্দেহে সফরের একটা চমকপ্রদ উপলক্ষ্য। এগুলো টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে এবং দেশের দর্শকরাও সেটা দেখতে পাবে।

কিন্তু আবুধাবিতে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী সবসময় এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন যে ভারত-আমিরাত সম্পর্ককে ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যাওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর ২০১৭ সালের সফরের সময়ও এই প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল যে পেট্রোডলার দেশটি ভারতে বিপুল বিনিয়োগ করবে, যদিও সেটা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

ভারতের সরকারি হিসেব মতে, ভারতে আরব আমিরাতের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১০-১১ বিলিয়ন ডলার, যার অর্ধেকের মতো সরাসরি বিনিয়োগ, বাকিটা পোর্টফোলিও বিনিয়োগ। ২০১৫ সালের আগস্টে মোদির আরব আমিরাত সফরের সময় আরব আমিরাত-ভারত অবকাঠামো বিনিয়োগ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল বিশেষ করে রেলওয়ে, বন্দর, সড়ক, বিমানবন্দর এবং বাণিজ্যিক করিডোর ও পার্কে পরবর্তী প্রজন্মের অবকাঠামো তৈরির কাজ দ্রুত সম্প্রসারণে ভারতের যে পরিকল্পনা রয়েছে, সেখানে বিনিয়োগ করা। দুই দেশের নেতারা উচ্চ পর্যায়ে এই ‘অগ্রগতি পর্যালোচনা’ করেছেন মাত্র। সেটাই সবশেষ শোনা গেছে।

সন্দেহ নেই যে, শেখরা আতিথেয়তায় অতুলনীয় এবং বাইরের মানুষদের কাছে পুরো আরব বিশ্বটাই দৃষ্টির একটা ভোজসভার মতো। সন্দেহ নেই যে, মোদির সফরে ছবি তোলার মতো প্রচুর সুযোগ থাকবে। কিন্তু দিন শেষে, বড় প্রশ্ন হলো এই সব আয়োজন থেকে প্রাপ্তিটা কি হবে।

হতাশার ব্যাপার হলো পারস্য উপসাগরের পেট্রোডলার দেশগুলোর সাথে আমরা ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারিনি। প্রধান কারণ হলো এই দেশগুলো অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও উচ্চ বৈশ্বিক মান প্রত্যাশা করে – দক্ষতা ও বাস্তবায়ন উভয় ক্ষেত্রেই। অথচ ভারতীয়রা মোটের উপর অন্তসারশূণ্য এবং তার প্রত্যাশা পূরণ করে না। আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্সের সাম্প্রতিক চীন সফরের বিষয়টির সাথে তুলনা করে দেখুন।

সন্দেহ নেই যে, চীনের সামনে ‘বড় চিত্রটা’ রয়েছে এবং রোডম্যাপও রয়েছে এবং তারা হিসেব কষে সামনে এগুতে চায় এবং আরব আমিরাতও চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড এবং ৫জি প্রযুক্তির জন্য নিজেকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায়, যদিও আবুধাবির নেতৃবৃন্দের ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে দারুণ চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে।

মোদির আমিরাত ও বাহরাইন সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্যেও এই প্রতারণামূলক কথাবার্তা রয়েছে: “আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা জনক শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের নামে প্রতিষ্ঠিত পুরস্কারটি বিশেষ মর্যাদা পাচ্ছে কারণ শেখ জায়েদের জন্মশতবার্ষিকীতে এই পুরস্কারটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেয়া হচ্ছে… বাহরাইনে যে তিন সহস্রাধিক ভারতীয়দের মালিকানাধীন/যৌথ প্রকল্প রয়েছে, সেটা থেকে বোঝা যায় যে দুই দেশের অর্থনৈতিক বিনিময়টা কত গভীর পর্যায়ের”।

এই “৩০০০ ভারতীয়দের মালিকানাধীন/যৌথ প্রকল্পের” তথ্যটা কি আপনার জানা ছিল? বুরবন সাম্রাজ্যের ব্যাপারে ট্যালির‍্যান্ডের বিখ্যাত মন্তব্যটা মনে পড়ে গেলো – “তারা কিছুই শেখেনি এবং কিছুই ভোলেনি”।

ভারতীয় শক্তির বাস্তবতা by ইনাম উল হক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
কাশ্মীর সংযুক্ত করে নেয়া পুরোপুরি অহংকার ও অনুমিত ক্ষমতার দম্ভ। এই অঞ্চল, পাকিস্তান ও কাশ্মীরী জনগণের ব্যাপারে মোদির নেতৃত্বাধিন ভারত যে কাজটি করেছে তা দেখিয়ে দিয়েছে যে ‘জোর যার মুলুক তার’, এবং যা খুশি করা যায়। বিজেপি’র ইশতেহারে যে হিন্দুত্ব, অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক আদর্শ রয়েছে তা নিয়ে অনেক কিছু বলা ও লেখা হয়েছে। তবে ভারতের সম্প্রতিক নির্বাচনে দলটির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর এই আদর্শ বলবৎ করা হয়েছে এবং ভারতীয় সেক্যুলারিজমের বিদায় ঘটেছে। এই খুনে আদর্শ এবং ভারতের ক্ষমতায় থাকা কিছু ব্যক্তির বিষয়টি খুঁটিয়ে দেখা এ জন্য প্রয়োজন যে, ভারত আসলেই ছয় ফুট উঁচু দেহধারী কিনা বা অন্যরা কেন তাদের মুখোমুখি হতে ভয় পায়।

সামাজিকভাবে ভারত একটি ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র, যা শুধু বিলবোর্ডে শোভা পায়। জাত-পাতে ব্যাপকভাবে বিভক্ত হিন্দু সমাজ। উত্তর ও দক্ষিণ ভারত এবং শহর ও গ্রামের মধ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য ব্যাপক। ঐতিহাসিকভাবে কখনোই দেশটি রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী ছিলো না। ফলে বিদেশী শক্তিগুলোর পক্ষে দেশটি দখল সহজ হয়েছে। ৭২ বছর আগে পাকিস্তানের বিভক্তি এবং কাশ্মীরে অব্যাহত বিচ্ছিন্নতাবোধ সেই একীভূতকরণ ব্যর্থতার দুটি উদাহরণ, যদিও শত শত বছর ধরে এসব অঞ্চল সহাবস্থান করেছে। দেশ ভাগ নিয়ে রচিত সাহিত্যগুলোতে হিন্দুত্ব এবং এর প্রবক্তা শিবসেনা ও আরএসএস কিভাবে হিন্দুদের মনোভাব গড়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।

আজকের দিনে মুসলিমদের পিটিয়ে মারা ও চার্চে হামলার মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কুৎসিৎ দানবটি ভারতজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। দলিত ও অন্যান্য নিম্নবর্ণের হিন্দু, জৈন, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে কুসংস্কার একবিংশ শতকের ভারত – বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের জীবনধারা। কিভাবে মানুষকে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে, পিটিয়ে মারা হচ্ছে, হিন্দু শ্লোক উচ্চারণে বাধ্য করা হচ্ছে তার ভিডিওগুলো সামাজিক গণমাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে। ভারতীয় সমাজ কতটা বড় সমস্যার মুখোমুখি তার পরিচয় পাওয়া যায় এগুলো থেকে। অসহিষ্ণুতা, গোঁড়ামি ও ভারত শুধু হিন্দুদের জন্য – এসব বিষাক্ত মন্ত্র একদিন তাদের চেহারা দেখাবে। বিশ্ব একদিন দেখবে কিভাবে কেন্দ্রমুখি বল নিজে ভারে ধসে পড়ছে। এটা শুধু সময়ের ব্যাপার।

অর্থনৈতিকভাবে দেশটির পরিস্থিতি সুস্থির হতে অনেক বাকি। দারিদ্র, অবাধ দুর্নীতি, অসাম্য, বেকারত্ব, অপরাধী-রাজনীতিক চক্র, ব্যবসা করায় অসুবিধা, কর ফাঁকি ও চোরাকারবার, বিদ্যুৎ ঘাটতি, জনসংখ্যার ভার, জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব এবং সামাজিক সূচকগুলোর করুণ দশার কারণে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের ব্যাপারে ভারতের আশা পুরণ নিকট ভবিষ্যতে হচ্ছে না। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আসন পাওয়ার সম্ভাবনা সদূর পরাহত।

সামরিক দিক দিয়েও যতটা জগন্নাথ বলা হয় ততটা নয়। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের হাতে বিমানযুদ্ধে মার খাওয়ার স্মৃতি এখনো জ্বলজ্বলে। ভারতীয় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর বেশিরভাগ অস্ত্র-সরঞ্জাম সেকেলে। এগুলোর পরিবর্তন করাও সহজ সাধ্য নয়। আছে বাজেট সমস্যা, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ও ঘুষের লেনদেন। অধিকৃত কাশ্মীরে মোতায়েন বিপুল সংখ্যক সেনা সদস্য পিটিএসডি সমস্যায় ভুগছে, আত্মহত্যার উচ্চ হার এবং অবাধ্যতা মারাত্মক। মুসলিম ও শিখদের পুরোপুরি বিশ্বাস করা হয় না। স্বল্প বেতন, স্বল্প সামাজিক মর্যাদা ও দুর্বল মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার ফলে তাদের মনোবল দুর্বল। ফলে অনেক তরুণ অফিসার সশস্ত্র বাহিনীর চাকরি ছেড়ে লোভনীয় কেরিয়ার ও কর্পোরেট সেক্টরের দিকে ঝুঁকছে।

ভারতীয় বিমান বাহিনীর পাইলট ও ককপিট রেশিও কম, ফ্লাইট সেফটির রেকর্ড খারাপ, রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপক সমস্যা। আর সে কারণে মিগ-২১ জঙ্গিবিমানগুলোকে বলা হয় উড়ন্ত কফিন। কাশ্মিরে পাকিস্তানের পাইলট তার চেয়ে অনেক সিনিয়র ভারতীয় পাইলটের বিমান গুলি করে ফেলে দেয়।

আর নৌবহরের দেখভাল করতেই বাজেট শেষ হয়ে যায় ভারতীয় নৌবাহিনীর। দুর্ঘটনা লেগেই আছে। সাবমেরিনে সমস্যা, এয়ারক্রাফট কেরিয়ারে সমস্যা। সম্ভবত ভারতই একমাত্র দেশ যার সশস্ত্র বাহিনীর অফিসাররা পদোন্নতি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা আদায়ের জন্য নিয়মিত আদালতের দ্বারস্থ হন।

পরিশেষে একটি পশতু প্রবাদ তুলে ধরছি:

কপোতের চোখ খুবই সুন্দর হে বৎস

কিন্তু আকাশ তৈরি হয়েছে বাজপাখির জন্য

তাই তোমার কপোত-চক্ষু লুকিয়ে রেখে

নখরগুলো বড় করো।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যবসা পরিকল্পনায় সতর্ক বিনিয়োগকারীরা by গ্যারি ক্লেইম্যান

জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলকে গত বছর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর (তাতমাদাও) ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। অনুসন্ধানে তারা দেখতে পেয়েছে যে, মিয়ানমারের একক বৃহত্তম কর্পোরেট মালিকানা হলো তাতমাদাওয়ের এবং তিনটি রাজ্যে তারা শক্তির অপব্যবহার এবং যুদ্ধাপরাধের সাথে যুক্ত। তারা আরও দেখতে পেয়েছেন যে, দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সাথে তারা এমনভাবে মিলে মিশে কাজ করছে, যেখানে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের কারণে তাদের উপর কোন প্রভাব পড়ছে না।

রিপোর্টে কাচিন, শান ও রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর ব্যাপক সহিংসতার উপর মনোযোগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দুটিতে দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার আন্দোলন চলে আসছে। আর রাখাইন রাজ্যটি আলোচনায় এসেছে ৮৫০,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে দেশ থেকে বের করে দেয়ার মধ্য দিয়ে, যারা এখন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সামরিক বাহিনীর ‘নির্মূল অভিযান’ থেকে বাঁচতে তারা রাখাইন থেকে পালিয়ে যায়, যে অভিযানকে গণহত্যার সাথে তুলনা করেছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংগঠন। সামরিক বাহিনীর ইকোনমিক হোল্ডিংস (এমইএইচএল) এবং কোঅপারেশানের (এমইসি) নেতৃত্ব দিচ্ছেন যে সামরিক জেনারেলরা, তারা ব্যক্তিগতভাবে এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছেন এবং তাদের সম্পদও জব্দ করা হয়েছে। তাছাড়া সামরিক বাহিনীকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য ইউএন কাউন্সিল যে রিপোর্ট তৈরি করেছে, সেটা নিয়ে সেপ্টেম্বরের সাধারণ অধিবেশনে বিতর্ক হবে।

তাতমাদাওয়ের ব্যবসায়িক কাঠামোতে প্রতিটি গ্রুপের অধীনে প্রায় ৬০টি কোম্পানি রয়েছে, যেগুলো এমইএইচএলের সাংগঠনিক কাঠামোর অধীনে সেবা, বাণিজ্য ও উৎপাদন খাতে বিভক্ত। এমইসির মনোযোগের মূলে রয়েছে কৃষি ও হাইড্রোকার্বন কাঁচামাল, সেইসাথে রয়েছে আর্থিক ও ইন্সুরেন্স হোল্ডিংস। মিয়াওয়াদ্দিকে একটি প্রাইভেট ব্যাংক বিবেচনা করা হয়, যেটা বিদ্যমান আইনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে এবং ২০১৬ সালের হিসেবে যেটার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। প্রধান এমইসি ব্যাংক হলো ইনওয়া, যেটার দেখাশোনা করছেন সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা।

জাতিসংঘের জরিপে বলা হয়েছে যে, খনি এলাকাগুলোতে শ্রমিকদের বলপ্রয়োগ এবং যৌন সহিংসতার বিষয়টি একটি নিয়মিত বিষয়। এবং ‘রোহিঙ্গাদের মুছে দেয়ার’ উদ্দেশ্যে রাখাইনে যে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নেয়া হয়েছে, সেগুলো থেকে মনে হয় তাতমাদাও এবং তাদের পরিচালিত ব্যবসায়গুলো যুদ্ধাপরাধের সাথেও যুক্ত। বহু ডজন বিদেশী অংশীদারদের তারা পরোক্ষভাবে সাথে নিয়েছে। রিপোর্টে বিনিয়োগকারী, ভোক্তা ও দাতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে তারা তাতমাদাওয়ের সাথে ব্যবসায়ে জড়ানো থেকে নিবৃত থাকে, যেখানে এ ধরণের ঝুঁকিতে জড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে এবং সেটা আর্থিক খাত থেকে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।

কী প্রক্রিয়ায় তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে; স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন -সাক্ষাৎকারে আহসানুল করিম by সাজেদুল হক

সুপ্রিম কোর্টের খ্যাতিমান আইনজীবী আহসানুল করিম বলেছেন, বিচারপতিদের সুনামের সঙ্গে বিচার বিভাগের সুনামের প্রশ্ন জড়িত। কী প্রক্রিয়ায় তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। সম্প্রতি নিজ চেম্বারে মানবজমিন ও একটি ইংরেজি দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। বর্তমানে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বহাল আছে বলেও মনে করেন এই আইনবিদ। তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ে আপিল বিভাগ শুধু ওই সংশোধনী অবৈধই ঘোষণা করেনি, আপিল বিভাগ একই সঙ্গে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ব্যবস্থাও পুনর্বহাল করে দিয়েছে। এখন শুধু একটি রিভিউ দায়ের আছে এই কথা বলে বলা যাবে না যে, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল নেই। কারণ, ওই রায়ের ওপর কোনো ধরনের স্থগিতাদেশ নেই। তবে দ্রুতই এ রিভিউ নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।
অষ্টম সংশোধনী মামলার রায় কীভাবে কার্যকর হয়েছিল সেটাও স্মরণ করে তিনি বলেন, রায়ের সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকার বাইরের হাইকোর্ট বেঞ্চগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সংবিধান সংশোধনের জন্য অপেক্ষা করা হয়নি। আহসানুল করিম বলেন, আচরণ বিধির চেয়েও দুর্নীতির বিষয়টা অনেক বড় ব্যাপার। কোনো বিচারপতিকে বেঞ্চ দেয়া না দেয়া একান্তই প্রধান বিচাপরপতির এখতিয়ার বলেও মত তার। বাংলাদেশে আইন প্রণয়নে আরো সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন আহসানুল করিম। বলেন, পৃথিবীর সভ্য দেশগুলোতে সুপ্রিম কোর্টে এভাবে এত আইন বা সংবিধানের সংশোধনী বাতিল করে না। আমাদের এখানে আইন প্রণয়নে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করা হয় না বলেই এই ধরনের ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এত আইন অবৈধ ঘোষণার ঘটনা ঘটে না। বিচার বিভাগ অতীতের মতো দক্ষতা দেখাতে পারছে বলে মনে করেন না আহসানুল করিম। তবে তিনি বিচার বিভাগের বেশ কিছু কার্যক্রমের প্রশংসাও করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনা না দেখে দক্ষতা, যোগ্যতা দেখে বিচারক নিয়োগ হওয়া প্রয়োজন। বিচারক নিয়োগে আইন প্রণয়নের ওপরও জোর দেন তিনি। বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিচারক নিয়োগে আইনের কথা বলা হচ্ছে। এ ধরনের আইন দ্রুতই প্রণয়ন করা উচিত।
আহসানুল করিম এরই মধ্যে আইন পেশায় দুই যুগের বেশি সময় কাটিয়েছেন। তার প্রজন্মের সবচেয়ে খ্যাতিমান আইনজীবীদের একজন মনে করা হয় তাকে। তার পিতা ড. মাহমুদুল করিম চাকরি করেছেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতিসংঘে। বাবার চাকরির সূত্রে আহসানুল করিম পড়ালেখা করেছেন ভারতের স্কুলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক এই ছাত্র দীর্ঘদিন কাজ করেছেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের সঙ্গে। বলেন, রফিক-উল হক আমাকে ছেলের চেয়েও বেশি স্নেহ করতেন। তিনি আমাদের জুনিয়রদের অর্থনৈতিকভাবে বিপুল সুযোগ দিয়েছিলেন। যে কারণে আমরা পুরো মাত্রায় আইন অধ্যয়নে মনোনিবেশ করতে পেরেছিলাম। প্রয়াত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম তাকে খুব স্নেহ করতেন বলে জানান তিনি। জরুরি অবস্থার সময় আটক বেশিরভাগ রাজনীতিবিদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে নেপথ্যে অন্যতম প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন আহসানুল করিম। তিনি বলেন, সেসময় আমার ওপর কোনো চাপ ছিল না। তবে বুঝতাম আমাকে এক ধরনের নজরে রাখা হচ্ছে। পর পর তিন বার আইনজীবীদের মধ্যে ট্যাক্স দেয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছেন আহসানুল করিম। তিন অর্থ বছরেই শীর্ষ তিনের মধ্যে স্থান পেয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশে নামে মাত্র সংসদীয় গণতন্ত্র আছে -_টিআইবি by কাদির কল্লোল

বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবি'র এক গবেষণায় বলা হয়েছে, গত ১০ম সংসদে কার্যকর বিরোধী দল না থাকায় ঐ সংসদ থেকে ক্ষমতাসীনদের একচ্ছত্র ক্ষমতার চর্চা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলেছেন, এর প্রভাবে সংসদীয় গণতন্ত্র নামেমাত্র একটা অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে।
২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত গত সংসদের কর্মকাণ্ড নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি তাদের গবেষণা প্রতিবেদন বুধবার প্রকাশ করেছে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা এই বক্তব্য নাকচ করেছেন।
তারা বলেছেন, দশম সংসদ কার্যকরভাবেই সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছে।
আগের সংসদগুলো থেকে দশম সংসদকে আলাদা এবং ব্যতিক্রমী বলে অভিহিত করেছে টিআইবি।
তাদের গবেষণায় গত সংসদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিরোধীদলের পরিচয় সংকট এবং সরকারি দলের একচ্ছত্র ক্ষমতা বিস্তারের বিষয়কে।
বাংলাদেশ সর্বশেষ দুটো সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে
তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি এবং তাদের শরিকরা।
তবে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ঐ দশম সংসদে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারে মন্ত্রী সভায় যোগ দিয়েছিল। একইসাথে জাতীয় পার্টি বিরোধীদলের আসনে বসেছিল।
টিআইবি'র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিরোধীদলের সংসদ বর্জন করা একটা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছিল।
দশম সংসদ সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছে চড়া দামে বিরোধীদলের অনুপস্থিতিতে। কিন্তু ঐ সংসদ থেকে সংসদীয় পদ্ধতিই হুমকির মুখে পড়ে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
"বিরোধীদল বলতে যা বোঝায়, সেটারই উপস্থিতি থাকলো না। ....যার ফলে বিরোধী দল হিসেবে যাদেরকে বলা হলো, তারা একদিকে সরকারি দলে এবং আরেকদিকে বিরোধীদলে। ফলে তাদের একটা আত্মপরিচয় সংকট প্রথম দিন থেকেই ছিল," বলছিলেন মি: জামান।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান
তিনি বলেন, "এটা একটা মকারির (প্রহসন) মতো জায়গায় চলে গেছে। এটা নামে সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে।কারণ সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে আইন প্রণয়ন এবং সরকারকে জবাবদিহিতার জায়গায় আনা, সেক্ষেত্রে কিন্তু এটা মোটেই কার্যকর হয়েছে, সেটা বলা যাবে না।"
যদিও দশম সংসদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। বিরোধীদল দাবিদার জাতীয় পার্টিও একইসাথে ছিল সরকারের অংশীদার।
এরপরও অন্যান্য সংসদের মতো ঐ সংসদে একটা বড় সমস্যা ছিল কোরাম সংকট। টিআইবি তাদের গবেষণায় বলেছে, গত সংসদে কোরাম সংকটের কারণে প্রায় ২০০ ঘণ্টা অপচয় হয়েছে।
সংস্থাটি এর আর্থিক মূল্য দেখিয়েছে প্রায় ১৬৪ কোটি টাকা।
এছাড়া তাদের গবেষণায় আরেকটি বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিএনপি গত সংসদে না থাকলেও তাদের বিরুদ্ধেই অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করে সমালোচনা বেশি করা হয়েছে।
টিআইবি'র বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেত্রী মতিয়া চৌধুরী। তিনি বলেছেন, গত সংসদের কার্যকর ভূমিকার কারণেই সংসদীয় গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, "পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রের জনক হলো গ্রেট ব্রিটেন। তারা কমনওয়েলথভুক্ত দেশ। সেই কমনওয়েলথ পার্লামেন্ট এসোসিয়েশন চেয়ারপার্সন হয়েছিলেন আমাদের দশম সংসদের স্পিকার এবং আইপিইউ এর প্রেসিডেন্টও হয়েছিলেন আমাদের সংসদসদস্য।বিদেশীরা কেউ এটা নিয়ে প্রশ্ন করলো না।কিন্তু টিআইবি'র কাছে এটা অপাক্তেয় হয়ে গেলো।"
"বিএনপি না আসলেই যে পার্লামেন্টে আর কেউ আসে নাই তাতো নয়।"
সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়াও টিআইবি'র বক্তব্য মানতে রাজি নন।
তিনি বলেছেন, দশম সংসদ আইন প্রণয়নসহ মৌলিক কাজগুলো জবাবদিহিতার সাথেই করেছে।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, "বিরোধীদল পার্লামেন্টে ছিল। এখন বিরোধীদল ওয়াক-আউট বা হৈচৈ না করলে তাকে যদি বিরোধীদল মনে না হয়, তাহলে সেটা দু:খজনক"
আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা মতিয়া চৌধুরী
"গত দশম সংসদে যত আইন পাশ করেছে এবং যত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার সবই গণতান্ত্রিক-ভাবে হয়েছে। যদি ফাইল স্পিকারের দিকে ছুঁড়ে মারাটা গণতন্ত্র হয়, তবে সেই গণতন্ত্র আমরা করি নাই," বলছিলেন ডেপুটি স্পিকার।
তবে টিআইবি'র ইফতেখারুজ্জামানের বক্তব্য হচ্ছে, আইন প্রণয়নের মৌলিক কাজটি করার ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্যদের আগ্রহ কম ছিল এবং সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যকারিতা সেভাবে ছিল না।
"গত সংসদে যে আইনগুলো পাশ হয়েছে তার ৭১ শতাংশ আইনই এক থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে পাশ হয়েছে। সংসদ সদস্যরা আগ্রহ নিয়ে আইন প্রণয়নে অংশ নেননি। তারা আলোচনায়ও সেভাবে অংশ নেননি।ফলে সংসদ কার্যকর বা জবাবদিহি হচ্ছে বলা যায় না," বলছিলেন মি: জামান।
এদিকে বর্তমান একাদশ সংসদে কয়েকজন হলেও বিএনপিরও প্রতিনিধি রয়েছে।
সেখানে সরকারি দলকে এখন একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংসদে সব দলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন করা উচিত বলে টিআইবি সুপারিশ করেছে।

শিগগিরই রাষ্ট্রহীন হতে চলেছে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের চার মিলিয়ন মানুষ

ভারতের প্রায় চার মিলিয়ন মানুষ রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়বে, যেটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রহীন মানুষের সমস্যায় রূপ নিতে চলেছে।

এই ঘটনা ঘটতে চলেছে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যে। বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি কিছুটা দরিদ্র এলাকা এটা।

যাদের নাগরিকত্ব বাতিল হতে চলেছে এদের একটা বড় অংশের জন্ম ভারতেই হয়েছে, এবং এতদিন পর্যন্ত তারা সেখানে মৌলিক অধিকারের পাশাপাশি নির্বাচনে ভোট দেয়ার অধিকারও ভোগ করে এসেছেন।

সরকার তাদের হিন্দু জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন প্রচেষ্টা এগিয়ে নেয়ায় সেখানে অভিবাসী অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

যখন আমরা এই লেখা লিখছি, তখন রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ সেখানে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়াচ্ছে এবং বন্দিশিবির নির্মাণ করছে।

প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে একটা ইস্যু হিসেবে চলে আসছে। এই অভিবাসীদের এক-তৃতীয়াংশই হলো মুসলিম।

সত্তরের দশকের শুরুর দিকে বাংলাদেশ যখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য লড়ছিল, তখন থেকেই সীমান্তে পাড়ি দিয়ে অভিবাসীরা এখানে আসা শুরু করে।

আশির দশকের মাঝামাঝি, এ ব্যাপারে চুক্তি হয়েছিল যে, ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে পরে যারা কোন ধরনের কাগজপত্র ছাড়া এখানে এসেছে – তারা ভারতীয় নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে না।

তখন থেকেই ভারতীয় কর্মকর্তারা এটা নির্ণয় করার চেষ্টা করছেন যে, আসামের কোন কোন অধিবাসীদের এই মর্মে কাগজপত্র রয়েছে যে তারা ওই সময়ের আগে ভারতে এসেছিল।

বিগত কয়েক বছরে, এই ধরনের ১০০০ মানুষকে আটক রাখার জন্য বন্দিশিবির চালু করা হয়েছে।

আসামের ক্ষমতাসীন পার্টি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জোর দিয়ে বলে আসছে যে, অবৈধ বাঙালি অভিবাসীদের নাগরিকত্ব বাতিল করে তাদেরকে ফেরত পাঠানো হবে।

গত বছর তার একটি খসড়া তালিকা প্রকাশ করে যেখানে আসামের বৈধ অধিবাসীদের তালিকাভুক্ত করা হয়। তালিকায় যাদের নাম আসেনি, তাদের সংখ্যা প্রায় চার মিলিয়নের মতো, যাদের অধিকাংশই মুসলিম। পরে চলতি মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত তাদের সময় দেয়া হয়, এবং এ সময়ের মধ্যে তাদের নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে।

কিন্তু তারা যদি তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তাহলে বাংলাদেশ তাদেরকে ফেরত নেবে না। ফলে অভিবাসীরা কার্যত রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়বে। ভোটাধিকার থাকবে না তাদের, সমাজকল্যাণের সুবিধা পাবে না তারা, এবং সম্পদের মালিকানা বা সেখানে বসবাসের কোন অধিকার থাকবে না তাদের।

অন্যভাবে বললে, ভারতে চার মিলিয়ন মানুষের আক্ষরিক অর্থে যাওয়ার মতো কোন জায়গা থাকবে না। এটা আগামী সপ্তাহ থেকেই শুরু হবে।

ভারতের মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে। সবজায়গায় এই ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে যে, ভারতের মুসলিমদের বিরুদ্ধে মোদির সরকারের বৈষম্যের এটা শুরু মাত্র।

যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক সংগঠন জেনোসাইড ওয়াচ – যারা সারা বিশ্বে গণহত্যার আশঙ্কা ও সেটা প্রতিরোধের জন্য সতর্কবার্তা দিয়ে থাকে – তারা সম্প্রতি আসাম রাজ্য নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছে।

জেনোসাইড ওয়াচ এক বিবৃতিতে বলেছে, “বহু দশকের বৈষম্যের অংশ হিসেবে আসামের মুসলিমদের নাগরিক তালিকা থেকে বাদ দেয়া হতে পারে। নির্দিষ্ট কোন গ্রুপকে নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেয়ার জন্য তাদেরকে অমানবিকভাবে ‘বিদেশী’ আখ্যা দেয়া হচ্ছে, এবং এর মাধ্যমে তারা মৌলিক, নাগরিক ও মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে”।

এই সঙ্কটকে প্রায়ই মিডিয়ায় মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সঙ্কটের সাথে তুলনা করা হয়, যেখানে হাজার হাজার নির্যাতিত সংখ্যালঘু মুসলিম জাতিগত নিধন অভিযান থেকে বাঁচার জন্য ২০১৭ সালে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

ভারত এরই মধ্যে প্রায় ৪০,০০০ রোহিঙ্গা মুসলিমকে তাদের বিভিন্ন শহর থেকে বিতাড়ন শুরু করেছে, যাদেরকে নয়াদিল্লী নিরাপত্তা হুমকি মনে করে।

আসাম ‘হেইট স্পিচ’ প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছে আভাজ

আসাম রাজ্যের জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি)’র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে সেখানে যে ধরনের ‘বিপজ্জনক বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ প্রচার করা হচ্ছে তার উপর মঙ্গলবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক ক্যাম্পেইন গ্রুপ – আভাজ।

গ্রুপের সিনিয়র ক্যাম্পেইনার এন্ড্রু লেগন বলেন, উত্তপ্ত হয়ে ওঠা আন্ত-জাতিগত পরিবেশে ফেসবুকের মাধ্যমে ভীতিকর বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানোর বিষয়টি উদ্ঘাটন করেছে আভাজ।

তিনি বলেন, এ নিয়ে আমরা ফেসবুকের সঙ্গে কথা বলেছি এবং আগামীকাল [মঙ্গলবার] আমরা আমাদের অনুসন্ধানে বের হওয়া তথ্য ও ফেসবুকের গ্রহণ করা ব্যবস্থার উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করবো, যা প্রকাশে বারণ করা হয়েছে।

তার মতে এই প্রতিবেদনে যেসব বিষয় প্রকাশ করা হবে:
  • *ফেববুকের মাধ্যমে যে ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে তার সঙ্গে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ছড়ানো বক্তব্যের মিল রয়েছে;
  • *কিভাবে ফেসবুকের নিয়ম ও নীতি ভঙ্গ করা হচ্ছে;
  • *এবং, সম্ভাব্য মানবিক সংকট যাতে দেখা না দেয় সেজন্য অনলাইনের মাধ্যমে বিদ্বেষে ইন্ধন বন্ধের জন্য যা করা প্রয়োজন।
ফেসবুকে বিপজ্জনক বিষয়বস্তু খুঁজে বের করার অতীত রেকর্ড রয়েছে আভাজের।

অতীতে আভাজের উদঘাটনের ভিত্তিতে স্পেনে নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ফেসবুক এমন একটি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো নেটওয়ার্ক বন্ধ করে সক্ষম হয় যা ১.৭ মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌছে গিয়েছিলো।

ফ্রান্সে ইয়েলো ভেস্ট সঙ্কটের সময় ভূয়া খবর (যার পাঠক ছিলো ১০৫ মিলিয়ন) ছড়ানোর উপর উপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে আভাজ। ব্রাজিলের নির্বাচনের সময় এই গ্রুপটি একটি বড় ডিজইনফরমেশন নেটওয়ার্কের তথ্য উৎঘাটন করে, যেখানে ১২.৬ মিলিয়ন ইন্টারএ্যাকশন হয়।

তবে লেগন বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা আসামে যা দেখেছি তা ভিন্ন ধরনের আতঙ্কজনক অভিজ্ঞতা। এ ব্যাপারে নজর দেয়া খুবই জরুরি।

ভারত ও হিন্দুবাদের বিরুদ্ধে চরম কটুক্তিকর একটি ফেসবুক পোস্টের কারণে লোয়ার আসামের বড়পেটা জেলার শারভোগে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ নিয়ে ২০১৮ সালের জুনে দিল্লিভিত্তিক ওয়েবসাইট দি সিটিজেন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ওই পোস্ট দেয়ার জন্য সন্দেহভাজন পোলট্রি ব্যবসায়ী আহেদুল আলির উপর চড়াও হয় উত্তেজিত জনতা। কিন্তু আলির ফেসবুক একাউন্টটি হ্যাক করে তারই এক সাবেক হিন্দু বন্ধু তার বিরুদ্ধে মানুষকে খেপিয়ে তুলতে এ কাজটি যে করেছে সে খবর খুব কম মানুষই জানতে পারে।

আতঙ্কিত আলি থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন, উশৃঙ্খল লোকজন আলির দোকান ভাংচুর ও তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাকে শাস্তি দানের দাবিতে সামাজিক গণমাধ্যম সয়লাব হয়ে যায়। তাকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেয়ার দাবি পর্যন্ত ওঠে। স্বাভাবিকভাবেই এরপর মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যে সামাজিক গণমাধ্যম ভরে ওঠে।

সৌভাগ্যের বিষয় হলো পুলিশ আহেদুল আলিকে জিম্মায় রেখে তদন্ত শুরু করে। পরদিন দেখা যায় জয়তিশ নাথ নামে একজন এই পোস্টটি দিয়েছিলো।

আতংকিত আলি বলেন, আমার সঙ্গে এমন আচরণ করা হতে পারে তা আমি কল্পনাও করিনি। আমার জানা কেউ এমন জঘন্য কাজ করবে তা আমি কখনো ভাবিনি। আমি ভয় পেয়ে যাই। এই আঘাত কাটিয়ে উঠতে আমার বেশ সময় লাগে। এমন পরিস্থিতিতে যেন কেউ না পরে সেই প্রার্থণা করি।

সাইবার ক্রাইমের দিক দিয়ে আসামের অবস্থান ভারতীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে পঞ্চম।

গৌহাটির সাংবাদিক ত্রিদিব নিলিম দত্ত বলেন যে মুসলমানদেরকে খারাপ হিসেবে চিত্রায়িত করা পুরনো রীতি।

দত্ত বলেন, শারভোগ বা যেকোন স্থানেই হোক না কেন, মুসলমানদেরকে অপরাধী বা সন্ত্রাসী হিসেবে চিত্রায়িত করার একটি প্রবণতা রয়েছে।

বিদ্বেষকে গ্রহণ করেছে আসামের শিল্পীরা

সামাজিক গণমাধ্যমে বাড়াবাড়ি করার জন্য অনেক সময় চিন্তাভাবনা ছাড়াই ক্ষিপ্রতাকে অযুহাত হিসেবে দাঁড় করানো হয়। কিন্তু যা ক্ষমার সবচেয়ে অযোগ্য তাহলো আসামের একদল শিল্পী, গীতিকার ও গায়ক মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার ও সেগুলোকে বৈধতা প্রদানের কাজে নেমে পড়েছেন।

গত ৯ মে দি ওয়্যার পত্রিকায় সুরজ গগৌ ও অভিনব পি. বারবোরা ‘বাংলাদেশী’ শীর্ষক আসামিয় র‌্যাপ সঙ্গীতের উদাহরণ তুলে ধরেন। এর মানে এমন: “বিদেশীদের আনা হয়েছিলো আসামের শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য। কিন্তু আমরা যদি আমাদের হেংদাং (তরবারি) তুলি, তাহলে বাংলাদেশীরা তাদের লুঙ্গি তুলে পালাবে।”

ওই গানে প্রত্যেক আসামিয়কে একটি করে ধারালো তরবারি সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়, যা দিয়ে ‘বাংলাদেশীদের’ কচুকাটা করা যাবে। এই গানে আসামিয়দের মাঝে শক্তি, দেশাত্মবোধ ও বীরত্ববোধ জাগিয়ে তুলতে সপ্তদশ শতকে মোঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করা অহোম জেনারেল লাছিত বর্ফুখানের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। আসামকে বাংলাদেশী মুক্ত করতে তরুণ আসামিয়দের প্রতি রক্তগঙ্গা বইয়ে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাহুল রাজখাওয়ার লেখা আরেকটি র‌্যাপ সঙ্গীত খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এক জায়গায় লেখক দাবি করেছেন যে আসামের বেকারত্ব, নদীভাঙ্গন ও মানুষ-হাতি সংঘাতের কারণও এ এই বাংলাদেশের অবৈধ অভিবাসী।

গগৌ ও বারবোরা বলেন, রাজখোয়ার কলিগুলো এমন এক নাজুক বয়ানের উপর ভিত্তি করে রচিত যেখানে অর্থনীতি থেকে পরিবেশ পর্যন্ত – আসামের সব সমস্যার জন্য অবৈধ অভিবাসীদের দায়ি করা হয়েছে।

তারা বলেন, এ ধরনের অনেক সঙ্গীত হিপ হপ রাইমের মতো রূপ দেয়া হয়েছে।

কয়েক বছর আগে আসামে দূর্গা পূজার সময় একটি মণ্ডপে দূর্গার পায়ের নিচে পিষ্ট অসুরকে প্রচলিত রূপে তুলে না ধরে তাকে  একজন বাংলাদেশী মুসলমানের মতো রূপে দেখানো হয়েছে – তার মাথায় টুপি, মুখে দাড়ি ও পড়নে লুঙ্গি।

আসামের পূজামণ্ডপেও মুসলিম বিরোধী, বাংলাদেশী বিরোধী মনোভাবের অনুপ্রবেশ ঘটেছে।

গগৌ ও বারবোরা বলেন, আসলে আসাম ১৯৬০’র চেয়ে অনেক বদলে গেছে, তখন ‘ভাষা নিয়ে দাঙ্গা’র মুখে শান্তির আহ্বান জানিয়ে গান গাইতেন গায়করা।

এই দুই নিবন্ধকার বলেন, ১৯৭৭ সালে বন্যার্তদের সাহায্যের জন্য জয়ন্ত হাজারিকার নেতৃত্বে সুর বাহিনী রাস্তায় আন্দোলন করে। এই প্রচেষ্টাকে আসামের মানবতাবাদী ও সাংস্কৃতিক প্রতিমূর্তি জ্যোতি প্রসাদ আগরওয়ালা মনে করতেন সঙ্গীতের সার্বিক মর্মবাণী হিসেবে, যা মানুষ ও সমাজকে সৌন্দর্য্যমণ্ডিত ও আলোকিত করে।