Monday, February 8, 2016

জিয়া আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, আমীন, মারাত্মক ভুল হয়ে গেছে

মুক্তি পাওয়ার পর আমি মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম খালেদ মোশাররফের অধীনে যুদ্ধ করার। গত কয়েক মাসের নানা তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু এ সময় আবার দেখা হলো জিয়ার সঙ্গে। তিনি তখন কনফারেন্সে যোগ দেওয়ার জন্য কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। একেই বলে বোধহয় নিয়তি। ১৩ এপ্রিল সাব্রুম বিওপিতে তার সঙ্গে আমার সর্বশেষ দেখা হয়েছিল এবং তার সন্দেহের জন্যই আমাকে জেলে থাকতে হয়েছে। মাঝখানে কেটে গেছে দুঃখ, বেদনা আর বঞ্চনার আড়াই মাস। জিয়া আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘আমীন, মারাত্মক ভুল হয়ে গেছে, আই অ্যাম ভেরি সরি। এখন কোন ব্যাটালিয়নে যেতে চাচ্ছ?
প্রয়াত মেজর জেনারেল আমীন আহম্মেদ চৌধুরী তার ‘১৯৭১ ও আমার সামরিক জীবন’ শীর্ষক বইতে এসব কথা লিখেছেন। প্রথমা থেকে সদ্য প্রকাশিত ওই বইতে আরও লেখা হয়েছে- আমি বললাম, ফোর ইস্ট বেঙ্গলে। তিনি বললেন, বেটার ইউ ক্যান গো উইথ মি। বললাম, আমার কোন আপত্তি নাই। কিন্তু আপনি যেহেতু আমার সম্পর্কে খুব বেশি সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, সেজন্য আমি আপনার সঙ্গে না যাওয়াই শ্রেয় মনে করেছিলাম। জিয়া মুচকি হাসি দিয়ে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করে বললেন, চলো যাই, একসঙ্গে যুদ্ধ করবো। তারপর একই বিমানে করে জিয়ার সঙ্গে তুরাতে আসি এবং অষ্টম ইস্ট বেঙ্গলে যোগ দেই। তখন অষ্টম বেঙ্গলের অধিনায়ক ছিলেন মেজর আমিনুল হক (বীর উত্তম। পরবর্তী সময়ে ব্রিগেডিয়ার)।
আমি আজও বুঝে উঠতে পারিনি, জিয়া কেমন করে এমন একটি উদ্ভট সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন যে আমি পাকিস্তানিদের চর হয়ে ব্রিগেডিয়ার মজুমদারকে তাদের হাতে তুলে দিয়ে আরও বড় ধরনের স্যাবোটাজ করার জন্য মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিচ্ছি।  আমার ধারণা, এর প্রধান কারণ, আমি ঢাকা থেকে ২৪ মার্চ টেলিফোনে তাকে এবং কর্নেল এম আর চৌধুরীকে জানিয়েছিলাম, আমাদের (ব্রিগেডিয়ার মজুমদার ও আমি) এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। ক্যাপ্টেন রফিক যেন এখনই কোন ধরনের অ্যাকশনে না যান। ২৫ মার্চ আমি আবার ফোন করেছিলাম। তখন কর্নেল এম আর চৌধুরীর সঙ্গে আমার কথা হয়। ওনাকে বলেছিলাম, লাল ফিতা উড়িয়ে দিন। সে কথা আগের অধ্যায়ে লিখেছি। এ কথোপকথন  সমন্বন্ধে জিয়া ওয়াকিবহাল ছিলেন না। তাই তিনি ধরে নিয়েছিলেন, ব্রিগেডিয়ার মজুমদারকে আমি পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়েছি এবং কৌশলে তাদের সবাইকে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে আগাম কোন ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত রেখেছি। পরে নিজে আবার ভারতে গিয়েছি মুক্তিযুদ্ধে বড় ধরনের স্যাবেটাজ করার জন্য।
স্ত্রী ও সন্তানদের ফেলে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন জিয়া। তাদের নিয়ে তিনি শঙ্কায় ও চিন্তিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই তার মন সুস্থির ছিল না। তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে তিনি অদম্য সাহসের সঙ্গে প্রবল প্রতিকূল অবস্থা মোকাবেলা করতে কখনও পিছপা হতেন না। নির্দ্বিধায়  শক্ত শক্ত সিদ্ধান্ত নিতে মোটেও বিচলিত এবং প্রয়োজনে নির্মমতার আশ্রয় নিতেও পিছপা হতেন না।

চীনা প্রস্তাব বাতিল করায় সুবিধা হয়েছে ভারতের

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্কের কারণে নয়া দিল্লি বাংলাদেশের নতুন গভীর সমুদ্র বন্দর পায়রায় উন্নয়নে আগ্রহ দেখিয়েছে। এটা ভারতের একটি বড় উদ্যোগ। অন্যদিকে আলাদাভাবে কক্সবাজার উপকূলে মাতারবাড়ি বন্দরের উন্নয়ন কাজ করতে পারে জাপান। তবে এক্ষেত্রে কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় চীনের যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা ছিল তা বাতিল করেছে ঢাকা। এতে সুবিধা হয়েছে ভারতের। অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। ইন্দ্রানি বাগচির লেখা প্রতিবেদনে বলা হয়, এর মধ্যে হামবানটোটা ও গোদার বন্দরের মতো সোনাদিয়া বন্দরকে নিয়ে বিস্তার আলোচনা। বলা হয়, ভারতের জলসীমার চারপাশে কৌশলগত অবস্থানের জন্য এ বন্দরগুলো হলো চীনের জন্য মুক্তোর মালা। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চট্টগ্রামের কাছে পায়রা বন্দরের অবস্থান। এটি ভারতের উপকূল থেকেও কাছে। তবে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সোনাদিয়া বন্দরের উন্নয়ন কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিল চীন। যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারতো চীন তাহলে ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের খুব কাছে চীন তার অবস্থান পাকাপোক্ত করতে পারতো। ওদিকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে মাতারবাড়ির উন্নয়ন কাজ করছে জাপান। সোনাদিয়া বন্দরের উপযোগ্যতাই শুধু চীন যাচাই করে নি, একই সঙ্গে তারা এ বন্দরে বড় অংকের অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলে শোনা যায়। চীনের এই প্রস্তাব বাংলাদেশ বাতিল করেছে। পরিষ্কারভাবে বলা যায়, এটা বাংলাদেশের কৌশলগত সিদ্ধান্ত। সন্দেহ নেই তাতে ভারত, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশ সহায়ক হয়েছে। পায়রা বন্দরের বিষয়ে ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের অধীনে প্রতিষ্ঠা করা হয় পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এ বন্দরটি তৈরি হবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। সূত্রগুলো বলেছেন, এর উপযুক্ততা যাচাই করছে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। বন্দরটি নির্মাণ করতে সময় লাগবে সাত বছরের বেশি। তবে এটা শুধু একটি বন্দরই নয়, একই সঙ্গে এটি একটি গভীর চ্যানেল হিসেবে কাজ করবে, যাতে বড় বড় জাহাজগুলো বন্দরে আসা-যাওয়া করতে পারে। চট্টগ্রাম বন্দরে এত বেশি পলি পড়ে যে, শুধু ছোট ছোট জাহাজ সেখানে প্রবেশ করতে বা বের হতে পারে। সেটা নির্ভর করে জোয়ার ভাটা কখন আসবে যাবে তার ওপর। পায়রা বন্দরে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে ভারতীয় বিভিন্ন কোম্পানি। একই সঙ্গে চীনা কোম্পানিগুলোকে এ বন্দর নির্মাণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা থেকে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, এ প্রকল্পে ১০টি দেশ তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শ্রীলংকায় একই রকম প্রতিযোগিতায় কাজ হারানোর পর চীন একই ভাবে সোনাদিয়া ইস্যুতে হেরে গেল।

এবার দূরপাল্লার রকেট ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

এবার কংমিয়ংসং-৪ নামের শক্তিশালী দূরপাল্লার রকেট
উৎক্ষেপণ করল উত্তর কোরিয়া। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত
উত্তর কোরিয়ান
টেলিভিশন থেকে গতকাল ছবিটি ধারণ করা হয় l এএফপি
হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষার এক মাস পর উত্তর কোরিয়া এবার শক্তিশালী দূরপাল্লার রকেট উৎক্ষেপণ করেছে। তবে দেশটির দাবি, সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে তারা। খবর বিবিসি ও এএফপির।পশ্চিমাদের হুমকিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গতকাল রোববার উত্তর কোরিয়া উত্তর পিয়ংগান এলাকার সোহাই মহাকাশকেন্দ্র থেকে এই রকেট উৎক্ষেপণ করে।
উত্তর কোরিয়ার এ কাজের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। নিউইয়র্কে নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। বৈঠক শেষে জানানো হয়, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে শিগগির নতুন করে অবরোধ প্রস্তাব আনা হবে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব অনুসারে, উত্তর কোরিয়া কোনো ধরনের পারমাণবিক বোমা বা ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে পারবে না।
উত্তর কোরিয়া অবশ্য আগেই জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে জানিয়েছিল, তারা কক্ষপথে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাতে চায়। তবে পিয়ংইয়ং কৃত্রিম উপগ্রহ নয়, বরং নিষিদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির পরীক্ষা চালিয়েছে বলে বলছেন সমালোচকেরা।
রকেট উৎক্ষেপণের খবরে জরুরি বৈঠকে বসেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন-হাই। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুন স্যাং-জিয়ুং বলেন, সকাল ৯টা ৩১ মিনিটে তাঁদের একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে গতকাল এ রকেট উৎক্ষেপণের ঘটনা প্রথম ধরা পড়ে।
উৎক্ষেপণের চার মিনিট পর রকেটটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৪০ মাইল উঁচুতে থাকাকালে রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। তখন রকেটটি উৎক্ষেপণস্থল থেকে ৪৯০ মাইল দূরে দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের কাছাকাছি ছিল। জাপানের দক্ষিণ ওকিনাওয়া দ্বীপের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে রকেটটি।
তবে এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার জাতীয় মহাকাশ উন্নয়ন সংস্থা বলেছে, পৃথিবী পর্যবেক্ষণের জন্য কংমিয়ংসং-৪ নামের একটি কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। প্রায় ১০ মিনিট পর এটি কক্ষপথে প্রবেশ করেছে। পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়, নেতা কিম জং-উনের নির্দেশেই এ উৎক্ষেপণ চালানো হয়। ভবিষ্যতে এ রকম উৎক্ষেপণ আরও করা হবে।
উত্তর কোরিয়ার এ পদক্ষেপকে জাতিসংঘ প্রস্তাবের ‘ঘোর লঙ্ঘন’ আখ্যায়িত করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সতর্ক করে বলেন, পিয়ংইয়ংকে জবাবদিহির আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উত্তর কোরিয়ার দাবি, তাদের মহাকাশসংক্রান্ত প্রকল্প পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক গবেষণাধর্মী বিষয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, এমনকি চীনও এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

লিবিয়ায় হাসপাতালে বিমান হামলায় নিহত ৪

রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ৬৮০ মাইল পূর্বে লিবিয়ার উপকূলীয়
শহর দেরনা অবস্থিত। ছবি: এএফপি
লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের দেরনা শহরে গতকাল রোববার একটি হাসপাতালে বিমান হামলায় চারজন নিহত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী, তাঁর শিশুসন্তান ও সরকারবিরোধী দুই যোদ্ধা রয়েছে।
আল-ওহ্দা হাসপাতালের এক্স-রে বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আল-জেদ্দাইমি বলেন, ‘চারজন নিহত হয়েছে। একজন সেবিকা, তাঁর ১০ বছরের ছেলে ও শুরা কাউন্সিলের দুই সদস্য।’
হামলায় হাসপাতালটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার দায়িত্ব কেউ স্বীকার করেনি।
উপকূলীয় দেরনা শহর রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ৬৮০ মাইল পূর্বে অবস্থিত।

নির্বাচনী প্রচারণায় মাকে নামাতে হবে কেন?

ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী জেব বুশের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে নেমেছেন তাঁর মা সাবেক ফার্স্টলেডি বারবারা বুশ। এতে মহাবিরক্ত দলের আরেক আলোচিত প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। জেব বুশের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে তিনি বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারণায় মাকে নামাতে হবে কেন?
গত সপ্তাহে জেব বুশ সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে তাঁর বিরক্তির কথা বলেছিলেন। তুষারপাতের কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউ হ্যাম্পশায়ারে একটি নির্বাচনী প্রচারণা বাতিল করেন। জেব বুশ তখন বলেছিলেন, সামান্য তুষারপাতের কারণে মাঠে নামতে পারলেন না ট্রাম্প, অথচ তাঁর ৯০ বছর বয়সী মা ঠিকই পেরেছেন। গত শনিবার রাতে দলীয় টিভি বিতর্কে বক্তব্যের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন অনুপস্থিত ছিলেন, তখন দর্শক সারি থেকে ‘দুয়ো’ ধ্বনি ওঠে।
পরদিন রোববার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, বিতর্কের সময় জেব বুশের সমর্থকেরাই চেঁচামেচি করেছে। প্রচারণায় তাঁর উত্থান দেখেই জেব বুশের তহবিল জোগানদাতা এমনটি করেছে বলে ট্রাম্প মন্তব্য করেন। জেব বুশকে বিদ্রূপ করে তিনি বলেন, সাহায্যের জন্য মায়ের ডাক পড়েছে এখন। বরফ পড়েছে, মা, তুমি এসো, আমার সঙ্গে হাঁটো।
ট্রাম্প বলেন, বারবারা বুশকে পছন্দ করলেও এসব ন্যাকামো তাঁর ভালো লাগে না। নিজের কাজ নিজেকেই করতে হবে।

ভারতের স্কুলে চিতাবাঘের হানা

ভারতের বেঙ্গালুরু শহরের একটি স্কুলে গতকাল রোববার একটি পুরুষ চিতাবাঘ ঢুকে পড়ে। এই চিতাকে পাকড়াও করতে গিয়ে ছয়জন আহত হয়েছেন। আজ সোমবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বিজ্ঞানী ও বন বিভাগের একজন কর্মী রয়েছেন।
কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে জানানো হয়, বেঙ্গালুরুর একটি স্কুলে চিতাটি প্রবেশ করে। এরপর চলে এটিকে আটকানোর চেষ্টা। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালানোর পর গতকাল সন্ধ্যায় চেতনানাশক দিয়ে চিতাটিকে কাবু করা সম্ভব হয়। পরে এটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক শুমারি অনুযায়ী, ভারতে ১২ থেকে ১৪ হাজার চিতাবাঘ আছে।
আট বছর বয়সী চিতাবাঘটিকে সকালের দিকে স্কুলের ভেতরে পায়চারি করতে দেখা যায়।
স্কুলের নিরাপত্তা ক্যামেরায় দেখা যায়, সুইমিং পুলের কাছে এক ব্যক্তিকে চিতাবাঘটি আক্রমণ করছে।
একপর্যায়ে চিতাবাঘটিকে ধরার জন্য বন বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় পুলিশের সদস্যরা অভিযান শুরু করেন। এ সময় বন বিজ্ঞানী সঞ্জয় গুব্বি, বন বিভাগের কর্মী বেনি মৌরিস আহত হন। এ ঘটনায় তাঁরা ছাড়া আরও চারজন আহত হন।
পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, চিতাবাঘটিকে ধরতে দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করতে হয়েছে। পরে এটিকে চেতনানাশক প্রয়োগে ধরা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের ধারণা, চিতাবাঘটি সম্ভবত পথ হারিয়ে ওই স্কুলে প্রবেশ করেছিল।
চিতাবাঘটিকে ধরার পর একটি জাতীয় পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়। আহত ব্যক্তিদের আঘাত গুরুতর নয়। তাঁরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ওসির মামলা নেওয়া না–নেওয়া by মিজানুর রহমান খান

গতকালের লেখায় ঢাকার নিকটবর্তী একটি জেলা শহরের কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনার বরাত দিয়েছিলাম। তাঁদের সুরেই বলব, মামলা নিষ্পত্তি করা আর নতুন মামলা হতে না দেওয়া—দুটোকেই সমান গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। এই মেধাবী ও কর্তব্যনিষ্ঠ তরুণেরা অন্তত আমার চোখ খুলে দিয়েছেন। আমরা ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা নিয়ে খুব মাতামাতি করি। কিন্তু ১৫৪ ধারা নিয়ে একদম চুপ থাকি। অথচ এই ১৫৪ ধারার হাত ধরেই প্রতিদিন হাজারো মামলার জন্ম কিংবা মৃত্যু ঘটছে। এখন বছরে থানাগুলো গড়ে পৌনে দুই লাখ মামলা নেয়। কিন্তু এর প্রায় দ্বিগুণ ফৌজদারি মামলা প্রতিবছর দায়ের হচ্ছে আদালতে। এটা ইঙ্গিতবহ যে, থানার চেয়ে আদালত বেশি জনবান্ধব। গত ১৪ বছরের মধ্যে প্রথম সাত বছরে (২০০২-২০০৮) থানায় দায়ের হওয়া গড় মামলার তুলনায় পরের সাত বছরে (২০০৯-২০১৫) দায়ের হওয়া মামলা গড়ে ৩৯ হাজার বেড়েছে। এর মধ্যে পুলিশ বাদী মামলা কতটা, তা আমরা জানি না। মামলা নেওয়া না–নেওয়ার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগ করেন ওসি। তাই ওসিদের অধিকতর মর্যাদার আসনে বসানো এবং তাদের জবাবদিহি বৃদ্ধির বিষয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।
ফোন করেছিলাম আইন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক শাহ আলমকে। তিনি নিশ্চিত করেন যে আইন কমিশন কখনো ১৫৪ ধারা নিয়ে কাজ করেনি। সাতটি থানায় ওসি হিসেবে অন্তত আট বছর কাজ করছেন এমন একজন কর্মকর্তা আমাকে বলেন, ১৫৪ ধারার বিষয়ে কোনো গাইডলাইন নেই। কোর্টের কোনো নির্দেশনা নেই। তবে উপরওয়ালারা সাধারণভাবে আমাদের মামলা নিতেই উৎসাহিত করেন। ব্যস্ত থানাগুলোতে বছরে গড়ে প্রায় এক হাজার মামলা নেওয়া হয়। তিনি চমকপ্রদ তথ্য দেন যে, এর কয়েক গুণ মামলা এড়ানো হয়। কারণ, ওসিরা অলিখিতভাবে সালিসকারের ভূমিকা পালন করেন।
আমরা সুপারিশ করব যে একে সমস্যা হিসেবে না দেখে সম্ভাবনা হিসেবে দেখা। ওসিদের আমরা দায়িত্বশীল সামাজিক বিচারক হিসেবে ভাবতে পারি কি না। তারা ক্ষমতা প্রয়োগে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে বাধ্যতামূলক সলাপরামর্শ করবেন। পুলিশ কিছু ক্ষেত্রে অত্যন্ত বেশি দুর্নাম কুড়িয়েছে, কিন্তু প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাঁকে বাঁচাতে হবে। পুলিশকে রুগ্ণ রেখে স্বাস্থ্যবান ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা আমি কল্পনা করতে অপারগ। আমরা চাই বা না চাই, দেশে ওসিদের ঘিরে একটা সমান্তরাল বিচারব্যবস্থা দাঁড়িয়ে গেছে। আবার ওসিদের যা ক্ষমতা ও এখতিয়ার, তা আইনগতভাবেই আধা বিচারক বা বিচারকের মতোই। আমি সম্প্রতি র্যাবের একজন পদস্থ কর্মকর্তার টেবিলে কাচের নিচে লেখা দেখলাম, ‘টাকাপয়সা, জমিজমা বা ফ্ল্যাট উদ্ধারে অনুরোধ করবেন না।’ পুলিশও এসবে সহজে জড়াতে চায় না। কিন্তু সেই কাজেই বেশি মানুষ প্রতিকার খোঁজেন। আর ২৯ লাখ মামলার পাহাড়ের নিচে চাপা পড়া আদালতে প্রতিবছর আদালতে প্রায় ১০ লাখ নতুন মামলা ঢুকছে। এর মধ্যে দেওয়ানি মামলাই (মূলত জমি) প্রায় সাত লাখ।
রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যাশা থাকবে, তারা নিজেরা বাদী হয়ে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করবে না। আবার নিরীহ বা ভুক্তভোগী যদি প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে মামলা করতে আসেন, তাহলে তারা মামলা নেবে। ঢাকার ওই ওসি সাহেবকে বললাম, ১৫৪ ধারার ক্ষমতায় একটা ভারসাম্য আনা দরকার। তিনি বললেন, সেটা তো আইনে আছে। বললেন, মিথ্যা মামলার সন্দেহ হলে আমরা ১৫৭ ধারামতে অনুসন্ধান করি, তারপর মামলা নেই। ওসিরা যদি সারা দেশে এই ধারণায় চলেন, তাহলে আইন মার খাচ্ছে। থানার চেয়ে আদালতে দ্বিগুণ ফৌজদারি মামলা দায়েরের এটাই কি বড় কারণ? থানা জনবান্ধব হলে ঘটনাটি ঠিক উল্টো হওয়ার কথা। আমলযোগ্য ঘটনা ঘটলে মামলা দায়েরের সময় তার সত্য-মিথ্যা দেখা ওসির কাজ নয়। সম্প্রতি নির্যাতিত বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার মামলা নিয়ে রাষ্ট্র যে আচরণ করেছে, তা দেশবাসীকে পীড়িত করেছে। হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের পরেও রাষ্ট্র আপিল বিভাগে ছুটেছে। রাষ্ট্র দুঃখজনক আচরণের দ্বিতীয় লিমন উপাখ্যান তৈরি করেছে। সংস্কারের নয়, এটা রাষ্ট্রের আচরণগত সংকট।
গতকাল যে পুলিশ কর্মকর্তাদের কথা বলেছি, তঁারা আমাকে একটা মাদক মামলার ডকেট দেখিয়েছেন। যখন বিচার শুরু হয় তখন দেখা যায় সাক্ষীর অভাব। কারণ, ডকেটে সাক্ষীদের কারও ঠিকানা উল্লেখ থাকে না। আবার সাক্ষীর বলার সুযোগ থাকে, স্যার, আমি তো এ মামলার কিছুই জানি না। যে সাব-ইন্সপেক্টর, তাঁর নাম সাক্ষী হিসেবে ঢুকিয়েছিলেন, তাঁর জবাবদিহির কোনো ব্যবস্থা নেই। তাঁর দেওয়া চার্জশিটে অপরাধীর সাজা হলে এসআই পুরস্কৃত হন না। খারিজ হলেও তিরস্কৃত হন না।
ওই কর্মকর্তারা বলেন, আপনি সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞেস করুন, তাঁরা বলবেন, ওসি সাহেব মামলা নেননি বা নিলেও মিথ্যা মামলা নিয়েছেন। তাঁকে অপবাদ থেকে মুক্তি দিন। জবাবদিহির আওতায় আনুন। যদি কোনো লোক থানায় এসে বলেন, মামলা নিন। তাহলে ওসি সাহেবকে একটি ফরম পূরণ করতে হবে। তাঁকে কারণ দেখাতে হবে যে কী কারণে তিনি মামলাটি নিলেন বা নিলেন না। মামলা না নিলে অসন্তুষ্ট ব্যক্তি আদালতে কিংবা অন্য যেকোনো ফোরামে যাবেন। আমজনতাকে বুঝতে হবে, টাকা পাননি বলেই কি ওসি সাহেব মামলা নিলেন না? নাকি মামলাটি নেওয়ারই যোগ্য ছিল না? তখন কিন্তু ওসির সই করা কারণসংবলিত বিবৃতির সত্যতা যাচাইয়ে নানা পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। আর তখন ওসি তাঁর অসীম ক্ষমতা ভোগ করবেন ভেবেচিন্তে। আমি পরে তাদের ওই ফরম পূরণের সুপারিশের সঙ্গে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার মিল দেখে অবাক হই। সেটা বলেই শেষ করব।
প্রসঙ্গক্রমে তাঁরা আরও বলেন, আপনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেদার ছাপিয়ে দেন। অথচ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কিন্তু সেখানে সই থাকে না। তাহলে কী করে তাঁর দায়বদ্ধতা তৈরি হবে? আমি উদ্বেগের সঙ্গে ভাবি, কত হেলাফেলা, তাহলে কত যান্ত্রিকভাবে চলছে গ্রেপ্তার, জামিনের বিরোধিতা ও রিমান্ড প্রার্থনা। বললাম, আইন বলছে, ওসিরা চাইলে জামিন দিতে পারেন। তাঁরা বললেন, আমরা জানি। তবে এর উত্তর পুলিশ হিসেবে দেব না। বাস্তবে এর প্র্যাকটিস আছে এবং তা সব থেকে বেশি। আমার চোখ ছানাবড়া হলো। কারণ, আমি এমন কথা আর শুনিনি। বলি কী করে বলুন তো? তাঁরা বলেন, ধরুন, আমি একটা লোককে থানায় আনলাম। ৫৪ ধারায় আমরা যে কাউকে আনতে পারি। জাফর ইকবাল স্যার লিখেছিলেন, আপনি কীভাবে বুঝলেন, আমার চেহারায় সন্দেহজনক কিছু আছে? তো আমি যাকে আনলাম, তাকে ছেড়েও দিতে পারি। আবার কোনো অন্যায্য সুবিধা নিয়ে আমি তাকে ছাড়তেও পারি। আবার তদবিরের ফোনেও ছেড়ে দিই। জামিন বলি না। ধরি আর ছাড়ি। ছাড়ি আর ধরি। বললাম, ওসিকে তাহলে সীমিতভাবে জামিনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে দেওয়া হোক। তাহলে আদালতের ওপর চাপ কমবে। তাঁরা বাধা দিলেন। বললেন, আপনি প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে পড়বেন। কারণ, আস্থার জায়গা নষ্ট হয়ে গেছে।
নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নির্যাতনরে শিকার।
এটা দ্রুত নিরাময়যোগ্য নয়। তবে ডিসি-এসপির কাছে এখন যেভাবে শুধু রায়সংক্রান্ত তথ্য যায় সেটা যথেষ্ট নয়। প্রতিটি মামলার জামিন, হাজতবাস ও দণ্ড-সংক্রান্ত ডেটাবেইস (যেমন সিঙ্গাপুরে আছে) দ্রুত সৃষ্টি করা সম্ভব। ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞ পল ডি হার্ট ও লুক ভনদামার লেখা ২০০৪ সালের একটি গবেষণাপত্র (ইউরোপিয়ান পুলিশ অ্যান্ড জুডিশিয়াল ইনফরমেশন শেয়ারিং কো-অপারেশন) বলেছে, এমনটাই হতে হবে বৈশ্বিক প্রবণতা। সারা দেশে সিজিএম (মুখ্য বিচারিক হাকিম) সাহেবরা প্রতি মাসে এখন ক্রাইম কনফারেন্স ডাকছেন। সেখানে পুলিশের কেউ কেউ ‘৯০ ভাগ’ ক্ষেত্রে রিমান্ড মঞ্জুরের আকুলতা ব্যক্ত করেন।
ভজন লাল মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছিলেন, মিথ্যা তথ্য কি না, তা ওসি দেখবেন না। অর্থাৎ ব্যাংক কর্মকর্তা রাব্বীর অভিযোগের মতো হলে ওসি দ্রুত মামলা নেবেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন হাইকোর্ট থেকে এর উল্টো মতও পাচ্ছিলেন। এরপর ললিতা কুমারী বনাম উত্তর প্রদেশ মামলায় বিচার্য হলো, ওসি কি শোনামাত্রই মামলা নেবেন, নাকি একটা প্রাথমিক তদন্ত সেরে নেবেন?
বিচারপতি পিভি রেড্ডির নেতৃত্বাধীন ভারতের আইন কমিশন ২০১২ সালের রিপোর্টে বলেছিল, ১৫৪ ধারা পরিষ্কার নয় বলে বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চে গেছে। ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে আট দফা গাইডলাইন চূড়ান্ত করেন, আমাদের ওসিদের তা অনুসরণ করা উচিত মনে করি। তাতে বলা আছে, আমলযোগ্য অপরাধের বিবরণ থাকলেই হলো। ওসি মামলা নিতে বাধ্য। দাবি করা তথ্য যদি আমলযোগ্য না হয়, তাহলেই পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত করবে। এরপরও মামলা না নিতে পারলে তা এজাহার করতে আসা ব্যক্তিকে এক সপ্তাহের মধ্যে জানাতে হবে। এ রকম গাইডলাইন চালু থাকলে রাব্বী–উপাখ্যানের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যাবে।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com

৫০ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তূপে মিলল দুই প্রাণ

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ১৬তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে আজ
 সোমবার সকালে ৫০ ঘণ্টা পর জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে
 লি সং তিয়ানকে। ছবি: এএফপি
তাইওয়ানে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপে ৫০ ঘণ্টা ধরে আটকে থাকার পর আজ সোমবার সকালে দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁরা একজন নারী, অপরজন পুরুষ। ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে পৌঁছেছে।
এএফপির খবরে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া ওই পুরুষের নাম লি সং তিয়ান। ধ্বংসস্তূপে তাঁর পা আটকে ছিল। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর পা কেটে বাদ দিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছিল না। উদ্ধার হওয়া নারীর নাম জানা যায়নি।
উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নারীর কান্না শুনে তাঁরা তাঁকে বের করেন। ওই নারীর স্বামী ও সন্তানের লাশ ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর পরিবারের আরও পাঁচজন সদস্য সেখানে আটকা রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
তাইনান শহরে বিধ্বস্ত ওয়ে কুয়ান ভবন থেকে ওই নারী ও পুরুষকে ক্রেন দিয়ে উদ্ধার করা হয়।
গত শনিবার ৬ দশমিক ৪ তীব্রতার ভূমিকম্পে তাইওয়ানে ১৬ তলা একটি ভবনসহ ১১টি ভবন বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত ওই ভবনের ধ্বংসস্তূপে শতাধিক মানুষ আটকা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাঘ বলছে যাব যাব

আর কিছু দিন পরই চলে আসবে ফাল্গুন মাস। হিমেল মাঘ যাই যাই করছে। রাজধানীতে শীতের তীব্রতা এখন অনেকটাই কমে এসেছে। চলে এসেছে বাসন্তী আমেজ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টি হতে পারে। দেশের বেশির ভাগ জায়গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি চলে এসেছে। গতকাল রোববার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাঙামাটি জেলায়। ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় এর পরিমাণ ছিল ২৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যান্য বিভাগীয় শহরের মধ্যে চট্টগ্রামে ২৭ দশমিক ৯, সিলেটে ২৮ দশমিক ২, রাজশাহীতে ২৪ দশমিক ৮, রংপুরে ২৭ দশমিক ৪, খুলনায় ২৮ দশমিক ২ ও বরিশালে ২৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
আজ সোমবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ঈশ্বরদীতে। ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় ছিল ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছে, যশোর, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর ও ঢাকা বিভাগের দুই-এক জায়গায় হালকা অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা পড়তে পারে।
আবহাওয়াবিদ রাশেদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসের অর্ধেক সময় বাংলাদেশে শীতকাল বলা হয়। এই মাসের প্রথম দিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ঋতু পরিবর্তন ঘটে। আগামী ১১ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বৃষ্টি হতে পারে।

মালদ্বীপে ২০ বাংলাদেশি গ্রেফতার

অবৈধ বসবাসের অভিযোগে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে কমপক্ষে ২০ বাংলাদেশি শ্রমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মালের একটি বাজার থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। দ্বীপরাষ্ট্রটির একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, যেসব বাজারে শুধু মালদ্বীপে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করা হয়, সেগুলোতে স্থানীয়দের কাজ করার অনুমতি দেয়া হয়। তবে অনেক দোকানেই অবৈধভাবে প্রবাসী শ্রমিকরা কাজ করে থাকেন। অভিবাসন বিভাগের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, দেশটিতে বসবাস করা অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতার অভিযানের অংশ হিসেবে এই বাংলাদেশিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের কারো কাছেই মালদ্বীপে বসবাসের বৈধ কাগজপত্র নেই। তবে ঠিক কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে সম্পর্কে অভিবাসন বিভাগ সঠিক কোনো তথ্য দেয়নি। গ্রেফতার অভিযানের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মালের একটি বাজার থেকে কমপক্ষে ২০ জনকে গতকাল সকালে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়। অবৈধ এসব শ্রমিককে মালের পাশের দ্বীপ হুলহুমালের একটি বিশেষ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে মালদ্বীপের যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষক হিসেবে প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে, সেগুলোকে জরিমানা করেছে মালদ্বীপ সরকার। এদের ১০ থেকে ১৫ হাজার মালয়েশিয়া মুদ্রা জরিমানা করা হয়। অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ১০৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা গুনতে হয়েছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে মালদ্বীপের অর্থ মন্ত্রণালয় ঘোষণা দেয় যে কোনো দোকান, রেস্তোরাঁ বা ক্যাফেতে হিসাবরক্ষক হিসেবে প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়োগ দিলে তা অবৈধ বলে গণ্য হবে। এছাড়া মালদ্বীপে প্রবাসী শ্রমিকদের প্রবেশের অনুমোদনও বন্ধ রাখে অভিবাসন বিভাগ।

৭ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেন: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টিউশন ফি, সেশন ফি ও এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় অতিরিক্ত টাকা নিয়েছে, তাদের তা সাত দিনের মধ্যে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ফেরত দিতে হবে। এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডকে জানাতে হবে। টাকা ফেরত না দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। বুধবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, “বোর্ডগুলো এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, “সাত দিনের মধ্যে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিয়ে দেন, অসম্মান হবেন না।” শিক্ষামন্ত্রী জানান, রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। এ বিষয়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ফি নেয়ার ক্ষেত্রে আদালতের মামলা ও নির্দেশনার কথাও জানান তিনি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা রয়েছে বলেও মন্ত্রী জানান।

সৌদিতে দুর্ঘটনায় ২ বাংলাদেশি নিহত

সৌদি আরবের ওয়াদি আল দাওয়াসারে সোমবার সকাল ১১টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুল্লাহ আল মামুন ও আলী আসগর নামে দুই বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো দু’জন।   তারা হলেন- শেখ আব্দুল মান্নান ও জসিম উদ্দিন।তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   নিহত ও আহতদের ঘনিষ্ঠ শোয়েব বিন আহমেদ সোহেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।নিহত আব্দুল্লাহ আল মামুন ও আলী আসগরের বাড়ি সিলেটের সুনামগঞ্জের দিরাই এলাকায়। আহত শেখ আব্দুল মান্নানের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংরাই এবং জসিম উদ্দিনের বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায়। নিহত ও আহতদের অপর ঘনিষ্ঠ ইমন ইসমাইল জানান, তারা চারজন পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য শনিবার মক্কায় যান।ওমরাহ পালন শেষে মক্কা থেকে জিজান যান নিজেদের কাজের জায়গা পরিদর্শনের জন্য। জিজান থেকে দাম্মাম ফেরার পথে ওয়াদি আল দাওয়াসার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।

প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ালে ১ কোটি টাকা জরিমানা

ফেসবুকসহ অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে চলতি মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ালেও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আইন অনুযায়ী, এসব মাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুজবের শাস্তি হিসেবে ১৪ বছরের জেল এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই আইনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, মূলত চলতি পরীক্ষায় যাতে কেউ এ ধরনের কোনো গুজব না ছড়ায় সে জন্যই কঠোর হওয়ার কথা মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, “কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়িলে, দেখিলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যা দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহলে তার এই কাজ হবে একটি অপরাধ।” এই অপরাধ করলে অপরাধী অনধিক ১৪ বছর ও অন্যূন সাত বৎসর কারাদণ্ড এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ওয়েলসের সোয়ানসী ও নিউপোর্ট শহরে টিউলিপকে সংবর্ধনা

বৃটেনের ওয়েলসের সোয়ানসী ও নিউপোর্ট শহরে ২৫ জানুয়ারী বৃটেনের হ্যাম্পসটেড অ্যান্ড কিলবার্ন এলাকার বৃটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দীক পৃথক পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। কাউন্সিলার সাইফুর রহমান মামুনের পরিচালনায় অ্যাভারএভন লেভার পার্টির উদ্যোগে সোয়ানসী টাওয়ার্স হোটেলে দুপুরে অনুষ্ঠিত চ্যারিটি ইভেন্ট অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি টিউলিপ সিদ্দীক এমপি ছাড়াও স্টাপহেন কিন্ক এমপি, অ্যাসেম্বলি মেম্বার ডেভিড রিস ও কাউন্সিলার রবেট জনস বক্তব্য রাখেন। ওইদিন সন্ধ্যায় নিউপোর্ট লেবার পার্টি ও নিউপোর্ট বাংলাদেশ কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে ওয়াই এমসি হলে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দীক এমপির সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কমিউনিটি লিডার ও রাজনীতিবিদ শেখ মো: তাহির উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং মহিলানেত্রী রুসনারা বেগমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে মানপত্র পাঠ করেন নবপ্রজন্মের সন্তান সাদিয়া রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসাবে নিউপোর্টের লেবার জেসিকা মর্ডান এমপি, ওয়েলস এসেম্বলী মেম্বার জন গ্রিফিগ্স, কমিউনিটি লিডার ও রাজনীতিবিদ আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এবং কাউন্সিলার আলী আহমদ বক্তব্য রাখেন। উভয় অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে টিউলিপ সিদ্দীক এমপি লেবার পার্টির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নব-প্রজন্মের সন্তানদের বৃটিশ রাজনীতিতে আরও বেশি করে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।   বৃটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দীক বাংলাটিভির ওয়েলস অ্যাম্বেসেডর সাংবাদিক মকিস মনসুর আহমদের এক প্রশ্নের জবাবে বৃটিশ ভিসা অফিস দিল্লি থেকে ঢাকার ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করে বলেন, আমি জানি এজন্য মানুষের অনেক কষ্ট হচ্ছে।” এই ক্যাম্পেইনে সবার সহযোগিতা চেয়ে তিনি ওয়েলসের আগামী অ্যাসেম্বলি নির্বাচনে সবাইকে লেবার পার্টির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অনুরোধ জানান।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশীদের অপহরণ, হত্যা

বাংলাদেশী শ্রমিকদের অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে মালয়েশিয়ায়। দাবিকৃত অর্থ না পেয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপহৃত বাংলাদেশী শ্রমিকদের হত্যা করা হচ্ছে। লাশ ফেলে রাখা হচ্ছে। সম্প্রতি এমনই দুটি ঘটনা ঘটে গেছে। দুই বাংলাদেশী শ্রমিককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে ৫০ হাজার রিঙ্গিত। তার পরিবার ২৭ হাজার রিঙ্গিত দিয়েছে। তাতে চাহিদা পূরণ হয় নি অপহরণকারীদের। তারা ওই দুই বাংলাদেশীকে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখে জেনটিং হাইল্যান্ডস এলাকায়। অন্যদিকে কয়েকদিন আগে আরেক বাংলাদেশী শ্রমিককে অপহরণ করা হয়। একইভাবে মুক্তিপণ দাবি করা হয় ৪ লাখ রিঙ্গিত। বাংলাদেশে তার স্ত্রী ও পরিজনের বুদ্ধিমত্তায় রেহাই পান তিনি। তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় পত্রিকা স্টার এ খবর দিয়েছে। খবরে বলা হয়, অপহরণের এ চক্রে জড়িত মালয়েশিয়া, মিয়ানমার ও বাংলাদেশী। তাদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চক্রটি কয়েককদিন আগে অপহরণ করে এক বাংলাদেশী শ্রমিককে। তাকে জিম্মি করে তারা বাংলাদেশে অবস্থানরত তার স্ত্রী ও পরিবারকে ফোন দেয়। মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করে ৪ লাখ রিঙ্গিত। উপায়হীন হয়ে পড়েন ওই শ্রমিকের স্ত্রী। তিনি ৩০ হাজার রিঙ্গিতে মিটমাট করেন। অনলাইনে বেশ কিছু অর্থ তাদের পরিশোধও করেন। সঙ্গে সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত এক আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। তাকে জানান আদ্যোপান্ত। সব শুনে এই বাংলাদেশী যোগাযোগ করেন মালয়েশিয়ার পুলিশের সঙ্গে। ফলে পুলিশ অভিযানে নামে। উদ্ধার করে অপহৃত বাংলাদেশীকে। তবে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশীর নাম, পরিচয় প্রকাশ করা হয নি। বলা হয়েছে, এ ঘটনাটি ঘটেছে সুবাং জয়ায়। সেখানে একটি স্টোরে কম বেতনে চাকরি করেন ওই বাংলাদেশী শ্রমিক (৩৯)।  তার ওপর চোখ পড়ে অপহরণকারী চক্রের। তারা তাকে অপহরণ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করে। সুবাং জয়ার ওসি এসিসট্যান্ট কমান্ডার ইয়াহিয়া রামলি বলেন, ইউএসজে ১৪ নামের স্টোরে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২২ জানুয়ারি রাত সাড়ে নয়টায় তাকে অপহরণ করে চক্রটি। এর মধ্যে রয়েছে দু’জন মালয়েশিয়ান। তারা একটি সাদা গাড়ি নিয়ে তাকে অপহরণ করতে যায়। বাংলাদেশী ওই শ্রমিককে অপহরণ করে তার কাছ থেকে বাংলাদেশে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের মোবাইল ফোন নম্বর নেয়। তাদেরকে ফোন দিয়ে চার লাখ রিঙ্গিত দাবি করে মুক্তিপণ হিসেবে। হুমকি দেয়, যদি এ অর্থ দিতে ব্যর্থ হয় তারা তাহলে তাকে হত্যা করা হবে। ইয়াহিয়া রামলি বলেন, এ অবস্থায় শুক্রবার অপহৃত বাংলাদেশীর স্ত্রী মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত এক আত্মীয়কে ফোন করে সব ঘটনা খুলে বলেন। এ কথা জেনে ওই আত্মীয় সময় নষ্ট করেন নি। তিনি সরাসরি পুলিশে অভিযোগ দেন। পুলিশও নেমে পড়ে অভিযানে। ওদিকে অপহৃতকে উদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে পড়ে দেশে থাকা তার আত্মীয়রা। তারা অপহরণকারীদের সঙ্গে ৩০ হাজার রিঙ্গিতের একটি সমঝোতায় পৌঁছেন। এ অর্থ অনলাইনে পাঠিয়ে দেয়া হয় বাংলাদেশ থেকে। অপরাধে জড়িত থাকায় ২৫ জানুয়ারি সেমেনিয়ে এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় থেকে পুলিশ আটক করে মিয়ানমারের দু’শ্রমিককে। তাদের বয়স ২৩ বছর ও ৩৩ বছর। তারাই পুলিশকে দেখিয়ে দেয় মূল হোতাদের। বলে দেয়, কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে ওই বাংলাদেশীকে। ওসি ইয়াহিয়া রামলি বলেন, এরপরই আমরা ৪২ বছর বয়সী এক মালয়েশিয়ানকে গ্রেপ্তার করি। আমাদের ধারণা সে-ই এই অপরাধের মূল হোতা। তাকে গ্রেফতার করি বাতু কেভসের একটি হোটেল কক্ষ থেকে। এই ব্যক্তি মালয়েশিয়ায় ৬টি বাণিজ্যিক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। তার কাছ থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে তিনটি মোবাইল ফোন। অপহৃত বাংলাদেশীর মানিব্যাগ। তাতে ছিল দুই হাজার রিঙ্গিত নগদ অর্থ। এ ছাড়া মালয়েশিয়ার ওই অপরাধীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ভুয়া অথরিটি কার্ড, প্রধানমন্ত্রীর ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের একটি ব্যাজ। এ ঘটনার দু’দিন পরে পুলিশ সাঙ্গাই রিক্রিয়েশনাল ফরেস্ট এলাকা থেকে উদ্ধার করে ওই বাংলাদেশীকে। সেখানে পাওয়া যায় ১৯ বছর বয়সী মিয়ানমারের এক শ্রমিককে। তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তার সঙ্গে থাকা এক বাংলাদেশী ও মিয়ানমারের এক নাগরিক পালিয়ে যায়। পুলিশ আরও আটক করেছে ২৭ বছর বয়সী একজন গ্রাফিক ডিজাইনারকে। তারা অনলাইনে যে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে তার সাত হাজার রিঙ্গিত এরই মধ্যে উদ্ধার করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, গত মাসে জেনটিং হাইল্যান্ডসের কাছে একটি জঙ্গল থেকে অপহৃত দুই বাংলাদেশী শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের পরিবার অপহরণকারীদের ২৭ হাজার রিঙ্গিত মুক্তিপণ দিয়েছে। অপহরণকারীদের দাবি ছিল ৫০ হাজার রিঙ্গিত। দাবিকৃত অর্থ না পেয়ে তারা হত্যা করেছে ওই দুই বাংলাদেশীকে।

টকেসই উন্নয়ন নয়িে ইউল্যাবে আর্ন্তজাতকি সম্মলেন শুরু

 ইউনভর্িাসটিি অব লবিারলে র্আটস বাংলাদশে (ইউল্যাব) অডটিরয়িামে শুরু হয়ছেে দু’দনিব্যাপি ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারন্সে অন সাসটইেনবেল ডভেলেপমন্টে (আইসএিসড)ি’। বৃহস্পতবিার (৪ ফব্রেুয়ারি ১৫) সম্মলেনরে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করনে ব্র্যাক-এর ভাইস চয়োনম্যান এবং যুক্তরাষ্ট্ররে কলাম্বয়িা বশ্বিবদ্যিালয়রে মইেলম্যান পপুলশেন অ্যান্ড ফ্যামলিি হলেথ্-এর অধ্যাপক ড. এ মুশতাক আর চৌধুরী । উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদরে মধ্যে আরোও বক্তব্য দনে নদোরল্যান্ডরে ইউনস্কেো আইএইচই ও আমস্টারডাম বশ্বিবদ্যিালয়রে ওয়াটার গর্ভণ্যান্সরে  অধ্যাপক ড. র্মাগারটে জুর্য়াটাভনে, জার্মানীর ইউনভর্িাসটিি অব কোলন-এর জওিগ্রাফী বভিাগরে অধ্যাপক ড. বোরসি ব্রাউন, জাপানরে কয়িোটো বশ্বিাবদ্যিালয়রে গøোবাল এনভায়রনমন্টোল ষ্টাডজিরে অধ্যাপক ড. রাজবি শ, ঢাকা বশ্বিবদ্যিালয়রে ইন্সটটিউিট অব ডজিাস্টার ম্যানজেমন্টে এ্যান্ড ভালনারবিলিটিি ষ্টাডজিরে পরচিালক অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরনি, শ্রীলংকার ইউনভর্িাসটিি অব প্যারাদনেয়িার এগ্রকিালচার ইঞ্জনিয়িারংি বভিাগরে অধ্যাপক ই.আর. নমিাল গুনাওয়ারদনো, নদোরল্যান্ডরে ওয়াগনেগিনে ইউনভর্িাসটিি অ্যান্ড রসর্িাচ সন্টোর (ডবøিউইউআর)-এর স্যোশওিলজি অব ডভেলেপমন্টে এ্যান্ড চঞ্জে গ্রুপরে অধ্যাপক ড. জরেোন ওর্য়ানার এবং ইউল্যাবরে সন্টোর ফর সাসটইেনবেল ডভেলেপমন্টে (সএিসড)ি-এর পরচিালক ও কনফারন্সেরে আহবায়ক অধ্যাপক ড. হামদিুল হক। সম্মলেনে টকেসই কৃষ,ি খাদ্য নরিাপত্তা ও জীবকিায়ন, সমন্বতি পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, লঙ্গি বষৈম্য, মাইগ্রশেন, জলবায়ু পরর্বিতনরে প্রভাব ও অভযিোজন, উপকূলর্বতী স্থানসমূহরে ব্যবস্থাপনা, প্রতবিন্ধী ও টকেসই উন্নয়ন, সবুজ শহর ও জনবসত,ি জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি এবং র্দুযােগ ব্যবস্থাপনা বষিয়সহ মোট ১২ টি বষিয়রে উপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছ।ে শতাধকি গবষেণাপত্র থকেে নর্বিাচতি ৪২টি গবষেণাপত্র দু’দনিব্যাপি এই কনফারন্সেে উপস্থাপন এবং আলোচনা করা হব।ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানরে পর “টকেসই উন্নয়ন ও জাতীয় র্দীঘ ময়োদী পরকিল্পনা: বাংলাদশে ডল্টো প্ল্যান ২১০০” বষিয়ক একটি প্ল্যানারী সশেন অনুষ্ঠতি হয়। এতে প্রধান অতথিি হসিবেে উপস্থতি ছলিনে পরকিল্পনা কমশিনরে সাধারন র্অথনীতি বভিাগরে সদস্য অধ্যাপক ড. শামসুল আলম। তনিি বলনে, দ্রুত উন্নয়নশীল দশে হসিবেে বাংলাদশেকে প্রতনিয়িতই পান,ি খাদ্য নরিাপত্তাসহ বন্যা, খরা, র্ঘূনঝিড়রে মতো বভিন্নি প্রাকৃতকি র্দুযােগরে মুখোমুখি হতে হয়। এই কনফারন্সেরে সুপারশিমালা দশেরে র্দীঘ ময়োদী পরকিল্পনা প্রনয়ণে গুরুত্বর্পূন ভূমকিা পালন করবে বলে ড. শামসুল আলম আশাবাদ ব্যক্ত করনে। ইউল্যাব-এর সন্টোর ফর সাসটইেনবেল ডভেলেপমন্টে (সএিসড)ি-এর উদ্যোগে টকেসই উন্নয়ন বষিয়ক বাস্তব অভজ্ঞিতা, তথ্য-উপাত্ত নর্ভির গবষেণা ও গবষেণালব্ধ সুপারশিমালা সবার মাঝে ছড়য়িে দয়ো ও র্সবোপরি জাতসিংঘ ঘোষতি টকেসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা র্অজনে সহায়ক ভুমকিা পালনরে লক্ষ্যে এই কনফারন্সেরে আয়োজন করা হয়ছে।ে আয়োজক সূত্র জানয়িছেে সম্মলেনে সমাপনি বক্তব্য দবিনে ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটটিউিট ফর এনভায়রনমন্টে এ্যান্ড ডভেলেপমন্টেরে আওতাধীণ ক্লাইমটে চঞ্জে গ্রুপরে সনিয়ির ফলেো ও আইসসিসিএিড’ির পরচিালক ড. সলমিুল হক।  উল্লখ্যে, এবাররে কনফারন্সেে যুক্তরাজ্য, কানাডা, নদোরল্যান্ডস, জার্মানী, জাপান, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদশেসহ প্রায় ২০০ জন শক্ষিাবদি, গবষেক, সম্প্রসারণর্কমী, সমাজকমী ও উচ্চ শক্ষর্িাথীরা অংশ নয়িছেনে।

নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মরণে ভাস্কর্য উন্মোচন

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্মরণে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য উন্মোচন করা হয়েছে। সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বিপরীতে দাগ হ্যামারশোল্ড প্লাজায় স্থাপিত এ ভাস্কর্য উন্মোচন করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান ও নিউইয়র্ক স্টেটের গভর্নর এন্ড্রু কুওমোর আঞ্চলিক প্রতিনিধি হারেশ পারেখ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ এবং নিউ ইয়র্ক সিটির পার্ক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সক্রিয় সমর্থনে ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান চারুশিল্পী খুরশিদ আলম সেলিমের নকশার ভিত্তিতে ভাস্কর্যটি তৈরি করেছেন বাংলাদেশের মৃণাল হক। ১৫ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্যটি এক ফুট উঁচু একটি বেদির ওপর স্থাপন করা হয়েছে। ফাইবার গ্লাসে তৈরি ভাস্কর্যটির কেন্দ্রে একজন মায়ের মূর্তি। তিনি মাতৃভাষার প্রতীক। তার পাশে বিভিন্ন ভাষা ও জাতির মানুষের প্রতীকী উপস্থাপন। তাদের উত্থিত হাতে রয়েছে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে ভাস্কর্যটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ১৯৯২ সাল থেকে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন জাতিসংঘের সামনে প্রতিবছর একুশের প্রথম প্রহরে একটি প্রতীকী স্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছে। ফাউন্ডেশনের মুখ্য নির্বাহী বিশ্বজিৎ সাহা জানিয়েছেন, এ বছর ঢাকার সঙ্গে মিল রেখে ২০ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় বেলা একটা এক মিনিটে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

‘প্রধান বিচারপতির আচরণ সংবিধানবিরোধী’

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ‘সংবিধান, আইন ও প্রথাবিরোধী’ আচরণ করছেন বলে আবারও অভিযোগ করেছেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অবসরে যাওয়ার পর যেসব রায় ও আদেশ তিনি লিখেছেন, তা জমা দিতে চাইলেও প্রধান বিচারপতির ‘নির্দেশনার কারণে’ তা নেওয়া হয়নি। অবসরে যাওয়ার পর লেখা সেসব রায় ও আদেশ গ্রহণ করতে রোববার প্রধান বিচারপতির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন চার মাস আগে অবসরে যাওয়া এই বিচারক। সেই চিঠিতেই এসব অভিযোগের কথা এসেছে।   প্রধান বিচারপতিকে তিনি লিখেছেন, “আমি ইতিপূর্বে আপনাকে অবহিত করেছি যে, আপনার এরূপ আচরণ সংবিধান, আইন ও প্রথাবিরোধী ও একই সাথে ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।” দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ওই চিঠির বিষয়বস্তু সাংবাদিকদের সামনেও তুলে ধরেন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী। গত ৪ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কাছে তিনি এই চিঠিটি দেন। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কার্যালয় বলছে, এ ধরনের কোনো চিঠি তারা হাতে পাননি। তিনি লিখেছেন, “আমার প্রিজাইডিং জজ, মাননীয় বিচারপতি জনাব মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিয়াকে আমার লেখা সমাপ্ত হওয়া রায় ও আদেশগুলো গ্রহণ করার অনুরোধ করলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করে বলেন যে, মাননীয় প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে কোনো অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির লিখিত রায় ও আদেশ গ্রহণ করা যাচ্ছে না।” অবসরের পর ‘বৈষম্যমূলকভাবে’ তার অফিস তালাবন্ধ করে দেওয়ায় এবং অফিসের সব কর্মী ও সুবিধা থেকে তাকে ‘বঞ্চিত’ করায় হাতে লেখা রায়গুলো ‘টাইপ করতে’ পারেননি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।   প্রধান বিচারপতি পদে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ১৯ জানুয়ারি দেওয়া এক বাণীতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, কোনো কোনো বিচারপতি অবসর গ্রহণের দীর্ঘদিন পর পর্যন্ত রায় লেখা অব্যাহত রাখেন, যা আইন ও সংবিধান পরিপন্থী। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে প্রধান বিচারপতি বাণীতে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বাংলাদেশের সংবিধান, আইনের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধানের শপথ গ্রহণ করেন। কোনো বিচারপতি অবসর গ্রহণের পর তিনি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে গণ্য হন বিধায় তার গৃহীত শপথও বহাল থাকে না। এই বক্তব্যের সূত্র ধরে আইন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

টেকসই উন্নয়ন নিয়ে ইউল্যাবে আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) অডিটরিয়ামে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপি ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (আইসিএসডি)’। বৃহস্পতিবার সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক-এর ভাইস চেয়ানম্যান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইলম্যান পপুলেশন অ্যান্ড ফ্যামিলি হেলথ্-এর অধ্যাপক ড. এ মুশতাক আর চৌধুরী । উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরোও বক্তব্য দেন নেদারল্যান্ডের ইউনেস্কো আইএইচই ও আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াটার গভর্ণ্যান্সের  অধ্যাপক ড. মার্গারেট জুয়ার্টাভেন, জামার্নীর ইউনিভার্সিটি অব কোলন-এর জিওগ্রাফী বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরিস ব্রাউন, জাপানের কিয়োটো বিশ্বাবিদ্যালয়ের গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল ষ্টাডিজের অধ্যাপক ড. রাজিব শ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এ্যান্ড ভালনারিবিলিটি ষ্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরিন, শ্রীলংকার ইউনিভার্সিটি অব প্যারাদেনিয়ার এগ্রিকালচার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ই.আর. নিমাল গুনাওয়ারদেনা, নেদারল্যান্ডের ওয়াগেনিগেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (ডবিøউইউআর)-এর স্যোশিওলজি অব ডেভেলপমেন্ট এ্যান্ড চেঞ্জ গ্রæপের অধ্যাপক ড. জেরোন ওয়ার্নার এবং ইউল্যাবের সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (সিএসডি)-এর পরিচালক ও কনফারেন্সের আহবায়ক অধ্যাপক ড. হামিদুল হক। সম্মেলনে টেকসই কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকায়ন, সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, লিঙ্গ বৈষম্য, মাইগ্রেশন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও অভিযোজন, উপকূলবর্তী স্থানসমূহের ব্যবস্থাপনা, প্রতিবন্ধী ও টেকসই উন্নয়ন, সবুজ শহর ও জনবসতি, জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়সহ মোট ১২টি বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। শতাধিক গবেষণাপত্র থেকে নির্বাচিত ৪২টি গবেষণাপত্র দু’দিনব্যাপি এই কনফারেন্সে উপস্থাপন এবং আলোচনা করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর “টেকসই উন্নয়ন ও জাতীয় দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা: বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০” বিষয়ক একটি প্ল্যানারী সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারন অর্থনীতি বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. শামসুল আলম। তিনি বলেন, দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিনিয়তই পানি, খাদ্য নিরাপত্তাসহ বন্যা, খরা, ঘূর্নিঝড়ের মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়। এই কনফারেন্সের সুপারিশমালা দেশের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা প্রনয়ণে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করবে বলে ড. শামসুল আলম আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ইউল্যাব-এর সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (সিএসডি)-এর উদ্যোগে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক বাস্তব অভিজ্ঞতা, তথ্য-উপাত্ত নির্ভর গবেষণা ও গবেষণালব্ধ সুপারিশমালা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়া ও সর্বোপরি জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ভুমিকা পালনের লক্ষ্যে এই কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজক সূত্র জানিয়েছে সম্মেলনে সমাপনি বক্তব্য দিবেন ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট এ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের আওতাধীণ ক্লাইমেট চেঞ্জ গ্রুপের সিনিয়র ফেলো ও আইসিসিসিএডি’র পরিচালক ড. সলিমুল হক।  উল্লেখ্য, এবারের কনফারেন্সে যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, জামার্নী, জাপান, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশসহ প্রায় ২০০ জন শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্প্রসারণকর্মী, সমাজকমী ও উচ্চ শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন।

মিডিয়ার সঙ্গে কথা নয়, ফাইল চান প্রধান বিচারপতি

সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক মিডিয়াতে মামলার রায় ও আদেশ সংক্রান্ত কোনো বক্তব্য না দিয়ে তার কাছে থাকা অনিষ্পত্তিকৃত রায়ের ফাইল অতি স্বত্ত্বর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অফিসে জমা দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।   রোববার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান বিচারপতির এ আশাবাদের কথা জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, '৭ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের বিচারকার্য চলাকালে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী একটি সংবাদ সম্মেলন করেন, যা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির গোচরীভূত হয়। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এ ধরনের প্রেস কনফারেন্স নজিরবিহীন- একথা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান বিচারপতি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান ও ভবিষ্যতে বিচারপতিবৃন্দ কোর্টের পবিত্রতা ও মর্যাদা বজায় রাখার স্বার্থে এ ধরনের কার্য হতে বিরত থাকবেন।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী উল্লেখ করেন "আমার পিজাইডিং জজ, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে আমার লেখা সমাপ্ত হওয়া রায় ও আদেশগুলো গ্রহণ করার অনুরোধ করলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে কোনো অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির লিখিত রায় ও আদেশ গ্রহণ করা যাচ্ছে না।"   এ প্রসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর উক্ত বক্তব্য প্রধান বিচারপতির নজরে এলে তিনি এর প্রতি বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করেন, সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী তার কাছে লিখিত রায় কিংবা আদেশ গ্রহণ করার জন্য জমা দেননি।   এ অবস্থায় প্রধান বিচারপতি আশা প্রকাশ করেন, সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এসব বিষয়ে মিডিয়াতে বক্তব্য না দিয়ে তার কাছে থাকা অনিষ্পত্তিকৃত মামলার ফাইল অতি স্বত্ত্বর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অফিসে জমা দেবেন।

সোনার দাম বাড়ছে

চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ছে। সব ধরনের সোনার দর ভরিতে এবার বাড়ছে ১ হাজার ২২৫ টাকা। দাম বড়ার ফলে ২২ ক্যারেট সোনার দাম পড়বে ৪৩ হাজার ৭৪০ টাকা।  শনিবার থেকে নতুন দর কার্যকর হবে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বৃহস্পতিবার সোনার দাম বৃদ্ধির বিষয়টি জানিয়েছে। অবশ্য সোনার পাশাপাশি রুপার দাম ভরিতে ৫৮ টাকা বাড়িয়েছে সমিতি। সর্বশেষ ১৩ জানুয়ারি সোনা-রুপার দাম বাড়িয়েছিল তারা। সব মিলিয়ে বছরের প্রথম ৩৭ দিনেই সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ৪৫০ টাকা বাড়তে যাচ্ছে। নতুন দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম পড়বে ৪৩ হাজার ৭৪০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট ৪১ হাজার ৬৪০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম হবে ৩৪ হাজার ৯৯২ টাকা ভরি। সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ২৩ হাজার ৯১১ টাকা দাঁড়াবে। আর ২১ ক্যারেট (ক্যাডমিয়াম) রুপার ভরি হবে ৯৯১ টাকা। শুক্রবার পর্যন্ত প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনা ৪২ হাজার ৫১৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪০ হাজার ৪১৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট ৩৩ হাজার ৭৬৭ টাকায় বিক্রি হবে। আর সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরির দর ২২ হাজার ৬৮৬ টাকা। ৯৩৩ টাকায় বিক্রি হবে প্রতি ভরি রুপা। জুয়েলার্স ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটে ৯১ দশমিক ৬ শতাংশ, ২১ ক্যারেটে ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ১৮ ক্যারেটে ৭৫ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা থাকে। সনাতন পদ্ধতির সোনা পুরোনো স্বর্ণালংকার গলিয়ে তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে কত শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা মিলবে সে বিষয়ে কোনো মানদণ্ড নেই।

নতুন ৩ বিচারপতি শপথ নিয়েছেন

আপিল বিভাগে নিয়োগ পাওয়া নতুন তিন বিচারপতি আজ শপথ নিয়েছেন।   সোমবার সকাল ১০টায় আপিল বিভাগের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তিন বিচারপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান। প্রথমে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, এর পর বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম এবং সবশেষে বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান শপথ নেন। এ তিনজনসহ আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা দাঁড়াল নয়জনে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের অর্ধশতাধিক বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ব্যক্তিগত সহকারী আনিসুর রহমান জানান, রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। গতকাল রোববার আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি করে এ তিন বিচারপতিকে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

ইউনাইটেড এয়ারের সব ফ্লাইট বন্ধ

আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের সব ফ্লাইট বন্ধ করেছে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। ফলে সাময়িকভাবে ভোগান্তিতে পড়েছেন ইউনাইটেড এয়ারের যাত্রীরা।   ইউনাইটেড এয়ারের উপমহাব্যবস্থাপক ইফতেখার হাসান জানান,  “কয়েক দিন ধরে ইউনাইটেড এয়ারের সব ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে।অন্য কোনো সমস্যা নয়, শুধু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে ফ্লাইট।” আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্লাইট নিয়মিত হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যেসব যাত্রীর টিকিট কাটা রয়েছে তাদের সংশ্লিষ্ট বিক্রয় কেন্দ্র থেকে অর্থ ফেরত নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইফতেখার হাসান।   ২০০৫ সালে বিমান পরিচালনার লাইসেন্স পাওয়ার দুই বছর পর যাত্রী পরিবহন শুরু করে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। আট বছর ধরে অভ্যন্তরীণ রুটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কয়েকটি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। এরমধ্যে বিভিন্ন সময়ে নানা জটিলতায় ফ্লাইট বন্ধ করতে হয়েছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে।   বর্তমানে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের ১১টি উড়োজাহাজের প্রায় সবকটি ত্রুটিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পাওনা আছে প্রায় ১২৮ কোটি টাকা।

আপিল বিভাগের দুই বেঞ্চের পুনর্গঠন

 তিনজন নতুন বিচারপতি নিয়োগের পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দুটি বেঞ্চ পুনর্গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সোমবার নবনিযুক্ত বিচারপতিদের শপথবাক্য পাঠ শেষে প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ পুনর্গঠন করেন। পুনর্গঠিত ১ নম্বর বেঞ্চে থাকছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান। ২ নম্বর বেঞ্চে বিচারকাজ পরিচালনা করবেন বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ও বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম।   এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ সাংবাদিকদের বলেন, “শপথ অনুষ্ঠানের পর নতুন করে আপিল বিভাগের দুটি বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে।” এদিকে সকাল ১০টায় আপিল বিভাগের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তিন বিচারপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান। প্রথমে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, এর পর বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম এবং সবশেষে বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান শপথ নেন। এ তিনজনসহ আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা দাঁড়াল নয়জনে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের অর্ধশতাধিক বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ব্যক্তিগত সহকারী আনিসুর রহমান জানান, রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এর আগে গতকাল রোববার আইন মন্ত্রণালয়ের এক  প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তিন বিচারপতিকে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

রিটেইল বিজনেস কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

‘টেকসই খুচরা ব্যবসায়ে উত্তরণ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘বাংলাদেশ রিটেইল বিজনেস কংগ্রেস।’ শনিবার এপেক্স ও ইয়েলোর সহায়তায় বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম (বিবিএফ) ঢাকার লা মেরিডিয়ান হোটেলে এই সম্মেলনের আয়োজন করে। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য বেশ কয়েকটি অধিবেশনের আয়োজন করা হয়। সেই সঙ্গে ছিল প্যানেল আলোচনা পর্ব। এসব আলোচনায় আন্তর্জাতিক সুখ্যাতি সম্পন্ন বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় রিটেইল সেক্টর বা খুচরা খাতের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর্ব এবং প্যানেল অধিবেশনগুলোতে রিটেইল বিজনেস বা খুচরা ব্যবসায়ের বর্তমান প্রবণতা, চ্যালেঞ্জ ও প্রবৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনাসমূহ তুলে ধরা হয়। এর পাশাপাশি কীভাবে সহযোগিতামূলক ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে এ ক্ষেত্রে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন নিশ্চিত করা যায় সেই বিষয়েও জোর দেওয়া হয়। ‘বাংলাদেশ খুচরা বিক্রয় সম্মেলন’ শীর্ষক এই আয়োজন মূলত রিটেইল বিজনেস বা খুচরা ব্যবসায় সংক্রান্ত জ্ঞান বিনিময়ের মঞ্চ হয়ে ওঠে। এতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ভোক্তা প্রবণতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও ব্যবসয়িক কৌশল ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়, যাতে স্থানীয় রিটেইলার বা খুচরা বিক্রেতারা সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন ও ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি অর্জনের কলাকৌশলগুলো জেনে উপকৃত হতে পারেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের তিনটি অধিবেশন পরিচালনা করেন যথাক্রমে ফিউচার গ্রুপের বেঙ্গল ওয়ারিয়র্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও কাস্টমার স্ট্র্যাটেজির বা গ্রাহক কৌশলের প্রেসিডেন্ট সন্দ্বীপ তারকাস; হাইপারসিটি রিটেইল ইন্ডিয়া লিমিটেডের আইটি ও লজিস্টিকসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়াকিন গাজি এবং ল্যান্ডর মুম্বাইয়ের ক্রিয়েটিভ ডাইরেক্টর কুরনাল রাওয়াল। সম্মেলনে স্থানীয় আলোচকদের মধ্যে ছিলেন আগেরা সুপার মার্কেটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), হাতিল কমপ্লেক্স লিমিটেডের বিপণন পরিচালক মশিউর রহমান, মীনাবাজারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহীন খান, বেক্সিমকো লিমিটেডের গ্রুপ ডাইরেক্টর ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ নাভিদ হুসেইন। প্যানেল আলোচনায় স্থানীয়দের মধ্যে অংশ নেন এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডের (স্বপ্ন) নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির, রহিমআফরোজ গ্রুপের পরিচালক নিয়াজ রহিম এবং ইপিলিয়ন গ্রুপের বিজনেস ডেভেলপমেন্টের ডিজিএম রেজাউল কবির। ‘বাংলাদেশ রিটেইল বিজনেস কংগ্রেস’ আয়োজনে আরো সহায়তা করেছে স্বপ্ন, মীনাবাজার, আগোরা, হাতিল ও সেইলর। এতে একাত্তর টিভি মিডি পার্টনার ও ওয়েবেবল সোশ্যাল মিডিয়া পার্টনার হয়েছে। পিআর পার্টনার হয়েছে মাস্টহেড পিআর। এছাড়া মেরিডিয়ান হয়েছে হসপিটালিটি পার্টনার।

অনুমতি ছাড়া সুপ্রিম কোর্টে সংবাদ সম্মেলন নিষিদ্ধ

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সব ধরনের সংবাদ সম্মেলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সোমবার সকালে বিষয়টি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফয়েজ। সাব্বির ফয়েজ বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোর্ট চত্বরে কোনো ধরনের সংবাদ সম্মেলন করা যাবে না। তবে, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।” এ ধরনের নিয়ম কেন করা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আগে থেকেই এ রকম নিয়ম ছিল।” হঠাৎ করে এ ঘোষণা কেন? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আপনারা তো বুঝতেই পেরেছেন কেন আমরা এ ঘোষণা দিলাম।” রোববার বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক তার হাতে লেখা রায় ও আদেশ গ্রহণে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কাছে চিঠি পাঠান। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ ঘটনার একদিন পরই পুনরায় এ ঘোষণা দেয়া হলো। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে কোনো ধরনের সংবাদ সম্মেলন করতে হলে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পূর্ব অনুমতি নিতে হবে বলেও জানান সাব্বির ফয়েজ। গত বছরের অক্টোবরে অবসরে যান আপিল বিভাগের বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী। অবসরে যাওয়ার পর তার কাছে ১৯৬টি মামলার আদেশ ও রায় লেখার কাজ বাকি ছিল। এ অবস্থায় সুপ্রিমকোর্টের রোজিস্ট্রার দফতর থেকে তাকে দ্রুত রায় লেখা এবং রায়ের নথি ফেরত দেয়ার জন্য কয়েক দফা চিঠি দেয়া হয়। পাল্টা চিঠি দেন তিনি (মানিক)। এরপর ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের রায় লেখা অসাংবিধানিক বলে একটি বাণী দেন। সর্বশেষ রোববার সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার অফিস বরাবর একটি চিঠি পাঠান। বিষয়টি নিয়ে দুপুরে তিনি একটি প্রেস ব্রিফিং করেন। সেখানে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, “অবসরের পর তিনি তার হাতে থাকা মামলার রায় লেখা শেষ করে জমা দিতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তা নেয়া হয়নি। শেষ হয়ে যাওয়ার পর আমার যে প্রিজাইডিং বিচারপতি (বেঞ্চের নেতৃত্বদানকারী বিচারপতি) আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, তার কাছে আমি গেলাম। তিনি স্বভাবতই অপারগতা প্রকাশ করেছেন। তার এছাড়া কিছু করার ছিল না।” বিচারপতি শামসুদ্দিন বলেছেন, “দেখেন যেহেতু প্রধান বিচারপতি বলেছেন, যে অবসরে যাওয়া বিচারপতিগণ আর রায় লিখতে পারবেন না, আর সই করতে পারবেন না- এ অবস্থান থেকে তো তিনি সরে যাননি। তিনি এখনও ওই অবস্থানে আছেন, সুতরাং আপনার রায় আমি কিভাবে গ্রহণ করি?” গতকাল বিচার কাজ চলাকালীন সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর ‘প্রেস কনফারেন্স’ প্রধান বিচারপতির গোচরীভূত হওয়ার পর এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, “সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে এ ধরনের প্রেস কনফারেন্স নজিরবিহীন। মাননীয় প্রধান বিচারপতি আশা করেন, বর্তমান ও ভবিষ্যতে মাননীয় বিচারপতিরা কোর্টের পবিত্রতা ও মর্যাদা বজায় রাখার স্বার্থে এ রূপ কার্য থেকে বিরত থাকবেন।”

জোট বাঁধলো ওখানেই ডটকম ও ঢাকা পিক্সেল

অনলাইনে পণ্য কেনা–বেচার ক্ষেত্রে উন্নত সেবা দিতে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশের শীর্ষ ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান ওখানেই ডটকম (okhanei.com) ও ঢাকা পিক্সেল (dhakapixel.com)। চুক্তি প্রসঙ্গে ওখানেই ডটকমের প্রধান নির্বাহী রাহিতুল ইসলাম বলেন, ওখানেই ডটকম দীর্ঘদিন ধরেই ই–কমার্স সাইট হিসেবে সুনামের সঙ্গে অনলাইনে পণ্য কেনা–বেচা করছে। ক্রেতাদের আরও উন্নত সেবা দিতে, ওখানেই নতুন ফিচার যুক্ত করতে প্রযুক্তি সেবাদাতা ঢাকা পিক্সেলের সঙ্গে কাজ করবে। এই চুক্তির ফলে ওখানেই ডটকম আরও উন্নত সেবা দিতে সক্ষম হবে। নতুন নতুন সুবিধা পাবেন গ্রাহক। ওখানেই ডটকমের প্রধান নির্বাহী বলেন, বাংলাদেশের আনাচে কানাচে যত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা রয়েছেন তাঁদেরকে তুলে আনতে কাজ করবে ওখানেই। যেসব দেশি উদ্যোক্তা অনলাইনে পণ্য বিক্রি করতে আগ্রহী তাঁদের পণ্য বিক্রির সুযোগ করে দেবে ওখানেই। একটি পূর্ণাঙ্গ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পণ্য কেনা–বেচা, পণ্য সম্পর্কে জানা, ব্যবহারবান্ধব সুবিধা চালু করবে ওখানেই ডটকম। চুক্তির ফলে ঢাকা পিক্সেল ওখানেই ডটকমকে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করবে। রাহিতুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের ই–কমার্স সাইটগুলো ভূমিকা রাখছে। ডিজিটাল সেবা হিসেবে ওখানেই ডটকম প্ল্যাটফর্মকে আরও ভালো করার জন্য নতুন নতুন প্রযুক্তি, ফিচার যোগ করে ব্যবহারবান্ধব করে তোলা ও উন্নত সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। চুক্তি প্রসঙ্গে ঢাকা পিক্সেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশিক এলাহি মজুমদার বলেন, বাংলাদেশে প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা পিক্সেল কাজ করছে। ওখানেই ডটকমকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। এই চুক্তির আওতায় ওখানেই ডটকমকে দরকারি প্রযুক্তিগত সব ধরনের সহায়তা দেবে ঢাকা পিক্সেল। এর ফলে ওখানেই ডটকমের গ্রাহক সেবার মান আরও উন্নত হবে। অনলাইনে কেনাকাটা সহজ হবে। বিক্রেতারা সহজে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন এবং পেমেন্ট পদ্ধতি সহজ হবে। ঢাকা পিক্সেলের প্রধান নির্বাহী নাজমুস সাকেব বলেন, বাংলাদেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার, মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কেনা কাটা বাড়ছে। তবে একেবারে নতুন ব্যবহারকারী যাঁরা তাদের ইন্টারনেট অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করতে প্রযুক্তি সহায়তা দরকার। ঢাকা পিক্সেল সে সহযোগিতা করবে। বাংলাদেশে ই–কমার্স, ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও অন্যান্য ইন্টারনেট কেন্দ্রিক অবকাঠামো সে হারে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে না। অবকাঠামো উন্নয়নকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তি সহায়তা  করাই ঢাকা পিক্সেলের লক্ষ্য। শনিবার রাজধানীর মহাখালীতে ঢাকা পিক্সেলের নিজস্ব কার্যালয়ে উন্নত প্রযুক্তি সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওখানেই ডটকম ও ঢাকা পিক্সেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়।চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওখানেই ডটকমের প্রধান নির্বাহী রাহিতুল ইসলাম ও ঢাকা পিক্সেলের প্রধান নির্বাহী নাজমুস সাকেব এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশিক এলাহি মজুমদার প্রমুখ ।

বিরল এই বৃক্ষমানব রোগ হয়েছে দেশে একজনেরই

 দেশে এই প্রথম ‘বৃক্ষমানব’ নামে পরিচিত বিরল এক রোগে আক্রান্ত একজন রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। চিকিৎসার জন্যে তাকে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। শুরু হয়েছিল আচিলের মতো। তারপর গত ১০ বছরে এই অবস্থা আবুল বাজানদার নামের ২৫ বছরের এই যুবক গত প্রায় এক দশক যাবত এই রোগে ভুগছেন। এর ফলে তার দুই হাত এবং পায়ের কিছু অংশ বিকৃত হয়ে অনেকটা গাছের শেকড়ের মতো রূপ নিয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে মায়ের পাশে বসে কথা বলছিলেন আবুল বাজানদার। তার হাত দুটো কোলের ওপর রাখা, হাতের কব্জি থেকে বাকি অংশ বিকৃত হয়ে এমন রূপ নিয়েছে যে শুধুমাত্র হাত দুটো দেখলে সেটিকে বরং কোনো গাছের শেকড় বলে মনে হতে পারে। দুই পায়ের পাতার কিছু অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে এই রোগ। বিরল এই রোগটি বৃক্ষ মানব রোগ হিসেবে পরিচিত। আবুল বাজানদার ভ্যান চালাতেন। কিন্তু এই রোগের কারণে গত ৬ বছর যাবত কোনো কাজই করতে পারছেন না। “প্রথমে ছোট ছোট আচুলি (আঁচিল) হইছিল। এরপর থেকে আমি গ্রামের ডাক্তার দেখাইছি, খুলনায় দেখাইছি, কলকাতায় দেখাইছি। কিন্তু অসুখ বাড়া ছাড়া কমেনি। এখন ডাক্তার বলছে অপারেশন করা লাগবে,” বলেন তিনি। আবুল বাজানদারের বাড়ি খুলনা জেলার পাইকগাছায়। রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর গত ১০ বছর যাবত হোমিওপ্যাথিসহ নানা চিকিৎসা করিয়েছেন। ভারতেও গিয়েছিলেন বছর পাঁচেক আগে। চিকিৎসকেরা সেখানে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও অর্থের অভাবে সেটি আর করা হয়নি। সর্বশেষ একজন সাংবাদিকের সহায়তায় খুলনার একটি হাসপাতালে তাকে নেয়া হয়। ওই হাসপাতালের একটি মেডিকেল বোর্ড তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে আসার পরামর্শ দেন। বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ড. সামন্ত লাল সেন বলছেন, তারা এখন একটি মেডিকেল বোর্ড তৈরি করবেন এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই রোগীর হাত কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসার চেষ্টা করবেন। মি. সেন বলেন, “এটিকে বলে এপিডার্মো ডিসপ্লেশিয়া ভেরুকোফরমিস। একধরণের ভাইরাস থেকে এসেছে। আমাদের প্রথম ইম্প্রেশন হচ্ছে, রোগীর হাতটা ঠিক করতে হবে। এরপর আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।” ড. সেন বলছেন, তার জানামতে এপর্যন্ত বিশ্বে এর আগে মাত্র দু’জন রোগীর এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার রেকর্ড আছে। এদের একজন ইন্দোনেশিয়ায় এবং অপরজন রোমানিয়ার। আবুল বাজানদারের মা আমেনা বেগম বলছেন, তার ছেলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর সামাজিকভাবে তিনি মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন। “কেউ কেউ বলে খারাপ লাগে না, পাশে এসে বসে। আবার কেউ কেউ একটু দূরে দূরে থাকে।” আমেনা বেগম বলেছেন, বিভিন্নজনের থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে এতদিন ছেলের কিছু চিকিৎসা চালিয়ে এসেছেন। আট ভাই-বোনের পরিবারের ষষ্ঠ সন্তান আবুল বাজানদার বছর পাঁচেক আগে বিয়ে করেছেন। এখন তিনি তিন বছরের এক কন্যা সন্তানের বাবা। আবুল বাজানদার বলেন, “আমি মেয়েকে বলি কি হয়েছে, সে বুঝতে পারে না। আমার কোলে আসে, মুখে তুলে খাওয়ায়।” ড. সেন বলছেন, তারা মি. বাজানদারের থাকা-খাওয়া এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন। তবে শেষপর্যন্ত এই চিকিৎসা কতটা ব্যয়বহুল হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়।

খালেদাকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান ১৪ দলের

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ১৪ দল। রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে জোটের বৈঠক শেষে এই আহ্বান জানান ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে পাকিস্তানের হস্তক্ষেপ এবং শহীদদের সংখ্যা নিয়ে খালেদা জিয়ার মন্তব্যের প্রতিবাদে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটায় রাজধানীতে মানববন্ধন করবে ১৪ দল।

জিকা ভাইরাস: জরুরি অবস্থা ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

জিকা ভাইরাসে মস্তিষ্কে ত্রুটি নিয়ে শিশু জন্মের হার বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে সারা বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।   সংস্থাটি বলছে, মশাবাহিত এই রোগটির সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে এখনি ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।   গত কয়েক মাসে শুধুমাত্র লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলেই ছোট আকারের মস্তিষ্ক নিয়ে চার হাজারের বেশি শিশু জন্ম নিয়েছে।   জিকা ভাইরাসের প্রকোপ লাতিন আমেরিকা থেকে খুব দ্রুতই আরো বহু দুর পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।   রোগটি এতটাই দ্রুত ছড়াচ্ছে যে দক্ষিণ ও উত্তর আমেরিকায় এ বছর ৪০ লাখের মতো মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাই এই রোগটিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইবোলার মতো বড় মাত্রার প্রাদুর্ভাব হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মার্গারেট চ্যন আনুষ্ঠানিকভাবে সারা বিশ্বব্যাপী এক জনস্বাস্থ্য বিষয়ক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।   মিজ চ্যান বলছেন, পরিস্থিতি আরো সংকটময় হয়ে ওঠার আগেই সমন্বিত কর্মপ্রক্রিয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।   সমন্বিতভাবে আগে ভাগে সতর্ক হলে ঝুঁকি কমানো সহজ হবে, বলছিলেন মিজ চ্যন।   জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে এসম্পর্কিত সাহায্য ও গবেষণাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে।   জিকা ভাইরাস থেকে সৃষ্ট মাইক্রোসেফালি রোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র গত চার মাসে শুধু ব্রাজিলেই চার হাজারের বেশি শিশুর জন্ম হয়েছে।   যাদের মস্তিষ্ক স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট আকারের।   প্রায় ৭০ বছর আগে রোগটির অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও এর প্রকোপ কখোনোই এতটা বেশি ছিল না।   আর তাই জিকার সাথে মাইক্রোসেফালির সম্পর্ক কতটা সে নিয়ে তেমন কোনো গবেষণাও নেই।

প্রধানমন্ত্রীর হুমকিতে জাতি আক্রান্ত: রিজভী

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের প্রতিবাদ কোনোভাবে সহ্য করতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিয়ত হুমকিতে জাতি আজ আক্রান্ত। প্রধানমন্ত্রী এখন ‘হুমকি-কন্যা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। রোববার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এই অভিযোগ করেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর হুমকির মুখে দেশের মানুষের অধিকার আজ নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। ভোট, নির্বাচন, কথা বলা, সমালোচনা ও প্রতিবাদ, লেখা, প্রকাশ করা, চলাফেরা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ মানুষের সব স্বাধীনতা দ্বিতীয় মেয়াদের শেখ হাসিনার বাকশালে বন্দী হয়েছে। মানুষের অধিকার শব্দটিকে শেখ হাসিনা স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেন না। মূলত, তিনি জনমতকেই রাষ্ট্রীয় শক্তির জোরে হুমকি দিয়ে আটকে রেখেছেন। তিনি বলেন, সরকার জনরোষে উৎখাত হবে। তাই আগাম প্রতিক্রিয়ায় গুম, খুন, নিখোঁজ করা ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে ভয়াবহ সামাজিক নৈরাজ্য, গণতন্ত্রের বিনাশ হচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ফাঁসে আটকে যাওয়ার ভয়ে তাই সরকার রাষ্ট্রক্ষমতা বেআইনিভাবে ধরে রেখেছে। বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত এ নেতা অভিযোগ করেন, সরকারি প্রশাসনিক সংস্থা ও সাংবিধানিক সংস্থাগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘সুইচ’ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। বর্তমান নির্বাচন কমিশন লজ্জা ঢাকার শেষ সুতাটুকুও বিসর্জন দিয়ে সরকারের ইচ্ছাপূরণে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। একটি স্বাধীন সাংবিধানিক নির্বাচন কমিশনের মর্যাদার প্রাচীর ভেঙে দিয়েছে বর্তমান কমিশন। তাই কমিশন বেহায়ার মতো আচরণ করছেন। তাদের ন্যূনতম লজ্জা থাকলে তারা অনেক আগেই পদত্যাগ করতেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনিসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।