Wednesday, December 9, 2009
কেরানীগঞ্জে কর্মসংস্থান ব্যাংকের গ্রাহক সমাবেশ
সমাবেশে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ ইউসুফ ১৯ জন উদ্যোক্তার হাতে ঋণের চেক তুলেদেন।
এম এ ইউসুফ ব্যাংকের ২০০৮-০৯ অর্থবছরের অক্টোবরের তুলনায় চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের অক্টোবর পর্যন্ত জনবলের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও ঋণ বিতরণ ও আদায় বাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
গ্রাহক সমাবেশে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. দিলওয়ার হোসেন ভূঁইয়া বক্তব্য দেন।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিটির দক্ষিণ এশীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এখন ঢাকায়
বাংলাদেশ সফরকালে জুলিয়া জিলবারম্যান সিটির অন্যতম কমিউনিটি পার্টনার ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডার বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
জুলিয়া জিলবারম্যান ২০০৭ সালে রাশিয়ায় সিটির পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগে যোগ দেন। চলতি বছরের অক্টোবরে তিনি সিটির দক্ষিণ এশীয় পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান।
কানাডার কার্লটন ইউনিভার্সিটি থেকে জুলিয়া জিলবারম্যান স্নাতক (সম্মান) এবং নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লন্ডন স্কুল অব বিজনেস থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে ডিপ্লোমা লাভ করেন।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিএনপির বিলম্বিত কাউন্সিল সফল হোক -সৈয়দ আবুল মকসুদ
বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের একটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, যার ইংরেজি তর্জমা ‘বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি’, সংক্ষেপে বিএনপি। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এই দল গঠন করেন। দল জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতায় নিয়ে যায়নি; নিজের হাতে গঠন করে তিনিই দলকে ক্ষমতায় নিয়ে যান। তিনি জনপ্রিয় ছিলেন এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ছিল তাঁর অনুকূলে। সুতরাং নানা মত ও পথের মানুষকে জড়ো করে তিনি তাঁর দলকে সংহত ও শক্তিশালী করেন। কেউ ক্ষমতার রাজনীতির স্বাদ উপভোগ করতে চাইলে বিএনপির দরজার দুটি পাল্লাই তার জন্য খোলা ছিল। মোটের ওপর একটি মধ্যপন্থা অবলম্বন করায় জিয়ার অনুপস্থিতিতেও দলটি তাঁর জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারে। জিয়ার মৃত্যু ও বেগম জিয়ার মঞ্চে প্রবেশ—তার মাঝখানের সময়টিতেও দলটি শক্তই ছিল।
প্রতিষ্ঠাতা সামরিক ব্যক্তিত্ব হওয়ায় বিএনপির মধ্যে যে সামরিক গন্ধ ছিল, বেগম জিয়া দলের হাল ধরার পর, বিশেষ করে আশির দশকে সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর আপসহীন ভূমিকার কারণে, তা দূর হয়ে যায়। দলটি সম্পূর্ণ বেসামরিক চরিত্র অর্জন করে। বেগম জিয়ার নীতি যতই রক্ষণশীল হোক, তিনি একজন গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হন। সেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সমান্তরালভাবে নেতৃত্ব দেয়। স্বৈরাচারের পতনের পর দুটি দলই ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরিয়ে আনতে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত চারবার পালাক্রমে সরকার গঠন করেছে এ দুই দলই। এতে প্রতীয়মান হয়, জনগণের মধ্যে তাদের অবস্থান খুবই শক্ত।
এক নেতানির্ভর হওয়ায় দুটি দলেই নেতৃত্বের গণতান্ত্রিক বিকাশ ঘটেনি। তাঁরা দেশে গণতন্ত্র চান, অবশ্য জনগণ চায় বলেই তাঁরা চান, কিন্তু দলের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা হোক তা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পছন্দ নয়। দলের মধ্যে গণতন্ত্রের চেয়ে সামন্তবাদী চেতনাই বেশি কার্যকর। নেতা-কর্মীদের স্বাধীন মত প্রকাশের উপায় নেই বললেই চলে। নেতার নির্দেশ নতমাথায় মেনে চলতে হয়। সাহস করে কেউ মাথা তুলতে চাইলে তাঁর মাথায় লগুড়ের আঘাত পড়ে।
যেকোনো দলের গণতন্ত্রের চর্চা দেখা যায় তার কাউন্সিলে। কিন্তু একেশ্বরবাদী ধর্মগুলোর মতো এক নেতাবাদী দলগুলোর জন্য কাউন্সিল এক উটকো ঝামেলা। কোনো দিনই যদি আমাদের বড় দলগুলোর কাউন্সিল ডাকতে না হতো, তাহলে খুবই ভালো হতো। এতকাল সে অবস্থাই ছিল; কিন্তু বিপত্তি ঘটিয়ে গেছে গত বিশেষ সরকার। তারা আরশ থেকে আদেশপ্রাপ্ত হয়ে এসেছিল দেশ থেকে দুর্নীতি ঝেঁটিয়ে বিদায় করবেন এবং রাজনীতিতে এমন সংস্কার করবেন যা পৃথিবীর আর কোনো দেশে এ পর্যন্ত হয়নি। কথিত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অগণিত মামলা ঠোকার কারণে গিনেস বুকে ওই সরকারের স্থান হতে পারে। রাজনীতির সংস্কার করতে গিয়ে বিশেষ সরকার ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধিত) আইন, ২০০৯’ প্রণয়ন করে যায়, যা নবম জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এ আইনে নানা রকম শর্ত আছে। প্রধান ও প্রথম শর্ত হলো—রাজনৈতিক দল হিসেবে গণ্য হতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিবন্ধিত হতে হবে এবং তাহলে তার গঠনতন্ত্রে যেসব বিধান রাখতে হবে তা হলো—১. কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সব পর্যায়ের কমিটির কর্মকর্তাদের নির্বাচিত হতে হবে; ২. কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সব পর্যায়ের কমিটিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব রাখতে হবে; ৩. কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা ছাত্র অথবা আর্থিক, বাণিজ্যিক অথবা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী-কর্মকর্তা অথবা শ্রমিকদের অথবা অন্য কোনো পেশার সদস্যদের নিয়ে গঠিত সংগঠনকে অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যাবে না ইত্যাদি।
নির্বাচন কমিশন যখন এই ফরমান জারি করে, তখন বড় দলগুলো প্রচণ্ড প্রতিক্রিয়া ও তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করে। তারা বলতে চাইল: এসব ছাইপাঁশ আমরা মানব না। এত দিন খুশিমতো দল করেছি, এখন এসব কী? কিন্তু বৈদেশিক বন্ধু, প্রচারমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের চাপে শেষ পর্যন্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলোকে নিবন্ধিত হতে হয়েছে এবং গঠনতন্ত্র জমা দিতে হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। দায়ে পড়ে বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটিও গঠন করা হয়েছে। দল নিবন্ধন ও গঠনতন্ত্র জমা দিতে গিয়ে সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েছিল জামায়াতে ইসলামী। তার খোলনলচেয় টান পড়েছিল। কোনো রকমে আল্লাহ আল্লাহ করে উতরে গেছে।
কিন্তু কাউন্সিল ডাকা, নির্বাচন করা ইত্যাদির কথা শুনে সবচেয়ে বেশি মেজাজ তিরিক্ষে হয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির। শেষ পর্যন্ত ৩৯টি দল অস্থায়ী গঠনতন্ত্র জমা দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা-চেয়ারম্যান সেনাপতির মতোই ঘোষণা দিলেন: ‘আমি মৃত্যু পর্যন্ত চেয়ারম্যান থাকব।’ মরণোত্তর চেয়ারম্যান থাকলেই বা আমরা বাধা দেওয়ার কে? ‘খুব ভালো’ কাউন্সিল করার জন্য বিএনপি ছয় মাস সময় চেয়েছিল। সাত বছর পর তড়িঘড়ি করে আওয়ামী লীগ কাউন্সিল করে দায় সেরেছে, দায়িত্ব পালন করতে পারেনি যথাযথভাবে। সব দলই বাধ্য হয়ে গঠনতন্ত্র জমা দিয়েছে নির্বাচন কমিশনে। কিন্তু যে রাষ্ট্রে সংবিধানই রাজনীতিকেরা মান্য করতে চান না, সেখানে দলীয় গঠনতন্ত্র যে অবহেলা করা হবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
এ উপমহাদেশে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসই একমাত্র দল, যা ১৮৮৫ থেকে বিশেষ কারণ ছাড়া প্রতিবছরই কাউন্সিল করে নতুন কমিটি নির্বাচন করেছে। সেভাবেই উমেশচন্দ্র বোনার্জি, দাদাভাই নওরোজি, বদরুদ্দিন তায়েবজি, ফিরোজশাহ মেহতা, সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি, জিন্নাহর শ্বশুর দীনশ ওয়াচা, অ্যানি বেশান্ত, মতিলাল নেহরু, হাকিম আজমল খাঁ, চিত্তরঞ্জন দাশ, মওলানা মোহাম্মদ আলী, জওহরলাল নেহরু, সুভাষচন্দ্র বসু থেকে ইন্ধিরা গান্ধী পর্যন্ত কংগ্রেস সভাপতির পদ অলংকৃত করেছেন অন্তত ৮০ জন নেতা। মুসলিম লীগ ও হিন্দু মহাসভা বছর-বছর কাউন্সিল করে নতুন নেতা নির্বাচন করা পছন্দ করত না। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মুসলিম লীগেরই বংশধর। সুতরাং এ দলে এক বছর, দুই বছর বা তিন বছর পর পর নতুন নেতা নির্বাচিত হবেন তা আশা করা মরুভূমিতে পুকুর প্রত্যাশা করার মতো দুরাশা। দুর্ভাগ্য এ দুই দলের বড় নেতাদের। তাঁদের অবিচুয়ারিতে কোনো দিন লেখা হবে না: তিনি অত সাল থেকে অত সাল দলের সভাপতি ছিলেন। হয় প্রেসিডিয়াম সদস্য, নয়তো স্ট্যান্ডিং কমিটিতে গিয়েই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে আমৃত্যু।
বহু বছর পরে বিএনপির কাউন্সিল হতে যাচ্ছে। কোনো কাগজ লিখেছে ‘কাউন্সিল উত্সবমুখর পরিবেশে হবে’, কোনো কাগজ বলছে ‘কাউন্সিল নিয়ে সাজ সাজ রব’ ইত্যাদি। এর মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বেগম খালেদা জিয়া চেয়ারপারসন পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। নতুন করে নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানাই। এ মুহূর্তে তাঁর চেয়ে যোগ্য আর কোনো নেতা দলে নেই, তা একজন বালকও বলবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়াও দোষের কিছু নয়। মওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু হতেন। এখন শেখ হাসিনা ও বেগম জিয়া হচ্ছেন। ভারতে কংগ্রেসে সোনিয়া গান্ধীর প্রতিদ্বন্দ্বী আপাতত কেউ নেই।
উত্সব ও সাজ সাজ রবের কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবিক পক্ষে দলের কাউন্সিল কোনো বড়সড় বৌভাতের অনুষ্ঠান নয়, চেহলামের জেয়াফতও নয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও নয়। কাউন্সিল কোনো যাগযজ্ঞের মতো ব্যাপার নয়, এক অতি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অনুষ্ঠান। কোনো কোনো কাউন্সিল থেকে দেশের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি নির্ধারিত হয়।
কমিউনিস্ট পার্টির প্লেনাম আর বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক পার্টির কাউন্সিলও এক রকম নয়। সিপির প্লেনাম বড় সাংঘাতিক। সেখানে থিসিস দেওয়া হয়। কোনো কোনো থিসিস বা দলিল পাঠ করে কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক সদস্যের মাথা পর্যন্ত খারাপ হয়ে যাওয়ার জো হয়। বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক দলে সে সমস্যা নেই। নেতার কথা শিরোধার্য করে বিরিয়ানি বা তেহারি খেয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিলেই হলো।
ইসলামি দর্শনে সংস্কারবাদীদের বলা হয় মোতাজিলা সম্প্রদায়। পৌষ-পরবর্তী দুই-বছরি সরকার এসে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে দুটি মোতাজিলা গোষ্ঠী তৈরি করে গেছে। আওয়ামী লীগের মোতাজিলাদের কেউ কেউ শুধু উপদেশ দেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছেন, কেউ কিছুই পাননি। বিএনপির মোতাজিলাদের প্রায় সবাই মূলস্রোতে আসতে পেরেছেন। মান্নান ভুঁইয়া এককালে বামপন্থী ছিলেন। সাইফুর রহমানকে ডেকে এনে তিনি ড্রইংরুমেই পার্টির প্লেনাম করে ফেলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সাইফুর রহমানকেও বেগম জিয়া গ্রহণ করেছিলেন। শুধু মান্নান ভুঁইয়াই মোতাজিলা বা সংস্কারবাদী হিসেবে বর্জিত হলেন।
বিএনপিতে এখন সনাতনপন্থী ও সংস্কারপন্থীর সমস্যা বিশেষ নেই। কাউন্সিলে পদ পাওয়া নিয়ে একে অপরকে সংস্কারবাদী বলে চিত্রিত করার চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু তাতে বড় কোনো ঝামেলা হবে বলে মনে হয় না। পুনর্নির্বাচিত হয়ে বেগম জিয়া ‘কাউন্সিলের পর দলকে নবরূপে সাজানোর প্রত্যাশার কথা জানিয়ে’ বলেছেন, এরপর ‘এক নতুন বিএনপি দেখা যাবে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘গুণীজনদের দিয়ে নতুনদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী দিনে বিএনপিকে দেশে-বিদেশে একটি শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’ অতীতের দোষ ও দুর্বলতা ঝেড়ে ফেলে যদি অগ্রসর ও আধুনিক ‘নতুন বিএনপি’ আত্মপ্রকাশ করে, তাকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া আর সবাই স্বাগত জানাবে। দেশের গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দল দরকার।
কাউন্সিল উপলক্ষে বিএনপি আটটি বই প্রকাশ করেছে। জ্ঞানের ও চিন্তার চর্চা হওয়া ভালো। বইগুলোর শিরোনাম এ রকম: জাতীয় কাউন্সিল স্মারকগ্রন্থ, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, সার্বভৌমত্ব ও সমকালীন প্রসঙ্গ, মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্স, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতির ৭ নভেম্বর, দেশবাসীর প্রতি দেশনেত্রী প্রভৃতি। যুগ্ম মহাসচিব আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, ‘দলের প্রতিনিধিরা বইগুলোতে জাতীয়তাবাদী দলের ঠিকানা খুঁজে’ পাবেন। বিএনপির যাত্রীরা যদি পথের প্রান্তে তাঁদের দলের ঠিকানা খুঁজে পান, সেটা খুশির কথা।
নোমান সাহেব আরও বলেছেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ওপর মৌলিক লেখাগুলোর একটি অংশ নিয়ে যে বইটি প্রকাশিত হয়েছে, আশা করি এর মধ্যে জাতীয়তাবাদ ও শহীদ জিয়ার আদর্শের মৌলিকত্ব খুঁজে পাবেন নেতা-কর্মীরা।’ দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও বইটির বিষয়বস্তুর মধ্যে আছে টিপাইমুখে বাঁধ, এশিয়ান হাইওয়ে, করিডর, ট্রানজিট, তেল-গ্যাস ব্লক ইজারা, পার্বত্যচুক্তিতে বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি প্রভৃতি। এ বইগুলো আমাকে রিভিউ করতে দিলে আমি বলতাম: এগুলোর বিষয়বস্তু সময়োপযোগী, ভাষা ঝরঝরে, প্রচ্ছদ চমত্কার। কাগজ, ছাপা ও বাঁধাই সুন্দর। আমি এসব বইয়ের বহুল প্রচার কামনা করি।
তবে মনে হয়, আরও কয়েকটি বিষয়ে কিছু বই প্রকাশ করলে আয়োজনটা সম্পূর্ণ হতো। আহমদীয় সরকারের সময় অন্যায্যভাবেও বিএনপির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে, তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু ওই সরকারের ক্ষমতা দখলের পটভূমি সৃষ্টিতে বিএনপির অপশাসন কতটা দায়ী সে সম্পর্কে আত্মসমালোচনামূলক একটি পুঁথি প্রকাশ করা যেত। বাংলার অধ্যাপক ভাই ও শায়খ সাহেবদের উত্থান, পৃষ্ঠপোষকতাদান, পরে বৈদেশিক চাপে তাদের আটক ও শাস্তিদান প্রভৃতি সম্পর্কে হতে পারত একটি সহি বড় জঙ্গনামা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমিকা হতে পারত একটি বইয়ের উপজীব্য। পাকিস্তানের আইএসআই এ দেশে কোনো মহত্তম প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যস্ত আছে কি না সে সম্পর্কে প্রকাশ করা উচিত ছিল একটি মাঝারি আকারের কেতাব।
কাউন্সিল উপলক্ষে খানাপিনার বাইরে আছে স্মরণিকা প্রকাশ, মনোগ্রাম, টিশার্ট, গেঞ্জি, টুপি, কলম, কোট-পিন, বিলবোর্ড, রিংটোন তৈরি প্রভৃতি এন্তেজাম। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাচনী সংগীত ‘ইয়েস উই ক্যান’-এর অনুকরণে বিএনপির কাউন্সিল সংগীত তৈরি করা হয়েছে। [ইত্তেফাক] এবারের স্ল্লোগান হচ্ছে, ‘নানান মানুষ নানান পথ, দেশ বাঁচাতে ঐক্যমত’। খুব ভালো স্ল্লোগান। কিন্তু ‘ঐক্যমত’ অর্থ ‘আমার মত’ অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নয়, অন্যের কাছে আমারও এগিয়ে যাওয়া।
মাথামোটা মানুষ যেকোনো দলেই থাকে, কিন্তু বিএনপিতে উচ্চশিক্ষিত ও মেধাবী মানুষ অনেকেই আছেন। তেমন মানুষ তৃণমূল পর্যায়েও আছেন। তাঁদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে দল শক্তিশালী হবে। তাঁদের দূরে রেখে মাথামোটা নেতারা যদি নেতা-কর্মীদের মাথার ওপর ছড়ি ঘোরাতে থাকেন, তাতে দল দুর্বল হবে।
১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যেদিন স্বৈরাচারের পতন ঘটে, সেদিন যেন বিধাতা বাংলাদেশি গণতন্ত্রকে আমাদের দুটি বড় দলের হাতে তুলে দিয়েছেন। গত ১৮ বছরে দেখা গেছে, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা বাড়ে, আওয়ামী লীগ দেশ চালালে বিএনপির জনপ্রিয়তার মিটার ওপরের দিকে উঠতে থাকে। আমাদের ভোটারদের মন ওভাবেই গঠিত হয়েছে। এক নতুন বিএনপির কথা বলা হচ্ছে, দেখা যাক কাদের নেতৃত্বে কেমন এক নতুন কমিটি আসে।
বাংলাদেশে একটি ভালো লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি হতে হলে তাকে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ইতিহাস-প্রবাহিত আবেগ যুক্তিশীলতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করতে হবে। দ্বিজাতিতত্ত্ব-নির্ভর মুসলিম জাতীয়তাবাদের চেয়ে বাঙালিত্বকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সংখ্যালঘু বাঙালি হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানদের আবেগ-অনুভূতিকে মূল্য দিতে হবে। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল, গারো, হাজং, মণিপুরি, রাখাইন প্রভৃতি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনগণের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কে অত্যন্ত সংবেদনশীল হতে হবে। তা ছাড়া মার্কিন নিয়ন্ত্রিত বিদ্যমান বিশ্বপরিস্থিতিতে একটি ছোট দেশের স্বার্থ কীভাবে রক্ষা হতে পারে, সে সম্পর্কে বাস্তববাদী নীতি গ্রহণ করতে পারবে যে দল তারই ভবিষ্যত্ আছে। ধর্মীয় ভাবাবেগ উসকে দিয়ে ভারতবিরোধী জিগির তুলে দলের ও দেশের মঙ্গল করা যাবে না।
বিএনপির চলতি কাউন্সিল অধিবেশনের সাফল্য কামনা করি।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নবযাত্রার অপেক্ষায় বিএনপি -শওকত মাহমুদ
‘নানান মানুষ নানান পথ, দেশ বাঁচাতে ঐক্যমত’ স্লোগান তুলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় সম্মেলনকে জাতীয় সম্মিলনীতে বিকশিত করার ‘রংধনু’ প্রয়াস, এ উপলক্ষে তৃণমূল পর্যায় থেকে সাংগঠনিক সজীবতা এবং আয়োজনের প্রাণচাঞ্চল্য যদি বিবেচনায় নেওয়া হয়, নেতাদের বিশ্বাস—বাংলাদেশের সমকালীন লোক-চিন্তায় ও রাজনৈতিক অববাহিকায় এ অনুষ্ঠান সম্ভাবনার তরতাজা পলি ছড়াবে। বিএনপির রাজনীতিকে নেতির নেত্রে পরখ করেন না, এমন অভিজন সমাজের ধারণা হলো, এক-এগারোর পর থেকে রাষ্ট্র যেমন গণতন্ত্রে ও সার্বভৌমত্বে বিপন্ন হয়েছে, উপর্যুপরি দুই আমলের নিগ্রহে বিএনপি ততোধিক বিদীর্ণ। ১৬ বছর পর বিরোধী দলে থেকে এ কাউন্সিলকে সফল করা গেলে বিএনপি নিশ্চিতভাবেই ঘুরে দাঁড়াবে। এর পৌঁছ রাষ্ট্র-রাজনীতিতেও বিস্তৃত হবে, ‘তিমির কাঁপিবে গভীর আলোর রবে’।
ইতিমধ্যে বেগম খালেদা জিয়া আবারও চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন। উপমহাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের পরিসংখ্যান সাক্ষ্য দেবে, দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে একজন রাজনৈতিক নেতার শীর্ষ জনপ্রিয়তা, তিনবারের কাউন্সিলে দলের প্রধান হিসেবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী থাকা, দলকে দুবার ভোটে বিজয়ী করা এবং সর্বদা সর্বোচ্চ ভোটে সবচেয়ে বেশি আসনে নিজের নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড নজিরবিহীন। ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত তিনি রাজপথের আপসহীন আন্দোলনে দলকে গড়ে তুলেছেন। সংসদীয় গণতন্ত্র তিনি ফিরিয়ে এনেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার প্রবর্তন তাঁর হাতে। সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে দলের বিপর্যয়েও বেগম জিয়ার প্রাপ্ত ভোট বরাবরের মতো উচ্চতায় ছিল। অনেকেরই চোখে পড়েনি, আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শেষে বিপর্যস্ত রাষ্ট্রকে সুঠাম করার অভিপ্রায়ে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। ২০০৮-এর নির্বাচনের ফল বিএনপির জন্য অপমানজনক হয়েছে বটে, কিন্তু দেশ বাঁচানোর জ্বলন্ত আবেগে সরকারকে তিনি সহযোগিতার অঙ্গীকার দিয়ে রেখেছেন। যা ২০০১-এর ভোটের পর বিরোধী দল করেনি। এ জন্য বোধ করি সরকার-নিন্দার বদলে এই জাতীয় কাউন্সিলের স্লোগানে নানান পথে নানান মানুষের জাতীয় ঐক্যই মূলমন্ত্র। থিম সংটাও তাই বলে, ‘বন্ধু-সাথিরা এক মোহনায়/ মিশেছি সবাই এসে লাখো শহীদের রক্তে/ রাঙানো পবিত্র এই দেশে।’ সম্মেলনের পোস্টারে মাঝখানে সূর্য রেখে চারদিকে সাত রঙের রংধনুর অবস্থান, জমিনজুড়ে সৌভাগ্যের হলুদ রং, ওয়েবসাইট উদ্বোধন নতুন উপলব্ধিরই আবাহন। পার্লামেন্টে না যাওয়া, আপাত দুর্বল বিরোধী দল বিএনপির জন্য এই শোডাউন বড় একটি ঘটনা। বেশ কয়েক দিন ধরে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানসহ বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথোপকথনে মনে হয়েছে, পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলকে তাঁরা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতার কাউন্সিল মনে করেন না। তার পরও আইন মেনে কাউন্সিল ও গঠনতন্ত্রের সংশোধনীর ক্ষেত্রে তাঁরা যত্নবান। বরং জাতীয় সমস্যাকে জাতীয় ঐক্যে মোকাবিলার জন্য বিএনপির আদর্শিক পুনরুজ্জীবন, সাংগঠনিক ক্ষেত্রে দলকে সুবিন্যস্ত করার অগ্রাধিকারকেই তাঁরা এ মুহূর্তের কর্তব্য হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। এ বিবেচনায় আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল উল্টো পথে হেঁটেছে। তৃণমূল পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া দেখা যায়নি। যদিও দল পুনর্গঠনে দলটির সভানেত্রী ঢের চমক উপহার দিয়েছেন।
এখন প্রশ্ন হলো, বিএনপি কীভাবে নতুন করে সাজবে? কাউন্সিলের আম অর্থই হচ্ছে পুনর্বিন্যাস। স্থানীয় পর্যায়ের ৭৫ শতাংশে সফল সম্মেলন হয়েছে। অস্বীকার করার উপায় নেই, বাকিগুলোতে কোন্দল, সংঘর্ষ, মতানৈক্য এমনভাবে হয়েছে যে মিডিয়া লুফে নিয়েছে। দলটির নেতারা এ নিয়ে ততটা উদ্বিগ্ন নন। তাঁরা মনে করেন, এর কোনো ছাপ আপাতত জাতীয় সম্মেলনে পড়ছে না। বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত থেকে আজ পর্যন্ত বিএনপির নতুন সদস্য হয়েছেন প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। কম কথা নয়। এক, দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়া এবং এক-এগারোর রেশ তো থাকবেই। দুই, সাংসদ বা প্রার্থীভিত্তিক স্থানীয় কমিটির গঠনের মন্দ দিকটাও পেখম মেলেছে। সাংসদ বা মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা আমাদের মতো দেশে সংগঠন বানাতে গেলে ‘ভাই’ভিত্তিক স্লোগানধারীদের পোয়াবারো হয়। অথচ এক-এগারোর পর দেখেছি, বড় দুই দলের সাবেক সাংসদদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে বা জেনারেল মইনের পক্ষে ধাবিত হলেও দেশজুড়ে দল দুটির সাধারণ নেতা-কর্মীরা খালেদা-হাসিনার জন্য জীবনবাজি আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। নেত্রীদ্বয়কে রক্ষা করেছেন। যা হোক, এ থেকে হঠাত্ বের হওয়াটা কঠিন, তবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল যে এক-এগারোর বিপরীতে দাঁড়াবে, তা বলাটাই বাহুল্য। দলের নতুন সাজুনিতেও অমন রেশ থাকবেই। আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে তা দৃশ্যমান। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া হালে প্রায় ঘোষণার মতোই বলেছেন, ‘৮ ডিসেম্বরের পর জনগণ নতুন বিএনপি দেখতে পাবে।’ সময়ের দাবিও অবশ্য নতুন পরিচ্ছন্ন বিএনপি। অন্তত এক-এগারোর বিরোধী চেতনায় দুর্নীতিবাজ বলে যাদের কুনাম আছে, তাদের অপরাধও যেন এ অজুহাতে মুছে না যায়। দলের ভেতর-বাইরে এমন উপলব্ধি প্রবল। বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী তাঁদের অনুভূতির মূল্যায়ন চান। দলের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত একটা চেইন অব কমান্ড থাকবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় না থাকলে বিএনপি সব সময় অপেক্ষমাণ রাজনৈতিক শক্তি। কিন্তু দলটি যে পারফর্ম করতে পারে, আগের উদাহরণ সামনে এনে নতুন করে সাজিয়ে বিএনপিকে তা-ই দেখাতে হবে। সবার প্রত্যাশা, নতুন রক্তের সংযোগ-সাধন ঘটুক। প্রয়াত জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান, তরুণ রাজনীতিক তারেক রহমানের আশু দেশে ফেরার সম্ভাবনা কম। তিনি পুরোপুরি সুস্থ নন। নির্যাতনে তাঁর মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হবে বহুদিন। সম্প্রতি লন্ডনে তারেক রহমান এক সাক্ষাতে আমাকে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতির মানদণ্ডে একজন রাজনীতিবিদের যে সীমারেখা, তা আমি কখনো অতিক্রম করিনি।’ বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল যদি বিএনপির নবযাত্রার সূচনা করে, তারেক রহমান হতে পারেন ভবিষ্যতের কান্ডারি। সময় হলেই ফিরবেন তিনি এবং বীরোচিত সংবর্ধনায়। এ প্রত্যাশা বহু মানুষের।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রমনার বটমূলে সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। দলের ঘোষণাপত্র তিনি পড়েছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের বিকল্প নেই। বাংলাদেশ দাঁড়াবে নিজের পায়ে, চলবে আত্মশক্তিতে।’ স্বাধীনতার ঘোষক জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন এবং দল ও রাষ্ট্র গঠনের সুবিশাল যজ্ঞ, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তনসহ রাজনৈতিক সংস্কার দেশকে নতুন পরিচিতি, নতুন স্বয়ম্ভরতা দিয়েছিল। বিশ্ব ও দেশবাসীর সামনে থেকে তীব্র দেশপ্রেমে ও আত্মিক সততায় তিনি তাঁর পূর্ব সময়কে পৃথক করতে পেরেছিলেন। ‘The Final test of a leader is that he leaves behind him in other men the conviction and the will to carry on’—বিলেতি রাজনীতির এই পর্যবেক্ষণ জিয়ার জন্য বেশি প্রযোজ্য। আজকের বিএনপির জন্য জিয়ার দেশপ্রেম, সততা ও নিঃস্বার্থের আদর্শ, দলের ঘোষণাপত্রের চেতনা এবং বেগম জিয়ার উদার গণতন্ত্র হতে পারে নবযাত্রার মূল ভিত্তি। বেগম খালেদা জিয়ার নজরের আড়ালে কিছুসংখ্যক নেতা-কর্মীর আদর্শিক বিচ্যুতি দলকে যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অভিজন সমাজের মতে, ৩১ বছরের যাত্রায় বিএনপি কিন্তু আওয়ামী লীগের পাশাপাশি এক সামাজিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি পরিবারে এখন বিএনপির সদস্য, সমর্থক বা শুভাকাঙ্ক্ষী তৈরি হয়েছে।
শওকত মাহমুদ: সাংবাদিক। সভাপতি, জাতীয় প্রেসক্লাব।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বাড়ানোর মানে কী -অর্থ মন্ত্রণালয়ে ব্যাংকিং বিভাগ
প্রশ্ন হলো, কেন আলাদাভাবে এই ব্যাংকিং বিভাগ স্থাপন করতে হবে? এর কাজই বা কী হবে? এ প্রশ্নগুলোর কোনো সদুত্তর এখন পর্যন্ত মেলেনি। যেটুকু জানা গেছে, তাতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে আর্থিক খাতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কাজে গতি আনতে এই বিভাগ স্থাপন করা হচ্ছে। এটা কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হতে পারে না। দেশের ব্যাংকিং খাত তদারক করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা আছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মতত্পরতাই প্রমাণ করে যে এই দায়িত্ব পালনে তারা যথেষ্ট সক্ষম। বরং, আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোটাই বেশি জরুরি। সে ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ব্যাংক-বিষয়ক যাবতীয় দায়িত্ব আরও কমিয়ে ফেলা উচিত। শুধু কিছু নীতিগত বিষয় ছাড়া আর কোনো কিছুই মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখার প্রয়োজন নেই।
বস্তুত, মন্ত্রণালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং বিভাগ হলে দেশের ব্যাংকব্যবস্থা তদারকের ক্ষেত্রে দ্বৈত শাসন দেখা দেবে। আর বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম বৈধ করতে ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হবেন, শুরু হবে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার। এতে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এর ফলে গোটা ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে, যার সুযোগ নেবে ঋণখেলাপিসহ এই খাতের দুষ্টচক্র। বিশ্বজুড়ে ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা যখন আরও উন্নততর করার (ব্যাসেল-২) উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তখন বাংলাদেশও এর বাইরে থাকতে পারবে না। এ জন্য দরকার শক্তিশালী ও স্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অথচ সেদিকে অগ্রসর না হয়ে মন্ত্রণালয়ে বিভাগ তৈরি করে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বাড়ানোর দিকে পা দেওয়ার মতো পদক্ষেপ সরকার কেন নিতে যাচ্ছে, তা বোঝা মুশকিল। আর্থিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলার স্বার্থে সরকারের এই পদক্ষেপ থেকে সরে আসা প্রয়োজন।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশের ভূখণ্ড -সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়স্থল হতে পারে না
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণভাবে বাংলাদেশের মাটি ‘কারও বিরুদ্ধে’ ব্যবহূত হতে না দেওয়ার ঘোষণা দিলেও কার্যত ভারতকে উদ্দেশ করেই তা বলেছেন। কারণ ভারতের বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয়-প্রশ্রয় ও মদদ পাচ্ছে—এ ধরনের অভিযোগ ভারত দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে। সম্প্রতি আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি জায়গা থেকে আটক হওয়ায় বোঝা যায়, বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে তারা আর বাংলাদেশে পালিয়ে থাকতে বা অবস্থান করতে পারেনি। ভারতীয় পত্রপত্রিকা ও গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অবশ্য বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের ধরে ভারতের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এ ক্ষেত্রে যেটাই সত্য হয়ে থাক, বাস্তবতা হচ্ছে, সরকার বর্তমানে এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সেটাই প্রকাশ পেয়েছে।
তবে বিষয়টিকে অবশ্যই পারস্পরিকভাবে দেখা জরুরি। ভারত বা অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ড বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না, সেটাও বাংলাদেশকে নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের অনেক অপরাধী ও বড় বড় সন্ত্রাসী ভারতে পালিয়ে রয়েছে। অনেকে বিভিন্ন জেলে আটক রয়েছে বলেও পত্রপত্রিকার খবরে জানা যায়। কোনো দেশই যদি তার ভূখণ্ডে অন্য দেশের সন্ত্রাসী বা অপরাধীদের আশ্রয় না দেয় এবং এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, তবে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন পথ খুলে যেতে পারে। এ অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় নিরাপত্তার বিষয়টি এখন ভারতের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনার সঙ্গেও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী ও জঙ্গি চক্রের যোগসাজশের বিষয় দিন দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই জঙ্গি ও সন্ত্রাসী চক্রের নেটওয়ার্ক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ যতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এবং যেভাবে এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাতে পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া তা মোকাবিলা করা অসম্ভব। ফলে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিকভাবেও উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1429)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...