Monday, July 10, 2017

টেনিস তারকার সঙ্গে দীপিকার গোপন অভিসার ফাঁস!

বিশ্ব নন্দিত টেনিস তারকা নোভাক জোকোভিচের সঙ্গে গোপন সম্পর্ক রয়েছে দীপিকা পাড়–কোনের। গতকাল রাত থেকে এমন একটি সংবাদ চাউর হয়েছে বলিউড পাড়ায়। দু-একটি শীর্ষ সংবাদমাধ্যমও বিষয়টি ফলাও করে প্রচার করছে। বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও সত্যি। কারণ অভিনেতা রণবীর সিংয়ের সঙ্গে দীপিকার প্রেমের বিষয়টি সবারই জানা। এই নিয়ে কম মাতামাতি হয়নি। কিন্তু হঠাৎ করে টেনিস তারকা নোভাকের সঙ্গে কিভাবে দীপিকার গোপন অভিসারের বিষয়টি ফাঁস হলো! এর আগে বেশ কয়েকবারই নোভাকের সঙ্গে দেখা গেছে দীপিকাকে। এমনকি তার খেলার সময়ও একাধিকবার দীপিকাকে হাজির হতে দেখা গেছে। সম্প্রতি নোভাকের সাবেক প্রেমিকা ও পপস্টার নাতাশা বেকভেলিক একটি সাক্ষাৎকারে দীপিকা-নোভাকের গোপন সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীপিকার সঙ্গে ডেটিং করে বেশ আনন্দে আছেন নোভাক। তিনি আরো জানান, গত বছরের মার্চ থেকে তাদের সম্পর্ক চলে আসছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি রেস্টুরেন্টেও তাদের খোলামেলা ডেটিং করতে দেখা গেছে। সুতরাং আমি আর এই বিষয়ে কথা বলতে চাই না।

মর্গের ডোমের পদে চাকুরির জন্য পিএইচডি ও এমফিলদের আবেদন

পশ্চিমবঙ্গে বেকার সংখ্যা কি হারে বেড়ে চলেছে তার নতুন নতুন নজির তৈরি হচ্ছে চাকুরির আবেদনের ক্ষেত্রে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গের জন্য অস্থায়ী ডোমের পদে লোক নিয়োগ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। আর এই পদের জন্য আবেদন করেছেন ৩১৫ জন। কিন্তু আবেদনকারীদের যোগ্যতা দেখে হাসপাতাল কর্তপক্ষ অবাক হয়েছেন। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েণেন পিএইচডি, এমফিল এবং পোস্ট গ্রাজুয়েট উত্তীর্ণ প্রার্থীরাও। কলেজ হাসপাতালের ভাইস প্রিন্সিপাল অমিত দাঁ পড়েছেন মহা ফাঁপড়ে। তিনি জানিয়েছেন, এই পদের জন্য অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু উচ্চ শিক্ষিতরা আবেদন করায় কীভাবে নিয়োগ করা হবে তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করা হয়েছে।

চোখের নিচের কালো দাগ কমানোর উপায় by ডা. সঞ্চিতা বর্মন

 মানুষের মুখমণ্ডলে সবচেয়ে সুন্দর ও স্পর্শকাতর অঙ্গ হলো একজোড়া চোখ। কিন্তু যদি সেই সুন্দর দুটি চোখের নিচে কালো দাগ বা আন্ডার আই ডার্ক সার্কেল দেখা দেয় তাহলে পুরো সৌন্দর্যেই ভাটা পড়ে যায়। অনেক কারণেই চোখের নিচে কালো দাগ পড়তে পারে। তার মধ্যে রাতে জেগে থাকা বা ঘুম কম হওয়া, কাজের বাড়তি চাপ, খাবারে অনীহা, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, বার্ধক্যজনিত কারণ, রক্তশূন্যতা, বিষণ্নতা উল্লেখযোগ্য।
এছাড়াও কিছু শারীরিক সমস্যা যেমন-এলার্জি, শ্বাসকষ্ট, যকৃতের সমস্যা, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইত্যাদি কারণেও চোখের নিচে কালো দাগ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ছোটবেলা থেকে কোনো কারণ ছাড়াই চোখের নিচে কালো দাগ দেখা যায়। চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে ওষুধের চেয়ে যত্ন ও কিছু নিয়ম-কানুন কার্যকরী। প্রতিদিন অন্তত সাত থেকে আটঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে। দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। ধূমপান থেকে যতটা সম্ভব বিরত থাকতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে।
রোদে বাইরে বের হলে রোদ-চশমা বা সানব্লক ব্যবহার করতে হবে। প্রচুর পরিমাণে আয়রণ ও অ্যান্টি অক্সিডেন্টযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। কারো কারো অনেকদিন চশমা ব্যবহারের জন্য চোখের নিচে কালো দাগ ও ফোলা ভাব দেখা যায়। সেই ক্ষেত্রে প্রতিদিন কাজের ফাঁকে ১০ মিনিট চোখ বন্ধ করে চোখকে বিশ্রাম দিতে হবে এবং রাতে ঘুমানোর সময় উঁচু বালিশ ব্যবহার করতে হবে।
মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারের সময় যথাযথ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এখন বাজারে অনেক ধরনের আন্ডার আই ডার্ক সার্কেল ক্রিম পাওয়া যায়। এগুলো ব্যবহারে কিছুটা ডার্ক সার্কেল হালকা হয়। এছাড়া ডায়মন্ড পিলিংয়ের মাধ্যমেও ডার্ক সার্কেল কমানো যায়। তবে চোখের নিচে কালো দাগের সমস্যা অনেকদিন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
লেখক: ত্বক, লেজার এন্ড এসথেটিক বিশেষজ্ঞ

সাত ধরনের ব্যাথা অগ্রাহ্য করা মোটেও উচিত নয়

বিশেষজ্ঞদের মতে দেহের কিছু ব্যাথা আছে যা উপেক্ষা না করে বরং যথাশীঘ্র ডাক্তারের শ্মরণাপন্ন হওয়া উচিত।
ব্যাথা আসলে কেউই চায় না। কিন্তু জীবনে ব্যাথ্যা অনুভব করে নি, এমন বোধ হয় কাউকে খুঁজে পাওয়া দুস্কর। শরীরে কোথাও কোন গন্ডগোল বাঁধলেই আমরা সাধারনত ব্যাথা অনুভব করি বা বলা যায় শরীরে কোন সমস্যা দেখা দিলে শরীর তা ব্যাথার মাধ্যমে আমাদেরকে জানিয়ে দেয়। কিছু কিছু ব্যাথা আছে যা চোট পাওয়া থেকে হতে পারে, কেটে গেলে, পুড়ে গেলে হতে পারে। যা সাময়িক এবং অল্পতে সেরে যায়। এছাড়া যেসব ব্যাথা শরীরের ভিতর থেকে উৎপন্ন হয়ে অনেক্ষন এমনকি একদিন/দুইদিন স্থায়ী হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে উদাসিন হওয়া একদম ঠিক নয়। এসব ব্যাথার যদি কোন কারন খুঁজে না পান কিংবা কেন হচ্ছে বুঝতে না পারেন, তবে অবশ্যই নিকটস্থ ডাক্তার কিংবা কোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
১। তীব্র মাথা ব্যাথা
তীব্র মাথা ব্যাথা অবহেলা করবেন না। “আপনার যদি ঠান্ডা লাগে আর তীব্র মাথা ব্যাথা হয়, তাহলে সাধারনভাবে ধরে নিতে হবে সাইনাসের সমস্যা। কিন্তু দীর্ঘক্ষন স্থায়ী হলে, এটা হতে পারে মস্তিষ্কের 
রক্তক্ষরন কিংবা হতে পারে মস্তিষ্কের টিউমার। তাই যে কোন ব্যাথা যদি আপনি নিশ্চিত না হন, তবে অবশ্যই মেডিকেল চেক-আপ করিয়ে নিন” – কথাগুলো বলেন সান্দ্রা ফ্রাইহফার যিনি আমেরিকান কলেজ অব ফিজিশিয়ানের মুখপাত্র। “যদি কেউ বলেন যে এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বাজে মাথা ব্যাথা এবং সবচেয়ে বেশি সময় ধরে বয়ে বেড়াচ্ছি, তাহলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটাকে আমরা বলতে পারি ‘ব্রেইন এ্যানিউরিজম’। যতশীঘ্র সম্ভব চেক-আপ করান” – বলেছেন আমেরিকান জেরিয়াট্রিক সোসাইটির মুখপাত্র শ্যারন ব্র্যাংম্যান।
২। বুকে, গলায়, চোয়ালে, কাঁধে, বাহুতে বা পেটে ব্যাথা
বুকে ব্যাথা – হতে পারে নিউমোনিয়ার কারনে আবার হার্ট এটাকের কারনে। তবে মনে রাখবেন, যদি খারাপ লাগে বা অস্বস্তি লাগে তাহলে দেরী করবেন না। বুকের ভিতর কেমন কেমন করে, অস্বস্থি বোধ হৃদরোগের লক্ষন। হৃদরোগীরা বুকের ভিতর চাপ অনুভব করেন। অনেকে বুকে হাত দিয়ে বলেন, মনে হয় আমার বুকে যেন হাতী বসে আছে। আস্তে আস্তে এই ব্যাথা বুকের উপরের দিকে, গলা, চোয়াল, বাম কাঁধ ও হাত অথবা পেটের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। কখনো কখনো বমি বমিও লাগতে পারে।
“আমি খুব বেশি চিন্তিত হই না যদি দেখি রোগীর বয়স ১৮ বছরের মত। কিন্তু এমন কেউ যদি উপরের কথাগুলো বলেন এবং তার জানা আছে তিনি ঝুঁকিপূর্ন, তার এরকম পুনঃপুন ব্যাথার ভাব আছে, তাহলে কোনক্রমেই তার দেরী করা উচিত হবে না” – জেরোম কোহেন বলেন। তিনি আরো বলেন যে, থেমে থেমে ব্যাথা খুব সিরিয়াসলি নেয়া উচিত। উত্তেজনার কারনে, অবেগ-আপ্লুত হওয়ার কারনে কিংবা অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে এধরনের ব্যাথা অনুভব 
করতে পারেন - এটাও একটা ধরন। যেমন ধরুন আপনি বাগানে কাজ করতে গিয়ে এধরনের ব্যাথা অনুভব করছেন, কিন্তু একটু বসার পর কিংবা বিশ্রামের পর দেখলেন ব্যাথা আর নেই – এটা একধরনের এনজাইনা। এটা সাধারনত অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরমে বেশি হতে পারে।
“মহিলাদের ক্ষেত্রে এধরনের অস্বস্তি ভাবটা অনেক সময় উহ্য থাকে” – কোহেন বলেন যিনি সেন্ট লুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মেডিসিনের প্রিভেনটিভ কার্ডিওলোজির পরিচালক। অনেকেই এটাকে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ডিজঅর্ডারের সাথে গুলিয়ে ফেলেন যেমন বুক জ্বালা-পোড়া, পেটের অস্বস্তিভাব ইত্যাদি। “অনেক সময় অতিরিক্ত ক্লান্তির মত মনে হয়। মহিলাদের ক্ষেত্রে তাদের মেনোপজ শুরুর পর নাটকীয়ভাবে হৃদরোগ বেড়ে যেতে পারে। তখন এটি অনেক মহিলার মৃত্যুর কারন হয়ে দেখা দেয় যা পুরুষদের হৃদরোগে মৃত্যুর তুলনায় বেশি। অবশ্য হৃদরোগে মৃত্যুর হার যেকোন বয়সে মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের অনেক বেশি। তবে এই বয়সে যদি হৃদরোগের লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে ডাক্তারের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখতে হবে” – কোহেন বলেন।
৩। ব্যাথা যখন দুই কাধের মাঝে বা পিঠের নীচের দিকে
ব্র্যাংম্যান এর মতে, যদি এরকম স্থানে ব্যাথা দেখা দেয় বা থাকে, তাহলে এটা হতে পারে আর্থ্রাইটিস। অন্যান্য সম্ভাব্য লক্ষণের মধ্যে হতে পারে এটি হার্ট এ্যাটাক অথবা কোন এ্যাবডোমিনাল প্রবলেম। একটা 
হতে পারে তা’ হল এ্যায়োর্টিক ডিসেকশন বা ধমনীর দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, যা হঠাৎ ব্যাথা বা সূচ ফোঁটানোর মত করে তীব্র ব্যাথার আকারে দেখা দিতে পারে। যারা এধরনের ঝুঁকিপূর্ণ রোগে আক্রান্ত তাদের জরুরীভিত্তিতে ধমনী বা শিরার দেয়ালের ক্ষত নিরাময় করা দরকার। উচ্চ রক্তচাপজনিত কারনে এরকম হতে পারে অথবা যদি রোগীর রক্ত প্রবাহে কোন সমস্যার ইতিহাস থাকে, তাহলেও হতে পারে। আবার ধুমপান এবং ডায়াবেটিসের কারনেও হতে পারে – বলছিলেন ব্র্যাংম্যান।
৪। তীব্র পেটের ব্যাথা
আপনার কি এ্যাপেনডিক্সের সমস্যা আছে? অবহেলা করবেন না, কারন যেকোন সময় বড়ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এতে উদর-গহবরে দেয়াল ছিদ্র হয়ে যেতে পারে। তীব্র ব্যাথার কারন হতে পারে গল ব্লাডার কিংবা প্যানক্রিয়াটিসের সমস্যা, পাকস্থলীর ক্ষত বা ক্ষুদ্রান্ত্রের ব্লক ইত্যাদি। তবে যে কারনেই হোক, দরকার জরুরী ব্যবস্থা গ্রহন।
৫। পায়ের হাঁটু বা নীচের অংশে ব্যাথা ও ফুলে যাওয়া
Deep Vein Thrombosis (DVT)  আমরা সচারচর এই বিপদের কথা জানিন না বা কম জানি। এটা পায়ের প্রধান শিরায় রক্ত জমাট বেঁধে গেলে ডিভিটি দেখা দেয়। প্রতি বছর প্রায় দুই লাখের মত আমেরিকান এই সমস্যায় ভোগেন। আমাদের দেশের সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও প্রচুর রোগী এধরনের সমস্যায় ভগেন। এটিও জীবন হরনকারী মারাত্মক রোগ। এতে যা হয় তা হল, জমাট কোন রক্তের টুকরা হয়তো ফুসফুসে চলে যেতে পারে এবং পালমোনারি এমবোলিজম দেখা দিতে পারে – যা খুবই মারাত্মক – ফ্রাইহোফার বলেন। এই ঝুঁকির কারন সমূহের মধ্যে আছে ক্যানসার, স্থুলতা, বেড রেস্টে থাকার ফলে নড়াচড়াহীনতা অথবা দীর্ঘ সময়ধরে একটানা ভ্রমণ, গর্ভধারন এবং বৃদ্ধাবস্থা ইত্যাদি। কখনো কখনো আক্রান্ত স্থান ব্যাথা ছাড়াই ফুলে যেতে পারে। যদি দেখেন যে আপনার কাফের পেশি ফুলে গেছে সাথে ব্যাথা, তাহলে দেরী না করে ডাক্তারের শ্মরণাপন্ন হোন।
৬। পা এবং পায়ের পাতা জ্বালা-পোড়া
‘আমেরিকান ডায়াবেটিস এ্যাসোসিয়েশন’ এর এক হিসাবে দেখা গেছে যে, আমেরিকাতে প্রায় ২৭ মিলিয়ন ডায়াবেটিস রোগীর এক-চতুর্থাংশ জানে না যে, তাদের ডায়াবেটিস আছে। “আর যারা জানে না যে 
তাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের ক্ষেত্রে রোগ লক্ষণ হল পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি” – ব্র্যাংম্যান বলেন। তার মতে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথির লক্ষন হল পায়ে বা পায়ের পাতায় জ্বালা-পোড়া করা অথবা আলপিন বা সূচ ফোঁটার মত তীব্র ব্যাথা। আর এর মানে হল তার ডায়াবেটিসের কারনে প্রান্তিয় স্নায়ুগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়া।
৭। অস্পষ্ট, মেডিকেলি ব্যাখ্যা করা যায় না এমন ব্যাথা
সাইকিয়াট্রিস্ট থমাস ওয়াইস বলেন যে, মানসিক বিষাদে অনেক সময় নানাধরনের শারীরিক ব্যাথা অনুভূত হয়। অনেক রোগী এসে বলেন তার প্রচন্ড মাথা ধরেছে, তীব্র পেটে ব্যাথা হচ্ছে অথবা হাঁটুতে ব্যাথা পাচ্ছেন, কখনো কখনো একাধিক স্থানে ব্যাথা অনুভূত হচ্ছে ইত্যাদি। আসলে তিনি সঠিকভাবে বলতে পারছেন না কোথায়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রোগীর নির্দেশিত স্থানে ব্যাথা না পাওয়াতে বা সঠিকভাবে ডায়াগনোজ না হওয়ার ফলে ডাক্তার হয়তো তার অভিযোগ বাতিল করে দিলেন। শুধু ডাক্তারই নয় রোগীর পরিবারের লোকজনও এতে তার অভিযোগ সম্পর্কে উদাসিন হয়ে পড়েন। এতে করে রোগী আরো ডিপ্রেসড হয়ে পড়ে এবং সেও তার রোগ সম্পর্কে বিভ্রান্তিতে পড়ে। সব অভিযোগই ভন্ডুল হয়ে যায়।
শেষমেষ তারা ভাবেন আমার দ্বারা কিছু হবে না। এতে তাদের কাজে-কর্মে প্রচন্ড অনিহা চলে আসে, এমনকি কাজে-কর্মে অক্ষম হয়ে পড়ে, চিন্তা করার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলে। লোক সমাজে চলাচল পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। এরফলে তার স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ছেদ পড়ে, অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। এ অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা না করালে তার মস্তিষ্কের কাঠামোগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে এবং আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে নাও আসতে পারে।
>> হেলথপ্রিয়র২১

এবার বাংলা সিনেমায় সানি লিওন

 এবার বাংলা ছবিতে অভিনয় করতে দেখা যাবে বলিউড সুন্দরী সানি লিওনকে। তবে বাংলাদেশে নয় সেটা ভারতীয় বাংলা ছবিতে আইটেম গানে অংশ নেবেন সানি। স্বপন সাহার পরিচালনায় গানটির কোরিওগ্রাফির দায়িত্বে থাকছেন প্রভু দেবা।
টেলিভিশন রিয়েলিটি শো-য়ের মাধ্যমে ভারতের বিনোদন জগতে আত্মপ্রকাশ ঘটে সাবেক পর্নতারকা সানি লিয়নের। এরপর জিসম ২ দিয়ে বলিউডে অভিষেক ঘটে তার। ধীরে ধীরে অভিনয় দিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে তার বেশ ভালো রকম জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি। কলকাতার দর্শকদের মধ্যেও তার বিপুল আবেদন রয়েছে। এবার নতুন বছরের শুরুতে একটি বিনোদন কেন্দ্রে তার অনুষ্ঠান দর্শকদের মন কেড়ে নিয়েছিল।
উল্লেখ্য, হিন্দি সিনেমার পাশাপাশি এর আগেও তাঁকে ভারতের আঞ্চলিক সিনেমায় আইটেম গান করতে দেখা গেছিল। এবিপিআনন্দ।

'ভারত ভুটান থেকে না সরলে কাশ্মীরে ঢুকবে চীন'

ভারত-ভুটান-চীন সীমান্তবর্তী বিতর্কিত এলাকা 'ডোকলাম' এ ভারতীয় সেনা পাঠানোর ঘটনাকে ঘিরে কাশ্মীরে ঢুকে পড়তে পারে চীনা সেনারা।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে লং শিংচুন নামে একজন বিশেষজ্ঞ এ মন্তব্য করেছেন।
চায়না ওয়েস্ট নর্মাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইন্ডিয়ান স্টাডিজের এ পরিচালক সাম্প্রতিক ভারত-চীন উত্তেজনার সম্পূর্ণ দায় দিল্লির ঘাড়ে চাপিয়েছেন।
ভুটানকে ব্যবহার করে ভারত নিজের প্রয়োজনে ডোকলামের দখল নিয়েছে অভিযোগ করেন শিংচুন।
তিনি বলেন, ডোকলাম চীনের ভূমি। কিন্তু ভুটানকে সাহায্য করার নাম করে ভারতীয় সেনারা চীনের ডোকলাম এলাকা দখল করে নিয়েছে।
এ ব্যাপারে তিনি ভারতকে হুঁশিয়ার করে বলেন, ভুটান সেনা পাঠানোর অনুরোধ করলেও ভারতের উচিত ছিল যে এলাকা নিয়ে বিতর্ক নেই, সেখানে পর্যন্ত আসা, বিরোধপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ না করা। তা নাহলে, ভারতীয় যুক্তি অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার যদি অনুরোধ করে, তাহলে তৃতীয় কোনো দেশের সেনাবাহিনী পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে মালিকানা নিয়ে চলা বিরোধপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে।
এছাড়া ডোকালামকে ঘিরে ভারত ও চীনের মধ্যে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে তাতে বিষয়টি বেইজিং আন্তর্জাতিকীকরণ করতে পারে বলে জানান শিংচুন।
তার মতে, এমনটি হলে পশ্চিমা দেশগুলো ভারতকে সমর্থন করবে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই, কারণ তাদের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে।
চীনের এই বিশেষজ্ঞ ভারতের বিরুদ্ধে দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য বেআইনী চেষ্টার অভিযোগ করেছেন।
তিনি বলেন, ভারত দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সমতা ও অন্যের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক না গলানোর পক্ষে কথা বলে আসছে। কিন্তু নিজে জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, নেপাল ও ভুটানে অনেক ভারতীয় নাগরিক বসবাস করেন, তারা দুই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাচ্ছে। এ জন্য তিনি নেপাল ও ভুটানকে সিকিমের মতো ভারতের অঙ্গরাজ্যে পরিণত না হওয়ার বিষয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন।
উল্লেখ্য, ভারত-ভুটান-চীন সীমান্তবর্তী ডোকলামকে ঘিরে গত জুন থেকেই উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে।
এনিয়ে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী মুখোমুখি অবস্থান করছে।
ডোকলামকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কাশ্মীরে সেনা পাঠানোর বিষয়ে মন্তব্য আসায় ভারত-চীনের মধ্যে দীর্ঘ টানাপড়েন তৈরি হতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি ও এবিপি আনন্দ

সুবর্ণার স্বপ্নের মৃত্যু! সাঁতারু বাছাই নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

ক্যাম্পে সাঁতারু বাছাই নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ‘সেরা সাঁতারুর খোঁজে’ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে চূড়ান্ত পর্বে সুযোগ পেয়েছিল সুবর্ণা আক্তার সঙ্গী। ৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে ব্রোঞ্জ জিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পুরস্কারও নিয়েছে সে। তারপরও ঠাঁই হয়নি তার ‘সেরা সাঁতারুর খোঁজে’র তিন বছরের আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে। হতাশ সুবর্ণা আক্তার সঙ্গী ও তার পরিবার। ফেডারেশনের চূড়ান্ত তালিকায় কেন নেই সুবর্ণার নাম, তা বলতে পারলেন না দক্ষিণ কোরিয়ান কোচ পার্ক তে গুন। এর ফলে ভবিষ্যতের এক তারকা সাঁতারুর স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটছে!
কিশোরগঞ্জের শহীদ স্মরণিকা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী সুবর্ণা আক্তার সঙ্গী। বাবা ইদ্রিস আলী কিশোরগঞ্জ টিএনও অফিসের পরিচ্ছন্ন কর্মী। দরিদ্র ইদ্রিস আলীর পরিবার স্বপ্ন দেখা শুরু করে সুবর্ণাকে নিয়ে। সাঁতার ফেডারেশনের ‘সেরা সাঁতারুর খোঁজে’র কার্যক্রমে মেয়েকে পাঠান। সকালে স্কুলে যাওয়া আর বিকেলে সাঁতারে মনোনিবেশ করা, এভাবেই উপজেলা, জেলা পেরিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে ভালো করে সুবর্ণা। ১৬০ জনের দ্বিতীয় চূড়ান্ত প্রশিক্ষণেও ডাক পায়। সুবর্ণার নিজের প্রতি অগাধ আস্থা। তাই তো সেরা ৬০ জনের মধ্যেও জায়গা করে নেয়। সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে জোড়া সোনাজয়ী মাহফুজা খাতুন শিলার মতো বড় সাঁতারু হওয়ার স্বপ্নে বিভোর সুবর্ণা চূড়ান্ত বাছাইয়ের ৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে ব্রোঞ্জপদক জেতে। গত ২৫ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে সে পদক গ্রহণ করে। সেই সুবর্ণাকে ডাকা হয়নি চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে।
৬০ জনকে নিয়ে শুক্রবার মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্সে শুরু হয়েছে চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। তিন বছরব্যাপী এ আবাসিক ক্যাম্পে ডাক পায়নি সুবর্ণা। হতাশায় কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। কিশোরগঞ্জ থেকে এই প্রতিবেদককে সে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘সেরা সাঁতারুর খোঁজে’ জেলা পর্যায়ে প্রথম হয়েছি। সবাইকে নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলাম। ১৬০ জনকে রেখেছিল। চার মাসের ক্যাম্প করিয়েছে। পরে ৬০ জন হয়। প্রধানমন্ত্রীর সামনে তৃতীয় হয়েছি। আমাদের সেরা ২০ জনকে নিয়ে খাওয়া-দাওয়া করেছে সবাই। কিন্তু এখন আমাকেই ডাকা হয়নি।’ সে যোগ করে, ‘৫০ থেকে ৩৫ সেকেন্ড সময়ে নিজের টাইমিং নামিয়ে এনেছি। তৃতীয় হয়েছিলাম বলে কর্মকর্তারা আমাকে বলেছিলেন, ৬০ জনের ক্যাম্প করলে তারা ডাকবেন। অথচ আমাকে না ডেকে আমার চেয়ে বেশি সময় নেয়া কিশোরগঞ্জের ফাতেমা আক্তার আঁখি এবং কুষ্টিয়ার জুলির মতো সুইমারদের ডাকা হয়েছে। এখন আমি কি করব বুঝতে পারছি না।’
এদিকে পার্ক তে গুন বলেন, ‘সুবর্ণা যা বলেছে সবই সত্যি। সে ব্রোঞ্জ পেয়েছিল। সর্বশেষ ২০ জনের মধ্যে আসার মতোই সুইমার সে। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম পাইনি আমি। অবাক হয়েছি। ক্যাম্পে কাদের ডাকা হবে, তা সম্পূর্ণ ফেডারেশনের এখতিয়ার। এখানে আমার কোনো হাত নেই।’

কক্সবাজারের সাবেক ডিসি-এডিসির জামিন বাতিল

ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের মামলায় কক্সবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাফর আলমের জামিন বাতিল করেছেন সর্বোচ্চ আদালত। সোমাবর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা লিভ টু আপিলের প্রেক্ষিতে রুহুল আমিন ও জাফর আলমের জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে এ আদেশ দেয় হয়। এই আদেশের ফলে রুহুল আমিন ও জাফর আলমকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। আদালতে রুহুল আমিন ও জাফর আলমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী স ম রেজাউল করিম। মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় রুহুল আমিন ও জাফর আলম হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন। হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে দুদক।মাতারবাড়ীতে ১ হাজার ৪১৪ একর জমিতে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণ করা চিংড়িঘের, ঘরবাড়িসহ অবকাঠামোর বিপরীতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয় ২৩৭ কোটি টাকা। দুদক সূত্র জানায়, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য ২৫টি অস্তিত্বহীন চিংড়ি ঘেরকে তালিকাভুক্ত করে একটি চক্র। এ জন্য ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয় ৪৬ কোটি ২৪ লাখ ৩ হাজার ৩২০ টাকা। এর মধ্যে ১৯ কোটি ৮২ লাখ ৮ হাজার ৩১৫ টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর মাতারবাড়ীর ব্যবসায়ী এ কে এম কায়সারুল ইসলাম চৌধুরী বাদী হয়ে সাবেক ডিসি মো. রুহুল আমিন, এডিসি জাফর আলমসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য দুদককে নির্দেশ দেন। চলতি বছরের ৩ এপ্রিল সাবেক ডিসিসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

মসুল বিজয় ‘খুব কাছেই’

ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুল পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ অভিযানের শেষ পর্যায়ে রয়েছে ইরাকি বাহিনী। শহরটিতে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অবশিষ্ট বিচ্ছিন্ন অবস্থানগুলোতে প্রতিরোধ গড়ে তোলা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে ইরাকি সেনাবাহিনী। ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক বিজয় ঘোষণা করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরাকি সেনাবাহিনী বলছে, মসুল দখল করতে শহরটির নিকটবর্তী তাইগ্রিস নদী থেকে মাত্র কয়েকশ’ মিটার দূরে রয়েছে তারা। তবে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি রোববার মসুল বিজয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার। মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর বিমান হামলায় গত বছরের ১৭ অক্টোবর থেকে শহরটি পুনরুদ্ধারে অভিযান শুরু করে ইরাকি বাহিনী। ২০১৪ সালে ইরাকের সুন্নি অধ্যুষিত এলাকাগুলো দখল করে ইরাক ও প্রতিবেশী সিরিয়ার দখলকৃত অংশে ‘খেলাফত’ ঘোষণা করে আইএস। এর আগেই ওই বছরের জুনে মসুল দখল করে নিয়েছিল জঙ্গিগোষ্ঠীটি। কিন্তু ৯ মাস আগে ইরাকে আইএসের সবচেয়ে বড় শক্তিকেন্দ্রটির দিকে ইরাকি বাহিনী অগ্রসর হওয়ার পর থেকে জঙ্গিরা তাদের অবস্থান হারাতে শুরু করে। অভিযানে মার্কিন জোট বাহিনীর যুদ্ধবিমান এবং জোট বাহিনীর সামরিক উপদেষ্টাদের নেতৃত্বে ইরাকি বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছেন কুর্দি পেশমের্গা যোদ্ধারা, সুন্নি আরব আদিবাসী ও শিয়া বেসামরিক বাহিনীগুলো। আইএসের হাত থেকে শনিবার পুরান মসুলের নুজাইফি স্ট্রিটের পাশাপাশি আত-তুব ও আস-সাগা এলাকা পুনরুদ্ধার করে সেনাবাহিনী। এসব এলাকা এতদিন আইএসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। এদিন জঙ্গিরা বেপরোয়া প্রতিরোধ চালিয়ে মসুলের পুরনো শহরের ছোট একটি এলাকার দখল ধরে রেখেছিল। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই এলাকাটি তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে প্রত্যাশা করছে ইরাকি বাহিনী। ইরাকের যৌথ অপারেশন কমান্ড জানায়, আমাদের সেনা ইউনিট সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তাইগ্রিস নদীর কাছাকাছি থেকে খুব বেশি দূরে নেই তারা। অপারেশন কমান্ড আরও জানায়, মসুল শহরের পশ্চিমের ওই নদীর ধারে প্রায় শতাধিক আইএস জঙ্গি আটকা পড়েছে। এরইমধ্যে সেখানের দুটি ব্লকের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে দাবি করেছে সেনা কমান্ড। ইরাকি কমান্ডাররা বলছেন, আইএসকে পরাজিত করতে তাদের সেনা সদস্যরা মাত্র ‘কয়েকশ মিটার’ দূরে রয়েছে। গত এক সপ্তাহে খুব ধীর গতিতে অগ্রসর হয়েছে ইরাকি বাহিনী। কেননা, এলাকা ছাড়ার আগে মরণ কামড় হিসেবে বোমা পুঁতে রেখে পালাচ্ছে জঙ্গিরা।
শনিবার এক মার্কিন জেনারেলও ঘোষণা করেছে, মসুল বিজয় খুব কাছেই। ব্রিগেডার জেনারেল রবার্ট সফগে বলেন, ‘আজ বা কালকের মধ্যে বিজয় আসবে এমনটা বলছি না, তবে খুব শিগগিরই আইএসের পতন হবে।’ ইরাকি সেনাবাহিনীর সাহসী ভূমিকার জন্য তাদের অভিনন্দন জানান রবার্ট। গত কয়েক মাসের তীব্র লড়াইয়ের পর কামান-বন্দুকের শব্দ এখন অনেকটা কমে এসেছে। আকাশে জোট বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলোর আনাগোনা থাকলেও তারা আর আগের মতো বোমাবর্ষণে ব্যস্ত নেই। বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত ছোট কয়েকটি এলাকায় কিছু প্রতিরোধ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীগুলো বিজয় দাবি করা শুরু করে দিয়েছে। যদিও ইরাকি সরকার বা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট- কেউই নিশ্চিত করেনি, তারপরও শিগগিরই বিজয়ের ঘোষণা আসবে, এরকম একটি ধারণা সবার মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে সেনারা বিজয়োল্লাস শুরু করেছে বলে জানিয়েছে কয়েকটি গণমাধ্যম। আইএস যোদ্ধারা আত্মসমর্পণ করেছে বলে লাউডস্পিকারে ঘোষণা করেন ইরাকি এক কমান্ডার। পরে এ দাবি বাতিল করে দিয়েছে ইরাকি বাহিনীর কমান্ডার। ইরাকি পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী বলছে, শহরটি দখল করতে আরও ২-৩ দিন সময় লাগতে পারে। শনিবার উল্লসিত পুলিশ বাহিনী মসুলের কয়েকটি এলাকায় আইএসের কালো পতাকা পায়ে মাড়িয়ে সেলফি তুলেছেন এবং বিজয় চিহ্ন ‘ভি’ দেখিয়েছেন। গত সপ্তাহেও মসুল দখলের দাবি করেছিল ইরাকি কর্তৃপক্ষ।

‘হায় ঈশ্বর! এ তো ওবামা!’

জীবনে এত আনন্দময় সেলফি বোধহয় আর তোলেননি আলাস্কার এই মা। তার ৬ মাস বয়সী ফুটফুটে শিশুটিকে নিয়ে হয়তো অনেক মজার সেলফিই তুলেছেন। কিন্তু এবারেরটা জীবনের সেরা! কারণ, তিনি যখন ছবি তুলছেন তখন তার বড় বড় চোখের শিশুটি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কোলে! আমেরিকার অ্যানকোরেজ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে সোমবার বিমানের অপেক্ষায় ছিলেন জোলেনে জ্যাকিনস্কাই। যেখানে বসে অপেক্ষা করছিলেন, সেখানেই এক লোকের দিকে চোখ গেল তার। তাকে দেখতে ওবামার মতোই তো লাগছে! কণ্ঠে উত্তেজনা নিয়েই জানালেন, আগ্রহ থেকে আমি কাছে গেলাম। হায় ঈশ্বর! এ তো ওবামা! সুখস্মৃতি তার চোখে-মুখে উছলে পড়ছে। নিউহালেন নামে আলাস্কার ছোট একটা গ্রামে তিনি ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি ওবামার দেখা পেলেন। এরপর ওবামা তার সঙ্গে কথা বললেন।
জিজ্ঞাসা করলেন, এই মিষ্টি মেয়েটি কে? তারা বেশ কিছুক্ষণ কথা বললেন। বাচ্চারা কত দ্রুত বড় হয়ে ওঠে- এ নিয়ে অনেক কথা হল তাদের। ছবি তোলার সুযোগ কি আর হেলায় হারান জোলেনে। ঝটপট কয়েকটি সেলফি তুললেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের কোলে ছিল তার মেয়ে গিসেলে। ওবামা যখন বিমানবন্দরে বসে আছেন, তখন কর্তৃপক্ষ জানতেন না যে তিনি অপেক্ষা করছেন। গিসেলের বাবাও ছিলেন সেখানে। তিনি যখন এলেন তখন ওবামা বেশ মজা করে বললেন, আমি আপনার মেয়েটিকে নিয়ে যাচ্ছি। বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট পদে না থাকলেও তিনি আমেরিকার অন্যতম জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। আর ছোট্ট শিশুদের সঙ্গে তার খুনসুটিও সবাই উপভোগ করেন। বিমানবন্দরের গোটা ঘটনার সময় চুপ ছিল ছোট্ট গিসেলে। তবে তার চোখেও যেন ছিল জগতের বিস্ময়। এই ছবিটিই হয়তো তার ক্ষুদ্র জীবনের এক বড় অর্জন। সিএনএন।

তীরবিদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র প্রশংসিত মার্কেল

জার্মানির হামবুর্গে অনুষ্ঠিত হওয়া জি ২০ শীর্ষ সম্মেলন শেষ হয়েছে। দু’দিনব্যাপী ১৯টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদের এ বৈঠকের সাফল্য ও ব্যর্থতা নির্ণয়ে নেমে পড়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জার্মানজুড়ে পুঁজিবাদবিরোধীদের বিক্ষোভ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্যারিস চুক্তি প্রত্যাহারের ঘোষণার মধ্যে সম্মেলন কোনো রকমে উতরে গেছে। শনিবার জি ২০ সম্মেলনের সাফল্য ও ব্যর্থতার বর্ণনা দিয়েছেন জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের বার্লিন স্টুডিওর প্রধান ডাগমার অ্যাঞ্জেল। সম্মেলনের আগে ও চলাকালীন সময়ে জার্মানিজুড়ে হিংসা, ধ্বংসলীলা, দাঙ্গা-হাঙ্গামার মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, দেশটিতে যা সম্পূর্ণ অপরিচিত। অ্যাঞ্জেলা বলেন, মাত্রাহীন হিংসা ও পরস্পরবিরোধী স্বার্থের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে শীর্ষ সম্মেলনকে ঠিক সফল বলা চলে না। সম্মেলনের ফলাফল আরও খারাপ হতে পারত। ঐকমত্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ঘোষণাপত্র লেখার লক্ষ্য যার রয়েছে, উপস্থিত শীর্ষ প্রতিনিধিদের দিকে নজর দিলেই তার কপালে ঘাম চলে আসতে বাধ্য। সদস্যদের আসনে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা মেলে খাঁটি স্বৈরাচারী নেতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের। কারও পরনে সাদা হাতকাটা কোট, কারও ঘাড়ে দুর্নীতির বোঝা। তাদের মধ্যে আবার ডোনাল্ড ট্রাম্প নামের এক ব্যক্তিও ছিলেন, যিনি তার ‘অ্যামেরিকা ফার্স্ট’ বুলি আওড়িয়ে বাড়তি উত্তেজনা সৃষ্টি করছেন।
লক্ষ্য পূরণে সাফল্য : এমন পরিস্থিতিতে শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা যেতে পারে। বিস্ময়করভাবে সবাই মিলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সংরক্ষণনীতির বিরোধিতা করেছেন। যদি কেউ নিজেকে এ ক্ষেত্রে অন্যায় আচরণের শিকার বলে মনে করেন, সে তখন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) নিয়মকে হাতিয়ার করতে পারবে। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের ইচ্ছা অনুযায়ী সবাই মিলে ‘একলা চল রে’ নীতির বদলে সমষ্টিগত সমাধানসূত্র মেনে নিয়েছে। এটা অবশ্যই একটা সাফল্য। ফরাসি প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে রুশ প্রতিনিধি দলও এই অর্জনের প্রশংসা করেছে। জলবায়ু সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ঘোষণাপত্রে সাফল্য খুঁজতে হলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ হতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে প্যারিস চুক্তি বর্জন করেছে, তার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। জি ২০ গোষ্ঠীর ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মতপার্থক্য এত স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হল। বাকি ১৯টি দেশ প্যারিস চুক্তির প্রতি সম্পূর্ণ আনুগত্য দেখিয়েছে। এমনটা নাও হতে পারত। এক্ষেত্রে ফলাফল আরও খারাপ হতে পারত।
ব্যর্থতার গ্লানি : আজকের দিনে এমন ফলাফল যথেষ্ট নয়। নারীর ক্ষমতায়ন বাড়ানোর মতো ভালো আইডিয়া, আফ্রিকার সঙ্গে নতুন চুক্তি, ডিজিটাল শিক্ষার উদ্যোগের মতো বিষয় যথেষ্ট নয়। জি ২০ বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার এক নতুন চেহারা সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। গোটা বিশ্বে বহু মানুষ মনে করেন, বিশ্ব অর্থনীতি হাতেগোনা কিছু মানুষের জন্য উপকার বয়ে আনছে। শীর্ষ সম্মেলনের শেষে মার্কেল বলেন, সম্মেলনের আগে সুশীল সমাজের উদ্যোগ এবং সম্মেলন চলাকালীন শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ অবশ্যই একটা অবদান রেখেছে। এগুলো সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। তবে জি ২০’র কোনো বিকাশ দেখা যাচ্ছে না, মানুষের আরও কাছে আসার কোনো লক্ষণও চোখে পড়ছে না। সম্মেলনের আগে অভিযোগ উঠেছিল, নির্বাচনের এই বছরে মার্কেল শুধু নিজের প্রতীকী ছবি তুলে ধরতে আগ্রহী। আন্তর্জাতিক মঞ্চে সফল নেতার ভূমিকা পালন করতে চান না তিনি। কিন্তু হামবুর্গ শহরের প্রতীকী ছবিগুলো অন্য কথাই বলছে।
সম্মেলনকে ‘সফল’ বললেন ট্রাম্প : জার্মানির হামবুর্গে অনুষ্ঠিত সম্মেলনটি ‘চমৎকার সাফল্য’ অর্জন করেছে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত প্যারিস চুক্তি থেকে বের হয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জি ২০ গোষ্ঠীর ১৮টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতবিরোধ সত্ত্বেও এ ঘোষণা দেন তিনি। সম্মেলনের শেষদিন শনিবার সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানি আরও দক্ষ ও পরিচ্ছন্নভাবে ব্যবহার করায় সাহায্য করতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র। প্যারিস চুক্তির অন্তর্গত দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করাই এ চুক্তির প্রধান লক্ষ্য। আয়োজক দেশ জার্মানির চ্যান্সেলর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে দুঃখবোধ করলেও বাকি দেশগুলো পুনরায় আলোচনার বিরোধিতা করায় তিনি ‘তৃপ্ত’ হয়েছেন। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান জানান, তিনিও এখন প্যারিস চুক্তিতে তার দেশের অবস্থান নিয়ে সন্দিহান। কারণ এ চুক্তি থেকে মার্কিন প্রত্যাহারের ঘোষণা উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষতিপূরণ পাওয়াকে ক্ষুণœ করছে। এরপরও তুরস্ক প্যারিস চুক্তিতে সই করায় ফ্রান্স প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, চুক্তিতে সই করার যে আর্থিক খরচ হবে সেই ক্ষতিপূরণ তুরস্ক পাবে। এরদোগান জানান, তুর্কি পার্লামেন্ট এখনও প্যারিস চুক্তিতে অনুমোদন দেয়নি। এছাড়াও ট্রাম্প অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও কথা বলেছেন। শনিবার এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, জি ২০ সম্মেলন সুন্দরভাবে সফল হয়েছে। অ্যাঞ্জেলা মার্কেল নিপুণতার সঙ্গে এটি সম্পন্ন করেছেন। আপনাকে ধন্যবাদ! ট্রাম্পের শেষ আলোচনা ছিল উত্তর কোরিয়ার পরমাণু প্রচেষ্টা নিয়ে। পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বলেন, ‘কিছু একটা করতে হবে’। জিনপিংও সম্মতি দিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক নিয়ে বলেন, কিছু স্পর্শকাতর বিষয় থাকলেও তাদের সম্পর্কের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তিনি দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সফরের পরামর্শও দিয়েছেন।

মাঠপর্যায়ের সাফল্য বিবেচনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সেনা সদস্যদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে তাদের সাফল্য বিবেচনায় নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, মাঠপর্যায়ে সাফল্য এবং প্রশিক্ষণে দক্ষতাই সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী রোববার ঢাকা সেনানিবাসের সেনা সদর দফতরে আর্মি সিলেকশন বোর্ড-২০১৭-এর বৈঠকে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে সুসংহতকরণে দক্ষ এমন দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের হাতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব থাকা উচিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে চারটি বিশেষ গুণ থাকতে হবে। যেগুলো হচ্ছে- একজন কমান্ডার, কর্মকর্তা এবং প্রশিক্ষক হওয়ার জন্য প্রথমত, সেনা কর্মকর্তাদের দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। দেশ ও সমাজের সেবার মানসিকতা এবং উন্নত নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। তৃতীয়ত, তাদের মাঠপর্যায়ের সাফল্য থাকতে হবে। চতুর্থত, তাদের অবশ্যই নেতৃত্বের যোগ্যতা, পেশাগত এক্সিলেন্স, নিয়মানুবর্তিতা, সততা এবং নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য থাকতে হবে। তিনি এ সময় কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য সিলেকশন বোর্ডকেও যোগ্যতার এই মাপকাঠি বিবেচনায় আনার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী পদোন্নতির জন্য সেনা কর্মকর্তা নির্বাচনে ট্রেস (টিআরএসিই-টেবুলেটেড রেকর্ড অ্যান্ড কম্পারেটিভ ইভ্যালুয়েশন) পদ্ধতির অন্তর্ভুক্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সেনা সদস্যদের জাতীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়ার প্রসঙ্গ টেনে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সব প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেনাবাহিনীর সদস্যরা যেভাবে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য ও সহমর্মিতা দেখিয়েছেন, তা জনগণের প্রভূত প্রশংসা ও বিশ্বব্যাপী সুনাম অর্জন করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেনা সদস্যরা দ্রুত সাড়া দিয়ে সাধারণ জনগণের পাশে দাঁড়ানোর ফলে তাদের ওপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ সময় নিরলস প্রচেষ্টায় তা দ্রুত পুনরুদ্ধার অভিযান ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের খাবার, পানি ও চিকিৎসাসেবা প্রদানসহ সাতটি আশ্রয় কেন্দ্রের দায়িত্ব গ্রহণ করে জনগণের সেবায় সেনা সদস্যরা নিজেদের নিয়োজিত করেন।
সেনা সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাঙ্গামাটিতে উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালীন দু’জন সেনা কর্মকর্তাসহ পাঁচজন সহকর্মীকে হারানোর ব্যথা নিয়ে রোজা রেখে আর্তমানবতার সেবায় আপনাদের এই আত্মত্যাগ একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমি সেনাবাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগকে গভীর সমবেদনার সঙ্গে স্মরণ করছি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের মান আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে তার সরকার কয়েকটি নতুন প্রশিক্ষণ একাডেমিসহ সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদাতিক কোরের উন্নয়ন ও কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ ছাড়া সেনা সদস্যদের চিকিৎসা, বেতন-ভাতা ও আবাসনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও পুনর্গঠনমূলক পদক্ষেপ গৃহীত হয়। সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ও জঙ্গি তৎপরতা দমনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ও সিলেটের আতিয়া মহলে সেনাবাহিনীর কমান্ডো ইউনিটের জঙ্গিবিরোধী অভিযান দেশে ও বিদেশে সেনাবাহিনীর উন্নত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহম্মদ শফিউল হক, মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রতিরক্ষা সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়া এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্যাসিফিক কমান্ডারের সাক্ষাৎ : ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ডের কমান্ডার এডমিরাল হেরি বি হ্যারিস (জুনিয়র) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে (এএফডি) তার অফিসে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতের পর এক ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, এডমিরাল হ্যারিস এ অঞ্চলে তাদের সন্ত্রাসবাদবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন এবং এ ব্যাপারে প্রশিক্ষণ সহায়তা দেয়ার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তাব দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদ দমনে অবশ্যই অর্থ এবং সৈন্য সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। সন্ত্রাসীদের কোনো ভৌগোলিক সীমা নেই, ধর্ম নেই। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তথ্য বিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদানের প্রশংসা করেছেন এডমিরাল হ্যারিস।

বাংলাদেশিদের মদদ আছে : মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বশিরহাট ও বাদুড়িয়ায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনায় বাংলাদেশিদের মদদ রয়েছে। শনিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য প্রশাসনিক ভবন ‘নবান্নে’ এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মমতা। ফেসবুকে মহানবীকে (সা.) নিয়ে এক যুবকের একটি আপত্তিকর পোস্টের কারণে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর এনডিটিভির। মমতা বলেন, ‘ওই এলাকার অশান্তিতে বাংলাদেশ থেকে আসা লোকজনের মদদ রয়েছে বলে আমি খবর পেয়েছি। বাংলাদেশ থেকে আসা এই অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক খুব ভালো।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো এক সংবাদমাধ্যমে বশিরহাটের ঘটনা হিসেবে বাংলাদেশের কুমিল্লার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রচার করা হয়েছে। এমনকি ফেসবুকেও ভোজপুরি চলচ্চিত্রের দৃশ্য নিয়ে ভুল প্রচার করা হচ্ছে।’ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বশিরহাট ও বাদুড়িয়ার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। বাংলা একটি স্পর্শকাতর জায়গা। এই পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের সীমান্ত রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া সিকিমের সঙ্গে রয়েছে চীনের সীমান্ত। ফলে, পরিকল্পিতভাবে পশ্চিমবঙ্গে অশান্তি তৈরির চক্রান্ত করা হচ্ছে।’ বশিরহাট-বাদুড়িয়ার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত দাবি করে মমতা বলেন, ‘বশিরহাট ও বাদুড়িয়াতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্ররোচণা দেয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও সেখানের মানুষ ওই প্ররোচণায় পা দেননি। এজন্য তাদের ধন্যবাদ।’ বশিরহাটে তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাংচুরের ঘটনায় মমতা ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকেও (আরএসএস) কাঠগড়ায় দাঁড় করান। আরএসএসের দুর্গাবাহিনীকে কটাক্ষ করেন। নারীদের বন্দুক চালানো শেখানো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। পাশাপাশি দার্জিলিং পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এক মাস হয়ে গেল দার্জিলিং শান্ত হয়নি। কেন্দ্রের কাছে সিআরপিএফ বাহিনী চাওয়া সত্ত্বেও তারা তা দেয়নি। পাহাড়ের জনজীবন এখনও শান্ত হয়নি, এখনও স্কুল-কলেজ বন্ধ। কেন্দ্র সরকারের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘পাহাড়ের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করতে দিন। পাহাড়ে খাবার পাঠান।’ এ সময় পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলোকে শান্তির পথে ফিরে আসার বার্তাও দেন তিনি।

ট্রাম্পের রুশ সংযোগের নতুন তথ্য ফাঁস

ডোনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন পাওয়ার পর তারই পুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, জামাতা জারেদ কুশনার এবং নির্বাচনী প্রচারণা চেয়ারম্যান পল মানাফোর্ট রাশিয়ার এক আইনজীবীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। শনিবার নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে তা প্রকাশ পেয়েছে। প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ট দুই সহযোগীর সঙ্গে ক্রেমলিনের ঘনিষ্ট আইনবজীবী নাতালিয়া ভ্যাসেলনিতকায়ার মধ্যে এ বৈঠক এর আগে গোপন ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারে ২০১৬ সালের ৯ জুন তারা প্রথম বৈঠক করেন। এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জুনিয়র এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল।’ বৈঠকটির মূল বিষয় ছিল রুশ শিশুদের মার্কিন নাগরিক কর্তৃক দত্তক নেয়া। বৈঠকে মার্কিন নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ হয়ে যাবে : রাজা

পশ্চিমবঙ্গকে আর একটা গুজরাট বানানোর উসকানি দিলেন বিজেপির এক বিধায়ক। টুইটারে দেয়া একটি ভিডিও ক্লিপে হায়দরাবাদের বিজেপি বিধায়ক রাজা সিং বলেছেন, ‘বাংলায় (পশ্চিমবঙ্গ) হিন্দুরা আজ একেবারেই নিরাপদ নন। সাম্প্রদায়িক হিংসায় যারা জড়িয়ে রয়েছেন, তাদের উচিত শিক্ষা দেয়া উচিত বাংলার হিন্দুদের- ২০০২ সালে গুজরাটে হিন্দুরা যে শিক্ষাটা দিয়েছিলেন। না হলে খুব শিগগিরই পশ্চিমবঙ্গ আর একটা বাংলাদেশ হয়ে যাবে।’ এই কাজে বাংলার হিন্দুদের সাহায্য করতে পারে যারা, হায়দরাবাদের বিজেপি বিধায়ক শুধু সেই সংগঠন ‘বেঙ্গল টাইগার্স’র নাম উল্লেখ করেই থেমে থাকেননি। সেই উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনকে তার ‘মূল্যবান পরামর্শ’ও দিয়েছেন! হায়দরাবাদের বিজেপি বিধায়কের পরামর্শ, ‘ঘুম ভেঙে জেগে উঠুক বেঙ্গল টাইগার্স। বাঁচার লড়াইয়ে নামার জন্য হিন্দুদের সংগঠিত করুক।’ রাজা তোপ দেগেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেও। তার অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরিস্থিতি সামলাতে পারেনি। বরং যারা সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়াচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাদেরই সাহায্য করছে, করে চলেছে। রাজার দাবি, ‘রাজ্য সরকার (পশ্চিমবঙ্গ) ওদের (সাম্প্রদায়িকদের) সাহায্য করছে। যারা ধর্মনিরপেক্ষ, তাদের কাছে আমার আবেদন, আপনারা যদি বাংলার হিন্দুদের নিরাপদে রাখতে চান, তারা সুরক্ষিত থাকুন এটা দেখতে চান, তা হলে আপনারা আরও সচেতন হয়ে উঠুন। আপনারা যদি বাংলায় হিন্দুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে না পারেন, তা হলে আজ কাশ্মীরে যা হচ্ছে, হিন্দুদের একই দশা হবে পশ্চিমবঙ্গেও। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মতোই বাংলার হিন্দুরাও একদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন।’ উসকানিমূলক মন্তব্যের ব্যাপারে হায়দরাবাদের বিজেপি বিধায়ক রাজা সিংহের ‘রেকর্ড’ বেশ ভালো! গত এপ্রিলেই রাজা বলেছিলেন, ‘রামমন্দির নির্মাণে যারা বাধা দেবেন, তাদের মাথা কেটে দেয়া হবে।’ পিটিআই।

লন্ডনের ক্যামডেন লক মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে

লন্ডনের উত্তরাঞ্চলে ক্যামডেন লক মার্কেটে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সোমবার ভোরে ওই মার্কেটে আগুনের ঘটনা ঘটে। মার্কেটটি পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। খবরে বলা হয়, ৭০ জন ফায়ার সার্ভিসকর্মীর চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। জোন রাইবস নামের ২৪ বছর বয়সী একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, ঘটনার সময় তিনি ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি চিৎকার করে ট্রাফিক পুলিশকে ডাকতে থাকেন। কারণ আগুন খুব বিপজ্জনক ছিল। পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, লন্ডন ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। আগুনে কেউ আহত হয়েছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি।

‘মশার নগর’ ইফাকারা

আফ্রিকায় প্রতি মিনিটে ম্যালেরিয়ায় ভুগেই মারা যায় অন্তত দু’জন শিশু। তাই মশার কামড় থেকে মানুষকে বাঁচাতে দিনরাত কাজ করছে তাঞ্জানিয়ার ছোট্ট শহর ইফাকারা। ইফাকার শব্দের অর্থ ‘যেখানে আমি মৃত্যুবরণ করি’। নামেই বোঝা যায়, বসবাসের জন্য শহরটি আসলে কেমন। মানুষ যেন সেখানে জীবন উপভোগের কথা কিংবা সুখে-স্বাচ্ছ্যন্দে কিছুদিন বাঁচার কথা ভাবতেই পারে না, জন্মের পর থেকে আসল কাজই যেন মশার কামড়ে রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর অপেক্ষা করা। এ কারণেই শহরটিকে বলা হচ্ছে ‘সিটি অব মসকিটো’ অর্থাৎ ‘মশার নগর’। শহরটিতে মশার কবল থেকে মানুষকে বাঁচাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে ইফাকারা হেল্থ ইন্সটিটিউট (আইএইচআই)। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে মশা এবং মশাবাহিত রোগে মৃত্যুহার অনেক কমেছে। আইএইচআই-এর গবেষকের ভাষায়, ‘আমি যখন এখানে কাজ শুরু করি, তখন আলোর ফাঁদ পেতে যে মশাগুলো ধরা হতো, সেগুলো গুনে শেষ করা যেত না। প্রতিদিন ওজন করা হতো। কোনো কোনো রাতে মশা সংগ্রহের ব্যাগ ভরে মশা উপচে পড়ত।’ ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইফাকারায় মশানিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি মশা এবং ম্যালেরিয়া নিয়ে গবেষণাও চলছে জোরশোরে।
এছাড়া ইফাকারার অধিকাংশ মানুষই খুব গরিব। তাদের ঘরগুলোও খুব ছোট ছোট। বেশিরভাগ মানুষই বাস করেন এমন ঘরে, যেখানে একটি বা দুটি বিছানা করার পর আর জায়গা থাকে না। ফলে ঘুমানো ছাড়া বাকি সব কাজই করতে হয় ঘরের বাইরে। আইএইচআই তাই মশা ধরতেও মানুষকে কাজে লাগায়। অল্প পারিশ্রমিকে অনেকেই ঘরের বাইরে বিশেষ ধরনের মশারির নিচে বসে থাকেন। মশারির সঙ্গে এক ধরনের মশা ধরার ফাঁদের সংযোগ থাকে। ফলে মানুষের রক্তের লোভে মশারিতে বসতে গিয়েই ধরা পড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে মশা। টাকার বিনিময়ে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘরের বাইরে মশারির নিচে বসিয়ে রেখেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়া হলো বিষ মাখানো মশারি। এক সময় মশারি যে মরণফাঁদ তা-ও টের পেয়ে গেল মশা। তাই মানুষ যখন ঘুমাতে যায়, তার ঠিক আগে এবং ভোরে যখন ঘুম থেকে ওঠে, তখন রক্তক্ষুধা মেটানোয় ব্যস্ত হয়ে পড়ল তারা। অবস্থা সামাল দিতে তাই এবার আনা হলো ‘মসকিটো ল্যান্ডিং বক্স’। কাঠের তৈরি কালো রঙের এ এমন এক বাক্স, যা আসলে মশা মারার নতুন ধরনের ফাঁদ। বাক্সে যাতে ঝাঁকে ঝাঁকে মশা এসে বসে, সে ব্যবস্থা করতে অভিনব উপায়ে বাতাসে ছড়ানো হল মানুষের ঘামের গন্ধ। সেই গন্ধ পেলেই মশারা ছুটে আসে। বাক্সে এসে বসামাত্রই তাদের জীবনাবসান ঘটে।

ডোকলামে তাঁবু ফেলতে শুরু করেছে ভারতীয় সেনা

চীন সীমান্তের ডোকলামে এবার তাঁবু ফেলতে শুরু করল ভারতীয় সেনা। জুন মাসের শুরু থেকে সেখানে ভারতীয় বাহিনী চীনা সেনার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে। জুনের শেষ দিকে এসে উত্তেজনা আরও বাড়ায় সৈন্য সমাবেশও বাড়ানো হয়েছে। এবার ডোকলামে ক্যাম্প বসানো শুরু করে নয়াদিল্লি এই বার্তা দিতে চাইছে যে, বেইজিংয়ের চাপের সামনে মাথা নত করা হবে না। চীন সেনা না সরানো পর্যন্ত একতরফা পিছু হঠার প্রশ্নই ওঠে না। ভারত-ভুটান-চীন সীমান্তবর্তী ডোকলামে গত মাসের শুরু থেকেই উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী মুখোমুখি অবস্থান করছে ১০ হাজার ফুট উচ্চতায়। সীমান্তে ভারত ও চীনের এমন মুখোমুখি অবস্থান ইতিহাসে নজিরবিহীন।
কিন্তু ভারত যে আরও দীর্ঘ টানাপড়েনের কথা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। ত্রিদেশীয় সীমান্তের ডোকলামে ভারতীয় বাহিনী তাঁবু ফেলে শিবির তৈরি করা শুরু করে দিয়েছে। ডোকলামে অবস্থানরত বাহিনীর জন্য খাবার, অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং সামরিক সরঞ্জামের সরবরাহ যাতে সবসময় পর্যাপ্ত থাকে, তা-ও নিশ্চিত করা হয়েছে। চীনের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হবে ধরে নিয়েই ভারতীয় সেনার এই পদক্ষেপ।  ডোকলাম থেকে ভারত সেনা না সরালে চীন সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু দিল্লি বলছে, ২০১২ সালে চীন এবং ভারতের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল, বেইজিং সেই শর্ত ভেঙেছে। পিটিআই।

শ্রেণিকক্ষে প্রতিবন্ধি ছাত্রীকে ধর্ষণ

দাগনভূঞার জায়লস্কর ইউনিয়নে স্কুলের শ্রেণিকক্ষে এক প্রতিবন্ধি ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। খুশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ৪র্থ শ্রেণির ওই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয় বলে জানান স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী পরিবার সূত্র জানায়, রোববার প্রতিবন্ধি ওই ছাত্রী (১২) যথারীতি স্কুলে যায়। বিকালে বাড়ি ফিরে দেখে তার পাঠ্যপুস্তকের একটি বই নেই। বইটি খুঁজতে সে স্কুলে গেলে বৃষ্টির কারণে সে আটকা পড়ে। এ সুযোগে বখাটে মো. মাসুদ তাকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ি ফিরে অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে শিশুটিকে দ্রুত ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে ফেনী সদর হাসপাতালে ভিকটিম ক্রাইসিস ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষিতা ছাত্রীর চাচা বাদী হয়ে উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর খুশিপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মো. মাসুদকে আসামি করে দাগনভূঞা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা করেছেন। মামলা নং-০৪/১৭, তারিখ-১০/০৭/২০১৭ইং। ধর্ষকের সহযোগী উত্তর খুশিপুর গ্রামের শরিয়ত উল্লাহর ছেলে হারুনুর রশিদকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মজিবুল হক যুগান্তরকে জানান, ধর্ষিতা প্রতিবন্ধি হওয়ায় প্রাথমিকভাবে হাসপাতালে বক্তব্য নেয়া যায়নি। চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ফের গিয়ে ধর্ষিতার বক্তব্য নেয়া হবে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ব্যবসায়ীকে হাত-পা বেঁধে গলাকেটে হত্যা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে নূরনবী (৩৮) নামের এক ডেকোরেটর ব্যাবসায়ীকে হাত-পা বেঁধে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার দুপুরে শহরের মোহাম্মদীয়া হোটেল সংলগ্ন আমিন কমপ্লেক্সের মালিকের ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ ওই ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে। নিহত নূরনবী ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামের আমিন উদ্দীন তফাদার বাড়ির মৃত ইউনুস মিয়ার ছেলে। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় ব্যাসায়ীরা জানান, নূরনবী প্রায় ১৫ বছর ধরে ডেকোরেটর ব্যবসা করছেন। প্রায় দিন তিনি সেখানেই  রাত যাপন করতেন। রোববার রাতেও তিনি দোকানেই ঘুমিয়ে ছিলেন। সোমবার সকালে দোকান বন্ধ পেয়ে কর্মচারিরা ডাকাডাকি করে। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা ও গলাকাটা লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ নিহত নূরনবীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠান। রায়পুর থানার ওসি একেএম আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, নিহত নূরনবীর লাশ তার ডেকোরেটর রুম থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে।

পুলিশের অভিযানের মধ্যেই চিংড়ি জোনে ডাকাতি, গুলিবিদ্ধ ৫

পুলিশের অভিযানের মধ্যেই কক্সবাজারের চকরিয়ার চিংড়ি জোন এলাকার ডুলাহাজরার ডুমখালী, কাটাখালী ও চরণদ্বীপ এলাকার পাঁচটি চিংড়ি ঘেরে গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দলের গুলিতে ঘেরের পাহাদারসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে চিংড়ি ঘের, ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও চিংড়ি খামারে লুটপাট করে চিংড়িসহ প্রায় ৬ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। সোমবার ভোর রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডুলাহাজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল হোসেন জানান, এখানে জো’র সময় প্রতি রাতে ডাকাতি হয়। রাত আসলেই চিংড়ি ঘেরগুলো সশস্ত্র ডাকাতদের দখলে চলে যায়। চিংড়ি চাষিরা জানান, এদিন ভোর রাতে ২০/২৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল চিংড়ি চাষি ডুমখালীর নুরুল আলম ও জাহেদ, কাটাখালীর বাদশা, শোয়াজানিয়ার মাহবুবের মালিকানায় থাকা পাঁচটি চিংড়ি ঘেরে হামলা করে মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। এ সময় তারা প্রায় ৩০-৪০রাউন্ড গুলি ছুড়ে। গুলিতে কাটাখালীর শফির ছেলে ইঞ্জিন বোট চালক মোঃ হারুন (২৯) ও চিংড়ি চাষি মাহমুদুল করিমসহ পাচজন আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিংড়ি চাষি নুরুল আলমের ঘের পাহাদার বেলাল উদ্দিন জানান,  ডাকাতদের মধ্যে চিহ্নিত জিয়াবুল বাহিনীর সদস্য পটুকে তিনি ছিনতে পেরেছেন। তিনি বলেন, ওই বাহিনীর অত্যচারে চকরিয়ার চিংড়ি জোন এলাকায় চিংড়ি চাষ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। চকরিয়া থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, চিংড়ি ডাকাতদের ধরতে চকরিয়া থানার পুলিশ  রাতে চিংড়ি জোন এলাকায় অভিযানে ছিল। তবে এ চিংড়ি ঘেরগুলোতে ডাকাতির খবর পায়নি পুলিশ। খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান ওসি।

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংলাপ ও জনপ্রত্যাশা

আমরা গণমাধ্যমের সূত্রে জেনেছি, নির্বাচন কমিশন খুব শিগগিরই সংলাপ শুরু করবে। সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, প্রথমেই তারা সুশীল সমাজ বা নাগরিক সমাজের সঙ্গে সংলাপ শুরু করবে। নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ তৈরি করেছিল, তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ সংলাপ শুরু হতে যাচ্ছে। কারণ নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপের মধ্যে সংলাপের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। সুতরাং এ সংলাপ নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপেরই অংশ। নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপটি তৈরি করেছে, এটি আগামী নির্বাচনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রশংসনীয় এবং আমরা সবাই এটিকে স্বাগত জানাই। কারণ নির্বাচনী রোডম্যাপটি হল কর্মপরিকল্পনামূলক। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন পরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে কখন কোন কাজটি তারা করবে, কীভাবে করবে তার একটি রূপরেখা ওই রোডম্যাপে রয়েছে। ২০১৮ সালের শেষে বা ২০১৯ সালের শুরুর দিকে যে একাদশ জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, সেই নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই রোডম্যাপ তারা তৈরি করেছেন। এরই অংশ হিসেবে তারা সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছেন। নির্বাচনের রোডম্যাপের বিষয়টি প্রথম শুরু করে ড. হুদা কমিশন। সেই কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে অনুষ্ঠান করতে পেরেছে- এ জন্য রোডম্যাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পক্ষান্তরে গত নির্বাচন কমিশন অর্থাৎ রকিবউদ্দীন কমিশন এরকম কোনো কর্মপরিকল্পনামূলক রোডম্যাপ তৈরি করেছে বলে আমরা শুনিনি। হয়তো করেছে, কিন্তু সেটি আলোর মুখ দেখেনি। তেমন কোনো কর্মতৎপরতাও আমাদের চোখে পড়েনি। যার ফলে এ কমিশন জাতীয় নির্বাচনসহ সব নির্বাচনেই ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনগুলোতে কারচুপি হয়েছে, সেগুলো বিতর্কিত হয়েছে, ব্যাপক সমালোচনাও হয়েছে। অতএব, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচনী রোডম্যাপকে আমাদের সাধুবাদ জানাতেই হয়। এখন প্রশ্ন হল, নির্বাচনকে সামনে রেখে যে সংলাপ, সেটাকে যদি সফল করতে হয়, তাহলে করণীয় কী হতে পারে? প্রথমেই নির্বাচন কমিশনে এর জন্য প্রস্তুতি লাগবে। নির্বাচন কমিশন সংলাপে কী বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে, কীভাবে আলোচনা করবে এবং যারা আলোচনায় অংশগ্রহণ করবে তাদের কী রকম তথ্য সরবরাহ করতে হবে, যাতে করে অংশগ্রহণকারীরা ফলপ্রসূভাবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারে- এ জন্য নির্বাচন কমিশনের পূর্বপ্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। আমরা আশা করব, বর্তমান নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিয়েই সংলাপে অংশগ্রহণ করবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের দুটি অভিজ্ঞতার কথা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছি। হুদা কমিশন সংলাপ করেছে নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন ও বিধি-বিধানকে সংশোধনের জন্য। যেমন আরপিও সংশোধন। হুদা কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা ‘সুজন’-এর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে আরপিও’র একটি ড্রাফট দিয়েছিলাম। অন্যরাও এ ব্যাপারে তাদের সুপারিশ দিয়েছে। তার ভিত্তিতে হুদা কমিশন নির্বাচনের ব্যাপারে কী কী বিষয়ে পরিবর্তন আনা যেতে পারে তা নিয়ে নিজেদের একটি সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করে। এরপর সংলাপে সেটি উপস্থাপন করে, যার ভিত্তিতে যারা সংলাপে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তারা যথাযথভাবে তাদের প্রাসঙ্গিক মতামত দিতে পেরেছেন। তাই নির্বাচন কমিশন যে ব্যাপারেই আলাপ-আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকুক না কেন, সেটা প্রস্তুতি নিয়ে এবং যাতে মানুষ কার্যকরভাবে তাতে অংশগ্রহণ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আরেকটি অভিজ্ঞতা হল, গত নির্বাচন কমিশন অর্থাৎ রকিবউদ্দীন কমিশন একটিই সংলাপ করেছে। ওই সংলাপে নাগরিক সমাজকে এবং সুজনের পক্ষ থেকে আমাকেও ডাকা হয়েছিল এবং আমি তাতে উপস্থিত ছিলাম।
সেই নির্বাচনী সংলাপে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু তারা এ বিষয়ে একটি থিওরিটিক্যাল আলাপ-আলোচনাই শুধু করেছেন। এ বিষয়ে তাদের কোনো প্রস্তুতি ছিল না, বক্তব্য ছিল না, মতামত ছিল না, কোনো প্রকার কনসেপ্ট নোটও ছিল না। যার ফলে যার যা ইচ্ছা, যার কাছে যেটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে সেটাই বলেছেন। সুতরাং ওই সংলাপটি কোনোভাবেই সফল হয়েছে বলে মনে করি না। যেহেতু নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ ছাড়া আর কোনো সুনির্দিষ্ট বা সুস্পষ্ট আলোচনার বিষয় ছিল না, তাই এ সংলাপ নিয়ে অনেক সমালোচনাও হয়েছে। তারা যদি নির্বাচনী সীমানার পুনর্নির্ধারণের বিষয়টির ওপর একটি খসড়া তৈরি করত, তাহলে সংলাপটি ফলপ্রসূ হতো বলে আমার বিশ্বাস। ওই সংলাপটি যেহেতু সফল হয়নি, তাই এরপর রকিবউদ্দীন কমিশন আর কোনো সংলাপ করেনি। আরেকটি বিষয় আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যে নাগরিক সমাজ, রাজনীতিক, সুশীল সমাজ সংলাপ করবে, তাদেরও পূর্ব-ধারণা নিয়ে অর্থাৎ প্রস্তুতি নিয়েই সংলাপে অংশগ্রহণ করতে হবে। আমার পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি, নাগরিক বা সুশীল সমাজের যাদের সঙ্গেই আমার যোগাযোগ হয়েছে, তাদের অনেকেরই নির্বাচনী আইন-কানুন, বিধি-বিধান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নেই। তাদের অনেক বিষয়েই হয়তো গভীর জ্ঞান আছে; কিন্তু নির্বাচনের বিষয়ে তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না এবং অনেক ক্ষেত্রেই তারা সংলাপে প্রাসঙ্গিক কথা বলতে পারেননি। তাই যাদেরকে সংলাপে ডাকা হবে, তারা যেন নিজেরা প্রস্তুতি নিয়ে অর্থাৎ নির্বাচনের ইস্যুগুলো সম্পর্কে জেনেশুনে তবেই সংলাপে যান। নির্বাচনী সংলাপ নিয়ে রাজনৈতিক দলের প্রস্তুতি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাজনৈতিক দলকেই কিন্তু এই নির্বাচনী আইন-কানুন, বিধি-বিধান এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে কথা বলতে হবে, তাই তাদেরকেও নির্বাচনের সব বিষয় সম্পর্কে প্রস্তুতি নিয়ে হোমওয়ার্ক করে সংলাপে অংশগ্রহণ করতে হবে। যাতে সংলাপে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কতগুলো বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়। কেননা সংলাপের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছানো। সংলাপে গেলাম, কোনো ঐকমত্যেই পৌঁছতে পারলাম না, তাহলে ওই সংলাপের প্রয়োজনীয়তা কী? আমাদের রাজনৈতিক দলে তেমন কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা হয় না, কোনো চর্চাও হয় না। সবকিছুই যেন স্লোগাননির্ভর হয়ে গেছে। সবকিছুতেই সমালোচনা, অনেকটা যা মনে আসে তাই বলে দেয়ার মতো। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেয়ার আইনগত ক্ষমতা রয়েছে। তবে সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংলাপ করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেটা অধিক কার্যকর হবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। এখন সবচেয়ে হট ইস্যু হচ্ছে নির্বাচনকালীন সরকার। নির্বাচনকালীন সরকার কীরকম হবে সেটা কিন্তু নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত নয়। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকালীন সরকার ঠিক করে দেবে না। এটা ঠিক করবে সরকার। তবে কমিশনের কাছে এ বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। সরকার নির্বাচনকালীন সরকারকে দু’ভাবে ঠিক করতে পারে। এক. যেহেতু দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক নির্দেশনা রয়েছে, তাই দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠান করা যেতে পারে। নির্বাচন পরিচালনায় এখানে অন্যদের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ থাকবে না। দুই. নির্দলীয়-নিরপেক্ষ একটি অস্থায়ী সরকারের অধীনেও নির্বাচন অনুষ্ঠান করা যেতে পারে। আমাদের সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, প্রজাতন্ত্রই হচ্ছে গণতন্ত্র। গণতন্ত্র মানে জনগণের সম্মতির শাসন। জনগণের সম্মতি অর্জিত হয় নির্বাচনের মাধ্যমে। নির্বাচন মানেই তা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, প্রতিযোগিতামূলক এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। এভাবে না হলে জনগণের সম্মতি অর্জিত হয় না এবং নির্বাচন হয় অর্থহীন। যেহেতু নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হল সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, প্রতিযোগিতামূলক এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা, তাই সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদে তাদেরকে সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। কিন্তু তাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়। সুতরাং নির্বাচন কমিশনকে দাবি করতে হবে যে, নির্বাচনকালীন যে সরকার থাকবে, সে সরকার যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে। নির্বাচনকালীন সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে পরিচালনা করে। এ প্রশাসন যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে বা তারা যদি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করে, তাহলে সবচেয়ে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের পক্ষেও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। আর সাংবিধানিকভাবে সরকারের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন যে সহযোগিতা চায়, সেটা প্রদান করা। নির্বাচনকালীন দলীয় সরকার নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা বড়ই করুণ, বড়ই দুঃখময়। দলীয় সরকারের অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে, সব কটিতে দেখা গেছে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা ক্ষমতায় ফিরে এসেছে। পক্ষান্তরে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোয় ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে এবং বিরোধী দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসীন হয়েছে। দলীয় সরকারের আওতায় রকিবউদ্দীন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসহযোগিতা দেখেছি এবং নির্বাচনী দায়িত্বে যারা ছিলেন তারাও সরকারের পক্ষে কাজ করেছেন, সরকারি দলের পক্ষে ব্যালট পেপারে প্রকাশ্যে সিল মেরেছেন। প্রশাসন বিরোধী দলকে হয়রানি করেছে। অনেক ভোট কেন্দ্রে আগের রাতেই ব্যালট বাক্স পূরণ করে রাখা হয়েছে। এগুলো হয়েছে প্রশাসনের ব্যাপক দলীয়করণের কারণে এবং এটা দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। তাই দলীয়করণই সুষ্ঠু নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অন্তরায়। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা দুরাশা মাত্র। তাই আমাদের রাজনীতিকদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা কি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন চান, নাকি ক্ষমতা চান। যদি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন চান, তাহলে আমাদেরকে একটি সমঝোতায় পৌঁছতে হবে।
ড. বদিউল আলম মজুমদার : সম্পাদক, সুজন

ষোড়শ সংশোধনী সংক্রান্ত আপিলের রায় আশা এবং আশঙ্কা

বাংলাদেশের সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে সংবিধানে ২০১৪ সালে যে ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়েছিল এবং যে সংশোধনী হাইকোর্ট অবৈধ বলে রায় দিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছিল। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ ঐকমত্যের ভিত্তিতে তা খারিজ করে দিয়েছেন। খবরটা শুনে খুশি হয়েছি এই ভেবে যে, আপিল বিভাগের এই সিদ্ধান্তের ফলে বেশকিছু দিন যাবত রাষ্ট্রের নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব চলছিল, এখন সরকার আদালতের এই সিদ্ধান্ত রিভিউর আবেদন না জানালে সেই দ্বন্দ্বের অবসান হবে। বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা বিচার বিভাগের হাতেই ফিরে এলো। ষোড়শ সংশোধনী বাতিল হওয়ায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই বিচার বিভাগের স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতা নিশ্চিত হল এটা বলা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সে কথা বলেছেন। এজন্য তার সরকার এবং প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চকেও অভিনন্দন জানাতে হয়। এই আপিল বিভাগ অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে কোনো কোনো শক্তিশালী মহল, এমনকি সরকারের আইন বিভাগের বিরোধিতাও উপেক্ষা করে যেভাবে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বিরুদ্ধে দেয়া হাইকোর্টের রায়কে বহাল রেখেছেন, তাতে বিচারপতি সিনহাকে পাকিস্তানের প্রয়াত বিচারপতি জাস্টিস কায়ানীর সঙ্গে তুলনা করা যায়। কায়ানীকেও বিচার বিভাগের স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য নানা অপবাদ ও অপপ্রচার সহ্য করতে হয়েছে। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকাকেও অভিনন্দন জানাতে হয়। পাকিস্তানের তৎকালীন সরকার জাস্টিস কায়ানীর সঙ্গে যে ব্যবহার করেছে, অথবা পরবর্তীকালে পাকিস্তানের এক প্রধান বিচারপতিকে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ যেভাবে সর্বোচ্চ আদালতে গুণ্ডা পাঠিয়ে বলপূর্বক তাকে আদালত ছাড়তে বাধ্য করেছেন, তার নজির সভ্য দুনিয়ার কোথাও নেই। পাকিস্তানের ওই প্রধান বিচারপতির অপরাধ ছিল তিনি নওয়াজ শরিফের ক্ষমতার অপব্যবহার আইনের শক্তিতে ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং নওয়াজ শরিফের আইনমন্ত্রীর নির্দেশে কোনো অন্যায় রায় দেননি।
বাংলাদেশে বর্তমানে আইনমন্ত্রী বা আইন বিভাগ যা-ই বলুন বা যা-ই করুন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সঙ্গে প্রধান বিচারপতির ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টির অনেক চেষ্টা হলেও তা সফল হতে দেননি। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় প্রধান বিচারপতি জাস্টিস সিনহার বিরুদ্ধে অনেক কুৎসা রটানো এবং অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এমন গুজবও ছড়ানো হয়েছে, প্রধান বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে দু’একদিনের মধ্যেই অবসরে যেতে বলা হচ্ছে। শেখ হাসিনা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক করে পারস্পরিক আলোচনা দ্বারা এই ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টির চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছেন। বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের কোনো দাপট দেখাতে চাননি। ষোড়শ সংশোধনী সম্পর্কে আপিল বিভাগের বর্তমান সিদ্ধান্ত সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আছে।’ সর্বজনপ্রশংসিত বাংলাদেশের বাহাত্তরের সংবিধানেও বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ তথা সংসদ সদস্যদের হাতে ছিল। তখন কেউ এটার প্রতিবাদ করেননি। এখন দেখা যাচ্ছে, দেশের ১০ জন অ্যামিকাস কিউরি বা বিজ্ঞ আইনজীবীর মধ্যে নয়জনই হাইকোর্টের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করার রায়ের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ড. কামাল হোসেনও রয়েছেন, যিনি বাহাত্তরের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা বলে দাবি করেন। বাহাত্তরের সংবিধানে বিচারকদের অপসারণের যে ক্ষমতা সংসদের ছিল, পরবর্তীকালে তা বাতিল করে বিচার বিভাগের হাতে ফিরিয়ে দেয়া হয়। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বাহাত্তরের সংবিধানের পুরনো ধারাটি অর্থাৎ সংসদের হাতে বিচারক অপসারণের ক্ষমতা পুনর্বহালের জন্য ষোড়শ সংশোধনী আনে এবং সংসদে তা পাস হয়। এই সংশোধনীর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট মামলা হলে হাইকোর্ট এই সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করেন। সরকার তার বিরুদ্ধে আপিল করে এবং আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়টি বহাল রাখেন। তার আগে তারা ১০ জন বিজ্ঞ আইনজীবীর মতামত চেয়েছেন। তাদের মধ্যে নয়জনই হাইকোর্টের রায় বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। এখানেই প্রশ্ন, যেসব আইনজীবী ’৭২-এর সংবিধানে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে রাখার বিরোধিতা করেননি, বিশেষ করে ড. কামাল হোসেন, যিনি ’৭২-এর সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা, তিনি আকস্মিকভাবে মত পাল্টে হাসিনা সরকার কর্তৃক আনীত ষোড়শ সংশোধনীর বিপক্ষে চলে গেলেন কেন? এই সংশোধনী তো ছিল বাহাত্তরের সংবিধানের পুরনো ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন। হঠাৎ এই বিজ্ঞ ও প্রবীণ আইনজীবীর মতিগতি ঘুরে গেল কেন? সে কি কেবল হাসিনা-সরকারের যে কোনো সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার অভিলাষ থেকে? আপিল বিভাগের ষোড়শ সংশোধনীসংক্রান্ত রায়ে বিএনপি নেতারা আনন্দে বগল বাজাচ্ছেন। বিএনপির এক নেতা বলেছেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণায় সুপ্রিমকোর্টের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।’ আমার প্রশ্ন বিএনপির শাসনামলে তো বিচার বিভাগের হাতেই বিচারক অপসারণের ক্ষমতা ন্যস্ত ছিল? তারপরও পূর্বতন আওয়ামী সরকারের আমলে নিযুক্ত উচ্চ আদালতের ১০ জন বিচারকের নিযুক্তি বাতিলের সুযোগ পেয়েছিল কীভাবে বিএনপি সরকার? বাংলাদেশে আইনের শাসন তথা সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিচার বিভাগের স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতা রক্ষিত হোক, এটা আমাদের সবারই কাম্য। এজন্য জাস্টিস সিনহার সাহস ও প্রজ্ঞাকে অভিনন্দন জানাই। কিন্তু কাজীর গরু কেবল কেতাবে থাকলেই চলবে না, গোয়ালেও থাকা চাই। এর অর্থ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দেয়া হলেই বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগের খপ্পরমুক্ত হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দরকার সেই স্বাধীনতা রক্ষার জন্য বিচারপতি কায়ানী, বিচারপতি মুর্শেদ, বিচারপতি সিনহার মতো সাহসী মানুষ। নইলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে না। আমরা পাকিস্তানে কী দেখেছি? বিচার বিভাগ অধিকাংশ সময় সামরিক ও অসামরিক দুই ধরনের সরকারেরই আজ্ঞাবহের ভূমিকা পালন করেছে। বড়লাট গোলাম মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিন সরকারকে বরখাস্ত করলে তমিজউদ্দিন খানের মামলায় সিন্ধু হাইকোর্ট বড়লাটের আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করেন। সামরিক সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করলে প্রধান বিচারপতি মুনীর এই রায়কে বাতিল করে আইয়ুবের সামরিক শাসনকে বৈধ বলে রায় দেন। তিনি এখন ইতিহাসে ধিকৃত। বাংলাদেশে একশ্রেণীর বিচারপতি বারবার সামরিক শাসকদের সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে বিচার বিভাগের সম্মান ও মর্যাদা এবং স্বাতন্ত্র্য নষ্ট করেছেন। জেনারেল জিয়া বিচারপতি সায়েমকে, জেনারেল এরশাদ বিচারপতি আহসানউল্লাহ চৌধুরীকে এবং বিএনপি বিচারপতি সাত্তারকে তাদের ক্ষমতার স্বার্থে কিছুদিন শিখণ্ডীর মতো ব্যবহার করে পরে কমলার খোসার মতো দূরে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। সুতরাং বিচার বিভাগকে শুধু স্বাধীনতা দিলেই চলবে না। সেই স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সাহসী ও প্রজ্ঞাবান বিচারক চাই। আমেরিকায় তো বিচারক নিয়োগ করেন নির্বাহী বিভাগের প্রধান রাষ্ট্রপতি। তা সত্ত্বেও এবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনেক গণবিরোধী (ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণসহ) এক্সিকিউটিভ অর্ডার একজন ফেডারেল জজ ঠেকিয়ে দিয়ে দেশকে একটি সর্বনাশা পরিস্থিতি থেকে বাঁচিয়েছেন। আবার এর আগে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের (সিনিয়র) আমলে নিযুক্ত সুপ্রিমকোর্টের একশ্রেণীর বিচারকই পক্ষপাতিত্ব দেখিয়ে বিতর্কিত নির্বাচনে বুশ জুনিয়রকে জয়ী ঘোষণা করেছিলেন। আমেরিকার নিকৃষ্টতম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি পরিচিত। সুতরাং বিচার বিভাগ শুধু স্বাধীন হলেই চলবে না। এই স্বাধীনতা ব্যবহারিক অর্থে সফল করে তোলার জন্য স্বাধীন মনের নির্ভীক ও নিরপেক্ষ বিচারক চাই। নামে স্বাধীন, কাজে নির্বাহী বিভাগের আজ্ঞাবহ বিচারব্যবস্থা যে কোনা দেশের জন্য কল্যাণকর হয় না। তাতে বিচার বিভাগকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ নির্বাহী বিভাগ আরও বেশি পায়। বাংলাদেশে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল হওয়ার পরও বিচার বিভাগের ভূমিকা দেশে নিরপেক্ষ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা কতদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে, তা নির্ভর করে বিচারকরা কতটা নিরপেক্ষ ও সাহসী ভূমিকা পালন করতে চান বা পারেন তার ওপর। আমার প্রত্যাশা, তারা তা পারবেন। তবু ষোড়শ সংশোধনী বাতিল হওয়ার বিষয়ে মনে আশা এবং আশঙ্কা দুই-ই রয়ে গেল।
লন্ডন, ৯ জুলাই, রবিবার ২০১৭

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পেছাল

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পিছিয়েছে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক হোসনে আরা বেগম। সোমবার আসামিপক্ষ সময়ের আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন বিচারক। মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া অপর আসামিরা হলেন- সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান (মৃত), সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া (মৃত), সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী (মৃত), সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মো. মুজাহিদ (মৃত), ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম কে আনোয়ার, এম শামসুল ইসলাম (মৃত), আলতাফ হোসেন চৌধুরী,
ব্যারিস্টার আমিনুল হক, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্তসচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান এস আর ওসমানী, সাবেক পরিচালক মঈনুল আহসান, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও খনির কাজ পাওয়া কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম এবং রাষ্ট্রের ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ক্ষতি ও আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় মামলাটি করা হয়।

এমআর আকতার মুকুলসহ ৫৮ জন পাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

মহান মুক্তিযুদ্ধের চরমপত্রখ্যাত এমআর আকতার মুকুল, চলচ্চিত্রকার সুভাষদত্ত, কণ্ঠশিল্পী ফকির আলমগীর ও তিমির নন্দীসহ ৫৮ জন সাংস্কৃতিক কর্মীকে (শব্দ সৈনিক) মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১২ মার্চ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৪৪তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় আজ-কালের মধ্যেই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলে জানিয়েছেন নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্ত এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। আজ-কালের মধ্যেই সাংস্কৃতিক কর্মীদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির প্রজ্ঞাপন জারি হবে। এমআর আকতার মুকুল, চলচ্চিত্রকার সুভাষদত্ত, কণ্ঠশিল্পী ফকির আলমগীর ও তিমির নন্দীসহ স্বীকৃতি পেতে যাওয়া ৫৮ জন সাংস্কৃতিক কর্মী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এবং মুক্তিযুদ্ধকালে গঠিত সাংস্কৃতিক সংগঠনের হয়ে কাজ করেন। স্বীকৃতি পেতে যাওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন- নাট্যশিল্পী জহুরুল হক, মুশতারি শফি, খন্দকার রাজু আহমেদ, কণ্ঠশিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন মাহজাবিন বেগম (কুইন), পরিতোষ কুমার সাহা, আজহারুল ইসলাম, আবু নওশের, সারোয়ার জাহান, রেজওয়ানুল হক (মৃত), হযরত আলী বয়াতি (মৃত), মঞ্জুশ্রি নিয়োগী, মৃণাল ভট্টাচার্য্য, প্রবাল চৌধুরি (মৃত), উমা খান, কল্যাণী ঘোষ, সুজিত রায়, গীতশ্রী চৌধুরি, এমকে কে সিদ্দিক, মোজাম্মেল হক, সাজেদা খাতুন, আমিরুল ইসলাম প্রধান, আবুল কালাম আজাদ, মোশাররফ হোসেন মশু, ধীরেন্দ্রনাথ নমদাস, শমসের আলী প্রধান (মৃত), মালা খুররম, শিবু রায়, শুক্লা ভদ্র, এনামুল হক, চিত্তরঞ্জন ভুইয়া, ফিরোজা চৌধুরি, যন্ত্রশিল্পী সুবল দত্ত (মৃত), মিলন ভট্টাচার্য্য, টেকিনিশিয়ান আমিনুল রহমান, অনুলিপিকার একরামুল হক চৌধুরি, মহিউদ্দিন আহমেদ, রেকর্ডিং সুপারভাইজার এএম শফিউর রহমান দুলু, অনুষ্ঠান সংগঠক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, মো. নজরুল ইসলাম (অনু ইসলাম), আ ম শারফুজ্জামান প্রমুখ।

১৪৪৭ আনসার সদস্যকে পুনর্বহালের নির্দেশ

১৯৯৪ সালে  সংঘটিত আনসার বিদ্রোহের অভিযোগে চাকরিচ্যুত ১৪৪৭ আনসার সদস্যকে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়,  বিদ্রোহের অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়া এসব সদস্যদের মধ্যে যাদের  বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা আছে তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে। তবে যাদের চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে তারা যত দিন চাকরিতে ছিলেন ততদিনের পেনশন সুবিধা দিতে সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার এ সংক্রান্ত রুলের নিষ্পত্তি করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে আনসার সদস্যদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাহাবুদ্দিন খান লার্জ। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল সূচীরা হোসাইন ও প্রতিকার চাকমা। বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে ১৯৯৪ সালে আনসার বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তা বিদ্রোহের রুপ নেয়। পরে সেনাবাহিনী বিদ্রোহ দমন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিদ্রোহে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৪৯৬ জন আনসার সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে মামলার অভিযোগ থেকে ১৪৪৭ জন আনসার সদস্য খালাস পান। ওইসব সদস্যর মধ্যে আব্দুল করিম, ড্রাইভার শফিকসহ ১৪৪৭ জনকে চাকরিতে পুনর্বহাল ও প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল আনসার সদস্যদের চাকরিচ্যুত কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে আজ হাইকোর্ট এ আদেশ দেন।

'ডেসটিনির এমডি-চেয়ারম্যান জামিনে গেলে খুঁজে পাওয়া যাবে না'

ডেসটিনির এমডি ও চেয়ারম্যান একবার জামিনে গেলে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে এ সংক্রান্ত শুনানিতে মন্তব্য করেছেন আপিল বিভাগ। সোমবার এ সংক্রান্ত এক আদেশের সংশোধন চেয়ে ডেসটিনির দুই শীর্ষ কর্মকর্তার জামিন আবেদনের শুনানিকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ এ কথা বলেন। ডেসটিনির আইনজীবীর উদ্দেশে আপিল বিভাগ বলেন, ‘ডেসটিনির বিরুদ্ধে ৩ হাজার কোটি টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ডেসটিনির চেয়ারম্যান ও এমডি জামিনে একবার কারাগারের বাইরে গেলে তারা এক টাকা জমা দেবে না। এমনকি জামিনে একবার গেলে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।’ পরে আপিল বিভাগ আদেশে ডেসটিনির ব্যাংক হিসাব দাখিলের নির্দেশ দিয়ে আগামী রোববার এ সংক্রান্ত শুনানির জন্য ফের দিন ধার্য করেন। আদালতে ডেসটিনির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। গত বছরের ১৩ নভেম্বর ডেসটিনি গ্রুপের বৃক্ষ রোপণ প্রকল্পের ৩৫ লাখ গাছ ৬ সপ্তাহের মধ্যে বিক্রির নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। ওই দিন আদেশে আদালত বলেন, ৩৫ লাখ গাছ বিক্রির ২৮০০ কোটি টাকা সরকারকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে দিতে হবে। টাকা পাওয়া সাপেক্ষে ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিন ও ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইনকে আপিল বিভাগ জামিন দেবেন বলে আদেশে বলা হয়। তবে গাছ বিক্রি করে যদি ২৮০০ কোটি টাকা না হয় তাহলে কমপক্ষে ২৫০০ কোটি টাকা সরকারকে দিলে মিলবে বলে আপিল বিভাগ আদেশে বলেন। আদালতের ওই শর্ত অনুযায়ী, টাকা জমা না দেয়ায় এখনো জামিন মেলেনি ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমিন ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইনের।

৩৮তম বিসিএসের আবেদন শুরু

৩৮তম বিসিএসের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। সোমবার (১০ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এ আবেদন চলবে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত। এবার আবেদন প্রক্রিয়া এবং পরীক্ষা পদ্ধতিতে সংস্কার এনে প্রথমবারের মতো চারটি নতুন দিক যুক্ত করা হয়েছে। নতুন দিকগুলো হচ্ছে- লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র দু’জন পরীক্ষক মূল্যায়ন করবেন। উভয়ের দেয়া নম্বরের পার্থক্য ২০ শতাংশ বা তার বেশি হলে তৃতীয় পরীক্ষক ওই খাতা ফের মূল্যায়ন করবেন। অনলাইন আবেদনে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর অবশ্যই দিতে হবে। সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে ২০০ নম্বরের মধ্যে ৫০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বাংলা এবং ইংরেজি উভয় মাধ্যমেই হবে। পরীক্ষার্থীরাও যে কোনো এক মাধ্যমে উত্তর লিখতে পারবেন। জানা গেছে, এ বিসিএসে ২৪টি ক্যাডারে সর্বমোট ২ হাজার ২৪ জনকে নিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আছে প্রশাসন ক্যাডারের সহকারী কমিশনার পদ ৩০০টি।
এছাড়া পুলিশ ক্যাডারের সহকারী পুলিশ সুপার ১০০টি, স্বাস্থ্য ক্যাডারের সহকারী সার্জন ২২০টি, সহকারী ডেন্টাল সার্জন ৫টি, কৃষি ক্যাডারের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ১৮৯টি, পররাষ্ট্র ক্যাডারের সহকারী সচিব ১৭টি। আনসার ক্যাডারের ৩১টি, মৎস্য ক্যাডারের ২০টি, সহকারী বন সংরক্ষক ২২টি, শিক্ষা ক্যাডারের বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাষক ৯৭৩টি, ভেটেরিনারি সার্জন ২৫টি। সহকারী প্রকৌশলী ৩১টি, নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারের সহকারী মহাহিসাবরক্ষক ১১টি, কর ক্যাডারের সহকারী কর কমিশনার ৯টি, তথ্য ক্যাডারের ৩৫টি, রেলওয়ে প্রকৌশল ক্যাডারের নির্বাহী প্রকৌশলী ও সমমানের পদ ১০টি। ইকোনমিক ক্যাডারের সহকারী প্রধান ৬টি, রেলওয়ে পরিবহন ক্যাডারের ৭টি ও ডাক ক্যাডারের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল ৭টি পদ আছে। নতুন চাহিদাপত্র তৈরি হলে পদ সংখ্যা কিছু বাড়তে পারে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, গত ২০ জুন ৩৮তম বিসিএসের সার্কুলার জারি করে সরকারি কর্মকমিশন-পিএসসি।

গাজীপুরে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

গাজীপুরে হযরত আলী (৬৫) নামে এক অটোটেম্পু গ্যারেজ মালিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নাওজোর এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে ওই গ্যারেজ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত হযরত আলী সিটি কর্পোরেশনের ইটাহাটা কলাবাগান এলাকার মৃত তাসান উল্লাহর ছেলে। জয়দেবপুর থানার এসআই আল আমিন জানান, গ্যারেজটির মালিক হযরত আলী নিজেই দুইজন কর্মচারি নিয়ে পরিচালনা করতেন। রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে হযরত আলী গ্যারেজের টিনের ছাপড়া ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। তার কর্মচারী সজিব ও রায়হান পাশে চাকা মেরামতের দোকানে ঘুমাতে যায়। সোমবার সকাল ৮টার দিকে আলম নামের এক চালক গ্যারেজে থাকা তার বেবি ট্যাক্সিটি নিতে গেলে হযরত আলীকে গ্যারেজের সামনে ধর্নার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এসময় তার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। তিনি আরো জানান, মরদেহের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। নিহতের ভাই ওসমান আলী জানান, হযরত আলীর কোনো শত্রু ছিল না এবং পারিবারিকভাবেও কারো সঙ্গে কোনো ঝগড়া-বিবাদ হয়নি। তিনি সহজ সরল জীবনযাপন করতেন।

ইয়াবা সেবন করায় এএসআই বরখাস্ত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার কালিনগর মরা পাগলা এলাকায় ইয়াবা সেবনের অপরাধে ফয়সাল আহমেদ নামে পুলিশের এক এএসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার সকালে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এএসআই ফয়সাল আহমেদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি সাবের রেজা আহমেদ জানান, রোববার রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার কালিনগর মরা পাগলা এলাকায় কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে ইয়াবা সেবন করছিলেন এএসআই ফয়সাল। এসময় স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে ফেলে। পরে রাত ১১টার দিকে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগের কারণে সম্প্রতি ওই এএসআইকে সদর মডেল থানা থেকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয় বলে জানান ওসি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম জানান, মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে এএসআই ফয়সাল আহমেদকে সোমবার চাকরি থেকে সাময়িক ররখাস্ত করা হয়েছে। এমন অপকর্মের সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্য জড়িয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান পুলিশ সুপার।

হানিফ ফ্লাইওভারের মাঝপথে 'যাত্রী সিঁড়ি' থাকছে না

রাজধানীর হানিফ ফ্লাইওভারে মাঝপথ দিয়ে 'যাত্রী ওঠার সিঁড়ি' অপসারণের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। সোমবার ওরিয়ন গ্রুপ কর্তৃপক্ষের লিভ টু আপিল খারিজ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদেশে  প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশে মাঝপথ থেকে ফ্লাইওভারে ওঠার সিঁড়ি নেই।’ আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে ওরিয়ন গ্রুপ কর্তৃপক্ষকে শিগগিরই হানিফ ফ্লাইওভারের মাঝপথের বিভিন্ন স্থানে থাকা 'যাত্রী ওঠার সিঁড়ি' অপসারণ করতে হবে। আদালতে ওরিয়ন গ্রুপের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও আইনজীবী আহসানুল করিম।
আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। এর আগে গত ৩১ মে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ আমলে নিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে হানিফ ফ্লাইওভারের মাঝপথের সিঁড়ি দুই সপ্তাহের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে হানিফ ফ্লাইওভার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন কর্তৃপক্ষ লিভ টু আপিল করেন। আজ আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখলেন। উল্লেখ্য, হানিফ ফ্লাইওভারের মাঝপথের বিভিন্ন স্থান দিয়ে 'যাত্রী ওঠার সিঁড়ি' নির্মাণ করে ফ্লাইওভারে অঘোষিত বাস স্টপেজ করা হয়েছে। ফলে ফ্লাইওভারের উপরে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠা নামা করা হয়। এতে ফ্লাইওভারটিতে যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি দুর্ঘটনার হার বেড়ে গেছে।

স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলে ধর্ষণের পর হত্যা চেষ্টা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের হোটেল থেকে উদ্ধার তরুণী এখনও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় রয়েছে। জ্ঞান না ফেরায় তার পরিচয়ও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। পুলিশের ধারণা, স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেল রুমে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে। মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে পালিয়ে যায় ওই যুবক। রোববার বিকালে তরুণীকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার ওসিসিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। হোটেল ম্যানেজারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০৪ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে ফ্লোরে রাখা হয়েছে তরুণীকে। একজন নার্স জানিয়েছেন, তার মাথায়, গলায় এবং গোপনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ওই ওয়ার্ডে অন্য রোগীর স্বজনরা জানান, তরুণী অচেতন অবস্থায় মাঝেই মাঝেই ব্যথায় গোঙ্গাচ্ছে। দুই চোখ বেয়ে পানিও গড়িয়ে পড়ছে। মোহাম্মদপুর থানার এসআই আজিজুল হক জানান, শনিবার রাত ৮টার আশরাফ (২৫) পরিচয়ে এক যুবক তরুণীকে নিয়ে মোহাম্মদপুরে তাজিন হোটেলের ১০৭ নম্বর কক্ষে উঠে।
হোটেল রেজিস্ট্রারে তাদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় উল্লেখ রয়েছে। তরুণীর নাম লেখানো হয়েছে মিথিলা (২২)। বলা হয়েছে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে তারা ঢাকায় এসেছেন। রাত ১০টার দিকে যুবক হোটেল থেকে বেরিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ আর ভেতরে গোঙ্গানির শব্দ ভেসে আসতে থাকায় হোটেল কর্তৃপক্ষ মোহাম্মদপুর থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তালা ভেঙে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করে রাত ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর যুগান্তরকে বলেন, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছি। হোটেল ম্যানেজারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্বামী পরিচয়দানকারী যুবককে শনাক্তে চেষ্টা চলছে। তবে তরুণীর জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত এগোনো যাচ্ছে না।

রাজধানীতে কোটিপতি ইয়াবা পরিবার

রাজধানীর ১৭৩ এলিফ্যান্ট রোড। শেল সিদ্দিক নামের বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট। ভবনের ৯ তলায় ৮/বি নম্বর ফ্ল্যাটে বাস করেন আসমা আহমেদ ডালিয়া নামের এক গৃহবধূ ও তার স্বামী রবিউল ইসলাম। গৃহনির্মাণের বিদেশি ফিটিংসের ব্যবসা তাদের। সবাই জানেন তাদের এমন ব্যবসার কথা। কিন্তু গোয়েন্দা তথ্য যা বলছে তা রীতিমতো গা শিউরে ওঠার মতো। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাজধানীর বড় ধরনের ইয়াবা নেটওয়ার্কের সঙ্গে পুরো পরিবারটি যুক্ত। রোববার হাতেনাথে তার প্রমাণও মিলেছে। একে একে তাদের তিনটি বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় ৫০ হাজার পিস ইয়াবা। গ্রেফতার করা হয় মা, দুই মেয়ে, দুই জামাই ও গৃহকর্মীসহ ৬ জনকে। জানা যায়, নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার পর পুরো পরিবারটি তিন মাস গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিল। এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একটি টিম পালা করে ফ্ল্যাটের নিচে অবস্থান করতে থাকে। লুঙ্গি আর ছেঁড়া গেঞ্জি পরে কখনও সবজি বিক্রেতা ও কখনও তালা-চাবিওয়ালার ছদ্মবেশে নজরদারি চালানো হয়। এক পর্যায়ে তারা নিশ্চিত হন গোয়েন্দা তথ্য সঠিক। পুরো পরিবারটি রাজধানীতে একটি বড়সড় ইয়াবা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। এরপর গতকাল সফল এই অফিযানের খবর আসে। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের খিলগাঁও সার্কেলের ইন্সপেক্টর সুমনুর রহমান। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘ডালিয়া ও তার স্বামীর উপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে আমরা ভোর ৫টায় ফ্ল্যাটে অভিযান চালাই। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ডালিয়া ও তার স্বামী সটকে পড়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। পরে তারা নিজেরাই বিভিন্ন কক্ষ থেকে ৩২ হাজার পিস ইয়াবা বের করে দেন।’ এরপর জিজ্ঞাসাবাদে ডালিয়া জানান, ৪৮ উত্তর ধানমণ্ডির একটি বাড়িতে তার ছোট বোন স্বপ্না থাকেন। ওই ফ্ল্যাটেও ইয়াবার মজুদ আছে। দ্বিতীয় দফা অভিযান চালানো হয় ধানমণ্ডি এলাকায়। ধানমণ্ডির শেল হাসনাহেনা নামের একটি বহুতল ভবনের এ/১ ফ্ল্যাটে গিয়ে অবাক হতে হয়। কারণ সাড়ে তিন কোটি টাকা দামের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটটি অভিজাত গৃহসজ্জায় ঠাসা। সেখান থেকে আটক করা হয় স্বপ্না ও তার স্বামী শামীম আহমেদকে। স্বপ্না নিজেই তার শোয়ার ঘর থেকে ৬ হাজার ইয়াবা বড়ি বের করে আনেন।
ওই ফ্ল্যাট থেকে মাহমুদা বেগম রানী নামের আরেক নারীকে আটক করা হয়। রানী মূলত বড় বড় পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে ইয়াবার চালান পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব পালন করতেন। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের অবিশ্বাস্য তথ্য দেন তারা। স্বপ্না বলেন, এই ইয়াবা সিন্ডিকেটের মূল হোতা তাদের মা। তার নাম মনোয়ারা বেগম। তিনি থাকেন ৫২/৩ পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায়। কালবিলম্ব না করে বেলা ১১টায় পশ্চিম রাজাবাজারের ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় মনোয়ারা বেগমকে। তার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় আরও ১২ হাজার পিস ইয়াবা বড়ি ও মাদক বিক্রির ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এরপর গ্রেফতারকৃত ৬ জনের পুরো পরিবারটিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদফতরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন বলেন, এটি একটি পরিপূর্ণ সফল অভিযান। টিমওয়ার্কের সততা ও সাহস নিশ্চিত করায় এ রকম সফলতা এসেছে। তিনি জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের জনবল খুবই স্বল্প। জনবল বাড়ানোসহ এই প্রতিষ্ঠানকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক গোলাম কিবরিয়া বলেন, গোটা পরিবার এই ইয়াবা নেটওয়ার্কে জড়িত ছিল। তিনি জানান, স্যানিটারিসামগ্রীর ব্যবসার আড়ালে এই পরিবারের সদস্যরা শাক্তিশালী ইয়াবা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। রাজধানীর হাতিরপুল এলাকায় রেইন বাথ নামে তাদের একটি স্যানিটারি দোকান রয়েছে। অভিযানে মোট ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ও ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধারের কথা জানান তিনি। অভিযানে অংশ নেন পরিচালক অপারেশন সৈয়দ তৌফিক উদ্দীন আহমেদ, গোয়েন্দা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম শিকদার, ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের উপপরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা, ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের সহকারী পরিচালক শামসুল আলম ও ইন্সপেক্টর হেলাল উদ্দীন ভুঁইয়া।

সহজ হল ভারতের ভিসা প্রক্রিয়া

এখন থেকে কোনো রকম অগ্রিম টিকিট কিংবা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই ভারতের ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার কার্যালয় রোববার থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এ পদ্ধতিতে ভিসা কার্যক্রম চালু করেছে। এর ফলে হয়রানির অবসান হবে বলে মনে করছেন ভিসা প্রার্থীরা। ভোগান্তি দূর করতে বছর খানেক আগে সহকারী হাইকমিশনার দফতর অগ্রিম বাস, ট্রেন কিংবা বিমান টিকিটের মাধ্যমে ভিসা দেয়া শুরু করে। এরপর কিছুদিন আগে থেকে কোনো রকম টিকিট ছাড়াই নারীদের ভিসা দেয়া শুরু করে। এবার সবার জন্য পর্যটন ভিসা আরও সহজ করা হল।

ওসির সামনে ইভানকে জুতাপেটা করতে যায় তরুণী

ওসির সামনেই আসামিকে জুতাপেটা করতে উদ্যত হয় মামলার বাদী। শনিবার ইভান ও ধর্ষিতা তরুণীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের সময় বনানী থানার ওসি বিএম ফরমান আলীর রুমে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বাদীকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন আসামি। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বনানীতে বাসায় ডেকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার তদন্ত করছেন বনানী থানার এসআই সুলতানা আক্তার।  শনিবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত মামলার বাদী এক তরুণী ও রিমান্ডে থাকা আসামি বাহাউদ্দিন ইভানকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রোববার তরুণী নিজেই যুগান্তরের কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এদিকে শর্ত সাপেক্ষে মামলা তুলে নিতে রাজি আছেন বাদী (তরুণী) নিজেই।  এক্ষেত্রে  তিনটি শর্তের প্রথমটি হচ্ছে, ধর্ষণের ভিডিও ক্লিপগুলো ফেরত দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন সময়ে তরুণীর কাছ থেকে নেয়া প্রায় দুই লাখ টাকা ফেরত দিতে হবে। তৃতীয়ত, ইভান ওই তরুণীকে আর কখনও ডিস্টার্ব করবে না এটা লিখিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে। রোববার বিকালে বারিধারা ডিওএইচএসের বাসায় বসে যুগান্তরের সঙ্গে কথা হয় তরুণীর। এ সময় সে ইভানের বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ এবং তার (ইভানের) সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। তরুণীর ভাষ্য, ‘আমি মামলা করতে চাইনি।
পুলিশকে বলেছিলাম, ইভানের কাছ থেকে ধর্ষণের ভিডিও, মোবাইল সেট, মোমোরি কার্ড এবং ব্যাগটি উদ্ধার করে দিলেই চলবে।’ অতীতের ধর্ষণের ভিডিওগুলো তার নিজের মোমোরি কার্ডেও ছিল বলে স্বীকার করেন তরুণী। যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই তরুণীর ৫ বছর বয়সী সন্তান এখন তার নানীর কাছে গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামে আছে। পুলিশ এবং যুগান্তরের কাছে সন্তানের ব্যাপারে অস্বীকার করলেও তরুণীর বাবা পুলিশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে তিনি প্রথম ইভানের বাসায় যান। একই সঙ্গে তরুণী দাবি করেন,  তার নিজের বাসা, খিলক্ষেতের ৩০০ ফুট এলাকা, নিকুঞ্জ, বনানী এবং ইভানের গাড়িতে বেশ কয়েকদিন তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। তবে এ সম্পর্ককেও ধর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন তরুণী। পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তরুণীর গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের উলিপুর থানায় হলেও এজাহারে তিনি কুড়িগ্রাম সদর থানা উল্লেখ করেছেন। এ তরুণী প্রথমে পুলিশকে জানিয়েছিলেন মা-বাবার সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই (পরে জানান, মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। কিন্তু মোবাইল নম্বর মুখস্থ নেই)। এসব কারণে তরুণীর অভিভাবকদের খুঁজে পেতে সমস্যা হচ্ছিল। অবশেষে তার বাবা সাবেক সেনা সদস্যকে পাওয়া গেছে। তিনি শনিবার রাতে থানায় এলে তরুণীকে তার (বাবা) জিম্মায় দেয়া হয়। তবে তরুণীর বাবা পুলিশকে জানিয়েছেন, মেয়ের সঙ্গে সব সময় তার যোগাযোগ ছিল। কারও মাধ্যমে তার মেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা তার জানা ছিল না। তরুণীর বাবা পুলিশকে আরও বলেন, ‘আমার মেয়ের প্রতি যদি কেউ অন্যায় করে থাকে তাহলে তার বিচার চাই।’ ইভানের স্ত্রী টুম্পার অভিযোগ, ‘পাঁচ হাজার টাকার কন্ট্রাক্টে ইভানের বাসায় এসেছিল ওই তরুণী। শারীরিক সম্পর্কের পর পুরো টাকা পরিশোধ করেনি ইভান। কারণ, তখন বাসায় টাকা ছিল না। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। টুম্পার দাবি, তরুণী একা ওই বাসায় আসেননি। তার এক ছেলে বন্ধুকে নিয়ে এসেছিলেন। ওই ছেলে বন্ধু বাসার বাইরে অবস্থান করছিল। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওই ছেলে বন্ধুকে ফোন করে তরুণী জানায়, ১০-১২ পিস ইয়াবা নিয়ে আয়। এই বাসায় বসে ইয়াবা খাব। তখন ইভান বলেন, বাসায় এসব হলে মা-বাবা ঘুম থেকে জেগে যাবে। পরে সমস্যা হবে। এ নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে তরুণীকে জোর করে বাসা থেকে বের করে দেয় ইভান।’ টুম্পার দাবি, তরুণীর সঙ্গে যে ব্যাগটি ছিল সেটি তার ছেলে বন্ধুর কাছেই আছে। টুম্পা আরও জানান, ইভানের ব্যবহƒত মোবাইল ফোনটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শনিবার বিকালেও ইভানের মোবাইল খুঁজতে পুলিশ বাসায় এসেছিল। বাসায় তার মোবাইল না পেয়ে বনানী থানার ওসি বিএম ফরমান আলী থানায় অবস্থানরত এক পুলিশ সদস্যের মোবাইলে ফোন করে রিমান্ডে থাকা ইভানের সঙ্গে কথা বলেন। ইভান তখন পুলিশকে জানায়, আলমারিতে খুঁজে দেখেন। কিন্তু পুলিশ সেখানেও তা খুঁজে পায়নি।
তরুণীর সাক্ষাৎকার : ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার বাদী ওই তরুণী যুগান্তরকে বলেন, তার বান্ধবী শারমীন এবং দূর সম্পর্কের বোন সুমির মাধ্যমে প্রায় এক বছর আগে ইভানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সুমি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের শিল্পী। সুমি, শারমীন, ইভান এবং আমি একদিন গুলশানের নান্দুস রেস্টুরেন্টে সাক্ষাৎ করি। এরপর থেকে ফেসবুক এবং মোবাইল ফোনে ইভানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হতো। তরুণী বলেন, ‘আমরা এক সঙ্গে অনেক জায়গায় ঘুরতে যেতাম। যখন এক সঙ্গে ঘুরতে যেতাম তখন ইভানের মা ইতি এবং স্ত্রী টুম্পা প্রায়ই ফোন দিত। তখন সে তার মাকে বলত, আমি অরিনের সঙ্গে আছি। এ থেকে আমি বুঝতে পারি যে, আমাদের সম্পর্কের বিষয়টি তার মা জানত। আমি টুম্পার কথা জিজ্ঞাসা করলে বলত, টুম্পা তার বোন।’ তরুণী বলেন, ‘আমরা ৩০০ ফুট এলাকা, উত্তরার বিভিন্ন স্থান, নিকুঞ্জ এবং বনানীর বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে যেতাম। ইভান তার বন্ধুদের কাছে আমাকে স্ত্রী বলে পরিচয় করিয়ে দিলেও আমি আপত্তি করতাম না। তার ৪-৫ জন বন্ধু আমাকে ভাবী বলেই ডাকেন। তিনি জানান, কয়েক মাস আগে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর থেকেই সে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। গত মে মাসে ৩০০ ফুট রাস্তায় ইভানের গাড়িতে যখন শারীরিক সম্পর্ক হয় তখন তা গোপন ক্যামেরায় ভিডিও করে রাখে ইভান।’ তরুণী বলেন, ‘ডিওএইচএসের বাসায় আমি উঠি গত ৪ জুন। পরদিন ইভান তার এক বন্ধুকে নিয়ে আমার বাসায় আসে। তার সঙ্গে ছিল মার্টিন বিয়ার এবং বিদেশি মদ। পরে সে আমাকে মদ এবং বিয়ার এক সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ায়। এরপর আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। তার বন্ধু ওই দৃশ্য ভিডিও করে। ওইদিন আমি প্রায় অজ্ঞান অবস্থায় ছিলাম। সকালে আমি সুস্থ হলে দেখতে পাই, ইভান আমার বেডরুমে। ওই সময় ইভান জানায়, সে যে মিশন নিয়ে এসেছিল ওই মিশন বাস্তবায়ন হয়েছে। এর পর আমি ফেসবুকে তার আইডি ব্লক করে দিই, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করি। কিন্তু সে ওই ভিডিও’র মাধ্যমে ব্ল্যাক মেইলিং করে বারবার আমাকে পেতে চাইত। বাসায় এসে হৈচৈ করত। শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়া হুমকি দিত। ছুরি এবং রিভলভার নিয়েও আমার বাসায় আসত। বলত যদি আমি (তরুণী) তার সঙ্গে সম্পর্ক না রাখি তাহলে সে আÍহত্যা করবে। ভয় দেখিয়ে গত রমজানে নিকুঞ্জ এলাকায় নিয়ে তার গাড়িতে আমাকে ধর্ষণ করে। সেটিরও ভিডিও করে গোপন ক্যামেরায়।’ এক প্রশ্নের জবাবে তরুণী বলেন, ‘ইভান কখনও গাড়িচালক নিয়ে আমার কাছে আসত না। কখনও ইভান গাড়ি চালাত, আবার কখনও আমি নিজে তার গাড়ি ড্রাইভ করতাম। ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় আমার বাসার নিচে গাড়ি নিয়ে এসে আমাকে জোর করে তার গাড়িতে তোলে। ওইদিন বলে, কাল আমার জš§দিন। তুমি যদি আমার বাসায় না যাও তাহলে অতীতের সব ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেব।’ তরুণী বলে, ‘ওইদিন রাতে বারিধারা ডিওএইচএস থেকে বনানী ন্যাম ভিলেজ পর্যন্ত পুরো রাস্তা  রিকশায়  গিয়েছি। একবার রিকশা বদল করেছি। বনানীতে যাওয়ার পর সরাসরি ইভান আমাকে বাসায় নেয়নি। বাসার কাছে যাওয়ার পর বলেছে, তুমি বাইরে অপেক্ষা কর। বাসায় জন্মদিনের কিছু কাজ আছে। আমি সেসব সেরে নিই। তখন আমি বুঝতে পারিনি যে, বাসার অন্য সদস্যদের ঘুমানোর জন্যে সে অপেক্ষা করছিল। প্রায় দুই ঘণ্টা সময় আমি বনানীর বিভিন্ন রাস্তায় রিকশায় ঘুরেছি। রিকশা ভাড়া দিয়েছি ৪৮০ টাকা।  রাত ১১ টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে ইভান আমাকে বাসায় নিয়ে যায়। আমি তার রুমে প্রবেশের ৫-৭ মিনিট পর তার দুই বন্ধুও বাইরে থেকে তার রুমে আসে। তারা ইভানের হাতে একটি প্যাকেট দিয়ে চলে যায়। সম্ভবত সেটি ছিল ইয়াবার প্যাকেট। এরপর তারা বাইরে চলে গেলে ২০-৩০ পিস ইয়াবা, মারিজোয়ানা (গাঁজা জাতীয়) এবং এক বোতল ড্রিংক নিয়ে বিছানায় বসে পড়ে। পরে আমাকে জোর করে ইয়াবা খাইয়ে ধর্ষণ করে। পাশাপাশি গোপন ক্যামেরায় তা ধারণ করে। এতে বাধা দেয়ায় আমাকে মারধরও করা হয়। সে যখন দ্বিতীয়বার ভয়ঙ্কর হওয়ার চেষ্টা করছিল তখন আমি বাসা থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করি। আমি মনে করছিলাম, আমি বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে সে স্বাভাবিক হবে।’ তরুণী আরও বলে, ‘ইভান দুই দিন পর পর আমার কাছে টাকা চাইত। ঘটনার রাতে আমার ব্যাগে ২৫ হাজার টাকা ছিল। সে আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছে। ব্যাগে আরও ১৫ হাজার টাকা ছিল। আমাকে বাইরে বের করে দেয়ার পর দেখি, তার দুই বন্ধু গেটের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। গেটে যখন আমার এবং ইভানের সঙ্গে ঝামেলা হচ্ছিল তখন তাদের একজন (কালো শার্ট পরা) মাঝেমধ্যে আমাকে হেল্প করত। আবার ইভানকেও হেল্প করত। ব্যাগটি তার কাছেই ছিল। পরে ইভান ওই ব্যাগটি বাসায় নিয়ে যায়Ñ যা এখনও উদ্ধার হয়নি।’ তরুণী বলেন, ‘ঘটনার পরদিন ইভানের বেডরুমে গিয়ে আÍহত্যার চেষ্টা করেছিলাম। ওইদিন পুলিশ আমাকে বাঁচিয়েছে। ইভানের কারণে এর আগে আমার ডিওএইচএসের বাসায় এই রমজানে একবার আÍহত্যার চেষ্টা করেছিলাম। ওইদিন আমার বোন সুমি আমাকে বাঁচিয়েছে।’ সে বলে, বেড়াতে বা খেতে যাওয়ার সময় ইভান কখনও বিল দিত না। সব বিল আমিই পরিশোধ করতাম। ঈদের আগে সে আমার কাছ থেকে এক লাখ টাকা নিয়েছে। ঈদে আমি তাকে পাঁচ হাজার টাকা সালামী দিয়েছি। সে আমাকে এক টাকাও দেয়নি।’ তরুণীর দাবি, ইভানের স্ত্রী সবকিছু জানার পরও ইভানকে আশকারা দিয়েছে। তাই ইভান এত খারাপ হতে পেরেছে। তরুণী জানান, দু-একদিন পর পরই ইভান বাইরে থেকে মেয়ে নিয়ে বাসার ছাদে যেত। তরুণী বলেন, ‘আমার ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর আমার পরিচিত অন্তত চারজন মেয়ে পৃথকভাবে আমাকে ফোন করে বলেছে, তাদের সঙ্গেও ইভান শারীরিক সম্পর্ক করেছে। ইভানের এমন শাস্তি হওয়া উচিত যেন ভবিষ্যতে কোনো ছেলে এমন হওয়ার সাহস না পায়।’ এক প্রশ্নের জাবাবে বলেন, ‘২০১১ সালে সৈকত নামের এক ছেলের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। তখন সৈকত ছাত্র ছিল। ওই সংসারে একটি সন্তান হয়। সাত দিন বয়সে ওই সন্তান মারা যায়। ২০১৩ সাল থেকে সৈকতের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই।’ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানকে স্বামী পরিচয় দিয়ে বারিধারায় বাসা নেয়ার বিষয়ে বলেন, মিজান আমার চাচাতো ভাই। তবে মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ২ মাস আগে তার সঙ্গে তরুণীর পরিচয় হয়। পরিচয় সূত্রে তরুণীকে বাসা ভাড়া নিতে তিনি সহযোগিতা করেছেন। জানতে চাইলে পুলিশের গুলশান বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কেবল ধর্ষণের বিষয়টি তদন্ত করছি। কারণ, মামলা হয়েছে ধর্ষণের অভিযোগে। দু’জনের শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি ইভানও স্বীকার করেছে। তাই ধর্ষণের বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত। কিন্তু ধর্ষণের আগে তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়েছে কিনা সেটা এখন তদন্তের বিষয়। এ জন্য মেয়েটির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’ আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক আছে বলে ইভান স্বীকার করেছে। এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে এসি রফিকুল ইসলাম বলেন, কোনো ভুক্তভোগী যদি অভিযোগ করে তবে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান, তরুণী এবং ইভান অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। এসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। কোনটা সঠিক, কোনটা মিথ্যা তা এখনই বলা যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, ধর্ষণের অভিযোগে বুধবার দুপুরে ইভানের বিরুদ্ধে বনানী থানায় একটি মামলা করেন এক তরুণী। এজাহারে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে জন্মদিনের কথা বলে ওই তরুণীকে বনানীর নিজ বাসায় ডেকে নেয় ইভান। ওইদিন রাত ১টার দিকে বনানী ২ নম্বর রোডের ন্যাম ভিলেজের ৫/এ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলার বি-১ নম্বর ফ্ল্যাটে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পরই তরুণীকে জোর করে বাসা থেকে বের করে দেয় ইভান। পরে সে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রোববার রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন পার হয়েছে।