Friday, October 7, 2011

সবাইকে ছাড়িয়ে বেকহাম

ব্রিটিশ ফুটবল খেলোয়াড়, কোচ, মালিক এবং ব্রিটিশ ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী কারা? উত্তরটা খুঁজে বের করেছে ফোরফোরটু ম্যাগাজিন। তাদের এক জরিপ জানাচ্ছে, ফুটবলারদের মধ্যে সবার ওপরে ডেভিড বেকহাম। যুক্তরাষ্ট্রের এলএ গ্যালাক্সিতে খেলছেন বেকহাম, সেখানে বছরে তাঁর আয় বাংলাদেশি টাকায় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা (১৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড)। ওয়েবসাইট।
পরের জায়গাটি মাইকেল ওয়েনের, চোটের কারণে বারবার মাঠের বাইরে থাকারই যাঁর নিয়তি বলে ধরা হয়। এরপর একে একে রিও ফার্ডিনান্ড, রায়ান গিগস ও ওয়েইন রুনি। ছয়ে লিভারপুল তারকা স্টিভেন জেরার্ড। ইংল্যান্ডে বাইরের ফুটবলারদের মধ্যে দিদিয়ের দ্রগবা আছেন শীর্ষে, সব মিলিয়ে তালিকার নয়ে। বছরে প্রায় আড়াই শ কোটি টাকা আয় আইভরিকোস্ট তারকার। কোচদের মধ্যে এক নম্বর জায়গাটা ফ্যাবিও ক্যাপেলোর।

তেভেজকে দলে চান ম্যারাডোনা

কার্লোস তেভেজ তাঁর সবচেয়ে প্রিয় শিষ্য। সেই প্রিয় শিষ্যের দুর্দিনে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। এত দিন নানা মন্তব্য করে তেভেজের পক্ষে কথা বলে গেছেন। এবার শুধু কথায় নয়, তেভেজকে নিজের ক্লাব আল ওয়াসলে নিয়ে আসার জন্যও উদ্যোগী হয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।
আল ওয়াসলের মালিকপক্ষকে ম্যারাডোনা বোঝাচ্ছেন, বড় অঙ্কের টাকা খরচ করে হলেও যেন তেভেজকে নিয়ে আসা হয়। জানুয়ারির দলবদলের বাজারেই ২৭ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারকে মুক্ত করে নিয়ে আসতে চান দুবাইয়ের ক্লাবটির কোচ।
কোচের পদ থেকে ম্যারাডোনা সরে দাঁড়ানোর পর আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার সঙ্গে যখন তাঁর বিবাদ শুরু হয়, তখন তেভেজ প্রকাশ্যে ম্যারাডোনার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। হুলিও গ্রন্দোনার মতো প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে জাতীয় দলে তেভেজের জায়গাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কিন্তু সেসবের তোয়াক্কা করেননি ‘কার্লিতোস’।
ম্যারাডোনা ঠিকই মনে রেখেছেন তাঁর প্রতি তেভেজের এই ভালোবাসার কথা। আর তাই শুধু আল ওয়াসলের কর্তৃপক্ষ নয়, কথা বলার উদ্যোগ নিয়েছেন তেভেজের সঙ্গেও। তেভেজকে তিনি বোঝাতে চান, আরব আমিরাতের ফুটবল কম নয়। ইউরোপের চাকচিক্য হয়তো তাতে নেই, কিন্তু দিব্যি সুখে-শান্তিতে থাকা যাবে। আর তা ছাড়া তেভেজ এলে আরব আমিরাত লিগে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারবে আল ওয়াসল। কিন্তু সপ্তাহে আড়াই লাখ পাউন্ডের যে আকাশছোঁয়া বেতন তেভেজের, সেটা কি দিতে রাজি হবে দুবাইয়ের ক্লাবটি? তেভেজ তো তাদের জন্য শ্বেতহস্তী হয়ে দাঁড়াবে!
তা ছাড়া শুধু ম্যারাডোনা চাইলেই তো হবে না, ম্যানচেস্টার সিটিকেও রাজি হতে হবে। কারণ তেভেজকে দলে টানার ব্যাপারে এরই মধ্যে নড়েচড়ে বসেছে ইউরোপেরই বেশ কিছু ক্লাব। সর্বশেষ তাতে যোগ দিয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই। এই মৌসুমে বেশ ভালো অঙ্কের টাকা খরচ করেছে পিএসজি। চেলসিসহ আরও বড় কিছু ক্লাবের নাকের ডগা দিয়ে কিনে নিয়েছে আর্জেন্টিনার আরেক প্রতিভা হাভিয়ের পাস্তোরেকে। ডেভিড বেকহামকেও কেনার প্রস্তাব দিয়েছে পিএসজি। এবার তারা চায় তেভেজকেও।
আল ওয়াসলের টাকা নেই, তা কিন্তু নয়। আরব শেখদের হাতে বরং টাকার বস্তা। ম্যারাডোনাকে বছরে ৩০ লাখ পাউন্ড বেতন তো দেয়ই, একটা ব্যক্তিগত জেট বিমানও দেওয়া হয়েছে। ম্যারাডোনা চাইলে সেই জেট বিমানে চেপে উড়ে যেতে পারেন আর্জেন্টিনায়। সেখানেই এখন আছেন তেভেজ। সোমবার সিটির পক্ষ থেকে তাঁর বক্তব্য নেওয়ার পর তেভেজের ছুটি মঞ্জুর। ওই দিনই দেশে ফেরেন এই স্ট্রাইকার।
এখন ম্যারাডোনার ইচ্ছা পূরণ হবে কি? অপেক্ষা করুন।

ভেনেজুয়েলায় সাবেক প্রেসিডেন্ট পেরেজের দেহাবশেষ

ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট কার্লোস আন্দ্রে পেরেজের দেহাবশেষ গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানী কারাকাসে পৌঁছেছে। গত ডিসেম্বরে ৮৮ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে তিনি মারা যান। পরে তাঁকে ফ্লোরিডায় সমাহিত করা হয়।
পেরেজের স্ত্রী ব্লাঙ্কা রদ্রিগুয়েজ ও তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গিনী সেসিলিয়া ম্যাটোসের মধ্যে আইনি লড়াইয়ের জের ধরে দেহাবশেষ কবর থেকে তোলা হয়।
মঙ্গলবার রাতে কারাকাসে পেরেজের দেহাবশেষ নিয়ে বিমানটি অবতরণ করলে তাঁর ভক্ত ও স্বজনেরা জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন গ্রহণ করেন। আজ বৃহস্পতিবার পেরেজের দেহাবশেষ সমাহিত করার কথা।
সাবেক প্রেসিডেন্টের দল ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন মুভমেন্টের প্রধান হেনরি রামোস আলুপ বলেন, ‘আমি খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। অনেক দেনদরবারের পর প্রেসিডেন্ট অবশেষে তাঁর নিজ দেশের মাটিতে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পেলেন।’
পেরেজ প্রথমবার ১৯৭৪-৭৯ মেয়াদে দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পরে ১৯৮৯-৯৩ মেয়াদে আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
মৃত্যুর পর পেরেজের মরদেহ সমাহিত করা নিয়ে স্ত্রী রদ্রিগুয়েজ ও সঙ্গিনী ম্যাটোসের মধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়।
রদ্রিগুয়েজ তাঁর স্বামীকে দেশের মাটিতে চাইছিলেন, কিন্তু ম্যাটোস দাবি করেন, হুগো চাভেজ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পেরেজ দেশে ফিরতে চাননি।

সোমালিয়ায় আরও হামলা চালানোর অঙ্গীকার শাবাবের

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে গত মঙ্গলবার আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলার পর আরও হামলা চালানোর অঙ্গীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী আল-শাবাব। গতকাল বুধবার শাবাবের মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ রাগে তাঁদের নিয়ন্ত্রিত বেতার আল-আন্দালুসে এ কথা বলেন।
আলী মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকার করছি, শত্রুর বিরুদ্ধে নিয়মিত ও আরও বেশি হামলা চালানো হবে এবং দিন দিন এই হামলা বাড়বে।’
গত মঙ্গলবার এক হামলাকারী মোগাদিসুতে মন্ত্রণালয়ের ফটকে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা চালায়। এতে অন্তত ৭০ জন নিহত হয়। জখম হয় শতাধিক। শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২০০৭ সালে পশ্চিমা-সমর্থিত ট্রানজিশনাল ফেডারেল সরকারের (টিএফজি) বিরুদ্ধে শাবাবের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূচনার পর থেকে মঙ্গলবারের হামলা সবচেয়ে ভয়াবহ। গত আগস্টে মোগাদিসু থেকে শাবাবের পিছু হটার পর এটি ছিল প্রথম হামলা। শাবাব বলছে, তারা সামরিক কৌশল পরিবর্তন করেছে।

গ্রিসে ব্যয়-সংকোচন পরিকল্পনার প্রতিবাদে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ

গ্রিসে সরকারের ব্যয়-সংকোচন পরিকল্পনার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার সরকারি কর্মচারীরা ধর্মঘট পালন করেছেন। এতে সারা দেশে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ধর্মঘট চলাকালে রাজধানী এথেন্সে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে।
ধর্মঘটের কারণে গ্রিসে গতকাল বিমান ও ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালত খোলেনি। হাসপাতালগুলোতে কেবল জরুরি বিভাগ খোলা ছিল। ধর্মঘটের সমর্থনে এথেন্সে বিক্ষোভ হয়েছে। এতে প্রায় ২০ হাজার বিক্ষোভকারী অংশ নেয়। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।
গ্রিসে এখন ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। রাষ্ট্রীয় ঋণখেলাপির দায় এড়াতে ব্যয়হ্রাসের চেষ্টা করছে সরকার। এ কারণে ‘লেবার রিজার্ভ’ কর্মসূচির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটির ৩০ হাজার সরকারি কর্মচারীকে ‘লেবার রিজার্ভে’ রাখা হবে। সরকারের এ পরিকল্পনার প্রতিবাদে সরকারি কর্মচারীরা ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দেন।
গ্রিসের প্রধান ইউনিয়ন জিএসইই ধর্মঘটকে সমর্থন দিয়েছে। তারা ১৯ অক্টোবর দেশে ধর্মঘট কর্মসূচি পালন করবে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় হাজতিদের অনশন

অমানুষিক অবস্থা থেকে মুক্তির দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের কয়েকটি কারাগারের সহস্রাধিক হাজতি গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে অনশন করছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার সংশোধন ও পুনর্বাসন বিভাগ জানিয়েছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর আটটি কারাগারে চার হাজার ২০০ জনের বেশি হাজতি অনশন করলেও তা কমে গত মঙ্গলবার চারটি কারাগারের এক হাজার ১৮৬ জন হাজতি অনশন করেন।
তবে হাজতিদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠনটি বলছে, অনশনে অংশ নেওয়া হাজতির সংখ্যা আরও বেশি হবে। আটটি কারাগারের প্রায় ১২ হাজার হাজতি খাবার না খেয়ে অনশনে অংশ নিচ্ছেন।
অনশনকারীদের পাঁচটি দাবির মধ্যে রয়েছে দলীয় শাস্তি বন্ধ করা, পর্যাপ্ত ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া।
বর্তমানের এই অনশন গত জুলাইয়ে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার পেলিকান বে স্টেট কারাগার থেকে শুরু হয়। কারা কর্মকর্তারা হাজতিদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে জুলাই মাসের শেষের দিকে অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু দাবি পূরণ না হওয়ায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে আবার অনশন শুরু হয় এবং তা রাজ্যের অন্যান্য কারাগারেও ছড়িয়ে পড়ে।

দুই বছরের চুক্তিতে বিয়ে ঠিকঠাক চললে নবায়ন

বাঁচব একসঙ্গে, মরব একসঙ্গে। আমৃত্যু জীবনসঙ্গী হওয়ার এমন আকাঙ্ক্ষায় বিয়ের পিঁড়িতে বসেন নারী-পুরুষ। তাঁদের কেউ কেউ পরম আনন্দে জীবন কাটান। আবার কারও কারও জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। দাম্পত্য জীবন কাটে রোজকার খিটিমিটি আর ঝগড়াবিবাদে। মনে হতে থাকে জীবনের সবকিছুই ভুল।
তিক্ততায় ভরা জীবন থেকে দম্পতিদের বাঁচাতে চান মেক্সিকো সিটির এক আইনপ্রণেতা। বামপন্থী দল ডেমোক্রেটিক রেভ্যুলেশনের নেতা লিওনেল লুনা বিবাহ বিচ্ছেদের পথটিকে সহজ করতে চান। গত সপ্তাহে মেক্সিকো সিটির আইনসভায় এ জন্য একটি বিল উত্থাপন করেছেন তিনি।
‘দুই বছরের বিবাহ চুক্তি’ নামে ওই বিলে প্রস্তাব করা হয়েছে, বিয়ে হবে দুই বছরের জন্য। এরপর সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চুক্তি নবায়ন হবে, অন্যথায় নয়।
লুনার যুক্তি, মেক্সিকো সিটিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া দম্পতিদের মধ্যে ৫০ শতাংশেরই বিচ্ছেদ হয়। আর বিচ্ছেদের জন্য আইনি ঝামেলায় জেরবার হতে হয় দম্পতিদের। লুনা বলেন, এ বাস্তবতায় তিনি এ রকম একটি বিল উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, যেহেতু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দম্পতিদের বিচ্ছেদ হচ্ছে তাই দরকার হলো, সেই বিচ্ছেদ হওয়ার আইনি পথটাকে সহজ করে তোলা।
আইনপ্রণেতা লুনা মনে করেন ‘দুই বছরের বিবাহ চুক্তি’ বিল পাস হলে দম্পতিদের আইনি ঝামেলা অনেক কমে যাবে। তিনি বলেন, গত দুই বছরে মেক্সিকো সিটিতে ৩৩ হাজার দম্পতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। আর তাঁদের মধ্যে ১৬ হাজার দম্পতি বিচ্ছেদের আবেদন করেছেন। এ জন্য এসব দম্পতির খরচ হয়েছে সাড়ে তিন হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে আইনি লড়াইয়ের জন্য দম্পতিদের এক থেকে দেড় হাজার ডলার করে ফি দিতে হয়েছে। বাকিটা অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ায় খরচ হয়েছে।
লুনার উত্থাপিত বিলে বলা হয়, কোনো দম্পতি প্রথমে দুই বছরের চুক্তিতে বিয়ে করবেন। একবার দুই বছরের মেয়াদ শেষ হলে তাঁরা সেই চুক্তি আবার নবায়ন করতে পারবেন। চুক্তিতে তাঁদের সম্পত্তি ও অর্থ ভাগ করার প্রক্রিয়াও উল্লেখ থাকবে। এমনকি সন্তান থাকলে কার হেফাজতে থাকবে, সেটাও ঠিক করা হবে। তিন সপ্তাহ পরে আইনসভায় বিলটি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি বিলটি পাস হয় তাহলে মেক্সিকো সিটিতে যাঁরা বিয়ে করেছেন শুধু তাঁদের ক্ষেত্রেই এই আইন প্রযোজ্য হবে।
নতুন এই বিল সম্পর্কে মেক্সিকো সিটির বাসিন্দা জর্জ পেরেজ বলেন, এই বিলটি অনেক দম্পতির কাজে আসবে। এতে করে দুই বছর পরে দম্পতিরা একবার ভাবার সুযোগ পাবেন। চাইলে তাঁরা এ সময় ভুল শুধরে নেওয়ারও চেষ্টা করতে পারেন।
তবে আরেক বাসিন্দা এনজেলিকা সিসার বিলটির বিরোধিতা করে বলেন, বিয়েটা দুই বছর নয়, হতে হবে সারা জীবনের জন্য।
ব্রাজিলের পরে মেক্সিকোতেই সবচেয়ে বেশি ক্যাথলিক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে। অনেকে ভাবছে, বিলটি মেক্সিকোর মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির বিরুদ্ধে যেতে পারে। তবে মেক্সিকো সিটির চিত্রটা ভিন্ন। সেখানকার বাসিন্দারা অপেক্ষাকৃত কম রক্ষণশীল। তাঁদের অনেকেই দুই বছরের চুক্তিতে বিয়ের পক্ষে।
আইনপ্রণেতা লুনা বলেন, ৬৬ জন আইনপ্রণেতার মধ্যে ৩৪ জনই বামপন্থী। তাঁরা সবাই বিলের পক্ষে ভোট দেবেন। অন্যদের কাছ থেকে তিনি আরও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চলছে।

নিরাপত্তা আইন বাতিলের ঘোষণা মালয়েশিয়ার

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক গতকাল বুধবার বলেছেন, কঠোর নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা ১২৫ জনকে শিগগির মুক্তি দেবে সরকার।
নাজিব গত মাসে অপ্রত্যাশিতভাবে ঘোষণা দেন, মান্ধাতা আমলের ও নিপীড়নমূলক আইন বাতিল করা হবে।
দেশটির নির্বাচনী-প্রক্রিয়া সংস্কারের দাবিতে প্রায় তিন মাস আগে বিক্ষোভ শুরু করে বিরোধীরা। ওই সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও জলকামান ব্যবহার করে। পরে রেসট্র্রিক্টেড রেসিডেন্স অ্যাক্টের আওতায় ১২৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ আইন প্রয়োগ করে সাধারণ মানুষের ওপর দমনপীড়ন চালানো হয় বলে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। এ আইনে বিনা বিচারে যে কাউকে আটক রাখতে পারে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনপীড়ন করতে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে এ আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে।
বিতর্কিত এই আইন রদ করার জন্য গত সোমবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। নাজিব বলেন, ‘আমি এখানে ঘোষণা করছি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিগগির ওই ১২৫ জনকে মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা নেবে।’

হাক্কানিকে খেপিয়ে দেশে শত্রু বাড়াতে চায়না পাকিস্তান

ইসলামাবাদের সঙ্গে তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) একটি শান্তিচুক্তি করার উদ্যোগ নিয়েছে আলোচিত হাক্কানি নেটওয়ার্ক। এ জন্য পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ উপজাতি সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি খলিল হাক্কানির সঙ্গে দেখাও করেছে। খলিল হাক্কানি উত্তর আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রদেশের প্রভাবশালী নেতা সিরাজুদ্দিন হাক্কানির ভাই।
উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পাকিস্তানপন্থী ও বিরোধী জঙ্গিদের মধ্যে শান্তি আনতে উপজাতি প্রতিনিধিরা খলিল হাক্কানিকে তাঁর প্রভাব কাজে লাগানোর জন্য অনুরোধ জানান। এই জ্যেষ্ঠ উপজাতি নেতারা পাকিস্তানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল চাপ নিয়ে বেশ চিন্তিত। তাঁদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অভিযান শুরু করতে পারে।
বিষয়টি নিয়ে খলিল হাক্কানি তাঁর ভাই সিরাজুদ্দিন হাক্কানির সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপর তিনি পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করতে টিটিপির কিছু নেতার কাছে বার্তা পাঠান। প্রতিনিধিদল জানতে পেরেছে, টিটিপি নেতারা এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
টিটিপির প্রধান হাকিমুল্লাহ মেহসুদ ওরাকজাইয়ের কোথাও লুকিয়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর প্রতি তিনি যথেষ্ট আস্থাশীল নন। তারপরও তিনি সম্প্রতি জমিয়তে-ই-উলেমা ইসলামের নেতা ফজলুর রেহমানের কাছে পাঠানো এক বার্তায় জানান, আত্মসমর্পণ ছাড়া তাঁরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে শান্তির কথা বিবেচনা করতে পারেন।
ফজলুর রেহমান বার্তাটি সরকারের কাছে পাঠিয়েছেন। কিন্তু টিটিপির সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরুর জন্য সরকারবিরোধীদের কাছ থেকে তিনি সমর্থন প্রত্যাশা করেন।
টিটিপির কিছু অংশ পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী বিশেষ করে আইএসআইকে বিশ্বাস করে না। এই সন্দেহপ্রবণ নেতারা আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশে লুকিয়ে আছেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এ অংশের নেতারা আফগানিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।
কাবুলের সূত্র দাবি করেছে, হাকিমুল্লাহ মেহসুদের দলের উপপ্রধান ফকির মুহাম্মদ কুনার প্রদেশের আসাদাবাদের কাছে কোনো এলাকায় আছেন। তিনি সম্প্রতি কাবুল থেকে দিল্লি সফর করেছেন। ২০০৬ সালে বাজুরে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই তিনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে চলে যান। তিনি সোয়াতের ফায়জুল্লার সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। এখন তিনি সোয়াত ও বাজুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন।
ফকিরের অনুগত ব্যক্তিরা সম্প্রতি বাজুর থেকে বেশ কিছু পাকিস্তানি শিশুকে অপহরণ করে আফগান গোয়েন্দাদের তত্ত্বাবধানে কুনারে বন্দী করে রেখেছেন। দিরের পাকিস্তানি সীমান্তবর্তী এলাকায় বেশ কিছু হামলায় ফকির জড়িত ছিলেন। তিনি কুনার থেকে বেশ কিছু হামলা পরিচালনা করেন। যদিও সেখানে মার্কিন সেনাদের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে।
ফকির পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিরোধী। তবে টিটিপির দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের নেতা ওয়ালিউর রেহমান মেহসুদ সরকারের সঙ্গে শান্তিচুক্তি সমর্থন করেন।
একই সঙ্গে পাকিস্তানের কুরামে শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যে শান্তিচুক্তিকেও ওয়ালিউর রেহমান সমর্থন করেন। হাক্কানি নেটওয়ার্কের কারণেই ওই শান্তি উদ্যোগ ভেস্তে গিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে টিটিপি খলিল হাক্কানির উদ্যোগের বিরোধিতা করেছিল। কারণ, টিটিপির কিছু স্থানীয় কমান্ডার কুরামে টাকার জন্য অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন। মূলত এ কারণে তাঁরা শান্তিচুক্তিতে আগ্রহী ছিলেন না। তবে তিনি এ অঞ্চলের প্রভাবশালী নেতা ফজল সাঈদ হাক্কানির মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের একটা পথ বের করেন। পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষও শান্তিচুক্তি করার ব্যাপারে ফজলকে সহায়তা করছে।
সিরাজুদ্দিন হাক্কানির ঘনিষ্ঠ সূত্রমতে, আফগান গোয়েন্দারা পাকিস্তানের কুরামে হস্তক্ষেপ করছেন। একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য তাঁরা বিভিন্ন উপজাতিকে অস্ত্র সরবরাহ করছেন।
খবর বেরিয়েছে, সিরাজুদ্দিন হাক্কানিকে আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই পাকতিয়া প্রদেশের গভর্নর করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন, আফগান ও মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাঁর সঙ্গে অনেকবার যোগাযোগ করেছে।
প্রেসিডেন্ট কারজাই তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা স্থগিত করেছেন। এরপরই গত মঙ্গলবার তিনি দিল্লি সফরে গেছেন। দিল্লিতে তাঁর এই সফর ইসলামাবাদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেবে। আফগানিস্তানের ওপর দিল্লির প্রভাব বাড়ায় পাকিস্তান যথারীতি ক্ষুব্ধ। আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের বর্তমান ভারত সফর এবং দিল্লির সঙ্গে ফকির মুহাম্মদের যোগাযোগ ইসলামাবাদের সঙ্গে কাবুলের ভুল বোঝাবুঝিকে আরও উসকে দেবে।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিদেশি চাপে তাঁরা উত্তর ওয়াজিরিস্তানে কোনো ধরনের অভিযান চালাবেন না। কারণ, তা তাঁদের দেশের ভেতরে আরও শত্রুর জন্ম দেবে। আর আফগান গোয়েন্দারা দ্রুতই এই শত্রুদের নিজেদের মতো ব্যবহার করবে।

শর্তের ভিত্তিতে অস্ত্রবিরতিতে রাজি মাওবাদীরা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মাওবাদীরা শর্তের ভিত্তিতে এক মাসের অস্ত্রবিরতিতে রাজি হয়েছে। গত মঙ্গলবার মাওবাদীদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার যৌথ বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ করলে এক মাস অস্ত্রবিরতি পালন করবে তারা।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর মাওবাদী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযানের কড়া হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে অন্তত চার মাস ধরে তিনি মাওবাদীদের সহিংসতা বন্ধে সতর্ক করে আসছিলেন।
বিবৃতিতে মাওবাদী নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশের সই ছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা শান্তির পক্ষে। যদি রাজ্য সরকার আমাদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান এক মাসের জন্য বন্ধ রাখার অঙ্গীকার করে, তাহলে ওই সময় আমরাও অস্ত্রবিরতি পালন করব।’ মাওবাদী ও সরকারের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী ইতিহাসবিদ সুজাতো ভদ্র এবং মানবাধিকারকর্মী ছোটন দাসও ওই বিবৃতিতে সই করেন।

৮৫-তে নববধূ

জৌলুশ ও প্রাচুর্যের জন্য খ্যাতির কমতি নেই স্পেনের ডাচেস অব আলবার। কিন্তু এবার তিনি আলোচনায় অন্য কারণে। ৮৫ বছর বয়সী ডাচেস আবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন। গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত হয় বহুল আলোচিত-সমালোচিত এ বিয়ে। বর সরকারি কর্মকর্তা আলফনসো ডিয়েজ কারাবান্তেস তাঁর চেয়ে ২৪ বছরের ছোট। এটি ডাচেস অব আলবার তৃতীয় বিয়ে।
১৯৪৭ সালে ২১ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে করেন ডাচেস অব আলবা। বর ছিলেন লুইস মার্টিনেজ ডি ইরুজো আর্তাজজ। সেই বিয়ে ছিল খুবই জাঁকালো। এক হাজার অতিথি এসেছিলেন বিয়েতে। ডাচেস অব আলবা বিয়েতে তখনকার ১৫ লাখ ডলার সমমূল্যের গয়না পরেছিলেন। নিউইয়র্ক টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে এ বিয়েকে রাজতন্ত্রের অবসানের পর স্পেনের সবচেয়ে বড় সামাজিক অনুষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল।
গতকাল ডাচেস অব আলবার উপাসনালয় সেভিয়ায় অবস্থিত ১৫ শতকের তৈরি প্লাসিও ডি লাস ডুয়েনাসে বিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। বিয়েতে মাত্র ৩০-৬০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না ডাচেসের সন্তানেরা। এ ব্যাপারে তিনি এক মন্তব্যে বলেছিলেন, ‘তারা চায় না আমি বিয়ে করি। কিন্তু তারা আমার চেয়ে বেশিবার সঙ্গী পরিবর্তন করে।’
গিনেস বুুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, অন্য যে কারও চেয়ে সরকার স্বীকৃত পদবির দিক দিয়ে অনেক বেশি এগিয়ে আছেন ডাচেস অব আলবার। তাঁর পূর্ণ নাম মারিয়া ডেল রোজারিও কায়েতানা আলফনসা ভিক্টোরিয়া ইউজিনিয়া ফ্রান্সিসকা ফিতজ-জেমস স্টুয়ার্ট ডি সিলভা। তিনি সাড়ে ৩০০ কোটি ইউরো (৪৭০ কোটি ডলার) সম্পদের মালিক।

নিরাপত্তা পরিষদে চীন ও রাশিয়ার ভেটো

সিরিয়ায় বেসামরিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। গত মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর আনা নিন্দা প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে রাশিয়া ও চীন।
এই ভেটোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানিসহ পশ্চিমা দেশগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সিরিয়ায় সরকারবিরোধীদের ওপর প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনীর চলমান হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও পর্তুগালের সহায়তায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ওই প্রস্তাব তোলে ফ্রান্স। মঙ্গলবার এ প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়।
সিরিয়ার বিরুদ্ধে আনা এই নিন্দা প্রস্তাবের পক্ষে নয়টি ভোট পড়ে। ব্রাজিল, ভারত, লেবানন ও দক্ষিণ আফ্রিকা ভোট দানে বিরত থাকে। এ ছাড়া নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। এতে নিন্দা প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়।
প্রস্তাবটিতে সিরিয়ায় বেসামরিক লোকদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সরকারি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের নিন্দার পাশাপাশি দেশটিকে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, এই হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকলে তাদের ওপর অবরোধ আরোপ করা হতে পারে।
রাশিয়া ও চীনের ভেটোতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়ার বিরুদ্ধে আনা নিন্দা প্রস্তাব নাকচ হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনায় জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সুজান রাইস ওয়াকআউট করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, একটি জরুরি নৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিরাপত্তা পরিষদ চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনা সিরিয়ার কর্তৃপক্ষকে আরও অপ্রতিরোধ্য করে তুলবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছে, কারও ‘না’ ভোট তাদের থামাতে পারবে না।
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুইডো ভেস্টারভেলে গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বে শান্তি রক্ষা ও নিরাপত্তা বিধানে নিরাপত্তা পরিষদের যে দায়িত্ব, এর সঙ্গে সংগতি রক্ষা করতে পারেনি পরিষদ। তিনি বলেন, সিরিয়ার ব্যাপারে একটি পরিষ্কার অবস্থানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে চাপ দিয়ে যাবে জার্মানি। একই সঙ্গে চাপ দেবে সিরিয়ার প্রশাসনের ওপরও।
কয়েক মাস ধরে সিরিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। জাতিসংঘের হিসাবমতে, বাশার আল আসাদের অনুগত নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে দেশটিতে এ পর্যন্ত সরকারবিরোধী দুই হাজার ৭০০ লোক নিহত হয়েছে। পশ্চিমারা নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে সিরিয়ার প্রতি নিন্দা জানাতে চাপ দিয়ে আসছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে না

আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, পাকিস্তান আফগানিস্তানের যমজ ভাই, আর ভারত অন্তরঙ্গ বন্ধু। ভারতের সঙ্গে চুক্তি সই পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
ভারতের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারি চুক্তি স্বাক্ষরের এক দিন পর পাকিস্তানের উদ্বেগ কমাতে গতকাল বুধবার নয়াদিল্লিতে হামিদ কারজাই এসব কথা বলেন।
এমনিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে, তার ওপর প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে আফগানিস্তানের চুক্তির পর পাকিস্তান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেন, এ কৌশলগত অংশীদারি চুক্তি কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়। আফগানিস্তানের জন্য সহায়তা পেতেই এ চুক্তি।
কারজাই আরও বলেন, ‘পাকিস্তান আমাদের যমজ ভাই, আর ভারত অন্তরঙ্গ বন্ধু। আমরা আমাদের বন্ধুর সঙ্গে যে চুক্তি সই করেছি, তা আমাদের ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।’
নয়াদিল্লিতে দুই দিনের সফরকালে কারজাই এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের বন্ধন দৃঢ় করতে গত মঙ্গলবার ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির আওতায় ভারত আফগানিস্তানের পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণে সহায়তা বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও চুক্তি স্বাক্ষরের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের সময় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এ ব্যাপারে খোলাসা করে কিছুই বলেননি।
আফগানিস্তানে ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের সময় ঘনিয়ে আসায় দেশটিতে বৃহত্তর নিরাপত্তা গড়ে তোলার অংশ হিসেবে কাবুল সরকার যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে এ চুক্তি করা হয়েছে। ২০১৪ সালে সম্পূর্ণরূপে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর ভারতে আফগানিস্তানকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই চুক্তি স্বাক্ষরের পর ভারত যে ক্রমবর্ধমানভাবে আফগানিস্তানে নিজেদের অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে, সে বিষয়ে পাকিস্তানের উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।

বিদায় স্টিভ by মুহম্মদ খান

মাত্র ৫৬ বছর বয়সেই চলে গেলেন প্রযুক্তিবিশ্বের বিস্ময় অ্যাপলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান স্টিভ জবস। গত বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আলতোয় মারা যান তিনি। অ্যাপলের ওয়েবসাইটে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। অ্যাপল তাদের সর্বশেষ উদ্ভাবন 'আইফোন ফোর এস' বাজারজাত করার ঘোষণা দেওয়ার এক দিন পরই স্টিভ মারা গেলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারে ভুগছিলেন। ২০০৪ সালে শনাক্ত হওয়ার কিছুদিন পরই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্টিভ জবসের ক্যান্সার আক্রান্ত টিউমার অপসারণ করা হয়।

সারা দেশে জমির খাজনা আদায় বন্ধ! by আপেল মাহমুদ

সারা দেশে জমির খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) আদায় বন্ধ রয়েছে। ভূমি অফিসে দাখিলা বই (খাজনা আদায়ের রসিদ) সংকটের কারণে এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে একদিকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় থেকে, অন্যদিকে ভোগান্তিতে পড়েছে লাখ লাখ সেবাপ্রত্যাশী মানুষ। দেশের চারহাজার ৪৬৩টি তহশিল অফিসের কাজকর্মেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। খাজনা দিতে যাওয়া লোকজনের সঙ্গে ভূমি অফিসের কর্মীদের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সপ্তাহজুড়েই পতনের ধারায় শেয়ারবাজার by নাজমুল আলম শিশির

ত সপ্তাহের চার কর্মদিবসের তিন দিনই দরপতন হয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জে (ডিএসই)। আর যে একদিন সূচক বেড়েছে, তা ছিল মাত্র ০.৯৭ পয়েন্ট। সূচক কমার সঙ্গে গত সপ্তাহে কমেছে লেনেদেন হওয়া বেশির ভাগ কম্পানির শেয়ারের দাম। কমেছে লেনদেনের পরিমাণ আর বাজার মূলধনও। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারল্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরছে না।

শেষ ৫ ওভারেই সমস্যা এবং সমাধান by মাসুদ পারভেজ

নিজে পারফরম করেছেন বলেই শুধু নয়, অন্য কারণেও ম্যাচটার কথা খুব ভালো মনে থাকার কথা মোহাম্মদ আশরাফুলের। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজে টোয়েন্টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪৯ বলে ৬৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছিলেন। যেটি খেলার পর প্রশংসিত হওয়ার বদলে কোচের কাছ থেকে জুটেছিল মানসিক ধাক্কাই! অধারাবাহিকতার রোগ তাঁর বহু পুরনো।

রোডমার্চ সফল করা নিয়ে বিএনপিতে নানা শঙ্কা by মোশাররফ বাবলু ও শফিক সাফি

নেক হাঁকডাক দিয়েও সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি দিতে পারেনি বিএনপি। প্রথমবারেই হোঁচট খেল তারা। রোডমার্চ ছাড়া অন্য কোনো কর্মসূচি নেই। মহাসমাবেশ থেকে তিন বিভাগীয় শহরে রোডমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও চট্টগ্রামের কর্মসূচি পিছিয়ে গেছে। রাজশাহী জেলা বিএনপি ও মহানগরী বিএনপি নেতাদের মতবিরোধের কারণে রাজশাহী শহরে রোডমার্চ কিংবা জনসভাও হচ্ছে না। রাজশাহী বিভাগের রোডমার্চ চলে গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এ নিয়ে বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বললে তাঁরা জানান, রোডমার্চের কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি প্রথম দিকেই হোঁচট খাচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগের রোডমার্চ পিছিয়ে গেল।

অনুমতি ছাড়াই মামলার ক্ষমতা পাচ্ছে দুদক by আহমেদ দীপু

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করার জন্য সরকারের আর আগাম অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। তদন্তে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিতে পারবে। নতুন এই বিধান সংযোজন করে দুদক আইন চূড়ান্ত করা হচ্ছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি আগামী সপ্তাহে আইনটি চূড়ান্ত করার কাজে হাত দেবে।

স্টিভের শেষ দিনগুলো by নাইর ইকবাল

ত ফেব্রুয়ারি মাসেই তিনি জেনে যান-এই সুন্দর পৃথিবীতে তিনি আর বেশিদিন নেই। ২০০৪ সালে শরীরে বাসা বাধা ক্যানসার আর পোষ মানছে না। অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা, আধুনিক সময়ের প্রযুক্তি শিল্পী স্টিভ জবস শুরু করে দেন বিদায়ের প্রস্তুতি। খুব কাছের কিছু মানুষকে ডেকেও তিনি জানিয়ে দেন বিদায় সম্ভাষনের জন্যও প্রস্তত তিনি।

পার্লমুটারের ভুল নম্বরে ফোন নোবেল কমিটির!

নোবেলজয়ী মার্কিন পদার্থবিদ সল পার্লমুটার বলেছেন, নোবেল কমিটির কাছে তাঁর ভুল ফোন নম্বর ছিল। গত মঙ্গলবার তাঁর নোবেল পুরস্কার জয়ের খবর তিনি প্রথম তাদের কাছ থেকে পাননি। খবরটি পান তিনি সুইডিশ গণমাধ্যমের একজন সংবাদকর্মীর কাছ থেকে। পার্লমুটার বলেন, ‘ক্যালিফোর্নিয়ায় তখন সকাল। এ সময় সুইডেনের একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে আমি ফোন পাই। তিনি আমাকে বললেন, “অভিনন্দন।” জবাবে আমি বলি, কোন ব্যাপারে অভিনন্দন?’
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপক পার্লমুটার আরও বলেন, স্টকহোমে ঘোষণা দেওয়ার প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে আরও প্রায় ১০টি ফোন আসে। এরপর তাঁর স্ত্রী দ্রুত কম্পিউটারে বসে যান। এটা কোনো ভেলকিবাজি কি না, তা যাচাইয়ে অনলাইনে তিনি অনুসন্ধান চালান। পার্লমুটার বলেন, প্রায় এক ঘণ্টা পর নোবেল ফাউন্ডেশন থেকে তিনি ফোন পান। তিনি বলেন, ‘নোবেল কমিটির কাছে তাঁর ভুল ফোন নম্বর থাকায় এ সমস্যা হয়েছে।’ ৫২ বছর বয়সী এই নোবেলজয়ী বলেন, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নোবেল কমিটি তাঁরই করা প্রকল্পের একজন সুইডিশ সহযোগীর কাছে ফোন নম্বর চেয়েছিল। কিন্তু তিনি (সহযোগী) যে নম্বরটি তাদের দিয়েছিলেন, তা তিনি পাঁচ বছর ধরে ব্যবহার করেন না।
মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ নিয়ে গবেষণার জন্য এ বছর পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পান পার্লমুটারসহ তিনজন বিজ্ঞানী। অন্য দুজন হলেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক অ্যাডাম রিয়েস ও মার্কিন বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানী ব্রায়ান স্মিড।
এর আগে গত সোমবার চলতি মৌসুমে চিকিৎসায় নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করে নোবেল কমিটি। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুস বাটলার, কানাডার রাল্ফ স্টেইনম্যান ও লুক্সেমবার্গ বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক জুলস হফম্যান চিকিৎসায় নোবেল পান।
কিন্তু চিকিৎসায় নোবেল পুরস্কার ঘোষণা নিয়েও একটা ভুল করেছে নোবেল কমিটি। বিজ্ঞানী স্টেইনম্যান (৬৮) যে মারা গেছেন, এ তথ্যটি জানা ছিল না তাদের। নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মাত্র দুই দিন আগে ৩০ সেপ্টেম্বর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই বিজ্ঞানী।
নোবেল কমিটির নিয়ম অনুযায়ী, কাউকে মরণোত্তর নোবেল পুরস্কার সাধারণত দেওয়া হয় না। কিন্তু নোবেল কমিটি যখন চিকিৎসাশাস্ত্রে তিনজন বিজ্ঞানীর নাম জয়ী হিসেবে ঘোষণা করেন, তখন তারা জানত না যে স্টেইনম্যান মারা গেছেন। নাম ঘোষণার পর কমিটি তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারে। এরপর কমিটির সদস্যরা জরুরি বৈঠকে বসেন এবং স্টেইনম্যানকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন

সাব্বিরের ‘ভালোবাসা ব্যক্তিগত’

তিন বছর পর বাজারে আসছে ক্লোজআপ তারকা সাব্বিরের দ্বিতীয় একক। এবারের ঈদেই অ্যালবামটি শ্রোতাদের হাতে তুলে দিতে পারবেন বলে জানান শিল্পী। নাম ভালোবাসা ব্যক্তিগত। এরই মধ্যে অ্যালবামের সব গানের কাজ শেষ হয়েছে। এতে মোট গান থাকবে নয়টি। এর মধ্যে আটটি মৌলিক গান। চট্টগ্রামের মাইজভান্ডারি গান থাকছে একটি। গানগুলোতে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি চারটি গানের সংগীত পরিচালনা এবং দুটি গানের সুরও করেছেন সাব্বির। একটির সুর করেছেন কুমার বিশ্বজিত্। অ্যালবামের অন্য দুজন সংগীত পরিচালক হলেন সুমন কল্যাণ ও কিশোর দাস।
সাব্বির বলেন, ‘অ্যালবামের সব গানই শ্রুতিমধুর। রয়েছে সেমি-ক্লাসিক্যাল ও রক ঘরানার গান।’ গানগুলো হচ্ছে ভালোবাসা ব্যক্তিগত, পৃথিবী ঘুমিয়ে গেছে, সে চলে গেছে, বৃষ্টি, তুমি ছোঁয়া দিলে, আসিয়াছি ভবের ঘাটে, তুমি আমার, নাইতো কোনো লেনাদেনা ও দিন কেটে যায়। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে সাব্বিরের প্রথম অ্যালবাম আপনালয় প্রকাশিত হয় গানচিলের ব্যানারে।

ব্যক্তিপর্যায়ে প্লেসমেন্ট বরাদ্দের সর্বোচ্চ সীমা এক কোটি টাকা

ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লেসমেন্টের মাধ্যমে মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট বরাদ্দের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এক কোটি টাকা। পাশাপাশি প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বরাদ্দ করা ইউনিট বিক্রির বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার (লক-ইন) মেয়াদ এক বছর থেকে কমিয়ে ছয় মাস করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) মিউচুয়াল ফান্ডের কোটা ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) এক সভায় গতকাল বুধবার এসব সংশোধনীসহ মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করা হয়।
সভা শেষে সংস্থাটির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা সংশোধনীর খসড়ায় ব্যক্তিপর্যায়ে প্লেসমেন্ট বরাদ্দের সীমা তুলে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত এবং সামগ্রিকভাবে পুঁজিবাজারের স্বার্থ বিবেচনায় এই সীমা এক কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে মিউচুয়াল ফান্ডের প্লেসমেন্ট বরাদ্দের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৫ লাখ টাকার সর্বোচ্চ সীমা কার্যকর ছিল। সাইফুর রহমান জানান, সংশোধনীতে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মিউচুয়াল ফান্ডের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ কোষ বা পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর ফলে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলো নিবন্ধিত ট্রাস্ট ফান্ড, অবসরকালীন তহবিল বা পেনশন ফান্ড, ভবিষ্য-তহবিল বা প্রভিডেন্ট ফান্ড, সুপার এনুয়েশন ফান্ড ও ভেঞ্চার মূলধন তহবিল ব্যবস্থাপনা করতে পারবে। এ ছাড়া এসইসিকে অবহিত করে বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা সেবা ও উপদেষ্টা সেবা দিতে পারবে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলো। সভায় মিউচুয়াল ফান্ড গঠনের ক্ষেত্রে আইপিওর মাধ্যমে ইউনিট বরাদ্দের বাধ্যবাধকতা ৫০ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি মেয়াদহীন বা ওপেন এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের সর্বনিম্ন আকার ২০ কোটি টাকার পরিবর্তে করা হয়েছে ১০ কোটি টাকা। এ ছাড়া এসইসির সংশোধনীতে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উদ্যোক্তা হিসেবে মিউচুয়াল ফান্ড গঠনের সুযোগ থাকছে। একই সঙ্গে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রেডিট রেটিং বা ঋণমান নির্ণয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নারীশ্রমিকের চরিত্রে কাজ করেছি

জ শুক্রবার ঢাকাসহ সারা দেশে মুক্তি পেয়েছে গার্মেন্টস কন্যা ছবিটি। জি সরকার পরিচালিত এই ছবিতে অভিনয় করেছেন পপি। কথা হলো তাঁর সঙ্গে। কেমন আছেন?
এই তো বাসাতেই আছি। পূজার ছুটিতে শুটিং নেই বলে বিশ্রামে আছি। দুই দিন পর থেকে আবার কাজ শুরু করব।
আজ তো আপনার ছবি মুক্তি পেয়েছে। কত দিন পর ছবি মুক্তি পেল?
প্রায় এক বছর পর। আসলে অনেক আগেই এই ছবিটির মুক্তির কথা শুনেছিলাম। কিন্তু নানা কারণে ছবিটি আলোর মুখ দেখেনি। দেরিতে হলেও যে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে, তাতেই খুশি।
নিজের ছবি সিনেমা হলে দেখতে যান?
কেন যাব না? কাল শনিবার কোনো একসময় সিনেমা হলে যাব ছবিটি দেখতে। আমি নিজের অভিনীত প্রায় প্রতিটি ছবিই দেখি। শুধু নিজের ছবি নয়, অন্যের ছবিও দেখি। কাজটা কেমন করেছি, সেটা বোঝার চেষ্টা করি। যদিও এখন সব সিনেমা হলে যাওয়ার মতো পরিবেশ নেই। তার পরও দেখতে হয় দর্শকের প্রতিক্রিয়া বোঝার জন্য।
চলচ্চিত্রের নাম ‘গার্মেন্টস কন্যা’। এই ছবিটি নিয়ে কিছু বলুন। ছবিতে আমি একজন নারীশ্রমিকের চরিত্রে কাজ করেছি। আমাদের পোশাকশিল্পের নানা ঘটনা নিয়ে ছবির কাহিনি। বৃহৎ এই শিল্পে নানা মহল নানা রকম উসকানি দেয় এবং অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। এসবই এই ছবিতে উঠে এসেছে। কখনো কখনো কিছু ঘটনার প্রতিবাদ করি। এখান থেকে একজন সাধারণ নারীশ্রমিক থেকে আমি হয়ে উঠি ‘গার্মেন্টস কন্যা’। আমার মনে হয়, অন্য পেশার মানুষের মতোই পোশাকশ্রমিকেরা ছবিটি দেখে খুবই আনন্দ পাবেন।
ছবিতে আপনার নায়ক ইমন। কেমন কাজ করেছেন তিনি?
আমি বরাবরই নতুনদের সঙ্গে কাজ করি। আজকে যে শাকিব খান অনেক দামি তারকা হয়েছেন, তিনি যখন নতুন নায়ক হয়ে এলেন, তখনো আমি তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি। একটি নয়, দুটি নয়, কয়েকটি ছবিতে কাজ করেছি। ফেরদৌসের সঙ্গেও অনেকগুলো ছবিতে কাজ করেছি। তেমনি ইমনের সঙ্গেও কাজ করলাম। বেশ সিনসিয়ার এবং কাজে মনোযোগী ছেলে। ভালো লেগেছে ওর সঙ্গে কাজ করে।
আপনার অন্যান্য কাজের খবর কী?
সত্যি বলতে কি, আগের মতো তো অনেক অনেক ছবিতে কাজ করছি না। অভিনয়জীবনের ১৪ বছর পার হয়ে গেল। এখন ছবি করার আগে গল্পের চরিত্র ভালোভাবে দেখে নিই। এর স্বীকৃতি হিসেবে পর পর তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলাম। হাতে দুটি ছবি নিয়েছি। এগুলোর গল্প আর চরিত্র নিয়ে এখন কাজ করছি। সামনে শুটিং শুরু হবে।
নাটকে কাজ করছেন নাকি?
ঈদের জন্য দুটি নাটকে কাজ করব। আগামী সপ্তাহ থেকে এই নাটক দুটির কাজ শুরু করব।

একটি ছবি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে নববধূকে

নেকটা আড়ম্বরহীন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গতকাল বুধবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন ৮৫ বছর বয়সী স্পেনের ডাচেস অব আলবা। তবে এর আগের দিন নববধূর ৩০ বছর আগের একটি অর্ধনগ্ন ছবি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
রৌদ্রস্নান করা অবস্থায় ডাচেস অব আলবার একটি অর্ধনগ্ন ছবি মঙ্গলবার প্রকাশ করে স্পেনের ম্যাগাজিন ‘ইন্টারভিউ’। বিয়ের ঠিক আগের দিন এ ছবি প্রকাশিত হওয়ায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যায় আলবার পরিবার ও বন্ধুরা। ডাচেস অব আলবার বন্ধু ও আইনজীবী হাভিয়ের সাভেদরা জানিয়েছেন, আলবার ব্যক্তিগত অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।
ডাচেস অব আলবার এটি তৃতীয় বিয়ে। বর সরকারি কর্মকর্তা আলফনসো ডিয়েজ কারাবান্তেস তাঁর চেয়ে ২৪ বছরের ছোট। আলবার পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে। কিন্তু মায়ের বিয়েতে যোগ দেননি তাঁরা কেউ। বিয়েতে মাত্র ৩০-৬০ জন অতিথি উপস্থিত ছিলেন। আলবার প্রথম বিয়ে হয় ১৯৪৭ সালে ২১ বছর বয়সে। সেই বিয়ে ছিল খুব জাঁকালো। সেই বিয়েতে এক হাজার অতিথি এসেছিলেন। আলবা বিয়েতে তখনকার ১৫ লাখ ডলার সমমূল্যের গয়না পড়েছিলেন। ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ তাদের এক প্রতিবেদনে এ বিয়েকে রাজতন্ত্রের অবসানের পর স্পেনের সবচেয়ে বড় সামাজিক অনুষ্ঠান হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। ওয়েবসাইট।

ঢাকের শব্দ আর ধূপের গন্ধে দেবীর বিসর্জন

শারদীয় দুর্গাপূজার আজ বিজয়া দশমী। আজ দেবীকে বিসর্জন দেওয়ার মধ্যে দিয়ে শেষ হচ্ছে শারদীয় দুর্গোত্সব। বিসর্জন উপলক্ষে পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাট এলাকার স্নানঘাট দিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীতে বিকেল চারটা থেকে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়েছে। ঢাকের শব্দে আর ধূপের গন্ধে মুখরিত হয়ে উঠেছে স্নানঘাট এলাকা।
বুড়িগঙ্গা নদীতে সর্বপ্রথম বিসর্জন দিয়েছে পুরান ঢাকার ঝিগাতলী এলাকার ভোলানাথ আশ্রম ট্রাস্টের পূজামণ্ডপের প্রতিমা। এর পর একের পর এক প্রতিমা বিসর্জন চলছে। বিসর্জন মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে।
এ উপলক্ষে ওয়াইজঘাট ও বুড়িগঙ্গা নদী এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। র্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের একাধিক টহল দল বুড়িগঙ্গা এলাকা টহল দিচ্ছে। ঢাকা মহানগর প্রতিমা বিসর্জন ঘাট কমিটির আহ্বায়ক বাবুল দাস বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে বিজয়া দশমীতে সকাল থেকে শুরু হয়েছে যাবতীয় আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতা। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী সকাল নয়টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবীর দশমী বিহিত পূজা সমাপন করে দর্পণ বিসর্জন দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দুপুর ১২টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিকেল চারটায় ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে বের হয় বিজয়ার শোভাযাত্রা।

মা হলেন লাক্স তারকা বাঁধন

মা হলেন লাক্স তারকা আজমেরী হক বাঁধন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পাঁচ মিনিটে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে তিনি ফুটফুটে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসক ঋতু আগারওয়ালের তত্ত্বাবধানে একটি সফল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। মা-মেয়ে দুজনই সুস্থ আছেন। তবে বাঁধন দীর্ঘদিন চিকিত্সক মৃণাল কুমার সরকারের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
আজ সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বাঁধন বলেন, ‘আমি এক রাজকন্যার মা হয়েছি। কন্যাসন্তানের মা হওয়ায় আমি যে কী পরিমাণ খুশি হয়েছি, তা ভাষায় বোঝাতে পারব না। চিকিত্সক আমাকে ঘুমাতে বলেছেন, কিন্তু কোনোভাবেই ঘুমাতে পারছি না।’ বাঁধনের মেয়ের নাম রাখা হয়েছে মিশেল আমানী। জানা গেছে, মা হওয়ার খবরে মিডিয়ার সহকর্মীরা মুঠোফোনে ও বিভিন্নভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাঁধনকে। নবজাতকের জন্য বাঁধন সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, লাক্স তারকা বাঁধন গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর একেবারে ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসায়ী মাশরুর হোসেন সিদ্দিকী সনেটকে বিয়ে করেন। নবজাতকের জন্য এক বছর ধরে মিডিয়ার সব ধরনের কাজ থেকে নিজেকে বিরত রেখেছেন তিনি।

এক একটি ছবি এক একটি স্বপ্ন: অপু বিশ্বাস

কেটে গেছে অনেক বছর। দত্তবাড়ির মন্দিরে অষ্টমী আর নবমীর দিনে শাড়ি পরে বান্ধবীদের সঙ্গে ঠাকুর-দর্শনে যেতেন অপু। তখন সবে নবম শ্রেণীর ছাত্রী। ছেলেরা এসে বলত, ‘কি গো, সিঁথি তো খালি, একটু সিঁদুর দিব নাকি?’
আবার কেউ এসে বলত, ‘মঙ্গলসূত্রটা কি গলায় দেবে? তাহলে আর দেরি কেন? চলো না...।’
ছেলেদের এমন দুষ্টুমি উপেক্ষা করেই পূজার আনন্দ উদ্যাপন করেছেন অপু। সাঁতার জানতেন না বলে বিসর্জনের দিনে নৌকায় ওঠা হতো না। করতোয়ার পাড়ে বসেই বিসর্জনের দৃশ্য দেখে বাড়ি ফিরতেন। আজকের দিনগুলো একদম উল্টো। সকাল থেকে রাত অবধি শুটিং আর শুটিং। অপুর ইচ্ছে ছিল বগুড়া যাবেন অষ্টমীতে। দশমীর দিনে ঢাকা আসবেন। কিন্তু কেউ যে আর শিডিউল ছাড়তে চান না। মনটা যখন এক রকম খারাপই হলো, তখনই খুশির খবরটা জানলেন। তিনি বগুড়াতেই যাচ্ছেন এক দিনের জন্য। অর্থাৎ, নবমীর দিনে বগুড়া যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন পরিচালক-প্রযোজক। অপু যখন সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন, তখন বললেন, অষ্টমীর দিনে উত্তরার দুটি মন্দিরে গিয়ে দেবী দর্শন করবেন। নবমীর দিনে বগুড়াতেই বড় আয়োজন করেছেন এবং সেখানে তিনি তাঁর সতীর্থদের নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেখানে ভোগ নেবেন। এমনিতেই খাওয়া-দাওয়ায় অনেক নিয়ন্ত্রণ থাকলেও ভোগ নেওয়ার সময় সেসব ভুলে যান অপু। কেনাকাটা? বগুড়া থেকেই মামা দুটি শাড়ি কিনে দিয়েছেন। মাস খানেক আগে ব্যাংকক ও সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন, সেখানে তিনি কেনাকাটা করেছেন। তার পরও যা বাকি ছিল, তা ঢাকা থেকে কিনে নিয়েছেন।
‘সবই করা হবে। আফসোস একটাই, দশমীর দিনে বিসর্জনটাই হয়তো দেখা হবে না। হয়তো টিভির পর্দাতেই তা দেখে নিতে হবে।’ বলছিলেন অপু এতো গেল অপুর পূজা উদ্যাপনের কথা। ব্যক্তি অপু সম্পর্কে জানতে চাই।
পূজায় আপনার বিশেষ পছন্দের মানুষটি আপনাকে কী দিলেন?
অপু হাসেন, ‘এতটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন কেন হঠাৎ? আর আমার যে বিশেষ কেউ আছে তা-ই কে বলল, ভাই? ওসব কিছু নেই। সকাল-বিকেল শুটিং করি। হাসাহাসি করি, কান্নাকাটি করি, তারপর বাড়ি ফিরে যাই।’
আচমকা প্রশ্ন করি, শাকিব খানের জন্য কান্না করেছেন কতবার? অপু অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন। ‘শাকিবের সঙ্গে যদি ৫০টি ছবিতে অভিনয় করে থাকি, তবে ৫০ বার কেঁদেছি।’ অপু চটপট জবাব দেন। আর ব্যক্তি শাকিবের জন্য কাঁদেননি?
‘না...। ও হ্যাঁ, মনে পড়েছে, কেঁদেছি। শাকিবের একটি সুখের সংবাদ শুনে কেঁদেছিলাম। যেদিন শুনলাম ও শিল্পী সমিতির সভাপতি হয়েছে, সেদিন আনন্দে কেঁদেছিলাম। সহশিল্পীর এমন সাফল্য সেদিন আমাকে কাঁদিয়েছিল। এটি ছিল আসলে খুশির কান্না।’ অনেকেই বলেন, শাকিব ও অপু দুজন দুজনকে ভালোবাসেন। কেউ কেউ বলেন, বিয়েও করতে পারেন। আসলে কী?
অপু এবার বেশ সিরিয়াস ভঙ্গিতে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু না পেরে হাসতে লাগলেন।
‘প্রায় প্রতিটি ছবিতেই তো শাকিব আমার জন্য অনেক মার খায় আর আমাকে বিয়ে করে। বিয়ে তো ওভাবেই করেছি। সিনেমায় চরিত্রের প্রয়োজনে আমরা দুজনই একে অপরকে বলেছি, “তোমাকে ছাড়া বাঁচব না। মরে যাব, আমি তোমাকে ভালোবাসি...।” এর বাইরে অন্য কিছু বলতে পারব না।’ বলছিলেন অপু বিশ্বাস।
অপুর কাছে প্রশ্ন করলাম, সমালোচকেরা আরও বলেন যে শাকিব প্রায় সব ছবিতেই অপুকে নায়িকা হিসেবে নিতে বলেন। অপু এ কথার বিরোধিতা করলেন; বললেন, ‘ছবি ব্যবসাসফল না হলে নির্মাতারা কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে শুধু শাকিবের কথায় আমাকে নিতেন না। তবে হ্যাঁ, শাকিব আমাকে সহশিল্পী হিসেবে সহযোগিতা করে। এ জন্য তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আবার এমন সহযোগিতা তো সাহারা, মীম, রোমানা, নিপুণ, শখ—সবাইকে করছে শাকিব। আমি কি সেসব নিয় কিছু বলেছি কখনো? আসলে আমাদের এখানে নির্ভরযোগ্য নায়ক একজন বলেই ওকে নিয়ে এত কথা।’ এবার অপুর কাজের প্রসঙ্গে আসি। অপুর হাতে এখন নির্মাণাধীন ছবি আছে ছয়টি। হাতে আছে সাতটি। চলতি সপ্তাহেই তিনি আরও দুটি ছবিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হবেন। অভিনয়জীবনের সাত বছর পূর্ণ হয়েছে এ বছর। এরই মধ্যে শাকিব-অপু জুটির অর্ধশত ছবি মুক্তি পেয়েছে। সামনে যে ছবিগুলো মুক্তি পাবে, তাতে বলা যায়, চলতি বছরেই ১০০ ছবি মুক্তির উৎসব করতে পারবেন তাঁরা। গেল ঈদে অপু অভিনীত দুটি ছবি মুক্তি পেয়েছিল। আসছে কোরবানির ঈদে অপু অভিনীত তিনটি ছবি মুক্তির জন্য প্রস্তুত। বললেন, ‘আমার এক একটি ছবি আমার কাছে এক একটি স্বপ্ন। এই স্বপ্নগুলো আমাকে আরও বড় স্বপ্নের কাছে নিয়ে যায়। আমি নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করি। কোনো ছবি যদি ব্যবসায়িকভাবে সাফল্য না পায়, অর্থাৎ, স্বপ্ন যদি দুঃস্বপ্নে রূপ নেয়, তখন কষ্ট পাই, কিন্তু ভীত হই না। আবার নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করি।

ব্ল্যাকের এক যুগ

শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিন বন্ধু—জাহান, টনি আর জন। একই ক্লাসের একই শাখার ছাত্র ছিলেন তাঁরা। টনি ছিলেন খুব চঞ্চল, জাহান নিজেকে সব সময়ই একটু জ্ঞানী ভাবতেন আর জনের মধ্যে ছিল সিদ্ধান্তহীনতার একটা ব্যাপার। এই তিন বন্ধু মিলেই একদিন গড়ে তুললেন একটি ব্যান্ড, ব্ল্যাক। এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে অনেকটা সময়, এক যুগ। বেরিয়েছে চারটি অ্যালবাম—আমার পৃথিবী (২০০২), উৎসবের পর (২০০৩), আবার (২০০৮) আর এবার রোজার ঈদে ব্ল্যাক। ব্ল্যাক ব্যান্ডের কথা মনে হলেই শ্রোতাদের কানের কাছে বেজে ওঠে ‘তুমি কি সাড়া দেবে’, ‘হাত বাড়াও’, ‘আমরা’, ‘আমার পৃথিবী’, ‘পেপার রেডিও টিভি’ গানগুলো।
গত ১০ বছরে তাঁরা অংশ নিয়েছেন প্রায় হাজার তিনেক কনসার্টে। আসছে বছর গোড়ার দিকে নিজেদের শুরুর যুগপূর্তি অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্ল্যাক। যুগপূর্তির আগে একসঙ্গে পাওয়া গেল ব্ল্যাকের চার সদস্যকে। টনি, জাহান, জন তো ছিলেনই, তাঁদের সঙ্গে এই আড্ডায় আরও ছিলেন টিটো, নতুন সদস্য। সম্প্রতি এক শুক্রবার দুপুরের পর তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয় প্রথম আলো কার্যালয়ে। আড্ডার শুরুতেই চলে এল যুগপূর্তির প্রসঙ্গ। যুগপূর্তি অনুষ্ঠানটি কেমন হবে? জন বললেন, ‘একটা কনসার্ট করব। শুধু কনসার্ট বললে ভুল হবে, আমরা বলছি পুনর্মিলনী। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সময় নানাভাবে ব্ল্যাকের সঙ্গে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের সবার অংশগ্রহণ থাকবে এই কনসার্টে। শুধু যে গান হবে তা নয়, দেখানো হবে ব্ল্যাকের ওপর তৈরি তথ্যচিত্রও। ব্ল্যাকের নানা গল্প থাকবে তাতে। ব্ল্যাকের শুধু চারজন সদস্যকেই সবাই চেনে। কিন্তু আজকের ব্ল্যাকের পেছনে অনেকের অবদান রয়েছে। বিভিন্ন সময় নানাভাবে তাঁরা সহযোগিতা করেছেন। থাকবে সেসব মানুষের সাক্ষাৎকার, কথা।’ ব্ল্যাক এখন অনেক অভিজ্ঞ। অভিজ্ঞতার ছাপ তাদের গানে, পরিবেশনায়। তাই তো এবার ব্যান্ডের নামেই অ্যালবাম করেছে ব্ল্যাক। জন বললেন, ‘দেশে ও বিদেশে প্রায় সব নামী ব্যান্ডেরই নিজেদের নামে অ্যালবাম রয়েছে। আর ওই অ্যালবামটি ব্যান্ডের জন্য খুব উল্লেখযোগ্য একটি ব্যাপার। ব্যান্ডটিকে শ্রোতাদের কাছে তুলে ধরে অ্যালবামটি। এক যুগ পেরিয়ে এসে আমরা এখন মনে করছি, আমাদের শব্দ, সুর আর তা প্রকাশ করার ভঙ্গি—সবকিছু আলাদা। এ সময়ে এসে তা নিজস্ব একটা মাত্রা তৈরি করেছে। ব্ল্যাক অ্যালবামে আমরা তেমনই কিছু গান করেছি। আমরা বলব, ব্ল্যাক অ্যালবামটি ব্ল্যাক ব্যান্ডের একটা পরিচিতি।’ এক যুগ পূর্তি হচ্ছে। তাই শুরুর দিকের গল্প শোনার খুব ইচ্ছা হচ্ছিল। জাহান বললেন, ‘আমরা প্রথম গান করেছিলাম নিজেদের স্কুলের এক ক্লাস পার্টিতে। এরপর নিজেদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়—আমরা তো বাজাতে পারি।’ জন বললেন, ‘আমরা প্রথম মঞ্চে গান করেছিলাম ২০০০ সালে, কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে। মজার ব্যাপার হলো, গান গাওয়ার পর আমরা ছয় হাজার টাকা পেয়েছিলাম। শুরুর দিকে প্র্যাকটিস করতাম জাহানের বাসায়। রক মিউজিক, তার ওপর আমরা নতুন, আশপাশের সবার কী অবস্থা বুঝতেই পারছেন। এরপর চলে যাই শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের বেজমেন্টে। ওখানে ছিল একটা ভুতুড়ে পরিবেশ। তার পরও প্র্যাকটিসটা ভালোই হচ্ছিল। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর চার ঘণ্টা। একদিন সেখানে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সেখান থেকে চলে এলাম মগবাজারের বিভিন্ন প্র্যাকটিস প্যাডে।’ আরও অনেক ধারা থাকতে রক মিউজিক পছন্দ হলো কেন? টনি বললেন, ‘রক গান হলো লাইফস্টাইল। আর ওই বয়সে রক গান সবাইকে খুব টানে। রক গান শোনার জন্য কান থাকতে হয়। এখন তো নানা ধরনের রক গান হচ্ছে, আমরা কিন্তু শুরু থেকেই বেসিক রক ধারাটা চর্চা করছি। পাশাপাশি কথার মেজাজ, আশপাশের আবহ, নিজেদের মনের অবস্থা, ভাবনা—সবকিছু বুঝে তবেই গানটা কোন ধারার রক গান হবে, সেটা চূড়ান্ত করি।’ আর জাহান বললেন, ‘আমাদের ধারাটা বিদেশি, তবে ভাষাটা দেশি। আর প্রকাশ করছি আমরা, এ দেশের তরুণেরা। পুরো ব্যাপারটার মধ্যে একটা ফিউশন কাজ করে।’
অনেক শ্রোতার কাছেই ব্ল্যাকের সঙ্গে তাহসান নামটা এখনো জড়িয়ে আছে। জন বললেন, ‘শুরুর দিকে কিছুটা সময় ও আমাদের সঙ্গে ছিল। পরে ওর ব্যস্ততার কারণে আর পারেনি। তবে তাহসান এখনো আমাদের ভালো বন্ধু।’
বছর দুয়েক হলো ব্ল্যাকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন টিটো, বেস গিটার বাজান। আড্ডার প্রায় পুরো সময়টাই তিনি শুধু শুনেছেন। বিকেল খুব দ্রুত গড়িয়ে সন্ধ্যার দিকে যাচ্ছে। একটু দেরি হলে দিনের আলোয় ছবি তোলা সম্ভব হবে না। বারবার তাড়া দিচ্ছেন আলোকচিত্রী। আড্ডা শেষ করতে হবে। জন জানালেন, এবার ব্ল্যাক জার্মানির এক পপ ব্যান্ডের সঙ্গে দুটি কনসার্ট করবে। ব্যান্ডটির নাম ইয়ানস ফ্রিবে। কনসার্ট দুটির প্রথমটি হবে ১১ অক্টোবর চট্টগ্রামে, আর দ্বিতীয়টি ১৩ অক্টোবর ঢাকায়। আয়োজন করেছে জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। জার্মানির এই ইয়ানস ফ্রিবে ব্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে অ্যালবাম করবে ব্ল্যাক। আর তা বাজারজাত হবে বাংলাদেশ ও জার্মানিতে।

বলিউডে দুর্গাপূজা

ব্যস্ততাকে যে পাশ কাটাতেই হবে! দুর্গাপূজা বলে কথা! বলিউডের তারকারাও শুটিং থেকে ছুটি নিয়ে পূজার চার দিন মিশে যান হইহুল্লোড়ে। কেউ চলে যান পুরোনো পাড়ায়, কেউ আবার অষ্টমীর দিন সবার সঙ্গে অঞ্জলি দেন। এবারও পূজায় জমজমাট আয়োজনে মেতে উঠেছেন বলিউডের তারকারা। আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ ‘মুখার্জিবাড়ির পূজা’। এ নিয়ে মুখার্জিবাড়ির পূজা এবার ৬৪-তে পা দিল। এবার এই পূজার ভাবনা ‘নবদুর্গা’। বরাবরের মতো এবারও কাজল-রানী প্রত্যক্ষভাবে এই পূজায় অংশ নিয়েছেন। মুখার্জিবাড়ির পূজার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন রুনা লায়লা, শ্রেয়া ঘোষাল, শঙ্কর মহাদেবন প্রমুখ শিল্পী।
রানী বলেন, ‘যত ব্যস্ততাই থাকুক, দুর্গাপূজার সময় অন্তত একটা দিন ঠাকুরের মুখ না দেখলে আমার ভালো লাগে না। এমনও হয়েছে, পূজার সময় আমি বিদেশে রয়েছি। শুটিংয়ের প্যাক-আপ হওয়ার পর অনেক রাত হলেও ওখানকার প্রবাসী বাঙালিদের পূজায় গিয়ে ঠাকুর দেখে এসেছি। আমি যেখানেই থাকি, দুর্গাপূজার সময় ঠাকুর দেখবইপ্রণামও করব, প্রসাদও খাব।’ কাজলের কাছে ছোটবেলার পূজার স্মৃতি এখনো অম্লান, ‘ছোটবেলার পূজা বললে প্রথমেই মনে পড়ে বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে পদ্মফুলের কুঁড়ি ফুটিয়ে ফুল বানানোর কথা; যে ফুল লাগে সন্ধিপূজার সময়। কুঁড়ির এক-একটা পাপড়ি খুব যত্ন নিয়ে ছিঁড়তাম, আর তার মধ্যে আমার স্বপ্নগুলো ভরে দিতাম। ভাবতাম, স্বপ্নের কথাগুলো এভাবেই মা দুর্গার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া যায়, সেগুলো পূরণও হয়।’
প্রতিবারের মতো এবারও লোখান্ডওয়ালা সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পূজার অন্যতম প্রধান আয়োজক গায়ক অভিজিৎ। এবার তাদের পূজার ভাবনা ‘রবীন্দ্রনাথ’। মণ্ডপ সেজেছে কবিগুরুর শিল্পকর্মের আদলে। অন্যান্য বার এই দায়িত্বটা পালন করতেন শিল্পনির্দেশক বিজন দাশগুপ্ত এবং মকবুল ফিদা হুসেন। এবার ফিদা হুসেন নেই, তাই কলকাতা থেকে আসা শতাধিক শিল্পীর কাছে দায়িত্ব সঁপে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ মঞ্চে আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের, যেখানে আমন্ত্রিত রুনা লায়লা, শান, অলকা ইয়াগনিক, সুনিধি চৌহান প্রমুখ। দশমীর দিন রবীন্দ্রসংগীত গাইবেন অভিজিৎ নিজেই। তিনি বলেন, ‘আমরা চাঁদা তুলি না। মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে যা দেয়, তা-ই নিই। কারণ, আমার পূজা “করপোরেট পূজা”। স্পনসর অনেক। সপ্তমী থেকে দশমী—চার দিন ভোগ হয়। প্রতিদিন ১৫ হাজার দর্শনার্থীর জন্য ভোগের ব্যবস্থা থাকছে।’
১৪ বছর ধরে মুম্বাইয়ে আছেন বিপাশা বসু। কলকাতার দুর্গাপূজার মজা প্রায় ভুলে গেলেও মুম্বাইয়ের পূজা তিনি কখনোই মিস করতে চান না। বিপাশা বলেন, ‘মুম্বাইয়ে আমি বান্দ্রা ন্যাশনাল কলেজের দুর্গাপূজায় যাই। অঞ্জলি দিই, ভোগ খাই। একেকটা শহরে দুর্গাপূজার মজা একেক রকম। তবে ঠাকুর দেখা, অঞ্জলি দেওয়া, ভোগ খাওয়ার সময়ের ভালো লাগার অনুভূতিটা কিন্তু সব খানে এক। পূজার সময় বাইরের সব আত্মীয়স্বজন, যতই কাজ থাকুক, একসঙ্গে জড়ো হন। ছোটবেলা থেকেই বাড়িতে পূজার সময় নাচ-গান হয়। আমার জেঠুর নাতনি ছোট্ট ছোট্ট হাত ঘুরিয়ে “গ্রামছাড়া ওই রাঙা মাটির পথ” গেয়ে নাচে, আমরা সবাই হাততালি দিয়ে কোরাস গাই। আমিও নাচি। কারণ, যদি কোনো অজুহাত দিই, তবে এই আনন্দের হাটে আমিই ব্রাত্য হয়ে থাকব। হইহুল্লোড়ে চারটি দিন কখন যে কেটে যায়...বিসর্জনের দিন কান্না পায়, খুব।’ কণ্ঠতারকা শ্রেয়া ঘোষালের কাছে দুর্গাপূজা মানে ছুটির হাওয়া। অষ্টমীর অঞ্জলি। মায়ের কাছ থেকে সালোয়ার আর শাড়ি পাওয়া। শ্রেয়া বলেন, ‘ছোটবেলায় চার-পাঁচ বছর বয়সে রাজস্থানের কোটা থেকে একটু দূরে রাওয়াতভাটায় পূজা কাটাতাম। পাঁচ বছর বয়সে প্রথম পূজায় গান গেয়েছিলাম। এখন আমার ঠিকানা চেম্বুর, মুম্বাই। তবে ঠিকানা বদলালেও স্বভাব পাল্টায়নি। এখনো দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে যাই। মা-বাবা এবারও একটা থ্রি-পিস এবং শাড়ি দিয়েছেন। পূজায় পরব।’ কণ্ঠতারকা শান্তনু মুখার্জি (শান) বলেন, ‘আমি যখন খুবই ছোট, তখন মুম্বাইয়ে মাত্র দুটো দুর্গাপূজা হতো। একটা বান্দ্রায়, নতুন পল্লির পূজা; অন্যটা দাদারে, বেঙ্গল ক্লাবের পূজা। পূজায় আমাদের নতুন জামাকাপড় হতো। আমি আর দিদি (সাগরিকা) প্যান্ডেলে গিয়ে বসে থাকতাম। ঠাকুর দেখতাম। একবার দুর্গাপূজায় লাল কুঠি ছবিটা দেখেছিলাম। এখনো কানে বাজে কিশোরকুমারের সেই গান, “কারও কেউ নই তো আমি, কেউ আমার নয়”।’ সংগীত পরিচালক প্রীতম এখনো রাত দুইটা-আড়াইটায় সপরিবারে বেরিয়ে পড়েন পূজার হুল্লোড়ে মেতে উঠতে। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে সপ্তমীর দিন নাগরদোলায় চড়তে যেতাম মেলায়। নামতেই চাইতাম না। শেষে নাগরদোলার মালিক প্রায়ই কোলে করে “বাবু, নেমে এসো” বলে নামিয়ে দিতেন। একবার ইচ্ছা হলো, রাহুল রায়ের মতো চুলের স্টাইল করব পূজায়। জেল তো ছিল না, তাই সারা চুলে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে একটা লাল শার্ট পরে ঘুরেছিলাম। পাড়ার দর্জিকে বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়ে বানিয়েছিলাম শার্টটা। আমি বড় হয়েছি এন্টালি পোস্ট অফিসের পাশে গোপ লেনে। সেখানেই ছিল আমাদের পাড়ার পূজা। সেই মহালয়ার কাকভোর থেকে আমার পূজা শুরু হতো। শুধু পূজার সময় একজন টিনের বাক্স করে শোনপাপড়ি নিয়ে বসত আমাদের প্যান্ডেলের পাশে। সারা দিন ধরে সেই শোনপাপড়ি খাওয়া চলত।’
মার্ডার ও কাইটস-এর পরিচালক অনুরাগ বসু বলেন, ‘নিজে একটু লাজুক প্রকৃতির ছিলাম বলে ইচ্ছা থাকলেও ঢাক বাজাতে পারতাম না। ছোটবেলায় হেঁটে অনেক ঠাকুর দেখেছি। কে হেঁটে কত বেশি ঠাকুর দেখতে পারে, তা দিয়েই মাপা হতো সাফল্যের হার। পূজার কদিন প্যান্ডেলে আড্ডা দিতাম। সুন্দরী মেয়ে দেখলে তাকানোটা আবশ্যিক ছিল। প্রেমে-ট্রেমে যে কখনো পড়তাম না, তা-ও নয়। তবে উল্টো দিক থেকে কখনোই সাড়া পাইনি।

সময় এখন সেলেনার

‘নিপাত যাক, নিপাত যাক, সেলেনা গোমেজ নিপাত যাক!’ খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, এমন ভীষণ কোপানলে পড়তে হয়েছিল ১৯ বছর বয়সী সেলেনা গোমেজকে! দোষ কী তাঁর? দোষ একটাই—তিনি কেন জাস্টিন বিবারের প্রেমিকা! বিবার আমাদের। দুনিয়ার বিবারভক্তদের এমন পাগলামি দেখে প্রথম প্রথম চটেই গিয়েছিলেন সেলেনা। সংবাদমাধ্যমের সামনে ঝেড়েছিলেন তীব্র ক্ষোভ। বলা বাহুল্য, ফলাফল হয়েছিল আরও খারাপ। অসংখ্য টিনএজ তরুণীর আকথা-কুকথা হজম করেছে তাঁর কান। তাই একসময় পাসওয়ার্ড দিয়ে লক করে রেখেছিলেন নিজের মুখ। অকাল বর্ষার মতো বিক্ষোভের জল নেমে গিয়েছিল হঠাৎ করেই। অনেকেই ভেবেছিলেন, বিবারের এমন পাগলা ভক্তদের কারণে হয়তো বা সেলেনার উঠতি জনপ্রিয়তার চারাটা আর বাড়বে না। কিন্তু সময়মতো মুখে তালা মারার ওই সিদ্ধান্তের ফলেই ঘটনা অন্যদিকে বাঁক নিল। ঠিকই সেলেনার জনপ্রিয়তার ডালপালা মেলল তরতর করে। সেটার প্রমাণ মেলে এই টিন তারকার টুইটার অ্যাকাউন্টটি দেখলেই। সেখানে এখন প্রায় ছয় মিলিয়নের বেশি মানুষ তাঁকে ফলো করছে।
কেবল টুইটার দিয়েই তো আর জনপ্রিয়তা বা প্রতিভার সঠিক মূল্যায়ন হয় না। এত অল্প সময়ে দুনিয়ার আনাচ-কানাচে নিজের নামটি ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে সেলেনার পরিশ্রমই সবকিছু। জন্ম ১৯৯২ সালের ২২ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের গ্র্যান্ড প্রেইরিতে। মা-বাবা দুজনই ছিলেন অভিনয়শিল্পী। মঞ্চে কাজ করতেন তাঁরা। তাই মাত্র সাত বছর বয়সে দুনিয়াব্যাপী প্রচারিত ‘বার্নি অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে তাঁকে আবিষ্কার করা গিয়েছিল সাবলীল খুদে অভিনয়শিল্পী হিসেবে। সেই ছেলেবেলার ওই মজার অনুষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা নিয়ে সেলেনা বললেন, ‘আমরা প্রায় ১৪০০ বাচ্চা গিয়েছিলাম অডিশন দিতে। কাকে নেয়, কাকে নেয়? সবশেষে দেখলাম, আমি আছি সেই তালিকায়! কী যে মজার স্মৃতি সেটা, ভাবলে এখনো ভালো লাগে!’ বার্নি সিরিজ শেষ হলে ডিজনি চ্যানেলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন সেলেনা। এভাবেই ২০০৩ সালে নাম লেখানস্পাই কিডস থ্রিডি: গেম ওভার ছবিটিতে। এরপর এই টিন তারকা ২০০৯ সাল পর্যন্ত অভিনয় করেছেন আরও চারটি ছবি ও চারটি টিভি অনুষ্ঠানে। বাজিমাত করলেন ওই একই বছরে ডিজনি চ্যানেলের উইজার্ডস অব ওয়েভারলি প্লেস: দ্য মুভিতে অ্যালেক্স রুশো চরিত্রে অভিনয় করে। ছবিটিতে চমৎকার অভিনয় করে ঘরের শোকেসে সাজিয়েছিলেন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাওয়ার্ডও। আর ডিজনি চ্যানেলে প্রচারিত ওই একই নামের টিভি সিরিজটি অ্যামি অ্যাওয়ার্ডও জিতেছিল ২০০৯ সালে। এ ছাড়া এ পর্যন্ত সেলেনা অভিনীত উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর নাম বললে বলা যায়—অ্যানাদার সিনড্রেলা স্টোরি, প্রিন্সেস প্রোটেকশন প্রোগ্রাম এবং সাম্প্রতিক সময়ের র‌্যামোনা অ্যান্ড বিজাস ছবিগুলোর কথা।
‘সব সময় চাইতাম আমি গান করব। তবে একা নয়, একটা ব্যান্ড দল নিয়ে। গানগুলো বাচ্চাকাচ্চা আর মা-বাবারা—সবাই শুনবে, আনন্দে লাফ-ঝাঁপ দেবে, এটা ভাবতেই ভালো লাগত আমার।’ কয়েক দিন আগে এক সাক্ষাৎকারে সংগীত নিয়ে নিজের ভাবনার কথা এভাবেই বলেছিলেন সেলেনা। স্বপ্ন তাঁর সত্যি হয়েছিল ২০০৯ সালে এসে। ‘সেলেনা গোমেজ অ্যান্ড দ্য সিন’ নামের এক ব্যান্ড দলের আত্মপ্রকাশ হয় সে বছর তাঁরই নেতৃত্বে। দলটির প্রথম অ্যালবাম বাজারে আসে একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বরে। এর নাম ছিল কিস অ্যান্ড টেল। পরের বছর রেকর্ডিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা অ্যালবামটিকে গোল্ড সার্টিফিকেট দেয়। এর কয়েক দিন পরই ওই অ্যালবামে সেলেনার গাওয়া ‘ন্যাচারালি’ গানটি পায় প্লাটিনাম সার্টিফিকেট। আর শ্রোতাদের কাছ থেকে যে বিপুল সাড়া পেয়েছিল তাঁর ব্যান্ড দলটি, তা তো না বললেও চলে।
কেবল অভিনয়, গান নিয়েই ব্যস্ত নেই সেলেনা। ব্যবসার দুনিয়াতেও বেশ নামডাক ছড়িয়ে পড়ছে তাঁর। ‘ড্রিম আউট লাউড বাই সেলেনা’ নামের এক ফ্যাশন লাইনও দাঁড়িয়ে গেছে এরই মধ্যে। আসছে তাঁর ব্র্যান্ডের সুগন্ধি। আর এমটিভি ঘোষণা দিয়েছে, আর কদিন বাদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তাদের ইউরোপিয়ান মিউজিক অ্যাওয়ার্ড ২০১১। সেলেনা গোমেজ হচ্ছেন সেটির উপস্থাপক। মজার ব্যাপার হলো, এই অ্যাওয়ার্ডের বিগেস্ট ফ্যানস ক্যাটাগরির মনোনয়নের তালিকায় নাম আছে তাঁরও। আরও মজার ব্যাপার হলো, একই তালিকায় আছে প্রেমিক জাস্টিন বিবারের নামটিও। দেখা যাক, শেষমেশ কার ভক্তের পাল্লা বেশি হয়!

পূজায়ও ব্যস্ত টালিগঞ্জের নায়িকারা

টালিগঞ্জের রুপালি পর্দার কন্যারা পূজার সময়টাতে দিগ্বিদিক ছুটে বেড়াচ্ছেন। এ সময়ে নেই শুটিং, নেই ডাবিং, তাতে কী? প্রতিটি দিনই তারকাদের কাছে যেন খুবই মূল্যবান। তাই শুটিং না হওয়ার ক্ষতিটা পুষিয়ে নিচ্ছেন এ মণ্ডপ-ও মণ্ডপে গিয়ে এবং ভক্তদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনুষ্ঠান করে। তাতেই তো কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। অবশ্য এ নিয়ে তারকাদের কোনো সুনির্দিষ্ট চাহিদা নেই। যে যা দেয়, তাতেই খুশি। এই যেমন ঋতুপর্ণার কথাই ধরা যাক না। সপ্তমীর দিন থেকেই শুরু হবে সফর। যেতে হবে মুম্বাইতে। তাঁকে সেখানে গিয়ে ভোগ দিতে হবে এবং নিতে হবে। অষ্টমীর দিনই আবার আসতে হবে কলকাতায়। এবারের দশমীর দিনে জামাই সঞ্জয়ের জন্মদিন। তাই দশমীর দিনে কোনো কাজ না রেখে অষ্টমীতে রাতে কলকাতা শহরের পাশেই তিনটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হবে তাঁকে। ‘রাত যত গভীর হবে, ততই একেকটি অনুষ্ঠানে মানুষের ঢল নামবে। ভোরের দিকে বাড়ি ফেরা।’ বলছিলেন ঋতু।
নবমীর দিনে দুপুরের পর থেকে অনুষ্ঠানে যাওয়া আর একই সঙ্গে ঠাকুর দেখা। বলা যায়, রথ দেখা ও কলা বেচা দুটো একসঙ্গেই সারবেন তিনি। সন্ধ্যার পরে জামাই আর ছেলেকে নিয়ে দেবী দুর্গার দর্শনে বেরোবেন ঋতুপর্ণা। স্বস্তিকা পূজাকে কেন্দ্র করে নতুন তথ্য দিয়েছেন। পূজা মানেই সেরা দিন হলো নবমীর দিন। এ দিন যত পারো মাস্তি করো, ফ্লার্ট করো, যতটা সম্ভব নিজেকে আকর্ষণীয় করে সাজিয়ে তোলো এবং আনন্দ করো। জানালেন, কলকাতা শহরে খুব ধুম পড়ে যায়, তাই বাইরে বেরোনোর খুব একটা জায়গা হয় না। তবে বালিগঞ্জের একটি প্যান্ডেলে তাঁর পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান রয়েছে। সেখানেই তিনি নবমীর দিনে রাতভর অনুষ্ঠান করবেন। স্থানীয় মানুষজন এ অনুষ্ঠানের আয়োজক হলেও বন্ধুরা উপস্থিত হয় এ অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠান শেষে বন্ধুরা একটি পার্টির আয়োজন করে। তারপর ঠাকুর দর্শন করতে হবে তাঁকে। দশমীর দিনে কলকাতার বাইরে যেতে হবে অন্য একটি শোতে। বললেন, ‘এই একটা সময়, যখন আমরা শো বা অনুষ্ঠান করি, তখন নিজেকে উজাড় করে দিতে ইচ্ছা করে। আনন্দে এতটাই আত্মহারা হয়ে যাই যে তখন আসলে আমি ভুলেই যাই আমি স্বস্তিকা।’
কোয়েল মল্লিকের পূজার সময়টা কাটে দুভাবে। এক. ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান শেষ করে পূজা দেওয়া। শাঁখা তো তাঁকে বাজাতেই হবে। বাবা কাঁসার ঘণ্টা বাজাবেন, এই আবহ তৈরি হলেই কেবল কোয়েল মনে করেন, তিনি ঠাকুরের কাছে যা চাইবেন, তা-ই পাবেন। দুই. তিনি পূজার সময় দু-একটি শো করেন। এবারও কলকাতার বাইরে একটি শোতে যাওয়ার কথা চলছে। ‘আসলে শো মানে তো দর্শক আর ভক্তদের সঙ্গে পূজার সময় শুভেচ্ছা বিনিময় করা, তাদের একটু আনন্দ দেওয়া। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ঠাকুরের দর্শন পাওয়া। এর মধ্যে অন্য রকম এক আনন্দ আছে। সেই আনন্দে আমরা সবাই শামিল হই।’ বললেন তিনি।
শ্রাবন্তীর পূজাটা হবে একদিকে আনন্দের, অন্যদিকে টেনশনের। ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দেরে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে এ পূজাতেই। ফলে আনন্দ আর টেনশন দুটো নিয়েই আছেন তিনি। বললেন, ‘ময়ূরকণ্ঠী সাজে সাজব। সিনেমা হলের খোঁজ নেব। তবে বিভিন্ন স্থানে যখন যাব, তখন জানার চেষ্টা করব যে দর্শক ছবিটিকে কীভাবে নিচ্ছে। যদি ভালোভাবে নেয়, তবে তো পূজার আনন্দের সঙ্গে বোনাস যোগ হবে। আর যেসব অনুষ্ঠানে যোগ দেব, সেটিও হবে অনেক বেশি প্রাণচঞ্চল। পাশাপাশি এ সময়ে আমি খাওয়াদাওয়াটা করি গা ছেড়ে। যেখানে যাই অনুষ্ঠানে বা মন্দিরে, সেখানেই ভাগ নিই, বেগুন ভাজা, পোলাও খাই, খেতেও দারুণ লাগে।’ বললেন তিনি।