Friday, August 21, 2026

সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের প্ল্যাটফরমে পিয়া বিপাশা

লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার দিয়ে মিডিয়ায় যাত্রা শুরু পিয়া বিপাশার। যদিও সেরা দশে গিয়ে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। শুরু করেন মডেলিং। মিউজিক ভিডিওতেও কাজ করেছেন। পাশাপাশি নাটকে অভিনয় শুরু করেন। ‘রুদ্র দ্য গ্যাংস্টার’ নামের একটি সিনেমায়ও কাজ করেন।

তবে হঠাৎ করেই ছয় বছর আগে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান পিয়া বিপাশা। তার আগে অবশ্য স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তার। একমাত্র মেয়েকে নিয়ে নিউ ইয়র্কে বসবাস শুরু করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিকের সঙ্গে তার প্রেম তৈরি হয়। তারপর তারা বিয়ে করেন। তবে পিয়া বিপাশার গল্প যেন নাটকের মতোই নাটকীয়। নিউ ইয়র্কে বিপাশা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মডেল হিসেবে কাজ করেন। ব্যাপক খোলামেলা রূপে ফটোশুটে অংশ নেন। সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিয়ে তুমুল সমালোচনায় পড়েন। কারণ দেশের পিয়া বিপাশার বিদেশে গিয়ে এতটা বদল মেনে নিতে পারেননি নেটিজেনরা। এদিকে, মডেলিং শুরুর পর নিউ ইয়র্কে একটি প্রাপ্তবয়স্কদের প্ল্যাটফরমে নিজেকে যুক্ত করেন পিয়া। সেখানে বেশ কিছু কনটেন্টে অংশ নেন তিনি। বিপরীতে পান বড় অঙ্কের সম্মানী। যদিও তীব্র সমালোচনায় পড়ে যান সে সময়। নেটিজেনদের আক্রমণের শিকার হন। অনেকে পিয়া বিপাশাকে পর্নোতারকা আখ্যা দেন।

যদিও সেই সমালোচনা মেনে নিয়েছেন তিনি। এখন মডেলিং ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত পিয়া বিপাশা। গত ছয় বছরে নিউ ইয়র্কে নিজের সব স্বপ্নই পূরণ করেছেন এই আলোচিত মডেল। তিনি জানান, এখন আর কোনো স্বপ্ন নেই তার। গত ছয় বছরে সবই অর্জন করেছেন। অর্থ, সুন্দর জীবন, ভালো স্বামীÑ সবই তার হয়েছে। এভাবেই জীবনটা উপভোগ করে যেতে চান বলে জানালেন পিয়া বিপাশা।

সুন্দরী প্রতিযোগিতা থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের প্ল্যাটফরমে পিয়া বিপাশা

ইসরাইলি সেনারাই গুলি করেই হত্যা করেছিলো হিন্দ রজবকে, বাঁচাতে আসা অ্যাম্বুলেন্সেও করা হয় হামলা

গাজায় ২০২৪ সালে পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজব ও তার পরিবারের ছয় সদস্যকে বহনকারী গাড়িতে সেনাদের গুলি চালানোর কথা অবশেষে স্বীকার করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। বুধবার এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এ ঘটনায় মিলিটারি পুলিশের মাধ্যমে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে গার্ডিয়ান।

২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি গাজা সিটিতে ইসরাইলি আক্রমণ থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার সময় শিশু হিন্দের পরিবারের গাড়িটি হামলার মুখে পড়ে। গাড়ির ভেতর আটকা পড়ে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের সাথে টানা তিন ঘণ্টা ফোনে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল অবুঝ শিশু হিন্দ। তাকে উদ্ধারে যাওয়া একটি অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালানো হয়, যাতে দুজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হন।

এতদিন ওই এলাকায় সেনা উপস্থিতির কথা অস্বীকার করে আসলেও স্বাধীন তদন্তে ইসরাইলি ট্যাংকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে। দীর্ঘ আড়াই বছর পর বুধবার ইসরাইলি বাহিনী স্বীকার করে যে, তাদের সেনারাই গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। হিন্দ রজবের ঘটনা ছাড়াও দক্ষিণ গাজার রাফায় ২০২৫ সালের মার্চে ১৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও ত্রাণকর্মীকে হত্যার ঘটনায় ফৌজদারি তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

হামলার পর বুলডোজার দিয়ে মরদেহ ও গাড়ি গণকবরে মাটিচাপা দিয়েছিল সেনারা। তবে ২০২৪ সালের এপ্রিলে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের গাড়িবহরে বিমান হামলায় বিদেশি ত্রাণকর্মী নিহতের ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা না নেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইসরাইল। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের হত্যার ঘটনায় ইসরাইলি বাহিনীর এমন তদন্ত ঘোষণার নজির থাকলেও দোষীদের শেষ পর্যন্ত শাস্তির আওতায় আনা হয় না বললেই চলে।

ইসরাইলি সেনারাই গুলি করেই হত্যা করেছিলো হিন্দ রজবকে, বাঁচাতে আসা অ্যাম্বুলেন্সেও করা হয় হামলা

ইরানকে কোনঠাসা করার ট্রাম্পের পরিকল্পনা আটকে দিতে পারে চীন ও রাশিয়া

ইরানকে আর্থিক সুবিধা বা সহযোগিতা দিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তেহরানের বিরুদ্ধে একটি অর্থনৈতিক অভিযানের ডাক দিয়ে তিনি এই কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। ট্রাম্প নিজের বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়নে মার্কিন অর্থনৈতিক শক্তিকে ব্যবহারের এই নতুন চেষ্টা শুরু করেছেন। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার চীন ও রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব খাটানোর সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। রাশিয়া ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকায় তারা মার্কিন নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক কাঠামোর বাইরে থেকেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। অন্যদিকে চীন বারবার প্রমাণ করেছে যে, নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তারা মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না। কাতারের জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ জানান, ট্রাম্পের পক্ষে এই চাপ প্রয়োগের অভিযান কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন হবে। তিনি বলেন, ট্রাম্প এককভাবে এমন একটি সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন, যার জন্য ঐতিহাসিকভাবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যসহ চীন ও রাশিয়ার যৌথ বহুপাক্ষিক সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়।
ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে তার এই অর্থনৈতিক পদক্ষেপ হবে যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অভিযান।

তিনি জানান, তেল চোরাচালান, মুদ্রা বিনিময়, নগদ অর্থ স্থানান্তর, মুদ্রা রুপান্তর, ভুয়া কোম্পানি ও জাহাজের নিবন্ধনের মাধ্যমে যেসব দেশ ইরানকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করবে, তাদের ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে। এর আগে একই দিনে তেহরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ব্রান্ডেইস ইউনিভার্সিটির মধ্যপ্রাচ্য অর্থনীতি বিষয়ক অধ্যাপক নাদের হাবিবি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিতে যুক্তরাষ্ট্র জোরালোভাবে প্ররোচিত করেছে এবং ওয়াশিংটন এখন ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের ওপরও একই ধরনের চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে।

তবে চীন ও ইরানের বাণিজ্য সম্পর্কে বিঘ্ন ঘটানোর মার্কিন পরিকল্পনা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে। ২০২৫ সালে ইরানের রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশই কিনেছে চীন। এই তেল প্রক্রিয়াকরণ করা চীনের বেশিরভাগ শোধনাগার স্বাধীন এবং মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর তারা নির্ভরশীল নয়। এছাড়া ইরানি লেনদেন নিষ্পত্তির অভিযোগে চীনের প্রধান ব্যাংকগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় ধাক্কা দিতে পারে। চ্যাথাম হাউসের জ্যেষ্ঠ গবেষক ইউ জিয়ে জানান, ট্রাম্পের এই হুমকি ইরানের সাথে চীনের বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন আনবে না। তিনি উল্লেখ করেন, বেইজিং যেমন ওয়াশিংটনের সাথে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি বা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চায়, ট্রাম্পও চীনের সাথে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে আগ্রহী। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানান, নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ কোনো সমস্যার সমাধান করবে না। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পথেই এই সংকট সমাধানের আহ্বান জানান তিনি। আগামী মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ওয়াশিংটন সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্রও বেইজিংয়ের সাথে সম্পর্কের অবনতি চাইছে না।

অন্যদিকে রাশিয়ার সাথে ইরানের সমান্তরাল কৌশলগত সম্পর্ক ওয়াশিংটনের জন্য ভিন্ন একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। মস্কো ও তেহরান বহু বছর ধরেই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে বাণিজ্যিক ও সামরিক বন্ধন গড়ে তুলেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে দুই দেশ একটি ২০ বছর মেয়াদী অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার ফলে ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসেই তাদের বাণিজ্য বেড়ে ৪৮০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এমনকি কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে রাশিয়া ইরানকে ড্রোনের যন্ত্রাংশ, গোলাবারুদ ও টিএনটি সরবরাহ করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থ নীতির ধারাবাহিকতা বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। এদিকে ব্রিকস জোটের সদস্য হিসেবে ইরান বিকল্প অর্থনৈতিক পথের সন্ধান করছে। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মতি জানিয়েছেন, পশ্চিমা বাজারের বাইরে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করতে ইরান ব্রিকস নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে যোগ দেয়ার পরিকল্পনা করছে এবং জোটের দেশগুলোর নিজস্ব মুদ্রায় দ্বিপাক্ষিক লেনদেন বৃদ্ধির উদ্যোগ নিচ্ছে।

ইরানকে কোনঠাসা করার ট্রাম্পের পরিকল্পনা আটকে দিতে পারে চীন ও রাশিয়া

দুই দশক পর অধিকৃত পশ্চিম তীরের কাদিম বসতিতে ফিরল ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীরা

২০০৫ সালে খালি করে দেয়ার প্রায় দুই দশক পর অধিকৃত পশ্চিম তীরের কাদিম বসতিতে আবারও ফিরে এসেছে নতুন প্রজন্মের ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীরা। ইসরাইলের বর্তমান সরকারের মদদে তেল আবিব থেকে ত্রিশটি পরিবার সামরিক পাহারায় এই বসতিতে প্রবেশ করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দেশটির চরম ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ একে তাদের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন বলে দাবি করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

কাদিম সংলগ্ন এলাকার ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা জানান, বসতিস্থাপনকারীদের এই প্রত্যাবর্তনে তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। ইতোমধ্যে ফিলিস্তিনিদের বেশ কিছু দোকানপাট ও গাছপালা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এমেক দোতান নামের অপর একটি নতুন বসতির পাশের ফিলিস্তিনি বাসিন্দা সামের জাবের জানান, অস্ত্রধারী বসতিস্থাপনকারীরা গভীর রাতে তাদের ঘরে আলো ফেলে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং ছবি তুলছে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার সমালোচনা করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

২০০৫ সালে প্রত্যাহার পরিকল্পনার আওতায় কাদিমসহ চারটি বসতি খালি করার পর সেখানে ইসরাইলিদের প্রবেশের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, বর্তমান সরকার তা বাতিল করেছে। ২০২২ সালের শেষদিক থেকে পশ্চিম তীরজুড়ে শতাধিক নতুন বসতির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এছাড়া জেনিন শরণার্থী শিবিরের পাশে ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির পর প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনি জমিতে নতুন সামরিক ফাঁড়িও তৈরি করছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। জেনিনের গভর্নর সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই দখলদারিত্বের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি শহরগুলোকে বিভক্ত করার পাঁয়তারা চলছে।

দুই দশক পর অধিকৃত পশ্চিম তীরের কাদিম বসতিতে ফিরল ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীরা

ইরানের অর্থনীতি পঙ্গু করতে ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা: কতটা অবিচল থাকবেন তিনি?

সিএনএনের বিশ্লেষণঃ চরম অর্থনৈতিক অভিযানের হুমকি দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধকৌশল ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে রাজনৈতিক চাপ ও ব্যয় বাড়তে থাকলে তিনি এই সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত অবিচল থাকবেন নাকি পিছিয়ে যাবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বুধবার ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তবে এমন অঙ্গীকার এবারই প্রথম নয়। এর আগেও ট্রাম্প নানান কঠোর পদক্ষেপের কথা বলেছিলেন, যাতে তিনি শেষ পর্যন্ত অবিচল থাকেননি। তাই এবারের সিদ্ধান্ত তিনি কতদিন ধরে রাখেন সেটিই দেখার বিষয়।

বোমাবর্ষণ করে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে কিংবা সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে তাদের সাথে পারমাণবিক আলোচনায় বসতে ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্পের এই নতুন কৌশলকে নিজেদের মুখ রক্ষার একটি চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক মিত্রদের জানানো হয়েছে যে, ইরানের সাথে সব ধরনের আলোচনা বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি যাতে সম্পূর্ণ নতি স্বীকার করে, সেজন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক যুদ্ধের পথ বেছে নেয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থা ইরানকে যেকোনো ধরণের সুবিধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সাথে তেল চোরাচালান, অর্থ স্থানান্তর, ভুয়া কোম্পানি ও জাহাজের নিবন্ধনের মতো সমস্ত পথ অবিলম্বে বন্ধ করার তাগিদ দেন তিনি।

ইসরাইল ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্সের গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভাগের প্রাক্তন ইরান বিষয়ক প্রধান ড্যানিয়েল সিট্রিনোভিচ জানান, তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও ইরান ভেঙে পড়বে এমনটি ভাবা হবে চরম ভুল। আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার যে কৌশল তেহরান নিয়েছে, তা পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ নেই এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ইরানের মূল রাজনৈতিক অবস্থানের কোনো পরিবর্তন আসবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে হলে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত ধৈর্যের প্রয়োজন হবে। এছাড়া ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) রাজস্ব এবং আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সমন্বয়ে একটি বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ দরকার। হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো লুদোভিক হুড মনে করেন, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের উচিত ইরানের তেলের বড় ক্রেতা চীনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো। তবে আগামী সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে ওয়াশিংটন এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা, তা নিয়ে বড় সংশয় রয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই মাস আগে ইরানেরও পাল্টা জবাব দেয়ার রাজনৈতিক সুযোগ রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে নতুন ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে মার্কিন ভোটারদের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করতে পারে তেহরান। ডেমোক্রেট প্রতিনিধি জেমস ওয়াকিনশ এই বিষয়ে বলেন, তিনি এমন কোনো অর্থনৈতিক ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে আগ্রহী নন, যেখানে মার্কিন জনগণকে গ্যাস স্টেশন ও মুদি দোকানে এর চূড়ান্ত মূল্য দিতে হয়। ফলে ট্রাম্পের এই নতুন অর্থনৈতিক যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান আনবে, নাকি রাজনৈতিক চাপে তিনি পিছু হটবেন, তা এখনও একটি বড় প্রশ্ন।

ইরানের অর্থনীতি পঙ্গু করতে ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা: কতটা অবিচল থাকবেন তিনি?

শত ক্যানসার যোদ্ধা এক হলেন যুদ্ধজয়ের শক্তি নিয়ে by রাফিয়া আলম

প্রকাশ ২৭ নভেম্বর ২০২৫ঃ একদল প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ রংতুলি নিয়ে বসে ছবি আঁকছেন। তাঁরা পেশাদার শিল্পী নন। এটি কোনো সাজানো দৃশ্যও নয়। নিজের জীবনযুদ্ধের গল্পের উদ্‌যাপনেই সেদিন এমনভাবে এক হয়েছিলেন তাঁরা। ব্রেস্ট ক্যানসার সারভাইভারস মিট ২০২৫-এর সেই আয়োজন হয়েছিল রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মিলনায়তনে।

ক্যানসার শব্দটার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আতঙ্ক। নিজের কিংবা প্রিয়জনের ক্যানসার হলে তা মেনে নেওয়াই দুরূহ এক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তবে সেই সত্যকে মেনে নিয়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ীও হন বহু মানুষ। তেমনই ১০০ যোদ্ধা সেই সকালে হাজির হয়েছিলেন স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মিলনায়তনে। নিবন্ধন পর্ব শেষে তাঁরা যোগ দিয়েছিলেন মূল অনুষ্ঠানে।

সূচনায় নতুন উদ্যোগের ঘোষণা

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন হাসপাতালটির চিফ অপারেটিং অফিসার মো. এসাম ইবনে ইউসুফ সিদ্দিক। সূচনা বক্তব্যে তিনি জানান, ক্যানসারজয়ী একজন ব্যক্তির (ক্যানসার সারভাইভার) প্রতিবছর নিয়মিত যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর প্রয়োজন হয়। আজীবন বিশেষ মূল্যে সেসব করানোর সুযোগ থাকবে স্কয়ার হাসপাতালে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তাঁদের এ উদ্যোগ।

বাস্তব যখন ভীষণ কঠিন

সূচনা পর্বের পর শুরু হয় প্যানেল ডিসকাশন। স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও শল্যচিকিৎসকেরা অংশ নেন এ আলোচনা পর্বে। ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যে শারীরিক ও মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যান, সে সম্পর্কে আলোচনা করেন তাঁরা।

সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের সামাজিক পরিসরে ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের রোল মডেল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, তাঁরাই হয়ে উঠতে পারেন বহু মানুষের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা।

এ আয়োজনে নিজের জীবনের গল্প সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন ক্যানসারজয়ী প্রণতি রানী দাস। ২০২০ সালে যখন করোনা অতিমারির কারণে কোনো হাসপাতালে সরাসরি চিকিৎসক দেখানোর সুযোগ পাচ্ছিলেন না, তখন স্কয়ার হাসপাতালেই সেই সেবা পেয়েছিলেন বলে জানালেন।

প্রণতি বললেন, ‘স্কয়ার হাসপাতালে বিশ্বমানের সেবা পেয়েছি। ক্যানসার ধরা পড়ার পরও মনোবল হারাইনি। বিশ্বাস ছিল, আমি হারব না। কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি নিয়েও অফিস করেছি। আমার স্বামীও আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে একটা মিনিট দেরি করেননি।’

ক্যানসারে আক্রান্ত মায়ের জন্য ১০ বছর ধরে লড়ছেন সামিয়া হাসান। তাঁর মতে, ক্যানসারে আক্রান্ত একজন রোগীর স্বজনের কখনো ছুটি হয় না। এই স্বজনদের লড়াই চলে প্রতিনিয়ত। ১০ বছরের এ পথচলায় স্কয়ার হাসপাতাল তাঁর ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ হয়ে উঠেছে বলেই জানান তিনি।

ভিন্নধর্মী আয়োজন

যোগব্যায়াম, চিত্রকর্ম আর সুরের মাধ্যমে সুস্থতার চর্চার আয়োজন ছিল অনুষ্ঠানের বাকি অংশে। যোগব্যায়াম ও মিউজিক থেরাপির দায়িত্বে ছিলেন যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক কুশল রায় ও তাঁর সহকারীরা। তাঁর নির্দেশনায় যোগব্যায়ামে অংশ নেন ক্যানসারজয়ীরা। তাঁর সহকারীরা সঠিকভাবে যোগব্যায়ামের ভঙ্গিগুলো শিখতে সাহায্য করছিলেন তাঁদের।

সবাই মিলে সুস্থতার এ উদ্যোগে অংশ নেওয়া বেশ ভিন্নধর্মী বিষয়ই বটে। চিত্রশিল্পী মেগান এডওয়ার্ডের তত্ত্বাবধানে ‘গারডেন অব হিলিং’ থিমে ছবি আঁকছিলেন ক্যানসারজয়ীরা। তাঁদের প্রতি মেগান এডওয়ার্ডের নির্দেশনা ছিল, নিজের জীবনের বিজয়ের কঠিন গল্পটাকে একটা বাগান হিসেবে ফুটিয়ে তোলার। নিজেকে একটা বীজ হিসেবে কল্পনা করতে বলেছিলেন তিনি। সেই থিম নিয়েই নিজেদের মনের ভাব ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলছিলেন এই লড়াকু মানুষেরা।

ব্রেস্ট ক্যানসার সারভাইভারস মিট ২০২৫-এ যোগব্যায়ামে অংশ নেন ক্যানসারজয়ীরা
ব্রেস্ট ক্যানসার সারভাইভারস মিট ২০২৫-এ যোগব্যায়ামে অংশ নেন ক্যানসারজয়ীরা। ছবি: স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের সৌজন্যে

বাঙালিকন্যাকে বিগ বসে আনতে মোটা অঙ্কের প্রস্তাব

আবারও পর্দায় ফিরছে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’। ৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা ‘বিগ বস’-এর ২০তম সিজন। বরাবরের মতো এবারও সঞ্চালনায় থাকবেন বলিউড ভাইজান সালমান খান। নতুন পর্বের প্রতিযোগীদের তালিকা নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। কারা থাকছেন এবার বিগ বসের ঘরে? সেই সম্ভাব্য তালিকায় এবার নাম উঠেছে ‘নাগিন’ খ্যাত অভিনেত্রী বাঙালিকন্যা মৌনী রায়ের। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।

বিবিটকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘বিগ বস ২০’-এ অংশ নেওয়ার জন্য মৌনী রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন অনুষ্ঠানের নির্মাতারা। তাকে দেওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিকের প্রস্তাব। এই লোভনীয় প্রস্তাবে মৌনী সম্মতি দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

এদিকে মৌনীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। কেউ কেউ মনে করছেন, মৌনীর মতো বড় তারকার ‘বিগ বস’-এ এলে অনুষ্ঠানটির আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দেবে।

মৌনী ছাড়াও সম্ভাব্য প্রতিযোগীদের তালিকায় মাহি ভিজ, গীতা বসরা, সুনীল পাল ও শোয়িক চক্রবর্তীর নাম শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া এলনাজ নোরৌজি ও মেরি কমের সঙ্গেও নির্মাতারা যোগাযোগ করেছেন বলে খবর।

এদিকে সম্প্রতি বিগ বসের নতুন সিজনের প্রোমো প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ‘এক্সট্রা জীবন দান’ এবং সালমান খানের নিজস্ব ভঙ্গিতে ‘তথাস্তু’ শব্দটি ব্যবহার করে নতুন মৌসুমের বিশেষ চমকের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

‘বিগ বস ২০’ বিষয়ে সালমান খান জানিয়েছেন, এবার শুধু খেলা নয়, খেলার ধরনও বদলাবে। ‘জীবন দান’ শুনতে যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বিষয়টি ততটা সরল নয় বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন ‘টাইগার’ খ্যাত এই অভিনেতা।

কীভাবে আসন্ন ‘বিগ বস ২০’-এ জীবন দানের এই নতুন নিয়ম কাজ করবে, তা জানা যাবে অনুষ্ঠান শুরু হলে।

বাঙালিকন্যা মৌনী রায়। ছবি: সংগৃহীত
বাঙালিকন্যা মৌনী রায়। ছবি: সংগৃহীত

সবচেয়ে বেশি ট্রল হওয়া মানুষ আমিই: রিয়া চক্রবর্তী

অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের আকস্মিক প্রয়াণের পর চরম অর্থনৈতিক, আইনি ও মানসিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয় বলিউড অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী এবং তার পরিবারকে। আইনি লড়াই শেষে সম্প্রতি সিবিআই সুশান্তের মৃত্যু মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তাকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। দীর্ঘ সময় পার করে জনপ্রিয় ইউটিউব ব্লগে হাজির হয়ে জীবনের সেই চরম অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। এসময় রিয়া তার ভেতরে থাকা ক্ষোভ উগড়ে দিলেন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানান, ২০২০ সালে মাদক সংক্রান্ত মামলায় রিয়া ও তার ভাই শৌভিককে গ্রেপ্তারের পর তাদের জীবন সম্পূর্ণ ওলটপালট হয়ে যায়। জেল থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর চারপাশের মানুষ এবং গোটা সমাজ তাদের এমনভাবে বয়কট করেছিল যে, স্বাভাবিক জীবনে ফেরাই কঠিন হয়ে উঠেছিল। দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল জীবন।

সামাজিক ট্রলিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার সময়ের কথা স্মরণ করে রিয়া আরও বলেন, ‘দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ট্রল হওয়া মানুষ সম্ভবত আমিই। আপনারা সবাই জানেন এর পেছনে কী কারণ রয়েছে। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, আমি সহজে কাউকে বিশ্বাস বা প্রভাব বিস্তার করতে দিই না।’

তবে সব ঝড়ঝাপ্টা ও সমাজের তীব্র সমালোচনা পেরিয়ে ভাই-বোন মিলে নিজেদের ক্যারিয়ার নতুন করে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। বিনোদন জগৎ এবং করপোরেট জীবনের দরজা বন্ধ দেখে তারা নিজেদের উদ্যোগেই জীবনের ‘চ্যাপ্টার টু’ বা দ্বিতীয় অধ্যায় নামে একটি যৌথ চ্যাট শো শুরু করেন।

কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ থেকে মুক্ত হয়ে নতুন করে জীবন গুছিয়ে তোলার পথটি রিয়া ও শৌভিকের জন্য মোটেই মসৃণ ছিল না। এ বিষয়ে রিয়া বলেন, এত কষ্টের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় এখন আবার নতুন করে কোনো দুর্যোগের ভয় কাজ করে।

সমাজের কটূক্তি জয় করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো যে কতটা কঠিন, বিনোদন জগতের এই খবরের আড়ালে থাকা সত্যিটি তা আরও একবার প্রকাশ্যে এনে দিল।

সূত্র: পিটিসি পাঞ্জাব 

রিয়া চক্রবর্তী। ছবি: সংগৃহীত
রিয়া চক্রবর্তী। ছবি: সংগৃহীত

আমার এখনো বিয়ে হয়নি: পূজা চেরি

বিয়ে ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়িকা পূজা চেরি। তিনি জানিয়েছেন, তার বিয়ে এখনো হয়নি। বিয়ে সম্পন্ন হলে নিজেই তা প্রকাশ্যে সবাইকে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) গভীর রাতে এক ফেসবুক পোস্টে এ কথা বলেন পূজা চেরি।

বিবৃতিতে পূজা বলেন, ‘গত কিছুদিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমার বিয়ে এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একের পর এক ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। কখনো অমুক পেশার কারও সঙ্গে, কখনো অন্য কারও সঙ্গে নাম জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিউজ তৈরি করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত বিব্রতকর এবং দুঃখজনক।’

পূজা জানান, তিনি আগেই একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে তিনি এনগেজড এবং পারিবারিকভাবে তার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে তিনি নিজেই আনন্দের সঙ্গে বিষয়টি প্রকাশ্যে জানাবেন বলেও জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আগেই একটি সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছিলাম—আমি এনগেজড এবং পারিবারিকভাবেই আমার বিয়ে ঠিক করা হয়েছে।’

বর্তমানে নিজেকে কিছুটা সময় দেওয়ার পাশাপাশি নতুন কাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান পূজা। এ কারণেই তাকে ক্যামেরার সামনে তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে তথ্য যাচাই না করে বারবার তাকে জড়িয়ে অসত্য সংবাদ প্রকাশের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়, ‘বারবার বলতে চাই, আমার এখনও বিয়ে হয়নি। যখন হবে, আপনারাই প্রথম জানতে পারবেন।’

নিজের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সুনাম রক্ষার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে পূজা বলেন, ‘সবাইকে স্মরণে করিয়ে দিতে চাই, অনুমতি ছাড়া কারো ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা এবং কোনো নাগরিককে নিয়ে ভিত্তিহীন বা মিথ্যা তথ্য প্রচার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।’

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৪৩ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩-এর ২৫ ধারার কথাও উল্লেখ করে ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে মিথ্যা, অপমানজনক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিষয়ে সতর্ক করেন।

পূজা বলেন, তিনি সবসময় দর্শকদের ভালোবাসা এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতাকে সম্মান করে এসেছেন। তবে তার নীরবতাকে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা হলে নিজের আইনি অধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশনের আহ্বান জানিয়ে পূজা চেরি অসত্য সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। 

পূজা চেরি। ছবি : ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া
পূজা চেরি। ছবি : ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া

ত্রাণকর্মী হত্যার তদন্ত বন্ধ, ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব পোল্যান্ডের

গাজায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের ত্রাণবাহী গাড়িবহরে হামলায় সাত বিদেশি ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় ইসরায়েলের তদন্ত বন্ধের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়েছে পোল্যান্ড। এ ঘটনায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়ারশতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। শুক্রবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি উদ্ধৃত করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল গাজায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের ত্রাণবাহী গাড়িবহরে ইসরায়েলি হামলায় নিহত সাতজনের মধ্যে পোলিশ নাগরিক দামিয়ান সোবলও ছিলেন। ওই হামলার তদন্ত বন্ধের ইসরায়েলি সিদ্ধান্তে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে ওয়ারশ।

বিবৃতিতে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপের নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান করে হামলার কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দাবি করেছে পোল্যান্ড।

মন্ত্রণালয় জানায়, সোবলের নিজ শহর প্রজেমিশলের আঞ্চলিক প্রসিকিউটর কার্যালয়ও ঘটনাটি তদন্ত করছে। পোল্যান্ড আশা করছে, দেশটির তদন্তকারীদের চাওয়া সব ধরনের ব্যাখ্যা ও প্রমাণ ইসরায়েল সরবরাহ করবে।

পোলিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ত্রাণকর্মীদের নিহত হওয়ার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করতে হবে। একই সঙ্গে হামলার জন্য দায়ীদের আইনি ও নৈতিক জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো প্রচেষ্টা তারা মেনে নেবে না।

২০২৪ সালের ওই হামলায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের সাত কর্মী নিহত হন। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।

সূত্র: আলজাজিরা 

২০২৪ সালের এপ্রিলে গাজায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের যে সাত সাহায্যকর্মী নিহত হন তাদের মধ্যে একজন পোলিশ নাগরিক ছিলেন। ছবি: এএফপি
২০২৪ সালের এপ্রিলে গাজায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের যে সাত সাহায্যকর্মী নিহত হন তাদের মধ্যে একজন পোলিশ নাগরিক ছিলেন। ছবি: এএফপি

স্বৈরাচারের পরিণতি বড়ই নির্মম by জালাল উদ্দিন ওমর

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ক্ষমতা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ৮ ডিসেম্বর সিরিয়ার ক্ষমতা থেকে প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদ পালিয়েছেন। এ রকম ঘটনা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে ঘটেছে। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষ এবং ২০২১ সালে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি পালিয়ে যান। ২০১১ সালে তিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট বেনআলি পালিয়ে যান এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক ক্ষমতাচ্যুত হন। ২০১২ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহ, ১৯৭৯ সালে ইরানের রেজা শাহ পাহলভি এবং ১৯৮৬ সালে ফিলিপাইনের ফার্ডিনান্ড মার্কোস পালিয়ে যান। জনতার আন্দোলনে এরা ক্ষমতাচ্যুত হয়। এদের সবারই পরিণতি অত্যন্ত নির্মম, অপমানজনক এবং শোচনীয়। এদের কেউ কেউ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের ভোটে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেও পরে জালিম এবং স্বৈরশাসকে পরিণত হয়েছেন। ভোটাধিকার হরণ করে এবং জনগণের ওপর জুলুম নির্যাতন চালিয়ে এরা আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছেন। কিন্তু কারোই শেষ রক্ষা হয়নি। জুলুম নির্যাতন এবং দমননীতি চালিয়ে ক্ষমতাকে কিছুদিনের জন্য দীর্ঘায়িত করা সম্ভব হলেও, শেষে জনতার প্রতিবাদ-প্রতিরোধে চরম অপমানের সঙ্গে বিদায় নিয়েছেন। কারণ স্বৈরাচারের পরিণতি কখনো ভালো হয় না। এটি ইতিহাসের অনিবার্য সত্য এবং নির্মম বাস্তবতা।

পৃথিবীতে আমরা সবাই ক্ষণিকের অতিথি। নির্দিষ্ট সময় পর মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে পৃথিবী ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে যায়। অর্থ, বিত্ত, আভিজাত্য, ক্ষমতা এবং প্রভাব প্রতিপত্তি কোনোটাই মানুষের সঙ্গে যায় না। খালি হাতেই পৃথিবীতে মানুষের আগমন এবং খালি হাতেই বিদায়। একজন ভিখারি এবং প্রেসিডেন্টের বিদায় ও একই রকম। তবু কিছু মানুষ এই চিরন্তন সত্যকে ভুলে যায়। পৃথিবীতে প্রভাব-পতিপ্রত্তি এবং ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে যায়। এরা সত্যকে হত্যা করে, আইনকে মানে না এবং অন্যের অধিকার হরণ করে। নিজের স্বার্থকে হাসিল করতে মানুষের ওপর জুলুম করে। তারা মনে করে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী এবং কখনো পতন হবে না। দম্ভ এবং অহংকারে মানুষকে অবজ্ঞা ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, যা ইচ্ছা তাই করে এবং শক্তির জোরে মানুষকে দমিয়ে রাখে। কিন্তু এর মাধ্যমে তিনি যে নিজেকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে, তা বুঝতে চায় না। অবশেষে একদিন ধ্বংসের সময় এসে যায় এবং ধ্বংস হয়ে যায়। সব হারানোর পর তিনি ভুল বুঝতে পারেন। কিন্তু তখন শোধরানোর সময় থাকে না। ধ্বংসই হয় তার জীবনের অনিবার্য পরিণতি, যা তাকে ভোগ করতেই হয়।

সৃষ্টির সূচনা থেকেই মানুষের মধ্যে সত্য-মিথ্যা লড়াই বিদ্যমান। কিছু মানুষ ন্যায় ও সত্যকে বর্জন করে অন্যায় এবং মিথ্যার পথে চলে। কিছু মানুষ অন্যায় ও মিথ্যাকে বর্জন করে ন্যায় ও সত্যের পথে চলে। ন্যায় ও সত্যপন্থিদের সঙ্গে অন্যায় ও মিথ্যাপান্থিদের দ্বন্দ্ব সংঘাত চলে। অন্যায় ও মিথ্যার অনুসারীরা প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে সবসময় ন্যায় ও সত্যের অনুসারীদের ওপর জুলুম নির্যাতন চালায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ন্যায় ও সত্যপন্থিদের বিজয় হয় এবং অন্যায় ও মিথ্যার অনুসারীদের পরাজয় হয়। অন্যায়ও মিথ্যার অনুসারীদের জীবনে নেমে আসে চরম বিপর্যয়, অপমান এবং লাঞ্ছনা। ইতিহাসের এই নিয়ম বহতা নদীর মতোই বয়ে চলছে। ফেরাউন সবসময় হজরত মুসা (আ.) ও তার অনুসারীদের ওপর, নমরুদ সবসময় হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তার অনুসারীদের ওপর এবং আবু জেহেল ও আবু লাহাবরা সবসময় হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং তার অনুসারীদের ওপর জুলুম-নির্যাতন করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফেরাউন, নমরুদ, আবু জেহেল এবং আবু লাহাবদের করুণ পরিণতি হয়েছে। ইতিহাসে অভিশপ্ত এবং ঘৃণিত হয়েছে। যুগে যুগে সব স্বৈরাচারেরই করুণ পরিণতি এবং সবাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এরা মানুষের ভালোবাসা এবং সম্মান অর্জন করতে পারেনি বরং ঘৃণা এবং অসম্মানই অর্জন করেছে।

কিছু মানুষ সবসময় বিজয়ী হতে চায়। বিজয়ী হতে আইনলঙ্ঘন করে এবং সত্যকে হত্যা করে। কিন্তু সব বিজয় বিজয় নয় এবং সব পরাজয় পরাজয় নয়। কিছু বিজয় আসলে পরাজয় এবং কিছু পরাজয় আসলে বিজয়। সত্য ও ন্যায়ের পথে চলে পরাজিত হলেও তা আসলে বিজয় এবং মিথ্যা ও অন্যায়ের পথে চলে বিজয়ী হলেও তা আসলে পরাজয়। কারবালায় ইয়াজিদ এবং পলাশীতে মীরজাফর বিজয়ী হলেও, তারা আসলে পরাজিতই হয়েছে। এজন্য বিশ্বজুড়ে ইয়াজিদ এবং মীরজাফর অতি ঘৃণিত এবং বাবা-মায়েরা সন্তানের নাম ইয়াজিদ এবং মীরজাফর রাখে না। কিন্তু ইমাম হোসেন (রা.) এবং সিরাজউদ্দৌলা সেদিন পরাজিত এবং মৃত্যুবরণ করলেও, দুজনেই বিশ্বজুড়ে অতি সম্মানিত । ইতিহাসের বাস্তবতা থেকে সবারই শিক্ষা নিতে হবে।

প্রকৃতির প্রতিশোধ বলে একটা কথা আছে। মানুষের ওপর জুলুম, নির্যাতন, অবিচার এবং তাদের অধিকার হরণ করলে এর পরিণতি ভোগ করতেই হবে। যেভাবেই হোক জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে এর প্রায়শ্চিত্ত করতেই হবে। মানুষের ওপর জুলুম নির্যাতন করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। এটি পৃথিবীর অতীত ইতিহাসের প্রমাণিত সত্য এবং আগামী দিনের অনিবার্য বাস্তবতা। জুলুম এবং অবিচার শুধু দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা এবং সমাজের ক্ষমতাবান ব্যক্তিরাই করে তা নয়। সবাই কিন্তু নিজ নিজ অবস্থানে ক্ষমতাবান। কারো ক্ষমতা ছোট এবং কারো ক্ষমতা বড়। সবাইকে নিজস্ব পরিমণ্ডলে অধীনস্থ মানুষগুলোর প্রতি সদয় আচরণ করতে হবে। জনগণের শাসক না হয়ে সেবক এবং জনগণকে শোষণ না করে সাহায্য করতে হবে। জনগণ না চাইলে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু ভোটাধিকার হরণ করে, বলপ্রয়োগ করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে স্বৈরাচার হয়ে মানুষের অধিকার হরণ করা যাবে না। প্রত্যেকেই নিজ অবস্থান থেকে মানুষের প্রতি ন্যায়বিচার করলে বং কারো প্রতি জুলুম না করলে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং বিশ্বÑসর্বত্রই শান্তি বিরাজ করবে। জালিম এবং স্বৈরাচার হয়ে মানুষের প্রতি অবিচার করলে পরিণতি নিশ্চিতভাবেই নির্মম ও করুণ হবে। এ দ্রুব সত্যটি সবারই বোঝা দরকার।

* লেখক : জালাল উদ্দিন ওমর, প্রকৌশলী, ইমেইল : omar_ctg123@yahoo.com 

স্বৈরাচারের পরিণতি বড়ই নির্মম
এআই দ্বারা নির্মিত প্রতীকী ছবি।

মাওলানা সাঈদীর মৃত্যু: সেদিন হাসপাতালে যা হয়েছিল by মাসুদ সাঈদী

১৩ আগস্ট ২০২৩, রোববার । আসরের সময় আমার ফোন বেজে উঠল। কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে একজন সালাম দিয়ে বললেন, ‘ভাই! স্যারকে (আল্লামা সাঈদী) একটা অ্যাম্বুলেন্সে করে জরুরিভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’ তার কী হয়েছে, কেন হাসপাতাল নেওয়া হচ্ছে, কখন নিয়ে গেছে—তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানাতে পারলেন না আমাকে। মোবাইল কলদাতা কাশিমপুর কারাগারের একজন রক্ষী।

আব্বাকে ঠিক কোন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তা জানার জন্য আমি এরপর হন্যে হয়ে কারাগারের পরিচিত কর্মকর্তাদের একের পর এক ফোন করতে থাকলাম। কিন্তু কোথাও আব্বাকে আনার খবর পেলাম না। আমি, আমাদের পরিবারের লোকজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা মিলে সম্ভাব্য তিনটি হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করতে থাকলাম। এগুলো হলো জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, মিরপুর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ও পিজি হাসপাতাল। কিন্তু কোথাও আব্বাকে নিয়ে আসার খবর পেলাম না। অবশেষে রাত ১০টারও কিছু সময় পর আমরা জানতে পারলাম আব্বাকে শাহবাগের পিজি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ততক্ষণে খবর ছড়িয়ে পড়েছে আল্লামা সাঈদী অসুস্থ এবং তাকে পিজিতে নিয়ে আসা হচ্ছে। আব্বাকে নিয়ে আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষের ভিড় জমতে থাকে হাসপাতালের সামনে। রাত ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সের আওয়াজ ভেসে এলো পিজির মূল গেটের দিক থেকে। সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশাল বহর।

অ্যাম্বুলেন্স সোজা পিজি হাসপাতালের ডি ব্লকের ইমার্জেন্সির সামনে গিয়ে থামল। সবাই দৌড়ে সেখানে হাজির হওয়ার চেষ্টা করলাম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আটকে দিল আমাদের সবাইকে।

গাড়ির দরজা খুলল। দুজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের কাঁধে ভর করে আব্বা নামলেন। মেহেদি মাখানো লাল দাড়িতে আব্বার চেহারাটা খুব মায়াবি লাগছিল। দুজনের কাঁধে ভর করে নেমেই স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে কাউকে আগে সালাম দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে তিনি হাত নেড়ে সবার উদ্দেশে বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম।’ মুহূর্তের মধ্যে একটা শোরগোল পড়ে গেল। গভীর রজনীতে হাসপাতাল কাঁপিয়ে জনতা সমস্বরে উত্তর দিল ‘ওয়ালাইকুম আসসালাম’। আব্বার মুখে তখন সেই ভুবনকাড়া হাসি।

১৩ বছর কারাগারে থাকা অবস্থায় বহুবার আব্বাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। কোনোবার এমন হয়নি যে, আব্বাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে অথচ আমি উপস্থিত নেই। আব্বাকে হাসপাতালে আনলে বরাবর আমি যেটা করতাম তা হলোÑআব্বাকে বহনকারী গাড়ি হাসপাতালের গেটে পৌঁছালে আমি গাড়ির দরজার কাছে এগিয়ে যেতাম। আব্বার হাত ধরে তাকে গাড়ি থেকে নামাতাম। এরপর পাশাপাশি হেঁটে আব্বার শারীরিক অবস্থা জানতে জানতে ডাক্তারের চেম্বারের দিকে যেতাম। কিন্তু এই শেষবার ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। আব্বাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই হাসপাতাল জুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি দেখে আমি ভীষণ অবাক হয়েছিলাম। হাসপাতাল জুড়েই ছিল তাদের সরব উপস্থিতি। আর আব্বার গাড়ি যখন হাসপাতালে এসে পৌঁছাল, তখন পুরো গাড়িটাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘিরে ফেলল। তবু ওই অবস্থার মধ্যেই আমি আব্বার দিকে এগিয়ে গেলাম। আমাকে এক প্রকার ধাক্কা দিয়েই আব্বার কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। ওদের আচরণে আব্বা ভীষণ কষ্ট পেলেন। ধমকের সুরে প্রতিবাদ করলেন। আমাকে কাছে আসতে দিতে বললেন। কিন্তু কোনো কথাই তারা শুনল না। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ভীষণ তাড়াহুড়া লক্ষ করলাম। ওদের রুক্ষ আচরণে আমি হতবাক হলাম। তবু ভাবলাম, যাক! হাসপাতালে যখন আব্বাকে এনেছে, আজকের রাতটা যাক। আগামীকাল ইনশাআল্লাহ আব্বার সঙ্গে দেখা করব, কথা বলব, আর আব্বার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত জেনে নেব।

কিন্তু কে জানত, আব্বার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া বা আব্বার সঙ্গে দেখা করার ‘আগামীকাল’—আমার জীবনে আর কোনো দিনই আসবে না।

অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে হুইলচেয়ারে বসিয়ে দ্রুত আব্বাকে নিয়ে যাওয়া হলো ইমার্জেন্সিতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু লোক ছাড়া আর কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হলো না। তারা ভেতরে ঢুকেই ডি-ব্লকের মূল গেট বন্ধ করে দিল। আমি পাগলের মতো পেছন পেছন ছুটছিলাম ইমার্জেন্সির দিকে, কিন্তু ঢুকতে পারলাম না। ইমার্জেন্সির চেকআপ প্রক্রিয়ায় সব মিলিয়ে সময় লেগেছে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মতো। এর ফাঁকে আব্বার সঙ্গে কোনো ধরনের আলাপ কিংবা খোঁজখবর নেওয়ার কোনো সুযোগই তারা আমাকে দিল না!

ইমার্জেন্সি রুমে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর সেখানে পিজি হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. চৌধুরী মেশকাত আহমেদ এলেন। তার সঙ্গে এলেন পিজি হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এসএম মোস্তফা জামান। তারা কেউই আমাদের পরিচিত নন। তারা ইমার্জেন্সি রুমের বন্ধ দরজার ভেতরে কী আলোচনা করলেন আর কী সিদ্ধান্ত নিলেন, তা আমি বা আমরা জানতেই পারলাম না। তাদের তো উচিত ছিল এই আলোচনা করার সময় রোগীর সন্তান হিসেবে আমাকে বা আমাদের পরিবারের কাউকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনা করার, আমাদের বিস্তারিত জানিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। কিন্তু তারা তা করেননি। শুধু তাই নয়, আব্বার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আমাদের কোনো কিছু না জানিয়েই ইমার্জেন্সি রুম থেকে তারা বেরিয়ে যান। বাইরে দেশের প্রায় সব ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ার সাংবাদিকরা আব্বার শারীরিক অবস্থা জানার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। তারা রুম থেকে বের হতেই সাংবাদিকরা ওই দুজন চিকিৎসককে ঘিরে ধরলেন। ডা. চৌধুরী মেশকাত আহমেদ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলে চলে গেলেন আর ডা. এসএম মোস্তফা জামান সাংবাদিকদের ব্রিফ করা শুরু করলেন। তখন আমি জানতে পারলাম তারা চিকিৎসক এবং তাদের দুজনকে আব্বার চিকিৎসার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডা. এসএম মোস্তফা জামান সাংবাদিকদের বললেন, “দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আমার অধীনে কার্ডিয়াক ইমার্জেন্সিতে ভর্তি রয়েছেন। কিছুক্ষণ আগে আমি খবর পেয়ে এখানে এসেছি। বর্তমানে তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। প্রাথমিক ইসিজিতে ওনার হার্ট অ্যাটাক পাওয়া গেছে। এর আগেও ওনার হার্টে রিং পরানো হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছিল তার প্রাইমারি পিসিআই লাগবে। অর্থাৎ সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে এনজিওগ্রাম করে রিং বসানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে ‘বুকের ব্যথা কমে যাওয়ায়’ আপাতত পিসিআই লাগবে না বলে মনে হচ্ছে(!)। তবে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট মন্তব্য করা যাচ্ছে না। তাকে আমরা কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টে রাখছি।”

সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিং শেষ হলে ডা. এসএম মোস্তফা জামানের সামনে গিয়ে আমি দাঁড়ালাম। তাকে আমি আমার পরিচয় দিলাম। সোজাসাপ্টা জানতে চাইলাম, ‘আপনি বলছেন আমার আব্বার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। যদি তাই হয়, তাহলে আপনারা এখনো তার এনজিওগ্রাম করছেন না কেন? কেন সময় নষ্ট করছেন?’

ডা. এসএম মোস্তফা জামান জবাবে বললেন, ‘ঠিক এই মুহূর্তে আপনার আব্বার বুকে ব্যথা নেই, তাই এনজিওগ্রাম না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।’

তখন না বুঝলেও এখন বেশ বুঝতে পারছি—তাদের রিপোর্ট(!) অনুযায়ী আব্বার হার্ট অ্যাটাক হলেও ডাক্তাররা আব্বার প্রাইমারি পিসিআই (Primary Percutaneous Coronary Intervention)Ñঅর্থাৎ সঙ্গে সঙ্গে এনজিওগ্রাম কেন করল না? কেন তার মতো বিশ্ববিখ্যাত একজন মানুষের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করল না? কেন হাসপাতালে এত কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল? কেন একটিবারের জন্যও আমাকে আব্বার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি? কেন আব্বার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আমাকে একটুও জানতে দেওয়া হয়নি?—তা এখন বেশ বুঝতে পারছি।

পিজির চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাথমিক চেকআপের পর আব্বাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করবেন। আমরা রুমের সামনে অপেক্ষমাণ। হঠাৎ রুমের দরজা খুলে গেল। আব্বা হুইলচেয়ারে ঠিক দরজার দিকে মুখ করেই বসা ছিলেন। সামনেই আমরা কয়েকজন দাঁড়ানো। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে আব্বা আমাকে আর আমার ছোট ভাই নাসীমকে দেখে এক অমায়িক হাসি দিলেন। আমাদের দেখে আব্বা কতটা তৃপ্ত হলেন তা আমি তার মিষ্টি হাসি দেখেই অনুমান করতে পেরেছিলাম। আব্বা ভরসা পেলেন তার সন্তানরা তার কাছেই আছে, তার পাশেই আছে!

সিসিইউ রুমের দরজা মিলিয়ে গেল। আব্বা আমাদের চোখের অন্তরালে চলে গেলেন। আব্বা দুনিয়ার অন্তরালে যাওয়ার আগ মুহূর্তে এভাবেই আমাদের চোখেরও অন্তরালে চলে গেলেন। এই যে যাওয়া এটাই শেষ যাওয়া, এটাই শেষ দেখা। এরপর হাসপাতালের সামনে সিঁড়িতে, ফ্লোরে রাত-দিন এক পায়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমিÑ কখন আব্বাকে একনজর দেখার ডাক পাব। চিকিৎসাধীন বাবাকে মৃত্যুর আগে একটিবারের জন্যও তার সন্তানদের দেখার সুযোগ দেওয়া হয় নাÑপৃথিবীর ইতিহাসে এ রকম দ্বিতীয় কোনো ঘটনা আছে কি না আমার জানা নেই।

১৪ আগস্ট ২০২৩, সোমবার। আগের দিন সারারাত নির্ঘুম কাটানোর পর ভোর হতেই আমি সিসিইউতে আবার ঢোকার চেষ্টা করলাম। দোতলায় সিসিইউর সামনে গিয়ে দেখি পঞ্চাশের অধিক পুলিশ সেখানে অবস্থান নিয়েছে। শুধু তাই নয়, সিসিইউর প্রবেশ মুখে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়েছে। আমি অবাক হয়ে গেলাম! এত কঠিন নিরাপত্তাবেষ্টনী কেন?—এমন আগে তো কখনো হয়নি! এখন কী এমন হলো যে এত কঠোর অবস্থানে পুলিশ!!

আব্বার খোঁজ নেওয়ার বা আব্বার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা বারবার করেও ব্যর্থ হলাম। কী করব? আমার কী করা উচিত?—ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না। হঠাৎ মনে পড়ল ডা. চৌধুরী মেশকাত আহমেদের কথা। গত রাতেই শুনেছিলাম তিনি পিজি হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান এবং আব্বা তার অধীনেই ভর্তি আছেন। দৌড়ে গেলাম মেশকাত সাহেবের রুমে। কিন্তু তাকে পেলাম না, তিনি তখনো অফিসে আসেননি। কী আর করা! হাসপাতালের ডি-ব্লকের নিচে একটি সিঁড়ি আছে। আমি সেই সিঁড়িতে গিয়ে বসে পড়লাম, ডা. মেশকাত যখনই রুমে ঢুকবেন আমি যেন তাকে মিস না করি। সম্ভবত বেলা ১১টার দিকে ডা. মেশকাত তার অফিসে এলেন। তিনি অফিসে ঢোকার কিছু পরেই আমি তার রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। সেখানে গিয়ে হতবাক হয়ে গেলাম আমি! তার রুমের সামনেও অনেক পুলিশ। আমি ভেবে পেলাম না এই সাজসাজ রব কীসের জন্য। রুমে ঢুকতে গিয়েই পুলিশি বাধার মুখে পড়লাম। কোথায় যাব, কার কাছে যাব? কেন যাব?— এমন হাজারো প্রশ্ন তাদের! আমি আমার পরিচয় দিলাম, কার কাছে যাব তাও জানালাম। তারা শুনে বলল, অপেক্ষা করুন, সাক্ষাতের অনুমতি আনতে হবেÑএই বলে একজন পুলিশ সদস্য রুমের ভেতরে চলে গেলেন। আমি একা বাইরে দাঁড়িয়ে ভাবছিলামÑএকজন অসুস্থ মানুষের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার জন্য ডাক্তারের অফিসে ঢুকতেও পুলিশের অনুমতি লাগবে? ডা. মেশকাত তো সরকারের মন্ত্রী না, এমপিও না, কোনো সচিব না কিংবা ভিআইপি প্রোটোকল পাওয়ার মতো কোনো ব্যক্তিও না! তাহলে? এই লোককে এত পাহারায় রাখার কারণ কী? কোথায় যেন একটা রহস্য লুকিয়ে আছে। কিন্তু ভেবে পাচ্ছিলাম না রহস্যটা কী! অনেক সময় পর একজন রুম থেকে বেরিয়ে এসে আমাকে ডেকে নিয়ে গেলেন। আমি রুমে ঢুকে দেখি সেখানেও পুলিশে ভরা। ডা. মেশকাতের সঙ্গে দুজন লোককে বসা দেখলাম। আমাকে বসতে বলার পর একজন তার পরিচয় দিলেন যে তিনি পিজি হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রেজাউর রহমান আর অন্যজন গতরাতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করা সেই ডা. এসএম মোস্তফা জামান। আমি আব্বার শারীরিক অবস্থার কথা সরাসরি ডা. মেশকাত আহমেদের কাছে জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, স্যার আগের থেকে সুস্থ আছেন। এবার আমি বললাম, ‘আমি আব্বার সঙ্গে দেখা করতে চাই এবং তা এখনই। আমি তার মুখ থেকেই শুনতে চাই তিনি কেমন আছেন এবং কেনই বা তাকে এখানে আনা হয়েছে।’ এ পর্যায়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রেজাউর রহমান বললেন, ‘আমরা আপনাকে দেখা করার ব্যবস্থা করছি। আপনি বাইরে অপেক্ষা করুন।’

সরল বিশ্বাসে আমি বাইরে অপেক্ষা করতে লাগলাম। ঘণ্টা পেরিয়ে গেল কিন্তু না ডা. মেশকাত আহমেদ আমাকে কোনো খবর দিলেন, না ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রেজাউর রহমান আমাকে কোনো খবর দিলেন! আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না এখন আমার কি করণীয়।

এরপর আমি আইনজীবীদের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুটি আবেদন করলাম। প্রথম আবেদনটি হলো— আম্মাসহ আমাদের পরিবারের অন্যসব সদস্যের আব্বার সঙ্গে হাসপাতালে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন। আর দ্বিতীয় আবেদনটি হলোÑবয়স ও অসুস্থতা বিবেচনায় আব্বার সার্বক্ষণিক দেখভাল ও সার্বিক সহযোগিতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আমি অথবা যেকোনো একজন অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে থাকার অনুমতি চেয়ে আবেদন।

বেলা গড়িয়ে ঘড়িতে দুপুর ১টার মতো বাজে। তখনো তাদের দুজনের কেউই আমাকে কোনো মেসেজ না দেওয়ায় আমি আবার ডা. মেশকাত আহমেদের রুমে গেলাম। গিয়ে দেখি তিনি রুমে নেই। অফিস একেবারেই ফাঁকা। সেখান থেকে নেমে আমি সোজা চলে এলাম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রেজাউর রহমানের অফিসে। এখানে এসে রেজাউর রহমানের পাশে বসা দেখলাম ডা. এসএম মোস্তফা জামানকে। এখানে গিয়ে রেজাউর রহমানকে পেলাম ঠিকই কিন্তু তিনি তখন সরকারের বিভিন্ন সংস্থা আর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা নিয়ে ব্যস্ত। আমাকে সময় দেওয়ার মতো সময় তার কোথায়! তবু আল্লাহর সাহায্যে ধৈর্য নিয়ে দাঁতে দাঁত কামড়ে বসে আছি।

আব্বার কোনো খবর জানতে পারছি না, তাকে দেখতে পারছি নাÑএমনিতেই আমার মন খারাপ হয়ে আছে, তার মধ্যে দেখছি পরিচালক সাহেব তার রুমে থাকা লোকজনের সঙ্গে চা-নাশতা আর গল্পে সময় পার করছেন। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছিল আমার।

ভর দুপুরবেলা। বাইরে তখন প্রচণ্ড রোদ। পরিচালকের রুম থেকে বেরিয়ে আমি একা উদ্ভ্রান্তের মতো হাঁটছি। খুব অসহায় মনে হচ্ছিল নিজেকে। আব্বার সব মামলা সব জায়গায় (জজকোর্ট, সিএমএম কোর্ট, ট্রাইব্যুনাল, হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ) আমি একা বছরের পর বছর পরিচালনা করেছি। দৌড়িয়েছি, সিনিয়র-জুনিয়র ল’ইয়ারদের চেম্বারে গিয়েছি, করোনার সময়ও আমি নিয়মিত কাসিমপুর কারাগারে গিয়েছি, অসম্ভব পরিশ্রম করেছি কিন্তু আজকের মতো এতটা অসহায় আর দুর্বল কখনোই মনে হয়নি। অজানা আতঙ্ক পেয়ে বসেছিল আমাকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার পর আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীক ফোন দিলাম। তিনি খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে আমাকে আশ্বস্ত করে বললেন, ‘তুমি কোনো চিন্তা করিও না। তোমার আবেদন এখন আমার হাতে। আমি সব ব্যবস্থা করছি । তার কথায় মনটা একটু হালকা হলো।’

আমি সিসিইউতে ওঠার সিঁড়িতে বসে রইলাম। উপরে ওঠার কোনো সুযোগ নেই, কারণ গোটা সিসিইউর এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একপ্রকার ঘিরে ফেলেছে। বিকাল ৫টার মতো বেজে গেল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমার আবেদন মঞ্জুরের কোনো খবর তখনো এলো না। এদিকে হঠাৎ করেই হাসপাতাল কম্পাউন্ডে প্রশাসনের বেশ কিছু গাড়ি ঢুকতে দেখলাম। অফিশিয়াল ড্রেসের ও সিভিল পোশাকের অনেক নতুন অফিসারকে দেখলাম। পাল্লা দিয়ে বেড়ে যাচ্ছিল ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ার সাংবাদিকের সংখ্যা। সঙ্গে বাড়ছিল আল্লামা সাঈদীকে ভালোবাসার মানুষের সংখ্যাও। ঘড়ির কাঁটা যখন ৬টা ছুঁয়ে ফেলল এবং আব্বার সঙ্গে সাক্ষাতের তখনো কোনো সুযোগ আমরা পরিবারের সদস্যরা পেলাম না—তখন বুঝলাম আমাদের পরিকল্পিতভাবেই আব্বার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমার সঙ্গে শুধু মিষ্টি কথার অভিনয় করেছেন আর আমি তার অভিনয়কে সহমর্মিতা ভেবেছিলাম!

মাগরিবের পরপরই আব্বার দ্বিতীয়বার হার্ট অ্যাটাকের খবর শুনি লোকমুখে। পাগলের মতো ছোটাছুটি করেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো খবর বের করতে পারলাম না। দায়িত্বরত প্রশাসনের লোকজনের কাছে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা জানতে চাইলে তারা জানালেন, তিনি একেবারেই স্বাভাবিক আছেন। তারা দেখে এসেই নাকি আমাকে জানাচ্ছেন। কিন্তু তাদের চোখে চোখ রেখে আমি আশ্বস্ত হতে পারলাম না, তাদের চেহারায় বা অভিব্যক্তিতে তাদের কথার সত্যতা খুঁজে পেলাম না। এরই মধ্যে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হতে শুরু করল। কিছুক্ষণ পরপরই সরকার এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাড়ি হাসপাতাল চত্বরে আসতে শুরু করল। হাসপাতালের চারদিকে বিপুল পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন করা হলো। হাসপাতালের ডাক্তার আর প্রশাসনের লোকদের ছুটোছুটি দেখতে পেলাম।

আব্বাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকে নিয়ে আব্বার দুনিয়ার সফর শেষ করা পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আব্বার চিকিৎসার বিষয়ে আমার বা আমাদের সঙ্গে একটিবারের জন্যও কোনো আলোচনা করেননি, আব্বার পুরোনো রোগ কিংবা চিকিৎসা সম্পর্কেও আমাদের কাছে কিছু জানতে চাননি, তারা আব্বার কী চিকিৎসা করছেন, সে সম্পর্কেও আমাদের পরিষ্কার করে কিছু বলেননি, তারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আব্বার শারীরিক অবস্থার আপডেটও আমাদের জানাননি। সন্ধ্যার পর থেকে আব্বার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিলÑসেই খবরটিও আমাদের জানাননি। দ্বিতীয়বার আব্বার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছেÑসেটিও তারা অফিশিয়ালি আমাদের কিছু জানাননি। শেষ পর্যন্ত আব্বাকে তারা লাইফ সাপোর্টে নিয়েছেনÑএ বিষয়েও আমাকে/আমাদের অবহিত করেননি। এমনকি লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে কোনো লিখিত বা মৌখিক অনুমতিও নেননি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আব্বার চিকিৎসা প্রক্রিয়াটাই ছিল রহস্যজনক, সন্দেহজনক।

হাজারো ভাবনা, অস্থিরতা আর ছুটোছুটির মধ্যেই এশার আজান হয়ে গেল। সব অস্থিরতা একদিকে রেখে মনের প্রশান্তি আর আব্বার দ্রুত সুস্থতা ও নেক হায়াত কামনায় মালিকের দরবারে সেজদা দেওয়ার জন্য ছোট ভাই নাসীম সাঈদীকে নিয়ে পিজি হাসপাতালের মসজিদের দিকে ছুটলাম। কাকতালীয় কি না জানি না, ইমাম সাহেব শাহাদতের আয়াত ধরলেন। তিনি সুরা আলে ইমরানের ১৬৭ নম্বর আয়াত থেকে তিলাওয়াত শুরু করলেন। যখন তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করছিলেন—যার অর্থ হলো আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছেন, তাদের কখনোই মৃত মনে করো না; বরং তারা জীবিত এবং তাদের রবের কাছ থেকে তারা জীবিকাপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন। মনের অজান্তেই চোখ বেয়ে অনর্গল পানি গড়াতে লাগল নামাজের ভেতরেই। মনে হচ্ছিল ভেতরটা ধুমড়ে-মুচড়ে একাকার হয়ে যাচ্ছে। নামাজের ভেতরেই চিৎকার দিতে ইচ্ছে করছিল। চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারছিলাম না, টপটপ করে দাড়ি ভিজে পাঞ্জাবিতে পড়ছিল। শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছিল। অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে চোখের পানিতে নামাজ শেষ করলাম। মোনাজাতরত অবস্থায়ই একজন পুলিশ অফিসার এসে আমাকে সালাম জানালেন। বললেন, রমনা জোনের এডিসি হারুন অর রশীদ ও শাহবাগ থানার ওসি নূর মোহাম্মাদ আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি কান্নাভেজা চোখ সামলে তাদের কাছে যাওয়ার পর তারা তাদের সঙ্গে আমাকে সিসিইউতে যেতে বললেন। আমি ধরেই নিলাম—স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আব্বার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি বুঝি পাওয়া গেল! দীর্ঘক্ষণের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে আব্বার রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম আমরা। বহুল প্রতীক্ষিত ডাক আমাদের জন্য।

কিন্তু ডেকে নিয়ে তারা যে সংবাদটি জানালেন, সেটি বইবার মতো ক্ষমতা আমাদের ছিল না। পৃথিবী সমান ওজনদার এক ভয়াবহ দুঃসংবাদ তারা দিলেন আমাদের। আমার পরম শ্রদ্ধেয় আব্বার ইন্তেকালের দুঃসংবাদ দিলেন তারা আমাদের। আব্বা এ দুনিয়াতে আর নেই। মাথা ঘুরতে লাগল। চোখ ঝাপসা হয়ে এলো। হাত-পা অকেজো হয়ে যেতে লাগল। এত ওজন, এই দুর্বিষহ সংবাদ বহন করার মতো শক্তি কি আমার আছে! চিৎকার করে বলে উঠলাম, কী বলছেন আপনারা এসব। ‘আব্বা আব্বা’ বলে চিৎকার দিলাম। প্রশাসনিক লোকদের শোরগোলে আমার সেই চিৎকার হারিয়ে গেল।

মুক্ত আব্বাকে দেখার স্বপ্ন আর পূরণ হলো না আমার।

ভারতের পোষ্য দল আওয়ামী লীগ ও তাদের গোলাম শেখ হাসিনা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে কথিত যুদ্ধাপরাধের সাজানো বিচারের নামে বিচারিক হত্যা করতে চেয়েছিল, কিন্তু তা না পেরে চিকিৎসার নামে হত্যার (Medical Killing) পথ বেছে নিয়েছিল।

জালিম শেখ হাসিনা আর তার চিকিৎসক নামের খুনিরা যে একটি মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে আল্লামা সাঈদীকে চিকিৎসার নামে হত্যা করেছে, তা এখন বুঝতে পারি।

আমার দৃষ্টিতে ডা. চৌধুরী মেশকাত আহমেদ, ডা. এসএম মোস্তফা জামান ও মো. রেজাউর রহমান ক্লিনিক্যাল নেগ্লিডজেন্সের (Clinical Negligence) মতো ক্ষমাহীন অপরাধজনিত কারণে আমার বাবা আল্লামা সাঈদীকে হত্যার জন্য দায়ী।

কারো হার্ট অ্যাটাক হলে অ্যাটাকের ১২ ঘণ্টার মধ্যে এনজিওগ্রাম করে হার্টে রিং পরানো (Primary Percutaneous Coronary Intervention-PCI) হয় বা রোগীর বুকে ব্যথা থাকলে বা হার্টের গতি এলোমেলো (Arrhythmia) বা পেশেন্ট শকে গেলে সময়ের দিকে না তাকিয়ে দ্রুত এনজিওগ্রাম করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বুকে ব্যথা না থাকলেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে Early PCI-এর মাধ্যমে রোগীকে স্ট্যাবল করা হয়। কিন্তু আল্লামা সাঈদীর ব্যাপারে এর ব্যতিক্রম হলো কেন?

ডা. এসএম মোস্তফা জামান বলেছেন, তারা প্রথমেই আল্লামা সাঈদীকে PCI (Per Cutaneous Intervention) করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে রোগীর বুকে ব্যথা না থাকার কারণে তারা আর PCI না করে কনজারভেটিভ ট্রিটমেন্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। PCI না করার এটি কোনো কারণ হতে পারে? কার্ডিওলজির আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নীতিমালায় কোথাও লেখা নেই যে, বুকে ব্যথা না থাকলে বা কমে গেলে PCI করার প্রয়োজন নেই। PCI না করার অন্য কারণগুলো আল্লামা সাঈদীর ক্ষেত্রে তো প্রযোজ্য ছিল না। তাহলে আপনারা কেন PCI করলেন না? এটা স্পষ্ট Medical Negligence, যা সুস্পষ্ট অপরাধ।

ডা. এসএম মোস্তফা জামান বলছেন, আল্লামা সাঈদীকে ৭:১০ মিনিটে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার অনুমতি পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া হলো না কেন?

হাসপাতালে সার্বক্ষণিক মিডিয়ায় কথা বলেছেন মেডিকেল টিমের সদস্য ডা. এসএম মোস্তফা জামান। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক কমিটির সদস্য, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রলীগ নেতা এবং ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শাহবাগিদের কথিত গণজাগরণ মঞ্চে আল্লামা সাঈদীর ফাঁসির দাবিতে উগ্র স্লোগান দেওয়া ব্যক্তি। তার কাছে কি আল্লামা সাঈদী সুচিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ ছিল? যার ফাঁসির দাবিতে যে রাজপথে গলা ফাটিয়েছে, তিনি কি কখনো সুযোগ পেলে ওই লোকটিকে সুচিকিৎসা দিতে পারেন? তাহলে তাকে কেন আল্লামা সাঈদীর চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো?

এমতাবস্থায় সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, আল্লামা সাঈদীকে হত্যার রহস্য উদঘাটনে অনতিবিলম্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আল্লামা সাঈদীকে হত্যার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

* লেখক : এমপি, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর তৃতীয় সন্তান

মাওলানা সাঈদীর মৃত্যু: সেদিন হাসপাতালে যা হয়েছিল
মৃত্যুর একদিন আগে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানোর সময় প্রাণবন্ত মাওলানা সাঈদী।

ইরান যুদ্ধে ৭৫০ জনের বেশি মার্কিন সেনা আহত

সিএনএনঃ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৭৫০ জনের বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুদ্ধে হতাহতের তথ্যভান্ডারে এ পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সময় বুধবার পেন্টাগন ওই তথ্যভান্ডার হালনাগাদ করেছে। এতে ৫০ জনের বেশি আহত সেনার তথ্য নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে।

এমন এক সময়ে এ তথ্য সামনে এল, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংঘাত বন্ধে আলোচনা অচলাবস্থায় রয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেমের (ডিক্যাস) ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ বিভাগের সঙ্গে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র তথ্য যোগ করলে মোট হতাহতের সংখ্যা পাওয়া যায়। এতে দেখা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১৮ মার্কিন সেনা নিহত ও ৭৫৭ জন আহত হয়েছেন।

গত মাসে ডিক্যাসে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ নামের বিভাগটি চালু করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, ৭ জুলাই থেকে নিহত ও আহত সেনাদের তথ্য এ বিভাগে যুক্ত করা হচ্ছে।

তবে পেন্টাগন এখনো এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি বা কোন সংঘাতে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা নির্দিষ্ট করেনি। ৭ জুলাইয়ের তারিখটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কংগ্রেসকে জানানোর দিনের সঙ্গে মিলে যায়। ওই দিন ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্টের আওতায় দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসন জানায়, ইরানের সঙ্গে নতুন একটি সংঘাত শুরু হয়েছে।

‘ওভারসিজ অপারেশনস’ বিভাগের বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য জানতে পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিএনএন।

গত মাসে ডিক্যাসে ইরানের হামলার মধ্যেই নিহত ও আহত সেনার সংখ্যা কমে যাওয়ায় পেন্টাগন সংবাদমাধ্যম ও আইনপ্রণেতাদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। চারজন নিহত ও কয়েক ডজন আহত সেনার তথ্য তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। পরে সেগুলো আবার যুক্ত করা হয়।

সে সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছিল, ‘সাময়িক তথ্যগত বিঘ্নের’ কারণে এই হেরফের হয়েছিল।

এর আগে সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলাকালে আহত মার্কিন সেনাদের তথ্য প্রকাশে পেন্টাগন ধীরগতি দেখিয়েছে। এ বিষয়ে কর্মকর্তারা নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

এর আগে বুধবার ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে পরিস্থিতি এখন ‘খুব ভালো’। তবে তিনি তেহরানের সঙ্গে মার্কিন আলোচনা স্থগিত রেখেছেন। চলমান যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালি এখনো উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।

ইরানের হামলায় কুয়েতে নিহত ছয় মার্কিন সেনার মরদেহ দেশে ফেরানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার দৃশ্য। ডেলাওয়ারে অঙ্গরাজ্যের ডোভার বিমানঘাঁটিতে, ৭ মার্চ ২০২৬
ইরানের হামলায় কুয়েতে নিহত ছয় মার্কিন সেনার মরদেহ দেশে ফেরানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার দৃশ্য। ডেলাওয়ারে অঙ্গরাজ্যের ডোভার বিমানঘাঁটিতে, ৭ মার্চ ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

ঘাড়, কোমর, হাঁটু বা কাঁধের ব্যথা বারবার ফিরে আসে কেন, সমাধান কী by ডা. সাকিব-আল-নাহিয়ান

জীবনের কোনো না কোনো সময়ে ঘাড়, কোমর, হাঁটু বা কাঁধের ব্যথায় ভোগেননি এমন মানুষ কম। অনেকের কাছে ব্যথা যেন জীবনেরই একটি অংশ।

ব্যথা হলে আমরা একটি ব্যথানাশক ওষুধ খাই, কিছুদিন বিশ্রাম নিই, ব্যথা কমে গেলে আবার আগের জীবনে ফিরে যাই।

কিন্তু কিছুদিন পর দেখা যায় একই ব্যথা আবার ফিরে এসেছে, কখনো আরও বেশি তীব্র হয়ে ফিরে আসে। প্রশ্ন হলো, কেন এমন হয়?

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা ব্যথার কারণ নয়, শুধু উপসর্গের চিকিৎসা করি। ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন (পুনর্বাসন) চিকিৎসার এমন একটি ধরন, যা শুধু ব্যথা কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যথার কারণ খুঁজে বের করে রোগীকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে।

ব্যথা সব সময় রোগ নয়, একটি সংকেত। ব্যথা অনেকটা অ্যালার্মের মতো। এটি শরীরের কোনো সমস্যার সতর্কবার্তা। কোমরের ব্যথা হতে পারে দুর্বল কোর মাংসপেশির কারণে।

ঘাড়ের ব্যথা হতে পারে দীর্ঘ সময় মুঠোফোন বা কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে। হাঁটুর ব্যথা হতে পারে ওজন বৃদ্ধি বা ভুলভাবে হাঁটার কারণে। শুধু ব্যথার ওষুধ খেয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও মূল সমস্যা থেকে যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মাংসপেশি ও হাড়-জোড়ের রোগ বর্তমানে কর্মক্ষমতা হ্রাসের অন্যতম কারণ।

পুনর্বাসন চিকিৎসা আসলে কী

অনেকেই মনে করেন রিহ্যাবিলিটেশন মানেই ফিজিওথেরাপি; বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। একজন ফিজিয়াট্রিস্ট বা ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ রোগীর পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করেন।

ব্যথার উৎস, মাংসপেশির শক্তি, অস্থিসন্ধির (জয়েন্ট) কার্যক্ষমতা, কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি, দৈনন্দিন অভ্যাস ও মানসিক অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করে চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।

চিকিৎসার মধ্যে থাকতে পারে—জীবনযাত্রার পরিবর্তন, নির্দিষ্ট ব্যায়াম, ভঙ্গি সংশোধন করা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ওষুধ, ইন্টারভেনশনাল পেইন ম্যানেজমেন্ট, ফিজিওথেরাপি অকুপেশনাল থেরাপি, পুনর্বাসন প্রশিক্ষণ।

শুধু ব্যথা-বেদনা নয়, স্ট্রোক, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি, ব্রেন ইনজুরি, সেরিব্রাল পালসি, পারকিনসনস ডিজিজ, অঙ্গচ্ছেদ, খেলাধুলাজনিত আঘাত, দীর্ঘমেয়াদি বাতরোগ, ক্যানসার–পরবর্তী দুর্বলতা, এমনকি হার্ট ও ফুসফুসের রোগের ক্ষেত্রেও রিহ্যাবিলিটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চলাফেরা হলো সবচেয়ে শক্তিশালী ওষুধ। সঠিকভাবে পরিচালিত শারীরিক কার্যক্রম ও ব্যায়াম নিজেই একটি শক্তিশালী চিকিৎসা। নিয়মিত ব্যায়াম শুধু ব্যথা কমায় না; এটি পেশি শক্তিশালী করে, জয়েন্ট সচল রাখে, হাড় মজবুত করে, হৃদ্​যন্ত্র ভালো রাখে ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করে।

তবে সব ব্যায়াম সবার জন্য নয়। বয়স, রোগ এবং শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়াম নির্বাচন করা জরুরি।

* ডা. সাকিব-আল-নাহিয়ান, সহকারী অধ্যাপক, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা

ঘাড় ও মেরুদণ্ডের জয়েন্টের একটি রোগ সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস। নানা কারণে এ সমস্যা দিন দিন বাড়ছে
ঘাড় ও মেরুদণ্ডের জয়েন্টের একটি রোগ সার্ভিক্যাল স্পন্ডাইলোসিস। নানা কারণে এ সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। ছবি: প্রথম আলো

ট্রাম্পের ‘ডান হাত’ কে এই নাটালি হার্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া ব্যক্তিদের একজন নাটালি হার্প। ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত এই সহযোগীকে প্রেসিডেন্টের ট্রুথ সোশ্যালের পোস্ট টাইপ করা থেকে শুরু করে তার কাছে বিভিন্ন তথ্য পৌঁছে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হার্পের প্রভাব ও উপস্থিতি আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় আরও দৃশ্যমান হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৫ বছর বয়সী হার্প নতুন করে আলোচনায় এসেছেন জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের বক্তব্যের পর। ট্রাম্পের সমালোচনা করতে গিয়ে অসফ তার সঙ্গে হার্পের ভ্রমণের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি ট্রাম্পের ‘কাতারের আমিরের উপহার দেওয়া উড়ন্ত প্রাসাদে’ হার্পকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণের কথা উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান এবং গত মাসে তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের গোপনে বিমান পরিবর্তনের সময় হার্পের উপস্থিতির প্রতিবেদনের দিকে ইঙ্গিত করেন তিনি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে হার্পের উপস্থিতি প্রায় সার্বক্ষণিক। ওভাল অফিসে ট্রাম্পের কয়েক ফুট দূরে কিংবা প্রেসিডেন্টের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সফরে এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় প্রায়ই তাকে দেখা যায়।

 ট্রাম্পের কাছে কীভাবে ঘনিষ্ঠ হলেন হার্প

হার্পের হোয়াইট হাউসে আসার পথটিও ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি রক্ষণশীল খ্রিষ্টান পরিবারে বেড়ে ওঠা হার্প হাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ পান।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পাস হওয়া ‘রাইট টু ট্রাই’ আইনের আওতায় পরীক্ষামূলক চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন হার্প। প্রচলিত কেমোথেরাপি ব্যর্থ হওয়ার পর এই চিকিৎসা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

২০২০ সালের রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে হার্প ট্রাম্পকে তার জীবন রক্ষার কৃতিত্ব দেন। তিনি বলেছিলেন, পরীক্ষামূলক চিকিৎসার সুযোগ না পেলে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকতে থাকতেই তার মৃত্যু হতে পারত। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বক্তব্যের পর ট্রাম্প প্রকাশ্যেই হার্পের প্রশংসা করেন এবং তাকে টেলিভিশনের পর্দায় বিশেষভাবে নজরকাড়া একজন হিসেবে উল্লেখ করেন।

এরপর ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ বা ম্যাগা আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন হার্প। ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের উপদেষ্টা বোর্ডেও যুক্ত হন তিনি।

ট্রাম্পের পরাজয়ের পরও ছাড়েননি সঙ্গ

২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের পর হার্প রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কে (ওএএন) উপস্থাপক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখানে তিনি ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিতি পান এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প জয়ী হয়েছেন, এমন মিথ্যা দাবিরও প্রচার করেন।

২০২২ সালে ওএএন ছেড়ে আবার ট্রাম্পের রাজনৈতিক শিবিরে ফিরে আসেন হার্প। এরপর ট্রাম্পের পরবর্তী নির্বাচনি প্রচারণায় যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে তার আস্থাভাজনদের তালিকায় জায়গা করে নেন।

হার্প কতটা প্রভাবশালী?

হোয়াইট হাউসে হার্পের আনুষ্ঠানিক পদ ‘এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট টু দ্য প্রেসিডেন্ট’। সাধারণত এ পদে সময়সূচি, যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কাজ সামলাতে হয়। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনে হার্পের ভূমিকা তার চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ভেতরের লোকজন ও সাংবাদিকদের অনেকে হার্পকে ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ নামে ডাকেন। ট্রাম্প সংবাদ, নিবন্ধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টের কাগজের কপি পড়তে পছন্দ করেন। তাই প্রায়ই একটি বহনযোগ্য প্রিন্টার নিয়ে ট্রাম্পের পাশে দেখা যায় হার্পকে।

হোয়াইট হাউসের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, ট্রাম্পের কাছে কোন তথ্য বা আপডেট পৌঁছাবে, সে ক্ষেত্রে হার্পের ‘অস্বাভাবিক প্রভাব’ রয়েছে। এ কারণেই তাকে অনেকে ‘গেটকিপার’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ট্রাম্পের হয়ে পোস্ট লেখেন

ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টের পোস্ট তৈরিতেও হার্পের ভূমিকা রয়েছে। ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বক্তব্য টাইপ করে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০২৪ সালে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের একটি বক্তব্য দেখার সময় ট্রাম্পের পাশে বসে হার্পকে তার হয়ে পোস্ট টাইপ করতে দেখা যায়। ওই ছবি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের ঘনিষ্ঠতার সবচেয়ে দৃশ্যমান দিকগুলোর একটি হলো প্রেসিডেন্টের সফরেও তার উপস্থিতি। সম্প্রতি তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের গোপন বিমানযাত্রার সময়ও হার্প তার সঙ্গে ছিলেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

কেন এতটা কাছের?

ট্রাম্পের সঙ্গে হার্পের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে নানা ধরনের বর্ণনা এসেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে হার্পের ভূমিকা নিয়ে লিখেছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে হ্যাবারম্যানের একটি মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তিনি হার্পকে ট্রাম্পের ‘কমফোর্ট ব্ল্যাঙ্কেট’ বা মানসিক স্বস্তির সঙ্গী হিসেবে বর্ণনা করেন। ট্রাম্প কেন তাকে গোপন বিমানযাত্রায় সঙ্গে নিয়েছিলেন, এমন প্রশ্নের প্রসঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হার্পের ভাই প্রেস্টন হার্পও বলেছেন, তার বোন ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে বড় ভক্ত’। ছোটবেলা থেকেই হোয়াইট হাউসে কাজ করার স্বপ্ন ছিল হার্পের। এমনকি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশসহ কয়েকজন প্রেসিডেন্টকে চিঠিও লিখেছিলেন তিনি।

হোয়াইট হাউস অবশ্য হার্পকে প্রেসিডেন্টের ‘বিশ্বস্ত ও মূল্যবান’ সদস্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ট্রাম্প নিজে প্রকাশ্যে তাকে নিয়ে খুব বেশি কথা বলেননি। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে নাটালি হার্প। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে নাটালি হার্প। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের ই১ বসতি প্রকল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক ও আরব বিশ্বের বিরোধিতা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ই১ বসতি প্রকল্পের জন্য ইসরায়েলের দেওয়া নির্মাণ দরপত্র বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, কানাডা ও নরওয়ে। বৃহস্পতিবার রাতে ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো বলেছে, ই১ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এতে ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সাত দেশ ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনে অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ।

একই সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই প্রকল্পের দরপত্রে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রকল্পে অংশ নিলে আইনি ও সুনামগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

মিসর ও জর্ডানও ই১ প্রকল্পের নিন্দা জানিয়েছে। মিসর বলেছে, এই প্রকল্প পূর্ব জেরুজালেমের ওপর প্রভাব ফেলবে। জর্ডানের অভিযোগ, ইসরায়েল এই প্রকল্পের মাধ্যমে দখলদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।

আরব লীগের মহাসচিব নাবিল ফাহমি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিরাপত্তা পরিষদের ২৩৩৪ নম্বর প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন। ওই প্রস্তাবে ১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলি বসতিকে ‘আইনি বৈধতাহীন’ বলা হয়েছে।

ফিলিস্তিনের জাতীয় পরিষদের সভাপতি রুহি ফাত্তুহ বলেন, ই১ প্রকল্পের দরপত্র প্রকাশের ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আরও কাছে চলে গেছে। এতে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভিত্তি হুমকির মুখে পড়বে।

মঙ্গলবার ই১ এলাকায় ১ হাজার ২৩৪টি বাড়ি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে ইসরায়েল। ২০২৫ সালের আগস্টে ওই এলাকায় মোট ৩ হাজার ৪০১টি আবাসন ইউনিট নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ই১ এলাকা পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েলি বসতি মালে আদুমিমের মাঝামাঝি অবস্থিত। সেখানে নির্মাণকাজ হলে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসরায়েল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে। বর্তমানে এসব এলাকায় প্রায় ৭ লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এবং প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই এসব ইসরায়েলি বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন মনে করে। তবে ইসরায়েল এই অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে।

ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের বিরোধী সংগঠন পিস নাও বলেছে, সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বসতি সম্প্রসারণ ও পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে।

সংগঠনটি আরও সতর্ক করেছে, ই১ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে খান আল-আহমারসহ কয়েকটি বেদুইন সম্প্রদায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে এবং অনেক বাসিন্দাকে তাদের জমি থেকে উচ্ছেদের ঝুঁকি তৈরি হবে।

সূত্র: শাফাক নিউজ

ছবি: শাফাক নিউজ থেকে নেওয়া।
ছবি: শাফাক নিউজ থেকে নেওয়া।

গাজায় ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ১০, মোট মৃত্যু ৭৩,৪১৭

গাজা উপত্যকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ১০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাবে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজার হাসপাতালগুলোতে আহতদের আনা হয়েছে, তবে তাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হতাহতদের মধ্যে ১০ জনের মরদেহ ও ২৫ জন আহতকে গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে তাদের হতাহতের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এ ছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো অনেক মানুষ আটকে রয়েছেন। উদ্ধারকারী ও জরুরি সেবাকর্মীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

সর্বশেষ হতাহতের পর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ৭৩,৪১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৬০ জন।

২০২৫ সালের অক্টোবরে তথাকথিত যুদ্ধবিরতির কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলি হামলায় ১,২৮৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪,২৪৮ জন আহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

গাজায় ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ১০, মোট মৃত্যু ৭৩,৪১৭

টেকনাফে জেলেদের জালে ধরা পড়ল ১৬৬ কেজির বোল মাছ

প্রকাশ ২৭ নভেম্বর ২০২৫ঃ কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ার সাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ১৬৬ কেজি ওজনের বিশাল একটি বোল মাছ। মাছটি বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায়। ২৭ নভেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাহারছড়ার বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের নৌকার জালে মাছটি ধরা পড়ে। সন্ধ্যায় মাছটি বিক্রির জন্য টেকনাফ পৌরসভার লামার বাজারের একটি আড়তে তোলা হয়।

ট্রলারের মালিক সাইফুল ইসলাম (৪৫) বলেন, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার দুপুরে ছয় জেলে নৌকা নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে নামেন। বিকেলে জালে অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের সঙ্গে বিশাল বোল মাছটিও ধরা পড়ে। অতিরিক্ত ওজনের কারণে মাছটি নৌকায় তুলতে জেলেদের বেগ পেতে হয়।

সাইফুল ইসলাম বলেন, এত বড় মাছ জীবনে কখনো দেখা হয়নি। বড় মাছ ধরতে পেরে জেলেরা খুশি। আড়তে মাছটি ওজন মেপে পাওয়া গেছে ১৬৬ কেজি। গত পাঁচ বছরে টেকনাফ সমুদ্র উপকূলে এত বড় বোল মাছ কোনো ট্রলারে ধরা পড়েনি। তবে মাঝেমধ্যে বড় বোল মাছ ধরা পড়েছে সেন্ট মার্টিনের ছেঁড়াদিয়ায়।

ট্রলারের জেলেরা জানান, বোল মাছটির বিক্রির জন্য ২ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল। ১২ জন মাছ ব্যবসায়ী বোল মাছটি কেনার আগ্রহ দেখান। শেষ পর্যন্ত ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বোল মাছটি কিনে নেন বাহারছড়ার মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ করিম সওদাগর।

ক্রেতা করিম সওদাগর জানান, বোল মাছটি বিক্রির জন্য রাতেই ঢাকায় পাঠানো হবে। এ জন্য বরফ দিয়ে মাছটি সংরক্ষণের প্রস্তুতি চলছে। ঢাকায় এই মাছ দুই লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি করা হবে।

১৬৬ কেজি ওজনের বোল মাছ ধরা পড়ার সত্যতা প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন। বিরল প্রজাতির বড় এই বোল মাছ সব সময় জালে ধরা পড়ে না। সেন্ট মার্টিনের প্রবাল পাথরের স্তূপে এবং আশপাশে পাথর এলাকায় বোল মাছের বিচরণ বেশি থাকে। বোল মাছ ওজনে ৯-১০ মণও হয়ে থাকে। বোল মাছটি দেখতে স্থানীয় অনেকে আড়তে ভিড় জমিয়েছিলেন।

সেন্ট মার্টিন বোট মালিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ছেঁড়াদিয়ার চারপাশে পাথরস্তূপ ও প্রবাল আস্তরে বোল মাছের বিচরণ বেশি দেখা যায়। কিন্তু পাথরের জন্য সেখানে জাল ফেলা যায় না। দ্বীপের ২০-২৫টি নৌকা ছেঁড়াদিয়াতে নৌকা নিয়ে গিয়ে বড়শি ফেলে বোল মাছ ধরা হয়। ৩০ কেজি থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ মণ ওজনের বোল ধরা পড়ার রেকর্ড রয়েছে। মাছটির স্বাদে অতুলনীয়।

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ার জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ১৬৬ কেজি ওজনের বোল মাছটি। আজ বিকেলে
কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ার জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ১৬৬ কেজি ওজনের বোল মাছটি। ছবি: প্রথম আলো