Monday, September 12, 2011

আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম

বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের সঙ্গে কবে পরিচয়, সেটা আর মনে নেই। তবে সেই রাতের কথা বেশ মনে পড়ে। তখন তাঁর বয়স ৬৫ বছরের কাছাকাছি। আর আমি স্কুলপড়ুয়া বালক। ছোটবেলা থেকেই ছিল গানের নেশা। তাঁর গানের সুর শুনলেই সব দুরন্তপনা এক নিমেষেই থেমে যেত। সেই রাতে ছিল আমাদের গ্রামে বাউল গানের আসর। তবে বাবার কোলে বসে গান শুনতে শুনতে সেদিন কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। যখন ঘুম ভাঙল, তখন দেখি আসরে সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরা লম্বা চুলের দেবতুল্য এক ব্যক্তি দোতারা বাজিয়ে একমনে গান গাইছেন।
ছোটবেলায় দেখা সেই শাহ আবদুল করিম পরবর্তী জীবনে আমার অতি ঘনিষ্ঠজনদের একজন হয়ে ওঠেন। সুরের পাখায় ভর করে হয়েছেন বাউল গানের কিংবদন্তিতুল্য শিল্পী। শাহ আবদুল করিমের সাক্ষা ৎ দর্শনের সুতীব্র ইচ্ছায় কত দিন যে ছুটে গিয়েছি তাঁর গ্রামে! যখনই গিয়েছি, তখনই শুনেছি বাউলসম্রাটের ভাবশিষ্য আবদুর রহমান, রোহী ঠাকুর, কাইয়ুম শাহ, রণেশ ঠাকুর আর বশিরউদ্দিন সরকারদের মায়াবী কণ্ঠের প্রচলিত-অপ্রচলিত কত গান।
বাউলসম্রাট শত অভাব-অনটনে থেকেও রাখঢাক না রেখে স্পষ্ট কথা বলতেন। অন্যায়-অবিচার দেখলেই প্রতিবাদ করতেন। গানে গানে প্রতিবাদ তো ছিলই। তিনি ছিলেন সার্থক শিল্পী। ছোট্ট একটি উদাহরণ দিলে সেটা আরও পরিষ্কার হবে। এটা আমার নিজ চোখে দেখা ঘটনা—শেষ বয়সে সিলেটে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাউলসম্রাট এসেছিলেন। তাঁর স্মৃতিশক্তি তখন অনেকটাই বিলুপ্ত। স্মৃতিভ্রমের সেই ক্রান্তিলগ্নে ওই অনুষ্ঠানে বাউলসম্রাটের হাতে আয়োজকেরা সোয়া তিন লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ভেবেছিলেন, সেটা ছিল সোয়া তিন হাজার টাকার চেক!
বাউলসম্রাট চেক হাতে নিয়ে আয়োজকদের উদ্দেশে মন্তব্য করলেন, ‘আপনাদের ভালোলাগায় আমি মুগ্ধ। আমার মতো নিতান্তই অভাজন এক ব্যক্তির হাতে আপনারা সোয়া তিন হাজার টাকা তুলে দিলেন। আপনাদের ভালোবাসার এই অশেষ ঋণ আমি আজীবন মনে রাখব।’ তা ৎ ক্ষণিকভাবে উপস্থিত সুধীজন বাউলের ভুল ভাঙিয়ে জানান যে এই অনুষ্ঠানে সোয়া তিন হাজার নয়, সোয়া তিন লাখ টাকার চেক সম্মাননা স্বরূপ তাঁকে দেওয়া হয়েছে।
সুধীজনদের কথা শুনে বাউলসম্রাট চমকে উঠলেন। চেয়ারে বসা ছিলেন, মুহূর্তেই উঠে দাঁড়ালেন। বললেন, ‘অসম্ভব! এটা আমি নেব না। আমার এত টাকার প্রয়োজন নেই। আমি চাই শুধু আপনাদের ভালোবাসা।’ বাউলসম্রাটের নির্লোভ চরিত্রের বিষয়টি প্রত্যক্ষ করে সেদিন মিলনায়তনভর্তি সুধীদের চোখ ভিজে উঠেছিল। সবাই দাঁড়িয়ে মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে বাউলসম্রাটের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এই হলো শাহ আবদুল করিম। সারা জীবন এমনিভাবে নির্লোভ-নিরহংকার জীবন যাপন করেছেন। তাই সংগত কারণেই পেয়েছেন গণমানুষের ভালোবাসা।
প্রসঙ্গক্রমে জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবালের মুখে শোনা কথার উল্লেখ করা যেতে পারে। তখন ২০০৬ সাল, বাউলসম্রাটের একমাত্র সন্তান শাহ নূরজালালের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রথমবারের মতো আমরা ‘শাহ আবদুল করিম লোকউ ৎ সব’-এর আয়োজন করেছিলাম। এই উ ৎ সবে আমাদের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন জাফর ইকবাল স্যার। বক্তৃতা শেষে তিনি বাউলসম্রাটকে নিয়ে একটি গল্প শোনান।
জাফর ইকবাল স্যার ওই দিন বলেছিলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রয়াত মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের কাছে “আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম” গানটি নিয়ে একটি গল্প শুনেছিলাম। তিনি উপাচার্য থাকাকালীন একবার ভারতবর্ষে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে সেই সেমিনার ওয়ার্কশপের শেষে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে একজন শাহ আবদুল করিমের লেখা “আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম” গানটি গেয়ে শোনালেন। সবাই মুগ্ধ হয়ে গানটি শুনলেন। কিন্তু আমাদের উপাচার্য অবাক হয়ে লক্ষ করলেন, গানটি কে লিখেছেন সে সম্পর্কে গায়ক কিছুই বললেন না। মনে হলো, সবাই ধরে নিলেন যে গানটি লিখেছেন তাঁদের দেশের কোনো গীতিকার! অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান তখন অনুমতি নিয়ে মঞ্চে উঠে বললেন, এইমাত্র আপনারা যে অপূর্ব সুন্দর গানটি শুনেছেন, এই গানটি লিখেছেন আমাদের এলাকার বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম।’
এরপর মুহম্মদ জাফর ইকবাল বললেন, ‘প্রফেসর মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান আমাকে বলেছিলেন, ভারতবর্ষের জ্ঞানী-গুণী মানুষের সামনে বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের কথা বলতে গিয়ে তাঁর বুক গর্বে ফুলে উঠেছিল! এত দিন পর আমারও সেই কথাটি মনে করে গর্বে বুক ফুলে উঠছে।’
বাউলসম্রাটের প্রয়াণের পর এখন দেখা যাচ্ছে, করিম-প্রদত্ত সুরের বাইরে তাঁর গান বেসুরে গাওয়া হচ্ছে। যেন কারও কোনো দায়বোধ নেই। বাউলসম্রাটের ঘনিষ্ঠজনদের অন্যতম কবি-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শুভেন্দু ইমামকে এ নিয়ে মাঝেমধ্যেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে শুনি। ‘এমন তো নয় যে সুরগুলো পাওয়া যাচ্ছে না। যেখানে করিম ভাইয়ের গানের সুরগুলো আমাদের প্রায় সবার জানা, সেখানে তাঁর সুর পাল্টিয়ে ফেলা মোটেই উচিত নয়।’ কবি শুভেন্দু ইমামের এ কথাগুলো ছড়িয়ে পড়ুক সবখানে।
সুমনকুমার দাশ

অর্থমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত স্বীকার করলেন, দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ সম্পর্কে খারাপ ধারণা রয়েছে। কিন্তু ‘শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ’ হিসেবে আমাদের এ বৈশ্বিক পরিচিতির কলঙ্ক ঘোচাতে তাঁদের সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, নিলে কোন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু বলেননি। বাংলাদেশের মানুষ ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে জয়ী করেছিল যেসব কারণে, তার মধ্যে একটা ছিল এই যে, আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে অঙ্গীকার করেছিল, ক্ষমতায় গেলে তারা দুর্নীতি দমনের অভিযান আরও জোরদার করবে, দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আরও শক্তিশালী করবে। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি এর উল্টোটা: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুদক যেটুকু স্বাধীনতার সঙ্গে কাজ করতে পেরেছিল, এখন তা-ও পারছে না। দুদকের চেয়ারম্যান গোলাম রহমানের ভাষ্যের অনুসরণে বলা যায়: তথাকথিত এ স্বাধীন সংস্থাটিকে নখ-দন্তহীন করে ফেলা হয়েছে।
শনিবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত তামেশু সিনোসুকার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষা ৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে ঋণদাতা দুটি সংস্থা বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মধ্যে মতদ্বৈধতার কারণে। মতদ্বৈধতার কারণ হচ্ছে দুর্নীতি। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজটি পেতে চায় যেসব প্রতিষ্ঠান, তাদের মধ্যে কারা দুর্নীতিবাজ, কারা নয়—এ নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারছে না এ দুটি প্রতিষ্ঠান। বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকায় যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম আছে, এডিবির কালো তালিকায় তাদের নাম নেই। আবার এডিবির কালো তালিকায় যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম আছে, বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকায় তাদের নাম নেই। ফলে নির্মাণকাজের জন্য দরপত্র আহ্বানের কাজটা পড়ে গেছে জটিলতায়। অর্থমন্ত্রী জানাচ্ছেন, পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করতে সরকারের নিজের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু প্রস্তাবিত পদ্মা সেতু নির্মাণে দুর্নীতি হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই তো সংস্থা দুটির মধ্যে মতদ্বৈধতা দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন হলো, কীভাবে বিচার করা যাবে, কোন দাতা সংস্থার কালো তালিকা সঠিক, কোনটির বেঠিক? এ সমস্যার সমাধান কী?
অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী অক্টোবরের মধ্যে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির মধ্যকার মতদ্বৈধ সমস্যাটির নিরসন হবে; কিন্তু কেমন করে হবে, আমরা তা বুঝতে পারছি না। কোন সংস্থা কোন কোন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকা থেকে সাদা তালিকায় পার করে দিয়ে দরপত্র দাখিলের যোগ্য করে তুলবে? কিসের ভিত্তিতে তারা তা করবে?
বিদেশিরা বলছে বলে নয়, বিদেশিদের তৈরি করা দুর্নীতির সূচকে আমরা শীর্ষ সারিতে অবস্থান করি বলে নয়, আমাদের সব সরকারি কাজে দুর্নীতির চর্চা কঠোরভাবে দমন করতে হবে এ দেশের জনগণের দিকে তাকিয়ে। পদ্মা সেতু নির্মাণের খরচ জোগাবে বাংলাদেশের জনগণ, ঋণদাতাদের ঋণ সুদে-আসলে পরিশোধও করতে হবে দরিদ্র এ জনগণকেই। সুতরাং সরকারের সব দায় চূড়ান্তভাবে জনগণের কাছেই। নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা ভুলে যাওয়া চলবে না। দুদককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। সব বড় প্রকল্পের পরিপূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

বাধ্যতামূলক জাতীয় পরিচয়পত্র

নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বাইরেও জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নাগরিকদের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার আগে কিছু বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করি।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনের বর্তমান ধারা অনুযায়ী, বর্তমানে পরিচয়পত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়। আইনে যেকোনো ধরনের সেবা বা নাগরিক সুবিধা পেতে পরিচয়পত্র প্রদর্শন ও অনুলিপি জমা দেওয়ার কথা বলা আছে। তবে সারা দেশের নাগরিকদের অনুকূলে পরিচয়পত্র প্রদানের আগ পর্যন্ত এর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা যাবে না এবং এ জন্য কোনো নাগরিককে তাঁর অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। প্রশ্ন হচ্ছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার আগে সব নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব কি না। বিভিন্ন কারণে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন থেকে যারা বাদ পড়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কী হবে?
এই প্রশ্নগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে চাই, জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার আগে জাতীয় পরিচয়পত্রের নিবন্ধন থেকে যারা বাদ পড়েছে তাদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ দিতে হবে। আইন অনুযায়ী প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনাও জরুরি।
আরও যে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে তা হচ্ছে, বর্তমান জাতীয় পরিচয়পত্রের নিবন্ধনের সময় নাগরিকদের সম্পর্কে যে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, সেখানে অনেকের তথ্যে ভুলভ্রান্তি রয়েছে। নামের বানান, জন্মতারিখ বা ঠিকানা—এ ধরনের ক্ষেত্রেও ভুল তথ্য রয়েছে অনেক পরিচয়পত্রে। এসব ভুলত্রুটি সংশোধন করার আগে পরিচয়পত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলে যাচাই করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে।
বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে, বিশেষ করে, সেবা বা বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী অনলাইনে পরিচয়পত্র যাচাই ও নাগরিকদের সাধারণ তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া পুলিশও নাগরিকদের এই তথ্য জানার সুযোগ পাবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় বিধিবিধান তৈরির কাজও শেষ হয়েছে। আমরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক বলে মনে করি। পরিচয়পত্রের ব্যবহার বাধ্যতামূলক ও তা যাচাইয়ের কাজটি অনলাইনে করা গেলে অনেক ধরনের জালিয়াতি এড়ানো সম্ভব হবে, অপরাধপ্রবণতা দমনেও তা ভূমিকা পালন করবে। তবে এর আগের করণীয়গুলো অবশ্যই যথাযথভাবে করতে হবে।

বিশ্ব সংস্কৃতি সম্মেলন ফলপ্রসূ হবে তো? by সাইফুদ্দীন চৌধুরী

ইউনেসকোর উদ্যোগে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় প্রথমবারের মতো বিশ্ব সংস্কৃতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সংস্কৃতিবিনিময়। সংস্কৃতি রাষ্ট্রের নাগরিকদের আত্মিক, বস্তুগত, বুদ্ধিগত এবং আবেগগত চিন্তা ও কর্মপ্রবাহের প্রকাশ ঘটায়। নাগরিকদের সম্পূর্ণ জীবনধারা সংস্কৃতিতেই প্রতিবিম্বিত হয়। এসব বিবেচনায় স্বাগতিক দেশ হিসেবে আসন্ন বিশ্ব সংস্কৃতি সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ঘটনা তো বটেই, গৌরবেরও।
ওই সম্মেলন নিয়ে বিশিষ্টজনেরা ভাবছেন নানা কথা। তাঁরা সংশয় প্রকাশ করছেন, বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব সংস্কৃতি সম্মেলন আদৌ কি কোনো সাফল্য আনতে পারবে? কোন মানদণ্ড বা কোন লক্ষ্য সামনে রেখে স্বাগতিক বাংলাদেশ বক্তব্য উপস্থাপন করবে? দেশে সংস্কৃতি বিষয়ে নীতিমালাই নেই। থাকলে তার আলোকে কেবল সংস্কৃতিবিনিময় প্রসঙ্গই নয়, সংস্কৃতির আর সব বিষয়-আশয় নিয়েও আলোচনা-পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যেত। সুধীজনেরা বলছেন, ছোটখাটো ত্রুটি থাকলেও দেশে প্রায় সর্বজনগ্রাহ্য একটি শিক্ষানীতি হয়েছে। এবার কমিশন গঠন করে সংস্কৃতিনীতি প্রণয়নে উদ্যোগী হওয়া জরুরি। যদিও বর্তমান সরকার সরকারিভাবে না করে দলীয় ভিত্তিতে একটি সংস্কৃতি উপকমিটি গঠন করেছে, দেশের একজন খ্যাতিমান শিক্ষাবিদকে সভাপতি ও দর্শকনন্দিত একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে সদস্যসচিব করে। কথা ছিল, কমিটি যথাশিগগির দেশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নানা কৌণিকে আলোচনা-পর্যালোচনা করে একটি খসড়া সংস্কৃতি নীতিমালা তৈরি করবে। ‘নিউক্লিয়াস’ ওই খসড়াই বিভিন্ন পর্ব-পর্যায় হয়ে ‘জাতীয় সংস্কৃতিনীতি’ হিসেবে দেশবাসীর কাছে উপস্থাপিত হবে। প্রায় বছর অতিক্রান্ত হলো, কমিটির কাজের অগ্রগতির কথা কিছুই জানা যায়নি। আমাদের প্রত্যাশা, কমিটি যত দ্রুত সম্ভব একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করে জনমতের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে শুধু সংস্কৃতিবিনিময় প্রসঙ্গই নয়, দেশ-কালভেদে সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইলে, নিজ দেশের ওই নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ে কোনো বিধিবদ্ধ নীতিমালা বা নিয়মনীতি না থাকায় অতীতে দেশে ও দেশের বাইরে উপস্থাপিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়ে বহু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আদতে ওই সব অনুষ্ঠান বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে কি?
এই নীতিমালা না থাকায় বছর পাঁচেক আগে ফ্রান্সে পুরাকীর্তি পাঠানো নিয়ে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল, প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। ঘটনাটি ছিল, বাংলাদেশের বিভিন্ন জাদুঘর থেকে সেরামানের কিছু পুরাকীর্তি সাময়িকভাবে প্রদর্শনের জন্য সেখানকার গিমে মিউজিয়ামে নিয়ে যাওয়ার বিষয় নিয়ে। প্রদর্শনী শেষে সেগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হবে—এই মর্মে উভয় দেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু সম্পাদিত চুক্তিটি ছিল ত্রুটিপূর্ণ। চুক্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডকুমেন্টেশনের নিয়মনীতি মানা তো হয়ইনি, তা ছাড়া সর্বত্র ছিল অযত্ন, অজ্ঞতা আর অদক্ষতার ছাপ। চুক্তির পুরো প্রক্রিয়াটিই ছিল অস্বচ্ছ। অন্তত ইউনেসকোর ‘রিটার্ন অ্যান্ড রেসটিউশন অব কালচারাল প্রপার্টি’ নামে যে আইন আছে তার আলোকে ওই চুক্তি হয়ে থাকলেও কেউ সে বিষয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলত না।
পুরাকীর্তি বিষয়ে বিদ্যমান আইনগুলোর সবই ব্রিটিশ আমলের। পুরোনো আইন প্রয়োগ করে, বিশেষ করে, পুরাকীর্তি ক্ষমতাধরদের হাত থেকে রক্ষা করা দুঃসাধ্য। আইনগুলোর আধুনিকায়ন ও সংস্কার করে ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংসের প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। প্রত্নপীঠ ও প্রত্নাঞ্চলের সঠিক জরিপ করে তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। বন্ধ করতে হবে প্রত্নপীঠ কেটে কৃষিজমিতে রূপান্তরের কাজ। প্রখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ কাশীনাথ দীক্ষিতের ১৯২২-২৩ সালের ‘আর্কেওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার অ্যানুয়াল রিপোর্ট’-এ লেখা আছে, প্রত্নতাত্ত্বিক উ ৎ খননে রাজশাহী জেলার তানোরে যে প্রত্ন-উপকরণ পাওয়া গেছে, তাতে প্রমাণিত হয়, এলাকাটি ছিল গুপ্ত শাসনামলে পুণ্ড্রবর্ধনভুক্তির অন্তর্গত একটি জনপদ। সংবাদপত্রে লেখালেখির পরও এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এটি সংরক্ষণের জন্য অদ্যাবধি কোনো ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
দেশের সংস্কৃতি নীতিমালায় ব্যাখ্যা থাকবে, সংগীত, নৃত্য, চলচ্চিত্র, ভাষা, সাহিত্য, নাটকসহ শিল্পকলার বিভিন্ন শাখা থেকে কারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। বহির্বিশ্বে তাঁরা কী ধরনের অনুষ্ঠান উপস্থাপন করবেন। দেশের পুস্তক প্রকাশনা ও বিপণনেও অনেক সমস্যা-অসংগতি রয়ে গেছে। আইন প্রয়োগ করে সেসব সমস্যা চিহ্নিত করে অসামঞ্জস্য দূর করতে হবে। দেখা যাচ্ছে, বিদেশ থেকে আমদানি করা পুস্তকের সম্ভার দেশের প্রকাশনা শিল্পের ক্ষতির কারণ হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুতই বিদেশি বই ‘পাইরেসি’ হয়ে বাজার ভরে যাচ্ছে। এ অবস্থা নিয়ন্ত্রণে না আনলে আমাদের প্রকাশনাশিল্প সংকটে পড়তে পারে—চিন্তার বিষয়।
১৯৩৩ সালে প্রণীত লাইসেন্স এন্ডোরসমেন্ট অ্যাক্টের আধুনিকায়ন দরকার। এটি করা না হলে গ্রামবাংলার গুরুত্বপূর্ণ বিনোদনমাধ্যম যাত্রাশিল্প রক্ষা করা যাবে না। ইউনেসকোর ১৯৮২ সালের কনভেনশনে সদস্য সব দেশকে স্বতন্ত্রভাবে সংস্কৃতিনীতি প্রণয়নের জন্য বলা হয়েছে। ওই ঘোষণা অনুযায়ী অনেক দেশই নীতিমালা তৈরি করেছে। যেসব দেশ নীতিমালা তৈরি করেনি, সে তালিকার অন্যতম বাংলাদেশ।
আসন্ন সংস্কৃতি সম্মেলনে ফল পেতে চাইলে সংস্কৃতিনীতি প্রণয়ন বিষয়ে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। দুশ্চিন্তা হয়, পাছে ভারত-বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সমঝোতা বৈঠকের মতো ওই সম্মেলনের নেতিবাচক ফলাফলে আবারও জনমনে প্রশ্ন না ওঠে! জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে তা হবে বাংলাদেশের জন্য আসলেই দুর্ভাগ্যের।
ড. সাইফুদ্দীন চৌধুরী: গবেষক ও অধ্যাপক, ফোকলোর বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
pr_saif@yahoo.com

মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা না চালানোর নির্দেশ মুকতাদার

চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার আগে তাদের ওপর কোনো হামলা না চালাতে ইরাকের কট্টরপন্থী শিয়া নেতা মুকতাদা আল-সদর তাঁর অনুসারীদের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল রোববার বার্তা সংস্থা এএফপিতে পাঠানো এক বিবৃতিতে সদর এ কথা বলেছেন।
বিবৃতিতে সদর বলেন, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে দখলদারদের প্রত্যাহারের মাধ্যমে দেশটি তার স্বাধীনতা ফিরে পেতে পারে। কাজেই দখলদার বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার আগে সব ধরনের সশস্ত্র ত ৎ পরতা বন্ধ করা অপরিহার্য।
সদর বলেন, ‘যদি সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হয় এবং আমাদের ভূখণ্ডে একজন মার্কিন সেনারও উপস্থিতি না থাকে, তাহলে অবশ্যই সামরিক ত ৎ পরতা শেষ হবে। কিন্তু সেনা প্রত্যাহার যদি সম্পূর্ণ না হয় এবং ইরাক পরাধীন রাষ্ট্রই থাকে, তাহলে তারা আবারও বড় ধরনের ত ৎ পরতা শুরু করবে।’
বিবৃতিতে সদর বিদ্রোহীদের ত ৎ পরতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

জাপানে পরমাণুবিরোধী বিক্ষোভ

পারমাণবিক বিদু্যু ৎ কেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং নিরাপদ বিকল্প জ্বালানিনীতির দিকে সরকারের সরে আসার দাবিতে গতকাল রোববার জাপানের রাজধানী টোকিওসহ কয়েকটি শহরে পরমাণুবিরোধীরা বিক্ষোভ করেছে। গত মার্চে জাপানে ভূমিকম্প-পরবর্তী সুনামিতে পরমাণু বিপর্যয়ের ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে এই বিক্ষেভের আয়োজন করা হয়।
গত মার্চে জাপানে রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের পর দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে সুনামি আঘাত হানে। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয় কিংবা মারা যায়। এ ছাড়া ফুকুশিমা এলাকায় দাইচি পারমাণবিক বিদ্যু ৎ কেন্দ্রেও মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দেয়।
দাইচি পরমাণু বিদ্যু ৎ কেন্দ্রের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ের দিকে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ একটি মিছিল নিয়ে যায় এবং জাপানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ভবনের চারপাশে তারা মানববন্ধন করে। জাপানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জ্বালানিশিল্পের তত্ত্বাবধান করে থাকে।
বিক্ষোভকালে পরমাণুবিরোধীরা ড্রাম পিটিয়ে জাপানের সব পারমাণুবিক বিদ্যু ৎ কেন্দ্র বন্ধ এবং সরকারের পরমাণুনীতির পরিবর্তনের দাবিতে স্লোগান দেয়। এ সময় চারজন বিক্ষোভকারী সরকারের পরমাণুনীতির পরিবর্তনের দাবিতে ১০ দিনের অনশন শুরুর ঘোষণা দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি সত্ত্বেও জাতিসংঘের সদস্যপদ চাইবেন আব্বাস

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, আর্থিক সহায়তা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি সত্ত্বেও জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য আবেদন করবে ফিলিস্তিন। গতকাল রোববার জর্ডানের সরকারি মালিকানাধীন সংবাদপত্র আল রাইয়ে প্রকাশিত এক সাক্ষা ৎ কারে তিনি এ কথা বলেন।
আব্বাস বলেন, ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য আমরা জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য আবেদন করব। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা বন্ধের হুমকিসহ অনেক বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও এটা করা হবে।’ আব্বাস আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি এ ক্ষেত্রে ভেটোও দেয়, তাও আমরা পিছপা হব না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অতীতেও আমাদের মতপার্থক্য ছিল। যাই হোক, আমরা একটি যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত নেব।’
আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেবেন মাহমুদ আব্বাস। এই অধিবেশনেই জাতিসংঘের সদস্যপদ চাইবে ফিলিস্তিন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিনের জাতিসংঘের সদস্যপদ পাওয়ার কোনো প্রস্তাব এলে ভেটো দেবে ওয়াশিংটন। তারা বলেছে, কেবল আলোচনার ভিত্তিতেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে।

হামলার দৃশ্য দেখে কঠিন হয়ে গিয়েছিলেন ব্লেয়ার

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা জানার পর ব্রিটেনের ত ৎ কালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ছিলেন অত্যন্ত কঠিন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, কী ঘটনা ঘটে গেছে। বিবিসির ‘ব্রেকফাস্ট’ অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়েছেন ব্লেয়ারের সাবেক চিফ অব স্টাফ জোনাথান পাওয়েল।
নাইন-ইলেভেনের দশম বার্ষিকীর আগে দেওয়া এই সাক্ষা ৎ কারে পাওয়েল জানান, প্রধানমন্ত্রী ব্লেয়ার ওই দিন ছিলেন ব্রাইটনে। একটা সম্মেলনের জন্য ভাষণের খসড়া তৈরি করতে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। এর মধ্যেই এক সহকারী দরজা ঠেলে তাঁর ঘরে ঢোকেন এবং দ্রুত টিভির সামনে যাওয়ার জন্য তাঁকে অনুরোধ করেন। এর পর টিভিতে তিনি দেখেন টুইন টাওয়ারে চালানো হামলার দৃশ্য। এটা দেখেই তিনি একেবারে কঠিন হয়ে গেলেন।
পাওয়েল বলেন, ব্লেয়ার প্রথম ব্যক্তি, যিনি এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে টিভিতে বক্তব্য দেন। অনেক আমেরিকানই এখনো ব্লেয়ারের সেই কথা মনে রেখেছে।

আফগানিস্তানে তালেবান হামলায় ৫০ মার্কিন সেনা আহত

আফগানিস্তানের ওয়ারদাক প্রদেশে গত শনিবার ন্যাটোর একটি চৌকিতে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৮৯ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জনই মার্কিন সেনা। তালেবান এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে। গতকাল রোববার মার্কিন সেনাবাহিনী এ কথা জানিয়েছে।
ন্যাটোর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা-সহায়তা বাহিনী (আইএসএএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওয়ারদাকের সায়েদ আবাদ এলাকায় ন্যাটোর যোদ্ধাদের একটি চৌকির প্রবেশপথে বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। একজন আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরক-বোঝাই একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে চালিয়ে চৌকির প্রবেশপথের কাছে এনে বিস্ফোরণটি ঘটায়।
মার্কিন সেনা মুখপাত্র মেজর ডেভিড ইস্টবার্ন জানান, হামলায় ৫০ জন মার্কিন সেনা ও ১৫ জন আফগান আহত হয়েছে। বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি।
এদিকে তালেবান তাদের ইন্টারনেট সাইটে হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে। টুইন টাওয়ার হামলার দশম বার্ষিকী উদ্যাপন করতেই তারা এ হামলা চালায় বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো অফুরন্ত শক্তি রয়েছে আফগান জনগণের। তারা মার্কিনিদের ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে অবশ্যই ছুড়ে ফেলবে।
তালেবান নিজেদের ‘ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান’ পরিচয়টি ব্যবহার করে বিবৃতিটি দেয়।

ক্যামেরন ভেবেছিলেন নিউইয়র্কে স্ত্রী সামান্থা মারা গেছেন

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেডিভ ক্যামেরনের স্ত্রী সামান্থা ব্যবসায়িক সফরে নিউইয়র্কে ছিলেন। এ সময় ক্যামেরন স্ত্রীর কণ্ঠস্বর শোনার জন্য কয়েক ঘণ্টা চরম উদ্বেগের সঙ্গে কাটান। তিনি ভেবেছিলেন, হামলায় হয়তো তাঁর স্ত্রী মারা গেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার দশম বার্ষিকী উপলক্ষে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষা ৎ কারে ডেভিড ক্যামেরন এ কথা জানান। তিনি বলেন, স্ত্রী সামান্থার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টায় কয়েকটি ঘণ্টা তাঁর চরম উদ্বেগের মধ্যে কেটেছে।
হামলার সময় দেশে অক্সফোর্ডশায়ারের পারিবারিক বাড়িতে ছিলেন ক্যামেরন। আর তাঁর দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সামান্থা ছিলেন নিউইয়র্কে। ব্রিটিশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্মিথসনের নতুন শাখা উদ্বোধনের জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। সামান্থা এখনো স্মিথসনে কর্মরত।
হামলার সময় সামান্থা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে একটি দোকানে থাকলেও পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত স্বামীকে জানাতে পারেননি যে তিনি নিরাপদে আছেন। হামলার পরপরই ফোন ও মুঠোফোনের পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়েছিল। অবশ্য হামলার কয়েক ঘণ্টা পর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে সক্ষম হন ক্যামেরন।

মিসরের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক চায় ইসরায়েল

মিসরে ইসরায়েলি দূতাবাসে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলার পরও দেশটির সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখতে চায় ইসরায়েল। ইসরায়েলের পরিবেশমন্ত্রী গিলাদ এরদান গতকাল রোববার এ কথা জানান।
ইসরায়েলের আচরণে মিসরের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ ঘটে গত শুক্রবার। হাজার হাজার মানুষ ইসরায়েলের দূতাবাসে হামলা চালায়। সেখানে আটকে পড়া ছয়জন নিরাপত্তারক্ষীকে উদ্ধার করে মিসরের কমান্ডো বাহিনী। ইসরায়েলে ফিরে যায় রাষ্ট্রদূতসহ অন্য কর্মকর্তারা। হামলার সময় জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও কমপক্ষে এক হাজার মানুষ আহত হয়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত পরিবেশমন্ত্রী গিলাদ এরদান গতকাল দেশটির সরকারি বেতারে বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আমরা সব কিছুই করব। বর্তমান পরিস্থিতিতে মিসর কর্তৃপক্ষের যা করা উচিত, তারা তাই করেছে। মিসরের কমান্ডো বাহিনী হামলার সময় দূতাবাসে আটকে পড়া ছয়জন নিরাপত্তারক্ষীকে উদ্ধার করেছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাটান ভিলনাই দেশটির সামরিক বাহিনীর বেতারে গতকাল বলেন, ‘দুই দেশের স্বার্থেই পারস্পরিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে। যদিও বিষয়টি খুব সহজ নয়।’ তিনি বলেন, দেরিতে হলেও মিসরের কমান্ডো বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। তা না হলে রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটত।
গত শনিবারই মিসরের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রতি জোর দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ‘আমরা মিসরের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করার অঙ্গীকার করছি। ইসরায়েল ও মিসরের স্বার্থেই এটা প্রয়োজন।’
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের প্রতি ক্ষোভ থাকলেও মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের সময় তা প্রকাশ করতে পারত না মিসরের জনগণ। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে গত শুক্রবার। তার পরও মিসরের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে চাইবে ইসরায়েল। কারণ, আরব বিশ্বের দুটি মাত্র দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের শান্তি চুক্তি রয়েছে। এর একটি হলো মিসর। অন্যটি জর্ডান। এর আগে গাজায় ত্রাণবাহী জাহাজের বহর ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’ নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে ইসরায়েলের। তাই মিসরের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার নীতিই নেবে ইসরায়েল।

৯/১১ পাতানো খেলা?

যুক্তরাষ্ট্রে নয়-এগারো হামলার পর বদলে যায় বিশ্ব রাজনীতি। বিশ্বব্যাপী শুরু হয় সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ। সে যুদ্ধ আজও চলছে।
কী ঘটেছিল ২০০১ সালের এই দিনে? সত্যিই কি আল-কায়েদা সেদিন মার্কিন শৌর্যে আঘাত হেনেছিল! নাকি সবই ছিল পাতানো, বিশ্বকে করায়ত্ত করার মার্কিন কূটকৌশলের অংশ! এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক যুক্তি আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য, ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদাই এ হামলা চালায়। আল-কায়েদাও অবশ্য এ হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়।
তবে সন্দেহবাদীরা যুক্তরাষ্ট্র কিংবা আল-কায়েদা—কারও বক্তব্যেই আস্থা রাখতে নারাজ। তাদের যুক্তি, অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র, দুর্ভেদ্য প্রতিরক্ষাব্যূহ, সুতীক্ষ গোয়েন্দা নজরদারি ব্যর্থ করে দিয়ে আল-কায়েদার পক্ষে মার্কিন মুলুকে এত বড় হামলা চালানো অসম্ভব। সন্দেহবাদীরা নয়-এগারোকে দেখেন বাঁকা চোখে। খুঁজে পান কুটিল ষড়যন্ত্রের গন্ধ। নয়-এগারোর ঘটনা নিয়ে এখনো অনেকের মনে রয়েছে নানা প্রশ্ন। ঘটনার ১০ বছর পরও সে প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত। এসব প্রশ্নের মধ্যে পাঁচটি সবচেয়ে আলোচিত।
২০০১ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি বিমান ছিনতাই হয়েছিল। সন্দেহবাদীরা প্রশ্ন তোলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের আছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিমানবাহিনী। কিন্তু তারা কেন এই ছিনতাই হওয়া বিমান থামাতে ব্যর্থ হলো?’ এ প্রশ্নের উত্তরও আছে তাঁদের কাছে। সন্দেহবাদীরা বলেন, ত ৎ কালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি সামরিক বাহিনীকে নিশ্চুপ এবং বিমান না থামাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন আছে, ‘মাত্র কয়েকটি ফ্লোরে আগুন ধরার পর এত দ্রুত কেন টুইন টাওয়ার ধসে পড়ল?’ এ প্রশ্নের উত্তরে সন্দেহবাদীরা বলেন, আসলে নিয়ন্ত্রিত উপায়েই টুইন টাওয়ার ধ্বংস করা হয়েছে। কারণ, ভবনে অপেক্ষাকৃত কম সময়ব্যাপী আগুন জ্বলেছিল (বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্র ১-এ ১০২ মিনিট এবং বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্র ২-এ ৫৬ মিনিট)। অল্প সময়ের মধ্যে ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং ধ্বংসের কিছু সময় আগে বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গেছে।
সন্দেহবাদীরা প্রশ্ন তোলেন, ‘একজন প্রশিক্ষণার্থী চালক কীভাবে একটি বাণিজ্যিক বিমান পরিচালনা করে পেন্টাগনে হামলা চালালেন?’ সন্দেহবাদীরা বলেন, ছোট বিমান ব্যবহার করে পেন্টাগনে হামলা চালানো হয়েছে এবং ওই বিমান আল-কায়েদা নয়, পেন্টাগন নিজেই নিয়ন্ত্রণ করেছে।
প্রশ্ন রয়েছে, ‘পেনসিলভানিয়ার সাংকসভিলে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস (ইউএ) ৯৩ বিমান বিধ্বস্তের স্থান কেন এত ছোট এবং সেখানে বিধ্বস্ত বিমানটির ধ্বংসাবশেষ কেন দেখা যায়নি?’ সন্দেহবাদী তাত্ত্বিকেরা বলেন, ইউএ ৯৩ বিমানটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ভূপাতিত করা হয়েছিল। এতে মধ্য আকাশেই বিমানটি খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়। ফলে, বিমানের ধ্বংসাবশেষ বৃহ ৎ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
সন্দেহবাদীরা প্রশ্ন তোলেন, ‘স্টিলের তৈরি অন্য কোনো আকাশচুম্বী ভবন আগুনের কারণে ধ্বংস হয় না। কিন্তু বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্র-৭ বিমান হামলায় আক্রান্ত না হয়েও কেন এত দ্রুত ভেঙে পড়ল?’ এ ঘরানার মানুষেরা বলেন, বিস্ফোরক ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্র-৭ ধ্বংস করা হয়েছে।
সন্দেহবাদীদের এসব প্রশ্নের জবাব আছে পেন্টাগনের কাছে। কিন্তু এ বিশ্বে এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা পেন্টাগনের কথায় খুব কমই আস্থা রাখেন। অবশ্য পেন্টাগনও যে মিথ্যা কথা বলে, এর নজির প্রায়ই মেলে।

জাহাজীকরণের সময় বেঁধে দেওয়ায় আপত্তি ব্যবসায়ীদের

চট্টগ্রাম বন্দরে আগামী ৯ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কনটেইনার ব্যবস্থাপনাপদ্ধতি (সিটিএমএস) চালু হতে যাচ্ছে। সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক কনটেইনার-ব্যবস্থাপনার এ পদ্ধতিকে ব্যবসায়ীরা স্বাগত জানিয়েছেন। তবে পণ্য এখনই জাহাজীকরণের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় তাঁরা আপত্তি করেছেন।
গতকাল রোববার বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) আয়োজিত ‘বন্দরে পণ্যব্যবস্থাপনা পদ্ধতি’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীরা এসব কথা বলেন।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, বন্দরব্যবস্থাপনায় স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু হলে জাহাজ আসার ২৪ ঘণ্টা আগেই পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দরে পৌঁছাতে হবে। কিন্তু বর্তমান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুরবস্থাসহ বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব নয়। তখন আকাশপথে পণ্য পরিবহন ছাড়া বিকল্প উপায় থাকবে না। এসব দিক বিবেচনা করে তাঁরা জাহাজ আসার ২৪ ঘণ্টা আগেই পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দরে পৌঁছানোর বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছেন।
ঢাকায় বিজিএমইএর নিজস্ব ভবন মিলনায়তনে সংগঠনের সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত মতবিনিময়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মান্নান হাওলাদার প্রধান অতিথি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম আনোয়ারুল ইসলাম, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ ও বিকেএমইএর সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংসদ শাহরিয়ার আলম, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, দ্বিতীয় সহসভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, সহসভাপতি ফারুক হাসান, সহসভাপতি এস এম মান্নান প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌসচিব আবদুল মান্নান হাওলাদার বলেন, পণ্য পরিবহনব্যবস্থা সহজ করতে আগামী এক বছরের মধ্যে পানগাঁও ও খানপুর টার্মিনাল চালু হবে। এ ছাড়া নৌপথ উন্নয়নের জন্য বেশ কয়েকটি ড্রেজার কেনা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম আনোয়ারুল ইসলাম সিটিএমএস পদ্ধতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। আগামী ৯ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে চট্টগ্রাম বন্দরে সিটিএমএস চালু করা হবে বলে জানান তিনি।
আনোয়ারুল ইসলাম আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে সিটিএমএস চালু হলে বন্দরব্যবস্থাপনা পুরোপুরি অনলাইনে চলে যাবে। এতে ব্যবসায়ীরা অফিসে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে পাঠানো কনটেইনার সম্পর্কে জানতে পারবেন। এমনকি অনলাইনের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের কাজটিও সারতে পারবেন।
বন্দরের চেয়ারম্যান আরও বলেন, সিটিএমএস চালু হলে জাহাজ বন্দরে পৌঁছার ২৪ ঘণ্টা আগে পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দরে দিতে হবে। যদিও এখন পোশাক রপ্তানিকারকেরা জাহাজ বন্দর ছাড়ার আগে যেকোনো সময় দিতে পারেন।
তবে মতবিনিময়ের একপর্যায়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পড়েন। এ সময় চেয়ারম্যান বলেন, ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, আগে চট্টগ্রাম বন্দরে ছয় ঘণ্টায় কনটেইনার পাঠানো যেত। আর এখন তা পাঠাতে ২০ থেকে ২৪ ঘণ্টা লাগে। তা ছাড়া কারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট ও রাস্তার সমস্যার কারণে জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর ৪৮ ঘণ্টা থেকে ৭২ ঘণ্টা আগে পণ্য বন্দরে পাঠানো সম্ভব নয়।
বিজিএমইএর সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম বলেন, ‘বন্দরব্যবস্থাপনা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিকে স্বাগত জানাই। কিন্তু এতে যেন কোনো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকে নজর রাখতে হবে।’
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সালাম মুর্শেদী বলেন, ২৪ ঘণ্টা আগে বন্দরে পণ্য পৌঁছাতে হলে ঢাকা থেকে কমপক্ষে সাত দিন আগে এসব পণ্য পাঠাতে হবে, যা বর্তমান অবস্থায় একেবারেই সম্ভব নয়।

নিজ প্রতিষ্ঠানের বিমা নিজের কোম্পানিতে করা যাবে না

সাধারণ বিমা কোম্পানির পরিচালকেরা তাঁদের মালিকানাধীন অন্য কোম্পানির বিমা নিজ কোম্পানিতে করতে পারবেন না। অর্থা ৎ একটি বিমা কোম্পানির পরিচালক তাঁর মালিকানাধীন অন্য প্রতিষ্ঠানের বিমা নিজ বিমা কোম্পানিতে করতে পারবেন না।
এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশের ৪৩টি সাধারণ বিমা কোম্পানির জন্য গতকাল রোববার একটি পরিপত্র জারি করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। পরিপত্রটি কার্যকর হবে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে।
বিমাশিল্পকে সুসংগঠিত করতে আইডিআরএর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এবং বিমা গ্রাহক (পলিসিহোল্ডার), শেয়ারহোল্ডার, বিমাশিল্প তথা জনস্বার্থে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইডিআরএর চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, সাধারণ বিমা কোম্পানির পরিচালক, পরিচালকের স্ত্রী বা স্বামী, ছেলে-মেয়ে, পিতা-মাতা, ভাই-বোন এবং নির্ভরশীল অন্য কোনো ব্যক্তির নামে থাকা প্রতিষ্ঠানের বিমা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ—কোনোভাবেই নিজের বিমা কোম্পানিতে করা যাবে না।
তবে অগ্নি ও নৌবিমার ক্ষেত্রে যেসব বিমা পলিসি এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে এবং ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেওয়া হবে, সেগুলো নবায়ন ও মেয়াদপূর্তির আগ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘আইডিআরএ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, বিমাশিল্পে শৃঙ্খলা ও সমতা ফিরে আসবে এবং সবার জন্য সমান সুযোগের ক্ষেত্র তৈরি হবে। এতে আগামী দিনে কোম্পানিগুলোর আর্থিক ও দাবি পরিশোধের সক্ষমতাও বাড়বে।’
তবে আইডিআরএর পরিপত্রটি তেমন কোনো কাজে আসবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন নিটল ইনস্যুরেন্সের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্তটি কোনো পদ্ধতির মধ্যেই পড়ে না। কোথাও শুনিনি নিজের প্রতিষ্ঠানের বিমা নিজের কোম্পানিতে করা যাবে না। আইডিআরএর এ জাতীয় সিদ্ধান্তটি নেওয়া উচিত ছিল বরং বিমা খাতের নেতিবাচক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করার পর।’
মাতলুব আহমাদ বলেন, ‘আইডিআরএ দেখেছে যে, নিজের কোম্পানিতে বিমা করলে অনেকেই টাকা-পয়সা দেয় না। কিন্তু এর জন্য এ সিদ্ধান্ত হতে পারে না। বরং তারা যাতে টাকা-পয়সা দেয়, সেই পদক্ষেপ নিক।’ তিনি বলেন, ‘মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মুনাফা করা। যারা বিমা করে, দেখতে হবে যে তারা পয়সা দেয় কি না। এমন পরিপত্র জারি না করেও সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়।’
সাধারণ বিমা কোম্পানিগুলোর বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, দেশের প্রায় সব সাধারণ বিমা কোম্পানির পরিচালকদেরই আরও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিতেও মালিকানা রয়েছে। যেসব ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক বিমা করতে হয়, সে ক্ষেত্রে তাঁরা তা করছেন নিজের মালিকানাধীন বিমা কোম্পানিতে। এতে অনেক জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। অর্থা ৎ কমে যাচ্ছে গোটা শিল্পেরই প্রিমিয়াম আয়।
আইডিআরএ সূত্র জানায়, ৪৩ সাধারণ বিমা কোম্পানির বর্তমান প্রিমিয়াম আয় দেড় হাজার কোটি টাকা। অথচ নিয়মকানুন মেনে চললে এ আয় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের কৌশলগত ব্যবসা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। বিমা গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থরক্ষা এবং কোম্পানিতে সুশাসন ও জবাবদিহি বজায় রাখার দায়দায়িত্বও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায়। কিন্তু বিমা কোম্পানিতে জবাবদিহি বজায় রাখা ও সুশাসন আনার ক্ষেত্রে প্রধান প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন ওই পরিচালকেরাই।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর হস্তক্ষেপের ফলে দেশের ব্যাংকিং খাতে যেমন শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে, বিমা খাতেও অনুরূপ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সম্প্রতি নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আইডিআরএ। জারি করা পরিপত্রটি সেই উদ্যোগেরই অংশ।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সাংসদের মালিকানাধীন একটি সাধারণ বিমা কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর গত ২৩ বছরে মাত্র পাঁচ কোটি টাকা প্রিমিয়াম আয় দেখিয়েছে। অথচ সঠিকভাবে নিয়মনীতি মেনে হিসাব করলে এই কোম্পানিটির প্রিমিয়াম আয় ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত। প্রায় সব সাধারণ বিমা কোম্পানিই এমন অবস্থা তৈরি করে রেখেছে।
যোগাযোগ করলে আইডিআরএর শীর্ষপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানান, কোম্পানির পরিচালক বা উদ্যোক্তারা যখন নিজেদের মালিকানাধীন অন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিমা করার জন্য নিজেদের বিমা কোম্পানিকেই বেছে নেন, তখনই শুরু হয় জটিলতা। এমন পরিস্থিতিতে শুধু ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নয়, পরিচালনা পর্ষদও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। কোম্পানিতে তখন অনিবার্য কারণেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল তৈরি হয় এবং এই মহল পর্ষদকে দ্বিধাবিভক্ত করে রাখে।
আইডিআরএর কর্মকর্তার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সাধারণ বিমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ প্রতিবেদককে বলেন, এই মহলটি নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোপন এজেন্ডাগুলো আইনের মধ্যে থেকেই খুব সহজেই পাস করিয়ে নেয়।
আইডিআরএর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানির এমডি সুজাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘পরিপত্রটি এখনো হাতে পাইনি। তবে এ রকম কিছু জারি হয়ে থাকলে আমরা স্বাগত জানাই।’

তারল্যসংকট দূর করা নিয়ে আলোচনা

শেয়ারবাজারের একটানা দরপতন নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। বৈঠকে বাজারের বর্তমান অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে তারল্যসংকট কাটিয়ে উঠার ব্যাপারে আলোচনা হয়। আজ বুধবার বিকেলে এসইসির সম্মেলনকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে নেটিং-সুবিধা সহজ করা, সিংগেল পার্টি এক্সপোজারের বিষয়ে প্রতিষ্ঠান ভেদে আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা টি+৩ থেকে কমিয়ে টি+২ তে নিয়ে আসা।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এসইসির চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন, ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভি, সিএসসির সভাপতি ফকরউদ্দিন আলী আহমদ, সিডিবিএলের এমডি আবদুর সামাদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ডিএসইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহসানুল ইসলাম জানান, ‘এসইসির সঙ্গে বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাজারের তারল্যসংকট দূর করতে আমাদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী বুধবার ডিএসসির বোর্ড মিটিং রয়েছে। মিটিং শেষে এসইসিতে সুপারিশ জমা দেওয়া হবে।’

নিজস্ব মূলধন গঠনের অনুমতি চাইবে মার্চেন্ট ব্যাংক

শেয়ারবাজারে তারল্যসংকট দূর করতে নিজস্ব মূলধন গঠনের অনুমতি চাইবে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। আজ সোমবার বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) নেতাদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিএমবিএর সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ সাংবাদিকদের জানান, কাল মঙ্গলবার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সঙ্গে বিএমবিএর নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা। বৈঠকে নতুন ফান্ড গঠনের অনুমতি চাওয়া হবে। একই সঙ্গে বাজারের স্বার্থে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর সিংগেল পার্টি এক্সপোজারের সময়সীমা বাড়ানোরও অনুরোধ করা হবে।
হাফিজ আরও বলেন, ‘শেয়ারবাজারের বর্তমান মূল সমস্যা হলো আস্থার সংকট ও তারল্যের ঘাটতি। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সব পক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। আর তারল্যসংকট কাটাতে আমরা উপরিউক্ত দুটি বিষয়ে এসইসিকে অনুরোধ জানাব।

‘অর্ডিনারি’ জিম্বাবুয়ে!

বেচারা ব্রায়ান ভিটরি! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটটা ‘ছেলেখেলা’ মনে হচ্ছিল তাঁর কাছে বাংলাদেশের সৌজন্যে। অভিষেক টেস্টে ৫ উইকেটের পর প্রথম দুই ওয়ানডেতেও ৫ উইকেট নিয়ে ঢুকে গিয়েছিলেন ইতিহাসে।
কিন্তু জিম্বাবুয়ের পেসারকে ‘অর্ডিনারি’ বানিয়ে ছাড়ল পাকিস্তান। টেস্টে ২৭ ওভার বল করে কোনো উইকেট পাননি। প্রথম ওয়ানডেতে বিশ্রামের পর কাল হারারের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ফিরলেন, কিন্তু ভাগ্য ফিরল না। ৮ ওভার হাত ঘুরিয়ে এবারও উইকেটশূন্য!
শুধু ভিটরি নয়, মোহাম্মদ হাফিজ আর ইমরান ফারহাতের ওপেনিং জুটি কাল ‘অর্ডিনারি’ বানিয়ে ফেলল পুরো জিম্বাবুয়েকেই। স্বাগতিকদের বেঁধে দেওয়া ২২৬ রানের লক্ষ্য পাকিস্তান পেরিয়ে গেছে এই দুজনের ব্যাটেই। কোনো উইকেটই হারাতে হয়নি। কোনো উইকেট না হারিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার ওয়ানডে রেকর্ড এটি। গত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বেঁধে দেওয়া ২৩০ রানের লক্ষ্য শ্রীলঙ্কা টপকে গিয়েছিল কোনো উইকেট না হারিয়েই। উদ্বোধনী জুটিতে পাকিস্তানের নতুন রেকর্ডও হয়েছে কাল।
ম্যাচ শেষে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক কোনো আক্ষেপ করার সুযোগই পাননি। রানটা একটু কম হয়ে গেছে সেই অজুহাত দেওয়ারও সুযোগ যে ছিল না। অবশ্য হাতে উইকেট রেখেও শেষ দিকে ভালো রান তুলতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। তৃতীয় উইকেটে টেলর-মাসাকাদজার ১০৪ রানের জুটির পরও বড় স্কোর করতে না পারার মূল কারণ ব্যাটিং পাওয়ার প্লে। ওই ৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৭ রান তুলেছে জিম্বাবুয়ে। সূত্র: ওয়েবসাইট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: জিম্বাবুয়ে ৫০ ওভারে ২২৫/৬ (মাসাকাদজা ৬৮, টেলর ৫০, টাইবু ২৬, চিগুম্বুরা ১৭*; তানভির ২/৩৩, জুনায়েদ ১/২৯, চিমা ১/২৯)। পাকিস্তান: ৪২.১ ওভারে ২২৮/০ (হাফিজ ১৩৯*, ফারহাত ৭৫*; পোফু ০/৫১, ভিটরি ০/৪৪, উতসেয়া ০/৪৪)। ফল: পাকিস্তান ১০ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মোহাম্মদ হাফিজ।

উশুর ভ্রমণ পরিকল্পনা

খেলার ফল যা-ই হোক দল বেঁধে বিদেশ ভ্রমণে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে বিচ্যুত নয় বাংলাদেশ। তেমনি এক বিদেশ ভ্রমণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে উশু অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা। দলের বহরে খেলোয়াড়ের চেয়ে কর্মকর্তাই বেশি।
আগামী ৬-১৫ অক্টোবর তুরস্কের আঙ্কারায় হবে ১১তম বিশ্ব উশু চ্যাম্পিয়নশিপ। এই প্রতিযোগিতায় খেলতে তুরস্ক যাচ্ছেন এসএ গেমসে সোনাজয়ী খেলোয়াড় মেজবাহউদ্দিন ও জাতীয় চ্যাম্পিয়ন মোতাহার হোসেন। দলের সঙ্গে ম্যানেজার হিসেবে যাচ্ছেন অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি এস এম শহীদুল হক ভূঁইয়া, কোচ খোদ সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন আজাদ। পর্যবেক্ষক হিসেবে দলের সঙ্গী হচ্ছেন মহানগর উশু অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুস সালাম খান।
সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন আজাদ জানান, ‘এমন একটা টুর্নামেন্টে যাব, কিন্তু সরকারি-বেসরকারি কোনো আর্থিক সহযোগিতা এখনো পাচ্ছি না। তাই বুঝতে পারছি না আদৌ যাওয়া হবে কি না।’ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী এফ আর সিদ্দিকী নেপাল সফরে রয়েছেন। সেখান থেকে ফিরলেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে বলে জানান তিনি।

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের আট ফুটবলারকে বহিষ্কার

লেবাননের বিপক্ষে ম্যাচের আগে মানিকগঞ্জে খেপ খেলার দায়ে শাস্তি ভোগ করছেন জাতীয় দলের স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান (এমিলি) ও মিঠুন চৌধুরী। কোচ ইলিয়েভস্কির কথার অবাধ্য হয়ে এবার বহিষ্কৃত হলেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের আট খেলোয়াড়—সম্রাট, তকলিক, শিমুল, রাসেল, শিহাব, ফজলে রাব্বি, লোকনাথ ও হানিফ। এঁদের সঙ্গে বহিষ্কার করা হয়েছে সহকারী কোচ মাহবুব হোসেনকেও (রক্সি)।
৩১ জন ফুটবলারকে নিয়ে বিকেএসপিতে গত মাসেই শুরু হয়েছে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্যাম্প। গত পরশু ইলিয়েভস্কি ২২ জন খেলোয়াড় নিয়ে দুই দলে ভাগ হয়ে অনুশীলন করাচ্ছিলেন। আটজন খেলোয়াড়কে কোচ মাহবুবের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করার নির্দেশ দেন তিনি। কিন্তু তাঁরা অনুশীলনের বদলে হাসি-ঠাট্টায় সময় পার করেন। বিষয়টি কোচের নজরে আসতে তিনি সঙ্গে সঙ্গে নেন এই কঠিন সিদ্ধান্ত। বিষয়টি জেনে জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান বাদল রায় কাল ছুটে যান বিকেএসপিতে। কোচের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বাদল রায় জানিয়েছেন, ‘দলের কেউ শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তাঁর ব্যাপারে কোনো আপস নেই।’

ডিসেম্বরে আসছে পাকিস্তান

আগামী ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফরে আসা অনেকটা নিশ্চিতই ছিল। তবে এর আগে বার দুয়েক সিরিজটা বাতিল হওয়ায় একটু শঙ্কাও যে ছিল না, তা নয়। পিটিআইয়ের খবর, এবার পাকিস্তান আসছেই। বিসিবির পাঠানো সম্ভাব্য সফরসূচিতে সম্মতিও জানিয়েছে পিসিবি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের মতো ওই সিরিজেও তিন ওয়ানডে ও দুই টেস্টের পাশাপাশি থাকছে একটি টি-টোয়েন্টি। সিরিজটি আসলে হওয়ার কথা ছিল ২০০৯ সালে। কিন্তু বিডিআর বিদ্রোহের কারণে সফরটা হয়নি। গত বছর আবার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বিসিবি, কিন্তু অপারগতা জানায় পিসিবি। অবশেষে এবার হচ্ছে সিরিজটা।

অধিনায়কত্বের পরীক্ষায় মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ

সাকিব আল হাসানকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর পর থেকেই প্রশ্নটা ঘুরছে—কে হবেন বাংলাদেশ দলের পরবর্তী অধিনায়ক? কাল পর্যন্তও ঠিক হয়নি সেটা। তবে আজ শুরু বিসিবি কাপে জাতীয় দল এবং ‘এ’ দলের নেতৃত্ব দেখে জাতীয় দলের সম্ভাব্য অধিনায়ক নির্বাচনসংক্রান্ত বিসিবির চিন্তাভাবনাটা অনুমান করা যাচ্ছে।
বিসিবি কাপে জাতীয় দলের অধিনায়ক করা হয়েছে মুশফিকুর রহিমকে, সহ-অধিনায়ক আবদুর রাজ্জাক। ‘এ’ দলকে নেতৃত্ব দেবেন মাহমুদউল্লাহ, ডেপুটি জুনায়েদ সিদ্দিক। আর একাডেমি দলের অধিনায়ক তো আগেই ঠিক করা—মাহমুদুল হাসান। সহ-অধিনায়ক আলাউদ্দিন বাবু।
বিসিবি কাপ সবার জন্যই পরীক্ষা। তবে ‘অধিনায়কত্ব’ প্রশ্নে বাড়তি পরীক্ষা দেবেন মুশফিকুর-মাহমুদউল্লাহরা। এই টুর্নামেন্টের অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক নির্বাচকেরা ঠিক করলেও বোর্ড থেকে একটা দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। প্রধান নির্বাচক আকরাম খানই কাল জানিয়েছেন, ‘বোর্ড থেকে বলা হয়েছিল, যাদের জাতীয় দলের সম্ভাব্য অধিনায়ক ভাবা হচ্ছে, তাদের এখানে দেখা যেতে পারে। তবে ব্যাপারটা এমনও নয় যে, এদের মধ্য থেকেই কেউ জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেবে। জাতীয় দলের অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক নির্বাচন করবে বোর্ড।’
প্রধান নির্বাচকের কথা অনুযায়ী জাতীয় দলের অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে মুশফিকুর-মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে যোগ দিতে পারেন অন্যরাও। ‘টুর্নামেন্টে প্রতিটি দল কমপক্ষে চারটি করে ম্যাচ খেলবে। এমনও হতে পারে, আমরা কোনো কোনো ম্যাচে সহ-অধিনায়কদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছি’—বলেছেন আকরাম।
সাকিবের নেতৃত্ব কেড়ে নেওয়ার পর ৬ সেপ্টেম্বরের সভাতেই পরবর্তী অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা কমিটিকে। কমিটির প্রধান বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় এ ব্যাপারে অগ্রগতি সম্পর্কে জানা যায়নি। তবে আকরামের কথায় তো ইঙ্গিত পাওয়াই যাচ্ছে, বিসিবি কাপটা হতে যাচ্ছে জাতীয় দলের সম্ভাব্য অধিনায়কদেরও লিটমাস টেস্ট।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সূচি চূড়ান্ত

২০০৬ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খুলনার ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে যাত্রা শুরু বাংলাদেশের। এরপর আরও ১৫ ম্যাচ খেললেও দেশের মাটিতে আর খেলা হয়নি। বাংলাদেশের দর্শকেরা আবার মাঠে গিয়ে টি-টোয়েন্টি দেখতে পারবে আগামী ১১ অক্টোবর। বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সূচনাই হবে টি-টোয়েন্টি দিয়ে। এর আগে অবশ্য দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ক্যারিবিয়ানরা। প্রস্তুতি ম্যাচের প্রতিপক্ষ ঠিক হয়নি এখনো। টি-টোয়েন্টির পর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। টেস্টের আগে কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ নেই। চট্টগ্রামে ১ম টেস্টের পর শেষ টেস্ট ঢাকায়। এক মাসের সফরে ড্যারেন স্যামির দল ঢাকা আসবে ৪ অক্টোবর।

লড়াই করছে শ্রীলঙ্কা

১৯৮৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। কলম্বোর পি সারা ওভালে কপিল দেবের ভারতকে হারিয়ে টেস্টে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ৯ উইকেট নিয়ে ওই ম্যাচ জয়ের নায়ক রুমেশ রত্নায়েকে এখন শ্রীলঙ্কার ড্রেসিংরুমে। প্রথম জয়ের ২৬ বছর পূর্তিতে শিষ্যদের সেই বীরত্বের কাহিনি শুনিয়ে থাকবেন শ্রীলঙ্কা কোচ। চাপের মাঝে কাল দারুণ ব্যাটিং করল লঙ্কানরা।
আবহাওয়ার আশীর্বাদও ছিল যথারীতি। নিষ্প্রাণ উইকেটে মাথা কুটে মরেছেন অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা। সব মিলিয়ে তৃতীয় দিন শেষে যাদের হাতছানি দিচ্ছিল পরাজয়, চতুর্থ দিন শেষে তারাই এখন ম্যাচ বাঁচানোর মতো অবস্থায়। মাত্র ১৪ রান পিছিয়ে আছে শ্রীলঙ্কা, হাতে ৮ উইকেট। জমে গেছে সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনের জুটি। আজ শেষ দিনেও পুরো খেলা হবে না, একরকম নিশ্চিতই বলে দেওয়া যায়। জিততে হলে তাই দারুণ কিছু করতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে।
আগের তিন দিনের ধারা মেনে কাল আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা শেষ হয়েছে ১৯ ওভার আগে। সব মিলিয়ে চার দিনে বাজে আবহাওয়ার কারণে খেলা হতে পারেনি প্রায় ১০০ ওভার। ৭ উইকেটে ৪১১ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করেছিল অস্ট্রেলিয়া। আবহাওয়ার গতিবিধি বুঝতে পেরেই হয়তো কাল আর ব্যাটিং করার ঝুঁকি নেননি মাইকেল ক্লার্ক। ২৩৭ রানে এগিয়ে থেকে ইনিংস ঘোষণা করেন। শন মার্শ ও ফিলিপ হিউজের সঙ্গে জায়গা নিয়ে লড়াইয়ে নিজেকে প্রমাণের সুযোগই পেলেন না উসমান খাজা। অপরাজিত থেকে গেছেন ৬ রানে।
শ্রীলঙ্কা ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু উদ্বোধনী জুটি থেকেই। হ্যাটট্রিক শূন্যের সামনে থাকা থারাঙ্গা পারানাভিতানা ব্যাটিং করেছেন চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায়। শট খেলার লোভ সামলে যথেষ্ট সংযত হয়ে খেলেছেন তিলকরত্নে দিলশান। ৮১ রানের জুটির পর আউট হয়েছেন অবশ্য ‘দিলশানীয়’ ভঙ্গিতেই, রায়ান হ্যারিসের অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বল তাড়া করে স্লিপে শেন ওয়াটসনের হাতে বন্দী।
জমে গিয়েছিল পারানাভিতানা-সাঙ্গাকারার জুটিটাও। মাইকেল ক্লার্কের ‘গোল্ডেন আর্ম’ মাইক হাসি ভেঙেছেন এই জুটি। প্রথম ইনিংসের মতো কালও উইকেট পেয়েছেন প্রথম ওভারে। এবার অবশ্য সাঙ্গাকারা নন, তাঁর সঙ্গী পারানাভিতানা শিকার হাসির স্লো মিডিয়াম পেসের। ১৯৪ মিনিটে ৫৫ রানের ইনিংসটা শেষ হয়েছে অবশ্য বিতর্কিতভাবে। কট বিহাইন্ডের আবেদনে মাঠের আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ চায় অস্ট্রেলিয়া। রিপ্লেতেও পরিষ্কার বোঝা যায়নি, তবে সামান্য শব্দ পেয়েই আউট দিয়ে দেন তৃতীয় আম্পায়ার সাবির তারাপোরে।
বাকি দিনটা নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দিয়েছেন সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনে। অস্ট্রেলিয়া তাকিয়ে আছে দ্বিতীয় নতুন বলের দিকে। আজ ১ ওভার পর পেতে যাওয়া নতুন বলটাই ভরসা ক্লার্কদের। ওয়েবসাইট।

জুটি
২৩ বার ফিফটি জুটি গড়লেন জয়াবর্ধনে-সাঙ্গাকারা, পেছনে ফেললেন পন্টিং-হেইডেন জুটিকে। সবার ওপরে হেইডেন-ল্যাঙ্গার (২৮)।

নাদাল-জোকোভিচ ফাইনাল

এক পাশে স্পেন, অন্য পাশে সার্বিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের দর্শক আজ সমর্থন দেবে কাকে? ফর্ম, এক নম্বর তারকার মুকুট, বছরে দুটো গ্র্যান্ড স্লাম জয়—এসব বিবেচনায় নিলে নোভাক জোকোভিচ। আর ইউএস ওপেনের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, এই বিবেচনায় রাফায়েল নাদাল। তবে সমর্থনের পাল্লাটা পরশু সেমিফাইনাল শেষে ভারী করে নিয়েছেন এই স্প্যানিয়ার্ড। গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন ৯/১১-এর এক দশক পূর্তিতে।
আজ ইউএস ওপেনের ফাইনালে স্বাগতিক দর্শকদের সমর্থন নাদালের খুবই দরকার। প্রতিপক্ষ হিসেবে যাঁকে পাচ্ছেন, সেই জোকোভিচের বিপক্ষে এ বছর পাঁচ ম্যাচের প্রতিটিতেই হেরেছেন। যে জোকোভিচ এই মৌসুমে ৬৫ ম্যাচের ৬৩টাই জিতেছেন। শুধু তা-ই নয়, এই জোকোভিচ পরশু সেমিফাইনালে রজার ফেদেরারের বিপক্ষে ম্যাচ জিতেছেন একেবারে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে।
প্রথম দুটো সেট জিতে নিয়েছিলেন ফেদেরার। পরের দুটো সেটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান জোকোভিচ। কিন্তু পঞ্চম সেটে পিছিয়ে গিয়েছিলেন ৩-৫-এ। ম্যাচ পয়েন্টের জন্য সার্ভ করছিলেন ফেদেরার। একটা পয়েন্ট পেলেই ফাইনালে উঠে যেতেন। কিন্তু সেখান থেকে ব্রেক করে করে শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচটাই জিতে নেন জোকোভিচ। জেতেন ৬-৭ (৭/৯), ৪-৬, ৬-৩, ৬-২, ৭-৫ গেমে।
অন্য সেমিফাইনালে অবশ্য এতটা নাটক হয়নি। একটা সেট হারলেও নাদাল অনায়াসে ৬-৪, ৬-২, ৩-৬, ৬-২ গেমে হারিয়েছেন অ্যান্ডি মারেকে। ফলে আরও একটি মৌসুম কোনো গ্র্যান্ড স্লাম না জিতেই শেষ করতে হলো এই ব্রিটিশকে। তবে মারের পরাজয় নয়, সবাইকে ভাবাচ্ছে এভাবে জিততে জিততেও হেরে যাওয়া ফেদেরারের পরাজয়।
প্রথম দুটো সেট জেতা, পঞ্চম সেটে ম্যাচ পয়েন্টের জন্য সার্ভ করতে থাকা একটা খেলোয়াড় যখন হেরে যান; তাঁকে নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। সেসব প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে নামটা ফেদেরার বলেই। ২০১০ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর এ নিয়ে টানা সাতটি গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টে কোনো শিরোপা জিততে পারলেন না। রেকর্ড ১৬টি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার মালিক এই মৌসুমে কোনো টুর্নামেন্টই জিততে পারেননি। ২০০২ সালের পর এই প্রথম শিরোপা ছাড়াই একটা মৌসুম শেষ করতে হলো ফেদেরারকে।
স্বাভাবিকভাবেই এই জয়ের ফলে মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবেন জোকোভিচ। প্রথম দুটো সেট হেরেও ম্যাচ জেতার দৃষ্টান্ত এমনিতেই খুব বেশি নেই গ্র্যান্ড স্লাম টুর্নামেন্টগুলোয়। তা ছাড়া আজ নাদালের বিপক্ষে তাঁকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে ইন্ডিয়ান ওয়েলস, মায়ামি, রোম, মাদ্রিদ আর গত উইম্বলডনে পাওয়া জয়ও। যদিও এই টুর্নামেন্টে নাদালকে মনে হয়েছে নিজের সেরা ফর্মে আছেন। নাদাল আত্মবিশ্বাসীও, ‘ওর বিপক্ষে এ বছর আমি আমার মানসিক পারফরম্যান্স নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নই। কারণ এমন অনেক মুহূর্ত এসেছে, যখন ঠিক শতভাগ মনে হয়নি আমি জিততে পারি। এটা অনেক বড় একটা সমস্যা। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখলে আপনি যেভাবে খেলবেন, বিশ্বাস না রাখতে পারলে সেভাবে খেলবেন না।’
নাদাল-জোকোভিচ ফাইনাল, ফেদেরারের পরাজয় এসব ছাপিয়েও কিন্তু আলোচনায় চলে আসছে সেরেনা উইলিয়ামসের আবার ফাইনালে ওঠা। ইনজুরির কারণে লম্বা ছুটি নিয়ে আবার টেনিসে ফেরা সেরেনা গতকাল ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন সামান্থা স্টোসুরের। গতকালই আবার ছিল ৯/১১-এর এক দশক পূর্তি। সেমিফাইনাল শেষে সেরেনা বলেছিলেন, টুইন টাওয়ারের বিমান হামলায় নিহতদের স্মরণেই এই ম্যাচটা খেলবেন তিনি।

প্রস্তুতির বিসিবি কাপ আজ শুরু

বিসিবি কাপ নামেই টুর্নামেন্ট। আসলে এটা একটা গবেষণাগার! অধিনায়কত্বের পরীক্ষা হবে, হবে ক্রিকেটীয় সামর্থ্যের যাচাই-বাছাই। এবং আরও হবে ওয়ানডে ক্রিকেটের জন্য আইসিসির দেওয়া নতুন নিয়মের সঙ্গে ধাতস্থ হওয়ার চেষ্টা।
আগামী ১১ অক্টোবর ঢাকায় শুরু হবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ। জাতীয় দল, ‘এ’ দল এবং একাডেমির ক্রিকেটারদের নিয়ে আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু বিসিবি কাপকে ওই সিরিজের প্রস্তুতির অন্যতম অংশ বলতে পারেন। যদিও প্রধান নির্বাচক আকরাম খান কাল বললেন, ‘আমি যত দূর জানি, এখন থেকে প্রতিবছরই এ রকম একটা টুর্নামেন্ট হবে।’
তাহলে বিসিবি কাপের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের কোনো সম্পর্ক নেই? আছে। প্রধান নির্বাচকেরই আভাস, বিসিবি কাপে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন সিরিজের দল গঠনে। ‘যেকোনো পর্যায়েই ভালো খেললে সেটার একটা প্রভাব থাকে। সেদিক দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই টুর্নামেন্টের প্রভাব তো থাকবেই’—বলেছেন আকরাম। সম্পূরক তথ্য হিসেবে এও জানিয়েছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দল নির্বাচনের কাজটা তাঁরা বিসিবি কাপ শেষেই করবেন।
আগামী ১ অক্টোবর থেকে ওয়ানডে ক্রিকেটে কিছু নতুন নিয়ম চালু করবে আইসিসি। বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও থাকবে নিয়মগুলো। বিসিবি কাপে ওই নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে খেলোয়াড়েরা এসবের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন।
প্রথম ম্যাচে আজ জাতীয় দলের মুখোমুখি হবে একাডেমি দল। আগামীকাল একাডেমি দল খেলবে ‘এ’ দলের বিপক্ষে। তিন দলের টুর্নামেন্ট হবে ডাবল লিগভিত্তিক। ২১ সেপ্টেম্বরের ফাইনালটি হতে পারে দিবারাত্রির। টুর্নামেন্ট কমিটি বোর্ডের কাছে চ্যাম্পিয়ন দলকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও ২৬ লাখ টাকা বাজেটের বিসিবি কাপের প্রাইজমানি কাল পর্যন্তও চূড়ান্ত হয়নি। তবে লিগ পর্বের ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার ১০ হাজার টাকা, ফাইনালের ম্যান অব দ্য ম্যাচের ১৫ হাজার টাকা। খেলোয়াড়দের দৈনিক ভাতা ১ হাজার টাকা করে।
টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করবেন মুশফিকুর রহিম, সহ-অধিনায়ক আবদুর রাজ্জাক। ‘এ’ দলের নেতৃত্বে মাহমুদউল্লাহ, সহ-অধিনায়ক জুনায়েদ সিদ্দিক। জাতীয় দল আর ‘এ’ দলের জন্য টুর্নামেন্টটা পরীক্ষার মতো হলেও একাডেমির উঠতি ক্রিকেটারদের জন্য এটা অভিজ্ঞতা অর্জনের উপলক্ষ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলতে পারাটাকেই নিজেদের বড় পাওয়া হবে বলে করছেন একাডেমি অধিনায়ক মাহমুদুল হাসান, ‘এত এত আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলছি, এটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন হবে। এই টুর্নামেন্টে খেলার পর আমাদের অভিজ্ঞতা আরও বাড়বে।’
‘বড় ভাইদের’ সম্মান দিলেও নিজেদের সামর্থ্যের প্রতি আস্থাবান একাডেমি অধিনায়ক, ‘আমাদের টার্গেট সেরা ক্রিকেট খেলা। আর সেটা খেললে ফলাফল আমাদের দিকে আসতেই পারে। দলের সবাই তরুণ। সবার ভেতরই জেতার আগ্রহ বেশি। সবাই নিজেদের সেরাটা খেলতে উদ্গ্রীব। এটাই আমাদের অনুপ্রেরণা।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন ধারণা বিসিবি কাপ। কিন্তু এটা তো সেই ওয়ানডে টুর্নামেন্টই! জিম্বাবুয়ে সিরিজের মতো তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগেও কি থেকে যাচ্ছে না বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ প্রস্তুতির অভাব? যত দূর জানা গেছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রস্তুতিতে এখনো অন্তর্ভূক্ত হয়নি কোনো দীর্ঘ পরিসরের অনুশীলন ম্যাচ।

মরিনহো-গার্দিওলা যেখানে এক

হোসে মরিনহো আর পেপ গার্দিওলার মধ্যে অনেক পার্থক্য। ফুটবল-দর্শন, হাঁটাচলা, ভাবভঙ্গি, কথাবার্তা—অনেক কিছুতেই অমিল দুজনের। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার ব্যবধানটাই যেন তাঁদের মধ্যে প্রকাশ পায়।
কিন্তু এবার একটা জায়গায় এই দুই প্রবল প্রতিপক্ষ এক হয়ে গেলেন। স্প্যানিশ লিগ দুই দলের লড়াই—এটা গার্দিওলা-মরিনহো দুজনের একজনও মানেন না। পরশু ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও রিয়াল সোসিয়েদাদের সঙ্গে ড্র করেছে বার্সেলোনা। গেটাফের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদ ৪-২ গোলে জিতলেও একসময় ড্রয়ের শঙ্কা পেয়ে বসেছিল তাদেরও। প্রতিপক্ষের এই লড়াইটাই এমন উপলব্ধি দিয়েছে দুই স্প্যানিশ ‘দৈত্যের’ কোচকে।
১০ মিনিটে জাভি ও ১১ মিনিটে ফ্যাব্রিগাসের গোলে ২-০-তে এগিয়ে গিয়েছিল বার্সা। কিন্তু রক্ষণের হাস্যকর ভুলে দ্বিতীয়ার্ধে আসে সমতা। জাভি সেই রক্ষণ-ভুলের কথা ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন।
কোচ গার্দিওলার কথা, ‘মানুষ দুই দলের লিগের কথা বলে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অন্যরা প্রতিনিয়তই ভালো করছে। আমাদের হারানোর তীব্র ইচ্ছাও দেখাচ্ছে তারা। ভবিষ্যতের জন্য ভালো এক শিক্ষা এটা। আমরা যখন আমাদের সেরা খেলাটা খেলছিলাম, সোসিয়েদাদের গোল দুটি তখনই হয়েছে। ফুটবলে আপনাকে সর্বদাই সতর্ক থাকতে হবে।’
গত দুই মৌসুমে রিয়াল-বার্সা একটি রেকর্ড গড়েছে—মৌসুমের শেষের দিকে এই দুই দল যখন শিরোপার জন্য জোর লড়াই করছিল, তৃতীয় স্থানে থাকা ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে তাদের ব্যবধান তখন ২০ পয়েন্টেরও বেশি। এর পর থেকেই স্প্যানিশ লিগটাকে বেশি করে দুই দলের লড়াই বলছে সবাই।
গার্দিওলার প্রতিধ্বনি তুলে রিয়াল কোচ মরিনহো বলেছেন, ‘খবরে দেখি, লিগ জেতা কত সহজ ব্যাপার! কিন্তু ঢালাওভাবে যেসব দলগুলোকে বাজে বলা হচ্ছে, আমি এর সঙ্গে একমত নই। সবাই পেশাদার। কোচ-খেলোয়াড় সবাই। আমার কাছে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন।’
রিয়ালের জন্য কঠিন ছিল পরশুর গেটাফে ম্যাচটিও। ৪-২ ফল দেখে এটা অবশ্য বোঝার উপায় নেই। করিম বেনজেমার ১৪ মিনিটের গোলে রিয়াল প্রথমে এগিয়ে যায়, তবে ৩৯ মিনিটে গেটাফেকে সমতায় ফেরান মিকু। বিতর্কিত পেনাল্টি থেকে ৬০ মিনিটে গোল করে রোনালদো আবার এগিয়ে দেন রিয়ালকে। ৯ মিনিট পর রোনালদোর পাস থেকে বেনজেমা ব্যবধান ৩-১ করেন। ৪ মিনিট পর দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান কমান ভেনেজুয়েলার স্ট্রাইকার ওই মিকুই।
৮৮ মিনিটে গঞ্জালো হিগুয়েইন দলের চতুর্থ গোল করার আগে বার্নাব্যুতে গেটাফে রিয়ালকে উপহার দেয় অস্বস্তিকর কিছু সময়। ম্যাচ শেষে মরিনহো দলের খেলায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন সরাসরিই, ‘দল যেভাবে খেলেছে, এটা আমার পছন্দ নয়। আমাদের ৭-৮ গোল করা উচিত ছিল। অনেক সুযোগ তৈরি করেছি আমরা। কিন্তু তাদের খেলতেও দিয়েছি এবং খুব গোছানো ছিল গেটাফে।’

সেরেনাকে হারিয়ে নতুন চ্যাম্পিয়ন সামান্থা স্টোসুর

ইনজুরি কাটিয়ে দীর্ঘদিন পর কোর্টে ফিরে বেশ দাপটের সঙ্গেই ইউএস ওপেনের ফাইনালে পৌঁছে ছিলেন সাবেক এক নম্বর তারকা সেরেনা উইলিয়ামস। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সামান্থা স্টোসুরের কাছে হেরে শিরোপা জয়ের স্বাদ পাওয়া হয়নি তিনবারের ইউএস শিরোপা-জয়ী এই আমেরিকান টেনিস তারকার। সেরেনাকে খুব সহজেই ৬-২, ৬-৩ গেমে হারিয়ে প্রথমবারের মতো গ্রান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতেছেন স্টোসুর।
গত বছর ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনাল পর্যন্ত গেলেও শিরোপাটা জেতা হয়নি স্টোসুরের। কিন্তু এবার দ্বিতীয়বারের মতো কোনো গ্রান্ড স্ল্যামের ফাইনালে পৌঁছেই শিরোপার দেখা পেয়েছেন এই অস্ট্রেলীয় তারকা। ১৯৮০ সালে ইভোনে গোলাগোঙ্গের পরে মেয়েদের এককে এবারই প্রথম কোন অস্ট্রেলীয় হিসেবে গ্রান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতলেন স্টোসুর। গতকাল ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, ‘আজ আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা দিন। ক্যারিয়ারের প্রথম গ্রান্ড স্ল্যাম শিরোপাটা জিততে পেরে আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করছি। যখন থেকে টেনিস খেলা শুরু করেছি, তখন থেকেই এ শিরোপা জেতাটা আমার কাছে একটা স্বপ্ন ছিল।’

‘আমরা ক্রিকেটের একটা কুৎসিত চেহারা দেখলাম’

গত জুলাইয়ে ইংল্যান্ড সফর শুরু করার পর এখন পর্যন্ত জয়ের দেখা পায়নি ভারত। টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশের পর এবার ওয়ানডে সিরিজ হারটাও নিশ্চিত হয়ে গেছে সফরকারীদের। পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শুরুটা ভালোভাবে করলেও বৃষ্টির কারণে জয়ের দেখা পায়নি ধোনি-বাহিনী। গতকালও উত্তেজনাপূর্ণ চতুর্থ ওয়ানডেতে বৃষ্টির কবলে পড়ে শেষ হয়ে গেছে ইংল্যান্ড সফরে তাদের প্রথম জয়ের সম্ভাবনা। জয়ের জন্য শেষ সাত বলে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১১ রান। হাতে ছিল দুই উইকেট। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বৃষ্টির বাধার কারণে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ম্যাচটা টাই বলে ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। আর জয়ের এত কাছাকাছি গিয়েও এ রকমের একটা ফলাফল কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না মহেন্দ্র সিং ধোনি। এটাকে ক্রিকেটের একটা কুিসত চেহারা বলে আখ্যায়িত করেছেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দলের এ অধিনায়ক।
গতকাল ম্যাচ শেষে ধোনি বলেছেন, ‘আমাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেছিল যে আমরা জিতেই গেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যখন আমাদেরকে স্কোর গড়ের তালিকাটা দেওয়া হলো, তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে ম্যাচটা টাই হয়েছে। আমরা শেষ পর্যন্তই খেলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এ ধরনের আবহাওয়ার সামনে কিছুই করার থাকে না। খুব খোলাখুলিই বলছি, আমরা আজ ক্রিকেটের একটা কুিসত চেহারা দেখলাম। এ রকমের অবস্থায় যে দল জেতার মতো অবস্থায় থাকে, তারা আর খেলতে চায় না। আর যদি ফলাফল বদলের সুযোগ থাকে তাহলে আরেক পক্ষ ফুটবল খেলার জন্যও প্রস্তুত থাকে। এটা এ খেলারই একটা অংশ।’ তবে ফলাফল নিয়ে খুশি না হতে পারলেও দলের পারফরমেন্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক। বিশেষত, পঞ্চম উইকেটে তাঁর ও সুরেশ রায়নার মধ্যকার ১৬৯ রানের চমত্কার জুটিটির প্রশংসা করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘এটা একটা খুবই ভালো জুটি ছিল। শুরু থেকেই আমরা উইকেট ধরে রাখতে চেয়েছিলাম। তারপর ধীরে ধীরে রান সংগ্রহ করছিলাম।’

ম্যাথিয়াসের ওজিল বন্দনা

কয়েক দিন আগেই মেসুত ওজিলকে এ সময়ের সেরা জার্মান ফুটবলার হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন তাঁর রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এবার শুধু জার্মানিরই নয়, কয়েক বছরের মধ্যে ওজিল এ সময়ের সেরা ফুটবলারের জায়গাটাই দখল করবেন বলে মনে করছেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লোথার ম্যাথিয়াস।
১৯৯১ সালে শেষ জার্মান ফুটবলার হিসেবে ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছিলেন ম্যাথিয়াস। এরপর আর একবারও জার্মানিতে যায়নি এ পুরস্কারটি। তবে তাঁর পরে ওজিলই যে এ পুরস্কার জেতার সবচেয়ে বড় দাবিদার, সেটা মনে-প্রাণেই বিশ্বাস করেন ম্যাথিয়াস। তিনি বলেছেন, ‘ফিফার বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জেতার মতো সব বৈশিষ্ট্যই ওজিলের আছে। আর কয়েক মৌসুমের মধ্যেই সে এটা জিতে নিতে পারবে।’
২০১০ সালের বিশ্বকাপেই নিজের সক্ষমতার প্রমাণ বেশ দিয়েছিলেন মেসুত ওজিল। বিশ্বকাপে জার্মানিকে সেমিফাইনালে তুলে নিয়ে যাওয়ার পেছনে এ ‘তরুণ-তুর্কি’র অবদান ভুলে যাওয়ার মতো নয়। আর বিশ্বকাপের পরপর রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর ভালো পারফরমেন্সের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তিনি। দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জয় করে নিয়েছেন রিয়াল সমর্থকদের আস্থা। এবারের মৌসুম শুরুর আগে ক্লাবের সম্মানসূচক ১০ নম্বর জার্সিটিও তুলে দেওয়া হয়েছে ওজিলের গায়ে। রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে খেলতে পারাটা এই জার্মান মিডফিল্ডারের জন্য অনেক সুফল বয়ে আনবে বলেই মনে করেন ম্যাথিয়াস। তিনি বলেছেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা বায়ার্ন মিউনিখের চেয়েও বড় ক্লাব। এখানে খেলার ফলে ফিফার বর্ষসেরা পুরস্কার জেতাটা তার জন্য আরও সহজ হবে।’

জয় অধরাই রইল ভারতের

গত ১৩ জুলাই ইংল্যান্ডে পা রেখেছিল ভারতীয় দল। এরপর চারটি টেস্ট, একটি টি-টোয়েন্টির পর কাল হয়ে গেল চতুর্থ ওয়ানডেও। জয় ভারতের অধরাই থেকে গেল। লর্ডসে কাল ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে চতুর্থ ওয়ানডেটি টাই হয়েছে। সিরিজ জিতে গেছে ইংল্যান্ড।
ভারতের ৫ উইকেটে করা ২৮০ রান তাড়া করতে গিয়ে রবি বোপারা করেছেন ৯৬ রান। ৪৮.৫ ওভারে ২৭০ রানে ইংল্যান্ডের অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে বোপারা আউট হওয়ার পরই নামে বৃষ্টি। এরপর আর খেলা শুরু হয়নি। ২-০তে সিরিজ জিতে যায় ইংল্যান্ড।
ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করতে বড় শট খেলেছিলেন বোপারা। কিন্তু মুনাফ প্যাটেলের বলে ডিপ মিডউইকেট বাউন্ডারিতে রবীন্দ্র জাদেজার ক্যাচ হয়ে যান। ওই বলটিতে বোপারা যদি ১ রানও নিতে পারতেন, তাহলে জিতেই যেত ইংল্যান্ড।
একটা সময়ে অবশ্য ভারতের জয় পাওয়াই নিয়তি মনে হচ্ছিল। ১৭৩ রানে পড়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ডের ৫ উইকেট। কিন্তু বোপারা গ্রায়েম সোয়ান আর টিম ব্রেসনানকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন লক্ষ্যের দিকে। ইংল্যান্ডের ইনিংসের ৪৪তম ওভারে প্রথম যখন বৃষ্টি আসে, ইংল্যান্ড তখন ৬ উইকেটে ২৩৩। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে এগিয়ে ছিল ভারত।
বৃষ্টি শেষে ফিরে এসে চিত্র পাল্টে দেন বোপারা। ১১১ বলে ৯৬ রানের ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ৬টি চারে। এর আগে ৬১ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ডের ইনিংস গড়েন ইয়ান বেল (৫৪)। কিন্তু দ্রুত বেল ও স্টোকস আউট হয়ে গেলে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল উইকেটে ঠান্ডা মাথার একজন ব্যাটসম্যান থাকার। বোপারা সেই কাজটিই করেন।
ভারতের ইনিংসটির হাইলাইটস সুরেশ রায়না আর মহেন্দ্র সিং ধোনির পঞ্চম উইকেট জুটি। ৪ বল আর ১ রানের মধ্যে সোয়ান কোহলি ও দ্রাবিড়কে তুলে নিলে বিপদেই পড়েছিল ভারত। ২ উইকেটে ১০৯ থেকে ৪ উইকেটে ১১০ হয়ে যাওয়ার পর জুটি বাঁধেন রায়না-ধোনি। দুজনে মিলে পঞ্চম উইকেটে তুলেছেন ১৬৯ রান।
শেষ ১০ ওভারে ভারত ১০৯ রান তুলেছে তাঁদের কল্যাণেই। ৪৯.৪ ওভারে ফিনের বলে স্টোকসের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে রায়ানা ৭৫ বলে করেছেন ৮৪ রান। ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ৭টি চার ও ২টি ছয়ে। ভারত অধিনায়ক ধোনি করেছেন অপরাজিত ৭৮ রান। ৭১ বলের ইনিংসটিতে ৬টি চার ও ৩টি ছয় মেরেছেন তিনি। এএফপি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ৫০ ওভারে ২৮০/৫ (প্যাটেল ২৭, রাহানে ৩৮, দ্রাবিড় ১৯, কোহলি ১৬, রায়না ৮৪, ধোনি ৭৮*, জাদেজা ০*; সোয়ান ২/৪৯, ব্রড ২/৫২, ফিন ১/৫৪)।
ইংল্যান্ড: ৪৮.৫ ওভারে ২৭০/৮ (কুক ১২, কিসওয়েটার ১২, ট্রট ২৩, বেল ৫৪, বোপারা ৯৬, স্টোকস ৭, ব্রেসনান ২৭, সোয়ান ৩১, ফিন ০*; আরপি সিং ৩/৫৯, প্রাভিন ১/৩৫, মুনাফ ১/৫৪, অশ্বিন ১/৪৪, জাদেজা ১/৬০)।

বার্সা-রিয়ালের চিন্তা বাদ দিয়েছেন নেইমার

তাঁর ওপর অনেক দিন ধরেই চোখ রিয়াল মাদ্রিদের। এমনও খবর আছে, বার্সেলোনাও নাকি আগ্রহী তাঁকে পেতে। তবে রিয়াল-বার্সা কোনো দলেই নয়, নেইমার আপাতত সান্তোসেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ব্রাজিলের ক্লাবটির সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করছেন এই উঠতি তারকা। আসলে নেইমারের সঙ্গে সান্তোসের আগের চুক্তিতে ‘বাইআউট ক্লজের’ অঙ্কটা ছিল সাড়ে ৪ কোটি ইউরোর। সেটাই বাড়িয়ে আরও অনেক বেশি করে ফেলা হচ্ছে, যাতে চুক্তি ভঙ্গ করে নেইমারকে পেতে চাইলেও রিয়াল-বার্সার মতো ক্লাবগুলোকে বড় অঙ্কের টাকা গুনতে হয়।
শোনা যাচ্ছে, এরই মধ্যে বার্সার একটি প্রতিনিধিদল ব্রাজিলে গেছে সান্তোসের সঙ্গে প্রাথমিক আলাপ-আলোচনা সারতে। নেইমারকে নিয়ে ভালোই জমেছে বার্সা-রিয়াল অন্য দ্বৈরথ। তবে এই ‘যুদ্ধে’ নামার কোনো ইচ্ছা নেই নেইমারের, ‘দুই বড় ক্লাবই আমাকে চায়, এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। তবে আমি বার্সেলোনা আর মাদ্রিদের চলমান যুদ্ধে জড়াতে চাই না। আমি যা-ই বলি না কেন, সেটা ভুলভাবে উদ্ধৃত হতে পারে। তাই আমার বরং মুখ বন্ধ রাখাই ভালো। আমি কাউকেই আঘাত করতে চাই না। তবে আপাতত এটা বলতে পারি, ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় আগামী ক্লাব বিশ্বকাপ পর্যন্ত আমি সান্তোসেই থাকছি।

ঘুরে দাঁড়াতে চায় আর্সেনাল

গত সপ্তাহ দুই জুড়ে ইউরো বাছাই আর প্রীতি ম্যাচের মেলা আর্সেনালকে দিয়েছিল একটু আড়ালে থাকার সুযোগ। এই ডামাডোলে আর্সেনালের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে ৮-২ গোলে উড়ে যাওয়ার লজ্জা কিছুটা তো চাপা পড়ে গিয়েছিল!
মানুষের মনের একটা কোণে গিয়ে থাকলেও আর্সেনাল কি ১১৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের লজ্জাটা ভুলে যেতে পেরেছে? দুই সপ্তাহেরও বেশি বিরতির পর আজ আবার শুরু হচ্ছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। ম্যানইউ-ক্ষত ভুলে নতুন শুরু করতে চায় আর্সেনাল।
পুরো আগস্ট মাসটাই বাজে গেছে আর্সেনালের। সেস ফ্যাব্রিগাস, সামির নাসরি চলে গেছেন। প্রিমিয়ার লিগে প্রথম তিন ম্যাচ থেকে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে যাত্রা শুরু। এসব ভুলেই যেতে চাইবে ‘গানার’রা। কিন্তু ‘দুঃখ’ ভোলার জন্য একটা উপলক্ষ তো চাই। নিজেদের মাঠে আজ প্রিমিয়ার লিগে নবাগত সোয়ানসির বিপক্ষে ম্যাচটিকে সেই উপলক্ষ হিসেবে নিতে চায় আর্সেন ওয়েঙ্গারের দল। জয়ে ভুলতে চায় হতাশা।
তীব্র চাপে পড়ে যাওয়া কোচ ওয়েঙ্গার দলবদলের বাজারের শেষ দিনে কিনেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার অধিনায়ক পার্ক চু ইয়ং, এভারটনের মাইকেল আরটেটা, ব্রাজিলের আন্দ্রে সান্তোস ও জার্মানির পার মার্টেসেকারকে। এই চারজনকে কেনার পাশাপাশি ধারে এনেছেন ইয়োসি বেনায়ুনকে। খেলোয়াড়দের কানে জপে দিয়েছেন ঘুরে দাঁড়ানোর মন্ত্র। সেই মন্ত্রেই এখন উজ্জীবিত আর্সেনালের খেলোয়াড়রা। সেই মন্ত্র শুনে মিডফিল্ডার অ্যারন রামসে যেমন বললেন, ‘আমাদের শেষ ম্যাচের ফলের পর আমরা চাই, সবকিছু এখন ঠিকঠাক চলুক। ভালো ফল করে জয়ে ফিরতে চাই।’
ম্যানইউর ব্যাপারটা উল্টো। তিন ম্যাচে পুরো ৯ পয়েন্ট পাওয়া ‘রেড ডেভিল’রা পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরেই। আজ বোল্টনের মাঠে যাওয়ার আগে তাই চনমনেই আছেন ম্যানইউর খেলোয়াড়েরা। একটু চিন্তা কেবল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে আসা ২০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ডেভিড ডি গিয়াকে নিয়ে। শুরুটা ভালো হয়নি তাঁর। আর্সেনালের বিপক্ষে দুটি গোলই হয়েছে মূলত তাঁর ভুলে। সমালোচনাও সইতে হচ্ছে এর জন্য। তবে বোল্টনের বিপক্ষে আর কোনো ভুল তিনি করতে চান না।
পুরোনো ক্লাবের বিপক্ষে ভালো করার প্রত্যয় পিটার ক্রাউচেরও। টটেনহাম থেকে এ মৌসুমেই স্টোক সিটিতে নাম লিখিয়েছেন। তবে আজ টটেনহাম নয়, নিজেদের মাঠে ক্রাউচ মুখোমুখি আরেক সাবেক ক্লাব লিভারপুলের। অন্য ম্যাচে চেলসি খেলবে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে। এ ম্যাচে নেই আগের ম্যাচে মাথায় আঘাত পাওয়া দিদিয়ের দ্রগবা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে পরের ম্যাচেও আইভরিয়ান স্ট্রাইকারকে পাওয়ার ব্যাপারে সন্দিহান চেলসি কোচ আন্দ্রে ভিলাস-বোয়াস।

দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করুন পুলিশের গাফিলতি

ঢাকার অদূরে আমিনবাজারে শবে বরাতের রাতে ছয় ছাত্র হত্যার ঘটনায় গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি পুলিশের গাফিলতিকে দায়ী করেছে। নিহত ছাত্ররা কেউ ডাকাত ছিল বা তারা কোনো অপরাধমূলক কাজে জড়িত ছিল, তারও প্রমাণ নেই। গণপিটুনিতে আহত তরুণের জবানবন্দি অনুযায়ী তারা পুলিশের সহায়তা চেয়েও পায়নি। পুলিশ সদস্যদের কাজ যেখানে উচ্ছৃঙ্খল মানুষকে নিবৃত্ত করা, সেখানে তাঁরা গণপিটুনিতে সহায়তা করেছেন। এটি কেবল অনৈতিক নয়, অমানবিকও। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন যেখানে পুলিশের কর্তব্য হওয়া উচিত, সেখানে তাদের বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে। কিছুদিন আগে পুলিশ নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে কিশোর মিলনকে জনতার মাঝে ছুড়ে দিয়েছিল পিটিয়ে মেরে ফেলার জন্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত একটি প্রশিক্ষিত বাহিনীর সদস্যরা কেন এভাবে বেআইনি কাজে লিপ্ত হবেন?
এই ঘটনা কী প্রমাণ করে? সরকারে নীতিনির্ধারকদের মুখে এত দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে ভূয়সী প্রশংসা শোনা গিয়েছিল, তার কোনো প্রতিফলন তাদের কাজে আছে বলে মনে হয় না। যারা সব দোষ পূর্ববর্তী সরকারের ওপর চাপিয়ে দায় এড়াতে চান, তাঁরা কী বলবেন এখন? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে হলে নৈতিক মান ও মূল্যবোধের উন্নয়ন যেমন প্রয়োজন, তেমনি তাদের কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপও বন্ধ করা জরুরি। দলীয় সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিলে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।
অপরাধ করার পরও প্রকৃত অপরাধীকে সদর্পে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। পুলিশ এদের পাকড়াও করতে না পারলেও গণপিটুনিতে ছাত্র কিংবা কিশোর হত্যায় উ ৎ সাহ দিয়েছে। অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কারও মৃত্যুদণ্ড নিশ্চয়ই বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন কেউ চাইবেন না।
গণপিটুনিতে হত্যা আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থাহীনতারই লক্ষণ। মনে রাখা দরকার, হত্যা ও গণপিটুনি একই মানসগঠন থেকে আসে। গণপিটুনিতে হত্যার মধ্য দিয়েই হয়তো কোনো অপরাধী তার অপরাধের প্রথম সবক নেয়।
বিচারবহির্ভূত হত্যা যখন রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা পায়, তখন সমাজের মানুষও উ ৎ সাহ পায় আইন নিজের হাতে তুলে নিতে। কোনো সুস্থ-স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের বিপজ্জনক প্রবণতা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নানা অপকর্মের খবর আসে, অথচ তাঁদের বিচার হয় কমই।
বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি আমিনবাজারে ছয় ছাত্র হত্যার ঘটনায় যেসব পুলিশ সদস্যকে দায়িত্বে অবহেলার জন্য চিহ্নিত করেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থাও নিতে হবে। অপরাধের সহযোগীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে থাকার অধিকার নেই। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি—তিনি হোন পুলিশ বাহিনীর সদস্য বা গ্রামবাসী, তাঁদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এর বিকল্প নেই।

‘যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করলে...’

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট মা ইং জেওউ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের অঙ্গীকার করলে তাইওয়ানকে লক্ষ্য করে চীন তার ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি (টার্গেট) বন্ধ করতে পারে। আর এ ব্যাপারে মার্কিন দূতের সঙ্গে একটি চুক্তির জন্য প্রস্তাব দেবেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসের ফাঁস করা মার্কিন কূটনৈতিক গোপন তারবার্তায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।
তারবার্তায় দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট মা ইং জেওউ ২০০৯ সালে এ কথা বলেন। তিনি জানান, তাইওয়ানে আমেরিকান ইনস্টিটিউটের পরিচালক স্টিফেন ইয়াংয়ের কাছে সম্ভাব্য চুক্তির প্রস্তাব দেবেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট মা ইং বলেন, চীন তার সামরিক শক্তি বাড়িয়েই চলেছে। দেশটি এক হাজারেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র তাইওয়ানকে লক্ষ্য করে মোতায়েন করে রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ান সম্পর্কে চীনের অবস্থান সমর্থন করলেও তাইপের কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড মনে করে চীন। চীনের সঙ্গে একীভূত করতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বেইজিংয়ের।

শ্রীলঙ্কার কঠোর বন্দী আইন বাতিল করুন

শ্রীলঙ্কায় প্রচলিত কঠোর বন্দী আইন বাতিল এবং ওই আইনের আওতায় আটক থাকা হাজার হাজার লোককে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার গ্রুপ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনটি গত বুধবার জানায়, যেহেতু শ্রীলঙ্কায় এখনো সন্ত্রাসবিরোধী আইন কোনো বিচার ছাড়াই জনগণকে দীর্ঘদিন আটক রাখা অনুমোদন করে, কাজেই দেশটিতে এক দশক ধরে জারি থাকা জরুরি অবস্থা গত সপ্তাহে তুলে নেওয়া হলেও তা কোনো কাজে আসবে না।
গ্রুপটি জানায়, দুই বছর আগে গৃহযুদ্ধ শেষ হলেও প্রিভেনশন অব টেররিজম অ্যাক্টের (পিটিএ) আওতায় দ্বীপরাষ্ট্রটিতে এখনো প্রায় ছয় হাজার লোক আটক রয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশীয় পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস অভিযোগ করেন, শ্রীলঙ্কার সরকার একদিকে বলছে, সেখানে জরুরি অবস্থার পরিসমাপ্তি ঘটেছে, অন্যদিকে গৃহযুদ্ধ চলাকালে প্রচলন থাকা কঠোর আইন এখনো বহাল রেখেছে। সরকারের উচিত, কবে এসব মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী আইন প্রত্যাহার এবং দেশের সব আইন ও প্রবিধান জনগণের সামনে প্রকাশ করা।
স্বাধীন ভূখণ্ডের দাবিতে তামিল টাইগারদের বিদ্রোহের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীলঙ্কার সরকার ১৯৮৩ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে। এরপর ২০০৯ সালের মে মাসে তামিল বিদ্রোহীদের উ ৎ খাতের মাধ্যমে দেশটির গৃহযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটে।

মার্চের মধ্যে পাকিস্তানে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মোশাররফ

পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ ২০১২ সালের মার্চের মধ্যে পাকিস্তানে ফেরার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থাকার পরও তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষা ৎ কারে পারভেজ মোশাররফ বলেছেন, ‘তাঁরা আমাকে গ্রেপ্তার করুক, তবুও আমি ফিরে যাব।’
মোশাররফের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে মোশাররফের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
গত মাসে আদালত মোশাররফের সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করারও নির্দেশ দেন। ২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর বেনজির ভুট্টো গুলি ও বোমা হামলায় নিহত হন।
মোশাররফ তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাকে ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন। তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আমার বিরুদ্ধে এ মামলা তামাশা ছাড়া কিছু নয়। আমি এর বিরুদ্ধে লড়ব।

রপ্তানির লক্ষ্যে অস্ত্রমেলার দিকে নজর যুক্তরাজ্যের

লন্ডনে আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে সামরিক অস্ত্রের বাণিজ্য মেলা। এ মেলার মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক ঠিকাদারেরা বিশ্বের অন্যান্য দেশে অস্ত্র রপ্তানির লক্ষ্যে চুক্তির চেষ্টা করবে। অস্ত্র রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্রিটেনের অর্থনীতি চাঙা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দ্য ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ইকুয়েপমেন্ট ইন্টারন্যাশনালের (ডিএসইআই) উদ্যোগে এই সামরিক অস্ত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে সারা বিশ্বের ২০ হাজারেরও বেশি অস্ত্র ব্যবসায়ীকে আকৃষ্ট করার আশা করছে যুক্তরাজ্য।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্রের বাজার যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশ সম্প্রতি প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় সংকোচন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর আগের তুলনায় প্রতিরক্ষা ব্যয় প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন ডলার সংকোচন করেছে। দেশটির কংগ্রেস বাজেট ঘাটতি হ্রাস করতে ব্যর্থ হলে এ বছরের শেষের দিকে এই খাতে আরেক দফা ব্যয় সংকোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্য বাজেট ঘাটতি হ্রাসের লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা বাজেট ৮ শতাংশ কমানোর এক বছর পর এবার প্রতিরক্ষা অস্ত্র রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। গত বছর যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা রপ্তানি ছিল ৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। দেশটি ভারত ও ওমানে ইউরোফাইটার টাইফুন জেট রপ্তানির চুক্তি করে।
যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা অস্ত্র বাণিজ্যের জন্য নতুন নতুন বাজার দখলের প্রতিযোগিতা করে আসছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি রপ্তানি বাড়াতে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র নিজ নিজ দেশের ঠিকাদারদের চাপ দিয়ে আসছে।
এবার লন্ডনের এই অস্ত্র বাণিজ্য মেলায় অত্যাধুনিক অস্ত্র প্রদর্শন করে ব্যবসায়ীদের মন জয় করার দিকে নজর রাখছে যুক্তরাজ্য।

সাইবার ক্যাফে থেকে ই-মেইল পাঠায় হুজি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গতকাল শুক্রবার তাদের আটক করা হয়। দিল্লির পুলিশ জানায়, গত বুধবারের ওই হামলায় নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩। আরও চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বুধবারের হামলার দায় স্বীকার করে পাঠানো একটি ই-মেইলের সূত্র ধরে তদন্ত করছে পুলিশ। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি) কাশ্মীরের জম্মু শহরের কাছে একটি সাইবার ক্যাফে থেকে ওই ই-মেইলটি পাঠায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই ক্যাফের স্বত্বাধিকারী দুই ভাই ও এক কর্মীকে গত বৃহস্পতিবার আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, ই-মেইলটি পাঠানোর সময় ওই ক্যাফেতে অবস্থানকারী দুই কলেজছাত্রকেও আটক করা হয়েছে।
হামলার দায় স্বীকার করে ওই ই-মেইলটি হুজি পাঠিয়েছিল কি না, সে ব্যাপারে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি। এদিকে ভারতে গড়ে ওঠা জঙ্গি সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের পক্ষ থেকেও একই হামলার দায় স্বীকার করে গণমাধ্যমে একটি ই-মেইল পাঠানো হয়েছে।
ভারতের রাজধানী দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি আদালত প্রাঙ্গণে গত বুধবার শক্তিশালী এক বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই ১১ জন নিহত হয়। পরে হাসপাতালে চিকি ৎ সাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।

নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা প্রকাশ ওবামার

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ৪৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের একটি প্যাকেজ কংগ্রেসে উপস্থাপন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গত বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের এক যৌথ অধিবেশনে এ পরিকল্পনা প্রকাশের সময় তিনি বলেন, এ প্যাকেজ বাস্তবায়নে রাজনীতিকদের দ্রুততার সঙ্গে কাজ করা উচিত।
কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অবিলম্বে কর্মসংস্থান আইন প্রণয়নের জন্য কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানান। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে জাতীয় প্রয়োজনে আইনপ্রণেতাদের ঐক্যের ডাক দেন তিনি।
ওবামা বলেন, ‘রাজনৈতিক সার্কাস বন্ধ করে আসুন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কার্যকর কিছু করি।’ কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টির জন্য ‘আমেরিকান জবস অ্যাক্ট’ নামের পরিকল্পনার রূপরেখা কংগ্রেসে তুলে ধরেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। পরিকল্পনা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জননির্মাণ খাতে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মহীনদের কাজ দেবে, সেসব প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ কর মওকুফ সুবিধা দেওয়া হবে। দেশজুড়ে সড়ক ও জনপথ নির্মাণকাজে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে। কর্মহীনদের জন্য সরকারি বেকার-ভাতার মেয়াদ বাড়ানো হবে।
চলমান অর্থনৈতিক মন্দায় যুক্তরাষ্ট্রে জনজীবনে চরম হতাশা বিরাজ করছে। প্রচণ্ড জনপ্রিয়তা নিয়ে ক্ষমতায় এলেও প্রেসিডেন্ট ওবামার জনপ্রিয়তা এখন নিম্নমুখী। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে তাঁর প্রতিশ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ থমকে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বর্তমানে বেকারত্বের হার প্রায় ১০ শতাংশ। চলমান অর্থনৈতিক মন্দা ও রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে ২০১২ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ওবামার পুনর্নির্বাচন নিয়ে এখনই সংশয় দেখা দিয়েছে।

টানাপোড়েন অবসানে রাশিয়ায় যাচ্ছেন ডেভিড ক্যামেরন

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন আগামীকাল রোববার রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন। ২০০৬ সালে লন্ডনে রুশ গোয়েন্দা সংস্থা গোয়েন্দা কেজিবির সাবেক এজেন্ট আলেকসান্দর লিতভিনেনকোর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। এরপর এটাই কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাশিয়া সফর।
লিতভিনেনকো রাশিয়ার ত ৎ কালীন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক ছিলেন। দীর্ঘ দিন তিনি সপরিবারে লন্ডনে বাস করছিলেন। ২০০৬ সালের ১ নভেম্বর তিনি হঠা ৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ২৩ নভেম্বর মারা যান।
তদন্ত শেষে ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে এবং তাঁকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে প্রধান সন্দেহভাজন বলে চিহ্নিত রুশ নাগরিক আন্দ্রে লুগোভয়কে হস্তান্তরের দাবি জানায় যুক্তরাজ্য। তিনি রুশ পার্লামেন্টের নির্বাচিত একজন সাংসদ এবং তাঁকে হস্তান্তরের অস্বীকৃতি জানায় রাশিয়া। লুগোভয় নিজেও ওই ঘটনার দায় অস্বীকার করেন।

আল-কায়েদার হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা

কাল রোববার যুক্তরাষ্ট্রে নাইন-ইলেভেন সন্ত্রাসবাদী হামলার ১০ বছর পূর্তি। দিনটির প্রাক্কালে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার ব্যাপারে ‘গ্রহণযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট’ তথ্য পাওয়া গেছে। মার্কিন তদন্তকারীরা আল-কায়েদাকেই নিউইয়র্কের ‘টুইন টাওয়ার’সহ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে ২০০১ সালের হামলার জন্য দায়ী করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে’ সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি ও নিউইয়র্ক নগরের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রসজ্জিত অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ওবামা বলেছেন, সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদা ‘পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে’।
সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য জঙ্গি হামলা সম্পর্কে তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য তথ্য রয়েছে। হামলার পরিকল্পনায় জড়িত অন্তত তিন ব্যক্তিকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের মধ্যে অন্তত একজন মার্কিন নাগরিক। পাকিস্তান বা আফগানিস্তান থেকে এ হামলার পরিকল্পনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এবিসি নিউজ বলেছে, নাইন-ইলেভেনের ১০ বছর পূর্তির দিনে বা তার আগে-পরে কোনো একদিন বোমা হামলার উদ্দেশ্যে ওই তিন ব্যক্তি গত মাসে বিমানযোগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে। খবরে বলা হয়েছে, আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের হত্যার প্রতিশোধ নিতে জঙ্গি সংগঠনটির বর্তমান শীর্ষনেতা আইমান আল-জাওয়াহিরি এ হামলার পরিকল্পনা করেছেন।
হামলার আশঙ্কার ব্যাপারে পাওয়া ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য’ গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রেসিডেন্ট ওবামাকে অবহিত করা হয়। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা এ খবর নিশ্চিত করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ত ৎ পরতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। টুইন টাওয়ার হামলার ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ফ্রান্সের দৈনিক লো ফিগারোকে দেওয়া এক সাক্ষা ৎ কারে প্রেসিডেন্ট ওবামা সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদা ‘পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অনন্য নেতৃত্ব ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হয়ে তারা এখন নিজেরাই শেষ হতে চলেছে।’ ওবামা সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থেকে সহায়তা করা মিত্রদেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান।
ওয়াশিংটনে কেন্দ্রীয় সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ওয়াশিংটন অথবা নিউইয়র্ক নগরে গাড়িবোমা হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশজুড়ে সতর্কতা জারির পর বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল থেকেই মার্কিন সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার ব্যাপারে ব্রেকিং নিউজ প্রচার শুরু করে।
নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। নগরের মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ ও পুলিশ কমিশনার গত বৃহস্পতিবার রাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চালিয়ে যেতে জনগণকে আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসীরা কয়েকটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বহুতল বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ও পেন্টাগন নামে পরিচিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ভয়াবহ হামলা চালায়। যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের প্রতি প্রতিরোধ গড়ে তুললে একটি বিমান ওয়াশিংটনের অদূরে পেনসিলভানিয়ার মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এতে সব মিলে প্রায় তিন হাজার লোক নিহত হয়। এ বছর নানা আয়োজনে দিনটিকে স্মরণ করবে মার্কিনিরা।
নাইন-ইলেভেন হামলার জন্য দায়ী বলে চিহ্নিত জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার শীর্ষনেতা আত্মগোপনরত ওসামা বিন লাদেনকে গত মে মাসে পাকিস্তানে এক অভিযান চালিয়ে হত্যা করে মার্কিন কমান্ডোরা।

প্রবল বর্ষণে দিল্লির জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রবল বর্ষণে গতকাল শুক্রবার ভারতের রাজধানী দিল্লির জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। বৃষ্টির কারণে নগরের একটি হাসপাতালের ধসে পড়া সীমানা পাঁচিলের নিচে চাপা পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানায়, গতকাল সকাল থেকে টানা বর্ষণ শুরু হয়। সারা দিন কোথাও সূর্যের দেখা মেলেনি। স্থানীয় সময় ভোর চারটা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৯১ দশমিক ১ মিলিমিটার। বৃষ্টিতে নর্দমাসহ রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। কয়েকটি রাস্তায় গাছপালা ভেঙে পড়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে নারেলা এলাকার গৌতম কলোনিতে অবস্থিত এমসিডি হাসপাতালের একটি সীমানা পাঁচিল ধসে পড়ে। এ সময় স্কুলগামী কয়েকটি শিশু দেয়ালের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। পরে ওই স্তূপ থেকে একটি ছোট শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়।

সেনা সরাতে রাজি দুই সুদান

সুদান ও দক্ষিণ সুদান চলতি মাসেই বিতর্কিত শহর আবিয়েই থেকে সেনা প্রত্যাহারে রাজি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘ এ কথা জানায়।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর উপপ্রধান এডমন্ড মুলেট বলেন, আফ্রিকান ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় আলোচনার মাধ্যমে এ চুক্তি হয়। উভয় দেশ আবিয়েইকে নিজের বলে দাবি করে থাকে।
মুলেট গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, সুদান ও দক্ষিণ সুদান সম্মত হয়েছে যে ১১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেনাদের পুনর্বিন্যাস বা প্রত্যাহার করা হবে।
গোলযোগপূর্ণ দারফুর অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষে ১৩ সুদানি পুলিশ নিহত ও ৩৩ জন আহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ দারফুরের জেবেল মারায় ১৩ পুলিশ নিহত ও ৩৩ জন আহত হয়।

ঋণসংকট মোকাবিলায় জোরালো ভূমিকা রাখুন

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্তিনা লাগার্দ ঋণসংকট মোকাবিলায় জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে ফ্রান্সের মার্সেই শহরে গতকাল শুক্রবার বিশ্বের ধনী দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের সংলাপ অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি চাঙা করতে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ৪৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের চাকরির ক্ষেত্র সৃষ্টির পরিকল্পনা প্রকাশের পর বিশ্বের শিল্পপ্রধান দেশগুলোর সংগঠন জি-৭-ভুক্ত কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালির অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর গভর্নরদের দুই দিনব্যাপী ওই সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আইএমএফের প্রধান লাগার্দও এতে যোগ দেবেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, পদক্ষেপে জের টানা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, ‘আমি যে বার্তাটি এখন সবার মধ্যে পৌঁছাতে চাই তা হচ্ছে, অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনতে দেশগুলোকে এখনই কাজ শুরু করতে হবে এবং অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে।

গাদ্দাফি ও ছেলে সাইফকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের পরোয়ানা জারি

লিবিয়ার পলাতক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি এবং তাঁর ছেলে সাইফ আল-ইসলামকে গ্রেপ্তারের জন্য গতকাল শুক্রবার পরোয়ানা জারি করেছে ইন্টারপোল। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ব পুলিশ সংস্থা এই পরোয়ানা জারি করল।
ইন্টারপোল জানায়, আইসিসির কৌঁসুলি লুইস মরিনো-ওকাম্পো তাদের কাছে সহায়তা চাওয়ার এক দিন পরই তারা গাদ্দাফি ও তাঁর ছেলে সাইফ এবং গোয়েন্দাপ্রধান আবদুল্লাহ আল-সেনুশিকে গ্রেপ্তারে জরুরি পরোয়ানা (রেড নোটিশ) জারি করেছে। ইন্টারপোল এখন তার ১৮৮টি সদস্যদেশকে তাদের নিজস্ব জাতীয় আইন অনুযায়ী তাঁদের অবস্থান শনাক্ত এবং আটক করতে আইসিসিকে সহায়তা করার আহ্বান জানাচ্ছে।
অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে লিবিয়ার অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ বলেছে, মুক্তির লড়াই এখনো শেষ হয়নি।
নাইজারের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, মুয়াম্মার গাদ্দাফির ১৪ জন কর্মকর্তা নাইজারের উত্তরাঞ্চলীয় শহর আগাদেজে অবস্থান করছেন। আর চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটি লিবিয়ার পুনর্গঠনে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
গাদ্দাফির পতনের পর ত্রিপোলিতে দেওয়া প্রথম ভাষণে লিবিয়ার অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভার প্রধান মাহমুদ জিবরিল বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। গাদ্দাফির অবস্থান সম্পর্কে কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান মাহমুদ জিবরিল। এর আগে নাইজারে পালিয়ে যাওয়ার খবর অস্বীকার করেন গাদ্দাফি।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিদিন শত শত কালো আফ্রিকান লিবিয়া থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন। দ্য ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) জানায়, প্রতিদিন প্রায় ৩০০ কালো আফ্রিকান সীমান্ত অতিক্রম করে নাইজারে চলে যাচ্ছেন। এই কালো আফ্রিকানরা লিবিয়ার ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) সেনাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাহমুদ জিবরিল গত বৃহস্পতিবার ত্রিপোলিতে বলেন, ‘আমাদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিজেদের বিরুদ্ধে জেতা এবং ক্ষমা করার সক্ষমতা অর্জন।’
জিবরিল সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গাদ্দাফির অনুগতরা এখনো বেশ কয়েকটি শহর নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি বলেন, ‘গাদ্দাফির গ্রেপ্তার অথবা নির্মূলের’ মাধ্যমেই কেবল লিবিয়ার মুক্তি-অর্জন লড়াইয়ের শেষ হবে।
উল্লেখ্য, বনি ওয়ালিদ, জুফরা, সাবহা ও কর্নেল গাদ্দাফির জন্মস্থান সার্তে শহর এখনো গাদ্দাফির অনুগতদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বনি ওয়ালিদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন এনটিসির সেনারা। গত বৃহস্পতিবার গাদ্দাফির অনুগতরা সেখান থেকে রকেট হামলা চালান।
বনি ওয়ালিদে গাদ্দাফির অনুগতদের আত্মসমর্পণের জন্য আজ শনিবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বনি ওয়ালিদের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া নিয়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছে। শহরটিতে গাদ্দাফির মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিমসহ সাবেক সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তা আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেনারেল আলী কানাসহ গাদ্দাফির ১৪ জন কর্মকর্তার একটি দল নাইজারের উত্তরাঞ্চলীয় শহর আগাদেজে অবস্থান করছেন। নাইজারের নিরাপত্তা সূত্রগুলো বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানায়।
সূত্রগুলো জানায়, ১৪ জনের এ দলে দুজন জেনারেলসহ চারজন শীর্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন। আলী কানা ছাড়া অন্য জেনারেলের নাম জানা যায়নি। আগাদেজে গাদ্দাফির মালিকানাধীন একটি হোটেলে চার শীর্ষ কর্মকর্তা অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবল বৃষ্টি, বিদ্যু ৎ বিপর্যয় দুই অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা

হারিকেন আইরিনের পর এবার ঝোড়ো হাওয়াসহ প্রবল বৃষ্টিপাত এবং বিদ্যু ৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিপাতে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যার আশঙ্কায় প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার লোককে তাদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক ও পেনসিলভানিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার থেকে ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা ও নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে বিদ্যু ৎ নেই। একটি পারমাণবিক বিদ্যু ৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটে আকস্মিকভাবে উ ৎ পাদন বন্ধ হয়ে গেলে ওই তিন অঙ্গরাজ্যের ৫০ লাখ গ্রাহক বিদ্যু ৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে জনজীবনে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
হারিকেন আইরিনের ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএস) নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভানিয়া, কানেকটিকাট, মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করেছে। এরই মধ্যে এসব অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন শহর প্লাবিত হয়েছে। মহাসড়কগুলো ডুবে গিয়ে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
পেনসিলভানিয়ার সাসকুয়েহান্না নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর উইকস-বারে থেকেই ৬৫ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য শহর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে আরও ৩৫ হাজার দুর্গত মানুষকে। রাজধানী ওয়াশিংটন থেকেও বন্যার খবর পাওয়া গেছে।
পেনসিলভানিয়ার জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র রুথ মিলার জানিয়েছেন, এখানে প্রবল বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে ভার্জিনিয়ায় একটি শিশুসহ দুজন নদীর স্রোতে ভেসে গেছে বলে জানা গেছে।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিউইয়র্ক ও পেনসিলভানিয়ায় গতকাল শুক্রবার সকালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট জীবন, সম্পদ, জনগণের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে দুর্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে বিদ্যু ৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা ও নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্য। সবচেয়ে নাজুক দশা সৃষ্টি হয় স্যান ডিয়াগো শহরে। এখানকার সব বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তবে কী কারণে এ বিদ্যু ৎ বিপর্যয় ঘটল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আর এক দিন পরেই টুইন টাওয়ার হামলার এক দশক পূর্ণ হবে। কাজেই ওই দিনটি সামনে রেখে এই বিদ্যু ৎ বিপর্যয়ের সঙ্গে কোনো জঙ্গি ত ৎ পরতা জড়িত কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্যান ডিয়াগো গ্যাস ও বিদ্যু ৎ (এসডিজিই) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনিবার্য কারণবশত অ্যারিজোনা ও ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যকার বিদ্যু ৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়েছে। এতে করে পার্শ্ববর্তী নিউ মেক্সিকোতেও বিদ্যু ৎ -সংকট দেখা দিয়েছে।
গতকাল শুক্রবারও ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা ও নিউ মেক্সিকোর ১৪ লাখ মানুষ বিদ্যু ৎ হীন ছিল। সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও দু-এক দিন লাগবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

গাদ্দাফির সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়ে অনুশোচনা নেই: ব্লেয়ার

ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার বলেছেন, লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই তাঁর। বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে গাদ্দাফির সম্পর্ক স্থাপনে সহযোগিতা করার জন্য তিনি অনুতপ্ত নন।
যুক্তরাষ্ট্রে নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার ১০ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষা ৎ কারে ব্লেয়ার এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরে সংস্কার সাধনে ব্যর্থতাই গাদ্দাফির ভুল। ২০০৪ সালে গাদ্দাফির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন। ব্লেয়ার এখন মধ্যপ্রাচ্য-বিষয়ক দূত হিসেবে কাজ করছেন।
ব্লেয়ার বলেন, আরব দেশগুলোর সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থান ওই অঞ্চলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে বলে তিনি নিশ্চিত নন। বরং এতে সেখানে পশ্চিমা-বিদ্বেষী কট্টরপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
পশ্চিমা-বিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে গাদ্দাফির লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। ২০০৪ সালে ব্লেয়ার ত্রিপোলি গিয়ে গাদ্দাফির সঙ্গে হাত মেলানোর পর দেশটির সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সুসম্পর্কের সূচনা ঘটে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে লিবিয়ার দীর্ঘদিনের বৈরিতা দূরে সরিয়ে রেখে গাদ্দাফির প্রতি এভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অনুতপ্ত কি না, জানতে চাইলে ব্লেয়ার বলেন, ‘না, আমি সব সময় বলেছি, লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ নীতি পাল্টে গেছে।’
ব্লেয়ার বলেন, ‘আন্দোলন যখন শুরু হয়েছে, তখন আমি গাদ্দাফির সঙ্গে কথা বলেছিলাম। আমি তাঁকে বলেছিলাম, তাঁর বিদায় নেওয়ার সময় হয়ে গেছে।’
১৯৯৭ সাল থেকে ১০ বছর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ব্লেয়ার। ২০০৪ ও ২০০৭ সালে আবার লিবিয়া সফরে যান তিনি।