Friday, September 18, 2015

৪০ বছর পর গন্তব্যে পৌঁছলো পার্সেল

অস্ট্রেলিয়ায় আজ থেকে ৪০ বছর আগে পাঠানো একটি পার্সেল এতোদিনে তার ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে। পার্সেলটি মেলবোর্ন টেনিস ক্লাব ১৯৭০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে অর্ডার দিয়েছিল। দীর্ঘ ৪০ বছর পর অবশেষে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া পার্সেলটি তার সুনির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছলো। আর এ সততার জন্য প্রশংসার দাবিদার অস্ট্রেলিয়ার ডাক বিভাগ এবং ডাক বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মীরা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা আইএএনএস। মেলবোর্ন টেনিস ক্লাব কমিটির সাবেক এক সদস্যা আইরিন গ্যারেটকে সম্বোধন করে এটি পাঠানো হয়েছিল। পার্সেলটিতে ক্লাবের ক্রেস্টের ডিজাইনে সেলাই করা কাপড়ের প্যাচ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় ডাকঘর সেবা কেন্দ্র অস্ট্রেলিয়ান পোস্টের একটি বাছাই কেন্দ্রে যন্ত্রপাতির পেছনে দীর্ঘদিন পড়ে ছিল পার্সেলটি। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ান পোস্টের স্থান পরিবর্তনের সময় পার্সেলটি চোখে পড়ে কর্মকর্তাদের এবং তারা যথারীতি তাদের অবশিষ্ট দায়িত্বটুকু পালনে অবহেলা করেননি।
পার্সেলটি শেষ পর্যন্ত জায়গামতো পৌঁছানোর ঘটনায় বেশ মজাই পেয়েছেন তিনি। উচ্ছ্বসিত আইরিন বলছিলেন, আমি তো বিশ্বাসই করতে পারিনি। এটার ব্যাপারে আমি বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম। আমরা অনুমান করছি যে, এটা অবশ্যই ১৯৭৫ সালের দিকে হবে এবং নিশ্চয়ই এটার অর্ডার দিয়েছিলাম আমি। যেহেতু আমাকে সম্বোধন করে পার্সেলটি পাঠানো হয়েছিল, তাই আমার অনুমান আমিই এটার অর্ডার দিয়েছিলাম। আইরিন বলছিলেন, পার্সেলের খামের ওপর নাম, ঠিকানা ৪ দশক পরও স্পষ্ট। টেনিস ক্লাবটির সঙ্গে আইরিনের আর কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। অস্ট্রেলিয়ার ডাক বিভাগের কর্মীদের তিনি ধন্যবাদ দিয়েছেন তাদের ‘কখনও না হওয়ার চেয়ে দেরিতে হওয়ার’ মনোভাবের প্রশংসা করেছেন। আইরিন বলছিলেন, পার্সেলটি আমাদের ক্লাবের পুরনো সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছে। পার্সেলটি আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেয়া যেতো। কিন্তু, তারপরও ডাক কর্মীদের সততায় দারুণ মুগ্ধ হয়েছেন আইরিন গ্যারেট ও টেনিস ক্লাবটির সদস্য ও কর্মকর্তারা।

তা-ই বলে বিমান চুরি!

ব্যক্তিগত সংগ্রহে জেট প্লেন নেই। রয়েছে সাকুল্যে একটি গাড়ি। তাতে মন ভরছে না। তাই বিমানবন্দরে হানা দিয়ে প্লেন নিয়ে পালানোর চেষ্টা। কাজ প্রায় হাসিল হয়েই গিয়েছিল। শেষ মুহূর্তে বাদ সাধল টেজার গান। বৃহস্পতিবার সকালের ঘটনায় হুলস্থূল টেক্সাসের ওয়্যাকো বিমানবন্দরে।
সবে সকাল হয়েছে। মধ্য টেক্সাসের ওয়্যাকো আঞ্চলিক বিমানবন্দর অন্য যেকোনো দিনের মতোই নির্বিঘ্ন, নিরুপদ্রব। নেহাতই আঞ্চলিক বিমানবন্দর। খুব বেশি উড়ানের ওঠা নামা নেই। নিরাপত্তার হালচাল একটু ঢিলেঢালাই। রাত থেকে যাঁরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন, তাদের কাজ শেষ। সকালের নিরাপত্তা কর্মীরা একে একে আসছেন। তখনো কাজ শুরু করেননি। এভাবেই চলে রোজ। সমস্যা হয় না কখনওই।
বৃহস্পতিবার সকালে একেবারে বিনা মেঘে বজ্রপাত! আচমকা একটি গাড়ি এসে ধাক্কা মারল বিমানবন্দরের সিকিওরিটি গেটে। হালকা নিরাপত্তা বলয় ভেঙে গাড়িটি ছিটকে ঢুকল বিমানবন্দর পরিসরে। এক ব্যক্তি দরজা খুলে লাফিয়ে নামলেন। হাতে একটি লাঠি নিয়ে ছুটতে শুরু করলেন রানওয়ের দিকে।
ঘটনার আকস্মিকতায় শুরুতে হকচকিয়ে গিয়েছিলেন বিমানবন্দরের কর্মীরা। আগন্তুক যখন ছুটছেন রানওয়ের দিকে, তখন সকলের সম্বিৎ ফিরল। কিন্তু, থামাবে কে? ছুটন্ত আগন্তুকের হাবভাব মোটেই স্বাভাবিক নয়। কেউই এগতে সাহস পাচ্ছেন না। রাতের ডিউটি শেষ করে বাড়ি ফেরার তোড়জোড় করছিলেন যে নিরাপত্তা আধিকারিক, তিনিই এগিয়ে গেলেন। ততক্ষণে রানওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি জেট প্লেনের দখল নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেছেন অচেনা আগন্তুক। লিয়ারজেটের ল্যান্ডিং গিয়ারকে ঘিরে যে টায়ার চোক থাকে, তা খুলে ফেলেছেন। এবার প্লেনের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন। নিরাপত্তা আধিকারিক বুঝতে পারেন, বিপদ ঘনাতে চলেছে। তিনি কোমরের খাপ থেকে টেজার গান বার করে ট্রিগারে চাপ দিলেন। টেজার গান থেকে গুলি ছোটে না। যাঁকে লক্ষ্য করে এর ট্রিগারে চাপ দেওয়া হয়, তার ইলেকট্রিক শক লাগার মতো অনুভূতি হয়। টেজারের পর পর বেশ কয়েকটি ধাক্কায় আগন্তুক ছিটকে ছিটকে পড়ছিলেন বার বার। আবার উঠে প্লেনটির দিকে ছুটছিলেন। জেটটি নিয়ে তিনি পালাবেনই। প্লেন কেনার সামর্থ্য নেই। তাই ছিনতাই করেই ব্যক্তিগত বিমানের মালিক হবেন।
শেষমেষ বিমানবন্দরের কর্মীদের সিংহভাগ ছুটে যান রানওয়েতে। চারপাশ থেকে জাপটে ধরে কোনোমতে রানওয়ে থেকে ফেরত আনেন আগন্তুককে। আচরণে অস্বাভাবিকতা আঁচ করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় মানসিক অবস্থা পরীক্ষার জন্য। ওয়্যাকো পুলিশ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের আগন্তুক মাদকের প্রভাবে ছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে অযাচিত অনুপ্রবেশ, চুরির চেষ্টা সহ একাধিক ফৌজদারি ধারায় মামলা রুজু হচ্ছে। খবর দেয়া হয়েছে এফবিআইকেও।

শওকত মাহমুদের জীবন ঝুঁকির মুখে : স্ত্রী ফেরদৌসী মাহমুদ

ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদকে গ্রেফতারের পর দফায় দফায় রিমান্ডে নেয়ায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরেছেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী ফেরদৌসী মাহমুদ।
তিনি অভিযোগ করেছেন, শওকত মাহমুদের চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতের আদেশ আমলে নিচ্ছে না কারা কর্তৃপক্ষ। কারাবিধি মোতাবেক দেশের সন্মানিত নাগরিক হিসেবে ডিভিশন পাওয়ার সুযোগ থাকলেও কারা কর্তৃপক্ষ তাকে সাধারণ হাজতি হিসেবে রেখেছে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে। এর ফলে শওকত মাহমুদের শারীরিক অবস্থা দিন দিন অবনতি ঘটছে। পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষের নিষ্ঠুর আচরণে হৃদরোগ, কিডনী ও ডায়াবেটিসের রোগী শওকত মাহমুদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির সামনে থেকে শওকত মাহমুদকে গ্রেফতারের পর এ পর্যন্ত তাকে ২১টি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন থানার ২০টি ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ১টি রয়েছে। ঢাকার ১২টি মামলায় পুলিশ মোট ১২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত রমনা ও লালবাগ থানার দু’টি মামলায় তিন দিন করে, মতিঝিল, পল্টন, খিলগাঁও, মুগদা থানার অপর নয়টি মামলায় এক দিন করে নয় দিনসহ মোট ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। ইতোমধ্যে ডিবি অফিসসহ বিভিন্ন থানায় তিনি ১৪ দিন রিমান্ডে ছিলেন। রামপুরা থানার এক দিনের মঞ্জুরকৃত রিমান্ড এখনও অপেক্ষমান আছে। পল্টন থানার নতুন একটি মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর রোববার তার শুনানীর দিন ধার্য্য রয়েছে।
শওকত মাহমুদের আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম ফরিদ জানান, আরো ১১টি মামলায় তাকে জড়ানোর প্রক্রিয়ার কথা তারা শুনেছেন। তবে সেগুলোর রেকর্ড তার হাতে এখনও পৌঁছেনি। সেগুলোসহ মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়াবে ৩২টিতে।
শওকত মাহমুদের স্ত্রী ফেরদৌসী মাহমুদ জানান, তারা আশা করেছিলেন ঈদের আগেই তিনি জামিনে মুক্তি পাবেন। কিন্তু একের পর এক নতুন মামলায় জড়িয়ে তার উপর নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গরমের মধ্যে প্রিজন ভ্যানে আনা নেয়া করায় বুকে শওকত মাহমুদের কফ জমে গেছে। তার মত গুরুতর হার্টের রোগীকে পুলিশ কোর্টের ১১তলায় হাঁটিয়ে তুলেছে। লিফটের জন্যও অপেক্ষা করেনি। বাসার খাবার ছাড়া অন্য খাবার খাওয়ায় তার পেটে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শুকিয়ে কঙ্কাল হয়ে যাচ্ছেন দিন দিন।
ঈদুল আযহাকে সামনে সাংবাদিক শওকত মাহমুদের পরিবারে বিরাজ করছে চরম হতাশা। বড় ছেলে নাফিজ মাহমুদ শুভ, ছোট ছেলে সুলতান মাহমুদ সিয়াম, পুত্রবধূ তাজরিন আক্তার আখি, বড় মেয়ে মেহতা মামুন রাংতা, ছোট মেয়ে সেফায়েত সারওয়ার চৌধুরী রাশনা, দুই জামাতা আবদুল্লাহ আল মামুন ও ইব্রাহিমসহ পরিবারের সদস্যরা শওকত মাহমুদের জীবন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলা : নিহত ৩৩

পাকিস্তানের পেশোয়ারে বিমান বাহিনীর ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলায় ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে বাদাবার এলাকায় ইনকিলাব রোডের ওই ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।
এ হামলার দায় স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। সাংবাদিকদের পাঠানো এক ই-মেইল সংগঠনটির মুখপাত্র মোহাম্মদ খুরাসানি হামলার দায় স্বীকার করেছে।
নিহতদের মধ্যে ২০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বিমান বাহিনীর কর্মচারী। বাকি ১৩ জন টিটিপি'র সদস্য।
ইন্টার সার্ভিসেস পাবিলিক রিলেশনের (আইএসপিআর) ডাইরেক্টর-জেনারেল মেজর জেনারেল অসিম বাজওয়া এক টুইটার বার্তায় এ খবর জানিয়েছে।
তিনি ওই বার্তায় জানান, শুক্রবার সকালে সন্ত্রাসীদের একটি দল ইনকিলাব রোডে বিমান বাহিনীর একটি ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে গুলি বিনিময়ের সময় ১৩ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন।
মেজর জেনারেল অসিম বাজওয়া আরো জানান, হামলার সময় ক্যাম্পের ভেতরের মসজিদে ছয়জন নামাজ পড়ছিলেন, তারাও নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বিমান বাহিনীর দু'জন টেকনিশিয়ানও আছেন। হামলার সময় তারা গার্ড রুমে ছিলেন।
তিনি টুইটারে জানান, হামলায় দেশটির সামরিক বাহিনীর ক্যাপ্টেন আসফান্দিয়ার নিহত হন। এছাড়া আহত হন ১০ সেনা সদস্য। তিনি আরো জানান, হামলায় সাত থেকে দশজন সন্ত্রাসীদের একটি দল ওই হামলা চালিয়েছে। সন্ত্রাসীরা প্রথম গার্ড রুমে হামলা চালায়। পরে খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনীরা তাদের ঘেরাও করে।

দুবাইয়ে বাংলাদেশী যুবকের সততার অসামান্য নজির by কাজী আরিফ আহমেদ

কম্পিউটার ডিজাইনের চাকরিটি ছেড়ে দিয়ে ট্যাক্সির স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখেছিলেন বাংলাদেশের নাগরিক আরিফুল করিম। দুবাই ট্যাক্সি কর্পোরেশনের একটি ট্যাক্সি চালান ২৮ বছর বয়সী এ যুবক। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীদের পৌঁছে দেন। এই চাকরিটা বেশ উপভোগ করেন আরিফুল। ২ বছর এ পেশায় রয়েছেন তিনি। গত বছর পবিত্র রমজান মাস শেষ হওয়ার কয়েকদিন আগে সততার অসামান্য এক নজির সৃষ্টি করেছেন এবং সততার যথাযোগ্য স্বীকৃতি, সম্মান ও প্রশংসা পেয়েছেন। বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৫০ লাখ টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন এক যাত্রীকে। এক যাত্রী ভুল করে আরিফুলের গাড়িতে নগদ ২ লাখ ৩৫ হাজার দিরহাম বা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ফেলে গিয়েছিলেন। এতো বিপুল অর্থ হাতে পেয়েও নীতিভ্রষ্ট হননি আরিফুল। কর্তৃপক্ষের সহায়তায় পুরো অর্থটাই তিনি ওই যাত্রীকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তার সততার স্বীকৃতিস্বরূপ রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (আরটিএ) এ বাংলাদেশীকে ব্যাজ ও সনদ প্রদান করে বিশেষভাবে সম্মানিত করেছেন। গর্বভরে আরটিএ থেকে পাওয়া ব্যাজটি দেখান তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এমিরেটস টোয়েন্টি ফোর সেভেন।
আরিফুল ইসলাম স্মৃতিচারণ করে বলছিলেন, গত বছর রমজান মাস শেষ হওয়ার ঠিক আগে এ ঘটনা ঘটে। এক যাত্রী মনের ভুলে তার জিনিসপত্র ক্যাবে রেখেই চলে যান। আমি বিষয়টি খেয়াল করিনি এবং এরপর আরও কয়েকজন যাত্রীকে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিই। ট্যাক্সিতে একটু আরামের জন্য গা এলিয়ে দিতেই একটি কাগজের প্যাকেট দেখতে পাই। দুটি সিটের মধ্যিখানে পড়ে ছিল সেটি। সিটের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে প্যাকেটটি বের করে আনতেই বুঝলাম এর মধ্যে নগদ অর্থ আছে। আমি টাকাটা গুণে দেখলাম ২ লাখ ৩৫ হাজার দিরহাম আছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি আরটিকে বিষয়টি জানালাম এবং কার্যালয়ে প্যাকেটটি জমা দিলাম। একদিন পর ওই যাত্রী আরটিএ কার্যালয়ে গেলেন। তাকে বলা হলো, তার প্যাকেটটি যেমন ছিল, তেমনই আছে। আমাকেও ডাকা হলো এবং আমি ওই যাত্রীর সঙ্গে দেখা করলাম। তিনি ছিলেন ইরানের নাগরিক। পুরস্কার হিসেবে আমাকে ৩০০ দিরহাম দিলেন তিনি।
আরটিএ কর্তৃপক্ষও একটি ব্যাজ ও সার্টিফিকেট বা সনদ দিয়ে আরিফুলের সততার স্বীকৃতি দেয়। তিনি বলছিলেন, এটাই প্রথমবার নয়। এর আগেও বহুবার তিনি যাত্রীদের উপকার করেছেন। তিনি বলছিলেন, যাত্রীরা প্রায়ই তাদের মানিব্যাগ বা মোবাইল ভুল করে ফেলে যান। প্রতিবার আমি কার্যালয়ে রিপোর্ট করি এবং যাত্রীদের ফেলে যাওয়া জিনিসপত্র সেখানে জমা রাখি। একবার তো তাকে এক যাত্রী ভাড়া পরিশোধের সময় ৫৮ দিরহামের পরিবর্তে ভুল করে ৫৩০ দিরহাম দিয়েছিলেন। সে কথা মনে করে আরিফুল বলছিলেন, আমি যখন বুঝলাম তিনি আমাকে ৫৮ দিরহামের পরিবর্তে ভুল করে  ৫৩০ দিরহাম দিয়েছেন, আমি তাকে ডেকে সেটা বললাম। ভোর ৪টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ট্যাক্সি চালান আরিফুল। তিনি বলছিলেন, তার পিতামাতা সবসময় সঠিক পথ বেছে নেয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। স্মিত হেসে আরিফুল করিম বলছিলেন, আমার ভালোমন্দ আল্লাহ দেখেন, তো আমি কেন অযথা দুশ্চিন্তা করবো?

সুন্দরী মেয়েদের সঙ্গে সেলফি তুলতে ভালো লাগে: এরশাদ

মেয়েদের সঙ্গে সেলফি তুলতে খুব ভালো লাগে বলে জানালেন রাজনৈতিক জীবন অস্থির হলেও সাজানো গোছানো দৈনন্দিন জীবন কাটানো হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। জীবনকে নিয়ম-শৃংঙ্খলার মধ্যে রাখতে ভালোবাসেন তিনি। পোশাক-আশাক বা গেটআপ সবকিছুতেই বাড়ি থেকে বাইরে সবসময় কেতাদুরস্ত ৮৫ বছর বয়সী সাবেক প্রেসিডেন্ট।
এরশাদ বললেন, সবসময় হালফ্যাশনে চলতে পছন্দ করেন তিনি। গ্ল্যামারাস লুক তার জন্মগত যাকে তিনি নিজেই আরো আকর্ষণীয় করেছেন তার স্মার্টনেসে। একইসঙ্গে আবার দীর্ঘতম সময় একটি র‍াজনৈতিক দলের প্রধান থাকার রেকর্ডও গড়েছেন এরশাদ।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চব্বিশ ঘণ্টার রাজনীতিক থাকার পরও ব্যক্তিজীবনে কিভাবে এই তারকার মতো জীবনযাপন সম্ভব? পেছনের রহস্যটা কি? তার এখনকার ব্যক্তিগত জীবনইবা কিরকম? কি করে তিনি আকর্ষণের মধ্যমনি?
‘তৃতীয় মাত্রা’র ঈদ আয়োজনে চ্যানেল আই ভবনে এসে চ্যানেল আই অনলাইনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সেসব কথা বলেছেন তিনি। ব্যক্তিগত লাইফস্টাইল সম্পর্কেও বিস্তারিত জানিয়েছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
চ্যানেল আই অনলাইন: কেমন আছেন?
এরশাদ: হ্যাঁ ভালো আছি।
চ্যানেল আই অনলাইন: প্রথমেই আপনার কাছে জানতে চাই, এই বয়সেও এতো সুন্দর কিভাবে আপনি?
এরশাদ: (হাসি) রুটিন মাফিক জীবন-যাপন করি তাই হয়তো।
চ্যানেল আই অনলাইন: সকালটা কিভাবে শুরু হয় আপন‍ার?
এরশাদ: আমি প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠি। এরপর কিছুক্ষণ হাঁটাহাটি করার পর আমার জিম ট্রেইনার আসে। তার কাছে জিম করি। জিম করার পর গোসল করে নিই। এরপর গ্রিন টি খাই আর খবরের কাগজ পড়ি। সকালের নাস্তাটা বিভিন্ন ফ্রুটস দিয়ে করে থাকি। সঙ্গে থাকে পাউরুটি, ওমলেট আর দুধ। আসলে খাবার আমি খুব পরিমাণ মতো খাই। এরপর বাসায় একটা জায়গায় বসি। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসে তাদের সুপারিশ নিয়ে। আমার যতোটুকু সামর্থ্য আছে ততোটুকু দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করি। পার্টির কর্মিরাও আসে, বিভিন্ন দিক নির্দেশনা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলি। প্রতিদিন এতো লোক সমাগম হয় বলে আমার ছেলে এই বাড়ির নাম দিয়েছে সুপারিশ বাড়ি। এভাবেই প্রতিদিন সকালের পর্বটা শেষ করি।
চ্যানেল আই অনলাইন: দুপুরের মেনুতে কোন ধরণের খাবার থাকে?
এরশাদ:  আমরা যেহেতু বাঙালি তাই বাঙালি খাবারের আইটেমই ভালো লাগে বেশি। রংপুরে একটি সুস্বাদু খাবার আছে আলুর ডাল। এই খাবারটা রংপুরবাসীর খুব পছন্দের খাবার। সেই খাবারটি বেশি থাকে। এছাড়াও বেগুন ভর্তা, বিভিন্ন মাছের আইটেম দিয়ে দুপুরের খাবার খাই। আমার মাছ খুব পছন্দের খাবার। যে কোনো মাছই আমার খুব ভালো লাগে।
চ্যালেন আই অনলাইন: কোন খাবারটি এখন আপনি আর খান না?
এরশাদ: বয়স হয়েছে তাই মাংস বা মাংস দিয়ে তৈরি খাবার খুব বেশি খাই না বললেই চলে। তাই বিয়ে বাড়িতে যেতে আমার ভালো লাগে না। তবে গেলেও কোনো খাবার খাই না। এতো পরিমাণ তেল মসলা থাকে যে খাবারকে বিষ মনে হয়। অবশ্য বিয়ে বাড়িতে গেলে অনেক ছবি তোলা হয়। এখন তো আবার সেলফির যুগ।
চ্যানেল আই অনলাইন: আপনার সেলফি তুলতে ভালো লাগে না?
এরশাদ: হ্যাঁ, সেলফি তুলতে আমার ভালো লাগে। বিশেষ করে সুন্দরী মেয়েদের সঙ্গে সেলফি তুলতে আমার খুব ভালো লাগে। যেখানেই আমি যাই না কেনো মেয়েরা আমার সঙ্গে সেলফি তুলে। আমারও বেশ ভালো লাগে। ব্যাপারটা উপভোগ করি।
চ্যানেল আই অনলাইন: বিকেলটা কিভাবে কাটে?
এরশাদ: বিকেলে সাধারণতঃ তেমন কোনো কাজ থাকে না। আমার ছেলে এরিক এরশাদ গান গায়। ওর চারটি অ্যালবাম বাজারে এসেছে। বিকেলে বসে ছেলের গান শুনি। আর আমার ছেলে তো মান্না দের অনেক ভক্ত। ওনার গানও শোনা হয়। এছাড়া পুরনো দিনের সব শিল্পীর গান শুনতে পছন্দ করি।
চ্যানেল আই অনলাইন: অাপনার রাতের খাবারের মেন্যুতে কি থাকে?
এরশাদ: রাতে একটি রুটি খাই। আর ছেলের সঙ্গে রাতে গল্প করতে হয় বলে প্রতিদিন রাত ১১টায় ঘুমাতে যাই।
চ্যানেল আই অনলাইন: এখনো আপনি গলফ খেলেন?
এরশাদ: সপ্তাহে দুইদিন গলফ খেলি। শুক্রবার ও শনিবার জিম ট্রেইনার আসে না, সেই দুইদিন আমার কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে গলফ খেলি।
চ্যানেল আই অনলাইন: বাইরের কোন খাবারটি আপনার বেশি পছন্দের?
এরশাদ: সাধারণত বাইরের দামি খাবার ছাড়া আমি কিছু খাই না। বিফ স্টেকটা আমার পছন্দের খাবার।
চ্যানেল আই অনলাইন: পোশাকের তালিকায় আপনার বিশেষ পছন্দ কোনটি?
এরশাদ: পোশাকের মধ্যে স্যুট পরতে বেশি ভালো লাগে। এছাড়া কোনো অনুষ্ঠানে গেলে পাঞ্জাবি পরতে ভালো লাগে। রঙের ক্ষেত্রে নীল রঙটাই পছন্দ।
চ্যানেল আই অনলাইন: আপনার কোনো নিজস্ব পোশাক ডিজাইনার আছে?
এরশাদ: একসময় ছিলো। এখন নেই। বয়স হয়ে গেছে তো। তাই পোশাক ডিজাইনার লাগে না। আর বেশিরভাগ সময় উপহার পাই। এর বাইরে নিজে কিছু পছন্দ করে কিনি, এই দিয়েই হয়ে যায়।
চ্যানেল আই অনলাইন: আপনাকে সবসময় স্যুটের সঙ্গে স্কার্ফ পরতে দেখি।
এরশাদ: কোনো রহস্য নেই। এটা আসলে সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন সময়ে অভ্যাস হয়ে গিয়েছিলো। অভ্যাসটা ছাড়তে পারিনি। এখনো তাই স্যুটের সঙ্গে পরি।
চ্যানেল আই অনলাইন: বাইরের কোন দেশে ঘুরতে পছন্দ করেন?
এরশাদ: বাইরের দেশে ঘুরতে যাওয়া হয়। তবে লন্ডন আমার পছন্দ না। আমেরিকা, সিঙ্গাপুর ঘুরতে বেশ ভালো লাগে। ছেলেকে নিয়ে সিঙ্গাপুরে প্রায়ই যেতে হয়। সাজানো গোছানো পরিস্কার সিঙ্গাপুরে ঘুরে বেশি মজা পাই। এছাড়া ভারতে ঘুরতেও বেশ ভালো লাগে।
চ্যানেল আই অনলাইন: সর্বশেষ প্রশ্ন। বর্তমানে রাজনীতির অবস্থা কেমন দেখছেন?
এরশাদ: রাজনীতির অবস্থা খুবই খারাপ। আগে রাজনীতিকরা দেশ কন্ট্রোল করতো আর এখন ছাত্ররা দেশ কন্ট্রোল করে। মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে ছাত্রদের কাছে শিক্ষকরা লাঞ্ছিত হচ্ছে। একজন ছেলে মোবাইল চুরি করেছে বলে তাকে মেরে ফেলা হচ্ছে। দেশে যেনো কোনো আইন নেই। যে যেভাবে পারছে; সে সেভাবে অপরাধ করে যাচ্ছে। তাই মনে করি মানুষের মধ্যে যতোদিন মূল্যবোধ সৃষ্টি না হবে ততোদিন দেশের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবে না।
সূত্রঃ চ্যানেল আই অনলাইন

আমি আমার সরলতা হারিয়েছি: আহমেদ

আমি আমার সরলতা হারিয়েছি। পৃথিবীকে একইভাবে আমি আর কখনও দেখতে পারবো না। আমি বিজ্ঞান ভালোবাসি। কিন্তু, আমার বাদামি বর্ণের কারণে আমাকে হুমকি বলে মনে হয়। এ কথাগুলো বলছিল যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আরভিংয়ের বাসিন্দা কিশোর আহমেদ মোহাম্মদ। বিজ্ঞানের প্রতি প্রবল ঝোঁক আহমেদের। ঘড়ি বানানোর জন্য তার উদ্যোগ ও সে অনুযায়ী কাজ করা প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু, বাড়িতে প্রবল আগ্রহ নিয়ে তৈরি করা ঘড়িটি আহমেদকে পুরস্কারের পরিবর্তে হাতকড়া এনে দিলো। আটক রাখা হলো কিশোরদের জন্য নির্ধারিত জুভেনাইল ডিটেনশন সেন্টারে। স্কুল থেকে এখনও সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত রয়েছে সে। শিশুটির বিজ্ঞানের নেশা আর গায়ের রঙের কারণে তাকে ভুল বুঝলেন শিক্ষকরা। ৯১১ নম্বরে ফোন করা হলো। পুলিশ শিশুটিকে আটক করলো। হাতকড়া পরালো। পুলিশ শিশুটিকে বললো, তাকে ভুয়া বিস্ফোরক ডিভাইস তৈরি করে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য অভিযুক্ত করা হতে পারে। আহমেদ বলছিল, আরভিংয়ের ম্যাকআরথার হাই স্কুলের প্রকৌশল বিষয়ক শিক্ষককে ঘড়িটি দেখানোর পর তাকে বলা হয়েছিল এটি আর কাউকে না দেখাতে। তিনি আমাকে বলেছিলেন, এটা বোমার মতো দেখতে। কিন্তু, ওই শিক্ষকের সতর্কবাণী উপেক্ষা করে আরেক শিক্ষককে ঘড়িটি দেখালো সে। সেটাই তার জন্য কাল হলো। ওই শিক্ষক বললেন, এটা বোমার মতো দেখতে এবং পুলিশ ডাকলেন। আহমেদ বলছিল, তাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আহমেদের বর্ণনায়, আমার পিতামাতাকে ছাড়াই সেখানে নিয়ে গিয়েছিল। তারা আমাকে নিজেকে অপরাধী মনে করাতে লাগলো। আমার শিক্ষককে খুশি করতেই ঘড়িটি তৈরি করেছিলাম। কিন্তু, আমি যখন এটি তাকে দেখালাম, তিনি মনে করলেন এটা তার জন্য হুমকি। ঘড়িটির ব্যাপারে তিনি ভুল ধারণা নেয়ার বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক। আহমেদের পিতা মোহাম্মদ আল হাসান মোহাম্মদ বলছিলেন, আরভিং এলাকার পুলিশ তাকে ফোন করার পর তিনি ঘটনাটি জানতে পারেন। তিনি বলেন, ফোনে পুলিশ তাকে জানায়, বোমা তৈরির জন্য আমার পুত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটির পিতার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, মুসলমান না হলে, ঘড়ির জন্য তার পুত্রকে আটক রাখা হতো কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না’। আমার মনে হয়, এটা ইসলামোফোবিয়া বা ইসলাম আতঙ্ক এবং ৯১১ এর প্রভাবের কারণে।

পৃথিবীর সবচেয়ে রূপবতী নারী, আপনার জন্য by আনিসুল হক

আমি অত্যন্ত দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষ। আমি অনেক দূর পর্যন্ত দেখতে পাই। এবং আমার পঞ্চ-ইন্দ্রিয় খুবই প্রখর। আমি পেছনে না তাকিয়ে শুধু বাতাসে শ্বাস নিয়ে বলতে পারি, এক শ হাত পেছনে একটি অত্যন্ত রূপবতী তরুণী অবস্থান করছে। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের নতুন প্ল্যাটফর্মে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে করতে আমি বুঝে ফেললাম, পৃথিবীর সবচেয়ে রূপবতী নারীটি পুরোনো প্ল্যাটফর্মে এইমাত্র পা রাখল। আমি ঘ্রাণ নিলাম। বাতাস আমাকে জানিয়ে দিল। হ্যাঁ, এসেছে একজন। আমি পেছনে ফিরে তাকালাম। মেয়েটি পরেছে ঘিয়ে রঙের একটা ফতুয়া, গ্যাবাডিনের একটা ট্রাউজার। তার চুল খোলা। মেয়েটির নাকে একটা নাকফুল। মেয়েটি ঈষৎ শ্যাম বর্ণ। আমার চিত্তচাঞ্চল্য দেখা দিল। মেয়েটিকে দেখতে হবে। কোনো মেয়ের মুখের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকতে হয় না। কিন্তু তার মুখখানা আরেকটু কাছে থেকে না দেখলে আমি মারাই যাব। আমি নতুন প্ল্যাটফর্ম থেকে পুরোনো প্ল্যাটফর্মের দিকে রওনা হলাম।
আমার পিঠে একটা ব্যাকপ্যাক। আমি অফিসের কাজে চট্টগ্রামে এসেছিলাম। কাজ সেরে ঢাকায় ফিরে যাচ্ছি। মাত্র আটাশ বছর বয়সের কোমরেই ব্যথা এসে বাসা বেঁধেছে, ভারী জিনিস টানা আমার বারণ। কিন্তু ব্যাকপ্যাক পিঠে নিতে মানা নেই। আমার সামনের দিকে ঝোঁকা বারণ, পেছনের দিকে নয়। ঘিয়ে জামার কাছাকাছি গেলাম। একটু আগে বলছিলাম, কোনো মেয়ের মুখের দিকে হাঁ করে তাকাতে হয় না। কিন্তু আমি তার কাছে গিয়ে হাঁ হয়ে গেলাম। আমার মুখ দিয়ে মাছি ঢুকে যেতে পারে। আমার জীবনে এত রূপবতী নারী আমি দ্বিতীয়টি দেখিনি। সে দেখতে নন্দিতা দাসের মতো—সংক্ষেপে শুধু এতটুকুন বলতে পারি। ভারতীয় অল্টারনেটিভ মুভির এই নায়িকার মতোই রংটা চাপা, সুন্দর নাক, খানিকটা খাড়া, খানিকটা গোল, তাতে নাকফুলটা­—ইশ্, একটা নাকফুল নারীকে এই রকম অপরূপা করে তুলতে পারে! তার চোখ টানা–টানা, ভাসা-ভাসা। এবং ফাজিল মেয়েটা ট্রাউজার আর ফতুয়া পরেছে, কিন্তু চোখে পরেছে কাজল। দেখে তো আমি মুগ্ধ হবই, আমি তো পুরুষ।
আমার তার দিকে আরও খানিকক্ষণ তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করছে বটে, কিন্তু তাতে আমার ট্রেন মিস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। আমার মন পড়ে রইল পুরোনো প্ল্যাটফর্মে, আর আমার অনিচ্ছুক শরীরটাকে পা দুটো কোনো রকমে টেনেটুনে আনল নতুন প্ল্যাটফর্মে।
টিকিট কাটাই ছিল। ফার্স্ট ক্লাস, এসি চেয়ার।
নম্বর মিলিয়ে আমি সিটে বসলাম।
সিটটাও পেয়েছি, বলার মতো। সামনে একটা টেবিল। চা খাওয়ার জন্য বোধ হয়। উল্টোদিকের সারিটা আমাদের সারির মুখোমুখি।
মেয়েটি কি একই ট্রেনে উঠবে?
একই ট্রেনে আমরা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাব?
উঠবে পুরোনো প্ল্যাটফরম থেকে?
তাহলে কি সে যাচ্ছে এসি বাথে। শুয়ে যাবে? তার সঙ্গে কি আর কেউ আছে?
আমরা দুজন একটি ট্রেনে যাই
এই আমাদের একটি মাত্র সুখ,
তাহার বগি টানছে যে ইঞ্জিন,
আমার বগিও টানছে সে উজবুক।
ভাবছি। কবিতার ছন্দ মেলাচ্ছি।
একটু পরে ট্রেন ছেড়ে দেবে। একজন-দুজন করে যাত্রী আসছেন। কারও-বা বড় বোঝা, কুলি টেনে আনল। কারও-বা বোঝা কম। নানা বয়সের যাত্রীরা আসছেন, বসছেন। কে সেসবের দিকে তাকায়। আমার সমস্ত মনোযোগ কেড়ে নিয়ে একজন দাঁড়িয়ে ছিল পুরোনো প্ল্যাটফর্মে। এখন বোধ হয় কোনো একটা কামরায় উঠে পড়েছে।
তবে নিয়তির পরিহাস সব সময় নির্মম হয় না। আমার সমস্ত ইন্দ্রিয় হঠাৎ সাড়া দিয়ে উঠল, তিনি এই কামরাতেই উঠছেন, ওই যে, ওই দরজা দিয়ে। এবং তিনি এই দিকেই আসছেন। ও খোদা। তিনি আমার সামনের আসনে এসে বসলেন!
আমরা দুজন এখন মুখোমুখি আসনে। মধ্যখানে একটা ইস্পাতের নিষ্ঠুর টেবিল।
এখন কী করা যায়?
আমার আইফোন সিক্সটা বের করলাম। সামনের টেবিলে রাখলাম।
তিনি একটা অর্ধচন্দ্র মার্কা কুশন বের করলেন। কাঁধের পেছনে দিলেন। এবং ঘুমিয়ে পড়লেন।
যাহ্। আমার আইফোন-দুরভিসন্ধি মাঠে মারা গেল। ট্রেন চলছে। এত কাছে তিনি যে আমি তার দিকে পূর্ণ চোখে তাকাতেও পারছি না। কিন্তু তাকে দেখে আমার দেখার সাধ মিটছে না। আমি উঠলাম। বাথরুমের দিকে গেলাম। আবার এলাম। দূর থেকে তাকে প্রাণভরে দেখছি। নারী আর ঘুমন্ত নারী এক নয়। বিকেলের হলদেটে আলো জানালার কাচ গলে এসে পড়েছে তার মুখে। আমি জানি আলোরও অভিসন্ধি থাকে। এই রোদটুকুন কেন এসেছে, আমি জানি। ট্রেন চলছে। ট্রেনের চলার মধ্যে একটা একঘেয়েমি আছে। ট্রেনের টেলিভিশনে চলতে থাকা মিউজিক ভিডিও দেখার জন্য আমি ঐকান্তিকভাবে প্রয়াস পেলাম। বেশ হাস্যকর হয়েছে মিউজিক ভিডিওটা। রাত হয়ে এসেছে। ট্রেনের ভেতরে বাতি জ্বলছে। যাত্রীরা সবাই ক্লান্ত। দূরে দুই ভদ্রলোক বেশ চিৎকার করে গল্পও করছেন। মাঝেমধ্যে ট্রেনের খাবারের কামরা থেকে নানা ধরনের খাবার এনে সামনে ধরে দ্রুত কেটে পড়ছে লোকগুলো। কাটলেট। চা। এরপর চিপস। দেবীর ঘুম ভাঙল। তিনি সোজা হয়ে বসলেন। তার সঙ্গে একটা ট্রলি। সেটা খুললেন। একটা ফার্স্ট এইড বক্স বের করলেন। তারপর নিজের পা বের করলেন কালো রঙের জুতা থেকে। তার দুটো পা থেকে পারিজাত ফুলের শোভা যেন দ্যুতি ছড়াচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ কি এই দুটো পা দেখে লিখেছিলেন, ‘দুটো অতুল পদতল রাতুল শতদল, জানি না কী লাগিয়া পরশে ধরাতল।’ তিনি তার পায়ের পেছনের দিকে, গোড়ালির একটু ওপরে একটা ব্যান্ড এইড বাঁধলেন। মানে আঠাওয়ালা ব্যান্ডেজ। বোধ হয় জুতা লেগে তার পায়ের পেছনটা খানিক জখম হয়েছে। তারপর ফার্স্ট এইড বক্স ট্রলির ভেতরে রেখে ট্রলি সুটকেসটা বন্ধ করে রেখে দিলেন সিটের নিচে।
রাত দশটায় পৌঁছে যাব ঢাকায়, বিমানবন্দর স্টেশনে। আমাকে নেমে যেতে হবে।
বিমানবন্দর স্টেশনে কি সে-ও নামবে?
না। যারা যারা বিমানবন্দর স্টেশনে নামবে, টঙ্গী থেকেই তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমার দেবীর মধ্যে সে রকমের কোনো চাঞ্চল্য নেই। তাহলে আমিও নামব না। আমি তার সঙ্গে কমলাপুর চলে যাব। যেতেই হবে।
বিমানবন্দরে পুরো কামরা ফাঁকা হয়ে গেল প্রায়। পৃথিবীর সব লোক এখন উত্তরা থাকে নাকি?
শুধু ওই দূরে দুজন মুরব্বি গোছের মানুষ বসে আছেন।
আমরা দুজন এইখানে মুখোমুখি আসনে।
ট্রেন আবার চলতে শুরু করেছে।
কমলাপুর পৌঁছাতে লাগবে আরও এক ঘণ্টা।
একটা ঘণ্টা তো আমি তার সামনে বেশি থাকতে পারব।
এইবার বোধ হয় আমার কথা বলা উচিত।
আমি বললাম, ‘আপনি কোথায় নামবেন?’
তিনি জবাব দিলেন না।
মুখটা বিস্বাদে ভরে গেল।
জবাব দিল না কেন মেয়েটা। খুবই নিরীহ প্রশ্ন। জবাব দিলে কী হতো?
আমার খুব খারাপ লাগছে। আমি এভাবে অপমানিত হলাম! এর কি কোনো শোধ নেই?
ফ্যানটা তার দিকে ঘোরানো। তিনি উঠে ফ্যানটা ঘোরানোর চেষ্টা করলেন।
পারলেন না।
আমি ভাবলাম, এবার আমার চেষ্টা করা উচিত। না হয় সে খারাপ ব্যবহার করেইছে। তুমি অধম তাই বলে আমি উত্তম হইব না কেন।
আমি উঠে দাঁড়িয়ে ফ্যানটা ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য হাত বাড়ালাম।
ভুলক্রমেই, আপনাদের এ কথা আমি বেশ জোরের সঙ্গেই বলতে পারব, ইচ্ছা করে কাজটা আমি করিনি, আমার তর্জনী ঢুকে গেল ফ্যানের খাঁচার ভেতরে, আর ঘুরন্ত পাখা লেগে বেশ খানিকটা গেল কেটে। আমি দ্রুতই হাতটা সরিয়ে নিলাম, একটা অব্যয়ধ্বনি বেরিয়ে এল, আহা...
টপ টপ করে রক্ত ঝরছে। এবার দেবীর দয়া হলো। তিনি আমার আঙুল চেপে ধরলেন তার চাপাকলির মতো আঙুল দিয়ে। তারপর নিজের সুটকেসটা খুললেন। ফার্স্ট এইড বক্সটা বের করলেন। তাতে ডেটল ছিল। একটা তুলায় ডেটল মেখে, আহা, তিনি আমার আঙুলের রক্ত মুছে দিলেন। তারপর আরেকটু তুলা চেপে ধরে আমার আঙুলের ডগায় একটা ব্যান্ড এইড বেঁধে দিলেন।
আমার জীবন চিরদিনের জন্য ধন্য হয়ে গেল।
তারপর এসে গেল কমলাপুর।
আমি বললাম, ‘আসি।’
তিনি হাসলেন। কোনো কথাই বললেন না।
আমি বললাম, ‘আপনার সুটকেসটা আমি নামিয়ে দেব?’
তিনি হাসলেন। কথা বললেন না।
কমলাপুর এসে গেল।
আমি নেমে পড়লাম।
তিনিও নামলেন।
তাকে নিতে এসেছে এক যুবক।
আমি পেছন ফিরে তাকালাম। দেখলাম, দুজনে কথা বলছে, সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে, সাংকেতিক ভাষায়, হাত নেড়ে নেড়ে।
একে অন্যকে একবার আলতো করে হাগ করল।
তারপর যুবকটি মেয়েটির ট্রলি ঠেলতে ঠেলতে মিশে গেল কমলাপুর রেলস্টেশনের ভিড়ে।
আমি অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম।
দীর্ঘশ্বাস গোপন করার চেষ্টা করছি নিজের কাছ থেকেই।
তারপর তাকে হারিয়ে ফেললাম।
এই গল্পটা লিখছি কম্পিউটারে। ডান হাতে এখনো তার দেওয়া ব্যান্ডেজটা আছে।
তর্জনী ব্যবহার করতে পারছি না।
দেবী, যদি তুমি এই লেখাটা পড়ো, তোমার মোবাইল নম্বরটা আমাকে দিয়ো। স্যরি, মোবাইল নম্বর নিয়ে আমি কী করব? তুমি কি বাংলা পড়তে পারো? আমি আশা করি, তুমি পারো এবং এই লেখাটা তুমি পড়ছ। তাহলে আমাকে ই-মেইল কোরো। এই লেখার সঙ্গে আমি আমার ই-মেইল এড্রেস দিয়ে দিচ্ছি। ওটা দিয়ে সার্চ দিলে তুমি আমাকে ফেসবুকেও পেতে পারো।

জাপানের পার্লামেন্টে মারামারি

বিতর্কিত নিরাপত্তা বিল নিয়ে জাপানের সংসদের উচ্চকক্ষে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিলটি আলোচনার জন্য নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান উচ্চকক্ষে উত্থাপনের চেষ্টা করলে বিরোধীরা তার কাছ থেকে এটি ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে জাপানের সংবিধানে যে ধারা ছিল প্রস্তাবিত আইনে তা রদ করে বলা হয়েছে আক্রান্ত না হলেও বিদেশে মিত্রদের জন্য যুদ্ধে জড়াতে পারবে জাপান। বহিঃশক্তি ও জঙ্গিবাদের হাত থেকে জাপানকে সুরক্ষার জন্য ১৬ জুলাই দেশটির সংসদের নিুকক্ষে নিরাপত্তা বিলটি পাস হয়।
এতে বলা হয়েছে, দেশের জনগণের নিরাপত্তার জন্য জাপানি সেনারা প্রয়োজনে সীমান্ত পেরিয়ে শত্রুদের মোকাবেলা করবে। প্রয়োজন পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা জাপানি সেনাদের প্রশিক্ষণ দেবে এবং স্থল-জলপথ ব্যবহার করতে পারবে। নিুকক্ষে পাস হলেও বিলটি কার্যকর হতে উচ্চকক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে নিুকক্ষে পাসের পর থেকেই দেশটির অধিকাংশ জনগণ ও বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা এর বিরোধিতা করে আসছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে আগামী সপ্তাহে ৩ দিনের ছুটির আগে বিলটি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পাস করাতে চেয়েছিলেন। এ উদ্দেশ্যে বিলটি উচ্চকক্ষে তোলা হয়। কিন্তু উচ্চকক্ষে বিলটি তোলা হলে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বিরোধীদের সংর্ঘষ বাধে।
বুধবার রাতে বিলটি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে ও তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা আলোচনার চেষ্টা করলে বিরোধীরা ওই কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেয়। তখন এ বিতর্ক পণ্ড হয়ে যায়। বিরোধী সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এবং অন্য মন্ত্রীদের অবস্থান করা একটি কক্ষে প্রবেশের ক্ষেত্রে অচলাবস্থার সৃষ্টি করেন। বিতর্কে অংশ নেয়ার জন্য তারা সেখানে অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে বিলের ওপর বিতর্কের জন্য সংসদীয় নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান সেটি উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। এসময় বিরোধীরা তার হাত থেকে বিলের কপি ছিনিয়ে নেয়ার জন্য ধস্তাধস্তি শুরু করেন। এ সময় বিরল উত্তেজনাপূর্ণ দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। বিরোধী সদস্যরা উচ্চকক্ষের নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যানকে ঘিরে ফেলেন এবং তার কাছ থেকে কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন যাতে বিতর্ক আর এগোতে না পারে।
এদিকে বুধবার রাতে বিরোধীদলীয় সমর্থক ও সংসদ সদস্যরা দেশটির পার্লামেন্ট ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভে ১৩ হাজারের মতো লোক অংশ নেয়। তারা পার্লামেন্টের প্রবেশ পথ অবরোধ করে রাখে। এ ঘটনায় ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গত কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন নতুন এ সামরিক আইন বাতিলের দাবিতে জাপানে ১০ হাজারের মতো লোক রাস্তায় মিছিল করে আসছে। প্রসঙ্গত, জাপানের সংবিধান অনুসারে বিলটি উচ্চকক্ষে উপস্থাপনের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে পাস না হলে, বিলটি নিুকক্ষে পুনারায় ভোটের জন্য তোলা যাবে।

আহমেদকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ

হাতে বানানো একটি ঘড়ি স্কুলে নেয়ার পর গ্রেফতার হওয়া মার্কিন কিশোর আহমেদ মোহাম্মদকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আরভিংয়ের ম্যাকআরথার হাইস্কুলের ছাত্র ১৪ বছরের কিশোর আহমেদ মোহাম্মদ শিক্ষকদের দেখাতে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন নিজের তৈরি একটি ঘড়ি। ঘড়িটিকে বোমা বলে ভুল করে পুলিশে খবর দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। পরে অবশ্য ভুল বুঝতে পেরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। আহমেদ মোহাম্মদকে তার সেই ঘড়ি নিয়ে হোয়াইট হাউসে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেন শিশুদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভূত সমৃদ্ধি ঘটতে পারে।
টুইটারে পোস্টের মাধ্যমে এ আমন্ত্রণ জানান ওবামা। এদিকে ফেসবুকে নিজের পোস্টে তার অনুসন্ধিৎসু ও সৃজনশীল মননের প্রশংসা করে আমন্ত্রণ জানান প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। তিনি বলেন, নতুন কিছু সৃষ্টি করাকে উদযাপন করা প্রয়োজন, গ্রেফতার নয়। আহমেদ মোহাম্মদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি আমার শিক্ষকদের জন্যই ঘড়িটা বানিয়ে নিয়ে এলাম আর তারাই আমাকে ভুল বুঝলেন। এ ঘটনা আমাকে খুবই কষ্ট দিয়েছে।’ একই সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্কুল পরিবর্তন করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন। সুদানি বংশোদ্ভূত আহমেদ মোহাম্মদের বাবা মোহাম্মেদ এলহাসান জানান, মোহাম্মদ খুব মেধাবী। বাড়িতে সে নিজেই বিগড়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ঠিক করে। তিনি অভিযোগ করেন, নামের কারণেই তার ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

প্রেসিডেন্ট পোস্ট অফিস নন -সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত by উৎপল রায়

প্রধান বিচারপতিকে অভিশংসনের প্রস্তাব করে প্রেসিডেন্টকে এক বিচারপতির চিঠি দেয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি বলেছেন, এটি অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। আমাদের জুডিশিয়ারির ইতিহাসে এ রকম ঘটনা আর ঘটেনি। সুপ্রিম কোর্ট সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালত। বিচারের শেষ আশ্রয়স্থল। এখানে মানুষ সব সময় ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করে। সুপ্রিম কোর্টের উপরে আর কোন আদালত নেই। সুপ্রিম কোর্টের অনিবার্যতা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। এছাড়া, রাষ্ট্র অচল। অন্যদিকে প্রধান বিচারপতির উপরে বিচারের ক্ষেত্রে একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেউ নেই। এই জায়গাগুলোকে সমস্ত বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। তাই এটা নিয়ে যত কম কথা বলা যায় ততই ভাল।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের নিজ কার্যালয়ে দেয়া এই সাক্ষাৎকারে নানা ইস্যুতে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। মন্ত্রিসভার বাইরে থাকা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রায়শই সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন। প্রধান বিচারপতির অভিসংশন চেয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর চিঠি দেয়া প্রসঙ্গে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত চলে গেছে। কেউ বলছেন, এটি আইনে নেই। কিন্তু একটি কথা সবাইকে বুঝতে হবে প্রেসিডেন্ট কিন্তু পোস্ট অফিস নয়। পোস্ট অফিসে চিঠি পাঠালে তার কাজ হলো চিঠিটি পাঠিয়ে দেয়া। আর তো কোন কাজ নেই। তবে, প্রেসিডেন্ট অনেক কিছুই করতে পারেন। আমাদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট একজন অভিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ। একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীও। তাই আমরা প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে কিছু কিছু ব্যাপারে সমাধান আশা করতেই পারি। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, এখানে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিএনপির আইনজীবীরা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ক্ষমতায় আছে। কিন্তু এ বিষয়ে তারা কথা বলছে সরকারি দলের মতো। আবার সরকারি দল রহস্যজনক কারণে নীরব। তারা চুপ করে আছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাপতি হিসেবে আমিও এ বিষয়টির একটি পার্ট। কিন্তু এটিতো কোন গৌরবের বিষয় নয়। তবে,  বার ও বেঞ্চে অনেক অভিজ্ঞ জুরিস্টরা রয়েছেন। তাদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি একটি মীমাংসায় উপনীত হবে বলে আমি আশা করবো।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি’র ওপর ভ্যাট আরোপ এবং আন্দোলনের মুখে তা আবার প্রত্যাহারের বিষয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী ভ্যাট বসিয়েছেন। বাজেট হইলো কবে, আর প্রতিক্রিয়া হইলো কবে? তারা (শিক্ষার্থী) জানে না যে ভ্যাট পাস হয়ে গেছে। কিন্তু প্রতিক্রিয়া হলো বহু পরে। এখানে যে গ্যাপটা সেটা রাজনৈতিক সচেতনতার অভাব। কিন্তু পরে হলেও প্রতিক্রিয়া হলো, হয়ে আকস্মিকভাবে একটি অরাজনৈতিক জায়গা থেকে আন্দোলন হলো। আমি প্রথমেই বলেছিলাম শিক্ষা ফি’র ওপর এই ভ্যাট আরোপ অনৈতিক এবং এটা তুলে নেয়া ভাল। কারণ শিক্ষা একটি অধিকার। আমি ছাত্ররাজনীতি করে এসেছি। যে কারণে আমি প্রথমেই বলতে পেরেছি। আর যারা মন্ত্রিসভায় আছে তাদের তো আর আমার মতো ফ্রিস্টাইলে কথা বলার সুযোগ নাই।’
তিনি বলেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো না-কি নন প্রফিটেবল। কিন্তু নন প্রফিটেবল হলে এতদিন যে তারা প্রফিট করলো, শিক্ষা মন্ত্রণালয় আর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কি ঘাস কাটছিল? এখানে ভালভাবে মনিটরিং দরকার ছিল। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন প্রসঙ্গে  সুরঞ্জিত সেন বলেন, রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়েই মোকাবিলা করতে হবে। গণতান্ত্রিক সরকারের ডায়নামিক বলে কিছু কথা আছে। শেখ হাসিনার যে পার্টি এটাতো গ্যারেজের পার্টি না। রাজপথের পার্টি। এরা আন্দোলন করতেও জানে, আন্দোলন মোকাবিলা করতেও জানে। দুটি বিষয়ই তাদের জানা আছে। কত সুন্দরভাবে বিষয়টি হ্যান্ডেল করা হয়েছে। এটাকেই বলে পলিটিক্যাল ডায়নামিজম। তিনি বলেন, ‘অনেকেই বলছে অর্থমন্ত্রীর ইমেজ ডাউন হয়েছে। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর ইমেজ ডাউন হলে কিছু আসে যায় না। প্রধানমন্ত্রীর ইমেজ ডাউন হলে কিছু আসে যায়। তবে, এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর পরাজয় হয়নি। বরং প্রধানমন্ত্রীর বিজয় হয়েছে। তার ইমেজ বেড়েছে। তার লাভ হয়েছে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রবীণ এই নেতা বলেন, এর আগে তিনি সৌদি আরব সৌদি আরব করেছেন। তারপরও ওটা হয়নি। এবার তিনি লন্ডনে গেলেন। সৌদি আরব কেন হয় নাই, আর লন্ডন কেন হলো এটা সবাই জানে। লন্ডন থেকে ওনার ছেলে যদি একবার বাইরে বের হন তবে আর লন্ডনে ঢুকতে পারবে না। এ কারণেই খালেদা জিয়া সৌদি আরব যাননি। এখন কথা হলো, তিনি (খালেদা জিয়া) লন্ডনই যাক আর সৌদি আরবই যাক, একজন রাজনীতিবিদ যখন যেখানে যান না কেন তার সব কথা, চিন্তা, চেতনা রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই। রাজনীতির বাইরে তিনি আর কিছুই পাবেন না। হবেও না।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে বিএনপির অনেক কিছুই শিক্ষণীয় আছে। শিক্ষার্থীরা তো পেট্রলবোমা ও ককটেল মারে নাই। পেট্রলবোমা, ককটেল ছাড়াও কিভাবে অহিংস আন্দোলন করা যায় তা তারা দেখিয়েছে। এই ডায়নামিজমটা খালেদা জিয়া বুঝতে পারেন না। কারণ এরা তো ব্যারাকের পার্টি। আর ব্যারাকের পার্টি দিয়ে আন্দোলন হবে না। তিনি বলেন, বিএনপি ইতিমধ্যে যে সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করেছে এগুলোর জবাবদিহির প্রশ্ন তার রাজনৈতিক দলের মধ্যেই এসে গেছে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন এবং তা প্রতিহত করতে যাওয়া দলকে কতটুকু লাভবান করেছে আর কতটুকু ক্ষতি করেছে সেটাই এখন তারা (বিএনপি) হিসাব করছে। এখন আবার তিনি (খালেদা জিয়া) গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছেন। এই যে স্ববিরোধী আচরণ এটা তাকে শুধু জনগণ থেকেই বিচ্ছিন্ন করেনি রাজনীতি থেকেও বিচ্ছিন্ন করেছে। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীরাও হতাশাগ্রস্ত। তাই এ বিষয়ে অবশ্যই চিন্তা কেবল মায়ের পুত্রের কাছে যাওয়া না, এটা রাজনীতির রাজনীতির কাছে যাওয়া।

শরণার্থী সংকটের জন্য ইউরোপই দায়ী -সাক্ষাৎকারে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ শরণার্থীদের নিয়ে চলমান সংকটের জন্য ইউরোপকেই দায়ী করেছেন। বাশার রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাঁর দেশে তৎপর ‘সন্ত্রাসীদের’ প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থনের কারণেই দলে দলে মানুষ শরণার্থী হচ্ছে।
সিরীয় একনায়ক বাশারের সরকার তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত বিদ্রোহীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে থাকে। খবর এএফপি ও রয়টার্সের।
প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সাক্ষাৎকারের একটি লিখিত বিবরণ গতকাল বুধবার প্রকাশিত হয়। এতে বাশার বলেন, তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর চাপের মুখে ক্ষমতা ছাড়বেন না। কেবল দেশের জনগণ চাইলেই তিনি সরে দাঁড়াবেন। কারণ, তিনি ‘জনগণের সম্মতি নিয়ে’ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বা জেনেভা সম্মেলনের কথায় তিনি ক্ষমতা ছাড়তে রাজি নন।
ইউরোপমুখী সিরিয়ার শরণার্থীদের নিয়ে চলমান সংকট প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট বাশার বলেন, সিরিয়ার জনগণ সুরক্ষা ও নিরাপত্তা চায়। পশ্চিমা দেশগুলো শরণার্থীদের জন্য এক চোখে কাঁদছে, আরেক চোখে তাদের প্রতি অস্ত্রের নিশানা ঠিক করছে। শরণার্থীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে থাকলে ইউরোপের উচিত সন্ত্রাসীদের সহায়তা বন্ধ করা। সিরীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, সংকটের শুরু থেকেই ইউরোপীয়রা সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থন দিচ্ছে। প্রথমে তো ব্যাপারটা শান্তিপূর্ণ গণবিক্ষোভ ছিল।
বাশার বলেন, যে শরণার্থীরা সিরিয়া ছেড়ে গেছে, তারা মূলত সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে চেয়েছে।
জঙ্গিদের সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে বাশার আল-আসাদ বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এখন পর্যন্ত ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের বিস্তার ঠেকাতে পারেনি।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরানের কাছ থেকে পাওয়া সামরিক প্রযুক্তি তার সেনাবাহিনীর অনেক কাজে লেগেছে। তবে তেহরানের কাছ থেকে কোনো সেনা পায়নি দামেস্ক।
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২ লাখ ৪০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
সিরিয়ার প্রতি ইরানের সমর্থনের বিষয়টির ওপর জোর দিয়ে প্রেসিডেন্ট বাশার বলেন, তেহরানের সঙ্গে দামেস্কের শক্তিশালী বন্ধন দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের পুরোনো। সিরিয়ায় কঠিন ও ভয়াবহ যুদ্ধ চলাকালে ইরানের সমর্থন অপরিহার্য। ইরানের কাছ থেকে সিরিয়া ‘রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক’ সহায়তা পাচ্ছে।
১৯৮০-১৯৮৮ সালের ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় থেকে আরব দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র সিরিয়াই শিয়াপ্রধান ইরানের পাশে রয়েছে। সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদের পরিবারও আলাবি শিয়া সম্প্রদায়ের।
সার্বিয়ার সঙ্গে হাঙ্গেরির সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ক্লান্ত-হতাশ শরণার্থীরা। হাঙ্গেরি সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ায় পশ্চিম ইউরোপে যেতে মরিয়া শরণার্থীরা পাশের দেশ ক্রোয়েশিয়ায় ঢুকতে শুরু করেছেন। গতকাল তোলা l ছবি: এএফপি