Friday, April 22, 2016

পরিবর্তিত দিলশান!

শ্রীলঙ্কান ওপেনার তিলকারত্নে দিলশানকে সব সময়ই খুব ফ্যাশন সচেতন হিসেবেই দেখেছে সবাই। কানে দুল, মাথায় কখনো বড় চুল, কখনো ফ্রেঞ্চ কাট দাড়ি। কিন্তু এখন একবারের বিশ্বকাপজয়ী দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে জীবনযাত্রাও পাল্টে ফেলছেন এই স্টাইলিস্ট ব্যাটসম্যান। ইতিমধ্যেই তিনি তাঁর কানের দুল পরা বাদ দিয়েছেন, কালো করে ফেলেছেন চুল-দাড়িও।
আইপিএল থেকে দুই দিনের ছুটি নিয়ে দেশে ফেরার পর এক সংবাদ সম্মেলনে দিলশান বলেছেন, ‘সময় অনেক বদলে গেছে। আমার মেয়ে যখন কান ফোটানোর সময় খুব কান্নাকাটি করত, তখন আমি তার সঙ্গে সঙ্গে কানে দুল পরা শুরু করেছিলাম। এখন আমার আর এটার কোনো দরকার নেই। আমার চুলের ক্ষেত্রেও একই কথা। তখন ওটা আমার জন্য ফ্যাশনের বিষয় ছিল। কিন্তু এখন আর না।’ এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দিলশানের স্ত্রী অভিনেত্রী মানজুলা থিলিনি মিটিমিটি হাসছিলেন।
তবে চুল-দাড়ি আর কানের দুল নিয়ে ফ্যাশন না করলেও দিলশান হয়তো ছাড়তে পারবেন না তাঁর ব্যাটিংয়ের ধরনটা। অধিনায়ক হওয়ার পর এখন আর আগের মতোই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তাঁকে খেলতে দেখা যাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমি বরাবরই কিছুটা আক্রমণাত্মক। আমি কখনো কখনো হয়তো স্টাইলটা কিছুটা পরিবর্তন করব। কিন্তু তার পরও আমি হয়তো ওই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতেই খেলব। অধিনায়কত্বটা আমার জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং। এটা একটা স্বপ্ন পূরণের মতো ব্যাপার। আমি এটা কখনো ভাবিনি।’

অস্বস্তিকর ‘বিয়ের ফাঁদে’ সৌদি মার্কিন সম্পর্ক

ইরানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দ্বন্দ্বে জড়ানোর কোনো
আগ্রহ নেই বলে ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক
ওবামা! বৃহস্পতিবার সুদূর উত্তর আমেরিকার দেশ যুক্তরাষ্ট্র
থেকে উড়ে গিয়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আয়োজিত
‘গালফ কো-অপারেটিভ কাউন্সিল’-এ যোগদান করেন তিনি।
ছবিতে সৌদি কিং সালমানের পাশে ওবামা। বৃহস্পতিবারের ছবি -এএফপি
দীর্ঘদিনের সৌদি-মার্কিন সম্পর্ক গভীর গ্যাঁড়াকলে আটকে গেছে। এই সম্পর্ককে অস্বস্তিকর বিয়ের ফাঁদ বলে মন্তব্য করেছেন উরডো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক স্কলার অ্যারন ডেভিড। ৮০ বছরের অধিক ‘দাম্পত্য জীবনে’ এখন নানা সন্দেহ অবিশ্বাস আর ‘প্রয়োজন ফুরানো’ অবস্থা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উদীয়মান শক্তি ও সৌদির প্রতিদ্ব^ন্দ্বী ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু চুক্তি, ৯/১১ হামলার ব্যাপারে সৌদিকে জড়িয়ে মার্কিন কংগ্রেসে সাম্প্রতিক বিল বিতর্ক, আইএস-সিরিয়া-ইয়েমেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকা না থাকা- ইত্যকার বিষয়ে দুই দেশের বিভেদ বড় হয়ে উঠেছে। কিন্তু কেন এই অবস্থা? তাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী?
প্রথম প্রশ্ন উঠছে, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘সুসম্পর্ক দাম্পত্য’ কি আদৌ সম্ভব ছিল? পারস্পরিক বোঝাপড়া কতটুকু ছিল? সৌদি আরব কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়। সেখানকার মানবাধিকার, নারী অধিকার ও মৌলিক রাষ্ট্রীয় নীতিতে দুই দেশের যোজন যোজন ব্যবধান। কানাডা ও ব্রিটেনের সঙ্গে মার্কিন মূল্যবোধের যতটা মিল আছে, তার কানাকড়িও নেই ওয়াশিংটন-রিয়াদের মধ্যে। সৌদিতে রাজতান্ত্রিক স্বৈরতান্ত্রিক একনায়কের দেশ। সেখানে নেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। প্রকৃতপক্ষে সৌদি আরব কোনো ‘ইসলামী রাষ্ট্র’ নয়, আবার পশ্চিমা মূল্যাবোধেরও নয়। ইসলামী জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস রফতানিও করে না। বরং তারাই সন্ত্রাসবাদের শিকার। গত কয়েক দশক ধরে সৌদি আরবের তেল সম্পদের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র রিয়াদের রাজতন্ত্রের নিরাপত্তা ও বহির্বিশ্বের হুমকি থেকে রক্ষার দায়িত্ব পালন করে এসেছে। ১৯৩৩ সালে মার্কিন কোম্পানি স্ট্যান্ডার্ড ওয়েল অব ক্যালিফোর্নিয়া (বর্তমান শেভরন) সৌদির দক্ষিণাঞ্চলে প্রথম তেল উৎপাদনে যুক্ত হয়। সেখান থেকেই দু’দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১০ বছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ২৬০০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৭৪০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলেই সৌদির কাছে ৯৫০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) রয়েছে সৌদির।
সৌদি আরব এখন যুক্তরাষ্ট্রের ১২তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা পরিস্থিতিতে সৌদি আরব এখন সংকটের মুখে রয়েছে। তেলের দাম কমে যাওয়ায় বাজেট ঘাটতিতে রয়েছে দেশটি। এর মধ্যে সৌদি রাজপরিবারের মধ্যে বাদশাহর উত্তরাধিকারী নিয়ে দ্বন্দ্ব ও ব্যয়বহুল ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় আরও পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আরব বসন্ত ও আঞ্চলিক সংঘাতের ধাক্কা সৌদিতে প্রভাব ফেলেছে। মিসর, সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ইত্যাদি দেশ ধসে পড়লেও বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল রিজার্ভ, স্বল্প ঋণ ও ক্যাশ রিজার্ভের কারণে এখনও টিকে আছে রাজতন্ত্রের এই দেশ। নানা দিক দিয়ে সৌদি আরবের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ফুরিয়ে আসছে। এখন ইরাক-সিরিয়া যুদ্ধে সৌদিকে ব্যবহার করাটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় বিষয়। সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোকে এ বিষয়ে রাজি করাতে মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রিয়াদ সফর করছেন। আইএসবিরোধী যুদ্ধে কাক্সিক্ষত সাড়া না পেয়ে কিছুদিন আগে ওবামা মন্তব্য করেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা বসে বসে ‘ফাও খেতে চায়’। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো। এখন পরিস্থিতির কারণে কেউ কাউকে ছাড়তে পারছে না। তাই ক্ষোভ পুষে রেখে হলেও দু’জন দু’জনের মন জুুুগিয়ে চলার চেষ্টাই করবে।

তলানিতে শেয়ারবাজার

তলানিতে পড়ে আছে শেয়ারবাজার। দিন দিন অবস্থা আরও করুণ হচ্ছে। অবস্থা এমন মৌলভিত্তি সম্পূর্ণ শেয়ারের দামও অযৌক্তিকভাবে কমছে। এতে উধাও হয়ে যাচ্ছে পুঁজি। বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও হতাশা বাড়ছে। ফলে নতুন করে বিনিয়োগ আসছে না। এ কারণে ধারাবাহিকভাবে লেনদেন ও মূল্যসূচক কমছে। বৃহস্পতিবার দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচকও বাজারমূলধন কমেছে। এরমধ্যে ডিএসইর সূচক কমেছে ১৯ পয়েন্ট এবং সিএসইর সূচক কমেছে ৩১ পয়েন্ট। একইভাবে উভয় শেয়ারবাজারেই কমেছে লেনদেনও।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা বাড়ানোর কথা বলছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু এখনও প্রকাশ্য কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি ধোঁয়াসা রয়ে গেল। এছাড়া বাজারে একমি ল্যাবরেটরির মতো বড় একটি কোম্পানির আইপিও আবেদন জমা হচ্ছে। সেকেন্ডারি মার্কেটের কিছু টাকা প্রাইমারি মার্কেটে চলে যাচ্ছে। তারল্য সংকটের এটাও একটি কারণ। জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ব্যাংকের বিনিয়োগ সমন্বয় নিয়ে দীর্ঘদিন কথা হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে পরিষ্কার সিদ্ধান্ত উচিত। তার মতে, বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে বাজারে বিভ্রান্তি ছড়ানো উচিত নয়। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইর শীর্ষ ৩০ কোম্পানির তালিকায় থাকা মৌলভিত্তি সম্পূর্ণ কোম্পানির শেয়ারের দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে। এছাড়া ভালো লভ্যাংশ দেয়ার পরও বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ারের দাম অভিহিত মূল্যে নেমে এসেছে। জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক ও রকিবুর রহমান বলেন, ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা সমন্বয়ের ব্যাপারে পরিষ্কার সিদ্ধান্তে আসতে হবে। এছাড়াও দেশের শিল্পায়নের স্বার্থে আগামী বাজেটে পুঁজিবাজারে বিশেষ প্রণোদনা দেয়া জরুরি। সর্বোপরি কথা হল বাজারে তারল্য বাড়ে, সরকারকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জানা গেছে, ২০০৯ সালের শুরুতে শেয়ারবাজারে আগ্রাসীভাবে বিনিয়োগ করে ব্যাংক। ওই সময়ে বিনিয়োগের সীমা ছিল ব্যাংকের মোট আমানতের ১০ শতাংশ। কিন্তু এ সময়ে আইনের তোয়াক্কা না করে ব্যাংকগুলো বাজারে বিনিয়োগ করতে থাকে। কোনো কোনো ব্যাংক এ সময়ে আমানতে ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছিল।
ফলে মৌলভিত্তি উপেক্ষা করে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম সীমাহীনভাবে বেড়ে যায়। এরপর ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ তুলে নিয়ে বাজারে বিপর্যয় নেমে আসে। পরবর্তীতে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত রিপোর্টের সুপারিশের আলোকে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করে শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা কমিয়ে আনা হয়। সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৬ ধারায় বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে তাদের পরিশোধিত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন আর্নিংয়ের মোট পরিমাণের ২৫ শতাংশের বেশি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে না। তবে বর্তমানে কোনো ব্যাংকের বিনিয়োগের পরিমাণ ২৫ শতাংশের বেশি থাকলে তা ৩ বছরের মধ্যে কমিয়ে আনতে হবে। আর চলতি বছরের ২১ জুলাই এ সীমা শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট এই ২০২০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। সরকারও ২ বছর বাড়ানোর প্রতিশ্র“তি দিয়েছে। তবে এ ব্যাপারে পরিষ্কার করে কোনো সার্কুলার ইস্যু হয়নি। এদিকে সপ্তাহের শেষদিনে বৃহস্পতিবার ডিএসইতে ৩১৫টি ১০ কোটি ৬ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৪১৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আগের দিনের চেয়ে যা ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা কম।
ডিএসই ব্রডসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৯ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৩৪০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬৬৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইএস শরিয়াহ্ সূচক দশমিক ৬৩ বেড়ে ১ হাজার পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এরমধ্যে দাম বেড়েছে ৯৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ১৮১টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪০টি কোম্পানির শেয়ার। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে কমে ৩ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। সিএসই : চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে বৃহস্পতিবার ২৩৬টি প্রতিষ্ঠানের ৭৮ লাখ ৩৫ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ২৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এরমধ্যে দাম বেড়েছে ৬৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ১৩৯টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৩১ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৩৮২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সিএসই ৩০ মূল্যসূচক ৪৬ পয়েন্ট কমে ১২ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ২ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

প্রথমদিনই মাশরাফি-তামিম

জাতীয় দলের দুই সতীর্থ তামিম ইকবাল ও মাশরাফি
মুর্তজা এবার পরস্পরের প্রতিপক্ষ। আজ তাদের লড়াই -যুগান্তর
‘কাগজে-কলমে ক্রিকেট খেলা হয় না’- বক্তার নাম মাশরাফি মুর্তজা। ১২ দলের ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে তামিম ইকবালের আবাহনীকে এবার সবচেয়ে শক্তিশালী মনে করা হচ্ছে। সেই আবাহনীর বিপক্ষে আজ তার দল কলাবাগান ক্রীড়া চক্র যদি জেতে, তাহলে সেই ফলাফল অঘটন নয়, ভালো দলের জয় হবে বলে মনে করেন মাশরাফি মুর্তজা। আজ ফতুল্লায় তামিম ও মাশরাফির লড়াই দিয়ে শুরু হচ্ছে ঢাকা লীগ। একই দিনে মাঠে নামছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্রাইম ব্যাংকও। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তারা গাজী গ্র“প ক্রিকেটার্সের মুখোমুখি হবে। দিনের অপর ম্যাচে বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে ক্রিকেট কোচিং স্কুল (সিসিএস) প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে খেলবে। সব ম্যাচ একদিনের।
শুরু হবে সকাল ৯টায়। প্রচণ্ড গরমে খেলতে হবে। খেলোয়াড়দের এটা ভাবিয়ে তুলেছে। গত ১০ এপ্রিল প্লেয়ার্স ড্রাফটের মাধ্যমে ক্লাবগুলো খেলোয়াড় নির্বাচন করেছে। কোনো কোনো ক্লাব বিদেশী খেলোয়াড়ও দলে নিয়েছে। এদিকে নির্ধারিত দিনে ঢাকা লীগ শুরু হবে কিনা এ নিয়ে সংশয় ছিল। সব সংশয় পেছনে ফেলে এবার প্রথমবার নির্ধারিত তারিখেই লীগ শুরু হচ্ছে। বৃষ্টির মৌসুম ও লীগের গুরুত্বের কথা চিন্তা করে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশ (সিসিডিএম) বাইলজে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। ম্যাচের রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে সেজন্যই। এবার আসরের সুপার সিক্স পর্বের ম্যাচগুলো টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে। এবার সবচেয়ে ভালো দল আবাহনী। তামিম ইকবালের অধিনায়কত্বে এই দলে রয়েছেন সাকিব আল হাসান, তাসকিন আহমেদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও লিটন কুমার দাসের মতো খেলোয়াড়রা। প্রস্তুতি ম্যাচে ঝড়ো সেঞ্চুরি করে ফর্ম ধরে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন তামিম। আবাহনী এবার কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনকে দলে টেনেছে। সব মিলিয়ে জয় দিয়েই শিরোপা লড়াই শুরু করতে চায় আবাহনী। তামিম বলেন, ‘মাঠে আমরা ঠিকমতো পারফর্ম করতে পারলে শিরোপা জেতার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে আমাদের।’ বারবার নিজেকে প্রমাণ করা মাশরাফি এই টুর্নামেন্টকে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। তিনিও হাল ছাড়তে রাজি নন। তাকে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র যে আশা করে নিয়েছে, প্রথম ম্যাচ থেকেই ক্লাবের সেই আশা পূরণ করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন তিনি।
কাল অনুশীলন শেষে মিরপুর স্টেডিয়ামে মাশরাফি বলেন, ‘বাংলাদেশ দলের সেরা খেলোয়াড়রা আবাহনীতে রয়েছে। জাতীয় দলের আরও খেলোয়াড় আছে ওদের। তাই বলে এই নয় যে, ওদের বিরুদ্ধে জেতা অসম্ভব। আমরা জিতলে অনেকেই হয়তো অঘটন বলতে পারেন। কিন্তু আমি তা বলব না।’ এদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্রাইম ব্যাংক কোচ খালেদ মাহমুদকে হারিয়ে হতাশ। এবার তাদের দলও সেভাবে শক্তিশালী হয়নি। জাতীয় দলের ফর্মে থাকা খেলোয়াড় সাব্বির রহমান রয়েছেন প্রাইম ব্যাংকে। সব হতাশা মুছে নুরুল হাসান সোহান-শুভাগত হোমদের নিয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে ক্লাবটি। মিরপুর স্টেডিয়ামে আজ তাদের প্রতিপক্ষ অলক কাপালীর গাজী গ্র“প ক্রিকেটার্স। অলক ছাড়াও এই দলে শামসুর রহমান শুভ-ফরহাদ হোসেনরা রয়েছেন। বিকেএসপির তিন নম্বরে মাঠে প্রাইম দোলেশ্বরের মুখোমুখি হবে ক্রিকেট স্কুল। নাসির হোসেনের দোলেশ্বরে রয়েছেন পেসার আল-আমিন হোসেন, ফরহাদ রেজা, রকিবুল হাসান, রনি তালুকদার-জিয়াউর রহমানরা। সব মিলিয়ে তারাও এবার শিরোপা প্রত্যাশী। অপর দিকে ক্রিকেট কোচিং স্কুলের লক্ষ্য সুপার সিক্স পর্বে ওঠা। অভিজ্ঞ রাজিন সালেহর নেতৃত্বে এই দলে রয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের একগাদা ক্রিকেটার। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তারা ভালো করায় ঢাকা লীগেও কিছু করে দেখানোর অপেক্ষায় সাইফ হাসান-পিনাক ঘোষরা।
প্রথম রাউন্ডের ফিকশ্চার
২২ এপ্রিল, শুক্রবার
আবাহনী ও কলাবাগান ক্রীড়া চক্র (ফতুল্লা)
প্রাইম ব্যাংক ও গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স (মিরপুর)
প্রাইম দোলেশ্বর ও ক্রিকেট কোচিং স্কুল (বিকেএসপি-৩)
২৪ এপ্রিল, রোববার
মোহামেডান ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন (মিরপুর)
কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমি ও শেখ জামাল (ফতুল্লা)
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ও ভিক্টোরিয়া (বিকেএসপি-৩)
(সব ম্যাচ শুরু সকাল ৯টায়)