Wednesday, March 1, 2017

তালায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতি

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতেরা ১৫ ভরি স্বর্ণালংকারসহ নগদ ৬০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটায় দিকে উপজেলার মহান্দী গ্রামের ব্যবসায়ী কল্যাণ বসুর বাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ঠিকাদারি ব্যবসায়ী কল্যাণ বসু জানান,
১২ থেকে ১৪ জনের একদল ডাকাত রাত তিনটার দিকে প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে তাঁকে বেঁধে ফেলে। এতে তাঁর বোন নীলিমা বসু ও ছেলে দেবাশীষ বসু বাধা দিতে গেলে তাঁদেরও বেঁধে ফেলা হয়। পরে বাড়ির সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরের আলমারি ভেঙে ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৬০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতেরা। তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি ওই গ্রামে আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে সভা ডাকা হয়েছে। ডাকাতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আজকের মধ্যেই সমস্যার সমাধান: কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পরিবহন ধর্মঘট নিয়ে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, আজকের মধ্যেই এর সমাধান হবে। আজ বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আই অ্যাম শিওর, আজকের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হবে।’ তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে জনদুর্ভোগ দেখছি। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এ সম্পর্কিত মন্ত্রী হিসেবে আমি দায় এড়াতে পারি না। এ জন্য তাদের (পরিবহন শ্রমিক নেতাদের) আমি অনুরোধ জানিয়েছি।
তবে প্রত্যাহারের একটা নিয়ম আছে। একজন-দুজন তো সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। এখন তাঁরা বসে সিদ্ধান্ত জানাবেন।’ কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁরা বৈঠকে বসবেন বলে জানান মন্ত্রী। এ সময় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, পরিবহন শ্রমিক নেতাদের কোনো বক্তব্য থাকলে আদালতে বলতে পারেন। আপিল করতে পারেন।

ধর্মঘটে ধুঁকছে মানুষ

পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে যানবাহন-সংকটে পড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। রাজধানী ঢাকায় আজ বুধবার সকাল থেকে যানবাহন চলাচলের সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা। বাস নেই বললেই চলে। পিকআপ, প্রাইভেট কার, টেম্পো, সিএনজিচালিত স্কুটার আর রিকশা চলছে কেবল। তা-ও সীমিত আকারে। এই পরিস্থিতি অফিসগামী হাজারো মানুষের জন্য বিড়ম্বনাকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে দূর গন্তব্যের অফিসগামী যাঁরা নিয়মিত বাসে যাতায়াত করেন, বাস না পেয়ে রীতিমতো নাকাল হচ্ছেন তাঁরা।
গাবতলী: রাজধানীর গাবতলী এলাকায় সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছিল। বেলা ১১টার দিকে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার কথা জানায় পুলিশ। মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার বলেন, রাস্তা নির্বিঘ্ন করতে যেসব গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত, সেগুলো চলতে ব্যবস্থা এখন নেওয়া হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, আমিনবাজার থেকে ঢাকামুখী ও টেকনিক্যাল মোড় হয়ে সাভারের দিকে যাওয়ার এ রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেল চলছে। কিন্তু সেখানে সকাল থেকে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ছিল। হেঁটে লোকজন চলাচল শুরু হয়েছে। আমিনবাজার ব্রিজের ওপর দিয়ে হেঁটে আসা মো. আরিফ জানান, তাঁর বাড়ি সাভারের কালামপুর। তিনি যাবেন ধানমন্ডি। আমিনবাজার ব্রিজের গোড়া পর্যন্ত ভ্যান ও রিকশায় এসেছেন। ২০ মাইল মতো পথ আসতে ৪০০ টাকার বেশি খরচ হয়েছে।
সায়েদাবাদ: রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় সকাল থেকে ছোট ছোট দলে শ্রমিকেরা ভাগ হয়ে মিছিল করেন। সায়েদাবাদ থেকে কোনো গাড়ি ছাড়েনি। যাত্রীরা হেঁটে যাচ্ছেন। কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছ দিয়ে গাড়ি সায়েদাবাদের দিকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে শ্রমিকেরা অবস্থান নিয়েছেন। সায়েদাবাদ রেলক্রসিংয়ের কাছে আরেকটি গ্রুপের অবস্থান আছে। সাধারণ মানুষ ভয়ে ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে গন্তব্য পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। রিকশা চললেও ভাড়া বেশি।
মহাখালী: মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে গাড়ি দাঁড় করিয়ে শ্রমিকেরা অবস্থান নিয়েছেন। এনা পরিবহনের বাসচালক মোহসিন বলেন, পরিস্থিতি মিলমিশ হলে তাঁরা গাড়ি চালাবেন। মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে অনেকে গাড়ির আশায় বসে রয়েছেন। এক যাত্রী বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি যাওয়ার আশায় বসে আছেন।
কেরানীগঞ্জ: পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে যানবাহন-সংকটে পড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যাতায়াত করা যাত্রীদের। গতকাল মঙ্গলবার থেকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক, ঢাকার নবাবগঞ্জ, দোহারসহ ১৭টি জেলায় যানবাহন চলাচল বন্ধ। এতে আজ সকালে কেরানীগঞ্জের কদমতলী, নবাবগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এবং মাওয়া ঘাট এলাকায় যাত্রীরা গাড়ি না পেয়ে মালামাল নিয়ে বসে আছেন। পুরান ঢাকা থেকে চলাচলকারী সব ধরনের যাত্রীবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকায় অনেকে হেঁটে গুলিস্তানে যাতায়াত করেছেন। রাজধানীর মিরপুর থেকে আসা সেলিম ভূঁইয়া (৪২) বলেন, গাড়ি না চলায় দুই দফায় রিকশা করে গুলিস্তান পর্যন্ত এসেছেন। এরপর হেঁটে দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতু পার হয়েছেন। সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত তিনি কেরানীগঞ্জের কদমতলী বাসস্ট্যান্ডে বসে ছিলেন। মাওয়া ঘাট এলাকা থেকে সকাল নয়টার দিকে দুটি বাস যাত্রী নিয়ে ছেড়ে এলে নিমতলী এলাকায় বাধা দেন পরিবহন শ্রমিকেরা।
টাঙ্গাইল: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দূরপাল্লার ও স্থানীয় কোনো বাস চলছে না। পুরো সড়ক ফাঁকা। বাস না পেয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হন যাত্রীরা। সকালে ঢাকামুখী অফিস যাত্রীদের ট্রাক ও পিকআপে গাদাগাদি করে উঠতে দেখা গেছে। সড়কে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ম্যাক্সি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা চলতে দেখা যায়। ট্রাক, পিকআপে জায়গা না পেয়ে অনেকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠতে বাধ্য হন। অনেকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যানবাহন না পেয়ে ফিরে গেছেন। স্থানীয় বংশাই ডিজিটাল হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী হারুন অর রশিদ জানান, ব্যক্তিগত কাজে মির্জাপুর থেকে টাঙ্গাইল যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বাসা থেকে বের হন। সকাল নয়টা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত তিনি বাসের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছেন। কিন্তু কোনো বাস না পেয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জেও দূরপাল্লার কোনো বাস চলতে দেখা যায়নি। পরিবহন ধর্মঘটের পক্ষে সেখানে সড়কে আজ ভোরে টায়ারে আগুন জ্বালাতে দেখা যায়। বাস না পেয়ে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। ঢাকা, উত্তরবঙ্গ থেকে সিরাজগঞ্জে আসা অনেক চাকরিজীবী বাস না পেয়ে আটকে পড়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজনের প্রাণহানির মামলায় ঘাতক বাসের চালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। গত ২২ ফেব্রুয়ারি দেওয়া এই রায়ের প্রতিবাদে প্রথমে আঞ্চলিকভাবে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। এদিকে সাভারে ট্রাকচাপায় এক নারীকে হত্যার দায়ে চালকের বিরুদ্ধে গত সোমবার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত। এরপরই গতকাল থেকে সারা দেশে ধর্মঘট আহ্বান করা হয়।

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বাসচালকের মৃত্যু

রাজধানীর গাবতলীতে পুলিশের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষে বৈশাখী পরিবহনের এক চালক মারা গেছেন। নিহত বাস চালকের নাম শাহ আলম (৪৫)। ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া বাস এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বাসচালক শাহ আলম আহত হন। প্রথমে তাঁকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। বেলা ১১টার দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাস চালককে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবহনশ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে সারা দেশ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছাড়েনি, ঢাকার বাইরে থেকে কোনো বাস আসেওনি। অভ্যন্তরীণ পথেও বাস চলেনি। রাজধানীতে বাস চলেছে হাতে গোনা। গতকাল মঙ্গলবার রাতেও রাজধানীর গাবতলী আন্তজেলা বাস টার্মিনালের সামনে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশের চারজন সদস্যসহ আটজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় টার্মিনালের সামনের সড়কে অ্যাম্বুলেন্সসহ ৩০-৪০ টির মতো যান ভাঙচুর করা হয়।

সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, কমছে সহায়তা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম বাজেট প্রস্তাবে সামরিক খাতে ব্যয় বরাদ্দ এক লাফে ১০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন। ডলারের অঙ্কে শুধু এই বৃদ্ধিরই পরিমাণ ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। বিভিন্ন সরকারি খাতের ব্যয় বরাদ্দ হ্রাসের মাধ্যমে এই অতিরিক্ত অর্থের জোগান দেওয়া হবে। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প নিজেই এই অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেন। ঠিক কোন কোন খাতে কী পরিমাণ ব্যয় হ্রাস পাবে, সে কথা ট্রাম্প জানাননি। গতকাল মঙ্গলবার কংগ্রেসের উভয় কক্ষের এক যৌথ অধিবেশনে এ বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত জানানোর কথা ছিল। মার্চের মাঝামাঝি ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসে বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময়ই ট্রাম্প দেশের সামরিক শক্তি বহুলাংশে বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি পারমাণবিক অস্ত্র ভান্ডার বৃদ্ধিরও প্রস্তাব করেছেন। সোমবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত’ সামরিক শক্তিকে আবার নতুন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি সামরিক খাতে অভূতপূর্ব ব্যয় বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন।
সে বাজেটের ভিত্তি হবে নাগরিক নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা। বাজেট ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, ফেডারেল সরকারের অধিকাংশ বিভাগে বাজেট বরাদ্দ হ্রাসের মাধ্যমে সামরিক খাতে অতিরিক্ত অর্থসংস্থান করা হবে। উল্লেখ্য, সোমবারই প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ম্যাটিস জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) মাত্র ১০ মাসে নিশ্চিহ্ন করার একটি পরিকল্পনা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পেশ করেছেন। জানা গেছে, এতে ইরাক ও সিরিয়ায় অতিরিক্ত পদাতিক সেনা মোতায়েনের প্রস্তাব করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন বাজেট প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সাহায্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাবে। মার্কিন বৈদেশিক সাহায্যের পুরো বরাদ্দই পররাষ্ট্র দপ্তরের বাজেটের অংশ। ২০১৬ সালের হিসাবে বৈদেশিক সাহায্যসহ এ দপ্তরের মোট ব্যয় বরাদ্দ ছিল প্রায় ৫ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। ভাবা হচ্ছে, ট্রাম্পের প্রস্তাব কংগ্রেসে গৃহীত হলে পররাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট প্রায় ৩০ শতাংশ কাটছাঁট হতে পারে। রিপাবলিকান নেতারা দীর্ঘদিন থেকেই বৈদেশিক সাহায্য খাতে বড় রকমের কাটছাঁটের দাবি করে আসছেন। ওবামা প্রশাসন ২০১৭ সালের জন্য ৪ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলারের যে বাজেট প্রস্তাব করে, তাতে বৈদেশিক সাহায্য খাতে মোট ব্যয় বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ২৪০ কোটি ডলার। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারই রাখা হয়েছে সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা খাতে। এই সামরিক সাহায্যের সিংহ ভাগ চলে যায় আফগানিস্তান, ইসরায়েল, মিসর ও পাকিস্তানের জন্য।
জাতিসংঘ ও এর অঙ্গ সংস্থাগুলোর জন্য যে চাঁদা যুক্তরাষ্ট্র দেয়, তাও আসে পররাষ্ট্র দপ্তরের খাত থেকে। জাতিসংঘের সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, মার্কিন সাহায্য হ্রাস পেলে শান্তিরক্ষা, উদ্বাস্তুদের দেখভাল ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মতো খাতগুলো বড় রকমের সংকটে পড়বে। বৈদেশিক সাহায্য খাতে বরাদ্দ হ্রাস পেলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ মার্কিন অর্থনৈতিক সাহায্য থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তবে এই ক্ষতির পরিমাণ তেমন উল্লেখযোগ্য নয়, কারণ বাংলাদেশের জন্য মার্কিন অর্থনৈতিক সাহায্য কমতে কমতে ২০১৬ সালে মাত্র ১১ কোটি ৪০ লাখ ডলারে ঠেকেছে। জর্জ বুশ ও ওবামা প্রশাসন তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে জঙ্গিবাদ ঠেকানো ও গণতন্ত্র প্রসার তাদের পররাষ্ট্রনীতির একটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। ট্রাম্পের বাজেট প্রস্তাব থেকে স্পষ্ট, তিনি সে পথ থেকে সরে এসে সামরিক বাহিনীর ওপর অধিক নির্ভরশীল হতে চাইছেন। এই সম্ভাবনায় আতঙ্কিত কংগ্রেসের ডেমোক্রেটিক সদস্য ও সাবেক কূটনীতিকেরা। ১২০ জন সাবেক জেনারেল ও অ্যাডমিরালসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা সোমবার প্রকাশিত এক পত্রে উভয় দলের কংগ্রেস সদস্যদের কাছে আবেদন করেছেন বৈদেশিক সাহায্য ও পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যয় বরাদ্দ যেন কোনোক্রমেই হ্রাস না করা হয়।

‘অশোভনভাবে’ বসে তোপে কনওয়ে

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসের সোফায় অশোভনভাবে বসে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা কেলিঅ্যান কনওয়ে। তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, হোয়াইট হাউসের মর্যাদাহানি করেছেন তিনি। এএফপির আলোকচিত্রীর তোলা একটি ছবিতে দেখা যায়, ওভাল অফিসে কৃষ্ণাঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ছবি তুলছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সময় সোফার ওপর দুই হাঁটু গেড়ে বসে মুঠোফোনে মজে আছেন কনওয়ে। ছবিটি প্রকাশের পর টুইটারে কনওয়েকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
অনেকে বলছেন, কনওয়ের বসার ভঙ্গি হোয়াইট হাউসের প্রতি অসম্মানজনক। আবার কেউ বলছেন, অশোভনভাবে বসে কনওয়ে মূলত হোয়াইট হাউসে যাওয়া কৃষ্ণাঙ্গদের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়েছেন। প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের কলামিস্ট ব্রেট স্টিফেনস বলেন, ‘এই দৃশ্য যদি আগের প্রশাসনের কারও বেলায় হতো, তা হলে রক্ষণশীলেরা সমালোচনায় সোচ্চার হতেন। কিন্তু তাদের বেলায়ই এমনটা ঘটল।’ কেউ কেউ অবশ্য ছবিটিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার একটি ছবির সঙ্গে তুলনা করেছেন। ওভাল অফিসে একটি চেয়ারে হেলান দিয়ে অন্য চেয়ারে পা দিয়ে বসে থাকার ওবামার ওই ছবি বেশ আলোচনায় ছিল একসময়। এর আগেও নানা ধরনের অসত্য ও মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসেন কনওয়ে। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কার নামাঙ্কিত পণ্যের পক্ষে প্রচার চালিয়ে সমালোচনার শিকার হন তিনি।

‘গুন্ডাগিরির’ বিরুদ্ধে পাল্টা মিছিল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে

বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) ‘গুন্ডাগিরির’ বিরুদ্ধে এবার পাল্টা মিছিল হলো দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে। গতকাল মঙ্গলবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ মিছিলে অংশ নিলেও প্রতিবাদী শহীদ-কন্যা গুরমেহের কৌর তা থেকে দূরে থেকেছেন। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থীকে নিয়েই কদিন ধরে উত্তাল ভারতের রাজধানী। ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে। দিল্লির রামজস কলেজে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) বামপন্থী ছাত্রনেতা ওমর খালিদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। গত বছর জেএনইউতে বামপন্থীদের মিছিলে এই ওমর খালিদই দেশদ্রোহমূলক স্লোগান দেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছিল। ওমরকে আমন্ত্রণ জানানোর বিরুদ্ধে এবিভিপির পক্ষ থেকে রামজস কলেজে বিক্ষোভ দেখানো হয়। মারধর করা হয় ছাত্রদের, ভাঙচুরও হয়। কলেজের দরজায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তালা। এরই প্রতিবাদে সরব হয় বামপন্থী শিক্ষার্থীরা। শুরু হয় প্রতিবাদ ও পাল্টা প্রতিবাদ। উত্তাল হয়ে ওঠে শিক্ষাক্ষেত্রের রাজনীতি। কারগিল যুদ্ধের শহীদ ক্যাপ্টেন মনদীপ সিংয়ের মেয়ে গুরমেহের কৌর এ সময়েই প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। লেডি শ্রীরাম কলেজের ছাত্রী গুরমেহের একটি প্ল্যাকার্ডে লেখেন, ‘আমি এবিভিপিকে ভয় করি না। আমি একা নই।’ ছবিসহ এই টুইট সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপিসহ দক্ষিণপন্থী সংগঠনগুলো ‘অতি বামপন্থীদের দেশবিরোধিতার’ বিরুদ্ধে সরব হয়। গুরমেহেরকে ধর্ষণ করার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়। শুরু হয় বিতর্ক। গুরমেহের একই সঙ্গে ছবিসহ আরও কয়েকটি টুইট করেন।
একটি ছবিতে দেখা যায় তিনি লিখেছেন, ‘পাকিস্তান আমার বাবাকে মারেনি, বাবাকে মেরেছে যুদ্ধ।’ এর পক্ষে-বিপক্ষেও সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ, রাষ্ট্র বা সংগঠনের জবরদস্তি হস্তক্ষেপ ইত্যাদি নিয়ে ছাত্রসমাজের পাশাপাশি সব মহলেই শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার বীরেন্দর শেবাগ, অভিনেতা রণদীপ হুদা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু, কিরেণ রিজুজুরা সমালোচনায় বিদ্ধ করেন গুরমেহেরকে। শেবাগ টুইট করেন, ‘আমি নয়, আমার ব্যাট দুটো ৩০০ করেছে।’ অবশ্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে শেষে এই তারকা ক্রিকেটার দাবি করেছেন, গুরমেহেরকে ইঙ্গিত করে তিনি ওই টুইট করেননি। সমালোচকদের কেউ কেউ গুরমেহেরকে দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কুস্তিগীর যোগেশ্বর দত্ত তাঁকে তুলনা করেন হিটলার ও লাদেনের সঙ্গে। এরপরই গুরমেহের জানিয়ে দেন, মঙ্গলবারের বিক্ষোভ মিছিলে তিনি থাকছেন না। টুইট করে তিনি বলেন, ‘আমার যা বলার ছিল বলেছি। আর পারছি না।’ তিনি আরও লেখেন, ‘যাঁরা আমার সাহসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁদের জানাই, আমি যথেষ্ট সাহস দেখিয়েছি।’

জং–নাম হত্যাকাণ্ডে দুই নারী বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সৎভাই কিম জং-নামকে বিষাক্ত রাসায়নিক (ভিএক্স নার্ভ এজেন্ট) প্রয়োগে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজন নারীকে আজ বুধবার বিচারের মুখোমুখি করা হবে। মালয়েশিয়ার প্রধান আইন কর্মকর্তা (অ্যাটর্নি জেনারেল) মোহাম্মদ আপানদি আলি গতকাল মঙ্গলবার এ কথা বলেছেন। ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক ওই দুই নারীর নাম সাইতি আয়েশা (২৫) ও দোয়ান থি হুয়ং (২৮)। অপরাধ প্রমাণিত হলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এ দুজনই জং-নামের মুখমণ্ডলে প্রাণঘাতী রাসায়নিক উপাদান ছড়িয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তাঁরা দুজনেই নিছক টেলিভিশনের একটা কৌতুক অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ওই কাজে অংশ নেন বলে দাবি করেছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল আপানদি আলি বলেন, ওই দুই নারীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগ আনা হবে। জং-নাম গত ১৩ ফেব্রুয়ারি কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে ওই হামলার শিকার হয়ে মারা যান। তাঁর হত্যাকাণ্ড ও লাশের হেফাজত নিয়ে উত্তর কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। এই রহস্যময় হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়া অভিযোগ করেছে, তাদের প্রতিবেশী দেশ উত্তর কোরিয়ার সরকারই এর নেপথ্যে।

দুই মেয়ে বিরুদ্ধে

পাকিস্তান পিপলস পার্টিতে (পিপিপি) সাবেক মুসলিম লিগ নেতা ইরফানুল্লাহ খান মারওয়াতকে নেওয়ার বিরোধিতা করেছেন দলটির পার্লামেন্টারি প্রধান আসিফ আলি জারদারির মেয়ে আসিফা ও বখতওয়ার।
ইরফানুল্লাহ সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পক্ষ ত্যাগ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট জারদারির সঙ্গে বৈঠক করে তাঁর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তবে জারদারির দুই মেয়ে বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। তাঁরা টুইটারে নিজেদের ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন। আসিফা বলেন, ইরফানুল্লাহকে পিপিপিতে নেওয়া উচিত নয়। বখতওয়ার লেখেন, ‘ওই ব্যক্তির (ইরফানুল্লাহ) জেলে পচা উচিত। তিনি নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন না।’

জার্মানির নাগরিকের শিরশ্ছেদ

মুক্তিপণ না দেওয়ায় জার্মানির এক অপহৃত নাগরিককে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কায়দায় শিরশ্ছেদ করে হত্যা করেছে ফিলিপাইনের ইসলামি জঙ্গিরা। হত্যার পর সে ঘটনার ভিডিও ইন্টারনেটে প্রচার করেছে তারা। দক্ষিণ ফিলিপাইনের জঙ্গি সংগঠন আবু সায়াফ গত অক্টোবরে জুর্গেন কান্টনার (৭০) নামের জার্মানির ওই পর্যটককে মালয়েশিয়ার কাছাকাছি একটি প্রমোদতরি থেকে অপহরণ করে। কান্টনারের সঙ্গী সাবিন মেরজকে গুলি করে হত্যা করা হয়। কান্টনারের মুক্তির জন্য ছয় লাখ ডলার পণ দাবি করে আবু সায়াফ।
তাদের দাবি অনুযায়ী গত রোববার ছিল মুক্তিপণ দেওয়ার শেষ সময়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মুক্তিপণ না দেওয়ায় কান্টনারকে হত্যা করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ। জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সাইট ইন্টেলিজেন্স প্রথম কান্টনারকে হত্যা করার ভিডিওচিত্রের খোঁজ পায়। এতে দেখা যায়, ছোরা দিয়ে কান্টনারকে হত্যা করছে এক ব্যক্তি। আবু সায়াফ সংগঠনটি ছোট হলেও সহিংসতার কারণে ফিলিপাইনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যের আইএসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে।

ট্রাম্পের পরামর্শকের কী কাণ্ড!

হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদদের সঙ্গে ছবি তুলছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে এক কাণ্ড ঘটিয়ে বসেছেন ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক কেলিঅ্যান কনওয়ে। অনুষ্ঠানেই আদবকেতার তোয়াক্কা না করে জুতা পায়ে সোফায় উঠে বসেন। হাঁটু মুড়িয়ে বসে যান অনায়াস ভঙ্গিতে; যেন নিজের বাড়ির বৈঠকখানায় বসলেন! সোমবার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কনওয়ের ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে শোরগোল উঠতে শুরু করে। ছবিটি তুলেছেন বার্তা সংস্থা এএফপির একজন আলোকচিত্রী। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান এইচবিসিইউএসের নেতাদের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ সাক্ষাতের। সেখানে ছবি তোলার জন্য ‘পোজ’ দিচ্ছিলেন ট্রাম্প। সে সময় কনওয়ে সবকিছু অগ্রাহ্য করেই সোফার ওপর জুতা পায়ে উঠে হাঁটু মুড়ে বসে যান।
কনওয়ের ওই বসার ভঙ্গি নিয়ে টুইটারে বেশ সমালোচনা চলছে। একে ‘অসম্মানজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন কেউ কেউ। একজন টুইটে লিখেছেন, ওভাল অফিসের সোফায় কনওয়ের জুতাসহ ওই বসার ভঙ্গিতে সবার প্রতি অসম্মান দেখানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসে আসা অতিথিদের কনওয়ে যথাযথ সম্মান দেখাননি বলে অভিযোগ করেছেন আরও অনেকেই। এএফপির ওই ছবিটি মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ১ হাজার ৭০০ বার রিটুইট হয়েছে। এতে ১ হাজার ৬০০ লাইক ও ১ হাজার ৪০০ রিপ্লাই এসেছে।

গাবতলীতে পুলিশ ও পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষ চলছে

রাজধানীর গাবতলী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষ চলছে। রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিকেরা। পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়েছে। সর্বশেষ আজ বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে পরিবহন শ্রমিকেরা রাস্তার পাশে থাকা অস্থায়ী দোকানগুলো মাঝখানে এনে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন। এখনো দফায় দফায় শ্রমিক-পুলিশ ও র‍্যাবের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে। গতকাল মঙ্গলবার শ্রমিকদের অবস্থান ছিল গাবতলী গরুর হাটের ক্রসিংয়ের সামনে। আজ তাঁরা গাবতলীর আন্ডারপাস পেরিয়ে মসজিদের কাছাকছি স্থানে অবস্থান নিয়েছেন এবং ধীরে ধীরে মাজার রোডের দিকে এগোচ্ছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে শ্রমিকেরা টায়ার জ্বালিয়েছেন। কোনো ধরনের যানবাহন রাস্তা দিয়ে যেতে দিচ্ছেন না। বর্তমানে গাবতলী এলাকায় সব ধরনের দোকান ও কারখানা বন্ধ।
আন্দোলনের ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ আন্তজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়নের সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনে শ্রমিকেরা কতটুকু ছাড় দেবেন, তা নির্ভর করছে সরকারের আচরণের ওপর। সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজনের প্রাণহানির মামলায় ঘাতক বাসের চালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। গত ২২ ফেব্রুয়ারি দেওয়া এই রায়ের প্রতিবাদে প্রথমে আঞ্চলিকভাবে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। এদিকে সাভারে ট্রাকচাপায় এক নারীকে হত্যার দায়ে চালকের বিরুদ্ধে সোমবার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত। এরপরই গতকাল থেকে সারা দেশে ধর্মঘট ডাকা হয়। পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল রাত আটটার দিকে গাবতলী বাস টার্মিনালের সামনের সড়ক দিয়ে যান চলাচলে বাধা দেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তাঁরা কিছু গাড়িও ভাঙচুর করেন। পুলিশ বাধা দিলে তাঁরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন। গাবতলী বালুর মাঠের পাশের পুলিশ বক্স ও একটি রেকারে আগুন ধরিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। পরে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শ্রমিকদের অভিযোগ, বিনা উসকানিতে পুলিশ তাঁদের লাঠিপেটা করেছে। আমিনবাজার থেকে ঢাকামুখী ও টেকনিক্যাল মোড় হয়ে সাভারের দিকে যাওয়া যাত্রীরা এ ঘটনায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধর্মঘট প্রত্যাহার চেয়ে রিট

আদালতের রায়ের প্রতিবাদে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা অবৈধ ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। আজ বুধবার রিট আবেদনটি করা হয়। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রিট আবেদনটি করেন। পরে মনজিল মোরসেদ প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের রায়ের প্রতিবাদে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা অবৈধ ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। মনজিল মোরসেদ বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাস যাতে চলাচল করে, তা নিশ্চিত করতে রিট আবেদনে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
অন্যথায় লাইসেন্স বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট পরিবহন জব্দ করার আরজি জানানো হয়েছে। মনজিল মোরসেদ জানান, বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ মধ্যাহ্নবিরতির পর এই রিট আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে। সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজনের প্রাণহানির মামলায় ঘাতক বাসের চালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। গত ২২ ফেব্রুয়ারি দেওয়া এই রায়ের প্রতিবাদে প্রথমে আঞ্চলিকভাবে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। সাভারে ট্রাকচাপায় এক নারীকে হত্যার দায়ে চালকের বিরুদ্ধে গত সোমবার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত। এরপরই গতকাল মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে ধর্মঘট ডাকা হয়। যাত্রীদের জিম্মি করে আদালতের রায় বদলানোর কৌশল নিয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো।

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে চরম দুর্ভোগ

পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে যানবাহন–সংকটে পড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যাতায়াত করা যাত্রীদের। গতকাল মঙ্গলবার থেকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক, ঢাকার নবাবগঞ্জ, দোহারসহ ১৭টি জেলায় যানবাহন চলাচল বন্ধ। এতে আজ বুধবার সকালে কেরানীগঞ্জের কদমতলী, নবাবগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এবং মাওয়া ঘাট—এসব এলাকায় যাত্রীরা গাড়ি না পেয়ে মালামাল নিয়ে বসে আছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ফরিদপুর থেকে আসা বিলকিস বেগম গাড়ি না পেয়ে সকাল সাতটা থেকে মাওয়া ঘাটে বসে আছেন। তিনি জানান, তাঁর বাবা রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি। কোনো রকমে মাওয়া ঘাট পর্যন্ত আসতে পারলেও গাড়ির অভাবে হাসপাতাল পর্যন্ত যেতে পারছেন না। পুরান ঢাকা থেকে চলাচলকারী সব ধরনের যাত্রীবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকায় অনেকে হেঁটে গুলিস্তানে যাতায়াত করেছেন। রাজধানীর মিরপুর থেকে আসা সেলিম ভূঁইয়া (৪২) বলেন,
গাড়ি না চলায় দুই দফায় রিকশা করে গুলিস্তান পর্যন্ত এসেছেন। এরপর হেঁটে দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতু পার হয়েছেন। সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত তিনি কেরানীগঞ্জের কদমতলী বাসস্ট্যান্ডে বসে ছিলেন। মাওয়া ঘাট এলাকা থেকে সকাল নয়টার দিকে দুটি বাস যাত্রী নিয়ে ছেড়ে এলে নিমতলী এলাকায় বাধা দেন পরিবহন শ্রমিকেরা। বাসের যাত্রী ইমরান হোসেন বলেন, মাওয়া ঘাট থেকে এক কিলোমিটার হেঁটে বাসে উঠলেও নিমতলী নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মিরপুরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কিশোর খুন

রাজধানীর মিরপুরে কথিত বন্ধুর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত এক কিশোর মারা গেছে। আজ বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোরের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া কিশোরের নাম সজীব (১৬)। বাবার নাম আবদুর রশিদ। সজীবের স্বজন বলে পরিচয় দেওয়া বাবুর ভাষ্য, গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বন্ধুর চাপাতির কোপে গুরুতর আহত হয় সজীব।
তাকে প্রথমে মিরপুরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল রাত পৌনে ১২টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় সজীবকে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকাল আটটায় তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি থেকে জানানো হয়, সজীবের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত হবে।

দেড় শ কোটি টাকার সড়ক এখন আবর্জনার ভাগাড়

দেড় শ কোটি টাকায় নির্মিত সড়কটি এখন ময়লা-আবর্জনা রাখার ভাগাড় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সড়কটি কালভার্ট রোড হিসেবে পরিচিত। ওই সড়ক ছাড়াও অন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করার পর গর্তের মাটি, আবর্জনা এবং ব্লকের ভাঙা অংশ জড়ো করা হয়েছে নটর ডেম কলেজের দক্ষিণ পাশের এই সড়কে। আরামবাগ (নটর ডেম কলেজ-সংলগ্ন), ফকিরাপুল এবং পুরানা পল্টন লাইন, বিজয়নগর হয়ে সংযোগ সড়কটি মৎস্য ভবনের সামনের সড়কে গিয়ে মিশেছে। কালভার্ট নির্মাণের আগে নটর ডেম কলেজের প্রান্তে সড়কের একাংশ ছিল টয়েনবি সার্কুলার রোড। এখনো এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে এই নামটির উল্লেখ আছে। ২০০০ সালের দিকে সেগুনবাগিচা খালে ঢাকা ওয়াসা প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ বক্স কালভার্ট নির্মাণ করেছিল।
পরে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বক্স কালভার্টের ওপর প্রায় দেড় শ কোটি টাকা খরচ করে সড়ক নির্মাণ করে। এর আগে দুপাশের পাকা ভবনসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। সড়কটি নির্মাণ করা হয় মতিঝিল প্রধান সড়ক ও ইনার সার্কুলার রোডের (নয়াপল্টন-ফকিরাপুল প্রধান সড়ক) যানজট কমাতে বিকল্প সড়ক হিসেবে। কিন্তু বেশির ভাগ সময়েই সড়কটি থাকে বেহাল দশায়। পুরো সড়কের দুপাশে গড়ে উঠেছে অজস্র অবৈধ দোকানপাট, মাঝেমঝেই আবর্জনার স্তূপ। গত সোমবার নটর ডেম কলেজের দক্ষিণ পাশের সড়কে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রবেশমুখ থেকে পশ্চিম দিক বরাবর আধা কিলোমিটারের বেশি অংশ মাটি, ময়লা, ব্লকের ভাঙা অংশ আর আবর্জনায় ভরা। এতে সড়কের এক পাশের অন্তত পাঁচ ফুট অংশ চলে গেছে। এসব ফেলতে ফেলতে সড়কের আবর্জনা প্রায় আড়াই ফুট উচ্চতায় দাঁড়িয়েছে। প্রবেশমুখ থেকে প্রায় দেড় শ গজ দূরে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার কনটেইনার। এর ভেতরে আবর্জনা, বাইরেও আবর্জনা ছড়িয়ে আছে। সেখানে সড়কটি আরও সরু হয়ে গেছে। আরও দূরে ফুটবল ফেডারেশন ভবনের পেছনের দিকটায় সড়কের কিছু অংশ ভাঙা হয়েছে। পশ্চিম দিকে সড়কের বিভিন্ন অংশে খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে। রাখা হয়েছে মোটা পাইপও। সড়কের মুখে তিতাস গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ কোম্পানির একটি আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে। কার্যালয়ে এসে গ্রাহকেরা বিরক্তি প্রকাশ করছিলেন সড়কে ময়লা রাখায়। এক পাশে একটি চায়ের দোকানে চা খেতে খেতে এক গ্রাহক আরেক গ্রাহককে বলেন, রাস্তা ব্যবহার হচ্ছে আবর্জনার ভাগাড় হিসেবে।
সিটি করপোরেশন কিছুই বলে না। করপোরেশনের ঠিকাদারেরা যেখানে ইচ্ছা সেখানেই নির্মাণসামগ্রী রাখেন। অনেক সময় রাস্তার এক পাশ গর্ত করেন, আরেক পাশে গর্তের মাটি রাখেন। পুরো রাস্তাই বন্ধ হয়ে যায়। নটর ডেম ইউনিভার্সিটির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা কোর্স ফি দেওয়ার জন্য দিলকুশায় নির্ধারিত ব্যাংক শাখায় যাবেন বলে ওই সড়কটিতে ঢুকে আবার বেরিয়ে আসেন। তাঁরা বলেন, ওই সড়কে গেলে অল্প সময়ে যাওয়া যেত। কিন্তু সড়কের এ অবস্থায় সোজা মতিঝিল হয়ে যাওয়াই ভালো। নটর ডেম-মৎস্য ভবন সড়ক নির্মাণের সময় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন রাজউকের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী (প্রকল্প ও ডিজাইন) আনোয়ার হোসেন। গত রাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রাজধানীবাসীর সুবিধার্থে রাজউক বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেছে। নটর ডেম-মৎস্য ভবন সড়কটি এর অন্যতম। অন্য সড়কের মতো এই সড়কটিও সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাড়ির মালিকেরা সরিয়ে নিচ্ছেন অবৈধ অংশ

শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে মধ্য পীরেরবাগ হয়ে সরকারি বাঙলা কলেজ পর্যন্ত সড়কটির নকশা অনুযায়ী প্রস্থ ৩০ ফুট। কিন্তু সড়কের দুই পাশের ভবনের মালিকেরা অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলায় বাস্তবে সড়কটির প্রস্থ এখন কোথাও ১০ ফুট, কোথাও ১৫ ফুট। সড়কটি দখলমুক্ত করতে গত ১৮ জানুয়ারি থেকে উচ্ছেদ শুরু করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। জানুয়ারিতে অভিযানে শেওড়াপাড়া থেকে আগারগাঁও ৬০ ফুট পর্যন্ত সড়কে উচ্ছেদ চালানো হয়। সড়কের পীরেরবাগ থেকে বাঙলা কলেজ পর্যন্ত অংশে মার্চ মাসে উচ্ছেদ চালানোর তারিখ নির্ধারিত আছে। তবে এর আগে বাড়ির মালিকেরা নিজেরা অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলছেন। রাজউক সূত্রে জানা যায়, নকশা অনুযায়ী পশ্চিম শেওড়াপাড়া থেকে মধ্য পীরেরবাগ, আগারগাঁও ৬০ ফুট সড়ক, দক্ষিণ পাইকপাড়া, কল্যাণপুর নতুন বাজার হয়ে মিরপুর বাঙলা কলেজ পর্যন্ত একটি সংযোগ সড়ক আছে।
প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির দুই পাশের ভবনমালিকেরা নকশাবহির্ভূতভাবে সড়কটির অংশ দখল করে রেখেছেন। রাজউক দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি দখলমুক্ত করার চেষ্টা করছে। গত ২ জানুয়ারি ডিএনসিসির সঙ্গে চারটি সংস্থার সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডিএনসিসি এলাকার বেশ কিছু সড়কে নকশাবহির্ভূতভাবে বাড়ি নির্মাণ বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে কল্যাণপুর, পীরেরবাগ, শেওড়াপাড়া পর্যন্ত এই সড়কটিও ছিল। সভায় সড়কগুলো দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জানুয়ারি মাসে সড়কটির শেওড়াপাড়া থেকে আগারগাঁও ৬০ ফুট পর্যন্ত অংশে উচ্ছেদ চালানো হয়। উচ্ছেদে দুই শতাধিক ভবনের অংশ ভাঙা পড়ে। সড়কের বাকি অংশে মার্চ মাসে উচ্ছেদ চালানো হবে বলে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে রাজউকের অঞ্চল-৩-এর পরিচালক খন্দকার অলিউর রহমান বলেন, শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে আগারগাঁও ৬০ ফুট সড়ক পর্যন্ত সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা ভবনের অংশবিশেষ ভেঙে ফেলা হচ্ছে। ৬০ ফুট সড়কের অন্য পাশ থেকে বাঙলা কলেজ পর্যন্ত অংশে মার্চে উচ্ছেদ চালানো হবে। গতকাল মঙ্গলবার সড়কটির পীরেরবাগ, শিমুলতলা, ঝিলপাড়, দক্ষিণ পাইকপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের পাশের অধিকাংশ ভবনের দেয়াল ভাঙা। কোনো ভবনের সামনে দোকান ছিল, সেটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। বেশ কিছু ভবনের সামনের দেয়াল, দোকান ভাঙার কাজ করছিলেন শ্রমিকেরা।
একজন বাড়ির মালিক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, সড়ক প্রশস্ত হলে সবাই এর সুবিধা পাবে। রাজউক বুলডোজার দিয়ে ভাঙলে মূল বাড়ির অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তাই নিজেরাই সরিয়ে নিচ্ছেন। তবে অনেকের বাড়ির নকশায় সামনে ২০ ফুট সড়কসহ অনুমোদন আছে। তাদেরও ৩০ ফুট ভাঙতে হলে সমস্যা হবে। সড়কের এ অংশটি ডিএনসিসির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। ওয়ার্ড কাউন্সিলর দেওয়ান আবদুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, সড়কের পাশের বাড়ির মালিকেরা দেয়াল তুলে, দোকান তুলেছিলেন সড়কের জায়গায়। কতটুকু সড়কের জায়গা তা নির্ধারণ করে লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়। অধিকাংশ বাড়ির মালিকেরা নিজ উদ্যোগে সে অনুযায়ী ভেঙে ফেলছেন। গত ২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভার আলোচ্যসূচিতে দেখা যায়, এই সড়কটি ছাড়াও ডিএনসিসির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়কে অবৈধ দখল আছে। পুরো ১১ নম্বর ওয়ার্ডে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা ভবনের সংখ্যা ১ হাজার ১২৩টি। বাকি সড়কগুলোও দখলমুক্ত করতে বাড়ির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে বলে স্থানীয় কাউন্সিলর জানিয়েছেন।

নয় জেলায় প্রাণ গেল আরও ১০ জনের

সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জেলায় প্রাণ গেল আরও ১০ জনের। গত সোমবার থেকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির এসব ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে গত ১৯ দিনে প্রাণ হারালেন অন্তত ১৯৪ জন। পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক, আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর: রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় ইমরান হোসেন (২২) নামের পিকআপ ভ্যানের এক চালক নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, যাত্রাবাড়ীর কাজলায় গত সোমবার মধ্যরাতে একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে গাড়ি রেখে দাঁড়িয়েছিলেন ইমরান। এ সময় একটি কাভার্ড ভ্যান তাঁকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ধীরাশ্রম এলাকায় তেলবাহী লরির ধাক্কায় গত সোমবার সজীব হোসেন (১৬) নামে মোটরসাইকেলের এক আরোহী নিহত হয়েছে। সজীব হোসেন সিটি করপোরেশনের মৈরান এলাকার আবদুল কাদেরের ছেলে। নাওজোর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুস সালাম বলেন, এশিয়ান হাইওয়েতে (ঢাকা-চট্টগ্রাম) সজীব হোসেনের মোটরসাইকেলে একটি তেলের লরি ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। একই দিন মধ্যরাতে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ছোট উত্তমপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ দুজন নিহত হয়েছেন। নিহত দুজন হলেন উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. মরতুজ আলী (৫৫), অপরজন মো. শাহীন মিয়া (২২)। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি বাড়ির বাসিন্দা মো. ইসমাইল বলেন, রাত আড়াইটার দিকে তিনি প্রচণ্ড শব্দ শুনে এসে দেখতে পান সড়কে দুজন পড়ে রয়েছেন। তাঁদের পাশেই পড়ে আছে একটি মোটরসাইকেল। তবে নিহত মরতুজ আলীর ছেলে মো. জাহাঙ্গীর মিয়া অভিযোগ করেছেন, তাঁর বাবাকে হত্যা করে লাশ সড়কে ফেলে রাখা হয়েছিল, যাতে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়া যায়। ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. বদরুল আলম খান বলেন, নিহত মরতুজের বড় ছেলে মো. আলমগীর বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, নিহত মরতুজের বিরুদ্ধে থানায় চারটি মামলা রয়েছে।
এদিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের কদমচিলান এলাকায় গতকাল দুটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ফারুক হোসেন (৩৫) নামের এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন ট্রাকচালকের সহকারীসহ আরও তিনজন। বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি জি এম সামসুন নুর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নওগাঁর মান্দা উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় হাসান আলী (৪৭) নামের এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। গত সোমবার দুপুরে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের বিজয়পুর মোড়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেন, তিনি মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের বিজয়পুর মোড়ে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেলে তিনি মারা যান। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার সইপাড়া-ভবানীগঞ্জ সড়কে অপর এক দুর্ঘটনায় মেছের আলী শাহ (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেন, গত সোমবার বিকেলে মেছের আলী মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে সইপাড়া-ভবানীগঞ্জ সড়কের মহব্বতপুর কালভার্টের কাছে আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাতে তিনি মারা যান। ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গি ইউনিয়নের যদুকদিয়া এলাকায় গতকাল সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশু নিহত (৭) ও ছয়জন আহত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় ইজিবাইকের চালক, নারী, শিশুসহ সাতজন আহত হয়। তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে অজ্ঞাতনামা সাত বছরের এক শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় পিকআপ ভ্যানের চাপায় গত সেমাবার রুনা আক্তার (২২) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। রুনা উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের সাহেদ আলীর মেয়ে। পুলিশ সূত্র জানায়, রুনা গত সোমবার রাতে উপজেলার রাখালীয়া বাজার থেকে কাজ শেষে একটি পিকআপ ভ্যানে বাড়ি ফিরছিলেন। রাস্তায় নামার পর আরেকটি পিকআপ ভ্যানের চাপায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় গতকাল মঙ্গলবার নছিমন ও একটি ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রলিচালক আকিমুদ্দিন গাজী নিহত হয়েছেন। গতকাল সকালে তালা সরকারি কলেজ-সংলগ্ন এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত আকিমুদ্দিন তালা উপজেলার মুড়কুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

বাবুলকে আবার ডাকবেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা

মাহমুদা খানম হত্যার ঘটনায় তাঁর স্বামী সাবেক এসপি বাবুল আক্তার জড়িত বলে মাহমুদার মা ও বাবা যে অভিযোগ করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবুল আক্তারকে আবার চট্টগ্রামে ডাকা হবে। মাহমুদা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. কামরুজ্জামান গতকাল মঙ্গলবার তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এর আগে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর বাবুল আক্তারকে চট্টগ্রামে ডেকে নিয়ে কথা বলেন তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্ত কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে গত রোববার তিনি রাজধানীর মেরাদিয়ার ভুঁইয়াপাড়ায় মাহমুদার বাবার বাসায় যান। প্রায় আড়াই ঘণ্টা মাহমুদার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পেয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুল আক্তার জড়িত বলে সন্দেহ মাহমুদার মা শাহেদা মোশাররফ ও বাবা মোশাররফ হোসেনের। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবুল আক্তারকে চট্টগ্রামে ডাকা হবে। তবে কবে ডাকা হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। মাহমুদা হত্যার ঘটনায় বাবুল আক্তারকে সন্দেহ করেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, সন্দেহ করার মতো কোনো তথ্যপ্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যে দুজন ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। গত বছরের ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকায় ছুরিকাঘাতে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মাহমুদাকে। এই ঘটনায় বাবুল আক্তার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

হরতালকারীদের ওপর পুলিশের হামলায় আহত ২৫

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ডাকা হরতালের সমর্থনে বের করা মিছিলে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শাহবাগে কয়েকটি বাম ছাত্রসংগঠনের কর্মীদের ওপর জলকামান থেকে পানি ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়। প্রগতিশীল ছাত্রজোটের হিসাবে, পুলিশের ওই হামলায় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের ২৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশ ১৬ জন নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। অবশ্য পুলিশ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে।
গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে কয়েকটি বাম দল গতকাল সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় হরতাল পালন করে। হরতাল শেষে নতুন কর্মসূচি হিসেবে ১৫ মার্চ জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এই কর্মসূচির সমর্থনে আজ থেকে ১৪ মার্চ প্রচারাভিযান চালানো হবে। হরতালের পাশাপাশি গতকাল থেকে শুরু হওয়া পরিবহনশ্রমিকদের ধর্মঘটে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। সড়কগুলোতে বাস ছিল একেবারেই কম। সকাল সাতটায় হরতালের সমর্থনে বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর জোট প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ৭০ থেকে ৮০ জন নেতা-কর্মী শাহবাগ চত্বরে জড়ো হন। তাঁরা আশপাশের সড়কে মিছিল করেন। এরপর শাহবাগ চত্বরে গিয়ে সমাবেশ করেন। সকাল ১০টা পর্যন্ত সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পুলিশ হঠাৎ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান থেকে পানি ছুড়তে থাকে। এতে সমাবেশ ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে পুলিশ ছাত্রদের লাঠিপেটা করে। পুলিশের দফায় দফায় হামলায় শাহবাগ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ফলে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় আহত কয়েকজন ছাত্রকে আটক করে পুলিশ। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্ররা আবারও জড়ো হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে সমাবেশ করেন। শাহবাগ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, পুলিশের ওপর ঢিল ছোড়া ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।
তাঁদের মধ্যে একজন নারী। প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতারা বলছেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নেতা। তাঁদের মধ্যে দুজনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন নাসিরউদ্দিন ও ভজন। আহত ব্যক্তিদের আশপাশের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর আগে সকাল আটটায় শাহবাগ মোড়ে টায়ার জ্বেলে ও ইট রেখে সড়ক অবরোধ করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও হরতালকারীরা। এ সময় সংগঠনের নেতারা গ্যাসের দাম কমাতে সরকারের প্রতি দাবি জানান। না কমালে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুমকি দেন। হরতালের সমর্থনে বাম দলগুলোর নেতা-কর্মীরা রাজধানীর শাহবাগ, পল্টন ও মিরপুরে মিছিল নিয়ে বের হলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পুরানা পল্টনে সিপিবি কার্যালয়ের সামনের রাস্তার একাংশ অবরোধ করে রাখেন হরতালকারীরা। পরে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়। হরতালকারীদের অভিযোগ, মিরপুর এক নম্বরে মিছিলে পুলিশ বাধা দিয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হরতালের সমর্থনে মিছিল হয়েছে। গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘সরকার অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদে হরতাল ডেকেছি।’ হরতাল সফল হয়েছে উল্লেখ করে রাজধানীবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাম দলগুলোর নেতারা। তাঁরা আগামী দিনের কর্মসূচিতে একইভাবে সমর্থন দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। হরতাল আহ্বানকারী বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা ও গণসংহতি আন্দোলন আলাদা বিবৃতিতে এই আহ্বান জানিয়েছে। তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ডাকা হরতালকে ‘যৌক্তিক’ উল্লেখ করে তাতে পুলিশের হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে যে গণশুনানি ডেকেছিল তাতে মূল্যবৃদ্ধির বিপক্ষে বেশি মত এসেছিল। কিন্তু সরকার এর বিরুদ্ধে গিয়ে অযৌক্তিকভাবে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে।

মমতা, ভালোবাসা দিয়ে সেবা দিন

মমতা ও ভালোবাসা দিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেছেন, দরিদ্র রোগীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রণীত হচ্ছে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা আইন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে সোসাইটি অব প্লাস্টিক সার্জনস বাংলাদেশ আয়োজিত প্লাস্টিক সার্জারি-বিষয়ক পঞ্চম আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে মোহাম্মদ নাসিম এসব কথা বলেন। চিকিৎসকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার গরিবসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। সবাই যাতে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পান,
সে বিষয়ে চিকিৎসকেরা আরও বেশি দায়িত্ববান হবেন। নাসিম আরও বলেন, চিকিৎসা ও চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছে সরকার। তবে কথায় কথায় কোনো ঘটনার অজুহাত দেখিয়ে চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের জরুরি চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখার বিষয়টি মেনে নেওয়া যাবে না। দেশে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সর্বাধুনিক ‘শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’ স্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম বলেন, এটি চালু হলে দগ্ধ রোগীদের আরও উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি অনেক চিকিৎসক ও নার্স প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন। সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক সামন্ত লাল সেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব অধ্যাপক ইহতেশামুল হক চৌধুরী, সম্মেলন আয়োজক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সাজ্জাদ খন্দকার, শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মো. আবুল কালাম প্রমুখ।

মেয়র ও তাঁর ছোট ভাই আবার দুই দিনের রিমান্ডে

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সাংবাদিক আবদুল হাকিম হত্যা মামলায় শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র হালিমুল হক ও তাঁর ছোট ভাই হাবিবুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নজরুল ইসলাম শুনানি শেষে দুজনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, হালিমুল ও হাবিবুলকে আবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল। বিচারক দুই পক্ষের শুনানি শেষে তাঁদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। একই সঙ্গে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক জামিনের আবেদন নাকচ করে তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরে দুজনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে প্রথম দফায় হালিমুল ও হাবিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ। গত ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হন দৈনিক সমকাল-এর উপজেলা প্রতিনিধি আবদুল হাকিম। পরের দিন ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হাকিমের স্ত্রী নুরুন নাহার বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন।

পরিবহন ধর্মঘটে দিন–রাত দুর্ভোগ

পরিবহনশ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে সারা দেশ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছাড়েনি, ঢাকার বাইরে থেকে কোনো বাস আসেওনি। অভ্যন্তরীণ পথেও বাস চলেনি। রাজধানীতে বাস চলেছে হাতে গোনা। সারা দেশে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় মানুষকে দিন-রাত চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। চলেনি ট্রাকও। দেশের বিভিন্ন স্থানে মাইক্রোবাস, অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলেও ধর্মঘটী শ্রমিকেরা বাধা দিয়েছেন। কোথাও কোথাও এসব যানের চালকদের মারধর ও যান ভাঙচুর করা হয়েছে। রাতে রাজধানীর গাবতলী আন্তজেলা বাস টার্মিনালের সামনে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশের চারজন সদস্যসহ আটজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় টার্মিনালের সামনের সড়কে অ্যাম্বুলেন্সসহ ৩০-৪০টির মতো যান ভাঙচুর করা হয়। রাজধানীতে বাসের অভাবে অনেককে দূরদূরান্ত থেকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়েছে। অনেকে অভিযোগ করেন, আন্দোলনরত শ্রমিকেরা মাঝপথে বাস আটকে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়েছেন। দাবি আদায়ে এভাবে যাত্রীদের জিম্মি করার তীব্র নিন্দা জানান তাঁরা। তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীরসহ পাঁচজনের মৃত্যুর মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া বাসচালক জামির হোসেনের মুক্তির দাবিতে প্রথমে গত বৃহস্পতিবার থেকে চুয়াডাঙ্গায় এবং রোববার থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ১০ জেলায় ধর্মঘট ডাকেন পরিবহনশ্রমিকেরা। সোমবার খুলনায় প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকের পর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১০ জেলার ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। সাভারে ট্রাকচাপা দিয়ে এক নারীকে হত্যার দায়ে সোমবার ঢাকার এক আদালত ট্রাকচালক মীর হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপর রাতেই এ দুজনের মুক্তির দাবিতে গতকাল সকাল থেকে সারা দেশে ধর্মঘট শুরু করেন পরিবহনশ্রমিকেরা।
বিকেলে গাবতলীতে সমাবেশ করে শ্রমিকনেতারা ঘোষণা দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। তাঁরা নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শাজাহান খান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি। রাতে সংঘর্ষ সন্ধ্যায় গাবতলী টার্মিনালের সামনের সড়কে অবস্থান নেন পরিবহনশ্রমিকেরা। রাত আটটার দিকে তাঁরা ওই সড়কে চলাচলকারী যানবাহন ভাঙচুর শুরু করেন। পুলিশ বাধা দিলে তাঁরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই পাশে অসংখ্য মানুষ আটকা পড়ে। শ্রমিকেরা টার্মিনালের পাশের একটি পুলিশ বক্স ও রেকার ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন এবং রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ, জলকামান থেকে পানি ও ছররা গুলি ছোড়ে। এ সময় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। সংঘর্ষে পুলিশের চার সদস্যসহ আটজন আহত হন। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় সাংসদ আসলামুল হক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ব্যর্থ হয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাবতলী টার্মিনালের সামনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কয়েক বছর আগে যারা আগুন-সন্ত্রাস চালিয়েছিল, তারাই এখানে যুক্ত হয়েছে। তাঁর সন্দেহ, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পেছনে বিএনপি-জামায়াতের হাত রয়েছে। রাত একটায়ও ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের সহকারী কমিশনার সৈয়দ মামুন মোস্তফা বলেন, পরিস্থিতি তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দিন-রাত চরম দুর্ভোগ ধর্মঘটের কারণে গতকাল দিন-রাত রাজধানীবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তিনটি আন্তজেলা বাস টার্মিনাল গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালীতে বাসের জন্য শত শত নারী-পুরুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে বিফল হয়ে ফিরতে হয়েছে। টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, আরামবাগ, কলাবাগানসহ দূরপাল্লার বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির কাউন্টারের সামনে গিয়েও একই চিত্র দেখা গেছে। সকালে গাবতলী গরুর হাট মোড়ে ও দারুস সালামে সড়কে প্রতিবন্ধকতা দিয়ে অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। তাঁরা স্বল্পসংখ্যক প্রাইভেট কার ও লেগুনা ছাড়া আর কোনো যান চলতে দেননি। বাস না চলায় সকালে অফিসগামী ও বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত অফিসফেরত মানুষকে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিআরটিসির বাস ও অল্প কিছু বেসরকারি বাস, লেগুনা, পিকআপ ভ্যান, অটোরিকশা, রিকশা ছিল বাহন। তবে অনেককে দীর্ঘ পথ হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। দিনে যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মতিঝিল, গুলিস্তান, পুরানা পল্টন, মৎস্য ভবন, শাহবাগ,
সায়েন্স ল্যাব, রাসেল স্কয়ার, আসাদগেট, ফার্মগেট, মিরপুর, বিমানবন্দরসহ প্রতিটি মোড়ে যাত্রীদের বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। হঠাৎ কেউ কেউ বাস পেলেও শ্রমিকদের বাধায় মাঝপথে নামতে হয়েছে। রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হয়েছে বলে কিছু যাত্রী অভিযোগ করেন। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে জানা যায়, বিকেল পাঁচটার দিকে মিরপুর ১ নম্বরে স্বাধীন বাংলা সুপার মার্কেটের সামনে বিআরটিসির একটি দোতলা বাস ভাঙচুর করেন শ্রমিকেরা। কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে মেয়েকে নিয়ে এক ঘণ্টার বেশি বাসের অপেক্ষায় ছিলেন খালেদা আকতার। কল্যাণপুরে বোনের বাসায় এসেছিলেন সোমবার রাতে। যাবেন যাত্রাবাড়ী। তিনি বলেন, ‘কাল আসলাম ভালো। আজকে কী এমন হয়ে গেল যে কোনো বাসই নাই। সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে কী লাভ।’ ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা বিকেলে গাবতলীতে সমাবেশে বাংলাদেশ আন্তজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়নের সভাপতি তাজুল ইসলাম দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘সংবাদপত্র, অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি গাড়ি ছাড়া কোনো রকম গাড়ি চলবে না, চালাতে দেব না।’

সভাপতি নাসের, সম্পাদক নজরুল

রংপুর বিভাগ সমিতি, ঢাকার নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল্লাহ আল নাসের এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. নজরুল ইসলাম। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা ও ২০১৭–২০১৮ নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
৩৭ সদস্যের কমিটিতে সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ, মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. নজরুল ইসলাম, মো. একরামুল হক, মো. নুরুন্নবী, মো. হাবিবুল ইসলাম, মনজু আরা বেগম ও খালেদা খানম। সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন এনামুল কবীর রুপম ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এস এম আমজাদ হোসেন। সভা ও নির্বাচন অনুষ্ঠান শেষে গান পরিবেশন করেন এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, এস এম আমজাদ হোসেন ও পুষ্পিতা এবং নকশীকাঁথা ব্যান্ড। বিজ্ঞপ্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যাযজ্ঞ নজিরবিহীন

একাত্তরে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী দেশজুড়ে বহু নৃশংস গণহত্যা চালিয়েছে। স্বাধীনতার মাসে আজকের পর্বে থাকল ২৫ মার্চ রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যার কথা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ভোরের আলো ফোটার আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানি সেনাদের নৃশংস অভিযান শেষ হয়। ভোর পাঁচটায় সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল টিক্কা খান সেনানিবাসে তাঁর দপ্তরে চশমা পরিষ্কার করতে করতে বলেন, ‘না, কোথাও কোনো জনপ্রাণী নেই।’ টিক্কা খানের জনসংযোগ কর্মকর্তা মেজর সিদ্দিক সালিক পরবর্তী সময়ে উইটনেস টু স্যারেন্ডার বইতে এ বর্ণনা দিয়েছেন। ২৬ মার্চ ভোরেই পরিস্থিতি বুঝতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা জরিপ করতে বেরিয়েছিলেন মেজর সিদ্দিক সালিম। তাঁর বইয়ে ওই সকালের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে এভাবে, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গণকবরগুলো জরিপ কর ছিলাম। সেখানে আমি তিনটি ঢিবি দেখতে পাই, যার প্রতিটি ৩ থেকে ১৫ মিটার ডায়ামিটারের ছিল। সেগুলো নতুন মাটিতে ভরাট করা। কিন্তু কোনো অফিসার মৃতের প্রকৃত সংখ্যা জানাতে রাজি ছিল না। আমি দালানগুলো ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম, বিশেষত ইকবাল ও জগন্নাথ হলের, যেগুলো আমার মনে হলো, অ্যাকশনের মাধ্যমে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’ এই হলো পাকিস্তানি এক সেনা কর্মকর্তার নিজের দেওয়া বিবরণ। মেজর সিদ্দিক সালিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘুরে দেখছিলেন, আগের রাতে চলা একটি বিশেষ সামরিক অভিযান কতটা সফল হয়েছে সেটা সরেজমিনে দেখতে। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের ওই অভিযান চলেছে ২৫ মার্চ (দিবাগত) মধ্যরাত থেকে ২৬ মার্চ ভোর পর্যন্ত। এই অভিযানের একমাত্র লক্ষ্য ছিল মানুষ হত্যা।
অভিযানের প্রধান তিনটি লক্ষ্যবস্তুর একটি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অপর দুটি লক্ষ্যবস্তু পিলখানায় ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) সদর দপ্তর এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযানটি কতটা নৃশংস ছিল, জগন্নাথ হলের ক্যানটিনের কর্মী সুনীল কুমার দাসের বিবরণে তার কিছুটা আঁচ পাওয়া যায়। গত সোমবার প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘সেদিন (জগন্নাথ হলের) শহীদ মিনারের পাশে কত লোকের যে লাশের সারি ছিল, তার কোনো হিসাব নেই। হল থেকে ছাত্রদের, হলের শিক্ষক-কর্মচারীদের হত্যা করে লাশ এনে কবর দেওয়া হয়। আমিসহ চারজন কর্মচারী একটা ড্রেনে লুকিয়ে ছিলাম। আমরা পরদিন সকালে পালিয়ে যেতে সক্ষম হই।’ এই গণহত্যা সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এবং সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘পৃথিবীর আর কোনো দেশে এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে নির্বিচারে ছাত্রছাত্রী-শিক্ষক-কর্মচারীদের গণহত্যার ঘটনার নজির নেই। ওই দিন রাতে পাকবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, ইকবাল হল, রোকেয়া হলে ঢুকে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়।’ সিদ্দিক সালিকের বই থেকেই জানা যায়, ওই অভিযানে ট্যাংক, স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, রকেট নিক্ষেপক, ভারি মর্টার, হালকা মেশিনগানসহ নানা ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরীহ ছাত্র-শিক্ষক-কর্মীদের বিরুদ্ধে। মূলত গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারপর বেশির ভাগ লাশ গণকবর দিয়ে তার ওপর বুলডোজার চালিয়ে মাটি সমান করে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেক লাশ উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বড় হত্যাযজ্ঞটি হয়েছে জগন্নাথ হলে। এই গণহত্যার একটি ভিডিও চিত্র ধারণ করেছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নূরুল উলা। তিনি তখন বুয়েটের অধ্যাপকদের জন্য তৈরি চারতলা ভবনে থাকতেন, যেখান থেকে জগন্নাথ হলের ছাত্রাবাস আর মাঠ সরাসরি দেখা যেত। রশীদ হায়দার সম্পাদিত ১৯৭১: ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বইটিতে নূরুল উলা লিখেছেন, ‘রাতে দেখি জগন্নাথ হল ছাত্রাবাসের চারপাশ পাকবাহিনীতে ছেয়ে গেছে।
হলের কক্ষগুলোতে আগুন। কক্ষগুলোতে ঢুকে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সকালে উঠে দেখি মাঠের পশ্চিম দিকে লাশ এনে জড়ো করা হচ্ছে। আহতদের গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হচ্ছে। এভাবে কয়েকবার চলল।...আমি তাড়াতাড়ি ক্যামেরা সেট করে একটা কালো কাগজে ফুটো করে ক্যামেরার লেন্সটা জানালার কাচের ওপর রাখলাম। এরপরের তিনটা গণহত্যা ধারণ করলাম। বুলডোজার দিয়ে মাটি খুঁড়তেও দেখলাম।’ জগন্নাথ হলের তৎকালীন দারোয়ান সুনীল চন্দ্র দাসের স্ত্রী বকুল রানী দাস সে সময় কর্মচারীদের টিনশেডের বাসায় ছিলেন। গত সোমবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে হল-সংলগ্ন ইউওটিসির (বর্তমান বিএনসিসি) দেয়াল ভেঙে মিলিটারিদের সাঁজোয়া ট্যাংক হলের ভেতর ঢুকে পড়ে। এরপর শুধুই গুলির শব্দ। একপর্যায়ে এলাকার ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেয় হানাদারেরা। বাসার পুরুষদের ধরে নিয়ে যায় মাঠের দিকে। সেখানেই তাদের গুলি করে হত্যা করা হয়।’ জগন্নাথ হল-সংলগ্ন একটি বাড়িতে থাকতেন মধুর ক্যানটিনের মালিক মধুসূদন দে। তাঁকেও হত্যা করা হয়। তাঁর ছেলে অরুণ দে প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাতভর গুলির শব্দ। জগন্নাথ হল থেকে আর্তচিৎকার। সকালে আমাদের বাসায় (সেনা সদস্যরা) এল। আমার দাদা আর নতুন বউদিকে বাসার ভেতরেই গুলি করে মারল। মা অন্তঃসত্ত্বা ছিল। মাকে প্রথমে কিছু করে নাই। বাবাকে গুলি করতে গেলে মা সামনে যায়। তখন বেয়নেট দিয়ে মায়ের হাত কেটে ফেলে। এরপর মাকে গুলি করে। বাবার গায়েও গুলি করে। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় বাবাকে নিয়ে আবার গুলি করে মারল।’ জগন্নাথ হলে সেদিন যাঁরা নিহত হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ৬৬ জনের পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁদের নামের তালিকা উৎকীর্ণ আছে হলের মাঠে গণকবরের জায়গায় তৈরি একটি নামফলকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক রতনলাল চক্রবর্তীর সম্পাদনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যা: ১৯৭১ জগন্নাথ হল বইতে বলা হয়েছে, ওই রাতে সেখানে গণহত্যার শিকার হন চারজন শিক্ষক, ৩৬ জন ছাত্র এবং ২১ জন কর্মচারী ও অতিথি।
গণহত্যার পরিধি
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠিক কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা আজও হয়নি। এ নিয়ে বিশদ গবেষণাও হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ১৯৫ জনের নাম আছে, যাঁদের পরিচয় পাওয়া যায়। এর বাইরেও বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়াতে আসা অনেককে হত্যা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সেদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আড়াই শ থেকে তিন শ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ওয়্যারলেসের সংলাপেও বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন শ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে। ১৯৭১ সালের গণহত্যা নির্যাতন আর্কাইভ ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ট্রাস্টের সভাপতি ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া বলেছিলেন ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করা হলেই বাকিরা কাবু হয়ে যাবে। তাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ সব আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়। আর সে কারণেই ২৫ মার্চ রাতেই এখানে হামলা হয়। যেহেতু এটি পরিকল্পিত এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সুসজ্জিত হয়ে ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নির্বিচারে হত্যা চালিয়েছে, কাজেই এটি গণহত্যা।’
ইকবাল হলে আক্রমণ
জগন্নাথ হলের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সে সময়ের ইকবাল হলেও (বর্তমান জহরুল হক হল) পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যা চালায়। স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ ছাত্রনেতারা এই হলে থাকতেন বলেই অপারেশন সার্চলাইটের প্রথম লক্ষ্য ছিল এই হলটি। রঙ্গলাল সেনসহ তিনজনের সম্পাদিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান বইটিতে বলা হয়েছে, ২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকে ২৭ মার্চ সকাল পর্যন্ত পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী ট্যাংক, জিপে বসানো রাইফেল, মর্টার, ভারী ও হালকা মেশিনগান নিয়ে জহুরুল হক হল আক্রমণ করে চারদিক থেকে। ছাত্রনেতা ও কর্মীরা হল ছেড়ে চলে গেলেও সাধারণ ছাত্র ও কর্মচারীরা হলে ছিল। জহুরুল হক হল আক্রমণের প্রথম পর্যায়েই ব্রিটিশ কাউন্সিলে পাহারারত ইপিআর সৈনিকদের হত্যা করা হয়। এরপর ওই ভবনের ওপর সামনে ট্যাংক ও ওপরে কামান বসিয়ে জগন্নাথ হল ও ইকবাল হলে গুলি করা হয়। জহুরুল হক হলের মূল ভবনের সিঁড়িতে নিহত ছাত্র যাঁদের পরিচয় পাওয়া গেছে তাঁদের নয়জনের একটি তালিকা আছে। জহুরুল হলসংলগ্ন নীলক্ষেত আবাসিক এলাকায় তিনটি বাড়ির ছাদে আজিমপুর থেকে পালিয়ে আসা ইপিআর সদস্যরা আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেও গণহত্যা চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। ২৩ নম্বর ছাদ থেকেই শুধু ৩০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের খুব কাছেই তৎকালীন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবস্থান করছিলেন ব্রিটিশ সাংবাদিক সায়মন ড্রিং। ২৭ মার্চ সকালে শহর থেকে কারফিউ তুলে নেওয়ার পর সায়মন বেরিয়ে পড়েন রাস্তায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ফরাসি আলোকচিত্রী মিশেল লরা। ২৫ মার্চ রাতের ধ্বংসযজ্ঞ তাঁরা প্রত্যক্ষ করেন শহরজুড়ে। ২০১২ সালের ২৩ মার্চ ঢাকায় প্রথম আলোকে এক সাক্ষাৎকারে সায়মন ড্রিং বলেন, ২৭ মার্চ ঘুরতে ঘুরতে তিনি ইকবাল হলেও ঢুকেছিলেন। তিনি সেখানে নিজে ৩০টি লাশ গুনে দেখেছেন। ড্রিং জানান, সেদিন মর্টারের শেল আর মেশিনগানের অবিরাম গুলিতে শুধু ইকবাল হলেই নিহত হয়েছিলেন ২০০ নিরপরাধ ছাত্র। হামলার দুই দিন পরও দেখা যাচ্ছিল পুড়ে যাওয়া রুমের মধ্যে পড়ে থাকা লাশ আর লাশ। পাকিস্তানি বাহিনী আরও বহু লাশ সরিয়ে ফেলেছিল আগেই।
রোকেয়া হলে হত্যা
২৫ মার্চ রাতে মেয়েদের আবাসিক হল রোকেয়া হলেও আক্রমণ হয়েছিল। কারণ, এই হলের মেয়েরা ডামি রাইফেল হাতে কুচকাওয়াজ করতেন। অবশ্য ওই হলের বেশির ভাগ মেয়ে আগেই হল ছেড়ে গিয়েছিলেন। অল্প কয়েকজন মেয়ে ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে রোকেয়া হলে কী ঘটেছিল, সে ব্যাপারে ঢাকার সে সময়ের মার্কিন কনসাল জেনারেল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে একটি প্রতিবেদন পাঠান। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের একটি কক্ষে ছয়টি মেয়ের লাশ পা-বাঁধা ও নগ্ন অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ছাড়া রোকেয়া হল চত্বরে সপরিবারে হত্যা করা হয় হলের কর্মচারী আহমেদ আলী, আবদুল খালেক, নমি, মো. সোলায়মান খান, মো. নুরুল ইসলাম, মো. হাফিজুদ্দিন ও মো. চুন্নু মিয়াকে। অন্যান্য হত্যাকাণ্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে ঢুকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সেখানকার চার কর্মচারী, সলিমুল্লাহ হলে ঢুকে সেখানকার ১২ জন ছাত্র, ফজলুল হক হলের সাতজন, সূর্য সেন হলের সাতজন এবং মুহসীন হলের ১০ জন ছাত্রকে হত্যা করে। এর বাইরে ২৬ মার্চ সকালে গুরুদুয়ারা নানক শাহী, শিব ও কালীমন্দিরে ঢুকে সেখানকার পুরোহিতদের গুলি করে হত্যা করা হয়। ২৭ মার্চ রমনা কালীমন্দিরে ২৭ জনকে হত্যা করা হয়েছিল।

গাবতলীর সংঘর্ষের জন্য বিএনপি-জামায়াতকে সন্দেহ করছেন সাংসদ

গাবতলীতে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষের পেছনে বিএনপি-জামায়াতের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করেছেন স্থানীয় সাংসদ আসলামুল হক। মঙ্গলবার রাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ব্যর্থ হয়ে রাতে সাড়ে ১২টার দিকে গাবতলী টার্মিনালের সামনে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ সন্দেহের কথা জানান। আসলামুল হক বলেন, ‘আমরা সব রকম চেষ্টা করেছি। তাদের বুঝিয়েছি। কিন্তু তারা শোনেনি। আমার মনে হচ্ছে, এই পরিস্থিতি আর শ্রমিক নেতাদের হাতে নেই। কয়েক বছর আগে যারা আগুন সন্ত্রাস চালিয়েছিল, তারাই এখানে যুক্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের নিয়ে আমি মাঠে থাকব।
আশা করছি ভোর নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’ এ ব্যাপারে মন্ত্রী শাজাহান খান ও প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কি-না জানতে চাইলে সাংসদ আসলাম বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় সংসদে আছেন। তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি।’ তিনি গাবতলীতে এসেও শ্রমিক নেতাদের সাক্ষাৎ পাননি বলে জানিয়েছেন। আসলামুল হক বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তিনি পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত আছেন। আমি আমার এলাকায় কোনো ধরনের অরাজকতা চলতে দেব না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে আমরাও মাঠে থাকব।

লন্ডনি প্রার্থী নেই, নিরুত্তাপ নির্বাচন

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় স্থানীয় সরকারের যেকোনো নির্বাচন হলেই ‘লন্ডনি’ প্রার্থী থাকেন। তাঁরাই মূলত ভোটের মাঠ গরম রাখেন। কিন্তু এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একজনও লন্ডনি বা প্রবাসী প্রার্থী নেই। ফলে নির্বাচনী মাঠও নিরুত্তাপ। এলাকার লোকজন বলছেন, হঠাৎ করে তফসিল হওয়ায় প্রবাসী প্রার্থীরা এই নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতির সময় পাননি। আর ছয় দিন পর ৬ মার্চ এখানে ভোট। এর মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলা সদর, রানীগঞ্জ, ফাইলগাঁও, মীরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ভোটের আলাপ-আলোচনা খুব একটা দেখা যায়নি। এখন পর্যন্ত উপজেলা সদরে কোনো প্রচার শিবির করেননি বিএনপির প্রার্থী। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী দুটি অস্থায়ী প্রচার শিবির খুলেছেন। জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে নারী-পুরুষ মিলিয়ে আটজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আকমল হোসেন, বিএনপির প্রার্থী মো. আতাউর রহমান ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তাদীর আহমদ (প্রতীক-আনারস)। তিন প্রার্থীই প্রথম আলোকে বলেছেন, হঠাৎ করে নির্বাচন দেওয়ায় তাঁরা অনেকটা অপ্রস্তুত।
এর মধ্যে আকমল হোসেন বলেছেন, এ সময় কেউ নির্বাচন আশা করেনি। উপজেলা সদর থেকে আট কিলোমিটার পশ্চিমে রানীগঞ্জ বাজার। সেখানকার চা-দোকানি নাছির মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, জগন্নাথপুরে লন্ডনি প্রার্থী না থাকলে ভোট জমে না। একই কথা বলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুজিবুর রহমানও। তিনি বলেন, এই এলাকার যেকোনো নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রবাসী আত্মীয়-স্বজনেরাও প্রচারে অংশ নেন। কিন্তু এবার হঠাৎ নির্বাচন দেওয়ায় প্রবাসীরা তেমন আসেননি। স্থানীয় লোকজন প্রবাসীদের অনুপস্থিতির পাশাপাশি জগন্নাথপুরে নির্বাচনী উত্তাপ না থাকার পেছনে আরও কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেন। তা হলো কৃষিপ্রধান জগন্নাথপুরের ভোটারদের বড় একটি অংশ এখন ব্যস্ত মৌসুমের বোরো রোপা নিংড়ানোর কাজে। এ ছাড়া এলাকার বৃহৎ হাওর ‘নলুয়ার হাওর’জুড়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। শ্রমিকশ্রেণির মানুষের একটা অংশ ব্যস্ত মাটি কাটায়। এর সঙ্গে আছে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের একটি অংশ অসন্তুষ্ট, তারা নিষ্ক্রিয়। ফাইলগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা রংমিস্ত্রি শাহনূর মিয়ার বক্তব্য একটু ভিন্ন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচন নিয়া মানুষের ইন্টারেস্ট নাই। প্রার্থীরা আইয়্যা একটা লিফলেট দিয়া কয়, আমার লাইগা দোয়া খরবায়, বালা লাগলে ভোট দিবায়। এরপর আর দেখা নাই।’ আওয়ামী লীগের প্রার্থী আকমল হোসেন উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান। তিনি আওয়ামী লীগের উপজেলা কমিটির সভাপতি। আর বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তাদীর আহমদ নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান। গত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মামলা থাকায় মুক্তাদীর দুই বছর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় মুক্তাদীরকে গত সপ্তাহে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। আর বিএনপির প্রার্থী আতাউর রহমান হলেন দলের সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাবেক সহসভাপতি। তিনি গত উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩২০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। স্থানীয় লোকজন বলছেন, এখন পর্যন্ত যে পরিস্থিতি, তাতে ভোটে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা বেশি। যদিও এই এলাকায় আওয়ামী লীগের অবস্থান শক্ত। কিন্তু সুনামগঞ্জ জেলায় আওয়ামী লীগের প্রয়াত দুই নেতা আবদুস সামাদ আজাদ ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অনুসারী হিসেবে পরিচিত দুটি ধারা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় আছে। পুরোনো সেই বিভেদ জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আকমল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দলের আরও একজন চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি আগে ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। স্বাভাবিকভাবে তিনি কিছু ভোট টানবেন। এরপরও সমস্যা হবে না। আমার অবস্থান ভালো।’ স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা প্রথম আলোকে বলেন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) সাংসদ হলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অনুসারী ধারার সঙ্গে আছেন। তিনি আকমল হোসেনকে সমর্থন করেন। আর প্রয়াত সামাদ আজাদের অনুসারীরা চেয়েছিলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হরমুজ আলীকে প্রার্থী করতে।
সেটা না হওয়ায় এ অংশটির নেতা-কর্মীরা এই ভোটে নিষ্ক্রিয় আছেন। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী আকমল হোসেন (মীরপুর) ও বিএনপির প্রার্থী আতাউর রহমান (সৈয়দপুর শাহারপাড়া) একসময় উপজেলার দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। দুজনই তখন আওয়ামী লীগ করতেন। ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাচনে আকমল আওয়ামী লীগের সমর্থনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হন। আর আতাউর বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে দাঁড়ান। আকমল চেয়ারম্যান হন, আতাউর পরাজিত হন। এবার আবার দুজন পুরোনো লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী আতাউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সব প্রার্থীই নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালাচ্ছি। এ কারণে মাঠে হইহুল্লোড় বা নির্বাচনী উত্তেজনা বলতে যা বোঝায়, তা দেখা যাচ্ছে না।’ জগন্নাথপুর উপজেলায় ভোটারসংখ্যা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯৯। দেশের অন্যতম প্রবাসী-অধ্যুষিত এই উপজেলার বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ যুক্তরাজ্যে থাকেন। তাই জগন্নাথপুরে স্থানীয় সরকারের যেকোনো নির্বাচনে প্রবাসীদের অংশগ্রহণে আলাদা উত্তাপ থাকে। ভোটে বাড়তি ব্যয় গণমাধ্যমের খবরও হয়। সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জগন্নাথপুরের আটটি ইউনিয়নের সাতটিতে ভোট হয়। সাত ইউনিয়নে মোট ৩১ প্রার্থীর মধ্যে ১৭ জন ছিলেন প্রবাসী। তাঁদের মধ্যে জয়ী হন ছয়জন। এর আগে জগন্নাথপুর পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তিনজনই প্রবাসী। ২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে নয়জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর চারজন ছিলেন প্রবাসী। কিন্তু এবার একজনও নেই। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী মুক্তাদীর আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, হঠাৎ করে নির্বাচন ঘোষণা করায় প্রার্থীদের প্রস্তুতি ছিল না। এ কারণে প্রার্থীর সংখ্যাও কম। তা ছাড়া মানুষ রাজনৈতিকভাবে খুবই বিভক্ত। সব মিলিয়ে অনেকে হয়তো প্রার্থী হওয়ার উৎসাহ পাননি।

হঠাৎ পরিবহন ধর্মঘটে ভোগান্তি

সারা দেশে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে হঠাৎ করেই ধর্মঘট শুরু করেছেন পরিবহনশ্রমিকেরা। সকাল ছয়টা থেকে কর্মবিরতির নামে এ ধর্মঘট শুরু হয়। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন মালামাল ও যাত্রী পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে দূরপাল্লার যাত্রীসহ স্থানীয় যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়েন। ঢাকার সাভারে ট্রাক চাপা দিয়ে এক নারীকে হত্যার দায়ে সোমবার এক চালকের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত।
এর প্রতিবাদে গতকাল সকাল থেকে এ ধর্মঘট চালু হয়। মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়ার প্রতিবাদে রোববার থেকে শুরু করে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় পরিবহন ধর্মঘট চালান শ্রমিকেরা। এর মধ্যেই গতকাল থেকে পরিবহনশ্রমিকেরা আবার নতুন কর্মসূচি শুরু করেছেন। নতুন করে আবার দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর: গতকাল সকালে ও দুপুরে খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা যায়। শহরের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড থেকে বেশি ভাড়া দিয়ে অনেককে ইজিবাইকে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। এদিকে পণ্যবাহী যানবাহন বন্ধ থাকায় খুলনার সোনাডাঙ্গার কেসিসি পাইকারি কাঁচাবাজারে পণ্য আসে অর্ধেকের কম। ওই বাজার থেকে কাঁচামাল সরবরাহ করা হয়নি দেশের অন্য কোনো জায়গায়। প্রতিদিন বাজারটি থেকে ৫০টির বেশি ট্রাক পণ্য নিয়ে দক্ষিণ বঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যায়। এর বড় প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। কেসিসি পাইকারি কাঁচাবাজারের আব্দুস সোবহান নামের এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী গতকাল দুপুরে বলেন, ‘এখান থেকে কাঁচামাল কিনে বিভিন্ন জেলায় ট্রাকে করে পাঠাই। কিন্তু পরিবহন ধর্মঘট থাকায় মাল কিনতে পারিনি। বাজারেও মাল অনেক কম আসে। এভাবে চললে ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হবে।’ বাজার সমিতির সভাপতি শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, এ বাজার থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫ ট্রাক কাঁচামাল দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়।
পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্থান থেকে বাজারে কাঁচামাল আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আশপাশের এলাকা থেকে কিছু কাঁচামাল নছিমন-করিমনে আসছে। তবে ৮০ শতাংশ মালামাল আসছে না। বিকেলে কেসিসি বাজারের ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দীন বলেন, ‘সরবরাহ একেবারে কম। চাহিদামতো মাল কিনতে পারছি না। তাই সবজি বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বেঁচতে হচ্ছে বেশি দামে।’ বরিশাল নগরের প্রধান বাস নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, দুপুরে শত শত যাত্রী আটকা পড়েছেন। নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে বরিশালে এসেছেন রুহিনী কুমার রায়। চিকিৎসার জন্য এক আত্মীয়কে নিয়ে বেনাপোল হয়ে ভারতে যাবেন তিনি। কিন্তু এসে শুনতে পান বাস ধর্মঘটের কথা। এখন কোথায় যাবেন, কী করবেন কিছুই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তিনি। একইভাবে অপেক্ষা করছেন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সবিতা রানীসহ আরও অনেকে। শুধু বাস নয়; বন্ধ রয়েছে মাইক্রোবাস চলাচলও। মাইক্রোবাস চালক মিজান বলেন, ভুরাঘাটা, মস্তফাপুর ও মাদারীপুরে বাসশ্রমিকেরা তাঁদের মাইক্রোবাস চালকদের পিটিয়ে আহত করেছেন। এ জন্য সকাল থেকেই মাইক্রোবাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন তাঁরা। নগরের রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডেও শত শত যাত্রীকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। খাইরুল ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, সকালে বরগুনার আমতলী যাওয়ার জন্য এখানে এসে শোনেন বাস ধর্মঘটের কথা। রূপাতলী থেকে সকাল ১০টার পর অভ্যন্তরীণ রুটেও বাস চলাচল বন্ধ করে দেন বাসশ্রমিক ও মালিকেরা। সকাল থেকেই বরগুনা থেকে দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ পথে বাস চলাচল বন্ধ অাছে। পরিবহনের টিকিট কাউন্টারগুলো বন্ধ ছিল।
বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া পীরের বার্ষিক মাহফিলে অংশ নিতে আসা কয়েক হাজার মুসল্লি দুর্ভোগে পড়েন। সাধারণ যাত্রীরাও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। দুপুরে বরগুনা বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছিলেন সাফিয়া বেগম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেতাগীতে অসুস্থ ভাইকে দেখতে যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছি। স্ট্যান্ডে এসে শুনি বাস চলাচল বন্ধ। এখন ব্যাগ আর দুই বাচ্চাকে নিয়ে বিপদে পড়েছি।’ জেলায় ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলো। ভোর ছয়টা থেকেই ধর্মঘট শুরু হয়। এতে মাদারীপুরের সব উপজেলায় বাস, ট্রাকসহ সকল চার চাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আকস্মিক ধর্মঘটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। বাসস্ট্যান্ডগুলোতে বাস না পেয়ে অনেকেই রিকশা, ইজিবাইক বা বিকল্প যানবাহনে করে গন্তব্যস্থলে যান। এ সুযোগে বাড়তি ভাড়া আদায় করেন রিকশা ও ইজিবাইকের চালকেরা। রফিকুল নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী বলে, ‘পরীক্ষা দিতে যাব; কিন্তু কোনো গাড়ি পাচ্ছি না। সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়া খুব জরুরি।’ ধর্মঘটের কারণে জেলার কৃষক ও সবজি ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। গতকাল মেহেরপুর-কুষ্টিয়া, মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়কে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার কোনো যান ছেড়ে যায়নি। মেহেরপুর শহরের আলুচাষি হারুন উর রশিদ বলেন, ধর্মঘটের কারণে আলু তোলার পর জমিতেই রাখতে হয়েছে। সেগুলো হিমাগারে পাঠানো যাচ্ছে না। মেহেরপুর কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবু হানিফ বলেন, মেহেরপুর থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের সবজি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়।

কিছু মানুষের উন্নতি দেশের উন্নয়ন নয়

দেশের মুষ্টিমেয় মানুষের উন্নতি আসল উন্নয়ন নয় এবং এর ফল কখনো ভালো হয় না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ডেনভারের অর্থনীতির শিক্ষক অধ্যাপক হায়দার আলী খান, যিনি একজন বাংলাদেশি। তাঁর কাছে উন্নয়ন মানে দেশের আপামর জনগণের উন্নয়ন, ঢাকার অভিজাত এলাকায় বসবাসকারী অভিজাত কিছু মানুষের উন্নতি নয়। প্রথম আলোর কার্যালয়ে অতিথি হিসেবে এসে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে হায়দার খান বলেন, শুধু মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ যদি ভালো থাকে, তার ফল ভবিষ্যতে মোটেই ভালো হবে না। যারা গুলশান-বনানীতে বাস করে, বিদেশে যায়, বিদেশে বাড়ি কেনে, বিদেশে ছেলেমেয়েদের পড়ায়; সেটা তাদের উন্নতি, দেশের উন্নয়ন নয়। হায়দার খান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। বাংলাদেশে এসে তিনি গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোর কার্যালয়ে আসেন। এ সময় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশ্বায়নের ভবিষ্যৎ, বাংলাদেশের অর্থনীতি, সুশাসন, বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের তরুণদের নিয়ে কথা বলেন তিনি। হায়দার আলী খানের পরিচয় অনেক। একাধারে তিনি অর্থনীতিবিদ, লেখক, কবিতার অনুবাদক। গান গাইতে পছন্দ করেন।
বর্তমানে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ইউনাইটেড ন্যাশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আঙ্কটাড) জ্যেষ্ঠ অর্থনীতি-বিষয়ক পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন। ছাত্রজীবনে তাঁর আগ্রহের বিষয় ছিল গণিত, পদার্থবিদ্যা ও সাহিত্য। যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটি থেকে পড়া শেষ করে তিনি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন সংস্থায় পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। জাপান, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। হায়দার আলী খানের আলোচনায় শুরুতে আসে বৈশ্বিক পরিস্থিতি। তিনি বলেন, বিশ্বায়ন কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। শুরুতে মনে করা হয়েছিল বাজার খুলে দিলে সব দেশ উন্নয়নের দিকে ধাবিত হবে, সবার উন্নতি হবে। তবে দেখা গেল, তা হয়নি। এ ছাড়া চীন ও ভারতের মতো কিছু দেশ সেভাবে বিশ্বায়নের দিকে যায়নি। তিনি বলেন, যেসব দেশে উন্নয়ন হয় তাও পুরোটা বিশ্বায়নের জন্য নয়, এর পেছনে ভালো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আছে। ইউরোপে গ্রিস, পর্তুগাল, ফ্রান্স, ইতালিসহ কিছু দেশ অন্যদের তুলনায় উন্নতি করতে পারেনি উল্লেখ করে হায়দার আলী খান বলেন, এসব দেশের মানুষকে আর বুঝিয়ে-সুজিয়ে রাখা যাচ্ছে না। তারা দেখছে তাদের উন্নতি হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তীব্র ডানপন্থীদের উত্থান হচ্ছে ঠিকই, কিছু শুভচিন্তাও থেমে নেই। তাই তিনি হতাশ নন। বাংলাদেশের উন্নয়নবাদিতা ও গণতন্ত্র নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন করা হয় হায়দার আলী খানকে। এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের সমস্যা বাংলাদেশকেই সমাধান করতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সাহেবদের এনে সমস্যার সমাধান হবে না, সাহেব যত ভালো মানুষই হোন না কেন। অনেক পয়সা খরচ করে বিদেশি বিশেষজ্ঞ এনে লাভ নেই। তারা বাংলাদেশ সম্পর্কে জানে না, জানার সুযোগও নেই। কারণ তারা ভাষা জানে না। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর দিকে তাকানো দরকার।
অনেক পরনির্ভরতার ভেতরেও উন্নতি করেছে। তারা স্নায়ুযুদ্ধে প্রথম সারির দেশ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের অনেক কথাই তাদের মেনে চলতে হয়েছে। তারা খুব চতুরতার সঙ্গে সুযোগটাকে ব্যবহার করেছে। অভ্যন্তরীণ নীতিতে শক্তিশালী ছিল। তবে তারা পুঁজিবাদী দেশ, রাজনৈতিক ক্ষমতা কখনোই জনগণের কাছে যায়নি। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণের দায়িত্ব পেলে কী কী সমস্যা সমাধানে জোর দিতেন—এ প্রশ্নের জবাবে অবকাঠামো, দক্ষতার ঘাটতি—এসব গতানুগতিক কথা বলেননি হায়দার আলী খান। তাঁর মতে, বাংলাদেশে দরকার ভূমির সুষম বণ্টন, যেখানে কৃষকেরা সমবায় ভিত্তিতে উৎপাদন করবেন। আরেকটি দরকার কারখানায় মালিক-শ্রমিক সমঝোতা। এ ক্ষেত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘটনা উল্লেখ করেন, যেখানে মার্কিন শ্রমিকনেতারা প্রেসিডেন্ট থিওডর রুজভেল্টের কাছে গিয়েছিলেন তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে। প্রেসিডেন্ট শ্রমিক নেতাদের বলেন, ‘দেন মেক মি ডু ইট’ (তাহলে আমাকে এটা করতে বাধ্য করাও)। হায়দার আলী খান বলেন, রুজভেল্ট মূলত শ্রমিকনেতাদের আন্দোলন করতে বলেছিলেন, যাতে সিদ্ধান্তগুলো নিতে তাঁর সুবিধা হয়। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এসে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, আওয়ামী লীগেও এমন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন লোক আছে। আলোচনা শেষ হয় মৃণাল সেনের নীল আকাশের নিচে নামের একটি চলচ্চিত্রে গৌরিপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা দুটি গান দিয়ে। হায়দার আলী খান নিজ গলায় এ গান দুটি শোনান। একটি হলো ‘নীল আকাশের নিচে’, অন্যটি ‘ও নদীরে, একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে’।

উৎসবের বদলে উৎকণ্ঠা

বোরো আবাদের মৌসুম। দিনে ও রাতে পালা করে সেচযন্ত্র দিয়ে খেতে পানি দিতে হয়। আবদুল আজিজ জ্বালানি তেল সংগ্রহে বাজারে এসে দেখলেন দোকানপাট বন্ধ। গত সোমবার দুপুরে ওই বাজারে এই প্রতিবেদককে আবদুল আজিজ বলেন, ‘খেতের কাম থাকি দুই বেলা বাজারে আইতাম। মানুষের মাতকথা চলত ইলেকশন নিয়া। প্রার্থীর ভালা-মন্দ টের পাইতাম বাজারও আইয়া।
বাজার বন্ধ, মানুষ অখন ইলেকশন নিয়া মাতামাতি করতে ভয়ের মইধ্যে আছে!’ শুধু আবদুল আজিজ নন,সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার প্রান্তসীমার বাংলাবাজার লাগোয়া দক্ষিণ ও উত্তর কালনীরচরসহ আশপাশের চারটি গ্রামের মানুষের মনে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। অথচ এই উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এখানে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। নদীর নাম কালনী। এপার দক্ষিণ কালনীচর। ওপার উত্তর কালনীচর। দক্ষিণ ভাগ পড়েছে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায়। উত্তর পুরোটাই সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর। ভৌগোলিক বিভাজন হলেও দুই এলাকার বাসিন্দাদের চলাফেরা ওসমানীনগর এলাকায়। দুই বসতি এলাকার একটিই বাজার। নাম বাংলাবাজার। গত রোববার এই বাজারে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে দুজন নিহত হওয়ার পর বদলে গেছে দৃশ্যপট। ঘটনার পর থেকে বাজার বন্ধ রাখা হয়েছে। সোমবার সকালে ও বিকেলে দুই দফায় বাংলাবাজার ঘুরে দুই শতাধিক দোকানপাট বন্ধ দেখা গেছে। বাংলাবাজার হাট পরিচালনায় গঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল গণির ‘পিংকি ভ্যারাইটিজ স্টোর’ নামের দোকানটিও বন্ধ রয়েছে। মুঠোফোনে তিনি বলেন, মানুষ আতঙ্কিত। ভোটের আগে আর এ অবস্থার পরিবর্তন হবে কি না, সংশয় প্রকাশ করেন আবদুল গণি। বাংলাবাজার হয়ে উত্তর কালনীরচর গ্রামে ঢোকার মুখে রয়েছে নদীতীরে আরও কয়েকটি দোকানপাট। সেখানে নয়টি দোকানের মধ্যে খোলা পাওয়া যায় মাত্র একটি। সোমবার ভরদুপুরে গ্রামের পথ ধরে এগোতেই নারীদের হাঁকডাক শোনা যায়। শত শত নারীর বোরোর জমিতে দৌড়ঝাঁপ চলল প্রায় ঘণ্টাখানেক। উত্তর কালনীচর গ্রাম থেকে যে রাস্তাটি ফসলি জমির মাঝ দিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলায় গিয়ে মিলিত হয়েছে, সে রাস্তার মুখে দাঁড়িয়ে মধ্যবয়সী তুলা মিয়া জানালেন, গত রোববারের ঘটনার পর থাকি তাঁরা এভাবেই দৌড়াচ্ছেন। কারণ, পুলিশের ধরপাকড়। ভোটের প্রসঙ্গ তুলতেই তুলা মিয়া বলেন,
‘এই ভোটাভুটিই তো আমরারে ভয়ের মাঝে ফেলল!’ সিলেটের নবগঠিত উপজেলা ওসমানীনগর। ২০১৫ সালের ১৩ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিয়োগের মধ্য দিয়ে ওসমানীনগর উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। গত ১ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এ উপজেলা পরিষদের প্রথম ভোট ৬ মার্চ। মোট ভোটার ১ লাখ ৩০ হাজার ৪৬০ জন। ভোটকেন্দ্র ৫২টি। বাংলাবাজার ও দক্ষিণ কালনীরচর গ্রামের ভোটাররা ভোট দেবেন সাদীপুরের রহমতপুর উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে। এই কেন্দ্রের সামনে কথা হয় বিভিন্ন বয়সী আটজন ভোটারের সঙ্গে। তাঁরা বলেন, ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় কোনো প্রার্থীর আর স্বাভাবিক প্রচারণা দেখা যাচ্ছে না। তাঁদের ভাষ্য, অন্তত দুই সহস্রাধিক লোক ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। গত রোববার চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মো. আতাউর রহমান এবং ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মো. আখতারুজ্জামান চৌধুরীর (জগলু চৌধুরী) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই দুজন ছাড়াও চেয়ারম্যান পদে বিএনপির ময়নুল হক চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির মো. শিব্বির আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে একমাত্র প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির মো. গয়াছ মিয়া। নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের মুক্তা পারভীন, বিএনপির মুছলিমা আক্তার চৌধুরী এবং স্বতন্ত্র হুছনা বেগম ও শারমিন আক্তার। ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবু লায়েশ বলেন, গত সোমবার নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে প্রার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতবিনিময় হয়। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হচ্ছে। সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের ব্যাপারে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে। সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনী পরিবেশের যাতে কোনোভাবে ক্ষতি না হয়, সে ব্যাপারে ওই ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো নজর রাখছে। তিনি মনে করেন, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত। দিন দিন আরও স্বাভাবিক হয়ে উঠলে ভোটের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।
বিদ্রোহী প্রার্থীর মতবিনিময়
‘আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে কালনীরচরে সংঘর্ষ ও দুই খুনের দায় আমার ওপর চাপানোর অপচেষ্টা হচ্ছে। একটি মহল আমার প্রার্থিতায় ভোটের আগেই ভীত হয়ে পড়েছে। উপজেলাবাসী এ ষড়যন্ত্রের জবাব অবশ্যই ভোটের মাধ্যমে দেবেন।’ সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আক্তারুজ্জামান চৌধুরী (জগলু চৌধুরী) গতকাল মঙ্গলবার ওসমানীনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ বক্তব্য দেন।

পরিবহন ধর্মঘটে মানুষের ভোগান্তি

সারা দেশে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে হঠাৎ করেই ধর্মঘট শুরু করেছেন পরিবহনশ্রমিকেরা। সকাল ছয়টা থেকে কর্মবিরতির নামে এ ধর্মঘট শুরু হয়। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন মালামাল ও যাত্রী পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে দূরপাল্লার যাত্রীসহ স্থানীয় যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়েন। ঢাকার সাভারে ট্রাক চাপা দিয়ে এক নারীকে হত্যার দায়ে সোমবার এক চালকের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আদালত।
এর প্রতিবাদে গতকাল সকাল থেকে এ ধর্মঘট চালু হয়। মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়ার প্রতিবাদে রোববার থেকে শুরু করে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় পরিবহন ধর্মঘট চালান শ্রমিকেরা। এর মধ্যেই গতকাল থেকে পরিবহনশ্রমিকেরা আবার নতুন কর্মসূচি শুরু করেছেন। নতুন করে আবার দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, ময়মনসিংহ শহরের পাটগুদাম আন্তজেলা বাস টার্মিনাল ও মাসকান্দা বাস টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। পাটগুদাম এলাকায় পরিবহন শ্রমিকেরা অবস্থান নিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচলে বাধা দেন। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ময়মনসিংহ সদর উপজেলার শিকারীকান্দা ও চুরখাই বাজারে শ্রমিকেরা পণ্যবাহী ট্রাক আটকে দেন। এতে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। চুরখাই বাজারে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা টায়ারে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইল চৌরাস্তা, নান্দাইল বাসস্ট্যান্ড ও কানুরামপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই লাঠি হাতে শ্রমিকেরা অবস্থান নিয়ে সব ধরনের যানবাহন আটকাচ্ছেন। চারজন পথচারী বলেন, সকালে একাধিক যাত্রীবাহী বাস চলাচল করছে। তবে বেলা ১১টার দিকে নান্দাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কের ওপর আড়াআড়ি কয়েকটি বেঞ্চ ফেলে রাখায় বাস চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
এমনকি মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, এমনকি ইজিবাইক চলাচলে বাধা দিচ্ছেন একদল শ্রমিক। কানুরামপুর এলাকার শ্রমিকনেতা মো. শাহজাহান বলেন, জেলা থেকে শ্রমিকনেতাদের নির্দেশ পেয়ে নান্দাইলের শ্রমিকেরা ধর্মঘটে যোগ দিয়েছেন। জেলা শহরের গৌরীপুরে পৌর বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটের বাসগুলো সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। টার্মিনালে কয়েকজন যাত্রী থাকলেও ধর্মঘটের কারণে তাঁরা কোথাও যেতে পারছেন না। শেরপুরের শ্রীবরদী এলাকার জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঢাকার প্রতিষ্ঠানে তিনি কাজ করেন। কয়েক দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন। কীভাবে ঢাকায় যাবেন, এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। শেরপুরের নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, শেরপুর জেলা থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে বাস। তাই বাস ধর্মঘটের কারণে যাত্রীরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। ধর্মঘটের কারণে চাঁদপুর থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেটসহ অন্তত ২০টি রুটে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ আছে। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, ধর্মঘটের কারণে সড়কপথের যাত্রীদের কিছুটা সমস্যা হলেও চাঁদপুর থেকে রেলপথ ও নৌপথে চলাচলের সুবিধা থাকায় যাত্রীদের তেমন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে না। ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে লক্ষ্মীপুর-রায়পুর, লক্ষ্মীপুর-রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর-রামগতি ও লক্ষ্মীপুর-চৌমুহনী সড়কে বাস ও মিনিবাস চলাচল বন্ধ ছিল। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম, ভোলা-বরিশাল, খুলনাসহ সব দূরপাল্লার যানকে রাস্তায় নামতে দেখা যায়নি। বগুড়ায় গতকাল ভোর থেকে লাঠি হাতে সড়ক-মহাসড়কে অবস্থান নেন পরিবহনশ্রমিকেরা। রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, সংবাদপত্রবাহী গাড়ি চলাচলেও বাধা দেন তাঁরা।
ধর্মঘটি শ্রমিকদের বাধায় আটকা পড়ে সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী কয়েক শ দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক। এতে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয় যাত্রীদের। কোনো কোনো বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয়। অনেকেই হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন। রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হয়ে ধর্মঘটি শ্রমিকদের মারধরের শিকার হন অনেক চালক। সকাল ১০টায় নগরের আশ্রাফপুর বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সব বাস জড়ো করে রাখা হয়েছে। টার্মিনাল থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরুড়া, নাঙ্গলকোট রুটে বাস চলাচল করে। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে দূরপাল্লার ও আন্তউপজেলার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। অন্যদিকে শাসনগাছা বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকা, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুটি, নবীনগর, হোমনা, কচুয়া, দাউদকান্দি রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকে। এ ছাড়া চকবাজার বাসস্ট্যান্ডে চট্টগ্রাম, চৌদ্দগ্রাম ও ফেনীতে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকালে সিলেটের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ। তবে যাত্রীরা বাসের অপেক্ষায় আছেন। এ সময় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের প্রবেশমুখসহ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হুমায়ুন রশিদ চত্বর ও সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের তেমুখী, কুমারগাঁও বাসস্টেশনসহ নগরের মধ্যে পরিবহন সংগঠনের সদস্যদের পিকেটিং করতে দেখা যায়। সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করলেও সেগুলো থেকে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জরুরি কাজে প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে মহাসড়কে চলতে গিয়ে বাধার মুখে ফিরে এসেছেন অনেকেই। দুপুরের দিকে কুমারগাঁও এলাকায় ‘রোগী’ লেখা গাড়ি চলাচলেও বাধা দেওয়া হয়। সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সিলেট বিভাগের সভাপতি সেলিম আহমেদ বলেন, ‘আমাদের শ্রমিকেরা কোনো পিকেটিং করছে না। স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মঘট পালিত হচ্ছে।’
দুপুরে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালি এলাকার বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি বাস দাঁড়িয়ে আছে। সিলেটসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে যেতে যাত্রীদের ভিড়। কিন্তু কোনো বাস ছাড়ছে না। কেউ কেউ সকাল থেকে বসে আছেন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম বলেন, সিলেটে বেলা তিনটার দিকে একটি নিয়োগ পরীক্ষায় তাঁর থাকার কথা। কিন্তু সকালে এসে দেখেন, বাস চলাচল বন্ধ। সদর উপজেলার নায়ায়ণতলা গ্রামের পূর্ণিমা হাজং বলেন, ‘আমরা এক পরিবারের নারী-পুরুষ মিলে সাতজন সিলেটে যাব। ধর্মঘটের কথা জানি না। এসে শুনি বাস চলবে না। অথচ সিলেটে যাওয়া আমাদের জন্য জরুরি।’ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল হাই বলেন, ‘সিলেট থেকে বাড়িতে কয়েকজন আত্মীয় বেড়াতে এসেছিলেন। সকালে তাদের গাড়িতে তুলে দিতে এসে শুনি পরিবহন ধর্মঘট চলছে। ঘণ্টা দুয়েক অপেক্ষা করলাম। এখন বুঝতে পারছি, বাস ছাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই সবাইকে নিয়ে আবার বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।’ (প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা ও সিলেট, ময়মনসিংহ ও সুনামগঞ্জ অফিস এবং চাঁদপুর, বগুড়া ও শেরপুর প্রতিনিধি)

রাজবাড়ীতে মেহগনি বাগানে দুর্বৃত্তের আগুন

রাজবাড়ী সদর উপজেলার চর খানখানাপুর এলাকার একটি মেহগনি বাগানে গত সোমবার রাতে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাগানের প্রায় ৪০টি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জমির মালিক মোতাহার হোসেন বলেন, প্রায় সাত বছর আগে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের পশ্চিম পাশে প্রায় পাঁচ শতক জমির ওপর তিনি ২০০ মেহগনির চারা রোপণ করে একটি বাগান করেন। গাছগুলো মোটামুটি বড় হয়ে উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় লোক মারফত জানতে পারেন তাঁর বাগানে আগুন দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান। পরে খানখানাপুর হাইওয়ে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে বিষয়টি জানান। মোতাহার হোসেনের ভাষ্য,
সোমবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুষ্কৃতকারীরা বাগানটি ধ্বংস করে দিতেই আগুন দিয়েছে। পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গতকাল বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বাগানের ঘাস ও গাছ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, ছাই পড়ে আছে। প্রায় ৩৭টি ছোট-বড় মেহগনি গাছের গোড়া আগুনে পুড়ে গেছে। শজনেসহ কয়েকটি গাছের গোড়া অর্ধেক পোড়া। একটি মেহগনি গাছের গোড়ায় প্লাস্টিকের বোতলে পেট্রলজাতীয় পদার্থ দেখা যায়। খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান গতকাল বিকেলে বলেন, ‘এ ধরনের সংবাদ আমার জানা নেই। যদি কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেন, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’