Friday, June 6, 2025
গ্যাংস্টারদের দিয়ে ফিলিস্তিনিদের দমন, নেতানিয়াহুর স্বীকারোক্তি
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের পরামর্শে গাজার ভেতরে হামাসের বিরুদ্ধে আমরা কিছু স্থানীয় গোত্র ও পরিবারের সদস্যদের সক্রিয় করেছি। তবে তিনি স্বীকার করেননি যে এদের অনেকেই সশস্ত্র গ্যাং এবং ত্রাণবাহী ট্রাক লুটের সঙ্গে জড়িত।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ এবং টাইমস অব ইসরায়েলের পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে একটি ইসলামিক স্টেট (আইএস)-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র চক্রও রয়েছে, যাদের ইসরায়েল সরাসরি অস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে। গোষ্ঠীটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন দক্ষিণ গাজার এক প্রভাবশালী গোত্রের সদস্য ইয়াসের আবু শাবাব।
টাইমস অব ইসরায়েলের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এই গ্যাংকে ইসরায়েল যেসব অস্ত্র সরবরাহ করেছে, তার মধ্যে হামাসের কাছ থেকে জব্দ করা অস্ত্রও রয়েছে। গোষ্ঠীটি বর্তমানে রাফাহ অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে।
হামাস সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায় এই গ্যাং সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে তারা। বিষয়টি সামনে আসতেই সমালোচনার মুখে পড়েছে নেতানিয়াহুর প্রশাসন।
সাবেক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা অ্যাভিগডর লিবারম্যান বলেন, যেভাবে একসময় পিএলও-কে ঠেকাতে হামাসকে অর্থায়ন করেছিল ইসরায়েল, এখন ঠিক একইভাবে হামাসকে মোকাবিলায় আরেকটি সশস্ত্র বাহিনী তৈরি করছে নেতানিয়াহু সরকার।
নেতানিয়াহুর এই স্বীকারোক্তির দিনেই ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় আরও অন্তত ৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই নতুন কৌশল শুধু সংঘাতই বাড়াবে, শান্তি নয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনি সমাজে গৃহযুদ্ধ উসকে দিতে পারে এবং মানবিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
![]() |
| বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: এএফপি ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মিথ্যা যেখানে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র by জামাল কানজ
এই মিথ্যাচার শুধু ইসরায়েল একা করে না। পশ্চিমা দেশগুলো অনেক সময় তাকে সহযোগিতা করে। আর বিশ্ব গণমাধ্যম ইসরায়েলি মিথ্যা ভাষ্য নির্দ্বিধায় ছাপিয়ে দেয়। ফলে এসব মিথ্যা একসময় ‘সত্য’ হিসেবে জায়গা করে নেয়।
গাজায় খাবার বিতরণকেন্দ্রে সম্প্রতি যা ঘটেছে, তা এই মিথ্যাচার ও বর্বরতার আরেকটি ভয়াবহ উদাহরণ। ১ জুন ভোরে রাফা শহরে খাবার সংগ্রহের লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। ইসরায়েল সঙ্গে সঙ্গে এর দায় অস্বীকার করে বলে, তারা কোনো গুলির খবর জানে না।
কিন্তু যেসব মানুষ সেখান থেকে বেঁচে ফিরেছেন; যেসব মানবিক সংগঠন সেদিন সেখানে কাজ করছিল এবং যেসব চিকিৎসক সেখানকার আহত মানুষদের চিকিৎসা দিয়েছেন, তাঁরা সবাই বলেছেন, ঘটনাটি ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার কারণেই ঘটেছে।
ইসরায়েলের এই অস্বীকারকে সরাসরি সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন রাষ্ট্রদূত এটিকে ‘ভুয়া সংবাদ’বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। অবশ্য এটি নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০২৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি আটা নিতে আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালিয়েছিল ইসরায়েলি সেনারা। সে ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন ১১২ জন। আহত হয়েছিলেন ৭৬০ জনের বেশি। তখনো ইসরায়েল বলেছিল যে মানুষ হুড়োহুড়ি করে চাপা পড়ে মারা গেছে। অথচ ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, সেনারাই গুলি চালাচ্ছিল।
গাজায় এখন শুধু খাবার সংগ্রহই নয়, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক, এমনকি শিশুদেরও নিশানা বানাচ্ছে ইসরায়েল। সম্প্রতি তারা এক চিকিৎসক দম্পতির বাড়িতে হামলা চালায়। তাতে তাঁদের ১০ সন্তানের মধ্যে ৯ জনই মারা যায়। তাঁদের একমাত্র জীবিত শিশুপুত্র আদমের অবস্থাও সংকটাপন্ন।
একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে খান ইউনিসে। ইসরায়েল বলেছে, তারা ‘সন্দেহভাজনদের’ ওপর হামলা করেছে। অথচ সেই হামলায় নিহত হন আটজন চিকিৎসাকর্মী, ছয়জন বেসামরিক নিরাপত্তাকর্মী এবং একজন জাতিসংঘ কর্মী। পরে মরদেহগুলো বালুর নিচে পুঁতে ফেলা হয়।
ইসরায়েলের দিক থেকে বলা হয়েছিল, একটি অ্যাম্বুলেন্সকে সন্ত্রাসীদের বহনকারী গাড়ি মনে করে হামলা চালানো হয়েছিল। কিন্তু ভিডিও থেকে সে দাবিও মিথ্যা প্রমাণিত হয়। প্রতিবারের মতো তখনো ইসরায়েল ‘ভুল হয়ে গেছে’, ‘দুঃখজনক সিদ্ধান্ত’, ‘তদন্ত হচ্ছে’ ইত্যাদি বলে ঘটনার দায় এড়িয়ে গেছে। জীবন ধ্বংস করার পর এ কেমন দায়মুক্তি?
২০২৪ সালের এপ্রিলে ইসরায়েল সাতজন মানবিক ত্রাণকর্মীকে হত্যা করেছিল। প্রথমে যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, তারা ‘ইচ্ছাকৃত’ হত্যার প্রমাণ পায়নি। এভাবে গণহত্যা একটি নীরব সরকারি বিবৃতির পাদটীকায় নেমে আসে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজার আল-আহলি আরব হাসপাতালে বিস্ফোরণে প্রায় ৫০০ জন নিহত হন। ইসরায়েল সঙ্গে সঙ্গে এটিকে ‘ফিলিস্তিনিদের রকেটের ভুল’ বলে অস্বীকার করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন তেলআবিবে গিয়ে সেই কথারই পুনরাবৃত্তি করেন। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে তোলা বহু ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ও স্বাধীন প্রতিবেদন ভিন্ন কথা বলে।
আরও আগে ২০২২ সালে ফিলিস্তিনি-আমেরিকান সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ইসরায়েল প্রথমে বলেছিল, শিরিন ‘ফিলিস্তিনিদের গুলিতে’ মারা গেছেন। ভিডিও দিয়ে তারা তাদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। পরে শিরিনকে ইসরায়েলি সেনাদের হত্যা করার এত শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া যায় যে ইসরায়েল ‘ভুল হয়েছে’ বলতে বাধ্য হয়।
শিরিনকে হত্যা করা ইসরায়েলি সেনার বিচার তো হয়ইনি; বরং তিনি ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পান এবং নির্ভয়ে অভিযান চালাতে থাকেন। পরে খবর অবশ্য পাওয়া যায় যে তিনি জেনিনে লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন।
আসলে এই যুদ্ধে গাজার শিশুদের মতো সত্যও মরে যাচ্ছে। সত্যকে যাদের রক্ষা করার কথা, সেসব গণমাধ্যম ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের অনেকেই এখন ইসরায়েলের মিথ্যাচারের মুখপত্রে পরিণত হয়েছে।
গাজার মানুষ শুধু গুলি ও বোমায় মারা যাচ্ছেন না, তাঁরা মুছে যাচ্ছেন আমাদের স্মৃতি থেকে, আমাদের খবর থেকে, এমনকি আমাদের বিবেক থেকেও। যতক্ষণ না বিশ্ব (বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো) ফিলিস্তিনিদের জীবনকে ইসরায়েলি ‘মিথ্যা বয়ানের’ চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাববে, ততক্ষণ এই রক্তক্ষয়ী নাটক চলতেই থাকবে।
ইসরায়েল শুধু যুদ্ধাপরাধ করছে না, এই অপরাধ ঢাকতে তারা ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা বলছে। আর বাকি বিশ্ব তা চুপচাপ সহ্য করছে। এই দায়মুক্তি শুধু সামরিক নয়, এটি নৈতিক, রাজনৈতিক এবং তথ্যগত দায়মুক্তি। মিথ্যা বলাকে তারা একটা শিল্পে পরিণত করেছে। এর শিকড় জায়নবাদী ভাবনার শুরু থেকে ছড়িয়ে রয়েছে।
পশ্চিমা বিশ্ব এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম এই মিথ্যাচারকে স্বাভাবিক করে তুলেছে। তারা গাজায় অবরোধ, অনাহার ও গণহত্যাকে মেনে নিয়েছে। ইসরায়েল বারবার মিথ্যা বলছে। কারণ, তারা জানে, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমারা কেবল তা সহ্যই করবে না; বরং পৃষ্ঠপোষকতা দেবে।
এই ব্যবস্থা শুধু নীরব সহমত নয়; এটি কার্যত ইসরায়েলের অপরাধের অংশীদার। তারা চায় না সত্য প্রকাশ পাক। কারণ, একবার যদি সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে নৈতিক জবাবদিহি, আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকারের মূল্যবোধ—সবকিছুর সামনে তাদের নিজেদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
আর যত দিন এই বৈশ্বিক কাঠামো মিথ্যার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে থাকবে, তত দিন ইসরায়েলের রক্তাক্ত মঞ্চে মৃত্যুর প্রদর্শনী চলতেই থাকবে।
* জামাল কানজ একজন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান লেখক, প্রকৌশলী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
- মিডল ইস্ট মনিটর থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে অনূদিত
![]() |
| ত্রাণ বিতরণের মধ্যেও গাজাবাসীর ওপর হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মোদিকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর কথা মনে করিয়ে দিলেন ওমর আবদুল্লাহ্
ওমর অবশ্য বলেন, তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, খুব বেশি অপেক্ষায় থাকতে হবে না। প্রধানমন্ত্রী জম্মু-কাশ্মীরকে নিশ্চিতই আবার পূর্ণ রাজ্য করে দেবেন।
পেহেলগাম–কাণ্ড ও অপারেশন সিঁদুরের পর আজ শুক্রবার প্রথম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জম্মু-কাশ্মীর সফরে যান। দুপুর ১২টায় কাশ্মীরে চন্দ্রভাগা নদীর ওপর বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলসেতুর উদ্বোধন করেন, যার উচ্চতা প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের চেয়েও বেশি। এরপর তিনি যান জম্মুর কাটরায়। উদ্বোধন করেন দুটি ‘বন্দে ভারত’ ট্রেন। তারপর কাটরায় এক প্রকাশ্য জনসভায় ভাষণ দেন। সেই জনসভাতেই নিজের ভাষণের সময় ওমর আবদুল্লাহ কায়দা করে মোদিকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফেরত পাওয়ার কথাটি মনে করিয়ে দেন।
মঞ্চে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী মোদি, উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে ওমর বলেন, তাঁর সৌভাগ্য এমন যে যখনই জম্মু-কাশ্মীরে রেলওয়ের কোনো বড় প্রকল্পের শিলান্যাস বা উদ্বোধন হয়েছে, তিনি তার সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন। অনন্তনাগ রেলস্টেশন চালু হওয়া, বানিহাল রেল টানেলের (সুড়ঙ্গ) উদ্বোধন কিংবা ২০১৪ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে যখন প্রধানমন্ত্রী কাটরা রেলস্টেশনের উদ্বোধন করেন, প্রতিবারই তিনি হাজির ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। ওমর এরপর প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি যখন কাটরা রেলস্টেশন উদ্বোধন করেন, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন জিতেন্দ্র সিং। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের মন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন আজকের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা। তখন তিনি ছিলেন রেল মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। বৈষ্ণব দেবীর কৃপায় তার পর আপনি আরও দুবার ভোটে জিতে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। মনোজ সিনহারও পদোন্নতি ঘটেছে। হয়েছেন উপরাজ্যপাল। কিন্তু আমার ডিমোশন হয়েছে। তখন আমি ছিলাম পূর্ণ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, এখন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু আমার স্থির বিশ্বাস, অচিরেই রাজ্য তার হৃত মর্যাদা ফিরে পাবে।’
২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য ভেঙে তৈরি করা হয় দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ। কেন্দ্রীয় সরকার যদিও শুরু থেকেই জানিয়েছে, এটা সাময়িক। পরিস্থিতির উন্নতি হলে দ্রুত রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তা কবে হবে কেউ জানে না। যেমন কারও জানা নেই পরিস্থিতির উন্নতির সংজ্ঞা কী।
| ওমর আবদুল্লাহ। ছবি: এএনআই |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পশু কুরবানি আত্মকুরবানির প্রতীক by মোহাম্মদ আবু নোমান

সাহাবিগণ রাসূলুল্লাহকে (স) জিজ্ঞাসা করেন, ‘এই কুরবানি কী?’ তিনি বললেন, ‘তোমাদের পিতা ইব্রাহিমের সুন্নাত’। -ইবনে মাজা। মেহেরবান আল্লাহ মুসলমানদের জন্য বছরে দুটি শ্রেষ্ঠ খুশির দিন উপহার দিয়েছেন। একটি ঈদুল ফিতর, অপরটি ঈদুল আযহা। দুই ঈদেরই রয়েছে দুই রকম বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও তাৎপর্য। ঈদুল আযহা বা কুরবানির ঈদ আসে ত্যাগের মহিমা নিয়ে। আরবি ‘আজহা’ এবং ‘কুরবান’ উভয় শব্দের অর্থ- উৎসর্গ। ‘কুরব্’ ধাতু থেকে কুরবানি শব্দটির উৎপত্তি। এর অর্থ আত্মত্যাগ, উৎসর্গ বা বিসর্জন, নৈকট্য বা অতিশয় নিকটবর্তী হওয়া ইত্যাদি। ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ বিশ্ব মুসলিম মননে আত্মত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের দৃঢ়প্রত্যয় গ্রহণের তাগিদ সঞ্চারিত করে।
ইসলামের পরিভাষায় কুরবানি বলা হয় ঐ নির্দিষ্ট পশুকে যা একমাত্র আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহর নামে জবাই করা হয়। কুরবানি দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি হাসিল করা যায় বলে এমন নামকরণ। কুরবানির বিধান যুগে যুগে সব শরিয়তেই বিদ্যমান ছিল। মানব সভ্যতার সুদীর্ঘ ইতিহাসে প্রমাণিত যে, পৃথিবীর সব জাতি ও সম্প্রদায় কোনো না কোনোভাবে আল্লাহর দরবারে তার প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করতেন। উদ্দেশ্য একটাই- আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কুরবানির এক বিশেষ রীতি পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছি, যেন তারা ওই সব পশুর ওপর আল্লাহর নাম নিতে পারে, যা আল্লাহ তাদেরকে দান করেছেন।’ -হজ্জ : ৩৪।
কুরবানির শুরু হয়েছিল আদম (আ)-এর দুই ছেলে হাবিল ও কাবিলের মধ্যে সংঘটিত কুরবানির মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে রাসূল! আপনি তাদেরকে আদমের পুত্রদ্বয়ের বৃত্তান্ত যথাযথভাবে পাঠ করে শুনান। যখন তারা উভয়েই কুরবানি করেছিল, তখন একজনের কুরবানি কবুল হ’ল এবং অন্যজনের কুরবানি কবুল হ’ল না। সে (কাবিল) বলল, আমি তোমাকে অবশ্যই হত্যা করব। অপরজন (হাবিল) বলল, অবশ্যই আল্লাহ মুত্তাকিদের কুরবানি কবুল করেন। সে (হাবিল) বলল, যদি তুমি আমাকে হত্যা কর আমার দিকে হস্ত প্রসারিত কর, তবুও আমি তোমাকে হত্যা করতে তোমার প্রতি হস্ত প্রসারিত করব না। কেননা আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।’ -মায়েদা : আয়াত ২৭-২৮। এ হলো কুরবানি কবুল হওয়া ব্যক্তির ভাবাবেগ ও মানসিকতা। কেননা কুরবানি তাকওয়াবান লোকদের আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অনন্য নিদর্শন।
বর্তমান মুসলিম মিল্লাতের এই কুরবান বা উৎসর্গের রয়েছে অর্থবহ এক ঐতিহাসিক পটভূমি। ইব্রাহিম (আ) আল্লাহর সন্তুষ্টির পরীক্ষায় ইসমাইল (আ)কে কুরবানির স্মৃতিময় ঘটনা নিজেদের মধ্যে বিরাজমান করা। ইব্রাহিম (আ) স্বপ্নে তার সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কুরবানি দেওয়ার জন্য আদিষ্ট হন। এজন্য তিনদিনে দৈনিক ১০০ করে মোট ৩০০ উট কুরবানি করলেন; কিন্তু তা আল্লাহর দরবারে কবুল হলো না। বারবারই স্বপ্নে আদেশ করা হলো, ‘তোমার প্রিয় বস্তু কুরবানি করো।’ ঈমানের কঠিন পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত ইব্রাহিম (আ) উত্তীর্ণ হন।
ইব্রাহিম (আ.) ইসমাঈলকে স্বপ্নের কথা অবগত করে তার থেকে জবেহের পরামর্শ চাইলেন। বললেন অতএব তুুমি ভেবে দেখ তোমার অভিমত কি? এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহতাআলা ঘোষণা করেন, ‘হে ছেলে! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে জবেহ করছি। এ বিষয়ে তোমার অভিমত কি? সে (হজরত ইসমাইল (আ) বলল, ‘পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, আপনি তা পালন করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন।’ -সাফফাত : ১০২।
প্রাণপ্রিয় পুত্র ইসমাঈল (আ) বললেন, আব্বাজান! ইহ জগৎ থেকে চিরবিদায় নেওয়ার পূর্ব মুহূর্তে আপনি আমার এই প্রার্থনাগুলো মনজুর করুন। ১. আপনি ছুরি খুব ধারালো করে নিন। আর আমার হাত পা শক্ত করে বেঁধে ফেলুন। যেন আমার অনিচ্ছাকৃত লাফা-লাফিতে আমার রক্তের ছিটা আপনার কাপড়কে নাপাক না করে। ২. আমাকে মাটির দিকে মুখ করিয়ে শোয়ায়ে দিন, যেন জবেহ করার সময় আমার চেহারা আপনি না দেখেন, যা জবেহ থেকে বাধা দিবে। ৩. আমার রক্ত মিশ্রিত জামা-কাপড় নিয়ে আম্মাজানকে দিবেন। তাহলে আমার আম্মা পুত্রের বিচ্ছেদের যন্ত্রনা লাঘব করতে পারবেন। এক রেওয়ায়েতে আছে যে, ইসমাঈল (আ) জবেহ করার খবর তার আম্মাকে না দিতে বলেছিলেন।
পরম সত্যের প্রবল আকর্ষণে ইব্রাহিম (আ) আল্লাহর নির্দেশিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন করে প্রাণপ্রিয় পুত্র ইসমাঈল (আ)কে কুরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। মুহূর্তে আশ্চর্যজনকভাবে আল্লাহর নির্দেশে ইসমাঈল (আ) সম্পূর্ণ নিরাপদে সংরক্ষিত হলেন এবং সৃষ্টিকর্তার অসীম কুদরতে তদস্থলে পুত্রের বিনিময়ে বেহেশত থেকে আনীত কুরবানিকৃত দুম্বা উৎসর্গীত হলো।
এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন, ‘যখন তারা (পিতা-পুত্র) উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করলো এবং ইব্রাহিম তার পুত্রকে (যবেহ করার জন্য) কাত করে শায়িত করলো, তখন আমি তাকে আহবান করে বললাম, ‘হে ইব্রাহিম! তুমি তো স্বপ্নাদেশ সত্যই পালন করলে!’ এভাবেই আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি। নিশ্চয়ই এটা ছিল এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তাকে (ইসমাঈল) মুক্ত করলাম এক মহান কুরবানির বিনিময়ে।’ -সাফফাত : ১০৩-১০৭।
আল্লাহর প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে যারা হালাল পশু কুরবানি করবেন, তাদের পুণ্যের আধিক্য সম্পর্কে নবী করিম (স) বলেছেন, ‘আদম সন্তান কুরবানির দিন যেসব নেকির কাজ করে থাকে তন্মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হলো কুরবানি করা। কিয়ামতের দিন কুরবানির পশু তার শিং, পশম ও খুরসহ উপস্থিত হবে এবং কুরবানির রক্ত জমিনে পড়ার পূর্বেই তা আল্লাহর কাছে কবুল হয়ে যায়। অতএব, তোমরা এ পুরস্কারে আন্তরিকভাবে খুশি হও।’ -তিরমিযি, ইবনে মাজা ও মিশকাত।
কুরবানির পর গোস্তের একটা অংশ চলে যায় আপনজনের মধ্যে যারা কুরবানি দিতে পারেননি তাদের ও গরিবের ঘরে। তার মানে কুরবানি ঈদে প্রত্যেকের ঘরে ঘরেই পৌঁছে যায় গোস্তের ভাগ। কুরবানির ঈদের সবচেয়ে ভালো দিকটি হলো সবার ঘরে গোস্ত পৌঁছে দেওয়ার এই সাম্যের ধারণ। এর চেয়ে চমৎকার আর কী হতে পারে? অনেক মানুষ আছেন, যারা বছরের মধ্যে কুরবানি উপলক্ষেই পরিতৃপ্তিসহকারে একটু গোস্ত খেতে পারেন। এই সবার ঘরে ঘরে আনন্দ পৌঁছে দেওয়াটাই কুরবানির ঈদের মূল চেতনা। ত্যাগেও যে পাওয়ার আনন্দ আছে, ঈদুল আজহা আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেটাই।
কুরবানির দ্বারা মুসলমানেরা ঘোষণা করে, তাদের কাছে আপন জানমাল অপেক্ষা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মূল্য অনেক বেশি। সুতরাং কেউ যেন ঈদুল আজহার ত্যাগের মহান আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত না হয়। আল্লাহর কাছে কুরবানিকৃত পশুর রক্ত, গোস্ত, হাড় ইত্যাদি পৌঁছায় না, পৌঁছায় কেবল কুরবানিদাতার আন্তরিকতা, বিশুদ্ধ নিয়ত ও আল্লাহভীতি। এরদ্বারা আল্লাহ মানুষের অন্তরকে যাচাই করেন। কুরবানির মহান শিক্ষা হচ্ছে তাকওয়া অর্জন করা ও অন্তরের পবিত্রতা লাভ এবং সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের হিংসা-বিদ্বেষ ও মনোমালিন্য থেকে মুক্ত থাকা। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না তাদের গোশত এবং রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই তিনি এদেরকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।’ -হজ্জ : ৩৭।
‘ত্যাগ’ ছাড়া ঈদুল আজহার আরেকটি বড় শিক্ষা হল আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়া। কুরবানির গোশত গরিব আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশী, মিসকিন, দ্বীন-দুঃখী, হতদরিদ্রসহ যত বেশি অভাবী মানুষকে অকাতরে বিলিয়ে দেওয়া যায় ততই উত্তম। এটা তাদের হক বা অধিকার। কুরবানি করে সব ফ্রিজে জমা রেখে সপরিবারে গোশত খাওয়া যেন ধনীদের মনকে পেয়ে না বসে। মানুষের মনের মধ্যে যে পশুশক্তি সুপ্ত বা জাগ্রত অবস্থায় বিরাজমান তা অবশ্যই কুরবান করতে হবে। কেননা কুরবানির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা, পশু কুরবানি হচ্ছে আত্মকুরবানির প্রতীক মাত্র।
কুরবানির দিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধনী-গরিব নির্বিশেষে এক কাতারে নামাজ আদায়, কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর কুরবানি করা হয়। এদিনে অশ্রুসিক্ত হয়ে অনেকেই যান কবরস্থানে, বাবা-মাসহ প্রিয়জনদের রুহের মাগফিরাত কামনায়।
পশু কুরবানির মাধ্যমে আমাদের মাঝে বিরাজমান যাবতীয় পশুত্ব তথা মির্মমতা, ক্রোধ, হানাহানি, লোভ, পরশ্রীকাতরতা, সকল অশুভ ইচ্ছে ও কু-বাসনার কুরবানি হোক, সকল কু-রিপুর কুরবানি হোক। মানবতাবোধে উজ্জীবিত হওয়ার শিক্ষাই হলো কুরবানির মহান শিক্ষা। সত্য সুন্দর আর পবিত্রতায় সকল কু-রিপুকে কুরবানি করে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হোক এই কামনা মহান করুনাময় মেহেরবান আল্লাহর পাকের দরবারে। আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে লোক দেখানোর জন্য কুরবানি নয় বরং পশুকে জবাইয়ের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে মনের পশু ও আমিত্বকে জবাই করার তাওফিক দান করুন। কুরবানির মাধ্যমে নিজেকে তাকওয়াবান হিসেবে তৈরি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
abunoman1972@gmail.com
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হজের খুতবায় ফিলিস্তিনিদের জন্য আবেগী দোয়া
বৃহস্পতিবার (০৫ জুন) ইনসাইড দ্য হারামাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দোয়ায় শায়েখ হুমাইদ বলেন, হে আল্লাহ তুমি পূর্ব ও পশ্চিমের মুসলমানদের সংশোধন করে দাও। তাদের মধ্যে ভালোবাসা বাড়িয়ে দাও, তাদের সম্পর্ককে আরও মজবুত করে দাও। হে আল্লাহ তুমি ফিলিস্তিনের ভাইবোনদের হেফাজত করো। ক্ষুধার্তদের খাবার দাও এবং আশ্রয়হীনদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করো।
তিনি বলেন, আল্লাহ তুমি ফিলিস্তিনিদের শত্রুদের থেকে রক্ষা করো এবং তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করো।
খুতবায় তিনি আরও বলেন, ঈমানদারদের উচিত আল্লাহকে ভয় করা এবং তাকওয়া অবলম্বন করা। তাকওয়া ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য। আর শয়তান মুসলমানদের প্রকাশ্য শত্রু। মুসলমানদের উচিত পরস্পরের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখা।
শায়খ সালেহ বিন হুমাইদ বলেন, আল্লাহ তায়ালা ইসলামকে মানবজাতির জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করেছেন। যদি তুমি তোমার শত্রুকে ক্ষমা করো, তাহলে আল্লাহ তোমাকে তার বন্ধু বানিয়ে নেবেন।
তিনি বলেন, ইসলামে ধর্মের তিনটি স্তর রয়েছে। এর সর্বোচ্চ হলো ইহসান। এছাড়া পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার, নম্রতা প্রদর্শন এবং প্রতিশ্রুতি পূরণ করা ইসলামের অংশ। আর লজ্জা ইমানের একটি শাখা।
ড. হুমাইদ বলেন, হজের সময় বেশি বেশি আল্লহর জিকির করা উচিত। বেশি বেশি দোয়া এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ প্রার্থনা করা উচিত। আল্লাহ বলেন, তোমরা ভালো কাজে সাহায্য করো আর মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকো।
![]() |
| নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন ফিলিস্তিনিরা ও ইনসেটে খুতবা দিচ্ছেন ড. হুমাইদ । ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় গণহত্যায় যুক্তরাজ্য যেভাবে মদদ দিচ্ছে by জেরেমি করবিন
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা থামানো সম্ভব হয়নি। ২০১৬ সালে চিলকট তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। আমি তখন লেবার পার্টির নেতা ছিলাম। রিপোর্টে ব্রিটিশ সরকারের ভেতরকার ভয়াবহ ভুলের প্রমাণ পাওয়া যায়। সে সময় আমি পার্লামেন্টে চিলকট তদন্তের প্রতিক্রিয়ায় বক্তব্য দিয়েছিলাম।
বক্তব্য শেষে আমি পাশের চার্চ হাউসে যাই। সেখানে আমরা যুদ্ধফেরত সেনা, ইরাকি নাগরিক এবং নিহত ব্রিটিশ সেনাদের পরিবারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। আমি সেখানে ইরাকে যুদ্ধ করার দলের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়েছিলাম। আজ ইতিহাস আবারও যেন ঘুরে এসেছে এবং লেবার সরকার আরেকটি ভয়াবহ ভুল করছে।
২০ মাস ধরে চালানো ইসরায়েলি হামলায় গাজার নিহতের সংখ্যা ৫৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। যারা বেঁচে আছে, তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আজীবন শারীরিক ও মানসিক ক্ষত বয়ে বেড়াবে। ইসরায়েল একা একাই সব করছে না। তারা বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহায়তা পাচ্ছে। ৭ অক্টোবর ২০২৩-এর পর ব্রিটেনে সরকার বদলালেও ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ একই রকম আছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্য সরকার বলেছিল, ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির অনুমোদনের কিছুটা বন্ধ রাখা হবে। কিন্তু তার কিছুদিন পরই, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে লেবার সরকার ইসরায়েলে যত অস্ত্র দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে, তা ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কনজারভেটিভ সরকার যতটা দিয়েছিল, তার চেয়েও বেশি।
আমরা অনেকবার বলেছি, ব্রিটেন এখনো এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ ইসরায়েলে পাঠাচ্ছে—এটা খুবই দুঃখজনক। আমি অবাক হচ্ছি, সরকার নিজেই বলছে, অস্ত্র রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও তারা ‘ব্যতিক্রম’ হিসেবে এই যন্ত্রাংশ পাঠানো চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এই ব্যতিক্রম কি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গণহত্যা ঠেকানোর দায়িত্ব থেকেও ছাড় পাচ্ছে? আমরা বারবার জানতে চেয়েছি, সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিগুলোর ভূমিকা কী ছিল? ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র পৌঁছানো এবং সামরিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহে এই ঘাঁটিগুলোর কোনো ভূমিকা আছে কি?
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে কিয়ার স্টারমার যখন সাইপ্রাসের আরএএফ আকরোটিরি ঘাঁটি পরিদর্শনে যান, তখন তাঁকে ক্যামেরায় সেনাদের উদ্দেশে বলতে দেখা গেছে, ‘পুরো বিশ্ব তোমাদের ওপর নির্ভর করছে এবং আমাদের দেশের মানুষও তোমাদের ওপর নির্ভর করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে অনেক কিছুই হয়, যা সব সময় প্রকাশ করা যায় না…আমরা সব সময় বলতে পারি না, এখানে কী হচ্ছে।’ তাহলে সরকার কি লুকাতে চায়?
আমাদের এসব প্রশ্নের জবাবে আমরা শুধু এড়িয়ে যাওয়া এবং নীরবতাই পেয়েছি। ফলে সরকারের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো কীভাবে সম্পন্ন হচ্ছে, তা মানুষ জানতে পারছে না। অথচ গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি। ব্রিটিশ জনগণ জানার অধিকার রাখে যে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা কতটুকু।
এ কারণেই আমি একটি প্রাইভেট মেম্বার্স বিল (এমপিদের ব্যক্তিগত বিল) পেশ করতে যাচ্ছি। তাতে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক হামলায় যুক্তরাজ্যের ভূমিকা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ, সর্বজনীন ও স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হবে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতার সত্যতা উদ্ঘাটন করা এই তদন্তের লক্ষ্য থাকবে।
এই তদন্তের মাধ্যমে জানতে হবে, ঠিক কী ধরনের অস্ত্র ইসরায়েলের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে; এর কোন কোন অস্ত্র ফিলিস্তিনিদের হত্যায় ব্যবহার করা হয়েছে; সরকার কী ধরনের আইনি পরামর্শ পেয়েছে; আরএএফ আকরোটিরি ঘাঁটি গাজায় অস্ত্র পাঠানোর রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে কি না; যুদ্ধক্ষেত্রের কী কী ভিডিও ফুটেজ সরকারের কাছে আছে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে কী ধরনের গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করা হয়েছে।
* জেরেমি করবিন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য ও লেবার পার্টির সাবেক প্রধান
- গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত
![]() |
| গাজায় গণহত্যা বন্ধের দাবির মিছিলে জেরেমি করবিন। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ভিসা দেওয়া স্থগিত করল চাদ
এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে চাদের প্রেসিডেন্ট মাহামাত ইদ্রিস ডেবি ইতনো নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘চাদের দেওয়ার মতো না কোনো উড়োজাহাজ আছে, না আছে শতকোটি ডলার দেওয়ার সামর্থ্য; তবে চাদের আছে আত্মমর্যাদা ও গর্ব।’
এর আগে স্থানীয় সময় বুধবার এক নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ১২টি দেশের নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী সোমবার থেকে এটি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
নতুন এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন আফগানিস্তান, মিয়ানমার, চাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেনের নাগরিকেরা।
ট্রাম্প আরও সাতটি দেশের ওপর আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। দেশগুলো হলো বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান ও ভেনেজুয়েলা। তবে এসব দেশের নাগরিকদের জন্য কিছু ‘সাময়িক কাজের ভিসা’ দেওয়া হবে।
এই নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে নিজের প্রথম মেয়াদের অন্যতম বিতর্কিত পদক্ষেপের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট। কলোরাডোতে ইহুদিদের একটি র্যালিতে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনার জেরে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ওভাল অফিস থেকে ‘এক্স’-এ পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প নিজেই তা জানিয়েছেন।
ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প আরও বলেন, ‘বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ আমাদের দেশের জন্য কতটা চরম বিপদের জন্ম দিয়েছে, কলোরাডোর সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা সেটাই তুলে ধরেছে। আমরা তাদের চাই না।’
কলোরাডোর বোল্ডারে স্থানীয় সময় গত রোববার দুপুরের ওই ঘটনায় হামলাকারীকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছিল পুলিশ। তিনি মিসরের নাগরিক। এ পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্প ওই ঘটনার কথা উল্লেখ করলেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা দেশগুলোয় মিসরের নাম নেই।
![]() |
| চাদের প্রেসিডেন্ট মাহামাত ইদ্রিস ডেবি ইতনো। ফাইল ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘কালো মানিক’ উপহার হিসেবে নেবেন না খালেদা জিয়া, চেয়েছেন দোয়া
আজ বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ‘কালো মানিক’ নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’র সামনে হাজির হন কৃষক সোহাগ মৃধা। তবে সেটি গ্রহণ করা হবে না বলে তাঁকে জানিয়ে দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম আলোকে এ কথা জানিয়েছেন।
এর আগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উপহার দিতে ষাঁড়টি নিয়ে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রাম থেকে বৃহস্পতিবার সকালে রওনা দেন সোহাগ মৃধা। ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৩৫ মণ। বাজারে যার দাম উঠেছিল প্রায় ১০ লাখ টাকা।
শায়রুল কবির খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের মাধ্যমে ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি উপহারটি ফেরত নিতে বলেছেন। এটি তাঁর (সোহাগ) কাজে লাগাতে বলেছেন। পাশাপাশি ম্যাডাম তাঁর কাছে দোয়া চেয়েছেন। দেশবাসীর কাছেও দোয়া চেয়েছেন।’
কৃষক সোহাগ মৃধা বিএনপির কর্মী। ছয় বছর ধরে লালন-পালন করেছেন ষাঁড়টি। কুচকুচে কালো রঙের ষাঁড়টিকে তাঁর পরিবারের সদস্যরা ‘কালো মানিক’ বলে ডাকেন।
![]() |
| কৃষক সোহাগ মৃধা আজ বৃহস্পতিবার সকালে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থেকে ষাঁড় নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘আমাকে বন্দুকের মুখে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হয়েছিল’ by অরুনোদয় মুখার্জি
তিনি জানান, কেন তাকে পাঠানো হলো, তা জানানো হয়নি। তবে এটি এমন এক পরিস্থিতি ছিল যা তিনি দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা করছিলেন। সোনা বানুর দাবি, তিনি সারা জীবন আসামেই থেকেছেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে তিনি প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন যে, তিনি ভারতীয় নাগরিক, কোনো অবৈধ বাংলাদেশি নন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সোনা বানু বলেন, তারা বন্দুক ঠেকিয়ে আমাকে ঠেলে দেয়। আমি দুই দিন খাবার ও পানি ছাড়াই এক ফাঁকা মাঠে হাঁটু সমান পানিতে ছিলাম। সেখানে মশা ও জোঁকে ভরা ছিল।
সেই দুই দিন তিনি ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ‘নো-ম্যানস ল্যান্ড’-এ কাটান। তারপর তাকে বাংলাদেশের এক পুরনো কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান তিনি। সেখানেও দুই দিন থাকার পর, বাংলাদেশি কর্মকর্তারা তাদের সীমান্ত পার করিয়ে ফের ভারতের হাতে তুলে দেন। কেন তাকে প্রথমে বাংলাদেশে পাঠানো হলো এবং পরে ফিরিয়ে আনা হলো, সেটি এখনও পরিষ্কার নয়। তবে তার ঘটনা আসামে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার মধ্যে একটি, যেখানে ‘বিদেশি ট্রাইবুনাল’ কর্তৃক ‘বিদেশি’ ঘোষিত ব্যক্তিদের সীমান্তে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হয়েছে।
বিবিসি অন্তত ছয়টি এমন ঘটনার কথা জানতে পেরেছে, যেখানে মানুষ অভিযোগ করেছেন তাদের স্বজনদের এইভাবে সীমান্ত পার করিয়ে দেয়া হয়েছে। ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ), আসাম পুলিশ ও রাজ্য সরকার বিবিসির প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।
ভারতে ‘অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী’ দমন নতুন নয়। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ৪,০৯৬ কিমি দীর্ঘ এবং অনেক জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে অরক্ষিত। তবে আইনজীবীরা বলছেন, কাউকে হঠাৎ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে তাদের অন্য দেশে পাঠিয়ে দেওয়া- এটা এখনো বিরল ঘটনা। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে এমন ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মতে, মে মাসে ভারত থেকে অন্তত ১,২০০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১০০ জনকে বাংলাদেশ ভারতীয় নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে ফেরত পাঠিয়েছে।
বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, তারা এমন অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে। আসামে এই ইস্যু অনেক বেশি সংবেদনশীল, কারণ এখানকার রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্ব ও জাতিগত পরিচয়ের বিষয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে।
আসামের জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি)-র তালিকায় ২০১৯ সালে প্রায় ২০ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়ে। এদের অনেককে বন্দী শিবিরে রাখা হয়, বাকিরা উচ্চ আদালতে আবেদন করেন। সোনা বানু জানান, তার মামলা এখনো সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন, তবুও তাকে জোর করে দেশছাড়া করা হয়েছে। এমনই এক ভুক্তভোগী ৬৭ বছর বয়সী মালেকা খাতুন, যিনি এখনো বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, এখানে আমার কেউ নেই।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্ব শর্মা সম্প্রতি বলেছেন, যাদের ‘বিদেশি’ ঘোষণা করা হয়েছে এবং যারা কোনো আদালতে আপিল করেনি, তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তবে আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, এসব ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার ‘ইচ্ছাকৃত অপব্যাখ্যা’ করা হয়েছে। এমনই এক পরিবারের সদস্য সঞ্জিমা বেগম জানান, তার পিতাকে ভুল পরিচয়ের কারণে ‘বিদেশি’ ঘোষণা করা হয়। তার পিতার নাম আব্দুল লতিফ, দাদার নাম আব্দুল সুবহান। কিন্তু নোটিশে লেখা ছিল, “আবদুল লতিফ, পিতা শুকুর আলী”, যাকে তারা চেনেন না।
আরেক ভুক্তভোগী খায়রুল ইসলাম, যিনি একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তাকেও একই সময়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তার স্ত্রী রিতা খাতুন বলেন, প্রতিটি কাগজে প্রমাণ আছে যে আমার স্বামী ভারতীয়। তবু সেটি যথেষ্ট ছিল না। বর্তমানে যারা ফিরে এসেছেন, তারাও আতঙ্কে আছেন- আবার কখন তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ‘আমরা খেলনা নই’- বলেন সঞ্জিমা বেগম। ‘এরা মানুষ, এভাবে ইচ্ছামতো ছুঁড়ে ফেলা যায় না।’
(বিবিসি থেকে অনুবাদ)

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চায়ের রাজ্য আর রূপ মাধুর্যের ‘বৃষ্টি বন’

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রতিক্রিয়া
যুদ্ধের সময় মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা আফগান নাগরিকরা এই নিষেধাজ্ঞা থেকে তাদের অব্যাহতির দাবি জানিয়েছেন। কারণ এতে তাদের আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সেখানে তারা নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। এই নিষেধাজ্ঞায় তালিকাভুক্ত ১২টি দেশের মধ্যে সাতটি আফ্রিকান হওয়ায়, আফ্রিকান ইউনিয়ন বলেছে এটি ‘মানবিক সম্পর্ক, শিক্ষা বিনিময়, বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক’ ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমেরিকান প্রশাসনের উচিত দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে একটি পরামর্শমূলক পন্থা গ্রহণ করা।’ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক্সে পোস্ট করে বলেছে, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বৈষম্যমূলক, বর্ণবাদী এবং নির্মম। এটি কেবল ঘৃণা এবং ভুল তথ্য ছড়াবে’। চাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুলায়ে সাব্রে ফাদৌল বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা তাদের ‘সন্ত্রাস মোকাবেলায় প্রতিশ্রুতিকে সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করেছে’। প্রেসিডেন্ট মাহামাত ইদ্রিস ডেবি ইটন পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মার্কিন নাগরিকদের ভিসা বন্ধের নির্দেশ দেন। কঙ্গোর সরকারি মুখপাত্র থিয়েরি মুংগালা বলেন, আমরা মনে করি এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি। কঙ্গো কোনো সন্ত্রাসী রাষ্ট্র নয়, সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয় না এবং সন্ত্রাসে লিপ্ত নয়। অক্সফাম আমেরিকার প্রেসিডেন্ট অ্যাবি ম্যাক্সম্যান বলেন, এটি জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে নয়, বরং বিভাজন সৃষ্টি ও নিরাপত্তা-অন্বেষী সম্প্রদায়গুলিকে খলনায়ক বানানোর প্রয়াস। সোমালিয়ার যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত দাহির হাসান আবদি বলেন, মোগাদিশু তার দীর্ঘকালীন সম্পর্ককে মূল্য দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই ইস্যুতে সংলাপে প্রস্তুত। ১৯৯১ সালে গৃহযুদ্ধের পর সোমালিয়ায় দীর্ঘ সহিংসতা চলেছে এবং আল-শাবাব গোষ্ঠী দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সরকার ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো ক্যাবেলো এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘সবার জন্য একটি বড় ঝুঁকি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নাগরিকদের অকারণে হয়রান করা হচ্ছে।’ ট্রাম্প প্রশাসন অনেক ভেনেজুয়েলান অভিবাসীকে এল সালভাদরে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে গ্যাং সদস্য হওয়ার সন্দেহ পোষণ করে ট্রাম্প প্রশাসন, যদিও প্রমাণের অভাব রয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন: রাষ্ট্রীয় রাজনীতির নতুন দর্শন by শহীদুল্লাহ ফরায়জী
স্বাধীনতা অর্জনের পর এই প্রথম-রাষ্ট্রীয় রাজনীতির প্রশ্নে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, অন্তর্বর্তী সরকার ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ গঠন করেছে। এই উদ্যোগ অভূতপূর্ব ও ইতিহাসে বিরল, রক্তস্নাত গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয়চেতনা বিকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক গুণগত রূপান্তরের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। এর দার্শনিক ভিত্তি সুদূরপ্রসারী। গণ-অভ্যুত্থানের পর একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রজাতন্ত্র বিনির্মাণের লক্ষ্যে এই কমিশন গঠন-সময়োপযোগী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। এটি একক ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর পরিবর্তে সকল অংশীজন, মত ও শ্রেণি-পেশার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দার্শনিক প্রতিশ্রুতি বহন করে।
১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে কিংবা ১৯৭৫ সালের একদলীয় শাসনের পূর্বে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য গঠনের জন্য এমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। গত ৫৪ বছর জুড়ে আমরা দলীয় বা সামরিক শাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছি। দলীয় রাজনীতিকেই রাষ্ট্রীয় আকাঙ্ক্ষা পূরণের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ভাবতে শিখেছি। ফলে, রাষ্ট্র সাধারণ জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এর পরিণতিতে দু’জন রাষ্ট্রপতির হত্যাকাণ্ড এবং সর্বশেষে শেখ হাসিনা সরকারের দেশত্যাগ-সেই ব্যর্থতারই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। বহুদলীয় রাজনীতির আড়ালে দলতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বাসনায় গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। সংসদ কার্যকর হয়নি, রাষ্ট্রের তিনটি প্রতিষ্ঠানের ভারসাম্য সুরক্ষিত হয়নি, গণতান্ত্রিক মনষ্কতা বিকশিত হয়নি এবং প্রকৃত অর্থে একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি।
বাংলাদেশে বহুদলীয় রাজনীতির ইতিহাস মূলত সংঘাত ও রক্তপাতের ইতিহাস। রাষ্ট্রীয় সহিংসতা বহুবার দলীয় উল্লাসে পরিণত হয়েছে। হত্যার শিকার নাগরিকের লাশকে দলীয় রাজনীতি-প্রায়শই রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে গণ্য করেছে। ২০২৪-এর গণজাগরণ ও গণবিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ যখন নৈতিকভাবে ভেঙে পড়েছে, তখন ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ রাজনৈতিক বিবেচনা ও মননের দিক থেকে জাতীয় জীবনে এক দিকনির্দেশক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের অভিন্ন অভিপ্রায়-সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারভিত্তিক প্রজাতন্ত্র, এই কমিশনের কার্যক্রমে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। আত্মদানকারী শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে এই ‘জাতীয় সংলাপ’ এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
সংলাপের ধারণাগত ভিত্তি: অ্যারিস্টটলের ‘Zoom Politikon’ তত্ত্ব রাজনীতি ও সমাজবিজ্ঞানের এক মৌলিক দার্শনিক ভিত্তি। তার মতে-মানুষ কেবল সামাজিক নয়, সে ন্যায়বিচারপ্রবণ, যুক্তিবান, রাজনৈতিকজীব, যার প্রকৃত বিকাশ ঘটে রাষ্ট্রজীবনে। ভাষা, যুক্তি ও ন্যায়-অন্যায়ের ধারণার ভিত্তিতে মানুষ রাষ্ট্রে মতবিনিময় করে, বিচারবোধ গড়ে তোলে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সংলাপের প্রাসঙ্গিকতা গুরুত্বপূর্ণ। যখন রাজনৈতিক দলসমূহ রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনেই আলোচনায় বসছে, তখন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অ্যারিস্টটলের তত্ত্বের বাস্তব অনুশীলন করছে। তারা সংঘাত নয়, যুক্তির মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের পথ খুঁজছে, যা মানুষের প্রকৃত রাজনৈতিক স্বভাবেরই প্রকাশ। এই প্রেক্ষিতে জার্মান দার্শনিক যুর্গেন হ্যাবারমাসের ‘Deliberative Democrac’-এর ধারণা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। হ্যাবারমাস বলেন-গণতন্ত্র কেবল ভোটের ব্যাপার নয়, এটি যুক্তিনির্ভর সংলাপের উপর দাঁড়ানো এক সামাজিক ও নৈতিক কাঠামো। তার ‘Communicative Rationaliti’ অনুযায়ী তথ্যনির্ভর, মুক্ত ও পক্ষপাতহীন আলোচনার মাধ্যমে ন্যায্য সিদ্ধান্ত গঠিত হয়। অংশগ্রহণের মাধ্যমেই রাষ্ট্র বা আইনের বৈধতা সৃষ্টি হয়.। বাংলাদেশে যেখানে গণতন্ত্র এখনো কেবল নির্বাচনকেন্দ্রিক, সেখানে হ্যাবারমাসের চিন্তা দেখায়-গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি নিহিত জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ, যুক্তিবোধ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ায়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে রাজনৈতিক দলসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ হ্যাবারমাসের এই দর্শনের বাস্তব অনুশীলন। যখন চট্টগ্রাম, খুলনা বা কুমিল্লায় ভিন্নমত নিষ্পেষিত হয়, তখন রাজধানীতে সকলপক্ষ একত্র হয়ে মত প্রকাশ করছে-এটি গণতান্ত্রিক সম্ভাবনার এক সাহসী সূচক। এই উদ্যোগ সহিষ্ণুতা, আলোচনার সংস্কৃতি এবং বহুমতের সহাবস্থানের ভিত্তিতে রাষ্ট্রচিন্তার নতুন ভিত্তি তৈরি করছে। অতীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এমন কোনো ফোরাম ছিল না, যেখানে ডান-বাম সকল রাজনৈতিক শক্তি একত্র হয়ে সংলাপে অংশ নিতে পারতো।
নির্বাচন, বিচারব্যবস্থা ও নিরাপত্তা সংস্কারের মতো মৌলিক বিষয়ে ভিন্নমতের প্রকাশ ঘটাতে এই কমিশন একটি যুগান্তকারী চর্চার ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। এটি ক্ষমতা দখলের কৌশল নয় বরং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে যৌথ চিন্তার ক্ষেত্র। গণতন্ত্র কেবল ভোট নয়-এটি অবিচ্ছিন্ন সংলাপের প্রক্রিয়া।
সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা: এই সংলাপে সমাজশক্তির সরাসরি অংশগ্রহণ অর্থাৎ পেশাজীবী, শ্রমজীবী, কবি, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিসেবী, নারী, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত ছিল। এটি কমিশনের একটি মৌলিক সীমাবদ্ধতা। কারণ, সমাজের প্রকৃত চিত্র রাষ্ট্রে প্রতিফলিত হয় তখনই, যখন সকল শ্রেণির কণ্ঠস্বর সেখানে উপস্থিত থাকে। সমাজশক্তির অংশগ্রহণ ছাড়া ‘জাতীয় ঐকমত্য’ আক্ষরিক অর্থে পূর্ণতা পায় না। ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ যদি সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে প্রজ্ঞা ও দক্ষতার সঙ্গে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে, ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে ‘জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন করতে পারে, তবে তা হবে ঐতিহাসিক কর্তব্য সম্পাদন।
ভবিষ্যতের চুক্তির ভিত্তি: কমিশনের কোনো নির্বাহী বা সাংবিধানিক ক্ষমতা নেই। ফলে, এই সংলাপ-প্রক্রিয়া কার্যকর হবে কিনা, তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বাস্তব প্রয়োগের উপর। যদি গণ-অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে বাস্তব নীতি ও কাঠামোয় রূপ দিতে ব্যর্থ হয়, তবে তা হবে এক ভয়ঙ্কর আত্মঘাত। এই সংলাপ একটি প্রাক-নৈতিক কাঠামো তৈরি করতে পারে, যার ভিত্তিতে রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যে এক নতুন সামাজিক চুক্তির সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। কেবল যদি ক্ষমতা ভাগাভাগি বা ক্ষমতাকেন্দ্রিক হীনস্বার্থে ব্যবহৃত হয়, তবে প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎকে এক অজানা ও বিপজ্জনক দিগন্তে ঠেলে দেয়া হবে। গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলো যদি যথাযথ প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে শাসনব্যবস্থা রূপান্তর করতে ব্যর্থ হয়, তবে বাংলাদেশ কেবল গণতন্ত্রই হারাবে না; হারাবে প্রজাতন্ত্রের নৈতিক ভিত্তিও।
লেখক: গীতিকবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
ই-মেইল: faraizees@gmail.com.

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সক্রিয় ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ চক্র by আফজাল হোসেন
স্কোপোলামিন মস্তিষ্কে অ্যাসিটাইলকোলিন নামক রাসায়নিক সংকেতকে অবরুদ্ধ করে দেয়, ফলে মানুষের চিন্তা, স্মৃতি এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি বাস্তবতা বুঝতে পারেন না, এমনকি অপরাধীকে চিনতেও পারেন না। ভুক্তভোগীরা সচেতন থাকলেও তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজেরাই সমস্ত মূল্যবান জিনিসপত্র তুলে দেন অপরাধীদের হাতে এমনকি পরে কিছুই মনে রাখতে পারেন না।
সূত্রমতে, স্কোপোলামিনের উৎপত্তি দক্ষিণ আমেরিকার কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরে। স্থানীয়ভাবে এটি ‘বুরুন্ডাঙ্গা’ নামে পরিচিত। একসময় এটি মেনিনজাইটিস, মেরিন সিকনেস এবং অস্ত্রোপচারের পর বমি রোধে ব্যবহার করা হতো। তবে বর্তমানে এটি ভয়ঙ্কর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে। শুধুমাত্র কলম্বিয়াতেই প্রতিবছর প্রায় ৫০,০০০টি স্কোপোলামিন-সম্পর্কিত অপরাধের ঘটনা ঘটে। এটি মূলত সোলানাসি পরিবারের উদ্ভিদ যেমন- বেলাডোনা, ডেটুরা এবং ব্রুগম্যানসিয়া থেকে সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশে ধুতুরা নামে পরিচিত ফুল থেকে উপাদান নিয়ে সিনথেটিক্যালি এ মাদক তৈরি হয়। স্কোপোলামিন প্রথম দিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গোয়েন্দা জ্ঞিাসাবাদের ক্ষেত্রে ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। অর্থাৎ এটা যদি ইনজেক্ট করে দেয়া হয় তাহলে সে সত্য কথা বলতে শুরু করে। কারণ তার মগজের উপর নিজস্ব যে নিয়ন্ত্রণ সেটা চলে যায়। সে তখন অন্যের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, অন্যের কথা শুনতে থাকে।
গত ২৮শে মে রাজধানীতে রাইড শেয়ারের নারী যাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। রাইড শেয়ারের মোটরসাইকেলে উঠার পর চলকের দেয়া হেলমেট পড়েন তিনি এর কিছুক্ষণ পর অচেতন হয়ে পড়েন, ধারণা করা হচ্ছে হেলমেটের ভিতর স্কোপোলামিন নামক মাদকদ্রব্য প্রয়োগ করা হয়েছিল। এর আগে লক্ষ্মীপুর, বরগুনা ও গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন একাধিক ঘটনা ঘটেছে। গত ২০শে মে কুমিল্লায় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তার দোকানের ক্যাশে থাকা সব টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্র। পরে সিসিটিভি ফুটেজে চক্রটির সদস্যদের গাজীপুর এলাকায় দেখা যায়। সমপ্রতি গত ২রা জুন চট্টগ্রামের পটিয়ায় এ চক্রের কবলে পড়ে ১ লাখ টাকা হারান অবসরপ্রাপ্ত এক সরকারি কর্মকর্তা। গত ১৭ই এপ্রিল লক্ষ্মীপুরে ব্যাংকে টাকা তুলতে আসা এক নারীর ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় শয়তানের নিঃশ্বাস নামক প্রতারক চক্র। ২০শে এপ্রিল বরগুনায় শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের খপ্পরে পড়ে ১ লাখ টাকা খোয়ান এক ব্যবসায়ী। এছাড়া কুমিল্লা, গাইবান্ধা ও চট্টগ্রামে এমন একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মানবজমিনকে বলেন, ঈদকে ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’- নামে পরিচিত একটি প্রতারক চক্র। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কিছুটা নিষ্ক্রিয়তা দেখা গেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্কোপোলামিন জাতীয় মাদক ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। এই চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত কৌশলী এবং ছদ্মবেশে থাকে। তারা পরিপাটি পোশাকে থাকেন যাতে সাধারণ মানুষ তাদের সন্দেহ না করে। বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় তারা ঠিকানা চিনছে না এমন ভান করে ভিজিটিং কার্ড, টাকা বা কাগজপত্র মানুষের সামনে ধরে রাখে। এসব বস্তুতে থাকা স্কোপোলামিন নিঃশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। এই মাদক এতটাই ভয়ঙ্কর যে, আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে ফেলে এবং প্রতারকের নির্দেশে নিজের টাকা, মোবাইল, গয়না এমনকি মূল্যবান জিনিসপত্র হস্তান্তর করে দেয়। আক্রান্ত ব্যক্তি নিজে কিছুই বোঝে না এবং পরে ঘটনার কথা মনে করতেও পারেন না। ড. তৌহিদুল হক বলেন, এই অপরাধীদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। একজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করলেই তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদকের উৎস এবং পুরো চক্রকে খুঁজে বের করা সম্ভব। পুলিশকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে। জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু সতর্কতামূলক পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, পশুরহাটে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, যাতে নিঃশ্বাসের মাধ্যমে স্কোপোলামিন শরীরে প্রবেশ না করতে পারে। হাট এলাকায় কার্যকর সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সেগুলোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। ইজারাদারদের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের দৃশ্যমান টহলের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি আরও জানান, এ ধরনের প্রতারণা সমাজে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস তৈরি করছে। কেউ বিপদের আশঙ্কায় সহযোগিতার হাত বাড়াতে ভয় পায়। অতি দ্রুত এ মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে মানুষ নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পরস্পরকে সহযোগিতা করা এবং মানবিক সহায়তা থেকে নিজেকে বিরত রাখবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র ডিসি তালেবুর রহমান জানান, পশুরহাটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অপরাধী চক্র সাধারণ মানুষের সর্বস্ব লুটের জন্য নানা ধরনের ফাঁদ পাতে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সকল ইজারাদার এবং ডিএমপি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক মিটিং করেছি। সমপ্রতি আমাদের গোয়েন্দা টিম ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’- নামের প্রতারক চক্রের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। আমাদের গোয়েন্দা টিম এ নিয়ে কাজ করছে। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে কোনোভাবেই প্রতারিত না হন, সে লক্ষ্যে আমরা পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত পরিমাণে সদস্য মোতায়েন রয়েছে। প্রতিটি হাটেই পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্কতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে, যাতে কেউ প্রতারক চক্রের ফাঁদে না পড়ে। ডিএমপি’র পক্ষ থেকে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা পরিস্থিতি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ পুলিশের সহায়তা নিতে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সরকারিভাবে নদী মারার ফল ‘ভবদহ জলাবদ্ধতা’ by তুহিন ওয়াদুদ
ভবদহ জলাবদ্ধতা বোঝার আগে আমাদের সেখানকার নদী সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। যশোর সদর উপজেলা থেকে মুক্তেশ্বরীর নামে একটি নদী চলে এসেছে অভয়নগরের দিকে। মাঝপথে একটি প্রবাহের সঙ্গে মিলিত হয়ে মুক্তেশ্বরীর নাম হয় টেকা।
অভয়নগর বাজারের ঠিক পাশেই শ্রী নামে একটি নদী এসে মিলিত হয়েছে টেকা নদীর সঙ্গে। এরপর টেকা নাম বদলে হয়েছে হরি নদ। ঠিক যেখানে হরি নাম হয়েছে, তার বাঁ তীর থেকে শ্রী নামে আরেকটি নদী বিল ডাকাতিয়া দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। হরি নদের ভাটিতে আপারভদ্রা নামে আরেকটি নদী এসে মিলিত হয়েছে। তখন হরি নদের নাম হয়েছে তেলিগাতী গ্যাংরাইল, যা শিবসা নদী হয়ে চলে গেছে সমুদ্রে।
ভবদহ বাজার থেকে নদীর ভাটিতে প্রচুর পলি জমেছে। নদীটির দুই দিকে অনেকাংশ অবৈধ দখলদারদের হাতে চলে গেছে। মাছের ঘের, দোকানপাট, বাড়িসহ নানা স্থাপনা গড়ে উঠেছে নদীতে। দেখলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ড হরি নদের মাটি তুলে নদের ভেতরে ফেলেছে। ফলে নদটি অনেক সংকুচিত হয়েছে। জোয়ারের সময় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি উজানে চলে আসে। এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ষাটের দশকে হরি নদের ভবদহ নামক স্থানে জোয়ারের পানি যাতে আসতে না পারে, সে জন্য ২১ ভেন্টের একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করে। কেবল তা–ই নয়, শ্রী নামের উপনদী এবং শাখানদী—উভয় অংশের মুখ বন্ধ করা হয়েছে। হরি নদের শাখা হিসেবে যে অংশ প্রবাহিত হতো, সেটিও ৪০০-৫০০ ফুট প্রশস্তের।
২১ ভেন্টের স্লুইসগেট তৈরি করার মাধ্যমে সমুদ্রের লোনাপানি টেকা নদী ও শ্রী নদীতে যাওয়া বন্ধ করা হয়েছে। এতে প্রথম কয়েক বছর লবণাক্ত জোয়ারের পানির প্রবাহ বন্ধ করে চাষাবাদ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছিল। ১৫-২০ বছরের মধ্যেই স্লুইসগেটের ভাটিতে প্রচুর পলি জমা হয় এবং বর্ষার পানি স্লুইসগেট খুলে দিলেও আর নিচে নামে না। কারণ, ভাটিতে পলি পড়ে অনেক উঁচু হয়েছে। গত শতকের আশির দশক থেকে ক্রমে জলাবদ্ধতা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
ভবদহ এলাকায় অনেক নিম্নাঞ্চল আছে। ভবদহের যে স্থানে ২১ ভেন্টের স্লুইসগেট আছে, তার উজানে ৫২টি নিম্নাঞ্চল আছে। নদীর ডান তীর–সংলগ্ন আরও ১২৯টি নিম্নাঞ্চল আছে। আগে এগুলোতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করত। এখন লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে না। কিন্তু ভাটি উঁচু হওয়ার কারণে অভয়নগর থেকে শুরু করে যশোর জেলা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়। জলাবদ্ধতায় কয়েকটি উপজেলায় বাড়িঘর-সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়।
ভবদহ জলাবদ্ধতা থেকে উত্তরণে বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুবার ড্রেজার মেশিনও আনা হয়েছিল খননের জন্য। এ ছাড়া কয়েকবার খনন করা হয়েছে। কিন্তু খননের কয়েক বছরের মধ্যে আবার পলি পড়ে ভরাট হয় নদী। একবার এ নদীর জোয়ারের পানি একটি বিলের সঙ্গে সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেটাতে কিছুটা ভালো ফল পাওয়া গেছে।
ভবদহ এলাকায় দেখলাম, ২১ ভেন্ট এবং ৬ ভেন্টের উজানে মোট ২০টি পাম্প দিয়ে বর্ষা মৌসুমে পানি তুলে ভাটিতে দেওয়া হয়। আরেকটি ৩ ভেন্টের স্লুইসগেট তৈরি করেছে বিএডিসি। স্থানীয় লোকজন বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ সাপেক্ষে সেখানেও পাম্প চালু করেছে। কেবল পাম্প করে পানি তুলে জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব নয়।
স্থানীয় ব্যক্তিরা মনে করেন, টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) পদ্ধতিতে সমস্যার সমাধান হতে পারে। টিআরএম পদ্ধতিতে উপকূলীয় নদীর সমস্যা সমাধান হতে হবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু টিআরএম বলতে স্থানীয় মানুষ যা ভাবেন, সেটাই উপযুক্ত পদ্ধতি কি না, ভাবতে হবে। স্থানীয় ব্যক্তিদের অনেকে টিআরএম পদ্ধতি সম্পর্কে যা বোঝালেন, তা অনেকটা এ রকম—স্লুইসগেট ঠিক রেখে পাশ দিয়ে হরি নদে আসা জোয়ারের পানি একটি–দুটি বিলের সঙ্গে সংযোগ দিলে সমাধান হবে। তখন সংযোগ দেওয়া বিল ভরাট হবে। যত বছরের জন্য যে বিলের সঙ্গে সংযোগ দেওয়া হবে, ওই বিলের যাঁরা মালিক, তাঁদের ওই কয় বছরের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
মুক্তেশ্বরী, হরি, শ্রী, আপারভদ্রা, তেলিগাতী গ্যাংরাইলসহ সংযুক্ত নদ–নদীর সব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে হবে। প্রকৃত মাপ ধরে এমনভাবে খনন করতে হবে, যাতে পানি দ্রুত নেমে যায়। সংযুক্ত সব উপনদী এবং শাখানদীর সংযোগ উন্মুক্ত করতে হবে। সেতুবিহীন আড়াআড়ি সড়কে সেতু স্থাপন করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় ২১ ভেন্টের যে স্লুইসগেটটি তুলে দেওয়া। ২১ ভেন্ট স্লুইসগেট করার সময় নদীর প্রবাহ অনেক ছোট করা হয়েছে। নদীর প্রকৃত প্রস্থ অনুযায়ী প্রবাহ সচল রাখতে হবে। কেবল একটি সেতু সেখানে করতে হবে।
নদীকে নদীর মতো থাকতে দেওয়া না গেলে ভবদহ জলাবদ্ধতা দূর হবে না। বর্তমানে ভবদহ এলাকায় ঘেরপদ্ধতিতে প্রচুর মাছ চাষ করা হয়। নদী উন্মুক্ত থাকলে ঘেরপদ্ধতিতে মাছ চাষ করা কঠিন হবে না। ভবদহ সংকট নিরসনে দীর্ঘ মেয়াদে পরিবেশ-প্রতিবেশের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
জানতে পেরেছি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে হরি নদ খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভবদহ সংকট নিরসনে বিশেষজ্ঞদের সমীক্ষাপূর্বক একটি স্থায়ী সমাধানের দিকে যেতে হবে। আমরা চাই, ভবদহের স্থায়ী সমাধান। নদী বাঁচুক, জীববৈচিত্র্য বাঁচুক, বাঁচুক মানুষ।
* তুহিন ওয়াদুদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক এবং রিভারাইন পিপলের পরিচালক
- wadudtuhin@gmail.com
![]() |
| ভবদহে কপালিয়া বাজারের পাশে হরি নদে এই সেতুটি নদের প্রকৃত মাপের চেয়ে অনেক ছোট। পানি উন্নয়ন বোর্ড দুই পাশে মাটি ফেলে সেই সেতুর মাপের চেয়ে আরও সংকুচিত করেছে নদটিকে। ছবি: তুহিন ওয়াদুদ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চুপিসারে পুরীর সাবেক সাংসদকে বিয়ে করলেন মহুয়া মৈত্র by সেবন্তী ভট্টাচার্য্য
শোনা যাচ্ছে, গত ৩ মে মহুয়া মৈত্রের বিবাহের একটি ছবি প্রকাশ্যে আসে। যেখানে দেখা যায়, বার্লিনের প্রাসাদের সামনে পিনাকী মিশ্রর সঙ্গে হাত ধরে আসছেন সদ্য বিবাহিত মহুয়া। তার পরনে পিচ গোলাপি ও সোনালি রঙের শাড়ি। গলায় চওড়া হার, কানে দুল, মাথায় টিকলি। বছর একান্নর মহুয়া বরাবরই রূপসী। বিয়ের ছিমছাম সাজে তাকে আরও সুন্দরী দেখাচ্ছিল। আর বর পিনাকী মিশ্রর পরনে সাদা কুর্তা, সোনালি জ্যাকেট। নবদম্পতিকে দেখে অবাক অনেকেই। শোনা গিয়েছে, বার্লিনে আইনি বিয়ে সারার পর মহুয়া তৃণমূল নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই খবর জানান। তিনি যে পিনাকীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন, তা তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রীকে জানিয়েছিলেন মহুয়া। তাঁর কাছ থেকে ‘ছুটি’ নিয়েই তিনি বিবাহ উপলক্ষে বিদেশে যান। জুন মাসের শেষে পিনাকী এবং মহুয়ার দেশে ফেরার কথা।
রাজনীতিতে উজ্জ্বল কেরিয়ার মহুয়া মৈত্রর। করিমপুরের বিধায়ক থেকে জেলায় দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন। পরপর দু’বার কৃষ্ণনগর থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে বড়সড় ব্যবধানে জিতেছেন। মহুয়া দীর্ঘ দিন ধরে আমেরিকার একটি অর্থলগ্নি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্টও ছিলেন তিনি। সেই সময় ড্যানিশ ফিনান্সার লার্স ব্রর্সনের সঙ্গে মহুয়ের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে সেই প্রেম বিয়েতে পরিণতি পায়। পরে অবশ্য মহুয়ার সঙ্গে লার্সের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। অন্য দিকে, পিনাকীর প্রথম বিয়ে হয় ওড়িশা নিবাসী সঙ্গীতা মিশ্রের সঙ্গে। তাঁদের এক পুত্র ও এক কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে পিনাকীর সঙ্গে সঙ্গীতার পরে বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৫৪ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসা যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়: লেখক মহিউদ্দিন আহমদের ফেসবুক স্ট্যাটাস
এতে তিনি লিখেন, ‘অনেক সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। আমিও তাদের একজন। আমি একাত্তরের ৩১ জুলাই অস্ত্র নিয়ে দেশে ঢুকেছিলাম। অথচ ডিসেম্বরের ১৬ তারিখের পরে ভারত থেকে আসা লোকেরা রাইফেল হাতে পোজ নিয়ে ছবি তুলে দিব্বি ভাতা খেয়ে বেড়াচ্ছে। একটা সার্টিফিকেটের জন্য দৌড়াদৌড়ি করতে হবে, এটা কখনো মাথায় আসেনি।’
মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বন্ধে কয়েকটি প্রস্তাব জানিয়ে তিনি ওই স্ট্যাটাসে আরও লিখেন, ‘অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বছরের পর বছর গরিবের ট্যাক্সের টাকায় পেনশন নিচ্ছে। কয়েক বছর পরপর সরকার বদল হয় আর দলীয় বিবেচনায় মুক্তিযোদ্ধার তালিকা বদলায়। এটা বন্ধ হওয়া দরকার।
আমার প্রস্তাব:
১. মুক্তিযোদ্ধা ভাতা অবিলম্বে বন্ধ করুন। কারণ এই ভাতার গন্ধেই ধান্দাবাজেরা জুটেছে।
২. জামুকা এবং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় বিলুপ্ত করুন। এরা টাকা খেয়ে অনেককে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছে।
৩. দুর্নীতির আখড়া মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ভেঙে দিন এবং এই সংস্থার আয়ত্বে থাকা সকল বাণিজ্যিক স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান নিলাম ডেকে বেচে দিন।
তিনি আরও লিখেন, ‘আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিরোধযুদ্ধ করেছি বিবেকের তাড়নায়। ব্যক্তিগত লাভালাভের জন্য নয়। যারা বেতন-ভাতা, পদ-পদোন্নতির জন্য যুদ্ধ করে, তাদের আমরা মার্সেনারি বা ভাড়াটে যোদ্ধা বলি। ৫৪ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসায় যথেষ্ট হয়েছে। আর নয়।’

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1330)
-
▼
2025
(3280)
-
▼
June
(301)
-
▼
Jun 06
(16)
- গ্যাংস্টারদের দিয়ে ফিলিস্তিনিদের দমন, নেতানিয়াহুর ...
- মিথ্যা যেখানে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র by জামাল ...
- মোদিকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর কথা মনে করিয়ে...
- পশু কুরবানি আত্মকুরবানির প্রতীক by মোহাম্মদ আবু নোমান
- হজের খুতবায় ফিলিস্তিনিদের জন্য আবেগী দোয়া
- গাজায় গণহত্যায় যুক্তরাজ্য যেভাবে মদদ দিচ্ছে by জের...
- যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ভিসা দেওয়া স্থগিত করল চাদ
- ‘কালো মানিক’ উপহার হিসেবে নেবেন না খালেদা জিয়া, চে...
- ‘আমাকে বন্দুকের মুখে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হয়েছিল’ b...
- চায়ের রাজ্য আর রূপ মাধুর্যের ‘বৃষ্টি বন’
- ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রতিক্রিয়া
- জাতীয় ঐকমত্য কমিশন: রাষ্ট্রীয় রাজনীতির নতুন দর্শন ...
- সক্রিয় ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ চক্র by আফজাল হোসেন
- সরকারিভাবে নদী মারার ফল ‘ভবদহ জলাবদ্ধতা’ by তুহিন ...
- চুপিসারে পুরীর সাবেক সাংসদকে বিয়ে করলেন মহুয়া মৈত্...
- ৫৪ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধ ব্যবসা যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়:...
-
▼
Jun 06
(16)
-
▼
June
(301)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...






