Wednesday, December 12, 2018

যত বাধাই আসুক নির্বাচনে থাকব -সিলেটে প্রচারণা শুরু করে ড. কামাল

যত অন্তরায় আর বাধা বিপত্তি আসুক জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের মাঠে থাকবে এমন ঘোষণা দিয়ে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, স্ষ্ঠুু ভোট না হলে দেশের মালিকানা জনগণের হাতে থাকবে না। তিনি বলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না, পুলিশ নেতাকর্মীদের গেপ্তার ও হয়রানি করছে, এগুলো সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়। তবে যতো বাধাই আসুক আমরা নির্বাচনে থাকব। ভোটের দিন সবাইকে ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে।
সন্ধ্যায় সিলেটে হযরত শাহজালাল রহ. এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন নেতারা। ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, বিএনপির নজরুল ইসলাম খান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সিলেট-১ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরসহ অন্যন্য আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা প্রচার কর্মসূচিতে অংশ নেন। ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে দরগাহ প্রাঙ্গনের সামনে পথসভা করার পরিকল্পনা করা হলেও অনুমতি নেই জানিয়ে পুলিশ তা করতে দেয়নি।
মাজার জিয়ারত করে নেতারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী বলেন, যতো প্রতিবন্ধকতা আসুক মাঠ ছাড়ব না। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য মাঠে থাকব। জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম, সেক্রেটারি আলী আহমদসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

হুয়াওয়ের মেং জামিনে, চীনে আটক কানাডার সাবেক কূটনীতিক

হুয়াওয়ে’র অর্থ বিষয়ক প্রধান নির্বাহী মেং ওয়ানঝো’কে গ্রেপ্তার করা নিয়ে চীন ও কানাডার মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে গত ১লা ডিসেম্বর মেং’কে গ্রেপ্তার করে কানাডা। অন্যদিকে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি করে চীন। না হলে পরিণাম ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয় তারা। এমন অবস্থায় মঙ্গলবার কানার একটি আদালত মেং’কে জামিন দিয়েছে। কিনতু কানাডার সাবেক একজন কূটনীতিককে আটক করেছে চীন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অনলাইন বিবিসি।
আটকের ১০ দিন পরে চীনের টেলিযোগাযোগ বিষয়ক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে টেকনোলজি কোম্পানির অর্থ বিষয়ক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেং ওয়ানঝো’কে জামিন দেয় কানাডা।
তিনি এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হুয়াওয়ের কন্যা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ তিনি বহুজাতিক ব্যাংকগুলোকে মিথ্যেভাবে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায় ব্যবহার করেছেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যে অবরোধ দিয়েছে তা ভঙ্গ করা হয়েছে। মেং’কে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়ার কথা রয়েছে। মঙ্গলবার তার জামিন আবেদনের শুনানি হয় কানাডার ভ্যানকোভারে বৃটিশ কলাম্বিয়া আদালতে। সেখানে বিচারক উইলিয়াম এহরকে এক কোটি কানাডিয়ান ডলারের বিনিময়ে জামিন দেন। এমন সিদ্ধান্ত দেয়ার পর আদালতকক্ষে মেং ও তার আইনজীবীরা আনন্দে কেঁদে ফেলেন। তবে জামিনে শর্ত দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ৪৬ বছর বয়সী মেং’কে অবশ্যই একটি ইলেকট্রিক ভিডাইস পরতে হবে পায়ের গোড়ালিতে। এর মধ্য দিয়ে তার ওপর নজরদারি চালানো হবে। তাকে রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত বাসায় থাকতে হবে। তিনি পালাবেন না এমন নিশ্চয়তা দেন তার ৫ জন বন্ধু। এখন প্রশ্ন হলো মেং’কে আসলেই যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়া হবে কিনা। কানাডার আইন মন্ত্রীকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়া হয় তাহলে বেশ কতগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হতে হবে। এর প্রতিটি অভিযোগের জন্য তার সর্বোচ্চ ৩০ বছর করে জেল হতে পারে।
এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক লড়াই নতুন এক মাত্রা ধারণ করেছে। কানাডার সাবেক কূটনীতিক মাইকেল কোভরিগ’কে আটক করেছে চীন। তিনি ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ব্রাসেলস ভিত্তিক থিংক ট্যাংক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের উত্তর-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ বলেছে, তারা এ বিষয়ে অবহিত। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, তারা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চীন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে চলেছেন। তার মতে, এ ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলে নি।

মির্জা ফখরুলের ওপর হামলায় ব্রিবত কমিশন: সিইসি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর হামলার ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ব্রিবত ও মর্মাহত বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্খিত।
আজ বুধবার সকালে নির্বাচন কমিশন ভবন মিলনায়তনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের তিনদিনব্যাপী ব্রিফিংয়ের শেষ দিনে এ কথা বলেন সিইসি।
 সিইসি কে এম নূরুল হুদা বলেন, গতকাল মঙ্গলবার নোয়াখালীতে সংঘর্ষে এক যুবকের নিহতের ঘটনায়ও কমিশন বিব্রত হয়েছে। দুটো ঘটনা আমাদের অত্যন্ত দুঃখ দিয়েছে, ব্যথা দিয়েছে। তবে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার গ্রহণের বিষয়ে কোন কিছু উল্লেখ করেননি সিইসি।
সিইসি বলেন, একটা মানুষের জীবন সমগ্র নির্বাচনের চেয়ে মূল্যবান। সারাদেশে ৩০০টি আসনে যে নির্বাচন হবে সেটার যে মূল্য একজন মানুষের জীবনের মূল্য তার চেয়ে অনেক বেশি।
এ অবস্থা থেকে আমাদের উত্তরণের পথ খুঁেজ বের করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মী, প্রার্থী, শুভাকাঙ্খী সকলকে ধৈর্য্যশীল আচরণ করে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এছাড়া, নির্বাচনী প্রচারণায় কোন ধরণের প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করার আহ্বান জানান তিনি। সিইসি বলেন, একে অন্যের গণতান্ত্রিক অধিকার, মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে হবে। এবং যেকোন উত্তেজনাকর, উদ্বেগজনক, নির্বাচন পরিপন্থী ও অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি পরিহার করতে হবে।  এসব পরিস্থিতি মোকাবেলায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের সচেষ্ট থাকার নির্দেশ দেন সিইসি।
কে এম নূরুল হুদা বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। মানুষকে আশস্ত করতে হবে নির্বাচন সহিংসতার জায়গা নয়। নির্বাচন মানুষের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের জায়গা। ধৈর্য্য ও একে অন্যের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করতে ম্যাজিস্ট্রেটদের। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ তো বটেই, সব দিক দিয়ে আলাদা নির্বাচন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগের কোন নির্বাচনের সাথে তুলনা করা যায় না। প্রতিটা কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ছয়জন প্রার্থী, সারাদেশে মোট ১৮০০’র বেশি প্রার্থী মাঠে থাকবে, প্রতিদ্বন্ধিতা করবে। নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিপূর্ণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সিইসি। কমিশন নির্বাচনের আগে সকল ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করে রিটার্নিং অফিসার ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে দেয়া হয়েছে। আইনের সঠিক প্রয়োগ করে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল নির্বাচন উপহার দিতে এসব কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ব্রিফিংয়ে আরো বক্তব্য রাখেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মাহ্বুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

সিইসি অসহায়, বিব্রত: সেলিমা রহমান

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা অসহায় ও বিব্রত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা মনে করি তিনি (সিইসি) অসহায়। তিনি বিব্রত বোধ করছেন এটা সত্যি। কারণ তিনি কিছু করতে পারছেন না। তবুও আমরা আশা রাখি সিইসি যেহেতু এবার একটি সুযোগ পেয়েছেন, তিনি যদি সঠিকভাবে পদক্ষেপ নেন তাহলে কিন্তু আমরা এই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ নির্বাচন হিসেবে প্রমাণ করতে পারব।
আজ বুধবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সেলিমা রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ১০ তারিখ থেকে প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রচারণার পর পরই আমাদের মহাসচিবের গাড়ি বহরে আক্রমণ করা হয়েছে। ব্যারিস্টার মওদুদের প্রচারণায় বার বার হামলা করা হচ্ছে।
মঈন খানের এলাকায় হামলা চালানো হচ্ছে। পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী ও যুবলীগ মিলে এই হামলা করছে। যারা জামিনে আছেন তাদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। যারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন তাদের জামিন দেয়া হচ্ছে না। আজ সকালে ভাটারা থানার একজন কর্মীকে পুলিশ ধাওয়া করে ছাদের উপর থেকে ফেলে মেরে ফেলেছে। এমন ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে। নাটোরে জামিনে থাকা সত্বেও বিএনপি নেতা দুলুকে আটক করা হয়েছে। 
তিনি আরও বলেন, তারা চাইছে আমরা যেন নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে না পারি। নির্বাচন যেন না করতে পারি। তারা একতরফাভাবে নির্বাচন করতে পারে। সে কারণে এখন ভয়ভীতি হামলা মামলাসহ বিভিন্নভাবে আমাদের হয়রানি করছে। এবং প্রার্থীদের উপর বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ করা হচ্ছে। এই ঘটনাগুলো জানাতে আজ আমরা এসেছি। কারণ তিনি বলেছিলেন আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দেবো। সবাই সমান সুযোগ পাবে।
সেলিমা রহমান অভিযোগ করে বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা এখন পলাতক। আমরা বলতে পারছি না আমরা কোন কোন জায়গায় নির্বাচনের জন্য এজেন্ট খুঁজের পাবো কিনা। কারণ পুলিশের ভয়ে অনেকে পলাতক রয়েছেন। এই বিষয়গুলো আমরা কমিশনকে জানালাম। তফসিলের পর গ্রেপ্তার হবে না বললেও এখন প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তার হচ্ছে। এবং অজ্ঞাতনামা দিয়ে অনেক নেতাকর্মীকে আটক করা হচ্ছে। এই অজ্ঞাতনা জানতে চাইলে পুলিশ বলছে  তাদের নামে আগে থেকে মামলা ছিল। তারা নিজেরাই এগুলো করছে।
সিইসি বিব্রত দাবি করে তিনি বলেন, আমি চেষ্টা করছি। কিন্তু পুলিশ বলছে আগে থেকে যাদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে. তাদের আমরা ধরছি। পুলিশ বলছে তাদের নামে সুনির্দিষ্ট কেইস আছে। সিইসি বলছেন সেই সুনির্দিষ্ট কেইস কি সেটা আমি কি করে জানব। আমি চেষ্টা করছি, আমি চেষ্টা করব।

অস্ত্র বিক্রিতে এক নম্বরে যুক্তরাষ্ট্র, দ্বিতীয় রাশিয়া

রাশিয়ার কোম্পানিগুলো অস্ত্র বিক্রিতে লক্ষণীয় উন্নতি করেছে। যুক্তরাজ্যের অস্ত্র উৎপাদনকে পেছনে ফেলে বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অস্ত্র উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া। এক নম্বর অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ তথ্য জানিয়েছে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)। অস্ত্র উৎপাদন এবং বিক্রি সংক্রান্ত বিষয়ে বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী দেশগুলোকে নিয়ে গবেষণা করে এই প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী রাশিয়ার কোম্পানিগুলো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতা কোম্পানিগুলোর পরেই অবস্থান করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, রাশিয়ার ১০টি অস্ত্র কোম্পানি বিশ্বের সেরা ১০০ অস্ত্র কোম্পানির অন্তর্ভুুক্ত। পাশাপাশি গত বছরের তুলনায় অস্ত্র বিক্রির হার ৮.৫ শতাংশ বেড়ে ৩৭৭০ কোটি ডলার হয়েছে।
রাশিয়া এই ১০ কোম্পানির সম্মিলিত অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ সেরা ১০০ কোম্পানির মোট বিক্রির ৯.৫ শতাংশের সমান। ২০০২ সাল থেকে যুক্তরাজ্য এ অবস্থানে ছিল বলে জানিয়েছে এসআইপিআরআই। পশ্চিম ইউরোপে যুক্তরাজ্য সবচেয়ে বড় অস্ত্র উৎপাদনকারী দেশ। দেশটি সর্বমোট ৩৫৭০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে এবং সাতটি কোম্পানি সেরা ১০০ কোম্পানির অন্তর্ভুক্ত।
এসআইপিআরআই’য়ের অস্ত্র এবং সেনাবাহিনীর ব্যয় বিষয়ক পরিচালক অডি ফ্লিরেন্ট বলেছেন, বৃটিশ কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ ২০১৬ সালের তুলনায় মাত্র ২.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ হল বিএই সিস্টেমস, রোলস-রোয়েস এবং জিকেএন কোম্পানিগুলোর অস্ত্র বিক্রি বেড়ে যাওয়া।
বিএই সিস্টেমস কোম্পানিটির ২০১৭ সালের তুলনায় অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ ৩.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেরা ১০০ অস্ত্র বিক্রেতা কোম্পানিগুলোর মধ্যে এর অবস্থানও চতুর্থ।  এসআইপিআরআই’য়ের সিনিয়র গবেষক সিমন ওয়েজম্যান বলেছেন, ২০১১ সাল থেকে রাশিয়ার অস্ত্র কো¤পয়ানিগুলো অস্ত্র বিক্রিতে ক্রমাগত বিকাশের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়া তার অস্ত্র উৎপাদন এবং আধুনিকায়নে যে খরচের মাত্রা বাড়িয়েছে এটা তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
তবে অস্ত্র বাণিজ্যে বিশ্বে প্রভাবশালী খেলোয়াড় হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সেরা অবস্থানেই রয়ে গেছে। সেরা ১০০ অস্ত্র কোম্পানির তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রেরই ৪২টি কোম্পানি রয়েছে এবং গত বছর তাদের বিক্রি দুই শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ২২৬৬০ কোটি ডলার। লকহিড মার্টিন হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র উৎপাদনকারী কোম্পানি। ২০১৭ সালে কোম্পানিটির একক বিক্রির পরিমাণই ছিল ৪৪৯০ কোটি ডলার। এছাড়াও সংস্থাটির জরিপে তুরস্কের কোম্পানিগুলোর অস্ত্র বিক্রিতে লক্ষ্যনীয় উন্নতি দেখা গেছে। দেশটির কোম্পানিগুলোতে ২০১৭ সালে ২৪ শতাংশ বিক্রি বৃদ্ধি হতে দেখা গেছে। তুরস্ক স¤পর্কে মি ওয়েজম্যান বলেছেন, তুরস্কের অস্ত্র বিক্রিতে এই উন্নতি বিষয়টি ¯পষ্ট করে বোঝাচ্ছে অস্ত্র ইন্ডাস্ট্রিকে উন্নতি করার প্রত্যাশা করছে দেশটি। বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর কম নির্ভরশীল হয়ে, দেশে অস্ত্রের বাড়তি চাহিদা পূরণের জন্য এই খাতকে উন্নত করার লক্ষ্য তাদের।  তবে এই গবেষণায় চীনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কারণ সেখানকার অস্ত্র উৎপাদনকারী কোম্পানির সঠিক সংখ্যা জানা যায় নি।

সৌদি জোটের হামলায় ৯ মাসেই ৬০ হাজার ইয়েমেনি নিহত, সবথেকে রক্তাক্ত মাস নভেম্বর

এ বছরের নভেম্বর মাসকে ২০১৫ সাল থেকে চলমান ইয়েমেন যুদ্ধের সবথেকে রক্তাক্ত মাস হিসেবে আখ্যায়িত করেছে একটি যুদ্ধ পর্যবেক্ষক সংস্থা। দেশটিতে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সুন্নিজোট অনবরত বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। চলমান শান্তি আলোচনার মধ্যেও সৌদি-আমিরাত জোট হামলা থামাচ্ছে না। দ্য আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডাটা (এসিএলইডি) নামের ওই সংস্থাটির হিসেবে, শুধু নভেম্বর মাসেই দেশটিতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৯৫৯ জন। এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা।
এছাড়াও জানা গেছে, গত ১১ মাসে দেশটিতে প্রায় ৩০,০০০ মানুষ আহত হয়েছেন। এটি ২০১৭ সালের তুলনায় শতকরা ৬৮ ভাগ বেশি। নিজেদের পছন্দের সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে ইয়েমেনে অভিযান পরিচালনা শুরু করে সৌদি-আমিরাতের যৌথ বাহিনী। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে পাওয়া সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, সৌদি হামলায় মাত্র ৯ মাসে ইয়েমেনে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬০ হাজার মানুষ।
সংস্থাটির হিসেবে, শুধুমাত্র হোদেইদাহতেই যুদ্ধের কারণে হতাহতের ঘটনা ৮২০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৬ সালের পর থেকে হতাহতের সংখ্যার নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়াও, সৌদি আরবের অবরোধের কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে ইয়েমেনের মৃত্যুঝুকিতে রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ। সম্প্রতি জাতিসংঘ এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, দেশটির অর্ধেক জনসংখ্যা দুর্ভিক্ষে নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সুইডেনে ইয়েমেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলছে। আলোচনা চলার মধ্যেই একদিনেই ২৭ বার বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি জোট। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন সমালোচনা চলছে তখনই ইয়েমেন যুদ্ধ নিয়ে সার্বিক পর্যবেক্ষনের বিস্তারিত প্রকাশ করলো এসিএলইডি।

বাবরি মসজিদের নিচে কোনো মন্দির নেই: পর্যবেক্ষনকারি প্রত্নতত্ত্ববিদ

ভারতের ডানপন্থী কট্টর হিন্দুদের দাবি, অযোধ্যায় দেবতা রামের জন্মস্থানে থাকা মন্দির ভেঙে ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত হয় বাবরি মসজিদ। ২০০৩ সালের আগস্টে এলাহাবাদ উচ্চ আদালতে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ (এএসআই) ছয় মাস খনন শেষে ওই মতে সমর্থন দেয়। ওই সময়ে অযোধ্যা মামলার অন্যতম পক্ষ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের হয়ে খনন কাজ পর্যবেক্ষণকারী দুই প্রত্নতত্ত্ববিদ অবশ্য এই মতের বিরোধিতা করেছিলেন। আদালতে তারা বলেন, বাবরি মসজিদের নিচে মন্দির থাকার কোনও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০১০ সালে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করে এএসআই’র ব্যবহৃত খনন পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ করেন ওই দুই প্রত্নতাত্ত্বিক। বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ২৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে হাফিংটন পোস্ট ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এদেরই এক প্রত্নতাত্ত্বিক সুপ্রিয়া ভার্মা নিজেদের দাবির পক্ষে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নিয়ে কথা বলেছেন। এসব প্রমাণের ভিত্তিতেই তিনি মনে করেন, নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয়েছিল এএসআই।
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ডানপন্থী কট্টর হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দিলে ভারতজুড়ে সৃষ্ট দাঙ্গায় প্রাণ হারায় কয়েক হাজার মানুষ। মসজিদ বিতর্ক নিয়ে মামলা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ওই মামলা এখনও ভারতের আদালতে চলছে। এলাহাবাদ উচ্চ আদালতের নির্দেশে ওই স্থানে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন চালায় এএসআই। আর তা সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের হয়ে পর্যবেক্ষণ করেন দুই প্রত্নতত্ত্ববিদ জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুপ্রিয়া ভার্মা ও শিব নদর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রধান জয়া মেনন। এএসআই’র বিরুদ্ধে পূর্বকল্পিত খনন, নৈতিকতা ও কার্যপদ্ধতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন। তারা বলছেন তৎকালীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স সরকারের অধীনে থাকা এএসআই ডানপন্থী হিন্দুদের বয়ান প্রতিষ্ঠার চাপে ছিল। ওই বয়ানে বলা হয়ে থাকে, মুঘল সম্রাট বাবরের সেনাপতি মির বাকি হিন্দু দেবতা রামের জন্মস্থানে নির্মিত মন্দির গুঁড়িয়ে দিয়ে মসজিদ স্থাপন করেন।
এছাড়াও সুপ্রিয়া ভার্মা বিআর মানির নেতৃত্বে পরিচালিত ওই খনন কাজের পদ্ধতিগত ঘাটতিও নিয়ে কথা বলেছেন। ওই সময়ে এলাহাবাদ উচ্চ আদালতের নির্দেশে পরে সরিয়ে দেওয়া হয় বিআর মানিকে। ২০১৬ সালে মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার তাকে জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়।
হাফিংটন পোস্ট ইন্ডিয়ারে প্রশ্নের উত্তরে সুপ্রিয়া বলেন, আজ পর্যন্ত বাবরি মসজিদের নিচে মন্দির থাকার কোনও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নেই। তাহলে কোন প্রমাণের ভিত্তিতে এএসআই সেখানে মন্দির থাকার দাবি করেছিল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনটি জিনিসের ওপর ভিত্তি করে তারা এই সিদ্ধান্ত দিয়েছিল। প্রথমটি হচ্ছে পশ্চিমের দেওয়াল, দ্বিতীয়টি হচ্ছে ৫০ পিলারের ভিত্তি এবং তৃতীয়টি হচ্ছে স্থাপত্য নিদর্শন। তবে এগুলোর কোনোটিই মসজিদের নিচে মন্দির থাকার প্রমাণ দেয় না বলে মত দেন তিনি।
সুপ্রিয়া বলেন, পশ্চিমের দেওয়ালটি মসজিদের একটি অংশ। এটা এমন একটা দেওয়াল যার সামনে নামাজ পড়া যায়। এটা মন্দিরের অংশ হতে পারে না। মন্দিরের নকশা আলাদা হয়। বাবরি মসজিদের নিচে আসলে আরেকটি পুরাতন মসজিদ ছিল। এছাড়া এসব পিলার নিয়ে যে ধারণার কথা বলা হয়েছে তা মনগড়া আকারে তৈরি করা হয়েছে। আর আদালতে এ নিয়ে আমরা বহু অভিযোগ জানিয়েছি। আমাদের দাবি ছিল পিলারের ভিত হিসেবে যেগুলোকে বলা হচ্ছে তা আসলে ভাঙা ইট আর তার মধ্যে রয়েছে মাটি। এর ওপরে কোনও পিলার তৈরি হতে পারে না, তা খুবই ভঙ্গুর। এটা সম্পূর্ণ একটি রাজনৈতিক ইস্যু। তারা চাইছিল প্রতিবেদনে বলা হোক এগুলো পিলারের ভিত্তি আর প্রতিবেদনে সেটাই বলা হলো। এসব পিলার ও মসজিদের বিভিন্ন স্তর ১২শ থেকে ১৫শ শতাব্দীতে তৈরি হয়েছিল বলে মনে করেন সুপ্রিয়া।
এছাড়া স্থাপত্য নিদর্শনগুলোর বিষয়ে সুপ্রিয়া বলেন, এরকম চারশ’ থেকে পাঁচশ’ নিদর্শন পাওয়া গেছে। যা একটি স্থাপত্য ভবনের টুকরো। এসবের মধ্যে ১২টিকে তারা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছে। এই ১২টি নিদর্শনের কোনাটিই খননের সময়ে পাওয়া যায়নি। এগুলো মসজিদের চুনের স্তরের নিচে পাওয়া গিয়েছিল। এসব নিদর্শনের মধ্যে ছিল একটি বিশেষ মূর্তি, যা কোনও প্রতিকৃতির কাছাকাছি কিছু একটা। এটাকেই তারা ‘স্বর্গীয় যুগল’ আখ্যা দেয়। তবে সেটা শুধুই একটা পুরুষ ও নারীর আধভাঙ্গা মূর্তি। এছাড়া আর কিছুই নয়। তাদের দাবি অনুযায়ী পাথরের তৈরি একটি মন্দির হলে সেখানে এর চেয়ে অনেক বেশি নিদর্শন পাওয়ার কথা। এই মূর্তির কোনও সময় নির্ণয় হয়েছিল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সুপ্রিয়া বলেন, পাথরের সময় নির্ণয় করা যায় না। প্রত্নতত্ত্বে যার সময় নির্ণয় করা যায় তা হলো এটি কখন স্থাপন করা হয়েছিল। কোন স্তরে নিদর্শনটি পাওয়া গেছে তার ওপর ভিত্তি করেই এটি নির্ণয় করা হয়। এছাড়া জৈব নিদর্শনের সময় নির্ণয় করা সম্ভব। যেমন হাড়, খোলস বা কয়লা। তবু এএসআই বেশ কিছু জিনিসের সময় নির্ণয় করেছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট এই মূর্তিটি কোনও স্তরীকৃত এলাকায়ও পাওয়া যায়নি। এটা যেকোনও জায়গা থেকে আসতে পারে। এর সময় নির্ণয় সম্ভব না। অন্যভাবে বলা যায়, মন্দির থাকার কোনও প্রমাণ নেই।
সুপ্রিয়া বলেন, মসজিদের নিচে মন্দিরটি কখনো ছিল বলে দাবি করেছে এএসআই? এমন প্রশ্নের জবাবে সুপ্রিয়া বলেন, তারা এই প্রশ্নের কোনও জবাব দেয়নি। তারা শুধু বলেছে মসজিদের নিচে মন্দির ছিল। তবে কখন এটি নির্মাণ করা হয়েছিল তা তারা জানায়নি।

রাতে কুকুর কি কাঁদে?

রাত হলে কুকুরের কান্না অনেকেই শুনেছেন। পাড়ায় যখন কুকুর কাঁদে, বলা হয় কোনও অশুভ কিছু ঘটতে চলেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই ধারণাই বয়ে চলেছে। গুরুজনদের কাছ থেকে এটা শুনে অভ্যস্ত যে কুকুর কাঁদা মানে কারও মৃত্যু আসন্ন। এ তো গেল ধারণা বা ‘সংস্কার’। এ ব্যাপারে জ্যোতিষীরা কী বলেন? তাঁদের মতে, কুকুর তখনই কাঁদে যখন আশপাশে কোনও ‘অশরীরী আত্মা’ ঘুরে বেড়ায়। যা সাধারণ মানুষের পক্ষে দেখা সম্ভব নয়, সেটার উপস্থিতি টের পায় কুকুররা। তাই তাদের কাছেপিঠে ‘আত্মা’ ঘুরে বেড়ালেই কুকুর নাকি কাঁদতে শুরু করে।
আর কুকুর কাঁদলেই লোকজন তখন তাদের তাড়ানোর চেষ্টা করে। এ তো প্রচলিত ধারণা বা জ্যোতিষীদের কথা।
এ ব্যাপারে বিজ্ঞান কী বলছে, একটু দেখে নেওয়া যাক। বিজ্ঞান বলছে, কুকুর কাঁদে না। ওরা ও ভাবে ডাকে। রাতে এ ভাবে আওয়াজ করে দূরে তার সঙ্গীদের কাছে কোনও বার্তা পৌঁছনোর চেষ্টা করে। এ ছাড়া এ ভাবে আওয়াজ করে তার অবস্থানটা সঙ্গীদের জানায়।
দ্বিতীয়ত, ওরা প্রাণী। ওদেরও চোট-আঘাত লাগতে পারে। ব্যথা হতে পারে। শরীরে কোনও কষ্ট হতে পারে। সেই পরিস্থিতিকে জানান দিতেই ও ভাবে আওয়াজ করে সঙ্গীদের ডাকে।
তৃতীয়ত, কুকুররা একা থাকতে পছন্দ করে না। তাই যখনই একাকিত্ব বোধ করে, তখনই সঙ্গীদের ও ভাবে আওয়াজ করে ডাকে।

মুখোমুখি মেনন-আব্বাস by কাফি কামাল

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র মতিঝিল-পল্টন-রমনা-শাহবাগ নিয়ে গঠিত ঢাকা-৮ নির্বাচনী আসন। বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল, শীর্ষ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট, মন্ত্রীপাড়া, প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কারণে যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনই অভিজাত এ আসন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আসন পুনর্বিন্যাস করে গঠিত ঢাকা ৮ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা দু’লাখ ষাট হাজার। এরাই এবার নির্ধারণ করবেন দুই সুপার হেভিওয়েটের ভোটযুদ্ধের ফলাফল। একজন ক্ষমতাসীন দল মহাজোটের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। যিনি একই সঙ্গে সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। অন্যজন বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির নীতিনির্ধারক ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
পোড়-খাওয়া রাজনীতিবিদ। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র। বিএনপি সরকারের আমলে নানা মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী। দুজনই বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির বিপরীতমুখী গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। প্রভাবশালী নেতা। তবে ভোটের মাঠে আগে তারা কখনও মুখোমুখি হননি। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনে এ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন রাশেদ খান মেনন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় মামলা জটিলতার কারণে সেবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি মির্জা আব্বাস। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা, ডিসিসির সাবেক মেয়র ও সাবেক এমপি হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছে আব্বাসের শক্ত অবস্থান। অন্যদিকে মেনন পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। ফলে এ আসনে লড়াইটা হবে বাঘের সঙ্গে বাঘের। রাজনীতিতে তারা প্রভাবশালী নেতা হলেও ভোটের মাঠে তাদের অবস্থান কেমন সে কৌতূহল সারা দেশের মানুষের।
রাজনীতিতে দু’জনেরই রয়েছে সমৃদ্ধ অতীত। রাশেদ খান মেনন পাকিস্তান আমলের কিংবদন্তি তুল্য ছাত্রনেতা। পাকিস্তানি স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে জেলজুলুমের শিকার হয়েছেন। প্রগতিশীল রাজনীতির এ উচ্চকণ্ঠী নেতা স্বাধীন বাংলাদেশ আমলেও শিকার হয়েছেন হামলার। দেশের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যক্তিত্ব মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সব আন্দোলন-সংগ্রামের পাশাপাশি ১৪ দল গঠনসহ মহাজোটের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিগত একদশক ধরে দাপটের সঙ্গে রাজনীতি করছেন রাশেদ খান মেনন। মন্ত্রী হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন সরকারে। অন্যদিকে মির্জা আব্বাস বাংলাদেশের দুইটি প্রধান রাজনৈতিক দলের একটি বিএনপির যুবসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে যুবদল সভাপতি হিসেবে রেখেছেন সক্রিয় ভূমিকা।
তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘ ১০ বছর ধরে। রাজনীতি করতে গিয়ে বহুবার হামলা-মামলা ও জেলজুলুমের শিকার হয়েছেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় দীর্ঘ দুই বছর কারাভোগ করেছেন। এক যুগ ধরে অব্যাহত মামলা-হামলায় বিপর্যস্ত হয়েছেন মির্জা আব্বাস। বারবার কারাভোগ করেছেন। পুলিশের অনুমতি জটিলতা ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলার কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। তবে ঢাকা-৮ এর একটি বড় অংশ শাহজাহানপুরের স্থায়ী এই বাসিন্দার সাবেক নির্বাচনী এলাকা। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই বিএনপি নেতার আলাদা ইমেজ ও জনপ্রিয়তা রয়েছে এলাকায়।
দল ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও রাশেদ খান মেনন এলাকায় সভা-সমাবেশ, বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চালিয়েছেন আগাম নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে রেখেছেন সার্বক্ষণিক যোগাযোগ। তবে আয়োজন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে না পারলেও খুব বেশি পিছিয়ে নেই মির্জা আব্বাস। বরং স্থানীয় হওয়ায় তার শাহজাহানপুরের বাড়িটি সবসময় সরগরম থাকে নেতাকর্মীদের আনাগোনায়। রাজনীতিতে একরোখা চরিত্রের হলেও কর্মীবান্ধব হিসেবে খ্যাতি আছে মির্জা আব্বাসের।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৯, ২০, ২১নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-৮ আসন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় সীমানাপুনর্নির্ধারণের সময় ঢাকা-৬ ও ঢাকা-১০ এর একাংশের সমন্বয়ে গঠিত হয় এ আসন। এর আগে এ আসনের মতিঝিল ও পল্টন থানার আওতাভুক্ত এলাকা ঢাকা-৬ ও রমনা থানার আওতাভুক্ত এলাকা ঢাকা-১০ আসনের অধীনে ছিল। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো তৎকালীন ঢাকা-৬ আসন থেকে মির্জা আব্বাস এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে হারলেও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন। বিএনপি সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। কিছুদিন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদেও দায়িত্ব পালন করেন। এই আসনে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সাবের হোসেন চৌধুরীর কাছে হেরেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে ২০০১ সালের নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির মেজর (অব.) আবদুল মান্নান। পরে তিনি দল ত্যাগ করলে উপনির্বাচনে এ আসনে মোসাদ্দেক আলী ফালু এমপি হন। সপ্তম জাতীয় নির্বাচনে এ আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের ডা. এইচবিএম ইকবাল। ২০০৮ সালে নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর নতুন সৃষ্ট এ আসনের প্রথম এমপি নির্বাচিত হন রাশেদ খান মেনন। সেবার নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মেননের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি বর্তমানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল। দুই ছাত্রনেতার লড়াইয়ে সেবার ৩৩ হাজার ৯৮১ ভোট বেশি পেয়ে জিতেছিলেন মেনন। মহাজোট সরকারের প্রথম মেয়াদে শিক্ষামন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় ডাক ও তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনে তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন এবং প্রথমে বিমানমন্ত্রী ও পরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। অবশ্যই ১৯৭৯ সালে তিনি প্রথম ও ১৯৯১ সালে দ্বিতীয়বার এমপি নির্বাচিত হন।
ঢাকা-৮ আসনে ঐক্যফ্রন্টের লক্ষ্য হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধার আর মহাজোটের লক্ষ্য অধিকৃত দুর্গ রক্ষা। ক্ষমতায় থাকার সময় এমপি ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে এবং তার আগে মেয়র হিসেবে এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছেন মির্জা আব্বাস। স্থানীয় বিএনপির নেতারা জানান, ঢাকা-৮ আসনের প্রতিটি অলি-গলি, ওয়ার্ড ও থানায় সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় রয়েছেন নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নেও গুরুত্ব দিয়েছেন রাশেদ খান মেনন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য রাশেদ খান মেননের শান্তিনগরের অফিসে একাধিক বৈঠক হয়েছে। এখন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে চলছে কমিটি গঠনের কাজ।
দু’জনকেই ভোটের লড়াইয়ে এগোতে হবে অস্বস্তি নিয়ে। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন দলটির ৪ নেতা। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ ছিল মেননের কাছ থেকে এলাকাবাসীসহ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তেমন সুযোগ-সুবিধা পান না। তাই তারা দলীয় প্রার্থী চেয়েছিল। কিন্তু মহাজোটের একটি শরিক দলের শীর্ষ নেতা হিসেবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পান রাশেদ খান মেনন। মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে এক সঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন অন্যরা। এ ছাড়া ঢাকা-৮ আসনের ৯টি ওয়ার্ডের প্রত্যেক কাউন্সিলরই আওয়ামী লীগের নেতা। তারা সবাই নৌকা প্রতীকের পক্ষে সক্রিয় হলে মাঠে শক্ত অবস্থান পাবেন মেনন। তবে নৌকা প্রতীকে অন্য দলের নেতার জন্য কতটুকু সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা সেটা নিয়ে সংশয় পোষণ করছেন রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন হাবিব-উন নবী খান সোহেল। তিনি এক সময় মির্জা আব্বাসের সঙ্গে অবিভক্ত ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব এবং এখন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী তরুণ এই নেতার রয়েছে বিপুল সংখ্যক অনুসারী। দুইশ’র বেশি মামলা নিয়ে বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছেন তিনি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলীয়ভাবে তাকে ঢাকা-৮ এর বদলে ঢাকা-৯ এর মনোনয়ন দেয়া হয়। কিন্তু আসন পাল্টানোর প্রতিবাদে তিনি তার সে মনোনয়নপত্র জমা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে একধরনের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে মহানগর বিএনপির সোহেল অনুসারীদের। এখন তাদের নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় করাই হবে মির্জা আব্বাসের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সব দলকে অবাধ প্রচারের সুযোগ দিতে হবে -ইসিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বিতর্কমুক্ত এবং সত্যিকারের একটি নির্বাচন আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী তথা সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চেয়ে ঢাকায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেন, বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে সব দলের বাধাহীন নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ নিশ্চিত হবে। র‌্যালি-সমাবেশ করে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সবাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। মুক্ত ও যৌক্তিক বিতর্ক গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে মন্তব্য করে মার্কিন দূত বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত ২৯শে নভেম্বর প্রেসিডেন্টের কাছে পরিচয়পত্র পেশের মধ্য দিয়ে ঢাকায় রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিলেও এই প্রথম বাংলাদেশের রাজনীতি এবং নির্বাচন নিয়ে মুখ খুললেন আর্ল রবার্ট মিলার। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে ৪০ মিনিটের বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানে নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করেন নয়া দূত। সিইসি’র সঙ্গে মার্কিন দূতের বৈঠকে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রস্তুতিসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, প্রায় ১০ কোটি ৪০ লাখের মতো বাংলাদেশি বিশাল গণতান্ত্রিক এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করছেন।
যা যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারকে অবাধ, সুষ্ঠু এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনে তার উৎসাহ যুগিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, জোট বা প্রার্থীকে সমর্থন করে না বরং তার দেশ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, আসন্ন নির্বাচনে সবাইকে অংশগ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র উৎসাহিত করছে। এ সময় নির্বাচনটি পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার কথাও জানান রাষ্ট্রদূত। বলেন, মার্কিন প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) নির্বাচনটি পর্যবেক্ষক করছে।
ইতিমধ্যে গত অক্টোবরে এনডিআইয়ের ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল নির্বাচন-পূর্ব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে গেছে। সেই সঙ্গে চলতি ডিসেম্বরে সংস্থাটির দ্বিতীয় টিম নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মূল্যায়ন রিপোর্ট তৈরি করেছে। পর্যবেক্ষণে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এনডিআইয়ের সহ অংশীদার ‘এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন’। এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন ২ জন নির্বাচনী বিশ্লেষক ইতিমধ্যে বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য প্রেরণ করেছে। সেই সঙ্গে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি আরো কিছু আন্তর্জাতিক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে। রবার্ট মিলার জানান, মার্কিন দূতাবাস থেকে সারা দেশে পৃথক পর্যবেক্ষক দল নিয়োগ করা হবে। যুক্তরাজ্য ও সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতা নিয়ে তারা ১৫ হাজার স্থানীয় পর্যবেক্ষকের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অর্থায়ন করবেন। সুশীল সমাজের সহযোগিতায় এই পর্যবেক্ষকরা ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) হয়ে কাজ করবেন। নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার তাগিদ দিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সকলের অবাধ এবং পূর্ণ অংশগ্রহণ করার সুযোগ থাকতে হবে। প্রত্যেকের রাজনৈতিক মত মুক্তভাবে প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক দল ও জোটের প্রচারণার সমান সুযোগ থাকতে হবে। সেই সঙ্গে ভোটারদের কাছে তাদের পৌঁছাতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে দিতে হবে। মার্কিন দূত বলেন, শক্তিশালী গণতন্ত্র বিকশিত হয় প্রতিনিয়ত প্রাণবন্ত বিতর্কের মাধ্যমে। সেই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যেটি গণতন্ত্রের জন্য জরুরি।
বিশেষ করে গণমাধ্যম, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিরোধী দলের রাজনীতিকদের নিজেদের মতপ্রকাশ এবং নীতি পরিবর্তনে সহযোগিতার জন্য। প্রত্যেক দলকে, যে যে রাজনৈতিক মতাদর্শের হোক না কেন, সকলকে শান্তিপূর্ণ এবং দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সকল পক্ষকে সহিংসতা পরিহার করতে হবে। এ সময় সহিংসতার কুফল সম্পর্কেও সতর্ক করেন মার্কিন দূত। বলেন, সহিংসতা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এবং তাদের উদ্দেশ্য সম্পন্ন করে যারা গণতন্ত্রের ক্ষতিসাধন করে।

আনা চাপম্যানের পর মারিয়া বুতিনা!

আনা চাপম্যানের পর এবার মারিয়া বুতিনা। তার বিরুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে গোয়েন্দাগিরির বা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে এ বছর আগস্টে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অবৈধভাবে বিদেশী এজেন্ট হিসেবে তিনি কাজ করছিলেন বলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের জেলে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তিনি রয়েছেন ভার্জিনিয়া রাজ্যের আলেকজান্দ্রিয়াতে। মারিয়া বুতিনা তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তার আইনজীবীরা ও ফেডারেল প্রসিকিউটররা আদালতের কাছে একটি আবেদন করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, এর আগে মারিয়া নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বক্তব্য দিয়েছিলেন।
তবে এখন তিনি তার সেই বক্তব্য পাল্টাতে চান। লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মিস বুতিনা ও তার আইনজীবীরা সক্রিয়ভাবে এ মামলা নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছেন এমন খবর প্রকাশের পর ওই আবেদন করা হয়েছে।
মারিয়া বুতিনা আমেরিকান ইউনিভার্সিটির সাবেক ছাত্রী। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের সময় রিপাবলিকান রাজনৈতিক চক্রের ভিতর অনুপ্রবেশ করেন। উদ্দেশ্য রাশিয়ার স্বার্থ উদ্ধার। প্রসিকিউটররা বলেছেন, রিপাবলিকান রাজনৈতিক চক্রের ভিতর প্রবেশ করে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন রাশিয়ার শক্তিধর রাজনীতিকদের সঙ্গে। তাদেরকে তিনি নিজের সক্রিয়া সম্পর্কে জানাতেন। বলা হয়েছে, ন্যাশনাল রাইফেল এসোসিয়েশন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দলগুলোর ভিতরকার খবর বের করার চেষ্টা করতেন তিনি। তবে তার আইনজীবীরা বলেছেন, মারিয়া বুতিনা শুধুই মার্কিনিদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন করতে চেষ্টা করছিলেন। ওদিকে ওয়াশিংটনে অবস্থিত রাশিয়ান দূতাবাস বুতিনার বিরুদ্ধে অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক বলে অভিহিত করেছে। তাকে নাজুক একটি জেলে রাখা হয়েছে বলেও তাদের অভিযোগ। এর আগে এই দূতাবাস  তাদের ওয়েবসাইটে লিখেছিল যে, তারা মারিয়া বুতিনার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখবে। তাতে তার ওপর মানসিক চাপ বন্ধ করা ও একজন রাশিয়ান নাগরিকের সঙ্গে অমানবিক আচরণ বন্ধ করার আহ্বান জানানো হবে।

‘কঠিন সময়ে প্রবেশ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

কঠিন সময়ে প্রবেশ করতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। সিনেটের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সদস্যদের এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান দলের ৪৪ সাবেক সিনেটর। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা এ উদ্বেগের কথা জানান। একইসঙ্গে, রাজনৈতিক আদর্শ যাই হোক না কেনো যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র রক্ষার্থে ও জাতীয় স্বার্থে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহবানও জানিয়েছেন তারা। এ খবর দিয়েছে পলিটিকো। বিবৃতিতে বলা হয়, রবার্ট মুয়েলারের তদন্ত প্রায় শেষ দিকে এবং প্রেসিডেন্ট ও তার সরকারের বিষয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হচ্ছে। দুটি ঘটনাই এমন একটি সময় ঘটতে চলেছে যখন আঞ্চলিক সংঘর্ষগুলো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং বৈশ্বিক শক্তিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও ভুরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধ্বংস করতে চাইছে।
সিনেটররা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাসের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোর মত একটি সময়ে উপনিত হয়েছে।
আমরা এমন একটি সময়ে রয়েছি যেখানে গণতন্ত্রের মূলনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা সংকটের মুখে রয়েছে। এমতাবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা ও আইনের শ্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। সাবেক এই সিনেটরদের মধ্যে ৩২ জন ডেমোক্রেট, ১০ জন রিপাবলিকানস ও ২ জন স্বতন্ত্র। তারা আসন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উভয় দলকে এক হয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন। বিবৃতিতে সাবেক সিনেটররা বলেন, আমাদের সময় কংগ্রেসে আমরা ছিলাম মিত্রের মত। কখনো হয়ত বিরোধী ছিলাম কিন্তু কখনো শত্রু ছিলাম না। ইতিহাসে যখনই যুক্তরাষ্ট্র সাংবিধানিক সংকটে পরেছে সিনেট সেখান থেকে দেশকে রক্ষা করেছে। আজকে আবারও সেই একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতির উন্নতি না হলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠবে -সেমিনারে বক্তারা

রাজধানীতে এক সেমিনারে বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আসন্ন ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচন ‘বিতর্কিত’ হিসাবে চিহ্নিত হবে। পরিস্থিতির জন্য তারা মোটা দাগে নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেন। বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। তাদের আজ্ঞাবহ হওয়ার কথা নয় মন্তব্য করে অনেক বক্তা বলেন, প্রশাসনও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মানুষকে হয়রানি করছে বিশেষ করে তারা বিরোধীদের দমনে ব্যস্ত। রাজধানীর ইস্কাটনের বিস মিলনায়তনে ‘মানুষ কী স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে? শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। গেস্ট অব অনার হিসেবে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ।
সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন ও সিজিএস-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম আতাউর রহমান।
সিজিএস-এর নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুুন, এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত মো. ফজলুল করিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, অধ্যাপক রাশেদ আলী মাহমুদ তিতুমীর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শাহাব এনাম খান প্রমুখ বক্তৃতা করেন। মূল প্রবন্ধে সুজন সম্পাদক ড. মজুমদার বলেন, নির্বাচন অত্যাসন্ন। কিন্তু অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ এখনও অনুপস্থিত।
নির্বাচন কমিশন এখনও আস্থা অর্জন করতে পারেনি, তারা বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠার মতো কাজ করতে পারেনি। যদি ইসি’র এই অবস্থা থাকে, নির্বাচকে অবাধ করতে তারা যদি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তা হলে এটি নিশ্চিত যে নির্বাচন নিয়ে দেশ-বিদেশে প্রশ্ন ওঠবে। এটি বিতর্কের মধ্যে পড়বে। আর যদি সত্যি তা-ই হয় তাহলে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে ফের বঞ্চিত হবেন। দেশে এই প্রথম ক্ষমতাসীন দলের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধিতা সত্ত্বেও বিরোধী জোট ও দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তারা নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে যে শঙ্কা বা ঘটনার কথা বলছে তা নিরসন করে নির্বাচনটিকে সুষ্ঠু করার দায়িত্ব সরকারের। নির্বাচন বিতর্কিত হলে তার পরিণতি অমঙ্গলজনক বলেও মন্তব্য করে নাগরিক সমাজের ওই প্রতিনিধি বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রায় ২৫ শতাংশ তরুণ ভোটার আছেন। এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেন তরুণরা হতাশ না হন। এরা একবার হতাশ হলে বিপথে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সেমিনারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশের মানুষ ভোট দিতে চায় কিন্তু সরকার নির্বাচনটিকে বানচালের চেষ্টা করে যাচ্ছে। প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার ড. সাখাওয়াত হোসেন বিরোধীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, পরিস্থিতি যাই হোক আপনারা ভোট বয়কট করবেন না। নির্বাচনের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ‘হেলাফেলা’ করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে এটি একটি ফান প্লেসে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনটি কেমন হবে? নির্বাচন পূর্ব পরিস্থিতি তা বলে দেয় মন্তব্য করে সাবেক ওই নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউশনগুলোও নির্বাচনের গুরুত্ব বুঝতে পারছে না।
নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতা বাতিল করে দেয় কিন্তু উচ্চ আদালতে অনেকে ফেরত পান। কারও নাম উল্লেখ না করে বিভিন্ন প্রার্থীর সমালোচনা করে ড. সাখাওয়াত বলেন, এমন প্রার্থী নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন যারা মনোনয়ন ফরমে অতি জরুরি তথ্য দেননি। ওই নির্বাচন বিশেষজ্ঞ বলেন ভোটগ্রহণ যেমন অবাধ হতে হবে, তেমনটি গণনাও ফেয়ার হতে হবে। নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনও তৈরি হয়নি অভিযোগ করে বিএনপি নেতা আলাল বলেন, বহাল থাকা সংসদ ও সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে।
এ অবস্থায় নির্বাচনী মাঠ খানাখন্দে ভরা ভিন্নমতের মানুষের জন্য। আর সরকারিদলের জন্য সমতল। এই পরিস্থিতিতে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন প্রায় অসম্ভব। অবশ্য এর জবাব দেন আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। তিনি বলেন, আস্থা রাখার কারণ নষ্ট হওয়ার মতো কিছু হয়নি। সদিচ্ছা থাকতে হবে নির্বাচন করার। জনগণ যার সঙ্গে থাকবে তারাই জিতবে। নির্বাচন কমিশনকে ‘সম্পূর্ণ স্বাধীন’ দাবি করে তিনি বলেন, এখন সব কিছু তাদের অধীনে। তাই দায় ও দায়িত্বও তাদের।

ফখরুলের গাড়ি বহরে হামলা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে বিরোধী জোটের প্রার্থীদের প্রচারণায় হামলা, ভাঙচুর ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্ত হয়েছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহর। হামলা হয়েছে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ ও ড. আবদুল মঈন খানের প্রচার মিছিলেও। কোথাও কোথাও বিরোধী জোটের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নোয়াখালী সদর আসনে দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। হামলা সংঘর্ষের
সময় নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বগুড়ায় বিএনপি প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলা করেছে আওয়ামী লীগের কর্মীরা।
খুলনায় বিএনপির প্রার্থী বকুলের সমর্থকদের ওপর হামলা ও যশোরে ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। রাজবাড়ীতে ধানের শীষ প্রার্থীর নির্বাচনী সভা পণ্ড হয়ে যায় ক্ষমতাসীনদের হামলায়। ঝিনাইদহে বিএনপি প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মানিকগঞ্জে বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা হামলা চালিয়েছে। ময়মনসিংহের ৩টি আসনে বিএনপির গণসংযোগ-মিছিলে হামলা, অফিস ভাঙচুর হয়।
ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ হামলার খবর নিশ্চিত করলেও কারা গাড়িতে হামলা করেছে সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেনি। গতকাল বেলা ১টার দিকে সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের দানারহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান জানান, মির্জা ফখরুল নির্বাচনী গণসংযোগকালে দানারহাট এলাকায় পথসভা করছিলেন। এ সময় একদল লোক হঠাৎ এসে হামলা চালায়। তার গাড়ির কাচ ভেঙে দেয়। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগের লোকজন বলে তিনি দাবি করেন। হামলায় ৬টি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর হয়। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন। ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা দুই-তিনটা গাড়ি ভাঙচুর হওয়ার খবর পেয়েছি। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্তের পর জানা যাবে।
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বিএনপি নেতার বাড়ি, ধানের শীষের নির্বাচনী অফিস, ও কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। গতকাল বেলা ১১টার দিকে কবিরহাট বাজারের বিভিন্ন স্থানে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে সকালে কবিরহাট বাজার জিরো পয়েন্টে নোয়াখালী-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ পথসভা করার কথা ছিল। সকাল থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সেখানে জড়ো হতে থাকে। বেলা ১১টার দিকে ঘোষবাগ থেকে বিএনপির মিছিল আসার সময় কবিরহাট দক্ষিণ বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এ সংঘর্ষ পুরো বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করে হামলাকারীরা। কবিরহাট পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির শান্তিপূর্ণ মিছিলে অতর্কিত হামলা চালায়।
পরবর্তীতে হামলাকারীরা তার বাড়ি, বিএনপির নির্বাচনী অফিস ও বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর করে। হামলায় কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হুদা চৌধুরী লিটন, জাসাসের সভাপতি আবদুস সাত্তার, নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ, কবিরহাট পৌর যুবদলের সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন ও প্রবাসী বিষয়ক সম্পাদক গোলাম মোমিত ফয়সলসহ অন্তত ৩০ নেতাকর্মী আহত হন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, সকালে পথসভায় আসার পথে উপজেলার ভূঁইয়ারহাট, শাহজীরহাট, কাচারিরহাট, কালামুন্সী বাজার, ব্যাপারীহাটসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপির মিছিলেও হামলা করা হয়। এদিকে বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করে কবিরহাট উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, সকালে কবিরহাট দক্ষিণ বাজারের নবারুণ একাডেমির সামনে বিএনপির মিছিল থেকে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল, ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ইসমাইলসহ আমাদের দলের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
বিএনপির হামলায় জলিল, ইসমাইলসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ইসমাইলকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা মোহাম্মদ হাছান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সহিংসতা এড়াতে বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বগুড়ার ধুনটে বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে। এ সময় ব্যাপক ভাঙচুর এবং চারটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর জের ধরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। গতকাল ধুনট পৌর শহরের কলাপট্টি এলাকায় বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। এ ঘটনার শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ  মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামে ধানের শীষের ভোট চাওয়ায় নাদিম ও মাসুম নামের দুই বিএনপি কর্মীকে মারপিট করে আওয়ামী লীগ কর্মীরা। এ সময় যুবদল নেতা মুরাদ এর প্রতিবাদ করেন। এ ঘটনার জের ধরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা রাত ১২টার দিকে মুরাদের বাড়িতে পেট্রোল দিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। মুরাদ জানান, অগ্নিসংযোগে তার পরিবারের লোকজন প্রাণে বাঁচলেও বাড়ির আসবাবপত্র ভস্মীভূত হয়। স্থানীয়রা জানান, বগুড়া-৬ (শেরপুর-ধুনট) আসনে বিএনপি প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ গতকাল সকালে ধুনটে নির্বাচনী প্রচারণায় বের হন।
বেলা ১১টার দিকে চারটি জিপ এবং শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে রাঙ্গামাটি গ্রামের যুবদল নেতা মুরাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। তার গাড়িবহর ধুনট পৌর শহরের কলাপট্টি এলাকায় পৌঁছালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সিরাজের গাড়িবহরে হামলা করে। গাড়িবহরে থাকা চারটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয় এবং জিপসহ আরো ৮-১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। খবর পেয়ে ধুনট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ তার নেতাকর্মীদের নিয়ে হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেন। ফলে উভয়পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জিএম সিরাজ অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তার গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শেরপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা কুলখানি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। বর্তমানে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে।
ময়মনসিংহের ৩টি আসনের বিএনপির নির্বাচনী গণসংযোগ, মিছিল ও কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে ক্ষমতাসীন মহাজোটের প্রার্থী-সমর্থকরা।  এ সময় নির্বাচনী কার্যালয়, প্রার্থীর গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। গতকাল এসব পৃথক হামলায় আহত হয়েছেন প্রার্থী জাকির হোসেন বাবলুসহ কমপক্ষে ৩৫ জন নেতা-কর্মী।  মুক্তাগাছা আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ জাকির হোসেন বাবলু জানান, বিকেলে গণসংযোগকালে উপজেলার ৪নং কুমারগাতা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার গাড়িসহ বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এতে আমি ও ড্রাইভার আবদুল্লাহসহ প্রায় ১০ নেতাকর্মী আহত হন। তবে বিষয়টি অবগত নন বলে জানান মুক্তাগাছা থানার ওসি আলী আহম্মেদ মোল্লা। অপরদিকে ভালুকা উপজেলার বাটাজোড় বাজার এলাকায় বিএনপির প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চুর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা করে ভাঙচুর করেছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। ৯নং কাচিনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনসুরের নেতৃত্বে এ হামলা হয় বলে দাবি করেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। এ সময় নির্বাচনী কার্যালয়ের  চেয়ার-টেবিল, টিভি ও আলমারি ভাঙচুর করা হয়। এতে ৫ নেতাকর্মী আহত হন বলে জানান ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনে বিএনপির প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চুর সমর্থকরা।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ভালুকা থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার বলেন, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা এবং পাল্টাপাল্টি মিছিলকে কেন্দ্র করে একটু গণ্ডগোল হয়েছে। তবে এটা বড় কিছু না। এছাড়াও জেলার ফুলপুর উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকা গতকাল বিকালে ধানের শীষ ও নৌকা সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের প্রায় ২০ জন আহত হন। জানা যায়, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি শাহ শহীদ সারোয়ারের পক্ষে বিকেলে ধানের শীষের একটি মিছিল বের হলে হামলা চালায় নৌকা সমর্থকরা। এ সময় দু’পক্ষের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে বাসস্ট্যান্ড এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। কয়েকটি গাড়ি ও দোকান ভাঙচুর করা হয়। এ সময় বিএনপি  নেতা ইসলাম উদ্দিন (৩৫), মোশারফ হোসেন (৫২), আবদুস ছাত্তার (৩৫), মিলন (৩৫), মোস্তফা কামাল খান (৩৫), পাপু (১৬)সহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন।  ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় সাংবাদিকরা খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সিরাজগঞ্জ-২ নির্বাচনী এলাকা কামারখন্দ উপজেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘর এবং নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নেতাকর্মীদের মারপিট করা হয়েছে। সোমবার এসব ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরস্পরকে দায়ী করে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা। গতকাল জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু লিখিত বক্তব্যে বলেন, সোমবার বেলা ১২টার দিকে কামারখন্দ উপজেলা বিএনপি অফিস ভাঙচুর করে। সন্ধ্যায় শিয়ালকোলে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারপিট ও জিব্রাইলের বসতবাড়ি ভাঙচুর করে। রাতে ধুকুরিয়া গ্রামে ইউনিয়ন যুবদল সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও তার গরুর খামারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। অপরদিকে, সিরাজগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, নিশ্চিত পরাজয় জেনে তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে, নিজেরা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে অন্যের ওপরে দোষ চাপাতে চাচ্ছে। তারা হামলা ও মারপিটের অভিযোগ করলেও তাদের কোনো নেতাকর্মী হাসপাতালে ভর্তি হয়নি, অথচ আওয়ামী লীগের অন্তত ৪-৫ জন নেতাকর্মী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আওয়ামী লীগের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মীকে মোবাইলে ও সশরীরে হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মেহেরপুরের গাংনীতে বিএনপির নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ও তাঁবু ছিঁড়ে ফেলে। আওয়ামী লীগ সমর্থকরা এ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির প্রার্থী জাভেদ মাসুদ মিল্টন। সংবাদ সম্মেলনে জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, সোমবার সাহারবাটি এলাকায় বিএনপির প্রচারণা মাইক ভাঙচুর করে ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। গতকাল সকালেও নেতাকর্মীরা যখন বিএনপি অফিসে আসতে থাকেন, তখন ৮-১০ জন লোক হঠাৎ অফিসে হামলা চালায় ও নির্বাচনী তাঁবু ছিঁড়ে ফেলে।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সীগঞ্জ পশুহাট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় শরীফুজ্জামানের দু’টি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়। হামলায় দু’জন আহত হয়েছেন বলেও বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সোমবার রাতে চুয়াডাঙ্গায় ফিরছিলেন ধানের শীষের প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ। রাত সাড়ে ৯টার দিকে শরীফুজ্জামানের গাড়িবহর আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সীগঞ্জ পশুহাট এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তাদের গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা চালায়। রাতে চুয়াডাঙ্গা প্রেস ক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দায়ী করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। এ সময় সঙ্গে থাকা যুবদল নেতা হাবলু ও মিশু আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। এদিকে, চুয়াডাঙ্গা-২ নির্বাচনী এলাকাতেও বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবুর নির্বাচনী মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যায় জীবননগর উপজেলা শহরের চার রাস্তার মোড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ধানের শীষের মিছিলটিতে ছাত্রলীগ-যুবলীগ হামলা চালিয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।
খুলনা-৩ (খালিশপুর-দৌলতপুর-খানজাহান আলী) আসনের বিএনপির প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলের সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে খালিশপুর থানা আওয়ামী লীগ নেতারা। সোমবার রাতে খালিশপুর থানার ১৫নং ওয়ার্ডের জংশন মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, ধানের শীষের পোস্টার লাগানোর সময় আওয়ামী লীগ নেতা নাজু, সুমন, আরিফ, জনি, রাজু ও মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তক্বির নেতৃত্বে ৫০-৫৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত যুবদল নেতৃবৃন্দের  ওপর হামলা করে। এ সময় ১৫নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা লিটন হোসেন লিটু ও রুহুল আমিন হাওলাদারসহ ৫-৭ জন গুরুতর আহত হন। এ ব্যাপারে খালিশপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
গভীর রাতে যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় টানানো ধানের শীষ প্রতীকের পোস্টার ছিঁড়ে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাত দু’টার দিকে শহরের চৌরাস্তা মোড়, এমএম আলী রোড, মাইকপট্টিসহ আশপাশের এলাকায় টাঙানো ধানের শীষ প্রতীকের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে সন্ত্রাসীরা। যশোর-৩ আসনের বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, সোমবার প্রতীক বরাদ্দের পর সন্ধ্যায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ধানের শীষের পোস্টার টানানো হয়। নির্বাচনী বিধি মেনেই প্রচারণার অংশ হিসেবে এসব পোস্টার সাঁটানো হয়। সোমবার রাত আনুমানিক দুইটার দিকে এসব পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়। তিনি বলেন, পোস্টার ছিঁড়ে তারা ক্ষান্ত হয়নি তারা তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থীর নির্বাচনী সভা পণ্ড করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গতকাল বিকালে রাজবাড়ী বাজারের খলিফাপট্টিতে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, রাজবাড়ী পৌর বিএনপির উদ্যোগে শহরের খলিফাপট্টিতে ধানের শীষ প্রার্থী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের নির্বাচনী সভা করার কথা থাকলেও সভা শুরুর পূর্বে দুপুরে ও বিকালে পরপর ২ বার কতিপয় দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় ঘটনাস্থলেই ১০ জন আহত হন। বিএনপি সূত্র জানায়, নির্বাচনী সভাকে বানচাল করতে দুপুর ৩টায় দুর্বৃত্তরা একবার সভাস্থলের চেয়ার ভাঙচুর করে ও পরে বিকালে সভা শুরুর পূর্ব মুহূর্তে আরেক দফা দুর্বৃত্তরা পুনরায় উপস্থিত জনতার ওপর হামলা চালালে ১০ জন আহত হন। এর আগে সোমবার গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে বিকালে এক নির্বাচনী সভা করার কথা থাকলেও সেখানেও দুর্বৃত্তদের হামলায় তা পণ্ড হয়ে যায়। এ সময় সভাস্থল ভাঙচুর করা হয়।
নরসিংদী-২ পলাশ আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. আবদুল মঈন খানের নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা চালিয়েছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। গতকাল বিকালে নির্বাচনী এলাকার আমদীয়া ইউনিয়নের বেলাব নামক স্থানে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলাকারীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও ৪টি মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ছাড়া এ ঘটনায় ছাত্রদল ও যুবদলের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পলাশ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, সকালে মঈন খান নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগ দেন। দুপুরে চরনগর্দী পার্টি অফিসে মতবিনিময় শেষে আমদীয়া ইউনিয়নে গণসংযোগ করতে গেলে বেলাব নামক বাজারে পৌঁছলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছাও মিয়ার নেতৃত্বে যুবলীগ, ছাত্রলীগের ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে গাড়ি বহরে হামলা চালায়।
গতকাল দুপুরে পৌর সদরের শক্তিপুর গ্রামে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে হামলা সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৩টি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, বিএনপি প্রার্থী ড. এমএ মুহিতের বাড়ির গেট, চেয়ার টেবিল,  জানালার গ্লাস, ১টি মোটরসাইকেল ও ১টি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শাহজাদপুর উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানায়, সকাল সোয়া ১১টার দিকে তিনি ও তার বড় ভাই শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এমদাদুল হক নওশাদ জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে (সাবেক বিএনপি অফিস) বসে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে আলাপ করছিলেন। এ সময় একদল যুবক মোটরসাইকেল বহর নিয়ে তাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। তাদের দু’ভাইকে বেধড়ক মারপিট করে। এর কিছু সময় পরই তারা বিএনপি প্রার্থী ড. এমএ মুহিতের শক্তিপুরের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও এ সংর্ষের ঘটনা ঘটে। তারা সরকারি দলের সমর্থকদের এ হামলার জন্য দায়ী করেন। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, খবর পেয়ে আমাদের ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বড় কোনো অঘটন ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
নাটোরে সিংড়ায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দাউদার মাহমুদের নির্বাচনী পোস্টারে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাতে উপজেলার ৮ নম্বর শেরকোল ইউনিয়নের ভাগনাগরকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ছাড়াও একইদিন সন্ধ্যায় শুকাশ ইউনিয়নের জয়কুড়ি বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ  নেতাদের বিরুদ্ধে ধানের শীষের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও আমিনুল ইসলাম নামের এক যুবদল নেতাকে মারপিটের অভিযোগ করেন বিএনপির নেতারা।  শেরকোল ইউনিয়নের ভাগনাগরকান্দি গ্রামের উজানপাড়া ও ভাটোপাড়ায় প্রায় শতাধিক ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শেখপাড়া বাজারে গতকাল সন্ধ্যার দিকে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদের গাড়ি বহরে হামলা হয়েছে। নৌকার স্লোগান দিয়ে ধানের শীষের বহরে থাকা বেশ কয়েকটি মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। হামলার সময় আসাদের সঙ্গে থাকা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এদিক-ওদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন।
নড়াইল-২ আসনের ধানের শীষের নির্বাচনী প্রধান কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ অভিযোগ করেছেন, ২০ দলীয় জোটপ্রার্থী এনপিপির কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান এজেডএম ফরিদুজ্জামান। এ আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী মাশরাফি বিন মর্তুজা। ফরিদুজ্জামান অভিযোগ করেন, গতকাল  বিকালে নড়াইলের লোহাগড়া বাজার এলাকায়  তার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এ ভাঙচুর চালানো হয়। এ হামলায় অন্তত ৪ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসানের নেতৃত্বে তার নির্বাচনী অফিসে হামলা চালানো হয়। এদিন বিকালেই এখানে কর্মিসভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ঘটনার পর ফরিদুজ্জামান বিকালে তার লোহাগড়ার বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতার নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতৃবৃন্দ। বিকাল ৪টা পর বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খান রিতা সাটুরিয়া উপজেলার কালুশাহ মাজার জিয়াতর করতে গেলে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রেজাউল করিম ও যুগ্ম আহ্বায়ক আ. খালেকের নেতৃত্বে স্থানীয় যুবলীগ-ছাত্রলীগ এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ বিএনপির নেতৃবৃন্দের। এ ঘটনায় ছাত্রদলের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সাবেক মন্ত্রী মরহুম হারুনার রশিদ খান মুন্নুর কন্যা আফরোজা খান রিতা গতকাল বিকালে তার নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় নামার আগে সাটুরিয়া কালুশাহ মাজার জিয়াতর করতে যান। ৪টার দিকে দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে আফরোজা খান রিতার বহনকারী গাড়িটি মাজারের রাস্তায় থামানোর পরপরই সেখানে জড়ো হয়ে থাকা ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে গাড়িটি ঘেরাও করে।
এ সময় আফরোজা খান রিতাকে লক্ষ্য করে নানা ধরনের স্লোগান দেয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ। পরে বিএনপি প্রার্থী আফরোজা খান রিতাকে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি নেতাকর্মীরা হাতে হাত রেখে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে কালুশাহ মাজারে নিয়ে যায়। পেছন পেছন ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরাও সেখানে যায়। আফরোজা খান রিতা মাজার জিয়ারত শেষে নিজের বহনকারী গাড়িতে উঠতে গেলে আবারও হট্টগোল বাধিয়ে দেয় ছাত্রলীগ-যুবলীগ। এ সময় তিনি নিজের দলের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। একপর্যায়ে আফরোজা খান রিতার কর্মী ও সমর্থকদের লাঠিসোটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করে যুবলীগ-ছাত্রলীগ। পরে সেখান থেকে আফরোজা খান রিতার গাড়িটিকে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মী নিরাপদে নিয়ে যায়। সাটুরিয়া থানার সামনে রিতার গাড়িবহর থামিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের সাহায্য চান। পরে সেখান থেকে সাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে প্রচারণায় গেলে, সেখানেও ছাত্রলীগ-যুবলীগ একই কায়দায় বাধা দেয় এবং নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর সাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেও পারেনি। তখন গাড়িবহরটি দরগ্রাম অভিমুখে যাত্র করলে পেছনে পেছনে ছাত্রলীগ-যুবলীগ স্লোগান দিয়ে বেশ কিছু দূর যায়। বাধা ও হামলার কারণে আফরোজা খান রিতা তার নির্ধারিত গণসংযোগ স্থগিত করে মানিকগঞ্জের গিলন্ডা এলাকায় তার নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। প্রচারণায় হামলার ঘটনায় জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানা গেছে।
রাঙ্গাবালী উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় দলের অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বিকালে উপজেলার খালগোড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৩টায় খালগোড়া বাজারের রাঙ্গাবালী জাহাগিরিয়া শাহ সুফি মমতাজিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসা মাঠে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেনের উপস্থিতিতে এক সভার আয়োজন করা হয়। পরে একইসময় ওই বাজারের বালুর মাঠে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মহিব্বুর রহমান মহিবের সমর্থকরাও সভার আয়োজন করেন। এতে দুই পক্ষের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিকাল সাড়ে ৩টায় তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে যায়। দফায় দফায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী দুই পক্ষের সংঘর্ষে এনামুল ইসলাম লিটু, মজিবর রহমান, মশিউর রহমান শিমুল, সোহেল মাতুব্বর, জসিম হাওলাদার, বাবু তালুকদার, খালিদ বিন ওয়ালিদ, মহসিন মৃধা, রাজিব রহমান, জাকির, মিজানুর রহমান, শওকত প্যাদা, মহসিন হাওলাদার, মাসুম হাওলাদার, নাজমুল হোসেন, রাব্বি হাওলাদার, স্বপন ও নিয়াজ আকনসহ অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৮ জনকে আটক করেন।