Tuesday, September 29, 2009

রাজধানীর বনানীতে বাটা সিটি স্টোর উদ্বোধন

ঢাকার বনানীর ১১ নম্বর রোডে সম্প্রতি বাটা সিটি স্টোর খোলা হয়েছে। দোকানটির উদ্বোধন করেন বাটা বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জে ডি হার্নস।
অনুষ্ঠানে বাটার সিএফও ইয়ে সিউ এনজি, কনসালট্যান্ট (বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) এম এ কাদের, অ্যাডভারটাইজিং অ্যান্ড প্রোমোশন ম্যানেজার জাহিদুল হুদা, স্টোর অপারেশন ম্যানেজার (ফ্যামিলি) জিয়াউদ্দিন আহমেদ, স্টোর অপারেশন ম্যানেজার (সিটি) ফিরোজ মোহাম্মদ এবং অন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই দোকানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বাটা জুতো, যেমন—বাটা, পাওয়ার, মেরি ক্লেয়ার, হাস পাপিস, সোল, নর্থ স্টার, বি ফার্স্ট, বাটা কমফিট, অ্যামবাসেডর, বাবলগামারস, ওয়েইনব্রেনার এবং নাইকি পাওয়া যাচ্ছে।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা

গত শনিবার ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের দশম বার্ষিক সাধারণ সভা চট্টগ্রামের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম সভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এ এম জাকারিয়া ও কোম্পানি সচিব হান্নান খান বক্তব্য দেন।
সভায় ব্যাংকের পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের ১০ শতাশ লভ্যাংশ ঘোষণা

প্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের নবম বার্ষিক সাধারণ সভা গতকাল রোববার যমুনা রিসোর্টে অনুষ্ঠিত হয়। এতে কোম্পানির ২০০৮ সালের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়।
সভায় কোম্পানির চেয়ারম্যান সৈয়দ এম আলতাফ হোসাইন সভাপতিত্ব করেন। এতে কোম্পানির পরিচালক আব্দুল আওয়াল মিন্টু, তাবিথ এম আওয়াল, খলিলুর রহমান, এ কে এম রফিকুল ইসলাম, ইউনুস চৌধুরী, আনোয়ার ইমাম হোসেন, এম এ আওয়াল ও জাহাঙ্গীর চৌধুরী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাফর হালিম উপস্থিত ছিলেন।

এডিসন গ্রুপ নতুন মোবাইল হ্যান্ডসেট নিয়ে এল বাজারে

এডিসন গ্রুপ ‘সিম্ফনি এক্স ১০০’ নামে নতুন একটি মোবাইল হ্যান্ডসেট নিয়ে এসেছে দেশের বাজারে। এটির দাম ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ২৯০ টাকা।
সম্প্রতি সেটটির বাজারজাত কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে এডিসন গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রশিদ, সিএফও জাকারিয়া শহীদ, পরিচালক রেজওয়ানুল হক, সিএমও আহমেদ পাশা এবং বিপণন ব্যবস্থাপক মুনিম মো. ইশতিয়াক উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে ২০০৮ সাল থেকে সিম্ফনি মোবাইল হ্যান্ডসেট বাজারজাত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই হ্যান্ডসেটের সঙ্গে ফেইসবুক, এমএসএন, অপেরা মিনির মতো ইন্টারনেট কার্যাবলিও সংযুক্ত রয়েছে। এই ফোনের কিবোর্ডে প্রত্যেকটি অক্ষরের জন্য আলাদা ‘কি’ নির্দিষ্ট করা আছে। এতে ব্যবহারকারীরা একই সঙ্গে দুটি আলাদা সিম ব্যবহার করতে পারবে।

টেলিযোগাযোগ সেবা সম্প্রসারণ একীভূত লাইসেন্স দেওয়ার চিন্তা করছে বিটিআরসি

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে দেওয়া বিভিন্ন ধরনের টেলিযোগাযোগ সেবা সহজলভ্য করতে একীভূত (ইউনিফাইড) লাইসেন্স দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রণয়ন করার জন্য একটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বিটিআরসি চুক্তিও করেছে। গতকাল রোববার বিটিআরসি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসি থেকে এ পর্যন্ত যত লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে তার অধিকাংশই হলো বিশেষ প্রযুক্তিনির্ভর। এর ফলে ওই বিশেষ প্রযুক্তির লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একই ধরনের আরও উন্নত প্রযুক্তির সেবা দিতে হলে নতুন করে লাইসেন্স নিতে হয়।
তা ছাড়া একই যন্ত্রপাতি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সেবা শুধু একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রাখতে হচ্ছে।
এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বিটিআরসি ইউনিফাইড লাইসেন্স দেওয়ার চিন্তা করছে বলে জানা গেছে।
অবশ্য বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিটিআরসি জানিয়েছিল, ২০১১ সালের মধ্যে দেশে ইউনিফায়েড লাইসেন্স দেওয়া হবে।
গতকাল বিটিআরসি কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত এক কর্মশালায় বলা হয়, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হচ্ছে। উদ্ভাবিত প্রযুক্তি গ্রহণ করার মাধ্যমে জনগণের কাছে সহজ সেবা পৌঁছে দিতে এবং লাইসেন্সিং পদ্ধতিকে সহজতর করার লক্ষ্যে বিটিআরসি এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
এ কাজে বিটিআরসিকে ডেভিড বুচার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস নামের একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান সহায়তা দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় প্রতিনিধি এইচবি কনসালট্যান্টস। তিন সপ্তাহ ধরে বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ডেভিড বুচার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের সমন্বয়ে পরামর্শক দল দেশের অধিকাংশ লাইসেন্সধারীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের লিগ্যাল ও লাইসেন্সিং বিভাগের কমিশনার মাহবুবুর রহমান। বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও সব ধরনের লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।

এমিরেটসের বিশ্বব্যাপী নতুন টিভি ও অনলাইন বিজ্ঞাপন প্রচার শুরু

দুবাইভিত্তিক বিমান সংস্থা এমিরেটস এয়ারলাইনস বিশ্বব্যাপী নতুন টিভি ও অনলাইন বিজ্ঞাপন কার্যক্রম শুরু করেছে। এসব বিজ্ঞাপন নির্মাণ করেছেন চারবার অ্যামি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী মাইকেল নোভাল।
‘মিট দুবাই’ শীর্ষক এই প্রচার কার্যক্রম দি নিউইয়র্ক টাইমস, নিউজ উইক, টাইম, দি ওয়ালস্ট্রিট জার্নালসহ বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এখন প্রচারিত হচ্ছে।
এমিরেটসের এসব বিজ্ঞাপনচিত্রে বিজ্ঞাপন মডেল বা অভিনেতাদের পরিবর্তে সাধারণ লোকদেরই তুলে আনা হয়েছে, কোনো পাণ্ডুলিপি ব্যবহার না করে। এতে একমাত্র পেশাদার অভিনেতা হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের কেভিন স্যাকার। মূলত কোনো রিহার্সেল ছাড়াই প্রামাণ্যচিত্রের আদলে বিজ্ঞাপনগুলো তৈরি করা হয়েছে।
গতকাল রোববার থেকে সিএনএন, বিবিসি ওয়ার্ল্ড, সিএনবিসি, ট্রাভেল চ্যানেল, গুগল, ইয়াহু! ও ইএসপিএনসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে এমিরেটসের এরিয়া ম্যানেজার হানিফ জাকারিয়া বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের মধ্যে এসব বিজ্ঞাপন যথেষ্ট সাড়া জাগাবে। কারণ পছন্দের গন্তব্যে ভ্রমণের আগেই তাঁরা সেখানকার জীবনযাত্রা অবলোকনের সুযোগ পাবেন।

মাইকেলভক্তদের রাতজাগানিয়া অপেক্ষা

পপতারকা মাইকেল জ্যাকসনের প্রত্যাবর্তন কনসার্টের মহড়া অনুষ্ঠান নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র দিজ ইজ ইট মুক্তি পাচ্ছে ২৭ অক্টোবর। লস অ্যাঞ্জেলেসের নোকিয়া থিয়েটারে এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। আর সেই প্রদর্শনীর টিকিট পেতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন পপতারকার ভক্তরা। একটি টিকিটের জন্য তাঁরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছেন। খবর এএফপির।
গতকাল রোববার প্রথম প্রহর থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শনিবার সকালের মধ্যেই নোকিয়া থিয়েটারের বাইরে শত শত ভক্ত লাইনে দাঁড়িয়ে যান। লেটিসিয়া মার্টিন নামের এক ভক্ত সারা রাত জেগে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ঘুমাইনি। টিকিট কেনার জন্য সারা রাত জেগেছিলাম। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে লাইনে দাঁড়িয়ে কেউ কেউ স্লিপিং ব্যাগের ওপরই ঘুমিয়ে পড়েন। আবার কেউ ভাঁজ করা চেয়ার এনে তাতেই রাত পার করেছেন।’
এন্ড্রু উইংলার্জ নামের একজন গাড়িচালক বলেন, ‘আমি রাতে একফোঁটা ঘুমাইনি।’ দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা ওই ভক্ত তাঁর তিন বন্ধুকে নিয়ে লাইনে দাঁড়ান। ব্রেন্ডা গঞ্জালেজ নামের আরেক ভক্ত বলেন, ‘ আমি শুক্রবার ভোর রাত তিনটায় লাইনে দাঁড়িয়েছি।’ গঞ্জালেজের সঙ্গে ছিল তাঁর বোন ও এক বন্ধু। ২৬ বছরের গঞ্জালেজ বলেন, ‘আমি সাধারণত ১২ ঘণ্টার মতো ঘুমাই। কিন্তু টিকিটের জন্য আমি আজ রাতে মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমিয়েছি।’
পপতারকার মৃত্যুর কারণেই তাঁর তথ্যচিত্রের প্রতি আবেদন বেড়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জ্যাকসনের অনুকারক জিমি লি বলেন, ‘জ্যাকসন জীবিত থাকলেও এ তথ্যচিত্র দেখার জন্য আমাদের আগ্রহের এতটুকু ঘাটতি হতো না।’
উল্লেখ্য, রোববার প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিন হাজার টিকিট বিক্রি হয়।
গত ২৫ জুন মাত্রাতিরিক্ত চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগের কারণে মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যু হয়।

চলচ্চিত্র পরিচালক রোমান পোলানস্কি গ্রেপ্তার

অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র পরিচালক রোমান পোলানস্কিকে (৭৬) গ্রেপ্তার করেছে সুইজারল্যান্ডের পুলিশ। গত শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩১ বছর আগের একটি মার্কিন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাবলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল রোববার জুরিখ চলচ্চিত্র উত্সবের কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
কর্মকর্তারা জানান, একটি আজীবন সম্মাননা পুরস্কার নেওয়ার জন্য পোলানস্কি ফ্রান্স থেকে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে চলচ্চিত্র উত্সবে যোগ দিতে আসেন। এ সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে পোলানস্কি স্বীকার করেছিলেন, ১৯৭৭ সালে ১৩ বছরের একটি কিশোরীর সঙ্গে অবৈধ যৌনসম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। ওই ঘটনায় পোলিশ বংশোদ্ভূত পোলানস্কির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তিনি ওই সময় পালিয়ে ফ্রান্সে চলে আসেন। পরিচালকের আইনজীবী জানিয়েছেন, পোলানস্কি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে পারবেন না। কারণ সেখানে ফিরলেই তাঁকে পলাতক আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হবে। ২০০২ সালে পিয়ানিস্ট চলচ্চিত্রের জন্য অস্কার পুরস্কার পান পোলানস্কি।

লিবীয় নেতা গাদ্দাফির কানাডা সফর বাতিল

লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি কানাডায় তাঁর যাত্রা বিরতি বাতিল করেছেন। কানাডার কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবং মানবাধিকার সংস্থার অব্যাহত প্রতিবাদের মুখে তিনি এই সফর বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আগামী সপ্তাহে কানাডার নিউ ফাউন্ড ল্যান্ড প্রদেশের সেন্ট জনে তাঁবুতে গাদ্দাফির রাত কাটানোর কথা ছিল। কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে বিমানবন্দরে অভিবাদন জানানোর জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠানোর কথাও ছিল।
স্কটল্যান্ডের লকারবি বিমান হামলার নায়ক আবদেল বাসেত আলী মেগরাহিকে গত মাসে লিবিয়ায় বীরের সম্মান দেওয়ায় সারা বিশ্বে আলোচিত হগন গাদ্দাফী। ১৯৮৮ সালে বোমা হামলায় প্যান অ্যাম বিমান ধ্বংস হলে এর ২৭০ জন যাত্রী মারা যায়। এতে কানাডার তিনজন নাগরিকও নিহত হন। ওই ঘটনায় মেগরাহির ২৭ বছর জেল হয়। ক্যানসারে আক্রান্ত বাসেতকে মানবিক কারণে গত মাসে স্কটিশ জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা বাতিল করল রাশিয়া

ক্যালিনিনগ্রাদে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা অবশেষে বাতিল করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ গত শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন। ইউরোপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিতর্কিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ঘাঁটি গড়ার পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর রাশিয়া এ সিদ্ধান্ত জানায়।
যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবুর্গে জি-২০ সম্মেলন শেষে দিমিত্রি মেদভেদেভ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এর আগে ঘোষণা দিয়েছিলাম, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা স্থাপনা গড়ে তুললে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরাও ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করব। ওয়াশিংটন এই সময়ের মধ্যে তাদের সিদ্ধান্ত পাল্টেছে। আমাদেরও আর ওই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের প্রয়োজন নেই।’

গুয়ানতানামোর বন্দীদের জন্য নতুন জায়গা খুঁজছে হোয়াইট হাউস

কিউবার বিতর্কিত মার্কিন বন্দিশিবির গুয়ানতানামো বে থেকে কিছু বন্দীকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের ব্যাপারে এখনো অটল মার্কিন প্রশাসন। এসব বন্দীর জন্য কারাগার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওবামার প্রশাসন। এজন্য পছন্দসই জায়গা খোঁজা হচ্ছে। ওবামার প্রশাসনের এক মুখপাত্র গত শনিবার এ তথ্য দিয়েছেন। তবে ঠিক কবে এবং কোথায় ওই কারাগার নির্মাণ করা হবে, এ ব্যাপারে কোনো তথ্য দেননি ওই মুখপাত্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষমতায় এসেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে গুয়ানতানামো বে বন্ধ করা হবে। তবে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিরোধিতার মুখে তাঁর পূর্বঘোষিত সময়ের মধ্যে গুয়ানতানামো বে কারাগারটি বন্ধ করা মোটেও সহজ হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওই মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। আশা করি প্রেসিডেন্টের পূর্বঘোষিত সময়ের মধ্যেই সব করা সম্ভব হবে। আমরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে কারাগার নির্মাণের জন্য জুতসই জায়গা খোঁজার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওবামার প্রশাসনের অপর একজন মুখপাত্র বলেন, এ ব্যাপারে আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি ওবামা পাকাপাকি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তিনি আরও বলেন, মিশিগানের স্ট্যান্ডিশ এলাকায় অথবা কলোরাডোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেখানেই হতে পারে গুয়ানতানামো বে বন্দীদের নতুন আবাসন। অন্তত আটজন বিপজ্জনক বন্দীকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করা ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তাই তাঁদের হয়তো প্রশান্ত মহাসাগরের পালাউ দ্বীপে পাঠানো হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসন ২০০১ সালে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। ওই সময় গ্রেপ্তার করা বন্দীদের আনা হয় গুয়ানতানামো বে কারাগারে। সেখানে বন্দী নির্যাতনের নানা লোমহর্ষক কাহিনী প্রকাশিত হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। ওবামা শেষমেশ কারাগারটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন। বন্দীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের ব্যাপারে রিপাবলিকানদের জোর আপত্তি রয়েছে। তাঁরা দাবি করে আসছেন, এতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়বে।

একসঙ্গে চারজনকে বিয়ে

একাধিক বিয়ে করার চল কমবেশি সব দেশেই রয়েছে। কিন্তু একসঙ্গে একাধিক বিয়ে করার ঘটনা সচরাচর গোচরে আসে না। কিন্তু গত শনিবার এমনটাই ঘটেছে দক্ষিণ আফ্রিকার কাওয়াজুলু নাটাল প্রদেশে। ওই দিন স্থানীয়সরকারি চাকরিজীবী মিলটন এমভেলে একসঙ্গে চারটি বিয়ে করেছেন। যুক্তি হিসেবে তিনি খরচ কমানোর কথা উল্লেখ করেন। গতকাল রোববার দক্ষিণ আফ্রিকাভিত্তিক সানডে টাইমস পত্রিকা এ খবর জানিয়েছে।
এমভেলেকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি জানায়, সব স্ত্রীকে সমানভাবে ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এমভেলে বলেন, ‘আমি সারা জীবন এই দিনটির অপেক্ষায় ছিলাম।’ একসঙ্গে চার বিয়ে করার কারণ হিসেবে ঐতিহ্য আর খরচ কমানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একজন স্ত্রী আর ৩০ জন মেয়ে বন্ধু রাখার কোনো মানে হয় না। এতে খরচ অনেক বেড়ে যায়।’
দক্ষিণ আফ্রিকার আইনে বহুবিবাহ করার অনুমতি রয়েছে। কাওয়াজুলু নাটাল প্রদেশের স্থানীয় একটি খেলার মাঠে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়। একটি লিমুজিন গাড়িতে চার কনেকে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন এমভেলে। এ সময় তাঁর পরনে ছিল সাদা রঙের স্যুট।
এমভেলে (৪৪) ১০ সন্তানের জনক। এর মধ্যে তাঁর চার স্ত্রীর সন্তান সাতজন। বাকি তিনজন আগের সম্পর্কের ফসল। একাধিক বিয়েকে ঐতিহ্য হিসেবে উল্লেখ করে সরকারি এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি একজন গর্বিত জুলু। একাধিক বিয়ে জুলু-সংস্কৃতির অংশ। নিজেকে আমি গোত্র থেকে আলাদা হিসেবে বিবেচনা করি না।’ তিনি জানান, এই চার বিয়েতে দেড় লাখ র্যান্ড (দক্ষিণ আফ্রিকার মুদ্রা) খরচ হয়েছে।
স্ত্রীদের মধ্যে স্বস্তিদায়ক প্রতিযোগিতা চলে জানিয়ে এমভেলে বলেন, ‘তারা সবকিছু নিয়েই প্রতিযোগিতা করে। তবে সেটি সুস্থ প্রতিযোগিতা। তাদের প্রত্যেকের আচরণই ভালো। আমি খুবই সুখী মানুষ।’ চার স্ত্রীর জন্যই বাড়ি বানিয়ে দেবেন বলে জানান এমভেলে।

ফিলিপাইনে প্রচণ্ড ঝড় ও বৃষ্টিপাত ৭৩ জনের প্রাণহানি

ফিলিপাইনে প্রচণ্ড ঝড় ও ঝড়-পরবর্তী বন্যায় কমপক্ষে ৭৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এ ছাড়া ২৩ জন নিখোঁজ রয়েছে। গত শনিবার রাজধানী ম্যানিলাসহ ২৫টি প্রদেশে ‘কেটসানা’ নামের শক্তিশালী এক গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় আঘাত হানে। এর পরই সেখানে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর অনেক শহর পানিতে ডুবে গেছে। গত ৪০ বছরের মধ্যে ফিলিপাইনে এটাই সবচেয়ে প্রলয়ংকরী বন্যা। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যায় রাজধানী ম্যানিলার ৮০ ভাগ এলাকা ডুবে গেছে।
সরকার জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে জরুরি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে।
ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্ট টিওডোরো জানান, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক দল উদ্ধারকাজে নেমে পড়েছে। আড়াই লাখের বেশি লোক ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে।
কর্মকর্তারা গতকাল রোববার জানান, শনিবার টানা নয় ঘণ্টা ধরে ঝড় ও বৃষ্টিপাত হয়। এর ফলে সৃষ্ট বন্যায় মহাসড়কগুলো নদীতে পরিণত হয়েছে। পানির তোড়ে অসংখ্য ঘর ও গাড়ি ভেসে গেছে। এতে এক কোটি ২০ লাখ লোক পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
গিলবার্ট টিওডোরো বলেন, ‘এটাই হচ্ছে আমার দেখা সবচেয়ে প্রলয়ংকরী বন্যা।’ তিনি বলেন, বন্যায় এখন পর্যন্ত ৭৩ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করা গেছে। এ ছাড়া আরও ২৩ জন নিখোঁজ রয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হেলিকপ্টার ও রাবার বোটে করে এ পর্যন্ত চার হাজার বন্যার্তকে উদ্ধার করেছেন। গতকাল বিকেল পর্যন্ত অসংখ্য লোক বাড়ির ছাদে এবং ঘরের চালে আটকা ছিল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক রেডিও ভাষণে বলেছেন, ‘আপনাদের কেউ ঘরের চালে থাকলে, সেখান থেকে চলে আসার চেষ্টা করবেন না। ওখানেই অবস্থান করুন, আপনাদের উদ্ধারে সম্ভাব্য সবকিছু করা হবে।’
ম্যানিলার পাশে প্যাসিগ শহরের লোকজনকে গলা সমান পানিতে তাদের শিশুসন্তানদের দুই হাতে উঁচু করে ধরে এবং মাথায় মালামাল নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে দেখা গেছে।
কর্মকর্তারা জানান, ম্যানিলার তিনটি বিমানবন্দর গত শনিবারই বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর ফলে পর্যটকসহ হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, বন্যায় ম্যানিলা ও পাঁচটি নিম্নাঞ্চলীয় প্রদেশে দুই লাখ ৮০ হাজার লোক বাস্তুহারা হয়েছে। ৪১ হাজার লোক আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে। রাস্তা ডুবে যাওয়ায় এবং রাস্তায় শত শত গাড়ি আটকে পড়ায় উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে পারছে না।
ফিলিপাইনের রেডক্রসের চেয়ারম্যান গুয়েনডোলিন প্যাং বলেন, উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছার চেষ্টা করছেন। কিন্তু মহাসড়কে অসংখ্য গাড়ি আটকে পড়ায় উদ্ধারতত্পরতায় বিঘ্ন ঘটছে। তিনি বলেন, ফিলিপাইনে এর আগে এ রকম ভয়াবহ বন্যা আর কখনোই হয়নি।
ফিলিপাইনের প্রধান দ্বীপ লুজন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার টেলিভিশনে দেখা গেছে, রাস্তার ওপর দিয়ে নদীর মতো পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট গ্লোরিয়া অ্যারোইয়ো জরুরি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি দেশের সব নাগরিককে বিশেষ করে ম্যানিলা ও অন্যান্য প্রদেশের শহর এলাকার লোকজনকে শান্ত থাকার অনুরোধ করছি। তাদের স্থানীয় কর্মকর্তা ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।

স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে ইরান

ইরান গতকাল রোববার দুটি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আল-আলম ও প্রেস টিভি চ্যানেলে বলা হয়, তোন্দার ও ফাতেহ ১১০ শ্রেণীর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছে। দ্বিতীয় একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র চালু করার ঘোষণা দেওয়ার দুই দিন পরই এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালো ইরান।
সামরিক মহড়া শুরুর কথা জানিয়ে গত শনিবার ইরানের প্রভাবশালী রেভল্যুশনারি গার্ডস বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ইরানি সামরিক বাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডার উন্নত করার লক্ষ্যে তাঁরা ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাবেন। রেভল্যুশনারি গার্ডসের বিমানবাহিনীর অধিনায়ক হোসেইন সালামি বলেন, এই মহড়ায় ভূমি থেকে ভূমিতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন পরীক্ষা করা হবে। কয়েক দিন ধরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হতে পারে বলে জানান তিনি। নিজের অস্ত্রাগারের ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য উপসাগরীয় এলাকায় প্রায়ই সামরিক মহড়া চালায় ইরান।
আইএইএর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে
ইরান বলেছে, কোম শহরের কাছে দ্বিতীয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শোধনাগার নির্মাণের কাজটি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে হবে। শনিবার ইরানের আণবিক শক্তি প্রকল্পের প্রধান আলী আকবর সালেহি বলেন, নতুন এই শোধনাগার আইএইএর পর্যবেক্ষকদের পরিদর্শন করতে দেওয়া হবে এবং তাঁদের তত্ত্বাবধানে শোধনাগারের নির্মাণকাজ পরিচালিত হবে। তিনি জানান, সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ক্ষমতা থাকবে শোধনাগারটির। আগামী দুই বছরের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা।
এদিকে ইরানের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ইরানের আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার যেকোনো ঘোষণাকে আমরা স্বাগত জানাই।’

সেই ইউসুফ-মালিকের এই যুগলবন্দী

মোহাম্মদ ইউসুফ আর শোয়েব মালিক—কী অসাধারণ এক যুগলবন্দী পরশু দেখল সেঞ্চুরিয়ন! চ্যাম্পিয়নস ট্রফির যেকোনো উইকেটের নতুন রেকর্ড জুটি গড়ে পরশু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে টুর্নামেন্টে থেকেই বিদায় নেওয়ার শঙ্কায় ফেলে দিয়েছেন তাঁরা। অথচ এই ইউসুফ আর মালিক কদিন আগেই একে অন্যের ছায়াও নাকি মাড়াতেন না!
আইসিএলে যোগ দিয়েই ইউসুফ দাবি করেছিলেন, তখনকার অধিনায়ক মালিক তাঁকে যোগ্য সম্মান আর মর্যাদা দেননি বলেই পাকিস্তানের জাতীয় দলে খেলার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন তিনি! অনেক জলঘোলা শেষে ইউসুফ আবার জাতীয় দলে ফিরলেও সম্পর্কের বরফ নাকি গলছিল না। অধিনায়ক ইউনুস খানের মধ্যস্থতায় হলো সমাধান। নতুন বন্ধন কত মজবুত তা পরশুই দেখল সবাই।
দলের ভেতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘কিছুদিন আগ পর্যন্তও তারা কথা বলত না। কিন্তু দুই সিনিয়র খেলোয়াড়ের মধ্যে সব বিভেদ দূর করে দেন অধিনায়ক ইউনুস।

মিজানুর-রাসিউল সংবর্ধিত

কোরিয়ান ওপেন তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ী মিজানুর রহমান ও রাসিউল কবিরকে সনদ ও এক লাখ টাকার চেক পুরস্কার দিয়েছে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুল মুবীন ও বিওএ মহাসচিব কুতুব উদ্দিন আহমেদ।

বাংলাদেশ এ ২৯/২

সোহ্রাওয়ার্দী শুভ (৫/৪৬) ও তালহা জুবায়েরের (২/৫০) বোলিং তোপে মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অনূর্ধ্ব-২২ দলকে প্রথম ইনিংসে ২১৫ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। জবাবে তিন দিনের ম্যাচের প্রথম দিনে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের শুরুটা ভালো হয়নি। ১০ ওভারে ২৯ রান তুলতেই হারিয়েছে ইমরুল কায়েস (১৩) ও নাফিস ইকবালকে (৯)।

রুপা জিতলেন ফাহিমা

উজবেকিস্তানের তাসখন্দে অনুষ্ঠানরত এশিয়ান জুনিয়র আন্তক্লাব ভারোত্তোলনে ৫৮ কেজি ওজন শ্রেণীতে রুপা জিতেছেন প্রথম আলোর বর্ষসেরা রানার আপ ফাহিমা আক্তার ময়না। গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় এশিয়ান ক্লাব ভারোত্তোলনেও রুপা জেতেন তিনি।

টিম ম্যানেজমেন্টে আর পরিবর্তন চান না সিডন্স

ম ম্যানেজমেন্টে পরিবর্তন আসলে সেটা ক্রিকেটের স্বার্থেই আসবে—জাতীয় দলের কোচ জেমি সিডন্সকে কাল এই বার্তা দিয়েছেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস প্রধান এনায়েত হোসেন। সিডন্সও জানিয়ে দিয়েছেন নিজের কথা—২০১১ বিশ্বকাপের আগে টিম ম্যানেজমেন্টে আরও কোনো পরিবর্তন চান না তিনি।
‘কোচকে বলা হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টে কোনো পরিবর্তন হলে সেটা ক্রিকেটের ভালোর জন্যই হবে। সিডন্সও ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছেন’—সিডন্সের সঙ্গে আলোচনা শেষে বলেছেন ক্রিকেট অপারেশনস প্রধান। তবে বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টিম ম্যানেজমেন্টে আর কোনো পরিবর্তন না আনার অনুরোধ জানিয়েছেন সিডন্সও।
আলোচনায় আসন্ন বাংলাদেশ সফরে প্রথম টেস্টের ভেন্যু চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামেই ইংল্যান্ডের তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচটি রাখা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন কোচ। এনায়েত হোসেন জানিয়েছেন, সিডন্সের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তুতি ম্যাচটি সরিয়ে এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে সরিয়ে নেওয়ার চিন্তাভাবনা হচ্ছে।

জি-২০ সম্মেলন জলবায়ু বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা নেই, হতাশ পরিবেশবাদীরা

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক জোট জি-২০-র দুই দিনব্যাপী সম্মেলন গত শুক্রবার শেষ হয়েছে। কিন্তু ওই সম্মেলনের সফলতার ব্যাপারে হতাশা ব্যক্ত করেছেন পরিবেশবাদীরা। তাঁরা আশা করেছিলেন, সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলায় একটা বড়সড় আন্তর্জাতিক তহবিলের ঘোষণা হতে পারে। কিন্তু ওই তহবিলের ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণাই দেননি বিশ্বনেতারা। ফলে আগামী ডিসেম্বরে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠেয় জলবায়ু সম্মেলনের সফলতার ব্যাপারে সংশয় তৈরি হলো। ডেনমার্কের ওই সম্মেলনে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের হার কমাতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করতে উন্নত বিশ্বের আর্থিক সুবিধা দেওয়াসংক্রান্ত একটা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংও সম্মেলনে জলবায়ু তহবিলের বিষয়ে কোনো ঘোষণা না আসায় হতাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সম্মেলনে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তবে ডিসেম্বরে কোপেনহেগেনে জলবায়ু-চুক্তি সম্পাদন নিয়ে আসলে কী হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করাও ঠিক হবে না। সম্মেলন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে কোপেনহেগেন সম্মেলনের সফলতার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি এ কথা বলেন।
কোপেনহেগেন সম্মেলনে কিয়েটো চুক্তি-পরবর্তী জলবায়ু চুক্তি করা সম্ভব কি না—এ প্রশ্নের জবাবে মনমোহন বলেন, ‘আমি জ্যোতিষী নই।’ উন্নত দেশগুলোর বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়ার মধ্য দিয়েই জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছা সম্ভব।
জি-২০ সম্মেলনের চূড়ান্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কোপেনহেগেনে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছাতে আমরা চেষ্টার কোনো ত্রুটি করব না।’ তবে এ বিবৃতিতে চুক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহের ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
তবে এ সম্মেলনে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন জি-২০ নেতারা। তাঁরা বলছেন, প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতার কারণে বারবার অর্থনৈতিক মহামন্দার সৃষ্টি হচ্ছে। সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, গৃহীত কৌশলে কাজ হচ্ছে।
তবে অনেকে মনে করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামা প্রথমবারের বড় ধরনের একটি সম্মেলন আয়োজনে সফল হলেন। ওবামা বলেছেন, আমরা অতীতের মতো অর্থনীতির ফুলেফেপে ওঠা এবং হঠাত্ করে শোচনীয়পতন—এমন দশা চলতে দিতে পারি না। এরকম সংকট আপনা-আপনি কেটে যাবে বলে হাত গুটিয়েও বসে থাকতে পারি না। সে কারণেই আমাদের নতুন রূপরেখা একে অন্যের নীতিকে আমলেনেবে, সংস্কার বিষয়েঐকমত্য গড়ে তুলবে এবং প্রবৃদ্ধির জন্যসহায়ক বিশ্ব চাহিদা নিশ্চিত করবে।
আন্তর্জাতিক নাগরিক সংগঠন ‘আভাজ’-এর কর্মকর্তা বেন উইকলার বলেন, ‘আমরা নেতার সংকটে ভুগছি। জি-২০-র নেতারা জলবায়ু তহবিলের ব্যাপারে ঠিকই সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, কিন্তু এরপর এ ব্যাপারে তাঁরা আর অগ্রসর হননি।
আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা অক্সফামের অন্যতম উপদেষ্টা ম্যাক্স লসন বলেন, ‘কোপেনহেগেন সম্মেলনের বাকি মাত্র ৭২ দিন। কিন্তু ধনী দেশগুলো জলবায়ু চুক্তিতে পৌঁছার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তহবিলের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ঘোষণায় ব্যর্থ হয়েছে।’
জি-২০ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন গত শুক্রবারও পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হয়েছে। এতে কয়েক হাজার লোক অংশ নেয়। তবে আগের দিন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

কনফুসিয়াস বংশের ২০ লাখ সদস্যের তালিকা প্রকাশ

চীনের দার্শনিক কনফুসিয়াসের বংশধরদের নতুন একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ওই বংশের সদস্যদের প্রায় ২০ লাখ মানুষের নাম পাওয়া গেছে। চীনের সরকারি পত্রিকা গ্লোবাল টাইমসের মতে, এটিই এখন বিশ্বের বড় পারিবারিক তালিকা। গত শুক্রবার পত্রিকাটি এ খবর প্রকাশ করে। এএফপি।
টাইমস আরও জানায়, চীনের কুফু শহরেই জন্মেছিলেন কনফুসিয়াস। গত বৃহস্পতিবার কনফুসিয়াসের ২৫৬০তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়। ওই দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাটি প্রকাশ করা হয়। এর আগে তালিকার সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছিল ১৯৩৭ সালে। তখন ওই তালিকায় সদস্যসংখ্যা ছিল পাঁচ লাখ ৬০ হাজার।
কনফুসিয়াস বংশের ৭৭তম প্রজন্ম ও ইন্টারন্যাশনাল কনফুসিয়াস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কং দেয়ং বলেন লিঙ্গ, ধর্ম, জাতীয়তা নির্বিশেষে ওই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। এ জন্য চীন, তাইওয়ান, হংকং এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কনফুসিয়াসের বংশধরদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে তাদের নাম নিবন্ধন করা হয়েছে।
ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক কং দেজুন বলেন, এই বংশে জন্ম নেওয়া একটি গর্বের বিষয়। ৪৩ হাজার পৃষ্ঠার ওই তালিকাটি ৮০টি খণ্ডে বই আকারে বাঁধাই করা হয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করেননি ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, আগামী সপ্তাহে বিশ্বশক্তির সঙ্গে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে তেহরানকে অবশ্যই নিজেদের পরমাণু প্রকল্পের বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে। তিনি সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেন, তেহরানের বিরুদ্ধে বিশ্ব এখন ঐক্যবদ্ধ। তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থার বিষয়টিও নাকচ করে দেননি ওবামা। পিটসবার্গে জি-২০ সম্মেলনের পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবামা বলেন, ইরান সম্পর্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং পিটসবার্গে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে নজিরবিহীন ঐক্য দেখেছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ১ অক্টোবর জেনেভায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য ও জার্মানির সঙ্গে ইরানের বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে ইরানকে অবশ্যই নিজের পরমাণু কর্মসূচির বিস্তারিত সবকিছু প্রকাশ করতে হবে।
ওবামা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি মোকাবিলায় সামরিক পন্থাসহ কোনো পন্থাকেই নাকচ করে দিচ্ছেন না তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় বলে আসছি, আমরা কোনো পন্থাকেই নাকচ করছি না। যখন সেটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়; তবে আমি আবারও এটা জোর দিয়ে বলছি, এ সমস্যা সমাধানে আমার পছন্দের পথ হচ্ছে কূটনৈতিক পন্থা।’
সম্প্রতি ইরান স্বীকার করেছে, তারা আরেকটি ইউরেনিয়াম শোধনাগার নির্মাণ করছে। এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
জেনেভার বৈঠকে নিজেদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি না হলে তেহরানের বিরুদ্ধে দ্রুত অবরোধ আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভও ইঙ্গিত দিয়েছেন, হঠকারি করলে ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ প্রস্তাব উঠলে তাতে ভেটো দেবে না মস্কো।

জার্মানিতে আজ সাধারণ নির্বাচন

জার্মানিতে আজ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কোনো উত্তাপ বা উত্তেজনা দেখা যায়নি। এদিকে জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই নির্বাচনকে সামনে রেখে এক ইন্টারনেট বার্তায় জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেন দেশটিতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন।
কয়েক সপ্তাহজুড়ে সীমিত আকারে প্রার্থীরা তাঁদের সমর্থকদের নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে জনসংযোগ করেছেন। আজ তাঁদের ভাগ্য নির্ধারণের পালা।
নির্বাচনে জার্মানির দুটি বড় দল খ্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন এবং সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট পার্টির মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে মাঝারি আকারের পরিবেশবাদী সবুজ দল, লিবারেল দল এবং বাম দলের সমন্বয়ে গড়া বিভিন্ন দলও নির্বাচনে ক্ষমতায় ভাগ বাটোওয়ারা বা কোয়ালিশনের অংশ হয়ে উঠতে পারে।

পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ১৫

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গতকালশনিবার দুটি আত্মঘাতী হামলায় ১৫ জন নিহত হয়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারে একটি আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় ১০ জন নিহত হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, শহরের সেনানিবাসের কাছে মল রোডে এ হামলা হয়েছে। হামলায় আহতের সংখ্যা কমপক্ষে ২৫ জন। হতাহতের খবর নিশ্চিত করে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল গফুর আফ্রিদি জানান, তাঁরা এখনো নিশ্চিত নন, এটি একটি গাড়িবোমা ছিল কি না। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণে দুটি ব্যাংক, দোকানপাট ও তত্সংলগ্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর আগে একই দিন পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বান্নু শহরের কাছে আত্মঘাতী হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়। উত্তর ওয়াজিরিস্তানে চালকবিহীন মার্কিন বিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১২ জন জঙ্গি নিহত হওয়ার একদিন পরই ওই আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। হামলায় ঘটনাস্থলের আশপাশের কয়েকটি দোকান ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান ওই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে।

অডিওবার্তায় ইউরোপের প্রতি বিন লাদেন আফগানিস্তান থেকে সেনা সরিয়ে নিন

আফগানিস্তান থেকে ইউরোপীয় সেনা সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেন। তিনি আরও বলেছেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর একটি অযৌক্তিক লড়াইয়ে ইউরোপীয়রা অর্থ ও প্রাণ খোয়াচ্ছে। তাদের উচিত শিগগির মার্কিনদের সহযোগিতা দেওয়া বন্ধ করা।
শুক্রবার প্রচারিত এক অডিও টেপে বিন লাদেন ওই আহ্বান জানান। ওই বার্তাটি জঙ্গি সংগঠনটির একটি ওয়েবসাইটে প্রচার করা হয়েছে। এতে ইংরেজি ও জার্মান ভাষায় সাবটাইটেল এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে লাদেনের ছবি রয়েছে। ‘এ মেসেজ টু দ্য পিপল অব ইউরোপ’ শিরোনামের ওই বার্তায় লাদেন আরও বলেন, ‘আমরা কোনো অযৌক্তিক দাবি জানাচ্ছি না। আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার ও অন্যায় যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ সেখানে অহেতুক গণহত্যা চালানো হচ্ছে। ন্যাটোর ছত্রছায়ায় ইউরোপের সরকার ও সেনারা আফগানিস্তানে ওই অন্যায় করছে।’ আল-কায়েদার গণমাধ্যম শাখা আস-শাহাবের প্রচার করা চার মিনিটের ওই অডিওবার্তায় আল-কায়েদার প্রধান আরও বলেন, ‘আশা করি, কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তিই ওয়াশিংটন গংয়ের জন্য তাঁর সন্তান ও অর্থ নষ্ট করবেন না।’ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে মার্কিন হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত করে লাদেন বলেন, ‘যাদের নেতারা মানুষের খুন ঝরাতে দ্বিধা করে না, অহেতুক ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে আফগানিস্তানের গ্রামগুলোতে বোমা ফেলে নিরীহ লোকদের হত্যা করতে যারা কুণ্ঠিত হয় না, তাদের মিত্র হওয়া সত্যিই লজ্জাকর। আপনারা আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে আপনাদের মার্কিন মিত্রের গণহত্যা পর্যবেক্ষণ করলে মাদ্রিদ ও লন্ডনের রক্তাক্ত হামলার মর্মার্থ বুঝতে পারবেন।

লন্ডনে আন্তর্জাতিক প্রবৃদ্ধি সম্মেলন দেশের পোশাক খাত গুরুত্ব পেল বিকেএমইএর সভাপতি বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেছেন

ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার আয়োজিত আন্তর্জাতিক প্রবৃদ্ধি সম্মেলনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত গুরুত্ব পেয়েছে।
সম্মেলনের তৃতীয় দিন (২৪ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার) বিকেলে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে বাংলাদেশের পোশাক খাতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি ফজলুল হক।
ফজলুল হক তাঁর উপস্থাপনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উত্থানের চিত্র, প্রতিযোগিতাসক্ষমতার বিভিন্ন দিক, এ খাতের সম্ভাবনা ও বিকাশের প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরেন। গতকাল শনিবার বিকেএমইএর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
একই দিন সম্মেলনে বাংলাদেশবিষয়ক এক বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নীতিনির্ধারণের বিভিন্ন দিক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ রাজস্ব আদায়ে নতুন প্রচেষ্টার বিষয়ে বক্তব্য দেন।
২২-২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ অংশ নেন।
বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নয়নে বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টরের উন্নয়নে বিভিন্ন দিক দেখতে ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টার এবং এলএসই থেকে একদল গবেষক শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসবে।
এই সম্মেলনের পরবর্তী পর্ব ২০১০ সালের মার্চে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে। ইয়েল ও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘বাণিজ্য উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য বিকেএমইএর সভাপতি ফজলুল হককে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

মন্দা নিয়ে সাইপ্রাস ও ইস্তাম্বুলে সম্মেলন অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ

বিশ্বমন্দা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় নির্ধারণে বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভনর্ররা সাইপ্রাস ও ইস্তাম্বুলে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সম্মেলনে মিলিত হচ্ছেন।
সাইপ্রাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লিমাসলে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে কমনওয়েলথ অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলন।
চার দিনের এ সম্মেলনের পর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আগামী ৬ ও ৭ অক্টোবর হবে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সাধারণ সভা।
সম্মেলন দুটিতে যোগ দিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ১২ দিনের সফরে সাইপ্রাস ও ইস্তাম্বুল যাচ্ছে। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, অর্থসচিব মোহাম্মদ তারেক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও অর্থমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (এপিএস) আবু সৈয়দ মোহাম্মদ রাশেদ।
জানা গেছে, সম্মেলনে বিশ্ব অর্থনীতির চলমান মন্দাই হবে মূল আলোচ্য বিষয়। কীভাবে দ্রুততর সময়ের মধ্যে এই মন্দা কাটিয়ে ওঠা যায়, সে বিষয়ে কৌশল নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি নিয়ে গভর্নররা আলোচনা করবেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দুই সম্মেলনের মূল পর্বের ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী ও বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে।
এর মধ্য দিয়ে বিভিন্ন দেশ ও বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
ভালোভাবে মন্দা মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ যেন বেশি অর্থ ছাড় করে, সে ব্যাপারেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হবে।
প্রতিবছর বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ বার্ষিক সভার মাধ্যমে সদস্যভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী, উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি-বিশেষজ্ঞদের একসঙ্গে নিয়ে বৈঠক করে।
ওই বৈঠকে বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশ্বমন্দা মোকাবিলার করণীয় ঠিক করতে সরকার এর আগে ১৮ মার্চ বিরোধী দল, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ২৭ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি টাস্কফোর্স গঠন করে।
২৪ মার্চ টাস্কফোর্সের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের সুপারিশের আলোকে ১৯ এপ্রিল বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশও তিন হাজার ৪২৪ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে।
এ ছাড়া চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে বিশ্বমন্দার প্রভাব মোকাবিলার জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।
১৬ সেপ্টেম্বর টাস্কফোর্সের দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বস্ত্র, তৈরি পোশাক ও জাহাজ নির্মাণসহ কয়েকটি খাতে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিদেশি সাহায্য-প্রবাহ কমেছে

বাংলাদেশে গত ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বিদেশি সাহায্য এর আগের অর্থবছরের তুলনায় কমে গেছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের পরিসংখ্যান থেকে এ হিসাব পাওয়া গেছে।
এতে দেখা যায়, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ১৬৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বিদেশি সাহায্য এসেছে। এর মধ্যে আবার পুরোনো ঋণের মূল্য বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৬৪ কোটি ১০ লাখ ডলার।
ফলে গত অর্থবছরে বিদেশি সাহায্যের প্রকৃত বা নিট প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১০২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
এর আগের বছর অর্থাত্ ২০০৭-০৮ অর্থবছরে মোট বিদেশি সাহায্য-প্রবাহ ছিল ১৯৫ কোটি ৬৭ লাখ ডলার।
আর সেই বছর বকেয়া বিদেশি ঋণের মূল্য বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছিল ৫৮ কোটি দুই লাখ ডলারের সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা।
ফলে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে নিট বা প্রকৃত বিদেশি সাহায্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১৩৭ কোটি ৬৫ লাখ ডলার।
গত অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি অর্থায়ন কম হওয়ায় এতে বিদেশি অর্থায়নের পরিমাণও কম ছিল।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, গত অর্থবছর মোট সাহায্যের মধ্যে প্রকল্প সাহায্যের পরিমাণ ছিল ১৬২ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। বাকি তিন কোটি ৭৫ লাখ ডলার এসেছে খাদ্য সহায়তা হিসেবে। পণ্য সহায়তা বাবদ কোনো বিদেশি সাহায্য পাওয়া যায়নি।
বস্তুত, গত চার অর্থবছরে দেশে কোনো পণ্য সাহায্য আসেনি। সর্বশেষ ২০০৪-০৫ অর্থবছরে মোট দুই কোটি ২০ লাখ ডলারের বিদেশি সাহায্য এসেছিল।
বিশ্বমন্দার প্রভাবে ভবিষ্যতে বিদেশি সাহায্য আরও কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অর্থমন্ত্রী আশা করছেন, মন্দা মোকাবিলায় জি-২০ জোট এক লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারের (১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন) সহায়তা প্যাকেজ থেকে বাংলাদেশ কিছু সহায়তা পাবে।
২০০৯-১০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, এই অর্থায়ন কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশও তার ন্যায্য হিস্যা পাবে। বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক জি-২০ সম্মেলনের উদ্যোগ অনুসরণ করে বিশ্বমন্দা মোকাবিলার লক্ষ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নানাভাবে সাহায্য করার কার্যক্রম নিয়েছে এবং বাংলাদেশ এসব কার্যক্রম থেকেও বাজেট সহায়তা পাবে বলে আশা করি।’

অবশেষে হিগুয়েইনের স্বপ্নপূরণ

ডিয়েগো ম্যারাডোনার কি আর্জেন্টিনার কোচ থাকা উচিত? আর্জেন্টাইনদের সামনে এই প্রশ্ন নিয়ে গিয়েছিল জরিপ প্রতিষ্ঠান কার্লোস ফারা অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস। ৪৪২ জনের সাক্ষাত্কার নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে ৬৭ শতাংশ মানুষই ম্যারাডোনাকে আর কোচ হিসেবে দেখতে চায় না।
জরিপের ফল যা-ই হোক, ডিয়েগো ম্যারাডোনা এখনো আর্জেন্টিনার কোচ আছেন এবং বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শেষ দুটি ম্যাচের জন্য দলও ঘোষণা করেছেন। তবে ‘আমি কারও কথায় চলি না, নিজের কাছে যা ভালো মনে হয় তাই করি’ বলে আসা ম্যারাডোনা দল দিতে গিয়ে আর্জেন্টাইনদের একটি চাওয়া পূরণ করেছেন। এবার তিনি দলে রেখেছেন রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েইনকে।
সাধারণ আর্জেন্টাইন থেকে ফুটবল বোদ্ধাদের অনেকেই বলে আসছিলেন হিগুয়েইনকে দলে নেওয়া উচিত ম্যারডোনার। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে তোলার প্রতীক্ষা করে ছিলেন হিগুয়েইন নিজেও। কিন্তু কোচ বরাবারই উপেক্ষা করে গেছেন ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনার দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী হিগুয়েইনকে।
রিভারপ্লেট থেকে ২০০৬-০৭ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে নাম লিখিয়েছেন হিগুয়েইন। রিয়ালের জার্সি গায়ে খেলেছেন ৯৯টি ম্যাচ। ৩৬ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ১৬ গোল। প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে ফ্রান্স কোচ রেমন্ড ডমেনেখ হিগুয়েইনকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন ফ্রান্স জাতীয় দলে খেলার। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে তোলার স্বপ্নে বিভোর হিগুয়েইন ডমেনেখের সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। পরে ম্যারাডোনার কাছ থেকে বারবার উপেক্ষিত হয়ে হুমকি দিয়েছিলেন, ম্যারাডোনা তাঁকে দলে না ডাকলে অন্য সিদ্ধান্ত (ফ্রান্স দলে খেলার) নিতে বাধ্য হবেন।
হিগুয়েইনকে সেটা আর করতে হয়নি। শৈশব থেকে লালন করে আসা স্বপ্নটা এবার পূর্ণতা পাচ্ছে। লিওনেল মেসি, কার্লোস তেভেজদের সঙ্গে তিনিও খেলবেন আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে। খেলবেন ম্যারাডোনার দলে।
কিন্তু আর্জেন্টাইনদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন কি বাঁচাতে পারবেন হিগুয়েইন? ম্যারাডোনা যে তাঁর স্বপ্ন পূরণ করলেন, এর প্রতিদান দিতে পারবেন তিনি? পারবেন দলকে পেরু আর উরুগুয়ের বিপক্ষে জয় এনে দিয়ে বিশ্বকাপের মূলমঞ্চে নিয়ে যেতে? এসব প্রশ্নের উত্তর সময়ের হাতেই তোলা রইল।
তবে ম্যারাডোনা আর্জেন্টাইনদের কথা দিয়েছিলেন সবকিছুর পরও আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের মূলমঞ্চে নিয়ে যাবেন। পেরু ও উরুগুয়ের বিপক্ষে ইউরোপভিত্তিক ১৮ খেলোয়াড়ের নাম ঘোষণায় সে কথার প্রতিফলন আছে। সর্বশেষ দুটি ম্যাচে ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ের কাছে হেরে যাওয়া দলের সাত খেলোয়াড়কে বাদ দিয়েছেন তিনি। এবার তিনি দলে রেখেছেন পাবলো আইমার আর অলিম্পিক সোনাজয়ী স্ট্রাইকার অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াকে।
ম্যারাডোনার চেষ্টার অন্ত নেই। এখন শেষটা ভালো হলে হয়। পেরু-উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি জিতলেও আর্জেন্টিনাকে তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচগুলোর দিকে। ১৬ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার পঞ্চম স্থানে আর্জেন্টিনা। এ অঞ্চল থেকে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে চারটি দল। আর পঞ্চম স্থানে থাকা দলটি প্লে-অফ খেলবে কনক্যাকাফ অঞ্চলের চতুর্থ হওয়া দলের সঙ্গে।

ওয়ানডে বদলানোর পক্ষে নন সিম্পসন

ওয়ানডে ক্রিকেট আর চলে না—কথাটা শোনা যাচ্ছে অনেক দিক থেকেই। এমনকি শচীন টেন্ডুলকারের মতো মৃদুভাষী তারকাও ফরম্যাট বদলে চার ইনিংসের ওয়ানডে চালুর পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এই দলে নেই সাবেক অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক ও কোচ বব সিম্পসন। স্বল্প সময়ের সফরে মুম্বাই এসে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮৭ বিশ্বকাপজয়ী কোচ বলেছেন, ওয়ানডে ফরম্যাট নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটির পক্ষে নন তিনি।
কিছু পরিবর্তন চান সিম্পসনও। তবে ফরম্যাট বদলে নয়, সাবেক এই অলরাউন্ডারের মতে ওয়ানডেকে বাঁচাতে প্রয়োজন প্রাণবন্ত উইকেট, ভালো মানের বোলার আর বাউন্ডারির দৈর্ঘ্য বাড়ানো, ‘আমার মনে হয় না ওয়ানডে নিয়ে খুব বেশি নাড়াচাড়ার প্রয়োজন আছে। ক্রিকেটার ও প্রশাসকদের মনে রাখতে হবে যে, বোলাররাই ম্যাচ জেতায়। ভালো মানের বোলিং আক্রমণ এখন খুব বেশি চোখে পড়ে না। বাউন্ডারির দৈর্ঘ্যও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা ব্যাটসম্যানদেরই সাহায্য করছে।’ ওয়ানডে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পেছনে বিরক্তিকর কৌশলকেই দায়ী করেছেন ৭৩ বছর বয়সী সিম্পসন, “যখন ওয়ানডে ক্রিকেট এল, তখন সবাই বলছিল এটা খেলাটিকে বাঁচাবে। কিন্তু একঘেয়ে সব কৌশল দেখতে দেখতে মানুষ ক্লান্ত হয়ে উঠেছে। ব্যাটিংকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া আর ‘তথাকথিত’ অলরাউন্ডারদের আধিপত্য বোলিংয়ের সার্বিক মান নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দিয়েছে।”
৬২ টেস্টে ৪৮৬৯ রান করা এবং লেগ স্পিনে ৭১ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি সর্বকালের সেরা স্লিপ ফিল্ডারদের অন্যতম সিম্পসন ক্যাচ নিয়েছেন ১১০টি। ওয়ানডে খেলেছেন অবশ্য মাত্র দুটি। ভারতীয় দলের প্রথম বিদেশি বিশেষজ্ঞ সিম্পসন সব শেষে জানিয়েছেন টি-টোয়েন্টি নিয়ে তাঁর শঙ্কার কথাও, ‘টি-টোয়েন্টি নিয়ে মাতামাতির সবচেয়ে ক্ষতিকর দিকটা হলো, এটা দিয়েই অনেকে এখন ক্রিকেট শিখবে। এখনকার ক্রিকেটাররা টেস্ট ও ওয়ানডে খেলেই টি-টোয়েন্টি খেলছে, ক্রিকেটের কৌশলটা তাই তাঁদের জানাই আছে। কিন্তু টি-টোয়েন্টি দিয়ে ক্রিকেট শুরু করলে সব ধরনের ক্রিকেট খেলার কৌশল এবং মানসিক সামর্থ্য থাকবে না।’

আমিরাতে মুখোমুখি পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড

আগামী নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের ‘হোম’ সিরিজ হবে নিউজিল্যান্ডে। তবে নিউজিল্যান্ডে হবে শুধু টেস্ট সিরিজটাই। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ৩, ৬ ও ৯ নভেম্বর তিনটি ওয়ানডে হবে আবুধাবিতে। ১২ ও ১৩ নভেম্বর টি-টোয়েন্টি দুটি হবে দুবাইয়ে। ২৪ নভেম্বর থেকে টেস্ট সিরিজ শুরু হবে ডানেডিনে।

যেখানে হেনিনকে ছাড়িয়ে ক্লাইস্টার্স

ক্লাইস্টার্সের (ডানে) মতোই
সফল প্রত্যাবর্তন কি হবে হেনিনের?
জাস্টিন হেনিনের ট্রফি কেসে গ্র্যান্ড স্লামের শিরোপা ৭টি। কিম ক্লাইস্টার্সের ২টি। কে বড় মাপের খেলোয়াড়, সেটা বুঝে নেওয়ার জন্য এই তথ্যটাই যথেষ্ট। কিন্তু তার পরও যেন ক্লাইস্টার্সে ঢাকা পড়ে গেছেন হেনিন!
ষোলো মাসের অবসর ভেঙে পেশাদার টেনিসে ফেরার ঘোষণা দিলেন, অথচ হেনিনের ফেরা নিয়ে মাতামাতি নেই বেলজিয়ামে। কয়েক মাস আগে ক্লাইস্টার্সের ফেরা নিয়ে বেলজিয়ানদের মধ্যে যে প্রবল উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছিল, সেটা ঘটেনি হেনিনের বেলায়।
ক্লাইস্টার্সের শিরোপা জয়ের পরই হেনিন ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন, হেনিনের ফেরা নিয়ে মাতামাতি না হওয়ার এটা একটা কারণ হতে পারে। কিন্তু মূল কারণটা অন্য জায়গায়। ক্লাইস্টার্সের চেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম এবং ডব্লুটিএ শিরোপা জিতলেও বেলজিয়ানদের কাছে ক্লাইস্টার্সের মতো জনপ্রিয় নন হেনিন। এর একটা কারণও খুঁজে পেয়েছেন হেনিনকে নিয়ে বেশ কয়েকটি বইয়ের লেখক ও সাংবাদিক প্যাট্রিক হ্যামন্ট। ক্লাইস্টার্স মিশুকে স্বভাবের। আর সেই তুলনায় হেনিন বেশি অন্তর্মুখী, আত্মকেন্দ্রিক। আর এটাই ক্লাইস্টার্সকে বেশি জনপ্রিয় করে তুলেছে বলে মত হ্যামন্টের, ‘ক্লাইস্টার্স সহজে মানুষের সঙ্গে মিশতে পারেন বলে তাঁর সবকিছুই ভালো লাগে আমাদের। কিন্তু জাস্টিনের সবকিছুই বেশ নিয়ন্ত্রিত।’
বেলজিয়ানরা বেশি উচ্ছ্বাস না দেখালেও ক্লাইস্টার্স কিন্তু স্বাগতই জানাচ্ছেন স্বদেশিকে। হেনিনকে ‘দুর্দান্ত’ আখ্যা দিয়ে ক্লাইস্টার্স বলছেন, ‘তাঁর ফেরাটা মহিলা টেনিস ও বেলজিয়ামের জন্য দারুণ খবর।’ অবসরে যাওয়ার আগে বিশ্ব মহিলা টেনিসে হেনিন ক্লাইস্টার্স মিলে একটা বেলজিয়ান আধিপত্য তৈরি করেছিলেন। হেনিনের ফেরায় আবারও সে রকম কিছুর স্বপ্ন দেখছেন দুবারের ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন ক্লাইস্টার্স।
তবে এর মধ্যেই আরও এক প্রতিশ্রুতিশীল তারকা ইয়ানিনা উইকমেয়ারকে পেয়ে গেছে বেলজিয়াম। ইউএস ওপেনের সেমিফাইনাল খেলা উইকমেয়ারের কথা জানিয়ে ক্লাইস্টার্স বললেন, ‘বেলজিয়ান টেনিস নিয়ে আবারও একটা উচ্চাশা তৈরি হয়েছে।’ টেনিস র্যাঙ্কিংয়ে ১৭তম অবস্থানে ক্লাইস্টার্স। উইকমেয়ারের অবস্থান ২২। কোর্টে খেলা শুরু করলে শীর্ষ বিশে আসতে খুব একটা সময় লাগবে না হেনিনের। ‘র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ বিশে তিন বেলজিয়ানের থাকাটা দারুণ একটা ব্যাপার হবে’—বলছেন ক্লাইস্টার্স।

অস্ট্রেলিয়াকেও কাঁপিয়ে দিয়েছিল উইন্ডিজ

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে মূল দল না পাঠানোয় ক্রিকেট বিশ্বের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। তবে তাদের ‘বি’ দলটা যেভাবে খেলছে, তাতে স্বস্তিই বোধ করতে পারে বোর্ড। প্রথম ম্যাচে তারা যথেষ্ট বেগ দিয়েছিল পাকিস্তানকে। দ্বিতীয় ম্যাচে কাল কাঁপিয়ে দিয়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকেও। স্কোরকার্ড বলছে ৫০ রানের অনায়াস জয়ই পেয়েছে রিকি পন্টিংয়ের দল। তবে জয়টা এতটা সহজ ছিল না। বোলিংয়ে একপর্যায়ে ১৭১ রানে অস্ট্রেলিয়ার ৭ উইকেট তুলে নিয়েছিল তারা। আর ব্যাটিংয়ে ২৭৫ রান তাড়া করতে নেমে একপর্যায়ে ১৫ ওভারে ৭ উইকেট হাতে নিয়ে প্রয়োজন ছিল ১১১ রান। শেষ পর্যন্ত অবশ্য অভিজ্ঞতার কাছে হার মানতে হয়েছে ক্যারিবীয়দের।
ইনিংসের প্রথম বলেই কেমার রোচের দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে ওয়াটসন বোল্ড হওয়ার পর পন্টিং খেলেছেন ৭৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। ১৭১ রানে ৭ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ২৭৫-এ নিয়ে যাওয়ার মূল কৃতিত্ব মিচেল জনসনের। সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন আরেক পেসার ব্রেট লিকে। অষ্টম উইকেটে ৭০ রানের আক্রমণাত্মক এক জুটি গড়ে স্কোরবোর্ডের চেহারা বদলে দেন এই দুজন। ৪০ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম ফিফটিতে পৌঁছানো জনসনের ৪৭ বলে করা ৭৩ রানের অপরাজিত ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ছক্কা ৩টি। এই বাঁহাতির ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ ৮ ওভারে ৯৯ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া।
৫.৪ ওভারে ৩৮ রান তুলে শুরুটা ভালোই করেছিলেন দুই ওপেনার ডেভন স্মিথ ও আন্দ্রে ফ্লেচার। দ্বিতীয় উইকেটে ট্রাভিস ডাওলিনকে নিয়ে আরও ৮৪ রান যোগ করেন ফ্লেচার। আরও একবার অস্ট্রেলিয়ার ত্রাণকর্তা হয়ে ফ্লেচারকে (৫৪) সরাসরি থ্রোতে রান আউট করে বিপজ্জনক এই জুটি ভাঙেন জনসন। ব্যাটিং পাওয়ার প্লের (ইনিংসের ৩৭তম) প্রথম ওভারেই ৫৫ রান করা ডাওলিন আউট হলে অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায় ক্যারিবীয়দের হার। শেষ চার উইকেট হারায় তারা ১০ রানে। ইনজুরির জন্য ব্যাট করতে পারেননি ওপেনার ডেল রিচার্ডস। ইএসপিএন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ২৭৫/৮ (পন্টিং ৭৯, জনসন ৭৩*, পেইন ৩৩, লি ২৫; মিলার ২/২৪, বার্নার্ড ২/৬৩, রোচ ২/৭৩)। ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪৬.৫ ওভারে ২২৫ (ডাওলিন ৫৫, ফ্লেচার ৫৪, হরিজ ২/২৩, ওয়াটসন ২/৩৪, সিডল ২/৩৭)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৫০ রানে জয়ী ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মিচেল জনসন

তথ্য অধিকার-চাই তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন by ইফতেখারুজ্জামান

২৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস। তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে ২০০২ সালের এই দিনে বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের তথ্য আন্দোলনকর্মীরা একটি কর্মশালায় মিলিত হয়ে আন্তর্জাতিকভাবে এ দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তখন থেকে প্রতিবছর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ গুরুত্বের সঙ্গে দিবসটি উদ্যাপন করে আসছে। টিআইবিসহ বিভিন্ন সংগঠন ২০০৬ সাল থেকে প্রতিবছর বাংলাদেশে দিবসটি পালন করে আসছে। এ দিবসটি পালনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার চাহিদা জোরদার করা, এ ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা, গোপনীয়তার সংস্কৃতি পরিহার এবং দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক সরকার ও সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা।
তথ্য অধিকার আইন
বাংলাদেশে ২০০৯ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশে এমন কয়েকটি আইন ও বিধানের প্রাধান্য ছিল, যেগুলো অবাধ তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টিকারী। যেমন—দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইন ১৯২৩, সাক্ষ্য আইন ১৮৭২, ফৌজদারি দণ্ডবিধি ১৯৬০, কার্যপ্রণাল বিধি ১৯৯৬, সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি ১৯৭৯ প্রভৃতি। এ আইনগুলোর কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য গোপন করার বা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। একটি কার্যকর তথ্য অধিকার আইন ছাড়া এতগুলো আইনি বাধা পেরিয়ে এসব তথ্য জনগণের পক্ষে জানা সম্ভব ছিল না।
পৃথিবীর প্রায় ৭৫টি দেশে বর্তমানে তথ্য অধিকার আইন রয়েছে। বাংলাদেশে ১৯৮৩ সালে প্রেস কমিশন তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নের ব্যাপারে আইন কমিশনের মাধ্যমে সুপারিশ জানায়। বাংলাদেশ আইন কমিশন ২০০২ সালে এ বিষয়ে একটি খসড়া কার্যপত্র প্রস্তাব করে, কিন্তু প্রক্রিয়াটি কয়েক বছর থেমে থাকে। ২০০৮ সালে সরকার তথ্য অধিকার অধ্যাদেশ জারি করে। চলতি বছরের ২৯ মার্চ জাতীয় সংসদে তথ্য অধিকার আইন পাস হয়। আইন অনুযায়ী ইতিমধ্যে সরকার তথ্য অধিকার কমিশন গঠন করেছে।

আইন বাস্তবায়নে মূল চ্যালেঞ্জগুলো
তথ্য অধিকার আইন গৃহীত হওয়া নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন। তবে কোনো আইন প্রণয়ন এবং তার যথাযথ বাস্তবায়নের মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকে। তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তথ্যের অবাধ আদান-প্রদানের মানসিকতা গড়ে তোলা। এ আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে সরকারের উচ্চপর্যায়সহ সব পক্ষের আন্তরিক সদিচ্ছা আরো গুরুত্বপূর্ণ।
একটি সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগে অগ্রসর হতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সুশীল সমাজ, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও গণমাধ্যমসহ সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কৌশল প্রণীত হতে পারে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
তথ্য কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর স্বাধীনতা, সক্রিয়তা ও কার্যকারিতার ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করবে। কমিশনারদের সক্রিয়তা, দক্ষতা, বিশ্বস্ততা ও যথাযথ নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা সৃষ্টি করতে হবে। কমিশনের পর্যাপ্ত জনবল, অর্থসম্পদ ও কারিগরি সক্ষমতা থাকা জরুরি।
তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ও সমর্থন এবং পর্যাপ্ত ও স্পষ্ট ধারণা লাভ ছাড়া এ আইনের সঠিক বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজন।
গোপনীয়তার সংস্কৃতি পরিহার করতে হবে। বর্তমানে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে যে অনীহা রয়েছে, তা অতিক্রম করা সহজ নয়, তবে অসম্ভবও নয়। বিশেষ করে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে অঙ্গীকারের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তথ্য প্রকাশের মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
তথ্যপ্রাপ্তি, ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। অনুরোধ করা কোনো তথ্য যথাসময়ে খুঁজে পাওয়া না গেলে সময়মতো আবেদনের উত্তর দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। অদক্ষভাবে তথ্য সংরক্ষণের কারণে যদি অনুসন্ধান করা তথ্যগুলো পরীক্ষা করা বা অনুলিপি তৈরি করার উপযোগী না থাকে, তবে তা এ আইনকে উপেক্ষিত করে তুলবে। সে জন্য তথ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন জরুরি। তথ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন প্রয়োজন। তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সরকারি অফিসগুলোকে আধুনিকায়ন করাও জরুরি, যাতে জনগণ প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত পেতে পারে।
বর্তমানে যেসব আইন ও বিধি অবাধ তথ্যপ্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারী, সেগুলো বাতিল, পরিবর্তন কিংবা সংশোধন করতে হবে। তা না হলে জনগণের তথ্য জানার অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত হবে না।
নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রচার সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করে। তাই তথ্য প্রচার ও প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো বাধা-বিপত্তি থাকা উচিত নয়। বিশেষ করে গণমাধ্যমের কর্মীরা যাতে নির্ভয়ে এবং নির্বিঘ্নে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, এ ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করা একান্ত জরুরি।
তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থাকে এ ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে। তথ্য অধিকারের বিষয়টি সম্পর্কে যখনই জনগণ সচেতন হবে, তখনই তারা এর সুবিধাদি ভোগ করতে পারবে।

পথটা সহজ নয়, চাই সবার সদিচ্ছা
তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে বাধা আসাটাও অসম্ভব কিছু নয়। অবাধ তথ্যপ্রবাহের কারণে যখন সরকারি কর্মকর্তাদের একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস পাবে, তখন তাঁরা এ ক্ষেত্রে বাধার কারণ হতে পারেন। একই কারণে রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকেও বাধা আসতে পারে। গোপনীয়তার সংস্কৃতির কারণে বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং তথ্য প্রদানে অনীহার কারণে এনজিওগুলো এর সফল প্রয়োগে বাধার কারণ হতে পারে। বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির জন্য ক্ষেত্র বিশেষে গণমাধ্যম তথ্যের অপব্যবহার করতে পারে। বিচার বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দুর্বলতার কারণে তথ্য অধিকার আইনের সঠিক বাস্তবায়ন প্রলম্বিত হতে পারে। সর্বোপরি, সুশীল সমাজের মধ্যে অনৈক্য, অসুস্থ প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে তথ্য প্রকাশে অনীহাও বাধার কারণ হতে পারে।
দুর্নীতি রোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশে একটি কার্যকর তথ্য অধিকার আইন প্রণয়নের কোনো বিকল্প ছিল না। তথ্যের আবদ্ধতায় জনগণ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়তই শিকার হয় দুর্নীতি, শোষণ ও প্রতারণার। সরকারি কর্মকর্তাদের কার কী দায়দায়িত্ব, নাগরিক সুযোগ-সুবিধাগুলো কী কী, কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ আছে, তা কীভাবে খরচ করার কথা, খরচ হচ্ছে কীভাবে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কী আলোচনা বা সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে কোন প্রক্রিয়ায় ও কিসের ভিত্তিতে এবং কীভাবে—তথ্য অধিকার আইনানুযায়ী এসব তথ্য জনগণ এখন সহজেই জানতে পারবে। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া কঠিন হবে। আইনটির যথাযথ বাস্তবায়ন করা হলে জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা বাড়বে। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হবে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা। তথ্য অধিকার আইন যে অপার সম্ভাবনা ও সুযোগ সৃষ্টি করেছে, বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ যেন তা প্রতিহত না করতে পারে, সে জন্য একটি সমন্বিত উদ্যোগের দরকার, যা তথ্যদাতা ও গ্রহীতা উভয়ের স্বার্থকে সংরক্ষণ করবে। এ জন্য দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার দরকার। পাশাপাশি আইন বাস্তবায়নে প্রয়োজন শক্তিশালী নেতৃত্ব। আমরা তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন চাই।
ড. ইফতেখারুজ্জামান: নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ৫৪ রানে হারালো পাকিস্তান -আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি

শোয়েব মালিকের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ৫৪ রানে হারিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মালিক এই সেঞ্চুরির মধ্য দিয়ে তাঁর ওপর রাখা নির্বাচকদের আস্থার এক চমত্কার প্রতিদান দিলেন। অথচ মালিক যখন ব্যাট করতে মাঠে নামলেন তখন ৬৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে মোটামুটি ভালো বিপর্যয়ে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সবচেয়ে আকাঙ্খিত ম্যাচে চির প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে শোয়েব মালিকের এই ম্যাচ জয়ী ইনিংস আবারও প্রমাণ করে দিলো তাঁর মান।

স্মরণ মুক্তিযুদ্ধের বীর মেজর নাজমুল নাসির উদ্দিন হায়দার

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া মোটরস্টেশন থেকে পশ্চিমে এঁকেবেঁকে চলে গেছে ছোট্ট একটি মেঠোপথ। আধ কিলোমিটার হাঁটলেই রাস্তার বাঁ পাশে একটি ছোট্ট একতলা বাড়ি, নামফলকে লেখা ‘স্মরণিকা’। বাড়িটির ঠিক দক্ষিণে পুকুরপাড়ে ‘শহীদ মেজর নাজমুল হক রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়’।
লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ গ্রামে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার শহীদ মেজর নাজমুল হকের স্মৃতি বহন করছে এই বিদ্যালয়টি। মুক্তিসংগ্রামের এই বীরসেনানির আর কোনো স্মৃতি নেই গোটা গ্রামে।
গ্রামের লোকজনই বা কতটুকু জানে তাঁর সম্পর্কে?
বটতলী মোটরস্টেশনে কথা হয় স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে। ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলা উদ্দীন বললেন, ‘মেজর নাজমুল হক যে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন সেটা তো জানতাম না। এই বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিরক্ষায় এলাকায় কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। নতুন প্রজন্মও তাঁর সম্পর্কে তেমন কিছু জানে না।’
তাঁর কথার সত্যতা পাওয়া গেল কলেজছাত্র নুরুল ইসলামের কথায়, ‘আমাদের গ্রামে একজন সেক্টর কমান্ডারের জন্ম, এ কথা শিক্ষকেরা কখনোই আমাদের বলেননি।’
মেজর নাজমুল হক রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা পারভিন আকতার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘স্বাধীনতার ৩৭ বছর পরও পাঠ্যবইয়ে সেক্টর কমান্ডারদের কোনো পরিচিতি সংযুক্ত করা হয়নি। পঞ্চম শ্রেণীর সমাজ বইয়ে নামটা উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র। প্রতিবছর নীরবে চলে যায় মেজর নাজমুলের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী।’
হ্যাঁ, আজ আমরা বলছি, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার শহীদ মেজর নাজমুল হকের কথা, যিনি ছিলেন ৭ নম্বর সেক্টরের প্রথম কমান্ডার। ১৯৭১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মিত্রবাহিনীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে ভারতের শিলিগুড়ি ক্যান্টনমেন্ট থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় অকালেই প্রাণ হারান মেজর নাজমুল। আজ তাঁর ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী।
মেজর নাজমুলের জন্ম ১৯৩৮ সালের ১ আগস্ট লোহাগাড়ার আমিরাবাদ গ্রামে। তাঁর বাবা অ্যাডভোকেট হাফেজ আহমদ, মা জয়নাব বেগম।
মেজর নাজমুল হক কৃতিত্বের সঙ্গে কুমিল্লার পেশোয়ারা পাঠশালা থেকে ম্যাট্রিকুলেশন ও ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ঢাকা আহসান উল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (বর্তমানে বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময়ই যোগ দেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে।
সমগ্র রাজশাহী-ঠাকুরগাঁও বাদে দিনাজপুরের বাকি অংশ, ব্রহ্মপুত্র-তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া ও পাবনা জেলা ছিল ৭ নম্বর সেক্টরের অধীন। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কিছু দিন আগে ১৮ মার্চ মেজর নাজমুল হককে নওগাঁয় ৭ ইপিআর উইংয়ের অধিনায়ক করে পাঠানো হয়। ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা শুরু হলে পরদিন স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে নওগাঁ মহকুমাকে শত্রুমুক্ত স্বাধীন বাংলার অংশ ঘোষণা করেন মেজর নাজমুল হক। স্থানীয় যুবকদের হাতে তিনি তুলে দেন অস্ত্র। স্বেচ্ছাসেবক যুবকদের নিয়ে গঠন করেন ইপিআর মুজাহিদ বাহিনী। সেই বাহিনীর অধিনায়ক হিসেবে প্রথমেই তিনি নওগাঁ ও বগুড়ার পাকিস্তানি হানাদারদের ক্যাম্প দখল করে শত্রুমুক্ত করেন গোটা বগুড়া জেলা। ২৮ মার্চ তাঁর বাহিনীর দ্বিমুখী আক্রমণে রাজশাহী ক্যান্টনমেন্টে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে হানাদাররা। দিনাজপুরের ধনধনিয়াপাড়ায় ১৮ জুন বড় রকমের এক যুদ্ধের পর ওই এলাকা মেজর নাজমুলের বাহিনীর দখলে আসে। এতে ১৪ জন পাকিস্তানি সেনা মারা যায়।
নিউজ উইকের সাংবাদিক মিলান কে কিউবিক ভারত সীমান্ত দিয়ে ঢুকে মেজর নাজমুলের একটি সাক্ষাত্কার নেন। ১৯৭১ সালের ১০ মে ছাপা হয় সেই সাক্ষাত্কার। মিলান কে কিউবিক লেখেন, “চলে আসার সময় হক (মেজর নামজুল হক) বললেন, ‘চার মাস পর যদি আবার আসেন, তখন আপনাকে কিছু অ্যাকশন দেখাব।’ আমার বিশ্বাস, তিনি এটা ঠিকই করতে পারবেন।”
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর যুদ্ধ করেছেন মেজর নাজমুলের ৭ নম্বর সেক্টরেই। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সোনামসজিদ প্রাঙ্গণে ঘুমিয়ে আছেন বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ও তাঁর প্রিয় কমান্ডার মেজর নাজমুল হক।
গ্রামের কিছু মানুষ মেজর নাজমুলের স্মৃতিরক্ষায় কাজ করেছেন। ১৯৮৮ সালে এস এম মঞ্জুরুল হক, আহমেদ মনির (সাংবাদিক), গাজী খায়ের আহমেদ ও শামীম আহমদের প্রচেষ্টায় আমিরাবাদ গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মেজর নাজমুল হক প্রাথমিক বিদ্যালয়’। ১৯৯১ সালে বিদ্যালয়টি নিবন্ধিত হলেও এখনো সরকারি করা হয়নি।
মেজর নাজমুল হকের দুই মেয়ে ইশরাত জাহান সুরভী ও নওরীন সাবা শিউলী। সুরভী স্বামীর সঙ্গে আমেরিকায় থাকেন, শিউলী থাকেন ঢাকার উত্তরায়।
নওরীন সাবা শিউলী বলেন, ‘বাবা যখন মারা যান, তখন আমার বয়স মাত্র ১১ মাস। শুনেছি বাবা আমাকে খুব আদর করতেন।’
তিনি দুঃখ করে বলেন, ‘আমার বাবা একজন সেক্টর কমান্ডার, অথচ তাঁকে রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত করা হয়নি। তাঁর নামটাও এখন উচ্চারিত হয় না রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে—এটা খুব কষ্ট দেয় আমাদের। বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির সরকারীকরণে অনেক চেষ্টা করেছি। এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কাছেও গিয়েছিলাম, কাজ হয়নি।’
মেজর নাজমুলের ভাই আজিজুল হক বলেন, ‘গত ৩৭ বছরে কোনো সরকারই মেজর নাজমুলের পরিবারের খোঁজ নেয়নি। ১৯৭২ সালে অনেক চেষ্টা করে ১৩০ টাকা পেনশন জোগাড় করেছিলাম। এরপর আর কেউ খবর রাখেনি।’

তেল গ্যাস উত্তোলন-সাত বোনের না বদলানোর কেচ্ছা

সাত ভাই চম্পা জাগো রে জাগো রে’ কথাগুলো দিয়ে বেশ অনেক বছর ধরেই জনপ্রিয় গানটা অনেকেই নিশ্চয় শুনেছেন। শুনতে শুনতে গুনগুনানিও হয়তো হয়েছে। কিন্তু সাত বোন নিয়ে গান মনে পড়ছে না। সাত বোন একটা বইয়ের নাম, বছর পঁয়ত্রিশেক আগের।
দিনবদলের হাওয়ায় গত সাত-আট মাসে বিশেষ কিছু বদলিয়েছে বলে চোখে পড়ছে না। তাই সেই প্রসঙ্গ আপাতত থাক। তবে দিন বদলাচ্ছে আর গত কয়েক মাসে না হলেও নিকট-অতীতে হয়তো অনেক কিছু বদলে গেছে, যা আমার চোখে পড়েনি। এমনিতেই ইদানীং দৃষ্টিশক্তি কমে গেছে, তাই হয়তো চোখে পড়েনি। দিন হয়তো বদলাচ্ছে, আমি দেখতে পাচ্ছি না।
যেমন বিজেএমইর কোনো নেতা বা বিরাট গার্মেন্টের কোনো মালিক হয়তো ঈদের আগে ঘোষণা দিয়েছেন যে এবার ঈদে তিনি দেড় কোটি টাকার গাড়ি না কিনে সেই টাকায় শ্রমিকদের জন্য দুটো বাস কিনে দেবেন। হাজার হলেও গত দু-তিন বছরে একটা ২০, আরেকটা ৩০ আর তৃতীয়টা ৭০ লাখ টাকায় তিনটি গাড়ি কেনা হয়েছে। বাসার সবাই ধরেছে—এবার একটা মার্সিডিজ বা বিএমডব্লিউ চাই। দরকার হলে দুই বছর আগে কেনা একটি গাড়ি বিক্রি করে দিতেও বাসায় কারও আপত্তি নেই। তা ছাড়া নিজেরই চারটি গাড়ি থাকলে বাসায় গাড়ি রাখার জায়গার সংকুলান হচ্ছে না। আরেকটু বড় বাড়িও দরকার। সেটা পরে। আপাতত এই ঈদে দেড় কোটি টাকার একটা গাড়ি হলেই চলবে। দু-চারটা গাড়ির শোরুমে যাওয়া-আসাও হয়েছে।
এমন অবস্থায় গাড়ি কেনার প্ল্যান বাদ দিয়ে নিজের শ্রমিকদের জন্য বাস কেনার ঘোষণাটা চোখে পড়েনি কোনো পত্রিকার খবর হিসেবে।
দিন বদলায়নি। তবে একটা বিষয়ে নিশ্চয়ই বদলিয়েছে। বিজেএমইর পক্ষ থেকে চান্স পেলেই জাহির করা হয় যে গার্মেন্টস খাত থেকে আমাদের রপ্তানি আয়ের শতকরা ৭৬ বা ৭৭ শতাংশ আসে প্রতিবছর। আমরাও তাই এটাই ভাবি—তাই তো। আমাদের পাউন্ড, ডলার, ইউরোর কমবেশি তিন-চতুর্থাংশই যখন এ খাত থেকে আসে, তখন এ খাতকে রক্ষা করা সবার জাতীয় দায়িত্ব। এই খাত থেকে আমাদের সব ডলার, পাউন্ড, ইউরোই যখন আসে, আর তা আসলে এই ঈদ মৌসুমে যে চিনি, আলু, ভোজ্যতেলসহ সবকিছুই বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি করতে হয়, সে আমদানির বৈদেশিক মুদ্রা কোথায় পেতাম।
হক কথা। যদি সত্যি হতো। শতকরা ৭৫ ভাগের হিসাব ডাহা মিথ্যা। যেমন মিথ্যা ব্যবসায়ীদের ঈদের আগে চাল, ডাল, তেল, চিনির দাম না বাড়নোর পঞ্চাশ বারের প্রতিশ্রুতি। কিছু জিনিস বদলায় না। দিনবদলের কথা আমরা যতই জপি না কেন।
২.
সাত বোনের কেচ্ছা এই না-বদলানোর কেচ্ছা। বছর পঁয়ত্রিশেক আগে বইটি বাজারে এসেছিল। এন্থনি স্যামসনের বই, নাম দি সেভেন সিস্টারস। ওই বইয়ের সাত বোন ছিল সে সময়ের সাতটা সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানি। ওই সাতটা তেল কোম্পানি সারা বিশ্বের বিশেষত তৃতীয় বিশ্বের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোকে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছিল তার রোমাঞ্চকর কাহিনী। রোমাঞ্চকর এ জন্য যে বইটি না পড়লে সহজে বিশ্বাসই হবে না যে তখন ওই তেল কোম্পানিগুলো কীভাবে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর ওপর তেল উত্তোলন আর রপ্তানির নামে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল।
গত শতাব্দীর পঞ্চাশ-ষাটের দশকে তেলসমৃদ্ধ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো স্বাধীন হয়ে পড়ায় বড় তেল কোম্পানিগুলো কিছুটা বিপাকে পড়েছিল। সেই বিপাকটা ছিল অল্পস্থায়ী। বইটির পুরো টাইটেল ছিল দি সেভেন সিস্টারস: দি গ্রেট ওয়েল কোম্পানিজ অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড দে শেইপড।
১৯৭৭ সালে প্রকাশিত এন্থনি স্যামসনের আরেকটি বই দি আর্মস বায়ার এ স্টাডি অব ইন্টারন্যাশনাল আর্মস ট্রেডার অর্থাত্ অস্ত্র প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো তাদের উত্পাদিত অস্ত্র বিক্রির জন্য কীভাবে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ বাধিয়ে দেয় তার বিশ্লেষণ।
স্যামসনের সাত বোন-এর ফিরিস্তির পুরোটাই এখন অত প্রয়োজনীয় নয়। তাও দু-চারটার নাম পরিবর্তিত, কারণ এখনো তারা বহাল তবিয়তে তেল ব্যবসা করছে। তখন ছিল এশো (Esso)। এখন হয়েছে অ্যাকশন মবিল রয়েল ডাচ শেল; স্টান্ডার্ড অয়েল অব ক্যালিফোর্নিয়া, এখন হয়েছে শেভরন। ওই সময়ের সাত বোনের এক বোন— গালফ ওয়েল এখন শেভরনের অংশ অর্থাত্ ১৯৮৫ সালে শেভরন গালফ ওয়েলের বেশির ভাগ শেয়ার কিনে নিয়েছিল। আরেক বোন, টেক্সাকোকেও শেভরন হজম করে ফেলেছে।
আর আমরা বাংলাদেশে বসে সেই শেভরনের সঙ্গে দেন-দরবার করছি। নিজের জন্য কোটি টাকার গাড়ি কেনার বদলে শ্রমিকদের জন্য বাস কেনার মতো আমরাও ভাবছি, শেভরনের মতো তেল কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। দিন বদলেছে!!
৩.
সাত বোন নিছক একটা বই যে না তার প্রমাণ—১১ মার্চ ২০০৭ সালের লন্ডনের অন্যতম প্রভাবশালী পত্রিকা দি ফাইনানশিয়াল টাইমস, ‘দি নিউ সেভেন সিস্টারস’ নামে একটি প্রতিবেদন ছাপে। মুখ্য প্রতিপাদ্য ছিল সেই পুরোনো সাত বোন আর নেই। তাদের জায়গায় নতুন সাতটা বড় তেল কোম্পানির উত্থান হয়েছে, যাদের মধ্যে এখন আছে সৌদি কোম্পানি আরামকো রাশিয়ার গ্যাজস্প্রম, নিওক (ইরান), পেট্রোনাস (মালয়েশিয়া) ইত্যাদি। অর্থাত্ তেল আছে এমন অনেক দেশ নিজের তেল-গ্যাস উত্তোলনের জন্য দেশের সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় নিজেদের কোম্পানি গড়ে তুলেছে। আর এসব কোম্পানি এখন তাদের স্ব-স্ব দেশের গণ্ডি পেরিয়ে অন্যান্য দেশেও তেল-গ্যাস আবিষ্কার আর উত্তোলনের ব্যবসায় পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।
আর আমরা আমাদের পেট্রোবাংলাকে প্রায় ৪০ বছরেও কেন আঁতুড় ঘরে রেখে দিয়েছি, সেটা কি খুলে বলতে হবে? এখন খোদ আমেরিকার কেচ্ছা। সারা পেলিনের নাম আমরা ইতিমধ্যে বোধ হয় ভুলতে বসেছি। ওবামা-জো বাইডেনের বিরুদ্ধে এই মাত্র গত বছরের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন জন ম্যাককেইনের সঙ্গে। সারা পেলিন তখন ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আলাস্কার গভর্নর অর্থাত্ পাশের ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বা আগের জ্যোতি বসুর মতো নির্বাচিত প্রধান নির্বাহী। খবরে দেখলাম, সপ্তাহ দুয়েক আগে সারা গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
আলাস্কা তেল-গ্যাসে ভরপুর স্থান। সেই আলাস্কার সারা পেলিন নিয়ে ২০০৭-এ বই বেরিয়ে ছিল, সারা টেকস অন বিগ ওয়েল বই। বইয়ের এই ইংরেজি নামটির বাংলা অনুবাদ করা আমার জন্য কষ্টসাধ্য। ভাবার্থ অনেকটা এ রকম—বড় তেল কোম্পানিকে সারা কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। তেল-গ্যাস বিশারদ দুই সাংবাদিক বইটি লিখেছিলেন সারা পেলিনের কার্যাবলির ওপর ভিত্তি করে। খোদ আমেরিকায় বসে সারাকে দেখতে হয়েছিল যে তিনি কীভাবে বড় তেল কোম্পানিকে বাগে রাখতে হয়েছিল। স্বীকার করছি অকপটে যে বইটি পড়িনি, ইন্টারনেটে পুস্তক সমালোচনা পড়েছি। কিন্তু মর্ম আন্দাজ করেছি।
তাই ১৪ সেপ্টেম্বরের তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটির হরতালের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন টক শোতে সরকারি দলের হর্তাকর্তা ব্যক্তিদের তেল কোম্পানিগুলোর ব্যাপারে উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশ দেখতে বেশ মজাই লাগছিল।
একটা পুরোনো কথা আমার মনের মাধুরী মিশিয়ে বলি, সৃষ্টিকর্তা যখন কোনো জাতির ওপর থেকে তার অনুকম্পা হ্রাস করেন, তখন জাতি, বিশেষত জাতির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা প্রথমে এবং ক্রমান্বয়ে জাতিটা বোকা হয়ে যায়।

৪.
গার্মেন্টসের মালিকেরা নিজেদের জন্য গাড়ি না কিনে শ্রমিকদের জন্য বাস ক্রয় করেছেন—খবরটা একটার পর একটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি থেকে যখন পেতে শুরু করব, তখন ভাবতে শুরু করব যে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি আর আমাদের কর্মকর্তারা আমাদের জাতীয় সম্পদ রক্ষায় নিবেদিতপ্রাণ হয়ে গেছেন। নিদেনপক্ষে তাঁরা যৌক্তিক চুক্তি করছেন।
বিদেশি তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান আর পরে আবিষ্কৃত তেল-গ্যাস ভাগাভাগি, বিক্রি আর রপ্তানি-সংক্রান্ত চুক্তিগুলো যদি যৌক্তিক এবং আমাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই থাকে, তাহলে চুক্তিগুলো এখনো কেন গোপনীয়।
লেখা শেষ হওয়ার আগে মাঝপথেই একটা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে রাখি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ ফারুক ইংল্যান্ডের ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয় তেল-গ্যাস চুক্তি এবং এ সংশ্লিষ্ট আইনের বিষয়ে তার পিএইচডি থিসিস লিখেছে। তেল-গ্যাস সংক্রান্ত আইন নিয়ে চর্চার জন্য ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। ফারুক বলছিল যে তার থিসিসের গবেষণার জন্য সে প্রচুর খোঁজাখুঁজি করেছিল। আমাদের জাতির পক্ষে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে, এর সবটাই ‘অতি গোপনীয়’।
একটা চুক্তি নিয়ে দুই পক্ষ আলাপ-আলোচনা করে, দরদাম করে তখন সেটা গোপনীয় থাকতেই পারে। সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তারপর সংবিধানকে মাঠে নামাই। সংবিধানের ১৪৩ অনুষদে বলা আছে ক) দেশের ভূমি এবং খ) সমুদ্র সীমানার অন্তর্গত সকল খনিজ ও মূল্যবান সামগ্রীর মালিক প্রজাতন্ত্র। আর সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। অর্থাত্ সকল খনিজ সম্পত্তির মালিক জনগণ।
আমাদের খনিজ সম্পদ কে, কোথায়, কীভাবে, কী শর্তে, কত দামে বিক্রি করছে, সেটা আমরা-জনগণ জানতে পারব না, এটা তো হতেই পারে না। আমাদের সম্পদ আমাদের কাছ থেকে ‘গোপন’ রাখবে—এ কেমন কথা, এটা কি মগের মুল্লুক।
মোদ্দাকথা, চুক্তি নিয়ে আলাপ-আলোচনা সরকারের দায়িত্ব। সে পর্যায়ে আমাদের না জানালেও চলবে। তবে ২০, ৩০, ৪০ বছর মেয়াদি চুক্তি, স্বাক্ষরিত হওয়ার পর জানার আধিকার দেশের জনগণের আছে।
ড. ফারুক জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশে এ গোছের চুক্তি এখন তথ্য জানার অধিকারের আওতাভুক্ত।
জানতে চাই। জানাতে হবে। অবিলম্বে!
ড. শাহদীন মালিক। অ্যাডভোকেট, সুপ্রিম কোর্ট, ডাইরেক্টর, স্কুল অব ল, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়

সময়চিত্র আসিফ নজরুল সংবিধান সংশোধনের চিন্তা কেন

আইন-গবেষক হিসেবে কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে আমাদের। বাংলাদেশে গণতন্ত্রচর্চা নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের বিপুল আগ্রহ রয়েছে। গত নির্বাচনের সময় এঁদের কেউ কেউ একনিষ্ঠ সমর্থকের মতো কোনো একটি দলের বিজয় কামনা করেছেন। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর দেখা গেল, এঁরা বেশ আনন্দিত, কিন্তু একই সঙ্গে কিছুটা চিন্তিতও। কারণ, এর মধ্যে তাঁরা জেনেছেন যে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশেই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়) নিয়ে আসা সরকারের পরিণতি ভালো হয়নি।
এটি নিয়ে আমি নিজেও আগে লিখেছি। যা লিখিনি তা হচ্ছে, এই পরিণতির একটি বড় কারণ সংবিধান সংশোধনের চিন্তা। প্রতিটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার তার পতন ত্বরান্বিত বা অবধারিত করেছে এই চিন্তাকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে। উদাহরণ দেওয়ার আগে প্রথমে বলে রাখি, সংবিধান সংশোধন এমনিতে খারাপ কিছু নয়। আমেরিকায় প্রথম দিককার সংশোধনীগুলোর মধ্য দিয়ে মানবাধিকারের প্রসার ঘটানো হয়েছে। ইউরোপে বেশ কিছু দেশে সামপ্রতিক সংশোধনীগুলো আনা হয়েছে মানবাধিকার শক্তিশালীকরণ বা নাগরিকদের তথ্য অধিকারকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য। ভারতে গত ষাট বছরে শ খানেক সংশোধনীর মধ্যে বেশ কয়েকটি ছিল জনস্বার্থমূলক। যেমন—নিম্ন বর্ণ ও গোত্রের মানুষের জন্য জাতীয় কমিশন গঠন করা, স্থানীয় শাসন জোরদার করা, মন্ত্রিসভার আয়তন সীমিত করা, স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং জরুরি অবস্থা জারিকে আরও নিয়ন্ত্রিত করা। দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯৯৬ সালে যে নতুন সংবিধান গ্রহণ করেছে, তাকে পৃথিবীর অন্যতম প্রগতিশীল একটি সংবিধান হিসেবে অভিহিত করা হয়।
পৃথিবীতে এমন বহু দেশে সংবিধানে সংশোধনী আনা হয়েছে নাগরিক অধিকার ও স্বার্থকে সুনিশ্চিত করার জন্য, সুশাসনের সম্ভাবনা সুদৃঢ় করার জন্য। এর ব্যতিক্রমও আছে। এই ব্যতিক্রম দক্ষিণ এশিয়ায় কম নয়। আমাদের দেশেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ বৃদ্ধির জন্য বা অবৈধ ক্ষমতা আইনানুগ করার জন্য। আশ্চর্য নয়, এর মধ্যে সবচেয়ে আপত্তিকর সংশোধনগুলো করা হয়েছে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আসা সরকারগুলোর সময়ে।

২.
বঙ্গবন্ধুর সরকারের আমলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে কার্যত এক ব্যক্তির সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মাধ্যমে ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ সংবিধানের বেসিক স্ট্রাকচার বা মৌলিক কাঠামোই বদলে দেওয়া হয় (দেখুন: মাহমুদুল ইসলাম, কনস্টিটিউশনাল ল অব বাংলাদেশ, পৃষ্ঠা: ৪০৬)। অনেক পরে একটি মামলায় হাইকোর্ট সংশোধনীটির তীব্র সমালোচনা করলেও এটিকে অবৈধ ঘোষণা করা থেকে অযৌক্তিকভাবে বিরত থাকেন (৩৩ ডিএলআর ৩৮১)।
জিয়াউর রহমানের আমলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সামরিক শাসনামলের আইনকানুন, সংবিধান সংশোধনীসহ সবকিছু বৈধতা দেওয়া হয়। পঞ্চম সংশোধনী নামে বহুল পরিচিত এই সংবিধান সংশোধনীও ছিল সংবিধানের বেসিক স্ট্রাকচার বা মূল কাঠামোবিরোধী। ২০০৫ সালে হাইকোর্টের রায়ে এটিকে তাই অবৈধ ঘোষণা করা হয়। একইভাবে পরে এরশাদ সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসনের সুযোগে সপ্তম সংশোধনীর মাধ্যমে তাঁর সামরিক শাসনকে বৈধ করে নেন। এটিও সংবিধানের মৌলিক কাঠামোবিরোধী ছিল। আমার ধারণা, আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে এটিও অবৈধ বলে ঘোষিত হবে। এরশাদ সংবিধানের যে অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে হাইকোর্টকে অঞ্চলভিত্তিকভাবে ভাগ করার চেষ্টা করেন, তা অবশ্য উচ্চ আদালতে অনেক আগেই অবৈধ ঘোষিত হয়েছে।
অষ্টম সংশোধনী মামলার রায়ে সার্বভৌমত্ব, আইনের শাসন, মানবাধিকার, গণতন্ত্র, প্রজাতন্ত্র, ক্ষমতার পৃথক্করণ, এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করা হয়। রায়ে বলা হয়, (নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও) কোনো সংসদের মাধ্যমে সংবিধানের এসব মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা হলে তা হবে অবৈধ। এই রায়ের আলোকে ১৯৯০ সালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আগে প্রতিটি সরকার অবৈধভাবে সংবিধান সংশোধন করেছিল বলা যায়।
১৯৯০ সালের পর প্রথম নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ২০০১ সালের বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। জোট সরকারের চতুর্দশ সংশোধনী সংবিধানের মৌলিক কাঠামোবিরোধী ছিল না। কিন্তু পছন্দসই একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করার লক্ষ্যে এই সংশোধনীটি করা হয়েছিল বলে ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয়। এটি নৈতিকভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষের বিরোধিতারও সম্মুখীন হয়। সংবিধান সংশোধনীকে তাই আগের আমলের নিরঙ্কুশ সরকারগুলোর মতো বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারেরও পতনের বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে একটি দলের পক্ষে এককভাবে সংবিধান পরিবর্তন করা সম্ভব। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাংলাদেশের সংবিধান ও মানুষের জন্য কোনো দিন কল্যাণ বয়ে আনেনি। বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীরা সংবিধান সংশোধনের কথা জোরেশোরে বলা শুরু করা মাত্র তাই বিভিন্ন মহলে দুর্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এই দুর্ভাবনা অপরিণত এমনকি কারও কারও ক্ষেত্রে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হতে পারে। কিন্তু ইতিহাস ঘাঁটলে একে অযৌক্তিক মনে করার কোনো কারণ নেই।

৩.
বাংলাদেশের বহু নিরপেক্ষ মহল মনে করে, আমাদের সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। সংবিধানের ত্রুটিগুলো লক্ষ করলেই তা বোঝা যাবে। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারগুলো আমাদের সংবিধানে যথেষ্টভাবে বর্ণিত হয়নি। লিগ্যাল এইড, শ্রমিকদের জীবনধারণক্ষম ন্যূনতম মজুরি, মা ও শিশুদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা, পরিবেশ রক্ষা, ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীগুলোর সাংসৃ্কতিক অধিকারের কোনো উল্লেখ নেই সেখানে। ধর্ম পালনের অধিকারের ক্ষেত্রে বৈষম্য আছে আমাদের সংবিধানে। আমাদের সংবিধানে নিবর্তনমূলক আটকের বিধান ভারত বা পাকিস্তানের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর ও স্বৈরতান্ত্রিক। সংবিধানে সংসদের ন্যূনতম অধিবেশন বা কার্যদিবসের কথা বলা হয়নি; বরং অনুমতি না নিয়ে একাদিক্রমে সংসদের ৮৯ বৈঠক দিবসে অনুপস্থিত থাকার সুযোগ রয়েছে সাংসদদের। আবার সরকারি দল কোনো কালো আইন পাস করতে চাইলে এর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার, এমনকি ভোটদানে বিরত থাকার অধিকার সরকারি দলের সাংসদদের নেই। গত অন্তত পাঁচ বছরে নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী, গণমাধ্যম, এমনকি বড় দুই দলের কিছু নেতাও এসব বিষয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনের কথা বলেছেন।
আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা সংবিধান সংশোধনের কথা বলতে গিয়ে এসব বিষয়ের অবতারণা করেননি। তাঁরা বরং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিলুপ্তি এবং সরকারের মেয়াদ হ্রাসের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে সংবিধান পরিবর্তনের চিন্তার কথা বলেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাংলাদেশের সংবিধানে সংযোজন করা হয়েছিল অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার যতগুলো নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছে, তা আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় শ্রেয়তর হিসেবে দেশে-বিদেশে স্বীকৃত হয়েছে। এই সরকারগুলোর আমলে সংবাদপত্রের সুরক্ষা, নির্বাচনী আইনের সংস্কার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শক্তিশালীকরণ-সংক্রান্ত বিভিন্ন জনস্বার্থমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আমাদের কিছু খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছিল, এটিও সত্যি। কিন্তু নজিরবিহীন যে জরুরি অবস্থার জোয়াল জাতির কাঁধে ওই সময়ে চেপে বসে, তার প্রেক্ষাপট রচনা করেছিল মূলত রাজনৈতিক দলগুলোই। সেই সময়ের খারাপ অভিজ্ঞতা স্মরণে রেখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতা ও মেয়াদ সুনির্দিষ্টকরণের লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনের চিন্তা করা যেতে পারে। কিন্তু এ জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুরোপুরি বাতিল করার উদ্যোগ নিলে এর পেছনের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে বিতর্ক উঠবে। বর্তমান সরকার তার পূর্বসূরির মতো প্রশাসনে যে নগ্ন দলীয়করণ শুরু করেছে, এতে এই সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পদক্ষেপ নিলে তা আরও একটি ভয়াবহ রাজনৈতিক বিরোধ ডেকে আনতে পারে দেশে।
সরকারের মেয়াদ হ্রাস করে চার বছর করার চিন্তাটি নিয়েও আরও ভাবনার প্রয়োজন রয়েছে। এটি প্রশংসনীয় চিন্তা, তবে এ ক্ষেত্রেও সরকারের উচিত হবে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে এগোনো। রাজনৈতিক সমঝোতার পাশাপাশি সংবিধানের আপাদমস্তক পূর্ণপাঠ, পর্যালোচনা ও পরিবর্তনের জন্য একটি স্থায়ী কমিশন গঠনের চিন্তাও সরকার করতে পারে।
আমার ধারণা, বাংলাদেশের তিনজন অতি শ্রদ্ধেয় সাবেক প্রধান বিচারপতিকে (সাহাবুদ্দীন আহমদ, মোস্তফা কামাল ও মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান) রাজি করিয়ে তাঁদের নিয়ে এই কমিশন গঠন করা হলে এবং কমিশনের মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিলে রাজনৈতিক সমঝোতা স্থাপন অনেক সহজতর হবে। সংবিধান সংশোধন নিয়ে আমাদের দুর্ভাবনাও এতে বহুলাংশে হ্রাস পাবে।
আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলাদেশে পর্যটনের সম্ভাবনা -বিশ্ব পর্যটন দিবস by তৌফিক রহমান

আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৯। বিশ্ব পর্যটন দিবস। বিশ্ব পর্যটন সংস্থার আহ্বানে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বিশ্ব পর্যটন সংস্থার একজন সহযোগী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়। বিশ্ব পর্যটন দিবস পালনের উদ্দেশ্যই হলো জাতিতে জাতিতে সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা এবং বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া।
এ বছর বাংলাদেশে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালনের অংশ হিসেবে একটি শোভাযাত্রা, সেমিনার, পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং সরকারি ও বেসরকারি ইলেকট্রনিক্স প্রচারমাধ্যমে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান ও টক-শো আয়োজনের কথা রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত কিছু করেও কি পর্যটন শিল্পের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব?
পর্যটন শিল্পের বিশ্বব্যাপী গুরুত্বের কথা বোধ করি নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। পৃথিবীর অনেক দেশেরই জাতীয় আয়ের বেশির ভাগ আসে এই পর্যটন শিল্প থেকে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো পর্যটন শিল্পে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর ভেতর একমাত্র ভুটান ছাড়া আর সবাই আমাদের চেয়ে এগিয়ে। অথচ পর্যটনে কতই না সম্ভাবনাময় আমাদের এই দেশ, বাংলাদেশ। প্রচলিত ও পরিচিত পর্যটন পণ্য ছাড়াও আমাদের দেশের আনাচ-কানাচে, পথে-প্রান্তরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় পর্যটন পণ্য, যা বিদেশি পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করে। কিন্তু আমরা কতজনই বা এর খবর রাখি।
কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট, পাহাড়পুর, রাঙামাটি কিংবা বান্দরবান—এসব আমাদের প্রধান পরিচিত পর্যটন পণ্য। কিন্তু বুকে হাত দিয়ে কি আমরা বলতে পারব যে ওগুলো সত্যিই একেকটি পর্যটন পণ্য হিসেবে গড়ে উঠেছে? পর্যটন পণ্য (Tourism product) সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমেই জানতে হবে একজন পর্যটকের ব্যক্তিগত চাহিদা বা চাওয়াগুলো কী কী। কক্সবাজারের কথাই ধরা যাক। বিপণন কার্যক্রম পরিচালনার সময় কত সহজেই আমরা কক্সবাজার নিয়ে কতই না গুণকীর্তন করে থাকি। বিশ্বের দীর্ঘতম (১২০ কিলোমিটার) সাদা বালির সমুদ্রসৈকত ইত্যাদি ইত্যাদি। এর মধ্যে ৩০-৪০ কিলোমিটার পর্যন্তই আমাদের পদযাত্রা। বাকি ৮০-৯০ কিলোমিটার এখনো আমরা যারা বেসরকারি পর্যটন শিল্পকে প্রতিনিধিত্ব করি, তাদের কাছেও অনাবিষ্কৃত। তাহলে বুঝুন অবস্থা। সর্বোপরি, কক্সবাজারে এতসব অবকাঠামো গড়ে উঠলেও এখন পর্যন্ত তিন-চার দিন পরিবার-পরিজন কিংবা বন্ধুবান্ধব নিয়ে থাকার মতো সুযোগ-সুবিধা কিংবা আনন্দ বিনোদনের ব্যবস্থা আছে কি? শুধু হোটেলে রাত যাপন ও রেস্তোরাঁয় খাওয়ার জন্যই কি এত কষ্ট করে কক্সবাজার যাওয়া? সমুদ্রসৈকতে স্নান আর পা ভিজিয়ে তাই তৃপ্ত থাকতে হয় ভ্রমণার্থীদের। আর এর প্রতিফলনও পড়েছে সম্প্রতি প্রাকৃতিক নিউ সেভেন ওয়ান্ডারের তালিকা থেকে কক্সবাজারের বাদ পড়ে যাওয়া।
আমরা আমাদের দীর্ঘদিনের পর্যটন শিল্পের অভিজ্ঞতায় বলতে পারি যে বিদেশি পর্যটকেরা কক্সবাজারকে খুব বেশি পছন্দ করে না, যত না পছন্দ করে আমাদের প্রকৃতি, নৈসর্গ, সংস্কৃতি আর দেশের সাধারণ মানুষজনকে। আমাদের দেশের বর্ণিল মানুষজন এবং তাঁদের বৈচিত্র্যময় জীবনযাপন প্রণালীই তাদের বেশি আকর্ষণ করে। তা ছাড়া কক্সবাজারে আনন্দ-বিনোদনের বড়ই অভাব। সুতরাং এ আশঙ্কা অমূলক নয় যে, পরবর্তী সময়েও ওই তালিকা থেকে কক্সবাজার বাদ পড়তে পারে। সুন্দরবন যেহেতু পুরোপুরি প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে, সুতরাং সুন্দরবনের সম্ভাবনা শতভাগ। ঘটনা তা-ই ঘটেছে। কক্সবাজার ওই তালিকা থেকে বাদ পড়ে গেছে। সুতরাং ওই বিবেচনায় কক্সবাজার এখনো পর্যটকদের কাছে পুরোপুরি পর্যটন পণ্য হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেনি।
ঈদ আর পূজার ছুটিতে আমাদের দেশের মানুষজনের কাছে এখনো এক নম্বর পছন্দের জায়গা কক্সবাজার। কিন্তু কক্সবাজারের সুযোগ-সুবিধায় তারাও যে পুরোপুরি সন্তুষ্ট তা কিন্তু বলা যাবে না। বরং আমরা যারা বিদেশি পর্যটকদের বিভিন্ন পর্যটনসেবা প্রদান করে যাচ্ছি, তারা দেখেছি বিগত বছরগুলোতে বিদেশি পর্যটকদের ব্যক্তিগত পছন্দ ও চাহিদাগুলো। এখন ইন্টারনেট আর ই-মেইলের যুগ। একটি দেশে আসার আগেই তারা অন্তত তিন মাস আগে থেকেই সে দেশটি সম্পর্কে যাবতীয় খোঁজখবর আর তথ্যাদি জোগাড় করতে থাকে। সুতরাং একটি দেশে কী কী সহজলভ্য আর কী কী নয়, তা বোধকরি তাদের জানাই থাকে।
সে অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, আমাদের দেশের গ্রাম, গ্রামের মানুষজন, তাদের বৈচিত্র্যময় জীবনযাপন প্রণালী, তাদের রান্না করা, তাদের ক্ষেতে ধানের চাষ করা, তাদের ধান মাড়ানো—সর্বোপরি তাদের স্মিত হাসিই বরং বিদেশিদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। একটি ট্যুর অপারেটর কোম্পানির গত পাঁচ বছরের Guest Satisfaction Survey পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ‘বাংলাদেশ ভ্রমণ শেষে কোন জিনিসটি আপনাকে বেশি আকৃষ্ট করেছে’-এ প্রশ্নে শতকরা ৯৯ জন বিদেশি পর্যটকই উত্তর দিয়েছেন, ‘তোমাদের দেশের মানুষজন, তাঁদের অকৃত্রিম হাসি ও আতিথেয়তাই আমাদের বেশি আকৃষ্ট করেছে। এটিই হচ্ছে তোমাদের দেশের শ্রেষ্ঠ পর্যটন পণ্য।’
অতএব, বিশ্ব পর্যটন দিবসে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ, পরিচিত ও প্রচলিত পর্যটন পণ্যের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের পছন্দ ও চাহিদাগুলোকে বিবেচনায় আনুন। প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিনির্মাণে আমাদের সহযোগিতা করুন। আমরা কথা দিচ্ছি, দেশের দিনবদলের অঙ্গীকার পূরণে একমাত্র আমরাই হব আপনাদের শক্তিশালী হাতিয়ার। ২০২১ সালে বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীতেই আমরা দেশকে নিয়ে যাব উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত ও ধনী দেশের কাতারে। আমাদের সহযোগিতা করুন, আমাদের ওপর ভরসা রাখুন।
তৌফিক রহমান: প্রথম সহসভাপতি, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)।

তথ্যপ্রযুক্তি-ইন্টারনেট, শিক্ষা ও রামপালের সুপারিশ by মুনির হাসান

বাংলাদেশেরই কোনো এক গ্রামের স্কুলশিক্ষকদের সভা আহ্বান করা হয় মোবাইল ফোনে, এসএমএসের মাধ্যমে। সেখানকার গ্রামে যে বার্ষিক মেলাটি হয়, সেটির নাম ‘জ্ঞানমেলা’—জ্ঞানই সেখানে মুখ্য। সেই গ্রামে আড্ডা দেওয়ার জায়গাটি রয়েছে জ্ঞানকেন্দ্রে। গ্রামের অবসর বিনোদনের একটি বড় মাধ্যম দাবা খেলা। সেখানে নিয়মিত গণিত ও অন্যান্য বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়। কারও কারও কাছে এটি কষ্টকল্পনা হলেও ব্যাপারটি সত্য। সম্প্রতি সেই গ্রামে যাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।
বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের শ্রীফলতলা হলো সেই গ্রাম। বাগেরহাট আমাদের দক্ষিণের জেলাগুলোর একটি। সুন্দরবন যেমন এই জেলার গর্ব, তেমনি সেখানে লোনা পানির অত্যাচারও কম নয়। সুন্দরবনের প্রভাবেই কিনা কে জানে, বাগেরহাট জেলাবাসীর উদ্ভাবনী শক্তি ম্যালা। বাংলাদেশে ইন্টারনেট চালুর শুরুর দিকে বাগেরহাটের এক তরুণ ইন্টারনেটসেবার এক ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। সেটির নাম দেওয়া হয় বাগেরহাট অনলাইন। তরুণটি একটি সার্ভারের সঙ্গে একাধিক ডায়ালআপ ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা করেন। এরপর তার দিয়ে সার্ভারের সঙ্গে যুক্ত করেন অন্য ব্যবহারকারীদের! সে সময়ে বাগেরহাটে দৈনিক পত্রিকা পৌঁছাতো এক দিন পর।
উন্নয়নের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ধারণাটি একেবারেই নতুন নয়। আমাদের দেশেও এ ধারণার নানামুখী প্রয়োগ আমরা দেখছি। একটি সত্যিকারের জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে তথ্যপ্রযুক্তি এখন তাই আবশ্যিক হয়ে পড়েছে। সেই তথ্যপ্রযুক্তিকে উন্নয়নের জন্য হাতিয়ার করে বেশ কয়েক বছর আগে শ্রীফলতলায় চালু হয় আমাদের গ্রাম-উন্নয়নের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্প। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণের জন্য জ্ঞানকে উপজীব্য করে একটি সমাজ কাঠামোর জন্য সংগ্রাম করা।
শ্রীফলতলা গ্রামসহ রামপাল ইউনিয়নের সব স্কুলের ডেটাবেইস আছে। স্কুলটি কবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, কে এর প্রতিষ্ঠাতা—সবই ডেটাবেইস থেকে পাওয়া যায়। আছে সেখানকার লোকদের নানা তথ্য। যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এ তথ্যগুলো তাদের কাজে লাগে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ওখানে তথ্যপ্রযুক্তির প্রশিক্ষক-কর্মীদের সবাই স্থানীয়। সে কারণে আপনি দেখবেন, গৃহবধূ মহুয়া সামাল দিচ্ছেন জ্ঞানকেন্দ্রের হিসাব-নিকাশের কাজ।
এ রকম একটি ইউনিয়নে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকবে, সেটা বলা বাহুল্য। ইউনিয়নের স্কুলগুলোর প্রধান শিক্ষক, গণিতশিক্ষক ও কম্পিউটারশিক্ষকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলাম। সেখানে পেড়িখালী উচ্চবিদ্যালয়ের কম্পিউটারশিক্ষক জানান, তাঁদের তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার কথা। তিনি লক্ষ করেন, নবম শ্রেণী থেকে কম্পিউটার বিষয় নিয়ে অধ্যয়নে শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা হয়। কম্পিউটারের সঙ্গে পরিচিত হতে, ভয় কাটাতেই অনেক সময় চলে যায়। কাজেই তাঁরা ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার শিক্ষায় শিক্ষিত করার উদ্যোগ নেন। এ জন্য নিজেরাই ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সিলেবাস প্রণয়ন করেন এবং নিজেরাই এর জন্য বই লিখে ফেলেন। এখন ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ শ্রেণী থেকেই কম্পিউটারশিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। সারাদেশে যখন আমরা তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার ছড়িয়ে দেওয়ার নানা উদ্যোগের কথা ভাবছি, তখন রামপালের জ্ঞান উদ্যোগ আমাদের সামনে বড় উদাহরণ হতে পারে।
গণিতশিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় বেশি করে উঠে এসেছে পাঠ্যসূচি ও প্রশিক্ষণ উপকরণের দুর্বলতার কথা। এক শিক্ষক জানান, সরকারের টিকিউআই প্রকল্প থেকে শিক্ষক প্রশিক্ষণের যে ম্যানুয়ালটি দেওয়া হয়েছে, সেখানেই রয়েছে গুরুতর সব ভুল। তিনি আরও জানান, প্রশিক্ষণের সময় সেই ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়া হলেও প্রশিক্ষকেরা সেটি এড়িয়ে যান। একজন গণিতশিক্ষক সভায় আসার আগে পাঠ্যপুস্তকের ভুলগুলোর একটা তালিকা করে এসেছেন। তাঁদের বক্তব্য, তথ্যপ্রযুক্তির প্রথম বিষয় হলো তথ্য। সেই তথ্যই যদি নির্ভুল না হয়, তাহলে কেমন করে গড়ে উঠবে তথ্যপ্রযুক্তির সৌধ?
শিক্ষার প্রায়োগিক দিক নিয়েও তাঁরা ভেবেছেন। পিথাগোরাসের উপপাদ্যের ইউক্লিডীয় প্রমাণ মুখস্ত করার চেয়ে যে ওই উপপাদ্যের প্রয়োগটা বেশি জরুরি, সেটা তাঁরা আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন। তবে সেই সঙ্গে তাঁরা এও বলেছেন, ইচ্ছা থাকলেও তাঁরা শিক্ষার্থীদের ভুল শেখা থেকে বিরত করতে পারেন না। কারণ বোর্ডের প্রশ্ন এবং বোর্ডের বই।
যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানোন্নয়নের বিষয়টিও এসেছে প্রবলভাবে। বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণগুলো আরও কার্যকরী হওয়া দরকার। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রাথমিক পর্যায়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা প্রকৃত প্রাথমিক জ্ঞান নিয়ে স্কুলে আসে না। ফলে তাদের সামনে এগিয়ে নিতে কষ্ট হয়। গণিত শিক্ষার দুর্বলতার কারণেই শিক্ষার্থীদের অনেকে গণিতকে ভীতিকর বিষয় হিসেবে দেখছে বলে তাঁরা অভিমত দেন।
সত্যিকারের জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে জ্ঞানকে মুখ্য করে তোলার কোনো বিকল্প নেই। তথ্যপ্রযুক্তি এর একটি অন্যতম হাতিয়ার। শ্রীফলতলা গ্রামের এক মাদকাসক্ত তরুণ কম্পিউটারে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাদকমুক্ত হয়েছে। জ্ঞানের বিকাশই যে নানা ধরনের অন্ধকার দূর করতে পারে, এটি এর একটি ছোট্ট উদাহরণ মাত্র।
গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি কতটা পরিবর্তন সূচিত করতে পারে, এর উদাহরণ শ্রীফলতলা—আমাদের গ্রাম। আমাদের গ্রামের অধিবাসীদের এবং আমাদের গ্রাম প্রকল্পের উদ্যোক্তাদের সাধুবাদ জানাই। বিশেষ করে, এ প্রকল্পের পরিচালক রেজা সেলিম; যাঁর কারণে এখন গ্রামের চা-বিক্রেতারাও কমবেশি কম্পিউটার চালাতে পারে এবং জানে। ‘ইন্টারনেট হলো কম্পিউটারের সঙ্গে মহাকাশের সংযোগ। এর মাধ্যম ঘরে বসেই নানা ফল পাওয়া যায়। এ জন্য আর সদরে যেতে হয় না।’ জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণে শ্রীফলতলার উদাহরণ অনুসরণ করে আমাদের গ্রামগুলো সত্যিকারের জ্ঞানগ্রাম হয়ে উঠুক। আশা এমনটিই।
মুনির হাসান: সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি।

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ বিমান -বাঘা তেঁতুল by সৈয়দ আবুল মকসুদ

স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ শব্দ দুটি এখন জাতির উন্নতি সাধনের উদেযাগ গ্রহণের অনন্য প্রেরণা হিসেবে ব্যবহূত হয় না। এ শব্দ দুটির প্রয়োজন পড়ে চাকরিপ্রাপ্তির জন্য, প্রমোশনের প্রয়োজনে, ডিআইটির একটি প্লট পেতে অথবা অমেধাবী ও অথর্ব ছেলেমেয়েকে কোটায় ভর্তির সময়। কত পুরুষব্যাপী এ মহত্ শব্দ দুটি ব্যবহূত হবে তা বলা সম্ভব নয়। ৩৮ বছর পর এখন চলছে নাতি-নাতনি প্রজন্ম। প্রজন্ম এমন জিনিস যার শুরু থাকলেও শেষ নেই।
এখন বাংলাদেশে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের দেশপ্রেমই সর্বোচ্চ। একাত্তরে দেশপ্রেম ছিল সাধারণ মানুষের ও মুক্তিযোদ্ধাদের। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সার্টিফিকেটের বান্ডিল এবং অভিজ্ঞতার সনদগুলোর চেয়ে ‘দেশপ্রেম’ দেখানোই আজ বেশি প্রয়োজন। এবং দেশপ্রেম দেখাতে হয় একেবারে শীর্ষ পর্যায়ে, যাকে-তাকে ও যেখানে-সেখানে নয়।
একাত্তরে যার মায়ের তো নয়ই, বাবারও জন্ম হয়নি, সেও আজ অবিরাম মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে এবং এই বাংলায় চাকরি-বাকরির প্রয়োজনে তা বলতেই হবে। কিন্তু খুব কম মানুষই জানে মুক্তিযুদ্ধপূর্ব ২৫ দিনের অসহযোগ আন্দোলনের সেই ঐতিহাসিক উত্তাল দিনগুলোর কথা। ১ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত অসহযোগ না হলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না।
ইয়াহিয়ার কুখ্যাত ঘোষণার পর পূর্বাণী হোটেল থেকে বঙ্গবন্ধু যখন হরতাল ও অসহযোগের ডাক দেন তখন আমি সিকান্দার আবু জাফরের সমকাল অফিসে বসা ছিলাম। ওখান থেকে বেরিয়ে পূর্বাণীর গোলচক্করের কাছে যাই। পিআইএ (পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস) অফিস থেকে সব কর্মকর্তা-কর্মচারী দলে দলে বেরিয়ে আসেন। সরকারি, আধা-সরকারি অফিসের মধ্যে পিআইএর পূর্ব পাকিস্তান শাখাই বঙ্গন্ধুর অসহযোগে প্রথম একাত্মতা প্রকাশ করে। তারপর ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রতিষ্ঠানের নাম বদলের: নতুন নাম হবে বিআইএ—বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস। কেউ-বা প্রস্তাব করেন নাম হবে বাংলাদেশ বিমান।
তাদের ওই সিদ্ধান্তসংবলিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তিনটি কপি আমাকে দেওয়া হয়েছিল অবজারভার, পূর্বদেশ ও দৈনিক পাকিস্তান-এ পৌঁছে দেওয়ার জন্য। কেউ প্রেস রিলিজ নিয়ে গেলেন ইত্তেফাক ও সংবাদ অফিসে। আজ যখন বাংলাদেশ বিমান নিয়ে নানা রকম তেলেসমাতির কথা শুনি অথবা ওই সংস্থায় হরিরলুটের খবর পাই, তখন একাত্তরের পয়লা মার্চের সেই কর্মচারীদের কথা মনে পড়ে। দেশ স্বাধীন না হলে ওই সব জাতীয়তাবাদী কর্মচারীর সবাই চাকরি তো হারাতেনই—জেলে যেতেন। রাষ্ট্রদ্রোহিতায় ফাঁসি হতো কি না বলতে পারি না।
পিআইএর উত্তরাধিকারী হিসেবে বিমান হতে পারত একটি দক্ষ এয়ারলাইনস। ৩৮ বছরে আজ বিমান কোথায় গেছে তা শুধু তার যাত্রীরাই জানেন, আর জানেন তাঁর বিদেশি গন্তব্যগুলোর কর্মচারীরা। এখন জানতে পারছি বিমানের এমডির একটি কাজ প্রধানমন্ত্রী বিদেশে সফরে গেলে তাঁর দেখভালের জন্য তারও তাঁর সঙ্গে যাওয়া। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রীর দুটি সফরে তাঁর সফরসঙ্গী না হয়েও তাঁর স্বমনোনীত সফরসঙ্গী হয়েছেন। একবার গেছেন মিশরে। দ্বিতীয়বার গেছেন সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায়। দুটিই দেখার মতো জায়গা। জেনেভা তো কেনাকাটার জন্য খুবই চমত্কার।
সফরসঙ্গী না হয়েও কেন গেলেন—সাংবাদিকের এ সওয়ালের জবাবে এমডি মহোদয় বলেন, ‘সরকারিভাবে সফরসঙ্গী না হলেও, প্রধানমন্ত্রী বিদেশে গেলে বিমানের এমডিকেও যেতে হয়। এটাই নিয়ম।’ এই নিয়ম কবে হয়েছে—জানতে চাইলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। [প্রথম আলো]
আমার নিজের একাধিকবারের অভিজ্ঞতা থেকে জানি, বিমানের আসন খালি থাকা সত্ত্বেও টিকিট পাওয়া যায় না। বিমানের এমডির সে সমস্যা নেই। তিনি যখন যেদিন যেখানে যেতে চাইবেন বিমান সেখানে নিয়ে যেতে বাধ্য। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সফর অন্য রকম জিনিস। অনাহূত তাঁর সফরসঙ্গী হলে কিছু অসুবিধা আছে। এমডির কারণে মিশর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর বিমান আটকে ছিল ২৬ মিনিট। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের ভিভিআইপি টারমিনালে নামানো হলেও এমডিকে নামতে দেওয়া হয়নি। তা নিয়ে ‘অনেক ঝক্কিঝামেলা’ হয়। জ্বালানির দাম পরিশোধ নিয়েও সমস্যা হয়।
জেনেভা ফ্লাইটে বিপত্তি হয়েছে আসন নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী না হওয়ায় এমডিকে বসতে হয় পেছনের খালি একটি আসনে। ওখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর আসনের দূরত্ব অনেক। বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে পড়তে কে না চায়? ওপরের দিকের কর্মকর্তারা শুধু নন, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক নেতা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পেশাজীবী নেতা— সবাই ধাক্কাধাক্কি করে যেতে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর সামনে। উড়োজাহাজের ছোট জায়গায় ঠেলাঠেলির সমস্যা নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও আসন নিয়ে গোল বেঁধেছে। এখন একজনের চাকরি যায় যায়।
বিমানের এক সাবেক এমডি আকাশ থেকে সিলেটের প্রাকৃতিক শোভা দেখার জন্য নিজের আসন ছেড়ে প্রাক্তন পদাধিকার বলে কো-পাইলটের সিটে গিয়ে বসে পড়েন। পাইলট ও কেবিন ক্রুদের সঙ্গে তুমুল গল্প। এর মধ্যে ল্যান্ডিংয়ে প্লেন মুখ থুবড়ে পড়ে। সাবেক এমডি স্বয়ং এবং তাঁর দুটি পা আটকে থাকে কয়েক ঘণ্টা দুমড়ানো ককপিটে। সাবেকের যদি ক্ষমতার অপব্যবহারে ওই দশা হয় বর্তমানের কখন কী হয় বলা যায় না।
যেমন বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে তেমনি হয়েছে বিমানের। ওটির দায়িত্ব কেউ পেলে তার মাথা ঠিক থাকে না। গত বিশেষ সরকারের এক বিশেষ সহকারী বিমানের দায়িত্ব পেয়েই নতুন ঝকঝকে বিমান কেনার জন্য পাগল হয়ে গেলেন। একটি দুটি নয়, অনেক। তাঁর খেয়াল ছিল না যে একটি ৭৪৭ জাম্বো জেটের দাম একটি সেলাই মেশিন, ফ্রিজ বা ওয়াশিং মেশিনের চেয়ে কিছু বেশি।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির উচিত হবে বিমানের ব্যাপারে তদন্ত করা। বিমানের দুর্নীতি কথা কিছু বলব না। দুর্নীতি যত খুশি হোক, বিমানের অস্তিত্বটা যেন বিলুপ্ত না হয়। কারণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে বিমানের ইতিহাসও জড়িত।
সৈয়দ আবুল মকসুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।

শারদীয় দুর্গোত্সব -ন্যায় ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা হোক

আজ বিজয়া দশমী, শারদীয় দুর্গোত্সবের শেষ দিন। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উত্সবের এই দিনে আমরা সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানাই।
দেবী দুর্গা অসুরদের দলপতি মহিষাসুরকে বধ করে দেবকুলকে রক্ষা করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে অন্যায়-অশুভর বিপরীতে প্রতিষ্ঠা পায় ন্যায় ও শুভ শক্তি। সত্য, শুভ ও ন্যায়ের পক্ষে সংগ্রামে দেবী দুর্গা মানুষকে সাহসী করে তোলেন। তিনি মানুষকে মহত্ গুণাবলির প্রতি আকৃষ্ট করেন। মানুষের মনের দৈন্য ও কলুষ দূর করে দেন। তাই শুভ ও অশুভর মধ্যকার দ্বন্দ্বে শুভ শক্তির বিজয়ের তাত্পর্য একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি হয়ে ওঠে সর্বজনীন। এক গভীর প্রতীকী ব্যঞ্জনা এ উত্সবকে মহীয়ান করে তোলে।
মানুষের সব ধর্মেরই প্রত্যয়: শেষ পর্যন্ত সত্য ও শুভর জয়। সব ধর্মই বলে মানুষে-মানুষে সম্প্রীতির কথা। আত্মিক শুচিতা অর্জন ও তা রক্ষা করাই মানুষের পরম লক্ষ্য। কিন্তু মানুষ সে লক্ষ্যে সব সময় অবিচল থাকতে পারে না; সে পথভ্রষ্ট হয়, নিষ্ঠুর-নৃশংস হয়ে ওঠে। পৌরাণিক মহিষাসুর সেই নৃশংসতারই প্রতীক। সে মানুষকে পতন ও ধ্বংসের পথে টেনে নিয়ে যায়। দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটে মানুষকে পতনের হাত থেকে রক্ষার জন্য। এ কথা তো সত্য যে, মানুষের চিরন্তন যাত্রা অংশ থেকে সমগ্রের দিকে, অপূর্ণতা থেকে পূর্ণতার দিকে, বিচ্ছিন্নতা থেকে সুসম্পর্কের দিকে, বিরোধ থেকে ঐক্যের দিকে। দেবী দুর্গা পতনের হাত থেকে বাঁচিয়ে সেই চিরন্তন পথের দিশা দেন মানুষকে।
যথাযথ উত্সাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সৌহার্দ্যময় পরিবেশে দুর্গোত্সব পালিত হওয়ার প্রত্যাশা সব সময়ের; কিন্তু সব সময় তেমন পরিবেশ থাকে না। আগে অনেক সময় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিমা ভাঙচুরের মতো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর এলেও এবার তেমন কোনো অঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। উত্সবে মুখরিত ছিল রাজধানীসহ দেশের সব মন্দির প্রাঙ্গণ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলেছে ভক্তিমূলক গান। তবে রাজধানীর বনানী মাঠের পূজামণ্ডপ থেকে গ্রেনেডসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনা থেকে বোঝা যায়, এ উত্সবের পরিবেশে কেউ কেউ আতঙ্ক ছড়াতে চায়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সবার অংশগ্রহণে প্রকৃত উত্সবের আমেজে পূজার কার্যক্রম পরিচালিত হোক, তারা তা চায় না। এ ধরনের অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার যেমন বিকল্প নেই, তেমনি সামাজিকভাবেও তা মোকাবিলার উদ্যোগ নিতে হবে। নিরাপত্তাহীনতার বোধ দূরে ঠেলে সবাই যেন স্বস্তির পরিবেশে উত্সবের আনন্দে মেতে উঠতে পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিজয়া দশমীতে আমাদের কামনা, এ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় মানুষে-মানুষে সব বিভেদ ও সংকীর্ণতা দূর হয়ে যাক।

জনগণ আমাদের সঙ্গে, শিগগিরই আমরা ক্ষমতায় যাব -বিশেষ সাক্ষাত্কার by বাবুরাম ভট্টরাই

নেপালের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট পার্টির (মাওবাদী) সাধারণ সম্পাদক বাবুরাম ভট্টরাই প্রথম গণতান্ত্রিক নেপাল সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৫৪ সালে নেপালের গুর্খা জেলার বেলবাস কপলং গ্রামে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। তিনি ভারতের চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্য কলায় সম্মান ও দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহর ও অঞ্চল পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২০০১ সাল থেকে অদ্যাবধি নেপালি মাওবাদীদের প্রধান তাত্ত্বিক হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছেন। ২০০৬ সালে নেপাল সরকার ও মাওবাদীদের মধ্যে যে শান্তিচুক্তি হয়, তাতে বাবুরাম ভট্টরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০০৮ সালের এপ্রিলে নেপালে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বাবুরাম সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। সম্প্রতি নেপালে তাঁর বাসভবনে সাক্ষাত্কারটি গ্রহণ করা হয়।
* সাক্ষাত্কার গ্রহণ: ইফতেখার মাহমুদ

প্রথম আলো * সশস্ত্র সংগ্রামের সমাপ্তি টেনে, নির্বাচনে জিতে আপনাদের দল ক্ষমতায় গেল। কিন্তু আট মাসের মাথায় ক্ষমতা ছাড়ল। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
বাবুরাম ভট্টরাই * দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ দেশের মতো নেপালে সরাসরি উপনিবেশ নেই। কিন্তু ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর সরাসরি হস্তক্ষেপ রয়ে গেছে। দেশের মধ্যেও বড় বড় ভূমির মালিকেরা টিকে আছে। বেশির ভাগ মানুষ দরিদ্র। বর্ণব্যবস্থা, জাতিগত নিপীড়ন, মুসলিমদের প্রতি অন্যায় আচরণ নেপালে রয়ে গেছে। নারীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন করে একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু করতে চেয়েছি। সশস্ত্র আন্দোলন ছিল তারই অংশ। রাজতন্ত্রের পতনের মাধ্যমে আমরা সশস্ত্র আন্দোলনের প্রাথমিক সফলতা পেয়েছি।
সামনের দিনগুলোতে আমরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব। নেপালের পরিস্থিতিতে প্রাথমিকভাবে একটি গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। এর পরবর্তী ধাপ হিসেবে আমরা সত্যিকার অর্থে শোষণমুক্ত গণতান্ত্রিক সমাজ, তথা মানুষের আসল সত্তাকে মুক্ত করার সংগ্রামের জন্য কাজ করব।
প্রথম আলো * এতে করে নেপালের গণতন্ত্রায়ন কি এগিয়ে চলছে?
বাবুরাম ভট্টরাই * প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনেই প্রগতিশীল ও প্রতিক্রিয়াশীল দুটি পক্ষ থাকে। আমরা সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলোকে প্রাথমিকভাবে পরাজিত করতে পেরেছিলাম। কিন্তু তারা আবারও সংগঠিত হয়েছে। তবে বেশি দিন তারা ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। আমরা জনগণকে সংগঠিত করে আবারও আন্দোলন শুরু করেছি। সামনের দিনে মাওবাদীরাই আবার ক্ষমতায় যাবে। কারণ, জনগণের সমর্থন আমাদের সঙ্গে রয়েছে। তারা আমাদের ভোট দিয়েছে। আমরা জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
প্রথম আলো * আপনারা স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেড়ে দিলেন কেন?
বাবুরাম ভট্টরাই * আমরা ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের কল্যাণে বেশ কিছু কাজ শুরু করেছিলাম। এতে প্রতিক্রিয়াশীল চক্র আমাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও তত্পরতা চালিয়েছে। দুই হাতে টাকা ছড়িয়েছে। সামরিক বাহিনী ও প্রতিক্রিয়াশীল চক্র রাষ্ট্রপতিকে সংবিধানবিরোধী পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত করেছে। আমরা তার বিরোধিতা করেছিলাম। এই চক্র চেয়েছে, সামরিক বাহিনীকে পেছনে রেখে রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে নিজেদের স্বার্থে সরকারকে ব্যবহার করবে। বাংলাদেশে আমরা এ ধরনের সরকার পরিচালিত হতে দেখেছি। তারা নেপালেও সামরিক বাহিনীর একটি পুতুল সরকার চেয়েছিল। আমরা তা হতে চাইনি বলেই ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া সঠিক মনে করেছি।
প্রথম আলো * অনেকে বলছেন, ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি। আপনারা অস্ত্র ছেড়ে শান্তিপ্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছেন। শান্তিচুক্তির শর্ত হিসেবে ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় সেনাবাহিনীতে আপনাদের পিপলস আর্মির একীভূত হওয়ার শর্ত থাকলেও ১৮ মাস গত হয়েছে। এখন আপনাদের সামনে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ কী?
বাবুরাম ভট্টরাই * আমরা দেশপ্রেমিক শক্তি ও জনগণকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছি। তাদের আকাঙ্ক্ষার শক্তি নিয়ে আমরা আবারও ক্ষমতায় যাব। আমরা ক্ষমতায় যাওয়া ছাড়া নেপালে সত্যিকার অর্থে শান্তি আসবে না। যে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি আমাদের ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেছে, তারাই এত দিন নেপালের ক্ষমতায় ছিল। জনগণ তাদের কাছ থেকে শোষণ ও বঞ্চনা ছাড়া আর কিছু পায়নি।
প্রথম আলো * নেপালের মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্র কীভাবে এককভাবে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু রাখবে। যখন আপনাদের দুই দিকে দুটি বৃহত্ রাষ্ট্র চীন ও ভারত।
বাবুরাম ভট্টরাই * আমরা আপাতত সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলছি না। আমাদের দেশে এখনো আধাসামন্ততান্ত্রিক উপাদান রয়ে গেছে। কৃষিব্যবস্থা এখনো বাণিজ্যিক হয়নি। শিল্পপ্রতিষ্ঠান তেমন একটা গড়ে ওঠেনি। আমরা নেপালের অর্থনীতিকে শিল্পভিত্তিক ব্যবস্থায় নিয়ে যেতে চাই। বৈপ্লবিক সংগ্রাম ও পরিবর্তন ছাড়া তা অর্জন করা সম্ভব নয়।
আমাদের অর্থনীতি এখনো ভারত ও চীনের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। আমরা এই দুই দেশের সহযোগিতার ভিত্তিতে নেপালের অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। তাদের সঙ্গে সুস্থ কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখতে চাই। তাই বলে তাদের কোনো অযাচিত হস্তক্ষেপ আমরা মানব না। ভারত ও চীন যদি নিজেদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে, তাহলে নেপালের ক্ষতি হবে, এমন কিছু তারা করবে না। নেপাল বেশির ভাগ ভোগ্য পণ্য চীন ও ভারত থেকে আমদানি করে। নেপালে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এলে, জনগণের ক্রয় ক্ষমতা বাড়লে তা সব দেশের জন্য ভালো। একটি গণতান্ত্রিক দেশে তাদের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে। সবার সহযোগিতা নিলেও আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে একটি অত্মনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি গড়ে তোলা।
প্রথম আলো * শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ সব সময় প্রতিবেশী ক্ষুদ্র অর্থনীতির দেশকে অস্থিতিশীল রাখতে চায়। স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি প্রতিবেশী বড় রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অসুবিধা করে।
বাবুরাম ভট্টরাই * আমি এ ধারণার সঙ্গে একমত নই। এটা ঠিক যে অনেক বিদেশি শক্তি তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য নেপালে নানা ধরনের তত্পরতা চালাচ্ছে। যারা অস্ত্র-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য অস্থিতিশীল নেপাল হয়তো সুবিধাজনক। কিন্তু বিদোশ রাষ্ট্রগুলোকে এটা বুঝতে হবে, অস্থিতিশীল নেপাল সবার জন্যই ক্ষতিকারক। স্থিতিশীল নেপাল ভারতসহ অন্য দেশের সাধারণ জনগণের জন্য ব্যবসার ভালো সুযোগ এনে দেবে। নেপালে দারিদ্র্য ও বৈষম্য থাকলে কখনোই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না। ফলে বিদেশি শক্তির উচিত নেপালের শান্তি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করা।
ভারতের বিহার, উত্তর প্রদেশ ও হিমালয় এলাকার সঙ্গে নেপালের উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে। নেপাল অশান্ত হলে ভারতও শান্তিতে থাকতে পারবে না। তাদের দেশেও অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়বে। ফলে ভারতের উচিত অর্থনৈতিকভাবে উন্নত ও স্থিতিশীল নেপালের জন্য কাজ করা।
প্রথম আলো * মাওবাদী সরকার পতনের পেছনে ভারতের ভূমিকার কথা শোনা যায়। ভারতের সমর্থন ছাড়া নেপালে কোনো সরকারই বেশি দিন টিকে থাকতে পারে না, এমন কথা প্রচলিত।
বাবুরাম ভট্টরাই * বাস্তবিকভাবে এটা একভাবে সত্যি। নেপালের অর্থনীতি ও রাজনীতি ঐতিহাসিকভাবে ভারতের ওপর নির্ভরশীল। নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভারতের প্রভাব আছে। প্রচুর ভারতীয় বিনিয়োগও নেপালে রয়েছে। এটাকে অস্বীকার করে লাভ নেই। ফলে আমাদের এই বাস্তব অবস্থা মেনে নিয়ে সামনে এগোতে হচ্ছে। আমরা ভারতের সঙ্গে সরাসরি কোনো বিরোধিতার সম্পর্কে যেতে চাই না। একটি শান্তিপূর্ণ ও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। এটা আমাদের পার্টির সিদ্ধান্ত। তবে তাদেরও পুরোনো ঔপনিবেশিক আচরণ পাল্টাতে হবে।
প্রথম আলো * অনেকের অভিযোগ, আপনারা একটি সমান্তরাল সরকার তৈরির চেষ্টা করছেন।
বাবুরাম ভট্টরাই * আমরা সমান্তরাল সরকারে বিশ্বাসী নই। ভূস্বামীরা গরিব মানুষের জমি দখল করে রেখেছিল। আমরা গরিব মানুষের জমির অধিকার ফিরিয়ে দিতে কাজ করছি। এটা কোনো অবৈধ কাজ নয়। আমরা আপাতত কোনো বৈপ্লবিক ভূমি সংস্কারে যাচ্ছি না; যদিও এটা আমাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা। আপাতত দেশের প্রচলিত আইনে দরিদ্র মানুষের সরকারি খাসজমিতে যে অধিকার আছে, তা আমরা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। লড়াই করছি।
এটাকে সমান্তরাল সরকার বলা ভুল। একটি সত্যিকার বিরোধী দলের কাজ হচ্ছে সরকারের কাজের ভুলত্রুটি তুলে ধরা। আমরা একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবেই এই চর্চা চালিয়ে যাচ্ছি।
প্রথম আলো * মাওবাদী ও নেপালি কংগ্রেসের মধ্যে ঐক্য হওয়ার সম্ভাবনা, বর্তমান সরকারের পতন ও আপনার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।
বাবুরাম ভট্টরাই * আমরা নেপালের গণতান্ত্রিক সব শক্তি একত্র করার চেষ্টা করছি। আমাদের মূল লক্ষ্য সাধারণ জনগণকে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠাকি রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংগঠিত করা। আমি, প্রচণ্ডসহ কেন্দ্রীয় নেতারা দেশের বিভিন্ন এলাকা সফরে যাচ্ছি। গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে জনগণকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আবারও ক্ষমতায় যেতে চাই। নেপালি কংগ্রেস যদি আমাদের সঙ্গে আসে, তাতে আপত্তি নেই। শিগগিরই আরও অনেক রাজনৈতিক দলকেই আমাদের সঙ্গে দেখতে পাবেন।
আমি বা যে-ই প্রধানমন্ত্রী হোক না কেন, নেপালে পরবর্তী সরকার মাওবাদীরাই গঠন করবে। কেননা জনগণের সমর্থন আমাদের সঙ্গে রয়েছে। আমরা জনগণকে সঠিক পথটি দেখাচ্ছি। আমাদের দেখানো পথেই নেপালের প্রগতিশীল উন্নয়ন সম্ভব। অন্য শক্তিগুলোকেও আমরা সেই পথে নিয়ে আসতে চাই।
প্রথম আলো * ভোগবাদী সংস্কৃতি ও মানসিকতায় নেপাল ব্যাপকভাবে প্রবেশ করছে। এটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
বাবুরাম ভট্টরাই * বহুজাতিক সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিকে আমি ইতিবাচক হিসেবে দেখি। বর্তমান বিশ্বায়িত বিশ্বে এই দুটি বিষয়কে আপনি আটকে রাখতে পারবেন না। প্রবেশ করবেই। নেপালে এত দিন ধরে সামন্ততান্ত্রিক সংস্কৃতি ও প্রযুক্তি ছিল। যে আধুনিক প্রযুক্তির প্রবেশ ঘটছে, তাকে আমরা দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারি।
বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের জন্য প্রয়োজনীয়। দেশের তিন ভাগের দুই ভাগ কর্মসংস্থান ও জিডিপির তিন ভাগের এক ভাগ এখনো কৃষি থেকে আসছে। আমরা এই খাতটিকে আরও এগিয়ে নিতে নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চাই।
নেপালের জাতীয় আয়ের ২০ ভাগ আসে প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স থেকে। আপনি যে বিমানবন্দর দিয়ে এসেছেন, সেখানে খেয়াল করলে দেখবেন, প্রচুর নেপালি বিদেশে পাড়ি দেওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছে। আমি জানি, বাংলাদেশে গেলেও একই চিত্র দেখা যাবে। প্রবাসীদের কষ্টে উপার্জিত অর্থ আমরা দেশের উন্নয়নকাজে লাগাতে চাই। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চাই। বিশেষ করে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। অবকাঠামো তৈরি করতে চাই, যাতে দেশে ফিরে তারা নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগাতে পারে।
প্রথম আলো * পর্যটনশিল্পের মাধ্যমে নেপালের নারীরা শোষণ ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছে।
বাবুরাম ভট্টরাই * হ্যাঁ, এই কথা ঠিক। যৌন-বাণিজ্য ও পর্যটনশিল্প একীভূতভাবে গড়ে ওঠার পেছনে দরিদ্রতা ও বেকারত্ব একটা প্রধান কারণ। কাঠমান্ডুর বাইরে আপনি যেখানেই যাবেন, দেখবেন প্রচুর কর্মহীন দরিদ্র মানুষ। শহরে এসে তারাই যৌন-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। আমরা ক্ষমতায় গিয়ে গ্রামের দরিদ্র মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছিলাম। ভবিষ্যতে আমরা ক্ষমতায় গেলে এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
প্রথম আলো * নেপালের বর্তমান সরকার সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
বাবুরাম ভট্টরাই * এটি প্রতিক্রিয়াশীল ও বিদেশি শক্তি দ্বারা পরিচালিত পুতুল সরকার। এরা বেশি দিন আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। এরাই হবে নেপালের সর্বশেষ এ ধরনের সরকার।
বর্তমান সরকারের ৩৮ জন মন্ত্রীর ২৫ জনই নির্বাচনে পরাজিত। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিজের দুটি আসনে হেরেছেন। জনগণের কোনো সমর্থন তাঁদের সঙ্গে নেই।
প্রথম আলো * বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?
বাবুরাম ভট্টরাই * আমি ভারতের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় প্রচুর বাংলাদেশি বন্ধু ছিল। তারা এখন নিজ দেশে প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশও নেপালের মতোই একটি দরিদ্র দেশ। অর্থনীতি কৃষিভিত্তিক। আমাদের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্কও রয়েছে। এখানে যে নেপালি টুপি বিক্রি হয়, তা একসময় ঢাকাই টুপি হিসেবে পরিচিত ছিল। ঢাকার সুতি কাপড়ও নেপালে খুব জনপ্রিয়। আমার দল বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়ানোর পক্ষে। বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালের সড়কপথে সরাসরি যোগাযোগ হোক, তাও আমরা চাই।
তবে দুই দেশেই অনেক পশ্চাত্পদ উপাদান রয়ে গেছে। বৈষম্য ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলো একই রকমভাবে সক্রিয়। পার্থক্য হচ্ছে আমরা পাহাড়ে আর বাংলাদেশ সমতলে। নেপাল থেকে সৃষ্টি হয়ে বেশির ভাগ নদী বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। আমরা একই অববাহিকার সন্তান। এই নদীগুলোর পানি ব্যবহার করে নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশ একই রকমভাবে লাভবান হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা আমরা সঠিক মনে করি।
প্রথম আলো * নেপালে জলবিদ্যুেকন্দ্র নিয়ে আঞ্চলিক উদ্যোগের কথা উঠেছিল।
বাবুরাম ভট্টরাই * হ্যাঁ, নেপালে জলবিদ্যুেকন্দ্র হলে আমরা হিমালয়কেন্দ্রিক নদী অববাহিকার সব দেশ লাভবান হব। নেপাল ও বাংলাদেশ উভয় দেশের উন্নয়নের জন্য বিদ্যুত্ খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোসি নদীর ওপর সপ্তকোসি ড্যাম ও জলবিদ্যুেকন্দ্র হতে পারে, আমাদের তাতে কোনো আপত্তি নেই। হিমালয় থেকে সৃষ্ট নদীগুলোকে পরিবেশসম্মতভাবে ব্যবহার করে আমরা এ অঞ্চলের সব মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করতে পারি।
প্রথম আলো * আপনাকে ধন্যবাদ।
বাবুরাম ভট্টরাই * ধন্যবাদ।

জলবায়ু বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশ দায়ী উন্নত দেশগুলোকে প্রতিকারের দায় নিতে হবে

জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যার শিকার দেশগুলো যেন সেই কাক, যার ঘরে কোকিল ডিম পেড়ে গিয়েছে। এ শতকে মানবজাতির জন্য সবচেয়ে বড় এই বিপদটির জন্য বাংলাদেশের মতো দেশের দায় সামান্যই। কিন্তু বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মতো দেশই হতে যাচ্ছে এই মহাবিপদের মহাশিকার। যুক্তরাষ্ট্রে ইউএসআইডির আলোচনা সভায় এই অনুযোগটিই জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি।
সমস্যাটা এতই ব্যাপক যে এককভাবে কোনো দেশের পক্ষেই এটা সামাল দেওয়া সম্ভব নয়; বাংলাদেশ তো নগণ্য। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ করে নজরে এনেছেন ঘন ঘন দুর্যোগ, জলোচ্ছ্বাস ও বিরাট এলাকা সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার ফল হিসেবে মূল্যবান সম্পদ নষ্ট হওয়া এবং খাদ্যনিরাপত্তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কার কথা। এ-বিষয়ক জাতিসংঘের সংস্থা আইপিসিসির আশঙ্কা, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা ৫০ বছরের মধ্যে ডুবে যাবে। প্রায় দুই কোটি মানুষ জলবায়ু-উদ্বাস্তু হয়ে যাবে। রেহাই পাবে না সুন্দরবনও। রোগ ও মহামারি যেমন বাড়বে, তেমনি সীমিত সম্পদ নিয়ে হানাহানিও বেড়ে যাবে ভয়াবহ মাত্রায়। দেখা দেবে পানীয় জলের সংকট।
অথচ এই পরিণতির জন্য দায়ী উন্নত দেশের অতিমাত্রায় জ্বালানি ব্যবহার ও ভোগী জীবন যাপন এবং অতিমাত্রায় জ্বালানি পুড়িয়ে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বাড়িয়ে ফেলা। কিন্তু একের পর এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন হলেও এর দায়দায়িত্ব ও প্রতিকারের উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে তারা নারাজ। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও চীনেরই এ ব্যাপারে দায় বেশি। কিন্তু তারা ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন রোধসংক্রান্ত কিয়োটো প্রটোকলে স্বাক্ষর করেনি। কিয়োটো প্রটোকল অনুযায়ী উন্নত দেশগুলো তাদের মোট জাতীয় বাজেটের একটা অংশ ক্ষতিপূরণ হিসেবে নিয়মিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে দিতে বাধ্য।
আমরা আশা করব, উন্নত দেশগুলো দরিদ্র ও বিপন্ন দেশগুলোর কথা শুনবে, প্রতিকারের দায়িত্ব নেবে এবং বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মাধ্যমে কৃতকর্মের দায় কিছুটা হলেও মেটাবে।