Sunday, March 18, 2018

অস্ট্রেলিয়ায় সুচি, মানবাধিকারকর্মীদের প্রতিবাদ

একদিকে মানবাধিকার কর্মীদের প্রতিবাদ, আইনজীবীরা বিচার চেয়ে আবেদন, অন্যদিকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে অভ্যর্থনা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বিশেষ ‘অস্ট্রেলিয়া-আসিয়ান’ সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি সিডনি পৌঁছেছেন। সেখানে তার উপস্থিতিকে দেখা হচ্ছে হারানো আশাকে দুমড়ে মুচড়ে দেয়া হিসেবে। এসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান)-এর নয়জন নেতা এ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছেন কম্বোডিয়ার ‘স্ট্রংম্যান’ হিসেবে পরিচিত হুন সেন ও ভিয়েতনামের নগুয়েন সুয়ান ফুক। এ দু’জনও নিষ্পেষণ চালানোর দায়ে অভিযুক্ত। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে কয়েকজন রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। তাদের একজন কবির আহমেদ। তিনি ২০১৩ সালে শতাধিক মানুষ বোঝাই একটি বোটে করে অস্ট্রেলিয়া পৌঁছেন। তাকে জীবনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গা ছুটে বেড়াতে হয়েছে। তাই তার আটটি সন্তানের জন্ম হয়েছে এক এক দেশে। কেউ জন্মেছেন মিয়ানমারে। কেউ মালয়েশিয়া বা অস্ট্রেলিয়ায়। কিন্তু জন্ম নিলেও কোনো দেশেরই নাগরিক হতে পারেন নি তিনি বা তার সন্তানরা। এখন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ছোট্ট একটি গ্রুপের সঙ্গে বসবাস করেন তিনি। চালান একটি মুদি দোকানি। কবির আহমেদ বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনী কঠোর কৌশল অবলম্বন করে। এই সেনাবাহিনী বিশ্বের অন্য কোনো দেশের সেনাদের মতো নয়। তারা কোনো কারণ ছাড়াই মানুষ হত্যা করে। তার মতে, অং সান সুচি ক্ষমতায় আসার আগে মিয়ানমারের পরিস্থিতি এতটা খারাপ ছিল না। আমাদেরকে কাজ করতে দেয়া হতো না। স্বাধীনভাবে চলতে দেয়া হচ্ছে না। তারপরও আমাদেরকে নির্যাতন করা হতো। আমাদের ওপর থাকতো তাদের কড়া নজরদারি। তবুও অন্তত সেখানে বসবাস করতে পারতাম আমরা। কিন্তু সুচি ক্ষমতায় আসার পর আমাদেরকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। ওদিকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা বা জাতি নিধনে অং সান সুচি নিষ্ক্রিয় থাকায় তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ হয়েছে সারাবিশ্ব থেকে। অস্ট্রেলিয়ার কিছু আইনজীবী সুচির বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে বিচার চেয়ে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু দেশটি রোববার সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। আইনজীবীদের ওই আবেদনের জবাবে অস্ট্রেলিয়ার এটর্নি জেনারেল বলেছেন, সুচি দায়মুক্তির সুবিধা পান। মিয়ানমারের জটিল রাজনৈতিক হিসাবের অধীনে এখনও দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে সেনাবাহিনী। কিন্তু তাদের কারণেই অং সান সুচিকে সারাবিশ্বের রোষের মুখে পড়তে হয়েছে। গত বছর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক পরিষদের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। ফলে তাদের ওপর কড়া চাপ রয়েছে, যাতে তারা মিয়ানমার ইস্যুতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়। সিডনি সম্মেলনে মানবাধিকার ইস্যুতে জোর দেয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল। তবে মানবাধিকার ইস্যুটি যদি তোলাও হয় বা আলোচনা হয় তা হবে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে। প্রকাশ্যে নয়। ফলে মিয়ানমার ইস্যুতে লজ্জাজনক নীরবতা অবলম্বনের কারণে আসিয়ান নেতাদের অভিযুক্ত করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত অঞ্চলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক জেমস গোমেজ বলেছেন, আঞ্চলিক প্রতিবেশী হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ও আসিয়ানের অবশ্যই মিয়ানমারের প্রতি একটি বার্তা দেয়া উচিত। তা হলো মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ গ্রহণযোগ্য নয। এমন অপরাধ শাস্তি ছাড়া ছেড়ে দেয়া হবে না।

এক ঘড়ি কিনতে গিয়ে এই?

ঘড়ি কেনাকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) সংলগ্ন পাটুয়াটলী রোডের ঘড়ি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন জবি শিক্ষার্থীরা। রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যলয়ের বিজ্ঞান ভবনের চত্বর থেকে পাটুয়াটলী রোড পর্যন্ত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। বিশ্ববিদ্যলয়ের আশপাশের ভবন থেকে ব্যবসায়ীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি, ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ রাসেল এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। কোতোয়ালি থানার ওসি মশিউর জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঘড়ি কেনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে সংঘর্ষ হয় তাতে দু’পক্ষের কেউ এখনও কোনো অভিযোগ জানিয়ে মামলা করেনি। যদি কেউ অভিযোগ জানিয়ে মামলা করে তাহলে আমরা মামলা গ্রহণ করবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নূর মোহাম্মদের বলেন, পরিস্থিতি ভালো নয়। শিক্ষার্থীদের বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হলো আসিয়ান-অস্ট্রেলিয়া

প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে অস্টেলিয়া ও আসিয়ানভুক্ত তার প্রতিবেশী দেশগুলো। রোববার অস্ট্রেলিয়া-আসিয়ান বিশেষ সম্মেলনে এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। ওই সম্মেলনের মূল ইস্যু হয়ে ওঠে রোহিঙ্গা সঙ্কট। মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে এতে জোর দেয়া হলেও রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর মিয়ানমার সরকারের নিষ্পেষণের নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে সম্মেলন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। এতে বলা হয়, সম্মেলনে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ছাড়াও বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরকে বেসামরিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সিডনিতে তিন দিনের জন্য বিশেষ এই সম্মেলনে বসেন অস্ট্রেলিয়া-আসিয়ান নেতারা। এতে যোগদানকারী নেতারা ক্রমবর্ধমান সহিংস জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবিলায় আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে একমত হয়েছেন। এরপরই যার যার দেশের মানবাধিকার রক্ষায় সঙ্কট সমাধানের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। কিন্তু মিয়ানমারে ঘটে যাওয়া রোহিঙ্গা নির্যাতনের জন্য তাদের নিন্দা জানানো হয় নি। সিডনির ওই বৈঠকে উপস্থিত মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি। তিনি জোর দিয়ে তার দেশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ বিষয়ে বৈঠক শেষে রোববার সংবাদ সম্মেলন করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল। তিনি এতে বলেছেন, রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উল্লেখযোগ্য আলোচনা করেছি। অং সান সুচি নিজে এ নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রেখেছেন। আসলে এটা একটি অত্যন্ত জটিল সমস্যা। সবাই চাইছেন দুর্ভোগের সমাপ্তি। তবে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি হসেইন লুং রোহিঙ্গা সঙ্কটকে আসিয়ান দেশগুলোর সবার জন্য উদ্বেগের বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে এক্ষেত্রে ফল বের করে আনতে হস্তক্ষেপ করার সামর্থ নেই আসিয়ানের।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ চীন সাগর আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। ওই এলাকায় সামরিক স্থাপনা নির্মাণের জন্য বেইজিং কৃত্রিম দ্বীপ সৃষ্টি অব্যাহত রেখেছে। তবে এই সাগরের বৃহৎ অংশ অন্যরাও দাবি করে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আপত্তি ভিয়েতনামের। চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুতের্তের। সেই ফিলিপাইন কিন্তু সমর্থন করছে ভিয়েতনামকে। এ ছাড়া দক্ষিণ চীন সাগরে নিজেদের অংশীদার দাবি করে তাইওয়ান, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই। তবে বেইজিংয়ের নাম উল্লেখ না করে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা, নৌচলাচলের স্বাধীনতা ও বিমান চলাচলের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ক্যানবেরা ও আসিয়ান। তবে সম্মেলনে যোগদানকারী নেতারা দক্ষিণ চীন সাগরে মেনে চলার জন্য একটি কার্যকর আচরণবিধি দাবি করেছেন। ম্যালকম টার্নবুল বলেছেন, দক্ষিণ চীন সাগর সহ এই অঞ্চলে আইন ভিত্তিক শৃংখলা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সাকিব ও নুরুলের সাজা, তীব্র ভর্ৎসনা ম্যাচ রেফারির

কলম্বোতে শুক্রবার ম্যাচের সময় আচরণবিধি ভঙ্গের জন্য সাকিব আল হাসান এবং নুরুল হাসানের ম্যাচ ফি'র ২৫ শতাংশ কাটা যাবে। এছাড়া, দুজনই একটি করে 'ডিমেরিট' পয়েন্ট পেয়েছেন।
কলম্বোতে শুক্রবার নিধাস ট্রফির এক ম্যাচের সময় আচরণবিধি ভঙ্গের জন্য বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এবং রিজার্ভ খেলোয়াড় নুরুল হাসানকে শাস্তি দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসি।
দুজনেরই ম্যাচ ফি'র ২৫ শতাংশ কাটা যাবে। এছাড়া, দুজনেই ঘাড়েই একটি করে 'ডিমেরিট' পয়েন্ট চাপানো হয়েছে।
আইসিসির এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর শাস্তিমূলক ডিমেরিট পয়েন্ট দেয়ার ব্যবস্থা চালুর পর এই প্রথম দুজন ক্রিকেটারকে এ ধরণের শাস্তি দেওয়া হলো।
শাস্তি ঘোষণার সময় ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড বলেন, "শুক্রবারের ঘটনা খুবই হতাশাব্যাঞ্জক ছিল। কোনো ধরণের ক্রিকেটেই কোনো ক্রিকেটারের কাছ থেকে এ ধরণের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। আমি বুঝতে পারছি খুবই উত্তেজনাকর ম্যাচ ছিল, ফাইনালে যাওয়া না যাওয়ার ব্যাপার ছিল, কিন্তু এই দুইজন ক্রিকেটারের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ছিলনা... যদিনা ফোর্থ আম্পায়ার সাকিবকে না থামাতেন এবং মাঠের আম্পায়াররা নুরুল এবং থিসারার মধ্যে বিরোধে হস্তক্ষেপ না করতেন, তাহলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারতো।"
বাংলাদেশে ইনিংসের শেষ ওভার চলার সময় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বাউন্ডারি লাইনের বাইরে দাঁড়িয়ে ব্যাটসম্যানদের খেলা ছেড়ে চলে আসার ইঙ্গিত দেন।
অন্যদিকে নুরুল হাসান একটি বার্তা নিয়ে ব্যাটসম্যানদের কাছে যাওয়ার সময় মাঠের মধ্যে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক থিসারা পেরেরার সাথে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন। সেসময় নুরুলকে থিসারার দিকে আঙ্গুল তুলে কথা বলতে দেখা যায়।
দুইজন ফিল্ড আম্পায়ার এবং মাঠের বাইরে আরো দুই আম্পায়ার একযোগে বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ দায়ের করেন।
ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড সিদ্ধান্ত দেন - সাকিব আল হাসান 'খেলাধুলোর মূল চেতনা' বিরোধী আচরণ করেছেন যাতে আইসিসি আচরণবিধির ২.১.১ ধারা ভঙ্গ হয়েছে ।
অন্যদিকে নুরুল হাসান তার আচরণে ক্রিকেটের জন্য দুর্নাম বয়ে এনেছেন যেটা আইসিসি আচরণবিধির ২.১.২ ধারার লঙ্ঘন।
আজ (শনিবার) আইসিসির দেওয়া শাস্তি সাকিব এবং নুরুল দুজনেই মেনে নিয়েছেন । ফলে এ নিয়ে কোনো আর কোনো শুনানি হবে না বলে জানিয়েছে আইসিসি। ওদিকে কলম্বো থেকে বিবিসি সিনহলা বিভাগের একজন সংবাদদাতা জানিয়েছেন, গতরাতে ম্যাচের পর বাংলাদেশে ক্রিকেটাররা ড্রেসিং রুমে ভাঙচুর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভিডিও ফুটেজ এবং ছবিতে দেখা গেছে, বাংলাদেশ দলের ড্রেসিং রুমের দেয়ালের কাঁচ ভাঙ্গা। মেঝেতে কাঁচের টুকরো ছড়িয়ে রয়েছে।
সূত্রঃ বিবিসি

জেনে নিন স্ট্রোকের লক্ষনসমূহ

ক্রমাগতই বেড়ে যাচ্ছে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা। উচ্চ রক্ত চাপ, মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা, কোলেস্টরলের মাত্রা বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস অথবা আরও বিভিন্ন কারনে কার্ডিওভাস্কুলারে সমস্যার সৃষ্টি হয়, এবং দিন দিন মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা লোপ পেয়ে, মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনে বাঁধার সৃষ্টি হয়। আর তখনই দেখা দেয় বেইন স্ট্রোক।
ইদানিং কম বয়সী ব্যক্তিরাও এই সমস্যা ভুগে থাকেন। অনেক সময়ই মাইনর ব্রেইন স্ট্রোক দেখা দেয়। এটা তেমন জটিলতার সৃষ্টি না করলেও, অজ্ঞতার কারনে রোগ নির্ণয় করতে না পারায় প্যারালাইসিস থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই স্ট্রোকের লক্ষন জেনে রাখা প্রয়োজন।
মুখমন্ডলের একপাশ ঝুলে পড়াঃ
স্ট্রোকের প্রথম ও প্রধান লক্ষন রোগীর মুখমণ্ডলে ধরা পড়ে। এসময় মুখের বাম পাশের মাংসপেশী ঝুলে পড়ে, যার উপর রোগীর কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না। লক্ষন বুঝতে রোগীকে হাসতে বলুন। রোগী যদি হাসতে না পারে, তবে যত দ্রুত সম্ভব তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাতের দুর্বলতাঃ
হাতের দুর্বলতাকে আমরা বেশির ভাগ সময়েই তেমন গুরুত্ব দেই না। কিন্তু এটাও হতে পারে স্ট্রোকের লক্ষন। স্ট্রোকের আগে রোগীর দুই হাত অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। এসময় রোগীকে হাত মাথার উপরে তুলে ধরতে বলুন। রোগী যদি হাত তুলে ধরতে না পারে তবে, তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
কথা জড়িয়ে যাওয়াঃ
মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন না হলে স্ট্রোকের সৃষ্টি হয়।স্ট্রোকের আগে রোগীর কথা জড়িয়ে আসে, তাই স্ট্রোকের ভয় হলে, রোগীকে কথা বলতে বলুন। রোগী যদি কথা বলার সময় কথা জড়িয়ে যায়। তবে বুঝতে হবে তার লক্ষণটি স্ট্রোকের।
তীব্র মাথা ব্যাথাঃ
স্ট্রোকের আগে রোগী তীব্র মাথা ব্যাথার শিকার হয়ে থাকে। রোগীর মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে অনেকেই এই ব্যাথাকে মাইগ্রেনের ব্যাথা বলে মনে করে। কিন্তু হঠাৎ করেই কোন কারন ছাড়া মাথার বাম পাশে ব্যাথা শুরু হলে, দেরই না করে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
শরীরে নিয়ন্ত্রণ না থাকাঃ
মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালনে বাঁধা সৃষ্টির কারনে, শরীরের সাধারন কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়। তাই এসময় রোগীর নিজের শরীরের উপর কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তাই এসময় রোগীকে উঠে দাঁড়াতে বলুন। সে উঠতে না পড়লে বুঝতে হবে, স্ট্রোক অবশ্যম্ভাবী। তাকে সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে যান।
মেমোরি লসঃ
স্ট্রোকের আগে রোগী তার আপনজন্দের চিনতে পারে না। একে বলা হয়, শর্ট-টার্ম মেমোরি লস। তাই এসময় রোগীকে নিজের নাম জিজ্ঞাসা করুন এবং পরিবারের সদস্যদের চিনতে বলুন। রোগী চিনতে না পারলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্ট্রোক একটি মারাত্মক সমস্যা। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাই আর লক্ষন সম্পর্কে সকলের জ্ঞান থাকা উচিত।

কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। সেখান থেকে একটি মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেয় তারা। মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এসময় আন্দোলনকারীরা শাহবাগ থানায় তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। অবস্থান কর্মসূচি থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা।
আগামী ২৫শে মার্চ গলায়, কাঁধে বা হাতে সব শিক্ষা সনদ নিয়ে রাজু ভাস্কর্য থেকে শহীদ মিনারে যাওয়ার রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করবেন তারা।
পাঁচ দফা দাবি হলো- কোটাব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নিয়ে আসা, কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা থেকে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরিতে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা এবং চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটাসুবিধা একাধিকবার ব্যবহার না করা।
উল্লেখ্য, বেশ কয়েকদিন ধরে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। ১৪ই মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিতে যাওয়ার সময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ ও টিয়াশেল নিক্ষেপ করে। আটক করে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে। পরে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে। তাদের দাবির মুখে আটকৃতদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। পরের দিন পুলিশ বাদী হয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৭০০/৮০০ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করে।

একজন সংশপ্তক রাজনীতিবিদ by সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল

কত বিশেষণ তার দীর্ঘ জীবনের বহুভুজি অবদানে। ভাষা সংগ্রামী মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, আইনজীবী, সংসদ সদস্য, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, গণতান্ত্রিক চেতনার নিরন্তর যোদ্ধা সমাজসেবক, ধার্মিক, সাচ্চা জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক ইত্যাদি। কিন্তু শিশু সরল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের একান্ত পরিচিতি আমরা ক’জনাইবা জানি ক্রমাগত তাগিদে এলোমেলো ভাবনার সুতাগুলো, কি লিখব? কোত্থেকে শুরু করব? শেষ না হয় জানি, জীবিত সিঙ্গাপুরে যাওয়া এবং নিথর নিস্তব্দ হয়ে ফিরে এসে পাঁচুরিয়ার মাটির বিছানায় অনন্ত বিশ্রামে চলে যাওয়া এক চেনা মানুষ। কত মাস, বছর, যুগের হৃদয়ের গভীর চোখে চেনা একজন ক্লান্তিহীন মানুষ। নিষ্পাপ শৈশব, দূরন্ত কৈশোর আর তেজোদ্দীপ্ত যৌবনের এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিল আশি বছরের এক যুবক একজন মানুষের সমন্বয় সত্তায়। কী এক জাদুকরি ব্যক্তিত্ব! তার সাথে রাগ করা যায়; কিন্তু অশ্রদ্ধা করা যাবেই না। ঘৃণার তো প্রশ্নই আসে না। অথচ খুব সহজেই যে কেউ বুঝতে পারবে তাকে। কারো সাথে তিনি আন্তরিক, রাগী কখনো কারো সাথে। নীতি এবং বিশ্বাসবোধ এর ভিত্তি কতটা দুঃসাহসী এবং অনমনীয় করতে পারে একজন মানুষকে, তার বিরল দৃষ্টান্ত তিনি। রাজনীতিতে এলপিআর-এ যাওয়া এক নিভৃতচারী আপদমস্তক দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার কাছে এবং দূর অতীতের ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত তিনি। যথার্থই এক সংশপ্তক। হ্যাঁ, আমি মরহুম খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের কথা বলছি। কত বিশেষণ তার দীর্ঘ জীবনের বহুভুজি অবদানে। ভাষা সংগ্রামী মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, আইনজীবী, সংসদ সদস্য, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, গণতান্ত্রিক চেতনার নিরন্তর যোদ্ধা সমাজসেবক, ধার্মিক, সাচ্চা জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিক ইত্যাদি। কিন্তু শিশু সরল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের একান্ত পরিচিতি আমরা ক’জনাইবা জানি। আর জানলেও তা কতটা? যেটুকু জেনেছি তাতে মনে হয়েছে খোন্দকার দেলোয়ারের হৃদয় একটা বিশাল সমুদ্র। তিনি যেন একটি রাজনৈতিক বিজ্ঞানাগার। বিশাল সমুদ্রের সহস্র গর্জনে মাতোয়ারা সত্যের সাহায্যে পরিপূর্ণ বিস্ময়কর এক অন্তহীন জলরাশি। কেউ ছাত্র হতে চাইলে পরম মমতাময় একজন শিক্ষক পেতেন, রাজনীতি শিখতে চাইলে সে অকৃপণ হাতের ভাণ্ডার নিতে পারতেন। হতাশায় নুয়ে পড়া কেউ কাছে গিয়ে নিষ্কলুষ স্বীকারোক্তি দিলে আশার সঞ্জীবনী সুধা নিয়ে ফিরতে পারতেন; কিন্তু কখনো রাজনীতি করার মানসিকতায় কেউ কাছে গেলে সে নিশ্চিত রাগী অনমনীয় একজন মানুষের প্রতিছবি দেখতে পেতেন। অন্য যেকোনো নেতার চেয়ে খোন্দকার সাহেব রজনীতিবিদদের আয়নায় ছবিটি বেশি পরিষ্কার করে দেখতে পেতেন। যত বেশি তার কাছে গিয়েছি তত বেশি মনে হয়েছে এক বিশাল অনাবিষ্কৃত খনির সামান্যটুকুই আহরণ করতে পেরেছি। সারাক্ষণ যিনি বিশ্বাস করতেন মানব জীবনে সুসময়-দুঃসময়ে বলতে কিছু নেই। কাজে লাগাতে পারলে পুরো জীবনকালটাই যথার্থ সময়। তাকে কখনো মনে হতো অভিভাবক, কখনো প্রদর্শক, কখনো বন্ধু, কখনো আত্ম-অভিমানী এক শিশু। মানব চরিত্রের সব বৈশিষ্ট্যের এক অপূর্ব ছন্দময় মিশেল ছিল তার সত্তার ক্যানভাসে। মহান সৃষ্টিকর্তা তাকে দিয়েছিলেন শ্রদ্ধা সম্মানের বিরল এক সৌভাগ্য। মাত্র চার বছরের মহাসচিবের দায়িত্ব পালনকালে তিনি এলেন। কাজ করলেন জয় করলেন। একটু বলে না থামলে মহাকাব্য লিখতে হবে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে জীবন পাখি জমা দেয়ার মরদেহকে ঘিরে পক্ষ-বিপক্ষ, মত-বিপরীত মত, নারী-পুরুষ, বন্ধু-শত্রু নির্বিশেষে এরারপোর্ট, আরমানিটোলা মাঠ, শহীদ মিনার, হাইকোর্ট সংসদ প্লাজা, বিএনপি অফিস, মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজ, ঘিওর পাঁচুরিয়া সর্বত্র শোকার্ত মানুষের মিছিল, নামাজে জানাজা- সবকিছু মিলে মনে হয়েছে তার জীবনের সব উজ্জ্বলতায় ভাসিয়ে দিয়েছে। এই মানুষটির খুব কাছে যাওয়ার সুযোগ আমার হয়েছে ২০০১ থেকে ২০১১ তার শেষকৃত্য পর্যন্ত। ২০০১-এর ৪ দলীয় জোটের বিপুল সংখ্যাঘরিষ্ঠতায় সংসদে একদিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর আমি উদাহরণ হিসেবে বলেছিলাম, আইন ভঙ্গের দায়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার মন্ত্রী পুত্রকেও ছাড় দেননি, নিজ দলের সংসদ সদস্যকে ছাড় দেননি। সংসদের চিপ হুইপের পুত্রকেও রেহাই দেননি, অধিবেশনের বিরতিকালে অত্যন্ত হাসিমুখে দেলোয়ার ভাই আমার নামধরে বললেন তুমিও আমাকে Escape Goat বানালে!ভালো। আমি লজ্জা পেয়েছিলাম; কিন্তু কষ্ট পাইনি। কারণ তিনি কষ্ট পাওয়ার মতো করে বলেননি। NAM ভবনের FLAT বরাদ্দকালীন বরাদ্দ কমিটির প্রধান হিসেবে তার কাছে ১৮০০ বর্গফুটের FLAT চেয়েছিলাম। হাসিমুখে দরখাস্তটি হাতে নিয়ে বললেন, তুমি তো কোনো পদার্থই না। একাধিকবার এমপি যুবদলের সেক্রেটারি আর ঢাকা শহরের নিজের একটা বাসা নেই। একটুও ইন্ধন মনে হয়নি ওনার কথায়, বরং তৃপ্তি পাওয়ার উপাদান খুঁজে পেয়েছিলাম কথার সুরে এবং প্রকাশ ভঙ্গিতে। ২০০৭-এর ১১ জানুয়ারির পর মহাসচিব হওয়ার আগে একবার একটা জটিল সমস্যার স্পষ্ট ও দৃঢ় সমাধানের পরামর্শ দিলেন। জনাব তারেক রহমান এবং দাউদ ইব্রাহীমকে নিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে সব দৈনিক একটি সংবাদ প্রকাশিত হলো। তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান ফোনে সব অঙ্গসংগঠনকে বললেন ‘নিন্দা প্রতিবাদ’ পাঠাতে পত্রিকায়। আমি যুবদলের তৎকালীন সভাপতি এবং আমার যৌথ প্রতিবাদ লিখে পাঠালে রাতে কয়েকজন সাংবাদিক জানালেন যুবদল সভাপতি তার নাম ছাপাতে নিষেধ করেছেন। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের কাছে চিন্তিত মনে দ্রুত গিয়ে হাজির হয়ে পরামর্শ চাইলে বিনাদ্বিধায় বললেন, সাহস থাকলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তোমার একার নাম ছাপাতে বলো। আমি তাই করলাম। পরদিন পত্রিকাগুলোতে আমার একার বরাতে ‘নিন্দা প্রতিবাদ’ ছাপানো হলো। এ ঘটনার কয়েক দিন পর তিনি আমাকে ডেকে সতর্ক করলেন- তুমি একটু সাবধানে চলাফেরা করো। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও আমাকে একই পরামর্শ দিলেন। শহীদ জিয়ার মাজারে সংস্কারপন্থী কয়েক নেতা লাঞ্ছিত ঘটনায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হান্নান শাহর সাথে আমিও আসামি হলাম। আমার বাড়িঘর তল্লাশি শুরু হলো। ১১ জানুয়ারি ২০০৭-এর জরুরি অবস্থাকালীন প্রথম রাজনৈতিক মামলা ছিল সেটি এবং বহুল আলোচিত বটে। দেলোয়ার ভাই আমাকে সাহস দিতেন। জরুরি অবস্থা জারির কিছু দিন পর দেশনেত্রী আমাকে চারজন সিনিয়র নেতার কাছে কিছু মেসেজ দিয়ে পাঠালেন এবং আলোচনার ফলাফল পরদিন রাতেই তাকেই জানাতে বললেন। চারজনের মধ্যে খোন্দকার দেলোয়ার একজন ছিলেন। আমি পুরো মিশন শেষ করতে গিয়ে দেখলাম অনেক ভাগ্যবান অনেক প্রাপ্তির অধিকারীদের পলায়নী কিংবা সমঝোতামূলক মানসিকতা। একমাত্র খোন্দকার দেলোয়ার সেদিন সাহস দিয়েছিলেন এই বলে ‘একটু ধৈর্য ধরো, ঈমান ঠিক রেখে কাজ করলে আর সৎ সাহস দেখাতে পারলে স্বৈরাচার পালাতে বাধ্য হবে। শহীদ জিয়া আর বেগম জিয়ার জনপ্রিয়তা এবং দৃঢ়তা সম্পর্কে এই অসভ্যরা জানে না। সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় বছর লাগবে সব ঠিক হতে। বিএনপি ষড়যন্ত্রের শিকার এর আগেও হয়েছে। এবারও এটা সাময়িক।’ আমাদের সাবেক মন্ত্রী (সিনিয়র) নেতা, এমপিরা অনেকই তখন জেল জরিমানায় একটু বিচলিত, আমি নিজেও। যা হোক ম্যাডামকে সার সংক্ষেপে জানালাম। ম্যাডাম শুধু বললেন, তোমার কথা শুনে তো মনে হচ্ছে তাকে দিয়ে হবে, তাই না? আমি হ্যাঁসূচক মতামত দিলাম। জরুরি বিধির ১৬ (২) ধারায় আমার গ্রেফতার, রিমান্ড শুরু হওয়ার আগে খোন্দকার দেলোয়ার সাহেব একাধিকবার ঘঅগ ঋখঅঞ-এ বসে আমাকে সতর্ক করে বলেছিলেন, তুমি খুব সতর্কভাবে চলা ফেরা করো, তোমার বিপদ হবে কিন্তু ঘরের ভেতরের ইন্ধনে। একবার খুব জোরের সাথে বললেন রহুল কবির রিজভী এবং ফরহাদ হোসেন আজাদের সামনেও। এর অনুকরণে বহুমাত্রিক ঘটনা প্রবাহ সৃষ্টি হয়েছিল। সে প্রসঙ্গ অন্য দিনের জন্য থাক। যখন দেশনেত্রী কারাগারে, প্রিয় নেতা তারেক রহমান পঙ্গু প্রায় অবস্থায় কারাগারে বন্দী, আরাফাত রহমান মৃতপ্রায় কারাগারে বন্দী, সিনিয়র নেতারা হয় করাগারে না হয় পলাতক। উদ্ধত বুটের তলায় পিষ্ট হয়ে গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার মৃতপ্রায়, চার দিকে ঘনঘোর অন্ধকার, তখন শুধু একটাই বাতিঘর ছিল সামনে। সেই বাতিঘর হিমালয়ের মতো দৃঢ়, অবিচল, সব আঘাত সইবার জন্য সর্বদা প্রস্তুত। বেগম খালেদা জিয়ার আমানত রক্ষার প্রয়োজনে জীবন দিতে তৈরি এত মহীরুহ খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। তার পাশাপাশি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হান্নান শাহসহ আরো কিছু সিনিয়র জুনিয়র নেতা ছিলেন। তবে নিজ পুত্রকে নির্দয় টর্চার সেলে আর্তচিৎকাররত অবস্থায় গোয়েন্দা দফতর থেকে ফোন করে জন্মদাতা পিতাকে তা শুনিয়ে দুর্বল করে তার বিশ্বাস এবং দৃঢ়তা থেকে সরানোর যে ফ্যাসিবাদী অপচেষ্টা তার মর্মযাতনা, অসহনীয় যন্ত্রণা শুধু জন্মদাতা মমতাময় পিতা ছাড়া আর কারো পক্ষে পরিপূর্ণ অনুভব করা সম্ভব নয়। একমাত্র খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন সে দুঃসহ যন্ত্রণাকে উপেক্ষা করে পেরেছিলেন পিতৃত্বের ওপরে নেতৃত্বকে স্থান দিতে। যেটা সচরাচর অকল্পনীয়। এর পরেও ক্রামগত হুমকি, ভীতি, মৃত ভয় উপেক্ষা করে বারডেম হাসপাতাল থেকে তার কৌশলগত দুঃসাহসী অন্তর্ধান না হলে সেদিন বিএনপি ভয়ঙ্কর পরিণতির মুখোমুখি হতো। এরকম ঘনঘন দুঃসাহসী যুদ্ধ জয় করে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন সক্ষম হয়েছিলেন। বৃহত্তর যুদ্ধের সেনাপতির দায়িত্ব দেশনেত্রীর হাতে সফল এবং সুন্দরভাবে তুলে দিতে। আর সে জন্যই তিনি সংশপ্তক। ফুরফুরে মেজাজে থাকলে অনেক সময় প্রাণখোলা দুষ্টমি করতেন তিনি। আবার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা নির্দ্বিধায় মনের ভাব প্রকাশ করতেন। একাধিক হাসপাতালে বিভিন্ন সময় তাকে দেখতে গেলে দোয়া চাইতেন এবং দোয়া করতেন। আজ খুব মনে পড়ে ‘অনেকেই পচে গেছে, তুমি পচোনা, এই স্টাইলটা ধরে রেখো। ভবিষ্যৎ ভালো হবে।’ বলেছিলেন তিনি, খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের গ্রামের বাড়িতে একদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার একান্ত সংস্পর্শে কাটিয়েছি। লুঙ্গি পরিহিত গেঞ্জি গায়ে লাঠি হাতে দৃঢ় পদক্ষেপ সোজা হাঁটতে হাঁটতে অনেক গল্প, শৈশবে নদীতে সাঁতার কাটা, হাডুডু খেলা, বন্ধুদের গল্প, শিক্ষকতা, আইন পেশা, বহু স্মৃতি রোমন্থন করছেন তিনি। তার বাড়ির আঙিনায় বহু ফলজ গাছ, পুকুর, মাছ দেখিয়েছেন। তার সাথে দুপুরের খাবার খেলাম। ফাঁকে ফাঁকে রাজনৈতিক আলোচনা, মসজিদে নামাজ পড়া, অনেক অনেক দোয়া পেয়েছি তার কাছ থেকে আমি। যুবদলের ঢাকা বিভাগীয় মহাসমাবেশ হলো নারায়ণগঞ্জে। মহাসচিব হিসেবে ঢাকার বাইরে বিএনপির গোটা পরিবারের কোনো বড় সমাবেশে তিনি রাজনৈতিক বক্তব্য রাখলেন। মুক্তকণ্ঠে তিনি স্বীকৃতি দিলেন ঢাকার বাইরে এত বিশাল এবং এত সুশৃঙ্খল সমাবেশ তিনি আর দেখেননি। বর্তমান যুবদলের কমিটির প্রতি এটা ছিল তার প্রকাশ্যে প্রশংসা এবং স্বীকৃতি। বিএনপি আয়োজিত মরহুম খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের স্মরণে জাতীয় শোকসভা আমি প্রস্তাব করে ছিলাম। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্দিষ্ট যে চেয়ারটিতে তিনি বসতেন সেটি সংরক্ষিত রাখা হোক এবং তার সম্মানে একটি সম্মাননা চেয়ার প্রবর্তন করা হোক। বিএনপিতে নির্মোহ থেকে ঈমানদারির সাথে যারা শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দায়িত্ব পালন তথা নেতৃত্ব দানে সফল হবে তাদেরকে ‘খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন সম্মাননা চেয়ার’ এ ক্রমানুসারে বসার সুযোগ দেয়া হবে। আমার মতে, এর দ্বারা তার কর্মের মূল্যায়নের প্রতি সম্মান চিরকাল থাকবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রেরণা পাবে সঠিক নির্মোহ, সাহসী দায়িত্ব পালনে। মরহুমের ব্যবহৃত চেয়ারটি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহাসচিবের কক্ষে স-সম্মানে সংরক্ষিত আছে। খুব ভালো লাগে দেখলে। এখন আরো ভালো লাগবে পরবর্তী প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হতে দেখলে। প্রতীক্ষায় থাকলাম। আল্লাহ রাব্বুল আলাআমিন মরহুম খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে জান্নাতবাসী করুন। তার রেখে যাওয়া কর্ম প্রেরণা এবং আদর্শে উজ্জীবিত করুক আমাদের সবাইকে।
লেখক : যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল

ঢাবিতে শিক্ষক মারধরের প্রতিবাদে ক্লাস বর্জনের ডাক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান কর্তৃক এক শিক্ষককে মারধরের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।  এ দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জনের ডাক দেন শিক্ষার্থীরা।রোববার সকাল সাড়ে নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানান তারা। এছাড়া একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবর স্মারকলিপি পেশ করে তারা। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পোস্টার প্রদর্শন করেন। তাতে লিখা ছিল- ‘নৈতিকতা আজ ক্ষতবিক্ষত, মুখ বুজে আর কত?’, ‘এত লজ্জায় মুখ লুকাব কোথায়?’, ‘সমাধান নয় সুবিচার চাই’, ‘শিক্ষক এমন কেন?’, ‘নীরবতাই আমাদের শক্তি’।
এ সময় মানববন্ধন থেকে সাব্বির হোসেন শুভ বলেন, সম্প্রতি আমাদের বিভাগের চেয়ারম্যান কর্তৃক এক শিক্ষক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন তাতে আমরা হতবাক এবং একই সঙ্গে ক্ষুদ্ধ। এ ধরণের ঘটনায় আমরা লজ্জিত। এ ঘটনায় বিভাগের শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন করেছেন। ঘটনার সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরাও অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন করছি। বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নওশেরা শিরিন বলেন, শিক্ষক হবেন শিক্ষার্থীদের রোল মডেল। কিন্তু বর্তমানের কিছু কিছু শিক্ষকের আচরণে আমাদেরকে হতবাক হতে হয়। মানববন্ধনে আরো বক্তব্য দেন- কানিজ ফাতেমা, আতিয়া নুর চৌধুরী, আহমেদ রুবেল তানভীর, রাহাত, তৃতীয় বর্ষের শিশির, দ্বিতীয় বর্ষের শাহজালাল, বিভাগের সাবেক ছাত্র তৌহিদুর রহমান প্রমুখ।উল্লেখ্য ১৩ মার্চ ঢাবি তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগর ব্যাবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেজবাহ-উল-ইসলাম এর বিরুদ্ধে তার সহকর্মী সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ উঠে। ১৪ মার্চ ভুক্তভোগী শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি ও প্রক্টর বরাবর অভিযোগপত্র দেন।

নতুন অবরোধ, বিপাকে ইরান!

পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে স্বাক্ষরিত ইরানের পরমাণু চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষের মুখে এবার তেহরানের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এরই মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ইইউর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করেছে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য। ২০১৫ সালে দেশটির সাথে করা পরমাণু চুক্তি শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসনকে সম্মত করার লক্ষ্যে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। শুক্রবার ইইউভুক্ত দেশগুলোয় এই প্রস্তাবসংকলিত একটি যৌথ চিঠি পাঠানো হয়েছে। কেননা, নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হলে ইইউভুক্ত সব দেশকে প্রস্তাবে রাজি হতে হবে। এ কারণে প্রস্তাবক দেশগুলো অন্যদেরও রাজি করানোর চেষ্টা করছে। প্রস্তাবিত এ নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলো মূলত ট্রাম্প প্রশাসনকে দেখাতে চায় ইরানের অন্যায্য আচরণের ব্যাপারে তারাও সোচ্চার। তবে পারমাণবিক উত্তেজনা হ্রাসে দেশটির সাথে করা চুক্তি বহাল থাকা প্রয়োজন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই এ চুক্তির বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি চুক্তিটি বাতিল বা সংশোধনের কথা বলেছেন। সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প চুক্তিটি বহাল রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেন, চুক্তিটি সংশোধনে এটাই ইরানের জন্য ‘শেষ সুযোগ’। তবে এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান বলেছে, তারা চুক্তিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না। ট্রাম্প জানান, ইরানের জন্য এ সুযোগ চার মাস বা ১২০ দিনের জন্য। এ সময়ের মধ্যে ইরানের সাথে আলোচনা ছাড়াই ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে নিয়ে একটি নতুন চুক্তির খসড়া করা হবে। নতুন চুক্তিতে বর্তমান চুক্তির ‘বিপজ্জনক ত্রুটিগুলো’ দূর করা হবে। গত জানুয়ারিতে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের পর প্রতি চার মাস পর পর স্থগিতাদেশ বাড়ানোর নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট। আগামী ১২ মে নতুন করে স্থগিতাদেশ না দিলে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। রয়টার্সের হাতে থাকা নথিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও সিরিয়ার আসাদ বাহিনীকে সমর্থনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, প্রকাশ্য ভূমিকার কারণে সামনের দিনগুলোয় কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রভাবশালী দেশগুলোর নতুন এ উদ্যোগ নিয়ে এরই মধ্যে তেহরানের হতাশার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংক্রান্ত রিট খারিজ

রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোট দানের কারণে সংসদীয় আসন শূন্য হওয়া সংক্রান্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে আনা রিট পিটিশন আজ খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্টের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
এর আগে ১৫ জানুয়ারি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামাল সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ রিটের ওপর বিভক্ত আদেশ দেয়। এ বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বিষয়টি নিয়ে রুল জারি করলেও কনিষ্ট বিচারপতি রিট খারিজ করে দেয়। এ আদেশের পর নিয়ম অনুসারে আবেদনটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। তিনি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একক বেঞ্চে (তৃতীয় বেঞ্চ) পাঠান। গত ১১ মার্চ একক বেঞ্চে শুনানি শেষে আজ ১৮ মার্চ আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ড. মো. ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিট আবেদনটি দায়ের করেন। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী রূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহা হইলে সংসদে তাহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না’। তিনি এ অনুচ্ছেদ নিয়ে রিটটি দায়ের করেন। রিটে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও আইন সচিবকে বিবাদী (রেসপনডেন্ট) করা হয়।

বাংলাদেশে পাটচাষের ভবিষ্যৎ by এবনে গোলাম সামাদ



যাকে বলে উদ্ভিদবিদ্যা বা বোটানি, তার উদ্ভব কৃষিকাজ করতে গিয়ে হয়নি। এর উদ্ভব হয়েছিল কবিরাজদের হাতে। তারা চেয়েছেন ভেজষ উদ্ভিদের বর্ণনা দিতে। এই বর্ণনা দিতে গিয়েই উদ্ভব হয়েছে উদ্ভিদবিদ্যার। এ দেশে ঔষধি উদ্ভিদের বর্ণনা কবিরাজেরা দিয়েছেন কবিতায়। তাই তারা নাম পেয়েছিলেন ‘কবিরাজ’। কিন্তু ইউরোপে যারা ভেষজ উদ্ভিদের বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন, তারা পরিচিত হয়েছেন ‘হার্বালিস্ট’ হিসেবে। উদ্ভিদবিদ্যা এ দেশে এখন যেভাবে পড়ানো হয়, তার সূত্রপাত ঘটেছে ব্রিটিশ শাসনামলে। এই উপমহাদেশের, বিশেষ করে বাংলাদেশের গাছপালা নিয়ে প্রথম বই লিখেছেন উইলিয়াম রক্্সবার্গ (William Roxburg, 1751-1815)। রক্্সবার্গ ছিলেন একজন স্কটিশ চিকিৎসক। তিনি স্কটল্যান্ড থেকে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির চিকিৎসক হিসেবে চাকরি নিয়ে প্রথম আসেন দক্ষিণ ভারতে। সেখান থেকে আসেন কলকাতায়। কিন্তু তার আসল উদ্দেশ্য ছিল এই উপমহাদেশের গাছপালা সম্পর্কে গবেষণা। একপর্যায়ে রক্্সবার্গকে ইস্ট-ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ কলকাতার পার্শ্ববর্তী শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনের কিউরেটর পদে নিযুক্তি প্রদান করে (১৭৭৩ সালে)। রক্্সবার্গের সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘ফ্লোরা ইনডিকা’ (Flora Indica)। বইটি তার মৃত্যুর পর ১৮৩২ সালে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়। ‘ফ্লোরা ইনডিকা’ গ্রন্থে তিনি প্রায় দুই হাজার ৫৪২টি গাছের বিবরণ দিয়েছেন। বাংলাদেশে পাটচাষ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রক্্সবার্গের কথা বলছি। কেননা, তিনিই প্রথম পাটকে একটি অর্থকরী ফসল হিসেবে আবাদ করার সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করতে বলেন। ১৭৯০ সালে রক্্সবার্গ প্রথম স্কটল্যান্ডের ডান্ডি (Dundee) শহরে ১০২ টন পাটের আঁশ পাঠান পরীক্ষামূলকভাবে তা দিয়ে চট বুনবার জন্য। ডান্ডি শহর ছিল তিসির আঁশ (মসিনা) দিয়ে বস্ত্র বুনবার জন্য বিখ্যাত। আমাদের দেশে আমরা তিসির (Linum usitatissimum) আবাদ করতাম কেবল তিসির বিচি থেকে তেল পাবার জন্য; তিসি গাছের ছাল থেকে আঁশ পাবার জন্য নয়। ব্রিটেনের সাথে রাশিয়ার বাধে ক্রিমিয়ার যুদ্ধ (১৮৫৪-১৮৫৬ সাল)। এ সময় রাশিয়া থেকে ব্রিটেনে তিসির আঁশ আসা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ডান্ডিতে আরম্ভ হয় পাটের আঁশ দিয়ে চট তৈরি। এভাবে পাট হয়ে ওঠে একটি অর্থকরী ফসল, যা এটা আগে ছিল না। পাটের আঁশ দিয়ে কৃষকেরা দড়ি বানাতেন। কখনো কখনো বানাতেন কম মোটা দড়ি, যা দিয়ে তারা কিছু চট বুনতেন হস্তচালিত তাঁতে, যা দিয়ে তারা বানাতেন থলি। কিন্তু এটা ছিল একেবারেই গ্রাম্য কুটিরশিল্প পর্যায়ের ব্যাপার। কৃষকেরা পাটের থলি তৈরি করতেন আসলে নিজেদের ব্যবহারের জন্য, বাজারে বিক্রির জন্য নয়। কিন্তু ডান্ডিতে তৈরি করা পাটের থলি বিক্রি হতে থাকল আন্তর্জাতিক বাজারে। ফলে পাট হয়ে উঠল একটি আন্তর্জাতিক কৃষিপণ্য। পরে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড থেকে একাধিক কোম্পানি এসে কলকাতার কাছে গঙ্গার দুই ধার দিয়ে স্থাপন করে ১০৯টি চটকল। প্রথম চটকল স্থাপিত হয় ১৮৫৪ সালে। বিশ্বের শতকরা ৭৫ ভাগ পাট উৎপন্ন হতো তদানীন্তন বাংলা প্রদেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে। কিন্তু ১৯৪৭-এ পাকিস্তান হওয়ার আগে এই অঞ্চলে কোনো পাটকল ছিল না। এই অঞ্চলে ১৯৫২ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাটকল স্থাপিত হয় নারায়ণগঞ্জে। পরে অন্যান্য স্থানে গড়ে ওঠে ২৭টি পাটকল, ১৯৭০ সালের মধ্যে। কিন্তু বিশ্বে পাটের থলির বা বস্তার চাহিদা এখন আর আগের মতো নেই।
পাটের থলির জায়গায় এখন ব্যবহৃত হচ্ছে কাগজের থলি। সিমেন্ট বহন করা হচ্ছে কাগজের বস্তায়। কাগজের বস্তার জায়গায় আসছে পলিথিনের বস্তা। অন্য দিকে, গম আর বহন করা হচ্ছে না আগের মতো পাটের বস্তায়। গম ক্ষেত থেকে জাহাজে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে সরাসরি, যাকে বলা হচ্ছে বাল্ক হ্যান্ডলিং (Bulk-handling)। গম বহনের জন্য এখন আর চটের বস্তার আগের মতো প্রয়োজন হচ্ছে না। পাটের চাহিদা কিছু বাড়ছে মোটর গাড়ির গদি নির্মাণের জন্য। কিন্তু এই চাহিদা বৃদ্ধি পাটের বাজারকে আগের অবস্থায় নিতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। আমাদের দেশে সরকারকে পাটকল চালাতে গিয়ে দিতে হচ্ছে প্রতি বছর ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা লোকসান (প্রথম আলো, ১০ মার্চ ২০১৮)। এ পরিস্থিতিতেও আমাদের দেশে অনেক খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, পাটের বাজার আবার ফিরে আসবে আগের চেয়ে অনেক বড় আকারে। আর তা হয়ে উঠবে বাংলাদেশের আয়ের প্রধান উৎস। আমি অর্থনীতিবিদ নই। কিন্তু আমার সাধারণ বুদ্ধিতে মনে হচ্ছে, এটা সম্ভব নয়। যাকে বলা হচ্ছে পাটের ‘স্বর্ণযুগ’, সে সময় পাটচাষের জন্য যে এ দেশের কৃষকের আর্থিক অবস্থা খুব সচ্ছল হতে পেরেছিল, তা কিন্তু নয়। লাভবান হতে পেরেছিল পাট নিয়ে ব্যবসা করা কোম্পানিগুলোর সাথে যারা সংশ্লিষ্ট ছিল, তারা। একসময় বাংলাদেশে পাট একচেটিয়া ব্যবহার করেছে ব্রিটিশ ইহুদি কোম্পানি র‌্যালি ব্রাদার্স। এরপর এই পাট কেনাবেচা ব্যবসায় এসে যুক্ত হয় পশ্চিম ভারতের রাজস্থান থেকে আগত মাড়ওয়ারিরা। বাংলাদেশের দরিদ্র পাটচাষিরা সংঘবদ্ধ ছিল না। তাই তারা কাঁচা পাটের দাম নির্ধারণে কোনো ভূমিকা রাখতে পারত না। তারা পাট মজুদ রেখে পারত না ন্যায্য দাম পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে। তারা চড়া সুদে মহাজনের কাছ থেকে টাকা ধার করে সংসার চালাত। পাট কাটা হলে পাট বিক্রির টাকার মাধ্যমে মহাজনের ঋণ পরিশোধ করত। পাটের স্বর্ণযুগের ইতিহাস এ দেশের কৃষকের সচ্ছলতার ইতিহাস নয়। কিন্তু আজকের দিনে আমাদের ভাবতে হবে কৃষকের সচ্ছলতা বৃদ্ধি নিয়ে। আমাদের দেশে যারা পাটের স্বর্ণযুগের কথা বলে ‘জাতীয় পাট দিবস’ উপলক্ষে সোনালি আঁশ নিয়ে বক্তৃতা করলেন, তারা এই ইতিহাসকে এড়িয়ে গেলেন বলেই মনে হলো। যে জমিতে ধান হয়, সেই একই জমিতে পাটও হয়। ব্রিটিশ শাসনামলে পাটচাষের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল। কেননা পাটচাষ বৃদ্ধির ফলে কমছিল ধানচাষের পরিমাণ। ফলে সৃষ্টি হচ্ছিল খাদ্যসমস্যা। পাট বেচে অনেক সময় কেনা সম্ভব হচ্ছিল না বিদেশ থেকে খাদ্যশস্য। এ জন্য সে সময় গঠন করা হয়েছিল ‘জুট রেগুলেশন বোর্ড’। এখন যদি পাটচাষ বাড়িয়ে ধানচাষ কমানো হয়, তবে দেশে সৃষ্টি হতে পারে আগের চেয়েও বড় রকমের খাদ্যসমস্যা। কেননা বিশ্বের খুব কম দেশই এখন করতে পারছে আগের মতো খাদ্যশস্য বিক্রয়। পাট বিক্রি করে তাই কেনা সম্ভব হবে না খাদ্যশস্য। এটাও মনে রাখা প্রয়োজন। ১৯৫০-এর দশকের কথা। আমি তখন চাকরি করতাম ঢাকার তেজগাঁও-এ অবস্থিত জুট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে। এ সময় আমার অনেক সহকর্মীকে বলতে শুনেছি, ‘পাটের বাজার ভবিষ্যতে আর থাকবে না। পাট নিয়ে আমরা যে গবেষণা করছি, তা হয়ে পড়বে মূল্যহীন।’ আমি যা বলছি, তার ওপর আছে আমার সে সময়ের একাধিক সহকর্মীর চিন্তাচেতনার প্রভাব। বাংলাদেশের কৃষক ছিল পাটচাষে খুবই দক্ষ। কেবল বাংলাদেশের আবহাওয়া ও নদীবাহিত মৃত্তিকা যে ছিল পাটচাষের অনুকূল, তা নয়। বাংলাদেশের কৃষকের কৃষি নৈপুণ্য ছিল পাটচাষের বিশেষ অনুকূল। এ জন্য ব্রিটিশ শাসনামলে ব্রাজিল চেয়েছিল বাংলাদেশ থেকে দশ হাজার কৃষককে গ্রহণ করতে। তারা প্রস্তাব দিয়েছিল এই কৃষকদের তারা জমি দেবে, নগদ অর্থ দেবে এবং নাগরিকত্ব দেবে। এই কৃষকেরা সে দেশে করবে পাটচাষ। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার এতে রাজি হয়নি। কারণ, ব্রাজিলে পাটচাষ হতে পারত বাংলাদেশের পাটের প্রতিযোগী। আমরা জাতীয় আয় বৃদ্ধির কথা বলছি; কিন্তু ভাবছি না, কৃষকের আর্থিক সঙ্গতির উন্নয়ন বিধানের বিষয়ে, যেটা হতে পারে না আমাদের জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্য।
লেখক : প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট

‘মাইনাস ওয়ান’ ‘মাইনাস টু’ by ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী

এ রকম পরিস্থিতি আরেকবার হয়েছিল, ২০০৭ সালে মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকারের আমলে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্ঘাতময় অবস্থায় সে সময় ক্ষমতা দখল করেছিল জে. মইনউদ্দিন আহমদ। তার শিখণ্ডি ছিলেন ফখরুদ্দীন আহমদ। তারা ক্ষমতা দখল করেই বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে বিদায় করে দিতে চেয়েছিলেন এই দুই নেত্রীকে। তারা দুই নেত্রীকেই গৃহবন্দী করে তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের না-হক মামলা দায়ের করে তাদের হেনস্থা করতে শুরু করেছিল। মামলা দিয়ে হেনস্থা করার পেছনে তাদের উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। তাদের লক্ষ্য ছিল, বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে বিদায় করে তাদের দেশ ত্যাগে বাধ্য করা। এতে প্রায় সাথে সাথে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।
তিনি মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সরকারকে (যা ১-১১ সরকার বলে পরিচিত) এই বলে স্বাগত জানিয়েছিলেন যে, এই সরকার তাদের আন্দোলনের ফসল। অর্থাৎ লগি-বৈঠার যে আন্দোলনে তার দলের লোকেরা একদিনেই পিটিয়ে হত্যা করেছিল ১১ জন নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে, সে আন্দোলনের ফসল নাকি ছিল এক-এগারোর সরকার। শেখ হাসিনা শুধু এই সরকারকে স্বাগত জানাননি, তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার সময় বলেছিলেন, এক-এগারোর সরকার যা কিছু সিদ্ধান্ত নেবে, তার সব কিছুকেই ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বৈধতা দেবে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া কিছুতেই দেশ ছেড়ে যেতে চাননি। তিনি বারবার বলছিলেন, বাংলাদেশের বাইরে তার কোনো ঠিকানা নেই। সুতরাং যা-ই কিছু ঘটুক না কেন, তিনি বাংলাদেশেই থাকবেন। এক-এগারোর সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে সৌদি আরব পাঠিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু সৌদি দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হলো, খালেদা জিয়াকে যদি তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে সৌদি আরব পাঠানো হয়, তাহলে সৌদি সরকার তাকে ভিসা দেবে না। বেগম খালেদা জিয়ার মনোভাব কী, এটা জানার জন্য সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করেন এবং নিশ্চিত হন যে, তিনি স্বেচ্ছায় সৌদি আরব চলে যেতে রাজি নন। তাই খালেদা জিয়াকে মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকার বিদেশে পাঠাতে পারেনি। এর ফলে এক-এগারোর সরকার যে ‘মাইনাস টু’ ফরমুলা নিয়েছিল, তা আর বাস্তবায়িত হতে পারে না। খালেদা জিয়া দেশেই থেকে যান এবং তিনি শেখ হাসিনাকেও জোর করে বিদেশে রেখে দেয়া, তাকে বাংলাদেশে আর ঢুকতে না দেয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। এতে সামরিক সরকার প্রাথমিকভাবেই হোঁচট খায়। তারপর বহু অপকীর্তিও কিন্তু খালেদা জিয়াকে টলাতে পারেনি। প্রকৃতিগত কারণে শেষ পর্যন্ত মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকারকে রণে ভঙ্গ দিতে হয়েছে। তারা একটি পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানোর নীলনকশা করে। ড. শামসুল হুদার নেতৃত্বে তারা যে নির্বাচন কমিশন গঠন করে সে ছিল পাতানো খেলাই। এই নির্বাচন কমিশন কোনো নিয়ম-নীতির মধ্য দিয়ে করা হয়নি।
বরং করা হয়েছিল বল প্রয়োগের মাধ্যমে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার থেকে শুরু করে অপরাপর নির্বাচন কমিশনারকে রাষ্ট্রপতির চায়ের দাওয়াত দিয়ে হুমকি দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বে গঠন করা হয় নতুন নির্বাচন কমিশন। অনেকের এমনও মত আছে যে, সে নির্বাচন কমিশন নাকি খুব দক্ষতার সাথে নির্বাচন পরিচালনা করেছিল। এটি ডাহা মিথ্যা। সেই নির্বাচনে বহু ক্ষেত্রে ১০-১৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। কিভাবে এটা সম্ভব হলো, তার কোনো জবাব নির্বাচন কমিশন দিতে পারেনি। পথেঘাটে পাওয়া যাচ্ছিল ব্যালট পেপারের মুড়ি। সেগুলো যখন জনসমক্ষে আসতে শুরু করল, তখন শামসুল হুদা নতুন আইন করলেন যে, যার কাছে মুড়ি পাওয়া যাবে তাকে গ্রেফতার করা হবে। বহু ভোটকেন্দ্রের আশপাশে পেয়েছিল এরকম মুড়ি। এভাবে শামসুল হুদা কমিশন একটি নির্বাচন করে মইন-ফখরের নির্দেশে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল। নির্বাচন কমিশন এখানেই থেমে থাকেনি। তারা প্রথমে সেনা শাসকদের নির্দেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ভাঙার চেষ্টা করেছিল। বিএনপি ভাঙার জন্য তারা বেছে নিয়েছিল আবদুল মান্নান ভূঁইয়াকে। শামসুল হুদা ও মান্নান ভূঁইয়া ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। ফলে নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে নেই এমন কাজও তারা করেছে। দল ভাঙার অপপ্রয়াসের জন্য বেগম খালেদা জিয়া যখন মান্নান ভূঁইয়াগংকে দল থেকে বহিষ্কার করেন। তখন শামসুল হুদার সে কি ক্রোধ! যা সত্যি সত্যি হাস্যকর ছিল এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অত্যন্ত বেমানান। এদিকে আওয়ামী লীগকে ভাঙার জন্য সেখানে গঠন করা হয় সংস্কারপন্থী গ্রুপ। এই গ্রুপে ছিল র‌্যাটস- রাজ্জাক, আমু, তোফায়েল ও সুরঞ্জিত। তারা আওয়ামী লীগে সংস্কার আনার জন্য বেশ কতকগুলো প্রস্তাব উত্থাপন করেন। একই রকম প্রস্তাব উত্থাপন করেন মান্নান ভূঁইয়ারাও। কিন্তু সেসবে কোনো ফল হয়নি।
চূড়ান্তভাবে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি ও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দলই টিকে থাকে। পরে সেখানে শেখ হাসিনা আবদুর রাজ্জাক ছাড়া প্রায় সবাইকে দলে ফিরিয়ে নেন। কিন্তু জানিয়ে দেন যে, ফরগিভ করেছেন, ফরগেট করেননি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার মান্নান ভূঁইয়ার বহিষ্কারের সময় এতটাই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন যে, তিনি কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে বলে বসলেন, ১৫ বছর দলের সাধারণ সম্পাদক হয়ে রয়েছেন, এ রকম ব্যক্তিকে কোনো শোকজ নোটিশ না দিয়ে বহিষ্কার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। যা হোক, মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের ‘মাইনাস টুু’ ফরমুলা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। বরং জনগণের অপরিসীম ঘৃণা নিয়ে মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দীনের সরকারকে বিদায় নিতে হয়েছে। এবারের খেলা ভিন্ন। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য হয়েছিল। কিন্তু ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ একদলীয় বিনা ভোটের এক নির্বাচন করে। তাতে ৫ শতাংশ ভোটার অংশ নিয়েছিল কি না সন্দেহ। সে নির্বাচন এতটাই অবিশ্বাস্য ছিল যে, অর্ধশত কেন্দ্রে একজন ভোটারও ভোট দেয়নি। এমন কি আওয়ামী লীগের যে ১৪ দলীয় জোট তাদের পোলিং এজেন্টরাও ভোট দেয়নি। সে ভোট বিএনপি বর্জন করেছিল। শুধু বিএনপি নয়, আওয়ামী জোটের বাইরে অন্য কেউই ২০১৪ সালের ভোটে অংশ নেয়নি। ওই নির্বাচনে ১৫৩ আসনে কেউ প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করেনি। সুতরাং বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগ জোটের প্রার্থীরা নির্বাচনের বিজয়ী হয়ে এসেছে। আর নির্বাচিত হয়েই বিএনপির ওপর একেবারে খড়গহস্ত হয়ে ওঠে। বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের স্টিমরোলার চালানো হয়। এ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে ৭৮ হাজার, আসামি ১৮ লাখ। বিএনপি নেতাদের এক একজনের মাথার ওপর শতাধিক মামলা ঝুলছে। অসংখ্য নেতাকর্মী কারাগারে। এ ছাড়া শারীরিক নির্যাতনের শিকার বিএনপির হাজারে হাজারে নেতাকর্মী। বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম-খুন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ রকম একটা পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ আবারো ‘মাইনাস ওয়ান’ ফরমুলায় এগিয়ে যাচ্ছে। এবারে এর পেছনে মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন নেই। কিন্তু স্বৈরাচারী মানসিকতাই এর পেছনে কাজ করছে। এবার তারা রাজনীতি থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে ও তার পরিবারকে চিরদিনের মতো বিদায় করতে চায়। একসময় এটা কল্পনারও অতীত ছিল যে, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে এক ভুয়া মামলায় আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দীজীবন-যাপন করছেন। বলা হচ্ছে, কুয়েত সরকারের অনুদানে যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট গঠিত হয়, তাতে আড়াই কোটি টাকা তছরুপ হয়েছে। কিন্তু ব্যাংক হিসেবে দেখা যায় যে ওই আসল টাকা সুদে-আসলে এখন ছয় কোটি টাকা হয়েছে। সুতরাং একে তো তছরুপ বলা যায় না। কোনো ভুল হয়ে থাকতে পারে, ভুল কোনো অপরাধ নয়। তার সহজে সংশোধনযোগ্য। কিন্তু সরকার সে দিকে না গিয়ে সেই ভুলটাকে বিবেচনায় নিয়ে খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে বন্দী করে রেখেছে। জনমানবহীন সেই কারাগারে তিনি একাই বন্দী, সেখানে আর কোনো মানুষ নেই। বেগম খালেদা জিয়া যেমন আদালতে বলেছেন, তেমনি তার আইনজীবীরা বলেছেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। ন্যায়বিচার পেলে তিনি দ্রুতই বেরিয়ে আসবেন। এখানেও মানুষের মনে সংশয়ের দোলাচল থেকেই গেল। নিম্ন আদালনের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন। হাইকোর্ট তার চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। এর বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ ছুটে গিয়েছিলেন চেম্বার আদালতে। চেম্বার বিচারপতি ‘নো অর্ডার’ দিয়ে তা বিবেচনার জন্য আপিল বিভাগের ফুলকোর্টে পাঠান। সেখানে আবার থমকে গেল খালেদা জিয়ার জামিন। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের কোনো বক্তব্য না শুনেই আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার জামিন গত ১৪ মার্চ রোববার পর্যন্ত স্থগিত করেছেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বারবার বলছেন, তাদের বক্তব্য শোনা হোক। কিন্তু প্রধান বিচারপতি তাদের জানিয়ে দেন তাদের বক্তব্য রোববারই শোনা হবে। আবার রোববার যাতে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও খালেদা জিয়া কারামুক্ত হতে না পারেন তার আয়োজনও পাকাপাকি আছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লায় বাস পোড়ানোর মামলা করেছিল সরকার। সে মামলার জামিন আবেদন খারিজ হয়ে গেছে এবং তাতে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়েছেন। ফলে এ মামলায় খালেদা জিয়াকে নতুন করে জামিন আবেদন করতে হবে। এরপর কোন মামলা আসে কে জানে! সরকারের লক্ষ্য খালেদা জিয়াকে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা। কারণ সরকার জানে তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। যদি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে সরকারের পরাজয় হবে। কেউ ঠেকাতে পারবে না। অতি সামান্য আসনে সরকার দলের সদস্যরা জয়ী হয়ে আসতে পারে। এখন সারা দেশে বিএনপি পুলিশের শত উসকানির মুখেও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে যাচ্ছে। তাতে লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটছে। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সারা পৃথিবী বলছে, আগামী নির্বাচন হতে হবে সব দলের অংশগ্রহণে। সরকার বলছে, কেউ যদি নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে তার সরকারের কী করার আছে। নির্বাচন কমিশন বলছে, নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ব্যাপারে তারা কোনো পদক্ষেপ নেবে না। ফলে পরিস্থিতি এখন ঘোলাটে। যেসব মামলায় খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়েছে, এক-এগারো সরকারের আমলে সে সময় একই ধরনের মামলায় শেখ হাসিনাকেও আসামি করা হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সেসব মামলা প্রত্যাহার করা হয়। এটি এক যাত্রায় দুই ফল, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কারো কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার আশা করছে, খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারলে বিএনপিতে ভাঙনের সৃষ্টি হবে। এবং সেই ভাঙনে বিএনপির একটি অংশ জাতীয় পার্টির সাথে মিশে যাবে। জাতীয় পার্টির এরশাদও একই কথা বলেছেন। শেখ হাসিনার এই নীলনকশার সম্পর্কে বেগম খালেদা জিয়া ও তার দল সচেতন রয়েছে। দেশের মানুষ এখন একদলীয় শাসনে অতিষ্ঠ।
তারা বিএনপির পতাকা ছেড়ে চলে যাবে বলে মনে হয় না। সরকার ব্যাংকগুলো লুট করছে। শেয়ারবাজারে কারসাজিতে লাখ লাখ মানুষ ফতুর করেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে, সরকারদলীয় চাঁইরা দুর্নীতিতে ডুবে গেছে, দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র চরম দলীয়করণের শিকার। ফলে বাংলাদেশে এখন অব্যবস্থাপনা চরমে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদ রুখে দিয়েছিলেন, দেশে ফ্রি মার্কেট ইকোনমি চালু করেছিলেন। যার ফলে বাংলাদেশ চরম দরিদ্র অবস্থা থেকে উঠে এসেছিল। আন্তর্জাতিক বন্ধু ও অংশীদাররা বাংলাদেশে প্রশ্নবিদ্ধ গণতন্ত্র চায় না। কারণ উপমহাদেশে পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল অধিকতর গণতন্ত্রের দিকে অগ্রসরমান। খালেদা জিয়ার জামিন পেতে কম সময় লাগুক বা বেশি সময় লাগুক, সেটি হয়তো বিবেচ্য বিষয় না। বিবেচ্য বিষয় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন কি না। বিএনপি সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, খালেদা জিয়াকে ছাড়া তারা আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবে না। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য ১০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। বিশ্বস্ত সূত্র বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে জানিয়েছে, ‘শেখ হাসিনা সরকার যদি বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে রাজি না হয়, তাহলে ভারত যেন বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে সহায়তা থেকে বিরত থাকে।’ আবার অনেকেই এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, সরকার যদি অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা না করে ‘মাইনাস ওয়ান’ ফর্মুলা নিয়ে এগিয়েই যেতে থাকে, তবে তা ফের ‘মাইসাস টু’-তে পর্যবসিত হতে পারে।
লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক
rezwansiddiqui@yahoo.com

শ্রীলঙ্কা কেন মিয়ানমারের পথে? by মীযানুল করীম

‘সিন্ধুর টিপ সিংহল দ্বীপ’ বলে গেছেন যিনি, সেই কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বর্তমান শ্রীলঙ্কার সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে ‘টিপ’-এর উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের পর এখন উগ্র ও সহিংস সাম্প্রদায়িকতা সেই ‘টিপ’কে কলঙ্কের চিহ্নে পর্যবসিত করেছে। এ উপমহাদেশের পূর্ববর্তী মিয়ানমার আর দক্ষিণ প্রান্তের লঙ্কাভূমিতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলমান সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের মধ্যে বিরাট মিল রয়েছে। শ্রীলঙ্কা সরকার এযাবৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ তথা শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বারবার হামলা ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে সে দেশের মুসলমানেরা নিজেদের আর নিরাপদ বোধ করতে পারবেন বলে মনে হয় না। দৃশ্যত এটা বৌদ্ধ-মুসলিম বিরোধ হলেও এর পেছনে জাতীয়তাবাদের নামে চরম বিদ্বেষ এবং সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের অগণতান্ত্রিক ও অসহিষ্ণু মানসিকতা সক্রিয়। শ্রীলঙ্কার মোট ভূখণ্ডের পরিমাণ বাংলাদেশের অর্ধেকেরও কম- ৬৫ হাজার ৬০০ বর্গকিলোমিটার। লোকসংখ্যা এক কোটি ৯০ লাখের মতো। ১৯৪৮ সালের প্রথম দিকে শ্রীলঙ্কা আমাদের মতো ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়। দেশটির উত্তর ও পূর্ব প্রদেশে সংখ্যালঘু তামিলদের বসবাস। জাফনা ও ত্রিঙ্কোমালি যথাক্রমে এ দু’টি প্রদেশের রাজধানী। ২০০৯ সালে সমাপ্ত, সিকি শতাব্দীর গৃহযুদ্ধকালে তামিল গেরিলাদের দুর্ধর্ষ সংগঠন এলটিটিইর সাথে সরকারি বাহিনীর অবিরাম সঙ্ঘাতের কারণে শ্রীলঙ্কার নাম প্রতিদিন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় উচ্চারিত হতো। গৃহযুদ্ধজনিত অপরিমেয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার প্রথম প্রয়াসের মাঝেই মুসলিমবিরোধী সহিংসতার ঘটনা শ্রীলঙ্কার শুভাকাক্সক্ষীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এবার মার্চের প্রথম সপ্তাহে বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনার জের ধরে গুজব ছড়িয়ে শ্রীলঙ্কার সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর চড়াও হয়। প্রশাসনের দৃশ্যত নিরপেক্ষতা ও কঠোরতা সত্ত্বেও দাঙ্গাবাজ দুর্বৃত্তদের দমানো যাচ্ছে না। এর একটা কারণ, জাতীয়তাবাদের নামে সাম্প্রদায়িক উগ্রতা এবং আরেক কারণ, সমাজে প্রভাবশালী শ্রেণী হিসেবে ভিক্ষুদের একাংশের ধর্মের নামে সন্ত্রাসে উসকানি। ‘অহিংসার পূজারী’দের এহেন সহিংস মনোভাব ও তৎপরতা দেখে বিশ্ববিবেক হতভম্ব। লক্ষ করার বিষয়, ভারত ও মিয়ানমারের মতো শ্রীলঙ্কাতেও একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী কথিত জাতীয়তাবাদকে তাদের বীভৎস সাম্প্রদায়িক চেহারা লুকানোর মুখোশ হিসেবে ব্যবহারের ব্যর্থ চেষ্টা করছে। একই সাথে, এটা গণতন্ত্র, মানবতা, ন্যায়নীতি ও সভ্যতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। Majority বা সংখ্যাগরিষ্ঠ দল, ধর্ম, ভাষা, বর্ণের মানুষ যখন Minority বা সংখ্যালঘিষ্ঠদের প্রতি Brute বা বর্বর হয়ে ওঠে, তখন সেটা গণতন্ত্রের চেতনাকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দেয়। অথচ এসব দেশের সরকার ও নেতারা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সাম্য ও প্রগতির বুলি আওড়াতে পারঙ্গম। এবারে শ্রীলঙ্কায় মুসলিমবিরোধী সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কেন্দ্র ছিল সুপরিচিত কান্ডি শহর। দেশটির মধ্যাঞ্চল প্রদেশের রাজধানী এই কান্ডি। গত ৫ মার্চ থেকে চার দিন ধরে কান্ডিতে মুসলিমদের বাড়িঘর ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে উগ্রপন্থীরা হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছে। ৯ মার্চ সারা দেশে জুমার জামাতের সময় মসজিদের বাইরে সেনা ও পুলিশ পাহারা ছিল। তবে এ দিনেও বহু স্থানে সাম্প্রদায়িক বৌদ্ধরা সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর হামলা চালায়। এবার সহিংসতায় তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে। হামলার প্রতিবাদে মুসলিম নাগরিকেরা তাদের দোকানপাট খোলেননি। কান্ডির বেশির ভাগ মসজিদ ভস্মীভূত বা লণ্ডভণ্ড করায় মুসল্লিরা খোলা জায়গায় জুমার নামাজ আদায় করেন। হামলার মূল উসকানিদাতাসহ ১৪০ জন আটক হওয়ার খবর জানানো হয়েছে। শ্রীলঙ্কার সাথে আমাদের বাংলাদেশের নানা দিক দিয়ে সম্পর্ক বিদ্যমান অনেক আগে থেকেই। শুধু আজকের ক্রিকেট টুর্নামেন্টই নয়, উপমহাদেশের ভৌগোলিক সংলগ্নতা তো আছেই। কথিত আছে, অতীতে বাঙালি রাজকুমার বিজয় সিংহ সে দেশ জয় করে সেখানকার রাজকন্যাকে বিয়ে করেছিলেন এবং তার নামেই দেশটির নাম হলো ‘সিংহল।’
ডাচ্, ওলন্দাজ ও ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল পেয়ারা আকৃতির সিংহল। ইংরেজিতে বলা হতো Ceylon. সিলোন টি স্বাদে-গন্ধে বিশ্বখ্যাত। সম্ভবত আশির দশকে সে দেশের নতুন নাম হয় ‘শ্রীলঙ্কা’। রামায়ণের রাক্ষসরাজ রাবণের লঙ্কাপুরীই বর্তমান শ্রীলঙ্কা। ইসলামধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, বেহেশত থেকে আদিপিতা হজরত আদম আ: ও বিবি হাওয়া আ:কে আল্লাহ পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। আদম আ: সরন্দ্বীপ (বর্তমান শ্রীলঙ্কা) আর হাওয়া আবিসিনিয়ায় (বর্তমান ইথিওপিয়া) প্রেরিত হন। তারা পরস্পরের সাক্ষাৎ পান আরবের জেদ্দায়। আজো শ্রীলঙ্কায় রয়েছে Adam's Peak বা আদমশৃঙ্গ। এটা মুসলিম, বৌদ্ধ ও হিন্দু- তিন সম্প্রদায়ের কাছেই পবিত্র তীর্থস্থান। এখানে নাকি আদম আ:-এর দীর্ঘ কদম মোবারক, অর্থাৎ পায়ের ছাপ সংরক্ষিত রয়েছে। প্রতিদিন বহু মানুষ অনেক সিঁড়ি ভেঙে পাহাড় শীর্ষের এই তীর্থদর্শনে আসেন।শ্রীলঙ্কার ৭০ শতাংশের মতো বৌদ্ধ, যারা সিনহালা বা সিংহলী ভাষায় কথা বলেন। ১৫ শতাংশের মতো হিন্দু, যাদের ভাষা তামিল। ১০ শতাংশ মুসলিম যারা তামিলভাষী হলেও ভাষাগত পরিচয় ‘তামিল’-এর বদলে তারা ধর্মীয় পরিচয় ‘মুসলমান’ হিসেবে পরিচিত। জনসংখ্যার বাকিরা খ্রিষ্টান। অতীতে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল ও ব্রিটেনের উপনিবেশবাদীদের অধীনে থাকায় শ্রীলঙ্কায় আজো মানুষের নামকরণসহ সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে খ্রিষ্টানদের প্রভাব রয়ে গেছে। শ্রীলঙ্কার নিকটতম ভারতীয় রাজ্য বা প্রদেশ হলো তামিলনাড়ু। ২৬ বছরব্যাপী (১৯৮৩-২০০৯) রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পাদপীঠ যে উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ, এটা ভারতের তামিলনাড়ুর কাছেই। এ দুই দেশের মাঝে পক প্রণালী এবং এর মধ্যে কয়েকটি  ক্ষুদ্র দ্বীপ প্রায় সারি বেঁধে অবস্থিত। দেখে মনে হবে, এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়ার জন্য অতীতে অতিকায় কোনো মানব এগুলোর ওপর পা ফেলে জলভাগ অতিক্রম করেছেন। এটাকে Adam's Bridge (আদমের সেতু) বলা হয়ে থাকে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার তামিলরা একই জনগোষ্ঠীর লোক। বিগত শতাব্দীর আশির দশকে ভারতের পাঠানো সৈন্যরা শ্রীলঙ্কার তামিল বিদ্রোহীদের দমনে কলম্বো সরকারকে সহায়তা করেছিল। এতে যে ভারতীয় তামিলরাও সাঙ্ঘাতিক ক্ষুব্ধ হয়েছিল, তামিলনাড়ু প্রদেশে এক জনসভায় আত্মঘাতীা হামলায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর মৃত্যু তারই প্রমাণ। শ্রীলঙ্কার মুসলমানেরা শত শত বছর আগে থেকেই সে দেশের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে শিক্ষিত ও বিত্তবান মানুষের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু তারা বিভিন্ন সময় বৈষম্য, সন্ত্রাস ও অপপ্রচারের শিকার এবং বারবার নিরাপত্তাহীনতা তাদের গ্রাস করার উপক্রম হয়। ‘শ্রীলঙ্কান মুসলিম কংগ্রেস’ একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক সংগঠন। নিকট অতীতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এ সি এস হামিদ (শাহুল হামিদ) ছিলেন বিশ্বে সুপরিচিত। ১৯৬৯-৭০ সালের দিকে তদানীন্তন পাকিস্তানে শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার ছিলেন বুদ্ধিজীবীতুল্য ব্যক্তিত্ব স্যার রাজেক ফরিদ। এই কবি মানুষটির নাম তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বা বর্তমান বাংলাদেশেও পরিচিত ছিল। বাংলাদেশ আমলে ঢাকার আবাহনী ক্লাবে ফুটবল খেলেছেন শ্রীলঙ্কার পাকির আলী। ঢাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় কোনো কোনো বছর শ্রীলঙ্কার মুসলিম ব্যবসায়ীদের স্টল চোখে পড়ে। এখন নিদাহাস ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হচ্ছে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে। এতে বাংলাদেশও অংশ নিচ্ছে। কে এই প্রেমাদাসা? তিনি হলেন শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রানাসিংহে প্রেমাদাসা। বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরে এসেছিলেন মৃত্যুর কিছু দিন আগে। সরল মানুষটির সাদাসিধে জীবন যাপন ছিল লক্ষণীয়। নব্বইয়ের দশকে ঢাকায় সফরে এসে উঠেছিলেন হোটেল শেরাটনে। হঠাৎ এক ফাঁকে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল এড়িয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েন রাজপথে। দেখা গেল, রাস্তায় মুচিকে দিয়ে জুতা সেলাই করাচ্ছেন সাধারণ মানুষের মতো। ঘটনাটি মিডিয়ায় আলোড়ন তুলেছিল। কলম্বোতে মে দিবসের র‌্যালিতে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দেয়ার সময় প্রকাশ্যে ঘাতকের গুলিতে তিনি নিহত হয়েছিলেন। প্রেমাদাসার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান বিটিভিতে (তখন এ দেশে এটাই একমাত্র টিভি চ্যানেল) সরাসরি প্রচার করা হয়েছিল। সেখানে বৌদ্ধভিক্ষু ত্রিপিটক থেকে, হিন্দু পুরোহিত গীতা থেকে এবং মুসলিম আলেম কুরআন শরীফ থেকে পাঠ করেছেন। শ্রীলঙ্কার হিন্দু ও মুসলিমের ভাষাগত অভিন্নতা সে অনুষ্ঠানেও ছিল লক্ষ করার বিষয়। আজ যারা মুসলিম নিধন, বিতাড়ন কিংবা নির্যাতনে উন্মত্ত, তারা কি সে অনুষ্ঠানের কথা জানে না? প্রেমাদাসার মতো, মানুষের জন্য প্রেমপ্রীতি যদি ভিক্ষুদেরও না থাকে, তারা কিভাবে নিজেদের দাবি করবেন মহামতি বুদ্ধের অহিংস বাণীর অনুসারী হিসেবে? লঙ্কান মুসলমানেরা সে দেশের শুধু বৈধ বাসিন্দা ও পূর্ণ নাগরিকই নন, তারা বারবার চরম ত্যাগের মধ্য দিয়ে প্রমাণ রেখেছেন দেশপ্রেমের। স্বদেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য; শ্রীলঙ্কা রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নতি ও শান্তির জন্য তাদের প্রয়াস ও দায়িত্ববোধ অন্যদের চেয়ে বিন্দুমাত্রও কম নয়। গৃহযুদ্ধের সময় তারা দেশের অখণ্ডতা ও জাতির সংহতির প্রশ্নে যথাযথ ভূমিকা রাখায় একই ভাষী তামিল বিদ্রোহীদের টার্গেট হয়েছেন। অপর দিকে, সরকার তাদের ব্যবহার করতে চেয়েছে নিজের স্বার্থে। এ অবস্থায় উভয় পক্ষের হাতে মুসলমানেরা চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়েছেন। তাদের অনেককে প্রাণ পর্যন্ত দিতে হয়েছে। এখন সবিশেষ উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের হেতু হলো, মিয়ানমারের উগ্রভিক্ষুদের মুসলিমবিদ্বেষের সাথে শ্রীলঙ্কার উগ্রভিক্ষুদের সাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তির মিল তো আছেই; তদুপরি, এ দুয়ের মাঝে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরস্পরকে মদদদানের খবরও এসেছে। মিয়ানমারে যেমন ধর্মান্ধ বৌদ্ধদের সংগঠন ‘মা বা থা’, তেমনি শ্রীলঙ্কায় ‘বুদুবালা’ নামে কট্টর বৌদ্ধরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে নেমেছে মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে। মুসলিমবিরোধী প্রপাগান্ডা ও দাঙ্গা শ্রীলঙ্কার জাতিগত সঙ্কট বাড়িয়ে দেবে এবং জাতীয় সংহতিকে করবে আরো দুর্বল। এমনিতেই গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ৯ বছর পার হলেও জাতির মাঝে অনাস্থা ও বিভাজন দূর হয়নি। তামিল জনগোষ্ঠী আজো নিজেদের বঞ্চিত মনে করছে। অপর দিকে, শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধ অধ্যুষিত সরকার মানবাধিকারের মারাত্মক লঙ্ঘনের দায়ে আন্তর্জাতিকভাবে অভিযুক্ত। স্মর্তব্য, গৌতম বুদ্ধের কথিত অনুসারী, গেরুয়া বসনধারী কিছু ভিক্ষু আজ যেমন তাদের ধর্মের গায়ে কালিমা লেপন করছে, তেমনি ১৯৫৯ সালে তাদেরই ্একজন শ্রীলঙ্কার বিখ্যাত নেতা ও প্রধানমন্ত্রী সলোমন বন্দর নায়েককে গুলি করে হত্যার মাধ্যমে দেশটিকে কলঙ্কিত করেছিল। সলোমনের স্ত্রী শ্রীমাভো এবং তার পর, কন্যা চন্দ্রিকা দেশের শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন অনেক বছর। এখন চন্দ্রিকার ছেলে অনূঢ়া রাজনীতিতে সক্রিয়। শ্রীলঙ্কায় সর্বশেষ মুসলিমবিরোধী সহিংসতার কেন্দ্রস্থল হলো প্রাচীন নগরী কান্ডি। ক্রিকেট টেস্টের সুবাদেও শহরটির নাম বিশ্বে সুপরিচিত। কান্ডিতে অতীতেও মুসলমান সংখ্যালঘুরা হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। আশির দশকের প্রথম দিকে একবার মসজিদে হামলাসহ মুসলমানদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছিল। তখন সেখানকার এক মুসলিম যুবকের সাথে আমার কথা হয়েছিল চট্টগ্রামে। তিনি ব্যবসায়ী এবং ভালো ইংরেজি জানেন। মুসলিমবিরোধী সেই সহিংসতা প্রসঙ্গে তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তার কথা শুনে মনে হলো, তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গেলেন সম্ভাব্য ‘ঝামেলা’ থেকে বাঁচার জন্য। হয়তো জেনেশুনেও তিনি এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি ‘আবার না জানি, কোন বিপদ পড়ি’- এ কথা ভেবে। আসলে সংখ্যালঘুরা বারবার হয়রানি, হামলা বা হুমকির শিকার হলে এবং তা সত্ত্বেও প্রশাসন তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা না দিলে এক ধরনের হীনম্মন্যতা তৈরি হয় তাদের মাঝে। তখন তারা সাহস বা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন এবং বাস্তবতাকে এড়িয়ে যেতে চান। নব্বইয়ের দশকে সার্ক দেশগুলোতে পরিবেশ রক্ষায় বেসরকারি সংস্থার ভূমিকার ওপর কর্মশালায় অংশ নিয়েছিলাম। তখন শ্রীলঙ্কার সাংবাদিক মানেল তাম্পি (মহিলা) এবং মোহন সমরসেকারার সাথে আলাপ হয়েছে। সিলেনি ডেইলি নিউজ নামের ইংরেজি দৈনিকের সাংবাদিক মোহনকে সে দেশের মুসলমানদের অবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি শুধু বলেছিলেন, ‘শ্রীলঙ্কার মুসলিমদের অনেকেই ব্যবসায়ী ও বিত্তবান।’ তার এই খণ্ডিত জবাব থেকে প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝা যায় না। একই সাথে তিনি উগ্রসিংহলি জাতীয়তাবাদীদের সশস্ত্র তৎপরতার কথাও বলেছিলেন।

আফরিন নিয়ে যে কোনো সময় সুখবর দিতে পারব: এরদোগান

চারপাশ থেকে ঘিরে রাখা সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আফরিনে যে কোনো মুহূর্তে তুরস্কের সেনাবাহিনী ঢুকে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। মার্দিন প্রদেশে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পার্টির ষষ্ঠ বার্ষিক কংগ্রেসে শনিবার তিনি বলেন, আমরা আফরিনে প্রবেশ করতে প্রস্তুত। যে কোনো সময় আমরা এ ব্যাপারে সুখবর দিতে পারব। এরদোগান বলেন, অপারেশন অলিভ ব্রাঞ্চ শুরু হওয়ার পর সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি সন্ত্রাসীকে আফরিন থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এতে সন্ত্রাসীরা হয়তো আত্মসমর্পণ, নিহত কিংবা তাদের গ্রেফতারের মুখোমুখি হয়েছে। গেল ২০ জানুয়ারি থেকে আফরিন থেকে ওয়াইপিজি যোদ্ধাদের তাড়াতে তুরস্ক অপারেশন অলিভ ব্রাঞ্চ শুরু করে। এর পর থেকে দেশটি ২৬৪ স্থানকে মুক্ত করেছে।

ভালোবেসে মুসলিম হওয়ায় অপবাদ, অবশেষে হাদিয়ার জয়

ভারতের দক্ষিণী রাজ্য কেরালার ২৪ বছর বয়সী হিন্দু তরুণী অখিলা। মুসলিম যুবক সাফিন জাহানকে ভালোবাসতেন। তাকে বিয়ে করতে ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন অখিলা। মুসলিম হিসেবে নিজের নাম রাখেন হাদিয়া৷ কিন্তু মুসলিম যুবককে ভালোবাসা ও নিজের মুসলিম হওয়াটা হাদিয়ার জন্য সহজ ছিল না। তাকে জঙ্গিবাদের অপবাদ দেন নিজের বাবা। আর হাইকোর্টও বাবার পক্ষেই রায় দেন। এ অবস্থায় দুই বছরের এক অসম সাহসের লড়াইয়ে নামেন হাদিয়া। যাতে জয়ী হয়ে জঙ্গিবাদের অপবাদ থেকে নিজেকে এবং স্বামীকে শুধু মুক্তই করেননি, ব্যক্তিস্বাধীনতার লড়াইয়ে নজিরও তৈরি করেন। এ জন্য ভারতজুড়ে প্রশংসিত হয়েছেন হাদিয়া। জানা গেছে, হাদিয়া প্রথমে হাইকোর্টের ধারস্থ হন। এর পর জাতীয় তদন্ত এজেন্সিতে। শেষে সুপ্রিমকোর্ট৷ এ সময় অসহ্য মানসিক চাপ ও হেনস্তা সহ্য করতে হয়েছিল হাদিয়াকে৷ তার বাবার অভিযোগ ছিল- কথিত লাভ জেহাদের জেরে তার মেয়েকে ফুঁসলিয়ে মগজ ধোলাই করে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে৷ ইসলাম ধর্মগ্রহণে বাধ্য করা হয়েছে৷ এটি মুসলিম মৌলবাদী কিছু গোষ্ঠীর লাভ জেহাদের চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়৷ এভাবে হিন্দু মেয়েদের ধর্মান্তরিত করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধদীর্ণ দেশে পাচার করা হচ্ছে৷ এই অভিযোগের ভিত্তিতে কেরালা হাইকোর্ট হাদিয়ার বিয়েকে নিছক ধোঁকাবাজি বলে বাতিল করে দেন৷ হাদিয়াকে বাবার বাড়িতে থাকারও নির্দেশ দেন আদালত৷ যদিও হাদিয়া আদালতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন- তিনি সাফিনকে বিয়ে করেছেন স্বেচ্ছায়, চাপে পড়ে নয়৷ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে হাদিয়ার স্বামী সাফিন সুপ্রিমকোর্টে আপিল করেন৷ সুপ্রিমকোর্ট গত বছরের নভেম্বর মাসে কেরালা হাইকোর্টের রায় খারিজ করে হাদিয়াকে বাবার বাড়ির বন্দিদশা থেকে মুক্ত হওয়ার অনুমতি দেন। তবে তাকে স্বামীর বাড়ির পরিবর্তে হোমিওপ্যাথি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হোস্টেলে থেকে তার পড়াশোনা শেষ করার অনুমতি দেন৷ কিন্তু হাদিয়ার কাছে এ রায় সন্তোষজনক মনে হয়নি৷ তার দাবি প্রাপ্তবয়স্ক নারী হিসেবে তিনি কেন স্বামীর সঙ্গে থাকার অধিকার পাবেন না? এটি তার ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্ন৷ অবশেষে সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে গঠিত তিন বিচারকের বেঞ্চ রায় দেন- ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী হাদিয়ার বিয়ে সঙ্গত ও বৈধ৷ তাই স্বামীর সঙ্গে থাকার অধিকার হাদিয়ার আছে৷ এই রায়ে অসন্তুষ্ট পিতার প্রতিক্রিয়া, তিনি রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন৷
তার মেয়েকে তিনি মনে করেন তুলে দেওয়া হল এক সন্ত্রাসবাদীর হাতে৷ তিনি এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই এখনও চালিয়ে যাবেন, জাতীয় তদন্তকারী এজেন্সি-এনআইএকে দিয়ে বিশদ তদন্তের দাবি জানাবেন৷ হাদিয়ার আইনি লড়াই সম্পর্কে গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা সংস্থার জেনারেল সেক্রেটারি ধীরাজ সেনগুপ্ত বলেন, এটি সারা দেশে সাড়া জাগানো একটি মামলা৷ যদিও শেষমেষ সর্বোচ্চ আদালত হাদিয়ার বিয়েকে স্বীকৃতি দিয়েছেন৷ এটিকে ধর্মনিরপেক্ষতার নজির বলে ধরা যেতে পারে৷ তিনি বলেন, তবে প্রশ্ন উঠেছে- একই আইন একটি হাইকোর্ট, যেটিকে তো কম বলা যাবে না- সেই বিয়েটি মানল না কেন? আলোচনার সূচিতে প্রায় উঠে আসছে বিচার বিভাগে সাম্প্রদায়িকতার ছায়া পড়ছে কিনা৷ প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে৷ শুধু তাই নয়, আঙুল উঠছে বিচার বিভাগের ওপর সরকারের প্রভাব খাটানোর দিকে৷ তাই বিচার বিভাগের স্বাধীনতাও অনেকটা প্রশ্নচিহ্নের মুখে৷ তাই হাদিয়ার কেসটা অনেক দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ৷ ধীরাজ সেনগুপ্ত বলেন, এ রকম আরও অনেক কেস আছে৷ যেমন রাজস্থানে যদি উঁচু জাতের পুরুষ নিচু জাতের কোনো নারীকে ধর্ষণ করে, তা হলে সেটি ধর্ষণ বলে বিবেচিত হবে না৷ সুপ্রিমকোর্টের রায় হাদিয়ার পক্ষে গেলেও বিচার বিভাগের রাজনীতিকরণ হচ্ছে, হিন্দুত্ববাদের ছাপ পড়ছে, যেটি যথেষ্ট চিন্তার কারণ৷ অন্যদিকে হাদিয়া মর্যাদাহানি ও দীর্ঘ দুই বছর ধরে মানসিক ধকল এবং হয়রানির জন্য কেরালা সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন৷ তিনি বলেন, আমার জীবন থেকে অতিমূল্যবান দুটি বছর খোয়া গেছে৷ বাবার কাছে সে ক্ষতিপূরণ চাইনি৷ কারণ তার ধারণা, তার বাবা-মাকে কিছু কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে তাদের ওপর প্রভাব খাটিয়েছিল৷ হাদিয়ার স্বামী সাফিন জাহান বলেন, সুপ্রিমকোর্টের রায়ের প্রভাব থিতিয়ে যাওয়ার পর তিনি হাদিয়ার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করবেন৷ কারণ ইসলাম গুরুজনদের শ্রদ্ধা করতে শেখায়৷ সূত্র: ডয়েচে ভেলে।

সিরিয়ায় একই সুচ-ব্যান্ডেজ বারবার!

সিরিয়ায় যুদ্ধে হতাহতদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সেখানকার ডাক্তাররা। চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে একই সুচ-ব্যান্ডেজ ব্যবহার করতে হচ্ছে তাদের। একমাত্র রক্ত বন্ধ করা ছাড়া গুরুতর আহতদের অন্য কোনো চিকিৎসা দিতে পারছেন না তারা। চিকিৎসার অভাবে ডাক্তারদের চোখের সামনেই মারা যাচ্ছেন হতাহত রোগীরা। ৫০ বছর বয়সী ট্রমার ডাক্তার হামিদ বলেন, মারাত্মকভাবে আহত বহু শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এদের বেশিরভাগই মারা গেছে মাথা, বুক বা পেটে মারাÍক জখমের কারণে। তাদের ৭ অথবা ১৪ দিনের নিবিড় চিকিৎসার দরকার ছিল। লন্ডনের মতো শহরে হলে তাদের অনেককেই বাঁচানো যেত। কিন্তু ঘৌটায় আমরা কিছুই করতে পারছি না। শুধু রক্তটুকু বন্ধ করে ছাড়তে হচ্ছে। কোনো চিকিৎসা ছাড়াই আমাদের চোখের সামনে মারা যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, আমরা একই সুচ-ব্যান্ডেজ বারবার ব্যবহার করছি। আহতদের ক্ষতস্থানে ইনফেকশন হয়ে যাচ্ছে। তাদের ব্যান্ডেজ দরকার। কিন্তু একই ব্যান্ডেজ বারবার ব্যবহার করতে হচ্ছে।’ রাজধানী দামেস্কের উপকণ্ঠে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শেষ ঘাঁটি পূর্ব ঘৌটার নিয়ন্ত্রণ নিতে মাস খানেক আগে জোরালো অভিযান শুরু করে সরকারি বাহিনী। প্রেসিডেন্ট আসাদের বাহিনীর সঙ্গে সঙ্গে নির্বিচারে বিমান হামলা চালাচ্ছে রুশ বিমানবাহিনী। সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পাল্টা হামলা চালাচ্ছে বিদ্রোহীরা। গত এক মাসে অন্তত ১১০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও কয়েক হাজার। এদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। হাসপাতালগুলো গুরুতর আহত রোগীতে পরিপূর্ণ। তাদেরকে প্রাণে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন ডাক্তাররা।
তবে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ না থাকায় ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে তারা। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, পূর্ব ঘৌটার হাসপাতালগুলোয় গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম শেষ হয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সেখানে রেডক্রসের একটি গাড়িবহর ঢুকতে দেয়া হয়েছিল। বহরটিকে কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম নিতে দেয়া হয়নি। এর আগে অনেকদিন অপেক্ষার পর জাতিসংঘ ও রেডক্রসের ত্রাণ বহনকারী ৪৬টি গাড়ি অঞ্চলটিতে ঢুকতে দেয়া হয়। কিন্তু এসব ত্রাণের ৭০ শতাংশই সরকারি বাহিনী সরিয়ে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এসব ত্রাণের মধ্যে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ছিল। এদিকে সিরিয়ায় বিদ্রোহী বাহিনীর বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর যুদ্ধস্থল ছেড়ে পালাচ্ছেন লাখ লাখ নাগরিক। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার আফরিন ও পূর্ব ঘৌটা থেকে গত তিন দিনে পালিয়েছেন সাড়ে তিন লাখের বেশি সিরীয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে যাচ্ছেন তারা। দ্য সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত পূর্ব ঘৌটা থেকে পালিয়েছে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। আর আফরিন থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন দুই লক্ষাধিক মানুষ। পূর্ব ঘৌটায় যুদ্ধবিরতির জন্য আন্তর্জাতিক আহ্বানের পরও হামলা থামেনি। সিরিয়ার সরকারি বাহিনী এখন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর দিকে এগোচ্ছে। বিবিসি জানিয়েছে, শুক্রবার সরকার বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৬২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

ব্রিটেনে বাড়ছে মুসলিমবিদ্বেষ ও বৈষম্য, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

লন্ডনে ঠাণ্ডার তীব্রতা উপেক্ষা করে কয়েক হাজার মানুষ বর্ণবাদ ও উগ্রপন্থী আন্দোলনের বিরুদ্ধে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। শনিবার বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড সার্কাসের কাছে একত্রিত হয়ে বর্ণবাদ, ইসলাম ও ইহুদি বিদ্বেষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। তারা মিছিলসহকারে হোয়াইট হলের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। এ সময়ে তাদের হাতের ব্যানারে লেখা ছিল- অভিবাসী ও শরণার্থীদের এখানে স্বাগত ও বর্ণবাদী হামলা বন্ধ কর।-খবর আলজাজিরা। মিছিলে অংশ নেয়া আব্রাহাম খাওদারি বলেন, যুক্তরাজ্যজুড়ে বর্ণবাদ রয়েছে, যা ব্যাপক বৈচিত্র্যময় হওয়ার কারণে অনেক বেশি গোপনীয় অবস্থায় রয়েছে। যেটি অনেকটা অবচেতনে মানুষের মধ্যে কাজ করছে। ১৮ বছর বয়সী এই সিরীয় তরুণ বলেন, কখনও কখনও এটি অনেক নোংরাভাবে আমাদের সামনে এসে হাজির হয়। জাতীয়তাবাদ এখন সবার সামনে চলে এসেছে।
তারা এখন পার্লামেন্টে ও ক্ষমতায়। তার মতে, এতে বহু মানুষের বর্ণবাদী মুখোশ খুলে গেছে। তারা প্রকাশ্যে অন্যদের হামলা করছে। এটি ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে, যাতে আমরা সবাই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। মাসখানেক আগে মেট্রোপলিটন পুলিশের সন্ত্রাসবাদবিরোধী ইউনিটের সাবেক প্রধান মার্ক রাউলি বলেছেন, উগ্র ডানপন্থীরা দেশের জন্য সুসংগঠিত ও মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে উগ্রডানপন্থীদের হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, তাদের মোকাবেলায় সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তারাই এখন ক্ষমতায় রয়েছে। তাদের দমন করা যাবে না। কারণ পুঁজিবাদ ও উগ্রডানপন্থা হাতে হাত ধরে হাঁটছে। লেবার নেতা ক্লোড মোরেস বলেন, যুক্তরাজ্যে উগ্রপন্থীরা হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। এখানে মুসলিমবিরোধী জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। ইহুদি বিদ্বেষীদের সংখ্যাও বাড়ছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বর্ণবাদ ও বৈষম্য রোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছে।

আর্থিক দুর্নীতির দায়ে মরিশাসের রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ

আর্থিক দুর্নীতির দায়ে আফ্রিকার একমাত্র নারী রাষ্ট্রপ্রধান দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাসের প্রেসিডেন্ট আমিনা গারিব-ফাকিম পদত্যাগ করেছেন। শনিবার গারিবের আইনজীবী ইউসুফ মোহামেদ এক সংবাদ সম্মেলনে তার পদত্যাগের বিষয়টি জানান। শুক্রবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন।
সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ৫৮ বছর বয়সী গারিব-ফাকিম লন্ডনভিত্তিক প্ল্যানেট আর্থ সংস্থার একটি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে নিজের জন্য ২৭ হাজার ডলার খরচ করেছেন। এই সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা অ্যাঙ্গোলার ধনকুবের আলভারো সব্রিনহো প্রতারণার অভিযোগে সুইজারল্যান্ড ও পর্তুগাল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। তবে তিনি ওই অর্থ পরে ফেরত দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, লন্ডনভিত্তিক প্ল্যানেট আর্থ সংস্থাটি ২০১৫ সালে আফ্রিকায় বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ নেয়। এ কারণে ২০১৬ সালের মে মাসে সংস্থাটির পক্ষ থেকে ভ্রমণ ও প্রযুক্তিগত খাতে খরচ করার জন্য তাকে ওই ক্রেডিট কার্ডটি ইস্যু করা হয়েছিল।

মমতাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেখতে চান বিজেপি নেতা

ভারতের আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে চান সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা রাম জেঠমালানি। সম্প্রতি বিজেপি নেতা যশবন্ত সিনহা, শত্রুঘ্ন সিনহা ও অরুণ শৌরিকে লেখা এক চিঠিতে তিনি এ কথা জানান। ২০১৯ সালে মোদি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে কয়েক দিন আগে জেঠমালানির কাছে সাহায্য চান এই তিন বিক্ষুব্ধ নেতা। এর জবাবে মমতাকে প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চাওয়ার কথা বলেন বিখ্যাত আইনজীবী জেঠমালানি। দীর্ঘ চিঠিতে তিনি লেখেন, আমি রাজনীতি ও আইনি পেশা থেকে অবসর নিয়েছি। আমার মতে, কেন্দ্রে মোদি সরকারকে গদিচ্যুত করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই একমাত্র বিকল্প। বর্তমানে আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই লক্ষ্যে পৌঁছে দিতেই ময়দানে নেমেছি।
আর তাই এ মুহূর্তে আমার পক্ষে আপনাদের সঙ্গ দেয়া সম্ভব নয়। জেঠমালানি আরও লেখেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। মমতা জবাবে জানিয়েছেন, তিনি কেন্দ্রে বিজেপি সরকারকে উৎখাত করতে বদ্ধপরিকর। মমতাকে অত্যন্ত সাহসী নারী অভিহিত করে জেঠমালানি বলেন, লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমি তাকে সম্পূর্ণ সাহায্য করব। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জেঠমালিনির এই চিঠির খবর প্রকাশের পর পরই ভারতের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ২০১৩ সালে দলবিরোধী মন্তব্যের জন্য বিজেপি থেকে ছয় বছরের জন্য বহিষ্কৃত হন রাম জেঠমালানি। এর পর থেকেই নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে তার।

বিদেশে অর্থপাচারকারীর জমি দখল করলেন কৃষকরা

ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে বিদেশে অর্থপাচারের জন্য অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর ২৫০ একর জমি দখল করে নিয়ে তাতে চাষবাস শুরু করেছেন কৃষকরা। ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের আহমেদনগরে এমন ঘটনা ঘটেছে।
কৃষকরা পিএনবি দুর্নীতির জন্য প্রধান অভিযুক্ত হীরা ব্যবসায়ী নীরব মোদির জমি দখলে নিয়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, দুর্নীতিবাজ মোদি কারসাজি করে চাপের মুখে পানির দরে ওই জমি তাদের কাছ থেকে দখল করেছিলেন। আহমেদনগরে ওই ২৫০ একর জমি নিজেদের বলে দাবি করেছেন কৃষকরা। সংবাদ সংস্থা এএনআইকে এক কৃষক জানান, ‘নিজের প্রভাব খাটিয়ে জোর করে ওই জমি দখল করে নিয়েছিলেন নীরব মোদি। এই জমির মালিক আমরাই। ব্যাংক নীরব মোদিকে কোটি কোটি টাকা দিয়েছে। কিন্তু আমরা জমির জন্য ১০ হাজার টাকার বেশি পাইনি। এর প্রতিবাদেই আমরা ভূমি আন্দোলন শুরু করেছি।’ গত সপ্তাহে বামপন্থীদের ডাকে কৃষিঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন দাবিতে মহারাষ্ট্র বিধানসভা ঘেরাও করেন অন্তত ৫০ হাজার কৃষক। এতে চাপে পড়ে দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় বিজেপি সরকার। এবার কৃষকরা জোর করে তাদের হারানো জমি দখল করে নিলেন।

পাকিস্তানি গোলাবর্ষণে কাশ্মীরের একই পরিবারের ৫ সদস্য নিহত

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখার অপর পাশ থেকে পাকিস্তানি বাহিনীর ছোড়া গোলায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে ভারত। দেশটির পুলিশ জানায়, রোববারের ওই গোলাবর্ষণের জবাবে ভারতীয় সেনাবাহিনী যথাযথ ও ফলপ্রসূভাবে পাল্টা হামলা করেছে।
কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার বালাকোট সেক্টরে নিজ বাড়িতে গোলার আঘাতে মোহাম্মদ রমজান, তার স্ত্রী ও তিন পুত্র নিহত হয়েছেন। তার দুই কন্যা আহত হয়েছেন। গত মাসে কাশ্মীরের পুঞ্চ ও রাজৌরি জেলায় নিয়ন্ত্রণরেখার অপর পাশ থেকে ছোড়া পাকিস্তানি গোলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২২ বছর বয়সী এক ক্যাপ্টেনসহ চার সৈন্য নিহত হয়েছিলেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপপ্রধান সরথ চাঁদ বলেছেন, ভারত উপযুক্ত জবাব দেওয়া অব্যাহত রাখবে। ভারতের পদক্ষেপই তার পক্ষে কথা বলবে। গত সপ্তাহে ভারতের রাজ্যসভায় দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমন জানিয়েছেন, জানুয়ারিতে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পাকিস্তানি বাহিনীগুলো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ২০৯টি ঘটনা ঘটিয়েছে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম ১২ দিনে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা ১৪২টি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে সিগারেটের ছেঁকা

একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ে ঠিক করেছিল পরিবার। কিন্তু বিয়ে করতে রাজি হয়নি ওই ছাত্রী। একপর্যায়ে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে হবু বর। কিন্তু রাজি না হওয়ায় ওই ছাত্রীর গায়ে সিগারেটের ছেঁকা দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার কাকদ্বীপ শহরে এ ঘটনা ঘটেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, মাসখানেক আগে মিঠুন নামে এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয় ছাত্রীর। কিন্তু শুরু থেকেই বিয়েতে রাজি ছিল না ওই তরুণী। এক সপ্তাহ আগে মিঠুন ওই ছাত্রীর বাড়িতে এসে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। রাজি না হওয়ায় ছাত্রীর হাতে বেশ কয়েকবার জলন্ত সিগারেটের ছেঁকা দেয়। ছাত্রীর মা জানান, আমরা বিয়ে ঠিক করেছিলাম ওই ছেলের সঙ্গে। কিন্তু আমার মেয়েকে সিগারেটের ছেঁকা দিয়েছে তা জানতাম না। আমি ওই ছেলের শাস্তি চাইছি। ওর সঙ্গে আর মেয়ের বিয়ে দেব না। এদিকে হবু বরের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ তাকে খুঁজছে।

রোহিঙ্গা হত্যায় সু চির বিচার চান ব্রিটিশমন্ত্রী

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার চান যুক্তরাজ্যের এক মন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে যুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হলে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে বিচারই একমাত্র পথ। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দফতরের এশিয়া ও প্যাসিফিকবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড বৃহস্পতিবার হাউস অব কমন্সে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে হালনাগাদ প্রতিবেদন তুলে ধরেন। মার্ক ফিল্ড বলেন, মিয়ানমার আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম কোর্ট) স্বাক্ষরকারী দেশ নয়। ফলে দেশটিকে নিজে থেকেই আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার চাইতে হবে অথবা মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে তুলতে পারবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, স্বল্প মেয়াদে এর কোনোটিই হয়তো ঘটবে না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, যারা আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের দাবি নিয়ে কাজ করছে এবং অপরাধের আলামত ও প্রমাণ সংগ্রহ করছে, তাদের প্রতি সমর্থন বন্ধ করে দিতে হবে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সু চির বিচার দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার একদল আইনজীবী। এ দাবিতে শুক্রবার দেশটির আদালতে ‘প্রাইভেট প্রসিকিউশন এপ্লিকেশন’ দাখিল করেছেন তারা। দ্য গার্ডিয়ান বলছে, মেলবোর্নে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদন জমা দিয়েছে আইনজীবীদের দল। ওই মামলায় বলা হয়, রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা অতিমাত্রায় ও পর্যায়ক্রমিক অপরাধ চালিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতায় থেকে তা বন্ধে ব্যর্থ হয়েছেন সু চি।
এমনকি তিনি মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে নৃশংসতা চালানোর অনুমতি দিয়েছেন। এদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ‘খুবই উদ্বিগ্ন’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন ট্রাম্প প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট পরিস্থিতির উত্তরণে সাহায্য করতে আগ্রহী। তিনি এ বিষয়ের অগ্রগতি সম্পর্কে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টির সমাধানে ভারত ও সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আরও বলেন, ‘এই সংকটে আমি চীনের অসহযোগিতামূলক আচরণের বিষয়ে বাংলাদেশিদের হতাশার কথা শুনেছি। চীনের আচরণ ও যুক্তরাষ্ট্রের উদার মানবিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যে তারা অবশ্যই বৈপরীত্য দেখতে পাচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবেলা, চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হলেন ওয়াং সিশান

দ্বিতীয় মেয়াদে চীনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পেয়েছেন শি জিনপিং। এর পর তার ডান হাত বলে পরিচিত ওয়াং সিশানকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করা হয়েছে। বাণিজ্য ক্ষেত্রে ‘মার্কিন খবরদারি’ মোকাবেলা করতে ওয়াংকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
শনিবার সর্বসম্মতভাবে চীনের পার্লামেন্ট শি জিনপিংকে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেয়। এর পর শি এবং ওয়াং শপথ নেন। কমিউনিস্ট পার্টি শাসিত চীনে শির দ্বিতীয় দফার দায়িত্ব প্রত্যাশিতই ছিল। তবে আগ্রহ ছিল দুর্নীতি দমনে শির অন্যতম সঙ্গী ওয়াং ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান কিনা। গত বছরের অক্টোবরে ৬৯ বছর বয়সী ওয়াং কমিউনিস্ট পার্টির কাউন্সিল থেকে সরে দাঁড়ান। কিন্তু পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির সাত সদস্যের সঙ্গে তিনি এক টেবিলে আলোচনায় হাজির ছিলেন। এক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের মতে, ওয়াং শির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উপদেষ্টা। তিনি ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আসার পর এটি আরও স্পষ্ট হল। শি জিনপিং কঠোর হস্তে চীনা কঠোর কমিউনিস্ট পার্টির দুর্নীতি দমন করতে দলের অন্তত ১৫ লাখ সদস্যকে শাস্তি দিয়েছেন। এসব পদক্ষেপে তার সঙ্গী ছিলেন ওয়াং।

মুসলমানদের জন্য ঐতিহ্য ও প্রথা জলাঞ্জলি দিতে পারব না: জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেলকে নতুন কট্টরপন্থী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হোর্সট সিহোফের বলেছেন, ইসলাম জার্মানির অংশ না। এর মধ্য দিয়ে চতুর্থবারের মতো চ্যান্সেলর হিসেবে শপথ নেয়ার দুদিনের মাথায় নতুন রাজনৈতিক ঝড়ের মোকাবেলা করতে হচ্ছে মেরকেলকে। দেশটির বহুলপ্রচারিত ট্যাবলয়েড বিল্ডকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সিহোফেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ইউরোপের শীর্ষ অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে গত কয়েক দশক ধরে মুসলিম অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ঢল দেখা গেছে। এর পরও কি ইসলাম জার্মান জাতি গঠনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়নি? জবাবে ক্রিস্টান সোশ্যাল ইউনিয়ন পার্টির (সিএসইউ) এ নেতা বলেন, নাহ! ইসলাম জার্মানির অংশ হতে পারে না। জার্মান জাতির গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে খ্রিস্টান ধর্ম মিশে আছে। সাংস্কৃতিকভাবে আমরা খ্রিস্টান ধর্মকেই অনুসরণ ও অবলম্বন করছি।
তিনি বলেন, যেসব মুসলিম আমাদের সঙ্গে বসবাস করছেন, তারা প্রাকৃতিকভাবে জার্মানির অংশ। তাই বলে আমাদের ঐতিহ্য ও প্রথাকে তাদের জন্য জলাঞ্জলি দিতে পারব না। তবে মেরকেল পরে তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, মুসলমানরা জার্মানির অংশ। তাদের ধর্ম ইসলামও জার্মানির অংশ। জার্মান চ্যান্সেলর যখন এই কথা বলছেন, তখন তার পাশে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টেফার লোভবান ছিলেন। মেরকেলের এই মন্তব্যের পরও উগ্রডানপন্থীদের সঙ্গে তার মহাজোটের ভেতর সুস্পষ্ট বিভাজন দেখা গেছে। জার্মানির অধিকাংশ মুসলিম তুরস্কের বংশোদ্ভূত। ষাট ও সত্তরের দশকে তাদের পূর্বপুরুষরা তুরস্ক থেকে অতিথি শ্রমিক হিসেবে গিয়েছিলেন।

রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শুরু, পুতিন এগিয়ে

রাশিয়ার পূর্বপ্রান্তের দুটি ফেডারেল অঞ্চলে ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে রোববার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় দূরপ্রাচ্যের কামচাতকা অঞ্চলের পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত চুকোতকা অঞ্চলে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এবারের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাত প্রার্থী লড়াই করছেন। এসব প্রার্থী হলেন- পাওয়েল গ্রোদিনিন, ভ্লাদিমির ঝিরিনোভোস্কি, সের্গেই ব্যাবুরিন, গ্রেগরি ইউলিনেস্কি, বরিস তিতোভ, ম্যাক্সিম সেরিকিন ও নারী প্রার্থী কিসনিয়া সাবচাক।-খবর পারস টুডের। সর্বশেষ জনমত জরিপে দেখা গেছে, এ নির্বাচনে ভ্লাদিমির পুতিনের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। রাশিয়ার নির্বাচন পরিচালনাবিষয়ক কেন্দ্রীয় কমিটি শনিবার ঘোষণা করেছে, ৩০ হাজার পর্যবেক্ষক সারা দেশে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন।
২০০০ সালে প্রথম প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, একজন রাজনীতিবিদ ছয় বছরের জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। অবশ্য ২০০৮ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের এই মেয়াদ ছিল মাত্র চার বছর। কিন্তু ওই বছর সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের শাসনামলে প্রেসিডেন্টের মেয়াদকাল চার বছর থেকে বাড়িয়ে ছয় বছর করা হয়। এ ছাড়া একজন প্রেসিডেন্ট পর পর দুই দফার বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারেন না। প্রেসিডেন্ট পুতিন ২০০০ সালে প্রথমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। টানা দুবারে আট বছর এই দায়িত্ব পালনের পর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি তিনি। ওই বছর দিমিত্রি মেদভেদেভ রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পুতিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর পর ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবার পুতিন প্রার্থী হন এবং জয়লাভ করেন।

রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ গণহত্যা, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে ভয়াবহ গণহত্যা ও নির্যাতন চালানো হয়েছে, তাকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা বলে চালিয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি শনিবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সন্ত্রাসবিরোধী সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন। আসিয়ান জোটের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। নাজিব রাজাক বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশা গোটা অঞ্চলকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। মালয়েশিয়া এ সংকটের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে সাহায্য করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধরা দেশটির রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নতুন করে ভয়াবহ গণহত্যা শুরু করে। এতে এ পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি হতভাগ্য রোহিঙ্গা নিহত ও অপর অন্তত আট হাজার লোক আহত হয়েছেন। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে অন্তত সাত লাখ রোহিঙ্গা পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে ২০১২ সালে একবার রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ভয়াবহ দমন অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। জাতিসংঘ মিয়ানমার সরকারকে সে দেশের রাখাইন প্রদেশে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেছে। রাখাইন প্রদেশের বিতাড়িত রোহিঙ্গা মুসলমানদের বসতবাড়িতে বর্তমানে বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে বলে সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে।

নির্বাচন নিয়ে পুতিনের চিন্তা নেই

রুশ জনগণ আজ রোববার তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ভোট দিচ্ছেন। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিনসহ আরও সাতজন প্রার্থী এ নির্বাচনে লড়ছেন। নির্বাচন সামনে রেখে কয়েক মাস আগেও অন্যান্য প্রার্থী দৌড়ঝাঁপ শুরু করলেও পুতিনের ক্ষেত্রে সেরকম কোনো কিছু দেখা যায়নি। জোরালো কোনো নির্বাচনী প্রচারণা চালাননি তিনি। নির্বাচনে অন্যসব প্রার্থী যেমন নির্বাচনী ইসতেহার দিয়েছেন, তেমন কোনো ইসতেহার দেননি তিনি। এ ক্ষেত্রে তাকে ব্যতিক্রমী বলতেই হয়। আর নির্বাচন নিয়ে কেনইবা চিন্তা করবেন তিনি। গত ১৮ বছর ধরে একটানা ক্ষমতায় তিনি। আজকের নির্বাচনেও তার বিজয় অনেকটা নিশ্চিত বলতে হবে। এ জন্য সবরকম ব্যবস্থা করেই রেখেছেন তিনি। নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী সবই তার ইশারায় চলে। নির্বাচনের মাঠে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ভোটার তাদের কাছেও ব্যাপক জনপ্রিয় তিনি। এক নির্বাচনী জরিপ মতে, প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন পুতিন। সোভিয়েত উত্তরকালে ১৯৯৯ সালে প্রথমবারের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত রাশিয়ার ক্ষমতায় আসেন পুতিন। রুশ সংবিধানে একটা দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট থাকার বিধান না থাকায় ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। নিজের রাজনৈতিক সহযোগী দিমিত্রি মেদভেদেভকে করেন প্রেসিডেন্ট। ২০১২ সালের নির্বাচনে পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। এভাবে প্রায় দুই দশক ধরে ক্ষমতায় তিনি। বিশাল এ সময় ধরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি পুতিন নিজেকে সোভিয়েত-পরবর্তী সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। রাশিয়ার জনগণ এখন তাকে একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবেই দেখে। তাদের চোখে তিনি এমন একজন নেতা যিনি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর বিশ্বদরবারে রাশিয়াকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আজকের নির্বাচনকে সামনে রেখে একটা স্লোগান নিয়েই পুতিন এগিয়েছেন। আর সেটা হচ্ছে, ‘একজন শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট, এক শক্তিশালী রাশিয়া।’
আলজাজিরা জানিয়েছে, এ নির্বাচনে আরও সাতজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়ছেন পুতিন। পুতিন নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশন তাদের নির্বাচনের অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে কট্টর জাতীয়তাবাদী ভ­াদিমির ঝিরিনোভস্কি এবং গ্রিগরি ইয়াভলিনস্কি এর আগেও পুতিনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। রয়েছেন সাবেক রিয়েলিটি শো উপস্থাপক সেনিয়া সবচাক। তবে তাদের কেউ ৮ শতাংশের বেশি ভোট পাবেন না বলে জরিপে বলা হয়েছে। নির্বাচনের কয়েক মাস আগে পুতিনের প্রধান বিরোধী হয়ে ওঠেন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের নেতা আলেক্সাই নালালনি। দুর্নীতির অভিযোগেই নির্বাচন থেকে তাকে দূরে রেখে নিজের জয়ের পথ নিরঙ্কুশ করেছেন পুতিন। প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সের্গেই বাবুরিন। কট্টর জাতীয়তাবাদী রাশিয়ান অল-পিপলস ইউনিয়নের প্রধান তিনি। রয়েছেন কমিউনিস্ট পার্টি অব দ্য রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রার্থী পাভেল গ্র“দিনিন, স্ট্যালিনপন্থী কমিউনিস্ট অব রাশিয়া পার্টির নেতা ম্যাক্সিম সুরাইকিন ও ধনকুবের ব্যবসায়ী বোরিস টিটোভ। তবে এদের কারো নিয়েই পুতিনের চিন্তার কোনো কারণ নেই। কারণ এ প্রার্থীদের কেউই ১ শতাংশের বেশি ভোট পাবেন না। তবে নির্বাচন নিয়ে পুতিনের কোনো চিন্তা না থাকলেও তার ব্যাপারে চিন্তিত গোটা বিশ্ব। কারণ একটানা ১৮ বছর রাশিয়া শাসন করছেন তিনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতোই আজীবন ক্ষমতায় থাকবেন পুতিন।

জাতীয় সম্পদ আত্মসাৎ করে কেউ টিকতে পারবে না -ড. কামাল হোসেন

সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জাতীয় সম্পদ আত্মসাৎ করে কেউ ক্ষমতায় টিকতে পারবে না। জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও পাচার করা হচ্ছে। অথচ পাচারের টাকা ফেরত আনতে আত্মসাৎকারীদের বিচারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আয়োজিত আইনজীবীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ড. কামাল হোসেন বলেন, জনগণের জন্য বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষরিত উপহার হলো বাহাত্তরের সংবিধান। ওই সংবিধানে জনগণকে দেশের মালিক করা হয়েছে। দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতিবাজরা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় মাস্তানদের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দিয়ে দুর্নীতিবাজদের পালাতে সুযোগ করে দেয়া ঠিক হবে না। দেশের মালিক জনগণ ঘরে নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকলে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু জনগণের জন্য রাজনীতি করেছেন। বঙ্গবন্ধুর নামে রাজনীতি করার নামে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করছে। এ সরকারের লুটপাটের জবাব চাইতে সবাইকে রাস্তায় নেমে আসতে হবে। দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় সব পেশার মানুষকে ঐক্যের শপথ নেয়ার আহ্বান জানান ড. কামাল হোসেন। ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ বলেন, দেশ চলছে ভোটারবিহীন দখলদারদের মাধ্যমে। এ সরকার লুটপাটের সরকার। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর মুক্তি ও স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে আইনজীবীদের ভূমিকা ছিল। বর্তমান সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সরকারের সমালোচনা করে গণফোরামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নের মহাসড়কের কথা বলে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে খাচ্ছে। ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে নারী নির্যাতন করছে। জনগণের আইনি অধিকার ও সুশাসন সুবিধা হরণ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বেচাকেনা করছে। এতে অনেক পেশার অনেকে দলদাসে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। জাতীয় আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহ্‌ মো. খসরুজ্জামানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, ফরোয়ার্ড পার্টির চেয়ারম্যান আ ব ম মোস্তফা আমিন, প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ সাকী, অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন, অ্যাডভোকেট মো. তারেক হোসেন প্রমুখ।

যুক্তরাজ্যের ২৩ কূটনীতিককে বহিষ্কার করল রাশিয়া

যুক্তরাজ্য কর্তৃক রাশিয়ার ২৩ কূটনীতিককে বহিষ্কারের প্রতিবাদে এবার দেশটির ২৩ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে রাশিয়া। সম্প্রতি রাশিয়ার সাবেক গোয়েন্দা সেরগেই স্ক্রিপল এবং তার মেয়ে য়ুলিয়ার ওপর বিষাক্ত গ্যাস (নার্ভ এজেন্ট) ব্যবহারের মাধ্যমে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২৩ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছিল যুক্তরাজ্য।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বহিষ্কৃত ব্রিটিশ কূটনীতিকদের রাশিয়া ছাড়তে হবে। খবর বিবিসির। এর আগে মস্কোতে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত লরি ব্রিস্টোকে শনিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করে। সাক্ষাতের পর লরিকে ২৩ ব্রিটিশ কূটনীতিককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দেয়া হয়। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, এই কূটনীতিকদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাশিয়া ছাড়তে হবে। কূটনীতিকদের বহিষ্কার ছাড়াও রাশিয়া আরও বেশ কিছু শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে এক্সপ্রেস ইউকে জানিয়েছে। এসবের মধ্যে রাশিয়ায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়াসহ সেন্ট পিটার্সবার্গে কনসুলেট খোলার জন্য ব্রিটেনকে দেয়া অনুমতিও প্রত্যাহার করতে পারে রাশিয়া।

রেস্তোরাঁয় বিনে পয়সায় খাবার!

রেস্তোরাঁয় ফ্রি অর্থাৎ বিনে পয়সায় খাবার! শুনেই চমকে উঠতে পারেন আপনি। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ডেইলিমেইলে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানের টোকিওতে মিরাই সোকুডো নামে রেস্তোরাঁ তাদের গ্রাহকদের জন্য আজব নিয়ম চালু করেছে। জানা গেছে, রেস্তোরাঁয় গ্রাহকদের জন্য বিনে পয়সায় খাবার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে তার বদলে গ্রাহকদের ৫০ মিনিট খাটতে হবে হোটেলের হয়ে! ২০১৬ সালে রেস্তোরাঁটি চালু করেন সেকাই কোবায়াশি নামে এক জাপানি। রেস্তোরাঁটিতে এখন পর্যন্ত ৫০০ জনকে বিনা পয়সায় খাবার দেয়ার চুক্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে খাবার খাওয়ার পর তাদের রেস্তোরাঁর বিভিন্ন কাজ যেমন- বাসন মেজে দেয়া থেকে অর্ডার নেয়া পর্যন্ত করতে হয়। মূলত গরিব গ্রাহকদের কথা ভেবেই এ ব্যবস্থা। রেস্তোরাঁটিতে মালিক সেকাই কোবায়াশিই একমাত্র স্থায়ী কর্মী। বাকি যারা রয়েছেন, তারা বিনে পয়সায় খাবার খাওয়া গ্রাহক।