Monday, July 12, 2010

বহুভাষাবিদ জাহাঙ্গীর তারেক by আবদুশ শাকুর

ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ সত্ত্বেও তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল আনুষ্ঠানিক—আমার সম্বোধন প্রফেসর, তাঁর সম্বোধন শাকুর সাহেব। হুট করে কোনো পছন্দমতো শব্দ মনে না পড়লেই ফোন করতাম: একটা জুতসই শব্দ বলুন তো প্রফেসর—daughter city? অমনি জবাব পেতাম: ‘দুহিতা-নগরী’। জিজ্ঞেস করতাম: vision? জবাব পেতাম: ‘ভাবদৃষ্টি’। তাঁর ফোন পেলাম: বাংলায় sub-atom-এর সুবিধেমতো বাংলা শব্দ কী হতে পারে শাকুর সাহেব? বললাম: ‘অবর পরমাণু’। শব্দ দুটিকে ক্ষণেক চেখে নিয়ে বললেন: ‘অবর’ শব্দটি সুবিধেমতো হলো কি? বললাম: না-হলে লিখুন ‘ঊনপরমাণু’। বললেন: ‘হ্যাঁ, এ শব্দটি স্বচ্ছ।’ মানে শোনামাত্রই পছন্দ এবং গৃহীত। ব্যাপারটার পাল্টাও হতো। যেমন আমার জিজ্ঞাসা ছিল: charged-এর সুবিধেমতো বাংলা শব্দ কী হতে পারে প্রফেসর? বললেন: ‘প্রভারিত’। বললাম: শব্দটি সুবিধেমতো হলো কি? বললেন: না হলে লিখুন ‘পরিপ্লুুত’। বললাম: ‘হ্যাঁ, এ শব্দটি স্বচ্ছ।’
এমনি উচ্চারণ ও বানানের ব্যাপারেও তিনি ছিলেন আমার মতো অনেকেরই জিজ্ঞাসার ঠিকানা। প্রফেসর, Catallus উচ্চারণ? ‘কাতাল্লুস’। ‘De Broglie-র বানান কীভাবে লেখেন আপনি?’ ‘দ্য ব্রয়’। ‘Cicero উচ্চারণ চিচেরোই তো?’ ‘না, কিকেরো। কারণ ল্যাটিন ভাষায় K-র জায়গায় C ব্যবহূত হয়।’ ‘Emile Durkheim বাংলায় কীভাবে লিখব?’ ‘এমিল দ্যুরক্যাঁ’। ‘Heraclitus-এর বাংলা উচ্চারণ কী?’ ‘এরাক্লিতুস’।
অনেক বছর ধরে তাঁর সঙ্গে এমনি লেনদেন চলত। তবে আমার লেনই বেশি চলত, দেন চলত ক্বচিত-কদাচিত। কারণ তাঁর পারদর্শিতা ছিল বিশ্বের ১৪টি ভাষায়—বেঙ্গলি, ইংলিশ, ফ্রেঞ্চ, জার্মান, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ, পর্তুগিজ, হিন্দি, উর্দু, অ্যারাবিক, পার্শিয়ান, সংস্কৃত, ল্যাটিন ও ডাচ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজেসের প্রফেসর জাহাঙ্গীর তারেক ১৯৪৩ সালের পয়লা জানুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলা সাহিত্যে এমএ পাস করেন ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, ফরাসি সাহিত্যে এবং ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স করেন সরবোন ইউনিভার্সিটি ও প্যারিস ইউনিভার্সিটি থেকে যথাক্রমে ১৯৭১ ও ১৯৭৩ সালে। তাঁর ইংরেজিতে মাস্টার্সের থিসিস ছিল কবিতার ক্রিটিক হিসেবে লাসেলেস এবারক্রম্বি। এরপর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন সরবোন ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৭৬ সালে। যত দূর মনে পড়ে, তাঁর ডক্টর‌্যাল ডিসার্টেশনের বিষয় ছিল ফরাসি ও ইংরেজি ভাষার রোমান্টিক পেরিয়ডের তুলনামূলক সাহিত্যবিচার। এরপর ফ্রান্সের ক্রেডিফে ১৯৮৪-১৯৮৫ সালে এক বছরের প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা প্রোগ্রাম সম্পূর্ণ করেন ‘টেকনিক্স অব মডার্ন এডুকেশন’ বিষয়ে। জুন ১৯৯১ থেকে নভেম্বর ১৯৯২ পর্যন্ত ডক্টর জাহাঙ্গীর তারেক রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করেন ইউনিভার্সিটি অব মিউনিকের আলেক্সান্দার ফন হুমবোল্ট ফাউন্ডেশনে।
বাংলা ভাষায় অনুবাদে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন তিনি। বাংলা একাডেমী প্রকাশ করেছে প্রফেসর তারেক অনূদিত শব্দার্থ-বিজ্ঞানের মূলসূত্র (প্রিন্সিপলস অব সিম্যান্টিক্স—স্টিফেন উলম্যান), গ্যুস্তাভ ফ্লোবেরের মাদাম বোভারি। এ ছাড়া তিনি অনুবাদ করেছেন কারিগরি বিদ্যার দিশারী (ট্রেইল ব্লেজার্স অব টেকনোলজি— হারল্যান্ড ম্যাঞ্চেস্টার), সামাজিক সংকটে বিজ্ঞানের ভূমিকা (ক্যান সায়েন্স সেভ আস?— জর্জ এ লুন্ডবার্গ)।
ডক্টর জাহাঙ্গীর তারেকের মৌলিক রচনা এবং গবেষণাপত্রও অনেক। বাংলা একাডেমী প্রকাশিত সিম্বলিস্ট লিটারেচার, নজরুল ইনস্টিটিউট প্রকাশিত কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানের ওপর ফ্রেঞ্চ এবং স্প্যানিশ ভাষায় বিভিন্ন রচনা। ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজেসের জার্নালে প্রকাশিত ‘বেসিক বাংলা ভোকাবুলারি’, বাংলা একাডেমী পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ম্যান’স স্টেট ইন দ্য প্লেজ অব কাম্যু’, ‘রোমান্টিসিজম অ্যান্ড কানশিয়ান ফিলসফি’, ‘দি থিয়োরি অব আর্ট অব ফ্রাঙ্কফুর্ট ফিলসফি’ ইত্যাদি। বাংলা একাডেমীর বহুল ব্যবহূত বেঙ্গলি-ইংলিশ ও ইংলিশ-বেঙ্গলি ডিকশনারি দুটিরও অন্যতম সম্পাদক ছিলেন প্রফেসর জাহাঙ্গীর তারেক। তিনি ‘সিডা’র লিগ্যাল রিফর্ম প্রকল্পাধীন ইংলিশ-বাংলা লিগ্যাল লেক্সিকনের ওপরও কাজ করে গেছেন ২০০৩ সালের জানুয়ারি থেকে।
ডক্টর তারেক ‘আন্তর্জাতিক নজরুলচর্চা কেন্দ্র’-এর জাতীয় কমিটির কো-চেয়ারম্যান এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট’-এর উপদেষ্টা ছিলেন।
ভাষা ও সাহিত্যজগতের এই বিরল পণ্ডিত এবং নীরব কর্মী ২৯ জুন ২০১০ মাত্র ৬৭ বছর বয়সে হূদযন্ত্রের ব্যর্থতাহেতু আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর স্ত্রী রাফিয়া তারেকও শিক্ষয়িত্রী। এক মেয়ে ও এক ছেলে ব্যাংকার, আরেক মেয়ে হংকং ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড কলেজের ছাত্রী।
বড় মেয়ে মৌনীর ওয়ার্কবুকে লেখা পিতার শেষ বাণীটি ছিল: ‘ট্রাই টু বি এ গুড হিউম্যান বিইং। অলওয়েজ বি কাইন্ড অ্যান্ড ইউজফুল টু আদার। রিমেমবার দ্যাট উই আর অল গেস্টস অব লাইফ। গেস্টস ডু নট ফাইট বাট হেলপ ইচ আদার। বি গুড, ডু গুড, অ্যান্ড থিংক গুড।’ ছোট মেয়ে সুনানের খাতায় লিখেছেন: ‘শান ইভিল অ্যাট এনি কস্ট, ফলো দি পাথ অব গুডনেস। অ্যাক্ট ওনলি টু প্লিজ গড। মেক বেস্ট ইউজ অব ওয়াটেভার গিফটস ইউ হ্যাভ রিসিভড ফ্রম দি ক্রিয়েটর।’ ছেলে তীথিকের প্রতি বাণীটি লেখা বাংলায়: তীথিকের দীপ্র দৃষ্টি থির বিদ্যুৎ রেখায় ঊর্ধ্ব পানে নিত্য যেন জ্বলে। নিবেদিতচিত্ত শিক্ষাব্রতীর এই উপদেশগুলি সম্ভবত তাঁর ছাত্রছাত্রীদের প্রতিও।

সব মানুষ গুনতে হবে, কিন্তু কার জন্য by ফরিদা আখতার

বাংলাদেশের জনসংখ্যা কত, এ তথ্য সবার কাছে ঠিকমতো আছে কি না, আমার ঘোরতর সন্দেহ হয়। মন্ত্রীদের বক্তব্যে ১৫ কোটি থেকে ১৬ কোটি হতে সময় লাগে না। এক দিন এদিক-ওদিক হলেই এক কোটি বেড়ে যায় বা কমে যায়। বিদেশি দাতা সংস্থাগুলোও একেক কথা বলে। কারও কথার সঙ্গে কারও কথার মিল নেই। সাধারণ মানুষ এসব কথার মধ্যে বিভ্রান্ত হয়ে থাকে। ১৫ কোটি হোক কি ১৬ কোটি, এই গুনতির মধ্যে তারা আছে কি না, সেটাই দেখার বিষয়।
যেদিন বিশ্বের জনসংখ্যা ৫০০ কোটিতে দাঁড়াল, সে তারিখ ছিল ১৯৮৭ সালের ১১ জুলাই। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এই দিনটিকে দ্য ডে অব ফাইভ বিলিয়ন হিসেবে পালন করেছিল। এরপর জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ১৯৮৯ সাল থেকে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে; জনসংখ্যা বৃদ্ধির ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য। এই হলো সহজভাবে দিবসটি পালনের কথা। বাংলাদেশেও আমরা ভালোই টের পাই।
এসব দিবস পালনের জন্য একটি রীতি দাঁড়িয়েছে, তা হচ্ছে, প্রতিপাদ্য বিষয় থাকা। সে অনুযায়ী এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে এভরিওয়ান কাউন্টস বা প্রত্যেকেই গণনার মধ্যে থাকবে। গণনা ছাড়া নিশ্চয়ই মানুষের সংখ্যা এত দিন জানা যায়নি, তবে এবার একটু বিস্তারিত জানার দিকে গুরুত্ব দিতে চাইছে জাতিসংঘ। নারী-পুরুষ ভাগ তো থাকবেই; তা ছাড়া জাতি, বর্ণ, ধনী, গরিব কত আছে, তা জানার প্রয়োজন আছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গৃহসংস্থান করতে হলে জানতে হবে কত মানুষ কী অবস্থায় আছে। অবশ্য আমি একটু অবাক হচ্ছি, এমন একটি বিষয়ের গুরুত্ব বুঝতে জাতিসংঘ এত দেরি কেন করল। তবে তারা এবার নির্ভরযোগ্য তথ্যের কথা বলছে। এর ফলে সঠিকভাবে জানা যাবে এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে কারা বাদ পড়ল। তাহলে এত দিনের তথ্য কি নির্ভরযোগ্য ছিল না?
এ বছর জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের উদ্যোগে ৬০টি দেশে ২০১০ সালের মানুষ গণনা বা আদমশুমারি করা হচ্ছে। আদমশুমারি করতে হলে ঘরে ঘরে গিয়ে একেবারে মাথা গোনা ছাড়া পথ নেই। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের এই উদ্যোগে বাংলাদেশ আছে কি না, জানা যায়নি। তবে গত ডিসেম্বর (২০০৯) মাসে জলবায়ু সম্মেলন চলাকালে অনেকটা তড়িঘড়ি করেই বাংলাদেশে অবস্থিত জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের কার্যালয় থেকে একটি জনসংখ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, যা কোনো আদমশুমারির মাধ্যমে হয়নি। এবং সেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে জনসংখ্যা বেশি হওয়ার বিষয়টি যুক্ত করে দিয়ে একধরনের দোষারোপের কাজই করা হয়েছে। এগুলো অতি পুরোনো কৌশল, এখন আর কাজ হয় না। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের এই দিনে আমরা বলতে পারি, বাংলাদেশে সবাইকে গণনা করা হয়নি। যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ করেই আমরা ১৬ কোটি!
বাংলাদেশের জনসংখ্যার অবস্থা হয়েছে ‘গরিবের বউ’ সবার ভাবির মতো। দেশি-বিদেশি সব সংগঠন এসে আমাদের মানুষ গুনে বসে। আমার জানামতে, ২০০১ সালে সর্বশেষ আদমশুমারি হয়েছে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের উদ্যোগে (সেটাও তাদের করার কথা নয়, এটা সরকারের কাজ)। তার প্রাথমিক ফলাফল দেওয়া হয়েছে ১৩ কোটি, কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফল জানা যায়নি। প্রশ্ন জাগে, এই ফলাফল কি তাদের মনঃপূত হয়নি? অন্য সংস্থার ফলাফল ১৩ কোটি ৩৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬৮৪ জন (২০০২) http://www.discoverybangladesh.com/ meetbangladesh/statistic.html।
বিশ্বব্যাংক ২০০৮ সালে হিসাব করে বলেছে, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ১২৮ (World Bank, World Development Indicators; Last updated June 16, 2010)। অর্থাৎ, ছয় বছরে তিন কোটিরও বেশি মানুষ বেড়েছে। এই একই সময়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি কিছুটা কমে গেলেও বন্ধ ছিল বলা যাবে না। জন্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও সাধারণ মানুষের পর্যায়ে অনেকটাই এসে গেছে। কাজেই এত বেশি বাড়ার কথা নয়। সারকথা হচ্ছে, কোনোরকম গণনা না করে যে কেউ আমাদের মানুষের সংখ্যা বলে দেবে, তা ঠিক কাজ বলে মনে হয় না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনসংখ্যা সম্পর্কে খবরদারি করার দায়িত্ব আরও একটি সংস্থা নিয়েছে, সেটা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএ। তারা দি ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক (ISSN 1553-8133) নামের প্রতিবেদনে তাদের তালিকাভুক্ত দেশের জনসংখ্যা, অর্থনীতি, সরকার ও সামরিক তথ্য নেয়। আমরা জানি না, তাদের খাতায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা কত।
যারা জনসংখ্যা নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, তারা হিসাব কষে দেখেছে, বিশ্বের জনসংখ্যা ২০০৯ সালে ছিল ৬.৮ বিলিয়ন এবং ২০৫০ সালের মধ্যে হবে ৯.১ বিলিয়ন। ভারতের জনসংখ্যা হবে ১.৭ বিলিয়ন আর চীনে ১.৪ বিলিয়ন, অর্থাৎ ভারতে চীন থেকে বেশি মানুষ হবে। আবার আফ্রিকাতেও জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে দুই বিলিয়নে। সর্বনাশ! যদিও বিশ্বে সার্বিকভাবে জন্মহার দম্পতি প্রতি ছয় সন্তান থেকে নেমে হয়েছে ২.১। ধনী দেশের জন্য জন্মহার কমছে, বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, আর গরিব দেশে কম বয়সী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে! স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে (৪৯টি দেশ) ৪০ শতাংশ মানুষের বয়স ১৫ বছরের কম, আর তার বিপরীতে ধনী দেশে বেশির ভাগ মানুষের বয়স ৬০ বছরের বেশি!
গরিব দেশে মানুষ বেশি বলেই যে তারা পৃথিবী ধ্বংসের জন্য দায়ী, তা বলা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংগঠন World Watch Institute তাদের State of the World 2010 প্রতিবেদনে বলেছে, ৫০০ মিলিয়ন ধনী মানুষ (৫০ কোটি, পৃথিবীর জনসংখ্যার মাত্র সাত শতাংশ) বিশ্বের ৫০ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনের জন্য দায়ী। অন্যদিকে গরিব তিন বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি মানুষ মাত্র ছয় শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন করে। এই তথ্যে কেউ চিন্তিত হয় না?
মানুষের সংখ্যা বেশি বলে বলপ্রয়োগকারী জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ১৯৬৫ সাল থেকে আমরা অনেক দেখেছি। এর ফল হয়েছে নারীর শরীরের ওপর অত্যাচার। চীনে ১৯৭৯ সাল থেকে এক সন্তান নীতি গ্রহণ করে ৪০ কোটি জন্ম রোধ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়, কিন্তু কিসের বিনিময়ে? গর্ভে থাকা অবস্থায় কন্যাসন্তান সম্পর্কে জানতে পারলেই গর্ভপাত ঘটানো হয়েছে। অর্থাৎ, মেয়েদের জন্মাতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে চীনে ২০ বছরের নিচের বয়সের পুরুষের সংখ্যা নারীর তুলনায় তিন কোটিরও বেশি। তারা বিয়ে করার জন্য মেয়ে পাচ্ছে না। ভারতেও একই ঘটনা ঘটছে। কন্যাভ্রূণ হত্যা এখন একটি বড় সমস্যা।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন জন্মনিয়ন্ত্রণপদ্ধতির ব্যবহার হয়েছে, কোনো প্রকার বাছ-বিচার ছাড়াই। দাতা বলেছে, সরকার বলেছে, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তাই বিদেশ থেকে আমদানি করা পদ্ধতি নারীর শরীরে প্রয়োগ হয়েছে। গরিব নারীদের ওপর চালানো হয়েছে গবেষণা। পরিণাম এখন উল্টো, বাংলাদেশে বন্ধ্যত্ব মোচনের সঙ্গে জড়িত ক্লিনিকগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে নারী ও পুরুষের মধ্যে বন্ধ্যত্ব বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে। এর কুফলও নারীকেই ভোগ করতে হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি বা টেস্ট টিউব বেবির নামে কিছু ডাক্তার বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন, সন্তানের মুখ দেখছে মাত্র ২০ শতাংশ দম্পতি। তারা একটি সন্তানের জন্য আসছে, জন্মাচ্ছে একসঙ্গে তিনটি বা চারটি। হাসপাতাল থেকে যাওয়ার পর কত টেস্ট টিউব শিশু বেঁচে থাকছে, তার খোঁজ কয়জন রাখে? এ বিষয়গুলো ঠিক হচ্ছে কি না, তা দেখার কোনো সংস্থা নেই।
আমি ইদানীং দেখছি, সরকারের কিছু প্রতিষ্ঠান এবং মন্ত্রী জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। দুটি সন্তান যথেষ্ট, একটি হলে আরও ভালো স্লোগান আবার দেখা যাচ্ছে। কিন্তু নারী ও গরিব মানুষকে জিম্মি করে কোনো কর্মসূচি এ দেশের মানুষ আর গ্রহণ করবে না—এ কথা যেন মনে থাকে।
ফরিদা আখতার: নারী আন্দোলনের নেত্রী।

দুই নম্বর থালাবাসন সমাচার by ইলিরা দেওয়ান

আমি যখন তোমাদের বিদ্যা দান করি, তখন তো আমাকে তোমরা বলো না যে আমি সাঁওতাল, আমার দেওয়া বিদ্যা নেবে না তোমাদের সন্তানেরা। অথচ আমি খেতে চাইলে বলছ, দুই নম্বর থালাবাসন নেই, খাবার দেওয়া যাবে না।’ এ কথাগুলো একজন স্কুলশিক্ষকের, যিনি জাতিতে সাঁওতাল। ৪ জুলাই প্রথম আলোর পাতায় চোখ বোলাতে গিয়ে থমকে গেলাম। একজন স্কুলশিক্ষকের সন্তান হিসেবে আমার বাবাকে যখন এই শিক্ষকের আসনে কল্পনা করলাম, তখন মনে হলো। বারবার মনে হচ্ছিল, আমরা এ কোন দেশে বাস করছি।
রেস্তোরাঁর মালিকের অজ্ঞানতাকে বড় ‘দোষ’ হিসেবে দেখতে চাই না। একই খবরের পরের অংশে পড়লাম, তানোর ডিগ্রি কলেজের ছাত্রাবাসের আদিবাসী ছাত্রদের জন্য নতুন হোস্টেল ‘মনিটর’ আলাদা থালাবাসনের বন্দোবস্ত করেছে। আর কর্তৃপক্ষের এ ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে হোস্টেলের ১১ জন সাঁওতাল আদিবাসী ছাত্র হোস্টেল ছেড়ে চলে গেছেন। একজন আদিবাসী শিক্ষক (কামেল মারান্ডি) তাঁর বিদ্যাকে জাতপাতের ঊর্ধ্বে তুলে ধরে অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন, অন্যদিকে আরেক শিক্ষক (মোবারক হোসেন) কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যের বীজ বুনে চলেছেন। বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতির দেশই বটে আমাদের বাংলাদেশ!
দীর্ঘদিন ধরে লালন করা জাতিভেদ মানসিকতার এ চিত্র এটা। বাঙালি ভিন্ন অন্য জাতিগোষ্ঠীগুলোর প্রতি অবজ্ঞার পরিণতি আমরা চাক্ষুস করছি। এতে উৎসাহ জোগায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু বিধিমালা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তিরা। যে বাঙালি শিশুটি অক্ষরজ্ঞান শেখার পাশাপাশি দেশের অন্য জনগোষ্ঠীগুলো সম্পর্কে শিশুকাল থেকে নেতিবাচক শিক্ষা পায়, সে তো জাতিভেদ সংস্কৃতির মধ্যেই বেড়ে উঠবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে (বিশেষ করে, সমাজবিজ্ঞান) যেকোনো জনগোষ্ঠীর পরিচিতি উপস্থাপনের সময় সে জাতিগোষ্ঠীর ইতিবাচক অতীত ইতিহাসকে (সাঁওতাল বিদ্রোহ, কার্পাস বা চাকমা বিদ্রোহ, তেভাগা আন্দোলন, হাজং বিদ্রোহ ইত্যাদি) পাশ কাটিয়ে কেবল তারা কী খায়, কী পরে, কোথায় থাকে ইত্যাদি বিষয় প্রাধান্য দিয়ে বর্ণনা দেওয়া হয়। ফলে বাঙালি ছেলেমেয়েরা এ জনগোষ্ঠীগুলো সম্পর্কে তাদের চিন্তার ক্ষেত্রটাকে প্রসারিত করতে পারে না। ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীগুলো সম্পর্কে বাঙালি জনগোষ্ঠীর নেতিবাচক, হীন দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন বৃহত্তর সাংস্কৃতিক আন্দোলন, সামাজিক সচেতনতা ও সর্বোপরি সরকারের সজাগ দৃষ্টিভঙ্গি ও ইতিবাচক পদক্ষেপ।
১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান রচনাকালেই এ দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে জাতীয়ভাবে আত্মপরিচয়ের সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়। সংবিধানে সরাসরি এদের কথা উল্লেখ না করে কেবল ‘নাগরিকদের যেকোনো অনগ্রসর অংশ’ হিসেবে উল্লেখ করে সংবিধানের ১৪, ২৮(৪) ও ২৯ নম্বর ধারায় তাদের অধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু বিধান রাখা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু সংবিধানে এদের অধিকার-সম্পর্কিত অস্পষ্টতার কারণে তারা প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। বিদ্যমান ধারাগুলো এ জনগোষ্ঠীগুলোর জীবনমান উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য যথেষ্ট নয়। স্বাধীনতার ৪০ বছর পেরিয়ে গেলেও সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিষয়টি আজও এ জনগোষ্ঠীগুলোর দাবির অগ্রভাগেই রয়ে গেছে।
সম্প্রতি ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইন, ২০১০’ নামে একটি আইন প্রণীত হয়েছে, যে আইনের বলে জনগোষ্ঠীগুলো এখন থেকে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’রূপে পরিচিত হবে। এ আইন প্রণয়নের আগে বিভিন্ন পর্যায়ের জনগণের সঙ্গে আলোচনার কথা বলা হলেও যাদের জন্য এ আইন প্রণীত হয়েছে, তাদের মতামত আদৌ নেওয়া হয়নি। ফলে এ আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া নিয়ে এ জনগোষ্ঠীগুলোর মনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।
তারও আগে, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তিন পার্বত্য জেলা প্রশাসনকে দেওয়া এক চিঠিতে নির্দেশ দেওয়া হয় যে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি ছাড়া অন্য জাতিগোষ্ঠীগুলোকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত না করে ‘উপজাতি’ হিসেবে যেন অভিহিত করা হয়। জাতিগোষ্ঠীগুলোর বারবার পরিচিতি বদলের তৎপরতা শুরু হয়েছে ২০০৫ সালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ অনুবিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন (নং-ইউএনএইচআর ৫০৫১, তাং: ২৫ জুলাই ২০০৫) জারির মধ্য দিয়ে। সে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ‘Indigenous People’ হলো তারাই, যারা যুগ যুগ ধরে তাদের বর্তমান আবাসভূমিতে বাস করে আসছে, যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ‘Red Indians’ এবং অস্ট্রেলিয়ার ‘Aborigines’। এ বিবেচনায় জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা ‘Indigenous’ বা ‘আদিবাসী’ না বলে ‘Tribal’ হিসেবে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোকে চিহ্নিত করে।
আমাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এ জনগোষ্ঠীগুলোর পরিচিতি নির্ধারণে বারবার বিধিমালা প্রণয়ন বা প্রজ্ঞাপন জারির কারণ কী? যদি আইনই প্রণয়ন করতে হয়, তাহলে এত রাখঢাক করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কেন? প্রজ্ঞাপন আর আইনের জাঁতাকলে পড়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীগুলো নিজেদের পরিচিতি নিয়ে বিপাকে পড়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে তারা ‘উপজাতি’, আবার ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান আইনে ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী’! শুধু বিশেষজ্ঞ দিয়ে পর্যালোচনা না করে দেশের সব জাতিগোষ্ঠী কী পরিচয়ে নিজেদের পরিচিত করাতে চায়, তা যাচাইয়ের জন্য তাদের সামাজিক নেতৃত্বের আগে মতামত নেওয়া উচিত ছিল। এতে এ আইন প্রণয়নে জাতিগোষ্ঠীগুলোর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি যেমন থাকত, তেমনি তারা কী পরিচয়ে নিজেদের পরিচয় দিতে চায়, তাও স্পষ্ট হয়ে যেত। এতে আইনটির গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পেত। পরিচিতি চাপিয়ে দিয়ে কোনো জাতিগোষ্ঠীর স্বাতন্ত্র্য বিকশিত করা সম্ভব নয়।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলোর সাংবিধানিক স্বীকৃতির বিকল্প নেই। যত দিন সাংবিধানিকভাবে তাদের অধিকারের কথা বলা হবে না, তত দিন পাহাড় কি সমতলে সর্বত্রই বঞ্চনা, বৈষম্য, নিপীড়ন অব্যাহত থাকবে। তাদের ঐতিহ্যবাহী প্রথাগত ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি না দিলে তাদের ধর্ম, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ক্রমে হারিয়ে যাবে।
সাঁওতাল শিক্ষকের কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম। আজ থেকে ১৫৫ বছর আগে দুই বীর সাঁওতাল সহোদর সিদু ও কানুর নেতৃত্বে ‘হুল’ বা ‘সাঁওতাল বিদ্রোহ’ সূচিত হয়েছিল নিজেদের অস্তিত্ব ও ভূমি রক্ষার তাগিদ এবং স্বাধীনতার জন্য। সিদু-কানুর নেতৃত্বাধীন ‘হুল’-এর কাতারে সেদিন কর্মকার, ডোম, চর্মকারসহ মুসলমানেরাও শামিল হয়েছিল। সেদিন যে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে স্বাধীনতার স্বপ্ন সাঁওতালেরা বুনেছিল, আজ স্বাধীন দেশের মাটিতে সেই সাঁওতালেরা আর দশটা সাধারণ মানুষের সঙ্গে হোটেলে বসে খাবার গ্রহণের অধিকারটুকুও পাচ্ছে না। কিন্তু সাঁওতালদের আন্দোলনের ইতিহাসকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এ ধরনের সংকীর্ণ মানসিকতার পরিবর্তন কবে হবে?
ইলিরা দেওয়ান: হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
ilira.dewan@gmail.com

তালেবান হামলায় ১৪ জন আফগান পুলিশ নিহত

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে তিনটি পৃথক হামলায় কমপক্ষে ১৪ জন আফগান পুলিশ এবং একজন সরকারি কর্মকর্তা নিহত হয়েছে। আজ রোববার আফগান সরকার এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
কুন্দুজ প্রদেশে অবস্থিত ইমামসাহেব জেলার প্রশাসক আইয়ুব আকিয়ার জানিয়েছেন, শনিবার রাতে সন্ত্রাসীরা জেলার একটি পুলিশের চেকপোস্ট উড়িয়ে দিলে ঘটনাস্থলেই পুলিশের নয়জন সদস্য নিহত হন।এদিকে, কুন্দুজেই এক বোমার আঘাতে নিহত হন কুয়ালেহ জাল জেলা পুলিশের প্রধান। এই হামলায় তাঁর গাড়িচালকও নিহত হন।
অন্যদিকে তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ বাদাখশান প্রদেশে রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা বোমার আঘাতে নিহত হয়েছেন পুলিশের আরও পাঁচজন সদস্য।নিম্নমানের প্রশিক্ষণ, স্বল্প বেতন ও অপেক্ষকৃত পুরোনো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যাত্রা শুরু করা আফগান পুলিশ প্রায়ই তালেবান হামলার শিকার হচ্ছে। দিন দিন এই হামলা বেড়ে চলেছে বলে জানা গেছে।
আফগানিস্তানের নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিসমিল্লাহ খান গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের পুলিশের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন, যাতে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর কাছ থেকে দেশটির নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে।
এদিকে কুন্দুজ মাত্র দুই বছর আগেও তালেবান বিদ্রোহীদের আওতার বাইরে ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু বর্তমানে কুন্দুজে তালেবান সন্ত্রাসীদের আনাগোনা অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে অবস্থিত জার্মান সেনাসদস্যরা তালেবান বিদ্রোহীদের হামলার সহজ লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। কুন্দুজে প্রায়ই হামলা করে তালেবানরা দেশব্যাপী তাদের অস্তিত্ব প্রমাণ করার চেষ্টা করছে।
গতকাল শনিবার আরও একটি হামলায় পাকিস্তান সীমান্তের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়জন সেনাসদস্য এবং ১২ জন আফগান নাগরিক নিহত হয়েছে। সন্ত্রাসীরা সেখানে একটি বাসে গুলি চালালে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র জিমারি বশরী জানান, গত সপ্তাহে একটি অভিযানে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় ৭০ জন বিদ্রোহীকে হত্যা করে। এ ছাড়া এ অভিযানে ৩৬ জন আহত হয় এবং ১৪০ জনকে আটক করা হয়।
আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীতে হতাহতের সংখ্যা জুন মাসে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সেনা কমান্ডাররা অনুমান করছেন বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযানের ফলে দেশটিতে সহিংসতা আরও বেড়ে যাবে। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এসব হামলা থেকে কীভাবে ন্যাটোর সেন্যদের রক্ষা করা যাবে।

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকার পূরণের আশ্বাস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর অঙ্গীকার পূরণে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে আশ্বাস দিয়েছেন। গত শুক্রবার মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে তিনি এ আশ্বাস দেন বলে ফিলিস্তিনি নেতার একজন মুখপাত্র জানান।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র নাবিল আবু রাউদিনা জানান, ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র যাতে নিরাপত্তা ও শান্তির সঙ্গে স্থায়ীভাবে অবস্থান করতে পারে, তা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন বলে ওবামা অঙ্গীকার করেছেন।
গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর আব্বাসের সঙ্গে ওবামার এই আলাপ হলো। বৈঠকে শান্তি-প্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি আলোচনার ব্যাপারে নেতানিয়াহু ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।
আলাপকালে আব্বাস টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা-প্রক্রিয়ার ব্যাপারে ওবামার ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর এই ভূমিকা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলের অবসান ঘটিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
এ ব্যাপারে হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওবামা ও আব্বাস শিগগিরই সরাসরি আলোচনায় যাওয়ার উপায় পর্যালোচনা করেন। এই আলোচনার লক্ষ্য হচ্ছে সংঘর্ষের অবসান ঘটিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। এই চুক্তিবলে স্বাধীন ও টেকসই দেশ হিসেবে ফিলিস্তিন ইসরায়েলের পাশাপাশি শান্তিতে অবস্থান করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, টেলিফোনে আলাপকালে ওবামা ফিলিস্তিনের জনগণের পক্ষে আব্বাসের নেতৃত্ব ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর অঙ্গীকারের প্রতি জোরালো সমর্থন জানান। এ সময় ওবামা বলেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গাজা ও পশ্চিম তীরে উভয় পক্ষ সংযমী হওয়ায় আমি মনে করি, সরাসরি আলোচনার ব্যাপারে ইসরায়েলি সরকার এখন প্রস্তুত।

দুই কৃতী বাঙালি ছাত্রের নামে গ্রহাণুর নাম

কলকাতার সাউথ পয়েন্টের দুই কৃতী ছাত্রের নামে দুটি গ্রহাণুর নাম ‘মুখার্জি’ ও ‘সরকার’ রাখা হয়েছে। সাউথ পয়েন্ট এডুকেশন সোসাইটি গত শুক্রবার এ খবর জানায়।
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদায় ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় অসামান্য কৃতিত্বের জন্য পুরস্কার পেয়েছিলেন সাউথ পয়েন্টের দুই ছাত্র অনীশ মুখার্জি ও দেবার্ঘ্য সরকার। তাঁদের কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) এবং লিঙ্কন ল্যাবরেটরি সম্প্রতি দুটি গ্রহাণুর নাম মুখার্জি ও সরকার রেখেছে। ২০০০ সালের ৪ জানুয়ারি এ দুটি গ্রহাণু আবিষ্কৃত হয়।
সাউথ পয়েন্টের এ দুই কৃতী ছাত্র এবার এইচএসসি পাস করেছেন। অনীশ এখন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তড়িৎ প্রকৌশল বিষয়ে এবং দেবার্ঘ্য কল্যাণীতে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সে শিক্ষা ও গবেষণার ওপর পড়াশোনা করছেন।

জম্মু ও কাশ্মীরের সহিংসতা থামাতে গণতান্ত্রিক চর্চা বাড়ানো প্রয়োজন

ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরে চলমান সহিংসতা দমনে দাঙ্গা দমন বাহিনীকে সাহায্য করতে ৭ জুলাই রাজপথে নেমে আসে সেনাবাহিনী। এই প্রথম বিক্ষুব্ধ কাশ্মীরে বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনী ব্যবহার করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সহিংসতা বন্ধের কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
এই সংকট সমাধানের উপায় খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়েছেন কাশ্মীরের রাজনীতিকেরা। তাঁদের মতে, এই সংকট সমাধানের জন্য সেখানে দরকার বড় ধরনের নগরায়ণ কর্মসূচি, বিক্ষোভ দমনে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্থানীয়ভাবে আরও বেশি গণতান্ত্রিক চর্চা বাড়ানো।
গত জুনে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভে এ পর্যন্ত সেখানে কমপক্ষে ১৪ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। আশঙ্কা রয়েছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান অমরনাথগামী তীর্থযাত্রীরা বিক্ষোভকারীদের হামলার শিকার হতে পারেন। এতে জম্মুতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
শ্রীনগরের রাজপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে পাথর নিক্ষেপকারী এই বিক্ষোভকারীদের পরিচয় কী? জানা গেছে, এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত পুলিশের হামলায় নিহত ২১ জনের অর্ধেকের বেশি শ্রীনগরের স্থানীয় বাসিন্দা। এই সময়ে আহত ৭২ জনের মধ্যে ৩২ জনই এই শহরে বসবাস করেন। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে শ্রীনগরে ১৪১ জন কর্মকর্তা ও ৬২ জন সিআরপিএফ (সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স) সদস্য আহত হয়েছেন। পুরো কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন ৬২৩ জন।
গত প্রায় সাত মাসে কাশ্মীরে ২৬৯টি সংঘর্ষের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে কাশ্মীরের উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরনগর বারামুল্লাতে ৪৬টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আপেল কেনাবেচার জন্য প্রসিদ্ধ পাশের সোপোরে শহরে ২১টি সংঘর্ষ হয়েছে। এবারের গ্রীষ্মে মোট সংঘর্ষের সাড়ে ৬৯ শতাংশ ঘটেছে শ্রীনগরসহ এই তিন শহরে। গত বছরও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। জম্মু ও কাশ্মীরে ওই সময় ২৯০টি সংঘর্ষ হয়েছিল।
সহিংসতার ধরন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, রাজনৈতিক কারণে নয় বরং হতাশা থেকে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় স্থানীয় তরুণেরা রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। ভারতের বিরুদ্ধে এবং পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবা-সমর্থিত নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানির পক্ষে তাঁরা স্লোগান দিচ্ছেন।
গিলানির নেতৃত্বাধীন দল তেহরিক-ই-হুরিয়াতের নেতারা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জন্য স্থানীয় কর্মীদের অর্থ দিয়েছেন—এমন প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। জানা গেছে, বড় পরিসরে কর্মকাণ্ড পরিচালনার মতো রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক তেহরিক-ই-হুরিয়াতের না থাকলেও এই বিক্ষোভের সমন্বয়কের ভূমিকায় রয়েছে তারা। বিক্ষোভের পক্ষে প্রচার চালানোর জন্য মসজিদ থেকে শুরু করে মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠানোর পদ্ধতিও ব্যবহার করছেন এই দলের কর্মীরা। এর মাধ্যমে তাঁরা রাজপথে বেশি পরিমাণ বিক্ষোভকারী জড়ো করার চেষ্টা করছেন।
গত বছর স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা বিষয়টি ধরতে পেরেছিলেন। জামায়াত আহল-এ-হাদিস নামের স্থানীয় একটি সংগঠনের সভাপতি শওকত আহমেদ শাহ পাথর নিক্ষেপের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন। কাশ্মীরের গ্র্যান্ড মুফতি মোহাম্মদ বশিরউদ্দিন তাঁকে সমর্থন করেন। তবে হুরিয়াত নেতা গিলানি বলেন, তরুণেরা পাথর ছুড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করবেন এটাই স্বাভাবিক। স্থানীয় তরুণদের সংগঠন ইসলামিক স্টুডেন্টস লিগের নেতা শাকিল বকশি এই বিক্ষোভকে ফিলিস্তিনের ইন্তিফাদার কাশ্মীরি সংস্করণ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক একজন উপমুখ্যমন্ত্রী সেখানকার সহিংসতার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও সেনাবাহিনীকে দায়ী করেন। সেখানকার পিপলস ডেমোক্রেটিক দলের নেতা মুজাফফর হোসেন বেগ ওই রাজ্যের রাজনীতিকদের দায়ী করে বলেন, তাঁরা নিজেরাই সেখানকার তরুণদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। চলমান এই সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর এখনই কাশ্মীর উপত্যকার শহরগুলোর উন্নয়নে উদ্যোগ নিতে হবে।

পাকিস্তানে বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা ১০৪

পাকিস্তানে জোড়া আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা গতকাল শনিবার ১০৪ জনে পৌঁছেছে। এতে আহত হয়েছে ১১৫ জন। সে দেশে এ বছর এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাণঘাতী হামলা। নিহত ব্যক্তিদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপজাতীয় এলাকা মোহমান্দের ইয়াকাংহুন্দ গ্রামে গত শুক্রবার একটি সরকারি কার্যালয়ের কাছে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে এই আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে একজন বোমা হামলাকারী মোটরসাইকেলসহ নিজেকে উড়িয়ে দিয়ে এই হামলা চালায়। বোমা দুটির মধ্যে একটি ছোট হলেও অপরটির বিধ্বংসী ক্ষমতা ছিল অনেক বেশি। ঘটনাস্থলে বিশাল অংশজুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখনো ধ্বংসস্তূপ থেকে ভাঙাচোরা জিনিস সরাতে ব্যস্ত।
টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, ইটের টুকরা ও কাদায়ভরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কাজ করছে উদ্ধারকারীরা। ধ্বংসস্তূপে জীবিত কেউ চাপা পড়ে আছে কি না, তা দেখছে তারা। হামলার ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছে।
মোহামান্দ হচ্ছে পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলাহীন উপজাতীয় এলাকাগুলোর একটি, যেখানে তালেবান ও আল-কায়েদা নেতারা আত্মগোপন করে আছে বলে ধারণা করা হয়।
মোহামান্দের প্রধান প্রশাসক আমজাদ আলি খান জানান, মোহমান্দের উপপ্রশাসক রাসুল খানের কার্যালয়ের সামনে হামলাকারীরা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। তিনি অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পান। তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াইয়ের লক্ষ্যে যেসব জ্যেষ্ঠ উপজাতীয় নেতা জড়িত, ঘটনার সময় তাঁরা ওই ভবনে ছিলেন। তবে তাঁরা কেউ হতাহত হননি।
যুক্তরাষ্ট্রের সমবেদনা
নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মার্ক টোনার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেমন সন্ত্রাসের শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছে, পাকিস্তান তেমনি অস্তিত্বের লড়াইয়ে অবতীর্ণ। এটি ভয়াবহ এক বেদনাদায়ক ঘটনা। পাকিস্তানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পুরোপুরি সমর্থন আছে বলে আমি মনে করি। এ সমর্থন ভবিষ্যতেও থাকবে।

ইস্ত্রি করে না দেওয়ায়...

কাপড়চোপড় ইস্ত্রি করা নাকি নারীদের কাজ। এ জন্য রবার্ট এডওয়ার্ড টাইরেল নিজে কখনো কাপড়চোপড় ইস্ত্রি করত না। সব সময় মাকে দিয়ে নিজের জামাকাপড় ইস্ত্রি করাত। মা হাসিমুখেই ছেলের কাপড়চোপড় ইস্ত্রি করে দিতেন। সন্তানের কাজ কি আর মা ফেলে রাখতে পারেন?
কিন্তু কত দিন? একদিন মা বলে ফেললেন, ‘নিজের কাজ নিজে করো গিয়ে বাপু। আমি আর তোমার কাপড়চোপড় ইস্ত্রি করে দিতে পারব না।’
মায়ের এ কথায় চটে গেল ছেলে টাইরেল। হুট করে বের করে ফেলল একটি আগ্নেয়াস্ত্র। মায়ের কাছ থেকে ঘরের চাবির গোছা ছিনিয়ে নিল। মুঠোফোনটিও নিয়ে গেল তাঁর। এরপর মাকে আর ঘর থেকেই বের হতে দিল না। অস্ত্রের মুখে তাঁকে টানা ছয় ঘণ্টা জিম্মি করে রাখল।
টাইরেল একটু অন্যমনস্ক হয়ে পড়লে ৫১ বছর বয়সী মা কোনোমতে সেখান থেকে পালালেন। সোজা চলে গেলেন থানায়। নিরাপত্তাকর্মীরা সবকিছু জানার পর দ্রুত ছুট দিলেন ঘটনাস্থলে। টাইরেল অবশ্য কোনো ধরনের টালবাহানা ছাড়াই পুলিশের হাতে ধরা দেয়।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ক্যারোল কাউন্টির ভিলা রিকা শহরে এ ঘটনা ঘটেছে। ক্যারোল কাউন্টির সার্জেন্ট মার্ক গ্রিফিথ বলেছেন, টাইরেলের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। একটি হলো মায়ের প্রতি মারমুখী আচরণ, অন্যটি হলো অস্ত্রের মুখে তাঁকে জিম্মি করা। এ মাসের শেষ নাগাদ তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

মালয়েশিয়ার ইসলামি আদালতে নারী বিচারক নিয়োগকে স্বাগত

মালয়েশিয়া সরকার গত মে মাসে প্রথমবারের মতো সে দেশের ইসলামি আদালতে দুজন নারী বিচারককে নিয়োগ দিয়েছে। ফেডারেল টেরিটরি অব পুত্রাজায়া আদালতে নিয়োগ পেয়েছেন সুরাইয়া রামলি (৩১) এবং কুয়ালালামপুরের আদালতে নিয়োগ পেয়েছেন রাফিদাহ আবদুল রাজাক (৩৯)। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সেখানকার মুসলিম নারীবাদী সংগঠনগুলো।

অবশেষে ব্রিটিশ খুনি রাউলের আত্মহত্যা

খুনি ও পলাতক ব্রিটিশ অস্ত্রধারী রাউল মোট অবশেষে আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল শনিবার নর্থাম্বারল্যান্ডের রোথবারিতে নদীতীরবর্তী একটি এলাকায় পুলিশ কৌশলে তাঁকে ঘিরে ফেলে। এ সময় পালানোর কোনো পথ না পেয়ে রাউল মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পুলিশের ফাঁদে ধরা পড়ার আগে রাউল তিনজনকে খুন করেন। এসব হত্যাকাণ্ডের কারণে পুলিশ তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল।
পুলিশ জানায়, ৩৭ বছর বয়সী রাউল ১ জুলাই কারাগার থেকে ছাড়া পান। ৩ জুলাই এই বডিবিল্ডার ও নাইট ক্লাবের প্রহরী তাঁর সাবেক প্রেমিকা সামান্থা ও তাঁর নতুন সঙ্গী ক্রিস ব্রাউনকে গুলি করে হত্যা করেন। পরদিন ৪ জুলাই ডেভিড রাথবেন নামে আরেকজনকে তিনি একইভাবে হত্যা করেন। এর পর থেকেই পুলিশ তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে।

পেট্রাউসের পরিকল্পনা নাকচ করে দিলেন প্রেসিডেন্ট কারজাই

দায়িত্ব গ্রহণ করতে না করতেই শীর্ষ মার্কিন সামরিক কমান্ডার জেনারেল ডেভিড পেট্রাউসের সঙ্গে আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। তালেবানবিরোধী যুদ্ধে আফগান গ্রামবাসীদের সহযোগিতা করার পেট্রাউসের একটি পরিকল্পনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। ওয়াশিংটন পোস্ট গতকাল শনিবার এ কথা জানিয়েছে।
পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, আফগানিস্তানে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত সপ্তাহে কারজাইয়ের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেন পেট্রাউস। এ সময় তিনি তালেবানের মোকাবিলায় গ্রামবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করা ও তাদের নানাভাবে সহযোগিতা করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু কারজাই প্রস্তাবটি গ্রহণ না করে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারজাইয়ের উদ্বেগ কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র আপাতত মাত্র কয়েকটি গ্রামে ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। অনেকেই মনে করছেন ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে, আফগানিস্তানে নতুন করে অনেক যোদ্ধাবাজ নেতার জন্ম হবে এবং জঙ্গিরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

পাকিস্তানে বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা ১০৪

পাকিস্তানে জোড়া আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা গতকাল শনিবার ১০৪ জনে পৌঁছেছে। এতে আহত হয়েছে ১১৫ জন। সে দেশে এ বছর এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাণঘাতী হামলা। নিহত ব্যক্তিদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপজাতীয় এলাকা মোহমান্দের ইয়াকাংহুন্দ গ্রামে গত শুক্রবার একটি সরকারি কার্যালয়ের কাছে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে এই আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে একজন বোমা হামলাকারী মোটরসাইকেলসহ নিজেকে উড়িয়ে দিয়ে এই হামলা চালায়। বোমা দুটির মধ্যে একটি ছোট হলেও অপরটির বিধ্বংসী ক্ষমতা ছিল অনেক বেশি। ঘটনাস্থলে বিশাল অংশজুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখনো ধ্বংসস্তূপ থেকে ভাঙাচোরা জিনিস সরাতে ব্যস্ত।
টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, ইটের টুকরা ও কাদায়ভরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কাজ করছে উদ্ধারকারীরা। ধ্বংসস্তূপে জীবিত কেউ চাপা পড়ে আছে কি না, তা দেখছে তারা। হামলার ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছে।
মোহামান্দ হচ্ছে পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলাহীন উপজাতীয় এলাকাগুলোর একটি, যেখানে তালেবান ও আল-কায়েদা নেতারা আত্মগোপন করে আছে বলে ধারণা করা হয়।
মোহামান্দের প্রধান প্রশাসক আমজাদ আলি খান জানান, মোহমান্দের উপপ্রশাসক রাসুল খানের কার্যালয়ের সামনে হামলাকারীরা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। তিনি অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পান। তালেবান জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াইয়ের লক্ষ্যে যেসব জ্যেষ্ঠ উপজাতীয় নেতা জড়িত, ঘটনার সময় তাঁরা ওই ভবনে ছিলেন। তবে তাঁরা কেউ হতাহত হননি।
যুক্তরাষ্ট্রের সমবেদনা
নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মার্ক টোনার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেমন সন্ত্রাসের শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছে, পাকিস্তান তেমনি অস্তিত্বের লড়াইয়ে অবতীর্ণ। এটি ভয়াবহ এক বেদনাদায়ক ঘটনা। পাকিস্তানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পুরোপুরি সমর্থন আছে বলে আমি মনে করি। এ সমর্থন ভবিষ্যতেও থাকবে।

যৌথ উদ্যোগে প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্র স্থাপন করবে জাপান ও রাশিয়া

জাপান ও রাশিয়া যৌথভাবে একটি তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেন্দ্র স্থাপনে সম্মত হয়েছে। এটি স্থাপন করা হবে রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তকে। এ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত ৫০ লাখ টন তরল গ্যাস প্রতিবছর জাপানে পাঠানো হবে। জাপানের প্রভাবশালী দৈনিক নিক্কেই গতকাল শনিবার এ কথা জানিয়েছে।
পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, জাপানের ইয়োকোহামা নগরীতে আগামী নভেম্বরে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ওই সম্মেলনে যোগ দেবেন। আর তখনই তরল গ্যাস কেন্দ্র স্থাপনের চুক্তিটি সই হবে।
পত্রিকাটি আরও জানায়, কেন্দ্রটিতে উৎপাদন শুরু হবে আগামী ২০১৭ সাল নাগাদ। এ কেন্দ্র থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলেও গ্যাস সরবরাহ করা হবে।
জাপানের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এ কেন্দ্র নির্মাণে সহযোগিতা করবে। এ ছাড়া জাপান পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন করপোরেশন ও ইটোচু করপোরেশনও এ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ করবে।
জাপান বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি আমদানিকারক দেশ

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকার পূরণের আশ্বাস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তাঁর অঙ্গীকার পূরণে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে আশ্বাস দিয়েছেন। গত শুক্রবার মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে তিনি এ আশ্বাস দেন বলে ফিলিস্তিনি নেতার একজন মুখপাত্র জানান।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র নাবিল আবু রাউদিনা জানান, ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র যাতে নিরাপত্তা ও শান্তির সঙ্গে স্থায়ীভাবে অবস্থান করতে পারে, তা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন বলে ওবামা অঙ্গীকার করেছেন।
গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর আব্বাসের সঙ্গে ওবামার এই আলাপ হলো। বৈঠকে শান্তি-প্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি আলোচনার ব্যাপারে নেতানিয়াহু ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।
আলাপকালে আব্বাস টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা-প্রক্রিয়ার ব্যাপারে ওবামার ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর এই ভূমিকা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলের অবসান ঘটিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
এ ব্যাপারে হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওবামা ও আব্বাস শিগগিরই সরাসরি আলোচনায় যাওয়ার উপায় পর্যালোচনা করেন। এই আলোচনার লক্ষ্য হচ্ছে সংঘর্ষের অবসান ঘটিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। এই চুক্তিবলে স্বাধীন ও টেকসই দেশ হিসেবে ফিলিস্তিন ইসরায়েলের পাশাপাশি শান্তিতে অবস্থান করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, টেলিফোনে আলাপকালে ওবামা ফিলিস্তিনের জনগণের পক্ষে আব্বাসের নেতৃত্ব ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর অঙ্গীকারের প্রতি জোরালো সমর্থন জানান। এ সময় ওবামা বলেন, ‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গাজা ও পশ্চিম তীরে উভয় পক্ষ সংযমী হওয়ায় আমি মনে করি, সরাসরি আলোচনার ব্যাপারে ইসরায়েলি সরকার এখন প্রস্তুত।’

মিয়ানমারের নতুন বিরোধী দলের আদর্শ সু চি

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় লড়াই অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে মিয়ানমারের নতুন বিরোধী দল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফোর্স (এনডিএফ)। সে দেশের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ভেঙে যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠা করা হলো এই এনডিএফ। নতুন দলটি জানিয়েছে, তারা সু চির প্রতি অনুগত। সু চিই তাঁদের আদর্শ।
রাজনৈতিক দল হিসেবে শুক্রবার নিবন্ধনের অনুমতি পায় এনডিএফ। দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব থাকার গুজব উড়িয়ে দিয়ে এনডিএফের চেয়ারম্যান থান নায়েইন গতকাল শনিবার বলেছেন, ‘সু চিই মিয়ানমারের গণতন্ত্রের প্রকৃত আদর্শ। দলীয় নেতা-কর্মীরা এখনো তাঁর প্রতি অনুগত। তাঁর আদর্শেই অনুপ্রাণিত। আমরা সব সময়ই তাঁর বিশ্বাস ও আত্মত্যাগের প্রশংসা করে আসছি এবং তা অব্যাহত রাখব।’ তিনি আরও বলেন, দেশের প্রচলিত আইন মেনে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই এই নতুন দল গঠন করা হয়েছে।
সু চির নেতৃত্বে ১৯৮৮ সালে এনএলডি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর দলটি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৯০ সালে সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে এনএলডি। কিন্তু দেশটির জান্তা সরকার ওই ফল কখনো মেনে নেয়নি। এনএলডিকে ক্ষমতা গ্রহণের সুযোগ দেয়নি। এর পর থেকে সু চিকে গত ২০ বছরের অধিকাংশ সময়ই কারাবন্দী অথবা গৃহবন্দী করে রাখা হয়।
এদিকে সু চিকে বাদ দিয়ে ৬ মের মধ্যে এনএলডির পুনরায় নিবন্ধীকরণের শর্ত দেয় জান্তা সরকার। কিন্তু এনএলডি এই শর্ত পূরণে রাজি হয়নি। সমালোচকেরা বলে আসছেন, জান্তা সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে দেশটিতে পাতানো নির্বাচনের আয়োজন করছে। নোবেলজয়ী নেত্রী সু চিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার ফন্দিতেই ওই শর্ত দিয়েছিল সরকার।

তেল বেরিয়ে আসা নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ বিপির

মেক্সিকো উপসাগরে ক্ষতিগ্রস্ত তেলক্ষেত্র থেকে তেল বেরিয়ে আসা নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ওই ক্ষেত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানি ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি)। মার্কিন সরকারের পক্ষে এ দুর্ঘটনা মোকাবিলা কার্যক্রমের দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল থাড অ্যালেন গত শুক্রবার এ কথা জানান। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে গভীর সাগরে তেলকূপ খননের ব্যাপারে সে দেশের সরকারের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
অ্যাডমিরাল থাড অ্যালেন বলেন, তেলক্ষেত্র থেকে তেল বেরিয়ে আসা বন্ধে একটি নতুন ‘ক্যাপ’ স্থাপনের বিপির প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন তিনি। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে বর্তমান ‘টপ ক্যাপ’ ব্যবস্থাটির কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ করতে হবে। এতে তেলক্ষেত্র থেকে আবার আগের মতো তেল ছড়িয়ে পড়তে শুরু করবে। এ ব্যাপারে থাড অ্যালেন বলেন, ঠিকঠাকভাবে নতুন ক্যাপ স্থাপন করা গেলে বর্তমান ব্যবস্থার মাধ্যমে তেল বেরিয়ে আসা যতটুকু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। আগামী কয়েক দিন ঘটনাস্থলের আবহাওয়াও ভালো থাকবে বলে আশা করছেন তাঁরা। অ্যাডমিরাল জানান, শনিবার থেকেই নতুন ক্যাপ স্থাপনের কাজ শুরু করার কথা। কাজটি পুরোপুরি শেষ হতে ৭ থেকে ১০ দিন লাগতে পারে।
নতুন এই উদ্যোগ সফল হলে সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করা সম্ভব হবে এবং ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে আসা তেল তেলবাহী জাহাজে তুলে আনা যাবে। গত এপ্রিলে বিস্ফোরণে তেলক্ষেত্রটি থেকে তেল ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এ ছাড়া স্থায়ীভাবে তেল ছড়িয়ে পড়া বন্ধে বিপির বিকল্প কূপ খননের প্রক্রিয়া আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। তেল কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা নির্ধারিত সময়সীমার আগেই বিকল্প কূপ খননের কাজ শেষ করার আশা করছে।
মেক্সিকো উপসাগরে এই দুর্ঘটনার পর মার্কিন প্রশাসন সে দেশের উপকূলীয় এলাকার গভীর সমুদ্রে তেলকূপ খননের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু ওই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তেল কোম্পানিগুলো আদালতে আপিল করলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নিম্ন আদালত ওই নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ ঘোষণা করেন। সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করলে শুক্রবার আদালত তা খারিজ করে দেন। এ ব্যাপারে আরও শুনানি আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিমন্ত্রী এলান ডানকান কাল ঢাকায় আসছেন

যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন-সহায়তা প্রতিমন্ত্রী এলান ডানকান দুই দিনের সফরে কাল সোমবার ঢাকায় আসছেন। যুক্তরাজ্যে কোয়ালিশন সরকার গঠনের পর এই প্রথম কোনো প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করছেন।
ঢাকায় বৃটিশ হাইকমিশন আজ রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশ সফরের সময় ডানকান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া ছাড়াও জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এসব আলোচনায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও সুশাসন বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে কথা হবে।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালাতে গিয়ে বাংলাদেশ কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, সেটা দেখার পাশাপাশি দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রা পাল্টাতে বৃটিশ উন্নয়ন কর্মসূচি কীভাবে চলছে, সে বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা এলান ডানকানের প্রথম বাংলাদেশ সফরের মূল লক্ষ্য।
এরই অংশ হিসেবে ঢাকার বাইরে যুক্তরাজ্যের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রকল্প ঘুরে দেখবেন তিনি। প্রকল্পের সুফল ভোগ করছেন এমন লোকজনের সঙ্গে কথাও বলবেন বলে জানা গেছে।

১১ মাসে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ২.৬৮%

সদ্য শেষ হওয়া ২০০৯-১০ অর্থবছরের ১১ মাসে দেশে পণ্য আমদানি বাবদ ব্যয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, যে গত অর্থবছরের জুলাই-মে সময়কালে পণ্য আমদানি বাবদ ব্যয় হয়েছে দুই হাজার ১৫৩ কোটি ডলার। আর ২০০৮-০৯ অর্থবছরের একই সময়কালে ব্যয় হয়েছিল দুই হাজার ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
এতে আরও দেখা যায়, আলোচ্য অর্থবছরের মে মাসে আমদানি বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ২১২ কোটি ডলার, যেখানে ২০০৮-০৯ অর্থবছরের মে মাসে আমদানি ব্যয় ছিল ১৭৩ কোটি ৯২ লাখ ডলার।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়, গোটা অর্থবছরে আমদানি ব্যয় শেষ পর্যন্ত তার আগের অর্থবছরের চেয়ে সামান্য বাড়বে।
সিঅ্যান্ডএফভিত্তিতে এই আমদানি ব্যয় ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ছিল দুই হাজার ২৫০ কোটি ডলার, যা আবার তার আগের ২০০৭-০৮ অর্থবছরের তুলনায় মাত্র চার শতাংশ বেশি।
২০০৭-০৮ অর্থবছরে আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল দুই হাজার ১৬২ কোটি ৯০ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও জানা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরের ১১ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে মার্চ মাসে, যার পরিমাণ ছিল ২৩৫ কোটি ৩৬ লাখ ডলার।
আবার আলোচ্য বছরের মধ্যে আমদানি বাবদ সবচেয়ে কম ব্যয় হয়েছে আগস্ট মাসে, যখন ১৫৮ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে।
মূলত অর্থবছরে তৃতীয় প্রান্তিকে এসে আমদানি ব্যয় বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্ব মন্দা কাটিয়ে উঠতে শুরু করার ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্যশস্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় আমদানি ব্যয় বাড়ছে।
তবে আমদানি ব্যয় যে হারে বাড়ছে, রপ্তানি সে হারে না বাড়ায় পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি শেষ পর্যন্ত আগের বছরের চেয়ে বেশি হবে বলেই মনে করা যায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লেনদেনের ভারসাম্যের হিসাব অনুসারে ২০০৯-১০ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়কালে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৫০ কোটি ডলার, যা তার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র এক কোটি ডলার বেশি।
লেনদেনের ভারসাম্য নির্ণয়ের সময় আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয়কে এফওবি হিসেবে সমন্বয় করা হয়। ফলে আমদানি ব্যয় সিঅ্যান্ডএফ ব্যয় থেকে এখানে কিছুটা কম দেখায়।
আলোচ্য বছরের ১১ মাসের সিঅ্যান্ডএফ আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর প্রকাশিত রপ্তানি আয় বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, ১১ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছে যায়।

চালের বিশ্ববাজার এখন আমদানিকারকদের পক্ষে

খুবই সাধারণ মানের মোটা চাল লালির মণও গত সপ্তাহে দিনাজপুরের পুলহাট মোকামে এক হাজার ৫০ টাকা ছাড়িয়েছে। ঢাকায় খুচরা লালি ৩১-৩২ টাকা কেজি, ১০ দিনে বেড়েছে তিন টাকা।
চালের এ মূল্যবৃদ্ধিতে এবার প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছে সরকার। ১ জুলাই খাদ্য মন্ত্রণালয় উৎসাহ মূল্যের নামে চাল সংগ্রহ মূল্য তিন টাকা বাড়ালে বাজার চড়ে গেছে।
এবার বোরো কাটা শেষ হওয়ার আগেই চালের বাজার ধীরে ধীরে চড়ছিল। ৩০ মে উদ্বিগ্ন খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিও আমদানি করে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পরামর্শ দিয়েছিল।
কয়েক মাস ধরে বিশ্ববাজারের হালচালও অনুকূলে। উৎপাদন পূর্বাভাস ভালো থাকায় ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান বা আমেরিকায়ও চালের রপ্তানি মূল্য আমদানিকারকদের অনুকূলেই।
মার্কিন কৃষি অধিদপ্তর ইউএসডিএ গত বুধবার জানিয়েছে, ২০১০-১১ উৎপাদন বর্ষে বিশ্বে গতবারের চেয়ে দুই কোটি টন চালের ফলন বাড়বে। রপ্তানি বাজারেও সরবরাহ বাড়বে ১৫ লাখ টন।
এদিকে চীনের আমদানি কমায় আমেরিকান চালের রপ্তানি মূল্য কমেছে। জুন শেষে শিকাগো কমোডিটি এক্সচেঞ্জে ‘রাইস ফিউচার প্রাইস’ ১৯৯৬ সালের পর সর্বনিম্ন হয়েছে। ইউএসডিএ বলছে, আগামী মৌসুমে আমেরিকায় চালের রেকর্ড উৎপাদন হবে। কারণ, ধানের রোপণ গতবারের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেড়েছে।
ওবামাপত্নী মিশেল সম্প্রতি এক কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন, যাতে আমেরিকান স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা টিফিনে ফাস্টফুডের চেয়ে বিশেষ রাইস ডিস খেয়ে মোটা হওয়া থেকে পরিত্রাণ পাবে। আমেরিকার চাল রপ্তানিকারকেরা কিউবায়ও গেছেন। এত দিন আমেরিকানদের অগ্রিম মূল্য পরিশোধ করে চাল পেতে হতো বলে কিউবান আমদানিকারকেরা ভিয়েতনাম থেকে সহজ শর্তে ও সাশ্রয়ী মূল্যে চাল আনতেন। বাংলাদেশ কেন পারে না আমেরিকার সঙ্গে ‘রাইস রিলেশন’ তৈরি করে সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে?
বাজার সূত্র বলছে, কয়েক মাস ধরে চাল আমদানি হচ্ছিল পাকিস্তান থেকে। সম্প্রতি কোনো কোনো আমদানিকারক ভিয়েতনাম গেছেন। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চাল রপ্তানিকারক ভিয়েতনামের মজুদ ও মূল্য এখন শীর্ষ রপ্তানিকারক থাইল্যান্ড থেকে বেশ ভালো।
এদিকে বিশ্ববাজারের দাম পড়তি দেখে ভিয়েতনাম সরকার সরকারি ও বেসরকারি কিছু সংস্থাকে বিনা সুদে তহবিল জুগিয়েছে, যেন তারা আর ১০ লাখ টন চাল কিনে নেয় কৃষকদের থেকে আর স্থানীয় বাজারে দাম না পড়ে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল আমদানিকারক ফিলিপাইন গত সপ্তাহে ঘোষণা দিয়েছে, এবারও তারা প্রায় ২৫ লাখ টন চাল আমদানি করবে। তবে আগামী তিন বছরে উৎপাদন বাড়িয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে তারা। শুক্রবার কম্বোডিয়ার নমপেন পোস্ট খবর দিয়েছে, ফিলিপাইন সে দেশ থেকে তিন লাখ টন সাধারণ মানের (২৫ শতাংশ ভাঙা) চাল আমদানির চুক্তি করতে যাচ্ছে ৩১০ ডলার টন দরে। এর আগের আড়াই লাখ টনের চালানটিই ফিলিপাইন নিয়েছিল ভিয়েতনাম থেকে, তবে একটু বেশি দরে। চাল রপ্তানিতে ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের বেশ পেছনে কম্বোডিয়া। গত এপ্রিলে তাদের কৃষি মন্ত্রণালয় ঘোষণা দেয়, রপ্তানি করার মতো ২৪ লাখ টন ধানের মজুদ আছে তাদের।
মূলত ভারত থেকে চাল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় চালের দাম বাংলাদেশে চড়া।
গতবার ভারতে চাল উৎপাদন মার খেয়েছিল। এবার তারা বাম্পার ফলন আশা করছে আর রপ্তানি পুনরায় শুরু করার আশাও রাখছে অক্টোবরের আগেই। অবশ্য ইতিমধ্যে শুরু হওয়া অতিবৃষ্টি ভারতের কোথাও কোথাও ধানের ক্ষতি করছে। বৃষ্টির অভাবে ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনেও উৎপাদন কিছু কমবে। তবে এমন মিশ্র পরিস্থিতি প্রায় সব সময়ই থাকে।
আমেরিকা, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াসহ অনেক জায়গায়ই রপ্তানির মজুদ ও মূল্য পরিস্থিতি ভালো। তাই সরকারকে যেতে হবে সেখানে, বেসরকারি খাতকে নিয়ে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে নতুন নতুন আমদানি সূত্রের সঙ্গে।
বাংলাদেশ নিয়মিত চাল আমদানিকারক নয়। এবার বাজার বলছে, উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে। উৎপাদন এমন কমলেই আমাদের বাইরে যেতে হয় মাঝেমধ্যে।
তবে এ ক্ষেত্রে সব আমদানি সূত্রের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ, অগ্রিম প্রস্তুতি ও উৎসাহ এবং চাল কূটনীতি নিয়ে সক্রিয় থাকলে স্থানীয় বাজার টালমাটাল না করেও সংগ্রহ ঘাটতি পূরণ সম্ভব। সব সূত্র থেকে আমদানি করা হলে সামান্য উৎপাদন ঘাটতি হলেই দাম বাড়বে না, মজুদদারেরা উৎসাহিত হবে না। চাল সংগ্রহের কিছু দায়সারা আন্তর্জাতিক দরপত্র ডেকে বসে থাকলে যেকোনো সরকারই বিপদে পড়বে।

বাংলাদেশকে চার বছরে ৪২ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি

বিশ্বব্যাংক আগামী চার বছরে বাংলাদেশকে ৬০০ কোটি ডলার বা ৪২ হাজার কোটি টাকার সহায়তা দেবে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১০-১১ থেকে ২০১৪-১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য যে নতুন সহায়তা কৌশলপত্র প্রস্তুত করেছে, গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় তা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দারিদ্র্য বিমোচনসহ আগামী দশকে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতেই বিশ্বব্যাংক এই বিপুল পরিমাণ সহায়তা দিচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দরিদ্রের হার কমিয়ে আনা এবং মানব উন্নয়নের অগ্রগতিকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে।
নতুন কৌশলপত্র অনুমোদন সম্পর্কে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর এলেন গোল্ডস্টেইন বলেন, ২০০৬ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে যে সহায়তা দিয়েছে, নতুন কৌশলপত্রের আওতায় তার দ্বিগুণ সহায়তা দেওয়া হবে।
নতুন এই সহায়তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে বিশ্বব্যাংক।
তবে বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংকের নতুন কৌশলপত্রে সরকারি ক্রয়-নীতির স্বচ্ছতা হ্রাস ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ক্ষমতা সীমিত করার পদক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামো ঘাটতিকে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।
জানা গেছে, আগামী কৌশলপত্রের শীর্ষ পাঁচটি প্রকল্পেই অর্থায়ন করা হবে প্রায় ২০০ কোটি ডলার, যার বেশির ভাগই অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত।
নতুন কৌশলপত্রে শীর্ষ প্রকল্পের তালিকায় আছে পদ্মা সেতু। এই প্রকল্পে প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংক।
গত বছর ডিসেম্বরের আগে প্রকল্পটির জন্য মাত্র ৩০ কোটি ডলার দিতে রাজি হলেও এখন তারা ১২০ কোটি ডলার বা আট হাজার ২৮০ কোটি টাকা দিতে প্রস্তুত।
২০১১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পদ্মা সেতু অর্থায়নের প্রস্তাবটি বোর্ডে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উঠতে পারে।
দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি (পিপিপি) প্রকল্পে অর্থায়ন। এ জন্য বিশ্বব্যাংক ২৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা এক হাজার ৭৭৩ কোটি টাকার এক প্রকল্প নিয়েছে।
চট্টগ্রামে পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা এক হাজার ২০৭ কোটি টাকা সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক।
রপ্তানি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ১২ কোটি ডলার বা ৮২৮ কোটি টাকা এবং দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে আরও ১৫ কোটি ডলার বা এক হাজার ৩৫ কোটি টাকা দেবে বিশ্বব্যাংক।
তালিকায় আরও আছে পেশাগত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির চার কোটি ডলার বা ২৭৬ কোটি টাকা, সামাজিক খাত বিনিয়োগে ১০ কোটি ডলার বা ৬৯০ কোটি টাকা, জাতীয় সুরক্ষা প্রকল্পে নয় কোটি ডলার বা ৬২১ কোটি টাকা এবং ঢাকার পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ৪৮৩ কোটি টাকা।
দেশে চরম বিদ্যুৎ সংকট থাকলেও আগামী কৌশলপত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কোনো প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে না বলে বিশ্বব্যাংক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৩৫ কোটি ডলার বা দুই হাজার ৪১৫ কোটি টাকা সিদ্ধিরগঞ্জে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজও আটকে গেছে। ২০০৮ সালে অর্থ পাওয়ার জন্য সরকার বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করলেও দরপত্রে বিলম্ব ও নানা ঘাপলার কারণে অর্থ ছাড় করাতে পারেনি।
আগের অর্থ ব্যবহূত না হওয়ায় নতুন কৌশলপত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কোনো প্রকল্প এখন পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
তবে নতুন কৌশলপত্রে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি থাকলেও সরকারি ক্রয় আইনের সংশোধন নিয়ে বিশ্বব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সরকারের টানাপোড়েন চলছে।
বিশ্বব্যাংক ইতিমধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) জানিয়ে দিয়েছে, তারা যেসব প্রকল্পে অর্থায়ন করবে সেসব প্রকল্পে পণ্য ও সেবা ক্রয় এবং ঠিকাদার নিয়োগের ক্ষেত্রে সংস্থার নিজস্ব নীতিমালা মেনে চলা হবে।
উল্লেখ্য, ক্রয় আইনের (পিপিআর) সংশোধন অনুযায়ী, দুই কোটি টাকা পর্যন্ত সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পূর্ব-অভিজ্ঞতা লাগবে না এবং দুই কোটি টাকা পর্যন্ত কাজের জন্য লটারি ব্যবস্থা আবার চালু করা থাকবে।
ফলে বিশ্বব্যাংকের নতুন কৌশলপত্রে বিপুল পরিমাণ সহায়তার আশ্বাস থাকলেও সরকার প্রকল্প কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ২০০৬-০৯ সময়কালের জন্য দেশভিত্তিক সহায়তা কৌশলের (ক্যাস) মেয়াদ শেষ হয়েছে। এই সময়কালে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে দিয়েছে ২৬০ কোটি ডলার বা প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা।

লাল-হলুদের দেশ

স্পেন এখন লাল-হলুদের দেশ। ঘরে-বাইরে কেবল এই দুটি রঙেরই আধিপত্য। পতাকায় পতাকায় ছেয়ে গেছে স্পেনের ঘর-বাড়ি, রেস্তরাঁ-বার, অফিস-আদালত আর মানুষের মাথা। দেশটির একমাত্র পতাকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সোসা ডায়াস গত মাসেই ৫০ হাজারেরও বেশি পতাকা বেচেছে। ধুমসে বিক্রি চলছে এখনো। সবচেয়ে বড় পতাকাগুলো বিক্রি হচ্ছে ৬৩ ডলারে। আর ১৯ ডলারে কতগুলো টি-শার্ট পাওয়া যাচ্ছে, যাতে গুনিন অক্টোপাস পলের ছবি আঁকা। এতে অক্টোপাসটি ধরে রেখেছে ‘আই লাভ রেডস’ লেখাটি। ফুল ও রেস্তরাঁর ব্যবসায়ীরাও তাঁদের সব কাজে লাল আর হলুদ রঙের ব্যবহার করছেন ইচ্ছেমতো!

পেলের দিকে ছুটছেন স্নাইডার

পেলেকে ছুঁয়ে ফেলার একটা সুযোগ এসেছে ওয়েসলি স্নাইডারের সামনে। না, কিংবদন্তি ফুটবলার পেলেকে গুণে, কৃতিত্বে, ক্ষমতায় ছোঁয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। পেলের অনেক রেকর্ডের একটি ছোঁয়ার কাছাকাছি চলে এসেছেন স্নাইডার—ক্লাবের হয়ে মৌসুমের সবগুলো ট্রফি জয়ের পর বিশ্বকাপ জয়।
১৯৬২ সালে ২১ বছর বয়সী পেলে বিশ্বকাপ খেলতে এসেছিলেন সান্তোসের হয়ে লিগ ও কোপা লিবার্তোদোরেস কাপ জিতে। সে বছর চিলিতে পেলে ব্রাজিলের হয়ে টানা দ্বিতীয় শিরোপাও জিতেছিলেন। সে বছরই পেলে সান্তোসের হয়ে জিতেছিলেন ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপও।
১৯৭৪ সালে জার্মান গ্রেট ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার পেলেকে ছোঁয়ার খুব কাছে চলে এসেছিলেন। বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে বুন্দেসলিগা ও ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছিলেন বেকেনবাওয়ার। কিন্তু মিস করে ফেলেছিলেন জার্মান কাপ।
একই কীর্তি নিয়ে এবার বিশ্বকাপে এসেছিলেন স্নাইডার। ইন্টার মিলানের হয়ে জিতে এসেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগ, সিরি আ ও ইতালিয়ান কাপ। এখন বিশ্বকাপটা ছুঁতে পারলেই পেলেকে ছোঁয়া হয়ে যায় তাঁর।
তাহলে স্নাইডার এই রেকর্ড-টেকর্ড নিয়ে খুব ভাবছেন? একটুও না। এখন তাঁর মাথায় রেকর্ড-টেকর্ড কিচ্ছু নেই, আছে শুধু বিশ্বকাপ। ‘এসব পরিসংখ্যান নিয়ে আমি খুব একটা চিন্তাই করি না। বিশ্বাস করুন, আমি এক সেকেন্ডের জন্যও কারও রেকর্ড ভাঙার কথা ভাবছি না। এখন আমি শুধু বিশ্বকাপ জিততে চাই। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় বা সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কথাও অনেকে বলছে। কিন্তু এসব মাথায় নিয়ে মাঠে নামলে ফুটবল কীভাবে খেলতে হয়, তা-ই তো ভুলে যাব।’
কিন্তু মাথায় না রাখতে চাইলেই কি হয়? কেউ না কেউ তো মনে করিয়ে দেবেই। যেমন টেক্সট মেসেজ পাঠিয়ে দিয়ে তাঁকে এসব কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ সার্জিও রামোস। স্নাইডারই বললেন, ‘ও আমাকে এসএমএসে লিখেছে, “অনেকগুলো ট্রফি তো জিতলে এই মৌসুমে। এবার একটু শান্ত হও”।’
কিন্তু স্নাইডারের কথাবার্তায় মনে হচ্ছে না যে শান্ত হওয়ার কোনো ইচ্ছে তাঁর আছে। রীতিমতো হুংকারের স্বরে বলছেন, ‘আমরা স্পেনকে হারাব। আমরা যদি কথাটা বিশ্বাস না করি, তাহলে কখনোই কাজটা করতে পারব না। আমাদের কোচ এটাই বলেছেন, এটাই গত মৌসুমে ইন্টারে বলতেন হোসে মরিনহো।

কার ভাগ্যের কী হাল আজ হবে তার ফাইনাল!

এবার বিপদ হলো। কী লিখব! এই কলামটি তো শুধুই খেলাসংক্রান্ত। গত দুই দিন খেলা ছিল না। থাকলে বিষয় পেতে অসুবিধা হয় না। নানা দিক, হরেক কথা, অনেক অনেক ঘটনার ছড়াছড়ি থাকে। সেসব দিয়ে কলামটিকে ভর-ভরাট করে ফেলা যায়। কিন্তু আজ সেসব দিক ফাঁকা।
এই লেখা যখন ছাপা হবে আজকের কাগজে, তখন সবাই এত দিনের অধীর অপেক্ষার সমাপ্তি দেখার জন্য তৈরি হতে থাকবে। আর একটি রাত জাগা, তার পরই সাঙ্গ হবে বিশ্বকাপ দেখার উৎকণ্ঠা আর আনন্দ। আবার শুরু হবে পরদিন থেকে দৈনন্দিনের একঘেয়ে সময়। চলবে জীবনসংগ্রামের পরিচিত অবস্থা-দুরবস্থাকে সামাল দিয়ে দিয়ে চলার দিন অতিবাহন। বিশ্বকাপ ফুটবল যে কদিন সব শ্রেণীর মানুষের বিনোদনের বিষয় হতে পেরেছিল, প্রণোদনা জোগাচ্ছিল আনন্দে ভাসার, তা দপ করে নিভে যাবে ফাইনাল খেলা সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে। বেশ কিছুদিন টিকে থাকবে শুধু স্মৃতি। আড্ডার আলাপে-তর্কে কখনোসখনো উঠে আসবে স্মৃতিচারণা।
স্মৃতিচারণা করতে গেলেই এবারের খেলায় সবচেয়ে বড় ব্লান্ডারকারী আর্জেন্টিনার সমর্থকদেরই মন খারাপ থাকবে বেশি। সম্ভাব্য অপ্রতিরোধ্য চ্যাম্পিয়ন বলে মনে মনে ধরে রাখা দলের জীবন-মরণ ম্যাচে অত বেশি গোলে হার একনিষ্ঠ সমর্থকদের শুধু মনই ভাঙেনি, সীমাহীন লজ্জাতেও ফেলেছে। বড় ব্যবধানে পরাজয় অন্তত এই দলের ব্যাপারে কেউ কোনো দিন ভাবেনি। ভাবার কোনো অবকাশই ছিল না। তুখোড় সব খেলোয়াড়, দারুণ ভালোবাসার কোচ, অসাধারণ মনোবল আর বিশ্বজুড়ে অসংখ্য সমর্থক যাদের সম্বল, তারা যে প্রায় উত্তর কোরিয়ার সাত গোলে হারার কাছাকাছি অবস্থায় পড়বে, এ ব্যাপারটি এত তাড়াতাড়ি হজম করা কঠিন বৈকি! চ্যাম্পিয়ন-রানার্সআপ দূরেই থাক, তৃতীয় স্থানটি পেলেও সান্ত্বনা হিসেবে মানা যেত।
গতকাল রাতেই হয়ে যাওয়ার কথা (লিখছি শনিবার বিকেলে) তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলা। দুই হত্যোদম দল জার্মানি ও উরুগুয়ে খেলবে। হতোদ্যম হওয়ার কথা জার্মানিরই বেশি। কেননা ফাইনাল খেলে, চ্যাম্পিয়ন হয়ে এবার আসর শেষ করার আশা তাদেরও ছিল। সেদিক থেকে উরুগুয়ে অনেকটাই নিশ্চিন্ত, নির্ভার। কারণ বড় দলগুলোর নাম-সুনামের তোড়ে তারা ভালো খেলার দল হিসেবে গণ্য হলেও কত দূর উঠবে বা উঠতে পারবে, তা নিয়ে আগে খুব ভাবনাচিন্তা হয়নি। শুরু হলো তখনই যখন ছোট-বড় দলগুলোকে নাকানিচুবানি খাইয়ে অনেক ওপরে উঠে এল ক্রমে ক্রমে।
অন্যদিকে জার্মান জনগণ, তাদের কিছু বিদেশি পাঁড় সমর্থক আর সেই সঙ্গে গোটা ইউরোপ নিশ্চয়ই চাইবে, অন্তত তৃতীয় স্থানটি যেন জার্মানির থাকে। আর উরুগুয়ে সমর্থন পাবে বাকি বিশ্বের। দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া তো বটেই, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াও তা-ই করবে।
তবে কি, এই তৃতীয় স্থান নিয়ে আমার কোনো ভালো লাগা না-লাগা নেই। যাহা ‘বাহান্ন’ তাহাই ‘তেপ্পান্ন’। এ-হলেও যা, ও-হলেও তা। এটার অবস্থান নিয়ে কীই-বা এমন যায়-আসে! একদল হলেই হলো। তবে উরুগুয়ের জন্য তৃতীয় স্থানও উজ্জীবক হবে। তারা ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করতে পারবে নিজেদের এটাকে সঙ্গী করে।
যা-ই হোক, এবার ফাইনালের দিকে একটু তাকাই। কী হতে পারে? কে আরাধ্য কাপটি ঘরে নিয়ে যাবে? দুই দলই তো সমান বলে আমার কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। তার মানে লড়াইটাও সমানে সমান হওয়ার সম্ভাবনা।
দুই দলই ইউরোপীয়। পরস্পরের হাবভাব, ধরন-ধারণ, ভাবগতিক জানা। কে কীভাবে খেলবে, কে কাকে কীভাবে ঠেকাবে, তাও এ কয়দিনে স্টাডি করা হয়ে গেছে নিশ্চয়ই। অতএব খুব জমজমাট খেলা হবে বলেই মনে হচ্ছে। অবশ্য আমার এ ব্যাপারে যা মনে আসছে এবং মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারছি না, তা হলো, এই ফাইনাল খেলার মজাটা আর বিশ্বকাপ পর্যায়ে থাকল না। যেকোনো একটি অন্য মহাদেশের দল থাকলে মনে হতো সত্যিকারের বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখছি। এখন যা হবে, তা যেন ইউরোপিয়ান কাপ ফাইনাল। অতএব ফাইনাল দেখার জোশ অনেকটাই ফিকে।
এদিকে ঢাকায় টিভি-দর্শক ও সমর্থকদের মধ্যে যারা প্রথম থেকেই এই দুই দলের প্রতি অনুরক্ত তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা দ্বিগুণ হয়েছে। ফাইনাল খেলা দেখার জন্য সাজ সাজ পড়ে গেছে ইতিমধ্যে। কে কার বাসায় গিয়ে খেলা দেখবে মহা আড্ডা জমিয়ে, কে কী খাবে, কে কাকে দাওয়াত দেবে—এসব খুব জোরেশোরে চলছে।
সবচেয়ে মজার দিক যেটি নজরে পড়ল, তা হলো পতাকা পুনঃস্থাপন। প্রথমদিকে ভরসা তেমন না পেয়ে এই দল দুটির পতাকা টাঙানো হয়েছিল খুব ছোটখাটো মাপের। এখন দেখলাম, সেসব সরিয়ে নতুন আর বড়সড় পতাকা টাঙানো হয়েছে। আগে যেগুলো নিচে কোনোরকমে টাঙানো হয়েছিল এবং বড় দলগুলোর, বিশেষ করে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানির বৃহৎ পতাকার আড়ালে প্রায় ঢাকা পড়ে ছিল, এখন সেগুলো দৃশ্যমান করতে উঁচুতে উঠিয়ে আনা হয়েছে।
এখন খেলা দেখার অপেক্ষা। আমার ধারণা, জরিপ করলে স্পেনের জয়ী হওয়ার দিকেই সমর্থন আসবে বেশি। বিশেষ করে সেদিনের খেলা দেখার পর স্পেনের প্রতি আস্থা বেড়ে গেছে অনেক। এ ব্যাপারে আমারও মনে মনে একটা ভাবনাই ভর করছে, যারা মহাপরাক্রমশালী একটি দলকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে, তারা সহজে ছেড়ে কথা কইবে না। ওদিকে হল্যান্ডেরও সবার মনোবল এখন তুঙ্গে। বিশ্বকাপ জেতার ব্যাপারে বহুবার কাছাকাছি এসেও হাতছাড়া হয়েছে। এবার তারা পিছলে না যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করবে, বলাই বাহুল্য। আর বিশ্বকাপটি শেষ পর্যন্ত দখলে পেলে যে কথাটি তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে তা হলো, ‘বারবার ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান। পেয়েছি তোমায় বাছা খেলে আপ্রাণ।’

জার্মান হয়েও আমি স্পেনের ভক্ত

স্পেন এখন অনন্যসাধারণ একটা দল। এই দলটা অনেক বছর একসঙ্গে খেলছে। বোঝাপড়াটা এত চমৎকার, দলের সবকিছু যেন হয়ে যায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে। স্পেনের বিপক্ষে খেলতে হলে আপনাকে কঠোর লড়াই করতে হবে, ছুড়ে দিতে হবে চ্যালেঞ্জ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আপনি সেটি পারবেন না। কারণ আপনার পায়ে তো বলই থাকবে না। আর আপনি যদি তাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আক্রমণাত্মক খেলতে চান, তাতেও উল্টো বিপদ। হজম করতে হবে গোল। কারণ ওরা ঠিক সেটার জন্যই ওত পেতে থেকে, আপনি আক্রমণাত্মক খেলবেন, ওরা পেয়ে যাবে জায়গা।
স্পেন-জার্মানি সেমিফাইনালটির কথাই ধরুন। প্রথমার্ধে জার্মানি তো দুর্দান্তভাবে রক্ষণ সামলে যাচ্ছিল। সে সময় তো আমার মনে হচ্ছিল, এই রক্ষণব্যূহ ভেঙে স্প্যানিয়ার্ডরা কি আদৌ গোলের দেখা পাবে? কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানির এই দলে অভিজ্ঞতার অভাবটাই প্রকট হয়ে উঠল। মনে হলো, ওরা যেন ধন্দের মধ্যে পড়ে গেছে এখন আমাদের কী করা উচিত, সেই কথা ভেবে ভেবে।
স্পেনের এত গুণগান গাওয়ার পরও বলছি, দিনের শেষে আমি কিন্তু চাই, স্পেন হেরে যাক। জানি, সুইজারল্যান্ড ওদের হারিয়ে দিয়েছে, কিন্তু সেটি ছিল গ্রুপ পর্বের সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের একটা ম্যাচ।
স্পেন আর হল্যান্ডের খেলার একটা অভিন্ন দিক হলো, দুটো দলের খেলোয়াড়েরাই সব সময়ই জায়গা বদল করে খেলে। খেয়াল করলেই দেখবেন, মাঝমাঠে ডান দিকে খেলছিল যে, হুট করে সে চলে এসেছে বাঁ দিকে; আর বাঁয়ের জন চলে গেছে ডানে। ভবিষ্যতে জার্মানিকেও এমন আরও বেশি বৈচিত্র্য নিয়ে খেলতে হবে। তবে এও খেয়াল রাখতে হবে, ডানের যে খেলোয়াড়েরা তার জায়গা ছেড়ে বাঁয়ে উঠে গেল, তার শূন্যস্থানটা যেন শূন্যই না থেকে যায়।
সেমিফাইনাল থেকে জার্মানির পরাজয়ে অনেকেই হতাশ। নিজে জার্মান বলে সেই দুঃখটা আরও বেশি করে অনুভব করছি। তবে একদিক দিয়ে মন্দেও ভালোও আছে। ফাইনালে হেরে যাওয়ার চেয়ে সেমিফাইনালে হারার দুঃখটা যে অনেক কম! আমার নিজের যে সেই অভিজ্ঞতা হয়েছে দুবার। ১৯৯৯ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের এবং ২০০২ বিশ্বকাপের ফাইনালে। অবশ্য আমি দুবার চ্যাম্পিয়নও হয়েছি। ১৯৯৬ সালে উয়েফা কাপ এবং ২০০১ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ।
মাঝেমধ্যে তো আমার এমনও মনে হয়, ফাইনালে হেরে যাওয়ার চেয়ে বরং গ্রুপ পর্বেই বিদায় নেওয়া অনেক ভালো! তাতে দুঃখটা অনেক কম হয়। হ্যাঁ, আপনার মধ্যে অনেক হতাশা থাকবে কিন্তু দুঃখবোধের যে যাতনা, সেটি আর সইতে হবে না। ২০০৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আমরা যখন ইতালির কাছে হেরে গেলাম, আমি ছিলাম বেঞ্চে বসে। কাজটা সহজ ছিল না মোটেও।
আজ স্পেন আর হল্যান্ডের কোনো একটা দল চ্যাম্পিয়ন হবে। আরেকটি দল এত কাছে থেকে ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখতে না পারার একবুক শূন্যতা নিয়ে ফিরে যাবে। কে সেই দুঃখ নিয়ে কাঁদবে আর কে কাঁদবে আনন্দে, সেটি আগাম বলা মুশকিল। তবে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, জয় হবে ইউরোপের ফুটবলের!
এবার ফাইনালে ইউরোপেরই দুটো দল। এই প্রথম ইউরোপের বাইরের কোনো মহাদেশে অনুষ্ঠানরত কোনো বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি দুই দলই ইউরোপের প্রতিনিধি। ইউরোপের ফুটবল বরাবরই সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে গেছে। ফাইনালের দুই দল ইউরোপের, এটা আমার কাছে অন্তত কোনো চমক নয়। কারণ ইউরোপের ফুটবলে সেই পেশাদারিটা আছে। ইউরোপের সঙ্গে বাকি বিশ্বের পার্থক্যটা এখানেই।
দুটো দলই ৪-৩-২-১ ছকে খেলে। দুটো দলেই আছে টেকনিকের দিক দিয়ে পরিপূর্ণ বেশ কিছু খেলোয়াড়। দুটো দলই খেলার ছন্দ ক্ষণে ক্ষণে পাল্টাতে পারে। নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী খেলার গতি পাল্টাতে সক্ষম। পরিপূর্ণ ফুটবল বলতে যা বোঝায়, দুই দলই সেই বৈশিষ্ট্যে পরিপূর্ণ। যোগ্যতম দুটো দলই খেলছে আজকের ফাইনালে।
কে জিতবে আজ? স্পেন! এদের এই দলটা শতাব্দীর সেরা দল। অনেকটা ফ্রান্সের সেই ১৯৯৮ বিশ্বকাপ আর ২০০০ ইউরোজয়ী দলটার মতো। এই দলটার এতটাই দুর্বলতা, প্রতিপক্ষের ওপর শেষ কামড়টি দিতে না পারা। এত এত সুযোগ তৈরির পরও গোল করেছে মাত্র সাতটি। আজও জাল খুঁজে পেতে কষ্ট হলে ওরা বিপদেই পড়ে যাবে। তবে যদি ১-০ গোলেও এগিয়ে যায় স্পেন, ওদের হারানো কঠিন।

বিশ্বকাপে এই প্রথম হল্যান্ড-স্পেন

ইউরোপের দুই দেশ হল্যান্ড আর স্পেন। অথচ কী আশ্চর্য! ৮ বছরের মধ্যে এই প্রথম একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি। সর্বশেষ দেখা ২০০২ সালে, প্রীতি ম্যাচে।
ইউরোপের দেশ হয়েও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের মূল পর্বেও কখনো দেখা হয়নি দুই দেশের। ১৯৮৩ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে দুটি ম্যাচ খেলেছিল তারা। বিশ্বকাপেও এই প্রথম দেখা হচ্ছে হল্যান্ড-স্পেনে। অথচ দুটি দেশই প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে শুরু করেছে ১৯৩৪ সাল থেকে। দুই দেশের মধ্যকার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ বলতে ইউরোর বাছাইপর্বের ওই দুটি ম্যাচ আর ১৯২০ সালের অলিম্পিকে একটি। বিশ্বকাপে প্রথমবার পা রেখেই শেষ আটে খেলেছিল স্পেন। হল্যান্ড অবশ্য বাদ পড়েছিল প্রথম রাউন্ড থেকেই।
এর আগে দুটি ফাইনাল খেলেছে হল্যান্ড। আর বিশ্বকাপে স্পেনের সর্বোচ্চ সাফল্য এবারের ফাইনালে ওঠাই। এর আগে চারবার শেষ আটে খেলাই ছিল তাদের সেরা সাফল্য।
আজ ফাইনালে নামার আগে পর্যন্ত মুখোমুখি লড়াইয়ে অবশ্য দু দল সমানে সমান। ইউরোপিয়ান বাছাইপর্বের দুটি ম্যাচসহ দেখা হয়েছে ৯ বার। হল্যান্ড জিতেছে ৪টিতে, ৪টি জয় স্পেনেরও। আজ দু দলেরই এগিয়ে যাওয়ার পালা।

নতুন চ্যাম্পিয়ন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে অভিনন্দন

হাউজি খেলাটা এখন ঢাকায় হয় কি না, জানি না। একসময় ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে ওই খেলাটা হতো। ঢাকার স্পোর্টস ক্লাবগুলোর আয়ের উৎস ছিল হাউজি খেলা। ঢাকা প্রেসক্লাবেও হাউজি খুব হতো। আমি সেই খেলায় প্রায়ই অংশ নিতাম। ফার্স্ট লাইন, সেকেন্ড লাইন ও থার্ড লাইন শেষে হাউজির কলার খেলায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলতেন, ‘অল ঝামেলা গন, নাউ লুক ফর দি হাউস’। লাইন পূর্ণ করতে পারার জন্য খুব সামান্য অর্থই পাওয়া যেত। ওই টাকাটাকে বলা হতো কনসোলেশন মানি বা সান্ত্বনা পুরস্কার। মোটা টাকার অঙ্ক বরাদ্দ থাকত নাম্বার শিটে ‘হাউস’ পূর্ণ করার খাতে। হাউজি খেলার সঙ্গে বিশ্বকাপ ফুটবলের তুলনা চলে না। তার পরও আমার যে হাউজির কথা মনে পড়ে গেল, তার দায় মনে হচ্ছে পুরোটাই আমার নয়। মিল নিশ্চয়ই আছে কিছুটা। হাউজি খেলার মূল লক্ষ্য যেমন হাউজ পাওয়া, তেমনি বিশ্বকাপ ফুটবলের আসল লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বকাপটি হাতে পাওয়া।
সাকিরার ‘ওয়াকা ওয়াকা আফ্রিকা’ গানের ভেতর দিয়ে গত ১১ জুন আফ্রিকার মাটিতে উনিশতম বিশ্বকাপের যে পর্দা উঠেছিল, দীর্ঘ এক মাসের রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষার পর আজ তার পর্দাপতন। আজ, ১১ জুলাই ২০১০, রোববার উনিশতম বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল। বত্রিশ দল দিয়ে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে বিদায় নিতে নিতে এখন অবশিষ্ট আছে শেষ দুটি দল। আজ বহু সংগ্রামের ভেতর দিয়ে টিকে যাওয়া সেই শেষ দুই দলের অন্তিম লড়াই। আজ কিংডম অব স্পেন ও কিংডম অব নেদারল্যান্ডের (হল্যান্ড নামটাই সহজ ও সুন্দর) মধ্যে ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের দ্বৈরথ। (রামায়ণ-মহাভারতে বর্ণিত মুখোমুখি রথযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘দ্বৈরথ’ শব্দটিকে ফুটবলেও প্রয়োগসিদ্ধ বলে ধরে নিচ্ছি) আজ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দেখতে দেখতে প্রায় মুখস্থ হয়ে যাওয়া ফুটবলের বিশ্বকাপটি বিজয়ীদের ঘরে তোলার দিন। হাউজির ভাষায়, আজ লুক ফর দি হাউস।
বর্তমান বিশ্বের ফুটবল-শ্রেষ্ঠ দেশ কোনটি? ফুটবলের বিশ্বকাপ এবার কার ঘরে যাবে? বিশ্বের এই জটিলতম প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে আজ রাতে। আজ যে-ই জয়ী হোক, আমি তাদের আগাম অভিনন্দন জানিয়ে রাখছি। কনগ্র্যাচুলেশনস কিংডম অব স্পেন/কনগ্র্যাচুলেশনস কিংডম অব নেদারল্যান্ড।
প্রথম রাউন্ডে ইতালি ও ফ্রান্সের এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ছিটকে পড়া ছাড়া এবারের বিশ্বকাপে আর কোনো বড় অঘটন ঘটেনি। বিশ্বজুড়ে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার অগণিত ভক্ত রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এ ক্ষেত্রে সম্ভবত অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে। তাই ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার অকালপ্রয়াণে তাঁরা কষ্ট পেয়েছেন। প্রিয় দলের পরাজয়ের দুঃখ সইতে না পেরে একাধিক ভক্তের মৃত্যুবরণের ঘটনা বাংলাদেশে এবারও ঘটেছে। আমরা তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। পরবর্তী বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে ব্রাজিলে। বিশ্বাস করি, সেই বিশ্বকাপে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা বাংলাদেশের মানুষের ক্ষতি পুষিয়ে দেবে।
আশার কথা, ফিফার সম্পাদক, নামটা ভুলে গেলাম, প্রেস কনফারেন্স করে আমাদের জানিয়েছেন—আগামী বিশ্বকাপকে ত্রুটিমুক্ত করার জন্য প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হবে। তিনি বলেছেন, শুধু গোললাইন পর্যবেক্ষণের জন্যই নয়, প্রয়োজনে ক্রিকেটের মতো ফুটবলেও ‘হক আই’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। শুনে আমার কী যে ভালো লাগল! আমি আমার কলামে এবং টিভির একাধিক অনুষ্ঠানে ফুটবলে রেফারিদের প্রযুক্তির সাহায্য গ্রহণের দাবি তুলেছিলাম। একটি লেখায় বলেছিলাম, প্রযুক্তি ব্যবহার না করা হলে আগামী বিশ্বকাপ ফুটবল আমি দেখব না।
জানি না, আমার কথা ফিফার কাছে কীভাবে পৌঁছাল! আমি যে একটি কলামে ফিফার প্রেসিডেন্ট মিস্টার সেপ ব্ল্যাটারকে ‘বুড়ো’ বলে গাল দিয়েছিলাম, আশা করি, এই কথাটা কেউ তাঁর কানে দেবেন না। প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে যে সময় ব্যয় হবে, তা পুষিয়ে নেওয়ার জন্য ফুটবল খেলার সময় কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়ার কথাও ফিফা ভাবতে পারে।
এবারের বিশ্বকাপ থেকে বিশ্ব যে ফুটবলের এক নতুন চ্যাম্পিয়ন পাচ্ছে, এটা খুশির কথাই বটে। তবে, ইউরোপ না হয়ে এশিয়া বা আফ্রিকার কোনো দেশ চ্যাম্পিয়ন হলে আমরা আরও খুশি হতে পারতাম। আমরা চাই, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের বিজয়বৃত্ত ভেঙে বিশ্বের ফুটবল বেরিয়ে আসুক। সে রকম প্রত্যাশা নিয়েই আমরা আগামী বিশ্বকাপের জন্য অপেক্ষায় থাকব। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রপৌত্রীর অকালমৃত্যুর কারণে দক্ষিণ আফ্রিকাসহ সারা বিশ্বের প্রিয় নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। শুনেছি, সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন। তা হবে আমাদের সবার জন্যই এক আনন্দসংবাদ।
অত্যন্ত সুন্দরভাবে উনিশতম বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজন করার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে আমাদের উষ্ণ অভিনন্দন।