Thursday, October 9, 2025
গাজার ভবিষ্যৎ কেমন হবে?
তাদের এক দীর্ঘ প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের গুঞ্জনের মধ্যে জিহান আবু মানদিল দেখছিলেন, তার পাঁচটি ছোট সন্তান দেইর আল-বালাহর এক ক্ষুদ্র, অস্থায়ী তাঁবুর ভেতর খেলছে। গণহত্যার মাঝেও অবরুদ্ধ গাজার আকাশের নিচে সেটি ছিল একটুখানি শৈশবের মুহূর্ত। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ জেনোসাইড স্কলার্স ইসরাইলের এই অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা বলেছে, ইসরাইল গাজার প্রায় সবকিছু ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে আছে হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, গোটা পাড়া-মহল্লা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে ৯০ শতাংশ ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ইসরাইল কমপক্ষে ৬৭,১৬০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। ১,৬৯,০০০ জনকে আহত করেছে। আরও হাজার হাজার লাশ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে।
গাজার মানুষরা এখনো আশার আঁচ ধরে রেখেছে। গত দুই বছরে বহুবার মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা ভেস্তে দিয়েছে ইসরাইল। তবে এবার ট্রাম্প কিছুটা বেশি চাপ প্রয়োগ করেছেন। যদি এই যুদ্ধবিরতি টেকসই হয়ও, গাজার সামনে অপেক্ষা করছে ভয়াবহ পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গাজা পুনর্নির্মাণে লাগবে ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। সময় লাগবে কমপক্ষে ১৫ বছর সময়, যাতে অঞ্চলটি আবার বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। তবে এই হিসাব কেবল তখনই প্রযোজ্য, যদি ইসরাইলের অবৈধ অবরোধ পুনর্গঠনে বড় বাধা না হয়। আগের ক্ষুদ্র যুদ্ধগুলোর পর বারবার তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। দোহায় অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ-এর গাজাবাসী বিশেষজ্ঞ আজমি কেশাওয়ি বলেন, গাজার মানুষ তাদের জীবন ফিরে পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে প্রস্তুত। কিন্তু শুধু ইচ্ছাশক্তি যথেষ্ট নয়্য। এটা শুধু তাদের ওপর নির্ভর করে না।
গাজার ভবিষ্যতের জন্য পুনর্গঠন যত জরুরি, ততটাই আশঙ্কা রয়েছে, যদি হামাস ক্ষমতা ছাড়ে (যা ট্রাম্পের প্রস্তাবের একটি ধারা), তাহলে অঞ্চলটি বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার মধ্যে ডুবে যেতে পারে। গাজার সাংবাদিক ইয়াসের আল-বান্না ব্যাখ্যা করেন, হামাসের শাসনের একটি সুবিধা হলো তারা নিরাপত্তা বজায় রাখে।
গণহত্যার সময় ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে গাজার নিরাপত্তা বাহিনীকে টার্গেট করেছে এবং কিছু কুখ্যাত গ্যাংকে সাহায্য করেছে, যারা সীমিত মানবিক সহায়তা লুট করে কালোবাজারে বিক্রি করছে। তবে কেশাওয়ি মনে করেন, ইসরাইল যদি গাজা ছেড়ে যায়, তাহলে এসব গ্যাং বেশিদিন টিকবে না। সমাজ তাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে উপেক্ষা করবে। তবে তিনি সতর্ক করেন, ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে গোষ্ঠীসংঘাত আবারও মাথাচাড়া দিতে পারে। ফাতাহ বর্তমানে পশ্চিম তীরে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্যালেস্টিনিয়ান অথরিটি নিয়ন্ত্রণ করে। আর হামাস এখনো গাজা শাসন করছে। যদিও ইসরাইলের হামলায় তাদের অবকাঠামো ধ্বংসপ্রাপ্ত।
২০০৬ সালে হামাস নির্বাচনে জয়ী হয়ে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের নেতৃত্ব নেয়ার পর দুই দলের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ হামাসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করে। কারণ তারা ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ ছাড়েনি। যুক্তরাষ্ট্র ফাতাহকে হামাস উৎখাতের জন্য সহায়তা করে। ফলে ২০০৭ সালের জুনে এক সংক্ষিপ্ত গৃহযুদ্ধের পর হামাস ফাতাহকে গাজা থেকে বিতাড়িত করে। এর পর থেকেই ফিলিস্তিন জাতীয় আন্দোলনে গভীর বিভাজন থেকে যায়।
কেশাওয়ি বলেন, যদি ইসরাইল কিছু নির্বাসিত ফাতাহ নেতাকে গাজায় ফিরে আসতে দেয়, তাহলে তারা হামাসের সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে পারেন। ইসরায়েল যদি এসব মানুষকে ফেরার অনুমতি দেয়, তবে হয়তো হামাসপন্থীদের টার্গেট করবে।
যারা গাজায় রয়ে গেছেন, তাদের সামনে অপেক্ষা করছে মানসিক বিপর্যয়ের এক অনন্ত লড়াই। কেউই এখনো সময় পায়নি নিজের ক্ষতি বুঝে উঠতে। পরিবার, বন্ধু, ঘরবাড়ি, ভবিষ্যৎ সবকিছু হারিয়েছে ইসরাইলের নিরন্তর আক্রমণে। ২০২২ সালে, অর্থাৎ গণহত্যা শুরু হওয়ার আগেই, সেভ দ্য চিলড্রেনের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, গাজার প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে চারজনই বিষণ্নতা, ভয় ও শোক নিয়ে বেঁচে আছে।
ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন ভয়াবহ সম্মিলিত মানসিক ক্ষত আর দেখা যায়নি। সংস্থার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আহমদ মাহমুদ আল-সালেম আম্মান (জর্ডান)-এর এক ক্লিনিকে গাজার শিশুদের চিকিৎসা করতেন। তিনি দেখেছেন অধিকাংশ শিশু ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন, বিষণ্নতা ও অনিদ্রায় ভুগছে। লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব সাইকিয়াট্রির অধ্যাপক ডেরেক সামারফিল্ড আল জাজিরাকে বলেন, গাজার শিশুরা এখন যা পার করছে, তা কল্পনারও অতীত। কমপক্ষে ১৭,০০০ শিশু এখন একা। তাদের কোনো অভিভাবক নেই। তারা আদৌ কখনো নিরাপদ জীবনে ফিরতে পারবে কিনা, তা অনিশ্চিত। তিনি আরও বলেন, এই শিশুদের ভবিষ্যৎ তাদের মানসিক ট্রমা কাটিয়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে না। কারণ ট্রমা তো এখনো শেষ হয়নি। তাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তাদের সমাজের ওপর। আর সেই সমাজই ধ্বংস হয়ে গেছে। এ কারণেই এটাকে আমরা গণহত্যা বলি।
আবু মানদিলের এখন একটাই আশা, সন্তানদের জন্য অন্তত সামান্য একটি ভবিষ্যৎ তৈরি করা। তার স্কুলপড়ুয়া সন্তানরা টানা দুই বছর ধরে কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা পাচ্ছে না। কিন্তু একসময়ের ভূগোল শিক্ষিকা হিসেবে তিনি নিজেই তাদের অল্পবিস্তর পড়াচ্ছেন, যেন খুব বেশি পিছিয়ে না পড়ে তারা। তিনি বলেন, আমি শুধু চাই, তাদের ভবিষ্যৎ আমাদের চেয়ে ভালো হোক। অবিরাম হত্যাযজ্ঞে আমি সন্তানদের নিয়ে ভীষণ ভয়ে আছি। সত্যি বলতে, আমি শুধু চাই, একদিন ওদের গাজা থেকে বের করে আনতে পারি।
![]() |
| ‘সমস্ত গাজা উপত্যকা আনন্দে ভাসছে’ শান্তি চুক্তির ঘোষণা শোনার পর দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে বাসিন্দারা উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। তারা রাস্তায় নেমে উল্লাস করছেন। দলবদ্ধভাবে নাচছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে। তাদের একজন ওয়ায়েল রাদওয়ান। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, যুদ্ধ থেমে গেছে। আমরা খুবই খুশি যে যুদ্ধ শেষ হয়েছে। এটি আমাদের জন্য আনন্দের বিষয় এবং আমরা ধন্যবাদ জানাই আমাদের সেই ভাইদের ও সকলকে, যারা যেভাবেই হোক যুদ্ধ থামাতে এবং রক্তপাত বন্ধ করতে অবদান রেখেছেন। আরেক বাসিন্দা আবদুল মজিদ রব্বো বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, যুদ্ধবিরতি হয়েছে, রক্তপাত ও হত্যাযজ্ঞের অবসান ঘটেছে। শুধু আমি নই, পুরো গাজা উপত্যকা খুশি। সব আরব জনগণ খুশি। সারা পৃথিবী খুশি এই যুদ্ধবিরতি ও রক্তপাতের সমাপ্তিতে। ধন্যবাদ এবং ভালোবাসা জানাই তাদের সবাইকে যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নোবেলজয়ী ওমারের জন্ম ফিলিস্তিনি শরণার্থী পরিবারে
ইয়াঘি ২৮তম ইউসি বেকার্লির ফ্যাকাল্টি মেম্বার হিসেবে নোবেল পুরস্কার পেলেন। এই বিজ্ঞানী তার ক্ষেত্রটিকে জালিকার রসায়ন বলে অভিহিত করেন। ১৯৯০ সালে ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবানা ক্যাম্পেইন থেকে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। সেখানে তিনি রসায়নবিদ ওয়াল্টার ক্লেমপেরার সঙ্গে কাজ করেন। ইয়াঘি তাকে তথ্য বিশ্লেষণের কৌশল শেখান। এছাড়া কিভাবে একজন গবেষক বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত গড়ে তুলতে হয় তা শেখান। ইয়াঘি জটিল অণুগুলোর সংশ্লেষণে কাজ করেছিলেন। ১৯৬৫ সালে জর্ডানের আম্মানে ফিলিস্তিনি শরণার্থী এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রসায়নে নোবেল পাওয়া বিজ্ঞানী ইয়াঘি। তার পিতা গবাদি পশু পালন করতেন এবং আম্মানে তার একটি মাংসের দোকান ছিলো। পিতার পরামর্শে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যান তিনি। হাইস্কুল শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যে তিনি নিউইয়র্কে একা বসবাস শুরু করেন। ইংরেজিতে দুর্বল হওয়ায় তিনি ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞানে হাডসন ভ্যালি কমিউনিটি কলেজ থেকে কোর্স সম্পন্ন করেন।
বলেন, রসায়নের প্রতি আমার শুরু থেকেই অন্যরকম ভালোবাসা কাজ করতো। আমি আলবানিতে চলে যাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে গবেষণায় মনোযোগ দেই। তিনজন পৃথক প্রফেসরের কাছ থেকে আমি তিনটি ভিন্ন ধরণের কোর্স করি। একজন প্রফেসরের কাছ থেকে ভৌত জৈব প্রকল্প, একজনের কাছ থেকে জৈব পদার্থবিদ্যা প্রকল্প ও অন্য একজনের কাছ থেকে তত্ত্ব প্রকল্প শেখেন। বলেন, গবেষণাগার আমার পছন্দ ছিলো তবে ক্লাস করতে ভালো লাগতো না। তিনি ১৯৮৫ সালে রসায়নে বিএস ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপর ১৯৯০ সালে আরবানা চ্যাম্পেইনের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন পোস্ট ডক্টোরাল ফেলোশিপ অর্জনের পর ১৯৯২ সালে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে, ১৯৯৯ সালে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ২০০৭ সালে ইউসিএলএতে অনুষদে অধ্যাপনা করেন ইয়াঘি
সূত্র: ইউসি বার্কলি নিউজ।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যেমন করে হলো গাজা শান্তিচুক্তি: জাতীয় অধিকারের প্রশ্নে কখনো আপস নয় -হামাস
এর আগে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইলকে যেভাবে তিনি ব্লাঙ্কচেক দিয়েছেন, এবার তার থেকে ভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। ফলে এটাকে বলা হচ্ছে এমন একজন ব্যক্তির জন্য নাটকীয় মুহূর্ত, যিনি প্রকাশ্যে ‘পিসমেকার ইন চিফ’ হতে পছন্দ করছেন। এর আগে ২৯শে সেপ্টেম্বর নেতানিয়াহুকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে তিনি গাজার শান্তি প্রতিষ্ঠার ২০ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি নেতানিয়াহুকে সাহস দেন। তিনি বলেন, হামাস যদি এই পরিকল্পনা গ্রহণ না করে তাহলে গাজায় ‘কাজ শেষ করায় পূর্ণ সমর্থন থাকবে’ ইসরাইলের প্রতি এবং ফিলিস্তিনের যোদ্ধাগোষ্ঠী হামাসকে ধ্বংস করে দিতে। প্রথমত নেতানিয়াহু এবং ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সামনে তিনি যে পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন তার ওপর গত সপ্তাহে আরব ও মুসলিম নেতাদের মধ্যে জাতিসংঘে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরে তা নিয়ে খসড়া করা হয়। অন্যদিকে নেতানিয়াহু দেখতে পান এতে এমন কিছু গুরুত্বপূণৃ বিষয় আছে, যা তিনি মেনে নেবেন না বলে শপথ নিয়েছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি। হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলের হামলা ট্রাম্পের জন্য কাজে দিয়েছে। তারা কাতারের পর হামাস সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এতে সমঝোতা প্রক্রিয়া একটি স্পর্শকাতর অবস্থায় পৌঁছে। এই হামলার বিরুদ্ধে আরব ঐক্যকে ব্যবহার করেন ট্রাম্প। তারা হামাসকে চুক্তি মেনে নিতে আহ্বান জানায়। এরপর নেতানিয়াহুকে ধরেন ট্রাম্প।
কাতারে হামলার জন্য ওভাল অফিস থেকে তাকে কাতারি নেতাদের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন। এমনকি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী যখন একটি কাগজে এই ক্ষমা চাওয়ার বিবৃতি পড়ে শোনান তখন নেতানিয়াহুর কানে ফোন ধরে রাখেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত ছবিতে এমনটা ধরা পড়েছে। ওদিকে পলিটিকো রিপোর্টে লিখেছে, নেতানিয়াহু ঠিকঠাক পড়ছেন কিনাা তা পরখ করতে ওই কক্ষে তখন কাতারের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এরপর কাতারকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বিষয়ক একটি অসাধারণ নির্দেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। তিনি আরবদের সঙ্গে সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ করছেন। আগামী রোববার মধ্যপ্রাচ্য সফর করার কথা তার। তবে ক্ষমতার প্রথম মেয়াদে তিনি ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়ে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কো। আর দ্বিতীয় মেয়াদে তার প্রথম বিদেশ সফরের মধ্যে ছিল উপসাগরীয় দেশ কাতার, মিশর ও আবু ধাবি। তবে এ সময় তিনি ইসরাইলে যাননি।
যুদ্ধ যখন ভয়াবহ রূপ নিযেছে, তখন হামাসের ওপর কড়া চাপ সৃষ্টি করেন তিনি। তাদেরকে ৫ই অক্টোবর সময়সীমা বেঁধে দেন। বলেন, এর মধ্যে চুক্তি মানতে হবে নাহলে ‘নরকে যেতে হবে’। হামাসও ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে লুফে নেয়। তারা গাজায় আটকে থাকা সব জিম্মি মুক্তি দেয়ায় সম্মত হয়। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসে জিম্মিদের আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে বার বার সাক্ষাৎ দিতে থাকেন ট্রাম্প। দ্রুততার সঙ্গে তিনি এর ভিতর থেকে জয় খুঁজে নেন। তিনি এক ভিডিওবার্তায় হামাসের বিবৃতি পোস্ট করেন। তবে হামাস তার পরিকল্পনার সব শর্ত মেনে নেয়নি। এ বিষয়টি উল্লেখ করেননি। এ নিয়ে ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়ান। হামাস ও মধ্যস্থতাকারীরা দ্রুততার সঙ্গে একটি চুক্তি দাঁড় করান। এ সময় নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প বলেন- বিবি, এটাই তোমার জয়ের সুযোগ। ট্রাম্পের এই বার্তায় সায় দেন নেতানিয়াহু। কারণ তার সামনে আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
![]() |
| হামাসের বিবৃতি: জাতীয় অধিকারের প্রশ্নে কখনো আপস নয়, ইসরাইলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার দাবি হামাস আশা করে নতুন সম্পাদিত চুক্তি গাজায় যুদ্ধের অবসান ঘটাবে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, জাতীয় অধিকারের প্রশ্নে কখনো আপস করবে না তারা। চুক্তি হওয়ার পর তারা একটি বিবৃতিতে এ কথা বলেছে। এতে আরও বলা হয়, এই চুক্তি দখলদার বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার নিশ্চিত করবে, মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ দেবে এবং বন্দি বিনিময় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। হামাস তাদের বিবৃতিতে কাতার, মিশর, তুরস্ক এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে। তারা ট্রাম্প ও অন্যান্য পক্ষকে আহ্বান জানায়, ইসরাইলি দখলদার সরকার যেন চুক্তির শর্তাবলির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে। বিবৃতিতে হামাস আরও বলেছে, গাজার জনগণ অতুলনীয় সাহস, মর্যাদা ও বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে। তারা প্রতিজ্ঞা করেছে, আমরা কখনও আমাদের জাতীয় অধিকারের প্রশ্নে আপস করব না, যতক্ষণ না স্বাধীনতা, মুক্তি এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্জিত হয়। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘আল-আকসার মালিক এখন ইসরাইল’
আর সেই ঘটনা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিম এশিয়ায়। সৌদি আরব, জর্ডনসহ একাধিক দেশ গভিরের এই দাবির কড়া নিন্দা করেছে। বেন-গভিরের এই আগ্রাসী মন্তব্য এমন সময় ঘটল, যখন মুসলিম বিশ্ব বারবার আল-আকসার পবিত্রতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তার এই সফরকে ফিলিস্তিনি ও আরব নেতারা নতুন করে উসকানি ও দখলদার নীতির অংশ হিসেবে দেখছেন।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরবও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আল-আকসা চত্বরে দখলদার বাহিনীর নিরাপত্তায় ইসরাইলি কর্মকর্তা ও অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের তাণ্ডবের কঠোর নিন্দা জানাচ্ছে সৌদি আরব।’
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের অংশ পূর্ব জেরুজালেম আদতে ইসরাইল অধিকৃত অঞ্চল। সেখানেই রয়েছে সারা বিশ্বের ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের এই পবিত্র আল আকসা মসজিদ। আবার সেই চত্বরেই রয়েছে ইহুদিদের ধর্মস্থান টেম্পল মাউন্ট।
‘স্পর্শকাতর’ এই এলাকা ঘিরে অতীতেও একাধিক বার সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরাইল এবং প্যালেস্টাইন। এই পরিস্থিতিতে বুধবার ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী আল আকসা চত্বরে দাঁড়িয়ে গাজ়ায় চূড়ান্ত বিজয়ের কথা ঘোষণা করেন। হামাসও এই সফরের নিন্দা করেছে, এটিকে ‘ইচ্ছাকৃত উসকানি’ বলে অভিহিত করেছে। আল-আকসার পবিত্রতা এবং বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের অনুভূতিকে ধাক্কা দেবার অভিযোগ তুলেছে বেন গভির বিরুদ্ধে।
সূত্র: রয়টার্স

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় দুই বছর ধরে নৃশংসতা: একদিকে আলোচনা, অন্যদিকে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল
মিসরের পর্যটন শহর শারম আল–শেখে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের আলোচনা শুরু হয়। গতকাল মঙ্গলবারও ওই আলোচনা হওয়ার কথা। সোমবার আলোচনার শুরুটা ‘ইতিবাচক’ হয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস। যদিও সংগঠনটির এক নেতা বলেছেন, এবারও আলোচনায় ‘বাধা দেওয়ার’ চেষ্টা করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
গত দুই বছরে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। উপত্যকাটিতে ৯২ শতাংশ আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। এ নৃশংসতার মধ্যে গাজায় সংঘাত বন্ধে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০ দফা ‘শান্তি’ পরিকল্পনা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই পরিকল্পনাকে ইসরায়েলের প্রতি পক্ষপাতমূলক বলছেন অনেক বিশ্লেষক।
ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের ওই পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তবে পরিকল্পনার কিছু শর্তের বিষয়ে আপত্তি রয়েছে হামাসের। এসব নিয়ে আলোচনার জন্য গত সোমবার থেকে শারম আল–শেখে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। আজ বুধবার এ আলোচনায় যোগ দেওয়ার কথা কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানির। হামলার মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া চ্যালেঞ্জের প্রথম দিনের আলোচনা নিয়ে আল-জাজিরার সঙ্গে কথা বলেছে হামাস-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। তাদের ভাষ্যমতে, সোমবার দুই পক্ষের আলোচনা ‘ইতিবাচক’ হয়েছে। এই আলোচনা কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, তার একটি রূপরেখাও তৈরি করা হয়েছে এদিন। এ ছাড়া ইসরায়েলের চলমান হামলার মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া একটি চ্যালেঞ্জ বলে মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছে হামাস।
মিসরের আলোচনার বিষয়ে গতকাল হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকেরা ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন— গাজা থেকে জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার পর ইসরায়েল আবার হামলা শুরু করবে না, এ নিশ্চয়তা তিনি কীভাবে দেবেন? জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের হাতে অনেক ক্ষমতা রয়েছে। আর সবাই যেন চুক্তি মেনে চলে, তা নিশ্চিত করতে আমরা সম্ভাব্য সবকিছু করব।’
তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী সংঘাত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় পদক্ষেপ ছাড়া বৃহৎ পরিসরে রাজনৈতিক সমাধান আসবে না বলে মনে করেন ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ–এর কলাম লেখক গিদেয়ন লেভি। তিনি বলেন, সংঘাত বন্ধের আশা রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যথেষ্ট দৃঢ়তা না দেখালে এর বেশি কিছু পাওয়া যাবে না। আর তিনি আদৌ দৃঢ়তা দেখাবেন কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে। আমার মনে হয় না ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিষয়ে আগ্রহী ট্রাম্প।’
আলোচনা নস্যাৎ করার চেষ্টা নেতানিয়াহুর
ট্রাম্পের ২০ দফার মধ্যে রয়েছে গাজা থেকে বাকি জীবিত ও মৃত জিম্মিদের ইসরায়েলে ফেরত পাঠানো, উপত্যকাটি থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হামাসকে অস্ত্রমুক্ত করা এবং সংঘাত বন্ধের পর গাজায় একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের মতো নানা বিষয়। এর মধ্যে গাজায় সংঘাত বন্ধ এবং জিম্মিদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে রাজি হামাস। তবে অন্তর্বর্তী সরকার প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।
এরই মধ্যে গতকাল হামাসের মুখপাত্র ফাউজি বারহুম বলেছেন, তাঁরা এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চান, যা ফিলিস্তিনিদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিলবে। এ লক্ষ্যে ‘সব বাধা’ দূর করার চেষ্টা করছেন আলোচনায় যোগ দেওয়া হামাসের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে অভিযোগ করে বারহুম বলেন, আগের মতো এবারও আলোচনায় ‘বাধা দেওয়ার এবং নস্যাৎ করার’ চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু।
একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য নিজেদের মূল দাবিগুলোও তুলে ধরেন হামাস নেতা ফাউজি বারহুম। দাবিগুলো হলো গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, সব ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, কোনো বাধা ছাড়া গাজায় ত্রাণ প্রবেশ করতে দেওয়া, বাস্তুচ্যুতদের নিজ নিজ ঘরে ফিরতে দেওয়া, ফিলিস্তিনিদের তত্ত্বাবধায়নে গাজা পুনর্গঠন শুরু করা এবং ন্যায্য বন্দিবিনিময় চুক্তি।
দুই বছর ধরে নির্বিচার হামলা
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় হামাস। ওই দিন থেকেই গাজায় টানা নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। গতকাল এ নৃশংসতার দুই বছর পূরণ হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় অন্তত ৬৭ হাজার ১৭৩ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২০ হাজার ১৭৯ জন শিশু। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।
হত্যাযজ্ঞের পাশাপাশি গাজা অবরোধ করে সেখানে খাবার ও চিকিৎসা সরঞ্জামের মতো জরুরি পণ্য প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ইসরায়েল। এতে দুই বছরে অনাহারে উপত্যকাটিতে ৪৬০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৫৪টিই শিশু। খাবার না পেয়ে তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে গাজার পাঁচ বছরের কম বয়সী ৫১ হাজার ১০০ জনের বেশি শিশু।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজার ৩৮টি হাসপাতালের ২৫টিই ধ্বংস করেছে ইসরায়েল। ৯২ শতাংশ আবাসিক ভবন ধ্বংস করা হয়েছে।
ইসরায়েল গাজায় জাতিগত নিধন চালাচ্ছে উল্লেখ করে গত মাসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন। গত দুই বছরে দুর্বিষহ সময়ের কথা স্মরণ করে গাজার বাসিন্দা মোহাম্মদ দিব রয়টার্সকে বলেন, ‘দুই বছর ধরে আমরা ভয়, আতঙ্ক, ধ্বংসযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুত হওয়ার মধ্যে আছি।’
![]() |
| ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতবিক্ষত গাজা উপত্যকা। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র দিলে ‘গণতন্ত্র’, ইরান ড্রোন দিলে কেন তা ‘সন্ত্রাস’? by গ্রেগরি শুপাক
ফোর্বস ম্যাগাজিনে সাংবাদিক পল ইডোন ইরানকে ‘রাশিয়ার আগ্রাসী লালসার সহচর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফরেন পলিসি সাময়িকীতে এলি জেরানমায়ে ও সিনজিয়া বিয়ানকো লিখেছেন, ‘ইউক্রেনে ইরানের অস্ত্র যাওয়া ঠেকানো এবং ইরানের অভ্যন্তরের নাগরিকদের দৈনন্দিন খরচ বৃদ্ধি কীভাবে করা যায়, তার উপায় আমেরিকা ও ইউরোপের খুঁজে বের করা উচিত।’
ওই একই সাময়িকীতে জন হার্ডি ও বেনহাম বেন ট্যালেবলু লিখেছেন, ইরানের শাহেদ-১৩৬ ড্রোন ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘সন্ত্রাসের বিস্তারে’ সহায়তা করছে এবং এ ধরনের সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি ‘পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে ইরানের আক্রমণের শামিল’। এ বিষয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের সম্পাদকীয়তে বলেছে, এই ড্রোন রপ্তানি করে ইরান ‘সমস্যা সৃষ্টি করছে’ এবং ‘রাশিয়ার ইউক্রেন ধ্বংসে সহায়তা’ করছে।
অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো গত সপ্তাহেও আমেরিকার অস্ত্র উৎপাদন ও রপ্তানির ভূয়সী প্রশংসা করেছে। সাংবাদিক পিটার বারজেন সিএনএন টেলিভিশনে সম্প্রতি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়ে এবং ইউক্রেনকে হিমার্স মিসাইল ও এমওয়ান ট্যাংকসহ অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তা করে ‘সত্যিকারের নেতৃত্বের’ পরিচয় দিয়েছেন।
এ ছাড়া জেফরি স্যাক্স বলেছেন, গত মার্চে ইউক্রেন রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছিল এবং এর মধ্য দিয়ে রাশিয়ার দখলকৃত ভূখণ্ড হাতছাড়া করতে রাজি হয়েই কিয়েভ যুদ্ধ সমাপ্তির দিকে যাচ্ছিল; কিন্তু বাইডেন প্রশাসন সেই শান্তি উদ্যোগে ঠান্ডা পানি ঢেলে দিয়েছেন এবং ইউক্রেনকে আলোচনার টেবিল থেকে উঠে যেতে সহায়তা করেছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় ব্রেট স্টিফেন লিখেছেন, ‘এফ-১৬ জঙ্গি বিমানসহ সব ধরনের সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানোর এটিই মোক্ষম সময়।’
তবে এর মধ্যে দ্য বুলেটিন অব দ্য অ্যাটোমিক সায়েন্সেস-এর অবস্থান উল্টো। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার দ্বার খোলা রাখা উচিত। যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো জোট ও অন্যান্য মিত্ররা যদি সামরিক সংঘাতকেই সমাধানের একমাত্র রাস্তা হিসেবে বেছে নেয়, তাহলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে।
ওয়ার রিজার্ভ স্টক পাইল অ্যামিউনিশন-ইসরায়েল (ডব্লিউআরএসএ-১) নামে ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের যে অস্ত্রের মজুতখানা আছে, তা তাদের ভাষায় গণতন্ত্র রক্ষার জন্য নিবেদিত। মধ্যপ্রাচ্যে কোনো ধরনের যুদ্ধ লাগলে যাতে দ্রুত এই অস্ত্রগুদাম থেকে অস্ত্র নিয়ে ব্যবহার করা যায়, সে জন্য এই মজুত গড়ে তোলা হয়েছে। মিখাইল মাকোভস্কি ও ব্লেইজ মিজতাল লিখেছেন, ইসরায়েলের গুদাম থেকে অস্ত্র নিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু যত দ্রুত সম্ভব সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে হবে।
মিখাইল মাকোভস্কি ও ব্লেইজ মিজতাল মনে করেন, এই যুদ্ধ মূলত রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটো তথা যুক্তরাষ্ট্রের প্রক্সি যুদ্ধ। তাঁরা মনে করেন, পশ্চিমারা শুধু ইউক্রেনে গণতন্ত্রকে বাঁচাতে এই যুদ্ধে জড়ায়নি; বরং রাশিয়ার সঙ্গে ন্যাটোর বিদ্যমান রশি–টানাটানির ধারাবাহিকতা হিসেবেও তারা এই লড়াইয়ে নেমেছে।
এ ছাড়া ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পত্রিকায় মিখাইল মাকোভস্কি ও ব্লেইজ মিজতাল একটি উপসম্পাদকীয়তে লিখেছেন, ‘বাইডেন প্রশাসন যখন ইউক্রেনে কামানের গোলা পাঠিয়েছে, ঠিক তখন ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রগুদাম “গণতন্ত্রের ডিপো” হিসেবে কাজ করছে।’
তবে সবাই বুঝতে পারে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অস্ত্র ব্যবহারকে ‘গণতন্ত্র’ বলে চালানো কতটা অযৌক্তিক ও অবিবেচনাপ্রসূত। কারণ, ইরাক যুদ্ধে আমেরিকার অস্ত্র ব্যবহার গোটা অঞ্চলে যে অবস্থার সৃষ্টি করেছে, তার ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব।
কিন্তু মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো একদেশদর্শীভাবে ইরানের ড্রোন সরবরাহকে ‘সন্ত্রাসী কাজে সহায়তা’ হিসেবে দেখাচ্ছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে আমেরিকান অস্ত্র ব্যবহারকে গণতন্ত্রচর্চা বলে ন্যায্যতা দিচ্ছে।
পশ্চিমা গণমাধ্যমের এই দ্বিমুখী নীতি নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনের ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
মিডল ইস্ট আই থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত
* গ্রেগরি শুপাক, টরন্টোর গুয়েলফ-হাম্বার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংলিশ অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিষয়ের শিক্ষক। তাঁর দ্য রং স্টোরি: প্যালেস্টাইন, ইসরায়েল অ্যান্ড মিডিয়া শিরোনামের একটি বই রয়েছে
![]() |
| ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া ইরানের ড্রোন ব্যবহার করছে। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পের জামাই কুশনারের ধোঁকা, শান্তির আড়ালে দেশ চুরির গল্প by রঞ্জন সলোমন
কুশনার ‘কিছুই জানেন না’ এমনটা ভেবে তাঁকে হালকাভাবে নেওয়াটা ভুল হবে। কারণ, তাঁর কাজের মধ্যে একটি বড় বিপদ লুকিয়ে আছে। ফিলিস্তিন ও আরব বিশ্বে মার্কিন ও ইসরায়েলি নীতি প্রণয়নে কুশনারের ভূমিকা আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়।
এটি সম্রাজ্যবাদের নতুন চেহারাকে প্রতিফলিত করে। এখানে ব্যক্তিস্বার্থ এবং অনির্বাচিত ও শক্তিশালী ব্যক্তির ওপর ভর করে কোনো কিছু অর্জন করা হয়। কুশনার আসলে স্বতন্ত্র কোনো ব্যক্তি নন; বরং তিনি এমন একটি ব্যবস্থার প্রতিনিধি, যে ব্যবস্থাটি কিনা বহুজাতিক রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ও রাষ্ট্রশক্তি মিলে জমি দখল, জনগণকে দমন এবং অঞ্চলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে।
কুশনারের তথাকথিত ‘শতাব্দীর চুক্তি’ একটি আশ্চর্যজনক উন-পরিকল্পনা। তাঁর পরিকল্পনা হলো গাজার কিছু অংশকে ‘ভূমধ্যসাগরীয় সিঙ্গাপুর’ বা ‘গাজা রিভিয়েরা’ বানানো। প্রথম দৃষ্টিতে এটিকে দরিদ্র্য থেকে মুক্তির পরিকল্পনা বলে মনে হলেও বাস্তবে এটি ফিলিস্তিনিদের জমি ও অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রকল্প। ফিলিস্তিনিরা তাদের নিজের জমিতে কম বেতনের সেবাকর্মী হিসেবে নিয়োজিত হবে আর বিনিয়োগকারী ও বিদেশি সরকার সেখান থেকে লাভ করবে।
এটি ডেভিড হার্ভের ‘সম্পদ ছিনিয়ে নিয়ে পুঁজি’ বানানোর ধ্রুপদি উদাহরণ। মানুষের কষ্টকে লাভে পরিণত করা। কুশনারের স্লোগানটি হলো ‘গাজা রিভিয়েরা: খোলা আকাশের কারাগার থেকে পর্যটকদের খেলার মাঠ’।
উপনিবেশিত আফ্রিকার ‘মডেল গ্রাম’ বা দখলকৃত কাশ্মীরের ‘উন্নয়ন করিডরের’ মতো, ‘গাজা রিভিয়েরা’ও দখলের নান্দনিক রূপের প্রদর্শন। এটি আধুনিকতার আড়ালে সার্বভৌমত্ব চুরি করা। এটি কোনো বাস্তব অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়; বরং সভ্যতার জন্য অপমান।
কুশনার আব্রাহাম চুক্তিকে ‘শান্তি’ অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করেছেন; কিন্তু বাস্তবে এই চুক্তি হলো আরব প্রতিরোধকে দুর্বল করার, ফিলিস্তিনকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েলের দখলদারি স্বাভাবিক করার একটি পরিকল্পনা। রাজনৈতিক তত্ত্বের ভাষায়, এটি হলো অভিজাত শাসক ও বিদেশি শক্তির মধ্যকার একটি চুক্তি।
এখানে অভিজাত শাসকেরা দেশের মধ্যে বৈধতা হারানো সত্ত্বেও বিদেশি শক্তির কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পায়। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানকে এমন চুক্তিতে টেনে আনা হয়েছে। এতে ফিলিস্তিনিদের কোনো লাভই হয়নি। বরং আরব লীগ ও ২০০২ সালের আরব শান্তি উদ্যোগ দুর্বল হয়ে গেছে।
এটি সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার একুশ শতকের সংস্করণ। এখানে সরাসরি সামরিক শক্তির সাহায্যে কোনো দেশে দখলের বদলে, যুক্তরাষ্ট্র এমন চুক্তি চাপিয়ে দেয় যেখানে অভিজাত শাসকেরা জনগণের রাজনীতিকে দমন করে বাজার, জমি ও অন্যান্য সুবিধা বিদেশি শক্তির কাছে তুলে দেয়। তবে এ ধরনের চুক্তি সব সময়ই নড়বড়ে হয়। কারণ, স্বৈরশাসকেরা চিরকাল জনগণকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না।
কুশনারের দল শুধু জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করেনি; তারা মানচিত্রও বদলিয়েছে। গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর সেটিকে ‘ট্রাম্প মালভূমি’ নাম দেওয়া হয়। কুশনারের নীতি হলো ফিলিস্তিনকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা এবং বসতি স্থাপনকে স্বাভাবিক করা। আইন ব্যবহার করে মানুষের জমির অধিকার কেড়ে নেওয়া। এই নীতি গোটা মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।
আরব সার্বভৌমত্বের ওপর দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা যুদ্ধের একদিন অবসান হবে। এটা অবশ্যই হবে। ১৯৫০-এর দশকে সিআইএর প্ররোচনায় অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধ পর্যন্ত মার্কিন নীতি সব সময়ই ছিল স্বাধীন ও ঐক্যবদ্ধ আরব শক্তি তৈরি হওয়া রোধ করা। কুশনারের পরিকল্পনা সেই একই ধারাবাহিকতার অংশ।
বিনিয়োগ অঞ্চল, প্রযুক্তি হাব এবং আধুনিকীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আরব অভিজাতদের একটি শ্রেণি তৈরি করছে, যারা পশ্চিমি মূলধনের সঙ্গে যুক্ত। এর বিপরীতে সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এ কারণেই এই চুক্তিগুলো নড়বড়ে। এই চুক্তিগুলো ওপরের দিক থেকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিচ থেকে আলোচনার মাধ্যমে এগুলো সম্পাদিত হয়নি।
যে আরব তরুণেরা গাজা ধ্বংস এবং জেরুজালেম অবরুদ্ধ হতে দেখেছেন, তাঁরা ‘নতুন মধ্যপ্রাচ্যে’র গল্পে বিশ্বাস করছেন না। আমরা আরব বসন্ত দেখেছি। এটাই জেনারেশন জেডের কাজের ধরন। হয়তো সময় লাগবে; কিন্তু একদিন তাঁরা ঠিকই আশ্চর্যজনক কিছু ঘটাবে। আরব শাসকেরা বাস্তবতার সঙ্গে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। অন্যদিকে জেন-জিরা ডিজিটাল প্রজন্ম। অন্যায্যতার গভীর স্মৃতি তারা বহন করছে। ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন কমানোর ব্যাপারেও তাঁরা সচেতনতা অর্জন করেছেন।
তাঁরা ফিলিস্তিনকে বিচ্ছিন্ন সমস্যা হিসেবে দেখছেন না; বরং এটিকে তাঁরা নিজেদের বঞ্চনার প্রতিফলন হিসেবে দেখেন। বিংশ শতাব্দীর মধে৵র সময়টার উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনের মতো করে এই প্রজন্মও একটি নতুন রাজনীতির জন্ম দিচ্ছে।
কুশনারের প্রকল্প শুধু জমি ও তেলের জন্য নয়। তাঁর প্রকল্পের মূল বিষয় হলো—একটি করপোরেট ও উপনিবেশবাদী সভ্যতা। এটি পবিত্র শহর থেকে শরণার্থীশিবির পর্যন্ত সবকিছুকে ব্যবসার পণ্য হিসেবে দেখো। যুক্তরাষ্ট্র দেশটি আদিবাসীদের থেকে চুরি করা জমির ওপর গড়ে উঠেছে। দেশটি ২২৫টি যুদ্ধে জড়িত হয়েছে। কিন্তু কখনো সত্যিকার অর্থে ন্যায়যুদ্ধে বিজয়ী হতে পারেনি; বরং দেশটি দক্ষ হয়ে উঠেছে ধ্বংস ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে। প্রান্তবর্তী অঞ্চলগুলোকে বিশৃঙ্খলার ময়দানে পরিণত করে যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় অঞ্চলকে সম্পদের দুর্গে রূপান্তর করে চলেছে। এ জন্য মার্কিন সাম্রাজ্য নৈতিকভাবে দুর্বল। তাত্ত্বিকরা বলেন, এমন শাসনব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর রাজনীতি চালায়। এখানে সভ্যতার ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে।
এর সবটাই বিভ্রম। এই বিভ্রম একদিন ভেঙে যাবে। ট্র্যাজেডি হলো, এই ব্যবস্থা পতনের আগে ফিলিস্তিনি এবং অন্য আরবদের প্রচণ্ড কষ্ট ভোগ করতে হবে; কিন্তু পতন আসবেই। কারণ, কোনো ‘চুক্তি’ যতই চমকপ্রদ হোক না কেন, সেটি সেই বাস্তবতাকে অগ্রাহ্য করতে পারবে না যে জনগণকে তাদের ইতিহাস থেকে দূরে সরিয়ে রাখা যায় না। কুশনারের পরিকল্পনা শান্তির ছদ্মবেশে এক বড় চুরির অংশ। মানুষ এটিকে চুরি হিসেবেই মনে রাখবে ও প্রতিরোধ করবে।
* রঞ্জন সলোমন, ভারতীয় রাজনৈতিক ভাষ্যকার
- মিডলইস্ট মনিটর থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত
| জারেড কুশনার ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজার হাসপাতালে হত্যাযজ্ঞ ও পশ্চিমা দ্বিচারিতা by মো. সাহাবুল হক
হাসপাতাল লক্ষ্য করে গোলা ছোড়া নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের আরেকটি নির্মম উদাহরণ। এর আগেও ইসরায়েলি বাহিনী এই হাসপাতালের ওপর হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক এ হামলা আবারও প্রমাণ করল ইসরায়েলের কাছে মানবতার কোনো মূল্য নেই।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ইসরায়েলের ইতিহাসে হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী ক্যাম্প, এমনকি জাতিসংঘের আশ্রয়কেন্দ্রও ইসরায়েলের বোমার নিশানা হয়েছে।
১৯৮২ সালে বৈরুত অবরোধের সময়ও একই কৌশল নিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী। তখনো হাসপাতাল ধ্বংস করা হয়েছিল, সাংবাদিক মারা গিয়েছিলেন। আজও সেই একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে গাজায়।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এতে ‘খুশি নন’। কথাটি খুবই হালকা ধরনের। এটি যতটা ঠান্ডা, তার প্রতিফলন ততটাই নির্লিপ্ত। এটি কোনো নিন্দা নয়, কোনো প্রতিবাদ নয়, কোনো তিরস্কারও নয়। এটি শুধু একধরনের কূটনৈতিক দায়সারা মন্তব্য। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তাদের কূটনৈতিক, সামরিক ও আর্থিক অভিভাবক। ইসরায়েলের অস্তিত্ব ও আধিপত্যের মূল জ্বালানি এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা থেকে। প্রতিবছর প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা ইসরায়েল পায়। ফিলিস্তিনের শিশুদের রক্তের বিনিময়ে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান, ট্যাংকের চাকা ঘোরে।
২০২৩ সাল থেকে গাজায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। জাতিসংঘ বলছে, গাজার জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি শিশু। তাদের এক-তৃতীয়াংশ অপুষ্টিতে ভুগছে। খাবার নেই, পানি নেই, চিকিৎসা নেই। হাসপাতাল ধ্বংস। ত্রাণ ঢুকতে পারছে না। ১৯৪৩ সালে ইউরোপের নাৎসি অবরোধে লেনিনগ্রাদের মানুষ যেমন অনাহারে মারা গিয়েছিলেন, আজকের গাজায় সে দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রতিবারই মার্কিন ভেটো ইসরায়েলকে রক্ষা করে। অতীতে, যেমন ১৯৮৭, ২০০২, ২০১৪ বা ২০২৩ সালের প্রস্তাবগুলোতে হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র চায় না ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক শাস্তি কার্যকর হোক। চায় না ফিলিস্তিন রাষ্ট্র জাতিসংঘে পূর্ণ স্বীকৃতি পাক। চায় না অপরাধীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচার হোক। এ দ্বিচারিতা আজকের বিশ্বরাজনীতির সবচেয়ে অমানবিক অধ্যায়।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, হাসপাতাল ধ্বংসের কৌশল নতুন কিছু নয়। ১৯৯৯ সালে যুগোস্লাভিয়ায় ন্যাটোর বোমা হামলায়ও হাসপাতাল টার্গেট হয়েছিল। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময়ও। কিন্তু পার্থক্য হলো তখন বিশ্ব অন্তত কণ্ঠ তুলেছিল। গাজায় এখন যেন কোনো শব্দ নেই। কেবল শিশুদের আর্তনাদ, ধ্বংসস্তূপের ভেতর চাপা কান্না, সাংবাদিকদের রক্তাক্ত লাশ। নেতানিয়াহু কয়েক সপ্তাহ আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি গাজাকে ‘খালি’ করতে চান। এর মানে হলো জাতিগত নির্মূল। এটি স্পষ্ট গণহত্যা।
জাতিসংঘের ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশন বলছে, কোনো জাতি বা জনগোষ্ঠীকে আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে হত্যা বা ধ্বংসযজ্ঞ গণহত্যা হিসেবে গণ্য হবে। ইসরায়েলের প্রতিটি পদক্ষেপ এ সংজ্ঞার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, গাজা যুদ্ধ দু-তিন সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে মিসর ও কাতার। কিন্তু কাতার ইতিমধ্যে জানিয়েছে, ইসরায়েল কোনো সমঝোতায় রাজি নয়। তাহলে ট্রাম্পের ঘোষণার অর্থ কী? আসলে এটি কেবল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে রাজনৈতিক একটি প্রচেষ্টা। ৯ সেপ্টেম্বর পরিষদ বসছে। সেখানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা দিয়েছেন, যদি যুদ্ধবিরতি না হয় এবং ইসরায়েল ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতি না দেয়, তবে তারা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে। এ কারণেই ট্রাম্প কথাগুলো বলেছিলেন, কিন্তু ফল শূন্য।
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইসরায়েল আরবদের পরাজিত করেছিল। ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অস্ত্র পাঠিয়েছিল। ১৯৮০-এর দশকে লেবাননে, ২০০৮ সালে গাজায়, ২০১৪ সালে গাজায়—প্রতিবারই যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে রক্ষা করেছে।
ইতিহাস বলছে, ইসরায়েল কখনো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রও কখনো ইসরায়েলকে ছাড়বে না।
গাজা আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত কারাগার। ২৫ মাইল দীর্ঘ, ৬ মাইল চওড়া একটি উপকূলীয় ভূখণ্ডে ২৩ লাখ মানুষ বন্দী। সীমান্ত বন্ধ, বন্দর নেই, বিমানবন্দর নেই, বিদ্যুৎ নেই, খাবার নেই, চিকিৎসা নেই। প্রতিদিন আকাশ থেকে মৃত্যুর বৃষ্টি। শিশুরা জন্ম নিচ্ছে ধ্বংসস্তূপে। মৃত্যুকে দেখছে প্রতিদিন।
এ দৃশ্য ২১ শতকের সভ্যতার জন্য কলঙ্ক। অনেক দেশ ইতিমধ্যেই এককভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এখনো পর্যন্ত ১৪৭টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু পশ্চিমা শক্তি—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স নীরব। তারা এখনো দ্বিধায়। অথচ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠায় তারাই ভূমিকা রেখেছিল।
ব্রিটিশ ম্যান্ডেট, বেলফোর ঘোষণা, জাতিসংঘ বিভাজন পরিকল্পনা—সবকিছুর পেছনে পশ্চিমা শক্তি। আর আজকের এ বিপর্যয়ের মূলেও তাদের দায় অস্বীকার করা যায় না।
গাজার নাসের হাসপাতালে সাংবাদিক হত্যার ঘটনা কেবল ইসরায়েলি অপরাধ নয়, এটি বিশ্ব বিবেকের ব্যর্থতা। সাংবাদিকেরা সত্য লিখতে গিয়ে নিহত হয়েছেন। ইতিহাসে সত্যকে হত্যা করা যায়নি। ভিয়েতনাম যুদ্ধে ‘মাই লাই গণহত্যা’র ছবি বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ থেমে গিয়েছিল না হলেও নিন্দা এসেছিল। আজ গাজায় ছবি তুলতে গেলে মৃত্যু, লিখতে গেলে মৃত্যু। তবু সাংবাদিকেরা সত্য দেখাচ্ছেন।
এখন প্রশ্ন—কী করা উচিত? ১. হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থীশিবিরে হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ২. আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে সক্রিয় করতে হবে। ৩. জাতিসংঘকে ভেটো সংস্কার করতে হবে, যাতে একটি মাত্র দেশ ভেটো দিয়ে গণহত্যাকে আড়াল করতে না পারে। ৪. ফিলিস্তিনকে পূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। ৫. গাজা থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে। ৬. মানবিক করিডর ও আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠিয়ে গাজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ৭. আরব ও মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ৮. ব্রিকস, আফ্রিকান ইউনিয়নের মতো সংগঠনগুলোকে গাজা যুদ্ধ বন্ধে আহ্বান জানাতে এবং কাজ করতে হবে।
বিশ্ব যদি আজ ব্যর্থ হয়, ইতিহাস তাকে ক্ষমা করবে না। ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডায় জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়েছিল। ১৯৯৫ সালে বসনিয়ার স্রেব্রেনিৎসায় ব্যর্থ হয়েছিল। আজ গাজায় যদি ব্যর্থ হয়, এটি হবে ২১ শতকের সবচেয়ে বড় মানবিক লজ্জা।
* ড. মো. সাহাবুল হক, অধ্যাপক, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট
![]() |
| গাজার নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় আহত একজন চিকিৎসাকর্মী। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আফগানিস্তানের বাগরাম ঘাঁটি ইস্যুতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাশিয়া, চীন, ভারত ও পাকিস্তান by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
শুধু ভারতই নয়, এ বিষয়ে ট্রাম্পের বিরোধিতা করে আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে চীন, পাকিস্তান ও রাশিয়া। তাদের সঙ্গে ভারতও একই পঙ্ক্তিতে বসল। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কোনো বিষয়ে চীন, পাকিস্তান ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সহমত হওয়ার এমন দৃষ্টান্ত বিরল।
ভারত এই ভূমিকা নিল এমন সময়ে, যখন তালেবানশাসিত আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি সরকারি সফরে নয়াদিল্লিতে আসছেন। আফগানিস্তানের রাজনৈতিক দখল নেওয়ার পর এই প্রথম সে দেশের কোনো মন্ত্রী ভারত সফরে আসছেন। অথচ লক্ষণীয়, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে ভারত এখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি।
মুত্তাকি ভারতে আসছেন আগামীকাল বৃহস্পতিবার। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ তাঁকে ভারত সফরে অনুমতি দিয়েছে। আফগান মন্ত্রীদের বিদেশ সফরের ওপর জাতিসংঘের যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, আপাতত তাতে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। ৯ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত মুত্তাকি ভারতে থাকবেন।
চীন, পাকিস্তান ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারত একযোগে ট্রাম্পের বিরোধিতা করে আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে গত মঙ্গলবার ‘মস্কো ফরম্যাট কনসালটেশন’–এর সপ্তম বৈঠকে। মস্কোয় এই বৈঠক হয়।
রাতে ওই বৈঠকে গৃহীত এক যৌথ বিবৃতিতে বাগরাম বিমানঘাঁটির নাম না করে বলা হয়েছে, ‘আফগানিস্তান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোয় যারা সামরিক অবকাঠামো খাড়া করতে চায়, তাদের সেই উদ্যোগ সমর্থনযোগ্য নয়। কারণ, ওই উদ্যোগ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিপন্থী।’
কিছুদিন আগে বাগরাম বিমানঘাঁটি তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পাঁচ বছর আগে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে দুই দেশের চুক্তিও হয়েছিল। এরপর হঠাৎ বাগরামের দাবি জানানো গোটা বিশ্বকেই বিস্মিত করেছে। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার যদিও তৎক্ষণাৎ সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দেওয়ার পর আফগানিস্তান মস্কো বৈঠকে যোগ দেয়। সদস্যদেশ হিসেবে এই প্রথম তাদের যোগদান। সে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকি।
আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, চীন ও রাশিয়া ছাড়াও ওই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানের বিশেষ প্রতিনিধি ও শীর্ষ সরকারি কর্তারা। বেলারুশের প্রতিনিধিও বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে।
দাবি অগ্রাহ্য করার পরেও ট্রাম্প নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, তাঁর সরকার বাগরাম ফেরত পেতে চেষ্টা চালাচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ওই বিমানঘাঁটি তালেবানদের ছেড়ে দিয়েছিলাম। বিনিময়ে কিছুই নিইনি। এখন ওই ঘাঁটি আমরা ফেরত চাই।’
ওই সংবাদ সম্মেলনের দুই দিন পর নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বাগরাম বিমানঘাঁটি যারা তৈরি করেছে (যুক্তরাষ্ট্র), তাদের যদি আফগানিস্তান সেটি ফেরত না দেয়, তা হলে পরিণতি মারাত্মক হবে।’
আফগানিস্তান তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অগ্রাহ্য করেছে। সে দেশের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ্ মুজাহিদ জানিয়ে দেন, ‘কোনো পরিস্থিতিতেই আফগানরা তাদের জমি অন্য কাউকে হস্তান্তর করবে না।’
মুত্তাকির সফর শুরুর ঠিক আগে ভারতের এই ভূমিকা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তালেবান নেতৃত্বাধীন আফগান সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারি কর্মকর্তা পর্যায়ে যোগাযোগ রেখে চলছিল। দুবাই ও কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবান নেতৃত্বের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রিসহ অন্যান্য সরকারি কর্তার একাধিক বৈঠকও হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও আফগান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক উত্তরোত্তর ভালো হচ্ছে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর ভারত সে দেশে ত্রাণ পাঠায়। পেহেলগাম হত্যাকাণ্ডের পর আফগানিস্তান সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছিল।
‘অপারেশন সিঁদুর’–এর পর ১৫ মে মুত্তাকির সঙ্গে প্রথম কথা হয় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের। ২০২১ সালের পর এটাই ছিল দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে প্রথম আলোচনা। ওই আলাপচারিতায় জয়শঙ্কর ভারত ও আফগান জনগণের ‘ঐহিত্যগত বন্ধুত্বের’ উল্লেখ করেছিলেন।
পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক যত খারাপ হচ্ছে, নয়াদিল্লি ততই কাবুলের কাছে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের ‘শুল্কযুদ্ধের’ অবসান এখনো হয়নি। বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনো অব্যাহত। বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের বিরুদ্ধাচরণের নীতি থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো সরে আসেননি। এই পরিস্থিতিতে চীন, পাকিস্তান ও রাশিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে বাগরাম প্রশ্নে আফগানিস্তানকে ভারতের সমর্থন জানানো যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
![]() |
| রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘মস্কো ফরম্যাট কনসালটেশন’–এর বৈঠকে যোগ দেওয়া বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা। ৭ অক্টোবর ২০২৫, মস্কো। ছবি: রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1429)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
October
(199)
-
▼
Oct 09
(9)
- গাজার ভবিষ্যৎ কেমন হবে?
- নোবেলজয়ী ওমারের জন্ম ফিলিস্তিনি শরণার্থী পরিবারে
- যেমন করে হলো গাজা শান্তিচুক্তি: জাতীয় অধিকারের প্র...
- ‘আল-আকসার মালিক এখন ইসরাইল’
- গাজায় দুই বছর ধরে নৃশংসতা: একদিকে আলোচনা, অন্যদিকে...
- যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র দিলে ‘গণতন্ত্র’, ইরান ড্রোন দি...
- ট্রাম্পের জামাই কুশনারের ধোঁকা, শান্তির আড়ালে দেশ ...
- গাজার হাসপাতালে হত্যাযজ্ঞ ও পশ্চিমা দ্বিচারিতা by ...
- আফগানিস্তানের বাগরাম ঘাঁটি ইস্যুতে ট্রাম্পের বিরুদ...
-
▼
Oct 09
(9)
-
▼
October
(199)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...





