Tuesday, April 27, 2010

সাংবিধানিক সংস্কারের শক্তি ও বিপদ by আসমা জাহাঙ্গীর

বহুপ্রতীক্ষিত সাংবিধানিক সংস্কার জাতীয় পরিষদ ও সিনেটের গণ্ডি হয়তো পার হয়েছে, কিন্তু এটি বিচারের কাজ সামনে পড়ে আছে। সিনেটর রাজা রাব্বানিসহ সংস্কারের বিষয়ে কাজ করার জন্য গঠিত কমিটির সব সদস্যরই প্রশংসা প্রাপ্য। প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো নিখুঁত নয়, কিন্তু এগুলো ভবিষ্যতের স্পষ্টতর দিশার ভিত্তিভূমি তৈরি করেছে।
তবে সংশোধনীগুলো প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে পারে—দুর্বলতার জন্য নয়, বরং এদের শক্তিমত্তার কারণে। তিনটি মৌলিক প্যারামিটারের ওপর এগুলো আলোকপাত করেছে: গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণ, প্রাদেশিক অধিকারের স্বীকৃতি এবং তথ্য ও প্রাথমিক শিক্ষার অধিকারের মতো নতুন দুটি মৌলিক অধিকারের সম্প্রসারণ।
কোনো কোনো জায়গায় সংস্কার অযৌক্তিক হয়েছে; অধিকারের মৌলিক প্রত্যয়কে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। সংখ্যালঘুদের কাছে ধর্মের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিতে গিয়ে কমিটি অবজেকটিভস রেজুলিউশনে ‘স্বাধীনভাবে’ শব্দটি ফিরিয়ে এনেছে। কিন্তু অন্যত্র সহিষ্ণুতা উৎসাহিত করার এই চেতনার বিরোধিতা আছে। ১৮তম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৩ সালের মূল সংবিধানে ফিরে যাওয়ার ফলে এখন কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে হলে তাঁকে অবশ্যই মুসলমান হতে হবে। তবে কোনো অমুসলমান ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন।
বাস্তবে পাকিস্তানের ক্ষমতাহীন ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ক্ষমতার এমন সীমায় পৌঁছার কথা কল্পনাও করতে পারে না। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে সংবিধানে নির্লজ্জ বৈষম্যের সুযোগ রাখা অসমর্থনযোগ্য। কোনো অমুসলমান ব্যক্তি জাতীয় পরিষদের সদস্যপদে নির্বাচন করতে পারেন এবং পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেন না। ফলে কেবল মুসলমানেরাই সংসদীয় নেতা হতে পারবেন। পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে মনস্থির করতে হবে, তাঁরা সংখ্যালঘুদের প্রতি অবৈষম্যমূলক নীতির অঙ্গীকার করবেন, নাকি গোঁড়ামিতেই আস্থা রাখবেন। কেন্দ্রশাসিত উপজাতীয় অঞ্চলের (এফএটিএ) জন্য সংসদে অন্য সময়ের মতোই প্রচুর আসনের কোটা বরাদ্দ আছে, কিন্তু অঞ্চলটিতে নারীর জন্য সংরক্ষিত আসন নেই। এ অঞ্চলে কি কোনো নারী বাস করেন না বা তাঁদের কি কোনো দুঃখ-বেদনা নেই? অন্য সব জায়গার মতো এখানকার নারীরাও বিশেষ প্রতিনিধিত্ব দাবি করার মতো ততটাই অরক্ষিত নন কি?
সংবিধানের ৬২ ও ৬৩ অনুচ্ছেদ দুটি রেখে দিয়েছে কমিটি। এখানে সাংসদদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে। কমিটি অল্প কয়েকটি চাতুর্যপূর্ণ পরিবর্তন করেছে, কিন্তু তাতে কোনো উপকার হলো না। আদালতের ভিন্ন রায় না থাকলে ধরে নেওয়া হয়, সাংসদেরা এবং সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিরা ‘সুস্থ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন, নীতিবান, সচ্চরিত্র, সত্ ও নিয়মের প্রতি অনুগত’। অর্থাৎ সংসদের সব সদস্যকে সত্ বলে গণ্য করা হবে, যদি না মানবিক দুর্বলতার ফলে তাঁর চরিত্রে বিপরীত বৈশিষ্ট্যের প্রমাণ মেলে। অপরাধ করার অভিযোগে দণ্ডিত বা মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারী ব্যক্তি অযোগ্য বলে বিবেচিত হওয়ার যে বিধি ছিল, তা এই কমিটি বাদ দিয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোতে সামন্ততান্ত্রিকতার বিস্তার ঘটেছে এবং যেকোনো প্রকারের ঘৃণার অবাধ বিস্তার ঘটানোর স্বাধীনতা তাদের দেওয়া হয়েছে। দলত্যাগবিষয়ক বিধানটি নিবর্তনমূলক; এটি সাংসদকে দলের মুষ্টিমেয় কর্তাব্যক্তির সিদ্ধান্তে বন্দী করে ফেলে। দলীয় কর্তাব্যক্তিরা ৭০ জন নারী ও সংখ্যালঘু সদস্য ঠিক করেন, যাঁদের কোনোরূপ মূল্যায়নের ভেতর দিয়ে যেতে হয় না, শুধু কর্তাব্যক্তিদের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেই চলে। দলের অভ্যন্তরে নির্বাচন এখন ঐচ্ছিক বিষয়। সাম্প্রদায়িক, জাতিগত বা আঞ্চলিক ঘৃণার বিস্তার ঘটানো রোধে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা বাদ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে লস্কররা ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠিগুলো বৈধভাবে ঘৃণা ছড়াতে পারবে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে।
কিছু দুর্বলতা সত্ত্বেও এই কমিটি বেশ কিছু ইতিবাচক সংস্কার শুরু করেছে। সবচেয়ে সজীব যে সংস্কার তা হলো দেশীয় বা আন্তর্জাতিক ঋণ সংগ্রহ করার দায়িত্ব প্রাদেশিক সংস্থাগুলোকে প্রদান এবং ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের (এনইসি) তত্ত্বাবধানে প্রাদেশিক সামষ্টিক তহবিলের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া। তদুপরি খনিজ, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কোনো প্রদেশ বা এর কাছাকাছি জলসীমার মধ্যে মিললে, এর অধিকার এখন প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকার যৌথভাবে সমপরিমাণে পাবে। এটির বাস্তবায়ন হবে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। কারণ যেসব প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় সরকারের উদার দানের ওপর ভর করে চলে, তাদের হূদয়ে আঘাত লাগবে। এস্টাবলিশমেন্টের তরফ থেকে অষ্টাদশ সংশোধনীর ওপর প্রকৃত হুমকিটা আসে এসব পরিবর্তন থেকে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত প্রদেশের (এনডব্লিউএফপি) নতুন নামকরণ বা সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের নিয়োগ-পদ্ধতির পরিবর্তন থেকে নয়।
কাউন্সিল অব কমন ইন্টারেস্ট (সিসিআই) এবং এনইসিকে শক্তিশালী করা হয়েছে। এদের প্রতিবেদনগুলো এখন সংসদের উভয় কক্ষে পেশ করতে হবে। কোনো প্রদেশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসার প্রথম প্রচেষ্টা নিতে হবে সিসিআই পর্যায়ে। নির্বাচন কমিশনকে স্থায়ী কাঠামো দান করা হয়েছে। প্রাদেশিক নির্বাচন কমিশনাররা আর কর্মরত বিচারপতি হবেন না। কোনো ব্যক্তি তত্ত্বাবধায়ক কেবিনেটে স্থান পাবেন না যদি তাঁর সন্তান বা স্বামী-স্ত্রী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জরুরি আইন জারি করার ক্ষমতা দেওয়া হলো আইন প্রণয়নকারী সংস্থাকে; গভর্নরকে নয়। সংশোধনী অনুযায়ী গণভোট দেওয়ার কোনো ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে না। এ ক্ষমতা দেওয়া হলো সংসদকে। প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ অনুযায়ী, একমাত্র সংসদই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত দিতে পারবে। স্বৈরাচারী অধ্যাদেশ ঘোষণার ওপরও কিছু নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের ভার সামগ্রিকভাবে বর্তাবে চলতি বা সাবেক বিচারপতি ও আইনজীবীদের প্রতিনিধির ওপর। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিশন তাদের মনোনীত ব্যক্তিদের নাম পাঠাবে সংসদীয় কমিটিতে। সংসদীয় কমিটি কেবল এ প্রস্তাব অগ্রাহ্য করতে পারে তিন-চতুর্থাংশ ভোটে।
গভর্নরের অনুপস্থিতিতে বিচারপতি হিসেবে কর্মরত কেউ আর ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অন্য কোনো সরকারি পদ গ্রহণ করলে, হয় তাঁর পেনশন পাবেন না অথবা নতুন পদের জন্য পারিশ্রমিক নেবেন না। অ্যাটর্নি জেনারেল ও অ্যাডভোকেট জেনারেলরা দায়িত্বে থাকাকালে তাঁদের ব্যক্তিগত আইন ব্যবসা চালাতে পারবেন না। অতীতে কেন্দ্রীয় শরিয়া আদালতের বিচারপতিদের তিনজন ছিলেন ‘ইসলামি আইনে প্রাজ্ঞ’ ব্যক্তি। এই যোগ্যতার বদলে ইসলামি আইনে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, গবেষক বা শিক্ষাদানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার বিধান করা হয়েছে।
দুর্বলতা প্রসঙ্গে আবারও ফিরে আসি। মৌলিক অধিকারগুলো দুর্বল রয়ে গেছে। এমনকি নির্যাতনও পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়নি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, চলাচল ও ধর্মচর্চার অধিকার সীমিত রয়ে গেছে। সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের পদ্ধতি সবচেয়ে অসন্তোষজনক। গণতন্ত্রের সনদে যে সাংবিধানিক আদালতের প্রতিশ্রুতির কথা আছে, তাতে ছদ্মাবরণ দেওয়া হয়েছে এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতিকে জবাবদিহি করার বিধানটি স্পষ্ট করা হয়নি। কেন্দ্র ও প্রদেশশাসিত উপজাতীয় অঞ্চলের মর্যাদা কী হবে, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া থেমে না গিয়ে অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। যদি শাসনব্যবস্থার কাঠামোগত অসংগতিগুলোর দিকে আগে দৃষ্টি দেওয়া হয়, তবেই পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যেতে পারে। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সুষ্ঠু শাসনের জন্য একটি আইনি কাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গণতান্ত্রিক রূপান্তরের অর্জনগুলো ধরে রাখতে প্রয়োজন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উচ্চপর্যায়ের নিষ্ঠা।
পাকিস্তানের ডন পত্রিকা থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
আসমা জাহাঙ্গীর: পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন।

প্রকৃত দিনবদলের সংস্কৃতি চাই by মোহাম্মদ কায়কোবাদ

বর্তমান সরকারের দিনবদল আর ডিজিটাল বাংলাদেশের ইশতেহার যুগ যুগ ধরে সুবিধাবঞ্চিত এবং আশ্বাসে প্রতারিত মানুষকেও নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছে, বিপুল ভোটে ক্ষমতাসীন করেছে বর্তমান সরকারকে। বর্তমান সরকার এক বছরের অধিক ক্ষমতায়। আশ্বাস আর অঙ্গীকারের বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
পত্রপত্রিকার প্রতিবেদন আর খবরে কিন্তু দিনবদলের নিশানা দেখা যাচ্ছে না। আগের মতোই শক্তিশালী সাংসদেরা স্কুলের ছেলেমেয়েদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে দাঁড় করিয়ে তাঁদের প্রতাপ দেখাচ্ছেন, সাত বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা সাংসদদের সোনার নৌকা উপহার দেওয়া অব্যাহত রয়েছে, সরকারদলীয় ছাত্র বাহিনীর চাঁদাবাজি আর টেন্ডারবাজি থেকে দিনবদলের ধারা অনুমান করা যাচ্ছে না। সরকারদলীয় প্রভাবশালী নেতাদের মোটরসাইকেল বাহিনীর যেকোনো অনুষ্ঠানে বিনা আমন্ত্রণে অত্যাচার অব্যাহত রয়েছে। সরকারদলীয় ছাত্রদের প্রত্যাশিত প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে বন্দুকযুদ্ধ হচ্ছে। দিনবদলের মতোই নিজস্ব এলাকায় সার্বক্ষণিক সাংসদদের অভিপ্রেত ও অনভিপ্রেত নজরদারি, খবরদারি চলছে স্কুল-কলেজে, মাঠে, মসজিদে কিংবা ক্লাবে। বিদ্যুৎ-বিভ্রাট আগের থেকে বেশি, ঠিক যেমনটি যানজট। সাধারণ মানুষ দিনবদলের আশা করেছিল উন্নতির দিকে। আগের মতো জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেলেই আন্তর্জাতিক বাজারের কারণ দেখানো হয়, নয়তো সিন্ডিকেটের। এমন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর যদি সিন্ডিকেট ভাঙা না যায়, তাহলে কিসের দিনবদলের সরকার আমরা পেলাম? চারদিকে নামবদলের হিড়িক, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, পানিসংকট কিংবা যানজট নিরসনের তেমন কার্যকর পদক্ষেপ এখনো দেখা যাচ্ছে না। বিপণিবিতানগুলোর সময় পরিবর্তন যানজটে কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখলেও এখনো যানজট গ্রহণযোগ্য মাত্রায় কমে আসেনি। স্কুলের ছাত্ররা স্কুলের ছাত্রদের মেরে ফেলছে—এ রকম একাধিক ঘটনা অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে ঘটেছে। তা ছাড়া রাজধানী ও এর বাইরে বিভিন্ন হত্যাসম্পর্কিত অপকর্ম ঘটে চলেছে। এসব কারণে অন্তত এ কথাটি বলা যায়, সরকার সাধারণ মানুষকে উজ্জীবিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সরকারের কোনো রকম প্রশংসনীয় অর্জন নেই।
অতি ক্ষুদ্র ভূখণ্ডের এ দরিদ্র দেশটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের বাস, প্রাকৃতিক সম্পদের সমৃদ্ধি সম্পর্কেও তেমন বলার কিছু নেই, গ্যাস-সংকটে বিপন্ন কলকারখানা। এই সপ্তম জনবহুল দেশে চাহিদা অনেক এবং তা মেটানোর জন্য সম্পদ অপ্রতুল। সুতরাং অচিরেই মানুষের বিদ্যুৎ, পানি কিংবা যাতায়াতের চাহিদা—খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের চাহিদা মেটানো যাবে, তা কেউ আশা করেন না। তবে এ খাতগুলোয় অনুভবযোগ্য পরিবর্তন হবে, তা দিনবদলের সরকারের কাছ থেকে সবার প্রত্যাশা। এমন একটি জনবহুল দেশের দিনবদল চাট্টিখানি কথা নয়। এ জন্য যে অঙ্গীকার ও প্রত্যয় থাকা দরকার তা কিন্তু অনুভূত হচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে দিনবদল একটি স্লোগান না হয়ে উন্নয়ন-অনুকূল সংস্কৃতির সূচনা হতে পারে এবং তা-ই হওয়া উচিত। কয়েক দিন আগে আমরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন পালন করলাম কেক কেটে এবং কাজ না করে। এখানে একটি সুস্থ সংস্কৃতির সূচনা হতে পারত। এ দিন আমরা রাস্তাঘাট পরিষ্কার কিংবা মেরামতে ব্যয় করতে পারতাম এবং এই কাজে বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা নেতৃত্ব দিয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারতেন। অবশ্য একই সঙ্গে দেখা যেত ছাত্রলীগ, যুবলীগ কিংবা আওয়ামী লীগে কতজন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক রয়েছেন। উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো কিছু উন্নয়ন-অনুকূল সংস্কৃতির সূচনা করলে নিশ্চয়ই আগামী বছর দেশবাসীও তাতে শামিল হতো। এমনটি তো হয়নি। দিনবদলের দিনে উন্নয়ন-প্রতিকূল ধারাবাহিকতা তো বজায় থাকল। শুধু গ্রামাঞ্চলেই নয়, খোদ রাজধানীতে অকল্পনীয় বিদ্যুৎ-বিভ্রাটে জনজীবন বিপর্যস্ত। তার চেয়েও আশঙ্কার বিষয় হলো, কলকারখানাগুলোর উৎপাদন বিদ্যুতের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দিনবদলের ইশতেহারে মানুষের যে প্রত্যাশা, তা মিটছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন সামান্য বাড়লেও বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে আরও বেশি। চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান, তা অল্প সময়ে মেটানো সম্ভব নয়। তাই উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের বঞ্চিত হওয়ার অনুভূতিকে সামান্য হলেও কমানো যেতে পারে, মন্ত্রী ও অন্যান্য নেতৃস্থানীয় মানুষের এলাকায় বিদ্যুতের প্রথম লোডশেডিং করার মাধ্যমে। জনগণের নেতারা জনগণের দুর্ভোগ পোহাবেন না, অনুভব করবেন না—তা কী করে হয়? এমন সিদ্ধান্তে মানুষের কষ্টের অনুভূতি এক লাফে অর্ধেকে নেমে আসবে। এর থেকে ব্যয়সাশ্রয়ীভাবে মানুষের অভাবের অনুভূতি মেটানোর আর কোনো পদ্ধতি নেই। তা ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহারের সাশ্রয়ও নেতারা নিজেরা অনুশীলন করে আমাদের শেখাতে পারেন। একইভাবে যানজটের দুর্ভোগও আমাদের নেতাদের পোহানো উচিত। কারণ তাঁদের সুযোগ্য নেতৃত্বেই তো এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুঃখ-কষ্ট ভাগ করে নেওয়ায় উভয়ের প্রতি উভয়ের যে সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠিত হবে, তা তাঁদের ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাওয়াটাকেও নিশ্চিত করবে। বিদ্যুতের সুষম ব্যবহারের জন্য সময় অনুসারে এর মূল্য পরিবর্তন করে জনগণকে তা র্যাশনালি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা উচিত। একইভাবে গ্যাসের ব্যবহারের জন্যও মিটার-ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শোনা যাচ্ছে, যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে যে ট্রান্সমিশন লাইন রয়েছে তা অব্যবহূত পড়ে আছে, আবার নতুন করে খাম্বা ক্রয়ের খবরও পত্রিকায় এসেছে। সীমিত সম্পদের দেশে অব্যবহূত বিনিয়োগ কোনো অবস্থাতেই কাঙ্ক্ষিত নয়। যেখানে বর্তমানের জরুরি চাহিদাই মেটানো যাচ্ছে না, সেখানে ভবিষ্যতের জন্য সম্পদ আগলে রাখার মানে হয় না।
হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে যমুনা সেতু তৈরি করা হলো। এলাকায় বসবাসরত মানুষ ও তাঁদের অধিগৃহীত জমির জন্য নিশ্চয়ই ফসলি জমি ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হয়েছে। এই হাজার হাজার লোকের জন্য অল্প জায়গায় পরিকল্পিত আবাসন তৈরি করে অপ্রতুল ভূমির দেশে একটি অনুকূল সংস্কৃতি তৈরি করা যেত।
ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সরকারের বড় বড় কর্মসূচিতে, প্রজেক্টে কম্পিউটারের ব্যবহার প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা দরকার। আমাদের মুদি দোকানদারেরা কম্পিউটার ব্যবহার করুক এই প্রত্যাশার পূর্বশর্ত হলো, বড় বড় প্রকল্পে কম্পিউটারের ব্যবহার নিশ্চিত করা। এটা মনে রাখতে হবে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকার সহায়কের ভূমিকা যেমন পালন করবে, তেমনি উদ্যোগীর ভূমিকাও পালন করবে। জনগণকে প্রতিষ্ঠানগুলোতে কম্পিউটারের ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য নানাভাবে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করবে। তথ্যপ্রযুক্তির যে ভৌত অবকাঠামো ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে, তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার সাপেক্ষে অবকাঠামোগুলোর সম্প্রসারণ করা উচিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তির ভৌত অবকাঠামোর বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত হবে বলেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ইন্টারনেটসহ অন্য সুবিধাদির নির্মিত ভৌত অবকাঠামোর সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত। দেশের কাজে দেশের সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমেও দিনবদলের সংস্কৃতির সূচনা হতে পারে।
মোহাম্মদ কায়কোবাদ: অধ্যাপক, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ, বুয়েট। ফেলো, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স।

ভোলায় উপনির্বাচন

ভোলা-৩ আসনের উপনির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থী নূরনবী চৌধুরীর বিজয়ের খবরটি অনেকাংশে চাপা পড়ে গেছে সেখানে বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতার ঘটনায়। বিএনপির সমর্থক-অধ্যুষিত এলাকায় ভোটদাতাদের পথে পথে বাধা দেওয়া, কোথাও মারপিট, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, বিএনপির নির্বাচনী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া—এ রকম বেশ কিছু অভিযোগের কারণে সরকারি দলের আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
তবে এটাও ঠিক যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল, কোথাও গোলাগুলির মতো ঘটনা ঘটেনি। সব অভিযোগ নিজস্ব কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তদন্ত করে নির্বাচন কমিশন মোট ৮৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে মাত্র নয়টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে। এতে বোঝা যায়, বলপ্রয়োগের ঘটনা সীমিত ছিল। ব্যাপক সহিংসতা হলে প্রায় ৬৭ শতাংশ ভোট পড়ার সুযোগ ছিল না। স্মরণ করা যেতে পারে, বিগত সাধারণ নির্বাচনে এই আসনে ভোট পড়েছিল প্রায় ৮৫ শতাংশ। উপনির্বাচনে ভোট দেওয়ার হার কিছু কমে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। যদি বিগত নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ও সুষ্ঠুভাবে হয়েছে বলে স্বীকৃতি পেয়ে থাকে, তাহলে এই উপনির্বাচন মোটামুটি গ্রহণযোগ্য বলে ধরে নেওয়া যায়।
কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আরও সংযত আচরণ কাম্য ছিল। কারণ তাদের সামান্য মারামারির ঘটনা বড় অন্যায় বলে প্রতিভাত হয়, যেহেতু তারা ক্ষমতায়। প্রাথমিক হিসাবে দেখা যায়, বিগত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের প্রায় কাছাকাছি ভোটই পেয়েছেন তাদের এবারের প্রার্থী। কিন্তু বিগত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হাফিজউদ্দিন আহমেদের ভোট প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। স্থগিত নয়টি কেন্দ্রের মোট ভোট প্রায় ৩২ হাজার। এর বড় অংশ যদি বিএনপির প্রার্থীর প্রাপ্য হয়, তাহলেও বিগত নির্বাচনের তুলনায় এবার তিনি ২৫-৩০ হাজার ভোট কম পেয়েছেন। কেন এত কমল? এর একটি কারণ হতে পারে ভোটদাতাদের সরল মনস্তত্ত্ব, যার অর্থ হলো সরকারদলীয় প্রার্থী জিতলে এলাকার উন্নয়নের সুবিধা। তবে বিএনপি সে রকম মনে করে না। ভয়ভীতি ও কারচুপির মাধ্যমে তাদের প্রার্থীকে হারানোর অভিযোগ সত্য হলে বলতে হয়, ৩০-৩৫ হাজার ভোট জালিয়াতি করা হয়েছে। এ রকম গুরুতর অভিযোগের ভিত্তি আছে কি না, তা তদন্তের দাবি রাখে। নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এটা অনস্বীকার্য যে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করেছে। যখন কোনো অভিযোগ এসেছে, তদন্ত করে কমিশন অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বদলি করেছে। মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের এলাকায় যাওয়া নিষিদ্ধ করে নির্বাচনে বাইরের হস্তক্ষেপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। সিইসি বলেছেন, শতভাগ না হলেও উপনির্বাচন সফল হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে দেখা যায়, নির্বাচনী এলাকায় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া পরিস্থিতি শান্ত ছিল। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও বিজয় মিছিল বা এমন কোনো কর্মসূচি না নিতে বলা হয়েছে, যেন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে না ওঠে।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচন নিয়ে তাত্ক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। আওয়ামী লীগের সভানেত্রীও এ ব্যাপারে মৌনব্রত পালন করেছেন। কিছু বলার আগে পুরো বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করার জন্য সময় নেওয়ার এই অনুশীলন গণতন্ত্রের জন্য শুভ। এই ধারাটি বিকশিত হোক।

প্রধানমন্ত্রী পদে প্রচণ্ড ছাড়া অন্য কেউ হলে পদত্যাগে রাজি

মাওবাদী নেতা পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ড ছাড়া প্রধানমন্ত্রী পদে অন্য কোনো প্রার্থীর ব্যাপারে মতৈক্য হলে পদত্যাগে রাজি নেপালের প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল। গতকাল রোববার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
শান্তি-প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ব্যর্থতা ও নতুন সংবিধানের খসড়া প্রণয়নে বিলম্বের অভিযোগে পদত্যাগের জন্য নিজ দল সিপিএন (ইউএমএল) ও প্রধান বিরোধী দল ইউসিপিএনের (মাওবাদী) দিক থেকে চাপের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল।
বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার জন্য ইউসিপিএন (মাওবাদী), বিশেষ করে ওই দলের চেয়ারম্যান প্রচণ্ডকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী নেপাল বলেন, প্রচণ্ড ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর ব্যাপারে দলগুলো একমত হলে তিনি পদত্যাগ করতে রাজি।
ইউসিপিএনের (মাওবাদী) কর্মীদের হামলায় আহত কয়েকজন দলীয় ক্যাডারকে দেখতে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতালে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।
মাধব কুমার নেপাল আরও বলেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তিনি শান্তিপ্রক্রিয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়াবেন না।
তবে মাওবাদী চেয়ারম্যান প্রচণ্ডকে মতৈক্যের প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নেপাল বলেন, ‘যদি মাধব কুমার নেপাল প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে না পারেন, তাহলে প্রচণ্ডও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।’
তিনি বলেন, মাওবাদীরা দেশজুড়ে সহিংসতা চালাচ্ছে। তারা অন্য রাজনৈতিক দলের ক্যাডার ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
১ মে থেকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত যুদ্ধ’ চালানোর প্রস্তুতি হিসেবে হাজার হাজার তরুণকে ‘সামরিক প্রশিক্ষণ’ দিচ্ছে মাওবাদীরা।
বেসরকারি বিদ্যালয়ে ধর্মঘট: মাওবাদী সমর্থিত ছাত্রসংগঠনের ডাকে গতকাল রোববার নেপালজুড়ে হাজার হাজার বেসরকারি বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে গতকাল রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুল বন্ধের ডাক দেয় সংগঠনটি।
বর্ধিত ফি প্রত্যাহার না করায় মাওবাদী সমর্থিত ছাত্রসংগঠন অল নেপাল ন্যাশনাল ফ্রি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (বিপ্লবী) সদস্যরা কয়েকটি বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীবাহী বাসে হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

হাঙ্গেরির সাধারণ নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ

হাঙ্গেরির সাধারণ নির্বাচনে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দফায় ভোট নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রথম দফার নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে রক্ষণশীল বিরোধী ফিডেসজ পার্টি।
প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১১ এপ্রিল। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের নেতৃত্বাধীন ফিডেসজ পার্টি ৩৮৬টি আসনের মধ্যে ২০৬টিতে জয়লাভ করেছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে এক-তৃতীয়াংশ আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
প্রথম দফার নির্বাচনে যেসব আসনে কোনো প্রার্থীই শতকরা ৫০ ভাগের বেশি ভোট পাননি, ওইসব আসনে দ্বিতীয় দফায় ভোট নেওয়া হচ্ছে। এ রকম আসনের সংখ্যা ১২১টি। পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ৫২টি আসন দরকার ফিডেসজ পার্টির।
আগামী ১০ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ওরবান।

আহমাদিনেজাদের হুঁশিয়ারি

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ গত শনিবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দেশটির ওপর যদি নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, তাহলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় এক সংবাদ সম্মেলনে আহমাদিনেজাদ এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এ সময় তিনি ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ঠেকাতে উগান্ডার সহায়তা কামনা করেন।
আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তার পরিণতি ওবামাকে ভোগ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ওবামা একটি মুখোশের বেশি কিছু নন। যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত চেহারা ও প্রকৃতি আড়াল করার জন্যই তিনি ক্ষমতায় এসেছেন।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে আরেক দফা কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো। উগান্ডা বর্তমানে ১৫ জাতির জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য দেশ।

কাসাবকে আমাদের হাতে দিন: পাকিস্তান

২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার একমাত্র জীবিত জঙ্গি আজমল আমির কাসাবকে পাকিস্তানের কাছেহস্তান্তর করার জন্যভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেইসলামাবাদ। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক গত শনিবার ভারতের হাইকমিশনার শরত্ সভরওয়ালের সঙ্গে এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান। মুম্বাই হামলা মামলায় জড়িত সন্দেহভাজন সাতজনের বিচারকাজে সহায়তার জন্য এ আহ্বান জানানো হয়।
ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর রেহমান মালিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘মুম্বাই হামলার মামলার আসামীদের বিচারের জন্য কাসাবের বক্তব্য খুবই প্রয়োজন। আমাদের আদালতের জন্য এটা দরকার।’ তিনি বলেন, বিচারের সময় ভারতের দুজন হাকিম এবং মুম্বাই সিআইডির মুখ্য তদন্ত কর্মকর্তাকে সেখানে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানাবে পাকিস্তান। তারা কাসাবের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য রেকর্ড করবে, যাতে কর্তৃপক্ষ বিচারকাজ সামনে এগিয়ে নিতে পারে।
মালিক বলেন, ‘পাকিস্তানে বিচার-প্রক্রিয়া সঠিকভাবেই চলছে এবং ভারতের এই তিন কর্মকর্তার উপস্থিতি এটিকে আরও শক্তিশালী করবে। আমরা আশাবাদী ভারত সুবিচারের স্বার্থে আমাদের এই অনুরোধ বিবেচনা করবে।’
রেহমান মালিক জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কয়েক দিনের মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তাদের কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার ব্যাপারে চিঠি হস্তান্তর করবে। তিনি ভারতীয় হাইকমিশনারকে আরও বলেছেন, পাকিস্তানের আইনজীবীদের কাসাবের সঙ্গে আলোচনা দরকার।
তিনি বলেন, লস্কর-ই-তাইয়্যেবা কমান্ডার জাকিউর রেহমান লাখভিসহ যেসব সন্দেহভাজনকে পাকিস্তান আটক করেছে, তাদের বিচারের জন্য এই উদ্যোগ অবশ্যই বিচার-প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।
মুম্বাইয়ে বিশেষ আদালতে কাসাবের বিচার শেষহয়েছে। আগামী ৩ মে মামলার রায়ঘোষণা করা হবে।

মিসিসিপিতে টর্নেডোয় ১০ জন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে গত শনিবার প্রায় মাইলব্যাপী টর্নেডোর আঘাতে তিনটি শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
মিসিসিপির জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, টর্নেডোর আঘাতে কমপক্ষে ১৩টি কাউন্টিতে ধসে পড়া বাড়িঘরে মানুষ আটকা পড়েছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়েছে, রাস্তাঘাট আটকে গেছে ও বিদ্যুৎব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ইয়াজু কাউন্টির গভর্নর হ্যালি বারবার টর্নেডোর পর সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, টর্নেডোয় ইয়াজু শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
হ্যালি আরও বলেন, ‘আমরা চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি, অনেক লোক ধসে পড়া বাড়িঘরে আটকা পড়েছে, যারা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে।’

ফিলিপাইনে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারের শান্তিচুক্তি

ফিলিপাইনের বৃহত্তম মুসলিম বিদ্রোহী গোষ্ঠী আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতা এড়াতে সরকারকে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে বিদ্রোহীদের একটি শান্তিচুক্তি হয়েছে।
দেশটির সমস্যাসংকুল দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ মিন্দানাওয়ের সেনা কমান্ডার মেজর জেনারেল অ্যান্থনি আলকান্তারা বলেন, নির্বাচন সফল করতে বিদ্রোহী গ্রুপ মরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্টের সঙ্গে আমরা একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছি। আলকান্তারা বলেন, বিদ্রোহীরা ১০ মে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছে। তারা বলেছে, ৩ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত তাদের সৈন্য সমাবেশ করবে না এবং নির্বাচনী এলাকা থেকে দূরে থাকবে।
উভয় পক্ষের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কমিটি গত শুক্রবার শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

ভারতে বায়ুগহ্বরে যাত্রীবাহী বিমান, আহত ২০

ভারতের গোয়ায় একটি যাত্রীবাহী বিমান বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গেছে। বিমানটি গতকাল রোববার আকস্মিক বায়ুগহ্বরে পড়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে ১৫ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। এ ঘটনায় ২০ জন আরোহী আহত হয়েছেন। এরপর চালক বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হন এবং বিমানটি নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের এক মুখপাত্র জানান, দ্য এমিরেটস বোয়িং ৭৭৭ বিমানটি দুবাই থেকে ভারতের কেরালা যাওয়ার পথে গতকাল সকালে বায়ুগহ্বরে (বায়ুমণ্ডলের আংশিক শূন্য অবস্থা, যা বিমানকে কিছু দূর নেমে আসতে বাধ্য করে) পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যে বিমানটি ২০ হাজার ফুট থেকে পাঁচ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। এ সময় সিটবেল্ট বাঁধেননি এমন যাত্রীদের অনেকে ছিটকে পড়ে আহত হন। বিমানে ৩৭৫ জন আরোহী ছিলেন।

ওবামার সঙ্গে বৈঠক করতে আব্বাসকে যুক্তরাষ্ট্রে আমন্ত্রণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে বৈঠক করার জন্য ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে আগামী মাসে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি-প্রক্রিয়া আবার শুরু করার উদ্যোগ হিসেবে এ বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনের প্রধান মধ্যস্থতাকারী সায়েব এরেকাত এ কথা জানান।
এরেকাত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য-বিষয়ক বিশেষ দূত জর্জ মিশেল গত শুক্রবার পশ্চিম তীরে মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেন। তখন আব্বাসকে আগামী মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরের এই আমন্ত্রণ জানান তিনি। আব্বাস আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করেছেন। আগামী মাসে ওয়াশিংটন সফরে যাবেন তিনি। তবে এখনো এই সফরের নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করা হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াশিংটনের বৈঠকে দুই নেতা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা আবার শুরু করার ব্যাপারে আলোচনা করবেন। গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ব্যাপক অভিযান শুরুর পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে ওই শান্তি আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। শান্তি আলোচনা আবার শুরু করার জন্য দুই পক্ষকে কয়েক মাস ধরে চাপ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলে আসছে, পূর্ব জেরুজালেমসহ দখলকৃত এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপন পুরোপুরি বন্ধ করা না হলে শান্তি আলোচনা নয়।

বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন থাই প্রধানমন্ত্রী

লাল শার্ট বিক্ষোভকারীদের দাবির কাছে নতি স্বীকার না করে কঠোর অবস্থান নিলেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অভিজিৎ ভেজ্জাজিভা। গতকাল রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দিয়ে ব্যাংককের রাজপথ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। অবশ্য কবে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হবে, সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি। এ সময় সেনাপ্রধান জেনারেল আনুপং পাওচিন্দাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী সরকারের নির্দেশ মেনে চলবে। টেলিভিশনে প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে একসঙ্গে দেখে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থক বিক্ষোভকারীদের দমনে তাঁরা একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, দাবি আদায় না করে তাঁরা ঘরে ফিরবেন না। লাল শার্টের নেতারা প্রাদেশিক এলাকায় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থক লাল শার্ট বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার শর্তে রাজপথ থেকে সরে যাওয়ার প্রস্তাব দেন সরকারকে। গতকাল টেলিভিশনে প্রচারিত সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী অভিজিৎ ভেজ্জাজিভা বিক্ষোভকারীদের ওই প্রস্তাবের জবাব দেন। তিনি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভকারীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিক্ষোভকারীরা ব্যাংককের যেসব স্থানে অবস্থান নিয়েছেন, প্রয়োজনে তাঁদের সেসব স্থান থেকে হটিয়ে দেওয়া হবে। সেসব জায়গার নিয়ন্ত্রণ নেবে সরকার। তবে কখন এবং কীভাবে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী কিছুই বলেননি।
থাই প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াটা এখন বড় কথা নয়। বড় কথা হলো সমস্যার সমাধান। তাঁরা চলমান সংকটের অবসান চান। বিক্ষোভকারীরা সরকার পরিবর্তনের যে দাবি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন, তাতে সমস্যার সমাধান নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাল শার্ট বিক্ষোভকারীদের দাবি এখন শুধু পার্লামেন্ট বিলুপ্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁরা এখন নতুন থাইল্যান্ড গড়ার কথা বলছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা সেনাপ্রধান জেনারেল আনুপং পাওচিন্দাও বলেন, সেনাবাহিনী সব সময় সরকারের নির্দেশ অনুসরণ করবে। সেনাবাহিনী দেশের জন্য, রাজ্যের জন্য, দেশের জনগণের জন্য কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে তারা সরকারের নীতি অনুসরণ করবে। তিনি আরও বলেন, দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য যা যা করা দরকার, তারা তা-ই করবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের বক্তব্যের পর লাল শার্ট বিক্ষোভকারীদের নেতা কাওয়ানচাই প্রাপান সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ঘরে ফিরে যাবেন না। তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থানরত নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁরা যেন রাজধানী ব্যাংককে ঢুকতে না পারেন, সে পদক্ষেপ নিতে বলেন।
তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ব্যাংককের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উদন থানি প্রদেশে প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁরা রাজধানী অভিমুখী ১৩টি পুলিশ ভ্যান আটকে দেন। এ ছাড়া ব্যাংককের উপকণ্ঠে আরেকটি এলাকায় ৩০০ বিক্ষোভকারী রাস্তা অবরোধ করে কয়েক শ পুলিশকে থামিয়ে দেন। তারা ব্যাংককে যাচ্ছিল। নঙ হাই প্রদেশে জনতা পুলিশের গতিরোধ করে তাদের ব্যাংককে ঢুকতে বাধা দেয়।

ভিনগ্রহের ‘মানুষ’ থেকে দূরে থাকাই ভালো: হকিং

ভিনগ্রহে মানুষের মতো মেধাসম্পন্ন প্রাণীর অস্তিত্ব থাকলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং।
ডিসকভারি চ্যানেলের একটি ধারাবাহিক অনুষ্ঠানে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্যোতিঃপদার্থবিদ হকিং বলেন, পৃথিবীর বাইরের বিশাল মহাজগতে বুদ্ধিমান প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে, এটা যুক্তিসংগতই বটে।
তিনি সাবধান করে দিয়ে বলেন, ভিনজগতের ওই প্রাণীরা পৃথিবীতে এসে এখানকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যেতে পারে। তবে তারা হয়তো থাকবে না।
হকিং বলেন, কলম্বাস আমেরিকায় পা রাখার পর তা যেমন আদিবাসী আমেরিকানদের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনেনি, তেমনি ভিনগ্রহের মানুষ পৃথিবীতে এলে তা আমাদের জন্যও ভালো হবে না।
অধ্যাপক হকিং বলেন, তাদের সঙ্গে বরং যোগাযোগ এড়িয়ে চলতেই সাধ্যমতো চেষ্টা করা উচিত মানুষের। তাঁর ব্যাখ্যা: অন্য বুদ্ধিমান প্রাণীর সঙ্গে কেন যোগাযোগ করা উচিত নয়, তা বোঝার জন্য আমাদের নিজেদের দিকে তাকালেই চলবে।
পৃথিবী থেকে বিজ্ঞানীরা অনুসন্ধানযানে মহাশূন্যে মানুষের খোদাই করে আঁকা ছবি ও পৃথিবীর অবস্থানের মানচিত্র পাঠিয়েছেন। এ ছাড়া ভিনগ্রহে বুদ্ধিমান প্রাণী থাকলে পাবে—এই আশায় রেডিও বার্তা পাঠানো হয়ে থাকে।
দৃশ্যত মহাবিশ্বের আকার ও গ্রহ-নক্ষত্রের সংখ্যার দিকে ইঙ্গিত করে অধ্যাপক হকিং বলেন, আমার গাণিতিক বুদ্ধি বলে, শুধু সংখ্যার বিষয়টি বিবেচনা করলেই ভিনগ্রহে বুদ্ধিমান প্রাণী থাকার ভাবনাটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক মনে হবে।
তিনি বলেন, ভিনগ্রহে প্রাণী আছে কি না তার চেয়ে বরং তারা দেখতে কেমন হবে, সেটা খুঁজে বের করাই প্রকৃত চ্যালেঞ্জ।

মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কাল ভারত বন্ধ্

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কাল মঙ্গলবার ‘ভারত বন্ধ্’-এর ডাক দিয়েছে ভারতের চারটি বাম দলসহ ধর্মনিরপেক্ষ ১৩টি দল। সকাল-সন্ধ্যা এই বনেধর ফলে ভারতের অধিকাংশ রাজ্যের জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু শনিবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর পর ভারতজুড়ে এত বড় মাপের বন্ধ্ ডেকেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই বন্ধ্ সর্বাত্মক হবে।
তবে বন্ধিবরোধীরা মনে করছেন, এই বন্ধ্ এবার বামশাসিত পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা ও ত্রিপুরায় সর্বাত্মক রূপ নিলেও অন্ধ্র প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, ওড়িশা, কর্ণাটক, তামিলনাড়ুতে আংশিক সফল হতে পারে।
বনেধর ফলে যানবাহন চলাচল বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যাহত হতে পারে ট্রেন, পাতালরেল, বিমান ও নৌপরিষেবাও।

ইন্টারের স্নাইডার-শঙ্কা

দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফর্মারদের একজন তিনি, বার্সেলোনার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে পিছিয়ে পড়ার পর তাঁর গোলেই সমতা ফিরিয়েছিল ইন্টার মিলান। কিন্তু তাঁকে নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় ইন্টার। পরশু আটালান্টার বিপক্ষে ইন্টারের ৩-১ গোলে জয়ের ম্যাচে ইনজুরিতে পড়েছেন এই মিডফিল্ডার। বাঁ ঊরুর পেশিতে টান লাগায় প্রথমার্ধের পর আর মাঠে নামেননি। আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে তাঁকে, এর পরই বোঝা যাবে ইনজুরির অবস্থা। আগামী বুধবার সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে এই ডাচ ফরোয়ার্ডকে না পাওয়ার আশঙ্কা তাই প্রবল।

অবনমনের লড়াইটাই জমজমাট

ফরাশগঞ্জকে ২-০ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ লিগে রানার্সআপ হওয়ার দৌড়ে টিকে থাকল শেখ রাসেল। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মরক্কান স্ট্রাইকার সালাহ ও রাজনের গোলে টানা দ্বিতীয় জয় পাওয়া রাসেলের পয়েন্ট ১৮ ম্যাচে ৪৩। সমান ম্যাচে মোহামেডানের ৪৮, আবাহনীর ৫২।
তবে কালকের জয়ের পর উচ্ছ্বাস ছিল না রাসেল শিবিরে। কারণ দলকে প্রথম গোল এনে দেওয়া সালাহ গোলের পরপর স্ট্রেচারে শুয়ে মাঠ ছেড়েছেন। কিছুক্ষণ পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে।
৫৩ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে পাওয়া থ্রু ধরে এগোচ্ছিলেন সালাহ। আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল পাঠালেন জালে। তখনই গোলরক্ষকের সঙ্গে তাঁর সংঘর্ষ হয়। সালাহর নাক ফেটে যায়। হাসপাতালে এক্স-রে করানোর পর ধরা পড়েছে, তাঁর নাকের একটি হাড় ও একটি দাঁত ভেঙে গেছে। রাতে ক্লাবে ফিরে এলেও প্রয়োজনে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা লাগতে পারে।
দিনটা সালাহর জন্য দুঃখের হলেও আনন্দের ছিল মুতেবি, তপুদের জন্য। এই দুজনের গোলে কাল জয়ের প্রতীক্ষা ফুরিয়েছে নারায়ণগঞ্জ শুকতারার। টানা সাত পরাজয়ের পর সিলেটে গিয়ে মহামূল্যবান এই জয় তারা পেয়েছে বিয়ানীবাজারের বিপক্ষে (২-০)।
বাংলাদেশ লিগে শুকতারার পয়েন্ট ১৭ ম্যাচে ১০। এখনো অবশ্য পয়েন্ট তালিকায় সবার নিচেই আছে দলটি। শুকতারার চেয়ে ৩ পয়েন্ট বেশি নিয়ে নিচের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে বিয়ানীবাজার।
দিনটি মনে রাখবেন রোকনুজ্জামান কাঞ্চনও। এই স্ট্রাইকারের দেওয়া একমাত্র গোলে ফেনীতে সকার ক্লাবকে হারিয়ে লিগে পঞ্চম জয় পেয়েছে মুক্তিযোদ্ধা (১-০)। তিন বড় দল আবাহনী-মোহামেডান-শেখ রাসেলের কাছে টানা তিন ম্যাচ হারের পর এই জয় অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে অনেকটা এগিয়ে রাখল মুক্তিযোদ্ধাকে।
১৭ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা এখন ১৩ দলের লিগে দশম স্থানে। সমান ম্যাচে ২১ পয়েন্ট ফেনী সকারের। তারা আছে চতুর্থ স্থানে।
চট্টগ্রামে ব্রাদার্স কাল এগিয়ে গিয়েও জিততে পারেনি চট্টগ্রাম মোহামেডানের বিপক্ষে। এনক বেনিটল ব্রাদার্সকে এগিয়ে নেওয়ার পর লামিনির গোলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হলো ১-১। ১৮ ম্যাচে ব্রাদার্সের পয়েন্ট ১৮। এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ষষ্ঠ স্থানে চট্টগ্রাম মোহামেডান। ১৮ ম্যাচে ফরাশগঞ্জের পয়েন্ট ১৭। শিরোপা লড়াই নয়, বাংলাদেশ লিগে অবনমন এড়ানোর লড়াইটাই এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয়!

নিজেকে বদলাবেন না ক্লার্ক

ব্যক্তিগত দুঃসময় কাটিয়ে আবার টেস্ট-ওয়ানডেতে দারুণ রান ব্যাটে। রিকি পন্টিংয়ের উত্তরসূরি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্বও পেয়ে গেছেন। এই প্রথম বড় কোনো টুর্নামেন্টে মাইকেল ক্লার্কের হাতে দলের দায়িত্ব। ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তাঁর অধিনায়কত্বের একটা পরীক্ষাই কিন্তু নেবে।
মাঠে তাঁর চলন-বলন অত আক্রমণাত্মক নয়। টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হিসেবে ক্লার্ককে হয়তো মানাচ্ছে না। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে একটি নগ্ন ছবিকে কেন্দ্র করে মডেল বান্ধবী লারা বিঙ্গলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেখিয়েছেন ক্রিকেট তাঁর জীবনে কতটা জায়গাজুড়ে আছে। দেখিয়েছেন ক্রিকেট ক্যারিয়ারের জন্য মানসিকভাবে তিনি আক্রমণাত্মক।
কালে কালে আরেকজন রিকি পন্টিং হয়ে উঠতে পারবেন কি না, সেটা সময় বলে দেবে। এখন মানসিকতার দিক থেকে অন্তত পন্টিংয়ের পথেই আছেন। যতই টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক হোন না কেন, নিজেকে ‘ধুম-ধাড়াক্কা’ ব্যাটসম্যানে পরিণত করার কোনো ইচ্ছেই নেই ক্লার্কেরও।
ক্লার্কের টেস্ট গড় ৫০-এর ওপরে, ওয়ানডে গড় ৪২.৩১। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে ১০৮.৮৩ স্ট্রাইক রেটে গড় মাত্র ২৪.৬৪, সর্বোচ্চ রান ৬৭! এর চেয়ে বেশি হবেই বা কী করে! টি-টোয়েন্টিতেও যে সেই প্রথাগত, কেতাবি ব্যাটসম্যান হয়ে থাকেন ক্লার্ক।
বিশ্বকাপ-যাত্রার আগে বললেন, এই ‘কেতাবি ঢং’ বদলানোর বিন্দুমাত্র ইচ্ছে তাঁর নেই, ‘আমি মাঠে গিয়ে প্রথম বল থেকেই ধুমধাম পিটিয়ে বল মাঠের বাইরে পাঠাতে পারব না। আমি জানি, এতে আমার ভালো করার সম্ভাবনা কম। কিন্তু আমার কাছে নিজের মতো শট খেলা, শক্তি, গতি, রানিং বিটুইন দ্য উইকেট, ফিল্ডিং সামর্থ্য কাজে লাগানোটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
কিন্তু দলনেতা হয়ে ক্লার্ক যদি ধুম-ধাড়াক্কা খেলতে না পারেন, তাহলে অস্ট্রেলিয়া অধরা ট্রফিটি জিতবে কী করে? ‘মাঠে নেমেই বল পিটিয়ে মাঠের বাইরে পাঠানোর মতো লোক আমাদের দলে আছে। ও রকম অনেক খেলোয়াড় আছে। আমার মনে হয় না যে আমাকেই ওটা করতে হবে’—দলের ওপর ভালোই বিশ্বাস আছে ২৯ বছর বয়সী নেতার।
তাঁর এই দলের অনেকেই আইপিএল খেলে খেলে এখন টি-টোয়েন্টিতে বেশ অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। এঁদের ওপর ভরসা করেই অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি খরাটা কাটাতে চান ক্লার্ক, ‘আইপিএলে যারা খেলেছে ওদের সঙ্গে অনেক আলাপ-আলোচনা করছি। ওদের কাছ থেকে বেশ উপদেশও পাচ্ছি। আমাদের এখন একটা টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ দল আছে। যদিও এ খেলাটায় নিশ্চয়তা বলে কিছু নেই, তার পরও আমাদের এখন যে দল তাতে টেস্ট-ওয়ানডের মতো টি-টোয়েন্টিতেও সফল না হওয়ার কোনো কারণ আমি দেখি না।’
কারণ তো কেউই দেখে না। কিন্তু সাফল্যটাই যে আসছে না, মিস্টার ক্লার্ক!

প্রথম বিভাগ বাস্কেটবল

প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রথম বিভাগ বাস্কেটবলে কাল মোহাম্মদপুর বাস্কেটবল ৫১-৪৮ পয়েন্টে রেইথস ক্লাবকে, ধূমকেতু ক্লাব ৮৮-৭৮ পয়েন্টে হরনেটসকে, দ্য গ্রেগস ৬৮-২৪ পয়েন্টে ক্যান্টোনিয়ানস ক্লাবকে হারিয়েছে।

টেনিস দলের ইরান-যাত্রা

ডেভিস কাপের এশিয়া-ওশেনিয়া অঞ্চলের গ্রুপ ৩-এর প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আজ ইরান যাচ্ছে বাংলাদেশ টেনিস দল। স্বাগতিক ইরানসহ বাংলাদেশ, কুয়েত, লেবানন, ওমান, সৌদি আরব, সিরিয়া ও ভিয়েতনাম অংশ নেবে টুর্নামেন্টে। ১ মে শেষ হবে টুর্নামেন্ট। দল: অমল রায়, শিবু লাল, আলমগীর ও রঞ্জন রাম।

আসছে শক্তিশালী উইন্ডিজ ‘এ’

বাংলাদেশ সফরের জন্য শক্তিশালী ‘এ’ দল পাঠাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অধিনায়ক ট্রাভিস ডাওলিনসহ ১৪ সদস্যের দলের ৮ জনেরই আছে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। এঁদের মধ্যে ডেভন স্মিথ খেলেছেন ৩১ টেস্ট, ১২টি ব্রেন্ডন ন্যাশ। বাংলাদেশ সফরে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ ও বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় সিরিজ খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’। এর পর দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে। ত্রিপক্ষীয় সিরিজ শুরু ৫ মে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’: ট্রাভিস ডাওলিন (অধিনায়ক), ব্রেন্ডন ন্যাশ, আড্রিয়ান বারাথ, ড্যারেন ব্রাভো, লায়নেল বেকার, ডেভন স্মিথ, অডিয়ান ব্রাউন, কার্ক এডওয়ার্ডস, ইমরান খান, জাস্টিন গুইলেন, নেলন পাসকাল, শেন শিলিংফোর্ড, গ্যাভিন টং, চাডউইক ওয়ালটন।

আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই

ক্রিকেট-দেবতা দু হাত ভরে দিয়েছে তাঁকে। রেকর্ডের পাতায় পাতায় ছড়ানো তাঁর নাম। কিন্তু ‘অধিনায়ক’ শচীন টেন্ডুলকারের শুধুই আক্ষেপ। সাফল্য কখনোই ধরা দেয়নি। টানা ১৯টি টেস্ট আর আটটি ওয়ানডেতে মাত্র একটি করে জয়—নতমস্তকে প্রস্থান ঘটেছিল ভারত অধিনায়ক টেন্ডুলকারের।
টেন্ডুলকার যেন এবার আইপিএলে আক্ষেপটা ঘুচিয়ে দেওয়ার ব্রতই নিয়েছিলেন। কিন্তু কাল ফাইনালে গিয়ে আর পারল না মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে হারল ২২ রানে।
টস জিতে ব্যাট করতে নামা চেন্নাই ৫ উইকেটে তুলেছিল ফাইনালের রেকর্ড সর্বোচ্চ ১৬৮ রান। ৩৫ বলে ৫৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন সুরেশ রায়না। জবাবে মেডেন ওভার দিয়ে শুরু করা মুম্বাই এক রান তুলতেই হারায় প্রথম উইকেট। আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত টেন্ডুলকার (৪৮) চেষ্টা করে গেছেন। কিন্তু এক সময় মুম্বাইয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৪ বলে ৭০। বলিঞ্জারের করা ১৮তম ওভারে ২২ রান তুলে ম্যাচটা ঘুরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন পোলার্ড। শেষ পর্যন্ত পারেননি। ৯ উইকেটে ১৪৬ রানেই আটকে যায় মুম্বাই।
কাল ম্যাচের শুরুটা হয়েছে লোলিত মোদির মুদ্রা নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে। আজ তাঁর ভবিষ্যৎও নির্ধারিত হবে এমনই আরেকটি ‘টস’-এ। সকালে মুম্বাইয়ে বৈঠকে বসছে আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের। আগের অবস্থান থেকে সরে এসে মোদি জানালেন, ‘আমি সভায় যোগ দিচ্ছি। শুধু তাই নয়, আইপিএলের চেয়ারম্যান আর কমিশনার হিসেবে পদাধিকারবলে বৈঠকের সভাপতিও হব আমি।

লেমিনেটিং করা একটি চিঠি by সুজন হাজারী

কয়েক দিন আগে পাঁচবিবির এক শহীদপরিবারের সন্তান আমাকে তাঁর বাবার শহীদ হওয়ার কথা জানালেন। আরও জানালেন শহীদের স্ত্রী ও বড় ভাই। এই শহীদপরিবারটি ৩৭ বছর ধরে আগলে রেখেছে একটি চিঠি। চিঠি না বলে অনুদানপত্র বলা চলে। চিঠিটি ১৯৭৩ সালে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব প্যাডে শেখ মুজিব স্বাক্ষরিত চিঠিতে শহীদের স্ত্রীকে দুই হাজার টাকার অনুদান দেওয়ার কথা লেখা আছে। সেই শহীদের স্ত্রী বা পরিবার বঙ্গবন্ধুর দেওয়া অনুদান আজও পায়নি।
তখন যে অনুদান পায়নি, আজও যে পাবে না—সে ভাবনা তাদের (গোটা পরিবার) মনে এখনো ঠাঁই পায়নি। অগাধ বিশ্বাস নিয়ে আজও সে চিঠি অতি যত্নে আগলে রেখেছে তারা। কারণ, এ চিঠি স্বয়ং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাঠানো। এই চিঠি ইতিহাসের সাক্ষী। এর মূল্যায়ন কোনো না কোনো সময় হবেই হবে—এই দৃঢ়বিশ্বাসে চিঠিটি লেমিনেটিং করে রেখেছে শহীদপরিবারটি।
শহীদের স্ত্রী রাধা রানী জানালেন, চিঠি এসেছিল তাঁর নামে। পত্র নং পত্রাক-৬/৪/৭২ সিডি/২১৩১ তাং ১৮/১২। এ চিঠির বাঁ পাশে ওপরে লেখা আছে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’। ডান পাশে ‘শেখ মুজিবুর রহমান’, পত্রাংশের নিচে শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে স্বাক্ষর। এ পত্রে তাঁর নামে অনুদানকৃত চেক নং-সিএ ০২০১৮৯-তে দুই হাজার টাকা বরাদ্দ, যা মহকুমার প্রশাসকের কাছ থেকে তুলে নিতে বলা হয়েছিল। সেই সময় রাধা রানী সন্তানদের নিয়ে অভিভাবক ভাশুর (স্বামীর বড় ভাই) ভগবত্ প্রসাদ গুপ্তের একান্তবর্তী পরিবারভুক্ত ছিলেন। রাধা রানী বললেন, ‘সেই চেকের টাকা তোলার জন্য ভাশুরকে লিখিতভাবে ক্ষমতা প্রদান করে দায়িত্ব দিই। আমার নাম রাধা রানী, কিন্তু চিঠি ও চেক এসেছিল রাবো দেবী নামে। নামের ত্রুটির কারণে মহকুমার প্রশাসক আমার ভাশুরকে চেক প্রদান করেননি।’ এই চেকের ব্যাপারে ভগবত্ প্রসাদ জানান, ‘রাধা রানী আমার ভ্রাতৃবধূ ও ছোট শ্যালিকা। তার স্বামী ফিরে আসবে—এ আশায় সে তখনো সিঁথিতে সিঁদুর ব্যবহার করত। টাকা তোলার জন্য রাধা রানীকে মহকুমা প্রশাসকের সামনে উপস্থিত করতে হবে। টাকা মাত্র দুই হাজার। টাকা নিলে ভাইয়ের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে মেনে নিতে হবে। ভ্রাতৃবধূর মাথার সিঁদুর মুছে যাবে। ভাইয়ের মৃত্যুকে স্বীকার করে নিতে মন থেকে সাড়া পাইনি। এসব ভেবেচিন্তে তখন আর টাকা তোলা হয়নি। সে সময় এসডিও ছিলেন আবদুস সাত্তার ও রিলিফ অফিসার ছিলেন খয়বর আলী নামের এক ব্যক্তি।’ স্বামীর শহীদ হওয়া সম্পর্কে রাধা রানী বলেন, ‘১৯৭১ সালে মার্চের সম্ভবত ১/২ তারিখে তাঁর স্বামী পুরুষোত্তম প্রসাদ গুপ্ত ব্যবসায়িক কাজে চট্টগ্রামে যান। চট্টগ্রামের কুরবানীগঞ্জ নর্দান ট্রেডার্সের মালিক সুখচান আগরওয়ালার আড়তঘরে তিনি অবস্থান নিয়েছিলেন। সুখচান আগরওয়ালা ছিলেন মূলত আমাদের বগুড়া জেলার সান্তাহারের ব্যবসায়ী। চট্টগ্রামের কুরবানীগঞ্জে তাঁর আড়ত ছিল। আমার স্বামীর সঙ্গে ছিলেন দিনাজপুরের আরেক ব্যবসায়ী অনীল কুন্ডু। আমার বাবার বাড়ি দিনাজপুর। আমার ভাই সীতারাম প্রসাদ গুপ্তের সঙ্গে রমেন বাবুর ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। পরবর্তী সময়ে রমেন বাবুই আমার ভাইকে জানিয়েছিলেন, সুখচান আগরওয়ালার গদিঘরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঘেরাও করে ২৫ জন ব্যবসায়ীকে সেদিন ধরে নিয়ে যায়। পরে তাঁদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সেদিন তিনিও ওই দলে ছিলেন। বাথরুমে লুকিয়ে থাকায় হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেয়ে পরে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন। হানাদাররা যাঁদের ধরে নিয়ে গিয়েছিলেন, তার মধ্যে আমার স্বামী (পুরুষোত্তম) ছিলেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আমি তখন মালদহে ছিলাম। সে সময় বগুড়ার ব্যবসায়ী সীতারাম আমাকে জানিয়েছিলেন আমার স্বামীর মৃত্যুর কথা। তিনি অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হয়েছিলেন যে, আমার স্বামী পুরুষোত্তমসহ যে ২৫ জনকে সুখচান আগরওয়ালার গদিঘর থেকে হানাদাররা আটক করেছিল, সমুদ্রতীরে নিয়ে গিয়ে গুলি করে নির্বিচারে তাঁদের হত্যা করে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।’
স্বাধীনতার পর ভাইয়ের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছিল কি না, এ ব্যাপারে ভগবত্ প্রসাদ গুপ্ত জানান, ‘ভাইয়ের স্ত্রী-সন্তানদের লালনপালন করেছি। দীর্ঘদিন এক অন্নে ছিলাম। ভাইয়ের ছেলেরা ও আমার ছেলেমেয়ে বড় হয়ে গেলে এক বাড়িতে বসবাসের সমস্যার সৃষ্টি হয়। একসময় ভাইবউ তাঁর ছেলেদের নিয়ে পৃথক হয়। রাধা রানী আরও জানান, একাত্তরে তাঁর বড় ছেলে স্বপনের বয়স ছিল চার বছর, দ্বিতীয় ছেলের বয়স দুই বছর, আর তৃতীয় সন্তানটি সে সময় ছিল গর্ভে। সন্তানেরা কেউ এসএসসি পাস করেনি। এসএসসির পর আর লেখাপড়ায় এগোতে পারেনি। এখন পরিবারে মোট ১১ জন পোষ্য। বড় ছেলে ও মেজো ছেলে হাটুরে দোকানদার, ছোট ছেলে ভাশুরের দোকানে কাজ করে। এখন চারটি নাতি-নাতনি। ছেলেদের যৎসামান্য আয় দিয়ে খাওয়াপরা, নাতি-নাতনিদের লেখাপড়ার খরচ চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’ রাধা রানী শহীদ স্বামীর নামে সরকারি অনুদানের সম্মানজনক সাহায্য-সহযোগিতা পেলে হয়তো বা সুখের মুখ দেখতে পেতেন—এ প্রত্যাশায় বঙ্গবন্ধুর অনুদানপত্রটি সম্পত্তি মনে করে আজও বুকে আগলে আছেন। তাঁর বড় ছেলে স্বপন কুমার গুপ্ত অনুদানপত্রটি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করছেন। অনুদান পাওয়ার আশায় তিনি ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর আবেদনে সাড়া মিলবে কি? এই প্রশ্নই গোটা পরিবারকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।

সাংবিধানিক সংস্কারের শক্তি ও বিপদ by আসমা জাহাঙ্গীর

বহুপ্রতীক্ষিত সাংবিধানিক সংস্কার জাতীয় পরিষদ ও সিনেটের গণ্ডি হয়তো পার হয়েছে, কিন্তু এটি বিচারের কাজ সামনে পড়ে আছে। সিনেটর রাজা রাব্বানিসহ সংস্কারের বিষয়ে কাজ করার জন্য গঠিত কমিটির সব সদস্যরই প্রশংসা প্রাপ্য। প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো নিখুঁত নয়, কিন্তু এগুলো ভবিষ্যতের স্পষ্টতর দিশার ভিত্তিভূমি তৈরি করেছে।
তবে সংশোধনীগুলো প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে পারে—দুর্বলতার জন্য নয়, বরং এদের শক্তিমত্তার কারণে। তিনটি মৌলিক প্যারামিটারের ওপর এগুলো আলোকপাত করেছে: গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণ, প্রাদেশিক অধিকারের স্বীকৃতি এবং তথ্য ও প্রাথমিক শিক্ষার অধিকারের মতো নতুন দুটি মৌলিক অধিকারের সম্প্রসারণ।
কোনো কোনো জায়গায় সংস্কার অযৌক্তিক হয়েছে; অধিকারের মৌলিক প্রত্যয়কে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। সংখ্যালঘুদের কাছে ধর্মের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিতে গিয়ে কমিটি অবজেকটিভস রেজুলিউশনে ‘স্বাধীনভাবে’ শব্দটি ফিরিয়ে এনেছে। কিন্তু অন্যত্র সহিষ্ণুতা উৎসাহিত করার এই চেতনার বিরোধিতা আছে। ১৮তম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৩ সালের মূল সংবিধানে ফিরে যাওয়ার ফলে এখন কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে হলে তাঁকে অবশ্যই মুসলমান হতে হবে। তবে কোনো অমুসলমান ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন।
বাস্তবে পাকিস্তানের ক্ষমতাহীন ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ক্ষমতার এমন সীমায় পৌঁছার কথা কল্পনাও করতে পারে না। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে সংবিধানে নির্লজ্জ বৈষম্যের সুযোগ রাখা অসমর্থনযোগ্য। কোনো অমুসলমান ব্যক্তি জাতীয় পরিষদের সদস্যপদে নির্বাচন করতে পারেন এবং পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেন না। ফলে কেবল মুসলমানেরাই সংসদীয় নেতা হতে পারবেন। পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে মনস্থির করতে হবে, তাঁরা সংখ্যালঘুদের প্রতি অবৈষম্যমূলক নীতির অঙ্গীকার করবেন, নাকি গোঁড়ামিতেই আস্থা রাখবেন। কেন্দ্রশাসিত উপজাতীয় অঞ্চলের (এফএটিএ) জন্য সংসদে অন্য সময়ের মতোই প্রচুর আসনের কোটা বরাদ্দ আছে, কিন্তু অঞ্চলটিতে নারীর জন্য সংরক্ষিত আসন নেই। এ অঞ্চলে কি কোনো নারী বাস করেন না বা তাঁদের কি কোনো দুঃখ-বেদনা নেই? অন্য সব জায়গার মতো এখানকার নারীরাও বিশেষ প্রতিনিধিত্ব দাবি করার মতো ততটাই অরক্ষিত নন কি?
সংবিধানের ৬২ ও ৬৩ অনুচ্ছেদ দুটি রেখে দিয়েছে কমিটি। এখানে সাংসদদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে। কমিটি অল্প কয়েকটি চাতুর্যপূর্ণ পরিবর্তন করেছে, কিন্তু তাতে কোনো উপকার হলো না। আদালতের ভিন্ন রায় না থাকলে ধরে নেওয়া হয়, সাংসদেরা এবং সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিরা ‘সুস্থ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন, নীতিবান, সচ্চরিত্র, সত্ ও নিয়মের প্রতি অনুগত’। অর্থাৎ সংসদের সব সদস্যকে সত্ বলে গণ্য করা হবে, যদি না মানবিক দুর্বলতার ফলে তাঁর চরিত্রে বিপরীত বৈশিষ্ট্যের প্রমাণ মেলে। অপরাধ করার অভিযোগে দণ্ডিত বা মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারী ব্যক্তি অযোগ্য বলে বিবেচিত হওয়ার যে বিধি ছিল, তা এই কমিটি বাদ দিয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোতে সামন্ততান্ত্রিকতার বিস্তার ঘটেছে এবং যেকোনো প্রকারের ঘৃণার অবাধ বিস্তার ঘটানোর স্বাধীনতা তাদের দেওয়া হয়েছে। দলত্যাগবিষয়ক বিধানটি নিবর্তনমূলক; এটি সাংসদকে দলের মুষ্টিমেয় কর্তাব্যক্তির সিদ্ধান্তে বন্দী করে ফেলে। দলীয় কর্তাব্যক্তিরা ৭০ জন নারী ও সংখ্যালঘু সদস্য ঠিক করেন, যাঁদের কোনোরূপ মূল্যায়নের ভেতর দিয়ে যেতে হয় না, শুধু কর্তাব্যক্তিদের কাছে গ্রহণযোগ্য হলেই চলে। দলের অভ্যন্তরে নির্বাচন এখন ঐচ্ছিক বিষয়। সাম্প্রদায়িক, জাতিগত বা আঞ্চলিক ঘৃণার বিস্তার ঘটানো রোধে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা বাদ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে লস্কররা ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠিগুলো বৈধভাবে ঘৃণা ছড়াতে পারবে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে।
কিছু দুর্বলতা সত্ত্বেও এই কমিটি বেশ কিছু ইতিবাচক সংস্কার শুরু করেছে। সবচেয়ে সজীব যে সংস্কার তা হলো দেশীয় বা আন্তর্জাতিক ঋণ সংগ্রহ করার দায়িত্ব প্রাদেশিক সংস্থাগুলোকে প্রদান এবং ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের (এনইসি) তত্ত্বাবধানে প্রাদেশিক সামষ্টিক তহবিলের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া। তদুপরি খনিজ, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কোনো প্রদেশ বা এর কাছাকাছি জলসীমার মধ্যে মিললে, এর অধিকার এখন প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকার যৌথভাবে সমপরিমাণে পাবে। এটির বাস্তবায়ন হবে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। কারণ যেসব প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় সরকারের উদার দানের ওপর ভর করে চলে, তাদের হূদয়ে আঘাত লাগবে। এস্টাবলিশমেন্টের তরফ থেকে অষ্টাদশ সংশোধনীর ওপর প্রকৃত হুমকিটা আসে এসব পরিবর্তন থেকে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত প্রদেশের (এনডব্লিউএফপি) নতুন নামকরণ বা সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের নিয়োগ-পদ্ধতির পরিবর্তন থেকে নয়।
কাউন্সিল অব কমন ইন্টারেস্ট (সিসিআই) এবং এনইসিকে শক্তিশালী করা হয়েছে। এদের প্রতিবেদনগুলো এখন সংসদের উভয় কক্ষে পেশ করতে হবে। কোনো প্রদেশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসার প্রথম প্রচেষ্টা নিতে হবে সিসিআই পর্যায়ে। নির্বাচন কমিশনকে স্থায়ী কাঠামো দান করা হয়েছে। প্রাদেশিক নির্বাচন কমিশনাররা আর কর্মরত বিচারপতি হবেন না। কোনো ব্যক্তি তত্ত্বাবধায়ক কেবিনেটে স্থান পাবেন না যদি তাঁর সন্তান বা স্বামী-স্ত্রী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জরুরি আইন জারি করার ক্ষমতা দেওয়া হলো আইন প্রণয়নকারী সংস্থাকে; গভর্নরকে নয়। সংশোধনী অনুযায়ী গণভোট দেওয়ার কোনো ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে না। এ ক্ষমতা দেওয়া হলো সংসদকে। প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ অনুযায়ী, একমাত্র সংসদই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত দিতে পারবে। স্বৈরাচারী অধ্যাদেশ ঘোষণার ওপরও কিছু নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের ভার সামগ্রিকভাবে বর্তাবে চলতি বা সাবেক বিচারপতি ও আইনজীবীদের প্রতিনিধির ওপর। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিশন তাদের মনোনীত ব্যক্তিদের নাম পাঠাবে সংসদীয় কমিটিতে। সংসদীয় কমিটি কেবল এ প্রস্তাব অগ্রাহ্য করতে পারে তিন-চতুর্থাংশ ভোটে।
গভর্নরের অনুপস্থিতিতে বিচারপতি হিসেবে কর্মরত কেউ আর ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অন্য কোনো সরকারি পদ গ্রহণ করলে, হয় তাঁর পেনশন পাবেন না অথবা নতুন পদের জন্য পারিশ্রমিক নেবেন না। অ্যাটর্নি জেনারেল ও অ্যাডভোকেট জেনারেলরা দায়িত্বে থাকাকালে তাঁদের ব্যক্তিগত আইন ব্যবসা চালাতে পারবেন না। অতীতে কেন্দ্রীয় শরিয়া আদালতের বিচারপতিদের তিনজন ছিলেন ‘ইসলামি আইনে প্রাজ্ঞ’ ব্যক্তি। এই যোগ্যতার বদলে ইসলামি আইনে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, গবেষক বা শিক্ষাদানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার বিধান করা হয়েছে।
দুর্বলতা প্রসঙ্গে আবারও ফিরে আসি। মৌলিক অধিকারগুলো দুর্বল রয়ে গেছে। এমনকি নির্যাতনও পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়নি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, চলাচল ও ধর্মচর্চার অধিকার সীমিত রয়ে গেছে। সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের পদ্ধতি সবচেয়ে অসন্তোষজনক। গণতন্ত্রের সনদে যে সাংবিধানিক আদালতের প্রতিশ্রুতির কথা আছে, তাতে ছদ্মাবরণ দেওয়া হয়েছে এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতিকে জবাবদিহি করার বিধানটি স্পষ্ট করা হয়নি। কেন্দ্র ও প্রদেশশাসিত উপজাতীয় অঞ্চলের মর্যাদা কী হবে, সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া থেমে না গিয়ে অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। যদি শাসনব্যবস্থার কাঠামোগত অসংগতিগুলোর দিকে আগে দৃষ্টি দেওয়া হয়, তবেই পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যেতে পারে। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সুষ্ঠু শাসনের জন্য একটি আইনি কাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গণতান্ত্রিক রূপান্তরের অর্জনগুলো ধরে রাখতে প্রয়োজন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উচ্চপর্যায়ের নিষ্ঠা।
পাকিস্তানের ডন পত্রিকা থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
আসমা জাহাঙ্গীর: পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন।

ছাত্র ইউনিয়নের অনন্য গৌরবগাথা by মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

৫৮ বছর ধরে গড়ে উঠেছে যে ছাত্র ইউনিয়ন পরিবার, আমি সেই পরিবারের একজন সদস্য। এটা আমার আত্মপরিচয়ের অমূল্য সঞ্চয়, আমার পরম গৌরব।
আর মাত্র দুই বছর পরে ছাত্র ইউনিয়নের ৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে। ভিশন-২০১২ সামনে রেখে ছাত্র ইউনিয়ন পরিবারে এখন থেকেই জেগে উঠতে শুরু করেছে আবেগ-অনুভূতির গভীর স্পন্দন।
ছাত্র ইউনিয়নের ইতিহাস হলো এক অনন্য গৌরবগাথা। এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি বছর-পরম্পরায় লাখ লাখ তরুণ ছাত্রছাত্রীকে নির্ভেজাল দেশপ্রেম, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধিতা, বিশ্ব শান্তি, আন্তর্জাতিকতাবাদ, প্রগতিশীলতা, সমাজতন্ত্র, মানবমুক্তি ইত্যাদি সুমহান আদর্শ ও চেতনায় দীক্ষিত করেছে। ঐক্য-শিক্ষা-শান্তি-প্রগতি—এই চারটি মূল মন্ত্রকে ভিত্তি করে ছাত্রসমাজের মধ্যে প্রজ্বলিত হয়েছে জাগরণের অগ্নি-মশাল। অজেয় ও অনির্বাণ সেই চেতনার আলোকচ্ছটায় বায়ান্ন থেকে দীপ্ত হয়েছে অগণিত ছাত্রছাত্রী। ছাত্র ইউনিয়নের শিক্ষা তাদের শ্রেষ্ঠ মানুষের গুণাবলি আত্তীকরণে ও নিজ নিজ পেশায় উত্কর্ষ অর্জনে পথ রচনা করে দিয়েছে।
ছাত্র ইউনিয়ন তার সদস্যদের শিক্ষা দিয়েছে প্রজ্ঞা, প্রগতিমুখিতা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, সাহসিকতা, দৃঢ়তা, নিষ্ঠা, আত্মত্যাগের মনোবৃত্তি, উন্নত চারিত্রিক গুণাবলি, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বোধ, উন্নত রুচিশীলতা, শ্রমের প্রতি মর্যাদা, শোষিত-অবহেলিত মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসার বোধ ইত্যাদি। ছাত্র ইউনিয়ন শিখিয়েছে, বিদ্যমান প্রতিকূলতার কাছে মাথা নত না করে প্রতিক্রিয়াশীল স্থিতাবস্থাকে, অথবা গণশত্রুর আঘাত চ্যালেঞ্জ করতে। মাঝেমধ্যে নেমে আসা ঘোর কৃষ্ণপক্ষের মধ্যেই ছাত্র ইউনিয়ন সব সময় থেকেছে (এবং আজও আছে) আদর্শবাদের উজ্জ্বল আলোকবর্তিকার অনন্ত প্রবহমান উৎস হয়ে। বর্তমানের মধ্যে ভবিষ্যতের প্রতিনিধি হয়ে বহন করে চলেছে মুক্তির পতাকা।
ছাত্র ইউনিয়ন সব সময় ছিল এবং আজও রয়েছে ছাত্রসমাজেরই সংগঠনরূপে। ছাত্রসমাজের প্রকৃত স্বার্থ, আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা, স্বপ্ন-সাধ অবলম্বন করেই ছাত্র ইউনিয়নের ভিত্তি রচিত। তাই শিক্ষার দাবিতে, উন্নত একাডেমিক পরিবেশের জন্য, উপযুক্ত শিক্ষানীতি রচনার জন্য, ছাত্র হিসেবে সমাজের কাছে প্রাপ্য অধিকার আদায়ের জন্য ও সমাজের প্রতি ছাত্রসমাজের দায়িত্ববোধ সৃষ্টির জন্য ছাত্র ইউনিয়ন সব সময় নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছে। হোস্টেলের পাতলা ডাল ঘন করতে হবে, টয়লেটের ভাঙা দরজা মেরামত করতে হবে, সিলেবাসকে জাতীয় প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে মিলিয়ে সুবিন্যস্ত করতে হবে, পরীক্ষাপদ্ধতি ঢেলে সাজাতে হবে, নকলের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে—ছোট-বড় এসব প্রশ্ন সব সময়ই থেকেছে ছাত্র ইউনিয়নের কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু।
এসব কারণে ছাত্র ইউনিয়ন থাকতে পেরেছে ছাত্রসমাজের নিজস্ব স্বাধীন সংগঠন হয়ে। তাকে কখনোই রাজনৈতিক কোনো দলের অঙ্গসংগঠন হতে হয়নি অথবা কোনো রাজনৈতিক দল অথবা মতাদর্শের অনুষঙ্গ হয়ে থাকাটাকে তার উদ্দেশ্য করতে হয়নি।
ছাত্রসমাজের মৌলিক স্বার্থগুলো পূরণ করার পথে প্রচলিত সামাজিক-অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক বিধিব্যবস্থাগুলো যে প্রতিবন্ধক, সেই উপলব্ধি ছাত্র ইউনিয়ন তার জন্মলগ্ন থেকেই ব্যক্ত করেছে। এই উপলব্ধি থেকেই জাতীয় ঘটনাপ্রবাহে, সামাজিক-রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায়, শোষণমুক্তির সংগ্রামে, সমাজতন্ত্র ও মেহনতি মানুষের পক্ষে অবস্থান গ্রহণে রচিত হয়েছে ছাত্র ইউনিয়নের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা। ছাত্রসমাজের মধ্যে রক্ষণশীলতা, কূপমণ্ডূকতা, প্রতিক্রিয়াশীলতা, সুবিধাবাদ, ক্যারিয়ারিজম প্রভৃতি প্রবণতার বিরুদ্ধে র্যাডিক্যাল বাম ধারার বিপ্লবী প্রেরণাকে সব সময় ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছে ছাত্র ইউনিয়ন। এই মৌলিক বৈশিষ্ট্য অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতি আকর্ষণ করেছে ছাত্রসমাজের একটি প্রধান অংশকে। ব্যতিক্রম ঘটেছে কেবল তখনই, যখন ক্ষমতাসীনদের মদদে জাতীয় ক্ষেত্রের পাশাপাশি ছাত্রসমাজের মধ্যে সুবিধাবাদ, ক্যারিয়ারিজম ইত্যাদি অবক্ষয়ের ধারা প্রবল হয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে, কিংবা যখন ছাত্র ইউনিয়ন তার ঐতিহ্যমণ্ডিত র্যাডিক্যাল বিপ্লবী ধারা অগ্রসর করতে দ্বিধা-দুর্বলতা দেখিয়েছে।
শিক্ষার দাবিতে, স্বৈরাচার-সাম্প্রদায়িকতা-সন্ত্রাস-সাম্রাজ্যবাদ-লুটপাটতন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগ্রামে, সর্বোপরি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়নের অগণিত নেতা-কর্মী শহীদ হয়েছেন, জেল-জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সত্য ও ন্যায়ের জন্য আত্মোৎসর্গের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে রেখেছে ছাত্র ইউনিয়ন।
ছাত্র ইউনিয়ন ঐতিহ্যগতভাবেই হয়ে উঠতে পেরেছে মননশীলতা, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার এক ফলবান ক্ষেত্র। যারা গভীর চিন্তা করে, মেধাবী, বই পড়ে, ভালো বিতর্ক করে, গান গায়, আবৃত্তি করে, নাটক করে, যারা সত্, ত্যাগী, সাহসী, গরিবের দুঃখ দেখলে যাদের মন কাঁদে, যারা দুনিয়ায় জ্ঞান-বিজ্ঞানের অনেক খবর রাখে—তারা সবাই সাধারণভাবে ছাত্র ইউনিয়ন করে। ‘বিপ্লবের আবেগ’ শুধু নয়, উচ্ছ্বাসমুক্ত গভীর বাস্তব বিশ্লেষণ ও যুক্তি-চিন্তার পথ ধরেই গড়ে উঠেছে ছাত্র ইউনিয়নের বিপ্লবী ঐতিহ্যধারা।
তার বিপ্লবী ধারা সুদৃঢ়ভাবে অগ্রসর করার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়ন আশু সংস্কারমূলক কোনো কাজকে কখনোই অবহেলা করেনি। বরং ত্রাণের কাজ, দাঙ্গা প্রতিরোধ প্রভৃতি ক্ষেত্রে সব সময়ই ছাত্র ইউনিয়ন থেকেছে অগ্রবর্তী।
চেতনার যে দীপ্ত মশাল, ব্যাপক ও বহুমুখী কর্মযজ্ঞের যে ঐতিহ্য-অভিজ্ঞতা গত ৫৮ বছর গৌরবের সঙ্গে সমুজ্জ্বল রেখেছে ছাত্র ইউনিয়ন, তা চির-অম্লান, চিরঞ্জীব। প্রায় ছয় দশক ধরে গড়ে ওঠা ঐতিহ্য ও ধারাকে শুধু টিকিয়ে রাখাই নয়, তাকে আরও বিকশিত করেই এগিয়ে যাওয়ার পথ রচনা করতে হবে। আজকের দিনের ছাত্রসমাজের চাহিদা ও তাগিদ এবং জাতীয়-আন্তর্জাতিক বাস্তবতার চলমান বিকাশধারাকে বিবেচনায় নিয়েই সেই পথ রচনা করতে হবে।
ছাত্র ইউনিয়নের প্রগতিশীল বিপ্লবী চেতনা ঐতিহ্যের ধারাকে পরিত্যাগ নয়, কঠিন ও জটিল বাস্তবতার মুখেও তা আরও বলিষ্ঠভাবে এগিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। বর্তমান প্রজন্মের সাথিদের হয়ে উঠতে হবে আরও দক্ষ। সৃজনশীলতা আর মননশীলতার ছাপ রাখতে হবে নিত্যদিনের চিন্তায় ও কর্মে। আদর্শ ও ঐতিহ্যের মশাল বহন করে এগিয়ে যেতে হবে নব নব বিজয়ের পথে। বিজয় আসবেই একদিন। ‘আমরা করব জয়, নিশ্চয়ই!’ কারণ ছাত্র ইউনিয়ন এক অজেয় চিরঞ্জীব চেতনা।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম: সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি।

ভোলা নিয়ে জল ঘোলা by সোহরাব হাসান

ভোলা মাগুরা হয়নি। আবার বগুড়া হতেও বেশ দূরে।
নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন, ‘ভোলা মাগুরা হবে না, বগুড়ার মতো অবাধ, সুষ্ঠু ও শতভাগ নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।’ সম্ভবত তিনি বগুড়ায় খালেদা জিয়ার ছেড়ে দেওয়া দুটি আসনের উপনির্বাচন বুঝিয়েছিলেন। সেখানে বিএনপির প্রার্থী মওদুদ আহমদ ও জমির উদ্দিন সরকার জয়ী হয়েছিলেন। তোফায়েল আহমেদ তাঁর কথা পুরোপুরি রাখতে পারেননি। ২০০৮ সালের নির্বাচনকে আদর্শ ধরলেও ভোলা-৩ আসনের উপনির্বাচনটি ভালো হয়েছে বলা যাবে না।
তা হলে কি বিএনপির প্রার্থী জিতলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হতো? মোটেই না, ভোটাররা নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারলে এবং যাঁকে ভোট দেবেন, তাঁর জয় নিশ্চিত হলেই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, বিজয়ী প্রার্থী কোন দলের সেটি বিবেচ্য নয়। ভোলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিশাল ব্যবধানে জিতেছেন। কিন্তু সেখানে গণতন্ত্র জয়ী হয়েছে কি না, সেটি কোটি টাকার প্রশ্ন বটে।
ভোলা সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার কারণ সরকারি দলের বাড়াবাড়ি, বিরোধী দলের পরাজয়-আতঙ্ক এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষপাতমূলক আচরণ। প্রচারণার শুরু থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল অযথা উত্তেজনা করেছে, বাগিবতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছে। এর ‘ঐতিহাসিক’ কারণও আছে। ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে এই আসনটি পেয়েছিল আওয়ামী লীগ। অতএব উপনির্বাচনে তারা বিজয়ী আসনটি ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে ওঠে। অন্যদিকে ২০০১ সালের নির্বাচনের পর দেশের যে কটি আসনে বিএনপির ক্যাডাররা প্রতিপক্ষের ওপর সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি লুট করেছিল, মেয়েদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল, ভোলা-৩ ছিল সেসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত। ফলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ভয় ছিল, এবার নির্বাচনে হারলে আওয়ামী লীগ তাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে পারে।
তা ছাড়া উপনির্বাচনটি আওয়ামী লীগ-বিএনপির জন্য যতটা না মর্যাদার লড়াই ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল ভোলার দুই জাতীয় নেতা তোফায়েল আহমেদ ও হাফিজউদ্দিন আহমেদের। দুজনই ‘সংস্কারপন্থী’ নেতা। ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেও তাঁরা বেশি মাত্রায় সক্রিয় ছিলেন। হাফিজ বিএনপির প্রার্থী, আওয়ামী লীগের নূরনবী চৌধুরী। ২০০১ সালে এই আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ। হতে পারে এবার তিনি সেই পরাজয়ের ‘মধুর’ শোধটি নিলেন এলাকায় প্রায় অপরিচিত প্রার্থী নূরনবী চৌধুরীকে জিতিয়ে। গোটা নির্বাচনী প্রচারে, বিতর্কে মুখোমুখি হয়েছেন ‘দুই জাতীয় নেতা’। তাঁরা নির্বাচনকে ভোলায় সীমিত না রেখে জাতীয় রাজনীতিকে সরগরম করেছেন।
এ নির্বাচনে বিএনপির পরাজয়ের অনেকগুলো কারণ চিহ্নিত করা যায়। দলটি প্রথম থেকেই এক ধরনের অস্থিরতা ও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছে। তাদের আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। নেতাদের বক্তব্য-বিবৃতিতে জনমনে সন্দেহ জেগেছে, তারা আদৌ নির্বাচন করবে কি না। আদালত বিজয়ী প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার পর বিএনপি প্রথমে বলল, নিকটতম প্রার্থী হিসেবে হাফিজউদ্দিন আহমেদকে বিজয়ী ঘোষণা করতে হবে। তাদের দাবি মেনে নিলে কোনো আসনেই উপনির্বাচন করতে হয় না। বিজয়ী প্রার্থী মারা গেলে বা আসন ছেড়ে দিলে নিকটতম প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করতে হয়। তাদের দাবি মেনে নিলে বগুড়ার উপনির্বাচনে তাদের আসন দুটিও ছেড়ে দিতে হয়। খালেদা জিয়ার নিকটতম প্রার্থীদ্বয় ছিলেন আওয়ামী লীগেরই।
বিএনপির দ্বিতীয় দাবি ছিল সেনা মোতায়েনের। এ দাবিতে তারা এতটাই অনড় ছিল যে, মনে হয়েছে, সেনা মোতায়েন না করলে তারা নির্বাচনেই যাবে না। সবশেষে ভোট গ্রহণের দুই দিন আগে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচন সাত দিন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে নিজের পায়ে কুড়াল মেরেছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও ভোলাকে ইস্যু করতে চেয়েছিলেন। তাঁরা একদিকে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন ষড়যন্ত্রকারী, সরকারের পুতুল; অন্যদিকে তাঁদের কাছেই সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। কোনটি তাঁদের আসল বক্তব্য? অভিযোগের নিনাদে প্রতিকারের আওয়াজ হারিয়ে গেছে। ২০০১ ও ২০০৮-এর নির্বাচনে জামায়াত বিএনপির সঙ্গে ছিল, এবারে তারা চুপচাপ। ভোটের আগমুহূর্তে কয়েকজন নেতা-কর্মীর দলত্যাগও হাফিজের ভরাডুবিকে ত্বরান্বিত করেছে।
অন্যদিকে প্রচারের ক্ষেত্রেও আওয়ামী লীগ খানিকটা এগিয়ে ছিল। তারা বলেছে, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব চান না হাফিজ জয়ী হোন। বরং তিনি পরাজিত হলে আন্দোলনের ইস্যু তৈরিতে সুবিধা হবে। এ প্রচারের বিরুদ্ধে সুবিধা করতে না পেরে বিএনপি বারবার নির্বাচন বর্জনের হুমকি দিয়েছে। তাতেও দলীয় সমর্থকেরা বিভ্রান্ত ও হতাশ হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘মাগুরার চেয়েও ভোলায় বেশি কারচুপি হয়েছে।’ তাঁকে ধন্যবাদ। এই প্রথম বিএনপির কোনো নেতা স্বীকার করলেন, ‘মাগুরায় বড় ধরনের কারচুপি হয়েছিল।’ আব্বাস সাহেবরা কারচুপির কথাটি তখন স্বীকার করলে দেশ ও জনগণকে এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। এখন যাঁরা ‘সব পেয়েছি’ বলে উল্লাস প্রকাশ করছেন, তাঁদেরও অতীতের কথা স্মরণ করতে বলব।
এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভুল ছিল যেকোনো মূল্যে আসনটি পাওয়ার দুর্মর আকাঙ্ক্ষা এবং তার বাস্তবায়নে একশ্রেণীর নেতা-কর্মীর বাড়াবাড়ি। তাঁরা চেয়েছেন, নির্বাচনের পরিবেশটি পুরো তাঁদের অনুকূলে থাকুক এবং ভোটাররা শুধু নৌকায় সিল মারুক। ভোটের আগেই বহু কেন্দ্রে তাঁরা বিজয়ের আবহ তৈরি করেছিলেন, ভয়ে বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে যেতে সাহস পাননি। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অতিউৎসাহের সঙ্গে তাঁদের সহায়তা করেছে। আবার পরাজয় নিশ্চিত জেনে কোনো কোনো কেন্দ্রে বিএনপিও প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও। একটি নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে যা যা করা প্রয়োজন তার সবটাই কি তারা করেছে? বিএনপির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন বলেছিল সেনাবাহিনী ছাড়াই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা যাবে। নির্বাচন কমিশন যেসব আচরণবিধি দিয়েছে তা অমান্য করেছেন দুই প্রার্থীই। কিন্তু কমিশন কারও বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি সিইসি এলাকায় গিয়ে দুই প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করে যে সমঝোতা করিয়ে এসেছিলেন, তাও তাঁরা মানেননি। নির্বাচন কমিশন নয়টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখলেও তার প্রভাব অন্যান্য কেন্দ্রে পড়েনি।
বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, ৭৭টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থী পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৮৭৩ ভোট আর বিএনপির প্রার্থী পেয়েছেন ৪২ হাজার ৫২৮ ভোট। ভোটের ব্যবধান প্রমাণ করে, এ নির্বাচনে সরকারি দল জবরদস্তি না করলেও নূরনবী চৌধুরীই জয়ী হতেন। হয়তো ভোটের ব্যবধানটা কম হতো। ভোটের দিন ও তার আগে সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের আচরণ ছিল বেপরোয়া। তাঁদের ভাবটা ছিল, নির্বাচনের আগেই তাঁরা জিতে গেছেন। এটি গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। বিএনপি এ উপনির্বাচনকে ইস্যু করে আন্দোলন করতে পারবে কি পারবে না তার চেয়ে জরুরি প্রশ্ন হলো, সরকারি দল খামোখা ভোলায় জল ঘোলা করেছে। আমরা অতীতেও দেখেছি, সরকারি দল উপনির্বাচনের ফল পক্ষে নিতে নানা কৌশল আঁটে। তার ফল কখনো ভালো হয় না। তবে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রে বিরোধী দলেরও দায়িত্ব রয়েছে। বিএনপি কি সে দায়িত্ব পালন করেছে?
নির্বাচনের আগে যেমন দিয়েছে, তেমনি পরেও দলটি নানা বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। তারা নির্বাচন বাতিলের পাশাপাশি তিন নির্বাচন কমিশনারেরও পদত্যাগ দাবি করেছে। কোথাও নির্বাচনে কারচুপি হলে বাতিল করার দাবি অন্যায় নয়। প্রশ্ন হলো, নির্বাচন বাতিলের দাবিটি তারা কার কাছে করেছে? নিশ্চয়ই নির্বাচন কমিশনারের কাছে। আবার তাদেরই পদত্যাগ চাইছে। এটি কি স্ববিরোধী নয়? কোনো আসনে নির্বাচনে কারচুপি হলে তথ্য-প্রমাণসহ ফল বাতিলের দাবি তারা করতেই পারে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবির কী যুক্তি থাকতে পারে? তারা তো জাতীয় নির্বাচনের পরও নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ চেয়েছিল, আবার তাদের অধীনে উপনির্বাচন করে জিতেও এসেছে। এখন জেতেনি বলেই কি নির্বাচন কমিশনকে পদত্যাগ করতে হবে?
আরেকটি কথা, ভোলায় বিএনপির পরাজয়ের আরও একটি কারণ আছে। মানুষ এত সহজে ২০০১ সালের বীভৎসতা ভোলেনি। এবার সরকারি দল জবরদস্তি না করলেও তাদের প্রার্থী জয়ী হতো। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন সেখানে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে তা কিছুই নয়। এখানে প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছি:
‘নির্বাচনের পরদিন ২ অক্টোবর রাতে সন্ত্রাসীরা বেন্টর বাড়িসহ গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে নারকীয় হামলা চালায়। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল সম্পদ লুট আর নারীদের সম্ভ্রমহানি। অন্নদাপ্রসাদ গ্রামের ৪০০ হিন্দুবাড়ির কোনোটিই রেহাই পায়নি তাদের হাত থেকে। রাতের বেলা ৮-১০টি দলে বিভক্ত হয়ে শত শত সন্ত্রাসী অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় গ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে। বেন্টর বাড়িতে আশ্রিত অর্ধশতাধিক নারীর কেউই নিজেকে বাঁচাতে পারেনি সন্ত্রাসীদের কবল থেকে। এখানে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১০ বছরের শিশু, লাঞ্ছিত হয়েছে ৬৫ বছরের বৃদ্ধা।’
আরও কতজন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সে সময়ের শাসক দল কত শেফালি রানির নাকফুল কেড়ে নিয়েছে, কত প্রাণকৃষ্ণকে ঘরছাড়া করেছে, তার হিসাব-নিকাশ ক্ষমতার রাজনীতি রাখে না। সে কারণেই বিএনপির চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের উপনির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সাদরে বরণ করে নেয়।
একটি অন্যায়কে আরেকটি অন্যায় দিয়ে আড়াল করা যায় না। ২০০১ সালে যারা এসব সন্ত্রাস-নির্যাতন চালিয়েছিল, তারও আগে একাত্তরে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তাদের কেউ কেউ এবার আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে নূরনবী চৌধুরীর পক্ষে কাজ করেছে। আওয়ামী লীগ হয়তো বিষয়টি নির্বাচনে জয়ের কৌশল হিসেবে নিয়েছে, কিন্তু যাঁরা সেদিন নির্যাতিত ও নিগৃহীত হয়েছিলেন, তাঁরা বিষয়টিকে কীভাবে নেবেন?
ভোলার উপনির্বাচনের ঘোলা জল দেশটিকেই ফের গভীর অনিশ্চয়তায় ফেলে দেবে কি না, তা দেখার জন্য আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। প্রত্যাশা ছিল, ভোলার নির্বাচনটি অবাধ ও সুষ্ঠু হবে, হয়নি। সেখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হলেও পরাজিত হয়েছে নীতি ও আদর্শ। বিএনপির দলছুটদের দলে টানতে হয়েছে, জায়গা দিতে হয়েছে স্বাধীনতাবিরোধীদেরও। অতএব বিজয়ী দলকে ধন্যবাদ দিতে পারলাম না বলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

হিমাগারে আলু পচবে কেন -কোনোভাবেই খাদ্যশস্য পচতে দেওয়া যাবে না

ভোলা-৩ আসনের উপনির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থী নূরনবী চৌধুরীর বিজয়ের খবরটি অনেকাংশে চাপা পড়ে গেছে সেখানে বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংসতার ঘটনায়। বিএনপির সমর্থক-অধ্যুষিত এলাকায় ভোটদাতাদের পথে পথে বাধা দেওয়া, কোথাও মারপিট, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, বিএনপির নির্বাচনী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া—এ রকম বেশ কিছু অভিযোগের কারণে সরকারি দলের আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
তবে এটাও ঠিক যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল, কোথাও গোলাগুলির মতো ঘটনা ঘটেনি। সব অভিযোগ নিজস্ব কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তদন্ত করে নির্বাচন কমিশন মোট ৮৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে মাত্র নয়টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে। এতে বোঝা যায়, বলপ্রয়োগের ঘটনা সীমিত ছিল। ব্যাপক সহিংসতা হলে প্রায় ৬৭ শতাংশ ভোট পড়ার সুযোগ ছিল না। স্মরণ করা যেতে পারে, বিগত সাধারণ নির্বাচনে এই আসনে ভোট পড়েছিল প্রায় ৮৫ শতাংশ। উপনির্বাচনে ভোট দেওয়ার হার কিছু কমে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। যদি বিগত নির্বাচন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ও সুষ্ঠুভাবে হয়েছে বলে স্বীকৃতি পেয়ে থাকে, তাহলে এই উপনির্বাচন মোটামুটি গ্রহণযোগ্য বলে ধরে নেওয়া যায়।
কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আরও সংযত আচরণ কাম্য ছিল। কারণ তাদের সামান্য মারামারির ঘটনা বড় অন্যায় বলে প্রতিভাত হয়, যেহেতু তারা ক্ষমতায়। প্রাথমিক হিসাবে দেখা যায়, বিগত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের প্রায় কাছাকাছি ভোটই পেয়েছেন তাদের এবারের প্রার্থী। কিন্তু বিগত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হাফিজউদ্দিন আহমেদের ভোট প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। স্থগিত নয়টি কেন্দ্রের মোট ভোট প্রায় ৩২ হাজার। এর বড় অংশ যদি বিএনপির প্রার্থীর প্রাপ্য হয়, তাহলেও বিগত নির্বাচনের তুলনায় এবার তিনি ২৫-৩০ হাজার ভোট কম পেয়েছেন। কেন এত কমল? এর একটি কারণ হতে পারে ভোটদাতাদের সরল মনস্তত্ত্ব, যার অর্থ হলো সরকারদলীয় প্রার্থী জিতলে এলাকার উন্নয়নের সুবিধা। তবে বিএনপি সে রকম মনে করে না। ভয়ভীতি ও কারচুপির মাধ্যমে তাদের প্রার্থীকে হারানোর অভিযোগ সত্য হলে বলতে হয়, ৩০-৩৫ হাজার ভোট জালিয়াতি করা হয়েছে। এ রকম গুরুতর অভিযোগের ভিত্তি আছে কি না, তা তদন্তের দাবি রাখে। নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এটা অনস্বীকার্য যে নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করেছে। যখন কোনো অভিযোগ এসেছে, তদন্ত করে কমিশন অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বদলি করেছে। মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের এলাকায় যাওয়া নিষিদ্ধ করে নির্বাচনে বাইরের হস্তক্ষেপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। সিইসি বলেছেন, শতভাগ না হলেও উপনির্বাচন সফল হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে দেখা যায়, নির্বাচনী এলাকায় বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া পরিস্থিতি শান্ত ছিল। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও বিজয় মিছিল বা এমন কোনো কর্মসূচি না নিতে বলা হয়েছে, যেন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে না ওঠে।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচন নিয়ে তাত্ক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। আওয়ামী লীগের সভানেত্রীও এ ব্যাপারে মৌনব্রত পালন করেছেন। কিছু বলার আগে পুরো বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করার জন্য সময় নেওয়ার এই অনুশীলন গণতন্ত্রের জন্য শুভ। এই ধারাটি বিকশিত হোক।

আহমাদিনেজাদের হুঁশিয়ারি

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ গত শনিবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দেশটির ওপর যদি নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, তাহলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় এক সংবাদ সম্মেলনে আহমাদিনেজাদ এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এ সময় তিনি ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ঠেকাতে উগান্ডার সহায়তা কামনা করেন।
আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তার পরিণতি ওবামাকে ভোগ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ওবামা একটি মুখোশের বেশি কিছু নন। যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত চেহারা ও প্রকৃতি আড়াল করার জন্যই তিনি ক্ষমতায় এসেছেন।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে আরেক দফা কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো। উগান্ডা বর্তমানে ১৫ জাতির জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য দেশ।

কাসাবকে আমাদের হাতে দিন: পাকিস্তান

২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার একমাত্র জীবিত জঙ্গি আজমল আমির কাসাবকে পাকিস্তানের কাছেহস্তান্তর করার জন্যভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেইসলামাবাদ। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক গত শনিবার ভারতের হাইকমিশনার শরত্ সভরওয়ালের সঙ্গে এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান। মুম্বাই হামলা মামলায় জড়িত সন্দেহভাজন সাতজনের বিচারকাজে সহায়তার জন্য এ আহ্বান জানানো হয়।
ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর রেহমান মালিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘মুম্বাই হামলার মামলার আসামীদের বিচারের জন্য কাসাবের বক্তব্য খুবই প্রয়োজন। আমাদের আদালতের জন্য এটা দরকার।’ তিনি বলেন, বিচারের সময় ভারতের দুজন হাকিম এবং মুম্বাই সিআইডির মুখ্য তদন্ত কর্মকর্তাকে সেখানে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানাবে পাকিস্তান। তারা কাসাবের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য রেকর্ড করবে, যাতে কর্তৃপক্ষ বিচারকাজ সামনে এগিয়ে নিতে পারে।
মালিক বলেন, ‘পাকিস্তানে বিচার-প্রক্রিয়া সঠিকভাবেই চলছে এবং ভারতের এই তিন কর্মকর্তার উপস্থিতি এটিকে আরও শক্তিশালী করবে। আমরা আশাবাদী ভারত সুবিচারের স্বার্থে আমাদের এই অনুরোধ বিবেচনা করবে।’
রেহমান মালিক জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কয়েক দিনের মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তাদের কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার ব্যাপারে চিঠি হস্তান্তর করবে। তিনি ভারতীয় হাইকমিশনারকে আরও বলেছেন, পাকিস্তানের আইনজীবীদের কাসাবের সঙ্গে আলোচনা দরকার।
তিনি বলেন, লস্কর-ই-তাইয়্যেবা কমান্ডার জাকিউর রেহমান লাখভিসহ যেসব সন্দেহভাজনকে পাকিস্তান আটক করেছে, তাদের বিচারের জন্য এই উদ্যোগ অবশ্যই বিচার-প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।
মুম্বাইয়ে বিশেষ আদালতে কাসাবের বিচার শেষহয়েছে। আগামী ৩ মে মামলার রায়ঘোষণা করা

হাঙ্গেরির সাধারণ নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ

হাঙ্গেরির সাধারণ নির্বাচনে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দফায় ভোট নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রথম দফার নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে রক্ষণশীল বিরোধী ফিডেসজ পার্টি।
প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১১ এপ্রিল। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের নেতৃত্বাধীন ফিডেসজ পার্টি ৩৮৬টি আসনের মধ্যে ২০৬টিতে জয়লাভ করেছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে এক-তৃতীয়াংশ আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
প্রথম দফার নির্বাচনে যেসব আসনে কোনো প্রার্থীই শতকরা ৫০ ভাগের বেশি ভোট পাননি, ওইসব আসনে দ্বিতীয় দফায় ভোট নেওয়া হচ্ছে। এ রকম আসনের সংখ্যা ১২১টি। পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ৫২টি আসন দরকার ফিডেসজ পার্টির।
আগামী ১০ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ওরবান।

প্রধানমন্ত্রী পদে প্রচণ্ড ছাড়া অন্য কেউ হলে পদত্যাগে রাজি

মাওবাদী নেতা পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ড ছাড়া প্রধানমন্ত্রী পদে অন্য কোনো প্রার্থীর ব্যাপারে মতৈক্য হলে পদত্যাগে রাজি নেপালের প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল। গতকাল রোববার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
শান্তি-প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ব্যর্থতা ও নতুন সংবিধানের খসড়া প্রণয়নে বিলম্বের অভিযোগে পদত্যাগের জন্য নিজ দল সিপিএন (ইউএমএল) ও প্রধান বিরোধী দল ইউসিপিএনের (মাওবাদী) দিক থেকে চাপের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল।
বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার জন্য ইউসিপিএন (মাওবাদী), বিশেষ করে ওই দলের চেয়ারম্যান প্রচণ্ডকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী নেপাল বলেন, প্রচণ্ড ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থীর ব্যাপারে দলগুলো একমত হলে তিনি পদত্যাগ করতে রাজি।
ইউসিপিএনের (মাওবাদী) কর্মীদের হামলায় আহত কয়েকজন দলীয় ক্যাডারকে দেখতে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতালে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।
মাধব কুমার নেপাল আরও বলেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তিনি শান্তিপ্রক্রিয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়াবেন না।
তবে মাওবাদী চেয়ারম্যান প্রচণ্ডকে মতৈক্যের প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নেপাল বলেন, ‘যদি মাধব কুমার নেপাল প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে না পারেন, তাহলে প্রচণ্ডও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না।’
তিনি বলেন, মাওবাদীরা দেশজুড়ে সহিংসতা চালাচ্ছে। তারা অন্য রাজনৈতিক দলের ক্যাডার ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
১ মে থেকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত যুদ্ধ’ চালানোর প্রস্তুতি হিসেবে হাজার হাজার তরুণকে ‘সামরিক প্রশিক্ষণ’ দিচ্ছে মাওবাদীরা।
বেসরকারি বিদ্যালয়ে ধর্মঘট: মাওবাদী সমর্থিত ছাত্রসংগঠনের ডাকে গতকাল রোববার নেপালজুড়ে হাজার হাজার বেসরকারি বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে গতকাল রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুল বন্ধের ডাক দেয় সংগঠনটি।
বর্ধিত ফি প্রত্যাহার না করায় মাওবাদী সমর্থিত ছাত্রসংগঠন অল নেপাল ন্যাশনাল ফ্রি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (বিপ্লবী) সদস্যরা কয়েকটি বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীবাহী বাসে হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ভারতে বায়ুগহ্বরে যাত্রীবাহী বিমান, আহত ২০

ভারতের গোয়ায় একটি যাত্রীবাহী বিমান বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গেছে। বিমানটি গতকাল রোববার আকস্মিক বায়ুগহ্বরে পড়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে ১৫ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। এ ঘটনায় ২০ জন আরোহী আহত হয়েছেন। এরপর চালক বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হন এবং বিমানটি নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের এক মুখপাত্র জানান, দ্য এমিরেটস বোয়িং ৭৭৭ বিমানটি দুবাই থেকে ভারতের কেরালা যাওয়ার পথে গতকাল সকালে বায়ুগহ্বরে (বায়ুমণ্ডলের আংশিক শূন্য অবস্থা, যা বিমানকে কিছু দূর নেমে আসতে বাধ্য করে) পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যে বিমানটি ২০ হাজার ফুট থেকে পাঁচ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। এ সময় সিটবেল্ট বাঁধেননি এমন যাত্রীদের অনেকে ছিটকে পড়ে আহত হন। বিমানে ৩৭৫ জন আরোহী ছিলেন।

মিসিসিপিতে টর্নেডোয় ১০ জন নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে গত শনিবার প্রায় মাইলব্যাপী টর্নেডোর আঘাতে তিনটি শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
মিসিসিপির জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, টর্নেডোর আঘাতে কমপক্ষে ১৩টি কাউন্টিতে ধসে পড়া বাড়িঘরে মানুষ আটকা পড়েছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়েছে, রাস্তাঘাট আটকে গেছে ও বিদ্যুৎব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ইয়াজু কাউন্টির গভর্নর হ্যালি বারবার টর্নেডোর পর সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, টর্নেডোয় ইয়াজু শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
হ্যালি আরও বলেন, ‘আমরা চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি, অনেক লোক ধসে পড়া বাড়িঘরে আটকা পড়েছে, যারা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে।

ফিলিপাইনে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারের শান্তিচুক্তি

ফিলিপাইনের বৃহত্তম মুসলিম বিদ্রোহী গোষ্ঠী আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতা এড়াতে সরকারকে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে বিদ্রোহীদের একটি শান্তিচুক্তি হয়েছে।
দেশটির সমস্যাসংকুল দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ মিন্দানাওয়ের সেনা কমান্ডার মেজর জেনারেল অ্যান্থনি আলকান্তারা বলেন, নির্বাচন সফল করতে বিদ্রোহী গ্রুপ মরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্টের সঙ্গে আমরা একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছি। আলকান্তারা বলেন, বিদ্রোহীরা ১০ মে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছে। তারা বলেছে, ৩ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত তাদের সৈন্য সমাবেশ করবে না এবং নির্বাচনী এলাকা থেকে দূরে থাকবে।
উভয় পক্ষের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কমিটি গত শুক্রবার শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

সুদানে সেনা ও আদিবাসীদের সংঘর্ষ নিহত ৫৮

দক্ষিণ সুদানে সেনাবাহিনী ও দারফুরি আদিবাসী আরবদের মধ্যে সংঘর্ষে ৫৮ জন নিহত ও ৮৫ জন আহত হয়েছে। ২৪ বছর পর সুদানে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের প্রাক্কালে সংঘটিত এ হতাহতের ঘটনায় পরস্পরের প্রতি বৈরীভাবাপন্ন দক্ষিণ ও উত্তর সুদানের মধ্যে আবার উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খবর এএফপি ও বিবিসি অনলাইনের।
সংবাদ মাধ্যমগুলো বলেছে, উত্তর ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে ২০০৫ সালে শান্তিচুক্তির মাধ্যমে গৃহযুদ্ধের অবসান হলেও দুই অঞ্চলে এখনো পরস্পরের প্রতি বৈরী মনোভাব রয়ে গেছে। শান্তিচুক্তি অনুযায়ী তেলসমৃদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায় অধ্যুষিত দক্ষিণ সুদানে আধা স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয় এবং সেখানে তাদের সাউদার্ন সুদান পিপলস লিবারেশন আর্মি (এসপিএলএ) নামে একটি সেনাবাহিনী গঠনের অনুমতি দেওয়া হয়।
কর্মকর্তারা বলেছেন, সেখানকার রিজিগাত নামে পরিচিত আরব আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে এসপিএলএ সদস্যদের সঙ্গে গত শুক্রবার সংঘর্ষ বাধে। দক্ষিণ দারফুরে রিজিগাত নেতা মোহাম্মাদ ঈসা আলিউ বলেন, দক্ষিণ সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকা বাহার আল গজলের নিকটবর্তী বালবাল্লায় প্রথম সংঘর্ষ বাধে। এর পর বিভিন্ন স্থানে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
এসপিএলএ বলেছে, বাহার আল গজলের কাছাকাছি রাজা এলাকায় উত্তরাঞ্চলীয় সেনাবাহিনী এসএএফ তাদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উত্তরাঞ্চলের প্রভাবশালী দল ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) পাঁচ কর্মকর্তা ও অপর চারজন এসপিএলের গুলিতে মারা যান। তবে এসএএফ সংঘাতে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা অস্বীকার করেছে। তারা অভিযোগ করেছে, দারফুরে রিজিগাতের ওপর এসপিএলএ হামলা চালিয়ে শান্তিচুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে।
১১ এপ্রিল সুদানে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। পাঁচ দিন ধরে ভোটগ্রহণ চলে। তবে অধিকাংশ এলাকায় কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন থাই প্রধানমন্ত্রী

লাল শার্ট বিক্ষোভকারীদের দাবির কাছে নতি স্বীকার না করে কঠোর অবস্থান নিলেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অভিজিৎ ভেজ্জাজিভা। গতকাল রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দিয়ে ব্যাংককের রাজপথ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। অবশ্য কবে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হবে, সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলেননি। এ সময় সেনাপ্রধান জেনারেল আনুপং পাওচিন্দাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী সরকারের নির্দেশ মেনে চলবে। টেলিভিশনে প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে একসঙ্গে দেখে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থক বিক্ষোভকারীদের দমনে তাঁরা একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, দাবি আদায় না করে তাঁরা ঘরে ফিরবেন না। লাল শার্টের নেতারা প্রাদেশিক এলাকায় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থক লাল শার্ট বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার শর্তে রাজপথ থেকে সরে যাওয়ার প্রস্তাব দেন সরকারকে। গতকাল টেলিভিশনে প্রচারিত সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী অভিজিৎ ভেজ্জাজিভা বিক্ষোভকারীদের ওই প্রস্তাবের জবাব দেন। তিনি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভকারীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিক্ষোভকারীরা ব্যাংককের যেসব স্থানে অবস্থান নিয়েছেন, প্রয়োজনে তাঁদের সেসব স্থান থেকে হটিয়ে দেওয়া হবে। সেসব জায়গার নিয়ন্ত্রণ নেবে সরকার। তবে কখন এবং কীভাবে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী কিছুই বলেননি।
থাই প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াটা এখন বড় কথা নয়। বড় কথা হলো সমস্যার সমাধান। তাঁরা চলমান সংকটের অবসান চান। বিক্ষোভকারীরা সরকার পরিবর্তনের যে দাবি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন, তাতে সমস্যার সমাধান নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাল শার্ট বিক্ষোভকারীদের দাবি এখন শুধু পার্লামেন্ট বিলুপ্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁরা এখন নতুন থাইল্যান্ড গড়ার কথা বলছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা সেনাপ্রধান জেনারেল আনুপং পাওচিন্দাও বলেন, সেনাবাহিনী সব সময় সরকারের নির্দেশ অনুসরণ করবে। সেনাবাহিনী দেশের জন্য, রাজ্যের জন্য, দেশের জনগণের জন্য কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে তারা সরকারের নীতি অনুসরণ করবে। তিনি আরও বলেন, দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য যা যা করা দরকার, তারা তা-ই করবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের বক্তব্যের পর লাল শার্ট বিক্ষোভকারীদের নেতা কাওয়ানচাই প্রাপান সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ঘরে ফিরে যাবেন না। তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থানরত নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁরা যেন রাজধানী ব্যাংককে ঢুকতে না পারেন, সে পদক্ষেপ নিতে বলেন।
তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ব্যাংককের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উদন থানি প্রদেশে প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসেন। তাঁরা রাজধানী অভিমুখী ১৩টি পুলিশ ভ্যান আটকে দেন। এ ছাড়া ব্যাংককের উপকণ্ঠে আরেকটি এলাকায় ৩০০ বিক্ষোভকারী রাস্তা অবরোধ করে কয়েক শ পুলিশকে থামিয়ে দেন। তারা ব্যাংককে যাচ্ছিল। নঙ হাই প্রদেশে জনতা পুলিশের গতিরোধ করে তাদের ব্যাংককে ঢুকতে বাধা দেয়।

ওবামার সঙ্গে বৈঠক করতে আব্বাসকে যুক্তরাষ্ট্রে আমন্ত্রণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে বৈঠক করার জন্য ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে আগামী মাসে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি-প্রক্রিয়া আবার শুরু করার উদ্যোগ হিসেবে এ বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। ফিলিস্তিনের প্রধান মধ্যস্থতাকারী সায়েব এরেকাত এ কথা জানান।
এরেকাত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য-বিষয়ক বিশেষ দূত জর্জ মিশেল গত শুক্রবার পশ্চিম তীরে মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেন। তখন আব্বাসকে আগামী মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র সফরের এই আমন্ত্রণ জানান তিনি। আব্বাস আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করেছেন। আগামী মাসে ওয়াশিংটন সফরে যাবেন তিনি। তবে এখনো এই সফরের নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করা হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াশিংটনের বৈঠকে দুই নেতা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা আবার শুরু করার ব্যাপারে আলোচনা করবেন। গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ব্যাপক অভিযান শুরুর পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে ওই শান্তি আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। শান্তি আলোচনা আবার শুরু করার জন্য দুই পক্ষকে কয়েক মাস ধরে চাপ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলে আসছে, পূর্ব জেরুজালেমসহ দখলকৃত এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপন পুরোপুরি বন্ধ করা না হলে শান্তি আলোচনা নয়।

ভিনগ্রহের ‘মানুষ’ থেকে দূরে থাকাই ভালো: হকিং

ভিনগ্রহে মানুষের মতো মেধাসম্পন্ন প্রাণীর অস্তিত্ব থাকলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং।
ডিসকভারি চ্যানেলের একটি ধারাবাহিক অনুষ্ঠানে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্যোতিঃপদার্থবিদ হকিং বলেন, পৃথিবীর বাইরের বিশাল মহাজগতে বুদ্ধিমান প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে, এটা যুক্তিসংগতই বটে।
তিনি সাবধান করে দিয়ে বলেন, ভিনজগতের ওই প্রাণীরা পৃথিবীতে এসে এখানকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যেতে পারে। তবে তারা হয়তো থাকবে না।
হকিং বলেন, কলম্বাস আমেরিকায় পা রাখার পর তা যেমন আদিবাসী আমেরিকানদের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনেনি, তেমনি ভিনগ্রহের মানুষ পৃথিবীতে এলে তা আমাদের জন্যও ভালো হবে না।
অধ্যাপক হকিং বলেন, তাদের সঙ্গে বরং যোগাযোগ এড়িয়ে চলতেই সাধ্যমতো চেষ্টা করা উচিত মানুষের। তাঁর ব্যাখ্যা: অন্য বুদ্ধিমান প্রাণীর সঙ্গে কেন যোগাযোগ করা উচিত নয়, তা বোঝার জন্য আমাদের নিজেদের দিকে তাকালেই চলবে।
পৃথিবী থেকে বিজ্ঞানীরা অনুসন্ধানযানে মহাশূন্যে মানুষের খোদাই করে আঁকা ছবি ও পৃথিবীর অবস্থানের মানচিত্র পাঠিয়েছেন। এ ছাড়া ভিনগ্রহে বুদ্ধিমান প্রাণী থাকলে পাবে—এই আশায় রেডিও বার্তা পাঠানো হয়ে থাকে।
দৃশ্যত মহাবিশ্বের আকার ও গ্রহ-নক্ষত্রের সংখ্যার দিকে ইঙ্গিত করে অধ্যাপক হকিং বলেন, আমার গাণিতিক বুদ্ধি বলে, শুধু সংখ্যার বিষয়টি বিবেচনা করলেই ভিনগ্রহে বুদ্ধিমান প্রাণী থাকার ভাবনাটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক মনে হবে।
তিনি বলেন, ভিনগ্রহে প্রাণী আছে কি না তার চেয়ে বরং তারা দেখতে কেমন হবে, সেটা খুঁজে বের করাই প্রকৃত চ্যালেঞ্জ।

মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কাল ভারত বন্ধ্

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কাল মঙ্গলবার ‘ভারত বন্ধ্’-এর ডাক দিয়েছে ভারতের চারটি বাম দলসহ ধর্মনিরপেক্ষ ১৩টি দল। সকাল-সন্ধ্যা এই বনেধর ফলে ভারতের অধিকাংশ রাজ্যের জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু শনিবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর পর ভারতজুড়ে এত বড় মাপের বন্ধ্ ডেকেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই বন্ধ্ সর্বাত্মক হবে।
তবে বন্ধিবরোধীরা মনে করছেন, এই বন্ধ্ এবার বামশাসিত পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা ও ত্রিপুরায় সর্বাত্মক রূপ নিলেও অন্ধ্র প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, ওড়িশা, কর্ণাটক, তামিলনাড়ুতে আংশিক সফল হতে পারে।
বনেধর ফলে যানবাহন চলাচল বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যাহত হতে পারে ট্রেন, পাতালরেল, বিমান ও নৌপরিষেবাও।

প্রেসিডেন্টকে ছাড়িয়ে

ফুটবলীয় দক্ষতায় আলফ্রেডো ডি স্টেফানোকে ছড়ানোর দাবি রাউল গঞ্জালেস নিজেও করবেন না নিশ্চিত। নিঃসন্দেহে স্পেনের সর্বকালের সেরাদের একজন রাউল, কিন্তু ডি স্টেফানোকে তো রাখতে হয় ফুটবল ইতিহাসেরই সর্বকালের সেরাদের ছোট্ট তালিকাতেই। রিয়াল মাদ্রিদেই ক্যারিয়ারে সবচেয়ে সুবর্ণ সময় কাটানো এবং এখন ক্লাবের সম্মানসূচক প্রেসিডেন্ট ডি স্টেফানোকেই একটা ক্ষেত্রে পরশু পেছনে ফেলে দিলেন রাউল। ২২৭টি গোল করে লা লিগায় সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দুজন যৌথভাবে ছিলেন তিনে। রিয়াল জারাগোজার বিপক্ষে সমতা ফেরানো গোলটি করে মাদ্রিদের ঘরের ছেলে তিনে উঠে গেলেন এককভাবে। ২৩৪ গোল করে দুইয়ে থাকা মেক্সিকোর হুগো সানচেজও ক্যারিয়ারের সেরা সময়টা কাটিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে। শীর্ষে থাকা টেলমো জারা ২৫২ গোল করেছেন মাত্র ২৭৮ ম্যাচে, ১৯৪০ থেকে ১৯৫৫ সারের মধ্যে সবগুলো গোলই করেছেন অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের হয়ে।

ইন্টারের স্নাইডার-শঙ্কা

দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফর্মারদের একজন তিনি, বার্সেলোনার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে পিছিয়ে পড়ার পর তাঁর গোলেই সমতা ফিরিয়েছিল ইন্টার মিলান। কিন্তু তাঁকে নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় ইন্টার। পরশু আটালান্টার বিপক্ষে ইন্টারের ৩-১ গোলে জয়ের ম্যাচে ইনজুরিতে পড়েছেন এই মিডফিল্ডার। বাঁ ঊরুর পেশিতে টান লাগায় প্রথমার্ধের পর আর মাঠে নামেননি। আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে তাঁকে, এর পরই বোঝা যাবে ইনজুরির অবস্থা। আগামী বুধবার সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে এই ডাচ ফরোয়ার্ডকে না পাওয়ার আশঙ্কা তাই প্রবল।

অবনমনের লড়াইটাই জমজমাট

ফরাশগঞ্জকে ২-০ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ লিগে রানার্সআপ হওয়ার দৌড়ে টিকে থাকল শেখ রাসেল। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মরক্কান স্ট্রাইকার সালাহ ও রাজনের গোলে টানা দ্বিতীয় জয় পাওয়া রাসেলের পয়েন্ট ১৮ ম্যাচে ৪৩। সমান ম্যাচে মোহামেডানের ৪৮, আবাহনীর ৫২।
তবে কালকের জয়ের পর উচ্ছ্বাস ছিল না রাসেল শিবিরে। কারণ দলকে প্রথম গোল এনে দেওয়া সালাহ গোলের পরপর স্ট্রেচারে শুয়ে মাঠ ছেড়েছেন। কিছুক্ষণ পর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে।
৫৩ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে পাওয়া থ্রু ধরে এগোচ্ছিলেন সালাহ। আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল পাঠালেন জালে। তখনই গোলরক্ষকের সঙ্গে তাঁর সংঘর্ষ হয়। সালাহর নাক ফেটে যায়। হাসপাতালে এক্স-রে করানোর পর ধরা পড়েছে, তাঁর নাকের একটি হাড় ও একটি দাঁত ভেঙে গেছে। রাতে ক্লাবে ফিরে এলেও প্রয়োজনে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা লাগতে পারে।
দিনটা সালাহর জন্য দুঃখের হলেও আনন্দের ছিল মুতেবি, তপুদের জন্য। এই দুজনের গোলে কাল জয়ের প্রতীক্ষা ফুরিয়েছে নারায়ণগঞ্জ শুকতারার। টানা সাত পরাজয়ের পর সিলেটে গিয়ে মহামূল্যবান এই জয় তারা পেয়েছে বিয়ানীবাজারের বিপক্ষে (২-০)।
বাংলাদেশ লিগে শুকতারার পয়েন্ট ১৭ ম্যাচে ১০। এখনো অবশ্য পয়েন্ট তালিকায় সবার নিচেই আছে দলটি। শুকতারার চেয়ে ৩ পয়েন্ট বেশি নিয়ে নিচের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে বিয়ানীবাজার।
দিনটি মনে রাখবেন রোকনুজ্জামান কাঞ্চনও। এই স্ট্রাইকারের দেওয়া একমাত্র গোলে ফেনীতে সকার ক্লাবকে হারিয়ে লিগে পঞ্চম জয় পেয়েছে মুক্তিযোদ্ধা (১-০)। তিন বড় দল আবাহনী-মোহামেডান-শেখ রাসেলের কাছে টানা তিন ম্যাচ হারের পর এই জয় অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ে অনেকটা এগিয়ে রাখল মুক্তিযোদ্ধাকে।
১৭ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা এখন ১৩ দলের লিগে দশম স্থানে। সমান ম্যাচে ২১ পয়েন্ট ফেনী সকারের। তারা আছে চতুর্থ স্থানে।
চট্টগ্রামে ব্রাদার্স কাল এগিয়ে গিয়েও জিততে পারেনি চট্টগ্রাম মোহামেডানের বিপক্ষে। এনক বেনিটল ব্রাদার্সকে এগিয়ে নেওয়ার পর লামিনির গোলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হলো ১-১। ১৮ ম্যাচে ব্রাদার্সের পয়েন্ট ১৮। এক পয়েন্ট বেশি নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ষষ্ঠ স্থানে চট্টগ্রাম মোহামেডান। ১৮ ম্যাচে ফরাশগঞ্জের পয়েন্ট ১৭। শিরোপা লড়াই নয়, বাংলাদেশ লিগে অবনমন এড়ানোর লড়াইটাই এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয়!a

হারতে হারতে ড্র একাডেমির

তিনটি ফলাফলই সম্ভব, এমন এক দিনে সব উত্তেজনার সমাপ্তি হলো সকালেই। দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে বল মাঠে গড়াতেই বেজে যায় আড়াইটা। ড্রটাই তখন ছিল একমাত্র সম্ভাব্য ফল, হয়েছেও তাই। কিন্তু এর আগে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমির কাছে প্রায় হারতে বসেছিল জিপি-বিসিবি একাডেমি। আগের দিন ৩ উইকেটে ১৪৫ রান করা জিপি-বিসিবি কাল ব্যাটিং করতে পেরেছে মাত্র ৩৮ ওভার, এতেই আর ১০৫ রান তুলতে আরও ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। ৪৫ রানে পড়েছে শেষ ৬ উইকেট। দিনের খেলা শেষ হওয়ার দুই বল আগে আউট হয়ে যান নবম ব্যাটসম্যান সাকলাইন সজীব, শেষ দুটি বল টিকে যান এগারোয় নামা ইমন আহমেদ। ৭৪ রান করেছেন শুভাগত হোম, মাহমুদুল হাসান ৫৫।

স্টোকের জালে চেলসির সাত গোল

পরশু টটেনহামকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ২৪ ঘণ্টার জন্য চেলসিকে টপকে তালিকার শীর্ষে উঠে যাওয়ার পর কোচ অ্যালেক্স ফার্গুসন বলেছিলেন, চেলসি থাকবে চাপের মুখে, ‘মনে হচ্ছে, চেলসি চাপটা টের পাচ্ছে। আমাদের কাজ আমরা করেছি। এখন দেখি চেলসি কী করে।’
ফার্গুসনের চাপ-তত্ত্ব কাল উড়িয়ে দিল চেলসি। উড়িয়ে দিল স্টোক সিটিকেও, ৭-০ গোলে! সলোমন কালু করেছেন হ্যাটট্রিক। জোড়া গোল ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের। বাকি দুই গোল স্টারিজ আর মালুদার। বড় জয় পেয়েছে দুঃসময়ের আবর্তে ঘুরপার খেতে থাকা লিভারপুলও। বার্নলিকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে তারা। স্টিভেন জেরার্ড করেছেন জোড়া গোল। রদ্রিগেজ আর বাবেল করেছেন বাকি দুটি গোল। অবশ্য প্রথম গোলের দেখা পেতে লিভারপুলকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ম্যাচের ৫১ মিনিট পর্যন্ত।
এই জয়ের পরও লিভারপুল সাত নম্বরে। চেলসি আবারও উঠে গেল শীর্ষে। ৩৬ ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট ৮০। ১ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে ম্যানইউ। তিনে থাকা আর্সেনালের পয়েন্ট ৭২। ৩৫ ম্যাচ খেলে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে টটেনহাম চারে।
পরশু ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচ ছিল আরেকটি। আর্সেনাল আর ম্যানচেস্টার সিটির সেই ম্যাচটি হয়েছে গোলশূন্য ড্র। এ ম্যাচের পর টটেনহামের সঙ্গে ব্যবধানটা ১ পয়েন্টের হলেও ছয় নম্বরে অবস্থান সিটির। ওদিকে অ্যাস্টন ভিলা কাল বার্মিংহাম সিটিকে ১-০ গোলে হারিয়ে উঠে এসেছে পাঁচে। শিরোপার লড়াইটা এখন যেমন শুধু চেলসি-ম্যানইউর, চার নম্বরে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে শামিল টটেনহাম, ভিলা আর সিটি।
সিরি ‘আ’তে চার নম্বরের লড়াইটা অত জমজমাট নয়। তবে শিরোপা লড়াইটা জমজমাট। পেছন থেকে উঠে এসে আটালান্টাকে ৩-১ গোলে হারিয়েই নিজেদের শিরোপা জয়ের কক্ষপথে রেখেছে হোসে মরিনহোর ইন্টার মিলান। ৩৫ ম্যাচে ৭৩ পয়েন্ট তাদের। এক ম্যাচ কম খেলে ৭১ পয়েন্ট এএস রোমার। তবে পালের্মোর কাছে ১-৩ গোলে হেরে গেছে এসি মিলান।

নিজেকে বদলাবেন না ক্লার্ক

ব্যক্তিগত দুঃসময় কাটিয়ে আবার টেস্ট-ওয়ানডেতে দারুণ রান ব্যাটে। রিকি পন্টিংয়ের উত্তরসূরি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্বও পেয়ে গেছেন। এই প্রথম বড় কোনো টুর্নামেন্টে মাইকেল ক্লার্কের হাতে দলের দায়িত্ব। ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তাঁর অধিনায়কত্বের একটা পরীক্ষাই কিন্তু নেবে।
মাঠে তাঁর চলন-বলন অত আক্রমণাত্মক নয়। টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হিসেবে ক্লার্ককে হয়তো মানাচ্ছে না। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে একটি নগ্ন ছবিকে কেন্দ্র করে মডেল বান্ধবী লারা বিঙ্গলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেখিয়েছেন ক্রিকেট তাঁর জীবনে কতটা জায়গাজুড়ে আছে। দেখিয়েছেন ক্রিকেট ক্যারিয়ারের জন্য মানসিকভাবে তিনি আক্রমণাত্মক।
কালে কালে আরেকজন রিকি পন্টিং হয়ে উঠতে পারবেন কি না, সেটা সময় বলে দেবে। এখন মানসিকতার দিক থেকে অন্তত পন্টিংয়ের পথেই আছেন। যতই টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক হোন না কেন, নিজেকে ‘ধুম-ধাড়াক্কা’ ব্যাটসম্যানে পরিণত করার কোনো ইচ্ছেই নেই ক্লার্কেরও।
ক্লার্কের টেস্ট গড় ৫০-এর ওপরে, ওয়ানডে গড় ৪২.৩১। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে ১০৮.৮৩ স্ট্রাইক রেটে গড় মাত্র ২৪.৬৪, সর্বোচ্চ রান ৬৭! এর চেয়ে বেশি হবেই বা কী করে! টি-টোয়েন্টিতেও যে সেই প্রথাগত, কেতাবি ব্যাটসম্যান হয়ে থাকেন ক্লার্ক।
বিশ্বকাপ-যাত্রার আগে বললেন, এই ‘কেতাবি ঢং’ বদলানোর বিন্দুমাত্র ইচ্ছে তাঁর নেই, ‘আমি মাঠে গিয়ে প্রথম বল থেকেই ধুমধাম পিটিয়ে বল মাঠের বাইরে পাঠাতে পারব না। আমি জানি, এতে আমার ভালো করার সম্ভাবনা কম। কিন্তু আমার কাছে নিজের মতো শট খেলা, শক্তি, গতি, রানিং বিটুইন দ্য উইকেট, ফিল্ডিং সামর্থ্য কাজে লাগানোটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
কিন্তু দলনেতা হয়ে ক্লার্ক যদি ধুম-ধাড়াক্কা খেলতে না পারেন, তাহলে অস্ট্রেলিয়া অধরা ট্রফিটি জিতবে কী করে? ‘মাঠে নেমেই বল পিটিয়ে মাঠের বাইরে পাঠানোর মতো লোক আমাদের দলে আছে। ও রকম অনেক খেলোয়াড় আছে। আমার মনে হয় না যে আমাকেই ওটা করতে হবে’—দলের ওপর ভালোই বিশ্বাস আছে ২৯ বছর বয়সী নেতার।
তাঁর এই দলের অনেকেই আইপিএল খেলে খেলে এখন টি-টোয়েন্টিতে বেশ অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। এঁদের ওপর ভরসা করেই অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি খরাটা কাটাতে চান ক্লার্ক, ‘আইপিএলে যারা খেলেছে ওদের সঙ্গে অনেক আলাপ-আলোচনা করছি। ওদের কাছ থেকে বেশ উপদেশও পাচ্ছি। আমাদের এখন একটা টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ দল আছে। যদিও এ খেলাটায় নিশ্চয়তা বলে কিছু নেই, তার পরও আমাদের এখন যে দল তাতে টেস্ট-ওয়ানডের মতো টি-টোয়েন্টিতেও সফল না হওয়ার কোনো কারণ আমি দেখি না।’
কারণ তো কেউই দেখে না। কিন্তু সাফল্যটাই যে আসছে না, মিস্টার ক্লার্ক!

প্রথম বিভাগ বাস্কেটবল

প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রথম বিভাগ বাস্কেটবলে কাল মোহাম্মদপুর বাস্কেটবল ৫১-৪৮ পয়েন্টে রেইথস ক্লাবকে, ধূমকেতু ক্লাব ৮৮-৭৮ পয়েন্টে হরনেটসকে, দ্য গ্রেগস ৬৮-২৪ পয়েন্টে ক্যান্টোনিয়ানস ক্লাবকে হারিয়েছে।

জাতীয় মহিলা দাবা

আরলিন ডেভেলপার জাতীয় মহিলা দাবার দ্বিতীয় দিনেও জয় পেয়েছেন শামীমা আক্তার (লিজা)। কাল দ্বিতীয় রাউন্ডে তিনি হারিয়েছেন জাকিয়া সুলতানাকে। ২ পয়েন্ট নিয়ে লিজার সঙ্গে শীর্ষে নাজরানা খান (ইভা) ও শারমিন সুলতানা (শিরিন)। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে অনুষ্ঠানরত টুর্নামেন্টে কাল শামীমা জাকিয়া সুলতানাকে, নাজরানা দিলারা জাহানকে হারিয়েছেন। প্রথম রাউন্ডে হারের পর কাল প্রতিভা তালুকদারের সঙ্গে ড্র করেছেন আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদ। তবে জয় পেয়েছেন শারমিন, জাহানারা হক ও মাহমুদা হক।

টেনিস দলের ইরান-যাত্রা

ডেভিস কাপের এশিয়া-ওশেনিয়া অঞ্চলের গ্রুপ ৩-এর প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আজ ইরান যাচ্ছে বাংলাদেশ টেনিস দল। স্বাগতিক ইরানসহ বাংলাদেশ, কুয়েত, লেবানন, ওমান, সৌদি আরব, সিরিয়া ও ভিয়েতনাম অংশ নেবে টুর্নামেন্টে। ১ মে শেষ হবে টুর্নামেন্ট। দল: অমল রায়, শিবু লাল, আলমগীর ও রঞ্জন রাম।

আসছে শক্তিশালী উইন্ডিজ ‘এ’

বাংলাদেশ সফরের জন্য শক্তিশালী ‘এ’ দল পাঠাচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অধিনায়ক ট্রাভিস ডাওলিনসহ ১৪ সদস্যের দলের ৮ জনেরই আছে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। এঁদের মধ্যে ডেভন স্মিথ খেলেছেন ৩১ টেস্ট, ১২টি ব্রেন্ডন ন্যাশ। বাংলাদেশ সফরে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ ও বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় সিরিজ খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’। এর পর দুটি চার দিনের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে। ত্রিপক্ষীয় সিরিজ শুরু ৫ মে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘এ’: ট্রাভিস ডাওলিন (অধিনায়ক), ব্রেন্ডন ন্যাশ, আড্রিয়ান বারাথ, ড্যারেন ব্রাভো, লায়নেল বেকার, ডেভন স্মিথ, অডিয়ান ব্রাউন, কার্ক এডওয়ার্ডস, ইমরান খান, জাস্টিন গুইলেন, নেলন পাসকাল, শেন শিলিংফোর্ড, গ্যাভিন টং, চাডউইক ওয়ালটন।

কমনওয়েলথ গেমসে মাত্র দুজন বক্সার

গত দক্ষিণ এশীয় (এসএ) গেমসে বক্সিংয়ে ছয়জন অংশ নিয়ে পদক জিতেছিলেন পাঁচজন। বক্সিংয়ের এমন সাফল্যের পরও কমনওয়েলথ গেমসে শুধু সোনাজয়ী দুই বক্সার আবদুর রহিম ও জুয়েল আহমেদকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। বক্সিং ছাড়াও আগামী অক্টোবরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে অ্যাথলেটিকস, শ্যুটিং, আর্চারি, সাঁতার ও ভারোত্তোলন।
এমন একটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে মাত্র দুজন বক্সারকে পাঠানোর সিদ্ধান্তে হতাশ সোনাজয়ী জুয়েল আহমেদ, ‘আমরা তো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ তেমন পাই না। এসব গেমসে অংশ নিলে নিজেদের অভিজ্ঞতা বাড়ে। তাই এখানে আরও কয়েকজন খেলোয়াড় পাঠালেই ভালো হতো।’ বক্সিং ফেডারেশনের নতুন সভাপতি মাহবুব আহমেদ বিওএর এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অজ্ঞতা প্রকাশ করলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। মাত্রই দায়িত্ব নিয়েছি, তাই এখনই কিছু বলতে পারছি না।’
কমনওয়েলথ গেমসের জন্য অনুশীলন অবশ্য শুরু করেনি বিওএ। তবে ২ মে থেকে নিজেদের উদ্যোগেই প্রস্তুতি শুরু করবে শ্যুটিং ফেডারেশন। গেমসের জন্য বিওএতে ১১ জন শ্যুটারের নামও পাঠিয়েছে তারা। সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসও খেলোয়াড় তালিকা পাঠিয়েছে। আগামী মাস থেকেই অনুশীলন শুরু হবে বলে আশাবাদী বিওএর ট্রেনিং ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান (মানু), ‘মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই আশা করি ক্যাম্প শুরু করতে পারব। এ জন্য খসড়া একটা বাজেট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস পেলেই এটি শুরু হবে।’

আইপিএলে চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই

ক্রিকেট-দেবতা দু হাত ভরে দিয়েছে তাঁকে। রেকর্ডের পাতায় পাতায় ছড়ানো তাঁর নাম। কিন্তু ‘অধিনায়ক’ শচীন টেন্ডুলকারের শুধুই আক্ষেপ। সাফল্য কখনোই ধরা দেয়নি। টানা ১৯টি টেস্ট আর আটটি ওয়ানডেতে মাত্র একটি করে জয়—নতমস্তকে প্রস্থান ঘটেছিল ভারত অধিনায়ক টেন্ডুলকারের।
টেন্ডুলকার যেন এবার আইপিএলে আক্ষেপটা ঘুচিয়ে দেওয়ার ব্রতই নিয়েছিলেন। কিন্তু কাল ফাইনালে গিয়ে আর পারল না মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে হারল ২২ রানে।
টস জিতে ব্যাট করতে নামা চেন্নাই ৫ উইকেটে তুলেছিল ফাইনালের রেকর্ড সর্বোচ্চ ১৬৮ রান। ৩৫ বলে ৫৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন সুরেশ রায়না। জবাবে মেডেন ওভার দিয়ে শুরু করা মুম্বাই এক রান তুলতেই হারায় প্রথম উইকেট। আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত টেন্ডুলকার (৪৮) চেষ্টা করে গেছেন। কিন্তু এক সময় মুম্বাইয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৪ বলে ৭০। বলিঞ্জারের করা ১৮তম ওভারে ২২ রান তুলে ম্যাচটা ঘুরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন পোলার্ড। শেষ পর্যন্ত পারেননি। ৯ উইকেটে ১৪৬ রানেই আটকে যায় মুম্বাই।
কাল ম্যাচের শুরুটা হয়েছে লোলিত মোদির মুদ্রা নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে। আজ তাঁর ভবিষ্যৎও নির্ধারিত হবে এমনই আরেকটি ‘টস’-এ। সকালে মুম্বাইয়ে বৈঠকে বসছে আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের। আগের অবস্থান থেকে সরে এসে মোদি জানালেন, ‘আমি সভায় যোগ দিচ্ছি। শুধু তাই নয়, আইপিএলের চেয়ারম্যান আর কমিশনার হিসেবে পদাধিকারবলে বৈঠকের সভাপতিও হব আমি।’

শতাধিক সন্ত্রাসীকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে ইরান

ইরান সরকার শতাধিক সন্ত্রাসীকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। সুন্নি বিদ্রোহী নেতা আবদুল মালেক রিগিকে গ্রেপ্তারের দুই মাসের মাথায় শিয়া নিয়ন্ত্রিত ইরান সরকার এ পদক্ষেপ নিল। দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতকাল শনিবার এ কথা জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।
পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন ইরানের সিসতান-বেলুচিস্তান প্রদেশের গভর্নর আলী মোহাম্মদ আজাদ জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে জঙ্গি সংগঠন জুনদুল্লাহর প্রধান আবদুল মালেক রিগিকে গ্রেপ্তারের পর ইরান সরকার ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। পাশাপাশি সেখানকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেগবান করেছে ।
আলী মোহাম্মদ আজাদ জানান, সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জুনদুল্লাহ গোষ্ঠীর ৩৬ জন জঙ্গি এ পর্যন্ত সাধারণ ক্ষমার আবেদন জানিয়েছে। এদের মধ্যে ১১০ জনের সাধারণ ক্ষমা মঞ্জুরের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করেছে সরকার। ক্ষমাপ্রাপ্তরা সবাই অস্ত্র সমর্পণ করেছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইরান সরকারের ধারণা, জুনদুল্লাহ গোষ্ঠীর সঙ্গে আল-কায়েদার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এ গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে ইরানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করেছে।
সুন্নি মুসলমানদের সমন্বয়ে গঠিত জুনদুল্লাহ গোষ্ঠী মনে করছে, ইরান সরকার সংখ্যালঘু সুন্নিদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করছে। গত কয়েক বছরে ওই প্রদেশে যেসব রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে, সেগুলো এই বৈষম্যের ফসল।
তবে এই ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে কোনো রকম বৈষম্যের পশ্চিমা বিশ্বের অভিযোগ ইরান বরাবরই অস্বীকার করেছে।

পাকিস্তান-ভারত সংলাপের আভাস নয়াদিল্লির

আগামী সপ্তাহে ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে সার্ক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তানের নেতারা সেখানে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করতে পারেন বলে আভাস দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও বলেছেন, প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে সংলাপই একমাত্র পন্থা এবং এ বিষয়ে তাঁরা আন্তরিক। অবশ্য নয়াদিল্লি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের বিষয়ে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে তারা এখনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পায়নি এবং থিম্পুতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের বৈঠকের বিষয়টিও চূড়ান্ত হয়নি।
মুম্বাই হামলার জের ধরে দুই দেশের মধ্যে চাপা উত্তেজনা থাকলেও গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে পরমাণু সম্মেলনে যোগ দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি পরস্পর করমর্দন করায় ক্ষীণ হলেও দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার সম্ভাবনা দেখা দেয়।
কয়েক দিন আগে পাকিস্তানের জনকল্যাণমন্ত্রী আশিক আওয়ান নয়াদিল্লি সফর করে কংগ্রেসনেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে ইসলামাবাদ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে এসেছেন। তবে পাকিস্তানের এই ইতিবাচক মনোভাব সত্ত্বেও ভারত ততটা উজ্জীবিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকেরা।
সার্ক সম্মেলন ইস্যুতে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সময় গতকাল শনিবার নয়াদিল্লিতে নিরুপমা রাও বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
নিরুপমা আরও বলেন, তিনি বৈঠকের বিষয়ে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারেন না। শুধু এটুকু বলতে পারেন, আলোচনা চিরকালই ফলপ্রসূ হয়। সংলাপ পরিবেশ ও প্রতিবেশকে সহজ করে; বিশেষ করে, ভারত ও পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্কের অগ্রগতি অর্জনে সংলাপই একমাত্র পন্থা।
নিরুপমা বলেন, তাঁরা সংলাপের ব্যাপারে আন্তরিক ছিলেন বলেই গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। তাঁরা সে অবস্থান থেকে সরে আসেননি।

নেপালে লোকতন্ত্র দিবস উদ্যাপন



নেপালে শান্তি-প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেও নানা আয়োজনে গতকাল শনিবার দেশটিতে গণতন্ত্র পুনঃ প্রতিষ্ঠার চতুর্থ বার্ষিকী উদ্যাপিত হয়েছে। দিনটি নেপালের লোকতন্ত্র দিবস হিসেবে পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে এক ভাষণে নেপালের প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংবিধান চূড়ান্ত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
২০০৬ সালের এই দিনে রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহর সরাসরি শাসনের অবসান হয়। সাতদলীয় জোট ও কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (সিপিএন-মাওবাদী) আন্দোলনের ফলে দেশটিতে গণতন্ত্র পুনঃ প্রতিষ্ঠায় বাধ্য হন রাজা জ্ঞানেন্দ্র। ১৯ দিনব্যাপী ওই আন্দোলনে কমপক্ষে ২৪ জন নিহত ও শত শত মানুষ আহত হয়।
লোকতন্ত্র দিবস উপলক্ষে রাজধানী কাঠমান্ডুর তুনদিখেলে দেশটির সামরিক বাহিনীর মঞ্চে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রেসিডেন্ট রাম বরণ যাদব, ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রমানন্দ ঝা, প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার, গণপরিষদের (সিএ) চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্র নেমং, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিকেরা এতে যোগ দেন। হেলিকপ্টারে করে লোকতন্ত্র দিবসের পতাকা নামিয়ে ও পুষ্পবৃষ্টির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। দিবসটি স্মরণীয় করে রাখতে নেপালের সামরিক বাহিনী, পুলিশ, স্কাউট ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করে। বিভিন্ন টেলিভিশনে এ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে টেলিভিশন ও বেতার বিশেষ অনুষ্ঠানামালা প্রচার করে।
প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার এক ভাষণে বলেন, ‘এই দিনে আমরা ঐতিহাসিক পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু নতুন সংবিধান ও শান্তি-প্রক্রিয়ার বিষয়ে যুক্তিযুক্ত কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারিনি।’ তিনি সব রাজনৈতিক দলকে মতবিরোধ ভুলে নির্ধারিত সময়সীমা ২৮ মের মধ্যে সংবিধান প্রণয়ন করে হাজার হাজার মাওবাদী বিদ্রোহীকে মূলধারায় আনার বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
মাধব কুমার বলেন, ‘এখন পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সময় নয়, এখন পরামর্শ ও মতৈক্য প্রতিষ্ঠার সময়। যত দ্রুত সম্ভব আমাদের আসল কাজ শেষ করা উচিত।’
এদিকে ঐক্যবদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউসিপিএন-মাওবাদী) নতুন করে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত বছর দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধানকে বরখাস্ত করাকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার থেকে তারা সরে আসে। হিন্দুস্তান টাইমস, নেপালনিউজ ডট কম।

গ্রিন কার্ডদেখাতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার by ইব্রাহীম চৌধুরী

অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে কঠিন আইন প্রণয়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের কর্তৃপক্ষ। অ্যারিজোনার আইনসভা ইতিপূর্বে অভিবাসনবিরোধী আইন প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল। শুক্রবার রাজ্যের গভর্নর রিপাবলিকান জেন ব্রিউয়ার আইন প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছেন। আসছে আগস্ট মাস থেকে নতুন এ আইনটি কার্যকর হবে।
নতুন এ আইনে রাজ্য পুলিশকে অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে চরম ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ যেকোনো মুহূর্তে সন্দেহবশত যেকারও অভিবাসন বৈধতা যাচাই করতে পারবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভিবাসীদের সার্বক্ষণিক গ্রিনকার্ড সঙ্গে রাখতে হবে। অভিবাসনের বৈধতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ যেকোনো ব্যক্তিকে আটক রাখতে পারবে। গ্রিনকার্ড প্রদর্শনে ব্যর্থ বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনবিরোধী এমন আইন প্রণীত হয়নি। কোনো মারাত্মক অপরাধ ছাড়া রাজ্যের পুলিশ অভিবাসীদের বৈধতা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে না। অভিবাসন বিভাগই পৃথকভাবে অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়ন বা তল্লাশি করে। অভিবাসন আইন প্রণয়নের পর অ্যারিজোনায় তাত্ক্ষণিকভাবে কয়েক হাজার অভিবাসী বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
অভিবাসন নিয়ে অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্য সরকারের এমন আচমকা কড়াকড়ির তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেছেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণ না করার ফলেই অন্যদের দায়িত্বহীন আচরণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ আইন প্রণয়নের ফলে পুলিশ ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হবে, যা নিরাপত্তার জন্য সংকট সৃষ্টি করবে।
অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনবিরোধী এ আইন প্রণয়নের ফলে দ্রুত ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মেক্সিকো সীমান্তের এ অঙ্গরাজ্যে অভিবাসীদের অধিকাংশই হিসপানিক। মেক্সিকো সরকার তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ আইন প্রণয়নকে অমানবিক বলে অভিহিত করেছে।
মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এ আইনের কারণে অ্যারিজোনার সঙ্গে মেক্সিকোর সম্পর্কের অবনতি ঘটবে। লস অ্যাঞ্জেলেসের মানবাধিকার কর্মী রজার এম ম্যাহনি নতুন অভিবাসন আইনকে নািসবাদী বলে উল্লেখ করেছেন।
অ্যারিজোনার পার্শ্ববর্তী অঙ্গরাজ্য নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট-দলীয় গভর্নর বিল রিচার্ডসন তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, আইনটি ভয়ঙ্কর। এটি যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভাবধারার পরিপন্থী।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো দ্রুত অভিবাসন আইন সংস্কারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে একটি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ভেঙে পড়া অভিবাসন ব্যবস্থা সংস্কার করা। ইতিমধ্যে অভিবাসী গোষ্ঠীগুলোর কাছে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এ বছরের মধ্যেই অভিবাসন সংস্কার আইন প্রণয়ন করা হবে। স্বাস্থ্যবীমা আইনসহ অভ্যন্তরীণ অন্যান্য সংস্কার পদক্ষেপ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা ইতিমধ্যে তীব্র বিরোধিতায় পড়েছেন।
অভিবাসনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে নিজ দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আইন প্রণেতারাও ঐকমত্যে পৌঁছতে ব্যর্থ হচ্ছেন। পাশাপাশি রিপাবলিকান দলের উল্লেখযোগ্য সমর্থন ছাড়া অভিবাসন সংস্কার আইন প্রণয়ন এখন অসম্ভব।
কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট দলের আইন প্রণেতারাও মধ্যবর্তী নির্বাচনের চাপে অভিবাসন আইনের সংস্কারটি অনেকটাই চেপে যাচ্ছেন। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেছেন, উচ্চকক্ষ সিনেটে প্রথম দফা অভিবাসন সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করলেই বিষয়টি নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

‘বুড়ো’দের সেঞ্চুরি

৩৬ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে ১টিই সেঞ্চুরি করেছেন জিওফ্রে বয়কট, সেটিই ঢুকে গেছে রেকর্ড বইয়ে। ১৯৭৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিডনিতে ১০৫ রান করার দিনে তাঁর বয়স ছিল ৩৯ বছর ৫১ দিন। তাঁর চেয়ে বেশি বয়সে প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির মুখ দেখতে হয়নি আর কাউকে। বয়কটের ঘরানার ব্যাটসম্যান সুনীল গাভাস্কারও ওয়ানডেতে একটিই সেঞ্চুরি করেছেন। ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডেতে করা সেই সেঞ্চুরির দিনে গাভাস্কারের বয়স ছিল ৩৮ বছর ১১৩ দিন। এই দুজনের মাঝখানে আছেন বারমুডার ডেভিড হেম্প, প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করার দিনে তাঁর বয়স ছিল গাভাস্কারের চেয়ে ৩৬ দিন বেশি। সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে সেঞ্চুরির রেকর্ডটি সনাত্ জয়াসুরিয়ার। গত বছর জানুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে ৩৯ বছর ২১২ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করেছেন ‘মাতারা হারিকেন’।

রিবেরির পাশে গল

দুঃসময়ে ক্লাব কোচ লুই ফন গলকে পাশে পাচ্ছেন ফ্রাঙ্ক রিবেরি। পতিতা-কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে লাল কার্ড দেখেছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই উইঙ্গার। সময়টা যখন ফরাসি প্লেমেকারের জন্য একদম ভালো যাচ্ছে না, বায়ার্ন কোচ জানিয়ে দিলেন, দলের মূল খেলোয়াড়টির পাশেই আছেন তিনি।

হেরে গেলেন সোঙ্গা

বার্সেলোনা ওপেন টেনিসের শেষ চারে উঠতে ব্যর্থ তৃতীয় বাছাই জো-উইলফ্রায়েড সোঙ্গা। গত পরশু কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডের অখ্যাত থিয়েমো ডি বাকেরের কাছে ৬-৪, ৩-৬, ৬-৩ গেমে হেরে গেছেন ফরাসি টেনিস তারকা।

জয়ও দেখছে একাডেমি

জয়ের জন্য প্রয়োজন ৩৯৫, তৃতীয় দিন শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে জিপি-বিসিবি একাডেমি তুলেছে ১৪৫। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শেষ দিনে আজ তিনটি ফলাফলই সম্ভব। জয়ের জন্য জিপি-বিসিবির প্রয়োজন ২৬০ রান, দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমির ৭ উইকেট। শুভাগত হোম উইকেটে আছেন ২৪ রান নিয়ে, ৩১ রান নিয়ে মাহমুদুল হাসান। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান রনি তালুকদার আউট হয়েছেন ৭ চার ও ২ ছয়ে ৫৮ রান করে। এর আগে ২ উইকেটে ৭৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকা একাডেমি অলআউট হয় ২৭৪ রানে। প্রথম ইনিংসে তারা এগিয়ে ছিল ১২০ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসের একমাত্র ফিফটি ভ্যালির (৮২)। সাকলাইন সজীব নিয়েছেন ৪ উইকেট, ৩টি তানভীর হায়দার।