Thursday, July 17, 2025
জুলাই অভ্যুত্থানের ঐক্য বিনষ্ট হলে কার লাভ by সাইমুম পারভেজ
এ আন্দোলনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সর্বজনীনতা। যেখানে ভেদাভেদ ভুলে মানুষ একত্র হয়েছিল ও প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিল। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজের তরুণ-তরুণী, ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া থেকে শুরু করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিলেন এই অভ্যুত্থানে।
বোরকা আবৃতের পাশে জিনস-টি-শার্ট পরা তরুণী একসঙ্গে মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন, রাজপথের কিশোর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বনানী-গুলশানের তরুণের সঙ্গে, একযোগে। বিশেষ করে বিভিন্ন বয়সের নারীদের উপস্থিতি এই আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল।
বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির কারণেই কর্তৃত্ববাদী হাসিনা সরকারের বহুল ব্যবহৃত ‘সন্ত্রাসবাদী’ বয়ান কাজে আসেনি। মানুষ ‘সন্ত্রাসবাদ জুজুর ভয়ে’ বিশ্বাস করেনি। কারণ, জনমানুষ নিজেই ছিল এই অভ্যুত্থানের অংশীদার।
জুলাইয়ের শক্তি এর সর্বজনীন ঐক্যে। গণতন্ত্রের পক্ষে, নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে, লুটপাটের বিপরীতে নিজেদের কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নিজেদের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের মানুষ ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী জুলাইয়ে রাজপথে নেমেছিল। যেকোনো আইডেনটিটি বা পরিচয় তৈরির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে ‘কমন এনিমি’ সর্বজনীন শত্রু।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় ‘কমন এনিমি’ কলোনিয়াল শাসকদের সামনে রেখেই জাতীয়তাবাদ তৈরি হয়েছিল এই ভূখণ্ডে। তার আগে বড় ধরনের জাতিগত পরিচয়ের অনুপস্থিতি ছিল। তেমনি কমন এনিমি শেখ হাসিনাকে সামনে রেখে জুলাইয়ের পরিচয় তৈরি হয়। হাসিনা সরকারের পতনের পর এই পরিচয় টিকিয়ে রাখতে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার দরকার ছিল। কিন্তু সেই বোঝাপড়া তো হয়ইনি, বরং ক্ষমতার ভাগ নিয়ে দৃষ্টিকটু কাড়াকাড়ি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে তা হাসিনাবিরোধী সর্বজনীন ঐক্যকেও বাধাগ্রস্ত করে তুলতে পারে।
হাসিনা সরকারের পতনের এক বছরের মাথায় কীভাবে আমরা এ ধরনের আশঙ্কার মুখোমুখি দাঁড়ালাম, তা বিশ্লেষণ করা জরুরি। এই সর্বজনীন ঐক্য বিনষ্ট হলে কার লাভ ও কার ক্ষতি, তার হিসাব-নিকাশও দরকার। গত ৫ আগস্টের পর নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশের অনুপস্থিতির পরও সাধারণ জনগণের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত ঐক্যের কারণে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেনি। কিন্তু সরকার গঠনের কয়েক মাস পরেও আমরা দেখি, অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণে গাফিলতি অথবা অনিচ্ছা।
সরকারের নাকের ডগায় মাজারে হামলা হয়, নারীদের ফুটবল টুর্নামেন্টে হামলা হয় বা বন্ধ করে দেওয়া হয়, ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। অভ্যুত্থানের মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে জনগণ নিজের হাতে ক্ষমতা তুলে নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হয়েছে, সেই সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও যদি ‘মব ভায়োলেন্সের’ ঘটনা ঘটে এবং সরকার সেটা দমন করতে অনিচ্ছুক হয়, তবে তা একটি বড় ধরনের ব্যর্থতা ও অপরাধও বটে। সরকারের এই অনিচ্ছুক ও দুর্বল অবস্থানের সুযোগ নিয়ে কিছু ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। কারাগার থেকেও এই গোষ্ঠীগুলোর অনেকে মুক্তি পান।
যে গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষায় জুলাই অভ্যুত্থান গড়ে উঠেছিল, সন্ত্রাসবাদীরা সেই গণতন্ত্রকেই ‘অকার্যকর শাসনব্যবস্থা’ হিসেবে প্রচার করছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের দিয়ে র্যালি ও মিছিল বের করা হচ্ছে, যেখানে প্রকাশ্যেই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড দেখা যাচ্ছে। অতীত বাংলাদেশে কোনো শাসনেই এমন গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান দেখা যায়নি। যে অসীম সম্ভাবনা জুলাই অভ্যুত্থান বয়ে নিয়ে এসেছিল, তা সফল না হওয়ার পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বল ও অকার্যকর অবস্থানকে অনেকে দায়ী করতে পারেন।
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়কে দীর্ঘায়িত করা ও বিরাজনৈতিকীকরণকে নানাভাবে উৎসাহিত করাও জুলাই অভ্যুত্থানের ঐক্য বিনষ্ট করার পেছনে কাজ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সরকারকে পাঁচ বছর রাখা এবং প্রচলিত রাজনীতি ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে যে প্রচারণা, তা বিরাজনৈতিকীকরণের পক্ষে জনমত তৈরি করতে সহায়তা করে।
কিন্তু দিন শেষে একটি রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের। তাঁদের সমীকরণের বাইরে রেখে বিরাজনৈতিকীকরণের উদ্যোগ একদিকে যেমন রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা ডেকে আনে, তেমনি আরেক দিকে ক্ষোভ, অসন্তোষ ও ক্ষমতার দখল নিয়ে বিরোধকে ত্বরান্বিত করে।
লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে বৈঠক এই অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমিয়ে আনে। কিন্তু একটি গোষ্ঠী জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ভালো চোখে দেখেনি। তাই স্থিতিশীলতার বদলে জুলাইয়ের পক্ষ শক্তিগুলোর মধ্যে ফাটল ধরানো ও অনৈক্যের বীজ বপন করার চেষ্টা চলতে থাকে।
যখন নির্বাচনের সময় নিয়ে একটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে এবং ঐকমত্য কমিশন মাসখানেকের মধ্যেই একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থানে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে, তখনই আবার দেশব্যাপী অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা করা হচ্ছে। মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, খুলনায় যুবককে গুলি ও রগ কেটে হত্যা এবং একজন ইমামের ওপর হত্যাচেষ্টা করা হয় সম্প্রতি। বিএনপির পক্ষ থেকে সব শীর্ষ নেতাই এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচারও চান।
সাধারণত হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ক্ষমতাসীন সরকারকে দায়ী করেই আন্দোলন হয়ে থাকে। কিন্তু আমরা খেয়াল করি খুলনার হত্যাকাণ্ড ও ইমাম হত্যাচেষ্টাকে এড়িয়ে মিটফোর্ডের সামনের হত্যাকাণ্ডকে সামনে এনে সরকারকে দায়ী না করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দায়ী করে মিছিল করা হলো। এসব মিছিল থেকে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশ্রাব্য গালি দিয়ে স্লোগানও দেওয়া হয়।
একটি হত্যাকাণ্ডকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সামনে এনে বিচারের দাবিকে মুখ্য না করে বরং তারেক রহমানকে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের ঘটনায় খুনের সঙ্গে জড়িয়ে গালি দেওয়ার ফলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
অনেকেই মনে করেন, হত্যাকাণ্ডের ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে বড় ধরনের বিএনপিবিরোধী জনমত ও ব্যক্তিগতভাবে তারেক রহমানের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করার চেষ্টা থেকেই একটি পক্ষ থেকে এই কুৎসামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে। মনে রাখা দরকার, এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে যেমন রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক ব্যবস্থা ও সদিচ্ছা লাগবে, তেমনি সরকারেরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো সক্ষমতা এবং সাহস থাকতে হবে। রাজনৈতিক দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বা বিচারিক দায়িত্বে নেই, তাই রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে বেশি কিছু করার সামর্থ্যও নেই।
সম্প্রতি এনসিপি দেশের বিভিন্ন জায়গায় জনঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করেছে। জনগণের কাছে যাওয়া ও তাদের দাবি বোঝার চেষ্টা করার এই প্রচেষ্টাকে আমাদের স্বাগত জানানো উচিত।
তবে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী এনসিপির কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে, তাদের পপুলিস্ট বা জনতুষ্টিবাদী রাজনীতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই ধারার অংশ হিসেবেই ‘মব ভায়োলেন্স’, বিরাজনৈতিকীকরণ ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রতি তাদের ঝুঁকে পড়া খেয়াল করা যায়। মিটফোর্ডের হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরও এই পপুলিস্ট ধারা তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পথসভার বক্তৃতায় স্পষ্ট।
রাষ্ট্র গঠন নিয়ে এনসিপির যে সংস্কারের দাবিগুলো আছে, তা তাদের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লক্ষ্য হিসেবে নেওয়া উচিত। রাষ্ট্রকাঠামো হঠাৎ করে জাদুর কাঠি ছুঁইয়ে পাল্টিয়ে ফেলা যায় না; বরং অবিবেচনাপ্রসূত দ্রুত সংস্কার রাষ্ট্রকে আরও পিছিয়ে দিতে পারে। একটি মধ্যপন্থী দল হিসেবে গড়ে ওঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এনসিপির উচিত সঠিক মিত্র খুঁজে নেওয়া এবং জুলাই ঐক্যকে বিনষ্ট না হতে দেওয়া। এই ঐক্য বিনষ্ট হলে একদিকে পতিত স্বৈরাচারের আসার পথ সুগম হবে এবং অন্যদিকে উগ্র গোষ্ঠীগুলো তাদের অবস্থান শক্তিশালী করবে।
* ড. সাইমুম পারভেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক বিশেষ সহকারী
- মতামত লেখকের নিজস্ব
![]() |
| বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির কারণেই কর্তৃত্ববাদী হাসিনা সরকারের পতন হয়েছিল। রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন তুলে নেয়ার দাবি নাকচ আইসিসি'র
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিলের সিদ্ধান্তটি গত ৯ই জুলাইয়ের। যেটি বুধবার নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে আইসিসি। অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে আইসিসির তদন্তের আবেদন বাতিল করার অনুরোধও নাকচ করা হয়েছে। এ বছরের এপ্রিলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিলের আবেদন জানায় ইসরাইল। দেশটি বলেছে, ওই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নিতে হবে। তবে আইসিসি জানিয়েছে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে ইসরাইলি চ্যালেঞ্জ এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে। আদালত এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো রায় দেয়া পর্যন্ত ওই পরোয়ানাগুলো জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত বন্ধ করতে আইসিসির ওপর ক্রমশ চাপ বাড়ছে। এ মাসের শুরুতে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা নাটকীয়ভাবে আদালতকে হুমকি দিয়েছেন। সতর্ক করে বলেছেন, সকল বিষয় টেবিলে সমাধান হয়না। তিনি আরও বলেন, আইসিসিকে ঠেকাতে আমরা সকল ধরনের কূটনৈতিক, রাজনৈতিক এবং বৈধ উপায় ব্যাবহার করব। ফিলিস্তিনের জন্য জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সিসকা আলবানিজকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে নিষিদ্ধ করার আগে আইসিসির বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দেয়া হয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গোপালগঞ্জে নিহত ইমনের মা: ‘আমার সংসার বাঁচাবার মতো আর কেউ নাই’
নিহত ইমন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভেড়ার বাজার গ্রামের আজাদ তালুকদারের ছেলে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলে হারানোর শোকে বাক্রুদ্ধ মা। কেউ তাঁকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। কেউ সান্ত্বনা দিতে এসে নিজেই কাঁদছেন। তবুও ইমনের মা রোকসানার মুখে একটি শব্দও নেই।
নিহত ইমনের মামাতো ভাই রানা ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার ভাইডারে প্রাণে মাইরে ফ্যালতে হলো। ও তো প্রাণভিক্ষা চাইছেল। তার পরেও কেন মারতে হলো? কীভাবে মারল, আমরা তো ভিডিওতে দেখলাম। কীভাবে সহ্য করব? গুলি করে ফেলে পাড়ায় ধরে মাইরা ফেলল।’
প্রতিবেশী রাজু তালুকদার বলেন, ওরা দুই বোন ও তিন ভাই। বড় ভাই অসুস্থ। একটা বোনের বিয়ে হয়েছে। ছোট বোন আর ভাইটা পড়াশোনা করে, সেই খরচ ইমনই চালাত। ওর বাবা অসুস্থ। এ নিয়েই কখনো কখনো ভ্যান চালান। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাবা একদম পাগল হয়ে গেছেন। ছেলের জানাজায় পর্যন্ত থাকেননি। বাড়ি থেকে কোথায় যেন চলে গেছেন, কেউ জানে না।
একপর্যায়ে ইমনের মা রোকসানা বেগম বলে ওঠেন, ‘এখন আমার সংসার বাঁচাবার মতো আর কেউ নাই। ছাওয়াল মরসে শুইনা ওর বাপ পাগল হইয়া চইলা গেছে। আমার বাপে সংসারটা টানত। এখন আমার চারটে–পাঁচটা ছেলেমেয়ে নিয়ে থাকার কোনো পথ নাই, বাঁচার পথ নাই। আমার ছেলেরে যেমন পাড়ায় মারছে, গুলি করে মারছে, আমি এর বিচার চাই।’
পরিবারের সদস্যরা জানান, নিহত ইমন তালুকদার গোপালগঞ্জ শহরে মুন্সি ক্রোকারিজ দোকানের কর্মচারী ছিল। গতকাল সকালে সে অন্য দিনের মতো দোকানে যায়। দোকানের মালিক তাকে দেড় শ টাকা দিয়ে বেলা ১১টার দিকে বাড়ি চলে যেতে বলেন। ইমন বাড়ি না গিয়ে সংঘর্ষস্থলে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ সকাল সাড়ে সাতটায় গোপালগঞ্জ গেটপাড়ার পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
![]() |
| গোপালগঞ্জে গতকাল বুধবার এনসিপির সমাবেশ ঘিরে হামলা–সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ইমন তালুকদার। ছবি: পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধে চীন জিতে যাচ্ছে by জংইউয়ান জো লিউ
কিন্তু চীন বিষয়টিকে একেবারেই ভিন্নভাবে দেখছে। চীনের মতে, তারা এ বাণিজ্য সংঘাত আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এবং আরও আত্মনির্ভর হয়ে পার হয়ে এসেছে। চীন মনে করছে, তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ভালো ফল দিচ্ছে।
২০১৮ সালে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এ কঠিন বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়। এর পর থেকে চীন এমন একটি কৌশল গ্রহণ করেছে, যেখানে প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক—দুই ধরনের পদক্ষেপ একত্রে রয়েছে।
আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে চীন তাদের বাণিজ্যপ্রবাহের পথ ঘুরিয়ে দিয়েছে; ডলারের ওপর নির্ভরশীল বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থার বিকল্প খুঁজেছে এবং নিজেদের প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ অনেক গুণ বাড়িয়েছে।
চীন অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোগ বাড়াতে চেয়েছে। এটি তারা শুধু ভোক্তাপ্রবণতা বাড়ানোর জন্য করেনি, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা গ্রিন টেকের মতো কৌশলগত খাতে চাহিদা বাড়ানোর জন্যও করেছে।
আক্রমণাত্মক কৌশল হিসেবে চীন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কঠোর করেছে এবং প্রতিপক্ষের ওপর দ্রুত ও সুচিন্তিতভাবে জবাব দেওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার প্রশাসন যখন নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি দেয় বা তা কার্যকর করে, চীন তখন সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, কঠিন অবস্থান নিয়েছে এবং কখনোই ভয় পায়নি।
চীন শুধু প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না, বরং এই পুরো বাণিজ্য সংঘাতকে নিজেদের শর্তে পুনঃসংজ্ঞায়িত করছে।
একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগুলো আসলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজের শিল্প খাতের চীনের ওপর নির্ভরতাকে প্রকাশ করে দিয়েছে। বিশেষ করে বিরল খনিজ ও বিভিন্ন কাঁচামাল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে চীনের ওপর নির্ভরশীল, তা ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে।
ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকেরা বিপাকে পড়েছেন এবং অতিরিক্ত দামে তাঁরা এসব উপকরণ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এ বছরের এপ্রিলের শুরুতে চীন যখন বিরল খনিজের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ শুরু করল, তখন তারা সহজেই বুঝতে পারল, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি করার এক কার্যকর হাতিয়ার।
ট্রাম্পের এ অনিয়মিত ও নাটকীয় শুল্ক নীতি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির জন্য একধরনের প্রচারণামূলক জয় এনে দিয়েছে। যদিও চীনের জনগণের কাছে ট্রাম্পকে প্রতিহত করা ততটা জনপ্রিয় কিছু নয়, তবুও এ যুদ্ধ তাদের একটি কৌশলগত সুবিধা দিয়েছে।
বৈশ্বিক দক্ষিণের (গ্লোবাল সাউথ) যেসব দেশ পশ্চিমা উন্নয়ন মডেলের প্রতি সন্দেহপ্রবণ, তারা এ সংকটে চীনের স্থিতিশীল অবস্থান দেখে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ‘বিশ্ব এক শতকে একবার দেখা যাওয়া বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে’ কথাটির ওপর আস্থা খুঁজে পাচ্ছে।
চীন মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের চেষ্টার ফল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যে অর্থনৈতিক সংযোগ তৈরি হয়েছিল, তা ট্রাম্প প্রশাসন যেকোনো মূল্যে বিচ্ছিন্ন করতে চায় এবং এর মাধ্যমে ট্রাম্প চীনের উত্থান ঠেকিয়ে দিতে চান। চীন চায় না তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ হোক। চীন চায় না তাদের অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা হোক। কিন্তু চীন মনে করে, চীন যদি বিচ্ছিন্ন হতে বাধ্য হয়, তাহলে তারা সে বিচ্ছিন্নতাও মেনে নিতে পারবে; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সামনে মাথা নত করবে না। চীন মনে করে, ট্রাম্প যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছেন, সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র হেরে যাবে।
এ কারণেই চীনা নেতৃত্ব, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা আত্মনির্ভরতা তৈরির দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমানো।
যদিও মার্কিন বাজারের চাহিদা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সঙ্গে তুলনা চলে না, তবুও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ধরে নিচ্ছে, তারা আর যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিযোগিতা করতে পারবে না বা মার্কিন উচ্চ প্রযুক্তি পাবে না। সেটি মাথায় রেখেই তারা নিজেদের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। চীনের প্রযুক্তি কোম্পানি হুয়াওয়ের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর দুর্দান্তভাবে কোম্পানিটির ঘুরে দাঁড়ানো এর একটি বড় উদাহরণ। এখন টিকটকের মালিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সও একই ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। ট্রাম্প চান এটি মার্কিনদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হোক।
নিশ্চিতভাবেই ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে চীনের গায়েও আঘাত লেগেছে। বিশেষ করে কম দামের হালকা শিল্পপণ্য (যেমন পোশাক, জুতা) এসব খাতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে এতে কিছু ইতিবাচক দিকও তৈরি হতে পারে। যেমন ছোট ছোট অদক্ষ প্রতিষ্ঠান বাদ পড়ে গিয়ে শিল্পে একধরনের সংহতি ও দক্ষতা বাড়বে। এতে বেকারত্ব বাড়তে পারে। কিন্তু চীনে যেহেতু অনেক কারখানাই অটোমেশনের মাধ্যমে চলে, সেহেতু এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ততটা গুরুতর হবে না।
এর চেয়ে বড় কথা, চীন অতীতে এর চেয়ে বড় ধাক্কা সামলেছে। ১৯৯২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত বাজারভিত্তিক সংস্কারের কারণে ৭ কোটি ৬০ লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছিলেন। সেটিও তারা সামাল দিয়েছে। সুতরাং আজকের কিছু ছাঁটাই চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ক্ষমতা নড়বড়ে দেওয়ার মতো কিছু হবে না।
এদিকে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি যেসব দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে, সেগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন হুয়াওয়ে ও জেডটিইয়ের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা চীনের প্রযুক্তি খাতে অগ্রগতির ইচ্ছাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন নতুন করে ভূরাজনৈতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো চীনের শাসকদের জন্য জনগণকে ‘বিদেশিদের অপমান’-এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার সুযোগ করে দিচ্ছে। শুল্কে সাময়িক বিরতি চীনা রপ্তানিকারকদের পণ্য পাঠানোর একটু সুযোগ দিয়েছে, কিন্তু সেটি কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তি নয়।
এ শুল্ক ধাক্কা যখন এল, তখন চীন তাদের ১৪তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার শেষ বছরে ছিল। সে কারণে চীনা নীতিনির্ধারকেরা অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াতে এবং ছোট ব্যবসাগুলোকে বাঁচাতে সরকারি ব্যয় ও মুদ্রানীতির সাহায্য নিয়েছে। কিন্তু এগুলো চীনের অর্থনীতির গঠনগত সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারবে না। এ ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে আরও বহু বছর লাগবে।
এখন বাইরের দুনিয়া চীনের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এ সময়ে চীনের শীর্ষ নেতা ও বড় ব্যবসায়ীরা (যাঁদের অনেকেই প্রকৌশলে পড়েছেন) দেশের উন্নত প্রযুক্তি খাতে বেশি করে পয়সাকড়ি ঢালছেন। তাঁরা বিশেষভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নতুন ধরনের আধুনিক কারখানা গড়তে মনোযোগী হয়েছেন।
২০১৮ সালে ট্রাম্প যখন চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেন, তখন থেকেই চীন সিদ্ধান্ত নেয়, তারা নিজেদের প্রযুক্তি নিজে তৈরি করবে। এখনো সেই চেষ্টা পুরোপুরি সফল হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র যখন চীনকে চেপে ধরছে, তখন চীনের সামনে এ প্রযুক্তি উন্নয়নের চেষ্টা ছাড়া আর কোনো সহজ পথ খোলা নেই।
* জংইউয়ান জো লিউ, কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের চীনবিষয়ক গবেষক
- সত্ত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
![]() |
| সি চিন পিং এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রথম পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা কোথায় হয়েছিল, সেই বিজ্ঞানীদের প্রতিক্রিয়াই–বা কেমন ছিল by মো. মিন্টু হোসেন
যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী ও সামরিক কর্মকর্তাদের চোখে এ বিস্ফোরণ অবিশ্বাস আর বিস্ময়ের অনুভূতি তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গোপন গবেষণাগারে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে যে কাজ করছিলেন, এ বিস্ফোরণের পরীক্ষার মাধ্যমে তা স্বার্থক হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পারমাণবিক এ বোমা তৈরি করেছিলেন তাঁরা।
১৯৪৫ সালের ১৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর মরুভূমিতে নতুন এ ইতিহাস রচিত হয়। ওই দিন সেখানে প্রথমবার পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালানো হয়। এ সফল পরীক্ষা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বে এটাই ভয়ংকর প্রাণঘাতী পারমাণবিক অস্ত্রের প্রথম পরীক্ষামূলক ব্যবহারের ঘটনা। এ পরীক্ষা কার্যক্রমের কোড নাম ছিল ‘ট্রিনিটি’। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব পারমাণবিক অস্ত্রের নতুন এক যুগে প্রবেশ করে।
এ পরীক্ষার মাসখানেক পর ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা ও ৯ আগস্ট নাগাসাকিতে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন ধরনের এক বিপর্যয় প্রত্যক্ষ করে বিশ্ববাসী।
স্বস্তির সঙ্গে আত্মসমালোচনা
পারমাণবিক বোমার পরীক্ষার পর গবেষক দলের প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল নিজেদের কাজে সাফল্যের স্বস্তি আর মুখে চওড়া হাসি। কিন্তু তারপর খুব দ্রুত তাঁরা যে জিনিস তৈরি করেছিলেন, তা নিয়ে গম্ভীর আত্মচিন্তায় নিমগ্ন হন। এ পরীক্ষাস্থলের সরাসরি তত্ত্বাবধায়নের দায়িত্বে ছিলেন মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী ও ট্রিনিটি প্রকল্পের পরিচালক কেনেথ টম্পকিনস বেইনব্রিজ। বিস্ফোরণের ঢেউ কেটে যাওয়ার পর উঠে দাঁড়িয়ে তিনি এ প্রকল্পের প্রধান বিজ্ঞানী রবার্ট ওপেনহাইমারকে অভিনন্দন জানান।
পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র যে প্রকল্প হাতে নিয়েছিল, তার নাম ছিল ‘ম্যানহাটান প্রজেক্ট’। সেই বোমা তৈরির প্রধান বিজ্ঞানী ছিলেন রবার্ট ওপেনহাইমার। তিনি প্রকৌশলী ও পদার্থবিদদের নিয়ে এমন একটি বোমা তৈরি করেন, যা ‘গ্যাজেট’ নামে পরিচিত ছিল।
পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পর ব্রেইনব্রিজ এর ধ্বংসের ক্ষমতা দেখে চমকে উঠেছিলেন। তিনি ওপেনহেইমারকে বলছিলেন, ‘নাউ উই অল আর সানস অব বিচেস।’
ওপেনহাইমারও ভগবদ্গীতার একটি উক্তি প্রকাশ করেন, ‘এখন আমি মৃত্যু, বিশ্বের ধ্বংসকর্তা হয়ে উঠেছি।’ তবে তিনি ওই সময় এ উক্তি করেছিলেন কি না, এর অবশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে আরেক পদার্থবিজ্ঞানী লরেন্স, যিনি একসময় ওপেনহাইমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন, কিন্তু পরে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তিনি ওই ঘটনা স্মরণ করে বলেন, ‘বিস্ফোরণের পরপরই সবার আচরণে গম্ভীরতা নেমে এসেছিল...যেন একধরনের নিঃশব্দ স্তব্ধতা, যা ভক্তির সীমানায় পৌঁছেছিল। তবুও তাঁরা সবাই এ অনুভূতি ভাগ করে নিয়েছিলেন যে আজ আমরা মানব অগ্রগতির এক বিশাল মাইলফলক অতিক্রম করেছি।’
পরীক্ষা শুরু আরও আগে
ট্রিনিটি পরীক্ষায় পৌঁছানোর পথ চলা শুরু হয়েছিল প্রায় তিন বছর আগে ১৯৪২ সালে, যখন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্যে মিত্রশক্তির একটি প্রকল্প হিসেবে ‘ম্যানহাটান প্রজেক্ট’ গঠিত হয়। এ প্রকল্পের সামরিক প্রধান জেনারেল লেসলি গ্রোভস বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের দায়িত্বে লরেন্সকে নিযুক্ত করেন। লরেন্স তাঁর বন্ধু রবার্ট ওপেনহাইমারকে গোপন ল্যাব পরিচালনার প্রস্তাব দেন, যেখানে অস্ত্র তৈরির কারিগরি সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে।
প্রথম পারমাণবিক বোমাটি তৈরির ক্ষেত্রে মূল উপাদান ছিল সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম-২৩৫, তা পাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল। এর নকশাটি পরিচিত ছিল ‘গান ডিজাইন’ নামে। এখানে একটি সাবক্রিটিক্যাল ইউ-২৩৫ প্লাগকে গুলির মতো করে একটি ফাঁপা সাবক্রিটিক্যাল ইউ-২৩৫ সিলিন্ডারের মধ্যে নিক্ষেপ করা হতো। দুটি অংশ একত্র হলে তারা একটি সুপারক্রিটিক্যাল ভরের সৃষ্টি করত, যা ফিউশন বিক্রিয়ায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটাত।
এর জন্য সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন করা হয়েছিল টেনেসির ওক রিজে লরেন্সের পরিকল্পনায় নির্মিত একটি কারখানায়। কিন্তু সেই উৎপাদনের হার এতই ধীর এবং অল্প ছিল যে কেবল একটি বোমা তৈরির মতো উপাদান সংগ্রহ করা গিয়েছিল। যেহেতু এ বোমার প্রকৌশলগত গঠন ছিল অত্যন্ত সরল, তাই এটি পরীক্ষার প্রয়োজন নেই বলে বিবেচনা করা হয়। একমাত্র ইউরেনিয়ামভিত্তিক সেই বোমাই ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় ফেলা হয়।
প্লুটোনিয়াম-২৩৯ ছিল প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য পছন্দের বোমা উপাদান, যা বার্কলেতে গ্লেন সিবোর্গ কর্তৃক আবিষ্কৃত ও পৃথক করা হয়েছিল। এই পি-২৩৯ অপেক্ষাকৃত সহজেই বড় পরিমাণে উৎপাদন করা যেত। তবে সমস্যা ছিল, এটি এতটাই ফিসাইল (বিভাজ্য) ছিল যে গান ডিজাইন কার্যকর হতো না। কারণ, উপাদান দুটি একত্র হওয়ার আগেই এটি প্রি-ডিটোনেট করে ফেলত, ফলে বোমাটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যেত।
লস আলামোস ল্যাবে অধিকাংশ গবেষণা কার্যকর প্লুটোনিয়াম বোমা তৈরির ডিজাইন নিয়ে করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তারা একটি ইমপ্লোশন মডেল বা ভেতরে বিস্ফোরণের পদ্ধতির নকশায় পৌঁছায়। এর কাঠামো ছিল এমন যে প্লুটোনিয়ামকে একটি ফাঁপা সাবক্রিটিক্যাল গোলক আকারে রাখা হতো। বিস্ফোরণ ঘটাতে বাইরের একটি স্তরে তরমুজের খোসার টুকরার মতো আকৃতির বিস্ফোরক বসানো হতো, যা একযোগে বিস্ফোরিত হয়ে ভেতরের প্লুটোনিয়াম গোলককে চেপে ধরে একটি সলিড সুপারক্রিটিক্যাল বল তৈরি করত।
এই ডিজাইন এতটাই নতুন ছিল যে এটি কাজ করবে কি না, সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত ছিলেন না। এমনকি এটি কত শক্তি উৎপন্ন করবে, তা–ও সম্পূর্ণ পরিষ্কার ছিল না। এমনকি কিছু বিজ্ঞানী আশঙ্কা করেছিলেন, বিস্ফোরণ এতটা তীব্র হতে পারে, এটি বায়ুমণ্ডলকেই আগুনে পুড়িয়ে ফেলবে। যদিও সেই আশঙ্কা পরে জটিল পদার্থবিজ্ঞানের হিসাব দিয়ে খণ্ডন করা হয়। এ নতুন বোমার নকশার চূড়ান্ত ধাপ ছিল একটি পরীক্ষা, যার কোড নাম ছিল ট্রিনিটি।
পরীক্ষার স্থান
বেইনব্রিজ আলবুকার্কির প্রায় ২০০ মাইল দক্ষিণে মরুভূমির এক দূরবর্তী এলাকা পরীক্ষার স্থান হিসেবে নির্বাচন করা হয়। কয়েক মাস আগেই সেখানে কিছু অস্থায়ী ঝুপড়ি তৈরি করা হয়েছিল। সেখানেই গবেষণার সবকিছু ঠিকঠাক করা হয়। পদার্থবিদ ইমিলিও সেগ্রে ওই স্থানের কথা স্মরণ করে বলেন, এমন এক স্থানে গোপন গবেষণা চালানো হয়েছিলে, সেখানে বিচ্ছুতে ভরে গিয়েছিল। সেখানে থাকা গবেষক দলটি কাজ করছিল চরম গোপনীয়তা ও তীব্র চাপের মধ্যে। সারা দিন কাজ করা ছাড়া আর তাদের কিছু করার ছিল না।
এ পরীক্ষার সঙ্গে যেসব পর্যবেক্ষক যুক্ত ছিলেন, তাঁরা সম্ভবত ইতিহাসে কোনো পরীক্ষাগারে পরীক্ষার জন্য একত্র হওয়া সবচেয়ে বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের দল। তাঁদের আটজন নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। অবশ্য এ তালিকায় ওপেনহাইমার ছিলেন না। যদিও তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের অন্যতম প্রতিভাবান পদার্থবিদ।
পরীক্ষার কেন্দ্রে ছিল মূলত একটি ১০০ ফুট উঁচু স্টিলের টাওয়ার, যেখান থেকে গ্যাজেট নামের বোমাটি ঝুলিয়ে রাখা হয়। এর কোর বা কেন্দ্রীয় অংশটি লস আলামোস থেকে সশস্ত্র পাহারায় ১৩ জুলাই আনা হয় এবং পরদিন সেটি টাওয়ারে উত্তোলন করা হয়।
বেসক্যাম্পটি ছিল টাওয়ার থেকে প্রায় ১০ মাইল দূরে। বিজ্ঞানী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভিড়ে মুখর ছিল এলাকাটি। তাঁদের অনেককে পাঠানো হয় কম্পানিয়া হিল নামের একটি পর্যবেক্ষণ পোস্টে, যা একটি ধূলিময়, ১০ মাইল দীর্ঘ ও ৩ ঘণ্টার যাত্রাপথ। সেখানে লরেন্স তাঁর কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করেন, যাঁদের মধ্যে ছিলেন তরুণ পদার্থবিদ রিচার্ড ফাইনম্যান, যিনি রেডিও তরঙ্গ বিশ্লেষণ করেন।
পারমাণবিক বোমা পরীক্ষার আগের দিন ট্রিনিটি পরীক্ষার স্থানে ব্যাপক মেঘ দেখা দেয়। শুরু হয় ঝড়। সে সন্ধ্যায় পদার্থবিদ ইমিলিও সেগ্রে স্মরণ করেন,‘একটি অবিশ্বাস্য শব্দ আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করল, যার প্রকৃতি আমি কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না। শব্দটি থামছিল না...আমি টর্চ নিয়ে বাইরে বেরিয়ে দেখি, শত শত ব্যাঙ একটি বড় জলভরা গর্তে মিলনে ব্যস্ত।’
ঝড়ের কারণে পরীক্ষার সময় পরিবর্তন করে ভোর ৪টা থেকে পিছিয়ে ৫টা ৩০ মিনিট করা হয়। সময় কাটাতে পর্যবেক্ষকেরা বিস্ফোরণের শক্তি নিয়ে বাজি ধরছিলেন। সানট্যান মুখে লোশন মাখাচ্ছিলেন আর সুরক্ষার জন্য চশমা নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন। বেসক্যাম্পে থাকা পর্যবেক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন তাঁরা উপুড় হয়ে শুয়ে পড়েন, পায়ের দিক ঘুরিয়ে রাখেন টাওয়ারের দিকে এবং চোখ ঢেকে রাখেন হাত দিয়ে, যাতে বিস্ফোরণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পান।
জেনারেল গ্রোভস স্মরণ করেন, ‘আমরা এমন কিছু অজানা বিষয়ের মুখোমুখি ছিলাম, যা মানুষের অভিজ্ঞতা ও চিন্তার বাইরে। আমাদের কেবল কল্পনা করতে হতো, কী কী ঘটতে পারে।’
ক্ষণ গণনা
পদার্থবিদ বয়েস ম্যাকড্যানিয়েল বলেন, এরপর শুরু হলো শেষ মুহূর্তের কাউন্টডাউন বা ক্ষণ গণনা। অবশেষে এক বিশাল উজ্জ্বল গোলক বিস্ফোরণের পর দেখা দিল একটি দাউদাউ করা কমলা রঙের আগুনের গোলা, যা সমতল পেরিয়ে ওপরে উঠতে থাকে।
বিস্ফোরণের মুহূর্তে বেইনব্রিজ বলেন, ‘আমি আমার ঘাড়ের পেছনে তাপ অনুভব করলাম, অস্বস্তিকরভাবে গরম। শেষে আমি গগলস খুলে দেখলাম, আগুনের গোলা দ্রুত ওপরে উঠছে। এটি ঘিরে ছিল এক বিশাল বেগুনি-স্বচ্ছ বাতাসের মেঘ, যা বোমা ও এর ফিউশন পণ্যের বিকিরণে তৈরি হয়েছিল। যাঁরা তা দেখেছিলেন, কেউই তা ভুলতে পারেননি—এক ভয়ংকর ও বিস্ময়কর দৃশ্য।’
ওই সময় ট্রিনিটিতে সামরিক টেকনিশিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ও পরে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ভ্যাল ফিচ বলেন, ‘দেখা গেল, বাঙ্কারের দরজায় থাকা সামরিক পুলিশকে কেউই বলে দেননি, কী হতে যাচ্ছে। সে একেবারে ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল, চোখেমুখে চরম আতঙ্কের ছাপ। সে দরজার সামনে থেকে সরে এসে আমার পাশে দাঁড়াল এবং বিস্ফোরণ দেখল। আমি শুধু মনের কথা বলে ফেললাম, ‘যুদ্ধ খুব শিগগির শেষ হবে।’
এ কথা সত্য ছিল, যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হয়েছিল। তবে পারমাণবিক অস্ত্রকে ঘিরে লড়াই তখনো শেষ হয়নি।
রাজনীতি
প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান যখন বার্লিনের পাশের পটসডামে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল ও সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্তালিনের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন, সে সময় তিনি পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা সফল হয়েছে বলে খবর পান। পরে ট্রুম্যান স্মরণ করেন, তিনি স্তালিনকে বলেছিলেন, ‘আমাদের কাছে এক নতুন ধরনের অসাধারণ ধ্বংসের ক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র এসেছে।’
স্তালিন শুধু বলেছিলেন, ‘শুনে ভালো লাগল। আশা করি, জাপানিদের বিরুদ্ধে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারবেন।’
যুদ্ধের পর ওপেনহাইমার পারমাণবিক প্রযুক্তিকে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে আনার একটি আন্দোলন শুরু করেন। কিন্তু পশ্চিমা বিশ্ব ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ স্নায়ুযুদ্ধ শুরুর পর সে উদ্যোগ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। হিরোশিমা ও নাগাসাকির পর যুক্তরাষ্ট্রের পদার্থবিদেরা জাতির চোখে নায়ক হিসেবে স্বীকৃতি পান। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের এ কৃতিত্বের ভয়াবহ বাস্তবতা ধীরে ধীরে উপলব্ধি হতে শুরু করে। এ উপলব্ধি আরও গভীর হয়, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান হাইড্রোজেন বোমা তৈরির প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নেন। এ সিদ্ধান্ত পদার্থবিদদের সমাজকে দুই ভাগে ভাগ করে দেয়।
ম্যানহাটান প্রকল্পে কাজ করার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তবে ওই সময় সবার লক্ষ্য ছিল হিটলারকে হারানো, বিশেষ করে তাঁর হাতে পারমাণবিক বোমা যাতে না পৌঁছে, সে উদ্দেশ্যে আগে তৈরি করা। কিন্তু পরে দেখা যায়, হিটলার ওই সক্ষমতা অর্জন করতে পারেননি।
তবে ওপেনহাইমার আগে থেকেই যে আশঙ্কা করেছিলেন, তা ধীরে ধীরে বাস্তব হয়ে ওঠে—অসংযতভাবে তৈরি হতে থাকে একের পর এক ভয়াবহ শক্তিশালী অস্ত্র। এ অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষাক্ত হতে শুরু করে। এর ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। এতে মানবজাতির ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত ও বিপন্ন হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, নিউইয়র্ক টাইমস
![]() |
| ১৯৪৫ সালের ১৬ জুলাই পারমাণবিক বোমা পরীক্ষার পর। ছবি : লস আলমোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির সৌজন্যে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য পোক্ত করার জন্য কতটা দায়ী সাদ্দাম by মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম
মধ্যপ্রাচ্যের সমসাময়িক ইতিহাসে বড় জায়গা করে নিয়েছেন ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। তাঁর শাসনামলে অস্থির সময় পার করেছে গোটা অঞ্চল। বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বে তাঁর অবস্থান ছিল দৃশ্যত মার্কিনবিরোধী। আদতে কি তাই? নাকি নিজের একরোখা মনোভাব আর আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আরব বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য পোক্ত করার গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিলেন সাদ্দাম। ইরান ও কুয়েতে হামলা করার মাধ্যমে তিনি কার্যত আরব বিশ্বকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়ে ঠেলে দিয়েছিলেন।
১৬ জুলাই। ১৯৭৯ সালের এই দিনে সাদ্দাম হোসেন ইরাকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর টানা প্রায় ২৫ বছর তিনি ইরাক শাসন করেন। এ সময়ে তিনি প্রতিবেশী দুটি দেশে আগ্রাসন চালান। সংঘাতে জড়ান ইসরায়েলের সঙ্গেও। তাঁর বিরুদ্ধে নিজ দেশের জনগণের ওপর নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
কৃষক পরিবার থেকে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে
ইরাকের উত্তরাঞ্চলে তিকরিত শহরের পাশে ১৯৩৭ সালের ২৮ এপ্রিল এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে সাদ্দামের জন্ম। জন্মের আগেই তাঁর বাবা মারা যান। বাগদাদে চাচার কাছে থেকে বড় হয়েছেন তিনি। ২০ বছর বয়সে ইরাকের বাথ পার্টিতে যোগ দেন। বছর দুয়েকের মাথায় ইরাকের প্রধানমন্ত্রীকে উৎখাতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন সাদ্দাম ও তাঁর দলীয় সহযোগীরা। আহত অবস্থায় পালিয়ে যান সিরিয়ায়, এরপর মিসরে।
সাদ্দাম মিসরের কায়রো ল স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৯৬৩ সালে ইরাকে বাথ পার্টি ক্ষমতায় আসে। দেশে ফেরেন সাদ্দাম। ভর্তি হন বাগদাদ ল কলেজে। ওই বছরই ক্ষমতা ছাড়তে হয় বাথ পার্টির সরকারকে। সাদ্দামকে কারাগারে যেতে হয়। কয়েক বছর বন্দী ছিলেন তিনি।
একপর্যায়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাদ্দাম। দলের নেতা হন তিনি। ১৯৬৮ সালে বাথ পার্টি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতায় আসে। এতে নেতৃত্ব দেন সাদ্দাম। তবে ওই সরকারের প্রেসিডেন্ট ছিলেন আহমাদ হাসান আল-বকর। ১৯৭৯ সালের ১৬ জুলাই তাঁকে সরিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে নেন সাদ্দাম।
ক্ষমতা দখলে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতা
নিউইয়র্কভিত্তিক গ্লোবাল পলিসি ফোরামের (জিপিএফ) আর্কাইভে থাকা একটি নিবন্ধে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ১৯৬৩ সালে সাদ্দামের বাথ পার্টিকে প্রথমবারের মতো ক্ষমতা দখল করতে সাহায্য করেছিল। তথ্যপ্রমাণ থেকে জানা যায়, সাদ্দাম ১৯৫৯ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) আর্থিক সুবিধাভোগীদের তালিকায় ছিলেন, যখন তিনি ইরাকের প্রভাবশালী নেতা আবদ আল-করিম কাসেমকে হত্যার একটি ব্যর্থ চেষ্টায় অংশ নেন।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি, বিশেষ করে ইরাকের রাজনীতি নিয়ে বিস্তর জানাশোনা আছে লেখক হান্না বাতাতুর। তাঁর গবেষণা থেকে জানা যায়, কীভাবে ১৯৬৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাথ পার্টি ক্ষমতা দখল করে নেয়। মার্কিন গোয়েন্দাদের সরবরাহ করা তালিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। ওই তালিকা ধরে বিরোধীদের, বিশেষ করে কমিউনিস্টদের খুঁজে খুঁজে বের করে হত্যা করেছিল বাথ পার্টি।
‘হিউম্যান রাইটস ইন আমেরিকান ফরেন পলিসি: ফ্রম দ্য নাইনটিন সিক্সটি’জ টু দ্য সোভিয়েত কলাপস’ বইয়ের লেখক জো রেনোয়ার্ড। ওয়াশিংটনভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ফোরামের (আইএএফ) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে তিনি লিখেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ছিল নিছকই বাস্তববাদী রাজনীতিনির্ভর। ওয়াশিংটন তেলের সরবরাহ অক্ষুণ্ন রাখতে, সোভিয়েত ও ইরানি প্রভাব সীমিত করতে, আরব জাতীয়তাবাদকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ইসলামপন্থার বিস্তার রোধ করতে চেয়েছিল।
জো রেনোয়ার্ড লেখেন, সাদ্দাম হোসেনের বাথপন্থী ইরাক কেবল ধর্মনিরপেক্ষ ও কমিউনিস্টবিরোধীই ছিল না, এটি মস্কো ও তেহরান উভয়ের বিরুদ্ধেই একটি সম্ভাব্য ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি ছিল। দেশটির বিশাল তেলের মজুত পশ্চিমা বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারত। ইতিহাসবিদ জোসেফ সাসুন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে এই পারস্পরিক স্বার্থ সাদ্দাম ও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সহজাত মিত্রে’ পরিণত করেছিল।
অপ্রস্তুত ইরানে হামলা কার স্বার্থে
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী কাউন্টার পাঞ্চের অনলাইন সংস্করণে ২০০৪ সালের ১৭ জুন ‘সাদ্দামকে যেভাবে রাসায়নিক অস্ত্রে সজ্জিত করেছেন রিগ্যান (যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান)’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লেখেন নর্ম ডিক্সন। এতে তিনি বলেন, ইরাকগেটের (ইরাককে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ও সামরিক সহযোগিতা) প্রেক্ষাপট ছিল ১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে ইরানের গণ-অভ্যুত্থান। এই অভ্যুত্থানে মার্কিনপন্থী শাহ ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন। ইরানের এই বিপ্লব কৌশলগত তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আধিপত্যকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়। ইসরায়েল ছাড়াও ইরান দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের প্রধান মিত্র ছিল।
ওয়াশিংটন তাৎক্ষণিকভাবে ইরানি বিপ্লবকে দুর্বল বা উৎখাত করার অথবা শাহর পতনের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার উপায় খুঁজতে শুরু করে। সাদ্দাম হোসেনের সরকার এতে এগিয়ে আসে। ১৯৮০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ইরানে আক্রমণ করে বসে ইরাক। আট বছর ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষের জীবন কেড়ে নেয়। এই যুদ্ধে ওয়াশিংটন ইরাককে সমর্থন করেছিল।
মার্ক ফিথিয়ানের ১৯৯৭ সাল প্রকাশিত বই ‘আর্মিং ইরাক: হাউ দ্য ইউএস অ্যান্ড ব্রিটেন সিক্রেটলি বিল্ট সাদ্দামস ওয়ার মেশিন’ বইয়ে বলা হয়, ১৯৮৩ সালে রিগ্যান ইতালির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলিও আন্দ্রেওত্তিকে ইরাকে অস্ত্র সরবরাহের অনুরোধ করেছিলেন।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে ইরাকের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি হয়। তবে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর ইরাকের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে তৎপর হয় ওয়াশিংটন। ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বরে বাগদাদে সাদ্দামের সঙ্গে উষ্ণ সাক্ষাৎ হয় মার্কিন বিশেষ দূত ডোনাল্ড রামসফেল্ডের। এই সাক্ষাতে রামসফেল্ড বলেন, ইরাকের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও উন্নত করতে ‘প্রস্তুত’, যা পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক আবার শুরু করার পথ প্রশস্ত করে।
ওয়াশিংটন ইরাককে তাদের সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেয় এবং ইরানকে সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এ ছাড়া ইরাককে খাদ্যশস্য কেনার জন্য ঋণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ইরাকের ঋণমান বাড়ানোর জন্য ঋণের ব্যবস্থা করা হয় এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহের সুবিধা দেওয়া শুরু হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাতীয় নিরাপত্তা নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরাকের পতন রোধ করতে’ সচেষ্ট ছিল। এ জন্য ইরাককে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করার পাশাপাশি আঞ্চলিক দেশগুলো থেকে আরও সহায়তা আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়।
১৯৮৪ সালের ২৪ মার্চ রামসফেল্ড আবারও বাগদাদে যান। একই দিনে জাতিসংঘ থেকে মার্কিন বার্তা সংস্থা ইউপিআই এক প্রতিবেদনে জানায়, ‘ইরানি সেনাদের ওপর নার্ভ এজেন্ট-মিশ্রিত মাস্টার্ড গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের একটি দল এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।’ আর ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত রামসফেল্ড বাগদাদে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারিক আজিজের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের ইরানসোর্স ব্লগের সম্পাদক ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষক হলি ড্যাগরেস ২০১৮ সালের ২০ আগস্ট একটি ব্লগে লেখেন, শাহকে ক্ষমতাচ্যুত করে সদ্য প্রতিষ্ঠিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সাদ্দামের অতর্কিত আক্রমণে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে।
বিপ্লব-পরবর্তী অস্থিরতায় জর্জরিত দুর্বল দেশ হিসেবে ইরান শাহ আমলের সামরিক ব্যক্তিত্বদের হয় নির্বাসন অথবা মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী থেকে সরিয়ে দেয়। সামরিক বাজেট এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দেয়। এতে সাদ্দাম ধারণা করেছিলেন, নতুন আঞ্চলিক শক্তিধর হিসেবে তাঁর জয় নিশ্চিত এবং সহজেই তিনি জয়লাভ করবেন।
কিন্তু সাদ্দামের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। বরং ইরান-ইরাক যুদ্ধ ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে আরও সুদৃঢ় করে। এটি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সরকারকে ক্ষমতা সুসংহত করতে এবং বিপ্লবের বিরুদ্ধে থাকা অন্য গোষ্ঠীগুলোকে দমন করতে সাহায্য করে।
অনেক ইরানি জাতীয়তাবাদকে আলিঙ্গন করেন এবং ইরাকি বাহিনীর বিরুদ্ধে নিজেদের দেশকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। এই যুদ্ধকে ইরানিরা ‘চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ কিংবা ‘পবিত্র প্রতিরক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ সুযোগে সদ্য প্রতিষ্ঠিত ধর্মতন্ত্রের প্রতি জনসাধারণের সমালোচনাও কমে যায়।
জো রেনোয়ার্ড তাঁর নিবন্ধে লেখেন, যদিও ১৯৮০ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষ ছিল, তবু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন হয়েছিল। কারণ, উভয়েই ইরানের বিজয়ের আশঙ্কা করেছিল। যেহেতু ইরানের বিপ্লবের প্রসারের বিরুদ্ধে ইরাক একটি রক্ষাকবচ ছিল, তাই সিআইএর ১৯৮৩ সালের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছিল, ‘ইরাকের সম্পূর্ণ পরাজয় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ফল বয়ে আনবে।’
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাটি পরবর্তী সময়ে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিল, ‘বর্তমান (ইরাকি) সরকার যেকোনো নতুন সরকারের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আরও অনুকূল নীতি অনুসরণ করবে এবং সাদ্দামের অপসারণ দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার সূচনা করতে পারে।’
যুদ্ধে ইরাককে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ১৯৯২ সালের ২৬ জানুয়ারি নিউইয়র্ক টাইমসের এক নিবন্ধে বলা হয়, ইরান-ইরাক যুদ্ধের শুরুর দিকে বাগদাদকে গুরুত্বপূর্ণ সাহায্য দেওয়ার মার্কিন সিদ্ধান্তটি এসেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সতর্কবাণীর পর। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানিয়েছিল, ইরানের দাপটে প্রায় কোণঠাসা হয়ে পড়ছে ইরাকি বাহিনী। এর এক বছর আগে ইরানের সেনাবাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অস্ত্রের গোপন চালান পাঠিয়ে শক্তিশালী করা হয়েছিল।
নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে রিগ্যান প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই ইসরায়েলকে কয়েক শ কোটি ডলার মূল্যের মার্কিন অস্ত্র ও খুচরা যন্ত্রাংশ ইরানে পাঠানোর অনুমতি দিতে গোপনে সিদ্ধান্ত নেয়। লেবাননে আটক মার্কিন জিম্মিদের মুক্ত করতে এবং ইরান সরকারের কিছু অংশে নিজেদের প্রভাব তৈরি করতে রিগ্যান প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিআইএর অবমুক্ত করা গোপন নথিতে এর সত্যতা পাওয়া যায়।
কিন্তু যুদ্ধে শুরুর ধাক্কা সামলে ইরান ঘুরে দাঁড়ালে নড়েচড়ে বসে যুক্তরাষ্ট্র ও তার আরব মিত্ররা। ইরাকের পরাজয় ঠেকাতে এগিয়ে আসতে রিগ্যান প্রশাসনকে প্রভাবিত করে সৌদি আরব।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ১৯৮৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিআইএ গোপনে ইরাককে বিস্তারিত গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্পর্শকাতর স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে প্রাপ্ত তথ্যও ছিল। এসব তথ্য দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল ইরানের তেল স্থাপনা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলায় ইরাককে সহায়তা করা। ১৯৮৮ সালের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা মেনে আল-ফাও উপদ্বীপ দখল করে নেয় ইরাকি সেনাবাহিনী। এটি এই যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনকারী ছিল।
১৯৮৮ সালের ২০ আগস্ট যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে এ যুদ্ধের অবসান ঘটে। এর দুই মাস আগে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ভিনসেনেস ইরান এয়ারের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ভূপাতিত করে। এতে ওই উড়োজাহাজের ২৯০ জন আরোহী নিহত হন। এ ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি। এমনকি এই যুদ্ধজাহাজের ক্যাপ্টেনকে একটি পদকও দিয়েছিল।
কুয়েতে হামলা
ইরাক ও কুয়েতের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে কয়েক দশক ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। তবে আশির দশকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় দুই দেশ কাছাকাছি আসে। আট বছর ধরে চলা এ যুদ্ধের সময় বাগদাদকে অস্ত্রশস্ত্র কিনতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার দিয়েছিল কুয়েত। স্বাভাবিকভাবেই যুদ্ধের পর ধারের ওই অর্থ শোধ করার কথা ছিল ইরাকের। কিন্তু সেই সহায়তাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল কুয়েতের জন্য।
১৯৯০ সালের ২০ জুলাই থেকে কুয়েত ঘিরে সেনা মোতায়েন শুরু করে ইরাক। পারস্য উপসাগর ঘিরে তখন তুমুল উত্তেজনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে এসেছিল প্রতিবেশী মিসর ও সৌদি আরব। তবে কিছুতেই কাজ হয়নি।
২ আগস্ট বেলা দুইটার দিকে বিপুল পরিমাণ সেনা নিয়ে কুয়েতে হামলা শুরু করে সাদ্দাম হোসেনের বাহিনী। ১৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশটি তারা দখল করে নেয়। কিন্তু এই দখলদারত্ব সাদ্দাম ও ইরাকের করুণ পরিণতির সূচনা করেছিল।
কুয়েতে ইরাকের হামলার পর এর তীব্র নিন্দা জানায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ইরাক একপ্রকার একঘরে হয়ে পড়ে। হামলার চার দিন পর ৬ আগস্ট কুয়েত থেকে অবিলম্বে ও বিনা শর্তে ইরাকি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ থেকে। একই সঙ্গে বাগদাদের ওপর অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
জাতিসংঘের এ আহ্বান আমলে নেয়নি ইরাক। তখন ১৯৯১ সালের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সেনা না সরালে ‘যেকোনো উপায়ে’ বাগদাদকে বাধ্য করার জন্য একটি প্রস্তাব পাস হয় নিরাপত্তা পরিষদে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন সহায়তা পাওয়া সাদ্দাম মনে করেছিলেন, কুয়েতে ইরাকের আগ্রাসন এড়িয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি, ওই যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাঁর প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে।
জাতিসংঘের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা না মানলে ইরাককে শায়েস্তা করার জন্য তৎপরতা শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ। সৌদি আরবে বিপুল পরিমাণ মার্কিন সেনা পাঠান তিনি। সাদ্দাম বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোটও গড়ে তোলেন।
তবে সাদ্দাম হোসেন একগুঁয়েমি করে ১৯৯১ সালের ১৫ জানুয়ারিতেও কুয়েতে সেনা মোতায়েন করে রাখেন। এর এক দিন পরই ১৭ জানুয়ারি ‘অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম’ নামে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী। কুয়েত ও ইরাকের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হয়। ৪৩ দিন ধরে চলে এই অভিযান। শেষ ১০০ ঘণ্টা ধরে চালানো হয় স্থল হামলা। শেষ পর্যন্ত ২৭ ফেব্রুয়ারি কুয়েত থেকে পিছু হটে ইরাকি বাহিনী।
প্রায় ২৫ বছরের শাসনামলে ফিলিস্তিন ইস্যুতে সরব ছিলেন সাদ্দাম। এ জন্য আরব বিশ্বের পাশাপাশি গোটা বিশ্বের মুসলিমদের কাছে জনপ্রিয়তা পান তিনি। ১৯৯১ সালের ১৮ জানুয়ারি ইসরায়েলে কয়েকটি স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরাক। তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবে গিয়ে পড়ে।
জেরুজালেমের বাসিন্দা ৭২ বছর বয়সী মানাল মুস্তাফা আল-জাজিরাকে বলেন, ‘কোনো আরব নেতা যা করতে পারেননি, সাদ্দাম হোসেন সেটা করে দেখিয়েছেন। এ জন্য আমি তাঁকে সব সময় মনে রাখব।’
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পোক্ত হয়
ইরাক কুয়েতে হামলার পর সৌদি আরবসহ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের আহ্বানে যুদ্ধের ময়দানে নেমেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ অঞ্চল ঘিরে ওয়াশিংটনেরও নিজস্ব কিছু স্বার্থ ছিল। প্রেসিডেন্ট বুশ চাচ্ছিলেন, এই সুযোগে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক ঘাঁটি গেড়ে পরাশক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান আরও পোক্ত করতে।
কুয়েত থেকে ইরাক পিছু হটার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের ব্যবসাও রমরমা হয়েছিল। যুদ্ধের পর উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা বা জিসিসি দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র কেনা শুরু করে।
এ ছাড়া সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইনসহ আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন দেশে সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলে মার্কিন বাহিনী। সর্বোপরি, ইরাক-কুয়েত যুদ্ধের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের শক্তপোক্ত আস্তানা গড়ে তোলে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে—এমন অজুহাত তুলে ২০০৩ সালে সাদ্দাম সরকারের বিরুদ্ধেই ইরাকে আবার হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেশটি তছনছ হয়ে যায়। ক্ষমতাচ্যুত হন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম। আত্মগোপনে চলে যান তিনি। ২০০৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর জন্মশহর তিকরিতের পাশে একটি সুড়ঙ্গ থেকে মার্কিন সেনারা সাদ্দামকে পাকড়াও করেন।
সাদ্দামকে আটক করা সেনারা জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরে ছোট্ট একটি কক্ষে ছিলেন তিনি। ওই কক্ষে পাশাপাশি দুটি বিছানা পাতা ছিল। ছোট্ট একটি ফ্রিজ ছিল। তাতে ছিল কয়েক ক্যান লেমনেড, একটি হটডগের প্যাকেট আর চকলেটের একটি খোলা প্যাকেট। কক্ষের মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল নতুন কেনা কয়েক পাটি জুতা।
২০০৫ সালের অক্টোবরে সাদ্দামের বিচার শুরু হয়। চলে টানা ৯ মাস। তাঁকে ১৯৮২ সালে ইরাকের দুজাইল গ্রামে শিয়া সম্প্রদায়ের ১৪৮ জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়।
২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর পবিত্র ঈদুল আজহার দিন রাজধানী বাগদাদে সাদ্দামের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সাদ্দামের মরদেহ বাগদাদের সুরক্ষিত ‘গ্রিন জোন’ এলাকায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বাসার কাছে সড়কে ফেলে রাখা হয়েছিল বলে পরে এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফা আল-খাদিমি। একসময়কার প্রতাপশালী এই প্রেসিডেন্টের এমন নির্মম পরিণতির সাক্ষী হয় বিশ্ব।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, কাউন্টার পাঞ্চ, রয়টার্স, আল-জাজিরা
![]() |
| ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। ফাইল ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গার্ডিয়ানের অনুসন্ধান: ইউরোপীয় অস্ত্র সহায়তায় গাজায় শিশু হত্যা
এই কারখানার লাভ এমবিডিএ ইউকে’র মাধ্যমে ফ্রান্সে অবস্থিত মূল এমবিডিএ গ্রুপে স্থানান্তর হয়। ২০২৩ সালে এমবিডিএ প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন পাউন্ড লভ্যাংশ দিয়েছে এর তিন মালিক— বিএই সিজস্টেমস (ইউকে), এয়ারবাস (ফ্রান্স ও লিওনার্দো’কে (ইতালি)। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে জিবিইউ-৩৯ বোমা ইসরাইলে পাঠানো হয়েছে প্রায় ৪৮০০টি। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে পাঠানো হয়েছে সর্বশেষ ২১৬৬টি বোমা। দ্য গার্ডিয়ানের তদন্তে দেখা গেছে, অন্তত ২৪টি হামলায় জিবিইউ-৩৯ বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। এতে শিশু সহ বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। বেশির ভাগ হামলা হয়েছে রাতে কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই। যেমন—বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়া পরিবার কিংবা তাঁবুর শিবিরে এই হামলা চালানো হয়েছে।
২৬ মে রাত ২টার দিকে গাজা সিটির ফাহমি আল-জারজাবি স্কুলে বোমা হামলায় ৩৬ জন নিহত জন। এর অর্ধেকই শিশু। সেখানে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলো ঘুমিয়ে ছিল হামলার সময়। সেই আগুনের মধ্যে একটি ছোট্ট মেয়ে— হানিন আল-ওয়াদি— জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিল। বেঁচে গেলেও তার মুখ ও হাত পুড়ে যায় এবং সে গভীর মানসিক আঘাত পায়। তার মা, বাবা ও একমাত্র বোন নিহত হয়। তার চাচা আহমেদ বলেন, ও বলে হাঁটতে ভয় লাগে— ভয় হয় মৃতদেহের ওপর না পা পড়ে।
জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই হামলাগুলোকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ডোনোটেলা রোভেরা বলেন, জিবিইউ-৩৯ বোমার ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে বেসামরিক প্রাণহানির দায় এড়ানো সম্ভব নয়। বিভিন্ন স্কুল, তাঁবুর শিবির, মসজিদ ও বাসস্থান লক্ষ্য করে এই বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও ইসরাইলি বাহিনী বলেছে তারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, কোনো সতর্কতা দেয়া হয়নি। উল্লেখযোগ্য হামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে ২রা নভেম্বর বুরেইজ ক্যাম্পে হামলায় ১৫ জন নিহত হন। যার মধ্যে ৯ জন শিশু। ২৬ মে কুয়েতি শান্তি শিবির ১-এ হামলায় ৪৫ জন নিহত হন। শিশুর মাথা ও নারীর দেহ খণ্ডিত হয়।
জিবিইউ-৩৯ বোমায় ব্যবহৃত ডায়মন্ড ব্যাক উইং সিস্টেমের একমাত্র উৎপাদক এমবিডিএ। যদিও এমবিডিএ ইউকের কোনো পাবলিক আর্থিক প্রতিবেদন নেই। তবে এমবিডিএ ইউকের রাজস্বের শতকরা ৪০ ভাগের বেশি আসে এই মার্কিন শাখা থেকে। বৃটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি গত সেপ্টেম্বরে ২৯টি অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স স্থগিত করেন। তবে এতে এমবিডিএ ইনকরপোরেশনের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি। কারণ এটি যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত এবং ভিন্ন বোর্ড দ্বারা পরিচালিত।
ইসরাইলি সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট গাজায় মানবিক নগরী স্থাপনের পরিকল্পনাকে গভীরভাবে অপরাধপ্রবণ এবং দায়িত্বহীন বলে অভিহিত করেছেন। ক্যাম্পেইন এগেইনস্ট দ্য আর্মস ট্রেডের গবেষণা সমন্বয়কারী স্যাম পারলো-ফ্রিম্যান বলেন, এমবিডিএ চাইলে তারা তাদের মার্কিন শাখা বিক্রি করে দিতে পারে। তাহলে অন্তত তারা এই গাজা গণহত্যায় আর্থিক সহায়তাকারী হিসেবে থাকত না। জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রানচেস্কা আলবানিজ এক প্রতিবেদনে লিখেছেন, গাজায় গণহত্যা চলছে। কারণ এতে অনেকের লাভ হচ্ছে। এমবিডিএ নিজস্ব নৈতিক আচরণবিধিতে বলেছে, তারা মানবাধিকারের উপর নেতিবাচক প্রভাব রোধে সচেষ্ট। তবে তারা এই বিষয়ে জানায়নি যে তারা তাদের মার্কিন শাখা বিক্রি বা ইসরাইলে সরবরাহ বন্ধ করার কথা বিবেচনা করেছে কিনা।
![]() |
| গাজায় ২৪ ঘন্টায় আরও কমপক্ষে ৯৩ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইল। এর মধ্যে ৩০ জন খাবার সংগ্রহের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৫৮,৫৭৩। ১,৩৯,৬০৭ জন আহত হয়েছেন। গাজার ওপর ইসরাইলি সামরিক হামলা রাতভর চলতে থাকে। সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, বুরেইজ শরনার্থী শিবিরে আবু হালু স্কুলে হামলায় কমপক্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। গাজা সিটির জয়তুন এলাকায় ইমাম শাফি স্কুলের কাছে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় ৩ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আশার জুলাই থেকে উদ্বেগের জুলাইয়ে by আলতাফ পারভেজ
২০২৪–এর জুলাই ‘দ্বিতীয় রিপাবলিকে’র স্বপ্ন নিয়ে হাঁটছিল। মনে হচ্ছিল, ১৯৭২–এ হারিয়ে ফেলা সাম্য-মৈত্রী-মানবিক মর্যাদার বিধ্বস্ত ইচ্ছাগুলো আমরা পুনর্গঠন করতে চলেছি। কিন্তু এখনকার জুলাইয়ে আমাদের সামনে অনেক বিপজ্জনক দৃশ্য হাজির।
নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা এবং পরবর্তী অবস্থা
খোদ প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে তাঁর সহযোগীরা জুনে বলেছিলেন, ‘নির্বাচন ফেব্রুয়ারি মাসেও হতে পারে।’ এ রকম প্রকাশ্য ঘোষণার পরও ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে বলে বিশ্বাস করা মানুষ এখনো খুব বেশি নয়। অথচ নির্বাচনের আশাকে খামছে ধরেই মানুষ অনিশ্চয়তায় ভরা সকাল-সন্ধ্যা পার করছেন। নির্বাচন হলো গণ–অভ্যুত্থান-উত্তর বাংলাদেশের ন্যূনতম চাওয়া। সেই ন্যূনতম চাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় সাম্য-মৈত্রী-মানবিক মর্যাদার বাকি প্রত্যাশাগুলো নিয়ে কেউ আর বাজি ধরতে চাইছে না।
নির্বাচনের টানাপোড়েনের কারণ নিয়ে বহুজনের বহুমত। কিন্তু তার ফলাফলে একমত হওয়া যায়। জনপ্রতিনিধিহীন জাতীয় ও স্থানীয় জীবনে বেনামি মামলা, রাহাজানি, জমিজমার বিবাদকে রাজনৈতিক রং দিয়ে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করার বিবিধ অনাচার প্রতিদিন গত জুলাইয়ের গৌরবকে লজ্জায় ফেলছে। পাথর দিয়ে মানুষ হত্যা থেকে খোদ মসজিদে ভিন্নমতের ইমামকে ছুরি মারার রোমহর্ষক অসহিষ্ণুতা দেখে ঘরে ঘরে মানুষ বিচলিত।
মাজার ভাঙাভাঙি আর নারীর হেনস্থার ভেতর দিয়ে এই গণসহিংসতা শুরু হয়েছিল। সেটাই এখন গণনৈরাজ্যের লক্ষণ নিয়ে শহর-গ্রামে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। সরকার সামাজিক নৈরাজ্য থামাতে সক্ষম কি না, সেই প্রশ্নের ইতিমধ্যে উত্তর মিলেছে। সেই কারণেই ভয় বাড়ছে, নির্বাচন রক্তপাতের পাশা খেলায় পরিণত হয়ে না যায়? এ রকমের সম্ভাব্য ফেব্রুয়ারি-এপ্রিলের মোকাবিলায় জাতীয় প্রস্তুতি কেমন? সশস্ত্র বাহিনী আর কত দিন মাঠে মাঠে থাকবে?
ট্রাম্পের অর্থনৈতিক যুদ্ধ মোকাবিলায় কী করবে বাংলাদেশ
বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের মূল আকর্ষণ এই মুহূর্তে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সেখানকার উচ্চকক্ষ-নিম্নকক্ষ কাজিয়ায় পিছিয়ে গেছে সংস্কারের জরুরি অনেক কিছু। এর মধ্যে অর্থনীতির তলপেট লক্ষ্য করে লাথি ছুড়লেন ট্রাম্প। তাঁর শুল্কবোমায় বাংলাদেশের প্রায় ৮০০ শিল্পপ্রতিষ্ঠান তীব্র বাণিজ্যসংকটের মুখে পড়েছে। তারকা ইমেজের ঊর্ধ্বতন অনেকে ওয়াশিংটন গেলেও শুল্ক ৩৭ থেকে ৩৫ ভাগের নিচে নামেনি। দর–কষাকষির পুরো প্রক্রিয়া কারা চালকের আসনে ছিলেন, আছেন এবং কী করেছেন, সে বিষয়ে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা অনিশ্চয়তায় আছেন। বিবাদের সুরাহা না হলে ২৮ জুলাইয়ের পর যেসব পণ্যের চালান যুক্তরাষ্ট্রমুখী জাহাজে উঠবে, সেসবে নতুন শুল্কনীতির ছোবল পড়তে পারে।
দুর্যোগে নেতৃত্বের পরীক্ষা হয়। অর্থনৈতিক এই দুর্যোগ সামলানো এবং এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক চাহিদা আছে কি না, সে বিষয়ে মানুষ জাতীয় নেতাদের কাছে পরিষ্কার কথাবার্তা শুনতে চায়। ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ নিঃসন্দেহে আমাদের বিদেশনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জে অন্তর্ভুক্ত আছে চীন ও ভারতের সঙ্গে আমরা কীভাবে সম্পর্ক গড়তে চাই, সে-ই প্রশ্নও। নির্বাচনের আগে-পরে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের ভূরাজনৈতিক সক্ষমতার বড় চ্যালেঞ্জ হবে ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি-বেইজিংয়ের চাওয়া-পাওয়া সমন্বয় করতে পারা।
পুশইন ও নানা ধরনের বাণিজ্য-বাধা বাড়ানোর পাশাপাশি শিলিগুড়ি ও হাসিমারায় সামরিক স্থাপনা শক্তিশালী করে ভারত বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ওপর গরম নিশ্বাস ফেলে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবোমাও একই রকম কিছু বলতে চায়। নির্বাচনের আগে-পরে এসব বিষয়ে বাংলাদেশ কী অবস্থান নেবে?
১২ মাসে নতুন করে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গাকে ঢুকতে দিয়ে ঢাকা তার কূটনীতির কী ব্যাখ্যা দিল, বোঝা মুশকিল। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে উগ্র রাজনীতির আলামতের কথা আসিয়ান দেশগুলোর সব রাজধানীতে ছড়িয়েছে ইতিমধ্যে। মেগনা বোল্ডিন নরম ভাষায় নানাজনকে যে সতর্ক করছেন, সেটা গুরুত্ব দেওয়ার দরকার আছে।
বিচারপ্রক্রিয়া এগোচ্ছে, কিন্তু সামাজিক শান্তি-সমঝোতা?
নির্বাচন, রাজনৈতিক উগ্রবাদ ও শুল্কযুদ্ধের হালহকিকতের মতোই চলতি জুলাইয়ে ধোঁয়াশা চলছে আওয়ামী লীগের ভাগ্য নিয়ে। ১২ মের প্রজ্ঞাপন থেকে সবার জানা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির নেতাদের বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের ‘যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ’ ঘোষণা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও তাদের নিবন্ধন স্থগিত করেছে।
তবে ২১ জুন বিবিসিতে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎকার থেকে মনে হচ্ছে ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে…লীগ নির্বাচনে থাকবে কি না, সেই সিদ্ধান্তের ভার নির্বাচন কমিশনের।’ নির্বাচন কমিশন এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। হয়তো ভবিষ্যতে জানাবে। তবে এ বিষয়ে একটা অস্পষ্টতা আছে এবং সমাজে বিতর্ক উঠেছে, লীগের সর্বোচ্চ নেতাদের বিচারাধীন অপরাধগুলোর দায় হিসেবে দলটির কর্মী-সমর্থকের নির্বাচনী পছন্দের অধিকারচর্চায় বাধা দেওয়া হবে কি না।
গত কয়েক মাসে যে জরিপগুলো হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, লীগের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সমর্থক রয়েছে এখনো সমাজে। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ডিসেম্বরের জরিপে দেখা গিয়েছিল, ৩৮ শতাংশ মানুষ এখনো ভোট কাকে দেবেন, সিদ্ধান্ত না নিলেও সিদ্ধান্ত নেওয়াদের মধ্যে ৯ শতাংশ লীগের সমর্থক। জুলাইয়ের শুরুতে গবেষণা সংস্থা সানেমের জরিপে লীগ–সমর্থক পাওয়া গেল ১৫ শতাংশ।
সমর্থক–সংখ্যা যা–ই হোক, প্রশ্ন উঠেছে, লীগের এই তৃণমূল-সমর্থকদের বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি কীভাবে জাতীয় রাজনীতিতে সমন্বিত করবে বা আদৌ এ বিষয়ে তারা কিছু ভাবছে কি না। লীগ–সমর্থকদের কাছেও একই রকম প্রশ্ন, তাঁরা ১৫ বছর প্রিয় দলের নেতৃত্বের কর্মকাণ্ডের দায় না নিয়ে, অনুশোচনা না করে আগামী দিনে কীভাবে জনসমাজে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখবেন?
এই দুই প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও গুরুতর প্রশ্ন: বাংলাদেশে কি অনমনীয় প্রতিশোধমুখী রাজনীতিই চলতে থাকবে? আওয়ামী লীগ যেভাবে বিএনপি-জামায়াতকে দমনের নীতি নিয়ে ১৫ বছর চালিয়েছে, শেষোক্তরাও কি লীগ–সমর্থকদের প্রতি একই নীতি নিয়ে আগামী দিনগুলো চালাবে?
বিভেদবাদের পার্শ্বফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে জর্জরিত। রাজনীতিতে যুক্ত থাকা বেআইনি হলেও অন্তত মানসিকভাবে প্রায় সব জাতীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বরতরা নীরবে হলেও জাতীয় রাজনীতির ধারায় বিভক্ত। নির্বাচনের পরও এটা অব্যাহত থাকবে।
ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে যুক্তদের বিশ্বাসযোগ্য বিচারের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সামাজিক সমন্বয় বাড়ানোর কাজ এগোয়নি। আওয়ামী লীগের তরফ থেকে অনুশোচনা ছাড়া সেটা সম্ভব নয়। ফলে সব মিলিয়ে যেটা স্পষ্ট, গত দেড় যুগের অপরাধের বিচার হলেও ঐক্যবদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক ভবিষ্যৎ অধরাই থাকবে। যারা নির্বাচনের পর ক্ষমতায় যাবে, তারা শান্তিতে দেশগঠনে মনঃসংযোগ করতে পারবে সামান্যই।
বৈষম্য না কমালে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না
চব্বিশ ও পঁচিশের জুলাইয়ের মধ্যে বড় ব্যবধান গড়ার কথা ছিল বৈষম্য কমিয়ে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, এ বছর ‘হার্ডকোর পুওর’ বাড়বে ৩০ লাখ। এতে অতিদরিদ্র্য মানুষের হার ৯ শতাংশের ওপরে যাবে। সাধারণ দারিদ্র্যের পরিসংখ্যানও বেড়ে দাঁড়াল প্রায় ২৩ শতাংশে। এপ্রিলেই বিশ্বব্যাংক এসব জানাল। কোভিডের সময় ছাড়া বাংলাদেশে গত তিন দশকে দারিদ্র্য হার বাড়েনি।
গণ–অভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী আমরা যখন উদ্যাপন করব, তখন সঙ্গে এ–ও মনে রাখা জরুরি, দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা প্রায় চার কোটি এবং প্রায় এক কোটি তরুণ-তরুণী ছদ্মবেকার। অভ্যুত্থানের সরকার তাঁদের জন্য কী করল গত ১২ মাসে? বেকারদের কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশেষ কিছু হলো কি? অথচ তরুণদের কর্মসংস্থানের প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই ‘লাল জুলাইয়ে’র গোড়াপত্তন।
সপ্তাহ দুয়েক আগে ৪৪তম বিসিএসে ১ হাজার ৬৯০ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। ৪৪ বিসিএসে আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ৫০ হাজার ৭১৬ জন। বাকি ৩ লাখ ৪৯ হাজার জন কী করবেন এখন? আগের বিসিএসেও ৪ লাখ ৩৩ হাজার জন চাকরি পাননি। এঁদের কথা কে ভাববে?
সরকারের অনেকের অর্থনীতিশাস্ত্রে দেশ-বিদেশে নামকরা ডিগ্রি থাকলেও মাঠের বাস্তবতা হলো, শিক্ষিত যুবাদের যেমন কাজের সুযোগ বাড়ছে না, নিচুতলার মানুষদেরও গত ১২ মাসে প্রকৃত মজুরি বাড়ার বদলে কমে গেছে। খালি পেটে থাকা মানুষের কাছে পার্লামেন্টে ‘কক্ষ’ একটা থাকবে না তিনটা থাকবে, সে বিষয় তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু এ রকম অনেক কিছুকে মহাগুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে শুনতে হচ্ছে প্রতিদিন।
লীগের শাসনামলেও ‘উন্নয়ন’–এর বিপুল গল্প শুনেছে মানুষ। শ্রোতাদের বোবা অসন্তোষের কথা অনেকেই টের পায়নি তখন। একই রকম বোবা ক্ষোভ আগামী দিনের সরকারকেও ভোগাতে বাধ্য। সম্ভাব্য সব দৃশ্য সেটা বলছে।
* আলতাফ পারভেজ, গবেষক ও লেখক
![]() |
| জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের একটি গ্রাফিতি চিত্র। ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধ করতে ‘হুমকি’ পেয়েছিলেন আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খান
আইসিসির আসামিপক্ষের আইনজীবী ও ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক নিকোলাস কফম্যান এ হুমকি দিয়েছিলেন। আদালতে নথিভুক্ত হওয়া একটি বৈঠকের নোট থেকে মিডল ইস্ট আই এসব তথ্য জানতে পেরেছে।
বৈঠকে করিম খানকে কফম্যান একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রস্তাবটি ছিল, করিম খান যেন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো ‘গোপনীয়’ শ্রেণিতে ফেলতে আদালতে আবেদন করেন। আর তাতে ইসরায়েল সেই অভিযোগের বিস্তারিত জানার সুযোগ পাবে এবং গোপনে সেগুলো চ্যালেঞ্জ করতে পারবে। এর ফল প্রকাশ্যে আসবে না।
কফম্যান তখন বলেছিলেন, তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর আইনি পরামর্শকের সঙ্গে কথা বলে ও সেখান থেকে অনুমোদন নিয়েই প্রস্তাবটি দিয়েছেন।
প্রস্তাবের পাশাপাশি কফম্যান হুঁশিয়ারিও দেন। বলেন, পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতির পক্ষে প্রচার চালানোর কারণে বেন গভির ও স্মোট্রিচের বিরুদ্ধে যদি আরও পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়, তবে আলোচনার জন্য আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।
করিম খানকে সতর্ক করে কফম্যান বলেন, ‘তাঁরা আপনাকে শেষ করে দেবে ও আদালতকে ধ্বংস করে দেবে।’
করিম খান ও তাঁর স্ত্রী—দুজনই ওই বৈঠকে ছিলেন। তাঁরা দুজনই এ কথাগুলোকে হুমকি হিসেবে নিয়েছিলেন।
কফম্যান মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘আমি যে করিম খানকে তাঁর ভুল থেকে বের হয়ে আসার উপায় খুঁজতে বলেছি, সে কথা অস্বীকার করব না। তবে ইসরায়েলি সরকারের পক্ষে কোনো প্রস্তাব দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই এবং এমন কোনো প্রস্তাবও দিইনি।’
কফম্যানের দাবি, তিনি করিম খানকে বলেছিলেন যে আরও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। আর তা আদালতকে ধ্বংসের মুখে ফেলতে পারে।
এ ব্যাপারে নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেছিল মিডল ইস্ট আই। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি।
বৈঠকের সময় করিম খানের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তদন্ত চলছিল। দুই সপ্তাহ পর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে আরও গুরুতর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ প্রকাশিত হলে তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে চলে যান। এর আগে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের একটি চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
করিম খানের বিরুদ্ধে যখন জাতিসংঘের তদন্ত চলছে, তিনি ইসরায়েল সরকারের আরও কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে গুঞ্জন আছে।
করিম খান তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন।
![]() |
| আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি করিম খান। ছবি: এএফপি ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গোপালগঞ্জ অগ্নিগর্ভ, কারফিউ
বিএনপি এই হামলাকে ন্যক্কারজন উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এই হামলার ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে সারা দেশে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে এনসিপিসহ বিভিন্ন সংগঠন।
যেভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত: এনসিপি’র ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ দিন-তারিখ ঠিক হওয়ার পর বেশ কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গোপালগঞ্জে তাদের কর্মসূচি প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মশাল মিছিল করে ফেসবুকে প্রচার করে। গতকাল সকাল পৌনে ৯টার দিকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর ইউনিয়নের খাটিয়াগড় এলাকায় পুলিশের টহল গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। এ সময় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জ সদরের বৌলতলী ইউনিয়নের কংসুর বাসস্ট্যান্ডে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও)’র গাড়িবহরে হামলা হয়। এতে ইউএনও’র গাড়িচালক আহত হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা গোপালগঞ্জ-কোটাপাড়া সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ করে। এ সময় ওই সড়কে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
যেভাবে সমাবেশে হামলা: বেলা পৌনে ২টার দিকে ২০০ থেকে ৩০০ লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে এনসিপি’র সমাবেশস্থলে যায়। ওই সময় মঞ্চের আশপাশে থাকা পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে দ্রুত আদালত চত্বরে ঢুকে পড়েন। একই সময়ে মঞ্চে ও মঞ্চের সামনে থাকা এনসিপি’র নেতাকর্মীরাও দৌড়ে সরে যান। হামলাকারীরা সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে এনসিপি’র নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন। হামলাকারীরা মঞ্চের চেয়ার ভাঙচুর করে, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। একপর্যায়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। এ সময় এনসিপি’র নেতাকর্মী ও পুলিশ এক হয়ে ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। বেলা ২টা ৫ মিনিটে সমাবেশস্থলে পৌঁছান এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। সেখানে শান্তিপূর্ণভাবেই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় হামলার মুখে পড়ে এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের গাড়িবহর। শহরের সমাবেশস্থল থেকে বের হওয়ার পথেই কেন্দ্রীয় নেতাদের বহনকারী গাড়িবহরের ওপর ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলি ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। পুলিশ ও র?্যাবের পাহারায় এনসিপি’র নেতাদের শহর থেকে বাইরে বের করার চেষ্টা করা হলেও ব্যাপক হামলার মুখে তাদের আবার শহরে ফিরিয়ে আনা হয়। কিছুক্ষণ পরে সেনাবাহিনীর টহল টিম সেখানে এলে তারাও হামলার মুখে পড়ে। পরে এনসিপি’র নেতাকর্মীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কম্পাউন্ডের ভেতরে আশ্রয় নেন। বিকাল ৪টার দিকে সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে গোপালগঞ্জ থেকে সরিয়ে নেয়া হয় নেতাকর্মীদের। গোপালগঞ্জ থেকে এনসিপি নেতাদের কড়া পাহারায় খুলনা সার্কিট হাউজে পৌঁছে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সংঘর্ষে নিহত ৪: এনসিপি’র সমাবেশ ঘিরে হামলা ও সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল ও নিহতদের পরিবার সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
নিহতদের মধ্যে আছেন, শহরের উদয়ন রোডের সন্তোষ সাহার ছেলে দীপ্ত সাহা (৩০), কোটালিপাড়ার হরিণাহাটি গ্রামের কামরুল কাজীর ছেলে রমজান কাজী (১৯), শানাপাড়ার সোহেল রানা (৩৫) এবং সদর উপজেলার ভেড়ার বাজার এলাকার ইমন। গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জীবিতেষ বিশ্বাস রাতে মানবজমিনকে বলেন, এখন পর্যন্ত চারজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আহত অনেকে চিকিৎসা নিলেও তাদের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি। নিহতদের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে হামলা: এনসিপি’র সমাবেশকে ঘিরে সৃষ্ট সংঘর্ষের মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিকাল ৪টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন কারারক্ষী আহত হন। হামলার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকাল ৪টার দিকে কয়েকশ’ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী আচমকা জেলা কারাগারে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে কারাগারের জানালার গ্লাস ভেঙে যায়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অ্যাকশনে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
মুজিববাদীরা বাধা দিয়েছে, জবাব দেয়া হবে: নাহিদ
ওদিকে গোপালগঞ্জের পদযাত্রা ও সমাবেশে ‘মুজিববাদীরা’ বাধা দিয়েছে, তার জবাব দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। দফায় দফায় হামলা ও ভাঙচুরের পর গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় সমাবেশ মঞ্চে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘মুজিববাদীরা’ আজকে বাধা দিয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে আমরা বলেছিলাম, বাধা দিলে বাঁধবে লড়াই, সেই লড়াইয়ে জিততে হবে। এবং সেই লড়াইয়ে আমরা জিতেছিলাম। আজকে আমাদের বাধা দেয়া হয়েছে। অচিরেই আমরা এর জবাব দেবো ইনশাআল্লাহ। নাহিদ বলেন, ‘যারা গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে, নতুন বাংলাদেশের পক্ষে তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। এই গোপালগঞ্জ যেন আর ‘মুজিববাদী’দের কেন্দ্র হয়ে উঠতে না পারে। যদি পুলিশ দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়, নিজেদের জেলার মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব, বাংলাদেশকে রক্ষার দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে। যেমন আমরা গণ-অভ্যুত্থানে নিয়েছিলাম।
এনসিপি নেতা বলেন, আমরা ঘোষণা দিলে সারা বাংলাদেশ এই গোপালগঞ্জে এসে জড়ো হবে। কিন্তু আমরা সময় দিয়ে যাচ্ছি। আজকে যে হামলা হলো, কোন সাহসে বাধা দেয়া হয়েছে, কোন সাহসে ‘মুজিববাদীরা’ গোপালগঞ্জে এখনো আশ্রিত হয়ে আছে, কারা আশ্রয় দিয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি এর সামধান না হয়, তাহলে আমরা আবারো আসবো গোপালগঞ্জে। আমরা নিজ হাতে দায়িত্ব নিয়ে গোপালগঞ্জকে ‘মুজিববাদী’দের হাত থেকে মুক্ত করবো ইনশাআল্লাহ। মুজিববাদীদের কবর রচনা করে, বাহাত্তরের সংবিধানের কবর রচনা করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবো, এটা আমাদের আপনাদের কাছে ওয়াদা।
আল্টিমেটাম: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গোপালগঞ্জসহ সারা দেশে ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীদের’ গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ ছাড়া অবিলম্বে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ জারির দাবি তুলেছে সংগঠনটি। বুধবার রাজধানীর শাহবাগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এই দাবিসহ তিন দফা দাবি জানায়। সরকার এসব দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশিদ। তিনি বলেন, গোপালগঞ্জে যা শুরু হয়েছে, সেখানে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা এবং দিল্লি, এদের চক্রান্তে গোপালগঞ্জের মধ্যে একটি প্রক্সি স্টেট কায়েম করেছে। সেখানকার সার্বভৌমত্ব নিয়ন্ত্রণ করছে স্বৈরাচারী হাসিনা এবং দিল্লির মসনদে বসে থাকা ওই লুটেরারা, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বকে সবসময় ছিনিয়ে নিতে চায়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই প্রক্সি স্টেট খেলা আমরা হতে দিবো না। সংগঠনের তরফে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন তিনি। দাবিগুলো হচ্ছে- অবিলম্বে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ জারি করতে হবে। ‘আওয়ামী পুলিশি’ কাঠামো ভেঙে ফেলে পুরো ব্যবস্থার সংস্কার করতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গোপালগঞ্জসহ সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সক্রিয় সকল আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
বৈষম্যবিরোধীদের এসব দাবি সরকার মেনে না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন রিফাত রশিদ।
![]() |
| এনসিপি’র সমাবেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর টহল (বামে), উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সারজিস-হাসনাতদের সাঁজোয়া যানে গোপালগঞ্জ ত্যাগ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1402)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
July
(186)
-
▼
Jul 17
(10)
- জুলাই অভ্যুত্থানের ঐক্য বিনষ্ট হলে কার লাভ by সাইম...
- নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন তুলে নেয়ার দ...
- গোপালগঞ্জে নিহত ইমনের মা: ‘আমার সংসার বাঁচাবার মতো...
- ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধে চীন জিতে যাচ্ছে by জংইউয়ান...
- প্রথম পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা কোথায় হয়েছিল, সেই বি...
- মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য পোক্ত করার জন্য কতটা ...
- গার্ডিয়ানের অনুসন্ধান: ইউরোপীয় অস্ত্র সহায়তায় গাজা...
- আশার জুলাই থেকে উদ্বেগের জুলাইয়ে by আলতাফ পারভেজ
- নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধ করতে ‘হুমকি’ পেয়েছ...
- গোপালগঞ্জ অগ্নিগর্ভ, কারফিউ
-
▼
Jul 17
(10)
-
▼
July
(186)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...








