Sunday, January 24, 2010

মোকাবিলা কৌশল নিয়ে বিরোধের মূলে বাণিজ্যস্বার্থ by হোমায়রা আহ্মেদ

জলবায়ু ও পরিবেশ আন্দোলন বর্তমান বিশ্বের সর্বাধিক আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনকে কেন্দ্র করে পুরো বিষয়টি এখন সর্বত্র আলোচনা ও উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সর্বাধিক প্রভাবিত দেশগুলোর অন্যতম। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন আমাদের জন্য কোনো কাগুজে বিষয় নয়, নির্মম বাস্তবতা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব সাম্প্রতিক বছরগুলোকে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোয় দারিদ্র্যের তীব্রতা। একটি ঘূর্ণিঝড় বা দুর্যোগের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আরেকটি দুর্যোগ হানা দিচ্ছে। হতদরিদ্র মানুষের ওপর এর প্রভাব তাই পড়ছে মারাত্মকভাবে। ত্রাণ, পুনর্বাসন, সতর্কীকরণ থেকে শুরু করে অন্য সব পদক্ষেপ স্বাভাবিকভাবেই প্রয়োজন ও চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না।
জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে তাই খাপ খাওয়ানো ও পরিস্থিতি উন্নতির কৌশল (Adaptation and Mitigation Strategy) খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কিন্তু এগুলো সবই স্বল্পমেয়াদি প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। অথচ দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলার জন্য স্থানীয় জনগোষ্ঠী নয়, বরং বিশ্বের সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর এই কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন। আর দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রথম ধাপটি হচ্ছে উন্নত ও স্বল্পোন্নত নির্বিশেষে বিশ্বের সব দেশের গ্রিন হাউস গ্যাস বা কার্বন নিঃসরণ কমানো।
যেহেতু বর্তমানে বিশ্ব একটি অর্থনৈতিক মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাই শিল্পায়ন সীমিতকরণের মাধ্যমে এই পদক্ষেপটি নিতে উন্নত দেশগুলো তো বটেই, স্বল্পোন্নত ও মাঝারি আয়ের দেশগুলোও নারাজ। কেননা, এ জাতীয় যেকোনো কর্মসূচি বিশ্ববাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে উন্নত জীবনযাত্রা ও আধুনিক সরঞ্জামে ভরপুর জীবনাচার থেকে সরে আসতে উন্নত দেশের জনসাধারণ অনাগ্রহী। আর তাদের উন্নত জীবনযাত্রার মানের কারণে ধনী দেশগুলোর জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুব কম হওয়ার পরও তাদের মাধ্যমে দূষণের হার গরিব ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর চেয়ে অনেক বেশি। জীবনযাত্রার মান নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের এই টানাপোড়েনে সরকার ও জনসাধারণ সবাই পড়েছে উভয় সংকটে। এ কারণেই কোপেনহেগেন সম্মেলন যে বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে শুরু হয়েছিল, তা কার্যত পূরণ করতে পারেনি।
তবে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের এ ফল একেবারে অপ্রত্যাশিত বলা যায় না। কারণ, উন্নত বিশ্বের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা ও পরিবেশনীতির মধ্যে একটি স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। তাদের সবচেয়ে বেশি দূষণকারী কলকারখানাগুলো সর্বাধিক শ্রমিক নিয়োগ করে। আবার বর্তমান সময়ে দূষণ কমানোর চেয়ে কর্মসংস্থান বাঁচানো তাদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোপেনহেগেন সম্মেলনের আগে ও পরের ঘটনাগুলো উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বস্ততা ও সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে যে যুক্তি ও পাল্টাযুক্তির অবতারণা করেছে, তা একটি আন্তর্জাতিক গেম থিয়োরির প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করা যায়।
এ ক্ষেত্রে পক্ষ রয়েছে তিনটি। প্রথমটি অবশ্যই উন্নত বিশ্ব, যার সর্বাধিক শিল্পায়ন ও জীবনযাত্রার মানের কারণে দূষণের সিংহভাগের জন্য দায়ী। দ্বিতীয়টি মাঝারি আয়ের উন্নয়নশীল ও অগ্রসর উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলো (ভারত, চীন প্রভৃতি), যাদের রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে এবং জীবনযাত্রার মানও ক্রমান্বয়ে উন্নত হচ্ছে। তৃতীয় পক্ষটি হচ্ছে হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের দেশগুলো, যাদের শিল্পায়ন সবচেয়ে কম, জীবনযাত্রার মান সর্বনিম্ন, অথচ অনুপযোগী ও অসচেতন পরিবেশনীতির কারণে দূষণের পরিমাণ একেবারে কম নয়। এই তৃতীয় ধরনের দেশগুলোই আবার পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রত্যক্ষভাবে সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশ এই তৃতীয় দলটির অন্তর্ভুক্ত। অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ আমাদের পরিস্থিতিকে আরও সঙ্গিন করে তুলেছে।
প্রথম দুই ধরনের দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। কেননা, ভারত বা চীনের রপ্তানির সিংহভাগ যায় উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর চাহিদা মেটাতে। অন্যদিকে বিপুল জনসংখ্যার এ দুটি দেশ আবার আমেরিকা, কানাডা ও ইউরোপের অনেকগুলো দেশের পণ্যের বিশাল বাজার। কাজেই একদিকে যেমন উন্নত দেশগুলো ভারত বা চীনের শিল্পায়ন কমানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের আমদানি ব্যয় বাড়াতে পারে না, তেমনি আবার অভ্যন্তরীণ শিল্পায়ন সীমিত করে ও দূষণ কমিয়ে উত্পাদন ব্যয় বাড়িয়ে তাদের রপ্তানিমুখী শিল্পের অর্থনৈতিক সুবিধায় ছাড় দিতে পারে না। আর তাই যেকোনো ‘সবুজ’ পরিবেশনীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে ‘অন্যেরা আগে করলেই করা হবে’—এ রকম শর্তাধীন হয়ে পড়ছে। তবে কেউই প্রথম পদক্ষেপটি নিতে রাজি হয় না এ আস্থার অভাবে যে, একবার চুক্তি স্বাক্ষর করে ফেললে যদি অন্যরা কথা না রাখে তাহলে স্বাক্ষরকারী দেশ বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়ে পড়বে।
অন্যদিকে দরিদ্র ও স্বল্পোন্নত দেশগুলো রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিযোগী। কিন্তু এরা আবার পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত। সঙ্গত কারণেই জলবায়ু পরিবর্তন এবং এ জন্য সংঘটিত দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনর্বাসনে এসব দেশ যেমন উন্নত ও মাঝারি আয়ের দেশগুলোর কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছে, তেমনি আবার সর্বাধিক দূষণকারী দেশগুলোকে চুক্তি স্বাক্ষর করার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে দূষণ হ্রাস করার ব্যাপারে আবেদন জানিয়েছে।
সমস্যা হলো, শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত দিক থেকে আবার এসব দেশ উন্নত তো বটেই, মাঝারি আয়ের উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকেও অনেক পিছিয়ে আছে। কাজেই পরিবেশ দূষনজনিত পুনর্বাসনের জন্য পাওয়া ক্ষতিপূরণের অর্থ যদি তারা শিল্পায়নের কাজে ব্যয় করে, তবে একদিকে দূষণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, আবার অন্যদিকে সুলভ শ্রমিকের কারণে উত্পাদন ব্যয় কমিয়ে তারা রপ্তানিমুখী শিল্পে মাঝারি আয়ের দেশগুলোর শক্ত প্রতিযোগী হিসেব আবির্ভূত হবে। স্বাভাবিকভাবেই ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো তীব্র প্রতিযোগিতার বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে চায় না। ফলে কৌশলগতভাবে তারা কোনো অঙ্গীকার করছে না। এর পাল্টা জবাব হিসেবে উন্নত দেশগুলোও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষর করছে না। তাই সার্বিক ফলাফল থেকে যাচ্ছে শূন্য।
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ দূষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোপেনহেগেন সম্মেলনে বাংলাদেশের ব্যাপারে পশ্চিমা সাংবাদিক ও পরিবেশবাদীদের একটি মন্তব্য সবার নজর কেড়েছে। সেটি হলো, ‘বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের একটি স্বাদ আছে: এর স্বাদ নোনতা।’ কেবল বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাসই নয়—লবণাক্ততা আমাদের দুর্যোগপীড়িত জনজীবনে যোগ করেছে এক নতুন মাত্রা, যা কেবল কৃষিই নয়, দৈনন্দিন জীবনেও তৈরি করছে বিপর্যয়। কাজেই যখন একজন প্রথম বিশ্বের নাগরিকের মন্তব্য পড়ি, ‘বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে কার্যকরী বন্যানিয়ন্ত্রণের দিকে মনোযোগ দিলে বেশি উপকৃত হবে’, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে—আর কতদিন পৃথিবীর ক্ষমতাশালী ধনী দেশগুলো তাদের অবিমৃষ্যকারিতার দায় এড়িয়ে যাবে।
বিশ্বব্যাপী পরিবেশবিজ্ঞানীরা একমত হয়েছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আগে যা আশঙ্কা করা হয়েছিল, তারচেয়েও বেশি ভয়াবহ হবে। আর এর প্রমাণও পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ, মালদ্বীপসহ অন্যান্য দ্বীপ ও সন্দ্বীপ দেশগুলো। বিগত ডিসেম্বরের (২০০৯) ভয়াবহ তুষারঝড় উত্তরের উন্নত দেশগুলোতেও ডেকে এনেছে অভূতপূর্ব দুর্যোগ। কাজেই এ সমস্যা কোনো ব্যক্তি বা জাতিগোষ্ঠীর নয়, বরং সমগ্র বিশ্ব এবং আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্ম। এখনই সর্বতোভাবে সংযমী হয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে ‘প্রকৃতির প্রতিশোধ’ আমরা সম্ভবত এড়াতে পারব না।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)
হোমায়রা আহমেদ: গবেষক, বিআইডিএস।
ahmed.humayra@gmail.com

ইরান প্রশ্নে পিছু হটবে না বিশ্ব: হিলারি

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, ইরানের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অঙ্গীকারবদ্ধ। এ ক্ষেত্রে মোটেও পিছু হটবেন না বিশ্বনেতারা।
ওয়াশিংটনে গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কূটনীতিক। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ক্যাথারিন অ্যাশটন। হিলারি বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, ইরানের ব্যাপারে আমরা আর বসে থাকব না।’ খবর এএফপির।
আন্তর্জাতিক আণবিক জ্বালানি সংস্থা (আইএইএ) ইরানের স্বল্পমাত্রায় সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম সে দেশের চিকিত্সা-গবেষণার জন্য বিদেশে পাঠিয়ে আরও সমৃদ্ধকরণের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তিন মাস হয়েছে, তেহরান আইএইএর এ প্রস্তাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
ভিয়েনায় গত বুধবার কূটনীতিকেরা বলেছেন, পশ্চিমাদের দেওয়া কিছু শর্তের কারণে ইরান কার্যত আইএইএর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান পরমাণু জ্বালানির যুগপত্ বিনিময়ের ওপর জোর দিয়েছে। কিন্তু পশ্চিমারা ইরানের এ প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য বলে নাকচ করে দিয়েছে।
হিলারি বলেন, ‘ইরান ইস্যুতে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আমরা অন্যান্য সহযোগী রাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখব।

শিক্ষিত ও রোজগেরে কনে

বেগি জিয়েলিনস্কি একজন ফ্যাশন স্টাইলিস্ট। জন্ম জার্মানিতে। বয়স ২৮ বছর। ফ্যাশনের ওপর পড়াশোনা করতে ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান। সেই থেকে সেখানেই বসবাস। কিন্তু এবার ঠিক বড়দিনের আগে প্রেমিকের সঙ্গে তাঁর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। প্রেমিক জাহাজ মেরামতের কাজ করতেন। জিয়েলিনস্কি বলেন, ‘আমার পেশা এবং আমি কীভাবে সফল হব এ নিয়ে সে ছিল খুবই শঙ্কিত, চিন্তিত।’
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পিউ রিসার্চ সেন্টারের প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী জরিপে জিয়েলিনস্কিসহ অনেক রোজগেরে নারীর চিত্র উঠে এসেছে।
পিউ সেন্টারের মুখপাত্র পল ফুসিতো বলেন, পুরুষেরা এখন তাদের চেয়ে বেশি শিক্ষিত ও উপার্জন করা নারীকে বিয়ে করাটা বেশি পছন্দ করছে। আর মেয়েদের অবস্থা এর উল্টো। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দশকগুলোতে ভালো উপার্জন করা স্ত্রীর সংখ্যা বাড়ায় পুরুষেরা এখন বিয়ে করে অর্থনৈতিকভাবে বেশ লাভবান হচ্ছে।
জরিপে বিশ্লেষকেরা ৩০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিকদের তথ্য যাচাই করে দেখেন, পুরুষের চেয়ে বেশির ভাগ নারীর কলেজের উচ্চতর ডিগ্রি রয়েছে। ১৯৭০ সালের পর থেকে দ্রুতগতিতে বাড়ছে পুরুষের চেয়ে নারীর আয়।
গ্রিসের অলিম্পিয়ার এভারগ্রিন স্টেট কলেজের অধ্যাপক এবং গবেষণা ও ওকালতি করা সংস্থা কাউন্সিল অন কনটেম্পরারি ফ্যামিলিসের গবেষণা পরিচালক স্টিফানি কুঞ্জ বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, কিছু ক্ষেত্রে নারীদের চেয়ে পুরুষেরা বেশি শারীরিক ও মানসিক শান্তির জন্য বিয়ে করতে চায়। এখন বিয়ের পর অর্থনৈতিক কল্যাণের বিষয়টিও তাদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে।’
এদিকে সাম্প্রতিক বিশ্বমন্দার পরও নারী ও পুরুষের শিক্ষা এবং উপার্জনের ব্যবধান বেড়েছে। চাকরি হারানো চারজনের মধ্যে তিনজনই পুরুষ।
সরকারের আদমশুমারি সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে, স্বামী-সন্তানসহ পরিবারে শুধু স্ত্রীরাই গত বছর সংসারের ৭ শতাংশ কাজ করেছে। ২০০৭ সালে এর হার ছিল ৫ শতাংশ। কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের মধ্যে এ হার ৯ থেকে বেড়ে ১২ শতাংশ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ৩৮ বছর বয়সী মনোরোগ চিকিত্সক কৃষ্ণাঙ্গ নারী রাজাল্লা প্রিউইত। তিনি বলেন, ‘আমি এখনো বিয়ে করিনি। বিয়ে করতে চাই। আমার বন্ধুরাও একই অবস্থার মধ্যে আছে। একই ধরনের মনমানসিকতা, লক্ষ্য ও মূল্যবোধের ব্যক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে খুব সমস্যায় আছি আমরা।’
২০০৭ সালে পিউ তাদের গবেষণায় দেখতে পায়, মধ্যবিত্ত পরিবারের বিবাহিত পুরুষ, বিবাহিত নারী ও অবিবাহিত নারীর আয় ১৯৭০ সালের চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু একই সময়ে মধ্যবিত্ত পরিবারের অবিবাহিত পুরুষদের আয় বেড়েছে মাত্র ১৬ শতাংশ।
১৯৭০ সালে ২৮ শতাংশ স্ত্রীরই স্বামী ছিল তাদের চেয়ে শিক্ষিত। ২০ শতাংশ স্ত্রীর ছিল তাদের চেয়ে কম শিক্ষিত স্বামী। ২০০৭ সালে ওই দুটি হার পাল্টে ১৯ ও ২৮ শতাংশ হয়েছে। অর্থাত্ ১৯ শতাংশ স্ত্রীর স্বামী তাদের চেয়ে বেশি শিক্ষিত এবং ২৮ শতাংশ স্ত্রীর স্বামী তাদের চেয়ে কম শিক্ষিত। এদিকে ১৯৭০ সালে মাত্র ৪ শতাংশ নারী তাদের স্বামীর চেয়ে বেশি আয় করত। ২০০৭ সালে তা বেড়ে ২২ শতাংশ হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিবাহিত দম্পতিদের মধ্যে সংসারের খরচ চালানোর ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে।
আবাসন প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত ৩৫ বছর বয়সী কলম্বিয়ার সৃতা ম্যাকফেডেন ও সারাহ লরেন্স বলেন, যেকোনো সম্প্রদায়ের পুরুষই হোক না কেন, একজন প্রতিষ্ঠিত নারীর বিপক্ষে যাওয়ার ক্ষেত্রে তার মধ্যে সামান্য ভীতি কাজ করে।
এ প্রসঙ্গে ফ্যাশন স্টাইলিস্ট জিয়েলিনস্কি তাঁর ঘনিষ্ঠ এক পুরুষ বন্ধুর কথা উল্লেখ করেন। বন্ধুটি তাঁকে বলেছিলেন, ‘তুমি যদি আস্থাশীল হও, তোমার যদি ভালো অর্থকড়ি থাকে, তাহলে তুমি তোমার কাজ চালিয়ে যাও। পুরো বিশ্ব ঘুরে বেড়াও এবং আত্মনির্ভরশীল হও। এবার বলো, কোন পুরুষ তোমাকে চাইতে পারে?’ এ কথা বলে বন্ধুটি হাসলেন। কিন্তু জিয়েলিনস্কি তাঁর ওই হাসিতে ঠিকই এক বিষাদের ছায়া যেন দেখতে পেলেন।

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা ফের শুরুর আহ্বান বান কি মুনের

শান্তি আলোচনা আবারও শুরু করার জন্য ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার-সংক্রান্ত জাতিসংঘের একটি কমিটির বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
বান কি মুন বলেন, সংলাপ না হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যকার আত্মবিশ্বাস উবে যাবে। তিনি বলেন, পূর্ব জেরুজালেমে উত্তেজনা বাড়ছে। গাজা ও দক্ষিণ ইসরায়েলের মানুষ অব্যাহতভাবে সহিংসতার শিকার হচ্ছে।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বসতি নির্মাণের কার্যক্রম দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। মুন বলেন, বসতি নির্মাণকাজ দুই পক্ষের মধ্যকার বিশ্বাসকে ক্রমেই দুর্বল করছে। এটি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ভিত্তিকে বিপন্ন করে তুলছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আরও বলেন, আরবদের বাড়িঘর ধ্বংস করা, ফিলিস্তিনিদের পরিচয়পত্র নষ্ট করা ও নির্মাণকাজসহ পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি কর্মকাণ্ড শুধু শহরের উত্তেজনাকেই উসকে দেবে না, এটা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।
বান কি মুন বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলের পূর্ব জেরুজালেমের সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে স্বীকৃতি দেয়নি, যা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূ-খণ্ডের অংশ হিসেবে এখনো বহাল আছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, জেরুজালেম যাতে দুই রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে, সে জন্য আলোচনার মাধ্যমে অবশ্যই একটি পথ খুঁজে নিতে হবে। যেখানে দুই পক্ষ শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে পাশাপাশি বসবাস করবে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বান কি মুনের মন্তব্যকে একপক্ষীয় হিসেবে মন্তব্য করেছেন। তাঁরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নিজেদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের সময় এসেছে।

অস্ট্রেলিয়ায় আবারও দুই ভারতীয়ের ওপর হামলা

অস্ট্রেলিয়ায় গত দুই দিনে নতুন করে আরও দুই ভারতীয় নাগরিক শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন। কুইন্সল্যান্ড প্রদেশের ব্রিজবেন শহরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ হামলা বর্ণবাদী নয়। প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
আক্রমণের শিকার দুই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। জানানো হয়েছে, একজনের বয়স ২৮ বছর ও অপরজনের ২৫। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্রিজবেনের ম্যাকগ্রেগর এলাকায়। সেখানে নিজের বাসার অদূরে একটি টেলিফোন বক্সে কথা বলার সময় ২৫ বছরের ওই ব্যক্তির মাথায় ঘুষি মারা হয়। আক্রমণকারী তাঁর টাকা রাখার থলে নিয়ে চম্পট দেয়।
আর আগে গতকাল সকালে ব্রিজবেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্যারিড্যাল এলাকায় ভারতীয় ট্যাক্সিচালকের সঙ্গে বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে তাঁর মুখে কয়েক দফা ঘুষি মারে দুই ব্যক্তি। এ সময় তাঁর ট্যাক্সির কাচ ভাঙচুর করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ দুটি হামলার তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, এগুলো বর্ণবাদী আক্রমণ ছিল না। পিটিআই।

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের জন্য মার্কিন বেসামরিক কৌশল ঘোষণা

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বেসামরিক কৌশল ঘোষণা করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। এতে ওই অঞ্চলে আরও বেশি মার্কিন বেসামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠানের কথা বলা হয়েছে। খবর এএফপির।
আফগানিস্তানে আরও বেশি সেনা মোতায়েনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামার ঘোষণার এক মাসের মধ্যেই নতুন এ বেসামরিক কৌশল ঘোষণা করা হলো। আফগানিস্তানে কৃষি খাত ও প্রশাসনের উন্নয়ন এবং সন্ত্রাসীদের সমাজের সঙ্গে পুনরায় অঙ্গীভূত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে নতুন এই কৌশলপত্রে।
একই সঙ্গে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য পাকিস্তানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের সহায়তার মাধ্যমে ইসলামাবাদের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘আফগানিস্তানে সামরিক মিশনের পাশাপাশি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারি প্রতিষ্ঠায় আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’ হিলারি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, নতুন এই কৌশলের মাধ্যমে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার নতুন সর্বোত্তম সম্ভাবনা তৈরি হবে।’
হিলারি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য অর্জনে বেসামরিক কৌশল ব্যবহারের জন্য আমি কংগ্রেসে আলোচনা করব।’ তবে নতুন এই কৌশলের ব্যাপারে তিনি কংগ্রেসের কাছ থেকে কতটা সমর্থন পাবেন, সেটা এখনো পরিষ্কার নয়।
আগামী কয়েক সপ্তাহে আফগানিস্তানে এক হাজার মার্কিন বেসামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তবে বেসামরিক বিশেষজ্ঞের সংখ্যা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন হিলারি।
হিলারি ক্লিনটন বলেন, ‘আমরা মনে করছি, ২০১০ সালের মধ্যেই বেসামরিক বিশেষজ্ঞের সংখ্যা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বাড়ানো দরকার।’
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি রিচার্ড হলব্রুক এই নতুন কৌশলপত্র তৈরি করেছেন। এ নিয়ে তিনি সিনেটরদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছেন।
গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তানে তালেবানদের তত্পরতা রুখতে সেখানে আরও ৩০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেন।

ভারতের সব বিমানবন্দরে কড়া সতর্কতা

বিমান ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় ভারতের সব বিমানবন্দরে গতকাল শুক্রবার কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সব ফ্লাইটে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা। স্কাই মার্শাল (যাত্রী ছদ্মবেশী সশস্ত্র প্রহরী) মোতায়েন করা হয় বিভিন্ন ফ্লাইটে। আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত জঙ্গিরা বিমান ছিনতাই করতে পারে—গোয়েন্দাদের তরফ থেকে এমন বার্তা পাওয়ার পর পরই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। খবর ফক্স নিউজ ও পিটিআইর।
বিমান চালনা কার্যালয়ের মুখপাত্র মৌসুমী চক্রবর্তী বলেছেন, গোয়েন্দাদের কাছ থেকে বিমান ছিনতাইয়ের হুঁশিয়ারি বার্তা পাওয়ার পর বিমানবন্দরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক খবরে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে তথ্য আছে যে আল-কায়েদা ও লস্কর-ই-তাইয়েবার সঙ্গে জড়িত জঙ্গিরা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেছে। ভারত থেকে দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশে অথবা সেসব দেশ থেকে ভারতগামী একটি ফ্লাইট ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে জঙ্গিরা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইউ কে বানসাল বলেন, গোয়েন্দাদের কাছ থেকে সতর্কবার্তা পেয়ে সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীদের স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তল্লাশি করা হচ্ছে। ছিনতাই ঠেকাতে বিমানে স্কাই মার্শাল মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভারতের স্বার্থবিরোধী জঙ্গিরাই বিমান ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেছে। তবে তিনি এ ব্যাপারে কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর নাম উচ্চারণ করেননি। বানসাল বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ফ্লাইট বাতিলের সুপারিশ করা হয়নি। তবে সব ফ্লাইটে নিরাপত্তাব্যবস্থা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, জঙ্গিগোষ্ঠী হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামির নেতা আমজাদ খোয়াজা গ্রেপ্তার হওয়ার পরই বিমান ছিনতাইয়ের এ পরিকল্পনার খবর ফাঁস হয়েছে। গত সপ্তাহে চেন্নাই থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের জেরার মুখে আমজাদ জঙ্গিদের বিমান ছিনতাইয়ের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস সম্প্রতি ভারত সফরকালে বলেছেন, আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত একটি জঙ্গিগোষ্ঠী পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে ফের যুদ্ধ বাধানোর কৌশল এঁটেছে। গেটসের এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণের কিছু সময়ের ব্যবধানে জঙ্গিদের বিমান ছিনতাইয়ের পরিকল্পনার কথা ফাঁস হলো।
১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে আফগানিস্তানের কান্দাহারগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট ছিনতাই করা হয়েছিল। বিমানটিতে ক্রুসহ ১৬৭ জন যাত্রী ছিল। সে যাত্রায় ভারত সরকার চারজন জঙ্গি ছেড়ে দিলে ছিনতাই ঘটনার অবসান হয়।

প্রীতি ম্যাচে জিতেছে ওয়ারিদ

টি-টোয়েন্টি প্রীতি ম্যাচে দৈনিক প্রথম আলোকে ১১ রানে হারিয়েছে ওয়ারিদ টেলিকম। কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে প্রথমে ব্যাট করে ১০৮ রানে অলআউট হয় ওয়ারিদ। জবাবে ১৯ ওভারে প্রথম আলো অলআউট হয়ে যায় ৯৭ রানে।

তিন দিনেই জিতল ঢাকা-রাজশাহী

তিন অঙ্ক থেকে ৬ রান দূরে ছিলেন আগের দিন। কাল বিকেএসপিতে সেঞ্চুরি তো পেয়েছেনই, ১৫৯ রানে থেমেছেন ফরহাদ হোসেন। তাঁর দুর্দান্ত এই সেঞ্চুরির কল্যাণে জাতীয় লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডেও জিতল রাজশাহী। চট্টগ্রামের বিপক্ষে তাদের জয়টা ইনিংস ও ১৩১ রানের ব্যবধানে।
এদিকে আসিফ আহমেদের সেঞ্চুরিতেও শেষ রক্ষা হয়নি বরিশালের। তাদের ১০ উইকেটে হারিয়ে ম্যাচের তৃতীয় দিনেই জয় তুলে নিল ঢাকা। এটা তাদের টানা দ্বিতীয় জয়।
সিলেটের বিপক্ষে খুলনার ম্যাচটি গড়িয়েছে চতুর্থ দিনে। দ্বিতীয় ইনিংসেও হাফ সেঞ্চুরি করেছেন খুলনা অধিনায়ক হাবিবুল বাশার (৫৭)। তারপরও দিন শেষে চাপে খুলনা। ৮ উইকেট হারিয়ে তারা তুলেছে ১৮৮ রান।
বিকেএসপিতে আগের দিন অপরাজিত ছিলেন ৯৪ রানে; কাল ফরহাদ আউট হয়েছেন ১৫৯ রানে, যার মধ্যে চার ১৭টি, বল খেলেছেন ২৮৩টি। তাঁর সঙ্গে জুবায়েরের ৮৯ মিলে গড়া ৪২৪ রানের পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে যায় চট্টগ্রাম। প্রথম ইনিংসে ১৮৪ রানে অলআউট হওয়া চট্টগ্রামের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ১০৯ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসেও চট্টগ্রামকে ধসিয়ে দেওয়ায় ভূমিকা রেখেছেন সাকলাইন সজীব, ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তবে আরেক বাঁহাতি স্পিনার সোহরাওয়ার্দী নিয়েছেন ৫ উইকেট। চট্টগ্রামের ফয়সাল করেছেন সর্বোচ্চ ৩৪ রান। ম্যাচসেরা সাকলাইন সজীব। খুলনায় আগের দিনের ১৭৫ রানের সঙ্গে বরিশাল দ্বিতীয় ইনিংসে যোগ করে আর ৭৫ রান। আগের দিনে ৮৬ রানে অপরাজিত থাকা আসিফ লিগে পেয়ে যান নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ১৯৩ বলে ১৫টি চারে সাজানো তাঁর ১২১ রানের ইনিংস। তবে এই সেঞ্চুরিও নিষ্ফলা গেছে। ৭৪.২ ওভারে বরিশাল অলআউট হয়ে যায় ২৫০ রানে। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৪৫ রান বিনা উইকেটেই তুলে নেয় ঢাকা। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন ঢাকার পেসার মোহাম্মদ শরীফ।
বগুড়ায় আগের দিনের ২২৭ রানের সঙ্গে ৪৫ রান যোগ করতেই বাকি ৬ উইকেট হারায় সিলেট, অলআউট তারা ২৭২ রানে। রাজ্জাক ৯১ রানে নেন ৪ উইকেট। বল হাতে উজ্জ্বল রাজ্জাক ব্যাট হাতেও ঔজ্জ্বল্য ছড়িয়েছেন। ৭৮ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলা খুলনাকে দুই শর কাছাকাছি যেতে দারুণ ভূমিকা রেখেছেন এই স্পিনার। ৫৮ রানে ব্যাট করছেন তিনি। তাপস ৩টি, নাজমুল ২টি, নাবিল সামাদ, গোলাম রহমান ও সাজু দত্ত নিয়েছেন ১টি করে উইকেট।

ব্রোঞ্জ জিততে পারলেই খুশি থাকবে ভলিবল

রেকর্ড বলছে, ১৯৮৭ কলকাতা গেমসে ঢোকার পর থেকে ভলিবলে মাত্র তিনবার ব্রোঞ্জ জিতছে বাংলাদেশ। বাকি পাঁচবার চতুর্থ, যার শেষ দুটি গত দুবার। কাজেই এবার যতই দীর্ঘ মেয়াদে প্রশিক্ষণ আর ঘরের মাঠে খেলা হোক, একাদশ দক্ষিণ এশীয় গেমসে ব্রোঞ্জ পুনরুদ্ধারই বড় চ্যালেঞ্জ ভলিবলের।
আকাঙ্ক্ষা এর চেয়ে বেশি থাকলেও ব্রোঞ্জেই নিজেদের লক্ষ্যটাকে বেঁধে রাখছে ভলিবল দল। আনুষ্ঠানিকভাবে তা কাল জানানো হলো গেমসের দল ঘোষণার শেষ দিনে। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ভবনে এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা—সবার মধ্যেই ছিল ব্রোঞ্জ ফিরে পাওয়ার প্রত্যয়।
১২ জনের ভলিবল দলে নতুন খেলোয়াড় চারজন—সুদর্শন চৌধুরী, হুমায়ুন কবির, মাসুদ মিয়া ও মনির হোসেন। দু-তিনজন আছেন, যাঁদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা খুবই কম। প্রায় নতুন একটা দল, তবে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার বেশ উজ্জীবিত ‘ভলিবল পরিবার’।
টানা তৃতীয় দক্ষিণ এশীয় গেমস খেলার অপেক্ষায় থাকা অধিনায়ক মামুন শেখের চোখে দলটির শক্তি বেড়েছে, ‘এবার প্রস্তুতি ভালো। টেকনিক, ট্যাকটিকসে আমাদের অনেক উন্নতি হয়েছে।’ তবে ভারত-পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের গড় উচ্চতা যেখানে ছয় ফুট তিন-চার ইঞ্চি, সেখানে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ছয় ফুট থেকে ছয় ফুট এক ইঞ্চি। মামুন বললেন, ‘এটা বড় একটা ঘাটতি।’
প্রধান কোচ ইয়াদ আলী বলছেন, ‘ভারতকে হারানো সম্ভব নয়, পাকিস্তানও অনেকটা এগিয়ে। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েই আগে ব্রোঞ্জ জিতেছি। এবারও তারাই আমাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে চেষ্টা থাকবে আরও ভালো করার।’
প্রস্তুতি কেমন হলো সেটি ঝালাই করে নিতে সম্প্রতি মিয়ানমারে গেছে ভলিবল দল। এশীয় র্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে থাকা মিয়ানমারের কাছে ৪ ম্যাচ হারলেও একটি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। যা ফলাও করে স্থানীয় কাগজে ছাপা হয়েছে। ওটার কপি সাংবাদিকদের হাতে দিয়ে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমানের আশাবাদ, ‘মিয়ানমারে খুব ভালো খেলেছে দল। ব্রোঞ্জ এবার ফিরে পাব ইনশাআল্লাহ।’

হামবুর্গে যাবেন নিস্টলরয়

স্পেন ছেড়ে জার্মানিতে পাড়ি জমাতে পারেন রুড ফন নিস্টলরয়। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি রেখে গায়ে তুলতে পারেন বুন্দেসলিগার ক্লাব হামবুর্গের জার্সি। জার্মানির পত্রিকা বিল্ড দিয়েছে এমন খবর।
নিস্টলরয়ের রিয়াল ছাড়ার গুঞ্জনটি বেশ কিছুদিন ধরেই ভেসে বেড়াচ্ছে ইউরোপীয় ফুটবলে। এ বছরের ৩০ জুন রিয়ালের সঙ্গে চুক্তি শেষ হচ্ছে এই ডাচ স্ট্রাইকারের। কিন্তু এখনো তাঁর সঙ্গে নতুন চুক্তি বিষয়ে কোনো আলোচনাই করেনি রিয়াল কর্তৃপক্ষ। গুঞ্জনটা এ কারণে জোরালো হচ্ছে আরও। নিস্টলরয়কে নিতে সম্প্রতি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব টটেনহাম হটস্পার ও লিভারপুলও আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে বিল্ড-এর মতো স্প্যানিশ দৈনিক এএসও দিয়েছে একই খবর—হামবুর্গে যেতে পারেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক স্ট্রাইকার।

বিশ্বকাপের ম্যাচ নিষিদ্ধ কোটলায়

ফিরোজ শাহ কোটলা ‘আনফিট’। আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের সামর্থ্য নেই কোটলার উইকেটের। এটি বেরিয়ে এসেছে আইসিসির তদন্তে। আর এ কারণেই এক বছরের জন্য কোটলাকে নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। তবে ২০১১ বিশ্বকাপের ম্যাচ এখানে। কারণ, এর আগেই শেষ হয়ে যাবে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা।
ফিরোজ শাজ কোটলার উইকেট নিয়ে বিপত্তি তৈরি হয় গত ডিসেম্বরে ভারত-শ্রীলঙ্কা সিরিজের পঞ্চম ওয়ানডে ম্যাচটি বাতিল হওয়ায়। ডিসেম্বরের ২৭ তারিখের ওই ম্যাচটিতে ২৩.৩ ওভার খেলা হয়েছিল। তবে পিচের অবস্থা এতটাই বাজে ছিল যে, অসম বাউন্সের কারণে শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানরা পড়ে গিয়েছিলেন বিপাকে। খেলা বন্ধ হয়ে যায় এবং পরে আইসিসির পিচ বিশেষজ্ঞরা তদন্ত করে দেখেন বিষয়টি।
বাতিল হয়ে যাওয়া ওই ম্যাচের ভিডিও দেখে এবং ওই ম্যাচের ম্যাচ রেফারি ও আম্পায়ারদের মন্তব্য থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই কোটলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আইসিসি। আইসিসির মহাপরিচালক (ক্রিকেট), ডেভিড রিচার্ডসনের কথা—কোটলা খেলার জন্য বিপজ্জনক

আইসিসির চেয়ারে হাওয়ার্ড

ক্রিকেটপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই তাঁকে চিনত সবাই। শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও ক্রিকেট দেখতে মোটামুটি নিয়মিতই মাঠে আসতেন। দ্য মেলবোর্ন এজ পত্রিকার খবর সত্যি হলে জন হাওয়ার্ড এবার আরও ঘনিষ্ঠ হতে যাচ্ছেন ক্রিকেটের সঙ্গে। ২০১২ সাল থেকে আইসিসির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখা যেতে পারে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান প্রধানমন্ত্রীকে।
আইসিসির প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয় পালাক্রমে সব অঞ্চল থেকেই। ২০১২ সালে নিয়োগ দেওয়া হবে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড থেকে। আগামী মাসেই একজনের নাম প্রস্তাব করবে দেশ দুটি। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং হাওয়ার্ড—কোনো পক্ষ থেকেই অবশ্য খবরটি নিশ্চিত করা হয়নি, আবার উড়িয়েও দেওয়া হয়নি। স্যার রবার্ট মেনজিসের পর হাওয়ার্ডই অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন (১৯৯৬ থেকে ২০০৭)। এখন তিনি ব্র্যাডম্যান ফাউন্ডেশনের পরিচালক, ২০০৭ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করেছেন শুধু এই একটিই।

দাস্তি বাহিনীকে ধুয়ে দিলেন ইমরান

ওদের ভাগ্য ভালো আমি অধিনায়ক নই। না হলে বুঝিয়ে দিতাম আমি কী জিনিস’—বক্তার নাম ইমরান খান, লক্ষ্য পাকিস্তানের ক্রীড়াবিষয়ক সংসদীয় কমিটি। পাকিস্তানের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক বেজায় চটেছেন ‘দাস্তি বাহিনী’র ওপর, তাদের বলেছেন ‘স্টুপিড’।
পাকিস্তান ক্রীড়াঙ্গনে কিছুদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে আছে ক্রীড়াবিষয়ক সংসদীয় কমিটি এবং এই কমিটির প্রধান জামসেদ খান দাস্তি। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় বলেই হয়তো তাদের মাথাব্যথা বেশি ক্রিকেট নিয়ে। ক্রিকেটে যা-ই হোক, তাদের আনাগোনা আছেই। সর্বশেষ আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি তারা তলব করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) প্রধান ইজাজ বাট, চিফ অপারেটিং অফিসার ওয়াসিম বারী ও নির্বাচক মুহাম্মদ ইলিয়াসকে। কমিটির সামনে হাজির হয়ে তাদের বলতে হবে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় খারাপ পারফরম্যান্সের কারণ, আর আইপিএলের নিলামে না বিক্রি হওয়ায় ক্রিকেটারদের বিব্রতকর অবস্থা থেকে বাঁচাতে কী করেছে পিসিবি।
এগুলোই খেপিয়ে দিয়েছে পকিস্তানের ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে, ‘এটা দারুণ একটা কৌতুকের ব্যাপার, পৃথিবীর আর কোথাও সংসদীয় কমিটি ক্রীড়ায় বা ক্রিকেটে এত বেশি হস্তক্ষেপ করে না। যে জিনিসটা তারা বোঝেই না, তাদের তো সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোই উচিত নয়!’ সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন বর্তমানে রাজনীতিবিদ, ক্রিকেট থেকে মোটামুটি দূরেই থাকেন। কিন্তু দাস্তির সর্বশেষ ‘সমন’ চূড়ান্ত বিরক্ত করে তুলেছে তাঁকে। সংবাদ সম্মেলন ডেকে কমিটিকে শূলে চড়িয়েছেন, ‘যখন-তখন শুনানিতে ডেকে এই কমিটি অনেক অর্থ অপচয় করেছে। ওরা এমনই যন্ত্রণা দিয়েছে যে বিশ্বকাপ জেতা অধিনায়ক ইউনুস খান পর্যন্ত ক্রিকেট থেকে বিরতি নিয়েছিল।’