Saturday, September 20, 2025
দুর্নীতি দূর না করতে পারলে দারিদ্র্য হটবে না by মামুন রশীদ
এটির কারণ হিসেবে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ভূরাজনৈতিক কারণকে দায়ী করা হলেও অনেকেই জোরেশোরে বলছেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য না এলে দারিদ্র্য হ্রাসের প্রক্রিয়া টেকসই হবে না। সরকারের সাহায্য বা সুযোগ বণ্টনে বৈষম্য বরং দারিদ্র্য বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে।
সংগত কারণেই গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশে অনেক সরকার এসেছে, অনেক সরকার বিদায় নিয়েছে। এঁদের মধ্যে কেউ বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, কেউবা এশিয়ার উদীয়মান শক্তি হওয়ার বাসনা ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মৌলিক যে অধিকার—অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়নি।
দেশের ব্যক্তি খাতের আপাতবিকাশ ও সাফল্যে শহর-নগরে কোথাও কোথাও গতি, প্রবৃদ্ধি আর সেবার মান বাড়লেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের দৃশ্যমান উন্নতি লক্ষণীয় নয়। তদুপরি অধিক জনসংখ্যা, দুর্বল সড়ক-জনপথ পরিকল্পনা, জমির ব্যবহার নীতির দুর্বলতা আর বিচার না পাওয়ার সংস্কৃতি মানুষের জীবনকে প্রতিনিয়তই ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এখনো দেশের এক-চতুর্থাংশের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছেন। একটি বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশে এখন দারিদ্র্যের হার ২৭ দশমিক ৯৩ বা প্রায় ২৮ শতাংশ। সরকারি হিসাবেই ২০২২ সালে এই হার ছিল ১৮ দশমিক ৭। দারিদ্র্য বৃদ্ধির এই িচত্র আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। সম্প্রতি পিপিআরসি পরিচালিত ‘ইকোনমিক ডায়নামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউসহোল্ড লেভেল ইন মিড ২০২৫’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, দারিদ্র্যের পাশাপাশি অতিদারিদ্র্যের হারও বেড়েছে। সরকারি হিসাবে ২০২২ সালে অতিদারিদ্র্যের হার ছিল ৫ দশমিক ৬। তিন বছর পর এসে অতিদারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৫-এ।
গবেষণামতে, মূলত ২০২০-২০২২ সালের করোনা মহামারি, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। করোনার প্রভাব অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু মূল্যস্ফীতির হার এখনো অনেক বেশি। অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগ বাড়ছে না। বিনিয়োগ না বাড়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাচ্ছে, অথচ প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী কর্মবাজারে প্রবেশ করছেন। শিক্ষার মানের অধোগমনও এখানে প্রভাব ফেলছে।
বিগত সরকারের শেষ সময়ে অর্থনীতিতে যে বিশৃঙ্খল অবস্থা ও লুটপাট চলছিল, তা জনজীবনে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সামষ্টিক অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এলেও সার্বিক পরিস্থিতি এখনো ভালো বলা যাবে না। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ মূল্যস্ফীতি কমাতে পারলেও বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৮ শতাংশের বেশি। যেখানে সাধারণ মানুষকে খাদ্যপণ্যের পেছনে আয়ের ৫৫ শতাংশ ব্যয় করতে হয়, সেখানে তাঁদের পক্ষে বেঁচে থাকার অন্যান্য উপকরণের জোগান দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। খাদ্যপণ্যের মতো পরিবহন, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ব্যয়ও বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে; যদিও সেই অনুপাতে আয় বাড়েনি।
স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা ছিল অন্তর্বর্তী সরকার দারিদ্র্যের হার কমাতে টেকসই পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু গত এক বছরে তাদের নীতি-পরিকল্পনায় সে রকম ছাপ দেখা যায়নি। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো গতানুগতিকভাবে চলছে। জুলাই অভ্যুত্থানের আগে থেকে চলে আসা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি চলে গেছে, তা বলার মোটেই সুযোগ নেই।
অনেকেই বলেছেন, দারিদ্র্য বৃদ্ধি ঠেকাতে সরকারের উদ্যোগ কম কিংবা উদ্যোগ থাকলেও সাধ্য নেই। তদুপরি সামাজিক সুরক্ষায় যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা-ও সব সময় উপযুক্ত ব্যক্তি পান না। স্বার্থান্বেষী মহল হাতিয়ে নেয়। প্রচুর দুর্নীতি হয়। গরিবের হক ধনীরা মেরে খায়।
অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করেছে। এ অবস্থায় তাদের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া কতটা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে সংশয় আছে। কিন্তু সরকার অন্তত স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারত, যাতে দারিদ্র্যের হার কিছুটা হলেও কমিয়ে আনা সম্ভব হতো।
এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্ব আছে। দলগুলোর নেতৃত্ব রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে মাসের পর মাস দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলেও জনগণের অর্থনৈতিক সমস্যার বিষয়ে সীমাহীন উদাসীনতা দেখিয়ে আসছেন। রয়েছে চিন্তার সক্ষমতার বিষয়টিও। দারিদ্র্য বিমোচনে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি ও নীতি-পরিকল্পনা কী, সেটা জানার অধিকার নিশ্চয়ই নাগরিকদের আছে।
সেই সঙ্গে আরও দুঃখজনক হলো দুর্নীতি দূরীকরণে কাউকে এখন পর্যন্ত জোরে শব্দ করতে শোনা যায়নি। বাংলাদেশে দুর্নীতি কমানো সম্ভব—এটা অনেকে সম্ভবত বিশ্বাসও করেন না। সাঁড়াশি অভিযানের জোর সম্ভবত ভোঁতা হয়ে গেছে কিংবা কাজ করানোতে কারও উৎসাহ নেই। অথচ আমরা জানি, দুর্নীতিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
উপরিউক্ত গবেষণাতেই বলা হয়েছে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য তথা পুষ্টিতে পিছিয়ে পড়ছে দরিদ্র মানুষ। তাদের জন্য বরাদ্দ অর্থের অনেকটাই তাদের কাছে পৌঁছায় না। অন্যদিকে সরকারের আয় কম বলে বরাদ্দও কম। রাজনৈতিক বন্দোবস্তও তাদের পক্ষে নয় বা থাকে না। অধিকতর আয়বৈষম্য তাদের ওপর করালগ্রাস হিসেবে কাজ করে। তাই বলাই যায়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই টেকসই না হলে দারিদ্র্য হ্রাসও দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
* মামুন রশীদ, অর্থনীতি বিশ্লেষক

Friday, March 28, 2025
হান্নানের সম্পদের খোঁজে দুদক by মারুফ কিবরিয়া
সূত্র বলছে, বিমান বাহিনীতে চাকরি থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন শেখ আব্দুল হান্নান। গত ৫ই ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু হলেও এবার সম্পদের খোঁজ করছে দুদক।
দুদক সূত্র জানায়, সংস্থাটির উপ-পরিচালক তানজির হাসিব সরকারের নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধান দল গঠন হয় শেখ আব্দুল হান্নানের সম্পদ অনুসন্ধানে। দুদকের কাছে অভিযোগ ছিল রাজধানীর নিকুঞ্জে দুটি ফ্ল্যাটের মালিক সাবেক এই বিমান বাহিনী প্রধান। কিন্তু অনুসন্ধান দল সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানতে পারে দুটি ফ্ল্যাট নয়। পুরো চারতলা ভবনই শেখ আব্দুল হান্নানের।
দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, বিমান বাহিনীর এই সাবেক প্রধানের আরও সম্পত্তি রয়েছে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়। সাত তলাবিশিষ্ট এই বাড়িটি শেখ আব্দুল হান্নানের নামে না থাকলেও তিনিই অর্থায়ন করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত বাড়িটির মূল্য নির্ধারণ করতে পারেনি দুদক।
অনুসন্ধান দলের এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে জানান, চলতি মাসে অনুসন্ধান শুরুর পরপর জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত চিঠির জবাব আসেনি। তবে শেখ আব্দুল হান্নানের ধারণার বাইরেও অনেক সম্পদ রয়েছে বলে মনে করছে অনুসন্ধান দল।
দুদকের অপর এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে তা পুরো অনুসন্ধানের জন্য পর্যাপ্ত নয়। চেষ্টা করছি- সব তথ্য এক করে একটি ভালো অনুসন্ধান শেষ করার।
দুদক সূত্র বলছে, বিমান বাহিনীর প্রধান থাকা অবস্থায় পুরনো ১৪টি ভবন এক আদেশে ভেঙে নতুন কাজের আদেশ দেন শেখ আব্দুল হান্নান। আর তার দায়িত্ব দেন একজন ঠিকাদারকে। সেই আদেশে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি ছিল ‘কমিশন মানি’ ৫-৩০% পর্যন্ত। এ ছাড়া বাহিনীতে নিয়োগেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে সাবেক বিমান বাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে।
গত ৫ই ফেব্রুয়ারি অর্থ পাচারের অভিযোগে শেখ আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। সেদিন সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান সংবাদ সম্মেলনে।
মো. আক্তার হোসেন বলেন, বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতিসাধন, ঘুষ গ্রহণ, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন। তার এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুদকের বিশেষ তদন্ত বিভাগের মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে গত ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আড়ালে চলে যান শেখ আব্দুল হান্নান। দুদকের কর্মকর্তাদের ধারণা বিমান বাহিনীর সাবেক এই প্রধান বর্তমানে কাতারে অবস্থান করছেন। তার এক সন্তান কানাডায় পড়াশোনা করেন।

Friday, March 21, 2025
৫৫ হাজার রোহিঙ্গাকে এনআইডি, দুদকের জালে হেলালুদ্দীন by মারুফ কিবরিয়া
সূত্র জানিয়েছে, হেলালুদ্দীন আহমদের অনিয়ম খুঁজতে দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলমকে অনুসন্ধানী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। কমিশনের তরফ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাবেক নির্বাচন কমিশনের এই সচিবের সব দুর্নীতির প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই হিসেবে গত সপ্তাহেই হেলালুদ্দীন আহমদ সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য দিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই চিঠি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েও পাঠিয়েছে দুদক।
দুদকের পরিচালক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, নির্বাচন কমিশনে দায়িত্বপালনকালে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে হেলালুদ্দীন আহমদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করে ৫৫ হাজারেরও বেশিসংখ্যক রোহিঙ্গাকে এনআইডি দেয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে রাতের ভোট আয়োজনেও তার সংশ্লিষ্টতা থাকার কিছু তথ্য দুদকের হাতে এসেছে।
দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, মোটাদাগে রোহিঙ্গাদের ভোটার করার অভিযোগটি সামনে রেখে আমাদের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এরসঙ্গে নির্বাচনকেন্দ্রিক অনিয়মগুলো নিয়েও এই অনুসন্ধানের আওতায় আনা হতে পারে। তবে এ বিষয়টি নির্ভর করছে সময়ের ওপর। কমিশনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগ অনুসন্ধান করে সেটার প্রতিবেদন জমা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি তার আগেই অনুসন্ধানটি শেষ করার।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন রোহিঙ্গা ডাকাত নুর আলম। এ সময় তার কাছ থেকে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রের স্মার্টকার্ড পায় পুলিশ, যা ইস্যু করা হয় চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় থেকে। ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে নুর ওই এনআইডি সংগ্রহ করে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে অনুসন্ধানে নামে দুদক। তবে সে সময় অবধি ভয়াবহ এই অনিয়মের সঙ্গে সাবেক সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের নাম আসেনি। তৎকালীন দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা তথ্য ঘাঁটতে গিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের আমলাসহ একাধিক কর্মকর্তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পান। এবং রোহিঙ্গাদের জালজালিয়াতির মাধ্যমে এনআইডি প্রদানে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণও পান ওই কর্মকর্তা। কিন্তু সে সময় অদৃশ্য শক্তি দুদকের সেই অনুসন্ধানটির আলোর মুখ দেখাতে দেয়নি।
দুদক সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে অবসরের পর কক্সবাজারের ঈদগাঁও, ইসলামাবাদ ও ইসলামপুর এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচনের অংশ নেয়ার ইচ্ছা থেকেই হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে নাগরিকত্ব দিয়ে ভোটার বানান হেলালুদ্দীন। এই প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বড় একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন তিনি।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, এই চক্র শুধু ঈদগাঁও, ইসলামাবাদেই নয়, বরং কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, লামা, আলীকদমে আশ্রয় নেয়া আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা নাগরিককে ভোটার বানিয়েছে। আর এই প্রক্রিয়ায় লেনদেন হয়েছে কোটি কোটি টাকা। পরে নির্বাচন কমিশনও আলাদা একটি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পায়। ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সচিব ছিলেন কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকার বাসিন্দা আওয়ামী আমলা হিসেবে পরিচিত হেলালুদ্দীন আহমদ।
দুদক বলছে, অবসরের পর নির্বাচন করার মনোবাসনা থেকে ওই এলাকায় আশ্রিত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নাগরিকদের ভোটার বানাতে শুরু করেন তিনি। ফলে একদিকে যেমন এলাকায় তার ভোটার তৈরি হয়। অন্যদিকে প্রতিটি এনআইডি কার্ড দেয়ার জন্য সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।
দুদক সংশ্লিষ্টরা জানান, হেলালুদ্দীনের গড়ে তোলা সিন্ডিকেটটি শুধু তার নির্বাচনী এলাকাতেই থেমে থাকেনি; বরং সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া রোহিঙ্গাদের টাকার বিনিময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া ও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করেছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালীদের বাধায় অনুসন্ধান গভীরভাবে শেষ করা সম্ভব হয়নি।
দুদক আরও জানায়, ২০১৯ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর তদন্তের স্বার্থে দুদকের একটি অনুসন্ধানী টিম চট্টগ্রাম নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এ সময় ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কাজে ব্যবহৃত আটটি ল্যাপটপ হারিয়ে যাওয়ার তথ্য পায় দুদক। তবে সাতটি ল্যাপটপের ব্যাপারে জিডি ও মামলা রেকর্ড করাসহ আইডি ব্লক করার কথা জানানো হলেও ইসির দাবি করা মিরসরাই থেকে হারিয়ে যাওয়া একটি ল্যাপটপের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ৪৩৯১ আইডি নম্বরের ল্যাপটপটির আইডিও ব্লক করা হয়নি তখনো। ওই একটি ল্যাপটপ দিয়েই ২০১৬ সাল থেকে টানা ৩ বছর ধরে ৫৫ হাজার ৩১০ জন রোহিঙ্গাকে ভোটার বানানো হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ৪৫ হাজারই কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকার বাসিন্দা। অনুসন্ধানী দল ইসি’র সার্ভারে ঢুকে দেখতে পায়, ভোটার হওয়ার জন্য যে নিবন্ধন ফরম ব্যবহার করা হয় তার সিরিয়াল নম্বর ৪১৮৬৬৩০১ হতে ৪১৮৬৬৪০০ পর্যন্ত ১০০টি ফরমের একটি বই একটি অফিসের নামে ইস্যু করার নিয়ম থাকলেও এর ৬৩টি ফরম ব্যবহার করা হয়েছে দেশের ভিন্ন ভিন্ন এলাকা থেকে।
এ ছাড়া ২৩৯১ নম্বরের ল্যাপটপ থেকে যে ৫৫ হাজার ৩১০ জনকে ভোটার বানানো হয়েছে তাদের কারোর ক্ষেত্রেই পূর্ণাঙ্গ কাগজপত্র আপলোড করা হয়নি নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে। অনুসন্ধান চলাকালেই সে সময়ের নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুউদ্দীন ফোন করে দুদকের অনুসন্ধানী টিমকে অভিযান অসমাপ্ত রেখেই ফিরে আসতে চাপ দেন। এতেই হেলালের নাম সন্দেহের তালিকায় আসে দুদকের।
দুদক জানায়, রোহিঙ্গা ইস্যু থাকায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকার ৩২ উপজেলাকে বিশেষ এলাকা ঘোষণা করে খাতা-কলমে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তৈরি করা নিবন্ধন ফরমের ৪১টি কলাম যথাযথভাবে পূরণ করাসহ পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন অফিসের প্রত্যয়নপত্র, বিদ্যালয়ের সনদ, জাতীয়তা সনদ, জন্মনিবন্ধন, ভূমিসনদ, উদ্যোক্তা সনদের প্রয়োজন হয়। এসব তথ্যের কোনোটির ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির সত্যায়নপত্রসহ সব ডকুমেন্টের সফটকপি নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে আপলোড করতে হয়। কিন্তু এই ৫৫ হাজার ৩১০ জনের একজনের ক্ষেত্রেও পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্ট নেই ইসিতে।
দুদক বলছে, বর্তমানে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের হাতে থাকা তথ্য নিয়ে দ্রুতগতিতে এগুচ্ছে অনুসন্ধান দল। তাদের ধারণা, এই অনুসন্ধানে নেমে তৎকালীন বেশ কিছু জনপ্রতিনিধি, পাসপোর্টের কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে।
ইসি ও স্থানীয় সরকারে যেসব তথ্য চেয়েছে দুদক: সাবেক সচিব হেলালুদ্দীনের আমলনামা যাচাই-বাছাই করতে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে রেকর্ডপত্র চেয়েছে দুদক। চাহিত এসব রেকর্ডপত্রের মধ্যে রয়েছে- ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৫৫ হাজার ৩১০ রোহিঙ্গা নাগরিকের নাম, পিতার নাম, স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা; উক্ত রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তিকরণ সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশন সচিবালয় বা অন্য কোনো সংস্থা থেকে কোনো তদন্ত হয়ে থাকলে তার প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি; হেলালুদ্দীন আহমদের নির্বাচন কমিশনে দায়িত্বপালনের বিস্তারিত তথ্য এবং তার স্ত্রী, সন্তানদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্যান্য তথ্য।
অনুসন্ধানের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, হেলালুদ্দীন আহমদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের বিষয়ে শুনেছি। কিন্তু এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আমার কাছে নেই।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে গত বছরের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আড়াই মাস পর সাবেক সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। ২৩শে অক্টোবর সন্ধ্যায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামের খুলশীর একটি বাসা থেকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ আটক করে। পরে তাকে বিএনপি নেতা মকবুলকে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
হেলালুদ্দীন আহমদ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ইসি সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে নিয়মিত গণমাধ্যমের সামনে হাজির হতেন তিনি। ওই নির্বাচনের আগে তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশ নেয়ার অভিযোগ তুলেছিল বিএনপি। ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের চার তলার পেছনের কনফারেন্স রুমে ২০১৮ সালের ২০শে নভেম্বর রাতে ওই গোপন বৈঠক হয় বলে গণমাধ্যমে খবর হয়েছিল। সে সময় বিএনপি‘র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী অভিযোগ করেছিলেন, হেলালুদ্দীনসহ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সচিব সাজ্জাদুল হাসান, সাবেক জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমদ, সাবেক পানিসম্পদ সচিব কবির বিন আনোয়ার, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন সচিব মহিবুল হক, সাবেক ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার আলী আজম, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ কাজী নিশাত রসুল ওই বৈঠকে অংশ নেন। পরে হেলালুদ্দীন আহমদ চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজেও একই ধরনের গোপন বৈঠক করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে ওই বছরের ২৪শে নভেম্বর সন্ধ্যায় ইসিতে সংবাদ সম্মেলন করে হেলালুদ্দীন আহমদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে ঢাকা ও চট্টগ্রামে গোপন বৈঠকের খবরকে প্রপাগান্ডা বলে উড়িয়ে দেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তাকে বিতর্কিত ও হেয় করার জন্য এ ধরনের প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।
ইসি থেকে বদলি হয়ে হেলালুদ্দীন আহমদ স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হন। পরে একই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান। ২০২২ সালের ১৯শে মে ওই পদ থেকে তিনি অবসরে যান। পরে তাকে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) সদস্য করে নেয় তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার। ক্ষমতার পালাবদলের মধ্যে গত বছরের ৯ই অক্টোবর পিএসসি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইনসহ অন্য সদস্যদের সঙ্গে হেলালুদ্দীনও পদত্যাগ করেন।

Friday, December 13, 2024
মালেক-পলক আজমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
দুদক সূত্র জানায়, মামলায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের বিরুদ্ধে ৬১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, তার ছেলে রাহাত মালেকের বিরুদ্ধে ১১ কোটি ৮৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। সাবেক ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ ও তার স্ত্রী আরিফা জেসমিনের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে প্রায় ১৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ। আর সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা আজম ও তার স্ত্রী দেওয়ান আলেয়ার বিরুদ্ধে দুই মামলায় ৭২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছিল। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দেশ-বিদেশে তাদের আরও সম্পদ রয়েছে কিনা মামলার তদন্তকালে তা খতিয়ে দেখা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহিদ মালেক নিজ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে ৩৪টি ব্যাংক হিসাব খুলে পরস্পর যোগসাজশে ১৪৩ কোটি ১০ লাখ ৯৩ হাজার ৬৯৭ টাকা জমা ও ১১৫ কোটি ৮৫ লাখ ৬ হাজার ৪৬৫ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে হস্তান্তর, রূপান্তর, স্থানান্তর করেছেন। তিনি নিজের অবৈধ অর্জিত ১১ কোটি ৪৯ লাখ ৮৪ হাজার ১৬১ টাকা তার পুত্র রাহাত মালিকের নামে অর্জন দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া জাহিদ মালেকের স্ত্রী শাবানা মালেক, মেয়ে সাদিয়া মালেক ও সিনথিয়া মালেক এবং পুত্রবধূ সাকিবা মালেক জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদের সম্পদ বিবরণীর নোটিশ জারি করা হয়েছে।
সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২৪টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘুষ, দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে ৩২ কোটি ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৩১৪ টাকা জমা ও ২৯ কোটি ৮৪ লাখ ৭২ হাজার ৯৫ টাকা তুলে নিয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা আজমের ৬০টি ব্যাংক হিসাবে ৭২৫ কোটি ৭০ লাখ ৪২ হাজার ২৩২ টাকা জমা ও ৭২৪ কোটি ৮৯ লাখ ৯৩ হাজার ৭১৫ টাকা তুলে নিয়েছেন।
এদিকে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, ভোলা-৩ আসনের সাবেক সদস্য নূর নবী চৌধুরী শাওন, হবিগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু জাহির, নোয়াখালী-১ আসনের সাবেক সদস্য এইচ এম ইব্রাহিম ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞার দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের স্ত্রী, ছেলে-মেয়েদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

Wednesday, December 11, 2024
ড. মোমেনকে চেয়ারম্যান করে দুদক গঠন
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ (২০০৪ সনের ৫ নম্বর আইন)-এর ৬(১) ধারার বিধান অনুসারে তাদেরকে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো। এর মধ্যে দুদক আইন, ২০০৪-এর ৫(১) ধারার বিধান মতে ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হলো। নিয়োগকৃতদের মধ্যে চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারকের এবং কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারকের সমরূপ হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর (খালেদা জিয়া) সহকারী একান্ত সচিব ও পরিচালক, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক, কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক, ঢাকার জেলা প্রশাসক, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক, অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক, বিআরটিএর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিমানের এমডি ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুগ্মসচিব থাকার সময় ২০০৯ সালে আবদুল মোমেনকে ওএসডি করে আওয়ামী লীগ সরকার। পরে ২০১৩ সালের ৬ই জুন তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
তার জন্ম ৩১শে ডিসেম্বর ১৯৫৭। বেড়ে ওঠা ঢাকায়। ড. মোমেনের লেখক নাম আন্দালিব রাশদী। তিনি সরকারি চাকরির পাশাপাশি লেখালেখিতেও বেশ সমাদৃত। প্রধানত কথাসাহিত্যিক; পাশাপাশি প্রবন্ধ লিখেন, অনুবাদ করেন, কলাম লিখেন, শিল্পকলা বিষয়ক লেখালেখিও করে থাকেন। এ ছাড়াও কিশোর সাহিত্যে রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এ পর্যন্ত তার শতাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে।
গত ২৯শে অক্টোবর মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন কমিশনের অবসান হয়। সেদিন দুদকের তৎকালীন চেয়ারম্যানসহ কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক ও কমিশনার মোছা. আছিয়া খাতুন (অনুসন্ধান) পদত্যাগ করেন। ৩১শে অক্টোবর তাদের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়। গত ১০ই নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে ৫ সদস্যের দুদক পুনর্গঠনে সার্চ কমিটি গঠন করে সরকার। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হককে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠিত হয়। কমিটির অপর সদস্যরা ছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক বিচারপতি ফারাহ মাহবুব, মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম ও অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

Thursday, November 21, 2024
দুদক এখন নেতৃত্বশূন্য: দুদকে অদৃশ্য ভূত, ঝুলে থাকে মামলা-অনুসন্ধান by মারুফ কিবরিয়া
একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, নতুন কমিশনকে দায়িত্ব নিয়েই পড়তে হবে পুরনো অনুসন্ধান ও মামলার চক্রে। ফলে নতুন করে অনুমোদন হওয়া অনুসন্ধানগুলোর ওপরও পড়বে নেতিবাচক প্রভাব।
দুদকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন কমিশন না থাকায় অনেক কাজই থমকে আছে। তাদের দাবি, কাজ না থাকায় অনেকটা ঢিলেঢালাভাবে অফিস করছেন কেউ কেউ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, এখন অনেক কর্মকর্তাই অফিসে আসছেন ঠিকই। কিন্তু কাজ না থাকায় খোশগল্পে দিন পার করেন।
অবশ্য দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, কমিশনের কয়েকটি সিদ্ধান্ত জনিত কার্যক্রম ছাড়া সব স্বাভাবিক থাকার কথা। কারণ দুদকের এমনো অনুসন্ধান রয়েছে যা বছরের পর বছর কেটে গেলেও শেষ হয়নি। এ ছাড়া অনেক তদন্তও আছে যেগুলো নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও চার্জশিট দেয়া বাকি রয়ে গেছে। এসব কাজ প্রায় সব কর্মকর্তার হাতেই রয়েছে। এই যে একটা সময় যাচ্ছে, নতুন অনুসন্ধানের চাপ নেই, তদন্তের চাপ নেই এখন তো করতেই পারে।
দুদক সূত্র বলছে, দুদকের পুরনো এসব অনুসন্ধান-তদন্ত সময় মতো শেষ না হোক তা অনেক কর্মকর্তাই আগ্রহ প্রকাশ করেন না। এতে নতুন একটি কমিশন আসলে তাদের ঘাড়েই পুরনো অনুসন্ধানের চাপ পড়ে।
সূত্রমতে, এ মুহূর্তে দুদকে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে নিম্ন আদালতে মোট ৩ হাজার ৩৭৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার মধ্যে ২ হাজার ৯৪৪টি মামলার বিচার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান আছে। হাইকোর্টের আদেশে ৪৩০টি মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। বর্তমানে উচ্চ আদালতের ৭৪৬টি রিট, ৯১৪টি ফৌজদারি বিধির মামলা, ১ হাজার ২৪৫টি ক্রিমিনাল আপিল মামলা ও ৭০৭টি ফৌজদারি রিভিশন মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।
২০২৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে দুদকে বর্তমানে ৪ হাজার ৪২৮টি অভিযোগ অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। প্রতি বছর প্রায় হাজারখানেক যোগ হয়। চলতি বছরও পাঁচ শতাধিক অনুসন্ধান আমলে নেয়া হয়েছে। অথচ এসব অনুসন্ধানের জন্য নির্ধারিত সময় ৪৫ দিন দেয়া হলেও অনেক কর্মকর্তা দীর্ঘায়িত করেন। ফলে কোনো কোনো অভিযোগের অনুসন্ধান বছরও পার হয়।
বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২০২২ সালের নিয়োগ পাওয়ার পর উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালক ও উপ-সহকারী পরিচালক মিলিয়ে চার শতাধিক কর্মকর্তা রয়েছেন। যাদের দায়িত্বে রয়েছে কোনো না কোনো অনুসন্ধান-তদন্ত। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল থাকা সত্ত্বেও সঠিক সময়ে কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয় না বলে দাবি করেছেন দুদকের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুদকের কর্মকর্তাদের প্রত্যেকেরই মাসে একটি করে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু ২০২৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে দুদক বছর জুড়ে ৪০৪টি মামলা করেছে। অর্থাৎ চার শতাধিক কর্মকর্তা গড়ে একটি করে মামলা করেছেন। এর মধ্যে একজন কর্মকর্তাই রয়েছেন যার হাত দিয়ে তিন বা তার বেশিসংখ্যক মামলা হয়েছে।
যা বলছেন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা: দুদকের অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রমে ধীরগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপ-পরিচালক পর্যায়ের তিন কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেছেন, একেকজন কর্মকর্তার কাছে তিন থেকে পাঁচটির মতো অনুসন্ধান থাকে। এর মধ্যে অনেক পুরনো তদন্ত তো থাকেই। এসব কার্যক্রম চালাতে গিয়ে সময়মতো তথ্য না পাওয়াসহ নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয় তাদের। এ ছাড়া কোনো কর্মকর্তার বদলিজনিত কারণে তার হাতে থাকা ফাইলও আরেকজনের ঘাড়ে আসে। ফলে নানামুখী সমস্যার কারণে সঠিক সময়ে প্রতিবেদন দেয়া সম্ভব হয় না। তবে তাদের বক্তব্য অনুযায়ীও সমস্যা হলে তার সমাধান দুদকের বিধিতে রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা যদি চাপ অনুভব করেন বা একাধিক কাজ করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়েন সেক্ষেত্রে কমিশনকে অবহিত করতে পারেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, বিধি অনুযায়ী অনেক কাজ থাকলে কমিশনকে জানানোর কথা থাকলেও তা জানানো হয় না। বিষয়টি অনেক সময়ই কমিশন ভালো দৃষ্টিতে দেখে না। এ কারণে কর্মকর্তারা নীরবে সব সয়ে যান।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, বিষয়গুলো কর্মকর্তাদের। এখানে আমার কোনো মন্তব্য নেই। আপনি নতুন কমিশন এলে তাদের কাছে জানতে পারবেন।

Saturday, November 16, 2024
দুদকে যাদের নাম আলোচনায় by মারুফ কিবরিয়া
এদিকে দুদক গঠনের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকজন ব্যক্তির নাম আলোচনায় আছে। আলোচনা আছে সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হতে পারে। এ ছাড়া সরকারের দায়িত্ব পালন করা একাধিক আমলা ও বিচারকসহ ১৩ ব্যক্তির নাম আলোচনায় উঠে এসেছে। গত ২৯শে অক্টোবর পদত্যাগ করেন দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ, কমিশনার মো. জহুরুল হক ও মোছা. আছিয়া খাতুন। জানা গেছে, এই তিনটি পদে নিয়োগে গঠিত কমিটি ছয় জনের নাম জমা দেবে প্রেসিডেন্টের কাছে। প্রেসিডেন্ট ওই তালিকা থেকে তিন জন নির্বাচন করবেন। তাদের মধ্য থেকে একজনকে দেবেন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব।
আলোচনায় যাদের নাম: তবে সার্চ কমিটি নাম প্রস্তাব করার আগেই দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার হিসেবে অন্তত ১৩ জনকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। তারা হলেন- সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আবদুল মতিন ও বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া ও মো. আবদুল আজিজ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী, মেজর জেনারেল (অব.) নিজাম উদ্দিন, সাবেক আইজিপি শহুদুল হক, দুদকের সাবেক ডিজি আহমেদ নাজমুল হোসেইন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মেজবা উন নবী, ঢাকা মহানগর আদালতের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক মোতাহার হোসেন, দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মুনীর চৌধুরী এবং সাবেক সচিব এ এইচ এম নুরুল ইসলাম।
সার্চ কমিটিতে যারা: দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগে গঠিত সার্চ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হক। এতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক বিচারপতি ফারাহ মাহবুব, বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম ও সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন।
গত ১০ই নভেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাছাই কমিটি, চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে, উপস্থিত সদস্যদের অন্যূন ৩ জনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কমিশনারের প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে ২ জন ব্যক্তির নামের তালিকা প্রণয়ন করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে। অন্যূন ৪ জন সদস্যের উপস্থিতিতে বাছাই কমিটির কোরাম গঠিত হওয়ার কথা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বাছাই কমিটির কার্য-সম্পাদনে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে।
এদিকে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদ শূন্য হওয়ায় দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন গত ৩০শে অক্টোবর দুদকের সব মহাপরিচালক, পরিচালক, প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালককে নিয়ে বিশেষ সমন্বয় সভা করেন। প্রতিটি বিভাগ ও সব জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি সভায় অংশ নেন। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, অনুসন্ধান, মামলা ও চার্জশিট অনুমোদন ছাড়া কমিশনের অন্য সব কাজ স্বাভাবিক চলবে। কেননা, কমিশনার ছাড়া কোনো অভিযোগ অনুসন্ধান, মামলা দায়ের ও চার্জশিট অনুমোদন করার সুযোগ দুদক আইনে নেই।
Wednesday, November 13, 2024
নর্থ সাউথের ট্রাস্টিদের বিরুদ্ধে মামলা: দুদককে ব্যবহারের অভিযোগ by মারুফ কিবরিয়া
সূত্র বলছে, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের উচ্ছেদের মাধ্যমে সেখানে দখল ও লুটপাট চালানোর প্রাথমিক অভিযোগ হলো সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ও প্রতিমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে। সে সময় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন শিল্পপতি ও পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত এম এ হাসেম। তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ছিলেন। বিএনপি সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ও এম এ হাসেমের বিএনপি’র সংসদ সদস্য থাকার বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়েই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়কে বিএনপি সমর্থিত প্রতিষ্ঠান অজুহাতে আওয়ামী সরকার ও সরকারদলীয় কিছু সুবিধাভোগীরা দখল ও লুটপাটের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয় বলে দাবি করছে একাধিক সূত্র।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় দখলের জন্য বিগত সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের নির্দেশ অনুযায়ী ভুয়া মানবাধিকার সংগঠন ‘আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সূফী সাগর সামসকে দিয়ে একের পর এক সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করানো হয়। দুদকেও তাকে দিয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিজদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়। ফলে এক ধরনের চাপ থেকে সংস্থাটি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে।
এদিকে জানা গেছে, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিজদের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ করা ও সংবাদ সম্মেলন করে বেড়ানো সূফী সাগর সামসের পড়াশোনা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। অথচ নিজেকে পরিচয় দিতেন ডক্টরেট ডিগ্রিধারী হিসেবে। মানবাধিকার সংগঠনের উপদেষ্টা পরিচয়ের আড়ালে বিগত সরকারের দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী ও সরকারদলীয় বাহিনীর প্রত্যক্ষ মদতে সূফী সাগর তার মূল কাজ চাঁদাবাজি করার উদ্দেশ্যে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের ধনাঢ্য ব্যক্তি, শিল্পপতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের টার্গেট করে তাদের বিরুদ্ধে বানোয়াট ও ভুয়া তথ্য দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করতেন। পরবর্তীতে সেসব অভিযোগ চিঠি আকারে বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে পাঠাতেন। তিনিসহ চক্রের অন্যান্য সদস্যরা ওইসব চিঠির কপি দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিকট মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করতেন। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভুয়া মানবাধিকার সংগঠনের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে অসত্য তথ্য দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করে হয়রানির ভয় দেখাতেন। চলতি বছর ১লা এপ্রিল এসব অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারও করে ডিবি পুলিশ। সূত্র বলছে, ভুয়া ডক্টরেট দাবি করা সূফী সাগর সামসের আবেদন করা অভিযোগই আমলে নিয়ে এবং সরকারের মদতপুষ্ট সেই স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাবে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান, মামলা এবং চার্জশিট দিয়েছে দুদক।
অভিযোগ রয়েছে, যে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মদতপুষ্ট সেই কিছু কুচক্রী, ক্ষমতালিপ্সু, দখলদারদের হস্তক্ষেপে সঠিক অনুসন্ধান এবং বিবেচনা ও তদন্ত না করেই তড়িঘড়ি করে জমি ক্রয় সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ এনে দুদক এই মামলা দায়ের ও চার্জশিট দাখিল করে। সূত্র আরও জানায়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় জমি ক্রয় সংক্রান্ত সকল সরকারি আইনকানুন তথা ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা মেনে তৎকালীন সময়ের বাজার মূল্য অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন ফি ও অন্যান্য কর পরিশোধ করে আশালয় হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে সমপ্রসারিত ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য পূর্বাচলে ২৫০ বিঘা জমি ক্রয় করে। যে জমি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আশালয় হাউজিং-এর সঙ্গে মোসাদ্দেক আলী ফালুর (বিশেষ সহকারী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া) মালিকানা সংশ্লিষ্টতা থাকা এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিন মোহাম্মাদ হিলালীর বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতাকেও সেই সুবিধাবাদীরা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিদের বিরুদ্ধে তাদের হেয় করতে ব্যবহার করেছে। এ ছাড়াও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা বোর্ডের ব্যবহারের জন্য উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডের টাকা অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও আত্মসাতের অভিযোগ তুলে দুদক আরেকটি মামলা দায়ের করে বলে জানা যায়। নর্থসাউথ সংশ্লিষ্টরা জানান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ এর বিধান মেনে ট্রাস্টিবোর্ড সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে গাড়ি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয় এবং গাড়ি ক্রয়ের জন্য সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট ও ক্রয় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী গাড়িগুলো ক্রয় করা হলেও শুধুমাত্র ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যদের অপসারণের অপকৌশল করে তৎকালীন সরকারের নীল নকশা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে দুদককে ব্যবহার করে এই মামলা করা হয়।
হয়রানিমূলক মামলা: দুদককে ব্যবহার করে এই মামলায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের অসুস্থ ও বয়স্ক সদস্যবৃন্দ এম এ কাশেম, মোহাম্মদ শাহজাহান, রেহানা রহমান এবং বেনজির আহমেদকে শারীরিক ও মানসিক হয়রানির অভিযোগও উঠেছে। জানা যায়, ওই চার জন ট্রাস্টি এই মামলায় আগাম জামিনের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন। যে মামলার চার্জশিট না থাকা সত্ত্বেও সরকারের মদতপুষ্ট সেই স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপে বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথপ্রদর্শক, দেশ ও জাতি গঠনে সর্বদা নিয়োজিত এবং নিয়মিত উচ্চ কর প্রদানকারী এই ট্রাস্টিদের (একজন মহিলাসহ) নজিরবিহীনভাবে জেল হাজতে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে ট্রাস্টি বোর্ডের অন্য সদস্যদের জেল- জুলুমের ভয় দেখিয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড থেকে ওই চারজনসহ ছয় জন প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ আওয়ামী ঘরানার ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করে দেয়া হয়। একই সঙ্গে এই মামলার অপর এক অভিযুক্ত আবাসন ব্যবসায়ী আমিন মোহাম্মদ হিলালীকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে জোর করে অভিযোগের বিষয়ে স্বীকারোক্তি আদায় এবং তা ভিডিও ধারণ করা হয়। এরপর তাকে সাভারের হেমায়েতপুরের তেঁতুলিয়া এলাকায় হাত-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়।
মামলা এজাহার দায়ের করা দুদক কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন পাটোয়ারী সম্প্রতি অবসরে গেছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন মানবজমিনকে বলেন, মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য দুদকের আইন অনুবিভাগে তথ্য চেয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাকে কিছু জানানো হয়নি।
সাউথইস্ট ব্যাংকেও রাজনীতিক হানা: নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সাউথইস্ট ব্যাংকও দখল করে নেয় আওয়ামী লীগ সরকারের মদতপুষ্ট একটি গোষ্ঠী। এমনটাই অভিযোগ করেন ব্যাংকটির উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা জানান, বেসরকারি খাতের অন্যতম সফল ব্যাংক সাউথইস্ট ব্যাংকটি দখল করতে বেছে নেয়া হয় ২০০২ সালে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হওয়া আলমগীর কবিরকে। ২০০৪ সাল থেকে টানা ২০ বছর সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন আলমগীর কবির। ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী এই পদে থেকে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দেয়ার পাশাপাশি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পর্ষদে যুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, আলমগীর কবিরের যাবতীয় অনিয়ম, দুর্নীতি নিয়ে যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে এজন্য ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং প্রাক্তন এফবিসিসিআই সভাপতি ও শিল্পোদ্যোক্তা এম এ কাশেম, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আজিম উদ্দিন আহমেদ ও পরিচালক রেহানা রহমানকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি হিসেবে জমি সংক্রান্ত দুদকের দাবিকৃত কিন্তু অপ্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ থেকে বাদ দেয়া হয়। আলমগীর কবির তার ইন্ধন ও নির্দেশনায় দ্বিতীয় প্রজন্মের এই ব্যাংকটিকে লুটপাট ও অর্থ পাচারের আখড়ায় পরিণত করেন। আর এমন কাজে বিগত সরকারের প্রকাশ্য ইন্ধন ও সহায়তা পান আলমগীর কবির। শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত পুঁজিবাজার থেকে একদিনেই সাউথইস্ট ব্যাংকের ২ কোটি ৩৭ লাখ ৭৮ হাজার ৮১০টি শেয়ার কিনে নেন যা পরিচালক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ২ শতাংশের বেশি। এর মাধ্যমে নাফিজ সরাফাতের স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদকে পরিচালক হিসেবে যুক্ত করা হয়। দায়িত্বে থাকাকালীন আলমগীর কবিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং অনিয়ম তদন্তে হাইকোর্ট অনুসন্ধানের জন্য দুদক-কে নির্দেশ দিলেও ক্ষমতার প্রভাবে তা ধামাচাপা পড়ে।
Monday, November 11, 2024
দুদকে অচলাবস্থা, কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু
দুদক সূত্রে জানা গেছে, একাধিক কর্মকর্তার হাতে বেশ কয়েকটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন ও অভিযোগপত্র তৈরি রয়েছে। যেগুলো কমিশনের আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান এবং দুই কমিশনারের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক সভায় সিদ্ধান্ত ছাড়া সম্ভব নয়। এ ছাড়া প্রতিদিন শতাধিক অভিযোগ আসে দুদকে। এসব অভিযোগও চেয়ারম্যান-কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত কমিশনের অনুমোদন ছাড়া অনুসন্ধান শুরু করা যায় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, যে কাজগুলো কমিশনের ক্ষমতা ছাড়া করা যায় না সেগুলো বন্ধ আছে। নতুন করে মামলার অনুমোদন, চার্জশিট অনুমোদন, ক্রোক সম্পত্তি অ্যাটাচমেন্ট, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয়গুলো করা যাচ্ছে না। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, দুদক আইন ও বিধিতে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, সেগুলো ফাংশন করা সম্ভব না। তবে যেসব অনুসন্ধান ও তদন্তকাজ আগেই অনুমোদন হয়েছে, সেগুলো চলমান রয়েছে। কমিশন না থাকায় নতুন করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া যাচ্ছে না।
দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধান শেষ হয়ে মামলার অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে একশর বেশি ফাইল স্থবির হয়ে আছে। এ ছাড়া চার্জশিট তৈরি আছে অন্তত অর্ধশতাধিক। অন্যদিকে যাচাই-বাছাই শেষে নতুন করে অনুসন্ধানের জন্য ফাইল রয়েছে ৪০টির বেশি।
দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার বিদায় নিয়েছেন ১১ দিন হয়েছে। এরমধ্যে গতকাল কমিশন নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন হয়েছে। তবে কার্যক্রম গতিশীল হতে কমিশন গঠন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে। এ বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, কমিশন গঠন না হওয়ায় সিদ্ধান্ত দেয়ার মতো কাজগুলো বন্ধ আছে। নিয়োগ হয়ে গেলে সেসব কাজও গতিশীল হবে।
সার্চ কমিটিতে যারা আছেন: দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগে গঠিত সার্চ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হক। এতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক বিচারপতি ফারাহ মাহবুব, বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম ও সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাছাই কমিটি, চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে, উপস্থিত সদস্যদের অন্যূন ৩ জনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কমিশনারের প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে ২ জন ব্যক্তির নামের তালিকা প্রণয়ন করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে। অন্যূন ৪ জন সদস্যের উপস্থিতিতে বাছাই কমিটির কোরাম গঠিত হওয়ার কথা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বাছাই কমিটির কার্য-সম্পাদনে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে।
২০ বছরে ছয় কমিশন
২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনস্থ ‘দুর্নীতি দমন ব্যুরো’ বিলুপ্ত করে একই বছরের ২১শে নভেম্বর দুদক প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ কমিশনের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুলতান হোসেন খান।
আইন হওয়ার তিন বছর পর ২০০৭ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা হয়। দেরিতে বিধি হওয়ার কারণে প্রথম তিন বছর প্রথম কমিশনের কার্যক্রম ছিল সীমিত। ক্ষমতার পটপরিবর্তনে ‘এক-এগারোর’ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে ২০০৭ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করে সুলতান হোসেন খান নেতৃত্বাধীন কমিশন। এরপর ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হাসান মশহুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে পুনর্গঠিত হয় দ্বিতীয় কমিশন।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের এপ্রিলে হাসান মশহুদ চৌধুরী পদত্যাগ করেন। তখন পদত্যাগের কারণ হিসেবে সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছিলেন, কমিশনের কাজে গতি আনার জন্যই তার পদত্যাগ। তবে তার সঙ্গে নিয়োগ পাওয়া দুই কমিশনার হাবিবুর রহমান ও মনজুর মান্নান থেকে যান।
এরপর ২০০৯ সালের বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব গোলাম রহমান দুদকের তৃতীয় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। আর হাসান মশহুদ চৌধুরীর কমিশনের দুই কমিশনার হাবিবুর রহমান ও মনজুর মান্নানের মেয়াদ শেষ হলে ২০১১ সালে নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক জেলা জজ মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু (বর্তমান রাষ্ট্রপতি) এবং দুদকের এক সময়ের মহাপরিচালক মো. বদিউজ্জামান। এরপর মেয়াদ শেষে গোলাম রহমান চলে গেলে ২০১৩ সালের জুনে চেয়ারম্যান হন বদিউজ্জামান। তিনি প্রথমে কমিশনার এবং পরে চেয়ারম্যান পদে ২০১৬ সালের মার্চ পর্যন্ত দুদকের চতুর্থ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। বদিউজ্জামানের মেয়াদ শেষে ২০১৬ সালের মার্চে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সচিব ইকবাল মাহমুদ। পঞ্চম এ কমিশনে তার সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন সাবেক সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান।
ইকবাল মাহমুদ কমিশনের মেয়াদ শেষে ২০২১ সালের মার্চে ষষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান আরেক সাবেক সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। তার সঙ্গে কমিশনার হিসেবে যোগ দেন সাবেক জেলা জজ মো. জহুরুল হক।
এদিকে, ইকবাল মাহমুদের কমিশনের সঙ্গে নিয়োগ পাওয়া কমিশনার মোজাম্মেল হক খানের মেয়াদ পূর্ণ হলে গত বছরের জুলাইয়ে সে পদে স্থলাভিষিক্ত হন সাবেক সচিব মোছা. আছিয়া খাতুন।
যেভাবে নিয়োগ হবে সপ্তম কমিশন
দুর্নীতি দমন কমিশনের ৬ ধারায় কমিশনারদের নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ৫ বছরের জন্য নিয়োগ পাবেন তারা। এ আইনের ৭ ধারা অনুযায়ী কমিশনারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে ৫ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির মনোনীত আপিল বিভাগের একজন ও হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব বাছাই কমিটির সদস্য হবেন। তবে তাকে না পাওয়া গেলে বা অসম্মত হলে বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব সদস্য হবেন।
আপিল বিভাগের বিচারপতি এ কমিটির সভাপতি হবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বাছাই কমিটির কার্য সম্পাদনে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা করবে। কমিশনার নিয়োগে সুপারিশের উদ্দেশ্য বাছাই কমিটির সদস্যদের মধ্যে কমপক্ষে তিনজনের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কমিশনারের প্রতিটি শূন্য পদের জন্য দুইজন ব্যক্তির নামের তালিকা প্রণয়ন করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে।

Monday, October 21, 2024
দুদকে থমকে গেছে পুরনো অনুসন্ধান by মারুফ কিবরিয়া
সংশ্লিষ্ট দুদক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক বছরে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, রাজস্ব বোর্ডের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করেছিল সংস্থাটি। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার দুর্নীতি অনুসন্ধানও শুরু হয়। কিন্তু গত আড়াই মাসে সে অর্থে এসব অনুসন্ধানের কাজ খুব বেশি এগোয়নি। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পর দলটির এমপি-মন্ত্রীদের নিয়ে ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায় কমিশনের।
এক দুদক কর্মকর্তা মানবজমিনকে জানান, তার হাতে ৫ই আগস্টের আগে একাধিক অনুসন্ধান ও তদন্তের ফাইল ছিল। কিন্তু সরকার পতনের পর নতুন আরও দু’টি অনুসন্ধান করতে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি বলেন, আগের কাজগুলো অর্ধেকের বেশি শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এখন নতুন ফাইলের কাজের জন্য আগেরগুলো বন্ধই আছে।
অন্য এক কর্মকর্তা জানান, বিগত সময়গুলোর চেয়ে দুদকের কর্মকর্তাদের কাজের চাপ বেশি। তবে এই চাপ শুধু পতিত সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের কারণে। আগের অনুসন্ধানগুলোর খবর তো নেই। সেগুলোতে হাতই দেয়া যাচ্ছে না।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে ঢাকা ওয়াসার ছয়টি প্রকল্পে অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুদক। এ ছাড়া নিয়োগ সংক্রান্ত একটি অনিয়মের অনুসন্ধানও করে সংস্থাটি। দু’টি অনুসন্ধান এক কর্মকর্তার অধীনে একাধিক কর্মকর্তা কাজ শুরু করেন। কিন্তু দুই বছর পার হওয়ার পরও তা শেষ হয়নি। এর মধ্যে শুধু নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে গত বছর মে মাসে ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানসহ ১০ জনকে আসামি করে মামলার সুপারিশ দেয়া হয়। কিন্তু সেটিও দুদকের এক কমিশনারের অনাগ্রহে করা যায়নি। শুধু তাই নয়, আইন অনুবিভাগের অনাপত্তি সত্ত্বেও অনুসন্ধানের কার্যক্রমে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানের এক কর্মকর্তা বলেন, ওয়াসার প্রকল্পে দুর্নীতি অনুসন্ধানটি অনেক বড়। কয়েকশ’ নথি সংগ্রহ করতে হয়েছে। তবে এর মধ্যে নতুন করে সরকার পরিবর্তন হওয়ায় এখন কমিশনের পক্ষ থেকে কাজের ধরন পাল্টেছে। কমিশন নতুন করে সাবেক এমপি-মন্ত্রীদের ফাইল ওপেন করেছে। ফলে আগের অনুসন্ধানগুলোর কাজ আপাতত করা হচ্ছেই না।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউজার ফি (রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ নেয়া অর্থ) তহবিলে জমা না দেয়া, বিল-ভাউচার ছাড়া ব্যয়, যন্ত্রপাতি না কেনা সত্ত্বেও ঠিকাদারকে অর্থ পরিশোধসহ বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ধরে অন্তত ২৪৬ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগে গত বছর অনুসন্ধানে নামে দুদক। এক বছরের বেশি সময় হয়ে গেছে তা শেষ হয়নি। এর মধ্যে বিএসএমএমইউ’র একাধিক কর্মকর্তাকে তলবও করা হয়েছে। তবে সম্প্রতি সরকার পতনের কারণে নতুন ফাইল তৈরি হওয়ায় এই অনুসন্ধানটিও করতে পারছেন না বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র আরও জানায়, চলতি বছর সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। এর মধ্যে বেনজীরের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলা করলেও মূলত সম্পদের অনুসন্ধানের কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি সংস্থাটি। দুদকের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগস্ট মাস থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত শতাধিক প্রভাবশালীর সম্পদের খোঁজ শুরু করায় বেনজীরের ফাইলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছে কমিশন। অন্যদিকে রাজস্বের সাবেক কর্মকর্তা মতিউরের ফাইলের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এ মুহূর্তে যাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে: গত ১৩ই আগস্ট থেকে আওয়ামী লীগ আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী (জাভেদ), নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রহমান, রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে। এর মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে দুদক।
এ ছাড়াও আছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানের নামও রয়েছে অনুসন্ধান তালিকায়।
অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, ধীরেন্দ্রনাথ শম্ভু, নিজাম উদ্দিন হাজারী, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, বেনজীর আহমেদ, ড. জান্নাত আরা তালুকদার হেনরী, অসীম কুমার উকিল, অপু উকিল, শাহে আলম তালুকদার, ডা. মনসুর আহমেদ, আবুল কালাম আজাদ, সোলায়মান হক জোয়াদ্দার (ছেলুন), ইকবালুর রহিম, মো. সাইফুজ্জামান শেখর, তানভীর ইমাম, এনামুল হক, মো. আখতারুজ্জামান বাবু, শফিকুল ইসলাম শিমুল, নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মোহাম্মদ হাবিব হাসান, মো. নুরুল ইসলাম তালুকদার, আব্দুল ওদুদ, আয়শা ফেরদৌস, রণজিৎ কুমার রায়, সাদেক খান, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, নাছিমুল আলম চৌধুরী, মাহফুজুর রহমান মিতা, মো. আবু জাহির, এইচ বি এম ইকবাল, সোলায়মান জোয়ার্দার, শাহীন চাকলাদার, এইচ এম ইব্রাহিম ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে তমাল মুনসুরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
অনুসন্ধান তালিকায় আরও আছেন- নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহুরুল ইসলাম চাকলাদার। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবির বিন আনোয়ার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব শাহ কামাল, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার প্রধান হারুন অর রশীদ, সাবেক ডিআইজি আব্দুল বাতেন, এনএসআই’র সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) টি এম জোবায়ের, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক এপিএস-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু, বিএফআইইউ’র সাবেক প্রধান মাসুদ বিশ্বাস, বিসিআইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান হাইয়ূল কাইয়ূম ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দ্বিতীয় সচিব আরজিনা খাতুনের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। অন্যদিকে বিএসএমএমইউ’র সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য শিরীণ আখতারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

Tuesday, October 15, 2024
বিটিভি’র মাহফুজার অনিয়ম-দুর্নীতি: দশ মাসেও শেষ হয়নি অনুসন্ধান by মারুফ কিবরিয়া
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বিটিভি’র সাবেক জিএম দায়িত্বে থাকাকালীন মাহফুজা আক্তারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- শিল্পী সম্মানির ১৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করে তা আত্মসাতের ঘটনা। দুদকের একটি দল বিষয়টি অনুসন্ধান করছে। এ ছাড়া ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের মে-জুন ২০২৪ মাসে অনুষ্ঠান না করে, ভুয়া বিল-ভাউচার এবং বাজেটের মাধ্যমে ১৮ কোটি টাকা লুটপাট করার অভিযোগ রয়েছে মাহফুজা আক্তারের বিরুদ্ধে। বিটিভি’র একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অর্থ আত্মসাতের এসব কর্মকাণ্ডে বিটিভি’র সাবেক ডিজি জাহাঙ্গীর আলমের সম্পৃক্ততাও রয়েছে। এ ছাড়া আত্মসাতের এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ) মো. আতাউর রহমান, নিয়ন্ত্রক (ডিজাইন) মোহাম্মদ সেলিম, পিএম মোহাম্মদ মোল্লা আবু তৌহিদ এবং পিএম (চলতি দায়িত্ব) সাহরিয়ার মোহাম্মদ হাসানের নামও রয়েছে। দুদকের কর্মকর্তারা জানান, অনুসন্ধানে যাদের নাম আসছে তাদের কার কি দায় আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মূলত একটি অনুসন্ধানের মধ্যে একাধিক অভিযোগ থাকায় বেশি দেরি হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
সূত্র জানায়, এর আগেও মাহফুজা আক্তার বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালনকালেও ১ কোটি ২০ লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচের নামে আত্মসাৎ করেছেন। অন্যদিকে, তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক সর্বশেষ অনুমোদিত বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিল্পী, নাট্যকার, গীতিকার, পাণ্ডুলিপি রচয়িতা ও কলাকুশলী তালিকাভুক্তি এবং গ্রেডেশন নির্ধারণ সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘন করে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের মাধ্যমে ১৭৬১ জন শিল্পীকে তালিকাভুক্ত করেছে বিটিভি’র সাবেক মহাপরিচালক, ডিডিজি ড. সৈয়দা তাসমিনা আহমেদ (কমিটির আহ্বায়ক), ঢাকা কেন্দ্রের সাবেক জিএম এবং পিএম মোহাম্মদ মোল্লা আবু তৌহিদ (কমিটির সদস্য সচিব)। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিজের ইচ্ছামতো কমিটি গঠনের নামে ১৭৬১ জন শিল্পীকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগনামায় উল্লেখ রয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, সাবেক মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে এবং নীতিমালা লঙ্ঘন করে তালিকাভুক্তির আগে এবং পরে নিজের ছেলেকে দিয়ে বহু অনুষ্ঠান নির্মাণ করে ১০৭টি চেক নিয়েছেন। ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে তিনি তার ছেলেকে সংবাদ পাঠকসহ নজরুল, রবীন্দ্র, পল্লীগীতি এবং আধুনিক গানে তালিকাভুক্ত করেন। আর এসব অনিয়মের সঙ্গে মাহফুজা আক্তারের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে দুদক সূত্রে। সূত্র আরও জানায়, মাহফুজা আক্তার চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে নিজেই প্রযোজক সেজে ৬৩৯টি অনুষ্ঠান নির্মাণ দেখিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার এবং নামে-বেনামে প্রায় ৯৮ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন।
সূত্র জানায়, মাহফুজা আক্তার বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জিএম হিসেবে চলতি দায়িত্ব পালনকালে এবং এইচডিটিভি প্রকল্পের পিডি থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার এবং স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে ২১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে এই অনিয়মের বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রে বেশ কয়েকটি পত্র প্রেরণ করেছেন দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
দুদকের অনুসন্ধান সূত্র বলছে, মাহফুজা আক্তারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। পাচারকৃত অর্থে কানাডার টরেন্টোতে বাড়ি কিনেছেন। দুদকের অনুসন্ধান টেবিলে এসব তথ্যও রয়েছে। পাচারের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বিএফআইইউতে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ১৮ই জুলাই বিটিভি’র ঢাকা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিটিভি’র একাধিক কর্মকর্তার দাবি, ভবনের বাইরের হামলা ও ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ একটি পক্ষ করেছে। আর ভেতরের অগ্নিসংযোগের সঙ্গে মাহফুজা আক্তারসহ তার সিন্ডিকেটের কর্মকর্তারা জড়িত।
এদিকে বিটিভি’র শিল্পী, কলা-কুশলী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করছেন, বিটিভি’র ইতিহাসে এ ধরনের লুটপাট কখনোই ঘটেনি। এই সিন্ডিকেটের কারণেই বিটিভি’র ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ঢাকা কেন্দ্রের শিল্পী সম্মানি খাতে ৬৯ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও ৬ মাস অনুষ্ঠান নির্মাণ না করে পুরো খরচ দেখানো হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান একাধিক বিটিভি’র কর্মকর্তা। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দুর্নীতির এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বহু শিল্পী, কলা-কুশলী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সমপ্রতি মানববন্ধন করে বিটিভি’র সামনে।
অনুসন্ধানের বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, মাহফুজা আক্তার ও বিটিভি’র বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রের একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় অনুসন্ধানগুলো ধীরে এগুচ্ছে। তবে কাজ একদম শেষের দিকে। আগামী মাসেই প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাহফুজা আক্তারকে একাধিকবার কল করা হয়। তিনি তার মুঠোফোন রিসিভ করেননি। এমনকি বক্তব্য জানতে তাকে ক্ষুদে বার্তাও পাঠানো হয়েছে। তাতে সাড়া দেননি মাহফুজা আক্তার। তবে এই প্রতিবেদকের কাছে থাকা অন্য একটি নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। এ সময় কল রিসিভ করে মাফফুজা আক্তারের স্বামী পরিচয়ে একজন কথা বলেন। তিনি বলেন, নম্বরটি বাসায় ব্যবহার হয়। তিনি (মাহফুজা) বাসায় নেই। আসলে আপনার কথা বলবো।
সার্বিক বিষয়ে জানতে বিটিভি’র বর্তমান মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম মানবজমিনকে বলেন, এটি একটি সেনসেটিভ বিষয়। এ ব্যাপারে কথা বলতে হলে সামনাসামনি আসুন।

Sunday, October 13, 2024
দুদকে অভিযোগের পাহাড় by মারুফ কিবরিয়া
এদিকে গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরপর অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়তে শুরু করে দুদকে। সংস্থাটির অভিযোগ কেন্দ্র, হটলাইন ও ব্যক্তিগতভাবে চেয়ারম্যানের দপ্তরসহ প্রতিদিন শতাধিক অভিযোগ আসছে। একইসঙ্গে দুদকও এসব আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে।
দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথম ধাপে ৭০ সাবেক মন্ত্রী ও এমপির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে নতুন ফাইল। এরই মধ্যে সে সংখ্যা একশ’র বেশি হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুই শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আগে থেকেই প্রায় তিন হাজার অভিযোগ অনুসন্ধান চলমান ছিল। সেগুলোও চলছিল ধীরগতিতে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযুক্তদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিক সময়ে না আসা এবং বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো চিঠির জবাব না পাওয়ায় অনুসন্ধানগুলো শেষ করা যায়নি।
এদিকে তদন্ত শেষ হওয়া মামলাগুলোও জট লেগে আছে আদালতে। সূত্র বলছে, দুদকের দায়ের করা চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ঢাকা ও ঢাকার বাইরে নিম্ন আদালতে ৩ হাজার ৩৭৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৯৪৪টির বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং হাইকোর্টের আদেশে ৪৩০টি মামলা বিচার কাজ স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া উচ্চ আদালতে ৭৪৬টি রিট, ৯১৪টি ফৌজদারি বিবিধ মামলা, ১ হাজার ২৪৫টি ক্রিমিনাল আপিল ও ৭০৭টি ফৌজদারি রিভিশন মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের গন্তব্য নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। দুদকের কার্যক্রমের মধ্যে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই, অনুসন্ধান, মামলা ও তদন্ত একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হয়। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, এই প্রক্রিয়ায় যেতে হলে সঠিক সময়ে শেষ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা থাকলেও কমিশনের উচ্চ পদস্থদের ঢিলেঢালা মনোভাবে অনুসন্ধানের ফাইল স্তূপে পরিণত হয়। ফলে শঙ্কায় পড়ে যায় পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কমিশনের আন্তরিকতার অভাব থাকলে চলমান অনুসন্ধান সঠিক সময়ে শেষ করা সম্ভব নয়। আবার কর্মকর্তাদের দক্ষতা এবং জনবল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। তাদের দাবি, দুদকের বর্তমান চেয়ারম্যান কমিশনারসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অনেক ক্ষেত্রে অনুসন্ধান ও তদন্তে হস্তক্ষেপ করার যেকোনো ফাইলের গন্তব্য অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়।
এ বিষয়ে দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (প্রসিকিউশন) মো. মঈদুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, কমিশন আন্তরিক হলেই সঠিক সময়ে সব অনুসন্ধান শেষ করতে পারে। কিন্তু আন্তরিক না হলে অনুসন্ধান-তদন্ত কোনোটাই সময়মতো শেষ করতে পারবে না। এক-এগারোর আমলের মামলা এখনো তদন্তাধীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ জটিলতা ও নিজস্ব প্রসিকিউশন না থাকায় ১৬-১৭ বছর আগের মামলা এখনো ঝুলে আছে।
দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে কী করণীয় জানতে চাইলে মঈদুল ইসলাম বলেন, যে বিশেষ জজ আদালতে দুদকের মামলা কার্যক্রম পরিচালিত হয় তাতে সারা বছর দুদকের মামলা থাকে না। বেশির ভাগ সময়ই খুনের মামলা এই মামলা ওই মামলা থাকে। ফলে বিচার বিভাগে দুদকের জন্য আলাদা একটি আদালত থাকার সুপারিশ করছি আমি। একইভাবে উচ্চ আদালতেও আলাদা আপিল আদালত থাকার সুপারিশ করছি। বিশেষ করে দুদকের মামলা দুদকের আদালতেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা না থাকায় বছরে ৯ শতাংশ মামলাও নিষ্পত্তি করতে পারে না।
নেই স্থায়ী প্রসিকিউশন: আগামী মাসেই একুশ বছরে পা রাখতে যাচ্ছে দুদক। কিন্তু এখনো আদালতে মামলা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নেই নিজস্ব প্রসিকিউটর। তবে লিগ্যাল অ্যান্ড প্রসিকিউশন উইং রয়েছে। অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া প্রসিকিউটর দিয়েই বিচার কাজ পরিচালনা করা হয়। দুদক আইনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রসিকিউটরের সমন্বয়ে কমিশনের নিজস্ব একটি স্থায়ী প্রসিকিউশন ইউনিট থাকার কথা বলা হলেও এখনো বিধিই তৈরি করতে পারেনি দুদক। আইনের ৩৩ ধারায় বলা আছে, কমিশনের তদন্ত কাজের জন্য বিশেষ জজ আদালতে বিচারযোগ্য মামলা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রসিকিউটরের সমন্বয়ে কমিশনের নিজস্ব একটি স্থায়ী প্রসিকিউশন ইউনিট থাকবে। ওই প্রসিকিউশনের নিয়োগ ও চাকরি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে। এই ধারায় নিয়োগ পাওয়া প্রসিকিউটররা পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে গণ্য হবেন। অথচ কমিশন গঠনের ১৯ বছর পার হলেও দুদকের নিজস্ব আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হয়নি। সরকারি দলের আইনজীবীদের দিয়ে মামলা পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকার দুদককে সব ধরনের ক্ষমতা দিয়েছে, কিন্তু কমিশন এ-সংক্রান্ত একটি বিধিই প্রস্তুত করতে পারেনি।
এ বিষয়ে সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম বলেন, স্থায়ী প্রসিকিউশন থাকার বিষয়ে আইনেই রয়েছে। কিন্তু দুদক এত বছরেও সেটি করেনি। যেসব আইনজীবী দিয়ে দুদকের মামলা চালানো হয় তারা দুদক ছাড়াও নিজেদের মামলা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ফলে এখানে সমন্বয়ের একটি ঘাটতি রয়েই গেছে। তাই স্থায়ী প্রসিকিউশন হওয়াটা এখন সময়ের দাবি।
সার্বিক বিষয়ে দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, দুদকের বর্তমান যে কমিশন দায়িত্বে রয়েছে সেটা পরিবর্তনের এখতিয়ার সংস্কার কমিশনের নেই। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এই মুহূর্তে দুদককে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন।
অনুসন্ধান-তদন্তের আইন বিধি নিয়ে তিনি বলেন, আমরা সংস্কার কমিশন ইতিমধ্যে এ বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করেছি। অনুসন্ধান ও তদন্তের যে প্রক্রিয়া আইন এবং বিধি ধারা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা কি দুর্নীতিকে সুরক্ষা দেয়া নাকি প্রতিকার করা- বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে ধরনের প্রক্রিয়া রয়েছে তার আলোকে করা যায় কিনা সেটাও অনুসন্ধান করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন ইফতেখারুজ্জামান।

Tuesday, October 8, 2024
৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন: দ্বিমুখী চক্রে বন্দি দুদক
সোমবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে টিআইবি’র কার্যালয়ে দুদক সংস্কারে যে কমিশন গঠন করেছে সরকার, তার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করে এসব কথা বলেন দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান। বৈঠকে কমিশনের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম, আইনজীবী মাহদীন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারজানা শারমিন উপস্থিত ছিলেন। অনলাইনে যুক্ত হোন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক মোস্তাক খান।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুদকের কমিশনার ও গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দুদকের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রেষণে আসেন। এতে দুদকের অন্য কর্মীরা কাজ করতে পারেন না।
তিনি জানান, প্রথম সভায় তারা কমিশনের দায়িত্ব, এখতিয়ার, কর্মপরিধি বোঝার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, দুদকের যে এখতিয়ার তার দু’টি আঙ্গিক হচ্ছে প্রতিকার ও প্রতিরোধ। যারা দুর্নীতি করেন, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা ও বিচার করা। দ্বিতীয়ত দুর্নীতি যাতে না হয়, তার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। দুটি বিষয়কে বিবেচনায় রেখে তারা সংস্কারের জন্য কাজ করবেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার যে ধরনের সংস্কার প্রয়োজন, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দুদকের কাজে বাধা তৈরি করা আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনা করা। শুধু আইনি সংস্কার দিয়ে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে- সেটি ভাবা ঠিক নয়। সার্বিকভাবে শাসন পদ্ধতির পাশাপাশি এক ধরনের মানসিকতা তৈরি হয়ে গেছে যে, দুর্নীতি করে পার পাওয়া যায়। সেটা কীভাবে প্রতিহত করা যায়, সেই জন্য সুপারিশমালা প্রণয়ন করবেন তারা।
বাংলাদেশে যে কর্তৃত্ববাদ বিকাশ হয়েছিল, তাতে যে উপাদানগুলো সবচেয়ে জোরালো ভূমিকা পালন করেছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে দুর্নীতি- উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতিকে সুরক্ষা দেয়া, বিচারহীনতা দেয়ার কারণে সমাজে বিশাল বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি, অপচয়, আত্মসাৎ হয়েছে। টাকা পাচার হয়েছে। এই সমস্যাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়ার কারণেই দুদককে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, কমিশনের কাজ হচ্ছে দুদক কীভাবে কার্যকর হবে, তার দিকনির্দেশনা, সুপারিশমালা ও পরামর্শ প্রদান করা। কাজটি তারা আজ থেকে শুরু করেছেন। আগামী ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে সংস্কার কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন তুলে দেবে। মধ্যবর্তী সময়ে কোনো প্রতিবেদন দেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মাঝামাঝি কোনো প্রতিবেদন দেয়া হবে না। তবে সরকার চাইলে এর মাঝামাঝি সময়ে কোনো পরামর্শ বা মতামত গ্রহণ করা যেতে পারে।
সংস্কারের পর রাজনৈতিক সরকার চাইলে দুদকে নিজেদের লোক বসাতে পারবেন কিনা- জানতে চাইলে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দলীয় প্রভাবের যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, তারা সেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করবেন।
বর্তমান কমিশনের নেতৃত্বে যে চেয়ারম্যান-কমিশনার রয়েছেন তাদের পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংস্কার কমিশনের কোনো মন্তব্য নেই। তবে টিআইবি’র পক্ষ থেকে আমি আগেও বলেছি- রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য দুদক কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেনি। ফলে পুরো প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো ঢেলে সাজানো উচিত।
সংস্কার কমিশনের অফিস কোথায় হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আমাদের কমিশনের সঙ্গে একমত হয়েছি। তাদের পরামর্শে এখন টিআইবি’র কার্যালয়েই সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এটা আসলে কাজের উপরে নির্ভর করবে। যদি কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করার প্রয়োজন হয় তাহলে কমিশনে বসেই করবো। আবার আমাদের এখানেও থাকতে পারে।
ছাত্রদের মধ্যে একজন প্রতিনিধি এই সংস্কার কমিশনে থাকা প্রসঙ্গে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ছাত্র প্রতিনিধি আমাদের কমিশনে একজন থাকার কথা। তবে এখনো ঠিক হয়নি কে হবেন তিনি। সেটা যেকোনো দিন পেয়ে যাবো।

Thursday, October 3, 2024
আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লুটপাট: বিএফআইইউ’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
উল্লেখ্য, বিগত সরকারের সময় ফুলেফেঁপে ওঠা অনেকের বিদেশে সম্পদের তথ্য সংগ্রহের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে চিঠি দেয়া হয়েছে। পাচার করা অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা চেয়েছে সরকার। পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে এরই মধ্যে নতুন করে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, জব্দ করা অ্যাকাউন্টগুলো যাদের নামে, তাদের বড় অংশই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আছেন শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্য, খেলোয়াড়, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও পুলিশ কর্মকর্তাও। এসব ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থের উৎস ও আয়ের নথি খতিয়ে দেখছে বিএফআইইউ। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে সমালোচিত ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলমের বিরুদ্ধে। গত সাত বছরে এস আলম গ্রুপ শুধু ইসলামী ব্যাংকিং সিস্টেম থেকেই নামে-বেনামে লুট করেছে ২ লাখ কোটি টাকার উপরে, যার বেশির ভাগ অংশই সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছে।
বিএফআইইউ’র কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, গত কয়েক বছরে দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার করেছে এস আলম গ্রুপ। তার অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য সংস্থাটির কাছে আছে। এস আলমসহ অন্য অনেকের তথ্য রয়েছে। এরপরও অদৃশ্য কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
বিএফআইইউ’র সাবেক প্রধান দুদকের জালে: বিএফআইইউ’র সাবেক প্রধান মাসুদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসহ দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। দুদকে জমা দেয়া অভিযোগে বলা হয়, বিএফআইইউ’র পদত্যাগ করা মাসুদ বিশ্বাস বিভিন্ন সময়ে শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের থেকে ঘুষের মাধ্যমে অনিয়মে সহায়তা করেছেন। বিগত দিনে হলমার্ক, বিসমিল্লাহ সহ ২৪টি বড় ঘটনায় ৯২ হাজার কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির মাধ্যমে অর্থ পাচারে নীরব ভূমিকা পালন করেছিল মাসুদ বিশ্বাসের বিএফআইইউ।
যেসব দেশে পাচার হয়েছে: বিএফআইইউ গত বছরের জানুয়ারিতে উচ্চ আদালতে অর্থ পাচার, উদ্ধার প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে ৪৯ পৃষ্ঠার একটি রিপোর্ট দাখিল করে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করে নেয়া বিশেষ গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ছাড়া সামপ্রতিক সময়ে অনেকেই মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোম প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছেন। এর বাইরে অস্ট্রেলিয়া, জাপান, হংকং, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ভারত, শ্রীলঙ্কা, কুয়েত, বেলজিয়াম, তাঞ্জানিয়ায় পাচারের তথ্য রয়েছে। এসব দেশে পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সব মিলিয়ে ৫৯টি মামলার চার্জশিট হয়েছে।
জানা গেছে, ৫ই আগস্ট স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর বিভিন্ন দুর্নীতির ফাইল টেবিলের ড্রয়ারে আটকে রেখে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তারা। বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের চাপের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন বিএফআইইউ প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস। পাশাপাশি বিএফআইইউকেও ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু হয়। এজন্য দীর্ঘ দিনে এ সংস্থায় কাজ করা ও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও বদলি করা হয়। কিন্তু এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন বিএফআইইউ ডেপুটি হেড রফিকুল ইসলাম। তিনি একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ করতেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার পতনের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে সাবেক মন্ত্রী, এমপি, রাজনীতিবিদ, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে বিএফআইইউ। কিন্তু রহস্যজনক কারণে টাকা পাচারের তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য সরকারের অন্য সংস্থাগুলো যে গতিতে কাজ করছে, তার ধারে কাছেও নেই বিএফআইইউ। তাদের মতে, যেখানে অনিয়মের অভিযোগ উঠায় বিএফআইইউ প্রধান পদত্যাগ করেছে, সেখানে ডেপুটি হেড কীভাবে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অর্থপাচারে মূল অভিযুক্তদের কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিশেষ করে এস আলমের ক্ষেত্রে একেবারেই রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছে বিএফআইইউ।
এদিকে এসব বিষয় নিয়ে খোদ সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারাও প্রশ্ন তুলেছেন। গত ২১শে আগস্ট বিএফআইইউতে অনুষ্ঠিত এক সভায় অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না; তা নিয়ে একাধিক কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেন।
সূত্র জানিয়েছে, ওইদিন বিএফআইইউ’র ডেপুটি হেড রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে একাধিক কর্মকর্তা প্রশ্ন করেন, এস আলম গ্রুপ, সামিট, নাসা গ্রুপ, ব্যাংক খাতের সমালোচিত চৌধুরী নাফিজ সরাফতসহ অনেকের অর্থপাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য বিএফআইইউতে আছে। বিভিন্ন সময়ে এদের অনিয়ম নিয়ে সংবাদপত্রে রিপোর্ট হয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। একাধিক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এতদিন বলা হতো চাপের কারণে কিছু করা যাচ্ছে না। কিন্তু এখন তো আর সেই চাপ নেই। কিন্তু এখন কেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না।
এস আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের কোনো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট নাই? এমন প্রশ্ন তুললে বিএফআইইউ’র উপপ্রধান রফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে বেশি টাকা নাই। এস আলম গ্রুপ সব করেছে বেনামী অ্যাকাউন্টে। আমরা এখন তাদের বেনামী অ্যাকান্টগুলো খুঁজে বের করছি।
বিএফআইইউ’র একজন কর্মকর্তা বলেন, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের জন্য প্রথমে দেশের আদালতে প্রমাণ করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে অর্থ ফেরত আনতে তৎপরতা চালাতে হবে। আবার দেশের বাইরেও আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগসহ লেগে থাকতে হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে এসব নিয়ে দাবি তুলতে হয়। তবে যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, এ ক্ষেত্রে তাদের আন্তরিকতার ঘাটতি দেখা যায়। যে কারণে অর্থ উদ্ধার কার্যকর হয় না। এখন একটি অরাজনৈতিক সরকার রয়েছে। ফলে তারা চাইলে উন্নতি সম্ভব।
বিএফআইইউ’র সাবেক প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, আইনে বিএফআইইউকে কাজের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। তবে পরিবেশ অনুকূলে না থাকা, ঝুঁকি না নেয়া এবং ওপর থেকে বাধা আসায় এটি কাজ করতে পারেনি। বিএফআইইউ সক্রিয় থাকলে অনেক আর্থিক অপরাধ ঘটতো না বা রোধ করা যেতো।
নয়ন নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ব্যাংক থেকে সব টাকা তোলার পর অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হচ্ছে। বাহ! বাহ! বিষয়টা খুবই সুন্দর। তার মতো আরও অনেকেই বিএফআইইউ’র কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

Thursday, September 26, 2024
দুদকের জালে বিএফআইইউ’র সাবেক প্রধান মাসুদ বিশ্বাস
তিনি জানান, দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটের অনুসন্ধানে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে বলে ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে আসে।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৩০শে নভেম্বর ডেপুটি গভর্নর পদমর্যাদায় দুই বছরের জন্য বিএফআইইউ’র প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান মাসুদ বিশ্বাস। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পদত্যাগ করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারে সহায়তা ছাড়াও নানাভাবে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মাসুদ বিশ্বাস বাংলাদেশ ব্যাংকে ডেপুটি গভর্নর পদে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এ ছাড়া স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইন্স লিমিটেডের বিমান ক্রয়ে সন্দেহজনক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি ঘুষের বিনিময়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে না পাঠিয়ে পরিসমাপ্তি করেছেন। এ ছাড়া এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান তমাল পারভেজ ব্যাংক থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা লুটপাটসহ আর্থিক অনিয়মের প্রতিবেদনকে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ এর আওতায় গোয়েন্দা প্রতিবেদন না দিয়ে সাধারণ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন হিসেবে পাঠিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনিয়ম ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিমিদ্রী লিমিটেডের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করা হয়। ওই স্থগিতাদেশ মাসুদ বিশ্বাস আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেন। তানাকা গ্রুপ, এস.এ. গ্রুপ এবং আনোয়ার গ্রুপের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং, অর্থ পাচার সংক্রান্ত সুনিশ্চিত তথ্য থাকা সত্ত্বেও ওই মামলাগুলো আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে না পাঠিয়ে নিজে হস্তক্ষেপ করেন মাসুদ বিশ্বাস। এ ছাড়া এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমের সঙ্গে যোগসাজশে ইসলামী ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকা ঋণ উত্তোলনের নামে বিদেশে পাচার; আবদুল কাদির মোল্লার থার্মেক্স গ্রুপ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে বিদেশে অর্থ পাচারসহ ঘুষের বিনিময়ে জিনাত এন্টারপ্রাইজের বিদেশে অর্থ পাচারের মামলা ধামাচাপা দিয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে দুদক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, শিরীন আখতার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম ও প্রথম নারী উপাচার্য। ২০১৯ সালের ৩রা নভেম্বর তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তিনি দায়িত্ব ছাড়েন। তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও সরকারি অর্থ লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। শিরীন আখতারের দুর্নীতি অনুসন্ধানে গত জুনে বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে ইউজিসি’র গঠিত তদন্ত কমিটি।
জানা যায়, অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদ ভবন উদ্বোধন, তার শেষ কর্মদিবসে বিনা বিজ্ঞাপনে অর্ধশতাধিক কর্মচারী নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্ত করছে ইউজিসি’র তদন্ত কমিটি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শিরীন আখতার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি পদে নিয়োগের জন্য ১৬ থেকে ২০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ, সংবিধি ও শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার তোয়াক্কা না করে বিধিবহির্ভূতভাবে প্রায় শতাধিক শিক্ষক নিয়োগ দেন।
২০২৩ সালের ৪ঠা জুন ‘বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। চবি’র মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের একাডেমিক ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ও একইদিনে অন্য একটি সভায় ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

Wednesday, September 25, 2024
নখদন্তহীন দুদক কি তার শক্তি ফিরে পাবে? by বদরুল হুদা সোহেল
সেনাসমর্থিত ড. ফখরুদ্দীন আহমদ সরকারের অব্যবহিত পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে দুর্নীতি দমন কমিশনে যোগদানের পর এক সম্মেলনে দুদকের তৎকালীন চেয়ারম্যান গোলাম রহমান দুদককে নখদন্তহীন বাঘের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সেই সঙ্গে বাঘের সব নখ কেটে দেয়ার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটিকে ক্ষমতাহীন করার প্রক্রিয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। তার মেয়াদপূর্তিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিদায়কালীন সৌজন্য সাক্ষাতে চার বছরে দুদক আইন সংশোধন করতে না পারার আফসোস ও অসন্তোষের কথাও প্রকাশ করেন তিনি। তার একযুগ পর মহামারি করোনাকালীন ২০২১ সালে হাইকোর্ট এক পর্যবেক্ষণে দুর্নীতি দমন কমিশনকে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দন্তহীন বাঘের মতো আচরণ বা দন্তহীন বাঘ হলে চলবে না বলে মন্তব্য করেন। একই সালে দুদকের বিদায়ী চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দুদককে একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও জনগণের আস্থার প্রতিদান সেভাবে দিতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেন। দুদক কাণ্ডারি দুদক চেয়ারম্যানরাই যদি তাদের কার্যাবলী নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন, তাহলে বুঝতে বাকি নেই ‘ডাল মে কুচ কালা হে’।
গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আন্দোলনকারী ছাত্রদের ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন রাষ্ট্র সংস্কারের কথা ভাবছে। বিগত সরকারের আমলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে লাগামহীন দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতার গল্প এখন গণমাধ্যমগুলোর অন্যতম খোরাক। ঠিক এই সময়ে সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে দুদক সংস্কার কমিশনে প্রধান হিসেবে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানকে দায়িত্ব দেন। ড. ইফতেখারুজ্জামান নখদন্তহীন দুদককে সংস্কার করে কোথায় নিয়ে যেতে পারবেন, তা সময়ই বলে দিবে। তবে তার হাত লাগলে দুদকে নখদন্ত গজানো শুরু করবে- এমনটা আশা করা যেতেই পারে। দুদকের বর্তমান গতিপথ কোনদিকে তা আলোচনার আগে এর প্রেক্ষাপট নিয়ে একটু কথা বলার প্রয়োজন বোধ করি।
মূলত দুর্নীতি দমন, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হয়। সমাজের সর্বস্তরে প্রবাহমান একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবিরোধী সংস্কৃতির চর্চা এবং এর প্রসার সুনিশ্চিত করার রূপকল্প রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। কমিশনের আইনেই স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, এটি হবে একটি স্বাধীন, স্বশাসিত ও নিরপেক্ষ কমিশন। কিন্তু কাগজে লেখা আইনে ‘স্বাধীন’ ও ‘নিরপেক্ষ’ শব্দগুলো বলা হলেও বাস্তবিক পক্ষে কমিশন তার স্বাতন্ত্র্য কতোটুকু ধরে রাখতে পেরেছে? আজ যে ব্যক্তিটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, কয়েক মাস আগেও দুদকেরই করা মামলায় তাকে লোহার খাঁচার তৈরি আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে সর্বোচ্চ অসম্মান করা হয়েছে। দুদক আইনজীবীরা মরিয়া হয়ে তার বিরুদ্ধে যেভাবে লেগেছিল, অন্য কারও ক্ষেত্রে এমন হয়েছে বলে জানা নেই। গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় ‘ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও চার মামলার প্রস্তুতি ছিল দুদকে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দায়ের করা আগের মামলাটিও মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রেসক্রিপশন পালনের অংশ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ইচ্ছা থেকেই ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুদক অবস্থান নেয় মর্মে যে সংবাদটি এখানে প্রকাশিত হয় তার উত্তর হিসেবে দুদক কী বক্তব্য দিবে? দুদক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য এখন পর্যন্ত কি কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে?
২০০৭ সালে ড. ফখরুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসলে দুদক নড়েচড়ে বসে। দুর্নীতিবিরোধী নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ওই সরকার তৎপর ছিল বলে সাধারণ মানুষের (যারা রাজনীতির বাইরে) বড় একটি অংশ ভেতরে ভেতরে ওই সরকারকে পছন্দ করে। সে সময় দেড় শতাধিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনীতিবিদ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অন্যান্য দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করা হয় এবং জেলেও পুরে দেয়া হয়।
এই এক-এগারোর পট পরিবর্তনে ড. ফখরুদ্দীন সরকার ক্ষমতায় আসলে দুদক তার ইতিহাসে সবচেয়ে জোরালো পদক্ষেপ নিলেও ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর অজ্ঞাতকারণে দুদকের কার্যক্রম আবার স্তিমিত হয়ে পড়ে। শুধু চুনোপুঁটি ধরে লোকদেখানো কাজে ব্যস্ত ছিল প্রতিষ্ঠানটি। আর ওদিকে ক্ষমতাসীন সরকারের রাঘববোয়ালরা দুদককে থোড়াই কেয়ার করে করে ১৫টি বছর অতিক্রম করেছে।
মোটা দাগে বলা যায় দুদক নামক প্রতিষ্ঠানটি নিজেকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ দাবি করলেও বিগত বিভিন্ন সরকার তাদের মর্জিমাফিক কলকাঠি নেড়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবহার করেছে। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দুদকের উপর বিগত সরকারের কোনো প্রচ্ছন্ন প্রভাব ছিল কিনা তা এখন জানার সময় এসেছে। দুদক কি সরকারের একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান? যদি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদক প্রমাণিত হয়, তাহলে এর পেছনে দুদকের কোন কর্মকর্তারা দায়ী। এত বড় প্রতিষ্ঠানে এমন অনেকেই নিশ্চয়ই আছেন যারা টিকে থাকতে নিরুপায় হয়ে হয়তো সরকারের ইশারা ইঙ্গিতে সাড়া দিয়ে কাজ করে গেছেন।
সরকারের করায়ত্ত কীভাবে দুদকের ওপর বজায় রাখা যায় তার জন্য কিছু দুর্বল আইন বা বিধি আমার নজরে এসেছে। এর কয়েকটি নমুনা দেয়া যাক। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ক্রমিক নং ২৪ এ একদিকে বলা আছে “এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে কমিশনারগণ এই আইনের অধীন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন”। অপরদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭-এর অষ্টম অধ্যায়ে বলা আছে “কমিশন ইহার নিজস্ব কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে প্রেষণে অন্যত্র নিয়োগের জন্য সরকারকে অনুরোধ করিতে পারিবে এবং সরকার উক্তরূপভাবে অনুরোধপ্রাপ্ত হইলে উক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে সরকারের যেকোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বা উহার অধীন সংস্থা বা অধিদপ্তর বা পরিদপ্তরের সমমর্যাদাসম্পন্ন পদে প্রেষণে নিয়োগ করিতে পারিবে”। একই অধ্যায় আরও বলছে যে, ‘কমিশন ইহার দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে সরকারের যেকোনো মন্ত্রণালয়ের বা বিভাগ বা উহার অধীন সংস্থা বা অধিদপ্তর বা পরিদপ্তর হইতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রেষণে নিয়োগের জন্য সরকারকে অনুরোধ করিতে পারিবে’। উপরোক্ত বিধিমালার মোদ্দা কথা হলো সরকার অত্যন্ত সুচারুভাবে সুকৌশলে তার এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য দুদকে তার পছন্দসই ব্যক্তি ঢুকানো বা দুদক থেকে তার অপছন্দের ব্যক্তিকে বের করে দেয়ার একটি মসৃণ পথও রেখে দিয়েছে। এই কারণে এই বিধিমালার সঙ্গে দুদকের ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি সাংঘর্ষিক বলেই পরিগণিত হচ্ছে।
তাছাড়াও দুদক আইনে কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে যে বাছাই কমিটির কথা বলা হয়েছে সেখানেও নিরপেক্ষ কমিশনার পাওয়ার পথ অমসৃণ রয়েছে। উক্ত কমিটিতে মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বা দলনিরপেক্ষ প্রথিতযশা কোনো সিনিয়র সাংবাদিককে সম্পৃক্ত করলে নিরপেক্ষ কমিশনার পাওয়ার পথটি সহজতর হতো। কমিশনার হওয়ার যোগ্যতা প্রশ্নে আইনে, শিক্ষায়, প্রশাসনে, বিচারে বা শৃঙ্খলা বাহিনীতে অন্যূন ২০ বছরের অভিজ্ঞতার কথা বলা হলেও কমিশনার নির্বাচনে শিক্ষা খাত সবসময় উপেক্ষিত থেকেছে।
মূল কথা হলো দুদককে স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার দিতে হলে বিদ্যমান আইন সংস্কারসহ সম্পূর্ণ দুদককে ঢেলে সাজাতে হবে। দুদককে সরকারের প্রভাবমুক্ত করতে না পারলে প্রতিপক্ষকে ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়ার সম্ভাবনা থেকেই যাবে। সরকার ও আমলাতন্ত্রের করায়ত্ত থেকে দুদককে উদ্ধারের রাস্তা দেখানোর এখনই মোক্ষম সময়। দুদকের নিজস্ব ক্ষমতাকে শক্তিশলী করার জন্য এর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন কিছু বিষয়-যেমন মানিলন্ডারিং আইন, কর আইন বা সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্তে পূর্বানুমতি-এসব বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। কেননা, আইনের সঙ্গে আইনের সংঘর্ষ হলেই যেকোনা উদ্যোগ ভেস্তে যাবে।
অপরাধ দমনের উদ্দেশ্যে সৃষ্ট এ প্রতিষ্ঠানটিকে সরকার যেন ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত করতে না পারে তার ব্যবস্থা এখনই নিতে হবে। দেশের জনসাধারণ সাক্ষী গোপাল হয়ে এতদিন সবকিছু প্রত্যক্ষ করেছে। কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুদক দুর্নীতির প্রশ্নে আবার সরব হয়েছে। সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলে এর ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ রয়েই যাবে। গত মাসের শেষদিকে দেশে গণতন্ত্র, সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় টিআইবি ৫৫ দফার একটি প্রস্তাব রাখে। এর মধ্যে দুদকের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের বিষয়টিও প্রাধান্য পায়। যেহেতু দুদকের মূল আইনটির খসড়া প্রণয়নে টিআইবি’র অবদান ছিল, সেহেতু দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামানই ভালো বুঝবেন দুদককে কীভাবে ‘নখ-দন্ত-থাবা’ ফিরিয়ে দেয়া যায়।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইংরেজি বিভাগ।
ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কিশোরগঞ্জ।

Monday, September 23, 2024
সাবেক দুই এমপি ও ডিআইজি বাতেনের সম্পদের খোঁজে দুদক
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট যশোর-৪ আসনের সাবেক এমপি মো. শাহীন চাকলাদার ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনি নিজেই একজন ঠিকাদারির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক আধিপত্য কাজে লাগিয়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার নামে যশোর চিত্রার মোড়ে যাবির ইন্টারন্যাশনাল নামে ২২ তলাবিশিষ্ট পাঁচ তারকা হোটেল এবং কাঁঠালতলায় ‘হোয়াইট হাউস’ নামে সুরম্য অট্টালিকা রয়েছে। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার, নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ ও আত্মীয়-স্বজনের নামে দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। অন্যদিকে নোয়াখালী-১ আসনের সাবেক এই এমপি এইচ এম ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ সংশ্লিষ্ট এইচ এম ইব্রাহিমের নিজ নামে ১৬ কোটি ১৪ লাখ ৫৫ হাজার ৭৯ টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং তার স্ত্রীর নামে ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৫২ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং ২ কোটি ৬৫ লাখ ১৩ হাজার ৬০০ টাকার স্থাবর সম্পদসহ মোট ২২ কোটি ৪৫ লাখ ২০ হাজার ৭৩৪ টাকার সম্পদ রয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহীর সাবেক ডিআইজি মো. আব্দুল বাতেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। অভিযুক্তের ৫০৪/২, রোকেয়া টাওয়ার, ৯৮ বড় মগবাজার, রমনায় কোটি টাকার ফ্ল্যাট, ধামমণ্ডি, বারিধারা, গুলশান, সিদ্ধেশ্বরীতে ফ্ল্যাট এবং স্ত্রীর নামে পূর্বাচলে প্লট, পুলিশ হাউজিং সোসাইটিতে বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ব্যাংকে প্রচুর টাকা জমা রয়েছে। গত ১৩ই আগস্ট কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত আবু সাঈদের এলাকা রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল বাতেন ও সেখানকার পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সরকার।

দায়মুক্ত মিতা দুদকের কাঠগড়ায় by মারুফ কিবরিয়া
গুঞ্জন রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে সংস্থাটি তার অনুসন্ধান থেকে সরে আসে। তবে ক্ষমতা হারানোর পর নতুন করে আবারো দুদকের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে মিতাকে।
এবার দুদকের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, ৩ মেয়াদে এমপি থাকাকালে নানা অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। সংস্থাটির গোয়ান্দা ইউনিটের প্রতিবেদনেও মিতার দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে।
সংস্থাটি জানায়, এমপির দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যক্রমসহ নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় তার বার্ষিক আয় ছিল ৪৭ লাখ ৫ হাজার ৮০৫ টাকা। গত ১০ বছরে তার আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮২৪ টাকা। যা ২০১৪ সালের বার্ষিক আয়ের তুলনায় ১০১.২ শতাংশ বেশি এবং অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ১৯৯.২৩ শতাংশের বেশি। স্ত্রী মাহমুদা মাহফুজের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ১৯০ শতাংশের বেশি।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে মিতা ও তার স্ত্রীর নামে পূর্বাচলে প্লট, মতিঝিলে ৫ কাঠা জমির উপর নির্মিত বিল্ডিং, গুলশানে ফ্ল্যাট, উত্তরায় দিয়াবাড়িতে ৫ কাঠা জমির প্লট, হারামিয়া সন্দ্বীপে জমি বাড়ি এবং মাহফুজুর রহমান মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে কোটি কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এর আগেও ২০২০ সালে মিতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অনুসন্ধানে নেমে সেখান থেকে সরে আসে দুদক। মিতার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগটি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করে কমিশন। ২০২১ সালে অভিযোগ নিষ্পত্তির বিষয়টি অনুমোদন করার পর ২রা মার্চ তৎকালীন দুদক সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার অব্যাহতির বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দিয়ে জানান। এরপর বিষয়টি মাহফুজুর রহমান মিতাকে চিঠি দিয়ে জানানোর পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবকে অনুলিপি দিয়ে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে ৯ই মার্চ অবসরে যাওয়া দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের আগ্রহে তড়িগড়ি করে মিতার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শেষ করা হয়।
সে সময় মিতার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও দুদকের অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, ঢাকার পূর্বাচলে নিজের মালিকানাধীন রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের নামে ৫০ কাঠা জমি, নিজ নামে পূর্বাচলে আরও ৫ কাঠার জমি, গুলশান-২ রাজউকে একটি ফ্ল্যাট, চট্টগ্রাম হাউজিং সোসাইটি ও ঢাকার মিরপুর হাউজিংয়ে ফ্ল্যাট, নোয়াখালী ও খুলনাতে প্লটের মালিক হন মিতা। অবৈধভাবে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ সংসদ সদস্য মিতা তার পিএস জসিম, অফিস কর্মকর্তা মাকসুদ ও ওমর ফারুকের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় পাচার করেছেন-এমনও অভিযোগও দুদকের কাছে ছিল।
সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে দ্বিতীয় দফায় এমপি হওয়ার পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন মাহফুজুর রহমান মিতা। ওই সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৯৭ কোটি টাকার বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আনোয়ার ল্যান্ডমার্ক, মেসার্স বিশ্বাস বিল্ডার্স ও মেসার্স ডলি কনস্ট্রাকশনের কাছ থেকে ১০ শতাংশ কমিশন আদায় করেন তিনি। শুধু তাই নয়, ঠিকাদাররা কাজ শুরু করলে সেখানে অনৈতিক হস্তক্ষেপ করে নিজের লোক দিয়ে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করেন চট্টগ্রাম-৩ আসনের সাবেক এই এমপি।
মিতার বিরুদ্ধে থাকা আরও অভিযোগ বলছে, সন্দ্বীপে সড়ক ও জনপদ বিভাগের বাস্তবায়নাধীন দেলোয়ার খাঁ সড়ক নির্মাণের ৭২ কোটি টাকার টেন্ডারে (টেন্ডার নম্বর-২১৯৬৫৪) অনিয়ম করেছেন মিতা। এই রাস্তার টেন্ডারে অংশ নেন তিনজন ঠিকাদার। আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদ সদস্য আফতাব খান অমির প্রতিষ্ঠান ‘র্যাভ-আরসি’ সর্বনিম্ন দর আহ্বান করলেও সেই প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ না দিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা জামায়াত নেতা জাহেদুর রহমান জিলামকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা বেশি দরে কাজ পাইয়ে দেন মিতা। এই রাস্তার টেন্ডার নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির পর নির্মাণ কাজেও ব্যাপক অনিয়মের তথ্য সামনে চলে আসে। রাস্তা নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে ভেঙে ফেলা হয় সন্দ্বীপের বিভিন্ন বাজারের শত শত দোকান, ভবন।
বিআইডব্লিউটিএ’র গুপ্তছড়া জেটি নির্মাণ দুর্নীতিতেও মাহফুজুর রহমান মিতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া যায় সে সময়। সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে ৫২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা দিয়ে নতুন একটি জেটি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছিল তৎকালীন সরকার। এই জেটি নির্মাণের কাজটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস এস রহমানকে দেয়ার জন্য ডিও দিয়েছিলেন মিতা। এখানেও কমিশনের বিনিময়ে নিজস্ব ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ২০১৮ সালের সন্দ্বীপের পিআইও অফিস থেকে টেন্ডার হওয়া ২৭টি ব্রিজের কাজ সাবেক এমপি মিতা তার নিজস্ব লোকজনের মধ্যে ১৫ শতাংশ টাকা কমিশনের বিনিময়ে ভাগ-বাটোয়ারা করেন বলে জানা যায়।
টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্যের হাত থেকে রক্ষা পায়নি সন্দ্বীপের শিক্ষা খাতও। ২০২০ সালে দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজের টেন্ডারে কোনো ঠিকাদার মিতার অনুমতি ছাড়া অংশ নিতে পারেননি। নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন দেয়ার বিনিময়ে এই অধিদপ্তরের সকল টেন্ডারে এমপি মনোনীত একজন করে ঠিকাদার অংশ নেন। কমিশন নিয়ে কাজ পাইয়ে দেয়ার ওয়াদা দিয়ে তা রক্ষা করেন মিতা। ফলে সেই কাজও পায় তার আশীর্বাদপুষ্ট ঠিকাদার।
এভাবে মিতার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, ১০ থেকে ২০ শতাংশ হারে ঘুষ নিয়ে ঠিকাদার নিয়োগ, অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিস্তর অভিযোগ ছিল দুদকে। সেই প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ৬ই অক্টোবর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১) সহকারী পরিচালক মো. শফি উল্লাহকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর ৮ই অক্টোবর মিতাকে চিঠি দিয়ে দুদক কর্মকর্তা শফি উল্লাহ ৩রা নভেম্বর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করেন। এসব কাগজপত্র বিবেচনায় নিয়ে অভিযোগ নথিভুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে মিতাকে অব্যাহতি দিতে সুপারিশ করেন দুদকের কর্মকর্তা। পরে ২০২১ সালের ২রা মার্চ অভিযোগটি নিষ্পত্তি করা হয় বলে জানানো হয়।
অনুসন্ধানের বিষয়ে জানতে চাইলে মিতার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। আমাদের চট্টগ্রামের স্টাফ রিপোর্টারের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর চট্টগ্রামের কোথাও দেখা যায়নি সাবেক এই এমপিকে।
এ বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, আগের বিষয়টি আমি জানি না। আমি তো ২০২৩ সালে নিয়োগ পেয়েছি। কেন তাকে অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে তখনকার কমিশনই বলতে পারবেন। এবার দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটের অনুসন্ধানে মিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ পাওয়ায় প্রকাশ্যে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
Wednesday, March 6, 2019
জাহালমের কারাভোগের দায় দুদককে নিতে হবে- ‘যে বিড়াল ইঁদুর ধরতে পারেনা সেই বিড়াল থাকার দরকার নেই’

বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
শুনানির শুরুতে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির মামলায় জাহালমকে কীভাবে ২৬ মামলার আসামি করা হয়, আবার দুদকের অধিকতর তদন্তে জাহালম কীভাবে নির্দোষ প্রমাণিত হলেন এ বিষয়গুলো হলফনামা থেকে আদালতকে পড়ে শোনান।
তিনি বলেন, ‘চ্যানেল ২৪ এ জাহালমের বিষয়ে প্রতিবেদনের পর দুদক তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। তদন্তে জাহালম যে নির্দোষ তা উঠে আসে। আমরা তো সঠিক পথেই আছি।’
তখন আদালত বলেন, চ্যানেল ২৪ এ রিপোর্ট হওয়ার আগে তিনি (তদন্ত কর্মকর্তা) কি করেছেন? দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আপনাদের অনেক স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। যে বিড়াল ইঁদুর ধরতে পারেনা সেই বিড়াল থাকার দরকার নেই।’ জবাবে দুদক আইনজীবী বলেন, ‘সবকিছু দুদকের তফসিলের আওতায় নেই।
আমাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে।’
আদালত বলেন, ‘আগে অনেকেই দুর্নীতিকে ঘৃণা করতো। কিন্তু এখন অবক্ষয় ঘটেছে।’
খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘আমরা যা করেছি বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যংকের সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা করেছি। ব্যাংক থেকে তাকে সনাক্ত করা হয়েছে’
আদালত তখন বলেন, ‘ব্যাংক প্রতিবেদন দিয়েছে কিন্তু আপনারা সেসব তথ্য যাচাই বাছাই করবেন না?
খুরশীদ আলম খান বলেন, সম্পুর্ন প্রতিবেদন পড়লে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
আদালত বলেন, আপনারা প্রতিবেদনে বলছেন জাহালম ১৮ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে। পাঁচটি ব্যাংককে পক্ষভূক্ত করার আবেদন জানিয়ে এখন মৌখিকভাবে ২টি ব্যাংককে পক্ষভুক্ত করতে চাচ্ছেন? ইসলামী ব্যাংককে পক্ষভূক্ত করার আবেদন করা হয়নি। এ মামলার অভিযোগপত্র কোথায়?’
খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘আমাদের কাছে মামলার সব নথি আছে। একটু সময় দিন, সব আপনাদের দিব।’
গত ৩ ফেব্রুয়ারি জাহালমকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদেশে নিরপরাধ জাহালমের মামলার বিশদ ব্যাখ্য চান আদালত। দুদকের আইনজীবী ব্যাখ্যা দাখিলের জন্য চার সপ্তাহের সময় চেয়েছিলেন।
Friday, April 30, 2010
অগ্রপথিক চাই, পশ্চাত্পথিক নয় by মোজাফ্ফর আহমদ
দুর্নীতি দমনের বিষয়ে এ দেশে যে আন্দোলন গত কয়েক দশক ধরে হয়ে আসছে, তার ধারাবাহিকতায় স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের বিষয়টি সামনে চলে আসে। এ দেশে দুর্নীতি দমন ব্যুরো অনেক কাল ধরে ক্রিয়াশীল ছিল। সে ব্যুরোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ এমন কঠিন ছিল যে তাদের প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এমন মামলাগুলো আদালতে অনেক সময়ই রুজু হয়নি অনুমতির অভাবে, যেগুলো রুজু হয়েছে দুর্বল উপস্থাপনার কারণে আদালতে সেগুলোর নিষ্পত্তি হতে সময় লেগেছে অনেক কাল। ব্যুরোতেও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ছিল ব্যাপক হারে। ব্যুরোর বেহাল দশার পেছনে ছিল রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। এ পরিপ্রেক্ষিতেই আইনের ভিত্তিতে অন্যান্য সংসদীয় সংস্থার আদলে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের দাবি ওঠে। কেবল বাংলাদেশে নয়, এ দাবি ওঠে পৃথিবীর নানা দেশে। নাগরিক সমাজের দাবির মুখে জাতিসংঘ এ সম্পর্কে একটি সনদ গ্রহণ করে। বাংলাদেশ সে সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং পরবর্তী সময়ে সরকারিভাব অনুসমর্থন (র্যাটিফাই) করেছে। সম্প্রতি সরকার ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট সম্পর্কীয় সনদে মানবতাবিরোধী বিচারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অনুস্বাক্ষর দিয়েছে। সে সনদের মতোই জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী সনদের বিভিন্ন করণীয় এখন সরকারের দায়িত্বের আওতায় পড়ে। স্মরণীয় যে আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাধীন, কার্যকর ও শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশনের বিষয়ে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রী অনেকবার সংসদে ও সংসদের বাইরে দুর্নীতি দমনের জন্য কার্যকর প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের কিছু সংশোধনী এনে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যেটি বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনে অনুমোদিত হয়নি। আদালতেও বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা দুর্নীতি দমন কমিশনের নানা কর্মকে স্থবির করে তুলেছে এবং কিছু কিছু মামলায় প্রক্রিয়াকে মূল অভিযোগ ও তার সঙ্গে যে প্রমাণাদি উত্থাপিত হয়েছিল তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করায় এক জটিলতার সৃষ্টি হয়। মামলা স্থগিত করে জামিন নিয়ে সাজাপ্রাপ্ত কিছু লোক নির্বাচনী বিধিমালার ফাঁকফোকর গলে বর্তমানে সংসদে এসে বিভিন্ন অযৌক্তিক কথা বলে চলেছেন। তাঁদের অনেকে যেহেতু আগে আমলা ছিলেন তাঁদেরই প্রভাবে আমলাতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য সচিব কমিটি ক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। তারই ফলে সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় দুর্নীতি দমন কমিশন-সম্পর্কিত আইনের কিছু সংশোধনী অনুমোদিত হয়েছে, যা সংসদের আগামী বৈঠকে আইন হিসেবে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে সেটি দুর্নীতি দমন কমিশনকে দুর্বল করবে এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ওয়াদাকে হাস্যকর করে তুলবে।
সংশোধনীতে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে সরকারের (তথা প্রধানমন্ত্রীর) অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এখানে আমলাতন্ত্রকে সুরক্ষা দেওয়ার অকারণ প্রচেষ্টা লক্ষণীয়। বিয়াল্লিশের মন্বন্তর ও বার্মা থেকে আশ্রয়হীনদের ভারতে প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে যে দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়, সেখানেও এমনতর সুরক্ষা ছিল না। সবচেয়ে সার্থক দুর্নীতি দমন কমিশন হংকং ও সিঙ্গাপুরে এমনটি নেই। এমনকি দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ অন্যান্য দেশেও এর উপস্থিতি খুঁজে পাওয়া যাবে না। এমন সুরক্ষা এটিই প্রমাণ করবে যে বাংলাদেশে নতুন করে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি হাস্যকার বিধান। তদন্তের জেরায় নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ব্যাপারে যুক্ত হতে পারবেন না। ফৌজদারি বিধিতেও এমন বিধান নেই। অপরাধী বা অভিযুক্তকে সে দৃষ্টিতেই দেখতে হবে। না হলে মন্ত্রী অভিযুক্ত হলে তাঁকে জেরা করতে আবার মন্ত্রী নিয়োগের বিষয় এসে যাবে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের জবাবদিহিতার জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে ব্যবহার করা যায় অথবা সংসদের একটি বিশেষ কমিটিকে এ দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। দুর্নীতি যেহেতু মূলত ‘একজিকিউটিভ’ ব্রাঞ্চের ব্যাপার, সে কারণে একে সে বিভাগের অধীনে আনার প্রস্তাব গ্রহণীয় নয়।
বিএনপির শাসনামলে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন অকার্যকর ছিল। তেমনি বর্তমান সরকারের আমলে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে এটি স্থবির হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সচিব নিয়োগের প্রস্তাব এবং সচিবের ক্ষমতার এখতিয়ার। কমিশন প্রয়োজনে প্রেষণে সচিব নিয়োগের অনুরোধ করতেই পারে কিন্তু এটা বাধ্যতামূলক করা হলে নির্বাচন কমিশনের উপাখ্যানের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। বর্তমান সরকার জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী যেসব করণীয় ছিল, সেদিকে এখনো দৃষ্টিপাত করেনি। বিশেষ করে, তথ্য প্রদানকারীর সুরক্ষা (whistleblowers protection) কিন্তু এর বিপরীতে মিথ্যা তথ্য প্রদানকারীর জন্য শাস্তির বিধান রাখছে। এসবই এ দেশে দুর্নীতির ব্যাপ্তি ও গভীরতাকে বাড়িয়ে দেবে, যেমন আমরা দেখছি নানা দখলের উন্মাদনার মধ্যে।
মোজাফ্ফর আহমদ: শিক্ষাবিদ, টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য।
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2002)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...