Friday, March 15, 2019

ইরানের নজিরবিহীন ড্রোন মহড়া: অংশ নিয়েছে ৫০টি আরকিউ-১৭০

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র নজিরবিহীন ড্রোন মহড়ায় ৫০টি আরকিউ-১৭০ সেন্টিনিয়েল ড্রোন অংশ নিয়েছিল। ‘আল-কুদস চলো-১’ নামের এ মহড়া গতকাল পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চালানো হয়।
আইআরজিসি’র চালকহীন বিমান মহড়ায় ৫০টি আরকিউ-১৭০ সেন্টিনিয়েল ড্রোন অংশ নিয়েছিল
 
আরকিউ-১৭০
২০১১ সালে আফগানিস্তান থেকে ইরানের আকাশসীমার ঢোকার পর  সাইবার হামলা চালিয়ে মার্কিন চালকহীন বিমানকে অক্ষত অবস্থায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে এর নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত হয় এবং একে আরো উন্নত করে নিজেই এ ড্রোন তৈরি করে ইরান। প্রযুক্তি জগতে একে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং বা উল্টো প্রযুক্তি সন্নিবেশ বলা হয়। রাডার ফাঁকি দেয়ার সক্ষমতা রয়েছে ইরানের তৈরি আরকিউ-১৭০র।
এটি ছাড়াও আক্রমণ এবং হামলায় সক্ষম অন্যান্য চালকহীন বিমানও অংশ নেয় মহড়ায়। যুদ্ধ অনুশীলনে অংশগ্রহণকারী ড্রোনগুলো ১২০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে বোমা বর্ষণ করে ফিরে আসতে সক্ষম হয়। খুজিস্তান, বুশেহের, হরমুজগানসহ অন্যান্য ঘাঁটি থেকে এ সব চালকহীন বিমান আকাশে উড়েছে। নজিবিহীন এ জাতীয় যুদ্ধ অনুশীলন বা মহড়া এই প্রথম চালানো হলো বলে আইআরজিসির বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
 
ইরানি ড্রোন
মহড়ায় আইআরজিসির কমান্ডার হোসেইন সালামি এবং আইআরজিসির বিমান-মহাকাশ বাহিনীর কমান্ডার আমির আলি হাজিজাদেহ উপস্থিত ছিলেন।
 
হামলায় সক্ষম ইরানি চালকহীন বিমানের ডানার নিচের ক্ষেপণাস্ত্র
 
হামলায় সক্ষম ইরানি চালকহীন বিমানের ডানার নিচের ক্ষেপণাস্ত্র
ফেব্রুয়ারি মাসের গোড়ার দিকে ইরান বিশাল নৌমহড়া চালিয়েছে। পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধারাবাহিক পরীক্ষাও চালানো হয়েছে। ডিসেম্বরে ইরানের পদাতিক বাহিনী দেশটির দক্ষিণে বিশাল সামরিক মহড়া চালিয়েছে।

নিউজিল্যান্ডে নিহতের সংখ্যা বাড়ছেই

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ জনে পৌঁছেছে। নিহত লোকজনের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি। তাঁদের পরিচয়ের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। হামলায় কমপক্ষে ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। হামলাকারী অস্ট্রেলীয় নাগরিক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ চারজনকে আটক করেছে নিউজিল্যান্ড পুলিশ। বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে একটি গাড়ি থেকে। নিউজিল্যান্ডের কোথাও কোনো মসজিদে মুসলিমদের যেতে নিষেধ করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে মসজিদগুলো আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। শহরজুড়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসলমানদের ওপর হামলা চালান ওই বন্দুকধারী। পরে কাছাকাছি শহরতলি লিনউডের মসজিদে হামলা চালানো হয়। তবে দ্বিতীয় মসজিদে হামলাকারী একই ব্যক্তি কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী কারও কারও মতে, হামলাকারী একাধিক ছিলেন।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অ্যারডের্ন এ ঘটনার নিন্দা প্রকাশ করে বলেছেন, এ ঘটনা নিউজিল্যান্ডের জন্য ঘোর অমানিশা। জেসিন্ডা অ্যারডের্ন টুইটে বলেছেন, ‘ক্রাইস্টচার্চে নজিরবিহীন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলার জায়গা নেই। ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে নিউজিল্যান্ডের অভিবাসী সম্প্রদায়ের। নিউজিল্যান্ডেই তাঁদের বাড়ি। তাঁরা আমাদের লোক।’
মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯
নিউজিল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ জন হয়েছে। তবে হামলাকারীর যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ওই হামলাকারী আছেন কি না, তা নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
স্থানীয় সময় রাত নয়টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ মৃতের সংখ্যা বাড়ার তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভয়াবহ হামলার ঘটনায় ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক ব্যক্তিরা ছাড়াও আর কেউ হামলায় জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দুইটি ঘটনাস্থল থেকেই কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে মাইক বুশ বলেছিলেন, বন্দুকধারীর হামলায় গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে। তবে এখনো মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাসিন্দাদের ক্রাইস্টচার্চ সড়ক দিয়ে চলাচলে নিষেধ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঘর থেকে বের না হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিহত দুই বাংলাদেশি শনাক্ত
সিডনি থেকে প্রথম আলোর নিয়মিত লেখক কাউসার খান স্থানীয় সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁকে এ তথ্য দেন ক্রাইস্টচার্চের ক্যান্টারবেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মেসবাহ চৌধুরী। ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থল-সংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন। তিনি জানান, নিহত একজনের নাম ডা. সামাদ আজাদ, অপরজন হোসনা। নিহত হোসনার স্বামীর নাম ফরিদ। নিহত দুজনই ক্রাইস্টচার্চে বহু বছর ধরে বাস করছিলেন। ড. মেসবাহ জানান, ঘটনার পর থেকেই আরও কয়েকজন বাংলাদেশি নিখোঁজ বলে শোনা গেছে। তবে তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম সুফিউর রহমান প্রথম আলোকে জানান, আল নুরসহ দুটি মসজিদে হামলার ঘটনায় নিহত লোকজনের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন।
রক্ষা পেলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা
মসজিদটি হ্যাগলি ওভাল মাঠের কাছাকাছি হওয়ায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা অনুশীলন শেষে সেখানে নামাজ আদায়ের জন্য যাচ্ছিলেন। আজ অনুশীলনে লিটন দাস ও নাঈম হাসান ছাড়া দলের অন্য সবাই ছিলেন। ক্রিকেট দল মসজিদে প্রবেশের মুহূর্তে সেখানে হামলার ঘটনা ঘটে। একজন প্রত্যক্ষদর্শী হামলা হয়েছে জানিয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে ক্রিকেট দলকে নিষেধ করলে খেলোয়াড়রা দ্রুত সেখানে থেকে ফিরে আসেন।
এ ঘটনার পর ক্রিকেটার তামিম ইকবাল টুইটে জানান, এটা তাঁদের জন্য ‘ভীতিকর অভিজ্ঞতা’ ছিল, বন্দুকধারী সেখানে হামলা চালিয়েছিল।
তামিম টুইটে লেখেন, ‘পুরো দল বন্দুকধারীর হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছে। এটা ভীতিকর অভিজ্ঞতা। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মুখপাত্র জালাল ইউনুস বলেছেন, দলের বেশির ভাগ সদস্য মসজিদে যাওয়ার জন্য বাসে চড়েছিলেন। মসজিদে প্রবেশের মুহূর্তে হামলার ঘটনাটি ঘটে।
হামলার পর ক্রিকেট দলের সদস্যদের হোটেল থেকে বের না হতে বলা হয়েছে।
ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভাল মাঠে কাল শনিবার বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় টেস্ট ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। পরে ম্যাচটি বাতিল করা হয়।
হামলাকারী অস্ট্রেলীয়
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, হামলাকারী কট্টর ডানপন্থী। তবে তাঁর নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
স্কট মরিসন বলেন, ক্রাইস্টচার্চে একজন উগ্র মনোভাবের অধিকারী ডানপন্থী উন্মত্ত জঙ্গি হামলা চালিয়েছে। হামলাকারী অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া নাগরিক। তবে তিনি বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলাকারীর নাম ব্রেনটন ট্যারেন্ট। বয়স ২৮ বছর। তিনি অভিবাসীবিরোধী কট্টরপন্থী।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন জানিয়েছেন, হামলাকারী নিরাপত্তা নজরদারির তালিকায় ছিল না।
হামলার ভিডিও ভাইরাল
ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পরপর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। এতে দেখা গেছে, ভিডিও গেমের মতো একজন বন্দুকধারী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি করছেন। হামলার ভিডিও দেখে ধারণা করা হচ্ছে, বন্দুকধারী হামলার আগে পুরো ঘটনাটি ভিডিও করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। হয়তো তাঁর মাথায় ভিডিও ক্যামেরা বসানো ছিল। একটি ওয়েবসাইট জানায়, হামলাকারী হামলাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করেছেন।
ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলাকারী স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে মসজিদের দিকে যাচ্ছেন। মসজিদের প্রবেশকক্ষ থেকেই মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে শুরু করেন। মসজিদের ভেতর ছোটোছুটিরত মুসল্লিদের প্রতি টানা গুলি করতে থাকেন। এরপর মসজিদের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে ঘুরে ঘুরে গুলি করতে থাকেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে যাঁরা মসজিদের মেঝেতে পড়েছিলেন, তাঁদের দিকে ফিরে ফিরে গুলি করছিলেন তিনি।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তা ভয়াবহ উল্লেখ করে অনলাইনে না ছড়াতে লোকজনকে নির্দেশ দিয়েছে নিউজিল্যান্ড পুলিশ।
চারপাশে শুধু লাশ আর লাশ
দুই মসজিদে হামলার ঘটনার ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র পাওয়া গেছে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী ফিলিস্তিনি জানান, তিনি একজনকে মাথায় গুলি করতে দেখেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি পরপর দ্রুত তিনটি গুলির আওয়াজ পাই। ১০ সেকেন্ড পর আবার গুলি শুরু হয়। এটা অবশ্যই স্বয়ংক্রিয় বন্দুক হবে। তা না হলে কোনো মানুষের পক্ষে এত দ্রুত ট্রিগার টানা সম্ভব নয়। লোকজন দৌড়াতে শুরু করে। কারও কারও দেহ রক্তে ভেসে যাচ্ছিল।’ তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে তিনি প্রাণে রক্ষা পান।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নামাজ আদায়রত অবস্থায় তিনি গুলির শব্দ শুনতে পান। তিনি দৌড়ে মসজিদ থেকে পালিয়ে এসে দেখেন তাঁর স্ত্রী ফুটপাতে মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন।
আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি শিশুদের গুলিবিদ্ধ হতে দেখেছেন। তিনি বলেন, চারপাশে শুধু লাশ আর লাশ।
অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গুলির শব্দ শোনার পর তিনি দেখেন চারজন মেঝেতে পড়ে আছেন। চারদিক রক্তে ভেসে যাচ্ছিল।
মোহান ইব্রাহিম নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম কোনো বৈদ্যুতিক ঝটকা। পরে সব লোক দৌড়ানো শুরু করে।’ তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধুরা ভেতরে রয়ে গেছে। আমি তাদের নাম ধরে চিৎকার করছিলাম। কিন্তু হট্টগোলে আমি তাদের কাছ থেকে কিছু শুনতে পাইনি। বন্ধুদের জীবন নিয়ে আমি ভীত।’
নিউজিল্যান্ডে এভাবে বন্দুক হামলার ঘটনা বিরল। ১৯৯০ সালে সাউথ আইল্যান্ডের আরামোয়ানা শহরে মানসিকভাবে অসুস্থ এক ব্যক্তি গুলি করে ১৩ জনকে হত্যার পর দেশটির অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কড়া করা হয়। ১৯৯২ সালে আধা স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের ব্যাপারে দেশটির আইনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এরপরও ১৬ বছরের বেশি বয়সী কেউ নিরাপত্তা কোর্স সম্পন্ন করার পর নির্ধারিত মানের অস্ত্র নিবন্ধনের সুযোগ পান।
এই হামলার আগে আরেকবারও বিশ্ব শিরোনামে উঠে এসেছিল নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণের শহর ক্রাইস্টচার্চের নাম। ছোট্ট এই শহরটিতে ২০১১ সালে আঘাত এনেছিল ভূমিকম্প। ওই সময় বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। শহরের ঐতিহ্যবাহী ক্যাথেড্রাল (গির্জা) ভূমিকম্পে ধসে পড়ে।
সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি, নিউইয়র্ক টাইমস, নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড, স্টাফ ডট কো ডট এনজেড

কোকাকোলার বোতলে বাংলা শব্দের বিকৃত ব্যবহার বন্ধে হাইকোর্টের রুল

মার্কিন বহুজাতিক কোমল পানীয় প্রস্তুতকারক কোম্পানি কোকাকোলার বোতলে বিকৃত বাংলা শব্দের ব্যবহার কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে বাংলাদেশ হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছে আদালত।
রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে  বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। চার সপ্তাহের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং বেভারেজ কোম্পানি কোকাকোলাসহ মোট নয় জন বিবাদীকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান রানা। কোকাকোলার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
পরে রিটকারী আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান রানা বলেন, ‘কোমল পানীয় কোকা-কোলার বোতলের  লেবেলে জটিল, চরম, মাথা নষ্ট, বাবু, ঢিলা, ফাঁপর, জান, গুটি, গাব, আগুন, কড়া, অস্থির, পার্ট, প্যারা, ব্যাপক, যা-তা'র মতো বাংলা শব্দের ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন প্রচার  করায় তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।’
এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কোকাকোলার বোতলে বাংলা ভাষার বিকৃত ব্যবহার বন্ধ, বাজারে থাকা কোকের বোতল প্রত্যাহার এবং এ নিয়ে প্রচারিত বিজ্ঞাপন বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। রিট দায়েরের পর মো. মনিরুজ্জামান রানা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘‘এ শব্দগুলো বোতলে বিজ্ঞাপন দিয়ে তারা প্রচার করছে। এটা আপত্তিজনক। আমরা চাই এ ধরনের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে। কারণ একটা শিশু দোকানে গিয়ে বলছে ‘আমাকে একটা প্যারা দেন’। ‘একটা মাথা নষ্ট দেন'। এটার তো নেগেটিভ ইম্প্যাক্ট হচ্ছে। তাই এটার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এ কারণেই রিট আবেদন করা হয়েছে।"

ইহুদিবিদ্বেষ রোধে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বার্লিন

ইহুদিবিদ্বেষ রোধে রাজ্য পর্যায়ে এই প্রথম বিশেষ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে জার্মানি। কিন্তু কেন গোটা দেশের বদলে শুধু একটি রাজ্যে এমন উদ্যোগ নেয়া হলো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বার্লিনে ইহুদি বিদ্বেষের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। এ খবর দিয়েছে ডয়েচে ভেলে। এরমধ্যে একটি স্কুলে এক ইহুদি শিক্ষার্থীকে নিগ্রহ থেকে ফিলিস্তিনিদের এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ইসরাইলের প্রতীক পোড়ানোর মতো ঘটনা রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা রোধে ৬৩ পাতার এক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে বার্লিন রাজ্য।
তবে প্রশ্ন উঠেছে পুরো দেশের বদলে কেন একটি রাজ্য এমন উদ্যোগ নিচ্ছে। বার্লিনের বিচার এবং বৈষম্য রোধ বিষয়ক সিনেটর ডির্ক বেরেন্ডট বিষয়টির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানান জার্মানিতে শিক্ষা এবং আইনের প্রয়োগের বিষয়াদি রাজ্য সরকারের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ফলে ইহুদি বিদ্বেষের রোধে একটি রাজ্যে এগিয়ে আসার বিষয়টি অস্বাভাবিক কিছু নয় বলে মত দেন তিনি।
বেরেন্ডট অবশ্য এটাও স্বীকার করেছেন যে, বার্লিনে ইহুদি বিদ্বেষের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এই বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বার্লিনে ইহুদিবিদ্বেষ এবং ঘৃণা বেড়েছে। কিছু ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।’’ ইহুদিবিদ্বেষ বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ করা বার্লিনভিত্তিক এনজিও আরআইএএস-এর পরিসংখ্যান বলছে ২০১৮ সালের প্রথম ছয় মাসে বার্লিনে ৫২৭টি ইহুদি বিদ্বেষের ঘটনা ঘটেছে। আগের বছর একই সময় এই সংখ্যা ছিল ৫১৪। বার্লিন এ ধরনের ঘটনা রোধে মূলত তরুণ প্রজন্মকে এই বিষয়ে আরো শিক্ষিত করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা প্রদানসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং গবেষণাতেও এই প্রকল্প থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হবে।
উল্লেখ্য, বার্লিনে ইহুদি বিদ্বেষের ঘটনাগুলোর মধ্যে যেগুলো নিয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে সেগুলোর কয়েকটির সঙ্গে মুসলমান তরুণদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, বার্লিনে এমন একটি প্রজন্ম গড়ে উঠছে যাদের ইহুদিদের বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা নেই। এমনকি স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে বার্লিনে প্রতি দশজন স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য চারজনই আউৎসভিৎস সম্পর্কে কিছুই জানেন না।

রাতভর ব্যালট বাক্স পাহারা দিয়েছি -তাসনিম আফরোজ ইমি by মরিয়ম চম্পা

শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে শামসুন নাহার হলের ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্যানেলের সদস্য সংখ্যা মোট ৮ জন। প্রত্যেকেই জয়লাভ করেছেন। সাহসী ইমি জড়িত ছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একবার ডিবি পুলিশ ধরে নিয়ে যায় তাকে। এত কিছুর পরেও দমে থাকেন নি অদম্য ইমি।
ভোটের মাঠে মেধা আর অদম্য সাহস দিয়ে কীভাবে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হয় সেটা জানেন লড়াকু এই শিক্ষার্থী।
নির্বাচনে তার বিজয় প্রসঙ্গে মানবজমিনের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন ইমি। বলেন, নির্বাচনে লড়াইয়ের বিষয়ে বলতে গেলে বলতে হয় আমরা যখন ৮ জন মিলে সিদ্ধান্ত নেই নির্বাচন করবো আসল লড়াইটা মূলত সেখান থেকেই শুরু হয়। বড় কিছু না হলেও ছোটখাটো অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল। নমিনেশন পেপার তোলার পর প্রথমদিন হলের সামনে প্রভোস্ট ম্যামের চোখের চাহনি দেখে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। এরপর হলের ক্ষমতাসীন দলের ৪ প্রার্থী আমাদের বিরুদ্ধে তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক রিপোর্ট করে বন্ধ করার অপবাদ দেয়। রুমে রুমে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ভোটারদের কাছে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়। এটা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে মিথ্যা নিউজ করানোসহ অনেক অপচেষ্টা করা হয়েছে আমাদের দমাতে।
ক্ষমতাসীনরা অনেক আগে থেকেই তাদের পোস্টার দিয়ে পুরো হল ছেয়ে ফেলেছিল। এসময় আমরা নিজেরা রাত জেগে হাতে লিখে পোস্টার তৈরি করে সকালে হলের সামনে ৯টি পোস্টার লাগাই। সন্ধ্যায় দেখি পোস্টার নেই। এ বিষয়ে হল প্রশাসনের কোনো সহযোগিতা পাইনি। এভাবে টুকটাক কাদা ছোড়াছুড়ি চলতে থাকে। এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। নির্বাচনের আগের দিন সন্ধ্যা থেকে সারা রাত জেগে আমাদের ভোটকেন্দ্রগুলো কড়া নজরদারিতে রাখি। যাতে করে নির্বাচনের পুরো বিষয়টা আমাদের নখদর্পণে থাকে। আমরা প্রার্থীরা পালাক্রমে পাহারা বসাই। প্রভোস্ট ম্যামের রুমে সকল ব্যালট বাক্স রাখা ছিল। যেটা আমার ২০১ নং কক্ষ থেকে দেখা যায়। রাত ২টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত আমি রুমের বারান্দার সানসেটে বসে ছিলাম। নজর রেখেছি যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। ফলে রাতের বেলা ভোট কারচুপির চেষ্টা আমাদের কারো চোখে পড়েনি।
আমাদের কাছে তথ্য ছিল যে, নির্বাচনের দিন ভোরবেলা মেয়েদের লাইনে দাঁড় করিয়ে দেয়া হবে। এবং ওই লাইনই নাকি চলতে থাকবে। এজন্য আমরা আমাদের মেয়েদেরকে আগে থেকে দাঁড় করিয়ে দেই। যাতে এই ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়তে না হয়। আমাদের আরেকটি প্লাস পয়েন্ট ছিল সাধারণ ভোটার শিক্ষার্থীরা খুব সকাল সকাল ভোট দিতে চলে আসে। ফলে ভোটের লাইনের যে দীর্ঘসূত্রতা সেটা আমাদের ফেস করতে হয় নি। এ ছাড়া ভোট গ্রহণের সব নিয়মগুলো শুরু থেকে খুব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য প্রশাসনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই।
এ ছাড়া ভোট গ্রহণের আগে প্রত্যেকটি ব্যালট বাক্স ম্যামরা আমাদের খুলে দেখিয়েছেন। ছোট্ট একটি ব্যালট বাক্স নিয়ে আমাদের সন্দেহ ছিল সেটাও দুই ঘণ্টা পর খুলে দেখানো হয়েছে। ভোট গণনার কার্যক্রম আমাদের প্রত্যেক প্রার্থীর চোখের সামনে সম্পন্ন হয়েছে। এটিই মনে হয় আমাদের হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে আমি মনে করি। এক পর্যায়ে ভোট গণনার জন্য প্রভোস্ট ম্যামের অফিসে নিয়ে যেতে চাইলে আমরা বাধা দেই। এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়। একটি প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিল। নির্বাচনে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল তাদেরকে একদম ফলাফল ঘোষণার পরে ভোটকেন্দ্র থেকে বের হতে দেয়া হয়। সত্যি বলতে শামসুন নাহার হলের নির্বাচন একটি নজির স্থাপন করেছে।
রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা এখন আন্দোলন ও অনশন করছে। তারা যদি এই কাজটি এখন না করে একদম শুরুতে করতেন তাহলে হয়তো এটা করতে হতো না। কারণ নির্বাচনে একধরনের বাধা-বিপত্তি আসবে সেটা তো সকলেই জানতাম। কাজেই তারা চাইলে পুরো বিষয়টি আরেকটু স্মার্টলি হ্যান্ডেল করতে পারতো। যেমনটা মৈত্রী হলের ছাত্রীরা করে দেখিয়েছে। এ ছাড়া আমাদের হলের প্রশাসনের যে দায়িত্বশীল আচরণ ছিল বাকি হলের প্রশাসন এমন আচরণ করতে পারতেন। তবে সব মিলিয়ে আমাদের হলের নির্বাচন ভালো হয়েছে। কিন্তু পুরো নির্বাচন নিয়ে যদি বলি এক্ষেত্রে আমি তো খুবই হতাশ। বিশেষ করে ছেলেদের হল। আমাদের হলে মোট ভোট কাস্ট হয়েছে ১৭শ’ ৬০টি। এরমধ্যে আমি পেয়েছি ১ হাজার ৭৩টি। এবং আমার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভিপি প্রার্থী ছাত্রলীগ সমর্থিত জিয়াসমিন শান্তা পেয়েছে ৫০৬টি ভোট। পুরো নির্বাচন সম্পন্ন করতে আমাদের প্যানেলের ৮ সদস্যের খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা।
ইমি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো রাজনীতি করার ইচ্ছা নেই। শুধুমাত্র হল জীবনে বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে মুক্তি পেতে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মুক্ত করতে এই নির্বাচন করা। হলে নিয়মিত পানি থাকে না। মাস্টার্স পর্যন্ত ডাবলিং করতে হয়। আমাদের মায়েদের হলে আসতে দেয়া হয় না। আসতে হলে প্রায় ১ সপ্তাহ আগে দরখাস্ত করতে হয়। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ‘মা আসবে হলে’। এ ছাড়া আমাদের নির্বাচনের ইশতেহারের কৌশলটি ছিল একটু ব্যতিক্রমধর্মী। প্রত্যেক মেয়ের রুমে পৃথকভাবে মেয়েদেরকে সাদা কাগজ দিয়েছি। ওখানে ছিল ‘নিজেরাই করি নিজেদের ইশতেহার’। যেখানে হলের মেয়েরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের দাবি-দাওয়াগুলো লিখে জানায়। কাজেই কিছুটা হলেও যেন এই সমস্যার সমাধান করতে পারি সে লক্ষ্যে কাজ করার চেষ্টা করবো। যাতে করে জুনিয়র কেউ যেন আমার মতো ভুক্তভোগী না হয়। 
ইমির গ্রামের বাড়ি খুলনার পাইকগাছায়। বাবা শেখ গোলাম ইকবাল জামালপুর যমুনা ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরিতে চাকরি করেন। সেই সূত্রে এখানেই তার বেড়ে ওঠা। জামালপুর যমুনা সারকারখানা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও স্থানীয় কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে ইমি সবার বড়। মা মনোয়ারা বেগম গৃহিণী।

পারস্য উপসাগরে বিশাল ড্রোন মহড়া চালালো ইরান

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় বিশাল আকারের ড্রোনের যুদ্ধ মহড়া চালিয়েছে। মহড়ায় কয়েক ডজন ড্রোন অংশ নিয়েছে যার মধ্যে ১০টি আরকিউ-১৭০ ড্রোন ছিল। ২০১১ সালে ইরান আমেরিকার এ ড্রোন হ্যাক করার পর আটক করে এবং এরপর তেহরান নিজেই এ ড্রোন উৎপাদন করে।
আআরজিসি’র ড্রোন মহড়ার নাম দেয়া হয়েছে ‘টুওয়ার্ডস আল-কুদস ১’। মহড়া পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে আইআরজিসি’র আকাশ প্রতিরক্ষা ডিভিশন। এতে উপস্থিত ছিলেন আইআরজিসি’র শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
এই প্রথম ইরানের সামরিক বাহিনী উচ্চ প্রযুক্তির ড্রোনের মহড়া চালালো। ড্রোন মহড়ার পাশাপাশি যুদ্ধবিমানও কসরত দেখায়। এসব বিমান ১০০০ কিলোমিটার পথ উড়ে যায় এবং সঠিক সময়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে।
মহড়ায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আইআরজিসি’র সেকেন্ড ইন-কমান্ড ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন সালামি বলেন, ড্রোন মহড়ার মাধ্যমে আবারো প্রমাণিত হয়েছে যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ হয়েছে।

নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না, রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার, বিরোধী দলকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন, বাক স্বাধীনতায় বাধা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না সরকার by মিজানুর রহমান ও অনিম আরাফাত

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বিশ্বের দেশগুলোতে ঘটা সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও নিষ্ঠুরতার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ঘটা নানা মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সংবিধানে সরকারের সংসদীয় কাঠামোর কথা উল্লেখ থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ একাধারে তৃতীয়বারের মত নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় বসেছে। কিন্তু এই নির্বাচন কোন বিবেচনাতেই অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না। একইসঙ্গে ভোটার ও বিরোধীদলকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মত নানা অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া গেছে। নির্বাচনের প্রচারণার সময় বিশ্বস্থ কিছু সূত্র থেকে হয়রানি, হুমকি, গ্রেপ্তার ও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে যা বিরোধী দল ও তার সমর্থকদের স্বাধীনভাবে প্রচারণা ও সমাবেশে বাধা সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও সঠিক সময়ে বাংলাদেশে প্রবেশের ভিসা পায়নি। শুধুমাত্র ২২ টি সংস্থা আভ্যন্তরীণভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুযোগ পেয়েছে।
রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার ও কারাদ- দেয়ার কথাও বলা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, রাজনৈতিক পরিচয়ও অনেক সময় গ্রেপ্তারের কারণ হিসেবে দেখানো হয়। বিএনপি দাবি করেছে গত বছর তাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে ৫ বছরের কারাদ- দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক ও আভ্যন্তরীণ আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন তাকে অভিযুক্ত করার জন্য প্রমাণের অভাব ছিল। তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এ রায় দেয়া হয় বলে জানান তারা। এরপর তাকে আরো একটি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার রায়ের সময় প্রায় ১৭৮৬ বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিএনপির একজন মুখপাত্র হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানিয়েছে, তাদের ও জামায়াতে ইসলামীর হাজার হাজার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল যুক্তরাষ্ট্র সময় সকাল ১১টায় আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এ রিপোর্ট প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতায় বাধা দেয়ার কথা বলা হয়েছে এ রিপোর্টে। সেখানে বলা হয়, সাংবাদিকরা হয়রানির ভয়ে সেলফ-সেন্সরশিপের দিকে ঝুঁকছে। আইনে বলা আছে ঘৃনামূলক বক্তব্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে কিন্তু এ দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে তা ¯পষ্ট করা হয়নি। যেসব গণমাধ্যম সরকারের সমালোচনা করে থাকে তারা নানাভাবে সরকারের নেতিবাচক চাপের মুখে পরে। এছাড়া সাংবাদিকদের আক্রান্ত হওয়ার কথাও বলা হয় প্রতিবেদনে। রিপোর্টার উইদাউট বর্ডারের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপদ সড়কের দাবিতে হওয়া আন্দোলনের সময় ২৩ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছিলেন।
কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর কার্যকরী নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম হয়েছে। মানবাধিকার রক্ষায় রয়েছে নানা ব্যর্থতা। এরমধ্যে রয়েছে, হত্যা, জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন, সরকারকর্তৃক অযথা গ্রেপ্তার, আইনবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশ, বাক স্বাধীনতা হরণ, সমকামীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা।
বছরজুড়েই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সন্ত্রাসবাদ থামাতে নানা অভিযান পরিচালনা করেছে। কিছু কিছু অভিযানে সন্দেহভাজনরা নিহত ও গ্রেপ্তার হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী প্রায়ই এ ধরনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে সন্দেহভাজনকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে যাওয়ার কথা বলে থাকে। যেখানে তার সতীর্থদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অভিযুক্ত নিহত হন। সরকার এই ঘটনাগুলোকে বন্দুকযুদ্ধ বা এনকাউন্টার বলে আখ্যায়িত করে থাকে। গণমাধ্যমও প্রায়ই একই আঙ্গীকেই খবর প্রকাশ করে থাকে। মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছে যে, বন্দুকযুদ্ধের অনেক ঘটনা আসলেই বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড। দেশের আভ্যন্তরীণ মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্টস সোসাইটি জানিয়েছে, গত বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪০০ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। অধিকার নামে আরেকটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে মোট ৪১৫টি বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, এর আগের বছরের তুলনায় বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে প্রায় ২৩০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়েছে। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরো ১৭০০০ জনকে। মানবাধিকার সংস্থা ও সুশীল সমাজ বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গ্রেপ্তার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের দাবি, এদের মধ্যে অনেকেই নিরপরাধ।
মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের দেয়া তথ্যমতে গুম ও অপহরণের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এর বেশিরভাগের সঙ্গেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা জড়িত। এসব ঘটনা রোধ ও তদন্তে সরকারি উদ্যোগ তেমন ছিল না। অধিকার জানিয়েছে গত বছর জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৮৩টি গুমের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশের সংবিধান সকল প্রকার নির্যাতন ও অন্যান্য অমানবিক আচরণ বা শাস্তিকে বে-আইনি ঘোষণা করেছে। তারপরেও গোয়েন্দা বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সাধারণত সন্ত্রাসী ও বিরোধী দলের কর্মীদের থেকে তথ্য পাওয়ার জন্য নির্যাতন করে থাকে। অধিকার জানিয়েছে, গত বছরের প্রথম ১০ মাসে অন্তত ৫ জন নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনে মারা গেছে। এ ছাড়া ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার ও আটকের বিষয়টি উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশের কারাগারের দুর্দশার কথা তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে কারাগারগুলোতে ধারণ ক্ষমতার থেকে অতিরিক্ত আসামী রাখা হয়েছে, এগুলোতে সুযোগ সুবিধার নিশ্চয়তা নেই ও শৌচাগার সুবিধারও ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। এ ধরনের পরিবেশে প্রায়ই মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে কয়েদিরা। এই পরিবেশের কারণে গত বছর মোট ৭৪ কয়েদি মারা গেছে।
১৯৭৪ সালের স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ চাইলেই কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই যে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারবে। প্রায়ই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাদের গ্রেপ্তারের পেছনে এ আইন দেখিয়ে থাকে। সংবিধান অনুযায়ী আটক কেউ তাকে গ্রেপ্তারের কারণের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। কিন্তু সরকার সাধারণত এ ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করে না। সুশীল সমাজ, মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমগুলো সরকারকে শুধুমাত্র সন্ত্রাসী নয় এমনকি সুশীল সমাজ ও বিরোধী নেতাদের জোরপূর্বক গুমের দায়ে অভিযুক্ত করেছে।
রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার ও কারাদ- দেয়ার দাবিও করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, রাজনৈতিক পরিচয়ও অনেক সময় গ্রেপ্তারের কারণ হিসেবে দেখানো হয়। বিএনপি দাবি করেছে গত বছর তাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির দায়ে ৫ বছরের কারাদ- দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক ও আভ্যন্তরীণ আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন তাকে অভিযুক্ত করার জন্য প্রমাণের অভাব ছিল। তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এ রায় দেয়া হয় বলে জানান তারা। এরপর তাকে আরো একটি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। রিপোর্টে বলা হয়, খালেদা জিয়ার রায়ের সময় প্রায় ১৭৮৬ বিএনপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিএনপির একজন মুখপাত্র হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানিয়েছে, তাদের ও জামায়াতে ইসলামীর হাজার হাজার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতায় বাধা দেয়ার কথা বলা হয়েছে মার্কিন রিপোর্টে। সেখানে বলা হয়, সাংবাদিকরা হয়রানির ভয়ে সেল-সেন্সরশীপের দিকে ঝুঁকছে। আইনে বলা আছে ঘৃণামূলক বক্তব্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে কিন্তু এ দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে তা ¯পষ্ট করা হয়নি। যেসব গণমাধ্যম সরকারের সমালোচনা করে থাকে তারা নানা ভাবে সরকারের নেতিবাচক চাপের মুখে পরে। এছাড়া সাংবাদিকদের আক্রান্ত হওয়ার কথাও বলা হয় প্রতিবেদনে। রিপোর্টার উইদাউট বর্ডারের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপদ সড়কের দাবিতে হওয়া আন্দোলনের সময় ২৩ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এর ফলে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা এখনো দুর্নীতি। ২০১৮ সালে টিআইবির জরিপ থেকে জানা যায়, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোই বাংলাদেশের সব থেকে দুর্নীতিগ্রস্থ সংস্থা।
যৌতুকের বলি ৩৫ নারী, বাল্যবিবাহ নিয়ে পাল্টাপাল্টি
মার্কিন রিপোর্টের সেকশন সিক্স এ বঞ্চনা, সামাজিক অপব্যাহার এবং মানবপাচারের বিষয়টি ওঠে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে এসব ক্ষেত্রে নারীরাই সবচেয়ে বেশী ভিকটিম হচ্ছেন। ২০১৭ সালের আগস্টে শেরপুর জেলার একটি ধর্ষণের ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে রিপোর্টে বলা হয়Ñ ধর্ষণ মামলায় আটক হওয়ার ৪ ঘন্টার মাথায় পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে গেছেন অভিযুক্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মুহাম্মদ আল-হেলাল। তিনি ওই অভিযুক্ত থেকে মুক্তি পেতে ভিকটিমের পরিবারকে ১৮ হাজার টাকা যা ২১১ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ দিতে চেয়েছিলেন। ভিকটিম থানায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি পর্যন্ত দায়ের করতে পারেনি পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসির অসযোগিতার কারণে। তিনি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে অবশ্য আদালতে অভিযোগ দায়ের হয় এবং হেলালের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। বাংলাদেশে ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে ভিকটিম তার ঘটনাটিই প্রকাশ করেন না পরবর্তী হয়রানী এবং ঝামেলার ভয়ে।
তাছাড়া সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং আইনী প্রক্রিয়ায় প্রবেশাধিকারের বাধা-বিপত্তি তো আছেই। তবে আশার দিক হচ্ছে, ২০১৫ সালের একটি মামলার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত ধর্ষণ মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে পুলিশ এবং অন্যদের ১৬ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। বাংলাদেশের যৌতুকের জন্য নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলোর ভয়াবহতা মার্কিন রিপোর্টে স্থান পেয়েছে। বলা হয়েছে সামাজিক ওই ব্যাধিকে ‘হার্মফুল ট্রাডিশনাল প্র্যাকটিস’ হিসাবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, গত বছরে ৩৫জন নারীকে যৌতুকের জন্য প্রাণ দিতে হয়েছে। তাছাড়া গুরুতর আহত হওয়ার ৪১টি কেস রেকর্ড হয়েছে। যৌন নির্যাতনের বিষয়ে রিপোর্টে বলা হয়েছেÑ বাংলাদেশে এ বিষয়ে কঠোর আইন ও আদালদের কড়া নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু আইনের প্রায়োগিক দুর্বলতার কারণে ঘটনাগুলো ঘটেই চলেছে। কিছু ঘটনা এমনও আছে যে, এটির কারণে কিশোরীরা স্কুলে এবং কাজে যাওয়া ক্ষেত্রে বাধাপ্রাপ্ত হয়। নারীদের পদে পদে বঞ্চনার অনেক ঘটনাও রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। শিশুদের জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষা, তাদের নির্যাতন এবং অনুপযুক্ত কাজে ব্যবহারের (অপব্যবহার) বিভিন্ন ঘটনার বর্ননা যা গত বছরের রেকর্ডভুক্ত হয়েছ তা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আইন এবং আদালতের নির্দেশনা এবং সরকারের তৎপতার বিষয়গুলো সেখানে স্থান পেয়েছে। বাল্য বিবাহ এবং জোরপূর্বক বিয়ের ঘটনাগুলোও রিপোর্টে স্থান পেয়েছে। সেখানে ইউনিসেফের মূল্যায়ন এবং সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের পাল্টাপাল্টি অবস্থানও তুলে ধরা হয়েছে।

তেল আবিবে আঘাত হানল গাজা থেকে নিক্ষিপ্ত ২ রকেট

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে নিক্ষিপ্ত অন্তত দু’টি রকেট ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে আঘাত হেনেছে। ইসরাইলের জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী কথিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম ওই দুই রকেটকে শনাক্ত বা ভূপাতিত করতে পারেনি।
গতরাতে (বৃহস্পতিবার) রাতে ওই রকেটগুলো তেল আবিবের দিকে ধেয়ে আসতে থাকলে ইসরাইলের গোটা মধ্যাঞ্চল জুড়ে সাইরেনের তীব্র শব্দে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ইসরাইলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তারা তেল আবিবের শহরতলীর ‘গুশ ড্যান’ এলাকায় দু’টি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। আবার কেউ কেউ দাবি করেছেন, তারা আয়রন ডোম থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষিপ্ত হতে দেখেছেন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, আয়রন ডোম শেষ মুহূর্তে সক্রিয় হয়ে উঠলেও দু’টি রকেটের একটিও ভূপাতিত করতে পারেনি।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী আয়রন ডোমের এই ব্যর্থতার খবর নিশ্চিত করেছে। তবে তারা এই ব্যর্থতা ধামাচাপা দিতে গিয়ে বলেছে, এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি স্বয়ংক্রিয় কৌশল হচ্ছে এটি যখন বুঝতে পারে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র বা রকেট ফাঁকা স্থানে পড়বে তখন এটি নিজে থেকেই সেটিকে পাশ কাটিয়ে যায়।
তবে রকেট আঘাত হানার ফলে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানি হয়নি বলে প্রাথমিকভাবে পাওয়া খবরে জানা গেছে। তবে সাইরেনের তীব্র শব্দের ফলে সৃষ্ট আতঙ্কের জের ধরে কয়েকজনকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হয়েছে। ২০১৪ সালের গাজা যুদ্ধের পর এই প্রথম তেল আবিবে সাইরেন বাজল।
ইসরাইলি সেনা মুখপাত্র রনেন ম্যানেলিস বলেছেন, ফিলিস্তিনি রকেট এতটা পথ পাড়ি দিয়ে তেল আবিব পর্যন্ত আসবে বলে কেউ ধারনা করতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, “গাজা থেকে এ ধরনের রকেট ছোঁড়া হবে বলে আমাদের কাছে কোনো আগাম খবর ছিল না।  তাই এগুলো আমাদের বিস্মিত করেছে।”
বৃহস্পতিবার রাতের ওই রকেট হামলার পর ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে, তারা গাজায় তাদের ভাষায় সন্ত্রাসী অবস্থানগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে। ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো বলেছে, গাজা শহরের খান ইউনুস বন্দরের কাছে ইসরাইলি হামলা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে এলোপাথারি বিমান হামলা চালিয়েছে ইহুদিবাদী বাহিনী।
ইহুদিবাদী ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী সেনা সদরদপ্তরে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। এক খবরে জানা গেছে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ গাজা সফররত মিশরীয় নিরাপত্তা প্রতিনিধিদলকে ওই উপত্যকা ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে। গাজা থেকে সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ইসরাইলি হামলার আশঙ্কায় ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের যোদ্ধারা তাদের সামরিক অবস্থানগুলো খালি করে দিয়েছেন।

নুসরত আত্মবিশ্বাসী, মানুষ ভালবাসায় ভরিয়ে দেবেন by পরিতোষ পাল

অভিনয় কেরিয়ারের মধ্য গগনে থাকা অবস্থাতেই নুসরত জাহান রাজনীতিতে পা দিয়েছেন। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বসিরহাট কেন্দ্রে তাকে প্রার্থী করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর প্রার্থী হয়েই কাজে নেমে পড়েছেন। জয়ের ব্যাপারে প্রবল আত্মবিশ্বাসী নুসরত মনে করেন, অভিনয়ের ক্ষেত্রে যেভাবে  মানুষ আমাকে ভালবাসায় ভরিয়ে দিয়ে আজ এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন, ঠিক সেভাবেই আমার এই পর্যায়েও মানুষ ভালবাসায় ভরিয়ে দেবেন।
প্রার্থী হবার পর বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগণার মধ্যম গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের  নেতৃত্বের সঙ্গে লোকসভা নির্বাচনের প্রচার কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছেন নুসরত। সেখানেই প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে বেশ সপ্রতিভভাবেই তার বক্তব্য রেখেছেন। নুসরত প্রথমেই বলেছেন, সারাজীবন বাড়িতে, কাজের জায়গায় অনেক দায়িত্ব সামলেছেন তিনি, তাই আশা করছেন মানুষকে সেবা করার এই দায়িত্বটাও তিনি সঠিক ভাবে সামলাতে পারবেন। মমতার এই পছন্দের নায়িকাকে কি বলেছেন দিদি? উত্তরে নুসরতকে দিদি বলেছেন, যাও জিতে এস।
টালিগঞ্জের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী ২০১০ সালে একটি সৌন্দর্য্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার পরে মডেল হিসেবে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। পরে অবশ্য জিতের সঙ্গে ’শত্রু’ ছবির মাধ্যমে নুসরতের রূপালি পর্দায় আবির্ভাব ঘটেছিল। এর পর একের পর এক বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করে দুই বাংলাতেই জনপ্রিয় হয়েছেন নায়িকা হিসেবে। গত বছরে শাকিব খানের সঙ্গে নাকাব ছবিতেও অভিনয় করেছেন। ইদানিং অবশ্য নুসরতের হাতে ছবি নেই। বাণিজ্যিক ছবিতে নাকি অরুচি ধরেছে নুসরতের। ফলে গোটা শীতটাই চুটিয়ে স্টেজ শো করেছেন।  কিছুদিন ধরেই নুসরতকে বলতে শোনা গেছে,  অন্য ধরণের চরিত্র পেলেই অভিনয় করব। এই ভাবনার মাঝেই দিদির আহ্বানে রাজনীতিতে নেমে পড়তে হয়েছে। অবশ্য গত কয়েক বছর ধরে মমতার সব ধরণের অনুষ্ঠানে টালিগঞ্জের অভিনেতা অভিনেত্রীদের পাশে নুসরতকে হাজির থাকতে দেখা গেছে। এমনকি দলীয় কর্মসূচিতেও দেখা গেছে নুসরতকে। ফলে রাজনীতিতে নামার গুঞ্জন ছিলই। নুসরতের নাম ঘোষনার সঙ্গে সঙ্গে বসিরহাটজুড়ে উচ্ছ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। মুসলিম অধ্যুষিত বসিরহাটে এর আগে প্রার্থী হয়ে জিতেছিলেন ইদ্রিশ আলি। এবার অবশ্য ইদ্রিশকে প্রার্থী করা হয় নি।
বৃহষ্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, নির্বাচনে নতুন ইনিংস শুরু নিয়ে ভয় করছে কিনা। উত্তরে নুসরত বলেছেন, আমি যখন অভিনয় করতে এসেছিলাম, ইন্ডাস্ট্রিতে একেবারে নতুন ছিলাম। লড়াই করে সেখানে নিজের জায়গা করেছি। এখানেও আমি নতুন, কিন্তু জানি, মানুষের ভালবাসায় নিজের জায়গা তৈরি করে নিতে পারব। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই তাঁকে ও মিমি চক্রবর্তীকে সামাজিক মাধ্যমে অশালীন আক্রমনের মুখে পড়তে হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে উঠে এসেছে একের পর এক মিম। তাই নিয়ে নুসরতের জবাব, যাঁরা এই ধরনের মিম বানাচ্ছে, তাঁদের জীবনে শিক্ষা ও সংস্কৃতির অভাব আছে। নিজেদের বাড়ির মহিলাদের যখন এভাবে কুৎসিত আক্রমণ তাঁরা করেন না, তখন এভাবে একজন মহিলা প্রার্থীকে আক্রমণের কী মানে? আসলে, এরা ভদ্রতা, সভ্যতার সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, আসানসোল কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেনকে নিয়ে বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় যেভাবে ঠাট্টা করেছেন তা নিয়েও সরব হয়েছেন নুসরত। তিনি বলেছেন, সুচিত্রা সেনের পরিবারের সন্তান মুনমুন, তাঁকে নিয়ে ঠাট্টা করার আগে দু’বার ভাবা উচিত ছিল বাবুলের।

নিউজিল্যান্ডের ভয়ংকর এক দুপুর

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নুর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে মসজিদে নামাজ শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যে একজন বন্দুকধারী সিজদায় থাকা মুসল্লিদের ওপর গুলি ছোড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, বন্দুক হামলার পর মসজিদ থেকে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে থাকে। মসজিদের ভেতর কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটেছে। পুলিশ এখনো হতাহত ব্যক্তির সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। এ ঘটনাকে ‘গুরুতর ঘটনা’ উল্লেখ করে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শহরের হাসপাতাল ও সব স্কুলে যে যেভাবে আছে, সেভাবেই ভেতরে থাকতে নির্দেশে দেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের বাসা থেকে বের না হতে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে লোকজনকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় অবস্থান নিয়েছে পুলিশ ছবি: রয়টার্স
ঘটনাস্থলে পড়ে রয়েছে জুতো, রক্তমাখা ব্যান্ডেজ। ছবি: রয়টার্স
আহত একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শহরের হাসপাতাল ও সব স্কুলে যে যেভাবে আছে, সেভাবেই ভেতরে থাকতে নির্দেশে দেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের বাসা থেকে বের না হতে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। ছবি: রয়টার্স
উদ্বিগ্ন স্বজনেরা। ছবি: রয়টার্স
ঘটনাস্থলে রয়েছে পুলিশ। ছবি: রয়টার্স
ঘটনাস্থলে থাকা একটি গাড়ি। ছবি: রয়টার্স
উদ্বিগ্ন স্বজন, বসে পড়েছেন ফুটপাতেই। ছবি: রয়টার্স
ঘটনাস্থলে পড়ে রয়েছে একটি দেহ। ছবি: রয়টার্স

ক্রিস্টচার্চ মসজিদে হামলায় নিহত ৪৯, ছবিতে ক্রাইস্টচার্চে হামলার পরের দৃশ্য


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুইটি মসজিদে হামলায় নিহত হয়েছেন ৪৯ জন। এক বিবৃতিতে এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ। ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ২০ জন। এর আগে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দা আরডেন নিহতের সংখ্যা ৪০ জন জানিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধারনা করা হচ্ছে, এদের মধ্যে ৩ জনই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।
এই হামলাকে জেসিন্দা আরডেন সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, যারা এ হামলার সঙ্গে জড়িত তারা সকলেই সন্ত্রাসী। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারির তালিকায় তাদের নাম ছিল না।
এর আগে হামলার পর এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে এটি নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম কালো দিন হিসেবে অভিহিত করেছিলেন তিনি। তিনি বলেন, নিশ্চিতভাবেই যা ঘটেছে তা অস্বাভাবিক ও ভয়াবহ মাত্রার অপরাধ।

নিউজিল্যান্ডের মসজিদগুলোতে শুক্রবারই সবথেকে বেশি মানুষ নামাজ পড়তে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারী একাই অস্ত্র হাতে নিয়ে গুলি ছুড়তে শুরু করেন। ইতিমধ্যে পুলিশ ওই হামলাকারীর ছবি ও পরিচয় প্রকাশ করেছে। তার নাম ব্রেন্টন ট্যারান্ট ফ্রম। সে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। হামলার পর এর সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ৮৭ পাতার একটি ঘোষণা প্রকাশ করে সন্ত্রাসীরা। পুলিশ বলছে ওই একাউন্টের মালিকও হামলায় যুক্ত ছিল। ঘোষণায় তারা, মুসলিম শরনার্থী বিদ্বেষী বক্তব্য তুলে ধরে। তবে এতে কারো কোনো সাক্ষর ছিল না।
ক্রাইস্টচার্চের হামলায় নিহতের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নুর মসজিদসহ দুটি মসজিদে হামলার ঘটনায় নিহতের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম সুফিউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের একজন হলেন কৃষিবিদ ড. আবদুস সামাদ। তিনি ক্রাইস্টচার্চের লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। তার স্ত্রীরও সন্ধান পাওয়া যায়নি এখন পর্যন্ত। মিসেস হোসনে আরা ছবি নামে আরেক বাংলাদেশির নিহত হবার খবর দিয়েছেন। এছাড়া চার পাচজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশংকাজনক।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আরও কয়েক জনকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।  আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে মসজিদে নামাজ শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যে একজন বন্দুকধারী সিজদায় থাকা মুসল্লিদের ওপর গুলি ছুড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।নিউ প্লাইমাউথে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জেসিনডা আর্ডোন ক্রিস্টচার্চে হামলার ঘটনাকে নিউজিল্যান্ডের জন্য একটি অন্ধকার দিন উল্লেখ করে এই হামলাকে চরম এবং নজিরবিহীন সহিংসতা বলেছেন।
ছবিতে ক্রাইস্টচার্চে হামলার পরের দৃশ্য
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এ সময় ওই মসজিদ দুটিতে জুমার নামাজ আদায় করতে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। তাদের ওপর অতর্কিতে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা।  এতে কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জাসিনদা আরডেন। হামলার পরের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে অনলাইন বিবিসি।  এখানে তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো।
ভাগ্যের ফেরে বেঁচে গেলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা

নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে টেস্ট খেলতে বর্তমানে ক্রিস্টচার্চ এলাকাতেই অবস্থান করছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। দেশটির হেগলি পার্কে তারা অনুশীলন করছিলেন। সেসময়ই সেখানকার দুটি মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এতে ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়ার গেছে। ভয়াবহ এ ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কয়েকজন সদস্যকেও। নামাজ পড়তে তারা ওই সময় মসজিদে ঢুকছিলেন। প্রবেশের ঠিক আগেই মসজিদে গোলাগুলি শুরু হয়। রয়টার্স জানিয়েছে, তারা সকলেই নিরাপদে ওই স্থান ত্যাগ করতে পেরেছেন।
ঘটনার পর থেকে প্রায় ২ ঘন্টা হেগলি পার্কের হোটেলে অবরুদ্ধ ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা।
জানা যায়, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন তাদের বাস নিয়ে মসজিদের কাছে একজন রক্তাক্ত নারীকে দেখতে পান। এসময় পাশের আরেক নারী তাদেরকে সাবধান করে বলেন যে, ভেতরে গোলাগুলি হচ্ছে। তিনি সাবধান না করলে হয়ত ক্রিকেটাররা ভেতরে ঢুকেই যেতেন। ঘটনার পর ফেসবুকে বাংলাদেশ দলে ক্রিকেটাররাও তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন। সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম লিখেছেন, ক্রিস্টচার্চ মসজিদে হামলার সময় আল্লাহ আজ আমাদের রক্ষা করেছেন। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান। তামিম ইকবাল ফেসবুকে লিখেছেন, পুরো দল বন্দুকধারীদের হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছে!!! ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হলো, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মুখপাত্র জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, বাসে করে দলের বেশিরভাগ সদস্যই মসজিদে গিয়েছিল। ঠিক যখন হামলার ঘটনাটি ঘটে তারা মসজিদের ভেতর প্রবেশ করছে। তিনি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন যে, তারা নিরাপদে আছে। তবে তারা মানসিকভাবে তারা হতবাক। তাদেরকে আপাতত হোটেল থেকে বের না হওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, ঘটনার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের খবর সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা সাংবাদিক মোহাম্মদ ইসাম হামলার বিষয়ে টুইটারে লিখেছেন। সেখানে তিনি বলেন, ক্রিকেট দল হেগলি পার্কের কাছে একটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলার ঘটনা থেকে বাঁচতে পেরেছেন। তবে এখনো ভেতরে আমার বন্ধুরা রয়েছে। আমার বন্ধু বেঁচে আছে কি-না সেটা নিয়ে আমি আমি ভীত।
এদিকে সর্বশেষ তথ্যমতে আগামি কাল থেকে শুরু হতে চলা বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড টেস্ট ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড ইতিমধ্যে টুইটারে এটি নিশ্চিত করেছে। ফলে আশা করা হচ্ছে, শীঘ্রই বাংলাদেশে ফিরছে ক্রিকেট দলের সদস্যরা। তবে কখন তারা ফিরবেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।



ক্রিস্টচার্চে মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে গুলি, সর্বত্র পড়ে আছে লাশ -প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে ভয়াবহ হামলা হয়েছে। এ সময় শুক্রবারে জুমার নামাজ আদায় করতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিপুল সংখ্যক মুসল্লি। তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে রক্তের হোলি উৎসবে মেতে ওঠে হামলাকারী। ভয়াবহ ওই হামলার প্রত্যক্ষদর্শী মুসল্লি লি পেনেহা। তিনি বলেছেন, সর্বত্রই আমি দেখতে পেয়েছি মৃত মানুষ পড়ে আছেন। মসজিদের প্রবেশপথে আমি তিনটি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেছি। মসজিদের ভিতরে লাশ পড়ে আছে। অবিশ্বাস্য সেই দৃশ্য।
তিনি বলেন, আমি বুঝতে পারি না কেন এসব মানুষের ওপর এভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন নাইন নিউজ।
এতে আরো বলা হয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকাল ১টা ৪০ মিনেটে আল নূর মসজিদ ও লিনউড মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় কয়েকজন হামলাকারী। নূর মসজিদের পাশেই বসবাস করেন লেন পেনেহা। তিনি বলেছেন, আমি দেখেছি কালো পোশাক পরা একজন ব্যক্তি ওই মসজিদ ভবনে প্রবেশ করছে। তারপরই শুনি গুলির শব্দ। এ সময় লোকজন এলোপাতাড়ি দৌড়াচ্ছিল। এক পর্যায়ে ওই অস্ত্রধারী মসজিদ থেকে দৌড়ে বেরিয়ে যায়। পালানোর পথে তার আধা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রটি ফেলে যায়। তারপর পালিয়ে যায়।
এরপরই মসজিদে প্রবেশ করেন পেনেহা। তিনি চেষ্টা করেন সেখানে হতাহতদের সহায়তা করতে। সে সময়কার দৃশ্যই তিনি বর্ণনা করছিলেন। তিনি বলেন, ৫ জন মুসল্লিকে উদ্ধার করে তিনি তার বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে একজন সামান্য আহত হয়েছেন।
পেনেহা বলেন, এই মসজিদের পাশেই প্রায় ৫ বছর ধরে বসবাস করি আমি। এখানকার মানুষগুলো খুবই ভাল। তারা বন্ধুপ্রতীম। কিন্তু কেন তাদের ওপর এভাবে হামলা হলো আমি বুঝতে পারি না।
তিনি বলেন, অস্ত্রধারী ব্যক্তি একজন ককেশিয়ান। তার মাথায় ছিল একটি হেলমেট। তার উপরে ছিল একটি ডিভাইস। তাকে দেখতে সেনাদের মতো মনে হচ্ছিল।
ওই মসজিদের আরেকজন মুসল্লি মোহন ইব্রাহিম ঘটনার সময় মসজিদের ভিতরে ছিলেন। তিনি বলেছেন, তখন মসজিদের ভিতরে প্রায় ৪০০ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। এ সময়ই অকস্মাৎ বৃষ্টির মতো গুলি শুরু হয়। গুলির ঘটনা ঘটেছে পাশের রুমে। ফলে আমি হামলাকারীকে দেখতে পাই নিন। অকস্মাৎ আমরা গুলির শব্দ পাই। এ সময় জীবন বাঁচাতে এলোমেলো দৌড়াদৌড়ি করতে থাকেন মুসল্লিরা। এখনও আমার আতঙ্ক কাটে নি। তিনি নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, প্রচুর মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। রাস্তার মাঝখানে আমি একটি বালিকার মৃতদেহ দেখতে পেয়েছি।
মোহন ইব্রাহিম নিজের জীবন বাঁচিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলেও তার বন্ধুদের জীবন নিয়ে তিনি সন্দিহান। তিনি বলেন, এখনও তাদের অনেকে মসজিদের ভিতরে আছেন। তাদেরকে আমরা ডেকেছি। কিন্তু তাদের কোনো সাড়া পাই নি।
নিউজিল্যান্ডের স্টাফ অনলাইনকে এক ব্যক্তি বলেছেন, তিনি বহু গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন। তারপরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, আমি কমপক্ষে ২০ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছি।
টিভি এনজেডকে আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, স্থানীয় সময় বিকাল ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে গুলির শব্দ শুনেছেন। তার ভাষায়, আমি গুলির বিকট শব্দ শুনতে পেয়েছি। তারপর দ্বিতীয়বার আবার। ফলে আমি দৌড়ানো শুরু করি। এ সময় মসজিদের মেঝেতে বসেছিলেন বহু মুসল্লি। আমি তার ভিতর দিয়ে দৌড়ানো শুরু করি এবং মসজিদের পিছন দিক দিয়ে বেরিয়ে আসি।

ইয়েমেন যুদ্ধে সমর্থন বন্ধ করুন: ট্রাম্পকে মার্কিন সিনেট

দারিদ্রপীড়িত ইয়েমেনের ওপর সৌদি আরব ২০১৫ সাল থেকে যে সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে আসছে তাতে সমর্থন দেয়া বন্ধ করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন সিনেট। এজন্য সিনেট একটি প্রস্তাব পাস করেছে।
ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দল নিয়ন্ত্রিত সিনেটে প্রস্তাবটি পাস হয়েছে ৫৪ ভোটে। প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট পড়ে ৪৬টি। প্রস্তাবে বলা হয়েছে- ইয়েমেন যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর যেকোনো রকমের যোগসাজশ বন্ধ করতে হবে। এছাড়া, কংগ্রেসের অনুমতি না নিয়ে সৌদি বাহিনীকে বিমান হামলার জন্য লক্ষ্যবস্তু ঠিক করার কাজে সহায়তা দিতেও নিষেধ করা হয়েছে।
সিনেটে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, মাইক লি এবং ক্রিস মারফি। ইয়েমেনে সৌদি সামরিক আগ্রাসনের চতুর্থ বার্ষিকীর আগ মুহূর্তে মার্কিন সিনেট এ প্রস্তাব পাস করল। এটি এখন ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো হবে। আশা করা হচ্ছে- চলতি মাসে সেখানেও প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে পাস হবে।

ঢাকার বায়ু দূষণ নিয়ে হাইকোর্টের হতাশা ও ক্ষোভ, পবা'র প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশের উচ্চ আদালত।
ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে একটি মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠনের পক্ষে দায়ের করা এক রিটের শুনানিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ গত বুধবার এ ক্ষোভ ব্যক্ত করেছে।
আদালত বলেছে, ‘বায়ুদূষণ রোধে নেওয়া পদক্ষেপ আমাদের হতাশ করেছে। আমরা ক্ষুব্ধ।’
এ পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা পরিমাপ করে এবং দূষণ রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানিয়ে আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
রিটের শুনানিতে আদালত আরও বলেন, ‘মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ যেসব এলাকায় চলছে, সেসব এলাকায় প্রচুর ধুলাবালি পরিবেশকে দূষিত করছে। আমাদের মেট্রোরেল প্রয়োজন। কিন্তু একই সঙ্গে বায়ুদূষণ রোধও জরুরি। আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে হলে এসব (বায়ুদূষণ) বন্ধ করতে হবে।’
ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করা হয়। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) সভাপতি এডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
এ প্রসঙ্গে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান রেডিও তেহরানকে বলেন, রাজধানীতে বায়ূ দুষণের উৎসগুলি চিহ্নিত করা হলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, বিশ্বে সবচেয়ে বেশী বায়ুদূষণ কবলিত রাজধানী শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। এই শহরের বাতাসে ক্ষুদ্র বস্তু কণিকার (পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম ২.৫) পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বেঁধে দেওয়া মাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি।
অত্যন্ত ক্ষুদ্র এসব ধাতব কণিকা খুব সহজেই মানুষের শ্বাসতন্ত্রে ঢুকে পড়ে। সেখান থেকে পুরো শরীরে ছড়িয়ে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য জটিলতা তৈরি করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাতাসে ক্ষুদ্র কণিকার গড় মাত্রা প্রতি ঘনমিটারে ১০ মাইক্রোগ্রাম এর মধ্যে থাকলে তাকে স্বাস্থ্যঝুঁকি মুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে। অথচ ঢাকার বাতাসে এই কণিকার মাত্রা ২০১৮ সালে পাওয়া গেছে প্রতি ঘনমিটারে ৯৭ দশমিক ১ মাইক্রোগ্রাম। ২০১৭ সালে এই মাত্রা ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৭৯ দশমিক ৭ মাইক্রোগ্রাম। অর্থাৎ ওই বছরের তুলনায় গত বছর ঢাকার বাতাস আরও অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে।

শপথের বিধান নেই, পদত্যাগ না করলে নুরই ভিপি থাকবেন

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ১১ই মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন। অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলেও এতে ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর। নির্বাচনের পর তিনি পুনরায় সব পদে নতুন নির্বাচন দাবি করেছেন। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে নুরুল হক ডাকসুর ভিপি হিসেবে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব না নিলে তার পদ থাকবে কিনা? কীভাবেই বা চলবে ছাত্র সংসদ? সাবেক ডাকসুর ভিপিরা বলছেন, ডাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচিতদের শপথ নেয়ার কোনো বিধান নেই। এখানে নির্বাচিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদের নেতাদের নিয়ে অভিষেক অনুষ্ঠান করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বা সংসদের কোনো বৈঠকে না গেলেও কারো পদ যাওয়ার কথা গঠনতন্ত্রে উল্লেখ নেই। সুতরাং নুরুল হক নুর অভিষেক অনুষ্ঠানে না গেলে বা বর্জন করলেও তিনিই থাকবেন ডাকসুর ভিপি। যদি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদ না ছাড়েন।
ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না মানবজমিনকে বলেন, ডাকসুতে কোনো নির্বাচনই হয়নি। ডাকাতি হয়েছে। এ ছাড়া ডাকসুতে নির্বাচিত হওয়ার পর শপথ নেয়ার কোনো বিধান নেই। অভিষেক হয়। আমার সময় কোনো শপথ নেয়ার মতো কিছু হয়নি। দায়িত্ব হস্তান্তর বলেও কিছু হয়নি। আমরা বড় করে অভিষেক অনুষ্ঠান করেছিলাম। সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। এই অভিষেক অনুষ্ঠান সব সময় নির্বাচিত নেতারাই আয়োজন করে। এখন বর্তমান ভিপি যদি দায়িত্ব না নেয় তাহলে কি হবে এটা একটা প্রশ্ন। কিন্তু ইতিপূর্বে এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এমন কোনো সমস্যার সমাধানও গঠনতন্ত্রে নেই। এই সমাধানের জন্য ছাত্রছাত্রীরা যা চাইবে সেটাই করা উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে প্রয়োজনে অনলাইন ভোটের আয়োজন করুক।  যেখানে কেউ ভোট দিলে সেটা স্কিনে প্রদর্শিত হবে। এটা সম্ভব। তিনি বলেন, ডাকসু ও হল সংসদের গঠনতন্ত্র দুটি খণ্ডে বিভক্ত। যেখানে কেন্দ্রীয় সংসদ অংশে নির্বাহী কমিটি, কার্যালয় বণ্টন, সংসদের তহবিল, শূন্যপদ পূরণ, গঠনতন্ত্র সংশোধনসহ ১৬টি বিষয় উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় খণ্ডে হল সংসদের নিয়মাবলী, কার্যক্রমসহ তেরটি বিষয় রয়েছে। সেখানকার কোথাও ডাকসু নেতাদের কোনো ধরনের শপথ অনুষ্ঠানের কথা উল্লেখ নেই। হল সংসদের ৭২ নং ধারায় অভিষেক অনুষ্ঠানের কথা লেখা আছে। সেখানে বলা হয়েছে, নির্বাহী কমিটি একটি ব্যয়ের বাজেট প্রস্তুত করবে এবং অভিষেক অনুষ্ঠানের ১৪ দিনের মধ্যে তা সংসদে উপস্থাপন করবে।
নতুন ভিপি দায়িত্ব না নিলে সংসদ কীভাবে চলবে এ বিষয়ে ডাকসুর সাবেক নেতারা বলেন, অতীতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভিপি দায়িত্ব না নিলে সংসদ কীভাবে চলবে সে ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কারণ তিনি ডাকসুর সভাপতি। নির্বাচন নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তা গঠনতন্ত্রের নিয়মে তিনদিনের মধ্যে ভিসিকে নিষ্পত্তি করার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

যৌন কেলেঙ্কারিতে কার্ডিনাল জর্জ পেলের জেল

অস্ট্রেলিয়ায় দুই বালকের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে কার্ডিনাল জর্জ পেলকে ৬ বছরের জেল দিয়েছে ভিক্টোরিয়ার কাউন্টি কোর্ট। তিনি ভ্যাটিকানের সাবেক কোষাধ্যক্ষ। ফলে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এ যাবতকাল যত ক্যাথিলিক যাজক বা ব্যক্তিত্বকে অভিযুক্ত করা হয়েছে তার মধ্যে তিনি সবচেয়ে সিনিয়র। গত বছর একজন জুরি রায় দিয়েছেন যে, জর্জ পেল ১৯৯৬ সালে মেলবোর্নের একটি ক্যাথেড্রালে ১৩ বছর বয়সী একটি বালককে যৌন নির্যাতন করেছেন। ওই বালকটি ক্যাথেড্রালের প্রার্থনা সঙ্গীতের কোরাস গাইতো। তবে ৭৭ বছর বয়সী এই কার্ডিনাল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
বুধবার তার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন একজন বিচারক। এ সময় ওই বিচারক বলেন, দু’জন বালকের ওপর ভয়াবহ ও জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করেছেন এই ধর্মীয় নেতা।
জর্জ পেলকে উদ্দেশ করে বিচারক পিটার কিড বলেন, আপনার আচরণ ভয়াবহ ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
গত ডিসেম্বরে জুরিরা জর্জ পেলকে সর্বসম্মতিক্রমে অভিযুক্ত করেন। এতে বলা হয়, ১৬ বছরের কম বয়সী একটি বালককে জোরপূর্বক বলাৎকার করেছেন জর্জ পেল। এ জন্য তার বিরুদ্ধে এক দফা অভিযোগ গঠন করা হয়। এ ছাড়া ১৬ বছরের কম বয়সী বালকের সঙ্গে অশ্লীল আচরণের চার দফা অভিযোগ গঠন করা হয় তার বিরুদ্ধে। তাকে এভাবে অভিযুক্ত করে শাস্তি ঘোষণায় নড়েচড়ে উঠেছে ক্যাথলিক চার্চ। কারণ, তিনি ছিলেন ভ্যাটিকানের পোপের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের অন্যতম। 
বুধবার তার বিরুদ্ধে যখন ওই রায় ঘোষণা করা হয় তখন মেলবোর্নের আদালত ছিল জনাকীর্ণ। সেখানে বিচার প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করতে যোগ দেয় নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া এক বালক। ঘোষিত শাস্তিতে বলা হয়েছে, তিন বছর আট মাস জেল ভোগের পর প্যারোলে মুক্তি পেতে পারেন জর্জ পেল। তবে তার আপিল শুনানি হবে জুনে।
আদালতে কি শুনানি হয়েছিল
প্রসিকিউটররা বলেছেন, ১৯৯৬ সালে সেইন্ট প্যাট্রিকস ক্যাথেড্রালে একটি গণ জমায়েতের পরে ওই বালকদের ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন জর্জ পেল। তখন তিনি মেলবোর্নের আর্চবিশপ ছিলেন। এক রকম পানীয় পান করার পর ওই বালকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন তিনি। আদালতের শুনানিতে এসব বলা হয়েছে। এরপর ১৯৯৭ সালে ওই বালকদের একজনকে তিনি যৌন নির্যাতনের শিকারে পরিণত করেন। তাদের একজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় বিচার চলাকালে। নির্যাতিতদের অন্যজন ২০১৪ সালে মারা গেছে অতিরিক্ত মদ পান করার কারণে। এই শুনানি বা অভিযোগের বিষয়টি এ বছর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জনগণের দৃষ্টির আড়ালে রাখা হয়। তবে প্রসিকিউটররা এ সময়ে জর্জ পেলের বিরুদ্ধে আরো যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনেন।
বিচারক কি বলেছেন?
বিচারক কিড বলেছেন, জর্জ পেল যে অপরাধ করেছেন তা নির্মম। তিনি এটা করেছেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে। জর্জ পেলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি তখন সেইন্ট প্যাট্রিকস ক্যাথেড্রালের আর্চবিশপ ছিলেন। এর চেয়ে নি¤œ পদে ছিলেন না। এ সময়েই আপনি ক্যাথেড্রালের ভিতরে কোরাসে অংশ নেয়া দুটি বালককে যৌন নির্যাতনে ব্যবহার করেছেন। ওই সময়ে নির্যাতনের শিকার বালক দুটি চিৎকার করছিল। তখন আপনি তাদেরকে চুপ থাকতে বলেছেন।
জর্জ পেলের বয়স ৭৭ বছর হওয়া ও দীর্ঘ মেয়াদে জেল দেয়া হলে তার স্বাস্থ্যগত বিষয় মাথায় রেখে বিচারক শাস্তি ঘোষণা করেছেন।  তার বিরুদ্ধে যে পাঁচটি অভিযোগ আছে তার প্রতিটিতে তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল হওয়ার কথা।
প্রতিক্রিয়া কি?
জর্জ পেলের নির্যাতনের হাত থেকে বেঁচে আছে একজন ভিকটিম। তার নাম প্রকাশ করা হয় নি। সে এই শাস্তি দেয়াকে স্বাগত জানিয়েছে। তার ভাষায়, আমার ভিতরে কোনো স্বস্তি নেই। জর্জ পেল আপিল করেছেন। ফলে সেই আপিলের বিষয়ে সবকিছুতে যেন ছায়া পড়েছে।
যৌন নির্যাতনের শিকার যে বালকটি মারা গেছে, তার পিতা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি জর্জ পেলকে স্বল্প মেয়াদে জেল দেয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে অন্তত জর্জ পেলকে যে জেল দেয়া হয়েছে তাতে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, আমি তাকে আদালত থেকে বেরিয়ে আসতে দেখেছি। তখন আমি নিজে নিজে বলেছিÑ আজ রাতে আমি বিছানায় ঘুমাবো। আপনি কোথায় ঘুমাবেন?
গত মাসে জর্জ পেলের অভিযুক্ত হওয়ার খবরকে বেদনাদায়ক খবর হিসেবেভে আখ্যায়িত করেছে ভ্যাটিকান।

নুরুল হক নুরের বিস্ময়কর জয়ের নেপথ্যে by মুনির হোসেন

নুরুল হক নুর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত ভিপি। ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে হারিয়ে ডাকসুর ২৫তম ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন নুর। ছাত্র হলগুলোতে একচেটিয়া জয় ছাত্রলীগের। কেন্দ্রীয় সংসদেও দুটি ছাড়া সব পদ ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের দখলে। এ অবস্থায় নুরের বিস্ময়কর জয় নিয়ে আলোচনা সর্বত্র। কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া নুরের পরিচিতি দেশজুড়ে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতার কাঁধে এখন ডাকসুর দায়িত্ব।
এত বৈরিতার মধ্যেও কীভাবে জয় ছিনিয়ে আনলেন নুর এ প্রশ্ন এখন মুখে মুখে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী নুর হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ছিলেন আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফরম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক। এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে নুরকে। কঠিন চাপের মুখে নতি স্বীকার করেন নি শাসক শ্রেণির কাছে। বীরদর্পে লড়ে গিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে। আর প্রিয়ভাজন হয়েছেন দেশের সকল শিক্ষার্থীর কাছে। দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে প্রিয় হয়ে ওঠা নুরকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ছাত্রবন্ধু’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের ইচ্ছেতে লড়েছেন ডাকসু নির্বাচনে।
কেন্দ্রীয় সংসদের ভিপি পদে। এ পদে তার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও আস্থা রেখেছেন নুরের প্রতি। নির্বাচিত হয়েছেন ডাকসুর ২৫তম ভিপি হিসেবে। পেয়েছেন ১১ হাজার ৬২ ভোট। যদিও এ নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন বয়কট করেছিলেন নুর। তবুও আস্থার দায়বদ্ধতা থেকে এখন কাজ করতে চান সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য। গতকাল দুপুরে ভিপি হয়ে ক্যাম্পাসে এসেছেন নুর। বক্তব্য দিয়েছেন তিন দফায়। প্রথম দফায় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে গিয়ে টিএসসির প্রধান ফটকে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন। দ্বিতীয় দফায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে নির্বাচন বর্জনকারী সবার সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন সমাবেশে।
তৃতীয় দফায় ভিপি পদে ছাত্রলীগের পরাজিত প্রার্থী শোভন শুভেচ্ছা জানাতে এলে আবারো গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন নুর। বলেন, শোভন আমার বড় ভাই। আমি চাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী ও সব ছাত্র সংগঠন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলবে। এক সঙ্গে কাজ করবে। ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করবে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি শাহবাগে শুরু হয় সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলন। এ দাবিতে একাট্টা হয় সারা দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের প্রয়োজনে গঠন করা হয় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। সেই আন্দোলনে নুরুল হক নুরকে করা হয় যুগ্ম আহ্বায়ক। আহ্বায়ক হাসান আল মামুনের সঙ্গে যে তিনজন যুগ্ম আহ্বায়ক কোটা সংস্কার আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন তাদের একজন নুর। ফেব্রুয়ারি-মার্চ-এপ্রিল।
এ তিন মাসে আন্দোলন করতে গিয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর মোকাবিলা করতে হয় নুরদের। প্রথম পর্যায়ে পুলিশের হামলা ও মামলা। এরপর ছাত্রলীগের হামলা। কোনো খ্তগই বাদ যায়নি নুরের ওপর। এরপর আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন। সেদিন ছাত্রলীগের টার্গেটে পড়ে হাসপাতালে ছিলেন বেশ কিছুদিন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেয়া হয়নি চিকিৎসা। প্রাইভেটে গিয়েও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সরকারের নির্দেশনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। এরপরও দমেন নি। মামলা মোকাবিলা করে নেতৃত্ব চালিয়ে গেছেন। আর এসব হামলা ও মামলার কারণে শিক্ষার্থীদের কাছেও হয়ে উঠেন জনপ্রিয়। কোটা বাতিল হয়েছে সরকারি চাকরিতে। এরই মধ্যে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনেও নিজেকে যুক্ত করে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। প্রতিবাদ করেছেন ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নফাঁসের। সফলও হয়েছেন সে আন্দোলনে। এদিকে নুরের ডাকসুতে বিস্ময়কর সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা। যেটি গত ১১ই মার্চের নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে প্রমাণও দিয়েছেন তারা।
নির্বাচিত হয়েছেন দেশের ঐতিহাসিক সব অর্জনে যে সংগঠনের ভূমিকা ছিল সর্বাগ্রে সেই ডাকসুর। নুরের নির্বাচিত হওয়ার পেছনে অবশ্য আরো কারণ দেখছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনগুলো। তাদের মতে ছাত্রলীগের পরাজয়ের  পেছনে সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধ অবস্থান ছাত্রলীগের এবং যোগ্য প্রার্থী না দিতে পারায় ছাত্রলীগের পরাজয় হয়েছে। যেখানে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন নুরের জনপ্রিয়তার কাছে কিছুই ছিলেন না। যার কারণে নানা অনিয়মের অভিযোগের পরও ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল লেখেছেন, ‘নুরের মধ্যে আমি দেখি তরুণ বয়সের বঙ্গবন্ধুর ছায়া। সাধারণ ছাত্রদের নির্যাতনকারীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু কোনোভাবেই নেই। ‘নুরের বিজয়, নুরের শপথ’ শিরোনামে তিনি লেখেন- কুয়েত মৈত্রী হলের নির্বাচনের ফলাফল ভালো করে লক্ষ্য করুন- এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে ব্যালট ভরা বাক্স উদ্ধারের পর ছাত্রীদের তুমুল প্রতিবাদে ফেটে পড়লে নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ দিতে হয়েছে। নির্বাচনে কারচুপির কোনো সুযোগ ছিল না সেখানে। ফলাফল? ১৩টির সব আসনে পরাজিত ছাত্রলীগ।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হলে ডাকসু ও বাকি সব হলের ফলাফল হয়তো তাই হতো। ডাকসুতে শুধু নুর আর আখতার না, জিততো কোটা আন্দোলনের আরো অনেকে। বিভিন্ন আলামত দেখে এটা মনে হয় যে কোটার অনেককে কারচুপি করে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু নুর আর আখতারের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীর ব্যবধান এত বিশাল ছিল যে কারচুপি করেও তাদের হারানো যায়নি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে নুরের কি ডাকসু ভিপি পদ গ্রহণ করা উচিত? আমার মতে কোটা আন্দোলনের নেতারা সবাই যদি রাজি থাকে তাহলে তার ডাকসু ভিপির পদ গ্রহণ করা উচিত। ডাকসু ভিপি হিসেবেই হয়তো ছাত্রদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরো বেগবান করা সম্ভব। তবে নুরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোটা আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে। বাম বা ছাত্রদলের মতামত এখানে গুরুত্বপূর্ণ হতো যদি তারা কোটার নেতাদের সঙ্গে একসঙ্গে নির্বাচন করতো। তারা এটি করেনি। নুরের মধ্যে আমি দেখি তরুণ বয়সের বঙ্গবন্ধুর ছায়া। সাধারণ ছাত্রদের নির্যাতনকারীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু কোনোভাবেই নেই।’

আদালতে অভিযোগপত্র: চাকরিচ্যুত মেজর জিয়ার নির্দেশে অভিজিৎকে হত্যা

মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ও বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় চাকরিচ্যুত সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। জিয়ার নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে ১২ জন জড়িত থাকলেও পাঁচ জঙ্গির পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। এক জঙ্গি বন্ধুক যুদ্ধে মারা গেছেন। অভিযুক্ত সব আসামি নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (পুরোনো নাম আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) সদস্য। গতকাল বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে কাউন্টার টেররিজম বিভাগের পরিদর্শক মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম এই অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করা হয়েছে ২৫ মার্চ।
অভিযোগপত্রভুক্ত অপর পাঁচ আসামি হলেন আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে শাহাব (৩৪), মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার (২৫), আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম (২৪), শফিউর রহমান ফারাবী (২৯) ও আকরাম হোসেন ওরফে আবির ওরফে আদনান ৩০)। তাদের মধ্যে জিয়া ও আকরাম পলাতক আছেন।
২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে একুশে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কাছে দুর্বৃত্তরা অভিজিৎ রায়কে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা এবং তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে গুরুতর আহত করে। তাঁরা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। অভিজিৎ যুক্তরাষ্ট্রে সফটওয়্যার প্রকৌশলী ছিলেন, রাফিদা চিকিৎসক। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় করা হত্যা মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে মামলার তদন্তভার ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম বিভাগে (সিটি) ন্যস্ত করা হয়।
হত্যা পরিকল্পনা ও খুন
অভিজিৎ রায়কে কীভাবে হত্যা করা হয়, কারা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়, এর বিস্তারিত বর্ণনা মামলার আসামি আবু সিদ্দিক সোহেল আদালতে দিয়েছেন। ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল বলেন, ২০১৪ সালে তিনি আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য হন। পরে মেজর জিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি জিয়া ও আবিরের কাছে প্রশিক্ষণ নেন। ২০১৫ সালে সায়মন রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে তাঁকে আসতে বলেন। সায়মন, আকরাম ও হাসান এলিফ্যান্ট রোডে থাকতেন। বাসায় যাওয়ার পর সায়মন তাঁকে জানান, অভিজিৎ রায়কে হত্যা করতে হবে। আকরাম ওই বাসায় থাকা ল্যাপটপে অভিজিতের ছবি দেখান। ফেসবুকের লিংক দেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিজিৎ ও তাঁর স্ত্রী ইন্দিরা রোডের যে বাসায় উঠেছিলেন, আকরাম তার আশপাশ ঘুরে আসার পর মেজর জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। জিয়ার নির্দেশ ছিল, অভিজিৎকে বইমেলায় ফেলে হত্যা করতে হবে। ২৬ ফেব্রুয়ারি সোহেল, আকরাম, মোজাম্মেল ও হাসান বইমেলায় যান। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই চার জঙ্গি বইমেলা থেকে বের হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড়ে অবস্থান নেন। তখন সায়মন আনসারুল্লার অপারেশন শাখার নেতা মুকুল রানাকে খবর দেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিজিৎ তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে টিএসসির উত্তর-পূর্ব পাশে যান। তখন আনসারুল্লার অপারেশন শাখার চারজন অভিজিৎকে কুপিয়ে জখম করেন। বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে আঘাত করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জঙ্গি নেতা মেজর জিয়া, সেলিম, আকরাম, হাসান ও মোজাম্মেল। মূলত তাঁরা সেখানে প্রহরী হিসেবে অবস্থান করেন, যাতে অভিজিৎকে হত্যা করে নিরাপদে পালিয়ে যেতে পারেন সবাই। অভিজিৎকে খুন করার জন্য চাপাতি কেনার টাকা দেন মুকুল। টঙ্গী থেকে চারটি ব্যাগ ও চারটি চাপাতি কেনেন জঙ্গিরা।
কারা খুনে অংশ নেয় সে ব্যাপারে অভিযোগপত্রে বলা হয়, সেদিন আলী ওরফে খলিল ও আনিক অভিজিৎকে প্রথমে কোপায়। তখন হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন আরাফাত ও অন্তু। এই চারজন আনসারুল্লার অপারেশন শাখার সদস্য। অভিজিৎকে কোপানোর সময় একজন রিকশাচালক এগিয়ে আসলে আনিক চাপাতি উঁচিয়ে ভয় দেখান। পরে তাঁরা পালিয়ে যান। মেজর জিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে নির্দেশনা দিয়ে অভিজিৎকে হত্যা করেন। অভিজিৎকে হত্যায় প্ররোচনা দেন শফিউর রহমান ফারাবী। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে ১২ জঙ্গির জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়। এর মধ্যে মুকুল বন্ধুকযুদ্ধে মারা গেছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকলেও জঙ্গি সেলিম, হাসান, আলী ওরফে খলিল, আনিক, অন্তুর পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা খুঁজে বের করতে পারেনি বলে আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ। আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার প্রধান হলেন সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক।

আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে বিত্তশালীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসার জন্য দেশের বিত্তশালীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, তাহলে আর দেশের জনগণের কষ্ট থাকবে না। টাঙ্গাইলের কুমুদিনী ট্রাস্ট কমপ্লেক্সে বৃহস্পতিবার বিকেলে দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণপদক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রণদা প্রসাদ সাহা আমাদের দেশের নারী শিক্ষার প্রসার ঘটানো থেকে শুরু করে মানবতার সেবার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, সেই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করার আমাদের দেশে অনেক বিত্তশালী আছেন, তাঁরাও করতে পারেন। তাহলে আমাদের দেশের মানুষের আর কোনো কষ্ট থাকবে না।’
কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গলের (বিডি) ৮৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে এ বছরের দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়। তাঁরা হচ্ছেন তদানীন্তন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (মরণোত্তর), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), ১৯৫২ সালের ভাষাসৈনিক ও জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এবং প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ। সোহরাওয়ার্দীর পক্ষে শেখ রেহানা এবং জাতীয় কবির পক্ষে কবির নাতনি খিল খিল কাজী প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ব্যাপকভাবে মানুষের জন্য কাজ করেছিলেন। তিনি বিধবাদের জন্য কাজ করেছিলেন। তিনি শুধু মানুষের সেবা করার জন্য এবং মানুষকে মানুষের মতো বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিরাট এক কর্মযজ্ঞ গড়ে তুলেছিলেন।
অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার পরও রণদা প্রসাদ ভোগ-বিলাসে ডুবে যাননি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বরং অর্জিত অর্থ মানবকল্যাণে ব্যয় করেছেন। নারী শিক্ষার প্রসারে রণদা প্রসাদের ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি একে একে ভারতেশ্বরী হোমস, কুমুদিনী কলেজ ও দেবেন্দ্র কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়া দেশের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তিনি আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পরবর্তী প্রজন্ম প্রতিষ্ঠাতার মানবিক প্রয়াস-প্রান্তিক অসহায় জনপদে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও নারী শিক্ষা প্রসারে নিজেদের নিবেদিত রেখেছেন। ট্রাস্টের সেবা কর্মযজ্ঞে যুক্ত হয়েছে কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, কুমুদিনী নার্সিং স্কুল ও কলেজ এবং রণদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়। অনগ্রসর মানুষের কল্যাণের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কুমুদিনী ট্রেড ট্রেনিং ইনস্টিটিউট।
আজকের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব প্রসাদ সাহা। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন ট্রাস্টের পরিচালক ও ভাষাসৈনিক প্রতিভা মুৎসুদ্দি এবং পরিচালক শ্রীমতি সাহা। স্বাগত বক্তৃতা দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন। অনুষ্ঠানে রণদা প্রসাদ সাহার জীবন এবং কর্মের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। জাতীয় সংগীত এবং দেশাত্মবোধক গান দিয়ে শুরু এই অনুষ্ঠানে ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীরা বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বিশিষ্ট নাগরিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে চড়ে টাঙ্গাইলে পৌঁছান। মির্জাপুর হেলিপ্যাডে জেলা পুলিশ প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে প্রধানমন্ত্রী কুমুদিনী কমপ্লেক্স থেকে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে জেলার ৩১টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণপদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
আরপি সাহা নামে পরিচিত রণদা প্রসাদ সাহা ছিলেন একজন প্রখ্যাত ব্যবসায়ী ও জনহিতৈষী ব্যক্তিত্ব। ১৯৭১ সালের ৭ মে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আরপি সাহা ও তাঁর একমাত্র ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহাকে তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। কুমুদিনী পরিবার ২০১৫ সালে রণদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণপদক প্রবর্তন করে।

ভোটে অনীহা by জিয়া চৌধুরী

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এক কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন মাত্র তিনজন। অন্য এক কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন পাঁচজন। অন্য একটি কেন্দ্রে সারা দিনে সর্ব সাকুল্যে সাতজন ভোটারের দেখা পান কর্মকর্তারা। ভোটের এমন চিত্রে হতাশা ছিল ভোট গ্রহণে দায়িত্বপ্রাপ্তদের। সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপেও ইসিকে হতাশ করেছেন ভোটাররা। গড়ে মাত্র ৩১ ভাগ ভোটার ভোট কেন্দ্রে যান প্রথম ধাপের নির্বাচনে। আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের ধরলে ভোটের এই হার আরো কমে যাবে। ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার এমন অনীহার ছাপ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই।
ভোটকেন্দ্রে যেতে ভোটারদের এই অনীহার কারণে হতাশ নির্বাচন কমিশনও। সংশ্লিষ্টরা এ নিয়ে নানা মাধ্যমে তাদের হতাশার বিষয় প্রকাশ করে আসছেন।
ডিএনসিসি’র মেয়র পদে উপ-নির্বাচনে অন্তত শতাধিক কেন্দ্রে শতকরা দশ ভাগেরও কম ভোট পড়েছে। আর পুরো নির্বাচনে ভোট পড়েছে মাত্র শতকরা ৩১ দশমিক ০৫ শতাংশ। এদিকে, গত বুধবার সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিইসি কে এম নূরুল হুদা বড় একটি দল উপজেলা নির্বাচন বয়কট করায় ভোটার উপস্থিতি কম হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান। নিজের বক্তব্যে তিনি মূলত, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জোট অংশ না নেয়ার বিষয়টিকে ইঙ্গিত করেন। প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত ৭৮টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে দেখা যায়, বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল হতাশাজনক, কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের অপেক্ষায় অলস সময় কাটাতে হয় নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের।
এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনে বেশ কিছু কেন্দ্রে অস্বাভাবিক হারে ভোট পড়ে।
মিরপুরের মনিপুরের ই-আইডিয়াল স্কুলের একটি কেন্দ্রে পড়ে সবচেয়ে কম মাত্র তিনটি ভোট। শতকরা হিসেবে যা মাত্র ০.১২ শতাংশ। এ ছাড়া, এক শতাংশেরও কম ভোট পড়ে অন্তত ১০টি কেন্দ্রে। অন্তত আরো আটটি কেন্দ্রে ভোটাররা ভোট দেন মাত্র দুই শতাংশেরও কম। ডিএনসিসি নির্বাচনের ফল পর্যালোচনা করে দেখা যায় সবচেয়ে কম ভোট পড়ে মিরপুরের মনিপুরপাড়ায় অবস্থিত ই-আইডিয়াল স্কুল কেন্দ্রে। ওই কেন্দ্রের দুই হাজার ৫০৪টি ভোটের মধ্যে মাত্র তিনটি ভোট পড়েছে ব্যালট বাক্সে। সবক’টি ভোটই পান নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলাম। এ ছাড়া, মিরপুরের মনিপুর এলাকার গ্রিনভিউ উচ্চ বিদ্যালয় মহিলা কেন্দ্রের মোট দুই হাজার ৪৭১ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দেন মাত্র পাঁচজন। এই পাঁচ ভোটও পান আতিকুল ইসলাম। এই কেন্দ্রে শতকরা ভোট পড়েছে ০.২০ শতাংশ। মিরপুরের হাজী আশ্রাফ আলী হাইস্কুল কেন্দ্রে দুই হাজার ২২০টি ভোটের মধ্যে ভোট দেন মাত্র সাতজন ভোটার, অর্থাৎ ভোটগ্রহণ হয় মাত্র ০.৩২ শতাংশ। এই তিনটি কেন্দ্রসহ মোট ১০টি কেন্দ্রে এক শতাংশেরও কম ভোট পড়েছে।
কেন্দ্রগুলো হলো বাড্ডার কুড়াতলী উচ্চ বিদ্যালয় ১৫১২ ভোটের মধ্যে ৫ ভোট (০.৩৩ শতাংশ), মিরপুরের পাইকপাড়ার বশির উদ্দিন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ২৫০৮ ভোটের মধ্যে মাত্র ৯ জন (০.৩৬ শতাংশ) গ্রিনভিউ হাইস্কুল (মহিলা-২) ২৮৯০ ভোটারের মধ্যে মাত্র ৯ ভোট (০.৩৬ শতাংশ), কাফরুলের শহীদ পুলিশ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ (০.৬৩ শতাংশ), মাদার কেয়ার প্রি-স্কুল (০.৭৪ শতাংশ), একই এলাকার ঢাকা আহছানিয়া মিশন মহিলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় (০.৭৭ শতাংশ) এবং জোয়ার সাহারা এলাকার নিউ লাইফ প্রি-ক্যাডেট স্কুল (দ্বিতীয় তলা) (০.৮৫ শতাংশ)। ভোটের ফল পর্যালোচনায় আরো দেখা যায়, আটটি কেন্দ্রে এক থেকে দুই শতাংশ ভোট পড়েছে। এগুলো হলো জোয়ার সাহারার গুলশান কলেজ, (নিচতলা, মহিলা কেন্দ্র-১) (১.৩২ শতাংশ), বাড্ডার কুড়াতলী উচ্চ বিদ্যালয় (দ্বিতীয় তলা-উত্তর পাশে) (১.৩২ শতাংশ), মিরপুরের ঢাকা আহছানিয়া মিশন মহিলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মহিলা-১ কেন্দ্র (১.৩৮ শতাংশ), কাফরুলের শহীদ পুলিশ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের নিচতলা কেন্দ্র (১.৪৫ শতাংশ), মিরপুরের আলিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলা কেন্দ্র (১.৫৫ শতাংশ), একই এলাকার রোটারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১.৬৪ শতাংশ), কসমিক কিন্ডারগার্টেন মহিলা-১ কেন্দ্র (১.৮০ শতাংশ) ও জোয়ার সাহারার নিউ লাইফ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের নিচতলা পুরুষ কেন্দ্র (১.৮৩ শতাংশ)।
এ ছাড়া আরো নয়টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে দুই থেকে তিন শতাংশ। কেন্দ্রগুলো হলো আদাবরের চিলড্রেন একাডেমি (২.০৪ শতাংশ), মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় শাখা-৩ (২.১১ শতাংশ), কালশী ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণের তিনতলা ভবনের নিচতলা ও দ্বিতীয় তলা (২.১১ শতাংশ), শহীদ পুলিশ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের নিচতলায় পুরুষ কেন্দ্র (২.১৪ শতাংশ), পীরেরবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ তলায় পুরুষ কেন্দ্র (২.৫৬ শতাংশ), উত্তরা হাইস্কুল ও কলেজের নিচতলা মহিলা কেন্দ্র (২.৬৫ শতাংশ), পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের ভবন কেন্দ্র (২.৬৯ শতাংশ), আলীম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের মহিলা কেন্দ্র (২.৭৩ শতাংশ) ও ফুলকি নার্সারি স্কুলের পুরুষ কেন্দ্র (২.৮৫ শতাংশ)। ডিএনসিসির মেয়র পদে সাতটি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে তিন থেকে চার শতাংশ। এগুলো হলো মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বালিকা শাখার দ্বিতীয় তলার পূর্ব পাশের পুরুষ কেন্দ্র (৩.১০ শতাংশ), পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে ভবনের দুটি কক্ষ কেন্দ্র (৩.২৬ শতাংশ), পীরেরবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলায় পুরুষ কেন্দ্র (৩.৩৫ শতাংশ), মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ব্রাঞ্চ-৩-এর পুরুষ কেন্দ্র (৩.৩৯ শতাংশ), কম্বাইন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দ্বিতীয় তলার উত্তর পাশে মহিলা কেন্দ্র (৩.৪১ শতাংশ), কুড়িল কুড়াতলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে পুরুষ কেন্দ্র (৩.৫৮ শতাংশ) ও গুলশান কলেজের দ্বিতীয় তলায় মহিলা কেন্দ্র (৩.৬৭ শতাংশ)।
উপজেলা ও ডিএনসিসি নির্বাচনে হতাশাজনক ভোটার উপস্থিতি ও রাতের বেলার ভোটের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমদ মানবজমনিকে বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর ভোটাররা অনেক আগে পুরোপুরি আস্থা হারিয়েছেন। জাতীয় নির্বাচনের পর তারা স্থানীয় নির্বাচনের প্রতি তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
ভোটাররা কেন ভোট দিতে যাবেন, সেই প্রশ্নের সদুত্তরও তাদের জানা নেই। তবে ভোটাররা কেন্দ্রে না আসায় সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে ক্ষমতায় থাকা সরকারি দল। বিরোধী দলগুলো নানা অভিযোগে ভোট বয়কট করছে। সরকারি দল এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিরোধী দলকে দায়ী করছে। সবকিছু মিলিয়ে নির্বাচন ও ভোটের বিষয়ে এক ধরনের জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খুব শিগগিরই এই অচলাবস্থা কাটবে বলে মনে হয় না।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, কমিশনের দায়িত্ব ভোটার টানা নয়। তার দায়িত্ব হলো ঠিকমত নির্বাচন করা। আর ভোটার টানার দায়িত্ব হচ্ছে পলিটিক্যাল পার্টির। যেহেতু কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি সেটার একটি প্রভাব হয়তো পড়েছে। ফলে ভোটার সংখ্যা একটু কম হয়েছে। এক্ষেত্রে আমি মনে করি অন্যান্য দল অংশগ্রহণ না করাটা একটি বড় ব্যাপার হতে পারে। তিনি বলেন, আগে আমরা ভোট দিতে অনেক পছন্দ করতাম। আনন্দ করতাম। সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে সেরকম পরিবেশ দেখা যায়নি। মূলত সব দল নির্বাচনে না আসায় এমন অবস্থার তৈরি হয়েছে।