Saturday, September 28, 2019

রোহিঙ্গা সংকট: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া প্রস্তাবগুলো কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে by ফারহানা পারভীন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৭শে সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।
গত দুবছরই জাতিসংঘে শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যে প্রাধাণ্য পেয়েছে রোহিঙ্গা ইস্যু।
২০১৭ সালের অগাস্টের শেষ দিকে বাংলাদেশে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গারা প্রবেশ করে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক হত্যা, নির্যাতনের শিকার হয়ে তারা বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেন।
বর্তমানে ১১ লক্ষের মত রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে রয়েছে।
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখার সময় অন্যান্য বিষয়ের সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে পাঁচটি সুপারিশ তুলে ধরেন। সেই পাঁচটি প্রস্তাব গুলো হল:
১.অনতিবিলম্বে এবং চিরতরে মিয়ানমারে সহিংসতা ও 'জাতিগত নিধন' নিঃশর্তে বন্ধ করা।
২. অনতিবিলম্বে মিয়ানমারে জাতিসংঘের মহাসচিবের নিজস্ব একটি অনুসন্ধানী দল প্রেরণ করা।
৩. জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সব সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান এবং এ লক্ষ্যে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সুরক্ষা বলয় (safe zones) গড়ে তোলা।
৪. রাখাইন রাজ্য হতে জোরপূর্বক বিতাড়িত সকল রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে তাদের নিজ ঘরবাড়িতে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
৫. কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালার নিঃশর্ত, পূর্ণ এবং দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
২০১৮ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক বৈশ্বিক প্রভাব শীর্ষক এক বৈঠকে তিনি আরো তিনটি সুপারিশ করেন। সুপারিশ গুলো হল:
১ . মিয়ানমারকে অবশ্যই বৈষম্যমূলক আইন ও নীতি বিলোপ, এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধ ও তাদের সে দেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে।
২. মিয়ানমারকে অবশ্যই সকল রোহিঙ্গার নাগরিকত্ব প্রদানের সঠিক উপায়, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। প্রয়োজনে বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষায় মিয়ানমারের ভেতরে 'সেফ জোন' তৈরি করতে হবে।
৩. মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য রোধে অপরাধীদের জবাবদিহিতা, বিচার, বিশেষ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের সুপারিশমালার আলোকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।
এখন দুই দফায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সুপারিশ গুলো বাস্তবায়নের পথে কতটা এগিয়েছে?
কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় রয়েছে যারা মূলত রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ও প্রত্যাবাসনের কাজ করছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে যারা প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব এবং রোহিঙ্গা ইস্যু পর্যবেক্ষণ করছেন তারা এসব প্রস্তাবের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছু তথ্য জানাচ্ছেন।
সাবেক রাষ্ট্রদূত হূমায়ূন কবির বলছিলেন, প্রধানমন্ত্রী যে প্রস্তাব গুলো দিয়েছেন সেগুলো কিছু কিছু বিভিন্নভাবে হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গভাবে কোনটাই সফল হয় নি।

মিয়ানমারের ভেতরে 'সেফ জোন' ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের সুপারিশমালা

মি. কবির বলছিলেন "আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যে সকলেই যদি সক্রিয়ভাবে সমর্থন করে তাহলে এটা বাস্তবায়ন সম্ভব"
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বলতে তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের যে ৫টি সদস্য দেশ রয়েছে তাদের কথা বলেছেন।
তিনি বলছিলেন "তাদের মধ্যে একটা ঐক্যমত্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। যেহেতু সেই ঐক্যমত্যের জায়গা তৈরি হয়নি তাই এই বিষয়গুলো নিয়ে আমরা খুব বেশি এগিয়ে যেতে পারিনি"।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন মানবাধিকার কর্মী নূর খান।
তিনি বলছিলেন "মিয়ানমারের ভিতরে সেফ জোন তৈরি করা বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সেই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আমরা যে তথ্য পাচ্ছি তার কোন নিশ্চয়তা দেখছি না"।
তবে বিচারের বিষয়ে যে সুপারিশ প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন তার কিছুটা অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে বলে মনে করেন মি. খান।
তিনি মনে করেন ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের মাধ্যমে দালিলিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যেটা কাজে লাগবে।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেশন মেকানিজম ও নির্যাতনের বিচার

ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের পর একটা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেশন মেকানিজম তৈরি করা হয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনে।
সম্প্রতি তারা একটা রির্পোট তৈরি করেছেন। সেখানে তারা কিছু সুপারিশমালা তৈরি করেছেন।
মি. কবির বলছেন "যে জায়গাগুলোতে সফলতা অর্জন করা গেছে সেজায়গাগুলো মূলত দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিপাক্ষিক পর্যায়ে রয়েছে"।
জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনে চীন,বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে একটা ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে।
তারা তদারকি করবে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কতটা অগ্রসর হল কি হল না।
মি. কবির 'এই ফোরামের থিউরিটিক্যাল বা তাত্ত্বিক মুভমেন্ট লক্ষ্য করছেন' বলে উল্লেখ করেন।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেশন মেকানিজম মিয়ানমারে কী কী অপরাধ হয়েছে বা হয়নি সেগুলো মূল্যায়ন করে তারা একটা সিদ্ধান্তের জায়গায় পৌঁছেছে যে মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, মানবতা-বিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
এবং একটা জনগোষ্ঠীকে উৎখাতের জন্য বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেশন মেকানিজম বলেছে এই ডকুমেন্ট বা তথ্যগুলো জাতিসংঘে সংরক্ষিত থাকবে।
যদি কখনো ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে (আইসিসি) মিয়ানমারের যারা এই অপরাধ করেছে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়, তাহলে তাদের অপরাধকে প্রমাণ করার জন্য সাক্ষী হিসেবে এই তথ্যগুলো ব্যবহার করা যাবে।

কফি আনান কমিশনের সুপারিশ

যদিও মিয়ানমার বলছে যে তারা কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করছে কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, পর্যবেক্ষক এবং রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের উপর সেই ভরসা পাচ্ছে না।
"কারণ তারা যে কথা বলছে এবং কাজ করছে তার মধ্যে অনেক ফারাক রয়েছে" বলে মন্তব্য করেন মি. কবির।
মি. খান বলছিলেন, কফি আনান কমিশন একটা প্রতিবেদন দিয়েছে এটাই একটা অগ্রগতি। এছাড়া দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই।
"তবে এই রিপোর্ট ধরে ধরে কোন কিছুরই অগ্রগতি হচ্ছে না। কেবল মাত্র বিচারের ক্ষেত্রে তথ্য অনুসন্ধান, দালিলিক প্রমাণ , সাক্ষ্য গ্রহণ এই কাজটি এগুচ্ছে এর বাইরে এখন পর্যন্ত কোন অগ্রগতি নেই" বলছিলেন মি.খান।

প্রত্যাবাসন

বাংলাদেশ দুইবার রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করে।
কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যেতে রাজি হয় নি বরং কয়েকটি দফা তারা তুলে ধরে যেগুলো পূরণ না হলে তারা ফেরত যাবে না বলে জানিয়েছে অগাস্টে টেকনাফের উখিয়াতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করা এক সমাবেশে।
মি. খান বলছিলেন "রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য যে পরিবেশ তৈরি করা দরকার , যে আইনি স্বীকৃতি থাকা দরকার সে বিষয়ে কার্যকর কোন পদক্ষেপ মিয়ানমারের তরফ থেকে দেখা যায় নি"।
"রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার জন্য মিয়ানমারকে সব করতে হবে এখানে বাংলাদেশের কিছু করার নেই। আন্তর্জাতিক মহলকে সাথে নিয়ে মিয়ানমারের উপর চাপ তৈরি করা, যাতে আন্তর্জাতিক মহলের চাপে মিয়ানমার এই জায়গাগুলোতে পদক্ষেপ গ্রহণ করে" বলছিলেন মি. খান।
তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে দুই দফা যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে করে তিনি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছেন।
জনমত গঠনে এটা ভূমিকা রেখেছে। তবে যে মাত্রায় মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করা দরকার সেই মাত্রায় আন্তর্জাতিক মহল অংশ নিতে পারেনি, বলছেন পর্যবেক্ষকরা।

এই অভিযান হচ্ছে ক্যাসিনোকেন্দ্রিক কিছু তৎপরতা : - আনু মুহাম্মদ by তামান্না মোমিন খান

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, বর্তমানে যে অভিযান চলছে এটিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান বলা যাবে না। এই অভিযান হচ্ছে ক্যাসিনোকেন্দ্রিক কিছু তৎপরতা। ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কয়েকজনের ব্যাপারে পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযান।এ অভিযান কতদূর যাবে সেটাও বলা মুশকিল। মানবজমিনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

যেকোনো নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে বা  যখন কোনো সরকারের ভাবমূর্তি সংকটের মধ্যে পড়ে বা সরকারের নিজেদের লোকদের মধ্যে সমস্যা তৈরি হলে এ ধরনের অভিযান চালানো হয়। কিন্তু এ ধরনের অভিযান বেশিদিন চলে না। যেই পুলিশ ও র‌্যাবের তত্ত্বাবধানে এইসব ক্যাসিনো চলছিল তারাই আবার এখন অভিযান চালাচ্ছে। এর পেছনে কি ঘটনা সেটা তো আর আমরা বলতে পারব না। এ অভিযানকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, এভাবে বলা যাবে না।

আনু মুহাম্মদ বলেন, দুর্নীতি অনেক বড় বিষয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান হতে হলে সরকারের সকল চুক্তি প্রকাশ করতে হবে। এসব চুক্তিতে যে অনিয়ম হচ্ছে সেসব খতিয়ে দেখতে হবে। যতরকম নির্মাণ কাজ আছে এসব কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যে অনিয়ম আছে তা খুঁজে বের করতে হবে। দেশের সর্বত্র দুর্নীতি ছড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বড় বড় পদে এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তা অনিয়মের মাধ্যমে। তাদের একমাত্র যোগ্যতা হচ্ছে তারা সরকারের অনুগত। সরকার যা বলে তারা তাই করে। এসব বড় বড় পদে যদি বিতর্কিতরা থাকে, তারা নিজেরা তো দুর্নীতি করে অন্যদের দুর্নীতি ঠেকানোর ক্ষমতাও তাদের থাকে না। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটাই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে কাশ্মীরে ‘রক্তগঙ্গা’র সতর্কতা ইমরানের, নীরব ভূমিকায় মোদি

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে শুক্রবার বক্তব্য রেখেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। দুজনের বক্তব্যের প্রতি আলাদা দৃষ্টি ছিল বিশ্ববাসীর। বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যুতে দুজনের মতামত প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে এ বিষয়ে কোনো শব্দই উচ্চারণ করেননি মোদি। অন্যদিকে ইমরান খান সতর্ক করেন, অঞ্চলটিতে ‘রক্তগঙ্গা’ বইতে পারে। এ খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
শুক্রবার জাতিসংঘের সদরদপ্তরে দেয়া বক্তব্যে ইমরান বলেন, ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলে সেখানে রক্তগঙ্গা বইবে। তিনি কাশ্মীরে মোদির পদক্ষেপকে ‘নির্মম’ ও ‘বোকামি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। প্রসঙ্গত, আগস্টের শুরুর দিকে কাশ্মীরের স্বায়ত্ত্বশাসনের অধিকার কেড়ে নেয় মোদি সরকার। এরপর থেকে অঞ্চলটিতে নজিরবিহীন অবরোধ জারি করে রাখা হয়েছে। সেখানে মোতায়েন রয়েছে কয়েক লাখ সেনা। এছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গেও নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে ভারতের। ভারত-শাসিত কাশ্মীরিদের পক্ষে লড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইমরান। অন্যদিকে, ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতারা হুশিয়ারি দিয়েছেন, এটা ভারতের নিজস্ব ব্যাপার। এতে পাকিস্তান যেন হস্তক্ষেপ না করে। এমতাবস্থায় দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে যুদ্ধের আশঙ্কাও করছেন।
ইমরান জাতিসংঘে বলেন, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হলে তা কেবল দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। কাশ্মীরে ৯ লাখ সেনা মোতায়েন করেছে ভারত। মোদির ভাষ্য, কাশ্মীরের সমৃদ্ধির জন্য এসব সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এই সেনারা সেখানে কী করবে? তাদের যখন প্রত্যাহার করা নেয়া হবে সেখানে তখন রক্তগঙ্গা বইবে। তিনি আরো বলেন, কারফিউ প্রত্যাহারের পর মোদি কী করবেন? তিনি কি মনে করেন যে, কাশ্মীরিরা চুপচাপ এই অবস্থা মেনে নেবে?
অন্যদিকে জাতিসংঘে নিজের বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদ দমনের দিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন মোদি। কাশ্মীর নিয়ে কোনো কথা উল্লেখ করেননি তিনি। মোদি বিশ্বনেতাদের বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান দৃঢ়। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি দেশের মানুষ যারা যুদ্ধে নয়, বুদ্ধের শান্তির বার্তায় বিশ্বাস করে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্র থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি শান্তি ও সংহতির বার্তা জানাচ্ছে। তিনি বিশ্বনেতাদের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এক হওয়ার আহ্বান জানান।
মোদির পরপরই বক্তব্য রাখেন ইমরান। তিনি বলেন, কাশ্মীর ঘিরে নেয়া মোদির পদক্ষেপের কারণে যুদ্ধের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। এই যুদ্ধ কেবল ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটা কোনো হুমকি নয়, এটা একটা সতর্কতা। তিনি বলেন, পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো দেশ সবকিছু নিয়ে লড়াইয়ে নামলে, এর প্রভাব সীমান্তের বাইরেও পড়বে। পুরো বিশ্বকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। বিশ্ব সম্প্রদায় এ অবস্থায় কী করবে?
ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন,  বিশ্বনেতারা কি ১২০ কোটি মানুষের একটি বাজারকে খুশি রাখবে? নাকি ন্যায় বিচার ও মানবতার পক্ষে সোচ্চার হবে?

ঢাকায় ক্যাসিনো: ফুটবল ক্লাবগুলোর আয়ের উৎস কী? by রায়হান মাসুদ

মোহামেডানের প্রধান ফটক
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার বেশ কয়েকটি ক্লাবে অভিযান চালিয়ে জুয়া খেলার সামগ্রী ও মদ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সবগুলোই মতিঝিলের বেশ সুপরিচিত ক্লাব। ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানের সাথে আছে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ ও দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব।
গত বুধবার রাতে ঢাকায় একের পর এক অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে চলা চারটি ক্যাসিনো বন্ধ করে দেয়।
এরপর হয়তো অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠতেই পারে - ক্লাবগুলো প্রতি মৌসুমে ফুটবলের পেছনে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে তা কী এই ক্যাসিনো ব্যবসা থেকে আসে?
তবে দেশের ক্লাবগুলো মূলত স্পন্সর আর ডোনারদের থেকে অর্থ নিয়ে ক্লাব চালায়, বিবিসি বাংলার কাছে বাংলাদেশের ফুটবল ক্লাবগুলোর কর্তারা এমনটাই দাবি করেছেন।
গত এক দশকে বাংলাদেশে ঘরোয়া ফুটবলে যেসব ক্লাব বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে তাদের মধ্যে একটি বসুন্ধরা কিংস।
বিদেশী কোচ, ফুটবল বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলার ও অবকাঠামোর উন্নয়ন দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম সাড়ির একটি ক্লাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এখন বসুন্ধরা কিংস।
এই ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট ইমরুল হাসান, বিবিসি বাংলা তার কাছে জানতে চায় বসুন্ধরা কিংসের আয়ের উৎস কী?
"মূলত পৃষ্ঠপোষকদের দেয়া অর্থ ও ডোনেশন দিয়েই আমরা ক্লাব চালাই," বলেছেন মি: ইমরুল।
তবে এভাবে ক্লাব চালানো কষ্টসাধ্য বলেও মানেন তিনি।
"বাংলাদেশের যে আর্থ সামাজিক অবস্থান এখানে স্পোর্টস ক্লাব থেকে লাভ আসার কথা কেউ ভাবে না।"
"লাভ হবে কি না সেটা অকল্পনীয় একটা ব্যাপার, মাঝেমধ্যে কষ্ঠসাধ্য হয়ে যায়, স্পন্সর জোগাড় করি, নিজস্ব অর্থ আছে, বাংলাদেশের ফুটবল পিছিয়ে পড়েছে, মালিকপক্ষ খেলার প্রতি ভালোবাসা থেকে এটা করছে।"
বাংলাদেশের আরেকটি ক্লাব শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব, যারা ২০১০ থেকে বেশ বড় মাপের দল তৈরি করে আসছে। যে দল প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের পেশাদার প্রতিযোগিতা গুলোতে অংশ নিয়ে শিরোপার জন্য লড়াই করে।
এই ক্লাবের ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নু।
তিনি সরাসরিই বলেন, ক্যাসিনোর যে কথা উঠেছে - সেটার কোনো ভাগই ক্রীড়ায় বিনিয়োগ হয়না, এই ভাগ কারা তুলে নিয়ে যায় সেটা বলাই বাহুল্য।
"ফুটবল বলেন, ক্রিকেট বলেন, সুইমিং বলেন - কোনো খেলাতেই ক্যাসিনো থেকে অর্থ আসে না।"
"আমরা যখন খেলতাম তখনও নিবেদিত কিছু কর্মকর্তা ছিলেন, তাদের চাঁদা বলেন বা ডোনেশন তা দিয়েই ক্লাব চলতো, গত চার-পাচঁ বছরে এই সিস্টেম বদলালেও, ক্যাসিনো থেকে কখনোই বেনিফিট পায়নি ফুটবল।"
মি: চুন্নু আরো বলেন, "আসলে আমরা এখন নাম কেনার প্রতি মনোযোগী এভাবে ফুটবল এগোবে না, এভাবেই পুরো জীবন চলে যাবে। ফুটবলের পেছনে কিন্তু পুরো পৃথিবীতেই প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়, সেই তুলনায় বাংলাদেশ নগণ্য ব্যয় হয়।"
"আমরা যদি প্রফেশনাল ফুটবলে এশিয়াতেও ভালো জায়গায় থাকতাম, তাহলে টাকা ঢালতো অনেকে, ফুটবল খেলায় যে বিনিয়োগ হয় সেটা যথার্থ বলে আমি মনে করি না।"
সনৎ বাবলা বাংলাদেশের ফুটবল অঙ্গনের একজন সিনিয়র সাংবাদিক, তিনি বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতির একটি রুপরেখা বিবিসি বাংলার কাছে তুলে ধরেন।
"দেশের ফুটবল ক্লাবগুলো লাভ-ক্ষতির বিচার করে ফুটবল চালায় না, কারণ তারা আয় করে এই টাকা খরচ করে না, বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বড় ক্লাবগুলোকে টাকা দেয়, বড় বড় ব্যবসায়ীরা যারা কমিটিতে থাকেন তারা ডোনেশনের টাকা দেন, এটা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ফেনোমেনা, এটা ইউরোপীয়ান ফুটবলের সাথে মেলানো যাবে না।"
বর্তমানে চলমান ক্যাসিনো নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর দেন সনৎ বাবলা একটি উদাহরণ দিয়ে।
"প্রথমদিন যে ক্লাবে অভিযান চালানো হয়েছে ইয়াংমেন্স ফকিরেরপুল ক্লাব, সেই ক্লাবেই অনেক বড় ব্যবসা হতো, দুই বছর আগে তারা চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ থেকে প্রিমিয়ার লিগে উত্তীর্ণ হয়েছিল, কিন্তু টাকার অভাবের কথা বলে তারা প্রিমিয়ার লিগে খেলেনি, অর্থাৎ ক্যাসিনো থেকে আয় করলেও সেটা ক্লাবে থাকে না।"
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান নিয়েও বলেন মি: বাবলা, "মোহামেডান ক্লাবের ক্যাসিনোর বয়স এক বছরও হয়নি, এই ক্লাবটি দিনের পর দিন অধঃপতনে যাচ্ছে।"

এবার আমেরিকা এমন এক নিষেধাজ্ঞা দিল যা বিশ্বে সত্যিই নজিরবিহীন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান বিদ্বেষ অব্যাহত রয়েছে। তিনি তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে এখনো ওয়াশিংটনের নীতি মেনে নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন।

তেহরানকে বাগে আনতে ওয়াশিংটনের একের পর এক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন কার্যত হতাশ হয়ে পড়েছে। তাই সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে তারা ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির নীতি গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে মার্কিন সরকার ইরানের বেশ কিছু কর্মকর্তাকে আমেরিকায় প্রবেশ কিংবা সেখানে অবাধ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ইরানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করে ট্রাম্প বলেছেন, "ইরানের কর্মকর্তারা এবং তাদের পরিবারবর্গ অভিবাসী হোক বা না হোক তারা আমেরিকায় প্রবেশ করতে পারবে কি না কিংবা অবাধে কোথাও যেতে পারবে কিনা সেটা আমি নির্ধারণ করে দেব।"

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানি কর্মকর্তাদের আমেরিকা সফরের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ বিশ্বে নজিরবিহীন। কারণ ইরানের অনেক কর্মকর্তা নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল ও বিশ্ব ব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত রয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্ব বৈঠকে অংশ নেয়ার জন্য ওই দুই শহরে ইরানিদের যাতায়াত করতে হয়। অথচ আমেরিকা ও জাতিসংঘের মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী জাতিসংঘের সদস্য ইরানসহ যেকোনো দেশের কর্মকর্তাদের অবাধ চলাচলের সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে যাতে তারা আমেরিকায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার বৈঠকে অংশ নিতে পারে। মার্কিন সরকার কিছু দিন আগেও ইরানের প্রেসিডেন্টসহ দেশটির অন্যান্য কর্মকর্তাদের আমেরিকায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যাতে তারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকে অংশ নিতে না পারে। যদিও তারা শেষ পর্যন্ত ইরানি প্রতিনিধি দলের আমেরিকা সফরের জন্য ভিসা দিয়েছে তবে সেটা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব পদক্ষেপ নিয়ে কেন তিনি ইরানি কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেন সেটাই এখন প্রশ্ন।

ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে আলোচনার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর প্রতিশোধ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে এ নিষেধাজ্ঞা দিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে ফায়দা হাসিলের জন্যই রুহানি ও ট্রাম্পকে আলোচনায় বসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু তা ভেস্তে যাওয়ায় মার্কিন কর্মকর্তারা প্রচণ্ড হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তবে ট্রাম্পের ওই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে খোদ আমেরিকার ভেতরেই ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। এতোসব সমালোচনা ও ব্যর্থতা ঢাকার জন্যই হোয়াইট হাউজ ইরানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আমেরিকায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিল। হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, "ইরান মানব সমাজের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে এবং দেশটি প্রতিবেশী ও আন্তর্জাতিক জলপথের জন্য হুমকি।"

অতীত ঘটনাবলীর দিকে তাকালে দেখা যায়, আরো অনেক দেশের কর্মকর্তাদের আমেরিকায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন। রাশিয়া, কিউবা ও ভেনিজুয়েলাসহ আরো অনেক দেশের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য আমেরিকা এ ধরণের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমেরিকায় প্রবেশ কিংবা আমেরিকার ভেতরে চলাফেরার ওপর ইরানের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হল তা সত্যিই নজিরবিহীন। কিন্তু এসব নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানকে নতজানু করতে পারবে না আমেরিকা।

আবারও বৃটেনে ফেরার আকুতি সেই শামীমার

আবারও বৃটেনে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন আইসিস বধু বলে পরিচিত ও বহুল আলোচিত শামীমা বেগম। বাংলাদেশী পিতামাতার সন্তান শামীমা বলেছেন, আমি আমার সন্তানদের হারিয়েছি। বন্ধুদের হারিয়েছি। এখন আমি শুধু দেশে (বৃটেন) ফিরতে চাই। বর্তমানে সিরিয়ায় একটি নতুন বন্দিশিবিরে অবস্থান করছেন তিনি। সেখানে তাকে খুঁজে বের করেছেন বৃটেনের ডেইলি মেইল পত্রিকার সাংবাদিক রিচার্ড পেন্ডলবারি। তার কাছে শামীমা বলেছেন, তিনি এখন পাল্টে যাওয়া একজন নারী। গত ৬ মাসে বৃটেনের কারো সঙ্গে তার কথা হয় নি।

সাংবাদিক রিচার্ড পেন্ডলবারি ওই ক্যাম্পে শামীমার সঙ্গে তার সাক্ষাত নিয়ে লিখেছেন, সিরিয়ার এক পাহাড়ি এলাকা। তার পাশেই সূর্য্যরে আলোতে আলোকিত একটি কেবিন। তার এক কোণে একটি সোফার ওপর বসে বৃটেনের বেথনাল গ্রিনের একটি মেয়ে। আমাকে সম্ভাষণ করলো উদ্বেগের সঙ্গে। প্রথমবারেই আমি তার ভিতর লক্ষ্য করলাম একটি পরিবর্তন। তিনি বোরকা পরেননি। তার নাকে ডায়মন্ডের নাকফুল। ঠোঁট চিকচিক করছে। কালোর পরিবর্তে বরই রঙা একটি হিজাব আছে। পরেছেন নীল রঙের লম্বা একটি স্কার্ট। তার এমন উপস্থিতি নতুন ও অপ্রত্যাশিত। মুখ দেখে তাকে চিনে নেয়া যায়। তিনি বৃটিশ টিনেজার আইসিস বধু শামীমা বেগম। সেখানে পরিস্থিতির সঙ্গে তিনি মানিয়ে উঠতে পারছেন না। এক  সময় যাদেরকে ঘনিষ্ঠ মনে করতেন তারাও কেউ নেই আশপাশে। শামীমা বললেন, আমার কোনো প্রকৃত বন্ধু নেই। আমার সঙ্গে যারা এসেছিল সেইসব বন্ধুর সবাইকে হারিয়েছি। এখন আমার আর কেউ নেই।

সাংবাদিক রিচার্ড পেন্ডলবারি আরো লিখেছেন, হাত কচলাচ্ছিলেন শামীমা। আমাদের কথোপকথনের সময় এটা পরিষ্কার হয়েছে যে, তিনি চরম মাত্রায় মানসিক অস্থিরতার সঙ্গে লড়াই করছেন। শামীমা বললেন, আমার মানসিক অবস্থা মোটেও ভাল নেই। শারীরিক দিক দিয়ে ভাল আছি। এখনও আমি একজন যুবতী। রোগ হয় না। এটাও আমার কোনো সমস্যা নয়। তবে রোগ হলো মানসিক। কারণ আমি একটি বাজে অবস্থায় আছি। আমার ভুলের জন্য থেরাপি প্রয়োজন। সব সন্তানকে হারিয়েছি আমি। বিষয়টা খুবই কষ্টের। এখানে যেসব মানুষের সঙ্গে আমি অবস্থান করছি তারা কেউ জানে না আমি কি অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়ে যাচ্ছি। তারা আমার স্কুলজীবনের বন্ধুদের মতো নয়, যারা সব সময় আমার সঙ্গে গল্প করতো। আমি কি করতে চাই, তারা তার কিছুই বুঝতে পারে না। এখানে মানসিক স্বাস্থ্যের কোনো বিধান নেই। শুনেছি, অন্য ক্যাম্পগুলোতে মানসিক রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।

দীর্ঘদিন ধরে তাকে ঘৃণা করেন বহু মানুষ। তিনি একজন বিশ্বাসঘাতক, যা তাকে ইসলামপন্থি হত্যাযজ্ঞে তাড়িত করেছে। আর ওই আদর্শ সিরিয়া ও ইরাকজুড়ে হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ ও দাসত্ব চালিয়েছে। এ জন্য শামীমার প্রতি ঘৃণা থেকে অনেক ভাষ্যকার ও কলামনিস্ট মন্তব্য করেছেন ওই পাহাড়ি এলাকায় পচে মরা উচিত তার। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাত্র ১৫ বছর বয়সী শামীমা তার বান্ধবী আমিরা আব্বাস ও খাদিজা সুলতানাকে নিয়ে বৃটেন থেকে পালান। তারা বেথনাল গ্রিন একাডেমি স্কুলের ছাত্রী ছিলেন। তারা বৃটেন থেকে পালিয়ে প্রথমে যান তুরস্কে। তারপর সীমান্ত অতিক্রম করে পৌঁছে যান সিরিয়ায় আইএসের ডেরায়। সেখানে পৌঁছার ১০ দিনের মধ্যে শামীমা বিয়ে করেন আইএস যোদ্ধা ইয়াগো রেডিজক’কে। এই আইএস যোদ্ধা বিয়ের আগে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হন।

সিরিয়া ও ইরাকের বিশাল এলাকা দখলে নেয় আইসিস। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট ও রাশিয়ার বিমান হামলায় তাদের সেই আধিপত্যের পতন হতে শুরু হয়। এ বছরের মার্চে তাদের সর্বশেষ খেলাফতের সমাপ্তি ঘটে সিরিয়ার বাগুজে। এর অল্প কিছুদিন আগে কয়েক হাজার আইএস যোদ্ধার স্ত্রী ও সন্তানদের মাঝে পাওয়া যায় শামীমাকে। বিশাল আল হাওল অন্তর্বর্তী ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল তাদেরকে। শামীমা তখন বৃটেনে ফেরার আবেদন জানান। কিন্তু তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বৃটেন। তার নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়। ওই সময় তিনি মিডিয়াকে সাক্ষাতকার দেয়ায় আইএসের অনেক সমর্থক তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়। ফলে তার ছেলে জারা জন্ম নেয়ার ১০ দিনের মধ্যে তাকে অনেক ছোট রোজ ক্যাম্পে নিয়ে রাখা হয়। সেখানে তার সন্তান সংক্রমণে পড়ে এবং পাশেই একটি হাসপাতালে মারা যায়। শামীমার পিতামাতা বাংলাদেশী হওয়ায় তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় চাইতে পারেন বলে মিডিয়ায় বলা হয়। তখন বাংলাদেশ প্রতিক্রিয়ায় বলে, বাংলাদেশে এলে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হবে।

এরপর থেকে দৃষ্টির আড়ালে ছিলেন শামীমা। সাংবাদিক রিচার্ড পেন্ডলবারি লিখেছেন, গত সপ্তাহে ইন্টারনেটে আবার জেগে ওঠেন শামীমা। এতে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, শামীমা উড়ে গিয়েছেন বৃটেনে। সেখান তাকে নতুন পরিচিতি দেয়া হতে পারে। আরো বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের স্ত্রী চেরি ব্লেয়ার তার পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই গুজব ফেসবুক ও টুইটারে শেয়ার করা হয়েছে কমপক্ষে ৫০ হাজার বার। কিন্তু এটা গুজবই ছিল, প্রমাণ করেছে রোজ ক্যাম্প।

সাংবাদিক রিচার্ড পেন্ডলবারি লিখেছেন, শামীমার কণ্ঠ নাটকীয়ভাবে পরিবির্তন হয়েছে। আইএসের প্রতি তিনি ঘৃণা প্রকাশ করেন। এর অনুসারীদের বিষয়ে অব্যাহত আতঙ্ক প্রকাশ করেন। তার ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শামীমা বলেছেন, এখন আর আল হাওল ক্যাম্পে থাকেন না। এ জন্য তিনি খুশি। ওই ক্যাম্পে আইএস পরিবারের ৭০ হাজারের বেশি সদস্য অবস্থান করছে। এখন রোজ ক্যাম্পে প্রায় ৭০০ পরিবার আছে। তার মধ্যে রয়েছে আইসিস সদস্য। তবে বেশির ভাগই সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে বাস্তুচ্যুত বেসামরিক মানুষ। সেখানে আছে ১০টির মতো দোকান। তাতে আছে সব বাণিজ্যিক পণ্য। মেকআপ, স্বর্ণালংকার থেকে শুরু করে টিভি সেট পর্যন্ত বিক্রি হয় সেখানে। এসব দোকান পরিচালনা করেন সাধারণ শরণার্থীরা।

সেখানে নিজের থেকে ৩০ বছরের বড় একজন কানাডিয়ান নারীর সঙ্গে একটি তাঁবুতে অবস্থান করেন শামীমা। তার সম্পর্কে শামীমা বলেন, তিনি আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড়। আমার মায়ের মতো। অবশ্যই তিনি আমাকে তার সন্তানের মতো দেখেন। আমাদের এই তাঁবুকে আমিই পরিষ্কার রাখি। এখানে আছে একটি টিভি। তাতে আরবি ভাষার চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন ইভেন্টের খবর রাখেন শামীমা। তিনি ছবিও দেখেন। তার ভাষায় আমি দেখেছি ‘মেন ইন ব্লাক: ইন্টারন্যাশনাল’ এবং ‘স্পাইডারম্যান: ফার ফ্রম হোম’ ছবি। অবসাদ থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি ভাল জিনিস হলো টেলিভিশন। আমি সারাদিন এর দিকে তাকিয়ে থাকি। যখন আমার খারাপ লাগে, কথা বলার কেউ থাকে না তখনই এর সামনে বসে পড়ি।

শামীমা বেগম এখন পপ সঙ্গীত শোনেন। খেলাফতের সময়ে তিনি এটা শুনতেন না। তিনি বলেন, পশ্চিমা এই সঙ্গীত আমি খুব মিস করেছি প্রথম যখন সিরিয়ায় যাই। এই ক্যাম্পে একটি ফোন আছে। এটা আমরা ব্যবহার করতে পারি। প্রতিবার আপনি শুধু এক মিনিট কথা বলতে পারবেন। বেশির ভাগ মানুষ এই ফোন ব্যবহার করে টাকা চাওয়ার জন্য। কিন্তু আমার পরিবার আমার সঙ্গে কথাই বলে না। মোটেও না। সিরিয়া যাওয়ার পর তাদের সঙ্গে আমি কথা বলি নি। চেষ্টা করেছি। ক্যাম্পের ফোন দিয়ে চেষ্টা করেছি। তাদেরকে ম্যাসেজ দিয়েছি। তারা আমাকে ফোনে কথা বলার মাধ্যমে আমার পরিচয় নিশ্চিত করতে বলেন। পরে আমি আমার ভয়েসমেইল পাঠাই। তারপর আর কোনো উত্তর পাই নি। শামীমা বলেন, আমার পিতামাতা সব সময় আমার ওপর ক্ষুব্ধ থাকতেন। টিনেজার বয়সে আমার ওপর নিষ্পেষণ চালানো হয়েছে। এটা হয় এশিয়ান পরিবারগুলোতে। এসব পরিবার খুব রক্ষণশীল। এ জন্য আমি তাদের সঙ্গে কথা বলি নি। মিডিয়ায় কথা বলার পর তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন। কিন্তু আমার কোনো বিকল্প ছিল না। এখন আমি যদি ফিরে যাই তাহলে কি ঘটবে জানি। প্রথমে তারা খুব খুশি হবে। আদর করবে। তারপরই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে। যার জন্য আমি প্রস্তুত নই। তবে আমি দেশে (বৃটেন) ফিরতে চাই। সেখানে বিচারের মুখোমুখি হতে চাই। কারণ, এখানে এই ক্যাম্প তো একরকম শাস্তিই।

ইন্দোনেশিয়ার আকাশ মঙ্গল গ্রহের মতো লাল হয়ে গেছে

গত সপ্তাহের শেষে ইন্দোনেশিয়ার একটি প্রদেশের আকাশ পুরোপুরি লাল হয়ে যায়, যার কারণ ওই এলাকার বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বুনো আগুন।
জাম্বি প্রদেশের একজন বাসিন্দা আকাশের ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, ওই আবছায়ার কার চোখ এবং গলায় যেন ব্যথা লাগছিল।
ইন্দোনেশিয়ায় প্রতিবছর আগুনের কারণে ধোয়াটে কুয়াশা তৈরি হয়, যা পুরো দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
ইন্দোনেশিয়ার জাম্বি প্রদেশের আকাশ যেন ভিনগ্রহের আকাশের মতো হয়ে গিয়েছিল
একজন আবহাওয়াবিদ বিবিসিকে বলেছেন, ওই অস্বাভাবিক রঙিন আকাশের ঘটনাটি ঘটেছে 'রেলিগ স্ক্যাটেরিং' নামের চলমান ঘটনার কারণে।
জাম্বি প্রদেশের মেকার সারি গ্রামের বাসিন্দা ইকা উলান্দারি শনিবার দুপুরে রক্তের মতো লাল ওই আকাশের বেশ কয়েকটি ছবি তোলেন।
ওই কুয়াশাচ্ছন্ন অবস্থার কারণে ওই দিনটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে তিনি বলছেন।
একুশ বছরের এই তরুণী তার তোলা ছবিগুলো ফেসবুকে পোস্ট করেন। এরপরে সেগুলো এ পর্যন্ত ৩৪ হাজার বার শেয়ার হয়েছে।
তবে তিনি বিবিসি ইন্দোনেশিয়াকে বলছেন, অনেক অনলাইন ব্যবহারকারী সন্দেহ প্রকাশ করেছিল যে, এই ছবিগুলো সত্যি কিনা।
''কিন্তু এটা সত্যি। এগুলো আসল ছবি এবং ভিডিও, যা আমি আমার মোবাইল ফোন দিয়ে তুলেছি।''
তিনি বলছেন, কুয়াশার ওই অবস্থা সোমবারে আরো বেশি ছিল।
আরেকজন টুইটার ব্যবহারকারী একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে একই ধরণের আকাশ দেখা যাচ্ছে।
''এটা মঙ্গলগ্রহ নয়, এটা জাম্বি,'' লিখেছেন টুইটার ব্যবহারকারী যুনি শোফি ইয়াতুন নিসা। ''আমরা মানুষদের জন্য পরিষ্কার বাতাস দরকার, ধোঁয়া নয়।''
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া দপ্তর বিএমকেজি বলছে, স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণের মাধ্যমে জাম্বি প্রদেশে এরকম বেশ কয়েকটি এলাকা পাওয়া গেছে, যেখানে ধোঁয়া জমাট বেধে ছড়িয়ে পড়েছিল।
আলোকচিত্রী পুনরায় নিশ্চয়তা দিয়ে বলছেন, এই ছবিগুলো বানোয়াট নয়
সিঙ্গাপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক কোহ তিয়ে ইয়োঙ ব্যাখ্যা করছিলেন যে, 'রেলিঙ স্ক্যাটেরিং' এ ধরণের বিশেষ ঘটনায় বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট ধরণের অণু যুক্ত হয়ে থাকে, যা কুয়াশার একটি নির্দিষ্ট সময়ে দৃশ্যমান হয়ে থাকে
''ধোঁয়ার কারণে তৈরি হওয়া কুয়াশায় বেশিরভাগ অণুগুলো থাকে প্রায় এক মাইক্রোমিটার আকারের, কিন্তু আমাদের দেখা আলোর রঙ এসব অণু পাল্টায় না।'' তিনি বিবিসিকে বলছেন।
''সেখানে এরকম প্রায় ০.০৫ মাইক্রোমিটার বা এর চেয়েও ছোট অণু থাকে, যা হয়তো খুব বেশি আবছায়া তৈরি করে না।কিন্তু দিনের কোন একটা সময়ে সেটির পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে। তখন এর কারণে চারদিকে সাধারণ আলোর পরিবর্তে লাল আভার তৈরি হয়।''
তিনি বলছেন, দুপুরের ছবিগুলো তোলার কারণে আকাশ অনেক বেশি লাল দেখাচ্ছে।
''সূর্য যদি মাথার ওপরে থাকে এবং আপনি ওপরে তাকান, আপনি হয়তো সূর্য বরাবর তাকালেন, তখন আকাশ অনেক বেশি লাল দেখা যেতে পারে।''
অধ্যাপক কোহ বলছেন, এই ঘটনার ফলে বাতাসের তাপমাত্রার কোন পরিবর্তন হয় না।
এ বছরের আবছায়ার মাত্রা অন্য যেকোনো বছরের চেয়ে বেশি ছিল।
এই আবছায়ার তৈরি হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায় বিশাল এলাকাজুড়ে বুনো আগুন, যা মালয়েশিয়ার কিছু অংশেও ছড়িয়ে পড়ে।
মেকার সারি গ্রামটি যেন পুরো লাল হয়ে গেছে
সাধারণত এরকম আগুনের ঘটনা ইন্দোনেশিয়ার শুকনো মৌসুমে, জুলাই থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে ঘটে থাকে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বছরের প্রথম আট মাসে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৭২৪ হেক্টর জমি আগুনে পুড়েছে।
এই আগুনের একটি অংশের জন্য দায়ী বড় এবং ছোট আকারের কৃষকরা, যারা শুকনো মৌসুমের সুযোগে পাম অয়েল, পাল্প আর কাগজ তৈরির গাছ লাগানোর জন্য গাছপালা পুড়িয়ে দেয়।
আগুন লাগিয়ে জমি পরিষ্কারের এই পদ্ধতি ওই এলাকার কৃষকের কাছে অনেক জনপ্রিয়, কারণ এটা তাদের কাছে সহজ পদ্ধতি। পাশাপাশি তাদের নতুন ফসলে কোন রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।
কিন্তু কখনো কখনো এ ধরণের আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
ইন্দোনেশিয়ায় এভাবে আগুন লাগিয়ে জমি পরিষ্কার করা বেআইনি, তবে বছরের পর বছর ধরে এটা চলে আসছে।
অনেকে মনে করেন, দুর্নীতি এবং দুর্বল সরকারি ব্যবস্থার কারণে এমন পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প: অভিশংসন প্রচেষ্টার পেছনে কী?

যুক্তরাষ্ট্র ডেমোক্র্যাট পার্টির সদস্যরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য বিদেশি শক্তির সাহায্য নেয়ার অভিযোগ করেছেন ডেমোক্র্যাটরা।
অভিশংসন প্রক্রিয়া মানে এক অর্থে প্রেসিডেন্টকে কাঠগড়ায় দাড় করানো। যার ফলে তাকে পদ থেকে অপসারণ করা সম্ভব।

কী তদন্ত করা হচ্ছে?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, ২০২০ সালের তার সবচেয়ে সম্ভাব্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট নেতা জো বাইডেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত না করলে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেয়া বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
জো বাইডেন সম্পর্কিত কোন ক্ষতিকর তথ্য তার বিরুদ্ধে কাজে লাগানোর জন্য তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপর এমন তদন্তের চাপ দিয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হচ্ছে।
কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করছেন যে ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন জো বাইডেন ইউক্রেনকে একটি অপরাধ তদন্ত না করার ব্যাপারে চাপ দিয়েছিলেন।
যে তদন্তে তার ছেলে হান্টার বাইডেনের কোন ধরনের সম্পৃক্ততা বের হয়ে আসতে পারে বলে সেটি তিনি ঠেকাতে চেয়েছিলেন।
হান্টার বাইডেন ইউক্রেনের মালিকানাধীন গ্যাস কোম্পানি ইউক্রেন ওলিগার্ক-এর বোর্ডে একজন সদস্য হিসেবে ছিলেন।

যা থেকে বিবাদের শুরু

এই বছরের জুলাইয়ের ২৫ তারিখ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ফোনালাপ হয়েছিলো।
সেটি নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার একজন সদস্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তুলেছেন। আর তার পরই এই বিতর্ক সামনে আসে।
স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ডেমোক্র্যাটদের অভিশংসন তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন
মার্কিন গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে ফোনকলটি শুরুর আগে মি. ট্রাম্প তার ভারপ্রাপ্ত দপ্তর প্রধানকে ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা অন্তত এক সপ্তাহ বন্ধ রাখতে বলেছেন।
মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে ইউক্রেনকে দেয়া সামরিক সহায়তা সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে।
তবে তিনি বলছেন এর উদ্দেশ্য ছিল সেখানে ইউরোপের দেশগুলোকে সহায়তা বাড়াতে চাপ দেয়া।
২০১৪ সালে ক্রাইমিয়া বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর থেকে ইউক্রেন প্রচুর পশ্চিমা সহায়তা পেয়ে আসছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প যা বলছেন

ওই ফোনালাপে জো বাইডেন সম্পর্কে কথা জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টার বাইডেন সম্পর্কে হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করলেও যে ধরনের আলাপ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে সেটি অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেছেন, "একটা চমৎকার আলাপ হয়েছে।"
তিনি বলেছেন ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দেয় যাতে করে দেশটি সততা বজায় রাখে।
টুইটারে তিনি আরও সরাসরি বক্তব্য দিয়ে বলেছেন যে বিতর্ক হচ্ছে এটি পুরোটা ডেমোক্র্যাটদের একটা চাল।
তিনি লিখেছেন, "ভুয়া খবর ছড়ানো গণমাধ্যম বলছে আমি নাকি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে টেলিফোনে কমপক্ষে আটবার চাপ দিয়েছি। যার কাছে থেকে এসব কথা এসেছে তিনি আলাপের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে পারেননি। এটি ডেমোক্র্যাট আর গণমাধ্যমের পাতানো চাল।"
গোয়েন্দা সংস্থার যে একজন এসব তথ্য "ফাঁস" করেছেন তার দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মি. ট্রাম্প।

গোয়েন্দা সদস্যের অভিযোগের কী হল?

অভিযোগ পাওয়ার পর সেটি গোয়েন্দা কার্যক্রমের ভারপ্রাপ্ত জাতিয় পরিচালক জোসেফ ম্যাগুইয়ারকে জানান গোয়েন্দা সংস্থাটির মহাপরিদর্শক।
এবছরের শুরুতে ক্ষমতা নিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি
বিষয়টি খুব জরুরী বলে তার কাছে উল্লেখ করেন তিনি।
দেশটির আইন অনুযায়ী কোন "হুইসেলব্লোয়ার" বা তথ্য ফাঁসকারীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য সাত দিনের মধ্যে কংগ্রেসের ইন্টেলিজেন্স কমিটির কাছে দিতে হবে। কিন্তু সেটি করা হয়নি।
বরং মি. ম্যাগুইয়ার একজন আইনজীবীর সাথে কথা বলেন।
নিউ ইয়র্কের টাইমস-এর ভাষ্যমতে ওই আইনজীবী বিষয়টি ততটা "গুরুতর" নয় বলে উল্লেখ করেছিলেন। এর ফলে মি. ম্যাগুইয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিষয়টি কংগ্রেসের ইন্টেলিজেন্স কমিটির কাছে তোলার মতো নয়।
এক পর্যায়ে ৯ সেপ্টেম্বর সেটি উল্লেখ করলেও কমিটিকে বিস্তারিত তিনি বলেননি।
যদিও ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের ওই ফোনালাপের বিস্তারিত জানার জন্য কমিটির সামনে হট্টগোল করেছিলেন।
শুরুতে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিলো। তবে পরে মি. ট্রাম্প পুরো কথাবার্তা প্রকাশ করার ব্যাপারে অনুমোদন দেন।

ট্রাম্প কী তাহলে অভিশংসন করার মতো অবৈধ কিছু করেছেন?

এই পুরো ঘটনায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর বিষয় হল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে, তার সম্পর্কে নোংরা তথ্য খুঁজতে বিদেশী একজন নেতাকে চাপ দেয়ার অভিযোগ।
মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছেন।
এর আগের নির্বাচনে জেতার জন্য "রাশিয়ার সাথে আঁতাত" করেছিলেন বলে যে অভিযোগ উঠেছিলো সেই ঘটনাটিকে এখানে অবশ্যই মনে করিয়ে দিচ্ছে নতুন এই অভিযোগ।
রাশিয়ার সাথে আঁতাত প্রসঙ্গে দুই বছর ধরে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চলেছে।
২০১৬ সালে ট্রাম্পের প্রচারণা বিষয়ক কর্মকর্তা ও তার ছেলের সাথে কয়েকজন রাশিয়ানের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্তে বিস্তারিত উঠে এসেছে।
যদিও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়নি।
মার্কিন বিচার বিভাগের গাইডলাইন অনুযায়ী বর্তমান কোন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কোন অপরাধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা যাবে না।

তাহলে অভিশংসনের ঝুঁকি কতটা?

যদি অভিশংসনের উদ্যোগ সামনে এগোয় তাহলে সেটি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের জন্য যাবে।
সেখানে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ তাই সেটি সেখানে ভোটে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের সাথেই পাশ করার সম্ভাবনা।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টারকে একসাথে দেখা যাচ্ছে ২০১০ সালের একটি বাস্কেটবল ম্যাচে
কিন্তু এর পরের ধাপ হল বিষয়টি সিনেটে যাবে যেখানে ভোটে দুই তৃতীয়াংশের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার।
তবে সিনেটে রিপাবলিকানরাই অনেক বেশি প্রভাবশালী।
রিপাবলিকানরা সিনেটে তাদের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন এমন কোন ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না।
মার্কিন সংবিধানে অভিশংসন যোগ্য অপরাধ হল "দেশদ্রোহিতা, ঘুষ আদান প্রদান এবং কোন ধরনের শক্তিশালী অপরাধ।"
সব মিলিয়ে ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ও ট্রাম্পের সাথে তাদের আঁতাত নিয়ে নাটক হয়েছিলো তার পুনরাবৃত্তি সম্ভবত আবারো হতে যাচ্ছে সামনের নির্বাচনকে ঘিরে।
তবে সেসময় মি. ট্রাম্প একজন সাধারণ নাগরিক ছিলেন। আর এবার তিনি একজন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট।

মার্কিন রাজনীতিবিদদের বক্তব্য

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা বলেছেন, তথ্য ফাঁসকারী যে অভিযোগ এনেছে তা খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট বিদেশী নেতাদের সাথে কিভাবে কাজ কারবার করেন।
ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, ইউক্রেনকে তদন্তে চাপ দিয়ে হান্টার বাইডেন সম্পর্কে নোংরা তথ্য বের করে প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে সেটি ট্রাম্প ব্যবহার করতে চেয়েছেন।
রিপাবলিকানরা এই বিষয়ে তেমন কিছু বলছেন না।
তবে একজন রিপাবলিকান, সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সিনেটর মিট রমনি বলছেন, "সঠিক তথ্য বের হয়ে আসা খুব জরুরী।"
যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ অভিশংসন হয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন

ইউনিসেফের চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ পুরস্কার পেলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশের অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ’ পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ইউএন প্লাজার ইউনিসেফ ভবনের ল্যাবুইসে হলে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) প্রদত্ত এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। তুমুল করতালির মধ্যে ইউনিসেফ’র নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এবং ইউনিসেফে’র শুভেচ্ছা দূত এবং বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার এবং বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। পুরস্কার গ্রহণকালে এটি প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেশের জনগণ বিশেষ করে দেশের সকল শিশু এবং সমগ্র বিশ্বের শিশুদের প্রতি তিনি তা উৎসর্গ করেন এবং বলেন, বাস্তবিক অর্থে বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষ করে দেশের সকল শিশু এবং সমগ্র বিশ্বের শিশুদেরই এই স্বীকৃতি প্রাপ্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সম্মান আমার একার জন্য নয়, এটি সমগ্র বাংলাদেশের, কেননা বাংলাদেশের জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে বলেই আমি তাদের সেবা করার সুযোগটা পেয়েছি। সেই সুযোগের জন্যই আমার এই পুরস্কার লাভ। প্রধানমন্ত্রী এসময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজ নিজ এলাকার বিদ্যালয়গুলো যেগুলোতে অতীতে তারা লেখাপড়া করেছেন সেগুলোর উন্নয়নে সহযোগিতার মনভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

দেশের লাখ লাখ তরুণ তাদের দক্ষতার মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে আমাদের জীবন এবং জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন সাধনে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,এই স্বীকৃতি বাংলাদেশে একটি দায়িত্বপূর্ণ এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ এবং অর্থনীতি বিনির্মাণে আমাদের দৃঢ় পদক্ষেপের পরিচায়ক। জাতি গঠনে তরুণদের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,জাতির যেকোন প্রয়োজনের মুহূর্তে আমাদের যুব সমাজ অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করে এসেছে। দেশের যুব সমাজকে উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজে লাগানোয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,জাতির পিতাই এটা প্রথম অনুধাবন করেছিলেন যে, তরুণ-যুবাদের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে না পারলে উন্নতি করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, আমরা একটি জ্ঞান সমৃৃদ্ধ তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যারা যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম হবে এবং জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহযোগিতা করবে। যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তার সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্ল্যেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ শ্রম বাজারে প্রবেশ করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এসব তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে তাদের জন্য যথাযথ জ্ঞান এবং দক্ষতা বৃদ্ধির নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তাদের আমরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠাতেও উৎসাহিত করছি। তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্থানীয় এবং বৈশ্বিক চাহিদার কথা মাথায় রেখেই কারিগরি এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে যুগোপযোগীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তার সরকার দেশের একশ’টি উপজেলায় কারিগরি বিদ্যালয় এবং কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে উল্ল্যেখ করে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল উপজেলাতেই এ ধরনের বিদ্যালয় এবং কলেজ স্থাপন করা হবে। কেউ পিছিয়ে থাকবে না, এমন নীতির ভিত্তিতে তার সরকারের পরিকল্পিত উন্নয়ন পরিকল্পনার উল্ল্যেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বেকার এবং অদক্ষ যুবকদের মানব সম্পদে রূপান্তরিত করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী এসময় বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশেষ করে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং একইসঙ্গে শিশু এবং নারীদের উন্নয়নে অব্যাহত সহযোগিতা প্রদানের জন্য ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ইউনিসেফ বরাবরই বাংলাদেশের জন্য সহযোগিতা প্রদান করে আসছে। ইউনিসেফ’র নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর তার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের চমকপ্রদ উন্নয়নের ভূয়শী প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের সময়োপযোগী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের প্রশংসা করেন। মিয়ানমার থেকে বাস্তচ্যুত হয়ে আগত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদানের জন্যও বাংলাদেশের প্রশংসা করেন ইউনিসেফ নির্বাহী পরিচালক। অনুষ্ঠানে সাকিব আল হাসান বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই বাংলাদেশ তার সকল নীতির কেন্দ্রে শিশুদেরকে স্থান দিয়েছে। একইসঙ্গে শিশু মৃত্যুহার হ্রাসে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে,তাদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করে চলেছে এবং বিদ্যালয়সমূহে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করেছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কাজে সামনে থেকে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। সাকিব বলেন,এটি সত্যিই চমকপ্রদ যে, বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারি সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণ সমাজের দক্ষতা উন্নয়নে তার অবদানের জন্য ইউনিসেফ’র স্বীকৃতি লাভ করেছেন। ইউনিসেফ’র শুভেচ্ছা দূত তার আস্থা ব্যক্ত করে বলেন,সরকারের অত্যন্ত ভাল নীতি এবং কর্মসূচিসমূহ আগামীতে বাংলাদেশের আরো অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি,সমতা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভূমিকা রাখবে।

কাশ্মীরে গণতন্ত্র নেই, মানুষ ভয় ও হতাশার মধ্যে আছে: গুলাম নবী আজাদ

জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা গুলাম নবী আজাদ বলেছেন, জম্মু-কাশ্মীরে গণতন্ত্র নেই। মানুষজন ভয় ও হতাশার মধ্যে রয়েছেন। কাশ্মীরের মানুষদের মধ্যে যতটা হতাশা রয়েছে, ঠিক তেমনই জম্মুর মানুষদের মধ্যেও হতাশা বিরাজ করছে। গত ৫ আগস্ট ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সম্বলিত ৩৭০ ধারা বাতিল করার পরে সেখানে চলমান অবরুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ছয় দিনের সফর শেষে কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা গুলাম নবী আজাদ গত বুধবার দিল্লির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এদিন দিল্লির বিমান ধরার আগে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের (বিজেপি) ১০০/২০০ সমর্থক ছাড়া কেউই ৩৭০ ধারা অপসারণে খুশি নন। আজাদ বলেন, জম্মুর ব্যবসা-বাণিজ্য কাশ্মীরের উপরে নির্ভরশীল। ছোট দোকানদার, ভাড়াটিয়া বা ট্রান্সপোর্টার বা বাসওয়ালা, এদের মধ্যে এতটাই হতাশা যে কিছু লোক বলছে যে তাঁরা আত্মহত্যা করার অবস্থায় পৌঁছেছে! প্রশাসনের এত সন্ত্রাস আমি বিশ্বের কোথাও দেখিনি। সেখানে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। জম্মু ও কাশ্মীরে আইন পরিবর্তনের সাথে সাথে গণতন্ত্রও শেষ হয়েছে। লোকেরা কথা বলতে ভয় পাচ্ছে! সেখানে বাকস্বাধীনতা নেই, মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই, আন্দোলনের স্বাধীনতা নেই। সাধারণত যদি বিদ্যুৎ, পানির কথা বলছে তাহলে তাঁকে বলা হচ্ছে ভারতের কোন কারাগারে যাবে?
এরআগে আজাদ বলেছিলেন, তিনি যেসব জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তার ১০ শতাংশ জায়গাতেও যেতে দেয়া হয়নি।

শ্রীনগরের ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদে ৮ সপ্তাহ ধরে জুমা নামাজ বন্ধ

শ্রীনগরের জামিয়া মসজিদ
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরের ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদে ৮ সপ্তাহ ধরে জুমা নামাজ বন্ধ রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাশ্মীর উপত্যকার বেশ কিছু বড় মসজিদসহ জামিয়া মসজিদে মুসুল্লিদের নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়া হয়নি। ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদ, হজরতবাল দরগাহ মসজিদ, খানকাহ মাওলাতে একটানা অষ্টম শুক্রবার জুমা নামাজের আযান হয়নি।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা প্রদানকারী সংবিধানের ৩৭০ ধারা ও ৩৫–এ ধারা বাতিল করার পরে ৫৩তম দিনেও কাশ্মীর উপত্যকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বিভিন্ন জায়গায় বিধি-নিষেধের জন্য জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে।

শুক্রবার কাশ্মীর উপত্যকার অভ্যন্তরীণ এলাকার কয়েকটি মসজিদে নামাজ পড়ার অনুমতি ছিল। সরকারি সূত্রে প্রকাশ, শুক্রবার জুমা নামাজের পর বিক্ষোভের আশঙ্কায় পুরোনো শ্রীনগর ও আরও কিছু এলাকায় কারফিউ জাতীয় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এদিন জামিয়া মসজিদে যাওয়ার সমস্ত ফটক বন্ধ রাখা হয় এবং কাউকে সেখানে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। আজ (শুক্রবার) হিন্দি গণমাধ্যম ‘পাঞ্জাব কেশরী’ সূত্রে প্রকাশ, মসজিদের আশেপাশে যাতে মানুষজন জমায়েত হতে না পারে সেজন্য প্রচুর পরিমাণে নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়। হুররিয়াত কনফারেন্সের একাংশের প্রধান মীরওয়াইজ ওমর ফারুকের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এলাকায় অবস্থিত জামিয়া মসজিদের আশেপাশের সড়কে কাঁটাতার দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। মানুষজনকে এজন্য নিজেদের গন্তব্যস্থলে যেতে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়। একইভাবে উপত্যকার অনেক স্থানে কিছু মসজিদকেও মুসল্লিদের জন্য বন্ধ রাখা হয়।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সংকটকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন। এই সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে ৪ দফা প্রস্তাব পেশ করেছেন তিনি। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪ তম অধিবেশনে এ প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশনে অন্যান্য বারের মত এবারও তিনি বাংলায় ভাষণ দেন। বাসাস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন এবং আত্মীকরণে মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পূর্ণ প্রতিফলন দেখাতে হবে। দ্বিতীয়ত: বৈষম্যমূলক আইন ও রীতি বিলোপ করে মিয়ানমারের প্রতি রোহিঙ্গাদের আস্থা তৈরি করতে হবে এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের উত্তর রাখাইন সফরের আয়োজন করতে হবে। তৃতীয়ত: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে বেসামরিক পর্যবেক্ষক মোতায়েনের মাধ্যমে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। শেষ প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণসমূহ বিবেচনায় আনতে হবে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অন্যান্য নৃশংসতার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমি এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কফি আনান কমিশনের সুপারিশসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং রাখাইন প্রদেশে বেসামরিক তত্ত্বাবধানে সুরক্ষা বলয় প্রতিষ্ঠাসহ পাঁচ-দফা প্রস্তাব পেশ করেছিলাম।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তার অসন্তুষ্টি ব্যক্ত করে বলেন, এটি বাস্তবিকপক্ষেই দুঃখজনক যে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধান না হওয়ায় আজ এই মহান সভায় এ বিষয়টি আমাকে পুনরায় উত্থাপন করতে হচ্ছে। ১১ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের আশ্রয়ে রয়েছে। যারা হত্যা ও নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা প্রলম্বিত হয়ে তৃতীয় বছরে পদার্পণ করেছে, কিন্তু মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও চলাফেরার স্বাধীনতা এবং সামগ্রিকভাবে অনকূল পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও মিয়ানমারে ফিরে যায়নি।

এই সমস্যার অনিশ্চয়তার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অনুধাবনের অনুরোধ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আর বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। বাংলাদেশের সকল প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বিষয়টি এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপরন্তু, ক্রমবর্ধমান স্থান সংকট এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের কারণে এই এলাকার পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুকে মিয়ানমার এবং তাদের নিজস্ব জনগণের সমস্যা আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি সমস্যার বোঝা বহন করে চলেছি যা মিয়নামারের তৈরি। এটি সম্পূর্ণ মিয়ানমার এবং তার নিজস্ব নাগরিক রোহিঙ্গাদের মধ্যকার একটি সমস্যা। তাদের নিজেদেরই এর সমাধান করতে হবে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সুরক্ষিত ও সম্মানের সঙ্গে স্বেচ্ছায় রাখাইনে নিজ গৃহে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করতে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট ছাড়াও বিভিন্ন বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবেলায় তার সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। বিশেষ করে নিরাপদ অভিবাসন, উদ্বাস্তু সমস্যা, জলবায়ু পরিবর্তন, এসডিজি এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিষয়ে।

নিউ ইয়র্কে হাসিনা-মোদি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের চলতি ৭৪তম অধিবশন উপলক্ষে গত ক'দিনে দুই প্রধানমন্ত্রীর একাধিক অনুষ্ঠানে দেখা-সাক্ষাৎ হলেও এই প্রথম তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মুখোমুখি বসলেন। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে লোটে নিউ ইয়র্ক প্যালেস হোটেলের কেনেডি রুমে দুই শীর্ষ নেতার বৈঠক শুরু হয়। প্রায় পৌনে একঘন্টা স্থায়ী হওয়া বৈঠকে দুই নেতা দ্রুত বর্ধনশীল বাংলাদেশ-ভারত বহুমাত্রিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। তাতক্ষনিক এক টুইট বার্তায় এমনটাই জানিয়েছেন দিল্লির বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রাভিশ কুমার। দিল্লির তরফে প্রচারিত সংবাদ আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মহাত্মা গান্ধির ওপর নিউইয়র্কের গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান পূননির্বাচিত হওয়ার পর বাংলাদেশেরর সরকার প্রধানের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে বসা মোদি। জবাবে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজনে অংশ নিতে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বহুমাত্রিক সম্পর্ক ধরে রাখা এবং এই সম্পর্ক নতুন নিয়ে যেতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও দৃঢ় অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন। নিরাপত্তা বিশেষত সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গীবাদ দমনে দুই নেতাই জিরো টলারেন্স নীতির বিষয়টি পূণব্যক্ত করেন। বৈঠকে মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের জিডিপিসহ সর্বিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন। তবে বৈঠকে চলমান এনআরসি, তিস্তার পানি বন্টন এবং কাস্মীরের মত সম-সাময়িক এবং বহুল আলোচিত বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পেয়েছে কি না তা প্রকাশ করেনি দিল্লি কিংবা ঢাকা। ঢাকার তরফে আগে ধারণা দেয়া হয়েছিল ভারতের আসামে চলমান এনআরসিসহ সম-সাময়িক প্রায় সব ইস্যুতেই দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হবে। আসামের নাগরিকপঞ্জী (এনআরসি) নিয়ে ঢাকায় চরম অস্বস্তি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক সফরে যাওয়ার আগে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড লাইনে এবং এবং আগামী ৫ই অক্টোবর নয়াদিল্লিতে হাসিনা-মোদি বৈঠক হবে। দুটি বৈঠকেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের  গুরুত্বপূর্ণ  সব ইস্যু নিয়ে কথা হবে। সেদিন মোমেন বলেন, এনআরসি একান্তই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা এটাকে আমাদের সমস্যা মনে করি না। তবে এ নিয়ে ঢাকায় উদ্বেগ আছে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকদ্বয়ে বিশদ আলাপ হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে দু’দেশের মধ্যকার যেসব ‘সমস্যা’ আছে তা নিয়ে কথা হবে।

শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন আজ

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী তীরের প্রত্যন্ত পাড়া-গাঁ টুঙ্গীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ঐতিহ্যবাহী শেখ পরিবারে জন্ম নেয়া শেখ হাসিনা সময়ের পরিক্রমায় আজ বিশ্ব নেতাদের অন্যতম একজন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। পিতার রাজনৈতিক উত্তরসূরি হয়ে তিনি পূরণ করে চলেছেন জাতির পিতার স্বপ্ন। জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে তিনি এখন সেখানে। শেখ হাসিনার জন্মদিনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার প্রথম সন্তান শেখ হাসিনার ডাক নাম হাসু। দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদি সাহেরা খাতুনের অতি আদরের নাতনি শেখ হাসিনার শৈশব-কৈশোর কেটেছে দাদা-দাদির কোলে-পিঠে মধুমতি নদীর তীরে টুঙ্গীপাড়ায়। গ্রামবাংলার ধুলোমাটি আর সাধারণ মানুষের সঙ্গেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। গ্রামের সঙ্গে তাই তার নাড়ির টান। শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয় টুঙ্গীপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। তখন পুরান ঢাকার রজনী বোস লেনে ভাড়া বাসায় তারা ওঠেন। বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হলে সপরিবারে ৩ নম্বর মিন্টো রোডের বাসায় তারা বসবাস শুরু করেন। শেখ হাসিনাকে ঢাকা শহরে টিকাটুলীর নারী শিক্ষা মন্দিরে ভর্তি করা হয়। এখন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি শেরেবাংলা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে খ্যাত। শেখ হাসিনা ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। ওই বছরই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রলীগের নেত্রী হিসেবে তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলন এবং ৬ দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে ১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানের করাচিতে নিয়ে যাওয়ার পর গোটা পরিবারকে ঢাকায় ভিন্ন এক বাড়িতে গৃহবন্দি করে রাখা হয়। অবরুদ্ধ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭শে জুলাই শেখ হাসিনা গৃহবন্দি অবস্থায় প্রথম সন্তানের মা হন। ১৯৭২ সালের ৯ই ডিসেম্বর কন্যাসন্তান পুতুলের জন্ম হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে ঘাতকের হাতে নিহত হন। এ সময় শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

এরপর থেকে দু’বোন প্রবাস জীবন কাটাতে থাকেন। ১৯৮১ সালের ১৩ থেকে ১৫ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আর ওই বছরই ১৭ই মে দীর্ঘ ৬ বছর প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের পরে তিনি পঞ্চম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং সে বছরের ২৩শে জুন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি সপ্তম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। ওই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং পাঁচশ’ নেতাকর্মী আহত হন। ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে ভূমিধস বিজয় অর্জন করে। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে চতুর্থবারের মতো নির্বাচনে জয়লাভ করে দলকে দেশের নেতৃত্বের আসনে বসাতে সক্ষম হন। দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি ছাত্রজীবন থেকেই আপসহীন ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। শেখ হাসিনা বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এর আগে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সম্মানসূচক ডিগ্রি, পদক ও স্বীকৃতি দিয়ে শেখ হাসিনার অসামান্য অবদানকে সম্মানিত করা হয়েছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

টিকা দান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক বিশ্বব্যাপী টিকাদান সংস্থা গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন এবং ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই) ২৩শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে এ পুরস্কার দেয়া হয়। এর আগে এ মাসেই শেখ হাসিনাকে ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এডভাইজরি কাউন্সিলের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাম্বাসেডর টিপি শ্রী নিবাসন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ পদক হস্তান্তর করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে যুগান্তকারী উদ্যোগের জন্য ‘আইসিটি টেকসই’ উন্নয়ন পুরস্কার লাভ করেন শেখ হাসিনা। এর আগে রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং সাফল্যের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে তিনি ‘সাউথ সাউথ’ ও ‘সেরেস’ পদকসহ অন্যান্য পুরস্কারে ভূষিত হন। বাংলাদেশে নারী ও শিশুর উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য ইউনেস্কো থেকে ‘শান্তির বৃক্ষ (ট্রি অব পিস)’ অভিধায়ও সিক্ত হন। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে তিনি অর্জন করেছেন বিশ্ববাসীর প্রশংসা। তার এ মানবতাবাদী ভূমিকার জন্য দলের পক্ষ থেকে তাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ খেতাব দেয়া হয়েছে। শত ব্যস্ততার মাঝেও শেখ হাসিনা সাহিত্য চর্চা ও সৃজনশীল লেখায় নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। ওরা টোকাই কেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম- তার লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি: আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশে এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। গণমাধ্যমে পাঠানো আওয়ামী লীগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পালন করবে দলটি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। বক্তব্য রাখবেন জাতীয় নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে সকাল ১০টায় মধুর ক্যান্টিন থেকে শোভাযাত্রা বের করবে।

দোয়া অনুষ্ঠিত: এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন- আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ আওয়ামী লীগ ও ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

কোটি বছর আগে যেমন করে সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশ নামের ভূখণ্ড

লাখ লাখ বছর ধরে হিমালয় ক্ষয় পেয়ে তা থেকে সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশ নামের ভূখণ্ড। এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমানে যেটা বাংলাদেশ ওই সময় সেটা ছিল বঙ্গোপসাগর। হিমালয় ক্ষয় পেয়ে পলি জমতে জমতে সৃষ্টি হয়েছে ভূ-ভাগ। সেটাই বাংলাদেশ। ইউনিভার্সিটি অব হায়দরাবাদ সহ বেশ কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একদল বিজ্ঞানী গবেষণা করে এসব কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ বছর আগে হিমালয়ে বড় আকারে মাটি বা পাথরের ক্ষয় হয়। সেই মাটি ভাটিতে আসতে আসতে জমে সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশ। অনলাইন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও মুম্বই মিররে এ খবর প্রকাশ হয়েছে। গবেষণালব্ধ ফল প্রকাশ হয়েছে ২৫ শে সেপ্টেম্বরের ‘কারেন্ট সায়েন্স’-এর সর্বশেষ সংস্করণে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদ বাহিত বিপুল পরিমাণ পলিমাটি কলকাতার থেকে দূরে বিস্তৃত বঙ্গোপসাগরে জমতে শুরু করে। তখন কলকাতা ছিল সমুদ্র উপকূলে। ওই পলিমাটি জমতে জমতে ভূ-ভাগ সৃষ্টি হওয়া শুরু করে। পলিমাটি যেহেতু উপকূলভাগে জমা হতে শুরু হয় তাই কলকাতাও সমুদ্রের দিকে বাড়তে থাকে। ওই ভূ-ভাগ বাড়তে বাড়তে একটি নতুন এলাকা সৃষ্টি হয়। সেই এলাকাটির ওপর এখন বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে। গবেষণা বলছে, খর¯্রােতা ও তীব্রতা সম্পন্ন দুটি নদী গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের কারণে ব্যাপক নদীভাঙনের সৃষ্টি হয়। এতে বিপুল পরিমাণ পলিমাটি ওই দুটি নদী হিমালয় অববাহিকা থেকে বহন করে নিয়ে আসতে থাকে এবং তা জমা হতে শুরু হয় বঙ্গোপসাগরের তলদেশে।

এর ফলে তখন কলকাতার পূর্ব দিকে একটি নতুন এলাকা গড়ে উঠা শুরু হয়। এই ভূভাগ সৃষ্টি হয়ে তা সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। আর একটি প্রাচীন সামুদ্রিক ভিত্তি সৃষ্টি হয় তলদেশে। এর অর্থ হলো তলদেশে সৃষ্টি হওয়া ওই ‘ওসিন ফ্লোরের’ ওপর দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। এর সঙ্গে ভৌগলিক ও জীববিজ্ঞান বিষয়ক অনেক ক্লু জড়িয়ে আছে। এর সঙ্গে থাকতে পারে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ।

এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব হায়দরাবাদের সেন্টার ফর আর্থ, ওশিন অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক সায়েন্সের প্রধান প্রফেসর কেএস কৃষ্ণা। তার সঙ্গে ছিলেন ডিএসটি-ইন্সপায়ার ফ্যাকাল্টির ড. মোহাম্মদ ইসমাইল এবং ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ওশিনোগ্রাফির (এনআইও) গবেষকরা। তারাই বলেছেন, প্রাচীনকালে গড়ে ওঠা সমুদ্রের তলদেশের ওই ভূভাগটি এখন বাংলাদেশের ভিত্তিতে অবস্থান করছে। তাদের গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ভিত্তি ছড়িয়ে আছে কলকাতা থেকে উত্তরদিকে রাজমহল-সিলেট লাইনে, শিলং প্লেট পর্যন্ত। এই স্তরেই বঙ্গোপসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছে প্রাথমিক সামুদ্রিক পাথরগুলো। তা পরে হিমালয় থেকে নেমে আসা গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মতো নদ-নদীর বহন করে আনা বিপুল পরিমাণ পলিমাটির নিচে ঢাকা পড়েছে। এমনি করেই সৃষ্টি হয়েছে একটি নতুন ভূ-ভাগ, যা বর্তমানে বাংলাদেশের ভূ-ভাগ। গবেষণার বিষয় ব্যাখ্যা করে প্রফেসর কৃষ্ণা বলেছেন, ওএনজিসি, দেহরাদুন, হিউজটনের রিচ ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় এনআইও’তে এই গবেষণা করা হয়েছে। এই গবেষণায় তারা বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের প্রাথমিক বিবর্তন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছেন।

বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো প্রবাসীদের আদৌ কতোটা সেবা দেয় by সানজানা চৌধুরী

ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের ভেতরে এক ব্যক্তিকে মারধর করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মকর্তাদের প্রবাসীদের প্রতি আচরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যসহ যেসব দেশে বাংলাদেশের শ্রমিকরা কাজ করতে যান তাদের বেশিরভাগেরই অভিযোগ থাকে যে, তারা সেখানকার দূতাবাস থেকে ন্যূনতম সহায়তাটুকু পান না।

"যে কাজ একবারে করা যায়, ওইটা ঘুরায় ঘুরায় করবে"

পাঁচ মাস আগে সৌদি আরবে কাজ করতে গেলেও দেশটির আবহাওয়া এবং কাজের চাপের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছিলেন না রানী দাস।
নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে ফেরত আসা এক প্রবাসী নারী শ্রমিক
এমন অবস্থায় তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসতে চাইলেও দূতাবাস থেকে তাকে কোন ধরণের সহায়তা করা হয়নি।
তার মতো এমন ছয়জন নারীকে এখন ভিক্ষাবৃত্তি করে খেতে হচ্ছে বলে জানান রানী দাস।
দেশে ফিরতে পারলেও কাজের পুরো পারিশ্রমিক ছাড়াই ফিরতে হয়েছে দিনাজপুরের মোর্শেদা বেগমকে। প্রায় দেড় বছর সৌদি আরবে কাজ করলেও বেতনের মাত্র অর্ধেক তুলতে পেরেছেন তিনি।
"অ্যাম্বাসিওয়ালা মনে করেন জেলখানা থেকেও বেশি কষ্ট দেয়। যে কাজ একবারে করা যায়, ওইটা ঘুরায় ঘুরায় করবে। আমাদের টাকা কেমনে পাব, কোন খোঁজ নেয়না, আমরা কী খাই, কেমনে আছি। বাংলাদেশে তো কল করা যায়না। আমি বাঁইচা আছি না মারা গেছি এইটা বাংলাদেশের কেউ জানেনাই এতদিন।"- বলেন মোর্শেদা বেগম।

দূতাবাসের ভেতরে মারধর

ব্রুনেই দূতাবাসে নির্যাতনের সর্বশেষ যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, তাতে দেখা যায়, এক প্রবাসী ব্যক্তিকে দূতাবাস কর্মকর্তার সামনেই একে একে কয়েকজন মারধর করছে।
মারধরের শিকার ওই ব্যক্তি একজন দালাল এবং তাকে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরাই পেটাচ্ছিলেন বলে দাবি করেছেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি জিলাল হোসেইন।
প্রবাসে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হন।
ব্রুনেই লেবর উইং-এর ফেসবুক পেইজেও দেখা যায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের কাজ দেয়ার নামে যে দালাল চক্র বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় তাদেরই এক সদস্যের প্রতি উদ্ধত হয়েছিল শ্রমিকরা।
কিন্তু প্রশ্ন রাখা হয় একটি দূতাবাসের ভেতরে এ ধরণের ঘটনাকে প্রশ্রয় দেয়া হল কেন।
এ ব্যাপারে মি. হোসেইন জানান, দূতাবাসে এ ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা তারাও প্রত্যাশা করেন না।
"ঘটনার সময় আমি ছিলাম না। যেটুকু জানি যে, আমাদের কোন কর্মকর্তা কারও গায়ে হাত তোলেনি। যারা পিটিয়েছে তারা হল ক্ষুব্ধ শ্রমিক। কারণ তারা এই দালালদের মাধ্যমে এসেও দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে কোন কাজ পাচ্ছেনা।"
ব্রুনেই সরকারকে এই দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেও কোন ফল যায়নি বলে তিনি জানান।
মধ্যপ্রাচ্যে নির্মাণ শ্রমিকদের একটি বড় অংশই বাংলাদেশি।
"আমরা এই শ্রমিকদের মতোই হেল্পলেস। আমাদের এখানে ম্যাজিটেরিয়াল পাওয়ার আছে, পুলিশি পাওয়ার নেই। আমরা শুধু এই দেশের সরকারকে রেফার করতে পারবো। দালালদের চিহ্নিত করে দিতে পারবো। অনেক সুপারিশও করেছি। কিন্তু তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।"

কী বলছে সরকার?

ব্রুনেইয়ের এই ঘটনাটিকে নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা গতকাল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ. কে. আব্দুল মোমেন।
বিষয়টি নিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করা হবে বলেও বিবিসি বাংলাকে জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ফারুক খান ।
শ্রমিকরা দূতাবাসে যে নিগ্রহের শিকার হন সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বৈঠকে আলোচনা করার কথাও জানান তিনি।
যেখানে দূতাবাসের কাজ প্রবাসীদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সেবা দেয়া, সেখানে তাদের কার্যক্রম এবং আচার আচরণ কতোটা নজরদারি করা হয়।
এ বিষয়ে মি. খান বলেন, "বাংলাদেশের দূতাবাসে যে সরকারি কর্মকর্তারা কাজ করেন, তারা যেই মন্ত্রণালয়েরই হোক না কেন, প্রবাসীদের যথাযথ সাহায্য করাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। কেউ যদি এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে থাকে। তাহলে অবশ্যই এর তদন্ত হবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসী শ্রমিক।
প্রতিটি দূতাবাসের সেবা আরও জোরদার করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় প্রবাসীদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

দূতাবাসগুলোয় সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছেনা কেন

দূতাবাসে জনবল নিয়োগে যে মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে তাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব সেইসঙ্গে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে যথাযথ সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছেনা বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবির।
এক্ষেত্রে দুটি বিষয়ে নজর দেয়ার কথা জানান তিনি।
প্রথমত, যে মন্ত্রণালয়গুলো এই দূতাবাসগুলোয় লোক পাঠায়, ঢাকায় তাদের মধ্যে একটা সমন্বয় করা।
বাংলাদেশে এই সমন্বয়ের যথেষ্ট অভাব আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, যারা দূতাবাসে কাজ করতে যাবেন, তাদের জন্য যথোপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
যেন তারা নতুন দেশের, নতুন পরিবেশ, সংস্কৃতি, প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও কাজের ধরণের সঙ্গে সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে পারে।
প্রবাসে শ্রমিকদের মানবেতন জীবন যাপন।
যারা এই প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হবেন, শুধুমাত্র তাদেরকেই মিশনে পাঠানোর পরামর্শ দেন তিনি। না হলে এ ধরণের অবাঞ্ছিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে বলে তিনি আশঙ্কা করেন।
ব্রুনেইতে যে ঘটনা ঘটে গেল এজন্য সেই দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে মনে করেন মি. কবির।
"দূতাবাসের প্রধান যিনি আছেন তিনি এই ব্যাপারটা বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবেন যে কি ব্যবস্থা নেয়া দরকার। কিন্তু এই ধরণের ঘটনা এক মিশনে বা বিভিন্ন মিশনে যদি বার বার ঘটতে থাকে, তাহলে মন্ত্রণালয়ের বিষয়টা দেখা উচিত। এবং এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা দিয়ে দেয়া উচিত যে প্রবাসীদের সঙ্গে আচরণ কিভাবে করতে হবে। তাদেরকে কিভাবে সেবাগুলো দিতে হবে।"
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী শ্রমিকরা একটি বড় ভূমিকা রাখলেও প্রবাসে দূতাবাসগুলোতে তাদের বঞ্চনার খবরই বার বার উঠে আসে।
এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাসের বাণী এলেও বাস্তবে কোন প্রতিফলন দেখা যায়না।

ঢাকা শহরে বস্তিবাসী: সংখ্যা কত, কেমন তাদের জীবন?

সকল বস্তির মোটামুটি একই রকম চেহারা।
মিরপুরে চলন্তিকা নামের যে বস্তিটি শুক্রবার সন্ধ্যায় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তার পাশেই রাস্তায় মুখ ভার করে দাঁড়িয়েছিলেন পারুল বেগম।
তিনি বলছেন, "ময়মনসিংহ থেকে মাস চারেক আগে আসছি। আমার স্বামীর অসুখ। কাজ করতে পারে না। তাই কাজের খোঁজে আসছি। এইখানে ২৮শত টাকা ভাড়ায় উঠছিলাম। আগুনে একটা কিছুও বাঁচাইতে পারি নাই।"
তিনি বলছেন, "মনে হচ্ছে সব হারাইতেই যেন ঢাকায় আসছিলাম।"
বাংলাদেশে বস্তিতে আগুন লাগার ঘটনা নতুন নয়। পারুল বেগমের মতো সব হারানো বস্তিবাসীর সংখ্যাও ঢাকা জুড়ে অনেক।

বস্তিবাসীদের জীবন কেমন?

ঢাকার অনেক সম্পদশালী পরিবারের বাস বনানী বা গুলশান এলাকায়। সেখান থেকে খুব বেশি দুরে নয় কড়াইল বস্তি।
সুউচ্চ অনেক ভবন থেকেই টিনের চাল আর বাঁশ দিয়ে তৈরি ঘিঞ্জি ছোট ছোট খুপরিগুলো চোখে পড়ে।
বাংলাদেশের সবচাইতে বড় বস্তিগুলোর একটি হল এই কড়াইল বস্তি। ঢাকার সকল বস্তির মোটামুটি একই রকম চেহারা।
সরু ঢোকার পথ, অসংখ্য অলি-গলি, অন্ধকার খুপরি, নোংরা গোসলখানা ও টয়লেট, এখানে সেখানে জমে আছে আবর্জনা। কোনরকমে একটা খাট বসালেই ঘরের জায়গা শেষ।
এরই মধ্যে অর্ধ নগ্ন শিশুরা খেলা করছে।

হাসনা ও মনোয়ারা বেগমের গল্প

কড়াইল বস্তিতে ৩০ বছর ধরে বাস করছেন নরসিংদীর হাসনা বেগম।
বলছিলেন এই দীর্ঘ দিনে বহুবার বস্তি ভেঙে দিতে দেখেছেন।
প্রতিবারই ঘুরে ফিরে আবার একই এলাকায় গজিয়ে গেছে নতুন বস্তি।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সরকারি কোন জমির উপরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা যায়গা দখল করে ঘর তুলে সেগুলো ভাড়া দিয়ে থাকেন।
এখানে এমন জায়গাতেও হাসনা বেগমকে ঘর ভাড়া দিতে হয় ৪ হাজার টাকা।
এই এলাকায় ঘর ভাড়া কিছুটা বেশি। তিনি বলছেন মাসে ৫০০ টাকা দিতে হয় পানির বিল আর গ্যাস বিল ৩০০ টাকা।বিদ্যুতের বিলও দিতে হয়।
হাসনা বেগম জীবনে বহুবার বস্তি থেকে উচ্ছেদ হয়েছেন।
তবে মূলত সেগুলো সংগ্রহ করেন খুপরির মালিক।
অনেকে নিজের খুপরি নিজেই তৈরি করে নেন। হাসনা বেগম বলছেন, "আপনারা যা দেন আমরাও তো সব কিছুর জন্য টাকা দেই। কিন্তু এই বস্তিতে আসার পর এই পর্যন্ত তিনবার উঠাইয়া দিছে। বস্তি ভাইঙ্গা দিছে।"
হাসনা বেগম পেশায় গৃহকর্মী।
এসব বস্তিতে মূলত যারা বাস করেন তারা পেশায় বেশিরভাগই পোশাক কর্মী, গৃহকর্মী, দিনমজুর, রিকশা চালক অথবা কেউ হয়ত কোন খুচরা ব্যবসার সাথে জড়িত।
এই বস্তির আর এক বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলছেন, "সারাক্ষণ ভয় ধইরা থাকে। কবে জানি সরকারে উঠাইয়া দিবো। না জানি আবার আগুন লাগে। আমরা না থাকলে বাসায় কাজ করার লোক কই পাইবেন? আমরা আপনাগো কাজই তো করি। থাকার জায়গা দিবেন না কেন?" বেশ জোরালো গলায় কথাগুলো বলছিলেন এই নারী।

ঢাকায় বস্তি ও বস্তিবাসীর সংখ্যা ঠিক কত?

বাংলাদেশে সর্বশেষ ২০১৪ সালে বস্তি শুমারি করেছিলো পরিসংখ্যান ব্যুরো। এরপর সেনিয়ে আর কোন তথ্য পাওয়া যায়না।
প্রতিবছর নদী ভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা শুধু কাজের খোঁজেই হাজার হাজার মানুষ ঢাকা আসছেন।
২০১৪ সালে বস্তি শুমারি অনুযায়ী ঢাকা শহরের দুই সিটি কর্পোরেশনে মোট ৩ হাজার ৩৯৪টি বস্তি রয়েছে।
সেখানে মোট ঘরের সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৭৫ হাজারের মতো।
মনোয়ারা বেগম বলছেন, সারাক্ষণ উচ্ছেদের ভয় কাজ করে।
এই জরীপ অনুযায়ী সেসময় সাড়ে ৬ লাখের মতো লোক এসব বস্তিতে বসবাস করেন। পাঁচ বছর পর সেটা কত হয়েছে তা নিশ্চিত নয়।
অর্ধেকের বেশি বস্তি সরকারি জমিতে তৈরি। ৬৫ শতাংশ বস্তিবাসী ভাড়া থাকেন।
২০১৪ সালের শুমারি অনুযায়ী সারা দেশে বস্তিবাসীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ২২ লক্ষ।
তবে এসব সংখ্যা ও তথ্য উপাত্ত নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছে।
২০১৪ সালের পর এখন বস্তি বা বস্তিবাসীর সংখ্যা কত তার কোন হিসেব কারো জানা নেই।

দু:স্থ লোকের আবাসন নিয়ে কেউ ভাবছে না

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলছেন, তিনি সরকারি উপাত্তগুলোর উপরে ঠিক আস্থা রাখতে পারছেন না।
তিনি বলছেন, "বস্তিবাসীর সংখ্যা বাংলাদেশে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ১৯৯৭ সালের এর পর বস্তি শুমারি হয়েছে ২০১৪ সালে। সরকারি হিসেবেই এই সময়ের মধ্যে বস্তির সংখ্যা ছয়গুণ বেড়েছে। বাংলাদেশে কোন পরিকল্পনা যখন করা হয় তখন এই বিশাল জনসংখ্যার কথা খুব একটা মাথায় রাখা হয়না।"
তিনি বলছেন, "বিভিন্ন মন্ত্রণালয় রয়েছে কিন্তু তাদের কাজে সমন্বয়হীনতার রয়েছে। বস্তির মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে দায়িত্ব কার, কাজগুলো কিভাবে হবে? উন্নয়ন পরিকল্পনায় এদের ধরা হয়না। তাদের সেবা নিশ্চিত করবে কে?"
তিনি বলছেন, "বস্তিতে বিভিন্ন সেবা পেতে তারাও কিন্তু অর্থ খরচ করে। কিন্তু সেটি সরকারের খাতায় হিসেব হয়না।"
তিনি প্রশ্ন তুলছেন, শুমারি করার সময় বস্তির সংজ্ঞা কিভাবে নির্ধারণ করা হয়?
এই সংজ্ঞার কারণে সংখ্যায় হেরফের হবে বলে তিনি মনে করেন।
ঘিঞ্জি ছোট খুপরিতে বাস করেন বস্তিবাসীরা।