Thursday, January 4, 2018

ইরানে বিক্ষোভ এবং প্রকৃত অবস্থা by সিরাজুল ইসলাম

অনেকেই জানতে চেয়েছেন ইরানে হচ্ছে কী? বিক্ষোভ কতটা জোরালো? সরকার বিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে নাকি? গতকাল বিবিসি থেকেও কথা বলতে চেয়েছিল। আমি সেই সময় অফিস রুমে না থাকায় বাকিটা সামনে এগোয় নি। অনেকে ফেইসবুকের ইনবক্সে মেসেজ দিয়ে জানতে চেয়েছেন পশ্চিমা মিডিয়াতে যেসব খবর প্রচার করা হচ্ছে তা কী সত্য? আমাকে এসব কথা বলার কারণ হচ্ছে- আমি যেহেতু তেহরানে থাকি সে কারণে আমি সত্য খবর জানব -এটা তাদের আশা। যাহোক, আমি তেহরানের যে এলাকায় থাকি সেখান থেকে অফিসে আসতে হয় প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে। আমরা রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগের সব সহকর্মী এক এলাকায় থাকি না। আমরা কিছু সহকর্মী এক এলাকায় থাকি আর কিছু অন্য এলাকায়।
অনেকটা বিপরীত এলাকায়। বিপরীত এলাকার সহকর্মীরাও প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে অফিসে আসেন। তার মানে হচ্ছে- প্রতিদিন আমাদের বাংলা বিভাগের সহকর্মীদের নজরে পড়ে তেহরান শহরের বিরাট একটা অংশ। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে গত কয়েকদিন শুধু বিক্ষোভের কথা শুনছি, চোখে দেখি নি; আসা-যাওয়ার পথে কোন বিক্ষোভ-মিছিল দেখিনি। শুধু মিডিয়াতে দেখছি-শুনছি। তাও আবার বাইরের মিডিয়াতে বেশি। হ্যা, তেহরান ও মাশহাদসহ কয়েকটি শহরে কিছু বিক্ষোভ হয়েছে বলে শুনেছি কিন্তু তা বিরাট-বিশাল কিছু নয় বলেই জেনেছি; সরকার পতনের আন্দোলন তো নয়ই। গতকাল ছিল ফারর্সি দেই মাসের ৯ তারিখ। ২০০৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এ দিনে রাজধানী তেহরানের রাস্তায় নেমে একটা উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক লোকজন বিক্ষোভ ও বিশঙ্খলা সৃষ্টি করেন। তার কারণ ছিল প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদের কাছে কথিত সংস্কারপন্থি প্রার্থী মীর হোসেইন মুসাভি হেরে যান এবং পরাজয়ের পর তিনি নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলেন। তার সমর্থকরা এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাস্তায় নামেন এবং তাতে উসকানি দেয় আমেরিকাসহ পশ্চিমা কিছু দেশ। পরে তথ্য-প্রমাণ থেকে জানা গেছে- ওই আন্দোলনে আমেরিকা অন্তত ১০০ কোটি ডলার খরচ করেছে যাতে ইরানে ইসলামি শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটানো যায়। পরবর্তীতে ইসলামপন্থি ও আহমাদিনেজাদের সমর্থকরা রাস্তায় নামেন এবং মুসাভিপন্থিদের আন্দোলনের অবসান হয়। তারই বার্ষিকী ছিল গতকাল ফারসি ৯ দেই। প্রতি বছরই দিনটি উপলক্ষে রাজধানী তেহরানসহ সারা দেশে ইসলামপন্থি লোকজন বিক্ষোভ, মিছিল-সমাবেশ করে থাকেন। পশ্চিমা মিডিয়ার অনেকেই গতকালের এই মিছিলকে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ-মিছিল বলে চালিয়ে দিয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা নয়। হ্যা, তেহরানে অনেক জিনিসের দাম বেড়েছে এবং কোথাও কোথাও প্রতিবাদ হয়েছে তবে তা কোনোভাবেই পশ্চিমা মিডিয়াতে বর্ণিত আন্দোলন-বিক্ষোভের মতো কিছু নয়। বিষয়টি নিয়ে এরইমধ্যে ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসহাক জাহাঙ্গিরি, প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি এমনকি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী কথা বলেছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ নেতা সরকারকে জনগণের সমস্যা ও দাবিকে বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সংকট নিরসনের তাগিদ দিয়েছেন। আর প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

আঙ্কারা-তেহরান-মস্কোর ঐক্যে বিঘ্নিত ওয়াশিংটনের স্বার্থ

দ্রুত বদলে যাচ্ছে বিশ্ব রাজনীতি। এর ছোঁয়া লাগছে আঙ্কারা-মস্কো-ওয়াশিংটন সম্পর্কেও। তুরস্ক-রাশিয়া এখন পরস্পরের বন্ধু। অথচ দীর্ঘ সময় ধরে তুরস্ক-রাশিয়া পরস্পর বৈরী প্রতিবেশিই শুধু নয়; রয়েছে সীমান্ত, গোপন ও রাজনৈতিক সংঘাতের অনেক ইতিহাস। তুরস্ক-রাশিয়া ঐক্য এ অঞ্চলের রাজনীতিতে যে পরিবর্তন ডেকে আনবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যদিকে আঙ্কারা-ওয়াশিংটনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে চির ধরেছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। তুরস্ক-রাশিয়া সম্পর্কের টানাপোড়ন মারাত্মক রূপ ধারণ করেছিল- তুরস্কে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কারলভ আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়া, ২০১৫ সালের নভেম্বরে তুর্কী আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে তুরস্কের রুশ যুদ্ধবিমান-ভূপাতিত করা, আসাদ সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে সিরিয়ায় পুতিনের সরাসরি জড়িয়ে যাওয়া, সিরিয়া থেকে উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএস যে তেল পাচার করছে সেই তেল তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের পরিবারের লোকজন কিনে নিচ্ছে বলে অভিযোগের ঘটনায়। রুশ বিমান ভূপাতিত করায় তুর্কি পণ্য ও অবকাশ যাপনের ওপর মস্কোর অবরোধ আরোপ হয়েছিল, অর্থনৈতিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছিলেন, রাষ্ট্রদূত হত্যার জন্য তুরস্ককে কঠিন মূল্য দিতে হবে বলে ঘোষণাও দিয়েছিল। দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল, রেশারেশি ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছিল। এমনকি ইস্তাম্বুলে পরমাণু বোমা ফেলতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছিলেন দেশটির এক রাজনৈতিক নেতা। কিন্তু দু’দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তা দূর হয়েছে রুশ বিমান-ভূপাতিত করার ঘটনার পরে এরদোগানের দুঃখ প্রকাশের মাধ্যমে। মস্কোর সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক উন্নত করার কৃতিত্ব এরদোগানেরই। অন্যদিকে মার্কিন কংগ্রেস তুরস্কের কাছে অস্ত্র বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নেয়া, ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই তুরস্কে সামরিক বিদ্রোহের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের তথা সিআইএ’র জড়িত থাকার অভিযোগ, সিরিয়া ও ইরাকের কুর্দি বিদ্রোহীদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, ব্যর্থ অভ্যুত্থানের নেপথ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী তুরস্কের বিরোধী রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে ফেরত পাঠাতে না চাওয়া- পারস্পরিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এসব কর্মকা-কে তুরস্ক ভালোভাবে নিচ্ছে না।
সম্পর্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটেছে। দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্কের বরফ কবে গলবে তা কেউ জানে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয়ার পর তাদেরকে প্রবল উৎকণ্ঠায় ফেলে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করছে তুরস্ক। মস্কোর দিকে আঙ্কারার ঝুঁকে পড়ার কারণ হিসেবে অনেকে মনে করছেন- তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে আমেরিকার প্রতি হতাশ হয়ে পড়েছেন। ফলে সম্পর্কের এই নয়া মেরুকরণ ঘটছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আঞ্চলিক প্রাধান্য বজায় রাখতে তৎপর থাকা তুরস্ক-রাশিয়া বাড়াচ্ছে পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী থাকা তুরস্কের রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র ক্রয় মস্কোর একটি বিজয় হিসেবেই চিহ্নিত। রাশিয়ার জাহাজের ভূমধ্যসাগরে প্রবেশের পথ হচ্ছে তুরস্ক প্রণালী। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ন্যাটোর দক্ষিণাঞ্চলীয় রক্ষাকবচও তুরস্ক। কাজেই তুরস্ক ও তার মিত্রদের জন্য এটি বিব্রতকর হলেও এমন একটি দেশের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি তথা সামরিক সমঝোতা মস্কোর জন্য অবশ্যই একটি বড় বিজয়। ইতোপূর্বে তুরস্ক রাশিয়াকে চরমভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করলেও বর্তমানে জরুরি নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধান হিসেবে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়েও দিন দিন রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ছে তুরস্ক। বাড়াচ্ছে সামরিক সম্পর্ক, কিনছে এস-৪০০ মডেলের অত্যাধুনিক বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। ৩০০ কোটি ডলার অর্থমূল্যের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ৪০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এই ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয় চুক্তিকে- প্রথমত, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে আরো বেশি ছাড় পাওয়ার ক্ষেত্রে দরকষাকষির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে আঙ্কারা। দ্বিতীয়ত, নিজস্ব নিরাপত্তার বিষয়ে মার্কিন সরকারের ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নেয়ার সামর্থ্য বাড়াচ্ছে। তুরস্ক-রাশিয়া সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও বাহচেশির সাইপ্রাস ইউনিভার্সিটির ডিন নুরসিন গনি বলেন, ‘তুরস্ক অনেক দিন ধরেই চাইছে প্রযুক্তি আমদানি করা এবং তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে নিজস্ব উৎপাদন। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, তাই এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আপাতত নিরাপত্তা প্রয়োজন মেটাতে চাইছে। আঙ্কারা কখনোই তার পশ্চিমা মিত্রদের বাদ দিয়ে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকতে চায়নি। অনেক বছর ধরে এটি ইতালি কিংবা ফ্রান্সের মতো মিত্র দেশগুলোর অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে আলোচনা চালিয়ে আসছে। তুরস্ককে প্রযুক্তি দিতে তাদের অনীহার কারণেই রাশিয়ার সাথে এই চুক্তি করেছে দেশটি।’ ইস্তাম্বুলের কাদির হ্যাস ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর আহমদ কাশিম হান মনে করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রতা রক্ষায় অদক্ষতার কারণেই তুরস্ক ঝুঁকেছে রাশিয়ার দিকে। নুরসিন গনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ ইরানের রয়েছে বড় ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ভা-ার। ইরান সব সময়ই ন্যাটো জোটকে হুমকি হিসেবে দেখে। আর রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে তারা অস্ত্র ও যুদ্ধ প্রযুক্তি কিনবে সেটি অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে না পেলে বিকল্প মিত্র তারা খুঁজতেই পারে।’ রাশিয়ায় নিযুক্ত তুর্কি রাষ্ট্রদূত উমিত ইয়াদিম বলেছেন, তুরস্ক কোন্ দেশের সঙ্গে সম্পর্ক করবে সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়ার অধিকার ন্যাটোর নেই। ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কের অবনতির পর ইরান ও রাশিয়ার সাথে তেল-গ্যাস খাতে যৌথ বিনিয়োগের জন্য প্রথম ত্রিপক্ষীয় একটি চুক্তিতে সই করেছে তুরস্ক। এরদোগান বলেছিলেন যে, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)-র সদস্যপদ না পেলেও ক্ষতি নেই। তার পরিবর্তে যদি চিন, রাশিয়া এবং পশ্চিম এশীয় দেশগুলির জোটে নাম লেখাতে পারলেই তুরস্কের কাছে তা বড়। তুরস্ক এসসিও- এর সদস্য হতেও চেষ্টা করছেন। যদি সত্যি শেষ পর্যন্ত তুরস্ক ওই গোষ্ঠীতে একজন পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে যোগ দিতে পারে, তাহলে তা তাঁর দেশের পক্ষে ইতিবাচক হবে। আসলে তুরস্ক মস্কো-ওয়াশিংটন দু’পক্ষের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্কে মার্কিন সেনা রয়েছে এবং একাধিক বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করে। এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যে স্ট্র্যাটেজিক ইন্টারেস্ট রয়েছে, তাতে তুরস্ক অন্যতম একটি ফ্যাক্টর এবং তুরস্কের ব্যাপারে রাশিয়ারও স্বার্থ রয়েছে। রাশিয়ার নৌ-স্ট্র্যাটেজিস্টরা তুরস্ককে গুরুত্ব দেন বেশি। রাশিয়াকে তার অবস্থান শক্তিশালী করতে হলে তুরস্ককে তার আস্থায় নেয়া প্রয়োজন। এরই মধ্যে ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের কারণে এ অঞ্চলের রাজনীতিতে রাশিয়ার অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। ফলে খুব সঙ্গত কারণেই এ অঞ্চলে যদি রাশিয়া-ইরান-তুরস্কের মধ্যে একটি ঐক্য গড়ে ওঠে, তাহলে তা বিশ্ব রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলবে। ওয়াশিংটন এই পরিবর্তনকে কীভাবে সামাল দিবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ফিরিয়ে দিন আমার শৈশব by শামীমুল হক

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, ফিরিয়ে দিন আমার শৈশব। আনন্দ, উল্লাস। ফিরিয়ে দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ছেলেবেলা। পারবেন কি হারিয়ে যাওয়া প্রতিটি ঘণ্টা, দিন, মাস, বছরের হিসাব দিতে? যদি প্রশ্ন করি মাননীয় মন্ত্রী, আপনার ছেলেবেলা কিভাবে কেটেছে? আমাদের মতো বুঝতে না বুঝতেই বইয়ের বোঝা কাঁধে নিয়ে? আমার মতো আপনার মা কি ভোর ৫টায় ঘুম থেকে আপনাকে টেনে তুলেছে? সূর্যের হাসিও কি বিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে বসেই দেখতে হয়েছে? দিনরাত পড়া আর পড়ায় আমার মতো আপনিও কি ব্যস্ত থেকেছেন? খেলাধুলার ইচ্ছাও কি আমার মতো আপনিও বিসর্জন দিয়েছিলেন? এই ছোট্ট বয়সে বেড়াতে যাওয়াও জীবন থেকে হারিয়ে ফেলেছিলেন। যদি উত্তর- না হয়, তাহলে আমাদের জীবনে কেন শৈশব বলে কিছু রইলো না? কেন আমরা গ্রামের মেঠো পথে ভোরে খালি পায়ে হাঁটতে পারি না? কেন আমাদের পায়ে কেডস আর শরীরে স্কুল ড্রেস চেপে দৌড়াতে হয় বিদ্যালয়ে? কেন আমাদের ঘাড়ে চাপানো হলো জিপিএ-৫ নামক এক বিষফোঁড়া। যে ফোঁড়া আমাদের জীবনকে করে দিয়েছে তছনছ।
আনন্দকে চিরদিনের মতো ঠেলে দিয়েছে সাত সমুদ্র তের নদীর ওপারে। কেন পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে আমাদের জ্ঞানকে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে? এত কেন-এর উত্তর জানতে ইচ্ছে করে মাননীয় মন্ত্রী। কারণ যখন আমার পিতা-মাতার কাছে শুনি তাদের শৈশবের উল্লাসের কথা, যখন তাদের মুখে শুনি বিকালের মাঠে গোল্লাছুট, দাড়িয়াবান্দা, বউছি, কুতকুত, দড়িলাফসহ নানা খেলার কথা, তখন আমাদের মনটা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। আমাদেরও মন চায় শৈশবকে এনজয় করতে। আমাদেরও মন চায় দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠের আইল ধরে হেঁটে বেড়াতে। আমাদেরও মন চায় বাড়ির উঠানে মাদুর পেতে বসে রাতের চাঁদ দেখতে। আর দাদা-দাদী কিংবা নানা-নানীর মুখে কিস্‌সা শুনতে। আমি শুনেছি, আপনাদের সময় এসবই ছিল চিত্র। সে সময় শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে বিকালে ফিরে সবাই ছুটতেন খেলার মাঠে। সন্ধ্যায় যখন আজান পড়তো সঙ্গে সঙ্গে খেলা বন্ধ করে সবাই যার যার বাড়ি চলে যেতেন। তারপর হাত-মুখ ধুয়ে পড়তে বসতেন। কারণ তখন জিপিএ-৫ নামক বিষফোঁড়া আপনাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, ক্লাস ফাইভে যে পিইসি পরীক্ষা চালু করেছেন এ ব্যবস্থাও আমাদের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। আমাদের অভিভাবকরা জিপিএ-৫ এবং সমাপনী পরীক্ষা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। বইয়ের বাইরের কোনো জ্ঞান আমরা অর্জন করতে পারি না। মাননীয় মন্ত্রী আপনি নিশ্চয় আমার সঙ্গে একমত হবেন যে, শিশুরা যত বেশি বাইরে ঘুরবে ততবেশি তাদের বুদ্ধি খুলবে। কিন্তু আপনার আমলে এসব যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আপনার শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের জীবন স্কুল, কোচিং, প্রাইভেট আর বাসার মধ্যে আবদ্ধ করে দিয়েছে। এ অবস্থায় ঠিকমতো ঘুমুতেও পারি না আমরা শিশুরা। ফলে ঘরকুনো হয়ে পড়ছি। আত্মীয়স্বজন ও রক্তের সম্পর্কীয় চাচা, ফুফু, মামা, খালাকেও ভালোবাসতে পারি না। তাদের প্রতি কোনো প্রেমও জন্মায় না। এছাড়া পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে ধুমধাম করে। কিন্তু এ পরীক্ষার সার্টিফিকেট তো কোনো কাজেই আসছে না। চাকরি, উচ্চশিক্ষা কোনো কাজেই এ দুটি পরীক্ষার সার্টিফিকেট চাওয়া হয় না। এসএসসি সার্টিফিকেট থেকেই মূল্যায়ন শুরু হয় সার্টিফিকেটের। এখানেও প্রশ্ন জাগে- যে সার্টিফিকেটের কোনো মূল্যই নেই তাহলে এত ঘটা করে এ সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য পরীক্ষার প্রয়োজন কি? মাননীয় মন্ত্রী একটি কথা বলতে চাই, যে শৈশব হওয়ার কথা দুরন্ত, ঝলমলে, উজ্জ্বল। সেই শৈশবকে আপনি করে দিয়েছেন চিন্তাযুক্ত, আবদ্ধ আর অন্ধকার। আপনি আপনার শৈশব আর আমার শৈশবকে কি কখনো মিলিয়ে দেখেছেন। একবার চোখ বুঝুন তো। দেখুন, খেয়াল করুন আপনার শৈশব কিভাবে কেটেছে। কিভাবে আপনি শীতের সকালে পিঠা আর পুলির গন্ধে নিজে শিহরিত হয়েছেন। নিশ্চয় আমার মায়ের মতো আপনার মা আপনাকে ঘুম থেকে তুলে টেনে হিঁচড়ে স্কুলে নিয়ে যায়নি। আবার স্কুল থেকে আসার পর তাড়াতাড়ি কিছু মুখে দিয়ে পড়ার টেবিলে জোর করে বসায়নি। যদি এমনটা না করে আপনি দেশের সম্পদ হতে পারেন তাহলে আমরা কেন আপনার ছোট্ট সময়ের মতো লেখাপড়া করে, আনন্দ করে, শৈশবকে শৈশবের মতো কাটিয়ে দেশের সম্পদ হতে পারবো না। বলতে পারবেন কি? শেষ করতে চাই মাননীয় মন্ত্রী এই বলে, আমাদের শৈশব ফিরিয়ে দিন। আমাদের কোমল হৃদয়কে নিজের মতো করে ভালোবাসতে দিন। দেখবেন আপনার স্বপ্ন এমনিতেই পূরণ হবে। এমনটা হলে আমরা শিশুরা আপনাকে মনে রাখবো আজীবন। হাজারো শিশু ফিরে পাবে তার শৈশব।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: শিক্ষামন্ত্রী আপনি হয়তো বলবেন, এটা আপনার দপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের অধীন নয়। এটা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার। কিন্তু আমরা বলতে চাই, শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে আপনার পরিকল্পনা নিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে আপনাকেই ভাবতে হবে। আর এবছর তো প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পাশাপাশি ফলও ফাঁস হয়েছে। আরো কত কি ঘটবে কে জানে? তাই বলছি, আর দেরি নয়, আমার শৈশব ফিরিয়ে দেয়ার পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস বন্ধ করুন। আমরা এ থেকে মুক্তি চাই। সত্যিকারের মেধাবীরা এগিয়ে যাক। ফাঁস হওয়া প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষায় পাস করার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই।

ইরানে সীমান্ত সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর ৩ সদস্য নিহত

ইরাকি কুর্দিস্তান সীমান্ত বরাবর সংঘর্ষে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার দেশটির বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। গত সপ্তাহের অস্থিরতা ও বিক্ষোভের সাথে এ সংঘর্ষের কোনো সম্পর্ক নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরাকের পিরানশাহর সীমান্ত এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। অঞ্চলটিতে ইরাক ভিত্তিক কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে নিরাপত্তা বাহনীর সদস্যদের মাঝেমধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হতে দেখা যায়।

দামেস্কের কাছে বিমান হামলা, ২৩ বেসামরিক নাগরিক নিহত



সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছে দেশটির বিরোধী দলের শক্তিশালী ঘাঁটি ইস্টার্ন গোতায় বুধবার কমপক্ষে ২৩ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এদের বেশির ভাগই রাশিয়ার বিমান হামলায় নিহত হন। পর্যবেক্ষণ সংস্থা একথা জানিয়েছে। মানবাধিকার বিষয়ক ব্রিটিশভিত্তিক সিরীয় পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি অব হিউম্যান রাইসট বার্তা সংস্থা এএফপি’কে জানায়, দেশটির মিসরাবা শহরে রাশিয়ার বিমান হামলায় ১৮ জন নিহত হয়। বাকি পাঁচজন সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর গোলা বর্ষণে প্রাণ হারান। পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান রামি আব্দেল রাহমান জানান, নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও ১১ জন নারী রয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সিরিয়া সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এতে তিন লাখ ৪০ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ইস্টার্ন গোতার বেশির ভাগ এলাকা জাইশ আল-ইসলাম গ্রুপের বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দামেস্কের পূর্বে ছোট এ ভূ-খণ্ডের অবস্থান। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনীকে সহায়তা করতে ২০১৫ সালে রাশিয়া প্রথম বিমান অভিযান শুরু করে।

সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশের গ্রাম্যবধূর আর্তি by রোকনুজ্জামান পিয়াস

প্রতীকী ছবি
বাংলাদেশের সহজ-সরল এক গ্রাম্যবধূ। তিনি এখন সৌদি আরবের যৌনদাসী। তাকে দিয়ে দালালরা যৌন ব্যবসা করিয়ে যাচ্ছে গত প্রায় সাড়ে তিনমাস ধরে। সৌদি নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই তাকে দিয়ে এই কাজ করানো হচ্ছে। ওই নারী জানান, সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে তিন-চার দিনের জন্য বিক্রি করে দেয়া হয়। এরপর আবার ফেরত আনা হয়।
একদিন বা দু’দিন অফিসে রেখে আবারো পাঠিয়ে দেয়া হয় নতুন কোনো খদ্দেরের কাছে। এভাবেই প্রতিনিয়ত হাতবদল  হচ্ছেন বরিশালের এই নারী। বিনিময়ে পকেট ভরছে সৌদি আরব ও বাংলাদেশি দালালদের। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এই অর্থের ৭০ ভাগ ভোগ করে সৌদি দালালরা। বাকি ৩০ ভাগ চলে যায় বাংলাদেশি দালালদের পকেটে। নির্যাতিত এই নারী এখন অনেকটা অনুভূতিহীন হয়ে পড়েছেন। দেশে ফিরতে পারবেন কিনা তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। মোবাইল ফোনে স্বামীকে তিনি হতাশ কণ্ঠে বলেন, ‘আমাকে ওরা (রিক্রুটিং এজেন্সি) বিক্রি করে দিয়েছে।’ ‘মন চাইলে দেশে নিয়ে যাইয়েন, না চাইলে দরকার নেই। ইচ্ছা হইলে ফোন দিয়েন, না হইলে কিচ্ছু করার নেই। আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। কিছু নেইও আমার।’ স্বামীর অভিযোগ, বিএমইটিতে অভিযোগ দেয়ায় তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে স্ত্রীকে ফেরত আনতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিচ্ছেন তিনি। এ বিষয়ে জনশক্তি রপ্তানি ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) একাধিকবার অভিযুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স স্টানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডকে (আরএল নং ১৩৫২) চিঠি দিলেও কর্ণপাত করেনি তারা। সর্বশেষ গত ২৬শে ডিসেম্বর আরো একটি চিঠি দেয় ব্যুরো। তাতে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ওই নারীকে ফেরত আনতে আলটিমেটাম দেয়া হয়। অন্যথায়, রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিবাসী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে এ চিঠি প্রেরণের ৭দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি এজেন্সিটি।
নির্যাতিত নারীর স্বামী, ও বিএমইটিতে দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২শে নভেম্বর ফকিরাপুলের ডিআইটি রোডে অবস্থিত মেসার্স স্টানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রা: লি: নামে একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে যান ওই নারী। সৌদি আরব যাওয়ার পর তাকে প্রথমে সেদেশের ‘আজিল অফিস ফর রিক্রুটিং’ নামে একটি অফিসে রাখা হয়। এর তিনদিন পর স্বামীকে ফোন করেন তিনি। ওই সময় তিনি বলেন, ‘তুমি আমারে কোন বিদেশে পাঠাইলা, রাজু (রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধি) আমাকে বিক্রি করে দিছে।’ জানান, তাকে গৃহকর্মীর কাজ দেয়া হয়নি। তাকে দিয়ে দেহব্যবসা করানো হচ্ছে। রাজি না হলে মারধর করে। এরপর আর কোনো কথা হয়নি। বহু চেষ্টা করেও তার সঙ্গে কথা বলতে পারেনি। নির্যাতিত নারীর স্বামী বলেন, এ ঘটনার পর তিনি ফকিরাপুলের স্টানফোর্ড এজেন্সিতে যোগাযোগ করেন। স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, এজেন্সির অফিসে সকালে গেলে তারা বলতো দুুুপুরে কথা বলা যাবে। তাদের কথামতো দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন। দুপুরে বলতো, বিকাল বা সন্ধ্যায় কথা বলা যাবে। এভাবে যখন রাত হয়ে যেতো, বলতো আজ আর সম্ভব না। অফিস বন্ধ হয়ে যাবে। এভাবে বেশ কয়েকদিন তাদের অফিসে যান স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য। কিন্তু তারা তাকে কথা বলিয়ে না দিলেও বলে তার বউ ভালো আছে। তিনি বলেন, এর একমাস পর বাংলাদেশি মিম বেগম নামে এক নারীর মোবাইল ফোন দিয়ে তার স্ত্রী ফোন দেয়। সে তার ওপর চালানো নির্যাতনের কথা বলে। এমনকি মিম বেগমও এ দুর্ভোগের কথা শুনে তাকে ফোন করে বউকে ফেরত নিয়ে আসতে বলে। মিম বেগম তখন দেশে ফেরত আসার জন্য ওই অফিসে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি ওই অফিসে অবস্থানকালেই এক সৌদি ব্যক্তি তার স্ত্রীর ওপর যৌন নির্যাতন চালায়। এ ঘটনা তিনি ভিডিও করেন। অফিসের একজন ভিডিও করার এই দৃশ্য দেখে ফেলে। পরে মিম বেগমের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়। তবে তার আগে তিনি মেমোরি কার্ড বের করে নেন। পরবর্তীতে দেশে ফেরার পর সেগুলো নির্যাতিত নারীর স্বামীর কাছে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে নির্যাতিত নারীর স্বামী বিএমইটিতে অভিযোগ দায়ের করেন। গত ২৮শে নভেম্বর দেয়া ওই অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার স্ত্রী সৌদি আরবে যাওয়ার পর শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সে জ্বালা যন্ত্রণা ভোগ করছে। এমনকি খাবারও ঠিকমতো দেয়া হয় না। বর্তমানে সৌদির মক্তবে বাথরুমে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। অভিযোগে তিনি বলেন, এ তথ্য আমি মিম বেগমের কাছ থেকে পাই। কারণ তিনি আগে থেকেই সৌদিতে অবস্থান করছিলেন। ওই মক্তবেই তার স্ত্রীর দেখা হয়েছিলো। সে সময় তার মাধ্যমে স্ত্রীর খবর জানতে পারি। বর্তমানে মিম বেগম চলে এসেছে এবং তার মুখে আমার স্ত্রীর নির্যাতনের কথা বিস্তারিত জানতে পারি। নির্যাতিত নারীর স্বামী অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, তিনি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির কাছে স্ত্রীর অবস্থান জানতে চাইলে তারা আমাকে গালিগালাজ করে। আর বলে, ২ বছরের আগে তোর স্ত্রীকে ফেরত আনা যাবে না, কারণ সে আমাদের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করে গেছে। তুই যদি শেখ হাসিনার কাছেও বিচার দিস, তাহলেও পারবি না। এই কথাগুলো তার মোবাইলে রেকর্ড আছে বলেও বিএমইটিতে দেয়া অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে ওই নারীর সঙ্গে তার স্বামীর কথোপকথনের রেকর্ডিং থেকে জানা যায়, তাকে সংশ্লিষ্ট অফিসে রাখা হয়। সেখান থেকে কোনো সৌদির সঙ্গে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তারা বাসাবাড়ি বা অন্য কোনো জায়গায় নিয়ে গিয়ে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালায়। রাজি না হলে মারধর করে। ওই নারী আরো জানায়, অনেক সময় ৩-৪ জন পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। নির্ধারিত এ সময় পর তাকে আবারো আজিল অফিস ফর রিক্রুটিং নামের ওই অফিসে ফেরত নিয়ে আসা হয়। তার নির্যাতিত স্ত্রী জানান, তারা তাকে ৫-৭ দিনের জন্য কন্ট্রাকে বিক্রি করে দেয়। এভাবে চলতে থাকে। এমনকি নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ির ভেতরেও তারা তাকে ধর্ষণ করে। তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তাকে কোনো টাকা দেয়া হয়নি। এই টাকা বাংলাদেশি ও সৌদির দালালরা ভাগাভাগি করে নেয়।
অপরদিকে সম্প্রতি দেশে ফিরে আসা মিম বেগম ওই নারীর ওপর যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের কথা স্বীকার করে বলেন, তিনি দেশে আসার জন্য আজিল অফিস ফর রিক্রুটিং অফিসে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে পরিচয় হয়। তার নির্যাতনের কথা শুনি। এমনকি আমরা সেখানে থাকাকালেই এক সৌদি তাকে ধর্ষণ করে। আমি সেটা গোপনে ভিডিও করি। কিন্তু অফিসের একজন দেখে ফেলায় আমার মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। তবে তার আগে মেমোরি কার্ড খুলে নিয়ে নেই। তিনি আরো বলেন, আমার মোবাইলটির দাম বাংলাদেশি টাকায় ৪৫ হাজার টাকা। তিনি দীর্ঘদিন ওই দেশে গৃহকর্মীর কাজ করে দেশে ফিরে আসছিলেন। তিনি বলেন, আমি নিজেও মন্ত্রণালয়ে গিয়ে এ ব্যাপারে জানিয়েছি।
বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেয়ে প্রথম দফায় গত ৭ই ডিসেম্বর তারা ওই নারীকে ফেরত আনার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু এরপরও তাকে ফেরত আনেনি। পরে আরো একটি চিঠি দেয়া হয়। গত ২৬শে ডিসেম্বর দেয়া ওই চিঠিতে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ফেরত এনে বিএমইটিতে হাজির করার নির্দেশ দেয়া হয়। অন্যথায় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি এজেন্সিটি। 
এসব অভিযোগের ব্যাপারে মেসার্স স্টানফোর্ড প্রা: লি:-এর এসিস্ট্যান্ট মানেজার সুব্রত সরকার জানান, প্রথমদিকে ফেরত আনার জন্য তার স্বামী অফিসে যোগাযোগ করেছিলো। বলেছিলো, সেখানে তার ভালো লাগছে না। কিন্তু দুই বছরের চুক্তি রয়েছে তাই জরিমানা দিয়ে আনতে হবে জানালে তারা যৌন নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ আনে। এ ব্যাপারে ওই নারীর স্বামী বিএমইটিতে অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি আমাদের অফিসের কর্মকর্তা শান্তদেব সাহা দেখছেন। আমরাও একটা রিপিট অভিযোগ দিয়েছি।

ইসরাইলি মিসাইলে না ভারতের, কী হবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে?

ইসরাইলের সঙ্গে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অস্ত্র চুক্তি বাতিল করেছে ভারত। ওই বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ইসরাইলের কাছ থেকে ১৬০০টি স্পাইক অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল কেনার কথা থাকলেও বুধবার রাষ্ট্রীয় সংস্থা রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস ওই চুক্তি বাতিল করার কথা ঘোষণা করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য আগেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল কিন্তু রাষ্ট্রীয় ডিফেন্স কনট্রাকটরটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কথা জানানো হয়েছে মাত্র এক সপ্তাহ আগে। রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেও ভারত সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ বলে এই সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করে নিয়েছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ভারতের অস্ত্রের বাজার বেশ বড়। আজ থেকে নয়, গত দুই দশক থেকেই দেশের এই বাজারটিতে আমরা কাজ করে চলেছি। ভারতের হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র তুলে দিতে আমরা দায়বদ্ধ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
যে সময় নয়াদিল্লি এই চুক্তি বাতিল করেছে, সেই একই সময় আবার ইসরাইলের কাছ থেকে ১৩১টি বারাক সারফেস টু এয়ার মিসাইল ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। স্পাইক মিসাইল মূলত পোর্টেবল মিসাইল। কাঁধে করে সেনাবাহিনী একে বয়ে নিয়ে যেতে পারে। যুদ্ধক্ষেত্রে দুশমনের ট্যাঙ্ক উড়িয়ে দিতে এই ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগট’ মিসাইল ব্যবহৃত হয়। ফলে একজন সেনাসদস্য এই মিসাইল ছুড়েই নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটে যেতে পারেন, তার প্রাণ সঙ্কটে পড়ে না। ২০১৪-তে আমেরিকা যখন নয়াদিল্লিকে এই একই ধরনের জ্যাভলিন মিসাইল দিতে চেয়েছিল, তখন সেটা না নিয়ে ভারত ঝুঁকেছিল ইসরাইলের নির্মিত এই স্পাইক মিসাইলের দিকে। এখন প্রশ্ন হলো তাহলে কেন ভারতই এই চুক্তি বাতিল করে দিলো? চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরই হায়দরাবাদের কাছে মিসাইল ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানায় কল্যাণী গ্রুপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মিসাইলগুলি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করে দেয় ইসরাইলের সংস্থা। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট অরগানাইজেশন বা DRDO কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানায়, আগামী চার বছরের মধ্যেই একটি আন্তর্জাতিক মানের মিসাইল তৈরি করে ভারতীয় বৈজ্ঞানিকরা মন্ত্রণালয়ের হাতে তুলে দিতে পারবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ততদিন পর্যন্ত কী হবে? ইসলামাবাদ যদি সীমান্তে এই মিসাইল ব্যবহার করে, তাহলে ভারতীয় জওয়ানরা পালটা কী ছুড়বেন? পাকিস্তান পদাতিক বাহিনীর হাতে কিন্তু এমন মিসাইল রয়েছে যা কাঁধে করে বয়ে নিয়ে গিয়ে চার কিলোমিটার পর্যন্ত দূরের ভারতীয় সেনার ট্যাঙ্ক উড়িয়ে দেয়া যায়। অথচ ভারতের হাতে যে মিসাইল রয়েছে তার পাল্লা মাত্র ২ কিলোমিটার। এভাবে চুক্তি বাতিল করে দেয়ায় ভারতের অন্যতম বন্ধু ইসরাইলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়ে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

টঙ্গীতে আগুনে পুড়েছে তুলার দুই গোডাউন

গাজীপুরে টঙ্গীর মিলগেট এলাকায় দুইটি তুলার গোডাউনে বুধবার রাতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে তুলা ও বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে।ফায়ার সার্ভিসের টঙ্গী স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোঃ আতিকুর রহমান ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত সোয়া ৭টার দিকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মিলগেট নামাবাজার এলাকার আবু সাঈদের সেমিপাকা টিনসেড তুলার গোডাউনে আগুন লাগে। মূহুর্তেই আগুন তার পাশাপাশি থাকা দুটি গোডাউনে ছড়িয়ে পরে। এসময় স্থানীয়রা আগুন নেভাতে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের দুইটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে প্রায় পৌণে এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নেভায়। আগুনে তুলা ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

মুখরোচক কিন্তু মারাত্মক এই পিঠা!

জাপানে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর অংশ হিসাবে যে চালের পিঠা খাওয়ার প্রথা অনেকদিনের, সেই পিঠা খেয়ে এ বছরও মারা গেছে দু'জন। আহত হয়ে সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছেন আরো বেশ অনেকজন। মুখরোচক এই চালের পিঠা দেখে মনে হবে না এটা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু প্রতিবছর এই খেতে-কঠিন পিঠা বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিবছরই নতুন বছরের আগে সরকারকে পিঠা খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক বার্তা জারি করতে হয়।
কী আছে এই মোচি পিঠায়?
মোচি নামে এই ছোট গোল আকৃতির পিঠাগুলো বানানো হয় নরম কিন্তু আঠালো একরকম চাল দিয়ে। এই চাল প্রথমে ভাপে সিদ্ধ করা হয়, তারপর তা গুঁড়ো করে মেখে মণ্ড বানানো হয়। এরপর আঠালো ওই ভাতের মণ্ড থেকে গোলাকৃতি পিঠাগুলো গড়া হয় এবং সেগুলো হয় চুলায় বেক করা হয় বা সিদ্ধ করা হয়। পরিবারগুলো প্রথাগতভাবে সবজি দিয়ে তৈরি পাতলা ঝোলের মধ্যে ফেলে এই মোচিগুলো সিদ্ধ করে।
কিন্তু মোচি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে কেন?
মোচি পিঠাগুলো আঠালো এবং চিবানো কঠিন। মোচি যেহেতু মুখে পুরে চিবানোর মত ছোট সাইজের নয়, তাই এই পিঠা গেলার আগে ভাল করে তা চিবানোর প্রয়োজন হয়। এই পিঠা চিবাতে হয় অনেকক্ষণ ধরে। কিন্তু যারা ভালো করে চিবাতে পারে না, যেমন শিশু বা বয়স্ক মানুষ - তাদের জন্য এই পিঠা খাওয়া খুবই কঠিন। এই পিঠা চিবানো যাদের জন্য কষ্টকর, তাদের পিঠা ছোট ছোট করে কেটে খাবার পরামর্শ দিচ্ছেন জরুরি স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্বে আছেন যারা তারা। যারা চিবাতে পারে না বা না চিবিয়ে এই পিঠা গিলে খাওয়ার চেষ্টা করে, এই আঠালো মোচি তাদের গলায় আটকে যায় এবং এর ফলে তাদের দমবন্ধ হয়ে যায়। জাপানী সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নববর্ষের এই পিঠা গলায় লেগে দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যাদের জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়ে ছুটতে হয়, তাদের বেশিরভাগেরই বয়স ৬৫ বা তার বেশি।
নিরাপদে মোচি খাবার উপায় কী?
চিবানো- ভালো করে চিবিয়ে পিঠা খাওয়া। আর কারোর জন্য যদি সেটা সম্ভব না হয়, তাহলে পিঠা ছোট ছোট টুকরো করে কেটে খাওয়া নিরাপদ। প্রতিবছর ইংরেজি নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে উৎসব পালনের আগে কর্তৃপক্ষ জনস্বাস্থ্য হুঁশিয়ারি জারি করে, বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের জন্য যাতে তারা মোচি পিঠা কেটে ছোট ছোট টুকরো করে সেগুলো খায়। তবে সতর্কবার্তা সত্ত্বেও প্রতি বছর এই রান্না করা পিঠা খেয়ে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে। নিহতের সংখ্যা বিশাল না হলেও সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিবছর যত মানুষকে হাসপাতালে নিতে হয় তার সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিষয়ে নতুন ১০ বিস্ফোরক তথ্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পর দ্বিধায় বা সংশয়ে পড়ে গিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, অভিষেকের দিনটিও তার ভালো লাগেনি আর হোয়াইট হাউজ নিয়ে তার ভীতি ছিল- সদ্য প্রকাশিত একটি বইয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সাংবাদিক মাইকেল উলফের লেখা 'ফায়ার এন্ড ফিউরি:ইনসাইড দি ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ' নামের এই বইতে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের রাষ্ট্রপতি হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। দুইশোর বেশি সাক্ষাৎকারের উপর ভিত্তি করে বইটি লেখা হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউজের গণমাধ্যম সচিব সারাহ স্যান্ডার্স বলছেন, বইটি অসত্য আর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য দিয়ে ভরা। তবে বইটির লেখক বলছেন, অভিষেকের দিন থেকে শুরু করে মি. ট্রাম্পের প্রশাসন গভীরভাবে দেখার সুযোগ তিনি পেয়েছেন। তবে বইটিতে এমন কিছু অভিনব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যেসব বিষয়ে আগে খুব একটা জানা যায়নি। এখানে এই বইয়ের ১০টি বিস্ফোরক তথ্য:
১. ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে রাশিয়ানদের বৈঠক
বইটির তথ্য অনুসারে, হোয়াইট হাউজের সাবেক কর্মকর্তা স্টিভ ব্যানন বলেছেন, ২০১৬ সালের জুনে রাশিয়ার কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে ট্রাম্প টাওয়ারে একটি বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। সেখানে কোন আইনজীবীকে রাখা হয়নি। ওই বৈঠকে রাশিয়ানরা ট্রাম্প জুনিয়রকে হিলারি ক্লিনটনের বিষয়ে কিছু নেতিবাচক তথ্য তুলে দেন। পুরো ঘটনাটি রাষ্ট্রদ্রোহের মতো বলে মনে করেন মি. ব্যানন। ''আমাদের সে সময়েই এফবিআইকে ডাকা উচিত ছিল'' তিনি বলছেন। এ প্রসঙ্গে মি. ট্রাম্প বলেছেন, ব্যাননের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। যখন তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তখন তার মাথাও খারাপ হয়ে গেছে।
২. নির্বাচনে জিতে সংশয়ে পড়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের কিছু পরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র তার একজন বন্ধুকে বলেছেন, তার বাবাকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন তিনি ভুত দেখেছেন। মেলানিয়ার চোখে ছিল জল, কিন্তু আনন্দের নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখে স্টিভ ব্যাননের মনে হচ্ছিল তিনি যেন দ্বিধাগ্রস্ত, হতাশ আর ভীত হয়ে পড়েছেন। তারপর হটাৎ করেই যেন তিনি সোজা হয়ে দাঁড়ান এবং বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, এটা তার প্রাপ্যই ছিল। (অবশ্য বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, নির্বাচনের ফলাফলের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিমণ্ডল থেকে যেসব খবর পাওয়া যায়, তাতে মাইকেল উলফের এই বর্ণনা ঠিক মেলে না।)
৩. অভিষেকে নিরানন্দ ট্রাম্প
অভিষেকের দিনটি উপভোগ করেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথম সারির বেশিরভাগ তারকা ওই অনুষ্ঠানটি বর্জন করায় তিনি ছিলেন রাগান্বিত, সবকিছু নিয়েই ছিল তার অসন্তোষ। এমনি প্রকাশে স্ত্রীর সঙ্গে তিনি ঝগড়াও করেন। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের চোখও যেন জমাট বেধে ছিল অশ্রু। যদিও এসব তথ্য নাকচ করে দিয়েছে মার্কিন ফার্স্ট লেডির দপ্তর।
৪. হোয়াইট হাউজ নিয়ে ভীত আর উদ্বিগ্ন ট্রাম্প
মাইকেল উলফ লিখেছেন, হোয়াইট হাউজ নিয়ে উদ্বিগ্ন আর খানিকটা ভীত হয়ে পড়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নিজের জন্য তিনি আলাদা একটি শয়নকক্ষ বেছে নেন। প্রথমদিনেই তিনি রুমে আরো দুইটি টেলিভিশন আর দরজায় তালা লাগানোর নির্দেশ দেন। যদিও তাতে আপত্তি করেছিলেন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা, কারণ তাদের মতে নিরাপত্তার জন্য এখানেও তাদের প্রবেশাধিকার থাকা দরকার।
৫. ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্ট ইভাঙ্কা ট্রাম্প?
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প তার স্বামী জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, ভবিষ্যতে সুযোগ আসলে ইভাঙ্কা প্রেসিডেন্ট পদের জন্য নির্বাচনে দাঁড়াবেন। তাহলে হিলারি ক্লিনটন নয়, তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।
৬. ট্রাম্পের চুল নিয়ে মশকরা
এই বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুল নিয়ে মশকরা করতেন ইভাঙ্কা ট্রাম্প। কারণ তিনি মাথায় খুলিতে প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছিলেন। যার ফলে তার মাথার কয়েকটি অংশের চুল বিশেষভাবে সাজানো থাকে। তার মাথার চুলের রঙটিও রাসায়নিক কারণে হয়েছে বলে ইভাঙ্কা বলতেন।
৭. হোয়াইট হাউজে সিদ্ধান্তহীনতা
ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের কাছে হোয়াইট হাউজের ডেপুটি চীফ অব স্টাফ কেটি ওয়ালশ জানতে চেয়েছিলেন অগ্রাধিকারের তালিকায় কোন কাজগুলো থাকবে? কিন্তু তার কোন জবাব দিতে পারেননি মি. কুশনার। মি. উলফ লিখেছেন, পরের ছয় সপ্তাহের মধ্যেও এ বিষয়ে কুশনারের কাছ থেকে কোন জবাব পায়নি হোয়াইট হাউজের কর্মীরা।
৮. রুপার্ট মারডকের জন্য ট্রাম্পের প্রশাসন
মাইকেল উলফ লিখেছেন, নির্বাচনে জয়ের পর একটি অনুষ্ঠানে রুপার্ট মারডকের আসার কথা ছিল, কিন্তু তার দেরি হচ্ছিল। যখন যখন অতিথিরা চলে যাচ্ছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের আরো খানিকক্ষণ থাকার জন্য অনুরোধ করেন যে, মি. মারডক পথে রয়েছেন। তার সঙ্গে তাদের দেখা করে যাওয়া উচিত।
৯. ডোনাল্ড ট্রাম্পকে 'গাধা' বলেছিলেন রুপার্ট মারডক
তবে মি. মারডকের জন্য ট্রাম্পের যে ভক্তি শ্রদ্ধাই থাকুক না কেন, তিনি তার প্রতি ততটা সৌজন্য দেখাননি। সিলিকন ভ্যালির নির্বাহীর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি বৈঠকের আগে রুপার্ট মারডক টেলিফোনে অনুরোধ করেন যে, এইচ-ওয়ানবি ভিসার ব্যাপারটি বিবেচনা করা হয়। মি. ট্রাম্প দেখা যাবে বলে জবাব দিলে তাকে 'গাধা' বলে ফোন কেটে দেন মি. মারডক।
১০. ফ্লিন জানতেন রাশিয়া যোগাযোগ কাল হয়ে দাঁড়াবে
মি. উলফ লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন নির্বাচনের আগেই বলেছিলেন, কোন বক্তৃতার জন্য রাশিয়ানদের কাছ থেকে ৪৫ হাজার ডলার গ্রহণ করা ভালো হবে না। তবে এটা তখনি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে, যদি আমরা নির্বাচনে জিতে যাই।

মালিকানায় আকস্মিক পরিবর্তনে আতঙ্কিত ব্যাংকার আমানতকারীরা

বিদায়ী বছরে দেশের বড় দু’টি ব্যাংকের মালিকানায় আকস্মিক পরিবর্তন হয়েছে। নানা অনিয়মের ঘটনায় আরো দু’টি ব্যাংকের মালিকানায় পরিবর্তন এসেছে। বড় ধরনের এসব পরিবর্তনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ব্যাংকাররা। একই সাথে আস্থার সঙ্কটে ভুগছেন আমানতকারীরাও। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ব্যাংকাররা। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকারর্স সভায় ব্যাংকাররা এ সহায়তা কামনা করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে দেখবে বলে আশ্বাস দিয়েছে বলে ব্যাংকাররা জানিয়েছেন। গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে এ সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তিন ডেপুটি গভর্নর, উপদেষ্টা, নির্বাহী পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) প্রেসিডেন্ট ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, এবিবির সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ইস্টার্ন ব্যাংকের এমডি আলী রেজা ইফতেখার, আল-আরাফা ইসলাম ব্যাংকের এমডি মো: হাবিবুর রহমান, এবি ব্যাংকের এমডি মসিউর রহমান চৌধুরী ছাড়াও অন্য সব ব্যাংকের এমডি ও তাদের প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে এবিবি প্রেসিডেন্ট বলেন, সভায় অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণ না দিয়ে উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বিতরণের তাগিদ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঋণ আমানতের অনুপাত কমিয়ে আনতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর কিছু ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের আকস্মিক পরিবর্তন হয়েছে। এতে ব্যাংকাররা ও আমানতকারীরা অনেকটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে তারা বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করেছেন। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণের লাগাম টেনে ধরতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে বিদ্যমান ঋণ আমানতের অনুপাত কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো তাদের আমানতের ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারে। তবে ইসলামি ব্যাংকগুলো ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারে। কিন্তু কোনো কোনো ব্যাংক আগ্রাসী ব্যাংকিং শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেয়া সীমা অনেকেই লঙ্ঘন করেছে।
ফলে তহবিল ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গতকালের সভায় ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। একই সাথে ঋণ আমানতের অনুপাত কমিয়ে প্রচলিত ব্যাংকগুলোর জন্য ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ইসলামি ব্যাংকগুলোর জন্য ৮৮ শতাংশ করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে এ জন্য প্রস্তুত থাকতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ দিকে ব্যাংকগুলো তাদের রেমিট্যান্স হাউজের মাধ্যমে রেমিট্যান্স আহরণ করে থাকে। ব্যাংকভেদে প্রতিটি লেনদেনের জন্য ১৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা পর্যন্ত ফি নেয়া হয়, যেখানে হুন্ডি বা অন্য পন্থায় রেমিটারদের কোনো সার্ভিস চার্জ দিতে হয় না। এ অবস্থায় বৈঠকে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সার্ভিস চার্জ সর্বোচ্চ ২০ টাকায় নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে ব্যাংকাররা কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে ব্যাংকারদের অহেতুক হয়রানি করার অভিযোগ করেন। দুদকে হাজিরা দিতে দিতে ব্যাংকাররা অনেকটা হাঁপিয়ে উঠেছেন। এতে ব্যাংকিং কার্যক্রমে অনেকটা স্থবিরতা নেমে এসেছে। অনেক কর্মকর্তাই আর দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন না। অনেকটা দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। পরিস্থিতি উন্নতি করতে ব্যাংকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছেন। জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অন্যায়ভাবে কাউকে হয়রানি করলে সুনির্দিষ্টভাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে বলা হয়েছে। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, অনেক ব্যাংক আমদানি ঋণপত্রের বিপরীতে স্বীকৃতমূল্য যথাসময়ে পরিশোধ করছে না। কোনো কোনো ব্যাংকের জরিমানা করা হচ্ছে। যার দায় পণ্য আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়াসহ পুরো দেশের ভাবমর্যাদা নষ্ট হচ্ছে। গতকালের বৈঠকে যথাসময়ে আমদানি ঋণপত্রের বিপরীতে স্বীকৃত বিলের মূল্য যথাসময়ে পরিশোধ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ভারতে মুসলিম তরুণের সাথে দেখা করায় দুই তরুণীকে মারধর

ভারতে দু'জন মেয়ে শিক্ষার্থী একদল লোকের হামলার শিকার হয়েছেন। তারা দু'জন মুসলিম তরুণের সাথে দেখা করেছিল বলে এ ঘটনার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কর্ণাটক রাজ্যের ম্যাঙ্গালোরের একটি থিম পার্কে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, তারা তিনজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে, যারা একটি ডানপন্থী গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ত। ওই ঘটনার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি অনেকে একে 'মরাল পুলিশিং' বলেও বর্ণনা করছেন।
ভারতের গণমাধ্যম বলছে, ওই ছাত্র-ছাত্রীরা একই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পুলিশ বলছে, পার্কের ভেতরে প্রথমে কয়েকজন ব্যক্তি ওই শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে। পরে তারা ডানপন্থী ওই গ্রুপের লোকজনকে ডেকে আনে। তারা এসেই ওই মেয়েদের ধরে মারধর শুরু করে। ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের তারা দফায় দফায় মারছে, ধমকাচ্ছে, আর বার বার তাদের বাবা-মাকে আসার জন্য ফোন করতে বলছে। এমনকি যখন তাদের পুলিশ পার্ক থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছে, তখনো তাদের চিৎকার করে গালাগালি করছিল ওই ব্যক্তিরা। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় আরো কয়েকজন গ্রেফতারের জন্য তারা খুঁজছে। ম্যাঙ্গালোরে এ ধরণের ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। যার মধ্যে রয়েছে বারে এবং বাড়ির পার্টিতে মেয়েদের উপর হামলা আর হিন্দু সহকর্মীদের দ্বারা মুসলিম যুবককে মারধর করার মতো ঘটনা।

মমতার হুঙ্কার : আসামে বাঙালি খেদালে ছেড়ে কথা বলব না

নাগরিকত্ব আইনের নামে আসাম থেকে বাঙালি খেদাওয়ের চেষ্টা হলে ছেড়ে কথা বলবেন না ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এনিয়ে বিজেপি’কে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েই ক্ষান্ত হননি তৃণমূল সুপ্রিমো। নাম না করে বিজেপি নেতৃত্বকে সতর্ক করে তার পরামর্শ, আগুন নিয়ে খেলবেন না। গোটা দেশে আগুন জ্বলবে। বুধবার বীরভূমের আহমদপুরে সরকারি পরিষেবা প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় মমতা বলেন, বিজেপি’কে দেখুন। এখন আসাম থেকে বাঙালি খেদাওয়ে নেমেছে। ৩০-৪০ বছর ধরে যারা রয়েছেন, এখন সিটিজেনশিপ অ্যাক্টের নামে তাদের তাড়ানোর চেষ্টা চলছে। সব মিলিয়ে ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষকে সেখান থেকে বিতাড়নের চক্রান্ত শুরু হয়েছে। এই চক্রান্তের প্রতিবাদে তৃণমূল সুপ্রিমোর নির্দেশে আজ বৃহস্পতিবার দিল্লিতে গান্ধীমূর্তির সামনে ধর্না-অবস্থানে বসবেন দলীয় সংসদ সদস্যরা। বিজেপি নেতাদের নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অসমে আগুন জ্বালাবেন না। যাকে ইচ্ছা, তাকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিচ্ছেন। মমতার অভিযোগ, নাগরিকপঞ্জীতে নাম না থাকায় ইতিমধ্যেই একজন আত্মহত্যা করেছেন। আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বাঙালিরা। দৃশ্যত ক্ষুব্ধ মমতা এরপর গলার সুর চড়িয়ে বলেন, মনে রাখবেন আমাদের লোকজনকে যদি তাড়াতে শুরু করেন, তাহলে ছেড়ে কথা বলব না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অসম আমাদের প্রতিবেশী রাজ্য। সেখানে গোলমাল হলে, এ রাজ্যে তার প্রভাব পড়বে। এ কী আগুন নিয়ে খেলা শুরু করেছে! জীবন-জীবিকার তাগিদে এক রাজ্যের লোক অন্য রাজ্যে যেতে পারে, থাকতে পারে। সংবিধান আমাদের সেই অধিকার দিয়েছে। মমতার কথায়, আসামের লোক এখানে থাকলে ঠাঁই দেব, সেভাবে ওদেরও (আসাম সরকার) বাংলার লোককে ঠাঁই দেয়া উচিত। তার অভিযোগ, এমন বেশ কিছু কাগজপত্র দেখছি, যেখানে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূমের ভোটার কর্মসূত্রে আসামে রয়েছেন, তাদেরও তাড়িয়ে দেয়ার কথা বলা হচ্ছে। নাগরিকত্ব আইনের নামে আসামে বসবাসকারী বাংলাভাষীদের গায়ে বাংলাদেশী তকমা চাপিয়ে,
তাদের বিতাড়নের চেষ্টা শুরু হয়েছে। ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গি উলফা প্রধান পরেশ বড়ুয়ার নাম নাগরিকপঞ্জীতে থাকলেও, সমাজের বিভিন্ন স্তরের বহু বিশিষ্ট বাঙালি, সংসদ সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ বরাক উপত্যকার প্রায় ৭০ শতাংশ বাংলাভাষীর নাম বাদ গিয়েছে তালিকা থেকে। এই বিষয়টি নিয়েই প্রতিবাদে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। এদিন বীরভূমের এই সভায় জনপরিষেবা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যতটা উদারহস্ত হয়েছেন, ঠিক ততটাই খড়্গহস্ত হয়েছেন বিজেপি তথা গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে। ইদানীং রাজ্য বিজেপি’র প্রথম সারির নেতাদের আনাগোনা বেড়েছে রাঢ়বঙ্গের এই অংশে। সভা, সমাবেশ আর মিছিলের মতো কর্মসূচির আয়োজন করছে গেরুয়া শিবির। সেই সব সভা-সমাবেশ থেকে তৃণমূল তথা রাজ্য সরকারকে নানারকম হুঁশিয়ারিও দেয়া হচ্ছে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই আহমদপুরের সভা থেকে মমতার পাল্টা হুঁশিয়ারি— কয়েকটা নেতা জুটেছে! এখানে এসে বড় বড় কথা! কতগুলো গুন্ডা-বদমায়েশকে জুটিয়ে এনে শুধু অকথা-কুকথা। বেশি কথা বলবেন না। মানুষ বিজেপি নেতাদের মুখে লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে দেবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, রাজনীতিতে পারছে না, উন্নয়নে পারছে না, তাই শুধু আজেবাজে কথা। যা ইচ্ছে, তাই বলছে। এরপর সুর আরো চড়িয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, জনগণের জন্য বিজেপি সরকারের কোনো অবদান নেই। অবদান নেই দলিত, সংখ্যালঘু, তফসিলি জাতি-উপজাতি আর ছাত্র¬যুবদের প্রতি। একটাই কাজ, মানুষের উপর অত্যাচার করা। এফআরডিআইয়ের নামে ব্যাঙ্কে সঞ্চিত সাধারণ মানুষের অর্থ কেড়ে নেয়ার চেষ্টা। যখন তখন কমাচ্ছে স্বল্প সঞ্চয়ের সুদের হার। আর বাড়িয়ে চলেছে রান্নার গ্যাসের দাম। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, আমরা রামকে ভালোবাসি, কিন্তু চওড়া কাঁধের রাবণকে নয়। কারণ রাবণ ছিল অত্যাচারী!

মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে নানামুখী বিশ্লেষণ

মন্ত্রিসভায় নতুন তিনজনের অন্তর্ভুক্তির পরদিনই চারজনের দফতর বদল নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে এসে মন্ত্রিসভায় এ পরিবর্তনকে অনেকেই বলছেন তাৎপর্যপূর্ণ। নতুন যারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তাদের প্রায় সবাই রাজনৈতিকভাবে অপরিচিত মুখ। সরকারি দলের মধ্যে তাদের তেমন কোনো অবস্থান নেই বলা চলে। তা সত্ত্বেও হঠাৎ করেই মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন তারা। আবার গতকাল বুধবার যে চারজনের দফতর বদল হয়েছে তার মধ্যে তিনজনই মহাজোটের শরিক দলের। ফলে নতুন অন্তর্ভুক্তি ও রদবদল নিয়ে শুরু হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন বিশ্লেষণ। আওয়ামী লীগ ও শরিক দলগুলোর একাধিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার যে চারজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন তারা কেউই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ নন। আওয়ামী লীগে পুরনো ও সক্রিয় এমন অনেকেই আছেন যারা মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দাবি রাখেন। কিন্তু সরকার সে দিকে যায়নি। বেশ কিছু দিন পর নতুন মুখ হিসেবে যারা এসেছেন তারা সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট হলেও ক্ষমতাসীন দলের ভেতরে-বাইরে তাদের তেমন কোনো প্রভাব নেই। তাদের মধ্যে একজন বর্তমান সরকারের সিনিয়র একজন মন্ত্রীর সম্পর্কে বেয়াই। অপর একজন ব্যবসায়ী। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সমর্থক হলেও মন্ত্রী হয়েছেন টেকনোক্র্যাট কোটায়। জাতীয় নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেয়ার কথা এ যাবৎ ঘুণাক্ষরেও শোনা যায়নি। অপর একজনকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়েছে। যিনি প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন তাকে কোন বিবেচনায় সামনে আনা হয়েছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের অনেকেই তা বুঝতে পারছেন না। আলাপকালে সরকারি দলের একাধিক নেতা জানান, কাউকে মন্ত্রী করা না করা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার।
তিনি সরকারের মেয়াদের শেষে হয়তো নেতাদের এ বার্তাই দিতে চান, সরকার ও দলের ভালো-মন্দ বিবেচনায় তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। অন্য কিছু চিন্তা করে কোনো ফল হবে না। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, সরকার পরিচালনায় আনুগত্যের বিষয়কেই বর্তমানে গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। কর্মদক্ষতা থাকলেও রাজনৈতিক আনুগত্যে কারো ঘাটতি থাকলে তাকে কোনোভাবেই বিবেচনায় নেয়া হয় না। সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভা রদবদলের ক্ষেত্রেও সরকারপ্রধান বিষয়টি বিবেচনা করেছেন। একাধিক সূত্র জানায়, বেশ কিছু দিন শরিক দলগুলোর মন্ত্রী ও দায়িত্বশীল নেতাদের কিছু বক্তব্য সরকারকে বিব্রত করে। দলের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়। মন্ত্রিসভায় দফতর পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। তাদের বোঝানো হয়েছে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সরকার প্রধানের একান্ত। আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী থাকা অবস্থায় সমালোচনা কিংবা নেতিবাচক তৎপরতা দৃষ্টিগোচর হলে সরকার তা উপেক্ষা করবে না। সে ক্ষেত্রে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়া এবং তা বাস্তবায়নের অধিকার সরকারের রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রুলস অব বিজনেসে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসব মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দফতর বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করেছেন। রাজনীতি বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, সরকারের মেয়াদের শেষে এসে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করার ক্ষেত্রে ভোটের রাজনীতিরও একটা বড় সমীকরণ কাজ করেছে। যেসব এলাকা থেকে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় ওই এলাকার কেউই এর আগে ঠাঁই পাননি। ফলে রাজনীতিতে তাদের অবস্থান না থাকলেও আগামী নির্বাচন সামনে রেখে নতুন মন্ত্রিসভায় তাদের যুক্ত করা হয়েছে। তারা আরো জানান, মন্ত্রিসভায় যারা আছেন তারা কতটুকু যথাযথ দায়িত্ব পালন করেন তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। এরপর আবার মন্ত্রিসভার কলেবর বৃদ্ধি। নতুন মন্ত্রীদের নিয়োগ দিয়ে আসলে একটা চমক দেয়া হয়েছে। তবে নতুন যে মন্ত্রীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের মূলত নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের মনরার প্রয়োজনেই সামনে আনা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে যেন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায় সে জন্য নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক ড. তারেক শামসুর রেহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, একুশ শতকের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য যে ধরনের যোগ্যতা ও দক্ষতাসম্পন্ন মন্ত্রিসভা দরকার আমরা এখনো তা পাইনি। শুধু নতুনভাবে কয়েকজনকে যুক্ত করে মন্ত্রিসভার কলেবর বাড়ানো হয়েছে। যাদের মন্ত্রিত্ব দেয়া হয়েছে তাদের অতীত অভিজ্ঞতা আছে কি না তা দেখার বিষয়। তিনি বলেন, একজন মন্ত্রী ইতোমধ্যে বলেছেন, তার মন্ত্রণালয়ে কোনো ইংরেজি চিঠি গ্রহণ করবেন না। তাহলে কি বিদেশীদের সাথে ওই মন্ত্রণালয়ের কোনো যোগাযোগ থাকবে না! বর্তমান সরকার তো তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। এক প্রশ্নের জবাবে ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, ভোটের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করার জন্যই অলিখিতভাবে জেলা কোটায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় যারা নতুন যুক্ত হয়েছেন তাদের জেলা থেকে বর্তমান সরকারে আগে কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন না। তবে এটা সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত নয় বলে আমি মনে করি। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন নয়া দিগন্তকে বলেন, মন্ত্রিসভায় নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী যা করেছেন ভেবেচিন্তে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে আমি মনে করি।

আসাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঢাকা by মিজানুর রহমান

আসাম পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে বাংলাদেশ। তবে এ নিয়ে এখনই কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে চায় না সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা বলছেন, দিল্লির তরফে আসাম প্রশ্নে বিশেষ করে সেখানে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ রয়েছেন মর্মে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি। দিল্লির কোনো বক্তব্য বা যোগাযোগ না থাকায় আসামের ঘটনাগুলোকে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই মনে করছেন তারা। স্পর্শকাতর এ ইস্যুতে মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং আসামের গোয়াহাটিস্থ সহকারী হাইকমিশনকে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে এবং তারা নিয়মিত তা-ই করছেন। মিশনের রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে ঢাকার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গতকাল মানবজমিনকে বলেন, আসামের নাগরিকদের নিয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
যা নিয়ে দেশটির রাজ্য এবং কেন্দ্রীয়ভাবে বিতর্ক চলছে। এ নিয়ে আগ বাড়িয়ে বাংলাদেশকে কিছু বলা কী সমীচীন হবে?’ ওই কর্মকর্তার মতে, তারা যে রিপোর্ট পেয়েছেন তাতে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। এটি চলমান রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স দু’দিন আগে জানিয়েছে, আসামে যা হচ্ছে তা নিয়ে ভারত সরকার বাংলাদেশকে কিছুই জানায়নি। টানটান উত্তেজনার মধ্যে গত রোববার মধ্যরাতে ভারতের আসাম রাজ্যের নাগরিকদের একটি খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়। রাজ্য সরকার প্রকাশিত ওই তালিকা নিয়ে গোটা ভারতজুড়ে বিতর্ক চলছে। প্রকাশিত তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ বাসিন্দার। স্থান পেয়েছেন ১  কোটি ৯০ লাখ। রাজ্যের প্রায় অর্ধেক বাসিন্দার নাম বাদ পড়ায় সর্বত্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিজিপি সরকারের ওই তালিকা থেকে রাজ্যের সাবেক অনেক নেতা, এমপি ও বিধায়ক বাদ পড়েছেন। এছাড়া বিরোধী দল কংগ্রেসের কয়েকজন এমপি ও সাবেক মন্ত্রীর নামও স্থান পায়নি তালিকায়। বিজিপি বলছে, আসাম রাজ্য থেকে কথিত ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের’ বের করে দেয়ার লক্ষ্যেই ওই নাগরিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আসামের মুসলিম নেতারা তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, নাগরিকদের নিয়ে বিতর্কিত তালিকাটি করা হচ্ছে রাজ্যের মুসলিমদের রোহিঙ্গাদের মতো রাষ্ট্রবিহীন করার জন্য। রাজ্য সরকারের দায়িত্বশীলরা অবশ্য জানিয়েছে, নাগরিকদের মধ্যে যাদের যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে তাদের নিয়ে প্রথম খণ্ডিত খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বাকিদের নাম বিভিন্নভাবে যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষ হলে আরেকটি তালিকা প্রকাশ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল গত বছর রাজ্য ক্ষমতায় আসার পর অবৈধ বা অনুপ্রবেশকারীদের খেদানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। যাতে বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমরা  টার্গেটে পড়ে যান। রাজ্য সরকারের এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নাগরিকদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়। এটি সমন্বয়ের দায়িত্ব পান আসামের অর্থমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, এই তালিকা তৈরির উদ্দেশ্য অবৈধ লোকজনকে ‘বাংলাদেশিদের’ চিহ্নিত করা। শাসক দল বিজেপি’র নেতারা সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, রাজ্যে প্রায় বিশ লাখ মুসলিমের মধ্যে যারা ১৯৭১ সালের ২৪শে মার্চের আগে থেকে এখানে রয়েছেন মর্মে দলিল-প্রমাণ হাজির করতে পারবেন তারা ভারতের নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন। অন্যদের বের করে দেয়া হবে। রাজ্যের মুসলিম নেতারা বিজেপির এমন বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। আসামের লোকজনের নাগরিকত্বের সংজ্ঞা ও অন্যান্য প্রশ্ন নিয়ে এ পর্যন্ত ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ৪০টির বেশি শুনানি হয়েছে। সেই সব  শুনানিতে যে পর্যবেক্ষণ এসেছে তার ভিত্তিতেই ২০১৭ সালের ৩১শে ডিসেম্বর নাগরিক তালিকা প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে ভারতের  রেজিস্ট্রার জেনারেল শৈলেশ বলেছেন, যাদের নাম প্রথম তালিকায় ওঠেনি, তাদের আতঙ্কের  কোনো কারণ নেই। অন্য নামগুলোও পরীক্ষার বিভিন্ন স্তরে রয়েছে। নথিপত্র খতিয়ে দেখা শেষ হলে আবার একটি তালিকা প্রকাশ করা হবে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালও বলেছেন, প্রথম তালিকা দেখেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যারা প্রকৃত নাগরিক, তাদের নাম তালিকায় থাকবেই। তালিকা প্রকাশের আগে থেকে আসামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সেখানে প্রায় ২০ হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৫১ সালে ভারতে একটি নাগরিক তালিকা তৈরি হয়েছিল। তারপর এমন অভিযান আর হয়নি। তাছাড়া আসামের নাগরিকত্ব প্রশ্নে আগামী এপ্রিলে উচ্চ আদালতে একটি শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

যা দেখেছি তা লিখেছি by কাজল ঘোষ

আমি যা দেখেছি, যা বিশ্বাস করি তার বাইরে একটি কথাও লিখিনি। বঙ্গবন্ধু আমাকে স্নেহ করতেন। আমিও বঙ্গবন্ধুকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতাম। তিনি আমার অত্যন্ত প্রিয় এক ব্যক্তিত্ব। মুক্তিযুদ্ধকালীন উপ-অধিনায়ক এ কে খন্দকার এভাবেই  বলেন তার মনের কথা। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে তার একটি মন্তব্য দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়।
আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। সাবেক মন্ত্রী এ কে খন্দকার তার লেখা ‘১৯৭১: ভেতর-বাইরে’ বইয়ে উল্লেখ করেন ৭ই মার্চের ভাষণের শেষ শব্দগুলো ছিল ‘জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান, আর এ নিয়েই জমে উঠে বিতর্ক। ২০১৪ সালের আগস্টে প্রথমা থেকে বইটি প্রকাশিত হয়। এরপরই কোণঠাসা হয়ে পড়েন সাবেক এই বিমান বাহিনীর প্রধান। তার এই বই প্রকাশের পর পেরিয়েছে প্রায় তিন বছর। ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ জায়গা করে নিয়েছে পৃথিবীর অন্যতম সেরা ভাষণ হিসেবে। এ কে খন্দকার রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণকালে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বও করেন। শেষ মুহূর্তে দিল্লি থেকে যখন থিয়েটার রোডে খবর পৌঁছায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধা নয় মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করবে। তখন হতাশা নেমে আসে থিয়েটার রোডে অস্থায়ী প্রবাসী সরকারের দপ্তরে। জেনারেল এমএজি ওসমানীর প্রস্তুতি তখন ভণ্ডুল হয়ে যায়। রেসকোর্সে তিনি না এসে প্রতিনিধিত্ব করতে পাঠান তাঁর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এ কে খন্দকারকে। এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার বিরল সৌভাগ্য লাভ করেন তিনি। পরে স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ছিলেন বিমান বাহিনীর প্রধান। ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রীও। কিন্তু তার বই ১৯৭১: ভেতরে বাইরে প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনায় ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেন। এমনকি বাসার টেলিফোন এবং ব্যক্তিগত মুঠোফোন ধরা থেকেও বিরত থাকেন। সকল সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকেন। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মাসের পর মাস তিনি বাসার বাইরে বের হন না। তার পেছনে শারীরিক সক্ষমতা যেমন বাধা তেমনি বাধা এই বিতর্কের চাপও। বাসায় বর্তমানে সময় কাটছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। পছন্দের বই পড়া আর বিকালে হাঁটাহাঁটি করে সময় কাটে। সাতাশি বছরের এ কে খন্দকার ভুগছেন বয়স্কজনিত নানা শারীরিক জটিলতায়। খানিকটা স্মৃতি বিধূরতাও পেয়ে বসেছে মুক্তিযুদ্ধের এই উপ-অধিনায়ককে। বিদায়ী এই ডিসেম্বরে একটি জাতীয় দৈনিকের দেয়া সম্মাননা ছাড়া আর কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলেননি কোনো সংবাদ মাধ্যমেও। কেমন আছেন জানতে চাইলে এ কে খন্দকার বললেন, খুব একটা ভালো নেই। থেকে থেকে কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন নানা প্রসঙ্গ নিয়ে। কোনো অনুষ্ঠানাদিতে যোগ দিচ্ছেন না কেন- এমন প্রশ্নে বললেন, যা দেখেছি তাতো বইতে লিখেছি। বইতে লিখিত বক্তব্যের ঢেউ আছড়ে পড়েছিল সংসদ পর্যন্ত; ঝড় তুলেছিল সব মহলেই। কিন্তু যে প্রসঙ্গে বিতর্ক তিনি কি সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন, না যা লিখেছেন তাতেই অনড়। স্পষ্ট করে বললেন, আমি আমার বইতে যা দেখেছি, যা জানি, যা বিশ্বাস করি তার বাইরে একটি কথাও লিখিনি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসর্মপণ মুহূর্তটি স্মৃতিকে এখনো উজ্জ্বল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৬ই ডিসেম্বর সকালে ডাক পড়ে প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের। আমাকে নির্দেশ দিলেন, তোমাকে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। বিমান প্রস্তুত আছে। যেভাবে আছো সেভাবেই যাও। কোনোরকম প্রস্তুতি ছাড়াই ছুটে যাই বিমানবন্দরে। পৌঁছে দেখি সকলেই অপেক্ষায় আছে। উঠতে যাবো দেখি জেনারেল অরোরা ও তাঁর স্ত্রী। আমি সরে ওনাদের আগে পথ দেখাতেই তিনি বললেন, ‘ইউ আর ফ্রিডম ফাইটার। ইউ উইল গো ফার্স্ট।’ দমদম বিমানবন্দর থেকে কপ্টারে করে আগরতলা হয়ে ঢাকায় পৌঁছে দেখি বিস্ময়কর দৃশ্য। রাস্তার দু’ধারে মানুষের ঢল। একটি টেবিল আর দুটো চেয়ারে অল্প সময়ের মধ্যেই আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন সেই দিনগুলোর কথা মনে করে এ কে খন্দকার বলেন, সামরিক বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলাম। আর পাকিস্তান আমলে বিমান বাহিনীর ক্যাপ্টেন ছিলাম। যা ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যাওয়া বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তির সর্বোচ্চ পদ। আমার দায়িত্ব ছিল অনেক বেশি। কাজের ফাঁকে ফাঁকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে পারছিলাম কিছু একটা হয়েছে। ১৯৭১ সালে প্রায় প্রতিদিনই বিমানে করে তাদের লোক আসছিল তেজগাঁও বিমানবন্দরে। বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ করা একেবারেই নিষেধ ছিল। কিন্তু নানান মাধ্যমে আমরা খবরগুলো পৌঁছাতাম। আমার সহধর্মিণীর বড় ভাইয়ের মাধ্যমে আমি তখন কিছু কিছু খবর আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি।
যখন পঁচিশে মার্চের ক্র্যাকডাউন হয় তখন লুকিয়ে ভারতে চলে যাই। তবে তাও পেরেছিলাম তিন দফা চেষ্টার পর। রাজশাহীসহ বিভিন্ন পথে যাওয়ার চেষ্টাকালে পাকিস্তানিদের নজরদারির কারণে বারবার পথ বদলাতে হয়। পরে এপ্রিলের ১০/১২ তারিখের দিকে দলবলসহ ভারত পৌঁছতে পারি। নয় মাস যে যেখানে ছিল সেখান থেকেই ঐক্যবদ্ধভাবে পরিশ্রম করেছে; দেশের জন্য কাজ করেছে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আমি ছিলাম ডেপুটি চিফ অব স্টাফ। নিয়মিত তদারকির বাইরেও আমাকে মাঝেমধ্যেই যেতে হতো রণাঙ্গনে। সেখানে ছিল ছোট্ট একটি রানওয়ে। মাত্র তিনটি যুদ্ধ বিমান ছিল। সেটা নিয়েই একটি পাহাড়ের পাশে আমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছি মুক্তিযোদ্ধাদের। আর বেশিরভাগ সময়ই রাতের দিকে আক্রমণ চালানো হতো।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে এ কে খন্দকার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আগে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ সম্ভব ছিল না। তবে দেশ স্বাধীন হলে নানাভাবে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কাজের সুযোগ হয়েছে। তিনি আমাকে স্নেহ করতেন। আমি বঙ্গবন্ধুকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি। তিনি আমার অত্যন্ত প্রিয় এক ব্যক্তিত্ব। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের সেনাবাহিনী তখন খুবই ছোট আকারের। কাজেই তিনি যখনই কোথাও যেতেন সঙ্গে সঙ্গে যেতাম। কারণ ওনার যদি কোনো বিষয়ে জানার থাকে তা সঙ্গে সঙ্গে অবগত করতে হবে।
প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ সম্পর্কে এ কে খন্দকার উল্লেখ করেন, সকল প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এই মানুষটি ধৈর্য সহকারে সকল পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নয়মাস কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তিনি উদ্যোগ নিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে প্রবাসী সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। একটি ছোট কামরায় দিনের পর দিন এই মানুষটি বাস করেছেন। নিজের কাপড়-চোপড় নিজেই পরিষ্কার করতেন। যুদ্ধ চলাকালে তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে মাত্র একবার দেখা করেছিলেন আধাঘণ্টার জন্য। তাজউদ্দীন আহমদের অবদানকে নানাভাবে খাটো করে দেখার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর অবদানের কারণে বাঙালির কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।
কেমন দেশ চেয়েছিলেন এ প্রশ্নে তিনি বলেন, দেশের অনেক কিছু ভালো হয়েছে। আরো ভালো হওয়া উচিত ছিল। যতোটা ভালো চেয়েছিলাম ততটা হয়নি। স্বপ্ন ছিল দেশের মানুষ গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার, মুক্তভাবে কথা বলার অধিকার পাবে। তার পুরোপুরি এখনো আমরা দেখতে পাচ্ছি না। অনেক খারাপ কিছু আছে যা থেকে আমাদের বের হতে হবে। যতটুকু হয়েছে তার আরো ভালোভাবে হওয়া দরকার ছিল। আমার বিশ্বাস আগামীতে দেশ আরো ভালো হবে।

সৈয়দপুরে কনকনে শীত সরগরম ঘোড়দৌড়

নীলফামারীর সৈয়দপুরের বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের মাঠে বুধবার ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কনকনে শীত উপেক্ষা করে হাজার হাজার দর্শক প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নীলফামারী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে বোতলাগাড়ির জাগরনী সমিতি ওই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
এতে নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও প্রভৃতি জেলার প্রায় ৭০ জন প্রতিযোগি অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় ‘ক’ গ্রুপে ডোমারে বাবু ১ম, ঘোড়াঘাট দিনাজপুরের জাকারিয়া হোসেন ২য় ও দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের মতলুবুর রহমান ৩য় হন। ‘খ’ গ্রুপে দিনাজপুরের বীরগঞ্জের লেবু ১ম, নীলফামারীর ডোমারের শফি ২য় ও নীলফামারীর জাহিদ ইকবাল ৩য় হন। এছাড়া ‘গ’ গ্রুপে রাজশাহীর মোহনপুরের শহীদুল মেম্বর ১ম, রংপুরের পীরগঞ্জের আয়নাল ২য় ও নীলফামারীর ডোমারের বেলাল হোসেন ৩য় হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন, বোতলগাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আল- হেলাল চৌধুরী। এতে সভাপতিত্ব করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা শার্পের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব-উল আলম। ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে দূর-দূরান্তের লোকজনের আগমন ঘটে। গ্রামীণ জনপদে ওই প্রতিযোগিতা দেখতে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন।

যমজ তিন সন্তান নিয়ে বিপাকে গরিব মা-বাবা

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের তাঁত শ্রমিক শফিকুল ইসলাম ও সুতা কাটা দিনমজুর আঙ্গুরীর ঘর আলোকিত করতে আসা ফুটফুটে জমজ দুই ছেলে ও এক মেয়ে এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে। গরিব অসহায় মা-বাবা সন্তানদের চিকিৎসা ও লালন পালনের চিন্তায় দিশেহারা। তীব্র শীতে ঝুপড়ি ঘরে এই তিন শিশু সন্তানসহ সাত সদস্যের অসহায় পরিবারটিকে মানবিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জানা যায়, গত ১৭ নভেম্বর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আঙ্গুরীর কোলজুড়ে আসে দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তান। একসঙ্গে তিন সন্তান পেয়ে আনন্দিতও হয়েছিলেন মা-বাবা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। শফিকুলের অভাবের সংসার। তিনি পাশের গ্রামের একটি তাঁত কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। দিনে দুই-আড়াই শ' টাকা রোজগার করেন। তা দিয়ে কোনো রকমে দুই সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে রকম সংসার চলছিলেন। এর মধ্যে অভাবের সংসারে আবার নতুন করে তিন যমজ সন্তান জন্ম নেয়ায় তাদের ওষুধপত্র ও লালপালন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারটিকে। তিন সন্তানের ক্ষুধা শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধে নিবারণ হচ্ছে না। কিন্তু যার সংসার ঠিকমত চলে না, তিনি সন্তানদের দুধ কিনে খাওয়াবেন কিভাবে।
প্রায়ই ক্ষুধায় কান্নাকাটি করে বাচ্চাগুলো অসুস্থ হয়ে পড়েছে। অসহায় বাবা-মায়ের নীরবে চোখের পানি ফেলা ছাড়া কিছুই যেন করার নেই। এবিষয়ে তাঁত শ্রমিক শফিকুল ইসলাম জানান, সন্তান গর্ভে আসার পর থেকেই ডাক্তারি চিকিৎসায় অনেক অর্থ ব্যয় হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে সিজার খরচ ও হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় হয়েছে ২০-২৫ হাজার টাকা। বর্তমানে আমার তেমন কোনো কাজ কর্ম নেই, তাই টাকার অভাবে এই মুহূর্তে শিশুদের উন্নত চিকিৎসাও করা সম্ভাব হচ্ছে না। এছাড়া স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সমাজপতিদের নিকট অসহায়ত্বে বিষয়ে বলা হলেও এখনো কোনো সহায়তা পায়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। এদিকে অসহায় পরিবারটিকে মানবিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গাজী আমজাদ হোসেন মাষ্টার।

৩০ বছরের মধ্যে হারিয়ে যাবে চকোলেট!

মুখরোচক খাবার চকলেট। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই যার ক্রেতা। এই জনপ্রিয় মিষ্টিজাতীয় খাবার আগামী ৩০ বছরের মধ্যেই হারিয়ে যেতে পারে। এর কারণ আর কিছুই নয়, জলবায়ু পরিবর্তন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চকোলেট তৈরির প্রধান উপাদান ক্যাকাও গাছের বীজ। আর সেই ক্যাকাও গাছের বেড়ে উঠতে প্রয়োজন প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত।
কিন্তু তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় ক্যাকাও গাছের বৃদ্ধিতে তা ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে মার্কিন ন্যাশনাল ওসেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, আগামী ৩০ বছরে তাপমাত্রা ২.১ সেন্টিগ্রেড বাড়লে তা চকোলেট শিল্পকেই বিপন্ন করে তুলতে পারে। এভাবে তাপমাত্রা বাড়লে তার ক্ষতিপূরণ কোনো পরিমাণ বৃষ্টিতেই সম্ভবপর নাও হতে পারে। কোটে ডি’আইভোর ও ঘানার মতো আফ্রিকার দেশগুলিতে বিশ্বের মোট চকোলেটের ৫০ শতাংশ উৎপাদন হয়। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত এই সমস্যার সঙ্গে যুঝতে হচ্ছে এই দেশগুলোকে। লন্ডনের গবেষণাকারী সংস্থা হার্ডম্যান অ্যাগ্রিবিজনেসের ডাফ হকিন্স জানিয়েছেন, বিশ্বের মোট কোকোয়া উৎপাদনের ৯০ শতাংশই হয় ছোট ছোট জমির মালিকদের দ্বারা। এ সব ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ খুবই কম। তিনি আরো বলেছেন, যে সব ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা থেকে অনুমান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রতি বছর চকোলেটে ঘাটতির পরিমাণ প্রতি বছরে হতে পারে ১০০,০০০ টন।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বিনা বেতনে চাকরি!

শিরিণ আক্তার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগ থেকে অনার্সসহ মাস্টার্স পাস করেছেন ১৯৯৬ সালে। তার স্বামী এহসানুল করিমও একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই সালে মার্কেটিং বিভাগ থেকে অনার্সসহ এমবিএ পাস করেন। শিরিণ ও তার স্বামী দুইজনেই নাটারের বড়াইগ্রাম মডেল কলেজে শিক্ষকতা করছেন ১৯৯৮ থেকে। দুইজনের কারোরই বেতন নেই। সাবিনা ইয়াসমিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে অনার্সসহ মাস্টার্স পাস করেছেন ১৯৯৮ সালে। তিনি বগুড়ার শেরপুরে অবস্থিত সীমাবাড়ি মহিলা কলেজে শিক্ষকতা করছেন। কলেজটি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তখন থেকে গত ১৯ বছর ধরে তিনিও বিনা বেতনে চাকরি করে যাচ্ছেন। গত মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস কাবে শিরিণ আক্তার ও সাবিনা ইয়াসমিন পাশাপাশি বসেছিলেন অনশনরত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মচারীদের সাথে। প্রতিদিন সকালে এসে তারা কর্মসূচিতে যোগ দেন। এরপর রাতে চলে যান কোনো আত্মীয়ের বাসায়। শিরিণ আক্তার, সাবিনা ইয়াসমিনের মতো অসংখ্য শিক্ষক রয়েছেন যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন নামকরা কলেজ থেকে অনার্স মাস্টার্স করেও বছরের পর বছর বিনা বেতনে চাকরি করে যাচ্ছন বিভিন্ন নন-এমপিও স্কুল-কলেজে। দেশের উচ্চশিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের বাস্তব চিত্রের একটি নাজুক দিক এটি। বেতন না হলেও কেন বছরের পর বছর পড়ে আছেন জানতে চাইলে অনশনে অংশ নেয়া উচ্চশিক্ষিত অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা জানিয়েছেন, তারা যেসব প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন সেগুলো সব সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। একটি প্রতিষ্ঠান যখন স্বীকৃতি পায় তখন থেকেই সেটি এমপিও পাওয়ার উপযুক্ত হয়।
কারণ শর্ত পূরণ করে যোগ্যতা অর্জন করার পরই সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু স্বীকৃতি দেয়ার পরও এমপিওভুক্ত করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা। প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি পাবার পর সবাই আশায় থাকেন এক দিন এমপিও হবে। কারণ একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অতীতে নিয়মিতভাবে এটি করা হয়েছে। কিন্তু ২০০৫ সালের পর দীর্ঘ দিন ধরে এমপিওকরণ বন্ধ থাকায় আমরা ভাগ্যের ফেরে পড়ে গেছি। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি বছর আশা দেয়া হয়েছে এমপিও হবে। কিন্তু সে আশা এভাবে মিথ্যায় পরিণত হবে তা আমরা ভাবতে পারিনি। প্রতি বছরই ভেবেছি পরের বছর হবে। এভাবে একটি মোহে পড়ে আমরা এত বছর পার করেছি। তাই এবার আর দাবি আদায় না করে বাড়ি ফিরব না। অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা জানান, তারা শিক্ষকতা পেশা বেছে নিয়েছেন শৈশব থেকে লালিত একটি স্বপ্ন থেকে। সমাজে মানুষের সামনে নিজেকে আদর্শ মানুষ হিসেবে তুলে ধরে ছাত্রছাত্রীদের আদর্শ শিক্ষা দেবেন। কেউ কেউ বলেছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে চেষ্টা করেও ঘুষ দুর্নীতির কারণে চাকরি হয়নি অনেকের। তাই নিরূপায় হয়ে পড়ে আছেন শিক্ষকতায়। শিক্ষকেরা বলেন, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত। সমাজের কল্যাণ সাধনের মহৎ উদ্দেশ্য নিয়েই এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন বিভিন্ন ব্যক্তি। শিক্ষা বিস্তার রাষ্ট্রের কাজ। সে কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হাজার হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাই এমপিওভুক্তি পাওয়া আমাদের অধিকার। অনশনে অংশ নেয়া পটুয়াখালীর বক্ষিয়া সাঈদীয়া কলেজের প্রভাষক ফাহমিদা জাহান বলেন, আমি জীববিদ্যা বিভাগে অনার্সে ফার্স্ট কাস পাওয়া। ২০০৩ সাল থেকে বিনা বেতনে চাকরি করছি এক দিন এমপিও হবে এই আশায়। বিনা বেতনে কেন বছরের পর বছর চাকরি করছেন জানতে চাইলে বরিশালের উজিরপুরে অবস্থিত জল্লা ইউনিয়ন আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায় নয়া দিগন্তকে বলেন, কথায় আছে পিঠা খায় মিঠার লোভে। আমরা মিঠার লোভে পড়ে আছি, এক দিন এমপিওভুক্ত হবে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, ২০০১ সাল থেকে তিনি বিনা বেতনে অধ্যক্ষ পদে চাকরি করছেন। বাহাজউদ্দিন জানান, তিনি সখীপুর টাঙ্গাইলের পলাশতলী মহাবিদ্যালয়ে সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক।
আবুজর গিফারী কলেজ থেকে তিনি অনার্স মাস্টার্স পাস করেছেন। ১২ বছর ধরে বিনা বেতনে চাকরি করছেন। বাহাজউদ্দিনের সাথে অনশনে রয়েছেন তার সহকর্মী আমিনুল ইসলাম। তিনি সরকারি সা’দত কলেজ থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে অনার্স মাস্টার্স পাস করেছেন। তিনি উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীপ্রাপ্ত। শফিউল ইসলাম গাইবান্ধার ফুলছড়িতে অবস্থিত হুদাখালি মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ। তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে অনার্স মাস্টার্স করার পর ১৯৯৯ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। শফিউল ইসলাম বলেন, স্বপ্ন ছিল এলাকায় শিক্ষার আলো জ্বালাব। শিক্ষার মাধ্যমে সুন্দর সমাজ দেশ গঠনে ভূমিকা পালন করব। ২০০৫ সালে আমাদের কলেজটি সরকার স্বীকৃতি দিলেও আজ অবধি এমপিও করা হয়নি। বেতনহীন চাকরিজীবন বড় কষ্টের : বিনা বেতনে চাকরিরত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিরিণ আক্তারের এক ছেলে এবার জেএসসি পাস করেছে। শিরিণ বলেন, ছেলে কিছু চাইলে না দিতে পারলে বলে কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছ। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে তোমরা কী করছ। আমরা লেখাপড়া করে কী হবে। লেখাপড়া না করে অন্য কোনো কাজ করলে টাকা পাওয়া যাবে। ছেলের এসব কথার কোনো জবাব দিতে পারেন না বলে আফসোস করে জানালেন শিরিণ আক্তার। তিনি বলেন, আমি লালমাটিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। আমার অন্যান্য আত্মীয়স্বজন প্রতিষ্ঠিত এবং অনেকে ঢাকায় রয়েছেন। আমি ও আমার স্বামী দুইজনেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেও আজ বিড়ম্বনার শিকার। অনেক স্বপ্ন ছিল কলেজে শিক্ষকতা করব আর নিরিবিলি সংসার করব। সে আশা থেকেই শিক্ষকতায় যোগ দিয়েছিলাম। এক দিন এমপিও হবে এ আশায় আশায় এতটা বছর পার হয়ে গেল।
বেতনহীন অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী মিলে টেনেটুনে সংসার চালাই। বেতনহীন চাকরি জীবন বড় কষ্ট আর বিড়ম্বনার জীবন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা সাবিনা ইয়াসমীনের এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলে এ বছর জেএসসি পাস করেছে গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়ে। সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ছেলের কোনো সখ পূরণ করতে না পারলে সে অভিযোগ করে কেন চাকরি করছ আর কেনই বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে। সাবিনা ইয়াসমীন বলেন, মা-বাবা টাকা খরচ করেন অনেক আশায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়িয়েছেন। কিন্তু তাদের জন্য, শ্বশুর-শাশুড়ি কারোর জন্য কিছু করতে পারি না আমরা। ঈদ উৎসবে ভালো কিছু দিতে পারি না ছেলে মেয়ে ও আত্মীয়স্বজনদের। মাগুরার শালিখা উপজেলার শিংড়ায় অবস্থিত সরস্বতী শিকদার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে প্রভাষক বিকাশ পাত্র, সুকণ্ঠ বিশ্বাস, দেবব্রত বিশ্বাস, প্রতাপ বিশ্বাস, খোকন বিশ্বাস যোগ দিয়েছেন অনশন কর্মসূচিতে। তাদের দুইজন ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ এবং তিনজন যশোর সরকারি এম এম কলেজ থেকে অনার্স মাস্টার্স পাস করে শিক্ষকতা করছেন বিনা বেতনে। সারা দেশে পাঁচ হাজার ২৪২টি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওকরণের দাবিতে শিক্ষকেরা গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে রাজধানীর জাতীয় প্রেস কাবের সামনে আমরণ অনশন পালন করছেন। এতে যোগ দিয়েছেন কয়েক হাজার শিক্ষক- শিক্ষিকা কর্মচারী।

প্রয়োজন মাত্র ১৪ হাজার টাকা

আজ থেকে প্রায় ৬০ বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে ভর্তি হয়েছিলেন নিতুন কুণ্ডু। তার কোনও থাকার জায়গা ছিলোনা। তিনি ফুটপাতে ঘুমিয়েছেন, খেয়ে- না খেয়ে দিন কাটিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা নিয়ে তিনি যেমন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তেমনি বিপ্লব সাধন করে গেছেন বাংলাদেশের আসবাবের জগতে। তিনি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন বহুল পরিচিত আসবাব নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান অটোবি।

৬০ বছর পর তেমনই এক সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাঠমিস্ত্রি রফিক মিঞার ছেলে কাজী কামরুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পেয়েছেন। কিন্তু সামনে বাঁধা ভর্তির টাকা। বাবা কাজ করে সারাদিনে যা আয় করেন তা দিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসার চালানোই দুস্কর। তিনি কোথায় পাবেন ছেলের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকা। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ডিওএইচপিএস’ এর সহযোগিতায় এ্যাডভ্যান্স রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে সে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছিলেন কামরুজ্জামান। এখন উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছাটাই বাধাপ্রাপ্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রয়োজন প্রায় ১৪ হাজার টাকা। এই ৭ জানুয়ারির মধ্যে টাকাটা যোগাঢ় করে ভর্তি হতে হবে কামরুজ্জামানকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর হয়তো অনেক সুযোগ সুবিধা পাবেন তিনি। তবে ভর্তির জন্য এ পরিমাণ টাকা জমা দিতে হবে। কামরুজ্জামান বিশ্বাস করে কোনও না কোনও মানুষ তাকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসবেন। আর সে সহযোগিতায় তিনিও হয়ে উঠবেন নিতুন কুণ্ডুর মতো কেউ।