Thursday, September 22, 2011

নানামুখী উদ্যোগ নিলেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে না

পতনের বৃত্ত থেকে বের হতেই পারছে না দেশের শেয়ারবাজার। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নানা উদ্যোগে সাময়িকভাবে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেলেও সেটি স্থায়ী হচ্ছে না। ফলে বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে কোনো উদ্যোগের সুফল আসছে না। গতকালও দুই শেয়ারবাজারে আবার দরপতন ঘটেছে।
শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্টদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। যেখানে বাণিজ্যিক ব্যাংকের একক গ্রাহক ঋণসীমা (সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার লিমিট) এবং অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগসীমা সমন্বয়ের সময় এক বছর বাড়িয়ে ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর করা হয়।
গত সোমবার লেনদেন চলাকালেই এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই বাজারের চিত্র পাল্টে যায়। দিনশেষে দরপতনের ধারা থেকে বেরিয়ে আসে বাজার। গতকাল মঙ্গলবারও সেই ধারাবাহিকতা নিয়েই দুই স্টক এক্সচেঞ্জে দিনের লেনদেন শুরু হয়।
গতকাল লেনদেনের প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যেই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৮০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর কিছুটা নিম্নগতি দেখা যায়। সকাল সাড়ে ১১টার পর ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক আবারও বাড়তে থাকে। দুপুর ১২টার মধ্যে তা আগের দিনের চেয়ে ১০২ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৯৪৩ পয়েন্টে ওঠে। এটিই ছিল গতকাল ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচকের সর্বোচ্চ অবস্থান। এরপর শুরু হয় দরপতন, যা দিনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৩২ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৮১০ পয়েন্টে।
বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আকতার হোসেন সান্নামাত প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজারের লেনদেনের চিত্র দেখে মনে হয়েছে, ঘোষণা দিয়েও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে খুব বেশি সক্রিয় ছিল না। দুপুরের পর বিনিয়োগকারীরা যখন দেখল লেনদেনের পরিমাণ কম, তখন তাঁরা হতাশ হয়ে শেয়ার বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক একক গ্রাহক ঋণসীমা সমন্বয়ের সময় বাড়ালেও তাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ ক্ষমতা বাড়েনি। হয়তো বিক্রির চাপ কিছুটা কমবে।’
আকতার হোসেন আরও বলেন, এই মুহূর্তে বাজারে বড় প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ। প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বিনিয়োগে এগিয়ে আসে সেই উদ্যোগই নিতে হবে। পাশাপাশি এসইসি ও ডিএসইকে বাজার তদারকি আরও জোরদার করতে হবে।
ঢাকার বাজারে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৮ শতাংশেরই দাম কমেছে। এদিন ডিএসইতে ২৫৯ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৭৬টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ৭৩টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১০টির দাম।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৪০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৪৭৩ পয়েন্টে। চট্টগ্রামের বাজারে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫২ শতাংশেরই দাম কমেছে। দিনশেষে সিএসইতে ১৮৫টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ৯৬টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ৭৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১২টির দাম।
শেয়ারের দাম কমার পাশাপাশি দুই বাজারেই লেনদেন কমেছে। মঙ্গলবার ঢাকার বাজারে ৩৩৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ৩৭ কোটি টাকা কম। আর চট্টগ্রামের বাজারে লেনদেন হয়েছে ৪৩ কোটি টাকার শেয়ার, যা আগের দিনের চেয়ে ১৪ কোটি টাকা কম।

সমাজসেবা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের নতুন আইন করা হচ্ছে

দেশে সমাজসেবা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন আইন করা হচ্ছে। এই আইনের আওতায় সমাজসেবার নাম ভাঙিয়ে অন্য কোনো ব্যবসা করা যাবে না। অর্থাৎ অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের কথা বলে নিবন্ধন নিয়ে কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান গঠন করা যাবে না।
সমাজসেবা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন পেতে এর উদ্যোক্তাদের আয়কর প্রদানকারী ব্যক্তি হতে হবে। পেশাগত পরিচয়ও থাকতে হবে তাঁদের।
এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে ১৫০ বছরের পুরোনো বিদ্যমান সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৮৬০ বাতিল করার উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। নতুন আইনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে ‘সামাজিক সংগঠন (গঠন, নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১১’।
আইনটির খসড়া তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানান, আগে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণের কোনো হাতিয়ার ছিল না। ফলে ছিল না এসব সংগঠনের কোনো জবাবদিহিও। জবাবদিহির বিধান রেখে নতুন আইনটি তুলনামূলক কঠোর করা হচ্ছে। উদ্দেশ্যের সঙ্গে কার্যক্রমের মিল থাকলেই পরিচালনা করতে দেওয়া হবে সংগঠনকে। সংশোধিত আইনে কী উদ্দেশ্যে সোসাইটি গঠন করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় আইনটির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। চূড়ান্ত করার আগে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধক কার্যালয় (রেজসকো) প্রতিনিধি নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় পর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যমান সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন আইনের সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কার্যক্রমের কোনো মিল নেই। অনেকে সোসাইটির নিবন্ধন নিয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার নিবন্ধন নিয়েই এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে নেমে পড়েছে ব্যবসায়। ওই সব ব্যবসায়ের লাভ-লোকসানের চিত্র বা বার্ষিক প্রতিবেদন রেজসকোতে জমা হওয়ার বিধান থাকলেও, বাস্তবে কেউ তা জমা দেয় না।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানান, এসব কর্মকাণ্ডের খবর সরকার জানে। কিন্তু আইনে কাঠোর কোনো শাস্তির বিধান না থাকায় লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। আবার দেশে এত বেশি সামাজিক সংগঠন হয়ে গেছে যে, এগুলোর নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এবং লোকবলও রেজসকোর নেই।
কী পরিমাণ প্রতিষ্ঠান আইন লঙ্ঘন করছে বা সোসাইটি নাম নিয়ে এনজিও কার্যক্রম চালাচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্যও নেই রেজসকোর কাছে।
যোগাযোগ করা হলে বিদ্যমান সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন আইনের ব্যাপক অপব্যবহার হওয়ার কথা প্রথম আলোর কাছে স্বীকার করেন নিবন্ধক আহমেদুর রহিম। তিনি বলেন, মতামতের জন্য আইনের খসড়াটি ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের মতামতের পর বিষয়টি যাবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। মন্ত্রিসভায় পাস হলে তারপর যাবে তা সংসদে। নতুন আইন পাস হলে দেশের সামাজিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের অন্তর্ভুক্ত ভলান্টারি অর্গানাইজেশন রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের মাধ্যমেও সোসাইটির নিবন্ধন নেওয়া যায়। অনেকে আবার সোসাইটির নিবন্ধন নিয়ে থাকেন ১৮৮২ সালের ট্রাস্ট আইনের আওতায়। কিন্তু সহজলভ্যতার কারণে বেশির ভাগ সোসাইটিরই নিবন্ধন হয়ে থাকে রেজসকোতে।
এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আগামী ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ‘সামাজিক সংগঠন (গঠন, নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১১’-এর খসড়ার ওপর মতামত দেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছে। মতামত দেওয়ার জন্য আইনটির খসড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের ‘লেটেস্ট নিউজ অ্যান্ড কমেন্টস’ নামক পৃষ্ঠায় সংযোজন করা হয়েছে।
সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১২৩ নম্বর কক্ষে পরিচালক, বাণিজ্য সংগঠন বরাবর চিঠি পাঠিয়ে; অথবা ০২-৭১৬১৬৭৯ নম্বরে ফোন করে; অথবা dto@mincom.gov.bd ঠিকানায় ই-মেইলের মাধ্যমে মতামত দেওয়া যাবে।

নিজ কোম্পানির শেয়ার কিনতে চায় বড় মূলধনের কোম্পানিগুলো

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে নিজ কোম্পানির শেয়ার কিনতে চায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বড় মূলধনের কোম্পানিগুলো। একই সঙ্গে মার্চেন্ট ব্যাংক ও তাদের গ্রাহকদের মধ্যে ঋণ নিয়ে সমস্যা সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি ও ডিএসইর পরিচালক সালমান এফ রহমান এসব কথা জানান।
সালমান এফ রহমান বলেন, ‘পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সবাই চিন্তিত। আমরা স্থিতিশীল একটি পুঁজিবাজার চাই। গতকাল বিএপিএলসির বেশ কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি। কোম্পানির উদ্যোক্তারা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ারে সাপোর্ট করার ব্যাপারে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
সালমান আরও বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে রেগুলেশনে কিছু সমস্যা রয়েছে। আমি আজ এসইসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। ডিএসইর মাধ্যমে বিষয়টি প্রস্তাবনা আকারে পেশ করলে এসইসির চেয়ারম্যান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’
ডিএসইর এই নেতা বলেন, ‘বাজারে বর্তমানে আস্থার সংকট রয়েছে। এর পাশাপাশি যাঁরা মার্জিন ঋণ দিয়েছেন এবং যাঁরা নিয়েছেন, তাঁরাও সংকটে রয়েছে। আমরা এ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছি।’
আগামী সপ্তাহের শুরুতে মার্চেন্ট ব্যাংকারদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি সমাধানে পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন সালমান।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলএফসিএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আসাদ খান বলেন, ‘বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমরা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি।’
আসাদ খান আরও বলেন, ‘আগেও আমরা সহযোগিতা করেছি। ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, ‘শেয়ারবাজারে বর্তমানে ক্রান্তিকাল চলছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছি। এরই আলোকে আজ বিএপিএলসি ও বিএলএফসিএর নেতাদের সঙ্গে বসেছি। এর মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

বাজেট ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা ওবামার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত সোমবার বাজেট ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তাঁর এ রূপরেখায় ধনীদের কর বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
রিপাবলিকানরা প্রেসিডেন্ট ওবামার পরিকল্পনাকে রাজনৈতিক চমক হিসেবে বর্ণনা করে নাকচ করে দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, আগামী দশকে ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থ সাশ্রয় করা তাঁর এ পরিকল্পনার লক্ষ্য। গত সোমবার হোয়াইট হাউসে তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ধনীদের বেশি হারে কর দিতে হবে।
রিপাবলিকানরা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে ওবামার প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ওবামার ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে আগে থেকেই নাখোশ ছিলেন রিপাবলিকানরা। তাঁরা বলছেন, কর বৃদ্ধি কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বৃদ্ধি করবে। এসব কারণে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে হচ্ছে।
ঘাটতি কমাতে শুধু ব্যয় হ্রাসের ওপর নির্ভরশীল কোনো পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ভেটো দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ওবামা। প্রেসিডেন্টের এ পরিকল্পনা তাঁর সঙ্গে রিপাবলিকানদের আদর্শিক লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ২০১২ সালে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত এ লড়াই চলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ‘আমি এমন কোনো পরিকল্পনা সমর্থন করব না, যাতে বাজেট ঘাটতি হ্রাসের বোঝা সাধারণ আমেরিকানদের ওপর গিয়ে পড়বে।’ তিনি বলেন, আর এ কারণেই বাজেট ঘাটতি কমাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ধনী ব্যক্তিদের অবদান রাখা উচিত।
যাঁদের আয় বছরে ১০ লাখ ডলারের বেশি, তাঁরা ওবামার এ কর পরিকল্পনার আওতায় পড়বেন। দেশটির করদাতাদের মধ্যে মাত্র শূন্য দশমিক তিন শতাংশ এ করের আওতায় আসবেন।
প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, সব আমেরিকানকে ট্যাক্সের ‘ন্যায্য ভাগ’ অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।
প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ও কংগ্রেসে রিপাবলিকান নেতা জন বোয়েহনার ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারকে আরও অর্থ দেওয়া হবে কোকেনসেবীকে আরও কোকেন দেওয়ার মতো।’
ওবামার প্রস্তাবটি ‘সুপার কমিটি’তে পাঠানো হবে। যে কমিটিতে রয়েছেন ছয়জন রিপাবলিকান ও ছয়জন ডেমোক্র্যাট সদস্য।

নানামুখী উদ্যোগ নিলেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে না

পতনের বৃত্ত থেকে বের হতেই পারছে না দেশের শেয়ারবাজার। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নানা উদ্যোগে সাময়িকভাবে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেলেও সেটি স্থায়ী হচ্ছে না। ফলে বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে কোনো উদ্যোগের সুফল আসছে না। গতকালও দুই শেয়ারবাজারে আবার দরপতন ঘটেছে।
শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্টদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। যেখানে বাণিজ্যিক ব্যাংকের একক গ্রাহক ঋণসীমা (সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার লিমিট) এবং অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগসীমা সমন্বয়ের সময় এক বছর বাড়িয়ে ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর করা হয়।
গত সোমবার লেনদেন চলাকালেই এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই বাজারের চিত্র পাল্টে যায়। দিনশেষে দরপতনের ধারা থেকে বেরিয়ে আসে বাজার। গতকাল মঙ্গলবারও সেই ধারাবাহিকতা নিয়েই দুই স্টক এক্সচেঞ্জে দিনের লেনদেন শুরু হয়।
গতকাল লেনদেনের প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যেই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৮০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর কিছুটা নিম্নগতি দেখা যায়। সকাল সাড়ে ১১টার পর ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক আবারও বাড়তে থাকে। দুপুর ১২টার মধ্যে তা আগের দিনের চেয়ে ১০২ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৯৪৩ পয়েন্টে ওঠে। এটিই ছিল গতকাল ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচকের সর্বোচ্চ অবস্থান। এরপর শুরু হয় দরপতন, যা দিনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৩২ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৮১০ পয়েন্টে।
বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আকতার হোসেন সান্নামাত প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজারের লেনদেনের চিত্র দেখে মনে হয়েছে, ঘোষণা দিয়েও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে খুব বেশি সক্রিয় ছিল না। দুপুরের পর বিনিয়োগকারীরা যখন দেখল লেনদেনের পরিমাণ কম, তখন তাঁরা হতাশ হয়ে শেয়ার বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক একক গ্রাহক ঋণসীমা সমন্বয়ের সময় বাড়ালেও তাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ ক্ষমতা বাড়েনি। হয়তো বিক্রির চাপ কিছুটা কমবে।’
আকতার হোসেন আরও বলেন, এই মুহূর্তে বাজারে বড় প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ। প্রতিষ্ঠানগুলো যেন বিনিয়োগে এগিয়ে আসে সেই উদ্যোগই নিতে হবে। পাশাপাশি এসইসি ও ডিএসইকে বাজার তদারকি আরও জোরদার করতে হবে।
ঢাকার বাজারে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৮ শতাংশেরই দাম কমেছে। এদিন ডিএসইতে ২৫৯ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৭৬টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ৭৩টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১০টির দাম।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৪০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৪৭৩ পয়েন্টে। চট্টগ্রামের বাজারে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫২ শতাংশেরই দাম কমেছে। দিনশেষে সিএসইতে ১৮৫টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ৯৬টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ৭৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১২টির দাম।
শেয়ারের দাম কমার পাশাপাশি দুই বাজারেই লেনদেন কমেছে। মঙ্গলবার ঢাকার বাজারে ৩৩৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ৩৭ কোটি টাকা কম। আর চট্টগ্রামের বাজারে লেনদেন হয়েছে ৪৩ কোটি টাকার শেয়ার, যা আগের দিনের চেয়ে ১৪ কোটি টাকা কম।

চীনে বন্যায় ৭০ জনের মৃত্যু

চীনে ভারী বৃষ্টিপাত থেকে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে কমপক্ষে ৭০ জন প্রাণ হারিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।
চীনের বেসামরিকবিষয়ক মন্ত্রণালয় গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বন্যায় এ পর্যন্ত ২৯ জন নিখোঁজ ও অনেকেই আহত হয়েছে। এ ছাড়া এক লাখ ২০ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। প্রায় ১৭ লাখ মানুষ বন্যাকবলিত এলাকা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

মিয়ানমারের সংবাদ নিয়ন্ত্রণ আইন রদ করতে হবে

মিয়ানমারের সেনাসমর্থিত সরকারকে সংবাদ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক কঠোর আইন অবশ্যই রদ করতে হবে। একই সঙ্গে কারাগারে বন্দী সাংবাদিকদের মুক্তি দিতে হবে। রাজনৈতিক সংস্কারের যে অঙ্গীকার তারা করেছে, এর বিশ্বাসযোগ্যতার প্রমাণ রাখতে এসব করতে হবে তাদের।
গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষাবিষয়ক সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
সিপিজের মতে, বিশ্বের যেসব দেশে সংবাদমাধ্যমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে, তার মধ্যে মিয়ানমার অন্যতম। নবনির্বাচিত বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার পরও দেশটির সংবাদমাধ্যম ভয়ভীতির মধ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
সংস্থাটি জানায়, গত নভেম্বরের বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকার সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কঠোর আইন শিথিলে খুব সামান্যই কাজ করেছে। বরং নির্বাচনের পর তারা দুজন সাংবাদিককে দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে।
সিপিজের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক প্রতিনিধি শন ক্রিসপিন বলেন, ‘মিয়ানমার সরকারের সংস্কারবিষয়ক অঙ্গীকারকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে এখনো সেখানে সংবাদ প্রচারের ব্যাপারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।’

জাপানে অস্ত্রনির্মাতা প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা

জাপানের শীর্ষস্থানীয় অস্ত্রনির্মাতা প্রতিষ্ঠান মিৎসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ (এমএইচআই) সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ক্ষেপণাস্ত্র, ডুবোজাহাজ ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণবিষয়ক তথ্যভান্ডার এ হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এমএইচআই বলেছে, গত মাসে তাদের ৮০টির বেশি সার্ভার ও কম্পিউটারে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে জাপান সরকার বলছে, এ হামলায় কোনো স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস হয়েছে কি না, তা তাদের জানা নেই।
সাইবার হামলার ঘটনায় পূর্ণ তদন্ত পরিচালনা করতে এমএইচআইয়ের প্রতি দাবি জানিয়েছে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। স্থানীয় গণমাধ্যমে ওই হামলার খবর জানার পর কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হন।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসুয়ো ইচিকাওয়া গতকাল মঙ্গলবার জানান, হামলাকারীরা কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রাখতে সফল হয়নি। তবে এমএইচআইকে তাদের তথ্য নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয় সমস্যাটি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন হলে তদন্ত পরিচালনাও করবে।’

আগামী দুই বছরে ১৬০ কোটি ডলার ব্যয় করবে নাসা

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা মহাকাশযানসহ সহায়ক বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করতে আগামী দুই বছরে ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছে। দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইনের বরাত দিয়ে পিটিআই এ খবর প্রকাশ করেছে।
টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়, নাসা চলতি দশকের মাঝামাঝি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) নভোচারী পাঠাবে। এ জন্য তারা লঞ্চার, মহাকাশযান তৈরি, অভিযান পরিচালনা ও বাস্তবায়নকাজের জন্য আগামী দুই বছরে ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে।
খবরে বলা হয়, বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মহাকাশযান তৈরি করছে। তাই এই ১৬০ কোটি ডলার হবে মূলত সম্পূরক বিনিয়োগ।
৩০ বছর পর সম্প্রতি নাসা মার্কিন মহাকাশযান যুগের সমাপ্তি ঘটায়। এখন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নভোচারী আনা-নেওয়া বা অন্য কাজের জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

সিরিয়ায় আন্দোলনে নিহত ২৭০০

সিরিয়ায় গত ছয় মাসের সরকারবিরোধী আন্দোলনে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে দুই হাজার ৭০০ জন নিহত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এ তথ্য জানায়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক উপহাইকমিশনার কিয়ুং ওয়া কাং বলেন, মধ্য মার্চে গণবিক্ষোভ শুরুর পর থেকে আজ পর্যন্ত সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে দুই হাজার ৭০০ জন নিহত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এটা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।
উপহাইকমিশনার জানান, তাঁর দপ্তর এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ৫০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির তালিকা প্রস্তুত করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ চাইলে এ তালিকা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠাবে।
কিয়ুং ওয়া কাং সিরিয়ার সহিংসতার বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের ব্যাপারে সহায়তার জন্য প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে সিরিয়া সরকারকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ইয়েমেনে সরকারবিরোধীদের সঙ্গে সেনাদের ব্যাপক সংঘর্ষ

গোলাগুলি আর শক্তিশালী বিস্ফোরণে গতকাল মঙ্গলবার টানা তৃতীয় দিনের মতো টালমাটাল ছিল ইয়েমেনের রাজধানী সানা। দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষত্যাগী সেনাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের অনুগত সেনাদের সংঘর্ষে গতকাল অন্তত সাতজন নিহত হয়। আহত হয় কমপক্ষে ১৬ জন। এ নিয়ে গত তিন দিনে অন্তত ৫৯ জন নিহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাতে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। এরপর সংঘর্ষ কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকে। গতকাল সকালে আবার প্রচণ্ড সংঘর্ষ শুরু হয়। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর ছেলে আহমেদের নেতৃত্বে রিপাবলিকান গার্ডের সেনারা গতকাল চেঞ্জ স্কয়ার ঘিরে থাকা পক্ষত্যাগী সেনাদের লক্ষ করে গুলি ছোড়ে। সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে চেঞ্জ স্কয়ার বিক্ষোভকারীদের কেন্দ্রস্থল হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। সরকারি সেনাদের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পক্ষত্যাগী জেনারেল আলী মোহসেন আল আহমার।
গতকাল চেঞ্জ স্কয়ারের আশপাশের এলাকা ও এর কাছেই আল জুবায়েরি সড়কে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। চেঞ্জ স্কয়ার লক্ষ্য করে মর্টারের গোলা ছোড়া হয়। ছোড়া হয় বিমানবিধ্বংসী গোলাও। স্থানীয় হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা পক্ষত্যাগী সেনাদের বরাত দিয়ে জানান, সংঘর্ষে চারজন বেসামরিক নাগরিক ও তিনজন সেনা নিহত হয়েছে।
সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে ওই এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, সরকারি কার্যালয়সহ সবকিছু বন্ধ রয়েছে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সংগঠকেরা দাবি করেন, বিক্ষোভের কেন্দ্র বিস্তৃত হয়েছে। চেঞ্জ স্কয়ার হয়ে আল জুবায়েরি সড়ক পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় দেড় লাখ মানুষ সমবেত হয়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছে। তবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে তাদের এ দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেনারেল আহমারের সেনা ও বিক্ষোভকারীদের গঠিত নিরাপত্তা কমিটির সদস্যরা ওই এলাকা ঘিরে রেখেছে। সেখানে কেউ প্রবেশ করতে চাইলে তল্লাশি চালানোর পর অনুমতি দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত সোমবার দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়। তাদের মধ্যে তিনজন পক্ষত্যাগী সেনা রয়েছে। গত রোববার নিহত হয় ২৬ জন। বিক্ষোভকারী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, তিন দিনে অন্তত ৬০০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক প্রধান ক্যাথেরিন অ্যাস্টন গতকাল সহিংসতা বন্ধ ও প্রেসিডেন্ট সালেহকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
১৯৭৮ সাল থেকে ইয়েমেনের ক্ষমতায় আছেন প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ। দেশটির বিরোধী জোট তাঁর বিরুদ্ধে নিপীড়ন, জুলুম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে পদত্যাগের দাবিতে কয়েক মাস ধরে বিক্ষোভ করছে।

আমার সরকারকে উৎখাত করা সম্ভব নয়

লিবিয়ার পলাতক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি বলেছেন, তিনি জনগণের মত অনুসারে সরকার প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং তা উৎখাত করা সম্ভব নয়। গতকাল মঙ্গলবার সিরিয়াভিত্তিক অ্যারাই টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক অডিওবার্তায় গাদ্দাফি এ কথা বলেন।
ওই সংক্ষিপ্ত অডিওবার্তায় গাদ্দাফি দেশটির চলমান ঘটনা প্রবাহকে ‘রঙ্গ’ বলেও উড়িয়ে দেন। সাধারণত গাদ্দাফি তাঁর মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিমের মাধ্যমেই অ্যারাই টেলিভিশনে নিজের বার্তা প্রচার করে থাকেন। তবে ৮ সেপ্টেম্বর নাইজারে পালিয়ে যাওয়ার খবর অস্বীকার করার পর এটাই গণমাধ্যমে গাদ্দাফির প্রথম অডিওবার্তা।
অডিওবার্তায় গাদ্দাফি বলেন, লিবিয়ায় যা কিছু ঘটছে, তা ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার কারণেই ঘটছে, যা চিরস্থায়ী হবে না। গাদ্দাফি বিদ্রোহীদের উল্লসিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ভেবো না এক সরকার উৎখাত হয়েছে এবং আকাশ ও নৌপথে হামলার মাধ্যমে আরেক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
এদিকে লিবিয়ায় গাদ্দাফিবিরোধী যোদ্ধারা গতকাল বলেছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে লিবিয়ার স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির দুর্ভেদ্য সাবহা শহরের একটি বিমানবন্দর ও একটি সেনাঘাঁটি তারা দখল করে নিয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগী দেশগুলো লিবিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন লিবিয়ার বিদ্রোহীরা ওই বিমানবন্দর ও সেনাঘাঁটি দখলের খবর দিল।
বিদ্রোহীদের ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) ‘ডেজার্ট শিল্ড ব্রিগেড’-এর মুখপাত্র মোহাম্মদ ওয়ারদুগু বলেন, ত্রিপোলির ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণাঞ্চলীয় কৌশলগত শহর সাবহার একটি বিমানবন্দর ও সেনাঘাঁটি দখল করা হয়েছে।
ওয়ারদুগু বলেন, সাবহার কিছু এলাকায় এখনো লড়াই চলছে। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এনটিসি যোদ্ধাদের সম্পূর্ণ শহরের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার কথা।

ভ্যালেন্সিয়া-পরীক্ষার সামনে বার্সা

লেভান্তে-ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না-উঠতেই আজ আবার মাঠে নামছে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রতিপক্ষ রেসিং সান্তান্দার। গত মৌসুমের কথা কি মনে আছে? সেবারও শুরুর দিকে লেভান্তে এ রকম একটা ধাক্কা দিয়েছিল রিয়ালকে, ড্র করে বসেছিল। রিয়াল পরের তিন ম্যাচে বইয়ে দিয়েছিল গোলের বন্যা (১৬টি)। কচুকাটা হয়েছিল রেসিংও। হেরেছিল ৬-১ গোলে। আজও কি...?
আজ স্প্যানিশ লিগে অবশ্য বড় ম্যাচটা মেস্তালায়। নিজেদের মাঠে ভ্যালেন্সিয়া মুখোমুখি হবে চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার। লা লিগার গত এগারো মৌসুমের মধ্যে রিয়াল-বার্সা বাদে কেবল ভ্যালেন্সিয়াই শিরোপার মুখ দেখেছিল। তারই পুনরাবৃত্তি এই মৌসুমে ভ্যালেন্সিয়া করতে পারবে কি না, সে তো অনেক দূরের ব্যাপার। তবে এরই মধ্যে ৩ ম্যাচের প্রতিটাই জিতে কিন্তু শুভসূচনাই করছে লিগের শীর্ষে থাকা ভ্যালেন্সিয়া। আজ বার্সার জন্য তাই বড় পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে।
ভ্যালেন্সিয়ার সর্বশেষ লিগ শিরোপা দুটি এসেছিল ২০০১-০২ এবং ২০০৩-০৪ মৌসুমে। কোচ ছিলেন রাফা বেনিতেজ। আজকের এই মহারণে নামার আগে বেনিতেজের আশীর্বাদ সঙ্গে নেবে ভ্যালেন্সিয়া। লিভারপুল-ইন্টার মিলান ঘুরে দেশে বেকার জীবনযাপন করা বেনিতেজকে আজ ম্যাচের আগে সংবর্ধনা দেওয়া হবে ক্লাবের পক্ষ থেকে।
সর্বশেষ দুবারই তিনে থেকে লিগ শেষ করেছিল তারা। ফলে বার্সা-রিয়ালের ‘দ্বিচক্রযান’ থামাতে পারলে ভ্যালেন্সিয়াই পারবে, এমনটা মনে করেন অনেকেই। যদিও বর্তমান কোচ উনাই এমেরি মনে করিয়ে দিচ্ছেন, লিগের মাত্রই শুরু, ‘আমাদের মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। লিগ তো কেবল শুরু হলো। শীর্ষে থাকাটা আমরা উপভোগ করতে পারি, কিন্তু এও মনে রাখতে হবে, সামনে লম্বা পথ।

ক্রিকেট দলের ম্যানেজার জাহিদ রাজ্জাক

নতুন অধিনায়ক, সহ-অধিনায়ক শুধু নন, বিসিবির কালকের সভায় জাতীয় দল পেল নতুন ম্যানেজারও। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন দুটি হোম সিরিজের জন্য জাতীয় দলের ম্যানেজার করা হয়েছে সাবেক ক্রিকেটার ও নির্বাচক জাহিদ রাজ্জাক মাসুমকে।
জাতীয় দলের ম্যানেজার চেয়ে বিসিবি বিজ্ঞাপন দিলেও এখনো কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। জাহিদ রাজ্জাক তাই আপৎকালীন ম্যানেজার। তবে সভা শেষে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, স্থায়ী ম্যানেজার হওয়ার আবেদন করার সুযোগও তাঁর আছে।
পরিচালনা পর্ষদের কালকের সভায় অনুমোদিত হয়েছে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার গঠনতন্ত্র। তবে বিসিবির গঠনতন্ত্রের সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়নি বলে জানা গেছে। সভায় জেলা পর্যায়ে ৩৯ জন কোচ নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে, অনুমোদিত হয়েছে বিসিবির কোচিং নীতিও।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের প্রাথমিক দল

নতুন অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়ক ঘোষণার দিনে আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের জন্য ২৩ সদস্যের প্রাথমিক দলও ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। কালকের বোর্ড সভার আগেই নির্বাচকেরা এই প্রাথমিক দল নির্বাচন করে জমা দিয়েছিলেন। প্রাথমিক দলে জিম্বাবুয়ে সিরিজ খেলে আসা ১৬ জনই আছেন। যে সাতজন যোগ হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে বাঁহাতি স্পিনার ইলিয়াস সানি ও উইকেটরক্ষক সগীর হোসেনই শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের অপেক্ষায়। প্রধান নির্বাচক আকরাম খান জানিয়েছেন, চূড়ান্ত দল ঘোষণা করা হবে ২৭-২৮ সেপ্টেম্বর। দুই টেস্ট, তিন ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি খেলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল বাংলাদেশে আসছে আগামী ৪ অক্টোবর।
২৩ সদস্যের প্রাথমিক দল
তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, শাহরিয়ার নাফীস, জুনায়েদ সিদ্দিক, মোহাম্মদ আশরাফুল, মুশফিকুর রহিম, সগীর হোসেন, সাকিব আল হাসান, শুভাগত হোম চৌধুরী, রকিবুল হাসান, মাহমুদউল্লাহ, অলক কাপালি, নাঈম ইসলাম, নাসির হোসেন, আবদুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী, ইলিয়াস সানি, রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, নাজমুল হোসেন, রবিউল ইসলাম ও সৈয়দ রাসেল।

আজ দিবারাত্রির ফাইনাল

বিসিবি কাপে একজন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক, আরেকজন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের। আরেকটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাও ছিল তাঁদের মধ্যে—জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ অধিনায়ক হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছিল দুজনেরই। তবে আজ বিসিবি কাপের ফাইনালের আগে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ একটা জায়গায় অন্তত এক বিন্দুতে। দুজনই বলছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে সেরা প্রস্তুতির সুযোগ করে দিয়েছে এই টুর্নামেন্ট।
ফাইনালের আগে কে চ্যাম্পিয়ন হবে, দুই দলের শক্তিমত্তা-দুর্বলতা কী—এসব নিয়েই আলোচনা হওয়া উচিত। কিন্তু মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ এমন একটা টুর্নামেন্টের ফাইনাল, ট্রফি জয়ের লড়াইয়ের চেয়েও যেটা আসলে প্রস্তুতিরই মঞ্চ। মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ—জাতীয় দলের দুই ক্রিকেটারই বলেছেন, এই টুর্নামেন্ট সুযোগ করে দিয়েছে আদর্শ প্রস্তুতির। ‘খুব ভালো প্রস্তুতি হয়েছে। সবাই রান পেয়েছে—এটা একটা ইতিবাচক দিক। জিম্বাবুয়েতে আমাদের ব্যাটিং ভালো হয়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগে এই টুর্নামেন্টটাতে ভালো প্রস্তুতি হয়েছে’—বলেছেন মাহমুদউল্লাহ। প্রায় একই কথা মুশফিকেরও, ‘অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা হয়েছে এখানে। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য বিসিবি কাপে ভালো করার চাপ ছিল। আমার মনে হয়, সব ম্যাচেই আমরা ভালো খেলেছি।’
ভালো খেলা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মুশফিকও আছেন। চার ম্যাচে তিন ইনিংস ব্যাটিং করে অপরাজিত ২, ৬৩ ও অপরাজিত ৬৪। তিন ম্যাচ খেলে দুটিতেই ফিফটি (৩৬, ৬৫, ৬৬*) করেছেন তামিম ইকবাল। প্রথম ম্যাচে না খেললেও ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ৮৩ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেছেন আশরাফুল। এ ছাড়া শাহরিয়ার নাফীস এবং ‘এ’ দলের মাহমুদউল্লাহ ও নাঈমদের ব্যাটেও ছিল আলো। বোলারদের মধ্যে রুবেল, নাজমুল, নাসির, সোহরাওয়ার্দী—সবাই কমবেশি সফল। মুশফিকও গুরুত্ব দিচ্ছেন সবার একসঙ্গে ফর্মে থাকাটাকেই, ‘ব্যাটসম্যানরা রান পেয়েছে। বোলারদের মধ্যে যাদের কাছে প্রত্যাশা ছিল, তারা সেটা পূরণ করেছে।’
প্রস্তুতি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে বিসিবি কাপের আলোচনায় ভালোভাবেই আছে উইকেট। ক্রিকেটাররা সবাই মোটামুটি একমত—এর চেয়ে ভালো উইকেট আগে পাওয়া যায়নি দেশের ক্রিকেটে। মাহমুদউল্লাহ তো চাইছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও এ রকম উইকেটই থাকুক, ‘উইকেটে ঘাস থাকলেও ব্যাটিংয়ের জন্য এটা দারুণ উইকেট। বোলারদের জন্যও ভালো। ভালো জায়গায় বল করলে সব সময়ই মুভমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে। ভালো বাউন্স আছে। এ রকম উইকেট থাকলে আমার মনে হয় না কোনো সমস্যা হবে। সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে আশা করি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও এই উইকেটে সাফল্য পাব।’
প্রস্তুতির আড়ালে বিসিবি কাপ একটা টুর্নামেন্টও। ফাইনালে তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকেই। বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকের আশা আগের ম্যাচগুলোর মতো আজও শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখবে তাঁর দলই, ‘সব ম্যাচে আমরা ভালো খেলে জিতেছি। আশা করি, ফাইনালেও তাই হবে।’ ফাইনালের আগে দুই ম্যাচেই মুশফিকের দলের কাছে হারলেও আজ দান উল্টে দেওয়ার প্রত্যয় মাহমুদউল্লাহর কণ্ঠে, ‘ফাইনালে ওদের হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’
আজকের ফাইনাল দর্শকদের জন্যও হতে পারে বাড়তি আকর্ষণের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দিবারাত্রির ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে ফাইনালটিও দিবারাত্রির। দুপুর দেড়টায় শুরু ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচারিত হবে বিটিভিতে।

মুশফিক-মাহমুদকে সাকিবের অভিনন্দন

কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলতে এখন তিনি হায়দরাবাদে। সাকিব আল হাসান কাল সেখানে বসেই শুনেছেন মুশফিকুর রহিমের অধিনায়ক হওয়ার খবর। শুনে নতুন অধিনায়ককে অভিনন্দন জানিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক। অভিনন্দন জানিয়েছেন নতুন সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকেও।
অধিনায়কত্বের শুরুতে মুশফিককেই সহ-অধিনায়ক হিসেবে পেয়েছিলেন সাকিব। এ ছাড়া দুজনই বিকেএসপির ছাত্র বলে সম্পর্কটা অনেক পুরোনো। নতুন অধিনায়ককে তাই অনেক দিন ধরেই কাছ থেকে দেখে আসছেন সাকিব। সে অভিজ্ঞতা থেকেই কাল টেলিফোনে বললেন, ‘মুশফিক ভাই অধিনায়ক হওয়ায় ভালো হয়েছে। আশা করি, ভালো করবেন। অধিনায়ক হওয়ার মতো সব গুণই ওনার আছে।’
অধিনায়ক থাকার সময় দল পরিচালনায়ও মুশফিকের অনেক সাহায্য পেয়েছেন বলেও জানালেন তিনি, ‘আমি যখন অধিনায়ক ছিলাম, সব সময়ই মুশফিক ভাইয়ের সাহায্য পেয়েছি। ওটা নিয়ে কখনোই সমস্যা হয়নি। মাঠে ও মাঠের বাইরে নানা বিষয় নিয়ে ওনার সঙ্গে সব সময়ই আলোচনা করতাম।’
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলে মুশফিকের নেতৃত্বে খেলেছেন সাকিব। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বললেন, ‘অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ওনার অধিনায়কত্বে খেলেছি। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে দল পরিচালনার কাজটা মূলত কোচই পালন করলেও অধিনায়কেরও কিছু ভূমিকা থাকে। মুশফিক ভাইয়ের নেতৃত্বগুণটা চোখে পড়েছে তখনই।’
অধিনায়কত্ব হারানোর পরই নতুন অধিনায়ককে সর্বতো সহায়তার নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। নতুন অধিনায়কের নাম জানার পর আবারও দিলেন সেই প্রতিশ্রুতি।

উত্তরসূরির কাছে মাসুদের চাওয়া

আমাদের কিন্তু অনেক মিল। দুজনই উইকেটকিপার, ব্যাটিংটা উপভোগ করি, দুজনই রাজশাহী বিভাগের, রাজশাহীকে নেতৃত্ব দিয়েছি, জাতীয় দলের অধিনায়কও...’—যে জন্য তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া, দুজনের মধ্যকার মিলের কথাগুলো খালেদ মাসুদ নিজেই চটপট বলে দিলেন।
তবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্ট অধিনায়কের সঙ্গে অষ্টম টেস্ট অধিনায়কের সম্পর্কের শেষ নয় এখানেই। ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমকে কাছ থেকে বেড়ে উঠতে দেখেছেন মাসুদ। একসময় দুজন হয়ে উঠেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী, সময়ের বাস্তবতায় একসময় মুশফিককে জায়গাও ছেড়ে দিতে হয়েছে। মাঠের বাইরে আবার দুজনের খুব হূদ্যতা।
ক্রিকেটার মুশফিকুরের গুণমুগ্ধ মাসুদ নিজেও। তাঁর মতে, এ মুহূর্তে সম্ভাব্য সেরা পছন্দকেই অধিনায়ক হিসেবে বেছে নিয়েছে বিসিবি। উত্তরসূরির প্রতি ভালোবাসায় নয়, ব্যাখ্যা দিলেন যুক্তি দিয়েই, ‘অধিনায়কত্বটা এই মুহূর্তে ওরই সবচেয়ে প্রাপ্য ছিল। অনেক আগে থেকেই কিন্তু ওকে অধিনায়ক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। বিকেএসপিতে অধিনায়কত্ব করেছে, অনূর্ধ্ব-১৯ দলে করেছে। ও জন্মগতভাবেই নেতা।’
জাতীয় দলে, বিভাগীয় দলে মুশফিককে কাছ থেকে দেখেছেন। মুশফিকের মাঝে সহজাত নেতৃত্বগুণের কোন ব্যাপারটা চোখে পড়েছে? মাসুদের উত্তরটাই বলে দেবে, মুশফিককে জানেন বেশ ভালোভাবেই, ‘ও খুবই ডিসিপ্লিনড, সময় মেনে চলে। নিজেও ছিমছাম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। সবকিছুই খুব গোছানো। সবকিছুর জন্য আলাদা সময় করে রাখে, সেই সময়ের এদিক-ওদিক হয় না। এই ব্যাপারগুলো হয়তো বেশির ভাগই মাঠের বাইরের, কিন্তু মাঠেও কিন্তু এসব সাহায্য করে।’
যাঁকে বেড়ে উঠতে দেখেছেন, ছিল কাছের ‘ছোট ভাই’, একসময় সেই হয়ে দাঁড়াল প্রতিদ্বন্দ্বী। শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেই দুটি টেস্ট খেলেছেন মুশফিক। ২০০৭ সালের শ্রীলঙ্কা সফরে উইকেটের পেছনেও দাঁড়ালেন মাসুদের জায়গায়। এই লড়াই কিন্তু দুজনের ব্যক্তিগত সম্পর্কে প্রভাব ফেলেনি বলেই জানালেন মাসুদ, ‘মাঠ-মাঠের বাইরের জগৎটাকে আমি সব সময় আলাদা রাখি। মাঠের ভেতরে সবাই পেশাদার, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা নেই। কিন্তু বাইরে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো।’
উইকেটকিপাররা ভালো অধিনায়ক হন না—ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রচলিত কথাগুলোর একটি। প্রতিটি বলে নিজেকে মনোযোগ দিতে হয়, দল নিয়ে এত ভাবার সময় কোথায়! কিন্তু নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই এই ধারণাকে উড়িয়ে দিলেন মাসুদ, ‘আমি বরং বলি এর উল্টো। উইকেটকিপাররা সবকিছু ভালোভাবে দেখে, পরিস্থিতি বোঝে। ধোনিকে দেখেন, ও কি ভালো অধিনায়ক নয়? তবে বাংলাদেশের অধিনায়কত্ব করা ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি। দল বেশির ভাগ সময়ই হারে, অনেক সমালোচনা শুনতে হয়। অনেক সময় এসব নিজের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। এ ক্ষেত্রেই যেমন আমি বলব, সাকিব দারুণ করেছে। আশা করি, মুশফিক ওকে অনুসরণ করবে, ঠান্ডা মাথায় কাজ করে যাবে।’
পরামর্শ তো হলো, এবার উত্তরসূরির কাছে প্রত্যাশা? ‘আশা করি, দলটাকে গুছিয়ে টিম বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবে। শুধুু ক্রিকেট দলের নয়, মানুষের অধিনায়ক হবে। মানুষ অনুভব করবে, মুশফিক আমাদের অধিনায়ক।’

সিরিজ ক্লার্কের অস্ট্রেলিয়ার

আঠারো মাসের সেঞ্চুরি-খরা কাটানোর জন্য উপযুক্ত সময়টাই বেছে নিলেন মাইকেল ক্লার্ক। প্রকৃতি বাধা হয়ে না দাঁড়ালে আগের টেস্টেই নিশ্চিত হয়ে যেত সিরিজ জয়। সেখানে শেষ টেস্টে এসে শঙ্কা দেখা দিয়েছিল সেটা নিয়েই। অসাধারণ এক সেঞ্চুরিতে টেস্ট অধিনায়কের ভূমিকায় অভিষেকেই সিরিজ জয়ের স্বপ্নটাকে বাস্তব করলেন মাইকেল ক্লার্ক নিজেই।
শেষ দিনের লড়াইয়ে ক্লার্ক সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন এমন একজনকে, রান করার নেশা যাঁকে পেয়ে বসেছে। ৯৫ দিয়ে সিরিজ শুরু করেছিলেন, শেষ করলেন ৯৩ দিয়ে। মাঝের তিন ইনিংসের দুটি সেঞ্চুরি। ম্যান অব দ্য ম্যাচের হ্যাটট্রিক করলেন। ম্যান অব দ্য সিরিজ কে, সেটা বোধহয় আর না বললেও চলে। তবুও একটা আক্ষেপ না থেকে পারেই না মাইক হাসির, অল্পের জন্য যে একই টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরিটা হলো না!
অস্ট্রেলিয়ার বড় ভরসা হয়ে থাকা ফিলিপ হিউজ কাল ফিরে গেলেন সাতসকালেই। শ্রীলঙ্কা তখন জয়ের সুবাস পেতে শুরু করেছে। ক্লার্ক-হাসির ১২৮ রানের জুটিতে সেটি উধাও। গত বছর মার্চে ওয়েলিংটনে ১৬৮ করার পর আবার তিন অঙ্কের দেখা পেলেন ক্লার্ক, মাঝে পেরিয়ে গেছে ২৩টি ইনিংস!
শ্রীলঙ্কার হয়ে একা লড়াই করলেন রঙ্গনা হেরাথ। এক প্রান্ত থেকে ক্লান্তিহীন বোলিং করে গেছেন, ক্যারিয়ার-সেরা বোলিংয়ে পেয়েছেন ৭ উইকেট। সিরিজে জয়-পরাজয় আইসিসি টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের অবস্থানেও অদলবদল ঘটিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া এখন ৪ নম্বরে, শ্রীলঙ্কা ৫।

চাপ ভাবছেন না মাহমুদউল্লাহ

মুশফিকুর রহিম এসে গেছেন। তবু আসছেন না মাহমুদউল্লাহ। যানজট পেরিয়ে সেই নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা থেকে আসা কি এত সহজ! অনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে একটু দেরিতে পৌঁছে তাই আগে ক্ষমা চেয়ে নিলেন জাতীয় দলের নতুন সহ-অধিনায়ক।
তবে ক্ষমা চাওয়ার সময়টাতেও এতটুকু অপ্রতিভ নন। বরং চোখেমুখে ছিল একটা বাড়তি দীপ্তি। জাতীয় দলের নেতৃত্বের অংশ হয়ে যাওয়ার আলো। এমনিতে ক্রিকেট দলের সহ-অধিনায়কত্ব এমন কোনো আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে না। কিন্তু এবার যে পরিস্থিতি ভিন্ন!
আবাহনীকে লিগ শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন গতবার। এর আগে অনূর্ধ্ব-১৭ ক্রিকেটে ঢাকা মহানগর দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। প্রিমিয়ার লিগে সহ-অধিনায়ক ছিলেন ডিওএইচএস দলেরও। জাতীয় দলের নেতৃত্বের অংশ হওয়াটা এই প্রথম হলেও মাহমুদউল্লাহ মনে করছেন না এটা একটা চাপ। সহ-অধিনায়কত্বের বাড়তি দায়িত্ব বরং পারফরম্যান্সে আরও উন্নতি আনবে বলেই বিশ্বাস তাঁর।
‘আমাকে আগে পারফর্ম করতে হবে। সঙ্গে সহ-অধিনায়কত্ব একটা বাড়তি দায়িত্ব। আমার বিশ্বাস, এ দায়িত্ব আমাকে সাহায্য করবে। মুশফিককে যেটুকু সাহায্য করা দরকার, সেটা করব। এ দায়িত্ব আমাকে কিছুটা হলেও আত্মবিশ্বাস জোগাবে’—বললেন এই অলরাউন্ডার। এর আগে তাঁর ওপর আস্থা রাখার জন্য ধন্যবাদ দিয়েছেন ক্রিকেট বোর্ডকে।
ক্রিকেট এখন বাংলাদেশের মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে ঢুকে গেছে। ক্রিকেটারদের সাফল্য-ব্যর্থতা হয়ে যায় জাতীয় আলোচনার অংশ। একজন খেলোয়াড় এবং জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক হিসেবে সেটাকেও চাপ মনে হয় না মাহমুদউল্লাহর, ‘এটা সব সময় আমাদের মাথায় থাকে। যখন হারি, তখন আমরাই কিন্তু সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাই। মাঠে আমরা বাংলাদেশের পতাকা বহন করি। এটা আমাদের চিন্তায় থাকে। তার পরও আমরা হয়তো প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারি না। তবে মানুষের এই আগ্রহ আমি ইতিবাচকভাবেই নেই।’
বাংলাদেশ দলের শৃঙ্খলা নিয়ে ওঠা সাম্প্রতিক অভিযোগটা নতুন অধিনায়কের পাশে বসেই কাল উড়িয়ে দিলেন নতুন সহ-অধিনায়ক, ‘আমাদের দলের ডিসিপ্লিন খুব ভালো। সবাই খুব ভালো এবং বুদ্ধিমান ছেলে। আমরা যেখানে যাই, সব সময় একসঙ্গেই থাকি। তাই আমার মনে হয় না যে মাঠের বাইরে খুব বেশি কিছু করতে হবে।’
মাহমুদউল্লাহর মধ্যে ভবিষ্যৎ অধিনায়কের সম্ভাবনা দেখেই মুশফিকুর রহিমের ডেপুটি করা হয়েছে তাঁকে। তিনিও বিশ্বাস করেন, জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সামর্থ্য তাঁর আছে। দেখেন অধিনায়ক হওয়ার স্বপ্নও। তবে স্বপ্ন থেকে বাস্তবতায় নেমে এসে বললেন, আপাতত মুশফিককে সাহায্য করাই তাঁর কাজ, ‘অবশ্যই চাইব, একদিন বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিতে। তবে এখন যে দায়িত্বটা এসেছে, সেটা ভালোভাবে পালন করতে চাই।