Thursday, January 2, 2014

সংবাদ সংক্ষেপ

৫০ বছর পূর্তি উৎসব
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
রাজীবপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫০ বছর পূর্তি উৎসব বুধবার পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আনন্দ র‌্যালি, স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয় মাঠে প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আকবর হোসেন হিরো। বক্তব্য রাখেন ইউএনও আবদুল লতিফ খান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম, ওসি মোজাম্মেল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই সরকার, উপজেলা বিএনপি সভাপতি মোখলেছুর রহমান, নুর-ই-শাহী ফুল, আবদুস সবুর ফারুকী, ইউনুছ আলী ও আবু সাঈদ প্রমুখ।
রাজনগরে দুই ছিনতাইকারী গ্রেফতার
ম মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজনগরের চৌধুরীবাজার ও মুন্সীবাজার থেকে এক ছাত্রলীগ কর্মীসহ দুই জনকে পুলিশ মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করেছে। তারা হলো ছাত্রলীগ কর্মী লিক্সন ও নিঠু নন্দী। রাজনগর থানার ওসি কামরুল ইসলাম দু'জনকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পাথরঘাটায় হরিণ শাবক উদ্ধার
ম পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
সুন্দরবনের পাচারকারীদের কাছ থেকে একটি হরিণ শাবক উদ্ধার করেছে পাথরঘাটা থানা পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নের শিড়াবুনিয়া রাস্তার ওপর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ৪ মাসের হরিণ শাবকটি উদ্ধার করা হয়। পাথরঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা সোলায়মান হাওলাদার জানান, বাচ্চাটিকে কয়েক মাস লালন-পালন করতে হবে।
শাহজাদপুরে পিঠা উৎসব
ম শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
শাহজাদপুরে বুধবার 'পৌষ পার্বণ পিঠা উৎসব' অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় ইব্রাহিম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে বুধবার এ উৎসবের আয়োজন করে। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হেলাল উদ্দিন আহমেদ এ উৎসবের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউএনও রাসেল সাবরিন। এতে উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মওলা আজম, অধ্যক্ষ এমএ আজীজ, অধ্যক্ষ বজলুর রশিদ, শফিকুল ইসলাম, আখতারুজ্জামান, অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম শাহীন ও জান্নাতুল ফেরদৌস লাভলী বক্তব্য রাখেন।
ইসলামপুর ইউপি কার্যালয়ে আগুন
ম ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের কার্যালয়ে রহস্যজনক অগি্নকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ফজরের নামাজের পর দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র পুড়ে গেছে। ইউপি চেয়ারম্যান সুফি আলম সুহেল বলেন, দুর্নীতিমুক্ত শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করায় একটি কুচক্র এ অগি্নকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।
চুনারুঘাটে ২ মাদক ব্যবসায়ী আটক
ম চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
৫ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে এসআই আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ চুনারুঘাট-মাধবপুর সড়কের চণ্ডীছড়া চা বাগানের মাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। তারা হলো রমজান আলী ও রফিক মিয়া। চুনারুঘাট থানায় মামলা হয়েছে।
গৌরনদী প্রেস ক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন
ম গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
গৌরনদী প্রেস ক্লাবের নির্বাচন মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাব সভাপতি খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনির। বক্তব্য রাখেন মো. হানিফ সরদার, জহুরুল ইসলাম জহির, মো. গিয়াসউদ্দিন মিয়া, মো. জামাল উদ্দিন, আসাদুজ্জামান রিপন, সঞ্জয় কুমার পাল, খোকন আহম্মেদ হীরা, আমিন মোল্লা, উরম দাস, মনীশ চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ। সভা শেষে ২০১৪ সালের কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়। এতে নির্বাচিতরা হলেন : সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান রিপন, সহসভাপতি এইচএস নাসিরউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ এসএম জুলফিকার, দফতর সম্পাদক বিশ্বজিত সরকার বিপ্লব, প্রচার সম্পাদক মো. বদরুজ্জামান খান সবুজ।
কমলগঞ্জে শিবিরকর্মী আটক
ম কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
পুলিশ অ্যাসল্ট মামলায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ এক শিবিরকর্মীকে আটক করেছে। এসআই জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বুধবার কমলগঞ্জ গণমহাবিদ্যালয় এলাকা থেকে আম্বর মিয়াকে আটক করে। তার বাড়ি আলীনগর ইউনিয়নের জালালীয় গ্রামে।
ঈশ্বরদীতে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীর আত্মহত্যা
ম ঈশ্বরদী প্রতিনিধি
পরীক্ষায় ফেল করে বুধবার বিকেলে জেরিন খাতুন নামে ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। সে দিয়াড় বাঘইল গ্রামের মন্টু ঘরামীর মেয়ে ও বাঘইল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। মঙ্গলবার পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। সে ফেল করায় বাবা-মা তাকে বকাঝকা করলে জেরিন বুধবার বিকেলে আত্মহত্যা করে।
গ্রেফতার ছাত্রদল নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ
ম গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
পেট্রোল বোমা হামালায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার ছাত্রদল নেতা শাহ ওবায়দুল্লাহ সুমনের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মাহফুজ। তিনি বলেন, সোমবার সুমনকে তার নিজ গ্রাম অচিনমশপুর ইউনিয়নের শাহগঞ্জ বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে থানায় রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বহিরাগত ঠেকাতে পাস
ম চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রবেশে নতুন নিয়ম চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি রোগীকে ভর্তির সময় বিনামূল্যে দুটি টিকিট দেওয়া হবে। রোগীর একাধিক স্বজন, দালাল, চোরসহ বহিরাগতদের ঠেকাতে বুধবার বছরের শুরু থেকেই এ নিয়ম চালু করা হয়েছে। নতুন এ নিয়মে রোগীকে ভর্তির জন্য এখন আর এক দিনের জন্য ১০ টাকা ও দুই দিনের জন্য ২০ টাকায় কোনো টিকিট কিনতে হবে না। এ ব্যাপারে চমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. খোরশেদা শিরিন বলেন, হাসপাতালের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুরনো নিয়মে টিকিট বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে।

পরিবেশ- গাছ কাটা আন্দোলন by পাভেল পার্থ

পৃথিবীর মূল সম্পদগুলো হলো ভূমি, জল ও প্রতিবেশগত বৈচিত্র্য। গরিব নিম্নবর্গের প্রাকৃতিক মূলধনও তাই। প্রতিবেশবৈচিত্র্যের অন্যতম কারিগর উদ্ভিদ। উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য শ্রেণীকরণে বৃক্ষ, বিরুৎ, গুল্ম ও তৃণর ভেতর বৃক্ষরূপটি চারধারের বাস্তুসংস্থানের সঙ্গে অভিযোজনের প্রক্রিয়ায় বিকশিত হয়েছে,
যা সমান্তরাল বিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন। দুনিয়ার মোট উদ্ভিদ প্রজাতির ভেতর প্রায় ২৫ ভাগই বৃক্ষ। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বনে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০০ প্রজাতির সপুষ্পক উদ্ভিদ শনাক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় উদ্যানে প্রায় ৯৫২ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে।

গাছবিহীন একমুহূর্তও আমরা কল্পনা করতে পারি না। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, ধর্ম, বিশ্বাস, রীতি, শাস্ত্র-পুরাণ, নীতিকথা, প্রথা, বাণিজ্য, দর্শন, মনস্তত্ত্ব, উৎসব, পার্বণ, শিল্প-সংস্কৃতি, আশ্রয়, প্রশান্তি যাপিত জীবনের সবকিছুই গাছকে ঘিরে, গাছ নিয়ে। এমনকি এ জনপদের রাজনৈতিক ঐতিহাসিকতার সঙ্গেও গাছ জড়িত আছে ওতপ্রোতভাবে। গাছ নিয়ে, গাছ ঘিরে রাজনৈতিক দরবার ও সংগ্রামেরও কমতি নেই। ব্রিটিশ জুলুমের বিরুদ্ধে সংগঠিত নীল বিদ্রোহ জড়িয়ে আছে নীলগাছের স্মৃতি নিয়ে। তেভাগা, নানকা, টঙ্কসহ ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনগুলো মূলত ধানগাছকে ঘিরেই। উন্নয়ন বলপ্রয়োগ আর বিনাশী তাণ্ডব থেকে এ দেশের নিম্নবর্গ গাছদের জান বাঁচাতে রুখে দাঁড়িয়েছে বারবার।

দক্ষিণ এশিয়ায় গাছ রাজনীতি ও সংগ্রামের অংশ হলেও সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রশ্নহীনভাবে ‘রাজনৈতিক সহিংসতায়’ নিহত হয়েছে অগণিত বৃক্ষ-প্রাণ। ২০১৩ সালে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপিসহ ১৮ দলের হরতাল-অবরোধসহ নানা রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে নৃশংস কায়দায় খুন হয়েছে দেশের অগণিত পাবলিক বৃক্ষ। মূলত হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচির মাধ্যমে ‘নির্বিচার গাছ কাটা’ এক ‘রাজনৈতিক কর্মসূচি’ হিসেবে রূপ নিয়েছে। এ খুনখারাবির বিরোধিতা না করে ১৮ দলও একে ‘রাজনৈতিক কর্মসূচি’ হিসেবে মেনে নিয়েছে। বট, আম, শিশু, অর্জুন, একাশিয়া, ইউক্যালিপটাস, মেহগনি, কড়ই, বৃষ্টিগাছ কাটা পড়েছে সবচেয়ে বেশি। মূলত সড়কের পাশের এসব গাছের মালিক বন বিভাগ, স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ। বন বিভাগসহ কোনো রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষই বৃক্ষগুলোর নিরাপত্তা দিতে পারেনি।
গাছ নিহত হলে গাছ শুধু একাই মরে না, মানুষসহ সব প্রাণসত্তার জন্যই তা ঝুঁকি ও উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গাছ তাই সব সমাজে, সব ধর্মে ও সংস্কৃতিতে কেন্দ্রীয় আরাধনার বিষয়। সুন্দরবন অঞ্চলে বাগদীদের ভেতর প্রচলিত ‘নাপিতের ছেলে-রাজার ছেলে ও রাজকন্যা’ কাহিনিতে দেখা যায়, বিষফল নামের এক গাছের ফল ফিরিয়ে দেয় মৃতের জীবন।

একটি পূর্ণবয়স্ক বৃক্ষ বছরে যে পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ করে, তা কমপক্ষে ১০ জন পূর্ণবয়স্ক মানুষের বার্ষিক অক্সিজেনের চাহিদা মেটায়। ভারতের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টি এম দাস ১৯৭৯ সালে পূর্ণবয়স্ক একটি বৃক্ষের অবদানকে আর্থিক মূল্যে বিবেচনা করে দেখান, ৫০ বছর বয়সী একটি বৃক্ষের অর্থনৈতিক মূল্য প্রায় এক লাখ ৮৮ হাজার মার্কিন ডলার (সূত্র: ইন্ডিয়ান বায়োলজিস্ট, ভলিউম-১১, সংখ্যা ১-২)। টি এম দাসের হিসাবে, ৫০ বছর বয়সী একটি বৃক্ষ বছরে প্রায় ২১ লাখ টাকার অক্সিজেন সরবরাহ করে। বছরে প্রাণীসম্পদের জন্য প্রোটিন জোগায় এক লাখ ৪০ হাজার টাকার, মাটি ক্ষয়রোধ ও মাটির উর্বরতা বাড়ায় ২১ লাখ টাকার, পানি পরিশোধন ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে ২১ লাখ টাকার এবং বায়ুদূষণ রোধ করে প্রায় ৪২ লাখ টাকার। রাজনৈতিক সহিংসতার ভেতর দিয়ে গাছ হত্যার মাধ্যমে প্রকৃতির ভারসাম্য বিনষ্ট হয়েছে, বিশৃঙ্খল হয়েছে স্থানীয় খাদ্যচক্র। কেবল মানুষই খাদ্য-জ্বালানি-বিশ্রামস্থল হারায়নি, অগণিত পাখি-সরীসৃপ-পতঙ্গ-পরগাছা-পরাশ্রয়ী লতাগুল্ম হারিয়েছে জীবনধারণের উৎস ও আশ্রয়স্থল। নিহত বৃক্ষগুলো অক্সিজেন সরবরাহ ও কার্বন শোষণ করে বায়ুচক্রে যে বিন্যাস তৈরি করেছিল, তা-ও ধ্বংস হয়েছে। এর করুণ পরিণতি আবহাওয়াচক্র এবং সর্বোপরি জলবায়ু পঞ্জিকার ওপর পড়বে। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে এভাবে বৃক্ষনিধন চলতে থাকলে বাংলাদেশকেও একসময় ‘বৈশ্বিক জলবায়ু বিপর্যয়ের’ দায় কিছুটা হলেও ঘাড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে ছোট আয়তনের একটি দেশ হয়েও প্রাণবৈচিত্র্য এবং রকমভিন্ন প্রতিবেশ ও জটিল বাস্তুসংস্থানে ভরপুর এক অনন্য পরিসর। কিন্তু দিনে দিনে দেশের এই বৈচিত্র্যময় প্রাণ ও পরিসর নিশ্চিহ্ন হয়ে এক সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি করছে। একটি গাছ নিশ্চিহ্ন হলে তা প্রভাবিত করে আমাদের ভাষাকাঠামোর বিন্যাসকেও। ১৯৯৭ সালে করপোরেট অক্সিডেন্টালের মাধ্যমে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া ও মাগুরছড়া বনভূমি ঝলসে গেলে সেখানকার আদিবাসী ত্রিপুরি, খাসি ও চা-বাগানিদের ভাষা থেকে হারিয়ে যেতে থাকে অনেক গাছের নাম। কিন্তু শত বলপ্রয়োগ আর বাহাদুরি ঠেলে এখনো এ জনপদ গাছকে বিশ্বাস করে, আগলে রাখে, মানত করে, গাছের সঙ্গেই বন্ধক রাখে জীবনের বিজ্ঞান। এখনো আদিবাসী ওঁরাও গ্রামে কারাম পরবের জন্য সংরক্ষিত হয় কারাম বৃক্ষ। সোহরাই পরবে লাগবে বলে সুন্দরবনের মুন্ডারা বাদাবনের সুন্দরীগাছকে সুরক্ষা দেন। বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে তুলসী, বেল, ফণীমনসা, দূর্বা ঘাস পবিত্র উদ্ভিদ হিসেবে হাজার হাজার বছর ধরে পূজিত। বাঙালি মুসলিম সমাজে খেজুর ও বরইগাছের এক লোকায়ত পবিত্র মাত্রা আছে। এখনো চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের সুড়লা মৌজায় তেভাগা আন্দোলনের সাক্ষী নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দেশের প্রবীণতম তেঁতুল বৃক্ষ। পলাশীর আম্রকানন, মেহেরপুর আমবাগান, খুলনার প্রেমকানন, রমনার বটমূল বৃক্ষময়তার ভেতর দিয়েই তুলে ধরেছে আমাদের সভ্যতা ও ইতিহাসের নির্যাস। হাইকোর্ট ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১০ তারিখে শ্রীমঙ্গলের নাহার পুঞ্জির চার হাজার গাছ কাটার অনুমোদন দিলে এর বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন শুরু করেন খাসি আদিবাসীরা। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের এক পবিত্র বটবৃক্ষ ‘কালাচাঁদ ঠাকুরের গাছ’ কাটার বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণ সংগঠিত করেন আন্দোলন (সূত্র: প্রথম আলো, ২৮ মার্চ ২০১২)। কেবল নিম্নবর্গ নয়, বৃক্ষের জীবন বাঁচাতে বন বিভাগও নানা সময় রুখে দাঁড়ানোর সাহস করেছে। কক্সবাজারের দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন টেকনাফ উপজেলার জাহাজপুরা সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে পাকা সড়ক নির্মাণের জন্য প্রায় ৩৬টি প্রবীণ গর্জন বৃক্ষের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছিল স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর। এলজিইডিকে বনের ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণ না করার অনুরোধ জানিয়েছিল বন বিভাগ (সূত্র: প্রথম আলো, ২৫-২-২০১০)।

যে জনপদ বৃক্ষের আহাজারি বুকে নিয়ে বিকশিত করে চলেছে এক টগবগে সভ্যতার বনিয়াদ, সে জনপদ কোনোভাবেই বৃক্ষ হত্যাকারী হিসেবে উদ্যত হতে পারে না। আমরা এটি বিশ্বাস করতে চাই না। গাছ হত্যা কোনোভাবেই রাজনৈতিক কর্মসূচি হতে পারে না। বিদ্যমান ঔপনিবেশিক বন আইন, বন্য প্রাণী আইন ও পরিবেশ আইনের মাধ্যমে এ অন্যায়ের সুরাহা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে বৃক্ষনিধন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের সব ঘটনাকে দৃষ্টান্তমূলক অপরাধ ও বিচারের আওতায় আনা জরুরি। ২০১৩ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত গাছের রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান, সুষ্ঠু তদন্ত প্রকাশ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ আশা করি। আসুন, বৃক্ষ-মানুষসহ প্রাণসত্তার সংসারকে অবিরত রাখার ঐতিহাসিক জনদর্শনকে বিকশিত করি। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে প্রাণ ও প্রকৃতির ওপর সব অন্যায় আঘাতের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।

পাভেল পার্থ। গবেষক, প্রতিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ।
animistbnagla@gmail.com

পরিবেশ- গাছ কাটা আন্দোলন by পাভেল পার্থ

পৃথিবীর মূল সম্পদগুলো হলো ভূমি, জল ও প্রতিবেশগত বৈচিত্র্য। গরিব নিম্নবর্গের প্রাকৃতিক মূলধনও তাই। প্রতিবেশবৈচিত্র্যের অন্যতম কারিগর উদ্ভিদ। উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য শ্রেণীকরণে বৃক্ষ, বিরুৎ, গুল্ম ও তৃণর ভেতর বৃক্ষরূপটি চারধারের বাস্তুসংস্থানের সঙ্গে অভিযোজনের প্রক্রিয়ায় বিকশিত হয়েছে,

আমি আল্লাহকে সব বলে দিবো! by রফিকুজজামান রুমান

ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাস হৃদয়ে হাহাকারের প্রতিধ্বনি তুলছে অবিরাম। মানুষ কতোটা সইতে পারে? চোখের কান্না পানি হয়ে ঝরে বলে দৃশ্যমান। কিন্তু হৃদয়ের কান্না? রক্তক্ষরণ? কোন্ শব্দ/বাক্য/প্রতিক্রিয়া দিয়ে মাপা যায় এর গভীরতা?
সামাজিক মাধ্যমে স্ট্যাটাসটি ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। সিরিয়ার তিন বছরের এক যুদ্ধাহত শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বললো- ‘আমি আল্লাহকে সব বলে দিবো!’ শিশুটির রক্তমাখা ছবিটির দিকে তাকালেই বুঝে নেওয়া যায় সে আল্লাহর কাছে কী বলবে।

সভ্যতার দ্বান্দ্বিক যুদ্ধ চলছে। এ দ্বন্দ্ব বিশ্বাসের, এ দ্বন্দ্ব আদর্শের। একটি আদর্শকে প্রত্যাখ্যান করতে হয় আর একটি আদর্শ দিয়ে। জোরের যুক্তি দিয়ে নয়; যুক্তির জোর দিয়ে। ক্ষমতা, শক্তি, জোর দিয়ে আদর্শকে মোকাবেলা করতে গেলেই দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে ওঠে। সেই দ্বান্দ্বিক যুদ্ধে আদর্শবানরা কখনো কখনো পরাজিত হলেও তাদের বিশ্বাসের পরাজয় ঘটে না। বিশ্বাসী তো সে-ই, যে  প্রয়োজনে জীবন দিয়েও প্রমাণ করতে পারে ‘আমার বিশ্বাসের প্রতি আমি অবিচল’। সিরিয়ান এই শিশুটি সভ্যতা, যুদ্ধ, দ্বন্দ্ব, আদর্শ- এগুলো হয়তো পরিষ্কার করে বুঝতে পারেনি। কিন্তু তার ‘বিশ্বাস’ কতো প্রবল! ‘আমি আল্লাহকে সব বলে দিবো!’ সে নিশ্চিত সে আল্লাহর কাছে ফিরে যাচ্ছে। শুধু তা-ই নয়; আল্লাহর কাছে সে নালিশ করবে! যারা তাকে মেরেছে, শুধুমাত্র বিশ্বাসী হওয়ার কারণে যারা তাকে রক্তাক্ত করেছে, যারা তার আদর্শকে আদর্শ দিয়ে প্রতিহত না করে বুলেট ছুড়ে মেরেছে, তাদের বিরুদ্ধে সে আল্লাহর কাছে নালিশ করবে। এছাড়া আর কীইবা করার আছে ছোট্ট এই শিশুটির! পৃথিবীর কারো কাছে সে অভিযোগ করেনি। কারো কাছে সে তাকে মারার বিচার চায়নি। সে জানে এবং সবাইকে জানিয়ে দিয়ে গেল- এই আদর্শহীন একচোখা বিবেকহীন বিশ্বের কাছে বিশ্বাসীদের কিছু চাইতে নেই। এ এমনই এক বিশ্ব যেখানে মানবাধিকারের ডেফিনিশনই নির্মিত হয় কিছু মানুষকে ‘অমানুষ’ বিবেচনা করে। এ এমনই এক বিশ্ব যেখানে শক্তিধররা/ক্ষমতাবানরা যা বলবে তা-ই সত্য। পূর্বতিমুরের যোদ্ধারা হয় স্বাধীনতাকামী, আর আরাকানের, কাশ্মীরের যোদ্ধারা জঙ্গী কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদী। কালো-সাদা’র তফাত ঘোছাতে ম্যান্ডেলার ভূমিকা ইতিহাস হয়ে থাকবে, সন্দেহ নেই। কিন্তু দেড় হাজার বছর আগে মুহাম্মদ (স) কালো বেলালকে প্রথম মুয়াজ্জিন বানিয়েছিলেন। বর্ণবাদ নিয়ে কোনো আলোচনায় এই উদাহরণ দিতে পারবেন না। দিলেই আপনি ‘ব্যাকডেটেড’ কিংবা মৌলবাদী/প্রতিক্রিয়াশীল। এমন একটি ন্যায়ভ্রষ্ট পৃথিবীর কাছে বিশ্বাসীদের কিছু চাওয়ার নেই। তাদের সমস্ত চাওয়া আল্লাহর কাছে।
বাংলাদেশেও বিশ্বাসের এই দ্বন্দ্ব ক্রিয়াশীল। এখানেও আদর্শকে পরাজিত করার জন্য আরেকটি আদর্শের পরিবর্তে বেছে নেওয়া হয় বুলেট বোমা অস্ত্র। একজন বিশ্বাসী মানুষ প্রশ্নহীনভাবে মেনে চলতে চাইবে আসমানী বাণীকে। তার কাছে কুরআনকে বিশ্বাস করার মানে হলো কুরআন নির্দেশিত পথে জীবন পরিচালনা করা। কুরআনের বিধানসমূহ জানা এবং সেগুলো মেনে চলা। এখন কুরআন যদি সমাজ বদলের কথা বলে, কুরআন যদি আল্লাহর সার্বভৌমত্বের কথা বলে, তাহলে তো সেই কাজটিই তাকে করতে হবে। যদি কেই মনে করে কুরআন এগুলো বলেনি, তাকে সেটা প্রমাণ করতে হবে। আর যদি কেউ বলে, সমাজ বদলের জন্য কুরআনের চেয়েও ভালো কোনো রেসিপি তার কাছে আছে, তাহলে সে সেই আদর্শের দিকে মানুষকে ডাকবে। মানুষ যেটি মেনে নেয়। আদর্শের জবাব আদর্শ দিয়ে। কিন্তু দু:খজনক হলো, বাংলাদেশে আদর্শের এই উদারতা নেই। প্রায়ই পত্রিকায় দেখা যায়, জিহাদী বই উদ্ধার। এর মানে কী? জিহাদী বই কি কোনো নিষিদ্ধ বই? তাহলে সবার আগে তো কুরআন নিষিদ্ধ করতে হবে। কুরআনে শতাধিক জায়গায় জিহাদের কথা বলা হয়েছে। কোনো খ্রিষ্টান কিংবা হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে যদি নিজ ধর্মের কোনো বইসহ পাওয়া যায়, তাকে কি গ্রেফতার করা হবে?
মিডিয়া, সরকার, পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র এভাবে বিশ্বাসীদের উপর আঘাত হানছে। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক হওয়ার পরেও, শুধুমাত্র বিশ্বাসের কারণে,  কোন সংগঠনকে বলা হচ্ছে জঙ্গী। তাহলে কী করা? ‘আমি আল্লাহকে সব বলে দিবো!’-এই হোক বিশ্বাসীদের শেষ আশ্রয়।
লেখক: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও কলাম লেখক

আমি আল্লাহকে সব বলে দিবো! by রফিকুজজামান রুমান

ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাস হৃদয়ে হাহাকারের প্রতিধ্বনি তুলছে অবিরাম। মানুষ কতোটা সইতে পারে? চোখের কান্না পানি হয়ে ঝরে বলে দৃশ্যমান। কিন্তু হৃদয়ের কান্না? রক্তক্ষরণ? কোন্ শব্দ/বাক্য/প্রতিক্রিয়া দিয়ে মাপা যায় এর গভীরতা?

খোলা চোখে- কূটনীতি বনাম রাজনীতি by হাসান ফেরদৌস

আমাকে মাফ করবেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের যে দাবি কোনো কোনো মহল থেকে তোলা হচ্ছে, সে ব্যাপারটা আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। সে দেশের পার্লামেন্টে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, তা আমরা জানি।

জঙ্গিদের ঔদ্ধত্য রুখতে হবে

(বাংলাদেশকে তালেবানি হুমকি) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার যে হুমকি নিষিদ্ধ ঘোষিত টিটিপির (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) পক্ষ থেকে এসেছে, সেটা একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তার দোসরদের ঔদ্ধত্য ছাড়া কিছু নয়। পাকিস্তানি সংবাদপত্র নেশনের প্রতিবেদনে এটা স্পষ্ট যে, মহান মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী প্রমাণিত জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরই সন্ত্রাসী এই গোষ্ঠীটিকে ক্ষুব্ধ করেছে। বস্তুত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার পর দেশে ও বিদেশের কিছু চিহ্নিত মহল এমন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। খোদ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদেও পাস হয়েছে নিন্দা প্রস্তাব। আমরা জানি, একাত্তরে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ওপর যে গোষ্ঠী হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল এবং যারা তাদের দোসরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে, গত চার দশকের বেশি সময়ে তারা নানা কায়দায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হয়েছে। ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বন্ধে তাদের দিক থেকে হুমকি, চাপ সৃষ্টি, অর্থ বিনিয়োগ ও কূটকৌশল অস্বাভাবিক নয়। তারপরও এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করার উদ্যোগ থেমে থাকবে না বলে আমরা বিশ্বাস করি। কিন্তু তাই বলে টিটিপির হুমকিকে হালকাভাবে নেওয়ার অবকাশ নেই। রাষ্ট্রহীন এই জঙ্গি গোষ্ঠীরা কতটা অবিমৃষ্যকারী ও নৃশংস হতে পারে আমরা জানি। পাকিস্তান ছাড়াও উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থানে এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাদের চোরাগোপ্তা ও আত্মঘাতী হামলায় অনেক মূল্যবান প্রাণ হারাতে হয়েছে। বাংলাদেশকেও এ ধরনের জঙ্গি গোষ্ঠীর হামলা মোকাবেলা করতে হয়েছে। জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় বর্তমান সরকারের আন্তরিকতা, উদ্যোগ ও পদক্ষেপের কারণে এ দেশে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো এখন আগের মতো সাবলীল তৎপরতা পরিচালনা করতে পারছে না। বাংলাদেশের এমন উদ্যোগ যখন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে, তখন টিটিপির হুমকি যে কেবল 'কসাই' কাদের মোল্লার ফাঁসির কারণে, এমন ভাবা উচিত হবে না। আমরা উদ্বেগের সঙ্গে দেখছি, জঙ্গিবাদ সমর্থক ও সহানুভূতিশীল গোষ্ঠীগুলো বারবারই ক্ষমতাসীন, উদার, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে তৎপর থাকে। কখনও সরাসরি, কখনও রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মুখোশ পরে। টিটিপির হুমকি তারই ধারাবাহিকতা বলে আমরা মনে করি। এ ক্ষেত্রে সতর্কতার বিকল্প নেই। আমরা দেখেছি, পাকিস্তান সরকার ইতিমধ্যে সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, বিদেশি দূতাবাসে দেশীয় জঙ্গিদের হামলার পরিণতি সম্পর্কে পাকিস্তানের শাসকরা ওয়াকিবহাল। সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই হুমকিদাতাদের আটক ও শাস্তি প্রদানেও তারা যথেষ্ট আন্তরিক থাকবে আশা করা যায়। ঢাকার উচিত হবে এ ব্যাপারে ইসলামাবাদের সঙ্গে বিশেষভাবে আলোচনা করা। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও বাংলাদেশি দূতাবাস ও হাইকমিশনে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। জঙ্গিবাদবিরোধী আন্তর্জাতিক লড়াইয়ে বাংলাদেশের ভূমিকা মানবতা ও সভ্যতাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে কতটা ক্ষুব্ধ করেছে, টিটিপির হুমকির মধ্য দিয়ে তা আরেকবার প্রমাণ হলো। বাংলাদেশের স্বার্থে আঘাত হানতে তারা হয়তো দ্বিধাবোধ করবে না। দেশের অভ্যন্তরেও জঙ্গি গোষ্ঠী ও তাদের দোসরদের নৈরাজ্য সৃষ্টির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশেষত নির্বাচন সামনে রেখে যে তারা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, সেই শঙ্কা খোদ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো থেকেই উচ্চারিত হয়েছে কয়েকবার। সে ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার সময় হয়েছে। দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল ও জঙ্গিবাদের দোসর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের যে লড়াই আমরা শুরু করেছি, তাতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি, সর্বাত্মক সতর্কতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। টিটিপির হুমকি সেই তাগিদই দিয়ে গেল।

সুচিত্রা সেন এক মিথের নাম by জনি হক

বহু বছর ধরেই স্বেচ্ছা নির্বাসনে বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়িকা সুচিত্রা সেন। বাংলাদেশের পাবনায় জন্ম নেওয়া কিংবদন্তি এই অভিনেত্রীর গোটা জীবন নিয়েই মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই। এর মধ্যে একটি কথাই বারবার ফিরে আসে-তিনি যদি নির্বাসনে না যেতেন তাহলে কী হতো? তার অভিনয় ও ব্যক্তিজীবনে ছায়ার মতো লেগে আছে কিছু মিথ। অপর্ণা সেন একবার সুচিত্রা সেনের কাছে প্রশ্ন করবেন বলেছিলেন—'আপনি অসামান্য সুন্দরী। বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় নারী। কিন্তু এত বছর যে স্বেচ্ছা নির্বাসন নিলেন, আজ ফিরে তাকালে কী মনে হয়? সেই সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিল?' সুচিত্রা সেনের কাছে আপামর বাঙালির এমন আরও কিছু প্রশ্ন জানা যাক।
উত্তম কুমারের মৃত্যু
বাংলা ছবির ইতিহাসে উত্তম-সুচিত্রার কিংবদন্তি জুটির আজও বিকল্প নেই। মালা দিতে যদিও তিনি গিয়েছিলেন, তবু জানা হয়নি মহানায়কের মৃত্যুতে সুচিত্রা সেনের প্রতিক্রিয়া কী ছিল। প্রত্যেক জুলাইয়ে যখন বাঙালি উদ্বেল হয়ে ওঠে উত্তমের নানা স্মৃতিচারণায়, সুচিত্রা সেনের মানসিক পরিস্থিতি কী রকম হয় ২৪ জুলাই?
'ঘরে বাইরে'
শোনা যায়, সত্যজিৎ রায় নাকি 'ঘরে বাইরে' ছবিতে বিমলা চরিত্রে সুচিত্রা সেনের কথা ভেবেছিলেন। সেটা যদি হতো তা হলে বাংলা চলচ্চিত্র এক স্মরণীয় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকত। সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে উত্তম কুমারের 'নায়ক' ছবিটি ছিল। সুচিত্রা সেনের সঙ্গে 'নায়িকা'ও যে পেতে পারত বাঙালি, ভাবলে তার কী মনে হয়?
দুই বাংলার মিলন
বাংলাদেশে সুচিত্রা সেনের জনপ্রিয়তা এই বাংলার মতোই। তার জন্ম পাবনায়। বাংলাদেশিরা তাকে এখানকার বলে দাবি করেন। ভাষাগতভাবে এক হওয়া সত্ত্বেও এই দুই বাংলার চলচ্চিত্র জগৎ আলাদা। সুচিত্রা সেন কি পারতেন এদের মেলবন্ধন ঘটাতে? পদ্মাপারে তার উপস্থিতি কি পারত না আপাতদৃষ্টিতে দুঃসাধ্য কাজটা করতে?
মেয়ে, নাতনির সঙ্গে
মুনমুন সেনের পর এখন রাইমা ও রিয়া সেন বাংলা ও হিন্দি ছবিতে কাজ করছেন। কেন জানি মনে হয় এদের চারজনকে যদি দর্শক একই ছবিতে একসঙ্গে দেখতে পেতেন! কেমন হতো তা হলে?
ঋতুপর্ণর ছবিতে সুচিত্রা সেন
বাংলা ছবিতে নারীদের চরিত্রায়ন ঋতুপর্ণ ঘোষের মতো দক্ষতা নিয়ে বোধহয় আর কোনো আধুনিক পরিচালক করতে পারেননি। তার বাংলা ছবিতে আগমন সুচিত্রা সেনের অন্তরালে যাওয়ার অনেক পর। যদি 'বাড়িওয়ালি'র কিরণ খেরের চরিত্রটি তিনি করতেন, তা হলে কি জাতীয় পুরস্কার তিনিই পেতেন না?
সুচিত্রা-অপর্ণা একসঙ্গে
সমসাময়িক কত অভিনেত্রীকে অসাধারণ চরিত্রে রূপায়ণ করেছেন অপর্ণা সেন নিজের ছবিতে। 'পরমা' বা 'সতী', এমনকি 'পারমিতার একদিন'-এ তার নিজের অভিনীত চরিত্রটিতে কি সুচিত্রা সেনকে বাঙালির কাছে উপস্থাপন করতেন? কেমন হতো সেই যুগলবন্দি?

ফিরে দেখা ২০১৩- দুর্নীতির ছোবলে বিধ্বস্ত রাষ্ট্রকাঠামো by ইফতেখারুজ্জামান

সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাপকাঠিতে বাংলাদেশের জন্য ২০১৩ সালটি ছিল বিনষ্ট সম্ভাবনার এক হতাশাব্যঞ্জক চিত্র। জনগণ, যারা দুর্নীতিকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে দেখতে চায়, তাদের জন্য বছরটি ছিল উদ্বেগজনক, আর সরকারের জন্য আত্মঘাতী।

ওয়েলকাম ২০১৪ by ওয়ালিউল মুক্তা

গানের চেয়ে সঙ্গীতশিল্পীদের দীর্ঘশ্বাসই বেশি শোনা গেছে গত বছর। তবে গত বছরের যোগ-বিয়োগকে সামনে রেখে ২০১৪'কে অনেকেই দেখছেন নতুন করে হিসাব মেলানোর বছর হিসেবে। শুরু করা যাক কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরকে দিয়ে। তিন বছর বিরতি দিয়ে গত বছর তিনি মাঠে ফিরেছেন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে। 'এক্স প্রেম' ও ন্যান্সির সঙ্গে দ্বৈত গানের অ্যালবাম 'ঝগড়ার গান' প্রকাশ করেন আসিফ। এখন ৮টি নতুন অ্যালবামের কাজ করছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ন্যান্সির সঙ্গে আরেকটি দ্বৈত গানের অ্যালবাম 'সন্দেহ'। তার আগেই বাজারে আসতে পারে শশীকে নিয়ে তার দ্বৈত অ্যালবাম 'বেদনার আলপিন'। আগামী রোজার ঈদে আসছে আসিফের নতুন একক অ্যালবাম। এ ছাড়া কনা, কোনাল, ফারহানা মিমি ও নাজনীন মিমিকে নিয়েও দ্বৈত অ্যালবাম তৈরির ইচ্ছা আছে তার।
জেমসকে নিয়ে ভক্তদের অনেকদিনের অনুযোগ, কেন নতুন অ্যালবাম আসছে না! মাঝে 'ওয়ার্নিং' ছবিতে তার গাওয়া 'বেবাসি' হিন্দি গানটি ছিল সান্ত্বনা। কিন্তু শ্রোতাদের আবদার নতুন বাংলা গান। আশা করা যায় চলতি বছরে শ্রোতাদের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হতে পারে তার নতুন গান। জেমসের সর্বশেষ অ্যালবাম বেরিয়েছিল ২০০৯ সালে। নাম ছিল 'কাল যমুনা'। আইয়ুব বাচ্চু এখন প্রায় প্রতিদিনই নিজের স্টুডিও এবি কিচেনে নতুন নতুন গান তৈরি করছেন। এরই মধ্যে জমা হয়েছে অনেক নতুন গান। অবশ্য আইয়ুব বাচ্চুর অভিযোগ, 'কোনো অ্যালবাম প্রকাশের পরিবেশ নেই'। তবে পরিবেশ যে এ বছর তৈরি হবে না, তা কিন্তু নয়। তার অর্থ দাঁড়ায় চলতি বছর নতুন কিছু গান শ্রোতারা পেতেই পারেন।
২০১১ সালে আধা ডজন গান ছেড়েছিল ব্যান্ড মাইলস। গ্রামীণফোনের মাধ্যমে শুনতে পাওয়া এ অ্যালবামের নাম ছিল 'প্রতিচ্ছবি'। কিন্তু মাঝে কেটে গেছে পাক্কা এক বছর। অ্যালবামটি নিয়ে আর কোনো প্রতিধ্বনি শোনা যায়নি। ব্যান্ডের একাধিক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউই বলতে পারেননি এগুলো সিডি আকারে কবে প্রকাশ হবে। কিংবা বাকি গানগুলো কবে নাগাদ শোনা যাবে। তবে আশার কথা হলো, অ্যালবামের কাজ অনেকটাই শেষ। এখন শুধু পরিবেশের জন্য অপেক্ষা।
বাপ্পা মজুমদার ভক্তদের জন্য এক রকম সুখবরই বলা যায়। চলতি বছরই শ্রোতারা পেতে পারেন তার নতুন অ্যালবাম 'বেস্ট অব বাপ্পা মজুমদার'। তবে অ্যালবামটি সিডি আকারে নয়, প্রকাশ হবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। এতে একটি যন্ত্রসঙ্গীত ছাড়া মোট গান থাকবে সাতটি। 'বেস্ট অব বাপ্পা মজুমদার' অ্যালবামে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত বাপ্পার অ্যালবাম থেকে ছয়টি গান থাকবে। এগুলোর নতুন করে সঙ্গীতায়োজনের কাজ প্রায় শেষ। থাকছে একটি নতুন গান।
সামিনা চৌধুরীর নতুন অ্যালবাম তৈরি। নাম 'পুষ্পবৃষ্টি'। তিনি পরিকল্পনা করেছেন অ্যালবামটি আগামী ভালোবাসা দিবসে প্রকাশ করার। চলতি বছর শ্রোতারা শুনতে পাবেন তার জনপ্রিয় গান নিয়ে দ্বিতীয় সংকলনের অ্যালবাম। এর নাম 'দুটি চোখে দুটি তারা'। কবিগুরু ও জাতীয় কবির গান দিয়ে নতুন একটি অ্যালবামেরও কাজ করছেন তিনি। কোন ধরনের গান থাকছে তা প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত। সব অ্যালবামের কাজ এগিয়ে নিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন পর একক অ্যালবাম পাওয়া যাবে কুমার বিশ্বজিতের কাছ থেকে। এটি হবে তার ২৮তম একক। নাম রাখা হয়েছে 'প্রিয় অনুভব'। কিন্তু শ্রোতাদের কাছে নামের চেয়ে অ্যালবামটিই মুখ্য। জানা গেছে, চলতি বছরের ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে বাজারে আসবে এটি। এতে গান থাকছে ১০টি। এর মধ্যে ৮টি মৌলিক গানের পাশাপাশি রাখা হচ্ছে সিলেট ও চট্টগ্রামের একটি করে আঞ্চলিক গান।
জানা যায়, বেশিরভাগ গানের সুর কুমার বিশ্বজিতেরই।
হৃদয় খান তার নতুন একক অ্যালবামের কাজ শুরু করেছেন গত বছরেই। এরই মধ্যে 'ভালো লাগে না' শিরোনামের একটি গানের মিউজিক ভিডিও বের হয়েছে। এ বছর ভক্তদের কাছে তিনি নিশ্চিতভাবেই উপহার দিতে চলেছেন নতুন একক। এ ছাড়া সঙ্গীতশিল্পী মুহিনের চার নম্বর একক 'বাংলা ঢোল' ভালোবাসা দিবসে, কণ্ঠশিল্পী বিউটির চতুর্থ একক, আলম আরা মিনুর নতুন এককসহ জনপ্রিয় শিল্পীরা নতুন নতুন গান নিয়ে আসছেন। সুরের মূর্ছনায় ভরে উঠুক ২০১৪।

রেকর্ড ভাঙার খেলা

২০১৩ সালকে বলিউড ইতিহাসের সর্বকালের সবচেয়ে সফল বছর হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। চার বছর ধরে অক্ষুণ্ন থাকা 'থ্রি ইডিয়টস'-এর রেকর্ড গত বছর ভেঙে দিয়েছে 'চেন্নাই এক্সপ্রেস'। সেই রেকর্ড দুই মাসের মাথায় ভেঙে দিয়েছে 'কৃষ থ্রি'। আর 'ধুম থ্রি' একের পর এক রেকর্ড ভেঙে এবার সর্বকালের ব্যবসাসফল হিন্দি ছবির রেকর্ড গড়ার পথে। গত বছর দর্শক বিভিন্ন স্বাদের ছবিকে গ্রহণ করেছেন। মসলাধর্মী ছবির বেশির ভাগই মুখ থুবড়ে পড়েছে। ৮টি ছবি ১০০ কোটি রুপির ওপর এবং ৩টি ছবি ২০০ কোটির ওপর আয় করেছে। গত বছরই তৈরি হয়েছে নাচ নিয়ে প্রথম ত্রিমাত্রিক ছবি [এবিসিডি], আইম্যাক্সে প্রথম হিন্দি ছবি [ধুম থ্রি], চার পরিচালক অনুরাগ কশ্যাপ, করণ জোহর, জোয়া আখতার, দিবাকর ব্যানার্জি হিন্দি ছবির শতবর্ষ উপলক্ষে নির্মাণ করেছেন 'বোম্বে টকিজ'। লিখেছেন রুম্মান রশীদ খান
শ্রেষ্ঠ তালিকা [জনপ্রিয়]
চলচ্চিত্র : ভাগ মিলখা ভাগ
পরিচালক : রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরা [ভাগ মিলখা ভাগ]
প্রযোজক: যশরাজ ফিল্মস [ধুম থ্রি, শুধ্ দেশি রোমান্স]
কাহিনী : সমীর গৌতম সিং [শহীদ]
চিত্রনাট্য : অভিষেক কাপুর, চেতন ভগত [কাই পো ছে]
সংলাপ : জয়দীপ সাহনী [শুধ্ দেশি রোমান্স]
অভিনেতা : ফারহান আখতার [ভাগ মিলখা ভাগ]
অভিনেত্রী : দীপিকা পাড়ূকোন [গোলিও কি রাসলীলা-রামলীলা, ইয়ে জাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি, 'রেস টু', চেন্নাই এক্সপ্রেস]
পার্শ্ব-অভিনেতা : রাজকুমার যাদব [কাই পো ছে, শহীদ]
পার্শ্ব-অভিনেত্রী : দিব্যা দত্ত [স্পেশাল ছাবি্বশ, ভাগ মিলখা ভাগ, গিপ্পি, লুটেরা]
অভিনেতা [খল চরিত্র] : জন আব্রাহাম [রেস টু, শুটআউট অ্যাট ওয়াদালা]
অভিনেত্রী [খল চরিত্র] : কঙ্গনা রনৌত [কৃষ থ্রি]
অভিনেতা [কৌতুক চরিত্র] : রিতেশ দেশমুখ, আফতাব, বিবেক ওবেরয় [গ্র্যান্ড মাস্তি]
সঙ্গীত পরিচালক : প্রীতম [ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি, আর রাজকুমার, ধুম থ্রি, রেস টু]
আলোচিত সুরকার : মিথুন-জিৎ গাঙ্গুলি [আশিকি টু], সঞ্জয় লীলা বানসালি [গোলিও কি রাসলীলা-রামলীলা]
গীতিকার : ইরশাদ কামিল [তুম হি হো-আশিকি টু, তুম তাক-রানঝানা]
গায়ক : অরিজিত সিং [তুম হি হো-আশিকি টু]
গায়িকা : চিন্ময়ী [তিতলি-চেন্নাই এক্সপ্রেস] ও মোনালি ঠাকুর [সাওয়ার লু_লুটেরা]
নৃত্য পরিচালক : বৈভবী মার্চেন্ট [মালাঙ-ধুম থ্রি]
অতিথি শিল্পী : মাধুরী দীক্ষিত [ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি] ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া [গোলিও কি রাসলীলা-রামলীলা]
জুটি : আদিত্য রায় কাপুর-শ্রদ্ধা কাপুর [আশিকি টু]
নবাগত অভিনেতা : সুশান্ত সিং রাজপুত [কাই পো ছে, শুধ্ দেশি রোমান্স]
নবাগত অভিনেত্রী : বাণী কাপুর [শুধ্ দেশি রোমান্স]
নবাগত পরিচালক : রিতেশ বাত্রা [দ্য লাঞ্চবক্স]
নবাগত পুরুষ কণ্ঠশিল্পী : সিদ্ধার্থ মহাদেবা [জিন্দা-ভাগ মিলখা ভাগ, মালাঙ-ধুম থ্রি]
নবাগত নারী কণ্ঠশিল্পী : ভূমি ত্রিবেদী [রাম চাহে লীলা-গোলিও কি রাসলীলা-রামলীলা]
শ্রেষ্ঠ তালিকা [সমালোচক]
চলচ্চিত্র : দ্য লাঞ্চবক্স
পরিচালক : হানসাল মেহতা [শহীদ]
অভিনেতা : ইরফান খান [দ্য লাঞ্চবক্স] ও ধানুশ [রানঝানা]
অভিনেত্রী : নাম্রিত কৌর [দ্য লাঞ্চবক্স], সোনাক্ষী সিনহা [লুটেরা], সোনম কাপুর [রানঝানা]।
ব্যবসাসফল অন্যান্য ছবি
'আর...রাজকুমার', 'রানঝানা', 'শুটআউট অ্যাট ওয়াদালা', 'শুধ্ দেশি রোমান্স', 'এবিসিডি', 'কাই পো ছে', 'সত্যগ্রহ', 'মাদ্রাজ ক্যাফে', 'চাশমে বাদ্দুর', 'ফুকরে', 'জলি এলএলবি', 'মার্ডার থ্রি', 'লুটেরা', 'সাহেব বিবি ঔর গ্যাংস্টার রিটার্নস', 'কমান্ডো-এ ওয়ান ম্যান জানির্', 'দ্য লাঞ্চবক্স', 'মেরে ড্যাড কি মারুতি', 'বিএ পাস', 'গিপ্পি' প্রযোজকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

‘ভোটার লাগবে না ১০০ কর্মী সারা দিন ভোট দেবে’ by নুর ইসলাম

সাধারণ ভোটার লাগবে না। কেন্দ্রে কেন্দ্রে থাকবে দলীয় কর্মীদের সারি। দিনভর তারাই ভোট দেবেন পর্যায়ক্রমে। অন্তত ১০০ জন কর্মীর সারি রাখতে হবে সার্বক্ষণিক। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দলীয় সমাবেশে প্রকাশ্যে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন।
তিনি তার আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। পার্শ্ববর্তী আসনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী সভায় অংশ নিয়ে প্রকাশ্যে এমন পরিকল্পনার কথা জানান। তার বক্তব্য প্রচারের পর যশোরজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। তার এ বক্তব্যের অডিও রেকর্ড করে বিক্রি করা হচ্ছে দোকানে দোকানে। বিষয়টি নজরে দেয়া হয়েছে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের।

ওই নির্বাচনী সভায় যশোর-১ আসনের এমপি শেখ আফিল কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটারের দরকার নেই। ভোটাররা ভোট দেখতে আসবেন। কোন সমস্যা নেই। আর আপনারা যারা আমার নৌকা মার্কার এজেন্ট বা কর্মী তারা সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রে লাইন দিয়ে পর্যায়ক্রমে ভোট দেবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ১শ’ জন করে কর্মী সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকবেন। একজন ভোটকেন্দ্রে যাবেন। পেছনে ৯৯ জন অপেক্ষা করবেন। এভাবে সারা দিনই ওই ১০০ জন কর্মীই ভোট শেষ করবেন। সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সাংবাদিকরা এসে ছবি তুলে নিয়ে যাবেন। সবাই দেখবেন কেন্দ্রে পর্যাপ্ত ভোটার আছে। গত পরশু সন্ধ্যায় যশোর-২ চৌগাছা ঝিকরগাছা সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এডভোকেট মনিরুল ইসলামের এক নির্বাচনী কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আফিল উদ্দিন। এ আসনে মনিরুলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ রফিকুল ইসলাম।
গত ৩০শে ডিসেম্বর ঝিকরগাছা উপজেলার পারবাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট মনিরুল ইসলামের পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এ সভায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট মনিরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
ওই সভায় আফিল উদ্দিন বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে তার উপজেলা থেকে ১শ’ নির্ভীক কর্মী উপস্থিত থাকবে। তারা ভোট দিয়ে আবার লাইনে এসে দাঁড়াবে এবং ফের ভোট দেবে। এভাবে সারা দিন তারা ভোট দিয়ে যাবে। প্রশাসনিক কোন ভয় নেই; সেটা আমি দেখবে। নির্বাচনী এজেন্টদের উদ্দেশে দেয়া এ বক্তব্য রেকর্ড করেছেন যশোর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের লোকজন। অধ্যাপক রফিকুলের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট শাহীন-উল-কবীর ওই রেকর্ডকৃত বক্তব্যের সিডিসহ গতকাল জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ হিসেবে জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি এ ব্যাপারে স্থানীয় সাংবাদিকদের ও যশোরের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমানকে জানান, তিনি অভিযোগটি গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগটি তিনি নির্বাচন সংক্রান্ত ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির কাছে পাঠিয়েছেন। কমিটি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এ ব্যাপারে বক্তব্য নেয়ার জন্য এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আফিল গ্রুপের পরিচালক ও এমপি আফিলের ঘনিষ্ঠ সহচর মাহাবুবুল আলম লাভলুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সংসদ সদস্য ব্যস্ত। তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না।
শেখ আফিল উদ্দিন যা বলেছেন
মতবিনিময় সভায় আফিল উদ্দিন বলেছেন, পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে যেন ফিরে না আসতে হয়। সাহস সঞ্চারের জন্য আমি আপনাদের বলে যাচ্ছি, আমার শার্শা উপজেলায় আপনাদের ৬টি ইউনিয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আমি আমার শার্শা উপজেলার আওয়ামী লীগের সব নেতাকে ডেকেছিলাম গত পরশু। তাকে আমরা বলেছি ঝিকরগাছার নির্বাচনে আগামী ৫ তারিখ আমাদের কি করতে হবে। ইনশাআল্লাহ আমি আমার নেতাদের নির্দেশ দিয়েছি। আপনাদের ভোটার লিস্ট নিয়ে নিয়েছি। আমার নেতারা আপনাদের পাশে এসে দাঁড়াবে, কোন ভুল হবে না। শঙ্করপুর থেকে শুরু করে নাভারন হাজিরবাগ দিয়ে চলে যাবে শিমুলিয়া দিয়ে গঙ্গানন্দপুর। অন্তত ৬টি ইউনিয়নের সঙ্গে আমার ইউনিয়ন কানেকটেড। সুতরাং আমি বিশ্বাস করি সেদিন আমার সব লোক আপনার পাশে এসে দাঁড়াবে। সবাইকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমি আপনাদের সাহস দিলাম। বিনয়ের সঙ্গে বলছি, মনিরুলকে পছন্দ করি না, করি ভিন্ন ইস্যু। কিন্তু আমরা পরাজিত হয়ে ফিরতে চাই না। আমাদের নৌকাকে ভোট দিতে হবে।’ তিনি শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রশংসা করে বলেন, ‘সেখানে আমার কিছু করতে হয় না। নেতাকর্মীরাই সব কিছু করে আমাকে জানান। তারাই আমাকে বলেছেন, ঝিকরগাছার নির্বাচনে কি করতে হবে বলেন? আমি তাদের নির্দেশ দিয়েছি আমার নির্বাচনী এলাকা সংলগ্ন ঝিকরগাছার ৬টি ইউনিয়নের ভোট কাস্টিংয়ের দায়িত্ব তাদের নিতে হবে। তারা প্রস্তুত। এসব ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্র নিয়ে ঝিকরগাছার মানুষকে ভাবতে হবে না। এসব ইউনিয়নে ভোট করবে শার্শার কর্মীরা। প্রতিটি কেন্দ্রে আমার নির্বাচনী এলাকার ১০০ জন করে কর্মী থাকবে। তারা পর্যায়ক্রমে ভোট দেবে। কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে যাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রের বাইরে ঘুরবে, ফিরবে আর সময় হলে বাড়ি চলে যাবে।’ তবে ভোটকেন্দ্রের বাইরে লোক সমাগম রাখার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে শেখ আফিল আরও বলেন, ‘আপনারা যদি কোন প্রশাসনিক সমস্যায় পড়েন আমাকে বলবেন; আমি জবাব দেবো। তার জন্য যা যা করণীয় ভোট মাঠে তা কিন্তু করা লাগবে, আমি তো মাইকে বলতে পারবো না কি করা লাগবে। একা একা জিজ্ঞেস করলে বলে দিব। সুন্দর করে ভোট করবেন। ভোট যেন নৌকা পায় সেভাবে সুন্দর করে ভোট করবেন। মাঠ যেন ফাঁকা না হয়ে যায়। ১০০ ছেলে ভোটের মাঠে লাইন থাকবে। বুথে যাবে, আবারও ওরা এসে পেছনে দাঁড়াবে। ওরা বাড়ি যাবে না। ১০০ ছেলে সব সময় লাইনে থাকবে, বুথের ভেতরে ১ জন ঢুকবে, আবার পেছনে আসবে, তার সামনে ৯৯ জন থাকবে। এভাবে যাবে, আবার আসবে। লোক ও সাংবাদিকরা আসবে দেখবেন যে মাঠ ভরা।’ ‘হাজার হাজার লোক আসবে, নো প্রবলেম। আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেবেন। শুধু ভোটকেন্দ্রে যাবেন আর আসবেন। এতে ঝামেলার কিছু নেই।’
শেখ আফিলের এ ঘোষণার পর ঝিকরগাছার নির্বাচনী পরিবেশ পাল্টে যেতে শুরু করেছে। ভোটারদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রফিকুল ইসলাম ও তার নির্বাচনী কর্মীরাও এ ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ইতিমধ্যে তারা বিষয়টি লিখিত আকারে জেলা রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়ে বিচার প্রার্থনা করেছেন। অন্যদিকে গত ২৯শে ডিসেম্বর রফিকুল ইসলাম যশোরে প্রেস কনফারেন্স করে জানিয়েছিলেন তার নির্বাচনী এলাকায় ভোট ডাকাতির পরিকল্পনা হচ্ছে। প্রতিপক্ষ প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা ভোট ডাকাতি করে তার বিজয় ছিনিয়ে নিতে পারে। ইতিমধ্যে তার এক কর্মীকে হত্যা করেছে এ চক্র। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত খুনিদের আটকের দাবিতে আমরণ অনশনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

শুভ নববর্ষ

দেশীয় চলচ্চিত্র, সঙ্গীত ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় তারকাদের বছরটি কেমন যাবে, বিশ্লেষণ করে জানাচ্ছেন জ্যোতিষি ড. আবদুল হাদী 
আইয়ুব বাচ্চু
এ বছর গায়ক হিসেবে আপনার খ্যাতি অন্য বছরের তুলনায় বেশি ছাড়া কম হবে না। সিংহ রাশির জাতক রবি দ্বারা প্রভাবিত বলে আপনার দ্বারা অনেক সৃষ্টি হবে এ বছর। বিদেশ ও দেশে প্রচুর অনুষ্ঠান করবেন, জনপ্রিয়তা ও অর্থ উপার্জন করবেন। অ্যালবাম আসবে বেশ ক'টি। প্রায় সবই জনপ্রিয়তা পেয়ে যাবে।
জেমস
তুলা রাশির জাতক জেমস মঙ্গল দৃষ্ট হয়ে অনেক কাজ করবেন ২০১৪ সালে। আপনার খ্যাতি এবং সম্মান অনেকের জন্যই ঈর্ষার কারণ হয়ে উঠতে পারে। আপনার ব্যবসার সুযোগও বাড়বে এ বছর। বিদেশে গানের জন্য চুক্তিবদ্ধ হবেন। বুঝে বুঝে কাজ করলে ঝামেলা কম হবে আপনার।
কুমার বিশ্বজিৎ
মিথুন রাশির গায়ক কুমার বিশ্বজিতের ২০১৪ সুফল বয়ে আনবে অন্য বছরের তুলনায় বেশি। নতুন ধারার প্রবর্তক হিসেবে এ বছর আপনার খ্যাতি বিশ্বের বাঙালিদের মধ্যে আরও বেশি ছড়াবে। নতুন অ্যালবাম আসবে এবং তা জনপ্রিয় হবে। ছায়াছবিতে অভিনয়ও করতে হতে পারে এ বছর। স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে।
জাহিদ হাসান
তুলা রাশির জাতক জাহিদ হাসানের ২০১৪ সাল আর্থিক উন্নতির বছর। ব্যবসায় আপনি যথেষ্ট এগিয়ে যাবেন অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে। মঙ্গল রয়েছে আপনার রাশিতে। শুক্রের জাতক জাহিদের তাই সবদিক থেকেই সুযোগ বাড়বে। আপনাকে স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে জুন থেকে আগস্ট। আপনি যথেষ্ট সাহসী হবেন কাজের ক্ষেত্রে।
মৌসুমী
আপনার সমস্যা হতে পারে এ বছর অ্যালার্জি থেকে। বৃশ্চিক রাশির কন্যা মৌসুমীর চর্মরোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনে ডাক্তার দেখাতে হবে। পরিচালক ও অভিনেত্রী হিসেবে কৃতিত্বের পরিচয় দিতে পারবেন। পারিবারিক সমস্যা খুব একটা এ বছর হবে না। বিদেশ যাত্রার সম্ভাবনা রয়েছে কাজের জন্য। পুরস্কার পেতে পারেন কাজের জন্য।
জয়া আহসান
মিথুন রাশির জাতিকা জয়া আহসানের ২০১৪ বছরটি মিশ্র ফলদায়ক হওয়ার কথা। শনির প্রভাব রয়েছে বুধের ওপর। তাই সম্মান আসবে কাজের জন্য। নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে। যেটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে তা হচ্ছে বিদেশের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে পুরস্কৃত হবেন। পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।
মোশাররফ করিম
সিংহ রাশির জাতক মোশাররফ করিমের ২০১৪ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হবে প্রথম দিকে। কাজে উৎসাহ কমে যেতে পারে নেপচুনের প্রভাবে। আবার জুনের পর থেকে ভালো কিছু সুযোগ পেয়ে যাবেন যা আপনাকে উৎসাহ দেবে। রবির প্রভাবে সম্মান ও অর্থ দুটোই আসতে পারে এ বছর। স্বাস্থ্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শাকিব খান
সিংহ রাশির শাকিব খানের এ বছর হঠাৎ প্রেম ও বিয়ের ব্যাপার ঘটে যেতে পারে। ফলে অনেক মেয়ের মন ভেঙে যাবে, যাদের ক্ষীণ আশা ছিল এ ব্যাপারে। নতুন ছবির জন্য সাইন করবেন। বিদেশ যাত্রা হবে বহুবার এ বছর। কাজকে প্রাধান্য দিতে হবে আপনাকে। ব্যায়াম করতে গিয়ে হাতে ব্যথা পেতে পারেন বলে সতর্ক থাকা ভালো।
অপু বিশ্বাস
তুলা রাশির জাতিকা অপু বিশ্বাসের ২০১৪ সাল বেশ গুরুত্বপূর্ণ হবে। ছায়াছবির জগতেও বেশ সুনাম আসবে আপনার। আপনার জীবনেও এমন কেউ আসতে পারে যার সঙ্গে সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখবেন। কাজে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে থাকেন আপনি। নতুন অনেক কাজের জন্য চুক্তি করতে পারবেন।
ন্যান্সি
ধনু রাশির জাতিকা ন্যান্সির বছরটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ার কথা। ২০১৪ সালে আবার বিয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু দিনের জন্য বিদেশে অবস্থানের সুযোগ, প্রেম ও বিয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। অ্যালবাম, অনুষ্ঠান ও সুযোগ আসবে। ফলে আর্থিক সুযোগ বাড়বে এ বছর। মনকে স্থির না রাখলে জটিলতা বাড়তে পারে প্রেমে।

রূপালি বছরের প্রত্যাশা

নতুন বছর ভালো কাটবে—এ প্রত্যাশা খেলা করে সবার মনে। শিল্পরথের যাত্রীরাও এর বাইরে নন। পুরনো কাজের সাফল্য আর ব্যর্থতা ছাপিয়ে আবার ছুট। এই ছুটে চলার পথে থাকে নতুন পরিকল্পনা, থাকে চ্যালেঞ্জ। চলচ্চিত্র শিল্পে বইছে পরিবর্তন বা নতুনত্বের হাওয়া। নতুন বছরের শুরুতে চলছে ডানা মেলে দেওয়ার প্রস্তুতি। প্রতি বছরের মতো ২০১৪ সালেও মুক্তি পাবে একঝাঁক চলচ্চিত্র। নতুন মাত্রা যোগ করতে এগিয়ে চলেছে ছবিগুলোর কাজ। লিখেছেন সোমেশ্বর অলি কয়েক বছরের তুলনায় ২০১৪ সালে আশা জাগানিয়া একঝাঁক ছবি মুক্তির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মুক্তির অপেক্ষায় এবং নির্মাণের শেষ পর্যায়ে থাকা ছবির সংখ্যা শতাধিক। ডিজিটাল ফরম্যাটে ছবি নির্মাণ ও মুক্তি দেওয়ার ব্যাপারে নির্মাতাদের আগ্রহ তৈরি হওয়ায় নতুন নতুন ছবির নির্মাণ সংখ্যা আরও বাড়বে নিঃসন্দেহে। স্বাভাবিকভাবেই ছবি মুক্তির সংখ্যা বাড়তে পারে। গত বছর মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নির্মিত 'টেলিভিশন' ছবিটি দেশ-বিদেশে আলোচনা তৈরি করে। ছবিটির মুক্তির মাত্র চার মাসের মাথায় ফারুকী একসঙ্গে দুটি ছবি নির্মাণের ঘোষণা দেন। এর মধ্যে 'পিঁপড়াবিদ্যা'র কাজও শেষ করেছেন তিনি। এতে তিনি প্রধান চরিত্রে নিয়েছেন শিনা চৌহানকে। অন্যদিকে 'ডুবোশহর'-এর কাজও শুরু হবে অচিরেই। এখানে অভিনয় করবেন নুসরাত ইমরোজ তিশা ও মেহজাবিন। ফারুকী জানান, হাজার বছর ধরে চলে আসা মধ্যবিত্ত পরিবারের এক যুবকের আশা, না-পাওয়া, অবদমিত বিষণ্নতা, সীমাবদ্ধতা, লোভের লাগামহীন বিচরণ প্রভৃতি নিয়ে এগিয়েছে 'পিঁপড়াবিদ্যা' ছবির গল্প। এরই মধ্যে ছবিটির আন অফিসিয়াল ট্রেলার দেখা গেছে। অন্যদিকে 'ডুবোশহর' ছবির মূল বিষয় দুই তরুণীর বন্ধুত্ব, প্রেম, পথের বাঁক ও বাঁকের সামনে দিগন্তের হাতছানি। চলচ্চিত্র দুটির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করছেন ফারুকী নিজেই। দুটি ছবিই প্রযোজনা করছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। এ দুটি ছবি নতুন বছরে নতুন আশার সঞ্চার করতে পারে।
নতুন বছরে মুক্তি প্রতীক্ষিত যে ছবিটি নিয়ে এখন পর্যন্ত বেশি আলোচনা হয়েছে তার নাম 'অগি্ন'। জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত ও ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত এ ছবির ট্রেলার দেখে ছবিটি নিয়ে আশাবাদী অনেকে। নতুন বছরে ছবিটি ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন মাত্রা ও উদাহরণ তৈরি করতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। ছবিতে মাহি ও আরেফিন শুভকে ভিন্নমাত্রায় উপস্থাপন করা হয়েছে বলে পরিচালক জানান। এটি মুক্তি পাবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। এ ছাড়া মুক্তির প্রতীক্ষায় আছে একই পরিচালকের 'রাজত্ব' [শাকিব খান, ববি] ও 'অ্যাকশন জেসমিন' [ববি, সাইমন]। ইফতেখার চৌধুরী বলেন, 'আমাদের মধ্যে পেশাদারি মনোভাব ফিরে আসুক_ এই প্রত্যাশা করি। আর যিনি যে সেক্টরে আছেন তিনি তার সর্বোচ্চ মেধা ও শ্রমটুকু দিলেই আমাদের ছবির ইতিহাস পাল্টে যেতে পারে।'
এ বছর মুক্তি পেতে পারে বদিউল আলম খোকনের দুটি ছবি। এগুলো হলো 'হিরো-দ্য সুপারস্টার' [শাকিব খান, অপু বিশ্বাস, ববি] ও 'রাজা হ্যান্ডসাম' [শাকিব খান, অপু বিশ্বাস]। এ দুটি ছবি আসবে শাকিবের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসকে ফিল্মস থেকে। খোকন বলেন, 'গত বছর আমার দুটি ছবি ব্যবসাসফল হয়েছে। এর মধ্যে 'মাই নেম ইজ খান' অন্যতম। নতুন বছরেও আমি আশাবাদী। ডিজিটালের পুরোপুরি সহায়তা নিয়ে আমি তৈরি করেছি 'চিরদিনই তুমি যে আমার' ছবিটি। সব মিলিয়ে নতুন বছরে আমার ছবি মুক্তি পাবে ৩টি।'

শাকিব খান বলেন, 'নতুন বছরে নতুনভাবে আসতে চাই দর্শকের সামনে। অনেক ভেবেচিন্তে ছবি প্রযোজনায় আসছি। চলচ্চিত্র শিল্পে বাড়তি কিছু যোগ করতে চাই। সব মিলিয়ে আমি বছরে ছয়টি ছবিতে অভিনয় করব। অর্থাৎ আমি আরও মনোযোগ দিয়ে কাজগুলো করতে পারব।'
দীর্ঘদিন ধরে মুক্তির অপেক্ষায় আছে ফেরদৌস প্রযোজিত ও নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল পরিচালিত 'এক কাপ চা' [মৌসুমী, ফেরদৌস]। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ছবিটি মুক্তি পেতে পারে বলে ফেরদৌস জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'নতুন বছরে কোনো অস্থিরতা যেন আমাদের চলচ্চিত্রে বিরূপ প্রভাব না ফেলে, এই প্রত্যাশা করি। নির্বাচনোত্তর সময়ে আমার ছবিটি আলোর মুখ দেখবে।'
জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত একাধিক ছবি মুক্তি পাবে নতুন বছরে। এর মধ্যে আছে 'দবির সাহেবের সংসার' [বাপ্পী, মাহি, রোজ], 'ময়না মতি' [বাপ্পী, মাহি, মিলন] ও 'মনের মতো মানুষ পাইলাম না' [শাকিব খান, অপু বিশ্বাস] প্রভৃতি। গত বছরে 'পোড়ামন' ছবির জন্য আলোচিত ছিলেন এ নির্মাতা। নতুন বছরেও তিনি চমক দেখাতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকে।
চ্যানেল নাইন প্রযোজিত প্রথম চলচ্চিত্র 'ছায়া-ছবি'। এর চিত্রায়ন শেষ হয়েছে বেশ আগে। আসি আসি করেও মুক্তি পায়নি মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত এ ছবিটি। নতুন বছরে ছবিটি মুক্তি পাবে। এতে পূর্ণিমার সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন আরেফিন শুভ।
এ বছর মুক্তি পাবে সাফি উদ্দিন সাফির একাধিক ছবি। এর মধ্যে 'রেড-দ্য কালার অব লাভ' [শাকিব খান, অপু বিশ্বাস] ছবির চিত্রায়ন শেষের পথে। শুটিং শুরু হবে 'প্রেম করে আমি মরবো' [শাকিব খান ও তিশা] ছবির। সাফি বলেন, 'পূর্ণ্যদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী'র সাফল্য নিয়ে গত বছরটা ভালোই কেটেছে। নতুন বছরেও আমি আশাবাদী। ইতিবাচক প্র্রতিযোগিতা নিয়ে নির্মাতারা কাজ করবেন—এটাই প্রত্যাশা করি।'
মুক্তি পেতে পারে অনন্ত জলিল পরিচালিত 'মোস্ট ওয়েলকাম টু' [অনন্ত, বর্ষা], তানভীর মোকাম্মেলের 'জীবনঢুলী' [শতাব্দী ওয়াদুদ, জ্যোতিকা জ্যোতি], মুরাদ পারভেজের 'বৃহন্নলা' [ফেরদৌস, সোহানা সাবা], মাসুদ পথিকের 'নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ' [সিমলা], আবু শাহেদ ইমনের 'জালালের পিতাগণ'

অ্যান্ডারসনের নামই শোনেননি আফ্রিদি

১৭ বছর আগে গড়া তার রেকর্ডটিতে এতদিন আঁচড় বসাতে পারেনি কেউ। ১৯৯৬ সালে নাইরোবিতে শ্রীলংকার বিপক্ষে যখন একের পর এক ওভারবাউন্ডারিতে চামিন্দা ভাস, কুমার ধর্মসেনা কিংবা মুত্তিয়া মুরালিধরনদের গ্যালারিতে আছড়ে ফেলছিলেন শহিদ আফ্রিদি, তখন নিউজিল্যান্ডের কোরে অ্যান্ডারসন মাত্র ছয় বছরের শিশু। কেন্টারবুরির ক্রাইস্টচার্চের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে গড়ে ওঠা এ ক্রিকেটারকে আফ্রিদির না চেনারই কথা। কারণ সদ্য সাবেক হওয়া ২০১৩ সালেই যে কোরে অ্যান্ডারসনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক! আফ্রিদিদেরও এ সময়ের মধ্যে মুখোমুখি হতে হয়নি কিউইদের। তবে কোরে অ্যান্ডারসন শুধু আফ্রিদি কেন, নিজেকে চিনিয়েছেন পুরো ক্রিকেটবিশ্বে। আফ্রিদির ৩৭ বলে দ্রুততম ওয়ানডে সেঞ্চুরির রেকর্ড পেছনে ফেলে মাত্র ৩৬ বলে দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক হয়ে গেলেন কিউই এ ব্যাটসম্যান। স্বাভাবিকভাবেই 'অচেনা' এ ব্যাটসম্যানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন আফ্রিদি। জানালেন অভিনন্দন। কুইন্সটাউন ইভেন্টস সেন্টারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাসমান সাগর থেকে ওঠা টর্নেডো যেন একাই টেনে নিয়ে এলেন কোরে অ্যান্ডারসন। রস টেলর আউট হওয়ার পর পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন এ অলরাউন্ডার। শুরু থেকেই ঝড় বইয়ে দিতে শুরু করেছিলেন তিনি। একে একে ১২টি ছক্কার মার মেরে ৩৬তম বলে পেঁৗছে গেলেন এভারেস্টের চূড়ায়। আফ্রিদির রেকর্ডের এক বল আগেই অ্যান্ডারসন পেঁৗছে যান গৌরবের মাইলফলকে। আফ্রিদিও যখন দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছিলেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। কোরে অ্যান্ডারসনের গড়া নতুন রেকর্ডটির কথাও প্রথমে জানতে পারেননি পাকিস্তানি ড্যাশিং অলরাউন্ডার। সকালে ঘুম থেকে উঠে তার ভাতিজার কাছ থেকে প্রথম শোনেন এ ঘটনা। তিনি বলেন, 'আমি এর আগে কখনও তার নাম শুনিনি। সকালবেলা আমার এক ভাতিজা এসে প্রথম এ ঘটনা জানায়। বলল, বছরের প্রথম দিনেই আমার রেকর্ড ভেঙেছে কিউই এক ক্রিকেটার। তার নাম কোরে অ্যান্ডারসন। তবে আমি বলব, এটা সত্যিই একটা বড় অর্জন এবং অ্যান্ডারসন সব প্রশংসাই দাবি করতে পারে এখন। মাত্র ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করা সত্যি যেনতেন কথা নয়।' নিজের রেকর্ড ভেঙে ফেলায় হতাশ নন আফ্রিদি। তিনি বলেন, 'রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙার জন্য এবং আমি জানতাম, এটা একদিন কেউ না কেউ ভাঙবেই।' আফ্রিদি এটাও স্বীকার করেছেন, তিনি আশা করতেন_ তার নিজের রেকর্ডটা অন্তত তার অবসর না নেওয়া পর্যন্ত অক্ষুণ্ন থাকুক। কারণ এটা তার নিজের এবং পাকিস্তানের জন্য বড় একটি সম্মানের বিষয়। তবে অ্যান্ডারসনের এ রেকর্ডও খুব বেশিদিন টিকবে না বলে বিশ্বাস করেন আফ্রিদি। তিনি বলেন, 'টি২০-র এই যুগে অ্যান্ডারসনের এ ইনিংস অনেক বড় বিজ্ঞাপন এবং আমার বিশ্বাস, খুব বেশিদিন টিকবে না এ রেকর্ড।'

মিসবাহ-ইউনিসের সেঞ্চুরি

শ্রীলংকার বিপক্ষে জুটি গড়ার পুরনো ঐতিহ্য আছে মিসবাহ-উল হক এবং ইউনিস খানের। গতকালের আগে আরও দু'বার বড় জুটি গড়েছিলেন ইউনিস-মিসবাহ। একটা ছিল ১৩০ রানের জুটি, অন্যটা ঠিক ১০০ রানের। গতকাল আবুধাবিতে প্রথম টেস্টে জুটির রেকর্ড আরও বাড়িয়ে নিলেন তারা। গতকাল চতুর্থ উইকেটে মিসবাহ ও ইউনিস ২১৮ রানের জুটি গড়েন। আর এই জুটির কল্যাণেই প্রথম টেস্টে চালকের আসনে বসেছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩২৭ রান। ৬ উইকেট হাতে নিয়ে শ্রীলংকার প্রথম ইনিংসের চেয়ে ১২৩ রানে এগিয়ে আছে মিসবাহ-উল হকরা।
পাকিস্তানের পক্ষে গতকাল সেঞ্চুরি করেছেন মিসবাহ ও ইউনিস খান। সেনানায়কের বল মিড উইকেটে ঠেলে দিয়ে ১ রান নিয়ে সেঞ্চুরি করেন মিসবাহ-উল হক। এটা তার পঞ্চম শতক। গতকাল ৭৭তম ওভারের হেরাথের করা পঞ্চম বল কাভার ড্রাইভের মাধ্যমে বাউন্ডারি মেরে সেঞ্চুরি করেন ইউনিস খান। এটা ছিল ইউনিসের ক্যারিয়ারের ২৩তম টেস্ট শতক। গতকাল লাঞ্চের পরই খেলার রঙ বদলে দেয় মিসবাহ-ইউনিস জুটি। লাঞ্চের আগে ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৩৮ রান তোলেন তারা। কিন্তু লাঞ্চের পরেই দৃশ্যপট পাল্টে যায়। মাত্র ৩৩ ওভারে ১৩০ রান তোলেন তারা। এ সময় ওভারপ্রতি রান তোলার গড় ছিল ৩.১৭। লংকান বোলারদের ওপর প্রথমে আক্রমণ শুরু করেন ইউনিস খান। অন্য প্রান্তে ধরে খেলছিলেন মিসবাহ। দিন শেষে তাই অপরাজিত থেকেই প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন পাকিস্তানি অধিনায়ক। ২৩তম সেঞ্চুরির পর ইউনিস ১৩৬ করে ইরাঙ্গার দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। এ ইনিংস খেলতে ১৯৮ বলের মোকাবেলা করেন ইউনিস। সুস্থিরভাবে ব্যাট করে মিসবাহ দ্বিতীয় দিন শেষে ১০৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। ৪ উইকেটে ৩২৭ রান নিয়ে আজ তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করবে পাকিস্তান। ১২৩ রানের লিড যে তারা অনেকদূর টেনে নিতে চাইবে, তা বলাই বাহুল্য। এক পর্যায়ে মাত্র ৮৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপের মুখে পড়েছিল পাকিস্তান। শ্রীলংকা ২০৪ রানে অলআউট হওয়ার পর পাকিস্তান ১ উইকেটে ৪৬ রান নিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করে। দ্বিতীয় দিন শুরুতেই উইকেট হারায় তারা। লাঞ্চের আগেই আউট হন আহমেদ শেহজাদ ও মোহাম্মদ হাফিজ। ইরাঙ্গার বলে আউট হওয়ার আগে শেহজাদ করেছেন ৩৮। ওয়ানডে সিরিজে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করা হাফিজ অবশ্য টেস্টে ভালো করতে পারেননি। গতকাল দিনের শুরুতেই লাকমলের বলে মাত্র ১১ রান করে আউট হন। দিনের শেষে সেঞ্চুরিয়ান মিসবাহর সঙ্গে আসাদ শফিক ১২ রান নিয়ে ব্যাট করছিলেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর : শ্রীলংকা প্রথম ইনিংস : ২০৪ (৬৫ ওভার) (ম্যাথুজ ৯১, করুনারত্নে ৩৮, সিলভা ২০; জুনায়েদ ৫/৫৮, ভাট্টি ৩/৬৫, আজমল ২/৩২)
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস :৩২৭/৪ (১০৯ ওভার) (শেহজাদ ৩৮, খুররম ২১, ইউনিস ১৩৬, মিসবাহ ১০৫*; এরাঙ্গা ২/৬৩)।

‘ভোটার লাগবে না ১০০ কর্মী সারা দিন ভোট দেবে’ by নুর ইসলাম

সাধারণ ভোটার লাগবে না। কেন্দ্রে কেন্দ্রে থাকবে দলীয় কর্মীদের সারি। দিনভর তারাই ভোট দেবেন পর্যায়ক্রমে। অন্তত ১০০ জন কর্মীর সারি রাখতে হবে সার্বক্ষণিক। আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দলীয় সমাবেশে প্রকাশ্যে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন।

কোরের মাথায় আফ্রিদির মুকুট by সৌমিত জয়দ্বীপ

সিডনি হারবার ব্রিজ। খ্রিস্ট নববর্ষ বরণে রোশনাইয়ের চমকপ্রদ আভিজাত্য তাকে জগদ্বিখ্যাত করেছে। রাত শেষে দিন আসে। তাসমান সাগরের ঠিক কোলঘেঁষে জেগে থাকা সিডনিতে রোশনাইয়ের ফুলঝুরিও শেষ হয়। ওপারে তখন শুরু হয় ক্রিকেট। নিউজিল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নিউজিল্যান্ডের কুইন্সটাউন সিডনির মতো বিখ্যাত শহর নয়। সাগরটার ঠিক কোলেও নয় তার বসতি। ইন্টারনেট দুনিয়ার সব মানচিত্রে খুঁজেও পাওয়া যায় না শহরটাকে। নতুন বছরের চমকে সেই অখ্যাত কুইন্সটাউনই কি-না বিখ্যাত সিডনিকে হারিয়ে দিল! কোরে অ্যান্ডারসনকে কুইন্সটাউন যুগ-যুগান্তর মনে রাখবে। মনে রাখবেন কোরে অ্যান্ডারসনও। 'দু'জনে দোহার' হয়ে যে কীর্তিগাথা ও চমক রচিত হলো বছরের প্রথম দিন, 'সে কি ভোলা যায়...'!
মাঠটার নাম কিন্তু কুইন্সটাউন ইভেন্টস সেন্টার ভ্রূ কুঁচকাচ্ছেন? 'ইভেন্টস সেন্টার'ই হলো সোজা-সহজ বাংলায় 'ঘটনাকেন্দ্র'। কী কাকতালীয় বলুন! শেক্সপিয়র বলেছিলেন, 'নামে কী এসে যায়?' কখনও কখনও নামে অনেক কিছুই এসে যায় মি. ড্রামাটিস্ট!
গুনে গুনে ৩৬ বল
নাহ, কোনো ড্রামা নয়। সত্যি ঘটনা। পাঁচ নম্বরে নেমে কোরে অ্যান্ডারসন তো করেছেন ৪৭ বলে অপরাজিত ১৩১ রান। কিন্তু ঠিক ওই গৌরবদীপ্ত মুহূর্তটার আগে কী যে পেয়ে বসেছিল তাকে কে জানে! ৩৫ বলে ৯৫ থেকে ৩৬ বলে ১০১। রেকর্ড! দ্রুততম সেঞ্চুরির একক কৃতিত্ব হতে হলে ছক্কা ছাড়া গতি নেই। গতি এমনই খেলা দেখাল যে, পৃথিবীর সব শক্তিই যেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যানটার শরীরে ভর করল! যদিও বলেছেন পরে, 'না। আসলেই না। আমি ভাবছিলাম সেঞ্চুরিটা অনেক দ্রুত হয়ে গেল। আমার মাথাতেই আসেনি যে এটাই দ্রুততম।'
সোয়া সতেরো বছর ও আফ্রিদি ওয়ানডে ক্রিকেটের দ্রুততম সেঞ্চুরি দেখল বিশ্ব। ভেঙে গেল শহিদ আফ্রিদির সোয়া সতেরো বছর-পূর্ব রেকর্ড। সেঞ্চুরিটা ছিল ৩৭ বলে। তিন নম্বরে নেমে ক্যারিয়ারের প্রথম ইনিংসটাকে আফ্রিদি অমর করেছিলেন এই জগদ্বিখ্যাত সেঞ্চুরি দিয়ে। শ্রীলংকার বিরুদ্ধে কেনিয়ার নাইরোবিতে। ১৯৯৬ সালের ৪ অক্টোবর। ১৬ বছরের সেই তরুণ আফ্রিদি আজ ক্যারিয়ারের প্রায় সায়াহ্নে। শেষবেলায় ৩৩ বছর বয়সী আফ্রিদি দেখলেন তার রেকর্ডকে 'গুডবাই' বলে বিশ্বক্রিকেট নতুন বছরে 'ওয়েলকাম' জানাচ্ছে ২৩ বছর বয়সী অ্যান্ডারসনের রেকর্ডটা! আফ্রিদির অনন্য মুকুটটা এখন অ্যান্ডারসনের মাথায়। আফ্রিদি তাকে চিনতেন না, চিনেছেন রেকর্ডটা ভেঙে দেওয়ার পর। 'অখ্যাত' সেই ছেলেটাই কিং হয়ে গেলেন!
৩৭-এ সাবধান!
এখন আর এই রেকর্ডের কথা বলা হলে, মুখস্থবিদের মতো '৩৭' বলা থেকে সাবধান! সোয়া সতেরো বছরের অভ্যাস সহজে যাওয়া কঠিনই। তবে, কাজটা কঠিনতম হয়ে যাবে হয়তো। কেন যাবে? কারণ, এই রেকর্ড একদিন আবারও ভাঙবে। মহান অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেটে 'ব্র্যাডম্যানীয় ৯৯.৯৬' ছাড়া সব রেকর্ডই ভাঙনের ভেলায় ভেসে যাবে হয়তো একদিন। কবে, তা মহাকাল জানে। রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙার জন্য_ এই তত্ত্ব বাদ দিয়েই বলা যায়, রেকর্ডটা আসলে ভাঙতই।
কেন ভাঙত রেকর্ডটা?
প্রধানত তিনটি কারণে ভাঙত এই রেকর্ড। প্রথমত, টি২০ ক্রিকেটের উল্লম্ফন। রমরমা বাণিজ্যের কালে তার বিশাল বিস্তৃতি। এই ক্রিকেটে-কালের অভিমুখ মারমার কাটকাট ব্যাটিং। চার-ছক্কার উত্তেজনায় 'ব্যাটিং ব্যাকরণ' এখানে অমান্য জ্ঞান করা যায়। দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম বোলারটিও কখনও কখনও নতজানু এ কালে। 'শম্বুক গতি'র টেস্টেও এখন ওভারে ৪-৪.৫ রান নস্যি। এমন ব্যাটিং আজকের ক্রিকেট সংস্কৃতির মানদণ্ড। শহিদ আফ্রিদি যতদিন শীর্ষে থাকলেন, ততদিন সময় কোরে অ্যান্ডারসনকে তাই আজ কেউ দেবে না! কাজটা কঠিন। কিন্তু কঠিনতর নয়। তর্কটা হলো, পরিসংখ্যান বলছে, ওয়ানডে ম্যাচ হলেও, বৃষ্টির কারণে খেলা হয়েছে ২১ ওভার করে। অর্থাৎ টি২০-ই তো! কিন্তু ক্রিকেট মানে শুধু এই একটা ম্যাচ নয়। আরও ওয়ানডে হবে। সময়ই উত্তর দেবে। কিন্তু উত্তরটা সহজ করে দিয়েছে আসলে দ্বিতীয় কারণটা। ব্যাটিংকে মুশকিল আসান করার জন্য কী করা হয়নি ক্রিকেটে। এখন ওয়ানডে ক্রিকেটের ফিল্ডিংয়ে নিয়ম বদলেছে। নন পাওয়ার প্লেতে আগে বৃত্তবন্দি থাকত ৪ জন। এখন ৫ জন। মানে আগে বাইরে থাকতে পারত ৫ জন। এখন কমিয়ে হয়েছে ৪ জন! আর তৃতীয় কারণটা লঘু হলেও সত্য যে, পাওয়ার প্লে-২ ৩৫-৪০ ওভারে চলে যাওয়ায়, কোনো দলের রান সংগ্রহের অবস্থা শক্তিশালী থাকলে যদি কোনো ব্যাটসম্যান নেমেই আক্রমণ শুরু করেন, তাহলে অবশ্যই শেষ ১৫ ওভারের মধ্যে সেঞ্চুরি সম্ভব। টি২০-র যুগে এতসব ব্যাটিংবান্ধব নিয়মে ব্যাটসম্যানদের তো পোয়া বারো হবেই! রেকর্ডটা তাই ভাঙতই। ১৪ ছয়, ৬ চারে সাজানো অ্যান্ডারসনের রেকর্ডটাও আসলে ভাঙবে। কাল নয়তো পরশু। সেই সময়ের অপেক্ষা। তবে, তখন পর্যন্ত 'কোরে ওয়াজ দ্য কিং অব কুইন্সটাউন' বলাতে একচুলও ভুল নেই!

তবুও জাপার অবস্থান পরিষ্কার হলো না

সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী প্রশ্নোত্তর পর্বের পরও পরিষ্কার হলো না জাতীয় পার্টি পুরোদমে নির্বাচনে আছে কি না। যদিও দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন; তাঁর পাশে ছিলেন না দলটির মহাসচিবসহ নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখেন এমন অনেক নেতাই।

তবুও জাপার অবস্থান পরিষ্কার হলো না

সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী প্রশ্নোত্তর পর্বের পরও পরিষ্কার হলো না জাতীয় পার্টি পুরোদমে নির্বাচনে আছে কি না। যদিও দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আজ বৃহস্পতিবার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন; তাঁর পাশে ছিলেন না দলটির মহাসচিবসহ নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখেন এমন অনেক নেতাই।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ দাবি করেছেন, দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সিএমএইচে, জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদ শারীরিকভাবে অসুস্থ, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি। ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির প্রধান জি এম কাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, আলাদাভাবে দলের সভাপতিমণ্ডলীর কে, কোথায় আছেন তার উত্তর তিনি দিতে পারবেন না। তবে তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি শব্দ এরশাদের অনুমোদিত। ইশতেহারটি সভাপতিমণ্ডলীর সভায় অনুমোদন পেয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, দেশের প্রায় সব সংবাদমাধ্যমের সামনে নির্বাচনী ইশতেহার তাঁরা ঘোষণা করছেন। এটি বিশ্বাস করা না-করা সংবাদমাধ্যমের ওপর তাঁরা ছেড়ে দিয়েছেন। আজ আনিসুল ইসলাম মাহমুদের পাশে ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া কাজী ফিরোজ রশীদ, নারায়ণগঞ্জের নাসিম ওসমান, তাজুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী মাঈদুল ইসলাম প্রমুখ।
জাতীয় পার্টির যেকোনো অনুষ্ঠানে দলটির প্রেস শাখা সাংবাদিকদের অবহিত করলেও আজকের ইশতেহার ঘোষণা সম্পর্কে শাখাটি ছিল নীরব। গতকাল বুধবার রাতে জাতীয় পার্টির কোনো কোনো নেতা মুঠোফোনে খুদে বার্তা দিয়ে সাংবাদিকদের ইশতেহার ঘোষণা হবে বলে জানান। তবে, জাতীয় পার্টির নির্বাচনমুখী অংশটির দাবি, এরশাদ জানেন আজ ইশতেহার ঘোষণা হচ্ছে। তিনি জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি বোর্ডের প্রধান, তিনি যাঁদের মনোনয়ন দিয়েছেন, তাঁরাই লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে আছেন। ঐক্যবদ্ধ জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে তিনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ দাবি করেন, এরশাদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। এরশাদ তাঁকে বলেছেন, ৩ ডিসেম্বর নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কারণ মাঠ পর্যায়ে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত ছিলেন। এখন তাঁর শঙ্কা কেটে গেছে।

প্রসঙ্গত, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা, জাসদের ইশতেহার ঘোষণা করেছেন সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, উপস্থিত ছিলেন দলটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

ইশতেহারের স্লোগান‘শান্তির জন্য পরিবর্তন—পরিবর্তনের লক্ষ্যে জাতীয় পার্টি’।গালভরা স্লোগান হলেও তিন পৃষ্ঠার ইশতেহারটি পড়তে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সময় লেগেছে মাত্র মিনিট পাঁচেক।ইশতেহারে মোটা দাগে সব খাতের উন্নয়ন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।বিভিন্ন সময় এরশাদ যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তা-ও বলা হয়েছে।

 তবে ইশতেহার ঘোষণার আগে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে কিছু প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দলে কোনো বিদ্রোহী অংশ নেই। সবার চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘সচরাচর যে অবস্থার মধ্যে নির্বাচন হয়, তেমনটা এবার নয়। নির্বাচনে অংশ নেওয়া একটি দলের সাংবিধানিক অধিকার, বর্জন করাও সাংবিধানিক অধিকার। জাতীয় পার্টি সব সময় সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন চেয়েছে। নব্বইয়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর পার্টির চেয়ারম্যান জেলে ছিলেন, কিন্তু আমরা নির্বাচনে গেছি। ১৯৯৬ সালেও তিনি জেলে ছিলেন, ২০০১ সালে আদালতের নির্দেশে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি, তবু জাতীয় পার্টি নির্বাচন করেছে। চয়েসটা হলো সাংবিধানিক ও অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্যে।’ তিনি সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলে জঙ্গিবাদের উত্থানের প্রসঙ্গও এনেছেন। আনিসুল ইসলাম বলেন, তাঁর দল লাঠি মিছিল পছন্দ করে না, বোমা দিয়ে মানুষ হত্যারও বিরোধী। সব দলের মধ্যে বোঝাপড়া করে সংকট সমাধান করা উচিত, কিন্তু বোমা মেরে যদি সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে ১০ লাখ জঙ্গি যে তাণ্ডব করবে, সেটিও অন্যভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

এরশাদ কি আটক, জাপা এখন কার নেতৃত্বে, মন্ত্রীরা কি সত্যিই পদত্যাগ করেছিলেন—প্রশ্নোত্তর পর্বের প্রায় পুরোটাজুড়েই ঘুরেফিরে আসে এরশাদ প্রসঙ্গ। তিনি সিএমএইচে কেন, কবে ছাড়া পাবেন, তাঁর অসুখটা কী—এসব প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গেছেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেছেন, দলের মহাসচিব এসব প্রশ্নের জবাব দেবেন। এরশাদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাতে অনড় রয়েছেন বলে ববি হাজ্জাজ এক ভিডিওবার্তায় গতকাল জানিয়েছেন। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, ববি জাতীয় পার্টির গবেষণা সেলের একজন কর্মকর্তা। তিনি কীভাবে এসব কথা বলছেন তা তাঁর জানা নেই।

দলের নেতৃত্ব কার হাতে—জানতে চাইলে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, চেয়ারম্যান তাঁর অবর্তমানে দল চালানোর দায়িত্ব রওশন এরশাদকে দিয়েছেন। এরশাদের অনুপস্থিতিতে দলের মহাসচিব ও জি এম কাদেরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে বলে এরশাদ স্বাক্ষরিত চিঠি আছে সংবাদমাধ্যমের হাতে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, দায়িত্ব রওশন এরশাদকে দেওয়া হয়েছে।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদের কাছে প্রশ্ন ছিল, তাঁরা মন্ত্রিসভায় আছেন কি না। তিনি উত্তরে বলেছেন, তিনি মন্ত্রিসভায় আছেন। ডাকযোগে পাঠানো পদত্যাগপত্র পৌঁছেছে কি না, সে সম্পর্কে তিনি জানেন না বলে উল্লেখ করেন।

বক্তব্য উপস্থাপনের সময় একাধিকবার সমাজ পরিবর্তনে যাঁরা ভূমিকা রাখেন তাঁদের সমালোচনা করেন তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিয়ে যাঁরা কথা বলছেন, তাঁরা বোমা হামলার নিন্দা করছেন না।

মায়ের কাছে ক্ষমা চাইলেন অভিনয়শিল্পী সাদিয়া জাহান প্রভা

নিজের ভুলের জন্য মায়ের কাছে ক্ষমা চাইলেন আলোচিত অভিনয়শিল্পী সাদিয়া জাহান প্রভা। আরটিভির ‘আমি আর মা’ অনুষ্ঠানে মায়ের কাছে ক্ষমা চান তিনি। সম্প্রতি অনুষ্ঠানটির দৃশ্যধারণের কাজ শেষ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে কিমের হুঁশিয়ারি

উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন বলেছেন, কোরিয়া উপদ্বীপে যুদ্ধ শুরু হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও নিরাপদ থাকতে পারবে না। বুধবার তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি এ মহড়াকে যুদ্ধপূর্বকালীন প্রস্তুতির অংশ বলে মনে করছেন বলেও মন্তব্য করেন। যুদ্ধ বাধলে তা ব্যাপক পারমাণবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। খবর আলজাজিরা ও এএফপির। নতুন বছর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, 'এখানে যদি আবারও যুদ্ধের ঘণ্টা বেজে ওঠে, তাহলে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র কেউই নিরাপদে থাকতে পারবে না।' তিনি বলেন, 'আমরা এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে এসে পড়েছি, সামান্য একটি সামরিক তৎপরতা সর্বাত্মক যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।' 'ফুফাকে ফাঁসিতে দেওয়া সঠিক' : গত মাসে নিজের ফুফাকে ফাঁসিতে ঝোলানোর ব্যাপারটাকে 'সঠিক ও সময়োচিত' হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। বাবার আপন ভগি্নপতি একদা দারুণ প্রভাবশালী নেতা চ্যাং সং থায়েককে ফাঁসিতে ঝোলানোর দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পর এই প্রথম জনসমক্ষে মুখ খুললেন তিনি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে প্রচারিত এক বার্তায় তিনি বলেন, 'এই দৃঢ় সংকল্প আমাদের জাতীয় ঐক্যকে সুসংহত করবে।'

পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষিতার মৃত্যু মমতার বিরুদ্ধে মামলা by রক্তিম দাশ

কলকাতায় গণধর্ষণের শিকার ১৬ বছরের এক কিশোরী মঙ্গলবার মারা গেছে। এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্বে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ক্ষমতাসীন তৃণমূলের ক্যাডাররাই ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে এবং গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। ধর্ষিতার পরিবার জানিয়েছে, ইতিমধ্যে পুলিশের যোগসাজশে তাদের হুমকি দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যাডাররা। ধর্ষিতার বাবা জানান, দাবি না মানা পর্যন্ত তিনি মেয়ের মৃতদেহ সৎকার করবেন না। পুলিশ ট্যাক্সিচালক ওই ব্যক্তিকে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে দিতে বলেছে বলেও দাবি করেন তিনি। ধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। তবে এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'এ ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে বামেরা। ঘটনার জন্য অভিযুক্ত ৬ জন জেলে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগও গঠন করা হয়েছে।' মারা যাওয়া ধর্ষিতার বাবা তার মেয়ের মৃত্যুর জন্য সরকারি আরজি কর মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসায় অবহেলার জন্য দায়ী করছেন। কিশোরীর বাবা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গণধর্ষণের মামলায় এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২৫ অক্টোবর ধর্ষণের শিকার হয় ওই কিশোরী। তৃণমূল ক্যাডাররা মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়ে ২৩ ডিসেম্বর শরীরে আগুন দেয় তারা। এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালে মারা গেছে কলকাতার মধ্যমগ্রামের ধর্ষিত কিশোরী। রাতে তড়িঘড়ি করে ওই লাশের সৎকার করার চেষ্টা করে পুলিশ। ধর্ষিতার পরিবার ও বিরোধী দলের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে তা করতে পারেনি। পরিবারের অভিযোগ, মঙ্গলবার মারা যাওয়ার পর পুলিশ প্রশাসনের তরফে জোর করে লাশ নিমতলা শ্মশানে পাঠিয়ে দেয়। তবে পরিবার ও বামফ্রন্টের বাধার মুখে সৎকার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাম কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। গতকাল সিটু অফিস থেকে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। বামফ্রন্ট গতকাল ও আজ ধিক্কার দিবস পালনের ডাক দিয়েছে। কিশোরীর মা বলেন, 'কেন মেয়েটাকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হলো না?

বিক্ষোভে উৎসবে বর্ষবরণ

আতশবাজির আলোকচ্ছটা আর শ্যাম্পেনের ফোয়ারায় ২০১৪ সালকে বরণ করে নিল বিশ্ববাসী। সিডনি থেকে শুরু করে হংকং, জাপান থেকে শুরু করে দুবাই_ সর্বত্র জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চার লাখের বেশি আতশবাজি ফুটিয়ে গিনেস বুকে নাম উঠিয়ে বর্ষবরণ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। অন্যদিকে বিক্ষোভের মধ্যে বছর শুরু হয়েছে হংকং, মালয়েশিয়া ও ইউক্রেনে। খবর এএফপি ও আলজাজিরা অনলাইনের।
ইউক্রেন হংকং ও মালয়েশিয়ায় বিক্ষোভ
বছরের প্রথম দিন বিক্ষোভের মাধ্যমে শুরু করল ইউক্রেন, হংকং ও মালয়েশিয়ার অধিবাসীরা। মালয়েশিয়ায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কুয়ালালামপুরের ইন্ডিপেনডেন্ট স্কয়ারে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা এটিকে মালয়েশিয়ায় বিক্ষোভ সূচনার প্রতীক বলে উল্লেখ করেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই বিক্ষোভ প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুন বছর শুরু করল ইউক্রেনের সরকারবিরোধীরা। তারা রাজধানী কিয়েভের ইন্ডিপেনডেন্ট স্কয়ারে দিনের প্রথম প্রহরে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে বছর শুরুর দিনে বিক্ষোভ করেছে হংকংবাসী।
ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় নিহত ১৩
ফিলিপাইনে নববর্ষ উদযাপনের সময় এক বোমা হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের সুমিসিপ শহরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আল কায়দা ঘনিষ্ঠ আবু সায়েদ সশস্ত্র গোষ্ঠী এ হামলা চালিয়েছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ায় নতুন বছরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ছয় সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়েছে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের সহিংসতায় একজন নিহত হয়েছে।
আতশবাজি পোড়ানোর মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালকে প্রথম বরণের সুযোগ পায় নিউজিল্যান্ডবাসী। ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অকল্যান্ড শহরে অবস্থিত এক হাজার ৭৬ ফুট উঁচু স্কাই টাওয়ার থেকে আতশবাজি পুড়িয়ে নববর্ষ উদযাপন করল তারা। অস্ট্রেলিয়ার সিডনির অপেরা হাউস ও হারবার ব্রিজকে সাজানো হয় অপরূপ সাজে। এরপর সেখান থেকে একের পর এক আতশবাজির রঙিন ছটায় আলোকিত হয়ে ওঠে চারদিক। এবারের এ উৎসবে ব্যবহার করা হয় ৭ টন আতশবাজি। হারবার ব্রিজে লাখ লাখ লোক আতশবাজির আলোকচ্ছটার মধ্য দিয়ে উদযাপন করে নববর্ষ। দুবাইতে নববর্ষ উপলক্ষে চার লাখের বেশি আতশবাজি ফোটানোর আয়োজন করা হয়। বৃহত্তম আতশবাজির প্রদর্শনীর জন্য দুবাইয়ের নাম গিনেস বুকে ওঠে। ৩০ মাইল এলাকাজুড়ে মাটি থেকে আকাশে, প্রায় এক কিলোমিটার উপরে উঠে গেছে নতুন বছরকে বরণ করতে আয়োজিত এ আলোর ফোয়ারা। নববর্ষ উপলক্ষে জাপানে ক্রেতারা কাঁকড়া, টুনা মাছ ও অন্যান্য সুস্বাদু খাবার কেনেন। দীর্ঘজীবন লাভে নববর্ষে খাওয়া হয় নুডলস। নিরাপত্তার খাতিরে অতিরিক্ত কড়াকড়ি থাকলেও মস্কোর রেড স্কয়ারে জড়ো হয় হাজারো মানুষ। লন্ডনে বেগ বেন টাওয়ারে ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় আতশবাজির খেলা।

বছরের প্রথম দিনে ইতিবাচক ধারা

লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখী ধারার মধ্যে দেশের শেয়ারবাজারে নতুন বছরের যাত্রা শুরু হয়েছে। গতকাল ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনে ডিএসইতে ৫৬ শতাংশ এবং সিএসইতে ৫০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। এতে বাজার মূল্যসূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা বেড়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০১৩ সালের শেষ লেনদেন সোমবার বেড়েছিল সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারদর।
শেয়ারবাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সম্পর্কে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের মধ্যেও স্থিতিশীল শেয়ারবাজারের জন্য বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাই শেয়ারবাজারকে ঊর্ধ্বমুখী রাখতে সহায়তা করেছে। এদিকে শেয়ারবাজার সূত্র জানিয়েছে, এই দরবৃদ্ধির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক ও বিনিয়োগ সংস্থা এবং তাদের সহযোগী মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
দিনের লেনদেন শেষে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে এদিন ২৯১টি কোম্পানির শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড এবং করপোরেট বন্ড কেনাবেচা হয়। এর মধ্যে ১৬৫টির দর বেড়েছে, কমেছে ৯৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির দর। এতে ডিএসই-এক্স সূচক ১৯ পয়েন্ট বেড়ে ৪২৮৬ পয়েন্টে উঠেছে। যদিও লেনদেনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত প্রায় সব কোম্পানির শেয়ারদর দর বেড়ে লেনদেন হয়েছিল। লেনদেন হয়েছে প্রায় ৪১২ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড। যা মঙ্গলবারের তুলনায় ৩০ কোটি টাকা বেশি।
অপর শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২১২ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১০৬টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৬টির দর। এতে নির্বাচিত খাত মূল্য সূচক ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে প্রায় ৮৪২৩ পয়েন্টে উঠেছে। লেনদেন হয়েছে ৪৩ কোটি ৪২
লাখ টাকার।
ডিএসইর খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতগুলোর বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। ব্যাংক খাতে ছিল মিশ্রাবস্থা। ওষুধ ও রসায়ন, সিমেন্ট, চামড়া, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে।

অস্থিরতার মধ্যেও ইপিজেডে বিনিয়োগ বেড়েছে

রাজনৈতিক অস্থিরতায় প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি। বিশেষ করে গত কয়েক মাসের হরতাল-অবরোধ ও রাজনৈতিক সহিংসতায় নতুন বিনিয়োগ এক রকম বন্ধ। এ অবস্থার মধ্যেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) নতুন বিনিয়োগ বেড়েছে ৩০ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারাদেশের তুলনায় ইপিজেডগুলোর বিনিয়োগ পরিবেশ অনেক নিরাপদ। হরতাল-অবরোধে উৎপাদন খুব একটা ব্যাহত হয় না। ফলে রাজনৈতিক সংকটেও ইপিজেডের বিনিয়োগে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) সূত্রে জানা গেছে, আলোচ্য সময়ে দেশের ইপিজেডগুলোতে ১৫ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের বিনিয়োগ হয়েছে। আগের অর্থবছরে একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এছাড়া বেপজা নতুন বিনিয়োগের জন্য পাঁচটি বিদেশি এবং চারটি দেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এ সময়। এসব প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ৯ কোটি ডলারের বিনিয়োগ করার কথা।
সূত্রমতে, জুলাই-নভেম্বর সময়ে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হয়েছে ঢাকা ইপিজেডে, প্রায় ৬ কোটি ডলারের। এর পর আদমজী ইপিজেডে ৪ কোটি ডলার, চট্টগ্রাম ইপিজেডে ৩ কোটি ২১ লাখ ডলার, কর্ণফুলী ইপিজেডে ১ কোটি ৩৪ লাখ ডলার, উত্তরা ইপিজেডে ৬২ লাখ ডলার, কুমিল্লা ইপিজেডে ৪০ লাখ ডলার এবং মংলা ইপিজেডে একই পরিমাণ নতুন বিনিয়োগ হয়েছে। এই নিয়ে ইপিজেডগুলোতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯৪ কোটি ডলার।
এদিকে বিনিয়োগ বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশে নতুন বিনিয়োগ নিবন্ধন কমেছে ৪০ শতাংশ। এ রকম পরিস্থিতিতে ইপিজেডে বিনিয়োগ বাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বেপজার মহাব্যবস্থাপক নাজমা বিনতে আলমগীর সমকালকে বলেন, সারাদেশের তুলনায় বেপজার পরিবেশ অনেক সংরক্ষিত এবং নিরাপদ।

রেমিট্যান্সে ছন্দপতনের বছর

বেশ কয়েক বছর ধরে উচ্চ প্রবৃদ্ধি থাকলেও সদ্যসমাপ্ত বছরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্থ প্রবাহ কমেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২০১৩ সালে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে মোট ১ হাজার ৩৮৪ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। আগের বছর রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৪১৮ কোটি ডলার। আগের বছরের তুলনায় ২০১৩ সালে রেমিট্যান্স কমেছে ৩৪ কোটি ডলার, যা প্রায় ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দেশে সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতের দূরত্বসহ নানা কারণে জনশক্তি রফতানি কমেছে। এ ছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে হুন্ডি প্রবণতাও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসবের প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহে। তবে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি না থাকলেও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য, টাকার বিনিময় হার ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তিদায়ক অবস্থা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৯৬৯ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে রেকর্ড ১৪৪৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে। প্রতিটি বছর কিংবা অর্থবছরে রেমিট্যান্স আগের চেয়ে বেড়েছে। এবারই ছন্দপতন হচ্ছে। অবশ্য রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার প্রভাব এখনও সামষ্টিক অর্থনীতিতে ততটা পড়েনি। কেননা ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে গতি না থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা কম রয়েছে। তবে রেমিট্যান্স বাড়লে জাতীয় আয়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
প্রতি মাসের পরিসংখ্যান বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থবছর ধরে রেমিট্যান্সের বার্ষিক তথ্য প্রকাশ করে। অর্থবছর ধরলে ডিসেম্বরে চলতি অর্থবছরের ৬ মাস পূর্ণ হয়েছে। সে হিসাবে দেখা গেছে, অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার হার ২০১৩ পঞ্জিকা বছরের তুলনায় অনেক বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৬৭৮ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৭৪০ কোটি ডলার। এ হিসাবে অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ৬২ কোটি ডলার, যা ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এ ছাড়া একক মাস হিসেবে গত ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ১২১ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এই পরিমাণ কম হলেও আগের মাস নভেম্বরের তুলনায় বেশি। নভেম্বরে মোট ১০৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। আর আগের বছরের ডিসেম্বরে এসেছিল প্রায় ১২৯ কোটি ডলার।
ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৪০ কোটি ডলার। নভেম্বরে যা ছিল ৩৪ কোটি ডলার। বিশেষায়িত দুটি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার, আগের মাসে যা ছিল ১ কোটি ২২ লাখ ডলার। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৭৮ কোটি ডলার। আগের মাসে এসেছিল ৬৯ কোটি ডলার। বিদেশি ৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। নভেম্বরে যা ছিল ১ কোটি ২৯ লাখ ডলার। রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়লে সাধারণত অর্থ পাচার বাড়ে। এ সময় খোলাবাজার থেকে ডলার কিনে বিভিন্ন দেশে পাচারের কথা শোনা যায়।
রেমিট্যান্স আশানুরূপ হারে না বাড়লেও রফতানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি এবং আমদানি আগের বছরের তুলনায় বাড়ার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় পেঁৗছেছে। গত ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ১৮শ' কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। রিজার্ভের এ পরিমাণ সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয়। এই রিজার্ভ দিয়ে দেশের ৬ মাসের বেশি আমদানি দায় মেটানো সম্ভব।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায় টাকার মূল্যমান ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং বাজারভিত্তিক তদারকির কারণে বর্তমানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মুদ্রার তুলনায় অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে আমদানির হার না বাড়লে এই বিনিময় হার ধরে রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে।

দুর্যোগ মোকাবেলায় ২ প্রকল্প অনুমোদন বিশ্বব্যাংকের

বাংলাদেশের দুর্যোগ মোকাবেলায় ২১ ও ১৪ কোটি ডলারের ২টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।দুর্যোগ মোকাবেলায় ২ প্রকল্প অনুমোদন বিশ্বব্যাংকের
 বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা।
 প্রকল্প দুটি হলো- ২১ কোটি ডলারের বাংলাদেশ মডার্ন ফুড স্টোরেজ ফ্যাসিলিটিজ প্রজেক্ট এবং ১৪ কোটি ডলারের বাংলাদেশ ইমার্জেন্সি ২০০৭ সাইক্লোন রিকভারি অ্যান্ড রেস্টোরেশন প্রজেক্ট- এডিশনাল ফাইন্যান্সিং।  গত ৩০ ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে।

পরীক্ষায় মনোযোগী এমা

ক'দিন বাদেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা শুরু হয়ে যাবে, তাই একের পর এক ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছেন এমা ওয়াটসন। এর মধ্যে কিছু লোভনীয় প্রস্তাবও ছিল, কিন্তু নিজের সিদ্ধান্ত সঠিক মনে হয়েছে তার। ২৩ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ তারকার সব মনোযোগ এখন লেখাপড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্সে ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি সাহিত্যে পড়ছেন তিনি। অভিনয় আর পড়াশোনা দুটো সমানতালে করলে যে ডাব্বা মারার আশঙ্কা আছে তা ভালোই জানা তার। জানা গেছে, হলিউড নির্মাতারা তাকে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। কিন্তু আপাতত লেখাপড়ায় সফল হওয়ার ইচ্ছা তার। 'হ্যারি পটার' সিরিজের ছবিতে অভিনয়ের সময়ও সেটে দিনে পাঁচ ঘণ্টা শিক্ষকের কাছে পড়েছেন তিনি। তখন জিসিএসই মাধ্যমিক স্কুল পরীক্ষায় আটটি এ প্লাস ও দুটি এ গ্রেড অর্জন করেন এমা।
রাসেল ক্রো ও অ্যান্থনি হপকিন্সের সঙ্গে তার অভিনীত নতুন ছবি 'নোয়া' মুক্তি পাবে এ বছর।

একাত্তরে রণাঙ্গনের দিনগুলো by মোহাম্মদ বদিউজ্জামান

১৯৭১ সালের রণাঙ্গনের দিনগুলোর কথা এখনও স্পষ্ট। আমাদের কত স্বপ্ন ছিল। মানুষ আমাদের কত সম্মান ও শ্রদ্ধা করত। দেশকে শত্রুমুক্ত করতে, স্বাধীন করতে সেদিন আমরা যারা অস্ত্র ধরেছিলাম, মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম তাদের বেশিরভাগই আজ স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণায় কাতর। তারপরও সান্ত্বনা যে, বাংলাদেশের জনগণকে উপহার দিয়েছি স্বাধীন জাতির মর্যাদা।
তখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ি। পাকিস্তান আর্মি নিরস্ত্র জনগণের ওপর হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছে। গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলার সীমাবাড়ীর প্রান্তসীমায় আমরা কয়েকজন বন্ধু সিদ্ধান্ত নিলাম, যুদ্ধে যাব। কয়েকদিন পর ভোরের আলো ফোটার আগেই চিড়া-মুড়ি, যবের ছাতু ও গুড় সঙ্গে নিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা হলাম। প্রথমে ৪০ মাইল আঁকাবাঁকা পথে হেঁটে পাবনার সাঁথিয়া থানার করঞ্জা গ্রামে পেঁৗছি। সেখান থেকে হেঁটে ভারতের জলঙ্গিতে পেঁৗছি। সেখান থেকে চুয়াডাঙ্গায় এক ট্রানজিট ক্যাম্পে উঠলাম। পতিরামপুর ট্রানজিট ক্যাম্পে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন শিরহীর নেতৃত্বে কয়েকদিন ট্রেনিং হয়। এরপর বহু প্রত্যাশিত হায়ার ট্রেনিংয়ের জন্য দার্জিলিংয়ের পানিঘাটায় ৩০ দিনের ট্রেনিং শুরু করলাম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে চার হাজার ফুট ওপরে পাহাড়ের পাদদেশে আমাদের ট্রেনিং হলো। কীভাবে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে, অ্যামবুশ, পাচওয়ার্ড ইত্যাদি বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ ট্রেনিং হলো।
ট্রেনিং শেষে দেশে ঢোকার পর আমাদের প্রথমে পাঠানো হলো বিনোদপুর, খাসেরহাট ও তেলিপুকুরে। গলাপানি পার হয়ে আমরা খাসেরহাটে পেঁৗছলাম। সেখানে প্রথম রাজাকারদের সঙ্গে আমাদের গুলিবিনিময় হয়। খাসেরহাট ও তেলিপুকুরে কয়েকদিন থাকার পর এলাম কলাবাড়ী। শিবগঞ্জ থানার মহানন্দা নদীর পূর্ব পাড়ে আমবাগানের ভেতর বাঙ্কারে অবস্থান নিলাম। পাকবাহিনী নদীর পশ্চিম পাড়ে স্কুলঘরে ও আশপাশে পাকা বাঙ্কারে অবস্থান করছিল। আমাদের শক্তি বৃদ্ধির জন্য ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীরসহ বেশকিছু সেনা অফিসার ও জওয়ান যোগদান করলেন। একদিন সোনামসজিদ থেকে বাঁধ ধরে রেকিতে (সম্ভাব্যতা যাচাই) বের হলাম। পথে একটি মাটির বাড়ির পাটশোলার বেড়ার আড়াল থেকে জীর্ণ কাপড় পরা এক মধ্যবয়সী মহিলা ইশারায় আমাকে ডাকলেন। যুদ্ধের নিয়ম উপেক্ষা করে আমি সেই বাড়িতে ঢুকলাম। তার বাবা ঘরের মেঝেতে মাদুর বিছিয়ে শুয়ে আছেন। তিনি আমার দুই হাত ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন, মুক্তিযোদ্ধারা যেন তাদের মহাকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেন। ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর অত্যন্ত সাহসী যোদ্ধা। তিনি সোনামসজিদে আসার পর সীমান্ত অবস্থার উন্নতি হয়। মনে পড়ে গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত লেফটেন্যান্ট ইদ্রিসকে সোনামসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়েছিল। কুদ্দুস ভাই কলেজের অধ্যাপক। বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায়ও আমাদের সহযোগিতা করেছেন। সেখানে আমরা অনেক রাজাকার ধরে ছিলাম। সেখান থেকে প্রায়ই গভীর রাতে ভারতীয় ট্যাংক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আঘাত করত। একসময় আমাদের দিনাজপুর সীমান্তে পাঠানো হলো। সেখানে পাকবাহিনীর গুলি এবং মর্টার শেলিংয়ে আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হলেন। তারপর আমরা আবার তরঙ্গপুর ক্যাম্পে এলাম। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতার জন্য সিরাজগঞ্জে লতিফ মির্জাকে এবং শাহজাদপুরে আমিসহ ১২১ জনকে পাঠানো হয়।
সর্বশেষ আমরা তখন শাহজাদপুর থানার কোনো এক গ্রামে ছিলাম। ১৫ ডিসেম্বর শুনলাম টাঙ্গাইল থেকে ৩০-৩৫ জন পাকসেনা যমুনা নদী পার হয়ে নদীর পশ্চিম পাড়ে ধিতপুর গ্রামে ব্রহ্মপুত্র ফ্লাড কন্ট্রোল বাঁধের পাশে এক সিড গোডাউনের পাশে আশ্রয় নিয়েছে। উদ্দেশ্য নগরবাড়ী হয়ে ঢাকার দিকে যাওয়া। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করলে মুক্তিযোদ্ধারা তাদের মেরে ফেলবে। আমরা তখন ধিতপুরের উদ্দেশে রওনা দিলাম। আমাদের পেছনে শত শত গ্রামবাসী অংশ নিল। আমরা পাকবাহিনীর বাঙ্কারের প্রায় ১৫-২০ গজের মধ্যে একটা বাড়ির আমগাছের আড়ালে থেকে একযোগে এলএমজি ও রাইফেলের গুলি শুরু করি। গভীর রাতে রাজাকারদের অনবরত গুলি করার নির্দেশ দিয়ে পাকসেনারা হুরাসাগর নদী পার হয়ে নগরবাড়ীর দিকে চলে গেছে। সকালে আমরা কয়েকজন রাজাকারকে পেলাম। আমাদের কয়েকজন সহযোদ্ধা আহত হলেন এবং তাদের মধ্যে বর্তমান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর ভাই আবদুল খালেক অন্যতম। তাকে বাঁচাতে পারিনি। শুধু ভালো ট্র্রিটমেন্টের অভাবেই অনেকে মারা গেছেন। আমার সঙ্গে যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন অনেকের নামই ভুলে গেছি। তবে ভুলিনি সাধারণ মানুষের আন্তরিকতা ও অভাবনীয় সহযোগিতার কথা। অনেক সহযোদ্ধাকে রণাঙ্গনে হারিয়েছি। তাদের জন্য আজও মন কাঁদে।
মোহাম্মদ বদিউজ্জামান : মুক্তিযোদ্ধা

মৌলবাদমুক্ত দেশ গড়ব by মেনন

(জাতির উদ্দেশে ভাষণ) ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের পাঁচ বছরে কৃষি, শিক্ষা, নারী ও সমাজ উন্নয়নসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অনেক সাফল্য রয়েছে। তবে 'দুর্নীতি' পিছু ছাড়েনি। পদ্মা সেতু, হলমার্ক, শেয়ার-বাণিজ্য, চাঁদাবজি, নিয়োগ-বাণিজ্য জোটের সাফল্য অনেকটা ম্লান করে দিয়েছে। তিনি জঙ্গি ও মৌলবাদমুক্ত দেশ গড়ার পক্ষে তার দলের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির বিষয়টি সরকারের সাফল্য। গতকাল বুধবার রাতে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে দেওয়া নির্বাচনী ভাষণে রাশেদ খান মেনন আরও বলেন, নির্বাচনে ভোটাধিকার আমাদের বহু সংগ্রামের অর্জন। এ দেশের মানুষ উৎসব আনন্দে নির্বাচন করবে। সে নির্বাচনে ভোট প্রদান করা, অংশগ্রহণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। রাজনৈতিক গুরুত্বের দিক দিয়ে এবারের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, সংবিধান ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রশ্ন। তিনি আরও বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে লড়াই করে যাচ্ছে। স্বৈরতন্ত্র, সামরিকতন্ত্র, মৌলবাদবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াই করছে। জাতির ঘাড়ে যখন গণবিরোধী শক্তি চেপে বসছে, তখনই ওয়ার্কার্স পার্টি এককভাবে, ইস্যুভিত্তিক, ফ্রন্ট করে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। রাশেদ খান মেনন বলেন, যারা বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করে, তাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে লড়াই করতে হবে। জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদকে পরাজিত করে গণতান্ত্রিক পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের পক্ষে কাজ করতে দলের পক্ষে ২৪ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।
উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে :জাসদ
একই দিন নির্বাচনী ভাষণে জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া দেশকে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার হাত থেকে রক্ষা করে উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মহাজোটের শরিক দল হিসেবে জাসদ মহাজোট শাসনামলে ক্ষেত্রবিশেষ সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতি রোধে ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করে। সুশাসন এবং দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করাকে জাসদ জাতীয় রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করে। এ জন্য সংবিধানকে সমুন্নত রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে জাসদ।
দলীয় প্রতীকে ভোট চাইল বিএনএফ
এ ছাড়া গতকাল বাংলাদেশ টেলিভিশনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী নবগঠিত বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) নির্বাচনী ভাষণ প্রচারিত হয়েছে।
এ সময় দলের প্রধান সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ আগামী নির্বাচন সামনে রেখে তার দলের পক্ষে ক্ষমতায় গেলে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তার দলের প্রতীক 'টেলিভিশন'-এ ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বানও জানান।

নির্বাচন ব্যাহত হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জটিলতায় পড়বে by মঞ্জু

(জাতির উদ্দেশে ভাষণ) জাতির উদ্দেশে নির্বাচনী ভাষণে জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ব্যাহত হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জটিল এবং কঠিন হয়ে পড়বে। যারা নির্বাচন বন্ধের কথা বলছেন, এটা তাদের একটি রাজনৈতিক ফাঁদ। নির্বাচন কোনোভাবে ব্যাহত হলে ২৪ জানুয়ারির পর নতুন সমস্যার সৃষ্টি হবে। গতকাল রাত সোয়া ৯টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মাধ্যমে ভাষণে তিনি একথা বলেন। মঞ্জু বলেন, এই সুযোগে অনেকে ৪২ বছরের অর্জিত অর্থনৈতিক ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যর্থ করে দিতে চাইছে। দেশের জনগণ গণতান্ত্রিক ধারাকে নিরঙ্কুশ করার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে শিল্পক্ষেত্রের অবদান বৃদ্ধি পেলেও তা এখনও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নয়। তার দল বিশ্বাস করে, কৃষক সমাজকে যথাযথ সহায়তা দিতে পারলে কৃষিক্ষেত্রে অগ্রগতি আরও দ্রুততর করা যাবে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে স্তব্ধ করে দিয়ে কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। এই পোড়ামাটি নীতি শুধু ঔপনিবেশিক শক্তি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে পালন করে আসছে। আজকে যারা অর্থনীতি ধ্বংসের নীতি অবলম্বন করে যাচ্ছেন তারা একদিন ক্ষমতায় আসবেন। তাদেরও একদিন এ বিষয়টি মোকাবেলা করতে হবে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরও বলেন, সাম্প্রতিককালে কিছু সন্ত্রাসমূলক ঘটনা ও প্রাণহানিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। রাজনীতির ক্ষেত্রে সব ধরনের সহিংসতা, সন্ত্রাস ও নির্মমতাকে বিদায় করতে হবে। সেখানে থাকবে সৌহার্দ্য, যুক্তিনির্ভর বিতর্ক এবং পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা ও পরমতসহিষ্ণুতা। সাম্প্রতিককালের এ সকল হিংসাশ্রয়ী ঘটনায় আমরা কখনও কখনও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ি।
সবশেষে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি-জেপি অতীতেও সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, ভবিষ্যতেও অংশগ্রহণ করবে। জেপি'র মনোনীত প্রার্থীদের বাইসাইকেল মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন এবং শান্তি, গণতন্ত্র ও সমাজ প্রগতির ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। বিতাড়িত করবেন দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, পুষ্টিহীনতা এবং পশ্চাদপদ চিন্তাকে।

বিচারক নিয়োগের নীতিমালা হয়নি ৫ বছরেও by ওয়াকিল আহমেদ হিরন

উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের নীতিমালা প্রণয়ন হয়নি বিদায়ী মহাজোট সরকারের আমলেও। সম্পূর্ণভাবে করা খসড়া নীতিমালাটি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হলেও তা চূড়ান্তভাবে প্রণয়ন করা হয়নি। ২০১২ সালে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে এ নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিচারক নিয়োগের খসড়া নীতিমালা তৈরি করে আইন মন্ত্রণালয়। নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল খসড়া নীতিমালায়। পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশের বিচারক নিয়োগের বিধান অনুসরণ করে সাবেক প্রধান বিচারপতি, অভিজ্ঞ আইনবিদসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা-পর্যালোচনা করে খসড়াটি প্রণয়নও করা হয়েছিল। সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের অননুমোদনের কারণে তা চূড়ান্ত হয়নি। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুমোদন না দেওয়ায় খসড়া নীতিমালাটি আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে নীতিমালা প্রণয়ন করতে না পারায় এশীয় ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে ঝুলে রয়েছে বিচারক নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি।
দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এডিবির পক্ষ থেকে প্রতিবছর সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ন্যায়পাল নিয়োগ, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে নীতিমালা প্রণয়ন ও স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস প্রতিষ্ঠার জন্য আইন মন্ত্রণালয়কে এ প্রকল্পের ব্যয় বাবদ ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী এডিবির ঢাকা অফিস থেকে একই বছরের ২৫ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ তিনটি কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে এসব কাজের উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
বিচারক নিয়োগের নীতিমালা প্রণয়ন তদারকির জন্য সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরুকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের উপকমিটি গঠন করা হয়। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফজলে রাবি্ব মিয়া সমকালকে বলেন, ওই কমিটি কোনো প্রতিবেদন দাখিল করেনি। ফলে ঝুলে রয়েছে বিচারক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়টি।
বিচারক নিয়োগে উচ্চ আদালতের রীতি ও পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণে কোনো পরিপূর্ণ বিধিমালা নেই। ১৯৫৮ সালের 'রুলস অব দ্য হাইকোর্ট অব জুডিকেচার ফর ইস্ট পাকিস্তান' অনুযায়ী হাইকোর্টের রীতি ও পদ্ধতি পরিচালিত হয়ে আসছে। সাবেক প্রাদেশিক সরকারের আমলে হাইকোর্টের বিধিমালা বর্তমানে অনেকাংশ অনুপযোগী, অকার্যকর ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
২০০৯ সালের ২ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এক রায়ে জোট সরকারের সময়ে বাদ পড়া ১০ বিচারপতিকে স্থায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচ দফা নির্দেশনা দেন। তাতে বলা হয়, বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির পরামর্শ গ্রহণ সাংবিধানিক রেওয়াজ। এ রেওয়াজ সাংবিধানিক রীতিনীতিতে পরিণত হয়েছে। এটা আইনের শাসনের অংশ, বিচারক নিয়োগ ও বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির পরামর্শ বা মতামত প্রাধান্য পাবে। তবে তাদের পেশাগত যোগ্যতা ও উপযুক্ততা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের মতামত নেওয়া হবে।
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে ১০০ জন বিচারপতি রয়েছেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে উচ্চ আদালতে ৪৭ জন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়। বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয়করণের অভিযোগ ওঠে সব সরকারের বিরুদ্ধে। সংবিধানে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির পরামর্শ গ্রহণের বিষয়টি পঞ্চদশ সংশোধনীর আগে ছিল না। ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের বিধানটি উচ্চ আদালতের নির্দেশে বিদায়ী মহাজোট সরকার সংবিধানে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করে। অর্থাৎ প্রধান বিচারপতির পরামর্শ ছাড়া রাষ্ট্রপতি কাউকে হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগ দিতে পারবেন না, যা অনুসরণ করেই বিচারক নিয়োগের বিধান প্রচলিত রয়েছে।

তদন্তের অগ্রগতি শুধু 'সন্দেহ' by সাহাদাত হোসেন পরশ

ব্যবধান মাত্র চার দিন। এরই মধ্যে রাজধানীতে দুটি পৃথক ঘটনায় খুন হয়েছেন সাতজন। দুটি ঘটনাই ফ্ল্যাটের ভেতর বেডরুমে। গত বছরের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর আর কে মিশন রোডের একটি বাসায় গলা কেটে হত্যা করা হয় ছয়জনকে। চার দিনের মাথায় ২৫ ডিসেম্বর রাজধানীর রামপুরায় নিজ বাসায় খুন হন একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রবীণ আলোকচিত্রী আফতাব আহমদ। সিক্স মার্ডারের ১২ দিন পার হলেও পুলিশ চাঞ্চল্যকর এ খুনের ব্যাপারে এখনও কার্যত অন্ধকারে। পুলিশি তদন্তের একই হাল আফতাব আহমদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও।
তবে দুটি ঘটনায় পুলিশি তদন্তের এখন পর্যন্ত অমিল এক জায়গায়। পুলিশ বলছে, দুই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তদন্ত চলছে। এখনও সন্দেহের মধ্যেই ঘুরপাক পুলিশি তদন্ত। যদিও সন্দেহের পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ এখনও পুলিশ হাতে পায়নি। দুটি পৃথক স্থানে সাতজনকে খুনের ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। বাস্তবে তদন্তের ফলাফল শূন্য। এদিকে, তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আপাতত চাঞ্চল্যকর দুই ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি করতে না পারার কারণ হিসেবে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পুলিশের ব্যস্ত থাকাকে দায়ী করছেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর সমকালকে বলেন, সিক্স মার্ডার ও সাংবাদিক আফতাব আহমদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত চলছে। এরই মধ্যে আমরা কিছু ক্লু পেয়েছি। আফতাব হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সন্দেহের তালিকায় তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক হুমায়ুন কবির ছাড়াও একজন রাজমিস্ত্রি রয়েছেন। তাদের গ্রেফতার করা গেলে কিছু তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে গোয়েন্দাদের ধারণা।
গত ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর আর কে মিশন রোডের ৬৪/৬ নম্বর বাড়ির ফ্ল্যাটে গলা কেটে হত্যা করা হয় কথিত পীর হিসেবে পরিচয় দেওয়া লুৎফর রহমান ফারুক (৫৭), তার ছেলে সারোয়ার ইসলাম মনির (৩০), মঞ্জু (৩০) ও ফারুকের তিন অনুসারী মুজিবুর রহমান (৩০), শাহীন (২৪) ও রাসেলকে (২৫)।
পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সমকালকে জানান, আর কে মিশন রোডে সিক্স মার্ডারের ঘটনাটি পরিকল্পিত। উগ্রপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠীর কেউ নৃশংসভাবে তাদের হত্যা করে থাকতে পারে। ফারুক দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ইমাম মাহাদির অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতেন। এমনকি অনেক সময় নিজেকেও ইমাম মাহাদি বলে দাবি করতেন। ফারুক হজরত মোহাম্মদ (সা.) শেষ নবী বলে স্বীকার করতেন না। তার লেখা কয়েকটি বইয়ে ফারুক এসব বিষয় উল্লেখ করেন। ফারুকের এমন কর্মকাণ্ড থেকে গোয়েন্দাদের সন্দেহ, উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠীর কোনো সদস্যই পরিকল্পিতভাবে ফারুক এবং তার ছেলে ও অনুসারীদের হত্যা করেছে। গোয়েন্দাদের সন্দেহের তালিকায় হিযবুত তাহ্রীর, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, জেএমবিসহ পাঁচ জঙ্গি সংগঠন ছাড়াও জামায়াত-শিবিরের উগ্রপন্থিরাও রয়েছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, সিক্স মার্ডার একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাই বাসায় থাকা কোনো নারীকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করেনি। তাদের একটি কক্ষে তারা বন্দি করে রেখেছিল। টার্গেট কিলিং হওয়ার খুব অল্প সময়ে ছয়জনকে খুন করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতেও সক্ষম হয় গ্রুপটি। হত্যার ধরনও বলছে, খুনিরা অত্যন্ত পারদর্শী। ছয়জনকে প্রায় একই স্টাইলে গলা কাটা হয়েছে।

শুভ হোক নতুন বছর

পৃথিবীর বুক থেকে হারিয়ে গেল আরেকটি বছর। কালের মাঝে বিলীন হয়ে গেল ২০১৩ সাল। ঘটনাবহুল ১৩ নানাভাবে আলোচিত-সমালোচিত। বছরটিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল সংঘর্ষ। একে একদিকে সহিংসতার বছর বলা যায়, অন্যদিকে ভালো খবরও রয়েছে বছরটিতে। আমরা নানা আন্দোলনও দেখেছি। শাহবাগের গণজাগরণ, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন; উপঅন্যদিকে ছিল বিরোধী দলগুলোর তত্ত্বাবধায়কের জন্য আন্দোলন। তবে এসব আন্দোলনে অনেক সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছে। ২০১৩ সালে বাঙালির আরেকটি বড় অর্জন হলো একাত্তরের ঘৃন্যতম ব্যক্তি কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করা। অন্যদিকে এ বছর আমরা হারিয়েছি অনেক গুণী ব্যক্তিকে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বর্ণবাদবিরোধী অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, চলচ্চিত্রের নবাব সিরাজদৌল্লাহ খ্যাত আনোয়ার হোসেন, খালেদ খানসহ অসংখ্য ব্যক্তিকে। তাদের স্মরণ করি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার সঙ্গে। এরপরই আমরা পেলাম ২০১৪ সাল। আমরা চাই না ২০১৩ সালের মতো হোক ২০১৪। আশা করব, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এ বছরের মতো অটুট রেখে, শান্তি ফিরে আসবে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে এ প্রত্যাশায়।
ইমরান হোসেন এমি
সাধারণ সম্পাদক, আনোয়ারা সাহিত্য সংসদ, চট্টগ্রাম
শিক্ষকদের ভোগান্তি দূর করুন
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তার পদমর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ হয়নি। সরকার অতি শিগগিরই গেজেট প্রকাশ করতে যাচ্ছে। যারা সর্বশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন তারাও এ গেজেটের আওতাভুক্ত। এখন পর্যন্ত তারা স্থায়ী হননি। জানা গেছে, বর্তমান গেজেট প্রকাশ হলে এই গেজেট বলেই তারা স্থায়ী হয়ে যাবেন। তাদের স্থায়ীকরণের জন্য মাত্র কিছু তথ্য প্রয়োজন, যা প্রতিটি স্কুলেই সংরক্ষিত আছে। একাধিকবার তাদের থেকে এ তথ্য ডিডি ও ডিজি অফিসে পাঠানো হয়েছে। যে কোনো অফিসিয়াল প্রয়োজনে যা অফিস নিজ দায়িত্বে সরবরাহ করতে বাধ্য থাকবে। অথচ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ডিডি অফিসগুলোতে এক শ্রেণীর অসাধু কর্মচারী ও কর্মকর্তার সহায়তায় স্থায়ীকরণের নামে তাদের থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাই তারা শুরু করেছেন ফাইল চালাচালি। কাগজপত্রের তেলেসমাতি। তাদের যুক্তি হলো, আমাদের ডিডি অফিসের কাজ শেষ করে ডিজিতে গিয়ে কাজ করিয়ে নিতে খরচ বাবদ তারা এ টাকা নিচ্ছেন। তাহলে ডিডি ও ডিজি অফিসের কাজ কী? তারা কি উপরি পাওনা দিয়ে চলে, না সরকার তাদের বেতন দেয়? যদি আমাদের টাকায় আমাদের কাজ করতে হয়, যদি সত্যিকারে করিয়ে নেওয়ার এ রকম কোনো ব্যবস্থা থাকে যে, এটা মাউশির রুটিন ওয়ার্কের মধ্যে পড়ে না, তাহলে আমরা ডিজি মহোদয়ের কাছে অনুরোধ করছি, লিখিতভাবে আমাদের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে জানিয়ে দিন।
আয়শা ইসলাম, কানিজ ফাতেমা জয়িতা পাল, নিশাত জাহান
সহকারী শিক্ষকবৃন্দ, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খুলনা বিভাগ
মহিলা কলেজ চাই
শিক্ষা, সাহিত্য-সংস্কৃতি আর উজানভাটির এক অপূর্ব ভূমি কিশোরগঞ্জ জেলার স্বনামধন্য তাড়াইল উপজেলা। এই উপজেলার প্রায় ৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬টি মাদ্রাসা, ১৪টি স্কুল থাকলেও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য মাত্র একটি মহাবিদ্যালয় রয়েছে। তাছাড়া উপজেলায় দুটি বালিকা বিদ্যালয় থাকলেও নেই নারীদের জন্য পৃথক কোনো কলেজ। শিক্ষাজীবনের পাট চুকে যায় মাধ্যমিক পরীক্ষার পরপরই। আর তাই এলাকার নারী শিক্ষার দ্বার প্রশস্তকরণে অন্তত একটি বালিকা মহাবিদ্যালয়ের বিকল্প নেই। এ মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য পৃথক জায়গা বরাদ্দ, অবকাঠামো নির্মাণ ইত্যাদির প্রয়োজন নেই, শুধু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা ও সামান্য উদ্যোগই এ মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ভিত হতে পারে। উপজেলায় যে দুটি বালিকা বিদ্যালয় রয়েছে তার অন্যতম একটি হাজী গোলাম হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, সমাজহিতৈষী হাজী গোলাম হোসেনের (মহাজন) একক প্রচেষ্টায় ১৯৮৩ সালে দুই একর ৬৮ শতাংশ জমির ওপর এ বালিকা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, অবস্থানগত গুরুত্ব, অবকাঠামোগত দৃষ্টিকোণ থেকে এই বালিকা উচ্চবিদ্যালয়টি এ উপজেলার নারী শিক্ষার দাবি মেটাতে বালিকা মহাবিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা রাখে।
মনিরুজ্জামান খান তপন
তাড়াইল, কিশোরগঞ্জ