Saturday, July 24, 2010

রোজার প্রস্তুতি ও শাবান মাসের ফজিলত by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

হিজরি সালের আরবি চান্দ্রমাসের মধ্যে শাবান মাস মূলত পবিত্র মাহে রমজানের প্রস্তুতির মাস। এ মাসে রয়েছে লাইলাতুল বরাতের মতো অত্যন্ত বরকতময় রজনী, যাকে বলা হয় পবিত্র মাহে রমজানের আগমনীবার্তা। কেননা শাবান মাস মুসলমানদের কাছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মহিমান্বিত রমজান মাসের সওগাত নিয়ে আসে। রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি বেশি নফল রোজা, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও নামাজ আদায় করে মাহে রমজানের পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, ‘নবী করিম (সা.) কখনো নফল রোজা রাখতে শুরু করলে আমরা বলাবলি করতাম, তিনি বিরতি দেবেন না। আর রোজার বিরতি দিলে আমরা বলতাম যে তিনি মনে হয় এখন আর নফল রোজা রাখবেন না। আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে রমজান ব্যতীত অন্য কোনো মাসে পূর্ণ এক মাস রোজা পালন করতে দেখিনি। কিন্তু শাবান মাসে তিনি বেশি নফল রোজা রেখেছেন।’ (মুসলিম) অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘শাবান মাস ছাড়া অন্য কোনো মাসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এত অধিক হারে নফল রোজা আদায় করতেন না।’ (বুখারি)
শাবান মাসের গুরুত্ব, মাহাত্ম্য ও তাৎপর্যের বিবেচনায় নবী করিম (সা.) অধিক হারে নফল ইবাদত-বন্দেগি করতেন। রমজানের মর্যাদা রক্ষা এবং হক আদায়ের অনুশীলনের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে বেশি বেশি রোজা রাখতেন। এ সম্পর্কে হজরত আনাস (রা.) বলেছেন, ‘নবী করিম (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো—আপনার কাছে মাহে রমজানের পর কোন্ মাসের রোজা উত্তম? তিনি বললেন, রমজান মাসের সম্মান প্রদর্শনকল্পে শাবানের রোজা উত্তম।’ (তিরিমিজি) রমজানে দীর্ঘ ৩০টি রোজা পালনের কঠিন কর্মসাধনা সহজ ও নির্বিঘ্নে আদায় করার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে শাবান মাসের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয় মাসের একটি হলো শাবান। এ মাসে নফল রোজা আদায় করেই তিনি রমজানের রোজা পালন করতেন।’ (আবু দাউদ)
আসন্ন মাহে রমজানের মূল সিয়াম শুরু করার আগে শাবান মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কিছু নফল রোজা রাখা দরকার। যাতে করে মাহে রমজানের রোজা পালন সহজ হয় এবং লক্ষ্যও ঠিকমতো অর্জিত হয়। তবে শাবান মাসের অর্ধেক পার হয়ে গেলে বেশি রোজা আর না রাখাই ভালো। যাঁরা এ মাসে নফল রোজা রাখতে চান, তাঁদের মধ্যভাগেই শেষ করে ফেলা উচিত। মাহে রমজানের প্রস্তুতিকল্পে শাবান মাসকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে যে ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসের চাঁদের কথা অধিক যত্নের সঙ্গে স্মরণ রাখতেন, যা অন্য মাসের বেলায় হতো না।’ (মুসনাদে আহমাদ)
এ ছাড়া শাবান মাসের বিশেষ ফজিলত আছে, এ বিষয়ে হাদিস শরিফে তাৎপর্যপূর্ণ কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়। হজরত উসামা বিন যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি নবী করিম (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, “ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনাকে শাবান মাসে অন্যান্য মাস অপেক্ষা বেশি নফল রোজা রাখতে দেখি।” এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, “রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী এ মাস অনেকেই খেয়াল করে না। এটি এমন একটি মাস, যে মাসে মানুষের সব কর্মকাণ্ড আল্লাহর সামনে উপস্থাপন করা হয়। তাই আমি চাই এমন সময়ে আমার কর্মকাণ্ডের খতিয়ান আল্লাহর কাছে উপস্থাপন করা হোক, যখন আমি রোজা অবস্থায় রয়েছি।”’ (নাসাঈ ও আবু দাউদ)
শাবান মাসে সাহাবায়ে কিরাম আসন্ন রমজান মাস নির্দেশনা অনুযায়ী সুষ্ঠুভাবে অতিবাহিত করার পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। শাবান মাসের চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গে সাহাবিগণ অধিক পরিমাণে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত শুরু করতেন। ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়োজিত সাহাবিগণ হিসাব-নিকাশ চূড়ান্ত করে জাকাত প্রদানের প্রস্তুতি নিতেন। প্রশাসকেরা কারাবন্দী লোকদের মুক্তির উদ্যোগ গ্রহণ করতেন। হজরত মুয়ায ইবনে জাবাল (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা মধ্য শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টির (বান্দাদের) প্রতি দৃষ্টি দেন এবং সবাইকে ক্ষমা করে দেন। তবে তারা ব্যতীত, যারা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করে এবং অপরকে ক্ষতি সাধনের বাসনা পোষণ করে।’ (ইবনে হিব্বান) কিন্তু সেসব লোকের প্রতি আল্লাহ তাকিয়েও দেখেন না, যারা মানুষের প্রতি অন্তরে ক্ষতি সাধনের অশুভ কামনা ও হিংসা-বিদ্বেষ লালন করে, যারা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে, যারা গোঁড়ালির কাপড়কে দীর্ঘায়িত করে পরিধান করে, যারা পিতা-মাতার অবাধ্যতা করে এবং যারা মাদকাসক্ত হয়। হজরত আবু ছালাবাহ (রা.) বর্ণিত অপর একটি হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যখন মধ্য শাবানের রাত আগমন করে, আল্লাহ তাআলা স্বীয় বান্দাদের দিকে মনোযোগ দেন এবং মুমিন বান্দাদের ক্ষমা করেন, আর হিংসা-বিদ্বেষ পোষণকারীদের তাদের অবস্থায় ছেড়ে দেন (যতক্ষণ না তারা তাওবা করে সুপথে ফিরে আসে)।’ (বায়হাকি)
শাবান মাসকে এত বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিশেষ কারণ হলো, এ মাসে শবে বরাত নামে বিশেষ একটি রজনী আছে, যে রাতে বান্দার সারা বছরের আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয় এবং আগামী এক বছরের জন্য বান্দার হায়াত, মউত, রিজিক, দৌলত ইত্যাদির নির্ধারন করা হয়। এ মাসে মুসলমানদের আমল-আখলাক যেন সুন্দর হয় রাসুলুল্লাহ (সা.) সেদিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। কেননা রমজানের প্রস্তুতিকল্পে সবাই যেন এমনভাবে রোজা ও নফল ইবাদতে লিপ্ত না হয়, যার কারণে ক্লান্তিতে রমজান মাসের ইবাদত-বন্দেগিতে বিঘ্ন ঘটে। তাই শাবান মাসে ভারসাম্যপূর্ণ নেক আমলের তাগিদ দিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের সাধ্যানুযায়ী আমল করবে, কেননা আল্লাহর কাছে প্রিয় আমল তা-ই, যা সর্বদা পালন করা হয়।’ (বুখারি)
আল্লাহর দরবারে আমল পেশ হওয়া, মাহে রমজানের প্রস্তুতি, শবে বরাত ইত্যাদি বিশেষ কারণে শাবান মাসের আলাদা মর্যাদা রয়েছে। তাই বলা হয়, ‘রজব মাসে শস্য বপন করা হয়, শাবান মাসে খেতে পানি সিঞ্চন করা হয় এবং রমজান মাসে ফসল কর্তন করা হয়।’ শাবান মাসের ফজিলত সম্পর্কে নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘রজব আল্লাহর মাস, শাবান আমার মাস এবং রমজান আমার উম্মতের মাস।’ শাবান মাসকে রমজান মাসের প্রস্তুতি ও সোপান মনে করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষ দোয়া করতেন এবং অন্যদের তা শিক্ষা দিতেন। নবীজির কাছে শাবান মাসের মর্যাদা এতই বেশি যে যখন তিনি এ মাসে উপনীত হতেন, তখন রমজানকে স্বাগত জানানোর উদ্দেশ্যে আল্লাহর কাছে অধিক হারে এই বলে প্রার্থনা করতেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদের রজব ও শাবান মাসের বিশেষ বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিন।’ (মুসনাদে আহমাদ)
মহানবী (সা.)-এর এ দোয়ার মাধ্যমে সবার কাছে রমজানের প্রস্তুতি ও শাবান মাসের ফজিলত প্রতীয়মান হয়। পরম করুণাময় আল্লাহর অশেষ দয়া ও ক্ষমার দৃষ্টি লাভের আকাঙ্ক্ষায় শাবান মাসব্যাপী অন্যান্য মাসের তুলনায় অধিক পরিমাণে ইবাদত-বন্দেগি ও মধ্য শাবানের রজনীতে তওবা-ইস্তেগফার করে অতীতের সব গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর আনুগত্য ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুমহান আদর্শ অনুসরণে নিজেদের জীবন পরিচালনার দৃঢ় প্রত্যয় ও শপথ গ্রহণ করা উচিত।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

তাজউদ্দীন আহমদ ও জনগণের রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা by সোহরাব হাসান

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগেই যে তরুণ পাকিস্তানি ধ্যানধারণার বিপরীতে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন, তিনি তাজউদ্দীন আহমদ। ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে কামরুদ্দীন আহমদ, মোহাম্মদ তোয়াহা, অলি আহাদ প্রমুখকে নিয়ে পিপলস ফ্রিডম লীগ বা গণআজাদী লীগ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এর পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে তাঁরা ‘আশু দাবি কর্মসূচি আদর্শ’ শিরোনামে একটি ইশতেহার লিখে বিভিন্ন জেলায় পাঠিয়ে দেন। যার লক্ষ্য ছিল মানুষের মুক্তি, ন্যায্য ভূমি সংস্কার, নাগরিক অধিকার এবং মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষার প্রসার। তখনো শেখ মুজিবুর রহমান কলকাতায়।
সেই থেকে তৎকালীন পূর্ববাংলার মুসলিম লীগবিরোধী যেকোনো উদ্যোগ-আয়োজন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। সহযাত্রীদের চেয়ে বয়সে কনিষ্ঠ হয়েও নিরন্তর সাধনা ও প্রজ্ঞাবলে নেতৃত্বের আসনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। যার উজ্জ্বল স্বাক্ষর আমরা লক্ষ করি আটচল্লিশের ভাষা আন্দোলনে, ঊনপঞ্চাশে আওয়ামী মুসলিম লীগ, একান্নতে যুবলীগ এবং অন্যান্য প্রগতিশীল সংগঠন প্রতিষ্ঠায়। ‘জনগণের রাষ্ট্র’ গঠন ছিল তাঁর সারা জীবনের স্বপ্ন।
১৯৪৭-এ ডায়েরিতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি পর্যায়ক্রমে ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে কথা বললাম। আমাদের জনগণের রাষ্ট্র গঠন করা উচিত। দুর্নীতি ও ঘুষ শক্ত হাতে বন্ধ করতে হবে। একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনে সহযোগিতা করার জন্য সকলকে আবেদন জানালাম।’
কিশোর বয়স থেকেই তাজউদ্দীন আহমদ জনগণের রাষ্ট্র গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর রাজনীতির সার কথা ছিল গণমানুষের মুক্তি। অন্যদের সঙ্গে তিনিও উপলব্ধি করেছিলেন, পাকিস্তানি কাঠামোয় সেই মুক্তি আসবে না। প্রথমে তাঁরা মাতৃভাষা ও স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে সামনে নিয়ে আসেন, তারপর পর্যায়ক্রমে তা স্বাধিকার আন্দোলনে রূপ নেয়।
তাজউদ্দীন আহমদ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ১৯৬৬ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত। তার আগে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দলের ছিলেন নিশ্চয়ই; কিন্তু একই সঙ্গে দলকে ছাড়িয়েও গিয়েছিলেন। তিনি দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে এক সূত্রে গাঁথতে পারতেন। দলীয় নেতাদের বিরোধিতা সত্ত্বেও সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটিই তার প্রমাণ। শেখ মুজিবুর রহমান যদি হন স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা, তাজউদ্দীন আহমদ তার রূপকার। একাত্তরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। আওয়ামী লীগের যুব নেতারা তাঁর বিরুদ্ধে ছিলেন, ডানপন্থীরা তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছেন। তা সত্ত্বেও তাজউদ্দীন আহমদ ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী সরকারটির নেতৃত্ব দিয়েছেন।
যখন বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানিদের হাতে বন্দী, আওয়ামী লীগের নেতারা ছত্রভঙ্গ, তিনি বাংলাদেশ সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়ে সারা বিশ্বকে জানিয়ে দিলেন, ‘আমরা যুদ্ধে আছি। হাজার হাজার লাশের স্তূপের নিচে পাকিস্তান রাষ্ট্রের কবর রচিত হয়েছে।’ মুজিবনগর সরকারের অনেকে দোদুল্যমান ছিলেন। খন্দকার মোশতাক আহমদ তো মার্কিন দূতিয়ালিতে পাকিস্তানের সঙ্গে আপসরফার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ কত দিন চলবে কেউ জানে না, কোন কোন দেশ আমাদের পক্ষে তাও স্পষ্ট নয়। কিন্তু এসব সংশয়-সন্দেহ নীরবে কাজ করে যাওয়া এই মানুষটিকে স্পর্শ করতে পারেনি। সেই যুদ্ধাবস্থায়ও তিনি পরিকল্পনা সেল গঠন করেছিলেন, পরিকল্পনা নিয়েছিলেন—যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে কী কৌশল নিতে হবে, কীভাবে মুক্তাঞ্চলে শাসনকাঠামো গড়ে তোলা হবে। তাজউদ্দীন আহমদ সরকার পরিচালনার গুরুদায়িত্বের পাশাপাশি সুযোগ পেলেই ছুটে যেতেন মুক্তিযোদ্ধা শিবিরগুলোতে, তাদের সঙ্গে কথা বলতেন, সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন। বিদেশি রাষ্ট্রনেতা, কূটনীতিক, লেখক-শিল্পী-সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজটিও তিনি করতেন প্রায় এককভাবে। তাঁর টেবিলে সব সময় একটি ডায়েরি থাকত, তাতে বৈঠকের সময়সূচি টুকে রাখতেন, কাকে কী নির্দেশ দিতে হবে তাও নোট করতেন। এমনকি অনেক সময় মন্ত্রিসভার বৈঠকের কার্যবিবরণও লিখতেন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল, যখন মুজিবনগর সরকার গঠিত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেয়নি, সবার সঙ্গে যোগাযোগও সম্ভব হয়নি, জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তাজউদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, ‘খেটে খাওয়া সাধারণ কৃষক, শ্রমিক, মধ্যবিত্ত, ছাত্র-জনতা, তাদের সাহস, তাদের দেশপ্রেম, তাদের বিশ্বাস, সাধনা, বাংলাদেশের চিন্তায় তাদের নিমগ্ন প্রাণ, তাদের আত্মাহুতি, তাদের ত্যাগতিতিক্ষায় জন্ম নিল এই নতুন স্বাধীন বাংলাদেশ। বাংলাদেশের নিরক্ষর মানুষের জন্য রচিত হোক এক নতুন পৃথিবী, যেখানে মানুষ মানুষকে শোষণ করবে না। আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক ক্ষুধা, রোগ, বেকারত্ব আর অজ্ঞানতার অভিশাপ থেকে মুক্তি।’
১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়ার বৈদ্যনাথতলায় মুজিবনগর সরকার শপথ নেয়। এরপর দিন-রাত তিনি কাজ করেছেন লক্ষ্যে পৌঁছাতে। তিনি জানতেন, আমাদের সম্পদ সীমিত, সামর্থ্য অপ্রতুল। কিন্তু বিজয় কেউ রুখতে পারবে না।
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। তাদের অস্ত্র ও রসদ জোগানোর পাশাপাশি সেক্টর কমান্ডারদের বিরোধ মীমাংসাও করতে হয়েছে তাঁকে। একজন বিশ্লেষকের মতে, ‘সামরিক ক্ষেত্রে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে নিশ্চিতভাবে শত্রুপক্ষ এর সুযোগ গ্রহণ করত এবং মুক্তিযুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলত।’
বিজয়ের পর ১৭ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়েছে, কিন্তু আমাদের সংগ্রাম শেষ হয়নি। আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এখনো শত্রুর কারাগারে।’
মুক্তিযুদ্ধের সময় অন্য নেতারা পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকলেও তাজউদ্দীন আহমদ কাজের সুবিধার জন্য আলাদা থাকতেন। অফিসঘরের পাশের একটি কক্ষে ঘুমাতেন। এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন, ‘অনেক মুক্তিযোদ্ধা শত্রুবাহিনীর হামলায় পা হারিয়েছেন, হাত হারিয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন। কেউ গুলির আতঙ্কে যন্ত্রণা চেপে ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। এঁদেরও তো অনুভূতি আছে। তাঁদের মা বোন স্ত্রী ছেলেমেয়ে স্বজন রয়েছেন। কিন্তু তাঁদের কথা চিন্তা করার সময় কোথায়?’
তাজউদ্দীন আহমদকে অন্যায়ভাবে ভারতপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আসলে তিনি সর্বান্তকরণে ছিলেন বাংলাদেশপন্থী। একটি উদাহরণ দিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। প্রশ্ন ওঠে, এ যুদ্ধের ধরন কী হবে? কার নেতৃত্বে হবে? ভারতীয় কর্মকর্তারা বললেন, ভারত যদি যুদ্ধে রাজি হয় তাহলে তা ভারতের নেতৃত্বেই হবে। কিন্তু তাজউদ্দীন আহমদ দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন, ‘সেটি হবে না। কারণ, এটি আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধ। রাজনৈতিকভাবে আপনারা বলছেন যে আপনারা আমাদের সাহায্য করতে এসেছেন। আর এখন আপনারা নেতৃত্ব দিতে চাইছেন। সেনাবাহিনী অবশ্যই যৌথ নেতৃত্বের অধীনে থাকবে।’
তাজউদ্দীন আহমদ কখনো নেতা হতে চাননি। রামের জুতা সিংহাসনে রেখে ভরত বারো বছর দেশ শাসন করেছিলেন, তাজউদ্দীন আহমদও মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস সরকার পরিচালনা করেন বঙ্গবন্ধুর নামে। নেতা ফিরে এলে দেশের দায়িত্বভার তাঁর হাতে ছেড়ে দিয়ে দায়মুক্ত হন। ক্ষমতালিপ্সু মানুষের এই দেশে এ রকম দৃষ্টান্ত দ্বিতীয়টি নেই। তিনি যে জনগণের রাষ্ট্র কায়েম করতে চেয়েছিলেন, তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
৮৫তম জন্মদিনে এই মহান নেতার প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

নেপালের পার্লামেন্টে ফের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন আজ

নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন আজ শুক্রবার সে দেশের পার্লামেন্টে তা মীমাংসিত হবে। নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে পার্লামেন্ট সদস্যরা গত বুধবার ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছিলেন। এতে প্রার্থীদের কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় আজ পুনরায় ভোটাভুটি হবে। পার্লামেন্ট স্পিকার গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন।
স্পিকার সুভাসচন্দ্র বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী পদে দুই প্রার্থীর কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেননি। আর তৃতীয়জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে শুক্রবার (আজ) আবার পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হবে।
নতুন প্রধানমন্ত্রী পদে লড়াই করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মাওবাদী নেতা পুষ্পকমল দহল প্রচণ্ড এবং বিরোধী দল কংগ্রেসের ভাইস চেয়ারম্যান রামচন্দ্র পৌদেল। তৃতীয় প্রার্থী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ঝালানাথ খানাল প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট পাবেন না বলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
২০০৬ সালে সরকারের বিরুদ্ধে ১০ বছর যুদ্ধের অবসানের পর ২০০৮ সালে মাওবাদীরা রাজনীতিতে অংশ নেয় এবং নির্বাচন করে। নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রচণ্ড প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। কিন্তু ২০০৯ সালে মে মাসে তিনি পদত্যাগ করেন। সেনাবাহিনীতে মাওবাদী গেরিলাদের নিয়োগ নিয়ে এক বিতর্কের জের ধরে তিনি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান।

কনরাড ব্ল্যাককে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছেন মার্কিন আদালত

সাবেক মিডিয়া-মোগল কনরাড ব্ল্যাককে ২০ লাখ মার্কিন ডলারের মুচলেকার বিনিময়ে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ২০০৭ সালের এক প্রতারণা মামলায় দোষী সাব্যস্ত কনরাড ব্ল্যাক দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সাজা ভোগ করছিলেন। গত মাসে তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছেন।
ফ্লোরিডার ডিস্ট্রিক্ট জজ আদালতের বিচারক অ্যামি ইভ বলেছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে পারবেন না—এই শর্তে কনরাড ব্ল্যাককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
৬৫ বছরের কনরাড ব্ল্যাকের প্রতারণার অভিযোগে মোট সাড়ে ছয় বছরের কারাদণ্ডাদেশ রয়েছে।
কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কনরাড ব্ল্যাক তাঁর ফ্লোরিডার বাসভবনে উঠেছেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে ওই বাড়িতে তাঁর থাকা হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে

ভিয়েতনামে হিলারি ক্লিনটন -মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর আহ্বান

ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে গতকাল
এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর মার্কিন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে ফুলের তোড়া
উপহার দেন একজন ভিয়েতনামি
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ভিয়েতনামে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় ছিটানো বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান ‘এজেন্ট অরেঞ্জ’-এর দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে আরও বেশি সহযোগিতা দেওয়ার ব্যাপারে তিনি অঙ্গীকার করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান ও অঙ্গীকার করেন।
ভিয়েতনামের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ১৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে হিলারি ভিয়েতনাম সফর করছেন। সংবাদ সম্মেলনে হিলারি বলেন, অসাধারণ কর্মশক্তিসম্পন্ন জনগোষ্ঠী নিয়ে ভিয়েতনাম এখন অপার সম্ভাবনার দারুণ এক দেশ হওয়ার পথে অগ্রসরমাণ। এর পরও কিছু বিষয় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তা হচ্ছে শান্তিকামী ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা ও তাদের গ্রেপ্তার, ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলা ও ইন্টারনেট স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ। সংবাদ সম্মেলনে হিলারির বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে ভিয়েতনামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফাম জিয়া খিয়েম বলেন, ‘ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্রের চিন্তার মধ্যে ফারাক আছে বলে আমি মনে করি।’ তিনি বলেন, মানবাধিকারের ব্যাপারে মূল্যবোধ অভিন্ন হলেও সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পটভূমির ওপর তা ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। এ প্রসঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, মানবাধিকার মূল্যায়ন বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।সম্মেলনে এজেন্ট অরেঞ্জের বিরূপ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অঙ্গীকার করেন ক্লিনটন। ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলাকালে ১৯৬২ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে ওই দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামীণ এলাকায় মার্কিন সেনারা প্রায় এক কোটি ১০ লাখ গ্যালন এজেন্ট অরেঞ্জ নামে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ছিটায়। বনের গাছপালার পাতা আড়াল ঝরিয়ে সরিয়ে দিয়ে ভিয়েতনামি গেরিলাদের খাদ্য ও আশ্রয় ধ্বংস করতে এই রাসায়নিক উপাদান ছিটানো হয়। পরবর্তী সময়ে বিষাক্ত এই রাসায়নিকের প্রভাবে ওই অঞ্চলের মানুষের ক্যানসার, জন্মগত ত্রুটিসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।

ভারতে শিগগিরই চালু হচ্ছে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত দোতলা ট্রেন

এবারের রেল বাজেট ঘোষণার সময় রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা দিয়েছিলেন, এ বছর ভারতে চালু করা হবে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত দোতলা ট্রেন। সেই লক্ষ্যে এখন দোতলা ট্রেন চালানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, রাজধানী এক্সপ্রেস ও শতাব্দী এক্সপ্রেসের চেয়েও দ্রুতগতি সম্পন্ন হবে দোতলা ট্রেন।
রেল সূত্রে জানা গেছে, এই ট্রেন প্রথম চালু করা হবে কলকাতা-ধানবাদ এবং মুম্বাই-আহমেদাবাদের মধ্যে। ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার। রাজধানী এক্সপ্রেস এখন ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার বেগে চলে। আর শতাব্দী এক্সপ্রেস চলে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে।

আর্জেন্টিনায় সমকামী বিয়ে বিলে সই করলেন প্রেসিডেন্ট কির্চনার

আর্জেন্টিনায় সমকামী বিয়ের বিলে গত বুধবার স্বাক্ষর করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা কির্চনার। এর মধ্য দিয়ে বিলটি আইনে পরিণত হলো। লাতিন আমেরিকায় আর্জেন্টিনাই প্রথম দেশ, যেখানে সমকামী বিয়েকে বৈধতা দেওয়া হলো।
বিলে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইনটির সমর্থক মানবাধিকার ও সমকামী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাঁরা ‘সমতা, সমতা’ বলে উল্লাস প্রকাশ করেন।
প্রেসিডেন্ট কির্চনার বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমাদের সমাজ গত সপ্তাহের চেয়ে আরও বেশি সমতাবাদী হলো। ...এসব বিষয় আমাদের পৃথক করতে পারবে না বরং একত্রিত করবে।’
বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী কঠোর সমালোচনা করলেও আইনটির সমর্থনে ছিল কির্চনারের মধ্য-বামপন্থী সরকার।

মাসে ২৫টি করে বৈদ্যুতিক বাল্ব খান তিনি

সকালের নাশতায় কড়মড় করে একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব চিবিয়ে খান তিনি। মাসে লাগে প্রায় ২৫টি করে বাল্ব। এর পরও তিনি দিব্যি সুস্থ। তাঁর কাণ্ড দেখে চিকিৎসকদের চোখ ছানাবড়া। এই অবাক মানব হলেন চীনের ওয়াং জুন (৫২)।
সিচুয়ান প্রদেশের লিংসুই জেলার বাসিন্দা ওয়াং জুন। জিংকিয়াও হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বাল্ব-খাদক জুনকে পরীক্ষা করে এই অখাদ্য ভক্ষণের কোনো ক্ষতিকর প্রভাব খুঁজে পাননি।
ওয়াং জুন জানান, ১২ বছর বয়স থেকে কাচ খেয়ে আসছেন তিনি। প্রথমে সমবয়সী বন্ধুদের সামনে বাহাদুরি দেখানোর জন্য কাচ খান তিনি। পরে সার্কাসে কাচ খেয়ে দর্শকদের তাক লাগান। তিনি বলেন, ‘৪০ বছরে আমি হাজার খানেকের বেশি বৈদ্যুতিক বাল্ব খেয়েছি। কয়েক দিনের মধ্যে একটি বাল্ব খেতে না পারলে নিজেকে খুব অসহায় লাগে।’ তবে এই আজব স্বভাবের জন্য মূল্যও দিতে হয়েছে তাঁকে। স্ত্রী মেনে নিতে পারেননি তাঁর কাচ খাওয়া। ছেড়ে চলে গেছেন তাঁকে।

জাতিসংঘের বিশেষ দূত হচ্ছেন কেভিন রাড

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ দূত অথবা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন। ডেইলি টেলিগ্রাফ গত মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছে।
পত্রিকাটি বলেছে, জাতিসংঘের মহাসচিবের বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করার জন্য কেভিন রাডের অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের যে গুঞ্জন উঠেছে, তা উড়িয়ে দেননি সংস্থাটির কর্মকর্তারা। কেভিন রাড গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক সফর করেন। এ সময় তিনি বান কি মুন ও সংস্থাটির অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
কেভিন রাড গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন জুলিয়া গিলার্ড। রাড জানিয়েছেন, আগামী ২১ আগস্ট পার্লামেন্ট নির্বাচনে তিনি লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পার্লামেন্টে তাঁর আসন ধরে রাখতে চান তিনি।
এ ব্যাপারে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির মুখপাত্র ক্রিস বোয়েন বলেছেন, ‘আমি যতটুকু জানি, কেভিন রাড পার্লামেন্টে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। প্রতিনিধি পরিষদের পদে বহাল থাকতে চান তিনি। আমি এও জানি, আন্তর্জাতিকভাবে তিনি খুবই সম্মানিত একজন ব্যক্তি। আর তাই জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত হিসেবে তাঁর নিয়োগ পাওয়ার খবর অস্বাভাবিক কিছু নয়।

কসোভোর স্বাধীনতার ঘোষণা বৈধ

সার্বিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ২০০৮ সালে কসোভোর স্বাধীনতা ঘোষণাকে বৈধতা দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে)। গতকাল বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত আদালতে ১০-৪ ভোটে কসোভোর স্বাধীনতা ঘোষণার পক্ষে রায় দেন বিচারকেরা।ই রায়ের খবর জানার পর পরই কসোভোর রাজধানী প্রিস্টিনায় আনন্দ-উল্লাসের ঢেউ বইয়ে শুরু করে। তবে সার্বিয়া জানিয়েছে, স্বাধীনতাকামী কসোভোর ব্যাপারে তাদের নীতির কোনো পরিবর্তন হবে না।বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, আইসিজের এই রায়ের ফলে এখন কসোভোকে আরও অনেক দেশই স্বীকৃতি দিতে আগ্রহী হয়ে উঠবে। পাশাপাশি তা বিশ্বের অন্যান্য অংশে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের স্বাধীনতা ঘোষণার ব্যাপারে উত্সাহী করে তুলতে পারে।
রায়ের ব্যাপারে হতাশা প্রকাশ করে সার্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভুক জেরেমিক বলেন, বেলগ্রেড আশা করেছিল, আদালত সমঝোতার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছানোর ব্যাপারে রায় দেবেন। প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ বলেছেন, তাঁর দেশ কখনোই কসোভোর স্বাধীনতা মেনে নেবে না।
অন্যদিকে সার্বিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া বলেছে, আইসিজের এই রায় কসোভোর স্বাধীনতাকে আইনগত ভিত্তি দিচ্ছে না।কসোভো স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে সার্বিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর তাদের স্বাধীনতার আইনি বৈধতা সম্পর্কে আইসিজের কাছে একটি পরিষ্কার ব্যাখ্যা চেয়েছিল জাতিসংঘ। সার্বিয়ার অনুরোধে এই ব্যাখ্যা চাওয়া হয় এবং গত ডিসেম্বরে এ ব্যাপারে শুনানি গ্রহণ করেন আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় এ রায় ঘোষণা করা হলো। সার্বিয়ার কর্তৃপক্ষ দাবি করে আসছিল, কসোভোর স্বাধীনতার ঘোষণা অবৈধ এবং অঞ্চলটি সার্বিয়া প্রজাতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ।রায় ঘোষণার সময় আইসিজের প্রেসিডেন্ট হিসাশি ওয়াদা বলেন, কসোভো ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি স্বাধীনতার যে ঘোষণা দিয়েছে, তা কোনো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেনি।রায় ঘোষণার আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। বাইডেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি গণতান্ত্রিক ও বহু জাতিগোষ্ঠীর কসোভোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানায়। কসোভোর সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুই পক্ষের মধ্যকার সমস্যা সমাধানে কসোভোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সার্বিয়ার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।আইসিজের এক মুখপাত্র বলেন, এই রায় কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং এক ধরনের পরামর্শমূলক মতামত। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এ ব্যাপারে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে স্বাধীন। আদালত রায় ঘোষণার আগে কসোভো ও সার্বিয়াসহ ৩৬টি দেশের লিখিত বিবৃতি আমলে নেয়।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে সুদানের প্রেসিডেন্ট বশিরের শাদ সফর

সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে গত বুধবার প্রতিবেশী দেশ শাদ সফরে গেছেন। তবে শাদ কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছেন, বশিরকে গ্রেপ্তার করা হবে না।
দারফুরে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) সুদানের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। আইসিসির যেকোনো সদস্য রাষ্ট্রে গেলে তাঁকে গ্রেপ্তারের বিধান রয়েছে। তবে শাদ আইসিসির সদস্য হলেও বশিরকে গ্রেপ্তার করবে না বলে জানিয়েছে।
শাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমাত মাহামাত বছির বলেছেন, বশিরকে শাদে গ্রেপ্তার করা হবে না। প্রেসিডেন্ট বশির রাজধানী নাদজামেনায় সাংবাকিদের বলেছেন, ‘অতীতে সুদান ও শাদের মধ্যে সমস্যা ছিল। কিন্তু এখন সেই সমস্যা নেই। আমরা এখন ভাই ভাই।’
সুদান সরকারের মুখপাত্র র‌্যাবি আবদেল আত্তি বলেন, শাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য—এ বিষয়ের চেয়ে সুদান ও শাদের মধ্যকার সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না, সুদানের প্রেসিডেন্টের কোনো ক্ষতি করবে শাদ সরকার।’
আবদেল আত্তি জানান, সুদানের প্রেসিডেন্ট শাদ সফরকালে সে দেশের সাহেল-সাহারাম প্রদেশের একটি সম্মেলনে যোগ দেবেন। এ ছাড়া তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বৈরিতা নিরসনের উপায় ও পরস্পরকে সাহায্যের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
তবে প্রেসিডেন্ট বশিরের শাদ সফরকালে তাঁর নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি আবদেল আত্তি।

মেগরাহির মুক্তির সিদ্ধান্তে বিপি জড়িত নয়: স্কটল্যান্ড

লকারবি বিমান হামলায় সাজাপ্রাপ্ত একমাত্র আসামি লিবীয় নাগরিক আবদেলবাসেত আলী আল-মেগরাহিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তেল কোম্পানি ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি) কোনো ভূমিকা ছিল না। গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটরদের কাছে লেখা এক চিঠিতে এ দাবি করেন স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার অ্যালেক্স স্যালমন্ড।
১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবি গ্রামের আকাশে একটি মার্কিন বিমানে বোমা হামলায় ২৭০ জন নিহত হয়। ওই হামলার একমাত্র আসামি হিসেবে ২০০১ সালে মেগরাহিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ক্যানসারে আক্রান্ত মেগরাহিকে ২০০৯ সালে মানবিক কারণে মুক্তি দেয় স্কটল্যান্ড সরকার।
সম্প্রতি মার্কিন সিনেটররা অভিযোগ করেন, লকারবি বিমান হামলাকারীকে মুক্তি দেওয়ার ঘটনায় বিপি জড়িত। এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, লিবিয়া সরকারের সঙ্গে বিপির একটি তেলচুক্তিকে কেন্দ্র করে মেগরাহিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনও স্বীকার করেছেন, মেগরাহিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।
মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির প্রধান সিনেটর জন কেরিকে লেখা চিঠিতে অ্যালেক্স স্যালমন্ড বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে মেগরাহিকে মুক্তি দেয় স্কটিশ সরকার। তাঁকে মুক্তি দেওয়ার জন্য বিপির পক্ষ থেকে কোনো চাপ দেওয়া হয়নি। তিনি লিখেছেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, স্কটিশ সরকার কখনোই মেগরাহির মুক্তির ব্যাপারে বিপির তরফ থেকে কোনো চাপের মুখে ছিল না।’
ক্যানসারে আক্রান্ত মেগরাহি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, তিনি তিন মাসের বেশি বাঁচবেন না। কিন্তু প্রায় এক বছর আগে মুক্তি পাওয়া মেগরাহি লিবিয়ায় ফিরে এখনো বেঁচে আছেন।
ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের সময় লিবিয়ার সঙ্গে করা বন্দী বিনিময় চুক্তিরও সমালোচনা করেন স্যালমন্ড। ২০০৭ সালে লিবিয়ার সঙ্গে ব্রিটেনের বন্দী বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। একই বছর লিবিয়ায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের একটি চুক্তি করে বিপি। ওই সময়ও চুক্তিটির সমালোচনা করেছিলেন স্যালমন্ড। চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘মেগরাহির মুক্তির ব্যাপারে আপনার কমিটির কোনো প্রশ্ন থাকলে আপনাদের উচিত যুক্তরাজ্য প্রশাসন ও বিপির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া।’
এদিকে লকারবি বিমান হামলাকারীর মুক্তি পাওয়ার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিপির প্রধান নির্বাহী টনি হেওয়ার্ডকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে মার্কিন সিনেটের একটি প্যানেল। গত বুধবার সিনেটের একটি সূত্র এ কথা জানায়। সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটি এ ব্যাপারে জানার জন্য বিপির ওই সময়ের এক উপদেষ্টা মার্ক অ্যালেনকেও প্যানেলের সামনে উপস্থিত হতে বলেছে।
সম্প্রতি বিপি স্বীকার করে, মেগরাহির মুক্তির ব্যাপারে ব্রিটিশ সরকারের কাছে সুপারিশ করেছিল তারা। কিন্তু এ ব্যাপারে স্কটল্যান্ডের সরকারকে তাদের পক্ষ থেকে কোনো চাপ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেছে তেল কোম্পানিটি।

নির্যাতনের হুমকি থাকা দেশে গুয়ানতানামো বন্দীদের পাঠাবেন না

যেসব দেশে নির্যাতন বা অন্য কোনো অসুবিধার হুমকি রয়েছে, এমন দেশে গুয়ানতানামোর সাবেক বন্দীদের জোর করে পাঠানোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের দুজন বিশেষজ্ঞ। তাঁরা হলেন জাতিসংঘের নির্যাতনবিষয়ক দূত ম্যানফ্রেড নোয়াক এবং মানবাধিকার ও সন্ত্রাসবিরোধী দূত মার্টিন শেইনিন। একজন আলজেরীয় বন্দীর ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করলেন।
আবদুল আজিজ নাজি নামের ওই আলজেরীয় গুয়ানতানামোতে আট বছর বন্দী থাকার পর তাঁকে স্বদেশে পাঠানো হয়েছে। আজিজ সেখানে সরকারের তরফ থেকে ও অন্যভাবে নির্যাতিত হতে পারেন বলে সতর্ক করে দিয়েছে আলজেরিয়ার মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
নাজি বলেছিলেন, তিনি মুক্তি পেয়ে আলজেরিয়ায় ফেরত যেতে চান না। কিন্তু গত সপ্তাহে তাঁর আপিল নাকচ করে দেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট।
জাতিসংঘের দুই দূত বলেন, ‘আলজেরিয়ার পরিস্থিতি যথাযথভাবে যাচাই না করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই বন্দীদের নিজ দেশে পাঠালে তাঁদের খুব বিপদ হতে পারে।’
দূতদ্বয় আরও বলেন, সেখানকার বন্দীদের কোথাও পাঠালে ওই স্থান তাঁর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে কি না, তা অর্থপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে হবে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আদালতকেও সংশ্লিষ্ট থাকতে হবে।
এ ব্যাপারে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ভাষ্য, বন্দীদের হস্তান্তর যাতে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে হয়, তা নিশ্চিত করতে আলজেরিয়া ও কেপ ভার্দে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
কিন্তু উভয় দূতই বলেন, সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশে বন্দীকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কূটনৈতিক আশ্বাস যথেষ্ট নয়।
কিউবায় অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটি গুয়ানতানামো বে বন্দিশিবির ওবামা প্রশাসন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখানকার বাকি বন্দীদের অনেককে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ইলিনয়ের এক কারাগারে পাঠানো হবে।

সোমালিয়ায় ‘নতুন তোরাবোরা’ আতঙ্ক

সোমালিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এক কুখ্যাত যুদ্ধবাজ নেতা ও অস্ত্র চোরাকারবারি ইসলামি যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে শক্তিশালী বাহিনী গড়ে তুলেছেন বলে স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, আফগানিস্তানের তোরাবোরা পাহাড়ে আল-কায়েদা যেভাবে দুর্ভেদ্য ঘাঁটি গড়ে তুলেছিল, একইভাবে তারা সেখানে আরেক ‘তোরাবোরা’ বানিয়ে ফেলতে পারে। কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই যুদ্ধবাজ নেতার নাম মোহাম্মাদ সাঈদ আতোম। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ যাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে সোমালিয়ায় অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ এনেছে, আতোম তাদের অন্যতম। পুন্টল্যান্ড ও সোমালিয়াল্যান্ডের মধ্যবর্তী শানাগ পাহাড়ে তিনি জঙ্গিদের এক অভয়াশ্রম গড়ে তুলেছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত শাবাব নামের একটি স্থানীয় সশস্ত্র সংগঠন সম্প্রতি দক্ষিণ ও মধ্য সোমালিয়ায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে মোগাদিসুর পশ্চিমা সমর্থক সরকারের পতন ঘটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। শাবাব ১১ জুলাই কাম্পালায় বোমা হামলার দায় স্বীকার করায় ধারণা করা হচ্ছে অপেক্ষাকৃত শান্তিপূর্ণ পুন্টল্যান্ড ও সোমালিয়াল্যান্ডে তারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।
আধা স্বায়ত্তশাসিত রাজ্য পুন্টল্যান্ডের নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল মোহাম্মাদ যামা বলেছেন, সাঈদ আতোমের সঙ্গে আল-কায়েদার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং এ অঞ্চলে তিনি শাবাবের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি জানান, তাঁদের কাছে তথ্য আছে শানাগ পাহাড়ের আশপাশের গ্রামের ৪০০ জঙ্গিকে আতোম প্রশিক্ষণ দিয়ে এক ভয়ংকর বাহিনী গড়ে তুলেছেন। পূর্ব পুন্টল্যান্ডের গালগালা এলাকায় আতোমের জন্ম। ওই এলাকার বর্ষীয়ান বাসিন্দা হুসেইন সাহাল বলেছেন, আতোম সেখানকার চার শতাধিক যুবককে প্রশিক্ষণ দিয়ে এক বাহিনী গড়ে তুলেছেন। এদের পিকআপ ভ্যানে করে মাঝেমধ্যে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিতে দেখা যায়। নিকটবর্তী গ্রামগুলোর কিছু বাড়িতে মাঝেমধ্যে শাবাবের কালো পতাকা উড়তে দেখা যায়। আব্দি হাজি সুগুলে নামের আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এসব জঙ্গি পাহাড়ের এত দুর্গম জায়গায় আস্তানা গেড়েছে, সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে লড়াই করা যেকোনো বাহিনীর জন্য কঠিন হবে।
পুন্টল্যান্ডের অর্থনৈতিক রাজধানী বোসাসোর নিরাপত্তা কর্মকর্তা বিল মোহাম্মাদ বলেছেন, আতোম স্থানীয় লোক হলেও তাঁর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্রের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক মহড়া, একটি আঞ্চলিক হুমকি: পিয়ংইয়ং

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার উদ্যোগের নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এই মহড়া ওই অঞ্চলে বড় ধরনের বিপদের হুমকি সৃষ্টি করেছে বলেও সতর্ক করেছে তারা। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবরোধ আরোপের পরিকল্পনারও নিন্দা জানিয়েছে পিয়ংইয়ং। গতকাল বৃহস্পতিবার ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে এশিয়ার সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ফোরামে উত্তর কোরীয় প্রতিনিধিদলের সদস্য রি তোং-ইল তাঁর দেশের এই প্রতিক্রিয়ার কথা জানান।
জাপান সাগরে আগামী রোববার থেকে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার ২০টি জাহাজ ও ডুবোজাহাজ এবং ১০০টি যুদ্ধবিমান চার দিনের ওই সামরিক মহড়া শুরু করবে। কয়েক দিন আগে এই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়। আর গত বুধবার দক্ষিণ কোরিয়া সফরের সময় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন অবরোধ আরোপের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। গত মার্চে একটি দক্ষিণ কোরীয় রণতরী ডুবির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার জড়িত থাকার অভিযোগ এনে এই পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। গতকাল এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ওই ফোরামে অংশ নিতে হ্যানয়ে পৌঁছান হিলারি।
উত্তর কোরীয় কূটনীতিক রি তোং-ইল জানান, যৌথ মহড়ার এই পরিকল্পনা শুধু কোরীয় উপদ্বীপ নয় বরং পুরো অঞ্চলের জন্য একটি বড় হুমকি সৃষ্টি করেছে। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন অবরোধ আরোপের মার্কিন পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির বক্তব্যের মূল ভাবের পরিপন্থী। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি দক্ষিণ কোরীয় রণতরী চেতনান ডুবির ঘটনার নিন্দা জানালেও সরাসরি উত্তর কোরিয়ার কথা উল্লেখ করেননি।
পিয়ংইয়ং সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছে তারা পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ছয় দেশের আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী। এই প্রসঙ্গ টেনে রি তোং-ইল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া এই উপদ্বীপকে সত্যিই পরমাণু অস্ত্রমুক্ত রাখতে চাইলে তাদের উচিত পিয়ংইয়ংয়ের আগ্রহকে আমলে নেওয়া এবং সামরিক মহড়া শুরু করার আগে আলোচনায় ফেরার ব্যাপারে ইতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করা।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ওয়াশিংটন ও সিউল আলোচনা আবার শুরু করার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী নয়। কারণ, এর আগে পিয়ংইয়ং এ ধরনের আলোচনার সুবিধা নিয়ে পরামণু অস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে গেছে এবং এখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা বন্ধ করেনি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, হ্যানয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াং যাইচির সঙ্গে বৈঠকে হিলারি ক্লিনটন কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার ব্যাপারে পিয়ংইয়ংকে চাপ দিতে বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানাবেন। আজ শুক্রবার তাঁদের বৈঠক হওয়ার কথা।
এদিকে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনও যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার নিন্দা জানিয়েছে এবং নিজেদের পূর্ব উপকূলে নৌ-মহড়া চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। বেইজিং এ ব্যাপারে বরাবরই ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে আসছে। চীনের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র কিন গ্যাং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শান্ত থাকার এবং উসকানিমূলক আচরণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে তাদের এই সামরিক মহড়া সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক। উত্তর কোরিয়ার আগ্রাসী মনোভাবের জবাবে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।
গতকাল হ্যানয়ে আসিয়ান রিজিওয়নাল ফোরামের (এআরএফ) খসড়া ঘোষণায় দক্ষিণ কোরীয় রণতরী ডুবির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানানো হয়েছে এবং এ ব্যাপারে ৯ জুলাইয়ে জাতিসংঘের বিবৃতিকে সমর্থন জানানো হয়েছে। ওই ঘটনার জন্য এআরএফ উত্তর কোরিয়াকে দোষারোপ করেনি। তবে পিয়ংইয়ংয়ের নিরস্ত্রীকরণের জন্য ছয় দেশের আলোচনা আবার শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে। ফোরামের বৈঠকে এআরএফের ২৭টি সদস্য দেশকে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে দৃঢ় সমর্থন জানানোর আহ্বান জানান হিলারি।

পাজেরো জিপ সংযোজন করবে প্রগতি

বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) সহযোগী সংস্থা প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বাংলাদেশেই জাপানের বিলাসবহুল পাজেরো স্পোর্টস জিপ গাড়ি সংযোজন করে বাজারে ছাড়বে।
প্রগতির চট্টগ্রাম কারখানায় এই সংযোজন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং আগামী বছর জুনে সংযোজিত গাড়িগুলোর প্রথম চালানটি বাজারে ছাড়া হবে।
যেখানে জাপান থেকে এই গাড়ি আমদানিতে অন্তত ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় হবে, সেখানে দেশেই সংযোজনের ফলে দাম পড়বে ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকার আয়কর ও ভ্যাট বাবদ পাবে প্রায় ২৭ লাখ টাকা।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় শিল্প মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু হাফিজ। এসময় শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, শিল্পসচিব দেওয়ান জাকির হোসাইন এবং অতিরিক্ত সচিব এ বি এম খোরশেদ আলম উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, প্রগতির সংযোজিত প্রতিটি পাজেরো স্পোর্টস জিপে সরকার ২৭ লাখ টাকার রাজস্ব আয় করতে পারবে। ইতিমধ্যে জাপান থেকে ১২টি গাড়ি সম্পূর্ণ অসংযোজিত অবস্থায় (সিকেডি) এ বছর নভেম্বরের মধ্যে আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রগতি বছরে ৮০০ গাড়ি সংযোজন করতে পারবে। ইতিমধ্যে জাপানের মিতসুবিশি মোটরস করপোরেশনের সঙ্গে এ জন্য পাঁচ বছরের একটি চুক্তি হয়েছে। প্রগতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহির উদ্দিন আর মিতসুবিশি মোটরসের মহাব্যবস্থাপক জেনিচিরু নিশইনা নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, প্রাথমিক অবস্থায় পাজেরো স্পোর্টস জিপ গাড়ি সংযোজনে দেশীয় বাজার থেকে ব্যাটারি ছাড়া অন্য কোনো যন্ত্রাংশ নেওয়া হবে না। তবে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় বাজার থেকে যন্ত্রাংশ নেওয়া হবে।
প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড গত ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আর ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মুনাফা ছিল ১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এ ছাড়া প্রগতি গত ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৮৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা সরকারকে রাজস্ব প্রদান করেছে। যা আগের ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেওয়া রাজস্ব দিয়েছিল ৪৯ কোটি ৬০ লাখ টাকার চেয়ে ৮৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেশি ।

পলের জার্সি ৮

কল্পনা করুন তো, স্পেনের মাঝমাঠে জাভির বদলে আটপেয়ে একটা প্রাণী ছোটাছুটি করছে! নাহ্, এতটা বাড়াবাড়ি নিশ্চয়ই স্প্যানিশরা করবে না। তবে যা হয়েছে তাও একেবারেও কম নয়। স্পেন জাতীয় দলের ৮ নম্বর জার্সি তুলে দেওয়া হয়েছে পলের হাতে বা পায়ে!
পলের হাত বা পা, যা-ই হোক, সেটির জন্য স্প্যানিশদের এখন আহ্লাদের শেষ নেই। জার্মানির ‘সি লাইফ অ্যাকুয়ারিয়াম’-এর এই জ্যোতিষী অক্টোপাসের ভবিষ্যদ্বাণী মতো বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। বিশ্বকাপে শতভাগ সফল গণনাকারী এই আটপেয়ের সঙ্গে বৃহস্পতিবার দেখা করতে গিয়েছিলেন কারবালিনো শহরের মেয়র কার্লোস মন্টেস। সেই সাক্ষাতেই একগাদা উপহারের সঙ্গে জাভির দখলে থাকা ৮ নম্বর জার্সিটিও দেওয়া হয়েছে পলকে!
স্পেনের উত্তর-পশ্চিমের শহর কারবালিনোর সম্মানসূচক নাগরিকত্বও পেয়ে গেছেন ‘জনাব পল’। মেয়রের নেতৃত্বে স্প্যানিশ প্রতিনিধিদলটি পলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নাগরিকত্ব সনদ, জার্সি ছাড়াও তাকে একটা রুপার স্মারক এবং তারই একটা মূর্তি দেওয়া হয়েছে।
এসব উপহার-টুপহার পলকে খুব বেশি আনন্দিত বা দুঃখিত কোনোটাই করার কথা নয়। এমন সব ‘জাগতিক’ ব্যাপারে তার কী আসে-যায়! যেটাতে পলের আনন্দ পাওয়ার কথা, সে রকম কিছু খাবারও স্প্যানিশ প্রতিনিধিরা তাকে দিয়েছেন। সবশেষে মেয়র আগামী আগস্টের ‘অক্টোপাস উৎসবে’ পলকে আবারও স্পেনে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু ‘ত্রিকালদর্শী’ পল জার্মানি ছেড়ে নড়তেই রাজি নয়!

দুশ্চিন্তায় লিভারপুল

ফার্নান্দো তোরেসকে নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। স্প্যানিশ স্ট্রাইকারের জন্য ৫০ মিলিয়ন ইউরোর টোপ দিয়ে রেখেছে চেলসি, তোরেসও লিভারপুলের হয়ে নতুন চুক্তিতে সই করেননি। চেলসি থেকে জো কোলকে দলে নেওয়ার পরও তাই ঠিক স্বস্তিতে নেই অলরেডদের নতুন কোচ রয় হজসন। লিভারপুল শঙ্কায় আছে হাভিয়ের মাচেরানোকে নিয়েও। আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে পাওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে ইন্টার মিলান। লিভারপুলের জন্য স্বস্তির খবর একটিই, থেকে যাচ্ছেন ক্লাবের অধিনায়ক স্টিভেন জেরার্ড।

সোমবারের মধ্যেই ব্রাজিলের নতুন কোচ

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে সোমবারের মধ্যেই ব্রাজিল জাতীয় দলের নতুন কোচের নাম ঘোষণা করা হবে। নাম শোনা যাচ্ছে লুই ফেলিপে স্কলারি, মানো মেনেজেস, মুরিসি রামালহো ও কোচ আবেল ব্রাগার।

জয়ের পথে পাকিস্তান

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে জয়ের পথে অনেকখানিই এগিয়ে গেছে পাকিস্তান। ১৮০ রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এক উইকেট হারিয়ে ১১১ রান সংগ্রহ করেছে পাকিস্তান। ৫২ রান নিয়ে ইমরান ফারহাদ ও ৩৫ রান নিয়ে ব্যাট করছেন আজহার আলী।
দুই উইকেটে ১৩৬ রান নিয়ে তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে স্কোরবোর্ডে মাত্র আট রান জমা করেই মোহাম্মদ আমিরের শিকারে পরিণত হন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক রিকি পন্টিং। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। তার আগে অবশ্য টেন্ডুলকারের পর দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ছুঁয়েছেন টেস্টে ১২ হাজার রানের মাইলফলক। পন্টিং আউট হওয়ার পর আর ২০ রান সংগ্রহ করতেই মাইক হাসি ও মার্কাস নর্থের উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ আমির। লাঞ্চের আগে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর দাঁড়ায় পাঁচ উইকেটে ২১৫। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৫৩ রান যোগ করেন টিম পেইন ও মাইকেল ক্লার্ক। দলীয় ২১৭ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৭৭ রান করে মোহাম্মদ আসিফের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান ক্লার্ক। এরপর আর বড় কোনো পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা। স্টিভেন স্মিথ ৭৭ রান করে একাই কিছু প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত উমর গুলের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গেলে ৩৪৯ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস।
পাকিস্তানের পক্ষে মোহাম্মদ আমির নেন চারটি উইকেট। মোহাম্মদ আসিফ ও দানেশ কানেরিয়া নেন দুটি করে উইকেট।

অস্ট্রেলিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

আবারও দারুণ শুরু এনে দিলেন মোহাম্মদ আমির।
ফিরিয়ে দিলেন সাইমন ক্যাটিচকে
তবে কি আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া করতে চলেছে পাকিস্তান? বোলাররা অস্ট্রেলিয়াকে ৮৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাটসম্যানরা পারতেন বড় স্কোর গড়ে প্রথম ইনিংসেই অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিতে। কিন্তু আরও একবার শেন ওয়াটসনের সুইংয়ে খাবি খেয়ে পাকিস্তান অলআউট হয়ে গেল ২৫৮ রানে। আলোকস্বল্পতায় দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ৩৪ রান পিছিয়ে থেকে অস্ট্রেলিয়া তুলেছে ২ উইকেটে ১৩৬ রান।
গত জানুয়ারিতে সিডনিতে প্রথম ইনিংসে ২০৬ রানের লিড পেয়েও হেরেছিল পাকিস্তান। এখনই এই ম্যাচ নিয়ে কিছু বলা মুশকিল, তবে একটু হলেও সিডনি উঁকি দিতে শুরু করেছে হেডিংলিতে। ৫৫ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারানোর পর ৮১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন রিকি পন্টিং ও মাইকেল ক্লার্ক। দিন শেষে পন্টিং অপরাজিত ৬১ রানে, সঙ্গী ক্লার্কের রান ৩২। পন্টিংয়ের এটি ৫২তম টেস্ট ফিফটি, টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ১২ হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়ে তাঁর রান এখন ১২০২১।৩ উইকেটে ১৪৮ রান নিয়ে দিন শুরু করা পাকিস্তান কাল প্রথম ঘণ্টাতেই হারায় দুই ‘উমর’—আকমল ও আমিনকে। আরও একবার অতি আক্রমণাত্মক মানসিকতার বলি হয়েছেন উমর আকমল। আর আমিন আউট হয়েছেন হাস্যকরভাবে। হিলফেনহসের বাউন্সারে ডাক করার সময় ব্যাট উঁচিয়ে রেখেছিলেন দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, ব্যাটে লেগে বল চলে যায় স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো মার্কাস নর্থের হাতে। ষষ্ঠ উইকেটে শোয়েব মালিকের সঙ্গে ২৭ রানের জুটি গড়েন কামরান আকমল, কাল যেটি পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় জুটি। এর পরই দৃশ্যপটে ওয়াটসন ও পাকিস্তানের উড়ে যাওয়া। আগের দিন পাকিস্তানের ৩ উইকেটের দুটি নিয়েছিলেন, কাল ১২ রানের মধ্যে নিলেন চারটি। পরপর দুই বলে কামরান ও মোহাম্মদ আমিরকে আউট করে জাগিয়েছিলেন হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও। তা না পারলেও উমর গুলকে বোল্ড করে দ্বিতীয় টেস্টে পেয়ে গেছেন ৫ উইকেট, পরে শোয়েব মালিককে টিম পেইনের ক্যাচ বানিয়ে করে ফেলেছেন ক্যারিয়ার-সেরা বোলিংও। পাকিস্তানকে আড়াই শ পার করিয়েছে মোহাম্মদ আসিফ ও দানিশ কানেরিয়ার শেষ উইকেট জুটি।