Tuesday, August 6, 2019

ডেঙ্গু: ফিলিপিন্সে মহামারি ঘোষণা করা হয়েছে

ফিলিপিন্সে ডেঙ্গু রোগে অন্তত ৬২২ জনের মৃত্যুর পর দেশটির কর্তৃপক্ষ সেখানে মহামারি ঘোষণা করা হয়েছে।
দেশটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই বছরের শুরু থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত এডিস মশা বাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৪৬ হাজার ব্যক্তি।
যা গত বছরের তুলনায় ৯৮ শতাংশ বেশি। জুলাই মাসেই প্রাথমিকভাবে এই সম্পর্কিত "জাতীয় ডেঙ্গু সতর্কবার্তা" জারি করেছিলো ফিলিপাইন।
দেশটির পশ্চিমে ভিসাইয়াস অঞ্চলে সবচাইতে বেশি ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হয়েছে।
শুধু ওই অঞ্চলেই ২৩ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত।
রোগী সনাক্ত করার সংখ্যা যতটা হলে সাধারণত মহামারি ঘোষণা করা হয়, আরও সাতটি এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহ-জুড়ে তেমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
অভিভাবকেরা ডেঙ্গু রোগের টিকা দিতে রাজি হচ্ছেন না
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে বিশ্বব্যাপী এই বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফ্রানসিস্কো দুকু এক বিবৃতিতে বলেছেন, "সারা দেশে মহামারি ঘোষণা করার দরকার হয়েছে এই কারণে যাতে কোন্ এলাকায় সাহায্য বেশি দরকার সেটি চিহ্নিত করা যায়। স্থানীয় সরকার বিষয়ক ইউনিটগুলোকে সক্রিয় করা দরকার যাতে করে মহামারি চলাকালীন জরুরি তহবিল ব্যবহার করা যায়।"
কর্মকর্তারা বলছেন, দেশটিতে ডেঙ্গু রোগের প্রতিষেধক নিয়ে এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়েছে।
সে কারণেই এটি সামাল দেয়া এখন মুশকিল হয়ে গেছে।
ফরাসি কোম্পানি সানাফির তৈরি একটি টিকা দেয়ার পর ১৪ টি শিশুর মৃত্যুর পর থেকে এমন ভীতি তৈরি হয়েছে।
সে কারণে শিশুদের টিকা দিতে আপত্তি করছেন অনেক অভিভাবক। যদিও সানাফি এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন টিকার সাথে শিশুদের মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে এমন কোন প্রমাণ তারা পাননি।
অভিভাবকেরা অন্যান্য সব অসুখের টিকা দিতেও রাজি হচ্ছেন না।
গত বছরই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছিল জনস্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তারা।
প্রতি বছর ৪০ লাখ মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়, যার বেশির ভাগই বাস করেন গ্রীষ্মপ্রধান দেশে।
শিশুদের মধ্যে এই রোগের সবচাইতে তীব্রগুলো লক্ষণ দেখা গেছে।
ফিলিপিন্সে ডেঙ্গু রোগে অন্তত ৬২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিল নয়, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাতেই কাজ হাসিল বিজেপির, রাজ্য পুনর্গঠনে আনতে হল বিল

কাশ্মীরে ৩৭০ ধারার বিলোপ। সোমবার, এই ‘ঐতিহাসিক’ পদক্ষেপের জন্য অবশ্য আলাদা করে বিল পাশ করাতে হয়নি মোদী সরকারকে। যদিও, জম্মু-কাশ্মীর পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি বাস্তবায়িত করতে আরও কিছুটা পথ পেরোতে হচ্ছে কেন্দ্রকে। তবে, এর ফলে, উপত্যকায় একাধিক সম্ভাবনার রাস্তাও খুলে গিয়েছে। এ দিকে, বিশেষ মর্যাদা খর্ব হওয়ার পর, নানা আশা-আশঙ্কার দোলাচলে তৈরি হয়েছে কাশ্মীরে।

সোমবার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে কার্যত বোমা ফাটিয়েছে মোদী সরকার। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করতে সংসদের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়নি কেন্দ্র সরকারের। আনতে হয়নি বিলও। কেন?  সেই উত্তর লুকিয়ে রয়েছে ৩৭০ ধারার মধ্যেই। ওই ধারার ৩ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ইচ্ছে করলে এই ‘বিশেষ মর্যাদা’ তুলে নিতে পারেন। আর রাষ্ট্রপতির ওই ক্ষমতাকে ব্যবহার করেই এ দিন কাজ হাসিল করল মোদী সরকার। অর্থাৎ বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রপতি সই করার পর থেকেই ৩৭০ ধারা রদ হয়ে গেল। ওই ধারার অধীনেই রয়েছে ৩৫এ ধারা। ফলে, তার বলে ভূস্বর্গের বাসিন্দারা যে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতেন। এ দিন থেকে খারিজ হয়ে গেল সেটাও।

তবে, জম্মু-কাশ্মীরকে দু’ভাগে ভাঙতে সরকারকে অবশ্য পুনর্গঠন বিল আনতে হল সংসদে। ঠিক যেমনটা করা হয়েছিল অন্ধ্রপ্রদেশ দ্বিখণ্ডিত করে তেলঙ্গানা রাজ্য তৈরির ক্ষেত্রে। সে ক্ষেত্রে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অবশ্যই প্রয়োজন। রাজ্যসভায় জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠনের প্রস্তাব এ দিন সন্ধেয় ১২৫-৬১ ভোটে পাশ হয়ে যায়।

ভবিষ্যতে দিল্লির মতোই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হতে চলেছে জম্মু-কাশ্মীর। থাকবে বিধানসভা, একই সঙ্গে থাকবেন লেফ্টেন্যান্ট গভর্নর। লাদাখ হবে চণ্ডীগড়ের মতো যেখানে বিধানসভা থাকবে না। থাকবেন লেফ্টেন্যান্ট গভর্নর। এ বার থেকে দেশ জুড়ে চালু থাকা যে কোনও উন্নয়ন মূলক প্রকল্পের আওতায় আসবে জম্মু-কাশ্মীর। রাজ্যের আলাদা করে পতাকা বা সংবিধানও আর থাকবে না।

৩৭০ ধারার অবলুপ্তির ফলে জম্মু-কাশ্মীরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যাপারেও অনেকটা বদল আসবে। ওই রাজ্যের বিশেষ ফৌজদারি বিধি রণবীর পেনাল কোডের (আরপিসি) বিলুপ্তি ঘটবে। সরাসরি ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) আওতায় আসবে ওই রাজ্য। ১৯৩২ সাল নাগাদ ডোগরা রাজবংশের রাজা রণবীর সিংহের আমলে চালু হয়েছিল ওই ফৌজদারি বিধি। এত কাল ধরে সেই বিধিই মানা হচ্ছিল। কিন্তু, তা বদলে যাবে এ বার। এত কাল জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভার মেয়াদ ছিল ছ’বছর। কিন্তু, এ বার থেকে তা কমে হবে পাঁচ বছর।
>>>আনন্দবাজার পত্রিকা

কাশ্মীর বিষয়ে এরদোগানকে নিজের সিদ্ধান্ত জানালেন ইমরান খান

ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার কর্তৃক কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানকে অবহিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউন উর্দূর।

খবরে বলা হয়, সোমবার ভারতের রাজ্যসভার অধিবেশনে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল সংক্রান্ত প্রস্তাব পাসের পরই তুর্কি প্রেসিডেন্টকে ফোন করেন ইমরান খান। এসময় প্রেসিডেন্ট এরদোগান কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে এরদোগানকে ইমরান খান বলেন, কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের ফলে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও শান্তি বিঘ্নিত হবে।

এমন সিদ্ধান্ত উপমহাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলারর জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করবে। সেজন্য পাকিস্তান কাশ্মীরি জনগণকে রাজনৈতিক,কূটনৈতিকসহ সর্বপ্রকারের সহায়তা দেয়ার সিদ্বান্ত নিয়েছে।

একইদিনে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল সংক্রান্ত প্রস্তাব পাসের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে টেলিফোন করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির ইমরান খানকে বলেন, তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের জন্য অপেক্ষা করছেন। এ অধিবেশনের ফাঁকে তিনি ইমরান খানের সঙ্গে একটি বৈঠকে মিলিত হয়ে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিকে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের যে সিদ্ধান্ত ভারত সরকার নিয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান।

সোমবার ভারতীয় পার্লামেন্টের রাজ্যসভায় ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রস্তাব ও রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের স্বাক্ষরের পর পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে তা প্রত্যাখ্যান করে।

৩৭০ ধারা বাতিলের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কাশ্মীর একটি বিরোধপূর্ণ এলাকা। যা আন্তর্জাতিকভাবে একটি স্বীকৃত বিষয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের একতরফা সিদ্ধান্ত ওই রাজ্যটির বিশেষ মর্যাদা বাতিল করতে পারে না। কাশ্মীরি জনগণ ভারতের এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।

ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের লড়াইয়ে কাশ্মীরি জনগণকে রাজনৈতিক,কূটনৈতিকসহ সর্বপ্রকারের সহায়তা দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছে মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পরমাণু শক্তিধর দেশ পাকিস্তান।
>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর

কাশ্মির ও লাদাখ নিয়ে ভারতকে সতর্ক করলো চীন

জম্মু-কাশ্মির প্রশ্নে ভারত সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘একতরফা ব্যবস্থা’ উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছে চীন। একইসঙ্গে লাদাখকে কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল হিসেবে পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়েছে দেশটি। তবে চীনের সমালোচনা নাকচ করে দিয়ে মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দিল্লি। চীন ও ভারতের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ এলাকা লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার প্রস্তাবটি ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ ব্যাপার’ বলে উল্লেখ করেছে দেশটি।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়ার পর জম্মু-কাশ্মিরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে রাজ্য থেকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে রাজ্যসভায় বিল পাস করেছে বিজেপি সরকার। জম্মু-কাশ্মির পুনর্গঠন বিল ২০১৯ নামের এ বিলের আওতায় জম্মু-কাশ্মিরকে দু’ভাগ করে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পরিণত করার কথা বলা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মির ও লাদাখ হবে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল।

সোমবার এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া না জানালেও মঙ্গলবার দুটি আলাদা বিবৃতি দিয়েছে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সীমান্ত ইস্যুতে কথা বলা ও কর্মকাণ্ড ঠিক করার ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আমরা। দুই পক্ষের মধ্যে এ সংক্রান্ত যে সমঝোতা হয়েছিল তা মেনে চলার জন্য এবং সীমান্ত ইস্যুগুলো আরও জটিল করে তুলবে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানাচ্ছি।’

বিরোধপূর্ণ এলাকা লাদাখের নিয়ন্ত্রণ বেইজিংয়ের হাতে হলেও ভারত বরাবরই একে নিজেদের এলাকা বলে দাবি করে আসছে। এ এলাকাকে ভারতের কেন্দ্র শাসনের আওতায় নিয়ে যাওয়ার ঘোষণার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চীন-ভারত সীমান্তের পশ্চিম অংশে ভারতের প্রশাসনিক এখতিয়ারের মধ্যে চীনা এলাকার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বরাবরই বিরোধিতা করে আসছে বেইজিং। এ অবস্থানটি দৃঢ়, অবিচল ও কখনও পরিবর্তন হয়নি। সম্প্রতি দেশের অভ্যন্তরীণ আইন সংশোধনের মধ্য দিয়ে ভারতীয় পক্ষ একতরফা চীনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে যাচ্ছে।’

ফিলিপাইনে ডেঙ্গুকে 'মহামারি' ঘোষণা

ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৬২২ জনের মৃত্যুর পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনে রোগটিকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

দেশটির স্বাস্থ্য অধিদফতরের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এতথ্য জানানো হয়।

চলতি বছরের শুরু থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত এডিস মশা বাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন দেশটির এক লাখ ৪৬ হাজার ব্যক্তি। যা গত বছরের তুলনায় ৯৮ শতাংশ বেশি। জুলাই মাসেই প্রাথমিকভাবে এই সম্পর্কিত 'জাতীয় ডেঙ্গু সতর্কবার্তা' জারি করেছিলো ফিলিপাইন।

বিবিসি বলছে, দেশটির পশ্চিমে ভিসাইয়াস অঞ্চলে সবচাইতে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। শুধু ওই অঞ্চলেই ২৩ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত। রোগী শনাক্ত করার সংখ্যা যতটা হলে সাধারণত মহামারি ঘোষণা করা হয়, আরও সাতটি এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহ-জুড়ে তেমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী এই বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফিলিপাইনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফ্রানসিস্কো দুকু এক বিবৃতিতে বলেন, সারা দেশে মহামারি ঘোষণা করার দরকার হয়েছে এই কারণে যাতে কোনও এলাকায় সাহায্য বেশি দরকার সেটি চিহ্নিত করা যায়। স্থানীয় সরকার বিষয়ক ইউনিটগুলোকে সক্রিয় করা দরকার যাতে করে মহামারি চলাকালীন জরুরি তহবিল ব্যবহার করা যায়।

কর্মকর্তারা বলছেন, দেশটিতে ডেঙ্গু রোগের প্রতিষেধক নিয়ে এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়েছে। সে কারণেই এটি সামাল দেয়া এখন মুশকিল হয়ে গেছে।

ফরাসি কোম্পানি সানাফির তৈরি একটি টিকা দেয়ার পর ১৪টি শিশুর মৃত্যুর পর থেকে এমন ভীতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে শিশুদের টিকা দিতে আপত্তি করছেন অনেক অভিভাবক। যদিও সানাফি এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন- টিকার সাথে শিশুদের মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে এমন কোন প্রমাণ তারা পাননি।

অভিভাবকেরা অন্যান্য সব অসুখের টিকা দিতেও রাজি হচ্ছেন না। গত বছরই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছিল জনস্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তারা।

প্রতি বছর ৪০ লাখ মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়, যার বেশির ভাগই বাস করেন গ্রীষ্মপ্রধান দেশে। শিশুদের মধ্যে এই রোগের সবচাইতে তীব্রগুলো লক্ষণ দেখা গেছে।
ফিলিপাইনের একটি হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী- নিউজওয়াচ

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদের বিরুদ্ধে কলকাতায় প্রতিবাদ by অমর সাহা

জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতায় প্রতিবাদী বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। রাজনীতিসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল অঙ্গনের নেতারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের পর গতকাল সোমবার বিকেলে কলকাতা প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে কলকাতার ভাষা ও চেতনা সমিতি। সমাবেশে বিক্ষোভও দেখানো হয়।
জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ সুবিধা দেওয়াসংক্রান্ত ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা গতকাল বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরকে আলাদা করা হয়।
কলকাতা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বিকাশ ভট্টাচার্য, ভাষা ও চেতনা সমিতির সম্পাদক ইমানুল হক, হকার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি শক্তিমান ঘোষ প্রমুখ কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানান।
বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে বিজেপি সরকার ভারতের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে।
অধ্যাপক ইমানুল হক বলেন, এভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করা যায় না। এটা বিজেপি সরকারের সংবিধানের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা।
৩৭০ ধারা বাতিলের প্রতিবাদ করেছে সিপিএম ও কংগ্রেস। গতকাল বিকেলে সিপিএম ধর্মতলা থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করে। মিছিলে যোগ দেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, পলিটব্যুরো সদস্য সাবেক সাংসদ মহম্মদ সেলিম প্রমুখ।
ভাষা ও চেতনা সমিতির বিক্ষোভ সমাবেশ। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
এদিন দিল্লিতেও বামফ্রন্ট প্রতিবাদ মিছিল বের করে। মিছিলে ছিলেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, প্রকাশ কারাত, বৃন্দা কারাত, হান্নান মোল্লা, ডি রাজা প্রমুখ।
কলকাতায় ফরোয়ার্ড ব্লকও প্রতিবাদ মিছিল করেছে। প্রতিবাদ মিছিল বের করে এসইউসিআই ও সিপিআই এমএল-লিবারেশন।
বামেরা ঘোষণা দিয়েছে, ৭ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত তারা রাজ্যব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করবে। দাবি তুলবে ভারতের অখণ্ডতা রক্ষার।
গতকাল কলকাতার মহাজাতি সদনে কমরেড মুজাফফর আহমেদের (কাকাবাবু) ১৩১তম জন্মদিনে আয়োজিত সমাবেশের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়ায় জম্মু ও কাশ্মীর। সেখানে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, ‘কাশ্মীরে যা করল বিজেপি সরকার, যেকোনো দিন বাংলাকে ভেঙে দিতে তাদের কত সময় লাগবে?’
সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, ‘গণতন্ত্র, সংবিধান ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে রক্ষা করতে আমাদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। এটা সংবিধান ও গণতন্ত্রের ওপর হামলা। এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ বেআইনি। রাজনৈতিক স্বার্থে বিজেপি এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সংসদে নতুন বিল আনতে গেলে দুদিন আগে সবার কাছে বিলের প্রতিলিপি দিতে হয়। কিন্তু এই সরকার সেটা দেয়নি। এতে বিজেপি সরকার কাশ্মীর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।’
সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম বলেছেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করতে। কিন্তু মোদি সরকারের হঠকারী সিদ্ধান্তে কাশ্মীর আরও অশান্ত হলো।’
কলকাতায় সিপিএমের প্রতিবাদ মিছিল। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেছেন, ‘এই ঘটনা ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর ভয়ংকর আক্রমণ। এর কারণে দেশের ঐক্য ও নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়বে।’
কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি সোমেন মিত্র বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ধ্বংস করে মোদি সরকার নির্বাচিত রাজ্য সরকারগুলোর ক্ষমতা দখল করতে চাইছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘সাংবিধানিক ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের অখণ্ডতার ওপরে মোদি সরকার কি আঘাত হানতে চলেছে?’
কাশ্মীর প্রসঙ্গে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, তাঁরা এখন এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না।
সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণার পর গতকাল বিকেলে দক্ষিণ কলকাতার হাজরায় বিজেপি বিজয় সমাবেশ করে। সেখানে বিজেপির কর্মী–সমর্থকেরা আবির মেখে আনন্দ-উৎসব করে। মিষ্টি বিতরণ করে। বিজয় মিছিল হয় দুর্গাপুর, পুরুলিয়া, শিলিগুড়ি, হাওড়াসহ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে।

রোহিঙ্গা গণহত্যা ধামাচাপা দিতে চায় আসিয়ান!

রোহিঙ্গা শরণার্থী ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনায় উৎসাহিত করার কথা বলেছে দক্ষিণপূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংস্থা আসিয়ান। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোহিঙ্গা মানবাধিকার কর্মীরা।

তাদের অভিযোগ, মিয়ানমারের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করছে সংস্থাটি। মূলত মিয়ানমারের সেনা বাহিনীর অপরাধ ও প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার বড় ভুলগুলো ঢাকতেই এমনটি করছেন তারা। খবর আল-জাজিরার

১০ সদস্যের এই বাণিজ্য সংস্থার মানবাধিকার শাখার একটি দলের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের একটি প্রতিনিধি দল গত সপ্তাহে শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে। রোহিঙ্গা নেতা ও মানবাধিকার কর্মীদের সঙ্গে প্রত্যাবাসন আলোচনা শরু করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে বাঁচতে ২০১৭ সালের আগস্টে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সাত লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছেন।

যাইহোক, সহযোগিতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সম্পর্কও ঝুঁকিতে পড়েছে। ইতিমধ্যে তাদের মধ্যে অনাস্থাও তৈরি হয়েছে।

মিয়ানমারের সঙ্গে গোপনে প্রত্যাবাসন চুক্তি সই ও রোহিঙ্গাদের পরিচয়পত্র পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারণে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রতি রোহিঙ্গা অধিকার কর্মীদের অবিশ্বাস দেখা দিয়েছে। রোহিঙ্গারা এসব প্রকল্পের বিরোধিতা করেছেন।

নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সই নেয়ার চেষ্টা করলে সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করছেন রোহিঙ্গা নেতারা।

কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ। তবে এখানে রোহিঙ্গাদের ওপর বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে দেয়া হয়েছে।

তারা মুক্তভাবে চলাফেরা যেমন করতে পারেন না, তেমনি শিক্ষার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া তারা কোনো উপার্জনেও যেতে পারছেন না। রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থীর মর্যাদাও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

আসিয়ান ও মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের পরিদর্শনের সময় তাদেরকে এক রোহিঙ্গা কর্মী জিজ্ঞাসা করেন, রাখাইনে রোগবালাইন উপদ্রুত বন্দিশিবিরে আটকাপড়া এক লাখ ২৮ হাজার রোহিঙ্গার সহায়তায় তারা কী করছেন?

জবাবে এক প্রতিনিধি বলেন, আপনাদের সব সমস্যার সমাধান করতে আমরা এখানে আসিনি।

তার এই জবাবের মধ্যে উদাসীনতা ও অনীহা দেখতে পেয়েছেন কেউ কেউ এবং নিশ্চিত হয়েছেন যে রোহিঙ্গাদের অধিকার সুরক্ষা নিয়ে আসিয়ান সদস্যদের কোনো মাথা ব্যথা নেই।

মোহাম্মদ নওকিম নামের এক রোহিঙ্গা কর্মী বলেন, আমি জানি আসিয়ান কিছুই করতে পারবে না। কিন্তু রোহিঙ্গাদের অধিকারের জন্য তো তারা কথা বলতে পারেন।

রো সাওয়াদেল্লাহ নামের আরেকজন বলেন, তারাই ঠিক। তারা এখানে আমাদের সমস্যার সমাধানে আসেননি। তারা এখানে এসেছেন সময় অপচয় করতে।

আরনেল কাপিলি নামের এক আসিয়ান প্রতিনিধি বলেন, জবাবটি অপ্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ওই প্রতিনিধি বোঝাতে চেয়েছেন যে একবার গিয়েই সব সমস্যার সুরাহা করা যাবে না এবং সেখানে সংলাপের দরকার আছে।

কিন্তু ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের গবেষণা সমন্বয়ক ইয়াসমিন উল্লাহ বলেন, গণহত্যার অপরাধের জন্য আসিয়ান সদস্য হিসেবে মিয়ানমারকে শাস্তির বাইরে দেখতে চায় এই সংস্থা। সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ককেই অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে এতে।

এই নারী গবেষক বলেন, একটি গণহত্যাকারী কর্তৃত্বপরায়ন সরকার হিসেবে মিয়ানমারের ভাবমর্যাদা এই সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আর এ ব্যাপারে আসিয়ান খুবই সচেতন যে তাদের ওপরও দায় পড়ছে।

গত মাসে যখন এএইচএ সেন্টারের অংশ হিসেবে জরুরি প্রতিক্রিয়া এবং মূল্যায়ন দল একটি প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের মসৃণ ও সুশৃঙ্খল প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করেন, তখনই সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয় আসিয়ানকে।

প্রতিবেদনের লেখকরা কোনো রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে কথা বলেননি এবং গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও বাড়িঘর থেকে চলে আসতে যে বাধ্য করা হয়েছে, সেই কথাও উল্লেখ করেননি।

এমনকি রোহিঙ্গারা বর্তমানে রাখাইনে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন, সেই কথাও নেই তাদের ওই প্রতিবেদনে।

মালয়েশিয়ার রাজনীতিবিদ ও আসিয়ান পার্লামেন্টারিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস অ্যাডভোকেসি গ্রুপের চেয়ারম্যান চার্লস সান্তিয়াগো বলেন, কোনো ধরনের প্রশ্ন ছাড়াই মিয়ানমার সরকারের বিবরণ গ্রহণ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনটিতে।

তিনি বলেন, সেখানে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নৃশংসতাকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। যখন তারা কোনো একজন শরণার্থীর সঙ্গেও কথা বলতে পারেননি, তখন কীভাবে তারা প্রত্যাবাসন পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন?

বিভিন্ন সদস্য দেশের নেতাদের প্রকাশ্য বিবৃতি বিশ্লেষণ করে এ কথা বলা যায় যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসিয়ানের দৃষ্টিভঙ্গিও বিভ্রান্তিমূলক ও অসঙ্গত।

চলতি সপ্তাহে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন সামনে রেখে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিপীড়নে দায়ীদের বিচার আওতায় আনা মিয়ানমারের জন্য অপরিহার্য।

আরেকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া প্রতিবেশী মালয়েশিয়ার তুলনায় আরও স্পষ্টভাষী ও প্রতিবাদী।

গত বছর রোগিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে গণহত্যা আখ্যায়িত করেন ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। সদস্য দেশগুলোতে তাদের আশ্রয় দেয়ার প্রস্তাব দেন।

সপ্তাহখানেক পরে মিয়ানমারের নেতা অং সান সুচির কাছে দুঃখপ্রকাশসুলভভাবে বলেন, তার ওই মন্তব্য ছিল বিদ্রুপাত্মক।
>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর

কাশ্মিরে আরও ৮ হাজার সেনা মোতায়েন, সতর্ক সশস্ত্র বাহিনী

সংবিধানের ৩৭০ ধারার আওতায় জম্মু-কাশ্মিরকে দেওয়া ‘বিশেষ মর্যাদা’ বাতিলের ঘোষণার পর সেখানে আধা-সামরিক বাহিনীর আরও ৮ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসব সেনাকে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সেদেশের সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীকেও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বুকারজয়ী ভারতীয় লেখক ও মানবাধিকারকর্মী অরুন্ধতী রায় কাশ্মিরকে দেখেন ‘একটি পরমাণু যুদ্ধক্ষেত্র এবং পৃথিবীর সবচেয়ে সামরিকীকরণকৃত এলাকা’ হিসেবে। সেই ২০১৩ সালে ‘আফজাল গুরুর ফাঁসি ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য কলঙ্ক’ শীর্ষক নিবন্ধে তিনি বলেছিলেন, ‘এখানে [কাশ্মিরে] রয়েছে ভারতের পাঁচ লাখ সৈনিক। প্রতি চারজন বেসামরিক নাগরিকের বিপরীতে একজন সৈন্য! আবু গারিবের আদলে এখানকার আর্মি ক্যাম্প ও টর্চার কেন্দ্রগুলোই কাশ্মিরিদের জন্য ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের বার্তাবাহক।’ ২০১৩ সালের পর আরও ৫ বছর পেরিয়ে গেছে। কাশ্মির সংকটের সমাধানে সেখানে সেনা-সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে। দমনপীড়নের পথেই হেঁটেছে ভারতীয় বাহিনী। গত সপ্তাহে আধাসামরিক বাহিনীর ৩৫ হাজার সদস্য মোতায়েন, আর আজ ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণার পর নতুন করে সেখানে আরও ৮ হাজার সেনা পাঠানো হলো।
ভারতীয় সংবিধানের যে ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদে কাশ্মিরকে স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে সোমবার সেটি বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার (৫ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের পর এ ঘোষণা দেন তিনি। ইতোমধ্যে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় এ সংক্রান্ত বিলও উত্থাপন করেছেন অমিত শাহ। আর ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণার পর কাশ্মিরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলে নতুন করে সেখানে সেনা সংখ্যা আরও বাড়ানো হলো। সূত্রকে উদ্ধৃত করে এএনআই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে সরকার অমরনাথ যাত্রা বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার পর বাড়ির উদ্দেশে রওনা করা তীর্থযাত্রীদের অনেকে এখনও পথে আছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সেনা উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করছে, রাজ্যে উচ্চ মাত্রার জঙ্গি হুমকি ঠেকাতে বিপুল সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ২৯ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন দিন ধরে জঙ্গিরা নিয়ন্ত্রণরেখা পার হওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এর মধ্যে ৪-৫টি প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। তারা বলছে চাইছে, ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামায় চালানো হামলার মতো করে অমরনাথ তীর্থযাত্রীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের। চার-পাঁচজন ভারতে অনুপ্রবেশ করতেও সক্ষম হয়েছে। তবে সামরিক পথে যে কাশ্মিরে জঙ্গি হামলাসহ কোনও সংকটেরই সমাধান  সম্ভব নয়, বিশ্লেষকরা তা বারবার বলে আসছেন।

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়; পুলওয়ামা হামলার মূল হোতা আদিল আহমেদ দার পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট খেলায় ভারতকে সমর্থন করতেন। কদিন আগেও তিনি ছিলেন সুফি ধারার অনুসারী। আচমকা সেই মানুষটিই জঙ্গি হয়ে ওঠেন। গত বছর একইভাবে নিজের চিন্তাধারায় রূপান্তর এনেছিলেন কাশ্মিরি একজন অধ্যাপক। সমাজবিজ্ঞানের সেই মেধাবী শিক্ষার্থী একসময় কার্ল মার্ক্সের বস্তুবাদী তত্ত্বে শনাক্তকৃত ধর্মের অবস্থান নিয়ে আলোচনামুখর থাকলেও সামিল হয়েছিলেন সশস্ত্রপন্থী হিজবুল মুজাহিদীনের পতাকাতলে। গত বছর মে মাসে তিনি ‘শহীদ’ হন।  বিশ্লেষকরা মনে করেন, ব্যাপক মাত্রায় সামরিকায়ন, নিরাপত্তা তল্লাশির সূত্রে হওয়া নির্বিচার হয়রানি ও স্বশাসনের অধিকার ক্ষুণ্ন করার মতো বিষয়গুলো স্থানীয়দের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবোধ জাগিয়ে তুলছে। তাদেরকে ঠেলে দিচ্ছে পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর দিকে। তার মধ্যে ৩৭০ ধারা বিলোপ করে স্বায়ত্তশাসনের আনুষ্ঠানিক অধিকারও কেড়ে নেওয়া হলো।

উল্লেখ্য, ৩৭০ ধারার আওতায় জম্মু ও কাশ্মিরকে নিজস্ব সংবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। সেইসঙ্গে প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ ও পররাষ্ট্র সংক্রান্ত বিষয় বাদ রেখে সব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নির্মাণের অধিকারও দেওয়া হয় এর আওতায়। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করার মানে হলো কাশ্মিরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ হারানো। আর এ বিশেষ মর্যাদা হলো, ১৯৪৭ সালে ভারতের সঙ্গে কাশ্মিরের সংযুক্ত হওয়ার মূল চাবিকাঠি।
>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর

জিন্নাহ ভারতের জন্য যেটা চেয়েছিলেন, ৩৭০ ধারার অপসারণে সেটাই হবে: মণিশঙ্কর আইয়ার

মণিশঙ্কর আইয়ার
ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সাবেক সিনিয়র নেতা মণিশঙ্কর আইয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মণিশঙ্কর আইয়ার বলেছেন, জিন্নাহ ভারতের জন্য যা চেয়েছিলেন, এবার ৩৭০ ধারা অপসারণের ক্ষেত্রে সেটাই হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের ওই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে কংগ্রেস, পিডিপি, ন্যাশনাল কনফারেন্সসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। মণিশঙ্কর আইয়ার পাকিস্তানের কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর কথা উল্লেখ করে  মোদি সরকারকে আক্রমণ করেছেন।
এদিকে, রাজ্যসভার এমপি ও বিজেপির সিনিয়র নেতা সুব্রমণিয়াম স্বামী বলেছেন, ‘কাশ্মির দেশের একটি অঙ্গ এবং এতে আলাদা কোনও আইন কার্যকর হতে পারে না। এখন ৩৭০ ধারা চলে গেছে। এবং কাশ্মির নিয়ে কোনও মধ্যস্থতা হবে না। এবার তাদের ভারতের অংশ আজাদ কাশ্মিরও ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে সংসদের প্রস্তাবের আওতায় পাক অধিকৃত কাশ্মিরের ভূমিও ফিরিয়ে আনা উচিত।
৩৭০ ধারা বিলোপের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে সিপিআই নেতা ডি রাজা প্রধানমন্ত্রীকে স্বৈরশাসক হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদি ও হিটলারের মধ্যে পার্থক্য কী আছে?
এদিকে, কাশ্মিরের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ধারা বাতিলকে কেন্দ্র করে সেনা ও বিমানবাহিনীকে উচ্চসতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়য়ের কর্মকর্তারা কাশ্মিরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। একইসঙ্গে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পাকিস্তানের গতিবিধির উপরে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনী গোটা রাজ্যে টহলদারি বাড়ানোর মধ্যে সেখানে আরও আট হাজার আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ জওয়ান পাঠানো হচ্ছে।
সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে শ্রীনগর ও জম্মুতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে।  গোটা উপত্যাকায় মোবাইল ইন্টারনেট স্থগিত করা হয়েছে। প্রথমে মোবাইল পরিসেবা স্থগিত করা হলেও পরে ল্যান্ড লাইনও স্থগিত করা হয়। গৃহবন্দি হয়ে আছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবা মুফতি, ওমর আব্দুল্লাহ ও অন্য নেতারা।

দোহাতে নতুন দফা আলোচনায় শান্তি চুক্তির জোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান

আফগানিস্তানে ১৮ বছরের যুদ্ধের ইতি টানার জন্য কাতারের রাজধানী দোহাতে নতুন দফা আলোচনায় শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার জোর চেষ্টা করবে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানরা। শনিবার এই অষ্টম দফা আলোচনা শুরু হয়েছে।

একটি তালেবান সূত্র এএফপি বার্তা সংস্থাকে বলেছে যে, আফগানিস্তানে নিযুক্ত বিশেষ মার্কিন দূত জালমাই খলিলজাদ এবং তালেবান সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা বারাদারের মধ্যে সরাসরি একটা বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করা হচ্ছে, যিনি তালেবানদের রাজনৈতিক শাখার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্র তালেবানদের কাছে এই নিশ্চয়তা চায় যে আফগানিস্তানের মাটি আর কোন সন্ত্রাসে ব্যবহৃত হবে না। অন্যদিকে তালেবানদের মনোযোগের জায়গাটা হলো আফগানিস্তানের মাটি থেকে বিদেশী সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহার।

তালেবানদের দোহা অফিসের মুখপাত্র সুহাইল শাহীন শনিবার টুইটারে বলেন যে, যদি কোন চুক্তি চূড়ান্ত হয়, তাহলে একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা সব বিদেশী শক্তিকে আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ দেবে এবং আফগান সরকারের সাথে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করবে।

মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে প্রায় এক বছর ধরে আলোচনা করছে তালেবানরা। তবে এখন পর্যন্ত আফগান সরকারের সাথে আলোচনায় রাজি হয়নি তারা। কাবুল সরকারকে তালেবানরা পশ্চিমাদের ‘পুতুল সরকার’ বলে আসছে।

সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য আফগান নির্বাচনের আগেই ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তালেবানদের সাথে একটা শান্তি চুক্তি করে ফেলতে চাচ্ছে ওয়াশিংটন। তাছাড়া ২০২০ সালে যে মার্কিন নির্বাচন হবে, তার আগেই সেনা প্রত্যাহার শুরু করতে চায় তারা। কিন্তু যে কোন শান্তি চুক্তির জন্য কাবুলের সাথে তালেবানদের আলোচনা করাটা পূর্বশর্ত।

খলিলজাদ শুক্রবার এক টুইটে বলেন, “আমরা শান্তি চুক্তির চেষ্টা করছি, সেনা প্রত্যাহার চুক্তি নয়, একটা শান্তি চুক্তি যেটার মাধ্যমে সেনা প্রত্যাহারটা সম্ভব হবে”। ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাথে আলোচনা সেরে দোহাতে ফেরার পর ওই টুইট করেন খলিলজাদ।

“আফগানিস্তানে আমরা শর্ত-সাপেক্ষে অবস্থান করছি, এবং সেনা প্রত্যাহার করতে হলেও সেটা শর্ত সাপেক্ষে হতে হবে”।

গত মাসে তালেবান এবং আফগান সিনিয়র কর্মকর্তারা তথাকথিত আফগান-অভ্যন্তরীণ আলোচনায় বসেছিলেন এবং সেখানে তারা আফগানিস্তানে ‘শান্তির রোডম্যাপ’ তৈরির ব্যাপারে শপথ করেন।

অগ্রগতির আরেকটি লক্ষণ হলো আফগান সরকার তালেবানদের সাথে আলাদাভাবে আলোচনার জন্য একটি আলোচক টিম গঠন করেছেন এবং কূটনীতিকরা আশাবাদ জানিয়েছেন যে, চলতি মাসের শেষ দিকে এই টিম তালেবানদের সাথে আলোচনায় বসতে পারে।

আলোচনার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলেও আফগানিস্তানে সঙ্ঘাত কমেনি। জাতিসংঘের হিসেব মতে, গত মাসে আফগানিস্তানে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা রেকর্ড স্পর্শ করে।

জুলাই মাসে সহিংসতায় দেড় সহস্রাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। ২০১৯ সালের মধ্যে এই হার সবচেয়ে বেশি এবং ২০১৭ সালে মে মাসের পর এই হার সর্বোচ্চ।

দেশে এসে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী নারীর

হাফসা লিপি নামের ৩৪ বছর বয়সী ওই নারী চার দিন ধরে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সেখানে আইসিইউতে থাকা অবস্থায় সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালের পরিচালক জসিমউদ্দিন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।

হাফসার স্বামী সর্দার আব্দুল সাত্তার তরুণ (৩৬) নিজেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। দুই সন্তান অলি (১২) ও আয়ানকে (৬) নিয়ে সপ্তাহ তিনেক আগে দেশে এসে কলাবাগানে উঠেছিলেন তারা।

সাত্তারের বড় বোন ডা. নুরুন্নাহার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ঢাকায় আসার পরপরই জ্বরে পড়েন তার ভাই।

“ওর অসুস্থতার মধ্যেই হাফসার জ্বর আসে। গত ২৮ জুলাই এনএস১ পরীক্ষা করা হলে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। কিন্তু আমার ভাই বাসায় অসুস্থ বলে হাফসা স্বামীর সঙ্গে বাসায় থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।

“কিন্তু শুক্রবার সকালে হঠাৎ করে ওর অবস্থা খারাপের দিকে গেলে আমরা ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। ওইদিনই ওকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।”

মঙ্গলবার সকালে হাফসার মৃতদেহ নিয়ে শরীয়তপুরে তার শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হন স্বজনরা।

শরীয়পুরের ভেদরগঞ্জ থানার সর্দার বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে হাফসাকে দাফন করা হবে বলে জানান নুরুন্নাহার।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যদিও গণমাধ্যমের খবরে মৃত্যুর সংখ্যা নব্বই ছাড়িয়েছে।
স্বামী-সন্তান নিয়ে দেশে বেড়াতে এসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ইতালি প্রবাসী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন শামিমা নাসরিন লাকি]

কাশ্মির ইস্যুতে ভারত সরকারের পাল্টা সব পদক্ষেপ নেবে পাকিস্তান

জম্মু ও কাশ্মির ইস্যুতে ভারত সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের কড়া নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে ভারত সরকার এ ইস্যুতে যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে তারা। ভারতের সংবিধান থেকে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করে জম্মু কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ার পর এমন প্রতিক্রিয়া দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ভারত যে ‘অবৈধ পদক্ষেপ’ নিয়েছে তার পাল্টা জবাব দিতে সম্ভাব্য সব সুযোগ ব্যবহার করবে পাকিস্তান। এ খবর দিয়েছে পাকিস্তানের অনলাইন ডন।
জম্মু ও কাশ্মিরে সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বিষয়ক অন্য সদস্যদের কড়া উপস্থিতিতে সোমবার পার্লামেন্টে ৩৭০ ধারা বাতিল ঘোষণা করেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর আগে বন্ধ করে দেয়া হয় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা।
এর জবাবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, জম্মু ও কাশ্মিরের বিরোধপূর্ণ ‘স্ট্যাটাসের’ পরিবর্তন ভারত সরকার একতরফাভাবে করতে পারে না। কারণ, ওই অঞ্চলের ‘স্ট্যাটাস’ কি হবে তা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে উল্লেখ করা আছে। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির ও পাকিস্তানের কাছে (ভারতের) এই সিদ্ধান্ত কখনও গ্রহণযোগ্য হবে না। আন্তর্জাতিক এই বিরোধে পাকিস্তান একটি অংশ যেহেতু, তাই ভারত সরকার যেসব অবৈধ পদক্ষেপ নেবে তার পাল্টা সব পদক্ষেপ নেবে পাকিস্তান।
ওদিকে সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ২টায় পার্লামেন্টে কাশ্মির বিষয়ক পার্লামেন্টারি কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা। রেডিও পাকিস্তান অনুযায়ী, এতে সভাপতিত্ব করার কথা কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ ফখর ইমাম। বৈঠকে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির পরিস্থিতি আলোচনায় আসতে পারে।
বিপজ্জনক খেলা খেলছে ভারত
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মোহাম্মদ কুরেশি ডন টিভিকে বলেন, বিজেপি সরকারের নীতিমালা যদি কার্যকর হতো তাহলে তারা গভর্নরের শাসন আরোপ করতো না বা প্রেসিডেন্টের নির্দেশের মাধ্যমে নীতিমালা বাস্তবায়ন করবে না। তারা ভারত-শাসিত কাশ্মীর ও লাদাখকে কেন্দ্রীয় অঞ্চলের আওতাভুক্ত করেছে। প্রমাণ হয়েছে যে, তারা আশা হারিয়ে ফেলেছে। যেসব কাশ্মীরিরা তাদের সমর্থন করতো, তারা এখন হয়তো কারাবাসে বা গৃহবন্দী হিসেবে দিন পার করছে।
তিনি বলেন, ভারত আরো একবার কাশ্মীর ইস্যুকে তাঁতিয়ে তুলছে, আন্তর্জাতিক মাত্রায় নিয়ে গেছে। এতে সমস্যার সমাধান হবে না, সমস্যা বাড়বে। তারা কখনোই এই সমস্যাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারবে না।  সময়ে হলে দেখা যাবে যে, এই ইস্যু নিয়ে একটি বিপজ্জনক খেলা খেলছে তারা। আন্তর্জাতিক মহলের উচিৎ ভারতের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানো।
পার্লামেন্টে যৌথ অধিবেশন
পাকিস্তানের বিরোধীদলীয় নেতারা কাশ্মীর ইস্যুতে নতুন পরিবর্তন নিয়ে সোমবার একটি যৌথ অধিবেশনের আহ্বান জানিয়েছে। টুইটারে এক পোস্টে পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল জারদারি বলেন, ভারত-শাসিত কাশ্মীরে নৃশংসতা কমেনি। চরমপন্থী ভারত সরকারের ইচ্ছা পরিষ্কার হলো। ভারত সরকারের আগ্রাসনের মুখে প্রেসিডেন্টকে তাৎক্ষণিকভাবে যৌথ অধিবেশনের আয়োজন করা উচিৎ।
ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির বিরোধীদলীয় নেতা ও পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এর প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরিফ ভারত সরকারের ঘোষণার নিন্দা জানিয়ে যৌথ অধিবেশনের আহ্বান জানিয়েছে। কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বৈঠকের আহ্বানও জানিয়েছেন পিএমএল-এন প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, এটা পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থের বিষয়, পুরো পাকিস্তান এ বিষয়ে একমত। সময় এসেছে, পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নেয়ার। কাশ্মীরের বিষয়ে পুরো পাকিস্তান ঐক্যবদ্ধ।
কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিতে পারে না ভারত
পাকিস্তানের মানবাধিকার বিষয়ক মন্ত্রী ড শিরিন মাজারি বলেন, ভারতের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক নিয়ম ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) প্রস্তাবনা বিরোধী। ইউএনএসসির প্রস্তাবনায় কাশ্মীর একটি বিতর্কিত অঞ্চল। ভারত তাদের পার্লামেন্ট ব্যবগার করে অঞ্চলটির অবস্থান পাল্টে দিতে পারে না। মাজারি বলেন, এ বিষয়ে ইউএনএসসি সহ অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে মিলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিজে) দ্বারস্থ হওয়া উচিৎ। এটা সামরিক-দখলীকৃত ভূখ-ের অধিগ্রহণ  ও স¤পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য।
এদিকে, পিএমএল-এন নেত্রী মরিয়ম নওয়াজ বলেন, ৬ আগস্ট সারগোধায় এক সমাবেশ করার কথা রয়েছে তার। ওই সমাবেশের মূল আলোচ্য বিষয় হবে কাশ্মীর। তিনি বলেন, আমরা কেবল আমাদের কাশ্মীরী ভাই-বোনদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করবো না, আমরা ভারত সরকারের অত্যাচার, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও স্বৈরাচারীভাবে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে নেয়ার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানাবে।

পাকিস্তান ও ভারতকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জাতিসংঘের

কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তান ও ভারতের প্রতি সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। সীমান্তে উত্তেজনা এবং ভারত অধিকৃত কাশ্মিরে ব্যাপক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে রবিবার এ আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন।

ই-মেইলে দেওয়া এক প্রশ্নের উত্তরে এ বিষয়ে কথা বলেছেন জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ভারত ও পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ রেখায় সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির ঘটনা জাতিসংঘ সামরিক পর্যবেক্ষক দলের নজরে এসেছে। পরিস্থিতির যেন আরও অবনতি না ঘটে সেজন্য উভয় পক্ষের প্রতি সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে জাতিসংঘ।

এদিকে ভারত শাসিত কাশ্মিরের বাসিন্দাদের বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার বাতিলের আশঙ্কার মধ্যে রাজ্যের বহু স্থানে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট, নিষিদ্ধ করা হয়েছে সভা-সমাবেশ। রবিবার রাত থেকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহকে গৃহবন্দি করে রেখেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। নিজ বাড়িতে নজরদারির মধ্যে রয়েছেন সেখানকার আরেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ ও পিপলস কনফারেন্স পার্টির চেয়ারম্যান সাজাদ লোন।

‘সন্ত্রাসী হামলা’র আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও স্পর্শকাতর এলাকায় কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রবিবার মধ্যরাত থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে শ্রীনগর জেলায়। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সোমবার কাশ্মির ইস্যুতে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

গত শুক্রবার (২ আগস্ট) কেন্দ্রীয় সরকার সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে সতর্ক করার পর কাশ্মির থেকে দ্রুত তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেয় রাজ্য সরকার। এরপরই স্থানীয়দের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। কাশ্মির ছাড়তে শুরু করে হাজার হাজার পর্যটক ও তীর্থযাত্রী। কাশ্মিরের রাজনীতিবিদরা আশঙ্কা করতে থাকেন, সরকার ভারতীয় সংবিধানের ৩৫ (এ) ধারা বাতিল করতে যাচ্ছে। এই ধারার মাধ্যমে কাশ্মিরের জনগণকে চাকরি ও ভূমিতে বিশেষ অধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে গভর্নর সত্য পাল মালিক তাদের জানিয়ে দেন, ৩৫ (এ) ধারা বাতিলের কোনও পরিকল্পনা নেই।

রবিবার কাশ্মিরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও স্পর্শকাতর এলাকায় কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। নিয়ন্ত্রণ রেখায় পাকিস্তানের সঙ্গে সহিংসতা বৃদ্ধি ও সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বহু স্থানে বন্ধ করে দেওয়া হয় মোবাইল ইন্টারনেট। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সেখানকার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ। কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ছাত্রাবাস খালি করে ফেলারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কাশ্মির পুলিশের দাবি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রাজ্য সরকারের এক নির্দেশনায় বলা হয় যেকোনও ধরণের সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ থাকবে। কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমে কারফিউ জারির কথা বলা হলেও তা জারি করা হয়নি বলে জানানো হয় ওই নির্দেশনায়। তবে রবিবার মধ্যরাত থেকে শ্রীনগর জেলায় ১৪৪ ধারা কার্যকরের কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

মুসলিম-প্রধান কাশ্মীরের চরিত্র বদলানোই মূল লক্ষ্য? by শুভজ্যোতি ঘোষ

মুসলিম-গরিষ্ঠ কাশ্মীরের 'ডেমোগ্রাফি' বা জনসংখ্যাগত চরিত্র বদলে দেওয়াই সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের পেছনে আসল উদ্দেশ্য কি না, তা নিয়ে এখন তীব্র বিতর্ক দানা বাঁধছে।
ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি বা তাদের পুরনো অবতার জনসঙ্ঘ অবশ্য বহু বছর ধরেই ভারতীয় সংবিধানের এই বিতর্কিত ধারাটি বিলোপ করার দাবি জানিয়ে আসছিল।
বিজেপির বক্তব্য ছিল, কাশ্মীর যাতে সম্পূর্ণভাবে ভারতের সাথে সংযুক্ত বা 'আত্মীকৃত' হতে পারে সে জন্যই এই ধারাটি বিলোপ করা দরকার।
 শ্রীনগরের উপকণ্ঠে একটি মসজিদ
স্বাধীনতার সাত দশক পর ভারতে একটি বিজেপি সরকার অবশেষে তাদের এই বহু পুরনো রাজনৈতিক এজেন্ডাটি বাস্তবায়ন করল।
কিন্তু এদিন পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্-র নাটকীয় ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস বুঝিয়ে দেয়, তারা এই পদক্ষেপের মধ্যে অন্য অভিসন্ধি দেখছে।
রাজ্যসভায় কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা গুলাম নবি আজাদ তৃণমূল-সহ অন্য কিছু বিরোধী দলকে পাশে নিয়ে নিয়ে ঘোষণা করেন, "ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিকভাবে কাশ্মীরের যে অনন্য চরিত্র, কলমের এক খোঁচায় বিজেপি সেটাই বরবাদ করে দিতে চাইছে।"
তিনি বলেন, "মনে রাখতে হবে সীমান্তবর্তী রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীর এমন একটি প্রদেশ, যার সংস্কৃতি, ইতিহাস, ভূগোল, রাজনীতি সবই বাকি দেশের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।"
"এই রাজ্যের লাদাখে বৌদ্ধ ও মুসলিমরা থাকেন, কাশ্মীরে থাকেন মুসলিম, পন্ডিত ও শিখরা। আর জম্মুতে জনসংখ্যার ষাট শতাংশ হিন্দু, আর বাকি চল্লিশ শতাংশ মুসলিম।"
কাশ্মীর উপত্যকায় এখন সুন্নি মুসলিমরাই বিপুলভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ
"এমন একটি রাজ্যকে যদি কেউ এক সূত্রে বেঁধে রাখতে পারে, সেটা ছিল সংবিধানের ৩৭০ ধারা। এই ধারায় রাজ্যের সব ভাষা-ধর্ম-সংস্কৃতির মানুষের জন্যই বিশেষ ব্যবস্থা ছিল - যা আজ বিজেপি শেষ করে দিল।"
ভারত-শাসিত কাশ্মীরের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী যে কথাটা কিছুটা রাখঢাক করে বলছেন, কাশ্মীরি অ্যাক্টিভিস্টরা সেটাই বলছেন আরও খোলাখুলি - যে এর মাধ্যমে কাশ্মীর উপত্যকা বা ভ্যালির ডেমোগ্রাফি বদলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
কাশ্মীরের বারামুলা কলেজে একসময় অধ্যাপনা করেছেন নাজির আহমেদ শল, কাশ্মীরিদের 'সেলফ ডিটারমিনেশন' বা আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবিতে তিনি গত বহু বছর ধরে লন্ডনে আন্দোলন চালাচ্ছেন।
কংগ্রেস নেতা ও ভারত-শাসিত কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী গুলাম নবি আজাদ
লন্ডন-ভিত্তিক জাস্টিস ফাউন্ডেশনের কর্ণধার অধ্যাপক শল বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "৩৭০ ধারা বিলোপের আগেই অন্তত দুটি পদক্ষেপ থেকেই পরিষ্কার আঁচ করা যাচ্ছিল বিজেপি সরকার কাশ্মীরের আবহমান কালের চরিত্রটা পাল্টে দিতে চাইছে।"
"প্রথমত ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল কাশ্মীরের জন্য যে 'ডোভাল ডকট্রিন' ফর্মুলেট করেছিলেন তার একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনাই ছিল ভারতের অন্যান্য অংশ থেকে লোকজনকে কাশ্মীরে এনে বসত করানো।"
"যেমন ওই ডকট্রিনে কাশ্মীরে হিন্দু পন্ডিতদের জন্য আলাদা কলোনি স্থাপন, কাশ্মীরে শিল্পাঞ্চলের জন্য বাকি ভারত থেকে শিল্পশ্রমিকদের এনে বসতি গড়া কিংবা ভারতীয় সেনার সাবেক সদস্যদের এনে কাশ্মীরে জমি দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।"
"দ্বিতীয়ত, বিগত সাধারণ নির্বাচনের আগে বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও সংবিধানের ৩৭০ ধারা ও আর্টিকল ৩৫এ বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।"
কাশ্মীরি অ্যাক্টিভিস্ট নাজির আহমেদ শল
"এমন কী তারা সরাসরি ঘোষণা করেছিল বিজেপিকে ভোট দিয়ে জেতালে কাশ্মীরে জমিজিরেত কিনতে পারবেন আনায়াসেই।"
ফলে অধ্যাপক শলের বলতে কোনও দ্বিধা নেই, "এদিনের পদক্ষেপ আসলে একটি সাংবিধানিক সন্ত্রাসবাদ - যার মাধ্যমে কাশ্মীরের স্বকীয় পরিচিতি বা আইডেন্টিটি ধ্বংস করে ডেমোগ্রাফিক রিইঞ্জিনিয়ারিং-য়ের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।"
এটা ঠিকই যে বিজেপি গত নির্বাচনের আগে পোস্টার দিয়েছিল, "ঠিকঠাক ভোট দিলে আপনার ভোট কিন্তু আপনাকে কাশ্মীরে জমির প্লটও এনে দিতে পারে।"
বস্তুত ৩৭০ ধারা বিলোপের সমর্থনে বিজেপি ঠিক এই যুক্তিটাই দিচ্ছে যে এতদিনে কাশ্মীর ভারতের আর পাঁচটা রাজ্যের সঙ্গে সমান কাতারে এল, কাশ্মীরের ভারতভুক্তি সম্পূর্ণ হল।
বিজেপির তাত্ত্বিক নেতা ও পলিসি রিসার্চ সেলের সদস্য অনির্বাণ গাঙ্গুলির কথায়, "জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি আজ থেকে ছেষট্টি বছর আগে কাশ্মীরের সর্বাত্মক ভারতভুক্তির জন্য যে ৩৭০ ধারা বিলোপের দাবি জানিয়েছিলেন, আজ তাঁর রাজনৈতিক উত্তরসূরীরাই সেই স্বপ্নকে পূরণ করলেন।
৩৭০ ধারা বিলোপের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপির নির্বাচনী পোস্টার
"আর ডেমোগ্রাফি পরিবর্তনের কথা যারা বলছেন, সেটা এই পটভূমিতে সম্পূর্ণ অবান্তর।"
"কারণ ৩৭০ ধারা এতদিন ছিল বলেই কাশ্মীরে যারা তফসিলি জাতি বা উপজাতিভুক্ত, কিংবা অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণীর - তারা বিভিন্ন সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।"
"কেন শুধু কাশ্মীরে বসবাস করার জন্য এই মানুষগুলো দিনের পর দিন ভারতে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে থাকবেন? আর এটা তো ভারতীয় সংবিধানেরও পরিপন্থী - কাজেই এটা অ্যাড্রেস করতেই হত", বলছেন তিনি।
অতএব কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলুপ্তির মধ্যে দিয়ে ভারত-শাসিত ওই প্রদেশের সোয়া কোটিরও বেশি মানুষ অবশেষে বাকি দেশের সঙ্গে সমানাধিকার পেল এবং একই মূল ধারায় মিশতে পারল বলে বিজেপি দাবি করছে।
কিন্তু এই পদক্ষেপের বিরোধীরা মনে করছেন, এর মধ্যে দিয়ে আসলে কাশ্মীরের বিশেষ স্বীকৃতি তুলে নিয়ে উপত্যকার দরজা খুব সচেতনভাবে খুলে দেওয়া হল ভারতের সব বর্ণ-ধর্ম-ভাষার মানুষের জন্য।
ইসরায়েল একদিন যা ফিলিস্তিনি-অধ্যুষিত অঞ্চলে করেছে অথবা চীনও করেছে তিব্বতে - সুন্নি মুসলিম-গরিষ্ঠ কাশ্মীরে ভারতও ঠিক সেই একই ধরনের পদক্ষেপ নিল বলে তারা মনে করছেন।
বিজেপি পলিসি রিসার্চ সেলের নেতা অনির্বাণ গাঙ্গুলি

ভারতীয় বংশোদ্ভুত ৮ ব্যক্তির নেপালি নাগরিকত্ব বাতিল করেছে নেপাল সরকার

নেপালের সরকার রোববার ভারতীয় বংশোদ্ভুত আট নেপালির নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। জাল কাগজপত্র দেখিয়ে তারা নেপালের নাগরিকত্ব নিয়েছিলো বলে প্রমাণ পাওয়ার পর তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়।

নাগরিকত্ব বাতিলের এই প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হলে তা গ্রহণ করা হয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সরকারের আরো খোঁজখবর নেয়া দরকার ছিলো বলে রাষ্ট্রীয় জনতা পার্টি-নেপালের সাধারণ সম্পাদক রাকেশ মিশ্র মনে করেন।

তিনি বলেন, সরকার যথেষ্ঠ প্রমাণ সংগ্রহ করেছে কিনা তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। তাছাড়া যারা জাল কাগজ দেখিয়ে নাগরিকত্ব নেয়ার জন্য লোকজনকে শাস্তি দেয়া হলো। অথচ যেসব কর্মকর্তা এসব কাগজ পরীক্ষা করেছেন তাদেরকে শাস্তি দেয়া হয়নি।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভারতের ৩৭০ ধারা রদ, প্রতিক্রিয়ায় মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহ

ভারতে মোদি সরকার কর্তৃক ৩৭০ ধারা রদ শুধু এ উপমহাদেশ নয় সমগ্র বিশ্বেই আলোচিত হচ্ছে। খবরটি গুরুত্ব সহকারে প্রচারিত হচ্ছে বিশ্ব গণমাধ্যমে। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে কীভাবে সহিংসতা ও অস্থিরতা উস্কে দেয়া হচ্ছে সেটিই প্রাধান্য পেয়েছে এসব খবরে।
বৃটিশ গণমাধ্যম বিবিসি একে ভারত সরকারের সর্বকালের সবথেকে তাতপর্যপূর্ন পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এতে বলা হয়েছে, এর ফলে জম্মু ও কাশ্মীরে বড় ধরণের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে বিবিসি কাশ্মীরের বর্তমান অবস্থাকে উত্তেজনাকর হিসেবে প্রকাশ করেছে।
লন্ডনভিত্তিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, ৩৭০ ধারা বাতিল হচ্ছে কাশ্মীরের মর্যাদা ইস্যুতে ভারতের ইতিহাসের সবথেকে বড় আমূল পরিবর্তন। ওই প্রতিবেদনে কাশ্মীর ভেঙে আলাদা দুটি অঞ্চল গঠন করাকে মোদি সরকারের নাটকীয় সিদ্ধান্ত বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এটি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে স¤পর্কে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে বলেও জানায় দ্য গার্ডিয়ান।
এতে ভারত সরকার প্রবল প্রতিরোধের মুখে পরবে বলেও লিখেছে পত্রিকাটি।
এদিকে ভারতের ৩৭০ ধারা বাতিল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সিএনএন জানিয়েছে, কাশ্মীরের পূর্ন নিয়ন্ত্রণ নিতে বিতর্কিত পরিবর্তন এনেছে মোদি সরকার। শিরোনামে লেখা হয়, এই পরিবর্তনের ফলে কাশ্মীর কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পরেছে। এই প্রতিবেদনে একটি থিংক ট্যাংক সদস্যের মন্তব্য তুলে ধরা হয়। এতে তিনি বলেন, ৩৭০ ধারা বাতিল কাশ্মীরিদের জন্য বড় ধরনের মানসিক আঘাত।
আরেক মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের মতে এই পদক্ষেপ নতুন সংঘর্ষের ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছে। তারা শিরোনামে জুড়ে দেয়, ভারতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে কাশ্মীর। গণমাধ্যমটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এই ঘোষণার পর জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের সঙ্গে কেন্দ্রের স¤পর্ক স¤পূর্ন নষ্ট হয়ে যাবে।
পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলোতে ব্যপক প্রাধান্য পাচ্ছে কাশ্মীরের ভারতে অন্তর্ভুক্তির খবর। প্রত্যাশীতভাবে করাচিভিত্তিক ডন ভারত সরকারের এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে কাশ্মীরিরা আতঙ্কিত হয়ে পরেছে। তাদের ভয় এরফলে জনতাত্ত্বিকভাবে এই অঞ্চল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ থেকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে উঠবে।
পরিণতি হবে ভয়াবহ -ওমর আবদুল্লাহ
সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ওই রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। তিনি সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে আগ্রাসন ও জনগণের আস্থার প্রতি পুরোপুরি বিশ্বাসঘাতকতা বলে অভিহিত করেছেন। বলেছেন, সরকার একতরফাভাবে এমন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এমন সিদ্ধান্ত অবৈধ। এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোমবার পার্লামেন্টে ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণা দেন। এ ঘোষণায় জম্মু ও কাশ্মির থেকে আলাদা করা হয়েছে লাদাখ। বলা হয়েছে, কেন্দ্র শাসিত দুটি ইউনিয়ন হবে ওই অঞ্চল।
এর আগে জম্মু ও কাশ্মিরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহ সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ স্থানীয় রাজনীতিককে গৃহবন্দি করে সরকার।

সেখান থেকে এক বিবৃতিতে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ওমর আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, ভারত সরকারের একতরফা ও হতাশাজনক সিদ্ধান্তে জম্মু ও কাশ্মিরের জনগণের আস্থার সঙ্গে পুরোপুরি বিশ্বাসঘাতকতা। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর এই রাজ্য ভারতের অংশ হিসেবে স্বীকৃত হয়। কিন্তু সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিণতি হবে সুদূরপ্রসারি ও ভয়াবহ। তারা রাজ্যের জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়েছে। রোববার শ্রীনগরে সর্বদলীয় বৈঠকে এ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল।
অবৈধ ও অসাংবিধানিক -মেহবুবা মুফতি
সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়াকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে আখ্যায়িত করেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যকে ‘অশুভ’ বলে আখ্যায়িত করেন। মেহবুবা বলেন, সরকার চাইছে জম্মু ও কাশ্মিরের জনসংখ্যাতত্ত্বকে পাল্টে দিতে। অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিল করার আগে রোববার রাতে সাবেক আরেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও তাকে গৃহবন্দি করে সরকার। এরপর সোমবার পার্লামেন্টে ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণা দেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এত তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মেহবুবা। তিনি এ দিনকে ভারতের গণতন্ত্রের সবচেয়ে কালো দিবস হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ১৯৪৭ সালের দ্বিজাতি তত্ত্ব এবং ভারতের সঙ্গে অঙ্গীভূত থাকার যে সিদ্ধান্ত ছিল তাকে ভারত পিছনে ঠেলে দিয়েছে।
ভারত সরকার ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করার যে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা অবৈধ ও অসাংবিধানিক। এর ফলে জম্মু ও কাশ্মিরে ভারত হবে দখলদার শক্তি।

অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু: রক্ত সরবরাহে সংকট

শারমিন আরা শাপলা
বাংলাদেশে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। রাজধানী ঢাকাসহ বাইরের জেলাগুলোতেও সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গুরোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। সারাদেশে আজ সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে দুই হাজার ৬৫ জন। দেখা দিচ্ছে রক্ত সরবরাহের সংকট।

এদিকে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আজও ঢাকা, মাদারীপুর ও কুমিল্লায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা এক নারী ও ১৩ বছরের এক শিশু রয়েছে।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আজ সকালে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শারমিন আরা শাপলা নামের একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা। তিনি আবহাওয়া অধিদফতরের উপ-পরিচালক এ কে এম নাজমুল হকের স্ত্রী।

গতকাল ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সৈয়দা আক্তার (৫৫)। তিনি পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজি (ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) শাহাবুদ্দিন কোরেশীর স্ত্রী।

এছাড়া, গতকাল রোববার রাতে ঢাকার মুগদা ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রী ইভা আক্তার (২৪)। এর আগে রোববার বিকেলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ইডেন কলেজের আর এক ছাত্রী শান্তা তানভির।

খুলনায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রোববার একজনের মৃত্যু ঘটেছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে খুলনায় রোববার সকালে এক স্কুলছাত্র ও শনিবার মধ্যরাতে এক বৃদ্ধা মারা গেছেন।

চাঁদপুরের মতলব উপজেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শনিবার মধ্যরাতে প্রাণ হারিয়েছেন লাভলী আক্তার (৩৮) নামের এক নারী ইউপি সদস্য। তিনি খাদেরগাঁও ইউনিয়নের নির্বাচিত নারী সদস্য ছিলেন। 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ বলছেন, এবারের মৃত্যুর তালিকায় শিশু ও নারীদের সংখ্যা বেশী। এজন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণকে দায়ী করছেন তারা।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় দুই সিটি কর্পোরেশনের যে সক্ষমতা দেখানোর দরকার ছিল তা দেখাতে পারেনি।

আজ (সোমবার) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ঈদের ছুটির ছুটির মধ্যে ঢাকার বাইরে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে, তবে ঢাকায় রোগীর সংখ্যা কমতে পারে।

উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে দেশের সবকটি জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ছাড়িয়েছে। এ অবস্থায় আজ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকায় ব্যবহারের জন্য মশার ওষুধের নমুনা বিদেশ থেকে বিমানযোগে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। তবে ওষুধের নমুনা কোন দেশ থেকে এসেছে বা তার নাম কী, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছুই জানাতে পারেননি তিনি।

তবে তার আগে গতকাল ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন নগর ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে মসজিদের ইমামসহ সবাইকে লম্বা জামা-পায়জামা ও মোজা পরার পরামর্শ দিয়েছেন।

নগরীর মসজিদের ইমামদের প্রতি আনুরোধ জানিয়ে মেয়র বলেছেন, তারা যেন নিজ এলাকায় প্রতিটি মসজিদে ডেঙ্গু থেকে মুক্তির লক্ষ্যে দোয়া পাঠ করবেন। যেন এ শহর দ্রুত ডেঙ্গুমুক্ত হয়। কারণ আল্লাহ ধৈর্যশীল ও নামাজিদের পছন্দ করেন। আমরা ধৈর্য ধরব ও নামাজের সঙ্গে আল্লাহর দরবারে সাহায্য প্রার্থনা করব। নিশ্চয় তিনি আমাদের মাফ করবেন।

এরআগে সাঈদ খোকন ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভবকে 'গুজব’ বলে উড়িয়ে দিলে সর্বমহলে তীব্র সমালোচনার শিকার হন।

এবার মেয়রের লম্বা জামা-পাজামা পরার পরামর্শ ক্ষুব্ধ হয়ে মো. ফিরোজ শাহ নামে বে নাগরিক সামাজিক মাধ্যমে একজন লিখেছেন, “তার চেয়ে বলেন কাফনের কাপড় পরে থাকতে।’’

উপহাস করে মো. গোলাম মহিউদ্দীন লিখেছেন, "এইতো আল্লাহ পুরুষের পর্দার কাজও আগাইয়া দিলেন। মুখেও কামড়াইতে পারে তাই এক সাথে মুখ বোরকায় ঢাকলে ফরজও আদায় হল ডেঙ্গুর কামড় থেকেও পুরুষ জাতি বাছলো।"
অতিরিক্ত আইজি শাহাবুদ্দিন কোরেশীর স্ত্রী সৈয়দা আক্তার

দ্বিখণ্ডিত জম্মু-কাশ্মীর আর রাজ্য নয় by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

সিদ্ধান্তটা নিয়েই নিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাষ্ট্রপতির নির্দেশ জারির মধ্য দিয়ে মোদির সরকার বাতিল করে দিল ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা, যা জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দিয়েছিল। শুধু তা–ই নয়, জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যকে দুই টুকরোও করে দেওয়া হলো। রাজ্য থেকে লাদাখকে বের করে তৈরি করা হলো নতুন এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, যার কোনো বিধানসভা থাকবে না। জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদাও কেড়ে নেওয়া হলো। এখন থেকে তার পরিচিতি হবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে। তবে তার বিধানসভা থাকবে। দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পরিচালিত করবেন দুই লেফটেন্যান্ট গভর্নর।

এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সংবিধানের ৩৫ (ক) ধারাও বাতিল হয়ে গেল কি না, তা নিয়ে সাংবিধানিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। যদিও কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদ সাংবাদিকদের বলেছেন, বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৩৫ (ক) ধারারাও বিলোপ করে দেওয়া হলো। এর মধ্য দিয়ে সরকার জম্মু-কাশ্মীরের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল। এর পরিণাম ভালো হতে পারে না।

সংবিধানের ৩৭০ ধারায় জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। পররাষ্ট্র, যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ওই রাজ্যকে দেওয়া হয়েছিল। তাদের আলাদা পতাকা ছিল। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ছিল সংবিধান। কালে কালে সব হারিয়ে অবশিষ্ট ছিল সাংবিধানিক ধারা ও কিছু বিশেষ ক্ষমতা। এবার তাও গেল। সরকারি প্রস্তাব বিল আকারে পেশও করা হয়েছে। এই মুহূর্তে চলছে তা নিয়ে আলোচনা।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ সোমবার প্রথমে রাজ্যসভা ও পরে লোকসভায় এই ঘোষণা দেন। বিরোধীদের প্রবল প্রতিরোধের মধ্যে এ-সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির নির্দেশনামা তিনি পড়ে শোনান। তিনি বলেন, ৩৭০ ধারা কাশ্মীরকে দেশের অন্য অংশের সঙ্গে একাত্ম করতে পারেনি।

এমন ধরনের কিছু একটা যে ঘটতে চলেছে, দিন কয়েক ধরেই তা রাজনৈতিক আলোচনায় ছিল। ২৭ জুলাই ১০০ কোম্পানি সশস্ত্র বাহিনী উপত্যকায় পাঠানো হয়।

পরের দিনই রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা নষ্ট করে দেওয়া হলে তা দেশের পক্ষে অমঙ্গলজনক হবে।

গত ২৯ জুলাই জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের পক্ষ থেকে রাজ্যের সব মসজিদ ও তাদের পরিচালন সমিতি সম্পর্কে রিপোর্ট তলব করা হয়। সেদিন থেকেই রটে যায়, কেন্দ্র ৩৭০ ও ৩৫ (ক) ধারা বাতিল করার রাস্তায় হাঁটছে।

পরের দিন ৩০ জুলাই রাজ্যের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক এক বিবৃতিতে রাজ্যের মানুষকে গুজবে কান না দিতে অনুরোধ করেন।

গত ৩১ জুলাই মেহবুবা মুফতি কুলগাম, সোপিয়ান ও পুলওয়ামা জেলায় গিয়ে বিভিন্ন সভায় ৩৫ (ক) ধারা ব্যাখ্যা করেন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক রাম মাধব সমালোচনা করে বলেন, এভাবে মানুষের মনে ভয় ঢোকানো উচিত নয়।

১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক ও ওমর আবদুল্লা। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ৩৫ (ক) ধারা বাতিল করে দিলে গোটা উপত্যকায় তা বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলবে। সেদিনই ১০ হাজার বাড়তি সেনা কাশ্মীরে পাঠানো হয়।

২ আগস্ট বাতিল করে দেওয়া হয় অমরনাথযাত্রা। সব পর্যটককে দ্রুত উপত্যকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সে জন্য রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার বাস, ট্রেন ও বিমানের বিশেষ ব্যবস্থা করে।

৩ আগস্ট নিয়ন্ত্রণরেখায় পাঁচজন পাকিস্তানি নিহত হয়। ৪ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, গোয়েন্দা প্রধান ও রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্যাল উইংয়ের প্রধানদের সঙ্গে। তখনই সরকারিভাবে জানানো হয়, সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির বৈঠক বসবে।

আজ সকাল সাড়ে নয়টায় সেই বৈঠক বসে। বেলা ১১টায় রাজ্যসভায় অমিত শাহ ঘোষণা করেন, জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ ক্ষমতা আর থাকছে না। রাজ্যও ভাগ হচ্ছে দুটি ভাগে।

এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত আরও আট হাজার আধা সামরিক সেনা উপত্যকায় পাঠানো হয়।

তার আগে গতকাল রোববার গভীর রাতে গৃহবন্দী করা হয় ফারুক-ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুখতি, সাজ্জাদ লোনসহ উপত্যকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে। বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা। জায়গায় জায়গায় জারি করা হয় ১৪৪ ধারা ও কারফিউ।

এই সিদ্ধান্তের পরিণাম কী হবে, এখনই তা বোঝা যাচ্ছে না। কারণ, গোটা উপত্যকা এই মুহূর্তে থমথমে।

সরকারের সমর্থকেরা এই সিদ্ধান্তকে প্রবলভাবে সমর্থন জানালেও বিরোধীরা সংসদের কক্ষে বসে প্রতিবাদ জানান। কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম জানান, সরকার যা করেছে, তা দেশ ও গণতন্ত্রের পক্ষে চরম বিপজ্জনক। এই সিদ্ধান্ত দেশকে টুকরো টুকরো করে দেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ। ইচ্ছে করলেই সরকার এখন যেকোনো রাজ্যকে তার ইচ্ছেমতো ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিতে পারে। দেশের পক্ষে এটা প্রকৃত কালো দিন।

বিজেপির শরিক সংযুক্ত জনতা দল এই সিদ্ধান্তে শরিক হয়নি। দলের নেতা কে সি ত্যাগী বলেছেন, তাঁরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধী। এটা এনডিএরও অ্যাজেন্ডা নয়।

অন্য রাজনৈতিক দল থেকে বিজেপি নিজেদের আলাদা দাবি করে এসেছে বরাবর। তিনটি বিষয়ে তারা কখনো তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরেনি। ৩৭০ ধারা বাতিল, সারা দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রচলন ও অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির প্রতিষ্ঠা।

দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ অধিকার বাতিল করে দিয়ে তিন লক্ষ্যের একটি বিজেপি পূরণ করল।

কাল মঙ্গলবার থেকে অযোধ্যা মামলার দৈনন্দিন শুনানি শুরু হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টে। বিজেপির বিশ্বাস, অতি দ্রুত সেই শুনানি শেষ হবে এবং অযোধ্যায় মন্দির প্রতিষ্ঠা করার সব বাধা দূর হবে।

বাকি থাকল অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। তা করার আগে তিন তালাক বিল সরকার পাস করেছে।

কাশ্মীর এই মুহূর্তে থমথমে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হওয়ার কথা ভাবছে।

কাশ্মীর: ভারত শাসিত রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপের ঘোষণা

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ, যেটা কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়, তা বিলোপ করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।
৩৭০ অনুচ্ছেদের কারণে জম্মু ও কাশ্মীর অন্য যেকোন ভারতীয় রাজ্যের চেয়ে বেশি স্বায়ত্বশাসন ভোগ করতো।
এই ধারাটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর ভিত্তিতেই কাশ্মীর রাজ্য ভারতের অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৩৭০ ভারতীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরকে নিজেদের সংবিধান ও একটি আলাদা পতাকার স্বাধীনতা দেয়। এছাড়া পররাষ্ট্র সম্পর্কিত বিষয়াদি, প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ বাদে অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও দেয়।
গত দশদিনে ভারত শাসিত কাশ্মীরে প্রায় বাড়তি পঞ্চাশ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার সংসদে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধীদের তুমুল বাধা ও বাগ-বিতণ্ডার মধ্যে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
এই মর্মে সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে, যাতে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ স্বাক্ষরও করেছেন।
এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার এক বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মন্ত্রীসভার ঐ বৈঠক শুরু হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে একান্ত বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
এই ৩৭০ অনুচ্ছেদের সুবাদে কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দারাই শুধুমাত্র সেখানে বৈধভাবে জমি কিনতে পারতেন, সরকারি চাকরি করার সুযোগ পেতেন এবং সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।
৩৭০ অনুচ্ছেদের কারণে জম্মু ও কাশ্মীর অন্য যেকোন ভারতীয় রাজ্যের চেয়ে বেশি স্বায়ত্বশাসন ভোগ করতো , এটি বাতিলের ফলে যা হবে-
ঐ অনুচ্ছেদ বিলোপ করার বিষয়টি বিজেপি'র পুরনো রাজনৈতিক এজেন্ডাগুলোর একটি।
এই সিদ্ধান্তের ফলে সেখানে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখন জম্মু এবং কাশ্মীর 'ইউনিয়ন টেরিটরি' বা কেন্দ্রীয়ভাবে শাসিত রাজ্য হিসেবে পরিচালিত হবে।
লাদাখ কেন্দ্রশাসিত তৃতীয় একটি এলাকা হিসেবে বিবেচিত হবে।
কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি টুইট করেছেন যে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে ভারতকে ঐ রাজ্যের দখলদার বাহিনী হিসেবে প্রমাণ করেছে।
ভারত এবং পাকিস্তান দুই দেশই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীর রাজ্যের পুরো অংশের নিয়ন্ত্রণ দাবি করে, তবে উভয় দেশই সেখানকার অংশবিশেষ নিয়ন্ত্রণ করে।
কী আছে এই কাশ্মীর সঙ্কটের মূলে যা দুই দেশকে বারবার যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে?
গত তিন দশক ধরে ভারত শাসিত কাশ্মীরের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হচ্ছে।
কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি টুইট করেছেন যে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে ভারতকে ঐ রাজ্যের দখলদার বাহিনী হিসেবে প্রমাণ করেছে।
ভারত এবং পাকিস্তান দুই দেশই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীর রাজ্যের পুরো অংশের নিয়ন্ত্রণ দাবি করে, তবে উভয় দেশই সেখানকার অংশবিশেষ নিয়ন্ত্রণ করে।
গত তিন দশক ধরে ভারত শাসিত কাশ্মীরের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হচ্ছে।

কৃত্রিম হাড় তৈরি করল ইরান

কৃত্রিম হাড়
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান কৃত্রিম হাড় উৎপাদন করেছে। প্রথমবারের মতো ইরান এ ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করলো। ইরানের শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা থ্রিডি প্রিন্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এই হাড় তৈরি করেছেন।
গত ৩ আগস্ট শনিবার রাজধানী তেহরানে শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই কৃত্রিম হাড় উন্মোচন করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মোহাম্মদ অগাজানি উপস্থিত ছিলেন। এই সাফল্যের বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে একের পর এক সাফল্য পাচ্ছে।
তিনি বলেন, এরইমধ্যে পাঁচ জন রোগীর দেহে কৃত্রিম হাড় বসানো হয়েছে এবং তা সঠিকভাবে কাজ করছে। মানুষের দেহের হাড়ে কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে এই কৃত্রিম হাড় বসিয়ে দিয়ে সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে বলে মোহাম্মাদ আগাজানি জানান।
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লব সফল হওয়ার পর চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে দেশটি ব্যাপক উন্নতি লাভ করেছে।  উন্নত চিকিৎসা নিতে বিদেশিদের ইরানে আসার হারও দিন দিন বাড়ছে।

ইরান-বিরোধী মার্কিন নৌ-জোটে যোগ দেব না: আবার জানাল জার্মানি

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস
জার্মানি আবারো আমেরিকাকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে যোগ দেবে না বার্লিন। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস গতকাল (সোমবার) বার্লিনে বলেন, তার দেশ মার্কিন নেতৃত্বাধীন নৌ জোটে যোগ দেবে না।

তিনি এর পরিবর্তে ইউরোপকে একটি জোট গঠনের আহ্বান জানান। তবে সার্বিকভাবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হলে পারস্য উপসাগরের চলমান সংকট আরো জটিল আকার নেবে। 

মাস সাংবাদিকদের বলেন, “এই মুহূর্তে ব্রিটেন মার্কিন জোটে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু আমরা তা করছি না।” জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, “আমরা একটি ইউরোপীয় মিশন চাই।” ইউরোপীয় দেশগুলো এ ধরনের মিশন গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করছে জানিয়ে হেইকো মাস বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে এ ব্যাপারে রাজি করাতে সময় লাগবে।

মার্কিন সরকার গত মঙ্গলবার জার্মানিকে পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা রক্ষায় গঠিত হতে যাওয়া একটি সামরিক জোটে যোগ দেয়ার আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানায়। একই দিন বার্লিন সে আহ্বান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ গতকাল (সোমবার) তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বিশ্বে একাধিপত্য দেখানোর দিন শেষ হয়ে গেছে। বিশ্বের কোনো দেশ এখন আর আধিপত্যকামিতা মেনে নিতে রাজি নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের খুব কম দেশই এখন আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী নীতি বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে রাজি হচ্ছে।

ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে আমেরিকা গত কয়েক মাস ধরে পারস্য উপসাগরে নিজের সামরিক শক্তি জোরদার করেছে। সেইসঙ্গে ব্রিটেনের মতো মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতায় মধ্যপ্রাচ্যে উসকানিমূলক তৎপরতা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন।

পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতায় ইরান হস্তক্ষেপ করছে বলে ওয়াশিংটন ও লন্ডন যে অভিযোগ করছে তেহরান তা পত্রপাঠ প্রত্যাখ্যান করেছে।

বেসামরিক লোকজনের ওপর গুচ্ছ বোমা মারছে ভারত!

নিয়ন্ত্রণ রেখায় বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে গুচ্ছ বোমা মারছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। গত মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে নিলাম উপত্যকায় নারী-শিশুসহ নিষ্পাপ লোকজনকে নিশানা করে কামানের মাধ্যমে গুচ্ছ গোলা নিক্ষেপ করেছে তারা।

এতে চার বছর বয়সী একটি শিশুসহ দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে রুশ গণমাধ্যম স্পুটনিক ও পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডেইলি টাইমস। দুই দেশের মধ্যে উত্তর কাশ্মীরের বারামুল্লাহ জেলায় ভারী গোলা বিনিময়ের একদিন পর পাকিস্তানের তরফ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে গুচ্ছ বোমা নিক্ষেপ জেনেভা কনভেনশন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা জানায়, বেসামরিক লোকদের ওপর মারাত্মক প্রভাবের দরুন গুচ্ছ গোলার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সব আন্তর্জাতিক নীতিমালার বাইরে গিয়ে এই ভয়ানক ভারতীয় আগ্রাসনে দেশটির সেনাবাহিনীর আসল চরিত্র ও নৈতিক মানদণ্ড প্রকাশ পেয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২৮ হাজার সদস্যকে শুক্রবার জম্মু ও কাশ্মীরে পাঠানো হয়েছে। আর গত সপ্তাহে সেখানে ১০ হাজার ভারতীয় সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল।

নিয়ন্ত্রণ রেখায় অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিবাদ জানাতে গত বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল পাকিস্তান। পরবর্তী সময়ে কাশ্মীর সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান তার আকাশপথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমে বাড়ছে।

১৪ ফেব্রুয়ারিতে কাশ্মীরের স্থানীয় এক যুবকের আত্মঘাতী বোমা হামলায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ৪০ জওয়ান নিহত হন। পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ ওই হামলার দায় স্বীকার করে।

এদিকে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের সরকার লোকজনকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যারা নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর বসবাস করেন, তারা যেনো কোনো অপরিচিত ডিভাইস কিংবা গ্যাজেট কুড়িয়ে না নেয় কিংবা স্পর্শ না করে।

অক্ষত গোলা ও ছোট ছোট বোমা নিয়ে খেলতে গিয়ে এর আগে বহু শিশু হতাহতের শিকার হয়েছে।

এক বিবৃতিতে পাকিস্তানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শত্রু বাহিনী অবিরত খেলনা-আকৃতির গুচ্ছ বোমা ও মাঝারি কামানের গোলা নিক্ষেপ করছে। যদি কেউ মোবাইল ফোনসহ এরকম কোনো ডিভাইস পড়ে থাকতে দেখে, তবে সেটি যেন স্পর্শ না করে কিংবা তুলে বাড়িতে নিয়ে না যায়।
>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর,

কাশ্মীরের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে ভারত -মেহবুবা মুফতি

জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি বলেছেন, ‘কাশ্মীরের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে ভারত।’ জম্মু-কাশ্মীরের ওপর থেকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা তুলে নেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় সোমবার তিনি এ কথা বলেন।

বর্তমানে শ্রীনগরে গৃহবন্দী রয়েছেন মেহবুবা মুফতি। সেখানে বিবিসিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ভারতের সংবিধানে যাঁদের বিশ্বাস ছিল, তাঁরা ভুল প্রমাণিত হয়েছেন। ভারতের গণতন্ত্রে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।’

রাষ্ট্রপতির নির্দেশ জারির মধ্য দিয়ে নরেন্দ্র মোদির সরকার বাতিল করে দিয়েছে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা। এই ধারা অনুযায়ী জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যকে দুই টুকরো করে দেওয়ার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। ওদিকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা। এখন থেকে এর পরিচিতি হবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে।

এই সিদ্ধান্তের জের ধরে মেহবুবা মুফতিসহ কাশ্মীরের স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতাকে গৃহবন্দী করা হয়েছে। মেহবুবা মুফতি বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা যে জাতির পক্ষে ছিলাম, তারাই আমাদের হতাশ করেছে।’ ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় পাকিস্তানের পাশে না থেকে ভারতকে সমর্থন করার বিষয়টিকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলেও অভিহিত করেন জম্মু-কাশ্মীরের এই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী।

মেহবুবা মুফতি আরও বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে কাশ্মীরের যে সাংবিধানিক সম্পর্কটি আছে, তা এখন অবৈধ দখলদারিতে রূপ নেবে। সুতরাং এখন আমাদের ওই প্রেক্ষাপটেই লড়াই করে যেতে হবে।’

এর আগে এক টুইট বার্তায় মেহবুবা মুফতি দাবি করেন, ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অসাংবিধানিক সিদ্ধান্ত। ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সমগ্র উপমহাদেশে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

বর্তমানে জম্মু-কাশ্মীরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত দুই সপ্তাহে এই উপত্যকা অঞ্চলে হাজার হাজার ভারতীয় সেনা প্রবেশ করেছেন। বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা। জায়গায় জায়গায় জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা ও কারফিউ।

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল: আলাদা পতাকা ও সংবিধান থাকবে না, বিরোধীদের ভাষায় ভারতের ইতিহাসে কালো দিন by পরিতোষ পাল

সংবিধানে কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দানকারী ৩৭০ ধারা বাতিল করেছে ভারত সরকার। গত কয়েকদিন ধরে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে উত্তেজনার পারদ যেভাবে চড়ছিল তা থেকে অনুমান করা গিয়েছিল বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে মোদি সরকার। দু’দিন ধরে বেশ কয়েক দফা উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের শেষে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। এর পরই সংসদে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেন- জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা তুলে নিয়েছে ভারত সরকার। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তি তিনি  পড়ে শোনান। এ ঘোষণার ফলে জম্মু-কাশ্মীর প্রায় ৭০ বছর ধরে যে বিশেষ স্ব-শাসিত মর্যাদা পেয়ে আসছিল তার অবসান ঘটতে চলেছে।
একইসঙ্গে নতুন ঘোষণায় ভেঙে আলাদা করে দেয়া হয়েছে লাদাখকে। এখন থেকে আলাদা দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হচ্ছে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ।
দু’টি জায়গাতেই দু’জন লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিয়োগ করা হবে। তবে জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভা বহাল থাকবে। লাদাখের ক্ষেত্রে কোনো বিধানসভা থাকবে না। কার্যত এদিন থেকে নতুন করে কাশ্মীরের ইতিহাস লেখা শুরু করেছে মোদি সরকার।
কি এই ৩৭০ ধারা?
এই ধারায় জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ স্ব-শাসিত মর্যাদা দেয়ার উল্লেখ ছিল। ধারা অনুযায়ী- প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, যোগাযোগসহ কিছু বিষয় ছাড়া যেকোনো আইন জম্মু-কাশ্মীরে প্রয়োগ করতে সংসদকে জম্মু-কাশ্মীর সরকারের সম্মতি নিতে হতো। নাগরিকত্ব, সম্পত্তির মালিকানা ও নাগরিক অধিকার সম্পর্কীয় বিষয়ে রাজ্যের বাসিন্দারা পৃথক আইনের আওতায় ছিলেন। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের বাসিন্দারা সেই আইনের আওতায় ছিলেন না। এই ধারা অনুযায়ী, জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতীয় সংবিধান পুরোপুরি মানতে হতো না। জম্মু-কাশ্মীরের নিজস্ব পৃথক সংবিধান ছিল। আইনের এই ধারায় বলা ছিল, কাশ্মীরের মানুষই কাশ্মীরে জমি কিনতে পারবেন। ভারতের অন্য রাজ্যের মানুষ জম্মু-কাশ্মীরে কোনো সম্পত্তি কিনতে পারবে না। কেন্দ্রীয় সরকার কোনো রকম আর্থিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবে না। একমাত্র যুদ্ধ হলে ও শত্রুরাষ্ট্র আগ্রাসী পদক্ষেপ নিলেই কেন্দ্র জরুরি অবস্থা জারি করার অধিকারী ছিল।
৩৭০ ধারা বাতিলের ফলে জম্মু-কাশ্মীরের আলাদা কোনো পতাকা থাকবে না। সেখানে এখন থেকে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মতো নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হবে। সোমবার থেকে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল হয়ে গেল। ফলে দেশের ভেতরে অন্য অংশে যেসব আইন প্রয়োগ হয় তা প্রযোজ্য হবে জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখে। অন্য রাজ্য থেকে যাওয়া ভারতীয় নাগরিকরা ওই অঞ্চলে সরকারি চাকরি পেতে পারবেন। জম্মু, কাশ্মীর বা লাদাখের বাইরে কারো সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে একজন নারীর অধিকার প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। জম্মু, কাশ্মীর ও লাদাখে প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র বিষয়ক, অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ বিষয়ক যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ওই অঞ্চলে অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবে কেন্দ্রীয় সরকার।
অনির্দিষ্ট কারফিউয়ের খবরে কাশ্মীরে আতঙ্ক
থমথমে জম্মু-কাশ্মীর। সোমবার থেকে সেখানে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ জারি হতে পারে এমন রিপোর্টে চারদিকে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় অধিবাসীরা ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহের জন্য দু’চারজনকে দেখা গেছে বাইরে। উপত্যকার স্পর্শকাতর এলাকা ও শ্রীনগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন সিভিল সেক্রেটারিয়েট, পুলিশ সদর দপ্তর, বিমান বন্দর ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য। রোববার সারাদিন শ্রীনগরের জওয়াহার নগর, রাজবাগ, লাল চক ও করণ নগর এলাকায় বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ ছিল। কয়েকদিন পরেই ঈদুল আজহা হলেও মানুষের মধ্যে আনন্দ নেই। তাদেরকে ঘরে বন্দি অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে। পেট্রোল পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন। বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্পে এরই মধ্যে জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে। সামনে কি ভয়াবহতা অপেক্ষা করছে তা নিয়ে সবার মধ্যে উদ্বেগ, আতঙ্ক। অনেক স্থানে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মোবাইল, ইন্টারনেট ও ল্যান্ডফোনের সংযোগ। ফলে আতঙ্ক আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
এরই মধ্যে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী কাশ্মীর উপত্যকায় উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। প্রচলিত টেলিকম নেটওয়ার্ককে পাশ কাটিয়ে যোগাযোগের জন্য পুলিশ স্টেশনগুলোকে রোববার সরবরাহ করা হয়েছে স্যাটেলাইট ফোন। বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হচ্ছে, অমরনাথ যাত্রার সময় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিরা সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পারে বলে এমন সতর্কতা অবলম্বন করেছে ভারত সরকার। কিন্তু অন্য রিপোর্টে বলা হয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের জনগণের বিশেষ মর্যাদার পরিবর্তন করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকার আগেভাগে সেখানে উপযুক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।
কয়েকদিনে জম্মু-কাশ্মীরে আধাসামরিক বাহিনীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ানো হয়েছে। সেখানে মোতায়েন ৩৫ হাজার আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানের সঙ্গে যোগ দিয়েছে আরো ২৫ হাজার জওয়ান। রাজ্যে জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় এসব করা হচ্ছিল বলে প্রথমে মনে হয়েছিল। কিন্তু এরপর একের পর এক ঘোষণা করা হয়েছে নানা সিদ্ধান্ত। জম্মু-কাশ্মীর থেকে সব পর্যটকদের চলে যেতে বলা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে অমরনাথ তীর্থ যাত্রাও। গত শনিবার থেকে সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গোটা রাজ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। মানুষের মধ্যে এক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
সাবেক ২ মুখ্যমন্ত্রী গৃহবন্দি
কাশ্মীরে নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতার মধ্যে গৃহবন্দি করা হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহকে। রোববার আরো গৃহবন্দি করা হয়েছে সাজাদ লোন’কে। এ তিনজনই জম্মু ও কাশ্মীরে সবচেয়ে সুপরিচিত রাজনীতিক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রোববার দিনের শুরুতে মেহবুবা মুফতি, ওমর আবদুল্লাহ ও রাজ্যের সব রাজনৈতিক দলের নেতারা একটি বৈঠক করে প্রস্তাব গ্রহণ করেন। যদি জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষের বিশেষ মর্যাদার পরিবর্তন করা হয় তাহলে এর বিরুদ্ধে সরকারের বিরুদ্ধে করুণ পরিণতির হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছিল এতে।
গৃহবন্দি অবস্থা থেকেই টুইট করেছেন ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি। তারা টুইটার ব্যবহার করে কাশ্মীরের মানুষকে শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদেরকে গৃহবন্দি করার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার দিবাগত রাতে ওমর আবদুল্লাহ টুইট করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, আমরা জানি না আমাদের ভাগ্যে কি আছে। আমার মনে হচ্ছে আমাকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। ওমর আবদুল্লাহ কাশ্মীরের রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা। তিনি জনগণকে যেকোনো পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, তারা যেন কোনো অবস্থায়ই সহিংসতায় লিপ্ত না হন। তিনি টুইটে আরো বলেছেন, যারা রাজ্যের উত্তম স্বার্থ চায় না তারাই সহিংসতার আশ্রয় নেয়। ভারত বা জম্মু-কাশ্মীর এমনটা চায় না। মাথা ঠাণ্ডা রাখুন। আল্লাহ আপনাদের সঙ্গে থাকবেন।
এমন অবস্থায় কারগিল, লাদাখ এবং জম্মুতে যারা বসবাস করছেন তাদের উদ্দেশ্যে ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, যদিও তিনি জানেন না রাজ্যের ভাগ্যে কি ঘটতে চলেছে, তবে তিনি আশঙ্কা করতে পারছেন, ভালো কিছু দেখা যাচ্ছে না। তার ভাষায়, যখনই কাশ্মীর ইস্যুতে আমি দৃষ্টি দিই তখনই আমাকে আরো কিছু শব্দ যোগ করতে হয়। সেটা হলো কারগিল, লাদাখ ও জম্মু। যা ঘটছে তাতে আপনারা অনেকেই হতাশ হবেন এটা আমি জানি। তবু আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। শান্ত থাকুন।
অন্যদিকে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের গৃহবন্দি রাখার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রধান মেহবুবা মুফতি। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের জনগণ ও তাদের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছে। তিনি ভারতকে জেগে উঠার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কতটা নিষ্ঠুর বিষয় এটা যে, আমাদের মতো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, যারা শান্তির জন্য লড়াই করে, তাদেরকে গৃহবন্দি রাখা হয়েছে। কাশ্মীরের জনগণ ও তাদের কণ্ঠকে কিভাবে স্তব্ধ করে রাখা হচ্ছে তা বিশ্ব দেখছে। তিনি সব কাশ্মীরিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমাদের অধিকার অর্জনের ক্ষেত্রে কোনো কিছুই আমাদেরকে বিচ্যুত করতে পারবে না।
বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারে কাশ্মীর নিয়ে এই প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছিল। ইস্তেহারে জানানো হয়েছিল, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের সম্মানের সঙ্গে ফেরাতে ও নিরাপত্তা দেয়া বিজেপির অন্যতম এজেন্ডা। জম্মু-কাশ্মীর থেকে বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়া নিয়ে অমিত শাহ বলেন, ৩৭০ ধারা কাশ্মীরকে দেশের সঙ্গে এক হতে দেয়নি। তবে বিরোধীদের একাংশ মোদি সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে সংসদের দুটি সভাতেই। কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ বলেছেন, বিজেপি দেশের সংবিধানকে হত্যা করেছে। তবে অনেক বিরোধী নেতা কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল মোদি সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।