Monday, July 22, 2013

বেলজিয়ামে নতুন রাজা ফিলিপের শপথ গ্রহণ

রাজা ফিলিপ
পশ্চিম ইউরোপের ক্ষুদ্র দেশ কিন্তু ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ বেলজিয়াম তার ইতিহাসের আরেকটি পাতা উল্টাল গতকাল রোববার। দেশের চলমান বিভেদের অবসান ঘটানোর শপথের মধ্য দিয়ে অভিষেক হয়েছে সপ্তম রাজা ফিলিপের। তাঁর বাবা দ্বিতীয় অ্যালবার্ট ২০ বছর সিংহাসনে থাকার পর স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন। শপথ অনুষ্ঠানে রাজা ফিলিপের পরনে ছিল পূর্ণ সামরিক পোশাক। পার্লামেন্টে তিনি দেশের তিনটি সরকারি ভাষায় (ফরাসি, ফ্লেমিশ ও জার্মান) শপথবাক্য পাঠ করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিদেশি অতিথিরাও ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ফিলিপের পাশে ছিলেন তাঁর স্ত্রী মাথিল্ড। বিদায়ী রাজা দ্বিতীয় অ্যালবার্ট ও তাঁর স্ত্রী পওলা এবং তাঁদের পরিবারের অন্য সদস্যরাও নতুন রাজার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বেলজিয়ামের ফ্লেমিশ ও ফরাসিভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বড় বিভেদ রয়েছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় লাজুক এবং কখনো কখনো অপ্রতিভ হিসেবে পরিচিত নতুন রাজা কতটা রাজনৈতিক দক্ষতার পরিচয় দিতে পারবেন, তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে। নতুন রাজার তুলনায় তাঁর ৪০ বছর বয়সী স্ত্রী মাথিল্ড বহির্মুখী স্বভাবের। মনে করা হচ্ছে দেশের এক কোটি ১৫ লাখ নাগরিকের মন জয় করতে রাজার বড় ভরসা হবেন তিনিই। এএফপি।

জাপানে উচ্চকক্ষেও জয় পেতে যাচ্ছে আবের জোট

শিনজো আবে
জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের গতকাল রোববারের নির্বাচনে জিততে যাচ্ছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট। বুথফেরত ভোটারদের ওপর জরিপের ফলে এ আভাসই পাওয়া গেছে। জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের মোট আসনসংখ্যা ২৪২। এর মধ্যে গতকাল ১২১টি আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি প্রচারমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এনএইচকে বলছে, প্রধানমন্ত্রী আবের দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও তার শরিক নিউ কোমেইতো ১২১ আসনের মধ্যে ৭১ আসন পেতে পারে। বুথফেরত জরিপে দেখা যায়, উচ্চকক্ষের ২৪২ আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১৩০টিতে। জরিপের ফল ঠিক থাকলে ছয় বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো আবে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেতে যাচ্ছেন। বিবিসি।

বিহারে স্কুলের দেয়ালে সাঁটা হবে নিরাপত্তার নির্দেশনা

ভারতের বিহারের সব স্কুলে খাদ্যের গুণমান ও নিরাপত্তার বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা প্রচারের পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। এসব নির্দেশনা স্কুলের দেয়ালেও সেঁটে দেওয়া হবে। সম্প্রতি দারিদ্র্যপীড়িত রাজ্যটির একটি স্কুলে বিনা মূল্যে দেওয়া দুপুরের খাবার খেয়ে ২৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে সরকার এই পদক্ষেপ নিল। এদিকে যে খাবার খেয়ে ওই ২৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয় তাতে কীটনাশক মেশানো ছিল বলে গতকাল রোববার নিশ্চিত করেছেন একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। বিহারের সারণ জেলার ছাপড়া এলাকার ধর্মসতী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই শিশুরা গত মঙ্গলবার দুপুরে ভাত ও আলুর তরকারি খাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তারা মারা যায়। মর্মান্তিক ওই ঘটনার পর সেখানে ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হয়। এর প্রেক্ষাপটে টিফিনের কর্মসূচি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে বিহার রাজ্য সরকার। কর্মসূচির পরিচালক আর লাখমানান বলেন, ‘স্কুলগুলোতে মিডডে মিল কর্মসূচির আওতায় যে খাবার পরিবেশন করা হয়, তার গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা বিস্তারিত নির্দেশনা প্রস্তুত করছি।’ খাদ্য বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় তৈরি করা এই নিদের্শনায় যেসব বিষয় থাকছে, তার মধ্যে রয়েছে ধর্মসতী স্কুলের মতো ঘটনা ঘটলে প্রাথমিকভাবে কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে সে কথা। লোকজন যাতে সহজেই দেখতে পারে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে, সে জন্য স্কুলগুলোর দেয়ালেও তা সেঁটে দেওয়া হবে। গত শনিবার ফরেনসিক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে, ধর্মসতী স্কুলের শিশুদের দেওয়া খাবারে কীটনাশক ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাবার তৈরিতে ব্যবহূত তেলে যে কীটনাশক পাওয়া গেছে, তার মাত্রা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহূত কীটনাশকের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি ছিল। ওই ঘটনার পুলিশি তদন্ত তত্ত্বাবধানকারী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিত সিনহা গতকাল বলেন, ‘এটা ছিল অতিমাত্রায় বিষাক্ত। বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে হলে এটার সঙ্গে তরল পদার্থ মিশিয়ে হালকা করে নিতে হয়। এই মাত্রার কীটনাশক সচরাচর কিনতে পাওয়া যায় না।’ পুলিশ সন্দেহ করছে, খাবারে ব্যবহূত তেল কীটনাশকের পুরোনো কনটেইনারে রাখা হয়েছিল। ছত্তিশগড়ে ৩১ শিশু হাসপাতালে: বিহারের ওই ঘটনার রেশ না কাটতেই ছত্তিশগড় রাজ্যের একটি স্কুলে শনিবার দুপুরের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে ৩১ শিশু। তবে হাসপাতালে ভর্তি করার পর তারা সুস্থ হয়ে ওঠে। বর্তমানে তারা শঙ্কামুক্ত। রাজ্য সরকার ঘটনার তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। স্কুলটির প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। পিটিআই, আইএনএস ও রয়টার্স।

সংবিধানের দুটি অনুচ্ছেদ ফের কার্যকর হচ্ছে

পাকিস্তানের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৬২ ও ৬৩ নম্বর অনুচ্ছেদ কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসিপি)। অনুচ্ছেদ দুটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত উল্লেখ করা আছে। গত শনিবার ইসিপি বলেছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থীদের এ মর্মে প্রত্যয়ন দিতে হবে যে তাঁরা ৬২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রার্থিতার যোগ্য এবং ৬৩ অনুচ্ছেদে বর্ণিত শর্ত বা অন্য কোনো আইন অনুযায়ী তাঁরা অযোগ্য নন। সাবেক সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফ ২০০৭ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার এক মাসেরও কম সময় আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে ওই অনুচ্ছেদ দুটি অকার্যকর করা হয়। ২০০৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এক মাসেরও কম সময় আগে অনুচ্ছেদ দুটি অকার্যকর করা হয়। তখন এর পক্ষে ইসিপি ২০০২ ও ২০০৫ সালের সুপ্রিম কোর্টের দুটি রায়ের উদাহরণ তুলে ধরে। তবে অনেকেই মনে করেন, মূলত মোশাররফকে জয়ী করতেই তা করা হয়। জামায়াত-ই-ইসলামির এক নেতার আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি শেখ রিয়াজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ দেন যে ৬৩ নম্বর অনুচ্ছেদে অযোগ্যতা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। ডন।

স্বাগত জানালেন নেতানিয়াহু কট্টর অবস্থানে দুই মন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত শনিবার তিনি বলেন, ইসরায়েলের কৌশলগত স্বার্থেই শান্তি আলোচনা প্রয়োজন। তবে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী দুই মন্ত্রী শক্ত অবস্থান নিয়ে গতকাল রোববার বলেন, শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার বিষয়ে অগ্রগতি হলেও অধিকৃত ভূখণ্ডে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ প্রক্রিয়ার গতি কমানো হবে না। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ঝটিকা সফরের পর গত শুক্রবার জর্ডানের রাজধানী আম্মানে ঘোষণা দেন, এক সপ্তাহ বা তার কাছাকাছি কোনো সময়ে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন আবার সরাসরি আলোচনায় বসছে। এর পরদিন এ ব্যাপারে সরাসরি কথা বললেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ‘শুধু ফিলিস্তিনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব মেটানোই নয়, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি ও সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আনতেও এ আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ।’ নেতানিয়াহু বলেন, জর্ডান নদী ও ভূমধ্যসাগরের মাঝখানে একটি দ্বিজাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা প্রতিরোধের বিষয়টি তাঁর মাথায় আছে। কারণ তা ভবিষ্যতে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের জন্য ‘বিপজ্জনক’ হবে। ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে সর্বশেষ সরাসরি আলোচনা হয় ২০১০ সালে। ইসরায়েল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের অধিকৃত ভূখণ্ডে ইহুদি বসতি গড়া শুরু করলে ওই আলোচনা ভেঙে যায়। ইসরায়েলের দুজন কট্টরপন্থী মন্ত্রী বলেন, শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার অগ্রগতি হলেও ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের গতি কমবে না। পরিবহনমন্ত্রী ও নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির নেতা ইসরায়েল কাৎজ বলেন, ‘আমরা অবশ্যই বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করব না। লোকজনের বাসস্থান তৈরি বন্ধ করলে তা হবে অনৈতিক ও অমানবিক কাজ।’ তিনি বলেন, ‘আমি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধের পুরো বিপক্ষে।’ ইসরায়েলের আবাসন মন্ত্রী ও কট্টরপন্থী দল জিউয়িশ হোম পার্টির নেতা ইউরি অ্যারিয়েল বলেন, তিনি বসতি সম্প্রসারণের গতি কমানোর কথা বিবেচনা করছেন না। তিনি বলেন, ‘যত বেশি সম্ভব বসতি গড়ার পক্ষেই আমার অবস্থান।’ ইসরায়েলের গোয়েন্দা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কৌশলবিষয়ক মন্ত্রী ইউভাল তেইনিৎজ গত শনিবার জানান, সরাসরি আলোচনা শুরুর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কিছু ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। তবে কতজনকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে সেই সংখ্যা উল্লেখ করেননি তিনি। এএফপি, রয়টার্স ও আল-জাজিরা।

মিসরে সংবিধান সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে

মিসরের অন্তর্বর্তী সরকার নতুন করে সংবিধান সংশোধনের কাজ শুরু করেছে। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আদলি মানসুরের গঠিত ১০ সদস্যের কমিটি গতকাল রোববার এ কাজ শুরু করেছে এবং ৩০ দিনের মধ্যে সুপারিশমালা তৈরি করবে। এই সংবিধান সংশোধনী নতুন পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করবে। মিসরের আগের সংবিধানটি প্রণয়ন করেছিল ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সরকার। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে অনুমোদিত ওই সংবিধান নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে। মুরসিবিরোধীদের অভিযোগ, ওই সংবিধানে অতিরিক্ত মাত্রায় ইসলামিকরণ হয়েছে। এতে দেশের মানুষের বাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা হয়নি। ৩ জুলাই সেনাবাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পাশাপাশি ওই সংবিধান স্থগিত করে। আদলি মানসুর গত শনিবার এক ডিক্রি জারির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিটি গঠন করেন। কমিটির সদস্যদের মধ্যে চারজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ছয়জন বিচারক। এই কমিটির সুপারিশমালা পাঠানো হবে ৫০ সদস্যের আরেকটি কমিটির কাছে। সেই কমিটিতে থাকবেন দেশের ধর্মীয় নেতা, রাজনীতিক, শ্রমিক সংগঠনের সদস্য এবং সেনা কর্মকর্তারা। দ্বিতীয় এই কমিটির প্রতি পাঁচজনের একজন হবেন রাজপথের বিপ্লবে অংশ নেওয়া তরুণ এবং নারী। এই কমিটি প্রথম কমিটির সুপারিশমালা পর্যালোচনা করে দেখতে ৬০ দিন সময় পাবে। এরপর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট মানসুরকে ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংশোধনীর ওপরে গণভোট আহ্বান করতে হবে। এরপর হবে পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ক্ষমতাচ্যুত মুরসির সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড সংবিধান সংশোধনের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রতিবাদে তাঁর সমর্থকেরা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। সংলাপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান: অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হাজেম আল-বেবলাউয়ি তাঁর প্রথম টেলিভিশন ভাষণে শনিবার বলেন, ‘দেশ যেখানে বিভক্ত, সেখানে আমরা নতুন সংবিধান লিখতে পারি না। আমাদের সবাইকে আবার ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ বিভেদ ভুলে দেশের সবাই একটি জাতীয় সংলাপে অংশ নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে মুসলিম ব্রাদারহুড বেবলাউয়ির এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। সংলাপের বিষয়ে বেবলাউয়ির বক্তব্যের জবাবে ব্রাদারহুডের মুখপাত্র গেহাদ আল-হাদ্দাদ বলেন, ‘অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের দিকে যেখানে বন্দুকের নল তাক করে রাখা হচ্ছে, সেখানে কোনো সংলাপ হতে পারে না।’ এএফপি ও রয়টার্স।

বিতর্কিত রায়ের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ

ট্রেভন মার্টিন হত্যা মামলার বিতর্কিত রায়ের প্রতিবাদে গত শনিবার
শিকাগোর বিন ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ ষ ছবি: এএফপি
কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ ট্রেভন মার্টিন (১৭) হত্যা মামলার বিতর্কিত রায়ের প্রতিবাদে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১০০টি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। মামলাটিতে বর্ণবাদ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে বিক্ষোভকারীরা মায়ামি, শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস ইত্যাদি বড় শহরে কেন্দ্রীয় বিচার বিভাগীয় দপ্তরের সামনে অবস্থান নেন। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের স্যানফোর্ডে নাগরিক নিরাপত্তা সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী জর্জ জিমারম্যান ২০১২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নিরস্ত্র মার্টিনকে গুলি করে হত্যা করেন। জিমারম্যানের দাবি, তিনি আত্মরক্ষার্থে গুলি করেছিলেন। আদালতের গঠিত ছয় সদস্যের জুরি বোর্ড গত সপ্তাহে তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করে। এই রায়ের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। নিউইয়র্ক শহরে প্রায় দুই হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। তাদের পরনে ছিল মার্টিনের ছবিসংবলিত টি-শার্ট। নিহত মার্টিনের মা সাইব্রিনা ফুলটনের উপস্থিতি ও নেত্বত্বে ওই বিক্ষোভ একপর্যায়ে আবেগঘন রূপ নেয়। সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। বর্ষীয়ান নাগরিক অধিকারকর্মী রেভারেন্ড অ্যাল শার্পটন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। নিহত ট্রেভনের বাবা ট্রেসি মার্টিন সমাবেশে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আমার ছেলের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই সমাজে পরিবর্তন আসবে। যে আইন কাউকে কেবল সন্দেহের বশেই হত্যা করার সুযোগ করে দেয়, তা বাতিল করতে হবে।’ নিজের গুরুতর বিপদের ঝুঁকি থাকলে কাউকে হত্যা করা যাবে—এ মর্মে একটি আইনের কারণেই বেকসুর খালাস পেয়েছেন জিমারম্যান। জুরি সদস্যসহ অনেকে বলেছেন, অপব্যবহার রোধে এ আইন বাতিল বা সংস্কার করা প্রয়োজন। নিউইয়র্কের সমাবেশে আরও যোগ দেন মার্কিন সংগীত তারকা দম্পতি জে জি ও বিয়ন্স। তাঁদের উপস্থিতিতে বিক্ষোভকারীরা অনুপ্রাণিত হন। মায়ামির বিক্ষোভে অংশ নেন ৩০০ থেকে ৫০০ মানুষ। তবে সেখানে কৃষ্ণাঙ্গরা ছাড়া অন্যদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। পশ্চিম উপকূলে সিয়াটল, পোর্টল্যান্ড, সানফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ওকল্যান্ডে শত শত মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেয়। বিতর্কিত রায়ের পর লস অ্যাঞ্জেলেস ও ওকল্যান্ডে সহিংসতা হলেও শনিবারের পরিস্থিতি ছিল শান্তিপূর্ণ। শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে স্প্যানিশভাষী লাতিনোসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ যোগ দেয়। তবে সেখানে আফ্রিকান আমেরিকানদের প্রাধান্য স্পষ্ট ছিল। সমালোচকেরা বলছেন, কিশোর মার্টিনকে নিয়ে ভুল সন্দেহ করেছিলেন শ্বেতাঙ্গ ও হিস্পানিক বংশোদ্ভূত জিমারম্যান। তিনি মূলত মার্টিনের গায়ের কালো রঙের কারণেই তাঁকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মার্টিন হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে গত শুক্রবার গভীর হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বহু কৃষ্ণাঙ্গকে বর্ণবাদী আচরণের মুখোমুখি পড়তে হয়। তিনি নিজেও এমন পরিস্থিতির শিকার হতে পারতেন। আদালত যথাযথভাবে কাজ করেছে উল্লেখ করেও ওবামা আত্মরক্ষাসংক্রান্ত আইনটি পর্যালোচনার আহ্বান জানান। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি অঙ্গরাজ্যে প্রচলিত। এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসি।

ভুল বুঝবেন না by আইডিয়া: রবিউল ইসলাম

সত্যজিৎ রায় পড়ছেন।
এর মানে এই নয় যে, সত্যজিৎ আদালতের ‘রায়’ পড়ছেন! তিনি এখানে নাটক-সিনেমার স্ক্রিপ্ট কিংবা নিজের টেক্সটবুকও পড়তে পারেন!

গুণীজন কহেন

ডাক্তাররা আমার মাথার এক্স-রে করেছেন এবং কিছুই পাননি।
ডিজি ডিন, মার্কিন বেসবল খেলোয়াড়

আমার বোনের বাচ্চা হবে। আমি জানি না, আমি মামা হচ্ছি, নাকি খালা।

গোলাম আযমের বিশ্ব রেকর্ড

পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত মানুষ হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখালেন গোলাম আযম। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘বেশ ভালো লাগছে। নতুন করে দলটাকে গোছাতে হবে। এখন আমি নিষ্কলঙ্ক।

স্বাস্থ্য বিশেষ ব্যায়ামেই দীর্ঘায়ু



৯০ বছর আগে ২০১৩ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কারাবরণ করেন গোলাম আযম। সে সময় তাঁর বয়স ছিল ৯১ বছর। বর্তমানে তাঁর বয়স ১৮১ বছর হলেও এখনো রয়ে গেছেন ঠিক যেন আগের মতোই।

দৈনিক মুক্তির বার্তা৯০ বছরের সাজা শেষ মুক্তি পেলেন গোলাম আযম

৯০ বছরের সাজা শেষে গতকাল মুক্তি পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযম। ২০১৩ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর দেওয়া রায়ে এই দীর্ঘ কারা ভোগ করেন তিনি।

স্থায়ীভাবে আলাদা পুলিশ ফোর্স চান ডিসিরা by আশরাফুল হক রাজীব

আইনশৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ ও দুর্নীতির ইস্যুগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে। নির্বাচনকালীন জেলা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালনকারী ডিসিদের জন্য এই সম্মেলনে আসতে পারে বিশেষ নির্দেশনাও।

অধিকাংশ সংস্কারপন্থীই বিএনপিতে সক্রিয় by মোশাররফ বাবলু

বিএনপির সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ছাড়া অন্য সবাই মিশে গেছেন দলের সঙ্গে। অন্যদেরও দলে ভেড়ানোর কথা ভাবছে বিএনপি। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে অবশিষ্ট 'সংস্কারপন্থীদের' সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন নেতা।

বাগদাদে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে নিহত ৩০

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে কয়েক দফা গাড়িবোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৩০ জন মারা গেছে। আহত হয়েছে ১৯০ জন। গত শনিবার ইফতারের পরপরই ১২টি গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। কেউ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা!

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান থেকে বিশ্বের বৃহত্তম প্রবালদ্বীপ গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে চারটি বোমা ফেলা হয়েছে। তবে বিস্ফোরক না থাকায় বোমাগুলো বিস্ফোরিত হয়নি বলে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেন।

শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমার তাৎপর্য by সুকোমল বড়ুয়া

আজ শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা। এক পুণ্যময় তিথি। বৌদ্ধজীবন নানা কারণে অর্থবহ এবং গুরুত্বপূর্ণ। এ তিথিতে গৌতমবুদ্ধ সিদ্ধার্থরূপে মাতৃগর্ভে প্রতিসন্ধি গ্রহণ করেন। জন্ম, জরা, ব্যাধি, মৃত্যু ও সন্ন্যাসী- এ চার দৃশ্য দেখে রাজকুমার সিদ্ধার্থ এ তিথিতে গৃহত্যাগ করেন। ছয় বছর কঠোর তপস্যার পর বুদ্ধত্ব লাভ করে তিনি এ পূর্ণিমা তিথিতে সারনাথের ঋষিপতন মৃগদাবে তার নবধর্ম ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র দেশনা করেন। পরে একই পূর্ণিমা তিথিতে তিনি মাতৃদেবীকে সদ্ধর্ম দেশনার জন্য তাবতিংস স্বর্গে গমন করেন। এ পূর্ণিমাতেই বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘ ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত অধিষ্ঠান গ্রহণ করেন। আষাঢ়ী পূর্ণিমা, বর্ষাবাস ও উপোসথ এ তিনটি বিষয় একটির সঙ্গে অন্যটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বৌদ্ধদের ধর্মীয় উৎসবগুলোর মধ্যে বর্ষাবাস হল অন্যতম। ভিক্ষুগণ বর্ষায় আবাস গ্রহণ করেন বলেই এর নাম বর্ষাবাস। এটি বৌদ্ধ জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বৌদ্ধমতে ঋতু তিনটি। যথা- গ্রীষ্ম, বর্ষা, হেমন্ত। চৈত্র, বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাস গ্রীষ্ম ঋতু; শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন ও কার্তিক মাস বর্ষা ঋতু এবং অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ ও ফাল্গ–ন মাস হেমন্ত ঋতু। ঋতুগুলোর মধ্যে বর্ষায় বৃষ্টিপাত হয়। বৃষ্টির জলে নালা-ডোবা জলে ভরে যায়। পথ-ঘাট কর্দমাক্ত হয়ে যায়। পোকা-মাকড়, কীট-পতঙ্গ, মশা ও সরীসৃপের উপদ্রব অনেক বেড়ে যায়। তখন এদিক-ওদিক ঘুরতে গেলে কাপড় ভিজে যায়। এতে সিক্ত বসন পরতে ও শুকাতে কষ্ট হয়। তাই আকাশের নিচে যেখানে-সেখানে ভিক্ষুদের বাস না করে বুদ্ধ বর্ষাবাস গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্ষাবাস গ্রহণ করা হয় আষাঢ়ী পূর্ণিমাতে এবং এটা শেষ হয় আশ্বিনী পূর্ণিমাতে। সুতরাং আষাঢ়ী পূর্ণিমাই বর্ষাবাস গ্রহণের পুণ্যতিথি। এ তিথিতে গৃহীরাও তিন মাসের জন্য উপোস ব্রত গ্রহণ করেন। বৌদ্ধ পারমার্থিক জীবন গঠনের জন্য তারা শুরু করেন তিন মাসব্যাপী বিদ্যা, ধ্যান ও প্রজ্ঞানুশীলন ভাবনা।
বৌদ্ধ বিনয় মতে যে ভিক্ষু বর্ষাবাস যাপন করেন তিনি কঠিন চীবর লাভের উপযুক্ততা লাভ করেন। এছাড়া কঠিন চীবর গ্রহণের কোনোরূপ বৈধতা থাকে না। ভিক্ষুদের জ্যেষ্ঠতা নির্ণয়ের জন্যও বর্ষাবাস গণনা করা হয়। জš§গত বয়স গণনা করে ভিক্ষুদের বয়স নির্ধারণ করা হয় না। বর্ষাবাস প্রবর্তিত হওয়ার পর থেকে ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য নানা স্থানে গড়ে ওঠে সংঘারাম, বিহার ও আবাসস্থল। এগুলো বিদ্যাচর্চা, ধ্যানচর্চা ও ধর্ম-বিনয় শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। আজকের আধুনিক শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর উৎসস্থল হল প্রাচীন বৌদ্ধবিহার, মঠ, মন্দির ও সংঘারাম থেকে। প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থা ছিল ওই আশ্রমগুলোতে। পরে গুরুগৃহে গিয়ে শাস্ত্র শিক্ষা করা হতো। এ জন্যই প্রাচীন বিদ্যা শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তি প্রদর্শনের দৃষ্টান্ত দেখা যায়।
বর্ষাবাস আড়ম্বরপূর্ণ উৎসবের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। ওইদিন পূর্বাহ্নে বুদ্ধপূজা ও ভিক্ষুদের জন্য নানা আহার্য ও দানীয় সামগ্রী নিয়ে সকালে বিহারে মিলিত হয় বৌদ্ধ নর-নারী, যুবক-যুবতী ও বালক-বালিকারা। ভিক্ষুর কাছ থেকে তারা পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ করে। যথাসাধ্য দানীয় সামগ্রী ও অর্থ দান করে। অপরাহেœ বিহারে কিংবা গৃহে প্রত্যাবর্তন করে মৈত্রী ভাবনা, অনিত্য ভাবনা, সমথ ভাবনা অথবা বিদর্শন ভাবনায় মনোনিবেশ করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধর্মীয় ভাবগত পুঁথি পাঠও করা হয়ে থাকে। সেদিন বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় আলোচনার ব্যবস্থা করা হয়। ভিক্ষুগণ বুদ্ধের সামনে কিংবা সীমায় গিয়ে বর্ষাবাস গ্রহণের মন্ত্র উচ্চারণ করেন। এ সময়ে বৌদ্ধ গৃহী ও ভিক্ষুরা আত্মসংযমে তৎপর থাকেন।
বর্ষাব্রত একটি পবিত্র এবং অনুকরণীয় অধিষ্ঠান। কোনো মারাÍক পরিস্থিতির উদ্ভব না হলে কোনো ভিক্ষু বর্ষাবাসব্রত ভঙ্গ করতে পারেন না। সংঘ এবং সামাজিক প্রয়োজন ব্যতীত বর্ষাব্রত ভঙ্গ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বৌদ্ধ বিনয় শাস্ত্রে উল্লেখ আছে সাতটি জরুরি কারণে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বর্ষাবাসে নিজ বিহার থেকে বাইরে গিয়ে অবস্থান করতে পারবেন। যেমন- ভিক্ষু-শ্রামণ অসুস্থ হলে, শাসনের ক্ষতি হলে, সংঘকর্মে, বাসস্থানে বন্যজন্তু কিংবা ডাকাতদের উপদ্রব হলে, বাসস্থান ভেঙে গেলে, পুড়ে গেলে, বিহারের দায়ক-দায়িকার মধ্যে ঝগড়া-বিবাদের সৃষ্টি হলে।
বর্ষাব্রত গ্রহণের উপযুক্ত স্থান হল যে স্থানে ধ্যান-সমাধি করা যায়। ধর্ম-বিনয় শিক্ষা, বিদ্যাচর্চা এবং ধ্যানের কোনো অন্তরায় হয় না এমন স্থানেই বর্ষাব্রত গ্রহণের উপযুক্ত স্থান। বুদ্ধ ভিক্ষু সংঘকে আত্মমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে কোনো স্থানে বর্ষাব্রত গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। অতীতে বুদ্ধের সময়ে যেসব স্থানে বর্ষাব্রতের জন্য উপযুক্ত স্থান ছিল সেগুলোর মধ্যে পূর্বারাম, রাজকারাম, ন্যাগ্রোধারাম, গয়া, উরুবেলা, নালন্দা, সাকেত ও উজ্জয়িনীয় নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও গুহাবাসের মধ্যে ছিল গোতমক কন্দর, তিন্থক তপোরাম এবং ইন্দ্রশালা প্রভৃতি। বৌদ্ধধর্মে উপোসথের গুরুত্ব খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। পূর্বে বলেছি পূর্ণিমা ও বর্ষাবাসের কার্যক্রমের সঙ্গে উপোসথ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ধর্মীয় জীবনযাপনের লক্ষ্যে বৌদ্ধধর্মে উপোসথের প্রবর্তন করা হয়েছে। উপোসথ হল ধর্মময় জীবনযাপনের প্রশিক্ষণ শিবির।
পালি ‘উপোসথ’ শব্দ থেকে উপবাস শব্দের উৎপত্তি। উপোসথ শব্দের ব্যুৎপত্তি করা হয়েছে ‘উপবসথ’ শব্দ থেকে। এখানে উপ একটি উপসর্গ। এর অর্থ হল নিকটে এবং বসথ অর্থ হলো বাস করা। সুতরাং উপবসথ শব্দের অর্থ হল নিকটে বসে কিংবা পাশাপাশি বসে ধর্ম শ্রবণ করা। অষ্টমী, অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে উপোসথিকগণ এ সময় দান, শীল, ভাবনা করে আধ্যাÍিক জীবন গঠন করে। বৌদ্ধমতে উপোসথ চার প্রকার। যথা : প্রতিজাগর উপোসথ, গোপাল উপোসথ, নির্গ্রন্থ উপোসথ এবং আর্য উপোসথ। আর্য শ্রাবকদের পালনীয় উপোসথই আর্য উপোসথ। আর্য উপোসথধারীগণ অষ্টশীলের মধ্যে কোনো শীল ভঙ্গ করেন না। উপোসথিক প্রাণিহত্যা করেন না। অপ্রদত্তবস্তু গ্রহণ করেন না। মিথ্যা ভাষণ করেন না। মাদকদ্রব্য সেবন করেন না। ব্রহ্মচর্য আচরণ করেন। কামাচার করেন না। রাতে আহার গ্রহণ করেন না। মালাধারণ ও সুগন্ধদ্রব্য ব্যবহার করেন না। কোনো উঁচু আসনে শয়ন কিংবা উপবেশন করেন না। এগুলো অষ্টাঙ্গ উপোসথিকের অবশ্যই পালনীয় কর্তব্য।
উপোসথ আত্মশাসন, আত্মসংযম ও চিত্ত-সাধনাকে নিয়ন্ত্রণ করে। বৌদ্ধজীবনে এটি হচ্ছে প্রজ্ঞা ও ধ্যান সাধনার জন্য মহৎ কাজ। দুঃখের নিবৃত্তির জন্য এ উপোসথ বৌদ্ধজীবন পদ্ধতিতে অত্যন্ত কার্যকর।
চলুন আমরা আজ সবাই এই বর্ষাবাসের তাৎপর্য অনুধাবন করি এবং আত্মসংযম, আত্মজ্ঞান ও আত্মবোধে উদ্বুদ্ধ হই। সমাজ দেশ তথা বিশ্বকে আমরা মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করি। সব্বে সত্তা সুখীতা ভবন্তু- জগতের সকল জীব সুখী হোক। ভবতু সব্ব মঙ্গলং- সকলের মঙ্গল লাভ হোক। বাংলাদেশ সমৃদ্ধময় হোক। বিশ্বে শান্তি বিরাজ করুক।
প্রফেসর ড. সুকোমল বড়–য়া : সাবেক চেয়ারম্যান পালি অ্যান্ড বুড্ডিস্ট স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয় এবং সভাপতি, বিশ্ব বৌদ্ধ ফেডারেশন-বাংলাদেশ চ্যাপ্টার

শূন্যপদ ছাড়া পদোন্নতি আর কতদিন? by আবদুল লতিফ মণ্ডল

সরকার ৩৪৫ জন উপসচিবকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদের মধ্যে ৩২৬ জনের পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ১৮ জুলাই জারি করেছে। এদের সবাইকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১৯ জন লিয়েনে থাকায় লিয়েন শেষে তাদের পদোন্নতি কার্যকর হবে। ১৯ জুলাইয়ের দৈনিকগুলোতে এ পদোন্নতির খবর প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়। কোনো কোনো দৈনিকে এটিকে লিড নিউজ করা হয়। ১৯ জুলাইয়ের দৈনিক ইত্তেফাকে বলা হয়েছে, যুগ্মসচিবের অনুমোদিত ৩৬৮টি পদের একটিও শূন্য নেই। বরং আড়াইশ’ কর্মকর্তা আগে থেকেই অতিরিক্ত রয়েছেন। সে হিসেবে যুগ্মসচিবের ৩৬৮টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে এ মুহূর্তে যুগ্মসচিবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯৪ জনে। লিয়েনে থাকা ১৯ জনের পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে যুগ্মসচিবের সংখ্যা হবে ৭১৩ জন, অর্থাৎ অনুমোদিত পদের প্রায় দ্বিগুণ। পত্রিকাটিতে আরও বলা হয়েছে, যুগ্মসচিব পদে ৩৪৫ জনের পদোন্নতি একটি রেকর্ড। বর্তমান সরকার বা তার আগে অন্য কোনো সরকার একসঙ্গে এত সংখ্যক কর্মকর্তাকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি দেয়নি। ১৯ জুলাইয়ের যুগান্তরে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের সময়ে এর আগে যুগ্মসচিব পদে ২০০৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পদোন্নতি দেয়া হয় ২৭১ জন, ২০১০ সালের ২১ নভেম্বর ১৫৮ জন ও গত বছর ৮ ফেব্র“য়ারি ২৬৪ জন। একই তারিখের দ্য ডেইলি স্টারে বলা হয়েছে, `The government yesterday elevated 345 deputy secretaries to the rank of joint secretary in a large scale promotion in the civil administration. The promotion was due but was made against no vacant posts. As many as 625 joint secretaries are already serving against the approved 250 posts. So, the newly promoted officials are not likely to get new posting.'কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে সরকারি চাকরিতে পদোন্নতি অধিকার হিসেবে বিবেচিত। এ শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষতা, সততা, কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বা সহায়তা না করা। তবে পদোন্নতি হতে হবে অনুমোদিত পদের শূন্যপদের বিপরীতে। ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসন ব্যবস্থা থেকে আমরা এটি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। পাকিস্তান আমলে এবং বাংলাদেশের প্রথম দুই দশকে এর ব্যত্যয় খুঁজে পাওয়া কঠিন।
গত বিশ বছর পালাক্রমে দেশ শাসনের মাধ্যমে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ অন্যান্য বহু অনিয়মের সঙ্গে প্রশাসনে সৃষ্টি করেছে অনেক অনিয়মের এবং তারা সযতেœ সেগুলো লালনপালন করে আসছে। শূন্যপদ ছাড়া পদোন্নতি প্রদানের প্রথা মূলত চালু হয় ১৯৯২ সালে বিএনপি সরকারের আমলে। অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের দাবি গণআন্দোলনে রূপ নিলে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি সরকারের পতন হয়। ১৯৯১ সালের ফেব্র“য়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। সরকার গঠনের এক বছর পার না হতেই ১৯৯২ সালের ফেব্র“য়ারিতে বিএনপি সরকার প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে সাতশ’র বেশি কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়। কেবল যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল ১৭৯ জন। একসঙ্গে সচিবালয়ে উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদে এত বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তাকে এর আগে পদোন্নতি প্রদানের নজির ছিল না। ফলে এটি একটি মুখরোচক গল্পে পরিণত হয়। দলীয়করণের অভিযোগ ছাড়াও পত্রপত্রিকায় এ পদোন্নতিকে ‘গণপদোন্নতি’ বলে অভিহিত করা হয়। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের পদায়নের জন্য প্রয়োজনীয় শূন্যপদ না থাকায় বহুসংখ্যক কর্মকর্তাকে, বিশেষ করে উপসচিব ও যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কমবেশি এক বছর পর্যন্ত ওএসডি হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে (তৎকালীন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়) ফেলা রাখা হয়। তারা বেতন-ভাতা ও অন্য সুযোগ-সুবিধাদি ভোগ করলেও তাদের কোনো কাজ দেয়া হয়নি। ফলে ঘটে সরকারি অর্থের অপচয়।
১৯৯২ সালে বিএনপি প্রয়োজনীয় শূন্যপদ ছাড়াই ‘গণপদোন্নতির’ যে নজির সৃষ্টি করে, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ তা যতœসহকারে অনুসরণ করে। গত বিশ বছরের বেশি সময় ধরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ তাদের শাসনামলে ‘নিষ্ঠার’ সঙ্গে এ অনিয়মটি চালু রেখেছে। এর সর্বশেষ উদাহরণ গত ১৮ জুলাই শূন্যপদ ছাড়াই তিনশ’র অধিক উপসচিবকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি প্রদান। তাই এখন স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠতে পারে, শূন্যপদ ছাড়া পদোন্নতি আর কত দিন?
শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি প্রদান বা পদোন্নতি জমিয়ে রেখে একসঙ্গে দলবেঁধে পদোন্নতি প্রদানের ক্ষতিকর দিকগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল- এক. শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি প্রদান প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক ও আর্থিক নিয়মের সুস্পষ্ট লংঘন। পদের অভাবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ওএসডি বা কর্মহীন অবস্থায় ফেলে রাখা দক্ষ জনশক্তি ও অর্থের অপচয়। এটি সুশাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। দুই. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেছেন, শূন্যপদ না থাকায় ১৮ জুলাই যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের আগের পদেই থাকতে হবে। এর ফলে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বেশ কিছুদিন তাদের সমমর্যাদাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের অধীনে কাজ করতে হবে। এতে একদিকে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের উদ্দীপনা কমে যেতে পারে এবং অন্যদিকে আশংকা রয়েছে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার। এছাড়া কোনো কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে তাকে পদোন্নতিপূর্ব পদের দায়িত্ব পালন করতে বলা প্রশাসনে প্রতিষ্ঠিত নীতিমালার পরিপন্থী। প্রশাসনিক নিয়ম ও নীতিমালা অনুযায়ী একজন কর্মকর্তা তার এক বা দুই ধাপ উপরের দায়িত্ব পালন করতে পারেন। প্রশাসনিক ভাষায় একে বলা হয় চলতি দায়িত্ব পালন। তিন. একসঙ্গে দলবেঁধে পদোন্নতি প্রদানের জন্য পদোন্নতি দেরি হলে পদোন্নতি প্রত্যাশী যোগ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়, যা তাদের কাজের উৎসাহকে ব্যাহত করে। এছাড়া একসঙ্গে অনেক কর্মকর্তার পদোন্নতি প্রদানকে ক্ষমতাসীন দল বা জোট তাদের কৃতিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এর সঙ্গে প্রশাসনকে দলীয়করণের একটি বাসনা লুকানো থাকে। চার. মন্ত্রণালয়/বিভাগের অধীনে রয়েছে অধিদফতর, পরিদফতর, কর্পোরেশন ইত্যাদি। সচিবালয়ের মাঝারি বা উপরের স্তরে শূন্যপদ না থাকার পরও পদোন্নতি দেয়া হলে তার প্রভাব এসব প্রতিষ্ঠান বা সংস্থায় পড়তে পারে। এসব প্রতিষ্ঠান বা সংস্থায় শূন্যপদ না থাকলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কখনও পদোন্নতি প্রদানে রাজি হয় না। শূন্যপদ না থাকা সত্ত্বেও যদি এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পদোন্নতি প্রদানের দাবি ওঠে, তখন মন্ত্রণালয়গুলো কী করবে?
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গত নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে বলা হয়, চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির মাপকাঠি হবে মেধা, দক্ষতা ও জ্যেষ্ঠতা। প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আনা হবে সংস্কার। এসব লক্ষ্য অর্জনে ক্ষমতাসীন সরকার উদ্যোগ নেয় সিভিল সার্ভিস আইন প্রণয়নের। উদ্যোগটি বিভিন্ন মহলের প্রশংসা লাভ করে। আইনটির খসড়া একাধিকবার প্রণীত হয়। আশা জাগে, দেরিতে হলেও চার দশক পর একটি সাংবিধানিক নির্দেশনা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, সংবিধানে বলা হয়েছে, সংবিধানের বিধানাবলি-সাপেক্ষে জাতীয় সংসদ আইনের দ্বারা প্রজাতন্ত্রের কর্মে কর্মচারীদের নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলি নির্ধারণ করতে পারবে (অনুচ্ছেদ ১৩৩)। আশা পূরণ হল না। এখন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের আমলে সিভিল সার্ভিস আইনটি হচ্ছে না। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একটি বড় ধরনের নির্বাচনী অঙ্গীকার অবাস্তবায়িত রয়ে গেল। বিএনপিও তাদের শাসনামলে সিভিল সার্ভিস আইন প্রণয়নের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আসলে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কেউ চায় না প্রশাসনে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা আসুক। তারা কেউ চায় না মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ ও কার্যকর প্রশাসন গড়ে উঠুক। কারণ এটা করা হলে প্রশাসনকে দলীয়করণে তা একটি বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
সবশেষে যা বলা দরকার তা হল, দেশের উন্নয়নের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি অন্যতম শর্ত দক্ষ, নিরপেক্ষ ও গণমুখী প্রশাসন এবং এটা সম্ভব হবে যদি দলীয় রাজনীতির প্রভাবমুক্ত থেকে প্রশাসনে নিয়োগ ও পদোন্নতি সম্পন্ন করা যায় এবং প্রশাসনকে সরকারি সিদ্ধান্তগুলো নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়নের সুযোগ দেয়া হয়। দেশে গণতন্ত্রের বিকাশেও এ রকম একটি প্রশাসন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আবদুল লতিফ মণ্ডল : সাবেক সচিব, কলাম লেখক

জয়-পরাজয় থেকে উভয়কেই শিক্ষা নিতে হবে by মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন

পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরকারি দলের জনপ্রিয় প্রার্থীরা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে জনগণকে তাৎক্ষণিকভাবে অভিনন্দন জানানো হয়; অভিনন্দন জানানো হয় নবনির্বাচিত মেয়রদেরও। কিন্তু এখন প্রধানমন্ত্রী নতুন কথা বলছেন- মানুষ চোর-ডাকাতদের ভোট দিয়েছে। যারা নির্বাচিত হয়েছে, তারা দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী বলে গাল-মন্দ করছেন। এমন কথা বলে প্রধানমন্ত্রী জনমতের প্রতি সম্মান দেখাননি। তার এ কথায় মানুষ কষ্ট পাবে, ক্ষুব্ধ হবে- এতে কোনো সন্দেহ নেই।
প্রশ্ন হল, প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ এমন কথা কেন বলছেন? এসব বলার উদ্দেশ্য হল, তার দলের নেতাকর্মীদের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ঘুরিয়ে দেয়া। কারণ এ পরাজয় নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সর্বস্তরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কেন দলের জনপ্রিয় মেয়র প্রার্থীরা এভাবে গোহারা হারলেন, এর জন্য কারা দায়ী- এসবই এখন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিত্যদিনের আলোচনা। এ আলোচনা থেকেই হারের কারণ বেরিয়ে আসছে। বলাবলি হচ্ছে, জাতীয় রাজনীতি নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত বিপজ্জনক খেলা ও সবকিছুতে তালগোল পাকিয়ে ফেলার কারণেই সিটি নির্বাচনে দলের জনপ্রিয় প্রার্থীরা এমন শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করেছেন।
জাতীয় রাজনীতির প্রভাবেই যদি পাঁচ মেয়র প্রার্থী হেরে থাকেন, তাহলে এর দায় প্রধানমন্ত্রী এড়াতে পারেন না। কারণ প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই জাতীয় রাজনীতির গতি-প্রকৃতি নিয়ন্ত্রিত হয়; তার ইচ্ছার বাইরে রাজনীতিতে কোনো কিছু ঘটার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই। হেফাজতের ওপর ক্র্যাকডাউন চালানোর একটি ঘটনাই চূড়ান্তভাবে জাতীয় রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। গভীর রাতের বিভীষিকাময় ও নারকীয় এ ঘটনা সারাদেশের মানুষকে স্তম্ভিত ও হতবাক করেছে। এখানে কত নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরেছে, কত মায়ের বুক খালি হয়েছে- সর্বত্রই এ আলোচনা। এমন বৈরী পরিবেশে কোনো নির্বাচনে জয়লাভ করা অকল্পনীয় ব্যাপার। রাজনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কোনো ভাষায় এ পরিবেশকে নির্বাচনের জন্য অনকূল বলা নিঃসন্দেহে বোকামি। সুতরাং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পরাজয়ের চুলচেরা কারণ অনুসন্ধান করলে এর দায় ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বের ওপরই বর্তাবে।
এ সরকারের আমলে জনগণ বিভিন্নভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছে। শেয়ার মার্কেট থেকে কারসাজির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। এ টাকা এ দেশের গ্রাম-গঞ্জ ও মফস্বল শহরের অতি সাধারণ মানুষের। ৩৫ লাখ পরিবারের প্রায় দেড় কোটি মানুষ শেয়ার মার্কেটে নিঃস্ব, সর্বস্বান্ত হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ কি জীবন থাকতে আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে? আর্থিক ক্ষতি কি মানুষ সহজে ভুলতে পারে? এমএলএম ব্যবসার মাধ্যমেও লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল দিতে দিতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। উল্লেখ্য, এক ঘোর আওয়ামী সমর্থক ব্যবসায়ী কয়েক দিন আগে আমাকে জানালেন, তার বাসার বিদ্যুৎ বিল আগে আসত ২০০০ টাকা, এখন চার গুণ বৃদ্ধি পেয়ে আসে ৮০০০ হাজার টাকা। এ মাত্রাতিরিক্ত বিলের জন্য তিনি বর্তমান সরকারকেই দায়ী করছেন। অন্যদিকে কাক্সিক্ষত স্বপ্নের পদ্মা সেতু না হওয়ার দায় সরকার কিছুতেই এড়াতে পারে না। হলমার্কের হাজার কোটি টাকা লুটপাটের দায়ও জনগণ মনে করে সরকারের। এসব মোটা দাগের ব্যর্থতা ও কেলেংকারি নিয়ে ভোটের রাজনীতিতে কীভাবে এগিয়ে থাকা যায়, এটি বোধগম্য নয়। এ ধরনের ব্যর্থতা ও কেলেংকারি নিয়েই তো চারদলীয় জোট সরকার জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। তাহলে বর্তমান সরকার কী করে জনগণের রায় প্রত্যাশা করে? জনগণের রায় পেতে হলে তাদের মনজয় করতে হবে। উল্টাপাল্টা কথা বললে জনগণ আরও ক্ষুব্ধ হবে। তখন এই বিক্ষুব্ধ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। একদিকে মানুষের কাছে ভুল সংশোধনের সুযোগ চাওয়া অন্যদিকে জনগণের ওপর দোষারোপ করা রাজনীতিকদের জন্য কি শোভনীয়? পরাজয়ের জন্য জনগণের ওপর দোষারোপ না করে নিজেদের ব্যর্থতা খুঁজে বের করতে হবে; নিজেদের সংশোধন হতে হবে। তাহলেই কেবল সামনে সম্ভাবনা তৈরি হবে। মানুষ ক্ষমতাসীনদের নতুন চোখে দেখবে।
বলাবাহুল্য, মিডিয়াবান্ধব মানুষ গণমাধ্যমের ওপর দমননীতিও ভালোভাবে নেয়নি। কয়েকটি টিভি চ্যানেল বন্ধ করে সরকার মানুষের বিরাগবাজন হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হাত দিয়ে সরকার চরম ভুল করেছে। গণতন্ত্রের লেবাসধারী কোনো সরকার গণমাধ্যমের সঙ্গে এমন বৈরী আচরণ করতে পারে না। এর ফল সরকার ভোটের রাজনীতিতে পাচ্ছে। জনগণের কাছে ফিরে যেতে হবে- এটি হয়তো সরকার ভুলে গিয়েছিল। এখন গণেশ উল্টে যাওয়ায় তাদের বোধোদয় হতে শুরু করেছে। ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষনেতারা জনগণকে উদ্দেশ করে বলছেন, ‘আমাদের ভুল সংশোধনের সুযোগ দিন।’ কিন্তু তার আগে গণমাধ্যমের ওপর দমননীতি বন্ধ করতে হবে। সম্প্রচার আটকে রাখা ও বন্ধ টিভি চ্যানেল পুনরায় সম্প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে এবং পত্রিকা প্রকাশের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে গণমাধ্যমের বিরাগভাজন হওয়া আর নিজের সর্বনাশ ডেকে আনা সমান কথা।
অন্যদিকে বিরোধী দলের এ জয়ে আনন্দের কিছু নেই। রাজনৈতিকভাবে এ জয়ের তাৎপর্য তেমন নেই। এ জয় কেবল সরকারের ব্যর্থতার ফসল, ব্যর্থতা দূর করতে পারলে সামনে ভোটের ফল ভিন্নও হতে পারে। আর পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে হেরেছে বলে আওয়ামী লীগ দুর্বল হয়ে গেছে, তাদের ভবিষ্যৎ সব সম্ভাবনা উবে গেছে- এমনটি ভাবার কোনো অবকাশ নেই। প্রতিকূলতা কাটিয়ে, যথাসময়ে ঘুরে দাঁড়ানোর মতো দল আওয়ামী লীগ- এটি ভেবেই বিএনপিকে পথ চলতে হবে। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, যে কোনো সম্ভাবনা ধূলিসাৎ করে দেয়ার যথেষ্ট কারণ বিএনপির অভ্যন্তরে বিদ্যমান আছে। তাই বিজয়ের আনন্দে গা না ভাসিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দিকে সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে। বিএনপির ভেতরের সব বিভেদরেখা মুছে ফেলতে হবে, বহিষ্কৃত ও নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীদের দলের জন্য কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে। নয়তো সামনে বিএনপির জন্য অনিবার্য চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
অন্যান্য দাবি নিয়ে জনমনে দ্বিমত থাকলেও নির্দলীয় সরকারের দাবি বিরোধী দলের নিরেট গণতান্ত্রিক দাবি। এ দাবির প্রতি দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের সমর্থন রয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, যে দাবির প্রতি দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের সমর্থন রয়েছে, সে দাবিতে সরকারের টনক নড়ছে না কেন; এটি বিএনপিকে আগে ভাবতে হবে। রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ ছাড়া অধিকার আদায় অসম্ভব- এ নির্মোহ সত্যটি বিরোধী দলকে উপলব্ধি করতে হবে। অধিকার আদায়ে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের সব মেশিনারি সক্রিয় করতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বিরোধী দল নির্দলীয় সরকারের দাবিতে সরকারকে বড় ধরনের কোনো চাপে ফেলতে পারেনি। এর জন্য দায়ী বিএনপি নিজেই। বিএনপিতে সাংগঠনিক ক্ষেত্রে অরাজনৈতিক, জনবিচ্ছিন্ন, নির্জীব ও নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিরা ঢুকে পড়েছে; তাই এ ক্ষেত্রে তারা কোনো ভূমিকাই রাখতে পারছেন না।
লক্ষণীয়, ১/১১’র দখল ও নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর বিএনপি পুনর্গঠনে জোরেশোরে হাত দেয়া হয়। ২০০৯ সালে জাঁকজমকভাবে অনুষ্ঠিত হয় বিএনপির কাউন্সিল। ওই কাউন্সিল থেকে দুুঃসময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও সরকারবিরোধী আন্দোলনকে সামনে রেখে খুব বড় পরিসরে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। জনশ্র“তি আছে, ৩৮৬ সদস্যের এ কমিটির ৯৫ ভাগ সদস্যই নিষ্ক্রিয়। জাতীয় রাজনীতির কোনো দৃশ্যপটে তাদের পদচারণা পরিলক্ষিত হয় না, এমনকি দলীয় চেয়ারপারসনকে বর্তমান সরকার কর্তৃক তার বাড়ি থেকে জোর করে উচ্ছেদের সময়ও একটা মিছিল পর্যন্ত করা সম্ভব হয়নি। তারা পদ-পদবি নিয়ে বীরের বেশে ঘরে বসে আছেন এবং অন্তহীন আশায় বুক বেঁধে আছেন বিএনপি ক্ষমতায় যাবে আর তারা লোভনীয় রাষ্ট্রীয় পদ পেয়ে বসে যাবেন চেয়ারে।
অরাজনৈতিক ও জনবিচ্ছিন্ন মানুষ দিয়ে আর যাই হোক রাজনীতি হয় না। বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হতে হবে। সাহসী ও রাজনৈতিক ভাবাপন্ন সংগঠকদের কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়ার আগে নিজের দলকে সেভাবে প্রস্তুত করতে হবে। নয়তো পাঁচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জনগণ যে অভূতপূর্ব শক্তি বিএনপিকে জুগিয়েছে তা ম্লান হয়ে যাবে।
শোনা যাচ্ছে, ঈদের পর নাকি বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। ওই কাউন্সিলে সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে এমন যুগোপযোগী নেতৃত্বকে সামনে আনা প্রয়োজন বলে বিএনপির শুভাকাক্সক্ষীরা মনে করেন। দেশে এখন উগ্র রাজনীতির আস্ফালন চলছে। এখন সুযোগ হয়েছে বিএনপির উদার ও মধ্যপন্থী রাজনীতি তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার। সুযোগ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক-বাহক হিসেবে নতুন প্রজন্মের কাছে নিজের পরিচয় ফুটিয়ে তোলার। আশা করি বিএনপি নেতৃত্ব বাস্তবতা উপলব্ধি করবেন এবং সেভাবে নিজেদের তৈরি করবেন। যাতে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বিজয়কে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগিয়ে সামনের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব হয়।
মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন : রাজনৈতিক বিশ্লেষক

তারেক রহমানের দরবারে ভিড় দ্রুত বাড়ছে by আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

বাংলাদেশে পাঁচটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে জয়ী হতে না হতেই বিএনপির মরাগাঙে বান ডেকেছে। ঢাকার সাংবাদিকরা তো সেটা টের পাচ্ছেনই, লন্ডনের রাজনীতি-সচেতন বাংলাদেশীরাও সেটা টের পাচ্ছেন বিলক্ষণ। লন্ডনে তারেক রহমানের দরবারে ভিড় বেড়ে গেছে। দেনদরবার, তদবির, উপঢৌকন, তারেক রহমান এখন শাহজাদা নন, শাহেনশাহ। তার ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জেনেছি, আগামী বিএনপি সরকারের মন্ত্রিত্বের উমেদারিও শুরু হয়ে গেছে। খবরটা কতটুকু সঠিক জানি না, মন্ত্রিত্বের উমেদারির সঙ্গে পাউন্ড-ডলারেরও ছড়াছড়ি হচ্ছে। ইচ্ছা করলে তারেক রহমান এখন নাকি লন্ডনেই একটি নতুন হাওয়া ভবন গড়ে তুলতে পারেন। শুধু মন্ত্রিত্বের উমেদারি নয়, বড় বড় ব্যবসা-বাণিজ্যের তদবির তদারকও শুরু হয়ে গেছে। লন্ডনের বাংলাদেশী ও ভারতীয় সাংবাদিক মহলের একটি অংশের খবর, বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন, এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বারা অনুগৃহীত কিছু বড় ব্যবসায়ী, মিডিয়া মালিকও গোপনে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করেন। এমনকি ভারতের কিছু বড় ব্যবসায়ীও। ইউরোপিয়ান কূটনীতিকদেরও কেউ কেউ তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল একটি সেমিনার উপলক্ষে সম্প্রতি লন্ডনে এসেছিলেন। দলীয় কর্মী সভায় এখনও তিনি তার আগের কথাই বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলে তারা নির্বাচনে যাবেন না। তার ঘনিষ্ঠ মহলই বলছে, এটা তার মুখের কথা, মনের কথা নয়। সিটি কর্পোরেশনগুলোর পাঁচ পাঁচটিতে বিরাট জয়লাভের পর সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণে বিএনপির কোনো স্তরের নেতাকর্মীদেরই আর ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। এমনকি খালেদা জিয়াও পারবেন না। ক্ষমতার মোয়া এত হাতের কাছে তা জেনেশুনে বিএনপির মতো দল দূরে দাঁড়িয়ে জিভ চাটতে পারে?
তারেক রহমানেরও নাকি স্ট্র্যাটেজি তাই নির্বাচনে যাওয়া। তত্ত্বাবধায়ক সরকার হোক আর না হোক। তবে নির্বাচনের এখনও সময় আসেনি। এই সময়টাতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যতটা দরকষাকষি চলে চলুক। যতটা বেশি সুবিধা চাপ সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া যায় ততটাই লাভ। লন্ডনে বসে তারেক দলের স্ট্র্যাটেজি নির্ধারণ করছেন, ঢাকায় বসে খালেদা জিয়া পুত্রকে ভাবী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খাড়া করে সেই স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন। তারেক নাকি মির্জা ফখরুল, তার মা এবং দলের বর্তমান হাইকমান্ডের বিশ্বস্ত কারও কারও কাছে বলেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে তার সমবয়সী, সমমনা এবং আনুগত্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নতুনদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করবেন, দলের এবং আঠারো দলীয় জোটের মওদুদ, ডা. বি চৌধুরী, কর্নেল অলি প্রমুখ বয়স্ক ও আগের কোনো মন্ত্রী ও নেতাকে তার কেবিনেটে স্থান দেবেন না।
এই খবরটা, সত্যাসত্য যাই হোক, ফাঁস হয়ে যেতেই আঠারো দলীয় জোটও আর আগের মতো জোটবদ্ধ নয়। ভেতরে অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছে। ডা. বি. চৌধুরী, কর্নেল অলি প্রমুখ বিএনপিতে ফিরে আসার উদ্যোগ নিয়ে পিছিয়ে গেছেন। এখন তারা বলছেন, নিজ নিজ দলের অস্তিত্ব বজায় রেখে তারা আঠারো দলীয় জোটে আসবেন; কিন্তু বিএনপির সঙ্গে মিশে যাবেন না। ড. ইউনূস এবং ড. কামাল হোসেন প্রমুখের মধ্যেও দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে তাড়ানোর জন্য তাদের সব কথাবার্তা, উদ্যোগ, আয়োজন বিএনপির ক্ষমতায় আসাকে সাহায্য জোগাচ্ছে বটে, কিন্তু তারাও- বিশেষ করে ড. কামাল হোসেন জানেন, তারেক রহমানের ক্ষমতায় আসা হবে শুধু দেশের জন্য নয়, তাদের জন্যও এক মহাবিপর্যয়। তারেক ক্ষমতায় আসতে পারলে ব্যবহƒত কমলার খোসার মতো তাদের দূরে ছুঁড়ে ফেলে দেবেন। কাদের সিদ্দিকী খামোখাই গলায় গামছা বেঁধে নর্তন-কুর্দন করছেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০টি আসনও পাবে না। যদি তাই হয়, তাতে তার লাভটা কী? তার দল কি তিনটা আসনও পাবে? যদি না পায় তাহলে বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচনে জয় হলে তার এত উল্লাসের কারণ কী? কেবল শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পরাজয় থেকে সুখ আহরণ? কথায় বলে ‘পাগলের সুখ মনে মনে, রাত্রি হলে তারা গনে।’ তারেক রহমান ক্ষমতায় আসতে পারলে কাদের সাহেবের কদর করবেন, সে আশায় গুড়েবালি, বয়স হয়েছে, কাদের সিদ্দিকীর বোঝা উচিত, তিনি এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে অতীত; বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কোনোটাই নন।
এখন প্রশ্ন, বাংলাদেশের বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে জেনারেল এরশাদ এবং তার জাতীয় পার্টি কী করবে। দেশের রাজনীতিতে এরশাদ সাহেব এবং জাতীয় পার্টি এখনও একটি বড় ফ্যাক্টর। ড. কামাল হোসেন এবং ড. ইউনূসের চেয়েও রাজনীতিতে এরশাদ সাহেব বড় ফ্যাক্টর। ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম এখন একটি মৃত ঘোড়া। আর ড. ইউনূস কাগজের বাঘ হলেও তার শক্তির উৎস গ্রামীণ ব্যাংকের নারীরা নয় (যেটা তিনি দাবি করেন), তার শক্তির উৎস তার মুখে তীক্ষè আমেরিকান দাঁত (American teeth) রয়েছে। ক্রুশ্চেভ যেমন গত শতকে চীনকে সাবধান করে দিয়ে বলেছিলেন, আমেরিকাকে তোমরা কাগজের বাঘ বলছ বটে, কিন্তু তার আণবিক দাঁত রয়েছে। বাংলাদেশে বিএনপিকেও তাই ড. ইউনূসকে সাদরে ডেকে কোলে স্থান দিতে হচ্ছে।
এরশাদ সাহেব এবং জাতীয় পার্টি এখনও মহাজোটে আছেন। কিন্তু মনস্থির করেননি মহাজোটে থাকবেন কী ছাড়বেন অথবা জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করবে কিনা? জেনারেল এরশাদের রাজনীতির আমি অনেক সমালোচনা করেছি, এখনও করি। কিন্তু এ কথা সত্য, মহাজোটে থাকা অবস্থায় তাকে যতটা অবজ্ঞা ও উপেক্ষা সহ্য করতে হয়েছে, অন্য কোনো দল হলে অনেক আগে মহাজোট ছাড়ত।
এই পার্টি থেকে একজন মাত্র মন্ত্রী গ্রহণ করা হয়েছিল। তিনি এরশাদ সাহেবেরই ছোট ভাই জিএম কাদের। তিনি বিমানমন্ত্রী হয়েছিলেন। মন্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি যতটা অপদস্ত হয়েছেন, এমনকি তার মন্ত্রী দফতরের সেক্রেটারি (তিনি কবিও বটে) যেভাবে যখন তখন তার নির্দেশ অমান্য করাসহ তাকে নানাভাবে অপদস্ত করতেন, সেই করুণ কাহিনী মন্ত্রী থাকাকালে তার মুখ থেকে আমি শুনেছি। তিনি আমার হাত ধরে বলেছেন, ‘ভাই, আমি মন্ত্রী পদ ত্যাগ করতে চাই। আর অবমাননা সহ্য হয় না। কিন্তু বড় ভাইয়ের (এরশাদ) জন্য পারছি না।’ আমি তাকে নিয়ে আমার কলামে লিখেছিলামও।
জাতীয় পার্টিতে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হওয়ার মতো যোগ্য বহু পুরুষ এবং নারী এমপি আছেন। তাদের মন্ত্রিসভায় গ্রহণ করা হলে সরকারের যথার্থ পরিচয় মহাজোট সরকার হতো এবং সরকারের দক্ষতা ও শক্তি বাড়ত। এ কথা আওয়ামী লীগ সংগঠনের বেলায়ও সত্য। কেবল অনুগত বিবেচনায় কিছু অযোগ্য ব্যক্তির হাতে সংগঠনটি তুলে না দিয়ে যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের সংগঠন পরিচালনার ভার দিলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী হাসিনা দলে এবং মন্ত্রিসভায় এমন একা হয়ে যেতেন না। পরিস্থিতি এমন ঘোরালো হয়ে উঠত না।
প্রধানমন্ত্রী একা কত দিক সামলাবেন?
জাতীয় পার্টির কথায় আসি। দেশের এই দুঃসময়ে জাতীয় পার্টি যথার্থই একটি গঠনমূলক ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে, যদি এরশাদ সাহেব ঠাণ্ডা মাথায় দলের ভেতরের ও বাইরের চাপ অগ্রাহ্য করে দলের নির্বাচন-পূর্ব নীতিনির্ধারণ এবং দলীয় ঐক্য অক্ষুণœ রাখতে পারেন। জেনারেল এরশাদের উচিত, মহাজোটে তার দলের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসা এবং সুস্পষ্ট কথাবার্তা বলা। বৈঠক সন্তোষজনক না হলে তিনি এককভাবেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। আঠারো দলীয় জোটে গেলে এবং তারেক রহমানকে ক্ষমতায় এনে এরশাদ সাহেব তার নিজের মর্যাদা ও দলের সম্মান কতটা রক্ষা করতে পারবেন এবং দেশে গণতন্ত্রকে কতটা সুরক্ষা দিতে পারবেন সে সম্পর্কে আমার সন্দেহ আছে।
সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনগুলোতে উপর্যুপরি জয়লাভের পর বিএনপির নেতানেত্রীদের কথাবার্তার ধরনই বদলে গেছে। তারা এমন ভাব দেখাচ্ছেন যেন ইতিমধ্যেই ক্ষমতায় এসে গেছেন। সরকারি প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তার অভিযোগ, বিএনপি নেতারা ইতিমধ্যেই তাদের ধমকাতে শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশ না মেনে তাদের হুকুম মানতে বলছেন। হুকুম দেয়া হচ্ছে, তাদের কথা না শুনলে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাদের খবর আছে।
সম্ভবত এই আস্ফালন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই ক্ষমতার দম্ভ প্রকাশ বিএনপির জন্য কাল হবে। লন্ডনে তারেক রহমানের দরবারে মন্ত্রিত্বের, ব্যবসা-বাণিজ্যের উমেদারের সংখ্যা যতই বাড়–ক, তাকে ‘ভাবী প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে প্রদর্শন করে নির্বাচনে নামাই সম্ভবত বিএনপির স্বপ্নভঙ্গের কারণ হবে। ১৮ দলীয় জোটের অভ্যন্তরীণ ঐক্যও তাতে শেষ পর্যন্ত টিকবে কিনা আমার সন্দেহ আছে।
এই ভুলটি করেছিল ভারতে কংগ্রেস। নেহেরু ডায়েনিস্টের ক্যারিশমা রাহুল গান্ধী বহন করেন এবং ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তার প্রতিষ্ঠা এই ধারণা থেকে রাহুলকে ভারতের ভাবী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খাড়া করে কংগ্রেস আগামী সাধারণ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করতে চেয়েছিল। অতি অল্প দিনের মধ্যেই দেখা গেছে, রাহুল নেতৃত্বে কোনো ক্যারিশমা এবং ভারতের তরুণ প্রজšে§র ভোটদাতাদের মধ্যেও তার প্রভাব তেমন গড়ে ওঠেনি। এখন কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নিয়েছে, রাহুল গান্ধীকে ভারতের ভাবী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচন-প্রচারণায় আর তুলে ধরা হবে না।
বাংলাদেশেও নির্বাচন প্রচারণায় বিএনপি তারেক রহমানকে মূলধন করে এবং তাকে ভাবী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরে দারুণ ভুল করছে। রাহুল ভারতের রাজনীতিতে কিছুটা বিতর্কিত; কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমান শুধু বিপুলভাবে বিতর্কিত নন, নিন্দিতও। তার বিরুদ্ধে অতীতের অপকীর্তি, অপশাসন, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির যে বিশাল অভিযোগ, তা মাথায় নিয়ে একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। আদালতের অনেক বড় বড় মামলা তার মাথার ওপর ঝুলে আছে। তারেক রহমান এসব মামলা-মোকদ্দমার ভয়ে দেশে আসছেন না। বর্তমান সরকার মেয়াদ শেষে ক্ষমতা ছাড়লেই তিনি দেশে ফিরবেন। তখনই শুরু হবে তার নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা। তার বিরোধীরা তখন দলের ভেতরে ও বাইরে- এমনকি আঠারো দলীয় জোটেও মাথা তুলবে। আওয়ামী লীগসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দলও তাকে ছেড়ে কথা বলবে না। তার অতীতের বিতর্কিত ও নিন্দিত কার্যকলাপ জনসাধারণের সামনে আবার উঠে আসবে।
এই মুহূর্তে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী ভাবতে পারেন, আগামী নির্বাচনে তারেক রহমান তাদের তুরুপের তাস। কিন্তু বাস্তবে এই তুরুপের তাসটি বিতর্ক, বিরোধিতা ও নিন্দার ঝড়ে উড়ে যায় কিনা সময় এলেই তা দেখা যাবে।

অস্ট্রেলিয়ায় মানব পাচারকারী ধরতে পুরস্কার ঘোষণা

মানব পাচারকারীদের ধরতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। পাচারকারীদের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারলে দুই লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে তারা।

বেলজিয়ামের নতুন রাজা ফিলিপ-ছেলের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা ছাড়লেন রাজা দ্বিতীয় আলবার্ত

বেলজিয়ামের সপ্তম রাজা হিসেবে গতকাল রবিবার অভিষেক হলো ফিলিপের। ছেলের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করে অবসরে গেলেন রাজা দ্বিতীয় আলবার্ত (৭৯)। ভাবগম্ভীর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন রাজার অভিষেক হলো।

নিউজিল্যান্ডে ভূমিকম্প পার্লামেন্ট ভবন ক্ষতিগ্রস্ত

নিউজিল্যান্ডে গতকাল রবিবার ৬ দশমিক ৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এক মিনিট স্থায়ী এ ভূমিকম্পে পার্লামেন্ট ভবনসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেতানিয়াহুর ঘোষণা-ফিলিস্তিনের সঙ্গে শান্তির সিদ্ধান্ত গণভোটে

ফিলিস্তিনের সঙ্গে শান্তি চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গতকাল রবিবার মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে তিনি এ ঘোষণা দেন।

তবে কি কাল সেই শুভক্ষণ?

ব্রিটিশ সিংহাসনের তৃতীয় উত্তরাধিকারীর আগমনের নতুন তারিখের ইঙ্গিত দিয়েছেন ডাচেস অব ক্যামব্রিজ কেট মিডলটনের মা ক্যারল মিডলটন। জানা গেছে, ক্যারল তাঁর বন্ধুদের বলেছেন, রাজপরিবারের নবজাতক নাকি সিংহ রাশির হবে।

মিসরে সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠন

মিসরের সংবিধান সংশোধনে ১০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আদলি মনসুর। গতকাল রবিবার এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ সোমবার থেকে কমিটি কাজ শুরু করবে।

ফরেনসিক প্রতিবেদন-বিহারে স্কুলের খাবারে নিষিদ্ধ কীটনাশক ছিল

নিষিদ্ধ কীটনাশক মনোক্রোটোফস মিশ্রিত খাবার খেয়েই ভারতের বিহারের ছাপড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার বিহার পুলিশের ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (এফএসএল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

সিন্ধু থেকে নতুন প্রেসিডেন্ট!

পাকিস্তানে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আসিফ আলী জারদারির মেয়াদ শেষের পথে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর তিন সপ্তাহও বাকি নেই। তবে এখনো জারদারির দল পিপিপি (পাকিস্তান পিপলস পার্টি) কিংবা প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা-শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি নিয়ে সংশয়

মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর ব্যাপারে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলকে রাজি করাতে পেরে খুশি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। তাঁর দাবি, উভয় পক্ষ আলোচনার টেবিলে ফিরে যাওয়ার 'বুনিয়াদ' রচনা করেছে।

জাপানে উচ্চকক্ষের নির্বাচনপ্রধানমন্ত্রী আবের জোটের জয়

জাপানে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ 'হাউস অব কাউন্সিলরস' নির্বাচনের ভোট নেওয়া হয় গতকাল রবিবার। এতে প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতৃত্বাধীন জোটের এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া গেছে।

এবার সাংবাদিক আক্রান্ত-জনপ্রতিনিধির এমন আচরণ কাম্য নয়

ঘটনাটি যে অনাকাঙ্ক্ষিত, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সংবাদের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের অনেক সময় অনভিপ্রেত ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধির দ্বারা কোনো সাংবাদিকের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটলে বিস্মিত না হয়ে উপায় থাকে না।

হায় সোনালী ব্যাংক!যেখানে কেলেঙ্কারির শেষ নেই

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক কি লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে? এখানে একের পর এক কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেই চলেছে, জনগণের অর্থ লোপাট হয়ে যাচ্ছে, অথচ জালিয়াতি-দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্যোগই নেই।

দৈনন্দিন বিজ্ঞান-জানার ভেতর অজানা

আপনি কি জানেন সূর্যের পৃষ্ঠতাপমাত্রা কত? সূর্যের পৃষ্ঠের তামপাত্রা হলো ৫৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটা আসলে কত বেশি উত্তপ্ত তা বোঝার জন্য একবার পৃথিবীর পৃষ্ঠতাপমাত্রার সঙ্গে তুলনা করে দেখুন।

ভালো থাকুন-বর্ষায় ত্বকের যত্ন

বর্ষায় পরিবেশের তাপমাত্রার তারতম্য ঘটতে পারে ক্ষণে ক্ষণেই। আকাশে রোদ-মেঘের লুকোচুরির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কখনো বাতাসের আর্দ্রতা খুব কম, আবার কিছুক্ষণ পরই হয়তো তা বেড়ে যায়।

ব্যক্তিত্ব-মুকেশ

কণ্ঠশিল্পী হিসেবে ভারতীয় চলচ্চিত্রে যে কয়টি অপরিহার্য নামোল্লেখ করা হয়ে থাকে, তার অন্যতম একটি নাম মুকেশ। পুরো নাম মুকেশ চাঁদ মাথুর। বিশেষ করে রাজকাপুরের অভিনীত ছবিতে তাঁর মুখে মুকেশের গান ছাড়া যেন চলতই না।

পবিত্র কোরআনের আলো-কোরআন শরিফে বর্ণিত সব ঘটনাই শিক্ষণীয়

১১১. লাকাদ কা-না ফী কাসাসিহিম 'ইবরাতুন লিঊলিল আলবা-বি, মা-কা-না হাদিছান য়ুফতারা- ওয়া লা-কিন তাসদিকাল্লাযী বাইনা ইয়াদাইহি-ওয়া তাফসিলা কুল্লি শাইইওঁ ওয়া হুদান ওয়া রাহমাতান লিকাউমিন ইয়ু'মিনুন।

'আমার ধারণা, উনি মানসিকভাবে উত্তপ্ত আছেন'

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনির হাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের দুই সাংবাদিক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা আলোচনা করতে গিয়ে সাংবাদিক মাহফুজুল্লাহ বলেছেন, আমার ধারণা, 'উনি মানসিকভাবে উত্তপ্ত অবস্থায় আছেন।' তিনি বলেন, এই গোলাম মাওলা রনিকে মিডিয়াই রনি বানিয়েছে।

মানসম্মত নির্মাণকাজের প্রয়োজনীয়তা by ড. এম শামীম জেড বসুনিয়া

জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে বাংলাদেশকে ১৬ দফা করণীয় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এর মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও ভবন নির্মাণের মান নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে।

ভিন্নমত-মিসরে গণতন্ত্র বনাম সেনাশাসন by আবু আহমেদ

মিসরে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সে দেশের প্রধান সেনাপতি আবদেল ফাত্তাহ ক্ষমতা গ্রহণ করে মাত্র এক বছর আগে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুরসিকে গৃহবন্দি করেছেন।

অনলাইন থেকে-ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলে শান্তি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেওয়া একটি পথনির্দেশনার সংবাদ ইসরায়েলের সংবাদপত্র হারেজে প্রকাশিত হয়েছে ১৬ জুলাই। ইসরায়েলকে ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কিভাবে চলতে হবে, সে রকম একটি পথনির্দেশনার কথা বলা হয়েছে সেখানে।

ভালো থাকুন মাথাব্যথা নিয়ে মাথাব্যথা? by ডা. এস এম আতিকুর রহমান

মাথাব্যথায় কে না ভোগে? মাথাব্যথার উৎস মাথা হতে পারে, নাও হতে পারে। আন্তর্জাতিক হেডেক সোসাইটির মতে, মাথাব্যথা দুই ধরনের: প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি। প্রাইমারি মানে মাথাব্যথাটাই যখন রোগ। আর সেকেন্ডারি হলো মাথাব্যথা যখন অন্য কোনো রোগের উপসর্গ মাত্র। প্রাইমারি মাথাব্যথার রোগীর সংখ্যাই বেশি।

রাজনীতি দেশ নিয়ে প্রবাসীদের উদ্বেগ by এম সাখাওয়াত হোসেন

বেশ কিছুদিন দেশের বাইরে ছিলাম। ইস্তাম্বুল, মাদ্রিদসহ আন্দালুসিয়ার কয়েকটি ঐতিহাসিক শহর এবং পর্তুগালের রাজধানী লিসবন (লিসবুয়া) ঘুরে ব্রিটেনে কয়েক দিন কাটিয়ে দেশে ফিরেছি। পর্তুগাল ও স্পেন এখনো অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

বিশ্বায়নের কাল লন্ডন সফরে কী পেলেন রাজনীতিকেরা? by কামাল আহমেদ

গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক এক সেমিনারে অংশ নিতে বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের ১৫ জন নেতা লন্ডন ঘুরে গেলেন। সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম এবং দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দুজনেই বললেন,

ইসলামী ব্যাংকের গুরুতর সব ঋণ অনিয়ম by মনজুর আহমেদ

ইসলামী ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখায় গুরুতর ঋণ অনিয়ম চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জাহাজ তৈরির প্রতিষ্ঠান আনন্দ শিপইয়ার্ডের আটটি জাহাজ রপ্তানির নিশ্চয়তাপত্র বা গ্যারান্টি দিয়েছিল এই ব্যাংক।

১৬টি অপ্রীতিকর ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সরকারের কাছে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের চিঠি র‌্যাবে বাহিনীগুলোর দ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে by কামরুল হাসান ও গোলাম মর্তুজা

সশস্ত্র বাহিনী থেকে পুলিশের বিশেষ ব্যাটালিয়ন র‌্যাবে প্রেষণে আসা সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের নিয়মিত সদস্যদের দ্বন্দ্ব-সংঘাত বেড়েই চলেছে। কর্মস্থলে দুই বাহিনীর সদস্যরা পরস্পরকে সহ্য করতে পারছেন না। একে অপরের কাজে বাধা দিচ্ছেন, কোথাও কোথাও হাতাহাতি পর্যন্ত হয়েছে।

তরুণদের ভোট বেশি প্রয়োজন বিএনপির by মেসবাহউদ্দিন আহমেদ

বাঙালি স্বাধীনচেতা। কারো অধীনতায় বাঙালিদের আটকে রাখা যায়নি। বাঙালি রক্তস্রোত সব সময়ই বাঁধ ভাঙার পক্ষে। কোনো অপশক্তি বাঙালিদের থামাতে পারেনি, পারবেও না। অন্তত এটাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

অস্থির রাজনীতির শিকড় সন্ধানে by ড. মীজানূর রহমান শেলী

আবার শুরু হলো অস্থিরতার পালা। সংসদের বাজেট সেশনে তর্কের বিপুল ঝড় উঠল। তবে এ বিতর্ক বাজেট নিয়ে মোটেও নয়। এবারকার বাগ্‌বিতণ্ডা মূলত দুই প্রধান দলের নেতা-নেত্রীদের নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ।