Tuesday, December 8, 2009

জুড়ীতে কমলার ফলন কম

জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কচুরগুল গ্রামের ফিরোজ মিয়া চার একরের একটি টিলায় কমলার বাগান করেছেন।
এই বাগানের প্রায় দুই হাজার গাছে গত মৌসুমেও যে পরিমাণ কমলা ধরেছে, তা বিক্রি করে তাঁর প্রায় চার লাখ টাকা আয় হয়েছে। খরচ বাদ দিয়ে তিন লাখ টাকার মতো লাভ হয়েছে তাঁর।
কিন্তু এবার বাগানে প্রচুর ফুল এলেও দীর্ঘ খরা ও সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন হয়েছে খুবই কম। যে কারণে কমলা বিক্রি করে শেষ পর্যন্ত এক লাখ টাকাও পাবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে তাঁর।
প্রায় একই কথা জানালেন উপজেলার নালাপুঞ্জি, ডোমাবাড়ী, উত্তর কুচাই, দক্ষিণ কুচাই, হায়াছড়া, রূপাছড়া, শুকনাছড়া, জরিছড়া, ইসলামাবাদ, বেলবাড়ী প্রভৃতি গ্রামের কমলাচাষিরা।
জানা গেছে, স্থানীয় টিলাগুলোতে দুই-আড়াই শ বছর ধরে কমলার চাষ হচ্ছে। তা সত্ত্বেও কমলার চাষাবাদ সম্পর্কে ভালো ধারণার অভাবে এবং বাজারজাতকরণের উপযুক্ত সুযোগ না থাকায় চাষিরা দিন দিন কমলা চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।
এই অবস্থায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্থানীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে ২০০১ সালে কমলা ও আনারস চাষের ব্যাপারে একটি সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প চালু করা হয়। ফলে গত সাত-আট বছরে এলাকায় প্রায় আড়াই শ নতুন কমলাবাগান গড়ে ওঠে। ২০০৮ সালের জুনে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়।
কচুরগুল গ্রামের সুরুজ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘অন্য বছর কমলার ভারে গাছ নুইয়া পড়ত। ইবার পাইকারদের চাহিদামতো কমলা দিতাম পারিয়ার না।’
হায়াছড়া গ্রামের ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘সেচব্যবস্থার লাগি বেশি ভোগান্তি অয়। কাছাকাছি কোনো জলাধারও নাই।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষ চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, কমলা চাষে লোকজনকে আরও উদ্বুদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের চিন্তাভাবনা চলছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের উপপরিচালক মতিউর রহমান বলেন, ‘এবার খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে কমলার ফলন আশানুরূপ হয়নি।

রোনালদো-দিয়াওয়ারার দেখা হচ্ছে আজ

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মনে ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখটা আজ ফিরে আসাটাই স্বাভাবিক। ওই তারিখটা ফিরে আসছে সুলিমান দিয়াওয়ারার মনেও। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সর্বনাশা অ্যাঙ্কেলের ইনজুরিতে পড়েছিলেন রোনালদো। দিয়াওয়ারার ট্যাকলেই।
সেই চোট রোনালদোর কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে প্রায় দুটি মাস। দূর থেকে রোনালদোর কাছে আগেই ক্ষমা চেয়ে চেয়েছিলেন মার্শেইয়ের সেনেগালিজ ডিফেন্ডার। আজ রোনালদোকে পেয়ে যাচ্ছেন সামনেই। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ মার্শেইয়ের মাঠ স্টাডে ভেলোড্রমে রিয়ালের শুরুর একাদশেই থাকবেন পর্তুগিজ উইঙ্গার। এই সুযোগে রোনালদোর কাছে সরাসরিই দুঃখ প্রকাশ করবেন বলে জানিয়েছেন দিয়াওয়ারা, ‘ব্যাপারটা আসলে ম্যাচের উত্তেজনার মধ্যে ঘটে গেছে। আমি মারকাটারি খেলোয়াড় নই। কখনোই কাউকে আঘাত করিনি। আমি তাকে স্বাগত জানিয়ে গিয়ে বলব, যা ঘটেছে এর জন্য দুঃখিত। রোনালদো ভালো লোক, অসাধারণ ফুটবলার। সে ভালো করেই জানে, আমি তাকে আঘাত করতে চাইনি।’
আজ রোনালদোকে পেলেও কাকাকে পাচ্ছে না রিয়াল মাদ্রিদ। কুঁচকির চোটের কারণে মাঠের বাইরে ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার। কে জানে, মার্শেই রিয়ালের কাছে অপয়া দলই কি না!

রোনালদোর ওই ৬ মিনিট নিয়ে...

৮২ মিনিট থেকে ৮৮ মিনিট—সময়ের হিসাবে মাত্র ৬ মিনিট। কিন্তু এই সময়টুকুতে কতকিছুই না করে ফেললেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো! পায়ের জাদু আর গোল করার ক্ষমতা রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকেরা এরই মধ্যে ভালোই দেখেছে। এবার দেখল অন্য দিকটাও। মাত্রই কয়েক দিন হলো দুই মাসের ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন। আলমেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে একটি গোলও করেছেন, কিন্তু সতীর্থের গোল উদ্যাপন না করে আর লাল কার্ড দেখে সমালোচনার কেন্দ্রে এখন বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার। তবে এই পর্তুগিজের পাশে দাঁড়িয়েছেন কোচ এবং যাঁর গোল উদ্যাপন না করায় এত কাহিনী, সেই করিম বেনজেমা।
৮২ মিনিটে রেফারির ভুল সিদ্ধান্তে পাওয়া পেনাল্টিটা মিস করলেন। ফিরতি বলে গোল করলেন বেনজেমা, সতীর্থরা যখন সমতায় ফেরার আনন্দে উন্মাতাল, রোনালদো তখন ব্যক্তিগত হতাশায় মুুহ্যমান! দুই মিনিট পরই গোল করে দলকে এগিয়ে দিলেন। তবে আনন্দের আতিশয্যে জার্সি খুলে ফেলায় দেখলেন হলুদ কার্ড। চার মিনিট পর জুয়ানমা অরটিজকে লাথি মেরে আরেকটি হলুদ কার্ড। এই লাল কার্ডে মাঠে ফিরতে না-ফিরতেই আবার এক ম্যাচের জন্য মাঠের বাইরে যেতে হচ্ছে ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারকে। খেলতে পারবেন না আগামী শনিবার শিরোপার অন্যতম দাবিদার ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি।
লাল কার্ডের চেয়ে অবশ্য আলোচনা বেশি হচ্ছে গোল উদ্যাপন না করায়। এমনিতেই মাঠে ‘স্বার্থপর’ বলে পুরোনো একটি দুর্নাম আছে, এ ঘটনাকে সেটিরই প্রমাণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে রোনালদোকে স্বস্তি দিতে পারে বেনজেমার কথা, ‘চেঞ্জরুমে সে আমাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। এমন ঘটনা যে কারও ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে। পেনাল্টি মিস করায় সে হতাশ ছিল, কিন্তু পরে আমি গোল করায় খুশিই হয়েছে। সে দারুণ পেশাদার এবং দলের জয় দেখতে চায়।’
রোনালদো পাশে পেয়েছেন কোচ ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনিকেও, ‘এটা কোনো অখেলোয়াড়োচিত আচরণ ছিল না, দলের কারও সঙ্গে তাঁর কোনো সমস্যা নেই এবং সে স্বার্থপরও নয়। পেনাল্টি মিস করায় সে হতাশ ছিল এবং এটাই স্বাভাবিক। সে সব সময়ই দলের সবার গোল উদ্যাপন করে।’ রিয়াল কোচ প্রশ্ন তুলেছেন রোনালদোর লাল কার্ড পাওয়া নিয়েও, ‘লাল কার্ড তাঁর প্রাপ্য ছিল না, অন্য অনেক ফুটবলার অনেক বেশি ফাউল করেও লাল কার্ড দেখেন না।’
তবে কোচ-সতীর্থরা যতই পাশে দাঁড়ান, আগামী কিছুদিন রোনালদোকে নিশ্চিতভাবেই তাড়িয়ে বেড়াবে ওই ৬ মিনিট!

ক্লাব ক্রিকেটেও লিখিত চুক্তি

ভবিষ্যতে ক্লাব ক্রিকেটেও লিখিত চুক্তির মাধ্যমেই খেলতে হবে ক্রিকেটারদের। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেনই কাল জানিয়েছেন এই কথা, ‘ক্রিকেটাররা ক্লাবগুলোয় এখন লিখিত চুক্তির মাধ্যমে খেলছে না। জটিলতা এড়াতে ভবিষ্যতে ক্লাব ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের জন্য লিখিত চুক্তি প্রবর্তনের চিন্তাভাবনা করছি আমরা।’
বিসিবির চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার তামিম এবার ২০ লাখ টাকায় নাম লিখিয়েছিলেন মোহামেডানে। কিন্তু ইনজুরির কারণে এখন পর্যন্ত তিনি খেলতে পেরেছেন মাত্র একটা ম্যাচ এবং আবাহনীর বিপক্ষে সে ম্যাচে তামিমের খেলা মুখোমুখি করে দিয়েছে বিসিবি এবং মোহামেডানকে। দুই পক্ষের বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্যে সামনে চলে এসেছে একটা প্রশ্নই—ক্রিকেটাররা আসলে ক্লাবের না বোর্ডের?
এনায়েত হোসেন জানিয়েছেন, ক্রিকেটারদের সঙ্গে চুক্তি করতে ঢাকা লিগের সব দলের জন্যই থাকবে একটা ‘কমন’ চুক্তিপত্র। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে ক্রিকেটার এবং ক্লাবের সুবিধা-অসুবিধা দেখে ঠিক হবে চুক্তির শর্তাবলি। ‘চিন্তাটা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে চুক্তির শর্তাবলি ঠিক করা হবে। পরে সেটা বোর্ডে অনুমোদন করে সিসিডিএমের মাধ্যমে সব ক্লাবকে দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে চুক্তির শর্ত মেনেই ক্রিকেটারদের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে ক্লাবগুলোকে’—বলেছেন এনায়েত হোসেন।
বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুসও জানিয়েছেন একই কথা, ‘চুক্তির শর্তাবলি ঠিক করতে প্রয়োজনে আমরা ক্রিকেটারদের প্রতিনিধিদেরও মতামত নেব। আশা করি, আগামী মৌসুম থেকেই লিখিত চুক্তির মাধ্যমে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলবে খেলোয়াড়েরা।’

ফুলটনের জায়গায় ওয়াটলিং

ডানেডিন টেস্টের দুই ইনিংসে তাঁর রান—২৯ ও ০। পরের টেস্টে ০ ও ১৩। এমন বাজে ফর্মই নেপিয়ার টেস্টের নিউজিল্যান্ড দল থেকে ছিটকে দিল ব্যাটসম্যান পিটার ফুলটনকে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে ফুলটনের জায়গায় নিউজিল্যান্ড দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন নতুন মুখ ব্র্যাডলি-জন ওয়াটলিং।
নিউজিল্যান্ড দল: ড্যানিয়েল ভেট্টোরি (অধিনায়ক), টিম ম্যাকিন্টশ, মার্টিন গাপটিল, ড্যানিয়েল ফ্লিন, রস টেলর, বিজে ওয়াটলিং, গ্রান্ট এলিয়ট, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, ড্যারিল ডাফি, ইয়ান ও’ব্রায়েন, টিম সাউদি, জিতান প্যাটেল ও ক্রিস মার্টিন।

সেমিফাইনালে উঠে গেল ভারত

প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারাতে ঘাম ঝরেছিল ভারতের। দ্বিতীয় ম্যাচেও একই অবস্থা। তার পরও নেপালের বিপক্ষে জয় এল। দুই জয়ে ‘এ’ গ্রুপ থেকে সবার আগে সেমিফাইনালে উঠে গেল তারুণ্যনির্ভর ভারত।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক গোলে জিতেছিল ভারত, কাল নেপালের বিপক্ষেও তাই। ১৮ মিনিটে স্ট্রাইকার জীবন সিং খানজেমবাম এনে দিয়েছেন মহামূল্যবান গোলটি।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপ নেপালের সঙ্গে ড্র করেছিল প্রথম ম্যাচে। কাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও জিতল ৩-১ গোলে। সেমিফাইনালে যাওয়া না-যাওয়ার কথা জানতে মালদ্বীপকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত।
নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ভারতের গোলকিপার অরিন্দম ভট্টাচার্যকে বেশি করে পিঠ চাপড়ালেন সতীর্থরা। ছবিও তোলা হলো অরিন্দমের। ডিজিটাল ক্যামেরার ফ্ল্যাশে উজ্জ্বল হয়ে উঠল কলকাতার ১৯ বছর বয়সী তরুণের মুখ। দ্বিতীয়ার্ধে চাপের মুখে ভারতকে বেশ কয়েকবার বাঁচিয়েছেন তিনিই। নেপাল কোচ কৃষ্ণা থাপাও প্রশংসা করলেন অরিন্দমের, ‘আমরা খুব ভালো খেলেছি। ওদের গোলকিপারের কারণেই গোল পাইনি।’
দিনের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তান শুরুতে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল মালদ্বীপকে। প্রথমার্ধ ছিল তাদেরই নিয়ন্ত্রণে। ৩২ মিনিটে গোল করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন হাসমতউল্লাহ বারকেজাই। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে জেগে ওঠে মালদ্বীপ। ৫২ মিনিটে গোল শোধ করে দেন আহমেদ তরিক। এর পর জ্বলে ওঠেন অধিনায়ক আশফাক আলী। মালদ্বীপের সেরা খেলোয়াড়ের ড্রিবলিং ছিল চোখে পড়ার মতো। ৭০ ও ৮৯ মিনিটে দুই গোল করে দলকে জিতিয়েও দেন তিনি।
পিছিয়ে পড়েও জিততে পেরে খুবই খুশি মালদ্বীপের হাঙ্গেরিয়ান কোচ উরবানি ইস্তাবেলা, ‘যেভাবে আমরা জিতলাম, তাতে আমরা খুশি। প্রথমার্ধে ম্যাচের যা অবস্থা ছিল, তাতে যে কেউ জিততে পারত। বিরতির সময় ড্রেসিংরুমে গিয়ে সবাইকে বুঝিয়েছি। দ্বিতীয়ার্ধে সবাই যেন নতুনভাবে জেগে উঠেছিল।’
এদিকে হেরেও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে খুশি আফগান কোচ ইউসুফ কারাগার, ‘আমার দলটা একেবারেই তরুণদের নিয়ে গড়া। এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতেও সমস্যা হচ্ছে। তা ছাড়া মালদ্বীপ খুব অভিজ্ঞ দল। দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা কয়েকটি সুযোগ মিস করেছি। তারপরও ছেলেরা যেভাবে খেলেছে তাতে আমি খুশি।’

সেমিফাইনালে উঠে গেল ভারত

প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারাতে ঘাম ঝরেছিল ভারতের। দ্বিতীয় ম্যাচেও একই অবস্থা। তার পরও নেপালের বিপক্ষে জয় এল। দুই জয়ে ‘এ’ গ্রুপ থেকে সবার আগে সেমিফাইনালে উঠে গেল তারুণ্যনির্ভর ভারত।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক গোলে জিতেছিল ভারত, কাল নেপালের বিপক্ষেও তাই। ১৮ মিনিটে স্ট্রাইকার জীবন সিং খানজেমবাম এনে দিয়েছেন মহামূল্যবান গোলটি।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মালদ্বীপ নেপালের সঙ্গে ড্র করেছিল প্রথম ম্যাচে। কাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও জিতল ৩-১ গোলে। সেমিফাইনালে যাওয়া না-যাওয়ার কথা জানতে মালদ্বীপকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত।
নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ভারতের গোলকিপার অরিন্দম ভট্টাচার্যকে বেশি করে পিঠ চাপড়ালেন সতীর্থরা। ছবিও তোলা হলো অরিন্দমের। ডিজিটাল ক্যামেরার ফ্ল্যাশে উজ্জ্বল হয়ে উঠল কলকাতার ১৯ বছর বয়সী তরুণের মুখ। দ্বিতীয়ার্ধে চাপের মুখে ভারতকে বেশ কয়েকবার বাঁচিয়েছেন তিনিই। নেপাল কোচ কৃষ্ণা থাপাও প্রশংসা করলেন অরিন্দমের, ‘আমরা খুব ভালো খেলেছি। ওদের গোলকিপারের কারণেই গোল পাইনি।’
দিনের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তান শুরুতে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল মালদ্বীপকে। প্রথমার্ধ ছিল তাদেরই নিয়ন্ত্রণে। ৩২ মিনিটে গোল করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে আনন্দের উপলক্ষ এনে দেন হাসমতউল্লাহ বারকেজাই। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে জেগে ওঠে মালদ্বীপ। ৫২ মিনিটে গোল শোধ করে দেন আহমেদ তরিক। এর পর জ্বলে ওঠেন অধিনায়ক আশফাক আলী। মালদ্বীপের সেরা খেলোয়াড়ের ড্রিবলিং ছিল চোখে পড়ার মতো। ৭০ ও ৮৯ মিনিটে দুই গোল করে দলকে জিতিয়েও দেন তিনি।
পিছিয়ে পড়েও জিততে পেরে খুবই খুশি মালদ্বীপের হাঙ্গেরিয়ান কোচ উরবানি ইস্তাবেলা, ‘যেভাবে আমরা জিতলাম, তাতে আমরা খুশি। প্রথমার্ধে ম্যাচের যা অবস্থা ছিল, তাতে যে কেউ জিততে পারত। বিরতির সময় ড্রেসিংরুমে গিয়ে সবাইকে বুঝিয়েছি। দ্বিতীয়ার্ধে সবাই যেন নতুনভাবে জেগে উঠেছিল।’
এদিকে হেরেও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে খুশি আফগান কোচ ইউসুফ কারাগার, ‘আমার দলটা একেবারেই তরুণদের নিয়ে গড়া। এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতেও সমস্যা হচ্ছে। তা ছাড়া মালদ্বীপ খুব অভিজ্ঞ দল। দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা কয়েকটি সুযোগ মিস করেছি। তারপরও ছেলেরা যেভাবে খেলেছে তাতে আমি খুশি।’

ফিলিপাইনে হত্যাকাণ্ড ৬২ জনকে আটক

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মাগুইনদানাও প্রদেশে সামরিক আইন জারি করার পর সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে ৬২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে গভর্নর আনদাল আপাতুয়ান সিনিয়রের পরিবারের ১৫ সদস্য রয়েছেন। তাছাড়া সেনাবাহিনী বিপুল অস্ত্রশস্ত্র জব্দ করেছে। কর্তৃপক্ষ গতকাল রোববার এ কথা জানায়।
গত শনিবার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট গ্লোরিয়া অ্যারোইয়ো মাগুইনদানাও প্রদেশের গভর্নরের নিজস্ব আধাসামরিক বাহিনী ও অন্যান্য সংগঠনের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে আনতে শুক্রবার গভীর রাতে সেখানে সামরিক আইন জারি করেন। প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র সার্জে রেমন্ডে সাংবাদিকদের জানান, ‘মাগুইনদানাও হত্যাকাণ্ডের সুবিচারের স্বার্থে প্রেসিডেন্ট এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
স্থানীয় পুলিশের এক মুখপাত্র গতকাল বলেন, প্রদেশটিতে সামরিক আইন জারির পর ২৩ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, এমন লোকদের আটক করতে সুবিধা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে। গত ২৩ নভেম্বর আপাতুয়ানের ১০০ বন্দুকধারী সমর্থক আগামী বছরের নির্বাচনে গভর্নর পদপ্রার্থী ইসমায়েল মানগুদাদাতুর স্ত্রী ও তাঁর বোনসহ ৫৭ জন ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে ২৭ জন সাংবাদিক রয়েছেন।

সোমালিয়ায় আত্মঘাতী বোমায় আহত আরেক মন্ত্রীর মৃত্যু

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুর শামো হোটেলে গত বৃহস্পতিবারের আত্মঘাতী বোমা হামলায় আহত ক্রীড়ামন্ত্রী সুলাইমান ওলাদ রোবল শনিবার নাইরোবিতে মারা গেছেন। এ নিয়ে ওই বোমা হামলায় দেশটির চারজন মন্ত্রী মারা গেলেন।
বৃহস্পতিবার শামো হোটেলে বানাদির বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে চালানো ওই আত্মঘাতী বোমা হামলায় সরকারের শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিহত হন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সোমালি কূটনীতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, গুরুতর আহত ক্রীড়ামন্ত্রী কেনিয়ার আগা খান হাসপাতালে মারা যান। রোবলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বৃহস্পতিবার কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। ওই হামলায় চারজন মন্ত্রীসহ মোট ২৪ জন নিহত হয়।

বারলুসকোনির পদত্যাগের দাবিতে রোমে বিক্ষোভ

ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির পদত্যাগের দাবিতে সে দেশের রাজধানী রোমে গত শনিবার লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভ করেছে। দুর্নীতি, কর ফাঁকি ও মাফিয়া চক্রের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে। তবে বিক্ষোভকারীদের এসব অভিযোগ বরাবরের মতো এবারও নাকচ করে দিয়েছেন বারলুসকোনি। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার তিনি। খবর বিবিসি ও এএফপির।
প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের জন্য শনিবার বিক্ষোভকারীরা দিবসটিকে ‘বারলুসকোনিকে না বলো দিবস’ হিসেবে পালন করে। তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন সংগঠন এই বিশাল বিক্ষোভের আয়োজন করে। ইন্টারনেট ও সামাজিক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংগঠনগুলো বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
আয়োজকেরা বলেছেন, বিক্ষোভে অন্তত সাড়ে তিন লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে। এতে অনেক চলচ্চিত্র তারকা ও লেখকও অংশ নেন। তবে পুলিশ দাবি করেছে, বিক্ষোভে ৯০ হাজার লোক হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই বামপন্থী দলের সদস্য।
বিক্ষোভকারীরা ‘আমাদের স্বপ্ন—বারলুসকোনি কারাগারে’ বলে স্লোগান দিচ্ছিল। গিয়ানফ্রাঙ্কো মাসকিয়া নামের একজন বিক্ষোভকারী বলেন, সরকারবিরোধী এই আন্দোলনে প্রায় ১০ লাখ লোকের সমাগম হয়েছে।
ইতালির দুর্নীতিবিরোধী সাবেক বিচারক ও বিরোধীদলীয় নেতা অ্যান্তোনিও ডি পিয়েত্রোর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, ‘এটা গণতন্ত্রের দিন। এই দিনে এটাই প্রমাণিত হয়েছে, বিকল্প উপায়ের সন্ধানে ইতালির মানুষ একত্র হতে জানে। বেশির ভাগ মানুষই বারলুসকোনির পদত্যাগ চায়।’ তিনি বারলুসকোনি সরকারের নির্বাচনী, রাজনৈতিক, বিচারিক ও গণমাধ্যমসংক্রান্ত দুর্নীতির তীব্র নিন্দা জানান।
কর ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগে বারলুসকোনির পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভকারীরা প্লাকার্ড বহন করে। সরকারবিরোধী এ আন্দোলনের অন্যতম আয়োজক ইমানুয়েল ডি পাসকেল বলেন, ‘আমরা বারলুসকোনির পদত্যাগ চাই। আমরা মনে করি না, তিনি আমাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন।’
সাবেক মন্ত্রী ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য রোসি বিন্দি বলেন, তিনি এ বিক্ষোভে একজন ‘সাধারণ মানুষ’ হিসেবে অংশ নিয়েছেন। কোনো দলের হয়ে এতে অংশ নেননি। তিনি আরও বলেন, এটা খুবই তাত্পর্যপূর্ণ যে দেশের মানুষের একটি বিশাল অংশ বারলুসকোনি সরকারের পতন চায়। তারা এমন একজন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চায়, যিনি দেশের কোনো সমস্যারই সমাধান করছেন না।

নেপালে মাওবাদীদের ধর্মঘট পালন

নেপালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় দলীয় কর্মীদের মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল রোববার দেশজুড়ে সাধারণ ধর্মঘট পালন করেছে মাওবাদীরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ দলীয় নেতা-কর্মীরা রাজধানী কাঠমান্ডুর রাজপথে টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাড়ি ও মোটরবাইকে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ করেন। গত শুক্রবার নেপালের পশ্চিমাঞ্চলে দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে চারজন দলীয় কর্মীর মৃত্যু হয়। সেখানে সরকারি খাসজমির একটি বড় অংশ দখল করে রেখেছে ভূমিহীনেরা।

গিনির জান্তা প্রধান হত্যার চেষ্টাকারীকে গ্রেপ্তারে পুরস্কার ঘোষণা

গিনির সামরিক জান্তাপ্রধান ক্যাপ্টেন মুসা দাদিস কামারাকে হত্যার চেষ্টাকারী আবু বাকার সিদ্দিক দিয়াকিতিকে গ্রেপ্তারে সহায়তার জন্য বড় ধরনের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
জান্তা সরকারের একজন কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আবু বাকার সিদ্দিক দিয়াকিতি ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তারে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করার জন্য জনগণের প্রতি অনুরোধ জানান।
ওই কর্মকর্তা বলেন, যারা এই ভয়ঙ্কর অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অবদান রাখবে তাদের বড় ধরনের পুরস্কার দেওয়া হবে।
দিয়াকিতি বৃহস্পতিবার কামারাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার পর জান্তাপ্রধানকে চিকিত্সার জন্য মরক্কোতে পাঠানো হয়েছে।

পত্রিকা সম্পাদকদের কাছে রানি এলিজাবেথের চিঠি

ব্রিটিশ রাজপরিবারের ব্যক্তিগত বিষয়ে পাপারাজ্জি আলোকচিত্রীদের অনাহূত প্রবেশের ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দিতে সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন সম্পাদকদের কাছে চিঠি দিয়েছেন রানি এলিজাবেথ। রোববার বাকিংহাম প্যালেস থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।
রানির প্রেস অফিস থেকে বলা হয়েছে, বহু দিন ধরে আলোকচিত্রীদের রাজপরিবারের পিছু নেওয়ার বিষয়টি নিয়েই এ চিঠি সম্পাদকদের কাছে পাঠাচ্ছেন রানি।
‘ব্যক্তিগত প্রকাশের জন্য নয়’ লেখা ওই চিঠিতে কী লেখা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। রানির পক্ষ থেকে রাজপরিবারের এক আইনজীবী ওই চিঠি পাঠিয়েছেন।
তবে দ্য সানডে টেলিগ্রাফ পত্রিকা জানিয়েছে, রাজকার্যের বাইরে থাকা অবস্থায় কোনো আলোকচিত্রী রাজপরিবারের কারও পিছু নিলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রাজপরিবার।

পরিচয়পত্র না থাকায়...

ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ পোশাকের সঙ্গে পরিচয়পত্র সংযুক্ত না থাকায় শাস্তি হিসেবে বিদ্যালয়ের তিন ছাত্রীকে কান ধরে ৫০ বার ওঠবস করিয়েছে।শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়ের ৩৬০ বর্গমিটার খেলার মাঠে ১০ বার দৌড়িয়েছে। প্রথম শ্রেণীতে পড়া ওই ছাত্রীদের প্রত্যেকের বয়স মাত্র ছয় বছর। গত শুক্রবার ওই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীরা জানিয়েছে, শাস্তি দেওয়ার সময় বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপাল উপস্থিত ছিলেন। অভিভাবকেরা জানিয়েছেন, অমানবিক এই শাস্তিতে মেয়েরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। একটি ছাত্রীর অভিভাবক জানান, তাঁর মেয়ে পরিচয়পত্র নিয়ে গিয়েছিল কিন্তু ভুলে তা বিদ্যালয়ের পোশাকের সঙ্গে লাগানো ছিল না। সে শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি জানিয়ে শাস্তি না দেওয়ার আবেদন করলেও শিক্ষকেরা কর্ণপাত করেননি। ছাত্রীটি মাঠে দৌড়ানোর সময় কয়েকবার পানি খেতে চাইলেও তাকে পানি দেননি শিক্ষকেরা।

পুরস্কারের অর্থের পরিমাণকমিয়ে দিতে পারে নোবেল ফাউন্ডেশন

অর্থনৈতিক মন্দার নেতিবাচক প্রভাবের কারণে নোবেল পুরস্কারে দেওয়া অর্থের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে নোবেল ফাউন্ডেশন। গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মাইকেল সোলমান এ কথা জানান। চলতি বছর নোবেল পুরস্কার হিসেবে প্রতিটি শাখায় এক কোটি সুইডিশ ক্রাউন (১৫ লাখ ডলার) করে দিয়েছে নোবেল ফাউন্ডেশন। এক দশক ধরেই তারা এ পরিমাণ অর্থ পুরস্কার দিয়ে আসছে। কিন্তু মন্দার কারণে ফাউন্ডেশনের সম্পদে টান পড়ায় অর্থের পরিমাণ কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মাইকেল সোলমান বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমরা হয়তো পুরস্কারের অর্থের পরিমাণ কমাতে বাধ্য হতে পারি। আমরা ঝড়টা পার করে এসেছি কিন্তু তীরে পৌঁছাতে পারিনি।’ তিনি জানান, অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বিনিয়োগ করা অর্থের এক-পঞ্চমাংশ হারিয়েছিল ফাউন্ডেশন। তবে ২০০৯ সালে তাদের আর্থিক অবস্থা কিছুটা ভালো হয়েছে। সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেলের ‘উইল’ অনুযায়ী ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।
নোবেল ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বার্ষিক এ অর্থ পুরস্কার দেওয়ার জন্য তিন কোটি ১০ লাখ ক্রাউনের (৪৫ লাখ ডলার) নিরাপদ বিনিয়োগ দরকার। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ফাউন্ডেশনের বিনিয়োগ করা মূলধনের পরিমাণ ছিল ২৮০ কোটি ক্রাউন (৪০ কোটি ৭২ লাখ ডলার)। এ বছর নোবেল পুরস্কার দিতে গিয়ে ফাউন্ডেশনের খরচ হয়েছে ১২ কোটি ক্রাউন। ১৯৫০ সাল থেকে প্রতিবছর নোবেল পুরস্কারের অর্থের পরিমাণ স্থিতিশীল ছিল অথবা বেড়েছে।

লাদেনের ব্যাপারে কয়েক বছর ধরে তথ্য নেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, আল-কায়েদার নেতা ওসামা বিন লাদেনের অবস্থান সম্পর্কে তারা কয়েক বছর ধরে কিছুই জানে না। এ ব্যাপারে তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। যুক্তরাষ্ট্র লাদেনের অবস্থান যদি জানত, তাহলে ওয়াশিংটন তাঁকে পাকড়াও করত। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস এসব কথা বলেছেন।
গেটস এবিসি নিউজকে বলেছেন, ‘ওসামা বিন লাদেনের অবস্থান সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। যদি জানতামই, তাহলে তাঁকে পাকড়াও করতাম আমরা।’
পাকিস্তানে বন্দী এক তালেবান সদস্য গত সপ্তাহে বলেছেন, তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে যে ওসামা বিন লাদেনকে এ বছরের গোড়ার দিকে আফগানিস্তানে দেখা গেছে। তবে গেটস বলেন, লাদেনকে নিয়ে এ তথ্যের ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত নন।
লাদেনের অবস্থানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সর্বশেষ কবে তথ্য ছিল এবিসির ‘দিজ উইক’ প্রোগ্রামে এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, তা অনেক বছর হবে। পাকিস্তানে বন্দী তালেবান সদস্য সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানেন না বলেও গেটস জানান। ওই তালেবান সদস্য দাবি করেন, ৯/১১-এর আগে লাদেনের সঙ্গে তাঁর বহুবার সাক্ষাত্ হয়েছে। পাকিস্তানে বন্দী তালেবান সদস্য বলেন, তাঁর এক সহযোগী এ বছরের গোড়ার দিকে লাদেনকে আফগানিস্তানে দেখেছেন। এর আগে বিভিন্ন খবরে দাবি করা হয়েছিল, লাদেন আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী পাকিস্তান ভূখণ্ডে রয়েছেন। কিন্তু বন্দী তালেবান সদস্য বলেন, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এড়াতে লাদেনসহ অন্য জঙ্গিরা পাকিস্তান ছেড়ে পালিয়েছে।

জুন থেকে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও পরীক্ষামূলক ঋণ তথ্য -কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআইবি আধুনিকায়ন হচ্ছে



আগামী বছরের জুন মাস থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আসবে। এ সময় থেকে অনলাইনে পরীক্ষামূলকভাবে ঋণ তথ্য পাওয়ার কার্যক্রম চালু করা হবে।
আর অক্টোবর মাস নাগাদ পুরোমাত্রায় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের তথ্য অনলাইনে দেওয়ার পদক্ষেপ ও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
স্বয়ংক্রিয় ঋণ তথ্য ব্যুরো প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গতকাল রোববার এসব বিষয় জানানো হয়। রাজধানীর ঢাকা শেরাটন হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান প্রধান অতিথি ছিলেন।
প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা করছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিএফআইডি। আর কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি)।
জুন মাসে সিআইবির অনলাইন কার্যক্রম শুরু হলেও একই সঙ্গে প্রচলিত ম্যানুয়াল কার্যক্রম চলবে। এ সময় ব্যাংকগুলোকে পৃথক পৃথক পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিআইবির উপাত্ত ভাণ্ডারে প্রবেশ করতে পারবে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে ব্যাংকের কোনো শাখায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ঋণের আবেদন করলে ওই শাখা প্রধান কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বিস্তারিত তথ্য পাঠিয়ে ঋণের তথ্য জানতে চায়। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় শাখার আবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গ্রাহকের ঋণ তথ্য সংগ্রহ করে শাখায় পাঠায়।
এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে বেশ কয়েক দিন এমনকি মাসাধিকাল সময় লাগে। পুরোপুরি অনলাইন ব্যবস্থা চালু হলে তাত্ক্ষণিকভাবে এসব তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে।
গতকালের অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইএফসির আর্থিক বাজার বিশেষজ্ঞ এম রেহান রেশাদ ও ডিএফআইডি কর্মকর্তা ক্যাথরিন মার্টিন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নজরুল হুদা, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আতিউর রহমান বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠাগুলোকে সময়মতো সেবা দেওয়ার জন্য স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা খুবই জরুরি। এর ফলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং অর্থনীতি এগিয়ে যাবে।
গভর্নর বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে দ্রুত ঋণের তথ্য দেওয়া, তথ্য-উপাত্ত প্রক্রিয়া করা ও সংরক্ষণের জন্য স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা জরুরি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবিকে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় আনতে বেশ আগ থেকে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এই কার্যক্রম সম্পন্ন হলে ব্যাংকগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজস্ব কম্পিউটারে বসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব অনলাইন ব্যবস্থায় ঢুকে নিমিষেই গ্রাহকের ঋণ তথ্য পেয়ে যাবে।
গভর্নর জানান, ঋণের জন্য সিআইবিতে যে পরিমাণ আবেদন আসে, সে তুলনায় এর সক্ষমতা অপ্রতুল। এ ছাড়া কৃষি ও এসএমই খাতে ঋণ প্রসারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে ঋণ তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। সে কারণেও সিআইবির সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
এম রেহান রেশাদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোর বিকাশে অর্থায়নের সুযোগ প্রাপ্তি একটা বড় বাধা। এ অবস্থা পরিবর্তনে আইএফসি বিভিন্ন পদ্ধতিও অবকাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তা দিয়ে আসছে।
সোনালী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এ চৌধুরী বলেন, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় অনলাইনে ঋণ তথ্য পেলে ব্যাংক ও গ্রাহক উভয়েই উপকৃত হবেন। তিনি বাণিজ্যিক ব্যাংকের বড় শাখাগুলো সরাসরি এ তথ্য অনলাইন থেকে পাবে কি না তা জানতে চান। জবাবে গভর্নর বলেন, কোনো শাখায় যদি সে ধরনের ব্যবস্থা ও উপযুক্ততা থাকে তবে অবশ্যই এ সুযোগ দেওয়া হবে।

দর্শনা চিনিকলে আখ মাড়াই শুরু হয়েছে

দর্শনা চিনিকল হিসেবে পরিচিত দেশের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল কেরু অ্যান্ড কোম্পানির চলতি ২০০৯-১০ মৌসুমের আখ মাড়াই শুরু হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর আসনের সাংসদ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার প্রধান অতিথি হিসেবে গত শুক্রবার বিকেলে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাংসদ আলী আজগার, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প সংস্থার পরিচালক (অর্থ) এ কে এম দেলোয়ার হোসেন।
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম আলী আশরাফ খান প্রথম আলোকে জানান, চলতি মাড়াই মৌসুমে মোট এক লাখ ২০ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১২ হাজার মেট্রিক টন চিনি উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এতে চিনি আহরণের হার ধরা হয়েছে আট শতাংশ।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জাতিসংঘ উন্নয়ন নীতি কমিটির সদস্য হলেন

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ উন্নয়ন নীতিবিষয়ক জাতিসংঘ কমিটির সদস্য নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন নিজস্ব ক্ষমতায় ২৪ সদস্যের এই কমিটির নিয়োগ দিয়ে থাকেন। কমিটিতে তিন বছর মেয়াদে সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
কমিটি ইউনাইটেড নেশন ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিলের সহযোগী সংস্থা হিসেবে কাজ করে। এই কমিটি মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে কাউন্সিলকে বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও স্বতন্ত্রভাবে পরামর্শ দেবে।
একই সঙ্গে কমিটি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অবস্থান পুনর্মূল্যায়নে দায়িত্বশীল। এ ক্ষেত্রে অবস্থার উন্নয়ন হলে তার তদারকির দায়িত্বও এই কমিটির হাতে ন্যস্ত।
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক। তিনি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একজন উপদেষ্টা। তিনি দেশের ব্যাংক খাত সংস্কার বিষয়ে ইতিপূর্বে সরকার গঠিত দুটি কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। দারিদ্র্য, উন্নয়ন, সামষ্টিক অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি গবেষণা করে আসছেন।

বাংলাদেশে ইউনিডোর স্থায়ী কার্যালয় চালু করা হবে

শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া জানিয়েছেন, শিল্প খাতে সহায়তা বাড়ানোর লক্ষ্যে জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) বাংলাদেশে স্থায়ী কার্যালয় চালু করতে সম্মত হয়েছে। আগামী বছর জুনের মধ্যে বাংলাদেশ সফরকালে ইউনিডোর মহাপরিচালক কে ইয়ুমকেলা কার্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন।
শিল্পমন্ত্রী ৩-৪ ডিসেম্বর অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে জানাতে গতকাল রোববার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
ইউনিডোর কার্যালয় চালু হলে দেশের শিল্প খাতের উন্নয়ন ছাড়াও মানবসম্পদের উন্নয়নে সহায়তা পাওয়া যাবে বলে দিলীপ বড়ুয়া জানান।
শিল্প মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিল্পসচিব দেওয়ান জাকির হোসাইনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া সম্মেলনের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
সম্মেলনের আলোচ্য বিষয়বস্তু সম্পর্কে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার ফলে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উত্পাদনশীলতা ও আর্থ-সামাজিক সক্ষমতার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে এবং কীভাবে তা মোকাবিলা করা সম্ভব তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত সহায়তা, মন্দা মোকাবিলায় টেকসই ও পরীক্ষিত কৌশল গ্রহণ, কৃষি ও শিল্প খাতে সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পারস্পরিক সহায়তা ও প্রযুক্তির হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের নেতিবাচক দিক মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
সম্মেলনে বক্তৃতা সম্পর্কে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য লাগসই প্রযুক্তি হস্তান্তর ও পর্যাপ্ত সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। বিশ্বমন্দার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের উন্নতি ঘটাতে হবে। এ ছাড়া এসব খাতের উন্নয়নে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পণ্য ও সেবার জন্য পর্যাপ্ত বাজার প্রবেশাধিকার চেয়েছি।’
শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দায় স্বল্পোন্নত দেশভুক্ত ৪৯টি দেশের মধ্যে ২৪টি দেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলমান অর্থনৈতিক মন্দা ক্ষতিগ্রস্ত এসব দেশের সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য শিল্পোন্নত ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে আন্তপ্রযুক্তি হস্তান্তর, মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
ভিয়েনা ঘোষণা ও মন্ত্রী পর্যায়ে অনুমোদন সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সম্মেলন শেষে ১০ দফা ঘোষণা সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করা হয়। এ ঘোষণায় পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জ্বালানি, পরিবহন, পানি, যোগাযোগসহ অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগীদের পক্ষে সহায়তা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঘোষণায় স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক কার্যক্রমের বহুমুখীকরণ, প্রযুক্তির হস্তান্তর, মানবসম্পদ উন্নয়ন, অবকাঠামোর অগ্রগতি, বেসরকারি খাতের বিকাশ, আঞ্চলিক বাণিজ্য জোরদার, গবেষণা ও উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ে নিজেদের উত্পাদনশীল দক্ষতা শক্তিশালী করা প্রয়াস চালানোর বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

বাজারসুবিধার দাবি সমর্থন পেয়েছে অনিশ্চয়তা আলোচনার সমাপ্তি নিয়ে -ডব্লিউটিওর জেনেভা সম্মেলন সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বাজারসুবিধা পাওয়ার দাবিটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সপ্তম মন্ত্রী পর্যায়ের শীর্ষ সম্মেলনে সমর্থন পেয়েছে।
তবে দোহা পর্বের আলোচনা ২০১০ সালের মধ্যে শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সে কারণে বাজারসুবিধা পাওয়ার বিষয়টিও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
গত ৩০ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে যোগদান শেষে দেশে ফিরে গতকাল রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সামনে এমন বক্তব্যই তুলে ধরলেন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান।
মন্ত্রী বলেন, আট বছর কেটে গেল। তারপরও দোহা পর্বের এ আলোচনা আর কতদিন চলবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আর ২০১০ সালের মধ্যে এটি শেষ হওয়ার ব্যাপারে যথেষ্টই সন্দেহ রয়েছে সবার। তারপরও একের পর এক দেওয়া হচ্ছে শুধু প্রতিশ্রুতি আর প্রতিশ্রুতি। অথচ এসব প্রতিশ্রুতির একটিরও কোনো বাস্তবায়ন নেই।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত বাণিজ্যসচিব মোস্তাফা মহিউদ্দিন, আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আনিসুল হক, বিটিএমএর সভাপতি আবদুল হাই সরকার, বিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানসহ এ বিষয়ে গঠিত কোর কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ২০০৫ সালে হংকংয়ে ষষ্ঠ মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের পর জেনেভায় সপ্তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় গত সপ্তাহে। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থাপনা এবং সাম্প্রতিক বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিবেশ।’ ডব্লিউটিওর ১৫৩টি সদস্য দেশ এবং ৩৬টি পর্যবেক্ষক দেশের প্রায় তিন হাজার প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশ নেন। বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকে এতে অংশ নেয় ১৪ সদস্যের এক প্রতিনিধিদল।
ফারুক খান বলেন, ‘সম্মেলনে আমরা কোনো সাহায্য চাইনি। চেয়েছি সুন্দরভাবে ব্যবসা করার সুযোগ। অনেক দেশ পাঁচ শতাংশ বা নামমাত্র শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য রপ্তানি করতে পারে। অথচ বাংলাদেশ থেকে শুল্ক নেওয়া হয় ১৭ শতাংশের বেশি। এ বৈষম্যের প্রতিকার চেয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছি আমরা। অন্য দেশও একই রকমের বক্তব্য দিয়েছে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শেষ দিনে গোটা সম্মেলন নিয়ে সভাপতি যে সারসংক্ষেপ তৈরি করেছেন, তাতে শুল্ক বিষয়ে বাংলাদেশের এ অবস্থান প্রাধান্য পেয়েছে।’
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঁচটি বিষয় উপস্থাপন করার কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। এগুলো হলো, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব, শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজারসুবিধা, জলবায়ু পরিবর্তনে অসমভাবে আক্রান্ত দেশ (ডিএসি) হিসেবে বাংলাদেশকে যাতে উন্নয়নশীল অন্য দেশের চেয়ে বেশি শুল্ক না দিতে হয় সেই দাবি উত্থাপন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নত দেশে দক্ষ ও আধাদক্ষ শ্রমিক রপ্তানি এবং স্বল্পোন্নত দেশের খাদ্য আমদানির ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করা।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সম্মেলনে একটি প্লিনারি অধিবেশন এবং দুটি কার্য-অধিবেশন ছিল। প্লিনারি অধিবেশনে সব দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীরা নিজ নিজ দেশের স্বার্থ সম্পর্কিত তিন মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। আর প্রথম কার্য-অধিবেশনে হয় দোহা পর্ব নিয়ে পর্যালোচনা, বাজারসুবিধা প্রাপ্তি এবং ডিএসি হিসেবে বাংলাদেশকে বেশি শুল্ক না দেওয়ার বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন।
আর দ্বিতীয় অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল মন্দা উত্তরণ, প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে ডব্লিউটিওর অবদান। বাণিজ্য, খাদ্যনিরাপত্তা ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে অনুদান ও সহযোগিতা এবং বিশ্বমন্দার প্রভাব থেকে উত্তরণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনা হয়।
ফারুক খান বলেন, ‘সম্মেলনে মন্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। দোহা পর্ব ও হংকং সম্মেলনে বাজারসুবিধার যে কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার মোটেও বাস্তবায়ন হয়নি। আর রপ্তানি করা যায় এমন ৯৭ শতাংশ পণ্যের মধ্যে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলো নেই। ৯৭ শতাংশের মধ্যে যাতে আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য থাকে, সে ব্যাপারে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে সম্মেলনে।’
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের এ বক্তব্যের সঙ্গে অন্যরাও একমত। তবে দোহা পর্ব আলোচনা শেষ হলে এর কার্যকারিতা বোঝা যাবে। কিন্তু দোহা আলোচনা ২০১০ সালে শেষ হবে বলে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী কেউই তা মনে করেনি।’
আফ্রিকা ও এশিয়ার স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) মধ্যে এখন আর কোনো বিরোধ নেই বলে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এলডিসি সদস্য সবাই এক সুরে কথা বলেছে সম্মেলনে। মূল সম্মেলনের বাইরে (সাইডলাইন) লেসোথোর সঙ্গে একটি বৈঠকও হয়েছে যার ফল পাওয়া যাবে ভবিষ্যতে।’
মূল অনুষ্ঠানের বাইরে সার্ক সদস্য দেশ, গ্রুপ ১১০ এবং ওআইসি সদস্যদের সঙ্গেও ভিন্ন ভিন্ন বৈঠক হয়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
ফারুক খান বলেন, সম্মেলনে অংশ নেওয়া সবার একটাই বক্তব্য। আর তা হলো ২০১০ সালের মধ্যে চলমান দোহা পর্বের আলোচনা শেষ হবে কি না তা নিয়ে সংশয়। খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এ ব্যাপারে সন্দিহান। তবে তারাও চায় না এটি আর দীর্ঘায়িত হোক।
সম্মেলন থেকে আমরা কী পেলাম—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এতে ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি নেতিবাচক ও হতাশার দিকও ছিল বেশ। দোহা পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে যেটুকু মনে হলো, ডব্লিউটিওর সহযোগিতা নিয়ে নিজেদের সামর্থ্য এবং রপ্তানিপণ্যের বহুমুখিতা বাড়াতে হবে। আর বাড়াতে হবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দরকষাকষি করার দক্ষতা।’

জেরার্ড-ল্যাম্পার্ডের হতাশার রাত

গোল করেছেন তেভেজ, কিন্তু তাঁর সতীর্থরাই
যেন খুশি হলেন বেশি। তাঁর এই গোলেই যে
ম্যানসিটি হারিয়েছে চেলসিকে
ইংল্যান্ডের দুই ‘মিডফিল্ড জেনারেল’ স্টিভেন জেরার্ড ও ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের পরশুর রাতটা কেটেছে হতাশায়। লিভারপুলের জার্সি গায়ে জেরার্ড ৫০০তম ম্যাচ খেলেছেন এই রাতে। কিন্তু তাঁর এই মাইলফলক ছোঁয়ার আনন্দ মিলিয়ে গেছে ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ে। আর ম্যানচেস্টার সিটির কাছে চেলসির ১-২ গোলের হারের ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেছেন ল্যাম্পার্ড। তবে ওয়েস্টহামের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জিতে শীর্ষে থাকা চেলসির সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমিয়ে দুইয়ে নিয়ে এসেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। স্টোক সিটিকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আরেক বড় দল আর্সেনাল।
এ ম্যাচের আগেই জেরার্ড বলেছিলেন, এত বড় একটা মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়েও আনন্দ হচ্ছে না তাঁর। কারণ লিভারপুলের উনিশ বছর দীর্ঘ শিরোপা অভিযানটা মৌসুমের শুরুতেই শেষ হয়ে গেছে দৌড়ে পিছিয়ে পড়ায়। দুটি এফএ কাপ, দুটি লিগ কাপ, দুটি কমিউনিটি শিল্ড, একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ, দুটি সুপার কাপ এবং একটি উয়েফা কাপ—১০ বছরের ক্যারিয়ারে লিভারপুলে প্রায় সবকিছুই জিতেছেন জেরার্ড। অভাব শুধু একটি লিগ শিরোপার। পরশুর ড্র জেরার্ডকে মারল আরও নির্মম সত্যের চাবুক, অভাবটা এ বছরেও ঘুচছে না। তাহলে কী মূল্য এই মাইলফলকের!
ম্যানসিটি শিবিরে ঠিক উল্টো ছবি। টানা ৭ ম্যাচ ড্রয়ের পর জয় পেল মার্ক হিউজের দল। নিজেদের মাঠে ৮ মিনিটে ইমানুয়েল আদেবায়োরের আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ম্যানসিটিই। পরে আদেবায়োরই করেছেন সমতাসূচক গোল। ফ্রি-কিক থেকে জয়সূচক গোলটি করেছেন কার্লোস তেভেজ। শেষ বাঁশির ৮ মিনিট আগে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল চেলসি। কিন্তু ল্যাম্পার্ডের পেনাল্টি কিক রুখে দিয়েছেন ম্যানসিটির গোলরক্ষক শে গিভেন।
চেলসিসহ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বড় চার দলের দুটিকেই হারানো হয়ে গেল ম্যানসিটির। ম্যানইউর কাছে হারলেও ভালোই লড়েছে হিউজের দল। টানা সাতটি ড্রয়ের প্রসঙ্গ তুলে ম্যাচ শেষে হিউজ বলেছেন, ‘বড় দলের সঙ্গে জেতার জন্য কী প্রয়োজন তা আমরা জেনে গেছি। এখন ছোট দলের সঙ্গে কীভাবে জিততে হয় সেই জ্ঞান অর্জন করতে হবে।’
চেলসিকে হারিয়ে ম্যানসিটি ম্যানইউরও উপকার করল। স্কোলস, গিবসন, ভ্যালেন্সিয়া ও রুনির গোলে ৪-০ ব্যবধানে জিতেও ম্যানইউ চেলসির সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমাতে পারত না, যদি না ম্যানসিটি হারত। ১৫ ম্যাচ খেলে চেলসির পয়েন্ট এখন ৩৬, ম্যানইউর ৩৪।
ফেলিপ মেলো ও মার্সিসিওর গোলে ইন্টারকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ইতালিয়ান সিরি ‘আ’তে শিরোপা লড়াইটা উন্মুক্ত করে দিল জুভেন্টাস। ইন্টারের গোলটি করেছেন স্যামুয়েল ইতো। আরেক ম্যাচে সাম্পদোরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে মিলান। বরিয়েল্লো, সিডর্ফ ও পাতো করেছেন গোল তিনটি। এই জয় ১৫ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে মিলানকে তুলে দিল দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষে থাকা ইন্টারের পয়েন্ট ৩৫ এবং ৩০ পয়েন্ট নিয়ে জুভেন্টাস তৃতীয় স্থানে।

নায়ক রোনালদো, খলনায়কও রোনালদো

হায় ঈশ্বর, একি হলো! গোল মিস করার পর রোনালদো
নায়ক তিনি, তিনিই খলনায়ক। ‘ডক্টর জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইড’। পরশু স্প্যানিশ লিগের রাতটা এভাবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোময় হয়ে থাকল রিয়াল মাদ্রিদের জন্য। যে রাতে রেলিগেশন অঞ্চলের দুই ধাপ ওপরে থাকা পুঁচকে আলমেরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের মাঠে ৭৩ মিনিট পর্যন্ত পরাজয়ের শঙ্কায় কেঁপেছে রিয়াল। শেষ পর্যন্ত নায়ক রোনালদোয় উদ্ধার পেয়ে ৪-২ গোলের জয় নিয়ে ছেড়েছে মাঠ।
৩১ মিনিটে হেড থেকে করা সার্জিও রামোসের গোলের উত্স ছিলেন রোনালদোই। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে মাঠছাড়া রিয়াল প্রথম ধাক্কাটা খায় ৫৮ মিনিটে, ফার্নান্দো সোরিয়ানো গোল শোধ করে দিলে। চার মিনিট পর নাইজেরিয়ান কালু উচের গোল এগিয়ে দেয় আলমেরিয়াকে। অনেকের মনেই হয়তো উঁকি দিচ্ছিল ২০০৭-০৮ মৌসুমের স্মৃতি। যেবার এই আলমেরিয়াই রিয়ালকে হারিয়ে দিয়েছিল ০-২ গোলে। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পরের মৌসুমের প্রথম ম্যাচটাও জিততে পারেনি রিয়াল।
সেই ভয়ের স্মৃতি মুছে দিয়েছেন গঞ্জালো হিগুয়েইন, ৭৪ মিনিটে সমতা ফিরিয়ে। এর পর আবার দৃশ্যপটে রোনালদো। প্রথমে ৮২ মিনিটে পেনাল্টি আদায় করে নিয়ে নায়ক হয়ে গেলেন। সেই পেনাল্টিটাই মিস করে হয়ে গেলেন খলনায়ক। দৃশ্যটা আরও বড় করে চোখে বিঁধল, যখন গোলরক্ষকের কাছে বাধা পেয়ে ফিরে আসা বলে করিম বেনজেমা গোল করলেও সেই গোল-উদ্যাপনে যোগ দিলেন না। উল্টো হতাশায় ডুবে রইলেন পেনাল্টি মিস করার দুঃখে। এই রোনালদো যে স্বার্থপর!
কিন্তু রেকর্ড ৯৪ মিলিয়ন ইউরো খরচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে রিয়ালে পাড়ি জমা রোনালদো খলনায়ক হয়ে থাকবেন? মোটেও না। সময় নিলেন মাত্র দুই মিনিট। হিগুয়েইনের বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে ৮৪ মিনিটে করলেন লিগে তাঁর ষষ্ঠ গোল। না, এখানেই শেষ নয় রোনালদো-উপাখ্যান। গোল করার পর জার্সি-টার্সি খুলে উন্মাতাল উদ্যাপনের কারণে দেখলেন হলুদ কার্ড। আলমেরিয়ার এক খেলোয়াড়কে লাথি মেরে ৮৯ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড লাল হয়ে যাওয়ায় ছেড়ে যেতে হলো মাঠ।
এই হলো জেকিল-হাইড বৃত্তান্ত। যার জন্য রোনালদো অনুতপ্ত। ম্যাচ শেষে এই পর্তুগিজ উইঙ্গার ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি দিয়েছেন বেনজেমার গোল-উদ্যাপনে যোগ না দেওয়ার ব্যাখ্যা, ‘আমিও একজন রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ। ভুল আমিও করতে পারি। আসলে সেটি ছিল সহজাত প্রতিক্রিয়া, যার জন্য সতীর্থদের কাছে এরই মধ্যে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি। আসলে আমি খুব খুঁতখুঁতে। যা-ই হোক, করিম গোল করেছে, এটাই বড় ব্যাপার।’
ওদিকে একই দিন বার্সেনোলার কেন্দ্রীয় চরিত্রে আবার লিওনেল মেসি। না, ‘সুবোধ বালক’ মেসি অঘটনঘটনপটীয়সী নন। তিনি কেন্দ্রে থাকলেন দেপোর্তিভো লা করুনিয়ার বিপক্ষে ১-৩ গোলের জয়ে দুই গোল করে। ইউরোপ-সেরার পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জেতার চার দিন পরই মেসির জোড়া গোল! লিগে নয় গোল নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন তিনি (১০ গোল করে শীর্ষে ভ্যালেন্সিয়ার ডেভিড ভিয়া)। দুইয়ে মেসির সঙ্গে থাকা সতীর্থ জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচও পরশু লিগে তাঁর নবম গোলটি করেছেন। ২০০৫ সালের পর এই প্রথম করুনিয়ার মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরল শীর্ষে থাকা বার্সা। এই জয়ে রিয়ালের সঙ্গে ৫ পয়েন্টের দূরত্বও ধরে রাখল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

জিতেই শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরল ভারত

সিরিজ জয়ের সঙ্গে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠা,
ভারত ছিল কাল আনন্দে উদ্বেল
জলবত্ তরলং! এক নম্বরে ওঠা তাহলে এতই সোজা! কাল ভারতকে দেখে সেটাই মনে হতে পারে। রানের হিসেবে ৩৫, ওভারের হিসেবে ৭.৪। সকালের কুয়াশা ঠিকমতো কাটতে না-কাটতেই শেষ শ্রীলঙ্কা। ম্যাচ শেষে ভারতের উল্লাসটা শুধু ইনিংস ব্যবধানে ম্যাচ আর ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জেতার হয়ে থাকল না, সঙ্গে যোগ হলো আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে ওঠার আনন্দ। তাদের ৭৭ বছরের টেস্ট ইতিহাসে যে ঘটনা এই প্রথম।
৭৭ বছর বলাটা ঠিক হলো না। টেস্ট র্যাঙ্কিংটাই আসলে চালু হয়েছে ২০০৩ সাল থেকে। তখন থেকেই যেটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার একক সম্পত্তি। টানা ছয় বছর এক নম্বরে থেকে গত ২৩ আগস্ট টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি হাতছাড়া হয়ে যায় তাদের। সেই শঙ্কা অবশ্য গত জানুয়ারি থেকেই উঁকি দিয়েছিল। নিজেদের মাঠে অস্ট্রেলিয়া যখন ০-৩ ব্যবধানে ধবলধোলাইয়ের আশঙ্কায় ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। সিরিজের শেষ টেস্ট জিতে তখনকার মতো এক নম্বর জায়গাটি ধরে রাখতে পারলেও অ্যাশেজে হেরে গিয়ে আর শেষ রক্ষা হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকাকে একে তুলে দিয়ে অস্ট্রেলিয়া নেমে যায় চারে।
অস্ট্রেলিয়া এখনো চারেই আছে। তবে তিন থেকে এক লাফে ভারত উঠে গেল এক নম্বরে। সিরিজের শেষ টেস্টের শেষ দিনটা যেন ছিল এটিরই অপেক্ষায়। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটেছে জহির খানের বাঁ হাতে। শেষ চার উইকেটের তিনটিই তুলে নিয়েছেন তিনি। পথের কাঁটা হয়ে থাকা কুমার সাঙ্গাকারাকে বিদায় করেছেন দিনের তৃতীয় বলেই। রঙ্গনা হেরাথ আর নুয়ান কুলাসেকারাও তাঁরই শিকার। মাঠে নেমেই এলোপাতাড়ি ব্যাট চালাতে থাকা মুত্তিয়া মুরালিধরনকে ২০০১ সালের ক্যান্ডি টেস্টের (সেবার ৬৫ বলে ৬৭ করেছিলেন) মতো কিছু করার সুযোগ দেননি হরভজন সিং।
ভারতের মাটিতে টেস্ট জেতার স্বাদ তাই অচেনাই থেকে গেল শ্রীলঙ্কার কাছে। ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির কাছে আবার অচেনা টেস্ট পরাজয়ের স্বাদ। ১০ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ৭টিতেই জিতলেন, তিনটি হয়েছে ড্র। জেতালেন টানা চারটি সিরিজ। তবে ভারতের এক নম্বরে ওঠার একক কৃতিত্ব ধোনি পাচ্ছেন না। কারণ সর্বশেষ ১০ সিরিজের সাতটি জেতার ফলই এই শীর্ষস্থানের মুকুট।
একক কৃতিত্ব ধোনি নিজে নিচ্ছেনও না। পূর্বসূরি-সতীর্থ সবাইকে ভাগ করে দিয়েছেন সেটি। পাশাপাশি মনে করে দিয়েছেন সেই বাণী চিরন্তনী, মুকুট অর্জনের চেয়ে ধরে রাখাই কঠিন, ‘সত্যিকারের কঠিন দায়িত্ব শুরু হলো এখনই থেকেই। আমাদের এই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে হবে। সত্যিকারের কাজ শুরু হলো এখন থেকেই।’

এটির অপেক্ষাতেই ছিলাম: টেন্ডুলকার

দক্ষিণ আফ্রিকার একজন সাবেকের হাতে যখন দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়, টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের উন্নতির লেখচিত্রটা তখন ঊর্ধ্বমুখী। উন্নতি ঊর্ধ্বমুখী, কিন্তু তা শীর্ষের লক্ষ্যাভিসারী নয়। তবে ১৮ মাস পর সেই গ্যারি কারস্টেনের হাতে ওঠা দলটিই অধিকার করল টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান। পুরো ভারতই ভেসে যাচ্ছে আনন্দে। আর ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতীক হয়ে ওঠা শচীন টেন্ডুলকারের কাছে এ অনুভূতিটা অসাধারণ।
‘এটা অসাধারণ এক অনুভূতি। এটির জন্যই আমি অপেক্ষা করছিলাম, এই অনুভূতিটা আমাকে উদ্বেল করে তুলছে। এ যেন স্বপ্ন সত্যি হওয়া’—টেন্ডুলকার যেন বলতে চাইলেন, তাঁর ২০ বছরের হিরণ্ময় ক্যারিয়ারের শুরুর দিন থেকেই এই স্বপ্নটা তিনি দেখে এসেছেন।
সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার গ্যারি কারস্টেন যখন দলের দায়িত্ব নিলেন, তাঁর মনে এই বিশ্বাসটা ছড়িয়ে পড়েছিল যে, সর্বোচ্চ জায়গাটায় ভারত পৌঁছাবে। তবে শুধু কারস্টেনকেই নয়, সবার যূথবদ্ধ প্রচেষ্টাকেই কৃতিত্ব দিয়েছেন টেন্ডুরকার। গত অক্টোবরে বরখাস্ত হওয়া বোলিং কোচ ভেঙ্কটেশ প্রসাদ ও ফিল্ডিং কোচ রবিন সিংয়ের কৃতিত্বও তাঁর বিস্মৃতির পর্দার আড়ালে চলে যায়নি, ‘যখন গ্যারি, প্যাডি (উপটন) রবিন ও ভেঙ্কি প্রসাদকে নিয়ে এক হলো ১৮ মাস আগে, আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম শীর্ষস্থানে আমরা যেতেই পারি। গোটা দলেরই লক্ষ্য ছিল এক নম্বর জায়গাটি ধরে ফেলা এবং সব খেলোয়াড়ই এখানে আসতে অনেক পরিশ্রম করেছে।’
এ অর্জনটা গোটা দলের পরিশ্রমের পুরস্কার। আর যে দল এটি সম্ভব করে তুলল, মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বাধীন সেই দলটিকে টেন্ডুলকার বলছেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা ভারতীয় দল। কেন সেরা, সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শুধু দলটির ব্যাটিং-সামর্থ্যকেই সামনে এনেছেন টেস্ট-ওয়ানডের সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির মালিক, ‘আমাদের ব্যাটিং লাইনআপটা দুর্দান্ত, এক নম্বর থেকে সাত নম্বর পর্যন্ত।’
জীবনের একটি স্বপ্ন পূরণ হলো, র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠা ভারতীয় দলের সদস্য হিসেবে নাম লিখিয়ে রাখলেন তিনি। এবার কি তাহলে অবসর-ভাবনাটা ভাববেন টেন্ডুলকার? ‘মানুষ এ ব্যাপারে জানতেই চাইবে, তবে আমার খেলা উপভোগ করছি এবং মোটেই ওটা নিয়ে ভাবছি না’—অবসর-ভাবনাকে আবারও ‘স্ট্রেট ড্রাইভে’ চার মারলেন ভারতীয় ক্রিকেটের মহীরুহ।

বিশ্বকাপের আরেক সমস্যা উচ্চতা

উচ্চতা-আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না আর্জেন্টিনার। বাছাইপর্বে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৬৩৭ মিটার উঁচু স্টেডিয়ামে খেলতে গিয়ে আর্জেন্টিনা তো ১-৬ গোলের লজ্জা নিয়ে ফিরেছিল বলিভিয়া থেকে। আগামী বিশ্বকাপেও ‘বি’ গ্রুপে পড়া আর্জেন্টিনার জন্য অপেক্ষা করছে এই উচ্চতা-সমস্যা।
লা পাজের মতো না হলেও দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নিশ্চিতভাবেই উচ্চতাজনিত সমস্যায় ভুগতে হবে আর্জেন্টিনাকে। কারণ গ্রুপ পর্বে তাদের দুটো ম্যাচ জোহানেসবার্গে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যে ভেন্যু ১৭০০ মিটার উঁচুতে। অন্য ম্যাচটি পোলকওয়েনে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যেটির উচ্চতা ১২৩০ মিটার।
এবারের অন্যতম দুই ফেবারিট স্পেন, ব্রাজিলকেও দুটো ম্যাচ খেলতে হবে উঁচুতে। সাবেক চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের জন্যও অপেক্ষা করছে উচ্চতা-সমস্যা। ইংল্যান্ড, জার্মানি আর নেদারল্যান্ডকে মাত্র একটা ম্যাচ খেলতে হবে উঁচুতে। এদিক দিয়ে চরম সুবিধাভোগী দল হবে পর্তুগাল। পোর্ট এলিজাবেথ, কেপটাউন আর ডারবানে তাদের সবগুলো গ্রুপ ম্যাচ হওয়ায় দ্বিতীয় রাউন্ডের আগে উঁচুতে কোনো ম্যাচ খেলতে হবে না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোদের। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইতালির হবে মিশ্র অনভূতি। তাদের একটা ম্যাচ সমুদ্রতীরে, একটা ম্যাচ জোহানেসবার্গে আর একটা ম্যাচ ৬০০ মিটার উঁচু মালভূমিতে।
উচ্চতা-সমস্যা এই দলগুলোর জন্য যে কতটা কঠিন তার বড় প্রমাণ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার গত কনফেডারেশনস কাপ। গত জুনে বিশ্বকাপের পোশাকি মহড়াখ্যাত ওই টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বই পেরোতে পারেনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ইতালি কোচ মার্সেলো লিপ্পি তখন উচ্চতাকেই দায়ী করেছিলেন। তবে এবার তারা ভালো প্রস্তুতি নিয়ে আসবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘উচ্চতা কোনো সমস্যা নয়। গত গ্রীষ্মে সেটি ছিল, কারণ আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু এবার আমরা বেশ ভালোমতোই প্রস্তুতি নিয়ে আসব।’
শুধু ইতালি নয়, বাকি দেশগুলোকেও এই দিকটায় বাড়তি নজর দিতে হচ্ছে। অনেকেই প্রস্তুতি ম্যাচগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচুতে রাখার ব্যবস্থা করছে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হবে আর্জেন্টিনাকে!
এদিকে বিশ্বকাপের বল নির্মাতা অ্যাডিডাসের একটি গবেষণার ফলও বলছে, আগামী বিশ্বকাপে উচ্চতা একটা বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। বলের গতিতে প্রভাব ফেলবে ৫ শতাংশ। ফলে সতর্ক থাকতে হবে গোলরক্ষকদেরও। কারণ ফাইনালের ভেন্যু জোহানেসবার্গের সকার সিটি স্টেডিয়ামে ২০ গজ দূরত্ব থেকে নেওয়া কোনো ফ্রি-কিক ৫ শতাংশ দ্রুতগতিতে পৌঁছাবে গোলরক্ষকের কাছে। সাধারণ উচ্চতায় যে বল ঘণ্টায় ৭৪ মাইল গতিতে ছুটত, সেটিই উঁচুতে ছুটবে ঘণ্টায় ৭৮ মাইল গতিতে।

এক পয়েন্ট পেয়েই খুশি বাংলাদেশ!

বাংলাদেশের সঙ্গে ড্র করে সেমিফাইনালে যাওয়ার আশা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে পড়েছে দলের। এ অবস্থায় পাকিস্তানের কোচ জর্জ কোটানের মেজাজ ভালো থাকার কথা নয়।
ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে এসে প্রথমে কোনো মন্তব্যই করতে চাইলেন না। বাংলাদেশের সাবেক এই কোচ ক্ষুব্ধ কণ্ঠে জানালেন, ‘আমি আপনাদের প্রতি সম্মান দেখাতেই এখানে এসেছি। এই ম্যাচ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আমি যা বলার রেফারিকে বলেছি। আমি যদি কিছু বলি, তাহলে আমার ফেডারেশন বিপদে পড়ে যাবে। তাই নো কমেন্টস।’
ম্যাচ নিয়ে কেন তিনি ক্ষুব্ধ এক সাংবাদিক সেটি জিজ্ঞাসা করতেই উত্তেজিত হয়ে উঠলেন। রেগেমেগে বললেন, ‘আপনি কি ম্যাচ দেখেছেন? তাহলে তো সবই দেখেছেন।’ ওমানের রেফারি আল হোসনি ইব্রাহিমের ওপর দৃশ্যত ক্ষুব্ধই ছিলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন শেষে বেরোনোর পথে বাংলাদেশি ওই সাংবাদিকের কাছে রেফারির ‘অন্যায় বিচারের’ বর্ণনাও দিলেন, ‘পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে বাংলাদেশের কারোর ছোঁয়া লাগতেই রেফারি কার্ড দেখিয়েছেন, ফাউল দিয়েছেন।’
প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরেছে পাকিস্তান। কাল বাংলাদেশের সঙ্গে করল ড্র। অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেছে পাকিস্তানের সেমিফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন। আর ভুটানের বিপক্ষে জেতা বাংলাদেশ এই ম্যাচে ড্র করে ‘বি’ গ্রুপ থেকে শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকল অনেকখানি। কাল বাংলাদেশের খেলা দেখে মনে হয়েছে, কোনোমতে একটা পয়েন্ট পাওয়াটাই মুখ্য উদ্দেশ্য। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের কোচ সাহীদুর রহমান সান্টু সেটি স্বীকার করেও নিয়েছেন, ‘হ্যাঁ, আমরা একটু বেশি ডিফেন্সিভ খেলেছি। এটা আমাদের কৌশলেরই অংশ ছিল।’ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে চাইলেন না তিনি। তবে তুলে ধরলেন নিজেদের একটা দুর্বলতা, ‘আসলে এই ম্যাচ নিয়ে আমাদের খেলোয়াড়েরা বেশি এক্সাইটেড ছিল। এ কারণে ওরা ভালো খেলতে পারেনি। তবে এক পয়েন্ট পেয়েই সন্তুষ্ট আমি। সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য আশা করি এটাই যথেষ্ট।’
বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের তুলনায় পাকিস্তানি খেলোয়াড়েরা অনেক লম্বা। তাঁর দৃষ্টিতে গোল না পাওয়ার এটাও একটা কারণ, ‘উচ্চতা একটা সমস্যা ছিল। তবে বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা এই দলের অনেকেরই নেই। এটাও কারণ হতে পারে।’ আগের ম্যাচের উইনিং কম্বিনেশন ভাঙলেও এতে দলের ছন্দপতন হয়নি বলে মনে হয়েছে তাঁর, ‘একজন খেলোয়াড়কে বাদ দিয়েছি আসলে ইনজুরির কারণে। এতে দলের ছন্দে কোনো প্রভাব ফেলেনি।’

কোম্পানিগুলো কি মিছা কথা বলে -শেয়ারবাজার by আবু আহমেদ

আসলে মিথ্যার দিক দিয়ে কোম্পানিগুলোই সবচেয়ে বড় মিথ্যা বলে। তারা কখনো কখনো নিজেরা শেয়ার ব্যবসায়ী হয়ে পড়ে। যে কোম্পানি নিজে শেয়ার ব্যবসা করে, সেই কোম্পানি তথ্য যেমন গোপন করে, তেমনি অতিরিক্ত এবং অসত্য তথ্য ফলাও করে বাজারে ছেড়ে দেয়। কোম্পানি তো নিজে আর শেয়ার ব্যবসা করে না। কোম্পানির শেয়ার ডিরেক্টররাই এবং উচ্চ ম্যানেজমেন্টের লোকজন বাজারে বিক্রি করেন। সে জন্য তাঁদের স্বার্থ থাকে, শেয়ারের মূল্য যেন অনবরত বাড়তে থাকে। কয়েক বছর আগে শেয়ারবাজারে আরেকটি নতুন ধারণা চালু হলো, নাম হলো শেয়ার-অপশন। মানে, এক্সিকিউটিভদের তাঁদের আর্থিক সুবিধার একটা অংশ শেয়ারে দেওয়া হবে। এই শেয়ার অন্য কোম্পানির শেয়ার নয়, নিজ কোম্পানির; যেখানে তিনি প্রধান কর্মাধ্যক্ষ, শেয়ার। যুক্তরাষ্ট্রই প্রথমে ‘স্টক-অপশন’ নামের এই আধুনিক প্রণোদনা চালু করে। পরে বিশ্বের অন্য দেশগুলোও তাদের ম্যানেজিং ডিরেক্টরস ও অন্য উঁচু পদের ব্যবস্থাপকদের জন্য স্টক-অপশন নামের এই প্রণোদনার প্যাকেজ গ্রহণ করে। অর্থনীতি ও যুক্তি একটাই, টপ-এক্সিকিউটিভরা যদি স্টক-অপশন নিয়ে বেশি মূল্যে শেয়ার বেচতে পারেন, তাহলে তিনি তাড়াতাড়ি ধনী হবেন। আর স্টক-অপশনের জন্যই শুধু তিনি চাইবেন, কীভাবে বাজারে শেয়ার তথা স্টকের মূল্য বাড়ানো যায়। বাজার অর্থনীতির নিরিখে এই প্রণোদনার মধ্যে কোনো ত্রুটি নেই, বরং সব উপকার জ্ঞান বলে, এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও উপকৃত হবেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল অন্যত্র। অনেক এক্সিকিউটিভ শেয়ারের মূল্য বাড়ানোর জন্য মিথ্যা তথ্যের আশ্রয় নিলেন। তাঁরা কোম্পানির দায়কে চেপে যেতে লাগলেন। যে তথ্য দিয়ে তাঁরা স্থিতিপত্র ও ইনকাম-স্টেটমেন্ট সাজাতে লাগলেন, তাতে মনে হবে, কোম্পানি শুধু জ্যামিতিক হারে লাভই করে যেতে থাকবে। তাঁদের দেয় তথ্য ও পরিসংখ্যান দেখে অনেক বিনিয়োগকারী হুমড়ি খেয়ে পড়লেন ওই সব শেয়ার কেনার জন্য। মূল্য বেড়ে এক ডলারের শেয়ার হলো ২০০ ডলার। আর সেই ফাঁকে ওই টপ-এক্সিকিউটিভরা তাঁদের স্টক-অপশন প্রয়োগ করলেন। অর্থাত্ তাঁরা বাজারের অতি উচ্চমূল্যের সময়ে তাঁদের দেয় শেয়ারগুলো বেচে লাখ লাখ ডলার আরও অতিরিক্ত লাভ করলেন। এর পর থেকে সত্য বের হতে শুরু করল।
কোম্পানির লাভ কমতে লাগল, ঋণের চাপে কোম্পানির ধরাশায়ী হওয়ার অবস্থা হলো। তাহলে এত দিন ওই ঋণ কোথায় ছিল। ছিল কোম্পানির কাগজে ঠিকই, তবে ব্যালান্সশিটে নয়। ব্যালান্সশিটেও ছিল, তবে অতি গোপনে, ফুটেজে যে তথ্য সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পড়তে জানেননি। যখন প্রকৃত দেনার কথা সাধারণ্যে প্রকাশ হলো, তখন শেয়ার বেচার ধুম পড়ে গেল। আর সে অবস্থায় শেয়ার মূল্য ২০০ থেকে এক ডলারে এসে ঠেকল! কোম্পানির লোকজন অনেক ব্যাখ্যাই দিতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের কাছে কোনো ব্যাখ্যাই গ্রহণযোগ্য হলো না। তাঁরা কোম্পানির সিইও এবং টপ-ম্যানেজারদের মিথ্যাবাদী বললেন এবং তাঁদের প্রতি জুতা নিক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করলেন। কিন্তু তাতে কী হলো? এ প্রক্রিয়ায় লাখ লাখ বিনিয়োগকারী প্রায় সবকিছুই হারালেন। আর তাঁদের সেই হারানো অর্থ জমা পড়ল কতিপয় দুষ্ট মিথ্যাবাদী উদ্যোক্তা এবং এক্সিকিউটিভের পকেটে। একটি উদাহরণ হলো, ওয়াল স্ট্রিটের অন্যতম বৃহত্ কোম্পানি শেয়ার কেলেঙ্কারি। মিথ্যা তথ্য দিয়ে শেয়ার মূল্যকে বাড়ানোর দায়ে এবং ওই বাড়তি মূল্যে নিজেদের শেয়ারগুলো বিক্রি করে সুবিধা নেওয়ার জন্য আদালত সিইও এবং প্রধান অর্থ কর্মকর্তার ওপর জেল-জরিমানার দণ্ডাদেশ আরোপ করেন। কিন্তু তাঁদের এই কাজের অন্য সহযোগী কারা ছিলেন? প্রথমেই ছিল অডিটর। এ ধরনের ক্ষেত্রে অডিটর ছিল আর্থার অ্যান্ডারসেন নামের পৃথিবী বিখ্যাত অ্যাকাউন্টিং ফার্ম। কিন্তু সেই ফার্মও শেষ পর্যন্ত কোম্পানির ব্যবস্থাপকের সঙ্গে আপস করে কোম্পানির ঋণগুলোকে চাপিয়ে যায়। বিচারে অডিট ফার্মেরও জরিমানা হয় এবং এই ফার্মকে চিরদিনের জন্য অডিট করা থেকে বিরত থাকার জন্য হুকুম জারি করা হয়। শুধু একাই তথ্য গোপনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়নি, ওয়াল স্ট্রিটের অন্য অনেক কোম্পানিও ওই একই দোষে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। প্রশ্ন হতে পারে, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মতো এত শক্তিশালী রেগুলেটর থাকতে এসব হতে পারল কী করে? তবে সত্য হলো, শেয়ারবাজারে রমরমা অবস্থা চলতে থাকলে রেগুলেটর ক্রেডিট নিতেই ব্যস্ত থাকে। আর সব ফ্রন্টে যখন শীতলতা নেমে আসে, তখন রেগুলেটর প্রসিকিউটরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। তাদের এসইসি তো অনেক লোককে প্রসিকিউট করল, কিন্তু তাতে কি লাখ লাখ সাধারণ বিনিয়োগকারী তাঁদের হারানো অর্থ ফেরত পেয়েছেন?
কোম্পানির টপ-এক্সিকিউটিভরা এত মিথ্যার ডালা সাজাতে পারেন না। তাঁদের এ কাজে সহায়তা করেন অডিটর এবং অ্যানালিস্টরা। অডিটের অডিট রিপোর্টকে সব স্টেকহোন্ডারই অনেক মূল্য দেন। অডিটর নিযুক্ত হয় কোম্পানির সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের ভোটে। কিন্তু সত্য হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অডিটর শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ না দেখে কোম্পানির টপ-এক্সিকিউটিভদের পক্ষ নেয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে ওই কোম্পানির ঋণকে লুকানোর ক্ষেত্রে অডিটর আর্থার অ্যান্ডারসেন বড় ভূমিকা পালন করে। অন্য যাঁরা কোম্পানিকে মিথ্যা বলতে সহায়তা করেন তাঁরা হলেন বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বিশ্লেষকেরা। তাঁরাই সবুজ কালিতে কোনো কোনো শেয়ারের গুণ গাইয়ে বড় রিপোর্ট রচনার কাজটি করেন। তাঁরাই শেয়ারকে উঁচু মূল্যে বাজারজাত করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেন। আমাদের বাজারেও অডিটরের ভূমিকা অতি হতাশাব্যঞ্জক। অডিটর পারতপক্ষে কোম্পানি সম্পর্কে খারাপ বলতে চায় না। অতি অল্প কথায় ভালো ভালো বলে দায়িত্ব শেষ করে। তাদের সহযোগিতা নিয়েই তো অনেক কোম্পানি বাংলাদেশ শেয়ারবাজার থেকে অনেক অর্থ নিয়ে হয় উদাত্ত হয়েছে, নতুবা তাদের কোম্পানিকে ‘Z’ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করে ট্যাক্স-সুদ ও মুনাফা দেওয়া থেকে বেঁচে যাচ্ছে। কিন্তু এই ‘Z’ শ্রেণীর উপ-ম্যানেজারেরা ঠিকই অতি মূল্যমানের গাড়িতে চড়ে কোম্পানির ওপর খরচটা চাপিয়ে দিচ্ছেন।
এ ক্ষেত্রে আমাদের রেগুলেটর অতি নরম। তারা ‘B’ থেকে ‘Z’ শ্রেণীতে শ্রেণীবিন্যাস করেই যেন দায়িত্ব শেষ করছে। ওয়াল স্ট্রিটে টপ-এক্সিকিউটিভদের কেউ কেউ যখন তাদের ধোঁকাবাজির জন্য জেলে যাচ্ছিল, তখন মার্কিন অর্থনীতির অন্যত্র আর একটা কলঙ্ক সবার অলক্ষ্যে দানা বাঁধতে শুরু করল। সেটা হলো, সাব-প্রাইম মর্টগেজ কেলেঙ্কারি। সবাইকে বাড়ির মালিক বানাতে গিয়ে ব্যাংকগুলো ঋণ বেচার দোকানগুলোকে এমন উন্মুক্ত করে দিল যে ঋণের জন্য কোনো জামানতই প্রয়োজন পড়ল না। সবাই নিজ নিজ বাড়ি বন্ধক রেখে ভাগে মেতে উঠল।
অর্থনীতিতে জুলুসের হাওয়া বইতে লাগল। কিন্তু সেই জুলুস বেশি দিন চলল না। শিগগিরই ধরা পড়ল তারা অ্যাসেটভ্যালুর অন্তর্নিহিত মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি ঋণকে গছিয়ে দিয়েছে। শুরু হলো দরপতন। ঋণ ক্রেতার আর লোক পাওয়া গেল না। টক্সিক অ্যাসেটের ভারে পড়ে তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো একে একে দেউলিয়া হতে লাগল। প্রথমে বুশ, পরে ওবামা হাজার হাজার বিলিয়নস অব ডলারের রক্ষাকবচ নিয়ে এগিয়ে এলেন। এখন মার্কিন সরকার ইতিহাসের বৃহত্তম ঋণের ফাঁদে বন্দী। অন্যদিকে আমেরিকাবাসী শঙ্কিত সরকারের ওই ঋণ জোগান দেওয়ার জন্য তাদের ওপর আরও বেশি ট্যাক্স বসানো হবে!
এখন মার্কিন অর্থনীতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য ওবামা প্রশাসন চেয়ে আছে চীনসহ অন্যদের দিকে। তবে তাদের ফেরা আগের অবস্থানে আর কখনো হবে বলে মনে হয় না। এখন বিশ্বের জন্য মার্কিন অর্থনীতি আর এককভাবে ইঞ্জিন অব গ্রোথ বা প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন নয়। এখন চীন, ভারত, ব্রাজিলসহ আরও অনেক ছোট-বড় ইঞ্জিন বিশ্বের অর্থনীতিকে সামনে টানার কাজে লেগে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আস্ফাালন কিন্তু থেমে নেই। গুলি খাওয়া বাঘও অনেকক্ষণ লাফ দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থাও অনেকটা তাই। পুঁজিবাদের চারণভূমি নিজেই পুঁজিবাদের দংশনে দংশিত। এই দৈত্য যে অতি স্বাধীনতা পেলে কী ভয়ানক হতে পারে, তার প্রমাণ তো ওয়াল স্ট্রিটের কেলেঙ্কারিগুলো।
আবু আহমেদ: অর্থনীতিবিদ ও অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

জলবায়ু নিয়ে জুয়া -মিখাইল গর্বাচেভ ও আলেকজান্ডার লিখোতাল

ক্রমবর্ধমান সংশয় ও আলোচনায় অচলাবস্থার ফল হিসেবে শোনা যাচ্ছে কোপেনহেগেন সম্মেলনে সমন্বিত বৈশ্বিক জলবায়ু পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। হতাশাব্যঞ্জক? নিশ্চয়ই। তবে কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনকে সব সময় এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে উত্তরণের মধ্যবর্তী পদক্ষেপ বলে গণ্য করা হয়েছে। এখান থেকে আমরা কত দূর যাব, সে প্রশ্নটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
‘আগামীকাল’ শব্দটির ঘনিষ্ঠ যোগ আছে ‘ঝুলে পড়ার’ সঙ্গে। দেশগুলো মানতে বাধ্য এমন কোনো সমঝোতার অনুপস্থিতির অর্থ হতে পারে বিষয়টি ঝুলে যাওয়া। মহাপ্রলয়ের ভবিষ্যদ্বাণী শুনতে শুনতে ক্লান্ত মানুষ কোপেনহেগেনে জাদুকরী কিছু দেখতে মুখিয়ে আছে। যে ব্যর্থতার আশঙ্কা করা হচ্ছে তা যদি সত্যি হয়, তবে পরিণতিতে আমাদের রাজনীতিবিদদের ওপর আস্থার ক্ষেত্রে বড় ধরনের, হয়তো অপরিবর্তনীয়, ক্ষতি হতে পারে। আর তাই সরকারগুলোও আমাদের প্রত্যাশাগুলো সতর্কতার সঙ্গে সামলানোর চেষ্টা করছে।
জলবায়ু পরিবর্তন অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠার কতটা কাছাকাছি পৃথিবী পৌঁছেছে, সে বাস্তবতা মেনে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা আন্তরিকতার সঙ্গে এখনো আচরণ করছেন না। সরকারি পর্যায়ের আলাপ-আলোচনা বাস্তবতাবিবর্জিত। সমসাময়িক বৈজ্ঞানিক ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানের আলোচ্য প্রস্তাবনাগুলো গৃহীত হলে এই শতাব্দীতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আটটি ধনী দেশের গ্রুপ জি-৮ ও অন্যান্য দেশের নেতাদের সম্মত হওয়া তাপমাত্রার দ্বিগুণ।
আলোচনার টেবিলের বর্তমান প্যারামিটারগুলোর ওপর ভিত্তি করে কোনো মতৈক্য হলে তা রাশিয়ান রুলেটের মতো জুয়া খেলার চেয়েও ভয়ানক হবে। কোনো চুক্তি না হয়ে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়টি ঝুলে যাওয়া এবং দুর্বল জলবায়ু চুক্তির মতো আত্মপ্রবঞ্চনা—উভয়ই এড়াতে প্রয়োজন কোপেনহেগেনে এক সাফল্যের দেখা পাওয়া, যা এখনো সম্ভব।
আমাদের বাজি দ্বৈত পদক্ষেপ প্রক্রিয়ার পক্ষে। রাষ্ট্রগুলোকে সার্বিক লক্ষ্যমাত্রা, একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, আগাম কর্মপন্থা ও তহবিল প্রদানের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতিসংবলিত একটি কাঠামোর প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গীকার করা দরকার। আইনগতভাবে মানতে বাধ্য মতৈক্য চূড়ান্ত করতে হবে এ সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে আলোচনায় (COP15-bis), এবারের ঘোষণায় এই শর্ত থাকতে হবে। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশ প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে সক্ষম হবে এবং জাতিসংঘের আলোচনার উদ্যোক্তারা কপ ১৫ ঘোষণাকে যথাযথ, কাজের জন্য অনুকূল আইনি কাঠামোতে প্রতিফলিত করার সময় পাবে।
তদুপরি, আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ও পরিকল্পনাগুলোকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য ২০১৫ সালে পর্যালোচনার জন্য একটি সম্মেলনের দরকার হতে পারে। তাই, যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন রাষ্ট্রপ্রধানদের কোপেনহেগেন সম্মেলনে যোগ দেওয়া বেশি জরুরি। কারণ নেতাদের জোরালো ও সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই দ্বৈত পদক্ষেপের সমাধান কার্যকর হবে না।
সামনে এগোতে হলে শিল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। জলবায়ু অবিচারের প্রতিকার অবশ্যই করতে হবে, যেহেতু উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সইতে হয় এবং এর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে প্রচুর ব্যয় করতে হয়। ধনী দেশগুলোকে প্রচুর অর্থ দিতে হবে। তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সম্পদ নেই—এমন দাবি অন্তঃসারশূন্য শোনায়, তারা তো অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ট্রিলিয়ন ডলার ঢালতে পারে।
গরিব দেশগুলো নিজেদের ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ থেকে ভেটো প্রদানের ক্ষমতা কার্যকরভাবে এখন জি-৭৭ ও চীনের দিকে সরে যাচ্ছে। ১০ বছর আগে পশ্চিমে কেউ কি ভেবেছে, তাদের ভবিষ্যত্ বা সন্তানের মঙ্গল নির্ভর করবে বেইজিং বা দিল্লি বা আদ্দিস আবাবায় নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর?
তাই শিল্পোন্নত দেশগুলোকে যত শিগগির সম্ভব আলোচনার টেবিলে একটি প্রকৃত অর্থসংস্থানের প্রস্তাব রাখতে হবে, যেন উন্নয়নশীল দেশগুলো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানো ও অঙ্গীকারের ঘোষণা দেওয়ার জন্য সময় পায়। বিশেষত, আগাম শুরুর তহবিলের বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তার জন্য অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন করা জরুরি। পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরিতে তা সহায়তা করবে। অর্থপূর্ণ আলোচনা আবার চালু করার শর্ত তৈরিতেও তা ভূমিকা রাখবে।
চ্যালেঞ্জের মাত্রা বিষয়ে সঠিক তথ্য জানাতে হবে। সদিচ্ছা প্রকাশক ইঙ্গিত নয়, দরকার সুশৃঙ্খল ও রূপান্তরমূলক পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তনের সরকারি প্রতিক্রিয়া নতুন করে সাজাতে হবে হুমকির মাত্রা ও প্রয়োজনীয়তাকে বিবেচনায় নিয়ে। নতুন বৈশ্বিক সমঝোতা বিজ্ঞানভিত্তিক হতে হবে, স্বার্থান্বেষী মহলের লঘু করে দেওয়া কোনো আপসভিত্তিক হলে চলবে না।
যুক্তিসংগত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বায়ুমণ্ডলীয় কার্বন যে স্তরে সুস্থিত করা উচিত সে স্তর অর্জনে শিল্পোন্নত দেশগুলোকে ২০২০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন কমাতে হবে ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে তা প্রায় পুরো থামাতে হবে। এখন আলোচনার টেবিলে ২০২০ সালের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ কমানোর যে কথা তোলা হচ্ছে, তা হলে চলবে না। প্রধান প্রধান উন্নয়নশীল দেশকেও জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ উপশমমূলক কর্মসূচি অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। তবে ধনী দেশগুলোকেই আগে পদক্ষেপ নিতে হবে। গত ২০ বছরের নিষ্ক্রিয়তার ফলে তাদের কোনো অধিকার নেই অন্যকে নির্দেশ দেওয়ার।
নাগরিকদের সত্য অবহিত করা থেকে সরকার নিবৃত থাকা উচিত নয়। সবাইকে কিছু কোরবানি করতে হবে। কিন্তু আপনি কি চাইবেন আপনার ঘর পরিষ্কার, রুচিসম্মত ও নিরাপদ না হয়ে সস্তা, নোংরা ও বিপজ্জনক হোক? আপনি কি বলতে প্রস্তুত, ‘ঠিক আছে, উত্তরাধিকারসূত্রে এ ঘর আমি পেয়েছি, কিন্তু তা রক্ষণাবেক্ষণে আমি অবহেলা করেছি। আমার সন্তানেরা, তোমাদের মাথার ওপর তাই যেকোনো সময় ছাদ ভেঙে পড়তে পারে?’ এমন ধরনের উত্তরাধিকার আমরা কেউ নিশ্চয়ই রেখে যেতে চাইব না।
প্রজেক্ট সিন্ডিকেট থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
মিখাইল গর্বাচেভ: সোভিয়েত ইউনিয়নের সাবেক প্রেসিডেন্ট; গ্রিন ক্রস ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি
আলেকজান্ডার লিখোতাল: গ্রিন ক্রস ইন্টারন্যাশনালের সভাপতি; ক্লাইমেট চেঞ্জ টাস্কফোর্সের (সিসিটিএফ) সদস্য।

জামিনপ্রলয় ও সমাহিত বিচার -সরল গরল by মিজানুর রহমান খান

মিনিটে অন্তত একটি জামিন। তদুপরি আমাদের প্রশ্ন আদালতের এখতিয়ার নিয়ে নয়। প্রতিকারপ্রার্থী ও তাঁদের আইনজীবীদের সাংবিধানিক অধিকারের প্রতিও রয়েছে আমাদের যথাযথ শ্রদ্ধা। অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীদের জামিন- আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিন্তু আমরা মনে করি, কোনো মামলার গুণাগুণ বিচারে যেকোনো দণ্ডিতকে মুক্তি দেওয়া চলে। অন্যায়ভাবে ব্যক্তিস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হলে তার প্রতি উচ্চ আদালতের অধিকতর সংবেদনশীলতা কাম্য। যদি দেখা যায় যে বিচারিক আদালত কোনো উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ ছাড়াই কাউকে গুরুদণ্ড দিয়েছেন। কিন্তু শুধু নরহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের দায়ে দণ্ডিত বলেই তার প্রতি কঠোর মনোভাব দেখানো সমর্থন করা যায় না। তাই সে ক্ষেত্রে উচ্চ আদালত আপিল গ্রহণ করেই তাঁকে মুক্তি দেবেন। তেমন উপযুক্ত ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ আইন বিচ্যুত হয়ে সাজাদানকারী কোনো বিপথগামী বিচারকের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করবেন। দৃশ্যত কাউকে খামোখা সাজা দিলে হাইকোর্ট নির্দিষ্টভাবে তার সাজা স্থগিতও করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ব্যক্তির জামিন ভোগ আরও মর্যাদাপূর্ণ হতে পারে। কারণ, তার ললাটে তখন অপরাধীর চিহ্ন একেবারেই থাকে না। কিন্তু আলোচ্য ক্ষেত্রে কারোরই সাজা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা যায় না।
যা আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান হচ্ছে তা এককথায় অবিশ্বাস্য। কোনো নিয়মনীতি মানা হয়নি। গালফ এয়ারওয়েজে তোলার সময় সবজির কার্টন থেকে ২০০১ সালে উদ্ধার করা হয়েছিল প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকা দামের প্রায় সোয়া তিন কেজি হেরোইন। চাঞ্চল্যকর এই মাদক মামলায় অভিযুক্ত সৈয়দ মাজহারুল হোসেন রঞ্জুর যাবজ্জীবন সাজার রায় হয় গত ৯ মার্চ। ১৯ নভেম্বর তাঁর জামিন হয়। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের পরমুহূর্তেই পুরো ক্ষতি বোঝা যায় না। ক্ষতির ব্যাপকতা বুঝতে সময় লাগে। এখানেও লাগবে। তবে এটা সন্দেহাতীত যে, এক প্রলয়ংকরী প্রলয় ঘটে গেছে। আসলে গত ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঝড়ের গতিতে দেওয়া জামিন আদেশগুলো অনেকটা মুদ্রিত ফরম পূরণ করার মতো। অথচ পেন্ডিং আপিলে গুরুতর অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জামিন দিতে হলে তার উপযুক্ত কারণ অবশ্যই দেখাতে হবে। এ বিষয়ে সারা বিশ্বের উচ্চ আদালত প্রায় অভিন্ন নীতি অনুসরণ করে থাকেন। উপমহাদেশের সুপ্রিম কোর্টগুলোর মধ্যেও এ প্রশ্নে কোনো ভিন্নতা নেই। ফুটবল তারকা ও জে সিম্পসনকে আপনাদের মনে আছে? আমেরিকার নেভাদা সুপ্রিম কোর্ট গত ৪ সেপ্টেম্বর তাঁর জামিন আবেদন বাতিল করেন। কারণ, আদালতের ভাষায় পেন্ডিং আপিলে জামিন লাভের ‘হেভি বার্ডেন’ তিনি পূরণ করতে পারেননি।
আমাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ ধারার আওতায় আপিলের পর দণ্ডিত ব্যক্তি জামিন পায়। এ ধারা বলেছে, জামিন দিতে হাইকোর্টকে কারণ দেখাতে হবে। এই কারণের ওপর জোর এতটাই যে বলা হয়েছে, এটা লিখিতভাবে রেকর্ড করতে হবে। নির্দিষ্ট কারণ দেখাতে উপরন্তু রয়েছে সুুপ্রতিষ্ঠিত রেওয়াজ। প্রধানত দুটো কারণে পেন্ডিং আপিলে জামিন সমর্থিত। প্রথমত, শিগগিরই আপিলের শুনানির সম্ভাবনা না থাকা; দ্বিতীয়ত, যে অভিযোগে আপিলকারীকে দণ্ড দান, তার ভিত্তি আপাতদৃষ্টিতে খুবই দুর্বল। ডিএলআরের প্রকাশিত ‘সিআরপিসি’-র ৭৪৪ থেকে ৭৫১ পৃষ্ঠায় আপিলে জামিনদানের প্রায় ৪০টি রায় বা উদাহরণ রয়েছে। এর আলোকে মধ্য নভেম্বরের জামিন-ঝড় ভীষণ অচেনা এবং সে-কারণে তা অবিচারিক ও অসাংবিধানিক মনে হয়।
দুই দিনে ৭০০ জামিন আদেশ হলে অন্তত ৭০০ পৃথক অপরাধের ঘটনা ঘটেছে এবং প্রতিটি ঘটনার স্থান-কাল-পাত্র ভিন্ন হতে বাধ্য। তাই প্রতিটি জামিন আদেশই ভিন্ন ভিন্ন কারণসংবলিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে আদেশগুলো কম্পিউটারের নির্দিস্ট ফরম্যাট থেকে প্রিন্ট নেওয়া। এই আদেশগুলোতে হাইকোর্ট দাবি করেছেন, তাঁরা নিম্ন আদালতের রায়, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও নথিতে থাকা অন্য কাগজপত্র মনোযোগসহকারে পাঠ করেছেন। এখানে মনে রাখতে হবে, অধিকাংশ আপিলের নথিতে কমপক্ষে ১০০ পৃষ্ঠা থাকা কোনো ব্যাপারই নয়। বিচারিক আদালত ভ্রান্তিকর রায় দিতেই পারেন। তাই বলে শয়ে শয়ে দণ্ডিত ব্যক্তির প্রত্যেকেরই আপিল সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে? আলোচ্য বেঞ্চ কী করে শুধু দণ্ডিতের আইনজীবীদের যুক্তিতেই প্রতিটি ক্ষেত্রে একতরফা ‘যথেষ্ট সারবস্তু’ পাওয়ার দাবি করতে পারেন? প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল এ রকম গুরুত্বপূর্ণ একটি জামিনের শুনানি অন্তত আধা ঘণ্টা সময়সাপেক্ষ বলে লেখকের কাছে উল্লেখ করেন। আইনমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতির কাছে প্রশ্ন হলো, এই গণজামিন কি ১৯৫০ সালের অ্যাক্ট (এতে বলা আছে, সদ্বিশ্বাসে বিচারকেরা ভুল করলেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না) দ্বারা সমর্থিত হতে পারে?
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরের উদ্যোগকে আপাতত আমরা আংশিক ও অপ্রতুল না মনে করে পারি না। কারণ যা ঘটেছে তা খালি চোখেই অভাবনীয়। এটা শুধু আটপৌরে আপিলের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জযোগ্য নয়। এর তাত্পর্য ও ব্যাপকতা অনেক বেশি ও ভয়ংকর। আইন ও বিচারমন্ত্রী ক্ষীণ কণ্ঠে সাংবাদিকদের যা বলেছেন, তা কার্যত রুটিনের বাইরে নয়। জামিন বিচারকের ডিসক্রিশন। কিন্তু তাতে বিচারিক মনের প্রতিফলন থাকতেই হবে। এই এখতিয়ার যে অসীম নয়, নয় মোটেই জবাবদিহির ঊর্ধ্বে এবং ভুল হলে তিরস্কার ও শাস্তিদানের ঘটনাও যে ঘটে, এর অনেক প্রমাণ তো আমাদের হাতে আছে।
বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ও হাইকোর্ট বিভাগের তিন জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত জিএ কমিটি নিম্ন আদালতের শৃঙ্খলা দেখে। তারা ‘স্বৈরাচারী কায়দায়’ আদালত পরিচালনার দায়ে বিচারিক আদালতের বিচারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে আসছে। ২০০৮ সালের ২৭ জুলাই জেলা ও দায়রা জজ হাসান ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, ‘তিনি তাঁর বডিগার্ড, ভারপ্রাপ্ত নাজির, স্টেনোগ্রাফার ও পাঁচ-ছয়জন দুর্নীতিবাজ আইনজীবীর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে গুরুতর অপরাধ অর্থাত্ হত্যা, ডাকাতি, চোরাচালান, অস্ত্র ও সার পাচার মামলার চিহ্নিত আসামীদের জামিনে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি স্বৈরাচারী কায়দায় কোর্ট পরিচালনা করেন।’
হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারউল হক এ অভিযোগের বিষয়ে তাঁর তদন্ত প্রতিবেদনে লেখেন, ‘সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ, বিচারক আর্থিক সুবিধা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় নজিরবিহীনভাবে জামিন দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের জামিন প্রদানে আর্থিক লেনদেনের অকাট্য প্রমাণ সাধারণত মেলে না। তাই অভিযোগকারীরা অনুরূপ প্রমাণ উপস্থাপনের চেষ্টা না করে সংশ্লিষ্ট নথির অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও নজিরবিহীন আদেশগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো প্রমাণে সচেষ্ট হয়েছেন।’
এখানে যে বিষয়টি লক্ষণীয় তা হলো, বিচারক ঘুষ নিয়ে জামিন দিয়েছেন কি না, এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। কিন্তু বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারউল হক ওই বিচারককে অভিযুক্ত করেন এই মর্মে যে ‘তদন্তে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে বিচারকের একতরফা জামিন আদৌ প্রত্যাশিত ও সুবিচারকসুলভ আচরণের পরিচয় ছিল না।’ ওই জেলা কোর্ট কিন্তু জামিন আদেশে কারণ উল্লেখ করেছিলেন। তদুপরি ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “অভিযোগপত্রভুক্ত এক আসামি আত্মসমর্পণ করেন। অথচ পরদিনই তিনি (বিচারক) ‘আসামি এজাহারভুক্ত নন এবং তাঁর বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট কোনো অভিযোগ না থাকার অজুহাতে’ তাঁকে জামিন দেন। এটা কোনো অবস্থায়ই বিচারকসুলভ মনোভাবের পরিচায়ক নয় বরং স্বেচ্ছাচারিতার বহিঃপ্রকাশ।” এ ছাড়া এক দিনে প্রচুরসংখ্যক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় জামিন দানের ঘটনা যে দোষণীয় হতে পারে, তাও আমরা এখানে দেখি। বিচারপতি হক লিখেছেন, ‘সরকারপক্ষের আপত্তি সত্ত্বেও পর্যাপ্ত তথ্য তুলে ধরার কোনো অবকাশ না দিয়ে জামিন প্রদান তাঁর (বিচারকের) সার্বিক বিচারিক কর্মকাণ্ডকেই দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’ জামিন দেওয়া নিয়ে এই যে এত কঠিন মন্তব্য, সেখানে খুনের মামলার উদাহরণ ছিল মোটে একটি! হাইকোর্ট বিভাগের আলোচ্য ক্ষেত্রে খুনের ঘটনা ৫০টির কম হবে না। আর আইন কর্মকর্তাদের অর্থাত্ সরকারপক্ষের বক্তব্য রাখার কোনো সুযোগই ছিল না। প্রতিটি আদেশে গত্বাঁধা একটি বাক্য বরাদ্দ রাখা হয়, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিনের বিরোধিতা করেছেন।
গত ৫ নভেম্বর প্রথম আলোর সম্পাদকীয়তে আমরা এ ঘটনায় বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চেয়েছি। এর মূলে রয়েছেন অ্যাডভোকেট এম নুরুল ইসলাম সুজন, যিনি আওয়ামী লীগের সাংসদ। প্রকাশ্য আদালতে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে বিরলতম। ২৩ নভেম্বর তিনি ওই বিচারপতি এ এফ এম আবদুর রহমান ও বিচারপতি মো. ইমদাদুল হক আজাদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে ‘প্যান্ডোরার বক্স’ খোলেন।
হাইকোর্ট বিভাগে জামিন দেওয়ার একই এখতিয়ারসম্পন্ন অন্তত পাঁচটি বেঞ্চ আছে। কিন্তু সেখানে আইনজীবীরা ছুটে যাননি। আলোচিত দুই দিনে এক হাজার একটি পেন্ডিং আপিলে জামিন আবেদন ওই বেঞ্চের কার্যতালিকায় ছাপা হয়। আরব্যরজনী উপন্যাসখ্যাত এই আশ্চর্য সংখ্যা সৃষ্টির বাহাদুরিতে বেঞ্চ অফিসারদের সক্রিয় ভূমিকা থাকে।
আমরা বহু দিন ধরে বলে আসছি, বিওদের সম্পদের বিবরণী নেওয়া হোক। সাংসদ সুজনের সঙ্গে সেদিন সুর মেলান প্রবীণ আইনজীবী এবিএম নুরুল ইসলাম। তিনি এজলাসে বিচারপতিদের আসনঘেঁষে উপবেশনরত বিওদের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করেন। বলেন, জামিনের একটি আবেদন তালিকাভুক্ত করতে তাঁর মক্কেলকে ৬০ হাজার টাকা (জনশ্রুতিমতে তালিকাভুক্তির সাধারণ রেট ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এটা ওঠানামা করে) ঘুষ দিতে হয়েছে। ‘টাকার ভাগ অনেকেই পায়’, এ কথাও তিনি বলেন। ‘বিচারপতিদ্বয় তাঁদের অভিযোগ মনোযোগসহকারে শোনেন এবং তদন্তের আশ্বাস দেন’ বলে সুজন প্রথম আলোকে গতকাল বলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহ্বুবে আলম অবশ্য লেখকের কাছে আক্ষেপ করে বলেন, আর্থিক অভিযোগ কোনোক্রমেই উপেক্ষা করা চলে না। প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়েও এর সুষ্ঠু তদন্ত বাঞ্ছনীয়। সুজন আরও বলেন, তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত সংস্থা, বিশেষ করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে পুরো ঘটনার তদন্ত চান।
আমরা মনে করি, ১৮ ও ১৯ নভেম্বরের ঘটনা আইনমন্ত্রী বর্ণিত ‘জাস্টিস হারিড জাস্টিস বারিড’কেও হার মানিয়েছে। আমরা সমাহিত বিচারের উপযুক্ত জবাবদিহি চাই। যেকোনো ধরনের ‘বিচারিক বাড়াবাড়ি ও বিচারিক রোমাঞ্চাভিলাষ’ বন্ধে দ্রুত উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। এর আগে জরুরি অবস্থায় মিনিটে জামিন দেওয়ার আলোচিত ঘটনায়ও বিচারপতি মো. ইমদাদুল হক আজাদ সংশ্লিষ্ট ছিলেন। এই রাষ্ট্র যদি শুধু আলোচ্য ক্ষেত্রে আটপৌরে আপিল করেই চুপচাপ বসে থাকে, যথা প্রতিকারে উদ্যোগী না হয়, তাহলে বুঝতে হবে তারা রুগ্ণ ব্যবস্থাটিকে বাঁচিয়ে রাখতে চায়। শুধু আপিল মানে হাইকোর্টের কার্যক্রমকে এক ধরনের বৈধতা দানও।
বিচারকদের আচরণ সত্যি ‘বিস্ময়কর’ হলে এর তদন্তে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানানোর মুখ্য দায়িত্ব সরকারের। কাউন্সিলও সুয়োমোটো উদ্যোগী হতে পারেন। ১৯৯৫ সালে মাত্র একজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জামিন দেওয়ার ঘটনায় হাইকোর্ট সুয়োমোটো রুল জারি করেছিলেন। হাইকোর্টের বিরুদ্ধে হাইকোর্টকে আমরা এগিয়ে আসতে দেখেছি। তাহলে কাউন্সিল কেন এত বড় জামিনপ্রলয়ে বিচলিত হবে না?
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক।
mrkhanbd@gmail.com

‘এমনভাবে আর অপমানিত হইনি’ -নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন চিকিৎসকেরা

চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগী বা তাদের আত্মীয়স্বজনের ক্ষোভ-বিক্ষোভের ঘটনা প্রায়ই ঘটলেও চিকিত্সাসেবা পাওয়ার পর চিকিৎসকের ওপর চড়াও হওয়ার নজির বিরল। ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলায়। স্থানীয় যুবলীগের দুই কর্মী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে রোগী দেখানোর জন্য একজন চিকিৎসককে জোর করে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যান। চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর তাঁরা চিকিৎসককে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে প্রথম আলোর কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধির খবর থেকে জানা যায়।
কোনো রাজনৈতিক দল বা সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা এ ধরনের গর্হিত কাজ করতে পারেন, তা ভাবতেও অবাক লাগে। সমাজে চিকিৎসা পেশার একটি বিশেষ সম্মান আছে। সেই সম্মান দেওয়া তো দূরের কথা, চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করতেও দ্বিধা করেননি যুবলীগের কর্মীরা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির ঘটনা বেড়েছে। সেই সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মীদের বেপরোয়া আচরণও লক্ষ করা যাচ্ছে। এ নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বহুবার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। এসব হুঁশিয়ারি যে তাঁদের চৈতন্যোদয় ঘটাতে পারেনি, ইটনার ঘটনাই এর প্রমাণ। সংশ্লিষ্ট চিকিত্সক নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘আমার চাকরিজীবনে এমনভাবে আর অপমানিত হইনি।’
এ ব্যাপারে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অগ্রহণযোগ্য। দিনদুপুরে একজন চিকিৎসক লাঞ্ছিত হওয়ার পরও তিনি ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। যুবলীগের ওই দুই কর্মীর বিরুদ্ধে সংগঠন কী ব্যবস্থা নেয়, তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। কিন্তু চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করে তাঁরা যে ফৌজদারি অপরাধ করেছেন, সে জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ধরনের মাস্তানি ও সন্ত্রাসী ঘটনার বিচার না হলে অপরাধীরা যেমন আশকারা পাবে, তেমনি মফস্বলের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সেবা দেওয়ার মতো কাউকে পাওয়া যাবে না।

বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন -একটি সমন্বিত চুক্তিতে আসতে হবে

পৃথিবী নামে পরিচিত আমাদের এই প্রিয় গ্রহটি মানুষের বসবাসের যোগ্য হিসেবে টিকে থাকতে পারবে কি না, তা অনেকাংশে নির্ভর করছে কোপেনহেগেন জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনের সিদ্ধান্তের ওপর। সম্মেলনের দুটি দিক। প্রথমত, বায়ুমণ্ডলে কার্বন নির্গমনের হার প্রত্যাশিত মাত্রায় কমিয়ে আনা, যেন জলবায়ুর উষ্ণায়ন রোধের একটা উপায় বের করা যায়। মানুষ যেন বেঁচে থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, জলবায়ু উষ্ণায়নের ফলে ইতিমধ্যেই যেসব দেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এবং আগামী কয়েক দশকে যেসব দেশের মানুষ ও প্রকৃতি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে, তাদের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া। বিষয়টি বাংলাদেশ, মালদ্বীপসহ আরও বেশ কিছু দেশের জন্য জরুরি। কারণ, উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে এসব দেশের বিরাট অংশ ডুবে যাওয়ার হুমকি সৃষ্টি হয়েছে।
সম্মেলনে যদি সব দেশ মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্তে আসতে পারে যে, তারা আগামী ২০২০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন বর্তমানের তুলনায় অন্তত ৪৫-৫০ শতাংশ কমিয়ে আনবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন প্রায় বন্ধ করবে, তাহলে ভবিষ্যত্ নিয়ে আশাবাদী হওয়া যায়। কিন্তু সে রকম সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্ভাবনা প্রায় নেই। এখন আলোচনা চলছে কীভাবে প্রথম ধাপে ১৫-২৫ শতাংশ ও দ্বিতীয় ধাপে ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ কার্বন নির্গমন কমিয়ে আনা যায়। যদি সেটাও হয়, কিছুটা সম্ভাবনা আছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্মেলনের শেষ দিনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্ববাসীকে আশান্বিত করে তুলেছেন। কারণ, এতে বোঝা যায় একটি অর্থবহ চুক্তিতে আসার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব আগের তুলনায় কিছুটা ইতিবাচক। মূলত তাদের মনোভাবের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ শিল্পোন্নত এবং সাম্প্রতিককালে চীন-ভারতসহ উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো বেশি জ্বালানি তেল পুড়িয়ে বাতাসে বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড ছড়ায়। ফলে জলবায়ুর গড় উষ্ণতা বেড়ে যায়। মার্কিন মহাশূন্য সংস্থা নাসার এক হিসাবে দেখা গেছে, ১৯৯৭ সালের পর ২০০৮ সালটি ছিল নবম উষ্ণতম এবং ২০০৯ সালটি হতে চলেছে ষষ্ঠ উষ্ণতম বছর। বিজ্ঞানীদের ধারণা, বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা চার-পাঁচ ডিগ্রি বাড়লে প্রাণের অস্তিত্ব লোপ পেতে পারে। বর্তমান ধারা চলতে থাকলে সেই ভয়ংকর পরিণতিই বরণ করতে হবে। তাই একদিকে জ্বালানি তেল ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি ও অন্যদিকে আরও বনায়ন, বন উজাড় বন্ধ প্রভৃতির মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
শিল্পোন্নত দেশগুলোর কার্বন স্বেচ্ছাচারিতার শিকার বাংলাদেশ। উপকূলবর্তী প্রায় তিন কোটি মানুষ জলবায়ু-উদ্বাস্তুতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিরূপ প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য মানুষ সংগ্রাম করছে। সরকার পরিকল্পনা নিয়েছে। সাধ্যমতো নিজস্ব উদ্যোগে জলবায়ু-তহবিল গড়ে তুলছে। কিন্তু পাশাপাশি শিল্পোন্নত দেশগুলোর কাছেও আমাদের দাবি আছে। জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশ আগামী চার বছরে এক হাজার কোটি ডলার সহায়তা চাইবে। প্রয়োজনের তুলনায় এটা কিছুই নয়। কিন্তু ন্যূনতম তহবিল নিয়েই আমাদের জীবনসংগ্রামে নামতে হবে।
মনে রাখা দরকার যে, যতটুকু তহবিলই পাওয়া যাক না কেন, তা জলবায়ু-বিপন্ন মানুষ ও এলাকার জন্য দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় করার সক্ষমতাও আমাদের অর্জন করতে হবে। না হলে কোনো সহায়তাই কাজে আসবে না।