Wednesday, June 22, 2011

ইংল্যান্ড সফরে চোখ যুবরাজের

যুবরাজ সিং অসুস্থ। আর সে কারণেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ মিস করছেন তিনি। বিশ্রামে থেকে অসুস্থতা কাটানোর চেষ্টায় রয়েছেন। একই সঙ্গে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ সিরিজেই তিনি দলে ফিরতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।
বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হাতে তুলেছেন। অসুস্থতার মধ্যেও আসন্ন ইংল্যান্ড সফর নিয়ে তিনি দারুণ সিরিয়াস। ক্রিকেটের জনকদের তাদের মাটিতে হারিয়েই যে ভারতের বিশ্বকাপ শ্রেষ্ঠত্বের ধারাবাহিকতার প্রমাণ রাখতে হবে।
যুবরাজ সিং জানিয়েছেন, তিনি খুব দ্রুতই সেরে উঠছেন। খুব তাড়াতাড়িই তিনি ম্যাচ ফিটনেসের উপযুক্ত হয়ে উঠবেন বলে তিনি আশা করছেন।
অসুস্থ হলেও বিশ্রামে থাকতে খুব একটা মন্দ লাগছে না যুবরাজের। তাঁর মতে, অসুস্থতার কারণেই কিছুটা অবসর পেয়েছি। সেই অবসর পুরোপুরিভাবেই উপভোগের পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। তবে সেই উপভোগটি হচ্ছে সম্পূর্ণ বাড়িতে থেকে পরিবার, বন্ধু-বান্ধবের সান্নিধ্যে। অতিরিক্ত ক্রিকেট নিয়ে যখন খেলোয়াড়দের অভিযোগের শেষ নেই, ঠিক তখনই, মোটামুটি উপভোগ্য একটি অবসরই পেয়ে গেলেন ভারতের এই ক্যারিশমাটিক তারকা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট সিরিজে ভারতের শুরুটা একেবারেই ভালো হয়নি। কেবল এই সিরিজেই নয়, অনেক দিন ধরেই কোনো টেস্ট সিরিজেই সূচনাটা ভালো হচ্ছে না ভারতীয় দের। যুবরাজ বলেন, এ ব্যাপারটি সত্যিই চিন্তার। টিম মিটিংয়ে এগুলো নিয়ে যথেষ্ট আলাপ-আলোচনা হয়। অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিও ব্যক্তিগতভাবে এ ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তিত।
ক্রিকেটে রেফারেল পদ্ধতি নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই যুবরাজের। তিনি বলেন, ‘এ পদ্ধতিটি ভালো কি মন্দ, তা বিচার করার দায়িত্ব আমার নয়, ক্রিকেট প্রশাসকদের। তারাই ব্যাপারটি নিয়ে ভাবুন।’
যুবরাজের সবচেয়ে বড় সমস্যা তিনি তাঁর পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক নন। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেও আইপিএলে তিনি ছিলেন একেবারেই ফ্লপ। তিনিও ব্যাপারটি জানেন, বোঝেন। তবে সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এ সমস্যাটি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।

বিক্ষোভের মধ্যে ডিএসইতে এসইসির চেয়ারম্যান

অব্যাহত দরপতনের প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীদের একাংশের বিক্ষোভ প্রদর্শনকালেই সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন গতকাল বিকেলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডিএসই ভবনের সামনের রাস্তায় বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে বিক্ষোভকারীরা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, এসইসির চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন ও ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই এসইসির চেয়ারম্যান ডিএসইতে প্রবেশ করেন। তিনি ডিএসইর নেতাদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সৌজন্য সাক্ষাতে আসেন। তবে এ সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
গত চার কার্যদিবসের পতনের ধারাবাহিকতায় গতকালও দিনের প্রথম বেলায় ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক পড়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বেলা সোয়া দুইটার দিকে কিছু বিনিয়োগকারী রাস্তায় নেমে আসেন।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ঘুরে দাঁড়ায় ও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দিকে যায়।
দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৯ পয়েন্ট বেড়ে হয় ৫ হাজার ৬৯৫ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বাড়ে ১৪৫টির, কমে ৯৫টির এবং অপরিবর্তিত থাকে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের। ডিএসইতে গতকাল ৩৪১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১৩ কোটি টাকা কম।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক গতকাল কমে ১৫ হাজার ৭৯৫ দশমিক ১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে হাতবদল হওয়া ১৮৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ৮৪টির, কমেছে ৮৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৫৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে চার কোটি টাকা কম।
এসইসির চেয়ারম্যান: এসইসির চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন গতকাল বিকেলে ডিএসইর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য যেসব কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, আমরা তা করে যাচ্ছি। বাজার বর্তমানে যে অবস্থায় আছে, সেখান থেকে উত্তরণ এক দিনে সম্ভব নয়। তবে আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।’
খায়রুল হোসেন আরও বলেন, এসইসি পুনর্গঠন হওয়ার পর এই প্রথম তাঁরা ডিএসইর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন। তাঁরা কী কী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, কী কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, সেসব বিষয়েও আলোচনা করেছেন। তিনি আরও বলেন, এসইসির আইন-কানুনগুলো কীভাবে আরও যুগোপযোগী করা যায় এবং পুঁজিবাজার যাতে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো যায়, তা নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে। ডিএসই ও এসইসির পরস্পর সমন্বয়ের মাধ্যমে কীভাবে একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার উপহার দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া বাজারের বর্তমান তারল্য সংকট কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডিএসইর প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, ‘নতুন কমিশনের সঙ্গে এটা আমাদের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ। এ বৈঠকে বাজার-পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
এসইসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে এসইসির সদস্য হেলাল উদ্দিন নিজামী, আমজাদ হোসেন ও আরিফ খানও সৌজন্য সাক্ষাতে যোগ দেন।

পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী

দেশের পুঁজিবাজার আজ মঙ্গলবার দিনভর ছিল ঊর্ধ্বমুখী। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দিনের লেনদেন শেষে বেড়েছে দুই শতাধিক শেয়ারের দাম। সঙ্গে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে।
ডিএসইতে আজ সাধারণ মূল্যসূচক ৪৯.৩১ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৭৪৫.০৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়। আজ লেনদেন হওয়া ২৫৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ২০৩টির দাম বেড়েছে। ৪৩টির কমেছে ও অপরিবর্তিত রয়েছে আটটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে মোট ৪৫৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১১৫ কোটি টাকা বেশি।
ডিএসইতে লেনদেনের ১০ মিনিটের দিকে সূচক ১২১ পয়েন্ট বেড়ে যায়। প্রথম আধঘণ্টা শেষে সূচক ১১৪ পয়েন্ট বাড়ে। এরপর সূচক বাড়ার হার কিছুটা কমে যায়। দ্বিতীয় ঘণ্টার পর সূচক ১০৬ পয়েন্ট বাড়ে। তবে বেলা দুইটার পর থেকে সূচক বাড়ার হার কমতে থাকে। দিন শেষে সূচক বাড়ে ৪৯ পয়েন্ট।
এ সময়ে লেনদেন হওয়া শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—বেক্সিমকো, লঙ্কা বাংলা ফাইন্যান্স, ইউসিবিএল, এম আই সিমেন্ট, আফতাব অটো, বেক্সটেক্স, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, সিটি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড ও এনবিএল।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক আজ ১৬৪.২২ পয়েন্ট বেড়ে ১৫৯৫৯.৪০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে হাত বদল হওয়া ১৮৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৪৭টির, কমেছে ৩২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৫৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ২০ কোটি টাকা বেশি

পুঁজিবাজার কেলেঙ্কারির জন্য দায়ী অর্থমন্ত্রী ও গভর্নর

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান উর রশীদ চৌধুরী অভিযোগ করেছেন যে পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারির পেছনে অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দায়ী বলে তাঁরা মনে করেন। সুতরাং, তাঁদের জনতার আদালতে বিচার হওয়া উচিত। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০১১-২০১২ প্রেক্ষাপট: পুঁজিবাজার-প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও প্রতিক্রিয়া’ সম্পর্কিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মিজান উর রশীদ চৌধুরী এ কথা বলেন।
মিজান উর রশীদ চৌধুরীর অভিযোগ, পুঁজিবাজার ও দেশের শিল্পকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য আইএমএফের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অর্থমন্ত্রী ও গভর্নর কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম সরকার জাতীয় বাজেটে পুঁজিবাজারবান্ধব ঘোষণা রাখবে। তবে এবারের বাজেটে এর কোনো বাস্তব প্রতিফলন নেই।’
পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ও গতিশীলতা ফেরাতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ১৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত শেয়ারবাজারে লেনদেন স্থগিত করা, অবিলম্বে অপ্রদর্শিত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টা ও ডিএসই সভাপতিকে অপসারণ, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত এসএলআর ও সিআরআর হার কমানো।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আবদুর রাজ্জাক, সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম, শাহাদাত উল্লাহ ফিরোজ, ফয়সাল আহমেদ, সাজ্জাদুল হকসহ অনেকে।

ইউরিয়ার দাম কমাবেন, না প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করবেন? by শাইখ সিরাজ

বাজেটের মাস জুনের প্রথম দিন সরকার ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে আট টাকা বৃদ্ধি করেছে। কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, ইউরিয়ার যথেচ্ছ ব্যবহার ও চোরাচালান বন্ধের জন্য নেওয়া হয়েছে এ উদ্যোগ। তিনি বলেছেন, ভারতের চেয়ে এখানে ইউরিয়া সারের দাম কম হওয়ায় তা চোরাচালান হয়ে যায়। ইউরিয়ার মূল্যবৃদ্ধি কৃষকদের জন্য বড় একটি ধাক্কা। এরপর ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকিসহ কৃষির মোট বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। উপকরণই যেখানে কৃষকের মূল চাওয়া, সেখানে প্রধান উপকরণ সারে ১২ টাকার জায়গায় ২০ টাকা গোনা কঠিন ব্যাপার। মাঠপর্যায়ে হিসাব কষে দেখা গেছে, ইউরিয়ার মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিঘাপ্রতি ধানের উৎপাদন খরচ কমপক্ষে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা বেড়ে যাবে। কেজিপ্রতি ধানের উৎপাদন খরচ বাড়ছে কমপক্ষে ৬০ পয়সা। আমাদের দেশে কৃষক এখনো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ৩৩ শতকের বিঘাপ্রতি ইউরিয়া ব্যবহার করছেন ৩৫ থেকে ৫০ কেজি পর্যন্ত। এটি অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু ইউরিয়ার ব্যবহার কমিয়ে আনার বিকল্প প্রযুক্তি কেন দেশের সব কৃষকের কাছে পৌঁছাল না, সে প্রশ্ন না উঠে পারে না।
গুটি ইউরিয়া: ১৯৯৪-৯৫ সালে ইন্টারন্যাশনাল ফার্টিলাইজার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (আইএফডিসি) আনল নতুন এক বার্তা। গুঁড়ো বা দানা ইউরিয়ার পরিবর্তে গুটি ইউরিয়া ব্যবহার করলে কৃষক অনায়াসে ইউরিয়ার ব্যবহার কমিয়ে আনতে পারবেন। প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা বুঝে আমি বিটিভির ‘মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকে আইএফডিসির দলকে সঙ্গে নিয়ে এ বিষয়ে অনুষ্ঠান করতে গেলাম কুমিল্লার নওয়া গ্রামে। অনুষ্ঠানটি প্রচারের পর বিভিন্ন মহল থেকে, এমনকি কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও সম্প্রসারণ বিভাগ থেকেও এক রকমের অলিখিত প্রতিবাদ আসতে থাকল। যুক্তি দেখানো হলো, কৃষক কোমর ভেঙে খেতের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গুটি ইউরিয়া পুঁতবে? এটি কোনোভাবেই লাভজনক ও কল্যাণকর নয়। যদিও কৃষক তখনো ধানের চারা রোপণ করতেন কোমর ভেঙে, আজও তা-ই করেন। ঠিক এর ১২ বছর পর, ২০০৭ সালের কথা বলছি। বিশ্ববাজারে ইউরিয়ার সংকট তৈরি হয়। দাম বেড়ে যায় অস্বাভাবিক। কৃষক ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে এক কেজি ইউরিয়া মেলাতে পারছেন না। সে সময় আবারও গুটি ইউরিয়া ব্যবহারের বার্তা নিয়ে হাজির হলাম কৃষকদের কাছে। কৃষকেরা এগিয়ে এলেন। তবে প্রায় পাঁচ বছর হতে চলল, গুটি ইউরিয়ার ব্যবহার যেখানে পৌঁছানোর কথা ছিল, ততদূর পৌঁছায়নি। খোঁজখবর করে দেখলাম, বাংলাদেশে বোরো মৌসুমে গুটি ইউরিয়া ব্যবহার হচ্ছে মাত্র সাত শতাংশ আবাদি এলাকায়। আউশ-আমনে ব্যবহার হচ্ছে মাত্র দুই থেকে তিন শতাংশ জমিতে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র বলছে, এবার বোরো মৌসুমে সাড়ে ছয় লাখ হেক্টর জমিতে গুটি ইউরিয়া ব্যবহার হয়েছে, এতে হেক্টরপ্রতি এক টন বেশি ফলন হিসাবে সর্বমোট সাড়ে পাঁচ লাখ টন বেশি ফলন হয়েছে। হেক্টরপ্রতি ইউরিয়া সাশ্রয় হয়েছে ১০০ কেজি। হিসাব করে দেখা গেছে, ৩৩ শতকের বিঘায় আগে কৃষকেরা ইউরিয়া ব্যবহার করতেন ৩৫ থেকে ৫০ কেজি, যেখানে গুটি ইউরিয়া ২০ থেকে ৩০ কেজি। ফলন পাচ্ছেন বিঘাপ্রতি পাঁচ থেকে ১০ মণ বেশি। কৃষকপর্যায়ে গুটি ইউরিয়ার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও কৃষি বিভাগ এর জোগান দিতে পারছে না, যে কারণে সম্প্রসারণও ঘটছে না।
এলসিসি: এলসিসি হচ্ছে লিফ কালার চার্ট। ধানখেতে ইউরিয়া প্রয়োগের মাত্রা পরিমাপের একটি মাধ্যম। বাংলাদেশে এ প্রযুক্তিটি এসেছে ২০০৪ সালে। ২০০৪ সালে যখন আধুনিক ধান গবেষণা ও এশিয়ার দেশগুলোর এ ক্ষেত্রের অগ্রগতির খোঁজখবর নিতে ফিলিপাইনের লস ব্যানোসে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে যাই, সেখানে এই লিফ কালার চার্ট ব্যবহার নিয়ে বিজ্ঞানীপর্যায়ে ব্যাপক তৎপরতা চলছিল। তাঁরা আশা করছিলেন, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বল্পোন্নত ধান উৎপাদনকারী দেশগুলো অনেক বেশি এগিয়ে যেতে পারবে; অন্যদিকে ধানের উৎপাদন-ব্যয়ও কমে আসবে। ওই বছরই আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইরি) পেট্রা প্রকল্পের মাধ্যমে ঝিনাইদহে কৃষকের খেতে এই এলসিসির ব্যবহার দেখতে যাই। কৃষকেরা ম্যাজিক প্রযুক্তি হিসেবে গ্রহণ করে এ পদ্ধতি। ইউরিয়া সাশ্রয় করতে পেরে দারুণ উপকৃত হন তাঁরা। পাতার রং মিলিয়েও চাহিদা বুঝে ইউরিয়া প্রয়োগ করে কৃষক এক বিঘা জমিতে ৫০ কেজির জায়গায় সর্বনিম্ন ১৩ কেজি ও সর্বোচ্চ ২০-২২ কেজি ইউরিয়া প্রয়োগ করেই অন্যান্য সময়ের চেয়ে চার-পাঁচ গুণ বেশি ফলন পান। পরীক্ষিত ও কার্যকর এই প্রযুক্তি নিয়েও দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের কাছে গিয়েছি। কৃষক থেকে শুরু করে কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও এর ব্যবহারের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছি। তাঁরাও উৎসাহ দেখিয়েছেন। বলেছেন, পর্যাপ্তসংখ্যক লিফ কালার চার্ট কৃষকদের ব্যবহারের জন্য দেওয়া হলে এ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ দ্রুতই ঘটানো সম্ভব। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সারা দেশে এলসিসি ব্যবহারে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উদ্বুদ্ধকরণ, মাঠ দিবসসহ নানা কর্মকাণ্ডের উদ্যোগ নেয়। সারা দেশে ১২ হাজার ২০০ ব্লকের সব ধানচাষিকে ৩০টি দলে ভাগ করে দুই লক্ষাধিক চাষিকে এলসিসি ব্যবহারবিষয়ক হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়। ফিলিপাইন থেকে আমদানি করে প্রায় তিন লাখ এলসিসি কৃষকপর্যায়ে বিনা মূল্যে বিতরণও করা হয়েছে। কিন্তু কৃষকপর্যায়ে এলসিসি সহজলভ্য না হওয়ায় এর সম্প্রসারণ ঘটেনি; যে কারণে ইউরিয়ার ব্যবহারও কমেনি।
ইউরিয়া স্প্রে: ইউরিয়া সারের যখন তীব্র সংকট, তখন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার শালিয়াবহ গ্রামের কৃষক আবদুল আজিজ আনারসের খেতে ব্যবহার করেন অদ্ভুত এক পদ্ধতি। ২০ লিটার পানিতে এক কেজি ইউরিয়ার তরল দ্রবণ। পাতা বেয়ে সে রস আনারসের গাছে ঢুকে দ্রুতই সবুজ করে তুলল খেত। একবার তিনি ধানের খেতেও ব্যবহার করলেন একই অভিজ্ঞতা। এক বিঘা জমিতে তিনি প্রয়োগ করেছেন তিন-চার কেজি ইউরিয়ার দ্রবণ। তাঁর দেখাদেখি আরও দু-একজন কৃষকের কাছে পৌঁছে গেল এ পদ্ধতি। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের মাধ্যমে এ বিষয়ে গবেষণা প্লটে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ করা হয়। তাঁরাও ওই পদ্ধতির পক্ষেই কথা বলেন। ঘাটাইলের ওই কৃষক এবং তাঁর দেখাদেখি যাঁরা ইউরিয়া স্প্রে শুরু করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই বিশ্বাস করেন, ইউরিয়া স্প্রে করে ভালো ফল পাওয়া যায়। এতে ইউরিয়ার ব্যবহার ১০ ভাগের এক ভাগে নামিয়ে আনা সম্ভব।
বিজ্ঞান এসেছে কৃষকের হাত ধরে। বিজ্ঞানী এসেছেন সেই জ্ঞান অর্জন করে। আজ প্রাতিষ্ঠানিক বিজ্ঞান অনেক বেশি বিকশিত। তাই বলে কৃষককে গৌণ করে দেখার সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে আমি দু-একটি তথ্য তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তা বোধ করছি। গাছ পাতার সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুত করে, যা আমরা সবাই অবহিত; কিন্তু গাছ যে পাতার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের খনিজ উপাদানও সরাসরি গ্রহণ করতে পারে, তা আমরা অনেকেই অবহিত নই। গাছের পাতার মাধ্যমে খাদ্য গ্রহণের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে এখন থেকে অর্ধশত বছর আগে। ১৯৫০ সালে আমেরিকার মিশিগান ইউনিভার্সিটির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের দুজন বিজ্ঞানী ড. এইচ বি টুকি ও এস এইচ উইটার প্রমাণ করেন, পাতার মাধ্যমে গ্রহণ করা খাদ্য উপাদান গাছের মধ্যে কীভাবে ঢুকে যায়, স্থানান্তরিত হয় ও কীভাবে মেটাবলিক কার্যাবলিতে অংশগ্রহণ করে। তাহলে কৃষক আবদুল আজিজ যে কাজটি করেছেন, তা-ও বিজ্ঞানসম্মত। এদিকে বেশ কিছুদিন আগে বিএডিসি পাবনার বীজ বিপণনের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আরিফ হোসেন খান আমাকে জানিয়েছেন, ‘ম্যাজিক গ্রোথ’ নামের একটি গ্রোথ প্রোমোটর তিনি উদ্ভাবন করেছেন। এই গবেষণা করতে গিয়ে তিনি ধানের পাতায় ইউরিয়ার স্প্রের কার্যকারিতা খুঁজে পান। ইতিমধ্যে তাঁর উদ্ভাবিত ম্যাজিক গ্রোথ লবণাক্ত মাটিতে ধান চাষের ক্ষেত্রে দারুণ কার্যকর উপাদান হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। তিনি এটিকে পরিচিত করছেন ‘তরল সার’ হিসেবে, যা স্প্রে করে প্রয়োগ করতে হয়; যা ইউরিয়া স্প্রের নামান্তর। যাঁরা ওই তরল সার ব্যবহার করেছেন, তাঁরাও এটি ব্যবহারের প্রশ্নে এককাট্টা।
ইউরিয়ার দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষক যে ক্ষতির মুখে পড়বেন, এতে সন্দেহ নেই। যদি কৃষকের ইউরিয়ার ব্যবহার অর্ধেকে নামিয়ে আনা যেত প্রতিটি এলাকায়, তাহলে মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা অনেক কমই লাগত। জানি না, কোন অদৃশ্য কারণে আমাদের দেশে ইউরিয়ার ব্যবহার কমানোর পদ্ধতিগুলো মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণে গতি নেই। দেশের চাহিদামাফিক ৩০ লাখ টন ইউরিয়া বাবদ কেজিতে আট টাকা বেশি হিসাবে কৃষককে দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে। সরকার ভর্তুকি ঘোষণা করেছে চার হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ইউরিয়ার অতিরিক্ত দাম বাদ দিলে থাকে মাত্র দুই হাজার ১০০ কোটি টাকা। কৃষকের ঘরে ভর্তুকি আসবে গত অর্থবছরের তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ বা এর চেয়েও কম। তাঁরা আশা করছেন, সরকার অবশ্যই ইউরিয়া সারের দাম কমিয়ে আনবে এবং প্রযুক্তিগুলোর দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটাবে।
শাইখ সিরাজ: কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, পরিচালক ও বার্তাপ্রধান, চ্যানেল আই।
shykhseraj@channelitv.net

হোসনি মোবারকের পাকস্থলীতে ক্যানসার

মিসরের ক্ষমতা-চ্যুত প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক পাকস্থলীর ক্যানসারে ভুগছেন। তাঁর আইনজীবী ফরিদ আল-দিব গতকাল সোমবার এ কথা জানান। বিচারের মুখোমুখি হওয়ার মতো সাবেক এই প্রেসিডেন্টের শারীরিক অবস্থা আছে কি না, তা জানাতেই আইনজীবী চিকিৎসা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ কথা বলেন।
আইনজীবী ফরিদ বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্যানসারে ভুগছেন। তাঁর সর্বশেষ চিকিৎসা প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হওয়া মোবারক বর্তমানে লোহিত সাগরতীরবর্তী অবকাশকেন্দ্র শারম আল-শেখের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ক্ষমতা ত্যাগের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় হূদ্যন্ত্রে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ন্যাটোর দুঃখ প্রকাশ

সামরিক জোট ন্যাটো স্বীকার করেছে, লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে বেসামরিক লোকজনের নিহত হওয়ার জন্য তারা দায়ী। এ জন্য তারা দুঃখ প্রকাশও করেছে। গত রোববার ত্রিপোলির আল-আরাদা এলাকার একটি বাড়িতে ন্যাটোর ওই হামলায় দুই শিশুসহ নয়জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়।
ন্যাটোর দুঃখ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর লিবিয়া সরকারের মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিম অভিযোগ করেন, গতকাল সোমবার ন্যাটো আবারও আবাসিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। ত্রিপোলির পশ্চিমে সরমান এলাকায় চালানো ওই হামলায় তিন শিশুসহ ১৫ জন নিহত হয়েছে। তবে ন্যাটো এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
লিবিয়ায় ন্যাটো অভিযানের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল চার্লস বাউচার্ড বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনা স্বীকার করে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নিরপরাধ মানুষের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ন্যাটো দুঃখ প্রকাশ করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে আমরা এখন তদন্ত করছি। সম্ভবত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।

পাকিস্তানে মার্কিন ‘ড্রোন’ হামলায় ছয় জঙ্গি নিহত

পাকিস্তানের উপজাতি-অধ্যুষিত কুররাম জেলায় গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের চালকবিহীন বিমান বা ‘ড্রোন’ হামলায় আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাক্কানি নেটওয়ার্কের ছয় আফগান জঙ্গি নিহত হয়েছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ কথা জানিয়েছেন।
তবে পাকিস্তানের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, ড্রোন থেকে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় এবং এতে সাত জঙ্গি নিহত হয়। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলেন, এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ‘ড্রোন’ কুররাম এলাকায় আঘাত হানল।
যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতভাবে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে তালেবান ও আল-কায়েদা জঙ্গিদের লক্ষ্য করে ‘ড্রোন’ হামলা চালাচ্ছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সেখানে হাক্কানি নেতৃত্ব ও এর চার হাজার যোদ্ধাকে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা এএফপিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘ড্রোন’ হামলায় আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় পাকতিয়া প্রদেশের সঙ্গে সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের কুররাম জেলার খাড়ধান্দ এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এর কয়েক মিনিট পর পাশের একটি স্থাপনায় আঘাত হানে ‘আরেকটি ড্রোন’। এতে ছয় আফগান জঙ্গি নিহত হয়।
এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, উভয় হামলায় নিহত ব্যক্তিরা আফগান যোদ্ধা ও হাক্কানির সদস্য।

ইউরো জোনের অর্থমন্ত্রীরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি

গ্রিসকে এক হাজার ২০০ কোটি ইউরো জরুরি ঋণসহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি স্থগিত করেছেন ইউরো জোনের অর্থমন্ত্রীরা। তাঁরা দেশটিকে আগে কঠোর ব্যয় সংকোচনের পদক্ষেপের সূচনা করতে হবে বলে শর্ত দিয়েছেন। এ সহায়তা পেতে হলে আগে গ্রিসের পার্লামেন্টকে অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে দুই হাজার ৮০০ কোটি ইউরো ব্যয় সংকোচনের জন্য আইন পাস করতে হবে। গতকাল সোমবার লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত ইউরো জোনের ১৭ জন অর্থমন্ত্রীর এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওই বৈঠকের সভাপতি ও লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী জ্যা-ক্লদ জাংকার বলেন, গ্রিসের পার্লামেন্ট ওই পদক্ষেপ নিলেই দেশটিকে দ্বিতীয় দফায় অর্থসহায়তা দেওয়া হবে।
অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে দ্বিতীয় দফায় বড় অঙ্কের ঋণ পেতে চায় গ্রিস। কিন্তু অ্যাথেন্সের ওপর চাপ অব্যাহত রেখে ইউরো জোনের মন্ত্রীরা জোর দিয়ে বলেন, গ্রিসকে ওই অর্থসহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে দেশটির পার্লামেন্টে সরকারি রাজস্ব সংস্কার আইন পাস ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রির ওপর।
বেলজিয়ামের অর্থমন্ত্রী দিদিয়ের রেন্দার্স বলেন, পরবর্তী দফায় অর্থসহায়তা দেওয়ার আগে তাঁরা গ্রিসের পার্লামেন্টে অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়টি আস্থা ভোটে অনুমোদন পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চান।

বেন আলীর ৩৫ বছরের কারাদণ্ড

তিউনিসিয়ার একটি আদালত দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বেন আলী ও তাঁর স্ত্রীকে চুরিসহ অন্যান্য অভিযোগে প্রত্যেককে ৩৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। গতকাল সোমবার রাজধানী তিউনিসে তাঁদের অনুপস্থিতিতেই বিচার শুরু হয়েছে।
এ ছাড়া আদালত তাঁদের ছয় কোটি ৬০ লাখ ডলার জরিমানা করেছেন। অর্থ আত্মসাৎ, মাদকদ্রব্য, অস্ত্র রাখাসহ ৯৩টি অভিযোগে বেন আলী ও তাঁর সহচরদের বিচার করা হচ্ছে।
তবে সাবেক এই পরাক্রমশালী শাসক তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এমনকি তিনি পদত্যাগ করেননি বা দেশ ছেড়েও পালাননি বলে জানান। বেন আলী তাঁর কৌঁসুলি আকরাম আজৌরির কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি পদত্যাগ করিনি। এমনকি তিউনিসিয়া ছেড়েও পালাইনি।’ তিনি দাবি করেন, তাঁকে বোকা বানিয়ে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে।
এএফপির একজন সাংবাদিক জানান, জনাকীর্ণ আদালতে বেন আলীর বিচার শুরুর প্রাক্কালে এক ব্যক্তি চিৎকার করে উঠলে তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় আদালত ভবনের বাইরে প্রায় ৫০ জন জড়ো হয়েছিলেন। তাঁদের কেউ কেউ বেন আলীর বিচারের প্রতি সমর্থন জানান। অন্যরা বেন আলীর অনুপস্থিতিতে বিচারের সমালোচনা করেন।

চীনের বন্যাপ্লাবিত অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত লাখো মানুষ ঘরছাড়া

চীনের বন্যাকবলিত মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে গতকাল সোমবার আবারও ভারী বর্ষণ হয়েছে। বন্যায় ওই সব অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে অনেকে। লাখ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী চেন লি গত রোববার তাঁর মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সতর্ক করে বলেছেন, ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যায় দক্ষিণাঞ্চল হুমকির মুখে পড়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এ অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।
চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে চীনের ওই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। লির ভাষ্যমতে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের ১০টিরও বেশি বড় নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী তিন দিন পর্যন্ত ওই অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে গ্রীষ্মকালীন ঝড়ের মৌসুমও কাছাকাছি চলে এসেছে।
লি জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গুইঝু প্রদেশের ওয়াংমো এলাকায় সম্প্রতি টানা তিন ঘণ্টার ভারী বর্ষণে ৩১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য অঞ্চলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে রেকর্ড করা হয়েছে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।
বেইজিং নিউজ জানিয়েছে, বন্যার কারণে ৯ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত আটটি প্রদেশের ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। এ ছাড়া হুবেই ও জিয়াংজি প্রদেশের ৬০ লাখ লোক বৃষ্টি বা বন্যার কারণে কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপকূলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাড়ে ২৬ লাখ মানুষ। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১১৯ কোটি ডলার।
চীনের বেসামরিকবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, বৃষ্টি ও বন্যায় গত সপ্তাহে ১৬৮ জন মারা গেছে অথবা নিখোঁজ হয়েছে।
হুবেই, আনহুই ও ঝেজিয়াং প্রদেশে বৃষ্টিপাতের ঘটনা অনেকটা অস্বাভাবিক। এই প্রদেশগুলোর বেশির ভাগ এলাকা কয়েক গত দশক ধরে প্রচণ্ড খরায় পুড়েছে। তবে চীনে প্রতিবছর সাধারণত গ্রীষ্ম মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।
চীনে প্রতিবছর এই সময়টায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। গত বছর ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় প্রায় সাড়ে চার হাজার লোক মারা যায় অথবা নিখোঁজ হয়। এর মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গানসু প্রদেশে গত আগস্টে ভয়াবহ এক ভূমিধসের ঘটনায় মারা যায় দেড় হাজার মানুষ।

বিশৃঙ্খলার মধ্যে রাজনৈতিক সংস্কার করা হবে না

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ দেশের বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে রাজনৈতিক সংস্কার করবেন না বলে অঙ্গীকার করেছেন। তবে জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি মত দিয়েছেন।
গতকাল সোমবার দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট বাশার এসব কথা বলেন। ভাষণটি টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে জাতির উদ্দেশে এটা বাশারের তৃতীয় ভাষণ।
ভাষণে বাশার বলেন, চলমান জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা সম্ভব হতে পারে। এর মাধ্যমে নির্বাচনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে এবং ক্ষমতাসীন বাথ পার্টির কর্তৃত্বও বিলুপ্ত হতে পারে। তবে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করে দেন বাশার। তিনি বলেন, ‘আমরা বলতে পারি, পরবর্তী সময়ের স্লোগান হবে জাতীয় সংলাপ।’
গত মার্চে সিরিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে সহিংসতায় বহু মানুষ নিহত হয়। এসব নিহত লোকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বাশার বলেন, ‘স্থিতিশীলতা ছাড়া কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। আন্তর্ঘাত ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে কোনো সংস্কার করাও সম্ভব নয়।’
তবে বাশারের ভাষণের পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বিদ্রোহীরা বলেন, জনাকীর্ণ এলাকা থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহারসহ সমস্যার সমাধানে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা না দেওয়ায় বাশারের ভাষণ ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাশার সরকারের বিরুদ্ধে অধিকতর অবরোধ আরোপ করার পরিকল্পনা করছে। পরিকল্পনার মধ্যে আছে, অবরোধ কড়াকড়ি করাসহ ২৩ জনের কালো তালিকায় আরও কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা। তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের সম্পদ জব্দ করাসহ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এরমধ্যে প্রেসিডেন্ট বাশারসহ তাঁর প্রধান সহযোগীদের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেছেন, বাশার দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের আহ্বানের প্রতি সাড়া দিক, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটা দেখতে চায়। তিনি বলেন, ‘বাশারের উচিত, সংস্কার আনা অথবা ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানো।’

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ঝুঁকি পরীক্ষা করুন

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান ইউকিয়া আমানো বলেছেন, ফুকুশিমা বিপর্যয় পরমাণুশক্তির ওপর মানুষের আস্থাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। যেসব দেশেপারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, সেসব দেশকে তাদের কেন্দ্রগুলোর ঝুঁকি পরীক্ষা করে দেখার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল সোমবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আইএইএর কার্যালয়ে শুরু হওয়া সম্মেলনে ইউকিয়া আমানো এসব কথা বলেন। পাঁচ দিন ধরে এ সম্মেলন চলবে।
আগামী ১৮ মাসের মধ্যে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সব পারমাণবিক চুল্লির ঝুঁকির মাত্রা যাচাই করার জন্য আহ্বান জানান আমানো। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের উদ্বেগ নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, এ জন্য আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ অপরিহার্য।
আমানো আরও বলেন, ‘আগামী কয়েক দিন বিশ্ববাসীর চোখ থাকবে আমাদের ওপর।’ তিনি বলেন, ফুকুশিমার বিপর্যয়ের পর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের আস্থা প্রচণ্ডভাবে ধাক্কা খেয়েছে।
জাপানের ফুকুশিমায় দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে ভিয়েনায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। পরমাণুশক্তিকে কীভাবে আরও নিরাপদ করা যায়, সম্মেলনে এ নিয়ে আলোচনা করছেন ১৫০টি দেশের কর্মকর্তারা। ভবিষ্যতে পারমাণবিক দুর্ঘটনা এড়াতে কতটা আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দরকার, তা নিয়ে বৈঠকে মতপার্থক্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ১১ মার্চের ভূমিকম্প ও সুনামিতে ফুকুশিমার দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর জার্মানি, ইতালিসহ কয়েকটি দেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিত্যাগের ঘোষণা দেয়। তবে ইউকিয়া আমানো বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ এখনো অনেক দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তিনি বলেন, পরমাণু বিপর্যয় কোনো সীমানা মানে না। সুতরাং পারমাণবিক নিরাপত্তার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ অপরিহার্য।
ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর জাপানের সরকার যেভাবে দুর্ঘটনা মোকাবিলা করেছে, তার সমালোচনা করেছে আইএইএ। বিশেষ করে পরমাণুসংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইএইএর যে নিয়মনীতি রয়েছে, তা বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে জাপানের সমালোচনা করেছে সংস্থাটি। আইএইএর প্রতিবেদনে এ সমালোচনা করা হয়। প্রতিবেদনটি আইএইএর সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
গত মাসে পরমাণু বিশেষজ্ঞদের জাপান সফরের ওপর ভিত্তি করে ওই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। নিরাপত্তার মানদণ্ড পর্যালোচনা করতে এবং কীভাবে নিরাপত্তা বাড়ানো যায়, এ সম্পর্কে প্রতিবেদন তৈরি করে এক বছরের মধ্যে তাঁর কাছে জমা দেওয়ার জন্য আইএইএ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন আমানো

বিশ্বে শরণার্থীর সংখ্যা বেড়ে চার কোটি ৩৭ লাখ

বিশ্বে শরণার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। যুদ্ধ অথবা নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ। আর এসব শরণার্থীর বড় ধাক্কা সামলাচ্ছে দরিদ্র দেশগুলো। বাস্তুচ্যুতদের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে চারজনকেই আশ্রয় দিয়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। গতকাল সোমবার জাতিসংঘ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের বার্ষিক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার কোটি ৩৭ লাখে। এর আগের বছর এই সংখ্যা ছিল চার কোটি ৩৩ লাখ। গত ১৫ বছরের মধ্যে শরণার্থীর সংখ্যা এখন সর্বোচ্চ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এক কোটি ৫৪ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছে। আর অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়া এই শরণার্থীর শতকরা ৮০ ভাগই আশ্রয় নিয়েছে প্রতিবেশী উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। দুই কোটি ৭৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে নিজ দেশেই অবস্থান করছে। এ ছাড়া আরও আট লাখ ৫০ হাজার মানুষ অন্য কোনো দেশে আশ্রয়প্রার্থী।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার অ্যান্তোনিও গুতেরেজ এক বিবৃতিতে বলেন, শিল্পোন্নত দেশগুলোতে কথিত শরণার্থীর ঢল নামার আশঙ্কা অতিরঞ্জিত কিংবা বিষয়টিকে ভুল করে অভিবাসন ইস্যুর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়।
‘গ্লোবাল ট্রেন্ডস ২০১০’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শরণার্থীদের বড় একটি অংশ দরিদ্র দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। এদের অর্ধেকেরও বেশির বয়স ১৮ বছরের নিচে।
শরণার্থীদের একটি বড় অংশ আশ্রয় নিয়েছে পাকিস্তান, ইরান ও সিরিয়ায়। এর মধ্যে পাকিস্তানে ১৯ লাখ, ইরানে ১১ লাখ ও সিরিয়ায় ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে আফগানিস্তানে। দেশটির বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। আফগানিস্তানের অনেকেই বেশ কয়েক বছর আগেই দেশ ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছে। এরপর ইরাক, সোমালিয়া ও কঙ্গোর মানুষ বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছে ।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক উপহাইকমিশনার আলেকজান্ডার অ্যালেইনিকফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেসব কারণে লোক বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, তা এখনো দূর হয়নি। চলতি বছরে আমরা এখন পর্যন্ত উত্তর আফ্রিকা, আইভরি কোস্ট, সিরিয়া, সুদানসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংঘাত-সহিংসতা প্রত্যক্ষ করছি। এসব কারণে অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছে। আর এভাবেই বেড়ে চলেছে শরণার্থীর সংখ্যা।

প্রতিশোধের সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের

রতিশোধ নেওয়ার সুযোগটা দ্রুতই পেয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র। কনক্যাকাফ গোল্ডকাপের গ্রুপ পর্বে পানামার কাছে হেরে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র পরশু জ্যামাইকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে উঠেছে সেমিফাইনালে। আগামীকাল সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ এল সালভাদরকে টাইব্রেকারে (৫-৩) হারিয়ে শেষ চারে ওঠা পানামা। পানামাও পাচ্ছে প্রতিশোধের উপলক্ষ। ২০০৫ সালের ফাইনালে এই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরেই গোল্ডকাপে নিজেদের প্রথম শিরোপা জয়ের স্বপ্ন বিসর্জন গিয়েছিল পানামার।
এদিকে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন মেক্সিকোর জন্য আছে সুখবর। ডোপিংয়ের অভিযোগ মাথায় নিয়ে যে ৫ খেলোয়াড়কে দল ছাড়তে হয়েছে, তাঁদের বদলি নিতে পারবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।

রস টেইলর নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক

বিশ্বকাপের পরপরই নিউজিল্যান্ডের অধিনায়কত্বের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। সেই খালি পদ নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট পূরণ করেছে রস টেইলরকে দিয়ে। আজ মঙ্গলবার নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট আনুষ্ঠানিকভাবে এ কথা জানিয়েছে।
ড্যানিয়েল ভেট্টোরির অধীনে অনেক দিন ধরেই সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন টেইলর। তাই ভেট্টোরি সরে দাঁড়ানোর পর টেইলরের অধিনায়ক হওয়ার বিষয়টি অনুমিতই ছিল। আজ আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটাই কেবল দেওয়া হল।
এদিকে অধিনায়ক হওয়ার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় উচ্ছ্বাসই ঝরে পড়েছে ২৭ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানের কণ্ঠে। তিনি বলেছেন, নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হয়ে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। একই সঙ্গে তিনি এও জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ড দলে যে প্রতিভার সমারোহ রয়েছে তা দিয়ে এ দলটিকে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিতে পরিণত করা সম্ভব।
অধিনায়ক হওয়ার পর সাবেক অধিনায়ক ভেট্টোরির প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘ভেট্টোরির কাছ থেকে আমি অনেক কিছুই শিখেছি। তাঁর অধীনে থেকেই আমি প্রস্তুত হয়েছি নিউজিল্যান্ডের অন্যতম সেরা এ সম্মান মাথায় নেওয়ার জন্য।’
টেইলর আরও জানিয়েছেন, ‘আমি এ মুহূর্তে এই চ্যালেঞ্জের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এবং এ দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছি।’
টেইলর নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৩০টি টেস্ট ও ১০৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। টেস্টে তাঁর ব্যাটিং গড় ৪১ দশমিক ১২ এবং ওয়ানডেতে ৩৬ দশমিক ০৮।
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী জাস্টিন ভন বলেছেন, ‘ক্রিকেটে অধিনায়কত্বের জন্য কিছু গুণাবলির প্রয়োজন হয়। আমার মনে হয় নিউজিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সবকিছুই টেইলরের মধ্যে রয়েছে।’
একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ড দলের কোচ জন রাইট, ক্রিকেট পরিচালক জন বুকানন ও নির্বাচক ম্যানেজার মার্ক গ্রেটব্যাচ অধিনায়ক হিসেবে রস টেইলরের মনোনয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

আলবেনিয়াকে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ভালো খেলতে পারেন না—এ বদনামটা এবার হয়তো ঘুচিয়েই দেবেন লিওনেল মেসি। কোপা আমেরিকার প্রস্তুতি ম্যাচে সেই ইঙ্গিতটা বেশ ভালো মতোই দিয়েছেন ফিফা বর্ষসেরা এই ফুটবলার। গতকাল আলবেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ছিলেন স্বমহিমায়। নিজে গোল করেছেন একটি। আরও দুটি গোলের সফল কারিগর তিনি। সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা জিতেছে ৪-০ গোলে।
খেলার শুরুতে, মাত্র ছয় মিনিটের মাথায় মেসির নিখুঁত এক পাস থেকে আলবেনিয়ার জালে বল জড়িয়ে দেন স্ট্রাইকার ইজেকুয়েল লাভেজ্জি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার একটু আগে বাঁ পায়ের মাপা শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে এগিয়ে নেন মেসি। দ্বিতীয়ার্ধের ৭৪ মিনিটে আর্জেন্টিনার পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা সার্জিও অ্যাগুয়েরো। শেষ বাঁশি বাজার কয়েক মুহূর্ত আগে আলবেনিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন কার্লোস তেভেজ। কোচ সার্জিও বাতিস্তার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য থাকলেও, কাল আলবেনিয়ার বিপক্ষে গোলটি করে কোপার দলে নিজেকে রাখার যৌক্তিকতা বেশ ভালোভাবেই প্রমাণ করেছেন আর্জেন্টাইন এই স্ট্রাইকার।
ম্যাচ শেষে শিষ্যদের পারফরমেন্স নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সার্জিও বাতিস্তা। তবে চূড়ান্ত আসরে তেভেজকে মূল একাদশে রাখবেন কি না এ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন কোচ। তিনি বলেছেন, ‘মেসি যেভাবে খেলেছে, তাতে আমি খুবই খুশি। তাঁর কাছ থেকে যে রকমটা আশা করেছিলাম, সে সেভাবেই মাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে খেলেছে। সে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যও বোধ করেছে খেলার সময়। চূড়ান্ত একাদশে কে কে খেলবে সেটা আমরা এখনো চূড়ান্ত করিনি। কিন্তু দলে জায়গা করে নেওয়ার জন্য সবাইকেই অনেক পরিশ্রম করতে হবে।

অনিশ্চয়তায় ফ্যাব্রিগাসের বার্সা গমন

আর্সেনাল অধিনায়ক সেস ফ্যাব্রিগাসকে দলে ভেড়ানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। প্রথমে অনেক দিন ধরে মধ্যমাঠের সেরা খেলোয়াড়টিকে ছাড়তে রাজি ছিল না আর্সেনাল। কিন্তু এবারের দলবদলের মৌসুমে ইংলিশ ক্লাবটি তাঁকে ছেড়ে দিতে সম্মতি জানালেও এখন ফেব্রিগাসের ৩৫ মিলিয়ন ইউরোর ট্রান্সফার ফি দেখে বেঁকে বসেছে কাতালানরা। স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডারকে ন্যু ক্যাম্পে আনার জন্য এত বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ করতে পারবেন না বলে স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন বার্সা সভাপতি সান্দ্রো রোসেল।
২০০৩ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বার্সেলোনা থেকে আর্সেনালে এসেছিলেন ফ্যাব্রিগাস। এরপর দীর্ঘ সাত বছর ধরে খুব বিশ্বস্ততার সঙ্গেই খেলেছেন আর্সেনালের মধ্যমাঠে। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপের পর আবার পুরোনো সতীর্থদের মাঝে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। জাভি-ইনিয়েস্তা-পেদ্রোসহ বার্সেলোনার অনেক খেলোয়াড়ও ফ্যাব্রিগাসকে ন্যু ক্যাম্পে নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু এখন আর্সেনাল তাঁকে ছেড়ে দিতে রাজি হলেও অনেক বেশি মূল্য দাবি করছে বলে মনে করছে এবারের স্প্যানিশ লিগ শিরোপাজয়ীরা। বার্সা সভাপতি সান্দ্রো রোসেল বলেছেন, ‘ন্যু ক্যাম্পে ফিরে আসার জন্য সেস সবকিছুই করছে। গার্দিওলা খেলোয়াড়দের মূল্য বেশ ভালো মতোই জানেন। আমরা আর্সেনালকে আরও কম টাকার একটা প্রস্তাব দেব। যদি তারা রাজি হয়, তাহলে সে এখানে আসতে পারবে। নাহলে আমাদের কিছুই করার নেই। টাকা-পয়সার দিক দিয়ে আমরা খুব ভালো অবস্থানে নেই, এটা গার্দিওলা বেশ ভালো মতোই জানেন।’

বিসিসিআইকে মোদির একহাত

শ্রীলঙ্কান প্রিমিয়ার লিগে (এসএলপিএল) ভারতীয় ক্রিকেটারদের খেলতে অনুমতি দেয়নি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। খবরটি ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন তুললেও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড থেকে অধুনা নির্বাসিত সংগঠক ও আইপিএলের পুরোধা পুরুষ লোলিত মোদি কিন্তু এতে একেবারেই অবাক হননি। তাঁর মতে, পুরো ব্যাপারটিই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের একপ্রকার শক্তির দাপট।
ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা টাইমস অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্বীকার করেছেন, ২০০৮ সালে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ (আইসিএল) যেন হালে পানি না পায়, সে জন্য বিসিসিআই আদা-জল খেয়ে লেগেছিল। তিনি বলেন, ‘অর্থের দাপটে বিসিসিআই সে সময় আইসিসিকে ধমক দিয়ে নিজেদের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করিয়েছিল কেবল আইসিএলকে ঠেকানোর জন্য।’ মোদি অবশ্য স্বীকার করেছেন, বিসিসিআইয়ের অন্যতম ক্ষমতাবান পদে থাকার সুবাদে তিনিও এই প্রক্রিয়ার অংশ ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালে শুধু আইসিএল ঠেকানোর জন্য বিসিসিআই নিজেদের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করেছিল। এ ব্যাপারে আইসিসি কিছুটা আপত্তি করলেও বিসিসিআইয়ের দাপটে তারা আর বিরোধিতা করেনি। সে সময় আইসিসি একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দেয় এবং সেই কমিটির সঙ্গে বসে আমি বিসিসিআইয়ের পরিবর্তিত গঠনতন্ত্রের খসড়া তৈরি করি।’
মোদি বলেন, ‘আইসিএল জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল। সে সময় বিসিসিআই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল এ প্রতিযোগিতাটি ধ্বংস করতে। সে জন্য গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করা হয়, এবং সেই গঠনতন্ত্র মোতাবেক স্পন্সর, আঞ্চলিক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ও অন্যান্য সংস্থাগুলোর কাছে এই মর্মে বার্তা পাঠানো হয় যে আইসিএলকে যদি তাঁরা সাহায্য করে তাহলে ভবিষ্যতে তারা বিসিসিআইয়ের যেকোনো ইভেন্টে কালো তালিকাভুক্ত হবেন।’
এদিকে, গুজব উঠেছে লোলিত মোদি নাকি শ্রীলঙ্কান প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম নেপথ্য পুরুষ। তবে এটিকে নেহাতই গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। তিনি এই গুজব ওঠারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিসিসিআই ইদানিং যেকোনো কিছু হালাল করছে আমার নাম জড়িয়ে। এটা ঠিক না। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিসিসিআই কতগুলো মেরুদণ্ডহীন লোকের সমন্বয়ে গঠিত। যাদের কোনো আধুনিক চিন্তা নেই। এরা কোনোদিনই আধুনিক চিন্তা করতে পারবে না।’
বিসিসিআই এলপিএলে ভারতীয় ক্রিকেটারদের খেলার অনুমতি না দেওয়ার কারণ হিসেবে জানিয়েছে, এ প্রতিযোগিতাটি আসলে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড আয়োজন করছে নাকি, কোনো বেসরকারি উদ্যোগে হচ্ছে, সেটি নিশ্চিত না হওয়ায় আপাতত ভারতীয় ক্রিকেটারদের সেখানে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড কিন্তু গতকাল জানিয়ে দিয়েছে, এই এসএলপিএলের চ্যাম্পিয়ন দলই আসন্ন চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিত্ব করবে !