Monday, September 7, 2009

মেগরাহির মুক্তির বিষয়ে আলোচনায় বাণিজ্যিক স্বার্থ ছিল: জ্যাক স্ট্র

যুক্তরাজ্যের বিচারমন্ত্রী জ্যাক স্ট্র স্বীকার করেছেন, লকারবি বোমা হামলার একমাত্র সাজা পাওয়া আসামি আবদুল বাসেত আলী আল-মেগরাহির মুক্তির বিষয়ে আলোচনায় দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছিল। বিশেষ করে বিখ্যাত তেল কোম্পানি বিপির সঙ্গে লিবিয়ার বাণিজ্য চুক্তিতে মেগরাহির মুক্তির বিষয়টির বড় ভূমিকা ছিল। ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বিস্ফোরক এ মন্তব্য করেন। সাক্ষাত্কারটি গতকাল শনিবার প্রকাশিত হয়েছে।
লিবীয় নাগরিক মেগরাহির মুক্তির পর অভিযোগ ওঠে, লিবিয়ার তেল পাওয়ার জন্যই মেগরাহিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ওই মুক্তি-প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য স্কটল্যান্ড সরকারকে প্রভাবিত করেছে। যুক্তরাজ্য সরকার বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
স্কটল্যান্ডের লকারবি শহরের আকাশে মার্কিন প্যানঅ্যাম বিমানে ১৯৮৮ সালের ২১ ডিসেম্বরে চালানো ওই বোমা হামলার ঘটনায় একমাত্র সাজা পাওয়া আসামি মেগরাহি ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে গত ২০ আগস্ট মেগরাহিকে মুক্তি দেয় স্কটল্যান্ডের সরকার। ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ তোলে, লিবিয়ার তেল পাওয়ার জন্যই লকারবি হামলার আসামিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার ওই মুক্তি-প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে। যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে বহু লেখালেখি হয়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাজ্যের বিচারমন্ত্রী এই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন।
এত দিন ওই অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য বললেও এক প্রশ্নের জবাবে জ্যাক স্ট্র ডেইলি টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘লিবিয়ার সঙ্গে ওই সময় আমরা বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে তত্পর ছিলাম। দুইপক্ষের আলোচনায় তাই মেগরাহির মুক্তির প্রসঙ্গটি একটি বড় ভূমিকা রেখেছিল।’
লিবিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুসা গতকাল ব্রিটেনের দ্য টাইমস পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেন, মেগরাহির মুক্তির ব্যাপারে যুক্তরাজ্য সরকারকে দোষারোপ করা ন্যায়সংগত হবে না। কারণ মেগরাহির মুক্তির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির কোনো যোগসাজশ নেই। তিনি এও বলেন, ‘আমরা যদি দরকষাকষি করতে চাইতাম, তাহলে বহু আগেই তা করতে পারতাম।’
গত শুক্রবার বিপি কর্তৃপক্ষ জানায়, লিবিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনায় গতি আনতে সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। তবে মেগরাহির মুক্তির জন্য ওই সময় কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়নি।
প্যান অ্যাম ১০৩ নম্বর ফ্লাইটে বোমা হামলার ওই ঘটনায় আল-মেগরাহিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। আট বছর সাজা ভোগ করার পর তিনি মুক্তি পেয়ে লিবিয়া ফেরেন।

পূর্ব তিমুরের স্বাধীনতায় বহু আগে থেকেই সমর্থন জুগিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া

স্বাধীনতা লাভের আগে থেকেই পূর্ব তিমুরের প্রতি গোপনে সমর্থন দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। পূর্ব তিমুরে ১৯৯৯ সালে গণভোটের কয়েক মাস আগেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রকাশ করা হয়নি। বরং অস্ট্রেলিয়া কৌশলগত কারণে তখন প্রচার করে আসছিল পূর্ব তিমুরের উচিত হবে ইন্দোনেশিয়ার অংশ হিসেবেই থাকা। সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন হাওয়ার্ড এ কথা বলেন।
সাক্ষাত্কারে হাওয়ার্ড আরো বলেন, তখন তিনি বিশ্বাস করতেন পূর্ব তিমুরের স্বাধীনতা অবসম্ভাবী। কিন্তু এ ধরনের ঘটনায় দ্বিপক্ষীয় শান্তি বজায় রাখতে যে কাউকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া থেকে বিরত থাকতেই হয়।

জঙ্গি সদর দপ্তর ধ্বংস করে দিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী

পাকিস্তানের আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী আদিবাসী অধ্যুষিত খাইবার এলাকায় গতকাল শনিবার একটি জঙ্গিগোষ্ঠীর সদর দপ্তর ধ্বংস করে দিয়েছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।
একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, হেলিকপ্টার গানশিপ, আধাসামরিক বাহিনী ও গোলন্দাজ বাহিনীর সমন্বয়ে তিরাহ উপত্যকায় লস্কর-ই-ইসলামের সদর দপ্তরে এই হামলা চালানো হয়।
গত ২৮ আগস্ট পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার তোরখান সীমান্ত পারাপারের কাছে একটি পুলিশ ব্যারাকে আত্মঘাতী হামলায় পুলিশের ২২ সদস্য নিহত হওয়ার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, গতকাল শনিবার তিরাহ উপত্যকায় লস্কর-ই-ইসলামের একটি গোপন আস্তানা ও প্রশিক্ষণ শিবির ধ্বংস করে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। জঙ্গিদের পক্ষে ব্যাপক হতাহত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার লস্কর-ই-ইসলামের প্রধান মঙ্গল বাগের বাড়ি ধ্বংস করে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। তবে এরই মধ্যে পালিয়েছেন ওই জঙ্গি নেতা। খাইবারের শীর্ষ প্রশাসক তারিক হায়াত গতকাল বলেন, ছয় দিনের অভিযানে এ পর্যন্ত ৫৭ জঙ্গি নিহত হয়েছে।

পরমাণুশক্তি অর্জনের চেষ্টা থেকে সরে আসবে না ইরান: শাভেজ

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজ বলেছেন, শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তি অর্জনের চেষ্টা থেকে সরে আসবে না ইরান। ইরান সফরে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সিরিয়া, লিবিয়া ও আলজেরিয়া সফর শেষে গত শুক্রবার ইরান গিয়ে পৌঁছেছেন হুগো শাভেজ। ইরান সফর শেষে তাঁর বেলারুশ, রাশিয়া, তুর্কমেনিস্তান ও স্পেন সফরে যাওয়ার কথা।
প্রেসিডেন্ট শাভেজ তেহরানে বলেন, শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য পারমাণবিক শক্তি অর্জনের চেষ্টা থেকে যে সরে আসবে না ইরান, এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত। শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের জন্য সব ধরনের যন্ত্রপাতি থাকা ও অবকাঠামো নির্মাণ জনগণের সার্বভৌম অধিকার।
তিনি বলেন, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করছে, এ অভিযোগের পক্ষে একটি প্রমাণও নেই। শিগগিরই তারা এ অভিযোগ করবে যে ভেনেজুয়েলায়ও পারমাণবিক বোমা তৈরি করা হচ্ছে।
ইরানের সহযোগিতায় একটি ‘অ্যাটমিক ভিলেজ’ নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ভেনেজুয়েলা। এএফপি।
বিভিন্ন দেশে শাভেজের বিরুদ্ধে সমাবেশ
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের বিরুদ্ধে সমাবেশ হয়েছে। গত শুক্রবার কলাম্বিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি খোদ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসেও শাভেজবিরোধীরা সমাবেশ করে।
দুপুরের দিকে কয়েক শ শাভেজবিরোধী রাজধানী কারাকাসে জড়ো হয়ে বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানায়। বিরোধীদের অভিযোগ, তাদের ব্যবহার করা হয়েছে এবং তারা আরও গরিব হয়েছে। তবে ওই বিক্ষোভস্থলের কিছু দূরে কারাকাসের প্লাজা বলিভারে শাভেজ সমর্থকেরাও তাদের নেতার সমর্থনে পাল্টা সমাবেশ করে।
প্রতিবেশী কলম্বিয়ায় ২০টিরও বেশি শহরে শাভেজবিরোধী সমাবেশ হয়। সমাবেশে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয়। এ সময় তারা ‘নো মোর শাভেজ’ ও ‘শাভেজ: ডিক্টেটর’ স্লোগান লেখা টি-শার্ট পরাহিত ছিল। পাশাপাশি নিউইয়র্ক, মাদ্রিদ, প্যারিস, ব্রাসেলস, হামবুর্গ, টরন্টোতেও শ্যাভেজবিরোধী সমাবেশ হয়েছে।
মাত্র দুই সপ্তাহের একটি প্রচারণার মাধ্যমে শাভেজবিরোধী ওই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ইন্টারনেটের ‘গ্লোবাল মার্চ এগেইনস্ট শ্যাভেজ অন সেপ্টেম্বর-৪’ নামের একটি গ্রুপ খোলার মাধ্যমে কলম্বিয়ার ব্যবসায়ী আলেসান্দ্রো গুতিয়েরেজ (২৮) ওই সমাবেশের জন্য প্রচারণা শুরু করেন। এ ক্ষেত্রে ফেইসবুক ও টুইটারের মতো সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইটগুলো ব্যবহার করেন তিনি।

উত্তর মেরুতে তাপমাত্রা এখন দুই হাজার বছরের মধ্যে উষ্ণতম

উত্তর মেরু বা আর্কটিকে তাপমাত্রা এখন গত দুই হাজার বছরের মধ্যে উষ্ণতম অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ওই অঞ্চলের বরফখণ্ড, হ্রদের তলদেশ আর গাছ পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, ১০০ বছর আগেও আর্কটিকে তাপমাত্রার তেমন পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু গত ১০০ বছরে সেখানে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। মূলত মানবসৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণই এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে গবেষকেরা জানান, গ্রিনহাউসের প্রভাব ও সৌর উষ্ণায়ন দুটোর বিষয়েই আর্কটিকের আবহাওয়া যথেষ্ট সংবেদনশীল, সেখানে উষ্ণতা বৃদ্ধির ঘটনা এটাই নিশ্চিত করছে। গবেষণায় ২৩টি এলাকার তাপমাত্রার চিত্র দশকওয়ারি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হয়েছে। ওই পর্যালোচনা থেকে দেখা গেছে, গত দশকে অর্থাত্ ১৯৯৮ থেকে ২০০৮ সাল সময়ে আর্কটিকের তাপমাত্রা সবচেয়ে উষ্ণ ছিল।
গবেষক দলের প্রধান নর্দান অ্যারিজোনা ইউনিভার্সিটির গবেষক ড্যারেল কাউফম্যান বলেন, এক হাজার ৯০০ বছর ধরে আর্কটিকে শীতলীকরণ প্রক্রিয়া চলেছে। কিন্তু বিশের শতক থেকে সেখানে বিপরীত প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই অঞ্চলের দুই হাজার বছরের তাপমাত্রা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ৫০ বছরে ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল এবং গত দশকে তাপমাত্রার এই বৃদ্ধি ছিল নাটকীয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯০০ সাল পর্যন্ত প্রতি সহস্রাব্দে উত্তর মেরুর তাপমাত্রা গড়ে দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস করে কমেছে। কিন্তু এর পর থেকে ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা বেড়ে চলছে। গবেষক দলের আরেক সদস্য অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকোলাস ম্যাককেই বলেন, ‘বিংশ শতাব্দীতেই প্রথম সূর্যের বাইরের অন্য তাপ উত্স আর্কটিকের তাপমাত্রার ওপর প্রভাব বিস্তার করে।’
গবেষণাপত্রটি প্রকাশের পর জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেন, জলবায়ু গবেষকেরা যেসব বিষয়ে আগে সতর্ক করেছিলেন, তার অনেক কিছুই এখন ঘটতে শুরু করেছে। ওই অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দেখতে গত সপ্তাহে তিনি আর্কটিক ভ্রমণ করেন। বিবিসি।
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধের লড়াই ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান
প্রধান গ্রিন হাউস গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়াও পরিবেশদূষণকারী অন্যান্য গ্যাসের নির্গমন বন্ধের চেষ্টার মাধ্যমে বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধের লড়াই ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
জেনেভায় বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) বলেছে, একুশ শতকে জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তনের জন্য মানবসৃষ্ট নির্গমনের ক্ষেত্রে প্রায় অর্ধেকই দায়ী তাপ আটকে রাখা মিথেন, নাইট্রোজেন যৌগ, নিচুমাত্রার ওজোন ও কালো ধোঁয়া।
ইউএনইপির নির্বাহী পরিচালক আচিম স্টেইনার সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের ধারণার চেয়েও দ্রুতগতিতে ও ব্যাপক আকারে বিশ্বের উষ্ণায়ন ঘটে চলেছে। তাই উষ্ণায়ন রোধেডিসেম্বরে কোপেনহেগেনে জাতিসংঘের জলবায়ু চুক্তি সম্পাদন করা হবে।

পুরস্কার ঘোষণা

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য উড়িষ্যা সরকার কলেরায় আক্রান্ত রোগীকে কেউ হাসপাতালে আনলে তাকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতি রোগী বাবদ ২০০ রুপি পুরস্কার দেবে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি কলেরায় আক্রান্ত তিনজন রোগী শনাক্ত হওয়ার পর রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়েছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যাপারে খবর দিতে এ পুরস্কার গ্রামবাসীর মধ্যে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করবে। দুই বছর আগে কলেরায় এ রাজ্যে ১০০ জনেরও বেশি মারা যায়।

আল-কায়েদার উচ্চাভিলাষ

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা সংস্থা সিএসআর সম্প্রতি তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, আল-কায়েদা পরমাণু অস্ত্রের জন্য পাকিস্তানের পরমাণুবিজ্ঞানী আবদুল কাদির খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। ১৯৯৮ সালে আল-কায়েদার শীর্ষনেতা ওসামা বিন লাদেন এ ব্যাপারে কাদির খানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য লোক পাঠিয়েছিলেন। আবারও আল-কায়েদা সেই চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের অন্য সূত্র থেকেও সংগঠনটি পরমাণু অস্ত্র পেতে পারে বলে সংস্থাটি আশঙ্কা করছে।

বুদ্ধদেবের হেলিকপ্টারে চড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের হেলিকপ্টারে করে রাজ্য সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা দলের প্রধান এ কে মালিওয়াল মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টারে চড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
রাজ্য সরকারের একটি এক ইঞ্জিনের চেতক হেলিকপ্টার ছিল। সম্প্রতি সেটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকে ভাড়া করা হেলিকপ্টারেই মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সফর করতেন।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন থেকে মুখ্যমন্ত্রী সড়কপথে গাড়িতে কিংবা ট্রেনে ভ্রমণ করবেন। ট্রেনে তাঁর জন্য এখন থেকে পুরো একটি কামরা রিজার্ভ করা হবে। সড়কপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কনভয়ের সংখ্যা বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সবচেয়ে সুখের শহর রিও ডি জেনিরো

পৃথিবীর সবচেয়ে সুখের শহর ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো। সাগরতীরের এই শহরের ভূদৃশ্যাবলি যেমন মনকাড়া, তেমনি প্রাণোচ্ছল এর বাসিন্দারা। এই শহরের তরুণেরা তো প্রতি সন্ধ্যায় পাহাড়ের পাদদেশে কিংবা সাগরসৈকতে নেচে-গেয়ে উল্লাস করে। আর কার্নিভাল উত্সবে তো কথাই নেই। সব মিলিয়ে শহরটির কোনো তুলনা নেই। ব্রিটিশ লেখক সিমোন অ্যানহোল্টের জরিপে এমন তথ্যই বেরিয়ে এসেছে। তাই তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখের শহরের তালিকার শীর্ষে রিও ডি জেনিরোকে স্থান দিয়েছেন।
পৃথিবীর সেরা সুখের শহরের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি। তৃতীয় স্থানে আছে স্পেনের বার্সেলোনা। চতুর্থ স্থানে আছে নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম। পঞ্চম স্থানটি ছিনিয়ে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন।
সিমোন অ্যানহোল্ট তাঁর এই তালিকা তৈরি করতে ২০টি দেশের অন্তত ১০ হাজার মানুষের মতামত নিয়েছেন। জরিপের ফল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সুখের কোনো সর্বজনীন সংজ্ঞা নেই। এর অর্থ একেকজনের কাছে একেক রকম। সুখ উপলব্ধির ব্যাপার। আমাদের জরিপে উপলব্ধির ওপরই জোর দেওয়া হয়েছে। বাস্তবতার ওপর নয়।’

কিউবানদের স্বদেশে যাতায়াতে কড়াকড়ি শিথিল যুক্তরাষ্ট্রের

কিউবার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাঁচ মাস আগে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কমিউনিস্ট দেশটির সঙ্গে আগের তিক্ততা ভুলে সুসম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা দেন। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন রাজস্ব (ট্রেজারি) বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী কিউবানদের জন্য তাদের জন্মভূমিতে যাতায়াত ও অর্থ পাঠানোর ওপর কড়াকড়ি শিথিলের ঘোষণা দেয়। খবর বিবিসি ও এএফপির।
রাজস্ব বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবার নাগরিকেরা যাতে স্বদেশে স্বজনদের সঙ্গে টেলিযোগাযোগ করতে পারে এবং অর্থ পাঠাতে পারে, সে লক্ষ্যে রাজস্ব আইনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে ৪৭ বছর ধরে চলে আসা দ্বীপ দেশটির ওপর মার্কিন যে অর্থনৈতিক অবরোধ চলে আসছে, তা বলবত্ থাকবে।

ইরানে বিতর্কিত ব্যক্তিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী করায় যুক্তরাষ্ট্র নাখোশ

সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এমন একজনকে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী করায় যুক্তরাষ্ট্র নাখোশ হয়েছে। ইরানের আইনসভার সদস্যরা গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদের প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার ১৮ জনের প্রতি তাঁদের সমর্থন জানান। তাঁদের মধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য মনোনীত হয়েছেন আহমেদ ভাহিদি। তিনি পার্লামেন্টের ২৮৬ সদস্যের মধ্যে ২২৭ জনের সমর্থন পেয়েছেন।
১৯৯৪ সালে বুয়েনস এইরেসে ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর বোমা হামলার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা সরকারের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ওই হামলায় ৮৫ জন নিহত হয়।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন ওবামা প্রতিবাদে সরব রক্ষণশীলেরা by ইব্রাহীম চৌধুরী

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আগামী মঙ্গলবার স্কুলশিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। এ নিয়ে সারা দেশে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। রক্ষণশীল ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁর উদারনৈতিক ধারণা ছড়িয়ে দিতে চান কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
টেক্সাস থেকে টেনেসি অঙ্গরাজ্যে রক্ষণশীল অভিভাবকেরা ওবামার বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন। প্রেসিডেন্টের বক্তব্য শোনা থেকে নিজ সন্তানদের বিরত রাখার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের ওপর তাঁরা চাপ সৃষ্টি করছেন। রক্ষণশীল অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মঙ্গলবার তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠানো থেকে তাঁরা বিরত থাকবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র স্কুলবর্ষ শুরু হয় সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। স্কুলগামী ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের জন্য সপ্তাহটি এমনিতেই বেশ উদ্যোগ-আয়োজনের। এর মধ্যে হোয়াইট হাউস থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, গোটা দেশের ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট ওবামা বক্তব্য দেবেন। তাঁর বক্তৃতার বিষয়বস্তু প্রকাশ করা না হলেও বলা হয়েছে, যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য প্রেসিডেন্ট উপদেশমূলক বক্তব্যই দেবেন ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে। তাঁর এ বক্তব্য সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হবে। স্কুলছাত্রছাত্রীরা ক্লাসে বসেই টিভির পর্দায় প্রেসিডেন্টের বক্তব্য শুনতে পারবে। সব দেশের স্কুল-কলেজে এ নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
রক্ষণশীল অভিভাবকদের পাশাপাশি রক্ষণশীল রেডিও ও টেলিভিশনগুলোও এ ব্যাপারে প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁর সমাজতান্ত্রিক ধারণা ছড়িয়ে দিচ্ছেন, প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা মার্কসবাদের পাঠ গ্রহণ করবে—এমন প্রচারণা এখন তুঙ্গে রক্ষণশীল ব্যক্তিদের মধ্যে।
স্কুল কর্তৃপক্ষগুলো জানাচ্ছে, তাদের প্রতিদিন হাজার হাজার ফোনকল সামাল দিতে হচ্ছে। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের এক অভিভাবক প্রকৌশলী ব্রেট কার্টিম নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, শ্রেণীকক্ষে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ওবামা সরাসরি সংযোগ স্থাপনের প্রয়াস নিয়েছেন। স্কুলগামী তিন সন্তানের অভিভাবক ব্রেট কার্টিস বলেন, মঙ্গলবার তিনি তাঁর সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন না। তাঁর মন্তব্য, ‘আমি চাই না আমাদের স্কুলগুলো হয়ে উঠুক কোনো সামাজিক আন্দোলনের লীলাভূমি।’
ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান দলের চেয়ারম্যান জিম গ্রিয়ার বলেন, জনগণের করের অর্থ দিয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর সমাজতান্ত্রিক আদর্শের প্রচারণায় নেমেছেন। প্রভাবশালী রক্ষণশীল বেতার ভাষ্যকার রাম লিম্বো তাঁর বেতার ভাষ্যে বলেছেন, সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক আদর্শকে পাকাপোক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন বারাক ওবামা।
মার্কিন শিক্ষা বিভাগের মুখপাত্র সান্ড্রা আবরিভিয়ান জানান, প্রেসিডেন্ট শুধু উপদেশমূলক বক্তব্য দেবেন। কঠিন পরিশ্রম করা এবং স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের টিকে থাকার পরামর্শ থাকবে প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে। তবে তীব্র বিতর্কের মুখে গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস থেকে বলা হয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট ওবামা কোনো নীতি-আদর্শ নিয়ে বক্তব্য দেবেন না। তাঁর বক্তব্যে কোনো দলীয় রাজনীতি থাকবে না। সর্বোপরি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যটি ছাত্রছাত্রীদের শোনানোর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের আগাম পাণ্ডুলিপি সোমবার দিনই সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে বলে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে হিউস্টন নগরের একজন শিক্ষা বিশ্লেষক ফিলিস গ্রিফিন বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপ্রধান এবং দেশের প্রধান নাগরিক প্রেসিডেন্টের বক্তব্য শুনে ছাত্রছাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এমন ধারণা আমার কাছে বোধগম্য নয়। উপরন্তু যাঁরা এর বিরোধিতা করছেন, তাঁরাই ছাত্রছাত্রীদের ক্ষতি করছেন।’ কারও সঙ্গে একমত পোষণ না করেও তাঁর বক্তব্য শোনার শিক্ষাটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য জরুরি বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক।

ভারতের সম্ভাব্য পরমাণু বোমার পরীক্ষার খবরে পাকিস্তান বিব্রত

ভারত ১৯৯৮ সালে যে পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালিয়েছিল তা পুরোপুরি সফল হয়নি। তাই তারা আবারও ওই পরমাণু বোমাটির পরীক্ষা চালিয়ে শতভাগ নিশ্চিত হতে চায়; এমন একটি খবর প্রকাশের পর প্রতিবেশী পরমাণু শক্তিধর দেশ পাকিস্তান সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা বলেছে, এই খবরে তারা এখন বিব্রত। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল বাসিত ইসলামাবাদে সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বৃহস্পতিবার এ কথা বলেন। খবর পিটিআইয়ের।
কয়েক দিন আগে ভারতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানী কে সান্থানাম মন্তব্য করেন, ভারত ১৯৯৮ সালে যে পরমাণু বোমার পরীক্ষার চালায় তা পুরোপুরি সফল ছিল না। যদিও ওই সময় কর্তৃপক্ষ দাবি করে পরীক্ষাটি সফল ছিল। ফলে এখন আবার ভারত পরমাণু বোমার নকশাটির যথার্থতা প্রমাণের জন্য পরীক্ষা চালাতে পারে।
তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং নতুন করে পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালানোর খবর উড়িয়ে দিয়েছেন। সান্থানামের মন্তব্য সঠিক নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সংবাদ ব্রিফিংয়ের সময় ভারতের ওই বিজ্ঞানী ও দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল দীপক কাপুরের কিছু মন্তব্যের ব্যাপারে আবদুল বাসিত প্রতিক্রিয়া জানান। কাপুর পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের ভাণ্ডার বাড়ানোর ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বাসিত বলেন, পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ায় যেকোনো ধরনের অস্ত্র প্রতিযোগিতার বিরোধী। পরমাণু বোমা পরীক্ষা নিষিদ্ধের ব্যাপারে আঞ্চলিক চুক্তিরও প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে পাকিস্তান। প্রস্তাবটি যদিও এখনো টেবিলে পড়ে রয়েছে। আমরা আশা করি, এ ব্যাপারে এ অঞ্চলের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করা যাবে। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনাতেও পাকিস্তানের আপত্তি নেই। কিন্তু এরই মধ্যে ভারতের পরমাণু বোমার পরীক্ষার খবরে পাকিস্তান যারপরনাই বিব্রত।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে: উ. কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরমাণু বোমা তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হচ্ছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। গতকাল শুক্রবার সে দেশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এ দাবির কথা জানায়। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি ঠিক থাকলে পরমাণু বোমা বানানোর জন্য বর্তমান প্লুটোনিয়াম-নির্ভর পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে আরেকটি পদ্ধতি পেয়ে যাবে সমাজতান্ত্রিক দেশটি।
কেসিএনএর খবরে বলা হয়, ‘সফলভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। প্রক্রিয়াটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জাতিসংঘে নিয়োজিত উত্তর কোরীয় প্রতিনিধিদলের কর্মকর্তারা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে এ ব্যাপারে অবহিত করেছেন। তাঁরা নিরাপত্তা পরিষদের কাছে লেখা চিঠিতে জানিয়েছেন, পিয়ংইয়ং এখন অবরোধ ও আলোচনা—দুটোর জন্যই প্রস্তুত।’ ওই চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি স্থায়ী সদস্য যদি আলোচনায় বসার আগেই অবরোধ আরোপ করে, তার জবাবে পিয়ংইয়ংও আগে পরমাণু অস্ত্র সমৃদ্ধ করবে, তারপর আলোচনায় বসবে।
পিয়ংইয়ংয়ের এ পদক্ষেপকে হুমকি ও উসকানিমূলক অভিহিত করে এর নিন্দা জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওন তায়ে-জায়ে বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ-সম্পর্কিত উত্তর কোরিয়ার এ দাবি যাচাই করে দেখা সহজ নয়। এদিকে এক প্রতিক্রিয়ায় উত্তর কোরিয়াকে এ ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে টোকিওতে জাপানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিরোফুমি নাকাসোন বলেন, ‘পিয়ংইয়ংয়ের এ ধরনের বক্তব্যের কারণে উত্তেজনা বেড়ে যেতে পারে। আমরা (জাপান) অবশ্যই উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রের সক্ষমতা অর্জন সহ্য করব না।’
উত্তর কোরিয়া-বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত স্টিফেন বসওয়ার্থ বলেন, ‘পরমাণু অস্ত্রের উন্নয়নে উত্তর কোরিয়া যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা অবশ্যই উদ্বেগজনক।’ চীনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুই দিনের বৈঠক শেষে বসওয়ার্থ বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত রাখতে কাজ করার ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি।’
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে আরও সহজে পরমাণু বোমা তৈরির সুযোগ পাবে উত্তর কোরিয়া। আর এ কাজ করার জন্য বেশি জায়গা দরকার হয় না। তাই গোপনে এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়াও দেশটির জন্য সহজ হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, মাত্র ৬০০ বর্গমিটার এলাকার মধ্যে এ কর্মসূচি পরিচালনা করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টসের সদস্য ইভান ওয়েলরিচ বলেন, ইউরেনিয়াম-নির্ভর বোমা পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ছাড়াই ব্যবহার করা যেতে পারে।

আফগানিস্তানে ন্যাটো জোটের বিমান হামলায় নিহত ৯০

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে কুন্দুজ প্রদেশে গত বৃহস্পতিবার রাতে ন্যাটো বাহিনীর বিমান হামলায় কমপক্ষে ৯০ জন নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪০ জন বেসামরিক লোকও রয়েছে। অন্যরা তালেবান জঙ্গি বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
পুলিশ প্রধান গুলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘কুন্দুজ প্রদেশের ওমর খেল গ্রামের কাছে বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে তালেবান জঙ্গিরা দুটি জ্বালানি ট্যাংকার ছিনতাই করে। তারা ট্যাংকার দুটি কুন্দুজ নদীর কাছে নিয়ে গেলে ন্যাটো জোট তাদের ওপর হামলা চালায়। নিহতদের অধিকাংশই তালেবান জঙ্গি। এতে তালেবানের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতাও রয়েছেন।’ খবর বিবিসি ও এএফপির।
পুলিশের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানান, হামলায় ৯০ জন মারা গেছে। তাদের মধ্যে ৪০ জন গ্রামবাসী।
কুন্দুজ প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ ওমর হামলায় ৯০ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। ন্যাটো জোট হামলার কথা স্বীকার করলেও হতাহতের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলেনি। তবে জোটের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, হামলায় বেসামরিক লোকজন নিহত হওয়ার বিষয়টি তাঁরা তদন্ত করে দেখছেন।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা-সহায়তা বাহিনীর (আইএসএএফ) মুখপাত্র গত বৃহস্পতিবার রাতে কাবুলে বলেন, ছিনতাইয়ের পর জ্বালানি ট্যাংকার দুটি কুন্দুজ নদীর পারে নিয়ে যায় জঙ্গিরা। পরে স্থানীয় আইএসএএফ কমান্ডার সেখানে বিমান হামলার নির্দেশ দেন। এ হামলায় ট্যাংকার দুটি ধ্বংস হয়ে যায়। এতে অনেক জঙ্গি নিহত হয়।
ছিনতাই হওয়া ট্যাংকার দুটির একজন চালক বলেন, ‘তালেবান জঙ্গিরা ট্যাংকার দুটি ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর দুজন সহকর্মীর শিরশ্ছেদ করে।’ বিমান হামলায় গুরুতর আহত লোকজনকে কুন্দুজের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মোহাম্মদ দাউদ নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘জঙ্গিরা ট্যাংকার দুটি কুন্দুজ নদী পার করে আঙ্গরবাঘে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। তারা একটি ট্যাংকার ওপারে নিয়ে যেতে সক্ষম হলেও অপরটি এপারে আটকে যায়। পরে তারা গ্রামবাসীকে ওই ট্যাংকার থেকে ডিজেল নিয়ে যেতে বলে। গ্রামবাসী তেল নিতে ছুটে যায় ট্যাংকারের কাছে। এ সময় ওই হামলার ঘটনা ঘটে।’
আফগানিস্তানে কর্মরত বিবিসির সাংবাদিক ক্রিস মোরিস বলেছেন, ‘এ হামলায় বেসামরিক লোকজন মারা গেলে তা ন্যাটো বাহিনীর জন্য ঝামেলা হয়ে দাঁড়াবে। কেননা, আন্তর্জাতিক বাহিনীর হাতে সাধারণ আফগান মারা যাওয়ার ঘটনা এখানে খুবই সংবেদনশীল। এতে ন্যাটো বাহিনীর বিপক্ষে জনগণের ক্ষোভ বেড়ে যায়।’
আফগানিস্তানে শীর্ষ মার্কিন সেনা কর্মকর্তা জেনারেল স্টানলি ম্যাকক্রিস্টল আফগান পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণার কয়েক দিনের মাথায় এ হামলার ঘটনা ঘটল। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের অবস্থা বিপজ্জনক। কিন্তু এখানে সফলতা অনিবার্য। তবে এ জন্য কৌশল বদলাতে হবে এবং সামগ্রিকভাবে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

নভেম্বরেই ফিরতে পারেন গেইলরা

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার সমিতির (ফিকা) প্রধান নির্বাহী টিম মে মনে করেন, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তৃতীয় সারির দল পাঠালে মর্যাদাহানিই হবে টুর্নামেন্টের। তবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে না হলেও নভেম্বরের অস্ট্রেলিয়া সফরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম সারির ক্রিকেটাররা ফিরতে পারেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচক কমিটির প্রধান ক্লাইভ বাটস। অবশ্য এ জন্য আগে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে হবে গেইল, সারওয়ানদের, ‘বোর্ড এ বিষয়টি দ্রুত সমাধান করতে চায়। ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে বলা হয়েছে ক্রিকেটারদের। তারা যদি এটা করে তাহলে অস্ট্রেলিয়া সফরে শক্তিশালী দল পাব বলেই আমার বিশ্বাস।’
গেইলদের বিদ্রোহের পর কোনো রকমে একটা দল নামিয়ে তা তুলে দেওয়া হয় কোচ জন ডাইসনের হাতে। বাংলাদেশের কাছে পল রেইফারের সেই দল বাংলাদেশের কাছে টেস্ট ও ওয়ানডেতে হয় হোয়াইটওয়াশ। বাংলাদেশ সিরিজ শেষে ডাইসনের বরখাস্ত হওয়ার কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল লজ্জাজনক ওই পরাজয়কেই। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ড কর্মকর্তারা এখন বলছেন, পারফরম্যান্স নয়, ডাইসনকে বরখাস্ত করা হয়েছে চুক্তিতে সই না করায়। বার্বাডোজ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক কন্ডে রিলে বলেছেন, ডাইসনকে বরখাস্ত করার বিকল্প ছিল না, ‘একজন চাকরিজীবী যখন ১৮ মাস পরও চুক্তিতে সই করেন না, তখন বুঝতে হবে তিনি খুব একটা সিরিয়াস নন। সিদ্ধান্তটা তাই অবধারিতই ছিল।’

টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিউজিল্যান্ডের

দুই টেস্টের সিরিজে শ্রীলঙ্কার কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে নিউজিল্যান্ড। এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজে শ্রীলঙ্কাকেই হোয়াইটওয়াশ করল তারা। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৩ রানে জয়ের পর কাল দ্বিতীয়টিতে সহজেই জিতেছে ২২ রানে।
১০.২ ওভারেই ৮৪ রান তুলে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা কিউইদের দুর্দান্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও জেসি রাইডার। ৩৪ বলে ৪৯ রানের ইনিংসটির পথে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ৭০০ রান পূর্ণ করেন ম্যাককালাম। ৩টি করে চার ও ছয়ে ৩৭ বলে ৫২ রান করেন রাইডার। শেষদিকে গাপটিলের ২০ বলে ৩২ রানে ২০ ওভারে কিউইরা তোলে ৪ উইকেটে ১৭০ রান।
শেন বন্ড প্রথম ওভারেই দিলশানকে এবং মিলস নিজের টানা দুই ওভারে উদাওয়াত্তে ও জয়াসুরিয়াকে আউট করে দিলে শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। ১১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসা লঙ্কানদের লড়াইয়ে ফিরিয়েছিল সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনের ৬৭ রানের জুটি। তবে এক ওভারে জয়াবর্ধনে (৩০ বলে ৪১) ও ম্যাথুসকে (১) ফিরিয়ে দিয়ে নাথান ম্যাককালাম ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন স্বাগতিকদের। সাঙ্গাকারা করেন ক্যারিয়ার-সর্বোচ্চ ৬৯ রান (৫০ বলে)। ক্যারিয়ার-সেরা বোলিং করে বন্ড নিয়েছেন ১৮ রানে ৩ উইকেট। ম্যাচ ও সিরিজের সেরা রাইডার।

অস্ট্রেলিয়া ২৬০, লড়ছে ইংল্যান্ড

সপ্তাহ দুয়েক আগে ওভালে নির্ধারিত হয়েছিল অ্যাশেজের ভাগ্য। সেই ওভালেই কাল শুরু হয়েছে অনেক সমীকরণের ৭ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ২৬০ রান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৩৩ ওভারে ৩ উইকেটে ১৪৩। ৩০ রান নিয়ে ব্যাট করছিলেন ওয়াইস শাহ, সঙ্গী কলিংউডের রান রান ১২। অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের (১২) উইকেটটি নিয়েছেন ব্রেট লি, আর ম্যাট প্রিয়র (২৭) ও রবি বোপরার (৪৯) উইকেট দুটি হরিজ।
শেন ওয়াটসনের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সূচনা করেছিলেন ব্র্যাড হাডিনের ইনজুরির সুযোগে দলে আসা টিম পাইন। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে অপরাজিত ২৭ রান করলেও এদিন রানের খাতাই খুলতে পারলেন না তাসমানিয়ার ২৪ বছর বয়সী এই উইকেটকিপার। অসম্ভব এক সিঙ্গেল নিতে গিয়ে রান আউট হয়েছেন কলিংউডের সরাসরি থ্রোতে। এরপর অবশ্য ৯৫ বলে ৮২ রানের দারুণ এক জুটি গড়েছেন ওয়াটসন ও ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা ক্যামেরন হোয়াইট। ৫০ বলে ৪৬ রান করা ওয়াটসনকে আউট করে এই জুটি ভাঙেন কলিংউড। পরে ক্লার্কের উইকেটটিও নিয়েছেন কলিংউড।
৩০তম ওয়ানডেতে প্রথম হাফ সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া হোয়াইট (৫৩) রান আউট হওয়ার আগে ফার্গুসনের সঙ্গে ৭৯ রান যোগ করেছিলেন ক্লার্ক। ৪৩তম ওভারে ক্লার্ক আউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসকে প্রায় একাই টেনে নিয়ে যান ফার্গুসন। ৬২ বলে হাফ সেঞ্চুরি কার ফার্গুসন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে যান ক্যারিয়ার-সর্বোচ্চ ৭১ (৭৫ বলে) রান করে।

ব্রাজিল একটু এগিয়ে

৯৩—ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে। ৩৫টি জয় নিয়ে এগিয়ে আছে ব্রাজিল, ৩৪টি নিয়ে ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে আর্জেন্টিনা। ড্র ২৪টি। তবে গোল বেশি করেছে আর্জেন্টিনা। তাদের ১৪৯ গোলের বিপরীতে ব্রাজিলের গোল ১৪৫।
১৬—এই ম্যাচে ইউরোপে খেলা ফুটবলারদের সংখ্যা। অনেকেই মুখোমুখি হবেন ক্লাব সতীর্থের—লিওনেল মেসি ও দানি আলভেস (বার্সেলোনা), কার্লোস তেভেজ ও রবিনহো (ম্যান সিটি), ফার্নান্দো গ্যাগো ও কাকা (রিয়াল মাদ্রিদ), হাভিয়ের মাসকেরানো ও লুকাস (লিভারপুল), হুয়ান, হুলিও ব্যাপটিস্টা ও নিকোলাস বুর্দিসো (রোমা)। তবে সবচেয়ে বেশি ফুটবলার ইন্টার মিলানের। ব্রাজিল অধিনায়ক লুসিও, হুলিও সিজার ও মেইকন মুখোমুখি হবেন হাভিয়ের জানেত্তি ও ডিয়েগো মিলিতোর।
৯—খেলোয়াড়ি জীবনে ম্যারাডোনা ও দুঙ্গার মুখোমুখি হওয়া ম্যাচ। জাতীয় দলে তিনটি এবং ক্লাব পর্যায়ে ছয়টি। ৬ জয়, এক ড্র ও দুই পরাজয় নিয়ে এগিয়ে আছেন ‘এল পেলুসা’ ম্যারাডোনা।
৮—আট বছর আগে ঠিক এই দিনেই দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে প্রথম চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। মার্সেলো বিয়েলসার আর্জেন্টিনা সেদিন ২-১ গোলে হারিয়েছিল লুই ফেলিপ স্কলারির ব্রাজিলকে। তবে দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনার একমাত্র পরাজয়টাও এই দিনে। ১৯৯৩ সালে কলম্বিয়ার কাছে তারা হেরেছিল ০-৫ গোলে।
৭—দু দল মিলিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছে মোট সাতবার। ব্রাজিল ৫ (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪, ২০০২) ও আর্জেন্টিনা ২ বার (১৯৭৮, ১৯৮৬)।
২—এই ম্যাচের ভেন্যু রোজারিওতে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়া ম্যাচ। ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট কোপা আমেরিকার ম্যাচে ব্রাজিল জিতেছিল ১-০ গোলে। ১৯৭৮ বিশ্বকাপের ম্যাচটি হয়েছিল গোলশূন্য ড্র।
—আর্জেন্টিনার মাটিতে দক্ষিণ আমেরিকান বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দু দল মুখোমুখি হয়েছে দুবার। দুবারই জিতেছে আর্জেন্টিনা, ২০০১ সালে ২-১ এবং ২০০৫ সালে ৩-১ ব্যবধানে। ওই দু ম্যাচে খেলা দুজন ফুটবলার আছেন আজ দু দলে, হুয়ান ও জানেত্তি।
১—গত এক যুগে রিভার প্লেটের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামের বাইরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের হোম ম্যাচ মাত্র একটিই খেলেছে আর্জেন্টিনা। ১৯৯৭ সালের ১৬ নভেম্বর বোকা জুনিয়র্সের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে সেই ম্যাচে কলম্বিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল আর্জেন্টিনা।

লড়াইটা তাঁদেরও

দুজনই ছিলেন মিডফিল্ডার। তবে একজনের ছিল আক্রমণাত্মক ভূমিকা, অন্যজনের দায়িত্ব ছিল সেই আক্রমণ নস্যাত্ করে দেওয়ার। আরেকটি বড় মিল, দুজনই অধিনায়ক হিসেবে নিজ নিজ দেশকে জিতিয়েছেন বিশ্বকাপ। ১৯৯০ বিশ্বকাপে মাঠেও মুখোমুখি হওয়া ডিয়েগো ম্যারাডোনা আর কার্লোস দুঙ্গা আগামীকাল মুখোমুখি হচ্ছেন নতুন ভূমিকায়। এবার আর মাঠে নয়, তাঁরা থাকবেন ডাগ-আউটে। তাঁরা খেলবেন না, খেলবে তাঁদের কৌশল। ‘আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল’ তাই আগামীকাল ‘ম্যারাডোনা বনাম দুঙ্গা’রও দ্বৈরথ।
৩০ অক্টোবর জন্ম নেওয়া ম্যারাডোনার সঙ্গে ৩১ অক্টোবর জন্ম নেওয়া দুঙ্গার মিল আছে আরও এক জায়গায়। কোচের ভূমিকায় দুজনের শুরুটাই হয়েছে প্রশংসা আর সমালোচনায়। নরওয়ের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু করা দুঙ্গার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল, ব্রাজিলের সুন্দর ফুটবল তিনি ধ্বংস করে দিচ্ছেন। ২০০৭ কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে হারিয়েও মন ভরাতে পারেননি সমালোচকদের। পান থেকে চুন খসলেই খুন!
অবশেষে দুঙ্গাবিরোধীরা আপাতত চুপ মেরে গেছেন গত কনফেডারেশনস কাপে জেতার পর। ওদিকে ম্যারাডোনা-সমালোচকেরা থেকে থেকেই সরব। ১৯৭০ বিশ্বকাপ থেকে প্রতিটি আসরেই অংশ নেওয়া আর্জেন্টিনার ২০১০ বিশ্বকাপের টিকিট নিয়ে খানিকটা হলেও দুশ্চিন্তা আছে। আগামীকাল হেরে গেলে সে সংশয়টা বাড়বে। দুঙ্গা-ম্যারাডোনা দুজনের জন্যই তাই এই ম্যাচটা হতে পারে নিন্দুকদের মুখ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার উপলক্ষ।
ব্রাজিলের কোচ কিন্তু লড়াইটাকে ‘ম্যারাডোনা বনাম দুঙ্গা’ জাতীয় শিরোনাম দিতে নারাজ, ‘খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের দুজনেরই আলাদা আলাদা ইতিহাস আছে। এখন আমরা কোচের দায়িত্বেও আছি। কিন্তু ফুটবলে কেবল ১১ জন ম্যারাডোনায় যেমন কাজ হয় না, তেমননি ১১ জন দুঙ্গা হলেও চলবে না। প্রত্যেকেরই আপন আপন বৈশিষ্ট্য আছে। প্রত্যেকেই অন্যের চেয়ে একেবারে আলাদা।’