Showing posts with label জর্ডান. Show all posts
Showing posts with label জর্ডান. Show all posts

Friday, July 25, 2025

অধিকৃত পশ্চিম তীর ও জর্ডান উপত্যকা সংযুক্ত করতে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাস

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে গতকাল বুধবার জর্ডান উপত্যকাসহ পুরো অধিকৃত পশ্চিম তীর ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। এতে করে বিষয়টি আলোচনার জন্য পার্লামেন্টের এজেন্ডায় যুক্ত হলো। প্রস্তাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণা নেসেটের ‘আলোচ্যসূচি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে’।

ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওত আহারোনোতের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২০ আসনের নেটেসে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট পড়েছে ৭১টি। বিপক্ষে পড়েছে ১৩টি। কাহোল লাভান এবং ইয়েশ আতিদ পার্টি প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল।

আহারোনোতের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ এটা বাস্তবে কোনো আইন বা নিয়ম হিসেবে কার্যকর হবে না। তবে নেসেটের ঘোষণা হিসেবে এর রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।

খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীর ‘ইহুদি জনগণের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক মাতৃভূমির অবিচ্ছেদ্য অংশ’। প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, হেবরন ও নাবলুসের মতো ফিলিস্তিনি অধ্যুষিত শহর এবং শিলোহ ও বাইত এলের মতো অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলো ‘ইসরায়েলের ভূমিতে ইহুদি উপস্থিতির ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা’র ইঙ্গিত দেয়।

প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, ৭ অক্টোবরের আন্তসীমান্ত হামলা প্রমাণ করে যে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে তা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে এবং তাতে করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাও বিপন্ন হবে।

নেসেট ইসরায়েল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, পশ্চিম তীর ও জর্ডান উপত্যকায় অবস্থিত সব ইহুদি বসতিতে কালবিলম্ব না করে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব, তথা ইসরায়েলের আইন, বিচার ও প্রশাসন সম্প্রসারিত করতে হবে। যাতে করে ইসরায়েল রাষ্ট্রের নিরাপত্তা মজবুত হয় এবং ইহুদি জনগণের মাতৃভূমিতে শান্তি ও নিরাপত্তার মৌলিক অধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়।

১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা উপত্যকা দখল করে নিয়েছিল ইসরায়েল। ৩৮ বছর পর ২০০৫ সালে গাজা থেকে সেনা ও বসতি প্রত্যাহার করেছিল দেশটি। কিন্তু এখন আবার গাজা দখলের পাঁয়তারা করছে।

জর্ডান উপত্যকা অধিকৃত পশ্চিম তীরের পূর্ব অংশে অবস্থিত, যা জর্ডান নদীর পশ্চিম তীরে প্রসারিত একটি উর্বর ও কৌশলগত অঞ্চল। এটি প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এবং ফিলিস্তিনি কৃষি, জীবনযাপন ও ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। ইসরায়েল ১৯৬৭ সাল থেকে এই অঞ্চলটিও দখলে রেখেছে।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শুধু পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের হামলায় প্রায় ১ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে সাত হাজারের বেশি।

গত জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এক মতামতে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল অবৈধ বলে ঘোষণা করেছিলেন। পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের সব বসতি খালি করার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন।

একটি অবৈধ ইসরায়েলি বসতির পেছনে একজন ফিলিস্তিনি বেদুইনকে হাঁটতে দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের জর্ডান উপত্যকায়  
একটি অবৈধ ইসরায়েলি বসতির পেছনে একজন ফিলিস্তিনি বেদুইনকে হাঁটতে দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের জর্ডান উপত্যকায় ফাইল। ছবি: রয়টার্স

Monday, May 19, 2025

কথা উঠেছে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট শারাকে হত্যা না করতে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল জর্ডান

যুক্তরাষ্ট্র যেন সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে হত্যা না করে, এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। এটা তিনি দেন গত সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে শারার বৈঠকের আগে। যুক্তরাষ্ট্রের এক সিনেট সদস্য গত বৃহস্পতিবার এসব কথা বলেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের একটি অংশ শারার প্রতি কতটা বৈরী মনোভাব পোষণ করে, ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট সদস্য জিন শাহিনের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট। তাঁর এই কথার স্বর ট্রাম্পের একটি বক্তব্যও সমর্থন করছে। গত বুধবার (১৪ মে) শারার সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেছিলেন, বিদেশি নেতারা শারাকে একটি সুযোগ দিতে তাঁকে সরাসরি অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তাঁর নিজের উপদেষ্টারা এ বিষয়ে সন্দিহান।

গত বৃহস্পতিবার সিনেটের এক শুনানিতে জিন শাহিন বলেন,‘প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত কিছু মহলে এমন কিছু গুজব শুনেছি, যা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন...সিরিয়ার নতুন নেতা আহমেদ আল-শারাকে হত্যা করার একটি বিকল্প প্রস্তাবও এসেছিল।’

শাহিন বলেন, জর্ডানের বাদশা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ আহমেদ আল-শারাকে হত্যা নিয়ে কথিত প্রস্তাবের কথা জানতে পেরে এ বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।

সিনেট সদস্য শাহিন আরও বলেন, ‘বাদশাহ আবদুল্লাহ আমাদের বলেছিলেন, এই ধরনের নেতৃত্বের পরিবর্তন সিরিয়ায় পুরোদমে গৃহযুদ্ধ বাধাতে পারে। আর তা এই মুহূর্তে দেশটিকে এগিয়ে নেওয়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেটার জন্য ভালো কিছু হবে না।’

শাহিন মে মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাদশাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, সিরিয়ার ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা এবং আল-শারার সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের ঠিক আগেই তাঁদের মধ্যে ওই কথাবার্তা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার সিনেটে শুনানি চলাকালে ট্রাম্প প্রশাসনের নিকট প্রাচ্যবিষয়ক পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্ডারসেক্রেটারি পদের জন্য ট্রাম্পের মনোনয়নপ্রাপ্ত জোয়েল রেইবার্নকে নানা প্রশ্ন করেন সিনেট সদস্য শাহিন। শুনানির একপর্যায়ে তিনি আল-শারাকে হত্যার পরিকল্পনা-সংক্রান্ত মন্তব্যগুলো করেন।

এই সপ্তাহের ঘটনাবলির পটভূমিতে এই উক্তি তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে এই সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষাপটে তাঁর মন্তব্যগুলো গুরুত্বসহকারে নেওয়ার দাবি রাখে। মধ্যপ্রাচ্য সফরে গিয়ে সিরিয়ার ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও ইসরায়েলকে রীতিমতো চমকে দিয়েছেন।

তারপর গত বুধবার রিয়াদে শারার সঙ্গে বৈঠকটি করেন ট্রাম্প। বৈঠক শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী উড়োজাহাজ ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সেখানে ট্রাম্প শারার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। ট্রাম্প বলেন, শারা একজন ‘তরুণ, আকর্ষণীয় মানুষ। শক্ত মানুষ। অতীত জোরালো। যোদ্ধা।’

আল-শারাকে গুপ্তহত্যার বিকল্প উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জোয়েল রেইবার্ন বলেন, ‘আমি এমন কোনো উদ্যোগের কথা জানি না। তবে স্পষ্টতই তা প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্যের সঙ্গে কিংবা গত কয়েক দিনে তিনি শারাকে নিয়ে যা বলেছেন, তার সঙ্গে মিলছে না।’

আচমকা ধাক্কা

ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর ১৯৭৯ সাল থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত জানালে রিয়াদে তুমুল করতালি পড়ে। তবে এতে মার্কিন সরকারের অনেকে ক্ষুব্ধ হন। এমনকি যাঁরা সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পক্ষে ছিলেন, ট্রাম্পের ঘোষণায় পররাষ্ট্র দপ্তরের সেই কর্মকর্তারাও নিজেদের উপেক্ষিত মনে করছেন।

রিয়াদে ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক দিন আগেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সিরিয়াবিষয়ক উপদেষ্টারা সমপর্যায়ের বিদেশি কূটনীতিকদের ভিন্ন কথা বলেছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন, দামেস্কের নতুন সরকারের সমর্থকদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে এ কথা বলেন।

এদিকে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এনএসসি) কিছু কট্টরপন্থী সদস্যও তাঁদের সমপর্যায়ের বিদেশি কূটনীতিকদের ব্যক্তিগতভাবে অন্য সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন, সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে দিতে চেষ্টা করা হবে, যাতে শারার কাছ থেকে কিছু ছাড় আদায় করা যায়। একজন বর্তমান ও একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে এ কথা বলেছেন।

ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট সদস্য ক্রিস মারফি বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু সদস্য তাঁর সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞা করার চেষ্টা করছেন।

যাহোক, জোয়েল রেবার্নের শুনানি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সিরিয়ায় মার্কিন দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দামেস্কের বিষয়ে কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তবে এখন তিনি ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য এবং তাঁর উদ্যোগকে সমর্থন করি। নতুন অধ্যায় শুরু করতে এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ… প্রেসিডেন্ট সাহসী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন… তাঁর কিছু প্রত্যাশা রয়েছে।’

হোয়াইট হাউস বলছে, তারা চায় শারা যেন ফিলিস্তিনি ও বিদেশি যোদ্ধাদের সিরিয়া থেকে বহিষ্কার করেন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াই করেন। আর ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সিরিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়েও শারার সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

হোয়াইট হাউসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি তাঁকে (শারা) বলেছি, “আশা করি, সব ঠিকঠাক হলে আপনি যুক্ত হবেন।” তিনি বলেছেন, “হ্যাঁ।” তবে তাঁদের এখনো অনেক কাজ বাকি।’

শারা ছিলেন হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) নামের কট্টর ইসলামপন্থী সংগঠনের কমান্ডার। সংগঠনটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়। ২০০৩ সালে মার্কিন হামলার পর ইরাকে বিদ্রোহ শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনবিরোধী এই বিদ্রোহে শারাও অংশ নিয়েছিলেন। তখন সেখানে তিনি কয়েক বছর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত কারাগারে আটক ছিলেন। একসময় তিনি আল-কায়েদার প্রতিও অনুগত ছিলেন।

শারার মাথার জন্য যুক্তরাষ্ট্র একসময় এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে বাইডেন প্রশাসন তা প্রত্যাহার করে নেয়। তবে তাঁর নাম এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ‘বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’র তালিকায় রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ট্রাম্পের নির্দেশনা বিবেচনায় নিয়ে এখন তাঁর নাম বাদ পড়তে পারে।

শারার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বিদেশি মিত্র তুরস্ক। কিন্তু শারার নেতৃত্বাধীন সিরিয়া উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার ট্রাম্প বিশ্ববাসীর উদ্দেশে বলেন, তাঁকে সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে অনুরোধের কৃতিত্ব দুজনের। তাঁদের একজন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, দ্বিতীয়জন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পরোক্ষ আলোচনা চালাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইসরায়েল মাসের পর মাস ধরে সিরিয়ায় হামলা চালাচ্ছে এবং সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি অংশ দখল করে রেখেছে। ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের শুরুতে ইসরায়েল ও তুরস্ককে সিরিয়ায় সংঘাত এড়ানোর জন্য আলোচনা শুরু করতে তৎপর হয়েছিল।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর সিরিয়ার তথ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ পরিচালক আলী আল-রিফাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন ইসরায়েলের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম কান নিউজ। সিরিয়ার আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল।

জবাবে আল-রিফাই বলেছিলেন, ‘আমরা নিরঙ্কুশভাবে সবার সঙ্গে শান্তি চাই।’

ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পই আব্রাহাম চুক্তির উদ্যোগ নেন। তাঁর মধ্যস্থতায় ২০২০ সালে বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এতে সই করে। এর মধ্য দিয়ে দেশ দুটি ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।

 সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সৌদি আরবের রিয়াদে সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৪ মে, ২০২৫
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সৌদি আরবের রিয়াদে সাক্ষাৎ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৪ মে, ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

Wednesday, February 12, 2025

গাজার নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাব: ট্রাম্পের চাপ দৃঢ়ভাবে উপেক্ষা করলেন জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে নিতে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহকে চাপ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু বাদশাহ আবদুল্লাহ তা দৃঢ়ভাবে উপেক্ষা করেছেন। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের না সরিয়েই গাজা পুনর্গঠন করা হবে। এই বিষয়ে আরব দেশগুলো একমত।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে তাঁরা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, গাজা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া ও উপত্যকাটির বাসিন্দাদের স্থায়ীভাবে সরানোর পরিকল্পনা থেকে তিনি সরে আসবেন না।

ট্রাম্পের গাজা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রস্তাবে আরব দেশগুলো এরই মধ্যে হতাশা প্রকাশ করেছে। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, পুনর্গঠনের জন্য গাজাবাসীকে প্রতিবেশী মিসর ও জর্ডানসহ আরও কয়েকটি দেশে পাঠানো হবে। সেখান থেকে তাঁদের আর গাজায় ফিরতে দেওয়া হবে না। গাজাকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসৈকতে’ রূপ দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এটা [গাজা] নিতে যাচ্ছি। এটা আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, আমরা এটাকে ঢেলে সাজাব। শেষ পর্যন্ত আমরা এটা [ঢেলে সাজানোর কাজ] শুরু করতে যাচ্ছি, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।’ তাঁর এই পরিকল্পনা ওই অঞ্চলে ‘শান্তি’ বয়ে আনবে বলেও মন্তব্য করেন রিপাবলিকান পার্টির এই প্রেসিডেন্ট।

জবাবে ফিলিস্তিনিদের গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে বাস্তুচ্যুত করার বিরুদ্ধে জর্ডানের ‘অবিচল অবস্থান’ পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাদশাহ আবদুল্লাহ। সংবাদ সম্মেলন শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এটাই আরবদের একীভূত অবস্থান। ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত না করে গাজা পুনর্গঠন করা এবং ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সবার অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

জর্ডানের বাদশাহের বিরোধিতা সত্ত্বেও ট্রাম্প মনে করেন, জর্ডানের পাশাপাশি মিসরও শেষ পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত গাজাবাসীকে নিতে সম্মত হবে। দেশ দুটি অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি জর্ডানে আমাদের এক টুকরো জমি থাকবে। আমি বিশ্বাস করি মিসরেও আমাদের এক টুকরো জমি থাকবে। [মধ্যপ্রাচ্যের] অন্য কোথাও আমাদের জন্য সামান্য কিছু জমি থাকতে পারে। আমি মনে করি, আমরা যখন আলোচনা শেষ করব, তখন আমাদের জন্য এমন একটি স্থান থাকবে, যেখানে তারা [গাজাবাসী] সুখ-শান্তি ও নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।’

ট্রাম্প জর্ডানের সহায়তাও বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কথা প্রসঙ্গে বলি, আমরা জর্ডানকে বিপুল অর্থ দিয়েছি, মিসরকেও দিয়েছি। এর দ্বারা আমি কিন্তু তাদের হুমকি দিচ্ছি না। আমি মনে করি আমরা সে সবের ঊর্ধ্বে।’

বাদশাহ আবদুল্লাহ ওয়াশিংটনে যাওয়ার আগেও গাজাবাসীকে সরিয়ে উপত্যকাটি দখলের ট্রাম্পের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন। গাজা দখলের প্রস্তাবটি প্রকাশ করার পর প্রথম আরব নেতা হিসেবে বাদশাহ আবদুল্লাই মঙ্গলবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ও বাদশাহ আবদুল্লাহ উভয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিলেন। তবে গাজা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য তাঁকে কিছুটা অপ্রস্তুত করেছে বলে মনে হয়েছে।

কথা বলার একপর্যায়ে গাজাবাসীদের নেওয়ার ব্যাপারে বাদশাহ আবদুল্লাহ প্রতিশ্রুতি আদায় করতে চাচ্ছিলেন ট্রাম্প। তখন জর্ডানের বাদশাহ বলেন, ‘আমাদের দেশের জন্য যেটা সর্বোচ্চ মঙ্গল সেটাই করা হবে। হ্যাঁ, গাজার দুই হাজার শিশুকে আমরা চিকিৎসার জন্য জর্ডানে নেব।’ ট্রাম্প তাঁর এই প্রস্তাবের প্রশংসা করেন।

বাদশাহ আবদুল্লাহ বলেন, ‘পাল্টা প্রস্তাব নিয়ে আরব নেতারা একে একে ওয়াশিংটনে আসবেন। এই কাজ কীভাবে করলে সবার জন্য ভালো হয় [তা খুঁজে বের করাই] মূল বিষয়।’ এসব কথা বলার সময় তাঁর চেহারায় অস্বস্তি ফুটে ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি এবং বাদশাহ আবদুল্লাহর ছেলে ও যুবরাজ হুসাইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (বাঁয়ে) ও জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (বাঁয়ে) ও জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

Sunday, September 22, 2024

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের যত ব্যর্থ অভিযান

বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ানক, নিষ্ঠুর ও দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা বলা হয় ইসরায়েলের মোসাদকে। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মোসাদ বিভিন্ন দেশে গিয়ে গুপ্তহত্যার মতো লোমহর্ষক অপারেশনও করে থাকে নিয়মিত। এমনকি চিঠির মাধ্যমে বোমা পাঠিয়ে হত্যা করার কৌশল প্রথম আবিষ্কার করে। এছাড়াও ইরাকের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার মতো দুঃসাহসিকতাও রয়েছে মোসাদের।

মোসাদকে অনেকে ইসরায়েল রাষ্ট্রের ফুসফুসও বলে থাকে। দেশের ভরসা ও শত্রুদের সাক্ষাৎ যমদূত মানেন কেউ কেউ। সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র বাঁচানোর জন্য ইসরায়েল যেভাবে আয়রন ডোম ব্যবহার করে, তেমনি মোসাদ ইসরায়েলের অস্তিত্ব রক্ষায় ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

মোসাদের প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন গুরিয়ন মনে করতেন গোয়েন্দাবৃত্তি ইসরায়েলের প্রথম ডিফেন্স লাইন। টার্গেট দেশ থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সন্ত্রাস দমন ও অপারেশনের পর এগুলো গোপন রাখা হচ্ছে মোসাদের প্রধান কাজ। এটি ইসরায়েলের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা। তাদের কাজের রিপোর্ট ও গোয়েন্দা তথ্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে দিতে হয়। এর নীতিমালা ও কার্যক্রম অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ, যুক্তরাজ্যের এমআই সিক্স ও কানাডার সিএসআইএসের অনুরূপ।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে অপহরণ, হত্যা, গুমসহ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে মোসাদকে সবচেয়ে দুর্ধর্ষ মানা হয়। মূলত ইসরায়েলের নিরাপত্তা প্রশ্নে বিভিন্ন প্রচেষ্টা ও কর্মকাণ্ড মোসাদকে গোয়েন্দাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ মান দিয়েছে।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ঝুলিতে অসংখ্য সফল অভিযান যেমন আছে, তেমনই তাদের ব্যর্থতারও নজির রয়েছে। তারই কয়েকটা উল্লেখ করা হলো-

খালেদ মেশালকে হত্যাচেষ্টা

হামাসের রাজনৈতিক নেতা খালেদ মেশালকে হত্যাচেষ্টা মোসাদের অন্যতম ব্যর্থ অভিযান। এ অভিযান একটা বড় কূটনৈতিক সংকটের সৃষ্টি করেছিল। জর্ডানে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে ১৯৯৭ সালে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান খালেদ মেশালকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।

তাকে হত্যাচেষ্টার সময় ইসরায়েলি এজেন্টরা ধরে পড়ে যান। পরে ইসরায়েলকে এ বিষের প্রতিষেধক সরবরাহের জন্য বাধ্য করা হয়। মোসাদের তৎকালীন প্রধান ড্যানি ইয়াটম হামাসের এ নেতার চিকিৎসার জন্য জর্ডানে গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় জর্ডান ও ইসরায়েলের সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য প্রভাব দেখা গিয়েছিল।

হামাস নেতা মাহমুদ আল-জাহার

হামাস নেতা মাহমুদ আল-জাহারের বাড়িকে নিশানা করে ২০০৩ সালে গাজায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। দেশটির এ হামলা থেকে তিনি বেঁচে গেলেও তার স্ত্রী ও ছেলেসহ কয়েকজন নিহত হন। ইসরায়েলের এ হামলায় তার বাসভবন পুরো ধ্বংস হয়ে যায়।

ইয়োম কিপ্পুর যুদ্ধ

মিসর এবং সিরিয়া সিনাই উপদ্বীপ এবং গোলান মালভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য ১৯৭৩ সালের ৬ অক্টোবর ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায়। দেশটিতে এ হামলার জন্য ইহুদিদের প্রায়শ্চিত্তের দিন ইয়োম কিপ্পুরেকে বেছে নেওয়া হয়। ফলে যুদ্ধের প্রাথমিক দিনগুলোতে ইসরায়েল প্রস্তুত ছিল না।

ইসরায়েলকে এ যুদ্ধে মিসর ও সিরিয়া দুই ফ্রন্টে হামলা চালায়। মিসরীয় বাহিনী সুয়েজ খাল অতিক্রম করে। প্রত্যাশিত হতাহতের মাত্র একটা অংশই তাদের আক্রমণের দ্বারা প্রভাবিত হয়। অন্যদিকে সিরিয়ার বাহিনী ইসরায়েলি অবস্থানে আক্রমণ করে এবং গোলান মালভূমিতে প্রবেশ করে।

এ যুদ্ধে রাশিয়া প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করেছিল। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার জোগান দিয়েছিল। জাতিসংঘের তরফে প্রস্তাব দেওয়ার চার দিন পর যুদ্ধ শেষ হয়েছিল।

৭ অক্টোবরের হামলা

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীদের সংগঠন হামাস। যোদ্ধাদের এ হামলায় প্রায় ১২০০ ইসরায়েলি নিহত হন। তবে তাদের এ হামলার বিষয়ে আগে থেকে কোনো পূর্বাভাস দিতে পারেনি ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা। 

মোসাদের লোগোর ওপর গ্রাফিক্স। ছবি : সংগৃহীত
মোসাদের লোগোর ওপর গ্রাফিক্স। ছবি : সংগৃহীত

Monday, September 9, 2024

পশ্চিম তীর-জর্ডান সীমান্তে তিন ইসরায়েলিকে গুলি করে হত্যা

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও জর্ডান সীমান্তের একটি ক্রসিংয়ে বন্দুকধারীর গুলিতে তিন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। রোববার এ ঘটনা ঘটে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে জানায়, হামলাকারী জর্ডানের আল-কারামেহ শহর থেকে একটি ট্রাক করে রোববার সকালে অ্যালেনবি সেতু ক্রসিংয়ে আসেন। এরপর সীমান্ত প্রহরীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেন তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বন্দুকধারীকে গুলি করে হত্যা করেছেন। ট্রাকটিতে কোনো বিস্ফোরক ছিল কি না, তা তাঁরা খতিয়ে দেখেছেন।

জর্ডান জানায়, তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে। ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এমন একটি জায়গায় ঘটনাটি ঘটেছে, যেখানে জর্ডানের ট্রাকগুলো মালামাল খালাস করে। এই ঘটনার পর দুই দিক থেকেই ক্রসিংটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।


ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, নিহত তিনজনই ইসরায়েলের নিরাপত্তা প্রহরী। তবে তাঁরা ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বা পুলিশের সদস্য নয়।

জর্ডানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ঘটনার সময় মালামাল খালাসের জায়গা থেকে জর্ডানের অন্তত দুই ডজন ট্রাকচালককে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

ঘটনার পর জর্ডানের সঙ্গে ইসরায়েলের সব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

অ্যালেনবি সেতু ক্রসিং বাদশা হোসেইন সেতু নামেও পরিচিত। এটা পশ্চিম তীর ও জর্ডানের মধ্যে বৈধ পারাপারের একমাত্র পথ। তা ছাড়া জর্ডান থেকে থেকে পশ্চিম তীরে ঢোকার এটিই একমাত্র পথ, যেটি ইসরায়েলের ভেতর দিয়ে যায়নি।

এই ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একে ইসরায়েলের জন্য ‘একটি কঠিন দিন’ আখ্যায়িত করেছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে তিনি ভুক্তভোগীদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

হামাস এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে এটিকে গাজা যুদ্ধের ‘প্রাকৃতিক জবাব’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে পশ্চিম তীরে এখন পর্যন্ত ৬০০ এর বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে।

একই সময়ে সেখানে সহিংসতায় অন্তত ১৮ জন ইসরায়েলি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে বলে জাতিসংঘের তথ্য। তবে এই পরিসংখ্যানে গত ১১ আগস্টের পর থেকে নিহতদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

গত সপ্তাহে পশ্চিম তীরে বৃহত্তম উদ্বাস্তু শিবির জেনিন শহর থেকে নয় দিনের অভিযান শেষে সেনা প্রত্যাহার করে ইসরায়েল। এই এলাকাটি ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর শক্তিশালী ঘাঁটি রয়েছে। এখানে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বসবাস করে।
পশ্চিম তীর ও জর্ডান সীমান্তের অ্যালেনবি ক্রসিংয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। অধিকৃত পশ্চিম তীরে, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪

Friday, August 2, 2019

জর্ডানে সাগরতলে সামরিক জাদুঘর উন্মোচন

পানির ৯২ ফুট নিচে ডোবানো ট্যাংক
জর্ডানের আকাবা শহরের উপকূলে উন্মোচিত হলো ডুবো সামরিক জাদুঘর। পানির ৯২ ফুট নিচে এর অবস্থান। এটাই পানির নিচে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির প্রথম জাদুঘর।
২৪ জুলাই বুধবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কয়েকটি সামরিক বাহন একের পর এক ডোবানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে ট্যাংক, সৈন্যদের পিকআপ ও একটি হেলিকপ্টার। রণাঙ্গনে এসব বাহন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ভারত মহাসাগরের অন্তর্গত রেড সি উপসাগরের প্রবালদ্বীপে এগুলো রাখা হয়েছে।
আকাবা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের মতে, পানির নিচে সামরিক বাহনের প্রদর্শনীর সুবাদে পর্যটকদের জাদুঘর দেখার নতুন অভিজ্ঞতা হবে। এতে একইসঙ্গে আনন্দ, সামুদ্রিক পরিবেশ ও প্রদর্শনীর সম্মিলন পাওয়া যাবে।
জর্ডানের রয়েল এয়ার ফোর্সের হেলিকপ্টার
জর্ডানের রয়েল এয়ার ফোর্সের হেলিকপ্টার
জর্ডানের রয়েল এয়ার ফোর্সের দান করা একটি সামরিক হেলিকপ্টারটি ডোবানো হয়।
জাদুঘরের একটি ট্যাংক
জাদুঘরের একটি ট্যাংক
আকাবা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ ইংরেজি দৈনিক জর্ডান টাইমসকে নিশ্চিত করেছে, সব বাহন ডোবানোর আগে সব বিপজ্জনক উপকরণ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
জরুরি কাজে ব্যবহৃত সামরিক ট্যাংক
জরুরি কাজে ব্যবহৃত সামরিক ট্যাংক
জাদুঘরে স্নোরকেলার ও স্কুবা ডাইভারদের মতো ডুবুরি পর্যটকরা কাচের মেঝে সমৃদ্ধ নৌযানে ভেসে যেতে পারবেন।
আকাবা শহরের প্রবালদ্বীপ
আকাবা শহরের প্রবালদ্বীপ
রেড সি’র উত্তরভাগের প্রবালদ্বীপ ডুবুরিসহ পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য
>>>সূত্র: বিবিসি

Thursday, August 30, 2018

জর্ডানে জেসমিনের ওপর বর্বরতা by রিপন আনসারী

‘মদ খেয়ে প্রতিরাতে বাসার মালিক ও তার ছেলে যৌনক্ষুধা মিটাতো। মারধর, গরম খুন্তি দিয়ে পিঠে ছেঁকা আর  সারাদিন পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে আটকে রাখতো। এভাবে ওই বাসায় কয়েক মাস নির্যাতনের পর তুলে দেয়া হয় সোনিয়া নামের এক বাংলাদেশির কাছে। জর্ডানের দাম্মাম শহরের সোনিয়ার বাসাটি ছিল মিনি পতিতালয় তা জানা ছিল না।  ভেবেছিলেন বাঙালির কাছে আশ্রয় পেয়েছি ভালো থাকবো। তা আর হলো না।
আমার মতো আরো ২০ নারীকে দিয়ে ওই নারী যৌনকাজে বাধ্য করতো। একবার  পালিয়ে গিয়েও রক্ষা পাইনি। আবার ধরে নিয়ে  আমাকে তার বাসার নিচতলায় ভারতের নাগরিক নির্মাণ শ্রমিক গরজিদের কাছে তুলে দেয়।  কোনোভাবেই নিজেকে আর রক্ষা করতে পারলাম না। এক পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ি। পরে সোনিয়া  টের পেয়ে আমাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। দুই মাস জেল খাটার পর পেটে সন্তান বহন করে ১৮ই এপ্রিল ওই দেশের সরকারের সহায়তায় দেশে ফিরে আসি।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে লোমহর্ষক নির্যাতনের এই কাহিনী তুলে ধরেন জর্ডান ফেরত এক নারী।  মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বাস্তা গ্রামের দরিদ্র এক রিকশাচালক তারা মিয়ার মেয়ে এখন কন্যা সন্তানের জননী। এ দায় কার, এনিয়ে দিশাহারা পরিবারটি। তাছাড়া, সমাজ এই পরিবারের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। গেল বৃহস্পতিবার সিংগাইরের একটি ক্লিনিকে পিতার নাম অন্য পরিচয়ে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। তার দাবি এই সন্তানের পিতা ভারতীয় নাগরিক গরজিদ।
ওই নারী জানান, ১০ মাস তাকে বাসায় আটকে রেখে যৌনকাজে বাধ্য করা হলেও একটি টাকাও তুলে দেয়া হয়নি তার হাতে। শূন্য হাতেই তিনি বাড়ি ফিরেছেন। তিনি তার জীবনটা নষ্ট করার জন্য সোনিয়া আক্তারের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন। সেই সঙ্গে এই কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। সামাজিক ভাবে কি পরিচয় দেবেন এই সন্তানের। প্রতিবেশীরা নানা ধরনের কথা  শোনাচ্ছেন তাকে ও তার পরিবারকে। তিনি জানান, শেষমেশ কোনো উপায় না পেয়ে মঙ্গলবার সিংগাইর থানায় মামলা করতে বাধ্য হয়েছি।
কথা হয় তার পিতা তারা মিয়ার  সঙ্গে। তিনি পেশায় একজন রিকশাচালক। নিজের জমি নেই। শ্বশুরবাড়িতে ছোট একটি টিনের দোচালা ঘরে বসবাস করেন। তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে এই মেয়ে সবার বড়। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে ১৫ বছরের মেয়েকে ২৫ বছর দেখিয়ে পাসপোর্ট করে দেয় স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী কাশেম আলী। এরপর ১০ হাজার টাকা ঋণ করে ২০১৬ সালের ২৩শে অক্টোবর জর্ডানে পাঠানো হয়। কথা ছিল তার মেয়েকে নিয়ে বাসাবাড়িতে কাজ দেবেন। কিন্তু জর্ডানে যাওয়ার পর মেয়ের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। দালাল কাশেমের কাছে মেয়ের খোঁজ নিলে সে জানিয়ে দেয় জর্ডানে পাঠানো হয়েছিল কিন্তু সেখান থেকে সে  পালিয়ে গেছে। এর দায়িত্ব সে নিতে পারবে না। মেয়ের সন্ধান চেয়ে কাসেমের বিরুদ্ধে একটি  মামলাও করা হয়েছিল। দেড় বছর পর জানা যায় সিংগাইর উপজেলার চান্দহুর ইউনিয়নের চরচামটা গ্রামের নিহাজ উদ্দিনের মেয়ে সোনিয়ার কাছে জর্ডানে আছে। সোনিয়ার সঙ্গে মোবাইলফোনে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হই।  
তারা মিয়া জানান, অবিবাহিত মেয়ে বিদেশ থেকে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে ফিরেছে। এলাকায় কানাঘোষা হচ্ছে। লজ্জায় বাড়ির বাইরে বের হতে  পারি না। নানাজনে নানা কথা বলে। সমাজের মাতবর আলেক উদ্দিন কোরবানি ঈদের আগে জানিয়ে দেন সমাজ থেকে তাদের বাদ দেয়া হয়েছে। সমাজের মানুষ তাদের পাশে নেই। কিন্তু যাদের জন্য আজ তার মেয়ের এই অবস্থা তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান তিনি। এছাড়া বাধ্য হয়ে জর্ডান প্রবাসী সোনিয়াসহ আরো ৫ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার  সিংগাইর থানায় মামলা করা হয়েছে।
তিনি জানান, বড় আশা করে মেয়েকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু মেয়ে নানা নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন। মেয়ের কন্যা সন্তান কার পরিচয়ে বড় হবে তা নিয়েই বেশি দুশ্চিন্তায় তিনি।
স্থানীয় দালাল আবুল কাশেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অনেক নারী শ্রমিককে তিনি বিদেশে পাঠিয়েছেন। এমন ঘটনা কারো সঙ্গে হয়নি। এর জন্য তিনি দায়ী নন, সোনিয়া নামের নারী তাকে দিয়ে খারাপ কাজ করিয়েছে। তারা মিয়া মামলা করেছিল, পরে বিদেশ থেকে ফেরার পর স্থানীয়ভাবে বসে মামলাটি আপোষ করা হয়েছে।
সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন জানান, অন্তঃসত্ত্বা হয়ে নারী শ্রমিক দেশে এসে সন্তান প্রসবের ঘটনার খবর শোনার পর  মেয়েটির পরিবারকে আইনগত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছি। মঙ্গলবার  ভুক্তভোগী ওই নারী থানায় ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করলে এদের মধ্যে দুই আসামিকে আটক করা হয়েছে।

Sunday, October 25, 2015

জেরুজালেমের পবিত্র স্থান নিয়ে জর্ডান-ইসরায়েল সমঝোতা

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, জেরুজালেমের মতো একটি পবিত্র স্থানকে ঘিরে উত্তেজনা প্রশমনে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে জর্ডান ও ইসরায়েল। জর্ডানে একটি বৈঠক শেষে এ কথা জানান  কেরি। মুসলিমদের কাছে হারাম আল-শরিফ এবং ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট হিসেবে পরিচিত স্থানটির আনুষ্ঠানিক তত্ত্বাবধায়ক জর্ডান। ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই স্থানটি। কেরি বলেন, সেখানে বর্তমান আইন বলবৎ রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্নবায়ন করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েল আইনটি পরিবর্তন করতে চায় এমন একটি গুজবের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি ওই অঞ্চলে সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। সাম্প্রতিক ছুরি ও বন্দুক হামলায় অন্তত আটজন ইসরায়েলি নিহত হয়েছে এবং অনেকে আহত হয়েছে। অন্যদিকে গত কয়েক সপ্তাহে কয়েকজন হামলাকারীসহ প্রায় ৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।- বিবিসি।