Thursday, June 4, 2026

নেতানিয়াহুকে পাগল বলার কথা নিজেই জানালেন ট্রাম্প

লেবাননে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাগল বলার কথা নিজেই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরান যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার চেষ্টা চলাকালে এক ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ওই আখ্যা দিয়েছিলেন।

গতকাল বুধবার প্রচারিত ‘পড ফোর্স ওয়ান’ পডকাস্টের একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি সত্যিই নেতানিয়াহুকে পাগল বলেছেন ও তাঁর বিরুদ্ধে অকৃতজ্ঞতার অভিযোগ তুলেছেন কি না।

জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি বলেছিলাম। তবে আমি রাগান্বিত ছিলাম না। লেবাননে তাঁর অনবরত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিতে আমি কিছুটা বিরক্ত ছিলাম।’ অবশ্য এর পরপরই ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুবই ভালো।

পরিচয় গোপন রেখে এক মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সোমবারের ওই ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সরাসরি বলেন, ‘আপনি একটা পাগল। আমি না থাকলে আপনি এত দিন জেলে থাকতেন। আমি আপনার পিঠ বাঁচাচ্ছি। এ (যুদ্ধের) কারণে এখন সবাই আপনাকে ও ইসরায়েলকে ঘৃণা করছে।’

পডকাস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘একপর্যায়ে আমি তাঁকে বলেছিলাম, বিবি (নেতানিয়াহুর ডাকনাম), আমাদের এখন এটা থামাতে হবে।’

অভিন্ন লক্ষ্য

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের বিষয়ে গতকাল মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফোনালাপের বিস্তারিত প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন হয়নি উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এক। তবে সবচেয়ে সুখে থাকা পরিবারগুলোর মধ্যেও মাঝেমধ্যে কিছু কৌশলগত দ্বিমত তৈরি হতেই পারে।’

নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘আজ পর্যন্ত হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু হলেন ট্রাম্প। তিনি আমাকে সম্মান করেন, আমিও তাঁকে সম্মান করি। আমরা সব সময় নিজেদের মধ্যকার মতপার্থক্য দূর করার পথ খুঁজে নিই।’

এদিকে ইরান বলেছে, যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার আগপর্যন্ত তেহরান যুদ্ধ বন্ধে কোনো চুক্তিতে রাজি হবে না। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করে। আর হিজবুল্লাহকে দমনের নামে গত মার্চে লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া একটি চুক্তিতে ইসরায়েল হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হামলা বন্ধ করতে ও হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ বন্ধ রাখতে সম্মত হয়। এরপরও গতকাল ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় দক্ষিণ লেবাননে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা একটি শত্রু ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যা সম্ভবত হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছিল।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, নেতানিয়াহুর উসকানিতে তিনি ইরানে হামলা চালিয়েছেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে জন্য আমি নিজেই এ হামলা শুরু করেছি।’ এ সময় তিনি নিজের সমালোচকদের শত্রু বলেও আখ্যা দেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটা ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কারণ, প্রথম হামলার শিকার সম্ভবত তারাই হতো। আমি না থাকলে আজ ইসরায়েল নামের কোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্বই থাকত না।’

ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে না আনলে ইসরায়েলের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতো।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে হওয়া ওই চুক্তির আওতায় ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে রাজি হয়েছিল। এর বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল।

কিন্তু ট্রাম্প ২০১৮ সালে তাঁর প্রথম মেয়াদে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। এরপর ইরান উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় মজুত গড়ে তোলে, যা পারমাণবিক বোমা তৈরির পর্যায়ে পৌঁছে। ট্রাম্প এখন ইরানকে সেই মজুত ত্যাগ করার দাবি জানাচ্ছেন।

তবে ট্রাম্পের সমালোচকদের মতে, ওই চুক্তি বাতিলের পর ইরান আগের চেয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফলে এখন আগের চেয়ে ভালো কোনো চুক্তি করা ট্রাম্পের জন্য কঠিন হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স ও ইসরায়েলের সরকারি প্রেস অফিস

ব্যাগ বিক্রি করেই কালিন্দীর মাসে আয় আট লাখ টাকা by আবৃতি আহমেদ

কারখানা ও উৎপাদন ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের কাশিপুরে কালিন্দীর কারখানা। শুরুতে শুধু বেঁচে যাওয়া পাট ব্যবহার করে ব্যাগ বানাত ব্র্যান্ডটি। বর্তমানে কালিন্দীর প্রতিটি ব্যাগই প্রায় ৭৫ শতাংশ বেঁচে যাওয়া উপাদান ব্যবহার করে তৈরি হয়। ১৩ জন শ্রমিকের হাতের দক্ষতায় তৈরি হয় ব্যাগগুলো। চাহিদা অনুযায়ী মাসে প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ব্যাগ তৈরি করে কালিন্দী।

২০১৮ সাল থেকে পাটের ব্যাগ বিদেশে রপ্তানি করে আসছে অপরাজেয় লিমিটেড। কারখানায় ব্যাগ তৈরির সময় অব্যবহৃত থেকে যায় অনেক উপকরণ। সেগুলো কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. মনির হোসেন ও তাঁর স্ত্রী মুনিয়া জামান।

সেই ভাবনা থেকেই ২০২১ সালে দেশীয় ব্যাগের ব্র্যান্ড কালিন্দী প্রতিষ্ঠা করেন মুনিয়া জামান। শুরু থেকেই অপরাজেয় লিমিটেডের সহায়ক সংস্থা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে কালিন্দী। বর্তমানে শুধু ব্যাগ বিক্রি করেই প্রতিষ্ঠানটির মাসিক আয় আট লাখ টাকা।

শুরুটা যেমন ছিল

‘পাটের ব্যাগ’ শুনলে সাধারণ মাথায় আসে ঝোলা ব্যাগের কথা। এ ধারণাটাই পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন মুনিয়া। তিনি খেয়াল করে দেখেন, বাংলাদেশের এই সোনালি আঁশ দিয়ে তৈরি খুব সাধারণ ব্যাগগুলোই লুফে নিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

বিদেশিরা তাদের নিজস্ব নকশায় তৈরি করে নিচ্ছে পাটের ব্যাগগুলো। অথচ দেশের আঙিনায় পাটের ব্যাগের ক্রেতা নেই। এর একটি বড় কারণ আধুনিকায়নের অভাব এবং একঘেয়ে নকশা।

মুনিয়া বলেন, ‘কী ধরনের পণ্য তৈরি করা দরকার, ক্রেতারা কী চায়, মূল্য নির্ধারণ, পণ্যের মান—এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে এগোলে ক্রেতারা কেনার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করবে।’

নদীর নামে নাম

পাট ও নদী একে অপরের প্রাণ। প্রবাহমান নদীর অববাহিকায় জমে থাকা উর্বর পলি বা দো-আঁশ মাটিতে পাটগাছ চাষ করেন কৃষকেরা। নদীর পানিতে জাগ দেওয়া হয় (পঁচানো) পাটগাছ। তা থেকেই বেড়িয়ে আসে সোনালি আঁশ।

নদীর সঙ্গে পাটের এই নিবিড় সম্পর্কের কারণেই নদীর নামে ব্র্যান্ডের নাম রেখেছেন মুনিয়া। বাংলাদেশ-ভারতের আন্তসীমান্ত একটি নদী কালিন্দী। ৫৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নদীটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার সীমান্ত ঘেঁষে প্রবাহিত হয়েছে।

কালিন্দীর সব ব্যাগের নামও দেশের বিভিন্ন নদ ও নদীর নামে রেখেছেন মুনিয়া। হালদা, আর্চি, চিত্রা, বাউলাই, ইছামতী, লোহালিয়া, রূপসা, ভৈরব, ভদ্রা—এমন আরও অনেক নদীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় কালিন্দীর ব্যাগগুলো।

ব্র্যান্ডটির ওয়েবসাইটে প্রতিটি ব্যাগের ছবি, নাম ও বিস্তারিত বর্ণনার সঙ্গে নদীর বৃত্তান্ত লেখা আছে, জানান মুনিয়া। তিনি বলেন, একটা নতুন নকশার ব্যাগের সঙ্গে যুক্ত হয় একটি করে নদী। অর্থাৎ আমরা যখন ১০০টি নকশা অতিক্রম করব, তখন ওয়েবসাইটে জানা–অজানা ১০০ নদীর বর্ণনা পাওয়া যাবে।

আধুনিকতা

শুরু থেকেই ক্রেতাদের রুচির কথা মাথায় রেখেছেন মুনিয়া। পাটের ব্যাগে এনেছেন আধুনিক নানা নকশা ও রং। ক্রেতাদের চাহিদা ও পরামর্শে নতুন নতুন ডিজাইন আনেন ব্যাগে।

সব বয়সী মানুষের জন্য আনুষ্ঠানিক, ক্যাজুয়াল, পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে এবং ট্রেন্ড অনুযায়ী তৈরি করা হয় নতুন নকশার ব্যাগ। নারীদের জন্য পার্স, হাতব্যাগ ইত্যাদি থেকে শুরু করে পুরুষদের কাঁধের ব্যাগ, মানিব্যাগ এবং সবার জন্য ল্যাপটপ ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক আছে কালিন্দীর সংগ্রহে। দেশের বাজারে পাটের ব্যাগের বৈচিত্র্য কম, এমনটাই মনে হয়েছিল মুনিয়ার।

‘পাটের ব্যাগ অল্পস্বল্প যা আছে, তার দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ কম। মনে হয়েছে, বেঁচে যাওয়া পাট ব্যবহার করে ব্যাগ তৈরি করলে উৎপাদন খরচ কমে আসবে। ভালো মানের উপকরণ দিয়ে তৈরি ব্যাগও তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করা যাবে। দেশের বাজারে পাটের ব্যাগের প্রতি মানুষের আগ্রহ তৈরি করতে কিছুটা ফ্যাশনেবল এবং সহজলভ্য করে পাটের ব্যাগ আনতে চেয়েছি। অবশ্য আমরা এখন পাটের ব্যাগের পাশাপাশি চামড়ার ব্যাগও তৈরি করছি’, বলেন মুনিয়া।

২০১৮ সাল থেকে পাটের ব্যাগ বিদেশে রপ্তানি করে আসছে অপরাজেয় লিমিটেড। কারখানায় ব্যাগ তৈরির সময় অব্যবহৃত থেকে যায় অনেক উপকরণ। সেগুলো কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. মনির হোসেন ও তাঁর স্ত্রী মুনিয়া জামান।

সেই ভাবনা থেকেই ২০২১ সালে দেশীয় ব্যাগের ব্র্যান্ড কালিন্দী প্রতিষ্ঠা করেন মুনিয়া জামান। শুরু থেকেই অপরাজেয় লিমিটেডের সহায়ক সংস্থা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে কালিন্দী। বর্তমানে শুধু ব্যাগ বিক্রি করেই প্রতিষ্ঠানটির মাসিক আয় আট লাখ টাকা।

সাফল্য

সম্পূর্ণ দেশি কাঁচামালে তৈরি হওয়ায় কালিন্দীর ব্যাগগুলোর দাম ক্রেতাদের হাতের নাগালে। অল্প দিনেই ক্রেতাদের ভালো সাড়া পেয়েছেন মুনিয়া। তিনি জানান, বর্তমানে কালিন্দীর মাসিক আয় প্রায় আট লাখ টাকা। প্রথমে অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দিয়ে শুরু করে বর্তমানে নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট রয়েছে ব্র্যান্ডটির।

নিজস্ব নকশার ব্যাগের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিশেষ ফরমাশের ব্যাগও তৈরি করে কালিন্দী।

২০২২ সালে ‘যাত্রা’র সঙ্গে সমন্বয় করে কালিন্দী। রাজধানীর বনানীর ‘যাত্রা’র আউটলেট থেকে কালিন্দীর প্রায় সব প্রোডাক্টই দেখে কেনার সুযোগ রয়েছে। মুনিয়া বলেন, ‘শুরুর দিকে ক্রেতারা মান যাচাই করার জন্য দেখে কিনতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। এখন অবশ্য অনলাইন–অফলাইন সবভাবেই ক্রেতাদের আস্থার জায়গা তৈরি করতে পেরেছে কালিন্দী।

অনেকেই মনে করেন, দেশি পণ্যের প্রতি আমাদের দেশের মানুষের আগ্রহ কম। উদ্যোক্তা হিসেবে এমনটা কখনোই মনে হয়নি মুনিয়ার। তিনি বলেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুনভাবে কাজ করা গেলে দেশি উপকরণে তৈরি পণ্যকেও জনপ্রিয় করে তোলা সম্ভব। এখন লক্ষ্য একটাই, কালিন্দীর ব্যাগকে ছড়িয়ে দিতে চান দেশের বাইরের ক্রেতাদের হাতেও।

২০২১ সালে দেশীয় ব্যাগের ব্র্যান্ড কালিন্দী প্রতিষ্ঠা করেন মুনিয়া জামান
২০২১ সালে দেশীয় ব্যাগের ব্র্যান্ড কালিন্দী প্রতিষ্ঠা করেন মুনিয়া জামান। ছবি: মুনিয়া জামানের সৌজন্যে

কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে একা দাঁড়িয়ে গেলেন একজন ‘ট্যাংকম্যান’ by শামিমা নাসরিন

ঠিক ৩৭ বছর আগে (৪ জুন) বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে কী ঘটেছিল, কত মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, সেসবের সঠিক হিসাব আজও অজানা। তবে সেদিনের একটি মুহূর্তের ছবি বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছিল, কীভাবে সাহসে ভর করে একা রুখে দাঁড়িয়ে শাসকের অস্ত্র থামিয়ে দেওয়া যায়।

১৯৮৯ সাল। তিয়েনআনমেনে বিক্ষোভকারীদের ওপর চীনের সামরিক বাহিনীর চড়াও হওয়ার পরদিন ৫ জুন কয়েকটি ছবি বিশ্ববাসীর সামনে আসে। ছবিগুলোতে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা একজনকে সড়কের চলন্ত ট্যাংকবহরের সামনে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর দুই হাতে দুটি শপিং ব্যাগ ধরা, যেন সবে বাজার করে বাড়ি ফিরছেন। ছবিতে থাকা ওই ব্যক্তির পরিচয় আজও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সারা বিশ্ব তাঁকে ‘ট্যাংকম্যান’ নামে মনে রেখেছে।

কয়েকজন আলোকচিত্রী তিয়েনআনমেন স্কয়ারের কাছে সেদিনের সেই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করতে পেরেছিলেন। তাঁদের একজন জেফ উইডনার। তিনি বেইজিং হোটেলের কক্ষ থেকে ছবিটি তুলেছিলেন। আরেক আলোকচিত্রী স্টুয়ার্ট ফ্রাঙ্কলিনের তোলা ‘ট্যাংকম্যান’ ছবি টাইম সাময়িকীতে ছাপা হয়। তিনি ছবি তুলেছিলেন বেইজিং হোটেলের ব্যালকনি থেকে।

৫ জুন পশ্চিমা আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ট্যাংকম্যানের ছবি ফলাও করে ছাপা হয়েছিল। পরে এক সাক্ষাৎকারে স্টুয়ার্ট ফ্রাঙ্কলিন বলেছিলেন, ‘এ ছবির মধ্য দিয়ে লোকটির অসাধারণ সাহস ফুটে উঠেছে। সমাজে ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনার জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে যেন তৈরি ছিলেন তিনি।’

কর্তৃত্ববাদী শাসকের অপ্রতিরোধ্য শক্তির বিরুদ্ধে শুধু ব্যক্তিগত সাহসে ভর করে রুখে দাঁড়াবার প্রতীক হয়ে আছেন তিনি। বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটির সামনে কিছুক্ষণের জন্য হলেও মাথানত করতে বাধ্য হয়েছিল শাসকের দুর্নিবার অস্ত্র। এরপর তাঁর কী হয়েছিল, জানা যায়নি। কেউ কেউ তাঁকে ‘ওয়াং উইলিন’ বলে সন্দেহ করলেও চূড়ান্তভাবে কেউ তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি।

এদিকে আলোকচিত্রী চার্লি কোল তিয়েনআনমেনে তাঁর তোলা ‘ট্যাংকম্যান’ ছবির জন্য ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো অব দ্য ইয়ার পুরস্কার-১৯৮৯ পেয়েছিলেন।

ইতিহাসের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ


বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছবির ছোট্ট তালিকা করা হলেও সেখানে নিশ্চিতভাবেই জায়গা করে নেবে ‘ট্যাংকম্যান’। এ ছবির পটভূমি জানতে হলে ফিরে যেতে হবে অতীতে, ১৯৮৯ সালে, যখন চীন বিক্ষোভে উত্তাল।

দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিতে রাজধানী বেইজিংয়ে টানা বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভের মূলকেন্দ্র ছিল শহরের তিয়েনআনমেন স্কয়ার। ১৯৮৯ সালের ৪ জুন এ স্কয়ারে যেন নরক নেমে এসেছিল, লেখা হয়েছিল দমন–পীড়ন আর নির্বিচার হত্যার এক কলঙ্কিত অধ্যায়, যার প্রকৃত চিত্র চীনের কর্তৃত্ববাদী সরকার বিশ্ববাসীর সামনে কোনো দিন আসতে দেয়নি।

তবে আলোকচিত্রীদের কয়েকটি ক্লিক সেদিন তিয়েনআনমেন ও এর আশপাশের এলাকায় কী ঘটেছিল, তা বোঝার জন্য যথেষ্ট ছিল।

সে বছর এপ্রিল থেকে টানা বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে চীন সরকার মে মাসের শেষ ভাগে সামরিক আইন জারি করে। কিন্তু তাতেও বিক্ষোভকারীদের দমানো যায়নি।

জুনে সেনাবাহিনী-বিক্ষোভকারীদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ বাধতে শুরু করলে সরকার সেনাবাহিনীকে বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল তিয়েনআনমেন স্কয়ার খালি করার নির্দেশ দেয়।

৪ জুন ট্যাংকের একটি বড় বহর তিয়েনআনমেন স্কয়ারের দিকে যাচ্ছিল। জলপাই সবুজ রঙের বিশালাকারের ভয়ালদর্শন ট্যাংক একের পর এক সারি বেঁধে এগিয়ে যাচ্ছে।

ট্যাংকের সারি এগিয়ে আসছিল, হঠাৎই দেখতে খুব সাধারণ ঘরানার এক ব্যক্তি সড়কের মাঝখানে ট্যাংকবহরের গতিপথ আটকে দাঁড়িয়ে পড়েন।

চলন্ত ট্যাংকের বিশাল বহরটি এই ব্যক্তিকে ভয় দেখাতে পারেনি। তিনি অবিচল দাঁড়িয়ে আছেন, প্রথম ট্যাংকটি তাঁর একেবারে সামনে এসে দাঁড়িয়ে যায়। তিনি হাত নেড়ে সেগুলোকে ফিরে যেতে ইশারা করেন। সামনের ট্যাংকটি তাঁকে এড়িয়ে যেতে এদিক-ওদিক ঘুরে সামনে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। তিনিও ঘুরে ঘুরে ট্যাংকের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। একপর্যায়ে তাঁকে একটি ট্যাংকের ওপর উঠে যেতে দেখা যায়, সেই ছবিও রয়েছে।

পরে অজ্ঞাতনামা আরও দুই ব্যক্তি তাঁকে সেখান থেকে টেনে সরিয়ে নেন। সব মিলিয়ে মাত্র মিনিট পাঁচেকের মধ্যে এত সব ঘটনা ঘটে যায় বলে পরে নানা সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন সেখানে উপস্থিতি আলোকচিত্রীরা।

বিক্ষোভের শুরু যে পথে

গত শতকের আশির দশকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের বদলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল চীন। দেশটিতে বেসরকারি খাতে কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অনুমতি দিয়েছিল ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি। বিদেশি বিনিয়োগও আসা শুরু করেছিল। চীনের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমানকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন সেই সময়ে দেশটির নেতা দেং জিয়াওপিং।

অর্থনীতির বিকাশে সরকারের এই তৎপরতা ঘিরে দুর্নীতির উৎসবও শুরু হয়। কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা বিভক্ত হয়ে পড়েন। দলের অনেকেই মনে করতেন, অর্থনীতির এই পরিবর্তন আরও দ্রুত হওয়া উচিত। অনেকে আবার কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের পক্ষে ছিলেন। এমন এক পরিস্থিতিতে আশির দশকের মাঝামাঝি চীনে ছাত্র আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করে।

ছাত্রদের ক্ষোভের কারণ, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছিল, তার বাস্তবায়নে ধীরগতি ও দুর্নীতি। ১৯৮৯ সালের শুরুতে আন্দোলন জোরেশোরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

ছাত্র বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালে কমিউনিস্ট পার্টির উদারপন্থী নেতা হু ইয়াওবাংয়ের মৃত্যু। ১৯৮৯ সালের ১৫ এপ্রিল তিনি মারা যান। হু ইয়াওবাং দেশে অর্থনৈতিক বিকাশের পক্ষে ছিলেন।

১৯৮৬-৮৭ সালে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে চীনে ছাত্রদের নেতৃত্বে যে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, হু ইয়াওবাং সেই আন্দোলন দমনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। আন্দোলন কয়েক সপ্তাহ ধরে চলার জেরে ১৯৮৭ সালের শুরুতে হু ইয়াওবাংকে কমিউনিস্ট পার্টির মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। ইয়াওবাংয়ের মৃত্যু বিক্ষোভরত ছাত্র-জনতাকে ব্যাপকভাবে আলোড়িত করেছিল।

হু ইয়াওবাংয়ের মৃত্যুর পরদিন চীনের কয়েকটি শহরে ছাত্ররা শোক প্রকাশ করতে জড়ো হন। শোকসভাগুলো দ্রুতই বিক্ষোভ-সমাবেশে পরিণত হয়। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ জানাতে চীনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্ররা রাজধানী বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে জড়ো হতে শুরু করেন।

১৩ মে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অনশনে বসেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল, কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের আলোচনায় বসতে রাজি করানো। শিক্ষার্থীরা যে সংস্কারের দাবি তুলেছিলেন, তাতে সমর্থন জানিয়ে সে সময় সারা দেশ থেকে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বেইজিংয়ে জড়ো হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

১৯ মে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করেন কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা। সেদিন সন্ধ্যায় অনশন শেষ করেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু পরদিনই অবস্থান বদল করে সরকার, কঠোর হাতে বিক্ষোভ দমন করতে বেইজিংয়ে সামরিক আইন জারি করা হয়। ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠেন বিক্ষোভকারীরা।

রাজধানীসহ সারা দেশের রাজপথে নামেন লাখ লাখ বিক্ষোভকারী। এদিকে সামরিক আইন কার্যকর করতে রাজধানী ঘিরে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার সেনা জড়ো করা হয়।

২ জুন চীনের পিপলস আর্মির সঙ্গে প্রথমবার মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ান বিক্ষোভকারীরা। খালি হাতে সশস্ত্র সেনাদের অগ্রগতি ঠেকিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।

৪ জুন রাতে সরকার বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ার খালি করতে প্রয়োজনে গুলি চালাতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেয় বলে জানা যায়।

রাতের আঁধারে চীনের সেনাবাহিনী ট্যাংক, মেশিন গান, লাঠি ও কাঁদানে গ্যাস নিয়ে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেনারা নির্বিচারে গুলি চালান। সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানগুলো যখন তিয়েনআনমেন স্কয়ারে পৌঁছায়, বিক্ষোভে ক্লান্ত ছাত্ররা তখন ছিলেন ঘুমিয়ে।

কত মানুষ মারা গিয়েছিলেন

৪ জুন তিয়েনআনমেন স্কয়ার ও আশপাশের এলাকায় সংঘর্ষে প্রায় ৩০০ মানুষ নিহত হন বলে সে সময় জানিয়েছিল চীন সরকার। তাঁদের মধ্যে শতাধিক সেনাসদস্য ছিল বলেও দাবি করেছিল তারা।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব অনুযায়ী, সেদিন নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে।

তবে সে সময়ে চীনে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত অ্যালেন ডোনাল্ড গোপন কূটনৈতিক চ্যানেলে যে খবর পাঠিয়েছিলেন, তাতে ১৯৮৯ সালের ৩ ও ৪ জুন চীনে অন্তত ১০ হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানানো হয়। ২০১৭ সালে গোপন ওই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

৪ জুন থেকেই গণহারে ধরপাকড় চালায় চীন সরকার, ১ হাজার ৬০০–এর বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়, ২৭ জনকে দেওয়া হয় ফাঁসি।

চীনে বহুদিন তিয়েনআনমেনের বিক্ষোভ ও ‘ট্যাংকম্যান’ নিয়ে কথা বলা নিষেধ ছিল। সেই সঙ্গে ট্যাংকম্যানের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা-ও রয়ে গেছে পর্দার আড়ালেই।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

তিয়েনআনমেন স্কয়ারে জড়ো হয়েছেন হাজারো বিক্ষোভকারী। ছবিটি ১৯৮৯ সালে জুনের শুরুতে তোলা
তিয়েনআনমেন স্কয়ারে জড়ো হয়েছেন হাজারো বিক্ষোভকারী। ছবিটি ১৯৮৯ সালে জুনের শুরুতে তোলা। ছবি: এএফপি

হঠাৎ ভাইরাল, নীল শাড়ি পরা সেই অভিনেত্রী বললেন...

পরনে নীল শাড়ি, হাতাকাটা ব্লাউজ, কপালে ছোট্ট টিপ—সপ্তাহখানেক ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মারাঠি অভিনেত্রী গিরিজা ওকের ছবিটি ছড়িয়ে পড়েছে। বলা হচ্ছে, তিনিই ভারতের নতুন ‘ক্রাশ’। তাঁকে সিডনি সুইনি কিংবা মনিকা বেলুচ্চির সঙ্গেও তুলনা করছেন কেউ কেউ।

দুই দশকের ক্যারিয়ার গিরিজার। ‘তারে জমিন পার’, ‘জওয়ান’, ‘ইন্সপেক্টর জেনডে’–এর মতো আলোচিত সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তবে তাঁকে নিয়ে কখনোই এতটা আলোচনা হয়নি। মারাঠি সিনেমার দর্শকের মধ্যে তিনি পরিচিত, তবে মারাঠি ইন্ডাস্ট্রির বাইরে তাঁর খুব একটা পরিচিতি নেই। এবার পুরো ভারত তাঁকে চিনল।

প্রশ্ন হলো, গিরিজাকে নিয়ে হঠাৎ এত আলোচনা কেন? এক্স, (সাবেক টুইটার) ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে তাঁকে নিয়ে এত উন্মাদনা ছড়িয়েছে কেন? সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য লালানটপকে একটি সাক্ষাৎকার দেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের পরপরই তাঁকে নিয়ে চর্চা শুরু হয়।

সাক্ষাৎকারে একের পর এক প্রশ্নের বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। পাশাপাশি কথা বলার ধরন, হাসি, চাহনি মুগ্ধ করেছে তরুণদের। সঙ্গে গিরিজার সাজপোশাকও (নীল শাড়ি, কপালে টিপ) আলাদাভাবে নজর কেড়েছে। সাক্ষাৎকার দেওয়ার ছবিটিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

তাঁকে নিয়ে বিস্তর চর্চার মধ্যে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গিরিজা ওক বলেন, ‘আমি বেশ মজা পাচ্ছি। রোববার সন্ধ্যা থেকে আমার ফোন বেজেই চলছিল। একটি নাটকের মহড়াতে ছিলাম, ফলে ফোন ধরতে পারছিলাম না। হঠাৎ দেখি, আমার বন্ধুরা লিখেছে, “তুমি জানো, তোমাকে নিয়ে এক্সে কী হচ্ছে?’”

গিরিজা জানান, তাঁর ছবি কিছু চটকদার পেজেও পোস্ট করা হয়েছে। কিছু পেজে তাঁর ছবি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ভাইরালের স্রোতে গা ভাসাতে চান না এই অভিনেত্রী।

তিনি বলেন, ‘এটা একটা ট্রেন্ড; আসবে আর চলে যাবে। কিন্তু আমার কাজ থেকে যাবে। এখন যদি মানুষ আমার কাজ আবিষ্কার করে, সেটা আমার জন্য খুশির।’

মাত্র ১৫ বছর বয়সে মারাঠি সিনেমায় অভিষেক ঘটেছে গিরিজার। সিনেমার বাইরে মারাঠি টিভি সিরিয়ালেও দেখা গেছে তাঁকে। মুম্বাইয়ের ঠাকুর কলেজ অব সায়েন্স অ্যান্ড কমার্স থেকে বায়োটেকনোলজিতে পড়াশোনা করেছেন। ৩৭ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী বিবাহিত, তাঁর এক সন্তান রয়েছে।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

গিরিজা ওক
গিরিজা ওক। শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে