Tuesday, June 14, 2011

বিপিসি লোকসানে, ভর্তুকিতে পাউবো মুনাফায় বিটিআরসি শীর্ষে

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অধিকাংশই মুনাফা অর্জনের প্রবণতায় থাকলেও সামগ্রিক হিসাবে এই খাতে দুই বছর পরে আবার বড় অংকের নিট লোকসান দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে এই খাতে ভর্তুকির পরিমাণও বেড়েছে।
লোকসানের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সমাপ্ত প্রায় ২০১০-১১ অর্থবছরে এ প্রতিষ্ঠানের নিট লোকসান প্রাক্কলন করা হয়েছে ৭ হাজার ২০৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, যা এর আগের ২০০৯-১০ অর্থবছরে ছিল দুই হাজার ৪৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।
ভর্তুকি নেওয়ার তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। চলতি বছর শেষে এ প্রতিষ্ঠানের নেওয়া ভর্তুকির পরিমাণ ৫৪৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা অবশ্য আগের বছর ছিল আরেকটু বেশি, ৬৪৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
আর মুনাফা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। চলতি অর্থবছর শেষে এ প্রতিষ্ঠানের নিট মুনাফার পরিমাণ দুই হাজার ৪৫৩ কোটি ২৮ লাখ টাকায় দাঁড়াবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।
সদ্য প্রকাশিত সরকারের নিয়মিত বার্ষিক প্রকাশনা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট লোকসান ও মুনাফা এবং ভর্তুকির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এতে দেখা যায়, ৩০টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান মুনাফা অর্জন ও ১৪টি লোকসানের প্রবণতায় রয়েছে। তবে সামগ্রিক হিসাবে এ খাতে চলতি অর্থবছর শেষে নিট লোকসান বেড়ে দাঁড়াবে ছয় হাজার ৯৩৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, যা এর আগের ২০০৯-১০ অর্থবছরে ছিল দুই হাজার ৭৭৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।আর ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল তিন হাজার ২৮২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
অন্যদিকে চলতি ২০১০-১১ অর্থবছর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর পেছনে ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে এক হাজার ২৫৮ কোটি ৪২ লাখ টাকায় উন্নীত হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। এর আগের বছরে এ পরিমাণ ছিল এক হাজার ১৫৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিট লোকসানে বিপিসির পেছনেই রয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। চলতি অর্থবছর শেষে এ প্রতিষ্ঠানের নিট লোকসান চার হাজার ৭১৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকায় প্রাক্কলন করা হয়েছে।
অন্য উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট লোকসানের পরিমাণ যেভাবে প্রাক্কলন করা হয়েছে—বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থা (বিসিআইসি) ৩৭৮ কোটি টাকা, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প সংস্থা (বিএসএফআইসি) ১৯৮ কোটি টাকা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা (বিআরটিসি) ৩২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, বাংলাদেশ বস্ত্রশিল্প সংস্থা (বিটিএমসি) ২২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ (এমপিএ) ২০ কোটি ১০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ পাটকল সংস্থা (বিজেএমসি) ১৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (বিএফডিসি) ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআই-ডব্লিউটিএ) ৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
সরকারি ভর্তুকি নেওয়ার ক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পরেই হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন সংস্থা (বিএডিসি)। চলতি বছর শেষে এ প্রতিষ্ঠানের জন্য ভর্তুকির পরিমাণ ২৩৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকায় প্রাক্কলন করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভর্তুকি গ্রহণকারী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ১৫২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, বাংলাদেশ পাটকল সংস্থা (বিজেএমসি) ১৩২ কোটি ২৩ লাখ টাকা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট (বিএফএফডব্লিউটি) ৭৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা (বিসিক) ৬২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
মুনাফা অর্জনের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ সংস্থা (বিওজিএমসি)।এই প্রতিষ্ঠানের মুনাফা প্রাক্কলন করা হয় দুই হাজার ২৪ কোটি ১২ লাখ টাকা।
একই প্রবণতায় থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চলতি অর্থবছর শেষে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) ২০১ কোটি ৪১ লাখ টাকা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ১৬১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএ) ১৫৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যমুনা বহুমুখী সেতু কর্তৃপক্ষ (জেএমবিএ) ১১১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, ঢাকা ওয়াসা ১০৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ১০৮ কোটি ৯ লাখ টাকা, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল সংস্থা (বিএসইসি) ৪৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন সংস্থা (বিএফআইডিসি) ৪১ কোটি ৮৯ লাখ টাকার মুনাফা করবে বলে অর্থনৈতিক সমীক্ষায় প্রাক্কলন করা হয়েছে।

এক দিন পর আবার ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজার

বড় দরপতনের এক দিন পর আজ সোমবার চাঙাভাব দেখা গেছে দেশের পুঁজিবাজারে। দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই আজ প্রায় সব কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচক বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনও।
এ ব্যাপারে রশিদ ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ডিএসইর পরিচালক আহমেদ রশিদ লালী বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সিংগেল পার্টি এক্সপোজারের সময়সীমা আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করায় আজ হয়তো তারা শেয়ার বিক্রিতে না গিয়ে ক্রেতার ভূমিকা রাখে। এর ফলে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকে।
এ দিকে বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা ৩৬ ঘণ্টা হরতালের দ্বিতীয় দিনে আজ পুঁজিবাজারে হরতালের কোনো প্রভাব পড়েনি। বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি আজ তুলনামূলক কম থাকলেও অনেকে ফোনে লেনদেন সেরেছেন তাঁরা।
ডিএসইর জনসংযোগ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান জানান, আজ বেলা ১১টায় ডিএসইর ট্রেড সার্ভারে ২১৪টি ব্রোকারেজ হাউস লগইন করে। নির্ধারিত কোরাম পূর্ণ হওয়ায় যথাসময়ে লেনদেন শুরু হয়।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, গতকালের বড় দরপতনের পর আজও সূচক কমার মধ্য দিয়ে ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। শুরুতেই সূচক ৬৮ পয়েন্ট কমে যায়। তবে এর পর থেকে সূচক বাড়তে থাকে। বেলা দেড়টায় ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২১৪.৪০ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৮৯০.৬৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সূচক বৃদ্ধির এই ধারা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। দিনশেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৪.০২ শতাংশ বা ২২৮.৪৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫৯০৪.৭৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইতে আজ ২৫৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বেড়েছে ২৪৭টির এবং কমেছে সাতটি প্রতিষ্ঠানের দাম।
স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৫৬৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ২৯ কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে আজ লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানির তালিকায় রয়েছে, ইউসিবিএল, ইউনাইটেড এয়ার, এনবিএল, উত্তরা ব্যাংক, আফতাব অটো, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, পূবালী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, এমআই সিমেন্ট ও বিএসআরএম স্টিল।
অন্যদিকে আজ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ৫৬৬.০৩ পয়েন্ট বা ৩.৫৮ শতাংশ বেড়ে ১৬৩৭৪.৬০ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৭৫টির, কমেছে ১১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে একটি প্রতিষ্ঠানের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৯৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ছয় কোটি টাকা বেশি।

শেয়ারবাজারে বড় দরপতন

তিন মাসের ব্যবধানে গতকাল রোববার দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। এ দিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক কমেছে প্রায় ৩১৪ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক কমেছে ৭৬৫ পয়েন্ট। দুই বাজারেই লেনদেন হওয়া অধিকাংশ শেয়ারের দাম কমেছে।
জানা গেছে, এর আগে সর্বশেষ গত ১৩ মার্চ ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক কমেছিল ৪৫৯ পয়েন্ট।
নির্ধারিত সময়ের আগে ব্রোকারেজ হাউসের কোরাম পূর্ণ হওয়ায় হরতাল সত্ত্বেও গতকাল সকাল ১১টায় লেনদেন শুরু হয়। বাজেট ঘোষণার পর গতকালই ছিল শেয়ারবাজারের প্রথম কার্যদিবস। তাই দিনটিকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক কৌতূহল। শুরু থেকে বাজার পড়তে থাকায় অনেক বিনিয়োগকারী টেলিফোনে শেয়ার বিক্রির আদেশ দিতে থাকেন।
ব্যাপক দরপতনের জন্য বাজেট ঘিরে প্রত্যাশার অপূর্ণতাকে দায়ী করেছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলছেন, নতুন অর্থবছরের বাজেটকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের অনেক বেশি প্রত্যাশা ছিল।
তবে নতুন বাজেটে শেয়ারবাজারের জন্য নতুন কোনো ঘোষণা আসেনি। বরং দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের লেনদেনের কমিশনের ওপর উৎসে আয়কর বাড়ানো হয়েছে। করারোপ করা হয়েছে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ওপর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজেটে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কমিশনের ওপর করহার বাড়ানো হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের ওপর গিয়েই বর্তাবে। তারল্য-সংকট দূর করতেও বাজেটে কিছু বলা হয়নি। এসব কারণে গতকাল বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়াটা অস্বাভাবিক ছিল না।’
বাজেট ঘোষণার আগের কার্যদিবসে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ছিল পাঁচ হাজার ৯৯০ পয়েন্ট। আর বাজেট ঘোষণার পরবর্তী কার্যদিবসেই সেটি কমে হয়েছে পাঁচ হাজার ৬৭৬ পয়েন্ট।
গতকাল দিনশেষে ডিএসইতে ২৫৯ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ২৫২টিরই দাম কমেছে। বেড়েছে কেবল পাঁচটির আর অপরিবর্তিত ছিল দুটি কোম্পানির শেয়ারের দাম। তাই ডিএসইতে দাম বাড়ার শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকাটিও পূর্ণ হয়নি। দিনশেষে ঢাকার বাজারে প্রায় ৫৯৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ৭১ কোটি টাকা কম।
শেয়ারের দরপতনের কারণে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক গতকাল নেমে আসে ১৫ হাজার ৮০৮ পয়েন্টে। দিনশেষে সিএসইতে ১৯৩টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৮৬টিরই দাম কমেছে। বেড়েছে মাত্র ছয়টির আর অপরিবর্তিত ছিল একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম। গতকাল চট্টগ্রামের বাজারে লেনদেন হয়েছে ৮৯ কোটি টাকার শেয়ার।
এমজেএল তালিকাভুক্তির নির্দেশনা: মবিল-যমুনা লুব্রিকেন্টসকে (এমজেএল) তালিকাভুক্তির ব্যাপারে নির্দেশনা জারি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)।
গতকাল রোববার কমিশনের এক জরুরি সভা শেষে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। তাতে ১৫ দিনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বাবদ নেওয়া আগের দাম থেকে ৩৭ টাকা ৪০ পয়সা ফেরত দিতে বলা হয়েছে। ওই টাকা ফেরত দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হলে কোম্পানিটির তালিকাভুক্তিতে আর কোনো বাধা থাকবে না।
এর আগে শেয়ারের প্রস্তাবিত মূল্য কমানোর শর্তে কোম্পানিটিকে তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই। এমজেএলের শেয়ারের প্রস্তাবিত মূল্য ছিল ১৫২ টাকা ৪০ পয়সা। মৌলভিত্তির তুলনায় এ মূল্য বেশি হওয়ায় কোম্পানিটি ৩৭ টাকা ৪০ পয়সা প্রাথমিক বিনিয়োগকারীদের ফেরত দেওয়ার (রিফান্ড ওয়ারেন্ট) সিদ্ধান্ত হয়। এতে কোম্পানির শেয়ারের পুনর্নির্ধারিত মূল্য দাঁড়ায় ১১৫ টাকা।
যোগাযোগ করা হলে এসইসির সদস্য হেলালউদ্দিন নিজামী বলেন, ‘আইনজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েই নির্দেশনাটি দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী এমজেএলকে ১৫ দিনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিতে হবে। টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে কোম্পানিটি।’
এমজেএলের তালিকাভুক্তির বিষয়ে এসইসির জারি করা আগের নির্দেশনাও প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তাল-বেতালের হরতাল by ফারুক ওয়াসিফ

বেশ ঈদের দিনের মতো চলছে হরতাল। রাস্তাঘাটে যান ও মানুষ কম। ঘরে ঘরে ছুটির আমেজ, চাকরিজীবীদের জন্য ‘অঘোষিত’ ছুটির মওকা। ব্যবসায়ীদেরও যাঁরা পারছেন, দারা-পুত্র-পরিবার নিয়ে গৃহেই সময় কাটাচ্ছেন। ৩৬ ঘণ্টার হরতালের সুবাদে অনেকে ঢাকার বাইরে হরতালমুক্ত নিরিবিলি রিসোর্টে অবকাশ উপভোগ করতে গেছেন। কেবল পুলিশ, পিকেটার আর সাংবাদিকদের ছুটি নেই। প্রথম দুই পক্ষ ঢাকাই সিনেমার আঙ্গু বনাম মাঙ্গু কাবিলার মতো পরস্পরকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। উভয়েই মহা ব্যস্ত। মাঝখানে পল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বেশ কজন সাংবাদিক পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হলেন। রেহাই নেই পথচারীদেরও। যাঁরা দিনে এনে দিনে খান, সেসব দিনমজুর আর রিকশাচালককে ঝুঁকি নিয়ে হলেও পেটের টানে হরতাল ভাঙতে হচ্ছে।
অতএব, সংকটের পাথর গড়াতে শুরু করেছে। ঘরপোড়া গরু মোরা, সিঁদুরে মেঘ দেখে ভয় লাগলেও বাইরের দিক থেকে সব ‘স্বাভাবিক স্বাভাবিক’ লাগছে। জি, আমরা তো জ্বালাও-পোড়াওসমৃদ্ধ হরতালের মধ্যে শত শত দিন কাটাতে অভ্যস্ত। অবস্থাটা চামড়ার কারখানার কাছে বসবাসকারী সেই মানুষটির মতো। কারও ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, আবার কারও চামড়ার গন্ধ ছাড়া স্বাভাবিক ঘুমের পরিবেশ তৈরি হয় না। সেই লোকটা অবশেষে চামড়ার জুতো নাকের কাছে রেখে তবে ঘুমাতে পেরেছিল। সত্যিই, এত দিনে দেশ ‘স্বাভাবিক’ হলো, গণতন্ত্রকে সত্যিই এখন সতেজ ও স্বাস্থ্যে ভরা লাগছে। বিদেশি কূটনীতিকেরা যেমন পিঠ চাপড়ে বলেন, এ দেশে গণতন্ত্র বেশ ভাইব্রান্ট বা তাজা হয়ে উঠছে। সেই তাজা গণতন্ত্রই রাজপথে তাজা শক্তির প্রদর্শনীতে নেমেছে। রা-রা-রা ডেমোক্রেসি, লা-লা-লা গণতন্ত্র বলতে বলতে পিকেটাররা গাড়ি পোড়াচ্ছে, পুলিশ তাদের পেটাচ্ছে। সরকারি দলের তাজা-তাগড়া কর্মীদের গণতন্ত্রের মহড়া এখনো শুরু হয়নি। অচিরেই তারাও দম মওলা বলে হাজির হবে। আর আমরা দেখতে থাকব।
এই ‘আমরা’ কারা—হরতাল যাদের ঘরে ঢুকিয়ে দিয়েছে, সরকারি দলও যাদের পুছছে না? হরতাল চায় কি না, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা থাকবে কি না, তা বলার অধিকার এই ‘আমরা’র নেই। ‘টক শো’র কণ্ঠসাহিত্যিক আর সংবাদপত্রের কলমচিরাই তাদের হয়ে যা বলার বলছেন। কিন্তু এক শ্রেণীর মানুষ কি অন্য শ্রেণীর কথা বলতে পারে? গণতন্ত্র যদি জনগণেরই হবে, তাহলে সেই গণতন্ত্র রক্ষা বা কায়েমের কারবারিদের কি জনগণকে দরকার নেই? কেবল ভোটের দিনই শুধু তাদের দরকার?
ইতিহাস সাক্ষী, দুটি নির্বাচনের মাঝখানে বিরোধী দলের গণতন্ত্রদেবী হরতালের বেশ ধরেন, আর সরকারি দলের উনি নেন আপসহীনতার সাজ। হরতাল অক্ষয়। নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবির হরতাল, নির্বাচনের ফল অস্বীকার করার হরতাল, সংসদ কার্যকর করার হরতাল আবার অকার্যকর করতেও হরতাল হয়। হরতাল দিতে পারাই যেন গণতন্ত্রের মূল কথা। জরুরি অবস্থার সময় হরতাল দেওয়া যেত না, অতএব তখন গণতন্ত্রও ছিল না। গণতন্ত্র তাই সংবিধান বা সংসদের ধার ধারে না বাংলাদেশে, তার বাস রাজপথে কিংবা মসনদে। দুইখানেই জবাবদিহির বালাই নেই। তাই জনপ্রতিনিধিরা সংসদে জনগণের কথা বলার সময় বা সুযোগ পান না, করমুক্ত গাড়ির সুযোগ পান। সেসব গাড়িতে করে আমরা গণতন্ত্রকে ছুটে যেতে দেখি রাজপথে। জাতীয় সংসদ ভবন কেবল স্থপতি লুই কানের অলৌকিক সুন্দর স্থাপত্য হয়েই পড়ে থাকে। লৌকিক কাজে, অর্থাৎ জনস্বার্থে তার ব্যবহার খুবই কম।
ঠিক এ রকম অবস্থাতেই, সরকারি ক্ষমতার উৎস সংসদের মাইক থেকে বন্দুকের নলের দিকে চলে গিয়েছিল। গণতন্ত্র বন্দী বলে আহাজারি উঠেছিল। গণতন্ত্রের অতন্দ্রপ্রহরী দুই নেত্রী সংসদবর্তী দুটি ভবনে আটক থেকে গণতন্ত্রের জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা মুক্ত হলেও গণতন্ত্র পুরো মুক্ত হলো না।
এ এমন এক কঠিন গণতন্ত্র যে বিরোধী দল ছাড়াই সংসদের অধিবেশনের পর অধিবেশন আসে আর চলে যায়। সংসদে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত ছাড়াই সংবিধানের কাটাছেঁড়া চলতে পারে আদালতের নির্দেশে। এটা এমন এক গণতন্ত্র, যা বারবার প্রমাণ করে, নির্বাচিতদের থেকে অনির্বাচিত মনোনীতদের দিয়েই নাকি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। একইভাবে বাজেট মানে, জনগণের করের টাকা জনগণের মধ্যে পুনর্বণ্টন করার প্রতিযোগিতা নয়; বরং কে কতটা বেশি জনগণের সম্পদ নিজেদের হাতে আনতে পারে, তারই কাড়াকাড়ি। তাই রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা নেই, সংঘাত আছে। বিতর্ক নেই, বিষোদগার আছে। জনমত জানা ও জানানোর কর্মসূচি নেই, বলপ্রয়োগের হরতাল আছে। এটাই নাকি সংসদীয় গণতন্ত্র।
প্রশ্নগুলো তাই জ্বলছে আর ভোগাচ্ছে: কীভাবে সরকার পরিবর্তনের শাসনতান্ত্রিক গোঁজামিলের মীমাংসা হবে, সংবিধান অনুযায়ী কীভাবে সব পর্যায়ে নির্বাচিতদের দেশ পরিচালন অটুট হবে, এসবের ফয়সালা যদি আদালতেই হবে, তাহলে রাজনীতিবিদ ও সাংসদদের কী প্রয়োজন? সমস্যার জন্ম রাজনীতির মধ্যে, সমাধানটা সেখানেই করতে হবে। দায়িত্বটা রাজনৈতিক সমাজ আর জনপ্রতিনিধিদের। বাকিরা তাদের সহায়তা দেবেন। দুটি দল কীভাবে পালা করে দেশ শাসন করবে, খেলার সেই নিয়ম ঠিক করা নিয়েই তো সব সমস্যা। ব্যবসায়ীরা তো নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার নিয়ম ঠিক করতে পেরেছেন? রাজনীতিবিদেরা পারছেন না কেন? নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত হচ্ছে কি হচ্ছে না, তা নিয়ে কারও মাথা তেমন ব্যথা করছে কি না, সেই প্রশ্নও ওঠাচ্ছি না। কথাটা এই—কেন রাজনৈতিক এই কাবিলা-যুদ্ধে অর্থনীতি স্থবির হবে, অধিকার হারিয়ে জনগণকে মাঝেমধ্যে জরুরি-জীবন কাটাতে হবে, ২০০৬-এর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মতো যুদ্ধ-যুদ্ধ পরিস্থিতির ক্রসফায়ারে পড়বে ভবিষ্যৎ। দলীয়স্বার্থে দেশসুদ্ধ মানুষকে এমন ভোগানোর অধিকার কারও নেই।
সরকার কেন শাসনতান্ত্রিক সমস্যাকে আইনি প্যাঁচের জটিল রাস্তায় পাঠিয়ে দিয়ে ‘কেমন প্যাঁচে ফেলেছি, হুম্ম’ বলে হামবড়ামি করবে? কেনই বা বিরোধী দল হালুম বলে আড়াই বছর বয়সী সরকারের খুঁটি ধরে ঝাঁকাতে থাকবে? আর পার পেয়ে যাবে জাতীয় বাজেটসহ জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়? কথায় বলে, জনগণ যেমন-তেমন রাজনীতি তারা পায়। কিন্তু জনমতের যতটা আন্দাজ জরিপে মেলে, তা বলে না যে দেশের অধিকাংশ মানুষ, বিশেষত নতুন যুগের বিপুলসংখ্যক তরুণেরা এমন রাজনীতি ও তার নেতা-নেত্রীদের নিয়ে গর্ব বোধ করে। স্বদেশের এমন হালচাল তো আত্মসম্মানেও লাগে। জনমানুষের রুচি ও চিন্তাকে এতটা অস্বীকার করে রাজনীতির খেলা বেশিদিন চলতে পারবে কি আসলে?
আসল কথা এই, যেভাবে নদী-বন-পাহাড় বা জনগণের সম্পত্তি ও আয় দখলের কার্যক্রম অর্থনীতির মধ্যে চলছে, যেভাবে মেঘনার মতো বড় নদীর বুকে কয়েক লাখ বাঁশ পুঁতে দখলের চেষ্টা হয়েছে, সেভাবে কয়েক লাখ কর্মী দিয়ে ক্ষমতা দখলে রাখা বা দখল করাই এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃহৎ দলীয় শক্তিগুলোর রাজনীতি। প্রধান দুটি দলের সব শক্তিই সম্পদ ও ক্ষমতা দখলের কাজে ব্যয় হয়। মানসিকতাটা দখলের—জনপ্রতিনিধিত্বের জোরে, জনস্বার্থ রক্ষার দাবিতে নির্বাচিত হয়ে দেশ শাসনের নয়। সে জন্যই কারও ক্ষমতা নিরাপদ রাখার জন্য খুঁটি পোঁতা, আর কারও ক্ষমতাকে অনিরাপদ করে তোলার জন্য খুঁটি গাড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনীতি। কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খালেদ বলেছেন, ‘দেশের সিংহভাগ অর্থের মালিক কয়েক হাজার পরিবার... সম্পদশালী কয়েক শ পরিবার সরকারকে পরিচালনা করে।’ এরাই আবার একজোট হয়ে ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’ বলে কাবিলাযুদ্ধে জয়ীর নামে জয়ধ্বনি দেয়। দিন আর বদলায়না। হরতালের আমেজে সেই জয়ধ্বনি শুনে আমরা তাই ভীত হচ্ছি।
অন্য এক হরতালের কথা বলে শেষ করি। আগামী ১৭ জুন নারায়ণগঞ্জের যাত্রী অধিকার ফোরাম বাসভাড়া অযৌক্তিক হারে বাড়ানোর বিরুদ্ধে আঞ্চলিক হরতাল ডেকেছে। তাদের দাবির পক্ষে তারা পদযাত্রা করে প্রচার করছে, ফেসবুক আর ব্লগে জনসংযোগ চালাচ্ছে। সাধারণ ছাত্র-তরুণদের এই বাঁচার হরতাল আর ক্ষমতার জন্য দুর্ভোগ দেওয়ার হরতালের মধ্যে কত ব্যবধান! হয়তো, নতুন দিনের রাজনীতির পথ এই সাধারণেরাই দেখাবেন, অসাধারণ নেতা-নেত্রীরা হয়তো কেবলই হতাশ করবেন।
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক।
farukwasif@yahoo.com

পাকিস্তানে দুটি বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৩৯

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় পেশোয়ার শহরে গত শনিবার রাতে একটি জনাকীর্ণ বাজারে দুটি বোমার বিস্ফোরণে ৩৯ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও বহু লোক।
মার্কিন কমান্ডোদের অভিযানে আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানি তালেবান এর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর পর থেকে পাকিস্তানে কয়েকটি আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে পেশোয়ারের এই হামলা ভয়াবহতার দিক থেকে ব্যাপক।
গত মাসের শুরুর দিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে অ্যাবোটাবাদের একটি বাড়িতে মার্কিন কমান্ডোদের ওই অভিযানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হন।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা ইজাজ খান জানান, শনিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই বাজারে প্রথমে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় বিস্ফোরণস্থলের কাছে জরুরি সেবা সংস্থার কর্মকর্তা ও উৎসুক জনতা জড়ো হয়। এর পরপরই আরেকটি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাকিস্তান টুডে ও দ্য নিউজ-এর দুই সাংবাদিকও রয়েছেন।
পেশোয়ারের লেডি রিডিংস হাসপাতালের প্রধান আবদুল হামিদ আফ্রিদি প্রাণহানির সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহত ১০৮ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৭ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।
এই হামলার জন্য তালেবান জঙ্গিদের সন্দেহ করা হলেও জঙ্গি সংগঠনটি এর দায় অস্বীকার করেছে।
তেহরিক-ই-তালেবানের মুখপাত্র এহসানউল্লাহ এহসান বলেন, ‘আমরা পেশোয়ারে হামলা চালাইনি। এটা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাজ। আমাদের সম্পর্কে কুৎসা রটানোর জন্যই তারা এটা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিষ্পাপ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করি না। আমাদের লক্ষ্যবস্তু খুবই সুস্পষ্ট। আমরা নিরাপত্তা বাহিনী, সরকার ও তাদের সমর্থনদাতাদের ওপর হামলা করি। আমরা ওসামা বিন লাদেনের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ এভাবেই নেবো।

মুম্বাইয়ে বন্দুকধারীদের গুলিতে সাংবাদিক নিহত

ভারতের মুম্বাই শহরে বন্দুকধারীদের গুলিতে এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। জ্যোতির্ময় দে (৫০) নামে এ সাংবাদিক মুম্বাইয়ের ট্যাবলয়েড মিড ডেতে কাজ করতেন।
মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, গত শনিবার দুপুর আড়াইটায় মুম্বাই শহরতলির পওয়াই এলাকায় একটি বিপণিকেন্দ্রের কাছে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন জ্যোতির্ময়। তাঁকে গুলি করে মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায় চার সন্ত্রাসী।
অপরাধবিষয়ক ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদক জ্যোতির্ময় মুম্বাইয়ের অপরাধী চক্র নিয়ে কয়েকটি বইও লিখেছিলেন।
মিড ডে পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শচীন কালবাগ এক বিবৃতিতে বলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় গভীরতা এনেছিলেন জ্যোতির্ময়। অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করতেন তিনি।

অনশন ভাঙলেন রামদেব

ভারতের যোগগুরু বাবা রামদেব নয় দিন পর গতকাল রোববার অনশন ভঙ্গ করেছেন। কয়েকজন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতা রামদেবকে দেখতে উত্তরাখণ্ড রাজ্যের দেরাদুনে হিমালয়ান হাসপাতালে যান। তাঁদের আহ্বানে অনশন ভাঙেন রামদেব।
দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও কালো টাকার মালিকদের মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির দাবিতে রামদেব ৪ জুন থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন। রাজধানী নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে এ কর্মসূচি শুরু হয়। রামদেবের সঙ্গে যোগ দেন তাঁর কয়েক হাজার অনুসারী। ৪ জুন গভীর রাতে রামদেবের অনশনস্থলে হামলা চালিয়ে তা পণ্ড করে দেয় দিল্লির পুলিশ। এ সময় পুলিশসহ ৫২ জন আহত হয়। রামদেবকে আটক করা হলেও পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। রামদেব ফিরে আসেন উত্তরাখণ্ডের হরিদুয়ারে তাঁর নিজের আশ্রমে। সেখানে এসেও তিনি তাঁর অনশন অব্যাহত রাখেন। অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
গতকাল চিকিৎসকেরা জানান, রামদেবের শারীরিক অবস্থা ‘স্থিতিশীল’। দু্ই-তিন দিনের মধ্যে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
স্বেচ্ছাসেবী বেসরকারি সংস্থা আর্ট অব লিভিং ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা রবিশঙ্করের আহ্বানেই মূলত অনশন ভাঙেন রামদেব। রবিশঙ্কর গতকাল তৃতীয় দিনের মতো রামদেবকে দেখতে হিমালয়ান হাসপাতালে যান। রামদেবের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাবা রামদেব অনশন ভেঙেছেন। তিনি ফলের রস পান করেছেন। সমর্থন দেওয়ার জন্য আমরা সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ এ সময় রবিশঙ্কর সরকার ও যোগগুরুর মধ্যে মধ্যস্থতা করারও ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
রামদেবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আচার্য বালাকৃষ্ণও অনশন ভেঙেছেন। তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার অনুসারী ও সমর্থকের অনুরোধের কথা বিবেচনা করে অনশন ভাঙেন রামদেব। অনশন ভাঙার ঘোষণা দিয়ে রামদেবের একটি বিবৃতিও পড়ে শোনান বালাকৃষ্ণ। এতে রামদেব বলেন, অনশন ভাঙলেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন চলবে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফায়াদকে মানবে না হামাস

ফিলিস্তিনের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সালাম ফায়াদকে মনোনীত করেছে ফাতাহ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটি। তবে এর বিরোধিতা করে হামাস বলেছে, দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন সরকারের প্রধানকে নির্বাচন করতে হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফাতাহর কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সদস্য গতকাল রোববার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘গত রাতে (শনিবার) প্রেসিডেন্ট সদর দপ্তরে এক বৈঠকে ফিলিস্তিনি সরকারের প্রধান হিসেবে আমরা সালাম ফায়াদকে মনোনীত করেছি।’
মিসরের রাজধানী কায়রোতে আগামীকাল মঙ্গলবার ফাতাহ ও হামাসের মধ্যে অনুষ্ঠেয় বৈঠককে সামনে রেখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত মাসে দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত সম্প্রীতি চুক্তির আওতায় পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ও সাধারণ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত একটি গ্রহণযোগ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সমঝোতা হয়েছে।
ফাতাহ কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের পর শনিবার রাতেই ফাতাহ প্রতিনিধি ও সম্প্রীতি চুক্তির মধ্যস্থতাকারী আজম আল-আহমেদ বলেছেন, পরবর্তী বৈঠকেই অন্তর্বর্তী সরকারের গঠনের কাঠামো চূড়ান্ত করা উচিত। তিনি বলেন, দ্রুত সরকার গঠনের লক্ষ্যে হামাস ও অন্যান্য গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
আজম আল-আহমেদ বলেন, ‘সরকার গঠনের লক্ষ্যে দুই পক্ষ মঙ্গলবার বৈঠকে বসছে। আমরা আশা করি, সরকার গঠনের জন্য এটাই হবে শেষ বৈঠক।’
সম্প্রীতি চুক্তির পর থেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান নির্বাচনে ফাতাহ ও হামাস নিজ নিজ দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী বাছাই করে আসছিল। ফাতাহ প্রার্থী চূড়ান্ত করলেও হামাস এখনো তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। তবে গাজা ভূ-খণ্ড থেকে কাউকে বাছাই করা হতে পারে বলে হামাসের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সালাম ফায়াদের মনোনয়নের বিরোধিতা করে হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুরি বলেছেন, ফায়াদের ব্যাপারে হামাস তাদের অবস্থান আগেই ফাতাহকে জানিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, সর্বশেষ বৈঠকে নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে সালাম ফায়াদকে মনোনীত না করার বিষয়টি হামাসের পক্ষ থেকে ফাতাহকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এককভাবে নয়, দুই পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন সরকারের প্রধানকে নির্বাচন করতে হবে

পদত্যাগ না করে চিকিৎসা নিতে চান ওয়েইনার

ইন্টারনেট যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়া মার্কিন কংগ্রেসম্যান অ্যান্টনি ওয়েইনার গত শনিবার পদত্যাগের আহ্বান নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, তিনি বরং চিকিৎসা নেবেন। ওয়েইনার এ জন্য কংগ্রেস থেকে ছুটি নিতে চেয়েছেন।
ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ন্যান্সি পেলোসি কংগ্রেসম্যান ওয়েইনারকে (৪৬) পদত্যাগের জন্য প্রকাশ্যে জোরালো আহ্বান জানানোর পর তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানালেন। পেলোসি তাঁকে চিকিৎসকের সহায়তা নিতেও বলেন।
গতকাল এক বিবৃতিতে ওয়েইনারের মুখপাত্র রিসা হেলার বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য আজ সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন ওয়েইনার।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রতিনিধি পরিষদ থেকে সাময়িক ছুটির জন্য আবেদন করবেন ওয়েইনার, যাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার মূল্যায়ন ও চিকিৎসার জন্য পরিকল্পনা নেওয়া যায়।
দোষ স্বীকার করলেও প্রভাবশালী এ সদস্য পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় ক্ষুব্ধ ডেমোক্র্যাট দলের নেতারা। তাঁরা বলছেন, আগামী বছরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার আশায় থাকা দল এ কেলেঙ্কারিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বলা হচ্ছে, ওয়েইনারের দৃঢ়তার একটি কারণ তাঁর প্রতি নিউইয়র্কের সংশ্লিষ্ট আসনের ভোটারদের সমর্থন।
অ্যান্টনি ওয়েইনার গত সোমবার স্বীকার করেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে তিনি অন্তত ছয়জন নারীবন্ধুর কাছে নিজের অশোভন ছবি পাঠিয়েছেন। এসব নারীর সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে।

নিজ নিজ জুতায় চিহ্ন দিয়ে রাখছেন উইলিয়াম ও হ্যারি!

যুক্তরাজ্যের প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারি—দুই ভাইয়ের জুতার মাপ প্রায় সমান। দুজনে পরেনও একই ধরনের জুতা। এ কারণে কোনটা কার জুতা, তা মাঝেমধ্যে গুলিয়ে যায়। ভুল করে একজন আরেকজনের জুতায় পা গলিয়ে দেন।
এ বিভ্রান্তি থেকে বাঁচতে এখন তাঁরা নিজ নিজ জুতায় সাংকেতিক অক্ষর লিখে অথবা কোনো চিহ্ন দিয়ে রাখছেন। গতকাল রোববার সানডে টাইমস এ খবর জানিয়েছে।
সানডে টাইমস বলেছে, প্রিন্স উইলিয়াম চলতি সপ্তাহে তাঁর স্ত্রী কেট মিডলটনকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠানে যান। সেখানে তাঁর জুতায় ‘ডব্লিউ’ অক্ষর লেখা দেখা যায়। এর পরই জুতায় সংকেত রাখার খবরটি চাউর হয়।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, উইলিয়াম ও কেট তাঁদের জন্য নির্ধারিত কেনসিংটন প্রাসাদে এখনো ওঠেননি। তাঁরা এখনো ক্ল্যারেন্স প্রাসাদের ফ্ল্যাটে বাস করছেন। ওই ফ্ল্যাটে হ্যারিও রয়েছেন।
সানডে টাইমস বলেছে, রাজপরিবারের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র তাদের বলেছে, ‘হ্যারি ও উইলিয়ামের জুতার মাপ এক হয়ে যাওয়ায় একজন আরেকজনের জুতা পরে ফেলছেন।
এ কারণে তিনি (উইলিয়াম) সঠিক জুতা পরার বিষয়টি নিশ্চিত করতে নিজের মতো করে সংকেত দিয়ে রাখছেন। ব্যাপারটি নিঃসন্দেহে মজার।

সিঙ্গুরে জমি ফেরত বিলে সমর্থন দেবে সিপিআইএম

পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক চাষিদের ৪০০ একর জমি ফিরিয়ে দিতে রাজ্য সরকার বিধানসভায় যে বিল আনতে যাচ্ছে, তাতে সিপিআইএম সমর্থন দেবে।
অন্ধ্র প্রদেশের হায়দরাবাদে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দুই দিনের বৈঠক শেষে গতকাল সন্ধ্যায় সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাত সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, পদ্ধতিগত ত্রুটির ব্যাপারেই সিপিআইএম আপত্তি জানিয়েছিল। তবে অনিচ্ছুক চাষিদের জমি ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে তাঁদের কোনো আপত্তি নেই। তিনি বলেন, সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণ নীতিকেও মানুষ মেনে নেয়নি। এই পদক্ষেপ যে ঠিক ছিল না, সেটা মনে করছে দলীয় নেতৃত্ব।
প্রকাশ কারাত আরও বলেন, নির্বাচনে মানুষ যে রায় দিয়েছে, তা সিপিআইএম মেনে নিয়েছে। তবে তাঁরা সতর্কতার সঙ্গে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চাইছেন।
বামফ্রন্ট সরকারে থাকাকালে সিপিআইএম বার বার বলে আসছিল, আইনি প্রক্রিয়ায় অধিগৃহীত জমি ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই ৪০০ একর জমি ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়ে এসেছেন। তিনি সরকারে এলে তিন মাসের মধ্যে জমি ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, চাষিদের ৪০০ একর জমি ফেরত দেওয়া হবে। বিধানসভায় কাল মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত বিল আনা হতে পারে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুশীল সমাজ ও সরকারের অবস্থান অস্পষ্ট

ভারতের যোগগুরু বাবা রামদেব নিজের অনুসারীদের নিয়ে নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে অনশন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও কালো টাকার মালিকদের মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির দাবিতে ওই কর্মসূচি দেন তিনি। কিন্তু পুলিশের বাধায় কর্মসূচি পণ্ড হলে ওই ময়দান ছেড়ে উত্তরাখন্ডের আশ্রমে চলে যান রামদেব। তাঁর এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে বাস্তবতা হলো, সরকার বেশ বেকায়দায় আছে। কারণ, চার দশক ধরে হিমঘরে থাকা দুর্নীতিবিরোধী লোকপাল বিল পাস করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। ব্যর্থ হয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন ব্যাংকে গচ্ছিত ভারতীয়দের কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে। সরকার আসলে এটা করতেও চায় না। রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন রোধেও সরকারের তেমন সদিচ্ছা আছে বলে মনে হয় না। তাই তো চারজন লোকসভার সদস্যের মধ্যে একজনের নামে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
তার পরও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই বা আমরণ অনশনের মতো কর্মসূচি দেওয়া থেকে দূরে ছিলেন। তবে গণমাধ্যমে সমর্থনের ফলে কারও কারও কর্মসূচি তাঁকে তারকা বানিয়ে দিচ্ছে।
সুশীল সমাজের একটি দাবি ছিল, লোকপাল বিল নিয়ে যৌথ কমিটির বৈঠকের ভিডিও চিত্র ধারণ করে তা জনগণকে দেখানো। সুশীল সমাজ জনগণকে দেখাতে চায়, সরকার কীভাবে একটার পর একটা অজুহাতে লোকসভায় এই বিল পাস করতে বাধা দিচ্ছে।
এই বিল পাস করে দুর্নীতি দমন করে দেশকে বাঁচাতে সরকার এখন কিছু আপসহীন মানুষের আন্দোলনের মুখে পড়ছে। এমন একজন সমাজকর্মী আন্না হাজারে। ১৬ আগস্টের মধ্যে লোকপাল বিল পাস না হলে ওই দিন থেকে অনশন শুরু করবেন তিনি। আন্নার এটা তৃতীয় অনশন কর্মসূচি। তবে বিষয়টি হলো, বারবার অনশন কর্মসূচি পালন করা হলে এর গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়।
রামদেবের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) তাঁর পুরো আন্দোলনকে প্রভাবিত করেছে। এর ফলে সরকার এ আন্দোলনকে সাম্প্রদায়িক শক্তির পক্ষের আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ পাচ্ছে।
আরএসএস ও ভিএইচপি এসব আন্দোলনের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে সরকারকে অজনপ্রিয় প্রমাণ করতে চায়। এর মধ্য দিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ উন্মুক্ত করতে চায়।

হাসতে পারবেন ন্যাশ

ন্যাশের তিনটি রূপ। সবার বাঁয়ের ছবিটি হামলার আগের,
মাঝেরটি হামলার পর এবং শেষ ছবিটি অস্ত্রোপচারের পর
যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাট অঙ্গরাজ্যে শিম্পাঞ্জির হামলায় ক্ষত-বিক্ষত একজন নারীর মুখ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। বোস্টনের ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গত শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।
২০০৯ সালে বন্ধুর পোষা ২০০ পাউন্ড ওজনের একটি শিম্পাঞ্জির হামলায় গুরুতর আহত হন ৫৭ বছরের চার্লা ন্যাশ। এতে তাঁর দুই হাত, ঠোঁট, নাক ও চোখ খোয়া যায়। অন্ধ হয়ে যান তিনি। পরে পুলিশ গুলি করে শিম্পাঞ্জিটিকে হত্যা করে।
অস্ত্রোপচারকারী দলের প্রধান ড. বোহডান পোমাহক বলেছেন, ‘ন্যাশ আমাদের কাছে নারী নন। তিনি আমাদের কাছে একজন সাহসী ও শক্তিশালী মানুষ। ন্যাশের উৎসাহে অনুপ্রাণিত হয়েই আমরা আমাদের সব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তাঁর চেহারা একটা মানানসই অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পেরেছি।’
গত মাসে সম্পন্ন করা ন্যাশের এই জটিল অস্ত্রোপচারে ৩০ জনেরও বেশি চিকিৎসক, সেবিকা ও অবেদনবিদ কাজ করেন। ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অস্ত্রোপচার চালিয়ে ন্যাশের নাক, ঠোঁট, ত্বক, পেশি ও স্নায়ু পুনঃস্থাপন করা হয়। সবচেয়ে কঠিন কাজটি ছিল হাত পুনঃস্থাপন করা। চিকিৎসকেরা জানান, এক ব্যক্তির স্বেচ্ছায় দান করা দাঁত ও তালু ন্যাশের মুখে পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।
চিকিৎসকেরা আশা প্রকাশ করেন, অস্ত্রোপচারের ফলে ন্যাশ এখন তাঁর ঘ্রাণশক্তি ও মুখে অনুভূতি ফিরে পাবেন। তাঁর কথা বলাও শিগগিরই স্পষ্ট হয়ে আসবে। একসময় তিনি হাসতে পারবেন, অনুভূতি প্রকাশ করতে পারবেন, খেতে পারবেন স্বাভাবিকভাবে। চিকিৎসকদের আশা, ন্যাশ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন।
ব্রিগহাম অ্যান্ড উইমেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের শুরুতে আরও দুজনের মুখমণ্ডল সফলভাবে পুনঃস্থাপন করেছে।

সিরিয়ার জিসর আল-শুগুর শহরে সেনাদের প্রবেশ

সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিসর আল-শুগুর শহরে গতকাল বিদ্রোহীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে সরকারবিরোধী দুই বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। এ ছাড়া বিপুলসংখ্যক বিদ্রোহীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে দেশের সরকারি টেলিভিশনে এ খবর বলা হয়।
টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, বিভিন্ন সেতু ও রাস্তায় পেতে রাখা মাইন নিষ্ক্রিয় করে সেনারা শহরে প্রবেশ করে। পরে তারা শহরের সরকারি হাসপাতাল থেকে সরকারবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহীদের বিতাড়িত করে। বিদ্রোহীদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
মানবাধিকারকর্মীদের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, স্থানীয় সময় সকাল সাতটার দিকে তুরস্কের সীমান্তবর্তী জিসর আল-শুগুর শহরে অন্তত ২০০ ট্যাংক নিয়ে সেনারা প্রবেশ করে। এ সময় হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে তাদের সহায়তা দেওয়া হয়। তখন ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের পর সেখান থেকে আকাশে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বিবিসিকে জানান, এ সময় বেশ কিছু বাড়িঘরে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। একজন বাসিন্দা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, সেনারা ট্যাংক নিয়ে শহরের দক্ষিণ দিক থেকে প্রবেশ করে। এ সময় অনবরত গোলা ছোড়া হয়। লোকজন প্রাণভয়ে তুরস্কের দিকে পালাতে থাকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট বাশারের ছোট ভাই মাহারের নেতৃত্বাধীন একটি এলিট বাহিনী এ অভিযান পরিচালনা করে। সেনারা কতটা প্রতিরোধের মুখে পড়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হয়নি।
সিরিয়ায় অব্যাহত সংঘর্ষে বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে দেশের ভেতরে প্রবেশের জন্য অনুমতি দিতে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের কাছে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
সিরীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গত সোমবার এই শহরে সরকারবিরোধীরা ১২০ জন পুলিশকে হত্যা করে। মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালাতে অপারগতা প্রকাশ করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ওই পুলিশ সদস্যদের গুলি করে হত্যা করে।
সরকার বলছে, জিসর আল-শুগুর শহরের আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সেখানে গতকাল সেনা অভিযান চালানো হয়।
মানবাধিকারকর্মীরা জানান, প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ শহর ছেড়ে তুরস্কে পালিয়ে গেছে। সেখানে ইতিমধ্যে দুটি উদ্বাস্তু শিবির ভরে গেছে। তৃতীয়টিও দ্রুত পূর্ণ হচ্ছে।
গত শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের ওপর হেলিকপ্টার গানশিপ থেকে গুলি চালায় সেনাবাহিনী। এতে ৩৬ জন নিহত হয়। বিক্ষোভ দমনে সেনারা এত দিন ট্যাংকসহ অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করে আসছিল। গত শনিবার সেনারা বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়।
অসমর্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, একজন কর্মকর্তাসহ অন্তত ৫০ জন সেনাসদস্য স্বপক্ষ ত্যাগ করেছেন। জিসর আল-শুগুর শহরে বেসামরিক লোকদের ওপর গুলি করতে তাঁরা অপারগতা প্রকাশ করেন।
গত মার্চে সিরিয়ায় সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজার ২০০ বেসামরিক লোক মারা গেছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করছে।

জঙ্গিদের সঙ্গে আঁতাতের ‘প্রমাণ’ দেখালেন সিআইএ প্রধান

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক লিওন প্যানেট্টা পাকিস্তানে আকস্মিক সফরে গিয়ে দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে জঙ্গিদের গোপন সহযোগিতার কথিত প্রমাণ তুলে ধরেছেন। ওয়াশিংটনে সন্ত্রাসবাদবিরোধী এক মার্কিন কর্মকর্তা গতকাল রোববার এ কথা জানিয়েছেন।
সিআইএর প্রধান গত শুক্রবার পাকিস্তানে এক অঘোষিত সফরে এসে রাজধানী ইসলামাবাদে গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের প্রধান লে. জেনারেল আহমেদ সুজা পাশার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্যানেট্টা এ সময় স্যাটেলাইট থেকে তোলা কিছু ছবি ও অন্যান্য ‘তথ্য-প্রমাণ’ আহমেদ সুজাকে দেখান। সিআইএর ধারণা, ওই ছবিগুলো পাকিস্তানের জঙ্গিদের দুটি বোমা তৈরির কারখানার। ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা মনে করেন, আফগানিস্তানে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য সেখানে বোমা তৈরি করা হয়। কারখানা দুটির অবস্থান পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওয়াজিরিস্তানে। দুর্গম ওই এলাকাটি জঙ্গিদের বড় আস্তানা।
পাকিস্তানের পেশোয়ারের একটি জনবহুল বিপণিকেন্দ্রে দুটি বোমা বিস্ফোরণে ৩৯ জন নিহত হওয়ার এক দিন আগে এ দুই গোয়েন্দা প্রধানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ২ মে পাকিস্তানে মার্কিন সেনারা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পর থেকে এটাই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা।
বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে সিআইএ পাকিস্তানি সামরিক কর্তৃপক্ষকে বোমা তৈরির ওই কারখানাগুলো সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছিল। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সেখানে অভিযান চালিয়ে দেখে জঙ্গিরা পালিয়েছে। তখন সিআইএর কর্মকর্তারা সন্দিহান হয়ে পড়েন। তাঁরা ধরে নেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেই জঙ্গিদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছিল। খবরে বলা হয়, এর পরই প্যানেট্টা জেনারেল পাশার সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার তাগিদ বোধ করেন।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন থেকেই বলে আসছেন, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেশটির স্থানীয় জঙ্গি ও আফগানিস্তানের তালেবানের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে। পাকিস্তানের মাটিতে দীর্ঘদিন ধরে লাদেনের অবস্থান এ সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে।

রোনালদোকে লোভ দেখাচ্ছে সিটি

বিলাসবহুল বেন্টলি গাড়ি, সিটে পড়ে আছে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। ভাবখানা এমন—‘যোগ দিলে আরও পাইবে!’
এমনই একটা ছবি নাকি সম্প্রতি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পাঠানো হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে। সংবাদমাধ্যমে শুরু থেকেই রিয়াল মাদ্রিদের রোনালদোকে ‘ভাগিয়ে’ আনার খবর অস্বীকার করে যাচ্ছে সিটির আরব ধনকুবের মালিক পক্ষ। কিন্তু কিছুতেই গুঞ্জনের অবসান হচ্ছে না। নিত্যনতুন খবরের জোগান দিয়েই চলেছে দুই পক্ষ।
এবারের খবরটি ইংলিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মিররের। তাতে রোনালদোর কাছের বন্ধুদের সূত্র উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সিটির মালিকদের একজনের সঙ্গে কয়েক দিন ধরে তাঁর ই-মেইল চালাচালি হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক ই-মেইলে নাকি রোনালদোকে বেন্টলি গাড়ি আর সিটের ওপর পড়ে থাকা অঢেল টাকার এই ছবি পোস্ট করা হয়েছে।
মিরর লিখেছে, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জিততে মরিয়া সিটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলারটিকে কিনতে নতুন বিশ্ব রেকর্ড ১৫ কোটি পাউন্ড খরচ করতেও রাজি। শুধু তা-ই নয়, রোনালদোকে সাপ্তাহিক পারিশ্রমিক হিসেবে রেকর্ড সাড়ে তিন লাখ পাউন্ড দিতে রাজি আছে তারা। রোনালদোর দাবি আরও বেশি। তিনি চান ৪ লাখ পাউন্ড। সিটির সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া খেলোয়াড় ইয়াইয়া তোরে সপ্তাহে পান ২ লাখ ২০ হাজার। প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ বেতনভোগী ওয়েইন রুনি পান আড়াই লাখ। সেখানে রোনালদো প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি বেতন হাঁকছেন। তা ছাড়া সিটির অধিনায়কত্ব আর সাত নম্বর জার্সিও নাকি রোনালদোর চাহিদার তালিকায় আছে।
এসব তথ্য রোনালদোর নাম প্রকাশ না করা ওই বন্ধুর কাছ থেকে পাওয়া। বন্ধুটিকে রোনালদো নাকি বলেছেন, ‘সিটিতে যোগ দিলে তারা (সিটির আরব মালিক) আমাকে রাজকীয় সম্মানই দেবে। তারা আমাকে বেন্টলি গাড়ির ছবি পাঠিয়েছে, যেখানে সিটে পাঁচ লাখের নোট পড়ে আছে। এটা স্রেফ পাগলামো।’
বন্ধুটি মিররকে বলেছে, রোনালদো সিটির প্রস্তাব ভেবেও দেখছেন, ‘রোনালদো সত্যিই আগ্রহী। ও টাকা নিয়ে সিটিতে যোগ দিয়ে প্রিমিয়ার লিগে গোটা পঞ্চাশেক গোল করে ক্লাব ছাড়তে চায়। ম্যানচেস্টার শহরেও অনেক আনন্দময় মুহূর্তের স্মৃতি আছে ওর। এখনো অনেক ভালো বন্ধুও আছে তার এখানে।’
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ছয় বছর খেলেছেন রোনালদো। এখানে তাঁর একটা বাড়িও আছে। দেখা যাক, ট্যাবলয়েডটির খবর সত্যি হয় কি না। অবশ্য এ ধরনের পত্রিকা প্রায়ই নানা গুজব ছড়ায়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের চাওয়া—সান্ত্বনা

ঘরের মাঠে সিরিজ। প্রতিপক্ষ ভারতের দলটা বলতে গেলে দ্বিতীয় সারিরই। অনেক সিনিয়র তারকা সফরকারীদের হয়ে খেলতে আসেননি। তার পরেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ হেরে গেছে সিরিজের প্রথম তিন ওয়ানডে ম্যাচেই। সিরিজ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় ক্যারিবীয়দের চাওয়া এখন একটাই—একটি জয় তুলে নিয়ে সান্ত্বনা খুঁজে নেওয়া।
বাংলাদেশ সময় আজ সোমবার সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চতুর্থ ওয়ানডে। স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন সান্ত্বনার জয় খুঁজছে, প্রতিপক্ষ ভারতীয় দল তখন খুঁজছে ক্যারিবীয়দের ‘লজ্জায়’ ডুবানোর পথ! আজকের ম্যাচ তো বটেই, আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় শেষ ওয়ানডেতেও জয় তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশের লজ্জা দেওয়ার প্রতীক্ষায় ভারত।
সফরের সব কটি ম্যাচে জয় পেলেও ভারতীয় দলে পরিবর্তন আসছে। ইঙ্গিতটা দিয়েছেন অধিনায়ক সুরেশ রায়না নিজেই। যাঁরা এখনো খেলার সুযোগ পাননি, তাঁদেরকে সুযোগ দিতে চান তিনি। সে ক্ষেত্রে মুনাফ প্যাটেল বা প্রাভিন কুমারকে বিশ্রাম দিয়ে দলে আনা হতে পারে ইশান্ত শর্মাকে। অশ্বিনকে সুযোগ করে দিতে বসিয়ে রাখা হতে পারে হরভজন সিংকেও। আর মনোজ তিওয়ারির জন্য পথ ছাড়তে হতে পারে ওপেনার শিখর ধাওয়ানকে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে অবশ্য কোনো পরিবর্তন আসছে না। তৃতীয় ম্যাচের দলটাকেই ‘অপরিবর্তিত’ রেখেছেন ক্যারিবীয় নির্বাচকেরা।

ম্যাকক্লারেন ফিরছেন ইংল্যান্ডে

২০০৭ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ইংল্যান্ড হেরে গিয়েছিল। আর সেই পরাজয়ে চূড়ান্ত পর্বে যাওয়া হয়নি তাদের। এই ব্যর্থতায় পত্রপাঠ বিদায় নিতে হয়েছিল তত্কালীন কোচ স্টিভ ম্যাকক্লারেনকে। সেই থেকে ইংলিশ ফুটবল থেকে নির্বাসনেই রয়েছেন তিনি। কখনো হল্যান্ড, কখনো বা জার্মানি। দেশ থেকে দেশান্তরে চাকরি করে বেড়াচ্ছেন এই সাবেক ইংলিশ কোচ। কোনো জায়গায় সফল হয়েছেন, কোথাওবা ব্যর্থ। পেশাদারিত্বের নির্মম আঘাত তাঁকে বেশ কয়েকবারই সইতে হয়েছে। দেখেছেন ফুটবল দলের কোচের পদটা কতটা কণ্টকাকীর্ণ।
দেশান্তরে থাকা ম্যাকক্লারেনের সামনে এবার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ইংলিশ ফুটবলের বলয়ে ফেরার। তবে প্রিমিয়ার লিগের কোনো দল নয়, তাঁর কোচ হওয়ার সুযোগ এসেছে চ্যাম্পিয়নশিপের দল নটিংহ্যাম ফরেস্টের কাছ থেকে। খবরে প্রকাশ, নটিংহ্যাম সম্প্রতি প্রিমিয়ার লিগে উঠতে ব্যর্থ হয়ে তাদের স্কটিশ কোচ বিলি ডেভিসের হাতে বরখাস্তের চিঠি ধরিয়ে দিয়েছে। নটিংহ্যাম এখন আগ্রহী ম্যাকক্লারেনের হাতে কোচের দায়িত্বটা তুলে দিতে।
স্টিভ ম্যাকক্লারেনের কোচিং ক্যারিয়ার কিন্তু একেবারে ফেলে দেওয়ার নয়। ৫০ বছর বয়সী এই কোচ এক সময় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোচ স্যার আলেক্স ফার্গুসনের ডেপুটি ছিলেন। ২০০৪ সালে মিডলসবার্গকে লিগ কাপ জিতিয়েছিলেন। মিডলসবার্গকে নিয়ে গিয়েছিলেন উয়েফা কাপের ফাইনালে। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সুইডিশ কোচ সভেন গোরান এরিকসনের ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরিকসন চলে গেলে ইংল্যান্ডের কোচ হন। তবে সেখানকার অভিজ্ঞতাটা কিন্তু তাঁর একেবারেই তথৈবচ।

মরিনহোর প্রেমে নানি!

চলতি মৌসুমে গোল করেছেন ১০টি। আরও ১৮টি গোল করতে অন্যদের সহায়তা করেছেন। সতীর্থদের ভোটে সম্প্রতি নির্বাচিত হয়েছেন ক্লাবের বর্ষসেরা ফুটবলার। ওপরের তথ্য-উপাত্তগুলোই প্রমাণ করে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে (ম্যানইউ) বেশ ভালো আছেন নানি।
হ্যাঁ, নানি ভালো আছেন। তবে তিনি মজে আছেন রিয়াল মাদ্রিদ ম্যানেজার হোসে মরিনহোর প্রেমে। নানির স্বপ্ন, একদিন না একদিন তিনি মরিনহোর প্রশিক্ষণে খেলবেনই।
তাহলে কি ম্যানইউ ছেড়ে রিয়ালে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন নানি? এ প্রশ্নে নানির জবাব, ‘না, এ মুহূর্তে এমন কিছু ভাবছি না। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ভালো আছি আমি।’

এবি অধিনায়কত্বে উপযুক্ত: আমলা

অধিনায়কত্বের দায়িত্বটা জটিল। আর এ জটিল কাজের জন্য এবি ডি ভিলিয়ার্সকে দারুণ উপযোগী মনে করেন হাশিম আমলা। তিনি বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব করার জন্য এ মুহূর্তে ডি ভিলিয়ার্স খুবই উপযুক্ত। কারণ, তাঁর মধ্যে কঠিন দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার গুণাবলি রয়েছে।’
দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটে সম্প্রতি পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। কোচ হয়ে এসেছেন ভারতকে বিশ্বকাপ জেতানো গ্যারি কারস্টেন। তাঁর ডেপুটির দায়িত্ব নিয়েছেন ‘সাদা বিদ্যুত্’ খ্যাত অ্যালান ডোনাল্ড। গ্রায়েম স্মিথকে টেস্ট দলের দায়িত্ব দিয়ে এবি ডি ভিলিয়ার্সকে দেওয়া হয়েছে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দল সামলানোর ভার। আর আমলা নিজে নিয়োগ পেয়েছেন ভিলিয়ার্সের সহকারী হিসেবে।
নিজে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্বটা পেয়ে কিন্তু দারুণ খুশি আমলা। সম্মানের পাশাপাশি আরেকটি ব্যাপার তাঁকে খুব টেনেছে। সেটি হলো সহ-অধিনায়কত্বে ‘লো প্রোফাইল’ চরিত্রটা। ‘আমি একটু লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করি। লাইম লাইট আমার পছন্দ নয়। তাই সহ-অধিনায়কত্ব আমি উপভোগ করব।’ বলেছেন আমলা।
গত এক-দেড় বছরে নিজের ব্যাটের জাদুকরি পরশে প্রোটিয়া দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন আমলা। বিশ্বকাপের পর গ্রায়েম স্মিথ ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিতে চাইলে কিন্তু অনেকেই হাশিম আমলাকেই অধিনায়ক হিসেবে কল্পনা করেছিলেন। তবে অধিনায়কত্বটা না পেয়ে কিন্তু হতাশ নন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার একটি পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে আমলা বলেছেন, ‘গণমাধ্যমে অনেক জল্পনা-কল্পনা হয়েছে। কিন্তু সত্যি বলতে কি আমি কিন্তু সহ-অধিনায়ক হতে পেরেই খুশি।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেক পত্রিকায় লেখা হয়েছে আমাকে নাকি অধিনায়কত্ব দেওয়ার পরেও আমি নিইনি। ব্যাপারটি সত্যি নয়। আমি এই মুহূর্তে অধিনায়কত্বের চেয়ে নিজের ব্যাটিংটা নিয়েই বেশি ভাবছিলাম। সেটা আমি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
নিজের ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি হাশিম আমলাকে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের টি-টোয়েন্টি দলে নিজের স্থান নিয়েও ভাবতে হচ্ছে। একটু কেতাদুরস্ত ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর ব্যাটিংটা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের উপযোগী নয়—এমন অভিযোগ সবাই করে। আমলার সামনে এবার সুযোগ সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করা।

নেইমার যদি আমার ছেলে হতো...

মধুর’ সমস্যায় পড়ে গেছেন নেইমার। তবে নিজের সিদ্ধান্তে তিনি অনড়—ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসেই থাকবেন। এদিকে ১৯ বছর বয়সী এ তরুণ ব্রাজিলীয় ফুটবলারকে নিজেদের করে পেতে মরিয়া চেলসি। তাঁকে দলে আনতে চেষ্টার কমতি রাখছে না দুই স্প্যানিশ-জায়ান্ট বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদও। এ অবস্থায় কী করবেন নেইমার?
এখন পর্যন্ত নেইমারের যা অবস্থান, তাতে সান্তোসেই থাকছেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জল কোথায় গিয়ে পড়ে, তা তো বলা যায় না! বার্সেলোনা, চেলসি, রিয়ালের মত বিশ্ব সেরা ক্লাবগুলো যখন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। হাতছানি দিচ্ছে চোখ ধাঁধানো অর্থ। ঘটনার এখানেই শেষ নয়। নেইমারের এজেন্ট ওয়েঙ্গার রিবেরো পর্যন্ত চান না, উজ্জ্বল ভবিষ্যেক দূরে ঠেলে এই ফুটবলার সান্তোসের মতো ক্লাবে পড়ে থাকুক।
তাহলে কোথায় যাওয়া উচিত নেইমারের? রিবেরোর পরামর্শ, ‘ও যদি আমার ছেলে হতো, আমি ওকে রিয়াল মাদ্রিদে যেতে বলতাম। কারণ, এটিই এখন বিশ্বের সেরা ক্লাব। বেশির ভাগ ফুটবলার এখানে খেলতে চায়।’
স্বীকার করেন, ইউরোপে খেলছে না বলেই নেইমার বিশ্ব সেরা হতে পারছে না। অথচ বিশ্ব সেরা হওয়ার যোগ্যতা আর দক্ষতা দুটিই তাঁর রয়েছে।
গত শুক্রবার নেইমার জানান, আপাতত তাঁর লক্ষ্য—২০১১ সালের সেরা ফুটবলার হওয়া। ফিফা ব্যালন ডি’অর অর্জন করা। কিন্তু সান্তোসের মতো ক্লাবে খেলে কি এটা সম্ভব? নেইমারের বিশ্বাস, ‘সম্ভব’। পেলে যদি সান্তোসে খেলে শতাব্দীর সেরা হতে পারেন, তিনি কেন এখানে খেলে বর্ষসেরা হতে পারবেন না?
পেলেকে প্রেরণা ধরেই নেইমার বলেন, ‘কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। এখানে খেলেই পেলে শতাব্দীর সেরা হয়েছেন। শুধু নিজের খেলাটা খেলে, শিরোপা জয় করেই আমি তা অর্জন করতে পারি। সময়ই বলে দেবে, ব্যালন ডি’অর জয় করতে পারব কি না। তবে আমার স্বপ্ন, আমি পারব।’

শাহি মনজিলে সাহিত্য উৎসব by শাহীন আখতার

প্রতিবারের মতো এবারও জানুয়ারি ২১-২৫ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ডিএসসি জয়পুর লিটারেচার ফেস্টিবল। একে এশিয়ার সর্ববৃহৎ সাহিত্য উৎসব বলা হয়ে থাকে। এ বছর ২০টি দেশের ২২০ জন লেখক শুধু বক্তা হিসেবেই উপস্থিত ছিলেন। শাহীন আখতার তালাশ উপন্যাসের ইংরেজি সংস্করণ দ্য সার্চ-এর প্রকাশনা উপলক্ষে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন সেখানে। একই সময়ে মহারাষ্ট্রের ওয়ার্দাতে ছিল দ্য সার্চ থেকে পাঠ। তাঁর এ পরিক্রমা অনেকটা ভ্রমণকাহিনির ধাঁচে এখানে উপস্থাপন করেছেন লেখক।