Friday, April 10, 2026
লালনের কোন গানটি ফরিদা পারভীনকে সবচেয়ে বেশি নাড়িয়ে দিত
শুরুতে গাইতেন নজরুলসংগীত। তবে এক নাটকীয় ঘটনা তাঁকে নিয়ে আসে লালনের গানে।
প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফরিদা পারভীন বলেছিলেন, ‘কুষ্টিয়ায় স্থানীয় এক হোমিও চিকিৎসক আমার গানের বেশ মুগ্ধ শ্রোতা ছিলেন। কিন্তু কেন জানি তিনি আমার কণ্ঠে লালনগীতি শুনতে চাইতেন! তাঁর মনে হতো, লালনের গান আমার কণ্ঠে বেশি ভালো লাগবে। তাই হঠাৎ করেই আমাকে একদিন লালন ফকিরের গান শেখার পরামর্শ দেন। কিন্তু শুরুতে লালনের গান গাইতে চাইনি। আমার এই অনীহা দেখে বাবা আমাকে অনেক বুঝিয়ে গান শেখার জন্য রাজি করান। বলেন, “ভালো না লাগলে গাইবি না।” এই শর্তে রাজি হই এবং লালনসংগীতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব মকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে তালিম নেওয়া শুরু করি। “সত্য বল সুপথে চল ওরে আমার মন” লালনের বিখ্যাত গানটি শিখি। একই বছর দোলপূর্ণিমা উৎসবে গানটি গাইলে শ্রোতারা আমাকে লালনের আরও একটি গান গাইতে অনুরোধ করেন। তখন আমি গান গাইতে অসম্মতি জানাই। শ্রোতাদের বলি, “আমি একটি গান গাইতে শিখেছি। এটাই ভালোভাবে গাইতে চাই।” এ গানই আমার নতুন পথের দিশা হয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে বুঝতে শিখি, কী আছে লালনের গানে। তাঁর গানে মিশে থাকা আধ্যাত্মিক কথা ও দর্শন আমাকে ভাবিয়ে তোলে। এ পর্যায়ে অনুভব করি, লালন তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে অনবদ্য এক স্রষ্টা হয়ে উঠেছেন। এটা বোঝার পর লালনের গান ছাড়া অন্য কিছু ভাবতেই পারি না।’
লালনের কোন গানগুলো সবচেয়ে পছন্দ—একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফরিদা পারভীন বলেছিলেন, ‘সাঁইজির সব গান কিন্তু আমি করিনি আজ পর্যন্ত। কিছু গান যেগুলো করেছি, সেগুলো একেবারে ভাববাদী গান, যেগুলো আমাকে নাড়া দেয়।’ সবেচেয়ে বেশি কোন গানটি নাড়া দেয়—এমন প্রশ্নের উত্তরে শিল্পী বলেছিলেন, ‘মায়ের কাছে কিন্তু সব সন্তানই সমান। হাতের পাঁচ আঙুলের মধ্যে যেটিতে আমি কামড় দেব সেটিতে কিন্তু ব্যথ্যা পাব। “সত্য বল সুপথে চল ওরে আমার মন” গানটির সঙ্গে অন্য রকম আবেগ জড়িয়ে আছে, প্রথম গান তো।’
১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায় জন্ম নেওয়া ফরিদা পারভীন গানে গানে কাটিয়েছেন ৫৫ বছর। দেশে–বিদেশে পেয়েছেন অনেক পুরস্কার ও সন্মাননা।
| ফরিদা পারভীন। প্রথম আলো |
Monday, April 14, 2025
আঁকতে যাই পাখি, হয়ে যায় মাছ
আব্বা, মা, এবং আমরা দুটি ভাই—এই নিয়ে আমাদের সংসার। এক ছুটির দিন, সকলেই বাড়িতে, আমি বোধ হয় একটু দুষ্টমি করছিলাম। তাই আমাকে শান্ত করবার জন্যে আব্বা আমাকে আদর করে কাছে ডেকে পাশে বসিয়ে বড় ভাইয়ের স্লেট পেনসিল সামনে ধরে বললেন, ‘আয় তোকে একটা মজার খেলা শেখাই।’ বড় ভাইয়ের স্লেটের ওপর আমার ছোট্ট ডান হাতের পাতা উপুড় করে বসিয়ে পাঁচ আঙুলের চারপাশে পেনসিলের দাগ বসিয়ে হাতের পাতাটি স্লেট থেকে ওপরে তুলে ধরতেই চোখে পড়ল স্লেটের ওপরে আমার ছোট হাতের পাঁচটি আঙুলের সুন্দর একখানি ছবি। নিজেই আমার হাতটা পেতে দিয়ে শিশু ভাষায় জানালাম আবার আমার হাত এঁকে দিতে। আগের ছবিটি মুছে দিয়ে আব্বা আমার হাত আবার আঁকলেন—এইভাবে বারবার আঁকা চলতে থাকল। অবসর এবং ভাইয়ার স্লেট পেনসিল হাতের নাগালে পেলেই আব্বার কাছে নিয়ে উপস্থিত হতাম। তিনিও বুঝতেন এবং স্লেটের পিঠে আমার হাতের ছবি ভেসে উঠতে থাকত বারংবার। এটা আমার নিত্যদিনের খেলা হয়ে দাঁড়াল। শেষে একদিন দেখা গেল আমি নিজেই নিজের হাত বসিয়ে আঁকছি স্লেটের ওপরে। এইভাবে খেলা করতে করতে বয়স কিছুটা বেড়ে গেল। তখন কথাও বলতে পারি। এদিকে ভাইয়ার স্লেটে নিজেই নিজের হাত আঁকা আমার নেশায় দাঁড়িয়ে গেছে। শুধু আঁকাতেই শেষ নয়, তা নিয়ে আব্বাকে দেখাই, অন্য সব আত্মীয়স্বজন—মামা-চাচাদেরও দেখাই। বাহবা নিই।
এভাবেই খেলার ছলে কখন আমার মনের কোণে ছবি আঁকার একটি লতাগুল্ম অঙ্কুরিত হয়েছিল, বলতে পারি না। তারপর বয়স একটু বাড়তেই স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময় এসে গেল। আব্বা বড় ভাইকে যে স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিলেন, সেই মডেল এম-ই স্কুলে আমাকেও ভর্তি করিয়ে দিলেন। ইনফ্যান্ট টু-তে। কলকাতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্কুল। সাধারণ পড়াশোনার সঙ্গে ড্রইং আর মডেলিং ক্লাসের চমৎকার আয়োজন ছিল। আমি যেন এক নতুন আকাশে ডানা মেলে উড়ে বেড়াতে লাগলাম মনের আনন্দে। ছবি আর ছবি। আজ দেখতে পাচ্ছি আমার সেই শিশুকালটাকে। নতুন দৃষ্টি মেলে। মাত্র ডিম ফেটে বের হয়েছি, চোখ ফুটেছে কিন্তু ডানা ভালো করে মেলতে পারি না, তাই উড়তে গিয়ে বারবার পড়ে যাই। হ্যাঁ, ছবি আঁকতে যাই পাখির, হয়ে যায় মাছ। এমনিভাবে ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে ছবির আকাশে সেই যে উড়তে আরম্ভ করেছিলাম সে ওড়ার এখনো বিরাম নাই।
সেই বয়ঃসন্ধির কাল থেকে কানে আসতে লাগল যে ছবি আঁকলে আর্টিস্ট হওয়া যায় এবং আর্টিস্ট হলে খুব নাম হয়। লোকে আঙুল দেখিয়ে বলে ওই লোকটা খব বড় আর্টিস্ট। পয়সাও নাকি উপায় করা যায়। তবে ওটা বড়লোকদের পেশা, আর্টিস্ট হতে হলে বেশ পয়সাকড়ি খরচ করতে হয়। আবার এ-ও কানে এল যে আর্টিস্টরা খেয়ালি হয়, খাবার পয়সা জোটে না তাদের। তবুও ছবিই আঁকব, আর্টিস্ট হতেই হবে। সেই বয়সেই অর্থাৎ ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম, সাধারণ পড়াশোনা আর করব না। তখনকার দিনে কলকাতা সরকারি আর্ট স্কুলে পড়তে হলে ম্যাট্রিক না পাস করলেও চলত। এ সংবাদটিও সংগ্রহ করে ফেলেছিলাম। কলকাতা শহরে থাকতাম বলেই এসব খবরাখবর জোগাড় করা সম্ভব হয়েছিল। তা ছাড়া মনটা আমার সেই বয়সেই যেন শিল্পের রসে জারিত হয়ে গিয়েছিল। তবুও মাইনর স্কুল শেষ করে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র হিসেবে ক্যালকাটা মাদ্রাসায় ঢুকতে হয়েছিল। মাদ্রাসার সঙ্গেই ছিল ইংরেজির মাধ্যমে সাধারণ বিদ্যাশিক্ষার ব্যবস্থা। সেখানে গিয়ে ড্রইং ক্লাস পেয়েছিলাম এবং আজিজার রহমান নামে একজন তরুণ ড্রইং টিচার। তাঁর কাছ থেকেও উৎসাহ এবং উসকানি দুটোই পেয়েছিলাম। যার ফলে সপ্তম শ্রেণি অতিক্রম করে আর অষ্টম শ্রেণিতে যেতে পারিনি বা যেতে চাইনি বলা যায়।
অতএব ১৯৩৮ সালের জুন মাসে কলকাতার চৌরঙ্গীতে গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টে গিয়ে টেস্ট পরীক্ষা দিয়ে এলাম। ফলাফল প্রথম বিভাগেই ছিল। যে ধর্মপ্রাণ পিতা শিশুকালে খেলার ছলে বড় ভাইয়ের স্লেটে আমার হাত আঁকা শিখিয়েছিলেন, সেই নিরীহ মানুষটিকে বাধ্য করেছিলাম আমাকে নিয়ে আর্ট স্কুলের প্রিন্সিপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। তখন এইটাই নিয়ম ছিল। আব্বা বিরোধিতাও করেননি, আবার উষ্ণতার উত্তাপ দিয়ে সমর্থনও করেননি।
১৯৩৮ সালের জুলাই মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছবি আঁকার অনুশীলন আরম্ভ হয়ে গেল। প্রথম দিকে মনে মনে নিজেকে বিরাট কী ভাবতাম এবং সেইভাবেই চলাফেরা করতাম। রেমব্রান্ট, মিকেলেঞ্জেলো, রাফায়েল—সব নখের ডগায়। তারপর যত দিন যেতে লাগল, ততই ঘোর কাটতে লাগল। পাঁচ বছরের মধ্যেই কামরুল নামে নতুন এক শিশু হিসেবেই যেন আবার জন্ম নিলাম। এবং সেই থেকে নিউটনের মতোই সমুদ্রতীরের নুড়িপাথর সংগ্রহ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আজ অবধি সেই পাথর স্পর্শ করা তো দূরের কথা, তার আলোর ছটা এখনো দৃষ্টিগোচর হলো না। তবুও হাল ছাড়িনি। ছাড়বই বা কোন সাহসে, পেটে তো আর বিদ্যা নেই। আমার পিতা প্রায়ই আমার ছবি আঁকাকে সমর্থন করার জন্যে যুক্তি দিয়ে বলতেন, ‘ছবি আঁকাও তো হুনুরে কাজ, পেট চলেই যাবে ওর।’ সত্যিই, পেট তো চলেই যাচ্ছে। তাহলে কি পেট চালাবার জন্যে ছবি আঁকছি? এ প্রশ্নের উত্তর কি দেব? না, ছবি আঁকবার জন্যেই ছবি আঁকতে আরম্ভ করেছিলাম বটে, পরে সময় যত যেতে লাগল, ততই মনে নানান প্রশ্নের তাগিদ অনুভব করতে লাগলাম। নিজের ভালো লাগা সেই সঙ্গে অন্যদেরও ভালো লাগানো। এটাতেও যেন প্রশ্নের সঠিক উত্তর পেলাম না। বয়স বাড়ার সাথে কিছু কিছু রাজনৈতিক চিন্তার আঘাত পড়ল মনের দরজায়। তার মধ্যে মানুষের কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম। মানুষের বেঁচে থাকার আকুতি। সে মানুষ সর্ব সমাজের, বিশেষ করে শোষিত সাধারণ শ্রেণির, নিচের তলার মানুষের আর্তনাদ যেন অধিকতর। কিন্তু শিল্পকলা তো শুনেছি চিত্তবিনোদনের জন্যে! হ্যাঁ তার মধ্যে দিয়েই নতুন বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। আমার ছবির মধ্য দিয়ে ওই কাজটি করতে হবে।
![]() |
| পটুয়া কামরুল হাসানের তুলির টানে টানে ফুটে উঠত বাংলার নকশা, কৃষ্টি, ঐতিহ্য। ছবি: সংগৃহীত |
Monday, October 21, 2024
মনি কিশোরের মৃত্যু: গতকাল যা ঘটেছিল রামপুরার পপি ভবনে
ছোট একটি গেট। সংকীর্ণ সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে হয়। তিনতলায় গিয়ে দেখা গেল মনি কিশোর যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, সেই রুমে তালা দেওয়া। ‘প্রবেশ নিষেধ’ চিহ্ন দিয়ে রেখেছেন পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তারা। তালার একপাশে তখনই আগরবাতি জ্বালিয়ে রাখলেন পাশের রুমের প্রতিবেশী তাজুল মিয়া। এই প্রতিবেদককে দেখে তিনি বললেন, ‘স্যার তো এখানে একা থাকতেন। তাঁর কেউ নেই। আগরবাতি দেবে, দেখতে আসবে, তেমন কেউ ছিল না মনি স্যারের। কোনো দিন কাউকে আসতে দেখিনি।’
তাজুল জানান, ছয় দিন আগেও মনি কিশোরকে দেখেছিলেন। দেখা হলে সৌজন্য বিনিময় হয়। মাঝেমধ্যে মনিই খোঁজখবর নিতেন। কিন্তু তিন–চার দিন ধরে বাসার ভেতর থেকে লক করা দেখছেন তাঁরা। এটা কিছুটা কৌতূহলী করেছে তাঁদের। কারণ, মনি কিশোর প্রতিদিন বেলা ১১টার দিকে বাসা থেকে বের হতেন। বাসায় ফিরতেন রাত ১২টার দিকে। কিন্তু এই কয়েক দিন সব সময় রুমে লাইট জ্বালানো দেখে পরবর্তী সময়ে তাঁরা ধরে নিয়েছিলেন কোনো কাজ করছেন। কারণ, বাসায় থাকলে অনেকটা নীরবেই থাকেন। কখনো মৃদুস্বরে কিছুটা গানের শব্দ শোনা যেত। তবে চার থেকে পাঁচ দিন তাঁরা কোনো গান শোনেননি।
গত শুক্রবার তাজুল ও অন্যদের সন্দেহ হয়। সেটাও তেমন আমলে নেননি। তাজুলের স্ত্রী পাশ থেকে বললেন, ‘একা মানুষ থাকতেন, হয়তো ভেতরে কিছু করছেন, এই ভেবে আমি ডাকিনি। তিনি গানের মানুষ, গান আর অফিস নিয়ে থাকতেন। কিন্তু শুক্রবার রাত থেকেই গন্ধ পাচ্ছিলাম। হঠাৎ গতকাল শনিবার দুপুরের পরে গন্ধ বাড়তে থাকে।’
গতকাল দুপুর থেকেই পপি ভবন ও পাশের লাগোয়া ভবনের বাসিন্দারা গন্ধ নিয়ে সচেতন হন। সন্ধ্যার দিকে বাসার মালিকও বুঝতে চেষ্টা করেন, কোথা থেকে গন্ধ আসছে। কিন্তু কোথা থেকে, সেটা কেউই বুঝতে পারছিলেন না। পরে তাঁর সন্দেহ হয় মনি কিশোরের রুম বন্ধ। পাশের প্রতিবেশী ও মনি কিশোরের রুমের জানালার পাশে ভাড়াটেরাও একই কথা বলেন।
বাসার মালিক শামসুদ্দোহা তালুকদার নিচতলায় থাকেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক পরিচালক। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মনি কিশোরের মুঠোফোন নম্বরে কল করেন। এক দিন আগেও তিনি ফোন করেছিলেন বকেয়া ভাড়ার জন্য, তখনো ফোন রিসিভ করেননি মনি কিশোর। ভেবেছিলেন, হয়তো কোনো কারণে ফোন ধরছেন না। কোনো অনুষ্ঠানে হয়তো ঢাকার বাইরে গিয়েছেন। কিন্তু নম্বরটি শুক্রবারে চালু থাকলেও পরে গতকাল সন্ধ্যার পর বন্ধ পান।
গতকাল সন্ধ্যার পর পপি ভবনের সামনে ভিড় জমে। পরিস্থিতি বোঝার জন্য শামসুদ্দোহা আরও কয়েকজনকে নিয়ে চলে যান মনি কিশোরের দরজার সামনে। তখন গন্ধে তাঁরা দাঁড়াতেই পারছিলেন না। ধরে নেন, মনি কিশোরের কিছু একটা হয়েছে। অনেক ডাকাডাকি করেন। শামসুদ্দোহা আজ রোববার দুপুরে প্রথম আলোকে জানান, সন্দেহ হলে তিনি মনি কিশোরের বন্ধু আদনান বাবুকে প্রথম ফোন দিয়ে দ্রুত আসতে বলেন। তখন আদনান পরামর্শ দেন দ্রুত ৯৯৯–এ ফোন করতে।
রাত ৯টা ৪৫ এর দিকে ৯৯৯ ফোন দিয়ে পুলিশকে ঘটনা জানান। রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে বাড়ির মালিক ও পাশের বাসার প্রতিবেশীসহ আরও কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দরজা খোলা হয়। তাঁরা দেখতে পান বিছানায় হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে আছেন মনি কিশোর। তিনি খালি গায়ে ছিলেন। পরনে ছিল প্যান্ট। তাঁর শরীর ফুলে গেছে। কিছু জায়গায় পচন ধরেছে। রাতেই লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
পাশের বাসার প্রতিবেশী তাজুল মিয়া জানান, মনি কিশোর বেশির ভাগ সময় বাইরে থেকেই খেয়ে আসতেন। আর মাঝেমধ্যে কাঁচাবাজার করে নিয়ে আসতেন। তবে সেগুলো তিনি নিজে তেমন রাখতেন না। এগুলো প্রতিবেশী অনেককেই দিয়ে দিতেন। তাঁদেরকেও অনেক সবজি দিয়েছেন। তাজুলের স্ত্রী পাশ থেকে বলেন, ‘মনি স্যারকে আমরা তিন বছর ধরে দেখছি এই বাসায়। এ সময় তাঁকে কখনোই খারাপ পাইনি। তিনি নিজের জন্য ফল কিনে আনতেন। একা মানুষ কত আর ফল খাবেন, অনেক ফল এটা–ওটা আমাদের দিয়ে দিতেন।’ এ সময় আফসোস করে তিনি আরও বলেন, ‘অনেকেই দেখতে আসছেন কিন্তু তাঁর আপন কেউ এখনো আসেনি। একটা মানুষ মরে গেল। কোথায় থাকত, কী অবস্থা কেউ দেখতে এল না। এমন মৃত্যু যেন কারও না হয়।’
বাসার মালিক শামসুদ্দোহা জানান, তিনি বিটিভির প্রযোজক হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। সেই নব্বইয়ের দশকের সময় থেকে তরুণ অনেককে দিয়ে গানের অনুষ্ঠান করিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছিল মনি কিশোর। সেই থেকে পরিচয় হলেও তিন বছর আগে তেমন যোগাযোগ ছিল না। তাঁর ওই বাসায় তিন বছর আগে থাকতেন আদনান। তিনি একদিন জানালেন, বাসায় তাঁর সঙ্গে থাকবে মনি কিশোর।
‘মনি কিশোর থাকবে শুনে খুশি হয়েছিলাম। আমাদেরই ছেলে। আমি মানা করিনি। মনিকে আমি সেই আগে থেকেই তুই বলতাম। সে আমাকে আব্বা বলত। ওকে মাঝেমধ্যে দেখতাম তিন-চার দিন কোনো খবর নেই। পরে বলত, শো করতে গিয়েছিল। সেটাও খুবই কম। এবার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও ভাড়া দিচ্ছিল না। আমি নিয়মিত ফোন দিতাম। কিন্তু ধরত না। পরে ব্যাকও দিত না। ধরে নিয়েছিলাম এবারও শো করতে গেছে। প্রতিদিনই ফোন দিতাম। পরে কাল রাতে যখন ফোন বন্ধ পাই, তখন মনে হয় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছে। এভাবে ওর চলে যাওয়াটা খুবই দুঃখজনক’, বলেন শামসুদ্দোহা।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন মনি কিশোর। এ ছাড়া মানসিক চাপেও থাকতেন। পরিবারের সঙ্গে তাঁর তেমন যোগাযোগ ছিল না। আগেই বিচ্ছেদ হয়। পরে তাঁর সাবেক স্ত্রী শামীমা চৌধুরী ও একমাত্র কন্যা নিন্তি চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। শামসুদ্দোহা বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে তেমন একটা যোগাযোগ ছিল না, যত দূর জানি। মাঝে কিছু সময় মানসিকভাবেও চিন্তিত ছিল। আবার কয়েক দিন আগেই শোনাল, আবার নিয়মিত গানে ফিরছে। এটা নিয়ে কিছু সাক্ষাৎকারও দেখলাম। এর মধ্যেই ছেলেটি মারা গেল। বিটিভিতে থাকা অবস্থায় তরুণদের নিয়ে অনেক প্রোগ্রাম করেছি। সেসব আয়োজন দিয়ে তৈরি হয়েছিল মনি কিশোর। এখনো সেই সম্মান করত।’
জানা গেল, মনি কিশোর সম্প্রতি একটি টেলিভিশনে যোগদান করেছিলেন। সেই কাজেও তাঁকে ব্যস্ত দেখেছেন বন্ধু ও সহকর্মীরা। শামসুদ্দোহা জানান, মনি কিশোর রামপুরা বাজারের পাশে ‘তাল তরঙ্গ’ নামের একটি দোকানে নিয়মিত আড্ডা দিতেন। সেই আড্ডার এক সহকর্মী মুঠোফোনে বলেন, ‘মনি একসময় যে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, পরে সেভাবে ক্যারিয়ার দাঁড় করাতে পারেনি। এর জন্য বিভিন্নভাবে রাজনীতিরও শিকার হয়েছেন। এই নিয়ে মন খারাপ থাকত। পরে বিচ্ছেদ, আবার মেয়েটিও দেশের বাইরে থাকত। তার সঙ্গে তেমন কথা হতো না। সে অনেকটাই একা হয়ে গিয়েছিল। নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করত। কিন্তু বাইরে থেকে কাউকে বুঝতে দিত না। চেয়েছিল গান নিয়ে আবার ফিরতে। সেটা আর হলো না। নিঃসঙ্গভাবেই মরে গেল।’
এই সময় আড্ডার ওই সহকর্মী আরও বলেন, ‘আজ মনি কিশোরকে আঞ্জুমান মুফিদুলের মাধ্যমে দাফন করতে হয় কেন? অথচ শিল্পীদের সংগঠনের কেউ কোনো খবরও রাখেননি। কেউ বলেনি লাশটা দায়িত্ব নিয়ে দাফন করা হোক। এর চেয়ে হতভাগ্য আর কোনো শিল্পীর হয়েছে। মনি নিজেও জানত, সে মরে গেলে এমনই হবে। শিল্পী হয়েই আমরা শিল্পীদের সম্মান দিতে পারি না।’
‘কী ছিলে আমার বলো না তুমি’, ‘মুখে বলো ভালোবাসা’, ‘আমি মরে গেলে তুমি জানি কাঁদবে না’, এমন বহু গানের এই শিল্পী নীরবেই থাকতে পছন্দ করতেন। চলতেন সাধারণ যেকোনো মানুষের মতো। ভক্তরাও তাঁকে চিনতে পারতেন না। পপি ভবনের পাশের বাসার দারোয়ান আসাদ আলী আফসোসের সুরে বলেন, ‘মনি স্যারকে বহুদিন ধরেই চিনি। কিন্তু তিনি যে গায়ক সেই মনি কিশোর, এটা জানতাম না। কলেজে পড়ার সময় তাঁর গান নিয়মিত শোনতাম। তাঁর অ্যালবাম কিনেছি। তিনি আমার পছন্দের শিল্পী। কিন্তু গতকাল জানতে পারলাম, তিনি সেই মনি কিশোর। আগে জানলে তো ছবি তুলে রাখতাম।’
মরদেহ কী করতে হবে মনি কিশোর জানিয়ে গেছেন
নব্বই দশক থেকেই গান গেয়ে শ্রোতার মন মাতিয়েছেন মনি কিশোর। সেই কবে গেয়েছিলেন ‘কী ছিলে আমার, বলো না তুমি’; তা আজও অনেক সংগীতপ্রেমী গেয়ে ওঠেন আপন মনে। সেই গানের স্রষ্টা মনি কিশোর দীর্ঘ সময় ধরে ছিলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। অনেকটা অভিমান থেকে নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলেন। শেষ দিকে তো এমনও হয়েছে, কেউ যাতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে, নিজের ব্যবহৃত পুরোনো মুঠোফোন নম্বর বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
রামপুরা টেলিভিশন ভবনের পাশে একটি ভাড়া বাসায় একা থাকতেন। গতকাল শনিবার রাতে চিরদিনের জন্য তাঁর শেষ পৃথিবী ভ্রমণের খবর পাওয়া যায়। পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন। মারা যাওয়ার পর মরদেহ কী করতে হবে, তা বলে গিয়েছিলেন একমাত্র মেয়ে নিন্তিকে।
মনি কিশোর পাঁচ শতাধিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। রেডিও-টিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী হলেও গান গেয়েছেন অল্প। সিনেমায়ও তেমন গাননি।
মূলত অডিওতে চুটিয়ে কাজ করেছেন। তাঁর জনপ্রিয় গানের মধ্যে ‘কী ছিলে আমার’, ‘সেই দুটি চোখ কোথায় তোমার’, ‘তুমি শুধু আমারই জন্য’, ‘মুখে বলো ভালোবাসি’, ‘আমি মরে গেলে জানি তুমি’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তাঁর সবচেয়ে শ্রোতাপ্রিয় গান ‘কী ছিলে আমার’ তাঁরই সুর করা ও লেখা। মাঝে দীর্ঘদিন নতুন গান প্রকাশ থেকে দূরে ছিলেন এই গায়ক। চলতি বছর এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি আবারও গান করছেন। জানিয়েছিলেন, পুরোনো গানগুলো ইউটিউবে দিচ্ছেন পর্যায়ক্রমে। জনপ্রিয় গান ‘কী ছিলে আমার’ নতুন করে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য ছিল, এ প্রজন্মের শ্রোতারা গানটি শুনেছেন।
ইউটিউবে প্রচুর ভিউ। স্টেজে গেয়ে থাকেন তরুণেরা। কিন্তু গানের মূল গায়ককে তাঁরা চেনেন না। গানটির সুরকার ও গীতিকার কে, তা জানেন না। এ রকম জায়গা থেকে ভেবেছেন, এ প্রজন্মের কাছেও গানটি পরিচিত হোক। তাঁদের মধ্যে এটি ছড়িয়ে দেওয়া দরকার। এ ছাড়া আলাদা করে দেড় শ গান তৈরি করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘গানগুলো আমার জীবদ্দশায় প্রকাশ করতে চাই না। কিছু গান মৃত্যুর পরও প্রকাশ পাবে।’ জীবদ্দশায় মনি কিশোর তাঁর এই গানগুলো প্রকাশের আগেই চলে গেলেন অনন্তযাত্রায়। এই শিল্পী যেমনটি চেয়েছিলেন, হয়তোবা সেই ইচ্ছা পূরণ করবে তাঁর পরিবার। তাঁর তৈরি হওয়া গানগুলো হয়তোবা সামনে প্রকাশিত হবে।
আজ রোববার সকালে কয়েক দফায় কথা হয় মনি কিশোরের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা অশোক কুমার মণ্ডলের সঙ্গে। তিনি জানালেন, মনি কিশোর তাঁর পোশাকি নাম। প্রকৃত নাম অরুণ কুমার মণ্ডল। পুলিশ কর্মকর্তা বাবা অনিল কুমার মণ্ডলের ছেলে অরুণ কুমার মণ্ডল ছিলেন কিশোর কুমারের ভক্ত। ডাকনাম ছিল মনি। কিশোর কুমারের ভক্ত ছিলেন বলে নামের সঙ্গে ‘কিশোর’ জুড়ে নিয়েছিলেন। জীবিত থাকা অবস্থায় মনি কিশোর প্রথম আলোকে মজা করে বলেছিলেন, ‘কুমার শানু নিয়েছেন “ওস্তাদের” নামের একাংশ। আমি নিয়েছি তাঁর নামের আরেক অংশ।’
নব্বই দশকের শুরুতে বিয়ে করেন মনি কিশোর। দেড় যুগ আগে তাঁদের দাম্পত্যজীবনের ইতি ঘটে। বিয়ের সময়ই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন মনি কিশোর। সে হিসেবে তাঁর মরদেহের দাফন করা হবে বলে জানালেন ভাই অশোক কুমার। তিনি জানালেন, মনি কিশোর বেঁচে থাকা অবস্থায় তাঁর দাফনের বিষয়টি একমাত্র মেয়ে নিন্তিকে জানিয়েছিলেন। অশোক কুমার বললেন, ‘মেয়ে আমার বড় ভাইকে জানিয়েছে, তাঁর বাবাকে যেন দাফন করা হয়। এটা নাকি ওর বাবা ওকে বলে গিয়েছিল। মেয়েকে যেহেতু বলে গিয়েছে, তাই তার ইচ্ছামতো দাফনের কাজটাই করা হবে। এটা নিয়ে আমরা অন্য কোনো ধরনের সিদ্ধান্তে যাব না।’
কোথায় দাফন করা হবে, জানতে চাইলে অশোক কুমার মণ্ডল বললেন, ‘আমাদের সেভাবে কোনো চাওয়া নেই। আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এরপর ওরাই সিদ্ধান্ত নেবে, কোথায় মরদেহ দাফন করা হবে। থানা থেকে এটা যোগাযোগ করা হয়েছে বলে শুনেছি। মেয়ে শুধু এটুকু বলেছে, ওর বাবাকে যেখানে কবর দেওয়া হচ্ছে, সেখানে যেন একটা চিহ্ন রাখা হয়।’
অশোক কুমার মণ্ডল জানান, মনি কিশোর নানা রোগে ভুগছিলেন। এর মধ্যে হার্টের সমস্যা যেমন ছিল, তেমনি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টের সমস্যাও। কয়েক মাস ধরে এ সমস্যা আরও প্রকট হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা বাবার সাত সন্তানের মধ্যে মনি কিশোর চতুর্থ সন্তান। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভাই মারা গেছেন। দেড় যুগ আগে মনি কিশোরের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর বিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে একা থাকতেন। তাঁর একমাত্র মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। নড়াইল জেলার লক্ষ্মীপুরে মামাবাড়িতে ১৯৬১ সালের ৯ জানুয়ারি জন্ম মনি কিশোরের। পুলিশ কর্মকর্তা বাবার চাকরিসূত্রে দেশের বিভিন্ন জেলায় থাকা হয়েছে তাঁর।
নব্বই দশকের শুরুতে ‘চার্মিং বউ’ অ্যালবামের ‘কী ছিলে আমার’ শিরোনামের একটি গান মনি কিশোরকে প্রতিষ্ঠিত ও ব্যাপক পরিচিত করে দেয় সংগীতাঙ্গনে। একে একে ৩০টির বেশি একক অ্যালবাম করে ফেলেন। তারপর একসময় অডিও জগৎ নানা উত্থান–পতনের মধ্য দিয়ে যেতে থাকল। একটা সময় মনি কিশোরের আর নিয়মিত দেখা মেলেনি।
![]() |
| মনি কিশোর। ছবি: সংগৃহীত |
![]() |
| মনি কিশোর পাঁচ শতাধিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ছবি: সংগৃহীত |
![]() |
| মনি কিশোর। ছবি: সংগৃহীত |
Tuesday, July 20, 2021
জয়নুলের প্রিয়তমা by সুমন রহমান

আকাশ ওড়ে না।
আকাশের দিকে।
উড়েছে নতুন সিঁড়ি।
জয়নুলের সাফল্যের যত নতুন সিঁড়ি, নেপথ্যে জয়নুলের প্রিয়তমা স্ত্রী জাহানারা আহমেদ। শিল্পচার্যের সমগ্র জীবনের সুখ দুঃখের সারথী। ভরসার স্থল, শিল্পচার্যকে ছায়ার মতো আগলে রেখেছিলেন সারাটা জীবন। প্রতিমার মত সুন্দর এই মহিয়সীর রয়েছে অন্যরকম একটা স্ট্রং পারসোনালিটি। তাই জয়নুলের শিল্পাচার্য হয়ে ওঠার পেছনে জাহানারা আহমেদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অসম্ভব মেধাবি। স্কুল জীবনে ফার্স্ট গার্ল ছিলেন। অংক শাস্ত্রে তুখোড় ছিলেন বলে বোধকরি জীবনের অংকেও সাফল্য পেয়েছিলেন।
তিন পুত্রের জননী জাহানারা। সন্তানদের পড়াশুনার ব্যাপারে ছিলেন সচেতন। তাই প্রতিটি ছেলেই পড়াশুনায় অসাধারণ সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে পেরেছিলেন। জয়নুল সন্তানদের ভীষণ ভালো বাসতেন। প্রচ- স্নেহকাতর ছিলেন সন্তানদের ব্যাপারে। জাহানারা আহমেদ যদি কখনও ছেলেদের বকাঝকা করতেন শিল্পচার্য ভীষণ রাগ করতেন। এমনও হয়েছে রাগ করে দু’তিন দিন বাসাতেই ফেরেননি। আর্ট কলেজে থেকে গেছেন। শেষে জাহানারা মান ভাঙ্গিয়ে সঙ্গে নিয়ে বাসায় ফিরতেন। অসাধারণ এক রসায়ন ছিলো জয়নুল জাহানারা সম্পর্কে। দু’জন দু’জনকে বেশ বুঝতে পারতেন। এতো বড় সংসারের বড় বউ। অনেক দায়িত্ব। সবার সঙ্গে মানিয়ে চলা। বিশেষ করে জয়নুলের দিকে খেয়াল রাখা। শিল্পাচার্য তখন প্রচ- ব্যস্ত। ছবি আঁকা, আর্ট কলেজ, পানাম নগরীতে লোক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার স্বপ্ন, নানামুখি ব্যস্ততা। তাই সাংসারিক কোন ঝামেলা যাতে শিল্পাচার্যের কাছে বাঁধা হয়ে না দাঁড়ায় সেদিকে জাহানারা খুবই সজাগ থাকতেন। আর জয়নুলও বেশ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন জাহানারার প্রতি। বেতনের টাকা। ছবি বিক্রির টাকা সব তুলে দিতেন জাহানারার হাতে। শেষে কলেজে যাওয়ার রিকশা ভাড়া চেয়ে নিতেন বউয়ের কাছ থেকে। জয়নুল সিগারেট খেতেন খুব। পান খেতেন। আর খেতেন চা। প্রচুর সিগারেট খেতেন বলে জাহানারা এক সঙ্গে দুই তিন কার্টন সিগারেট কিনে রাখতেন। জয়নুল বেড়াতে পছন্দ করতেন। স্ত্রী সন্তানদের নিয়েই বেড়াতেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বেড়িয়েছেন তিনি সস্ত্রীক। একবার শিল্পাচার্য পাকিস্তান গিয়েছেন। ফেরার সময় সবার জন্য কেনাকাটা করে এনেছেন। প্রিয় জাহানারার জন্য এনেছেন শাড়ি। শাড়ি দেখেতো ক্ষেপে আগুন। বললেন এটা কি এনেছো? এটা কোন শাড়ি হলো। আর রং? বিচ্ছিরি। তোমারতো দেখছি রঙের কোন আইডিয়াই নেই। এমন মজার খুনশুটি ছিলো দুজনার। তবে জয়নুলের ছবি আঁকার ব্যাপারে জাহানারা ছিলেন অসম্ভব যতœবান। তাঁর রং তুলি গুছিয়ে রাখা, জয়নুলের লোকজ সব কালেকশন সযতেœ রাখা এমনকি সংসারের কোন সঙ্কটের কথাও জানাতেন না। পাছে শিল্পাচার্যের কাজে ব্যাঘাত ঘটে। কৈ মাছ জয়নুলের ভীষণ পছন্দ ছিলো আর পছন্দ শুঁটকি। কৈ মাছ রান্না হলে সবার জন্য একটি বরাদ্দ থাকলেও জাহানারা জয়নুলের জন্য তুলে রাখতেন তিনটি। এখানেও কি এক পরম মমতার গন্ধ মেলেনা?
ফিরে দেখা
জাহানারা আহমেদ। জন্ম ১৯৩১। ৪০/২ আব্দুল হাদি লেনের বাসিন্দা তৈয়ব উদ্দিন আহমেদের কন্যা ১৯৪৬ সালের ৮ই অক্টোবর পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের সঙ্গে। জাহানারা আহমেদের জ্যেষ্ঠ বোন রহিমা খাতুনের বিয়ে হয়েছিলো জয়নুল আবেদিনের সতীর্থ শফিকুল আমীনের ভাই নূরুল আমিনের সঙ্গে। এভাবে একটি যোগাযোগ সৃষ্টি হয়েছিলো এবং সে অনুযায়ী জয়নুল আবেদিন ১৯৪৬ সালের প্রথমার্ধ্বে জাহানারা আহমেদকে গোপনে তাঁর স্কুলে দেখে যান। এ বিয়ের আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারী ছিলেন সাংবাদিক-সাহিত্যিক আবু জাফর শামসুদ্দিন। অক্টোবরের শুরুতে জয়নুল ময়মনসিংহ এসেছেন শুনে আবু জাফর শামসুদ্দিন কন্যাপক্ষের অনুমতি নিয়ে তাকে আনতে ময়মনসিংহ যান। কিন্তু জয়নুল তখন ধানিখোলায় বোনের বাড়িতে থাকায় আবু জাফর শামসুদ্দিন ফিরে আসছিলেন, কিন্তু পথে কালিরবাজার রেল স্টেশনে জয়নুলের দেখা পেয়ে সেখান থেকেই তাঁকে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছান। জয়নুল ওই স্টেশন থেকেই ভাইয়ের খবর পাঠালে জাহিদুর রহিম ঢাকায় আসেন। আবু জাফরের পোশাক পরেই জয়নুল ১৯৪৬ সালের ৭ই অক্টোবর আব্দুল হাদি লেনের বাসায় আনুষ্ঠানিকভাবে জাহানারা আহমেদকে দেখতে যান। সঙ্গে আবু জাফর শামসুদ্দিন ও জাহিদুর রহিম ছিলেন। কনে দেখার পর দিনই আক্দ ও রেজিস্ট্রি সম্পাদিত হয়। অতঃপর ১৯৪৬ সালের ২৬শে ডিসেম্বর জাহানারা আবেদিনকে শ্বশুরগৃহে নিয়ে যাওয়া উপলক্ষে ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ময়মনসিংহ থেকে জয়নুলের আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন। পরদিন ২৭শে ডিসেম্বর নববধূকে নিয়ে বরযাত্রীরা ট্রেনযোগে ময়মনসিংহ প্রত্যাবর্তন করেন। এভাবেই ময়মনসিংহের আকুয়া মাদ্রাসা কোয়ার্টারের শ্বশুরগৃহে নববধূর প্রবেশ ঘটে। বিয়ের সময় জাহানারা আহমেদ ছিলেন ইডেন স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। ঢাকায় ফিরে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ শেষে জাহানারা আবেদিন জানুয়ারির শেষদিকে শ্বশুরগৃহ হয়ে জয়নুলের সঙ্গে কলকাতা চলে যান। ১৯৪৬ সালের ২৭শে ডিসেম্বর শুক্রবার। যেদিন জাহানারা আবেদিন নববধূ হিসেবে প্রথম শ্বশুরগৃহে যান। সেদিন কলকাতায় জয়নুলের গুণগ্রাহীরা এই নববধূকে অভিনন্দিত করে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন। কলকাতায় মোহাম্মদী প্রেস থেকে মুদ্রিত এই পুস্তিকার শিরোনাম: জাহানারা জয়নুলকে। ‘আগের কথা’ নামে এর ভূমিকা লেখেন কবি আহসান হাবীব, মোহাম্মদ নাসির আলী, সৈয়দ সাদেকুর রহমান এবং আরও কয়েকজন। এরাই ছিলেন এই পুস্তিকার উদ্যোক্তা প্রকাশক। সম্পূর্ণ লাল-কালিতে ছাপা এ পুস্তিকায় নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আঠারো জনের কবিতা এবং দুজনের গদ্য স্থান পায়। কবিতা লেখেন সুফিয়া কামাল, বেনজীর আহমদ, কাজী আফসার উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল কাদির, শওকত ওসমান, মণীন্দ্রভূষণ গুপ্ত, এবনে গোলাম নবী, কাদের নওয়াজ, মঈনুদ্দিন, আব্দুল মওদুদ, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র, সৈয়দ আলী আহসান, গোলাম কুদ্দুস, অবন্তী সান্যাল, মতিউল ইসলাম, মোতাহার হোসেন, ইবনে বতুতা ও ফররুখ আহমদ। গদ্য লেখেন মুজীবুর রহমান খাঁ ও শেফাউল মূলক, ছদ্মনামের একজন। আরবী-ফার্সি উর্দু মিশ্রিত ভাষায় দ্বিতীয় গদ্যটি কৌতুকপূর্ণ ঢংয়ে লেখা। জয়নুল আবেদিন তৎকালীন কলকাতার কবি সাহিত্যিক ও শিল্পী মহলে কতটা আদরণীয় ও শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন তা এ পুস্তিকা থেকে অনুধাবন করা যায়।
ওই পুস্তিকা থেকে নবদম্পতির উদ্দেশে গদ্য-পদ্যে রচিত জয়নুল আবেদিনের শুভানুধ্যায়ী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কিছু আশীর্বচনের অংশবিশেষ নিচে উদ্ধৃত করলে আবেদিন সে সময়ে কতটা সম্মান ও স্নেহের পাত্র ছিলেন, তা উপলব্ধি করা সহজ হবে। জয়নুলের শিক্ষক শিল্পী মণীন্দ্রভূষণ গুপ্ত (১৮৯৮-১৯৬৮) লেখেন : ‘তুমি নূতন জীবনে প্রবেশ করিতে যাইতেছ, তোমার শিল্পসৃষ্টির মতই তাহা আনন্দপূর্ণ এবং কণ্টকহীন হউক; তোমার শিল্পের মধ্যে যে মানবপ্রেম নিহিত আছে, তাহা তোমার ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিফলিত হউক।’ (পৃ.পাঁচ)। কবি খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীন (১৯০১-৮১)-এর রচনা : ‘নব-বাঙলার বন্ধুরা শোন হিন্দু-মুসলেমীন,/ শিল্পী চোলেছে দোসর খুঁজিতে-জয়নাল আবেদিন ।/...প্রাণ পেলো যাঁর বদৌলতে,-দি-ই মোবারক বাদ,/ লভুক আজিকে নোতুন করিয়া নবজীবনের স্বাদ।’ (পৃ. সাত)। কবি বেনজীর আহমেদ (১৯০৩-৮৩) লেখেন : ‘সোনার ফসল-আশা জেগেছে মনের কোণে-কোণে/ তামাটে আকাশ ছেয়ে নেমেছে কাজল মেঘ-মায়াÑ/ কঠোর মাটির বুকে খেয়ালী আবার স্বপ্ন বোনে,/ প্রেমের মধুর রসে সে স্বপ্ন লভুক রূপ-কায়া।’ কবি আবদুল কাদির (১৯০৬-৮৪) রচিত সনেটের শেষ চরণ: ‘সেই রেখাময়ী কিগোর ধরা দেয় বাহু-আলিঙ্গনে,/বাসর-প্রাঙ্গণে তোলে ব্যাকুলিয়া হাসির বিদ্যুতে?/প্রথম আষাঢ়ে কাঁদে পাঠাইয়া মর্ত্তো মেঘদূতে,/চিত্তের তমসা-তলে ফিরে পুনঃ স্বপ্নে সংগোপনে?/এবার জাগিয়া র’বে তা’রি নূপুর নিক্বণে; বসন্ত-সঙ্গীত বাজে তাই তব জীবন-তন্তুতে॥’ কবি কাদের নেওয়াজের (১৯০৯৬-৮৩) জিজ্ঞাসা: ‘অনেক ছবি ত’ এঁকেছ শিল্পী।/ আজিকে কাহার ছবি,/আঁকিতেছ হৃদে, মানবী কিম্বা/দেবী সে, শুধায় কবি।’ সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মুজীবুর রহমান খাঁ (১৯১০-৮৪) বলেন: ‘কিন্তু সেই চির-পুরাতন ও চির-নূতন প্রশ্নÑযা ছিল শিল্পীর তুলিকায় এতদিন, আজ এল নেমে তেমনই জিজ্ঞাসা নিয়ে তার জীবনের পাতায়। আশা করি, তার প্রতিভা-দীপ্ত তুলির আঁকা ছবিটির মত জীবনের পাতায়ও এই মিলন-মধুর প্রশ্নের জওয়াব তার সুন্দর হবে, বিচিত্র হবে, হবে নিপুণ ও অনিন্দনীয়Ñ।’ কবি সুফিয়া কামালের (১৯১১-৯৯) কবিতা: ‘যে-দিগন্ত শূন্য ছিল সেথা হল আঁকা? একটি তারকা,/ঈষৎ কম্পিত, ভীরু হৃদ-স্পনন্দন সম/স্নিগ্ধ মনোরম।/সে আলোর অনির্বাণ শিখাহীন জ্যোতি/পূর্ণ পরিণতি/লভিবে সম্মুখে এলে চন্দ্রহীন রাতি,/সেই-ই হবে সাথী।/সে দীপ্তি শাশ্বত অচঞ্চলÑ/জীবনের পথের সম্বল॥’ কবি ও সঙ্গীতশিল্পী জ্যোতিরিন্দ্র নাথ মৈত্র (১৯১১-৭৭) লিখেছেন: ‘শিল্পীর প্রাণাবেগ মূর্ত্ত হল পূর্ণ প্রতিমায়।/তিলে তিলে গড়ে তুলো দ্বৈত সুরে গাঁথা/জীবনের সুর-সৌধ। তোমার বিধাতা/জানি আমি একমাত্র তুমি।/কারণ তুমি যে শিল্পী দীপ্ত জীবনের।/পূর্ণ হও, প্রীত হও, শুদ্ধ মহিমায়॥’ শিল্পীর উদ্দেশে কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমানের (১৯১৭-৯৮) কয়েকটি পঙ্ক্তি: ‘নীড় আর আকাশের ডাক/মাঝখানে থাকে যত ফাঁকÑ/শিল্পী, পূর্ণ করে দাও তুমি,/তারি সুরে জেগে উঠে চিত্ত-বন-ভূমি।’ কবি ফররুখ আহমদ (১৯১৮-৭৪) রচিত সনেটের শেষ ছয় পঙক্তি; ‘তুমি এলে সে আঁধারে তারপর দ্যুতি নিয়ে একা,/যে নীল ছিল না শূন্যে মায়াঞ্জনে এল সেই নীল,/তিমির শেখর ঊর্ধ্বে আলোকের দীপ্ত ত্যোজির্লেখা/নিমিষে মুছিয়া নিল আঁধারের উদ্দাম ফেনিল/সংখ্যাহীন ঘূর্ণাবর্ত, সংশয়ের ঘন-কৃষ্ণ রেখা,/স্বপ্নহীন নভাঙ্গন হ’ল মোর স্বপ্নময় নীল॥’ কবি ও গদ্যকার সৈয়দ আলী আহসান (১৯২২-২০০২) লেখেন: ‘অঞ্জন দাও নয়নে এবার জাগো বিচিত্রালোকে/তোমাদের প্রাণ প্রদীপ্ত হোক্ নব মাধুর্যে আজ॥’
১৯৪৬ সালের নভেম্বর ডিসেম্বরে ইউনেসকোর উদ্যোগে প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয় একটি আন্তর্জাতিক আধুনিক চিত্রকলা প্রদর্শনী (এক্সপোজিশন ইন্টারন্যাশনাল দি আর্ট মডার্ন, মুসেক দি আর্ট মডার্ন (ইউনেসকো, প্যারিস)। এ প্রদর্শনীতে ভারত থেকে যাঁদের ছবি স্থান পায় তাঁরা হলেন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দলাল বসু, যামিনী রায়, রামকিঙ্কর বেইজ, অমৃতা শেরগিল, শৈলজ মুখার্জি, জ্যোতিরিন্দ্র রায়, সুনীল মুখার্জি, সুশীল সরকার, অমূল্য সেন, ওয়াই কে শুক্লা, সতীশ সিনহা, জয়নুল আবেদিন, সফিউদ্দীন আহমেদ, বঙ্কিমচন্দ্র ব্যানার্জি, মুক্তিপদ ব্যানার্জি, নগেন ভট্টাচার্য ও ফণীভূষণ।
১৯৪৭ সালের শেষ জানুয়ারিতে জয়নুল আবেদিন তাঁর নববধূ জাহানারা আবেদিনকে সঙ্গে নিয়ে ময়মনসিংহ থেকে ট্রেনে করে কলকাতায় যান। আগেই নতুন বাসা ভাড়া করা ছিল, কিন্তু পৌঁছাতে রাত হয়ে যাওয়ায় নবদম্পতি কলকাতায় তাঁদের প্রথম রাত কাটান ১৪ নম্বর সার্কাস রো-র পুরোনো বাসায়। পরদিন তাঁরা ৩৬ নম্বর তারক দত্ত রোডের নতুন বাসায় গিয়ে ওঠেন। বাসাটি ভাড়া করা হয়েছিল জাহানারা আবেদিনের বড় পরিবারের (রহিমা খাতুন ও নুরুল আমীনের পরিবার) সঙ্গে একত্রে। ভাড়া ছিল ৮০ টাকা। দুই পরিবার সমানভাবে মেটাবে বলে স্থির হয়েছিল। জয়নুলের তখন মাসিক বেতন ছিল ২০০ টাকার কম। এছাড়া ইত্তেহাদ পত্রিকায় প্রতি সপ্তাহে নিয়মিতভাবে ড্রয়িং ও ইলাস্ট্রেশন করে মাসে ১০০ টাকা পেতেন। জাহানারা আবেদিন গার্হস্থ্যকর্মে ছিলেন অনভ্যস্ত ও অপটু। জয়নুলের বিবাহপূর্ব জীবনের পরিচারক সফি রান্নার ব্যাপারে প্রথমাবস্থায় সাহায্য করে। আবার জয়নুলও কিছুদিন রান্না করেন। মার্চের দিকে একবার জাহানারা আবেদিন তাঁর মায়ের সঙ্গে ঢাকা ঘুরে যান। এবং ১৯৪৭-এর জুলাই মাসে বোন রহিমা খাতুনের পরিবারের সঙ্গে চূড়ান্তভাবে ঢাকা চলে আসেন। জয়নুল জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে কলকাতা ছাড়লেও ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকা আসেন আগস্টে। কলকাতায় এই কয়েক মাসের অবস্থানকালে জয়নুল, দাঙ্গাবিধ্বস্ত কলকাতার নিরাপত্তাহীন পরিবেশের কারণে নববধূকে নিয়ে বেশি বেড়াতে পারেননি। এই নবদম্পতি ডেন্টিস্ট আর আহমেদ ও শিল্পী আনোয়ারুল হকের বাসায় নিমন্ত্রিত হয়েছেন। কিছু আত্মীয়-স্বজনের বাসায় বেড়িয়েছেন। তা ছাড়া গেছেন শিল্প প্রদর্শনীতে, যেখানে জয়নুলের ছবিও ছিল; সেখানে শিল্পী অতুল বসু ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে, একাডেমি অব ফাইন আর্টের লেডি রানু মুখার্জির সঙ্গে দেখা হয়েছে। জ্যোতির্ময় রায় পরিচালিত উদয়ের পথে শীর্ষক চলচ্চিত্রের প্রেস শোতে গেছেন। জ্যোতির্ময় রায়ের স্ত্রী বিনতা রায় ছিলেন ওই ছবির নায়িকা, নায়ক ছিলেন রাধামোহন সেন। ওই শোতে দেখা হয় যামিনী রায়ের সঙ্গে। যামিনী রায় জাহানারা আবেদিনকে দেখে জয়নুলকে বলেন: ‘কোথা থেকে এই পটের ছবি নিয়ে এলে?’ অতুল বসু ও যামিনী রায় দুজনই জাহানারা আবেদিনকে বলেছিলেন, ‘জয়নুলকে তোমার দেখে রাখতে হবে, যাতে ওর ছবি আঁকায় বিঘœ না ঘটে।’ ওই কয়েক মাসে জাহানারা আবেদিনের মনে হয়েছে: জয়নুল বোধ হয় কোনো শৃঙ্খলে আটকে পড়েছেন, সে জন্য ছটফট করছেন। বিকেলে বা ছুটির দিনগুলোতে জয়নুল তাঁর স্ত্রীর একটু খোঁজ নিয়ে আবার বেরিয়ে যেতেন। বেরিয়ে গিয়ে কিছু একটা কিনে ফিরে এসে আবার বেরিয়ে পড়তেন। এ সময় কলকাতা আর্ট স্কুলের শিক্ষক বলাইচন্দ্র দাস প্রতিদিন স্কুল ছুটির আগে বাগান থেকে একটি করে ফুল তুলে এনে জয়নুল আবেদিনের হাতে দিতেন। জয়নুল আবেদিন তাঁর শিক্ষকের এই আশীর্বাদপুষ্ট স্নেহের দানটি অতি যত্নে স্ত্রীর উদ্দেশে বাসায় নিয়ে যেতেন।
বিষাদ পর্ব
সুখ দুঃখের দোলাচলে জয়নুল দম্পতির দিনগুলো যখন মধুর আর রঙিন। তখন বিধাতা কেন জানিনা হঠাৎ এর মধ্যে বিষাদের রেখা টানলেন। ১৯৭৫ সালের মধ্য পর্যায় থেকে জয়নুলের শরীর খারাপ হচ্ছিল। মাঝে মধ্যে জ্বর, কাশি হতো। সেপ্টেম্বর অক্টোবর থেকে তিনি প্রায়শঃ অসুস্থবোধ করতে থাকেন। শরীর বেশ খারাপ হয়ে যায়। হাসপাতালে তার নানা রকম পরীক্ষা করা হয়। এক্স-রেতে ধরা পড়লো ফুসফুসে টিউমার। ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী ক্যান্সারের সন্দেহ করলেন এবং বিদেশে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। ১৯৭৬ সালের ১৬ই জানুয়ারি জয়নুল আবেদিন চিকিৎসার জন্য লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। সঙ্গে প্রিয়তমা স্ত্রী জাহানারা। লন্ডনের হ্যামার স্মিথ হাসপাতালে তাকে দেখানো হয়। সেখানে ডা. মরিসন জয়নুলের চিকিৎসা করেন। ব্রঙ্কোসকপি করে ডাক্তাররা নিশ্চিত হন যে, টিউমারটা ম্যালিগন্যান্ট এবং অপারেশনের সুযোগ নেই। ফলে ডাক্তার কেমোথেরাপির কোর্স শুরু করেন। লন্ডনে থাকতেই কেমোথেরাপির দুটো কোর্স সম্পন্ন করা হয়। প্রায় দুই মাস চিকিৎসার পর জয়নুল লন্ডন ত্যাগ করেন। লন্ডনে ডা. মরিসনকে শিল্পচার্য বলেছিলেন, ‘ডাক্তার আমার একটা ব্যবস্থা করো যাতে দু’ বছর বাঁচতে পারি। সোনারগাঁওয়ের লোক শিল্প জাদুঘর ও কারুপল্লী নির্মাণের প্রকল্পটি তিনি শেষ করে যেতে চেয়েছিলেন। যেটি জয়নুলের মতো জাহানাররাও স্বপ্ন ছিলো।
ঢাকায় ফিরে পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) চিকিৎসা চলেছে শিল্পাচার্যের। ৭ই মে বিটিভির লোকজন ক্যামেরাসহ জয়নুলের বাসায় গিয়ে তাকে না পেয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। হাসপাতালে ওরা তাঁর ছবি তুলেছিলো। ওদের অনুরোধেই শিল্পচার্য ‘দুই মুখ’ শীর্ষক জীবনের শেষ ছবিটি এঁকেছিলেন ওইদিন হাসপাতালে বসেই।
এরপর জয়নুলের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতির দিকে যেতে থাকে। জাহানারা যেন আর কোন আশার আলো দেখতে পান না। চারদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে।
১৯৭৬ সালের ২৭শে মে সন্ধ্যার দিকে ড. কুদরত-এ খুদা জয়নুলকে দেখতে হাসপাতালে যান। জাহানারা আবেদীনের ভাষায়-‘আবেদিন অতিশয় মমতার সঙ্গে ওঁর হাত ধরলেন। মনে হলো ঘুমিয়ে গেলেন। ঘুম দেখে রাতে আর তাঁকে জাগালাম না। আমরাও ঘুমিয়ে গেলাম। ২৮শে মে সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ওঁর বিছানা ভিজে গেছে। সব পরিস্কার করে দিলাম। আমি তখনও কিছু বুঝে উঠতে পারিনি। আমি ওর জন্য নাশতা তৈরি করলাম। আবেদিন ঘুমে আছে দেখে আমরা নাশতা খেয়ে নিলাম। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ডাক্তার এলেন। এসেই অক্সিজেনের ব্যবস্থা করলেন। এরপর সকাল সোয়া এগারোটা। জয়নুলের প্রিয়তমা জাহানার জীবনের ছন্দ হারিয়ে গেল। সকল দরজা বন্ধ হয়ে গেল যেনো। বাংলাদেশের এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের পতন। শিল্পাচার্য চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
‘...আমি চলিলাম/যেথা নাই নাম,/যেখানে পেয়েছে লয়/সকল বিশেষ পরিচয়, নাই আর আছে? এক হয়ে যেথা মিশিয়াছে/যেখানে অখ- দিন/আলোহীন অন্ধকারহীন,/আমার আমির ধারা মিলে যেথা যাবে ক্রমে ক্রমে/পরিপূর্ণ চৈতন্যের সাগর সঙ্গমে।’
জয়নুলের প্রিয়তমা জাহানারা। দিন যায়। বছর গড়িয়ে যুগ। কোন কিছুতেই যেন আর তার মন লাগে না। আবেদিন ছাড়া এই ধরা ধামে সবকিছুই যেন অর্থহীন মনে হয়। চারিদিকে এতো আলো, এতো রং এতো আয়োজন কোন কিছুতেই যেন তিনি আর তাল মেলাতে পারেন না। সর্বত্র আবেদিনের ছায়া লেগে আছে। তিনি ভুলতে পারেন না। তিরতিরে জলের মতো শান্ত আর নীরব আনন্দের মতো জেগে থাকে প্রাণে। জয়নুলের চরণ ধ্বনি কি শুনতে পান জাহানারা? কোন সুদূর থেকে ভেসে আসে সেই ধ্বনি! জাহানারার বুকের ভেতর ইন্দ্র ধনুর মতো আবেশ ছড়ায়। জীবনের এইসব সঙ্গীত থেমে গেলে একদিন মহাকাল এসে হাত ধরে নিয়ে যাবে ঠিক। জাহানারা প্রহর গুনছেন কাক্সিক্ষত সেই শান্তিধামের। কত দূরে আর? আমার ভাবনাও কি সেই দিকেই ধাইছে? ...এ অসম্ভব। নয়!
>>>বিশেষ কৃতজ্ঞতা: ময়নুল আবেদিন ও কোহিনূর আবেদিন। এবং সৈয়দ আজিজুল হক রচিত জয়নুল আবেদিন: সৃষ্টিশীল জীবন সমগ্র
Thursday, January 23, 2020
মৃণাল সেন সম্পর্কে নন্দিতা দাস: ‘আমার বন্ধু, দার্শনিক ও পথ প্রদর্শক’ by নন্দিতা দাস
![]() |
| মৃণাল সেনের সঙ্গে নন্দিতা দাস |
আমি কলকাতায় গিয়েছি আর মৃণালদার সঙ্গে দেখা হয়নি এমনটি কখনো হয়নি। সেখানে অনেকে ছিলো, সবাইকে আমি স্নেহ করি। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগদানের উদ্দেশ্যে ছেলেকে নিয়ে কলকাতা যাওয়ার পর ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর তার সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয়। তাকে বেশ দুর্বল মনে হচ্ছিল। কিন্তু আমি যতক্ষণ ছিলাম উনি আমার হাতটিকে শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন। দীর্ঘসময় মমতাপূর্ণ নিরবতা বিরাজ করছিলো। মাঝে মধ্যে সেই নীরবতা ভাঙ্গছিলো আমাদের টুকটাক কথায়। তিনি আমার ছবি মান্টো নিয়ে কথা বললেন, সন্তানের স্কুল সম্পর্কে জানতে চাইলেন। আরো তাচ্ছিল্যের সঙ্গে এই বলে আক্ষেপ করেন যে চলচ্চিত্র উৎসবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। যদিও তিনি জানতেন যে আমন্ত্রণ পেলেও তার যাওয়া হতো না, কিন্তু এই অসম্মান তাকে বেশ কষ্ট দিয়েছে।
![]() |
| ছবি: নন্দিতা দাস |
আমি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে মৃণালদাকে চিনি। কাঠখোট্টা ধরনের মনে হওয়া অত্যন্ত সৎ মানুষটির কিন্তু কৌতুকরসের অভাব ছিলো না। তার স্ত্রী গীতাদী সবসময় পাশে থেকে তাকে শক্তি জুগিয়েছেন। তাদের সঙ্গে অনেক সন্ধ্যা কেটেছে তাদের গল্প শুনে। অনেক সময় তাদেরকে আত্মবিনয়ী দেখেছি। তখন দিদির দৃষ্টিটি বেশি ভালো মনে হতো। দিদি হেসে দিয়ে মৃণালদার চাটুকারিপূর্ণ গল্প বাতিল করে দিয়ে পাল্টা গল্প শোনাতেন। তাদের হাস্য-পরিহাস, নি:শর্ত ভালোবাসা এবং পারস্পরিক সম্মান সত্যিকারের ভালোবাসার প্রতি আমার বিশ্বাসকে আরো দৃঢ় করেছে। দিনের পর দিন আমাদের শোয়ার ঘরের আলাপচারিতা খাবারের টেবিল পর্যন্ত গড়িয়েছে। তাদের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে সেই আলাপচারিতার তাদের বিছানায় পর্যন্ত পৌছে যায়। দুই বছর আগে গীতাদি আমাদের ছেড়ে গেলে মৃণালদা তার আসল সত্তাটি হারিয়ে ফেলেন।
![]() |
| আমার ভূবন ছবি সেটে, ছবি: নন্দিতা দাস |
এরপর আমরা চব্বিশ পরগনা জেলার টাকি নামে একটি গ্রামে যাই। মনি রত্নমের তামিল ছবি কান্নাথিল মুথামিত্তাল-এর শুটিং শেষ করে আমাকে আমার ভূবন ছবির শুটিয়ের জন্য যেতে হয়েছিলো। একটি ‘ধর্মীয় ছবি’ করার জন্য আমি এমন জায়গায় গিয়েছি যেখানে কখনো যাইনি। আমি নানা ধরনের খাবার খেয়েছি, বহুরকম মানুষের সঙ্গে মিশেছি। কিন্তু এই দুই পরিচালকের মধ্যে ছিলো দুস্তর ব্যবধান। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা একঘেয়ে শুটিং থেকে আমি অনেক বেশী নমনীয় শিডিউলে কাজ করতে যাই। গিয়ে দেখি গোটা গ্রামটিই যেন ছবির কাজে নেমে পড়েছে। মৃণালদা, আমরা নায়ক-নায়িকা ও ক্ররা মিলে পাঁচজন একটা গেস্ট হাউজে থাকতাম। এর সামনে দিয়ে ইছামতি নদী বইছিলো। এর ওপারে বাংলাদেশ। মৃণালদা বলতে বাংলাদেশে সূর্য ওঠে, আর ভারতে এসে ডোবে। বাংলাদেশকে নিয়ে তার আলদা টান ছিলো। তিনি ফরিদপুরে জন্মেছিলেন, যা আজ নদীর ওপারে।
![]() |
| আমার ভূবন, ছবি: নন্দিতা দাস |
কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য আমার ভূবন মনোনীন হয়। ছবিটি স্বল্প পরিসরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেয়া হয়। এরপর আমরা পুরষ্কার গ্রহণের জন্য কায়রো চলচ্চিত্র উৎসবে একসাথে যাই। আমি অভিনয়ের জন্য আর মৃণালদাকে আজীবন সম্মাননা দেয়া হয়। সেবারই সম্ভবত শেষবার ছবিটি বড় পর্দায় দেখানো হয়েছিলো। ছবিটি কয়েকবার টিভিতেও দেখানো হয় কিন্তু এর থিয়েটার প্রিন্টের কোন হদিস এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না। তখন থেকে আমি এটি খুঁজছি। আমাদের মহান শিক্ষকদের প্রতি আমরা কতটা শ্রদ্ধাহীন, খুবই মর্মান্তিক একটি বিষয়।
তিনি জীবনে যেমন সাধারণ ছিলেন, মরনেও। তিনি খুব বেশি প্রচার চাইতেন না। তার মাপেক চিত্র নির্মাতাকে এখন গান-স্যালুট দেয়া হয়, পুষ্পস্তবক অর্পনের জন্য ভক্তদের ভীড় জমে যায়। তিনি এর কিছুই চাননি। তাকে যার ভালোবাসে তারা তার ইচ্ছাকে সম্মান করেছে। মৃণালদার শেষযাত্রায় মানুষের ঢল নামে। তারা নি:শব্দ পদযাত্রায় অংশ নেয়। সাধারণ মানুষের মতোই বিদায় নিতে চেয়েছিলেন তিনি।
![]() |
| আমার ভূবন ছবি সেটে, ছবি: নন্দিতা দাস |
সে ছিলো আমার বন্ধু, দার্শনিক ও পথ প্রদর্শক। তার প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা জানানো হবে কঠিন প্রশ্নগুলো করে যাওয়ার মাধ্যমে। আমাদের বিবেকের ডাকে সারা দিতে হবে, সাধারণ মানুষের কাহিনী তুলে ধরতে হবে, যারা ক্রমেই অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।
আমার এক ছবি দেখে তিনি বলেছিলেন, তুমি অসাধারণভাবে সাধারণ। কেরালায় যখন থাকো তখন মালয়ী। আর বাংলায় থাকলে বাঙ্গালী। আমি সেরকমই সাধারণ থাকতে চাই।
মৃণালদার সঙ্গে একটি যুগের একটি বিদায় নিয়েছে। তার সঙ্গে আমার ঘনঘন সাক্ষাত না হলেও সান্তনা ছিলো যে তার মতো কেউ আছে আমার। স্বার্থপরের মতো বলতে হয়, আমি যদি চিরকাল তার সঙ্গে থাকতে পারতাম। কিন্তু তার মতো একটি মানুষকে দিনে দিনে নিস্প্রভ হয়ে যেতে দেখা কঠিন হতো। আজ সময় এসে তাকে ও তার কাজগুলোকে সম্মান জানানোর সময় এসেছে। তিনি জীবনে অনেক যুদ্ধ করেছেন, অনেক গল্প বলেছেন এবং আমাদের অনেককে অনেক কিছু দিয়েছেন। এখন শান্তিতে থাকুন তিনি।
Sunday, October 13, 2019
অভিনয়শিল্পী বাছাইয়ের পদ্ধতি কী?

কেই বলছেন, পাত্র-পাত্রী যেকোনো মাধ্যম থেকে বাছাই হতে পারে। তবে বাছাইয়ের পর একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেলে ভালো হয়। তা না হলে নাটকের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির পাশাপাশি ওই শিল্পীর স্থায়ীত্বও কমে।
টেলিভিশন নাটকের বর্তমানে যারা অভিনয় করছেন, তাদের অনেকেরই মঞ্চে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই। বিজ্ঞাপনচিত্রে জনপ্রিয় এমন অনেকেই এখন নাটকের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন। এমনও শোনা যায়, আচ্ছা ওর তো ফেসবুক ফ্যান-ফলোয়ার বেশি, তাকে নিয়ে নাটক বানালে তো নিশ্চিত লাখ ভিউ হবে-তাই অনেকে সেই পথেও হাঁটেন।
পরিচালক মাসুদ হাসানা উজ্জল বলেন, ‘নাটকে করপোরেট বিনিয়োগ বাড়ার সঙ্গে মঞ্চের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিল্পী বাছাইয়ের ধরণ বদলে যেতে থাকে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত টেলিভিশন চ্যানেলের কারণে কাজের সংখ্যা এবং চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এর জোগান দিতে গিয়ে অভিনয়ের ন্যূনতম শিক্ষা না থাকা শিল্পীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে তো ওয়েবভিত্তিক প্লাটফর্মের উত্থানে কাজের চাহিদা সীমাহীন। শিল্পীর তুলনায় নির্মাতার সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। ফলে কাজের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে আমরা ক্রমাগত ব্যর্থ হচ্ছি।
শুধু থিয়েটার অভিজ্ঞতা থাকলেই একজন শিল্পীর কাছ থেকে কাঙ্খিত অভিনয় পাওয়া যাবে এমনটাও মনে করছেন না অনেকে। মঞ্চ, টিভি নাটক বা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ধরণও এক নয়। মঞ্চের অভিনয় শিল্পীর সুবিধা হলো তিনি অভিনয় পদ্ধতি ভালো জানেন। কিন্তু পদ্ধতি জানলেই হবে না, ভিন্ন মাধ্যমে সেটির প্রয়োগে ভিন্নতা থাকতে হবে। তা না হলে শিল্পী যদি চরিত্রের চাহিদা না বুঝে গৎবাঁধা অভিনয় করেন , সে চরিত্র ব্যর্থ হবে। দিন শেষে এটি মনে রাখতে হবে অভিনয়টা হচ্ছে বিশ্বাসযোগ্যতা -এমনটাই মনে করা হয়।
অপূর্ব ও নিশো দুজনেই নাটকে অভিনয় শুরু করেন গাজী রাকায়েতের পরিচালনায়। ‘ঘরছাড়া’য় অপূর্ব ও ‘বৈবাহিক’ নাটকে আফরান নিশো। এই পরিচালক বলেন, বাইরের দেশে নাটক কিংবা কাস্টিং ডিরেক্টর বা কাস্টিং এজেন্সি বলে প্রতিষ্ঠান থাকে । সেখান থেকে চরিত্র উপযোগী অভিনয়শিল্পী বাছাই করা যায়, হোক নতুন কিংবা পুরনো। আমাদের দেশে শুধু বিজ্ঞাপনচিত্রে এই প্রচলন আছে। যেকোন মাধ্যম থেকে নাটকের পাত্র-পাত্রী বাছাই করা যেতে। নতুন হলে তাদের নিয়ে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত প্রশিক্ষণ করিয়ে নিলে ভালো হয়। যেমনটা আমি অপূর্ব ও নিশোর ক্ষেত্রে করেছিলাম।’
মঞ্চে অভিনয়েরি অভিজ্ঞতা নেই কিন্তু টেলিভিশন নাটকে ব্যস্ত শবনম ফারিয়া, মেহজাবীন, তানজিন তিশা, ইফরান সাজ্জাদ প্রমুখ। এই অভিনয় শিল্পীদের বেশির ভাগই এসেছেন বিজ্ঞাপনচিত্র কিংবা গানের মডেল হিসেবে। অভিনয় শিল্পী সমিতির সভাপতি ও পরিচালক শহীদুজ্জামান সেলিম মনে করেন, স্ক্রিপ্টে যে চরিত্র যাঁকে মানায়, তাকেই নির্বাচন করেন। হতে পারে মঞ্চের নতুন একজন অভিনয় শিল্পী কিংবা অনেক পুরোনো। এমনটি - টেলিভিশন বা মঞ্চ কোনোটাই করেননি-এমন একজন নবাগত তরুণ-তরুণী হতে পারেন।
Friday, September 27, 2019
‘মোনা লিসা’ আঁকতে গিয়ে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন দা ভিঞ্চি!
![]() |
| লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ও মোনা লিসা |
শেষজীবনে আঁকা ওই ছবি মৃত্যুর দু’বছর আগে পর্যন্ত আগলে রেখেছিলেন দা ভিঞ্চি। বহুবার চেষ্টাও করেছেন সম্পূর্ণ করার। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত পারেননি উলনা পালসি নামের এক স্নায়ু বিকলকারী রোগে আক্রান্ত হওয়ায়। ওই রোগে শিল্পীর ডান হাত আংশিক অসাড় হয়ে যায়। আঙুলগুলো কুঁকড়ে যায়। ফলে ওই হাতে ছবি আঁকা তো দূর, কোনো বাহ্যিক সাহায্য ছাড়া সামান্য নাড়াচাড়া করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আর তাই বিখ্যাত চিত্রশিল্প ‘মোনা লিসা’-সহ লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বেশ কিছু ছবি অসম্পূর্ণই থেকে গেছে। তাছাড়া মৃত্যুর আগের পাঁচ বছর তিনি নতুন কোনো ছবিও আঁকেননি।
লিওনার্দোর স্নায়ুরোগ সংক্রান্ত এই বিশদ বিবরণ সম্প্রতিই প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অফ রয়্যাল সোসাইটি অফ মেডিসিনে। দুই ইতালীয় চিকিৎসক- ডেভিড লাজেরি (প্লাস্টিক সার্জন) এবং কার্লো রোসি (স্নায়ুবিশারদ) বিশদ গবেষণার পর ওই প্রতিবেদন লিখেছেন। তারা জানিয়েছেন, ১৫০৭ থেকে ১৫১৫ খ্রিস্টাব্দে আঁকা দা ভিঞ্চির একটি প্রতিকৃতি দেখেই তারা ওই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। ষোড়শ শতকের শুরুর দিকে দা ভিঞ্চির ওই প্রতিকৃতিটি বানানো হয়েছিল মিলানে। ছবিটি আঁকেন দা ভিঞ্চির অতি ঘনিষ্ঠ আরেক শিল্পী গিওভান অ্যামব্রোগিয়ো ফিনিও। লাল চক দিয়ে আঁকা ওই প্রতিকৃতিতে বৃদ্ধ দা-ভিঞ্চিকে দেখা যাচ্ছে একটি চাদর গায়ে জড়ানো অবস্থায়। আর তার ডান হাতটি ঝোলানো আছে সেই চাদরেরই ভারে। অনেকটা ভাঙা হাত যেমন ‘স্লিং’-এ ঝোলানো থাকে তেমনি করে।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দা ভিঞ্চির বুড়ো আঙুল এবং তর্জনীটি সোজাভাবে রয়েছে। মধ্যমাটি সামান্য বেঁকে এবং অনামিকা আর কনিষ্ঠ আঙুলটি সংকুচিত হয়ে রয়েছে। চিকিৎসকদ্বয় জানিয়েছেন, হাতের এই অবস্থাকে ডাক্তারি পরিভাষায় বলে ‘ক্ল হ্যান্ড’। যা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বয়স্ক মানুষের স্ট্রোক হলে, আকছার পড়ে গিয়ে তারা এই ধরনের অসুখে আক্রান্ত হন। দা ভিঞ্চির সঙ্গেও সম্ভবত তেমনটাই হয়ে থাকবে। চিকিৎসকরা ওই প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, অত্যন্ত বেশি পরিমাণে দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার কারণেই সম্ভবত শিল্পীর স্ট্রোক হয়ে থাকবে। যার বড় মূল্য চোকাতে হয় দা ভিঞ্চিকে। উল্লেখ্য, মোনা লিসা ছবিটি যে লিওনার্দো দা ভিঞ্চি তার স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার কারণেই সম্পূর্ণ করতে পারেননি, সেই অনুমান আগেও করেছিলেন বিশারদরা। তবে তারা রোগ নিয়ে অনিশ্চিত ছিলেন।সাড় ছিল না হাতে, তাই অসমাপ্ত লিওনার্দোর ‘মোনা লিসা’।
Tuesday, September 24, 2019
প্রকৃতিকে ভালোবেসেই শিল্পী হয়েছেন তিনি by হৃদয় সম্রাট
![]() |
| চিত্রশিল্পী কারু তিতাস |
শুরুটা আসলে কীভাবে হয়েছিলো সেটা সঠিকভাবে বলতে পারবো না। আমাদের বাড়িতে সবসময় আঁকাআঁকির পরিবেশ ছিল। মা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী আমাদের অনেক বড় অনুপ্রেরণা। তবু একেবারে ছেলেবেলা থেকে ছবি আঁকা শুরু করিনি। একটি ঘটনার পর থেকে আমার ছবি আঁকার প্রতি ভালোবাসা জন্মেছিল। তখন আমি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। একদিন পৃষ্ঠায় সুন্দর একটি ফুলের ছবি এঁকেছিলাম। তখন আমার মনে হলো যে, আমি কী সুন্দর একটা ফুল তৈরি করে ফেললাম! এরপর থেকেই শুরু হয় আমার নিত্য ছবি আঁকা। সেই থেকেই চলছে তুলির সঙ্গে বসবাস।
ছবি আঁকার অনুপ্রেরণা...
আমাদের পরিবারটা একটি আগাগোড়া শিল্পী পরিবার। এখানে আমরা পেয়েছি অবাধ স্বাধীনতা, শিল্পী হওয়ার সুযোগ। এই বিষয়কে অনুপ্রেরণা বলবো কিনা, ঠিক বুঝতে পারছি না, কেননা আমার পরিবার কখনও আমাদের ওপরে কোনও কিছু চাপিয়ে দেয়নি। বলেনি যে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। আমরা আমাদের পছন্দের বিষয় নিয়ে পড়েছি। যেমন আমার ইচ্ছা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় পড়াশোনা করার। আমি তাই করেছি। সবাই সাদরে গ্রহণ করেছে। আর একটি কথা না বললেই নয়, আসলে বাংলাদেশের প্রকৃতির বৈচিত্র্যই আমার ছবি আঁকার প্রেরণা। এই প্রকৃতিতে নেশা আছে।
![]() |
| চিত্রশিল্পী কারু তিতাস |
অনুপ্রেরণা বা ভালোবাসার কথা যদি বলতে চাই তবে বলতে হয় বাংলাদেশের ঋতুবৈচিত্র্যের কথা। আমার মতো চিত্রশিল্পীদের জন্য এই দেশের কোনও বিকল্প হয় না। কেননা প্রতিনিয়ত এই দেশের ঋতু পরিবর্তন হয় যেমনটা অন্য কোনও দেশে হয় না। আর সবচেয়ে ভালো লাগে যে ২০ মাইল অন্তর অন্তর এই দেশের বাতাসের পরিবর্তন ঘটে। আর দেশের প্রকৃতিক পরিবেশতো অসাধারণ, একেকটি জায়গা একটি বিশেষত্ব নিয়ে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের ভাণ্ডার খুলেছে। আর এসব কারণে আমার ঘুরতে ভীষণ ভালো লাগে। তবে ঢাকা ছাড়া যেকোনও স্থানে ঘুরতে যেতে আমি আগ্রহী। যখনই সময় পাই তখনই ঘুরতে বের হয়ে যাই। একবার চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠেছিলাম, ট্রেনটি চলতে চলতে হঠাৎ এক স্টেশনে থেমে যায়। সেখানকার পরিবেশটা এতটাই নীরব আর সুন্দর ছিল যে, আমি ট্রেন থেকে নেমে যাই।
তরুণদের জন্য কিছু কথা...
ছবি আঁকা কাজটি করতে হয় ধৈর্য আর ভালোবাসা নিয়ে। আপনার মাথায় যদি সারাদিনের কর্মব্যস্ত দিকগুলো নিয়ে চিন্তা থাকে তবে আপনি কখনও ভালো ছবি আঁকতে পারবেন না। আর আরেকটা বিষয় হচ্ছে, এখানে কোনও শর্টকাট ওয়ে নেই। কোনটা ছবি আর কোনটা ছবি না, তা সময়ই একদিন বলে দেবে। ঠিক যেমন একটি কবিতা সব ভেঙেচুরে কবিতা হয়ে ওঠে।
![]() |
| শপিং ব্যাগের উপর এঁকেছেন ছবি |
ছবি নিয়ে বাংলাদেশের মতো একটি জায়গায় কাজ করা খুবই কঠিন বিষয়। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আর ছবি তো একটি সময়োপযোগী ব্যাপার। সময় বলে দেবে কী হবে। এই মুহূর্তে শিল্পাঙ্গনে চলছে আমাদের ২৯ জন শিল্পীর বর্ষা বিষয়ক প্রদর্শনী। এখানে আমরা কাজ করেছি বর্ষণমুখর বাংলাকে নিয়ে। আমাদের প্রতিটি ছবিতেই বাংলাদেশের বর্ষাকালের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি ছবির মেঘ, বাতাসের ভাঁজ আর পরিবেশটার দিকে তাকালেই বর্ষার ছোঁয়া পাবেন শিল্পপ্রেমীরা। প্রদর্শনীটি চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
ক্যানভাস তুলি নিয়েই পথচলা...
ছবি ছাড়া আমি আমার দিন শুরু করতে পারি না। আর নির্দিষ্ট করে এক বিষয় ধরে বেশিদিন বসে থাকতে পারি না। যেমন আমি ফুলের ছবি আঁকছি, কিন্তু আমি বেশি দিন ফুল আঁকতে পারি না। আমাকে পরিবর্তন করতে হয় ছবি আঁকার বিষয় বা মাধ্যম। এখন যেমন কাজ করছি বিভিন্ন শপিং ব্যাগের উপর। ইচ্ছা আছে এই বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু কাজ করার। ২০২০ সালে ছবির একটি প্রদর্শনীর পরিকল্পনাও রয়েছে। ছবি নিয়েই জীবন শুরু, ছবি নিয়েই শেষ দিন পর্যন্ত থাকতে চাই।
![]() |
| শপিং ব্যাগের উপর এঁকেছেন ছবি |
Wednesday, August 28, 2019
পথিকের অভিমান ভাঙার গল্প by সুধাময় সরকার

যেমন সিদ্ধান্ত তেমন বাস্তবায়ন। এরপর টানা ১৪ বছর কোনও নতুন গান প্রকাশ হলো না পথিক নবীর। চোখের পলকে শুকিয়ে গেল কথা-সুর আর কণ্ঠে টইটম্বুর একটা জীবন্ত নদী! অথচ তারই অভিষেক গান ‘আমার একটা নদী ছিল’ আজও সমান জনপ্রিয়, সর্বত্র।
যেমন চলে যাওয়া, তেমন করেই হঠাৎ ফেরা হলো পথিকের। ঢাকঢোল সমৃদ্ধ এই সময়ে আওয়াজ ছাড়াই ১৪ বছর পর সম্প্রতি নতুন একটি গান কণ্ঠে তুললেন পথিক, বাণিজ্যিক বিপণনের লক্ষ্যে। নাম তার ‘জোড়া শালিক’। যদিও সেটি নিজের ভাণ্ডার থেকে নয়। গানটির কথা লিখেছেন সোমেশ্বর অলি আর সুর করেছেন লুৎফর হাসান। সংগীতায়োজন করেছেন মার্সেল। প্রযোজনায় জি সিরিজ।
কাকতাল হলেও গানটির কথাতেও রয়েছে পথিকের ফিরে আসার ছায়া- একদিন সবকিছু হয়ে যাবে ঠিক/ তুমি খুঁজে নিও সেই দিন তারিখ/ একশ বছরেও আমি দেখব না- জোড়া শালিক।
ঠিকঠিক গানে ফেরা প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে জানতে চাওয়া- গান থেকে কেন এই দীর্ঘ আড়াল? পথিকের জবাব একটু আধ্যাত্মিক, ‘কিছুটা অভিমান আর কিছুটা আত্মোপলব্ধির জন্যই আমার ফিরে যাওয়া। গানের জন্য আমি আমার কাজ করেছি, সামনেও করবো। মাঝের সময়টাতেও গানের সঙ্গেই ছিলাম, তবে সেটি শুধুই নিজের জন্য। কিন্তু পুরো বিষয়টা তো আসলে একার নয়। এ জগৎ একার বিষয় না। এখানে মিলেমিশে আন্তরিকতার আবহ জরুরি। তবেই সময়কে আমরা সান্নিধ্য দিতে পারবো। নয় তো তারছেঁড়ার মতো আঁতলামিতে সব নষ্ট হয়ে যাবে। আমি নষ্ট হতে চাইনি। মূলত এসব ভাবনা থেকেই ২০০৫ সালের কোনও এক সন্ধ্যায় নিজেকে প্রত্যাহার করে নেই, নীরবে। যেখানে মিলমিশ নেই, আন্তরিকতা নেই- সেখানে সুর-তালও থাকার কথা নয়।’
মূলত এই অভিমানে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন পথিক। কিন্তু ফিরেছেন কী ভেবে! তবে কি আন্তরিকতাও ফিরেছে, এই সংগীত সংসারে?
পথিকের ভাষ্যে, ‘আন্তরিকতা তো ছিলোই। তা না হলে ফেরার প্রসঙ্গই আসে না। আমি তো শুধু মানুষের আন্তরিকতা নিয়ে ভাবিনি কখনও। আন্তরিকতা খুঁজেছি গানের কথা, সুরে, সংগীতেও। এই গানটির মাধ্যমে আমি সেই অন্তরগুলোকে খুঁজে পেয়েছি। মন টেনেছে। গেয়েছি। উৎসাহ পেয়েছি। মন বলছে, আবারও গাইবো। ১৪ বছরের অনুপস্থিতি পুষিয়ে দেবো শ্রোতাদের। অপেক্ষা শুধু জোড়া শালিকের।’
জানা গেছে, পথিক নবীর ‘জোড়া শালিক’ তৈরি হচ্ছে আসছে ঈদের অন্যতম চমক হিসেবে। ভিডিও নির্মাণ করবেন বিকাশ সাহা। আসছে সপ্তাহে এর শুটিংয়ে অংশ নেবেন পথিক নিজেই।
কথায় কথায় পথিক জানান, গত ১৪ বছরে প্রায় ৩শ গান লিখেছেন ও সুর করেছেন তিনি। এরমধ্যে রেকর্ডও করেছেন বেশ কিছু। এবার পর্যায়ক্রমে সেগুলোই প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
১৪ বছর আগে প্রকাশিত শেষ গানটার কথা মনে আছে? ‘‘খুব মনে আছে। শওকাত ভাইয়ের সংগীতে ‘লাভ মি’ অ্যালবামে। ২০০৫ সালে প্রকাশ পেয়েছিল। গানটির কথা ও সুর ছিল আমার। কথাগুলো এমন- একবার এসেছো যখন সব দেখ মেলিয়া নয়ন, নয়নো মুদিলে নয়ন আর তো মেলবে না, চলে গেলে আর ভালোবাসা হবে না বন্ধু, চলে গেলে আর ফিরে আসা হবে না।’’ বললেন পথিক নবী।
সামনের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে এই সংগীতশিল্পীর ভাষ্য এমন, ‘শুরু যখন করেছি চলবে আবার ঝটিকা। নিজের ও অন্যদের ভালো গানগুলো মানুষের জন্য গাইতে চাই। জীবনের কী ভরসা?
আর যে ক’দিন আছি, প্রকাশ্যে গান নিয়েই থাকতে চাই। আর নয় অভিমান।’

Friday, August 2, 2019
আলোকচিত্রে জীবনের অভিন্ন গল্প
![]() |
| লন্ডনের নেহরু সেন্টারের প্রদর্শনীতে দিলীপ ব্যানার্জি |
নানা দেশের নানা প্রান্তের মানুষের এই ছুটে চলা জীবনের চিত্র দিয়েই সাজানো হয়েছে ‘দ্য সং অব দ্য রোড’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী। এতে স্বনামধন্য আলোকচিত্রী দিলীপ ব্যানার্জির তোলা ৬০টি স্থিরচিত্র স্থান পেয়েছে। গত ২০ থেকে ২৫ মে লন্ডনের নেহরু সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনী নানা জাতি-গোষ্ঠীর মানুষের বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
![]() |
| ছবিটি ২০১৬ সালে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে তোলা |
![]() |
| মাঝের ছবিতে খাঁচি মাথায় এক পরিশ্রান্ত কিশোর। ছবিটি ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম শহরে তোলা |
![]() |
| বিভিন্ন দেশে তোলা আলোকচিত্রগুলো মানবকুলের সদৃশতা জানান দিচ্ছে |
Tuesday, July 2, 2019
রাহাত ফতেহ আলী খান অক্সফোর্ডের ডক্টরেট অব মিউজিক
গত ২৬ জুন রাহাত ফতেহ আলী খানের সঙ্গে আরও সাত ব্যক্তি এই সম্মাননা অর্জন করেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মুসলিম সুফিদের ভক্তিমূলক গান ও কাওয়ালির কিংবদন্তি হিসেবেও অভিহিত করে পাকিস্তানের এই গায়ককে।
ভারতের একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাহাত বলেন, ‘আজকের দিনটি আমার ও আমার পরিবারের জন্য একটি বিশেষ দিন। একই সঙ্গে যে মানুষগুলো আমার পাশে থেকে আমাকে সহযোগিতা ও সমর্থন জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা।’
রাহাত ফতেহ আলী খান ওস্তাদ নুসরাত ফতেহ আলী খানের ভাতিজা এবং ওস্তাদ ফারুখ ফতেহ আলী খানের ছেলে। এ ছাড়া তিনি পুরাণখ্যাত কাওয়ালি শিল্পী ফতেহ আলী খানের নাতি। রাহাতকে তাঁর চাচা ওস্তাদ নুসরাত ফতেহ আলী খান কাওয়ালিসংগীতের ঐতিহ্যকে ধারণ করার লক্ষ্যে তৈরি করেন এবং মাত্র তিন বছর বয়স থেকে রাহাত তাঁর চাচা ও বাবার সঙ্গে গাওয়া শুরু করেন।
কাওয়ালি ছাড়াও রাহাত গজল গাইতেন এবং অন্যান্য মৃদু সংগীতেও তাঁর খ্যাতি রয়েছে। তিনি বলিউডের জনপ্রিয় একজন প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। রাহাত ফতেহ আলী খান পাকিস্তানের পাশাপাশি ভারতেও তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তাঁর পরিবার মুসলিম সুফিদের ভক্তিমূলক গান ও কাওয়ালিসংগীতে দক্ষিণ এশিয়ায় সুপরিচিত। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত অ্যালবামের সংখ্যা ৫০টির বেশি।
বলিউড চলচ্চিত্রশিল্পে একজন প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে রাহাতের অসামান্য অবদান রয়েছে। ‘পাপ’, ‘ওমকারা’, ‘ওম শান্তি ওম’, ‘লাভ আজকাল’, ‘মাই নেম ইজ খান’, ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন মুম্বাই’, ‘রেডি’, ‘বডিগার্ড’, ‘জান্নাত ২ ’, ‘হিরোইন’, ‘দাবাং’, ‘দাবাং ২ ’, ‘ফাটা পোস্টার নিকলা হিরো’সহ বলিউডের অসংখ্য ছবির গানে কণ্ঠ দিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন রাহাত। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
![]() |
| অক্সফোর্ড প্রাঙ্গণে সম্মাননাপত্র হাতে রাহাত ফতেহ আলী। ছবি: সংগৃহীত |
Friday, June 7, 2019
মাইকেল জ্যাকসনের সুনাম কি হুমকির মুখে?

এ সপ্তাহে প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে দেখানো হয়েছে যে, জেমস সেফচাক এবং ওয়েড রবসন নামের দুইজন ব্যক্তি দাবি করেছেন, শিশু থাকাকালে তাদের নির্যাতন করেছেন এই গায়ক।
যদিও মাইকেল জ্যাকসনের পরিবার ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে, কিন্তু এই অভিযোগ তার নামের ওপর বিশাল এক কালো ছায়া তৈরি করেছে।
দোষী অথবা নির্দোষ?
ওই তথ্যচিত্রে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে অনেককে বিব্রত এবং অস্বস্তিতে ফেলবে। ওই দুইজন ব্যক্তি মাইকেল জ্যাকসনের দ্বারা নির্যাতনের যে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন, তা অনেককেই হতবাক করে দিতে পারে।
তবে এই গায়ক দোষী নাকি নির্দোষ, তা নিয়ে সেলিব্রেটি এবং দর্শকদের মধ্যে বিভক্ত মতামত তৈরি হয়েছে। অনেকে বলছেন, ওই তথ্যচিত্রে মাইকেল জ্যাকসনকে একজন শিশু যৌন নির্যাতনকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
তবে অন্যরা এখনো তার পক্ষে রয়েছেন এবং মনে করেন যে, তিনি নির্দোষ।
তবে পিআর কোম্পানি রাইট অ্যাঙ্গেলসের প্রতিষ্ঠাতা পল ব্লানচার্ড মনে করেন, মাইকেল জ্যাকসনের উত্তরাধিকারের ওপর এর কি প্রভাব পড়বে, তা এখনি বলা কঠিন।
মাইকেল জ্যাকসনের পরিবার কী বলছে?
জ্যাকসনের ব্যাপারে এসব অভিযোগ শক্তভাবে নাকচ করে দিয়েছে তার পরিবার। তারা বলছে, এসব অভিযোগের উদ্দেশ্য হচ্ছে জ্যাকসনের সম্পত্তি থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়া।
তার ভাগ্নে তাজ জ্যাকসন বলেছেন, মাইকেল জ্যাকসন বেঁচে থাকলে এসব অভিযোগ শুনে কেঁদে ফেলতেন। তবে জ্যাকসনের মা এবং বোন এখনো এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি।
তার মেয়ে প্যারিস জ্যাকসন ওই তথ্যচিত্র প্রচারের পর থেকেই মিডিয়ার বাইরে রয়েছেন এবং এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে বৃহস্পতিবার একটি টুইট বার্তায় তিনি তার সমর্থকদের শান্ত থাকার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন,‘আমি নিজে যতটা না নিয়েছি, তার চেয়ে তোমরা আমার জীবনকে বেশি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছো।’
তিনি বলছেন,‘অবিচার এবং হতাশার বিষয়ে আমি জানি এবং কিন্তু ক্ষোভ বা রাগের বদলে শান্ত মনকে ধরে রাখা বেশি যুক্তি সঙ্গত....বরং মনকে কোমল করলেই বেশি ভালো লাগে।’
ওই তথ্যচিত্রটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রদর্শন করার এইচবিও-র বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেট।
তার গান কি আর কেউ শুনবে?
অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং কানাডাসহ বিশ্বের বেশ কিছু রেডিও স্টেশন মাইকেল জ্যাকসনের গান প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের রেডিও স্টেশনগুলো এখনো এ ধরণের পদক্ষেপ নেয়নি।
বিবিসি বলছে, তারাও ওই গায়ককে নিষিদ্ধ করেনি এবং তার গানগুলো বিবিসির অনুষ্ঠানে চলতে পারে।
তবে মাস্ট ওয়াচ বিবিসি পডকাস্টের উপস্থাপক স্কট ব্রায়ান বলেছেন, তথ্যচিত্রটি দেখার পর তিনি তার আইফোন থেকে মাইকেল জ্যাকসনের ১৫টি গান মুছে ফেলেছেন।
তিনি বলেন,‘কয়েকদিন পরে আমি একটি ক্যাফেতে বসে ল্যাপটপে কাজ করছিলাম আর তখন মাইকেল জ্যাকসনের একটি গান বাজতে শুরু করে। তখন আমি হেডফোন তুলে কানে লাগাতে বাধ্য হলাম, কারণ আমি কাজ মন দিতে পারছিলাম না। আমার খানিকটা অস্বস্তি লাগছিল।’
তবে রেডিও-১ শ্রোতা ক্রিস্টিন মনে করেন, মানুষ এখনো মাইকেল জ্যাকসনের গান শুনবে। তিনি বলেন,‘তিনি হচ্ছেন পপ সম্রাট। আমি এমনকি ভাবতেও পারিনা যে, কতজন গায়ক তাকে নিজের রোল মডেল হিসেবে নিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন,‘তার চমৎকার কিছু একক গান আর অ্যালবাম আছে। সুতরাং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে জানার সুযোগ দিতে হবে যে, তাদের অতীত গানগুলো কোথা থেকে এসেছে?’
মাইকেল জ্যাকসনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কি মুছে যাবে?
সিম্পসনের একটি পর্বে লিওন কম্পোওস্কির জন্য ১৯৯১ সালে কণ্ঠ দিয়েছিলেন মাইকেল জ্যাকসন। তবে ওই এপিসোডটি এখন সব স্ট্রিমিং সার্ভিস থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। সিম্পসনের নির্বাহী প্রযোজক জেমস এল ব্রুকস বলছেন, ''আমাদের সামনে এই একটি মাত্র পথই খোলা রয়েছে।''
ব্রিটেনের জাতীয় ফুটবল জাদুঘর থেকে মাইকেল জ্যাকসনের একটি ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তাজ জ্যাকসন নিউজবিটকে বলেছেন, অভিযোগগুলো ক্ষতিকর, তবে তার মামার নামডাকের ওপর সেটি দীর্ঘমেয়াদি কোন প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন না।
তবে জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্ডি ব্রার মনে করেন, এই তথ্যচিত্রের ফলে মাইকেল জ্যাকসনের ব্রান্ড ইমেজের ওপর দীর্ঘমেয়াদি একটি ছাপ থেকে যাবে। আর ইন্টারনেটের কারণে মাইকেল জ্যাকসনের নামের সঙ্গে এসব অভিযোগ সবসময়েই দেখা যাবে।
‘আমি তার গান শুনে শুনে বড় হয়েছি এবং আমার তিনটি ছোট সন্তান রয়েছে। কিন্তু এত কিছু জানার পরেও তাদের আমি জ্যাকসনের গান শুনতে দেবো কিনা,তা নিয়ে আমাকে আবার ভাবতে হবে। তবে আমি মনে করি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হয়তো তাকে ভুলেই যাবে অথবা তিনি হয়তো তিনি গুরুত্বহীন হয়ে যাবেন।’
Saturday, May 4, 2019
চীনা শিল্পীর স্কেচে খালেদার কারাজীবন



ব্যানার নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে দুর্নীতির দায়ে খালেদা জিয়া ১ বছর ধরে বন্দি।
তার কক্ষে কারও প্রবেশের অনুমতি নেই। ফলে সেখানকার অবস্থা সমপর্কে জানার সুযোগ কম। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি বন্দি হওয়ার পর থেকে কোনো সাংবাদিক বা ফটোগ্রাফার সেখানে তার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। ফলে ৭৩ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেমন কক্ষে রয়েছেন সে সমপর্কে সপষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। স্কেচগুলোর মধ্যদিয়ে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেছেন ওয়াং লিমিং।

এতে দেখা যায়, ২২৮ বছরের পুরনো কারাগারে আটক আছেন খালেদা জিয়া। সেখানে একটি ১০ঢ৮ ফুট কক্ষে অবস্থান করছেন তিনি। যাতে একটি টিভিও রয়েছে বিটিভি দেখার জন্য। একটি স্কেচে তাকে বাংলাদেশের একটা জাতীয় দৈনিক পড়তে দেখা যায়। ছবিতে আছে খালেদা জিয়ার জন্য ৬ঢ৬ ফুট বিছানা। এ ছাড়া দুটি চেয়ারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, খালেদা জিয়ার কক্ষে একটি বিড়াল ইঁদুর শিকার করেছে। গত বছর জুন মাসে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার কক্ষে বড় বড় ইঁদুর রয়েছে। তার ভিত্তিতেই এই কাল্পনিক চিত্রটি স্কেচে তুলে এনেছেন ওয়াং লিমিং। এ ছাড়া ব্যানার নিউজ কারাগারে খালেদা জিয়ার বিচারে আদালত স্থাপন এবং বর্তমানে তার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন থাকার তথ্যও উল্লেখ করা হয়।

Wednesday, April 18, 2018
পুলিৎজার বিজয়ী আলোকচিত্রীদের দলে প্রথম বাংলাদেশি

পনিরের তিনটি ছবির একটিতে ছিল ভেলায় চড়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের দৃশ্য। আরেকটিতে একজন মা তার সদ্যমৃত শিশু সন্তানকে চুমু দিচ্ছিলেন। অন্যটিতে ছিল ভারী বর্ষণের সময় শিশু ও বয়স্ক রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগের চিত্র।
পনির হোসেন বিবিসিকে বলেন, ছবিগুলো যখন তুলি তখন আমি আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলাম। কিন্তু হোটেলে ফিরে এডিট করতে গিয়ে ল্যাপটপে যখন ছবিগুলোকে দেখলাম তখন আর আমার পক্ষে আবেগ ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। তিনি বলেন, “মানুষের কষ্ট কতরকম এটা রোহিঙ্গা ইস্যু যদি কাভার না করতাম তাহলে সম্ভবত আমি বিষয়টা বুঝতাম না।”
পুলিৎজারকে বলা হয় সাংবাদিকদের অস্কার পুরস্কার। রয়টার্সের মোট সাতজন আলোকিত্রি রোহিঙ্গাদের নানা মুহুর্তের ছবির জন্য দলগতভাবে এই পুরস্কার পান। পনির হোসেন এই দলের অন্যতম সদস্য। এই প্রথম কোনও বাংলাদেশি হিসেবে তিনি সাংবাদিকদের জন্য বিশ্বের সবচাইতে সম্মানজনক পুলিৎজার পুরস্কার পেলেন।
২০১০ সাল থেকে পনির হোসেন ছবি তুলতেন শখের বসে। সেই শখই একদিন তার পেশা হয়ে দাঁড়ালো। শুরুতে তিনি ফ্রিল্যান্সার হিসেব কাজ করতেন। ২০১৫ সালে তিনি রয়টার্সে যোগদান করেন। তার ভাষায়- ‘মানুষ যখন কোন দুর্দশায় পরে বা কোন সংকট তৈরি হয় তখনই আমাদের মতো ফটোসাংবাদিকদের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়। যেমন রোগী না থাকলে ডাক্তারের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ নেই, আমাদের জন্যেও বিষয়টা একই রকম। রোহিঙ্গারা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দেশে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বাঁচার জন্য তারা রোদে পুড়ে, পানিতে ভিজে লম্বা পথ পাড়ি দিয়েছে এসেছেন। তারা জানেন না সামনে কি আছে, তারা কোথায় যাচ্ছেন, কি খাবেন বা কোথায় থাকবেন। কতটা কষ্টে পড়লে মানুষ এমন অনিশ্চিত যাত্রার উদ্দেশ্য রওয়ানা দেন সেই বিষয়টি তাকে খুব নাড়া দিয়েছে। এই ছবিগুলো তুলতে গিয়ে আমি নিজে যতই কাদার মধ্যে হাটি, রোদে পুড়ি বা পানিতে সাতার কাটি, দিন শেষে যখন একটা ভালো ছবি হয় তখন আর সেই ক্লান্তির কথা মনে থাকে না।
রয়টার্সের হাতে পুলিৎজার পুরস্কার তুলে দেয়ার মূহুর্তে সশরীরে উপস্থিত থাকার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তিনি বলেন, সাংবাদিকতায় পুলিৎজারের মতো সম্মানের কিছু নেই। পুরস্কারপ্রাপ্ত টিমের সঙ্গে নাম থাকাটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।
উল্লেখ্য, সাংবাদিকতা জগতে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। ১৯১৭ সালে এই পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। বর্তমানে মোট ১৪টি ক্যাটাগরিতে সাংবাদিকদের পুরস্কৃত করে পুলিৎজার কমিটি।
Sunday, April 15, 2018
বৈশাখে ব্যস্ত ছিলেন যারা... by মো. নজরুল ইসলাম

মো. মতিউর রহমান, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ): সাটুরিয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ছাঁচ তৈরির শিল্পীরা। ডিসেম্বর মাস থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত বিভিন্ন মেলায় এ সাজ চাহিদা বেশি হওয়ায় রাতদিন কাজ করছে পরিবারের ছোট-বড় সবাই। বালিয়াটি ইউনিয়নের ভাটারা গ্রামে ৯ পরিবারের বণিক সদস্যরা পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ছাঁচ তৈরিতে এ ব্যস্ত সময় পার করছে।
শুক্রবার ভাটারা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ননী গোপাল বণিক গুড়ের বাতাসা তৈরি করছেন। সঙ্গে জোগান দিচ্ছেন স্ত্রী আলো রানী বণিক। চুলার মধ্যে আখের গুড় জাল করে একটি ছিদ্র পাত্র দিয়ে ঢেলে বড় বড় বাতাসা ছাঁচ তৈরি করছেন। এ বাতাসা বিন্নি দিয়ে খেতে খুবই মজা বলে জানান। প্রায় ৪০ বছর ধরে এ পেশায় জড়িত তিনি। ননী বণিক আরো জানান, খাঁটি আখের গুড় ছাড়া এ ছাঁচ বানানো যায় না। রাজশাহী থেকে ১ মণ খাঁটি গুড় কিনতে ২ হাজার ৭০০ টাকা লাগে। আর এক মণ গুড় দিয়ে ৩৫-৩৬ কেজি বাতাসা তৈরি হয়। মণে ১০০ টাকা লাভ করে বিভিন্ন জায়গায় পাইকারি বিক্রি মূল্যে ২৮ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। তবে এলাকার হাট-বাজারে আখের গুড়ে চিনি মেশানো থাকায় এ গুড় দিয়ে সাজ তৈরি করা যায় না বলে জানান তিনি।
বাসুদেব বণিক তিনি চিনি দিয়ে তৈরি করছেন মুকুট, হাতি, ঘোড়া, মাছ, নৌকা, পাখি ও লিচুসহ বিভিন্ন সাজ। চিনি জাল করে কাঠের ফ্রেমে ঢেলে দিয়ে ৫ মিনিট পর তৈরি হচ্ছে এসব সাঁচ। সে জানায়, এক মণ চিনিতে ১ মণ ছাঁচ হয়। এতে ২ হাজার ৭০০ টাকা খরচ হয়। ১০০ টাকা লাভে পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয় ২৮ টাকা দরে। এসব ছাঁচ মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মধুপুর সখিপুর, গাজীপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় পহেলা বৈশাখ চাহিদা থাকে। প্রতিদিন গড়ে এক মণ ছাঁচ তৈরি করা যায়। সে বাপ-দাদার আগের কাজ এখনো ধরে রেখেছেন বলে জানান। এ পেশা ছাড়া অন্য কোনো পেশা নেই তার। পরিবারের সাত সদস্য নিয়ে এ সাঁচের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।
কথা হয়, শ্যামল বণিকের সঙ্গে। তিনি জানান, স্বাধীনতার আগে ও পরে এই ভাটারা গ্রামে ৭৮২ পরিবার বণিক ছিল। তারা সবাই ওই সময় তাঁতের কাজ করতেন। বেশির ভাগ বণিক ভারতে চলে যাওয়ায় এখন মাত্র ৯টি পরিবার ছাঁচের পেশা ধরে রেখেছেন। বিশেষ করে বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে বেশি ছাঁচ বিক্রি হয়ে থাকে। বছরের চার মাস পুরোদমে সাঁচের অর্ডার পাই। বাকি মাসগুলো বসে বসে খেতে হয়।
দেবেশ বণিক, নীলকান্ত বণিক, গোবিন্দ বণিক ও কমল বণিক জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমাদের এ ছাঁচ দেশের বাইরে রপ্তানি করা যেতে পারে। গ্যাসের ব্যবস্থা থাকলে এ ছাঁচ তৈরি করতে খরচ কম হতো। আমরা বিভিন্ন এনজিও থেকে টাকা নিয়ে এ সাঁচের ব্যবসা করে থাকি।
এ বিষয়ে বালিয়াটি ইউপি চেয়ারম্যান মো. রহুল আমীন বলেন, বাংলার কৃষ্টি কালচার এই বণিকরাই ধরে রেখেছেন। তারা বিভিন্ন মেলায় তাদের হাতের তৈরী ছাঁচ দিয়ে মেলাকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। তাদের পৃষ্টপোষকতা করা গেলে আরো উন্নতি করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন।
মৃৎশিল্পীরা
জাবেদ ইকবাল, রংপুর ও রেজাউল করিম পান্না, বদরগঞ্জ: আর কয়েকদিন পরেই পহেলা বৈশাখ। বৈশাখী মেলায় পুতুল, বাসন, হাড়িপাতিলসহ নানা তৈজসপত্রের পসরা সাজাতে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা। আর এ সামগ্রী তৈরি করতে আগে থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছে কুমোর মাটি। এসব সামগ্রী তৈরি করে রোদে শুকিয়ে খড় দিয়ে ভাটায় পোড়ানো হচ্ছে। অনেকে আবার পোড়ানোর পর তৈরি পণ্যগুলোতে নিপুণ হাতে রংতুলি দিয়ে রঙ করছেন। এমনিই চিত্র দেখা গেছে রংপুরের কয়েকটি পালপাড়ায়। রোববার রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর পালপাড়ায় ঘুরে দেখা গেছে, পাল সম্প্রদায়ে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার বংশ পরম্পরায় এ কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তারা সামনে বৈশাখী মেলায় মাটির তৈরি সামগ্রী তৈরি করতে বাড়ির সামনে মাটির স্তূপ করে রেখেছেন। ওই মাটি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ফুলদানি, ফুলের টব, হাড়িপাতিল, বাঘ, সিংহ, ব্যাঙ, বিভিন্ন সবজি, কলসসহ শিশুদের বিভিন্ন খেলনা সামগ্রী। এসব সামগ্রী রোদে শুকানোর পর খড় দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে। পোড়ানোর পর রংতুলির আঁচড়ে রাঙ্গিয়ে তোলা হচ্ছে ওইসব সামগ্রী। সেখানে কথা হয় মৃৎশিল্পী রম্বিকা পাল ও জীবন কুমার পালের সঙ্গে। তারা বলেন, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন সামগ্রী বাজারে আসায় এ শিল্পের কদর আগের মতো নেই। এ পরও অনেকে বাপ-দাদার এ পেশাকে আকড়ে ধরে রেখেছে। তারা আরো বলেন, কয়েকদিন পরেই পহেলা বৈশাখ। বৈশাখী মেলায় এসব মাটির পণ্যের চাহিদা অনেক বেশি থাকে। এ কারণে বছরের এ সময় আমাদের দিনরাত পরিশ্রম করতে হয়। একই কথা বলেন, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার চওড়াবাজার পালপাড়া গ্রামের মৃৎশিল্পী সুখদেব চন্দ্র পাল ও পুতুল চন্দ্র পাল।
মাটির তৈরি এসব সামগ্রী বিক্রেতা হানিফুল ইসলাম বলেন, আগের দিনে এসব জিনিসপত্রের অনেক চাহিদা ছিল। এখন এসব জিনিসপত্র মানুষ আর কিনতে চায় না। সবাই শুধু প্লাস্টিকসহ আধুনিক জিনিস চায়। এ কারণে এ পেশা ছেড়ে দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
ক্রেতা আবুল হোসেন জানান, এক সময় মাটির তৈরি এসব পণ্য সংসারের অনেক কাজে লাগতো। কিন্তু প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন আধুনিক জিনিসপত্র বের হওয়ায় এখন আর এসব পণ্যের চাহিদা নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুর বিভাগে এক সময়ে পাল সম্প্রদায়ের লোকজন তৈজস জিনিসপত্র তৈরি করে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা অর্চনা, বিভিন্ন মেলা, বারুনী ও হাট বাজারে বিক্রি করতো। কিন্তু প্লাস্টিকসহ আধুনিক বিভিন্ন সামগ্রী বাজারে আসায় এ শিল্প এখন মৃত প্রায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃৎশিল্পীদের প্রশিক্ষণ ও সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হবে। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে এ শিল্প একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ধনবাড়ীতে নিজেদের মাটির তৈরি জিনিসপত্রের পসরা সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। মেলার চাহিদা মেটাতে পৌর শহরের সেনবাড়ী পালপাড়া গ্রামের মৃৎশিল্পীরা তাদের মাটির তৈরি জিনিসপত্র দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করতে পরিবারের সবাই দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। তারা মনের মাধুরী মিশিয়ে বিভিন্ন মাটির তৈরি খেলনার আকৃতি দিচ্ছেন।
সরজমিন পালপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, মৃৎশিল্পীরা মাটি দিয়ে বিভিন্ন প্রকারের হাড়ি-পাতিল, কেউবা বিভিন্ন পশু-পাখিসহ বিভিন্ন প্রাণীর আকৃতি তৈরিতে ব্যস্ত, কেউবা তুলি নিয়ে মনের মাধুরী দিয়ে রং দিচ্ছে। অনেকেই আবার কাঁচা মাটির খেলনাগুলো রোদে শুকাচ্ছে।
কথা হয় ধনবাড়ী উপজেলার মৃৎশিল্পী তুলসী পাল, উজ্জল পাল, নির্মল পাল, বাসনা পাল, অর্চনা পাল, রেখা পাল, বাণী পাল ও সন্ধ্যা রানী পালের সঙ্গে। তারা জানান- মাটির তৈরি এসব জিনিসপত্র ডিজাইন করা, রং করা, রোদে শুকানো, আগুনে পোড়ানোসহ বিভিন্ন কাজ করতে হচ্ছে।
পালপাড়ার গোবিন্দ পাল জানান- আমরা এ বছর হরিণ, গরু, ঘোড়া, হাতি, খরগোশ, উটপাখি, হাঁস, বক, টিয়া, গন্ডারসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাণীর আকৃতি তৈরি করেছি। আমাদের উৎপাদিত মাটির পণ্যগুলো বিভিন্ন মার্কেটে সরববাহ করা হবে। একই এলাকার বয়োবৃদ্ধ সুমতি রানী পাল বলেন- আমরা এ বছর সোনালী রংয়ের পাতিল, ঢোল, মগ, কারি বল, জগ, লবণ বাটি, শালকি (বসনা), তরকারির বাটি তৈরি করেছি। এ ছাড়াও তৈরি করা হয়েছে মাটির সাধারণ ফুলের টব। আধুনিক নানা ধরনের খেলনাও। রাসায়নিক কোনো পদার্থ ছাড়াই তৈরি করা হয় মাটির এসব পণ্য। পণ্যের রং করা হয় প্রাকৃতিক উপায়ে। আর এসব রং সংগ্রহ করা হয় নানা ধরনের গাছের কষ থেকে। যাতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না।
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
-
▼
2026
(1756)
-
▼
August
(303)
-
▼
Aug 27
(10)
- দৈনন্দিন খাবারে সিসার ঝুঁকি থেকে কীভাবে মুক্ত হবেন...
- ফিলিস্তিনে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ইউএনআরডব্লিউএ
- ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় ‘বোর্ড অব পিস’ ব্যর্থ ...
- ইয়েমেনের আল-মাখা বন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের মিশনে ব্যর্থ রণতরী আব্রাহ...
- ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু ‘মুছে ফেলতে’ চায় ইসরাইল ...
- ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া শান্তি আসবে না: জা...
- ভারতে হিজাব পরায় বাধা, ক্ষুব্ধ ওয়াইসি বললেন ‘এটি ই...
- ব্রিটেনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র গড়ছেন না মুসলিমরা—এটি ...
- পুরুষের সমস্যা ভেরিকোসিল কেন হয়, চিকিৎসা কী? by অধ...
-
▼
Aug 27
(10)
-
▼
August
(303)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


















