Tuesday, March 8, 2016

স্যান্ডার্স-রুবিওর বিশাল জয়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী বাছাইয়ে মেইনে অঙ্গরাজ্যের দলীয় ককাসে হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করেছেন বার্নি স্যান্ডার্স। অন্যদিকে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন দৌড়ে পুয়ের্তো রিকো অঙ্গরাজ্যের দলীয় প্রাইমারিতে বিতর্কিত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারিয়ে সহজ জয় পেয়েছেন আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী মার্কো রুবিও।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই যতই এগিয়ে আসছে ততই যেন নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করছেন ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান দলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা। একের পর এক দলীয় ককাস আর প্রাইমারি শেষে নিজেদের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে মনোনয়ন দৌড়ে লড়াই জমিয়ে তুলছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। রোববার অনুষ্ঠিত ভোটের ফলাফল পাওয়া যায় বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে। এতে দেখা যায়, মেইনে অঙ্গরাজ্যের দলীয় ককাসে হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করেন বার্নি স্যান্ডার্স। প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোট পেয়ে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারিকে পরাজিত করেন ভারমন্টের প্রবীণ এই সিনেটর। অন্যদিকে পুয়ের্তো রিকো অঙ্গরাজ্যের দলীয় প্রাইমারিতে রিপাবলিকান দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী বিতর্কিত-সমালোচিত ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরাজিত করেছেন মার্কো রুবিও। প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়ে সহজ জয় পান তিনি। মার্কো রুবিও বলেন, ‘এটা ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত একটি প্রাইমারি। শুধু রিপাবলিকানরা নয়,
যে কেউই এখানে ভোট দিতে পেরেছেন। আমি এখানে জয়লাভ করেছি কারণ আমি আমার দলের রক্ষণশীল নীতিকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি, যে নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আমি বড় হয়েছি- এখানকার মানুষ আজ তা গ্রহণ করেছে।’ গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং টেড ক্রুজ রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে দুই ব্যক্তির লড়াইয়ে পরিণত করলেও পুয়োর্তো রিকোসহ দুটি প্রাইমারিতে জয়ের ফলে নিজেকে বেশ ভালোভাবেই প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে এনেছেন ৪৪ বছর বয়সী মার্কো রুবিও। আজ মঙ্গলবার ডেমোক্রেটের দুটি ও রিপাবলিকানের চারটি অঙ্গরাজ্যে ভোট গ্রহণ হবে। মনোনয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মিশিগান এবং মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারিকে সামনে রেখে রোববার ডেট্রয়েটে তিনটি আফ্রিকান আমেরিকান গির্জা পরিদর্শন করেন ডেমোক্রেট দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটন। হিলারি বলেন, ‘মঙ্গলবারের (আজ) প্রাইমারিতে আমি আপনাদের সহায়তা চাই। অতীতে নানা ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করে মিশিগান সবসময়ই দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে। এবার মঞ্চ প্রস্তুত। মিশিগান এবং মিসিসিপি ছাড়াও, আজ হাওয়াই এবং আইডাহো অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাইমারি অনুষ্ঠিত হবে।

মেহেরপুরে গমে হুইট ব্লাস্ট রোগ

গমে মহামারী আকারে দেখা দেয়া রোগ প্রতিরোধে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর অবশেষে প্রতিকার পেতে নাটিভো নামের ওষুধ প্রয়োগের জন্য মাইকিং ও প্রচারপত্র বিলি শুরু করেছে। কৃষকরা বলছেন, অনেক আগে থেকেই তারা নাটিভো প্রয়োগ করছেন। কিন্তু সুফল পাননি। ফলে কৃষিনির্ভর মেহেরপুর জেলায় উৎপাদিত গম জেলার চাহিদা পূরণ করতে পারবে না। অথচ প্রতিবছর জেলায় উৎপাদিত গম জাতীয় খাদ্যভাণ্ডারে অবদান রেখে আসছে।
খাদ্য হিসেবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শস্য গম নিয়ে কৃষক ও গবেষকরা ভয়াবহ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এই দুশ্চিন্তার নাম ‘হুইট ব্লাস্ট’। এটি গমের একটি ছত্রাকজনিত রোগ। গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, সঠিক সময়ে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে গমের ফলনের ওপর পড়তে পারে মারাত্মক প্রভাব। দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে। এবারই প্রথম দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে এই রোগটি মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে। মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর গমের হুইট ব্লাস্ট রোগ দমনে করণীয় হিসেবে প্রচারপত্র বিলি করছে। কিন্তু কৃষকরা নিয়ম মেনেও প্রতিরোধে ব্যর্থ হচ্ছেন। কৃষি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ রোগের কারণে গমের উৎপাদন মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে যাবে। এ রোগটিকে তারা বলছেন ছত্রাকজনিত হুইট ব্লাস্ট। মেহেরপুরের বিভিন্ন গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে- মাঠের পর মাঠজুড়ে এবার গমের আবাদ করা হয়েছে।

টি ২০ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলাই বাংলাদেশের লক্ষ্য

ট্রফিটা উঁচু করে ধরলে হয়তো ক্লান্তি খানিকটা দূর হতো। টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজার ধারণা এমনটাই। রোববার হারের কষ্ট নিয়ে হোটেলে ফিরে ঘুমাতে ঘুমাতে প্রায় ভোররাত। এরপর আবার সকাল ৮টায় বিমানবন্দরে খেলোয়াড়দের রিপোর্টিং । ঠিকমতো ঘুমাতে না পারায় ক্লান্তি ভর করে। এরই মাঝে ধর্মশালার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে বাংলাদেশ দল। টি ২০ বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে মাশরাফি ভালো খেলার প্রত্যয় জানিয়ে গেলেন। তবে সেখানে বাছাইপর্বের বাধা পেরোনোটা যে প্রাথমিক দায়িত্ব সেটি মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। ধর্মশালার অনভ্যস্ত পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য তেমন সময় পাবেন না তারা। একদিন মাত্র অনুশীলন করেই মাঠে নামতে হবে বাংলাদেশকে। আগামীকাল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি ২০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ১১ মার্চ আয়ারল্যান্ড এবং শেষ ম্যাচে ১৩ মার্চ ওমানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বাছাইপর্বের সব ম্যাচ হবে ধর্মশালায়। বাছাইয়ে নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান পেলেই বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার সুযোগ মিলবে। সেখানে অপেক্ষা করবে ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো প্রতিপক্ষ। সোমবার সকাল ১০টায় ভারতের উদ্দেশে জেট এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে দিল্লিতে উড়াল দেন টাইগাররা।
সেখান থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভাড়া করা বিশেষ বিমানে ধর্মশালা পৌঁছান তারা। রোববার এশিয়া কাপের ট্রফি হাতে না উঠলেও ফাইনালে ওঠায় আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বাংলাদেশ দলের। এশিয়া কাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স বিশ্বকাপে ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘টি ২০তে আমরা তেমন ধারাবাহিক ছিলাম না। কিন্তু সম্প্রতি দুটি বড় ম্যাচ জিতে আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। আমাদের লক্ষ্য বিশ্বকাপে ভালো খেলা। প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠা।’ আগের রাতে বিশ্বকাপের পরিকল্পনা নিয়ে টাইগার অধিনায়ক বলেন, ‘ছেলেরা ফাইনালে খেলেছে। বেশ ভালো পারফর্ম করেছে। আশা করছি, এ পারফরম্যান্স আমরা বিশ্বকাপেও ধরে রাখতে পারব। আমাদের সেখানেও ভালো খেলতে হবে। এখানে বাড়তি কিছু চিন্তা করে ওখানে খেলতে পারব না। একদিন পরই আমাদের বিশ্বকাপ নিয়ে আমাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে।’ টি ২০ ক্রিকেট বাংলাদেশের কাছে আগে কঠিন মনে হতো। এই ফরম্যাট নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করব সবাইকে মোটিভেট করতে। কেউ প্রত্যাশা করেনি যে, আমরা এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলব। এটা আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। আমাদের এ পরাজয় ভুলে যাওয়া উচিত। কারণ আমরা র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বর দলের কাছে হেরেছি। আমাদের সামনে যে খেলা আছে সেগুলোতে মনোযোগ দেয়া উচিত।’ এবারের টি ২০ বিশ্বকাপে আটটি দল সরাসরি খেলবে মূলপর্বে। বাছাইপর্ব থেকে আসবে দুটি দল। ১০টি দল নিয়ে টি ২০ বিশ্বকাপের মূলপর্ব শুরু হবে ১৫ মার্চ, ফাইনাল ৩ এপ্রিল।

আবারও সম্রাটের পরিচালনায় রাজ্জাক

নিজের দুই ছেলে বাপ্পারাজ ও সম্রাটের পরিচালনার বাইরে কোনো নাটক কিংবা চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন না নায়করাজ রাজ্জাক। গেল মাসে তার জন্মদিন উপলক্ষে প্রচারিত সম্রাটের পরিচালনায় ‘দায়ভার’ নামে একটি টেলিফিল্মে অভিনয়ের মাধ্যমে অসুস্থতার পর ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আবারও সম্রাটের পরিচালনায় কাজ করছেন তিনি। এবারের টেলিফিল্মের নাম ‘চেয়ারম্যানের চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র’। এতে অবসরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের চরিত্রে অভিনয় করছেন নায়করাজ। ৬ মার্চ থেকে রাজধানীর অদূরে পুবাইলে একটি শুটিং হাউসে টেলিফিল্মটির শুটিং শুরু হয়েছে।
টেলিফিল্মটিতে বর্তমান চেয়ারম্যানের চরিত্রে অভিনয় করছেন খালিদ হোসেন সম্রাট। গল্পে দেখা যাবে, বর্তমান চেয়ারম্যান বিয়ে করতে চান না। কিন্তু তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাকে জোর করে বিয়ে দেবেনই। এ প্রসঙ্গে রাজ্জাক বলেন, ‘টেলিফিল্মের গল্প আমাকে দারুণ মুগ্ধ করেছে। তাই এতে কাজ করছি। সম্রাটতো নির্দেশনায় এখন বেশ দক্ষ হয়ে উঠেছে। তার কাজ এখন বেশ প্রশংসিতও হচ্ছে।’ সম্রাট বলেন, ‘আব্বা নিজেই টেলিফিল্মটিতে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাই তাকে নিয়েই কাজটি করছি। সবমিলিয়ে দারুণ একটি টেলিফিল্ম হয়েছে। আশা করি দর্শক মজা পাবেন।’ টেলিফিল্মটি শিগগিরই চ্যানেল আইতে প্রচার হবে বলে নির্মাতা জানান।

মুখোমুখি হতে চান ট্রাম্প ও ক্রুজ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির দুই শীর্ষ মনোনয়ন-প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও টেড ক্রুজ দলের অন্য প্রার্থীদের সরে গিয়ে তাঁদের দুজনের মুখোমুখি লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন। শনিবার অনুষ্ঠিত প্রাইমারি বা বাছাইপর্বের কথিত ‘সুপার স্যাটারডের’ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ট্রাম্প ও ক্রুজ উভয়েই দুটি করে অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছেন। এর ফল প্রকাশের পরই এ দুই মনোনয়ন-প্রত্যাশী দুজনের সরাসরি লড়াইয়ের কথা বলেন। শনিবার রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীরা মোট পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে ভোটের সম্মুখীন হন। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স দুটি ও হিলারি ক্লিনটন একটি রাজ্যে জয়লাভ করেছেন। এই নির্বাচনী ফলাফলে স্যান্ডার্স নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে নতুন রসদ সংগ্রহ করলেও ডেলিগেটের হিসাবে হিলারি ক্রমে তাঁর ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছেন। কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের ককাস ও লুইজিয়ানায় প্রাইমারিতে জেতার পর ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমি টেড ক্রুজের সঙ্গে একক ভিত্তিতে মুখোমুখি লড়তে চাই।’ টেড ক্রুজও মত দেন, মার্কো রুবিও ও জন কেইসিকের মতো প্রার্থীদের এখন সরে যাওয়া উচিত। ডেলিগেটের সংখ্যার হিসাবে পিছিয়ে থাকলেও ক্রুজ দাবি করেছেন, সমর্থনের জোয়ার এখন তাঁর পক্ষে। কোনো সন্দেহ নেই, কানসাস ও মেইন অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত শনিবারের ককাসে টেড ক্রুজের বিজয় তাঁকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রিপাবলিকান নেতৃত্ব কোনো রাখঢাক ছাড়াই তাঁদের সব শক্তি ও অর্থ নিয়োগ করেছিলেন ফ্লোরিডার সিনেটর মার্কো রুবিওর পেছনে। কিন্তু রুবিও শনিবারের প্রতিটি নির্বাচনেই বড়জোর তৃতীয় স্থান দখল করতে সক্ষম হন। তাঁর চেয়েও খারাপ ফল করেছেন ওহাইওর গভর্নর জন কেইসিক, যিনি এই চার রাজ্যেই নামমাত্র ভোট পেয়েছেন।
মোট ডেলিগেটের হিসাবে এই চারজনের সর্বশেষ অবস্থান হচ্ছে ট্রাম্প ৩৭৫, ক্রুজ ২৯১, রুবিও ১২৩ ও কেইসিক ৩৪। নির্বাচনের ফল প্রকাশ হওয়ামাত্রই ক্রুজ নিজেকে রিপাবলিকান পার্টির ‘হিলারিকে হারাতে সক্ষম’ এমন একমাত্র প্রার্থী হিসেবে দাবি করে দলের সমর্থকদের তাঁর নেতৃত্বে ট্রাম্পের প্রার্থিতার বিরুদ্ধে এক হতে আহ্বান জানান। রিপাবলিকান নেতৃত্ব গত কয়েক দিন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রবল সমালোচনার ঝড় তোলা সত্ত্বেও লুইজিয়ানা ও কেন্টাকিতে তাঁর বিজয় প্রমাণ করে প্রতিষ্ঠানবিরোধী রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখনো অটুট। এই দুই রাজ্যে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, দলের শীর্ষ কিছু নেতা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আহ্বান করে বরং তাঁদের ক্রোধের কারণ হয়েছেন। লক্ষণীয়, যে দুটি রাজ্যে ক্রুজ জিতেছেন এবং ট্রাম্প হেরেছেন, সেখানে আনুষ্ঠানিক প্রাইমারি ভোট গ্রহণের বদলে অনেক সীমিত লোকের অংশগ্রহণে ‘ককাস’ অনুষ্ঠিত হয়। ক্রুজ গোড়া থেকেই এই দুই রাজ্যে ব্যাপক প্রচার অভিযান চালান ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অর্থ ব্যয় করেন। অন্যদিকে ট্রাম্প ককাসে অংশ নেওয়ার বদলে লুইজিয়ানা প্রাইমারিতে অধিক ডেলিগেট সংগ্রহ সম্ভব, এই বিবেচনা থেকে সেখানে সময় ও অর্থ ব্যয় করেন। এই দুই রাজ্যে শুধু রিপাবলিকান ছাড়া অন্য দলভুক্ত বা নির্দলীয় ভোটাররা অংশ নিতে পারেন। ট্রাম্পের বিজয়ের পেছনে সে বিষয়টিও বিশেষ ভূমিকা রাখে। ডেমোক্রেটিক পার্টিতেও বার্নি স্যান্ডার্স তাঁর সব শক্তি নিয়োগ করেন নেব্রাস্কা ও কানসাস অঙ্গরাজ্যের ককাসে। এই দুটি অঙ্গরাজ্যই শ্বেতাঙ্গপ্রধান। অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গ সমর্থকদের জোরে হিলারি ক্লিনটন অনায়াসে লুইজিয়ানায় বড় ধরনের বিজয় অর্জন করেন। এই ফলাফল থেকে আবারও প্রমাণিত হলো যে কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে নিজের সমর্থন বাড়াতে সক্ষম না হলে অবশিষ্ট নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বার্নি স্যান্ডার্স অর্থপূর্ণ লড়াই চালিয়ে যেতে পারবেন না।

‘বৃহত্তম’ মহড়ার প্রস্তুতি দ. কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের ‘এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড়’ যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে। কোরিয়া উপদ্বীপে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে দুই মিত্র দেশ এ উদ্যোগ নিল। খবর বিবিসির। কোরীয় বার্তা সংস্থা ইওনহাপ একজন সামরিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার অন্তত তিন লাখ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ হাজার সেনা অংশ নেবে। উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘ নতুন করে কঠোর অবরোধ আরোপ করার কয়েক দিন পরই এ মহড়া শুরু হতে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হান মিন-কু বলেন, এবারের মহড়ার আকার হবে গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। মহড়া আজ সোমবার শুরু হয়ে চলবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। বলা হয়েছে, ‘উসকানিমূলক কার্যক্রমের’ জন্য উত্তর কোরিয়াকে সতর্ক করে দেওয়াই এ মহড়ার উদ্দেশ্য। কমিউনিস্ট উত্তর কোরিয়া গত জানুয়ারিতে একটি পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় এবং তারপর একটি রকেট উৎক্ষেপণ করে। এরপর ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়ে যায়।
জাতিসংঘের অবরোধের জবাবে উত্তর কোরিয়া বলেছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার এবং সাগরে স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে পারমাণবিক লড়াইয়ে জড়ানোর সামর্থ্য সত্যিই উত্তর কোরিয়ার আছে কি না, তা নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকেরা সন্দেহ প্রকাশ করেন। উত্তর কোরিয়া প্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণের বার্ষিক এ যৌথ সামরিক মহড়াকে তাদের ওপর আক্রমণের প্রস্তুতি হিসেবেই গণ্য করে। কোরীয় উপদ্বীপে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা স্থাপনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে। উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া ও চীন এ উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া শিগগিরই নতুন অবরোধ ঘোষণা করবে: প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া শিগগিরই নতুন এবং আগের চেয়ে আরও কঠিন কিছু অবরোধ আরোপ করবে। সিউলের একজন সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চলতি সপ্তাহেই এ ব্যাপারে ঘোষণা দেওয়া হবে।

বাবরি মসজিদে প্রথম আঘাতকারী ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণ : নেপথ্য কথা by মো: শরিফুর রহমান

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম জায়গা হচ্ছে আল্লাহর ঘর মসজিদ । কিন্তু ওই ঘর যদি কেউ ভেঙে দেয় তা হবে খুবই নিকৃষ্ট কাজ। বলছিলাম ভারতের অযোধ্যায় অবস্থিত বাবরি মসজিদের কথা। এই মসজিদ ভাঙতে প্রথম আঘাত করেছিলেন যে ব্যক্তি তার নাম বলবির সিং
কিন্তু মহান আল্লাহ’র অশেষ রহমতে সেই বলবির সিং আজ নওমুসলিম মুহাম্মদ আমের। যে ব্যক্তি একদিন মসজিদ ভেঙে দিয়েছিলে তিনিই এখন পথে পথে ঘুরে আল্লাহ’র ঘর পুনর্নির্মাণ ও নতুন মসজিদ নির্মাণ করছেন। কিন্তু কিভাবে তার এই বদলে যাওয়া, আসুন জেনে নেই।
মুহাম্মদ আমের : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
আহমদ আওয়াহ : ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রশ্ন : প্রথমে আপনার পরিচয় দিন।
উত্তর : জন্মসূত্রে আমার নাম বলবির সিং । ১৯৭০ সালের ৬ ডিসেম্বর হরিয়ানা প্রদেশের পানিপথ জেলার এক রাজপুত পরিবারে আমার জন্ম। আমার বাবা ছিলেন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন। যেকোনো ধরণের জুলুম-নিপীড়নের বিরোধী ছিলেন তিনি। ১৯৪৭ সালে দেশ-বিভাগের সময় হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তিনি দেখেছিলেন। সে সময়কার ব্যপক মুসলিম হত্যাকে দেশের জন্য বড় ধরনের কলঙ্ক মনে করতেন তিনি। অবশিষ্ট মুসলমানদেরকে পুনর্বাসনের ব্যাপারে তিনি খুবই সাহায্য করেছেন। তিনি তাঁর বিদ্যালয়ের মুসলমান ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার ব্যাপারে বিশেষ খেয়াল রাখতেন।
গ্রামের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে আমি পানিপথে গিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হই। মুম্বাইয়ের পর পানিপথ ছিল শিবসেনার সবচেয়ে মজবুত কেন্দ্র। বিশেষ করে যুবক শ্রেণী ও স্কুলের লোকেরা শিবসেনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। অনেক শিবসেনার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে এবং আমিও পানিপথ শাখায় আমার নাম লেখাই।
পানিপথের ইতিহাস তুলে ধরে সেখানকার যুবকদের মধ্যে মুসলিম সম্রাটদের বিরুদ্ধে বিরাট ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ান হতো। আমার বাবা যখন জানতে পারলেন যে, আমি শিবসেনায় নাম লিখিয়েছি তখন তিনি আমাকে ইতিহাসের সূত্র ধরে বোঝাতে চেষ্টা করলেন। সম্রাট বাবর বিশেষ করে সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে ন্যায় ও ইনসাফ এবং অমুসলিমদের সঙ্গে করা তার আচরণের কাহিনী তিনি আমাকে শোনান এবং আমাকে বলতে চেষ্টা করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সময়কার জুলুম-নিপীড়ন, হত্যা ও ধ্বংসাত্মক ঘটনাবলী শুনিয়ে আমাকে শিবসেনার যাবতীয় কর্মকান্ড থেকে ফিরিয়ে রাখতে চেষ্টা করেন। কিন্তু আমার বাবার সেসব চেষ্টা বিফলে যায়। আমার উপলব্ধিতে কোনো কিছুই ধরা পড়েনি।
প্রশ্ন : ফুলাত থাকাকালে বাবরি মসজিদ ভাঙার ক্ষেত্রে আপনার অংশগ্রহণের কথা শুনিয়েছিলেন। এবার একটু বিস্তারিতভাবে সে সম্পর্কে আমাদেরকে বলুন।
উত্তর : ঘটনাটি এ রকম, ৯০ সালে লালকৃঞ্চ আদভানির রথযাত্রায় আমাকে পানিপথের কর্মসূচী সফল করার ক্ষেত্রে বিশেষ দায়িত্ব দেয়া হয়। রথযাত্রায় দায়িত্বশীল নেতারা আমাদের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষের আগুন জ্বালিয়ে দেন। আমি শিবজীর নামে শপথ গ্রহণ করি যে, যাই কিছু ঘটুক না কেন আর কেউ কিছু করুক আর নাই করুক, আমি একাই গিয়ে রাম মন্দিরের ওপর থেকে জুলুম করে চাপিয়ে দেয়া (মসজিদের রূপে) অবকাঠামো ভেঙে গুঁড়িয়ি দেবই। এ যাত্রায় আমার কর্মতৎপরতার ফলে আমাকে শিবসেনার যুব শাখার সহ-সভাপতিনির্বাচিত করা হয়। আমি আমার যুব টিম নিয়ে ৩০ অক্টোবর অযোধ্যায় গিয়ে পৌঁছি। বহু চেষ্টা করেও আমি বাবরি মসজিদের কাছে পৌঁছতে পারলাম না। এর ফলে আমার শরীরে ঘৃণা ও বিদ্বষের আগুন আরো জ্বলে ওঠে।
আমি আমার সাথীদেরকে বারবার বলছিলাম এরকম জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো। রামের জন্মভূমিতে আরবদের কারণে রামভক্তদের ওপর গুলি চলবে, এ কেমন অন্যায় ও জুলুম! আমার খুব রাগ হচ্ছিল। আমি রাগে ক্ষোভে ফুসছিলাম।কখনো মনে হচ্ছিল যে, আমি নিজেকেই শেষ করে দেই। আমি আত্মহত্যা করি। সারা দেশে ব্যাপক দাঙ্গা-হাঙ্গামা চলছিল। আমি সেদিনের জন্য খুবই অস্থির ছিলাম যেন আমার সুযোগ মিলে যায় আর আমি নিজ হাতে বাবরি মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেই। এভাবে একদিন দু’দিন করে সেই অপেক্ষার দিনটিও কাছে এসে পড়ল, যে দিনটাকে আমি সে সময় খুশির দিন ভাবতাম। আমি আমার কিছু আবেগ-দীপ্ত সাথীকে নিয়ে ৯২ সালের ১ ডিসেম্বর প্রথমে অযোধ্যায় যাই। আমার সাথীদের মধ্যে যোগীন্দর পাল নামে এক যুবক ছিলেন। তার বাড়ি সোনীপথের নিকটবর্তী জাটদের গ্রামে। সে ছিল আমার খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তার বাবা ছিলেন একজন বিরাট জমিদার। জমিদার হলেও তিনি মানুষকে খ্বু ভালবাসতেন। তিনি তার একমাত্র ছেলেকে অযোধ্যায় যেতে বাধা দেন। তার বড় চাচাও তাকে ফেরাতে চেষ্টা করেন। কিন্তু সে কোনো বাধা মানেনি।
আমরা ৬ ডিসেম্বর আগের রাত্রে বাবরি মসজিদের একবারে কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছি এবং মসজিদের সামনে কিছু মুসলমানদের বাড়ির ছাদে রাত কাটাই। আমার বারবার মনে হত, না জানি আমাদেরকে ৩০ অক্টোবরের মত আজও এই ‘শুভ’ কাজ থেকে বঞ্চিত হতে হয়! কয়েকবারই মনে হয়েছে, নেতা না জানি কী করেন, আমাদরে নিজেদের গিয়েই কর সেবা শুরু করা উচিত। কিন্তু আমাদের নেতা আমাদেরকে বাধা দিলেন এবং শৃংখলার সঙ্গে থাকতে বললেন। আমি তার ভাষণ শুনতে শুনতে ঘরের ছাদ থেকে নেমে এলাম এবং কোদাল হাতে বাবরি মসজিদ ভাঙতে অগ্রসর হলাম।
আমার মনের বাসনা পূরণের সময় এলো। আমি মাঝের গম্বুজটির ওপর কোদাল দিয়ে আঘাত করলাম এবং ভগবান রামের নামে জোরে জোরে ধ্বনি দিলাম। দেখতে না দেখতেই মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে গেল। মসজিদ ভেঙে পড়ার আগেই আমরা নিচে নেমে পড়ি। আমরা খুবই আনন্দিত ছিলাম। রাম লীলা লাগানোর পর তার সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে আমারা আমাদের বাড়ি-ঘরে ফিরে এলাম। সাথে করে নিয়ে এলাম মসজিদের দু’টুকরো করে ইট, যা আমরা খুশিমনে আমাদের পানিপথের সাথীদের দেখালাম। তারা আমাদের পিঠ চাপড়ে আমাদের কৃতিত্বে আনন্দ প্রকাশ করল। শিবসেনার অফিসেও দুটি করে ইট রেখে দেয়া হয়। এরপর এক বিরাট সভা হয় এবং সকলেই তাদের বক্তৃতায় অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে আমার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে। আমি আমার বাড়ি গিয়েও অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গ একথা বলে ছিলাম।
আমার বাবা খুব অসন্তুষ্ট হন। এ ব্যাপারে তার গভীর দুঃখের কথা জানিয়ে আমাকে পরিষ্কার বলে দেন, এখন এই ঘরে আমি আর তুমি দু’জনে এক সঙ্গে থাকতে পারি না। তুমি থাকলে আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাব, নইলে তুমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে। মালিকের ঘর যে ভেঙেছে আমি তার মুখ দেখতে চাই না। আমার মৃত্যু পর্যন্ত তুমি তোমার মুখ কখনো আমাকে দেখাবে না। আমি ধারণাও করতে পারিনি এমনটা ঘটবে। আমি তাকে বোঝাতে চেষ্টা করলাম। তিনি আমাকে এও বলেন যে, এ ধরণের জালিমদের কারণে এদেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। অবশেষে রাগে-ক্ষোভে তিনি বাড়ি ছেড়ে যেতে উদ্যত হলেন। আমি ব্যাপারটা আঁচ করতে পেরে বললাম, আপনি বাড়ি ছেড়ে যাবেন না। আমি নিজেই আর এ বাড়িতে থাকতে চাই না, যেখানে একজন রাম মন্দির ভক্তকে জালিম মনে করা হয়। এরপর আমি বাড়ি ছেড়ে চলে আসি এবং পানিপথে থাকতে শুরু করি।
প্রশ্ন : আপনি আপনার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে কিছু বলুন?
উত্তর : প্রিয় ভাই আহমদ! আমার আল্লাহ কত মেহেরবান ও দয়ালু। তিনি চাননি আমি জুলুম ও শিরকের অন্ধকারে হাবুডুবু খাই। যিনি আমাকে ইসলামের নূর ও হেদায়েত দ্বারা ধন্য করেছেন। আমার মত জালিম যে কিনা তার পবিত্র ঘরকে ভেঙেছে সে-ই তাকে হেদায়েত দানে ধন্য করেছেন।
ঘটনা ছিল, আমার বন্ধু যোগিন্দর বাবরি মসজিদের কিছু ইট এনে রেখেছিল এবং মাইক দিয়ে ঘোষনা দেয় যে, ইটগুলো রামমন্দিরের ওপর নির্মিত অবকাঠামোর। সৌভাগ্যক্রমে তা আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। সমস্ত হিন্দু ভাই যেন এর ওপর পেশাব করে। আর কী! ঘোষণা হতেই ভিড় লেগে গেল।
এবার মসজিদের যিনি মালিক তার ক্ষমতা প্রদর্শনের পালা। চার-পাঁচ দিন পর যোগিন্দরের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটে। সে পাগল হয়ে যায়, সম্পূর্ণ উলঙ্গ থাকতে শুরু করে। পরনে আদৌ কাপড় রাখত না। সম্মানিত জমিদার চৌধুরীর একমাত্র ছেলে ছিল সে। তার বাবা এতে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েন। ছেলের সুচিকিৎসার জন্য সাধু-সন্ন্যাসী ও আলিম-ওলামা দেখান। বার বার মহান মালিকের কাছে মাফ চাইতে থাকেন। দান খয়রাত করতে থাকেন। কিন্তু তার অবস্থার উন্নতি না হয়ে বরং খারাপই হতে থাকে। একদিন তিনি বাইরে যেতেই সে তার মাকে জড়িয়ে ধরে। মা চিৎকার করতে শুরু করলে মহল্লাবাসী ছুটে এসে তাকে রক্ষা করে। এরপর থেকে তাকে শেকলে বেধে রাখা হয়। যোগীন্দরের বাবা ছিলেন খুবই সম্মানিত লোক। তিনি এই ঘটনা শুনে ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। এমন সময় কেউ তাকে বলে যে, এখানে সোনিপথে ঈদগাহের পাশে একটি মাদরাসা আছে। ওখানে একজন বড় মাওলানা সাহেব এসে থাকেন। একবার গিয়ে তার সঙ্গে আপনি দেখা করুন। এরপর যদি কিছু না হয় তখন যা হয় করবেন।
তিনি সোনীপথে যান। গিয়ে জানতে পারেন, মাওলানা সাহেব মাসের এক তারিখে আসেন। বিগত পরশু এসে পরদিন চলে গেছেন।
মাদ্রাসার ইমাম সাহেব তাকে বলেন যে, অবস্থা খারাপ হবার দরুণ ৬ ডিসেম্বরের আগে হরিয়ানার বহু ইমাম এখান থেকে উত্তর প্রদেশে চলে গিয়েছিলেন এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ এক মাস পর্যন্ত ফিরে আসেননি। এ জন্য মাওলানা সাহেব ১ তারিখে এ বিষয়ে বক্তৃতা করেন এবং বক্তৃতায় বিরাট জোর দিয়ে একথা বলেন যে, মুসলমানরা এসব অমুসলিম ভাইকে যদি ইসলামের দাওয়াত দিতেন তাহলে এ ধরনের দুর্ঘটনার জন্ম হতো না। তিনি বলেন যে, বাবরি মসজিদ ভাঙার জিম্মাদার একদিক থেকে আমারা মুসলমানরাও। আর এখনও যদি আমাদের হুঁশ হয় এবং আমরা যদি দাওয়াতের হক আদায় করতে থাকি তাহলে এই মসজিদ যারা ভেঙেছে, তারা মসজিদ নির্মাতা হতে পারে। হতে পারে তারাই মসজিদের খাদেম।
মাদ্রাসার ইমাম সাহেব যোগীন্দরের বাবাকে বলেন, আমি ঝাড়-ফুঁক করতাম। কিন্তু আমাদের হযরত মাওলানা আমাকে একাজ করা থেকে থামিয়ে দিয়েছেন। কেননা একাজে অনেক সময় মিথ্যা বলতে এবং মহিলাদের সঙ্গে মেলামেশা করতে হয়। আর আপনার ছেলের ওপর তো কোনো জাদু কিংবা জিন-ভুতের আছরও নেই বরং এ তো সেই মালিকের আযাবের ফল। আপনার জন্য একটি সুযোগ আছে। মাওলানা সাহেব আগামী পরশু বুধবার দুপুরে এখানে আসছেন। আপনি তখন তার সঙ্গে দেখা করুন এবং আপনার কথা তাকে বলুন। আপনার ছেলে আশা করি ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু আপনাকে একটি কাজ করতে হবে আর তা হলো, আপনার ছেলে যদি ভালো হয়ে যায় তবে আপনাকে মুসলমান হতে হবে। চৌধুরী সাহেব বললেন, আমার ছেলে ভালো হয়ে গেলে আমি সবকিছু করার জন্য তৈরি আছি।
বুধবার সকালে যোগীন্দরের বাবা ছেলেকে নিয়ে সেই মাদ্রাসায় গিয়ে মাওলানা সাহেবের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। দুপুর বেলা যোহরের আগেই মাওলানা সাহেবের আগমন ঘটে। শেকলে বাধা যোগিন্দর সম্পূর্ণ দিগম্বর অবস্থায় দাঁড়ানো। চৌধুরী সাহেব কাঁদতে কাঁদতে মাওলানা সাহেবের পায়ে ওপর পড়ে যান এবং বলতে থাকেন, মাওলানা সাহেব! আমি এই আহম্মকটাকে খুবই ঠেকাতে চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে পানিপথের এক কুচক্রীর চক্রান্তে পড়ে। মাওলানা সাহেব! আমার ওপর দয়া করুন। আমাকে মার্জনা করে দিন। আমার ঘর বাঁচান। মাওলানা সাহেব কঠোর ভাষায় তাকা মাথা তুলতে বলেন এবং পুরো ঘটনা শোনেন।
তিনি চৌধুরী সাহেবকে বলেন যে, সমগ্র জগত সংসার নিয়ন্ত্রণকারী সর্বশক্তিমান আল্লাহর ঘর মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে তারা এত বড় পাপ করেছে এবং এত বড় জুলুম করেছে যে, যদি তিনি গোটা বিশ্বচরাচর ধ্বংস করে দেন তাহলে তা যথার্থ হবে। এতো বরং কমই হয়েছে যে, এই পাপের বোঝা কেবল একাকী তার ওপর পড়েছে। আমরাও সেই সর্বশক্তিমান মালিকের বান্দা এবং এক দিক থেকে এই বিরাট পাপের অংশীদার আমরাও। আর তা এই দিক দিয়ে যে, আমরা তাদেরকে বোঝাবার হক আদায় করিনি যারা বাবরি মসজিদ ভেঙেছে। এখন আমাদের আয়ত্বে আর কিছুই নেই। আমরা কেবল এতটুকু করতে পারি যে. আপনি সেই মালিকের সামনে কাঁদেন এবং তার কাছে ক্ষমা চান। আর আমরাও ক্ষমা চাই।
এরপর মাওলানা সাহেব বললেন, মসজিদের অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত আপনি মালিকের কাছে অন্তর দিয়ে মাফ চান। প্রার্থনা করতে থাকুন যে, মালিক! আমার বিপদ কেবল আপনিই দূর করতে পারেন, আর কেউ দূর করতে পারে না।
মাওলানা সাহেব মসজিদে গেলেন। নামায পড়লেন। অল্প সময়ের জন্য উপস্থিত লোকদের সামনে বক্তৃতাও দিলেন এবং দোয় করলেন। মাওলানা সাহেব সকলকেই যোগিন্দর ও তার বাবার জন্য দোয়া করতে বললেন। অনুষ্ঠান শেষ হবার পর মসজিদে নাশতা হল। নাশতা থেকে মুক্ত হবার পর মসজিদ থেকে বরে হতেই আল্লাহর কী মেহেরবানি দেখুন, যোগীন্দর তার বাবার মাথা থেকে পাগড়ি টেনে নিয়ে তার উলঙ্গ শরীর ঢাকল এবং দিব্যি সুস্থ মানুষের মতো তার বাবার সাথে কথা বলতে লাগল। সকলেই এ দৃশ্য দেখে আনন্দিত হলেন।
মাদ্রাসার ইমাম সাহেব যোগীন্দরের বাবাকে তার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন এবং বললেন, যেই মালিক তাকে ভালো করে দিয়েছেন, আপনি যদি ওয়াদা মাফিক মুসলমান না হও তাহলে সে আবার এর চেয়েও মারাত্মক পাগল হতে পারে।
এরপর যোগীন্দরের বাবাকে মসজিদে নিয়ে যাওয়া হতেই যোগিন্দর জিজ্ঞেস করল, বাবা! আপনি, কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বললেন, মুসলমান হতে। তখন যোগিন্দর বলল, আমাকে তো আপনার আগে মুসলমান হতে হবে এবং আমাকে বাবরি মসজিদ পূর্ণবার অবশ্যই নির্মাণ করতে হবে। তারপর তারা উভয়ে খুশি মনে ওযু করলেন। তাদেরকে কলেমা পড়ানো হল। বাবার নাম মুহাম্মদ উসমান এবং ছেলের নাম মুহাম্মদ ওমর রাখা হল। এরপর তারা খুবই খুশি হয়ে নিজেদের গ্রামে ফিরে গেলেন। গ্রামে একটি ছোট মসজিদ ছিল। তারা মসজিদের ইমাম সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করলেন। ইমাম সাহেব স্থানীয় মুসলমানদেরকে তাদের বাপ বেটার মুসলমান হবার কথা জানিয়ে দিলেন। ফলে একজন দু’জনের কান থেকে গোটা এলাকায় একথা ছড়িয়ে পড়ল। হিন্দুদের কান পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ফলে এলাকার প্রভাবশালী হিন্দুদের এ নিয়ে মিটিং হয় এবং সিদ্ধান্ত হয় যে, তাদের দু’জনকেই রাতের বেলা মেরে ফেলতে হবে। অন্যথায় তাঁরা অনেক লোকের ধর্ম নষ্ট করে দেবে। তাদের এই মিটিংয়ে একজন ধর্মত্যাগী উপস্থিত ছিল। সে ইমাম সাহেবকে গোপনে তাদের চক্রান্তের কথা জানিয়ে দেয়। ফলে আল্লাহর মেহেরবানিতে রাতের অন্ধকারে তাদেরকে গ্রাম থেকে বের করে দেয়া হয়। তারা ফুলাত গিয়ে পৌঁছেন। পরে তাদেরকে ৪০ দিনের জন্য তাবলিগ জামায়াতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর আমীর সাহেবের পরামর্শে যোগীন্দর (ওমর) তিন চিল্লাও দেয়। পরে যোগীন্দরের মা-ও মুসলমান হয়ে যায়।
এরপর মুহাম্মদ ওমরের (যোগিন্দর) বিয়ে হয় দিল্লীর এক ভালো মুসলিম পরিবারে। এখন তারা বেশ আনন্দের সঙ্গেই দিল্লিতে সপরিবারে বসবাস করছেন। গ্রামের জায়গা-জমি, ঘর-বাড়ি সব বিক্রি করে তারা দিল্লীতে একটি কারখানা দিয়েছেন।
প্রশ্ন : মাস্টার সাহেব! আমি আপনাকে আপনার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলাম। আমি জানতে চেয়েছিলাম আপনি কিভাবে মুসলমান হলেন? আপনি যোগীন্দরের ও তার পরিবারের (মুসলমান হবার) কাহিনী শোনালেন। যদিও তা খুবই চমকপ্রদ ও বিস্ময়কর, কিন্তু আমি তো আপনার ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাই, কিভাবে আপনি ইসলাম গ্রহণ করলেন সে সম্পর্কে।
উত্তর : প্রিয় ভাইটি আমার! আসলে আমার ইসলাম গ্রহণের কাহিনী এর থেকে আলাদা করা সম্ভব নয়। এজন্য আমি এর প্রথম অংশ শোনালাম। এখন দ্বিতীয় অংশ শুনুন।
১৯৯৩ সালের ৯ মার্চ আমার বাবা হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বাবরি মসজিদ ভেঙে দেয়া এবং তাতে আমার অংশ গ্রহণ তাকে খুবই আঘাত দিয়েছিল। তিনি প্রায়ই আমার মাকে বলতেন, মালিক আমাকে মুসলমানদের মধ্যে জন্ম দিলেন না কেন? আমি যদি মুসলমানদের ঘরে জন্ম নিতাম তাহলে অন্তত জুলুম-নিপীড়ন সহ্যকারীদের তালিকায় আমার নাম থাকত। তিনি আমার পরিবারের সদস্যদের বলে গিয়েছিলেন, আমি মারা গেলে আমার লাশের কাছে যেন বলবীর না আসে, প্রথা ও রেওয়াজ মাফিক আগুনে যেন পোড়ানো না হয়। হিন্দুদের শ্মশানে যেন না নেয়া হয়। পরিবারের লোকেরা তার অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ি সব কিছু করে। আট দিন পর আমি আমার বাবার মৃত্যু সংবাদ পাই। এত আমার মন ভেঙে যায়। তার মৃত্যুর পর বাবরি মসজিদ ভাঙা আমার কাছে জুলুম মনে হতে থাকে এবং গর্বের বদলে আফসোস হতে থাকে। আমার অন্তর যেন হঠাৎ দ্প কের নিভে যায়। আমি বাড়ি গেলে মা আমার বাবার কথা স্মরণ করে কাঁদতে থাকেন এবং বলতে থাকেন এমন একজন ভালো মানুষকে তুই কষ্ট দিয়ে মেরে ফেললি! তুই কতটা নিচ ও হীন জাতের মানুষ। মায়ের এ ধরনের আচারণের কারণে আমি বাড়ি যাওয়া বন্ধ করে দেই।
জুন মাসে মুহাম্মদ ওমর (যোগিন্দর) তাবলিগ জামায়াত থেকে ফিরে এলো। সে পানিপথে আমার সঙ্গে দেখা করল এবং তার পুরো ঘটনা আমাকে বলল। বিগত দু’মাস থেকে আমার মন সব সময় ভীত-সন্ত্রস্ত থাকত, না জানি কোনো আসমানি বালা-মুসবিত আমার ওপর এসে পড়ে। বাবার দুঃখ ও মনোকষ্ট এবং বাবরি মসজিদ ভাঙার দরুন আমার মন সব সময় খারাপ থাকত। মুহাম্মদ ওমরের কথা শুনে আমি আরও বেশি চিন্তিত হয়ে পড়লাম।
ওমর ভাই আমাকে বললেন, আমি যেন ২৩ জুন সোনিপথে মাওলানা সাহেবের সাথে গিয়ে অবশ্যই দেখা করি। আরো ভালো হয় যদি তার সঙ্গে আমি কিছু দিন থাকি। আমি প্রোগ্রাম বানালাম। কিন্তু পৌঁছতে আমার কিছুটা দেরি হয়। ওমর ভাই আমার আগেই পৌঁছে গিয়েছিল এবং মাওলানা সাহেবকে আমার অবস্থা সম্পর্কে সব বলেছিল। আমি সেখানে গেলে মাওলানা সাহেব আমাকে কাছে টেনে নিলেন এবং বললেন, যোগিন্দরের সঙ্গে সর্বময় মালিক যা করেছেন আপনার সঙ্গেও একই রূপ ব্যবহার করা হতে পারে। আর মালিক যদি এই জগতে শাস্তি নাও দেন তাহলে মৃত্যুর পর চিরস্থায়ী জীবনে যেই শাস্তি মিলবে আপনি তা কল্পনাও করতে পারবেন না।
এক ঘন্টা মাওলানা সাহেবের সাথে থাকার পর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আসমানি বালার হাত থেকে বাঁচতে হলে আমাকে অবশ্যই মুসলমান হতে হবে । মাওলানা সাহেব দু’দিনের জন্য বাইরে কোনো সফরে যাচ্ছিলেন। আমি তার সাথে যেতে চাইলাম। তিনি খুব খুশি হয়েই অনুমতি দিলেন।
একদিন হরিয়ানা, এরপর দিল্লী ও খোর্জার সফর ছিল। দু’দিন পর তিনি ফুলাত ফিরে এলেন। এ দু’দিন আমার মন ইসলাম গ্রহণের জন্য তৈরি হয়ে গিয়েছিল। আমি ওমর ভাইকে আমার ইচ্ছার কথা বললাম। সে খুব খুশি হয়ে মাওলানা সাহেবকে তা জানাল। আলহামদুলিল্লাহ! ২৫ জুন ১৯৯৩ যোহর নামাযের পর আমি ইসলাম কবুল করি। মাওলানা সাহেব আমার নাম রাখেন মুহাম্মদ আমের। ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা এবং নামাযের নিয়ম-কানুন ও দরকারি মাসলা-মাসায়েল শেখার জন্য তিনি আমাকে কিছুদিন ফুলাত থাকার পরামর্শ দিলেন। আমি আমার স্ত্রী ও ছোট বাচ্চাদের সমস্যার কথা বললে তিনি বাড়ির ব্যবস্থা করে দিলেন। আমি কয়েক মাস ফুলাত এসে থাকলাম এবং আমার স্ত্রীর ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে কাজ করতে থাকি। তিন মাস পর আলহামদুলিল্লাহ! আমার স্ত্রীও মুসলমান হয়ে যায়।
প্রশ্ন : আপনার মা’র কী হলো?
উত্তর : আমি আমার মাকে মুসলমান হবার ব্যাপারে জানালে তিনি খুব খুশি হন এবং বলেন, তোর বাপের আত্মা এতে শান্তি পাবে। আমার মাও ঐ বছরেই মুসলমান হন।
প্রশ্ন : এখন আপনি কি করছেন?
উত্তর : বর্তমানে আমি একটি জুনিয়র হাইস্কুল চালাচ্ছি। স্কুলে ইসলামী শিক্ষার সাথে সাথে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষারও ব্যবস্থা আছে।
প্রশ্ন : আব্বা বলছিলেন, আপনি হরিয়ানা, পাঞ্জাবসহ বিভিন্না জায়গায় বন্ধ হয়ে যাওয়া মসজিদগুলো পুনরায় চালু করার জন্য চেষ্টা করছেন?
উত্তর : ওমর ভাইয়ের সাথে মিলে আমরা ঠিক করেছি আল্লাহর ঘর ভেঙে আমরা যে বিরাট গুনাহ করেছি তার কাফ্ফারা হিসাবে আমরা বন্ধ হয়ে যাওয়া মসজিদগুলো চালু করব এবং নতুন নতুন মসজিদ বানাব। আমরা দু’জনে মিলে আরো সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা নিজেদের মধ্যে কাজ ভাগ করে নিব। আমি বন্ধ মসজিদগুলো চালু করব আর ওমর ভাই নতুন নতুন মসজিদ বানাতে চেষ্টা চালাবেন। এ ব্যাপারে মসজিদ বানাবার ও সেগুলো লোকে ভরপুর করাবার কর্মসূচি হাতে নিলাম। আলহামদুলিল্লাহ! এ পর্যন্ত আমি হরিয়ানা, পাঞ্জাব, দিল্লি ও মিরাট সেনানিবাস এলাকায় ১৩টি বন্ধ হয়ে যাওয়া মসজিদ পুনরায় চালু করেছি। ওমর ভাই আমার চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। আজ পর্যন্ত সে ২০টি মসজিদ তৈরি করেছে এবং একুশতম মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেছে। আমরা উভয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাবরি মসজিদ ভাঙার বার্ষিকীতে ৬ ডিসেম্বর তারিখে একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া মসজিদে অবশ্যই নামায শুরু করাতে হবে। আলহামদুলিল্লাহ! আমরা আজ পর্যন্ত কোন বছরেই এটা করতে ব্যর্থ হইনি। অবশ্য শ’য়ের লক্ষ্য পূরণ এখনও অনেক দূরে। আশা করছি এবছর এর সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাবে। আটটি মসজিদ সম্পর্কে কথাবর্তা চলছে। আশা করি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সেগুলো চালু হয়ে যাবে। ওমর ভাই অনেক আগেই তো লক্ষ্য অর্জনে আমার চেয়ে এগিয়ে আছে। আর আসলে আমার কাজও তো তারই ভাগে পড়ে। আমাকে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে আসার মাধ্যম তো মূলত সেই।
প্রশ্ন : পাঠকদের জন্য আপনি কি কিছু বলবেন?
উত্তর : সকল মুসলমানের কাছে আমার একটিই নিবেদন আর তা হলো, নিজের জীবনের লক্ষ্য কী তা জেনে এবং ইসলামকে মানবতার আমানত মনে করে একে মানুষের কাছে পৌঁছে দিই, পৌঁছে দেবার কথা ভাবি। কেবল ইসলামের প্রতি দুশমনীর কারণে তার থেকে বদলা নেবার প্রতিশোধ গ্রহণে উৎসাহিত না হই। আহমদ ভাই! আমি একথা একেবারে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বাবরী মসজিদ ভাঙায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিবসেনা, বজরং দলের সদস্যসহ সকল হিন্দু যদি এটা জানত যে, ইসলাম কী! মুসলমান কাকে বলে? কুরআনুল করিম কী? মসজিদ আসলে কোনো বস্তুর নাম, তাহলে তাদের সবাই মসজিদ নির্মাণের কথা ভাবতে পারত, মসজিদ ভাঙার প্রশ্নই উঠতো না। আমি আমার প্রবল প্রত্যয় থেকে বলছি, বাল থ্যাকার, উইরে কুঠিয়ার যদি ইসলামের প্রকৃত সত্য ও মর্মবাণী জানতে পারে এবং জানতে পারে যে, ইসলাম (কেবল মুসলমানদের নয়) সবার ধর্ম, এটি আমাদের দরকার তাহলে তাদের প্রত্যেকেই নিজ খরচে বাবরী মসজিদ পূণর্বার নির্মাণ করাকে নিজেদের সৌভাগ্য ভাববে।
আহমদ ভাই! সে যাকগে, কিছু লোক তো এমন আছে যারা মুসলমানদের প্রতি শত্রুতায় বিখ্যাত, কিন্তু এখন এক শ' কোটি হিন্দুর মধ্যে এমন এক লাখও হবে না। সত্য কথা বলতে কী, আমি বোধহয় বাড়িয়ে বলছি, ৯৯ কোটি ৯৯ লাখ লোক তো আমার বাবার মতো, যারা মানবতার বন্ধু এবং ইসলামী রীতিনীতি অন্তর দিয়েই পছন্দ করে। আহমদ ভাই! আমার বাবা (কাঁদতে কাঁদতে) কী স্বভাবগতভাবে মুসলমান ছিলেন না? কিন্তু মুসলমানরা তাকে দাওয়াত না দেবার কারণে তিনি কুফরি অবস্থায় মারা গেছেন।
মাওলানা সাহেব সত্য বলেছেন, আমরা যারা বাবরি মসজিদ ভেঙেছি তারা না জানার কারনে এবং মুসলমানদের না চেনার কারণে এমন জুলুম করেছি। আমরা অজানা ও অজ্ঞতার দরুণ ও ধরনের জুলুম করেছি। আমার পিতার কুফরি অবস্থায় মারা যাবার কথা যখন রাত্রে মনে হয় তখন আমার ঘুম পালিয়ে যায়। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ঘুম আসে না। ঘুমের জন্য আমাকে ওষুধ খেতে হয়। হায়! মুসলমানদের যদি এই ব্যাথার অনুভূতি হতো! আল্লাহ হাফেজ।
সূত্র : মাসিক আরমুগান পত্রিকা

যুগ্ম সচিবের বাসায় কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের পরিচালক যুগ্ম সচিব মো. আহসান হাবিবের ছেলে রুম্মান বিন আহসানের বিরুদ্ধে কিশোরী গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগ উঠেছে। নিহত গৃহপরিচারিকার নাম জনিয়া বেগম (১৩)। গত রোববার সকালে মিরপুর ১৩-এর ন্যাম গার্ডেন সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টার্সের ৩ নম্বর ভবনের সামনে থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় কাফরুল থানা পুলিশ দুদিন ধরে মামলা না নেয়ার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। গতকাল সোমবার মিরপুরের বেগম রোকেয়া সরণির কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ডের সামনে, কাফরুল থানা ও ওই কোয়ার্টার্সের সামনে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্বজন ও স্থানীয়রা। গতকাল সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বেগম রোকেয়া সরণিতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এ সময় দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। পরে পুলিশ দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। তবে ধর্ষণের পর খুনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আহসান হাবিব, তার স্ত্রী নাজনীন আক্তার ও বড় ছেলে রুম্মান বিন আহসান।
নিহত জনিয়ার মা ফুলবানু মানবজমিনকে বলেন, আমি ৬ মাস ধরে ওই বাসায় কাজ করে আসছিলাম। গত বিশ-পঁচিশ দিন ধরে অসুস্থ। এর মধ্যে ওই বাসার কর্তার স্ত্রী (নাজনীন আক্তার) আমাকে বলেন তোমার মেয়েকে পাঠাতে পারবে কিনা। তখন আমি মেয়েকে বলি, তোমার তো কাজ নেই। তুমি যেতে পারবে? এতে মেয়ে রাজি হয়। এরপর এক সপ্তাহ ধরে সে ওই বাসায় কাজ করতে যাচ্ছে। ষষ্ঠদিন এ ঘটনা ঘটলো। ওই দিন সকালে সে আটটার পর বাসা থেকে ওই বাসার উদ্দেশ্যে যায়। সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ফোন করে ওই বাসায় যেতে বলে। গিয়ে দেখি আমার মেয়ের লাশ।
তিনি আরও বলেন, আমিও আটটা থেকে নয়টার মধ্যে ওই বাসায় যেতাম। এর আগেই বাসার মালিক অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যেত। মা আর ছেলে থাকতো। ওই ছেলেই আমার মেয়েকে ধর্ষণের পর খুন করেছে। মেয়ের শরীরেও এর চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ওই এলাকায় ৬৫ বছর বয়সের রিকশাচালক মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আলিম মানবজমিনকে বলেন, উদ্ধার করে কাফরুল থানায় নিয়ে যাওয়ার পর আমিসহ বেশ কয়েকজন মেয়েটির লাশ দেখেছি। তার বুক, গলায় নখের বেশ কিছু আঁচড়ের দাগ ছিল। যৌনাঙ্গ ভেজা দেখা গেছে। তাকে ধর্ষণের পর খুনের বিষয়টি স্পষ্ট। কিন্তু প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করায় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ করেছে।
ন্যাম গার্ডেন সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টার্সের ৩নং ভবনের চতুর্থ তলার ৪০৩নং ফ্ল্যাটে থাকেন আহসান হাবিব, তার স্ত্রী নাজনীন আক্তার ও বড় ছেলের পরিবার। প্রায় সময় সকাল আটটার মধ্যে আহসান হাবিব অফিসে চলে যান। বাসায় থাকেন তার স্ত্রী নাজনীন ও বড় ছেলে রুম্মান। তবে শুক্র ও শনিবার আহসান হাবিবও বাসায় থাকেন। অন্যান্য দিন বেশিরভাগ সময় আহসান হাবিব বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরই ফুলবানু কাজে আসতো বলে জানিয়েছে সে। গত এক সপ্তাহ ধরে মায়ের সময়েই কাজে আসছিল নিহত জানিয়া বেগম। গত রোববার সকাল আটটার পর জানিয়া পাশের ইব্রাহিমপুরের নিজ বাসা থেকে কাজের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বলে জানান ফুলবানু। তবে ভিন্নকথা বলেন আহসান হাবিব ও তার পরিবার।
আহসান হাবিব বলেন, ফুলবানুর অসুস্থতার পর তার মেয়ে জানিয়া ছয় দিন নয়, আসে চার দিন। গত বৃহস্পতিবার তার মাধ্যমে ফুলবানুকে ডেকে তার পাওনা ২ হাজার ৪০০ টাকা দিয়ে তাকে বিদায় করে দিই। আসতে বলি পুরনো কাজের বুয়াকে। গত শুক্র ও শনিবার ফুলবানু বা তার মেয়ে বাসায়ও আসেনি। কিন্তু তাদেরকে কাজে বুয়া দেখতে বলা না হলেও গত রোববার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে জানিয়া অপর এক মহিলাকে নিয়ে বাসায় এসে কলিং বেল দেয়। পেছনে কিছুটা দূরে ছিল দারোয়ান ছিদ্দিক। তাদেরকে আমি বাসায় না ঢুকিয়ে দরজায় দাঁড়িয়েই কথা বলি। ওই মহিলাকে নয়, বাসার পুরাতন বুয়াকে কাজ দেয়ার জন্য আসতে বলা হয়েছে জানিয়ে তাদের বিদায় করি। এর প্রায় ২০ মিনিট পর জানতে ও দেখতে পাই ওই মেয়ের পড়া লাশ।
তার ছেলে রুম্মান বলেন, মেয়েটির লাশ পাওয়া যাওয়ার পর পুলিশ ১০ তলা ভবনের ছাদের ওপর একজোড়া সেন্ডেল পেয়েছে। সে হয়তো লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে অথবা তাকে ফেলে দেয়া হয়েছে। তবে আমি তাকে ধর্ষণ বা খুন করিনি। প্রয়োজনে আমার ডিএনএ টেস্ট করা হোক।
পরে জানিয়ার পিতা ওসমান গণি ওই তিনজনকে আসামি করে কাফরুল থানায় মামলা দায়েরের এজাহার দিয়েছেন। যদিও থানায় এর আগে একটি অপমৃত্যুর মামলা এন্ট্রি হয়েছিল। এ ঘটনার পর আসহান হাবিব, তার ছেলে রুম্মান, দারোয়ান ছিদ্দিকুর রহমান, লিফটম্যান রিয়াদুল হক টুটুল, সোহেল, ইমদাদুল হকসহ ৬ জন আটক করা হলেও পরে প্রথম দুজন ছেড়ে দেয় পুলিশ। বাকিদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম উদ্দিন বলেন, গতকাল রাতে একটি অপমৃত্যুর মামলা নেয়া হয়েছে। মেয়ের বাবা ওসমান গনি মামলাটির বাদী।